কোন দুষ্কর্ম কি মৃত্যুর কারণ হতে পারে?
প্রশ্ন
আমার ছেলে ঢাকা সিটি কলেজে অধ্যায়নরত থাকা অবস্থায় একদিন তার এক আত্নীয় তাকে বলল, তুমি যখন কলেজে যাও তখন তুমি আজিমপুর গোরস্থানে যে কোন একটা কবরে এই তাবিজ ফেলবে এবং একটা তাবীজ নদীতে ফেলবে। তখন সে বলল ঠিক আছে।
সে তাবীজ কথামত কবর ও নদীতে ফেলাতে ছেলের কোন পাপ হবে কিনা? যদি হয়, তবে মোচনের পথ কি?
এই ছেলে বড়ই খোদাভক্ত ছিল। তারপরে ১৯৯২ সনের ২৫ জুলাই তার রোগ হয় এবং সে ১৯৯৩ সনের ফেব্রুয়ারী ১০ তারিখে দুনিয়া থেকে চির বিদায় নেয়। আমার মনে শুধু এ ঘটনা মনে পড়ে। এ সম্পর্কে আমাকে কোন ফায়সালা দিবেন কি?
উত্তর
মানুষ দুনিয়ায় ক্ষণস্থায়ী বাসিন্দা। একটি নির্দিষ্ট সময়ের হায়াত নিয়ে দুনিয়ায় আসে। আবার সেই হায়াত শেষ হয়ে গেলে, ইচ্ছায় হোক আর অনিচ্ছায় হোক, তাকে দুনিয়া ছেড়ে পরপারে যাত্রা করতে হয়। এ ব্যাপারে পবিত্র কুরআনে ইরশাদ হয়েছে, “তোমরা যেখানেই থাক, নির্দিষ্ট সময়ের মৃত্যু তোমাদের গ্রাস করবেই। যদি তোমরা নিচ্ছিদ্র ও দুর্ভেদ্য দুর্গের মধ্যেও অবস্থান কর”। [সূরা নিসাঃ ৭৮]
এ চিরাচরিত শাশ্বত বিধান মতে আপনার ছেলেকেও এই জগত ত্যাগ করে মহান মাওলার ডাকে সাড়া দিয়ে পরপারে যাত্রা করতে হয়েছে। এক্ষেত্রে তার হায়াত শেষ হয়েছে ,এটাই তার মৃত্যুর একমাত্র কারণ। সুতরাং, অন্য কোন কারণ খুঁজে আস্থির হওয়া আপনার মোটেও উচিত নয়। মানুষ ভুল-ভ্রান্তি করলেও তার শেষ অবস্থার উপরই তার পরকালের ফলাফল অনেকটা নির্ভরশীল। এ ব্যাপারে হাদীস শরীফে বর্নিত হয়েছে, “মানুষের সমুদয় কর্মকাণ্ড তার শেষ অবস্থার উপর নির্ভরশীল হয়ে থাকে। আপনার ছেলে শেষ হায়াতে খোদাভীরু ও দ্বীনদার আবস্থায় কাটিয়ে থাকলে, তার পরকাল সুখের হবে। এটাই আশা করা যায়। তাবীজের ব্যাপারে সে যা করেছে, তাতে বে-আদবী বা অপরাধমূলক কোন কিছু দেখা যায় না। তথাপি তাওবা ও অনুশোচনা দ্বারা আল্লাহ পাক হয়ত তাকে মাফ করে দিয়েছেন। আপনার উচিত, তার জন্য কোন দুঃখ-কষ্ট ও অস্থিরতা প্রকাশ না করে মহান আল্লাহর ফায়সালার উপর সন্তুষ্ট থাকা এবং তার জন্য দু‘আ ও দান করা। [সূরা নিসাঃ আয়াত ৭৮]
اَیۡنَ مَا تَکُوۡنُوۡا یُدۡرِکۡکُّمُ الۡمَوۡتُ وَلَوۡ کُنۡتُمۡ فِیۡ بُرُوۡجٍ مُّشَیَّدَۃٍ ؕ