এক তালাক, দুই তালাক, তিন তালাক, বাইন তালাক বলা

মুফতী মনসূরুল হক সাহেব৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫বিবাহ তালাক

প্রশ্ন

জনৈক ব্যক্তির শ্বশুর বাড়ীর সাথে তার পিতার মনোমালিন্য ছিল। (এখনো আছে)। ঘটনাক্রমে ঐ ব্যক্তির পিতা তার শ্বশুর বাড়ীর লোকজনকে কটাক্ষ করে কথা বলায় ছেলে বাবার ব্যবহারে দুঃখ ও ক্ষোভ প্রকাশ করে, এবং এক পর্যায়ে ছেলের মুখে উচ্চারিত হয়, “এক তালাক, দুই তালাক, তিন তালাক, বাইন তালাক।” এ ঘটনার পর তারা জনৈক মৌলভী সাহেবের কাছে যায়। ঐ মৌলভী সাহেব (যিনি প্রাইমারী স্কুলের শিক্ষকও বটে) তাওবাহ পড়িয়ে বিবাহ দোহরিয়ে আগের মতই ঘর সংসার করার নির্দেশ দেয়। উল্লেখ্য যে, ‘তালাক শব্দ বলার সময় স্বামী তার স্ত্রী বা অন্য কারো নাম উল্লেখ করেনি। তাছাড়া স্ত্রীর সাথে স্বামীর কোন প্রকার মনোমালিন্য ছিল না’। তালাক শব্দ উচ্চারণের সময় নিয়্যত কি ছিল? এ প্রশ্নের জবাবে স্বামী জানায় যে,স্ত্রীকে তালাক দেয়ার কোন ইচ্ছাই তার ছিল না; বরং বাবার সাথে রাগ করেই সে এসব বলেছে ,

এখন প্রশ্ন হচ্ছে (১) স্ত্রীর উপর তালাক পতিত হয়েছে কি? হলে কত তালাক? (২) বিবাহ দোহরানো শুদ্ধ হয়েছে কি? (৩) স্বামী-স্ত্রী ঘর-সংসার অক্ষুন্ন রাখতে চায়। এমতাবস্থায় তাদের করণীয় কি?

উত্তর

বর্ণনানুযায়ী তালাকদাতা যদি কসম করে বলে যে, আমার স্ত্রীকে তালাক দেয়ার কোন ইচ্ছাই ছিল না, তাহলে স্বামীর কথা গ্রহণযোগ্য হবে। স্ত্রীর উপর কোন তালাক পতিত হবে না। সেক্ষেত্রে বিবাহ দোহরানোর কোন প্রশ্ন আসে না। বিবাহ দোহরানো ছাড়া তাদের জন্য ঘর-সংসার করা বৈধ হবে। কিন্তু তালাকদাতার একথা অবশ্যই স্মরণ রাখতে হবে যে, আপনার অন্তরে কি ছিল? আপনি কাকে তালাক দিয়েছেন? তা আল্লাহ তা‘আলা ভালভাবেই জানেন। তাই আমাদেরকে ফাঁকি দিলেও আল্লাহকে ফাঁকি দিতে পারবেন না।

সুতরাং, স্ত্রীকে তালাক দেয়ার ইচ্ছা যদি থেকে থাকে তাহলে আপনার স্ত্রীর উপর তিন তালাক পড়ে গিয়ে উক্ত স্ত্রী আপনার জন্য সম্পূর্ণ হারাম হয়ে গেছে। এখন শর‘ঈ হালালা ব্যতীত আপনার জন্য উক্ত স্ত্রী হালাল হবে না এবং ইদ্দত পর্যন্ত তাকে খোরপোষ দিতে হবে। আর মোহর আদায় না করে থাকলে তা আদায় করতে হবে। এখন যদি আপনার পুনরায় ঘর-সংসার করতে চান তাহলে তার জন্য শর‘ঈ হালালা করা জরুরী।

শর‘ঈ হালালার সুরত হলোঃ স্ত্রী প্রথম স্বামীর ইদ্দত (তিন হায়েয) পালন করবে। অতঃপর স্বেচ্ছায় বিনা শর্তে অন্য স্বামীর সাথে বিবাহ বসবে। অতঃপর দ্বিতীয় স্বামীর সাথে যৌন মিলনের পর যদি উক্ত স্বামী মারা যায় বা স্ত্রীকে তালাক দেয় তাহলে উক্ত স্ত্রী দ্বিতীয় স্বামীর ইদ্দত পালন করবে। এখন যদি আপনারা উভয়ে বিবাহের সকল শর্তসহ বিবাহ দোহরিয়ে নেন তাহলে আপনাদের জন্য ঘর-সংসার করা বৈধ হবে।

[প্রমাণঃ ফাতওয়া মাহমূদিয়া, ৮:৬৪ #ফাতওয়া শামী,৩:২৯৬ # হিদায়া, ২:৪৪৩ # সূরা বাকারাহ, আয়ত, ২৩০]

এক তালাক, দুই তালাক, তিন তালাক, বাইন তালাক বলা | ইসলামী যিন্দেগী