মহিলাদের তাবলীগে যাওয়া
প্রশ্ন
তাবলীগ করার জন্য মহিলাদের বাইরে যাওয়া জায়েয আছে কি? বাইরে গেলে কতদূর পর্যন্ত যেতে পারে? কি ধরনের লোকদের সঙ্গে যেতে পারবে? স্বামী যদি তাবলীগে যেতে নিষেধ করে তাহলে তা মানা জরুরী কি না?
উত্তর
মহিলাদের জন্য আসল হুকুম হল, তারা বাড়ীতে অবস্থান করবে। একান্ত প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বের হবে না। কেননা মহিলারা ঘর থেকে বের হলে ফিতনার প্রবল আশংকা থাকে। কুরআন মজীদে আল্লাহ তা‘আলা মহিলাদেরকে সম্বোধন করে ইরশাদ করেন, তোমরা ঘরের ভিতরে অবস্থান করবে। পূর্বের মুর্খতা যুগের অনুরূপ নিজেদেরকে প্রদর্শন করবে না। সূরা আহযাব ৩৩
এমনিভাবে হাদীস শরীফেও এসেছে- রাসূলুল্লাহ ﷺ ইরশাদ করেছেন, মহিলা হচ্ছে গোপন থাকার বস্তু। কেননা সে যখন বাইরে বের হয়, শয়তান তাকে লক্ষ্যবস্তু বানায় অর্থাৎ তার বের হওয়ার দ্বারা শয়তান তাকে ও অন্য পুরুষদেরকে ফিতনায় ফেলতে চেষ্টা করে থাকে। এজন্য ফুকাহাগণ মহিলাদেরকে একান্ত ঠেকা ব্যতীত ঘর থেকে বের হতে নিষেধ করেছেন। তবে দ্বীনী জরুরত যেমন, নামায, রোযা ইত্যাদি বিষয়ের মাসআলা-মাসাইল যদি স্বামী বা মাহরাম থেকে জানা সম্ভব না হয় তখন সেক্ষেত্রে জরুরী মাসআলা শিক্ষার জন্য সম্পূর্ণ শরয়ী পর্দা রক্ষা করে স্বামী/পিতার অনুমতি সাপেক্ষে বাহিরে যেতে পারে। তাছাড়া মহিলাদের জন্য তাবলীগ করা ফরজ কিংবা ওয়াজিবও নয়। তাই সাধারণ অবস্থায় ফিতনা থেকে বাঁচার জন্য তাবলীগের জন্য না যাওয়াই উচিত। কিন্তু বর্তমান যামানায় যেহেতু বেদ্বীনী ও মুর্খতার সয়লাব ক্রমশঃ বেড়েই চলছে, বিশেষ করে মহিলাদের মাঝে। কেননা একদিকে তাদের নিজেদের দ্বীনী ইলম শিক্ষার ব্যাপারে আগ্রহ নেই। দ্বিতীয়ত: বর্তমানে অধিকাংশ মহিলাদের স্বামী বা মাহরামদের অজ্ঞতার দরুন তাদের নিকট থেকে শিক্ষা গ্রহণের ব্যবস্থা নেই বললেই চলে। অন্যদিকে বেদ্বীন কাফের-মুশরিকরা অসংখ্য সংস্থার মাধ্যমে বিশেষতঃ মহিলাদেরকে বেদ্বীন বানানোর অপপ্রয়াস চালাচ্ছে। তাই এহেন পরিস্থিতিতে মহিলাদের মধ্যে ও দ্বীনী তাবলীগের প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করা যাচ্ছে। তবে তা অবশ্যই নিম্ন বর্ণিত শর্তাবলী অনুযায়ী হতে হবে।
১। মহিলাদের স্বামী বা অভিভাবকের অনুমতি থাকতে হবে।
২। যদি শরয়ী সফরের দুরত্বে অর্থাৎ প্রায় ৪৮ মাইল দূরে যেতে হয় তাহলে স্বামী কিংবা মাহরাম সঙ্গে থাকতে হবে।
৩। কোন ফিতনার আশংকা না থাকতে হবে।
৪। সে বাহিরে যাওয়ার দরুন কারো হক নষ্ট না হতে হবে।
৫। আকর্ষণীয় কাপড় ও সুগন্ধী ইত্যাদি ব্যবহার করে বের হতে পারবে না।
৬। শরী‘আত সম্মত পরিপূর্ণ পর্দা-পূশিদাহ থাকতে হবে, চোখ ও হাত-পা অবশ্যই পর্দার ভিতরে থাকতে হবে।
৭। মহিলারা যে ঘরে অবস্থান করবে, সেখানে পরিপূর্ণ পর্দার ব্যবস্থা থাকতে হবে এবং কোন পুরুষের আসা-যাওয়ার অধিকার থাকতে পারবে না।
৮। তালীম চলাকালে মহিলাদের আওয়াজ ভিন্ন পুরুষ শুনতে পারবে না। এসকল শর্তসাপেক্ষে মহিলাদের তাবলীগ করার অবকাশ আছে। উল্লেখিত শর্তাবলী হতে একটি শর্তও না মানা হলে সে তাবলীগ সম্পূর্ণ নাজায়েয হবে। তাছাড়া আরো কিছু শর্ত মুতাবিক চলতে পারলে পরিপূর্ণ ভাবে ফিতনা থেকে বাঁচা সম্ভব হবে। সেগুলো হচ্ছে,
(১) মহিলারা তাবলীগ নিজ পাড়ায় বা প্রতিবেশীর মাঝে তথা নিজ মহল্লায় করবে। বেশীর চেয়ে বেশী নিজ শহরের এলাকায় সীমাবদ্ধ থাকবে। জামাতবন্দী হয়ে দূর-দূরান্তের সফরে যাবে না।
(২) পুরুষদের ন্যায় তিন দিন, এক সপ্তাহ, একচিল্লা, তিন চিল্লার জন্য যাবে না, বরং; সপ্তাহে এক/ দু'দিন শুধু দু' আড়াই ঘণ্টার জন্য একত্রিত হবে, এবং সকলে নিজ ঘর হতে সরাসরি উক্ত মজলিসে অংশ গ্রহণ করবে, গাশতের সূরতে ঘুরে বেড়াবে না।
(৩) মজলিসের জন্য এমন সময় ও স্থান নির্ধারণ করবে যাতে করে সকল মহিলা দিনের বেলায় নিজ নিজ ঘরে পৌঁছতে পারে।
(৪) সম্ভব হলে শুধু দু'একজন মুত্তাকী পরহেজগার আলেম পুরুষের বয়ান শুনেই মজলিস ক্ষ্যান্ত করবে এবং সে আলেম পর্দার আড়াল থেকে বয়ান করবেন।
(৫) মজলিসের সকল ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব পুরুষদের জিম্মায় থাকবে, এতে মহিলারা শরীক থাকবে না। তারা শুধু মজলিসে উপস্থিত হবে এবং বয়ান শুনবে।
উল্লেখ্য যে, স্বামী যদি স্ত্রীকে উক্ত জামা‘আতে শরীক হয়ে তাবলীগ করতে নিষেধ করে এবং ঘরে রেখে তালীমের ব্যবস্থা করে তাহলে স্ত্রীর জন্য সেখানে যাওয়া জায়েয নেই বরং স্বামীর কথা মানা ওয়াজিব। আরো উল্লেখ্য যে, শরী‘আতের দৃষ্টিতে বেগানা পুরুষদের ক্ষেত্রে মহিলাদের চোখ, হাত-পাও পর্দার মধ্যে শামিল এবং জরুরী। একে নফল বলা নিছক মুর্খতা। (সুরায়ে আহযাব-৩৩)