كتاب الطهارة

২. পাক-পবিত্রতা অর্জনের অধ্যায়

অধ্যায় ২ · ১১৫ টি হাদীস

১. ওযুর পদ্ধতি

بَاب الْعَمَلِ فِي الْوُضُوءِ

৩১

حَدَّثَنِي يَحْيَى، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ عَمْرِو بْنِ يَحْيَى الْمَازِنِيِّ، عَنْ أَبِيهِ، أَنَّهُ قَالَ لِعَبْدِ اللَّهِ بْنِ زَيْدِ بْنِ عَاصِمٍ وَهُوَ جَدُّ عَمْرِو بْنِ يَحْيَى الْمَازِنِيِّ وَكَانَ مِنْ أَصْحَابِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم هَلْ تَسْتَطِيعُ أَنْ تُرِيَنِي كَيْفَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَتَوَضَّأُ فَقَالَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ زَيْدِ بْنِ عَاصِمٍ نَعَمْ . فَدَعَا بِوَضُوءٍ فَأَفْرَغَ عَلَى يَدِهِ فَغَسَلَ يَدَيْهِ مَرَّتَيْنِ مَرَّتَيْنِ ثُمَّ تَمَضْمَضَ وَاسْتَنْثَرَ ثَلاَثًا ثُمَّ غَسَلَ وَجْهَهُ ثَلاَثًا ثُمَّ غَسَلَ يَدَيْهِ مَرَّتَيْنِ مَرَّتَيْنِ إِلَى الْمِرْفَقَيْنِ ثُمَّ مَسَحَ رَأْسَهُ بِيَدَيْهِ فَأَقْبَلَ بِهِمَا وَأَدْبَرَ بَدَأَ بِمُقَدَّمِ رَأْسِهِ ثُمَّ ذَهَبَ بِهِمَا إِلَى قَفَاهُ ثُمَّ رَدَّهُمَا حَتَّى رَجَعَ إِلَى الْمَكَانِ الَّذِي بَدَأَ مِنْهُ ثُمَّ غَسَلَ رِجْلَيْهِ

বর্ণনাকারী: ইয়াহয়া ইবনে উমারা মাযিনী (রহঃ)

রেওয়ায়ত ১. ইয়াহইয়া মাযনী (রাহঃ)-এর পিতা আব্দুল্লাহ্ ইবনে যায়দ ইবনে আসিম (রাযিঃ)-কে বলিলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কিভাবে ওযু করিতেন আপনি আমাকে দেখাইতে পারেন কি? আব্দুল্লাহ ইবনে যায়দ (রাযিঃ) বললেনঃ হ্যাঁ পারি। তারপর তিনি পানি আনাইলেন এবং তাহার হাতের উপর পানি ঢালিলেন। তিনি দুই দুইবার তাহার উভয় হাত ধুলেন, তারপর কুলি করিলেন ও নাক পরিষ্কার করিলেন তিনবার। তারপর মুখমণ্ডলকে তিনবার ধুলেন, তারপর কনুই পর্যন্ত উভয় হাত ধুলেন দুই দুইবার। পরে দুই হাত দ্বারা শির মাসাহ্‌ করিলেন, দুই হাত দিয়া সম্মুখ হইতে আরম্ভ করিয়া পিছনের দিকে নিলেন এবং পিছনের দিক হইতে আরম্ভ করিয়া সামনের দিকে আনিলেন। মাসাহ্‌ আরম্ভ করিলেন মাথার সামনের দিক হইতে। অতঃপর উভয় হাত মাথার পিছনের দিকে নিয়া গেলেন। তারপর উভয় হাত ফিরাইলেন এবং যে স্থান হইতে আরম্ভ করিয়াছিলেন, পুনরায় সেই স্থানেই ফিরাইয়া আনিলেন। তারপর তাহার দুই পা ধুলেন।

৩২

وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنْ أَبِي الزِّنَادِ، عَنِ الأَعْرَجِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " إِذَا تَوَضَّأَ أَحَدُكُمْ فَلْيَجْعَلْ فِي أَنْفِهِ مَاءً ثُمَّ لِيَنْثِرْ وَمَنِ اسْتَجْمَرَ فَلْيُوتِرْ

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

রেওয়ায়ত ২. আবু হুরায়রা (রাযিঃ) হইতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) ইরশাদ করিয়াছেনঃ তোমাদের কেউ যখন ওযু করে, তখন সে যেন তাহার নাকে পানি দেয়, তারপর নাক পরিষ্কার করে, আর যে কুলুখ গ্রহণ করে সে যেন বেজোড় কুলুখ নেয়।

৩৩

وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ أَبِي إِدْرِيسَ الْخَوْلاَنِيِّ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " مَنْ تَوَضَّأَ فَلْيَسْتَنْثِرْ وَمَنِ اسْتَجْمَرَ فَلْيُوتِرْ

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

রেওয়ায়ত ৩. আবু হুরায়রা (রাযিঃ) হইতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলিয়াছেন, যে ওযু করে সে যেন নাক পরিষ্কার করে আর যে কুলুখ নেয় সে বেজোড় নেবে।

৩৪

قَالَ يَحْيَى سَمِعْت مَالِك يَقُولُ فِي الرَّجُلِ يَتَمَضْمَضُ وَيَسْتَنْثِرُ مِنْ غَرْفَةٍ وَاحِدَةٍ إِنَّهُ لَا بَأْسَ بِذَلِكَ

বর্ণনাকারী: বিবিধ

রেওয়ায়ত ৪. ইয়াহইয়া (রাযিঃ) বলেনঃ আমি মালিক (রাহঃ)-কে বলিতে শুনিয়াছি, এক আজলা পানি দ্বারা যে কুলিও করে এবং নাকও পরিষ্কার করে, তাহার এইরূপ করাতে কোন ক্ষতি নাই।

৩৫

وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِك أَنَّهُ بَلَغَهُ أَنَّ عَبْدَ الرَّحْمَنِ بْنَ أَبِي بَكْرٍ قَدْ دَخَلَ عَلَى عَائِشَةَ زَوْجِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَوْمَ مَاتَ سَعْدُ بْنُ أَبِي وَقَّاصٍ فَدَعَا بِوَضُوءٍ فَقَالَتْ لَهُ عَائِشَةُ يَا عَبْدَ الرَّحْمَنِ أَسْبِغْ الْوُضُوءَ فَإِنِّي سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ وَيْلٌ لِلْأَعْقَابِ مِنْ النَّارِ

বর্ণনাকারী: মালিক ইবনে আনাস (রহঃ)

রেওয়ায়ত ৫. মালিক (রাহঃ)-এর নিকট রেওয়ায়ত পৌছিয়াছে যে, নবী করীম (ﷺ) এর সহধর্মিণী আয়েশা (রাযিঃ)-এর নিকট আব্দুর রহমান ইবনে আবু বকর (রাযিঃ) উপস্থিত হইলেন, যেদিন সা’দ ইবনে আবু ওয়াক্কাস (রাযিঃ) ইন্তিকাল করিয়াছেন সেদিন। তারপর তিনি ওযুর পানি চাহিলেন। আয়েশা (রাযিঃ) তাহাকে বললেনঃ পূর্ণরূপে ওযু কর, কারণ আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে বলিতে শুনিয়াছি (وَيْلٌ لِلأَعْقَابِ مِنَ النَّارِ) “পায়ের গিটসমূহের জন্য ধ্বংস নরকাগ্নির।”*

*অর্থাৎ যে ব্যক্তি ওযুতে পায়ের গিট ধৌত করে না তাহাকে জাহান্নামের আগুনের ভয় দেখানো হইয়াছে।
৩৬

وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِك عَنْ يَحْيَى بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ طَحْلَاءَ عَنْ عُثْمَانَ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ أَنَّ أَبَاهُ حَدَّثَهُ أَنَّهُ سَمِعَ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ يَتَوَضَّأُ بِالْمَاءِ لِمَا تَحْتَ إِزَارِهِ

বর্ণনাকারী: হযরত উমর ইবনুল খাত্তাব রাযি.

রেওয়ায়ত ৬. আব্দুর রহমান (রাহঃ) বর্ণনা করেন যে, তিনি শুনিয়াছেন উমর ইবনে খাত্তাব (রাযিঃ) পানি দ্বারা তাহার ইযার-এর (পায়জামা বা লুঙ্গী) নীচে ধুইতেন।

৩৭

قَالَ يَحْيَى سُئِلَ مَالِك عَنْ رَجُلٍ تَوَضَّأَ فَنَسِيَ فَغَسَلَ وَجْهَهُ قَبْلَ أَنْ يَتَمَضْمَضَ أَوْ غَسَلَ ذِرَاعَيْهِ قَبْلَ أَنْ يَغْسِلَ وَجْهَهُ فَقَالَ أَمَّا الَّذِي غَسَلَ وَجْهَهُ قَبْلَ أَنْ يَتَمَضْمَضَ فَلْيُمَضْمِضْ وَلَا يُعِدْ غَسْلَ وَجْهِهِ وَأَمَّا الَّذِي غَسَلَ ذِرَاعَيْهِ قَبْلَ وَجْهِهِ فَلْيَغْسِلْ وَجْهَهُ ثُمَّ لْيُعِدْ غَسْلَ ذِرَاعَيْهِ حَتَّى يَكُونَ غَسْلُهُمَا بَعْدَ وَجْهِهِ إِذَا كَانَ ذَلِكَ فِي مَكَانِهِ أَوْ بِحَضْرَةِ ذَلِكَ

বর্ণনাকারী: মালিক ইবনে আনাস (রহঃ)

রেওয়ায়ত ৭. মালিক (রাহঃ)-কে প্রশ্ন করা হইল এমন এক লোক সম্পর্কে যে ওযু করিয়াছে এবং ভুলে কুলি করার পূর্বে মুখমণ্ডল ধুইয়া ফেলিয়াছে অথবা মুখমণ্ডল ধোয়ার পূর্বে ধুইয়াছে দুই হাত। তিনি (উত্তরে) বলিলেনঃ কুলি করার আগে যে ব্যক্তি মুখমণ্ডল ধুইয়াছে সে কুলি করিয়া লইবে এবং পুনরায় আর মুখমণ্ডল ধুইবে না। আর যে ব্যক্তি মুখমণ্ডল ধোয়ার পূর্বে তাহার হস্তদ্বয় ধুইয়াছে সে মুখমণ্ডল ধুইবে এবং পুনর্বার উভয় হাত ধুইবে, যেন হস্তদ্বয় ধোয়ার কাজ মুখমণ্ডল ধোয়ার পরে হয়। তবে ইহা তখন করিবে যখন সে ওযুর স্থানে অথবা উহার নিকটবর্তী স্থানে থাকে।
৩৮

قَالَ يَحْيَى وَسُئِلَ مَالِك عَنْ رَجُلٍ نَسِيَ أَنْ يَتَمَضْمَضَ وَيَسْتَنْثِرَ حَتَّى صَلَّى قَالَ لَيْسَ عَلَيْهِ أَنْ يُعِيدَ صَلَاتَهُ وَلْيُمَضْمِضْ وَيَسْتَنْثِرْ مَا يَسْتَقْبِلُ إِنْ كَانَ يُرِيدُ أَنْ يُصَلِّيَ

বর্ণনাকারী: মালিক ইবনে আনাস (রহঃ)

রেওয়ায়ত ৮. মালিক (রাহঃ)-কে এমন এক ব্যক্তি সম্পর্কে প্রশ্ন করা হইল, যে ব্যক্তি ভুলবশত কুলি করে নাই অথবা নাক পরিষ্কার করে নাই, এই অবস্থায় সে নামায পড়িয়াছে। উত্তরে তিনি বলিলেনঃ সে লোকের পক্ষে নামায পুনরায় পড়িতে হইবে না। সে পরে অন্য নামায পড়িতে ইচ্ছা করিলে তবে কুলি করিয়া লইবে এবং নাক পরিষ্কার করিবে।*

*হে মুমিনগণ, যখন তোমরা সালাতের জন্য প্রস্তুত হইবে তখন তোমরা তোমাদের মুখমণ্ডল ও হাত কনুই পর্যন্ত ধৌত করিবে এবং তোমাদের মাথা মাসাহ্‌ করিবে এবং পা গ্রন্থি পর্যন্ত ধৌত করিবে। (সূরা মায়িদাঃ ৬)

২. নিদ্রা হইতে জাগার পর ওযু করিয়া নামায পড়িতে ইচ্ছা করিলে

بَاب وُضُوءِ النَّائِمِ إِذَا قَامَ إِلَى الصَّلَاةِ

৩৯

حَدَّثَنِي يَحْيَى عَنْ مَالِك عَنْ أَبِي الزِّنَادِ عَنْ الْأَعْرَجِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ إِذَا اسْتَيْقَظَ أَحَدُكُمْ مِنْ نَوْمِهِ فَلْيَغْسِلْ يَدَهُ قَبْلَ أَنْ يُدْخِلَهَا فِي وَضُوئِهِ فَإِنَّ أَحَدَكُمْ لَا يَدْرِي أَيْنَ بَاتَتْ يَدُهُ

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

রেওয়ায়ত ৯. আবু হুরায়রা (রাযিঃ) হইতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলিয়াছেনঃ তোমাদের কেউ ঘুম হইতে জাগ্রত হইলে ওযুর পাত্রে হাত দেওয়ার পূর্বে তাহার হাত ধুইয়া লইবে, কেননা সে অবগত নহে তাহার হাত কোথায় রাত্রি যাপন করিয়াছে।

৪০
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنْ زَيْدِ بْنِ أَسْلَمَ، أَنَّ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ، قَالَ إِذَا نَامَ أَحَدُكُمْ مُضْطَجِعًا فَلْيَتَوَضَّأْ
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنْ زَيْدِ بْنِ أَسْلَمَ، أَنَّ تَفْسِيرَ، هَذِهِ الآيَةِ (يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِذَا قُمْتُمْ إِلَى الصَّلاَةِ فَاغْسِلُوا وُجُوهَكُمْ وَأَيْدِيَكُمْ إِلَى الْمَرَافِقِ وَامْسَحُوا بِرُءُوسِكُمْ وَأَرْجُلَكُمْ إِلَى الْكَعْبَيْنِ) أَنَّ ذَلِكَ إِذَا قُمْتُمْ مِنَ الْمَضَاجِعِ . يَعْنِي النَّوْمَ

বর্ণনাকারী: হযরত উমর ইবনুল খাত্তাব রাযি.

রেওয়ায়ত ১০. উমর ইবনে খাত্তাব (রাযিঃ) বলেনঃ তোমাদের কেউ কোন বস্তুর সাথে ঠেস দিয়া ঘুমাইলে ওযু করিবে।

(يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِذَا قُمْتُمْ إِلَى الصَّلَاةِ فَاغْسِلُوا وُجُوهَكُمْ وَأَيْدِيَكُمْ إِلَى الْمَرَافِقِ وَامْسَحُوا بِرُءُوسِكُمْ وَأَرْجُلَكُمْ إِلَى الْكَعْبَيْنِ)

যায়দ ইবনে আসলাম (রাযিঃ) এই আয়াতের তফসীর প্রসঙ্গে বলেনঃ ইহা সেই সময়, যখন শয্যা অর্থাৎ নিদ্রা হইতে তোমরা ওঠ।
৪১
قَالَ يَحْيَى قَالَ مَالِكٌ الأَمْرُ عِنْدَنَا أَنَّهُ لاَ يَتَوَضَّأُ مِنْ رُعَافٍ وَلاَ مِنْ دَمٍ وَلاَ مِنْ قَيْحٍ يَسِيلُ مِنَ الْجَسَدِ وَلاَ يَتَوَضَّأُ إِلاَّ مِنْ حَدَثٍ يَخْرُجُ مِنْ ذَكَرٍ أَوْ دُبُرٍ أَوْ نَوْمٍ .
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنْ نَافِعٍ، أَنَّ ابْنَ عُمَرَ، كَانَ يَنَامُ جَالِسًا ثُمَّ يُصَلِّي وَلاَ يَتَوَضَّأُ

বর্ণনাকারী: মালিক ইবনে আনাস (রহঃ)

রেওয়ায়ত ১১. মালিক (রাহঃ) বলেন, আমাদের ফয়সালা এই যে, নাক দিয়া রক্ত প্রবাহিত হইলে, শরীর হইতে খুন নির্গত হইলে এবং পুজ বহির্গত হইলে ওযু করিতে হইবে না। হাদস (حدث) যাহাতে ওযু নষ্ট হয়, এর কারণে ওযু করিতে হইবে; যাহা বাহির হয় গুহ্যদ্বার অথবা জননেন্দ্রীয় হইতে অথবা নিদ্রার কারণে।

নাফি’ (রাহঃ) হইতে বর্ণিত, ইবনে উমর (রাযিঃ) বসা অবস্থায় ঘুমাইতেন। অতঃপর ওযু না করিয়া নামায পড়িতেন।

৩. ওযুর জন্য পবিত্ৰ পানি ব্যবহার করা

بَاب الطَّهُورِ لِلْوُضُوءِ

৪২

حَدَّثَنِي يَحْيَى عَنْ مَالِك عَنْ صَفْوَانَ بْنِ سُلَيْمٍ عَنْ سَعِيدِ بْنِ سَلَمَةَ مِنْ آلِ بَنِي الْأَزْرَقِ عَنْ الْمُغِيرَةِ بْنِ أَبِي بُرْدَةَ وَهُوَ مِنْ بَنِي عَبْدِ الدَّارِ أَنَّهُ سَمِعَ أَبَا هُرَيْرَةَ يَقُولُ جَاءَ رَجُلٌ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّا نَرْكَبُ الْبَحْرَ وَنَحْمِلُ مَعَنَا الْقَلِيلَ مِنْ الْمَاءِ فَإِنْ تَوَضَّأْنَا بِهِ عَطِشْنَا أَفَنَتَوَضَّأُ بِهِ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ هُوَ الطَّهُورُ مَاؤُهُ الْحِلُّ مَيْتَتُهُ

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

রেওয়ায়ত ১২. মুগীরা ইবনে আবী বুরদা (রাহঃ) আবু হুরায়রা (রাযিঃ)-কে বলিতে শুনিয়াছেনঃ এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) এর নিকট আসিয়া বলিলঃ হে আল্লাহর রাসূল! আমরা সাগরে আরোহণ করি (নৌকা বা জাহাজে আরোহণ করি) আর আমাদের সঙ্গে অল্প পানি বহন করি। যদি আমরা সেই পানি দ্বারা ওযু করি তবে আমরা পিপাসিত থাকিব। তাই সমুদ্রের পানি দ্বারা আমরা ওযু করিব কি? রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) ইরশাদ করিলেনঃ সাগরের পানি অতি পবিত্র। ইহার মৃত জীব হালাল।

৪৩
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِك عَنْ إِسْحَقَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي طَلْحَةَ عَنْ حُمَيْدَةَ بِنْتِ عُبَيْدِ بْنِ رِفَاعَةَ عَنْ خَالَتِهَا كَبْشَةَ بِنْتِ كَعْبِ بْنِ مَالِكٍ وَكَانَتْ تَحْتَ ابْنِ أَبِي قَتَادَةَ الْأَنْصَارِيِّ أَنَّهَا أَخْبَرَتْهَا أَنَّ أَبَا قَتَادَةَ دَخَلَ عَلَيْهَا فَسَكَبَتْ لَهُ وَضُوءًا فَجَاءَتْ هِرَّةٌ لِتَشْرَبَ مِنْهُ فَأَصْغَى لَهَا الْإِنَاءَ حَتَّى شَرِبَتْ قَالَتْ كَبْشَةُ فَرَآنِي أَنْظُرُ إِلَيْهِ فَقَالَ أَتَعْجَبِينَ يَا ابْنَةَ أَخِي قَالَتْ فَقُلْتُ نَعَمْ فَقَالَ إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَإِنَّهَا لَيْسَتْ بِنَجَسٍ إِنَّمَا هِيَ مِنْ الطَّوَّافِينَ عَلَيْكُمْ أَوْ الطَّوَّافَاتِ
قَالَ يَحْيَى قَالَ مَالِك لَا بَأْسَ بِهِ إِلَّا أَنْ يُرَى عَلَى فَمِهَا نَجَاسَةٌ

বর্ণনাকারী: হযরত আবু কাতাদা আনসারী (রাঃ)

রেওয়ায়ত ১৩. কাবসা বিনতে কা’ব ইবনে মালিক (রাহঃ) হইতে বর্ণিত, আবু কাতাদা (রাযিঃ) তাহার নিকট আসিলেন। কাবসা তাহার জন্য ওযুর পানি ঢালিতেছিলেন। এমন সময় একটি বিড়াল উহা হইতে পানি পান করার জন্য আসিল। আবু কাতাদা পানির পাত্র ইহার জন্য কাত করিলেন, বিড়াল পানি পান করিল। কাবসা বলেনঃ তিনি আমাকে দেখিলেন আমি খুব বিস্ময়ের সহিত তাহার দিকে দেখিতেছি। তাই তিনি বলিলেনঃ হে ভাতিজী! তুমি কি আশ্চর্যবোধ করিতেছ? আমি (উত্তরে) বলিলামঃ হ্যাঁ। তারপর তিনি বলিলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলিয়াছেনঃ বিড়াল নাপাক নহে, উহা তোমাদের আশেপাশে যাহারা অধিক ঘোরাফেরা করে, তাহাদের অন্তর্ভুক্ত।

মালিক (রাহঃ) বলেনঃ বিড়ালের মুখে নাজাসত (নাপাকী) না থাকিলে উহার মুখ (পাত্রে) দেওয়াতে কোন ক্ষতি নাই।
৪৪

وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ بْنِ الْحَارِثِ التَّيْمِيِّ، عَنْ يَحْيَى بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ حَاطِبٍ، أَنَّ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ، خَرَجَ فِي رَكْبٍ فِيهِمْ عَمْرُو بْنُ الْعَاصِ حَتَّى وَرَدُوا حَوْضًا فَقَالَ عَمْرُو بْنُ الْعَاصِ لِصَاحِبِ الْحَوْضِ يَا صَاحِبَ الْحَوْضِ هَلْ تَرِدُ حَوْضَكَ السِّبَاعُ فَقَالَ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ يَا صَاحِبَ الْحَوْضِ لاَ تُخْبِرْنَا فَإِنَّا نَرِدُ عَلَى السِّبَاعِ وَتَرِدُ عَلَيْنَا

বর্ণনাকারী: হযরত উমর ইবনুল খাত্তাব রাযি.

রেওয়ায়ত ১৪. ইয়াহইয়া ইবনে আব্দুর রহমান ইবনে হাতিব (রাহঃ) হইতে বর্ণিত, উমর ইবনে খাত্তাব (রাযিঃ) এক কাফেলার সহিত বাহির হইলেন। কাফেলায় আমর ইবনে আস (রাযিঃ)-ও শরীক ছিলেন। তাহারা একটি জলাধারের নিকট অবতরণ করিলেন। জলাধারের মালিককে আমর ইবনে আস বলিলেনঃ হে জলাধারের মালিক! আপনার জলাধারে চতুষ্পদ জন্তু অবতরণ করে কি? উমর ইবনে খাত্তাব (রাযিঃ) জলাধারের মালিককে বলিলেনঃ আপনি (এই বিষয়ে) আমাদিগকে খবর দিবেন না। কারণ আমরা চতুষ্পদ জন্তুসমূহের নিকট বিচরণ করি এবং তাহারাও আমাদের কাছে বিচরণ করে।

৪৫

وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنْ نَافِعٍ، أَنَّ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عُمَرَ، كَانَ يَقُولُ إِنْ كَانَ الرِّجَالُ وَالنِّسَاءُ فِي زَمَانِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لَيَتَوَضَّئُونَ جَمِيعًا

বর্ণনাকারী: নাফি‘ (রহঃ)

রেওয়ায়ত ১৫. নাফি (রাহঃ) হইতে বর্ণিত, আব্দুল্লাহ্ ইবনে উমর (রাযিঃ) বলিতেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সময়ে নারী-পুরুষ একত্রে ওযু করিতেন।

৪. যাহাতে ওযু ওয়াজিব হয় না

بَاب مَا لَا يَجِبُ مِنْهُ الْوُضُوءُ

৪৬

حَدَّثَنِي يَحْيَى عَنْ مَالِك عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عُمَارَةَ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ عَنْ أُمِّ وَلَدٍ لِإِبْرَاهِيمَ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَوْفٍ أَنَّهَا سَأَلَتْ أُمَّ سَلَمَةَ زَوْجَ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَتْ إِنِّي امْرَأَةٌ أُطِيلُ ذَيْلِي وَأَمْشِي فِي الْمَكَانِ الْقَذِرِ قَالَتْ أُمُّ سَلَمَةَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يُطَهِّرُهُ مَا بَعْدَهُ

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন উম্মে সালামা (রাঃ)

রেওয়ায়ত ১৬. ইবরাহীম ইবনে আব্দুর রহমান ইবনে আউফ (রাহঃ)-এর উম্মে-ওয়ালাদ (তাহার নাম হুমায়দা বলা হইয়াছে) হইতে বর্ণিত, তিনি নবী করীম (ﷺ) এর সহধর্মিণী উম্মে-সালামা (রাযিঃ)-এর নিকট প্রশ্ন করিলেন, আমি একজন স্ত্রীলোক। আমি আমার কাপড়ের ঝুল লম্বা রাখি আর আমি কোন কোন সময় চলাফেরা করি আবর্জনাযুক্ত স্থান দিয়া। উম্মে সালামা (রাযিঃ) বলিলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) ইরশাদ করিয়াছেনঃ কাপড়ের ঝুলকে আবর্জনাযুক্ত রাস্তার পরবর্তী স্থান পবিত্র করিয়া দিবে।

৪৭

وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، أَنَّهُ رَأَى رَبِيعَةَ بْنَ أَبِي عَبْدِ الرَّحْمَنِ يَقْلِسُ مِرَارًا وَهُوَ فِي الْمَسْجِدِ فَلاَ يَنْصَرِفُ وَلاَ يَتَوَضَّأُ حَتَّى يُصَلِّيَ . قَالَ يَحْيَى وَسُئِلَ مَالِكٌ عَنْ رَجُلٍ قَلَسَ طَعَامًا هَلْ عَلَيْهِ وُضُوءٌ فَقَالَ لَيْسَ عَلَيْهِ وُضُوءٌ وَلْيَتَمَضْمَضْ مِنْ ذَلِكَ وَلْيَغْسِلْ فَاهُ

বর্ণনাকারী: মালিক ইবনে আনাস (রহঃ)

রেওয়ায়ত ১৭. মালিক (রাহঃ) বলেনঃ তিনি রবী’আ ইবনে আব্দুর রহমানকে কয়েকবার উদর হইতে পানি বমি করিতে দেখিয়াছেন, তখন তিনি ছিলেন মসজিদে। তিনি অতঃপর নামায আদায় করা পর্যন্ত মসজিদ হইতে বাহিরেও যাইতেন না এবং ওযুও করিতেন না।

ইয়াহইয়া (রাহঃ) বলেনঃ মালিক (রাহঃ)-কে প্রশ্ন করা হইয়াছে এমন এক ব্যক্তি সম্পর্কে, যে ব্যক্তি খাদ্যবস্তু বমি করিয়াছে, তাহার জন্য ওযু ওয়াজিব হইবে কি? তিনি বলিলেনঃ তাহার জন্য ওযু ওয়াজিব নহে, ইহার জন্য সে কুলি করিবে এবং তাহার মুখ ধুইবে।
৪৮

وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنْ نَافِعٍ، أَنَّ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عُمَرَ، حَنَّطَ ابْنًا لِسَعِيدِ بْنِ زَيْدٍ وَحَمَلَهُ ثُمَّ دَخَلَ الْمَسْجِدَ فَصَلَّى وَلَمْ يَتَوَضَّأْ . قَالَ يَحْيَى وَسُئِلَ مَالِكٌ هَلْ فِي الْقَىْءِ وُضُوءٌ قَالَ لاَ وَلَكِنْ لِيَتَمَضْمَضْ مِنْ ذَلِكَ وَلْيَغْسِلْ فَاهُ وَلَيْسَ عَلَيْهِ وُضُوءٌ

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

রেওয়ায়ত ১৮. নাফি (রাহঃ) হইতে বর্ণিত, আব্দুল্লাহ্ ইবনে উমর (রাযিঃ) সাঈদ ইবনে যায়দ-এর এক (মৃত) পুত্রকে হানূত* লাগাইলেন এবং তাহার লাশ বহন করিলেন, অতঃপর ওযু না করিয়া মসজিদে প্রবেশ করিয়া তিনি নামায পড়িলেন।

মালিক (রাহঃ)-কে প্রশ্ন করা হইলঃ বমি করিলে ওযু করিতে হইবে কি? তিনি বলিলেনঃ না। তবে ইহার জন্য কুলি করিবে এবং তাঁহার মুখ ধুইবে। তাহার উপর ওযু ওয়াজিব নহে।

*এক প্রকারের খোশবু, যাহা মৃত ব্যক্তিকে লাগানোর জন্য তৈয়ার করা হয়।

৫. আগুনে জ্বাল দেওয়া বস্তু আহার করিয়া ওযূ না করা

بَاب تَرْكِ الْوُضُوءِ مِمَّا مَسَّتْهُ النَّارُ

৪৯

حَدَّثَنِي يَحْيَى عَنْ مَالِك عَنْ زَيْدِ بْنِ أَسْلَمَ عَنْ عَطَاءِ بْنِ يَسَارٍ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَبَّاسٍ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَكَلَ كَتِفَ شَاةٍ ثُمَّ صَلَّى وَلَمْ يَتَوَضَّأْ

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

রেওয়ায়ত ১৯. আব্দুল্লাহ্ ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) হইতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ছাগের কাঁধের গোশত আহার করার পর ওযু না করিয়া নামায পড়িলেন।

৫০

وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ، عَنْ بُشَيْرِ بْنِ يَسَارٍ، مَوْلَى بَنِي حَارِثَةَ عَنْ سُوَيْدِ بْنِ النُّعْمَانِ، أَنَّهُ أَخْبَرَهُ أَنَّهُ، خَرَجَ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَامَ خَيْبَرَ حَتَّى إِذَا كَانُوا بِالصَّهْبَاءِ - وَهِيَ مِنْ أَدْنَى خَيْبَرَ - نَزَلَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَصَلَّى الْعَصْرَ ثُمَّ دَعَا بِالأَزْوَادِ فَلَمْ يُؤْتَ إِلاَّ بِالسَّوِيقِ فَأَمَرَ بِهِ فَثُرِّيَ فَأَكَلَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَأَكَلْنَا ثُمَّ قَامَ إِلَى الْمَغْرِبِ فَمَضْمَضَ وَمَضْمَضْنَا ثُمَّ صَلَّى وَلَمْ يَتَوَضَّأْ

বর্ণনাকারী: সুওয়াইদ ইবনে নু‘মান (রাঃ)

রেওয়ায়ত ২০. সুওয়ায়দ ইবনে নুমান (রাযিঃ) হইতে বর্ণিত, তিনি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সাথে খায়বরের যুদ্ধের বৎসর বাহির হইলেন। যখন তাহার সাহবা (صهباء) নামক স্থানে পৌছিলেন- উহা খায়বরের ঢালু অংশে অবস্থিত- রাসূলুল্লাহ (ﷺ) (তথায়) অবতরণ করিলেন, তারপর আসর নামায পড়িলেন। অতঃপর সফরে আহারের জন্য রাখা খাদ্যবস্তু এবং উহার পাত্রসমূহ আনিতে বলিলেন, তাহার নিকট ছাতু ছাড়া অন্য কিছু উপস্থিত করা হইল না। তিনি নির্দেশ দিলেন, উহা গুলান হইল, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আহার করিলেন, আমরাও আহার করিলাম। অতঃপর মাগরিবের নামাযের জন্য উঠিলেন এবং কুলি করিলেন, আমরাও কুলি করিলাম। তারপর তিনি নামায পড়িলেন, অথচ আর ওযু করিলেন না।

৫১

وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ الْمُنْكَدِرِ، وَعَنْ صَفْوَانَ بْنِ سُلَيْمٍ، أَنَّهُمَا أَخْبَرَاهُ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ بْنِ الْحَارِثِ التَّيْمِيِّ، عَنْ رَبِيعَةَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الْهُدَيْرِ، أَنَّهُ تَعَشَّى مَعَ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ ثُمَّ صَلَّى وَلَمْ يَتَوَضَّأْ

বর্ণনাকারী: হযরত উমর ইবনুল খাত্তাব রাযি.

রেওয়ায়ত ২১. রবী’আ ইবনে আব্দুল্লাহ্ ইবনে হুদায়র (রাহঃ) উমর ইবনে খাত্তাব (রাযিঃ)-এর সহিত সন্ধ্যাকালীন আহার করিলেন, তারপর নামায পড়িলেন, আর ওযু করিলেন না।

৫২
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنْ ضَمْرَةَ بْنِ سَعِيدٍ الْمَازِنِيِّ، عَنْ أَبَانَ بْنِ عُثْمَانَ، أَنَّ عُثْمَانَ بْنَ عَفَّانَ، أَكَلَ خُبْزًا وَلَحْمًا ثُمَّ مَضْمَضَ وَغَسَلَ يَدَيْهِ وَمَسَحَ بِهِمَا وَجْهَهُ ثُمَّ صَلَّى وَلَمْ يَتَوَضَّأْ
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، أَنَّهُ بَلَغَهُ أَنَّ عَلِيَّ بْنَ أَبِي طَالِبٍ، وَعَبْدَ اللَّهِ بْنَ عَبَّاسٍ، كَانَا لاَ يَتَوَضَّآنِ مِمَّا مَسَّتِ النَّارُ

বর্ণনাকারী: উসমান ইবনে আফফান (রাঃ)

রেওয়ায়ত ২২.উসমান ইবনে আফফান (রাযিঃ) রুটি-গোশত আহার করিলেন, তারপর কুলি করিলেন, উভয় হাত ধুলেন এবং হস্তদ্বয় দ্বারা মুখমণ্ডল মাসাহ্‌ করিলেন, তারপর নামায পড়িলেন অথচ পুনরায় ওযু করিলেন না।

মালিক (রাহঃ) বলেনঃ তিনি জানিতে পারিয়াছেন যে, আলী ইবনে আবি তালিব (রাযিঃ) এবং আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) আগুনে জ্বাল দেওয়া খাদ্যবস্তু আহার করিয়া ওযু করিতেন না।
৫৩

وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ، أَنَّهُ سَأَلَ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عَامِرِ بْنِ رَبِيعَةَ عَنِ الرَّجُلِ، يَتَوَضَّأُ لِلصَّلاَةِ ثُمَّ يُصِيبُ طَعَامًا قَدْ مَسَّتْهُ النَّارُ أَيَتَوَضَأُ قَالَ رَأَيْتُ أَبِي يَفْعَلُ ذَلِكَ وَلاَ يَتَوَضَّأُ

বর্ণনাকারী: ইয়াহয়া ইবনে সাঈদ আনসারী (রহঃ)

রেওয়ায়ত ২৩. ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ (রাহঃ) আব্দুল্লাহ্ ইবনে আমির ইবনে রবী’আ (রাহঃ)-এর নিকট একটি প্রশ্ন করিলেন এমন এক লোক সম্পর্কে, যে নামাযের জন্য ওযু করিয়া আগুনে রন্ধন করা খাদ্যবস্তু আহার করিল, সে কি ওযু করিবে? তিনি বলিলেনঃ আমার পিতাকে দেখিয়াছি তিনি এইরূপ রাধা খাদ্য খাইতেন ও ওযু করিতেন না।

৫৪

وَحَدَّثَنِي يَحْيَى، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ أَبِي نُعَيْمٍ، وَهْبِ بْنِ كَيْسَانَ أَنَّهُ سَمِعَ جَابِرَ بْنَ عَبْدِ اللَّهِ الأَنْصَارِيَّ، يَقُولُ رَأَيْتُ أَبَا بَكْرٍ الصِّدِّيقَ أَكَلَ لَحْمًا ثُمَّ صَلَّى وَلَمْ يَتَوَضَّأْ

বর্ণনাকারী: জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ আনসারী (রাঃ)

রেওয়ায়ত ২৪. আবু নঈম ওয়াহব ইবনে কায়সান (রাহঃ) জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ্ (রাযিঃ)-কে বলিতে শুনিয়াছেনঃ আমি আবু বকর সিদীক (রাযিঃ)-কে দেখিয়াছি, তিনি গোশত খাইলেন, অতঃপর নামায পড়িলেন অথচ ওযু করিলেন না।

৫৫

وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِك عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ الْمُنْكَدِرِ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ دُعِيَ لِطَعَامٍ فَقُرِّبَ إِلَيْهِ خُبْزٌ وَلَحْمٌ فَأَكَلَ مِنْهُ ثُمَّ تَوَضَّأَ وَصَلَّى ثُمَّ أُتِيَ بِفَضْلِ ذَلِكَ الطَّعَامِ فَأَكَلَ مِنْهُ ثُمَّ صَلَّى وَلَمْ يَتَوَضَّأْ

বর্ণনাকারী: মুহাম্মাদ ইবনুল মুনকাদির (রহঃ)

রেওয়ায়ত ২৫. মুহাম্মাদ ইবনে মুনকাদির হইতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে (খানার জন্য) দাওয়াত করা হইল, তাহার সমীপে রুটি-গোশত পেশ করা হইল। তিনি উহা হইতে আহার করিলেন, তারপর উযু করিলেন ও নামায পড়িলেন। অতঃপর সেই খাদ্যের অবশিষ্ট তাহার নিকট আনা হইল। তিনি উহা হইতে আহার করিলেন, তারপর নামায পড়িলেন, আর ওযু করিলেন না।

৫৬

وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنْ مُوسَى بْنِ عُقْبَةَ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ زَيْدٍ الأَنْصَارِيِّ، أَنَّ أَنَسَ بْنَ مَالِكٍ، قَدِمَ مِنَ الْعِرَاقِ فَدَخَلَ عَلَيْهِ أَبُو طَلْحَةَ وَأُبَىُّ بْنُ كَعْبٍ فَقَرَّبَ لَهُمَا طَعَامًا قَدْ مَسَّتْهُ النَّارُ فَأَكَلُوا مِنْهُ فَقَامَ أَنَسٌ فَتَوَضَّأَ فَقَالَ أَبُو طَلْحَةَ وَأُبَىُّ بْنُ كَعْبٍ مَا هَذَا يَا أَنَسُ أَعِرَاقِيَّةٌ فَقَالَ أَنَسٌ لَيْتَنِي لَمْ أَفْعَلْ . وَقَامَ أَبُو طَلْحَةَ وَأُبَىُّ بْنُ كَعْبٍ فَصَلَّيَا وَلَمْ يَتَوَضَّآ

বর্ণনাকারী: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

রেওয়ায়ত ২৬. আনাস ইবনে মালিক (রাযিঃ) ইরাক হইতে আগমন করিলেন। তাহার নিকট আবু তালহা ও উবাই ইবনে কা’ব (রাযিঃ) আগমন করিলেন। আগুনে রন্ধন করা হইয়াছে এরূপ খাদ্য তাহাদের উভয়ের নিকট পেশ করা হইল। সকলে উহা হইতে আহার করিলেন, অতঃপর আনাস (রাযিঃ) উঠিলেন এবং ওযু করিলেন। (ইহা দেখিয়া) আবু তালহা ও উবাই ইবনে কা’ব (রাযিঃ) বলিলেনঃ হে আনাস! ইহা কি? ইহা কি ইরাকী আমল? আনাস (রাযিঃ) বলিলেনঃ আমি যদি ইহা না করিতাম (তবে ভাল হইত)। আবু তালহা ও উবাই ইবনে কা’ব (রাযিঃ) উঠিলেন এবং নামায পড়িলেন, তাহারা ওযু করিলেন না।

৬. ওযু সম্পৰ্কীয় বিবিধ হাদীস

بَاب جَامِعِ الْوُضُوءِ

৫৭

حَدَّثَنِي يَحْيَى عَنْ مَالِك عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ عَنْ أَبِيهِ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ سُئِلَ عَنْ الْاسْتِطَابَةِ فَقَالَ أَوَلَا يَجِدُ أَحَدُكُمْ ثَلَاثَةَ أَحْجَارٍ

বর্ণনাকারী: হিশাম ইবনে উরওয়া (রহঃ)

রেওয়ায়ত ২৭. উরওয়াহ্ ইবনে যুবায়র (রাহঃ) হইতে বর্ণিত, ইস্তিতাবা* সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) -কে প্রশ্ন করা হইল। তিনি বলিলেনঃ তোমাদের একজন কি তিনটি পাথরও পায় না (যদ্বারা সে পবিত্রতা লাভ করিতে সক্ষম হয়?)

*ইস্তিতাবা অর্থ ইস্তিনজা অর্থাৎ পেশাব-পায়খানা হইতে পবিত্ৰতা অর্জন।
৫৮

وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنِ الْعَلاَءِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم خَرَجَ إِلَى الْمَقْبُرَةِ فَقَالَ " السَّلاَمُ عَلَيْكُمْ دَارَ قَوْمٍ مُؤْمِنِينَ وَإِنَّا إِنْ شَاءَ اللَّهُ بِكُمْ لاَحِقُونَ وَدِدْتُ أَنِّي قَدْ رَأَيْتُ إِخْوَانَنَا " . فَقَالُوا يَا رَسُولَ اللَّهِ أَلَسْنَا بِإِخْوَانِكَ قَالَ " بَلْ أَنْتُمْ أَصْحَابِي وَإِخْوَانُنَا الَّذِينَ لَمْ يَأْتُوا بَعْدُ وَأَنَا فَرَطُهُمْ عَلَى الْحَوْضِ " . فَقَالُوا يَا رَسُولَ اللَّهِ كَيْفَ تَعْرِفُ مَنْ يَأْتِي بَعْدَكَ مِنْ أُمَّتِكَ قَالَ " أَرَأَيْتَ لَوْ كَانَ لِرَجُلٍ خَيْلٌ غُرٌّ مُحَجَّلَةٌ فِي خَيْلٍ دُهْمٍ بُهْمٍ أَلاَ يَعْرِفُ خَيْلَهُ " . قَالُوا بَلَى يَا رَسُولَ اللَّهِ . قَالَ " فَإِنَّهُمْ يَأْتُونَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ غُرًّا مُحَجَّلِينَ مِنَ الْوُضُوءِ وَأَنَا فَرَطُهُمْ عَلَى الْحَوْضِ فَلاَ يُذَادَنَّ رِجَالٌ عَنْ حَوْضِي كَمَا يُذَادُ الْبَعِيرُ الضَّالُّ أُنَادِيهِمْ أَلاَ هَلُمَّ أَلاَ هَلُمَّ أَلاَ هَلُمَّ فَيُقَالُ إِنَّهُمْ قَدْ بَدَّلُوا بَعْدَكَ فَأَقُولُ فَسُحْقًا فَسُحْقًا فَسُحْقًا " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

রেওয়ায়ত ২৮. আবু হুরায়রা (রাযিঃ) হইতে বর্ণিত — রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) (একদ) কবরস্থানের দিকে গমন করিলেন। তিনি সেখানে পৌছার পর বলিলেনঃ

السَّلاَمُ عَلَيْكُمْ دَارَ قَوْمٍ مُؤْمِنِينَ وَإِنَّا إِنْ شَاءَ اللَّهُ بِكُمْ لاَحِقُونَ

তোমাদের উপর শান্তি বর্ষিত হোক। হে মু’মিন সম্প্রদায়ের বাসস্থানে (অর্থাৎ গোরস্তানে) বসবাসকারিগণ! আমরা তোমাদের সহিত মিলিত হইব, ইনশাআল্লাহ।” আমার আকাঙ্ক্ষা, যদি আমার ভাইদিগকে দেখিতাম! তাহারা বলিলেনঃ হে আল্লাহর রাসূল! আমরা আপনার ভাই নই কি? তিনি বলিলেনঃ তোমরা আমার আসহাব, আমার ভাই তাহারা যাহারা এখনও (ইহজগতে) আসেন নাই। আমি তাহদের অগ্রদূত হইব হাওযের নিকট। তাহারা বলিলেনঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আপনার উম্মতের মধ্যে যাহারা আপনার পরে আগমন করিবে আপনি তাহাদের পরিচয় পাইবেন কিভাবে?

তিনি বলিলেনঃ তোমরা আমাকে বল দেখি, যদি কোন ব্যক্তির কাছে পায়ে ও ললাটে সাদা চিহ্নযুক্ত ঘোড়া থাকে এবং সেগুলি গাঢ় কাল রং-এর ঘোড়ার সহিত একত্র থাকে, তবে সেই ব্যক্তি কি তাহার (সাদা চিহ্নযুক্ত) ঘোড়া চিনিতে পারবে না? তাহারা বলিলেনঃ হ্যা, ইয়া রাসূলাল্লাহ! চিনিতে পরিবে। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলিলেনঃ আমার উম্মতকে আমি চিনিতে পারিব। কারণ তাহারা ওযুর দরুন রোজ কিয়ামতে জ্যোতির্ময় চেহারা এবং জ্যোতির্ময় অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ নিয়া উপস্থিত হইবে। আমি হাওযে তাহদের অগ্রদূত থাকিব। দলভ্রষ্ট উটকে যেরূপ তাড়াইয়া দেওয়া হয়, আমার হাওয হইতে কাহাকেও অদ্রূপ তাড়াইয়া দেওয়া হইলে আমি তাহাকে আহবান করিবঃ أَلاَ هَلُمَّ أَلاَ هَلُمَّ أَلاَ هَلُمَّ - ওহে (আমার নিকট) আস, (আমার নিকট) আস, (আমার নিকট) আস। তারপর আমাকে বলা হইবেঃ ইহারা (আপনার সুন্নতকে) আপনার পরে পরিবর্তন করিয়াছে। আমি বলিবঃ فَسُحْقًا فَسُحْقًا فَسُحْقًا -তবে দূর হও, দূর হও, দূর হও।
৫৯

وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِك عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ عَنْ أَبِيهِ عَنْ حُمْرَانَ مَوْلَى عُثْمَانَ بْنِ عَفَّانَ أَنَّ عُثْمَانَ بْنَ عَفَّانَ جَلَسَ عَلَى الْمَقَاعِدِ فَجَاءَ الْمُؤَذِّنُ فَآذَنَهُ بِصَلَاةِ الْعَصْرِ فَدَعَا بِمَاءٍ فَتَوَضَّأَ ثُمَّ قَالَ وَاللَّهِ لَأُحَدِّثَنَّكُمْ حَدِيثًا لَوْلَا أَنَّهُ فِي كِتَابِ اللَّهِ مَا حَدَّثْتُكُمُوهُ ثُمَّ قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ مَا مِنْ امْرِئٍ يَتَوَضَّأُ فَيُحْسِنُ وُضُوءَهُ ثُمَّ يُصَلِّي الصَّلَاةَ إِلَّا غُفِرَ لَهُ مَا بَيْنَهُ وَبَيْنَ الصَّلَاةِ الْأُخْرَى حَتَّى يُصَلِّيَهَا قَالَ يَحْيَى قَالَ مَالِك أُرَاهُ يُرِيدُ هَذِهِ الْآيَةَ أَقِمْ الصَّلَاةَ طَرَفَيْ النَّهَارِ وَزُلَفًا مِنْ اللَّيْلِ إِنَّ الْحَسَنَاتِ يُذْهِبْنَ السَّيِّئَاتِ ذَلِكَ ذِكْرَى لِلذَّاكِرِينَ

বর্ণনাকারী: উসমান ইবনে আফফান (রাঃ)

রেওয়ায়ত ২৯. হুমরান (রাহঃ) (حُمْرَان) হইতে বর্ণিত, উসমান ইবনে আফফান (রাযিঃ) (একদা) মাকাইদ (مَقَاعِد) বৈঠকখানায় বসিলেন। মুয়াযযিন আসিয়া তাহাকে আসরের নামাযের সংবাদ দিলেন। তিনি পানি আনাইলেন, তারপর ওযু করিলেন এবং বলিলেনঃ আল্লাহর কসম, আমি নিশ্চয়ই তোমাদের নিকট একটি হাদীস বয়ান করিব। কিতাবুল্লাহর (কুরআনের) একটি আয়াত যদি না থাকিত তবে আমি তোমাদের নিকট হাদীস বয়ান করিতাম না। অতঃপর বললেন, রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে আমি বলতে শুনেছি যে ব্যক্তি ওযূ করে আর সে তাহার ওযূকে উত্তমরূপে সমাধা করার পর নামায আদায় করে, তার (পাপ) মার্জনা করা হবে অর্থাৎ পরবর্তী নামায সমাপ্ত করা পর্যন্ত অর্থাৎ পরবর্তী নামায আদায় করলেই এই মার্জনা পাওয়া যাবে।

মালিক (রাহঃ) বলিয়াছেনঃ আমার ধারণা, উসমান (রাযিঃ) যেই আয়াতের কথা বলিয়াছেন তাহা এইঃ

أَقِمِ الصَّلَاةَ طَرَفَيِ النَّهَارِ وَزُلَفًا مِّنَ اللَّيْلِ ۚ إِنَّ الْحَسَنَاتِ يُذْهِبْنَ السَّيِّئَاتِ ذَٰلِكَ ذِكْرَىٰ لِلذَّاكِرِين

নামায কায়েম করবে দিবসের দুই প্রান্তভাগে ও রজনীর প্রথমাংশে। নিশ্চয় সৎকর্ম অসৎ কর্ম মিটাইয়া দেয়। (সূরা হুদঃ ১১৪)
৬০

وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنْ زَيْدِ بْنِ أَسْلَمَ، عَنْ عَطَاءِ بْنِ يَسَارٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ الصُّنَابِحِيِّ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " إِذَا تَوَضَّأَ الْعَبْدُ الْمُؤْمِنُ فَتَمَضْمَضَ خَرَجَتِ الْخَطَايَا مِنْ فِيهِ وَإِذَا اسْتَنْثَرَ خَرَجَتِ الْخَطَايَا مِنْ أَنْفِهِ فَإِذَا غَسَلَ وَجْهَهُ خَرَجَتِ الْخَطَايَا مِنْ وَجْهِهِ حَتَّى تَخْرُجَ مِنْ تَحْتِ أَشْفَارِ عَيْنَيْهِ فَإِذَا غَسَلَ يَدَيْهِ خَرَجَتِ الْخَطَايَا مِنْ يَدَيْهِ حَتَّى تَخْرُجَ مِنْ تَحْتِ أَظْفَارِ يَدَيْهِ فَإِذَا مَسَحَ بِرَأْسِهِ خَرَجَتِ الْخَطَايَا مِنْ رَأْسِهِ حَتَّى تَخْرُجَ مِنْ أُذُنَيْهِ فَإِذَا غَسَلَ رِجْلَيْهِ خَرَجَتِ الْخَطَايَا مِنْ رِجْلَيْهِ حَتَّى تَخْرُجَ مِنْ تَحْتِ أَظْفَارِ رِجْلَيْهِ - قَالَ - ثُمَّ كَانَ مَشْيُهُ إِلَى الْمَسْجِدِ وَصَلاَتُهُ نَافِلَةً لَهُ " .

বর্ণনাকারী: আব্দুল্লাহ সুনাবিহী (রাঃ)

রেওয়ায়ত ৩০. আব্দুল্লাহ সুনাবিহী (রাযিঃ) হইতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিয়াছেনঃ মুমিন বান্দা যখন ওযু করে এবং কুলি করে, তাহার মুখ হইতে পাপসমূহ বাহির হইয়া যায়। সে যখন মুখমণ্ডল ধৌত করে তাহার মুখমণ্ডল হইতে তখন পাপসমূহ বাহির হইয়া যায়। এমনকি চক্ষুদ্বয়ের পালকের নিচ হইতেও গুনাহ বাহির হইয়া যায়। তারপর যখন সে তাহার উভয় হাত ধোয় তখন পাপসমূহ হস্তদ্বয় হইতে বাহির হইয়া যায়; এমনকি তাহার উভয় হাতের নখসমূহের নিচ হইতেও গুনাহ বাহির হইয়া যায়। অতঃপর যখন সে তাহার মাথা মাসাহ্‌ করে তাহার পাপসমূহ তখন তাহার মাথা হইতে বাহির হইয়া যায়; এমনকি তাহার উভয় কান হইতেও বাহির হইয়া যায়। যখন সে তাহার উভয় পা ধোয় তখন পাপসমূহ তাহার উভয় পা হইতে বাহির হইয়া যায়; এমনকি তাহার উভয় পায়ের সকল নখের নিচ হইতেও গুনাহ বাহির হইয়া যায়। তিনি (রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলিয়াছেনঃ অতঃপর সেই ব্যক্তির মসজিদে গমন এবং নামায পড়া তাহার জন্য নফল (অতিরিক্ত সওয়াবের বস্তু)-স্বরূপ হয়।

৬১

وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنْ سُهَيْلِ بْنِ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " إِذَا تَوَضَّأَ الْعَبْدُ الْمُسْلِمُ - أَوِ الْمُؤْمِنُ - فَغَسَلَ وَجْهَهُ خَرَجَتْ مِنْ وَجْهِهِ كُلُّ خَطِيئَةٍ نَظَرَ إِلَيْهَا بِعَيْنَيْهِ مَعَ الْمَاءِ - أَوْ مَعَ آخِرِ قَطْرِ الْمَاءِ - فَإِذَا غَسَلَ يَدَيْهِ خَرَجَتْ مِنْ يَدَيْهِ كُلُّ خَطِيئَةٍ بَطَشَتْهَا يَدَاهُ مَعَ الْمَاءِ - أَوْ مَعَ آخِرِ قَطْرِ الْمَاءِ فَإِذَا غَسَلَ رِجْلَيْهِ خَرَجَتْ كُلُّ خَطِيئَةٍ مَشَتْهَا رِجْلاَهُ مَعَ الْمَاءِ - أَوْ مَعَ آخِرِ قَطْرِ الْمَاءِ - حَتَّى يَخْرُجَ نَقِيًّا مِنَ الذُّنُوبِ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

রেওয়ায়ত ৩১. আবু হুরায়রা (রাযিঃ) হইতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলিয়াছেনঃ যখন মু’মিন বান্দা ওযু করে এবং তাহার মুখমণ্ডল ধোয় তখন তাহার মুখমণ্ডল হইতে সকল গুনাহ যাহা দেখার দরুন অর্জিত হইয়াছে, বাহির হইয়া যায়; পানির সঙ্গে অথবা পানির শেষ কাতরার (ফোঁটা) সঙ্গে অথবা (ইহার সমার্থবোধক) অনুরূপ কোন বাক্য। তারপর যখন সে তাহার উভয় হাত ধোয় তখন তাহার হস্তদ্বয় হইতে হস্তদ্বয় দ্বারা অর্জিত সকল পাপ বাহির হইয়া যায়। পানির সঙ্গে অথবা (বলিয়াছেন) পানির শেষ কাতরার সঙ্গে; এমনকি সে যাবতীয় পাপ হইতে পবিত্র হইয়া যায়।

৬২

وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنْ إِسْحَاقَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي طَلْحَةَ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، أَنَّهُ قَالَ رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَحَانَتْ صَلاَةُ الْعَصْرِ فَالْتَمَسَ النَّاسُ وَضُوءًا فَلَمْ يَجِدُوهُ فَأُتِيَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِوَضُوءٍ فِي إِنَاءٍ فَوَضَعَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي ذَلِكَ الإِنَاءِ يَدَهُ ثُمَّ أَمَرَ النَّاسَ يَتَوَضَّئُونَ مِنْهُ - قَالَ أَنَسٌ - فَرَأَيْتُ الْمَاءَ يَنْبُعُ مِنْ تَحْتِ أَصَابِعِهِ فَتَوَضَّأَ النَّاسُ حَتَّى تَوَضَّئُوا مِنْ عِنْدِ آخِرِهِمْ .

বর্ণনাকারী: আনাস ইবনে সিরীন (রহঃ)

রেওয়ায়ত ৩২. আনাস ইবনে মালিক (রাযিঃ) বলেনঃ আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে এমন সময় দেখিলাম যখন আসরের নামাযের সময় নিকটবর্তী। লোকজন ওযুর জন্য পানি তালাশ করিলেন, কিন্তু তাহারা পানি পাইলেন না। পরে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকট একটি পাত্রে কিছু পানি আনা হইল, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) নিজের হাত সেই পাত্রে রাখিলেন। তারপর লোকজনকে উহা হইতে ওযু করার নির্দেশ দিলেন। আনাস (রাযিঃ) বলেনঃ আমি হযরতের অঙ্গুলিসমূহের নিচ হইতে পানি নির্গত হইতে দেখিলাম, লোকজন ওযু করিলেন। এমনকি তাহাদের (দলের) সর্বশেষ ব্যক্তিও ওষু করিলেন।

৬৩

وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنْ نُعَيْمِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ الْمَدَنِيِّ الْمُجْمِرِ، أَنَّهُ سَمِعَ أَبَا هُرَيْرَةَ، يَقُولُ مَنْ تَوَضَّأَ فَأَحْسَنَ وُضُوءَهُ ثُمَّ خَرَجَ عَامِدًا إِلَى الصَّلاَةِ فَإِنَّهُ فِي صَلاَةٍ مَادَامَ يَعْمِدُ إِلَى الصَّلاَةِ وَإِنَّهُ يُكْتَبُ لَهُ بِإِحْدَى خُطْوَتَيْهِ حَسَنَةٌ وَيُمْحَى عَنْهُ بِالأُخْرَى سَيِّئَةٌ فَإِذَا سَمِعَ أَحَدُكُمُ الإِقَامَةَ فَلاَ يَسْعَ فَإِنَّ أَعْظَمَكُمْ أَجْرًا أَبْعَدُكُمْ دَارًا . قَالُوا لِمَ يَا أَبَا هُرَيْرَةَ قَالَ مِنْ أَجْلِ كَثْرَةِ الْخُطَا .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

রেওয়ায়ত ৩৩. নুআয়ম ইবনে আব্দুল্লাহ মুজমির (রাহঃ) আবু হুরায়রা (রাযিঃ)-কে বলিতে শুনিয়াছেন, যে ব্যক্তি ওযু করিয়াছে এবং তাহার ওযুকে উত্তমরূপে সম্পাদন করিয়াছে, অতঃপর নামাযের উদ্দেশ্যে বাহির হইয়াছে, সে নামাযে থাকিবে (সওয়াবের দিক দিয়া নামাযে বলিয়া গণ্য হইবে) যতক্ষণ নামাযের নিয়ত রাখিবে এবং তাহার জন্য প্রতিটি প্রথম পদ উত্তোলনে একটি করিয়া নেকী লেখা হইবে, আর প্রতিটি দ্বিতীয় পদ উত্তোলনের পরিবর্তে তাহার পাপ মোচন করিয়া দেওয়া হইবে। তাই তোমাদের কেউ ইকামত শুনিতে পাইলে দৌড়াইবে না, কারণ তোমাদের মধ্যে সেই লোকই বেশী সওয়াবের অধিকারী যাহার ঘর মসজিদ হইতে অধিক দূরে। শ্রোতারা বলিলেনঃ এইরূপ কেন, হে আবু হুরায়রা? তিনি বলিলেনঃ কদমের আধিক্যের কারণে।

৬৪

وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ، أَنَّهُ سَمِعَ سَعِيدَ بْنَ الْمُسَيَّبِ، يُسْأَلُ عَنِ الْوُضُوءِ مِنَ الْغَائِطِ بِالْمَاءِ فَقَالَ سَعِيدٌ إِنَّمَا ذَلِكَ وُضُوءُ النِّسَاءِ

বর্ণনাকারী: ইয়াহয়া ইবনে সাঈদ আনসারী (রহঃ)

রেওয়ায়ত ৩৪. ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ (রাহঃ) শুনিয়াছেন যে, সাঈদ ইবনে মুসায়্যাব (রাহঃ)-কে প্রশ্ন করা হইল, মল-মূত্র ত্যাগের কারণে পানি দ্বারা ইস্তিন্জা (মল-মূত্র ত্যাগের পর বিশেষ স্থান ধৌত করা) করা সম্পর্কে। সাঈদ (রাহঃ) বললেনঃ ইহা অবশ্য মেয়েদের ইস্তিন্জা।

৬৫

وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنْ أَبِي الزِّنَادِ، عَنِ الأَعْرَجِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " إِذَا شَرِبَ الْكَلْبُ فِي إِنَاءِ أَحَدِكُمْ فَلْيَغْسِلْهُ سَبْعَ مَرَّاتٍ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

রেওয়ায়ত ৩৫. আবু হুরায়রা (রাযিঃ) হইতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলিয়াছেনঃ তোমাদের কাহারও পাত্র হইতে কুকুর আহার করিলে, তবে অবশ্যই উহাকে সাতবার ধুইবে।

৬৬

وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، أَنَّهُ بَلَغَهُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " اسْتَقِيمُوا وَلَنْ تُحْصُوا وَاعْمَلُوا وَخَيْرُ أَعْمَالِكُمُ الصَّلاَةُ وَلاَ يُحَافِظُ عَلَى الْوُضُوءِ إِلاَّ مُؤْمِنٌ " .

বর্ণনাকারী: মালিক ইবনে আনাস (রহঃ)

রেওয়ায়ত ৩৬. মালিক (রাহঃ) বলেনঃ তাহার নিকট হাদীস পৌছিয়াছে যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলিয়াছেনঃ যে শরীয়ত তোমাদের জন্য নির্ধারিত করা হইয়াছে উহার উপর তোমরা দৃঢ়তার সহিত থাক, পূর্ণ ইস্তিকামাত বা দৃঢ়তার সামর্থ্যও তো তোমাদের নাই। কাজ করিতে থাক। তোমাদের আমলসমূহের মধ্যে সর্বোত্তম আমল নামায। মু’মিন ব্যতীত অন্য কেউ ওযুর যথাযোগ্য হিফাযত (ওযুতে যাহিরী ও বাতেনী পরিচ্ছন্নতা অর্জনের প্রতি লক্ষ্য রাখার নাম মুহাফিযাত) করে না।

৭. মাথা ও দুই কান মাসাহ্‌-এর বর্ণনা

بَاب مَا جَاءَ فِي الْمَسْحِ بِالرَّأْسِ وَالْأُذُنَيْنِ

৬৭

حَدَّثَنِي يَحْيَى، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ نَافِعٍ، أَنَّ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عُمَرَ، كَانَ يَأْخُذُ الْمَاءَ بِأَصْبُعَيْهِ لأُذُنَيْهِ

বর্ণনাকারী: নাফি‘ (রহঃ)

রেওয়ায়ত ৩৭. নাফি (রাহঃ) হইতে বর্ণিত, আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাযিঃ) তাহার উভয় কানের জন্য দুই আঙুল দ্বারা পানি লইতেন।
৬৮

وَحَدَّثَنِي يَحْيَى، عَنْ مَالِكٍ، أَنَّهُ بَلَغَهُ أَنَّ جَابِرَ بْنَ عَبْدِ اللَّهِ الأَنْصَارِيَّ، سُئِلَ عَنِ الْمَسْحِ، عَلَى الْعِمَامَةِ فَقَالَ لاَ حَتَّى يُمْسَحَ الشَّعْرُ بِالْمَاءِ .

বর্ণনাকারী: মালিক ইবনে আনাস (রহঃ)

রেওয়ায়ত ৩৮. মালিক (রাহঃ) বলেনঃ তাহার নিকট রেওয়ায়ত পৌছিয়াছে যে, জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ্ আনসারী (রাযিঃ)-কে মাসাহ আলাল ইসাবাহ (পাগড়ির উপর হাত বুলাইয়া যাওয়া) সম্পর্কে প্রশ্ন করা হইল। তিনি বলিলেনঃ না, (ইহা যথেষ্ট নহে) যতক্ষণ পানি দ্বারা চুল মাসাহ্‌ করা না হয়।

৬৯

وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ، أَنَّ أَبَاهُ، عُرْوَةَ بْنَ الزُّبَيْرِ كَانَ يَنْزِعُ الْعِمَامَةَ وَيَمْسَحُ رَأْسَهُ بِالْمَاءِ .

বর্ণনাকারী: হিশাম ইবনে উরওয়া (রহঃ)

রেওয়ায়ত ৩৯. হিশাম ইবনে উরওয়াহ (রাহঃ) বলেনঃ আবু উরওয়াহ ইবনে যুবাইর (রাহঃ) পাগড়ি খুলিয়া ফেলিতেন এবং পানি দ্বারা মাথা মাসাহ্‌ করিতেন।
৭০

وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنْ نَافِعٍ، أَنَّهُ رَأَى صَفِيَّةَ بِنْتَ أَبِي عُبَيْدٍ امْرَأَةَ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ تَنْزِعُ خِمَارَهَا وَتَمْسَحُ عَلَى رَأْسِهَا بِالْمَاءِ وَنَافِعٌ يَوْمَئِذٍ صَغِيرٌ . وَسُئِلَ مَالِكٌ عَنِ الْمَسْحِ عَلَى الْعِمَامَةِ وَالْخِمَارِ فَقَالَ لاَ يَنْبَغِي أَنْ يَمْسَحَ الرَّجُلُ وَلاَ الْمَرْأَةُ عَلَى عِمَامَةٍ وَلاَ خِمَارٍ وَلْيَمْسَحَا عَلَى رُءُوسِهِمَا . وَسُئِلَ مَالِكٌ عَنْ رَجُلٍ تَوَضَّأَ فَنَسِيَ أَنْ يَمْسَحَ عَلَى رَأْسِهِ حَتَّى جَفَّ وَضُوءُهُ قَالَ أَرَى أَنْ يَمْسَحَ بِرَأْسِهِ وَإِنْ كَانَ قَدْ صَلَّى أَنْ يُعِيدَ الصَّلاَةَ .

বর্ণনাকারী: নাফি‘ (রহঃ)

রেওয়ায়ত ৪০. নাফি’ (রাহঃ) হইতে বর্ণিত, যখন তিনি বালক তখন আবু উবায়দার কন্যা, আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাযিঃ)-এর স্ত্রী, সফিয়া (صفية)-কে তাহার ওড়না নামাইয়া পানি দ্বারা মাসাহ্‌ করিতে তিনি দেখিয়াছেন। ইয়াহইয়া (রাহঃ) বলেনঃ পাগড়ি ও ওড়নার উপর মাসাহ্‌ করা সম্পর্কে মালিক (রাহঃ)-কে প্রশ্ন করা হইলে তিনি বলিলেনঃ কোন পুরুষ কোন নারীর পক্ষে (যথাক্রমে) পাগড়ি কিংবা ওড়নার উপর মাসাহ্‌ করা জায়েয নহে। তাহারা উভয়েই তাহাদের মাথা মাসাহ্‌ করিবে।

মালিক (রাহঃ)-কে এক ব্যক্তি সম্পর্কে প্রশ্ন করা হইল, যে ব্যক্তি ওযু করিয়াছে কিন্তু মাথা মাসাহ্‌ করিতে ভুলিয়া গিয়াছে, (এই অবস্থায়) তাহার ওযুর অঙ্গসমূহ শুকাইয়া গিয়াছে, এখন সে কি করিবে? তিনি উত্তরে বলিলেনঃ আমার মতে সে তাহার মাথা মাসাহ্‌ করিবে। আর যদি সে (মাসাহ্‌ ব্যতীত) ওযু দ্বারা নামায পড়িয়া থাকে তবে সে নামায পুনরায় পড়িবে।

৮. পদাবরণী বা মোজা মাসাহ্‌

بَاب مَا جَاءَ فِي الْمَسْحِ عَلَى الْخُفَّيْنِ

৭১

حَدَّثَنِي يَحْيَى عَنْ مَالِك عَنْ ابْنِ شِهَابٍ عَنْ عَبَّادِ بْنِ زِيَادٍ مِنْ وَلَدِ الْمُغِيرَةِ بْنِ شُعْبَةَ عَنْ أَبِيهِ عَنْ الْمُغِيرَةِ بْنِ شُعْبَةَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ذَهَبَ لِحَاجَتِهِ فِي غَزْوَةِ تَبُوكَ قَالَ الْمُغِيرَةُ فَذَهَبْتُ مَعَهُ بِمَاءٍ فَجَاءَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَسَكَبْتُ عَلَيْهِ الْمَاءَ فَغَسَلَ وَجْهَهُ ثُمَّ ذَهَبَ يُخْرِجُ يَدَيْهِ مِنْ كُمَّيْ جُبَّتِهِ فَلَمْ يَسْتَطِعْ مِنْ ضِيقِ كُمَّيْ الْجُبَّةِ فَأَخْرَجَهُمَا مِنْ تَحْتِ الْجُبَّةِ فَغَسَلَ يَدَيْهِ وَمَسَحَ بِرَأْسِهِ وَمَسَحَ عَلَى الْخُفَّيْنِ فَجَاءَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَعَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ عَوْفٍ يَؤُمُّهُمْ وَقَدْ صَلَّى بِهِمْ رَكْعَةً فَصَلَّى رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الرَّكْعَةَ الَّتِي بَقِيَتْ عَلَيْهِمْ فَفَزِعَ النَّاسُ فَلَمَّا قَضَى رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ أَحْسَنْتُمْ

বর্ণনাকারী: হযরত মুগীরা ইবনে শু‘বা (রাঃ)

রেওয়ায়ত ৪১. মুগীরা ইবনে শু’বা (রাযিঃ) হইতে বর্ণিত, তাবুকের যুদ্ধে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) প্ৰস্ৰাব-পায়খানার প্রয়োজনে বাহিরে গেলেন। মুগীরা বলেন, আমি পানি লইয়া তাহার সঙ্গে গমন করিলাম। অতঃপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) (তাহার প্রয়োজন পূর্ণ করিয়া) আসিলেন, আমি তাহার হস্তদ্বয়ের উপর পানি ঢালিলাম, তিনি তাহার মুখমণ্ডল ধুলেন। তারপর তাহার হস্তদ্বয জুব্বার আস্তিন হইতে বাহির করিতে চেষ্টা করিলেন। জুব্বার আস্তিনের সংকীর্ণতার দরুন তিনি (বাহির করিতে) সক্ষম হইলেন না। তাই জুব্বার নিচ দিয়া উভয় হাত বাহির করিলেন, তারপর দুই হাত ধুলেন, মাথা মাসাহ্‌ করলেন এবং মোজার উপর মাসাহ্‌ করিলেন। তারপর রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) তশরীফ আনিলেন, তখন আব্দুর রহমান ইবনে আউফ (রাযিঃ) (লোকের) ইমামতি করিতেছিলেন, তিনি এক রাকআত সমাপ্তও করিয়াছেন। যেই এক রাকআত তাঁহাদের অবশিষ্ট ছিল, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) তাহাদের সহিত সেই রাকআত পড়িলেন। লোকজন রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে দেখিয়া (তাহার অনুপস্থিতিতে নামায আরম্ভ করায় বেআদবী হইয়াছে ভাবিয়া) ঘাবড়াইয়া গেলেন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাহার নামায সমাপ্ত করার পর বলিলেনঃ তোমরা ভাল করিয়াছ।
৭২

وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنْ نَافِعٍ، وَعَبْدِ اللَّهِ بْنِ دِينَارٍ، أَنَّهُمَا أَخْبَرَاهُ أَنَّ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عُمَرَ قَدِمَ الْكُوفَةَ عَلَى سَعْدِ بْنِ أَبِي وَقَّاصٍ وَهُوَ أَمِيرُهَا فَرَآهُ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ يَمْسَحُ عَلَى الْخُفَّيْنِ فَأَنْكَرَ ذَلِكَ عَلَيْهِ فَقَالَ لَهُ سَعْدٌ سَلْ أَبَاكَ إِذَا قَدِمْتَ عَلَيْهِ فَقَدِمَ عَبْدُ اللَّهِ فَنَسِيَ أَنْ يَسْأَلَ عُمَرَ عَنْ ذَلِكَ حَتَّى قَدِمَ سَعْدٌ فَقَالَ أَسَأَلْتَ أَبَاكَ فَقَالَ لاَ . فَسَأَلَهُ عَبْدُ اللَّهِ فَقَالَ عُمَرُ إِذَا أَدْخَلْتَ رِجْلَيْكَ فِي الْخُفَّيْنِ وَهُمَا طَاهِرَتَانِ فَامْسَحْ عَلَيْهِمَا . قَالَ عَبْدُ اللَّهِ وَإِنْ جَاءَ أَحَدُنَا مِنَ الْغَائِطِ فَقَالَ عُمَرُ نَعَمْ وَإِنْ جَاءَ أَحَدُكُمْ مِنَ الْغَائِطِ .

বর্ণনাকারী: হযরত সা'দ ইবন আবী ওয়াক্কাস রাযি.

রেওয়ায়ত ৪২. সা’দ ইবনে ওয়াক্কাস (রাযিঃ) যখন কূফার আমীর ছিলেন তখন আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাযিঃ) কূফায় সা’দ ইবনে আবি ওয়াক্কাস (রাযিঃ)-এর নিকট আসিলেন এবং তাহাকে মোজার উপর মাসাহ্‌ করিতে দেখিলেন। ইবনে উমর (রাযিঃ) তাহার এই মাসাহ্‌-এর প্রতি অস্বীকৃতি জানাইলেন। সা’দ (রাযিঃ) তাঁহাকে বলিলেনঃ আপনার পিতার নিকট গেলে ইহা তাহাকে জিজ্ঞাসা করিবেন। আব্দুল্লাহ্ (রাযিঃ) (মদীনায়) আগমন করিলেন; কিন্তু তাহার পিতাকে এই বিষয়ে জিজ্ঞাসা করিতে ভুলিয়া গেলেন। সা’দ পরে (মদীনায়) আসিলেন এবং ইবনে উমর (রাযিঃ)-কে জিজ্ঞাসা করিলেনঃ আপনার পিতার নিকট সেই বিষয়ে জিজ্ঞাসা করিয়াছেন কি? তিনি বলিলেনঃ না। অতঃপর আব্দুল্লাহ (রাযিঃ) তাহার পিতাকে এই বিষয়ে প্রশ্ন করিলেন। উমর (রাযিঃ) উত্তরে বলিলেন; যদি মোজাদ্বয়ের মধ্যে তোমার উভয় পা পবিত্র অবস্থায় (ওযুর পরে) ঢুকাও তবে (পুনরায় ওযুর সময়) তুমি মোজার উপর মাসাহ্‌ কর। আব্দুল্লাহ (রাযিঃ) বলিলেনঃ আমাদের এক ব্যক্তি পায়খানা-প্রস্রাব হইতে আসিলে তাহার জন্যও কি এই হুকুম? উমর (রাযিঃ) বললেনঃ হ্যাঁ, তোমাদের কেউ মলমূত্র ত্যাগ করিয়া আসিলে তাহার জন্যও এই হুকুম।
৭৩

وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنْ نَافِعٍ، أَنَّ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عُمَرَ، بَالَ فِي السُّوقِ ثُمَّ تَوَضَّأَ فَغَسَلَ وَجْهَهُ وَيَدَيْهِ وَمَسَحَ رَأْسَهُ ثُمَّ دُعِيَ لِجَنَازَةٍ لِيُصَلِّيَ عَلَيْهَا حِينَ دَخَلَ الْمَسْجِدَ فَمَسَحَ عَلَى خُفَّيْهِ ثُمَّ صَلَّى عَلَيْهَا .

বর্ণনাকারী: নাফি‘ (রহঃ)

রেওয়ায়ত ৪৩. নাফি’ হইতে বর্ণিত, আব্দুল্লাহ্ ইবনে উমর (রাযিঃ) বাজারে (প্রস্রাবের জন্য নির্দিষ্ট স্থানে) প্রস্রাব করিলেন। তারপর উযু করিলেন এবং তাহার মুখমণ্ডল ও উভয় হাত ধুলেন এবং মাথা মাসাহ্‌ করিলেন। তারপর তিনি মসজিদে প্রবেশ করার পর তাহাকে জানাযার নামায পড়াইবার জন্য আহবান করা হইল, তিনি মোজার উপর মাসাহ্‌ করিলেন, তারপর জানাযার নামায পড়িলেন।
৭৪

وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ رُقَيْشٍ، أَنَّهُ قَالَ رَأَيْتُ أَنَسَ بْنَ مَالِكٍ أَتَى قُبَا فَبَالَ ثُمَّ أُتِيَ بِوَضُوءٍ فَتَوَضَّأَ فَغَسَلَ وَجْهَهُ وَيَدَيْهِ إِلَى الْمِرْفَقَيْنِ وَمَسَحَ بِرَأْسِهِ وَمَسَحَ عَلَى الْخُفَّيْنِ ثُمَّ جَاءَ الْمَسْجِدَ فَصَلَّى . قَالَ يَحْيَى وَسُئِلَ مَالِكٌ عَنْ رَجُلٍ تَوَضَّأَ وُضُوءَ الصَّلاَةِ ثُمَّ لَبِسَ خُفَّيْهِ ثُمَّ بَالَ ثُمَّ نَزَعَهُمَا ثُمَّ رَدَّهُمَا فِي رِجْلَيْهِ أَيَسْتَأْنِفُ الْوُضُوءَ فَقَالَ لِيَنْزِعْ خُفَّيْهِ وَلْيَغْسِلْ رِجْلَيْهِ وَإِنَّمَا يَمْسَحُ عَلَى الْخُفَّيْنِ مَنْ أَدْخَلَ رِجْلَيْهِ فِي الْخُفَّيْنِ وَهُمَا طَاهِرَتَانِ بِطُهْرِ الْوُضُوءِ وَأَمَّا مَنْ أَدْخَلَ رِجْلَيْهِ فِي الْخُفَّيْنِ وَهُمَا غَيْرُ طَاهِرَتَيْنِ بِطُهْرِ الْوُضُوءِ فَلاَ يَمْسَحْ عَلَى الْخُفَّيْنِ . قَالَ وَسُئِلَ مَالِكٌ عَنْ رَجُلٍ تَوَضَّأَ وَعَلَيْهِ خُفَّاهُ فَسَهَا عَنِ الْمَسْحِ عَلَى الْخُفَّيْنِ حَتَّى جَفَّ وَضُوءُهُ وَصَلَّى قَالَ لِيَمْسَحْ عَلَى خُفَّيْهِ وَلْيُعِدِ الصَّلاَةَ وَلاَ يُعِيدُ الْوُضُوءَ . وَسُئِلَ مَالِكٌ عَنْ رَجُلٍ غَسَلَ قَدَمَيْهِ ثُمَّ لَبِسَ خُفَّيْهِ ثُمَّ اسْتَأْنَفَ الْوُضُوءَ فَقَالَ لِيَنْزِعْ خُفَّيْهِ ثُمَّ لْيَتَوَضَّأْ وَلْيَغْسِلْ رِجْلَيْهِ .

বর্ণনাকারী: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

রেওয়ায়ত ৪৪. সাঈদ ইবনে আব্দুর রহমান ইবনে রুকাইশ আশআরী (রাহঃ) বলেন, আমি আনাস ইবনে মালিক (রাযিঃ)-কে দেখিয়াছি, তিনি কোবা আসিলেন, তারপর প্রস্রাব করিলেন। অতঃপর তাহার নিকট পানি আনা হইলে তিনি ওযু করিলেন, মুখমণ্ডল ধুলেন, হস্তদ্বয় ধুলেন কনুই পর্যন্ত, মাথা মাসাহ্‌ করিলেন, আর মোজার উপর মাসাহ্‌ করিলেন, তারপর মসজিদে আসিলেন এবং নামায পড়িলেন।

ইয়াহইয়া (রাহঃ) বলেনঃ মালিক (রাহঃ)-কে প্রশ্ন করা হইল এক ব্যক্তি সম্পর্কে যে ব্যক্তি ওযু করিয়াছে নামাযের ওযুর মত, অতঃপর তাহার মোজা পরিধান করিয়াছে। তারপর সে প্রস্রাব করিয়াছে। তারপর মোজা বাহির করিয়া লইয়াছে। অতঃপর মোজা উভয় পায়ে পরিধান করিয়াছে। সেই ব্যক্তি ওযু পুনরায় করিবে কি? তিনি বলিলেনঃ সে মোজা বাহির করিয়া লইবে। তারপর ওযু করিবে এবং উভয় পা ধুইবে। যে লোক উভয় পা মোজায় ওযুর মত পবিত্রাবস্থায় দাখিল করিয়াছে, সেই লোক মোজায় মাসাহ্‌ করিতে পারবে। আর যে ওযুর মত পবিত্রাবস্থায় উভয় পা মোজায় দাখিল করে নাই সে মোজা মাসাহ্‌ করিবে না।

মালিক (রাহঃ)-কে প্রশ্ন করা হইল এমন এক লোক সম্পর্কে, যে ব্যক্তি ওযু করিয়াছে তাহার পরিধানে মোজা থাকা অবস্থায়, কিন্তু সে মোজায় মাসাহ্‌ করিতে ভুলিয়া গিয়াছে। (এই অবস্থায়) তাহার ওযু (ওয়ূর অঙ্গসমূহ) শুকাইয়া গিয়াছে এবং সে নামায পড়িয়াছে। (তাহার হুকুম কি ) তিনি বলিলেনঃ সেই ব্যক্তি মোজার উপর মাসাহ্‌ করিবে এবং নামায পুনরায় পড়িবে, ওযু পুনরায় করিতে হইবে না।

মালিক (রাহঃ)-কে প্রশ্ন করা হইল এমন এক লোক সম্পর্কে, যে তাহার দুই পা (প্রথমে) ধুইয়াছে, তারপর মোজা পরিধান করিয়াছে, অতঃপর ওযু শুরু করিয়াছে। তিনি বলিলেনঃ সে মোজা খুলিয়া ফেলিবে, তারপর ওযু করিবে এবং (যথারীতি) উভয় পা ধুইবে।

৯. মোজা মাসাহ্‌-এর নিয়ম

بَاب الْعَمَلِ فِي الْمَسْحِ عَلَى الْخُفَّيْنِ

৭৫
حَدَّثَنِي يَحْيَى، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ، أَنَّهُ رَأَى أَبَاهُ يَمْسَحُ عَلَى الْخُفَّيْنِ قَالَ وَكَانَ لاَ يَزِيدُ إِذَا مَسَحَ عَلَى الْخُفَّيْنِ عَلَى أَنْ يَمْسَحَ ظُهُورَهُمَا وَلاَ يَمْسَحُ بُطُونَهُمَا .
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، أَنَّهُ سَأَلَ ابْنَ شِهَابٍ عَنِ الْمَسْحِ، عَلَى الْخُفَّيْنِ كَيْفَ هُوَ فَأَدْخَلَ ابْنُ شِهَابٍ إِحْدَى يَدَيْهِ تَحْتَ الْخُفِّ وَالأُخْرَى فَوْقَهُ ثُمَّ أَمَرَّهُمَا . قَالَ يَحْيَى قَالَ مَالِكٌ وَقَوْلُ ابْنِ شِهَابٍ أَحَبُّ مَا سَمِعْتُ إِلَىَّ فِي ذَلِكَ .

বর্ণনাকারী: হিশাম ইবনে উরওয়া (রহঃ)

রেওয়ায়ত ৪৫. হিশাম ইবনে উরওয়াহ (রাহঃ) হইতে বর্ণিত, তিনি তাহার পিতাকে মোজার উপর মাসাহ্‌ করিতে দেখিয়াছেন। তিনি মোজা মাসাহ্‌ করার সময় ইহার অতিরিক্ত কিছু করিতেন না; মোজার উপরের অংশে মাসাহ্‌ করিতেন, তলদেশ মাসাহ্‌ করিতেন না।

মালিক (রাহঃ) ইবনে শিহাব (রাহঃ)-কে প্রশ্ন করিলেনঃ মোজা মাসাহ্‌ কিরূপে সম্পাদন করিতে হয়? ইবনে শিহাব তাহার এক হাত মোজার নীচে দাখিল করিলেন এবং অপর হাত মোজার উপর স্থাপন করিলেন। অতঃপর উভয় হাত মাসাহ্‌-এর জন্য চালিত করিলেন।

মালিক (রাহঃ) বলিয়াছেনঃ মোজা মাসাহ্‌-এর ব্যাপারে আমি যাহা শুনিয়াছি তন্মধ্যে ইবনে শিহাবের মতামত আমার নিকট সর্বাপেক্ষা পছন্দনীয়।

১০. নাক দিয়া রক্ত ঝরা ও বমি সম্পৰ্কীয় বর্ণনা

بَاب مَا جَاءَ فِي الرُّعَافِ

৭৬

حَدَّثَنِي يَحْيَى عَنْ مَالِك عَنْ نَافِعٍ أَنَّ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عُمَرَ كَانَ إِذَا رَعَفَ انْصَرَفَ فَتَوَضَّأَ ثُمَّ رَجَعَ فَبَنَى وَلَمْ يَتَكَلَّمْ

বর্ণনাকারী: নাফি‘ (রহঃ)

রেওয়ায়ত ৪৬. নাফি’ (রাহঃ) হইতে বর্ণিত, যখন আব্দুল্লাহ্ ইবনে উমর (রাযিঃ)-এর নাক দিয়া রক্ত বাহির হইত, তখন নামায হইতে তিনি ফিরিয়া যাইতেন। অতঃপর ওযু করিতেন এবং পুনরায় আসিয়া অবশিষ্ট নামায পড়িতেন, আর তিনি (এই অবস্থায়) কথা বলিতেন না।

৭৭

وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، أَنَّهُ بَلَغَهُ أَنَّ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عَبَّاسٍ، كَانَ يَرْعُفُ فَيَخْرُجُ فَيَغْسِلُ الدَّمَ عَنْهُ ثُمَّ يَرْجِعُ فَيَبْنِي عَلَى مَا قَدْ صَلَّى .

বর্ণনাকারী: মালিক ইবনে আনাস (রহঃ)

রেওয়ায়ত ৪৭. মালিক (রাহঃ) বলেনঃ তাহার নিকট রেওয়ায়ত পৌছিয়াছে যে, আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রাযিঃ)-এর নাক দিয়া রক্ত নির্গত হইলে তিনি বাহির হইতেন এবং রক্ত পরিষ্কার করিতেন, তারপর প্রত্যাবর্তন করিয়া নামায যতটুকু পড়িয়াছেন উহার (উপর ভিত্তি করিয়া) অবশিষ্ট নামায পড়িতেন।

৭৮

وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِك عَنْ يَزِيدَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ قُسَيْطٍ اللَّيْثِيِّ أَنَّهُ رَأَى سَعِيدَ بْنَ الْمُسَيَّبِ رَعَفَ وَهُوَ يُصَلِّي فَأَتَى حُجْرَةَ أُمِّ سَلَمَةَ زَوْجِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَأُتِيَ بِوَضُوءٍ فَتَوَضَّأَ ثُمَّ رَجَعَ فَبَنَى عَلَى مَا قَدْ صَلَّى

বর্ণনাকারী: সাঈদ ইবনুল মুসাইয়্যাব (রহঃ)

রেওয়ায়ত ৪৮. ইয়াযিদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে কুসাইত লাইসী (রাহঃ) বলেনঃ তিনি সাঈদ ইবনে মুসায়্যাব (রাহঃ)-কে দেখিয়াছেন, তিনি যখন নামায পড়িতেছিলেন তখন তাহার নাক দিয়া রক্ত বাহির হইল তিনি নবী করীম (ﷺ) এর পত্নী উম্মে সালামার হুজরায় আসিলেন। তাহার জন্য পানি আনা হইল, তিনি ওযু করিলেন, তারপর প্রত্যাবর্তন করিলেন এবং নামায যতটুকু বাকি ছিল তাহা আদায় করিলেন।

১১. নাক হইতে রক্ত প্রবাহিত হইলে কি করিতে হয় তাহার বর্ণনা

بَاب الْعَمَلِ فِي الرُّعَافِ

৭৯

حَدَّثَنِي يَحْيَى عَنْ مَالِك عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ حَرْمَلَةَ الْأَسْلَمِيِّ أَنَّهُ قَالَ رَأَيْتُ سَعِيدَ بْنَ الْمُسَيَّبِ يَرْعُفُ فَيَخْرُجُ مِنْهُ الدَّمُ حَتَّى تَخْتَضِبَ أَصَابِعُهُ مِنْ الدَّمِ الَّذِي يَخْرُجُ مِنْ أَنْفِهِ ثُمَّ يُصَلِّي وَلَا يَتَوَضَّأُ

বর্ণনাকারী: সাঈদ ইবনুল মুসাইয়্যাব (রহঃ)

রেওয়ায়ত ৪৯. আব্দুর রহমান ইবনে হারমলা আসলামী (রাহঃ) বলেনঃ আমি সাঈদ ইবনে মুসায়্যাব (রাহঃ)-কে দেখিয়াছি নকসীরের কারণে তাহার নাক হইতে রক্ত প্রবাহিত হইতেছিল, এমনকি তাহার নাক হইতে প্রবাহিত রক্তের দ্বারা তাহার আঙুল রঞ্জিত হইয়া গেল। অতঃপর তিনি নামায পড়িলেন অথচ ওযু করিলেন না।*

* রক্ত যদি বহিয়া যায় বা বিন্দু বিন্দু হইয়া পতিত হয় তবে হানাফী মতানুসারে ওযূ নষ্ট হইবে। -আওজায।
৮০

وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ الْمُجَبَّرِ، أَنَّهُ رَأَى سَالِمَ بْنَ عَبْدِ اللَّهِ يَخْرُجُ مِنْ أَنْفِهِ الدَّمُ حَتَّى تَخْتَضِبَ أَصَابِعُهُ ثُمَّ يَفْتِلُهُ ثُمَّ يُصَلِّي وَلاَ يَتَوَضَّأُ .

বর্ণনাকারী: বিবিধ

রেওয়ায়ত ৫০. আব্দুর রহমান ইবনে মুজাব্বার (রাহঃ) হইতে বর্ণিত, তিনি সালিম ইবনে আব্দুল্লাহ (রাহঃ)-কে দেখিয়াছেন, তাহার নাক হইতে রক্ত প্রবাহিত হইতেছে, এমনকি (সেই রক্তে) তাহার আঙুলসমূহ রঞ্জিত হইয়া গিয়াছে। অতঃপর তিনি নাক মোচড়াইলেন, তারপর নামায পড়িলেন, অথচ ওযু করিলেন না।

১২. জখম অথবা নাক হইতে প্রবাহিত রক্ত প্রবল হইলে কি করিতে হইবে

بَاب الْعَمَلِ فِيمَنْ غَلَبَهُ الدَّمُ مِنْ جُرْحٍ أَوْ رُعَافٍ

৮১

حَدَّثَنِي يَحْيَى عَنْ مَالِك عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ عَنْ أَبِيهِ أَنَّ الْمِسْوَرَ بْنَ مَخْرَمَةَ أَخْبَرَهُ أَنَّهُ دَخَلَ عَلَى عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ مِنْ اللَّيْلَةِ الَّتِي طُعِنَ فِيهَا فَأَيْقَظَ عُمَرَ لِصَلَاةِ الصُّبْحِ فَقَالَ عُمَرُ نَعَمْ وَلَا حَظَّ فِي الْإِسْلَامِ لِمَنْ تَرَكَ الصَّلَاةَ فَصَلَّى عُمَرُ وَجُرْحُهُ يَثْعَبُ دَمًا

বর্ণনাকারী: মিসওয়ার ইবনে মাখরামা (রাঃ)

রেওয়ায়ত ৫১. মিসওয়ার ইবনে মাখরামা (রাহঃ) হইতে বর্ণিত, যে রাত্রে উমর ইবনে খাত্তাব (রাযিঃ)-কে ছুরিকাঘাত করা হয়, সেই রাত্রে জনৈক ব্যক্তি* উমর ইবনে খাত্তাব (রাযিঃ)-এর নিকট প্রবেশ করিল। উমর (রাযিঃ)-কে ফজরের নামাযের জন্য জাগানো হইল। উমর (রাযিঃ) বলিলেনঃ হ্যাঁ, আমি এই অবস্থায়ও নামায পড়িব। যে ব্যক্তি নামায ছাড়িয়া দেয়, ইসলামে তাহার কোন অংশ নাই। অতঃপর উমর (রাযিঃ) নামায পড়িলেন অথচ তাহার জখম হইতে তখন রক্ত প্রবাহিত হইতেছিল।

*কোন কোন বর্ণনায় বোঝা যায় যে, প্রবেশকারী সেই ব্যক্তি ছিলেন স্বয়ং মিসওয়ার ইবন মাখরামা।
৮২

وَحَدَّثَنِي عَنْ مالِكٍ، عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ أَنَّ سَعِيدَ بْنَ الْمُسَيِّبِ قَالَ: «مَا تَرَوْنَ فِيمَنْ غَلَبَهُ الدَّمُ مِنْ رُعَافٍ فَلَمْ يَنْقَطِعْ عَنْهُ؟» قَالَ مَالِكٌ: قَالَ يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ: ثُمَّ قَالَ سَعِيدُ بْنُ الْمُسَيِّبِ: أَرَى أَنْ يُومِئَ بِرَأْسِهِ إِيمَاءً قَالَ يَحْيَى: قَالَ مَالِكٌ: «وَذَلِكَ أَحَبُّ مَا سَمِعْتُ إِلَيَّ فِي ذَلِكَ»

বর্ণনাকারী: ইয়াহয়া ইবনে সাঈদ আনসারী (রহঃ)

রেওয়ায়ত ৫২. ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ (রাহঃ) হইতে বর্ণিত, সাঈদ ইবনে মুসায়্যাব (রাহঃ) বলিয়াছেনঃ নকসীরের কারণে যে ব্যক্তির রক্ত প্রবল হইয়াছে এবং তাহার রক্ত পড়া বন্ধ হয় নাই সেই ব্যক্তি সম্পর্কে তোমাদের মতামত কি? ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ (রাহঃ) বলেনঃ অতঃপর সাঈদ ইবনে মুসায়্যাব (রাহঃ) বলিলেনঃ আমার মতে সে মাথার দ্বারা কেবল ইশারা করিবে।

মালিক (রাহঃ) বলেনঃ এই বিষয়ে আমি যাহা কিছু শুনিয়াছি তন্মধ্যে ইহাই আমার নিকট উত্তম।

১৩. মযী (বাহির হওয়া)-এর কারণে ওযূ

بَاب الْوُضُوءِ مِنْ الْمَذْيِ

৮৩

حَدَّثَنِي يَحْيَى عَنْ مَالِك عَنْ أَبِي النَّضْرِ مَوْلَى عُمَرَ بْنِ عُبَيْدِ اللَّهِ عَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ يَسَارٍ عَنْ الْمِقْدَادِ بْنِ الْأَسْوَدِ أَنَّ عَلِيَّ بْنَ أَبِي طَالِبٍ أَمَرَهُ أَنْ يَسْأَلَ لَهُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنْ الرَّجُلِ إِذَا دَنَا مِنْ أَهْلِهِ فَخَرَجَ مِنْهُ الْمَذْيُ مَاذَا عَلَيْهِ قَالَ عَلِيٌّ فَإِنَّ عِنْدِي ابْنَةَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَأَنَا أَسْتَحِي أَنْ أَسْأَلَهُ قَالَ الْمِقْدَادُ فَسَأَلْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنْ ذَلِكَ فَقَالَ إِذَا وَجَدَ ذَلِكَ أَحَدُكُمْ فَلْيَنْضَحْ فَرْجَهُ بِالْمَاءِ وَلْيَتَوَضَّأْ وُضُوءَهُ لِلصَّلَاةِ

বর্ণনাকারী: হযরত মিকদাদ ইবনে আমর (রাঃ)

রেওয়ায়ত ৫৩. মিকদাদ ইবনে আসওয়াদ (রাযিঃ) হইতে বর্ণিত, আলী ইবনে আবি তালিব (রাযিঃ) মিকদাদকে নির্দেশ দিলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) এর নিকট তাহার পক্ষে প্রশ্ন করার জন্য। প্রশ্নটি হলো এই-এক ব্যক্তি তাহার স্ত্রীর নিকট যাওয়ায় তাহার লিঙ্গাগ্রে মযী (তরল পদার্থ, শুক্র নহে) বাহির হইয়াছে, সে ব্যক্তির প্রতি কি ওযু ওয়াজিব হইবে। আলী (রাযিঃ) বলিলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কন্যা যেহেতু আমার স্ত্রী সেহেতু তাহাকে এই ধরনের প্রশ্ন করিতে আমি লজ্জাবোধ করি। মিকদাদ রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে উপরিউক্ত প্রশ্ন করিলে তিনি বলিলেন, তোমাদের কেউ অনুরূপ অবস্থার সম্মুখীন হইলে সে নিজের লজ্জাস্থান পানি দ্বারা ধৌত করিবে, তারপর নামাযের ওযুর ন্যায় ওযু করিবে।

৮৪

وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِك عَنْ زَيْدِ بْنِ أَسْلَمَ عَنْ أَبِيهِ أَنَّ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ قَالَ إِنِّي لَأَجِدُهُ يَنْحَدِرُ مِنِّي مِثْلَ الْخُرَيْزَةِ فَإِذَا وَجَدَ ذَلِكَ أَحَدُكُمْ فَلْيَغْسِلْ ذَكَرَهُ وَلْيَتَوَضَّأْ وُضُوءَهُ لِلصَّلَاةِ يَعْنِي الْمَذْيَ

বর্ণনাকারী: আসলাম (রহঃ)

রেওয়ায়ত ৫৪. আসলাম (রাহঃ) হইতে বর্ণিত, উমর ইবনে খাত্তাব (রাযিঃ) বলিয়াছেনঃ আমার ভিতর হইতে উহা মুক্তাদানার মত নির্গত হইতে আমি অনুভব করি। তোমাদের কেউ এই অবস্থা প্রাপ্ত হইলে সে তাহার লজ্জাস্থান ধুইয়া লইবে এবং নামাযের ওযুর মত ওযু করিবে। তিনি (উমর) ইহা দ্বারা মযীর বিষয় বলিতে চাহিয়াছেন।
৮৫

وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِك عَنْ زَيْدِ بْنِ أَسْلَمَ عَنْ جُنْدُبٍ مَوْلَى عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَيَّاشٍ أَنَّهُ قَالَ سَأَلْتُ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عُمَرَ عَنْ الْمَذْيِ فَقَالَ إِذَا وَجَدْتَهُ فَاغْسِلْ فَرْجَكَ وَتَوَضَّأْ وُضُوءَكَ لِلصَّلَاةِ

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

রেওয়ায়ত ৫৫. জুনদাব (রাহঃ) হইতে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ আমি আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাযিঃ)-কে মযী সম্পর্কে প্রশ্ন করিলাম। তিনি বলিলেনঃ তুমি উহা প্রাপ্ত হইলে তোমার লজ্জাস্থানকে ধুইয়া লও এবং নামাযের ওযুর মত ওযু কর।

১৪. ওদী (আর্দ্রতা যাহা পেশাবের পরে অনুভূত হয়)-এর কারণে ওযু না করার অনুমতি

بَاب الرُّخْصَةِ فِي تَرْكِ الْوُضُوءِ مِنْ الْمَذْيِ

৮৬

حَدَّثَنِي يَحْيَى عَنْ مَالِك عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيَّبِ أَنَّهُ سَمِعَهُ وَرَجُلٌ يَسْأَلُهُ فَقَالَ إِنِّي لَأَجِدُ الْبَلَلَ وَأَنَا أُصَلِّي أَفَأَنْصَرِفُ فَقَالَ لَهُ سَعِيدٌ لَوْ سَالَ عَلَى فَخِذِي مَا انْصَرَفْتُ حَتَّى أَقْضِيَ صَلَاتِي

বর্ণনাকারী: ইয়াহয়া ইবনে সাঈদ আনসারী (রহঃ)

রেওয়ায়ত ৫৬. ইয়াহইয়াহ ইবস সাঈদ (রাহঃ) শুনিয়াছেন- সাঈদ ইবনে মুসায়াব (রাহঃ)-কে এক ব্যক্তি প্রশ্ন করতে সে বলিলঃ আমি নামায পড়িতেছি এই অবস্থায় আর্দ্রতা অনুভব করি। তবে আমি কি (নামায ছাড়িয়া) ফিরিয়া যাইব? সাঈদ বলিলেনঃ আমার রানের উপর দিয়া ভাসিয়া পড়িলেও আমি আমার নামায সমাপ্ত না করিয়া ফিরিব না।*

* মযী বা ওদী নির্গত হওয়া যাহার ওযরে পরিণত হয় অর্থাৎ প্রায় সময় নির্গত হয় সেইরূপ ব্যক্তি নামাযের সময় ওযু করার পর মযী নির্গত হইলে তাহার ওযু নষ্ট হইবে না, সে নামায সমাপ্ত করিবে। আর যাহার জন্য ইহা ওযরে পরিণত হয় নাই তাহার যখন মযী বা ওদী নির্গত হইবে তখন ওযু নষ্ট হইয়া যাইবে। -আওজায।
৮৭

وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِك عَنْ الصَّلْتِ بْنِ زُيَيْدٍ أَنَّهُ قَالَ سَأَلْتُ سُلَيْمَانَ بْنَ يَسَارٍ عَنْ الْبَلَلِ أَجِدُهُ فَقَالَ انْضَحْ مَا تَحْتَ ثَوْبِكَ بِالْمَاءِ وَالْهُ عَنْهُ

বর্ণনাকারী: বিবিধ

রেওয়ায়ত ৫৭. সালত ইবনে যুয়ায়দ (রাহঃ) বলেনঃ আমি সুলায়মান ইবনে ইয়াসার (রাহঃ)-কে আর্দ্রতা সম্পর্কে প্রশ্ন করিলাম; যা আমি অনুভব করি অর্থাৎ মনে সন্দেহ জাগে হয়তো আদ্ৰতা আছে। তিনি বলিলেনঃ তোমার কাপড়ের (লুঙ্গি অথবা পায়জামা) নীচে পানি ছিটাইয়া দাও। তারপর উহার ফিকির (চিন্তা) ছাড়।

১৫. লজ্জাস্থান স্পর্শ করিলে ওযু করা

بَاب الْوُضُوءِ مِنْ مَسِّ الْفَرْجِ

৮৮

حَدَّثَنِي يَحْيَى عَنْ مَالِك عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي بَكْرِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ عَمْرِو بْنِ حَزْمٍ أَنَّهُ سَمِعَ عُرْوَةَ بْنَ الزُّبَيْرِ يَقُولُ دَخَلْتُ عَلَى مَرْوَانَ بْنِ الْحَكَمِ فَتَذَاكَرْنَا مَا يَكُونُ مِنْهُ الْوُضُوءُ فَقَالَ مَرْوَانُ وَمِنْ مَسِّ الذَّكَرِ الْوُضُوءُ فَقَالَ عُرْوَةُ مَا عَلِمْتُ هَذَا فَقَالَ مَرْوَانُ بْنُ الْحَكَمِ أَخْبَرَتْنِي بُسْرَةُ بِنْتُ صَفْوَانَ أَنَّهَا سَمِعَتْ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ إِذَا مَسَّ أَحَدُكُمْ ذَكَرَهُ فَلْيَتَوَضَّأْ

বর্ণনাকারী: বিবিধ

রেওয়ায়ত ৫৮. আব্দুল্লাহ ইবনে আবু বকর ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে আমর ইবনে হাযম (রাহঃ) হইতে বর্ণিত, তিনি উরওয়াহ ইবনে যুবায়র (রাহঃ)-কে বলিতে শুনিয়াছেনঃ আমি মারওয়ান ইবনে হাকাম (রাহঃ)-এর নিকট গেলাম, আমরা উভয়ে ওযূ কিসে ওয়াজিব হয় সেই বিষয়ে আলোচনা করিলাম। মারওয়ান বলিলেনঃ জননেন্দ্রিয় স্পর্শ করিলে ওযু করিতে হইবে। উরওয়াহ বলিলেনঃ আমি তো ইহা জানি না। মারওয়ান বলিলেনঃ বুসরা বিনতে সফওয়ান (রাযিঃ) আমাকে খবর দিয়াছেন যে, তিনি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে বলিতে শুনিয়াছেনঃ তোমাদের কোন ব্যক্তি জননেন্দ্রিয় স্পর্শ করিলে ওযু করিবে।

৮৯

وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِك عَنْ إِسْمَعِيلَ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ سَعْدِ بْنِ أَبِي وَقَّاصٍ عَنْ مُصْعَبِ بْنِ سَعْدِ بْنِ أَبِي وَقَّاصٍ أَنَّهُ قَالَ كُنْتُ أُمْسِكُ الْمُصْحَفَ عَلَى سَعْدِ بْنِ أَبِي وَقَّاصٍ فَاحْتَكَكْتُ فَقَالَ سَعْدٌ لَعَلَّكَ مَسِسْتَ ذَكَرَكَ قَالَ فَقُلْتُ نَعَمْ فَقَالَ قُمْ فَتَوَضَّأْ فَقُمْتُ فَتَوَضَّأْتُ ثُمَّ رَجَعْتُ

বর্ণনাকারী: হযরত সা'দ ইবন আবী ওয়াক্কাস রাযি.

রেওয়ায়ত ৫৯. মুসআব ইবনে সা’দ ইবনে আবি ওয়াক্কাস (রাহঃ) বলেনঃ আমি সা’দ ইবনে আবি ওয়াক্কাস (রাযিঃ)-এর জন্য কুরআন হস্তে ধারণ করিতেছিলাম (যেন তিনি তিলাওয়াত করিতে পারেন), আমি নিজের শরীর চুলকাইলাম (বা ঘর্ষণ করিলাম)। সা’দ বলিলেনঃ সম্ভবত তুমি তোমার জননেন্দ্রিয় স্পর্শ করিয়াছ। আমি বলিলামঃ হ্যাঁ। তিনি বলিলেনঃ তুমি ওঠ এবং ওযু কর; অতঃপর আমি উঠিলাম এবং ওযু করিয়া আবার প্রত্যাবর্তন করিলাম।

৯০

وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِك عَنْ نَافِعٍ أَنَّ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عُمَرَ كَانَ يَقُولُ إِذَا مَسَّ أَحَدُكُمْ ذَكَرَهُ فَقَدْ وَجَبَ عَلَيْهِ الْوُضُوءُ

বর্ণনাকারী: নাফি‘ (রহঃ)

রেওয়ায়ত ৬০. নাফি’ (রাহঃ) হইতে বর্ণিত, আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাযিঃ) বলিতেনঃ তোমাদের কেউ যদি স্বীয় জননেন্দ্রিয় স্পর্শ করে, তবে সে ওযু করিবে, কারণ তাহার ওপর ওযু ওয়াজিব হইয়াছে।*

*জননেন্দ্রিয় স্পর্শ করিলে হানাফী মতানুসারে- ও নষ্ট হয় না। -আওজায।
৯১

وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِك عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ عَنْ أَبِيهِ أَنَّهُ كَانَ يَقُولُ مَنْ مَسَّ ذَكَرَهُ فَقَدْ وَجَبَ عَلَيْهِ الْوُضُوءُ

বর্ণনাকারী: উরওয়া ইবনে যুবায়র (রহঃ)

রেওয়ায়ত ৬১. উরওয়াহ ইবনে যুবায়র (রাহঃ) বলতেনঃ যে স্বীয় জননেন্দ্রিয় স্পর্শ করিয়াছে তাহার ওপর ওযু ওয়াজিব হইয়াছে।

৯২

وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِك عَنْ ابْنِ شِهَابٍ عَنْ سَالِمِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ أَنَّهُ قَالَ رَأَيْتُ أَبِي عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عُمَرَ يَغْتَسِلُ ثُمَّ يَتَوَضَّأُ فَقُلْتُ لَهُ يَا أَبَتِ أَمَا يَجْزِيكَ الْغُسْلُ مِنْ الْوُضُوءِ قَالَ بَلَى وَلَكِنِّي أَحْيَانًا أَمَسُّ ذَكَرِي فَأَتَوَضَّأُ

বর্ণনাকারী: সালিম ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রহঃ)

রেওয়ায়ত ৬২. সালিম ইবনে আব্দুল্লাহ্ (রাহঃ) বলিয়াছেনঃ আমি আমার পিতা আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাযিঃ)-কে দেখিয়াছি, তিনি গোসল করিতেন, তারপর ওযু করিতেন। আমি বলিলামঃ আব্বাজান! গোসল আপনার ওযুর জন্য কি যথেষ্ট হয় না? (অর্থাৎ গোসল দ্বারা ওযুর কাজ হইয়া যায় না?) তিনি বলিলেনঃ হ্যাঁ, যথেষ্ট হয়। কিন্তু আমি কোন কোন সময় জননেন্দ্রিয় স্পর্শ করি। তাই আমি ওযু করি।

৯৩

وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِك عَنْ نَافِعٍ عَنْ سَالِمِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ أَنَّهُ قَالَ كُنْتُ مَعَ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ فِي سَفَرٍ فَرَأَيْتُهُ بَعْدَ أَنْ طَلَعَتْ الشَّمْسُ تَوَضَّأَ ثُمَّ صَلَّى قَالَ فَقُلْتُ لَهُ إِنَّ هَذِهِ لَصَلَاةٌ مَا كُنْتَ تُصَلِّيهَا قَالَ إِنِّي بَعْدَ أَنْ تَوَضَّأْتُ لِصَلَاةِ الصُّبْحِ مَسِسْتُ فَرْجِي ثُمَّ نَسِيتُ أَنْ أَتَوَضَّأَ فَتَوَضَّأْتُ وَعُدْتُ لِصَلَاتِي

বর্ণনাকারী: সালিম ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রহঃ)

রেওয়ায়ত ৬৩. সালিম ইবনে আব্দুল্লাহ্ (রাহঃ) বলেনঃ আমি এক সফরে আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাযিঃ)-এর সঙ্গে ছিলাম। আমি তাহাকে দেখিলাম সূর্য উদয়ের পর ওযু করিলেন, তারপর নামায পড়িলেন। আমি তাহাকে বলিলামঃ (আজকের দিন ব্যতীত) আপনি এই নামায কখনও এই সময়ে পড়েন না। তখন তিনি বলিলেনঃ আমি ফজরের নামাযের জন্য ওযু করার পর আমার লজ্জাস্থান স্পর্শ করিয়াছি। অতঃপর আমি ওযু করিতে ভুলিয়া গিয়াছি। তাই আমি ওযু করিলাম এবং পুনরায় নামায পড়িলাম।

১৬. স্বামী কর্তৃক নিজের স্ত্রীকে চুম্বনের কারণে ওযু করা

بَاب الْوُضُوءِ مِنْ قُبْلَةِ الرَّجُلِ امْرَأَتَهُ

৯৪

حَدَّثَنِي يَحْيَى عَنْ مَالِك عَنْ ابْنِ شِهَابٍ عَنْ سَالِمِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ عَنْ أَبِيهِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ أَنَّهُ كَانَ يَقُولُ قُبْلَةُ الرَّجُلِ امْرَأَتَهُ وَجَسُّهَا بِيَدِهِ مِنْ الْمُلَامَسَةِ فَمَنْ قَبَّلَ امْرَأَتَهُ أَوْ جَسَّهَا بِيَدِهِ فَعَلَيْهِ الْوُضُوءُ

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

রেওয়ায়ত ৬৪. আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাযিঃ) বলিতেনঃ স্বামী কর্তৃক আপন স্ত্রীকে চুম্বন এবং উহাকে হাতে ছোঁয়া মুলামাসত (ملامست)-এর অন্তর্ভুক্ত। যে নিজের স্ত্রীকে চুম্বন করে অথবা তাহাকে হাতে ছোঁয় তাহার ওপর ওযু ওয়াজিব হইবে।*

* ওযুর পর রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) কর্তৃক নিজের স্ত্রীকে চুম্বন করা এবং নামাযের মধ্যে স্ত্রীকে ছোয়া হাদীসে বর্ণিত হইয়াছে অথচ এইজন্য তিনি পুনরায় ওযু করেন নাই। হানাফী মাযহাবও অনুরূপ।
৯৫

وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِك أَنَّهُ بَلَغَهُ أَنَّ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ مَسْعُودٍ كَانَ يَقُولُ مِنْ قُبْلَةِ الرَّجُلِ امْرَأَتَهُ الْوُضُوءُ

বর্ণনাকারী: মালিক ইবনে আনাস (রহঃ)

রেওয়ায়ত ৬৫. মালিক (রাহঃ) বলেনঃ তাহার নিকট খবর পৌছিয়াছে যে, আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাযিঃ) বলিতেনঃ পুরুষ নিজের স্ত্রীকে চুমা খাইলে তাহার ওযু ওয়াজিব হইবে।
৯৬

وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، أَنَّهُ كَانَ يَقُولُ مِنْ قُبْلَةِ الرَّجُلِ امْرَأَتَهُ الْوُضُوءُ . قَالَ نَافِعٍ قَالَ مَالِكٌ وَذَلِكَ أَحَبُّ مَا سَمِعْتُ إِلَىَّ .

বর্ণনাকারী: মালিক ইবনে আনাস (রহঃ)

রেওয়ায়ত ৬৬. মালিক (রাহঃ) বলেনঃ ইবনে শিহাব (রাহঃ) বললেন, পুরুষ কর্তৃক নিজের স্ত্রীকে চুম্বনের দরুন ওযু করিতে হইবে।

১৭. জানাবত (جنابت)-এর গোসলের বর্ণনা

بَاب الْعَمَلِ فِي غُسْلِ الْجَنَابَةِ

৯৭

حَدَّثَنِي يَحْيَى عَنْ مَالِك عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ عَنْ أَبِيهِ عَنْ عَائِشَةَ أُمِّ الْمُؤْمِنِينَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ إِذَا اغْتَسَلَ مِنْ الْجَنَابَةِ بَدَأَ بِغَسْلِ يَدَيْهِ ثُمَّ تَوَضَّأَ كَمَا يَتَوَضَّأُ لِلصَّلَاةِ ثُمَّ يُدْخِلُ أَصَابِعَهُ فِي الْمَاءِ فَيُخَلِّلُ بِهَا أُصُولَ شَعَرِهِ ثُمَّ يَصُبُّ عَلَى رَأْسِهِ ثَلَاثَ غَرَفَاتٍ بِيَدَيْهِ ثُمَّ يُفِيضُ الْمَاءَ عَلَى جِلْدِهِ كُلِّهِ

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

রেওয়ায়ত ৬৭. উম্মুল মু'মিনীন আয়েশা (রাযিঃ) হইতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যখন জানাবত-এর গোসল করিতেন, সর্বপ্রথম উভয় হাত ধৌত করিতেন। অতঃপর নামাযের ওযুর মত ওযু করিতেন। তারপর আঙুলসমূহ পানিতে দাখিল করিতেন, আঙুল দ্বারা চুলের গোড়ায় খিলাল করিতেন। অতঃপর উভয় হাত দিয়া তিন আঁজলা পানি তাহার শিরে ঢালিতেন। অতঃপর সর্বশরীরে পানি ঢালিতেন।**

**جنابت স্বপ্লদোষ বা স্ত্রী সহবাস যাহা অপবিত্রতা আনে।
৯৮

وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِك عَنْ ابْنِ شِهَابٍ عَنْ عُرْوَةَ بْنِ الزُّبَيْرِ عَنْ عَائِشَةَ أُمِّ الْمُؤْمِنِينَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ يَغْتَسِلُ مِنْ إِنَاءٍ هُوَ الْفَرَقُ مِنْ الْجَنَابَةِ

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

রেওয়ায়ত ৬৮. উম্মুল মু'মিনীন আয়েশা (রাযিঃ) হইতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) এমন একটি পাত্র হইতে, যাহাতে দুই অথবা তিন সা’ (প্রায় চার অথবা ছয় সের পরিমাণ) পানি ধরিত, জানাবতের গোসল করিতেন।

৯৯

وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِك عَنْ نَافِعٍ أَنَّ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عُمَرَ كَانَ إِذَا اغْتَسَلَ مِنْ الْجَنَابَةِ بَدَأَ فَأَفْرَغَ عَلَى يَدِهِ الْيُمْنَى فَغَسَلَهَا ثُمَّ غَسَلَ فَرْجَهُ ثُمَّ مَضْمَضَ وَاسْتَنْثَرَ ثُمَّ غَسَلَ وَجْهَهُ وَنَضَحَ فِي عَيْنَيْهِ ثُمَّ غَسَلَ يَدَهُ الْيُمْنَى ثُمَّ الْيُسْرَى ثُمَّ غَسَلَ رَأْسَهُ ثُمَّ اغْتَسَلَ وَأَفَاضَ عَلَيْهِ الْمَاءَ

বর্ণনাকারী: নাফি‘ (রহঃ)

রেওয়ায়ত ৬৯. নাফি (রাহঃ) হইতে বর্ণিত, আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাযিঃ) যখন জানাবতের গোসল করিতেন, তিনি সর্বপ্রথম ডান হাতে পানি ঢালিতেন এবং উহাকে ধৌত করিতেন, অতঃপর লজ্জাস্থান ধুইতেন। তারপর কুলি করিতেন এবং নাক পরিষ্কার করিতেন। তারপর মুখমণ্ডল ধুইতেন এবং উভয় চক্ষুতে পানি ছিটা দিতেন। অতঃপর পুনরায় ডান হাত, তারপর বাম হাত ও মাথা ধুইতেন। তারপর (পূর্ণাঙ্গ) গোসল করিতেন এবং তাহার (দেহের) উপর পানি ঢালিয়া দিতেন।
১০০

وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِك أَنَّهُ بَلَغَهُ أَنَّ عَائِشَةَ سُئِلَتْ عَنْ غُسْلِ الْمَرْأَةِ مِنْ الْجَنَابَةِ فَقَالَتْ لِتَحْفِنْ عَلَى رَأْسِهَا ثَلَاثَ حَفَنَاتٍ مِنْ الْمَاءِ وَلْتَضْغَثْ رَأْسَهَا بِيَدَيْهَا

বর্ণনাকারী: মালিক ইবনে আনাস (রহঃ)

রেওয়ায়ত ৭০. মালিক (রাহঃ) বলেনঃ তাহার নিকট রেওয়ায়ত পৌছিয়াছে যে, উম্মুল মু'মিনীন আয়েশা (রাযিঃ)-কে মেয়েদের জানাবতের গোসল সম্পর্কে প্রশ্ন করা হইল। তিনি বলিলেনঃ স্ত্রীলোক তাহার মাথায় তিন চুল্লু পানি ঢালিবে এবং উভয় হাত দ্বারা মাথা (মাথার চুল) কচলাইবে।

১৮. দুই লজ্জাস্থানের সঙ্গমে গোসল ওয়াজিব হওয়া

بَاب وَاجِبِ الْغُسْلِ إِذَا الْتَقَى الْخِتَانَانِ

১০১

حَدَّثَنِي يَحْيَى عَنْ مَالِك عَنْ ابْنِ شِهَابٍ عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيَّبِ أَنَّ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ وَعُثْمَانَ بْنَ عَفَّانَ وَعَائِشَةَ زَوْجَ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانُوا يَقُولُونَ إِذَا مَسَّ الْخِتَانُ الْخِتَانَ فَقَدْ وَجَبَ الْغُسْلُ

বর্ণনাকারী: সাঈদ ইবনুল মুসাইয়্যাব (রহঃ)

রেওয়ায়ত ৭১. সাঈদ ইবনে মুসায়্যাব (রাহঃ) হইতে বর্ণিত, উমর ইবনে খাত্তাব, উসমান ইবনে আফফান (রাযিঃ) ও নবী করীম (ﷺ) এর সহধর্মিণী আয়েশা (রাযিঃ) বলতেনঃ যখন (পুরুষের) লজ্জাস্থান (স্ত্রীর) লজ্জাস্থান স্পর্শ করিল তখন অবশ্য গোসল ওয়াজিব হইয়া গেল।
১০২

وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِك عَنْ أَبِي النَّضْرِ مَوْلَى عُمَرَ بْنِ عُبَيْدِ اللَّهِ عَنْ أَبِي سَلَمَةَ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَوْفٍ أَنَّهُ قَالَ سَأَلْتُ عَائِشَةَ زَوْجَ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَا يُوجِبُ الْغُسْلَ فَقَالَتْ هَلْ تَدْرِي مَا مَثَلُكَ يَا أَبَا سَلَمَةَ مَثَلُ الْفَرُّوجِ يَسْمَعُ الدِّيَكَةَ تَصْرُخُ فَيَصْرُخُ مَعَهَا إِذَا جَاوَزَ الْخِتَانُ الْخِتَانَ فَقَدْ وَجَبَ الْغُسْلُ

বর্ণনাকারী: আবু সালামা ইবনে আব্দুর রহমান ইবনে আউফ (রহঃ)

রেওয়ায়ত ৭২. আবু সালামা ইবনে আব্দুর রহমান ইবনে আউফ (রাহঃ) বলেনঃ আমি নবী করীম (ﷺ) এর পত্নী আয়েশা (রাযিঃ)-কে প্রশ্ন করিলাম, কোন কাজ গোসলকে ওয়াজিব করে? তিনি বলিলেনঃ হে আবু সালামা! তুমি জান, তোমার দৃষ্টান্ত কি? তোমার দৃষ্টান্ত হইতেছে মুরগীর বাচ্চার মত*, যে মোরগকে যখন ডাক দিতে শোনে, তখন সেও মোরগের সহিত ডাক দেয়। শোন, (পুরুষের) লজ্জাস্থান (স্ত্রীর) লজ্জাস্থান অতিক্রম করিলে গোসল ওয়াজিব হইবে।

*আবু সালমা (রাঃ) শুধু মিলনে নয় শুক্র নির্গত হইলেই কেবল গোসল ওয়াজিব হইবে- এই মত পোষণকারীদের একজন। আয়েশা (রাঃ) তাহার এই মতের জন্য প্রথমে তাহাকে তিরস্কার করিলেন ও পরে প্রশ্নের উত্তর দিলেন।
১০৩

وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِك عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيَّبِ أَنَّ أَبَا مُوسَى الْأَشْعَرِيَّ أَتَى عَائِشَةَ زَوْجَ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ لَهَا لَقَدْ شَقَّ عَلَيَّ اخْتِلَافُ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي أَمْرٍ إِنِّي لَأُعْظِمُ أَنْ أَسْتَقْبِلَكِ بِهِ فَقَالَتْ مَا هُوَ مَا كُنْتَ سَائِلًا عَنْهُ أُمَّكَ فَسَلْنِي عَنْهُ فَقَالَ الرَّجُلُ يُصِيبُ أَهْلَهُ ثُمَّ يُكْسِلُ وَلَا يُنْزِلُ فَقَالَتْ إِذَا جَاوَزَ الْخِتَانُ الْخِتَانَ فَقَدْ وَجَبَ الْغُسْلُ فَقَالَ أَبُو مُوسَى الْأَشْعَرِيُّ لَا أَسْأَلُ عَنْ هَذَا أَحَدًا بَعْدَكِ أَبَدًا

বর্ণনাকারী: সাঈদ ইবনুল মুসাইয়্যাব (রহঃ)

রেওয়ায়ত ৭৩. সাঈদ ইবনে মুসায়্যাব (রাহঃ) হইতে বর্ণিত, আবু মুসা আশ’আরী (রাযিঃ) নবী করীম (ﷺ) এর সহধর্মিণী আয়েশা (রাযিঃ)-এর নিকট উপস্থিত হইলেন। তিনি বলিলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সাহাবাদের মতানৈক্য আমার নিকট খুব ভারী ও কষ্টদায়ক হইয়াছে এবং তাহা এমন একটি বিষয়ে যাহা আপনার সমীপে উল্লেখ করা আমি মহাব্যাপার মনে করি। আয়েশা সিদীকা (রাযিঃ) বললেনঃ কি বিষয় উহা? তুমি যে বিষয় তোমার মাতার নিকট প্রশ্ন করিতে পার, সেই বিষয়ে আমার নিকটও প্রশ্ন করিতে পার। তারপর আবু মুসা (রাযিঃ) বলিলেনঃ কোন লোক তাহার স্ত্রীর সহিত সহবাস করার পর সে ক্লান্ত হইয়াছে এবং বীর্য নির্গত হয় নাই। সে কি করিবে? তিনি বলিলেনঃ (পুরুষের) লজ্জাস্থান (স্ত্রীলোকের) লজ্জাস্থান অতিক্রম করিলে গোসল ওয়াজিব হইবে। আবু মুসা (রাযিঃ) বলিলেনঃ আপনাকে জিজ্ঞাসা করার পর আমি এই বিষয় অন্য কাহারও নিকট আর কখনও জিজ্ঞাসা করিব না।
১০৪

وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِك عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ كَعْبٍ مَوْلَى عُثْمَانَ بْنِ عَفَّانَ أَنَّ مَحْمُودَ بْنَ لَبِيدٍ الْأَنْصَارِيَّ سَأَلَ زَيْدَ بْنَ ثَابِتٍ عَنْ الرَّجُلِ يُصِيبُ أَهْلَهُ ثُمَّ يُكْسِلُ وَلَا يُنْزِلُ فَقَالَ زَيْدٌ يَغْتَسِلُ فَقَالَ لَهُ مَحْمُودٌ إِنَّ أُبَيَّ بْنَ كَعْبٍ كَانَ لَا يَرَى الْغُسْلَ فَقَالَ لَهُ زَيْدُ بْنُ ثَابِتٍ إِنَّ أُبَيَّ بْنَ كَعْبٍ نَزَعَ عَنْ ذَلِكَ قَبْلَ أَنْ يَمُوتَ

বর্ণনাকারী: বিবিধ

রেওয়ায়ত ৭৪. মাহমুদ ইবনে লবীদ আনসারী (রাযিঃ) যায়দ ইবনে সাবিত আনসারী (রাযিঃ)-এর নিকট প্রশ্ন করিলেন, সেই লোক সম্পর্কে যে লোক নিজের স্ত্রীর সহিত সহবাস করিয়াছে, তারপর ক্লান্ত হইয়া পড়িয়াছে, বীর্য বাহির হয় নাই। তিনি বলিলেনঃ সে গোসল করবে। মাহমুদ (রাযিঃ) বলিলেনঃ উবাই ইবনে কা’ব (রাযিঃ) গোসল (এই অবস্থায়) জরুরী মনে করিতেন না। যায়দ (রাযিঃ) বললেন, মৃত্যুর পূর্বে উবাই ইবনে কা’ব (রাযিঃ) এই মত প্রত্যাহার করিয়াছিলেন।

১০৫

وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِك عَنْ نَافِعٍ أَنَّ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عُمَرَ كَانَ يَقُولُ إِذَا جَاوَزَ الْخِتَانُ الْخِتَانَ فَقَدْ وَجَبَ الْغُسْلُ

বর্ণনাকারী: নাফি‘ (রহঃ)

রেওয়ায়ত ৭৫. নাফি’ (রাহঃ) হইতে বর্ণিত, আব্দুল্লাহ্ ইবনে উমর (রাযিঃ) বলিলেনঃ (পুরুষের) লজ্জাস্থান স্ত্রীলোকের লজ্জাস্থান অতিক্রম করিলে গোসল ওয়াজিব হইবে।

১৯. জুনুবী ব্যক্তির ওযু করাঃ গোসলের পূর্বে নিদ্রা অথবা খাদ্য গ্রহণ করিতে ইচ্ছা করিলে

بَاب وُضُوءِ الْجُنُبِ إِذَا أَرَادَ أَنْ يَنَامَ أَوْ يَطْعَمَ قَبْلَ أَنْ يَغْتَسِلَ

১০৬

حَدَّثَنِي يَحْيَى عَنْ مَالِك عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ دِينَارٍ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ أَنَّهُ قَالَ ذَكَرَ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ لِرَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنَّهُ يُصِيبُهُ جَنَابَةٌ مِنْ اللَّيْلِ فَقَالَ لَهُ رَسُولُ اللَّهِ تَوَضَّأْ وَاغْسِلْ ذَكَرَكَ ثُمَّ نَمْ

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

রেওয়ায়ত ৭৬. আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাযিঃ) বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) সমীপে উমর ইবনে খাত্তাব (রাযিঃ) উল্লেখ করিলেন, রাত্রিতে তাহার জানাবত অর্থাৎ অপবিত্রতা হয় (স্বপ্লদোষ বা স্ত্রী সহবাসের দরুন)। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাহাকে বলিলেনঃ তুমি ওযু কর এবং জননেন্দ্রিয় ধুইয়া ফেল, তারপর ঘুমাও।

১০৭

وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِك عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ عَنْ أَبِيهِ عَنْ عَائِشَةَ زَوْجِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنَّهَا كَانَتْ تَقُولُ إِذَا أَصَابَ أَحَدُكُمْ الْمَرْأَةَ ثُمَّ أَرَادَ أَنْ يَنَامَ قَبْلَ أَنْ يَغْتَسِلَ فَلَا يَنَمْ حَتَّى يَتَوَضَّأَ وُضُوءَهُ لِلصَّلَاةِ

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

রেওয়ায়ত ৭৭. নবী করীম (ﷺ) এর সহধর্মিণী আয়েশা (রাযিঃ) বলিতেনঃ তোমাদের কেউ স্ত্রী সহবাস করিলে, অতঃপর গোসলের পূর্বে ঘুমাইতে ইচ্ছা করিলে সে নামাযের ওযুর মত ওযু না করিয়া ঘুমাইবে না।

১০৮

وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِك عَنْ نَافِعٍ أَنَّ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عُمَرَ كَانَ إِذَا أَرَادَ أَنْ يَنَامَ أَوْ يَطْعَمَ وَهُوَ جُنُبٌ غَسَلَ وَجْهَهُ وَيَدَيْهِ إِلَى الْمِرْفَقَيْنِ وَمَسَحَ بِرَأْسِهِ ثُمَّ طَعِمَ أَوْ نَامَ

বর্ণনাকারী: নাফি‘ (রহঃ)

রেওয়ায়ত ৭৮. নাফি’ (রাহঃ) হইতে বর্ণিত, আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাযিঃ) জানাবত হালতে ঘুমাইতে অথবা আহার করিতে ইচ্ছা করিলে তিনি মুখমণ্ডল ও উভয় হাত কনুই পর্যন্ত ধুইতেন এবং মাথা মাসাহ্‌ করিতেন। তারপর আহার করিতেন অথবা ঘুমাইতেন।

২০. জুনুবী ব্যক্তির জানাবত স্মরণ না থাকার কারণে নামায পড়িলে সেই নামায পুনরায় পড়া এবং গোসল করা ও কাপড় ধোয়া প্রসঙ্গে

بَاب إِعَادَةِ الْجُنُبِ الصَّلَاةَ وَغُسْلِهِ إِذَا صَلَّى وَلَمْ يَذْكُرْ وَغَسْلِهِ ثَوْبَهُ

১০৯

حَدَّثَنِي يَحْيَى عَنْ مَالِك عَنْ إِسْمَعِيلَ بْنِ أَبِي حَكِيمٍ أَنَّ عَطَاءَ بْنَ يَسَارٍ أَخْبَرَهُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَبَّرَ فِي صَلَاةٍ مِنْ الصَّلَوَاتِ ثُمَّ أَشَارَ إِلَيْهِمْ بِيَدِهِ أَنْ امْكُثُوا فَذَهَبَ ثُمَّ رَجَعَ وَعَلَى جِلْدِهِ أَثَرُ الْمَاءِ

বর্ণনাকারী: বিবিধ

রেওয়ায়ত ৭৯. ইসমাঈল ইবনে আবি হাকীম (রাহঃ) হইতে বর্ণিত, ’আতা ইবনে ইয়াসার (রাহঃ) তাহাকে বলিয়াছেনঃ কোন এক নামাযে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তকবীর বললেন। অতঃপর হাত দিয়া তাহাদের (নামাযে শরীক উপস্থিত সাহাবীদের) দিকে ইশারা করিলেনঃ তোমরা নিজ নিজ স্থানে অবস্থান কর। তারপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) প্রস্থান করিলেন। অতঃপর প্রত্যাবর্তন করিলেন (এমন অবস্থায় যে), তাহার (পবিত্র) দেহের উপর পানির আলামত বিদ্যমান ছিল।

১১০

وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِك عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ عَنْ أَبِيهِ عَنْ زُيَيْدِ بْنِ الصَّلْتِ أَنَّهُ قَالَ خَرَجْتُ مَعَ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ إِلَى الْجُرُفِ فَنَظَرَ فَإِذَا هُوَ قَدْ احْتَلَمَ وَصَلَّى وَلَمْ يَغْتَسِلْ فَقَالَ وَاللَّهِ مَا أَرَانِي إِلَّا احْتَلَمْتُ وَمَا شَعَرْتُ وَصَلَّيْتُ وَمَا اغْتَسَلْتُ قَالَ فَاغْتَسَلَ وَغَسَلَ مَا رَأَى فِي ثَوْبِهِ وَنَضَحَ مَا لَمْ يَرَ وَأَذَّنَ أَوْ أَقَامَ ثُمَّ صَلَّى بَعْدَ ارْتِفَاعِ الضُّحَى مُتَمَكِّنًا

বর্ণনাকারী: হযরত উমর ইবনুল খাত্তাব রাযি.

রেওয়ায়ত ৮০. যুয়ায়দ ইবনে সালত (রাহঃ) বলেনঃ আমি উমর ইবনে খাত্তাব (রাযিঃ)-এর সহিত বাহির হইলাম জুরুফ-এর (মদীনা হইতে তিন মাইল দূরের একটি পল্লী) দিকে। তাহার স্বপ্লদোষ হইল এবং তিনি গোসল না করিয়া (ভুলে) নামায পড়িলেন। অতঃপর তিনি বলিলেনঃ কসম আল্লাহর! আমার মনে হয়, আমার অবশ্য ইহতিলাম (স্বপ্লদোষ) হইয়াছে অথচ আমি খবর রাখি না এবং আমি গোসল না করিয়া নামায পড়িয়াছি। তারপর তিনি গোসল করিলেন এবং কাপড়ে যা চিহ্ন দেখিলেন উহা ধুলেন, যেখানে চিহ্ন নাই সেইখানে পানি ছিটাইয়া দিলেন। তারপর আযান ও ইকামত বলিলেন। অতঃপর দিবসের প্রথমাংশ সূর্য উচ্চতায় পৌছার পর নামায পড়িলেন।

১১১

وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِك عَنْ إِسْمَعِيلَ بْنِ أَبِي حَكِيمٍ عَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ يَسَارٍ أَنَّ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ غَدَا إِلَى أَرْضِهِ بِالْجُرُفِ فَوَجَدَ فِي ثَوْبِهِ احْتِلَامًا فَقَالَ لَقَدْ ابْتُلِيتُ بِالْاحْتِلَامِ مُنْذُ وُلِّيتُ أَمْرَ النَّاسِ فَاغْتَسَلَ وَغَسَلَ مَا رَأَى فِي ثَوْبِهِ مِنْ الْاحْتِلَامِ ثُمَّ صَلَّى بَعْدَ أَنْ طَلَعَتْ الشَّمْسُ

বর্ণনাকারী: হযরত উমর ইবনুল খাত্তাব রাযি.

রেওয়ায়ত ৮১. সুলায়মান ইবনে ইয়াসার (রাহঃ) হইতে বর্ণিত, উমর ইবনে খাত্তাব (রাযিঃ) দিনের প্রথমাংশে জুরুফ নামক স্থানে অবস্থিত তাহার জমির দিকে গমন করিলেন। তিনি তাহার কাপড়ে স্বপ্লদোষের আলামত দেখিতে পাইলেন। তিনি বলিলেনঃ যখন হইতে লোকের দায়িত্ব আমার উপর ন্যস্ত করা হইয়াছে, তখন হইতে আমি ইহতিলামে লিপ্ত হইয়াছি। তারপর তিনি গোসল করিলেন এবং তাহার কাপড়ে স্বপ্নদোষের যা আলামত দেখিলেন উহ ধুলেন। তারপর সূর্য ওঠার পর তিনি নামায পড়িলেন।

১১২

وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ، عَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ يَسَارٍ، أَنَّ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ، صَلَّى بِالنَّاسِ الصُّبْحَ ثُمَّ غَدَا إِلَى أَرْضِهِ بِالْجُرُفِ فَوَجَدَ فِي ثَوْبِهِ احْتِلاَمًا فَقَالَ إِنَّا لَمَّا أَصَبْنَا الْوَدَكَ لاَنَتِ الْعُرُوقُ . فَاغْتَسَلَ وَغَسَلَ الاِحْتِلاَمَ مِنْ ثَوْبِهِ وَعَادَ لِصَلاَتِهِ .

বর্ণনাকারী: হযরত উমর ইবনুল খাত্তাব রাযি.

রেওয়ায়ত ৮২. সুলায়মান ইবনে ইয়াসার (রাহঃ) হইতে বর্ণিত, উমর ইবনে খাত্তাব (রাযিঃ) লোকের সহিত (জামাতে) ফজরের নামায পড়িলেন, অতঃপর সকালবেলা জুরুফ’-এ (جرف) অবস্থিত তাহার জমির দিকে গমন করিলেন। তারপর তাহার কাপড়ে ইহতিলামের (চিহ্ন) দেখিতে পাইলেন। তিনি বলিলেনঃ আমরা চর্বি (চর্বিযুক্ত খাদ্যদ্রব্য) যখন হইতে আহার করিতেছি তখন হইতে আমাদের শিরাসমূহ কোমল হইয়াছে। তারপর তিনি গোসল করিলেন এবং কাপড় হইতে ইহতিলাম (এর চিহ্ন) ধুইয়া ফেলিলেন এবং নামায পুনরায় পড়িলেন।

১১৩

وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ يَحْيَى بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ حَاطِبٍ، أَنَّهُ اعْتَمَرَ مَعَ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ فِي رَكْبٍ فِيهِمْ عَمْرُو بْنُ الْعَاصِ وَأَنَّ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ عَرَّسَ بِبَعْضِ الطَّرِيقِ قَرِيبًا مِنْ بَعْضِ الْمِيَاهِ فَاحْتَلَمَ عُمَرُ وَقَدْ كَادَ أَنْ يُصْبِحَ فَلَمْ يَجِدْ مَعَ الرَّكْبِ مَاءً فَرَكِبَ حَتَّى جَاءَ الْمَاءَ فَجَعَلَ يَغْسِلُ مَا رَأَى مِنْ ذَلِكَ الاِحْتِلاَمِ حَتَّى أَسْفَرَ فَقَالَ لَهُ عَمْرُو بْنُ الْعَاصِ أَصْبَحْتَ وَمَعَنَا ثِيَابٌ فَدَعْ ثَوْبَكَ يُغْسَلُ . فَقَالَ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ وَاعَجَبًا لَكَ يَا عَمْرُو بْنَ الْعَاصِ لَئِنْ كُنْتَ تَجِدُ ثِيَابًا أَفَكُلُّ النَّاسِ يَجِدُ ثِيَابًا وَاللَّهِ لَوْ فَعَلْتُهَا لَكَانَتْ سُنَّةً بَلْ أَغْسِلُ مَا رَأَيْتُ وَأَنْضِحُ مَا لَمْ أَرَ . قَالَ مَالِكٌ فِي رَجُلٍ وَجَدَ فِي ثَوْبِهِ أَثَرَ احْتِلاَمٍ وَلاَ يَدْرِي مَتَى كَانَ وَلاَ يَذْكُرُ شَيْئًا رَأَى فِي مَنَامِهِ قَالَ لِيَغْتَسِلْ مِنْ أَحْدَثِ نَوْمٍ نَامَهُ فَإِنْ كَانَ صَلَّى بَعْدَ ذَلِكَ النَّوْمِ فَلْيُعِدْ مَا كَانَ صَلَّى بَعْدَ ذَلِكَ النَّوْمِ مِنْ أَجْلِ أَنَّ الرَّجُلَ رُبَّمَا احْتَلَمَ وَلاَ يَرَى شَيْئًا وَيَرَى وَلاَ يَحْتَلِمُ فَإِذَا وَجَدَ فِي ثَوْبِهِ مَاءً فَعَلَيْهِ الْغُسْلُ وَذَلِكَ أَنَّ عُمَرَ أَعَادَ مَا كَانَ صَلَّى لآخِرِ نَوْمٍ نَامَهُ وَلَمْ يُعِدْ مَا كَانَ قَبْلَهُ .

বর্ণনাকারী: হযরত উমর ইবনুল খাত্তাব রাযি.

রেওয়ায়ত ৮৩. ইয়াহইয়াহ ইবনে আব্দুর রহমান (রাহঃ) তাহার পিতা হইতে বর্ণনা করেন যে, তিনি উমর ইবনে খাত্তাব (রাযিঃ)-এর সঙ্গে উমরাহ করিলেন একই কাফেলায়। আর সেই কাফেলায় আমর ইবনুল আস্ (রাযিঃ)-ও ছিলেন। উমর ইবনে খাত্তাব (রাযিঃ) কোন পানির (চশমা বা কূপ) নিকটবর্তী এক রাস্তায় (রাস্তার পাশে) রাত্রির শেষাংশে অবতরণ করিলেন। উমর (রাযিঃ)-এর ইহতিলাম হইল। (এইদিকে) ফজর হইতে লাগিল কিন্তু কাফেলার সহিত পানি পাওয়া গেল না। তিনি সওয়ার হইয়া পানির নিকট আসিলেন। অতঃপর তিনি ইহতিলামের যা চিহ্ন দেখিলেন উহা ধুইতে লাগিলেন, তখন ফরসা হইয়া গিয়াছে। আমর ইবনুল আস (রাযিঃ) তাহাকে বলিলেনঃ আপনি ভোর করিলেন অথচ আমাদের সহিত কাপড় রহিয়াছে, আপনি আপনার বস্ত্র রাখিয়া দিন, (পরে) ধোয়া হইবে। উমর ইবনে খাত্তাব (রাযিঃ) বলিলেনঃ ইবনুল আস্! আশ্চর্য তোমার প্রতি! তোমার যদিও অনেক বস্ত্র আছে, কিন্তু প্রত্যেক ব্যক্তির নিকট কি তদ্রূপ আছে? আল্লাহর কসম, আমি যদি ইহা করি তবে ইহা সুন্নতে পরিণত হইবে। আমি বরং যাহা আলামত দেখিব উহা ধুইব, আর যাহা দেখা না যায় উহাতে পানি ছিটাইয়া দিব।

মালিক (রাহঃ) বলেনঃ যে ব্যক্তি তাহার কাপড়ে ইহতিলামের আলামত দেখিতে পায়, কোন সময় ইহতিলাম হইয়াছে সে তাহা জানে না, স্বপ্নে যা দেখিয়াছে তাহাও স্মরণ নাই, তবে সে সদ্য যে নিদ্রা হইতে জাগিয়াছে উহাতে (ইহতিলাম হইয়াছে বলিয়া গণ্য করিয়া) গোসল করবে। যদি সে এই নিদ্রার পর নামায পড়িয়া থাকে তবে সেই নামায পুনরায় পড়িবে। কারণ লোকের (অনেক সময়) ইহতিলাম হয় কিন্তু কোন কিছু (স্বপ্নে) দেখে না, আবার কোন সময় স্বপ্ন দেখে কিন্তু ইহতিলাম হয় না। তাই কাপড়ে যদি পানি দেখে (ইহতিলাম স্মরণ না থাকিলেও) তবে তাহার উপর গোসল ওয়াজিব হইবে। কারণ উমর ইবনে খাত্তাব (রাযিঃ) এই ঘটনায় শেষ বারের নিদ্রা হইতে জাগ্রত হইবার পর যে নামায পড়িয়াছিলেন তিনি সেই নামায পুনরায় পড়িয়াছেন, উহার পূর্ববর্তী নামায অর্থাৎ ঐ নিদ্রার পূর্বের নামায তিনি কাযা করেন নাই।

২১. পুরুষের মত স্ত্রীলোকের স্বপ্লদোষ হইলে গোসল করা

بَاب غُسْلِ الْمَرْأَةِ إِذَا رَأَتْ فِي الْمَنَامِ مِثْلَ مَا يَرَى الرَّجُلُ

১১৪

حَدَّثَنِي عَنْ مَالِك عَنْ ابْنِ شِهَابٍ عَنْ عُرْوَةَ بْنِ الزُّبَيْرِ أَنَّ أُمَّ سُلَيْمٍ قَالَتْ لِرَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الْمَرْأَةُ تَرَى فِي الْمَنَامِ مِثْلَ مَا يَرَى الرَّجُلُ أَتَغْتَسِلُ فَقَالَ لَهَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ نَعَمْ فَلْتَغْتَسِلْ فَقَالَتْ لَهَا عَائِشَةُ أُفٍّ لَكِ وَهَلْ تَرَى ذَلِكَ الْمَرْأَةُ فَقَالَ لَهَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ تَرِبَتْ يَمِينُكِ وَمِنْ أَيْنَ يَكُونُ الشَّبَهُ

বর্ণনাকারী: উরওয়া ইবনে যুবায়র (রহঃ)

রেওয়ায়ত ৮৪. উরওয়াহ ইবনে যুবায়র (রাহঃ) হইতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকট উম্মু সুলায়ম বিনতে মিলহান (রাযিঃ) বলিলেনঃ স্ত্রীলোক স্বপ্নে দেখিলে যেমন (স্বপ্ন) দেখিয়া থাকে পুরুষ, (সেই) স্ত্রীলোক গোসল করিবে কি? রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাহাকে বলিলেনঃ হ্যাঁ, সে গোসল করবে। আয়েশা (রাযিঃ) তাহাকে (উম্মু সুলায়মকে) বলিলেনঃ উঃ তোমার সর্বনাশ হোক! স্ত্রীলোকও কি উহা দেখে। রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) তাহাকে [আয়েশা (রাযিঃ)-কে] বললেনঃ (تَرِبَتْ يَمِينُكِ) তোমার ডান হস্ত ধূলিধূসরিত হোক। (স্ত্রীলোকের উহা না হইলে) তবে (সন্তান-এর) সাদৃশ্য আসে কোথা হইতে? অর্থাৎ সন্তান মায়ের মত হয় কিরূপে?

১১৫

حَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ زَيْنَبَ بِنْتِ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ أُمِّ سَلَمَةَ، زَوْجِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَنَّهَا قَالَتْ جَاءَتْ أُمُّ سُلَيْمٍ امْرَأَةُ أَبِي طَلْحَةَ الأَنْصَارِيِّ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَتْ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّ اللَّهَ لاَ يَسْتَحْيِي مِنَ الْحَقِّ هَلْ عَلَى الْمَرْأَةِ مِنْ غُسْلٍ إِذَا هِيَ احْتَلَمَتْ فَقَالَ " نَعَمْ إِذَا رَأَتِ الْمَاءَ " .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন উম্মে সালামা (রাঃ)

রেওয়ায়ত ৮৫. নবী করীম (ﷺ) এর সহধর্মিণী উম্মে সালামা (রাযিঃ) বলেনঃ আবু তালহা আনসারী (রাযিঃ)-এর স্ত্রী উম্মু সুলায়ম রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর খিদমতে হাজির হইলেন এবং আরয করিলেনঃ হে আল্লাহর রাসূল! আল্লাহ হক কথা বলতে লজ্জা করেন না, স্ত্রীলোকের স্বপ্লদোষ হইলে তাহার উপর গোসল ওয়াজিব হইবে কি? তিনি (ﷺ) বলিলেনঃ হ্যাঁ, পানি দেখিলে।

২২. জানাবত গোসলের বিবিধ হুকুম

بَاب جَامِعِ غُسْلِ الْجَنَابَةِ

১১৬

حَدَّثَنِي يَحْيَى عَنْ مَالِك عَنْ نَافِعٍ أَنَّ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عُمَرَ كَانَ يَقُولُ لَا بَأْسَ أَنْ يُغْتَسَلَ بِفَضْلِ الْمَرْأَةِ مَا لَمْ تَكُنْ حَائِضًا أَوْ جُنُبًا

বর্ণনাকারী: নাফি‘ (রহঃ)

রেওয়ায়ত ৮৬. নাফি’ (রাহঃ) হইতে বর্ণিত, আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাযিঃ) বলিতেনঃ স্ত্রীলোকের গোসলের অবশিষ্ট পানি দ্বারা গোসল করাতে কোন দোষ নাই (অর্থাৎ ইহা জায়েয)। যদি স্ত্রীলোক ঋতুবতী (حائض) অথবা জুনুবী না হয়।
১১৭

وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنْ نَافِعٍ، أَنَّ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عُمَرَ، كَانَ يَعْرَقُ فِي الثَّوْبِ وَهُوَ جُنُبٌ ثُمَّ يُصَلِّي فِيهِ .

বর্ণনাকারী: নাফি‘ (রহঃ)

রেওয়ায়ত ৮৭. নাফি’ (রাহঃ) হইতে বর্ণিত, আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাযিঃ) পরিধানের কাপড়ে ঘর্মাক্ত হইতেন অথচ তখন তিনি জুনুবী। অতঃপর সেই কাপড়েই গোসলের পর তিনি নামায পড়িতেন।
১১৮

وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنْ نَافِعٍ، أَنَّ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عُمَرَ، كَانَ يَغْسِلُ جَوَارِيهِ رِجْلَيْهِ وَيُعْطِينَهُ الْخُمْرَةَ وَهُنَّ حُيَّضٌ . وَسُئِلَ مَالِكٌ عَنْ رَجُلٍ لَهُ نِسْوَةٌ وَجَوَارِي هَلْ يَطَؤُهُنَّ جَمِيعًا قَبْلَ أَنْ يَغْتَسِلَ فَقَالَ لاَ بَأْسَ بِأَنْ يُصِيبَ الرَّجُلُ جَارِيَتَيْهِ قَبْلَ أَنْ يَغْتَسِلَ فَأَمَّا النِّسَاءُ الْحَرَائِرُ فَيُكْرَهُ أَنْ يُصِيبَ الرَّجُلُ الْمَرْأَةَ الْحُرَّةَ فِي يَوْمِ الأُخْرَى فَأَمَّا أَنَّ يُصِيبَ الْجَارِيَةَ ثُمَّ يُصِيبَ الأُخْرَى وَهُوَ جُنُبٌ فَلاَ بَأْسَ بِذَلِكَ . وَسُئِلَ مَالِكٌ عَنْ رَجُلٍ جُنُبٍ وُضِعَ لَهُ مَاءٌ يَغْتَسِلُ بِهِ فَسَهَا فَأَدْخَلَ أَصْبُعَهُ فِيهِ لِيَعْرِفَ حَرَّ الْمَاءِ مِنْ بَرْدِهِ . قَالَ مَالِكٌ إِنْ لَمْ يَكُنْ أَصَابَ أَصْبُعَهُ أَذًى فَلاَ أَرَى ذَلِكَ يُنَجِّسُ عَلَيْهِ الْمَاءَ .

বর্ণনাকারী: নাফি‘ (রহঃ)

রেওয়ায়ত ৮৮. নাফি’ (রাহঃ) হইতে বর্ণিত, আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাযিঃ)-এর বাঁদিগণ তাহার পদদ্বয় ধৌত করিত এবং তাহাকে খুমরা (خمرة) ছোট মুসল্লা বা জায়নামায প্রদান করিত, অথচ তাহারা তখন ঋতুবতী।

মালিক (রাহঃ)-কে প্রশ্ন করা হইল এক ব্যক্তি সম্পর্কে, যে ব্যক্তির একাধিক স্ত্রী ও বাদী রহিয়াছে, সেই ব্যক্তি গোসলের পূর্বে সকলের (স্ত্রী ও বাদিগণের) সঙ্গে সহবাস করিতে পারবে কি? (উত্তরে) তিনি বলিলেনঃ জানাবতের গোসলের পূর্বে বাদীর সহিত সহবাস করা দোষের বিষয় নয় (অর্থাৎ ইহা জায়েয)। কিন্তু স্বাধীন স্ত্রীগণের ব্যাপারে মাসআলা এই- কোন ব্যক্তির পক্ষে নিজের স্ত্রীর (অধিকারের) দিনে (নিজের) আর এক স্ত্রীর সঙ্গে মিলিত হওয়া মাকরূহ। তবে কোন লোকের জন্য (তাহার) এক বাদীর সহিত সহবাস করিয়া অতঃপর আর এক বাদীর সহিত জুনুব থাকা অবস্থায় মিলিত হওয়া দোষের ব্যাপার নহে।

মালিক (রাহঃ)-কে প্রশ্ন করা হইল এমন এক জুনুবী ব্যক্তি সম্পর্কে, যে ব্যক্তির জন্য পানি রাখা হইয়াছে যাহা হইতে সে ব্যক্তি ফরয গোসল করিবে, তারপর সে ভুলবশত সেই পানিতে তাহার আঙ্গুল দাখিল করিয়াছে যাহাতে ঠাণ্ডা ও গরমের (মাত্রা) নির্ণয় করিতে পারে। (উত্তরে) মালিক (রাহঃ) বলেনঃ তাহার আঙুলসমূহে কোন নাপাকী না পৌছিয়া থাকিলে তবে তাহার এই কাজে পানি নাপাক হইবে বলিয়া আমি মনে করি না।

২৩. তাইয়াম্মুম (تيمم) প্রসঙ্গ

هَذَا بَاب فِي التَّيَمُّمِ

১১৯
حَدَّثَنِي يَحْيَى عَنْ مَالِك عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ الْقَاسِمِ عَنْ أَبِيهِ عَنْ عَائِشَةَ أُمِّ الْمُؤْمِنِينَ أَنَّهَا قَالَتْ خَرَجْنَا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي بَعْضِ أَسْفَارِهِ حَتَّى إِذَا كُنَّا بِالْبَيْدَاءِ أَوْ بِذَاتِ الْجَيْشِ انْقَطَعَ عِقْدٌ لِي فَأَقَامَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَلَى الْتِمَاسِهِ وَأَقَامَ النَّاسُ مَعَهُ وَلَيْسُوا عَلَى مَاءٍ وَلَيْسَ مَعَهُمْ مَاءٌ فَأَتَى النَّاسُ إِلَى أَبِي بَكْرٍ الصِّدِّيقِ فَقَالُوا أَلَا تَرَى مَا صَنَعَتْ عَائِشَةُ أَقَامَتْ بِرَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَبِالنَّاسِ وَلَيْسُوا عَلَى مَاءٍ وَلَيْسَ مَعَهُمْ مَاءٌ قَالَتْ عَائِشَةُ فَجَاءَ أَبُو بَكْرٍ وَرَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَاضِعٌ رَأْسَهُ عَلَى فَخِذِي قَدْ نَامَ فَقَالَ حَبَسْتِ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَالنَّاسَ وَلَيْسُوا عَلَى مَاءٍ وَلَيْسَ مَعَهُمْ مَاءٌ قَالَتْ عَائِشَةُ فَعَاتَبَنِي أَبُو بَكْرٍ فَقَالَ مَا شَاءَ اللَّهُ أَنْ يَقُولَ وَجَعَلَ يَطْعُنُ بِيَدِهِ فِي خَاصِرَتِي فَلَا يَمْنَعُنِي مِنْ التَّحَرُّكِ إِلَّا مَكَانُ رَأْسِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَلَى فَخِذِي فَنَامَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ حَتَّى أَصْبَحَ عَلَى غَيْرِ مَاءٍ فَأَنْزَلَ اللَّهُ تَبَارَكَ وَتَعَالَى آيَةَ التَّيَمُّمِ فَتَيَمَّمُوا فَقَالَ أُسَيْدُ بْنُ حُضَيْرٍ مَا هِيَ بِأَوَّلِ بَرَكَتِكُمْ يَا آلَ أَبِي بَكْرٍ قَالَتْ فَبَعَثْنَا الْبَعِيرَ الَّذِي كُنْتُ عَلَيْهِ فَوَجَدْنَا الْعِقْدَ تَحْتَهُ
وَسُئِلَ مَالِك عَنْ رَجُلٍ تَيَمَّمَ لِصَلَاةٍ حَضَرَتْ ثُمَّ حَضَرَتْ صَلَاةٌ أُخْرَى أَيَتَيَمَّمُ لَهَا أَمْ يَكْفِيهِ تَيَمُّمُهُ ذَلِكَ فَقَالَ بَلْ يَتَيَمَّمُ لِكُلِّ صَلَاةٍ لِأَنَّ عَلَيْهِ أَنْ يَبْتَغِيَ الْمَاءَ لِكُلِّ صَلَاةٍ فَمَنْ ابْتَغَى الْمَاءَ فَلَمْ يَجِدْهُ فَإِنَّهُ يَتَيَمَّمُ وَسُئِلَ مَالِك عَنْ رَجُلٍ تَيَمَّمَ أَيَؤُمُّ أَصْحَابَهُ وَهُمْ عَلَى وُضُوءٍ قَالَ يَؤُمُّهُمْ غَيْرُهُ أَحَبُّ إِلَيَّ وَلَوْ أَمَّهُمْ هُوَ لَمْ أَرَ بِذَلِكَ بَأْسًا قَالَ يَحْيَى قَالَ مَالِك فِي رَجُلٍ تَيَمَّمَ حِينَ لَمْ يَجِدْ مَاءً فَقَامَ وَكَبَّرَ وَدَخَلَ فِي الصَّلَاةِ فَطَلَعَ عَلَيْهِ إِنْسَانٌ مَعَهُ مَاءٌ قَالَ لَا يَقْطَعُ صَلَاتَهُ بَلْ يُتِمُّهَا بِالتَّيَمُّمِ وَلْيَتَوَضَّأْ لِمَا يُسْتَقْبَلُ مِنْ الصَّلَوَاتِ قَالَ يَحْيَى قَالَ مَالِك مَنْ قَامَ إِلَى الصَّلَاةِ فَلَمْ يَجِدْ مَاءً فَعَمِلَ بِمَا أَمَرَهُ اللَّهُ بِهِ مِنْ التَّيَمُّمِ فَقَدْ أَطَاعَ اللَّهَ وَلَيْسَ الَّذِي وَجَدَ الْمَاءَ بِأَطْهَرَ مِنْهُ وَلَا أَتَمَّ صَلَاةً لِأَنَّهُمَا أُمِرَا جَمِيعًا فَكُلٌّ عَمِلَ بِمَا أَمَرَهُ اللَّهُ بِهِ وَإِنَّمَا الْعَمَلُ بِمَا أَمَرَ اللَّهُ بِهِ مِنْ الْوُضُوءِ لِمَنْ وَجَدَ الْمَاءَ وَالتَّيَمُّمِ لِمَنْ لَمْ يَجِدْ الْمَاءَ قَبْلَ أَنْ يَدْخُلَ فِي الصَّلَاةِ وَقَالَ مَالِك فِي الرَّجُلِ الْجُنُبِ إِنَّهُ يَتَيَمَّمُ وَيَقْرَأُ حِزْبَهُ مِنْ الْقُرْآنِ وَيَتَنَفَّلُ مَا لَمْ يَجِدْ مَاءً وَإِنَّمَا ذَلِكَ فِي الْمَكَانِ الَّذِي يَجُوزُ لَهُ أَنْ يُصَلِّيَ فِيهِ بِالتَّيَمُّمِ

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

রেওয়ায়ত ৮৯. উম্মুল মু'মিনীন আয়েশা (রাযিঃ) বলিয়াছেনঃ আমরা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সঙ্গে সফরে গমন করিলাম। যখন আমরা বায়দা (بيداء) অথবা (তিনি বলিয়াছেন) যাতুল-জাইশ (নামক স্থান)-এ পৌছিলাম, তখন আমার একটি মালা হারান গেল। উহা অনুসন্ধানের জন্য রাসূলুল্লাহ (ﷺ) (সেখানে) অবস্থান করিলেন এবং লোকজনও তাহার সহিত অবস্থান করিলেন। তাহারা কোন পানির (কূপ বা নহর) কাছে ছিলেন না এবং তাঁহাদের সঙ্গেও পানি ছিল না। লোকজন আবু বকর সিদ্দীক (রাযিঃ)-এর নিকট উপস্থিত হইলেন এবং ঘটনা বিবৃত করিলেন। তাহারা বললেনঃ আয়েশা (রাযিঃ) কি করিয়াছেন তাহা কি আপনি জানেন না? (তিনি) রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে এবং অন্য লোকদিগকে অবস্থানে বাধ্য করিয়াছেন। অথচ তাহারা পানির কাছে নহেন এবং তাহদের সঙ্গে পানিও নাই।

আয়েশা (রাযিঃ) বলেনঃ তারপর আবু বকর (রাযিঃ) আমার নিকট আসিলেন। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাহার (পবিত্র) শির আমার উরুর উপর স্থাপন করিয়া ঘুমাইতেছিলেন। তিনি [আবু বকর (রাযিঃ)] বললেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এবং লোকদিগকে তুমি আটকাইয়া রাখিয়াছ। অথচ তাহারা পানির পার্শ্বে নহেন এবং তাহাদের সাথে পানিও নাই। আয়েশা (রাযিঃ) বলিলেনঃ তারপর আবু বকর (রাযিঃ) আমার প্রতি ক্রোধ প্রকাশ করিলেন এবং আমাকে তিরস্কার করিলেন। আর তাহার হাত দিয়া আমার কোমরে খোচা মারিতে লাগিলেন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর (পবিত্র) শির আমার উরুর উপর স্থাপিত থাকার দরুন আমি (খোচা মারা সত্ত্বেও) নড়াচড়া করিতেছিলাম না। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) অতঃপর ঘুমাইয়া পড়িলেন এমন কি এই পানিহীন অবস্থায় ভোর হইল। তারপর আল্লাহ তাআলা তাইয়াম্মুমের আয়াত নাযিল করিলেন। তারপর তাহারা সকলে তাইয়াম্মুম করিলেন।

উসায়দ ইবনে হুযায়র (রাযিঃ) বললেনঃ হে আবু বকরের পরিজন ইহা (অর্থাৎ তাইয়াম্মুমের আয়াত অবতীর্ণ হওয়া) আপনাদের প্রথম বরকত নহে। (অর্থাৎ মুসলিমগণ আপনাদের দ্বারা নানাভাবে উপকৃত হইয়াছেন) আয়েশা (রাযিঃ) বলিলেনঃ তারপর আমি যে উটের উপর আরোহণ করিয়াছিলাম উহাকে উঠাইলাম এবং উহার নীচে মালা পাইলাম।

মালিক (রাহঃ)-কে প্রশ্ন করা হইল এক ব্যক্তি সম্পর্কে, যে ব্যক্তি উপস্থিত নামাযের জন্য তাইয়াম্মুম করিয়াছে। অতঃপর পরবর্তী নামায উপস্থিত হইয়াছে, ঐ লোক কি সেই নামাযের জন্য (আবার) তাইয়াম্মুম করবে, না সেই (পূর্ববর্তী) তাইয়াম্মুম তাহার জন্য যথেষ্ট হইবে? উত্তরে তিনি বলিলেনঃ প্রত্যেক (ফরয) নামাযের জন্য তাইয়াম্মুম করবে। কারণ (সময় উপস্থিত হইলে) প্রত্যেক নামাযের জন্য পানির অনুসন্ধান করা তাহার ওয়াজিব। যে ব্যক্তি পানির অনুসন্ধান করিল কিন্তু পানি পাইল না, সে তাইয়াম্মুম করিবে।

মালিক (রাহঃ)-কে প্রশ্ন করা হইল এমন এক ব্যক্তি সম্পর্কে, যে ব্যক্তি তাইয়াম্মুম করিয়াছে এবং তাহার সাথীগণ যাহারা ওযু করিয়াছেন সে তাহাদের ইমামতি করিতে পারবে কি? (উত্তরে) তিনি বলিলেন, সেই ব্যক্তি ব্যতীত অন্য কেউ ইমামতি করিলে তাহা আমার নিকট পছন্দনীয়, আর যদি সে তাহাদের ইমামতি করিয়া থাকে, তবে তাহাতেও আমি কোন দোষ দেখি না।

মালিক (রাহঃ) বলিয়াছেন, এক ব্যক্তি পানি না পাইয়া তাইয়াম্মুম করিয়াছে, তারপর সে নামাযে দাঁড়াইয়াছে এবং তকবীর বলিয়া নামায আরম্ভ করিয়াছে। অতঃপর একজন লোক পানিসহ তাহার নিকট আগমন করিল। তিনি বলেনঃ সে নামায ছাড়িবে না, বরং তাইয়াম্মুম দ্বারা সেই নামায পূর্ণ করিবে এবং আগামী নামাযের জন্য ওযু করবে।

মালিক (রাহঃ) বলিয়াছেন, যে ব্যক্তি নামাযের (প্রস্তুতির) জন্য দাঁড়াইয়াছে; কিন্তু সে পানি না পাইয়া আল্লাহর নির্দেশ মুতাবিক তাইয়াম্মুমের আমল করিয়াছে তবে সেই ব্যক্তি মহান আল্লাহর আনুগত্যই করিয়াছে। পক্ষাত্তরে যে ব্যক্তি পানি পাইয়াছে (ও ওযু করিয়াছে) তাহা (উপরিউক্ত তাইয়াম্মুমকারী) অপেক্ষা সেই ব্যক্তি বেশী পবিত্র ও নামাযের পূর্ণতাকারী বলিয়া গণ্য হইবে না; কারণ তাহারা উভয়েই নির্দেশপ্রাপ্ত এবং প্রত্যেকে মহিমান্বিত আল্লাহর পক্ষ হইতে যাহা নির্দেশ পাইয়াছে সেই মুতাবিক আমল করিয়াছে। যে ব্যক্তি পানি পাইয়াছে সেই ব্যক্তির আমল হইল ওযু, যেমন আল্লাহ্ তাআলা তাহাকে নির্দেশ করিয়াছেন, আর যে ব্যক্তি নামায শুরুর পূর্বে পানি পায় নাই সেই ব্যক্তির জন্য (নির্দেশ) হইল তাইয়াম্মুম।

মালিক (রাহঃ) বলিয়াছেন, জুনুবী ব্যক্তি তাইয়াম্মুম করিবে এবং কুরআন হইতে তাহার নির্ধারিত অংশ তিলাওয়াত করিবে এবং নফল নামায পড়িবে যতক্ষণ পর্যন্ত পানি না পায়। তবে ইহা সেই স্থানের জন্য যে স্থানে তাহার জন্য তাইয়াম্মুম দ্বারা নামায পড়া বৈধ।

২৪. তাইয়াম্মুমের কার্যাবলি

بَاب الْعَمَلِ فِي التَّيَمُّمِ

১২০

حَدَّثَنِي يَحْيَى عَنْ مَالِك عَنْ نَافِعٍ أَنَّهُ أَقْبَلَ هُوَ وَعَبْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ مِنْ الْجُرُفِ حَتَّى إِذَا كَانَا بِالْمِرْبَدِ نَزَلَ عَبْدُ اللَّهِ فَتَيَمَّمَ صَعِيدًا طَيِّبًا فَمَسَحَ وَجْهَهُ وَيَدَيْهِ إِلَى الْمِرْفَقَيْنِ ثُمَّ صَلَّى

বর্ণনাকারী: নাফি‘ (রহঃ)

রেওয়ায়ত ৯০. নাফি (রাহঃ) হইতে বর্ণিত, তিনি স্বয়ং এবং আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাযিঃ) যাত্রা আরম্ভ করিলেন। জুরুফ (جرف) হইতে তাহারা উভয়ে মিরবদ (مربد) নামক স্থানে পৌছার পর আব্দুল্লাহ (রাযিঃ) অবতরণ করলেন এবং পবিত্র মাটি দ্বারা তাইয়াম্মুম করিলেন- তাহার মুখমণ্ডল ও হস্তদ্বয় কনুই পর্যন্ত মাসাহ্‌ করিলেন। অতঃপর নামায পড়িলেন।
১২১

وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنْ نَافِعٍ، أَنَّ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عُمَرَ، كَانَ يَتَيَمَّمُ إِلَى الْمِرْفَقَيْنِ . وَسُئِلَ مَالِكٌ كَيْفَ التَّيَمُّمُ وَأَيْنَ يَبْلُغُ بِهِ فَقَالَ يَضْرِبُ ضَرْبَةً لِلْوَجْهِ وَضَرْبَةً لِلْيَدَيْنِ وَيَمْسَحُهُمَا إِلَى الْمِرْفَقَيْنِ .

বর্ণনাকারী: নাফি‘ (রহঃ)

রেওয়ায়ত ৯১. নাফি’ (রাহঃ) হইতে বর্ণিত, আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাযিঃ) হস্তদ্বয়ের উভয় কনুই পর্যন্ত তাইয়াম্মুমে মাসাহ্‌ করিতেন।

মালিক (রাহঃ)-কে প্রশ্ন করা হইলঃ তাইয়াম্মুম কিরূপে এবং (হস্তদ্বয়ে তাইয়াম্মুম করার সময়) কোন স্থান পর্যন্ত তাহা পৌছাইবে? তিনি (উত্তরে) বলিলেনঃ একবার মাটিতে হাত রাখিবে মুখমণ্ডলের নিমিত্ত আর এক দফা রাখিবে হস্তদ্বয়ের সমূহের জন্য এবং হস্তদ্বয় উভয় কনুই পর্যন্ত মাসাহ্‌ করিবে।

২৫. জুনুবী ব্যক্তির তাইয়াম্মুম প্রসঙ্গ

بَاب تَيَمُّمِ الْجُنُبِ

১২২

حَدَّثَنِي يَحْيَى، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ حَرْمَلَةَ، أَنَّ رَجُلاً، سَأَلَ سَعِيدَ بْنَ الْمُسَيَّبِ عَنِ الرَّجُلِ الْجُنُبِ، يَتَيَمَّمُ ثُمَّ يُدْرِكُ الْمَاءَ فَقَالَ سَعِيدٌ إِذَا أَدْرَكَ الْمَاءَ فَعَلَيْهِ الْغُسْلُ لِمَا يُسْتَقْبَلُ . قَالَ مَالِكٌ فِيمَنِ احْتَلَمَ وَهُوَ فِي سَفَرٍ وَلاَ يَقْدِرُ مِنَ الْمَاءِ إِلاَّ عَلَى قَدْرِ الْوُضُوءِ وَهُوَ لاَ يَعْطَشُ حَتَّى يَأْتِيَ الْمَاءَ قَالَ يَغْسِلُ بِذَلِكَ فَرْجَهُ وَمَا أَصَابَهُ مِنْ ذَلِكَ الأَذَى ثُمَّ يَتَيَمَّمُ صَعِيدًا طَيِّبًا كَمَا أَمَرَهُ اللَّهُ . وَسُئِلَ مَالِكٌ عَنْ رَجُلٍ جُنُبٍ أَرَادَ أَنْ يَتَيَمَّمَ فَلَمْ يَجِدْ تُرَابًا إِلاَّ تُرَابَ سَبَخَةٍ هَلْ يَتَيَمَّمُ بِالسِّبَاخِ وَهَلْ تُكْرَهُ الصَّلاَةُ فِي السِّبَاخِ قَالَ مَالِكٌ لاَ بَأْسَ بِالصَّلاَةِ فِي السِّبَاخِ وَالتَّيَمُّمِ مِنْهَا لأَنَّ اللَّهَ تَبَارَكَ وَتَعَالَى قَالَ (فَتَيَمَّمُوا صَعِيدًا طَيِّبًا) فَكُلُّ مَا كَانَ صَعِيدًا فَهُوَ يُتَيَمَّمُ بِهِ سِبَاخًا كَانَ أَوْ غَيْرَهُ .

বর্ণনাকারী: সাঈদ ইবনুল মুসাইয়্যাব (রহঃ)

রেওয়ায়ত ৯২. এক ব্যক্তি সাঈদ ইবনে মুসায়্যাব (রাহঃ)-কে প্রশ্ন করিল এমন এক জুনুবী ব্যক্তি সম্পর্কে, যে তাইয়াম্মুম করার পর পানি পাইয়াছে। সাঈদ (রাহঃ) উত্তরে বলিলেনঃ পানি পাইলে আগামী নামাযের জন্য তাহার ওপর গোসল ওয়াজিব হইবে।

মালিক (রাহঃ) বলিয়াছেন, এমন এক ব্যক্তি যাহার ইহতিলাম হইয়াছে অথচ সে মুসাফির। কেবল ওযুর পরিমাণ পানি ব্যতীত তাহার নিকট আর পানি নাই এবং পানি পর্যন্ত পৌছার পূর্বে সে পিপাসিত হইবে না। তিনি বলিলেনঃ সেই পানি দ্বারা সে তাহার লজ্জাস্থান এবং যে স্থানে নাপাকী লাগিয়াছে তাহা ধুইবে। অতঃপর আল্লাহর নির্দেশ মুতাবিক পবিত্র মাটি দ্বারা তাইয়াম্মুম করবে।

মালিক (রাহঃ)-কে প্রশ্ন করা হইল এমন এক জুনুবী ব্যক্তি সম্পর্কে যে তাইয়াম্মুম করিতে ইচ্ছা করিয়াছে; কিন্তু সে লবণাক্ত মাটি ছাড়া অন্য মাটি পাইল না। তবে সে কি লবণাক্ত মাটি দ্বারা তাইয়াম্মুম করিবে? আরও প্রশ্ন করা হইলঃ লবণাক্ত মাটিতে নামায পড়া কি মাকরূহ? (উত্তরে) মালিক (রাহঃ) বলিলেনঃ লবণাক্ত মাটিতে নামায পড়াতে এবং লবণাক্ত মাটি দ্বারা তাইয়াম্মুম করাতে কোন দোষ নাই। কারণ আল্লাহ তাআলা বলিয়াছেনঃ (فَتَيَمَّمُوا صَعِيدًا طَيِّبًا) তোমরা পবিত্র মাটির দ্বারা তাইয়াম্মুম কর (সূরা মায়িদাঃ ৬)। ফলে যে-কোন পবিত্র মটি তাইয়াম্মুমের উপযুক্ত বলিয়া গণ্য হইবে। লবণাক্ত হোক অথবা না হোক।

২৬. স্ত্রী ঋতুবতী থাকিলে স্বামীর জন্য তাহার কতটুকু হালাল হইবে

بَاب مَا يَحِلُّ لِلرَّجُلِ مِنْ امْرَأَتِهِ وَهِيَ حَائِضٌ

১২৩

حَدَّثَنِي يَحْيَى عَنْ مَالِك عَنْ زَيْدِ بْنِ أَسْلَمَ أَنَّ رَجُلًا سَأَلَ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ مَا يَحِلُّ لِي مِنْ امْرَأَتِي وَهِيَ حَائِضٌ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لِتَشُدَّ عَلَيْهَا إِزَارَهَا ثُمَّ شَأْنَكَ بِأَعْلَاهَا

বর্ণনাকারী: যায়দ ইবনে আসলাম (রহঃ)

রেওয়ায়ত ৯৩. যায়দ ইবনে আসলাম (রাহঃ) হইতে বর্ণিত, একজন সাহাবী রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট প্রশ্ন করিলেনঃ আমার স্ত্রী ঋতুবতী থাকিলে আমার জন্য তাহার কতটুকু হালাল? রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ইরশাদ করিলেনঃ স্ত্রীলোক তাহার ইযার (পায়জামা বা পরনের জন্য কাপড়) শক্ত করিয়া বাধিবে। অতঃপর তোমার জন্য তাহার উপরের অংশ দ্বারা উপকৃত হওয়া বৈধ।
১২৪

وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنْ رَبِيعَةَ بْنِ أَبِي عَبْدِ الرَّحْمَنِ، أَنَّ عَائِشَةَ، زَوْجَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم كَانَتْ مُضْطَجِعَةً مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي ثَوْبٍ وَاحِدٍ وَأَنَّهَا قَدْ وَثَبَتْ وَثْبَةً شَدِيدَةً فَقَالَ لَهَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " مَا لَكِ لَعَلَّكِ نَفِسْتِ " . يَعْنِي الْحَيْضَةَ . فَقَالَتْ نَعَمْ . قَالَ " شُدِّي عَلَى نَفْسِكِ إِزَارَكِ ثُمَّ عُودِي إِلَى مَضْجَعِكِ " .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

রেওয়ায়ত ৯৪. রবি’আ ইবনে আবি আব্দির রহমান (রাহঃ) হইতে বর্ণিত, নবী করীম (ﷺ) এর সহধর্মিণী আয়েশা (রাযিঃ) রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) এর সঙ্গে এক চাদরে (আবৃত অবস্থায়) শায়িতা ছিলেন। তখন আয়েশা (রাযিঃ) তড়িঘড়ি করিয়া উঠিয়া পড়িলেন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাঁহাকে বলিলেন, তোমার কি ঘটিয়াছে। সম্ভবত তোমার নিফাস অর্থাৎ হায়েয হইয়াছে। তিনি বলিলেনঃ হ্যাঁ। রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলিলেন, তবে তুমি তোমার ইযার (পায়জামা বা তহবন্দ) শক্ত করিয়া বাঁধ, তারপর তোমার বিছানায় প্রত্যাবর্তন কর।

১২৫

وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنْ نَافِعٍ، أَنَّ عُبَيْدَ اللَّهِ بْنَ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ، أَرْسَلَ إِلَى عَائِشَةَ يَسْأَلُهَا هَلْ يُبَاشِرُ الرَّجُلُ امْرَأَتَهُ وَهِيَ حَائِضٌ فَقَالَتْ لِتَشُدَّ إِزَارَهَا عَلَى أَسْفَلِهَا ثُمَّ يُبَاشِرُهَا إِنْ شَاءَ .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

রেওয়ায়ত ৯৫. উবায়দুল্লাহ ইবনে আব্দুল্লাহ উমর (রাহঃ) নবী করীম (ﷺ) এর সহধর্মিণী আয়েশা (রাযিঃ)-এর নিকট লোক প্রেরণ করিলেন এই প্রশ্ন করার জন্য, স্ত্রী ঋতুবতী হইলে স্বামী সেই স্ত্রীর সহিত মিলিত হইবে কি? তিনি বলিলেনঃ (স্ত্রী) তাহার নীচের অংশে ইযার (পরিধানের কাপড়) শক্ত করিয়া বাঁধিবে, অতঃপর স্বামী ইচ্ছা করিলে তাহার সহিত মিলিত হইবে। (কিন্তু সহবাস হইতে বিরত থাকিবে, এইজন্যই ইযার শক্ত করিয়া বাধিতে নির্দেশ দেওয়া হইয়াছে।)

১২৬

وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، أَنَّهُ بَلَغَهُ أَنَّ سَالِمَ بْنَ عَبْدِ اللَّهِ، وَسُلَيْمَانَ بْنَ يَسَارٍ، سُئِلاَ عَنِ الْحَائِضِ، هَلْ يُصِيبُهَا زَوْجُهَا إِذَا رَأَتِ الطُّهْرَ قَبْلَ أَنْ تَغْتَسِلَ فَقَالاَ لاَ حَتَّى تَغْتَسِلَ .

বর্ণনাকারী: মালিক ইবনে আনাস (রহঃ)

রেওয়ায়ত ৯৬. মালিক (রাহঃ) বলেন, তাহার নিকট রেওয়ায়ত পৌছিয়াছে যে, সালিম ইবনে আব্দুল্লাহ্ ও সুলায়মান ইবনে ইয়াসার (রাযিঃ)-কে প্রশ্ন করা হইল ঋতুবতী স্ত্রীলোক সম্পর্কে, সে গোসলের পূর্বে পবিত্রতা লক্ষ করিলে তাহার স্বামী তাহার সহিত সহবাস করিতে পারিবে কি? তাহারা (উভয়ে) বলিলেনঃ গোসল না করা পর্যন্ত পারিবে না।

২৭. ঋতুবতীর পবিত্রতা

بَاب طُهْرِ الْحَائِضِ

১২৭

حَدَّثَنِي يَحْيَى عَنْ مَالِك عَنْ عَلْقَمَةَ بْنِ أَبِي عَلْقَمَةَ عَنْ أُمِّهِ مَوْلَاةِ عَائِشَةَ أُمِّ الْمُؤْمِنِينَ أَنَّهَا قَالَتْ كَانَ النِّسَاءُ يَبْعَثْنَ إِلَى عَائِشَةَ أُمِّ الْمُؤْمِنِينَ بِالدِّرَجَةِ فِيهَا الْكُرْسُفُ فِيهِ الصُّفْرَةُ مِنْ دَمِ الْحَيْضَةِ يَسْأَلْنَهَا عَنْ الصَّلَاةِ فَتَقُولُ لَهُنَّ لَا تَعْجَلْنَ حَتَّى تَرَيْنَ الْقَصَّةَ الْبَيْضَاءَ تُرِيدُ بِذَلِكَ الطُّهْرَ مِنْ الْحَيْضَةِ

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

রেওয়ায়ত ৯৭. আয়িশা রাঃ এর বাদী মারজানা হইতে বর্ণিত,তিনি বলেনঃ (ঋতুবতী) স্ত্রীলোকেরা আয়েশা (রাযিঃ)-এর নিকট ঝোলা বা ডিবা (دُرْجَة) পাঠাইতেন, যাহাতে নেকড়া বা তুলা (كُرْسُفْ) থাকিত। উহাতে পাণ্ডুবৰ্ণ ঋতুর রক্ত লাগিয়া থাকিত। তাহারা এই অবস্থায় নামায পড়া সম্পর্কে তাহার নিকট জানিতে চাহিতেন। তিনি [আয়েশা (রাযিঃ)] তাহাদিগকে বলিতেনঃ তাড়াহুড়া করিও না, যতক্ষণ পর্যন্ত পূর্ণ সাদা (বর্ণ) দেখিতে না পাও। তিনি ইহা দ্বারা ঋতু হইতে পবিত্রতা (طُهْر) বুঝাইতেন।

১২৮

وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي بَكْرٍ، عَنْ عَمَّتِهِ، عَنِ ابْنَةِ زَيْدِ بْنِ ثَابِتٍ، أَنَّهُ بَلَغَهَا أَنَّ نِسَاءً، كُنَّ يَدْعُونَ بِالْمَصَابِيحِ مِنْ جَوْفِ اللَّيْلِ يَنْظُرْنَ إِلَى الطُّهْرِ فَكَانَتْ تَعِيبُ ذَلِكَ عَلَيْهِنَّ وَتَقُولُ مَا كَانَ النِّسَاءُ يَصْنَعْنَ هَذَا

বর্ণনাকারী: বিবিধ

রেওয়ায়ত ৯৮. যায়দ ইবনে সাবিত (রাযিঃ)-এর কন্যা হইতে বর্ণিত, তাহার নিকট খবর পৌছিয়াছে যে, স্ত্রীলোকেরা (মধ্য রাত্রিতে) চেরাগ তলব করিতেন, তাহারা (ঋতু হইতে) পবিত্রতা (تَعِيب) লক্ষ করিতেন। তিনি (যায়দের কন্যা) ইহার জন্য তাহাদের নিন্দা করিতেন এবং বলিতেনঃ মহিলা সাহাবীয়ারা (রাযিঃ) ইহা করিতেন না।

১২৯

وَسُئِلَ مَالِكٌ عَنِ الْحَائِضِ تَطْهُرُ فَلاَ تَجِدُ مَاءً هَلْ تَتَيَمَّمُ قَالَ نَعَمْ لِتَتَيَمَّمْ فَإِنَّ مِثْلَهَا مِثْلُ الْجُنُبِ إِذَا لَمْ يَجِدْ مَاءً تَيَمَّمَ

বর্ণনাকারী: মালিক ইবনে আনাস (রহঃ)

রেওয়ায়ত ৯৯. মালিক (রাহঃ)-কে (ঋতুবতী স্ত্রীলোক সম্পর্কে) প্রশ্ন করা হইল যে স্ত্রীলোক শুচিতাপ্রাপ্ত হয়, কিন্তু পানি পায় না, সে তাইয়াম্মুম করিবে কি? তিনি বলিলেনঃ হ্যাঁ, অবশ্যই তাইয়াম্মুম করবে। কারণ তাহার দৃষ্টান্ত জুনুবীর মত (জুনুবী ব্যক্তি), যখন পানি না পায় তখন তাইয়াম্মুম করে।

২৮. ঋতু সম্পৰ্কীয় বিবিধ হুকুম

بَابُ جَامِعِ الْحِيضَةِ

১৩০

حَدَّثَنِي يَحْيَى، عَنْ مَالِكٍ، أَنَّهُ بَلَغَهُ أَنَّ عَائِشَةَ، زَوْجَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَتْ فِي الْمَرْأَةِ الْحَامِلِ تَرَى الدَّمَ أَنَّهَا تَدَعُ الصَّلاَةَ .

বর্ণনাকারী: মালিক ইবনে আনাস (রহঃ)

রেওয়ায়ত ১০০. মালিক (রাহঃ) বলেন, তিনি জ্ঞাত হইয়াছেন যে, যে গর্ভবতী স্ত্রীলোক রক্ত দেখিতে পায় তাহার সম্পর্কে নবী করীম (ﷺ) এর সহধর্মিণী আয়েশা (রাযিঃ) বলিয়াছেন, সে নামায পড়িবে না।

১৩১

وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، أَنَّهُ سَأَلَ ابْنَ شِهَابٍ عَنِ الْمَرْأَةِ الْحَامِلِ، تَرَى الدَّمَ قَالَ تَكُفُّ عَنِ الصَّلاَةِ، . قَالَ يَحْيَى قَالَ مَالِكٌ وَذَلِكَ الأَمْرُ عِنْدَنَا .

বর্ণনাকারী: মালিক ইবনে আনাস (রহঃ)

রেওয়ায়ত ১০১. মালিক (রাহঃ) ইবনে শিহাব (রাহঃ)-কে প্রশ্ন করিয়াছেনঃ যে গর্ভবতী স্ত্রীলোক রক্ত দেখিতে পায় সে কি করিবে? তিনি বলিলেনঃ সে নামায হইতে বিরত থাকিবে ।

ইয়াহইয়া (রাহঃ) বলেনঃ মালিক (রাহঃ) বলিয়াছেনঃ উক্ত হুকুম আমাদের গৃহীত সিদ্ধান্ত।
১৩২

وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِك عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ عَنْ أَبِيهِ عَنْ عَائِشَةَ زَوْجِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنَّهَا قَالَتْ كُنْتُ أُرَجِّلُ رَأْسَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَأَنَا حَائِضٌ

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

রেওয়ায়ত ১০২. নবী করীম (ﷺ) এর সহধর্মিণী আয়েশা (রাযিঃ) বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর মাথা মুবারকে চিরুনি করিতাম, অথচ তখন আমি ছিলাম ঋতুবতী।

১৩৩

وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ فَاطِمَةَ بِنْتِ الْمُنْذِرِ بْنِ الزُّبَيْرِ، عَنْ أَسْمَاءَ بِنْتِ أَبِي بَكْرٍ الصِّدِّيقِ، أَنَّهَا قَالَتْ سَأَلَتِ امْرَأَةٌ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَتْ أَرَأَيْتَ إِحْدَانَا إِذَا أَصَابَ ثَوْبَهَا الدَّمُ مِنَ الْحَيْضَةِ كَيْفَ تَصْنَعُ فِيهِ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " إِذَا أَصَابَ ثَوْبَ إِحْدَاكُنَّ الدَّمُ مِنَ الْحَيْضَةِ فَلْتَقْرُصْهُ ثُمَّ لِتَنْضَحْهُ بِالْمَاءِ ثُمَّ لِتُصَلِّي فِيهِ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আসমা বিনতে আবু বকর রাযি.

রেওয়ায়ত ১০৩. আসমা বিনতে আবু বকর সিদ্দীক (রাযিঃ) বলেন, জনৈক স্ত্রীলোক রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-কে প্রশ্ন করিলেন আমাদের মধ্যে একজনের কাপড়ে ঋতুস্রাবের রক্ত লাগিলে সে কি করিবে? রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলিলেন তোমাদের কোন স্ত্রীলোকের কাপড়ে হায়েযের রক্ত লাগিলে উহাকে খোচাইয়া পানি দ্বারা ধুইয়া ফেলিবে। অতঃপর সেই কাপড়ে নামায পড়িবে।

২৯. মুস্তাহাযা প্রসঙ্গ

بَاب الْمُسْتَحَاضَةِ

১৩৪

حَدَّثَنِي يَحْيَى عَنْ مَالِك عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ عَنْ أَبِيهِ عَنْ عَائِشَةَ زَوْجِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنَّهَا قَالَتْ قَالَتْ فَاطِمَةُ بِنْتُ أَبِي حُبَيْشٍ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنِّي لَا أَطْهُرُ أَفَأَدَعُ الصَّلَاةَ فَقَالَ لَهَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِنَّمَا ذَلِكِ عِرْقٌ وَلَيْسَتْ بِالْحَيْضَةِ فَإِذَا أَقْبَلَتْ الْحَيْضَةُ فَاتْرُكِي الصَّلَاةَ فَإِذَا ذَهَبَ قَدْرُهَا فَاغْسِلِي الدَّمَ عَنْكِ وَصَلِّي

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

রেওয়ায়ত ১০৪. নবী করীম (ﷺ) এর সহধর্মিণী আয়েশা (রাযিঃ) বলেন, ফাতিমা বিনতে আবি হুবাইসা (রাযিঃ) বলিলেনঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমি পবিত্ৰ হই না (অর্থাৎ রক্তস্রাব বন্ধ হয় না।) আমি নামায পড়িব কি? রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাহাকে বলিলেনঃ উহা একটি রোগ (শিরামাত্র), হায়েয নহে। তাই যখন হায়েয আরম্ভ হয় তখন নামায ছাড়িয়া দাও। হয়েযের (দিবসের) পরিমাণ দিন অতিবাহিত হইলে তুমি তোমার রক্ত ধৌত কর, তারপর নামায পড়।

১৩৫

وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنْ نَافِعٍ، عَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ يَسَارٍ، عَنْ أُمِّ سَلَمَةَ، زَوْجِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَنَّ امْرَأَةً كَانَتْ تُهَرَاقُ الدِّمَاءَ فِي عَهْدِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَاسْتَفْتَتْ لَهَا أُمُّ سَلَمَةَ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ " لِتَنْظُرْ إِلَى عَدَدِ اللَّيَالِي وَالأَيَّامِ الَّتِي كَانَتْ تَحِيضُهُنَّ مِنَ الشَّهْرِ قَبْلَ أَنْ يُصِيبَهَا الَّذِي أَصَابَهَا فَلْتَتْرُكِ الصَّلاَةَ قَدْرَ ذَلِكَ مِنَ الشَّهْرِ فَإِذَا خَلَّفَتْ ذَلِكَ فَلْتَغْتَسِلْ ثُمَّ لِتَسْتَثْفِرْ بِثَوْبٍ ثُمَّ لِتُصَلِّي " .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন উম্মে সালামা (রাঃ)

রেওয়ায়ত ১০৫. নবী করীম (ﷺ) এর সহধর্মিণী উম্মু-সালামা (রাযিঃ) হইতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) এর যুগে জনৈকা স্ত্রীলোকের (রক্তস্রাব বন্ধ হইত না), রক্ত প্রবাহিত হইত। তাহার সম্পর্কে উম্মু-সালামা (রাযিঃ) রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে প্রশ্ন করিলেন। রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলিলেনঃ (রক্তস্রাব বন্ধ না হওয়ার) যে রোগে সে আক্রান্ত হইয়াছে, সেই রোগ হওয়ার পূর্বে তাহার কত দিন কত রাত্র প্রতি মাসে হায়েয আসিত সে উহার প্রতি লক্ষ রাখিবে। মাসের সেই কয়দিন ও রাত্রিতে সে নামায পড়িবে না। অতঃপর সেই কয়দিন অতিবাহিত হইলে সে গোসল করিবে, তারপর লজ্জাস্থান কাপড় দিয়া বাধিয়া লইবে, তারপর নামায পড়িবে।
১৩৬

وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ زَيْنَبَ بِنْتِ أَبِي سَلَمَةَ، أَنَّهَا رَأَتْ زَيْنَبَ بِنْتَ جَحْشٍ الَّتِي كَانَتْ تَحْتَ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَوْفٍ وَكَانَتْ تُسْتَحَاضُ فَكَانَتْ تَغْتَسِلُ وَتُصَلِّي .

বর্ণনাকারী: যায়নাব বিনতে আবু সালামা (রাঃ)

রেওয়ায়ত ১০৬. যায়নাব বিনত আবি সালামা (রাযিঃ) হইতে বর্ণিত, তিনি আব্দুর রহমান ইবনে আওফের স্ত্রী (উম্মু হাবিবা) যায়নাব বিনতে জাহশকে দেখিয়াছেন, তাহার রক্তস্রাব বন্ধ হইত না, তিনি গোসল করিয়া নামায পড়িতেন।

১৩৭

وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنْ سُمَىٍّ، مَوْلَى أَبِي بَكْرِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ أَنَّ الْقَعْقَاعَ بْنَ حَكِيمٍ، وَزَيْدَ بْنَ أَسْلَمَ، أَرْسَلاَهُ إِلَى سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيَّبِ يَسْأَلُهُ كَيْفَ تَغْتَسِلُ الْمُسْتَحَاضَةُ فَقَالَ تَغْتَسِلُ مِنْ طُهْرٍ إِلَى طُهْرٍ وَتَتَوَضَّأُ لِكُلِّ صَلاَةٍ فَإِنْ غَلَبَهَا الدَّمُ اسْتَثْفَرَتْ .

বর্ণনাকারী: বিবিধ

রেওয়ায়ত ১০৭. কাকা’ (قَعْقَاع) ইবনে হাকিম (রাহঃ) এবং যায়দ ইবনে আসলাম (রাহঃ) তাহারা উভয়ে সুমাইকে সাঈদ ইবনে মুসায়্যাব (রাহঃ)-এর নিকট পাঠাইলেন মুস্তাহাযা (স্ত্রীলোক) গোসল কিরূপে করিবে এই বিষয়ে তাহাকে প্রশ্ন করিতে। তিনি বলিলেনঃ এক যোহর হইতে অপর যোহর পর্যন্ত গোসল করিবে এবং প্রত্যেক নামাযের জন্য ওযু করবে। আর যদি রক্ত তাহার উপর প্রাধান্য লাভ করে (অর্থাৎ অধিক হয়) তবে (রক্ত প্রবাহের স্থানে) কাপড় বাধিবে।
১৩৮

وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِك عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ عَنْ أَبِيهِ أَنَّهُ قَالَ لَيْسَ عَلَى الْمُسْتَحَاضَةِ إِلَّا أَنْ تَغْتَسِلَ غُسْلًا وَاحِدًا ثُمَّ تَتَوَضَّأُ بَعْدَ ذَلِكَ لِكُلِّ صَلَاةٍ قَالَ يَحْيَى قَالَ مَالِك الْأَمْرُ عِنْدَنَا أَنَّ الْمُسْتَحَاضَةَ إِذَا صَلَّتْ أَنَّ لِزَوْجِهَا أَنْ يُصِيبَهَا وَكَذَلِكَ النُّفَسَاءُ إِذَا بَلَغَتْ أَقْصَى مَا يُمْسِكُ النِّسَاءَ الدَّمُ فَإِنْ رَأَتْ الدَّمَ بَعْدَ ذَلِكَ فَإِنَّهُ يُصِيبُهَا زَوْجُهَا وَإِنَّمَا هِيَ بِمَنْزِلَةِ الْمُسْتَحَاضَةِ قَالَ يَحْيَى قَالَ مَالِك الْأَمْرُ عِنْدَنَا فِي الْمُسْتَحَاضَةِ عَلَى حَدِيثِ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ عَنْ أَبِيهِ وَهُوَ أَحَبُّ مَا سَمِعْتُ إِلَيَّ فِي ذَلِكَ

বর্ণনাকারী: হিশাম ইবনে উরওয়া (রহঃ)

রেওয়ায়ত ১০৮. হিশাম ইবনে উরওয়াহ (রাহঃ) হইতে বর্ণিত, তাহার পিতা বলিয়াছেন, মুস্তাহাজার জন্য একবার গোসল করা ব্যতীত অন্য কিছু ওয়াজিব নহে, অতঃপর প্রত্যেক (ফরয) নামাযের জন্য সে ওযু করিবে।

মালিক (রাহঃ) বলেনঃ আমাদের সিদ্ধাত্ত হইল- মুস্তাহাযা নামায পড়ার পর তাহার স্বামীর জন্য তাহার সঙ্গে সহবাস করা বৈধ, অনুরূপই নিফাসওয়ালীর (সন্তান প্রসবের পর যে রক্তস্রাব হয় উহাকে নিফাস বলা হয়) হুকুম। রক্ত স্ত্রীলোকদিগকে (নামায, রোযা ও স্বামীর মিলন হইতে) যতদিন বাধা দিয়া রাখে উহার শেষ সীমায় উপনীত হওয়ার পরও যদি সে রক্ত দেখিতে পায় তবে তখন তাহার স্বামী তাহার সহিত মিলিত হইতে পরিবে, কারণ সে স্ত্রীলোক মুস্তাহাযা স্ত্রীলোকের মত।

মালিক (রাহঃ) বলেনঃ হিশাম ইবনে উরওয়াহ (রাহঃ) তাহার পিতা হইতে মুস্তাহাযা সম্পর্কে যে হাদীসটি বর্ণনা করিয়াছেন, তদনুযায়ী এই বিষয়ে আমরা সিদ্ধান্ত করিয়াছি। এই বিষয়ে আমি যাহা শুনিয়াছি তন্মধ্যে ইহাই আমার মনঃপূত।

৩০. দুগ্ধপোষ্য শিশুর প্রস্রাব সম্পৰ্কীয় আহকাম

بَاب مَا جَاءَ فِي بَوْلِ الصَّبِيِّ

১৩৯

حَدَّثَنِي يَحْيَى عَنْ مَالِك عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ عَنْ أَبِيهِ عَنْ عَائِشَةَ زَوْجِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنَّهَا قَالَتْ أُتِيَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِصَبِيٍّ فَبَالَ عَلَى ثَوْبِهِ فَدَعَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِمَاءٍ فَأَتْبَعَهُ إِيَّاهُ

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

রেওয়ায়ত ১০৯. নবী করীম (ﷺ) এর সহধর্মিণী আয়েশা (রাযিঃ) হইতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর খিদমতে একটি শিশুকে আনা হইল। সে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর কাপড়ের উপর প্রস্রাব করিয়া দিল। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) পানি তলব করিলেন এবং প্রস্রাব লাগা কাপড়ের উপর পানি ঢালিয়া দিলেন।

১৪০

وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِك عَنْ ابْنِ شِهَابٍ عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُتْبَةَ بْنِ مَسْعُودٍ عَنْ أُمِّ قَيْسٍ بِنْتِ مِحْصَنٍ أَنَّهَا أَتَتْ بِابْنٍ لَهَا صَغِيرٍ لَمْ يَأْكُلْ الطَّعَامَ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَأَجْلَسَهُ فِي حَجْرِهِ فَبَالَ عَلَى ثَوْبِهِ فَدَعَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِمَاءٍ فَنَضَحَهُ وَلَمْ يَغْسِلْهُ

বর্ণনাকারী: উম্মে কায়স বিনতে মিহসান (রাঃ)

রেওয়ায়ত ১১০. উম্মু-কায়স বিনতে মিহসান (রাযিঃ) হইতে বর্ণিত, দুগ্ধ ছাড়া অন্য খাদ্য এখনও গ্রহণ করে নাই তাহার এমন এক ছোট শিশুকে সঙ্গে লইয়া তিনি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর খিদমতে উপস্থিত হইলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) সেই শিশুকে আপন কোলে বসাইলেন। সে তাহার কাপড়ের উপর প্রস্রাব করিয়া দিল। অতঃপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) পানি তলব করিলেন এবং কাপড়ে পানি ছিটাইলেন, উহাকে ধুলেন না।

৩১. দাঁড়াইয়া প্রস্রাব করা প্রসঙ্গে

بَاب مَا جَاءَ فِي الْبَوْلِ قَائِمًا وَغَيْرِهِ

১৪১

حَدَّثَنِي يَحْيَى عَنْ مَالِك عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ أَنَّهُ قَالَ دَخَلَ أَعْرَابِيٌّ الْمَسْجِدَ فَكَشَفَ عَنْ فَرْجِهِ لِيَبُولَ فَصَاحَ النَّاسُ بِهِ حَتَّى عَلَا الصَّوْتُ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ اتْرُكُوهُ فَتَرَكُوهُ فَبَالَ ثُمَّ أَمَرَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِذَنُوبٍ مِنْ مَاءٍ فَصُبَّ عَلَى ذَلِكَ الْمَكَانِ

বর্ণনাকারী: ইয়াহয়া ইবনে সাঈদ আনসারী (রহঃ)

রেওয়ায়ত ১১১. ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ (রাহঃ) বলেন, জনৈক বেদুইন মসজিদে প্রবেশ করিল, সে প্রস্রাব করার উদ্দেশ্যে লজ্জাস্থান হইতে (কাপড়) খুলিল। লোকজন তাহাকে ধমকাইতে লাগিলেন, ইহাতে লোকের স্বর উচ্চ হইল। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলিলেনঃ তাহাকে ছাড়িয়া দাও। তাহারা সেই লোকটিকে ছাড়িয়া দিলেন। সে প্রস্রাব করিল। তারপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কয়েক বালতি পানি আনার নির্দেশ দিলেন। তারপর উক্ত স্থানে পানি ঢালা হইল।

১৪২

وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ دِينَارٍ، أَنَّهُ قَالَ رَأَيْتُ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عُمَرَ يَبُولُ قَائِمًا . قَالَ يَحْيَى وَسُئِلَ مَالِكٌ عَنْ غَسْلِ الْفَرْجِ مِنَ الْبَوْلِ وَالْغَائِطِ هَلْ جَاءَ فِيهِ أَثَرٌ فَقَالَ بَلَغَنِي أَنَّ بَعْضَ مَنْ مَضَى كَانُوا يَتَوَضَّئُونَ مِنَ الْغَائِطِ وَأَنَا أُحِبُّ أَنْ أَغْسِلَ الْفَرْجَ مِنَ الْبَوْلِ .

বর্ণনাকারী: আব্দুল্লাহ ইবনে দীনার (রহঃ)

রেওয়ায়ত ১১২. আব্দুল্লাহ ইবনে দীনার (রাহঃ) বলেন, আমি আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাযিঃ)-কে দাঁড়াইয়া প্রস্রাব করিতে দেখিয়াছি।

মালিক (রাহঃ)-কে প্রশ্ন করা হইল প্রস্ৰাব-পায়খানা হইতে লজ্জাস্থান ধৌত করা সম্পর্কে কোন বর্ণনা (اثر) আসিয়াছে কি? তিনি বলিলেন, আমি জ্ঞাত হইয়াছি, পূর্বের লোকদের (আনসারদের) মধ্য হইতে কিছুসংখ্যক লোক মলত্যাগের পর মলদ্বার ধৌত করিতেন, আর আমি প্রস্রাব করার পর লজ্জাস্থান ধৌত করা পছন্দ করি।

৩২. মিসওয়াকের আহকাম

بَاب مَا جَاءَ فِي السِّوَاكِ

১৪৩

حَدَّثَنِي يَحْيَى عَنْ مَالِك عَنْ ابْنِ شِهَابٍ عَنْ ابْنِ السَّبَّاقِ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ فِي جُمُعَةٍ مِنْ الْجُمَعِ يَا مَعْشَرَ الْمُسْلِمِينَ إِنَّ هَذَا يَوْمٌ جَعَلَهُ اللَّهُ عِيدًا فَاغْتَسِلُوا وَمَنْ كَانَ عِنْدَهُ طِيبٌ فَلَا يَضُرُّهُ أَنْ يَمَسَّ مِنْهُ وَعَلَيْكُمْ بِالسِّوَاكِ

বর্ণনাকারী: বিবিধ

রেওয়ায়ত ১১৩. ইবনে সব্বাক (রাহঃ) হইতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) জুম’আ সমূহের কোন এক জুম’আয় ইরশাদ করিয়াছেনঃ হে মুসলিম সম্প্রদায়, ইহা একটি দিবস, যাহাকে আল্লাহ্ ঈদস্বরূপ নির্দিষ্ট করিয়াছেন। তাই তোমরা গোসল কর, আর যাহার নিকট সুগন্ধ দ্রব্য থাকে, সে উহা হইতে স্পর্শ করিলে ক্ষতি নাই। মিসওয়াক ব্যবহার করা তোমাদের কর্তব্য।

১৪৪

وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِك عَنْ أَبِي الزِّنَادِ عَنْ الْأَعْرَجِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ لَوْلَا أَنْ أَشُقَّ عَلَى أُمَّتِي لَأَمَرْتُهُمْ بِالسِّوَاكِ

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

রেওয়ায়ত ১১৪. আবু হুরায়রা (রাযিঃ) হইতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলিয়াছেনঃ যদি আমার উম্মতের উপর কঠিন হওয়ার আশঙ্কা না করিতাম, তবে তাহাদিগকে বাধ্যতামূলকভাবে মিসওয়াক করার নির্দেশ দিতাম।

১৪৫

وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ حُمَيْدِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَوْفٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّهُ قَالَ لَوْلاَ أَنْ يَشُقَّ، عَلَى أُمَّتِهِ لأَمَرَهُمْ بِالسِّوَاكِ مَعَ كُلِّ وُضُوءٍ .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

রেওয়ায়ত ১১৫. আবু হুরায়রা (রাযিঃ) হইতে বর্ণিত, তিনি বলিয়াছেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যদি উম্মতের উপর কঠিন হওয়ার আশঙ্কা না করিতেন, তবে তাহাদিগকে বাধ্যতামূলকভাবে মিসওয়াক করার নির্দেশ দিতেন।