কোন পীরের নিকট বাইয়াত হওয়া কি জরুরী

মুফতী মীযানুর রহমান কাসেমী সাহেব (রাহমানিয়া)১১ মার্চ, ২০২৫আত্মশুদ্ধি

প্রশ্ন

পীরের হাতে বাইয়াত হওয়া কি প্রত্যেক মুসলমানের জন্য জরুরী? পীর ধরলে পরকালে নাজাতের জন্য কোন সহায়ক হবে কি?

উত্তর

আল্লাহর প্রিয় বান্দা হওয়ার জন্য প্রয়োজন হল ঈমান-আকীদা দুরস্ত করে নিয়মিত ও যথারীতি ইবাদত-বন্দেগী করা, গুনাহ থেকে বেঁচে থাকা এবং আত্মশুদ্ধি অর্জন করা। তবে যেহেতু এসব ব্যাপারে কামেল পীরের পরামর্শ মত চললে আমল করা সহজ হয় এবং বিশেষ ফয়েয ও বরকত পাওয়া যায়, তাই সুযোগ্য কোন কামেল পীর-বুযুর্গের সাথে সম্পর্ক রেখে তার থেকে নিজের আত্মশুদ্ধির জন্য সবক নেয়া খুবই জরুরী। তবে পীর সাহেব থেকে পরামর্শ বা সবক নেয়ার জন্য তার হাতে হাত রেখে মুরীদ হওয়া জরুরী নয়, বরং মুস্তাহাব। কিন্তু আত্মশুদ্ধির জন্য কোন আল্লাহ ওয়ালার সাথে সম্পর্ক রাখা জরুরী। বর্তমানের চতুর্মুখি ফিৎনার যুগে কোন বুযুর্গের সাথে সম্পর্ক ব্যতীত আত্মশুদ্ধি অর্জন করা দুরূহ ব্যাপারই বটে।

শারীরিক রোগের জন্য চিকিৎসা করা সুন্নাত কিন্তু দিলের রোগ তথা রিয়া, অহংকার ও দুনিয়ার মহব্বত ইত্যাদির চিকিৎসা করা এবং দিলের মধ্যে ভাল গুণ অর্জন করা তথা রাসূলে আকরাম ﷺ এর মহব্বত, শরী‘আতের হুকুম আহকামের পাবন্দি, সবর, শোকর, ইখলাস ইত্যাদি অর্জন করা ফরয। দিলের রোগের চিকিৎসা না হলে রিয়া, অহংকার, লোভ-লালসা ইত্যাদির কারণে সারা জীবনের আমল বরবাদ হয়ে যেতে পারে।

মোট কথা হল, আল্লাহ ওয়ালাদের সংস্পর্শ ও সাহচর্য্য অবলম্বন করার জন্য স্বয়ং আল্লাহ তা‘আলা নির্দেশ দিয়েছেন। এটা অমান্য করে কেউ একা একা হয়ত অনেক নফল, যিকির আযকার ইত্যাদি করতে পারে কিন্তু মুরব্বী বা রাহবার না থাকায় রিয়া-অহংকার ইত্যাদির কারণে তা সবই বরবাদ হয়ে যেতে পারে। কোন পীর, শাইখের সংসর্গে থাকা যে জরুরী তাতে কোন সন্দেহ নেই, তবে বর্তমান ফিৎনা ফাসাদের যুগে হক্কানী পীর পাওয়া আরো বেশী দুরুহ। অনেক মানুষ খাঁটি নিয়তে ভণ্ড পীরের খপ্পরে পড়ে ঈমান- আমল বিনষ্ট করে ফেলছে। তাই এ ব্যাপারে চরম সতর্কতা অবলম্বন করা জরুরী। কোন পীরের সাথে সম্পর্ক রাখলে ঈমান-আমলের তারাক্কী হবে সে সম্পর্কে হক্কানী উলামাদের সাথে পরামর্শ করে নেয়া উত্তম। (খাইরুল ফাতাওয়া-১-৩৬১, আল ইলমু ওয়াল উলামা-১৮৭)

কোন পীরের নিকট বাইয়াত হওয়া কি জরুরী | ইসলামী যিন্দেগী