كتاب الطلاق

২৯. ত্বালাক - বিবাহ বিচ্ছেদ অধ্যায়

অধ্যায় ২৯ · ১১১ টি হাদীস

১. আল-বাত্তা* তালাকের বর্ণনা

بَاب مَا جَاءَ فِي الْبَتَّةِ

১১৫৭

حَدَّثَنِي يَحْيَى عَنْ مَالِك أَنَّهُ بَلَغَهُ أَنَّ رَجُلًا قَالَ لِعَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَبَّاسٍ إِنِّي طَلَّقْتُ امْرَأَتِي مِائَةَ تَطْلِيقَةٍ فَمَاذَا تَرَى عَلَيَّ فَقَالَ لَهُ ابْنُ عَبَّاسٍ طَلُقَتْ مِنْكَ لِثَلَاثٍ وَسَبْعٌ وَتِسْعُونَ اتَّخَذْتَ بِهَا آيَاتِ اللَّهِ هُزُوًا

বর্ণনাকারী: মালিক ইবনে আনাস (রহঃ)

রেওয়ায়ত ১. মালিক (রাহঃ) বলেনঃ তাহার নিকট রেওয়ায়ত পৌছিয়াছে যে, এক ব্যক্তি ইবনে আব্বাস (রাযিঃ)-এর নিকট বলিল, আমি আমার স্ত্রীকে একশত তালাক দিয়াছি। আমার সম্পর্কে এ বিষয়ে আপনার কি অভিমত? ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) তাহাকে বলিলেনঃ তিন তালাক দ্বারা তুমি তোমার স্ত্রীকে তালাক দিয়াছ। অবশিষ্ট সাতানব্বই তালাক দ্বারা তুমি আল্লাহর আয়াতকে বিদ্রূপ করিয়াছ।

১. আল-বাত্তা তালাকের বর্ণনা

بَاب مَا جَاءَ فِي الْبَتَّةِ

১১৫৮

وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِك أَنَّهُ بَلَغَهُ أَنَّ رَجُلًا جَاءَ إِلَى عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ فَقَالَ إِنِّي طَلَّقْتُ امْرَأَتِي ثَمَانِيَ تَطْلِيقَاتٍ فَقَالَ ابْنُ مَسْعُودٍ فَمَاذَا قِيلَ لَكَ قَالَ قِيلَ لِي إِنَّهَا قَدْ بَانَتْ مِنِّي فَقَالَ ابْنُ مَسْعُودٍ صَدَقُوا مَنْ طَلَّقَ كَمَا أَمَرَهُ اللَّهُ فَقَدْ بَيَّنَ اللَّهُ لَهُ وَمَنْ لَبَسَ عَلَى نَفْسِهِ لَبْسًا جَعَلْنَا لَبْسَهُ مُلْصَقًا بِهِ لَا تَلْبِسُوا عَلَى أَنْفُسِكُمْ وَنَتَحَمَّلُهُ عَنْكُمْ هُوَ كَمَا يَقُولُونَ

বর্ণনাকারী: মালিক ইবনে আনাস (রহঃ)

রেওয়ায়ত ২. মালিক (রাহঃ) বলেনঃ তাহার নিকট রেওয়ায়ত পৌছিয়াছে যে, এক ব্যক্তি আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাযিঃ)-এর নিকট আসিয়া বলিল, আমি আমার স্ত্রীকে দুইশত তালাক দিয়াছি। ইবনে মাসউদ (রাযিঃ) বলিলেনঃ তোমাকে কি বলা হইয়াছে? সে বলিল, আমাকে জানান হইয়াছে যে, আমার স্ত্রী আমার নিকট হইতে পৃথক হইয়া গিয়াছে। ইবনে মাসউদ (রাযিঃ) বলিলেনঃ মুফতীগণ ঠিকই বলিয়াছেন। যে আল্লাহর নির্দেশ মুতাবিক তালাক প্রদান করে তাহার হুকুম আল্লাহ্ বর্ণনা করিয়াছেন। আর যে ব্যক্তি নিজের প্রতি কোন প্রকার সন্দেহজনক আচরণ করে আমরা তাহার সন্দেহ তাহার উপরই আরোপ করিব। তোমরা নিজেদের প্রতি সন্দেহজনক আচরণ করিও না, যাহাতে তোমাদের জন্য আমাদের বিপদে পড়িতে হয়। মুফতীগণ যাহা বলিয়াছেন উহাই ফতওয়া (সিদ্ধান্ত)।

১১৫৯

وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِك عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ عَنْ أَبِي بَكْرِ بْنِ حَزْمٍ أَنَّ عُمَرَ بْنَ عَبْدِ الْعَزِيزِ قَالَ لَهُ الْبَتَّةُ مَا يَقُولُ النَّاسُ فِيهَا قَالَ أَبُو بَكْرٍ فَقُلْتُ لَهُ كَانَ أَبَانُ بْنُ عُثْمَانَ يَجْعَلُهَا وَاحِدَةً فَقَالَ عُمَرُ بْنُ عَبْدِ الْعَزِيزِ لَوْ كَانَ الطَّلَاقُ أَلْفًا مَا أَبْقَتْ الْبَتَّةُ مِنْهَا شَيْئًا مَنْ قَالَ الْبَتَّةَ فَقَدْ رَمَى الْغَايَةَ الْقُصْوَى

বর্ণনাকারী: বিবিধ

রেওয়ায়ত ৩. আবু বকর ইবনে হাযম (রাহঃ) হইতে বর্ণিত, উমর ইবনে আব্দুল আযীয (রাহঃ) তালাক-ই আল-বাত্তা সম্পর্কে লোকে কি বলে অর্থাৎ সাহাবা ও তাঁহাদের পরবর্তী উলামাগণের এ বিষয়ে কি অভিমতঃ ইহা আবু বকর ইবনে হাযমের নিকট জানিতে চাহিলে আবু বকর বলিলেনঃ আবান ইবনে উসমান উহাকে এক তালাক গণ্য করিতেন। উমর ইবনে আব্দুল আযীয বলিলেনঃ তিনের পরিবর্তে তালাক এক হাজার হইলেও তালাক-ই আল-বাত্তা উহার একটিও অবশিষ্ট রাখিবে না। যে ব্যক্তি আল-বাত্তা বলিল, সে শেষ সীমানায় তীর নিক্ষেপ করিল।

১১৬০

وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِك عَنْ ابْنِ شِهَابٍ أَنَّ مَرْوَانَ بْنَ الْحَكَمِ كَانَ يَقْضِي فِي الَّذِي يُطَلِّقُ امْرَأَتَهُ الْبَتَّةَ أَنَّهَا ثَلَاثُ تَطْلِيقَاتٍ قَالَ مَالِك وَهَذَا أَحَبُّ مَا سَمِعْتُ إِلَيَّ فِي ذَلِكَ

বর্ণনাকারী: ইবনে শিহাব যুহরী (রহঃ)

রেওয়ায়ত ৪. ইবনে শিহাব (রাহঃ) হইতে বর্ণিত, কেউ নিজের স্ত্রীকে তালাক-ই আল-বাত্তা দিলে মারওয়ান ইবনে হাকাম (রাহঃ) উহাতে তিন তালাক হইয়াছে বলিয়া ফতওয়া দিতেন।

মালিক (রাহঃ) বলেনঃ এই বিষয়ে যাহা আমি শুনিয়াছি তন্মধ্যে ইহাই আমার নিকট পছন্দীয়।

২. (خلية) খালিয়া (برية) বারিয়্যা এবং অনুরূপ অন্যান্য কিনায়া তালাকের জন্য প্রযোজ্য শব্দসমূহের বর্ণনা

بَاب مَا جَاءَ فِي الْخَلِيَّةِ وَالْبَرِيَّةِ وَأَشْبَاهِ ذَلِكَ

১১৬১

حَدَّثَنِي يَحْيَى عَنْ مَالِك أَنَّهُ بَلَغَهُ أَنَّهُ كُتِبَ إِلَى عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ مِنْ الْعِرَاقِ أَنَّ رَجُلًا قَالَ لِامْرَأَتِهِ حَبْلُكِ عَلَى غَارِبِكِ فَكَتَبَ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ إِلَى عَامِلِهِ أَنْ مُرْهُ يُوَافِينِي بِمَكَّةَ فِي الْمَوْسِمِ فَبَيْنَمَا عُمَرُ يَطُوفُ بِالْبَيْتِ إِذْ لَقِيَهُ الرَّجُلُ فَسَلَّمَ عَلَيْهِ فَقَالَ عُمَرُ مَنْ أَنْتَ فَقَالَ أَنَا الَّذِي أَمَرْتَ أَنْ أُجْلَبَ عَلَيْكَ فَقَالَ لَهُ عُمَرُ أَسْأَلُكَ بِرَبِّ هَذِهِ الْبَنِيَّةِ مَا أَرَدْتَ بِقَوْلِكَ حَبْلُكِ عَلَى غَارِبِكِ فَقَالَ لَهُ الرَّجُلُ لَوْ اسْتَحْلَفْتَنِي فِي غَيْرِ هَذَا الْمَكَانِ مَا صَدَقْتُكَ أَرَدْتُ بِذَلِكَ الْفِرَاقَ فَقَالَ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ هُوَ مَا أَرَدْتَ

বর্ণনাকারী: মালিক ইবনে আনাস (রহঃ)

রেওয়ায়ত ৫. মালিক (রাহঃ)-এর নিকট রেওয়ায়ত পৌছিয়াছে যে, ইরাক হইতে উমর ইবনে খাত্তাব (রাযিঃ)-এর নিকট লেখা হইল যে, এক ব্যক্তি তাহার স্ত্রীকে বলিয়াছে حَبْلُكِ عَلَى غَارِبِكِ [তোমার রশি তোমার ঘাড়ে]। উমর ইবনে খাত্তাব (রাযিঃ) তাহার নিযুক্ত ইরাকের প্রশাসকের নিকট পত্র লিখিলেন-হজ্জ মওসুমে সেই ব্যক্তিকে আমার সহিত মিলিত হইতে নির্দেশ দাও। উমর যখন বায়তুল্লাহর তওয়াফ করিয়াছিলেন তখন এক ব্যক্তি তাহার সম্মুখে আসিয়া সালাম করিল। উমর বলিলেনঃ তুমি কে? সেই ব্যক্তি বলিল, আমি সেই ব্যক্তি, যে ব্যক্তিকে আপনার নিকট (হজ্জ মওসুমে) উপস্থিত হইতে নির্দেশ প্রদান করিয়াছিলেন। তারপর উমর (রাযিঃ) বলিলেনঃ এই (পবিত্র কাবা) গৃহের মালিকের কসম দিয়া তোমাকে আমি প্রশ্ন করিতেছি যে, তুমি তোমার সেই বক্তব্য حَبْلُكِ عَلَى غَارِبِكِ এর দ্বারা কি উদ্দেশ্য করিয়াছ? সেই ব্যক্তি বলিল, এই স্থান ব্যতীত অন্য কোথাও আপনি আমাকে হলফ করাইলে আমি সত্য কথা বলিতাম না। আমি (এই বক্তব্য দ্বারা স্ত্রীকে) বিদায় (দেওয়া)-এর নিয়্যত করিয়াছি। উমর ইবনে খাত্তাব (রাযিঃ) বলিলেন, তুমি যাহা নিয়্যত করিয়াছ তাহাই।

১১৬২

وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِك أَنَّهُ بَلَغَهُ أَنَّ عَلِيَّ بْنَ أَبِي طَالِبٍ كَانَ يَقُولُ فِي الرَّجُلِ يَقُولُ لِامْرَأَتِهِ أَنْتِ عَلَيَّ حَرَامٌ إِنَّهَا ثَلَاثُ تَطْلِيقَاتٍ قَالَ مَالِك وَذَلِكَ أَحْسَنُ مَا سَمِعْتُ فِي ذَلِكَ

বর্ণনাকারী: মালিক ইবনে আনাস (রহঃ)

রেওয়ায়ত ৬. মালিক (রাহঃ) বলেনঃ তাহার নিকট রেওয়ায়ত পৌছিয়াছে যে, যে ব্যক্তি তাহার স্ত্রীকে “তুমি আমার জন্য হারাম” এরূপ বলিয়াছে সেই ব্যক্তি সম্পর্কে আলী ইবনে আবি তালিব (রাযিঃ) বলিয়াছেন যে, উহা তিন তালাক গণ্য হইবে।

মালিক (রাহঃ) বলেনঃ এ বিষয়ে আমি যাহা শুনিয়াছি তন্মধ্যে ইহাই উত্তম।
১১৬৩

وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِك عَنْ نَافِعٍ أَنَّ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عُمَرَ كَانَ يَقُولُ فِي الْخَلِيَّةِ وَالْبَرِيَّةِ إِنَّهَا ثَلَاثُ تَطْلِيقَاتٍ كُلُّ وَاحِدَةٍ مِنْهُمَا

বর্ণনাকারী: নাফি‘ (রহঃ)

রেওয়ায়ত ৭. নাফি হইতে বর্ণিত, আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাযিঃ) বলিতেন, ‘বারিয়্যা’ এবং ‘খালিয়্যা’ উভয় শব্দের প্রত্যেকটির দ্বারা তিন তালাক প্রযোজ্য হইবে।

১১৬৪

وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِك عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ عَنْ الْقَاسِمِ بْنِ مُحَمَّدٍ أَنَّ رَجُلًا كَانَتْ تَحْتَهُ وَلِيدَةٌ لِقَوْمٍ فَقَالَ لِأَهْلِهَا شَأْنَكُمْ بِهَا فَرَأَى النَّاسُ أَنَّهَا تَطْلِيقَةٌ وَاحِدَةٌ

বর্ণনাকারী: কাসিম ইবনে মুহাম্মাদ (রহঃ)

রেওয়ায়ত ৮. কাসিম ইবনে মুহাম্মাদ (রাহঃ) হইতে বর্ণিত-কোন এক গোত্রের দাসী এক ব্যক্তির স্ত্রী ছিল। সে ব্যক্তি উক্ত দাসীর অভিভাবকদের বলিল, আপনারা তাহার দায়িত্বভার গ্রহণ করুন। ইহা দ্বারা লোকেরা এক তালাক প্রদান করিয়াছে বলিয়া অনুমান করিলেন।

১১৬৫
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِك أَنَّهُ سَمِعَ ابْنَ شِهَابٍ يَقُولُ فِي الرَّجُلِ يَقُولُ لِامْرَأَتِهِ بَرِئْتِ مِنِّي وَبَرِئْتُ مِنْكِ إِنَّهَا ثَلَاثُ تَطْلِيقَاتٍ بِمَنْزِلَةِ الْبَتَّةِ
قَالَ مَالِك فِي الرَّجُلِ يَقُولُ لِامْرَأَتِهِ أَنْتِ خَلِيَّةٌ أَوْ بَرِيَّةٌ أَوْ بَائِنَةٌ إِنَّهَا ثَلَاثُ تَطْلِيقَاتٍ لِلْمَرْأَةِ الَّتِي قَدْ دَخَلَ بِهَا وَيُدَيَّنُ فِي الَّتِي لَمْ يَدْخُلْ بِهَا أَوَاحِدَةً أَرَادَ أَمْ ثَلَاثًا فَإِنْ قَالَ وَاحِدَةً أُحْلِفَ عَلَى ذَلِكَ وَكَانَ خَاطِبًا مِنْ الْخُطَّابِ لِأَنَّهُ لَا يُخْلِي الْمَرْأَةَ الَّتِي قَدْ دَخَلَ بِهَا زَوْجُهَا وَلَا يُبِينُهَا وَلَا يُبْرِيهَا إِلَّا ثَلَاثُ تَطْلِيقَاتٍ وَالَّتِي لَمْ يَدْخُلْ بِهَا تُخْلِيهَا وَتُبْرِيهَا وَتُبِينُهَا الْوَاحِدَةُ قَالَ مَالِك وَهَذَا أَحْسَنُ مَا سَمِعْتُ فِي ذَلِكَ

বর্ণনাকারী: মালিক ইবনে আনাস (রহঃ)

রেওয়ায়ত ৯. মালিক (রাহঃ) বলেনঃ তিনি ইবনে শিহাব (রাহঃ)-কে বলিতে শুনিয়াছেন, যে ব্যক্তি তাহার স্ত্রীকে বলিলঃ “আমার তোমা হইতে দায়িত্বমুক্ত হইয়াছি। তুমিও আমা হইতে দায়িত্বমুক্ত।” ইহা দ্বারা তালাকাই আল-বাত্তা-এর মতো তিন তালাক প্রযোজ্য হইবে।

যে ব্যক্তি নিজের স্ত্রীকে বলিলঃ (أَنْتِ خَلِيَّةٌ أَوْ بَرِيَّةٌ) “তুমি দায়মুক্ত” (أَنْتِ بَائِنَةٌ) “তুমি আমা হইতে পৃথক।” মালিক (রাহঃ) বলেনঃ সে স্ত্রী যাহার সঙ্গে সহবাস করা হইয়াছে এইরূপ হইলে তবে তাহার স্বামীর উপরিউক্ত বাক্যগুলির দ্বারা তাহার উপর তিন তালাক বর্তাইবে। আর যদি সেই স্ত্রী এমন হয় যাহার সহিত সহবাস করা হয়নি, তবে ধর্মত স্বামীকে বিশ্বাস করা হইবে এবং তাহার নিকট জিজ্ঞাসা করা হইবে-সে উপরিউক্ত বাক্যগুলি দ্বারা এক তালাক উদ্দেশ্য করিয়াছে, না তিন তালাক। যদি সে এক তালাক উদ্দেশ্য করিয়াছে বলিয়া প্রকাশ করে তাহা হইলে এই বিষয়ে সেই ব্যক্তিকে হলফ দেওয়া হইবে। (যেহেতু স্বামীর উক্তির দ্বারা স্ত্রীর প্রতি এক তালাক বায়েন প্রযোজ্য হইয়াছে, তাই পুনর্বিবাহ ছাড়া স্বামী সেই স্ত্রীকে গ্রহণ করিতে পারবে না) তাই সে বিবাহের প্রস্তাবকারী হিসাবে অন্য লোকদের মতো একজন বলিয়া পণ্য হইবে। ইহার কারণ এই যে, যে স্ত্রীর সহিত সঙ্গম করা হইয়াছে সেই স্ত্রী তিন তালাক ছাড়া দায়িত্বমুক্ত বা স্বামী হইতে পৃথক হইবে না। আর যাহার সহিত সঙ্গম হয় নাই সেই স্ত্রী এক তালাক দ্বারা দায়িত্বমুক্ত ও পৃথক হইয়া যায়।

মালিক (রাহঃ) বলিয়াছেনঃ এ বিষয়ে যাহা আমি শুনিয়াছি তন্মধ্যে ইহাই আমার নিকট উত্তম।

৩. স্ত্রীকে তালাকের অধিকার প্রদানের বর্ণনা

بَاب مَا يُبِينُ مِنْ التَّمْلِيكِ

১১৬৬

حَدَّثَنِي يَحْيَى عَنْ مَالِك أَنَّهُ بَلَغَهُ أَنَّ رَجُلًا جَاءَ إِلَى عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ فَقَالَ يَا أَبَا عَبْدِ الرَّحْمَنِ إِنِّي جَعَلْتُ أَمْرَ امْرَأَتِي فِي يَدِهَا فَطَلَّقَتْ نَفْسَهَا فَمَاذَا تَرَى فَقَالَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ أُرَاهُ كَمَا قَالَتْ فَقَالَ الرَّجُلُ لَا تَفْعَلْ يَا أَبَا عَبْدِ الرَّحْمَنِ فَقَالَ ابْنُ عُمَرَ أَنَا أَفْعَلُ أَنْتَ فَعَلْتَهُ

বর্ণনাকারী: মালিক ইবনে আনাস (রহঃ)

রেওয়ায়ত ১০. মালিক (রাহঃ) বলেনঃ তাহার নিকট রেওয়ায়ত পৌছিয়াছে যে, এক ব্যক্তি আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাযিঃ)-এর নিকট আসিয়া বলিল, হে আবু আব্দুর রহমান। আমি আমার স্ত্রীর হস্তে তাহার অধিকার ন্যস্ত করিয়াছি। সে নিজেকে তালাক প্রদান করিয়াছে; এই বিষয়ে আপনার কি অভিমত? ইবনে উমর (রাযিঃ) বলিলেনঃ আমার মতে যেমন বলিয়াছে তেমন হইবে। সে ব্যক্তি বলিল, হে আবু আব্দুর রহমান! এইরূপ করবেন না।
ইবনে উমর বলিলেনঃ আমি করিতেছি, না তুমি করিয়াছ (অর্থাৎ স্ত্রীর হাতে ক্ষমতা প্রদান করিলে কেন?)]
১১৬৭

وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِك عَنْ نَافِعٍ أَنَّ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عُمَرَ كَانَ يَقُولُ إِذَا مَلَّكَ الرَّجُلُ امْرَأَتَهُ أَمْرَهَا فَالْقَضَاءُ مَا قَضَتْ بِهِ إِلَّا أَنْ يُنْكِرَ عَلَيْهَا وَيَقُولُ لَمْ أُرِدْ إِلَّا وَاحِدَةً فَيَحْلِفُ عَلَى ذَلِكَ وَيَكُونُ أَمْلَكَ بِهَا مَا كَانَتْ فِي عِدَّتِهَا

বর্ণনাকারী: নাফি‘ (রহঃ)

রেওয়ায়ত ১১. নাফি’ (রাহঃ) হইতে বর্ণিত, আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাযিঃ) বলিতেন, যদি কোন ব্যক্তি তাহার স্ত্রীকে (তালাকের) ক্ষমতা প্রদান করে তবে (এক বা একাধিক তালাকের ব্যাপারে) স্ত্রীর ফয়সালাই ফয়সালা। হ্যাঁ, সে যদি উহা অস্বীকার করে এবং বলে, আমি এক তালাক ছাড়া অন্য কিছু উদ্দেশ্য করি নাই এবং সেই মতে সে হলফ করিয়াও বলে, তবে ইদ্দতের সময়ের মধ্যে স্ত্রীর অধিক হকদার বিবেচিত হইবে স্বামী (অর্থাৎ ইচ্ছা করিলে স্বামী স্ত্রীকে ফিরাইয়া লইতে পারিবে)।

৪. যে অধিকার প্রদানে এক তালাক ওয়াজিব হয়

بَاب مَا يَجِبُ فِيهِ تَطْلِيقَةٌ وَاحِدَةٌ مِنْ التَّمْلِيكِ

১১৬৮

حَدَّثَنِي يَحْيَى عَنْ مَالِك عَنْ سَعِيدِ بْنِ سُلَيْمَانَ بْنِ زَيْدِ بْنِ ثَابِتٍ عَنْ خَارِجَةَ بْنِ زَيْدِ بْنِ ثَابِتٍ أَنَّهُ أَخْبَرَهُ أَنَّهُ كَانَ جَالِسًا عِنْدَ زَيْدِ بْنِ ثَابِتٍ فَأَتَاهُ مُحَمَّدُ بْنُ أَبِي عَتِيقٍ وَعَيْنَاهُ تَدْمَعَانِ فَقَالَ لَهُ زَيْدٌ مَا شَأْنُكَ فَقَالَ مَلَّكْتُ امْرَأَتِي أَمْرَهَا فَفَارَقَتْنِي فَقَالَ لَهُ زَيْدٌ مَا حَمَلَكَ عَلَى ذَلِكَ قَالَ الْقَدَرُ فَقَالَ زَيْدٌ ارْتَجِعْهَا إِنْ شِئْتَ فَإِنَّمَا هِيَ وَاحِدَةٌ وَأَنْتَ أَمْلَكُ بِهَا

বর্ণনাকারী: যায়দ ইবনে ছাবিত (রাঃ)

রেওয়ায়ত ১২. খারিজা ইবনে যায়দ ইবনে সাবিত (রাহঃ) বলেনঃ তিনি যায়দ ইবনে সাবিত (রাযিঃ)-এর নিকট বসা ছিলেন। এই সময় তাহার নিকট মুহাম্মাদ ইবনে আবী আতীক আসিলেন। তাহার চক্ষুদ্বয় অশ্রুসিক্ত ছিল, যায়দ তাহার উদ্দেশ্যে বলিলেনঃ তোমার ব্যাপার কি? তিনি বলিলেনঃ আমার স্ত্রীকে আমি ক্ষমতা প্রদান করিয়াছিলাম। সে আমাকে পরিত্যাগ করিয়াছে। যায়দ বলিলেনঃ এইরূপ ক্ষমতা কি জন্য প্রদান করিলে? তিনি বলিলেনঃ তকদীর। যায়দ বলিলেনঃ তুমি স্ত্রীর দিকে প্রত্যাবর্তন কর যদি তোমার ইচ্ছা হয়, কারণ উহা এক তালাক মাত্র। তুমি সেই স্ত্রীর অধিক হকদার।

১১৬৯

وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِك عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ الْقَاسِمِ عَنْ أَبِيهِ أَنَّ رَجُلًا مِنْ ثَقِيفٍ مَلَّكَ امْرَأَتَهُ أَمْرَهَا فَقَالَتْ أَنْتَ الطَّلَاقُ فَسَكَتَ ثُمَّ قَالَتْ أَنْتَ الطَّلَاقُ فَقَالَ بِفِيكِ الْحَجَرُ ثُمَّ قَالَتْ أَنْتَ الطَّلَاقُ فَقَالَ بِفَاكِ الْحَجَرُ فَاخْتَصَمَا إِلَى مَرْوَانَ بْنِ الْحَكَمِ فَاسْتَحْلَفَهُ مَا مَلَّكَهَا إِلَّا وَاحِدَةً وَرَدَّهَا إِلَيْهِ قَالَ مَالِك قَالَ عَبْدُ الرَّحْمَنِ فَكَانَ الْقَاسِمُ يُعْجِبُهُ هَذَا الْقَضَاءُ وَيَرَاهُ أَحْسَنَ مَا سَمِعَ فِي ذَلِكَ قَالَ مَالِك وَهَذَا أَحْسَنُ مَا سَمِعْتُ فِي ذَلِكَ وَأَحَبُّهُ إِلَيَّ

বর্ণনাকারী: বিবিধ

রেওয়ায়ত ১৩. কাসিম ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে আবী বকর (রাহঃ) হইতে বর্ণিত-সাকীফ গোত্রের এক ব্যক্তি তাহার স্ত্রীকে (তালাকের) ক্ষমতা প্রদান করিল। সেই স্ত্রী বলিল, তোমাকে তালাক। স্বামী চুপ রহিল। স্ত্রী পুনরায় বলিল, তোমাকে তালাক। সে ব্যক্তি বলিলঃ তোমার মুখে প্রস্তর (পতিত হউক)। স্ত্রী পুনরায় বলিলঃ তোমাকে তালাক। সে বলিলঃ তোমার মুখে পাথর। উভয়ে বিচার প্রার্থী হইয়া মারওয়ান ইবনে হাকামের নিকট উপস্থিত হইল। মারওয়ান স্বামীর নিকট হইতে এই বিষয়ে হলফ তলব করিল যে, সে স্ত্রীকে তালাকের ক্ষমতা প্রয়োগের দ্বারা এক তালাক ব্যতীত অন্য কিছু উদ্দেশ্য করে নাই। অতঃপর স্ত্রীকে তাহার নিকট ফিরাইয়া দিলেন।

মালিক (রাহঃ) বলেনঃ আব্দুর রহমান (রাহঃ) বলিয়াছেনঃ কাসেম (রাহঃ) এই ফয়সালা খুব পছন্দ করিতেন এবং এই বিষয়ে যাহা শুনিয়াছেন তন্মধ্যে ইহাকে উত্তম বলিয়া গণ্য করিতেন।

মালিক (রাহঃ) বলেনঃ আমি এই বিষয়ে যাহা শুনিয়াছি তন্মধ্যে ইহাই সর্বোত্তম এবং আমার নিকট সর্বাপেক্ষা পছন্দনীয়।

৫. যে ক্ষমতা প্ৰদান তালাকের কারণ হয় না উহার বর্ণনা

بَاب مَا لَا يُبِينُ مِنْ التَّمْلِيكِ

১১৭০

حَدَّثَنِي يَحْيَى عَنْ مَالِك عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ الْقَاسِمِ عَنْ أَبِيهِ عَنْ عَائِشَةَ أُمِّ الْمُؤْمِنِينَ أَنَّهَا خَطَبَتْ عَلَى عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبِي بَكْرٍ قَرِيبَةَ بِنْتَ أَبِي أُمَيَّةَ فَزَوَّجُوهُ ثُمَّ إِنَّهُمْ عَتَبُوا عَلَى عَبْدِ الرَّحْمَنِ وَقَالُوا مَا زَوَّجْنَا إِلَّا عَائِشَةَ فَأَرْسَلَتْ عَائِشَةُ إِلَى عَبْدِ الرَّحْمَنِ فَذَكَرَتْ ذَلِكَ لَهُ فَجَعَلَ أَمْرَ قَرِيبَةَ بِيَدِهَا فَاخْتَارَتْ زَوْجَهَا فَلَمْ يَكُنْ ذَلِكَ طَلَاقًا

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

রেওয়ায়েত ১৪. কাসেম ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে আবী বকর (রাহঃ) হইতে বর্ণিত, তিনি আয়েশা সিদ্দীকা (রাযিঃ) হইতে বর্ণনা করেন যে, তিনি আব্দুর রহমান ইবনে আবী বকর (রাযিঃ)-এর জন্য কুরায়যা বিনতে আবী উমাইয়ার বিবাহের প্রস্তাব করিলেন, (কন্যা কর্তৃপক্ষ) তাহার নিকট বিবাহ দিলেন। তারপর (কোন কারণে) তাহারা আব্দুর রহমানের উপর অসন্তুষ্ট হইলেন* এবং তাহারা বলিলেন, আমরা আয়েশা (রাযিঃ)-এর কারণে বিবাহে সম্মত হইয়াছি। আয়েশা (রাযিঃ) আব্দুর রহমানের নিকট লোক প্রেরণ করিলেন এবং তাঁহাদের বক্তব্য অবহিত করিলেন। আব্দুর রহমান কুরায়যার বিষয় কুরায়যার উপর ন্যস্ত করিলেন। কুরায়যা (রাযিঃ) তাহার স্বামীকে গ্রহণ করিলেন।** ইহা তালাক বলিয়া গণ্য হইল না।

১১৭১

وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِك عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ الْقَاسِمِ عَنْ أَبِيهِ أَنَّ عَائِشَةَ زَوْجَ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ زَوَّجَتْ حَفْصَةَ بِنْتَ عَبْدِ الرَّحْمَنِ الْمُنْذِرَ بْنَ الزُّبَيْرِ وَعَبْدُ الرَّحْمَنِ غَائِبٌ بِالشَّامِ فَلَمَّا قَدِمَ عَبْدُ الرَّحْمَنِ قَالَ وَمِثْلِي يُصْنَعُ هَذَا بِهِ وَمِثْلِي يُفْتَاتُ عَلَيْهِ فَكَلَّمَتْ عَائِشَةُ الْمُنْذِرَ بْنَ الزُّبَيْرِ فَقَالَ الْمُنْذِرُ فَإِنَّ ذَلِكَ بِيَدِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ فَقَالَ عَبْدُ الرَّحْمَنِ مَا كُنْتُ لِأَرُدَّ أَمْرًا قَضَيْتِهِ فَقَرَّتْ حَفْصَةُ عِنْدَ الْمُنْذِرِ وَلَمْ يَكُنْ ذَلِكَ طَلَاقًا

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

রেওয়ায়ত ১৫. নবী করীম (ﷺ)-এর সহধর্মিণী আয়েশা (রাযিঃ) আব্দুর রহমানের কন্যা হাফসাকে মুনযির ইবনে যুবায়র-এর নিকট বিবাহ দিলেন। আব্দুর রহমান ছিলেন তখন সিরিয়াতে (তিনি তাই এই বিবাহে অনুপস্থিত ছিলেন)। আব্দুর রহমান যখন সিরিয়া হইতে প্রত্যাবর্তন করিলেন (এবং এই বিবাহের সংবাদ অবগত হইলেন) তিনি বলিলেন, আমার মতো লোকের সহিত ইহা করা হইল, আমার ব্যাপারে আমাকে উপেক্ষা করিয়া সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হইল। অতঃপর আয়েশা সিদ্দীকা (রাযিঃ) মুনযির ইবনে যুবায়র-এর সহিত আলোচনা করিলেন। মুনযির বলিলেনঃ আব্দুর রহমানের হাতেই ইহার (এই বিবাহ বহাল রাখা না রাখার) ক্ষমতা রহিয়াছে। আব্দুর রহমান বলিলেনঃ যেই ব্যাপারে আপনি সিদ্ধান্ত গ্রহণ করিয়াছেন আমি উহাকে রদ করিব না, তাই হাফসা মুনযিরের কাছেই রহিলেন এবং ইহা তালাক বলিয়া গণ্য হয় নাই।

১১৭২
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِك أَنَّهُ بَلَغَهُ أَنَّ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عُمَرَ وَأَبَا هُرَيْرَةَ سُئِلَا عَنْ الرَّجُلِ يُمَلِّكُ امْرَأَتَهُ أَمْرَهَا فَتَرُدُّ بِذَلِكَ إِلَيْهِ وَلَا تَقْضِي فِيهِ شَيْئًا فَقَالَا لَيْسَ ذَلِكَ بِطَلَاقٍ
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِك عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيَّبِ أَنَّهُ قَالَ إِذَا مَلَّكَ الرَّجُلُ امْرَأَتَهُ أَمْرَهَا فَلَمْ تُفَارِقْهُ وَقَرَّتْ عِنْدَهُ فَلَيْسَ ذَلِكَ بِطَلَاقٍ
قَالَ مَالِك فِي الْمُمَلَّكَةِ إِذَا مَلَّكَهَا زَوْجُهَا أَمْرَهَا ثُمَّ افْتَرَقَا وَلَمْ تَقْبَلْ مِنْ ذَلِكَ شَيْئًا فَلَيْسَ بِيَدِهَا مِنْ ذَلِكَ شَيْءٌ وَهُوَ لَهَا مَا دَامَا فِي مَجْلِسِهِمَا

বর্ণনাকারী: মালিক ইবনে আনাস (রহঃ)

রেওয়ায়ত ১৬. মালিক (রাহঃ) বলেনঃ তাহার নিকট রেওয়ায়ত পৌছিয়াছে যে, আব্দুল্লাহ ইবনে উমর এবং আবু হুরায়রা (রাযিঃ)-কে প্রশ্ন করা হইল এমন এক ব্যক্তি সম্পর্কে, যে ব্যক্তি স্ত্রীকে তাহার নিজের বিষয়ে ইখতিয়ার দিয়াছে। স্ত্রী উক্ত ক্ষমতা স্বামীর দিকে ফিরাইয়া দিয়াছে এবং এই ব্যাপারে নিজে ক্ষমতা প্রয়োগ করে নাই। (ইহার কি হুকুম) তাহারা উভয়ে বলিলেন, ইহা তালাক নহে।

সাঈদ ইবনে মুসায়্যিব (রাহঃ) বলেনঃ কোন ব্যক্তি নিজের স্ত্রীকে তাহার (বিবাহ বিচ্ছেদের ব্যাপারে) ক্ষমতা প্রদান করিলে সে যদি স্বামীকে ত্যাগ না করে এবং তাহার স্ত্রীরূপে বহাল থাকে, তবে উহা তালাক বলিয়া গণ্য হইবে না।

মালিক (রাহঃ) বলেনঃ যেই স্ত্রীলোকের প্রতি তাহার স্বামী ক্ষমতা অর্পণ করিল, অতঃপর তাহারা উভয়ে মজলিস ত্যাগ করিয়া পৃথক হইয়া গেল। স্ত্রী সেই ক্ষমতা গ্রহণ করে নাই। তবে সেই স্ত্রীর হাতে আর কোন ক্ষমতা থাকিবে না। তাহার হাতে ততক্ষণ ক্ষমতা থাকিবে যতক্ষণ তাহারা সেই মজলিস ত্যাগ না করে।

৬. স্ত্রীর সহিত মিলিত হইবে না বলিয়া শপথ করিলে তাহার কি হুকুম

بَاب الْإِيلَاءِ

১১৭৩

حَدَّثَنِي يَحْيَى عَنْ مَالِك عَنْ جَعْفَرِ بْنِ مُحَمَّدٍ عَنْ أَبِيهِ عَنْ عَلِيِّ بْنِ أَبِي طَالِبٍ أَنَّهُ كَانَ يَقُولُ إِذَا آلَى الرَّجُلُ مِنْ امْرَأَتِهِ لَمْ يَقَعْ عَلَيْهِ طَلَاقٌ وَإِنْ مَضَتْ الْأَرْبَعَةُ الْأَشْهُرِ حَتَّى يُوقَفَ فَإِمَّا أَنْ يُطَلِّقَ وَإِمَّا أَنْ يَفِيءَ قَالَ مَالِك وَذَلِكَ الْأَمْرُ عِنْدَنَا

বর্ণনাকারী: হযরত আলী ইবনে আবী তালিব (রাঃ)

রেওয়ায়ত ১৭. আলী ইবনে আবী তালিব (রাযিঃ) বলিতেন, কোন ব্যক্তি তাহার স্ত্রীর ব্যাপারে ঈলা করিলে উহাতে তালাক হইবে না। যদি ঈলার পর চার মাস অতিবাহিত হয় (সে কিছু না করে), তবে তাহাকে বন্দী করা হইবে, হয়ত সে তালাক দিবে নতুবা ঈলা হইতে ফিরিয়া আসিবে (অর্থাৎ স্ত্রীকে গ্রহণ করিয়া কসমের কাফফারা দিবে)।

মালিক (রাহঃ) বলেন, আমাদের নিকট ইহাই সিদ্ধান্ত।
১১৭৪
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِك عَنْ نَافِعٍ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ أَنَّهُ كَانَ يَقُولُ أَيُّمَا رَجُلٍ آلَى مِنْ امْرَأَتِهِ فَإِنَّهُ إِذَا مَضَتْ الْأَرْبَعَةُ الْأَشْهُرِ وُقِفَ حَتَّى يُطَلِّقَ أَوْ يَفِيءَ وَلَا يَقَعُ عَلَيْهِ طَلَاقٌ إِذَا مَضَتْ الْأَرْبَعَةُ الْأَشْهُرِ حَتَّى يُوقَفَ
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِك عَنْ ابْنِ شِهَابٍ أَنَّ سَعِيدَ بْنَ الْمُسَيَّبِ وَأَبَا بَكْرِ بْنَ عَبْدِ الرَّحْمَنِ كَانَا يَقُولَانِ فِي الرَّجُلِ يُولِي مِنْ امْرَأَتِهِ إِنَّهَا إِذَا مَضَتْ الْأَرْبَعَةُ الْأَشْهُرِ فَهِيَ تَطْلِيقَةٌ وَلِزَوْجِهَا عَلَيْهَا الرَّجْعَةُ مَا كَانَتْ فِي الْعِدَّةِ

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

রেওয়ায়ত ১৮. আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাযিঃ) বলিতেনঃ কেউ স্ত্রীর সহিত ঈলা করিলে তবে চার মাস অতিবাহিত হইলে তাহাকে বন্দী করা হইবে, যাবৎ তালাক না দেয় অথবা কসম ভঙ্গ করিয়া কাফফারা আদায় করে স্ত্রীকে গ্রহণ করিবে। চার মাস অতিবাহিত হইলে তাহাকে বন্দী না করা পর্যন্ত তালাক প্রযোজ্য হইবে না।

ইবনে শিহাব (রাহঃ) হইতে বর্ণিত, সাঈদ ইবনে মুসায়্যিব এবং আব্দুর রহমান ইবনে আবু বকর (রাযিঃ) তাহারা উভয়ে বলিতেন, যে ব্যক্তি স্ত্রীর সহিত ঈলা করিয়াছে, চার মাস অতিবাহিত হইলে উহা এক তালাক গণ্য হইবে। ইদ্দতের ভিতর সে ব্যক্তি স্ত্রীর দিকে রুজু’ (উহাকে গ্রহণ) করিতে পারবে।
১১৭৫

وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِك أَنَّهُ بَلَغَهُ أَنَّ مَرْوَانَ بْنَ الْحَكَمِ كَانَ يَقْضِي فِي الرَّجُلِ إِذَا آلَى مِنْ امْرَأَتِهِ أَنَّهَا إِذَا مَضَتْ الْأَرْبَعَةُ الْأَشْهُرِ فَهِيَ تَطْلِيقَةٌ وَلَهُ عَلَيْهَا الرَّجْعَةُ مَا دَامَتْ فِي عِدَّتِهَا قَالَ مَالِك وَعَلَى ذَلِكَ كَانَ رَأْيُ ابْنِ شِهَابٍ قَالَ مَالِك فِي الرَّجُلِ يُولِي مِنْ امْرَأَتِهِ فَيُوقَفُ فَيُطَلِّقُ عِنْدَ انْقِضَاءِ الْأَرْبَعَةِ الْأَشْهُرِ ثُمَّ يُرَاجِعُ امْرَأَتَهُ أَنَّهُ إِنْ لَمْ يُصِبْهَا حَتَّى تَنْقَضِيَ عِدَّتُهَا فَلَا سَبِيلَ لَهُ إِلَيْهَا وَلَا رَجْعَةَ لَهُ عَلَيْهَا إِلَّا أَنْ يَكُونَ لَهُ عُذْرٌ مِنْ مَرَضٍ أَوْ سِجْنٍ أَوْ مَا أَشْبَهَ ذَلِكَ مِنْ الْعُذْرِ فَإِنَّ ارْتِجَاعَهُ إِيَّاهَا ثَابِتٌ عَلَيْهَا فَإِنْ مَضَتْ عِدَّتُهَا ثُمَّ تَزَوَّجَهَا بَعْدَ ذَلِكَ فَإِنَّهُ إِنْ لَمْ يُصِبْهَا حَتَّى تَنْقَضِيَ الْأَرْبَعَةُ الْأَشْهُرِ وُقِفَ أَيْضًا فَإِنْ لَمْ يَفِئْ دَخَلَ عَلَيْهِ الطَّلَاقُ بِالْإِيلَاءِ الْأَوَّلِ إِذَا مَضَتْ الْأَرْبَعَةُ الْأَشْهُرِ وَلَمْ يَكُنْ لَهُ عَلَيْهَا رَجْعَةٌ لِأَنَّهُ نَكَحَهَا ثُمَّ طَلَّقَهَا قَبْلَ أَنْ يَمَسَّهَا فَلَا عِدَّةَ لَهُ عَلَيْهَا وَلَا رَجْعَةَ قَالَ مَالِك فِي الرَّجُلِ يُولِي مِنْ امْرَأَتِهِ فَيُوقَفُ بَعْدَ الْأَرْبَعَةِ الْأَشْهُرِ فَيُطَلِّقُ ثُمَّ يَرْتَجِعُ وَلَا يَمَسُّهَا فَتَنْقَضِي أَرْبَعَةُ أَشْهُرٍ قَبْلَ أَنْ تَنْقَضِيَ عِدَّتُهَا إِنَّهُ لَا يُوقَفُ وَلَا يَقَعُ عَلَيْهِ طَلَاقٌ وَإِنَّهُ إِنْ أَصَابَهَا قَبْلَ أَنْ تَنْقَضِيَ عِدَّتُهَا كَانَ أَحَقَّ بِهَا وَإِنْ مَضَتْ عِدَّتُهَا قَبْلَ أَنْ يُصِيبَهَا فَلَا سَبِيلَ لَهُ إِلَيْهَا وَهَذَا أَحْسَنُ مَا سَمِعْتُ فِي ذَلِكَ قَالَ مَالِك فِي الرَّجُلِ يُولِي مِنْ امْرَأَتِهِ ثُمَّ يُطَلِّقُهَا فَتَنْقَضِي الْأَرْبَعَةُ الْأَشْهُرِ قَبْلَ انْقِضَاءِ عِدَّةِ الطَّلَاقِ قَالَ هُمَا تَطْلِيقَتَانِ إِنْ هُوَ وُقِفَ وَلَمْ يَفِئْ وَإِنْ مَضَتْ عِدَّةُ الطَّلَاقِ قَبْلَ الْأَرْبَعَةِ الْأَشْهُرِ فَلَيْسَ الْإِيلَاءُ بِطَلَاقٍ وَذَلِكَ أَنَّ الْأَرْبَعَةَ الْأَشْهُرِ الَّتِي كَانَتْ تُوقَفُ بَعْدَهَا مَضَتْ وَلَيْسَتْ لَهُ يَوْمَئِذٍ بِامْرَأَةٍ قَالَ مَالِك وَمَنْ حَلَفَ أَنْ لَا يَطَأَ امْرَأَتَهُ يَوْمًا أَوْ شَهْرًا ثُمَّ مَكَثَ حَتَّى يَنْقَضِيَ أَكْثَرُ مِنْ الْأَرْبَعَةِ الْأَشْهُرِ فَلَا يَكُونُ ذَلِكَ إِيلَاءً وَإِنَّمَا يُوقَفُ فِي الْإِيلَاءِ مَنْ حَلَفَ عَلَى أَكْثَرَ مِنْ الْأَرْبَعَةِ الْأَشْهُرِ فَأَمَّا مَنْ حَلَفَ أَنْ لَا يَطَأَ امْرَأَتَهُ أَرْبَعَةَ أَشْهُرٍ أَوْ أَدْنَى مِنْ ذَلِكَ فَلَا أَرَى عَلَيْهِ إِيلَاءً لِأَنَّهُ إِذَا دَخَلَ الْأَجَلُ الَّذِي يُوقَفُ عِنْدَهُ خَرَجَ مِنْ يَمِينِهِ وَلَمْ يَكُنْ عَلَيْهِ وَقْفٌ قَالَ مَالِك مَنْ حَلَفَ لِامْرَأَتِهِ أَنْ لَا يَطَأَهَا حَتَّى تَفْطِمَ وَلَدَهَا فَإِنَّ ذَلِكَ لَا يَكُونُ إِيلَاءً وَقَدْ بَلَغَنِي أَنَّ عَلِيَّ بْنَ أَبِي طَالِبٍ سُئِلَ عَنْ ذَلِكَ فَلَمْ يَرَهُ إِيلَاءً

বর্ণনাকারী: মালিক ইবনে আনাস (রহঃ)

রেওয়ায়ত ১৯. মালিক (রাহঃ)-এর নিকট রেওয়ায়ত পৌছিয়াছে যে, মারওয়ান ইবনে হাকাম (রাহঃ) ফয়সালা দিতেন, যে ব্যক্তি স্ত্রীর সহিত ঈলা করিয়াছে, তবে চার মাস অতিবাহিত হইলে উহা এক তালাক বলিয়া গণ্য হইবে। ইদ্দতের ভিতর স্ত্রীর দিকে রুজু করার ইখতিয়ার স্বামীর থাকিবে।

মালিক (রাহঃ) বলেনঃ ইবনে শিহাব (যুহরী)-এর অভিমতও অনুরূপ ছিল।

মালিক (রাহঃ) বলেনঃ স্ত্রীর সহিত কোন লোক ঈলা করিলে তাহাকে বাধ্য করা হইবে। চার মাস অতিবাহিত হইলে সে স্ত্রীকে তালাক দিবে। অতঃপর সে রুজু করিবে, তবে সে ব্যক্তি স্ত্রীর সহিত মিলিত না হইলে এবং এইরূপে ইদ্দত খতম হইয়া গেলে সে আর রুজু করিতে পারবে না। হ্যাঁ, যদি তাহার কোন ওযর থাকে, (যেমন) বন্দী থাকা, রোগ বা অনুরূপ অন্য কোন ওযর, তবে (মৌখিকভাবে) তাহার রুজু গ্রহণযোগ্য হইবে। আর যদি ইদ্দত অতিবাহিত হওয়ার পর সে পুনরায় সেই স্ত্রীকে বিবাহ করে তবে যদি সে স্ত্রীর সহিত মিলিত না হয় এবং সেই অবস্থায় চার মাস অতিবাহিত হয় তবে তাহাকে বাধ্য করা হইবে। সে স্ত্রীর দিকে প্রত্যাবর্তন না করিলে প্রথম ঈলা-র দ্বারা স্ত্রীর উপর তালাক প্রযোজ্য হইবে। চার মাস অতিবাহিত হওয়ার পর আর স্ত্রীর দিকে রুজু করার ক্ষমতাও তাহার থাকিবে না। কারণ সে বিবাহ করিয়াছে এবং সহবাসের পূর্বে স্ত্রীকে তালাক দিয়াছে, এইরূপ অবস্থাতে ইদ্দতও নাই এবং রুজুর অধিকারও থাকিবে না।

মালিক (রাহঃ) বলেনঃ যে ব্যক্তি স্ত্রীর সহিত ঈলা করিয়াছে, চার মাসের পর সে ব্যক্তিকে বাধ্য করা হইবে। সে তালাক প্রদান করিবে অতঃপর রুজু করিবে, কিন্তু (রুজু করার পর) স্ত্রীর সহিত সঙ্গম না করিলে এবং (এইভাবে) ইদ্দত শেষ হওয়ার পূর্বে চারমাস অতিবাহিত হইলে তবে তাহাকে বাধ্য করা হইবে না এবং তালাক প্রযোজ্য হইবে না। আর যদি ইদ্দত শেষ হওয়ার পূর্বে স্ত্রীর সহিত মিলিত হয় তবে সে সেই স্ত্রীর (দিকে রুজু করার) অধিক হকদার হইবে। আর যদি মিলিত হওয়ার পূর্বে ইদ্দত শেষ হইয়া যায় তবে সেই স্ত্রীকে রাখার কোন ইখতিয়ার তাহার নাই।

মালিক (রাহঃ) বলেন, ইহাই উত্তম, যাহা আমি এই বিষয়ে শুনিয়াছি।

মালিক (রাহঃ) বলেনঃ যে ব্যক্তি স্ত্রীর সহিত ঈলা করে, অতঃপর স্ত্রীকে তালাক প্রদান করে, তারপর তালাকের ইদ্দত শেষ হওয়ার পূর্বে চারমাস অতিবাহিত হয়, মালিক (রাহঃ) বলেনঃ তখন যদি সে ঈলার উপর স্থির থাকে এবং প্রত্যাবর্তন না করে তবে ইহা দুই তালাক বলিয়া গণ্য হইবে। আর যদি চারমাস অতিবাহিত হওয়ার পূর্বে তালাকের ইদ্দত খতম হইয়া যায়, তবে ঈলা তালাক বলিয়া গণ্য হইবে না। কারণ, যে চারমাস অতিবাহিত হওয়ার পর তাহাকে বাধ্য করা হইত সেই চারমাস (সময়) অতিবাহিত হইয়া গিয়াছে। এমতাবস্থায় সে আর তাহার স্ত্রী রহিল না।

মালিক (রাহঃ) বলেনঃ যে ব্যক্তি একদিন অথবা একমাস স্ত্রীর সহিত বসবাস করিবে না বলিয়া হলফ করিল, অতঃপর চার মাসের অধিক সময় এইভাবে অতিবাহিত হইল, তবে ইহা ঈলা বলিয়া গণ্য হইবে না। কারণ, চার মাসের অধিক সময় স্ত্রীর সহিত সহবাস করিবে না বলিয়া হলফ করাকে ঈলা গণ্য করা হয়। আর যে ব্যক্তি চারমাস অথবা উহা হইতে কম সময়ের জন্য হলফ করে আমি উহাকে ঈলা বলিয়া মনে করি না। কারণ, সে সময় অতিবাহিত হওয়ার পর, স্বামীকে বাধ্য করার নিয়ম রহিয়াছে তাহা অতিক্রম করার পূর্বে সে তাহার শপথ হইতে বাহির হইয়া আসিবে তখন তাহাকে আর বাধ্য করা যাইবে না।

মালিক (রাহঃ) বলেনঃ বাচ্চার দুধ না ছাড়ান পর্যন্ত স্ত্রীর সহিত সঙ্গম করিবে না বলিয়া হলফ করিলে উহা ‘ঈলা বলিয়া গণ্য হইবে না।

মালিক (রাহঃ) বলেনঃ আমার নিকট রেওয়ায়ত পৌছিয়াছে যে, আলী ইবনে আবী তালীব (রাযিঃ)-কে এই বিষয়ে প্রশ্ন করা হয়। তিনি ইহা ঈলা নহে বলিয়া মত প্রকাশ করিয়াছেন।

৭. ক্রীতদাসের ঈলা

بَاب إِيلَاءِ الْعَبْدِ

১১৭৬

حَدَّثَنِي يَحْيَى عَنْ مَالِك أَنَّهُ سَأَلَ ابْنَ شِهَابٍ عَنْ إِيلَاءِ الْعَبْدِ فَقَالَ هُوَ نَحْوُ إِيلَاءِ الْحُرِّ وَهُوَ عَلَيْهِ وَاجِبٌ وَإِيلَاءُ الْعَبْدِ شَهْرَانِ

বর্ণনাকারী: মালিক ইবনে আনাস (রহঃ)

মালিক (রাহঃ) ইবনে শিহাব (রাহঃ)-এর নিকট ক্রীতদাসের ঈলা সম্বন্ধে প্রশ্ন করিয়াছেন, তিনি বলিলেনঃ ক্রীতদাসের ঈলা আযাদ( حر ) ব্যক্তির ঈলার মতো। সেই ঈলা তাহার উপর ওয়াজিব হইবে। আর ক্রীতদাসের ঈলা-র সময় হইতেছে দুই মাস।

৮. আযাদ ব্যক্তির যিহার

بَاب ظِهَارِ الْحُرِّ

১১৭৭

حَدَّثَنِي يَحْيَى عَنْ مَالِك عَنْ سَعِيدِ بْنِ عَمْرِو بْنِ سُلَيْمٍ الزُّرَقِيِّ أَنَّهُ سَأَلَ الْقَاسِمَ بْنَ مُحَمَّدٍ عَنْ رَجُلٍ طَلَّقَ امْرَأَةً إِنْ هُوَ تَزَوَّجَهَا فَقَالَ الْقَاسِمُ بْنُ مُحَمَّدٍ إِنَّ رَجُلًا جَعَلَ امْرَأَةً عَلَيْهِ كَظَهْرِ أُمِّهِ إِنْ هُوَ تَزَوَّجَهَا فَأَمَرَهُ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ إِنْ هُوَ تَزَوَّجَهَا أَنْ لَا يَقْرَبَهَا حَتَّى يُكَفِّرَ كَفَّارَةَ الْمُتَظَاهِرِ

বর্ণনাকারী: হযরত উমর ইবনুল খাত্তাব রাযি.

রেওয়ায়ত ২০. সাঈদ ইবনে আমর ইবনে সুলায়মান যুরাকী (রাহঃ) বলেনঃ তিনি কাসিম ইবনে মুহাম্মাদ (রাহঃ)-এর নিকট প্রশ্ন করিলেন এক ব্যক্তি সম্বন্ধে, যে লোক স্ত্রীকে বলিলঃ আমি তোমাকে বিবাহ করিলে তুমি তালাক। কাসিম ইবনে মুহাম্মাদ বলিলেনঃ এক ব্যক্তি জনৈকা মহিলার সহিত এই বলিয়া যিহার* করিল, তাহার জন্য সে তাহার মাতার পিঠের তুল্য, যদি সে তাহাকে বিবাহ করে। উমর ইবনে খাত্তাব (রাযিঃ) সেই ব্যক্তিকে নির্দেশ দিলেন যে, যদি সে তাহাকে বিবাহ করে তবে যিহারকারীর মতো কাফফার না দেওয়া পর্যন্ত সে যেন ঐ স্ত্রীর নিকট না যায়।

১১৭৮

وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِك أَنَّهُ بَلَغَهُ أَنَّ رَجُلًا سَأَلَ الْقَاسِمَ بْنَ مُحَمَّدٍ وَسُلَيْمَانَ بْنَ يَسَارٍ عَنْ رَجُلٍ تَظَاهَرَ مِنْ امْرَأَتِهِ قَبْلَ أَنْ يَنْكِحَهَا فَقَالَا إِنْ نَكَحَهَا فَلَا يَمَسَّهَا حَتَّى يُكَفِّرَ كَفَّارَةَ الْمُتَظَاهِرِ

বর্ণনাকারী: মালিক ইবনে আনাস (রহঃ)

রেওয়ায়ত ২১. মালিক (রাহঃ) বলেনঃ তাহার নিকট রেওয়ায়ত পৌছিয়াছে যে, এক ব্যক্তি কাসিম ইবনে মুহাম্মাদ (রাহঃ) এবং সুলায়মান ইবনে ইয়াসার (রাহঃ)-এর নিকট প্রশ্ন করিল এমন এক ব্যক্তি সম্পর্কে, যেই ব্যক্তি এক স্ত্রীলোকের সহিত যিহার করিয়াছে তাহাকে বিবাহ করার পূর্বে। তাহারা উভয়ে বলিলেনঃ যদি সেই স্ত্রীলোককে বিবাহ করে তবে সে যিহারের কাফফারা না দেওয়া পর্যন্ত উক্ত স্ত্রীকে স্পর্শও করিবে না।

১১৭৯
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِك عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ عَنْ أَبِيهِ أَنَّهُ قَالَ فِي رَجُلٍ تَظَاهَرَ مِنْ أَرْبَعَةِ نِسْوَةٍ لَهُ بِكَلِمَةٍ وَاحِدَةٍ إِنَّهُ لَيْسَ عَلَيْهِ إِلَّا كَفَّارَةٌ وَاحِدَةٌ وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِك عَنْ رَبِيعَةَ بْنِ أَبِي عَبْدِ الرَّحْمَنِ مِثْلَ ذَلِكَ
قَالَ مَالِك وَعَلَى ذَلِكَ الْأَمْرُ عِنْدَنَا قَالَ اللَّهُ تَعَالَى فِي كَفَّارَةِ الْمُتَظَاهِرِ فَتَحْرِيرُ رَقَبَةٍ مِنْ قَبْلِ أَنْ يَتَمَاسَّا فَمَنْ لَمْ يَجِدْ فَصِيَامُ شَهْرَيْنِ مُتَتَابِعَيْنِ مِنْ قَبْلِ أَنْ يَتَمَاسَّا فَمَنْ لَمْ يَسْتَطِعْ فَإِطْعَامُ سِتِّينَ مِسْكِينًا قَالَ مَالِك فِي الرَّجُلِ يَتَظَاهَرُ مِنْ امْرَأَتِهِ فِي مَجَالِسَ مُتَفَرِّقَةٍ قَالَ لَيْسَ عَلَيْهِ إِلَّا كَفَّارَةٌ وَاحِدَةٌ فَإِنْ تَظَاهَرَ ثُمَّ كَفَّرَ ثُمَّ تَظَاهَرَ بَعْدَ أَنْ يُكَفِّرَ فَعَلَيْهِ الْكَفَّارَةُ أَيْضًا قَالَ مَالِك وَمَنْ تَظَاهَرَ مِنْ امْرَأَتِهِ ثُمَّ مَسَّهَا قَبْلَ أَنْ يُكَفِّرَ لَيْسَ عَلَيْهِ إِلَّا كَفَّارَةٌ وَاحِدَةٌ وَيَكُفُّ عَنْهَا حَتَّى يُكَفِّرَ وَلْيَسْتَغْفِرْ اللَّهَ وَذَلِكَ أَحْسَنُ مَا سَمِعْتُ قَالَ مَالِك وَالظِّهَارُ مِنْ ذَوَاتِ الْمَحَارِمِ مِنْ الرَّضَاعَةِ وَالنَّسَبِ سَوَاءٌ قَالَ مَالِك وَلَيْسَ عَلَى النِّسَاءِ ظِهَارٌ قَالَ مَالِك فِي قَوْلِ اللَّهِ تَبَارَكَ وَتَعَالَى وَالَّذِينَ يَظَّهَّرُونَ مِنْ نِسَائِهِمْ ثُمَّ يَعُودُونَ لِمَا قَالُوا قَالَ سَمِعْتُ أَنَّ تَفْسِيرَ ذَلِكَ أَنْ يَتَظَاهَرَ الرَّجُلُ مِنْ امْرَأَتِهِ ثُمَّ يُجْمِعَ عَلَى إِمْسَاكِهَا وَإِصَابَتِهَا فَإِنْ أَجْمَعَ عَلَى ذَلِكَ فَقَدْ وَجَبَتْ عَلَيْهِ الْكَفَّارَةُ وَإِنْ طَلَّقَهَا وَلَمْ يُجْمِعْ بَعْدَ تَظَاهُرِهِ مِنْهَا عَلَى إِمْسَاكِهَا وَإِصَابَتِهَا فَلَا كَفَّارَةَ عَلَيْهِ قَالَ مَالِك فَإِنْ تَزَوَّجَهَا بَعْدَ ذَلِكَ لَمْ يَمَسَّهَا حَتَّى يُكَفِّرَ كَفَّارَةَ الْمُتَظَاهِرِ قَالَ مَالِك فِي الرَّجُلِ يَتَظَاهَرُ مِنْ أَمَتِهِ إِنَّهُ إِنْ أَرَادَ أَنْ يُصِيبَهَا فَعَلَيْهِ كَفَّارَةُ الظِّهَارِ قَبْلَ أَنْ يَطَأَهَا قَالَ مَالِك لَا يَدْخُلُ عَلَى الرَّجُلِ إِيلَاءٌ فِي تَظَاهُرِهِ إِلَّا أَنْ يَكُونَ مُضَارًّا لَا يُرِيدُ أَنْ يَفِيءَ مِنْ تَظَاهُرِهِ

বর্ণনাকারী: মালিক ইবনে আনাস (রহঃ)

রেওয়ায়ত ২২. যে ব্যক্তি তাহার চার পত্নীর সহিত একবাক্যে যিহার করিয়াছে, সে ব্যক্তি সম্পর্কে উরওয়া ইবনে যুবায়র (রাহঃ) বলিয়াছেনঃ সেই ব্যক্তিকে একটি মাত্র কাফফারা দিতে হইবে।

মালিক (রাহঃ) রবি’আ ইবনে আব্দুর রহমান (রাহঃ) হইতে অনুরূপ রেওয়ায়ত করিয়াছেন। মালিক (রাহঃ) বলেন, এই ব্যাপারে আমাদের সিদ্ধান্তও অনুরূপ।

মালিক (রাহঃ) বলেনঃ আল্লাহ্ তাআলা তাহার কিতাবে যিহারের কাফফারা সম্পর্কে ইরশাদ করিয়াছেন যে, স্ত্রীকে স্পর্শ করার পূর্বে সে একটি ক্রীতদাস আযাদ করবে। যে ইহার সামর্থ রাখে না, সে স্ত্রীকে স্পর্শ করার পূর্বে একাধারে দুই মাস রোযা পালন করবে। আর যে ব্যক্তি ইহারও ক্ষমতা রাখে না সে ষাটজন মিসকীনকে আহার করাইবে।


মালিক (রাহঃ) বলেনঃ যে ব্যক্তি একাধিক মজলিসে স্ত্রীর সহিত যিহার করিয়াছে, সে ব্যক্তির উপর কেবলমাত্র একটি কাফফারা দেওয়া ওয়াজিব হইবে। যদিও সে যিহার করিয়া কাফফারা দিয়াছে এবং কাফফারা দেওয়ার পর পুনরায় যিহার করিয়াছে তবে তাহার উপর (পুনরায়) কাফফারা জরুরী হইবে।

মালিক (রাহঃ) বলেনঃ যে স্ত্রীর সহিত যিহার করিয়াছে এবং কাফফারা দেওয়ার পূর্বে স্ত্রীকে স্পর্শ করিয়াছে, সে ব্যক্তির উপর একটি মাত্র কাফফারা ওয়াজিব হইবে। কাফফারা না দেওয়া পর্যন্ত স্ত্রী হইতে বিরত থাকিবে এবং আল্লাহর নিকট ক্ষমা চাহিবে।

মালিক (রাহঃ) বলেনঃ ইহাই সর্বোত্তম যাহা আমি শুনিয়াছি।

মালিক (রাহঃ) বলেনঃ যিহারের ব্যাপারে মোহারাম (যাহাদের সহিত বিবাহ হারাম এমন নিকট আত্মীয়) সে দুধপান বা বংশগত যেভাবে হউক না কেন সবাই এক সমান।*

মালিক (রাহঃ) আল্লাহর বাণী উদ্ধৃত করিয়া বলেনঃ

وَالَّذِينَ يُظَاهِرُونَ مِنْ نِسَائِهِمْ ثُمَّ يَعُودُونَ لِمَا قَالُوا

“যাহারা নিজেদের স্ত্রীগণের সহিত যিহার করে, অতঃপর যাহা তাহারা বলিয়াছে উহা হইতে প্রত্যাবর্তন করে।” ইহার তফসীর হইতেছে এই— কোন ব্যক্তি তাহার স্ত্রীর সহিত যিহার করিয়াছে। অতঃপর তাহার স্ত্রীকে রাখা এবং তাহার সহিত সংগত হওয়ার সংকল্প করিয়াছে, সে যদি তাহার স্ত্রীকে রাখা সংগত হওয়ার সংকল্প করে তবে তাহার উপর কাফফারা ওয়াজিব হইবে। আর যদি সে স্ত্রীকে তালাক দেয় এবং যিহার করার পর তাহাকে রাখা এবং সংগত হওয়ার সংকল্প না করে তবে তাহার উপর কাফফারা ওয়াজিব হইবে না।

মালিক (রাহঃ) বলেনঃ যদি ইহার পর সে স্ত্রীকে পুনরায় বিবাহ করে তবে যিহারের কাফফারা না দেওয়া পর্যন্ত উহার সহিত মিলিত হইবে না।

মালিক (রাহঃ) বলেনঃ যে ব্যক্তি দাসীর সহিত যিহার করিয়াছে সে যদি উহার সহিত সহবাস করিতে করে তবে সহবাসের পূর্বে তাহাকে যিহারের কাফফারা দিতে হইবে।

মালিক (রাহঃ) বলেনঃ কোন ব্যক্তির প্রতি যিহারে ঈলা শামিল করা হইবে না। কিন্তু সেই লোক যদি স্ত্রীর ক্ষতি সাধনকারী হয়; যিহার হইতে ফিরিবার ইচ্ছা তাহার না থাকে তবে উহা স্বতন্ত্র ব্যাপার।
১১৮০

وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِك عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ أَنَّهُ سَمِعَ رَجُلًا يَسْأَلُ عُرْوَةَ بْنَ الزُّبَيْرِ عَنْ رَجُلٍ قَالَ لِامْرَأَتِهِ كُلُّ امْرَأَةٍ أَنْكِحُهَا عَلَيْكِ مَا عِشْتِ فَهِيَ عَلَيَّ كَظَهْرِ أُمِّي فَقَالَ عُرْوَةُ بْنُ الزُّبَيْرِ يُجْزِيهِ عَنْ ذَلِكَ عِتْقُ رَقَبَةٍ

বর্ণনাকারী: হিশাম ইবনে উরওয়া (রহঃ)

রেওয়ায়ত ২৩. হিশাম ইবনে উরওয়া (রাহঃ) হইতে বর্ণিত, তিনি জনৈক লোককে উরওয়া ইবনে যুবায়র (রাহঃ)-এর নিকট প্রশ্ন করিতে শুনিয়াছেন এক ব্যক্তি সম্পর্কে, যে নিজের স্ত্রীকে বলিয়াছে, “তুমি বাঁচিয়া থাকা পর্যন্ত তোমার উপর যে কোন স্ত্রীলোককে আমি বিবাহ করি, সে আমার জন্য আমার জননীর পিঠের তুল্য।” উরওয়া ইবনে যুবায়র (রাহঃ) বললেনঃ এই উক্তির জন্য একটি ক্রীতদাসকে আযাদ করিলেই যথেষ্ট হইবে।

৯. ক্রীতদাসের যিহার

بَاب ظِهَارِ الْعَبِيدِ

১১৮১
حَدَّثَنِي يَحْيَى عَنْ مَالِك أَنَّهُ سَأَلَ ابْنَ شِهَابٍ عَنْ ظِهَارِ الْعَبْدِ فَقَالَ نَحْوُ ظِهَارِ الْحُرِّ
قَالَ مَالِك يُرِيدُ أَنَّهُ يَقَعُ عَلَيْهِ كَمَا يَقَعُ عَلَى الْحُرِّ قَالَ مَالِك وَظِهَارُ الْعَبْدِ عَلَيْهِ وَاجِبٌ وَصِيَامُ الْعَبْدِ فِي الظِّهَارِ شَهْرَانِ قَالَ مَالِك فِي الْعَبْدِ يَتَظَاهَرُ مِنْ امْرَأَتِهِ إِنَّهُ لَا يَدْخُلُ عَلَيْهِ إِيلَاءٌ وَذَلِكَ أَنَّهُ لَوْ ذَهَبَ يَصُومُ صِيَامَ كَفَّارَةِ الْمُتَظَاهِرِ دَخَلَ عَلَيْهِ طَلَاقُ الْإِيلَاءِ قَبْلَ أَنْ يَفْرُغَ مِنْ صِيَامِهِ

বর্ণনাকারী: মালিক ইবনে আনাস (রহঃ)

রেওয়ায়ত ২৪. মালিক (রাহঃ) বলেনঃ তিনি ইবনে শিহাব (রাহঃ)-কে দাসের যিহার সম্পর্কে প্রশ্ন করিয়াছেন। তিনি বলিলেনঃ ক্রীতদাসের যিহার আযাদ ব্যক্তির যিহারের মতো।

মালিক (রাহঃ) বলেনঃ ইহার উদ্দেশ্য হইতেছে যিহারের দ্বারা আযাদ ব্যক্তির উপর যাহা বৰ্তাইবে ক্রীতদাসের উপরও তাহাই বর্তাইবে।

মালিক (রাহঃ) বলেনঃ ক্রীতদাসের যিহার তাহার উপর ওয়াজিব হইবে। যিহারের ব্যাপারে ক্রীতদাস দুই মাস সিয়াম পালন করিবে।

যে ক্রীতদাস নিজের স্ত্রীর সহিত যিহার করিয়াছে, সে উহার উপর ঈলা ঢুকাইতে পারবে না, কারণ সে যিহারের কাফফারা রোযা পালন করিলে তাহার রোযা হইতে অবকাশ পাওয়ার পূর্বেই স্ত্রীর উপর ঈলা’-এর তালাক প্রযাজ্য হইবে (কারণ, তাহার মতে ক্রীতদাসের ঈলার সময় দুই মাস)।

১০. আযাদীর ইখতিয়ার অর্থাৎ স্ত্রী কর্তৃক তালাকের অধিকার প্রাপ্তির পর নিজের অধিকার প্রয়োগের বর্ণনা

بَاب مَا جَاءَ فِي الْخِيَارِ

১১৮২

حَدَّثَنِي يَحْيَى عَنْ مَالِك عَنْ رَبِيعَةَ بْنِ أَبِي عَبْدِ الرَّحْمَنِ عَنْ الْقَاسِمِ بْنِ مُحَمَّدٍ عَنْ عَائِشَةَ أُمِّ الْمُؤْمِنِينَ أَنَّهَا قَالَتْ كَانَ فِي بَرِيرَةَ ثَلَاثُ سُنَنٍ فَكَانَتْ إِحْدَى السُّنَنِ الثَّلَاثِ أَنَّهَا أُعْتِقَتْ فَخُيِّرَتْ فِي زَوْجِهَا وَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الْوَلَاءُ لِمَنْ أَعْتَقَ وَدَخَلَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَالْبُرْمَةُ تَفُورُ بِلَحْمٍ فَقُرِّبَ إِلَيْهِ خُبْزٌ وَأُدْمٌ مِنْ أُدْمِ الْبَيْتِ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَلَمْ أَرَ بُرْمَةً فِيهَا لَحْمٌ فَقَالُوا بَلَى يَا رَسُولَ اللَّهِ وَلَكِنْ ذَلِكَ لَحْمٌ تُصُدِّقَ بِهِ عَلَى بَرِيرَةَ وَأَنْتَ لَا تَأْكُلُ الصَّدَقَةَ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ هُوَ عَلَيْهَا صَدَقَةٌ وَهُوَ لَنَا هَدِيَّةٌ

বর্ণনাকারী: কাসিম ইবনে মুহাম্মাদ (রহঃ)

রেওয়ায়ত ২৫. কাসিম ইবনে মুহাম্মাদ (রাহঃ) হইতে বর্ণিত-আয়েশা উম্মুল মু’মিনীন (রাযিঃ) বলিয়াছেনঃ বারীরা (রাযিঃ) সম্পর্কে তিনটি আহকাম জারি করা হইয়াছিল। তিনটির সুন্নত বা আহকামের একটি ছিলঃ তাহাকে আযাদ করা হয় এবং তাহাকে আযাদীর পর স্বামীর সহিত থাকার ব্যাপারে ইখতিয়ার প্রদান করা হয়। (দ্বিতীয় সুন্নত এই) রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলিয়াছেন, যে কর্তা আযাদ করিবে সেই সম্পত্তির উত্তরাধিকার লাভ করবে। (তৃতীয় সুন্নত এই)-রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বারীরা (রাযিঃ)-এর গৃহে প্রবেশ করিলেন। তখন ডেকচিতে গোশত সিদ্ধ হইতেছিল। রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-র খিদমতে রুটি এবং গৃহে মওজুদ ব্যঞ্জন উপস্থিত করা হইল। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলিলেনঃ আমি কি ডেকচিতে গোশত সিদ্ধ হইতে দেখি নাই? (তবে আমার নিকট গোশত পেশ না করার কারণ কি?) তাহারা বলিলেনঃ হ্যাঁ, ইয়া রাসূলাল্লাহ! তবে উহা ছিল এমন গোশত যাহা বরীরাকে সাদ্‌কা স্বরূপ দেওয়া হইয়াছিল। আপনি তো সাদ্‌কার বস্তু আহার করেন না। অতঃপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, উহা বারীরার জন্য ছিল সাদ্‌কা কিন্তু (বারীরা মালিক হওয়ার পর) উহা আমাদের জন্য হইতেছে হাদিয়া।

১১৮৩

وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِك عَنْ نَافِعٍ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ أَنَّهُ كَانَ يَقُولُ فِي الْأَمَةِ تَكُونُ تَحْتَ الْعَبْدِ فَتَعْتِقُ إِنَّ الْأَمَةَ لَهَا الْخِيَارُ مَا لَمْ يَمَسَّهَا قَالَ مَالِك وَإِنْ مَسَّهَا زَوْجُهَا فَزَعَمَتْ أَنَّهَا جَهِلَتْ أَنَّ لَهَا الْخِيَارَ فَإِنَّهَا تُتَّهَمُ وَلَا تُصَدَّقُ بِمَا ادَّعَتْ مِنْ الْجَهَالَةِ وَلَا خِيَارَ لَهَا بَعْدَ أَنْ يَمَسَّهَا

বর্ণনাকারী: নাফি‘ (রহঃ)

রেওয়ায়ত ২৬. নাফি’ (রাহঃ) হইতে বর্ণিত, আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাযিঃ) বলিতেনঃ কোন ক্রীতদাসী কোন ক্রীতদাসের স্ত্রী থাকিলে অতঃপর সেই ক্রীতদাসীকে (মালিক কর্তৃক) আযাদ করা হইলে তবে স্বামী তাহার সহিত সহবাস না করা পর্যন্ত (বিবাহে থাকা না থাকার ব্যাপারে) ক্রীতদাসীর ইখতিয়ার থাকিবে।

মালিক (রাহঃ) বলেনঃ যদি তাহার স্বামী তাহার সহিত সহবাস করার পরে সে ধারণা করে যে, ইখতিয়ারের সম্পর্কে সে অজ্ঞ ছিল তবে তাহাকে সত্যবাদিনী মনে করা হইবে না, তাহার অজ্ঞতার দাবি গ্রহণযোগ্য হইবে না, সহবাসের পর তাহার ইখতিয়ারও অবশিষ্ট থাকিবে না।
১১৮৪

وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِك عَنْ ابْنِ شِهَابٍ عَنْ عُرْوَةَ بْنِ الزُّبَيْرِ أَنَّ مَوْلَاةً لِبَنِي عَدِيٍّ يُقَالُ لَهَا زَبْرَاءُ أَخْبَرَتْهُ أَنَّهَا كَانَتْ تَحْتَ عَبْدٍ وَهِيَ أَمَةٌ يَوْمَئِذٍ فَعَتَقَتْ قَالَتْ فَأَرْسَلَتْ إِلَيَّ حَفْصَةُ زَوْجُ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَدَعَتْنِي فَقَالَتْ إِنِّي مُخْبِرَتُكِ خَبَرًا وَلَا أُحِبُّ أَنْ تَصْنَعِي شَيْئًا إِنَّ أَمْرَكِ بِيَدِكِ مَا لَمْ يَمْسَسْكِ زَوْجُكِ فَإِنْ مَسَّكِ فَلَيْسَ لَكِ مِنْ الْأَمْرِ شَيْءٌ قَالَتْ فَقُلْتُ هُوَ الطَّلَاقُ ثُمَّ الطَّلَاقُ ثُمَّ الطَّلَاقُ فَفَارَقَتْهُ ثَلَاثًا

বর্ণনাকারী: উরওয়া ইবনে যুবায়র (রহঃ)

রেওয়ায়ত ২৭. উরওয়া ইবনে যুবায়র (রাহঃ) হইতে বর্ণিত, বনী আদী (بنى عدى) কর্তৃক আযাদীপ্রাপ্ত জনৈক ক্রীতদাসী যাহার নাম যাবরা ছিল, সে উরওয়া ইবনে যুবায়রের নিকট ব্যক্ত করিয়াছে যে, সে জনৈক ক্রীতদাসের স্ত্রী ছিল তখন সে (নিজেও) ক্রীতদাসী ছিল। পরে তাহাকে মুক্তি প্রদান করা হয়। সে বলিল, অতঃপর নবীপত্নী হাফসা (রাযিঃ) আমাকে ডাকিয়া পাঠাইলেন এবং বলিলেনঃ আমি তোমাকে একটি সংবাদ বলিব, তুমি তাড়াতাড়ি কোন সিদ্ধান্ত নিবে তাহা আমি পছন্দ করি না। তোমার স্বামী তোমার সাথে মিলিত না হওয়া পর্যন্ত তোমার অধিকার তোমারই উপর ন্যস্ত থাকিবে। তবে তোমার স্বামী তোমার সহিত মিলিত হইলে তোমার কোন অধিকার থাকিবে না। সে বলিল, ইহার উত্তরে আমি বলিলাম, আমি তাহাকে তালাক দিলাম, পুনরায় তালাক, পুনরায় তালাক, তাহাকে তিন তালাক দিয়া পরিত্যাগ করিল।

১১৮৫

وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِك أَنَّهُ بَلَغَهُ عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيَّبِ أَنَّهُ قَالَ أَيُّمَا رَجُلٍ تَزَوَّجَ امْرَأَةً وَبِهِ جُنُونٌ أَوْ ضَرَرٌ فَإِنَّهَا تُخَيَّرُ فَإِنْ شَاءَتْ قَرَّتْ وَإِنْ شَاءَتْ فَارَقَتْ

বর্ণনাকারী: মালিক ইবনে আনাস (রহঃ)

রেওয়ায়ত ২৮. মালিক (রাহঃ)-এর নিকট রেওয়ায়ত পৌঁছিয়াছে সাঈদ ইবনে মুসায়াব (রাহঃ) হইতে। তিনি বলেনঃ এমন কোন পুরুষ যে উন্মাদ বা রুগ্ন সে যদি কোন মহিলাকে বিবাহ করে, তবে সেই মহিলাকে অধিকার দেওয়া হইবে। যদি সে ইচ্ছা করে তাহা হইলে সেই স্বামীর সঙ্গে অবস্থান করিবে, আর যদি ইচ্ছা করে বিচ্ছেদ ঘটাইবে।

১১৮৬

قَالَ مَالِك فِي الْأَمَةِ تَكُونُ تَحْتَ الْعَبْدِ ثُمَّ تَعْتِقُ قَبْلَ أَنْ يَدْخُلَ بِهَا أَوْ يَمَسَّهَا إِنَّهَا إِنْ اخْتَارَتْ نَفْسَهَا فَلَا صَدَاقَ لَهَا وَهِيَ تَطْلِيقَةٌ وَذَلِكَ الْأَمْرُ عِنْدَنَا

বর্ণনাকারী: মালিক ইবনে আনাস (রহঃ)

রেওয়ায়ত ২৯. মালিক (রাহঃ) বলেনঃ যে ক্রীতদাসী কোন ক্রীতদাসের অধীনে থাকা অবস্থায় তাহার সঙ্গে সঙ্গম বা তাহাকে স্পর্শ করার পূর্বে স্বাধীন হইয়া যায় এবং নিজের স্বাধীন অধিকার নিজে গ্রহণ করিয়া লয় তবে সে মোহর পাইবে না। আর ইহা এক তালাক বলিয়া গণ্য হইবে। মাসআলা আমাদের নিকটও তাহাই।

১১৮৭
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِك عَنْ ابْنِ شِهَابٍ أَنَّهُ سَمِعَهُ يَقُولُ إِذَا خَيَّرَ الرَّجُلُ امْرَأَتَهُ فَاخْتَارَتْهُ فَلَيْسَ ذَلِكَ بِطَلَاقٍ قَالَ مَالِك وَذَلِكَ أَحْسَنُ مَا سَمِعْتُ
قَالَ مَالِك فِي الْمُخَيَّرَةِ إِذَا خَيَّرَهَا زَوْجُهَا فَاخْتَارَتْ نَفْسَهَا فَقَدْ طَلُقَتْ ثَلَاثًا وَإِنْ قَالَ زَوْجُهَا لَمْ أُخَيِّرْكِ إِلَّا وَاحِدَةً فَلَيْسَ لَهُ ذَلِكَ وَذَلِكَ أَحْسَنُ مَا سَمِعْتُهُ قَالَ مَالِك وَإِنْ خَيَّرَهَا فَقَالَتْ قَدْ قَبِلْتُ وَاحِدَةً وَقَالَ لَمْ أُرِدْ هَذَا وَإِنَّمَا خَيَّرْتُكِ فِي الثَّلَاثِ جَمِيعًا أَنَّهَا إِنْ لَمْ تَقْبَلْ إِلَّا وَاحِدَةً أَقَامَتْ عِنْدَهُ عَلَى نِكَاحِهَا وَلَمْ يَكُنْ ذَلِكَ فِرَاقًا إِنْ شَاءَ اللَّهُ تَعَالَى

বর্ণনাকারী: মালিক ইবনে আনাস (রহঃ)

রেওয়ায়ত ৩০. মালিক (রাহঃ) ইবনে শিহাব (রাহঃ)-কে বলিতে শুনিয়াছেন যে, যখন কোন পুরুষ তাহার স্ত্রীকে অধিকার প্রদান করে এবং স্ত্রী নিজেকেই গ্রহণ করে তাহা হইলে ইহা তালাক বলিয়া গণ্য হইবে না।

মালিক (রাহঃ) বলেনঃ আমি যাহা শুনিয়াছি তন্মধ্যে ইহাই উত্তম।

মালিক (রাহঃ) অধিকার প্রাপ্ত মহিলা সম্পর্কে বলেনঃ যখন কোন মহিলাকে তাহার স্বামী অধিকার প্রদান করে, অতঃপর সেই স্ত্রী নিজ সত্তাকেই গ্রহণ করে তাহা হইলে ইহা তিন তালাক বলিয়া গণ্য হইবে। আর যদি স্বামী বলে যে, তোমাকে শুধুমাত্র এক তালাকের অধিকার প্রদান করিতেছি, তবে এইরূপ কথা বলার অধিকার স্বামীর নাই।

মালিক (রাহঃ) বলেন, ইহাই উত্তম এই ব্যাপারে যাহা আমি শুনিয়াছি।

মালিক (রাহঃ) বলেনঃ যদি স্ত্রীকে অধিকার প্রদান করে, অতঃপর স্ত্রী বলিল, আমি এক তালাক গ্রহণ করিলাম এবং স্বামী বলিলঃ আমি এইরূপ ইচ্ছা করি নাই স্বরং আমি তোমাকে পূর্ণ তিন তালাকের অধিকার প্রদান করিয়াছি। স্ত্রী যদি এক তালাক ব্যতীত গ্রহণ না করে তবে সে এই স্বামীর বিবাহে থাকিবে। এই অবস্থায় বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটিবে না।

১১. খুলা* তালাকের বর্ণনা

بَاب مَا جَاءَ فِي الْخُلْعِ

১১৮৮

حَدَّثَنِي يَحْيَى عَنْ مَالِك عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ عَنْ عَمْرَةَ بِنْتِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ أَنَّهَا أَخْبَرَتْهُ عَنْ حَبِيبَةَ بِنْتِ سَهْلٍ الْأَنْصَارِيِّ أَنَّهَا كَانَتْ تَحْتَ ثَابِتِ بْنِ قَيْسِ بْنِ شَمَّاسٍ وَأَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ خَرَجَ إِلَى الصُّبْحِ فَوَجَدَ حَبِيبَةَ بِنْتَ سَهْلٍ عِنْدَ بَابِهِ فِي الْغَلَسِ فَقَالَ لَهَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَنْ هَذِهِ فَقَالَتْ أَنَا حَبِيبَةُ بِنْتُ سَهْلٍ يَا رَسُولَ اللَّهِ قَالَ مَا شَأْنُكِ قَالَتْ لَا أَنَا وَلَا ثَابِتُ بْنُ قَيْسٍ لِزَوْجِهَا فَلَمَّا جَاءَ زَوْجُهَا ثَابِتُ بْنُ قَيْسٍ قَالَ لَهُ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ هَذِهِ حَبِيبَةُ بِنْتُ سَهْلٍ قَدْ ذَكَرَتْ مَا شَاءَ اللَّهُ أَنْ تَذْكُرَ فَقَالَتْ حَبِيبَةُ يَا رَسُولَ اللَّهِ كُلُّ مَا أَعْطَانِي عِنْدِي فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لِثَابِتِ بْنِ قَيْسٍ خُذْ مِنْهَا فَأَخَذَ مِنْهَا وَجَلَسَتْ فِي بَيْتِ أَهْلِهَا

বর্ণনাকারী: বিবিধ

রেওয়ায়ত ৩১. হাবীব বিনতে সাহল আনসারী (রাহঃ) হইতে বর্ণিত, তিনি সাবিত ইবনে কায়স ইবনে শাম্মাসের স্ত্রী ছিলেন। একদিন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ফজরের নামাযের জন্য বাহির হইলেন। এমন সময় হাবীবা বিনতে সাহালকে প্রভাতে আপন গৃহের দ্বারে উপস্থিত পাইলেন। রাসূলুল্লাৰ (ﷺ) বলিলেন, কে হে? তিনি বলিলেনঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমি হাবীবা বিনতে সাহল। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলিলেনঃ কি ব্যাপার তোমার? তিনি বলিলেনঃ আমি আর আমার স্বামী সাবিত ইবনে কায়স-এর সঙ্গে একত্রে থাকিতে চাহি না। তাহার স্বামী সাবিত ইবনে কায়স আসিলে পর রাসূলাল্লাহ্ (ﷺ) তাহাকে বলিলেনঃ হাবীব বিনতে সাহল আল্লাহর ইচ্ছায় তোমার বিষয়ে যাহা বলার বলিয়াছে।

হাবীবা বলিলেনঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! সে যাহা আমাকে দিয়াছে উহা আমার নিকট রহিয়াছে। তারপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) সাবিতকে উদ্দেশ করিয়া বলিলেনঃ হাবীবা হইতে (বাগান) গ্রহণ কর। সে তাহার নিকট হইতে উহা গ্রহণ করিল এবং হাবীবা তাহার পরিজনের নিকট চলিয়া গেলেন।

১১. খুলা তালাকের বর্ণনা

بَاب مَا جَاءَ فِي الْخُلْعِ

১১৮৯
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِك عَنْ نَافِعٍ عَنْ مَوْلَاةٍ لِصَفِيَّةَ بِنْتِ أَبِي عُبَيْدٍ أَنَّهَا اخْتَلَعَتْ مِنْ زَوْجِهَا بِكُلِّ شَيْءٍ لَهَا فَلَمْ يُنْكِرْ ذَلِكَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ
قَالَ مَالِك فِي الْمُفْتَدِيَةِ الَّتِي تَفْتَدِي مِنْ زَوْجِهَا أَنَّهُ إِذَا عُلِمَ أَنَّ زَوْجَهَا أَضَرَّ بِهَا وَضَيَّقَ عَلَيْهَا وَعُلِمَ أَنَّهُ ظَالِمٌ لَهَا مَضَى الطَّلَاقُ وَرَدَّ عَلَيْهَا مَالَهَا قَالَ فَهَذَا الَّذِي كُنْتُ أَسْمَعُ وَالَّذِي عَلَيْهِ أَمْرُ النَّاسِ عِنْدَنَا قَالَ مَالِك لَا بَأْسَ بِأَنْ تَفْتَدِيَ الْمَرْأَةُ مِنْ زَوْجِهَا بِأَكْثَرَ مِمَّا أَعْطَاهَا

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

রেওয়ায়ত ৩২. সাফিয়্যা (صَفِيَّةَ) বিনতে আবু উবাইদ-এর জনৈকা ক্রীতদাসী যাহাকে মুক্তি দেওয়া হইয়াছে, সে তাহার স্বামী হইতে (খুলা) বিচ্ছেদ গ্রহণ করিয়াছে। তাহার নিকট যে সম্পদ ছিল উহার বিনিময়ে আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাযিঃ) ইহার প্রতি অস্বীকৃতি জানাইলেন না।

মালিক (রাহঃ) বলেনঃ যে স্ত্রী (বিচ্ছেদের বিনিময়ে) স্বামীকে মাল প্রদান করিয়াছে, যদি প্রকাশ পায় যে, স্বামী তাহার ক্ষতি সাধন করিয়াছে এবং (দুর্ব্যবহার করিয়া মাল প্রদানে) তাহাকে বাধ্য করিয়াছে। এবং আরও প্রকাশিত হয় যে, সে স্ত্রীর প্রতি যুলুমকারী ছিল, তবে তালাক প্রযোজ্য হইবে এবং স্ত্রীর মাল স্ত্রীকে ফেরত দেওয়া হইবে। মালিক (রাহঃ) বলেন, ইহা আমি শুনিয়াছি, আমাদের মতে ইহাই লোকের মধ্যে প্রচলিত নিয়ম।

মালিক (রাহঃ)-এর মতে স্বামী যাহা দিয়াছে তাহা হইতে অধিক মাল বিচ্ছেদের ফিদয়া স্বরূপ স্ত্রী কর্তৃক প্রদান করিতে কোন ক্ষতি নাই।

১২. খুলা তালাক ও উহার ইদ্দত

بَاب طَلَاقِ الْمُخْتَلِعَةِ

১১৯০
حَدَّثَنِي يَحْيَى عَنْ مَالِك عَنْ نَافِعٍ أَنَّ رُبَيِّعَ بِنْتَ مُعَوَّذِ بْنِ عَفْرَاءَ جَاءَتْ هِيَ وَعَمُّهَا إِلَى عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ فَأَخْبَرَتْهُ أَنَّهَا اخْتَلَعَتْ مِنْ زَوْجِهَا فِي زَمَانِ عُثْمَانَ بْنِ عَفَّانَ فَبَلَغَ ذَلِكَ عُثْمَانَ بْنَ عَفَّانَ فَلَمْ يُنْكِرْهُ وَقَالَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ عِدَّتُهَا عِدَّةُ الْمُطَلَّقَةِ
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِك أَنَّهُ بَلَغَهُ أَنَّ سَعِيدَ بْنَ الْمُسَيَّبِ وَسُلَيْمَانَ بْنَ يَسَارٍ وَابْنَ شِهَابٍ كَانُوا يَقُولُونَ عِدَّةُ الْمُخْتَلِعَةِ مِثْلُ عِدَّةِ الْمُطَلَّقَةِ ثَلَاثَةُ قُرُوءٍ قَالَ مَالِك فِي الْمُفْتَدِيَةِ إِنَّهَا لَا تَرْجِعُ إِلَى زَوْجِهَا إِلَّا بِنِكَاحٍ جَدِيدٍ فَإِنْ هُوَ نَكَحَهَا فَفَارَقَهَا قَبْلَ أَنْ يَمَسَّهَا لَمْ يَكُنْ لَهُ عَلَيْهَا عِدَّةٌ مِنْ الطَّلَاقِ الْآخَرِ وَتَبْنِي عَلَى عِدَّتِهَا الْأُولَى قَالَ مَالِك وَهَذَا أَحْسَنُ مَا سَمِعْتُ فِي ذَلِكَ قَالَ مَالِك إِذَا افْتَدَتْ الْمَرْأَةُ مِنْ زَوْجِهَا بِشَيْءٍ عَلَى أَنْ يُطَلِّقَهَا فَطَلَّقَهَا طَلَاقًا مُتَتَابِعًا نَسَقًا فَذَلِكَ ثَابِتٌ عَلَيْهِ فَإِنْ كَانَ بَيْنَ ذَلِكَ صُمَاتٌ فَمَا أَتْبَعَهُ بَعْدَ الصُّمَاتِ فَلَيْسَ بِشَيْءٍ

বর্ণনাকারী: নাফি‘ (রহঃ)

রেওয়ায়ত ৩৩. নাফি’ (রাহঃ) হইতে বর্ণিত, রুবাইয়ে বিনতে মুয়াব্বিয ইবনে আফরা (রাযিঃ) তাহার ফুফুসহ আব্দুল্লাহ্ ইবনে উমর (রাযিঃ) সমীপে উপস্থিত হইলেন এবং তাহাকে জ্ঞাত করিলেন যে, তিনি তাহার স্বামীর নিকট হইতে খুলা তালাক গ্রহণ করিয়াছেন। উসমান ইবনে আফফান (রাযিঃ)-এর খিলাফতকালে উসমান ইবনে আফফান (রাযিঃ) উহা অবগত হইলেন এবং উহা বহাল রাখিলেন। আব্দুল্লাহ্ ইবনে উমর (রাযিঃ) বলিলেনঃ খুলা গ্রহণ করিবার ইদ্দত তালাক প্রাপ্তা স্ত্রীলোকের ইদ্দতের মতো।

মালিক (রাহঃ) বলেনঃ তাহার নিকট রেওয়ায়ত পৌছিয়াছে যে, সাঈদ ইবনে মুসায়্যিব, সুলায়মান ইবনে ইয়াসার ও ইবনে শিহাব (রাহঃ) তাহারা সকলেই বলিতেনঃ খুলা’ তালাকপ্রাপ্ত স্ত্রীলোকের ইদ্দত তালাকপ্রাপ্তা স্ত্রীলোকের মতো তিন ঋতু।

মালিক (রাহঃ) বলেনঃ যে স্ত্রীলোক মালের বিনিময়ে তালাক গ্রহণ করিয়াছে, সে নূতন বিবাহ ছাড়া স্বামীর নিকট যাইবে না। যদি স্বামী সেই স্ত্রীলোককে বিবাহ করে এবং স্পর্শ করার পূর্বে তালাক প্রদান করে তবে স্ত্রীলোকের জন্য পরবর্তী তালাকের ইদ্দত পালন করিতে হইবে না। প্রথম তালাকের ইদ্দতের সময় পূর্ণ করিবে। মালিক (রাহঃ) বলেনঃ এই বিষয়ে যাহা আমি শুনিয়াছি তন্মধ্যে ইহাই সর্বোত্তম।

মালিক (রাহঃ) বলেনঃ যে স্ত্রী স্বামীকে এই শর্তে মাল প্রদান করিল যে, সে তাহাকে তালাক দিবে; অতঃপর সে একাধারে (তিন তালাক) প্রয়োগ করিল, তবে এই সব তালাকই প্রযোজ্য হইবে। আর যদি তালাকের মাঝখানে নীরবতা পাওয়া যায়, তবে নীরবতার পর যেই তালাক দিয়াছে উহা গ্রহণযোগ্য হইবে না।

১৩. লিআন* প্রসঙ্গ

بَاب مَا جَاءَ فِي اللِّعَانِ

১১৯১

حَدَّثَنِي يَحْيَى عَنْ مَالِك عَنْ ابْنِ شِهَابٍ أَنَّ سَهْلَ بْنَ سَعْدٍ السَّاعِدِيَّ أَخْبَرَهُ أَنَّ عُوَيْمِرًا الْعَجْلَانِيَّ جَاءَ إِلَى عَاصِمِ بْنِ عَدِيٍّ الْأَنْصَارِيِّ فَقَالَ لَهُ يَا عَاصِمُ أَرَأَيْتَ رَجُلًا وَجَدَ مَعَ امْرَأَتِهِ رَجُلًا أَيَقْتُلُهُ فَتَقْتُلُونَهُ أَمْ كَيْفَ يَفْعَلُ سَلْ لِي يَا عَاصِمُ عَنْ ذَلِكَ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَسَأَلَ عَاصِمٌ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنْ ذَلِكَ فَكَرِهَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الْمَسَائِلَ وَعَابَهَا حَتَّى كَبُرَ عَلَى عَاصِمٍ مَا سَمِعَ مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَلَمَّا رَجَعَ عَاصِمٌ إِلَى أَهْلِهِ جَاءَهُ عُوَيْمِرٌ فَقَالَ يَا عَاصِمُ مَاذَا قَالَ لَكَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ عَاصِمٌ لِعُوَيْمِرٍ لَمْ تَأْتِنِي بِخَيْرٍ قَدْ كَرِهَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الْمَسْأَلَةَ الَّتِي سَأَلْتُهُ عَنْهَا فَقَالَ عُوَيْمِرٌ وَاللَّهِ لَا أَنْتَهِي حَتَّى أَسْأَلَهُ عَنْهَا فَقَامَ عُوَيْمِرٌ حَتَّى أَتَى رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَسَطَ النَّاسِ فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَرَأَيْتَ رَجُلًا وَجَدَ مَعَ امْرَأَتِهِ رَجُلًا أَيَقْتُلُهُ فَتَقْتُلُونَهُ أَمْ كَيْفَ يَفْعَلُ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَدْ أُنْزِلَ فِيكَ وَفِي صَاحِبَتِكَ فَاذْهَبْ فَأْتِ بِهَا قَالَ سَهْلٌ فَتَلَاعَنَا وَأَنَا مَعَ النَّاسِ عِنْدَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَلَمَّا فَرَغَا مِنْ تَلَاعُنِهِمَا قَالَ عُوَيْمِرٌ كَذَبْتُ عَلَيْهَا يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنْ أَمْسَكْتُهَا فَطَلَّقَهَا ثَلَاثًا قَبْلَ أَنْ يَأْمُرَهُ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ مَالِك قَالَ ابْنُ شِهَابٍ فَكَانَتْ تِلْكَ بَعْدُ سُنَّةَ الْمُتَلَاعِنَيْنِ

বর্ণনাকারী: বিবিধ

রেওয়ায়ত ৩৪. আসিম ইবনে আদী আনসার (রাযিঃ)-এর নিকট ওয়াইমির আজলানী (রাযিঃ) আগমন করিলেন এবং তাহাকে বললেনঃ হে আসিম (عاصم) এক ব্যক্তি তাহার স্ত্রীর সহিত ভিন্ন ব্যক্তিকে (অবৈধ কর্মে লিপ্ত) পাইল। সে ঐ ব্যক্তিকে বধ করিবে কি? যাহার ফলে প্রতিশোধ স্বরূপ (قصاص) নিহত ব্যক্তির সম্প্রদায়ের লোকেরা তাহাকে হত্যা করিবে অথবা অন্য কিরূপ করিবে? হে আসিম; আপনি এই বিষয়ে আমার জন্য রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকট প্রশ্ন করুন। আসিম এই ব্যাপারে রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-এর নিকট প্রশ্ন করিলেন। রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) এই সকল প্রশ্নকে অপছন্দ করিলেন এবং তজ্জন্য তাহাকে তিরস্কার করিলেন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) হইতে যাহা শুনিলেন উহা আসিমের নিকট অতি ভারী মনে হইল।

আসিম যখন পরিজনের নিকট প্রত্যাবর্তন করিলেন, তাহার নিকট তখন উওয়াইমির উপস্থিত হইলেন এবং বলিলেন, হে আসিম! রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) আপনাকে কি বলিয়াছেন? আসিম বলিলেনঃ আপনি আমার নিকট কোন ভাল বিষয় নিয়া আসেন নাই। আমি যে মাসআলার বিষয়ে রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-এর নিকট প্রশ্ন করিয়াছি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) না পছন্দ করিয়াছেন। উওয়াইমির বলিলেনঃ এই বিষয়ে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) হইতে প্রশ্ন না করিয়া আমি ক্ষান্ত হইব না। তারপর উওয়াইমির অগ্রসর হইলেন এবং রাসূলুল্লাহ (ﷺ) সমীপে উপস্থিত হইলেন এবং লোকের মাঝখানে আসন গ্রহণ করিলেন। তারপর বলিলেনঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ। আপনি কি হুকুম দেন সেই ব্যক্তি সম্পর্কে, যে ব্যক্তি তাহার স্ত্রীর সহিত অন্য লোককে দেখিতে পাইল, সে কি উক্ত ব্যক্তিকে হত্যা করিবে? ফলে, কিসাসস্বরূপ লোকেরা তাহাকেও হত্যা করিবে? অথবা সে ব্যক্তি অন্য কিরূপ করিবে? রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলিলেনঃ তোমার এবং তোমার স্ত্রীর বিষয়ে আয়াত নাযিল হইয়াছে, তুমি যাও তাহাকে নিয়া আস। সাহল বলেনঃ তারপর তাহারা উভয়ে লিআন করিল, অন্য লোকজনের সাথে আমিও তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকট উপস্থিত ছিলাম। তাহারা উভয়ে লিআন হইতে অবসর গ্রহণ করার পর উওয়াইমির বলিলেন, এই ঘটনার পর যদি আমি এই স্ত্রীকে রাখি তবে আমি তাহার সম্বন্ধে মিথ্যাবাদী বলিয়া গণ্য হইব। তারপর স্ত্রীকে তিন তালাক দিলেন রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) তাহাকে কোন নির্দেশ দেওয়ার পূর্বে।

মালিক (রাহঃ) বলেনঃ ইবনে শিহাব (রাহঃ) বলিয়াছেন, এই ঘটনার পর লিআনকারীদের জন্য এক হুকুম নির্ধারিত রহিয়াছে।

১৩. লিআন প্রসঙ্গ

بَاب مَا جَاءَ فِي اللِّعَانِ

১১৯২
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِك عَنْ نَافِعٍ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ أَنَّ رَجُلًا لَاعَنَ امْرَأَتَهُ فِي زَمَانِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَانْتَفَلَ مِنْ وَلَدِهَا فَفَرَّقَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بَيْنَهُمَا وَأَلْحَقَ الْوَلَدَ بِالْمَرْأَةِ
قَالَ مَالِك قَالَ اللَّهُ تَبَارَكَ وَتَعَالَى وَالَّذِينَ يَرْمُونَ أَزْوَاجَهُمْ وَلَمْ يَكُنْ لَهُمْ شُهَدَاءُ إِلَّا أَنْفُسُهُمْ فَشَهَادَةُ أَحَدِهِمْ أَرْبَعُ شَهَادَاتٍ بِاللَّهِ إِنَّهُ لَمِنْ الصَّادِقِينَ وَالْخَامِسَةُ أَنَّ لَعْنَةَ اللَّهِ عَلَيْهِ إِنْ كَانَ مِنْ الْكَاذِبِينَ وَيَدْرَأُ عَنْهَا الْعَذَابَ أَنْ تَشْهَدَ أَرْبَعَ شَهَادَاتٍ بِاللَّهِ إِنَّهُ لَمِنْ الْكَاذِبِينَ وَالْخَامِسَةَ أَنَّ غَضَبَ اللَّهِ عَلَيْهَا إِنْ كَانَ مِنْ الصَّادِقِينَ قَالَ مَالِك السُّنَّةُ عِنْدَنَا أَنَّ الْمُتَلَاعِنَيْنِ لَا يَتَنَاكَحَانِ أَبَدًا وَإِنْ أَكْذَبَ نَفْسَهُ جُلِدَ الْحَدَّ وَأُلْحِقَ بِهِ الْوَلَدُ وَلَمْ تَرْجِعْ إِلَيْهِ أَبَدًا وَعَلَى هَذَا السُّنَّةُ عِنْدَنَا الَّتِي لَا شَكَّ فِيهَا وَلَا اخْتِلَافَ قَالَ مَالِك وَإِذَا فَارَقَ الرَّجُلُ امْرَأَتَهُ فِرَاقًا بَاتًّا لَيْسَ لَهُ عَلَيْهَا فِيهِ رَجْعَةٌ ثُمَّ أَنْكَرَ حَمْلَهَا لَاعَنَهَا إِذَا كَانَتْ حَامِلًا وَكَانَ حَمْلُهَا يُشْبِهُ أَنْ يَكُونَ مِنْهُ إِذَا ادَّعَتْهُ مَا لَمْ يَأْتِ دُونَ ذَلِكَ مِنْ الزَّمَانِ الَّذِي يُشَكُّ فِيهِ فَلَا يُعْرَفُ أَنَّهُ مِنْهُ قَالَ فَهَذَا الْأَمْرُ عِنْدَنَا وَالَّذِي سَمِعْتُ مِنْ أَهْلِ الْعِلْمِ قَالَ مَالِك وَإِذَا قَذَفَ الرَّجُلُ امْرَأَتَهُ بَعْدَ أَنْ يُطَلِّقَهَا ثَلَاثًا وَهِيَ حَامِلٌ يُقِرُّ بِحَمْلِهَا ثُمَّ يَزْعُمُ أَنَّهُ رَآهَا تَزْنِي قَبْلَ أَنْ يُفَارِقَهَا جُلِدَ الْحَدَّ وَلَمْ يُلَاعِنْهَا وَإِنْ أَنْكَرَ حَمْلَهَا بَعْدَ أَنْ يُطَلِّقَهَا ثَلَاثًا لَاعَنَهَا قَالَ وَهَذَا الَّذِي سَمِعْتُ قَالَ مَالِك وَالْعَبْدُ بِمَنْزِلَةِ الْحُرِّ فِي قَذْفِهِ وَلِعَانِهِ يَجْرِي مَجْرَى الْحُرِّ فِي مُلَاعَنَتِهِ غَيْرَ أَنَّهُ لَيْسَ عَلَى مَنْ قَذَفَ مَمْلُوكَةً حَدٌّ قَالَ مَالِك وَالْأَمَةُ الْمُسْلِمَةُ وَالْحُرَّةُ النَّصْرَانِيَّةُ وَالْيَهُودِيَّةُ تُلَاعِنُ الْحُرَّ الْمُسْلِمَ إِذَا تَزَوَّجَ إِحْدَاهُنَّ فَأَصَابَهَا وَذَلِكَ أَنَّ اللَّهَ تَبَارَكَ وَتَعَالَى يَقُولُ فِي كِتَابِهِ وَالَّذِينَ يَرْمُونَ أَزْوَاجَهُمْ فَهُنَّ مِنْ الْأَزْوَاجِ وَعَلَى هَذَا الْأَمْرُ عِنْدَنَا قَالَ مَالِك وَالْعَبْدُ إِذَا تَزَوَّجَ الْمَرْأَةَ الْحُرَّةَ الْمُسْلِمَةَ أَوْ الْأَمَةَ الْمُسْلِمَةَ أَوْ الْحُرَّةَ النَّصْرَانِيَّةَ أَوْ الْيَهُودِيَّةَ لَاعَنَهَا قَالَ مَالِك فِي الرَّجُلِ يُلَاعِنُ امْرَأَتَهُ فَيَنْزِعُ وَيُكَذِّبُ نَفْسَهُ بَعْدَ يَمِينٍ أَوْ يَمِينَيْنِ مَا لَمْ يَلْتَعِنْ فِي الْخَامِسَةِ إِنَّهُ إِذَا نَزَعَ قَبْلَ أَنْ يَلْتَعِنَ جُلِدَ الْحَدَّ وَلَمْ يُفَرَّقْ بَيْنَهُمَا قَالَ مَالِك فِي الرَّجُلِ يُطَلِّقُ امْرَأَتَهُ فَإِذَا مَضَتْ الثَّلَاثَةُ الْأَشْهُرِ قَالَتْ الْمَرْأَةُ أَنَا حَامِلٌ قَالَ إِنْ أَنْكَرَ زَوْجُهَا حَمْلَهَا لَاعَنَهَا قَالَ مَالِك فِي الْأَمَةِ الْمَمْلُوكَةِ يُلَاعِنُهَا زَوْجُهَا ثُمَّ يَشْتَرِيهَا إِنَّهُ لَا يَطَؤُهَا وَإِنْ مَلَكَهَا وَذَلِكَ أَنَّ السُّنَّةَ مَضَتْ أَنَّ الْمُتَلَاعِنَيْنِ لَا يَتَرَاجَعَانِ أَبَدًا قَالَ مَالِك إِذَا لَاعَنَ الرَّجُلُ امْرَأَتَهُ قَبْلَ أَنْ يَدْخُلَ بِهَا فَلَيْسَ لَهَا إِلَّا نِصْفُ الصَّدَاقِ

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

রেওয়ায়ত ৩৫. আব্দুল্লাহ্ ইবনে উমর (রাযিঃ) হইতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-এর যুগে এক ব্যক্তি তাহার স্ত্রীর প্রতি লিআন করিয়াছে এবং ছেলের নসবকে অস্বীকার করিয়াছে। অতঃপর রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) তাহদের উভয়কে পৃথক করিয়া দিয়াছেন এবং স্ত্রীকে ছেলেটি প্রদান করিয়াছেন।

মালিক (রাহঃ) বলেনঃ আল্লহ তাআলা ইরশাদ করিয়াছেনঃ

وَالَّذِينَ يَرْمُونَ أَزْوَاجَهُمْ وَلَمْ يَكُن لَّهُمْ شُهَدَاءُ إِلَّا أَنفُسُهُمْ فَشَهَادَةُ أَحَدِهِمْ أَرْبَعُ شَهَادَاتٍ بِاللَّهِ إِنَّهُ لَمِنَ الصَّادِقِينَ وَالْخَامِسَةُ أَنَّ لَعْنَتَ اللَّهِ عَلَيْهِ إِن كَانَ مِنَ الْكَاذِبِينَ وَيَدْرَأُ عَنْهَا الْعَذَابَ أَن تَشْهَدَ أَرْبَعَ شَهَادَاتٍ بِاللَّهِ إِنَّهُ لَمِنَ الْكَاذِبِينَ وَالْخَامِسَةَ أَنَّ غَضَبَ اللَّهِ عَلَيْهَا إِن كَانَ مِنَ الصَّادِقِينَ

অর্থঃ এবং যাহারা নিজদিগের স্ত্রীর প্রতি অপবাদ আরোপ করে অথচ নিজেরা ব্যতীত তাহাদিগের কোন সাক্ষী নাই, তাহাদিগের প্রত্যেকের সাক্ষ্য এই হইবে যে, সে আল্লাহর নামে চারিবার শপথ করিয়া বলিবে যে, সে অবশ্যই সত্যবাদী এবং পঞ্চমবারে বলিবে, সে মিথ্যাবাদী হইলে তাহার উপর নামিয়া আসিবে আল্লাহর লা’নত। তবে স্ত্রীর শাস্তি রহিত হইবে যদি সে চারিবার আল্লাহর নামে শপথ করিয়া সাক্ষ্য দেয় যে, তাহার স্বামীই মিথ্যাবাদী এবং পঞ্চমবারে বলে, ‘তাহার স্বামী সত্যবাদী হইলে তাহার নিজের উপর নামিয়া আসিবে আল্লাহর গযব’।

মালিক (রাহঃ) বলেন, আমাদের নিকট বিধান হইল এই, লিআনকারী তাহারা পরস্পর বিবাহ বন্ধনে আব্দ্ধ হইবে না, যদি স্বামী মিথ্যাবাদী প্রমাণিত হয়, তবে তাহাকে শাস্তি (حد প্রয়োগ) দেওয়া হইবে এবং ছেলেকে তাহার সহিত যুক্ত করা হইবে। স্ত্রী সেই স্বামীর নিকট আর কখনো ফিরিয়া যাইবে না। মালিক (রাহঃ) বলেন, আমাদের নিকট ইহাই নিয়ম যাহাতে কোন প্রকার মতানৈক্য বা সন্দেহ নাই।

মালিক (রাহঃ) বলেনঃ কোন ব্যক্তি যদি স্ত্রীকে বায়েন তালাক দেয় যাহাতে স্ত্রীর দিকে তাহার রুজু করার অধিকার থাকে না, তারপর স্ত্রীর গর্ভ অস্বীকার করে, তবে তাহাকে লিআন করিতে হইবে। যদি স্ত্রী অন্তঃসত্ত্ব হয় এবং স্ত্রীর গর্ভধারণ সেই ব্যক্তির পক্ষ হইতে হওয়ারই সম্ভাবনা অধিক থাকে এবং স্ত্রীও উহার দাবি করে। অবশ্য যদি তালাকের পর এইরূপ দীর্ঘ সময় অতিবাহিত না হয় যাহাতে স্বামী হইতে গর্ভধারণের সন্দেহ সৃষ্টি হয়। যাহাতে এই গর্ভধারণ উক্ত স্বামী দ্বারা হইয়াছে বলিয়া অনুমান করা যায় না। আমাদের নিকট ইহাই হুকুম আর ইহাই আমি বিজ্ঞ আলিমদের নিকট হইতে শুনিয়াছি।

মালিক (রাহঃ) বলেনঃ তখন কোন ব্যক্তি নিজের স্ত্রীর প্রতি ব্যভিচারের অপবাদ আরোপ করিল। তিন তালাক দেওয়ার পর স্ত্রী যখন অন্তঃসত্ত্বা অথচ সে ব্যক্তি এই গর্ভধারণ তাহার পক্ষ হইতে হইয়াছে বলিয়া স্বীকারও করে, তারপর সে ধারণা করে যে, সে স্ত্রীকে তালাক দেওয়ার পূর্বে যিনা করিতে দেখিয়াছে, তবে তাহাকে শাস্তি দেওয়া হইবে (অর্থাৎ তাহার উপর ইসলামী বিধানমতে হদ্দ জারি করা হইবে) সে লিআন করিবে না। আর যদি তিন তালাক দেওয়ার পর সেই স্ত্রীর গর্ভধারণ (তাহার পক্ষ হইতে হওয়ার ব্যাপার) সে অস্বীকার করে সে লিআন করিবে। মালিক (রাহঃ) বলেনঃ আমি এরূপই শুনিয়াছি।

মালিক (রাহঃ) বলেনঃ যিনার অপবাদারোপ করা এবং লিআন-এর ব্যাপারে ক্রীতদাস ও স্বাধীন ব্যক্তির হুকুম একই। অর্থাৎ এই দুই ব্যাপারে ক্রীতদাসের হুকুমত আযাদ ব্যক্তির মতো। কিন্তু নিজের ক্রীতদাসীর প্রতি অপবাদ দিলে মনিবের উপর হদ জারি হইবে না অর্থাৎ মনিবকে শাস্তি দেওয়া হইবে না।

মালিক (রাহঃ) বলেনঃ মুসলিম ক্রীতদাসী, খ্রীস্টান ও ইহুদী স্বাধীন (حر) স্ত্রীলোক স্বাধীন (حر) মুসলিম স্বামীর প্রতি লিআন করিবে, যদি সেই মুসলিম ইহাদের কাহাকেও বিবাহ করে এবং তাহার সহিত সহবাস করিয়া থাকে। কারণ আল্লাহ কুরআনুল করীমে ইরশাদ করিয়াছেনঃ

وَالَّذِينَ يَرْمُونَ أَزْوَاجَهُمْ

“যাহারা স্ত্রীগণের প্রতি অপবাদ দেয়”। উপরিউক্ত মহিলাগণও স্ত্রীর অন্তর্ভুক্ত। (তাই উহাদিগের প্রতি অপবাদ আরোপ করিলে লিআন করিতে হইবে।) মালিক (রাহঃ) বলেনঃ আমাদের নিকট ইহাই সিদ্ধান্ত।

মালিক (রাহঃ) বলেনঃ কোন মুসলিম আযাদ নারীকে অথবা মুসলিম ক্রীতদাসীকে অথবা আযাদ খ্রীস্টান অথবা ইহুদী নারীকে কোন ক্রীতদাস বিবাহ করিলে সে স্ত্রীর সহিত লিআন করিতে পারবে।

মালিক (রাহঃ) বলেনঃ যে ব্যক্তি নিজের স্ত্রীর সহিত লিআন করিয়াছে, অতঃপর সে উহা হইতে ফিরিয়া আসে (রুজু করে) এবং মিথ্যা বলিয়াছে বলিয়া স্বীকার করে, একবার অথবা দুইবার কসম খাওয়ার পর পঞ্চমবারের লা’নত উচ্চারণ না করা পর্যন্ত। সে যদি লিআন সমাপ্ত করার পূর্বে রুজু করে তবে তাহাকে হদ্দ লাগানো (শান্তি দেওয়া) হইবে এবং তাহদের উভয়ের মধ্যে বিচ্ছেদ ঘটানো হইবে না।

মালিক (রাহঃ) বলেনঃ যে ব্যক্তি স্ত্রীকে তালাক দিয়াছে। অতঃপর তিন মাস অতিবাহিত হইবার পর স্ত্রী বলিলঃ আমি অন্তঃসত্ত্বা। মালিক (রাহঃ) বলেন, এমতাবস্থায় তাহার স্বামী গর্ভ ধারণের স্বীকৃতি প্রদান না করিলে তবে লিআন করিবে।

মালিক (রাহঃ) বলেনঃ ক্রীতদাসী স্ত্রীর (أمة مملوكة) সহিত তাহার স্বামী লিআন করিয়াছে, অতঃপর সে ক্রীতদাসীকে খরিদ করিয়াছে, তবে সে মালিক হইলেও ইহার সহিত সহবাস করিতে পারিবে না। কারণ নিয়ম হইতেছে, পরস্পর লিআনকারী কখনও একে অপরের প্রতি প্রত্যাবর্তন (রুজু) করিতে পারে না।

মালিক (রাহঃ) বলেনঃ কোন ব্যক্তি স্ত্রীর সহিত সংগত হওয়ার পূর্বে স্ত্রীর সহিত লিআন করিলে তবে সে মোহরের অর্ধেক পাইবে।

১৪. যে দম্পতি লিআন করিয়াছে তাহাদের ছেলের মিরাস প্রসঙ্গ

بَاب مِيرَاثِ وَلَدِ الْمُلَاعَنَةِ

১১৯৩

حَدَّثَنِي يَحْيَى عَنْ مَالِك أَنَّهُ بَلَغَهُ أَنَّ عُرْوَةَ بْنَ الزُّبَيْرِ كَانَ يَقُولُ فِي وَلَدِ الْمُلَاعَنَةِ وَوَلَدِ الزِّنَا إِنَّهُ إِذَا مَاتَ وَرِثَتْهُ أُمُّهُ حَقَّهَا فِي كِتَابِ اللَّهِ تَعَالَى وَإِخْوَتُهُ لِأُمِّهِ حُقُوقَهُمْ وَيَرِثُ الْبَقِيَّةَ مَوَالِي أُمِّهِ إِنْ كَانَتْ مَوْلَاةً وَإِنْ كَانَتْ عَرَبِيَّةً وَرِثَتْ حَقَّهَا وَوَرِثَ إِخْوَتُهُ لِأُمِّهِ حُقُوقَهُمْ وَكَانَ مَا بَقِيَ لِلْمُسْلِمِينَ قَالَ مَالِك وَبَلَغَنِي عَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ يَسَارٍ مِثْلُ ذَلِكَ وَعَلَى ذَلِكَ أَدْرَكْتُ أَهْلَ الْعِلْمِ بِبَلَدِنَا

বর্ণনাকারী: মালিক ইবনে আনাস (রহঃ)

রেওয়ায়ত ৩৬. মালিক (রাহঃ) বলেনঃ তাঁহার নিকট রেওয়ায়ত পৌছিয়াছে যে, যে স্ত্রীলোক ও তাহার স্বামীর মধ্যে লিআন অনুষ্ঠিত হইয়াছে সেই স্ত্রীলোকের সন্তান এবং জারজ সন্তানের ব্যাপারে উরওয়া ইবনে যুবায়র (রাহঃ) বলিতেনঃ সেই সন্তানের মৃত্যু হইলে তাহার মাতা আল্লাহর কিতাব অনুযায়ী তাহার নির্ধারিত অংশ পাইবে এবং তাহার ভগ্নিগণও তাহাদের অংশ পাইবে। অবশিষ্ট যাহা থাকে তাহা পাইবে তাহার জননীকে যে আযাদ করিয়াছে সে, যদি সে আযাদ স্ত্রীলোক হয়। আর যদি সে স্ত্রীলোক আরবী (আযাদ) হয় তবে সে তাহার অংশ পাইবে। এবং তাহার ভগ্নিগণও তাহদের অংশ পাইবে। অবশিষ্ট মাল মুসলমানদের কল্যাণের জন্যে (বায়তুলমালে) থাকিবে।

মালিক (রাহঃ) বলেনঃ সুলায়মান ইবনে ইয়াসারের নিকট হইতেও আমার নিকট অনুরূপ রেওয়ায়ত পৌছিয়াছে।

মালিক (রাহঃ) বলেনঃ আমাদের শহরবাসী আলিমগণকেও আমি এই ফায়সালার উপর পাইয়াছি।

১৫. বাকিরা (কুমারী) স্ত্রীলোকের তালাক

بَاب طَلَاقِ الْبِكْرِ

১১৯৪

حَدَّثَنِي يَحْيَى عَنْ مَالِك عَنْ ابْنِ شِهَابٍ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ ثَوْبَانَ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِيَاسِ بْنِ الْبُكَيْرِ أَنَّهُ قَالَ طَلَّقَ رَجُلٌ امْرَأَتَهُ ثَلَاثًا قَبْلَ أَنْ يَدْخُلَ بِهَا ثُمَّ بَدَا لَهُ أَنْ يَنْكِحَهَا فَجَاءَ يَسْتَفْتِي فَذَهَبْتُ مَعَهُ أَسْأَلُ لَهُ فَسَأَلَ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عَبَّاسٍ وَأَبَا هُرَيْرَةَ عَنْ ذَلِكَ فَقَالَا لَا نَرَى أَنْ تَنْكِحَهَا حَتَّى تَنْكِحَ زَوْجًا غَيْرَكَ قَالَ فَإِنَّمَا طَلَاقِي إِيَّاهَا وَاحِدَةٌ قَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ إِنَّكَ أَرْسَلْتَ مِنْ يَدِكَ مَا كَانَ لَكَ مِنْ فَضْلٍ

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

রেওয়ায়ত ৩৭. মুহাম্মাদ ইবনে ইয়াস ইবনে বুকাইর (রাহঃ) হইতে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ এক ব্যক্তি সহবাসের পূর্বে স্ত্রীকে তিন তালাক দিয়াছে, তারপর সেই স্ত্রীকে সে বিবাহ করার ইচ্ছা করিল। তাই সে ফতোয় জিজ্ঞাসা করিতে আসিল। ফতোয়া জিজ্ঞাসা করার জন্য আমিও তাহার সহিত গমন করিলাম। অতঃপর এই বিষয়ে আব্দুল্লাহ্ ইবনে আব্বাস ও আবু হুরায়রা (রাযিঃ)-এর নিকট সে জিজ্ঞাসা করিল। তাহারা উভয়ে বলিলেনঃ তোমার জন্য উহাকে বিবাহ করার কোন পথ দেখি না, যতক্ষণ না তুমি ছাড়া অন্য স্বামীর পাণি সে গ্রহণ করে। সে বলিলঃ আমি উহাকে একত্রে তিন তালাক দিয়াছি। ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) বলিলেন, তোমার হাতে এই ব্যাপারে যতদূর ক্ষমতা ছিল তুমি উহা পূর্ণভাবে প্রয়োগ করিয়া ফেলিয়াছ।

১১৯৫

وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِك عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ عَنْ بُكَيْرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الْأَشَجِّ عَنْ النُّعْمَانِ بْنِ أَبِي عَيَّاشٍ الْأَنْصَارِيِّ عَنْ عَطَاءِ بْنِ يَسَارٍ أَنَّهُ قَالَ جَاءَ رَجُلٌ يَسْأَلُ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عَمْرِو بْنِ الْعَاصِ عَنْ رَجُلٍ طَلَّقَ امْرَأَتَهُ ثَلَاثًا قَبْلَ أَنْ يَمَسَّهَا قَالَ عَطَاءٌ فَقُلْتُ إِنَّمَا طَلَاقُ الْبِكْرِ وَاحِدَةٌ فَقَالَ لِي عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عَمْرِو بْنِ الْعَاصِ إِنَّمَا أَنْتَ قَاصٌّ الْوَاحِدَةُ تُبِينُهَا وَالثَّلَاثَةُ تُحَرِّمُهَا حَتَّى تَنْكِحَ زَوْجًا غَيْرَهُ

বর্ণনাকারী: আতা ইবনে ইয়াসার (রহঃ)

রেওয়ায়ত ৩৮. আতা ইবনে ইয়াসার (রাহঃ) হইতে বর্ণিত, এক ব্যক্তি আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনে আস (রাযিঃ) এর নিকট এমন এক ব্যক্তি সম্পর্কে প্রশ্ন করিতে আসিল, যে ব্যক্তি নিজের স্ত্রীকে স্পর্শ করার পূর্বে তিন তালাক দিয়াছে। আতা বলিলেন, কুমারীর জন্য হইতেছে এক তালাক। তখন আব্দুল্লাহ্ ইবনে আমর আমাকে বলিলঃ তুমি তো হইলে একজন বক্তা (ফতোয়া দেওয়া তোমার কাজ নহে)। এক তালাক তাহাকে স্বামী হইতে পৃথক করিবে এবং তিন তালাক তাহাকে হারাম করিবে যাবৎ সে (স্ত্রী) অন্য স্বামীর পাণি গ্রহণ না করে।

১১৯৬
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِك عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ عَنْ بُكَيْرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الْأَشَجِّ أَنَّهُ أَخْبَرَهُ عَنْ مُعَاوِيَةَ بْنِ أَبِي عَيَّاشٍ الْأَنْصَارِيِّ أَنَّهُ كَانَ جَالِسًا مَعَ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الزُّبَيْرِ وَعَاصِمِ بْنِ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ قَالَ فَجَاءَهُمَا مُحَمَّدُ بْنُ إِيَاسِ بْنِ الْبُكَيْرِ فَقَالَ إِنَّ رَجُلًا مِنْ أَهْلِ الْبَادِيَةِ طَلَّقَ امْرَأَتَهُ ثَلَاثًا قَبْلَ أَنْ يَدْخُلَ بِهَا فَمَاذَا تَرَيَانِ فَقَالَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ الزُّبَيْرِ إِنَّ هَذَا الْأَمْرَ مَا لَنَا فِيهِ قَوْلٌ فَاذْهَبْ إِلَى عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَبَّاسٍ وَأَبِي هُرَيْرَةَ فَإِنِّي تَرَكْتُهُمَا عِنْدَ عَائِشَةَ فَسَلْهُمَا ثُمَّ ائْتِنَا فَأَخْبِرْنَا فَذَهَبَ فَسَأَلَهُمَا فَقَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ لِأَبِي هُرَيْرَةَ أَفْتِهِ يَا أَبَا هُرَيْرَةَ فَقَدْ جَاءَتْكَ مُعْضِلَةٌ فَقَالَ أَبُو هُرَيْرَةَ الْوَاحِدَةُ تُبِينُهَا وَالثَّلَاثَةُ تُحَرِّمُهَا حَتَّى تَنْكِحَ زَوْجًا غَيْرَهُ وَقَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ مِثْلَ ذَلِكَ قَالَ مَالِك وَعَلَى ذَلِكَ الْأَمْرُ عِنْدَنَا
وَالثَّيِّبُ إِذَا مَلَكَهَا الرَّجُلُ فَلَمْ يَدْخُلْ بِهَا إِنَّهَا تَجْرِي مَجْرَى الْبِكْرِ الْوَاحِدَةُ تُبِينُهَا وَالثَّلَاثُ تُحَرِّمُهَا حَتَّى تَنْكِحَ زَوْجًا غَيْرَهُ

বর্ণনাকারী: বিবিধ

রেওয়ায়ত ৩৯. মু’আবিয়া ইবনে আবি আইয়াশ আনসারী (রাযিঃ) আব্দুল্লাহ্ ইবনে যুবায়র (রাযিঃ) ও আসিম ইবনে উমর (রাযিঃ)-এর সহিত বসা ছিলেন। এমন সময় তাহদের নিকট মুহাম্মাদ ইবনে ইয়াস ইবনে বুকাইর উপস্থিত হইলেন এবং বলিলেনঃ এক বেদুঈন ব্যক্তি তাহার স্ত্রীকে সঙ্গমের পূর্বে তিন তালাক দিয়াছে সেই ব্যাপারে আপনাদের অভিমত কি? আব্দুল্লাহ্ ইবনে যুবায়র বলিলেনঃ এই বিষয়ে আমাদের নিকট কোন রেওয়ায়ত পৌছে নাই, তাই তুমি আব্দুল্লাহ্ ইবনে আব্বাস ও আবু হুরায়রা (রাযিঃ)-র নিকট গমন কর এবং তাঁহাদের উভয়ের নিকট প্রশ্ন কর। আমি তাহদের উভয়কে আয়েশা সিদ্দীকা (রাযিঃ)-র নিকট দেখিয়া আসিয়াছি। তাহাদের নিকট হইতে ফতোয়া জিজ্ঞাসা করার পর আমার কাছে আসিয়া বলিয়া যাইবে।

মুহাম্মাদ ইবনে ইয়াস সেখানে গেলেন এবং উভয়কে প্রশ্ন করিলেন। ইবনে আব্বাস আবু হুরায়রা (রাযিঃ)-কে বলিলেন, হে আবু হুরায়রা! আপনি ফতোয়া বলুন। আপনার নিকট কঠিন মাসআলা উপস্থিত হইয়াছে। আবু হুরায়রা (রাযিঃ) বললেনঃ এক তালাক স্ত্রীকে স্বামী হইতে পৃথক করিবে (বিচ্ছেদ ঘটাইবে), তিন তালাক তাহাকে হারাম করিয়া দিবে যাবৎ সে অন্য স্বামীর পাণি গ্রহণ না করে। ইবনে আব্বাসও অনুরূপ বলিলেন।

মালিক (রাহঃ) বলেন, এই বিষয়ে আমাদের সিদ্ধান্তও অনুরূপ।

মালিক (রাহঃ) বলেনঃ অকুমারী (ثيبة) নারীর কেহ মালিক হইলে এবং উহার সহিত সংগত না হইলে তবে তালাকের ব্যাপারে তাহারও কুমারীর মতো মাসআলা হইবে। এক তালাক তাহাকে পৃথক করিবে এবং তিন তালাক তাহাকে হারাম করিবে যাবৎ সে অন্য স্বামীর পাণি গ্রহণ না করে।

১৬. পীড়িত ব্যক্তির তালাক

بَاب طَلَاقِ الْمَرِيضِ

১১৯৭

حَدَّثَنِي يَحْيَى عَنْ مَالِك عَنْ ابْنِ شِهَابٍ عَنْ طَلْحَةَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَوْفٍ قَالَ وَكَانَ أَعْلَمَهُمْ بِذَلِكَ وَعَنْ أَبِي سَلَمَةَ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَوْفٍ أَنَّ عَبْدَ الرَّحْمَنِ بْنَ عَوْفٍ طَلَّقَ امْرَأَتَهُ الْبَتَّةَ وَهُوَ مَرِيضٌ فَوَرَّثَهَا عُثْمَانُ بْنُ عَفَّانَ مِنْهُ بَعْدَ انْقِضَاءِ عِدَّتِهَا

বর্ণনাকারী: আবু সালামা ইবনে আব্দুর রহমান ইবনে আউফ (রহঃ)

রেওয়ায়ত ৪০. আবু সালামা ইবনে আব্দুর রহমান ইবনে আউফ (রাযিঃ) হইতে বর্ণিত, আব্দুর রহমান ইবনে আওফ (রাযিঃ) তাঁহার স্ত্রীকে আল-বাত্তা (পূর্ণ) তালাক প্রদান করিলেন। তখন তিনি পীড়িত ছিলেন। সেই স্ত্রীকে উসমান (রাযিঃ) আব্দুর রহমান ইবনে আওফের সম্পদ হইতে মীরাস দিলেন ইদ্দত সমাপ্তির পর।

১১৯৮

وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِك عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الْفَضْلِ عَنْ الْأَعْرَجِ أَنَّ عُثْمَانَ بْنَ عَفَّانَ وَرَّثَ نِسَاءَ ابْنِ مُكْمِلٍ مِنْهُ وَكَانَ طَلَّقَهُنَّ وَهُوَ مَرِيضٌ

বর্ণনাকারী: বিবিধ

রেওয়ায়ত ৪১. আরয (রাহঃ) হইতে বর্ণিত, ইবনে মুকমিলের পত্নীগণকে তাহার সম্পত্তি হইতে উসমান ইবনে আফফান (রাযিঃ) মীরাস দিয়াছেন ইবনে- মুকমিল* উহাদিগকে তালাক দিয়াছিলেন পীড়িত অবস্থায়।

১১৯৯

وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِك أَنَّهُ سَمِعَ رَبِيعَةَ بْنَ أَبِي عَبْدِ الرَّحْمَنِ يَقُولُ بَلَغَنِي أَنَّ امْرَأَةَ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَوْفٍ سَأَلَتْهُ أَنْ يُطَلِّقَهَا فَقَالَ إِذَا حِضْتِ ثُمَّ طَهُرْتِ فَآذِنِينِي فَلَمْ تَحِضْ حَتَّى مَرِضَ عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ عَوْفٍ فَلَمَّا طَهُرَتْ آذَنَتْهُ فَطَلَّقَهَا الْبَتَّةَ أَوْ تَطْلِيقَةً لَمْ يَكُنْ بَقِيَ لَهُ عَلَيْهَا مِنْ الطَّلَاقِ غَيْرُهَا وَعَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ عَوْفٍ يَوْمَئِذٍ مَرِيضٌ فَوَرَّثَهَا عُثْمَانُ بْنُ عَفَّانَ مِنْهُ بَعْدَ انْقِضَاءِ عِدَّتِهَا

বর্ণনাকারী: মালিক ইবনে আনাস (রহঃ)

রেওয়ায়ত ৪২. মালিক (রাহঃ) হইতে বর্ণিত, তিনি রবী″আ ইবনে আবী আব্দির রহমানকে বলিতে শুনিয়াছেন, তিনি বলেনঃ আমার নিকট রেওয়ায়ত পৌঁছিয়াছে যে, আব্দুর রহমান ইবনে আওফ (রাযিঃ)-এর এক স্ত্রী তাহার নিকট তালাক চাহিলেন। তিনি বলেনঃ তোমার মাসিক ঋতুর পর তুমি যখন পবিত্র হও তখন আমাকে অবগত করিও। তাহার ঋতু আসার পূর্বে আব্দুর রহমান ইবনে আওফ অসুস্থ হইয়া পড়িলেন। সে যখন ঋতু হইতে পবিত্র হইল তখন আব্দুর রহমান ইবনে আওফকে খবর দিল। তিনি স্ত্রীকে আল-বাত্তা তালাক দিলেন অথবা এমন তালাক দিলেন যেই তালাক দেওয়ার পরে আর কোন তালাক দেওয়ার অবকাশ থাকে না। আব্দুর রহমান ইবনে আওফ তখন পীড়িত ছিলেন। অতঃপর ইদ্দত পূর্ণ হওয়ার পর উসমান (রাযিঃ) আব্দুর রহমান ইবনে আওফের সম্পদ হইতে স্ত্রীকে মীরাস দিলেন।

১২০০

وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِك عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ يَحْيَى بْنِ حَبَّانَ قَالَ كَانَتْ عِنْدَ جَدِّي حَبَّانَ امْرَأَتَانِ هَاشِمِيَّةٌ وَأَنْصَارِيَّةٌ فَطَلَّقَ الْأَنْصَارِيَّةَ وَهِيَ تُرْضِعُ فَمَرَّتْ بِهَا سَنَةٌ ثُمَّ هَلَكَ عَنْهَا وَلَمْ تَحِضْ فَقَالَتْ أَنَا أَرِثُهُ لَمْ أَحِضْ فَاخْتَصَمَتَا إِلَى عُثْمَانَ بْنِ عَفَّانَ فَقَضَى لَهَا بِالْمِيرَاثِ فَلَامَتْ الْهَاشِمِيَّةُ عُثْمَانَ فَقَالَ هَذَا عَمَلُ ابْنِ عَمِّكِ هُوَ أَشَارَ عَلَيْنَا بِهَذَا يَعْنِي عَلِيَّ بْنَ أَبِي طَالِبٍ

বর্ণনাকারী: উসমান ইবনে আফফান (রাঃ)

রেওয়ায়ত ৪৩. মুহাম্মাদ ইবনে ইয়াহইয়া ইবনে হাব্বান (রাহঃ) বলেনঃ আমার দাদা হাব্বানের ছিল দুই পত্নী। একজন হাশিমী বংশের, অপর জন আনসার গোত্রের। তারপর তিনি আনসারী স্ত্রীকে তালাক দিলেন। তখন সেই স্ত্রী সন্তানকে দুধপান করাইতেছিল। এইরূপে এক বৎসর অতিবাহিত হইলে পর হাব্বান ইন্তিকাল করেন। তাহার স্ত্রী আর ঋতুবতী হয় নাই। স্ত্রী দাবি করিল যে, আমি তাহার মীরাস (সম্পদের অংশ) পাইব। আমার মাসিক ঋতু আসে নাই। বিবাদ লইয়া উভয় পত্নী উসমান ইবনে আফফান (রাযিঃ) এর নিকট উপস্থিত হইল। উসমান (রাযিঃ) আনসারী পত্নীর জন্য মীরাস প্রদানের ফয়সালা দিলেন। ইহাতে হাশিমীয় পত্নী উসমান (রাযিঃ)-কে দোষারোপ* করিলেন। তিনি বলিলেনঃ ইহা তোমার চাচাতো ভাই-এর ফয়সালা। তিনি আমাদিগকে ইহার ইঙ্গিত দিয়াছেন। চাচাতো ভাই হইলেন আলী ইবনে আবী তালিব (রাযিঃ)।

১২০১

وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِك أَنَّهُ سَمِعَ ابْنَ شِهَابٍ يَقُولُ إِذَا طَلَّقَ الرَّجُلُ امْرَأَتَهُ ثَلَاثًا وَهُوَ مَرِيضٌ فَإِنَّهَا تَرِثُهُ قَالَ مَالِك وَإِنْ طَلَّقَهَا وَهُوَ مَرِيضٌ قَبْلَ أَنْ يَدْخُلَ بِهَا فَلَهَا نِصْفُ الصَّدَاقِ وَلَهَا الْمِيرَاثُ وَلَا عِدَّةَ عَلَيْهَا وَإِنْ دَخَلَ بِهَا ثُمَّ طَلَّقَهَا فَلَهَا الْمَهْرُ كُلُّهُ وَالْمِيرَاثُ الْبِكْرُ وَالثَّيِّبُ فِي هَذَا عِنْدَنَا سَوَاءٌ

বর্ণনাকারী: মালিক ইবনে আনাস (রহঃ)

রেওয়ায়ত ৪৪. মালিক (রাহঃ) বলেনঃ তিনি ইবনে শিহাবকে বলিতে শুনিয়াছেন, কোন ব্যক্তি পীড়িতাবস্থায় স্ত্রীকে তিন তালাক দিলে তবে সে (স্বামীর) মীরাস পাইবে।

মালিক (রাহঃ) বলেনঃ যদি কোন ব্যক্তি তাহার পীড়িত অবস্থায় স্ত্রীকে তালাক দেয় তাহার সহিত সংগত হওয়ার পূর্বে তবে সে স্ত্রী মোহরের অর্ধেক পাইবে এবং সে (স্বামীর) মীরাস পাইবে, তাহার ইদ্দত পালন করিতে হইবে না। আর যদি সে স্ত্রীর সহিত সংগত হইয়া থাকে তারপর তালাক দেয় তবে সে পূর্ণ মোহর-এর হকদার হইবে এবং মীরাসও পাইবে।

মালিক (রাহঃ) বলেনঃ কুমারী এবং অকুমারী এই ব্যাপারে আমাদের মতে সমান।

১৭. তালাকে মুতআ* প্রদানের বর্ণনা

بَاب مَا جَاءَ فِي مُتْعَةِ الطَّلَاقِ

১২০২
حَدَّثَنِي يَحْيَى عَنْ مَالِك أَنَّهُ بَلَغَهُ أَنَّ عَبْدَ الرَّحْمَنِ بْنَ عَوْفٍ طَلَّقَ امْرَأَةً لَهُ فَمَتَّعَ بِوَلِيدَةٍ
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِك عَنْ نَافِعٍ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ أَنَّهُ كَانَ يَقُولُ لِكُلِّ مُطَلَّقَةٍ مُتْعَةٌ إِلَّا الَّتِي تُطَلَّقُ وَقَدْ فُرِضَ لَهَا صَدَاقٌ وَلَمْ تُمْسَسْ فَحَسْبُهَا نِصْفُ مَا فُرِضَ لَهَا

বর্ণনাকারী: মালিক ইবনে আনাস (রহঃ)

রেওয়ায়ত ৪৫. মালিক (রাহঃ) বলেনঃ তাহার নিকট রেওয়ায়ত পৌছিয়াছে যে, আব্দুর রহমান ইবনে আওফ তাহার এক স্ত্রীকে তালাক দিলেন এবং এক ক্রীতদাসী তাহাকে মুত’আ স্বরূপ দান করিলেন।

নাফি’ (রাহঃ) হইতে বর্ণিত, আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাযিঃ) বলিতেন, প্রত্যেক তালাকপ্রাপ্তা স্ত্রী মুত’আ পাইবে। তবে যে স্ত্রীর মোহর ধার্য করা হইয়াছে এবং তাহাকে স্পর্শ করার পূর্বে তালাক দেওয়া হইয়াছে, সে ধার্যকৃত মোহরের অর্ধেক মাত্র পাইবে।

১৭. তালাকে মুত’আ প্রদানের বর্ণনা

بَاب مَا جَاءَ فِي مُتْعَةِ الطَّلَاقِ

১২০৩

وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِك عَنْ ابْنِ شِهَابٍ أَنَّهُ قَالَ لِكُلِّ مُطَلَّقَةٍ مُتْعَةٌ قَالَ مَالِك وَبَلَغَنِي عَنْ الْقَاسِمِ بْنِ مُحَمَّدٍ مِثْلُ ذَلِكَ قَالَ مَالِك لَيْسَ لِلْمُتْعَةِ عِنْدَنَا حَدٌّ مَعْرُوفٌ فِي قَلِيلِهَا وَلَا كَثِيرِهَا

বর্ণনাকারী: মালিক ইবনে আনাস (রহঃ)

রেওয়ায়ত ৪৬. মালিক (রাহঃ) বলেনঃ ইবনে শিহাব (রাহঃ) বলিতেন প্রত্যেক তালাকপ্রাপ্ত স্ত্রীর জন্য মুত’আ রহিয়াছে।

মালিক (রাহঃ) বলেনঃ কাশিম মুহাম্মাদ (রাহঃ) হইতেও অনুরূপ রেওয়ায়ত আমার নিকট পৌছিয়াছে।

মালিক (রাহঃ) বলেনঃ আমাদের নিকট মুত’আর ব্যাপারে কম-বেশী কোন নির্দিষ্ট পরিমাণ নাই।

১৮. ক্রীতদাসের তালাক

بَاب مَا جَاءَ فِي طَلَاقِ الْعَبْدِ

১২০৪

حَدَّثَنِي يَحْيَى عَنْ مَالِك عَنْ أَبِي الزِّنَادِ عَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ يَسَارٍ أَنَّ نُفَيْعًا مُكَاتَبًا كَانَ لِأُمِّ سَلَمَةَ زَوْجِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَوْ عَبْدًا لَهَا كَانَتْ تَحْتَهُ امْرَأَةٌ حُرَّةٌ فَطَلَّقَهَا اثْنَتَيْنِ ثُمَّ أَرَادَ أَنْ يُرَاجِعَهَا فَأَمَرَهُ أَزْوَاجُ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنْ يَأْتِيَ عُثْمَانَ بْنَ عَفَّانَ فَيَسْأَلَهُ عَنْ ذَلِكَ فَلَقِيَهُ عِنْدَ الدَّرَجِ آخِذًا بِيَدِ زَيْدِ بْنِ ثَابِتٍ فَسَأَلَهُمَا فَابْتَدَرَاهُ جَمِيعًا فَقَالَا حَرُمَتْ عَلَيْكَ حَرُمَتْ عَلَيْكَ

বর্ণনাকারী: সুলাইমান ইবনে ইয়াসার (রহঃ)

রেওয়ায়ত ৪৭. সুলায়মান ইবনে ইয়াসার (রাহঃ) হইতে বর্ণিত- নুফাঈ (نفيع) নবী (ﷺ)-এর পত্নী উম্মে সালামা (রাযিঃ) এর মুকাতব* অথবা ক্রীতদাস ছিল; তাহার স্ত্রী ছিল আযাদ (حرة)। সে উহাকে দুই তালাক দিয়া পুনরায় রুজু করার ইচ্ছা করিল। নবী করীম (ﷺ)-এর সহধর্মিণী (রাযিঃ) তাহাকে উসমান ইবনে আফফান (রাযিঃ)-এর নিকট যাওয়ার নির্দেশ দিলেন এবং এই বিষয়ে তাঁহার নিকট প্রশ্ন করিতে বলিলেন। যায়দ ইবনে সাবিত (রাযিঃ)-এর হাত ধরাবস্থায় মসজিদের সিড়ির নিকটে তাঁহার সাক্ষাত পাইল। সে (এই মাস’আলার ব্যাপারে) উভয়ের নিকট প্রশ্ন করিলে তাহারা উভয়ে সঙ্গে সঙ্গে উত্তর দিলেন। তোমার উপর হারাম হইয়াছে, তোমার উপর হারাম হইয়াছে (তাহার স্ত্রী তাহার উপর হারাম)।

১২০৫

وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِك عَنْ ابْنِ شِهَابٍ عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيَّبِ أَنَّ نُفَيْعًا مُكَاتَبًا كَانَ لِأُمِّ سَلَمَةَ زَوْجِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ طَلَّقَ امْرَأَةً حُرَّةً تَطْلِيقَتَيْنِ فَاسْتَفْتَى عُثْمَانَ بْنَ عَفَّانَ فَقَالَ حَرُمَتْ عَلَيْكَ

বর্ণনাকারী: সাঈদ ইবনুল মুসাইয়্যাব (রহঃ)

রেওয়ায়ত ৪৮. সাঈদ ইবনে মুসায়্যিব (রাহঃ) হইতে বর্ণিত, নবী করীম (ﷺ) এর পত্নী উম্মে সালামা (রাযিঃ)-এর মুকাতব নুফাঈ তাহার আযাদ স্ত্রীকে দুই তালাক দিলেন, অতঃপর উসমান ইবনে আফফান (রাযিঃ)-এর নিকট ফতোয়া জিজ্ঞাসা করিলেন। উসমান (রাযিঃ) উত্তরে বলিলেন, তোমার জন্য হারাম হইয়াছে।

১২০৬

وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِك عَنْ عَبْدِ رَبِّهِ بْنِ سَعِيدٍ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ بْنِ الْحَارِثِ التَّيْمِيِّ أَنَّ نُفَيْعًا مُكَاتَبًا كَانَ لِأُمِّ سَلَمَةَ زَوْجِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ اسْتَفْتَى زَيْدَ بْنَ ثَابِتٍ فَقَالَ إِنِّي طَلَّقْتُ امْرَأَةً حُرَّةً تَطْلِيقَتَيْنِ فَقَالَ زَيْدُ بْنُ ثَابِتٍ حَرُمَتْ عَلَيْكَ

বর্ণনাকারী: যায়দ ইবনে ছাবিত (রাঃ)

রেওয়ায়ত ৪৯. মুহাম্মাদ ইবনে ইবরাহীম ইবনে হারিস তায়মী (রাহঃ) হইতে বর্ণিত। নবী করীম (ﷺ)-এর সহধর্মিণী উম্মে সালামা (রাযিঃ) এর মুকাতব নুফাই যায়দ ইবনে সাবিত (রাযিঃ)-এর নিকট ফতোয়া চাহিলেন এই বলিয়া আমি আযাদ (حرة) স্ত্রীকে দুই তালাক দিয়াছি। এখন ফতোয়া কি? যায়দ ইবনে সাবিত বলিলেনঃ (তোমার জন্য) এই স্ত্রী হারাম হইয়া গিয়াছে।

১২০৭

وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِك عَنْ نَافِعٍ أَنَّ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عُمَرَ كَانَ يَقُولُ إِذَا طَلَّقَ الْعَبْدُ امْرَأَتَهُ تَطْلِيقَتَيْنِ فَقَدْ حَرُمَتْ عَلَيْهِ حَتَّى تَنْكِحَ زَوْجًا غَيْرَهُ حُرَّةً كَانَتْ أَوْ أَمَةً وَعِدَّةُ الْحُرَّةِ ثَلَاثُ حِيَضٍ وَعِدَّةُ الْأَمَةِ حَيْضَتَانِ

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

রেওয়ায়ত ৫০. আব্দুল্লাহ্ ইবনে উমর (রাযিঃ) বলিতেন, কোন ক্রীতদাস স্ত্রীকে দুই তালাক প্রদান করিলে সে স্ত্রী তাহার জন্য হারাম হইবে যাবৎ দ্বিতীয় স্বামীর পাণি গ্রহণ না করিবে; (স্ত্রী) আযাদ হউক বা ক্রীতদাসী হউক। আর আযাদ স্ত্রীলোকের ইদ্দত হইতেছে তিন হায়য (মাসিক ঋতু), ক্রীতদাসীর ইদ্দত হইতেছে দুই হায়য।

১২০৮

وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِك عَنْ نَافِعٍ أَنَّ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عُمَرَ كَانَ يَقُولُ مَنْ أَذِنَ لِعَبْدِهِ أَنْ يَنْكِحَ فَالطَّلَاقُ بِيَدِ الْعَبْدِ لَيْسَ بِيَدِ غَيْرِهِ مِنْ طَلَاقِهِ شَيْءٌ فَأَمَّا أَنْ يَأْخُذَ الرَّجُلُ أَمَةَ غُلَامِهِ أَوْ أَمَةَ وَلِيدَتِهِ فَلَا جُنَاحَ عَلَيْهِ

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

রেওয়ায়ত ৫১. আব্দুল্লাহ্ ইবনে উমর (রাযিঃ) বলিতেন, যে নিজের ক্রীতদাসকে বিবাহ করার অনুমতি দিয়াছে তাহার ক্রীতদাসের তালাকের ক্ষমতা থাকিবে, অন্যের হাতে তালাকের কোন ক্ষমতা থাকিবে না। তবে ক্রীতদাস ও ক্রীতদাসীর বাদীকে নিজের অধিকারে রাখাতে কোন দোষ নাই।

১৯. বাঁদীর খোরপোশের বর্ণনা যখন উহাকে অন্তঃসত্ত্বাবস্থায় তালাক দেওয়া হয়

بَاب نَفَقَةِ الْأَمَةِ إِذَا طُلِّقَتْ وَهِيَ حَامِلٌ

১২০৯

قَالَ مَالِك لَيْسَ عَلَى حُرٍّ وَلَا عَبْدٍ طَلَّقَا مَمْلُوكَةً وَلَا عَلَى عَبْدٍ طَلَّقَ حُرَّةً طَلَاقًا بَائِنًا نَفَقَةٌ وَإِنْ كَانَتْ حَامِلًا إِذَا لَمْ يَكُنْ لَهُ عَلَيْهَا رَجْعَةٌ قَالَ مَالِك وَلَيْسَ عَلَى حُرٍّ أَنْ يَسْتَرْضِعَ لِابْنِهِ وَهُوَ عَبْدُ قَوْمٍ آخَرِينَ وَلَا عَلَى عَبْدٍ أَنْ يُنْفِقَ مِنْ مَالِهِ عَلَى مَا يَمْلِكُ سَيِّدُهُ إِلَّا بِإِذْنِ سَيِّدِهِ

বর্ণনাকারী: মালিক ইবনে আনাস (রহঃ)

মালিক (রাহঃ) বলেনঃ যে আযাদ (حر) পুরুষ ক্রীতদাসীকে বায়েন তালাক দিয়াছে এবং যে ক্রীতদাস ক্রীতদাসী (স্ত্রী)-কে অথবা আযাদ (حرة ) স্ত্রীকে বায়েন তালাক দিয়াছে, তাহাদের কাহারো উপর তালাকপ্রাপ্ত স্ত্রীর খোরপোশ প্রদান জরুরী হইবে না, স্ত্রী অন্তঃসত্ত্বা হইলেও যদি স্বামীর রুজু করার অধিকার না থাকে (রুজু করার অধিকার থাকিলে স্ত্রী খোরপোশের হকদার হইবে)।

মালিক (রাহঃ) বলেনঃ কোন আযাদ ব্যক্তির জন্য তাহার ছেলের দুগ্ধপানের খরচ বহন করা জরুরী নহে, যদি সেই ছেলে অন্য সম্প্রদায়ের ক্রীতদাস হয়। কোন ক্রীতদাসের অধিকার নাই তাহার মনিবের মাল হইতে এমন লোকের জন্য ব্যয় করার যাহার মালিক তাহার মনিব নহে, তবে মনিবের অনুমতি লইয়া খরচ করিতে পারিবে।

২০. যে স্ত্রীর স্বামী নিরুদ্দেশ তাহার ইদ্দত

بَاب عِدَّةِ الَّتِي تَفْقِدُ زَوْجَهَا

১২১০

حَدَّثَنِي يَحْيَى عَنْ مَالِك عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيَّبِ أَنَّ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ قَالَ أَيُّمَا امْرَأَةٍ فَقَدَتْ زَوْجَهَا فَلَمْ تَدْرِ أَيْنَ هُوَ فَإِنَّهَا تَنْتَظِرُ أَرْبَعَ سِنِينَ ثُمَّ تَعْتَدُّ أَرْبَعَةَ أَشْهُرٍ وَعَشْرًا ثُمَّ تَحِلُّ قَالَ مَالِك وَإِنْ تَزَوَّجَتْ بَعْدَ انْقِضَاءِ عِدَّتِهَا فَدَخَلَ بِهَا زَوْجُهَا أَوْ لَمْ يَدْخُلْ بِهَا فَلَا سَبِيلَ لِزَوْجِهَا الْأَوَّلِ إِلَيْهَا قَالَ مَالِك وَذَلِكَ الْأَمْرُ عِنْدَنَا وَإِنْ أَدْرَكَهَا زَوْجُهَا قَبْلَ أَنْ تَتَزَوَّجَ فَهُوَ أَحَقُّ بِهَا قَالَ مَالِك وَأَدْرَكْتُ النَّاسَ يُنْكِرُونَ الَّذِي قَالَ بَعْضُ النَّاسِ عَلَى عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ أَنَّهُ قَالَ يُخَيَّرُ زَوْجُهَا الْأَوَّلُ إِذَا جَاءَ فِي صَدَاقِهَا أَوْ فِي امْرَأَتِهِ قَالَ مَالِك وَبَلَغَنِي أَنَّ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ قَالَ فِي الْمَرْأَةِ يُطَلِّقُهَا زَوْجُهَا وَهُوَ غَائِبٌ عَنْهَا ثُمَّ يُرَاجِعُهَا فَلَا يَبْلُغُهَا رَجْعَتُهُ وَقَدْ بَلَغَهَا طَلَاقُهُ إِيَّاهَا فَتَزَوَّجَتْ أَنَّهُ إِنْ دَخَلَ بِهَا زَوْجُهَا الْآخَرُ أَوْ لَمْ يَدْخُلْ بِهَا فَلَا سَبِيلَ لِزَوْجِهَا الْأَوَّلِ الَّذِي كَانَ طَلَّقَهَا إِلَيْهَا قَالَ مَالِك وَهَذَا أَحَبُّ مَا سَمِعْتُ إِلَيَّ فِي هَذَا وَفِي الْمَفْقُودِ

বর্ণনাকারী: সাঈদ ইবনুল মুসাইয়্যাব (রহঃ)

রেওয়ায়ত ৫২. সাঈদ ইবনে মুসায়্যিব (রাহঃ) হইতে বর্ণিত, উমর ইবনে খাত্তাব (রাযিঃ) বলিয়াছেন, যেই স্ত্রীর স্বামী নিরুদ্দেশ-জানে না সে কোথায়, সে স্ত্রী চারি বৎসর অপেক্ষা করিবে। অতঃপর চারমাস দশদিন ইদ্দত পালন করিবে। তারপর অন্যত্র তাহার বিবাহ হালাল হইবে।

মালিক (রাহঃ) বলেনঃ ইদ্দত পূর্ণ হওয়ার পর সে যদি বিবাহ করে তবে স্বামী তাহার সাথে সঙ্গম করুক বা না করুক তাহার পূর্ববর্তী স্বামীর জন্য তাহাকে গ্রহণ করার কোন পথ নাই। মালিক (রাহঃ) বলেনঃ ইহাই আমাদের সিদ্ধান্ত। আর বিবাহের পূর্বে তাহার সহিত প্রথম স্বামীর সাক্ষাত হইলে তবে তিনিই অধিক হকদার হইবেন।

মালিক (রাহঃ) বলেনঃ কিছু লোক বলিয়া থাকে যে, উমর ইবনে খাত্তাব (রাযিঃ) বলিয়াছেনঃ প্রথম স্বামী আসিলে তাহাকে ইখতিয়ার দেওয়া হইবে (দ্বিতীয় স্বামী হইতে) মোহর ফেরত লওয়া অথবা (মোহর ফেরত না লইয়া) স্ত্রী ফেরত লওয়া।

মালিক (রাহঃ) বলেনঃ উমর ইবনে খাত্তাব (রাযিঃ) এই ধরনের ইখতিয়ার দিয়াছেন বলিয়া কিছু লোককে অস্বীকার করিতে পাইয়াছি।

মালিক (রাহঃ) বলেনঃ আমার নিকট রেওয়ায়ত পৌছিয়াছে যে, উমর ইবনে খাত্তাব (রাযিঃ) বলিয়াছেন, স্বামী স্ত্রীর নিকট উপস্থিত নাই, এমন স্ত্রীকে স্বামী তালাক দিয়াছে। অতঃপর স্ত্রীকে পুনরায় গ্রহণ করিতে চাহিয়াছে। কিন্তু সে যে রুজু করিতে চাহিয়াছে এই খবর তাহার স্ত্রীর নিকট পৌছে নাই। শুধু তাহাকে তালাক দেওয়ার সংবাদই সে পাইয়াছে। তাই সে স্বামী গ্রহণ করিয়াছে। দ্বিতীয় স্বামী তাহার সহিত সংগত হউক না হউক প্রথম স্বামী যে তাহাকে তালাক দিয়াছিল তাহার পক্ষে স্ত্রীকে পাওয়ার আর কোন পথ নাই।

মালিক (রাহঃ) বলেনঃ এই বিষয়ে এবং নিরুদ্দেশের বিষয়ে আমি যাহা শুনিয়াছি তন্মধ্যে ইহা আমার নিকট পছন্দনীয়।

২১. তালাকের ইদ্দতে উল্লিখিত আকরা’* এবং ঋতুবতী স্ত্রীলোকের তালাকের বর্ণনা

بَاب مَا جَاءَ فِي الْأَقْرَاءِ وَعِدَّةِ الطَّلَاقِ وَطَلَاقِ الْحَائِضِ

১২১১

حَدَّثَنِي يَحْيَى عَنْ مَالِك عَنْ نَافِعٍ أَنَّ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عُمَرَ طَلَّقَ امْرَأَتَهُ وَهِيَ حَائِضٌ عَلَى عَهْدِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَسَأَلَ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنْ ذَلِكَ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مُرْهُ فَلْيُرَاجِعْهَا ثُمَّ يُمْسِكْهَا حَتَّى تَطْهُرَ ثُمَّ تَحِيضَ ثُمَّ تَطْهُرَ ثُمَّ إِنْ شَاءَ أَمْسَكَ بَعْدُ وَإِنْ شَاءَ طَلَّقَ قَبْلَ أَنْ يَمَسَّ فَتِلْكَ الْعِدَّةُ الَّتِي أَمَرَ اللَّهُ أَنْ يُطَلَّقَ لَهَا النِّسَاءُ

বর্ণনাকারী: নাফি‘ (রহঃ)

রেওয়ায়ত ৫৩. নাফি’ (রাহঃ) হইতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর যুগে আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাযিঃ) তাহার স্ত্রীকে তালাক দিলেন। তাহার স্ত্রী তখন ঋতুবতী, উমর ইবনে খাত্তাব (রাযিঃ) এই ব্যাপারে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)কে জিজ্ঞাসা করিলেন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলিলেনঃ তাহাকে নির্দেশ দাও যেন সে স্ত্রীর দিকে প্রত্যাবর্তন করে, তারপর পবিত্রতা লাভ করা পর্যন্ত পুনরায় ঋতু আসা এবং উহা হইতে পবিত্র হওয়া পর্যন্ত স্ত্রীকে এমনই রাখিবে। অতঃপর ইচ্ছা করিলে স্ত্রী হিসাবে রাখিবে অথবা ইচ্ছা করিলে সহবাসের পূর্বে তালাক দিবে। ইহাই সেই ইদ্দত যাহার প্রতি লক্ষ্য রাখিয়া স্ত্রীদিগকে তালাক দেওয়ার ব্যাপারে আল্লাহ তাআলা নির্দেশ দিয়াছেন।

২১. তালাকের ইদ্দতে উল্লিখিত ’আকরা’ এবং ঋতুবতী স্ত্রীলোকের তালাকের বর্ণনা

بَاب مَا جَاءَ فِي الْأَقْرَاءِ وَعِدَّةِ الطَّلَاقِ وَطَلَاقِ الْحَائِضِ

১২১২

وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِك عَنْ ابْنِ شِهَابٍ عَنْ عُرْوَةَ بْنِ الزُّبَيْرِ عَنْ عَائِشَةَ أُمِّ الْمُؤْمِنِينَ أَنَّهَا انْتَقَلَتْ حَفْصَةَ بِنْتَ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبِي بَكْرٍ الصِّدِّيقِ حِينَ دَخَلَتْ فِي الدَّمِ مِنْ الْحَيْضَةِ الثَّالِثَةِ قَالَ ابْنُ شِهَابٍ فَذُكِرَ ذَلِكَ لِعَمْرَةَ بِنْتِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ فَقَالَتْ صَدَقَ عُرْوَةُ وَقَدْ جَادَلَهَا فِي ذَلِكَ نَاسٌ فَقَالُوا إِنَّ اللَّهَ تَبَارَكَ وَتَعَالَى يَقُولُ فِي كِتَابِهِ ثَلَاثَةَ قُرُوءٍ فَقَالَتْ عَائِشَةُ صَدَقْتُمْ تَدْرُونَ مَا الْأَقْرَاءُ إِنَّمَا الْأَقْرَاءُ الْأَطْهَارُ

বর্ণনাকারী: উরওয়া ইবনে যুবায়র (রহঃ)

রেওয়ায়ত ৫৪. উরওয়া ইবনে যুবায়র (রাহঃ) হইতে বর্ণিত-হাফসা বিনতে আব্দির রহমান ইবনে আবী বকর সিদ্দীক (রাযিঃ)-কে (তাহার স্বামী মুনজির ইবনে যুবায়র কর্তৃক তাহাকে তালাক দেওয়ার পর) যখন তিনি তৃতীয় ঋতুতে প্রবেশ করিয়াছিলেন তখন তাহার স্বামীর গৃহ হইতে লইয়া যাওয়া হয়। ইবনে শিহাব বলেনঃ আমর বিনতে আব্দির রহমানের নিকট এই ঘটনা উল্লেখ করা হইল। তিনি বলিলেনঃ উরওয়া ইবনে যুবায়র (রাযিঃ) কি বলিয়াছেন অনেক লোক এই বিষয়ে আয়েশা (রাযিঃ)-এর সহিত বিতর্কে লিপ্ত হইয়াছেন। তাহারা বলিলেনঃ আল্লাহ তাআলা কুরআনে ইরশাদ করিয়াছেন (ثلاثة قروء) (তিন কুরু) অর্থাৎ, তালাকপ্রাপ্ত স্ত্রীগণ তিন কুরু (قروء) ঋতু (তুহর পর্যন্ত ইদ্দত পালন করিবে)। (উত্তরে) আয়েশা (রাযিঃ) বলিলেন, আপনারা ঠিকই বলিয়াছেন। কিন্তু আকরা اقراء এর অর্থ কি তাহা আপনারা জানেন কি? اقراء হইতেছে তুহর (ঋতুর পরের পবিত্রতা)।

১২১৩

وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِك عَنْ ابْنِ شِهَابٍ أَنَّهُ قَالَ سَمِعْتُ أَبَا بَكْرِ بْنَ عَبْدِ الرَّحْمَنِ يَقُولُ مَا أَدْرَكْتُ أَحَدًا مِنْ فُقَهَائِنَا إِلَّا وَهُوَ يَقُولُ هَذَا يُرِيدُ قَوْلَ عَائِشَةَ

বর্ণনাকারী: ইবনে শিহাব যুহরী (রহঃ)

রেওয়ায়ত ৫৫. ইবনে শিহাব (রাহঃ) বলেনঃ আবু বকর ইবনে আব্দির রহমান (রাহঃ)-কে আমি বলিতে শুনিয়াছি, আমাদের ফকীহদের প্রত্যেককে আয়েশার উক্তির মতো এই ব্যাপারে কথা বলিতে শুনিয়াছি।

১২১৪

وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِك عَنْ نَافِعٍ وَزَيْدِ بْنِ أَسْلَمَ عَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ يَسَارٍ أَنَّ الْأَحْوَصَ هَلَكَ بِالشَّامِ حِينَ دَخَلَتْ امْرَأَتُهُ فِي الدَّمِ مِنْ الْحَيْضَةِ الثَّالِثَةِ وَقَدْ كَانَ طَلَّقَهَا فَكَتَبَ مُعَاوِيَةُ بْنُ أَبِي سُفْيَانَ إِلَى زَيْدِ بْنِ ثَابِتٍ يَسْأَلُهُ عَنْ ذَلِكَ فَكَتَبَ إِلَيْهِ زَيْدُ بْنُ ثَابِتٍ إِنَّهَا إِذَا دَخَلَتْ فِي الدَّمِ مِنْ الْحَيْضَةِ الثَّالِثَةِ فَقَدْ بَرِئَتْ مِنْهُ وَبَرِئَ مِنْهَا وَلَا تَرِثُهُ وَلَا يَرِثُهَا

বর্ণনাকারী: সুলাইমান ইবনে ইয়াসার (রহঃ)

রেওয়ায়ত ৫৬. সুলায়মান ইবনে ইয়াসার (রাহঃ) হইতে বর্ণিত, আহওয়াস (রাযিঃ) সিরিয়াতে ইন্তিকাল করিলেন। তখন তাহার স্ত্রী, যাহাকে তিনি পূর্বে তালাক দিয়াছিলেন, তৃতীয় ঋতুতে প্রবেশ করিয়াছিলেন। মু’আবিয়া ইবনে আবী সুফিয়ান এই বিষয়ে প্রশ্ন করিয়া যায়দ ইবনে সাবিত (রাযিঃ)-এর নিকট পত্র লিখিলেন। যায়দ (রাযিঃ) (উত্তরে) তাহার নিকট লিখিলেন, স্ত্রী যদি তৃতীয় ঋতুতে প্রবেশ করে তবে সে স্বামী হইতে পৃথক হইয়া গিয়াছে। তাহার স্বামীও তাহা হইতে পৃথক হইয়াছে। সে স্বামীর মীরাস পাইবে না, তাহার স্বামীও তাহার মীরাস পাইবে না।

১২১৫

وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِك أَنَّهُ بَلَغَهُ عَنْ الْقَاسِمِ بْنِ مُحَمَّدٍ وَسَالِمِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ وَأَبِي بَكْرِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ وَسُلَيْمَانَ بْنِ يَسَارٍ وَابْنِ شِهَابٍ أَنَّهُمْ كَانُوا يَقُولُونَ إِذَا دَخَلَتْ الْمُطَلَّقَةُ فِي الدَّمِ مِنْ الْحَيْضَةِ الثَّالِثَةِ فَقَدْ بَانَتْ مِنْ زَوْجِهَا وَلَا مِيرَاثَ بَيْنَهُمَا وَلَا رَجْعَةَ لَهُ عَلَيْهَا

বর্ণনাকারী: মালিক ইবনে আনাস (রহঃ)

রেওয়ায়ত ৫৭. মালিক (রাহঃ) বলেনঃ তাহার নিকট রেওয়ায়ত পৌছিয়াছে যে, কাসিম ইবনে মুহাম্মাদ, সালিম ইবনে আব্দুল্লাহ, আবু বকর ইবনে আব্দির রহমান, সুলায়মান ইবনে ইয়াসার ও ইবনে শিহাব (রাহঃ) তাহারা সকলে বলিতেন-তালাকপ্রাপ্ত স্ত্রীলোক তৃতীয় ঋতুস্রাবে প্রবেশ করিলে সে স্বামী হইতে পৃথক হইয়া যাইবে। তাহাদের মধ্যে মীরাস চলিবে না, আর স্বামীর জন্য স্ত্রীর দিকে রুজু করা চলিবে না।

১২১৬

وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِك عَنْ نَافِعٍ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ أَنَّهُ كَانَ يَقُولُ إِذَا طَلَّقَ الرَّجُلُ امْرَأَتَهُ فَدَخَلَتْ فِي الدَّمِ مِنْ الْحَيْضَةِ الثَّالِثَةِ فَقَدْ بَرِئَتْ مِنْهُ وَبَرِئَ مِنْهَا قَالَ مَالِك وَهُوَ الْأَمْرُ عِنْدَنَا

বর্ণনাকারী: নাফি‘ (রহঃ)

রেওয়ায়ত ৫৮. নাফি’ (রাহঃ) হইতে বর্ণিত, আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাযিঃ) বলিতেন, কোন ব্যক্তি স্ত্রীকে তালাক দেওয়ার পর স্ত্রী তৃতীয় ঋতুস্রাবে প্রবেশ করিলে স্বামী হইতে পৃথক হইয়া যাইবে এবং স্বামী তাহা হইতে পৃথক হইয়া যাইবে। স্ত্রী স্বামীর মীরাস পাইবে না এবং স্বামীও স্ত্রীর মীরাস পাইবে না। মালিক (রাহঃ) বলেন, আমাদের সিদ্ধান্ত অনুরূপ।

১২১৭

وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِك عَنْ الْفُضَيْلِ بْنِ أَبِي عَبْدِ اللَّهِ مَوْلَى الْمَهْرِيِّ أَنَّ الْقَاسِمَ بْنَ مُحَمَّدٍ وَسَالِمَ بْنَ عَبْدِ اللَّهِ كَانَا يَقُولَانِ إِذَا طُلِّقَتْ الْمَرْأَةُ فَدَخَلَتْ فِي الدَّمِ مِنْ الْحَيْضَةِ الثَّالِثَةِ فَقَدْ بَانَتْ مِنْهُ وَحَلَّتْ

বর্ণনাকারী: কাসিম ইবনে মুহাম্মাদ (রহঃ)

রেওয়ায়ত ৫৯. কাসিম ইবনে মুহাম্মাদ ও সালিম ইবনে আব্দিল্লাহ্ তাহারা উভয়ে বলিতেন, কোন স্ত্রী তালাকপ্রাপ্ত হওয়ার পর তৃতীয় ঋতুস্রাবে প্রবেশ করিলে সে স্বামী হইতে পৃথক হইয়া যাইবে এবং (অন্য স্বামীর পাণি গ্রহণ করার জন্য) হালাল হইয়া যাইবে।

১২১৮

وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِك أَنَّهُ بَلَغَهُ عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيَّبِ وَابْنِ شِهَابٍ وَسُلَيْمَانَ بْنِ يَسَارٍ أَنَّهُمْ كَانُوا يَقُولُونَ إِنَّ عِدَّةَ الْمُخْتَلِعَةِ ثَلَاثَةُ قُرُوءٍ

বর্ণনাকারী: মালিক ইবনে আনাস (রহঃ)

রেওয়ায়ত ৬০. মালিক (রাহঃ) বলেনঃ তাহার নিকট রেওয়ায়ত পৌছিয়াছে যে, সাঈদ ইবনে মুসায়্যিব ইবনে শিহাব ও সুলায়মান ইবনে ইয়াসার (রাহঃ) ইহারা সকলে বলিতেন, খুলা তালাক গ্রহণকারিণীর ইদ্দত হইতেছে তিন কুরূ (قروء)।

১২১৯

وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِك أَنَّهُ سَمِعَ ابْنَ شِهَابٍ يَقُولُ عِدَّةُ الْمُطَلَّقَةِ الْأَقْرَاءُ وَإِنْ تَبَاعَدَتْ

বর্ণনাকারী: মালিক ইবনে আনাস (রহঃ)

রেওয়ায়ত ৬১. মালিক (রাহঃ) বলেনঃ তিনি ইবনে শিহাব (রাহঃ)-কে বলিতে শুনিয়াছেন, তালাকপ্রাপ্তা স্ত্রীলোকের ইদ্দত হইতেছে আকরা’ (أقراء) যদিও উহা অধিক ব্যবধানে হয়।

১২২০

وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِك عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ عَنْ رَجُلٍ مِنْ الْأَنْصَارِ أَنَّ امْرَأَتَهُ سَأَلَتْهُ الطَّلَاقَ فَقَالَ لَهَا إِذَا حِضْتِ فَآذِنِينِي فَلَمَّا حَاضَتْ آذَنَتْهُ فَقَالَ إِذَا طَهُرْتِ فَآذِنِينِي فَلَمَّا طَهُرَتْ آذَنَتْهُ فَطَلَّقَهَا قَالَ مَالِك وَهَذَا أَحْسَنُ مَا سَمِعْتُ فِي ذَلِكَ

বর্ণনাকারী: ইয়াহয়া ইবনে সাঈদ আনসারী (রহঃ)

রেওয়ায়ত ৬২. ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ (রাহঃ) জনৈক আনসারী ব্যক্তি হইতে বর্ণনা করেন যে, সে আনসারীর স্ত্রী তাহার নিকট তালাক চাহিল। তখন স্ত্রীকে বলিলেন, তোমার ঋতুস্রাব উপস্থিত হইলে আমাকে সংবাদ দিও, অতঃপর স্ত্রীর ঋতুস্রাব হইলে তাহাকে খবর দিল। তিনি বলিলেনঃ যখন তুমি পবিত্রতা অর্জন কর, তখন সংবাদ দিও। সে পবিত্র হওয়ার পর খবর দিল, তারপর স্বামী তাহাকে তালাক দিল।

মালিক (রাহঃ) বলেনঃ আমি যাহা শুনিয়াছি তন্মধ্যে ইহা অতি উত্তম।

২২. যেই গৃহে স্ত্রীকে তালাক দেওয়া হয় সেই গৃহে ইদ্দত পালন করা প্রসঙ্গ

بَاب مَا جَاءَ فِي عِدَّةِ الْمَرْأَةِ فِي بَيْتِهَا إِذَا طُلِّقَتْ فِيهِ

১২২১

حَدَّثَنِي يَحْيَى عَنْ مَالِك عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ عَنْ الْقَاسِمِ بْنِ مُحَمَّدٍ وَسُلَيْمَانَ بْنِ يَسَارٍ أَنَّهُ سَمِعَهُمَا يَذْكُرَانِ أَنَّ يَحْيَى بْنَ سَعِيدِ بْنِ الْعَاصِ طَلَّقَ ابْنَةَ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ الْحَكَمِ الْبَتَّةَ فَانْتَقَلَهَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ الْحَكَمِ فَأَرْسَلَتْ عَائِشَةُ أُمُّ الْمُؤْمِنِينَ إِلَى مَرْوَانَ بْنِ الْحَكَمِ وَهُوَ يَوْمَئِذٍ أَمِيرُ الْمَدِينَةِ فَقَالَتْ اتَّقِ اللَّهَ وَارْدُدْ الْمَرْأَةَ إِلَى بَيْتِهَا فَقَالَ مَرْوَانُ فِي حَدِيثِ سُلَيْمَانَ إِنَّ عَبْدَ الرَّحْمَنِ غَلَبَنِي وَقَالَ مَرْوَانُ فِي حَدِيثِ الْقَاسِمِ أَوَ مَا بَلَغَكِ شَأْنُ فَاطِمَةَ بِنْتِ قَيْسٍ فَقَالَتْ عَائِشَةُ لَا يَضُرُّكَ أَنْ لَا تَذْكُرَ حَدِيثَ فَاطِمَةَ فَقَالَ مَرْوَانُ إِنْ كَانَ بِكِ الشَّرُّ فَحَسْبُكِ مَا بَيْنَ هَذَيْنِ مِنْ الشَّرِّ

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

রেওয়ায়ত ৬৩. ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ ইবনুল আ’স (রাযিঃ) আব্দুর রহমান ইবনে হাকাম (রাহঃ)-এর কন্যাকে তালাকে আল-বাত্তা (বায়েন তালাক) দিলেন। আব্দুর রহমান ইবনে হাকাম কন্যাকে (স্বামীর গৃহ হইতে নিজ গৃহে) সরাইয়া নিলেন। উম্মুল মু’মিনীন আয়েশা (রাযিঃ) মারওয়ান ইবনে হাকামের নিকট লোক প্রেরণ করিলেন। মারওয়ান তখন মদীনার গভর্নর। আয়েশা (রাযিঃ) বলিলেনঃ আল্লাহকে ভয় করুন এবং (ইদ্দত পালনরতা) স্ত্রীকে তাহার স্বামীর গৃহে ফেরত পাঠান। সুলায়মানের রেওয়ায়ত সম্পর্কে মারওয়ান বললেনঃ আব্দুর রহমান আমার উপর জয়ী হইয়াছেন। কাসিমের রেওয়ায়ত সম্পর্কে মারওয়ান বলিলেনঃ আপনার নিকট ফাতেমা বিনতে কায়েসের ব্যাপার পৌছে নাই কি? আয়েশা (রাযিঃ) বলিলেনঃ ফাতেমার ঘটনা,* উল্লেখ না করিলে আপনার কোন ক্ষতি নাই (অর্থাৎ ইহাতে কোন দলীল নাই)। মারওয়ান বলিলেন ; যদি আপনার দৃষ্টিতে স্বামীর গৃহে ফাতেমার ইদ্দত পালনে কোন অসুবিধা থাকে তবে যেহেতু উভয়ের মধ্যে (আবু আমর ও তাহার স্ত্রী আমরা) যথেষ্ট অসুবিধা রহিয়াছে (যে কারণে স্বামীগৃহ ত্যাগ করিয়া অন্যত্র ইদ্দত পালন করা প্রয়োজন হইয়া পড়িয়াছে)। তাই ইহা আপনার সস্তুষ্টির জন্য যথেষ্ট।

১২২২

وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِك عَنْ نَافِعٍ أَنَّ بِنْتَ سَعِيدِ بْنِ زَيْدِ بْنِ عَمْرِو بْنِ نُفَيْلٍ كَانَتْ تَحْتَ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرِو بْنِ عُثْمَانَ بْنِ عَفَّانَ فَطَلَّقَهَا الْبَتَّةَ فَانْتَقَلَتْ فَأَنْكَرَ ذَلِكَ عَلَيْهَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ

বর্ণনাকারী: নাফি‘ (রহঃ)

রেওয়াতে ৬৪. নাফি’ (রাহঃ) হইতে বর্ণিত, সাঈদ ইবনে যায়দ ইবনে আমর ইবনে নুফাইল (রাযিঃ)-এর কন্যা আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনে উসমান ইবনে আফফান (রাহঃ)-এর বিবাহ দিলেন। তিনি স্ত্রীকে তালাকে আল-বাত্তা প্রদান করিলে সে (স্বামীর গৃহ হইতে) সরিয়া যায়, আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাযিঃ) উহার প্রতি সমর্থন জানাইলেন না।

১২২৩

وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِك عَنْ نَافِعٍ أَنَّ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عُمَرَ طَلَّقَ امْرَأَةً لَهُ فِي مَسْكَنِ حَفْصَةَ زَوْجِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَكَانَ طَرِيقَهُ إِلَى الْمَسْجِدِ فَكَانَ يَسْلُكُ الطَّرِيقَ الْأُخْرَى مِنْ أَدْبَارِ الْبُيُوتِ كَرَاهِيَةَ أَنْ يَسْتَأْذِنَ عَلَيْهَا حَتَّى رَاجَعَهَا

বর্ণনাকারী: নাফি‘ (রহঃ)

রেওয়ায়ত ৬৫. নাফি’ (রাহঃ) হইতে বর্ণিত, আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাযিঃ) তাহার জনৈকা স্ত্রীকে নবী-পত্নী হাফসা (রাযিঃ)-এর গৃহে তালাক দিলেন। এই গৃহ তাহার মসজিদে গমনের পথে অবস্থিত ছিল। তাই তিনি অন্য পথে গৃহের পিছন দিয়া মসজিদে গমন করিতেন। ইহা এইজন্য যে, স্ত্রীর দিকে রুজু না করা পর্যন্ত অনুমতি লইয়া তাহার নিকট যাওয়াকে তিনি ভাল মনে করিতেন না।

১২২৪

وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِك عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ أَنَّ سَعِيدَ بْنَ الْمُسَيَّبِ سُئِلَ عَنْ الْمَرْأَةِ يُطَلِّقُهَا زَوْجُهَا وَهِيَ فِي بَيْتٍ بِكِرَاءٍ عَلَى مَنْ الْكِرَاءُ فَقَالَ سَعِيدُ بْنُ الْمُسَيَّبِ عَلَى زَوْجِهَا قَالَ فَإِنْ لَمْ يَكُنْ عِنْدَ زَوْجِهَا قَالَ فَعَلَيْهَا قَالَ فَإِنْ لَمْ يَكُنْ عِنْدَهَا قَالَ فَعَلَى الْأَمِيرِ

বর্ণনাকারী: ইয়াহয়া ইবনে সাঈদ আনসারী (রহঃ)

রেওয়ায়ত ৬৬. ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ (রাহঃ) হইতে বর্ণিত, সাঈদ ইবনে মুসায়্যাব (রাহঃ)-এর নিকট প্রশ্ন করা হইল এইরূপ স্ত্রীলোক সম্বন্ধে, যাহাকে স্বামী তালাক দিয়াছে ভাড়াটে গৃহে। এখন ভাড়ার দায়িত্ব কাহার উপর বর্তাইবে? সাঈদ বললেনঃ ভাড়ার দায়িত্ব স্বামীর উপর ন্যস্ত থাকিবে। প্রশ্নকারী বলিলঃ স্বামী যদি ভাড়া দেওয়ার সামর্থ্য না রাখে? তিনি বলিলেন, তবে উহা প্রদানের দায়িত্ব স্ত্রীর উপর বর্তাইবে। প্রশ্নকারী বলিল, যদি স্ত্রীরও সামর্থ্য না থাকে? সাঈদ বললেন- তখন শহরের শাসনকর্তার উপর দায়িত্ব বর্তাইবে।

২৩. তালাকপ্রাপ্তা স্ত্রীর খোরপোশের বর্ণনা

بَاب مَا جَاءَ فِي نَفَقَةِ الْمُطَلَّقَةِ

১২২৫

حَدَّثَنِي يَحْيَى عَنْ مَالِك عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ يَزِيدَ مَوْلَى الْأَسْوَدِ بْنِ سُفْيَانَ عَنْ أَبِي سَلَمَةَ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَوْفٍ عَنْ فَاطِمَةَ بِنْتِ قَيْسٍ أَنَّ أَبَا عَمْرِو بْنَ حَفْصٍ طَلَّقَهَا الْبَتَّةَ وَهُوَ غَائِبٌ بِالشَّامِ فَأَرْسَلَ إِلَيْهَا وَكِيلُهُ بِشَعِيرٍ فَسَخِطَتْهُ فَقَالَ وَاللَّهِ مَا لَكِ عَلَيْنَا مِنْ شَيْءٍ فَجَاءَتْ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَذَكَرَتْ ذَلِكَ لَهُ فَقَالَ لَيْسَ لَكِ عَلَيْهِ نَفَقَةٌ وَأَمَرَهَا أَنْ تَعْتَدَّ فِي بَيْتِ أُمِّ شَرِيكٍ ثُمَّ قَالَ تِلْكَ امْرَأَةٌ يَغْشَاهَا أَصْحَابِي اعْتَدِّي عِنْدَ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أُمِّ مَكْتُومٍ فَإِنَّهُ رَجُلٌ أَعْمَى تَضَعِينَ ثِيَابَكِ عِنْدَهُ فَإِذَا حَلَلْتِ فَآذِنِينِي قَالَتْ فَلَمَّا حَلَلْتُ ذَكَرْتُ لَهُ أَنَّ مُعَاوِيَةَ بْنَ أَبِي سُفْيَانَ وَأَبَا جَهْمِ بْنَ هِشَامٍ خَطَبَانِي فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَمَّا أَبُو جَهْمٍ فَلَا يَضَعُ عَصَاهُ عَنْ عَاتِقِهِ وَأَمَّا مُعَاوِيَةُ فَصُعْلُوكٌ لَا مَالَ لَهُ انْكِحِي أُسَامَةَ بْنَ زَيْدٍ قَالَتْ فَكَرِهْتُهُ ثُمَّ قَالَ انْكِحِي أُسَامَةَ بْنَ زَيْدٍ فَنَكَحْتُهُ فَجَعَلَ اللَّهُ فِي ذَلِكَ خَيْرًا وَاغْتَبَطْتُ بِهِ

বর্ণনাকারী: বিবিধ

রেওয়ায়ত ৬৭. ফাতেমা বিনতে কায়েস হইতে বর্ণিত, আবু আমর ইবনে হাফস (রাযিঃ) তাহাকে তালাকে আল-বাত্তা দিলেন। তাহার স্বামী তখন সিরিয়াতে ছিলেন। অতঃপর তাহার উকীলকে গমসহ তাহার নিকট পাঠাইলেন। তিনি উহাকে অতি অল্প মনে করিলেন। তাহার উকীল বলিলেন, আমাদের নিকট তোমার প্রাপ্য আর কিছু নাই। তিনি (ফাতেমা) রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর খেদমতে উপস্থিত হইলেন এবং এই ঘটনা উল্লেখ করিলে রাসূল (ﷺ) বলিলেন, তাহার জন্য তোমার খোরপোশ প্রদান জরুরী নহে,* এবং ফাতেমাকে উম্মে শরীফের গৃহে ইদ্দত পালন করিতে তিনি নির্দেশ দিলেন। তারপর বলিলেনঃ (উম্মে শরীফ এমন একজন মহিলা) যাহার গৃহে আমার সাহবিগণ সর্বদা যাতায়াত করিয়া থাকেন। তুমি আব্দুল্লাহ ইবনে উম্মে মাকতুমের গৃহে ইদ্দত পালন কর, কারণ তিনি একজন অন্ধ ব্যক্তি। তোমার বস্ত্র তাহার নিকট উন্মুক্ত হইলেও (ইহাতে তোমার কোন অসুবিধা হইবে না)। ইদ্দত শেষ হওয়ার পর তুমি অন্যের জন্য হালাল হইয়া গেলে আমাকে খবর দিও। ফাতেমা বলিলেনঃ আমি হালাল হওয়ার পর রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) এর নিকট আমার বিষয় উল্লেখ করিলাম এবং বলিলাম, মুয়াবিয়া ইবনে আবি সুফিয়ান (রাহঃ) ও আবু জাহম ইবনে হিশাম (রাযিঃ)। তাহারা উভয়ে আমার নিকট বিবাহের প্রস্তাব দিয়াছেন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলিলেন, আবু জাহম তাহার গর্দান হইতে লাঠি নামায় না। আর মুয়াবিয়া দরিদ্র ব্যক্তি। তাহার ধন-সম্পদ নাই। তুমি উসামা ইবনে যায়দ (রাযিঃ)-কে বিবাহ কর। ফাতেমা বলিলেন, আমি উসামাকে অপছন্দ করি। রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) পুনরায় বলিলেনঃ তুমি উসামা ইবনে যায়দ (রাযিঃ)-কে বিবাহ কর। তারপর আমি তাহাকে বিবাহ করি এবং আল্লাহ ইহাতে অনেক মঙ্গল দান করিয়াছেন, যাহার কারণে আমার প্রতি ঈর্ষা করা হইত।

১২২৬

وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِك أَنَّهُ سَمِعَ ابْنَ شِهَابٍ يَقُولُ الْمَبْتُوتَةُ لَا تَخْرُجُ مِنْ بَيْتِهَا حَتَّى تَحِلَّ وَلَيْسَتْ لَهَا نَفَقَةٌ إِلَّا أَنْ تَكُونَ حَامِلًا فَيُنْفَقُ عَلَيْهَا حَتَّى تَضَعَ حَمْلَهَا قَالَ مَالِك وَهَذَا الْأَمْرُ عِنْدَنَا

বর্ণনাকারী: ইবনে শিহাব যুহরী (রহঃ)

রেওয়ায়ত ৬৮. ইবনে শিহাব (রাহঃ) বলিতেনঃ যে স্ত্রীকে বায়েন তালাক দেওয়া হইয়াছে, সে নিজ গৃহ হইতে (ইদ্দত শেষ হওয়ার পূর্বে) হালাল না হওয়া পর্যন্ত বাহির হইবে না। তাহার জন্য খোরপোশও নাই, কিন্তু যদি গর্ভবতী হয় তবে সন্তান প্রসব পর্যন্ত স্বামী তাহার খোরপোশ দিবে।

মালিক (রাহঃ) বলেনঃ এই ব্যাপারে আমাদের সিদ্ধান্তও অনুরূপ।

২৪. তালাকপ্রাপ্তা বাদীর ইদ্দতের বর্ণনা ও বিধান

بَاب مَا جَاءَ فِي عِدَّةِ الْأَمَةِ مِنْ طَلَاقِ زَوْجِهَا

১২২৭

قَالَ مَالِك الْأَمْرُ عِنْدَنَا فِي طَلَاقِ الْعَبْدِ الْأَمَةَ إِذَا طَلَّقَهَا وَهِيَ أَمَةٌ ثُمَّ عَتَقَتْ بَعْدُ فَعِدَّتُهَا عِدَّةُ الْأَمَةِ لَا يُغَيِّرُ عِدَّتَهَا عِتْقُهَا كَانَتْ لَهُ عَلَيْهَا رَجْعَةٌ أَوْ لَمْ تَكُنْ لَهُ عَلَيْهَا رَجْعَةٌ لَا تَنْتَقِلُ عِدَّتُهَا قَالَ مَالِك وَمِثْلُ ذَلِكَ الْحَدُّ يَقَعُ عَلَى الْعَبْدِ ثُمَّ يَعْتِقُ بَعْدَ أَنْ يَقَعَ عَلَيْهِ الْحَدُّ فَإِنَّمَا حَدُّهُ حَدُّ عَبْدٍ قَالَ مَالِك وَالْحُرُّ يُطَلِّقُ الْأَمَةَ ثَلَاثًا وَتَعْتَدُّ بِحَيْضَتَيْنِ وَالْعَبْدُ يُطَلِّقُ الْحُرَّةَ تَطْلِيقَتَيْنِ وَتَعْتَدُّ ثَلَاثَةَ قُرُوءٍ قَالَ مَالِك فِي الرَّجُلِ تَكُونُ تَحْتَهُ الْأَمَةُ ثُمَّ يَبْتَاعُهَا فَيَعْتِقُهَا إِنَّهَا تَعْتَدُّ عِدَّةَ الْأَمَةِ حَيْضَتَيْنِ مَا لَمْ يُصِبْهَا فَإِنْ أَصَابَهَا بَعْدَ مِلْكِهِ إِيَّاهَا قَبْلَ عِتَاقِهَا لَمْ يَكُنْ عَلَيْهَا إِلَّا الْاسْتِبْرَاءُ بِحَيْضَةٍ

বর্ণনাকারী: মালিক ইবনে আনাস (রহঃ)

রেওয়ায়ত ৬৯. মালিক (রাহঃ) বলেনঃ ক্রীতদাস তাহার ক্রীতদাসী স্ত্রীকে ক্রীতদাসী থাকা অবস্থায় তালাক দিল। তার পর স্ত্রী মুক্তিলাভ করিল। এমতাবস্থায় আমাদের মতে তাহার ইদ্দত হইবে ক্রীতদাসীর ইদ্দত। মুক্তিলাভ তাহার ইদ্দতে কোন পরিবর্তন আনিবে না। তাঁহার স্বামীর তাহার দিকে প্রত্যাবর্তন করার অধিকার থাকুক আর না থাকুক কোন অবস্থাতেই ইদ্দত পরিবর্তিত হইবে না।

মালিক (রাহঃ) বলেনঃ (ইসলামী বিধান মুতাবিক অপরাধের শাস্তি)- এর ব্যাপারও অনুরূপ। ক্রীতদাসের উপর হদ্দ-এর শাস্তি নিধারণ করা হইল। অতঃপর তাহাকে মুক্তি দেওয়া হইল। তাহার ক্ষেত্রেও হদ্দ ক্রীতদাসের মতোই হইবে।

মালিক (রাহঃ) বলেনঃ আযাদ ব্যক্তি ক্রীতদাসীকে তিন তালাক দিতে পারিবে। সে দুই হায়য (মাসিক ঋতু) ইদ্দত পালন করিবে আর ক্রীতদাস আযাদ রমণীকে দুই তালাক দিতে পরিবে, সে ইদ্দত পালন করিবে তিন কুরু (قروء)।

মালিক (রাহঃ) বলেনঃ যে ব্যক্তির স্ত্রী ক্রীতদাসী, অতঃপর উহাকে সে ক্রয় করিল এবং আযাদ করিয়া দিল, সেও ক্রীতদাসীর মতো দুই হায়য ইদ্দত পালন করিবে যাবৎ তাহার সহিত সহবাস না করা হয়। আর যদি মালিক হওয়ার পর স্বামী তাহার সহিত সহবাস করিয়া থাকে মুক্তি প্রদানের পূর্বে, তবে ইস্তিবরা (জরায়ুকে অন্যের বীর্য হইতে মুক্ত করা) তাহার উপর এক হায়য ব্যতীত অন্য কিছু নাই।

২৫. তালাকের ইদ্দত সম্পৰ্কীয় বিবিধ বর্ণনা

بَاب جَامِعِ عِدَّةِ الطَّلَاقِ

১২২৮
حَدَّثَنِي يَحْيَى عَنْ مَالِك عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ وَعَنْ يَزِيدَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ قُسَيْطٍ اللَّيْثِيِّ عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيَّبِ أَنَّهُ قَالَ قَالَ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ أَيُّمَا امْرَأَةٍ طُلِّقَتْ فَحَاضَتْ حَيْضَةً أَوْ حَيْضَتَيْنِ ثُمَّ رَفَعَتْهَا حَيْضَتُهَا فَإِنَّهَا تَنْتَظِرُ تِسْعَةَ أَشْهُرٍ فَإِنْ بَانَ بِهَا حَمْلٌ فَذَلِكَ وَإِلَّا اعْتَدَّتْ بَعْدَ التِّسْعَةِ أَشْهُرٍ ثَلَاثَةَ أَشْهُرٍ ثُمَّ حَلَّتْ
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِك عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيَّبِ أَنَّهُ كَانَ يَقُولُ الطَّلَاقُ لِلرِّجَالِ وَالْعِدَّةُ لِلنِّسَاءِ

বর্ণনাকারী: হযরত উমর ইবনুল খাত্তাব রাযি.

রেওয়ায়ত ৭০. উমর ইবনে খাত্তাব (রাযিঃ) বলিয়াছেনঃ যেই স্ত্রীকে তালাক দেওয়া হইয়াছে তারপর হায়য (মাসিক ঋতু) আসিয়াছে এক হায়য বা দুই হায়য, অতঃপর তাহার ঋতুস্রাব বন্ধ হইয়া গিয়াছে, সেই স্ত্রী নয় মাস যাবত অপেক্ষা করিবে (ইতিমধ্যে) গৰ্ভ প্রকাশ পাইলে, তবে সন্তান প্রসব দ্বারারা ইদ্দত পালন করিবে, নতুবা নয় মাসের পর তিন মাস ইদ্দত পালন করিবে, তারপর সে অন্যের জন্য হালাল হইবে।

মালিক (রাহঃ) হইতে বর্ণিত, সাঈদ ইবনে মুসায়্যিব (রাহঃ) বলতেন, পুরুষের জন্য হইল তালাকের অধিকার আর স্ত্রীদের জন্য হইল ইদ্দত।
১২২৯
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِك عَنْ ابْنِ شِهَابٍ عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيَّبِ أَنَّهُ قَالَ عِدَّةُ الْمُسْتَحَاضَةِ سَنَةٌ
قَالَ مَالِك الْأَمْرُ عِنْدَنَا فِي الْمُطَلَّقَةِ الَّتِي تَرْفَعُهَا حَيْضَتُهَا حِينَ يُطَلِّقُهَا زَوْجُهَا أَنَّهَا تَنْتَظِرُ تِسْعَةَ أَشْهُرٍ فَإِنْ لَمْ تَحِضْ فِيهِنَّ اعْتَدَّتْ ثَلَاثَةَ أَشْهُرٍ فَإِنْ حَاضَتْ قَبْلَ أَنْ تَسْتَكْمِلَ الْأَشْهُرَ الثَّلَاثَةَ اسْتَقْبَلَتْ الْحَيْضَ وَإِنْ مَرَّتْ بِهَا تِسْعَةُ أَشْهُرٍ قَبْلَ أَنْ تَحِيضَ اعْتَدَّتْ ثَلَاثَةَ أَشْهُرٍ فَإِنْ حَاضَتْ الثَّانِيَةَ قَبْلَ أَنْ تَسْتَكْمِلَ الْأَشْهُرَ الثَّلَاثَةَ اسْتَقْبَلَتْ الْحَيْضَ فَإِنْ مَرَّتْ بِهَا تِسْعَةُ أَشْهُرٍ قَبْلَ أَنْ تَحِيضَ اعْتَدَّتْ ثَلَاثَةَ أَشْهُرٍ فَإِنْ حَاضَتْ الثَّالِثَةَ كَانَتْ قَدْ اسْتَكْمَلَتْ عِدَّةَ الْحَيْضِ فَإِنْ لَمْ تَحِضْ اسْتَقْبَلَتْ ثَلَاثَةَ أَشْهُرٍ ثُمَّ حَلَّتْ وَلِزَوْجِهَا عَلَيْهَا فِي ذَلِكَ الرَّجْعَةُ قَبْلَ أَنْ تَحِلَّ إِلَّا أَنْ يَكُونَ قَدْ بَتَّ طَلَاقَهَا قَالَ مَالِك السُّنَّةُ عِنْدَنَا أَنَّ الرَّجُلَ إِذَا طَلَّقَ امْرَأَتَهُ وَلَهُ عَلَيْهَا رَجْعَةٌ فَاعْتَدَّتْ بَعْضَ عِدَّتِهَا ثُمَّ ارْتَجَعَهَا ثُمَّ فَارَقَهَا قَبْلَ أَنْ يَمَسَّهَا أَنَّهَا لَا تَبْنِي عَلَى مَا مَضَى مِنْ عِدَّتِهَا وَأَنَّهَا تَسْتَأْنِفُ مِنْ يَوْمَ طَلَّقَهَا عِدَّةً مُسْتَقْبَلَةً وَقَدْ ظَلَمَ زَوْجُهَا نَفْسَهُ وَأَخْطَأَ إِنْ كَانَ ارْتَجَعَهَا وَلَا حَاجَةَ لَهُ بِهَا قَالَ مَالِك وَالْأَمْرُ عِنْدَنَا أَنَّ الْمَرْأَةَ إِذَا أَسْلَمَتْ وَزَوْجُهَا كَافِرٌ ثُمَّ أَسْلَمَ فَهُوَ أَحَقُّ بِهَا مَا دَامَتْ فِي عِدَّتِهَا فَإِنْ انْقَضَتْ عِدَّتُهَا فَلَا سَبِيلَ لَهُ عَلَيْهَا وَإِنْ تَزَوَّجَهَا بَعْدَ انْقِضَاءِ عِدَّتِهَا لَمْ يُعَدَّ ذَلِكَ طَلَاقًا وَإِنَّمَا فَسَخَهَا مِنْهُ الْإِسْلَامُ بِغَيْرِ طَلَاقٍ

বর্ণনাকারী: সাঈদ ইবনুল মুসাইয়্যাব (রহঃ)

রেওয়ায়ত ৭১. সাঈদ ইবনে মুসায়্যিব (রাহঃ) বলিয়াছেনঃ মুসতাহাজা (রোগের কারণে যাহার অনিয়মিত স্রাব হয়) ঐ নারীর ইদ্দত হইতেছে এক বৎসর।

মালিক (রাহঃ) বলেনঃ তালাকপ্রাপ্তা স্ত্রীলোক সম্পর্কে আমাদের মাস’আলা হইল, এই তালাকপ্রাপ্ত হওয়ার পর যেই স্ত্রীলোকের রক্তস্রাব বন্ধ হইয়া যায়, সে নয় মাস পর্যন্ত অপেক্ষা করিবে। এই নয় মাসের মধ্যে ঋতুস্রাব না হইলে তবে তিন মাস ইদ্দত পালন করিবে। আর তিন মাস পূর্ণ করার পূর্বে যদি ঋতুস্রাব হয় তবে পুনরায় হায়য-এর ইদ্দত পালন শুরু করবে। কিন্তু যদি হায়য আসার পূর্বে নয় মাস পূর্ণ হইয়া যায় তবে তিন মাস ইদ্দত পালন করবে। আর তৃতীয় মাসে উপনীত হইয়াছে এমন অবস্থায় যদি ঋতুস্রাব হয় তবে সে ইদ্দতের সময় পূর্ণ করিয়াছে। অন্য পক্ষে যদি তাহার ঋতুস্রাব না হয় তবে তিনমাস ইদ্দত পূর্ণ করিবে। তারপর অন্য স্বামীর রুজু করার অধিকার থাকিবে, কিন্তু যদি সে বায়েন তালাক দিয়া থাকে তবে আর রুজু করিতে পারিবে না।

মালিক (রাহঃ) বলেনঃ আমাদের নিকট সুন্নত (নিয়ম হইল) এই যে, যদি কোন লোক তাহার স্ত্রীকে তালাক দেয় এবং সেই স্ত্রীকে পুনরায় গ্রহণ করার (রুজু করা) ইখতিয়ারও তাহার থাকে, এমতাবস্থায় স্ত্রী কিছু ইদ্দত পালন করিয়াছে। অতঃপর স্বামী তাহার প্রতি রুজু করিয়াছে এবং তাহাকে স্পর্শ করার পূর্বে পুনরায় তালাক দিয়াছে। তবে সেই স্ত্রী ইদ্দতের যাহা অতীত হইয়াছে উহার উপর ভিত্তি করিবে না বরং সে তাহাকে (দ্বিতীয়বার) তালাক দেওয়ার দিন হইতে নূতনভাবে ইদ্দত পালন করিবে, তাহার স্বামী এইরূপ করিয়া নিজের ক্ষতি করিয়াছে এবং তাহার আবশ্যক না থাকিলে স্ত্রীর দিকে রুজু করিয়া সে ভুল করিয়াছে।

মালিক (রাহঃ) বলেনঃ স্ত্রী যদি ইসলাম গ্রহণ করে তাহার স্বামী (তখনও) কাফের। তারপর স্বামীও ইসলাম গ্রহণ করিল, তবে আমাদের নিকট ফয়সালা হইতেছে এইঃ ইদ্দতে থাকা পর্যন্ত সময়ের মধ্যে তাহার স্বামী তাহার হকদার হইবে, আর যদি ইদ্দত শেষ হইয়া যায় তবে তাহার জন্য স্ত্রীকে পাওয়ার কোন পথ নাই। আর যদি ইদ্দত সমাপ্তির পর তাহাকে বিবাহ করে তবে পূর্বে প্রদত্ত তালাক তালাক বলিয়া গণ্য হইবে না। এই ঘটনায় স্ত্রীকে বিচ্ছেদ করাইয়াছে ইসলাম গ্রহণ, তালাক নহে।

২৬. পঞ্চায়েত বা সালিসের ব্যক্তিদ্বয়

بَاب مَا جَاءَ فِي الْحَكَمَيْنِ

১২৩০

حَدَّثَنِي يَحْيَى عَنْ مَالِك أَنَّهُ بَلَغَهُ أَنَّ عَلِيَّ بْنَ أَبِي طَالِبٍ قَالَ فِي الْحَكَمَيْنِ اللَّذَيْنِ قَالَ اللَّهُ تَعَالَى وَإِنْ خِفْتُمْ شِقَاقَ بَيْنِهِمَا فَابْعَثُوا حَكَمًا مِنْ أَهْلِهِ وَحَكَمًا مِنْ أَهْلِهَا إِنْ يُرِيدَا إِصْلَاحًا يُوَفِّقْ اللَّهُ بَيْنَهُمَا إِنَّ اللَّهَ كَانَ عَلِيمًا خَبِيرًا إِنَّ إِلَيْهِمَا الْفُرْقَةَ بَيْنَهُمَا وَالْاجْتِمَاعَ قَالَ مَالِك وَذَلِكَ أَحْسَنُ مَا سَمِعْتُ مِنْ أَهْلِ الْعِلْمِ أَنَّ الْحَكَمَيْنِ يَجُوزُ قَوْلُهُمَا بَيْنَ الرَّجُلِ وَامْرَأَتِهِ فِي الْفُرْقَةِ وَالْاجْتِمَاعِ

বর্ণনাকারী: মালিক ইবনে আনাস (রহঃ)

রেওয়ায়ত ৭২. মালিক (রাহঃ) বলেনঃ তাহার নিকট রেওয়ায়ত পৌছিয়াছে যে, আলী ইবনে আবি তালীব (রাযিঃ) হাকামাইন (حكمين সালিসের ব্যক্তিদ্বয়) সম্পর্কে বলিয়াছেন (যাহাদের বিষয়ে) আল্লাহ্ তাআলা বলিয়াছেনঃ

وَإِنْ خِفْتُمْ شِقَاقَ بَيْنِهِمَا فَابْعَثُوا حَكَمًا مِنْ أَهْلِهِ وَحَكَمًا مِنْ أَهْلِهَا إِنْ يُرِيدَا إِصْلاَحًا يُوَفِّقِ اللَّهُ بَيْنَهُمَا إِنَّ اللَّهَ كَانَ عَلِيمًا خَبِيرًا

অর্থাৎ স্বামী-স্ত্রী উভয়ের মধ্যে তোমরা যদি বিবাদের আশঙ্কা কর তবে স্বামীর পরিজন হইতে একজন এবং স্ত্রীর পরিজন হইতে একজন হাকম ( حكم ফয়সালাকারী, বিবাদ মীমাংসাকারী) প্রেরণ কর যদি তাহারা উভয়ে মীমাংসার ইচ্ছা করেন। আল্লাহ তাহদের তাওফীক দান করিবেন, আল্লাহ নিশ্চয় সর্বজ্ঞ, সর্ববিষয়ে অবহিত ।

অর্থাৎ-তাহাদের হাতে স্বামী-স্ত্রী উভয়ের বিচ্ছেদ ও মিলন-এই দুইয়ের সুযোগ রহিয়াছে।

মালিক (রাহঃ) বলেনঃ সালিসের ব্যক্তিদ্বয়ের ফয়সালা স্বামী-স্ত্রীর বিচ্ছেদ ও মিলনের ব্যাপারে প্রযোজ্য হইবে, ইহাই সর্বোত্তম যাহা আমি আলিম ব্যক্তিদের নিকট শুনিয়াছি।

২৭. যাহাকে বিবাহ করা হয় নাই তাহাকে তালাক দেওয়ার কসম খাওয়া সম্পর্কে বর্ণনা

بَاب مَا جَاءَ فِي يَمِينِ الرَّجُلِ بِطَلَاقِ مَا لَمْ يَنْكِحْ

১২৩১

وَحَدَّثَنِي يَحْيَى عَنْ مَالِك أَنَّهُ بَلَغَهُ أَنَّ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ وَعَبْدَ اللَّهِ بْنَ عُمَرَ وَعَبْدَ اللَّهِ بْنَ مَسْعُودٍ وَسَالِمَ بْنَ عَبْدِ اللَّهِ وَالْقَاسِمَ بْنَ مُحَمَّدٍ وَابْنَ شِهَابٍ وَسُلَيْمَانَ بْنَ يَسَارٍ كَانُوا يَقُولُونَ إِذَا حَلَفَ الرَّجُلُ بِطَلَاقِ الْمَرْأَةِ قَبْلَ أَنْ يَنْكِحَهَا ثُمَّ أَثِمَ إِنَّ ذَلِكَ لَازِمٌ لَهُ إِذَا نَكَحَهَا وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِك أَنَّهُ بَلَغَهُ أَنَّ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ مَسْعُودٍ كَانَ يَقُولُ فِيمَنْ قَالَ كُلُّ امْرَأَةٍ أَنْكِحُهَا فَهِيَ طَالِقٌ إِنَّهُ إِذَا لَمْ يُسَمِّ قَبِيلَةً أَوْ امْرَأَةً بِعَيْنِهَا فَلَا شَيْءَ عَلَيْهِ قَالَ مَالِك وَهَذَا أَحْسَنُ مَا سَمِعْتُ قَالَ مَالِك فِي الرَّجُلِ يَقُولُ لِامْرَأَتِهِ أَنْتِ الطَّلَاقُ وَكُلُّ امْرَأَةٍ أَنْكِحُهَا فَهِيَ طَالِقٌ وَمَالُهُ صَدَقَةٌ إِنْ لَمْ يَفْعَلْ كَذَا وَكَذَا فَحَنِثَ قَالَ أَمَّا نِسَاؤُهُ فَطَلَاقٌ كَمَا قَالَ وَأَمَّا قَوْلُهُ كُلُّ امْرَأَةٍ أَنْكِحُهَا فَهِيَ طَالِقٌ فَإِنَّهُ إِذَا لَمْ يُسَمِّ امْرَأَةً بِعَيْنِهَا أَوْ قَبِيلَةً أَوْ أَرْضًا أَوْ نَحْوَ هَذَا فَلَيْسَ يَلْزَمُهُ ذَلِكَ وَلْيَتَزَوَّجْ مَا شَاءَ وَأَمَّا مَالُهُ فَلْيَتَصَدَّقْ بِثُلُثِهِ

বর্ণনাকারী: মালিক ইবনে আনাস (রহঃ)

রেওয়ায়ত ৭৩. মালিক (রাহঃ) বলেনঃ তাহার নিকট রেওয়ায়ত পৌছিয়াছে যে, উমর ইবনে খাত্তাব (রাযিঃ), আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাযিঃ), আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাযিঃ), সালিম ইবনে আব্দিল্লাহ (রাহঃ), কাসিম ইবনে মুহাম্মাদ (রাহঃ), ইবনে শিহাব (রাহঃ) এবং সুলায়মান ইবনে ইয়াসার (রাহঃ) তাঁহারা সকলেই বলিতেনঃ কোন লোক বিবাহের পূর্বে স্ত্রীকে তালাক দেওয়ার কসম খাইলে তারপর কসম ভাঙ্গিলেও বিবাহ করার পর তালাক অবশ্যম্ভাবী হইবে।

মালিক (রাহঃ) বলেনঃ তাহার নিকট রেওয়ায়ত পৌছিয়াছে যে, আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাযিঃ) বলিতেন, যে ব্যক্তি বলিয়াছে, যে কোন নারীকে আমি বিবাহ করি সে তালাকপ্রাপ্ত হইবে, যদি সে কোন গোত্রকে নির্দিষ্ট না করে অথবা কোন নারীকে নির্দিষ্ট না করে তবে তাহার উপর জরুরী হইবে না। মালিক (রাহঃ) বলেন, ইহাই উত্তম যাহা আমি শুনিয়াছি।

মালিক (রাহঃ) বলেনঃ যে ব্যক্তি নিজের স্ত্রীকে বলিল, তোমাকে তালাক এবং যে কোন নারীকে বিবাহ করি তাহাকেও তালাক এবং আমার মাল সব (আল্লাহর রাস্তায়) সাদ্‌কাস্বরূপ। যদি আমি অমুক অমুক কাজ না করি। পরে কসম ভাঙ্গিয়াছে (এবং সেই সেই কাজও করে নাই)। তিনি [মালিক (রাহঃ)] বলেনঃ সে ব্যক্তির স্ত্রী তালাক হইয়া যাইবে যেমন সে বলিয়াছে, আর তাহার উক্তিঃ যে কোন নারীকে আমি বিবাহ করি উহার প্রতি তালাক, ইহার বিধান সে যদি কোন নারীকে অথবা গোত্রকে অথবা কোন স্থানকে অথবা এরূপ অন্য কিছুকে নির্দিষ্ট না করিয়া থাকে তবে এইরূপ কসমের দ্বারা তাহার উপর কিছুই বাধ্যতামূলক হইবে না, যত ইচ্ছা সে বিবাহ করিতে পারবে। আর তাহার মালের এক-তৃতীয়াংশ সাদ্‌কা করিয়া দিতে হইবে।

২৮. স্ত্রীসহবাসে অক্ষম ব্যক্তিকে সময় প্রদান সম্পর্কে বিধান

بَاب أَجَلِ الَّذِي لَا يَمَسُّ امْرَأَتَهُ

১২৩২

حَدَّثَنِي يَحْيَى عَنْ مَالِك عَنْ ابْنِ شِهَابٍ عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيَّبِ أَنَّهُ كَانَ يَقُولُ مَنْ تَزَوَّجَ امْرَأَةً فَلَمْ يَسْتَطِعْ أَنْ يَمَسَّهَا فَإِنَّهُ يُضْرَبُ لَهُ أَجَلٌ سَنَةً فَإِنْ مَسَّهَا وَإِلَّا فُرِّقَ بَيْنَهُمَا

বর্ণনাকারী: সাঈদ ইবনুল মুসাইয়্যাব (রহঃ)

রেওয়ায়ত ৭৪. সাঈদ ইবনে মুসায়্যিব (রাহঃ) বলিতেন, যে ব্যক্তি কোন নারীকে বিবাহ করিয়াছে এবং উহার সহিত সহবাস করার ক্ষমতা তাহার নাই, তবে তাহাকে এক বৎসর সময় দেওয়া হইবে। (এই সময়ের মধ্যে) যদি স্ত্রীর সহিত সহবাস করিতে পারে তবে মহিলাটি তাহার স্ত্রী থাকিবে, অন্যথায় উভয়কে পৃথক করিয়া দেওয়া হইবে।

১২৩৩

وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِك أَنَّهُ سَأَلَ ابْنَ شِهَابٍ مَتَى يُضْرَبُ لَهُ الْأَجَلُ أَمِنْ يَوْمِ يَبْنِي بِهَا أَمْ مِنْ يَوْمِ تُرَافِعُهُ إِلَى السُّلْطَانِ فَقَالَ بَلْ مِنْ يَوْمِ تُرَافِعُهُ إِلَى السُّلْطَانِ قَالَ مَالِك فَأَمَّا الَّذِي قَدْ مَسَّ امْرَأَتَهُ ثُمَّ اعْتَرَضَ عَنْهَا فَإِنِّي لَمْ أَسْمَعْ أَنَّهُ يُضْرَبُ لَهُ أَجَلٌ وَلَا يُفَرَّقُ بَيْنَهُمَا

বর্ণনাকারী: মালিক ইবনে আনাস (রহঃ)

রেওয়ায়ত ৭৫. মালিক (রাহঃ) ইবনে শিহাবের নিকট প্রশ্ন করিলেন, স্বামীকে কখন হইতে সময় নির্দিষ্ট করিয়া দেওয়া হইবে? নির্জন বাস (خوة) হইতে না (হাকিমের নিকট) বিষয় উপস্থাপিত হওয়ার সময় হইতে? তিনি বলিলেন, সময় দেওয়া হইবে হাকিমের নিকট মোকদ্দমা উপস্থাপনের দিন হইতে।

মালিক (রাহঃ) বলেনঃ যে ব্যক্তি নিজের স্ত্রীর সহিত সহবাস করিয়াছে, অতঃপর সহবাসে অক্ষমতা প্রকাশ পাইয়াছে, এই ব্যক্তির জন্য কোন সময় নির্দিষ্ট করা এবং তাহাদের উভয়ের মধ্যে বিচ্ছেদ ঘটানো হইবে না। এই সম্পর্কে আমি (মালিক) কিছুই শুনি নাই, অর্থাৎ এই ব্যাপারে পূর্ববর্তী ফকীহদের নিকট হইতে কোন রেওয়ায়ত বা সিদ্ধান্তের কথা তিনি শুনেন নাই।

২৯. তালাকের বিবিধ প্রসঙ্গ

بَاب جَامِعِ الطَّلَاقِ

১২৩৪

وَحَدَّثَنِي يَحْيَى عَنْ مَالِك عَنْ ابْنِ شِهَابٍ أَنَّهُ قَالَ بَلَغَنِي أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ لِرَجُلٍ مِنْ ثَقِيفٍ أَسْلَمَ وَعِنْدَهُ عَشْرُ نِسْوَةٍ حِينَ أَسْلَمَ الثَّقَفِيُّ أَمْسِكْ مِنْهُنَّ أَرْبَعًا وَفَارِقْ سَائِرَهُنَّ

বর্ণনাকারী: ইবনে শিহাব যুহরী (রহঃ)

রেওয়ায়ত ৭৬. ইবনে শিহাব (রাহঃ) বলিয়াছেন, আমার নিকট রেওয়ায়ত পৌছিয়াছে যে, সাকীফ গোত্রের এক ব্যক্তি মুসলমান হইয়াছেন। তাহার দশটি বিবি ছিল। যখন তিনি ইসলাম ধর্মে দীক্ষিত হন, তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাহাকে উহাদের মধ্য হইতে চারটিকে রাখিতে এবং অন্য সকলকে ত্যাগ করিতে নির্দেশ দিলেন।*

১২৩৫

وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِك عَنْ ابْنِ شِهَابٍ أَنَّهُ قَالَ سَمِعْتُ سَعِيدَ بْنَ الْمُسَيَّبِ وَحُمَيْدَ بْنَ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَوْفٍ وَعُبَيْدَ اللَّهِ بْنَ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُتْبَةَ بْنِ مَسْعُودٍ وَسُلَيْمَانَ بْنَ يَسَارٍ كُلُّهُمْ يَقُولُ سَمِعْتُ أَبَا هُرَيْرَةَ يَقُولُ سَمِعْتُ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ يَقُولُ أَيُّمَا امْرَأَةٍ طَلَّقَهَا زَوْجُهَا تَطْلِيقَةً أَوْ تَطْلِيقَتَيْنِ ثُمَّ تَرَكَهَا حَتَّى تَحِلَّ وَتَنْكِحَ زَوْجًا غَيْرَهُ فَيَمُوتَ عَنْهَا أَوْ يُطَلِّقَهَا ثُمَّ يَنْكِحُهَا زَوْجُهَا الْأَوَّلُ فَإِنَّهَا تَكُونُ عِنْدَهُ عَلَى مَا بَقِيَ مِنْ طَلَاقِهَا قَالَ مَالِك وَعَلَى ذَلِكَ السُّنَّةُ عِنْدَنَا الَّتِي لَا اخْتِلَافَ فِيهَا

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

রেওয়ায়ত ৭৭. আবু হুরায়রা (রাযিঃ) বলেনঃ আমি উমর ইবনে খাত্তাব (রাযিঃ)-কে বলিতে শুনিয়াছি, যেই স্ত্রীকে তাহার স্বামী এক তালাক অথবা দুই তালাক দিয়াছে, তারপর ইদ্দতের সময় অতিবাহিত করিয়া হালাল হওয়া এবং দ্বিতীয় স্বামী গ্রহণ করা পর্যন্ত তাহাকে প্রথম স্বামী পরিত্যাগ করিয়া রাখিয়াছে, এমতাবস্থায় দ্বিতীয় স্বামী তাহাকে বিবাহ করার পর দ্বিতীয় স্বামীর মৃত্যু হওয়া অথবা সেই স্ত্রীকে তালাক দেওয়ার পর প্রথম স্বামী পুনরায় সেই স্ত্রীকে বিবাহ করিয়াছে, তবে সেই স্ত্রী অবশিষ্ট (এক অথবা দুই) তালাকের অধিকারিণী হইয়া প্রথম স্বামীর স্ত্রীরূপে বহাল থাকিবে।

মালিক (রাহঃ) বলেনঃ আমাদের নিকটও মাস’আলার ফয়সালা এইরূপ, ইহাতে কোন মতানৈক্য নাই।
১২৩৬

وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِك عَنْ ثَابِتِ بْنِ الْأَحْنَفِ أَنَّهُ تَزَوَّجَ أُمَّ وَلَدٍ لِعَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ زَيْدِ بْنِ الْخَطَّابِ قَالَ فَدَعَانِي عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ زَيْدِ بْنِ الْخَطَّابِ فَجِئْتُهُ فَدَخَلْتُ عَلَيْهِ فَإِذَا سِيَاطٌ مَوْضُوعَةٌ وَإِذَا قَيْدَانِ مِنْ حَدِيدٍ وَعَبْدَانِ لَهُ قَدْ أَجْلَسَهُمَا فَقَالَ طَلِّقْهَا وَإِلَّا وَالَّذِي يُحْلَفُ بِهِ فَعَلْتُ بِكَ كَذَا وَكَذَا قَالَ فَقُلْتُ هِيَ الطَّلَاقُ أَلْفًا قَالَ فَخَرَجْتُ مِنْ عِنْدِهِ فَأَدْرَكْتُ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عُمَرَ بِطَرِيقِ مَكَّةَ فَأَخْبَرْتُهُ بِالَّذِي كَانَ مِنْ شَأْنِي فَتَغَيَّظَ عَبْدُ اللَّهِ وَقَالَ لَيْسَ ذَلِكَ بِطَلَاقٍ وَإِنَّهَا لَمْ تَحْرُمْ عَلَيْكَ فَارْجِعْ إِلَى أَهْلِكَ قَالَ فَلَمْ تُقْرِرْنِي نَفْسِي حَتَّى أَتَيْتُ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ الزُّبَيْرِ وَهُوَ يَوْمَئِذٍ بِمَكَّةَ أَمِيرٌ عَلَيْهَا فَأَخْبَرْتُهُ بِالَّذِي كَانَ مِنْ شَأْنِي وَبِالَّذِي قَالَ لِي عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ قَالَ فَقَالَ لِي عَبْدُ اللَّهِ بْنُ الزُّبَيْرِ لَمْ تَحْرُمْ عَلَيْكَ فَارْجِعْ إِلَى أَهْلِكَ وَكَتَبَ إِلَى جَابِرِ بْنِ الْأَسْوَدِ الزُّهْرِيِّ وَهُوَ أَمِيرُ الْمَدِينَةِ يَأْمُرُهُ أَنْ يُعَاقِبَ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عَبْدِ الرَّحْمَنِ وَأَنْ يُخَلِّيَ بَيْنِي وَبَيْنَ أَهْلِي قَالَ فَقَدِمْتُ الْمَدِينَةَ فَجَهَّزَتْ صَفِيَّةُ امْرَأَةُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ امْرَأَتِي حَتَّى أَدْخَلَتْهَا عَلَيَّ بِعِلْمِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ ثُمَّ دَعَوْتُ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عُمَرَ يَوْمَ عُرْسِي لِوَلِيمَتِي فَجَاءَنِي

বর্ণনাকারী: মালিক ইবনে আনাস (রহঃ)

রেওয়ায়ত ৭৮. মালিক (রাহঃ) হইতে বর্ণিত, আব্দুর রহমান ইবনে যায়দ ইবনে খাত্তাব (রাযিঃ)-এর উম্মে ওয়ালাদ-কে সাবিতুল আহনাফ (রাহঃ) বিবাহ করিলেন। সাবিত বলেনঃ আব্দুল্লাহ ইবনে আব্দুর রহমান ইবনে যায়দ ইবনে খাত্তাব (রাযিঃ) আমাকে ডাকিয়া পাঠাইলেন, আমি তাহার নিকট আসিলাম এবং তাহার সমীপে প্রবেশ করিয়া দেখিলাম, সেখানে কয়েকটি চাবুক ও দুইটি লৌহ শিকল (আর তাহার নিকটে রহিয়াছে) উপবিষ্ট তাহার দুইজন ক্রীতদাস। তারপর আমাকে বলিলেন, তুমি স্ত্রীকে তালাক দাও, নতুবা আল্লাহর কসম, আমি তোমাকে এইরূপ এইরূপ করিব (অর্থাৎ চাবুক মারিব ও শিকল পরাইব)। সাবিত বলিলেনঃ (চাপ দেখিয়া) আমি বলিলাম, এই স্ত্রীকে তালাক এক হাজার বার। তারপর সাবিত বলেন- আমি তাহার নিকট হইতে প্রস্থান করিলাম।

মক্কার পথে আমি আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাযিঃ)-এর সাক্ষাত পাইলাম, আমি তাহাকে আমার ব্যাপার অবহিত করিলাম। (শুনিয়া) আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাযিঃ) রাগান্বিত হইলেন এবং বলিলেনঃ ইহা (কোন) তালাক নহে, তোমার স্ত্রী তোমার জন্য হারাম হয় নাই। তুমি তোমার স্ত্রী গ্রহণ কর, আমার মনে (কিন্তু) শান্তি আসিল না। তাই আমি আব্দুল্লাহ ইবনে যুবায়র (রাযিঃ)-এর নিকট হাযির হইলাম। তিনি ছিলেন তখন মক্কার শাসনকর্তা। আমি তাহাকে বিষয়টি অবহিত করিলাম এবং আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাযিঃ) যাহা বলিয়াছেন তাহাও জানাইলাম। (ঘটনা শ্রবণ করিয়া) আব্দুল্লাহ ইবনে যুবায়র (রাযিঃ) আমাকে বলিলেনঃ তোমার স্ত্রী তোমার জন্য হারাম হয় নাই, তুমি তাহার দিকে রুজু কর। তিনি জাবির ইবনে আসওয়াদ যুহরী তৎকালীন মদীনার গভর্নরকে নির্দেশ দিয়া লিখিলেন, আব্দুল্লাহ ইবনে আব্দুর রহমানকে শাস্তি দাও এবং সাবিতের স্ত্রীর সহিত তাহার মিলনের পথে বাধা অপসারিত কর। সাবিত বলেনঃ তখন আমি মদীনাতে যাই। অতঃপর আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাযিঃ)-এর পত্নী সফিয়্যা তাহার স্বামীর জ্ঞাতসারে আমার স্ত্রীকে সজ্জিত করিয়া আমার নিকট প্রেরণ করিলেন। অতঃপর আমি আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাযিঃ)-কে ওয়ালীমার যিয়াফতে আমন্ত্রণ জানাইলাম। তিনি উহা গ্রহণ করেন এবং ওয়ালীমায় যোগদান করেন।
১২৩৭

وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِك عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ دِينَارٍ أَنَّهُ قَالَ سَمِعْتُ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عُمَرَ قَرَأَ يَا أَيُّهَا النَّبِيُّ إِذَا طَلَّقْتُمْ النِّسَاءَ فَطَلِّقُوهُنَّ لِقُبُلِ عِدَّتِهِنَّ قَالَ مَالِك يَعْنِي بِذَلِكَ أَنْ يُطَلِّقَ فِي كُلِّ طُهْرٍ مَرَّةً

বর্ণনাকারী: আব্দুল্লাহ ইবনে দীনার (রহঃ)

রেওয়ায়ত ৭৯. আব্দুল্লাহ ইবনে দীনার বলেনঃ আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাযিঃ) পাঠ করিলেনঃ

يَا أَيُّهَا النَّبِيُّ إِذَا طَلَّقْتُمُ النِّسَاءَ فَطَلِّقُوهُنَّ

হে নবী, তোমরা যখন তোমাদের স্ত্রীগণকে তালাক দিতে ইচ্ছা কর উহাদিগকে তালাক দিও ইদ্দতের প্রারম্ভিক (সময়ের) প্রতি লক্ষ্য করিয়া।

মালিক (রাহঃ) বলেনঃ প্রতি তুহরে (ঋতু হইতে পবিত্র থাকার সময়ে) একটি করিয়া তালাক দেওয়া ইহার উদ্দেশ্য।
১২৩৮

وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِك عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ عَنْ أَبِيهِ أَنَّهُ قَالَ كَانَ الرَّجُلُ إِذَا طَلَّقَ امْرَأَتَهُ ثُمَّ ارْتَجَعَهَا قَبْلَ أَنْ تَنْقَضِيَ عِدَّتُهَا كَانَ ذَلِكَ لَهُ وَإِنْ طَلَّقَهَا أَلْفَ مَرَّةٍ فَعَمَدَ رَجُلٌ إِلَى امْرَأَتِهِ فَطَلَّقَهَا حَتَّى إِذَا شَارَفَتْ انْقِضَاءَ عِدَّتِهَا رَاجَعَهَا ثُمَّ طَلَّقَهَا ثُمَّ قَالَ لَا وَاللَّهِ لَا آوِيكِ إِلَيَّ وَلَا تَحِلِّينَ أَبَدًا فَأَنْزَلَ اللَّهُ تَبَارَكَ وَتَعَالَى الطَّلَاقُ مَرَّتَانِ فَإِمْسَاكٌ بِمَعْرُوفٍ أَوْ تَسْرِيحٌ بِإِحْسَانٍ فَاسْتَقْبَلَ النَّاسُ الطَّلَاقَ جَدِيدًا مِنْ يَوْمِئِذٍ مَنْ كَانَ طَلَّقَ مِنْهُمْ أَوْ لَمْ يُطَلِّقْ

বর্ণনাকারী: হিশাম ইবনে উরওয়া (রহঃ)

রেওয়ায়ত ৮০. হিশাম ইবনে উরওয়া (রাহঃ) তাহার পিতা হইতে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলিয়াছেন (পূর্বে নিয়ম ছিল) স্ত্রীকে তালাক দেওয়ার পর ইদ্দত পূর্ণ হওয়ার পূর্বে উহার দিকে রুজু করার অধিকার প্রত্যেক ব্যক্তির ছিল, যদিও স্ত্রীকে হাজার তালাক দিয়া থাকে। এক ব্যক্তি নিজের স্ত্রীকে তালাক দিল। যখনই ইদ্দত সমাপ্তির প্রান্তে পৌঁছিয়াছে তখন স্বামী তাহার দিকে রুজু করিল। তারপর আবার তালাক দিল, অতঃপর সে বলিলঃ আমি তোমাকে আর কখনও আমার নিকট আশ্রয় দিব না, আমার জন্য তুমি কখনও হালাল হইবে না। তারপর আল্লাহ তাআলা (আয়াত) নাযিল করিলেনঃ

الطَّلاَقُ مَرَّتَانِ فَإِمْسَاكٌ بِمَعْرُوفٍ أَوْ تَسْرِيحٌ بِإِحْسَانٍ

অর্থাৎ, এই তালাক দুই বার। অতঃপর স্ত্রীকে হয় বিধিমত রাখিয়া দিবে অথবা সদয়ভাবে মুক্ত করিয়া দিবে।

সেই দিন হইতে লোকেরা নূতনভাবে গণনা আরম্ভ করিল, যাহারা (ইতিপূর্বে) তালাক দিয়াছিল তাহারাও এবং যাহারা তালাক দেয় নাই তাহারাও।
১২৩৯

وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِك عَنْ ثَوْرِ بْنِ زَيْدٍ الدِّيلِيِّ أَنَّ الرَّجُلَ كَانَ يُطَلِّقُ امْرَأَتَهُ ثُمَّ يُرَاجِعُهَا وَلَا حَاجَةَ لَهُ بِهَا وَلَا يُرِيدُ إِمْسَاكَهَا كَيْمَا يُطَوِّلُ بِذَلِكَ عَلَيْهَا الْعِدَّةَ لِيُضَارَّهَا فَأَنْزَلَ اللَّهُ تَبَارَكَ وَتَعَالَى وَلَا تُمْسِكُوهُنَّ ضِرَارًا لِتَعْتَدُوا وَمَنْ يَفْعَلْ ذَلِكَ فَقَدْ ظَلَمَ نَفْسَهُ يَعِظُهُمْ اللَّهُ بِذَلِكَ

বর্ণনাকারী: বিবিধ

রেওয়ায়ত ৮১. সওর ইবনে যায়দ দীলি (রাহঃ) হইতে বর্ণিত, লোকে স্ত্রীর ক্ষতি সাধনের উদ্দেশ্যে এবং ইদ্দতকে তাহার উপর দীর্ঘ করার জন্য তালাক দিয়া পুনরায় উহার দিকে রুজু করিত অর্থাৎ তাহার সেই স্ত্রীর কোন আবশ্যক নাই এবং উহাকে রাখার কোন ইচ্ছা নাই। তাই আল্লাহ তাআলা আয়াত নাযিল করিয়াছেনঃ

وَلاَ تُمْسِكُوهُنَّ ضِرَارًا لِتَعْتَدُوا وَمَنْ يَفْعَلْ ذَلِكَ فَقَدْ ظَلَمَ نَفْسَهُ

অর্থাৎ, কিন্তু অন্যায়রূপে তাহাদের (স্ত্রীদের) ক্ষতি করিয়া সীমালংঘন উদ্দেশ্যে তাহাদেরকে তোমরা আটকাইয়া রাখিও না। যে এইরূপ করে, সে নিজের প্রতি যুলুম করে।

আল্লাহ তাহাদিগকে উপদেশ দিতেছেন ইহার দ্বারা।
১২৪০

وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِك أَنَّهُ بَلَغَهُ أَنَّ سَعِيدَ بْنَ الْمُسَيَّبِ وَسُلَيْمَانَ بْنَ يَسَارٍ سُئِلَا عَنْ طَلَاقِ السَّكْرَانِ فَقَالَا إِذَا طَلَّقَ السَّكْرَانُ جَازَ طَلَاقُهُ وَإِنْ قَتَلَ قُتِلَ بِهِ قَالَ مَالِك وَعَلَى ذَلِكَ الْأَمْرُ عِنْدَنَا وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِك أَنَّهُ بَلَغَهُ أَنَّ سَعِيدَ بْنَ الْمُسَيَّبِ كَانَ يَقُولُ إِذَا لَمْ يَجِدْ الرَّجُلُ مَا يُنْفِقُ عَلَى امْرَأَتِهِ فُرِّقَ بَيْنَهُمَا قَالَ مَالِك وَعَلَى ذَلِكَ أَدْرَكْتُ أَهْلَ الْعِلْمِ بِبَلَدِنَا

বর্ণনাকারী: মালিক ইবনে আনাস (রহঃ)

রেওয়ায়ত ৮২. মালিক (রাহঃ) বলেনঃ তাহার নিকট রেওয়ায়ত পৌছিয়াছে যে, সাঈদ ইবনে মুসায়্যিব এবং সুলায়মান ইবনে ইয়াসার (রাহঃ) তাহদের উভয়কে নেশাগ্রস্ত (মাতাল) ব্যক্তির তালাক সম্পর্কে প্রশ্ন করা হয়। উভয়ে উত্তর দিলেন, নেশাগ্রস্ত মাতাল ব্যক্তি তালাক দিলে তাহার তালাক বৈধ হইবে। সে কোন ব্যক্তিকে হত্যা করিলে (কিসাসস্বরূপ) তাহাকেও হত্যা করা হইবে।

মালিক (রাহঃ) বলেন, এই ফতোয়াই আমাদের নিকট গৃহীত বা সর্বাধিক সংগত।

মালিক (রাহঃ)-এর নিকট রেওয়ায়ত পৌছিয়াছে যে, সাঈদ ইবনে মুসায়্যিব (রাহঃ) বলতেনঃ স্ত্রীর খোরপোশ দিতে স্বামী অক্ষম হইলে তাহাদের উভয়কে পৃথক করিয়া দেওয়া হইবে।

মালিক (রাহঃ) বলেন, আমাদের শহরের আলিম সমাজকে আমি এই মাস’আলার উপর (এইরূপ ফতোয়া দিতে ও আমল করিতে) দেখিয়াছি।

৩০. স্বামীর মৃত্যু হইয়াছে, স্ত্রী অন্তঃসত্ত্বা - তাহার ইদ্দতের বিবরণ

بَاب عِدَّةِ الْمُتَوَفَّى عَنْهَا زَوْجُهَا إِذَا كَانَتْ حَامِلًا

১২৪১

حَدَّثَنِي يَحْيَى عَنْ مَالِك عَنْ عَبْدِ رَبِّهِ بْنِ سَعِيدِ بْنِ قَيْسٍ عَنْ أَبِي سَلَمَةَ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ أَنَّهُ قَالَ سُئِلَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عَبَّاسٍ وَأَبُو هُرَيْرَةَ عَنْ الْمَرْأَةِ الْحَامِلِ يُتَوَفَّى عَنْهَا زَوْجُهَا فَقَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ آخِرَ الْأَجَلَيْنِ وَقَالَ أَبُو هُرَيْرَةَ إِذَا وَلَدَتْ فَقَدْ حَلَّتْ فَدَخَلَ أَبُو سَلَمَةَ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ عَلَى أُمِّ سَلَمَةَ زَوْجِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَسَأَلَهَا عَنْ ذَلِكَ فَقَالَتْ أُمُّ سَلَمَةَ وَلَدَتْ سُبَيْعَةُ الْأَسْلَمِيَّةُ بَعْدَ وَفَاةِ زَوْجِهَا بِنِصْفِ شَهْرٍ فَخَطَبَهَا رَجُلَانِ أَحَدُهُمَا شَابٌّ وَالْآخَرُ كَهْلٌ فَحَطَّتْ إِلَى الشَّابِّ فَقَالَ الشَّيْخُ لَمْ تَحِلِّي بَعْدُ وَكَانَ أَهْلُهَا غَيَبًا وَرَجَا إِذَا جَاءَ أَهْلُهَا أَنْ يُؤْثِرُوهُ بِهَا فَجَاءَتْ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ قَدْ حَلَلْتِ فَانْكِحِي مَنْ شِئْتِ

বর্ণনাকারী: আবু সালামা ইবনে আব্দুর রহমান ইবনে আউফ (রহঃ)

রেওয়ায়ত ৮৩. আবু সালামা ইবনে আব্দির রহমান (রাহঃ) বলেনঃ আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস ও আবু হুরায়রা (রাযিঃ)-কে প্রশ্ন করা হইল এমন স্ত্রীলোক সম্বন্ধে, যে অস্তঃসত্ত্বা ও তাহার স্বামী ইন্তিকাল করিয়াছে। ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) উত্তরে বলিলেনঃ চার মাস দশ দিন এবং সন্তান প্রসব করা। নির্ধারিত এতদুভয় সময়ের মধ্যে যে সময় দীর্ঘ সে সময় ইদ্দতের সময় বলিয়া বিবেচিত হইবে।*

আবু হুরায়রা (রাযিঃ) বলিলেনঃ সন্তান প্রসব করিলে সে অন্যের জন্য হালাল হইবে। অতঃপর সালামা ইবনে ’আব্দির রহমান নবী (ﷺ)-এর পত্নী উম্মে সালামা (রাযিঃ)-এর সমীপে উপস্থিত হইলেন এবং তাহার নিকট এই ব্যাপারে প্রশ্ন করিলেন। উম্মে সালামা (রাযিঃ) বলিলেনঃ সুবাইয়া** আসলামিয়া (রাযিঃ) তাহার স্বামীর ওফাতের অর্ধমাস পর সন্তান প্রসব করিলেন। ইহার পর দুই ব্যক্তি তাহাকে বিবাহ করার প্রস্তাব প্রেরণ করিলেন। তাহাদের একজন যুবক ও অপর জন হইতেছে আধাবয়সী, তিনি যুবকের (প্রস্তাবের) দিকে ঝুঁকিয়া পড়িলেন । আধাবয়সী (প্রস্তাবকারী) বললেন, তুমি এখন হালাল হও নাই। সুবাইয়ার পরিজন ছিল অনুপস্থিত। তাই তিনি আশা করিলেন যে, তাহারা আসিলে সুবাইয়া-(এর বিবাহ) সম্পর্কে তাহারা আধা বয়সী প্রস্তাবকারীকে অগ্রাধিকার দিবেন। সুবাইয়া রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর খেদমতে উপস্থিত হইলেন এবং রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-এর নিকট তাহার ব্যাপার উল্লেখ করিলেন। রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) উত্তর দিলেনঃ তুমি হালাল হইয়া গিয়াছ, যাহাকে ইচ্ছা তুমি বিবাহ করিতে পার।
১২৪২

وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِك عَنْ نَافِعٍ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ أَنَّهُ سُئِلَ عَنْ الْمَرْأَةِ يُتَوَفَّى عَنْهَا زَوْجُهَا وَهِيَ حَامِلٌ فَقَالَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ إِذَا وَضَعَتْ حَمْلَهَا فَقَدْ حَلَّتْ فَأَخْبَرَهُ رَجُلٌ مِنْ الْأَنْصَارِ كَانَ عِنْدَهُ أَنَّ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ قَالَ لَوْ وَضَعَتْ وَزَوْجُهَا عَلَى سَرِيرِهِ لَمْ يُدْفَنْ بَعْدُ لَحَلَّتْ

বর্ণনাকারী: নাফি‘ (রহঃ)

রেওয়ায়ত ৮৪. নাফি’ (রাহঃ) হইতে বর্ণিত, আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাযিঃ)-কে প্রশ্ন করা হইল অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী সম্পর্কে, যাহার স্বামীর মৃত্যু হইয়াছে। আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাযিঃ) বলিলেনঃ সন্তান প্রসব করিলে সে হালাল হইয়া যাইবে। তাহার নিকট উপস্থিত জনৈক আনসারী তাহাকে খবর দিলেন যে, উমর ইবনে খাত্তাব (রাযিঃ) বলিয়ছেনঃ যদি সে প্রসব করে (অথচ) তাহার স্বামী এখনও খাটে, তাহাকে এখনও দাফন করা হয় নাই, তবু সে হালাল হইয়া গিয়াছে।

১২৪৩

وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِك عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ عَنْ أَبِيهِ عَنْ الْمِسْوَرِ بْنِ مَخْرَمَةَ أَنَّهُ أَخْبَرَهُ أَنَّ سُبَيْعَةَ الْأَسْلَمِيَّةَ نُفِسَتْ بَعْدَ وَفَاةِ زَوْجِهَا بِلَيَالٍ فَقَالَ لَهَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَدْ حَلَلْتِ فَانْكِحِي مَنْ شِئْتِ

বর্ণনাকারী: হিশাম ইবনে উরওয়া (রহঃ)

রেওয়ায়ত ৮৫. হিশাম ইবনে উরওয়া (রাহঃ) তাহার পিতা হইতে বর্ণনা করেন যে, মিসওয়ার ইবনে মাখরামা (রাযিঃ) তাহার নিকট বলিয়াছেনঃ সুবাইয়া আসলামিয়া তাহার স্বামীর ওফাতের কয়েক রাত্র পর সন্তান প্রসব করিলেন।

রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাহাকে বলিলেনঃ তুমি হালাল হইয়া গিয়াছ, এখন যাহাকে ইচ্ছা বিবাহ করিতে পার।
১২৪৪

وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِك عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ عَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ يَسَارٍ أَنَّ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عَبَّاسٍ وَأَبَا سَلَمَةَ بْنَ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَوْفٍ اخْتَلَفَا فِي الْمَرْأَةِ تُنْفَسُ بَعْدَ وَفَاةِ زَوْجِهَا بِلَيَالٍ فَقَالَ أَبُو سَلَمَةَ إِذَا وَضَعَتْ مَا فِي بَطْنِهَا فَقَدْ حَلَّتْ لِلْأَزْوَاجِ وَقَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ آخِرَ الْأَجَلَيْنِ فَجَاءَ أَبُو هُرَيْرَةَ فَقَالَ أَنَا مَعَ ابْنِ أَخِي يَعْنِي أَبَا سَلَمَةَ فَبَعَثُوا كُرَيْبًا مَوْلَى عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَبَّاسٍ إِلَى أُمِّ سَلَمَةَ زَوْجِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَسْأَلُهَا عَنْ ذَلِكَ فَجَاءَهُمْ فَأَخْبَرَهُمْ أَنَّهَا قَالَتْ وَلَدَتْ سُبَيْعَةُ الْأَسْلَمِيَّةُ بَعْدَ وَفَاةِ زَوْجِهَا بِلَيَالٍ فَذَكَرَتْ ذَلِكَ لِرَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ قَدْ حَلَلْتِ فَانْكِحِي مَنْ شِئْتِ قَالَ مَالِك وَهَذَا الْأَمْرُ الَّذِي لَمْ يَزَلْ عَلَيْهِ أَهْلُ الْعِلْمِ عِنْدَنَا

বর্ণনাকারী: সুলাইমান ইবনে ইয়াসার (রহঃ)

রেওয়ায়ত ৮৬. সুলায়মান ইবনে ইয়াসার (রাহঃ) হইতে বর্ণিত, আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস এবং আবু সালামা ইবনে আব্দির রহমান ইবনে আউফ (রাহঃ) তাহারা উভয়ে মতানৈক্য করিলেন সেই স্ত্রী সম্পর্কে, যে স্ত্রী স্বামীর ওফাতের কয়েক রাত্রি পর সন্তান প্রসব করিয়াছে। আবু সালামা (রাহঃ) বলিলেনঃ তাহার পেটে যাহা রহিয়াছে (অর্থাৎ সন্তান) যখন উহা প্রসব করিল তখন সে হালাল হইয়া গেল। ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) বলিলেনঃ দুই নির্দিষ্ট সময় (চার মাস দশ দিন ও সন্তান প্রসব)-এর সর্বশেষ সময়ই তাহার হালাল হওয়ার সীমা। (ইতিমধ্যে) আবু হুরায়রা (রাযিঃ) আসিলেন ও বলিলেনঃ আমি আমার ভাতিজা অর্থাৎ আবু সালামা আব্দির রহমানের সহিত একমত। তারপর তাহারা সকলে আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস কর্তৃক আযাদ ক্রীতদাস কুরাইব (রাহঃ)-কে নবী (ﷺ) এর পত্নী উম্মে সালামা (রাযিঃ)-কে এই বিষয়ে প্রশ্ন করার জন্য প্রেরণ করিলেন। তিনি (প্রশ্ন উত্তর লইয়া) তাহাদের নিকট ফিরিয়া আসিলেন এবং তাঁহাদের জানাইলেন যে, তিনি (উম্মে সালামা) (রাযিঃ) বলিয়াছেনঃ সুবাইয়া আসলামিয়া তাহার স্বামীর ওফাতের কয়েক রাত্রি পর সন্তান প্রসব করিলেন এবং এই ব্যাপার রাসূলুল্লাহ (ﷺ)কে জানাইলেন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলিলেনঃ তুমি হালাল হইয়াছ, এখন যাহাকে ইচ্ছা বিবাহ করিতে পার।

মালিক (রাহঃ) বলেনঃ এই ব্যাপারে মাসআলা অনুরূপ, যাহার উপর আমাদের শহরের (মদীনার) উলামাগণ এই মতের উপরই রহিয়াছেন।

৩১. যাহার স্বামীর মৃত্যু হইয়াছে তাহার জন্য ইদ্দত পালনার্থে নিজ গৃহে অবস্থান করা

بَاب مَقَامِ الْمُتَوَفَّى عَنْهَا زَوْجُهَا فِي بَيْتِهَا حَتَّى تَحِلَّ

১২৪৫

حَدَّثَنِي يَحْيَى عَنْ مَالِك عَنْ سَعْدِ بْنِ إِسْحَقَ بْنِ كَعْبِ بْنِ عُجْرَةَ عَنْ عَمَّتِهِ زَيْنَبَ بِنْتِ كَعْبِ بْنِ عُجْرَةَ أَنَّ الْفُرَيْعَةَ بِنْتَ مَالِكِ بْنِ سِنَانٍ وَهِيَ أُخْتُ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ أَخْبَرَتْهَا أَنَّهَا جَاءَتْ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ تَسْأَلُهُ أَنْ تَرْجِعَ إِلَى أَهْلِهَا فِي بَنِي خُدْرَةَ فَإِنَّ زَوْجَهَا خَرَجَ فِي طَلَبِ أَعْبُدٍ لَهُ أَبَقُوا حَتَّى إِذَا كَانُوا بِطَرَفِ الْقَدُومِ لَحِقَهُمْ فَقَتَلُوهُ قَالَتْ فَسَأَلْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنْ أَرْجِعَ إِلَى أَهْلِي فِي بَنِي خُدْرَةَ فَإِنَّ زَوْجِي لَمْ يَتْرُكْنِي فِي مَسْكَنٍ يَمْلِكُهُ وَلَا نَفَقَةٍ قَالَتْ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ نَعَمْ قَالَتْ فَانْصَرَفْتُ حَتَّى إِذَا كُنْتُ فِي الْحُجْرَةِ نَادَانِي رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَوْ أَمَرَ بِي فَنُودِيتُ لَهُ فَقَالَ كَيْفَ قُلْتِ فَرَدَّدْتُ عَلَيْهِ الْقِصَّةَ الَّتِي ذَكَرْتُ لَهُ مِنْ شَأْنِ زَوْجِي فَقَالَ امْكُثِي فِي بَيْتِكِ حَتَّى يَبْلُغَ الْكِتَابُ أَجَلَهُ قَالَتْ فَاعْتَدَدْتُ فِيهِ أَرْبَعَةَ أَشْهُرٍ وَعَشْرًا قَالَتْ فَلَمَّا كَانَ عُثْمَانُ بْنُ عَفَّانَ أَرْسَلَ إِلَيَّ فَسَأَلَنِي عَنْ ذَلِكَ فَأَخْبَرْتُهُ فَاتَّبَعَهُ وَقَضَى بِهِ

বর্ণনাকারী: বিবিধ

রেওয়ায়ত ৮৭. যায়নাব বিনতে কাব ইবনে উজরাহ (রাযিঃ) হইতে বর্ণিত, আবু সাঈদ খুদরী (রাযিঃ)-এর ভগ্নী ফুরাইয়া বিনতে মালিক ইবনে সিনান (রাযিঃ) তাহাকে খবর দিয়াছেন যে, তিনি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) সমীপে বনী খুদরায় তাহার পরিজনের নিকট চলিয়া যাওয়ার (অনুমতি সম্পর্কে) সওয়াল করার জন্য উপস্থিত হইলেন, কারণ তাহার স্বামী কয়েকটি পলাতক ক্রীতদাসের সন্ধানে বাহির হইয়াছিলেন। যখন (মদীনা হইতে ছয় মাইল দূরে অবস্থিত) কাদুম নামক স্থানের কাছে পৌছিয়া উহাদিগকে পাইলেন। তখন ক্রীতদাসরা তাহাকে হত্যা করিল। ফুরাইয়া বলেনঃ অতঃপর আমি বনী খুদরাতে আমার পরিজনের নিকট ফিরিয়া যাওয়ার বিষয় রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকট প্রশ্ন করিলাম এবং বলিলাম, আমার স্বামী তাহার মালিকানাধীন কোন গৃহ আমার জন্য রাখিয়া যান নাই এবং কোন খোরপোশেরও ব্যবস্থা করিয়া যান নাই। ফুরাইয়া বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলিলেনঃ হ্যাঁ, (তুমি তোমার পরিজনের নিকট যাইতে পার)। ফুরাইয়া বলেন, আমি ফিরিয়া আসিয়া আমার কক্ষে প্রবেশ করিয়াছি। এমন সময় আমাকে রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) আবার আহবান করিলেন অথবা আহবান করিতে নির্দেশ দিলেন। আমি তাহার আহবানে উপস্থিত হইলে তিনি বলিলেন, তুমি কি বলিয়াছিলে (পুনরায় বল)। আমার স্বামীর যে ঘটনা আমি তাহার নিকট উল্লেখ করিয়াছিলাম পুনরায় সেই ঘটনা বর্ণনা করিলাম। (ঘটনা শ্রবণ করার পর) তিনি বলিলেনঃ তোমার গৃহেই অবস্থান কর ইদ্দত শেষ হওয়া পর্যন্ত। ফুরাইয়া বলেনঃ আমি ইহার পর সেই গৃহে চার মাস দশ দিন ইদ্দত পালন করিলাম। তিনি বলেনঃ উসমান ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) আমার নিকট লোক প্রেরণ করিলে আমি তাহাকে ঐ ঘটনার খবর দিলাম। তিনি উহা অনুসরণ করিলেন এবং সেই মুতাবিক ফয়সালাও দিলেন।

১২৪৬
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِك عَنْ حُمَيْدِ بْنِ قَيْسٍ الْمَكِّيِّ عَنْ عَمْرِو بْنِ شُعَيْبٍ عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيَّبِ أَنَّ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ كَانَ يَرُدُّ الْمُتَوَفَّى عَنْهُنَّ أَزْوَاجُهُنَّ مِنْ الْبَيْدَاءِ يَمْنَعُهُنَّ الْحَجَّ
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِك عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ أَنَّهُ بَلَغَهُ أَنَّ السَّائِبَ بْنَ خَبَّابٍ تُوُفِّيَ وَإِنَّ امْرَأَتَهُ جَاءَتْ إِلَى عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ فَذَكَرَتْ لَهُ وَفَاةَ زَوْجِهَا وَذَكَرَتْ لَهُ حَرْثًا لَهُمْ بِقَنَاةَ وَسَأَلَتْهُ هَلْ يَصْلُحُ لَهَا أَنْ تَبِيتَ فِيهِ فَنَهَاهَا عَنْ ذَلِكَ فَكَانَتْ تَخْرُجُ مِنْ الْمَدِينَةِ سَحَرًا فَتُصْبِحُ فِي حَرْثِهِمْ فَتَظَلُّ فِيهِ يَوْمَهَا ثُمَّ تَدْخُلُ الْمَدِينَةَ إِذَا أَمْسَتْ فَتَبِيتُ فِي بَيْتِهَا

বর্ণনাকারী: সাঈদ ইবনুল মুসাইয়্যাব (রহঃ)

রেওয়ায়ত ৮৮. সাঈদ ইবনে মুসায়্যাব (রাহঃ) হইতে বর্ণিত, উমর ইবনে খাত্তাব (রাযিঃ) স্বামীর মৃত্যু হইয়াছে (উক্ত স্ত্রী ইদ্দত পালনরত ছিল) এইরূপ স্ত্রীদিগকে বাইদা নামক স্থান হইতে ফেরত পাঠাইতেন এবং হজ্জ হইতে বিরত রাখিতেন।

ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ (রাহঃ) হইতে বর্ণিত, তাহার নিকট রেওয়ায়ত পৌছিয়াছে যে, সায়িব ইবনে কুবাব (রাযিঃ) ইন্তিকাল করিলেন। তাহার স্ত্রী আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাযিঃ)-এর নিকট উপস্থিত হইলেন এবং তাহার স্বামীর মৃত্যু সংবাদ উল্লেখ করিলেন, আর কানাত নামক স্থানে তাহার স্বামীর একটি শস্যক্ষেত্রের বিষয় তাহার নিকট উল্লেখ করিলেন এবং ইহা জানিতে চাহিলেন তাহার জন্য সেই শস্যক্ষেত্রে রাত্রি যাপন করা বৈধ কিনা? তিনি উহা হইতে তাহাকে বারণ করিলেন। তাই তিনি মদীনা হইতে রাত্রির শেষ ভাগে বাহির হইতেন, ফজরে ক্ষেতে পৌছিয়া যাইতেন, পূর্ণ দিন তথায় অবস্থান করিয়া সন্ধ্যায় আবার মদীনায় প্রত্যাবর্তন করিতেন এবং আপন গৃহে রাত্রি যাপন করিতেন।
১২৪৭

وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِك عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ أَنَّهُ كَانَ يَقُولُ فِي الْمَرْأَةِ الْبَدَوِيَّةِ يُتَوَفَّى عَنْهَا زَوْجُهَا إِنَّهَا تَنْتَوِي حَيْثُ انْتَوَى أَهْلُهَا قَالَ مَالِك وَهَذَا الْأَمْرُ عِنْدَنَا

বর্ণনাকারী: হিশাম ইবনে উরওয়া (রহঃ)

রেওয়ায়ত ৮৯. হিশাম ইবনে উরওয়া (রাহঃ) তাহার পিতা হইতে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলিতেন, গ্রামাঞ্চলের স্ত্রীলোক যাহার স্বামীর মৃত্যু হইয়াছে সে আপন পরিজন যেই স্থানে অবস্থান করে সেই স্থানে অবস্থান করিবে। [মালিক (রাহঃ) বললেনঃ আমাদের নিকটও ফয়সালা অনুরূপ।]

১২৪৮

وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِك عَنْ نَافِعٍ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ أَنَّهُ كَانَ يَقُولُ لَا تَبِيتُ الْمُتَوَفَّى عَنْهَا زَوْجُهَا وَلَا الْمَبْتُوتَةُ إِلَّا فِي بَيْتِهَا

বর্ণনাকারী: নাফি‘ (রহঃ)

রেওয়ায়ত ৯০. নাফি’ (রাহঃ) হইতে বর্ণিত, আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাযিঃ) বলতেন, যে নারীর স্বামী ওফাত পাইয়াছে সে এবং যে স্ত্রীকে তালাক দেওয়া হইয়াছে সেই স্ত্রীলোক আপন স্বামীর গৃহ ব্যতীত অন্য কোথাও রাত্রি যাপন করিবে না।

৩২. উম্মে ওয়ালাদ-এর ইদ্দত তাহার কর্তার মৃত্যু হইলে

بَاب عِدَّةِ أُمِّ الْوَلَدِ إِذَا تُوُفِّيَ عَنْهَا سَيِّدُهَا

১২৪৯

حَدَّثَنِي يَحْيَى عَنْ مَالِك عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ أَنَّهُ قَالَ سَمِعْتُ الْقَاسِمَ بْنَ مُحَمَّدٍ يَقُولُ إِنَّ يَزِيدَ بْنَ عَبْدِ الْمَلِكِ فَرَّقَ بَيْنَ رِجَالٍ وَبَيْنَ نِسَائِهِمْ وَكُنَّ أُمَّهَاتِ أَوْلَادِ رِجَالٍ هَلَكُوا فَتَزَوَّجُوهُنَّ بَعْدَ حَيْضَةٍ أَوْ حَيْضَتَيْنِ فَفَرَّقَ بَيْنَهُمْ حَتَّى يَعْتَدِدْنَ أَرْبَعَةَ أَشْهُرٍ وَعَشْرًا فَقَالَ الْقَاسِمُ بْنُ مُحَمَّدٍ سُبْحَانَ اللَّهِ يَقُولُ اللَّهُ فِي كِتَابِهِ وَالَّذِينَ يُتَوَفَّوْنَ مِنْكُمْ وَيَذَرُونَ أَزْوَاجًا مَا هُنَّ مِنْ الْأَزْوَاجِ

বর্ণনাকারী: ইয়াহয়া ইবনে সাঈদ আনসারী (রহঃ)

রেওয়ায়ত ৯১. ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ (রাহঃ) বলেনঃ আমি কাসিম ইবনে মুহাম্মাদকে বলিতে শুনিয়াছি, ইয়াযিদ ইবনে ’আব্দিল মালিক (রাহঃ) কতিপয় পুরুষ ও তাহাদের স্ত্রীদের মধ্যে বিচ্ছেদ করিয়া দিয়াছেন। সেই স্ত্রীগণ ছিল কতিপয় লোকের উম্মে ওয়ালাদ। তাহারা (উহাদের কর্তারা) ইন্তিকাল করিয়াছেন; অতঃপর এক হায়য অথবা দুই হায়য-এর পর তাহাদিগকে (উপরিউক্ত লোকগুলি) বিবাহ করে তাই তাহাদের মধ্যে বিচ্ছেদ করানো হইয়াছে যেন তাহারা চার মাস দশ দিন ইদ্দত পালন করে। কাসিম ইবনে মুহাম্মাদ বলিলেন, সুবহানাল্লাহ্! আল্লাহ্ তাআলা কিতাবে ইরশাদ করিয়াছেনঃ

وَالَّذِينَ يُتَوَفَّوْنَ مِنْكُمْ وَيَذَرُونَ أَزْوَاجًا

“তোমাদের মধ্যে সপত্নীক অবস্থায় যাহ্যাঁদের মৃত্যু আসন্ন তাহারা যেন তাহদের স্ত্রীদিগকে গৃহ হইতে বহিষ্কার করিয়া তাহাদের এক বৎসরের ভরণ-পোষণের ব্যবস্থা করে।” (অথচ) উম্মে ওয়ালাদগণ পত্নী নহে।
১২৫০
وَحَدَّثَنِي مَالِك عَنْ نَافِعٍ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ أَنَّهُ قَالَ عِدَّةُ أُمِّ الْوَلَدِ إِذَا تُوُفِّيَ عَنْهَا سَيِّدُهَا حَيْضَةٌ
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِك عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ عَنْ الْقَاسِمِ بْنِ مُحَمَّدٍ أَنَّهُ كَانَ يَقُولُ عِدَّةُ أُمِّ الْوَلَدِ إِذَا تُوُفِّيَ عَنْهَا سَيِّدُهَا حَيْضَةٌ قَالَ مَالِك وَهُوَ الْأَمْرُ عِنْدَنَا قَالَ مَالِك وَإِنْ لَمْ تَكُنْ مِمَّنْ تَحِيضُ فَعِدَّتُهَا ثَلَاثَةُ أَشْهُرٍ

বর্ণনাকারী: নাফি‘ (রহঃ)

রেওয়ায়ত ৯২. নাফি’ (রাহঃ) হইতে বর্ণিত, আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাযিঃ) বলিয়াছেন, উম্মে ওয়ালাদ-এর মৃত্যু হইলে তাহার ইদ্দত হইতেছে এক হায়য।

ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ (রাহঃ) হইতে বর্ণিত, কাসিম ইবনে মুহাম্মাদ (রাহঃ) বলিতেন, উম্মে ওয়ালাদ-এর কর্তার মৃত্যু হইলে তাহার ইদ্দত হইবে এক হায়য।

মালিক (রাহঃ) বলেনঃ আমাদের নিকটও মাস্’আলা এইরূপ।

মালিক (রাহঃ) বলেন, উম্মে ওয়ালদ-এর যদি ঋতুস্রাব না হয় তবে তাহার ইদ্দত হইবে তিন মাস।

৩৩. বাদীর ইদ্দত- যদি তাহার কর্তা কিংবা স্বামীর মৃত্যু হয়

بَاب عِدَّةِ الْأَمَةِ إِذَا تُوُفِّيَ سَيِّدُهَا أَوْ زَوْجُهَا

১২৫১

حَدَّثَنِي يَحْيَى عَنْ مَالِك أَنَّهُ بَلَغَهُ أَنَّ سَعِيدَ بْنَ الْمُسَيَّبِ وَسُلَيْمَانَ بْنَ يَسَارٍ كَانَا يَقُولَانِ عِدَّةُ الْأَمَةِ إِذَا هَلَكَ عَنْهَا زَوْجُهَا شَهْرَانِ وَخَمْسُ لَيَالٍ وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِك عَنْ ابْنِ شِهَابٍ مِثْلَ ذَلِكَ

বর্ণনাকারী: মালিক ইবনে আনাস (রহঃ)

রেওয়ায়ত ৯৩. মালিক (রাহঃ) বলেন, তাহার নিকট রেওয়ায়ত পৌছিয়াছে যে, সাঈদ ইবনে মুসায়্যাব ও সুলায়মান ইবনে ইয়াসার (রাহঃ) তাহারা উভয়ে বলিতেন, ক্রীতদাসীর স্বামীর মৃত্যু হইলে তাহার ইদ্দত হইবে দুই মাস ও পাঁচ রাত্রি।

মালিক (রাহঃ) ইবনে শিহাব হইতে অনুরূপ বর্ণনা করিয়াছেন।
১২৫২

قَالَ مَالِك فِي الْعَبْدِ يُطَلِّقُ الْأَمَةَ طَلَاقًا لَمْ يَبُتَّهَا فِيهِ لَهُ عَلَيْهَا فِيهِ الرَّجْعَةُ ثُمَّ يَمُوتُ وَهِيَ فِي عِدَّتِهَا مِنْ طَلَاقِهِ إِنَّهَا تَعْتَدُّ عِدَّةَ الْأَمَةِ الْمُتَوَفَّى عَنْهَا زَوْجُهَا شَهْرَيْنِ وَخَمْسَ لَيَالٍ وَإِنَّهَا إِنْ عَتَقَتْ وَلَهُ عَلَيْهَا رَجْعَةٌ ثُمَّ لَمْ تَخْتَرْ فِرَاقَهُ بَعْدَ الْعِتْقِ حَتَّى يَمُوتَ وَهِيَ فِي عِدَّتِهَا مِنْ طَلَاقِهِ اعْتَدَّتْ عِدَّةَ الْحُرَّةِ الْمُتَوَفَّى عَنْهَا زَوْجُهَا أَرْبَعَةَ أَشْهُرٍ وَعَشْرًا وَذَلِكَ أَنَّهَا إِنَّمَا وَقَعَتْ عَلَيْهَا عِدَّةُ الْوَفَاةِ بَعْدَ مَا عَتَقَتْ فَعِدَّتُهَا عِدَّةُ الْحُرَّةِ قَالَ مَالِك وَهَذَا الْأَمْرُ عِنْدَنَا

বর্ণনাকারী: মালিক ইবনে আনাস (রহঃ)

রেওয়ায়ত ৯৪. মালিক (রাহঃ) বলেনঃ ক্রীতদাস (স্বামী) ক্রীতদাসী (স্ত্রী)-কে এমন তালাক দিল যাহা বাইন নহে এবং উহাতে স্ত্রীর দিকে রুজু করার ইখতিয়ার আছে। তারপর তাহার মৃত্যু ঘটিল এবং স্ত্রী তখন তালাকের ইদ্দত পালন করিতেছে, তবে সে যে ক্রীতদাসীর স্বামীর মৃত্যু হইয়াছে তাহার মতো ইদ্দত পালন করিবে, আর ইহা দুই মাস পাঁচ রাত্রি। আর যদি তাহাকে মুক্তি দান করা হয় তাহার স্বামীর রুজু করার ক্ষমতা থাকাবস্থায়, তারপর তাহার স্বামীর মৃত্যুকাল পর্যন্ত সে স্বামী হইতে বিচ্ছেদ গ্রহণ করে নাই এবং সে তখনও তালাকের ইদ্দতে রহিয়াছে, তবে সে (ক্রীতদাসী) আযাদ মহিলার মতো (যাহার স্বামীর মৃত্যু হইয়াছে) চার মাস দশ দিন ইদ্দত পালন করিবে। ইহা এইজন্য যে, আযাদ হওয়ার পর তাহার উপর (স্বামীর) ওফাতের ইদ্দত বর্তাইয়াছে। তাই তাহার ইদ্দত হইবে আযাদ স্ত্রীর ইদ্দতের মতো।

[মালিক (রাহঃ) বলেনঃ ইহাই আমাদের নির্ধারিত মত।]

৩৪. আযল* এর বর্ণনা

بَاب مَا جَاءَ فِي الْعَزْلِ

১২৫৩

حَدَّثَنِي يَحْيَى عَنْ مَالِك عَنْ رَبِيعَةَ بْنِ أَبِي عَبْدِ الرَّحْمَنِ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ يَحْيَى بْنِ حَبَّانَ عَنْ ابْنِ مُحَيْرِيزٍ أَنَّهُ قَالَ دَخَلْتُ الْمَسْجِدَ فَرَأَيْتُ أَبَا سَعِيدٍ الْخُدْرِيَّ فَجَلَسْتُ إِلَيْهِ فَسَأَلْتُهُ عَنْ الْعَزْلِ فَقَالَ أَبُو سَعِيدٍ الْخُدْرِيُّ خَرَجْنَا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي غَزْوَةِ بَنِي الْمُصْطَلِقِ فَأَصَبْنَا سَبْيًا مِنْ سَبْيِ الْعَرَبِ فَاشْتَهَيْنَا النِّسَاءَ وَاشْتَدَّتْ عَلَيْنَا الْعُزْبَةُ وَأَحْبَبْنَا الْفِدَاءَ فَأَرَدْنَا أَنْ نَعْزِلَ فَقُلْنَا نَعْزِلُ وَرَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بَيْنَ أَظْهُرِنَا قَبْلَ أَنْ نَسْأَلَهُ فَسَأَلْنَاهُ عَنْ ذَلِكَ فَقَالَ مَا عَلَيْكُمْ أَنْ لَا تَفْعَلُوا مَا مِنْ نَسَمَةٍ كَائِنَةٍ إِلَى يَوْمِ الْقِيَامَةِ إِلَّا وَهِيَ كَائِنَةٌ

বর্ণনাকারী: বিবিধ

রেওয়ায়ত ৯৫. ইবনে মুহায়রিয (রাহঃ) হইতে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ আমি মসজিদে প্রবেশ করিলাম। আমি (তথায়) আবু সাঈদ খুদরী (রাযিঃ)-কে দেখিতে পাইলাম এবং আমি তাহার নিকট বসিলাম ও তাহাকে আযল সম্পর্কে প্রশ্ন করিলাম। (উত্তরে) আবু সাঈদ খুদরী (রাযিঃ) বলিলেন, আমরা রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সহিত ‘বনী মুস্তালিক’ যুদ্ধে বাহির হইলাম। আমরা (সেই যুদ্ধে) কিছু সংখ্যক আরবী যুদ্ধবন্দিনী লাভ করিলাম। (এইদিকে) নারীর প্রতি আমাদের প্রবৃত্তি জাগ্রত হইল, স্ত্রী সংশ্রব হইতে দূরে থাকা আমাদের জন্য কঠিন হইয়া দাঁড়াইল। (অপরদিকে) উহাদের মূল্য পাইতেও আমরা আগ্রহী। তাই আমরা (তাহদের সহিত) আযল করার ইচ্ছা করিলাম। আমরা বলিলাম, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদের মধ্যে বিরাজমান; তাহার কাছে জিজ্ঞাসা করার পূর্বে আমরা আযল করিব (ইহা কিরূপে হয়)। আমরা এই বিষয়ে তাহার নিকট প্রশ্ন করিলাম। তিনি বলিলেন, ইহা না করিলে তোমাদের কোন ক্ষতি নাই। কিয়ামত দিবস পর্যন্ত যত প্রাণীর জন্ম অবধারিত উহা অবশ্যই অস্তিতে আসিবে।

৩৪. আযল এর বর্ণনা

بَاب مَا جَاءَ فِي الْعَزْلِ

১২৫৪

وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِك عَنْ أَبِي النَّضْرِ مَوْلَى عُمَرَ بْنِ عُبَيْدِ اللَّهِ عَنْ عَامِرِ بْنِ سَعْدِ بْنِ أَبِي وَقَّاصٍ عَنْ أَبِيهِ أَنَّهُ كَانَ يَعْزِلُ

বর্ণনাকারী: হযরত সা'দ ইবন আবী ওয়াক্কাস রাযি.

রেওয়ায়ত ৯৬. সা’দ ইবনে আবি ওয়াক্কাসের ছেলে আমির ইবনে সা’দ বর্ণনা করেন যে, সা’দ ইবনে আবি ওয়াক্কাস (রাযিঃ) আযল করিতেন ।

১২৫৫

وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِك عَنْ أَبِي النَّضْرِ مَوْلَى عُمَرَ بْنِ عُبَيْدِ اللَّهِ عَنْ ابْنِ أَفْلَحَ مَوْلَى أَبِي أَيُّوبَ الْأَنْصَارِيِّ عَنْ أُمِّ وَلَدٍ لِأَبِي أَيُّوبَ الْأَنْصَارِيِّ أَنَّهُ كَانَ يَعْزِلُ

বর্ণনাকারী: হযরত আবু আইয়ুব আনসারী (রাঃ)

রেওয়ায়ত ৯৭. আবু আইয়ুব আনসারী (রাযিঃ)-এর উম্মে ওয়ালাদ বর্ণনা করেন যে, আবু আইয়ুব আনসারী (রাযিঃ) আযল করিতেন।

১২৫৬

وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِك عَنْ نَافِعٍ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ أَنَّهُ كَانَ لَا يَعْزِلُ وَكَانَ يَكْرَهُ الْعَزْلَ

বর্ণনাকারী: নাফি‘ (রহঃ)

রেওয়ায়ত ৯৮. নাফি’ (রাহঃ) হইতে বর্ণিত, আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাযিঃ) আযল করিতেন না এবং তিনি উহাকে মাকরূহ তাহরীমা জানিতেন।

১২৫৭

وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِك عَنْ ضَمْرَةَ بْنِ سَعِيدٍ الْمَازِنِيِّ عَنْ الْحَجَّاجِ بْنِ عَمْرِو بْنِ غَزِيَّةَ أَنَّهُ كَانَ جَالِسًا عِنْدَ زَيْدِ بْنِ ثَابِتٍ فَجَاءَهُ ابْنُ قَهْدٍ رَجُلٌ مِنْ أَهْلِ الْيَمَنِ فَقَالَ يَا أَبَا سَعِيدٍ إِنَّ عِنْدِي جَوَارِيَ لِي لَيْسَ نِسَائِي اللَّاتِي أُكِنُّ بِأَعْجَبَ إِلَيَّ مِنْهُنَّ وَلَيْسَ كُلُّهُنَّ يُعْجِبُنِي أَنْ تَحْمِلَ مِنِّي أَفَأَعْزِلُ فَقَالَ زَيْدُ بْنُ ثَابِتٍ أَفْتِهِ يَا حَجَّاجُ قَالَ فَقُلْتُ يَغْفِرُ اللَّهُ لَكَ إِنَّمَا نَجْلِسُ عِنْدَكَ لِنَتَعَلَّمَ مِنْكَ قَالَ أَفْتِهِ قَالَ فَقُلْتُ هُوَ حَرْثُكَ إِنْ شِئْتَ سَقَيْتَهُ وَإِنْ شِئْتَ أَعْطَشْتَهُ قَالَ وَكُنْتُ أَسْمَعُ ذَلِكَ مِنْ زَيْدٍ فَقَالَ زَيْدٌ صَدَقَ

বর্ণনাকারী: যায়দ ইবনে ছাবিত (রাঃ)

রেওয়ায়ত ৯৯. হাজ্জাজ ইবনে আমর ইবনে গাযিয়্যা* (রাযিঃ) হইতে বর্ণিত, তিনি যায়দ ইবনে সাবিত (রাযিঃ)-এর নিকট বসা ছিলেন। (ইতিমধ্যে) ইয়ামানের বাসিন্দা ইবনে ফাহদ (জনৈক ব্যক্তি) তাহার নিকট আসিল এবং বলিল, হে আবু সাঈদ, আমার নিকট কয়েকটি বাদী এমন রহিয়াছে যে, আমার স্ত্রীগণ উহাদের তুলনায় আমার নিকট বেশী পছন্দনীয় নহে।আমার দ্বারা উহাদের প্রত্যেকে অন্তঃসত্ত্বা হউক ইহা আমি পছন্দ করি না। তবে আমি আযল করিতে পারি কি? যায়দ বলিলেন, হে হাজ্জাজ; তুমি ফতোয়া দাও; আমি বলিলাম, আল্লাহ আপনাকে মাফ করুন, আমরা আপনার নিকট ইলম শিক্ষার জন্য বসি। তিনি বলিলেনঃ হে হাজ্জাজ। ফতোয়া বলিয়া দাও। হাজ্জাজ বলিলেনঃ তারপর আমি বলিলাম-উহা তোমার ক্ষেত্রে তোমার ইচ্ছা, তুমি উহাতে পানি সিঞ্চন কর অথবা উহাকে পিপাসিত ও শুষ্ক করিয়া রাখ। তিনি বলেন, আমি ইহা যায়দ হইতে শুনিয়াছি। অতঃপর যায়দ বলিলেন, (হাজ্জাজ) সত্য বলিয়াছে।

১২৫৮
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِك عَنْ حُمَيْدِ بْنِ قَيْسٍ الْمَكِّيِّ عَنْ رَجُلٍ يُقَالُ لَهُ ذَفِيفٌ أَنَّهُ قَالَ سُئِلَ ابْنُ عَبَّاسٍ عَنْ الْعَزْلِ فَدَعَا جَارِيَةً لَهُ فَقَالَ أَخْبِرِيهِمْ فَكَأَنَّهَا اسْتَحْيَتْ فَقَالَ هُوَ ذَلِكَ أَمَّا أَنَا فَأَفْعَلُهُ يَعْنِي أَنَّهُ يَعْزِلُ
قَالَ مَالِك لَا يَعْزِلُ الرَّجُلُ الْمَرْأَةَ الْحُرَّةَ إِلَّا بِإِذْنِهَا وَلَا بَأْسَ أَنْ يَعْزِلَ عَنْ أَمَتِهِ بِغَيْرِ إِذْنِهَا وَمَنْ كَانَتْ تَحْتَهُ أَمَةُ قَوْمٍ فَلَا يَعْزِلُ إِلَّا بِإِذْنِهِمْ

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

রেওয়ায়ত ১০০. যফীফ (রাহঃ) হইতে বর্ণিত, ইবনে আব্বাস (রাযিঃ)-কে প্রশ্ন করা হইল আযল সম্পর্কে। তিনি তাহার জনৈকা দাসীকে ডাকিয়া বলিলেন-ইহাদিগকে বাতলাইয়া দাও। দাসী লজ্জাবোধ করিল। ইবনে আব্বাস বলিলেনঃ ইহা তাহাই (অর্থাৎ আযল করা মুবাহ) আমিও উহা করিয়া থাকি অর্থাৎ তিনিও আযল করেন।

মালিক (রাহঃ) বলেনঃ আযাদ স্ত্রীলোকের ব্যাপারে কোন ব্যক্তি তাহার অনুমতি ছাড়া উহার সহিত আযল করাতে কোন দোষ নাই, আর কোন ব্যক্তি কোন গোত্রের দাসীকে বিবাহ করিলে তবে সেই গোত্রের লোকের অনুমতি ছাড়া সেই দাসীর সহিত আযল করিবে না।

৩৫. শোক পালনের ব্যাপারে করণীয় বিষয়ের বর্ণনা

بَاب مَا جَاءَ فِي الْإِحْدَادِ

১২৫৯

حَدَّثَنِي يَحْيَى عَنْ مَالِك عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي بَكْرِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ عَمْرِو بْنِ حَزْمٍ عَنْ حُمَيْدِ بْنِ نَافِعٍ عَنْ زَيْنَبَ بِنْتِ أَبِي سَلَمَةَ أَنَّهَا أَخْبَرَتْهُ بِهَذِهِ الْأَحَادِيثِ الثَّلَاثَةِ قَالَتْ زَيْنَبُ دَخَلْتُ عَلَى أُمِّ حَبِيبَةَ زَوْجِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ حِينَ تُوُفِّيَ أَبُوهَا أَبُو سُفْيَانَ بْنُ حَرْبٍ فَدَعَتْ أُمُّ حَبِيبَةَ بِطِيبٍ فِيهِ صُفْرَةٌ خَلُوقٌ أَوْ غَيْرُهُ فَدَهَنَتْ بِهِ جَارِيَةً ثُمَّ مَسَحَتْ بِعَارِضَيْهَا ثُمَّ قَالَتْ وَاللَّهِ مَا لِي بِالطِّيبِ مِنْ حَاجَةٍ غَيْرَ أَنِّي سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ لَا يَحِلُّ لِامْرَأَةٍ تُؤْمِنُ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ أَنْ تُحِدَّ عَلَى مَيْتٍ فَوْقَ ثَلَاثِ لَيَالٍ إِلَّا عَلَى زَوْجٍ أَرْبَعَةَ أَشْهُرٍ وَعَشْرًا

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন উম্মে হাবীবা (রাঃ)

রেওয়ায়ত ১০১. যয়নাব বিনতে আবু সালামা (রাহঃ) নাফি’ (রাহঃ)-এর নিকট তিনটি হাদীস বর্ণনা করিয়াছেন। তিনি বলেন, আমি নবী করীম (ﷺ)-এর সহধর্মিণী উম্মে হাবীব (রাযিঃ)-এর ঘরে প্রবেশ করিলাম, যখন তাহার পিতা আবু সুফিয়ান ইবনে হারব (রাযিঃ) ইন্তিকাল করেন, তখন তিনি হলুদ বর্ণের কিছু সুগন্ধি চাহিলেন। খুলুক [পাঁচ মিশালী খোশবু যাহাতে কয়েক প্রকারের সুগন্ধি দ্রব্যের সংমিশ্রণ রহিয়াছে যাফরান উহাদের অন্যতম] ছিল বা অন্য কোন সুগন্ধি। তিনি উহা তাহার বাদীকে লাগাইলেন। তারপর তাহার গণ্ডদ্বয়ে (খোশবু মাখা) হাত বুলাইলেন, অতঃপর বলিলেনঃ আল্লাহর কসম! আমার সুগন্ধির কোন প্রয়োজন নাই। কিন্তু আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)কে বলিতে শুনিয়াছি, আল্লাহ ও পরকালের প্রতি ঈমান রাখে এমন নারীর পক্ষে কোন মৃত ব্যক্তির জন্য তিন রাত্রির বেশী শোক পালন করা হালাল নহে। তবে স্ত্রী স্বামীর জন্য চার মাস দশ দিন (শোক পালন করিবে)।

১২৬০

قَالَتْ زَيْنَبُ ثُمَّ دَخَلْتُ عَلَى زَيْنَبَ بِنْتِ جَحْشٍ زَوْجِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ حِينَ تُوُفِّيَ أَخُوهَا فَدَعَتْ بِطِيبٍ فَمَسَّتْ مِنْهُ ثُمَّ قَالَتْ وَاللَّهِ مَا لِي بِالطِّيبِ حَاجَةٌ غَيْرَ أَنِّي سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ لَا يَحِلُّ لِامْرَأَةٍ تُؤْمِنُ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ تُحِدُّ عَلَى مَيْتٍ فَوْقَ ثَلَاثِ لَيَالٍ إِلَّا عَلَى زَوْجٍ أَرْبَعَةَ أَشْهُرٍ وَعَشْرًا

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন যায়নাব বিনতে জাহশ (রাঃ)

রেওয়ায়ত ১০২. যয়নাব বলেনঃ আমি অতঃপর নবী করীম (ﷺ) এর সহধর্মিণী যয়নাব বিনতে জাহশ-এর নিকট আগমন করিলাম, যখন তাহার ভাই-এর ওফাত হইল তখন। তিনি খোশবু আনাইলেন এবং উহা হইতে স্পর্শ করিলেন, তারপর বলিলেন, কসম আল্লাহর! আমার কোন খোশবুর আবশ্যকতা নাই, কিন্তু আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)কে মিম্বরের উপর বলিতে শুনিয়াছি, আল্লাহ ও পরকালের প্রতি ঈমান রাখে এমন কোন নারীর জন্য তিন রাত্রির অতিরিক্ত কোন মৃত ব্যক্তির জন্য শোক পালন করা হালাল নহে। তবে স্ত্রী স্বামীর জন্য চার মাস দশ দিন শোক পালন করিবে।

১২৬১

قَالَتْ زَيْنَبُ وَسَمِعْتُ أُمِّي أُمَّ سَلَمَةَ زَوْجَ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ تَقُولُ جَاءَتْ امْرَأَةٌ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَتْ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّ ابْنَتِي تُوُفِّيَ عَنْهَا زَوْجُهَا وَقَدْ اشْتَكَتْ عَيْنَيْهَا أَفَتَكْحُلُهُمَا فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَا مَرَّتَيْنِ أَوْ ثَلَاثًا كُلُّ ذَلِكَ يَقُولُ لَا ثُمَّ قَالَ إِنَّمَا هِيَ أَرْبَعَةَ أَشْهُرٍ وَعَشْرًا وَقَدْ كَانَتْ إِحْدَاكُنَّ فِي الْجَاهِلِيَّةِ تَرْمِي بِالْبَعْرَةِ عَلَى رَأْسِ الْحَوْلِ قَالَ حُمَيْدُ بْنُ نَافِعٍ فَقُلْتُ لِزَيْنَبَ وَمَا تَرْمِي بِالْبَعْرَةِ عَلَى رَأْسِ الْحَوْلِ فَقَالَتْ زَيْنَبُ كَانَتْ الْمَرْأَةُ إِذَا تُوُفِّيَ عَنْهَا زَوْجُهَا دَخَلَتْ حِفْشًا وَلَبِسَتْ شَرَّ ثِيَابِهَا وَلَمْ تَمَسَّ طِيبًا وَلَا شَيْئًا حَتَّى تَمُرَّ بِهَا سَنَةٌ ثُمَّ تُؤْتَى بِدَابَّةٍ حِمَارٍ أَوْ شَاةٍ أَوْ طَيْرٍ فَتَفْتَضُّ بِهِ فَقَلَّمَا تَفْتَضُّ بِشَيْءٍ إِلَّا مَاتَ ثُمَّ تَخْرُجُ فَتُعْطَى بَعْرَةً فَتَرْمِي بِهَا ثُمَّ تُرَاجِعُ بَعْدُ مَا شَاءَتْ مِنْ طِيبٍ أَوْ غَيْرِهِ قَالَ مَالِك وَالْحِفْشُ الْبَيْتُ الرَّدِيءُ وَتَفْتَضُّ تَمْسَحُ بِهِ جِلْدَهَا كَالنُّشْرَةِ

বর্ণনাকারী: বিবিধ

রেওয়ায়ত ১০৩. যয়নাব বলেন, আমি আমার মাতা নবী করীম (ﷺ)-এর সহধর্মিণী উম্মে সালামা (রাযিঃ)-কে বলিতে শুনিয়াছি, একজন মহিলা রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর খেদমতে উপস্থিত হইলেন এবং বলিলেনঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আমার কন্যার স্বামীর মৃত্যু হইয়াছে, তাহার চক্ষুতে ব্যথা, আমি কি তাহার চক্ষুতে সুরমা লাগাইতে পারি? (উত্তরে) রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলিলেনঃ না, দুইবার অথবা তিনবার বলিলেন; প্রতিবার এইরূপ না বলিলেন। অতঃপর বলিলেনঃ ইদ্দত হইতেছে চার মাস দশ দিন। জাহিলীয়্যা যুগে তোমাদের প্রথা ছিল, একজন এক বৎসর পূর্ণ হইলে উটের মল ছুড়িয়া মারিত। হুমায়িদ ইবনে নাফি’ বলেনঃ আমি যয়নাবকে বলিলাম, এক বৎসর পূর্ণ হইলে উটের মল কেন ছুড়িয়া মারিত? যয়নাব (রাযিঃ) বলিলেন, কোন মেয়েলোকের স্বামীর মৃত্যু হইলে (নিয়ম এই ছিল যে,) সে একটি কুঠরিতে প্রবেশ করিত এবং নিকৃষ্ট বস্ত্র পরিধান করিত, খোশবু এবং এই জাতীয় কোন (সাজ-সজ্জার কোন কিছু) বস্তু স্পর্শ করিত না। এইভাবে এক বৎসর অতিবাহিত হইলে পর তাহার নিকট উপস্থিত করা হইত চতুষ্পদ জন্তু গাধা, বকরী অথবা কোন পাখি এবং উহা দ্বারা (তাহার লজ্জাস্থানে) ঘর্ষণ করা হইত, ঘর্ষণ করার পর সেই জীব প্রায় মারা যাইত, তারপর সে বন্ধ ঘর হইতে বাহির হইত। অতঃপর তাহার সম্মুখে উটের মল উপস্থিত করা হইত সে উহাকে ছুড়িয়া মারিত। তারপর যাহা ইচ্ছা খোশবু ইত্যাদি ব্যবহার করিত।

মালিক (রাহঃ) বলেনঃ হিফশ (حفش) শব্দের অর্থ নিকৃষ্ট ঘর, (تفتض)-এর অর্থ উহাকে দেহের চামড়ায় ঘর্ষণ করিত যেমন করাত।
১২৬২

وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِك عَنْ نَافِعٍ عَنْ صَفِيَّةَ بِنْتِ أَبِي عُبَيْدٍ عَنْ عَائِشَةَ وَحَفْصَةَ زَوْجَيْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ لَا يَحِلُّ لِامْرَأَةٍ تُؤْمِنُ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ أَنْ تُحِدَّ عَلَى مَيْتٍ فَوْقَ ثَلَاثِ لَيَالٍ إِلَّا عَلَى زَوْجٍ

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

রেওয়ায়ত ১০৪. নবী করীম (ﷺ) এর সহধর্মিণীদ্বয় আয়েশা ও হাফসা (রাযিঃ) হইতে বর্ণিত-রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলিয়াছেনঃ আল্লাহ ও পরকালের প্রতি ঈমান রাখে এমন স্ত্রীলোকের জন্য স্বামী ব্যতীত কোন মৃত ব্যক্তির জন্য তিন রাত্রির অতিরিক্ত শোক পালন করা হালাল নহে।

১২৬৩

وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِك أَنَّهُ بَلَغَهُ أَنَّ أُمَّ سَلَمَةَ زَوْجَ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَتْ لِامْرَأَةٍ حَادٍّ عَلَى زَوْجِهَا اشْتَكَتْ عَيْنَيْهَا فَبَلَغَ ذَلِكَ مِنْهَا اكْتَحِلِي بِكُحْلِ الْجِلَاءِ بِاللَّيْلِ وَامْسَحِيهِ بِالنَّهَارِ

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন উম্মে সালামা (রাঃ)

রেওয়ায়ত ১০৫. নবী করীম (ﷺ) এর সহধর্মিণী উম্মে সালামা (রাযিঃ), স্বামীর জন্য শোক পালন করিতেছিল এমন এক মহিলাকে, যাহার চক্ষুতে পীড়া হইয়াছিল এবং চক্ষুপীড়া চরমে পৌছিয়াছিল, বলিয়াছিলেন, ইসমিদ সুরমা রাত্রিতে চক্ষুতে লাগাও, দিনের বেলায় সুরমা মুছিয়া ফেল।

১২৬৪

وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِك أَنَّهُ بَلَغَهُ عَنْ سَالِمِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ وَسُلَيْمَانَ بْنِ يَسَارٍ أَنَّهُمَا كَانَا يَقُولَانِ فِي الْمَرْأَةِ يُتَوَفَّى عَنْهَا زَوْجُهَا إِنَّهَا إِذَا خَشِيَتْ عَلَى بَصَرِهَا مِنْ رَمَدٍ أَوْ شَكْوٍ أَصَابَهَا إِنَّهَا تَكْتَحِلُ وَتَتَدَاوَى بِدَوَاءٍ أَوْ كُحْلٍ وَإِنْ كَانَ فِيهِ طِيبٌ قَالَ مَالِك وَإِذَا كَانَتْ الضَّرُورَةُ فَإِنَّ دِينَ اللَّهِ يُسْرٌ

বর্ণনাকারী: মালিক ইবনে আনাস (রহঃ)

রেওয়ায়ত ১০৬. মালিক (রাহঃ) বলেনঃ তাহার নিকট রেওয়ায়ত পৌছিয়াছে যে, যে স্ত্রীলোকের স্বামী মারা গিয়াছে (সে ইদ্দত পালনরতা) সেই স্ত্রীলোক সম্পর্কে সালিম ইবনে আব্দিল্লাহ ও সুলায়মান ইবনে ইয়াসার (রাহঃ) বলিতেনঃ যদি চক্ষুর প্রতি কোন আশঙ্কা দেখা দেয় চক্ষু উঠা বা অন্য কোন চক্ষুপীড়ার দরুন সে সুরমা লাগাইবে এবং সুরমা অথবা অন্য কোন ঔষধ দ্বারা চিকিৎসা করিবে যদিও উহাতে সুগন্ধ থাকে।

মালিক (রাহঃ) বলেনঃ আবশ্যক হইলে উহা করিবে, কারণ আল্লাহর দীন সহজ।
১২৬৫
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِك عَنْ نَافِعٍ أَنَّ صَفِيَّةَ بِنْتَ أَبِي عُبَيْدٍ اشْتَكَتْ عَيْنَيْهَا وَهِيَ حَادٌّ عَلَى زَوْجِهَا عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ فَلَمْ تَكْتَحِلْ حَتَّى كَادَتْ عَيْنَاهَا تَرْمَصَانِ
قَالَ مَالِك تَدَّهِنُ الْمُتَوَفَّى عَنْهَا زَوْجُهَا بِالزَّيْتِ وَالشِّيرِقِ وَمَا أَشْبَهَ ذَلِكَ إِذَا لَمْ يَكُنْ فِيهِ طِيبٌ قَالَ مَالِك وَلَا تَلْبَسُ الْمَرْأَةُ الْحَادُّ عَلَى زَوْجِهَا شَيْئًا مِنْ الْحَلْيِ خَاتَمًا وَلَا خَلْخَالًا وَلَا غَيْرَ ذَلِكَ مِنْ الْحَلْيِ وَلَا تَلْبَسُ شَيْئًا مِنْ الْعَصْبِ إِلَّا أَنْ يَكُونَ عَصْبًا غَلِيظًا وَلَا تَلْبَسُ ثَوْبًا مَصْبُوغًا بِشَيْءٍ مِنْ الصِّبْغِ إِلَّا بِالسَّوَادِ وَلَا تَمْتَشِطُ إِلَّا بِالسِّدْرِ وَمَا أَشْبَهَهُ مِمَّا لَا يَخْتَمِرُ فِي رَأْسِهَا

বর্ণনাকারী: নাফি‘ (রহঃ)

রেওয়ায়ত ১০৭. নাফি’ (রাহঃ) হইতে বর্ণিত, সফিয়া বিনত আবী উবাইদ-এর চক্ষুতে রোগ দেখা দিল। তিনি তখন তাহার স্বামী আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাযিঃ)-এর মৃত্যুর শোক পালন করিতেছিলেন। তাহার চক্ষু পীড়িত হইয়া চক্ষুদ্বয়ে ছানি পড়িয়াছে, তবুও তিনি সুরমা ব্যবহার করেন নাই। মালিক (রাহঃ) বলেনঃ যে স্ত্রীর স্বামী মারা গিয়াছে সে স্ত্রী ইদ্দতের সময় যায়তুন তৈল এবং এই জাতীয় অন্য তৈল, যাহাতে খোশবু নাই, ব্যবহার করিতে পারিবে।

মালিক (রাহঃ) বলেনঃ স্বামীর জন্য শোক পালনরতা স্ত্রী গহনা পরিধান করিবে না, যেমন আংটি, পায়ের চুড়ি বা অন্য কোন গহনা এবং য়ামানী নামক বস্ত্রও পরিধান করিবে না। যদি উহা মোটা হয় তবে পরিধান করিতে পারবে। কেবলমাত্র কাল রং ব্যতীত কোন প্রকার রং্গীন কাপড় পরিধান করিবে না। কুল পাতা বা সেই জাতীয় বস্তু যাহাতে বর্ণ ও গন্ধ নাই এবং যাহা সুগন্ধি স্বরূপ ব্যবহৃত হয় না। তাহা ব্যতীত অন্য কোন দ্রব্য দ্বারা মাথা ধুইবে না এবং চিরুনী ব্যবহার করিবে না।
১২৬৬

وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِك أَنَّهُ بَلَغَهُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ دَخَلَ عَلَى أُمِّ سَلَمَةَ وَهِيَ حَادٌّ عَلَى أَبِي سَلَمَةَ وَقَدْ جَعَلَتْ عَلَى عَيْنَيْهَا صَبِرًا فَقَالَ مَا هَذَا يَا أُمَّ سَلَمَةَ فَقَالَتْ إِنَّمَا هُوَ صَبِرٌ يَا رَسُولَ اللَّهِ قَالَ اجْعَلِيهِ فِي اللَّيْلِ وَامْسَحِيهِ بِالنَّهَارِ قَالَ مَالِك الْإِحْدَادُ عَلَى الصَّبِيَّةِ الَّتِي لَمْ تَبْلُغْ الْمَحِيضَ كَهَيْئَتِهِ عَلَى الَّتِي قَدْ بَلَغَتْ الْمَحِيضَ تَجْتَنِبُ مَا تَجْتَنِبُ الْمَرْأَةُ الْبَالِغَةُ إِذَا هَلَكَ عَنْهَا زَوْجُهَا قَالَ مَالِك تُحِدُّ الْأَمَةُ إِذَا تُوُفِّيَ عَنْهَا زَوْجُهَا شَهْرَيْنِ وَخَمْسَ لَيَالٍ مِثْلَ عِدَّتِهَا قَالَ مَالِك لَيْسَ عَلَى أُمِّ الْوَلَدِ إِحْدَادٌ إِذَا هَلَكَ عَنْهَا سَيِّدُهَا وَلَا عَلَى أَمَةٍ يَمُوتُ عَنْهَا سَيِّدُهَا إِحْدَادٌ وَإِنَّمَا الْإِحْدَادُ عَلَى ذَوَاتِ الْأَزْوَاجِ

বর্ণনাকারী: মালিক ইবনে আনাস (রহঃ)

রেওয়ায়ত ১০৮. মালিক (রাহঃ) হইতে বর্ণিত, তাহার নিকট রেওয়ায়ত পৌছিয়াছে যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) প্রবেশ করিলেন উম্মে সালামা (রাযিঃ)-এর নিকট। তখন তিনি (তাহার পূর্ব স্বামী) আবু সালামা (রাযিঃ)-এর (মৃত্যুর) শোক পালন করিতেছিলেন। তিনি চক্ষুতে সবির ( صبر-এক প্রকার গাছের নির্যাস) লাগাইয়াছিলেন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) উম্মে সালামাকে বলিলেনঃ ইহা কি? তিনি (উম্মে সালামা) বলিলেনঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! ইহা সবির। তিনি [রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)] বলিলেনঃ ইহা রাত্রিতে ব্যবহার কর এবং দিনে মুছিয়া ফেল।

মালিক (রাহঃ) বলেনঃ যে কিশোরী বালেগা হয় নাই, তাহার শোক পালন বালেগা মহিলার মতো হইবে, তাহার স্বামীর মৃত্যু হইলে বালেগা মহিলা যে সব হইতে বিরত থাকিবে সেও সেই সব (বস্তু বা কার্য) হইতে বিরত থাকিবে।

মালিক (রাহঃ) বলেনঃ বাদী তাহার স্বামীর মৃত্যু হইলে তাহার ইদতের মতো দুই মাস পাচ রাত্রি শোক পালন করিবে।

মালিক (রাহঃ) বলেনঃ উম্মে ওয়ালাদ-এর কর্তার মৃত্যু হইলে তাহাকে শোক পালন করিতে হইবে না। বাদীর কর্তা মারা গেলে তাহার উপরও শোক পালন নাই। শোক পালন করিবে তাহারা, যাহাদের স্বামীর মৃত্যু হইয়াছে।
১২৬৭

وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِك أَنَّهُ بَلَغَهُ أَنَّ أُمَّ سَلَمَةَ زَوْجَ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَتْ تَقُولُ تَجْمَعُ الْحَادُّ رَأْسَهَا بِالسِّدْرِ وَالزَّيْتِ

বর্ণনাকারী: মালিক ইবনে আনাস (রহঃ)

রেওয়ায়ত ১০৯. মালিক (রাহঃ) বলেনঃ তাহার নিকট রেওয়ায়ত পৌছিয়াছে যে, নবী করীম (ﷺ)-এর সহধর্মিণী উম্মে সালামা (রাযিঃ) বলিতেন, শোক পালনরতা স্ত্রী তাহার মাথার চুল কুলপতা ও তেল দ্বারা বাঁধিতে পারবে।