ঈদের নামাযে ত্রুটি
প্রশ্ন
ঈদের নামাযের কতিপয় ত্রুটিসমূহ জানতে আগ্রহী।
উত্তর
ঈদের নামাযের ব্যাপারেও বেশ কয়েকটি ত্রুটি দেখতে পাওয়া যায়। এগুলিরও সংশোধন হওয়া প্রয়োজন।
(১) অনেক লোক এই নামাযের নিয়মই জানে না, এতটুকু তাওফীকও হয় না যে, সপ্তাহ খানেক আগে থেকে মুখস্ত করতে থাকবে। যখন নামায শুরু হয় তখন ভুল হয়ে নামাযটা বরবাদ হয়ে যায়।
(২) অনেক জায়গায় দেখা যায় বেশ দেরীতে ঈদের জামা‘আত অনুষ্ঠিত হয়। অথচ সুন্নত হচ্ছে সকাল সকাল আদায় করা।
(৩) অনেক জায়গায় ঈদের ইমাম-খতিব জাহেল হয়। বাপ-দাদার আমল থেকে তারা ইমামতি করে আসছে এই দাবীতে সেও ইমাম হয়ে আসে। অনেক খতীব তো এমন জাহেল হয় যে, খুতবা আর সুরা পর্যন্ত সহীহ করে পড়তে পারে না। নামাযে যদি উল্টা-পাল্টা হয়ে যায় যার মাসআলা জানা নেই, তখন সে কি করবে?
(৪) অনেকে নিজের বাহাদুরী আর বড়ত্ব দেখানোর জন্য সকলের সাথে ঈদগাহে না যেয়ে নিজের মহল্লার মসজিদে ইমাম হয়ে নামায পড়ায়। নিজের ইমামগিরী দেখানোর জন্য স্পষ্ট হাদীস ছেড়ে খাহেশাতের উপর আমল করে।
(৫) আরো একটি ভুল হল, ঈদের সময় অনেক লোকেই এমন পোশাক পরে বা বাচ্চাদেরকে পরিধান করায় যা শরী‘আতে নিষিদ্ধ। এধরনের লেবাস হারাম হওয়ার সাথে সাথে নামায ও তো কবুল হয় না।
(৬) কাতারগুলি খুবই ব্যাকা ত্যাড়া হয়। অথচ কাতার সোজা করার জন্য কঠোর তাকীদ এসেছে।
(৭) আরো একটি ভুলে হলো খুতবা শোনার প্রতি কোন গুরুত্ব দেয়া হয় না। মনে করে নামায পড়লেই সব শেষ হয়ে গেল। শ্রোতাদের যদি এই মনোভাব হয় তাহলে খতীব সাহেব খোতবা দিবেন কাদের সামনে। কাদের জন্য? আর অনেকে বসে থাকে ঠিকই কিন্তু কথা-বার্তা, গল্প গুজবে লিপ্ত হয়ে পড়ে। অথচ এটাও গোনাহ।