বিবাহ-শাদী সম্পর্কিত ভুল ত্রুটি

মুফতী মীযানুর রহমান কাসেমী সাহেব (রাহমানিয়া)১৮ মে, ২০২৫সামাজিকতা আচার ব্যবহার ও রাজনীতি

প্রশ্ন

বিবাহ-শাদীর প্রচলিত ভুল ত্রুটি সমূহের বিস্তারিত বিবরণ দিলে ভালো হয়।

উত্তর

বর্তমানে যে সব বিবাহ-শাদী হয় তার মধ্যে অনেক ক্ষেত্রেই স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে মিল-মিলাপ হয় না। সংসারে অশান্তি লেগেই থাকে। এর কারণ হচ্ছে, বিবাহের সময় ছেলে-মেয়ের সৌন্দর্য্য আর মাল-সম্পদের দিকেই সাধারণতঃ দৃষ্টি দেয়া হয়। দ্বীনদারী খুব কমই দেখা হয়। এমন কি যারা দ্বীনদার বলে পরিচিত তারাও মালের পিছনে পড়ে যায়। অথচ ইসলামের নির্দেশ হল সর্ব প্রথম পাত্র-পাত্রীর দ্বীনদারী দেখ, রূপ আর মাল সবচেয়ে শেষে দেখ।

হাদীসের মধ্যে ইরশাদ হচ্ছেঃ সাধারণত চার কারণে মহিলাদেরকে বিবাহ করা হয়।

(১) বংশ মর্যাদা

(২) মাল-দৌলত

(৩) রুপ-সৌন্দর্য্য

(৪) দীনদারী!! হে শ্রোতা। তুমি দ্বীনদারী দেখে বিবাহ কর, কামিয়াব হবে।

পুরুষদের সম্মন্ধে বলা হয়েছে, তোমাদের নিকট যদি এমন কোন ব্যক্তি পয়গাম নিয়ে আসে যার আখলাক চরিত্র আর দীনদারীর ব্যাপারে তুমি সন্তুষ্ট তাহলে তার সাথে নিজের মেয়ের বিবাহ দিয়ে দাও। যদি না দাও তাহলে ফেৎনা ফাসাদ ছড়িয়ে পড়বে যমীনে।

বিবাহের উদ্দেশ্য হল স্বামী স্ত্রীর মধ্যে গভীর ভালবাসা ও বন্ধুত্ব স্থাপন হওয়া।

আর এতে কোন সন্দেহ নেই যে, একমাত্র দ্বীনদারীর মধ্যেমেই এই লক্ষ্য অর্জিত হতে পারে। কেননা মাল সম্পদ আজ আছে কাল নেই, রূপ সৌন্দর্য দু চার বছর পরে আর থাকবে না। কিন্তু দ্বীনদারী মৃত্যু পর্যন্ত বাকি থাকবে। মাল সম্পদের লোভে কেউ যদি বিবাহ করে থাকে তাহলে দুদিন পর যখন মাল থাকবে না তখন সব মহব্বত ও উঠে যাবে। স্বামী-স্ত্রী একে অন্যের চেহারা দেখাও পসন্দ করবে না। দাম্পত্য জীবন কলহ-বিবাদে ভরে উঠবে।

হ্যাঁ দ্বীনদারীর সাথে সাথে যদি সৌন্দর্য্য আর মাল সম্পদ ও থাকে তাহলে নূরই নূর।

বিবাহ-শাদী সম্পর্কিত ভুল ত্রুটি | ইসলামী যিন্দেগী