যাকাত কে, কাকে, কখন দিবে?

মুফতী মনসূরুল হক সাহেব৯ জানুয়ারি, ২০২৫যাকাত

প্রশ্ন

যাকাত কার উপর, কখন ওয়াজিব হয়? যাকাত এর হকদার কারা? যাকাত রমাযান মাসেই কি আদায় করতে হয়? নাকি অন্য কোন মাসে আদায় করলেও চলে?

উত্তর

সাবালক সজ্ঞান মুসলমান নেসাব পরিমান মালের মালিক হওয়ার পর চান্দ্র মাস হিসেবে ঠিক এক বছর কাল অতিক্রান্ত হলে, যাকাত আদায় করা ওয়াজিব হয়ে যায়। নিসাবের পরিমাণ ঋন ও মৌলিক প্রয়োজনের অতিরিক্ত সাড়ে সাত তোলা স্বর্ণ কিংবা বায়ান্ন তোলা রৌপ্য অথবা তত্সমমূল্যের নগদ টাকা, বা ব্যবসার মালের মালিক হলে চল্লিশ ভাগের এক ভাগ বা শতকরা আড়াই টাকা হারে যাকাত আদায় করতে হয়। যাদের সাথে দাতার জম্মগত সম্পর্ক আছে, যেমন, পিতা-মাতা, দাদা-দাদী, নানা-নানী, প্রমুখ এবং দাদার সাথে যাদের জম্মগত সম্পর্ক আছে, যেমন,ছেলে-মেয়ে, নাতী-নাতনী ইত্যাদি, তাদেরকে যাকাত-ফিতরা দেয়া যায় না। অনুরুপভাবে স্বামী তার স্ত্রীকে, স্ত্রী তার স্বামীকে যাকাত-ফিতরা দিতে পারে না। অমুসলিম ও ধনী ব্যক্তিকে দান করলে যাকাত ফিতরা আদায় হয় না। তা এমন সব গরীব ও ফকির-মিসকীনকে দিতে হবে, যাদের নিকট নেসাব পরিমান মাল নেই। ধর্মীয় খিদমতে রত নিঃস্ব ও দরিদ্র ব্যক্তিবর্গকে যাকাত-ফিতরা দান করলে, ধর্মীয় খিতমতের সহযোগিতা হিসেবে অধীক সওয়াবের অধিকারী হওয়া যায়।

যাকাত ওয়াজিব হওয়ার সময়টি যদি রমাযান মাসে হয় তাহলে সে মাসেই যথা তারিখে সমুদয় মালের যাকাতের সম্পুর্ণ হিসাব নিকাশ করে যাকাতের পরিমান বের করা জরুরী এবং আদায়ের ক্ষেত্রেও যদি ফরয যাকাত আদায় না করাই উত্তম। কারণ, কোন লোক রমাযান আসার আগে যদি ফরয যাকাত আদায় না করে ইন্তেকাল করে, তাহলে যাকাতের ফরয তার জিম্মায় থেকে যাবে। তবে ওয়াজিব হওয়ার আগেই যদি রমাযানে যাকাত অগ্রীম আদায় করে তাতেও কোন দোষ নেই। এভাবে সারাজীবন অগ্রীম যাকাত দিতে থাকলেও কোন অসুবিধা নেই।

[প্রমানঃ আহসানুল ফাতওয়া, ৪:২৫৫ #কিফায়াতুল মুফতি, ৪:২৬২ #আলমগীরী, ১:১৮৭-১৯২]

واما وقت ادائها فجميع العمر عند عامة مشائخنا رحمهم الله كذا في البدائع ومصارف الزكوة والفطرة الفقير وهو من له ادنى شئ وهو مادون النصاب ومنها المسكين وهو من لاشئ له . ومنها العامل ومنها الرقاب ومنها الغارم ومنها في سبيل الله ومنها ابن السبيل كذا في العالمكيرى ۱۹۱/۱

যাকাত কে, কাকে, কখন দিবে? | ইসলামী যিন্দেগী