নামাযের ব্যাপারে মহিলাদের ত্রুটি
প্রশ্ন
নামাযের ব্যাপারে মহিলাদের ত্রুটিসমূহ জানতে আগ্রহী।
উত্তর
সকল মহিলারই মাসের কয়েকটি দিন নাপাক থাকতে হয়। এই সময়ের আহকাম না জানার দরুন অনেক দ্বীনদার, নামায-কালামের পাবন্দ মহিলাদের নামাযও নষ্ট হয়ে যায়। কেননা মহিলাদের জন্য হুকুম হচ্ছে হায়েযের রক্ত যখন একেবারে বন্ধ হয়ে যাবে তখন যদি নামাযের আখেরী ওয়াক্ত হয় এবং এতটুকু সময় বাকী থাকে যে, কোন রকমে গোসল করে কাপড় পড়ে "আল্লাহু আকবার" বলা পরিমাণ সময় বাকি থাকে তাহলে সেই ওয়াক্তের নামায ঐ মহিলার উপর ফরয হয়ে গেল। তখন যদি আদায় করতে না পারে তাহলে পরে অবশ্যই কাযা করতে হবে। আর যদি বেশ কিছু সময় বাকি থাকে তাহলে তো ওয়াক্তের মধ্যেই পড়ে ফেলতে হবে। কাযা করলেও গোনাহ হবে। অথচ মহিলাদের মধ্যে এ ব্যাপারে খুবই উদাসীনতা দেখা যায়। প্রথমতঃ এটারই খবর থাকে না যে হায়েয কোন সময় বন্ধ হচ্ছে, হতে পারে সেটা নামাযের কোন আখেরী ওয়াক্তে বন্ধ হল যখন গোসল করে তাকবীরে তাহরীমা বলা পর্যন্ত সময় পাওয়া যেত, পরে সেই নামাযটাকে কাযা করতে হত। কিন্তু খবর না রাখার দরুণ ঐটার কাযা আর করা হয় না। দ্বিতীয়তঃ রক্ত বন্ধ হওয়ার পরেও অনেকে গড়িমসি করে কয়েক ওয়াক্ত নামায জলাঞ্জলী নিয়ে বসে।
মনে করুন কোন মহিলার মাগরিবের ১৫/২০ মিনিট আগে রক্ত বন্ধ হয়ে গেল, এখন তার জন্য জরুরী হল তখনই গোসল করে নামায শুরু করে দেয়া। কিন্তু এরকম মহিলা হাজারে একজনও পাওয়া যাবে কিনা সন্দেহ, যে দুপুরে গোসল করার পরে সন্ধায় আবার গোসল করবে। বরং ঐ অবস্থায় থাকবে, পরের দিন দুপুরে গোসল করবে। এতে কি হল। আসর, মাগরিব, ইশা, ফজর এই চার ওয়াক্ত নামায কাযা হয়ে গেল। কিন্তু গজবের কথা হল এই কাযাটাকেও আবার অনেকে আদায় করে না। তারা মনে করে যখন গোসল করে পাক হলাম তখন থেকে নামায পড়তে হবে। এভাবে প্রতি মাসে তাদের যিম্মায় কয়েক ওয়াক্ত করে নামায জমে যাচ্ছে। প্রতি মাসে যদি তিন ওয়াক্ত নামায এভাবে জমে তাহলে বছরে ৩৬ ওয়াক্ত হয়। আর ত্রিশ বছরে এক হাজারের বেশি হয়ে যাচ্ছে। জীবীত থাকতে তো কাযা করলই না, মৃত্যুর সময় ফিদইয়া দেয়ার জন্যও ওসিয়ত করে গেল না। তাহলে কিয়ামতের জন্য তারা কি জবাব তৈরী করে রেখেছেন? এর পরেও তারা যদি এই ভেবে খুশি হন যে, আমরা তো বেশ নামাযী, আমাদের মত কে আছে আর। তাহলে এর চাইতে বড় বেওকুফী আর কি হতে পারে। কিয়ামতের ময়দানে এই ভুল যখন ভাঙ্গবে তখন উপায় কি হবে?
সংশোধন
এসবের সংশোধনের জন্যও ঐ পন্থা অবলম্বন করতে হবে যা উপরে বলা হয়েছে। অর্থাৎ নামায ত্যাগ করার শাস্তির কথা চিন্তা করতে হবে এবং নিজের উপর কিছু জরিমানা বসাতে হবে। শরী‘আতের যে সব হুকুম আহকাম জানা নেই, সেগুলি জানার চেষ্টা করতে হবে।
মহিলাদের জন্য জানার যেহেতু তেমন একটা সুযোগ থাকে না তাই পুরুষদের উপর ওয়াজিব হল নিজের মা-বোন, স্ত্রী-কন্যাদেরকে এসব মাসআলা জানাতে থাকবে। যেটা জানা নেই সেটা আলেমদের নিকট থেকে শুনে বলতে হবে। মহিলাদের জন্য ওয়াজিব হল যখন যে অবস্থা সামনে আসে তা ঘরের পুরুষদের নিকট তুলে ধরে আলেমদের নিকট থেকে তার জবাব জেনে আসতে বলবে। ঘরের পুরুষরা যদি এ ব্যাপারে গাফেল হয় সময় না দেয় তাহলে অন্য কারো মাধ্যমে জেনে নিতে হবে। কেউ যদি সময় না দেয় তাহলে নিজে আলেমদের নিকট যেয়ে জেনে নেবে। নইলে গোনাহগার হতে হবে।
জরুরী মাসআলা মাসাইল জানার জন্য যখন বাইরে যেতে হবে তখন স্বামী যদি নিষেধ করে তাহলে তার এই নিষেধ মানাও জায়েয হবে না। যদি লিখতে জানে তাহলে যাওয়ার প্রয়োজন নেই। চিঠি লিখে মাসআলা জেনে নেবে। এসব ঐ সময় যখন পরিবারের কোন পুরুষ তাকে মাসআলা না বলে। নতুবা স্বামীর অনুমতি ছাড়া কারো কাছে চিঠি লেখা, কোথাও যাওয়া জায়েয নেই।
অনেক মহিলার পাবন্দি না করার কারণ এটাও থাকে যে, সে আল্লাহর ভয়ে ইবাদাত করে না, লোক লজ্জার কারণে করে থাকে। মাসে কয়েক দিন না পাক থাকার সুযোগে সে নামাযের মধ্যে অলসতা শুরু করে দেয়, কেননা তখন তো আর কারো কিছু বলার অবকাশ থাকে না। এই জন্য আল্লাহর ভয় পয়দা করার সাথে সাথে আরো একটা বাহ্যিক তদবীর অবলম্বন করার কথা ফুকাহায়ে কেরাম উল্লেখ করেছেন, সেটা হল হায়েয চলাকালীন অবস্থায়ও মহিলাদের জন্য উত্তম হল উযূ করে নামাযের সময়ে জায়নামাযে যেয়ে বসবে এবং অল্প কিছু সময় যিকির আযকারে লিপ্ত থাকবে। এর দ্বারা নামায পড়ার অভ্যাসটা বহাল থাকবে। কয়েকদিন ছুটে যাওয়ার কারণে যে অলসতা আসে সেটা আর আসবে না।