ইলম শিক্ষার জন্য পিতা-মাতার অনুমতি ব্যতীত সফর করা
প্রশ্ন
আমি স্কুলে লেখা-পড়া করি। আলেম-উলামাদের সাথে মেলামেশায দ্বীনী ইলমের গুরুত্ব বুঝতে পেরেছি। তাই এখন স্কুলের লেখাপড়া বাদ দিয়ে মাদ্রাসায় পড়তে চাই। কিন্তু আমার আব্বা-আম্মা এতে রাজি নন। তাদের অনুমতি ছাড়া গেলে তারা আমাকে ত্যাজ্য পুত্র করার স্মকি দিচ্ছেন। এমতাবস্থায় আমার জন্য কি করণীয়?
উত্তর
কোন তালেবে ইলম যদি ইলম শিক্ষার জন্য পিতা মাতার অনুমতি না পায় তাহলে তার জন্য হুকুম হচ্ছেঃ-ইলম তিন প্রকার। ফরযে আইন, ফরযে কেফায়া এবং মানদুব তথা মুস্তাহাব। দ্বীনের জরুরী বিষয় গুলি যথা নামায, রোযা, যাকাত এবং দৈনন্দীন জীবনের মুআমালাত মুআশারাতের ইলম হাসিল করা প্রতিটি মানুষের জন্য ফরযে আইন। এর অতিরিক্ত ইলম হাসিল করা ফরযে কেফায়া। আর ইলমের মধ্যে গভীরতা, পান্ডিত্য এবং দূরদর্শিতা পয়দা করা মানদূব।
এখন কোন তালেবে ইলমের সফরে যাওয়ার দরুন যদি তার পিতা- মাতা বা তার সন্তানদের ক্ষতির কোন আশংকা না থাকে অর্থাৎ তাদের নিকট জরুরত মত খোরপোষের বন্দোবস্ত থাকে এবং বিপদের সময় তাদের সাহায্য করার লোক থাকে তাহলে এমতাবস্থায় ফরযে আইন অথবা ফরযে কেফায়া পরিমাণ ইলম হাসিল করার জন্য তার সফর করা উচিৎ। এক্ষেত্রে পিতা-মাতার অনুমতির প্রয়োজন নেই। তবে যদি এমন কোথাও সফর করার পরিকল্পনা থাকে যেখানে বিপদের মধ্যে পড়ার অথবা আখলাক চরিত্র খারাপ হওয়ার সম্ভাবনা থাকে আর সেই জন্যই পিতা-মাতা নিষেধ করে তাহলে তাদের অনুমতি ছাড়া যাওয়া জায়েয হবে না। অনুরূপ ভাবে পিতা- মাতা এবং সন্তান সন্ততির ভরণ পোষণের দায়িত্ব যদি তার উপর অর্পিত থাকে আর ইলম শিখতে গেলে তাদের খাওয়া-দাওয়ার কষ্ট হওয়ার আশংকা থাকে তাহলে ও সফর করা জায়েয হবে না। আর ইলমে মানদূব হাসিল করার জন্য পিতা মাতার ইচ্ছাকে প্রাধান্য দেয়াই শ্রেয়। (ফাতওয়ায়েশামী-৫/৩৮৯)