মা-বাবার খিদমত করতে গিয়ে ফরজে কিফায়া ছেড়ে দেয়া

মুফতী মনসূরুল হক সাহেব১৩ আগস্ট, ২০২৫সামাজিকতা আচার ব্যবহার ও রাজনীতি

প্রশ্ন

আমরা পাঁচ ভাই ছয় বোন। আমি সবার ছোট। আমি ছাড়া সকলেই বিবাহ করেছে। বড় ভাইয়েরা জমি জমা ভাগ করে নিয়ে পৃথক হয়েছে। একমাত্র আমিই মা-বাবাকে নিয়ে সংসার করছি। মা-বাবা এখন অতি বৃদ্ধ হয়ে গেছেন। তারা অন্য ভাই বোনের সংসারে যাবে না বিধায় আমি ব্যতীত তাদের আয়-রোজগার করার কেউ নেই ।

আমি হেফজ শেষ করে বর্তমানে মাদরাসায় জামা‘আতে নাহবেমীরে পড়ছি। অপরদিকে আমাদের এলাকায় আলেমে দ্বীন একজনও নেই। ফলে দিন দিন মানুষ ঈমান হারা হয়ে যাচ্ছে। এই করুণ অবস্থা থেকে সমাজকে রক্ষা করা এবং ইলমে দ্বীন শিক্ষা করার জন্য আমি সদা প্রস্তুত। কিন্তু সংসারটা চলে খুব টানাটানির মধ্যে। তাই এখন যদি আমি পড়া লেখা ছেড়ে আয় রোজগারের জন্য যাই তাহলে ইলমে দ্বীন থেকে বঞ্চিত হয়ে সারা জীবন আমাকে আফসোস করতে হবে। আর না গেলেও চলে না। এমতাবস্থায় আমার কি করা উচিত?

উত্তর

পিতা-মাতার খিদমত করা সন্তানদের উপর ফরয। কুরআন হাদীসে এ ব্যাপারে অনেক গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। হাদীস শরীফে বর্ণিত আছে, রাসূল ﷺ ইরশাদ করেছেন, “ঐ ব্যক্ত ধ্বংস হোক যে তার বৃদ্ধ পিতা-মাতার কাউকে পেল অথচ তাদের খিদমত করে জান্নাতে যেতে পারলো না। সুতরাং, আপনাদের সকল ভাইদের উপর অধিকার পিতা-মাতার সেবা-যত্ন করা ফরয।

পক্ষান্তরে ইলমে দ্বীনের শিক্ষা করাও ফরয। তা মাদরাসায় পড়ে হোক বা দ্বীনী কিতাব পড়ে হোক বা কোন হক্কানী আলেমের সাহচর্যে থেকে শিক্ষা করে হোক। তবে এ পরিমাণ শিক্ষা করা ফরয যে পরিমাণ না হলে নিজের দ্বীনের উপর চলা সম্ভব হয় না। আপনার হয়তো এ পরিমাণ ইলম অর্জন হয়েছে যার দ্বারা আপনি দ্বীনের উপর চলতে পারবেন। এখন যদি আপনার অপর ভাইয়েরা নিজ মা-বাবার সেবা-যত্ন না করে এবং একমাত্র আপনিই আপনার বৃদ্ধ পিতা-মাতার খিদমতের একমাত্র সম্বল হন তাহলে আপনার উচিত হবে প্রয়োজনে প্রাতিষ্ঠানিক পড়ালেখা বন্ধ রেখে আপনার পিতা-মাতার খিদমত করা।

অবশ্য পূর্ণ শরী‘আতের আলেম হওয়া ব্যক্তিগত ভাবে কারো জন্য ফরযে আইন না হলেও পুরা এলাকাবাসীর উপর ফরযে কিফায়া। অর্থাৎ প্রত্যেক এলাকায় এমন একজন বিজ্ঞ আলেম থাকা জরুরী, যিনি মানুষকে বিভিন্ন দ্বীনী সমস্যার সঠিক সমাধান দিতে সক্ষম। পুরা এলাকায় এমন আলিম না থাকলে অত্র এলাকার সকলেই এ ফরয তরকের গুনাহগার হবে। তাই আপনাদের এলাকাবাসীর জিম্মায় জরুরী যে, তারা একাধিক বিজ্ঞ আলেম তৈরীর ফিকির করবে। এখন একটা সহজ পদ্ধতি হলো, আপনার ভাইয়েরা এবং এলাকাবাসী আপনার আম্মা ও আব্বার সাংসারিক খরচাদির ব্যবস্থা করবে। আর আপনাকে পরিপূর্ণ আলেম হওয়া পর্যন্ত উপার্জনের চিন্তামুক্ত করে দিবে। এছাড়া আরো একাধিক লোকদের দায়িত্ব তাদের সন্তানদেরকে দ্বীন শিক্ষার জন্য দ্বীনী কওমী মাদরাসায় পাঠিয়ে দেয়া। কারণ পূর্ণ এলাকা সামলানোর জন্য এলাকায় একাধিক আলেম থাকা জরুরী। [সূরা বনী ইসরাঈল-২৩, মাআরিফুল কুরআন-৫:৪৬৩, মিশকাত-২:৪১৮, বাদায়ে-৭:৯৮, ফাতাওয়া শামী-১:৪৩, ৬:৪০৮]

মা-বাবার খিদমত করতে গিয়ে ফরজে কিফায়া ছেড়ে দেয়া | ইসলামী যিন্দেগী