শখ করে কুকুর পোষা

মুফতী মীযানুর রহমান কাসেমী সাহেব (রাহমানিয়া)৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫কুফর শিরক বিদ‘আত কুসংস্কার অপসংস্কৃতি

প্রশ্ন

আজকাল অনেকে শখ করে বাড়ীতে দেশী-বিদেশী কুকুর পালে এবং তার জন্য অনেক পয়সা খরচ করে, আবার অনেকে ঘর সাজানোর জন্য কুকুর বা অন্য প্রাণীর ছবি ও মূর্তি রাখে। শরী‘আতের দৃষ্টিতে এগুলির হুকুম কি?

উত্তর

আমাদের দেশের তথাকথিত আধুনিকতাবাদীদের কুকুর প্রীতির সৌখিন স্টাইল মূলতঃ পশ্চিমা বন্য সভ্যতা হতে আমদানীকৃত। মহানবী ﷺ এর আবির্ভাবের পূর্বে জাহেলিয়াতের যুগে আরবদেরও একটি অপসংস্কৃতি ছিল এই কুকুর প্রীতি। কিন্তু মানুষ মাত্রেই অবগত যে কুকুরের চরিত্রে স্বভাবগত ভাবেই কি পরিমাণ খারাপ গুণাবলী বিদ্যমান, যেমন নোংরামী, হিংসা, বিশেষতঃ স্বজাতির প্রতি তার চরম বিদ্বেষ ও শত্রুতা সর্বজন বিদিত। বর্তমানের পাশ্চাত্য সমাজ কুকুর প্রীতির এমন নিকৃষ্টতম পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, কুকুরের ন্যায় নোংরা জানোয়ার তাদের অনেক মহিলাদের যৌন ক্ষুধা নিবারণ করে থাকে। সেসব দেশে অনেক ক্ষেত্রেই দেখা গেছে যে, কুকুরের প্রতি অত্যাধিক ভালবাসার পরিণানে একজন বিবাহিত নারীর নিকট বাড়ীর পোষ্য কুকুরটিই স্বামীর চেয়ে বেশী প্রিয় হয়ে উঠেছে। এই পশু সভ্যতার অন্ধ অনুকরণে আমাদের এই মুসলিম দেশের অভিজাত (?) এলাকার অনেক বড় লোকদেরকে কুকুর নিয়ে স্বগর্বে ঘরে বেড়াতে দেখা যায়। কুকুরের নোংরামীর কারণেই ইসলাম কখনই কুকুর প্রীতির এই নোংরামীকে সমর্থন করেনি। বরং তৎকালের নব্য মুসলিম আরবদের অন্তর হতে কুকুর প্রেম উৎপাটনের উদ্দেশ্যে মহানবী ﷺ আল্লাহ তা‘আলার ওহী আসার পর প্রথমে সাহাবায়ে কেরামকে কুকুর দেখলেই হত্যার নির্দেশ দেন। সাথে সাথে কুকুর পালনের অন্যতম একটি দ্বীনী ক্ষতির কথা উল্লেখ পূর্বক বলেন “যে ঘরে কুকুর বা প্রাণীর মুর্তি কিংবা ছবি থাকে; সেখানে রহমতের ফেরেশতাগণ প্রবেশ করেন না”। তিনি আরো ইরশাদ করেন; যে ব্যক্তি শিকার বা পাহারাদারির উদ্দেশ্য ব্যতিরেকে (শুধুমাত্র সৌখিনতা বশত) কুকুর প্রতিপালন করবে, প্রতিদিন তার আমলের একটি বিরাট অংশ নষ্ট হয়ে যাবে। বলা বাহুল্য নেক আমল কোন বড় ধরনের গুনাহের কারণেই নষ্ট হয়ে থাকে।

সুতরাং বুঝা গেল শরী‘আত সম্মত উষর ব্যতীত কুকুর পালন করাই যখন গুনাহ তখন কুকুরের প্রতি ভালবাসা পোষণ যে কত বড় জঘন্য অন্যায় তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। অনুরূপ ভাবে মূর্তি বানানো, প্রাণীর ছবি অংকন করা, এবং এগুলি দ্বারা ঘর সজ্জিত করা ও ইসলামে নিষিদ্ধ। মহানবী ﷺ এ ব্যাপারে সতর্ক উচ্চারণ পূর্বক উল্লেখ করেন, “আল্লাহ তা‘আলার নিকট সবচেয়ে কঠিন শাস্তি প্রাপ্ত হবে প্রাণীর মূর্তি নির্মাতা ও প্রাণীর ছবি অংকন কারীরা”। অন্য এক হাদীসে উল্লেখ আছে, কিয়ামতের দিন তাদের নির্মিত মূর্তি বা ছবিতে রূহ দিতে বলা হবে, আর যতক্ষণ না তারা তাতে রুহ স্থাপন করতে পারবে, ততক্ষণ তাদের শাস্তি হতে থাকবে, কিন্তু তারা কখনো রুহ স্থাপনে সক্ষম হবে না। হযরত আয়িশা রা. বর্ণনা করেন, মহানবী ﷺ ছবি স্থাপিত বা অংকিত কোন কাপড় বা বস্তু ঘরে পেলে তা ভেঙ্গে ফেলতেন, ছিড়ে ফেলতেন বা নষ্ট করে ফেলতেন। এ জন্য কোন স্থানে প্রাণীর মূর্তি স্থাপন বা ছবি টাংগানো সম্পূর্ণ হারাম। ঘর যদি সাজাতেই হয় তাহলে ফুল, ঝর্ণা, গাছ পালা বা প্রাকৃতিক দৃশ্য সম্বলিত ছবি এবং ক্যালিওগ্রাফি দ্বারা সাজাতে কোন নিষেধাজ্ঞা নেই। (ফাতওয়ায়ে মাহমুদিয়া-৫। ১৮৮ পৃঃ)।

শখ করে কুকুর পোষা | ইসলামী যিন্দেগী