প্রভিডেন্ট ফান্ডের ব্যবস্থা আনা
প্রশ্ন
আমি একটি আধা সরকারী সংস্থায় চাকুরী করি। সেখানে ‘কনট্রিবিউটরী’ প্রভিডেন্ট ফান্ডের ব্যবস্থা ছিল। বর্তমানে পেনশন ব্যবস্থা চালু হওয়ায় শুধু কর্মচারীর টাকাই বেতন থেকে প্রভিডেন্ট ফান্ডে জমা হয়। কর্মচারীরা এ টাকা থেকে ঋণ নিতে পারে এবং শতকরা হিসাবে সুদ দিতে হয়। আমি লিখিত ঘোষনা দিয়ে রেখেছি যে, এ টাকা থেকে ঋণ নিলে কোন সুদ দিব না এবং দিচ্ছিও না। চাকুরী শেষে ফান্ডের জমা টাকায় লাভ হিসাবে যে সুদ দেয়া হবে, তাও নিব না। মাসিক মদীনায় গত জানুয়ারী ৯৬ সংখ্যায় প্রশ্ন-উত্তর বিভাগে দেখলাম, গভর্ণমেন্ট প্রভিডেন্ট ফান্ডের টাকায় যে লাভ দেয়া হয়, তা হালাল। এ ব্যাপারে বিস্তারিত জানালে উপকৃত হবো।
উত্তর
বাধ্যতামূলক যে প্রভিডেন্ট ফান্ড আছে, তার লাভের টাকা গ্রহণ করা জায়েয। আপনার বেতন থেকে একটি অংশ কর্তন করে তার সাথে সরকার কর্তৃক অতিরিক্ত যে টাকা যোগ করে দেয়া হয়, তাতে আপনার কোন প্রকার মালিকানা হাসিল হয় না বা উক্ত টাকার উপর আপনার কোন প্রকার মালিকানা হাসিল হয় না বা উক্ত টাকার উপর আপনার কোন হাত থাকে না বলে আপনার তরফ থেকে সুদী লেন দেন পাওয়া যায় না। অর্থাৎ একথা বলা যায় না যে, আপনি নিজস্ব টাকা-পয়সা সুদ পাওয়ার আশায় ইচ্ছাপূর্বক জমা করেছেন। বরং আপনার ইচ্ছা ছাড়াই সরকার আপনার বেতনের কর্তিত কিছু অংশের সাথে টাকা বর্ধিত করে আপনাকে প্রদান করছে। সুতরাং, আপনার জন্য সে টাকা গ্রহণ করা জায়েয এবং শরী‘আতের দৃষ্টিতে এ বর্ধিত টাকাকে ইনআম বা পুরষ্কার বলা হবে, সুদ বলা হবে না। (প্রমাণঃ কাওয়াইদুল ফিক্হ, ৩০২ # ইমদাদুল ফাতাওয়া ২:৪৮)