বাংলাদেশের জমিন উশরী না খারাজী
প্রশ্ন
বাংলাদেশের জমিন উশরী না খারাজী ও বাংলাদেশের লোকেরা উশর আদায় করবে, না খারাজ আদায় করবে? আর যদি উশর দিতে হয় তাহলে ১০ মণে ১মণ না দিয়ে ২০মণে ১মণ দিলে হবে কি-না? কারণ হলো, আগের দিনে বৃষ্টির পানিতেই আবাদ হতো, কিন্তু এখন (খাজনা) সার, বিষ ইত্যাদি ব্যবহার করতে হয়।
যদি কোন জমি আবাদযোগ্য হয় কিন্তু সে জমিনে কোন চাষাবাদ করা না হয় তাহলে সে জমির খাজনা ও বিভিন্ন কর, উশর বা খারাজের বিকল্প কি-না?
উত্তর
বাংলাদেশের জমি উশরী না খারাজী, তা নিশ্চিত সিদ্ধান্ত দেয়া জটিল। কেননা বৃটিশ সরকার এদেশের রাষ্ট্রিয় ক্ষমতা হাতে নেয়ার পরে উলামায়ে কিরাম একদিকে এদেশেকে ‘দারুল হরব’ ঘোষণা করে ইংরেজদের বিরুদ্ধে জিহাদ ফরয হওয়ার ফাতওয়া দিয়েছেন। আর দারুল হরবের জমি উশরী বা খারাজী কোনটাই হতে পারে না। যা বিভিন্ন কিতাবের বর্ণনা থেকে বুঝা যায়। অপরদিকে ফিকহী কিতাবের বর্ণনা দ্বারা বুঝা যায় যে, উক্ত হুকুম ঐ সমস্ত দারুল হরব সম্পর্কে, যা আগে থেকেই দারুল হরব ছিল। অথচ আমাদের দেশে আগে থেকেই দারুল হরব ছিল না। বরং আটশত বছর দারুল ইসলাম থাকার পর দারুল হরব হয়েছিল। সুতরাং ঐ হুকুম আমাদের দেশের জন্য প্রযোজ্য নয়।
তাছাড়া ইংরেজরা এদেশের ক্ষমতা দখল করার পর যে সমস্ত জমি মুসলমানদের কাছ থেকে ছিনিয়ে নিয়ে তাদের মালিকানা বাতিল করে হিন্দুদেরকে জমিদারী প্রদান করে। ঐ সমস্ত জমি আর উশরী থাকে না। কিন্তু সে সমস্ত জমি নিদির্ষ্টভাবে শনাক্ত করাও কঠিন ব্যাপার, এ সব কারণে আমাদের দেশের জমি ধারাবাহিকভাবে মুসলমানদের মালিকনায় চলে আসছে বলে প্রমাণ পাওয়া যায়, সেগুলোকে উশরী ধরে উশর আদায় করা কর্তব্য। অতঃপর অবস্থাভেদে প্রত্যেক উৎপন্ন দ্রব্যের দশভাগের এক ভাগ বা বিশভাগের এক অংশ উশর আদায় করতে হবে। অর্থাৎ যদি জমির সেচ বৃষ্টির পানিতেই সম্পন্ন হয় এবং সেচকার্যে ডিপ টিউবওয়েল বা অন্য কোন খরচ না লাগে তাহলে দশ ভাগের একাংশ অন্যথায় বিশ ভাগের একাংশ আদায় করবে। তবে সারের খরচের কারণে উশরের পরিমান কম হবে না। কেননা, উশরের পরিমান ২০ ভাগের একভাগ হওয়ার ব্যাপারে শুধু সেচকার্যের খরচেই ধর্তব্য, সার ইত্যাদি বা অন্য কোন খরচ ধর্তব্য নয়। কেননা, সার প্রয়োগের ফলে কিছু বাড়তি খরচ লাগলেও তাতে ফসলের পরিমাণও অনেক বেড়ে যায়, নিশ্চয় তা সারের খরচের চেয়ে বেশী হয়ে থাকে। তাই সারের খরচের কারনে উশর কম হবে না।
আর যদি প্রমানিত হয় যে, উক্ত জমি বিধর্মীর হাত থেকে মুসলমানদের হাতে এসেছে, তাহলে খারাজী গণ্য করে প্রত্যেক বৎসর একবার খারাজ বা ট্যাক্স আদায় করবে। আমাদের দেশে সরকারের পক্ষ থেকে যে খাজনা নেওয়া হয়, তাতে দাতা যদি খারাজ আদায়ের নিয়্যাত করে, তাহলে খাজনা দ্বারাই খারাজ বা ট্যাক্স আদায় হয়ে যাবে। তবে জমির কর ও খাজনা উশরের বিকল্প হিসেবে গন্য করা হবে না। বরং উশরও যাকাতের ন্যায় কেবল গরীব-মিসকীনদের মাঝে বন্টন করতে হবে। আর যদি উল্লেখিত কোন সুরত জানা না যায় বা সন্দেহ হয়, সে ক্ষেত্রে সতর্কতা হিসেবে উশর আদায় করা ভাল।
[প্রমাণঃ ফাতওয়া দারুল ১২:৩০৫# আহসানুল ফাতওয়া, ৪:৩৩৮,৩৪৫: আদ-দুররুল মুখতার ২:৩৩৯]