ভিডিওর মাধ্যমে দ্বীনী প্রোগ্রাম প্রচার করা
প্রশ্ন
আমরা দেশ থেকে অনেক দূরে আছি। এখানে আলেম উলামার সংখ্যাও খুবই কম। দ্বীন শেখার জন্য তেমন কোন ব্যবস্থা নাই। তাই আমরা ভিডিও ক্যাসেটের মাধ্যমে দ্বীন শিখতে চাই। তাছাড়া অনেক অমুসলিমও ভিডিও ক্যাসেটে ওয়াজ ইত্যাদি শুনে ইসলাম সম্পর্কে অবগত হয়ে মুসলমান হচ্ছে। কাজেই ইসলাম প্রচারের জন্য ভিডিও একটা শক্তিশালী প্রচার মাধ্যমও বলা যায়। তাছাড়া অনেক নামী দামী আলেমরাও এতে প্রোগাম করছে। যার দ্বারা এটা জায়েয বলেই অনুমিত হয়। ইসলামী শরী‘আত এ ব্যাপারে কি বলে?
উত্তর
ভিডিও নিষিদ্ধ হওয়ার সবচেয়ে বড় কারণ হল এতে ছবি রয়েছে। আর ছবির ব্যাপারে কঠোর শাস্তির হুশিয়ারী উচ্চারিত হয়েছে। সুতরাং এরকম একটা হারাম জিনিষকে ইসলাম প্রসারের মাধ্যম বানানো বা ইসলাম প্রচারের জন্য সেটাকে সহায়ক মনে করা ইসলামকে অবমাননা করার শামিল। ইসলামের এত ঠেকা পড়ে নাই যে, হারাম পদ্ধতিতে সেটাকে প্রচার করতে হবে। আজকাল যদিও কিছু উলামায়ে কেরাম এই হারামের সাথে জড়িত হয়ে পড়েছে কিন্তু তাই বলে এটা হালাল হয়ে যায় নাই। যার যার কাজের জবাবদিহী তাকেই করতে হবে। যদি কোথাও আলেম উলামা না থাকে, দ্বীনী শিক্ষার কোন কার্যকরী ব্যবস্থা না থাকে তাহলে অডিও ক্যাসেটের সাহায্য নেয়া যেতে পারে। এতেই খয়ের বরকত হবে। মোট কথা হল, ভিডিও ক্যাসেটের মাধ্যমে উলামায়ে কেরামের ওয়াজ-নসীহত, বয়ান ইত্যাদি শোনা জায়েয নেই। নাজায়েয মাধ্যমকে ইসলামের তাবলীগের জন্য কার্যকরী মনে করা মুর্খতা বৈ কিছু নয়। এর থেকে সর্বতোভাবে বেঁচে থাকা উচিৎ। আজকাল বিভিন্ন স্যাটেলাইট চ্যানেলে ইসলামী অনুষ্ঠান প্রচার করা হয়। এ টি এন বাংলায় নাকি নুরানী পদ্ধতীর মাধ্যমে কুরআন শরীফ শিখানো হয়, ভাল ভাল দ্বীনদার, পাঁচ ওয়াক্ত নামাযী ব্যক্তিও অত্যন্ত আগ্রহের সাথে এসব অনুষ্ঠান দেখেন এবং অনেক কিছু জানতে পারলেন বলে আত্মতৃপ্তি লাভ করে থাকেন। বস্তুত, এসবই নেক সুরতে শয়তানের ধোকা। ছবি হারাম তাই তা কোন বুযুর্গেরই ছবি হোক না কেন। সুতরাং এ ব্যাপারে খুবই সতর্ক থাকতে হবে। (সূত্রঃ আল ফারুক-শাবান-১৪২০ হিঃ)