Masail
100%

যে সব অবস্থায় কুরবানী ওয়াজিব হয়

Question

কোন ধরনের মাল কতটুকু পরিমাণ থাকলে কুরবানী ওয়াজিব হবে? অনেক সময় দেখা যায় সঠিক ভাবে মাসাআলা না জানার কারণে কুরবানী ওয়াজিব হওয়া সত্ত্বেও কুরবানী করা হচ্ছে না। আবার অনেকে মনে করে যার উপর যাকাত ফরয তার উপরেই কুরবানী ওয়াজিব। আসলেই কি এরকম? বিস্তারিত জানতে চাই?

Answer

নেসাব পরিমাণ মলের মালিক হলে তার উপর যাকাত এবং কুরবানী ওয়াজিব। কিন্তু উভয়টির মধ্যে কিছু পার্থক্য আছে। সেটা হল, যাকাত ওয়াজিব হওয়ার জন্য শর্ত হল মালের উপর এক বছর সময় অতিবাহিত হতে হবে। যদি বছর পুরা না হয় তাহলে যাকাত ওয়াজিব হবে না। পক্ষান্তরে কুরবানী ওয়াজিব হওয়ার জন্য ঐ মালের উপর এক বছর সময় অতিবাহিত হওয়া জরুরী নয়। বরং কুরবানীর দিনগুলিতে কেউ যদি নেছাব পরিমাণ মালের মালিক হয় তাহলে তার উপর কুরবানী ওয়াজিব হবে।

দ্বিতীয় পার্থক্য হল, যাকাত ওয়াজিব হওয়ার জন্য শর্ত হচ্ছে উক্ত মাল মালে নামী অর্থাৎ বৃদ্ধি পায় এমন হতে হবে। শরী‘আতেরপরিভাষায় সেগুলি হচ্ছে সোনা, রুপা, নগদ অর্থ, ব্যবসার মাল এবং চরে বেড়ানো পশু। কারো নিকট যদি এই পাঁচটি জিনিষের কোন একটি নেসাব পরিমাণ হয় এবং এক বছরপূর্ণ হয় তাহলে যাকাত ওয়াজিব হয়ে যাবে। কিন্তু কুরবানীর জন্য মালে নামী হওয়া শর্ত নয়। প্রয়োজনের অতিরিক্ত যে কোন মালই যদি নেসাব পরিমাণ হয় তাহলে কুরবানী ওয়াজিব হবে। যেমন কোন ব্যক্তির নিকট জমির ফসল প্রয়োজনের বেশি আছে এবং বেশীর পরিমাণ হচ্ছে ৫২.৫ ভরি রূপার দাম যা বর্তমানের বাজার দর হিসাবে প্রায় ২০ হাজার টাকা হয়। তাহলে এই মালটা যেহেতু নামি না তাই তার উপর যাকাত তো ওয়াজিব হবে না কিন্তু কুরবানী ওয়াজিব হবে।