كتاب النذور والأيمان

২২. শপথ ও মান্নতের অধ্যায়

অধ্যায় ২২ · ১৮ টি হাদীস

১. কোথাও হাটিয়া যাওয়ার মান্নত করা

بَاب مَا يَجِبُ مِنْ النُّذُورِ فِي الْمَشْيِ

১০০৮

حَدَّثَنِي يَحْيَى عَنْ مَالِك عَنْ ابْنِ شِهَابٍ عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُتْبَةَ بْنِ مَسْعُودٍ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَبَّاسٍ أَنَّ سَعْدَ بْنَ عُبَادَةَ اسْتَفْتَى رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ إِنَّ أُمِّي مَاتَتْ وَعَلَيْهَا نَذْرٌ وَلَمْ تَقْضِهِ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ اقْضِهِ عَنْهَا

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

রেওয়ায়ত ১. আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) বর্ণনা করেন-সাদ ইবনে উবাদা (রাযিঃ) রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকট জিজ্ঞাসা করিলেন, আমার মাতার ইন্‌তিকাল হইয়া গিয়াছে। তিনি একটা মান্নত করিয়াছিলেন, কিন্তু পূর্ণ করিয়া যাইতে পারেন নাই। এখন কি করা যায়? রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলিলেনঃ তাহার তরফ হইতে তুমিই উহা আদায় করিয়া দাও।

১০০৯

وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِك عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي بَكْرٍ عَنْ عَمَّتِهِ أَنَّهَا حَدَّثَتْهُ عَنْ جَدَّتِهِ أَنَّهَا كَانَتْ جَعَلَتْ عَلَى نَفْسِهَا مَشْيًا إِلَى مَسْجِدِ قُبَاءٍ فَمَاتَتْ وَلَمْ تَقْضِهِ فَأَفْتَى عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عَبَّاسٍ ابْنَتَهَا أَنْ تَمْشِيَ عَنْهَا قَالَ يَحْيَى وَسَمِعْت مَالِك يَقُولُ لَا يَمْشِي أَحَدٌ عَنْ أَحَدٍ

বর্ণনাকারী: বিবিধ

রেওয়ায়ত ২. আব্দুল্লাহ ইবনে আবু বকর (রাযিঃ) হইতে বর্ণিত, তাহার ফুফু বর্ণনা করিয়াছেন, তাহার দাদী মসজিদ-ই কোবায় হ্যাঁটিয়া যাওয়ার মান্নত করিয়াছিলেন, কিন্তু ইহা পূরণ করার পূর্বেই তাহার ইন্‌তিকাল হইয়া যায়। তখন আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) ঐ মান্নত আদায় করিয়া দেওয়ার জন্য তাহার কন্যাকে নির্দেশ দেন।

মালিক (রাহঃ) বলেনঃ কাহারো তরফ হইতে হ্যাঁটিয়া যাওয়ার মান্নত পূরণ করা জরুরী নহে।
১০১০

وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِك عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي حَبِيبَةَ قَالَ قُلْتُ لِرَجُلٍ وَأَنَا حَدِيثُ السِّنِّ مَا عَلَى الرَّجُلِ أَنْ يَقُولَ عَلَيَّ مَشْيٌ إِلَى بَيْتِ اللَّهِ وَلَمْ يَقُلْ عَلَيَّ نَذْرُ مَشْيٍ فَقَالَ لِي رَجُلٌ هَلْ لَكَ أَنْ أُعْطِيَكَ هَذَا الْجِرْوَ لِجِرْوِ قِثَّاءٍ فِي يَدِهِ وَتَقُولُ عَلَيَّ مَشْيٌ إِلَى بَيْتِ اللَّهِ قَالَ فَقُلْتُ نَعَمْ فَقُلْتُهُ وَأَنَا يَوْمَئِذٍ حَدِيثُ السِّنِّ ثُمَّ مَكَثْتُ حَتَّى عَقَلْتُ فَقِيلَ لِي إِنَّ عَلَيْكَ مَشْيًا فَجِئْتُ سَعِيدَ بْنَ الْمُسَيَّبِ فَسَأَلْتُهُ عَنْ ذَلِكَ فَقَالَ لِي عَلَيْكَ مَشْيٌ فَمَشَيْتُ قَالَ مَالِك وَهَذَا الْأَمْرُ عِنْدَنَا

বর্ণনাকারী: সাঈদ ইবনুল মুসাইয়্যাব (রহঃ)

রেওয়ায়ত ৩. আব্দুল্লাহ ইবনে আবু হাবীব (রাযিঃ) বলেন, আমার বয়স তখন অল্প। এক ব্যক্তিকে বলিলাম “বায়তুল্লাহ পর্যন্ত হ্যাঁটিয়া যাওয়ার নযর বা মান্নত করিলাম” কোন ব্যক্তি এই কথা না বলিয়া “বায়তুল্লাহ পর্যন্ত হ্যাঁটিয়া যাওয়া আমার উপর ওয়াজিব” এরূপ বলিলে ইহাতে কোন দোষ নাই। ঐ ব্যক্তি আমাকে তখন বলিল, আমার হাতে এই শসাটি তুমি নিয়া যাও, আর এইটুকু বল দেখি, “বায়তুল্লাহ পর্যন্ত হাটিয়া যাওয়া আমার উপর ওয়াজিব।” আমি বলিলামঃ হ্যাঁ, বলিতেছি এবং ঐ কথা বলিয়া দিলাম। তখন আমি অল্প বয়স্ক ছিলাম। তাই প্রথমে কিছু চিন্তা করি নাই। কিন্তু পরে বুঝ হওয়ার পর চিন্তা হইল। অন্য লোকেরা বলিতে লাগিল, এখন তোমার উপর বায়তুল্লাহ পর্যন্ত হ্যাঁটিয়া যাওয়া ওয়াজিব হইয়াছে। শেষে সাঈদ ইবনে মুসায়্যাব (রাহঃ)-কে আমি এই সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করিলাম। তিনিও আমাকে বলিলেনঃ হ্যাঁ, বায়তুল্লাহ পর্যন্ত তোমাকে হ্যাঁটিয়া যাইতে হইবে। শেষ পর্যন্ত আমি বায়তুল্লাহ পর্যন্ত হ্যাঁটিয়া যাইয়া এই নযর পুরা করিলাম ।

মালিক (রাহঃ) বলেনঃ আমার মতেও হুকুম ইহাই।

২. বায়তুল্লাহ পর্যন্ত হ্যাঁটিয়া যাওয়ার মান্নত করা এবং পরে অক্ষম হওয়া

بَاب مَا جَاءَ فِيمَنْ نَذَرَ مَشْيًا إِلَى بَيْتِ اللَّهِ فَعَجَزَ

১০১১

حَدَّثَنِي يَحْيَى عَنْ مَالِك عَنْ عُرْوَةَ بْنِ أُذَيْنَةَ اللَّيْثِيِّ أَنَّهُ قَالَ خَرَجْتُ مَعَ جَدَّةٍ لِي عَلَيْهَا مَشْيٌ إِلَى بَيْتِ اللَّهِ حَتَّى إِذَا كُنَّا بِبَعْضِ الطَّرِيقِ عَجَزَتْ فَأَرْسَلَتْ مَوْلًى لَهَا يَسْأَلُ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عُمَرَ فَخَرَجْتُ مَعَهُ فَسَأَلَ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عُمَرَ فَقَالَ لَهُ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ مُرْهَا فَلْتَرْكَبْ ثُمَّ لْتَمْشِ مِنْ حَيْثُ عَجَزَتْ قَالَ يَحْيَى وَسَمِعْت مَالِك يَقُولُ وَنَرَى عَلَيْهَا مَعَ ذَلِكَ الْهَدْيَ وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِك أَنَّهُ بَلَغَهُ أَنَّ سَعِيدَ بْنَ الْمُسَيَّبِ وَأَبَا سَلَمَةَ بْنَ عَبْدِ الرَّحْمَنِ كَانَا يَقُولَانِ مِثْلَ قَوْلِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

রেওয়ায়ত ৪. উরওয়াহ ইবনে উয়াইনী লাইসী (রাযিঃ) বর্ণনা করেন-আমার দাদী বায়তুল্লাহ পর্যন্ত হাটিয়া যাওয়ার মান্নত করিয়াছিলেন। তিনি যখন মান্নত পূরণ করিতে যাত্রা করেন আমিও তাহার সহিত চলিলাম। শেষে হ্যাঁটিতে হ্যাঁটিতে অত্যন্ত ক্লান্ত হইয়া পড়িলে তিনি স্বীয় গোলামকে আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাযিঃ)-এর নিকট এই ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করিতে প্রেরণ করেন। আমিও তাহার সহিত গেলাম। আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাযিঃ) জবাবে বলিলেনঃ এখন সে কিছুতে আরোহণ করিয়া যাক। পরে যে স্থান হইতে আরোহণ করিয়াছিল সেই স্থান হইতে পুনরায় তাহাকে হ্যাঁটিয়া যাইতে হইবে।

মালিক (রাহঃ) বলেনঃ ইহার সহিত এই ধরনের ব্যক্তিকে একটি কুরবানীও করিতে হইবে।

মালিক (রাহঃ) জ্ঞাত হইয়াছেন-সাঈদ ইবনে মুসায়্যাব (রাহঃ) এবং আবু সালামা ইবনে আব্দুর রহমানও এই বিষয়ে আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাযিঃ)-এর মতো অভিমত ব্যক্ত করেন।
১০১২
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِك عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ أَنَّهُ قَالَ كَانَ عَلَيَّ مَشْيٌ فَأَصَابَتْنِي خَاصِرَةٌ فَرَكِبْتُ حَتَّى أَتَيْتُ مَكَّةَ فَسَأَلْتُ عَطَاءَ بْنَ أَبِي رَبَاحٍ وَغَيْرَهُ فَقَالُوا عَلَيْكَ هَدْيٌ فَلَمَّا قَدِمْتُ الْمَدِينَةَ سَأَلْتُ عُلَمَاءَهَا فَأَمَرُونِي أَنْ أَمْشِيَ مَرَّةً أُخْرَى مِنْ حَيْثُ عَجَزْتُ فَمَشَيْتُ قَالَ يَحْيَى وَسَمِعْت مَالِك يَقُولُ فَالْأَمْرُ عِنْدَنَا فِيمَنْ يَقُولُ عَلَيَّ مَشْيٌ إِلَى بَيْتِ اللَّهِ أَنَّهُ إِذَا عَجَزَ رَكِبَ ثُمَّ عَادَ فَمَشَى مِنْ حَيْثُ عَجَزَ فَإِنْ كَانَ لَا يَسْتَطِيعُ الْمَشْيَ فَلْيَمْشِ مَا قَدَرَ عَلَيْهِ ثُمَّ لْيَرْكَبْ وَعَلَيْهِ هَدْيُ بَدَنَةٍ أَوْ بَقَرَةٍ أَوْ شَاةٍ إِنْ لَمْ يَجِدْ إِلَّا هِيَ
وَسُئِلَ مَالِك عَنْ الرَّجُلِ يَقُولُ لِلرَّجُلِ أَنَا أَحْمِلُكَ إِلَى بَيْتِ اللَّهِ فَقَالَ مَالِك إِنْ نَوَى أَنْ يَحْمِلَهُ عَلَى رَقَبَتِهِ يُرِيدُ بِذَلِكَ الْمَشَقَّةَ وَتَعَبَ نَفْسِهِ فَلَيْسَ ذَلِكَ عَلَيْهِ وَلْيَمْشِ عَلَى رِجْلَيْهِ وَلْيُهْدِ وَإِنْ لَمْ يَكُنْ نَوَى شَيْئًا فَلْيَحْجُجْ وَلْيَرْكَبْ وَلْيَحْجُجْ بِذَلِكَ الرَّجُلِ مَعَهُ وَذَلِكَ أَنَّهُ قَالَ أَنَا أَحْمِلُكَ إِلَى بَيْتِ اللَّهِ فَإِنْ أَبَى أَنْ يَحُجَّ مَعَهُ فَلَيْسَ عَلَيْهِ شَيْءٌ وَقَدْ قَضَى مَا عَلَيْهِ قَالَ يَحْيَى سُئِلَ مَالِك عَنْ الرَّجُلِ يَحْلِفُ بِنُذُورٍ مُسَمَّاةٍ مَشْيًا إِلَى بَيْتِ اللَّهِ أَنْ لَا يُكَلِّمَ أَخَاهُ أَوْ أَبَاهُ بِكَذَا وَكَذَا نَذْرًا لِشَيْءٍ لَا يَقْوَى عَلَيْهِ وَلَوْ تَكَلَّفَ ذَلِكَ كُلَّ عَامٍ لَعُرِفَ أَنَّهُ لَا يَبْلُغُ عُمْرُهُ مَا جَعَلَ عَلَى نَفْسِهِ مِنْ ذَلِكَ فَقِيلَ لَهُ هَلْ يُجْزِيهِ مِنْ ذَلِكَ نَذْرٌ وَاحِدٌ أَوْ نُذُورٌ مُسَمَّاةٌ فَقَالَ مَالِك مَا أَعْلَمُهُ يُجْزِئُهُ مِنْ ذَلِكَ إِلَّا الْوَفَاءُ بِمَا جَعَلَ عَلَى نَفْسِهِ فَلْيَمْشِ مَا قَدَرَ عَلَيْهِ مِنْ الزَّمَانِ وَلْيَتَقَرَّبْ إِلَى اللَّهِ تَعَالَى بِمَا اسْتَطَاعَ مِنْ الْخَيْرِ

বর্ণনাকারী: ইয়াহয়া ইবনে সাঈদ আনসারী (রহঃ)

রেওয়ায়ত ৫. ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ (রাহঃ) বলেন, আমি বায়তুল্লাহ্ পর্যন্ত হাটিয়া যাওয়ার মান্নত করিয়াছিলাম, কিন্তু কোমরের ব্যথায় আক্রান্ত হইয়া পড়ি। তাই বাহনে চড়িয়া আমাকে মক্কায় আসিতে হইল। আতা ইবনে আবু রাবাহ (রাহঃ) অন্যদেরকে এই সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করিলে তাহারা বলিলেনঃ তোমাকে একটা কুরবানী দিতে হইবে । মদীনায় আসিয়া সেখানকার আলিমদের নিকটও এই বিষয়ে জিজ্ঞাসা করিলাম। তাহারা বলিলেনঃ যে স্থান হইতে সওয়ার হইয়াছিলে সেই স্থান হইতে তোমাকে আবার হ্যাঁটিয়া যাইতে হইবে। শেষে আমি তাহাই করিলাম।

মালিক (রাহঃ) বলেনঃ বায়তুল্লাহ পর্যন্ত পায়ে হ্যাঁটিয়া যাওয়া আমার ওপর ওয়াজিব। এই কথা বলিয়া যদি কেহ হ্যাঁটিয়া যাত্রা শুরু করে এবং পরে অপারক হইয়া যায় তবে সে সওয়ার হইয়া যাইবে এবং পরবর্তী সময়ে যে স্থান হইতে সে অপারক হইয়াছিল সেই স্থান হইতে পুনরায় হ্যাঁটিয়া যাইবে। হ্যাঁটিতে না পারিলে যতদূর সামর্থে কুলায় হ্যাঁটিয়া যাইবে আর বাকীটুকু সওয়ার হইয়া যাইবে এবং একটি উট বা গরু কুরবানী করিবে। সম্ভব না হইলে একটি বকরী কুরবানী করিবে।

মালিক (রাহঃ)-কে জিজ্ঞাসা করা হইয়াছিল, যদি কেহ অন্য একজনকে বলে, তোমাকে আমি বায়তুল্লাহ পর্যন্ত বহন করিয়া লইয়া যাইব, তবে কি হকুম হইবে? তিনি বলিলেন, যদি এই কথা বলার সময় কথকের এই নিয়্যত হইয়া থাকে যে, তাহার ঘাড়ে উঠাইয়া নিয়া যাইবে এবং এইভাবে নিজেকে কষ্টে ফেলাই তাহার উদ্দেশ্য হয়, তবে তাহার উপর কিছুই ওয়াজিব হইবে না বরং সে পায়ে হ্যাঁটিয়া যাইবে এবং একটি কুরবানী দিবে। আর বলার সময় যদি তাহার কিছু নিয়্যত না থাকে, তবে সে সওয়ার হইয়া যাইবে এবং ঐ ব্যক্তিকেও সঙ্গে নিয়া যাইবে। কারণ সে তাহাকে বহন করিয়া লইয়া যাওয়ার অঙ্গীকার করিয়াছিল। ঐ ব্যক্তি যদি সঙ্গে যাইতে না চায় তবে তাহার উপর কিছুই ওয়াজিব হইবে না। কেননা সে আপন অঙ্গীকার রক্ষা করিয়াছে।

মালিক (রাহঃ)-কে জিজ্ঞাসা করা হইয়াছিল-কেহ যদি নির্দিষ্ট কতিপয় মানতের শপথ করে যাহা প্রতি বৎসর চেষ্টা করিলেও সারা জীবনে পূরণ করা অসম্ভব, যেমন সে বলিল, পায়ে হাটিয়া বায়তুল্লাহ যাইব বা এক হাজার বার হজ্জ করিব, ভাই অথবা পিতার সহিত কথা বলিব না ইত্যাদি। সে কি একটি মান্নতই পূরণ করিবে, না সবগুলিই তাহাকে পূরণ করিতে হইবে?

মালিক (রাহঃ) বললেন, আমার মতে সবগুলিই তাহাকে পূরণ করিতে হইবে, যতদিন এবং যতদূর পর্যন্ত সম্ভব হয় সে উহা পূরণ করিতে থাকিবে এবং নেক আমলের মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য লাভের চেষ্টা করিয়া যাইবে।

৩. পায়ে হ্যাঁটিয়া কাবা শরীফে যাওয়ার অঙ্গীকার করা

بَاب الْعَمَلِ فِي الْمَشْيِ إِلَى الْكَعْبَةِ

১০১৩

حَدَّثَنِي يَحْيَى عَنْ مَالِك أَنَّ أَحْسَنَ مَا سَمِعْتُ مِنْ أَهْلِ الْعِلْمِ فِي الرَّجُلِ يَحْلِفُ بِالْمَشْيِ إِلَى بَيْتِ اللَّهِ أَوْ الْمَرْأَةِ فَيَحْنَثُ أَوْ تَحْنَثُ أَنَّهُ إِنْ مَشَى الْحَالِفُ مِنْهُمَا فِي عُمْرَةٍ فَإِنَّهُ يَمْشِي حَتَّى يَسْعَى بَيْنَ الصَّفَا وَالْمَرْوَةِ فَإِذَا سَعَى فَقَدْ فَرَغَ وَأَنَّهُ إِنْ جَعَلَ عَلَى نَفْسِهِ مَشْيًا فِي الْحَجِّ فَإِنَّهُ يَمْشِي حَتَّى يَأْتِيَ مَكَّةَ ثُمَّ يَمْشِي حَتَّى يَفْرُغَ مِنْ الْمَنَاسِكِ كُلِّهَا وَلَا يَزَالُ مَاشِيًا حَتَّى يُفِيضَ قَالَ مَالِك وَلَا يَكُونُ مَشْيٌ إِلَّا فِي حَجٍّ أَوْ عُمْرَةٍ

বর্ণনাকারী: মালিক ইবনে আনাস (রহঃ)

মালিক (রাহঃ) বলেনঃ পুরুষ বা মহিলা যদি পায়ে হ্যাঁটিয়া হজ্জ বা উমরা করার কসম করে, তবে ঐ পুরুষ বা মহিলার কসম ভাঙ্গিয়া ফেলিবে। কসম ভঙ্গ করার পর, উমরার বেলায় সায়ী করা পর্যন্ত এবং হজ্জের বেলায় তাওয়াফে যিয়ারত করা পর্যন্ত সে পায়ে হ্যাঁটিয়া চলিবে। মালিক (রাহঃ) বলেনঃ হজ্জ অথবা উমরা ব্যতীত অন্য কিছুর জন্য এই ধরনের মানতে হাটিতে হইবে না।

আমি এই বিষয়ে যাহাই শুনিয়াছি তন্মধ্যে ইহাই উত্তম।

৪. পাপকার্যে মান্নত বৈধ নহে

بَاب مَا لَا يَجُوزُ مِنْ النُّذُورِ فِي مَعْصِيَةِ اللَّهِ

১০১৪

حَدَّثَنِي يَحْيَى عَنْ مَالِك عَنْ حُمَيْدِ بْنِ قَيْسٍ وَثَوْرِ بْنِ زَيْدٍ الدِّيلِيِّ أَنَّهُمَا أَخْبَرَاهُ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَأَحَدُهُمَا يَزِيدُ فِي الْحَدِيثِ عَلَى صَاحِبِهِ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ رَأَى رَجُلًا قَائِمًا فِي الشَّمْسِ فَقَالَ مَا بَالُ هَذَا فَقَالُوا نَذَرَ أَنْ لَا يَتَكَلَّمَ وَلَا يَسْتَظِلَّ مِنْ الشَّمْسِ وَلَا يَجْلِسَ وَيَصُومَ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مُرُوهُ فَلْيَتَكَلَّمْ وَلْيَسْتَظِلَّ وَلْيَجْلِسْ وَلْيُتِمَّ صِيَامَهُ قَالَ مَالِك وَلَمْ أَسْمَعْ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَمَرَهُ بِكَفَّارَةٍ وَقَدْ أَمَرَهُ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنْ يُتِمَّ مَا كَانَ لِلَّهِ طَاعَةً وَيَتْرُكَ مَا كَانَ لِلَّهِ مَعْصِيَةً

বর্ণনাকারী: মালিক ইবনে আনাস (রহঃ)

রেওয়ায়ত ৬. মালিক (রাহঃ) বলিয়াছেনঃ হুমায়দ ইবনে কায়স (রাযিঃ) এবং সাউর ইবনে দীলী (রাযিঃ) তাহারা উভয়ে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) হইতে তাহার নিকট রেওয়ায়ত বর্ণনা করিয়াছেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এক ব্যক্তিকে একবার রৌদ্রে দাঁড়াইয়া থাকিতে দেখিতে পাইলেন। তিনি বলিলেনঃ এই ব্যক্তির কি হইয়াছে? তাহারা বলিলেনঃ এই ব্যক্তি মান্নত করিয়াছে যে, সে কাহারও সহিত কথা বলিবে না, ছায়ায় দাড়াইবে না, কোথাও বসিবে না এবং সর্বদাই সে রোযা রাখিবে। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তখন বলিলেনঃ তাহাকে বলিয়া দাও, সে যেন কথা বলে, ছায়ায় দাঁড়ায় ও বসে, আর যেন রোযা পুরা করিয়া নেয়।

মালিক (রাহঃ) বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) উক্ত ব্যক্তিকে কোন কাফফারার নির্দেশ দিয়াছেন বলিয়া আমি শুনি নাই। তিনি তাহাকে যাহা ইবাদত তাহা পূরণ করা এবং যাহা নাফরমানী তাহা বর্জন করার নির্দেশ দিয়াছেন।
১০১৫

وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِك عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ عَنْ الْقَاسِمِ بْنِ مُحَمَّدٍ أَنَّهُ سَمِعَهُ يَقُولُ أَتَتْ امْرَأَةٌ إِلَى عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَبَّاسٍ فَقَالَتْ إِنِّي نَذَرْتُ أَنْ أَنْحَرَ ابْنِي فَقَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ لَا تَنْحَرِي ابْنَكِ وَكَفِّرِي عَنْ يَمِينِكِ فَقَالَ شَيْخٌ عِنْدَ ابْنِ عَبَّاسٍ وَكَيْفَ يَكُونُ فِي هَذَا كَفَّارَةٌ فَقَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ إِنَّ اللَّهَ تَعَالَى قَالَ وَالَّذِينَ يُظَاهِرُونَ مِنْكُمْ مِنْ نِسَائِهِمْ ثُمَّ جَعَلَ فِيهِ مِنْ الْكَفَّارَةِ مَا قَدْ رَأَيْتَ

বর্ণনাকারী: ইয়াহয়া ইবনে সাঈদ আনসারী (রহঃ)

রেওয়ায়ত ৭. ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ (রাহঃ) কাসিম ইবনে মুহাম্মাদ (রাহঃ)-কে বলিতে শুনিয়াছেন-আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রাযিঃ)-এর নিকট একজন মহিলা আসিয়া বলিল, আমার পুত্রকে কুরবানী দেওয়ার মান্নত করিয়াছি। তিনি বলিলেনঃ পুত্রকে জবাই করিও না এবং তোমার কসমের কাফফার দিয়া দাও। এক ব্যক্তি তখন বলিয়া উঠিলঃ কাফফারা কি করিয়া হইতে পারে? ইবনে আব্বাস বলিলেনঃ স্ত্রীর সহিত যিহার করাও গুনাহ। উহাতেও আল্লাহ তাআলা কাফফারার বিধান রাখিয়াছেন।*

১০১৬

وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِك عَنْ طَلْحَةَ بْنِ عَبْدِ الْمَلِكِ الْأَيْلِيِّ عَنْ الْقَاسِمِ بْنِ مُحَمَّدٍ ابْنِ الصِّدِّيقِ عَنْ عَائِشَةَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ مَنْ نَذَرَ أَنْ يُطِيعَ اللَّهَ فَلْيُطِعْهُ وَمَنْ نَذَرَ أَنْ يَعْصِيَ اللَّهَ فَلَا يَعْصِهِ قَالَ يَحْيَى وَسَمِعْت مَالِك يَقُولُ مَعْنَى قَوْلِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَنْ نَذَرَ أَنْ يَعْصِيَ اللَّهَ فَلَا يَعْصِهِ أَنْ يَنْذِرَ الرَّجُلُ أَنْ يَمْشِيَ إِلَى الشَّامِ أَوْ إِلَى مِصْرَ أَوْ إِلَى الرَّبَذَةِ أَوْ مَا أَشْبَهَ ذَلِكَ مِمَّا لَيْسَ لِلَّهِ بِطَاعَةٍ إِنْ كَلَّمَ فُلَانًا أَوْ مَا أَشْبَهَ ذَلِكَ فَلَيْسَ عَلَيْهِ فِي شَيْءٍ مِنْ ذَلِكَ شَيْءٌ إِنْ هُوَ كَلَّمَهُ أَوْ حَنِثَ بِمَا حَلَفَ عَلَيْهِ لِأَنَّهُ لَيْسَ لِلَّهِ فِي هَذِهِ الْأَشْيَاءِ طَاعَةٌ وَإِنَّمَا يُوَفَّى لِلَّهِ بِمَا لَهُ فِيهِ طَاعَةٌ

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

রেওয়ায়ত ৮. আয়েশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলিয়াছেন, যে ব্যক্তি আল্লাহর আনুগত্য করার মান্নত করে সে অবশ্যই তাহার আনুগত্য করিবে আর যে আল্লাহর নাফরমানী করিবে সে তাহার নাফরমানী করিবে না।

মালিক (রাহঃ) বলেনঃ গুনাহর কাজ করার মান্নত যদি কেহ করে তবে সে যেন ঐ গুনাহ করে। রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর এই কথার মর্ম হইল-যে সমস্ত কাজের সওয়াব নাই তেমন কাজে মান্নত করিয়া উহা ভাঙ্গিয়া ফেলিলে তবে তাহার উপর কিছুই ওয়াজিব হইবে না। যেমন কেহ শাম বা মিসর বা রাবাযা যাওয়ার মান্নত করিল। তদ্রূপ কাহারও সঙ্গে কথা না বলার মান্নত করিল অথবা মন্দ কাজ করার কসম করিল, যেহেতু এইসব কাজে আল্লাহর ফরমানবরদারী নাই। এইগুলি পূরণ না করিলে কিছুই ওয়াজিব হইবে না। যে কাজে আল্লাহর আনুগত্য রহিয়াছে সেই ধরনের কাজে মান্নত করিলে ইহা পূরণ করা জরুরী হয়।

৫. নিরর্থক কসমের বিবরণ

بَاب اللَّغْوِ فِي الْيَمِينِ

১০১৭
حَدَّثَنِي يَحْيَى عَنْ مَالِك عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ عَنْ أَبِيهِ عَنْ عَائِشَةَ أُمِّ الْمُؤْمِنِينَ أَنَّهَا كَانَتْ تَقُولُ لَغْوُ الْيَمِينِ قَوْلُ الْإِنْسَانِ لَا وَاللَّهِ وَبَلَى وَاللَّهِ
قَالَ مَالِك أَحْسَنُ مَا سَمِعْتُ فِي هَذَا أَنَّ اللَّغْوَ حَلِفُ الْإِنْسَانِ عَلَى الشَّيْءِ يَسْتَيْقِنُ أَنَّهُ كَذَلِكَ ثُمَّ يُوجَدُ عَلَى غَيْرِ ذَلِكَ فَهُوَ اللَّغْوُ قَالَ مَالِك وَعَقْدُ الْيَمِينِ أَنْ يَحْلِفَ الرَّجُلُ أَنْ لَا يَبِيعَ ثَوْبَهُ بِعَشَرَةِ دَنَانِيرَ ثُمَّ يَبِيعَهُ بِذَلِكَ أَوْ يَحْلِفَ لَيَضْرِبَنَّ غُلَامَهُ ثُمَّ لَا يَضْرِبُهُ وَنَحْوَ هَذَا فَهَذَا الَّذِي يُكَفِّرُ صَاحِبُهُ عَنْ يَمِينِهِ وَلَيْسَ فِي اللَّغْوِ كَفَّارَةٌ قَالَ مَالِك فَأَمَّا الَّذِي يَحْلِفُ عَلَى الشَّيْءِ وَهُوَ يَعْلَمُ أَنَّهُ آثِمٌ وَيَحْلِفُ عَلَى الْكَذِبِ وَهُوَ يَعْلَمُ لِيُرْضِيَ بِهِ أَحَدًا أَوْ لِيَعْتَذِرَ بِهِ إِلَى مُعْتَذَرٍ إِلَيْهِ أَوْ لِيَقْطَعَ بِهِ مَالًا فَهَذَا أَعْظَمُ مِنْ أَنْ تَكُونَ فِيهِ كَفَّارَةٌ

বর্ণনাকারী: হিশাম ইবনে উরওয়া (রহঃ)

রেওয়ায়ত ৯. হিশাম ইবনে উরওয়াহ (রাহঃ) তাহার পিতা হইতে বর্ণনা করেন যে, উম্মুল মু’মিনীন আয়েশা (রাযিঃ) বলিতেন, কথায় কথায় লা ওয়াল্লাহি, বালা ওয়াল্লাহি (না, আল্লাহর কসম, হ্যাঁ আল্লাহর কসম) ধরনের কসম করা য়ামীনে লাগব হইবে (অর্থাৎ শরীয়তের দৃষ্টিতে উহা কসম বলিয়া ধর্তব্য হইবে না)।

মালিক (রাহঃ) বলেনঃ য়ামীনে লাগব হইল সত্য মনে করিয়া কোন বিষয়ে কসম করা অথচ পরে উহা বিপরীত বলিয়া সাব্যস্ত হয়। এই বিষয়ে ইহাই উত্তম যাহা আমি শুনিয়াছি।

মালিক (রাহঃ) বলেনঃ ভবিষ্যতে কোন কাজ করা না করা সম্পর্কে কসম করা হইলে তাহা পূরণ করা বাধ্যতামূলক, عقد اليمين যেমন কেহ বলিলঃ আল্লাহর কসম, এই কাপড়টি আমি দশ দীনারে বিক্রয় করিব না। কিন্তু পরে দশ দীনারে উহা বিক্রয় করিয়া দিল বা কেহ বলিলঃ আল্লাহর কসম, এই ব্যক্তির গোলামকে আমি মারিব, পরে মারিল না ইত্যাদি। এই ধরনের কসমের কাফফার ওয়াজিব হয়। আর য়ামীনে লাগব-এর জন্য কাফফারা নাই।

মালিক (রাহঃ) বলিয়াছেনঃ য়ামীনে গুমুস হইল কাহাকেও খুশী করিবার জন্য বা ওযর গ্রহণ করানোর জন্য বা কাহারো ধন-সম্পত্তি আত্মসাৎ করিবার উদ্দেশ্যে জানিয়া-শুনিয়া মিথ্যা কসম করা। এই ধরনের কসমের গুনাহ এত মারাত্মক যে, ইহার কাফফারা হয় না।

৬. যে ধরনের কসমে কাফফারা ওয়াজিব হয় না

بَاب مَا لَا تَجِبُ فِيهِ الْكَفَّارَةُ مِنْ الْيَمِينِ

১০১৮
حَدَّثَنِي يَحْيَى عَنْ مَالِك عَنْ نَافِعٍ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ أَنَّهُ كَانَ يَقُولُ مَنْ قَالَ وَاللَّهِ ثُمَّ قَالَ إِنْ شَاءَ اللَّهُ ثُمَّ لَمْ يَفْعَلْ الَّذِي حَلَفَ عَلَيْهِ لَمْ يَحْنَثْ
قَالَ مَالِك أَحْسَنُ مَا سَمِعْتُ فِي الثُّنْيَا أَنَّهَا لِصَاحِبِهَا مَا لَمْ يَقْطَعْ كَلَامَهُ وَمَا كَانَ مِنْ ذَلِكَ نَسَقًا يَتْبَعُ بَعْضُهُ بَعْضًا قَبْلَ أَنْ يَسْكُتَ فَإِذَا سَكَتَ وَقَطَعَ كَلَامَهُ فَلَا ثُنْيَا لَهُ قَالَ يَحْيَى وَقَالَ مَالِك فِي الرَّجُلِ يَقُولُ كَفَرَ بِاللَّهِ أَوْ أَشْرَكَ بِاللَّهِ ثُمَّ يَحْنَثُ إِنَّهُ لَيْسَ عَلَيْهِ كَفَّارَةٌ وَلَيْسَ بِكَافِرٍ وَلَا مُشْرِكٍ حَتَّى يَكُونَ قَلْبُهُ مُضْمِرًا عَلَى الشِّرْكِ وَالْكُفْرِ وَلْيَسْتَغْفِرْ اللَّهَ وَلَا يَعُدْ إِلَى شَيْءٍ مِنْ ذَلِكَ وَبِئْسَ مَا صَنَعَ

বর্ণনাকারী: নাফি‘ (রহঃ)

রেওয়ায়ত ১০. নাফি’ (রাহঃ) হইতে বর্ণিত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাযিঃ) বলিতেন, যদি কেহ কসম করিয়া ইনশাআল্লাহ (যদি আল্লাহ চাহেন) বলে তবে কসমকৃত কাজটি না করিলে এই কসম ভঙ্গ হইবে না।*

মালিক (রাহঃ) বলেনঃ ইনশাআল্লাহ কসমের সঙ্গে সঙ্গে এবং কথার ধারাবাহিকতা বজায় থাকিতে বলিতে হইবে। কেহ কসম করিয়া কিছুক্ষণ চুপ থাকার পর যদি ইনশাআল্লাহ বলে তবে আর উহা ধর্তব্য হইবে না।

মালিক (রাহঃ) বলেনঃ কেহ বলিল, আমি যদি এই কাজ করি তবে আমি কাফের বা মুশরিক। পরে যদি ঐ ব্যক্তি কাজটি করিয়া ফেলে তবে তাহার কাফফারা ওয়াজিব হইবে না। কিন্তু অন্তরে শিরক কুফরীর আকীদা না হইলে সে ইহাতে কাফের বা মুশরিক হইয়া যাইবে না। তবে গুনাহগার হইবে। ভবিষ্যতে এই ধরনের কিছু করিবে না বলিয়া তাহাকে তওবা করিতে হইবে। এই ধরনের কসম অতি নিন্দনীয়।

৭. যে ধরনের কসমে কাফফারা ওয়াজিব হয়

بَاب مَا تَجِبُ فِيهِ الْكَفَّارَةُ مِنْ الْأَيْمَانِ

১০১৯
حَدَّثَنِي يَحْيَى عَنْ مَالِك عَنْ سُهَيْلِ بْنِ أَبِي صَالِحٍ عَنْ أَبِيهِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ مَنْ حَلَفَ بِيَمِينٍ فَرَأَى غَيْرَهَا خَيْرًا مِنْهَا فَلْيُكَفِّرْ عَنْ يَمِينِهِ وَلْيَفْعَلْ الَّذِي هُوَ خَيْرٌ
قَالَ يَحْيَى وَسَمِعْت مَالِك يَقُولُ مَنْ قَالَ عَلَيَّ نَذْرٌ وَلَمْ يُسَمِّ شَيْئًا إِنَّ عَلَيْهِ كَفَّارَةَ يَمِينٍ قَالَ مَالِك فَأَمَّا التَّوْكِيدُ فَهُوَ حَلِفُ الْإِنْسَانِ فِي الشَّيْءِ الْوَاحِدِ مِرَارًا يُرَدِّدُ فِيهِ الْأَيْمَانَ يَمِينًا بَعْدَ يَمِينٍ كَقَوْلِهِ وَاللَّهِ لَا أَنْقُصُهُ مِنْ كَذَا وَكَذَا يَحْلِفُ بِذَلِكَ مِرَارًا ثَلَاثًا أَوْ أَكْثَرَ مِنْ ذَلِكَ قَالَ فَكَفَّارَةُ ذَلِكَ كَفَّارَةٌ وَاحِدَةٌ مِثْلُ كَفَّارَةِ الْيَمِينِ فَإِنْ حَلَفَ رَجُلٌ مَثَلًا فَقَالَ وَاللَّهِ لَا آكُلُ هَذَا الطَّعَامَ وَلَا أَلْبَسُ هَذَا الثَّوْبَ وَلَا أَدْخُلُ هَذَا الْبَيْتَ فَكَانَ هَذَا فِي يَمِينٍ وَاحِدَةٍ فَإِنَّمَا عَلَيْهِ كَفَّارَةٌ وَاحِدَةٌ وَإِنَّمَا ذَلِكَ كَقَوْلِ الرَّجُلِ لِامْرَأَتِهِ أَنْتِ الطَّلَاقُ إِنْ كَسَوْتُكِ هَذَا الثَّوْبَ وَأَذِنْتُ لَكِ إِلَى الْمَسْجِدِ يَكُونُ ذَلِكَ نَسَقًا مُتَتَابِعًا فِي كَلَامٍ وَاحِدٍ فَإِنْ حَنِثَ فِي شَيْءٍ وَاحِدٍ مِنْ ذَلِكَ فَقَدْ وَجَبَ عَلَيْهِ الطَّلَاقُ وَلَيْسَ عَلَيْهِ فِيمَا فَعَلَ بَعْدَ ذَلِكَ حِنْثٌ إِنَّمَا الْحِنْثُ فِي ذَلِكَ حِنْثٌ وَاحِدٌ قَالَ مَالِك الْأَمْرُ عِنْدَنَا فِي نَذْرِ الْمَرْأَةِ إِنَّهُ جَائِزٌ بِغَيْرِ إِذْنِ زَوْجِهَا يَجِبُ عَلَيْهَا ذَلِكَ وَيَثْبُتُ إِذَا كَانَ ذَلِكَ فِي جَسَدِهَا وَكَانَ ذَلِكَ لَا يَضُرُّ بِزَوْجِهَا وَإِنْ كَانَ ذَلِكَ يَضُرُّ بِزَوْجِهَا فَلَهُ مَنْعُهَا مِنْهُ وَكَانَ ذَلِكَ عَلَيْهَا حَتَّى تَقْضِيَهُ

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

রেওয়ায়ত ১১. আবু হুরায়রা (রাযিঃ) বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলিলেনঃ কোন বিষয়ে কসম করার পর উহার বিপরীত বিষয় যদি অধিক ভাল ও মঙ্গলজনক মনে হয়; তবে ঐ কসম ভাঙ্গিয়া উহার কাফফারা দিবে এবং মঙ্গলজনক কাজটি করিবে।

মালিক (রাহঃ) বলেন, কেহ বলিলঃ আমি মান্নত করিলাম। কিন্তু কিসের উপর মান্নত করিল তাহা বলিল না। তবুও তাহার উপর কাফফারা ওয়াজিব হইবে।

মালিক (রাহঃ) বলেনঃ একই কসম কেহ যদি একাধিকবার করে, যেমন আল্লাহর কসম, আমি ইহা হইতে কম করিব না। এই বিষয়ের উপর সে তিনবার বা ততোধিক কসম করিল। তবে তাহার একবারই কাফফারা ওয়াজিব হইবে।

মালিক (রাহঃ) বলেনঃ কেহ কসম করিল-আল্লাহর কসম, আমি এই খাদ্য আহার করিব না, এই কাপড়টি পরিব না এবং এই ঘরে প্রবেশ করিব না। পরে এই কাজগুলি সে যদি করিয়া ফেলে তবে তাহার উপর একই কাফফারা ওয়াজিব হইবে। যেমন কোন ব্যক্তি তাহার স্ত্রীকে বলিল, তোমাকে যদি এই কাপড়টি পরিতে দেই এবং মসজিদে যাইতে অনুমতি দেই তবে তুমি তালাক। উহা সমস্তটা মিলাইয়া একই কথা বলিয়া গণ্য হয় এবং যে কোন একটি হইলে তালাক হইয়া যায় আর পরে অন্যটি সংঘটিত হইলে দ্বিতীয়বার তালাক হয় না। এইখানেও তদ্রূপ একবারই কাফফারা ওয়াজিব হইবে।

মালিক (রাহঃ) বলেনঃ আমাদের নিকট মাসআলা এই, স্বামীর অনুমতি ব্যতিরেকেও স্ত্রীর মান্নত করা জায়েয আছে। তবে উহা একান্ত ব্যক্তিগত হইতে হইবে। শর্ত হইল, স্বামীর কোন ক্ষতি যেন না হয়। স্বামীর ক্ষতি হইলে সে স্ত্রীকে এই ধরনের মান্নত হইতে বিরত করিতে পারিবে। তবে স্ত্রীর উপর ঐ মান্নত ওয়াজিব থাকিয়া যাইবে। যখনই স্বামীর অনুমতি লাভ করিবে উহা আদায় করিবে।

৮. কসমের কাফফারা

بَاب الْعَمَلِ فِي كَفَّارَةِ الْيَمِينِ

১০২০

حَدَّثَنِي يَحْيَى عَنْ مَالِك عَنْ نَافِعٍ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ أَنَّهُ كَانَ يَقُولُ مَنْ حَلَفَ بِيَمِينٍ فَوَكَّدَهَا ثُمَّ حَنِثَ فَعَلَيْهِ عِتْقُ رَقَبَةٍ أَوْ كِسْوَةُ عَشَرَةِ مَسَاكِينَ وَمَنْ حَلَفَ بِيَمِينٍ فَلَمْ يُؤَكِّدْهَا ثُمَّ حَنِثَ فَعَلَيْهِ إِطْعَامُ عَشَرَةِ مَسَاكِينَ لِكُلِّ مِسْكِينٍ مُدٌّ مِنْ حِنْطَةٍ فَمَنْ لَمْ يَجِدْ فَصِيَامُ ثَلَاثَةِ أَيَّامٍ

বর্ণনাকারী: নাফি‘ (রহঃ)

রেওয়ায়ত ১২. নাফি’ (রাহঃ) হইতে বর্ণিত, আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাযিঃ) বলিলেনঃ কেহ যদি কসম করে ও পরে আরও কসম দ্বারা উহাকে জোরালো করে এবং পরে উহা ভাঙ্গিয়া ফেলে তবে তাহার উপর একটি গোলাম আযাদ করা অথবা দশজনকে কাপড় দেওয়া জরুরী হইবে। আর যদি তাকীদযুক্ত নয় এমন কসম করিয়া ভাঙ্গিয়া ফেলে তবে দশজন মিসকীনের প্রত্যেককে এক মুদ পরিমাণ গম দিবে আর তাহা না পারিলে তিন দিন রোযা রাখিবে।

১০২১
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِك عَنْ نَافِعٍ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ أَنَّهُ كَانَ يُكَفِّرُ عَنْ يَمِينِهِ بِإِطْعَامِ عَشَرَةِ مَسَاكِينَ لِكُلِّ مِسْكِينٍ مُدٌّ مِنْ حِنْطَةٍ وَكَانَ يَعْتِقُ الْمِرَارَ إِذَا وَكَّدَ الْيَمِينَ
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِك عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ عَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ يَسَارٍ أَنَّهُ قَالَ أَدْرَكْتُ النَّاسَ وَهُمْ إِذَا أَعْطَوْا فِي كَفَّارَةِ الْيَمِينِ أَعْطَوْا مُدًّا مِنْ حِنْطَةٍ بِالْمُدِّ الْأَصْغَرِ وَرَأَوْا ذَلِكَ مُجْزِئًا عَنْهُمْ
قَالَ مَالِك أَحْسَنُ مَا سَمِعْتُ فِي الَّذِي يُكَفِّرُ عَنْ يَمِينِهِ بِالْكِسْوَةِ أَنَّهُ إِنْ كَسَا الرِّجَالَ كَسَاهُمْ ثَوْبًا ثَوْبًا وَإِنْ كَسَا النِّسَاءَ كَسَاهُنَّ ثَوْبَيْنِ ثَوْبَيْنِ دِرْعًا وَخِمَارًا وَذَلِكَ أَدْنَى مَا يُجْزِئُ كُلًّا فِي صَلَاتِهِ

বর্ণনাকারী: নাফি‘ (রহঃ)

রেওয়ায়ত ১৩. নাফি’ (রাহঃ) হইতে বর্ণিত, আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাযিঃ) যখন স্বীয় কসমের কাফফারা দিতেন তখন দশজন মিসকীনকে আহার করাইতেন এবং প্রতিজনকে এক মুদ পরিমাণ গম দিতেন, আর কসম যত তাকীদযুক্ত করিতেন তত সংখ্যক গোলাম আযাদ করিতেন।

ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ (রাহঃ) হইতে বর্ণিত, সুলায়মান ইবনে ইয়াসার (রাহঃ) বলিলেন, আমি লোকদিগকে পাইয়াছি তাহারা যখন কসমের কাফফারা দিতেন তখন প্রত্যেক মিসকীনকে ছোট মুদের এক মুদ পরিমাণ গম দিতেন এবং উহাই যথেষ্ট বলিয়া মনে করিতেন।

মালিক (রাহঃ) বলেনঃ কসমের কাফফারা কাপড় দিতে চাহিলে পুরুষ মিসকীনকে একটি কাপড় দিলেই চলিবে, আর মিসকীন নারী হইলে অন্তত দুইটি করিয়া কাপড় দিতে হইবে। একটি জামা আরেকটি ওড়না। কেননা এতটুকুর কমে নামায হয় না।

৯. কসম সম্পৰ্কীয় বিবিধ আহকাম

بَاب جَامِعِ الْأَيْمَانِ

১০২২

حَدَّثَنِي يَحْيَى عَنْ مَالِك عَنْ نَافِعٍ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَدْرَكَ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ وَهُوَ يَسِيرُ فِي رَكْبٍ وَهُوَ يَحْلِفُ بِأَبِيهِ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِنَّ اللَّهَ يَنْهَاكُمْ أَنْ تَحْلِفُوا بِآبَائِكُمْ فَمَنْ كَانَ حَالِفًا فَلْيَحْلِفْ بِاللَّهِ أَوْ لِيَصْمُتْ

বর্ণনাকারী: নাফি‘ (রহঃ)

রেওয়ায়ত ১৪. নাফি’ (রাহঃ) ইবনে উমর (রাযিঃ) হইতে বর্ণনা করেন, উমর ইবনে খাত্তাব (রাযিঃ) একবার আরোহী হইয়া যাইতেছিলেন এবং পিতার নামে কসম খাইতেছিলেন। এমন সময় রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সহিত তাহার সাক্ষাত হয়। তিনি তখন বলিলেনঃ আল্লাহ্ তাআলা পিতার নামে কসম করিতে নিষেধ করিয়াছেন। কেহ কসম করিলে আল্লাহর নামে করিও, আর তাহা না হইলে চুপ থাকিও ৷

১০২৩

وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِك أَنَّهُ بَلَغَهُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ يَقُولُ لَا وَمُقَلِّبِ الْقُلُوبِ

বর্ণনাকারী: মালিক ইবনে আনাস (রহঃ)

রেওয়ায়ত ১৫. মালিক (রাহঃ) বলেনঃ তাহার নিকট রেওয়ায়ত পৌঁছিয়াছে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলিতেনঃ লা ওয়া মুকাল্লিবাল কুলুব! এরূপ নহে, মনের গতি পরিবর্তনকারীর কসম।

১০২৪

وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِك عَنْ عُثْمَانَ بْنِ حَفْصِ بْنِ عُمَرَ بْنِ خَلْدَةَ عَنْ ابْنِ شِهَابٍ أَنَّهُ بَلَغَهُ أَنَّ أَبَا لُبَابَةَ بْنَ عَبْدِ الْمُنْذِرِ حِينَ تَابَ اللَّهُ عَلَيْهِ قَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَهْجُرُ دَارَ قَوْمِي الَّتِي أَصَبْتُ فِيهَا الذَّنْبَ وَأُجَاوِرُكَ وَأَنْخَلِعُ مِنْ مَالِي صَدَقَةً إِلَى اللَّهِ وَإِلَى رَسُولِهِ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يُجْزِيكَ مِنْ ذَلِكَ الثُّلُثُ

বর্ণনাকারী: ইবনে শিহাব যুহরী (রহঃ)

রেওয়ায়ত ১৬. ইবনে শিহাব (রাহঃ) জ্ঞাত হইয়াছেন, আবু লুবাবা ইবনে আব্দুল মুনজির (রাযিঃ) এর তওবা যখন আল্লাহ্ তাআলা কবুল করেন তখন তিনি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকট আসিয়া আরয করিলেনঃ হে আল্লাহর রাসূল! আমার আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গে আমি যেইখানে বাস করি, আমার যেই বাড়িটিতে আমি গুনাহ করিয়াছিলাম, যেইখানে আমার এই গুনাহ হইয়াছিল, উহা ত্যাগ করিয়া আপনার নিকট আসিয়া থাকিব কি? আর আল্লাহ ও তাহার রাসূলের ওয়াস্তে এই বাড়িটি সাদ্‌কা করিব কি? রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলিলেনঃ তোমার ধন-সম্পদের এক-তৃতীয়াংশ সাদ্‌কা দিয়া দিলেই যথেষ্ট হইবে।*

১০২৫

وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِك عَنْ أَيُّوبَ بْنِ مُوسَى عَنْ مَنْصُورِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ الْحَجَبِيِّ عَنْ أُمِّهِ عَنْ عَائِشَةَ أُمِّ الْمُؤْمِنِينَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا أَنَّهَا سُئِلَتْ عَنْ رَجُلٍ قَالَ مَالِي فِي رِتَاجِ الْكَعْبَةِ فَقَالَتْ عَائِشَةُ يُكَفِّرُهُ مَا يُكَفِّرُ الْيَمِينَ قَالَ مَالِك فِي الَّذِي يَقُولُ مَالِي فِي سَبِيلِ اللَّهِ ثُمَّ يَحْنَثُ قَالَ يَجْعَلُ ثُلُثَ مَالِهِ فِي سَبِيلِ اللَّهِ وَذَلِكَ لِلَّذِي جَاءَ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي أَمْرِ أَبِي لُبَابَةَ

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

রেওয়ায়ত ১৭. উম্মুল মু’মিনীন আয়েশা (রাযিঃ)-কে এক ব্যক্তি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হইয়াছিল। সে বলিয়াছিলঃ আমার ধন-সম্পদ কাবার দরজায় ওয়াকফ করিলাম, তবে ইহার কি হুকুম হইবে? আয়েশা (রাযিঃ) বলিলেনঃ তাহাকে কসমের কাফফারার মতো কাফফারা দিতে হইবে।

মালিক (রাহঃ) বলেন, যদি কেহ বলেঃ আমার ধন-সম্পদ আল্লাহর রাহে সাদ্‌কা করিয়া দিলাম। অতঃপর সে কসম ভঙ্গ করিল; তবে তাহাকে সমস্ত সম্পত্তির এক-তৃতীয়াংশ সাদ্‌কা করিতে হইবে। কেননা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আবু লুবাবা (রাযিঃ) সম্পর্কে এই হুকুমই দিয়াছিলেন।