বারই রবীউল আউয়ালে আমাদের করণীয়
Question
১২ই রবীউল আউয়াল নবী করীম ﷺ এর জন্ম দিবস এবং মৃত্যু দিবস। সুতরাং বুঝা যাচ্ছে যে দিনটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ তাই এই মাসে বা এই দিনে শরী‘আতের পক্ষ থেকে আমাদের কিছু করণীয় আছে কি? যদি থাকে তাহলে সেই কর্মসূচি কি?
Answer
একথা ঠিক যে, ইসলামী শরী‘আত কর্তৃক কতিপয় সময়কে মুবারাক ও ফযীলতপূর্ণ ঘোষণা করা হয়েছে, যেমন শবে বারা‘আত, শবে কদর, আশুরা ও আরাফার দিন ইত্যাদি। হাদীসের মধ্যে এসব দিন বা রাতের করণীয় আমল এবং তার অনেক ফযীলত বর্ণিত হয়েছে। কিন্তু লাইলাতুল মিরাজ, রবীউল আউয়াল ইত্যাদির ব্যাপারে করণীয় আমল এবং ফযীলত কিছুই বর্ণিত হয় নেই। লাইলাতুল মিরাজটি লাইলাতুল কদরের মত প্রতি বৎসর হয় না, নবী ﷺ এর জীবনে মাত্র একবারই হয়েছিল। তার আগে কোন দিন হয় নেই, পরে ও কোনদিন হবে না। এখন অনেকে এদিনে রোযা রাখে এবং বিভিন্ন অনুষ্ঠান করে আবার রাতে ইবাদাত করে, অথচ শরী‘আতের পক্ষ থেকে এ ব্যাপারে কোন নির্দেশ দেয়া হয় নেই। সুতরাং আমরা এদিনে যা কিছু করছি তা সবই মনগড়া এবং দ্বীনের মধ্যে নতুন সংযোজন। এর অর্থ এই দাঁড়ায় যে এদিনের জন্য শরী‘আতের পক্ষ থেকে কর্মসূচী দেয়া দরকার ছিল, কিন্তু শরী‘আত যেহেতু কোন কর্মসূচী বা করণীয় দেয় নেই তাই আমরা নিজের ইচ্ছামত কিছু কর্মসূচী বানিয়ে শরী‘আতের উপর দয়া করলাম। (নাউযুবিল্লাহ)। এটা কত বড় জঘন্য অপরাধ যে মানুষ নিজের পক্ষ থেকে বিধান দিতে শুরু করেছে এবং স্বঘোষিত বিধানদাতা সেজেছে। শরী‘আতে এ ধরনের কাজকেই বিদ‘আত বলা হয়।
অনুরূপভাবে ১২ই রবীউল আউয়াল এমন একটি দিন যে দিনের ফযীলত সম্পর্কে কোন আয়াত বা হাদীস পাওয়া যায় না। নবীয়ে কারীম ﷺ এর আমল থেকে ঐ দিনের বিশেষ কোন কর্মসূচী বা দিক নির্দেশনাও পাওয়া যায় না। এমন কি খুলাফায়ে রাশেদীন নবী করীম ﷺ এর পরে দীর্ঘ ৩০ বৎসর পর্যন্ত খেলাফতের দায়িত্ব পালন করেছেন। তাদের এ দীর্ঘ সময়ের মধ্যে ১২ই রবীউল আউয়ালে কোন অনুষ্ঠান বা ভিন্ন কোন আমলের প্রমাণ পাওয়া যায় না। তাহলে তাদের অন্তরে কি নবীপ্রেম আমাদের চেয়েও কম ছিল? মোটেও না, কেননা তারা তো নবী করীম ﷺ এর জন্য নিজের জান ও নির্দিধায় কুরবানী করতে প্রস্তুত ছিলেন, আমরা তো নিজের স্বার্থটাও ছাড়তে পারি না। রাসূলে পাক ﷺ এর জন্ম বা মৃত্যু দিবসে মুমিনের দিলে আবেগ সৃষ্টি হওয়া স্বাভাবিক, কিন্তু মুমিন সেই আবেগকে ইচ্ছামত কাজে লাগাতে পারে না। কেননা সেটা তাহলে বিদ‘আতে পরিণত হয়ে যায়। বরং নবী ﷺ এর মহব্বতকে নবী থেকে বর্ণিত পদ্ধতিতেই প্রকাশ করতে হবে। তাহলে সেটাই হবে সুন্নাত এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির কাজ। মোট কথা হলো শরী‘আতে আবেগ ও জযবার কারণে মনগড়া কোন কিছু করার সুযোগ নেই। আবেগকে কন্ট্রোল করে শরী‘আতের হুকুম অনুযায়ী চলতে হবে। নবী ﷺ এর সুন্নত ও তার আদর্শের আলোচনা এবং তার উপর বেশী বেশী দরুদ শরীফ পড়া মুমিনের আত্মার খোরাক এবং তার পাথেয়। শরীরের খোরাক প্রতিদিন দিতে হয়, বৎসরে একবার দিলে চলে না। ঠিক তেমনি ভাবে আত্মার খোরাক ও প্রতিদিন দিতে হয়। কাজেই নবী ﷺ এর জীবন ও আদর্শের আলোচনা এবং দরুদ শরীফ এমন কোন জিনিস নয় যে, একমাস করলেই দায়িত্ব পালন হয়ে গেল। এটাতো বার মাসই করতে থাকতে হবে। এ ব্যাপারে রবীউল আউয়াল ও অন্য মাসের মধ্যে কোন পার্থক্য নেই। সুতরাং যারা সব মাসেই নবীর আদর্শের আলোচনা করে, শোনে, আমল করে, বেশী বেশী দরুদ শরীফ পড়ে তারা রবীউল আউয়ালেও করবে। আর যারা অন্য মাসে এগুলোর কিছুই করে না শুধু এ মাসেই করে, এটা তাদের পক্ষ থেকে দ্বীনের মধ্যে নব আবিষ্কার। ইসলামী শরী‘আতে এগুলো বিদ‘আত ও গর্হিত কাজ। (আশরাফুল জওয়াব- ১২৭)