মাদরাসা সরিয়ে ব্র্যাক স্কুল তৈরি

মুফতী মনসূরুল হক সাহেব৩ জানুয়ারি, ২০২৬মসজিদ মাদরাসা

প্রশ্ন

আমাদের বাড়ির পার্শ্বে একটি ইবতিদায়ী মাদরাসার জমির উপর ব্র্যাক কর্তৃপক্ষ একটি স্কুল তৈরি করছে। এই মাদরাসার জমি তারাই দান করেছিল। কাজেই এই ব্র্যাক স্কুল সরাতে বললে, তারা মাদরাসা সরাতে বলে এবং তারা বলে যে, যদি এ ব্যবস্থা না হত, তাহলে আমরা খেতে পারতাম না। তাদের এ ধরনের আকীদার হুকুম কি? এবং সে সমস্ত অভিভাবকরা নিজ সন্তানদেরকে এ স্কুলেও পড়ায় এবং যারা এই ব্র্যাক সমিতিতে অংশ গ্রহণ করেছে, তাদের হুকুম কি?

উত্তর

শরী‘আতের বিধান অনুযায়ী যে ক্ষেত্রে কোন মসজিদ বা মাদরাসার ওয়াকফকৃত জিনিস অন্য মসজিদ বা মাদরাসার কাজে লাগান জায়িয নয়, সে ক্ষেত্রে কোন মাদরাসার ওয়াকফকৃত জমিতে মুসলিম বিদ্বেষী খৃষ্টানদের চক্রান্তে মুসলমাদের দ্বীন থেকে সরানোর উদ্দেশে প্রতিষ্ঠিত ব্র্যাক স্কুল ঐ মাদরাসার নামে ওয়াকফকৃত জায়গায় তৈরি করার প্রশ্নই উঠে না। এটা আল্লাহর দেয়া সম্পদ তার নাফরমানীর কাজে ব্যয় করা বৈ কিছু নয়। অধিকন্তু ব্র্যাক সংস্থা কর্তৃক স্কুল-কলেজ প্রতিষ্ঠা করা যদি বাহ্যিক দৃষ্টিতে সেবামূলক দেখা যায়, প্রকৃতপক্ষে এটা একটি ইসলাম বিরোধী ষড়যন্ত্রের কৌশল। কেননা-এদের উদ্দেশ্য হচ্ছে মুসলমানদের সন্তানদেরকে তাদের ধর্মীয় শিক্ষা-সংস্কৃত থেকে বিমুখ করে বিজাতীয় কৃষ্টি কালচার শিক্ষা দেয়ার মাধ্যমে তাদেরকে কু-আদর্শে আদর্শিত করে তোলা। সুতরাং এ দৃষ্টি কোন থেকে ব্র্যাক সমিতিকে মাদরাসার জমিতে স্কুল প্রতিষ্ঠার অধিকার দেয়া ইসলাম বিরোধী ষড়যন্ত্রের সহায়তা ছাড়া আর কিছু নয় । তাই যারা এ কাজে অনুমতি দিয়েছে, বা সহায়তা করেছে, তাদের একান্ত উচিত, সেখানে থেকে ব্র্যাক স্কুল সরিয়ে মাদরাসার উন্নতির কাজেই সম্পূর্ণ জমি ব্যবহার করা এবং কৃত এ অপরাধমূলক কাজ থেকে তাওবা করা। [প্রমাণঃ সূরা মায়িদা আয়াতঃ ২]

তারা বলে যে, ‘এ ব্র্যাক ব্যবস্থা যদি না হতো তাহলে তারা খেতে পারতো না, তাদের এ উক্তি এবং আকীদা সম্পূর্ণরূপে ভ্রান্ত’। কারণ আল্লাহ তা‘আলা রিযিকদাতা। তিনি বান্দাকে সৃষ্টি করেছেন, তিনিই রিযিক দিবেন। [প্রমাণঃ সূরা হুদ, ৬ আয়াত]

আমাদের দেশে ব্র্যাক স্কুল ছাড়া অনেক স্কুল-কলেজ আছে। কাজেই ব্র্যাক স্কুল ভর্তি করার প্রশ্নই উঠে না। কারণ, ব্র্যাক স্কুলের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে। মুসলমানদের দ্বীন থেকে সরিয়ে খৃষ্টান ধর্মে দীক্ষিত করা বা কমপক্ষে খৃষ্টান সমাজের সেবাদাস তৈরি করে শেষ পর্যন্ত সেবার নামে এদেশের কর্তৃত্ব দখল করা। যেমন, তারা ইতিপূর্বে ব্যবসার নামে এদেশে এসে এদেশ দখল করে মুসলমানদেরকে দুইশত বছর গোলাম বানিয়ে রেখেছিল। কাজেই ব্র্যাক স্কুলে কোন মুসলমানদের সন্তানদের ভর্তি করা জায়িজ হবে না। প্রশ্নে বর্ণিত ব্র্যাক সমিতিতে অংশগ্রহণ করা ও শরী‘আতের দৃষ্টিতে সম্পূর্ণ নাজায়িয ও হারাম। কারণ, ব্র্যাক সমিতি সম্পূর্ণ সুদের উপর পরিচালিত হয়। এদের যে কোন ধরনের সাহায্য-সহযোগিতা করার অর্থ মুসলমানদেরকে এদেশ থেকে নিশ্চিহৃ করার ষড়যন্ত্রে সহযোগিতা করা। উল্লেখ্য, এসব এনজিওদের আসল চেহারা প্রথম পর্যায়ে বুঝার কোন উপায় নাই। কারণ তারা মুসলমানদের বড় বেশী খায়ের খাহ ও কল্যানকামী বেশে কোন এলাকায় কাজ শুরু করে, এরপর যখন তাদের ভিত মজবুত হয় এবং এলাকায় তাদের যথেষ্ট তাবেদার সৃষ্টি হয় এবং তাদের পেতে রাখা বড়শী মুসলমানদের গলায় ভালভাবে আটকে যায়, তখন তাদের আসল রূপ প্রকাশ পায় এবং তখন তারা স্পষ্টভাবে খৃষ্টধর্মের দিকে দাওয়াত দেয়া শুরু করে। আর সরল প্রাণ মুসলমানদের দ্বীন-ঈমান হরণ করে নেয়। তখন আর এলাকার দ্বীনদার দেশপ্রেমিক লোকদের কিছু করার থাকে না।

কারণ তখন তাদের বিরুদ্ধে কথা বলতে গেলে, বখাটে যুবক ও বেহায়া উচ্ছৃঙ্খ মেয়েদের দ্বারা লাঞ্ছিত হতে হয়।

মাদরাসা সরিয়ে ব্র্যাক স্কুল তৈরি | ইসলামী যিন্দেগী