দেন মোহরের ব্যাপারে ত্রুটি

মুফতী মীযানুর রহমান কাসেমী সাহেব (রাহমানিয়া)May 18, 2025বিবাহ তালাক

Question

দেন মোহরের ব্যাপারে আমাদের দেশে যে প্রচলিত নিয়ম রয়েছে এতে অনেক সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়। এতে কী ত্রুটি রয়েছে?

Answer

আজ কাল-বিবাহের মধ্যে অধিক মোহর ধার্য্য করা একটা ফ্যাশানে পরিণত হয়েছে। ৫ লাখ ১০ লাখ টাকা মোহর বাধা হয় অথচ দেয়ার এরাদা থাকে না। খুভ ভাল করে মনে রাখা দরকার যে, এটা কোন ছেলে খেলার ব্যাপার নয়, এটা মহিলার ওয়াজেবী হক। আদায় করার যদি নিয়ত না থাকে তাহলে ব্যভিচারী হয়ে মরবে সে। হাদীস শরীফে বর্ণিত হয়েছে, রাসূলে আকরাম ﷺ ইরশাদ করেন, যে ব্যক্তি কোন মহিলাকে বিবাহ করল এবং কিছু মোহরও নির্ধারণ করল অথচ তার নিয়ত হচ্ছে মোহর আদায় না করার অথবা পরিপূর্ণ না দেয়ার তাহলে ঐ ব্যক্তি যেনাকার হয়ে মারা যাবে, আল্লাহ পাকের দরবারে ব্যভিচারী হিসাবে উপস্থিত হবে। (কানজুল উম্মাল-৮/২৪৮)

কত বড় ধমকি চিন্তা করুন। আনুষ্ঠানিক ভাবে বিবাহের সব কিছু সম্পন্ন হওয়া সত্ত্বেও সেটা বিবাহ হিসাবেই গণ্য হচ্ছে না। কেননা মোহর যখন দেয়ারই নিয়ত নেই তখন কেমন জানি মোহরই নির্ধারণ করা হয় নাই। তাই এই বিবাহের মধ্যে আর যিনার মধ্যে কোন পার্থক্য রইলনা। এই হাদীসের মধ্যে আরো একটি অংশ আছে তার অর্থ হল "কেউ যদি কারো নিকট থেকে কোন মাল ক্রয় করে আর মূল্য পরিশোধ করার নিয়ত না থাকে অথবা কারো নিকট কেউ কিছু পায় আর তার আদায় করার নিয়ত না থাকে অথবা কারো নিকট থেকে কিছু ঋণ নিল কিন্তু সেটা পরিশোধ করার ইচ্ছা নেই তাহলে ঐ ব্যক্তি কিয়ামতের দিন খেয়ানত কারী এবং চোর হিসাবে গণ্য হবে। মোহরও যেহেতু একটা পাওনা তাই এটা যদি কারো পরিশোধ করার নিয়ত না থাকে তাহলে সেও চোর ও খেয়ানত কারী সাব্যস্ত হবে।

এর সংশোধনের উপায় হল সাধ্যের অতিরিক্ত মোহর নির্ধারণ না করা। যতটুকু নগদে দিয়ে দেয়া যায় ততটুকু ধার্য্য করে বাসর রাতেই তা পরিশোধ করা। সামাজিকতা বজায় রাখার জন্য লাখ দুই লাখ ধার্য করে বিবির কাছে মাফ চেয়ে নেয়ার চাইতে কাপুরুষতা আর কি হতে পারে।

খুব ভাল করে মনে রাখা দরকার যে, অধিক মোহর নির্ধারণ করার মধ্যে কোন বুযুর্গী বা সম্মান নেই। হাদীসে অল্প পরিমাণ মোহর বাধার জন্য উৎসাহিত করা হয়েছে। হযরত উমর ফারুক রা. একবার খুতবার মধ্যে বললেন, তোমরা মোহর বেশি নির্ধারণ কর না। কেননা এটা যদি দুনিয়াবী কোন সম্মান বা আল্লাহর নিকট তাকওয়ার কোন বস্তু হত তাহলে রাসূলে আকরাম ﷺ ই এর সবচাইতে বেশি হকদার ছিলেন। কিন্তু রাসুলুল্লাহ ﷺ এর কোন স্ত্রী কিংবা কোন সাহেবযাদীর মোহর ১২ উকিয়া চাঁদির বেশি ছিল না। (৪৮০ দিরহাম পরিমাণ)

হযরত আয়েশা রা. থেকে বর্ণিত রাসূলে আকরাম ﷺ ইরশাদ করেন, মহিলাদের বরকতময় হওয়ার একটি নিশানা এটাও যে তার মোহর সহজ হয়।

রাসূলে আকরাম ﷺ আরো ইরশাদ করেন, কোন মুমিনের জন্য নিজেকে অপদস্থ করা জায়েয নেই। সাহাবায়ে কেরাম জিজ্ঞেস করলেন, নিজেকে অপদস্ত করে কিভাবে? ইরশাদ করলেন নিজের উপর এমন মুসিবত চাপিয়ে নেয়া যা বরদাশত করার ক্ষমতা তার নেই। সাধ্যের অতিরিক্ত মোহর ধার্য্য করা এই হাদীসের আলোকে নিষিদ্ধ প্রমাণিত হয়।