Masail
100%

মৃত্যু যন্ত্রনার সময় কান্নাকাটি করা

Question

মৃত্যু যন্ত্রনার সময় কান্নাকাটি না করে দু‘আ করতে থাকা কী দরকার?

Answer

পরিবারের যখন কারো মৃত্যু যন্ত্রনা শুরু হয় তখন মহিলারাই বেশি উল্টাপাল্টা করে থাকে। যেমন ঐ সময় নামাযে দাঁড়ানো, আল্লাহ তা‘আলার নিক। খাতেমা বিল খায়েরের জন্য দু‘আ ইত্যাদি না করে মহিলারা চিৎকার করে কাঁদতে থাকে। বুক, পিঠ চাপড়াতে থাকে, অভিযোগ আর না শুকরী মূলক কথাবার্তা বলতে থাকে। এই সময় রোগির একটু হুশ হলে সেও পেরেশান হয়ে পড়ে। এতে তার দুটি ক্ষতি হয়। কখনো তো তার মধ্যে নিরাশার ভাব দেখা দেয়, মৃত্যুকে ভয় পেতে থাকে। অথচ ঐ সময় তাকে আশার আলো দেখাতে বলা হয়েছে। দ্বিতীয় খারাবী হল কখনও রোগি খালেকের চিন্তা বাদ দিয়ে মাখলুকের চিন্তায় লেগে যায়।

মোটকথা এই মুর্খতার কারণে শুধু পেরেশানীই বাড়ে। অনেক জায়গায় দেখা যায় ঐ সময় কেউ তার স্ত্রীকে সামনে নিয়ে আসছে, অথবা স্ত্রী নিজেই এসে হাজির। স্বামীকে জিজ্ঞাসা করা হয়, এই বেচারীকে কার হাতে ছেড়ে যাচ্ছ। আবার কখনো বাচ্চাদেরকে এনে দাঁড় করানো হয়, বলা হয় এদের কে একটু আদর কর, মাথায় হাত বুলিয়ে দাও। এভাবে তাকে দুনিয়ামুখি করে তোলা হয়। অথচ এসব আহম্মকদের তো উচিৎ ছিল যে, মরনাপন্ন ব্যক্তি নিজে ও যদি বাচ্চাদেরকে দেখতে চাইত তাহলে তাকে বলত যে, তুমি এখন আখেরাতের কথা স্বরণ কর। কালেমা পড়তে থাক। কিন্তু এসব না করে ছোট খাট একটা কিয়ামত কায়েম করে ফেলা হয়।

অনেক জায়গায় আবার এমন করা হয় যে, বদফালি আর বেপরওয়াহির কারণে তার সামনে সুরা ইয়াসিন পড়া হয় না। কেউ পড়ুক সেটাও বরদাশত করে না। মনে করে সুরা ইয়াসিন পড়লেই তো মরে যাবে। এমন সব কাজ নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়ে যা পরেও করা যায়। আর অনেক জায়গায় তো মৃত্যু পথ যাত্রীর নিকট কেউ থাকেই না। এভাবে একাকীই সে পরপারে পাড়ি জমায়।

অনেক জায়গায় আবার তাকে কালেমা পড়ানোর জন্য এমন জবর দস্তি করা হয় যে, তাকে ব্যতিব্যস্ত করে তোলে। একবার পড়ে ফেললে বার বার পড়ার জন্য চাপাচাপি করা হয়। এসবই জাহেলানা কার্যকলাপ।

মৃত ব্যক্তির কোন ওয়ারিস যদি মায়ের পেটে থাকে তাহলে মীরাস বন্টন করা যাবে না। বিরাট বড় এক ভুল যেটা হয়, সেটা হল কখনও দেখা যায় মৃত ব্যক্তির এক ওয়ারিস এখনও দুনিয়াতে আসে নাই, মায়ের পেটে আছে। দু-চার মাসের মধ্যে হয়ত তার জন্ম হবে। এমতাবস্থায় মাসআলা হল ঐ বাচ্চা ভূমিষ্ঠ না হওয়া পর্যন্ত মৃত ব্যক্তির কোন মাল-সম্পদ বন্টন ও ভাগ বাটোয়ারা করা যাবে না। বাচ্চার জন্মের পর সে ছেলে না মেয়ে এটা স্পষ্ট হয়ে তার সরে ফারায়েয করতে হবে। অথচ এদিকে মোটেই নযর দেয়া হয় না। অনুরূপ ভাবে ওয়ারিসদের মধ্যে যদি কোন নাবালেগ থাকে তাহলে মৃত ব্যক্তির মাল এজমালি ভাবে খরচ করা যাবে না। কেননা তাতে ঐ নাবালেগেরও অংশ রয়েছে।