একটি সুন্নত পালনে একশত শহীদের সাওয়াব এর ব্যাখ্যা

মুফতী মীযানুর রহমান কাসেমী সাহেব (রাহমানিয়া)১০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫দাওয়াত ও তাবলীগ

প্রশ্ন

তাবলীগ জামা‘আতের ভাইয়েরা বলে থাকেন, আদনা থেকে আদনা একটি সুন্নতের পায়রবী করলে, একশত শহীদের সওয়াব পাওয়া যায়। কথাটি কতটুকু যথার্থ?

উত্তর

একেকটি সুন্নত পালনে অনেক সাওয়াব রয়েছে। তাছাড়া এতে মহানবী ﷺ এর প্রতি ভালবাসা প্রকাশ পায়। আর মহানবী ﷺ এর প্রতি ভালবাসা নিঃসন্দেহে জান্নাত লাভের ওসীলা। কিন্তু একশত শহীদের সাওয়াব পাবার জন্য শুধু মাত্র ১টি সুন্নত পালন যথেষ্ট নয় বরং ফেতনা-ফাসাদের যুগে পূর্ণ দ্বীনের উপর তথা পূর্ণ সুন্নতী জীবনের উপর টিকে থাকার দ্বারা এ ফযীলত অর্জিত হবে। এ সম্পর্কিত বাইহাকী থেকে মিশকাতে বর্ণিত হাদীসটি হলোঃ হযরত আবু হুরাইরা রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেন, যে ব্যক্তি আমার উম্মতের ফাসাদের যুগে আমার তথা আমার তরীকা আঁকড়ে ধরবে, তার বিনিময়ে একশত শহীদের সাওয়াব পাবে। আলোচ্য হাদীসে আমার সুন্নতকে শব্দটি দ্বারা পূর্ণ দ্বীন উদ্দেশ্য। একটি সুন্নত উদ্দেশ্য নয়। এ হাদীস দ্বারা বুঝানো হয়েছে যখন উম্মতের মাঝে ফেতনা-ফাসাদ, অজ্ঞতা শিরক-বিদ‘আত ছড়িয়ে পড়বে তখন যেহেতু দ্বীনের উপর চলা কঠিন, সে মুহূর্তে দ্বীনের উপর চলাতে দ্বীনের জন্য শাহদাত বরণ করার মতোই সাওয়াব হবে। এ হাদীসটিতে চরম প্রতিকুল পরিস্থিতিতে দ্বীনের উপর আমলের ফযীলত বর্ণিত হয়েছে। মোটকথা আদনা একটি সুন্নতের ব্যাপারে এ হাদীসটি প্রযোজ্য হবে না। তবে প্রত্যেক সুন্নত পালনেই বিশেষ সাওয়াব ও মর্তবা রয়েছে। যেমন সুন্নত পালনে রাসুল ﷺ এর অনুসরণ করা হয় আর এর বিনিময়ে রয়েছে জান্নাত। আরেক হাদীসে বর্ণিত হয়েছে "আমার জীবন ব্যবস্থার যে কোন একটি সুন্নত যা ইতিমধ্যে বন্ধ হয়ে গিয়েছিল, তার উপর যে ব্যক্তি আমল করল বা পূর্ণ রূপে চালু করল, তার কারণে যত লোক সেই সুন্নতের উপর আমল করবে সেই সমস্ত লোকের আমলের সমপরিমাণ সাওয়াব উক্ত ব্যক্তিকে দেয়া হবে। আর উক্ত আমলকারীদের সাওয়াবে কোন কমতি করা হবে না। (মিরকাত, শরহে মিশকাত ১, ২৪৫, ২৫০ তিরমিজী)