রাসূলে কারীম ﷺ এর ছায়া ছিল
প্রশ্ন
অনেককে বলতে শোনা যায় যে হুযুর ﷺ এর ছায়া ছিল না। এ নিয়ে অনেক বিতর্কও হয়। এর সমাধান কি?
উত্তর
সহীহ হাদীস দ্বারা প্রমাণিত যে, রাসূলে কারীম ﷺ এর পবিত্র ছায়া ছিল। এসম্পর্কিত চারটি হাদীস আমরা এখানে উল্লেখ করব।
১. হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. বর্ণনা করেন যে, রাসূলে আকরাম ﷺ সিজদার মধ্যে সাধারণত এই দু‘আ করতেন, হে আল্লাহ! আমার শরীর এবং ছায়া তোমাকে সিজদা করেছে, অন্তর ও তোমার উপর ঈমান এনেছে আর আমি নিজেও তোমার নেআমতের স্বীকারোক্তি করছি। এবং তোমার নিকটেই স্বীয় গুনাহের ক্ষমা প্রার্থনা করছি। হে আল্লাহ তুমি বড়, আর বড়ই বড় বড় অপরাধ ক্ষমা করে থাকে। (মুস্তাদরাকে হাকেম ১-৫৩৪।)
আলোচ্য হাদীসে ছায়ার সিজদা করার কথা বলা হয়েছ। ছায়াই যদি না থাকে তাহলে সিজদার প্রশ্ন আসে কিভাবে?
২. রাসূলে কারীম ﷺ -এর স্নেহভাজন খাদেম হযরত আনাস বিন মালেক রা. বলেন, এক রাতে হুযুর ﷺ আমাদেরকে নামায পড়ালেন নামাযের অবস্থায় হঠাৎ করে স্বীয় হস্তদ্বয় সম্মুখে প্রসারিত করলেন- কিন্তু পরক্ষণেই পিছনে সরিয়ে নিলেন। আমরা জিজ্ঞাসা করলাম হুযুর! আজ আপনি অভ্যাসের পরিপন্থী নতুন একটা কাজ করলেন। হুযুর ﷺ বললেন, ঘটনা হল আমার সামনে এক্ষুনি জান্নাত পেশ করা হয়েছিল, আমি সেখানে সুন্দর সুন্দর ফল দেখলাম মনে চাইল কয়েকটা ছিড়ে নেই। কিন্তু তৎক্ষণাত আদেশ এল পিছনে সরে যাও, তাই আমি সরে এলাম, অতঃপর আমার সম্মুখে জাহান্নাম আনা হল। তার আলোয় আমি আমার ও তোমাদের ছায়া দেখলাম আর দেখার সাথে সাথেই তোমাদেরকে ইশারা করলাম যে পিছনেই থাক। (ঐ-৪-৪৫৬)
৩। হযরত আয়িশা সিদ্দীকা রা. বলেন, হুযুর ﷺ এক সফরে ছিলেন সেখানে হযরত ছফিয়্যা রা. এর উট রোগাক্রান্ত হয়ে পড়ল। ঘটনাক্রমে হযরত যয়নব রা. এর নিকট একটি বাহন অতিরিক্ত ছিল। হুযুর ﷺ হযরত যয়নব রা. কে সম্বোধন করে বললেন, তোমার অতিরিক্ত বাহনটা সাফিয়্যাকে দিয়ে দাও। হযরত যয়নব রা. বললেন ঐ ইহুদীকে দেব? এতদশ্রবণে রাসূলে কারীম ﷺ অসন্তুষ্ট হয়ে গেলেন। এবং যিলহজ্ব-মুহাররম সহ দু'তিন মাস তার নিকট গমন করলেন না। হযরত যয়নব রা. বলেন, শেষ পর্যন্ত আমি রাসূলে পাক ﷺ এর ব্যাপারে নিরাশ হয়ে পড়লাম এবং স্বীয় মাল- সামান সরিয়ে নেয়ার এরাদা করে ফেললাম। কিন্তু হঠাৎ একদিন দুপুরে দেখি হুযুর ﷺ এর ছায়া মুবারক আগমন করছে। (অর্থাৎ আগে ছায়া পরিলক্ষিত হল পরে শরীর)। (মুসনাদে আহমদ ১৩২/৬)
হযরত আবু হুরায়রা রা. বলেন, একদিন হুযুর ﷺ ইরশাদ করলেন, হযরত জিবরাইল আ. আমার নিকট আগমন করলেন এবং দুই দুই ওয়াক্তের নামায পড়ালেন, কিন্তু মাগরিবের নামায উভয় দিন একই সময়ে পড়ালেন। যোহরের নামায ঐ সময় পড়ালেন যখন আমার ছায়া আমার চপ্পলের ফিতার বরাবর হয়ে গেল আর অছরের নামায ঐ সময় পড়ালেন যখন আমার ছায়া আমার বরাবর হয়ে গেল। (বাযযার)। চার নম্বর হাদীস দ্বারা একেবারেই স্পষ্ট হয়ে গেল যে, হুযুর ﷺ এর ছায়া মুবারক ছিল। (খায়রুল ফাতওয়া ৩৩৩/১)