নামাযের মধ্যে আরো কিছু ত্রুটি
প্রশ্ন
নামাযের মধ্যে কিছু ত্রুটি রয়েছে যা আমাদের অগোচরে রয়েছে। ঐ সকল ত্রুটিসমূহ জানালে উপকার হয়।
উত্তর
নামায অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আমল, প্রতিদিন পাঁচবার আদায় করতে হয়। নামাযের আরকান, আহকাম ফরজ ওয়াজিব মিলে হাজার হাজার মাসআলা রয়েছে। যার দু একটি এদিক ওদিক হলে নামায বরবাদ হয়ে যায়। কিন্তু এর পরেও দেখা যায় এসব জানার জন্য তেমন কোন আগ্রহ নেই। গতানুগতিক নামায পড়ে যাচ্ছি বছরের পর বছর ধরে। সহীহ হল কি হল না তা যাচাই করাও প্রয়োজন মনে করছি না। এখানে কয়েকটি ত্রুটি তুলে ধরা হলঃ
(১) অনেক লোক না জানার দরুন বিনা কারণে এমনভাবে হাই তোলে অথবা বিনা উযরে এমনভাবে কাশতে থাকে যে তার দ্বারা হরফ উচ্চারণের মত আওয়াজ শোনা যায়। এতে কিন্তু নামায বাতিল হয়ে যায়।
(২) অনেক লোক এমন শরী‘আত বিরোধী পোশাক পরে যে, তার নামাযই কবুল হয় না। মখমলের কিছু প্রকার আছে যার ব্যাপারে মানুষ খুবই অসতর্ক।
(৩) অনেকে তাড়াহুড়া করতে যেয়ে ইমামের আগেই নিয়ত বেঁধে ফেলে এতে ও কিন্তু নামায হয় না।
(৪) অনেক লোক ইমামের সাথে রুকুতে এমনভাবে শরীক হয় যে, আল্লাহু আকবার বলেই রুকুতে চলে যায় প্রথমে কিয়াম করে না। এতেও কিন্তু নামায হয় না।
(৫) অনেক লোক শেষ রাক‘আতে ইমামের সাথে শরীক হতে চায় কিন্তু তার তাকবীরে তাহরীমা খতম হওয়ার পূর্বেই ইমাম সালাম ফিরিয়ে ফেলে। এমতাবস্থায় ইকতিদা সহীহ হয় না। নতুন করে নামায শুরু করতে হয়। কিন্তু তা করে না।
(৬) অনেক সময় দেখা যায় শেষ বৈঠকের পরে ইমাম যদি সালাম না ফিরিয়ে ভুলে দাঁড়িয়ে যায় তাহলে মাসবুকও ইমামের অনুসরণ করতে যেয়ে দাড়িয়ে পড়ে। অথচ তখন মাসবুকের জন্য ইমামের ইকতিদা জায়েয নেই। এতে তার নামায ফাসেদ হয়ে যায়।
(৭) অনেক লোকের পেশাবের পরে একটু হাটাহাটি না করলে পেশাব টপকানের আশংকা থাকে। এমতাবস্থায় অনেকে জামা‘আত ধরার জন্য হাটাহাটি না করে পেশাবের পরেই পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলে। এবার উযূর সময় বা নামাযে দাঁড়ালে ফোটা বের হয়। এতে ওষু-নামায সবই নষ্ট হয়। অনেকে খবর হওয়ার পরে আবার উযূ করে ঠিকই কিন্তু কাপড়ের যেখানে ফোটা পড়ে নাপাক হল সেটা আর পাক করে না। আর অনেকের তো খবরই হয় না। বিনা ওষুতেই নামায পড়ে ফেলে। তাহলে এসব নামাযের কি পরিণতি হবে। সুতরাং এই ত্রুটিও সংশোধন করা দরকার।