জিদের বশবর্তী হয়ে নতুন মসজিদ নির্মাণ

মুফতী মনসূরুল হক সাহেব১ জানুয়ারি, ২০২৬মসজিদ মাদরাসা

প্রশ্ন

বিগত ১৫/২০ বছর আগে আমাদের এলাকায় একটি মসজিদ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেলে আমি ১২ শতাংশ জমি মসজিদের জন্য ওয়াকফ করে দেই এবং মাদরাসা নির্মাণের শর্তে ঐ দাগের সর্বমোট ৪৪ শতাংশ ওয়াকফ করে দেওয়া অঙ্গিকার করি। পরবর্তীতে এলাকার গণ্যমান্য কয়েকজন ব্যক্তি আমার নিকট ৩২ শতাংশ জমি দাবী করলে তখনো আমি মাদরাসার কথা উল্লেখ্য করি। ইতিপূর্বে উক্ত মসজিদের ইমাম সাহেবের ভাতা সংক্রান্ত বিষয়ে বিতর্কের কারণে কিছু সংখ্যক লোক এ মসজিদ থেকে ১৮০ হাত দূরে আরেকটি মসজিদ নির্মাণ করে। আমাদের প্রশ্ন হচ্ছে, এমতাবস্থায় এ নতুন মসজিদ নামায জায়িয হবে কি না? জনৈক আলিম সাহেবের নিকট এ প্রশ্ন উত্থাপন করলে তিনি জানালেন, মৌজা ও সমাজ পৃথক হলে উক্ত মসজিদে জুমু‘আর নামায প্রযোজ্য হবে। উল্লেখ যে এ নতুন মসজিদ নির্মাণের কারণে পুরাতন মসজিদের মুসল্লী সংখ্যা এবং মসজিদের সৌন্দর্য বহুলাংশে হ্রাস পেয়েছে।

সুতরাং উক্ত নতুন মসজিদে জুমু‘আর নামায সহীহ হবে কি-না? এবং উল্লেখিত আলিম সাহেবের এতদসংক্রান্ত ফাতাওয়া সঠিক হবে কি-না? আর সূরা তাওবাহর ১০৭-১১১ নং আয়াতে মসজিদ সম্পর্কে কি আলোচনা করা হয়েছে? জানতে ইচ্ছুক।

উত্তর

প্রশ্ন উল্লেখিত গ্রামটি আয়তন বড় হয় এবং সেখানে নিত্যপ্রয়োজনীয় সকল জিনিসপত্র সচরাচর পাওয়া যায়, তাহলে নতুন মসজিদের বিভেদ সৃষ্টি করে এত কাছে মসজিদ নির্মাণ করা যদিও সঠিক হয়নি, কিন্তু সেখানে জুমু‘আর নামায সহীহ হবে। পাশাপাশি দুই বা ততোদিক মসজিদে জুমু‘আর নামায সহীহ হওয়ার জন্য মৌজা ও সমাজ পৃথক হওয়া আবশ্যকীয় নয়। সুতরাং প্রশ্নে উল্লেখিত মাওলানা সাহেবের বক্তব্য সঠিক নয়।

সূরা তাওবার ১০৭-১১১ আয়াতে মসজিদ সম্পর্কে যা বলা হয়েছে, তার সংক্ষিপ্ত বিবরণ নিম্নরূপঃ

মদীনার খৃষ্টান ধর্মালম্বী আবু আমের নামক এক ব্যক্তির পরামর্শক্রমে মুসলমানদের ক্ষতি করার লক্ষে মদিনার উপকন্ঠে মসজিদে কুবার নিকটে মসজিদের নামে একটি ঘর নির্মাণ করা হয়, যাকে পবিত্র কুরআনে “মসজিদে জিরার” নামে অভিহিত করা হয়েছে। এ ঘরটি নির্মাণের উদ্দেশ্য ছিল, তথায় যুদ্ধের সরঞ্জামাদি রেখে সেখানে সকলে একত্রিত হয়ে মুসলমানদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করা। কিন্তু পরবর্তীতে রাসূলে আকরাম ﷺ এর নির্দেশে তা ধ্বংস ও ধুলিস্যাৎ করা হয়। কেননা, সেটা প্রকৃতপক্ষে মসজিদ ছিল না, এবং নামায আদায়ের জন্যও তা নির্মিত হয়নি।

“মুসজিদ জিরার” এর উপরোক্ত ঘটনা দ্বারা সহজেই অনুমিত হয় যে, মুসলমানদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টিকরণ বা পূর্ববর্তী মসজিদের কাছাকাছি বিনা প্রয়োজনে ওয়াকফ সম্পত্তিতে অন্য আরেকটি মসজিদ নির্মাণ করা হলে নির্মাতার কোন সাওয়াব তো হবেই না, বরং সে গুনাহগার হবে। এতদসত্ত্বেও শরী‘আতের বিধান মোতাবিক সেটাকে মসজিদ হিসাবে গণ্য করা হবে এবং মসজিদের যাবতীয় আদব ও আহকাম এ স্থানের জন্যও প্রযোজ্য হবে। এ ধরনের মসজিদ নির্মাণ গুনাহের কাজ হলেও যারা এতে নামায আদায় করবে, তাদের নামায শুদ্ধ হবে। সেটাকে মসজিদে জিরার হিসাবে অভিহিত করা যাবে না। তবে এটাকে মসজিদে জিরারের মত বলা যায়। তাই এর নির্মাতাকে এরূপ প্রচেষ্টা থেকে বিরত রাখা সকলের জন্যই অপরিহার্য। কেননা, হযরত উমর রা. এতদসংক্রান্ত একটি আদেশ জারি করেছিলেন যে, এক মসজিদের পার্শ্বে অন্য মসজিদ এভাবে নির্মাণ করবে না, যাতে পুরাতন মসজিদের মুসল্লীদের সংখ্যা ও সৌন্দর্য হ্রাস পায়। [প্রমাণঃ ফাতাওয়া শামী ২:১৪৪; আত তাফসিরাতুল আহমাদিয়া, আযীযুল ফাতাওয়া ৬১০; মাহমূদিয়া ৬:১৭৮]