জন্ম দিবস, মৃত্যু দিবস পালন করা
প্রশ্ন
আমাদের দেশে প্রথা অনুযায়ী জন্ম দিবস, মৃত্যু দিবস, চল্লিশা বা চেহলাম ইত্যাদি পালন করা হয়ে থাকে, অনুরূপভাবে শহীদ দিবস-বুদ্ধিজীবী দিবস ইত্যাদি পালিত হয়ে থাকে। শরী‘আতের দৃষ্টিতে এসব কর্মকান্ড জায়েয আছে কি না?
উত্তর
বর্তমানে আমাদের দেশে জন্ম বার্ষিকী, মৃত্যু বার্ষিকী, তিন দিনা, ত্রিশা, চল্লিশা ইত্যাদি নামে যে রসম রেওয়াজ প্রচলিত আছে তা সবই বিদআত ও নাজায়েয। কারণ এ সকল কাজের জন্য আগে থেকেই দিন তারিখ নির্ধারণ করে রাখা হয় এবং সেদিন খুব ইনতিজাম ও ইহতিমামের সাথে ধুম ধাম সহকারে এসব কাজ করা হয় এবং এটা এমন এক সামাজিক প্রথা হিসেবে চালু হয়ে গেছে যে, কেউ না করলে তাকে খারাপ নযরে দেখা হয়। সেহেতু লোকেরা এটাকে জরুরী মনে করে। অথচ উল্লেখিত সকল দিকগুলিই শরীআত পরিপন্থি। তবে কেউ যদি নির্দিষ্ট দিন তারিখের আনুষ্ঠানিকতা বাদ দিয়ে এমনিতেই যে কোন দিন মৃত ব্যক্তির মাগফিরাতের উদ্দেশ্যে গরীব মিসকিনদের কে খানা খাওয়ানোর ব্যবস্থা করে তাহলে তা জায়েয ও পুণ্যের কাজ হবে। তবে তা যেন সামর্থের অতিরিক্ত ধার কর্জ করে না হয় এবং শুধুমাত্র ধনীদেরকে দাওয়াত দিয়ে ধুম ধাম না করা হয়। আরো খেয়াল রাখতে হবে যে এ খানা পিনায় যেন কোন নাবালক ওয়ারিসের মাল খরচ করা না হয়।
অনুরূপ ভাবে শহীদ দিবস, বুদ্ধিজীবী দিবস প্রভৃতি পালন করাও নাজায়েয। এগুলো যদি কোন পুণ্যের কাজ হতো তাহলে সাহাবায়ে কেরাম উহুদের দিনকে (যে দিন ৭০ জন সাহাবা শহীদ হয়েছিলেন এবং রাসুলুল্লাহ ﷺ সহ বিশিষ্ট সাহাবায়ে কেরাম গণ আহত হয়েছিলেন) শহীদ দিবস হিসেবে পালন করতেন। (ফাতাওয়া রশিদিয়া- ২৪৫)