রোজা অবস্থায় ইনজেকশন নেয়া
প্রশ্ন
রোযা অবস্থায় ইনজেকশন নিলে রোযা ভাংগে কি না জানতে চাই?
উত্তর
রোযা অবস্থায় পেটে অথবা মস্তিস্কে স্বাভাবিক রাস্তা দিয়ে অর্থাৎ নাক, কান, গলা বা পেশাব পায়খানার রাস্তা দিয়ে ইচ্ছা পূর্বক কোন কিছু দাখিল করলে বা দাখিল হলে রোযা ভংগ হয়ে যায়। এটা ওলামায়ে কেরামের সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত। এখন জানার বিষয় হচ্ছে, ইনজেকশনের ঔষধ পেটে বা মস্তিষ্কে পৌঁছে না বরং গোস্তের ভিতর যে ইনজেকশন পুশ করা হয় তার ঔষধ গোস্তের সাথে মিশে যায়। আর রগের ভিতর যে ইনজেকশন পুশ করা হয় তার ঔষধ রক্তের সাথে মিশে রগে রগে চলে যায়। মোদ্দা কথা ইনজেকশনের ঔষধ পেটে বা মস্তিষ্কে পৌঁছে না। বরং গোস্ত বা রগেই থেকে যায়। আর শুধু শরীরে কোন কিছু প্রবেশ করলে বা করালে রোযা ভংগ হয় না। যেমন: অজু বা গোসল করলে অথবা শরীরে তেল মালিশ করলে, পানি ও তেল শরীরে কিছু কিছু প্রবেশ করে। যার কারণে গরমের সময় গোসল করলে ঠাণ্ডা লাগে। অনেক সময় ক্ষুধাও নিবারন হয়ে যায়। এমনকি হুজুর ﷺ নিজেও অধিক গরমের সময় রোযা অবস্থায় শরীর ঠাণ্ডা করার জন্য ভিজা কাপড় মাথায় দিয়ে রাখতেন। মাথার রগের সাথে যেহেতু শরীরের সমস্ত রগের সম্পর্ক রয়েছে, তাই মাথা ঠাণ্ডা হওয়ার কারণে সমস্ত শরীর ও ঠাণ্ডা হয়ে যায়। কিন্তু এগুলো যেহেতু মস্তিস্কে বা পেটে কুদরতী রাস্ত, দিয়ে পৌঁছে না তাই এর দ্বারা রোযা ভঙ্গ হয় না। এমনি ভাবে ইনজেকশনের ঔষধের দ্বারা যদিও অনেক সময় ক্ষুধা নিবারণ হয় কিন্তু ইনজেকশনের ঔষধ যেহেতু স্বাভাবিক রাস্তা দিয়ে পেটে বা মস্তিষ্কে পৌঁছে না বরং গোল্ডের ভিতর বা রগের ভিতরই থাকে। অতএব, ইনজেকশনের দ্বারাও রোযা ভঙ্গ হবে না। এবং রোযার কোন প্রকার ক্ষতি ও হবে না। (প্রমাণ: আলমগীরী খণ্ড: ১, পৃঃ ২০৩-২০৪/ শামী: খণ্ড ২, পৃষ্ঠা ৩৯৬ খুলাসাতুল ফাতওয়া খণ্ড, ২, পৃঃ ২৫৩/ মারাকিল ফালাহ ৫০৩, ইমদাদুল ফাতওয়া খণ্ড-২ পূঃ ১৪৬ আহসানুল ফাতওয়া। ফাতওয়া মাহমুদিয়া ৩: ১৪৪)