কবরের চার কোনায় চার কুল পড়া

মুফতী মীযানুর রহমান কাসেমী সাহেব (রাহমানিয়া)১১ মার্চ, ২০২৫কাফন দাফন জানাযা কবর যিয়ারত

প্রশ্ন

অনেক এলাকায় দেখা যায় কবরে লাশ দাফন করার পরে মাটি দেয়া শেষ হলে কবরের চার কোনায় চারটি গাছের ডাল পুতে তা ধরে চার কুল পড়া হয়। শরী‘আতের দৃষ্টিতে এর উপকারিতা বা অপকারিতা কিছু আছে কি?

উত্তর

কবরে লাশ দাফন করার পরে কবরের চার কোনায় খেজুর বা অন্য কোন গাছের ডাল গাড়া এবং সেই ডাল ধরে চার কুল ইত্যাদি পড়া শরী‘আতের দৃষ্টিতে বিদ‘আত ও বর্জনীয় কাজ। অনেকে এটাকে জায়েয করার জন্য মুসলিম শরীফের হাদীস দ্বারা দলীল পেশ করেন যে, রাসূলে আকরাম ﷺ দুটি কবরের উপর খেজুরের ডাল দু টুকরা করে গেড়ে বলেছিলেন যতক্ষণ পর্যন্ত এই ডাল তরুতাজা থাকবে ততক্ষণ তার কবর আযাব লাঘব করা হবে। এই হাদীসের জওয়াব হল যে, এটা শুধুমাত্র রাসূলে আকরাম ﷺ এর বৈশিষ্ট্য ছিল। হুযুর ﷺ এর সুফারিশের কারণে তাদের আযাব হাল্কা করা হয়েছিল। আর ডান দুটি শুধু আযাব কতক্ষণ বন্ধ থাকবে তার পরিমাণ নির্ধারণের জন্য গেড়ে দিয়ে ছিলেন, অর্থাৎ যতক্ষণ শুকাবেনা ততক্ষণ আযাব বন্ধ থাকবে।

এমনটি যদি সকলের জন্যই উপকারী হত এবং সকলের জন্য অনুমতি থাকত তাহলে সাহাবায়ে কেরাম অবশ্যই এ আমল করতেন। কেননা তারা নেক কাজের প্রতি বেশী আগ্রহী ছিলেন। এতদসত্ত্বেও কোন সাহাবী এ আমল করেছেন বলে প্রমাণ পাওয়া যায় না। সুতরাং এটা বর্জন করা জরুরী। তাছাড়া চার কোনায় চার কুল পড়ার প্রমাণ কোন সহীহ হাদীসেও পাওয়া যায় না। হাদীসে শুধু এতটুকু প্রমাণিত আছে যে, একজন মাথার দিকে সুরা বাকারার শুরু থেকে ‘মুফলিহুন’ পর্যন্ত, আরেক জন পায়ের দিকে সুরা বাকারার শেষ পৃষ্ঠার "আমানার রাসুলু" থেকে সুরার শেষ পর্যন্ত তিলাওয়াত করবে। এটাই সুন্নাত। (মুসলিম শরীফ-১-৩১২, আহসানুল ফাতাওয়া-১-৩৭৪)

কবরের চার কোনায় চার কুল পড়া | ইসলামী যিন্দেগী