হজ্জের সফরে মহিলাদের ঘরে নামায
প্রশ্ন
মক্কা-মদীনায় হজ্বের সফরে বা এমনি সফরে মহিলারা কাবা শরীফ এবং মসজিদে নববীতে নামায পড়লে সাওয়াব বেশী পাবে নাকি নিজের অবস্থান স্থলে পড়লে বেশী সাওয়াব পাবে?
উত্তর
হাদীস শরীফের স্পষ্ট বক্তব্য দ্বারা মহিলাদের জন্য মসজিদে হারাম, মসজিদে নববীর চেয়ে স্বীয় আবাস স্থলে বা তাঁবুতে নামায পড়ায় অধিক সাওয়াব বলে বুঝে আসে। তাই মহিলারা মসজিদে হারাম বা মসজিদে নববীতে নামায আদায়ের জন্য না গিয়ে তাবুতে বা নিজ আবাস স্থলে নামায আদায় করবে তাহলে তারা 'উক্ত অবস্থায় ঐ মসজিদদ্বয়ের সাওয়াব থেকে বেশী সাওয়াব পাবে। আর এই সাওয়াব অর্জনই মুসলমানদের একমাত্র উদ্দেশ্য হওয়া উচিৎ। হজ্বে গমনকারী মহিলাদের জন্য উচিৎ হল তারা নির্দিষ্ট সময়ে যিয়ারতের জন্য যাবে আর বাইতুল্লাহ শরীফে শুধু তাওয়াফের জন্য যাবে। তাওয়াফের সময় পুরুষদের সাথে ধাক্কাধাক্কি করা নিষেধ। পুরুষদেরকে এড়িয়ে মাতাফের কিনারা দিয়ে তাওয়াফ করবে। মদীনা শরীফে অবস্থান কালে শুধুমাত্র রওযা মোবারক যিয়ারতের উদ্দেশ্যে মসজিদে নববীতে যাবে। এটাই শরী‘আতের বিধান। এই মাসআলা দ্বারা স্পষ্ট হয়ে গেল যে, দেশে অবস্থান কালীন সময়ে মহিলাদের জন্য পাঁচ ওয়াক্তের জামা‘আতে, জুমা এবং ঈদের জামা‘আতে যাওয়া আরো কঠোরভাবে নিষেধ। ঘরে নামায পড়ায় তাদের জন্য জামা‘আতের চাইতে বেশী সাওয়াব। এরপরেও মসজিদে যাওয়ার কি যুক্তি থাকতে পারে? এটা অত্যন্ত দুঃখজনক যে, একদিকে অমুসলিম এনজিওরা মা বোনদেরকে নারী স্বাধীনতার নামে ঘর থেকে টেনে বাইরে আনছে আর ঠিক সেই মুহূর্তে ইসলামের নামে কতিপয় ভ্রান্ত দল সওয়াবের রঙিন স্বপ্নে বিভোর করে মা বোনদেরকে ঘরছাড়া করে নিজেদের স্বার্থ সিদ্ধিতে লিপ্ত আছে। এই ফিৎনা থেকে দুরে থাকা দ্বীন ও ঈমানের হেফাযতের জন্য জরুরী। (আহসানুল ফাতওয়া-৪/৫৬৭)