দাজ্জাল এবং দাজ্জালের গাধা কেমন হবে?
প্রশ্ন
কিয়ামতের সময় ঘনিয়ে আসছে। কিয়ামতের পূর্ব মুহূর্তে দাজ্জালের আবির্ভাব হবে। গাধার পিঠে সওয়ার হয়ে সে সারা দুনিয়া সফর করবে। হাদীসের আলোকে দাজ্জাল ও তার গাধা সম্মন্ধে আমরা কিছু জানতে চাই।
উত্তর
দাজ্জালের গাধা সম্মন্ধে বিস্তারিত তেমন কিছু হাদীসের মধ্যে পাওয়া যায় না। মুসনাদে আহমাদে এতটুকু উল্লেখ আছে যে, তার উভয় কানের মধ্যে চল্লিশ হাতের ব্যবধান হবে। মিশকাত শরীফে আছে, তার রং হবে সাদা। তবে দাজ্জাল সম্মন্ধে প্রচুর হাদীস বর্ণিত হয়েছে। এখানে কয়েকটি হাদীসের সংক্ষিপ্ত সার বর্ণনা করা হচ্ছে।
(১) লাল রং ভারী শরীর, বেঁটে, মাথার চুল উদ্বুদ্বুদ্ধ পেচানো, এক চোখ কানা, কপালে লেখা থাকবে কাফ, ফা, রা, অর্থাৎ কাফের। প্রত্যেক মুমিন মুসলমান সেটা পড়তে পারবে।
(২) প্রথমে নবী হওয়ার দাবী করবে। পরে খোদা বলে দাবী করবে।
(৩) তার আত্মপ্রকাশ ঘটবে ইসপাহান-খুরাসান থেকে অতঃপর ইরাক ও সিরিয়ার মধ্যবর্তী এলাকায় দাওয়াত দিতে থাকবে।
(৪) গাধার উপর সওয়ার থাকবে, সত্তর হাজার ইহুদী সৈন্য তার সাথে থাকবে।
(৫) ঝড়ো বাতাসের মত প্রবল বেগে চলতে থাকবে, মক্কা-মদীনা এবং বায়তুল মুকাদ্দাস ছাড়া সারা দুনিয়ায় চষে বেড়াবে।
(৬) মদীনা শরীফে প্রবেশ করার জন্য উহুদ পাহাড়ের পিছনে আস্তানা গাড়বে কিন্তু আল্লাহ তাআলার ফেরেশতারা তাকে মদীনায় প্রবেশ করতে দেবে না। সেখান থেকে শাম অভিমুখে রওয়ানা হবে এবং সেখানেই ধ্বংস হবে।
(৭) এই সময় মদীনা শরীফে তিনটি ভুমিকম্প হবে। মদীনায় যারা মুনাফেক থাকবে তারা ভয়ে বেরিয়ে পড়বে এবং দাজ্জালের সাথে যেয়ে মিলিত হবে।
(৮) যখন বায়তুল মুকাদ্দাসের নিকটবর্তী হবে তখন মুসলমানরা তার সাথে মোকাবেলা করার জন্য বেরিয়ে আসবে, দাজ্জালের বাহিনী তাদেরকে ঘিরে ফেলবে।
(৯) মুসলমানরা বায়তুল মুকাদ্দাসে অবরুদ্ধ হয়ে পড়বে। সেখানে তারা কঠিন পরীক্ষার সম্মুখীন হবে।
(১০) একদিন সকাল বেলা অওয়াজ শোনা যাবে “তোমাদের সাহায্য এসে পৌঁছেছে” এই আওয়াজ শুনে মুসলমানরা বলতে থাকবে সাহায্য কোথেকে আসতে পারে? এটা কোন পেট ভরা মানুষের কথা মনে হয়। জায়েয নাজায়েয তৃতীয় খণ্ড
(১১) ঠিক ঐ সময় যখন ফজরের নামাযের জন্য ইকামাত বলা হয়ে গেছে তখন হযরত ঈসা আ. বায়তুল মুকাদ্দাসের পূর্ব মিনারার কাছে অবতরণ করবেন।
(১২) তার আগমনের প্রেক্ষিতে হযরত মাহদী রা. তিনি নামাযের জন্য মুসাল্লায় পৌঁছে গিয়েছিলেন পিছনে সরে আসবেন এবং হযরত ঈসা আ. কে ইমামতি করার জন্য অনুরোধ করবেন, কিন্তু তিনি ইমাম মাহদীকে নামায পড়ানোর আদেশ দিবেন এবং বলবেন ইকামত তো আপনার জন্যই বলা হয়েছে।
(১৩) নামায থেকে ফারেগ হওয়ার পর হযরত ঈসা আ. দরোজা খোলার নির্দেশ দিবেন। তার হাতে তখন ছোট একটি বর্শা থাকবে। দাজ্জাল তাকে দেখার সাথে সাথে এমন ভাবে গলতে শরু করবে যেমন পানির মধ্যে লবন গলে যায়। তিনি তাকে বলবেন আল্লা তা‘আলা আমার একটি আঘাত তোর জন্য লিখে রেখেছেন। এর থেকে তুই বাঁচতে পারবিনা। একথা শুনে দাজ্জাল পালাতে থাকবে। কিন্তু তিনি তাকে বাবে লুদের নিকট যেয়ে ধরে ফেলবেন এবং বর্শার আঘাতে তাকে হত্যা করবেন। বর্শায় লেগে থাকা তার রক্ত মুসলমানদেরকে দেখাবেন।
(১৪) এই সময় দাজ্জালের বাহিনীর সাথে মুসলমানদের ঘোরতর লড়াই হবে। দাজ্জালের বাহিনী কচুকাটা হতে থাকবে। তারা কোন গাছ বা পাথরের আড়ালে লুকাতে গেলে গাছ-পাথর ডেকে বলবে হে মুসলিমরা। এই ইহুদী আমার পিছনে লুকিয়ে আছে একে কতল কর। এই হল দাজ্জালের মোটামুটি বর্ণনা। হাদীসের কিতাবে আরো বিস্তারিত বর্ণনা দেখে নেয়া যেতে পারে। (আপকে মাসাইল ১/২৮০)