দাঁড়ি নিয়ে হাসি-ঠাট্টা করা
প্রশ্ন
আল্লাহ পাকের মেহের বাণীতে আমি দাড়ি রেখেছি। কিন্তু এ জন্য বন্ধু-বান্ধবরা আমাকে নিয়ে হাসি মজাক করে। অনেকে চাচা বলে বিদ্রুপ করে। কেউ কেউ বলে দাড়ি রেখে তোমাকে বিশ্রি লাগছে। কেটে ফেল। এভাবে সকলে আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করে। এমতাবস্থায় আমার কি করণীয়?
উত্তর
আফসোস! সেই যামানা এসে গেছে যার খবর সত্যবাদি নবী আজ থেকে দেড় হাজার বছর আগে দিয়ে গেছেন। একদিন রাসূলে আকরাম ﷺ সাহাবায়ে কেরামের সামনে ওয়ায করছিলেন, এমন সময় বললেন, তখন তোমাদের কি অবস্থা হবে যখন তোমাদের যুবকরা ফাসেক ফাজের হয়ে যাবে? সাহাবায়ে কেরাম আরয করলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! এই রকম সময় ও কি আসবে? রাসূলুল্লাহ ﷺ বললেন হ্যাঁ। বরং এর চেয়েও কঠিন সময় আসবে। অতঃপর ইরশাদ করলেন, তখন তোমাদের কি অবস্থা হবে যখন তোমরা নেকীর কাজে প্রতিবন্ধক হয়ে দাড়াবে এবং খারাপ কাজে উৎসাহিত করবে? সাহাবায়ে কেরাম আরয করলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ। এই রকম সময়ও কি আসবে? ইরশাদ হল হ্যাঁ। অবশ্যই বরং এর চাইতেও কঠিন মুহূর্ত আসবে। অতঃপর ইরশাদ করলেন তখন তোমাদের কি অবস্থা হবে যখন তোমরা নেকীর কাজকে খারাপ এবং গুনাহের কাজকে ভাল মনে করবে? আজ কি এসব হচ্ছে না? মানুষ দাড়ি মুন্ডায়, অন্যকেও মুন্ডানোর জন্য তাবলীগ করে। শুধু তাই নয় বরং দাড়ি মুন্ডানোকে ভাল এবং রাখাকে মন্দ মনে করে। যুবকরা তো দূরের কথা বৃদ্ধরা পর্যন্ত দাড়ি মুন্ডিয়ে রাসূলে কারীম ﷺ এর সুন্নতের বিরোধিতা করে প্রকাশ্যে ফাসেক হিসেবে গণ্য হচ্ছে। নবী কারীম ﷺ ইরশাদ করেছেন, তোমরা সাদা চুল তুলে ফেল না, যে ব্যক্তি মুসলমান অবস্থায় বৃদ্ধ হয় আল্লাহ পাক তার সাদা চুলের কারণে তার গুনাহ মাফ করে দেন এবং কিয়ামতে এই সাদা চুল তার জন্য নূর হবে। (আবু দাউদ ২২৫/২) অন্য এক হাদীসে আছে আল্লাহ পাক বৃদ্ধকে শাস্তি দিতে লজ্জা বোধ করেন। আল্লাহু আকবার। আল্লাহ পাক তো বৃদ্ধকে তার গুনাহ সত্ত্বেও আযাব দিতে লজ্জাবোধ করছেন অথচ এই বৃদ্ধ দাড়ি মুডিয়ে নকল যুবক সাজতে লজ্জিত হচ্ছে না। দাড়ি ইসলামী এবং জাতীয় প্রতীক। পুরুষের সৌন্দর্য্য বৃদ্ধিকারী। হুযুর ﷺ নিজেও দাড়ি রেখেছেন এবং উম্মতকে দাড়ি রাখার জন্য তাকীদ করেছেন। হুযুর ﷺ এর আমলকে আপন করে নেয়া এবং তার হুকুম ও ফায়সালাকে মনে-প্রাণে মেনে নেয়া ঈমানের শর্ত। এছাড়া ঈমান পরিপূর্ণ হবে না। (রহীমিয়া-২-৩৯৮)