জামি‘আ ইবনে মাসউদ রাযি.
আজীবন সদস্য হওয়ার উপকারিতা
উপকারিতা
১. সদস্যদের কেউ রোগ-শোক, বিপদ-আপদে পতিত হলে এবং কোন মাধ্যমে সংবাদ পৌঁছালে ছাত্রদেরকে নিয়ে দু‘আ ও খতমের ব্যবস্থা করা হয়।
২. কোন সদস্যের ইন্তিকাল হয়ে গেলে এবং সংবাদ দিলে সুন্নত তরিকায় তার গোসল ও কাফন-দাফনের ব্যবস্থা করা হয়।
৩. মাদরাসার যখনই কোন মাহফিল হয় তখন যারা হায়াতে আছেন তাদের সার্বিক কল্যানের দু‘আ করা হয় আর যারা মৃত্যুবরণ করেছেন তাদের জন্য মাগফিরাতের দু‘আ করা হয়।
৪. সদস্য হওয়ার সুবাদে মাদরাসায় যাতায়াত করলে আল্লাহ তা‘আলার মেহেরবানীতে ইলম ও দ্বীনদারী বৃদ্ধি পাবে, পৃথিবীতে ফরযে কিফায়া পরিমান ইলম বাকী থাকবে এবং আল্লাহ তা‘আলার সাথে মুহাব্বত বেড়ে যাবে।
৫. দ্বীনী কাজে সহযোগিতা করার কারণে বিপদে-আপদে পতিত হলে আল্লাহ তা‘আলার সাহায্য পাওয়া যাবে এবং আল্লাহ তা‘আলা সর্বাবস্থায় দৃঢ়পদ রাখবেন। -(সূরা মুহাম্মদ: ৭)
৬. কুরআনের ব্যাপারে উদাসীন লোকদের ব্যাপারে কুরআনে করীমে এসেছে যে, নবী (আ.) তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করবেন। (সূরা ফুরকান: ৩০) মাদরাসা কায়িমে সহযোগিতাকারীগণ এই অভিযোগ থেকে মুক্ত থাকবেন, ইনশা-আল্লাহ।
৭. সদাকায়ে জারিয়া হিসাবে ক্বিয়ামত পর্যন্ত আমল নামায় সওয়াব পৌঁছতে থাকবে।
৮. প্রতি দিন বাদ আসর বিশেষ খতম পড়ে খায়ের ও বারাকাতের দু‘আ করা হবে।
৯. আল্লাহ তা‘আলা ইরশাদ করেন: “তোমরা নেক লোকদের সাথে থাকো”। (সূরা তওবা: ১১৯) এই আয়াতের উপর আমল হবে এবং নেক লোকদের সাথী হয়ে মৃত্যুবরণ করার সুযোগ হবে।
১০. আল্লাহ তা‘আলা ইরশাদ করেন: “তোমরা নেকী ও তাকওয়ার কাজে একে অপরকে সহযোগিতা করো”। (সূরা মায়িদা: ২) এই আয়াতের উপর আমল হবে।
সর্বোপরি জামি‘আর ছাত্র-শিক্ষক, স্টাফ-কর্মচারী, পরিচালনা পরিষদ, সাধারণ পরিষদ এবং আজীবন সদস্য সকলে মিলে একটি পরিবার হবে। যাদের পরস্পরের মাঝে গড়ে উঠবে আল্লাহর জন্য মুহাব্বত ও ভাল বাসার অটুট বন্ধন। একে অপরের সুখে-দুঃখে সর্বাবস্থায় পাশে থাকবে এবং “যে যাকে মুহব্বত করে কিয়ামতে সে তার সাথে থাকবে” (মুসলিম হাঃ নং ২৬৪০)- এই হাদীসের আলোকে আশা করা যায় যে, আল্লাহওয়ালাদের সুহবতের ওসীলায় জান্নাতেও তাদের সাথে থাকার সুযোগ হবে, ইনশা-আল্লাহ।