Masail
100%

মহিলাদের একাকী সফর করা

Question

মাহরাম পুরুষ ছাড়া মহিলাদের জন্য একাকী সফর করা। জায়েয আছে কি না? স্বামী যদি এ ধরনের সফর করতে অনুমতি দেয় অংবা এধরনের সফরে যেতে দেখে চুপ থাকে তাহলে তার কি হুকুম? ৪৮ মাইলের বেশী বা কম দূরত্বে একাকী সফর করার ব্যাপারে কোন পার্থক্য আছে কি না?

Answer

মাহরাম পুরুষ (অর্থাৎ যাদের সাথে বিবাহ জায়েয নেই) ছাড়া মহিলাদের জন্য একাকী বা কয়েকজন মহিলা মিলে সফর করা মারাত্মক কবীরা গুনাহ। হাদীসে বর্ণিত হয়েছে, রাসূলে আকরাম ﷺ ইরশাদ করেন-যে মহিলা আল্লাহ পাকের এবং কিয়ামতের দিনের উপর ঈমান রাখে, সে যেন তিন দিন তিন রাতের অধিক দূরত্ব (অর্থাৎ ৪৮ মাইল) কোন মাহরাম যথা বাপ, ভাই, স্বামী, ছেলে ছাড়া সফর না করে। এ হাদীসের আলোকেই স্পষ্ট বুঝা যাচ্ছে যে, মহিলাদের জন্য মাহরাম ছাড়া ৪৮ মাইল তথা ৭৭ কিঃ মিঃ এর অধিক দূরত্ব একাকী সফর করা জায়েয নেই। স্বামী যদি এধরনের সফরের অনুমতি দেয় তাহলেও জায়েয হবে না। কেননা স্বামীর অনুমতিতে শরী‘আতের হারামতো আর হালাল হয়ে যাবেনা। আর স্বামী যদি এধরনের সফরে যেতে স্ত্রীকে বাধ্য করে তাহলে তা স্ত্রীর জন্য মানা জরুরী নয়, কেননা আল্লাহ পাকের নাফরমানী করে কোন বান্দার আনুগত্য করা হারাম। স্ত্রীকে এ ধরনের সফরে যেতে দেখে স্বামী যদি চুপ থাকে, তাকে বাধা না দেয় তাহলে স্বামীও গুনাহগার হবে। হাদীসে যদিও সফরের দূরত্ব অর্থাৎ ৪৮ মাইলের বেশী একাকী সফর করতে নিষেধ করা হয়েছে কিন্তু এর কমও মহিলাদের জন্য একাকী সফর করা ঠিক নয়। কেননা কুরআন ও হাদীস পর্যালোচনা করলে দেখা যায় যে, মহিলাদের ঘর থেকে বের না হওয়াটাই পছন্দনীয়। আর বিশেষ করে এই ফেৎনা ফাসাদের যুগে ৪৮ মাইলের কমও জায়েয নাজায়েয ২য় খণ্ড মহিলাদের জন্য একাকী বের হওয়া জায়েয হবে না। এখানে স্বরণ রাখা দরকার যে, কোন মহিলার উপর যদি হজ্জ ফরয হয় আর তার সাথে যাওয়ার জন্য কোন মাহরাম না থাকে তাহলে ঐ মহিলার জন্য অন্যান্য মহিলাদের সাথে বা একান্ত পরিচিত কোন পুরুষদের সাথেও হজ্বে যাওয়া জায়েয হবে না বরং শেষ পর্যন্ত সে অপেক্ষা করবে কোন মাহরাম পাওয়া যায় কিনা, মৃত্যু পর্যন্ত না পাওয়া গেলে বদলী হজ্জ্বের ওসিয়ত করে যাবে। তাহলে চিন্তা করুন, হজ্বের মত ফরয পালনের জন্য যখন একাকী যাওয়ার অনুমতি নেই সেখানে ভ্রমণের জন্য বা দুনিয়াবী কোন প্রয়োজনে একাকী যাওয়া কি ভাবে জায়েয হতে পারে? আল্লাহ পাক আমাদের সকলকে সহীহ বুঝ দান করুন। (ফাতাওয়া মাহমুদিয়া-৯-১৬৭)