হাদীসে কি তাবীজ ঝুলাতে নিষেধ করা হয়েছে?

মুফতী মীযানুর রহমান কাসেমী সাহেব (রাহমানিয়া)৩০ এপ্রিল, ২০২৫কুফর শিরক বিদ‘আত কুসংস্কার অপসংস্কৃতি, তাবীজ-কবচ তাদবীর

প্রশ্ন

একটি দোকানে দেখি একটা কাগজ ঝোলানো, তাতে লেখা আছে, যে ব্যক্তি গলায় তাবীজ ঝুলালো সে শিরক করল। তার নীচে মুসনাদে আহমাদের উব্দৃতি দিয়ে হাদীস লেখা যে ব্যক্তি তাবীজ লটকালো সে শিরক করল। প্রশ্ন হল, এই কথাটি কি ঠিক, এই হাদীসের মতলবই বা কি?

উত্তর

আলোচ্য হাদীসটি সহীহ। কিন্তু এখানে তাবীজ দ্বারা সব ধরনের তাবীজ বুঝানো হয়নি বরং জাহেলিয়াতের যুগে কুফরী কালাম সম্বলিত যে তাবীজ ব্যবহাব করার প্রচলন ছিল তা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। সম্পূর্ণ হাদীসটি সামনে রাখলে এই মতলব স্পষ্ট হয়ে ওঠে। হাদীসটি হচ্ছে নিম্নরূপ: হযরত উকবা ইবনে আমের জুহানী রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলে আকরাম ﷺ এর খেদমতে এক দল লোক বাইয়াত হওয়ার জন্য হাজির হল। রাসুলুল্লাহ ﷺ তাদের নয় জনকে বায়আত করালেন আর একজনকে করালেন না। এর কারণ জিজ্ঞাসা করা হলে ইরশাদ করলেন, সে তাবীজ ঝুলিয়ে রেখেছে। এ কথা শুনে উক্ত ব্যক্তি তাবীজ ছিড়ে ফেলল। রাসুলুল্লাহ ﷺ তাকে বাইয়াত করলেন এবং ইরশাদ করলেন, যে তাবীজ লটকালো সে শিরক করল। (মাজমাউয যাওয়ায়েদ ৫/১০৩)

এর দ্বারা বুঝা গেল যে, এখানে যে কোন তাবীজ বুঝানো হয় নেই বরং জাহেলিয়াতের তাবীজ বুঝানো হয়েছে। কেননা জাহেলিয়াতের যুগে গণকরা শয়তানের সাহায্য পাওয়ার শব্দ দিয়ে তাবীজ লিখে দিত। (আপকে মাসাইল-১/৩৫১)