এন. জি ও. গুলি ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানীর মত কাজ করছে
প্রশ্ন
উলামাগণ সাধারণতঃ বর্তমান অমুসলিমদের তত্তাবধানে পরিচালিত এনজিওগুলোকে ভারতবর্ষের তদানীন্তন কালের ইস্ট ইন্ডিয়া। কোম্পানীর সাথে তুলনা করে থাকেন। এর কারণ কি?
উত্তর
ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানীর সাথে বর্তমান এনজিওদের সবদিক দিয়ে মিল ও সামঞ্জস্য রয়েছে। যেন একই গাছের ২টি মাকাল ফল-যার উপরি ভাগের দৃশ্য কতই না সুন্দর মনোরম, আর ভিতরের অবস্থার দিকে একটু দৃষ্টি পড়লেই রুচি নষ্ট হয়ে যায়। সেই সামঞ্জস্যের কয়েকটি দিক নিম্নে পেশ করা হলো:
১. ইস্ট ন্ডিয়া কোম্পানী এসেছিল বাণিজ্যের নামে, উদ্দেশ্য ছিল দেশের কর্তৃত্ব দখল। এনজিওরা এসেছে শিক্ষা ও সেবার মুখোশ পরে, উদ্দেশ্য এদেশের কর্তৃত্ব দখল।
২. ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানী স্থানে স্থানে কুঠি তৈরি করেছিল। সেগুলো পরে অস্ত্রাগার ও সেনা ছাউনীতে রূপান্তরিত করেছিল। এনজিও'রা ও দেশের বিভিন্ন স্থানে কুঠি তৈরি করেছে। এনজিও কর্মীরা এসকল কুঠিতে থাকে। নিচ তলায় পুরুষ এবং উপর তলায় মহিলা কর্মীরা। সেখানকার পরিবেশ ও হাবভাব বড়ই সন্দেহজনক।
৩. ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানী বিভিন্ন প্রলোভনের মাধ্যমে বড় বড় এলাকায় তাবেদার তৈরি করেছিল। যেমন: জগৎ শেঠ, উর্মিচাঁদ ও মানিকচাঁদ। এনজিওরাও এদেশে তাদের তাবেদার শ্রেণী তৈরি করার জন্য ধনাঢ্য, বুদ্ধিজীবি ও বিভিন্ন বড় বড় পেশার লোকদের প্রলোভন দিয়ে নিজেদের এজেন্ট বানাচ্ছে। আর তারা বিভিন্ন দল উপদল গড়ে তুলছে।
৪. ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানী নবাবদের এবং সরকারী বড় বড় কর্মকর্তাদের বড় বড় পদ ও মোটা অংকের বিনিময়ে খরীদ করেছিল। এন জি ও'রাও আপাততঃ মোটা অংক এবং রিটায়ার্ডের পর এনজিও’র বড় বড় পদের প্রলোভন দেখিয়ে সরকারী কর্মকর্তাদেরকে খরীদ করছে।
৫. ইষ্ট ইন্ডিয়া কোম্পানী নিজেদের সুবিধার জন্য মুসলমানদের চাকুরী না দিয়ে বেছে বেছে বিশেষ গোষ্টির লোকদেরকে চাকুরী দিতো। এন জি ওরাও প্রায় নাস্তিক, খৃস্টান, বামপন্থী নেতা ও ছাত্রসংগঠনের বিশেষ বিশেষ সদস্য, হিন্দু বা হিন্দু মনোভাবাপন্ন মুসলমানদেরকে চাকুরী দিচ্ছে।
৬. ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানী ব্যবসার নামে শোষণ করেছিল। এনজিওরাও ২০% থেকে ৬০% হারে সুদ নিয়ে শোষণ করছে। কেউ সময় মত ঋণ পরিশোধে অপারগ হলে, 'মানবাধিকার লংঘনের পর্যায়ের নির্যাতন চালাচ্ছে।
৭. ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানী গরীব কৃষকদের নিজেদের স্বার্থে নীল চাষে বাধ্য করেছিল, এনজিও’রাও নিজেরা লাভবান হওয়ার জন্য গরীব লোকেদের দ্বারা তুঁত গাছের চাষ করাচ্ছে।
৮. ইষ্ট ইন্ডিয়া কোম্পানী বহু স্থানে জায়গা খরীদ করেছিল, এনজিও’রাও দেশের বিভিন্ন স্থানে এযাবৎ বহু জায়গা খরীদ করেছে যার হিসাব সম্ভবতঃ সরকার ও রাখেনা।
৯. ঔপনিবেশিক কোম্পানী ধর্মীয় মূল্যবোধ খতম করার জন্য মাদরাসাগুলো বন্ধ করেছিল এবং উলামাগণকে ওহাবী, ধর্ম ব্যবসায়ী, ইত্যাদি আখ্যা দিত। এন জি ও'রাও ধর্মীয় মূল্যবোধ খতম করার লক্ষ্যে উলামা সমাজকে হেয় প্রতিপন্ন করার জন্য তাদেরকে ধর্মান্ধ, ধর্ম ব্যবসায়ী এবং ফাতওয়াবাজ আখ্যা দিচ্ছে।
১০. ইষ্ট ইন্ডিয়া কোম্পানীর খুঁটি ছিল ফ্রান্স ইটালী ও বৃটেনে, এনজিও'দের খুঁটিও ফ্রান্স ইটালী, এবং আমেরিকায়। সুতরাং লক্ষ্যও উদ্দেশ্যের দিক দিয়ে ইষ্ট ইন্ডিয়া কোম্পানীও বর্তমান খৃষ্টান মদদপুষ্ট এনজিওর মধ্যে কোন ব্যবধান নেই। এদেশের লোক সমাজ যাতে করে ওদেরকে চিনতে না পারে এবং ওদের কু-মতলব যাতে করে ফাঁস না হয়ে যায়, এজন্য তারা শাড়ী বদল করেছে মাত্র। কিন্তু বউ সেই একটাই। লেবাস বদল করার কারণে আজ অনেকেই না চিনে এদেরকে কল্যাণকর মনে করছে। কিন্তু ভুক্তভোগী উলামায়ে কিরাম ওদের ঠিকই চিনেছেন। তাই তারা শত বাধা-বিপত্তি, জেল-জুলুম বরদাস্ত করেও দেশ ও জাতীয় স্বার্থে দেশবাসীর সামনে ওদের মুখোশ উন্মোচন করে দিয়েছেন। এজন্যই এন জি ও'রা উলামাগণের বিরুদ্ধে দারুণ ক্ষ্যাপা। আর সে কারণেই ওরা উলামাগণকে মৌলবাদী, ফাতওয়াবাজ ইত্যাদি বলে গালী দিচ্ছে। তাদের সাথে এদেশীয় কিছু নির্বোধ, হুজুগী বা দালাল টাইপের লোক পত্র পত্রিকায় আলেম-উলামাগণকে ফাতওয়াবাজ বলছে। এই নির্বোধ বা দালাল অনুচরদের হিদায়াত করা এবং বুঝানো দেশ প্রেমিক সকল নাগরিকের দায়িত্ব। শুধু উলামায়ে কিরামের দায়িত্ব মনে করলে নেহাত ভুল হবে। যা সংশোধন করতে আবারো দুই শত বৎসর সময় লাগবে।