নামাযে খুশু-খুযু হাসিলের তরিকা

মুফতী মনসূরুল হক সাহেব৮ অক্টোবর, ২০২৪নামায

প্রশ্ন

নামায কিভাবে মনোযোগের সাথে পড়া যায়? দেখা যায় যে, নামায পড়ার সময় দুনিয়ার সব চিন্তা মাথায় আসে, আবার হঠাৎ মনোযোগ নষ্ট হয়ে যায়। এর প্রতিকার কি?

উত্তর

নিয়্যত ও হুজুরে ক্বলব (অর্থাৎ একাগ্রতা ও ধ্যান) নামায আল্লাহর দরবারে কবুল হওয়ার জন্য খুবই জরুরী। সুতরাং এর প্রতি বিশেষভাবে লক্ষ্য রাখা উচিত এবং তা হাসিল করার জন্য নামযের মধ্যে যা পড়া হয় এবং যে কাজ করা হয়, মনের মধ্যেও সেরকম ভাব পয়দা করতে চেষ্টা করতে হবে।

যেমন: মুখে যখন ‘আল্লাহু আকাবার’ বলা হয়, তখন মনও যেন সাক্ষ্য দেয় যে, নিশ্চয়ই আল্লাহ হতে বড় কোন কিছু নাই। এমনিভাবে ‘আলহামদুলিল্লাহ’ বলা কালে আল্লাহর অফুরন্ত নেয়ামতের কথা স্মরণ করে ভক্তিতে মন পরিপূর্ণ হওয়া কর্তব্য। উল্লেখ্য যে, অর্থ বুঝতে অক্ষম হলে কমপক্ষে শব্দগুলোর উচ্চারণের প্রতি খুব খেয়াল রাখবে। হাকীমুল উম্মত হযরত মাওলানা আশরাফ আলী থানবী রহ. আরেকটি পদ্ধতি লিখেছেন, অন্তত এতটুকু যেন হয় যে, নামাযের প্রতিটি রুকন অভ্যাসগতভাবে আদায় না করা। বরং প্রতিটি কাজ ইচ্ছাপূর্বক আদায় করবে। যেমন, রুকূতে যাওয়ার সময় একথা মনে রেখে রুকূ করা যে, আমি রুকূতে যাচ্ছি। রুকূতে গিয়ে এখন রুকূর তাসবীহ পড়ছি। আল্লাহর বড়ত্ব বয়ান করছি ইত্যাদি। ইনশাআল্লাহ এভাবে নামায পড়তে থাকলে এমন একদিন আসবে যে, নামাযের মধ্যে দুনিয়ার সমস্ত খেয়ালকে বাদ দিয়ে একাগ্রতার সাথে নামায পড়া সহজ হয়ে যাবে। আরো একটি কাজ একাগ্রতা হাসিলের জন্য খুবই উপকারী। আর তা হলো কোন হাক্কানী আলিম থেকে নামাযের বাস্তব প্রশিক্ষণ নিয়ে সে অনুযায়ী নামায পড়বে। সারকথা, মনে করবে যে, আল্লাহ আমাকে দেখেছেন। সেদিকে খেয়াল রেখে নামায আদায় করবে এবং অর্থ বুঝলে অর্থের দিকে খেয়াল রাখবে। আর অর্থ না বুঝলে শব্দের দিকে খুব খেয়াল রাখবে।

[প্রমাণঃ শামী ১:৪১৭# তাবলীগে দীন (বাংলা) ১০ # তালীমুদ্দীন (বাংলা) ১৭৭]

নামাযে খুশু-খুযু হাসিলের তরিকা | ইসলামী যিন্দেগী