কারো বাড়ি গেলে আগে থেকে বলে যাওয়া উচিৎ
প্রশ্ন
কারো বাড়ি গেলে আগে থেকে বলে যাওয়া কী জরুরী?
উত্তর
সফর করা সম্মন্ধে ও আমাদের মধ্যে অনেক ভুল ত্রুটি দেখা যায়। কোথাও মেহমান হতে হলে আগে থেকে তাকে জানিয়ে দেয়া ভাল। হঠাৎ করে উপস্থিত হলে গৃহস্বামীকে বিপদে পড়ে যেতে হয়। অনেকে এমন সময় যেয়ে উপস্থিত হয় যে, খানা-পিনার কিছু থাকে না। মেজবানকে আবার নতুন করে সব কিছু প্রস্তুত করতে হয়।
সুতরাং যদি এমন হয় যে, সময় মত পৌছানো সম্ভব হচ্ছে না তাহলে খাওয়া-দাওয়া থেকে ফারেগ হয়ে মেজবানের বাড়ি যাওয়া উচিৎ। যাতে করে অসময়ে মেজবানকে পেরেশান না হতে হয়।
অনেকে এমন করে যে, আগে থেকে যাওয়ার সময় তো বলে দেয় কিন্তু সময়মত পৌঁছে না, মেজবান বেচারা রান্না-বান্না করে অপেক্ষায় থাকে, ষ্টেশনে লোক পাঠায় কিন্তু মেহমান বাবাজীর খবর নেই। তিনি মত পরিবর্তন করে অথবা অন্য কারো অনুরোধে রওনা হতে দেরী করেছেন, অনেক সময় তো দেখা যায় মেজবান বেচারা কয়েক ওয়াক্ত এই পেরেশানীর মধ্যে থাকে। অথচ মেহমানের উচিৎ ছিল সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের খবর যেকোন ভাবে হোক মেজবানকে জানিয়ে দেয়া। খুব ভাল করে বুঝে নিন। এসব কোন সাধারণ ব্যাপার নয়। সম্পূর্ণ ইসলাম বিরোধী কাজ এগুলি। লোকেরা এটাকে সাধারণ বা মামুলী মনে করে। অথচ হাদীসের মধ্যে এসেছে, প্রকৃত মুসলমান সেই, যার যবান ও হাত থেকে অন্য মুসলমান নিরাপদ থাকে। এখন তার হাত আর যবান থেকে যখন অন্য মুসলমান নিরাপদ থাকলনা তখন সে প্রকৃত মুসলমানই তো রইলনা। আসলে সমস্যা হল আজকাল শুধু তাসবীহ জপাকেই বুযুর্গী মনে করা হয়। কারো আরাম বা কষ্টের কোন পরোয়া করা হয় না। এই জন্যই দেখা যায় জাহেল তো জাহেল অনেক দ্বীনদার আলেম-উলামাও এই ব্যাধিতে আক্রান্ত। এটা যে নিন্দনীয় এবং খারাপ সেই অনুভূতিও লোপ পেয়ে গেছে।
অনেকে আবার খানা খেয়ে যায় কিন্তু যাওয়ার সাথে সাথে মেজবানকে বলেন না যে, আমি খেয়ে এসেছি, কোন কিছু তৈরী করার দরকার নেই। মেজবান বেচারা তো আর ইলমে গায়েব জানেনা, সে যথাসাধ্য খানাপিনার ব্যবস্থা করে সামনে পেশ করে আর আপনি তখন এক বাক্যে তার সব কষ্ট-ক্লেশকে গলাটিপে হত্যা করেন যে, আমি তো খেয়ে এসেছি। আরে আল্লাহর বান্দা। এই কথাটা আগে বলতে কি হয়েছিল।
অনেকে আবার এমন করে যে, খেতে বসে বলছে আমি তো গোশত খাইনা, মরিচ খাওয়া আমার নিষেধ। আরে জালেম!! আগে থেকেই তাকে এসব কথা বলে দিলে কি হত? এখন তো সে বেচারা চিন্তায় পড়ে গেল। এর বাড়ি তার বাড়ি থেকে চেয়ে চিন্তে তোমার রসনাকে তৃপ্ত করতে হচ্ছে।
অনেকে আছে এক জায়গায় বেড়াতে গেছে, মেজবানকে কিছু না জানিয়ে কোথাও চলে গেল। মেজবান তালাশ করতে করতে হয়রান। বাড়িতে সবাই ক্ষুধার্থ। সময় পার হয়ে যাচ্ছে, বেলা চারটায় তিনি এসে হাজির। অথবা এসে বললেন, বহুদিনের পুরাতন এক বন্ধুর সাথে দেখা হয়েছিল, সে জোর করে খাইয়ে দিয়েছে। আমি খেতে চাইনি তারপরেও জবরদস্তি খাওয়াল। অথচ সেই জাহেলের খবরও নেই যে, এভাবে একজনের মনোরঞ্জন করতে যেয়ে আরেক জনের মনভাংগা মোটেও জায়েয নেই। কেননা যার বাড়িতে উঠা হয়েছে তার অগ্রাধিকার তো বেশি। তার অনুমতি ছাড়া অন্য কোথাও খাওয়া জায়েয হবে কিভাবে?
অনেকে এমন করে যে, আরেক জায়গায় দাওয়াত গ্রহণ করে কিছু মেজবানের নিকট থেকে অনুমতি নেয়া তো দূরের কথা তাকে সংবাদ টুকু ও দেয়না। অনেকে আবার এমন আছে, চলে যাওয়ার এরাদা করেছে কিন্তু মেজবানকে বলল না, ঠিক আগ মুহূর্তে বলছে যে, আমি তো এই গাড়িতে চলে যাব। রিক্সা ঠিক করে দাও, ট্যাক্সি ঠিক করে দাও। এখন মেজবান যা কিছু ব্যবস্থা করেছিল তাও নষ্ট হয় আবার অনেক সময় টাইমমত গাড়ি ও পাওয়া যায় না। এ ধরনের আরো অনেক ভুল ত্রুটি আমরা করে থাকি, এ থেকে বেঁচে থাকা একান্তই জরুরী।