সা‘দ সাহেবের অনুসারী ইতা‘আতীদের ব্যাপারে ফাতওয়া-০১
প্রশ্ন
বরাবর,
ফাতওয়া বিভাগ
জামি আ রাহমানিয়া আরাবিয়া
সাত মসজিদ, মুহাম্মাদপুর, ঢাকা - ১২০৭।
বিষয়: এতাআতীরা মসজিদে তাদের কার্যক্রম চালমান রাখার বিধান।
হযরত,
বিনীত আবেদন এই যে, নিম্নলিখিত বিষয়গুলোর শরঈ সমাধান জানতে চাচ্ছি:
১-সাদপন্থীরা মসজিদে তাদের কার্যক্রম চালাতে পারবে কি? এবং কমিটি তাদের কার্যক্রম চালাতে দিলে শরীয়তের দৃষ্টিতে বৈধ হবে কি?
২-তাদের বিশ্বাস সাদ সাহেব বিশ্ব আমীর। তার এতাআত করাকে ফরয, ওয়াজিব পর্যায়ের মনে করে- এমন আকিদা বিশ্বাসের লোক বয়ান করতে পারবে কি?
নিবেদক
মাহিন আহমাদ
রামপুরা, ঢাকা
উত্তর
মাওলানা সাদ সাহেব ও তার অনুসারীদের সম্পর্কে
জামি'আ রহমানিয়া আরাবিয়ার ফাতওয়া
ফাতওয়া নং-৮২৭৪
তারিখ:০৮/০৮/২৩ইং
প্রথম প্রশ্নের শরঈ সমাধান
মাওলানা সা'দ সাহেব এমন একজন আলেম, যিনি কুরআনের বিভিন্ন আয়াত ও নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বিভিন্ন হাদীসের অপব্যাখ্যাকারী এবং যিনি নবী রাসূলের সমালোচনা করেন এবং উলামায়ে কেরাম থেকে জনসাধারণকে সম্পর্ক ছিন্নকারী বিভিন্ন বক্তব্য জনসম্মুখে উপস্থাপন করে উম্মাতের মাঝে ফাটল সৃষ্টি করেন। কাজেই শরঈ বিধান মতে তিনি একজন বিভ্রান্ত লোক। আর বিভ্রান্ত ব্যক্তির অনুসারী ইতাআতীরাও বিভ্রান্ত ও গোমরাহ।
তাদের গোমরাহীর কয়েকটি কারণ নিম্নরূপ-
১.তারা হক্কানী উলামায়ে কেরামের প্রতি বিদ্বেষ রাখে এবং তাদের গালি গালাজ করতেও কুণ্ঠাবোধ
করে না, অথচ হাদীসে আছে নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, মুসলমানকে গালি দেওয়া ফাসিকী কাজ। [সহীহ বুখারী, হাদীস নং: ৪৮]।
উক্ত হাদীস মতে যেখানে একজন সাধারণ মুসলমানকে গালি দেওয়া ফাসেকী কাজ, সেখানে দেশের অসংখ্য আলেমকে গালাগাল করা কত মারাত্মক ধরনের গুনাহ, তা সহজেই অনুমেয়। অথচ হযরতজি ইলিয়াস রহ. বলেন: “আমাদের তাবলীগী কাজে যে-কোনো মুসলমানের মূল্যায়ন এবং উলামায়ে কেরামের প্রতি সম্মানবোধ বুনিয়াদি বিষয়। প্রত্যেক মুসলমানকে তার ঈমানের জন্যে এবং উলামায়ে কেরামকে তাঁদের ইলমে দ্বীনের মহাদৌলতের কারণে সম্মান করা উচিত।' [মালফুযাতে মাওলানা ইলিয়াস, পৃষ্ঠা: ৫০]
২. তারা হক্কানী উলামায়ে কেরামের দ্বীনী মাদরাসাসমূহ বন্ধ হয়ে যাওয়ার আকাঙ্ক্ষা পোষণ করছে, যেমনটি ইসলাম বিদ্বেষীরা করে থাকে। জনসাধারণকে উলামায়ে কেরাম থেকে বিচ্ছিন্ন রাখার অপচেষ্টা চালাচ্ছে, যে অপচেষ্টা ইহুদী-খ্রিস্টানরা করে যাচ্ছে।
৩. ব্যক্তি বিশেষের অনুসরণে তারা তাবলীগের বর্তমান পদ্ধতিকে দ্বীনের একমাত্র কাজ মনে করে। দ্বীনের অন্যান্য কাজ তথা তালীম তাযকিয়া বা আত্মশুদ্ধি ইত্যাদিকে খাটো ও হেয় প্রতিপন্ন করছে। সর্বোপরি নিজেদের হঠকারিতাবশত হক্কানী আলেমদের কথাগুলোকে মানতে পারছে না। তাদের এজাতীয় আচার-আচরণ, কথা-বার্তা, চিন্তা-চেতনা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে এগিয়ে যাওয়া ইত্যাদি সমস্যার সামষ্টিক অবস্থার প্রতি লক্ষ্য করে বলা যায়, বর্তমানের ইতাআতী নামক দলটি নিঃসন্দেহে একটি বাতিল দল। যদি সাধারণ মানুষ ইতাআতীদের সাথে উঠা-বসা করে কিংবা তাদের তালীমে বা বয়ানে বসে তাহলে উপরোক্ত একাধিক সমস্যায় জড়িত ইতা'আতী ব্যক্তির সংশ্রবের প্রভাবে তাদের ঈমান-আক্বীদা বিনষ্ট হওয়ার সমূহ সম্ভাবনা আছে।
মসজিদ সঠিক দ্বীন প্রচার প্রসারের মারকাজ। এখানে বাতিল দলকে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করতে দেয়ার অর্থই হল উম্মতের মাঝে গোমরাহী ছড়ানোর কাজে সহযোগিতা করা। অথচ আল্লাহ তা'আলা বলেন, 'তোমরা নেক ও তাকওয়ার কাজে একে অপরকে সহযোগিতা করো। আর গুনাহ ও গোমরাহীর কাজে কেউ কাউকে সহযোগিতা করো না।' [সুরা মায়েদা, আয়াত: ২]
কোনো মসজিদ-কমিটি যদি মসজিদে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করতে দেয় আর পরিণতিতে কেউ তাদের গোমরাহী চিন্তাধারার শিকার হয়, তাহলে এর জন্য সংশ্লিষ্ট মসজিদ কর্তৃপক্ষ অবশ্যই দায়ী হবে।
মসজিদে সকল ধরনের মুসল্লির নামাজ পড়ার অধিকার থাকলেও দাওয়াতী কাজ একমাত্র হকপন্থী উলামায়ে কেরামের নেতৃত্বে পরিচালিত হতে হবে। কোন বাতিল দলের দাওয়াতী কাজ মসজিদে করতে দেয়ার সামান্যতম সুযোগ নেই। কাজেই মুসল্লীদের ঈমান আকীদার হেফাজতের স্বার্থে মসজিদ কমিটির জন্য ইতাআতীদের কার্যক্রমের সুযোগ দেয়া জায়েয হবে না।
দ্বিতীয় প্রশ্নের শরঈ সমাধান
আল্লাহ তাআলা ও রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ছাড়া অন্য কেউ স্বতন্ত্রভাবে অনুসরণীয় নয়। তবে যে ব্যক্তি শরীয়তের ইলমের অধিকারী এবং ইলম অনুযায়ী শরীয়তের বিধিবিধান বর্ণনা করে, তাকে একজন শরীয়তের আলেম হিসেবে এবং শরীয়তের বিধান বর্ণনাকারী হিসেবে অনুসরণ করা যাবে। স্বতন্ত্র অনুসরণীয় হিসেবে নয়। আনুগত্য শুধু মা'রূফ বা শরীয়তসম্মত বিষয়গুলোতে হতে পারে। শরীয়তবিরোধী কোন বিষয়ে আনুগত্য জায়িয নেই। হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বিভিন্ন শব্দে বহু সূত্রে বর্ণিত আছে, আল্লাহর অবাধ্যতা করে কোন মাখলুকাতের আনুগত্য করা যাবে না। (মুসনাদে আহমাদ-১০৯৫)।
কোন ব্যক্তিকে ঐ সময় পর্যন্ত অনুসরণ করা যাবে যতক্ষণ পর্যন্ত সে কুরআন-সুন্নাহের উপর থাকে। আর যখন সে কুরআন-সুন্নাহ বিরোধী কথা বলবে তখন শরীয়তের দৃষ্টিতে সে আর অনুসরণ যোগ্য থাকে না।
আর মাওলানা সা'দ সাহেব যিনি কুরআনের বিভিন্ন আয়াত ও নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বিভিন্ন হাদীসের অপব্যাখ্যা করেছেন এবং যিনি কয়েকজন নবী রাসূলের সমালোচনা করেছেন। কাজেই শরঈ বিধান মতে তিনি একজন বিভ্রান্ত লোক। আর বিভ্রান্ত ব্যক্তির অনুসার করাকে যে ব্যক্তি ফরয বা ওয়াজিব মনে করে সেও গোমরাহ। আর গোমরাহ ব্যক্তিকে বয়ান করতে দেওয়া এবং এর বয়ান শুনা নাজায়িয। কারণ গোমরাহ ব্যক্তির বয়ান শুনার দ্বারা সাধারণ মুসলমান বিভ্রান্ত হবে।
মুফতী মনসূরুল হক
প্রধান মুফতী
জামি'আ রাহমানিয়া আরাবিয়া