كتاب الطلاق

১৯- ত্বালাক - বিবাহ বিচ্ছেদ অধ্যায়

Chapter 19 · 85 hadith

১. সম্মতি ব্যতীত ঋতুবতীকে তালাক প্রদান হারাম, যদি তালাক দেয় তবে তালাক হয়ে যাবে এবং তালাক প্রদানকারীকে রাজ’আতের নির্দেশ দিতে হবে

باب تَحْرِيمِ طَلاَقِ الْحَائِضِ بِغَيْرِ رِضَاهَا وَأَنَّهُ لَوْ خَالَفَ وَقَعَ الطَّلاَقُ وَيُؤْمَرُ بِجْعَتِهَا

3520

حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ يَحْيَى التَّمِيمِيُّ، قَالَ قَرَأْتُ عَلَى مَالِكِ بْنِ أَنَسٍ عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، أَنَّهُ طَلَّقَ امْرَأَتَهُ وَهْىَ حَائِضٌ فِي عَهْدِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَسَأَلَ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَنْ ذَلِكَ فَقَالَ لَهُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " مُرْهُ فَلْيُرَاجِعْهَا ثُمَّ لْيَتْرُكْهَا حَتَّى تَطْهُرَ ثُمَّ تَحِيضَ ثُمَّ تَطْهُرَ ثُمَّ إِنْ شَاءَ أَمْسَكَ بَعْدُ وَإِنْ شَاءَ طَلَّقَ قَبْلَ أَنْ يَمَسَّ فَتِلْكَ الْعِدَّةُ الَّتِي أَمَرَ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ أَنْ يُطَلَّقَ لَهَا النِّسَاءُ" .

Narrator: নাফি‘ (রহঃ)

৩৫২০। ইয়াহয়া ইবনে ইয়াহয়া তামীমী (রাহঃ) ......... নাফি’ (রাহঃ) সূত্রে ইবনে উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সময়কালে তিনি (ইবনে উমর) তার স্ত্রীকে হায়য অবস্থায় তালাক দিলেন। তখন উমর (রাযিঃ) এ বিষয় রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট জিজ্ঞাসা করলেন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাকে বললেন, তাকে (আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাযিঃ) কে) আদেশ কর, যেন সে তাকে (স্ত্রীকে) রাজআত করে (পুনঃ স্ত্রীরূপে গ্রহণ করে) নেয়। অতঃপর তার (হায়য হতে) পবিত্র হওয়ার পরে পুনঃ হায়য আসা এবং তার পরে পুনঃ পবিত্র হওয়া পর্যন্ত তাকে স্থিতাবস্থায় রেখে দেয়। এরপর পরবর্তী সময় তার ইচ্ছা হলে তাকে (স্ত্রীরূপে) রেখে দিবে। আর ইচ্ছা হলে সহবাসের পূর্বে তাকে তালাক দিবে। এটা হল সে ইদ্দত* যার প্রতি লক্ষ্য রেখে স্ত্রীদের তালাক দেওয়ার জন্য মহান আল্লাহ আদেশ করেছেন।



*হে নবী! তোমরা যখন তোমাদের স্ত্রীদের তালাক দিতে ইচ্ছে কর, তখন তাদের তালাক দিও ইদ্দতের প্রতি লক্ষ্য রেখে (সূরা আত-তালাক : ১) এ আয়াতের প্রতি ইঙ্গিত।
3521

حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ يَحْيَى، وَقُتَيْبَةُ، وَابْنُ، رُمْحٍ - وَاللَّفْظُ لِيَحْيَى - قَالَ قُتَيْبَةُ حَدَّثَنَا لَيْثٌ، وَقَالَ الآخَرَانِ، أَخْبَرَنَا اللَّيْثُ بْنُ سَعْدٍ، - عَنْ نَافِعٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ، أَنَّهُ طَلَّقَ امْرَأَةً لَهُ وَهْىَ حَائِضٌ تَطْلِيقَةً وَاحِدَةً فَأَمَرَهُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَنْ يُرَاجِعَهَا ثُمَّ يُمْسِكَهَا حَتَّى تَطْهُرَ ثُمَّ تَحِيضَ عِنْدَهُ حَيْضَةً أُخْرَى ثُمَّ يُمْهِلَهَا حَتَّى تَطْهُرَ مِنْ حَيْضَتِهَا فَإِنْ أَرَادَ أَنْ يُطَلِّقَهَا فَلْيُطَلِّقْهَا حِينَ تَطْهُرُ مِنْ قَبْلِ أَنْ يُجَامِعَهَا فَتِلْكَ الْعِدَّةُ الَّتِي أَمَرَ اللَّهُ أَنْ يُطَلَّقَ لَهَا النِّسَاءُ . وَزَادَ ابْنُ رُمْحٍ فِي رِوَايَتِهِ وَكَانَ عَبْدُ اللَّهِ إِذَا سُئِلَ عَنْ ذَلِكَ قَالَ لأَحَدِهِمْ أَمَّا أَنْتَ طَلَّقْتَ امْرَأَتَكَ مَرَّةً أَوْ مَرَّتَيْنِ فَإِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَمَرَنِي بِهَذَا وَإِنْ كُنْتَ طَلَّقْتَهَا ثَلاَثًا فَقَدْ حَرُمَتْ عَلَيْكَ حَتَّى تَنْكِحَ زَوْجًا غَيْرَكَ وَعَصَيْتَ اللَّهَ فِيمَا أَمَرَكَ مِنْ طَلاَقِ امْرَأَتِكَ . قَالَ مُسْلِمٌ جَوَّدَ اللَّيْثُ فِي قَوْلِهِ تَطْلِيقَةً وَاحِدَةً .

Narrator: নাফি‘ (রহঃ)

৩৫২১। ইয়াহয়া ইবনে ইয়াহয়া, কুতায়বা ও ইবনে রুমহ (রাহঃ) ......... নাফি (রাহঃ) সূত্রে আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি তাঁর এক স্ত্রীকে হায়য অবস্থায় এক তালাক দিয়ে দেন। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাকে হুকুম দিলেন যেন সে স্ত্রীকে রাজ’আত করে নেয়। অতঃপর পবিত্র হওয়ার পরে পুনঃ আর একটি হায়য হওয়া পর্যন্ত তাকে নিজের কাছে রেখে দিবে। এরপর তার (এ পরবর্তী) হায়য হতে পবিত্র হওযা পর্যন্ত তাকে অবকাশ দিবে। তখন যদি তাকে তালাক দেওয়ার ইচ্ছা হয় তবে পবিত্র হওয়ার সময় তার সঙ্গে সহবাস করার আগে তাকে তালাক দিবে। এটাই হল সে ইদ্দত যার প্রতি লক্ষ্য রেখে স্ত্রীদের তালাক প্রদানের আদেশ আল্লাহ দিয়েছেন।

ইবনে রুমহ (রাহঃ) তার রিওয়ায়াতে অধিক বলেছেন এবং এ প্রসঙ্গে জিজ্ঞাসিত হলে আব্দুল্লাহ (রাযিঃ) তাদের (প্রশ্নকর্তাদের) যে কাউকে বলতেনঃ দেখ, তুমি তোমার স্ত্রীকে (যতক্ষণ) একবার কিংবা দুইবার তালাক দিয়ে থাক, তবে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাকে এরূপ (রাজ’আত) করার নির্দেশ দিয়েছেন। আর তুমি তাকে তিন তালাক দিয়ে দিলে তবে সে (স্ত্রী) তোমার জন্য হারাম হয়ে যাবে- যতক্ষণ না তুমি ব্যতীত অন্য কাউকে সে বিয়ে করে। আর তোমার স্ত্রীকে তালাক দেওয়ার ব্যাপারে আল্লাহ তোমাকে যে বিধান দিয়েছিলেন তাতে তুমি তার প্রতি অবাধ্যতা দেখালে।

ইমাম মুসলিম (রাহঃ) বলেছেনঃ রাবী লাঈস (রাহঃ) (কুতায়বা প্রমুখের শায়খ) তার বর্ণনায় বলেছেন, ’একটি তালাক’ তিনি এটা সঠিকই বর্ণনা করেছেন।*



* অর্থাৎ অন্যান্য বর্ণনাকারীদের মত তিনি এ ব্যাপারে কোনও রূপ অবহেলার পরিচয় দেন নি, বরং যা শুনেছেন অতি সতর্কতার সাথে তা হুবহু বর্ণনা করেছেন।
3522

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ نُمَيْرٍ، حَدَّثَنَا أَبِي، حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، قَالَ طَلَّقْتُ امْرَأَتِي عَلَى عَهْدِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَهْىَ حَائِضٌ فَذَكَرَ ذَلِكَ عُمَرُ لِرَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ " مُرْهُ فَلْيُرَاجِعْهَا ثُمَّ لْيَدَعْهَا حَتَّى تَطْهُرَ ثُمَّ تَحِيضَ حَيْضَةً أُخْرَى فَإِذَا طَهُرَتْ فَلْيُطَلِّقْهَا قَبْلَ أَنْ يُجَامِعَهَا أَوْ يُمْسِكْهَا فَإِنَّهَا الْعِدَّةُ الَّتِي أَمَرَ اللَّهُ أَنْ يُطَلَّقَ لَهَا النِّسَاءُ " . قَالَ عُبَيْدُ اللَّهِ قُلْتُ لِنَافِعٍ مَا صَنَعَتِ التَّطْلِيقَةُ قَالَ وَاحِدَةٌ اعْتَدَّ بِهَا .

Narrator: নাফি‘ (রহঃ)

৩৫২২। মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে নুমাইর (রাহঃ) ......... নাফি (রাহঃ) সূত্রে ইবনে উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর যুগে আমি আমার স্ত্রীকে তালাক দিলাম, তখন সে ঋতুবতী ছিল। উমর (রাযিঃ) বিষয়টি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কাছে উল্লেখ করলে তিনি বললেন, তাকে আদেশ কর সে যেন তাকে রাজআত (পূনঃ গ্রহণ) করে। তারপর পবিত্র হয়ে পুনরায় আরেক হায়য আসা পর্যন্ত তাকে স্থিতাবস্থায় রেখে দেয়। পরে যখন পবিত্র হবে তখন তার সঙ্গে সহবাস করার আগে (সহবাসমুক্ত কালে) তাকে তালাক দিবে কিংবা তাকে (স্ত্রীরূপে) রেখে দিবে। কেননা, এটাই হল সে ইদ্দত যার প্রতি লক্ষ্য রেখে স্ত্রীদের তালাক দেওয়ার জন্য আল্লাহ তাআলা আদেশ করেছেন।

উবাইদুল্লাহ (রাহঃ) বলেন, আমি নাফি (রাহঃ) কে বললাম, সেই এক তালাকের কী হল? তিনি বললেন, সেটিকে এক তালাক গণ্য করা হয়।
3523

وَحَدَّثَنَاهُ أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، وَابْنُ الْمُثَنَّى، قَالاَ حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ إِدْرِيسَ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ، بِهَذَا الإِسْنَادِ . نَحْوَهُ وَلَمْ يَذْكُرْ قَوْلَ عُبَيْدِ اللَّهِ لِنَافِعٍ . قَالَ ابْنُ الْمُثَنَّى فِي رِوَايَتِهِ فَلْيَرْجِعْهَا . وَقَالَ أَبُو بَكْرٍ فَلْيُرَاجِعْهَا .

Narrator: বিবিধ

৩৫২৩। আবু বকর ইবনে আবি শাঈবা ও ইবনে মুসান্না (রাহঃ) ......... উবাইদুল্লাহ (রাহঃ) সূত্রে এই সনদে অনুরূপ রিওয়ায়াত করেছেন। তবে নাফি (রাহঃ) এর উদ্দেশ্যে উবাইদুল্লাহ (রাহঃ) এর বক্তব্যটি এতে উল্লিখিত হয়নি। এছাড়া ইবনে মুসান্না (রাহঃ) তার রিওয়ায়াতে বলেছেনفَلْيَرْجِعْهَا এবং আবু বকর (রাহঃ) বলেছেনঃ فَلْيُرَاجِعْهَا (শব্দদ্বয় প্রত্যাহার করা অর্থে সমার্থাক)।

3524

وَحَدَّثَنِي زُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ، عَنْ أَيُّوبَ، عَنْ نَافِعٍ، أَنَّ ابْنَ عُمَرَ، طَلَّقَ امْرَأَتَهُ وَهْىَ حَائِضٌ فَسَأَلَ عُمَرُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فَأَمَرَهُ أَنْ يَرْجِعَهَا ثُمَّ يُمْهِلَهَا حَتَّى تَحِيضَ حَيْضَةً أُخْرَى ثُمَّ يُمْهِلَهَا حَتَّى تَطْهُرَ ثُمَّ يُطَلِّقَهَا قَبْلَ أَنْ يَمَسَّهَا فَتِلْكَ الْعِدَّةُ الَّتِي أَمَرَ اللَّهُ أَنْ يُطَلَّقَ لَهَا النِّسَاءُ . قَالَ فَكَانَ ابْنُ عُمَرَ إِذَا سُئِلَ عَنِ الرَّجُلِ يُطَلِّقُ امْرَأَتَهُ وَهْىَ حَائِضٌ يَقُولُ أَمَّا أَنْتَ طَلَّقْتَهَا وَاحِدَةً أَوِ اثْنَتَيْنِ . إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَمَرَهُ أَنْ يَرْجِعَهَا ثُمَّ يُمْهِلَهَا حَتَّى تَحِيضَ حَيْضَةً أُخْرَى ثُمَّ يُمْهِلَهَا حَتَّى تَطْهُرَ ثُمَّ يُطَلِّقَهَا قَبْلَ أَنْ يَمَسَّهَا وَأَمَّا أَنْتَ طَلَّقْتَهَا ثَلاَثًا فَقَدْ عَصَيْتَ رَبَّكَ فِيمَا أَمَرَكَ بِهِ مِنْ طَلاَقِ امْرَأَتِكَ . وَبَانَتْ مِنْكَ .

Narrator: নাফি‘ (রহঃ)

৩৫২৪। যুহাইর ইবনে হারব (রাহঃ) ......... নাফি’ (রাহঃ) সূত্রে বর্ণনা করেন যে, ইবনে উমর (রাযিঃ) তাঁর স্ত্রীকে তার ঋতুকালীন অবস্থায় তালাক দিলেন। তখন উমর (রাযিঃ) নবী (ﷺ) কে (এ বিষয়ে) জিজ্ঞাসা করলে তিনি তাকে (ইবনে উমরকে) হুকুম দিলেন যে, স্ত্রীকে যেন রাজ’আত (পনঃগ্রহণ) করে নেয়।

এরপর তাকে অপর একটি ঋতুতে ঋতুবতী হওয়া পর্যন্ত অবকাশ দিবে। অতঃপর (ঋতু হতে) পবিত্র হওয়া পর্যন্ত তাকে অবকাশ দিবে। পরে তার তিনি সঙ্গে সহবাস করার আগেই তাকে তালাক দিবে। এটাই হল সেই ইদ্দত যার প্রতি লক্ষ্য রেকে স্ত্রীদের তালাক দেওয়ার জন্য মহামহীয়ান আল্লাহ হুকুম করেছেন।

রাবী (নাফি’) বলেন, পরবর্তীতে স্ত্রীর হায়য অবস্থায় তালাক প্রদানকারী পুরুষ (এর মাস’আলা) সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে ইবনে উমর (রাযিঃ) বলতেন, যদি তুমি তাকে এক কিংবা দুই তালাক দিয়ে থাক, নিশ্চয়ই রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাকে হুকুম দিয়েছেন যে, সে তাকে রাজআত করে নিবে। তারপর আর একটি হায়যে ঋতুবতী হওয়া পর্যন্ত তাকে অবকাশ দিবে, এরপর পবিত্রতা (তুহুর) পর্যন্ত তাকে অবকাশ দিবে। অতঃপর স্পর্শ (সহবাস) করার আগেই তালাক দিবে (যদি ইচ্ছা কর)। আর যদি নাকি তুমি তাকে তিন তালাক দিয়ে থাক তবে তুমি তোমার প্রতিপালকের অবাধ্য হয়েছ- তোমার স্ত্রীকে তালাক দেওয়ার ব্যাপারে তিনি তোমাকে যে আদেশ প্রদান করেছেন সে ব্যাপারে এবং সে স্ত্রী তোমার সঙ্গ হতে বিচ্ছিন্ন (বাইন) হয়ে গিয়েছে।
3525

حَدَّثَنِي عَبْدُ بْنُ حُمَيْدٍ، أَخْبَرَنِي يَعْقُوبُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدٌ، - وَهُوَ ابْنُ أَخِي الزُّهْرِيِّ - عَنْ عَمِّهِ، أَخْبَرَنَا سَالِمُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، أَنَّ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عُمَرَ، قَالَ طَلَّقْتُ امْرَأَتِي وَهْىَ حَائِضٌ فَذَكَرَ ذَلِكَ عُمَرُ لِلنَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَتَغَيَّظَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ثُمَّ قَالَ " مُرْهُ فَلْيُرَاجِعْهَا حَتَّى تَحِيضَ حَيْضَةً أُخْرَى مُسْتَقْبَلَةً سِوَى حَيْضَتِهَا الَّتِي طَلَّقَهَا فِيهَا فَإِنْ بَدَا لَهُ أَنْ يُطَلِّقَهَا فَلْيُطَلِّقْهَا طَاهِرًا مِنْ حَيْضَتِهَا قَبْلَ أَنْ يَمَسَّهَا فَذَلِكَ الطَّلاَقُ لِلْعِدَّةِ كَمَا أَمَرَ اللَّهُ " . وَكَانَ عَبْدُ اللَّهِ طَلَّقَهَا تَطْلِيقَةً وَاحِدَةً فَحُسِبَتْ مِنْ طَلاَقِهَا وَرَاجَعَهَا عَبْدُ اللَّهِ كَمَا أَمَرَهُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم .

Narrator: সালিম ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রহঃ)

৩৫২৫। আব্দ ইবনে হুমায়দ (রাহঃ) ......... সালিম ইবনে আব্দুল্লাহ (রাহঃ) সূত্রে বর্ণিত যে, ইবনে উমর (রাযিঃ) বলেছেন, আমি আমার স্ত্রীকে তালাক দিলাম- তখন সে ঋতুবতী ছিল। উমর (রাযিঃ) তা নবী (ﷺ) এর নিকট উল্লেখ করলেন। ফলে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) রাগাম্বিত হলেন। পরে বললেন, তাকে আদেশ কর সে যেন তাকে রাজ’আত করে নেয়- যতক্ষণ না যে হায়য কালে তাকে তালাক দিয়েছে সেটি ব্যতীত আর একটি হায়য আসে।

তখন যদি তাকে তালাক দেওয়া তার মনঃপুত হয় তবে যেন তার হায়য থেকে পবিত্র হওয়া অবস্থায় তার সঙ্গে সহবাস করার আগে তাকে তালাক দেয়। তিনি আরো বললেন, এটাই হল ইদ্দতের (সময় নির্ণয়ের) জন্য তালাক প্রদান যেমন আল্লাহ হুকুম করেছেন।

(সালিম বলেন) আব্দুল্লাহ (রাযিঃ) তাকে এক তালাক দিয়েছিলেন। সেটি তার তালাক গণনা করা হল (অর্থাৎ এক তালাক ধরা হল) এবং রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নির্দেশ অনুসারে আব্দুল্লাহ (রাযিঃ) তাকে (স্ত্রীকে) রাজআত করে নিয়েছিলেন।
3526

وَحَدَّثَنِيهِ إِسْحَاقُ بْنُ مَنْصُورٍ، أَخْبَرَنَا يَزِيدُ بْنُ عَبْدِ رَبِّهِ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ حَرْبٍ، حَدَّثَنِي الزُّبَيْدِيُّ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، بِهَذَا الإِسْنَادِ غَيْرَ أَنَّهُ قَالَ قَالَ ابْنُ عُمَرَ فَرَاجَعْتُهَا وَحَسَبْتُ لَهَا التَّطْلِيقَةَ الَّتِي طَلَّقْتُهَا .

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

৩৫২৬। ইসহাক ইবনে মনসুর (রাহঃ) ......... (পূর্বোক্ত সনদের ন্যায়) যুহরী (রাহঃ) সূত্রে ঐ সনদে বর্ণিত। তবে এতে রাবী (সরাসরি ইবনে উমরের উক্তি উদ্বৃত করে) বলেছেন যে, ইবনে উমর (রাযিঃ) বলেছেন, পরে আমি তাকে রাজ’আত করে নিলাম এবং তাকে যে তালাকটি দিয়েছিলাম তা তার জন্য (একটি) তালাকরূপে গণ্য করলাম।

3527

وَحَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، وَزُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، وَابْنُ، نُمَيْرٍ - وَاللَّفْظُ لأَبِي بَكْرٍ - قَالُوا حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، عَنْ سُفْيَانَ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، مَوْلَى آلِ طَلْحَةَ عَنْ سَالِمٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، أَنَّهُ طَلَّقَ امْرَأَتَهُ وَهْىَ حَائِضٌ فَذَكَرَ ذَلِكَ عُمَرُ لِلنَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ " مُرْهُ فَلْيُرَاجِعْهَا ثُمَّ لْيُطَلِّقْهَا طَاهِرًا أَوْ حَامِلاً " .

Narrator: সালিম ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রহঃ)

৩৫২৭। আবু বকর ইবনে আবি শাঈবা, যুহাইর ইবনে হারব ও ইবনে নুমাইর (রাহঃ) ......... সালিম (রাহঃ) সূত্রে ইবনে উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি নিজের স্ত্রীকে তার হায়যা অবস্থায় তালাক দিলেন। তখন উমর (রাযিঃ) বিষয়টি নবী (ﷺ) এর সকাশে উল্লেখ করলেন। তিনি বললেন, তাকে আদেশ কর যেন সে তাকে রাজ’আত করে নেয়। পরে যেন তাকে তুহর (পবিত্র) অবস্থায় কিংবা গর্ভাবস্থায় (অবস্থা সম্পর্কে নিশ্চিত হয়ে) তালাক দেয়।

3528

وَحَدَّثَنِي أَحْمَدُ بْنُ عُثْمَانَ بْنِ حَكِيمٍ الأَوْدِيُّ، حَدَّثَنَا خَالِدُ بْنُ مَخْلَدٍ، حَدَّثَنِي سُلَيْمَانُ، - وَهُوَ ابْنُ بِلاَلٍ - حَدَّثَنِي عَبْدُ اللَّهِ بْنُ دِينَارٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، أَنَّهُ طَلَّقَ امْرَأَتَهُ وَهْىَ حَائِضٌ فَسَأَلَ عُمَرُ عَنْ ذَلِكَ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ " مُرْهُ فَلْيُرَاجِعْهَا حَتَّى تَطْهُرَ ثُمَّ تَحِيضَ حَيْضَةً أُخْرَى ثُمَّ تَطْهُرَ ثُمَّ يُطَلِّقَ بَعْدُ أَوْ يُمْسِكَ " .

Narrator: আব্দুল্লাহ ইবনে দীনার (রহঃ)

৩৫২৮। আহমাদ ইবনে উসমান ইবনে হাকীম আওদী (রাহঃ) ......... আব্দুল্লাহ ইবনে দীনার (রাহঃ) সূত্রে ইবনে উমর (রাযিঃ) সম্পর্কে বর্ণনা করেন যে, তিনি নিজের স্ত্রীকে যখন সে হায়য অবস্থায় ছিল, তালাক দিলেন। তখন উমর (রাযিঃ) এ বিষয় রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বললেন, তাকে হুকুম কর যেন সে তাকে (স্ত্রীকে) রাজ’আত করে নেয়। তারপর যখন আর একটি হায়য দেখা দিবে তারপর আবার পবিত্র হবে, তখন তাকে তালাক দিবে কিংবা (স্ত্রীরূপে) রেখে দিবে।

3529

وَحَدَّثَنِي عَلِيُّ بْنُ حُجْرٍ السَّعْدِيُّ، حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، عَنْ أَيُّوبَ، عَنِ ابْنِ، سِيرِينَ قَالَ مَكَثْتُ عِشْرِينَ سَنَةً يُحَدِّثُنِي مَنْ لاَ أَتَّهِمُ أَنَّ ابْنَ عُمَرَ طَلَّقَ امْرَأَتَهُ ثَلاَثًا وَهْىَ حَائِضٌ فَأُمِرَ أَنْ يُرَاجِعَهَا فَجَعَلْتُ لاَ أَتَّهِمُهُمْ وَلاَ أَعْرِفُ الْحَدِيثَ حَتَّى لَقِيتُ أَبَا غَلاَّبٍ يُونُسَ بْنَ جُبَيْرٍ الْبَاهِلِيَّ . وَكَانَ ذَا ثَبَتٍ فَحَدَّثَنِي أَنَّهُ سَأَلَ ابْنَ عُمَرَ فَحَدَّثَهُ أَنَّهُ طَلَّقَ امْرَأَتَهُ تَطْلِيقَةً وَهْىَ حَائِضٌ فَأُمِرَ أَنْ يَرْجِعَهَا - قَالَ - قُلْتُ أَفَحُسِبَتْ عَلَيْهِ قَالَ فَمَهْ . أَوَإِنْ عَجَزَ وَاسْتَحْمَقَ.

Narrator: মুহাম্মাদ ইবনে সিরীন (রহঃ)

৩৫২৯। আলী ইবনে হুজর সা’দী (রাহঃ) ......... ইবনে সীরীন (রাহঃ) থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, বিশ বছর আমি এ অবস্থায় অবস্থান করলাম যে, আমি অবিশ্বস্ত মনে করি না এমন লোক আমাকে এ মর্মে হাদীস শোনাচ্ছিল যে, ইবনে উমর (রাযিঃ) তাঁর স্ত্রীকে হায়য অবস্থায় তিন তালাক দিয়েছিলেন। ফলে তাকে রাজ’আত করে নেয়ার জন্য তিনি আদিষ্ট হয়েছিলেন। আমি এ বর্ণনাকারীদের প্রতি অনাস্থা ও সন্দেহ পোষণ করছিলাম না অথচ আমি ছিলাম প্রকৃত হাদীসের পরিচয় লাভে বঞ্চিত। অবশেষে আমি আবু গাল্লাব ইউনুস ইবনে জুবাইর আল বাহিলী (রাহঃ) এর সঙ্গে সাক্ষাত করলাম। তিনি ছিলেন বিশ্বস্ত ও অস্থাভাজন।

তিনি আমাকে হাদীস বর্ণনা করলেন যে, তিনি (নিজে) ইবনে উমর (রাযিঃ) কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি (ইবনে উমর) তাঁকে হাদীস বর্ণনা করলেন যে, তিনি তাঁর স্ত্রীকে তার হায়য চলাকালে এক তালাক দিয়েছিলেন। তখন তাকে রাজ’আত করে নেয়ার জন্য তিনি আদিষ্ট হলেন। আমি বললাম, তার সে তালাক কি গণ্য করা হয়েছিল? তিনি বললেন তবে? (ইবনে উমর) যদি অপারগ হয়ে থাকেন ও নির্বুদ্ধিতার পরিচয় দিয়ে থাকেন। (তাই বলে কি তা আগ্রাহ্য হবে)?
3530

وَحَدَّثَنَاهُ أَبُو الرَّبِيعِ، وَقُتَيْبَةُ، قَالاَ حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، عَنْ أَيُّوبَ، بِهَذَا الإِسْنَادِ . نَحْوَهُ غَيْرَ أَنَّهُ قَالَ فَسَأَلَ عُمَرُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فَأَمَرَهُ .

Narrator: আইয়ুব সাখতিয়ানী (রহঃ)

৩৫৩০। আবুর রাবী ও কুতায়বা (রাহঃ) ......... (পূর্বোক্ত সনদের রাবী) আইয়ুব (রাহঃ) এর সূত্রে ঐ সনদে অনুরূপ রিওয়ায়াত করেছেন। তবে তিনি বলেছেন ...... উমর (রাযিঃ) নবী (ﷺ) কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি তাকে হুকুম করলেন।

3531

وَحَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَارِثِ بْنُ عَبْدِ الصَّمَدِ، حَدَّثَنِي أَبِي، عَنْ جَدِّي، عَنْ أَيُّوبَ، بِهَذَا الإِسْنَادِ وَقَالَ فِي الْحَدِيثِ فَسَأَلَ عُمَرُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم عَنْ ذَلِكَ فَأَمَرَهُ أَنْ يُرَاجِعَهَا حَتَّى يُطَلِّقَهَا طَاهِرًا مِنْ غَيْرِ جِمَاعٍ وَقَالَ " يُطَلِّقُهَا فِي قُبُلِ عِدَّتِهَا " .

Narrator: আইয়ুব সাখতিয়ানী (রহঃ)

৩৫৩১। আব্দুল ওয়ারিস ইবনে আব্দুস সামাদ (রাহঃ) ......... আইয়ুব (রাহঃ) এর সূত্রে এ সনদে রিওয়ায়াত করেছেন। এ সনদের হাদীসে রাবী বলেছেন, পরে উমর (রাযিঃ) এ বিষয়ে নবী (ﷺ) কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি তাকে পুনঃগ্রহণ করে নেয়ার জন্য তাঁর (ইবনে উমরের) প্রতি আদেশ প্রদান করলেন। যাতে অবশেষে তাকে (স্ত্রীকে) সহবাসবিহীন তুহর (পবিত্র) অবস্থায় তালাক দিতে পারে। তিনি (নবী (ﷺ)) আরো বললেন, তার ইদ্দত (এর সময়) এর পূর্ব ভাগে তাকে তালাক দিবে।

3532

وَحَدَّثَنِي يَعْقُوبُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ الدَّوْرَقِيُّ، عَنِ ابْنِ عُلَيَّةَ، عَنْ يُونُسَ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ، سِيرِينَ عَنْ يُونُسَ بْنِ جُبَيْرٍ، قَالَ قُلْتُ لاِبْنِ عُمَرَ رَجُلٌ طَلَّقَ امْرَأَتَهُ وَهْىَ حَائِضٌ فَقَالَ أَتَعْرِفُ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عُمَرَ فَإِنَّهُ طَلَّقَ امْرَأَتَهُ وَهْىَ حَائِضٌ فَأَتَى عُمَرُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فَسَأَلَهُ فَأَمَرَهُ أَنْ يَرْجِعَهَا ثُمَّ تَسْتَقْبِلَ عِدَّتَهَا . قَالَ فَقُلْتُ لَهُ إِذَا طَلَّقَ الرَّجُلُ امْرَأَتَهُ وَهْىَ حَائِضٌ أَتَعْتَدُّ بِتِلْكَ التَّطْلِيقَةِ فَقَالَ فَمَهْ أَوَإِنْ عَجَزَ وَاسْتَحْمَقَ.

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

৩৫৩২। ইয়াকুব ইবনে ইবরাহীম আদু দাওরাকী (রাহঃ) ......... (মুহাম্মাদ ইবনে সীরীন সূত্রে) ইউনুস ইবনে জুবাইর (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ইবনে উমর (রাযিঃ) কে বললামঃ এক ব্যক্তি তার স্ত্রীর হায়য অবস্থায় তাকে তালাক দিল। তিনি বললেন, তুমি আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাযিঃ) কে জান কি সে তাঁর স্ত্রীকে হায়য অবস্থায় তালাক দিয়েছিল? তখন উমর (রাযিঃ) নবী (ﷺ) কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি তাকে হুকুম করলেন যে, সে (ইবনে উমর) তাকে (স্ত্রী) রাজ’আত করে নিবে। এরপর তার ইদ্দতের (নিশ্চয়তাযুক্ত সময়ের) প্রতীক্ষায় থাকবে।

ইউনূস (রাহঃ) বলেন, তখন আমি তাকে (ইবনে উমরকে) বললাম, কোন পুরুষ যখন তার স্ত্রীকে হায়য অবস্থায় তালাক দিবে তখন ঐ তালাকটি হিসাবে গণনা করা হবে কি? তিনি বললেনঃ তবে আর কি? যদি নাকি সে অক্ষম হয় গিয়ে থাকে কিংবা বোকামী করে থাকে (তাহলে কি তার একাজের পরিণতি দেখা দিবে না)?
3533

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، وَابْنُ، بَشَّارٍ قَالَ ابْنُ الْمُثَنَّى حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ قَتَادَةَ، قَالَ سَمِعْتُ يُونُسَ بْنَ جُبَيْرٍ، قَالَ سَمِعْتُ ابْنَ عُمَرَ، يَقُولُ طَلَّقْتُ امْرَأَتِي وَهْىَ حَائِضٌ فَأَتَى عُمَرُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فَذَكَرَ ذَلِكَ لَهُ فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم " لِيُرَاجِعْهَا . فَإِذَا طَهَرَتْ فَإِنْ شَاءَ فَلْيُطَلِّقْهَا " . قَالَ فَقُلْتُ لاِبْنِ عُمَرَ أَفَاحْتَسَبْتَ بِهَا قَالَ مَا يَمْنَعُهُ . أَرَأَيْتَ إِنْ عَجَزَ وَاسْتَحْمَقَ.

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

৩৫৩৩। মুহাম্মাদ ইবনে মুসান্না ও ইবনে বাশশার (রাহঃ) ......... ইবনে উমর (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি আমার স্ত্রীকে তালাক দিলাম- তখন সে হায়য অবস্থায় ছিল। তখন উমর (রাযিঃ) নবী (ﷺ) এর নিকট গিয়ে তাঁর কাছে বিষয়টি উল্লেখ করলেন। নবী (ﷺ) বললেনঃ সে যেন তাকে রাজ’আত করে নেয়। পরে যখন সে (হায়য হতে) পবিত্র হবে তখন ইচ্ছা করলে তাকে তালাক দিরে।

ইউনুস (রাহঃ) বলেন, আমি ইবনে উমর (রাযিঃ) কে বললাম, সে (তালাক) টি কি হিসাব করা হবে? তিনি বললেন, কোন বিষয় তাকে বাধা দিবে- বলত যদি সে অপারগ হয়ে থাকে এবং আহাম্মুকি করে থাকে (তবে কি তা গণ্য করা হবে না)?
3534

حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ يَحْيَى، أَخْبَرَنَا خَالِدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، عَنْ عَبْدِ الْمَلِكِ، عَنْ أَنَسِ بْنِ، سِيرِينَ قَالَ سَأَلْتُ ابْنَ عُمَرَ عَنِ امْرَأَتِهِ الَّتِي، طَلَّقَ فَقَالَ طَلَّقْتُهَا وَهْىَ حَائِضٌ فَذُكِرَ ذَلِكَ لِعُمَرَ فَذَكَرَهُ لِلنَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ " مُرْهُ فَلْيُرَاجِعْهَا فَإِذَا طَهَرَتْ فَلْيُطَلِّقْهَا لِطُهْرِهَا " . قَالَ فَرَاجَعْتُهَا ثُمَّ طَلَّقْتُهَا لِطُهْرِهَا . قُلْتُ فَاعْتَدَدْتَ بِتِلْكَ التَّطْلِيقَةِ الَّتِي طَلَّقْتَ وَهْىَ حَائِضٌ قَالَ مَا لِيَ لاَ أَعْتَدُّ بِهَا وَإِنْ كُنْتُ عَجَزْتُ وَاسْتَحْمَقْتُ .

Narrator: আনাস ইবনে সিরীন (রহঃ)

৩৫৩৪। ইয়াহয়া ইবনে ইয়াহয়া (রাহঃ) ......... আনাস ইবনে সীরীন (রাহঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি উমর (রাযিঃ) কে তার সে স্ত্রী সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম যাকে তিনি তালাক দিয়েছিলেন। তিনি বললেন, তাকে আমি তালাক দিয়েছিলাম- যখন সে হায়য অবস্থায় ছিল। আমি বিষয়টি উমর (রাযিঃ) এর কাছে উল্লেখ করলে তিনি তা নবী (ﷺ) কে জানালেন। তখন নবী (ﷺ) বললেন, তাকে আদেশ কর সে যেন তার স্ত্রীকে পুনঃগ্রহণ করে নেয়। পরে যখন সে পাক হবে তখন যেন সে (ইচ্ছা করলে) তার পাক অবস্থায় তাকে তালাক দেয়। ইবনে উমর (রাযিঃ) বলেন, আমি তাকে বললাম, তবে কি হায়য অবস্থায় প্রদত্ত তালাকটি কি আপনি হিসাবে ধরবেন? তিনি বললেন, আমি কেন সেটা গণনায় ধরবো না? যদি আমি অক্ষম হই অথবা নির্বুদ্ধিতা প্রকাশ করি (তাহলে কি আমার এ কাজ গণনায় আসবে না)?

3535

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، وَابْنُ، بَشَّارٍ قَالَ ابْنُ الْمُثَنَّى حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ أَنَسِ بْنِ سِيرِينَ، أَنَّهُ سَمِعَ ابْنَ عُمَرَ، قَالَ طَلَّقْتُ امْرَأَتِي وَهْىَ حَائِضٌ فَأَتَى عُمَرُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فَأَخْبَرَهُ فَقَالَ " مُرْهُ فَلْيُرَاجِعْهَا ثُمَّ إِذَا طَهَرَتْ فَلْيُطَلِّقْهَا " . قُلْتُ لاِبْنِ عُمَرَ أَفَاحْتَسَبْتَ بِتِلْكَ التَّطْلِيقَةِ قَالَ فَمَهْ .

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

৩৫৩৫। মুহাম্মাদ ইবনুল মুসান্না ও ইবনে বাশশার (রাহঃ) ......... ইবনে উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আমার স্ত্রীকে হায়য অবস্থায় তালাক দই। উমর (রাযিঃ) বিষয়টি নবী (ﷺ) এর কাছে উল্লেখ করলে তিনি বললেন, তাঁকে আদেশ কর সে যেন তার স্ত্রীকে রাজআত করে। পরে যখন সে পবিত্র হবে তখন যেন সে (ইচ্ছা করলে) তাকে পবিত্র অবস্থায় তালাক দেয়। আমি ইবনে উমর (রাযিঃ) কে বললাম, তবে কি হায়য অবস্থায় প্রদত্ত তালাকটি কি আপনি হিসাবে ধরবেন? তিনি বললেন, তবে?

3536

وَحَدَّثَنِيهِ يَحْيَى بْنُ حَبِيبٍ، حَدَّثَنَا خَالِدُ بْنُ الْحَارِثِ، ح وَحَدَّثَنِيهِ عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ، بِشْرٍ حَدَّثَنَا بَهْزٌ، قَالاَ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، بِهَذَا الإِسْنَادِ غَيْرَ أَنَّ فِي، حَدِيثِهِمَا " لِيَرْجِعْهَا " . وَفِي حَدِيثِهِمَا قَالَ قُلْتُ لَهُ أَتَحْتَسِبُ بِهَا قَالَ فَمَهْ .

Narrator: শু'বা ইবনুল হাজ্জাজ (রহঃ)

৩৫৩৬। ইয়াহয়া ইবনে হাবীব ও আব্দুর রহমান ইবনে বিশর (রাহঃ) ......... (পূর্বোক্ত সনদের ন্যায়) শু’বা (রাহঃ) সূত্রে এ সনদে রিওয়ায়াত করেছেন। তবে এ দু-জনের হাদীসে يُرَاجِعْهَا স্থলে لِيَرْجِعْهَا রয়েছে এবং এদের হাদীসে আরো রয়েছে যে, আনাস (রাহঃ) বলেন, আমি বললাম, আপনি কি সেটি হিসাবে ধরবেন? তিনি বললেন, তবে?

3537

وَحَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، أَخْبَرَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، أَخْبَرَنَا ابْنُ جُرَيْجٍ، أَخْبَرَنِي ابْنُ طَاوُسٍ، عَنْ أَبِيهِ، أَنَّهُ سَمِعَ ابْنَ عُمَرَ، يُسْأَلُ عَنْ رَجُلٍ، طَلَّقَ امْرَأَتَهُ حَائِضًا فَقَالَ أَتَعْرِفُ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عُمَرَ قَالَ نَعَمْ . قَالَ فَإِنَّهُ طَلَّقَ امْرَأَتَهُ حَائِضًا فَذَهَبَ عُمَرُ إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَأَخْبَرَهُ الْخَبَرَ فَأَمَرَهُ أَنْ يُرَاجِعَهَا قَالَ لَمْ أَسْمَعْهُ يَزِيدُ عَلَى ذَلِكَ لأَبِيهِ.

Narrator: তাউস ইবনে কায়সান (রহঃ)

৩৫৩৭। ইসহাক ইবনে ইবরাহীম (রাহঃ) ......... ইবনে তাউস (রাহঃ) এর পিতা (তাউস) সূত্রে বর্ণিত যে, তিনি স্ত্রীকে হায়য অবস্হায় তালাক প্রদানকারী পুরুষ (এর মাসআলা) সম্পর্কে ইবনে উমর (রাযিঃ) কে জিজ্ঞাসিত হতে শুনলেন। তখন ইবনে উমর (রাযিঃ) বললেন, তুমি আব্দুল্লাহ ইবনে উমর কে জান কি? লোকটি বলল, হ্যাঁ। ইবনে উমর (রাযিঃ) বললেন, সে তো তার স্ত্রীকে হায়য অবস্থায় তালাক দিয়েছিলেন। তখন উমর (রাযিঃ) নবী (ﷺ) এর নিকট গিয়ে তাকে সংবাদ অবহিত করলে তিনি তাকে (স্ত্রীকে) পুনঃগ্রহণ করে নেয়ার জন্য তাঁকে আদেশ প্রদান করলেন। ইবনে তাউস (রাহঃ) বলেন, আমি তাঁকে (অর্থাৎ তার পিতাকে) এর অধিক বলতে শুনি নি।

3538

وَحَدَّثَنِي هَارُونُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، حَدَّثَنَا حَجَّاجُ بْنُ مُحَمَّدٍ، قَالَ قَالَ ابْنُ جُرَيْجٍ أَخْبَرَنِي أَبُو الزُّبَيْرِ، أَنَّهُ سَمِعَ عَبْدَ الرَّحْمَنِ بْنَ أَيْمَنَ، مَوْلَى عَزَّةَ يَسْأَلُ ابْنَ عُمَرَ وَأَبُو الزُّبَيْرِ يَسْمَعُ ذَلِكَ كَيْفَ تَرَى فِي رَجُلٍ طَلَّقَ امْرَأَتَهُ حَائِضًا فَقَالَ طَلَّقَ ابْنُ عُمَرَ امْرَأَتَهُ وَهْىَ حَائِضٌ عَلَى عَهْدِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَسَأَلَ عُمَرُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ إِنَّ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عُمَرَ طَلَّقَ امْرَأَتَهُ وَهْىَ حَائِضٌ . فَقَالَ لَهُ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم " لِيُرَاجِعْهَا " . فَرَدَّهَا وَقَالَ " إِذَا طَهَرَتْ فَلْيُطَلِّقْ أَوْ لِيُمْسِكْ " . قَالَ ابْنُ عُمَرَ وَقَرَأَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم يَا أَيُّهَا النَّبِيُّ إِذَا طَلَّقْتُمُ النِّسَاءَ فَطَلِّقُوهُنَّ فِي قُبُلِ عِدَّتِهِنَّ .

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

৩৫৩৮। হারুন ইবনে আব্দুল্লাহ (রাহঃ) ......... আবু যুবাইর সূত্রে বর্ণনা করেন যে, আযযার মাওলা (আযাদকৃত গোলাম) আব্দুর রহমান ইবনে আয়মান (রাহঃ) কে ইবনে উমর (রাযিঃ) এর কাছে প্রশ্ন করতে শুনলেন, আবু যুবাইর তখন শুনছিলেন- যে ব্যক্তি তার স্ত্রীকে তার হায়য অবস্থায় তালাক দিল তার সম্পর্কে আপনার অভিমত কি? ইবনে উমর (রাযিঃ) বললেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর যুগে ইবনে উমর (রাযিঃ) তার স্ত্রীকে তালাক দিল যখন সে ঋতুবতী ছিল। উমর (রাযিঃ) এ বিষয়ে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট জিজ্ঞাসা করলেন। তিনি বললেন, আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাযিঃ) তার স্ত্রীর হায়য অবস্থায় তাকে তালাক দিয়েছে।

নবী (ﷺ) তাকে বললেন, সে যেন তাকে পুনঃগ্রহণ করে নেয়। সুতরাং (এভাবে) তিনি তাকে (স্ত্রীকে) ফিরিয়ে নিলেন। তিনি (রাসূলুল্লাহ (ﷺ)) আরো বললেন, যখন (হায়য হতে) পবিত্র হয়ে যাবে তখন (ইচ্ছে করলে) যেন তালাক দেয় কিংবা রেখে দেয়। ইবনে উমর (রাযিঃ) বলেন, এবং (এ সময়) নবী (ﷺ) তিলাওয়াত করলেনঃيَا أَيُّهَا النَّبِيُّ إِذَا طَلَّقْتُمُ النِّسَاءَ فَطَلِّقُوهُنَّ فِي قُبُلِ عِدَّتِهِنَّ (হে নবী! তোমরা যখন তোমাদের স্ত্রীদের তালাক করার ইচ্ছা করবেন তাদের তালাক দিও তাদের ইদ্দতের (সময় আগমনের) অগ্রভাগে (সূরা আত তালাকঃ ১)।
3539

وَحَدَّثَنِي هَارُونُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، حَدَّثَنَا أَبُو عَاصِمٍ، عَنِ ابْنِ جُرَيْجٍ، عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، . نَحْوَ هَذِهِ الْقِصَّةِ .

Narrator: আবুয যুবায়র (রহঃ)

৩৫৩৯। হারুন ইবনে আব্দুল্লাহ (রাহঃ) ......... আবু যুবাইর (রাহঃ) সূত্রে ইবনে উমর (রাযিঃ) থেকে পূর্বোক্ত বর্ণনার ন্যায় রিওয়ায়াতে করেছেন।

3540

وَحَدَّثَنِيهِ مُحَمَّدُ بْنُ رَافِعٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، أَخْبَرَنَا ابْنُ جُرَيْجٍ، أَخْبَرَنِي أَبُو الزُّبَيْرِ، أَنَّهُ سَمِعَ عَبْدَ الرَّحْمَنِ بْنَ أَيْمَنَ، مَوْلَى عُرْوَةَ يَسْأَلُ ابْنَ عُمَرَ وَأَبُو الزُّبَيْرِ يَسْمَعُ بِمِثْلِ حَدِيثِ حَجَّاجٍ وَفِيهِ بَعْضُ الزِّيَادَةِ . قَالَ مُسْلِمٌ أَخْطَأَ حَيْثُ قَالَ عُرْوَةَ إِنَّمَا هُوَ مَوْلَى عَزَّةَ .

Narrator: আবুয যুবায়র (রহঃ)

৩৫৪০। মুহাম্মাদ ইবনে রাফি (রাহঃ) ......... আবু যুবাইর (রাহঃ) সূত্রে বর্ণনা করেন যে, তিনি উরওয়া (রাহঃ) এর আযাদকৃত গোলাম আব্দুর রহমান ইবনে আয়মান (রাহঃ) কে ইবনে উমর (রাযিঃ) এর নিকট জিজ্ঞাসা করতে শুনেছেন- আবু যুবাইর তখন শুনছিলেন- (পূর্বোক্ত হারুন ইবনে আব্দুল্লাহ প্রথম সনদের উর্ধতন) রাবী হাজ্জাজ (রাহঃ) এর হাদীসের অনুরূপ রিওয়ায়াত করেছেন। এবং তাতে কিছু অধিক তথ্য রয়েছে।

ইমাম মুসলিম (রাহঃ) বলেন, উরওয়ার মাওলা বলে রাবী ভুল করেছেন। মূলত হবে আযযার মাওলা।

২. তিন তালাক প্রসঙ্গ

باب طَلاَقِ الثَّلاَثِ

3541

حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، وَمُحَمَّدُ بْنُ رَافِعٍ، - وَاللَّفْظُ لاِبْنِ رَافِعٍ - قَالَ إِسْحَاقُ أَخْبَرَنَا وَقَالَ ابْنُ رَافِعٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، أَخْبَرَنَا مَعْمَرٌ، عَنِ ابْنِ طَاوُسٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ كَانَ الطَّلاَقُ عَلَى عَهْدِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَأَبِي بَكْرٍ وَسَنَتَيْنِ مِنْ خِلاَفَةِ عُمَرَ طَلاَقُ الثَّلاَثِ وَاحِدَةً فَقَالَ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ إِنَّ النَّاسَ قَدِ اسْتَعْجَلُوا فِي أَمْرٍ قَدْ كَانَتْ لَهُمْ فِيهِ أَنَاةٌ فَلَوْ أَمْضَيْنَاهُ عَلَيْهِمْ . فَأَمْضَاهُ عَلَيْهِمْ .

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

৩৫৪১। ইসহাক ইবনে ইবরাহীম ও মুহাম্মাদ ইবনে রাফি (রাহঃ) ......... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর যুগে এবং আবু বকর (রাযিঃ) এর যুগে ও উমর (রাযিঃ) এর খিলাফতের প্রথম দুই বছর পর্যন্ত তিন তালাক এক তালাক সাব্যস্ত হত। পরে উমর ইবনুল খাত্তাব (রাযিঃ) বললেন, লোকেরা একটি বিষয়ে অতি ব্যস্ততা দেখিয়েছে যাতে তাদের জন্য ধৈর্যের (ও সুযোগ গ্রহণের) অবকাশ ছিল। এখন যদি বিষয়টি তাদের জন্য কার্যকর সাব্যস্ত করে দেই ...... (তবে তা-ই কল্যাণকর হবে)। সুতরাং তিনি তা তাদের জন্য বাস্তবায়িত ও কার্যকর সাব্যস্ত করলেন।*




*في قبل عد تهن এভাবে ইবন আব্বাস ও ইবন উমর (রাযিঃ)-এর বিরল (শায) কিরা'আত রয়েছে। মাশহুর কিরাআত হল l لعد تهنইদ্দতের প্রতি লক্ষ্য রেখে- অনুবাদক। ইসলামের প্রথম যুগে আবু বকর (রাযিঃ)-এর যুগ মুসলমানগণ খুব অল্পই তালাক বিধি প্রয়োগ করতেন এবং একান্ত অপারগ হলে এক

তালাক প্রদানেই তারা অভ্যস্ত ছিলেন। তবে কখনো বা কেউ তিনবার উচ্চারণ করতেন এবং এতেও তাদের উদ্দেশ্যে হত এক তালাক দেওয়া। পুনঃপুনঃ উচ্চারণ করে তারা এক তালাক প্রদানের ইচ্ছাটিকেই সবল করতেন। তিন তালাক দেওয়া সাধারণত তাদের উদ্দেশ্য হত না। পরবর্তী সময় হযরত উমর (রাযিঃ)-এর যুগে মানুষের এ নীতিতে বেশ পরিবর্তন সাধিত হয় এবং তালাকের হার বৃদ্ধি পেতে থাকে ও বহুল পরিমাণে তিন তালাক প্রদানের ঘটনা সংঘটিত হতে থাকে। ফলে উমর ফারুক (রাযিঃ) প্রকৃত মাস'আলায় জনতার ভুল বুঝাবুঝির আশংকা করেন। যেহেতু তিনি স্বীয় পুত্র আব্দুল্লাহ্ (রাযিঃ)-এর তালাক প্রদানের ঘটনা হতে অবগত ছিলেন যে, তালাক প্রদানের পদ্ধতি অবৈধ হলেও তালাক সংঘটিত হয়ে যায়। সুতরাং তিন তালাক প্রদান করলে তা সর্বাবস্থায়ই তিন তালাক সাব্যস্ত হবে। অতএব, তিনি যথার্থ মাস'আলাটির প্রকাশ ঘটাতে এবং কার্যকররূপে বাস্তবায়িত করতে মনস্থ করলেন। এ সিদ্ধান্ত কোন নতুন বিষয় ছিল না। কেননা তেমন হলে সকল সাহাবী (রাযিঃ) তা কখনো মেনে নিতেন না। (নব্বীকৃত ব্যাখ্যা গ্রন্থ অবলম্বনে, অনুবাদক)
3542

حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، أَخْبَرَنَا رَوْحُ بْنُ عُبَادَةَ، أَخْبَرَنَا ابْنُ جُرَيْجٍ، ح وَحَدَّثَنَا ابْنُ رَافِعٍ، - وَاللَّفْظُ لَهُ - حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، أَخْبَرَنَا ابْنُ جُرَيْجٍ، أَخْبَرَنِي ابْنُ طَاوُسٍ، عَنْ أَبِيهِ، أَنَّ أَبَا الصَّهْبَاءِ، قَالَ لاِبْنِ عَبَّاسٍ أَتَعْلَمُ أَنَّمَا كَانَتِ الثَّلاَثُ تُجْعَلُ وَاحِدَةً عَلَى عَهْدِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَأَبِي بَكْرٍ وَثَلاَثًا مِنْ إِمَارَةِ عُمَرَ . فَقَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ نَعَمْ .

Narrator: তাউস ইবনে কায়সান (রহঃ)

৩৫৪২। ইসহাক ইবনে ইবরাহীম (রাহঃ) ......... তাউস (রাহঃ) বর্ণনা করেন যে, আবু সাহবা (রাহঃ) ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) কে বললেন, আপনার সেই সব (বিরল ও অভিনব প্রকৃতির হাদীস) হতে কিছু উপস্থাপন করুন না! রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এবং আবু বকর (রাযিঃ) এর যুগে তিন তালাক কি এক (তালাক) ছিল না? তিনি বললেন, হ্যাঁ।

3543

وَحَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، أَخْبَرَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ حَرْبٍ، عَنْ حَمَّادِ بْنِ زَيْدٍ، عَنْ أَيُّوبَ السَّخْتِيَانِيِّ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ بْنِ مَيْسَرَةَ، عَنْ طَاوُسٍ، أَنَّ أَبَا الصَّهْبَاءِ، قَالَ لاِبْنِ عَبَّاسٍ هَاتِ مِنْ هَنَاتِكَ أَلَمْ يَكُنِ الطَّلاَقُ الثَّلاَثُ عَلَى عَهْدِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَأَبِي بَكْرٍ وَاحِدَةً فَقَالَ قَدْ كَانَ ذَلِكَ فَلَمَّا كَانَ فِي عَهْدِ عُمَرَ تَتَايَعَ النَّاسُ فِي الطَّلاَقِ فَأَجَازَهُ عَلَيْهِمْ .

Narrator: আবুস সাহবা (রহঃ)

৩৫৪৩। ইসহাক ইবনে ইবরাহীম (রাহঃ) ......... আবুস সাহবা (রাহঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) কে বলেন যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ও আবু বকর (রাযিঃ) এর সময়ে কি তিন তালাককে এক তালাক ধরা হত? তিনি বলেন, হ্যাঁ, এরূপই ছিল। তবে উমর (রাযিঃ) এর যমানায় লোকেরা উপর্যুপরি তালাক দিতে লাগল। তারপর তিনি সেটিকে যথার্থভাবে কার্যকর করেন (অর্থাৎ তিন তালাকে পরিণত করেন।)

৩. তালাকের নিয়ত না করে স্ত্রীকে ’হারাম’ সাব্যস্ত করলে তার উপর কাফফারা ওয়াজিব হবে

باب وُجُوبِ الْكَفَّارَةِ عَلَى مَنْ حَرَّمَ امْرَأَتَهُ وَلَمْ يَنْوِ الطَّلاَقَ

3544

وَحَدَّثَنَا زُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، عَنْ هِشَامٍ، - يَعْنِي الدَّسْتَوَائِيَّ - قَالَ كَتَبَ إِلَىَّ يَحْيَى بْنُ أَبِي كَثِيرٍ يُحَدِّثُ عَنْ يَعْلَى بْنِ حَكِيمٍ عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ أَنَّهُ كَانَ يَقُولُ فِي الْحَرَامِ يَمِينٌ يُكَفِّرُهَا . وَقَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ ( لَقَدْ كَانَ لَكُمْ فِي رَسُولِ اللَّهِ أُسْوَةٌ حَسَنَةٌ) .

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

৩৫৪৪। যুহাইর ইবনে হারব (রাহঃ) ......... হিশাম দাসতাওয়াই (রাহঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, ইয়াহয়া ইবনে আবু কাসীর (রাহঃ) ......... সাঈদ ইবনে জুবাইর (রাহঃ) সূত্রে ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) থেকে (লিখিতরূপে) বর্ণনা করেছেন যে, তিনি (সাঈদ) বলেছেন যে, ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) স্ত্রীকে নিজের জন্য হারাম করা সম্বন্ধে বলতেন যে, তা কসম (ইয়ামীন) সাব্যস্ত হবে, তার কাফফারা আদায় করতে হবে। ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) (এ প্রসঙ্গে) আরো বলেছেন, (পবিত্র কুরআনের)لَقَدْ كَانَ لَكُمْ فِي رَسُولِ اللَّهِ أُسْوَةٌ حَسَنَةٌ (আয়াত উদ্ধৃত করে-) ″তোমাদের জন্য রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর মধ্যে রয়েছে উত্তম আদর্শ।″ (সূরা আহযাবঃ ২১)।

3545

حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ بِشْرٍ الْحَرِيرِيُّ، حَدَّثَنَا مُعَاوِيَةُ، - يَعْنِي ابْنَ سَلاَّمٍ - عَنْ يَحْيَى، بْنِ أَبِي كَثِيرٍ أَنَّ يَعْلَى بْنَ حَكِيمٍ، أَخْبَرَهُ أَنَّ سَعِيدَ بْنَ جُبَيْرٍ أَخْبَرَهُ أَنَّهُ، سَمِعَ ابْنَ عَبَّاسٍ، قَالَ إِذَا حَرَّمَ الرَّجُلُ عَلَيْهِ امْرَأَتَهُ فَهْىَ يَمِينٌ يُكَفِّرُهَا وَقَالَ ( لَقَدْ كَانَ لَكُمْ فِي رَسُولِ اللَّهِ أُسْوَةٌ حَسَنَةٌ)

Narrator: সাঈদ ইবনে জুবায়র (রহঃ)

৩৫৪৫। ইয়াহয়া ইবনে বিশর হারীরী (রাহঃ) ......... সাঈদ ইবনে জুবাইর (রাহঃ) সূত্রে বর্ণনা করেন যে, তিনি ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) কে বলতে শুনেছেন, কোন পুরুষ তার স্ত্রীকে নিজের জন্য হারাম (ঘোষণা) করলে তা কসম সাব্যস্ত হবে, তার কাফফারা আদায় করবে। তিনি আরো বলেছেনঃلَقَدْ كَانَ لَكُمْ فِي رَسُولِ اللَّهِ أُسْوَةٌ حَسَنَةٌ ″তোমাদের জন্য রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর মধ্যে রয়েছে উত্তম আদর্শ।″ (সূরা আহযাবঃ ২১)।

3546

وَحَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ حَاتِمٍ، حَدَّثَنَا حَجَّاجُ بْنُ مُحَمَّدٍ، أَخْبَرَنَا ابْنُ جُرَيْجٍ، أَخْبَرَنِي عَطَاءٌ، أَنَّهُ سَمِعَ عُبَيْدَ بْنَ عُمَيْرٍ، يُخْبِرُ أَنَّهُ سَمِعَ عَائِشَةَ، تُخْبِرُ أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم كَانَ يَمْكُثُ عِنْدَ زَيْنَبَ بِنْتِ جَحْشٍ فَيَشْرَبُ عِنْدَهَا عَسَلاً قَالَتْ فَتَوَاطَأْتُ أَنَا وَحَفْصَةُ أَنَّ أَيَّتَنَا مَا دَخَلَ عَلَيْهَا النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم فَلْتَقُلْ إِنِّي أَجِدُ مِنْكَ رِيحَ مَغَافِيرَ أَكَلْتَ مَغَافِيرَ فَدَخَلَ عَلَى إِحْدَاهُمَا فَقَالَتْ ذَلِكَ لَهُ . فَقَالَ " بَلْ شَرِبْتُ عَسَلاً عِنْدَ زَيْنَبَ بِنْتِ جَحْشٍ وَلَنْ أَعُودَ لَهُ " . فَنَزَلَ ( لِمَ تُحَرِّمُ مَا أَحَلَّ اللَّهُ لَكَ) إِلَى قَوْلِهِ ( إِنْ تَتُوبَا) لِعَائِشَةَ وَحَفْصَةَ ( وَإِذْ أَسَرَّ النَّبِيُّ إِلَى بَعْضِ أَزْوَاجِهِ حَدِيثًا) لِقَوْلِهِ " بَلْ شَرِبْتُ عَسَلاً " .

Narrator: উবায়দ ইবনে উমায়র (রহঃ)

৩৫৪৬। মুহাম্মাদ ইবনে হাতিম (রাহঃ) ......... উবাইদ ইবনে উমায়র (রাহঃ) সূত্রে বর্ণনা করেন যে, তিনি আয়িশা (রাযিঃ) কে খবর প্রদান করতে শুনেছেন যে, নবী (ﷺ) (অসর পরবর্তী সময় হুজরাসমূহে আবর্তনকালে) যায়নাব বিনতে জাহশ (রাযিঃ) এর গৃহে অবস্থান করে সেখানে মধু পান করেন। আয়িশা (রাযিঃ) বললেন, আমি ও হাফসা মিলে এরূপ যুক্তি-পরামর্শ করলাম যে, আমাদের দু’জনের মাঝে যার কাছেই নবী (ﷺ) (প্রথমে) আগমন করবেন সে বলবে- ″আমি আপনার মুখে মাগাফীর* এর দুর্গন্ধ পাচ্ছি আপনি মাগাফীর খেয়েছেন।″ পরে এদের কোন একজনের কাছে গেলে সে তাকে অনুরূপ বলল। নবী (ﷺ) বললেন, বরং আমি তো যায়নাব বিনতে জাহশের ঘরে মধু পান করেছি এবং পুনরায় কখনো পান করব না। তখন নাযিল হলঃ

″হে নবী! আল্লাহ আপনার জন্য যা বৈধ করেছেন, আপনি তা হারাম করছেন কেন? আপনি আপনার স্ত্রীদের সন্তুষ্টি কামনা করছেন। আল্লাহ ক্ষমাশীল পরম দয়ালু। আল্লাহ তোমাদের শপথ হতে মুক্তি লাভের ব্যবস্থা করেছেন। আল্লাহ তাদের সহায়; তিনি সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়। স্মরণ কর, নবী তাঁর স্ত্রীদের একজনকে গোপনে কিছু বলেছিলেন। অতঃপর যখন সে তা অন্যকে বলে দিয়েছে এবং আল্লাহ নবীকে তা জানিয়ে দিয়েছিলেন, তখন নবী এ বিষয় কিছু ব্যক্ত করলেন; কিছু অব্যক্ত রাখলেন। যখন নবী তা তার সে স্ত্রীকে জানালেন তখন সে বলল, কে আপনাকে তা অবহিত করল? নবী বললেন, আমাকে অবহিত করেছেন তিনি যিনি সর্বজ্ঞ, সম্যক অবগত। যদি তোমরা উভয়ে অনুতপ্ত হয়ে আল্লাহর দিকে প্রত্যাবর্তন কর, যেহেতু তোমাদের হৃদয় ঝুঁকে পড়েছে- আল্লাহ তোমাদের ক্ষমা করবেন″ (সূরা আত তাহরীমঃ ১ ৪)

এতে ″যদি তোমরা উভয় তাওবা কর″ (অনুতপ্ত হয়ে আল্লাহর দিকে প্রত্যাবর্তন কর) দ্বারা আয়িশা ও হাফসা (রাযিঃ) উদ্দেশ্য। এবং যখন ″নবী তার স্ত্রীদের একজনকে গোপনে কিছু বলেছিলেন″ দ্বারা “বরং আমি মধুপান করেছি এবং আর কখনো পান করবো না উদ্দেশ্য”।
3547
حَدَّثَنَا أَبُو كُرَيْبٍ، مُحَمَّدُ بْنُ الْعَلاَءِ وَهَارُونُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ قَالاَ حَدَّثَنَا أَبُو أُسَامَةَ، عَنْ هِشَامٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يُحِبُّ الْحَلْوَاءَ وَالْعَسَلَ فَكَانَ إِذَا صَلَّى الْعَصْرَ دَارَ عَلَى نِسَائِهِ فَيَدْنُو مِنْهُنَّ فَدَخَلَ عَلَى حَفْصَةَ فَاحْتَبَسَ عِنْدَهَا أَكْثَرَ مِمَّا كَانَ يَحْتَبِسُ فَسَأَلْتُ عَنْ ذَلِكَ فَقِيلَ لِي أَهْدَتْ لَهَا امْرَأَةٌ مِنْ قَوْمِهَا عُكَّةً مِنْ عَسَلٍ فَسَقَتْ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مِنْهُ شَرْبَةً فَقُلْتُ أَمَا وَاللَّهِ لَنَحْتَالَنَّ لَهُ . فَذَكَرْتُ ذَلِكَ لِسَوْدَةَ وَقُلْتُ إِذَا دَخَلَ عَلَيْكِ فَإِنَّهُ سَيَدْنُو مِنْكِ فَقُولِي لَهُ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَكَلْتَ مَغَافِيرَ فَإِنَّهُ سَيَقُولُ لَكِ لاَ . فَقُولِي لَهُ مَا هَذِهِ الرِّيحُ وَكَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَشْتَدُّ عَلَيْهِ أَنْ يُوجَدَ مِنْهُ الرِّيحُ - فَإِنَّهُ سَيَقُولُ لَكِ سَقَتْنِي حَفْصَةُ شَرْبَةَ عَسَلٍ . فَقُولِي لَهُ جَرَسَتْ نَحْلُهُ الْعُرْفُطَ وَسَأَقُولُ ذَلِكَ لَهُ وَقُولِيهِ أَنْتِ يَا صَفِيَّةُ فَلَمَّا دَخَلَ عَلَى سَوْدَةَ قَالَتْ تَقُولُ سَوْدَةُ وَالَّذِي لاَ إِلَهَ إِلاَّ هُوَ لَقَدْ كِدْتُ أَنْ أُبَادِئَهُ بِالَّذِي قُلْتِ لِي وَإِنَّهُ لَعَلَى الْبَابِ فَرَقًا مِنْكِ فَلَمَّا دَنَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَتْ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَكَلْتَ مَغَافِيرَ قَالَ " لاَ " . قَالَتْ فَمَا هَذِهِ الرِّيحُ قَالَ " سَقَتْنِي حَفْصَةُ شَرْبَةَ عَسَلٍ " . قَالَتْ جَرَسَتْ نَحْلُهُ الْعُرْفُطَ . فَلَمَّا دَخَلَ عَلَىَّ قُلْتُ لَهُ مِثْلَ ذَلِكَ ثُمَّ دَخَلَ عَلَى صَفِيَّةَ فَقَالَتْ بِمِثْلِ ذَلِكَ فَلَمَّا دَخَلَ عَلَى حَفْصَةَ قَالَتْ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَلاَ أَسْقِيكَ مِنْهُ قَالَ " لاَ حَاجَةَ لِي بِهِ " . قَالَتْ تَقُولُ سَوْدَةُ سُبْحَانَ اللَّهِ وَاللَّهِ لَقَدْ حَرَمْنَاهُ . قَالَتْ قُلْتُ لَهَا اسْكُتِي .
قَالَ أَبُو إِسْحَاقَ إِبْرَاهِيمُ حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ بِشْرِ بْنِ الْقَاسِمِ، حَدَّثَنَا أَبُو أُسَامَةَ، بِهَذَا سَوَاءً وَحَدَّثَنِيهِ سُوَيْدُ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ مُسْهِرٍ، عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ، بِهَذَا الإِسْنَادِ نَحْوَهُ .

Narrator: উরওয়া ইবনে যুবায়র (রহঃ)

৩৫৪৭। আবু কুরায়ব মুহাম্মাদ ইবনুল আ’লা ও হারুন ইবনে আব্দুল্লাহ (রাহঃ) (আবু উসামা সূত্রে) ......... হিশামের পিতা (উরওয়া) সূত্রে আয়িশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণানা করেন। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) মিষ্ট দ্রব (হালুয়া) ও মধু পছন্দ করতেন। তার নিয়ম হচ্ছিল আসরের নামায আদায়ের পরে স্ত্রীদের ঘরে ঘরে এক চক্কর ঘুরে আসতেন এবং তাদের সান্নিধ্য গমন করতেন। এভাবে তিনি হাফসা (রাযিঃ) এর কাছে গেলেন এবং তার কাছে স্বাভাবিকভাবে আব্দ্ধ থাকার সময়ের চেয়ে অধিক সময় আব্দ্ধ রইলেন। আমি (আয়িশা) এ বিষয় জিজ্ঞাসা করলে আমাকে বলা হল তাকে (হাফসাকে) তার গোত্রের কোন মহিলা এক পাত্র মধু হাদিয়া দিয়েছিল। তাই সে তা থেকে কিছু রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে পান করিয়ে ছিল।

(আয়িশা বলেন,) আমি বললাম, ওহে! আল্লাহর কসম! আমি অবশ্যই তাঁর জন্য কৌশল অবলম্বন করব। আমি বিষয়টি সাওদা এর সঙ্গে আলোচনা করলাম এবং তাঁকে বললাম, নবী (ﷺ) তোমার কাছে আগমন করলে তিনি তো তোমার সন্নিকটে আসবেন, তখন তুমি তাঁকে বলবে, “ইয়া রাসুলাল্লাহ! আপনি মাগাফীর খেয়েছেন। তখন তিনি তো তোমাকে বলবেন- না, তখন তুমি তাঁকে বলবে, (তবে) এ দুর্গন্ধ কিসের? আর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট হতে দুর্গন্ধ পাওয়া যাবে এটা ছিল তাঁর কাছে অতি অসহনীয় বিষয়। তখন তিনি তোমাকে বলবেন- হাফসা আমাকে মধুর শরবত পান করিয়েছে। তুমি তখন তাকে বলবে, ’ঐ মধুর মৌমাছি-উরফূত (গাছের কষ) চুষেছে।” আর আমিও তাঁকে এভাবেই বলব। আর তুমিও হে সাফিয়্যা! তাই বলবে।

পরে যখন নবী (ﷺ) সাওদা (রাযিঃ) এর কাছে গেলেন আয়িশা (রাযিঃ) বলেন, সাওদা (রাযিঃ) এর বর্ণনা- “কসম সে সত্তার যিনি ব্যতীত আর কোন ইলাহ নেই! তুমি আমাকে যা কিছু বলেছিলে তা তাঁর কাছে প্রকাশ করেই দিচ্ছিলাম প্রায়- তিনি (নবী (ﷺ)) তখন দরজায়- তোমার ভয় তা আর করা হল না। পরে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাঁর নিকটবর্তীহলে সে বলল, ইয়া রাসুলাল্লাহ! আপনি মাগাফীর খেয়েছেন কি? তিনি বললেন, না। সে (সাওদা) বলল, তবে এ ঘ্রাণ কিসের? নবী (ﷺ) বললেন, হাফসা আমাকে মধুর শরবত পান করিয়েছে। সাওদা বলল, (তবে-তাই) তার মৌমাছি উরফূত চুষেছে।

পরে নবী (ﷺ) আমার নিকট আগমন করলে আমিও তাঁকে অনুরূপ বললাম। অতঃপর সাফইয়্যা (রাযিঃ) এর কাছে গেলে সেও অনুরূপ বলল। পরে (আবার) নবী (ﷺ) হাফসা এর নিকট গেলে সে বলল, ইয়া রাসুলাল্লাহ! আমি কি আপনাকে তা পান করতে দিব না? নবী (ﷺ) বললেন, “তার প্রতি আমার কোন চাহিদা নেই।” আয়িশা বলেন, সাওদা (রাযিঃ) বলতে লাগল, আল্লাহর কসম! আমরা তো তাকে (একটি প্রিয় পানীয় হতে) বঞ্চিত করে দিয়েছি। আয়িশা (রাযিঃ) বলেন, চুপ থাক।

(ইমাম মুসলিম এর শাগরিদ) আবু ইসহাক ইবরাহীম (গ্রন্থকার হতে এ গ্রন্থের রিওয়ায়াতকারী) বলেন, হাসান ইবনে বিশর (রাহঃ) আবু উসামা (রাহঃ) সূত্রে আমাকে অবিকল এ হাদীস শুনিয়েছেন। সূওয়ায়দ ইবনে সাঈদ (রাহঃ) ......... হিশাম ইবনে উরওয়া (রাহঃ) সূত্রে ঐ সনদে অনুরূপ রিওয়ায়াত করেছেন।*




* অর্থাৎ ইমাম মুসলিম (রাহঃ) একজন রাবীর মাধ্যমে আবু উসামা (রাহঃ) হতে এ হাদীস আহরণ করেছেন। আর আবু ইসহাক ইবরাহীম যিনি ইমাম মুসলিমের বিশিষ্ট শাগরিদ- তিনিও অন্য একটি সনদে একজন রাবী- হাসান ইবন বিশ্বরের মাধ্যমে হাদীসটি রিওয়ায়াত করেছেন। ফলে এ হাদীসে তার সনদ উন্নীত হয়ে তার শায়খ ইমাম মুসলিমের সমপর্যায়ে পৌঁছেছে- অনুবাদ

৪. ইখতিয়ার প্রদান করলে তালাকের নিয়ত ছাড়া তালাক হবে না

باب بَيَانِ أَنَّ تَخْيِيرَ امْرَأَتِهِ لاَ يَكُونُ طَلاَقًا إِلاَّ بِالنِّيَّةِ

3548

وَحَدَّثَنِي أَبُو الطَّاهِرِ، حَدَّثَنَا ابْنُ وَهْبٍ، ح وَحَدَّثَنِي حَرْمَلَةُ بْنُ يَحْيَى التُّجِيبِيُّ، - وَاللَّفْظُ لَهُ - أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ وَهْبٍ، أَخْبَرَنِي يُونُسُ بْنُ يَزِيدَ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، أَخْبَرَنِي أَبُو سَلَمَةَ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَوْفٍ، أَنَّ عَائِشَةَ، قَالَتْ لَمَّا أُمِرَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِتَخْيِيرِ أَزْوَاجِهِ بَدَأَ بِي فَقَالَ " إِنِّي ذَاكِرٌ لَكِ أَمْرًا فَلاَ عَلَيْكِ أَنْ لاَ تَعْجَلِي حَتَّى تَسْتَأْمِرِي أَبَوَيْكِ " . قَالَتْ قَدْ عَلِمَ أَنَّ أَبَوَىَّ لَمْ يَكُونَا لِيَأْمُرَانِي بِفِرَاقِهِ قَالَتْ ثُمَّ قَالَ " إِنَّ اللَّهَ عَزَّ وَجَلَّ قَالَ ( يَا أَيُّهَا النَّبِيُّ قُلْ لأَزْوَاجِكَ إِنْ كُنْتُنَّ تُرِدْنَ الْحَيَاةَ الدُّنْيَا وَزِينَتَهَا فَتَعَالَيْنَ أُمَتِّعْكُنَّ وَأُسَرِّحْكُنَّ سَرَاحًا جَمِيلاً * وَإِنْ كُنْتُنَّ تُرِدْنَ اللَّهَ وَرَسُولَهُ وَالدَّارَ الآخِرَةَ فَإِنَّ اللَّهَ أَعَدَّ لِلْمُحْسِنَاتِ مِنْكُنَّ أَجْرًا عَظِيمًا) قَالَتْ فَقُلْتُ فِي أَىِّ هَذَا أَسْتَأْمِرُ أَبَوَىَّ فَإِنِّي أُرِيدُ اللَّهَ وَرَسُولَهُ وَالدَّارَ الآخِرَةَ . قَالَتْ ثُمَّ فَعَلَ أَزْوَاجُ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مِثْلَ مَا فَعَلْتُ .

Narrator: আবু সালামা ইবনে আব্দুর রহমান ইবনে আউফ (রহঃ)

৩৫৪৮। আবু তাহির ও হারামালা ইবনে ইয়াহয়া তুজিবী (রাহঃ) ......... আবু সালামা ইবনে আব্দুল রহমান ইবনে আওফ (রাহঃ) সূত্রে বর্ণনা করেন যে, আয়িশা (রাযিঃ) বলেছেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাঁর স্ত্রীদের ইখতিয়ার প্রদানে আদিষ্ট হলে বিষয়টি আমাকে দিয়ে সূচনা করলেন। তিনি বললেন, ″আমি তোমার কাছে একটি বিষয় উপাস্থান করছি, তোমার পিতা-মাতার সঙ্গে পরামর্শ না করা পর্যন্ত তুমি তাতে তাড়াহুড়া না করলে তোমার কোন লোকসান হবে না।″

আয়িশা (রাযিঃ) বলেন, নবী (ﷺ) নিশ্চিত অবগত ছিলেন যে, আমার মা-বাপ আমাকে তাঁর সঙ্গে বিচ্ছেদ ঘটাবার পরামর্শ দিতে প্রস্তুত হবেন না। আয়িশা (রাযিঃ) বলেন, অতঃপর নবী (ﷺ) (ইখতিয়ারের বিষয়ের বিবরণ প্রদানে) বললেন, আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেনঃ (হে নবী! আপনি আপনার স্ত্রীদের বলে দিন! তোমরা যদি পার্থিব জীবন ও তার ভূষণ কামনা কর, তবে এসো আমি তোমাদের ভোগ-সামগ্রীর ব্যবস্থা করে দেই এবং সৌজন্যর সঙ্গে তোমাদের বিদায় করে দেই। আর যদি তোমরা আল্লাহ, তাঁর রাসুল ও আখিরাত কামনা কর তবে তোমাদের মধ্যে যারা সৎকর্মশীল আল্লাহ তাদের জন্য মহা প্রতিদান প্রস্তুত রেখেছেন”। (সূরা আহযাবঃ ২৮-২৯)।

আয়িশা (রাযিঃ) বলেন, আমি বললামঃ এ ব্যাপারে আবার আমার মা- বাপের সঙ্গে পরামর্শ করব? আমি তো আল্লাহ এবং তাঁর রাসুল ও আখিরাতকেই ইখতিয়ার করছি। তিনি বলেন, পরে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর অন্যান্য স্ত্রীগণ তেমনই করেন যেমন আমি করেছিলাম।
3549

حَدَّثَنَا سُرَيْجُ بْنُ يُونُسَ، حَدَّثَنَا عَبَّادُ بْنُ عَبَّادٍ، عَنْ عَاصِمٍ، عَنْ مُعَاذَةَ الْعَدَوِيَّةِ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَسْتَأْذِنُنَا إِذَا كَانَ فِي يَوْمِ الْمَرْأَةِ مِنَّا بَعْدَ مَا نَزَلَتْ ( تُرْجِي مَنْ تَشَاءُ مِنْهُنَّ وَتُؤْوِي إِلَيْكَ مَنْ تَشَاءُ) فَقَالَتْ لَهَا مُعَاذَةُ فَمَا كُنْتِ تَقُولِينَ لِرَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِذَا اسْتَأْذَنَكِ قَالَتْ كُنْتُ أَقُولُ إِنْ كَانَ ذَاكَ إِلَىَّ لَمْ أُوثِرْ أَحَدًا عَلَى نَفْسِي .

Narrator: মুআযাহ আদাবিয়্যা (রহঃ)

৩৫৪৯। সুরায়জ ইবনে ইউনুস (রাহঃ) ......... মু’আযা আদাবিয়্যা (রাহঃ) সূত্রে আয়িশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, ″আপনি তাদের (স্ত্রীদের) মধ্যে যাকে ইচ্ছা দূরে সরিয়ে রাখতে পারেন এবং যাকে ইচ্ছা আপনার নিকট স্থান দিতে পারেন″ (সূরা আহযাবঃ ৫১) আয়াত নাযিল হওয়ার পরে(ও) আমাদের কোন এক স্ত্রীর পালার দিনে (অন্যদের জন্য) আমাদের নিকট হতে অনুমতি চাইতেন। তখন মুআযা (রাহঃ) তাকে বললেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আপনার নিকট অনুমতি চাইলে আপনি তাঁকে কি বলতেন? তিনি বললেন, আমি বলতামঃ এ বিষয়টি যদি আমার ইচ্ছাধীন হয়, তবে আমি কাউকে আমার উপর অগ্রাধিকার দেব না।

3550

وَحَدَّثَنَاهُ الْحَسَنُ بْنُ عِيسَى، أَخْبَرَنَا ابْنُ الْمُبَارَكِ، أَخْبَرَنَا عَاصِمٌ، بِهَذَا الإِسْنَادِ . نَحْوَهُ .

Narrator: আসিম আল আহওয়াল (রহঃ)

৩৫৫০। হাসান ইবনে ঈসা (রাহঃ) ......... আসিম (রাহঃ) সূত্রে পূর্বোক্ত সনদে অনুরূপ রিওয়ায়াত করেছেন।

3551

حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ يَحْيَى التَّمِيمِيُّ، أَخْبَرَنَا عَبْثَرٌ، عَنْ إِسْمَاعِيلَ بْنِ أَبِي خَالِدٍ، عَنِ الشَّعْبِيِّ، عَنْ مَسْرُوقٍ، قَالَ قَالَتْ عَائِشَةُ قَدْ خَيَّرَنَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَلَمْ نَعُدَّهُ طَلاَقًا .

Narrator: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

৩৫৫১। ইয়াহয়া ইবনে ইয়াহয়া তামীমী (রাহঃ) ......... আয়িশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদিগকে ইখতিয়ার দিয়েছিলেন কিন্তু আমরা তাকে তালাক গণ্য করি নি।

3552

وَحَدَّثَنَاهُ أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ مُسْهِرٍ، عَنْ إِسْمَاعِيلَ بْنِ أَبِي، خَالِدٍ عَنِ الشَّعْبِيِّ، عَنْ مَسْرُوقٍ، قَالَ مَا أُبَالِي خَيَّرْتُ امْرَأَتِي وَاحِدَةً أَوْ مِائَةً أَوْ أَلْفًا بَعْدَ أَنْ تَخْتَارَنِي وَلَقَدْ سَأَلْتُ عَائِشَةَ فَقَالَتْ قَدْ خَيَّرَنَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَفَكَانَ طَلاَقًا.

Narrator: মাসরূক ইবনে আজদা' (রহঃ)

৩৫৫২। আবু বকর ইবনে আবি শাঈবা (রাহঃ) ......... মাসরুক (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, এ ব্যপারে আমার কোনও পরওয়া নেই যে, স্ত্রীকে একবার ইখতিয়ার দিলাম না শতবার, যদি সে আমাকে পছন্দ করে নেয়। আর আমি আয়িশা (রাযিঃ) কে জিজ্ঞাসা করেছি। তিনি বলেছেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদিগকে ইখতিয়ার প্রদান করেছিলেন। এতে কি তালাক হয়ে গিয়েছে? (না এতে তালাক হয় নি)।

3553

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ عَاصِمٍ، عَنِ الشَّعْبِيِّ، عَنْ مَسْرُوقٍ، عَنْ عَائِشَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم خَيَّرَ نِسَاءَهُ فَلَمْ يَكُنْ طَلاَقًا.

Narrator: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

৩৫৫৩। মুহাম্মাদ ইবনে বাশশার (রাহঃ) ......... আয়িশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাঁর সহধর্মিনীগণকে ইখতিয়ার প্রদান করেছিলেন। কিন্তু তা (ইখতিয়ার প্রদান করা) তালাক বলে গণ্য হয় নি।

3554

وَحَدَّثَنِي إِسْحَاقُ بْنُ مَنْصُورٍ، أَخْبَرَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ، عَنْ سُفْيَانَ، عَنْ عَاصِمٍ الأَحْوَلِ، وَإِسْمَاعِيلَ بْنِ أَبِي خَالِدٍ عَنِ الشَّعْبِيِّ، عَنْ مَسْرُوقٍ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ خَيَّرَنَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَاخْتَرْنَاهُ فَلَمْ يَعُدَّهُ طَلاَقًا .

Narrator: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

৩৫৫৪। ইসহাক ইবনে মনসুর (রাহঃ) ......... আয়িশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদিগকে ইখতিয়ার প্রদান করেছিলেন। এরপর আমরা তাঁকে গ্রহণ করলাম। এটা আমাদের উপর তালাক বলে গণ্য হয় নি।

3555

حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ يَحْيَى، وَأَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ وَأَبُو كُرَيْبٍ قَالَ يَحْيَى أَخْبَرَنَا وَقَالَ الآخَرَانِ، حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ مُسْلِمٍ، عَنْ مَسْرُوقٍ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ خَيَّرَنَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَاخْتَرْنَاهُ فَلَمْ يَعْدُدْهَا عَلَيْنَا شَيْئًا .

Narrator: মাসরূক ইবনে আজদা' (রহঃ)

৩৫৫৫। ইয়াহয়া ইবনে ইয়াহয়া, আবু বকর ইবনে আবি শাঈবা ও আবু কুরায়ব (রাহঃ) ......... মাসরুক (রাহঃ) আয়িশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদিগকে ইখতিয়ার প্রদান করেছিলেন। এরপর আমরা তাকে গ্রহণ করলাম। এটা আমাদের উপর তালাক বলে গণ্য হয় নি।

3556

وَحَدَّثَنِي أَبُو الرَّبِيعِ الزَّهْرَانِيُّ، حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ زَكَرِيَّاءَ، حَدَّثَنَا الأَعْمَشُ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ، عَنِ الأَسْوَدِ، عَنْ عَائِشَةَ، وَعَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ مُسْلِمٍ، عَنْ مَسْرُوقٍ، عَنْ عَائِشَةَ، بِمِثْلِهِ.

Narrator: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

৩৫৫৬। আবুর রাবী যাহরানী (রাহঃ) ......... আয়িশা (রাযিঃ) থেকে আসওয়াদ (রাহঃ) এর সূত্রে মাসরুক (রাহঃ) বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত আছে।

3557

وَحَدَّثَنَا زُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، حَدَّثَنَا رَوْحُ بْنُ عُبَادَةَ، حَدَّثَنَا زَكَرِيَّاءُ بْنُ إِسْحَاقَ، حَدَّثَنَا أَبُو الزُّبَيْرِ، عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ دَخَلَ أَبُو بَكْرٍ يَسْتَأْذِنُ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَوَجَدَ النَّاسَ جُلُوسًا بِبَابِهِ لَمْ يُؤْذَنْ لأَحَدٍ مِنْهُمْ - قَالَ - فَأُذِنَ لأَبِي بَكْرٍ فَدَخَلَ ثُمَّ أَقْبَلَ عُمَرُ فَاسْتَأْذَنَ فَأُذِنَ لَهُ فَوَجَدَ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم جَالِسًا حَوْلَهُ نِسَاؤُهُ وَاجِمًا سَاكِتًا - قَالَ - فَقَالَ لأَقُولَنَّ شَيْئًا أُضْحِكُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ لَوْ رَأَيْتَ بِنْتَ خَارِجَةَ سَأَلَتْنِي النَّفَقَةَ فَقُمْتُ إِلَيْهَا فَوَجَأْتُ عُنُقَهَا . فَضَحِكَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَقَالَ " هُنَّ حَوْلِي كَمَا تَرَى يَسْأَلْنَنِي النَّفَقَةَ " . فَقَامَ أَبُو بَكْرٍ إِلَى عَائِشَةَ يَجَأُ عُنُقَهَا فَقَامَ عُمَرُ إِلَى حَفْصَةَ يَجَأُ عُنُقَهَا كِلاَهُمَا يَقُولُ تَسْأَلْنَ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مَا لَيْسَ عِنْدَهُ . فَقُلْنَ وَاللَّهِ لاَ نَسْأَلُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم شَيْئًا أَبَدًا لَيْسَ عِنْدَهُ ثُمَّ اعْتَزَلَهُنَّ شَهْرًا أَوْ تِسْعًا وَعِشْرِينَ ثُمَّ نَزَلَتْ عَلَيْهِ هَذِهِ الآيَةُ ( يَا أَيُّهَا النَّبِيُّ قُلْ لأَزْوَاجِكَ) حَتَّى بَلَغَ ( لِلْمُحْسِنَاتِ مِنْكُنَّ أَجْرًا عَظِيمًا) قَالَ فَبَدَأَ بِعَائِشَةَ فَقَالَ " يَا عَائِشَةُ إِنِّي أُرِيدُ أَنْ أَعْرِضَ عَلَيْكَ أَمْرًا أُحِبُّ أَنْ لاَ تَعْجَلِي فِيهِ حَتَّى تَسْتَشِيرِي أَبَوَيْكِ " . قَالَتْ وَمَا هُوَ يَا رَسُولَ اللَّهِ فَتَلاَ عَلَيْهَا الآيَةَ قَالَتْ أَفِيكَ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَسْتَشِيرُ أَبَوَىَّ بَلْ أَخْتَارُ اللَّهَ وَرَسُولَهُ وَالدَّارَ الآخِرَةَ وَأَسْأَلُكَ أَنْ لاَ تُخْبِرَ امْرَأَةً مِنْ نِسَائِكَ بِالَّذِي قُلْتُ . قَالَ " لاَ تَسْأَلُنِي امْرَأَةٌ مِنْهُنَّ إِلاَّ أَخْبَرْتُهَا إِنَّ اللَّهَ لَمْ يَبْعَثْنِي مُعَنِّتًا وَلاَ مُتَعَنِّتًا وَلَكِنْ بَعَثَنِي مُعَلِّمًا مُيَسِّرًا " .

Narrator: জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ আনসারী (রাঃ)

৩৫৫৭। যুহাইর ইবনে হারব (রাহঃ) ......... জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আবু বকর (রাযিঃ) এসে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকটে উপস্থিতির অনুমতি প্রার্থনা করলেন। তিনি তার দরজায় অনেক লোককে উপবিষ্ট দেখতে পেলেন। তবে তাদের কাউকে ভেতরে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয় নি। তিনি (বর্ণনাকারী) বলেন, এরপর তিনি আবু বকর (রাযিঃ) কে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হলে তিনি প্রবেশ করলেন। এরপর উমর (রাযিঃ) এলেন এবং তিনি অনুমতি প্রার্থনা করলেন। তখন তাকেও প্রবেশের অনুমতি প্রদান করা হল। তিনি নবী (ﷺ) কে চিন্তিত ও নীরব বসে থাকতে দেখলেন আর তখন তার চতুষ্পার্শ্বে তাঁর সহধর্মিনীগণ উপবিষ্টা ছিলেন।

তিনি (বর্ণানাকারী জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ (রাযিঃ)) বলেন, উমর (রাযিঃ) বললেনঃ নিশ্চয়ই আমি নবী (ﷺ) এর নিকটে এমন কথা বলব যা তাঁকে হাসাবে। এপর তিনি বললেন, ইয়া রাসুলাল্লাহ! আপনি যদি দেখতেন খারিজার কন্যা (উমর (রাযিঃ) এর স্ত্রী) আমার কাছে খোরপোষ তলব করছিল। আমি তার দিকে উঠে গেলাম এবং তার ঘাড়ে ঘুষি মারলাম। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) হেসে উঠলেন এবং বললেন, আমার চতুষ্পার্শ্বে তোমরা যাদের দেখতে পাচ্ছ তারা আমার কাছে খোরপোষ দাবী করছে।

অমনি আবু বকর (রাযিঃ) আয়িশা (রাযিঃ) এর দিকে ছুটলেন এবং তাঁর গর্দানে ঘুষি মারলেন। উমর (রাযিঃ)ও দাঁড়িয়ে গেলেন এবং হাফসা (রাযিঃ) এর দিকে অগ্রসর হয়ে তাঁর ঘাড়ে ঘুষি মারলেন। তাঁরা উভয়ে বললেন, তোমরা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট এমন জিনিস দাবী করছে যা তাঁর কাছে নেই। তখন তাঁরা (নবী (ﷺ) এর সহধর্মিনীগণ) বললেন, আল্লাহর কসম! আমরা আর কখনো রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কাছে এমন জিনিস চাইব না যা তাঁর কাছে নেই।

এরপর তিনি তাঁদের (তাঁর সহধর্মিনীগণের) থেকে একমাস কিংবা উনত্রিশ দিন পৃথক রইলেন। এপর তাঁর প্রতি এই আয়াত নাযিল হলঃ (অর্থ) ″হে নবী! আপনি আপনার সহধর্মিনীদের বলে দিন, তোমরা যদি পার্থিব জীবনের ভোগ ও এর বিলাসিতা কামনা কর, তাহলে এসো আমি তোমাদের ভোগ-বিলাসে ব্যবস্থা করে দেই এবং সৌজন্যের সাথে তোমাদের বিদায় করে দেই। আর যদি তোমরা আল্লাহ, তাঁর রাসুল ও পরকালকে কামনা কর তাহলে তোমাদের মধ্যে যারা সৎকর্মপরায়ন আল্লাহ তাদের জন্য মহা প্রতিদান প্রস্তুত করে রেখেছেন।″ (আহযাবঃ ২৮ ২৯)

তিনি [জাবির (রাযিঃ)] বলেন, তিনি (রাসূলুল্লাহ (ﷺ)) আয়িশা (রাযিঃ) কে দিয়ে (আয়াতের নির্দেশ তামীল করতে) শুরু করলেন। তখন তিনি বললেন, হে আয়িশা! আমি তোমার কাছে একটি (গুরত্বপূর্ণ) বিষয়ে আলাপ করতে চাই। তবে সে বিষয়ে তোমার পিতা-মাতার সঙ্গে পরামর্শ না করে তোমার ত্বরিত সিদ্ধান্ত গ্রহণ না করাই আমি পছন্দ করি।

তিনি বললেন, ইয়া রাসুলাল্লাহ! সে বিষয়টা কি (আমি জানতে পারি)? তখন তিনি তার কাছে এই আয়াত তিলাওয়াত করলেন। তিনি বললেন, ইয়া রাসুলাল্লাহ! আপনার ব্যাপারে আমি কি আমার পিতা-মাতার কাছে পরামর্শ নিতে যাব? (এর কোন প্রয়োজন নেই)। না, বরং আমি আল্লাহ, তাঁর রাসুল ও আখিরাতকেই বেছে নিয়েছি। তবে আপনার সকাশে আমার একান্ত নিবেদন, আমি যা বলেছি সে সম্পর্কে আপনি আপনার অন্যান্য সহধর্মিনীগণের কারো কাছে ব্যক্ত করবেন না। তিনি বললেন, তাদের যে কেউ সে বিষয় আমাকে জিজ্ঞাসা করলে আমি অবশ্যই তাঁকে তা বলে দিব। কারণ আল্লাহ আমাকে কঠোরতা আরোপকারী ও হঠকারীরূপে নয় বরং সহজ পন্থায় (শিক্ষাদানকারী) হিসাবে প্রেরণ করেছেন।
3558

حَدَّثَنِي زُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، حَدَّثَنَا عُمَرُ بْنُ يُونُسَ الْحَنَفِيُّ، حَدَّثَنَا عِكْرِمَةُ بْنُ عَمَّارٍ، عَنْ سِمَاكٍ أَبِي زُمَيْلٍ، حَدَّثَنِي عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عَبَّاسٍ، حَدَّثَنِي عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ، قَالَ لَمَّا اعْتَزَلَ نَبِيُّ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم نِسَاءَهُ - قَالَ - دَخَلْتُ الْمَسْجِدَ فَإِذَا النَّاسُ يَنْكُتُونَ بِالْحَصَى وَيَقُولُونَ طَلَّقَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم نِسَاءَهُ وَذَلِكَ قَبْلَ أَنْ يُؤْمَرْنَ بِالْحِجَابِ فَقَالَ عُمَرُ فَقُلْتُ لأَعْلَمَنَّ ذَلِكَ الْيَوْمَ قَالَ فَدَخَلْتُ عَلَى عَائِشَةَ فَقُلْتُ يَا بِنْتَ أَبِي بَكْرٍ أَقَدْ بَلَغَ مِنْ شَأْنِكِ أَنْ تُؤْذِي رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَتْ مَا لِي وَمَا لَكَ يَا ابْنَ الْخَطَّابِ عَلَيْكَ بِعَيْبَتِكَ . قَالَ فَدَخَلْتُ عَلَى حَفْصَةَ بِنْتِ عُمَرَ فَقُلْتُ لَهَا يَا حَفْصَةُ أَقَدْ بَلَغَ مِنْ شَأْنِكِ أَنْ تُؤْذِي رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَاللَّهِ لَقَدْ عَلِمْتِ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لاَ يُحِبُّكِ . وَلَوْلاَ أَنَا لَطَلَّقَكِ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم . فَبَكَتْ أَشَدَّ الْبُكَاءِ فَقُلْتُ لَهَا أَيْنَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَتْ هُوَ فِي خِزَانَتِهِ فِي الْمَشْرُبَةِ . فَدَخَلْتُ فَإِذَا أَنَا بِرَبَاحٍ غُلاَمِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَاعِدًا عَلَى أُسْكُفَّةِ الْمَشْرُبَةِ مُدَلٍّ رِجْلَيْهِ عَلَى نَقِيرٍ مِنْ خَشَبٍ وَهُوَ جِذْعٌ يَرْقَى عَلَيْهِ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَيَنْحَدِرُ فَنَادَيْتُ يَا رَبَاحُ اسْتَأْذِنْ لِي عِنْدَكَ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم . فَنَظَرَ رَبَاحٌ إِلَى الْغُرْفَةِ ثُمَّ نَظَرَ إِلَىَّ فَلَمْ يَقُلْ شَيْئًا ثُمَّ قُلْتُ يَا رَبَاحُ اسْتَأْذِنْ لِي عِنْدَكَ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم . فَنَظَرَ رَبَاحٌ إِلَى الْغُرْفَةِ ثُمَّ نَظَرَ إِلَىَّ فَلَمْ يَقُلْ شَيْئًا ثُمَّ رَفَعْتُ صَوْتِي فَقُلْتُ يَا رَبَاحُ اسْتَأْذِنْ لِي عِنْدَكَ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَإِنِّي أَظُنُّ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ظَنَّ أَنِّي جِئْتُ مِنْ أَجْلِ حَفْصَةَ وَاللَّهِ لَئِنْ أَمَرَنِي رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِضَرْبِ عُنُقِهَا لأَضْرِبَنَّ عُنُقَهَا . وَرَفَعْتُ صَوْتِي فَأَوْمَأَ إِلَىَّ أَنِ ارْقَهْ فَدَخَلْتُ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَهُوَ مُضْطَجِعٌ عَلَى حَصِيرٍ فَجَلَسْتُ فَأَدْنَى عَلَيْهِ إِزَارَهُ وَلَيْسَ عَلَيْهِ غَيْرُهُ وَإِذَا الْحَصِيرُ قَدْ أَثَّرَ فِي جَنْبِهِ فَنَظَرْتُ بِبَصَرِي فِي خِزَانَةِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَإِذَا أَنَا بِقَبْضَةٍ مِنْ شَعِيرٍ نَحْوِ الصَّاعِ وَمِثْلِهَا قَرَظًا فِي نَاحِيَةِ الْغُرْفَةِ وَإِذَا أَفِيقٌ مُعَلَّقٌ - قَالَ - فَابْتَدَرَتْ عَيْنَاىَ قَالَ " مَا يُبْكِيكَ يَا ابْنَ الْخَطَّابِ " . قُلْتُ يَا نَبِيَّ اللَّهِ وَمَا لِي لاَ أَبْكِي وَهَذَا الْحَصِيرُ قَدْ أَثَّرَ فِي جَنْبِكَ وَهَذِهِ خِزَانَتُكَ لاَ أَرَى فِيهَا إِلاَّ مَا أَرَى وَذَاكَ قَيْصَرُ وَكِسْرَى فِي الثِّمَارِ وَالأَنْهَارِ وَأَنْتَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَصَفْوَتُهُ وَهَذِهِ خِزَانَتُكَ . فَقَالَ " يَا ابْنَ الْخَطَّابِ أَلاَ تَرْضَى أَنْ تَكُونَ لَنَا الآخِرَةُ وَلَهُمُ الدُّنْيَا " . قُلْتُ بَلَى - قَالَ - وَدَخَلْتُ عَلَيْهِ حِينَ دَخَلْتُ وَأَنَا أَرَى فِي وَجْهِهِ الْغَضَبَ فَقُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ مَا يَشُقُّ عَلَيْكَ مِنْ شَأْنِ النِّسَاءِ فَإِنْ كُنْتَ طَلَّقْتَهُنَّ فَإِنَّ اللَّهَ مَعَكَ وَمَلاَئِكَتَهُ وَجِبْرِيلَ وَمِيكَائِيلَ وَأَنَا وَأَبُو بَكْرٍ وَالْمُؤْمِنُونَ مَعَكَ وَقَلَّمَا تَكَلَّمْتُ وَأَحْمَدُ اللَّهَ بِكَلاَمٍ إِلاَّ رَجَوْتُ أَنْ يَكُونَ اللَّهُ يُصَدِّقُ قَوْلِي الَّذِي أَقُولُ وَنَزَلَتْ هَذِهِ الآيَةُ آيَةُ التَّخْيِيرِ ( عَسَى رَبُّهُ إِنْ طَلَّقَكُنَّ أَنْ يُبْدِلَهُ أَزْوَاجًا خَيْرًا مِنْكُنَّ) ( وَإِنْ تَظَاهَرَا عَلَيْهِ فَإِنَّ اللَّهَ هُوَ مَوْلاَهُ وَجِبْرِيلُ وَصَالِحُ الْمُؤْمِنِينَ وَالْمَلاَئِكَةُ بَعْدَ ذَلِكَ ظَهِيرٌ) وَكَانَتْ عَائِشَةُ بِنْتُ أَبِي بَكْرٍ وَحَفْصَةُ تَظَاهَرَانِ عَلَى سَائِرِ نِسَاءِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَقُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَطَلَّقْتَهُنَّ قَالَ " لاَ " . قُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنِّي دَخَلْتُ الْمَسْجِدَ وَالْمُسْلِمُونَ يَنْكُتُونَ بِالْحَصَى يَقُولُونَ طَلَّقَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم نِسَاءَهُ أَفَأَنْزِلُ فَأُخْبِرَهُمْ أَنَّكَ لَمْ تُطَلِّقْهُنَّ قَالَ " نَعَمْ إِنْ شِئْتَ " . فَلَمْ أَزَلْ أُحَدِّثُهُ حَتَّى تَحَسَّرَ الْغَضَبُ عَنْ وَجْهِهِ وَحَتَّى كَشَرَ فَضَحِكَ وَكَانَ مِنْ أَحْسَنِ النَّاسِ ثَغْرًا ثُمَّ نَزَلَ نَبِيُّ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَنَزَلْتُ فَنَزَلْتُ أَتَشَبَّثُ بِالْجِذْعِ وَنَزَلَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَأَنَّمَا يَمْشِي عَلَى الأَرْضِ مَا يَمَسُّهُ بِيَدِهِ فَقُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّمَا كُنْتَ فِي الْغُرْفَةِ تِسْعَةً وَعِشْرِينَ . قَالَ " إِنَّ الشَّهْرَ يَكُونُ تِسْعًا وَعِشْرِينَ " . فقُمْتُ عَلَى بَابِ الْمَسْجِدِ فَنَادَيْتُ بِأَعْلَى صَوْتِي لَمْ يُطَلِّقْ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم نِسَاءَهُ . وَنَزَلَتْ هَذِهِ الآيَةُ ( وَإِذَا جَاءَهُمْ أَمْرٌ مِنَ الأَمْنِ أَوِ الْخَوْفِ أَذَاعُوا بِهِ وَلَوْ رَدُّوهُ إِلَى الرَّسُولِ وَإِلَى أُولِي الأَمْرِ مِنْهُمْ لَعَلِمَهُ الَّذِينَ يَسْتَنْبِطُونَهُ مِنْهُمْ) فَكُنْتُ أَنَا اسْتَنْبَطْتُ ذَلِكَ الأَمْرَ وَأَنْزَلَ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ آيَةَ التَّخْيِيرِ .

Narrator: হযরত উমর ইবনুল খাত্তাব রাযি.

৩৫৫৮। যুহাইর ইবনে হারব (রাহঃ) ......... উমর ইবনুল খাত্তাব (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন নবী (ﷺ) তার সহধর্মিনীগণ থেকে সাময়িকভাবে পৃথক হয়ে গেলেন, তখন আমি মসজিদে নববীতে প্রবেশ করলাম। আমি দেখতে পেলাম লোকেরা হাতে কংকর নিযে নাড়াচাড়া করছে (যা দুশ্চিন্তার সময় স্বাভাবিকভাবে ঘটে থাকে)। তাঁরা বলাবলি করছিল যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাঁর সহধর্মিনীগণকে তালাক দিয়ে দিয়েছেন। এই ঘটনা ছিল তাঁদের উপর পর্দার নির্দেশ আসার পূর্বেকার।

উমর (রাযিঃ) বললেন, আমি আজই প্রকৃত ঘটনা জেনে নিব। তাই আমি আয়িশা (রাযিঃ) এর নিকটে গেলাম। আমি তাকে বললাম, হে আবু বকর তনয়া! তোমার অবস্থা কি এই পর্যায়ে নেমে গিয়েছে যে, তুমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে কষ্ট দিচ্ছ? তিনি বললেন, হে খাত্তাবের পূত্র! আমার ব্যাপার নিয়ে আপনি মাথা ঘামাচ্ছেন কেন? আগে নিজের ঘরের খবর নিন। তিনি বলেন, তখনই আমি হাফসা বিনতে উমর (রাযিঃ) এর কাছে এলাম। আমি তাঁকে বললাম, হে হাফসা! তোমার অবস্থা এই পর্যায়ে গড়িয়েছে যে, তুমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে কষ্ট দিচ্ছ? আল্লাহর কসম! আমি জানতে পেরেছি যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তোমাকে ভালবাসেন না। আর আমি না হলে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) অবশ্যই তোমাকে তালাক দিয়ে দিতেন।

একথা শুনে তিনি অঝোরে কান্নায় ভেঙ্গে পড়লেন। তখন আমি তাকে বললাম, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কোথায় আছেন? সে [হাফসা (রাযিঃ)] বলল, তিনি ঐ টঙ্গের কোষাগারে অবস্থান করছেন। আমি সেখানে প্রবেশের চেষ্টা করলাম। তখন আমি দেখতে পেলাম যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর চৌকাঠটি ছিল খেজুর গাছের কাণ্ড দিয়ে নির্মিত যা দিয়ে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) উঠানামা করতেন। আমি রাবাহকে ডাকলাম এবং বললাম, হে রাবাহ! আমার জন্য রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট থেকে প্রবেশের অনুমতি নিয়ে এসো।

তখন রাবাহ কামরার দিকে দৃষ্টিপাত করল। এরপর আমার দিকে ফিরে তাকাল। কিন্তু সে কিছুই বলল না। তখন আমি বললাম, হে রাবাহ! তুমি আমার জন্য রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট থেকে অনুমতি নিয়ে এসো। এরপর রাবাহা কামরার দিকে দৃষ্টিপাত করল এবং আমার দিকে ফিরে তাকাল। কিন্তু সে এবার ও কিছু বলল না। তখন আমি উচ্চস্বরে বললাম, হে রাবাহ! তুমি আমার জন্য রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট থেকে অনুমতি নিয়ে এসো। সে সময় আমি ভেবেছিলাম যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) হয়ত ধারণা করছেন আমি আমার কন্যা হাফসার কারণেই এখানে এসেছি। আল্লাহর কসম! যদি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তার গর্দান উড়িয়ে দিবার নির্দেশ দিতেন তাহলে আমি অবশ্যই তার গর্দান উড়িয়ে দিতাম। এ সব কথা আমি উচ্চস্বরেই বলছিলাম।

তখন সে (রাবাহ) আমাকে ইশারায় উপরে উঠতে বলল। তখন আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কাছে প্রবেশ করলাম। সে সময় তিনি খেজুর পত্র নির্মিত একটি চাটাইয়ের উপর কাত হয়ে শোয়া ছিলেন। আমি সেখানে বসে পড়লাম। তিনি তার চাঁদরখানি তার শরীরের উপরে টেনে দিলেন। তখন এটি ছাড়া তার পরনে অন্য কোন কাপড় ছিল না আর বাহুতে চাটাইয়ের দাগ বসে গিয়েছিল। এরপর আমি স্বচক্ষে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সামানাদির দিকে তাকালাম। আমি সেখানে একটি পাত্রে এক সা (সাড়ে তিন কেজি পরিমাণ) এর কাছাকাছি কয়েক মুঠো যব দেখতে পেলাম। আর সলমের কিছু পাতা (এক প্রকার গাছের পাতা যা দিয়ে চামড়ায় রং করা হয়।) কামরার এক কোণায় পড়ে আছে। আরও দেখতে পেলাম ঝুলন্ত একখানা চামড়া, এ সব দেখে আমার দুই চোখ অশ্রুসিক্ত হয়ে গেল।

তিনি (রাসূলুল্লাহ (ﷺ)) বললেন, হে খাত্তাবের পুত্র! কিসের তোমার কান্না পেয়েছে? আমি বললাম, হে আল্লাহর নবী! কেন আমি কাঁদব না। এই যে চাটাই আপনার শরীরের পার্শ্বদেশে দাগ বসিয়ে দিয়েছে। আর এই হচ্ছে আপনার কোষাগার। এখানে সামান্য কিছু যা দেখলাম তা ছাড়া তো আর কিছুই নেই। পক্ষান্তরে ঐ যে রোমক বাদশাহ ও পারস্য সম্রাট, কত বিলাস বাসনে ফলমুল ও ঝরণায় পরিবেষ্টিত হয়ে আড়ম্বরপূর্ণ জীবন যাপন করছে। আর আপনি হলেন আল্লাহর রাসুল এবং তাঁর মনোনীত ব্যক্তি। আর আপনার কোষাগার হচ্ছে এই!

তখন তিনি বললেন, হে খাত্তাব তনয়! তুমি কি এতে পরিতুষ্ট নও যে, আমাদের জন্য রয়েছে আখিরাত আর তাদের জন্য দুনিয়া (পার্থিব ভোগ বিলাস)? আমি বললাম, নিশ্চয়ই সন্তুষ্ট। এরপর উমর (রাযিঃ) বলেন, যখন আমি তার সকাশে উপস্থিত হই তখন থেকেই আমি তার চেহারায় গোস্বার ছাপ দেখতে পাচ্ছিলাম। এরপর আমি বললাম, ইয়া রাসুলাল্লাহ! আপনার সহধর্মিনীগণের কোন আচরণ আপনার মনোকষ্টের কারণ হয়েছে কি? আপনি যদি তাঁদের তালাক প্রদান করে থাকেন (তাতে আপনার কিছু আসে যায় না) সর্বশক্তিমান আল্লাহ আপনার সঙ্গে আছেন। তার সকল ফিরিশতা, জিবরাঈল, মীকাঈল, আমি, আবু বকর (রাযিঃ) সহ সকল ঈমানদার আপনার সঙ্গে আছেন।

তিনি (উমর (রাযিঃ) বলেন, আলহামদুলিল্লাহ, আমি যখনই কোন কথা বলি তাতে প্রায়ই আমি আশাবাদী যে, আল্লাহ আমার কথা সত্য প্রমাণিত করবেন। তখন ইখতিয়ার সম্পর্কিত এই আয়াত নাযিল হলঃ “যদি নবী তোমাদের সকলকে তালাক দিয়ে দেয় তাহলে তার প্রতিপালক তোমাদের পরিবর্তে তাকে তোমাদের চাইতে উৎকৃষ্টতর সহধর্মিনী দিবেন।” (সূরা আততাহরীমঃ ৫)।

“আর তোমরা দুইজন যদি নবীর বিরুদ্ধে একে অপরের পোষকতা কর তবে জেনে রাখ, আল্লাহ, জিবরাঈল, সৎকর্মপরায়ণ ঈমানদারগণ তার সাহায্যকারী। অধিকন্তু ফিরিশতারাও তার সাহায্যের জন্য সদা তৎপর। (সূরা তাহরীমঃ ৪)।

আয়িশা বিনতে আবু বকর (রাযিঃ) ও হাফসা (বিনতে উমর) (রাযিঃ) এই দু’জন নবী (ﷺ) অন্যান্য সহধর্মিনীগণের উপর প্রাধান্য বিস্তার করে আসছিল। আমি বললাম, ইয়া রাসুলাল্লাহ! আপনি তাঁদের তালাক দিয়েছেন? তিনি বললেন, না। তখন আমি বললাম, ইয়া রাসুলাল্লাহ! আমি মসজিদে প্রবেশ করে দেখতে পেলাম মুসলমানরা (চিন্তাযুক্ত হয়ে) মাটির কংকর মারছে এবং বলছে যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাঁর সহধর্মিনীগণকে তালাক দিয়ে দিয়েছেন। এখন আমি কি তাদের কাছে গিয়ে জানিয়ে দিব যে, আপনি আপনার সহধর্মিনীদের তালাক দেননি? তিনি বললেন- হ্যাঁ তোমার মনে চাইলে। এভাবে আমি তাঁর সঙ্গে আলাপ করতে লাগলাম। পরিশেষে দেখলাম তার চেহারা থেকে গোস্বার ছাপ একেবারে মুছে গেছে এবং তিনি এমনভাবে হাসি দিলেন যে, তার দাঁত দেখা গেল। তাঁর দাত ছিল সকলের চাইতে সুন্দর।

এরপর নবী (ﷺ) সেখান থেকে নীচে নেমে এলেন এবং আমিও খেজুরগাছের কাণ্ড নির্মিত (সিঁড়ির) কাষ্ঠ ধরে নীচে নেমে এলাম। তবে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এমনভাবে নীচে নামলেন যেন তিনি সমতল যমীনে হাটছেন। তিনি তাঁর হাত দিয়ে কাণ্ডটি স্পর্শ করেননি। আমি বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আপনি তো এই বালাখানায় উনত্রিশ দিন অবস্থান করছেন। তিনি বললেন, মাস উনত্রিশ দিনেও হয়ে থাকে।

এরপর আমি মসজিদের দরজায় দাঁড়িয়ে উচ্চস্বরে ঘোষণা করলাম, তিনি তাঁর সহধর্মিনীগণকে তালাক দেননি। তখন এই আয়াত নাযিল হল″ ″যখন শাস্তি কিংবা ভয়ের কোন সংবাদ তাদের কাছে আসে তখন তারা তা প্রচার করে দেয়। যদি তারা বিষয়টি আল্লাহর রাসুল এবং নেতৃত্ব স্থানীয় ব্যক্তিদের নিকট উপস্থাপন করত তাহলে তাদের মধ্যে যারা তথ্য অনুসন্ধানী তারা এর যথার্থতা নিরূপণ করতে সক্ষম হত।″

মোটকথা আমি [উমর (রাযিঃ)] এই বিষয়টির সঠিক তথ্য নির্ণয়ে সক্ষম হয়েছিলাম। তখন আল্লাহ তাআলা ইখতিয়ার সস্পর্কিত আয়াত নাযিল করেন।
3559

حَدَّثَنَا هَارُونُ بْنُ سَعِيدٍ الأَيْلِيُّ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ وَهْبٍ، أَخْبَرَنِي سُلَيْمَانُ، - يَعْنِي ابْنَ بِلاَلٍ - أَخْبَرَنِي يَحْيَى، أَخْبَرَنِي عُبَيْدُ بْنُ حُنَيْنٍ، أَنَّهُ سَمِعَ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عَبَّاسٍ، يُحَدِّثُ قَالَ مَكَثْتُ سَنَةً وَأَنَا أُرِيدُ، أَنْ أَسْأَلَ، عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ عَنْ آيَةٍ، فَمَا أَسْتَطِيعُ أَنْلَهُ حَتَّى خَرَجَ حَاجًّا فَخَرَجْتُ مَعَهُ فَلَمَّا رَجَعَ فَكُنَّا بِبَعْضِ الطَّرِيقِ عَدَلَ إِلَى الأَرَاكِ لِحَاجَةٍ لَهُ فَوَقَفْتُ لَهُ حَتَّى فَرَغَ ثُمَّ سِرْتُ مَعَهُ فَقُلْتُ يَا أَمِيرَ الْمُؤْمِنِينَ مَنِ اللَّتَانِ تَظَاهَرَتَا عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مِنْ أَزْوَاجِهِ فَقَالَ تِلْكَ حَفْصَةُ وَعَائِشَةُ . قَالَ فَقُلْتُ لَهُ وَاللَّهِ إِنْ كُنْتُ لأُرِيدُ أَنْ أَسْأَلَكَ عَنْ هَذَا مُنْذُ سَنَةٍ فَمَا أَسْتَطِيعُ هَيْبَةً لَكَ . قَالَ فَلاَ تَفْعَلْ مَا ظَنَنْتَ أَنَّ عِنْدِي مِنْ عِلْمٍ فَسَلْنِي عَنْهُ فَإِنْ كُنْتُ أَعْلَمُهُ أَخْبَرْتُكَ - قَالَ - وَقَالَ عُمَرُ وَاللَّهِ إِنْ كُنَّا فِي الْجَاهِلِيَّةِ مَا نَعُدُّ لِلنِّسَاءِ أَمْرًا حَتَّى أَنْزَلَ اللَّهُ تَعَالَى فِيهِنَّ مَا أَنْزَلَ وَقَسَمَ لَهُنَّ مَا قَسَمَ قَالَ فَبَيْنَمَا أَنَا فِي أَمْرٍ أَأْتَمِرُهُ إِذْ قَالَتْ لِي امْرَأَتِي لَوْ صَنَعْتَ كَذَا وَكَذَا فَقُلْتُ لَهَا وَمَا لَكِ أَنْتِ وَلِمَا هَا هُنَا وَمَا تَكَلُّفُكِ فِي أَمْرٍ أُرِيدُهُ فَقَالَتْ لِي عَجَبًا لَكَ يَا ابْنَ الْخَطَّابِ مَا تُرِيدُ أَنْ تُرَاجَعَ أَنْتَ وَإِنَّ ابْنَتَكَ لَتُرَاجِعُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم حَتَّى يَظَلَّ يَوْمَهُ غَضْبَانَ . قَالَ عُمَرُ فَآخُذُ رِدَائِي ثُمَّ أَخْرُجُ مَكَانِي حَتَّى أَدْخُلَ عَلَى حَفْصَةَ فَقُلْتُ لَهَا يَا بُنَيَّةُ إِنَّكِ لَتُرَاجِعِينَ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم حَتَّى يَظَلَّ يَوْمَهُ غَضْبَانَ . فَقَالَتْ حَفْصَةُ وَاللَّهِ إِنَّا لَنُرَاجِعُهُ . فَقُلْتُ تَعْلَمِينَ أَنِّي أُحَذِّرُكِ عُقُوبَةَ اللَّهِ وَغَضَبَ رَسُولِهِ يَا بُنَيَّةُ لاَ يَغُرَّنَّكِ هَذِهِ الَّتِي قَدْ أَعْجَبَهَا حُسْنُهَا وَحُبُّ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِيَّاهَا . ثُمَّ خَرَجْتُ حَتَّى أَدْخُلَ عَلَى أُمِّ سَلَمَةَ لِقَرَابَتِي مِنْهَا فَكَلَّمْتُهَا فَقَالَتْ لِي أُمُّ سَلَمَةَ عَجَبًا لَكَ يَا ابْنَ الْخَطَّابِ قَدْ دَخَلْتَ فِي كُلِّ شَىْءٍ حَتَّى تَبْتَغِي أَنْ تَدْخُلَ بَيْنَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَأَزْوَاجِهِ . قَالَ فَأَخَذَتْنِي أَخْذًا كَسَرَتْنِي عَنْ بَعْضِ مَا كُنْتُ أَجِدُ فَخَرَجْتُ مِنْ عِنْدِهَا وَكَانَ لِي صَاحِبٌ مِنَ الأَنْصَارِ إِذَا غِبْتُ أَتَانِي بِالْخَبَرِ وَإِذَا غَابَ كُنْتُ أَنَا آتِيهِ بِالْخَبَرِ وَنَحْنُ حِينَئِذٍ نَتَخَوَّفُ مَلِكًا مِنْ مُلُوكِ غَسَّانَ ذُكِرَ لَنَا أَنَّهُ يُرِيدُ أَنْ يَسِيرَ إِلَيْنَا فَقَدِ امْتَلأَتْ صُدُورُنَا مِنْهُ فَأَتَى صَاحِبِي الأَنْصَارِيُّ يَدُقُّ الْبَابَ وَقَالَ افْتَحِ افْتَحْ . فَقُلْتُ جَاءَ الْغَسَّانِيُّ فَقَالَ أَشَدُّ مِنْ ذَلِكَ اعْتَزَلَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَزْوَاجَهُ . فَقُلْتُ رَغِمَ أَنْفُ حَفْصَةَ وَعَائِشَةَ . ثُمَّ آخُذُ ثَوْبِي فَأَخْرُجُ حَتَّى جِئْتُ فَإِذَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي مَشْرُبَةٍ لَهُ يُرْتَقَى إِلَيْهَا بِعَجَلَةٍ وَغُلاَمٌ لِرَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَسْوَدُ عَلَى رَأْسِ الدَّرَجَةِ فَقُلْتُ هَذَا عُمَرُ . فَأُذِنَ لِي . قَالَ عُمَرُ فَقَصَصْتُ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم هَذَا الْحَدِيثَ فَلَمَّا بَلَغْتُ حَدِيثَ أُمِّ سَلَمَةَ تَبَسَّمَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَإِنَّهُ لَعَلَى حَصِيرٍ مَا بَيْنَهُ وَبَيْنَهُ شَىْءٌ وَتَحْتَ رَأْسِهِ وِسَادَةٌ مِنْ أَدَمٍ حَشْوُهَا لِيفٌ وَإِنَّ عِنْدَ رِجْلَيْهِ قَرَظًا مَضْبُورًا وَعِنْدَ رَأْسِهِ أُهُبًا مُعَلَّقَةً فَرَأَيْتُ أَثَرَ الْحَصِيرِ فِي جَنْبِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَبَكَيْتُ فَقَالَ " مَا يُبْكِيكَ " . فَقُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّ كِسْرَى وَقَيْصَرَ فِيمَا هُمَا فِيهِ وَأَنْتَ رَسُولُ اللَّهِ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " أَمَا تَرْضَى أَنْ تَكُونَ لَهُمَا الدُّنْيَا وَلَكَ الآخِرَةُ " .

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

৩৫৫৯। হারুন ইবনে সাঈদ আয়লী (রাহঃ) ......... সুলাইমান ইবনে বিলাল ইয়াহয়া থেকে এবং তিনি উবাইদ ইবনে হুনায়ন থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) কে বলতে শুনেছেন, তিনি বলেন, আমি দীর্ঘ এক বছর যাবত ইচ্ছা পোষণ করে আসছিলাম যে, একটি আয়াত সম্পর্কে উমর উবনুল খাত্তাব (রাযিঃ) কে জিজ্ঞাসা করব। কিন্তু আমি তার গাম্ভীর্যের কারণে তাঁকে জিজ্ঞাসা করতে সাহস পাইনি।

একবার তিনি হজ্জ পালনের জন্য রওয়ানা হলেন, আমিও তার সঙ্গে বেরিয়ে পড়লাম। যখন আমরা কোন এক রাস্তা দিয়ে চলছিলাম এই সময় তিনি (প্রকৃতির) প্রয়োজনে পিলুগাছের ঝোঁপের দিকে গেলেন। আমি তাঁর অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে রইলাম। তিনি তাঁর প্রয়োজন পূরণ করে ফিরে এলেন। এরপর আমি তাঁর সঙ্গে রওয়ানা করলাম। (এক মওকা পেয়ে) আমি বললাম, হে আমীরুল মু'মিনীন! রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সহধর্মিনীগণের মধ্যে থেকে কোন দু’জন তাঁর অপ্রিয় কাজে একে অপরকে সহযোগিতা করেছিল?

তিনি বললেন, তারা ছিল হাফসা (রাযিঃ) ও আয়িশা (রাযিঃ)। (আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) বলেন, আমি তাঁকে (উমর (রাযিঃ) কে) বললামঃ আল্লাহর কসম! তিনি এক বছর যাবত এই বিষয়টি সম্পর্কে আপনাকে জিজ্ঞাসা করব বলে মনে মনে ইচ্ছা পোষণ করে আসাছিলাম, কিন্তু আপনার ভয়ের কারণে সাহস পাইনি। তিনি (উমর রা) বললেন, কখনো এরূপ করবে না বরং আমার কাছে কোন বিষয়ের জ্ঞান আছে বলে তোমার ধারণা হলে তুমি অবশ্যই সে সম্পর্কে আমার কাছে জিজ্ঞাসা করে জেনে নিবে। যদি তা আমার জানা থাকে তাহলে তোমাকে অবহিত করবই।

রাবী (আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) বলেন, তখন উমর (রাযিঃ) বললেন, আল্লাহর কসম! জাহিলী যুগে আমরা নারী জাতির জন্য কোন অধিকার স্বীকার করতাম না। এরপর আল্লাহ তাদের অধিকার সম্পর্কে যা অবতীর্ণ করার অবতীর্ণ করলেন এবং তাদের জন্য যা বণ্টন করার ছিল তা বণ্টন করে দিলেন। তিনি বলেন আমি কোন একদিন এক বিষয়ে চিন্তা করছিলাম। এমন সময় আমার স্ত্রী আমার কাছে এসে বলল, আপনি যদি এরূপ এরূপ করতেন তাহলে বেশ ভাল হত। আমি তাকে বললাম, তোমার কি হয়েছে? তুমি এখানে এলে কেন? আমি যে বিষয়ে চিন্তা-ভাবনা করছি তাতে তুমি নাক গলাচ্ছ কেন?

তখন সে বলল, হে খাত্তাবের পূত্র! আপনি তো আমাকে মুখ খুলতেই দিচ্ছেন না, কী আশ্চর্য অথচ আপনার (স্নেহের) কন্যাটি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সঙ্গে প্রতি উত্তর করে, যার ফলে তিনি সারা দিন রাগাম্বিত অবস্থায় অতিবাহিত করেন। উমর (রাযিঃ) বলেন, এরপর আমি (তড়িঘড়ি) আমার চাঁদর গুটিয়ে নিয়ে ঘর থেকে বেরিয়ে পড়লাম এবং সোজা হাফসার কাছে পৌছিলাম।

আমি তাঁকে বললাম, হে আমার কন্যা! তুমি নাকি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কথার প্রতি উত্তর করে থাক, যাতে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) সারা দিন রাগাম্বিত থাকেন? হাফসা (রাযিঃ) বললেন, আল্লাহর কসম! আমরা সত্যই তার কথার প্রতি উত্তর দিয়ে থাকি। তখন আমি বললাম, জেনে রাখ! আমি তোমাকে আল্লাহর শাস্তির ও রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর অসন্তুষ্টির ভীতি প্রদর্শন করছি। হে আমার কন্যা! ঐ মেয়েটি যেন তোমাকে ধোকায় ফেলতে না পারে যাকে তাঁর সৌন্দর্য ও তার প্রতি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর অনুরাগ গর্বিত করে ফেলেছে (এর দ্বারা তিনি আয়িশা (রাযিঃ) কে বুঝাতে চেয়েছেন)।

এরপর আমি সেখানে থেকে বেরিয়ে উম্মে সালামা (রাযিঃ) এর কাছে গেলাম। তাঁর সাথে আমার আত্মীয়তার সস্পর্ক ছিল। আমি তাঁর সঙ্গে কথা বললাম। তখন উম্মে সালামা (রাযিঃ) আমাকে বললেন, কী আশ্চার্য হে খাত্তাবের পূত্র! তুমি সব কিছুতেই দখল নিতে চাচ্ছ? এমন কি তুমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এবং তাঁর সহধর্মিনীগণের মধ্যকার বিষয়ে দখল নিতে চাচ্ছ? তিনি বলেন, এই বিষয়ে উম্মে সালামা (রাযিঃ) এর কথা আমাকে এমনভাবে জব্দ করল যে, আমি হতোদ্যম হয়ে পড়লাম। তাই আমি তার নিকট হতে কেটে পড়লাম।

এদিকে আমার একজন আনসারী বন্ধু ছিলেন আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর মজলিসে অনুপস্থিত থাকলে তিনি আমাকে জানাতেন এবং তিনি তাঁর মজলিসে অনুপস্থিত থাকলে আমি তার কাছে এসে তাকে (আলোচ্য বিষয়ে) জানাতাম। সে সময়ে আমরা জনৈক গাসসানী বাদশার আক্রমণের আশঙ্কা করছিলাম। কারণ তখন আমাদের মাঝে সংবাদ (গুজব) ছড়িয়ে পড়েছিল যে, সে আমাদের উপর হামলার পাঁয়তার করছে। তাই ভয়-ভীতি ও দুশ্চিন্তায় আমাদের অন্তর ছিল আচ্ছন্ন।

ইত্যবসরে আমার আনসারী বন্ধুটি এসে দরজা খটখটাতে লাগলেন এবং বললেন, খুলে দিন, খুলে দিন! আমি বললাম, তাহলে গাসসানীরা কি এসেই পড়ল। তিনি (আমার আনসারী বন্ধুটি) বললেন, (না, গাসসানীরা আসে নি) তঁবে তার চাইতেও সাংঘাতিক কিছু। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাঁর সহধর্মিনীগণকে তালাক দিয়েছেন।

উমর (রাযিঃ) বললেন, তখন আমি বললাম, হাফসা ও আয়িশার নাক ধূলোয় মলিন হোক। এরপর আমি আমার কাপড় চোপড় পরিধান করলাম এবং ঘর থেকে বেরিয়ে সরাসরি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কাছে এলাম। তখন তিনি তার টঙ্গের ভিতর ছিলেন। সেখানে খেজুর কাণ্ডের সিড়ি বেয়ে উঠতে হত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর এক কালোকায় ভৃত্য সে সিঁড়ির গোড়ায় বসা ছিল। তখন আমি তাকে বললাম, আমি উমর। আমাকে অনুমতি এনে দাও। সে অনুমতি নিয়ে এলে আমি ভিতরে প্রবেশ করে এই ঘটনা বিশদভাবে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কাছে খুলে বললাম।

আমি যখন উম্মে সালামা (রাযিঃ)-এর ঘটনা পর্যন্ত পোঁছলাম, তখন তিনি মুচকি হাসি দিলেন। তিনি তখন একটি সাদামাটা চাটাইয়ের উপর (কাত হয়ে শায়িত) ছিলেন, তাঁর ও চাটাইয়ের মাঝখানে অন্য কিছুই ছিল না। তাঁর মাথার নীচে ছিল চামড়ার তৈরী একটি বালিশ যার মধ্যে খেজুর গাছের ছাল ভর্তি ছিল। তাঁর পায়ের কাছে ছিল স্তুপকৃত সলম গাছের কিছু পাতা এবং শিয়রের কাছে ঝুলন্ত ছিল একটি কাঁচা চামড়া। আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর শরীরের পার্শ্বদেশে চাটাই এর দাগ দেখতে পেলাম, এতে আমি কাঁদলাম। তিনি বললেন, (হে খাত্তাব তনয়) তুমি কাঁদছ কেন?

তখন আমি বললাম, ইয়া রাসুলাল্লাহ! পারস্য সম্রাট ও রোমক সম্রাট কত বিলাস ব্যসনে কাটাচ্ছে আর আপনি হলেন, আল্লাহর রাসুল, (আপনার অবস্থা এই)। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, (হে উমর) তুমি কি এতে পরিতুষ্ট নও যে, তাদের জন্য কেবল দুনিয়া (পার্থিব ভোগ-বিলাস) আর তোমার জন্য রয়েছে আখিরাত (চিরস্থায়ী সুখ-শান্তি)।
3560

وَحَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، حَدَّثَنَا عَفَّانُ، حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ، أَخْبَرَنِي يَحْيَى بْنُ، سَعِيدٍ عَنْ عُبَيْدِ بْنِ حُنَيْنٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ أَقْبَلْتُ مَعَ عُمَرَ حَتَّى إِذَا كُنَّا بِمَرِّ الظَّهْرَانِ . وَسَاقَ الْحَدِيثَ بِطُولِهِ كَنَحْوِ حَدِيثِ سُلَيْمَانَ بْنِ بِلاَلٍ غَيْرَ أَنَّهُ قَالَ قُلْتُ شَأْنُ الْمَرْأَتَيْنِ قَالَ حَفْصَةُ وَأُمُّ سَلَمَةَ . وَزَادَ فِيهِ وَأَتَيْتُ الْحُجَرَ فَإِذَا فِي كُلِّ بَيْتٍ بُكَاءٌ . وَزَادَ أَيْضًا وَكَانَ آلَى مِنْهُنَّ شَهْرًا فَلَمَّا كَانَ تِسْعًا وَعِشْرِينَ نَزَلَ إِلَيْهِنَّ .

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

৩৫৬০। মুহাম্মাদ ইবনুল মুসান্না (রাহঃ) ......... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি উমর (রাযিঃ) এর সঙ্গে রওয়ানা হয়ে যখন ’মাররুয যাহরান’ নামক স্থানে পৌঁছলাম, তখন তিনি বিস্তারিতভাবে হাদীস বর্ণনা করেন। সুলাইমান ইবনে বিলাল বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ। অবশ্য তিনি [ইবনে আব্বাস (রাযিঃ)] বলেনঃ আমি (উমর (রাযিঃ) কে বললাম, সেই দুজন মহিলার ঘটনা আমাকে বলবেন কি? তিনি বললেন, তারা ছিল হাফসা ও উম্মে সালামা (রাযিঃ)।

তিনি তার বর্ণনায় আরও উল্লেখ করেন যে, এরপর আমি (রাসুল (ﷺ) এর) হুজরার দিকে এলাম তখন সব ঘরেই কান্নাকাটি অব্যাহত ছিল। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাঁর স্ত্রীগণের সঙ্গে একমাস ঈলা করেছিলেন। যখন উনত্রিশ দিন অতিবাহিত হয়ে গেল। তখন তিনি তাদের কাছে ফিরে এলেন।
3561

وَحَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، وَزُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، - وَاللَّفْظُ لأَبِي بَكْرٍ - قَالاَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ، عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ، سَمِعَ عُبَيْدَ بْنَ حُنَيْنٍ، - وَهُوَ مَوْلَى الْعَبَّاسِ - قَالَ سَمِعْتُ ابْنَ عَبَّاسٍ، يَقُولُ كُنْتُ أُرِيدُ أَنْ أَسْأَلَ، عُمَرَ عَنِ الْمَرْأَتَيْنِ اللَّتَيْنِ تَظَاهَرَتَا عَلَى عَهْدِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَلَبِثْتُ سَنَةً مَا أَجِدُ لَهُ مَوْضِعًا حَتَّى صَحِبْتُهُ إِلَى مَكَّةَ فَلَمَّا كَانَ بِمَرِّ الظَّهْرَانِ ذَهَبَ يَقْضِي حَاجَتَهُ فَقَالَ أَدْرِكْنِي بِإِدَاوَةٍ مِنْ مَاءٍ فَأَتَيْتُهُ بِهَا فَلَمَّا قَضَى حَاجَتَهُ وَرَجَعَ ذَهَبْتُ أَصُبُّ عَلَيْهِ وَذَكَرْتُ فَقُلْتُ لَهُ يَا أَمِيرَ الْمُؤْمِنِينَ مَنِ الْمَرْأَتَانِ فَمَا قَضَيْتُ كَلاَمِي حَتَّى قَالَ عَائِشَةُ وَحَفْصَةُ .

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

৩৫৬১। আবু বকর ইবনে আবি শাঈবা ও যুহাইর ইবনে হারব (রাহঃ) ......... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি (দীর্ঘদিন যাবত) মনে মনে ইচ্ছা পোষণ করে আসছিলাম যে, ঐ দু’জন মহিলা সম্পর্কে উমর (রাযিঃ) কে জিজ্ঞাসা করব যারা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে তাঁর অপ্রিয় কাজে একে অপরকে সহযোগিতা দান করছিল। আমি একটি বছর অপেক্ষা করলাম কিন্তু আমি তাকে জিজ্ঞাসা করার মওকা পেলাম না। শেষ পর্যন্ত মক্কায় রওয়ানা হওয়ার পথে আমি তার সফর সঙ্গী হলাম। পদ যাত্রায় তিনি যখন ’মাররুয যাহরান’ নামক স্থানে পৌঁছলেন তখন তিনি তার প্রয়োজন পুরণের জন্য গেলেন আর আমাকে বললেন, আমার কাছে এক বদনা পানি নিয়ে এসো। আমি এক বদনা পানিসহ তার কাছে উপস্থিত হলাম। যখন তিনি হাজত সমাধা করে ফিরে এলেন আমি (উযুর) পানি ঢালতে শুরু করলাম। তখন আমি সেই প্রশ্নের কথা স্মরণে আনলাম। এরপর আমি তাকে বললাম, হে আমীরুল মু’মিনীন! সেই মহিলা দু’জন কারা ছিল? তখন আমার কথা শেষ না হতেই তিনি বললেন, সে দু’জন ছিল আয়িশা (রাযিঃ) ও হাফসা (রাযিঃ)।

3562

وَحَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ الْحَنْظَلِيُّ، وَمُحَمَّدُ بْنُ أَبِي عُمَرَ، - وَتَقَارَبَا فِي لَفْظِ الْحَدِيثِ - قَالَ ابْنُ أَبِي عُمَرَ حَدَّثَنَا وَقَالَ، إِسْحَاقُ أَخْبَرَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، أَخْبَرَنَا مَعْمَرٌ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي ثَوْرٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ لَمْ أَزَلْ حَرِيصًا أَنْأَسْأَلَ عُمَرَ عَنِ الْمَرْأَتَيْنِ مِنْ أَزْوَاجِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم اللَّتَيْنِ قَالَ اللَّهُ تَعَالَى (إِنْ تَتُوبَا إِلَى اللَّهِ فَقَدْ صَغَتْ قُلُوبُكُمَا) حَتَّى حَجَّ عُمَرُ وَحَجَجْتُ مَعَهُ فَلَمَّا كُنَّا بِبَعْضِ الطَّرِيقِ عَدَلَ عُمَرُ وَعَدَلْتُ مَعَهُ بِالإِدَاوَةِ فَتَبَرَّزَ ثُمَّ أَتَانِي فَسَكَبْتُ عَلَى يَدَيْهِ فَتَوَضَّأَ فَقُلْتُ يَا أَمِيرَ الْمُؤْمِنِينَ مَنِ الْمَرْأَتَانِ مِنْ أَزْوَاجِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم اللَّتَانِ قَالَ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ لَهُمَا ( إِنْ تَتُوبَا إِلَى اللَّهِ فَقَدْ صَغَتْ قُلُوبُكُمَا) قَالَ عُمَرُ وَاعَجَبًا لَكَ يَا ابْنَ عَبَّاسٍ - قَالَ الزُّهْرِيُّ كَرِهَ وَاللَّهِ مَا سَأَلَهُ عَنْهُ وَلَمْ يَكْتُمْهُ - قَالَ هِيَ حَفْصَةُ وَعَائِشَةُ . ثُمَّ أَخَذَ يَسُوقُ الْحَدِيثَ قَالَ كُنَّا مَعْشَرَ قُرَيْشٍ قَوْمًا نَغْلِبُ النِّسَاءَ فَلَمَّا قَدِمْنَا الْمَدِينَةَ وَجَدْنَا قَوْمًا تَغْلِبُهُمْ نِسَاؤُهُمْ فَطَفِقَ نِسَاؤُنَا يَتَعَلَّمْنَ مِنْ نِسَائِهِمْ - قَالَ - وَكَانَ مَنْزِلِي فِي بَنِي أُمَيَّةَ بْنِ زَيْدٍ بِالْعَوَالِي فَتَغَضَّبْتُ يَوْمًا عَلَى امْرَأَتِي فَإِذَا هِيَ تُرَاجِعُنِي فَأَنْكَرْتُ أَنْ تُرَاجِعَنِي . فَقَالَتْ مَا تُنْكِرُ أَنْ أُرَاجِعَكَ فَوَاللَّهِ إِنَّ أَزْوَاجَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم لَيُرَاجِعْنَهُ وَتَهْجُرُهُ إِحْدَاهُنَّ الْيَوْمَ إِلَى اللَّيْلِ . فَانْطَلَقْتُ فَدَخَلْتُ عَلَى حَفْصَةَ فَقُلْتُ أَتُرَاجِعِينَ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَتْ نَعَمْ . فَقُلْتُ أَتَهْجُرُهُ إِحْدَاكُنَّ الْيَوْمَ إِلَى اللَّيْلِ قَالَتْ نَعَمْ . قُلْتُ قَدْ خَابَ مَنْ فَعَلَ ذَلِكَ مِنْكُنَّ وَخَسِرَ أَفَتَأْمَنُ إِحْدَاكُنَّ أَنْ يَغْضَبَ اللَّهُ عَلَيْهَا لِغَضَبِ رَسُولِهِ صلى الله عليه وسلم فَإِذَا هِيَ قَدْ هَلَكَتْ لاَ تُرَاجِعِي رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَلاَ تَسْأَلِيهِ شَيْئًا وَسَلِينِي مَا بَدَا لَكِ وَلاَ يَغُرَّنَّكِ أَنْ كَانَتْ جَارَتُكِ هِيَ أَوْسَمَ وَأَحَبَّ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مِنْكِ - يُرِيدُ عَائِشَةَ - قَالَ وَكَانَ لِي جَارٌ مِنَ الأَنْصَارِ فَكُنَّا نَتَنَاوَبُ النُّزُولَ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَيَنْزِلُ يَوْمًا وَأَنْزِلُ يَوْمًا فَيَأْتِينِي بِخَبَرِ الْوَحْىِ وَغَيْرِهِ وَآتِيهِ بِمِثْلِ ذَلِكَ وَكُنَّا نَتَحَدَّثُ أَنَّ غَسَّانَ تُنْعِلُ الْخَيْلَ لِتَغْزُوَنَا فَنَزَلَ صَاحِبِي ثُمَّ أَتَانِي عِشَاءً فَضَرَبَ بَابِي ثُمَّ نَادَانِي فَخَرَجْتُ إِلَيْهِ فَقَالَ حَدَثَ أَمْرٌ عَظِيمٌ . قُلْتُ مَاذَا أَجَاءَتْ غَسَّانُ قَالَ لاَ بَلْ أَعْظَمُ مِنْ ذَلِكَ وَأَطْوَلُ طَلَّقَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم نِسَاءَهُ . فَقُلْتُ قَدْ خَابَتْ حَفْصَةُ وَخَسِرَتْ قَدْ كُنْتُ أَظُنُّ هَذَا كَائِنًا حَتَّى إِذَا صَلَّيْتُ الصُّبْحَ شَدَدْتُ عَلَىَّ ثِيَابِي ثُمَّ نَزَلْتُ فَدَخَلْتُ عَلَى حَفْصَةَ وَهْىَ تَبْكِي فَقُلْتُ أَطَلَّقَكُنَّ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَتْ لاَ أَدْرِي هَا هُوَ ذَا مُعْتَزِلٌ فِي هَذِهِ الْمَشْرُبَةِ . فَأَتَيْتُ غُلاَمًا لَهُ أَسْوَدَ فَقُلْتُ اسْتَأْذِنْ لِعُمَرَ . فَدَخَلَ ثُمَّ خَرَجَ إِلَىَّ فَقَالَ قَدْ ذَكَرْتُكَ لَهُ فَصَمَتَ فَانْطَلَقْتُ حَتَّى انْتَهَيْتُ إِلَى الْمِنْبَرِ فَجَلَسْتُ فَإِذَا عِنْدَهُ رَهْطٌ جُلُوسٌ يَبْكِي بَعْضُهُمْ فَجَلَسْتُ قَلِيلاً ثُمَّ غَلَبَنِي مَا أَجِدُ ثُمَّ أَتَيْتُ الْغُلاَمَ فَقُلْتُ اسْتَأْذِنْ لِعُمَرَ . فَدَخَلَ ثُمَّ خَرَجَ إِلَىَّ . فَقَالَ قَدْ ذَكَرْتُكَ لَهُ فَصَمَتَ . فَوَلَّيْتُ مُدْبِرًا فَإِذَا الْغُلاَمُ يَدْعُونِي فَقَالَ ادْخُلْ فَقَدْ أَذِنَ لَكَ فَدَخَلْتُ فَسَلَّمْتُ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَإِذَا هُوَ مُتَّكِئٌ عَلَى رَمْلِ حَصِيرٍ قَدْ أَثَّرَ فِي جَنْبِهِ فَقُلْتُ أَطَلَّقْتَ يَا رَسُولَ اللَّهِ نِسَاءَكَ فَرَفَعَ رَأْسَهُ إِلَىَّ وَقَالَ " لاَ " . فَقُلْتُ اللَّهُ أَكْبَرُ لَوْ رَأَيْتَنَا يَا رَسُولَ اللَّهِ وَكُنَّا مَعْشَرَ قُرَيْشٍ قَوْمًا نَغْلِبُ النِّسَاءَ فَلَمَّا قَدِمْنَا الْمَدِينَةَ وَجَدْنَا قَوْمًا تَغْلِبُهُمْ نِسَاؤُهُمْ فَطَفِقَ نِسَاؤُنَا يَتَعَلَّمْنَ مِنْ نِسَائِهِمْ فَتَغَضَّبْتُ عَلَى امْرَأَتِي يَوْمًا فَإِذَا هِيَ تُرَاجِعُنِي فَأَنْكَرْتُ أَنْ تُرَاجِعَنِي . فَقَالَتْ مَا تُنْكِرُ أَنْ أُرَاجِعَكَ فَوَاللَّهِ إِنَّ أَزْوَاجَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم لَيُرَاجِعْنَهُ وَتَهْجُرُهُ إِحْدَاهُنَّ الْيَوْمَ إِلَى اللَّيْلِ . فَقُلْتُ قَدْ خَابَ مَنْ فَعَلَ ذَلِكَ مِنْهُنَّ وَخَسِرَ أَفَتَأْمَنُ إِحْدَاهُنَّ أَنْ يَغْضَبَ اللَّهُ عَلَيْهَا لِغَضَبِ رَسُولِهِ صلى الله عليه وسلم فَإِذَا هِيَ قَدْ هَلَكَتْ فَتَبَسَّمَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ قَدْ دَخَلْتُ عَلَى حَفْصَةَ فَقُلْتُ لاَ يَغُرَّنَّكِ أَنْ كَانَتْ جَارَتُكِ هِيَ أَوْسَمُ مِنْكِ وَأَحَبُّ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مِنْكِ . فَتَبَسَّمَ أُخْرَى فَقُلْتُ أَسْتَأْنِسُ يَا رَسُولَ اللَّهِ . قَالَ " نَعَمْ " . فَجَلَسْتُ فَرَفَعْتُ رَأْسِي فِي الْبَيْتِ فَوَاللَّهِ مَا رَأَيْتُ فِيهِ شَيْئًا يَرُدُّ الْبَصَرَ إِلاَّ أُهُبًا ثَلاَثَةً فَقُلْتُ ادْعُ اللَّهَ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَنْ يُوَسِّعَ عَلَى أُمَّتِكَ فَقَدْ وَسَّعَ عَلَى فَارِسَ وَالرُّومِ وَهُمْ لاَ يَعْبُدُونَ اللَّهَ فَاسْتَوَى جَالِسًا ثُمَّ قَالَ " أَفِي شَكٍّ أَنْتَ يَا ابْنَ الْخَطَّابِ أُولَئِكَ قَوْمٌ عُجِّلَتْ لَهُمْ طَيِّبَاتُهُمْ فِي الْحَيَاةِ الدُّنْيَا " . فَقُلْتُ اسْتَغْفِرْ لِي يَا رَسُولَ اللَّهِ . وَكَانَ أَقْسَمَ أَنْ لاَ يَدْخُلَ عَلَيْهِنَّ شَهْرًا مِنْ شِدَّةِ مَوْجِدَتِهِ عَلَيْهِنَّ . حَتَّى عَاتَبَهُ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ . قَالَ الزُّهْرِيُّ فَأَخْبَرَنِي عُرْوَةُ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ لَمَّا مَضَى تِسْعٌ وَعِشْرُونَ لَيْلَةً دَخَلَ عَلَىَّ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بَدَأَ بِي فَقُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّكَ أَقْسَمْتَ أَنْ لاَ تَدْخُلَ عَلَيْنَا شَهْرًا وَإِنَّكَ دَخَلْتَ مِنْ تِسْعٍ وَعِشْرِينَ أَعُدُّهُنَّ . فَقَالَ " إِنَّ الشَّهْرَ تِسْعٌ وَعِشْرُونَ - ثُمَّ قَالَ - يَا عَائِشَةُ إِنِّي ذَاكِرٌ لَكِ أَمْرًا فَلاَ عَلَيْكِ أَنْ لاَ تَعْجَلِي فِيهِ حَتَّى تَسْتَأْمِرِي أَبَوَيْكِ " . ثُمَّ قَرَأَ عَلَىَّ الآيَةَ ( يَا أَيُّهَا النَّبِيُّ قُلْ لأَزْوَاجِكَ) حَتَّى بَلَغَ ( أَجْرًا عَظِيمًا) قَالَتْ عَائِشَةُ قَدْ عَلِمَ وَاللَّهِ أَنَّ أَبَوَىَّ لَمْ يَكُونَا لِيَأْمُرَانِي بِفِرَاقِهِ قَالَتْ فَقُلْتُ أَوَفِي هَذَا أَسْتَأْمِرُ أَبَوَىَّ فَإِنِّي أُرِيدُ اللَّهَ وَرَسُولَهُ وَالدَّارَ الآخِرَةَ . قَالَ مَعْمَرٌ فَأَخْبَرَنِي أَيُّوبُ أَنَّ عَائِشَةَ قَالَتْ لاَ تُخْبِرْ نِسَاءَكَ أَنِّي اخْتَرْتُكَ فَقَالَ لَهَا النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم " إِنَّ اللَّهَ أَرْسَلَنِي مُبَلِّغًا وَلَمْ يُرْسِلْنِي مُتَعَنِّتًا " . قَالَ قَتَادَةُ صَغَتْ قُلُوبُكُمَا مَالَتْ قُلُوبُكُمَا.

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

৩৫৬২। ইসহাক ইবনে ইবরাহীম হানযালী ও মুহাম্মাদ ইবনে আবু উমর (রাহঃ) ......... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী (ﷺ) এর স্ত্রীগণের মধ্যে থেকে যে দু’জন মহিলা সম্পর্কে উমর (রাযিঃ) কে জিজ্ঞাসা করার জন্য বহুদিন যাবত লালায়িত ছিলাম যাদের সম্পর্কে আল্লাহ বলেছেনঃ “তোমাদের দু’জনের হৃদয় অন্যায় প্রবণ হয়েছে মনে করে তোমরা যদি অনুতপ্ত হয়ে আল্লাহর দিকে ফিরে আস তাহলে আল্লাহ তোমাদের ক্ষমা করবেন”। (সূরা আত-তাহরীমঃ ৪)

পরিশেষে উমর (রাযিঃ) হজ্জ পালনের জন্য ঘর থেকে বেরিয়ে পড়লেন এবং আমিও হজ্জ পালনের জন্য তাঁর সফর সঙ্গী হলাম। এরপর (হজ্জ সমাপন করে ফেরার পথে) আমরা কোন এক রাস্তা দিয়ে চলার সময় উমর (রাযিঃ) একপার্শ্বে মোড় নিলেন। আমিও পানির বদনাসহ তাঁর সঙ্গে রাস্তার পার্শ্বে গেলাম। তিনি তাঁর হাজত পূরণ করলেন এবং আমার কাছে এলেন। আমি তাঁর উভয় হাতে পানি ঢাললাম, তিনি উযু করে নিলেন। তখন আমি বললাম, হে আমীরুল মু'মিনীন! নবী (ﷺ) এর স্ত্রীগণের সে দুজন মহিলা কারা ছিলো যাদের সম্পর্কে মহান আল্লাহ বলেছেনঃ

″তোমাদের দু’জনের হৃদয় অন্যায় প্রবণ হয়েছে মনে করে তোমরা যদি অনুতপ্ত হয়ে আল্লাহর দিকে প্রত্যাবর্তন কর তাহলে আল্লাহ তোমাদের ক্ষমা করবেন।″ (তাহরীমঃ ৪)।

উমর (রাযিঃ) বললেন, হে ইবনে আব্বাস! তোমার প্রতি বিস্ময়বোধ করছি। যুহরী (রাহঃ) বলেন, আল্লাহর কসম! তিনি সে বিষয়ে জিজ্ঞাসাকে অপছন্দ করলেও তা বর্ণনা করতে কিছুই গোপন করলেন না। তিনি বললেন, তাঁরা দুজন ছিল হাফসা ও আয়িশা (রাযিঃ)। এরপর তিনি ঘটনার বিবরণ দিতে লাগলেন।

তিনি বললেন, আমরা কুরাইশ বংশের লোকেরা (জাহিলী যুগে) আমাদের স্ত্রীদের উপর প্রভাব খাটাত। যখন আমরা মদীনায় এলাম তখন এমন লোকদের দেখতে পেলাম যাদের উপর তাদের স্ত্রীরা প্রভাব বিস্তার করছিল। এমনি পরিবেশে আমাদের নারীরা তাদের (মদীনাবাসীদের) নারীদের অভ্যাস শিখতে শুরু করে দেয়। তিনি বলেন, সে সময় মদীনার উচ্চভূমির অধিবাসী বনু উমাইয়া ইবনে যায়দের বংশধরদের মধ্যে আমার বসতবাটি ছিল। এরপর একদিন আমি আমার স্ত্রীর উপর রাগাম্বিত হলাম। সে আমার কথার প্রতি উত্তর করতে লাগল। আমি আমার সঙ্গে তার প্রতি উত্তর করাকে খুবই অপ্রিয় মনে করলাম। সে বলল, আপনার সঙ্গে আমার কথার প্রতি উত্তর করাকে অপছন্দ করছিলেন কেন? আল্লাহর কসম! নবী (ﷺ) এর স্ত্রীগণও তো তাঁর সঙ্গে কথার প্রতি উত্তর করে থাকে। এমনকি তিনি তাঁদের কেউ কেউ তাঁকে সারা দিন রাত বিচ্ছিন্ন করে রাখে।

তখন আমি রওয়ানা করে (আমার মেয়ে) হাফসার কাছে চলে এলাম। এরপর আমি তাকে বললাম, তুমি কি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সঙ্গে প্রতিউত্তর কর? সে বলল, হ্যাঁ। আমি বললাম, তোমাদের মধ্যে কি কেউ তাকে সারা দিন রাত বিচ্ছিন্ন করে রাখে? সে বলল, হ্যাঁ। আমি বললাম, তোমাদের যে কেউ এরূপ আচরণ করে সে আসলেই দূর্ভাগা ও ক্ষতিগ্রস্ত। তোমাদের মধ্যে কি কেউ এ ব্যাপারে নিশ্চিন্তবোধ করে যে, আল্লাহ তাঁর রাসূলের ক্রোধের কারণে তার প্রতি ক্ষুদ্ধ হবেন না? এরূপ হলে তো তার ধ্বংস অনিবার্য। তুমি কখনো রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সঙ্গে তাঁর কথার প্রতি উত্তর লিপ্ত হয়ো না এবং তাঁর কাছে কোন কিছু দাবী করবে না, তোমার মনে যা চায় তা আমার কাছে চাইবে। তোমার সতীন তোমার চাইতে অধিকতর সুন্দরী এবং রাসূলুল্লাহ (ﷺ) নিকট তোমার তুলনায় অধিকতর প্রিয়পাত্রি। সে যেন তোমায় ধোকায় পতিত না করে। এর দ্বারা তিনি আয়িশা (রাযিঃ) কে বুঝাতে চাইছেন।

তিনি বলেন, আমার একজন আনসারী প্রতিবেশী ছিলেন। আমরা দুই বন্ধু পালাক্রমে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কাছে (তাঁর মজলিসে) যেতাম। একদিন তিনি উপস্থিত থাকতেন অপরদিন আমি উপস্থিত হতাম। এভাবে তিনি আমাকে ওহী ইত্যাদির খবর দিতেন আমিও অনুরূপ খবর তাকে পৌঁছাতাম। সে সময় আমরা আলোচনা করতে ছিলাম যে, গাসসানী বাদশাহ নাকি আমাদের সঙ্গে যুদ্ধ করা জন্য ঘোড়ার ক্ষুরে নাল লাগাচ্ছে।

একদিন আমার বন্ধু রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কাছে গেলেন এবং ইশার সময় (রাত্রিকালে) আমার কাছে (ফিরে) এলেন। তিনি এসে আমার ঘরের দরজা খটখটালেন এবং আমাকে ডাকলেন। আমি তাঁর ডাক শুনে তার কাছে ছুটে এলাম। তিনি বললেন, একটি বিরাট কাণ্ড ঘটে গেছে। আমি বললাম, সে কি? গাসসানীরা তাহলে এসে গেছে নাকি? তিনি বললেনঃ না, তারা আসেনি বরং ব্যাপার তার চাইতেও সাংঘাতিক ও দীর্ঘতর। নবী (ﷺ) তাঁর সহধর্মিনীদের তালাক দিয়েছেন। তখন আমি বললাম, হাফসার সর্বনাশ হয়েছে ও সে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আমি পূর্ব থেকেই ধারণা পোষণ করে আসছিলাম যে, এমন একটা কিছু ঘটতে যাচ্ছে।

এরপর আমি ফজরের নামায আদায় করে প্রয়োজনীয় কাপড় চোপড় পরিধান করলাম। আমি ঘর থেকে বেরিয়ে সরাসরি হাফসার কাছে উপস্থিত হলাম। তখন সে কাঁদছিল। আমি বললাম, রাসুলল্লাহ (রাহঃ) কি তোমাদেরকে তালাক দিয়েছেন। সে বলল, আমি জানি না। তবে তিনি তাঁর ঐ টঙ্গে নির্জনবাস করছেন। আমি তাঁর কালোকায় গোলামের কাছে এলাম। এরপর সে ভিতরে প্রবেশ করল এবং বেরিয়ে এসে আমার দিকে তাকাল। এরপর সে বলল, আমি তার (রাসূলুল্লাহ (ﷺ)) কাছে আপনার কথা উত্থাপন করেছি কিন্তু তিনি নীরব আছেন। (কিছুই বলছেন না)। তারপর আমি চলে এলাম এবং মিম্বরের কাছে এসে বসে পড়লাম। তখন আমি দেখতে পেলাম সেখানে একদল লোক বসা আছেন। তাদের মধ্যে কেউ কেউ ডুকরে ডুকরে কাঁদছে।

আমি খানিকটা বসলাম। এরপর আমার মনের প্রবল আকঙ্খা আমার উপর প্রভাব বিস্তার করল। তখন আমি সেই গোলামের কাছে চলে এলাম এবং তাকে বললাম, উমরের জন্য ভিতরে প্রবেশের অনুমতি নিয়ে এসো। সে ভেতরে প্রবেশ করল এবং বেরিয়ে এসে আমাকে বলল, আপনি আপনার বিষয়টি তাঁর সামনে উত্থাপন করেছি কিন্তু তিনি নীরব আছেন। আমি তখন পিছনে ফিরে চললাম অমনি সে গোলামটি আমাকে ডাক দিয়ে বলল, আপনি প্রবেশ করুন; তিনি আপনাকে অনুমতি দিয়েছেন।

আমি ভিতরে প্রবেশ করে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে সালাম দিলাম। আমি দেখতে পেলাম, তিনি খেজুর পাতার তৈরী একটি চাটাই এর উপর হেলান দিয়ে আরাম করছেন যা তাঁর পার্শ্বদেশে দাগ বসিয়ে দিয়েছে। তখন আমি বললাম, ইয়া রাসুলাল্লাহ! আপনি কি আপনার সহধর্মিনীগণকে তালাক দিয়েছেন? আমার দিকে তাকিয়ে মাথা তুললেন এবং বললেন, না। আমি বললাম, আল্লাহু আকবার (আল্লাহ সর্বশ্রেষ্ঠ) ইয়া রাসুলাল্লাহ! আপনি বিষয়টি ভেবে দেখুনঃ

আমরা কুরাইশরা এমন ছিলাম যে, আমাদের স্ত্রীদের উপর প্রভাব খাটাতাম। তারপর আমরা যখন মদীনায় এলাম তখন দেখতে পেলাম, এখানকার পুরুষ লোকদের উপর তাদের স্ত্রীরা প্রভাব বিস্তার করে আসছে। তাদের থেকে আমাদের স্ত্রীরাও এটা শিখতে শুর করে দিয়েছে। একদিন আমি আমার স্ত্রীর প্রতি রাগান্বিত হলাম। অমনি সে আমার কথার প্রতি উত্তর শুরু করে দিল। আমি তার প্রতি উত্তর করাকে খুবই খারাপ মনে করলাম। সে বলে ফেলল- আপনার সঙ্গে প্রতিউত্তর করাকে আপনি এত খারাপ মনে করছেন কেন? আল্লাহর কসম! নবী (ﷺ) এর স্ত্রীগণও তো তাঁর কথার প্রতি উত্তর করে থাকে, এমনকি তাদের কেউ কেউ তাঁকে সারা দিন রাত বিচ্ছিন্ন করে রাখে।

আমি বললাম, তাঁদের মধ্যে কেউ এমন আচরণ করলে সে হতভাগ্য ও ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে গেছে। তাদের মধ্যে থেকে কারো উপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) রাগান্বিত হওয়ার কারণে যদি আল্লাহ ক্রদ্ধ হয়ে যান তাহলে তার পতন ও ধ্বংস অনিবার্য। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) মৃদু সূরে হেসে উঠলেন।

আমি বললাম, ইয়া রাসুলল্লাহ! আমি হাফসার কাছে গিয়ে তাকে বলে দিয়েছি যে, তোমার সতীন সৌন্দর্যে তোমার তুলনায় অগ্রগামিনী এবং রাসুলাল্লাহ (ﷺ) এর কাছে তোমার চাইতে অধিকতর আদরিনী- তা যেন তোমাকে ধোকায় না ফেলে। এতে আবার তিনি মুচকি হাসি দিলেন। তখন আমি বললাম, ইয়া রাসালুল্লাহ! আমি আপনার সঙ্গে একান্তে আলাপ করতে চাই। তিনি বললেনঃ হ্যাঁ, করতে পার।

তারপর আমি বসলাম এবং মাথা উঠিয়ে তাঁর কোঠার (এদিক ওদিক) তাকিয়ে দেখলাম। আল্লাহর কসম! আমি সেখানে তিনখানি চামড়া ব্যতীত দৃষ্টি ফিরানোর মত কিছু দেখতে পাইনি। আমি বললাম, ইয়া রাসুলাল্লাহ! আপনি আল্লাহর কাছে দুআ করুন যেন তিনি আপনার উম্মতকে প্রাচুর্য দান করেন। পারসিক ও রোমাকদের তো বৈষয়িক সুখ সমৃদ্ধি দান করা হয়েছে অথচ তারা আল্লাহর ইবাদত (আনুগত্য) করে না। তখন তিনি সোজা হয়ে বসলেন এবং বললেন, -হে খাত্তাবের পুত্র! তুমি কি সন্দেহের জালে আব্দ্ধ আছ? আসলে তারা তো এমন সম্প্রদায় যাদের পার্থিব জীবনে নগদ দিয়ে দেওয়া হয়েছে। আমি বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ আপনি আমার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করুন।

তিনি তাঁর সহধর্মিনীগণের আচরণে ক্ষুদ্ধ হয়ে কসম করেছিলেন যে, তিনি একমাস তাদের সঙ্গে একত্রে অতিবাহিত করবেন না। শেষাবধি আল্লাহ তাকে এই আচরণের জন্য তিরষ্কার করেন।

যুহরী (রাহঃ) বলেন, উরওয়া (রাহঃ) আয়িশা (রাযিঃ) এর সূত্রে আমাকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেনঃ যখন উনত্রিশ দিন অতিবাহিত হল তখন প্রথমে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমার নিকট আসলেন। তখন আমি বললাম, ইয়া রাসুলাল্লাহ! আপনি তো কসম করেছিলেন একমাস পর্যন্ত আমাদের কাছে আসবেন না অথচ উনত্রিশ দিন পরই আপনি আমাদের কাছে ফিরে এলেন। আমি এই দিনগুলো হিসেব করে রেখেছিলাম। তিনি বললেন মাস উনত্রিশ দিনেও হয়।

এরপর তিনি বললেন, হে আয়িশা! আমি তোমাকে একটি বিষয় স্মরণ করিয়ে দিতে চাই যে, সে সম্পর্কে তোমার পিতামাতার সঙ্গে পরামর্শ না করে তাড়াতাড়ি উত্তর দেওয়ার প্রয়োজন নেই। তখন তিনি আমাকে এই আয়াত তিলাওয়াত করে শোনালেনঃ ″হে নবী! আপনি আপনার স্ত্রীদের বলুন, তোমরা যদি পার্থিব জীবন ও এর ভূষণ কামনা কর তাহলে এসো আমি তোমাদের ভোগ বিলাসের উপকরণের ব্যবস্থা করে দেই এবং সৌজন্যর সাথে তোমাদের বিদায় করে দেই। আর যদি তোমরা আল্লাহ তাঁর রাসুল ও পরকাল কামনা কর তবে তোমাদের মধ্যে যারা সৎকর্মপরায়ণা আল্লাহ তাদের জন্য মহা প্রতিদান প্রস্তুত করে রেখেছেন।″ (সূরা আহযাবঃ ২৮,২৯)।

আয়িশা (রাযিঃ) বলেন, এটা নির্ঘাত সত্য যে, আমার পিতামাতা কস্মিনকালেও আমাকে তাঁর (রাসূলুল্লাহ (ﷺ)) থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার পরামর্শ দিবেন না। তিনি বলেন, তখন আমি বললাম, ইয়া রাসুলাল্লাহ! এ বিষয়ে কি আমি আমার পিতামাতার সাথে পরামর্শ করতে যাব? নিশ্চয়ই আমি আল্লাহ, তাঁর রাসুল ও পরকাল কামনা করি।

মা’মার (রাহঃ) বলেন, আইয়ুব আমাকে জানিয়েছেন যে, আয়িশা (রাযিঃ) বলেছেন, (ইয়া রাসুলাল্লাহ) আপনি আপনার অন্যান্য সহধর্মিনীগণের কাছে বলবেন না যে, আমি আপনাকেই ইখতিয়ার করে নিয়েছি। তখন নবী (ﷺ) তাকে বললেন, আল্লাহ আমকে মুবাল্লিগ (সত্যপ্রচারক) রূপে প্রেরণ করেছেন, বিপদে নিক্ষেপকারীরূপে পাঠান নি।

কাতাদা (রাহঃ) বলেন,صَغَتْ قُلُوبُكُمَا এর অর্থ مَالَتْ قُلُوبُكُمَا ″তোমাদের হৃদয় (অন্যায় প্রবনতার দিকে) ঝুঁকে পড়েছিল।″

৫. বায়িন তালাকপ্রাপ্তা স্ত্রীর জন্য খোরপোষ নেই

باب المطلقة البا ئن لا نفقة لها

3563

حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ يَحْيَى، قَالَ قَرَأْتُ عَلَى مَالِكٍ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ يَزِيدَ، مَوْلَى الأَسْوَدِ بْنِ سُفْيَانَ عَنْ أَبِي سَلَمَةَ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ فَاطِمَةَ بِنْتِ قَيْسٍ، أَنَّ أَبَا عَمْرِو بْنَ حَفْصٍ، طَلَّقَهَا الْبَتَّةَ وَهُوَ غَائِبٌ فَأَرْسَلَ إِلَيْهَا وَكِيلُهُ بِشَعِيرٍ فَسَخِطَتْهُ فَقَالَ وَاللَّهِ مَا لَكِ عَلَيْنَا مِنْ شَىْءٍ . فَجَاءَتْ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَذَكَرَتْ ذَلِكَ لَهُ فَقَالَ " لَيْسَ لَكِ عَلَيْهِ نَفَقَةٌ " . فَأَمَرَهَا أَنْ تَعْتَدَّ فِي بَيْتِ أُمِّ شَرِيكٍ ثُمَّ قَالَ " تِلْكَ امْرَأَةٌ يَغْشَاهَا أَصْحَابِي اعْتَدِّي عِنْدَ ابْنِ أُمِّ مَكْتُومٍ فَإِنَّهُ رَجُلٌ أَعْمَى تَضَعِينَ ثِيَابَكِ فَإِذَا حَلَلْتِ فَآذِنِينِي " . قَالَتْ فَلَمَّا حَلَلْتُ ذَكَرْتُ لَهُ أَنَّ مُعَاوِيَةَ بْنَ أَبِي سُفْيَانَ وَأَبَا جَهْمٍ خَطَبَانِي . فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " أَمَّا أَبُو جَهْمٍ فَلاَ يَضَعُ عَصَاهُ عَنْ عَاتَقِهِ وَأَمَّا مُعَاوِيَةُ فَصُعْلُوكٌ لاَ مَالَ لَهُ انْكِحِي أُسَامَةَ بْنَ زَيْدٍ " . فَكَرِهْتُهُ ثُمَّ قَالَ " انْكِحِي أُسَامَةَ " . فَنَكَحْتُهُ فَجَعَلَ اللَّهُ فِيهِ خَيْرًا وَاغْتَبَطْتُ بِهِ .

Narrator: ফাতিমা বিনতে কায়স (রাঃ)

৩৫৬৩। ইয়াহয়া ইবনে ইয়াহয়া (রাহঃ) ......... ফাতিমা বিনতে কায়স (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আবু আমর ইবনে হাফস (রাযিঃ) (তার স্বামী) অনুপস্থিত অবস্থায় তাকে বায়েন তালাক দেন। এরপর সামান্য পরিমাণ যবসহ উকীলকে তার কাছে পাঠিয়ে দেন। এতে তিনি [ফাতিমা (রাযিঃ)] তার উপর ভীষণভাবে অন্তুষ্ট হন। সে (উকীল) বলল, আল্লাহর কসম! তোমাকে (খোরপোষরূপে) কোন কিছু দেওয়া আমাদের দায়িত্ব নয়। তখন তিনি [ফাতিমা বিনতে কায়স (রাযিঃ)] রাসুলল্লাহ (ﷺ) এর কাছে উপিস্থিত হয়ে তাঁর নিকট সব খুলে বললেন। (তার কথা শুনে) তিনি বললেন, তোমার জন্য তার (তোমার স্বামী আবু আমর ইবনে হাফস (রাযিঃ) এর) দায়িত্বে কোন খোরপোষ নেই।

এরপর তিনি তাকে উম্মু শারীকের ঘরে গিয়ে ইদ্দত পালনের নির্দেশ দিলেন। তারপর তিনি এও বললেন সে মহিলা (উম্মু শারীক) এমন একজন স্ত্রীলোক যার কাছে আমার সাহাবীগণ ভীড় করে থাকেন। তুমি বরং ইবনে উম্মু মাকতুম (রাযিঃ) এর বাড়ীতে গিয়ে ইদ্দত পালন করতে থাক। কেননা সে একজন অন্ধ মানুষ। সেখানে তুমি তোমার কাপড় খুলতে পারবে। ইদ্দত পূর্ণ হলে তুমি আমাকে জানাবে।

তিনি বলেন, যখন আমার ইদ্দত পূর্ণ হল তখন আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে জানালাম যে, মুআবিয়া ইবনে আবু সুফিয়ান (রাযিঃ) ও আবু জাহম (রাযিঃ) আমাকে বিবাহের পায়গাম পাঠিয়েছেন। তখন রাসুলল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ আবু জাহাম এমন লোক যে তার কাঁধ থেকে লাঠি নামিয়ে রাখে না। আর মুআবিয়া তো কপর্দকহীন গরীব মানুষ। তুমি উসামা ইবনে যায়দের সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আব্দ্ধ হও। কিন্তু আমি তাঁকে পছন্দ করলাম না। এরপর তিনি আবার বললেন, তুমি উসামাকে বিয়ে কর। তখন আমি তার সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আব্দ্ধ হলাম। আল্লাহ এতে (তার ঘরে) আমাকে বিরাট কল্যাণ দান করলেন। আর আমি ঈর্ষার পাত্রে পরিণত হলাম।
3564

حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ، - يَعْنِي ابْنَ أَبِي حَازِمٍ وَقَالَ قُتَيْبَةُ أَيْضًا حَدَّثَنَا يَعْقُوبُ، - يَعْنِي ابْنَ عَبْدِ الرَّحْمَنِ الْقَارِيَّ - كِلاَهُمَا عَنْ أَبِي حَازِمٍ، عَنْ أَبِي، سَلَمَةَ عَنْ فَاطِمَةَ بِنْتِ قَيْسٍ، أَنَّهُ طَلَّقَهَا زَوْجُهَا فِي عَهْدِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَكَانَ أَنْفَقَ عَلَيْهَا نَفَقَةَ دُونٍ فَلَمَّا رَأَتْ ذَلِكَ قَالَتْ وَاللَّهِ لأُعْلِمَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَإِذَا كَانَ لِي نَفَقَةٌ أَخَذْتُ الَّذِي يُصْلِحُنِي وَإِنْ لَمْ تَكُنْ لِي نَفَقَةٌ لَمْ آخُذْ مِنْهُ شَيْئًا قَالَتْ فَذَكَرْتُ ذَلِكَ لِرَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ " لاَ نَفَقَةَ لَكِ وَلاَ سُكْنَى " .

Narrator: ফাতিমা বিনতে কায়স (রাঃ)

৩৫৬৪। কুতায়বা ইবনে সাঈদ (রাহঃ) ......... ফাতিমা বিনতে কায়স (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) এর জীবদ্দশায় তার স্বামী তাকে তালাক দেন। এরপর তার স্বামী তার জন্য (ইদ্দতকালীন সময়ের ব্যয় নির্বাহের জন্য) সামান্য পরিমাণ খোরপোষ দিয়েছিলেন। তিনি তা দেখে বললেন, আল্লাহর কসম! আমি অবশ্যই (এই বিষয়টি) রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর দৃষ্টি গোচরে আনব। যদি খোরপোষ আমার প্রাপ্য হয় তবে তা আমি এই পরিমাণ উসূল করব। যাতে আমার প্রয়োজন পূরণ হয়। আর যদি খোরপোষ আমার প্রাপ্য না-ই হয় তাহলে আমি তার নিকট থেকে কিছুই গ্রহণ করব না। তিনি বলেন, এরপর আমি বিষয়টি রাসুলল্লাহ (ﷺ) এর নিকটে উত্থাপন করলাম। তিনি আমাকে বললেন, তোমার জন্য কোন খোরপোষ নেই, বাসস্থানও নেই।

3565

حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا لَيْثٌ، عَنْ عِمْرَانَ بْنِ أَبِي أَنَسٍ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، أَنَّهُ قَالَ سَأَلْتُ فَاطِمَةَ بِنْتَ قَيْسٍ فَأَخْبَرَتْنِي أَنَّ زَوْجَهَا الْمَخْزُومِيَّ طَلَّقَهَا فَأَبَى أَنْ يُنْفِقَ عَلَيْهَا فَجَاءَتْ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَأَخْبَرَتْهُ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " لاَ نَفَقَةَ لَكِ فَانْتَقِلِي فَاذْهَبِي إِلَى ابْنِ أُمِّ مَكْتُومٍ فَكُونِي عِنْدَهُ فَإِنَّهُ رَجُلٌ أَعْمَى تَضَعِينَ ثِيَابَكِ عِنْدَهُ " .

Narrator: আবু সালামা ইবনে আব্দুর রহমান ইবনে আউফ (রহঃ)

৩৫৬৫। কুতায়বা ইবনে সাঈদ (রাহঃ) ......... আবু সালামা (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ফাতিমা বিনতে কায়স (রাযিঃ) কে (তার স্বামির তালাক সম্পর্কে) জিজ্ঞাসা করলাম। তিনি আমাকে জানালেন যে, তার মাখযুমী স্বামী তাকে তালাক দিয়েছেন। কিন্তু তাকে খোরপোষ প্রদানে অনীহা প্রকাশ করলেন। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ তোমার জন্য কোন খোরপোষ নেই। তুমি সেখান থেকে সরে পড় এবং ইবনে উম্মু মাকতুমের ঘরে গিয়ে তার কাছে অবস্থান কর। কারণ সে একজন অন্ধ মানুষ। সেখানে তুমি প্রয়োজনবোধে তোমার কপড় খুলে রাখতে পারবে।

3566

وَحَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ رَافِعٍ، حَدَّثَنَا حُسَيْنُ بْنُ مُحَمَّدٍ، حَدَّثَنَا شَيْبَانُ، عَنْ يَحْيَى، - وَهُوَ ابْنُ أَبِي كَثِيرٍ - أَخْبَرَنِي أَبُو سَلَمَةَ، أَنَّ فَاطِمَةَ بِنْتَ قَيْسٍ، أُخْتَ الضَّحَّاكِ بْنِ قَيْسٍ أَخْبَرَتْهُ أَنَّ أَبَا حَفْصِ بْنَ الْمُغِيرَةِ الْمَخْزُومِيَّ طَلَّقَهَا ثَلاَثًا ثُمَّ انْطَلَقَ إِلَى الْيَمَنِ فَقَالَ لَهَا أَهْلُهُ لَيْسَ لَكِ عَلَيْنَا نَفَقَةٌ . فَانْطَلَقَ خَالِدُ بْنُ الْوَلِيدِ فِي نَفَرٍ فَأَتَوْا رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي بَيْتِ مَيْمُونَةَ فَقَالُوا إِنَّ أَبَا حَفْصٍ طَلَّقَ امْرَأَتَهُ ثَلاَثًا فَهَلْ لَهَا مِنْ نَفَقَةٍ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " لَيْسَتْ لَهَا نَفَقَةٌ وَعَلَيْهَا الْعِدَّةُ " . وَأَرْسَلَ إِلَيْهَا " أَنْ لاَ تَسْبِقِينِي بِنَفْسِكِ " . وَأَمَرَهَا أَنْ تَنْتَقِلَ إِلَى أُمِّ شَرِيكٍ ثُمَّ أَرْسَلَ إِلَيْهَا " أَنَّ أُمَّ شَرِيكٍ يَأْتِيهَا الْمُهَاجِرُونَ الأَوَّلُونَ فَانْطَلِقِي إِلَى ابْنِ أُمِّ مَكْتُومٍ الأَعْمَى فَإِنَّكِ إِذَا وَضَعْتِ خِمَارَكِ لَمْ يَرَكِ " . فَانْطَلَقَتْ إِلَيْهِ فَلَمَّا مَضَتْ عِدَّتُهَا أَنْكَحَهَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أُسَامَةَ بْنَ زَيْدِ بْنِ حَارِثَةَ.

Narrator: ফাতিমা বিনতে কায়স (রাঃ)

৩৫৬৬। মুহাম্মাদ ইবনে রাফি (রাহঃ) ......... দাহহাক ইবনে কায়সের ভগ্নী ফাতিমা বিনতে কায়স (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, তার স্বামী আবু হাফস ইবনে মুগীরা (রাযিঃ) তাকে একত্রে তিন তালাক প্রদান করেন। এরপর তিনি ইয়ামান চলে যান। তখন তার (আবু আমরের) পরিবারের লোকজন তাকে (ফাতিমাকে) বলল, তোমার জন্য আমাদের দায়িত্বে কোন খোরপোষ নেই। এরপর খালিদ ইবনে ওয়ালীদ (রাযিঃ) একদল লোকসহ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কাছে এলেন। তখন তিনি মায়মুনা (রাযিঃ) এর ঘরে অবস্থান করছিলেন। তারা বললেন, (ইয়া রাসুলাল্লাহা) আবু হাফস তার স্ত্রীকে তিন তালাক দিয়েছেন। এখন তার স্ত্রী কি খোরপোষ পাবে? রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ না, তার জন্য কোন খোরপোষ নেই। তার উপর ইদ্দত পালন করা ওয়াজিব।

তিনি তাকে বলে পাঠালেন যে, তুমি আমাকে না জানিয়ে বিবাহের ব্যাপারে কোন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে না। তিনি তাকে ইদ্দত পালনের জন্য উম্মু শারীকের ঘরে যাওয়ার নির্দেশ দিলেন। এরপর তিনি তাকে লোক মারফত জানিয়ে দিলেন যে, উম্মু শারীক এমন একজন মহিলা যার কাছে প্রাথমিক হিজরতকারী সাহাবীগণ আসা যাওয়া করে থাকেন। সুতরাং তুমি অন্ধ ইবনে উম্মু মাকতুমের ঘরে চলে যাও। কারণ সেখানে তুমি প্রয়োজনবোধে তোমার দোপাট্টা (ওড়না) নামিয়ে রাখলে সে তোমাকে দেখতে পাবে না। যখন তার ইদ্দত পূর্ণ হল, তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) উসামা ইবনে যায়দ ইবনে হারিসা (রাযিঃ) এর সঙ্গে তাঁকে বিয়ে দিয়ে দিলেন।
3567

حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ أَيُّوبَ، وَقُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، وَابْنُ، حُجْرٍ قَالُوا حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ، - يَعْنُونَ ابْنَ جَعْفَرٍ - عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَمْرٍو، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ فَاطِمَةَ بِنْتِ قَيْسٍ، ح وَحَدَّثَنَاهُ أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بِشْرٍ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَمْرٍو، حَدَّثَنَا أَبُو سَلَمَةَ، عَنْ فَاطِمَةَ بِنْتِ قَيْسٍ، قَالَ كَتَبْتُ ذَلِكَ مِنْ فِيهَا كِتَابًا قَالَتْ كُنْتُ عِنْدَ رَجُلٍ مِنْ بَنِي مَخْزُومٍ فَطَلَّقَنِي الْبَتَّةَ فَأَرْسَلْتُ إِلَى أَهْلِهِ أَبْتَغِي النَّفَقَةَ . وَاقْتَصُّوا الْحَدِيثَ بِمَعْنَى حَدِيثِ يَحْيَى بْنِ أَبِي كَثِيرٍ عَنْ أَبِي سَلَمَةَ . غَيْرَ أَنَّ فِي حَدِيثِ مُحَمَّدِ بْنِ عَمْرٍو " لاَ تَفُوتِينَا بِنَفْسِكِ " .

Narrator: ফাতিমা বিনতে কায়স (রাঃ)

৩৫৬৭। ইয়াহয়া ইবনে আইয়ুব, কুতায়বা ইবনে সাঈদ, ইবনে হুজর ও আবু বকর ইবনে আবি শাঈবা (রাহঃ) ......... মুহাম্মাদ ইবনে আমর আবু সালামা হতে এবং তিনি ফাতিমা বিনতে কায়স (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি বনু মাখযুমের জনৈক ব্যক্তির স্ত্রী ছিলাম। তিনি আমাকে বায়িন তালাক দিলেন। তখন আমি তার পরিবার পরিজনের কাছে লোক পাঠিয়ে খোরপোষের দাবী জানালাম। এরপর তারা (বর্ণনাকারীত্রয়) আবু সালামার সূত্রে ইয়াহয়া ইবনু কাসীরের হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করেন। তবে মুহাম্মাদ ইবনে আমর বর্ণিত হাদীসে আছে “আমাকে বাদ দিয়ে তুমি তোমার সম্পর্কে কোন সিদ্ধান্ত নিও না।”

3568

حَدَّثَنَا حَسَنُ بْنُ عَلِيٍّ الْحُلْوَانِيُّ، وَعَبْدُ بْنُ حُمَيْدٍ، جَمِيعًا عَنْ يَعْقُوبَ بْنِ إِبْرَاهِيمَ، بْنِ سَعْدٍ حَدَّثَنَا أَبِي، عَنْ صَالِحٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، أَنَّ أَبَا سَلَمَةَ بْنَ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَوْفٍ، أَخْبَرَهُ أَنَّ فَاطِمَةَ بِنْتَ قَيْسٍ أَخْبَرَتْهُ أَنَّهَا، كَانَتْ تَحْتَ أَبِي عَمْرِو بْنِ حَفْصِ بْنِ الْمُغِيرَةِ فَطَلَّقَهَا آخِرَ ثَلاَثِ تَطْلِيقَاتٍ فَزَعَمَتْ أَنَّهَا جَاءَتْ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم تَسْتَفْتِيهِ فِي خُرُوجِهَا مِنْ بَيْتِهَا فَأَمَرَهَا أَنْ تَنْتَقِلَ إِلَى ابْنِ أُمِّ مَكْتُومٍ الأَعْمَى فَأَبَى مَرْوَانُ أَنْ يُصَدِّقَهُ فِي خُرُوجِ الْمُطَلَّقَةِ مِنْ بَيْتِهَا وَقَالَ عُرْوَةُ إِنَّ عَائِشَةَ أَنْكَرَتْ ذَلِكَ عَلَى فَاطِمَةَ بِنْتِ قَيْسٍ.

Narrator: ফাতিমা বিনতে কায়স (রাঃ)

৩৫৬৮। হাসান ইবনে আলী হুলওয়ানী ও আব্দ ইবনে হুমায়দ (রাহঃ) ......... ফাতিমা বিনতে কায়স (রাযিঃ) বর্ণনা করেন যে, তিনি আবু আমর ইবনে হাফস ইবনে মুগীরা (রাযিঃ) এর স্ত্রী ছিলেন। তিনি তাকে চূড়ান্ত তিন তালাক দিলেন। তখন তিনি [ফাতিমা বিনতে কায়স (রাযিঃ)] বলেন যে, তিনি রাসুলল্লাহ (ﷺ) এর কাছে যাবেন এবং তার স্বামীর ঘর থেকে অন্যত্র অবস্থানের ব্যাপারে তাঁর নিকট থেকে সিদ্ধান্ত জেনে নিবেন। তিনি (রাসুলাল্লাহ (ﷺ)) নির্দেশ দিলেন যে, তুমি অন্ধ ইবনে উম্মু মাকতুমের ঘরে চলে যাও। মারওয়ান (উমাইয়্যা গভর্নর) তালাকপ্রাপ্তা মহিলার (স্বামীর) ঘর থেকে বের হওয়ার ব্যাপারে তার (আবু সালামার) বর্ণনার সত্যতা অস্বীকার করেন। উরওয়া (রাহঃ) বলেন, আয়িশা (রাযিঃ) ও ফাতিমা বিনতে কায়সের বিষয়টি (স্বামীর ঘর ছেড়ে অন্যত্র অবস্থান করা) প্রত্যাখ্যান করেছেন।

3569

وَحَدَّثَنِيهِ مُحَمَّدُ بْنُ رَافِعٍ، حَدَّثَنَا حُجَيْنٌ، حَدَّثَنَا اللَّيْثُ، عَنْ عُقَيْلٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، بِهَذَا الإِسْنَادِ مِثْلَهُ مَعَ قَوْلِ عُرْوَةَ إِنَّ عَائِشَةَ أَنْكَرَتْ ذَلِكَ عَلَى فَاطِمَةَ .

Narrator: ইবনে শিহাব যুহরী (রহঃ)

৩৫৬৯। মুহাম্মাদ ইবনে রাফি (রাহঃ) ......... ইবনে শিহাব (রাহঃ) এই সনদে উরওয়ার উক্তিসহ বর্ণনা করেছেন যে, আয়িশা (রাযিঃ) ফাতিমার উক্ত ঘটনা অস্বীকার করেছেন।

3570

حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، وَعَبْدُ بْنُ حُمَيْدٍ، - وَاللَّفْظُ لِعَبْدٍ - قَالاَ أَخْبَرَنَا عَبْدُ، الرَّزَّاقِ أَخْبَرَنَا مَعْمَرٌ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عُتْبَةَ، أَنَّ أَبَا عَمْرِو بْنَ حَفْصِ بْنِ الْمُغِيرَةِ، خَرَجَ مَعَ عَلِيِّ بْنِ أَبِي طَالِبٍ إِلَى الْيَمَنِ فَأَرْسَلَ إِلَى امْرَأَتِهِ فَاطِمَةَ بِنْتِ قَيْسٍ بِتَطْلِيقَةٍ كَانَتْ بَقِيَتْ مِنْ طَلاَقِهَا وَأَمَرَ لَهَا الْحَارِثَ بْنَ هِشَامٍ وَعَيَّاشَ بْنَ أَبِي رَبِيعَةَ بِنَفَقَةٍ فَقَالاَ لَهَا وَاللَّهِ مَا لَكِ نَفَقَةٌ إِلاَّ أَنْ تَكُونِي حَامِلاً . فَأَتَتِ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فَذَكَرَتْ لَهُ قَوْلَهُمَا . فَقَالَ " لاَ نَفَقَةَ لَكِ " . فَاسْتَأْذَنَتْهُ فِي الاِنْتِقَالِ فَأَذِنَ لَهَا . فَقَالَتْ أَيْنَ يَا رَسُولَ اللَّهِ فَقَالَ " إِلَى ابْنِ أُمِّ مَكْتُومٍ " . وَكَانَ أَعْمَى تَضَعُ ثِيَابَهَا عِنْدَهُ وَلاَ يَرَاهَا فَلَمَّا مَضَتْ عِدَّتُهَا أَنْكَحَهَا النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم أُسَامَةَ بْنَ زَيْدٍ فَأَرْسَلَ إِلَيْهَا مَرْوَانُ قَبِيصَةَ بْنَ ذُؤَيْبٍ يَسْأَلُهَا عَنِ الْحَدِيثِ فَحَدَّثَتْهُ بِهِ فَقَالَ مَرْوَانُ لَمْ نَسْمَعْ هَذَا الْحَدِيثَ إِلاَّ مِنِ امْرَأَةٍ سَنَأْخُذُ بِالْعِصْمَةِ الَّتِي وَجَدْنَا النَّاسَ عَلَيْهَا . فَقَالَتْ فَاطِمَةُ حِينَ بَلَغَهَا قَوْلُ مَرْوَانَ فَبَيْنِي وَبَيْنَكُمُ الْقُرْآنُ قَالَ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ ( لاَ تُخْرِجُوهُنَّ مِنْ بُيُوتِهِنَّ) الآيَةَ قَالَتْ هَذَا لِمَنْ كَانَتْ لَهُ مُرَاجَعَةٌ فَأَىُّ أَمْرٍ يَحْدُثُ بَعْدَ الثَّلاَثِ فَكَيْفَ تَقُولُونَ لاَ نَفَقَةَ لَهَا إِذَا لَمْ تَكُنْ حَامِلاً فَعَلاَمَ تَحْبِسُونَهَا.

Narrator: উবাইদুল্লাহ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে উতবা ইবনে মাসউদ (রহঃ)

৩৫৭০। ইসহহাক ইবনে ইবরাহীম ও আব্দ ইবনে হুমায়দ (রাহঃ) ......... উবাইদুল্লাহ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে উতবা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত আছে যে, আবু আমর ইবনে হাফস ইবনে মুগীরা (রাযিঃ) আলী ইবনে আবু তালিব (রাযিঃ) এর সঙ্গে ইয়ামানে গমন করেন। এরপর তিনি তার স্ত্রী ফাতিমা বিনতে কায়সকে অবশিষ্ট এক তালাকের কথা বলে পাঠালেন (তালাক আগেই দিয়েছিলেন)। তিনি হারিস ইবনে হিশাম ও আবু রাবীআকে নিজের পক্ষ থেকে তার (স্ত্রীকে) খোরপোষ হিসেবে কিছু দেওয়ার জন্য নির্দেশ দিলেন। তখন তারা দু’জন তাকে (ফাতিমাকে) বললেন,আল্লাহর কসম! তোমার জন্য কোন খোরপোষ নেই। তবে তুমি গর্ভবতী হলে ভিন্ন কথা।

এরপর তিনি নবী (ﷺ) -এর কাছে এলেন এবং তাদের দু’জনের উক্তি সম্পর্কে তাকে অবহিত করলেন। তখন তিনি তাকে বললেন, তোমার জন্য কোন খোরপোষ নেই। এরপর তিনি নবী (ﷺ) এর কাছে স্বামীর ঘরে ছেড়ে অন্যত্র চলে যাওয়ার অনুমতি চাইলেন। তিনি তাকে অনুমতি দিলেন। তখন তিনি বললেন, ইয়া রাসুলাল্লাহ! আমি কোথায় যাব? তিনি বললেন, ইবনে উম্মু মাকতুমের কাছে চলে যাও। সে অন্ধ মানুষ। তুমি প্রয়োজনবোধে তার নিকট কাপড় খুলতে পারবে এবং সে তোমাকে দেখতে পাবে না। এরপর যখন তার ইদ্দত পূর্ণ হল তখন নবী (ﷺ) তাঁকে উসামা ইবনে যায়দের সঙ্গে বিয়ে দিয়ে দিলেন।

পরবর্তীকালে (উমাইয়া গভর্নর) মারওয়ান এই হাদীসের সত্যতা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করার উদ্দেশ্য কাবীসা ইবনে যুওয়াবকে তার কাছে পাঠান। তখন তিনি তার (কাবীসার) কাছে এই হাদীস বর্ণনা করেন। (এই খবর শুনে) মারওয়ান বললেন, একজন মহিলা ছাড়া অন্য কারো কাছে আমার এই হাদীস শুনিনি। আমরা (এই বিষয়ে) নির্ভরযোগ্য ও বিশুদ্ধ মত গ্রহণ করব যার উপর আমরা মুসলিম জনসাধারণকে পেয়েছি।

ফাতিমা বিনতে কায়স (রাযিঃ) এর নিকট মারওয়ানের মন্তব্য পোঁছলে তিনি বলেন, আমার ও তোমাদের মধ্য কুরআনই চূড়ান্ত মীমাংসাকারী। আল্লাহ বলেছেনঃ ″তোমরা তাদেরকে তাদের ঘর থেকে বের করে দিয়ো না।″ তিনি বলেন, এই আয়াত সে সব মহিলাদের জন্য প্রযোজ্য যাদের জন্য রাজ’আতের অধিকার আছে। তাই তিন তালাকের পর নতুন করে আর কি থাকতে পারে? এরপর তোমারা কী করে বলতে পার যে, যে মহিলা গর্ভবতী নয় তার জন্য কোন খোরপোষ নেই? তাহলে তোমরা তাকে কিসের ভিত্তিতে তোমাদের ঘরে আটক করে রাখবে?
3571

حَدَّثَنِي زُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، حَدَّثَنَا هُشَيْمٌ، أَخْبَرَنَا سَيَّارٌ، وَحُصَيْنٌ، وَمُغِيرَةُ، وَأَشْعَثُ، وَمُجَالِدٌ وَإِسْمَاعِيلُ بْنُ أَبِي خَالِدٍ وَدَاوُدُ كُلُّهُمْ عَنِ الشَّعْبِيِّ، قَالَ دَخَلْتُ عَلَى فَاطِمَةَ بِنْتِ قَيْسٍ فَسَأَلْتُهَا عَنْ قَضَاءِ، رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَلَيْهَا فَقَالَتْ طَلَّقَهَا زَوْجُهَا الْبَتَّةَ . فَقَالَتْ فَخَاصَمْتُهُ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي السُّكْنَى وَالنَّفَقَةِ - قَالَتْ - فَلَمْ يَجْعَلْ لِي سُكْنَى وَلاَ نَفَقَةً وَأَمَرَنِي أَنْ أَعْتَدَّ فِي بَيْتِ ابْنِ أُمِّ مَكْتُومٍ .

Narrator: শা‘বী (রহঃ)

৩৫৭১। যুহাইর ইবনে হারব (রাহঃ) ......... শাবী (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি তার (ফাতিমা বিনতে কায়স) কাছে গেলাম এবং তার ব্যাপারে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সিদ্ধান্ত সম্পর্কে তাকে জিজ্ঞাসা করলাম। তিনি বলেন, তার স্বামী তাকে বায়েন তালাক দিলেন। তিনি বলেন, এরপর আমি বাসস্থান ও খোরপোষের জন্য তার বিরুদ্ধে রাসুলল্লাহ (ﷺ) এর কাছে বিচার প্রার্থী হলাম। তিনি বলেন, কিন্তু আমার পক্ষে বাসস্থান ও খোরপোষের রায় দেননি। উপরন্তু তিনি আমাকে ইবনে উম্মু মাকতুমের ঘরে ইদ্দত পালনের নির্দেশ দিলেন।

3572

وَحَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ يَحْيَى، أَخْبَرَنَا هُشَيْمٌ، عَنْ حُصَيْنٍ، وَدَاوُدَ، وَمُغِيرَةَ، وَإِسْمَاعِيلَ، وَأَشْعَثَ عَنِ الشَّعْبِيِّ، أَنَّهُ قَالَ دَخَلْتُ عَلَى فَاطِمَةَ بِنْتِ قَيْسٍ . بِمِثْلِ حَدِيثِ زُهَيْرٍ عَنْ هُشَيْمٍ.

Narrator: শা‘বী (রহঃ)

৩৫৭২। ইয়াহয়া ইবনে ইয়াহয়া (রাহঃ) ......... শা’বী (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ফাতিমা বিনতে কায়স (রাযিঃ) এর কাছে গেলাম। এরপর পূর্বোক্ত হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করেন।

3573

حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ حَبِيبٍ، حَدَّثَنَا خَالِدُ بْنُ الْحَارِثِ الْهُجَيْمِيُّ، حَدَّثَنَا قُرَّةُ، حَدَّثَنَا سَيَّارٌ، أَبُو الْحَكَمِ حَدَّثَنَا الشَّعْبِيُّ، قَالَ دَخَلْنَا عَلَى فَاطِمَةَ بِنْتِ قَيْسٍ فَأَتْحَفَتْنَا بِرُطَبِ ابْنِ طَابٍ وَسَقَتْنَا سَوِيقَ سُلْتٍ فَسَأَلْتُهَا عَنِ الْمُطَلَّقَةِ، ثَلاَثًا أَيْنَ تَعْتَدُّ قَالَتْ طَلَّقَنِي بَعْلِي ثَلاَثًا فَأَذِنَ لِي النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم أَنْ أَعْتَدَّ فِي أَهْلِي .

Narrator: শা‘বী (রহঃ)

৩৫৭৩। ইয়াহয়া ইবনে হাবীব (রাহঃ) ......... শাবী (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা ফাতিমা বিনতে কায়সের কাছে গেলাম। তখন তিনি আমাদেরকে ইবনে তাবা নামক টাটকা খেজুর দ্বারা আপ্যায়িত করলেন এবং গম ও সুলত ছাতুর শরবত পান করালেন। এরপর আমি তাকে তিন তালাকপ্রাপ্তা মহিলা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম যে, সে ইদ্দত পালন করবে কোথায়? তিনি বলেন, আমার স্বামী আমাকে তিন তালাক দিয়েছিলেন। তখন নবী (ﷺ) আমাকে আমার আত্মীয় স্বজনের সঙ্গে ইদ্দত পালনের অনুমতি দিলেন।

3574

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، وَابْنُ، بَشَّارٍ قَالاَ حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ مَهْدِيٍّ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ سَلَمَةَ بْنِ كُهَيْلٍ، عَنِ الشَّعْبِيِّ، عَنْ فَاطِمَةَ بِنْتِ قَيْسٍ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فِي الْمُطَلَّقَةِ ثَلاَثًا قَالَ " لَيْسَ لَهَا سُكْنَى وَلاَ نَفَقَةٌ " .

Narrator: ফাতিমা বিনতে কায়স (রাঃ)

৩৫৭৪। মুহাম্মাদ ইবনুল মুসান্না ও ইবনে বাশশার (রাহঃ) ......... ফাতিমা বিনতে কায়স (রাযিঃ) এর সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে তিন তালাকপ্রাপ্তা মহিলা সম্পর্কে বর্ণিত। তিনি (নবী (ﷺ)) বলেন, তার জন্য বাসস্থান ও খোরপোষ কোনটাই নেই।

3575

وَحَدَّثَنِي إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ الْحَنْظَلِيُّ، أَخْبَرَنَا يَحْيَى بْنُ آدَمَ، حَدَّثَنَا عَمَّارُ بْنُ، رُزَيْقٍ عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، عَنِ الشَّعْبِيِّ، عَنْ فَاطِمَةَ بِنْتِ قَيْسٍ، قَالَتْ طَلَّقَنِي زَوْجِي ثَلاَثًا فَأَرَدْتُ النُّقْلَةَ فَأَتَيْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ " انْتَقِلِي إِلَى بَيْتِ ابْنِ عَمِّكِ عَمْرِو بْنِ أُمِّ مَكْتُومٍ فَاعْتَدِّي عِنْدَهُ " .

Narrator: ফাতিমা বিনতে কায়স (রাঃ)

৩৫৭৫। ইসহাক ইবনে ইবরাহীম হানযালী (রাহঃ) ......... ফাতিমা বিনতে কায়স (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমার স্বামী আমাকে তিন তালাক দিলেন। এতে আমি তার ঘর থেকে অন্যত্র চলে যাওয়ার ইচ্ছা করলাম। এক পর্যায়ে আমি নবী (ﷺ) এর কাছে গেলাম। তিনি বললেন, তুমি তোমার চাচাত ভাই আমর ইবনে উম্মু মাকতুমের বাড়ীতে চলে যাও এবং তাঁর ঘরেই ইদ্দত পালন করতে থাক।

3576

وَحَدَّثَنَاهُ مُحَمَّدُ بْنُ عَمْرِو بْنِ جَبَلَةَ، حَدَّثَنَا أَبُو أَحْمَدَ، حَدَّثَنَا عَمَّارُ بْنُ رُزَيْقٍ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، قَالَ كُنْتُ مَعَ الأَسْوَدِ بْنِ يَزِيدَ جَالِسًا فِي الْمَسْجِدِ الأَعْظَمِ وَمَعَنَا الشَّعْبِيُّ فَحَدَّثَ الشَّعْبِيُّ بِحَدِيثِ فَاطِمَةَ بِنْتِ قَيْسٍ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لَمْ يَجْعَلْ لَهَا سُكْنَى وَلاَ نَفَقَةً ثُمَّ أَخَذَ الأَسْوَدُ كَفًّا مِنْ حَصًى فَحَصَبَهُ بِهِ . فَقَالَ وَيْلَكَ تُحَدِّثُ بِمِثْلِ هَذَا قَالَ عُمَرُ لاَ نَتْرُكُ كِتَابَ اللَّهِ وَسُنَّةَ نَبِيِّنَا صلى الله عليه وسلم لِقَوْلِ امْرَأَةٍ لاَ نَدْرِي لَعَلَّهَا حَفِظَتْ أَوْ نَسِيَتْ لَهَا السُّكْنَى وَالنَّفَقَةُ قَالَ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ ( لاَ تُخْرِجُوهُنَّ مِنْ بُيُوتِهِنَّ وَلاَ يَخْرُجْنَ إِلاَّ أَنْ يَأْتِينَ بِفَاحِشَةٍ مُبَيِّنَةٍ) .

Narrator: আবু ইসহাক সাবিঈ (রহঃ)

৩৫৭৬। মুহাম্মাদ ইবনে আমর ইবনে জাবালা (রাহঃ) আবু আহমাদ থেকে তিনি আম্মার ইবনে রুযায়ক থেকে এবং তিনি ......... আবু ইসহাক (রাহঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেন, আমি আসওয়াদ ইবনে ইয়াযীদের সঙ্গে সেখানকার বড় মসজিদে বসা ছিলম। শা’বী ও আমাদের সঙ্গে ছিলেন। তিনি ফাতিমা বিনতে কায়স বর্ণিত হাদীস প্রসঙ্গে বলেন যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তার জন্য বাসস্থান ও খোরপোষের সিদ্ধান্ত দেননি। তখন আসওয়াদ তার হাতে এক মুঠো কংকর নিয়ে শাবীর দিকে নিক্ষেপ করলেন। এরপর বললেন, সর্বনাশ! তুমি এমন ধরনের হাদীস বর্ণনা করছ? (অথচ) উমর (রাযিঃ) বলেছেন, আমরা আল্লাহর কিতাব এবং আমাদের নবীর সুন্নত এমন একজন মহিলার উক্তির কারণে ছেড়ে দিতে পারি না। আমরা জানি না, সে স্মরণ রাখতে পেরেছে না ভুলে গেছে। আল্লাহ তাআলা বলেছেনঃ “তোমরা তাদেরকে তাদের বাসগৃহ থেকে বহিস্কার করে দিয়ো না এবং তারাও যেন ঘর থেকে বের না হয়। তবে তারা স্পষ্ট কোন অশ্লীলতায় লিপ্ত হলে ভিন্ন কথা।” (সূরা তালাকঃ ১)।

3577

وَحَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَبْدَةَ الضَّبِّيُّ، حَدَّثَنَا أَبُو دَاوُدَ، حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ مُعَاذٍ، عَنْ أَبِي، إِسْحَاقَ بِهَذَا الإِسْنَادِ نَحْوَ حَدِيثِ أَبِي أَحْمَدَ عَنْ عَمَّارِ بْنِ رُزَيْقٍ، بِقِصَّتِهِ .

Narrator: আবু ইসহাক সাবিঈ (রহঃ)

৩৫৭৭। আহমাদ ইবনে আব্দা যাব্বি (রাহঃ) ......... আবু ইসহাক (রাহঃ) থেকে উক্ত সনদে আবু আহমাদ আম্মার ইবনে রুযায়ক সূত্রে বর্ণিত হাদীসের সে ঘটনা বর্ণনা করেছেন।

3578

وَحَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ أَبِي بَكْرِ بْنِ أَبِي، الْجَهْمِ بْنِ صُخَيْرٍ الْعَدَوِيِّ قَالَ سَمِعْتُ فَاطِمَةَ بِنْتَ قَيْسٍ، تَقُولُ إِنَّ زَوْجَهَا طَلَّقَهَا ثَلاَثًا فَلَمْ يَجْعَلْ لَهَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم سُكْنَى وَلاَ نَفَقَةً قَالَتْ قَالَ لِي رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " إِذَا حَلَلْتِ فَآذِنِينِي " . فَآذَنْتُهُ فَخَطَبَهَا مُعَاوِيَةُ وَأَبُو جَهْمٍ وَأُسَامَةُ بْنُ زَيْدٍ . فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " أَمَّا مُعَاوِيَةُ فَرَجُلٌ تَرِبٌ لاَ مَالَ لَهُ وَأَمَّا أَبُو جَهْمٍ فَرَجُلٌ ضَرَّابٌ لِلنِّسَاءِ وَلَكِنْ أُسَامَةُ بْنُ زَيْدٍ " . فَقَالَتْ بِيَدِهَا هَكَذَا أُسَامَةُ أُسَامَةُ فَقَالَ لَهَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " طَاعَةُ اللَّهِ وَطَاعَةُ رَسُولِهِ خَيْرٌ لَكِ " . قَالَتْ فَتَزَوَّجْتُهُ فَاغْتَبَطْتُ .

Narrator: ফাতিমা বিনতে কায়স (রাঃ)

৩৫৭৮। আবু বকর ইবনে আবি শাঈবা (রাহঃ) ......... আবু বকর ইবনে আবু জাহম ইবনে সুখায়র আদাবী (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ফাতিমা বিনতে কায়স (রাযিঃ) কে বলতে শুনেছি যে, তার স্বামী তাকে তিন তালাক দিয়েছিলেন। এরপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তার জন্য বাসস্থান ও খোরপোষের অধিকার দেননি। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাকে বলেছেন, তোমার ইদ্দত পূর্ণ হলে তুমি আমাকে জানাবে। এরপর আমি তাঁকে ইদ্দত পূর্ণ হওয়ার কথা জানালাম। তখন মুআবিয়া (রাযিঃ),আবু জাহম (রাযিঃ) ও উসামা (রাযিঃ) তাকে বিয়ে করার প্রস্তাব পাঠান।

রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ মুআবিয়া তো একজন গরীব মানুষ, তার কাছে কোন ধন সম্পদ নাই। আবু জাহম সে তো স্ত্রীদের প্রহারকারী। তবে উসামা - তাকে স্বামী হিসেবে গ্রহণ করতে পার। তারপর তিনি হাতের ইশারায় বললেন, উসামা তো এরূপ এরূপ। এরপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করাই তোমার জন্য কল্যাণকর। তিনি বলেন, তখন আমি তাকে বিবাহ করলাম। ফলে আমি ঈর্ষার কেন্দ্রে পরিণত হলাম।
3579

وَحَدَّثَنِي إِسْحَاقُ بْنُ مَنْصُورٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ، عَنْ سُفْيَانَ، عَنْ أَبِي بَكْرِ بْنِ، أَبِي الْجَهْمِ قَالَ سَمِعْتُ فَاطِمَةَ بِنْتَ قَيْسٍ، تَقُولُ أَرْسَلَ إِلَىَّ زَوْجِي أَبُو عَمْرِو بْنُ حَفْصِ بْنِ الْمُغِيرَةِ عَيَّاشَ بْنَ أَبِي رَبِيعَةَ بِطَلاَقِي وَأَرْسَلَ مَعَهُ بِخَمْسَةِ آصُعِ تَمْرٍ وَخَمْسَةِ آصُعِ شَعِيرٍ فَقُلْتُ أَمَا لِي نَفَقَةٌ إِلاَّ هَذَا وَلاَ أَعْتَدُّ فِي مَنْزِلِكُمْ قَالَ لاَ . قَالَتْ فَشَدَدْتُ عَلَىَّ ثِيَابِي وَأَتَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ " كَمْ طَلَّقَكِ " . قُلْتُ ثَلاَثًا . قَالَ " صَدَقَ لَيْسَ لَكِ نَفَقَةٌ . اعْتَدِّي فِي بَيْتِ ابْنِ عَمِّكِ ابْنِ أُمِّ مَكْتُومٍ فَإِنَّهُ ضَرِيرُ الْبَصَرِ تُلْقِي ثَوْبَكِ عِنْدَهُ فَإِذَا انْقَضَتْ عِدَّتُكِ فَآذِنِينِي " . قَالَتْ فَخَطَبَنِي خُطَّابٌ مِنْهُمْ مُعَاوِيَةُ وَأَبُو الْجَهْمِ . فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم " إِنَّ مُعَاوِيَةَ تَرِبٌ خَفِيفُ الْحَالِ وَأَبُو الْجَهْمِ مِنْهُ شِدَّةٌ عَلَى النِّسَاءِ - أَوْ يَضْرِبُ النِّسَاءَ أَوْ نَحْوَ هَذَا - وَلَكِنْ عَلَيْكِ بِأُسَامَةَ بْنِ زَيْدٍ " .

Narrator: ফাতিমা বিনতে কায়স (রাঃ)

৩৫৭৯। ইসহাক ইবনে মনসুর আব্দুর রহমান (ইবনে মাহদী) হতে, তিনি সুফিয়ান হতে এবং আবু বকর ইবনে আবু জাহম (রাযিঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেন, আমি ফাতিমা বিনতে কায়সকে বলতে শুনেছি যে, আমার স্বামী আবু আমর হাফস ইবনে মুগীরা (রাযিঃ) আয়্যান ইবনে আবু রাবী’আকে আমার নিকটে আমাকে তালাক দেওয়ার সংবাদ দিয়ে পাঠান। তিনি তার সাথে আমার খোরপোষের জন্য পাঁচ সা’ (এক সা’ সাড়ে তিন কেজির সমান) খেজুর এবং পাঁচ সা’ যব পাঠিয়ে দেন। তখন আমি তাকে বললাম, আমার জন্য কি খোরপোষ এই পরিমাণ? আমি তোমাদের ঘরে ইদ্দত পালন করব না? তিনি (আয়্যাশ) বললেন, না। তিনি (ফাতিমা) বললেন, আমি তখন কাপড় চোপড় পরিধান করে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কাছে গেলাম।

তিনি আমাকে বললেন, সে তোমাকে কত তালাক দিয়েছে? আমি বললাম, তিন তালাক। তিনি বললেন, সে (আয়্যাশ) ঠিকই বলেছে। তোমার জন্য কোন খোরপোষ নেই। তুমি তোমার চাচাতো ভাই ইবনে উম্মু মাকতুমের ঘরে গিয়ে ইদ্দত পালন কর। সে একজন অন্ধ মানুষ। তুমি প্রয়োজনবোধে তার কাছে কাপড় চোপড় খুলে রাখতে পারবে। এরপর তোমার ইদ্দত পূর্ণ হলে তুমি আমাকে জানাবে।

তিনি (ফাতিম বিনতে কায়স (রাযিঃ) বলেন, আমার ইদ্দতকাল অতিবাহিত হলে বেশ কয়েকজন লোক আমার কাছে বিয়ের পায়গাম পাঠালেন। তার মধ্যে মুআবিয়া ও আবু জাহমও ছিলেন। তখন নবী (ﷺ) বললেনঃ মুআবিয়া তো একজন গরীব মানুষ, নগণ্য সম্পদের অধিকারী আর আবু জাহম তো নারীদের প্রতি কঠোর (অথবা বলেন) সে স্ত্রীদের পেটায় অথবা এরূপ কিছু বললেন। তবে উসামা ইবনে যায়দকেই গ্রহণ কর তোমার জন্য উচিত হবে।
3580

وَحَدَّثَنِي إِسْحَاقُ بْنُ مَنْصُورٍ، أَخْبَرَنَا أَبُو عَاصِمٍ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ الثَّوْرِيُّ، حَدَّثَنِي أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي الْجَهْمِ، قَالَ دَخَلْتُ أَنَا وَأَبُو سَلَمَةَ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ عَلَى فَاطِمَةَ بِنْتِ قَيْسٍ فَسَأَلْنَاهَا فَقَالَتْ كُنْتُ عِنْدَ أَبِي عَمْرِو بْنِ حَفْصِ بْنِ الْمُغِيرَةِ فَخَرَجَ فِي غَزْوَةِ نَجْرَانَ . وَسَاقَ الْحَدِيثَ بِنَحْوِ حَدِيثِ ابْنِ مَهْدِيٍّ وَزَادَ قَالَتْ فَتَزَوَّجْتُهُ فَشَرَّفَنِي اللَّهُ بِابْنِ زَيْدٍ وَكَرَّمَنِي اللَّهُ بِابْنِ زَيْدٍ .

Narrator: ফাতিমা বিনতে কায়স (রাঃ)

৩৫৮০। ইসহাক ইবনে মনসুর আবু আসিফ হতে, তিনি সুফিয়ান সাওরী (রাহঃ) হতে এবং তিনি আবু বকর ইবনে আবু জাহম (রাযিঃ) হতে বর্ণনা করেন যে, আমি এবং আবু সালামা ইবনে আব্দুর রহমান ফাতিমা বিনতে কায়সের কাছে গেলাম। এরপর আমরা তকে (তার তালাক সম্পর্কে) জিজ্ঞাসা করলাম। তিনি বললেন, আমি আবু আমর হাফস ইবনে মুগীরার স্ত্রী ছিলাম। তিনি নাযরানের যুদ্ধে রওয়ানা হয়ে গেলেন। এরপর আবু আসিম ইবনে মাহদী বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করেন। তবে তিনি তার বর্ণনায় এতটুকু বেশী উল্লেখ করেছেন যে, তিনি (ফাতিমা বিনতে কায়স) বলেন, আর আমি তাকে বিয়ে করলাম। এরপর আল্লাহ ইবনে যায়দের দ্বারা আমাকে সম্মানিত করলেন এবং আমাকে তার মাধ্যমে উচ্চ মর্যাদায় ভূষিত করলেন।

3581

وَحَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ مُعَاذٍ الْعَنْبَرِيُّ، حَدَّثَنَا أَبِي، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، حَدَّثَنِي أَبُو بَكْرٍ، قَالَ دَخَلْتُ أَنَا وَأَبُو سَلَمَةَ عَلَى فَاطِمَةَ بِنْتِ قَيْسٍ زَمَنَ ابْنِ الزُّبَيْرِ فَحَدَّثَتْنَا أَنَّ زَوْجَهَا طَلَّقَهَا طَلاَقًا بَاتًّا . بِنَحْوِ حَدِيثِ سُفْيَانَ .

Narrator: শু'বা ইবনুল হাজ্জাজ (রহঃ)

৩৫৮১। উবয়দুল্লাহু ইবনে মু’আয আম্বারী (রাহঃ) ......... শু’বা (রাহঃ) আবু বকর (রাহঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেন, আব্দল্লহ ইবনে যুবাইর (রাযিঃ) এর শাসনামলে আমি এবং আবু সালামা (রাযিঃ) ফাতিমা বিনতে কায়স (রাযিঃ) এর কাছে গেলাম। তখন তিনি আমাদের কাছে বর্ণনা করেন যে, তার স্বামী তাকে বায়িন তালাক দিলেন। সুফিয়ান বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ।

3582

وَحَدَّثَنِي حَسَنُ بْنُ عَلِيٍّ الْحُلْوَانِيُّ، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ آدَمَ، حَدَّثَنَا حَسَنُ بْنُ صَالِحٍ، عَنِ السُّدِّيِّ، عَنِ الْبَهِيِّ، عَنْ فَاطِمَةَ بِنْتِ قَيْسٍ، قَالَتْ طَلَّقَنِي زَوْجِي ثَلاَثًا فَلَمْ يَجْعَلْ لِي رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم سُكْنَى وَلاَ نَفَقَةً .

Narrator: ফাতিমা বিনতে কায়স (রাঃ)

৩৫৮২। হাসান ইবনে আলী হুলওয়ানি (রাহঃ) ......... ফাতিমা বিনতে কায়স (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমার স্বামী আমাকে তিন তালাক দিলেন। এরপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমার জন্য বাসস্থান এবং খোরপোষের ফয়সালা দেন নি।

3583

وَحَدَّثَنَا أَبُو كُرَيْبٍ، حَدَّثَنَا أَبُو أُسَامَةَ، عَنْ هِشَامٍ، حَدَّثَنِي أَبِي قَالَ، تَزَوَّجَ يَحْيَى بْنُ سَعِيدِ بْنِ الْعَاصِ بِنْتَ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ الْحَكَمِ فَطَلَّقَهَا فَأَخْرَجَهَا مِنْ عِنْدِهِ فَعَابَ ذَلِكَ عَلَيْهِمْ عُرْوَةُ فَقَالُوا إِنَّ فَاطِمَةَ قَدْ خَرَجَتْ . قَالَ عُرْوَةُ فَأَتَيْتُ عَائِشَةَ فَأَخْبَرْتُهَا بِذَلِكَ فَقَالَتْ مَا لِفَاطِمَةَ بِنْتِ قَيْسٍ خَيْرٌ فِي أَنْ تَذْكُرَ هَذَا الْحَدِيثَ .

Narrator: হিশাম ইবনে উরওয়া (রহঃ)

৩৫৮৩। আবু কুরায়ব (রাহঃ) ......... হিশাম (রাহঃ) থেকে তাঁর পিতার সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, ইয়াহয়া ইবনে সাঈদ ইবনুল আ’স (রাযিঃ) আব্দুর রহমান ইবনে হাকামের কন্যাকে বিয়ে করেন। এরপর তিনি তাকে তিন তালাক দেন এবং তাকে তার থেকে বের করে দেন। উরওয়া (রাহঃ) এতে তাদের ভৎর্সনা করেন। তারা বললেন, ফাতিমা বিনতে কায়স (রাযিঃ)ও তো ঘর থেকে বের হয়েছিলেন। উরওয়া বলেন, আমি আয়িশা (রাযিঃ) এর কাছে এলাম এবং তাঁর কাছে এই ঘটনা উপস্থাপন করলাম। তিনি বললেন, ফাতিমা বিনতে কায়সের জন্য কোন কল্যাণ নেই যে, সে এই হাদীস বর্ণনা করবে।

3584

وَحَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، حَدَّثَنَا حَفْصُ بْنُ غِيَاثٍ، حَدَّثَنَا هِشَامٌ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ فَاطِمَةَ، بِنْتِ قَيْسٍ قَالَتْ قُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ زَوْجِي طَلَّقَنِي ثَلاَثًا وَأَخَافُ أَنْ يُقْتَحَمَ عَلَىَّ . قَالَ فَأَمَرَهَا فَتَحَوَّلَتْ .

Narrator: ফাতিমা বিনতে কায়স (রাঃ)

৩৫৮৪। মুহাম্মাদ ইবনুল মুসান্না (রাহঃ) ......... ফাতিমা বিনতে কায়স (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি বললাম ইয়া রাসুলাল্লাহ! আমার স্বামী আমাকে তিন তালাক দিয়েছেন, আমার আশঙ্কা হয় যে, তিনি আমার উপর চড়াও হবেন। তখন তিনি তাকে অন্যত্র চলে যাওয়ার নির্দেশ দিলেন এবং তিনি চলে গেলেন।

3585

وَحَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، بْنِ الْقَاسِمِ عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَائِشَةَ، أَنَّهَا قَالَتْ مَا لِفَاطِمَةَ خَيْرٌ أَنْ تَذْكُرَ هَذَا . قَالَ تَعْنِي قَوْلَهَا لاَ سُكْنَى وَلاَ نَفَقَةَ .

Narrator: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

৩৫৮৫। মুহাম্মাদ ইবনুল মুসান্না (রাহঃ) ......... আয়িশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, ফাতিমা বিনতে কায়সের জন্য একথা বলায় কোন কল্যাণ নেই যে, তিন তালাকপ্রাপ্তা মহিলার জন্য বাসস্থান ও খোরপোষ নেই।

3586

وَحَدَّثَنِي إِسْحَاقُ بْنُ مَنْصُورٍ، أَخْبَرَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ، عَنْ سُفْيَانَ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، بْنِ الْقَاسِمِ عَنْ أَبِيهِ، قَالَ قَالَ عُرْوَةُ بْنُ الزُّبَيْرِ لِعَائِشَةَ أَلَمْ تَرَىْ إِلَى فُلاَنَةَ بِنْتِ الْحَكَمِ طَلَّقَهَا زَوْجُهَا الْبَتَّةَ فَخَرَجَتْ فَقَالَتْ بِئْسَمَا صَنَعَتْ . فَقَالَ أَلَمْ تَسْمَعِي إِلَى قَوْلِ فَاطِمَةَ فَقَالَتْ أَمَا إِنَّهُ لاَ خَيْرَ لَهَا فِي ذِكْرِ ذَلِكَ .

Narrator: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

৩৫৮৬। ইসহাক ইবনে মানসুর (রাহঃ) ......... আব্দুর রহমান ইবনে কাসিম (রাহঃ) তাঁর পিতার সূত্রে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, উরওয়া ইবনে যুবাইর আয়িশা (রাযিঃ) কে বললেন, হাকামের অমুক মেয়েটির সম্পর্কে আপনি কি অবহিত নন যে, তার স্বামী তাকে বায়িন তালাক দিয়েছেন? এরপর সে ঘর থেকে বের হয়েছে? তিনি বললেন, আপনি কি ফাতিমার উক্তি শুনেন নি? তখন তিনি বললেন, তা বর্ণনার মধ্যে তার জন্য কোন কল্যাণ নেই।

৬. বায়িন তালাকপ্রাপ্তা মহিলা এবং বিধবার জন্য ইদ্দত পালনকালে প্রয়োজনে দিনের বেলায় ঘরের বাইরে যাওয়া জায়েয

باب جَوَازِ خُرُوجِ الْمُعْتَدَّةِ الْبَائِنِ وَالْمُتَوَفَّى عَنْهَا زَوْجُهَا فِي النَّهَارِ لِحَاجَتِهَا

3587

وَحَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ حَاتِمِ بْنِ مَيْمُونٍ، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ، عَنِ ابْنِ جُرَيْجٍ، ح وَحَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ رَافِعٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، أَخْبَرَنَا ابْنُ جُرَيْجٍ، ح وَحَدَّثَنِي هَارُونُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، - وَاللَّفْظُ لَهُ - حَدَّثَنَا حَجَّاجُ بْنُ مُحَمَّدٍ، قَالَ قَالَ ابْنُ جُرَيْجٍ أَخْبَرَنِي أَبُو الزُّبَيْرِ، أَنَّهُ سَمِعَ جَابِرَ بْنَ عَبْدِ اللَّهِ، يَقُولُ طُلِّقَتْ خَالَتِي فَأَرَادَتْ أَنْ تَجُدَّ نَخْلَهَا فَزَجَرَهَا رَجُلٌ أَنْ تَخْرُجَ فَأَتَتِ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ " بَلَى فَجُدِّي نَخْلَكِ فَإِنَّكِ عَسَى أَنْ تَصَدَّقِي أَوْ تَفْعَلِي مَعْرُوفًا " .

Narrator: জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ আনসারী (রাঃ)

৩৫৮৭। সা’দ ইবনে হাতিম ইবনে মায়মুন, মুহাম্মাদ ইবনে রাফি’ ও হারুন ইবনে আব্দুল্লাহ (রাহঃ) ......... জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমার খালা তালাকপ্রাপ্তা হন। এরপর তিনি তাঁর (খেজুর বাগানের) খেজুর পাড়ার ইচ্ছা করলেন। জনৈক ব্যক্তি তাকে বাইরে যেতে বাঁধা দিলেন। তখন তিনি নবী (ﷺ) এর কাছে এলেন। নবী (ﷺ) বললেন, হ্যাঁ, তুমি তোমার বাগানের খেজুর পাড়ার জন্য বাইরে যেতে পার। কারণ সম্ভবত তা থেকে অন্যদের সাদ্‌কা করবে অথবা অন্য কোন ভাল কাজ করবে।

৭. বিধবা ও অন্যান্য তালাকপ্রাপ্তা মহিলার সন্তান প্রসবের সাথে সাথে ইদ্দতপূর্ণ হওয়া

باب انْقِضَاءِ عِدَّةِ الْمُتَوَفَّى عَنْهَا زَوْجُهَا وَغَيْرِهَا بِوَضْعِ الْحَمْلِ

3588

وَحَدَّثَنِي أَبُو الطَّاهِرِ، وَحَرْمَلَةُ بْنُ يَحْيَى، - وَتَقَارَبَا فِي اللَّفْظِ - قَالَ حَرْمَلَةُ حَدَّثَنَا وَقَالَ أَبُو الطَّاهِرِ، أَخْبَرَنَا ابْنُ وَهْبٍ، - حَدَّثَنِي يُونُسُ بْنُ يَزِيدَ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، حَدَّثَنِي عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُتْبَةَ بْنِ مَسْعُودٍ، أَنَّ أَبَاهُ، كَتَبَ إِلَى عُمَرَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الأَرْقَمِ الزُّهْرِيِّ يَأْمُرُهُ أَنْ يَدْخُلَ، عَلَى سُبَيْعَةَ بِنْتِ الْحَارِثِ الأَسْلَمِيَّةِ فَيَسْأَلَهَا عَنْ حَدِيثِهَا وَعَمَّا قَالَ لَهَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم حِينَ اسْتَفْتَتْهُ فَكَتَبَ عُمَرُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ إِلَى عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُتْبَةَ يُخْبِرُهُ أَنَّ سُبَيْعَةَ أَخْبَرَتْهُ أَنَّهَا كَانَتْ تَحْتَ سَعْدِ ابْنِ خَوْلَةَ وَهُوَ فِي بَنِي عَامِرِ بْنِ لُؤَىٍّ وَكَانَ مِمَّنْ شَهِدَ بَدْرًا فَتُوُفِّيَ عَنْهَا فِي حَجَّةِ الْوَدَاعِ وَهْىَ حَامِلٌ فَلَمْ تَنْشَبْ أَنْ وَضَعَتْ حَمْلَهَا بَعْدَ وَفَاتِهِ فَلَمَّا تَعَلَّتْ مِنْ نِفَاسِهَا تَجَمَّلَتْ لِلْخُطَّابِ فَدَخَلَ عَلَيْهَا أَبُو السَّنَابِلِ بْنُ بَعْكَكٍ - رَجُلٌ مِنْ بَنِي عَبْدِ الدَّارِ - فَقَالَ لَهَا مَا لِي أَرَاكِ مُتَجَمِّلَةً لَعَلَّكِ تَرْجِينَ النِّكَاحَ إِنَّكِ وَاللَّهِ مَا أَنْتِ بِنَاكِحٍ حَتَّى تَمُرَّ عَلَيْكِ أَرْبَعَةُ أَشْهُرٍ وَعَشْرٌ . قَالَتْ سُبَيْعَةُ فَلَمَّا قَالَ لِي ذَلِكَ جَمَعْتُ عَلَىَّ ثِيَابِي حِينَ أَمْسَيْتُ فَأَتَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَسَأَلْتُهُ عَنْ ذَلِكَ فَأَفْتَانِي بِأَنِّي قَدْ حَلَلْتُ حِينَ وَضَعْتُ حَمْلِي وَأَمَرَنِي بِالتَّزَوُّجِ إِنْ بَدَا لِي . قَالَ ابْنُ شِهَابٍ فَلاَ أَرَى بَأْسًا أَنْ تَتَزَوَّجَ حِينَ وَضَعَتْ وَإِنْ كَانَتْ فِي دَمِهَا غَيْرَ أَنْ لاَ يَقْرَبُهَا زَوْجُهَا حَتَّى تَطْهُرَ .

Narrator: উবাইদুল্লাহ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে উতবা ইবনে মাসউদ (রহঃ)

৩৫৮৮। আবু তাহির ও হারামালা ইবনে ইয়াহয়া (রাহঃ) ......... উবাইদুল্লাহ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে উতবা ইবনে মাসউদ বর্ণনা করেন যে, তার পিতা উমর ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে আরকাম যুহরীকে নির্দেশ দিয়ে লিখলেন যে, তিনি যেন সুবায়’আ বিনতে হারিস আসলামীর কাছে চলে যান। এরপর তাকে তার হাদীস সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেন। যখন তিনি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কাছে ফাতওয়া চাইছিলেন এবং তিনি তাকে যা বলেছিলেন। উমর ইবনে আব্দুল্লাহ (রাহঃ) ইবনে উতবাকে লিখে পাঠালেন যে, সুবায়’আ তাকে জানিয়েছেন- তিনি বনু আমির ইবনে লুআঈ গোত্রের সা’দ ইবনে খাওলার স্ত্রী ছিলেন। তিনি ছিলেন বদরী সাহাবী এবং বিদায় হজ্জের সময় ওফাত পান।

সে সময়ে তিনি গর্ভবতী ছিলেন। তার স্বামীর ইন্‌তিকালের অব্যবহিত পরেই তিনি সন্তান প্রসব করেন। এরপর যখন তিনি নিফাস থেকে পবিত্র হলেন, তখন বিবাহের পয়গামদাতাদের জন্য সাজসজ্জা করতে লাগলেন। তখন বনু আব্দুদ দার গোত্রের আবু সানাবিল ইবনে বা’কাক নামক জনৈক ব্যক্তি তাঁর কাছে এলেন। তখন তিনি তাঁকে বললেন, মতলব কি? আমি তোমাকে সাজসজ্জা করতে দেখতে পাচ্ছি! সম্ভবত তুমি বিবাহ প্রত্যাশী? আল্লাহর কসম! চার মাস দশদিন অতিবাহিত না হওয়া পর্যন্ত তুমি বিয়ে করতে পারবে না।

সুবায়’আ বললেন, যখন সে লোকটি আমাকে একথা বলল, তখন কাপড় চোপড় পরিধান করে সন্ধ্যাবেলা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কাছে,চলে এলাম। এরপর আমি তাঁকে সে বিষয়ে জানিয়ে দিলাম। তিনি আমাকে জানিয়ে দিলেন যে সন্তান ভূমিষ্ট হওয়ার সাথে সাথেই আমার ইদ্দত পূর্ণ হয়ে গিয়েছে। তিনি আমাকে আরও নির্দেশ দিলেন যে, আমি ইচ্ছা করলে বিবাহ বন্ধনে আব্দ্ধ হতে পারি।

ইবনে শিহাব (রাহঃ) বলেন, সন্তান ভূমিষ্ট হওয়ার পরপরই প্রমূতির জন্য বিবাহ বন্ধনে আব্দ্ধ হওয়াকে আমি দুষনীয় মনে করি না। যদিও সে তখন নিফাসের ইদ্দত পালনরত থাকে। তবে নিফাস থেকে পবিত্র হওয়ার পূর্বে স্বামী তার স্ত্রীর সাথে সহবাস করবে না।
3589

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى الْعَنَزِيُّ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَهَّابِ، قَالَ سَمِعْتُ يَحْيَى بْنَ سَعِيدٍ، أَخْبَرَنِي سُلَيْمَانُ بْنُ يَسَارٍ، أَنَّ أَبَا سَلَمَةَ بْنَ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، وَابْنَ، عَبَّاسٍ اجْتَمَعَا عِنْدَ أَبِي هُرَيْرَةَ وَهُمَا يَذْكُرَانِ الْمَرْأَةَ تُنْفَسُ بَعْدَ وَفَاةِ زَوْجِهَا بِلَيَالٍ . فَقَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ عِدَّتُهَا آخِرُ الأَجَلَيْنِ . وَقَالَ أَبُو سَلَمَةَ قَدْ حَلَّتْ . فَجَعَلاَ يَتَنَازَعَانِ ذَلِكَ قَالَ فَقَالَ أَبُو هُرَيْرَةَ أَنَا مَعَ ابْنِ أَخِي - يَعْنِي أَبَا سَلَمَةَ - فَبَعَثُوا كُرَيْبًا - مَوْلَى ابْنِ عَبَّاسٍ - إِلَى أُمِّ سَلَمَةَ يَسْأَلُهَا عَنْ ذَلِكَ فَجَاءَهُمْ فَأَخْبَرَهُمْ أَنَّ أُمَّ سَلَمَةَ قَالَتْ إِنَّ سُبَيْعَةَ الأَسْلَمِيَّةَ نُفِسَتْ بَعْدَ وَفَاةِ زَوْجِهَا بِلَيَالٍ وَإِنَّهَا ذَكَرَتْ ذَلِكَ لِرَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَأَمَرَهَا أَنْ تَتَزَوَّجَ .

Narrator: সুলাইমান ইবনে ইয়াসার (রহঃ)

৩৫৮৯। মুহাম্মাদ ইবনুল মুসান্না আনাযী (রাহঃ) ......... সুলাইমান ইবনে ইয়াসার (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, আবু সালামা ইবনে আব্দুর রহমান (রাযিঃ) ও ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) আবু হুরায়রা (রাযিঃ) এর কাছে সমবেত হলেন। তারা এমন একজন মহিলার কথা আলোচনা করছিলেন যিনি তাঁর স্বামীর ইন্‌তিকালের কয়েক দিন পরেই সন্তান প্রসব করেছেন। তখন ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) বললেন, তার ইদ্দত হবে দুটির মধ্যে দীর্ঘতরটি। আবু সালামা (রাযিঃ) বললেন,তার ইদ্দত পূর্ণ হয়ে গেছে। বিষয়টি নিয়ে তাঁরা দু’জনে বিতর্ক শুরু করে দিলেন। বর্ণনাকারী বলেন, তখন আবু হুরায়রা (রাযিঃ) বললেন, আমি আমার ভাতিজা আবু সালামার পক্ষে। এরপর তারা সবাই ইবনে আব্বাসের মুক্তদাস কুরায়বকে উম্মে সালামা (রাযিঃ) এর কাছে উক্ত বিষয়ে জিজ্ঞাসা করার জন্য পাঠালেন। সে তাদের কাছে এসে বললো যে, উম্মে সালামা (রাযিঃ) বলেছেন, সুবায়’আ আসলামিয়া তার স্বামীর ইন্‌তিকালের কয়েক রাত পরই সন্তান প্রসব করেন এবং তিনি সে বিষয়টি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট উপস্থাপন করেন। তখন তিনি তাকে বিবাহ করার অনুমতি দেন।

3590

وَحَدَّثَنَاهُ مُحَمَّدُ بْنُ رُمْحٍ، أَخْبَرَنَا اللَّيْثُ، ح وَحَدَّثَنَاهُ أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، وَعَمْرٌو، النَّاقِدُ قَالاَ حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ، كِلاَهُمَا عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ، بِهَذَا الإِسْنَادِ . غَيْرَ أَنَّقَالَ فِي حَدِيثِهِ فَأَرْسَلُوا إِلَى أُمِّ سَلَمَةَ وَلَمْ يُسَمِّ كُرَيْبًا .

Narrator: ইয়াহয়া ইবনে সাঈদ আনসারী (রহঃ)

৩৫৯০। মুহাম্মাদ ইবনে রুমহ, আবু বকর ইবনে শায়বা ও আমরুন নাকিদ (রাহঃ) ......... ইয়াহয়া ইবনে সাঈদ (রাহঃ) থেকে উক্ত সনদে অনুরূপ বর্ণনা করেন। তবে লাঈস (রাহঃ) বর্ণিত হাদীসে উল্লেখ আছে তারা সবাই উম্মে সালামার কাছে সংবাদ পাঠালেন এবং তিনি (লাঈস) কুরায়বের নাম উল্লেখ করেন নি।

৮. স্বামীর মৃত্যুকালীন ইদ্দতে বিধবা স্ত্রীর শোক পালন করা ওয়াজিব এবং অন্যান্যদের মৃত্যুতে তিন দিনের বেশী শোক পালন করা হারাম

باب وُجُوبِ الإِحْدَادِ فِي عِدَّةِ الْوَفَاةِ وَتَحْرِيمِهِ فِي غَيْرِ ذَلِكَ إِلاَّ ثَلاَثَةَ أَيَّامٍ

3591

وَحَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ يَحْيَى، قَالَ قَرَأْتُ عَلَى مَالِكٍ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي بَكْرٍ، عَنْ حُمَيْدِ بْنِ نَافِعٍ، عَنْ زَيْنَبَ بِنْتِ أَبِي سَلَمَةَ، أَنَّهَا أَخْبَرَتْهُ هَذِهِ الأَحَادِيثَ الثَّلاَثَةَ، قَالَ قَالَتْ زَيْنَبُ دَخَلْتُ عَلَى أُمِّ حَبِيبَةَ زَوْجِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم حِينَ تُوُفِّيَ أَبُوهَا أَبُو سُفْيَانَ فَدَعَتْ أُمُّ حَبِيبَةَ بِطِيبٍ فِيهِ صُفْرَةٌ خَلُوقٌ أَوْ غَيْرُهُ فَدَهَنَتْ مِنْهُ جَارِيَةً ثُمَّ مَسَّتْ بِعَارِضَيْهَا ثُمَّ قَالَتْ وَاللَّهِ مَا لِي بِالطِّيبِ مِنْ حَاجَةٍ غَيْرَ أَنِّي سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ عَلَى الْمِنْبَرِ " لاَ يَحِلُّ لاِمْرَأَةٍ تُؤْمِنُ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الآخِرِ تُحِدُّ عَلَى مَيِّتٍ فَوْقَ ثَلاَثٍ إِلاَّ عَلَى زَوْجٍ أَرْبَعَةَ أَشْهُرٍ وَعَشْرًا " . قَالَتْ زَيْنَبُ ثُمَّ دَخَلْتُ عَلَى زَيْنَبَ بِنْتِ جَحْشٍ حِينَ تُوُفِّيَ أَخُوهَا فَدَعَتْ بِطِيبٍ فَمَسَّتْ مِنْهُ ثُمَّ قَالَتْ وَاللَّهِ مَا لِي بِالطِّيبِ مِنْ حَاجَةٍ غَيْرَ أَنِّي سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ عَلَى الْمِنْبَرِ " لاَ يَحِلُّ لاِمْرَأَةٍ تُؤْمِنُ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الآخِرِ تُحِدُّ عَلَى مَيِّتٍ فَوْقَ ثَلاَثٍ إِلاَّ عَلَى زَوْجٍ أَرْبَعَةَ أَشْهُرٍ وَعَشْرًا " . قَالَتْ زَيْنَبُ سَمِعْتُ أُمِّي أُمَّ سَلَمَةَ، تَقُولُ جَاءَتِ امْرَأَةٌ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَتْ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّ ابْنَتِي تُوُفِّيَ عَنْهَا زَوْجُهَا وَقَدِ اشْتَكَتْ عَيْنُهَا أَفَنَكْحُلُهَا فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " لاَ " . مَرَّتَيْنِ أَوْ ثَلاَثًا كُلَّ ذَلِكَ يَقُولُ لاَ ثُمَّ قَالَ " إِنَّمَا هِيَ أَرْبَعَةُ أَشْهُرٍ وَعَشْرٌ وَقَدْ كَانَتْ إِحْدَاكُنَّ فِي الْجَاهِلِيَّةِ تَرْمِي بِالْبَعَرَةِ عَلَى رَأْسِ الْحَوْلِ " . قَالَ حُمَيْدٌ قُلْتُ لِزَيْنَبَ وَمَا تَرْمِي بِالْبَعَرَةِ عَلَى رَأْسِ الْحَوْلِ فَقَالَتْ زَيْنَبُ كَانَتِ الْمَرْأَةُ إِذَا تُوُفِّيَ عَنْهَا زَوْجُهَا دَخَلَتْ حِفْشًا وَلَبِسَتْ شَرَّ ثِيَابِهَا وَلَمْ تَمَسَّ طِيبًا وَلاَ شَيْئًا حَتَّى تَمُرَّ بِهَا سَنَةٌ ثُمَّ تُؤْتَى بِدَابَّةٍ حِمَارٍ أَوْ شَاةٍ أَوْ طَيْرٍ فَتَفْتَضُّ بِهِ فَقَلَّمَا تَفْتَضُّ بِشَىْءٍ إِلاَّ مَاتَ ثُمَّ تَخْرُجُ فَتُعْطَى بَعَرَةً فَتَرْمِي بِهَا ثُمَّ تُرَاجِعُ بَعْدُ مَا شَاءَتْ مِنْ طِيبٍ أَوْ غَيْرِهِ .

Narrator: হুমাইদ ইবনে নাফি (রহঃ)

৩৫৯১। ইয়াহয়া ইবনে ইয়াহয়া (রাহঃ) ......... হুমায়দ ইবনে নাফি (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, যায়নাব বিনতে আবু সালামা (রাযিঃ) তাকে এই তিনটি হাদীস বর্ণনা করেছেন। তিনি (হুমায়দ ইবনে নাফি) বলেন,

১. যায়নাব (রাযিঃ) বলেছেন, যখন নবী (ﷺ) এর সহধর্মিনী উম্মে হাবীবা (রাযিঃ) এর পিতা আবু সুফিয়ান ইন্‌তিকাল করেন তখন আমি তাঁর কাছে গেলাম। আমি দেখতে পেলাম যে, উম্মে হাবীবা (রাযিঃ) হলদে বর্ণের মিশ্রিত সুগন্ধি আনালেন অথবা অন্য কোন প্রসাধনী চেয়ে পাঠালেন। এরপর তা থেকে একটি বালিকাকে নিজ হাতে লাগিয়ে দিলেন। এরপর তিনি তার দুই কপালে হাত মুছে নিলেন। এরপর তিনি বললেন, আল্লাহর কসম! আমার সুগন্ধি ব্যবহারের কোন প্রয়োজন ছিলনা। তবে আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে মিম্বরে দাঁড়িয়ে বলতে শুনেছি যে, যে মহিলা আল্লাহ ও পরকালে ঈমান রাখে, সে মহিলার জন্য তার কোন আত্মীয়ের মৃত্যুতে তিন দিনের বেশী শোক পালন করা হালাল নয়। তবে বিধবা স্ত্রী তার স্বামীর মৃত্যুতে চার মাস দশদিন শোক পালন করবে।

২. যায়নাব (রাযিঃ) বলেন, এরপর আমি (নবী (ﷺ) এর সহধর্মিণী) যায়নাব বিনতে জাহাশ (রাযিঃ) এর কাছে গেলাম। সে সময় তার ভাই ইন্‌তিকাল করেছিলেন। আমি দেখলাম, তিনিও সুগন্ধি চেয়ে পাঠালেন এবং তার থেকে স্পর্শ করলেন। এরপর বললেন, আল্লাহর কসম! আমার সুগন্ধি ব্যবহারের কোন প্রয়োজন ছিল না তবে আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে মিম্বরে দাঁড়িয়ে বলতে শুনেছি যে, যে মহিলা আল্লাহ ও আখিরাতে ঈমান রাখে তার জন্য মৃত ব্যক্তির জন্য তিনদিনের অধিক শোক পালন করা হালাল নয়। তবে স্বামীর মৃত্যুতে চার মাস দশদিন শোক পালন করবে।

৩. এরপর যায়নাব (রাযিঃ) বলেন, আমি আমার মা উম্মে সালামা (রাযিঃ) কে বলতে শুনেছি যে, একবার এক মহিলা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কাছে এসে বলল, ইয়া রাসুলাল্লাহ! আমার কন্যাকে রেখে তার স্বামী ইন্‌তিকাল করেছেন। তার (শোক পালন করতে গিয়ে) চোখে অসুখ হয়েছে। এ অবস্থায় আমরা কি তার চোখে সুরমা ব্যবহার করতে পারি? তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ না। এরপর সে দুই কি তিনবার জিজ্ঞাসা করল। প্রতিবারই তিনি বললেন, না। এরপর তিনি বললেন, তার ইদ্দত তো চার মাস দশদিন। অথচ জাহিলী যুগে তোমাদের একজন মহিলা বছরান্তে উটের বিষ্ঠা নিক্ষেপ করত।

হুমায়দ বলেন, আমি যায়নাবকে বললাম, এ বছরান্তে উটের বিষ্ঠা নিক্ষেপ করার তাৎপর্য কি? যায়নাব (রাযিঃ) বললেন, সেকালে কোন স্বামী ইন্‌তিকাল করলে তাকে একটি সংকীর্ণ কক্ষে (কুঠূরিতে) প্রবেশ করতে হত। ছিড়ে-ফাড়া কাপড় চোপড় পরিধান করতে হত। সে কোন প্রসাধনী দ্রব্য স্পর্শ করতে পারত না কিংবা অন্য কোন সুগন্ধি ইত্যাদি ব্যবহার করত না। এমনিভাবে একটি বছর কেটে যেত। এরপর তার সামনে আনা হত গাধা বকরী কিংবা পাখি জাতীয় কোন প্রাণী এবং সে ঐ প্রাণীকে স্পর্শ করে ইদ্দত পূর্ণ করত। সে যে প্রাণীকে স্পর্শ করত তা খুব কমই বাঁচত। এরপর সে ঐ সংকীর্ণ থেকে বের হয়ে আসত। তখন তার হাতে উটের বিষ্ঠা দেওয়া হত এবং সে তা মারত। এরপর সে তার পছন্দসই প্রসাধনী সুগন্ধি ইত্যাদি ব্যবহারের প্রতি মনযোগী হত।
3592
وَحَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ حُمَيْدِ بْنِ نَافِعٍ، قَالَ سَمِعْتُ زَيْنَبَ بِنْتَ أُمِّ سَلَمَةَ، قَالَتْ تُوُفِّيَ حَمِيمٌ لأُمِّ حَبِيبَةَ فَدَعَتْ بِصُفْرَةٍ فَمَسَحَتْهُ بِذِرَاعَيْهَا وَقَالَتْ إِنَّمَا أَصْنَعُ هَذَا لأَنِّي سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " لاَ يَحِلُّ لاِمْرَأَةٍ تُؤْمِنُ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الآخِرِ أَنْ تُحِدَّ فَوْقَ ثَلاَثٍ إِلاَّ عَلَى زَوْجٍ أَرْبَعَةَ أَشْهُرٍ وَعَشْرًا " .
وَحَدَّثَتْهُ زَيْنَبُ، عَنْ أُمِّهَا، وَعَنْ زَيْنَبَ، زَوْجِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَوْ عَنِ امْرَأَةٍ مِنْ بَعْضِ أَزْوَاجِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم ‏.‏

Narrator: হুমাইদ ইবনে নাফি (রহঃ)

৩৫৯২। মুহাম্মাদ ইবনুল মুসান্না মুহাম্মাদ ইবনে জা’ফর থেকে ......... হুমায়দ ইবনে নাফি (রাহঃ) থেকে বণিত। তিনি বলেন, আমি যায়নাব বিনতে উম্মে সালামাকে বলতে শুনেছি যে, উম্মে হাবীবা (রাযিঃ) এর একজন নিকট আত্মীয় ইন্‌তিকাল করেন। এপর তিনি হলুদ বর্ণের সুগন্ধি চেয়ে পাঠান এবং তার তার দুই বাহুতে মেখে নিলেন। এরপর বললেন, আমি তা এ জন্য করলাম যে, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে বলতে শুনেছি, যে মহিলা আল্লাহ ও আখিরাতের প্রতি ঈমান রাখে তার পক্ষে কারো মৃত্যুতে তিন দিনের বেশী শোক পালন করা হালাল নয়। তবে স্বামীর মৃত্যুতে চারমাস দশদিন শোক পালন করবে। আর যায়নাব (রাযিঃ) এই হাদীসখানা তার মা [উম্মে সালামা (রাযিঃ)] এবং নবী (ﷺ) -এর সহধর্মিনী যায়নাব (রাযিঃ) থেকে বর্ণনা করেছেন।

3593

وَحَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ حُمَيْدِ بْنِ نَافِعٍ، قَالَ سَمِعْتُ زَيْنَبَ بِنْتَ أُمِّ سَلَمَةَ، تُحَدِّثُ عَنْ أُمِّهَا، أَنَّ امْرَأَةً، تُوُفِّيَ زَوْجُهَا فَخَافُوا عَلَى عَيْنِهَا فَأَتَوُا النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فَاسْتَأْذَنُوهُ فِي الْكُحْلِ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " قَدْ كَانَتْ إِحْدَاكُنَّ تَكُونُ فِي شَرِّ بَيْتِهَا فِي أَحْلاَسِهَا - أَوْ فِي شَرِّ أَحْلاَسِهَا فِي بَيْتِهَا - حَوْلاً فَإِذَا مَرَّ كَلْبٌ رَمَتْ بِبَعَرَةٍ فَخَرَجَتْ أَفَلاَ أَرْبَعَةَ أَشْهُرٍ وَعَشْرًا " .

Narrator: হুমাইদ ইবনে নাফি (রহঃ)

৩৫৯৩। মুহাম্মাদ ইবনুল মুসান্না (রাহঃ) ......... হুমায়দ ইবনে নাফি (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি যায়নাব বিনতে উম্মে সালামাকে তার মায়ের সূত্রে বলতে শুনেছি যে, এক মহিলার স্বামী মারা গেল। লোকেরা তার চোখের ব্যাপারে আশঙ্কাবোধ করল। তখন তারা নবী (ﷺ) এর কাছে এলেন। তারা তাঁর কাছে মহিলার চোখে সুরমা ব্যবহারের অনুমতি চাইল। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ জাহিলী যুগে স্বামীর মৃত্যুতে তোমাদের কেউ কেউ সাদা-মাটা কাপড় চোপড় কিংবা ছিড়ে-ফাড়া বস্ত্র পরিধান করে একটি সংকীর্ণ কক্ষে পূরো এক বছর (ইদ্দত পালনের জন্য) অতিবাহিত করত। এরপর কোন কুকুর তার নিকট দিয়ে অতিক্রম করলে সে উটের বিষ্ঠা নিক্ষেপ করত, তারপর সেখান থেকে বের হত। এখন চার মাস দশদিনও প্রতীক্ষা করতে পারবে না?

3594

وَحَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ مُعَاذٍ، حَدَّثَنَا أَبِي، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ حُمَيْدِ بْنِ نَافِعٍ، بِالْحَدِيثَيْنِ جَمِيعًا حَدِيثِ أُمِّ سَلَمَةَ فِي الْكُحْلِ وَحَدِيثِ أُمِّ سَلَمَةَ وَأُخْرَى مِنْ أَزْوَاجِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم غَيْرَ أَنَّهُ لَمْ تُسَمِّهَا زَيْنَبُ نَحْوَ حَدِيثِ مُحَمَّدِ بْنِ جَعْفَرٍ .

Narrator: হুমাইদ ইবনে নাফি (রহঃ)

৩৫৯৪। উবাইদুল্লাহ ইবনে মু’আয নিজ পিতা থেকে ......... হুমায়দ ইবনে নাফি (রাহঃ) থেকে উভয় হাদীস বর্ণিত। তিনি চোখে সুরমা ব্যবহার সংক্রান্ত উম্মে সালামা (রাযিঃ) বর্ণিত হাদীস এবং নবী (ﷺ) এর সহধর্মিনীগণের মধ্যে থেকে কোন একজনের বর্ণিত হাদীস উল্লেখ করেছেন। তবে তিনি তার বর্ণনায় “মুহাম্মাদ ইবনে জা’ফারের বর্ণনার তার নাম ″যায়নাব″ বলে উল্লেখ করেননি।

3595

وَحَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، وَعَمْرٌو النَّاقِدُ، قَالاَ حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ، أَخْبَرَنَا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ، عَنْ حُمَيْدِ بْنِ نَافِعٍ، أَنَّهُ سَمِعَ زَيْنَبَ بِنْتَ أَبِي سَلَمَةَ، تُحَدِّثُ عَنْ أُمِّ سَلَمَةَ، وَأُمِّ حَبِيبَةَ تَذْكُرَانِ أَنَّ امْرَأَةً أَتَتْ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَذَكَرَتْ لَهُ أَنَّ بِنْتًا لَهَا تُوُفِّيَ عَنْهَا زَوْجُهَا فَاشْتَكَتْ عَيْنُهَا فَهْىَ تُرِيدُ أَنْ تَكْحُلَهَا فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " قَدْ كَانَتْ إِحْدَاكُنَّ تَرْمِي بِالْبَعَرَةِ عِنْدَ رَأْسِ الْحَوْلِ وَإِنَّمَا هِيَ أَرْبَعَةُ أَشْهُرٍ وَعَشْرٌ " .

Narrator: হুমাইদ ইবনে নাফি (রহঃ)

৩৫৯৫। আবু বকর ইবনে শায়বা ও আমরুন নাকিদ (রাহঃ) ......... হুমায়দ ইবনে নাফি (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি যায়নাব বিনতে আবু সালামাকে উম্মে সালামা ও উম্মে হাবীবা (রাযিঃ) থেকে হাদীস বর্ণনা শুনেছেন। তারা উল্লেখ করেন যে, জনৈকা মহিলা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কাছে এলেন। তিনি তার (রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর) কাছে উত্থাপন করলেন যে, আমরা মেয়ের স্বামী মারা গিয়েছে। (তার শোক পালন করতে গিয়ে) তার চোখে অসুখ হয়েছে। সে এখন তার চোখে সুরমা ব্যবহার করতে চায়। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ (জহিলী যুগে স্বামীর মৃত্যুতে) তোমাদের কেউ এক বছরের মাথায় উটের বিষ্টা নিক্ষেপ করত। আর এখন তো মাত্র চার মাস দশ দিন।

3596

وَحَدَّثَنَا عَمْرٌو النَّاقِدُ، وَابْنُ أَبِي عُمَرَ، - وَاللَّفْظُ لِعَمْرٍو - حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ، عَنْ أَيُّوبَ بْنِ مُوسَى، عَنْ حُمَيْدِ بْنِ نَافِعٍ، عَنْ زَيْنَبَ بِنْتِ أَبِي سَلَمَةَ، قَالَتْ لَمَّا أَتَى أُمَّ حَبِيبَةَ نَعِيُّ أَبِي سُفْيَانَ دَعَتْ فِي الْيَوْمِ الثَّالِثِ بِصُفْرَةٍ فَمَسَحَتْ بِهِ ذِرَاعَيْهَا وَعَارِضَيْهَا وَقَالَتْ كُنْتُ عَنْ هَذَا غَنِيَّةً سَمِعْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " لاَ يَحِلُّ لاِمْرَأَةٍ تُؤْمِنُ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الآخِرِ أَنْ تُحِدَّ فَوْقَ ثَلاَثٍ إِلاَّ عَلَى زَوْجٍ فَإِنَّهَا تُحِدُّ عَلَيْهِ أَرْبَعَةَ أَشْهُرٍ وَعَشْرًا ".

Narrator: যায়নাব বিনতে আবু সালামা (রাঃ)

৩৫৯৬। আমরুন নাকিদ ও ইবনে আবু উমর (রাহঃ) ......... যায়নাব বিনতে আবু সালামা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন নবী (ﷺ) এর সহধর্মিনী হাবীবা (রাযিঃ) এর কাছে তার পিতা আবু সুফিয়ানের ইন্‌তিকালের খবর পৌঁছল। তৃতীয় দিনে তিনি হলুদ বর্ণের সুগদ্ধি চেয়ে পাঠালেন এবং তার দুই হাত গায়ে ভাল করে তা মেখে নিলেন। আর বললেন, আমার এর কোন প্রয়োজন ছিল না। তবে আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে বলতে শুনেছি যে, যে মহিলা আল্লাহ ও আখিরাতে বিশ্বাস রাখে তার পক্ষে কারো মৃত্যুতে তিন দিনের বেশী শোক পালন করা হালাল নয়। তবে স্বামীর মৃত্যুর ব্যাপারটি স্বতন্ত্র। কেননা সে তার স্বামীর মৃত্যুতে চার মাস দশ দিন শোক পালন করবে।

3597

وَحَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ يَحْيَى، وَقُتَيْبَةُ، وَابْنُ، رُمْحٍ عَنِ اللَّيْثِ بْنِ سَعْدٍ، عَنْ نَافِعٍ، أَنَّ صَفِيَّةَ، بِنْتَ أَبِي عُبَيْدٍ حَدَّثَتْهُ عَنْ حَفْصَةَ، أَوْ عَنْ عَائِشَةَ، أَوْ عَنْ كِلْتَيْهِمَا، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " لاَ يَحِلُّ لاِمْرَأَةٍ تُؤْمِنُ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الآخِرِ - أَوْ تُؤْمِنُ بِاللَّهِ وَرَسُولِهِ - أَنْ تُحِدَّ عَلَى مَيِّتٍ فَوْقَ ثَلاَثَةِ أَيَّامٍ إِلاَّ عَلَى زَوْجِهَا " .

Narrator: উম্মুল মু'মিনীন হাফসা (রাঃ)

৩৫৯৭। ইয়াহয়া ইবনে ইয়াহয়া, কুতায়বা ও ইবনে রুমহ (রাহঃ) লাঈস ইবনে সা’দ থেকে ......... হাফসা (রাযিঃ) কিংবা আয়িশা (রাযিঃ) থেকে পৃখকভাবে অথবা তাদের দু’জন থেকে যৌথভাবে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, যে মহিলা আল্লাহ ও শেষবিচার দিবসের প্রতি ঈমান রাখে কিংবা যে মহিলা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের প্রতি ঈমান রাখে তার পক্ষে কোন মৃতের জন্য তিন দিনের অধিক শোক পালন করা হালাল নয়। তরে তার স্বামীর বিষয়টা স্বতন্ত্র।

3598

وَحَدَّثَنَاهُ شَيْبَانُ بْنُ فَرُّوخَ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ، - يَعْنِي ابْنَ مُسْلِمٍ - حَدَّثَنَا عَبْدُ، اللَّهِ بْنُ دِينَارٍ عَنْ نَافِعٍ، بِإِسْنَادِ حَدِيثِ اللَّيْثِ . مِثْلَ رِوَايَتِهِ .

Narrator: আব্দুল্লাহ ইবনে দীনার (রহঃ)

৩৫৯৮। শায়বান ইবনে ফাররুখ (রাহঃ) ......... আব্দুল্লাহ ইবনে দীনার (রাহঃ) নাফি’ (রাহঃ) থেকে লাঈস বর্ণিত হাদীসে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।

3599

وَحَدَّثَنَاهُ أَبُو غَسَّانَ الْمِسْمَعِيُّ، وَمُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، قَالاَ حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَهَّابِ، قَالَ سَمِعْتُ يَحْيَى بْنَ سَعِيدٍ، يَقُولُ سَمِعْتُ نَافِعًا، يُحَدِّثُ عَنْ صَفِيَّةَ بِنْتِ أَبِي عُبَيْدٍ، أَنَّهَا سَمِعَتْ حَفْصَةَ بِنْتَ عُمَرَ، زَوْجَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم تُحَدِّثُ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم بِمِثْلِ حَدِيثِ اللَّيْثِ وَابْنِ دِينَارٍ وَزَادَ " فَإِنَّهَا تُحِدُّ عَلَيْهِ أَرْبَعَةَ أَشْهُرٍ وَعَشْرًا " .

Narrator: সাফিয়্যা বিনতে আবু উবায়দ (রহঃ)

৩৫৯৯। আবু গাসসান মিসমায়ী ও মুহাম্মাদ ইবনে মুসান্না (রাহঃ) ......... সাফিয়্যা বিনতে আবু উবাইদ (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি নবী (ﷺ) এর সহধর্মিনী উমরের কন্যা হাফসা (রাযিঃ) নবী (ﷺ) থেকে বর্ণনা করেন। রাবী কর্তৃক বর্ণিত এ বর্ণনাটি লাঈস ও ইবনে দীনার বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ। তবে তার বর্ণনায় এতটুকু বেশী উল্লেখ আছে “কারণ সে তার (স্বামীর) জন্য চার মাস দশ দিন শোক পালন করবে।”

3600

وَحَدَّثَنَا أَبُو الرَّبِيعِ، حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، عَنْ أَيُّوبَ، ح وَحَدَّثَنَا ابْنُ نُمَيْرٍ، حَدَّثَنَا أَبِي، حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ، جَمِيعًا عَنْ نَافِعٍ، عَنْ صَفِيَّةَ بِنْتِ أَبِي عُبَيْدٍ، عَنْ بَعْضِ، أَزْوَاجِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم بِمَعْنَى حَدِيثِهِمْ .

Narrator: সাফিয়্যা বিনতে আবু উবায়দ (রহঃ)

৩৬০০। আবুর রাবী (রাহঃ) ......... সাফিয়্যা বিনতে আবু উবাইদ (রাহঃ) নবী (ﷺ) এর জনৈক সহধর্মিনী সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে বর্ণিত। তাদের বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ।

3601

وَحَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ يَحْيَى، وَأَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ وَعَمْرٌو النَّاقِدُ وَزُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ - وَاللَّفْظُ لِيَحْيَى - قَالَ يَحْيَى أَخْبَرَنَا وَقَالَ الآخَرُونَ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ عُرْوَةَ، عَنْ عَائِشَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " لاَ يَحِلُّ لاِمْرَأَةٍ تُؤْمِنُ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الآخِرِ أَنْ تُحِدَّ عَلَى مَيِّتٍ فَوْقَ ثَلاَثٍ إِلاَّ عَلَى زَوْجِهَا " .

Narrator: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

৩৬০১। ইয়াহয়া ইবনে ইয়াহয়া, আবু বকর ইবনে আবি শাঈবা, আমরুন নাকিদ ও যুহাইর ইবনে হারব (রাহঃ) ......... আয়িশা (রাযিঃ) এর সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেছেন, যে মহিলা আল্লাহ ও শেষ বিচার দিবসের প্রতি ঈমান রাখে সে যেন তার কোন মৃতের জন্য তিন দিনের অধিক শোক পালন না করে। তবে তার স্বামীর বিষয়টা স্বতন্ত্র।

3602

وَحَدَّثَنَا حَسَنُ بْنُ الرَّبِيعِ، حَدَّثَنَا ابْنُ إِدْرِيسَ، عَنْ هِشَامٍ، عَنْ حَفْصَةَ، عَنْ أُمِّ عَطِيَّةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " لاَ تُحِدُّ امْرَأَةٌ عَلَى مَيِّتٍ فَوْقَ ثَلاَثٍ إِلاَّ عَلَى زَوْجٍ أَرْبَعَةَ أَشْهُرٍ وَعَشْرًا وَلاَ تَلْبَسُ ثَوْبًا مَصْبُوغًا إِلاَّ ثَوْبَ عَصْبٍ وَلاَ تَكْتَحِلُ وَلاَ تَمَسُّ طِيبًا إِلاَّ إِذَا طَهُرَتْ نُبْذَةً مِنْ قُسْطٍ أَوْ أَظْفَارٍ " .

Narrator: উম্মে আতিয়্যা (রাঃ)

৩৬০২। হাসান ইবনে রাবী (রাহঃ) ......... উম্মু আতিয়্যা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ কোন মহিলা তার কোন মৃতের জন্য তিন দিনের বেশী শোক পালন করবে না। তবে তার স্বামীর মৃত্যুতে চার মাস দশ দিন পর্যন্ত শোক পালন করবে। এই সময় সীমায় (ইদ্দতের মেয়াদকালে) সে রংীন কাপড় চোপড় পরিধান করবে না। তবে কালো রংে রঞ্জিত চাদর পরিধান করতে পারবে। সে চোখে সুরমা লাগাবে না এবং কোন সুগন্ধি ব্যবহার করবে না এবং সে হায়য থেকে পবিত্র হলে (পবিত্রতার নিদর্শন স্বরূপ) কুসত ও আযফার নামক সুগন্ধি ব্যবহার করতে পারবে।

3603

وَحَدَّثَنَاهُ أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ نُمَيْرٍ، ح وَحَدَّثَنَا عَمْرٌو النَّاقِدُ، حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ، كِلاَهُمَا عَنْ هِشَامٍ، بِهَذَا الإِسْنَادِ وَقَالاَ " عِنْدَ أَدْنَى طُهْرِهَا نُبْذَةً مِنْ قُسْطٍ وَأَظْفَارٍ " .

Narrator: হিশাম ইবনে উরওয়া (রহঃ)

৩৬০৩। আবু বকর ইবনে আবি শাঈবা (রাহঃ) ......... এ সনদে হিশাম (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। আমরুন নাকিদ ও ইয়াযীদ ইবনে হারুন (রাহঃ) বলেন, সে তার হায়য থেকে পবিত্র হওয়ার পর কুসত ও আযফার নামক সুগন্ধি ব্যবহার করতে পারবে।

3604

وَحَدَّثَنِي أَبُو الرَّبِيعِ الزَّهْرَانِيُّ، حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، حَدَّثَنَا أَيُّوبُ، عَنْ حَفْصَةَ، عَنْ أُمِّ عَطِيَّةَ، قَالَتْ كُنَّا نُنْهَى أَنْ نُحِدَّ عَلَى مَيِّتٍ فَوْقَ ثَلاَثٍ إِلاَّ عَلَى زَوْجٍ أَرْبَعَةَ أَشْهُرٍ وَعَشْرًا وَلاَ نَكْتَحِلُ وَلاَ نَتَطَيَّبُ وَلاَ نَلْبَسُ ثَوْبًا مَصْبُوغًا وَقَدْ رُخِّصَ لِلْمَرْأَةِ فِي طُهْرِهَا إِذَا اغْتَسَلَتْ إِحْدَانَا مِنْ مَحِيضِهَا فِي نُبْذَةٍ مِنْ قُسْطٍ وَأَظْفَارٍ .

Narrator: উম্মে আতিয়্যা (রাঃ)

৩৬০৪। আবুর রাবী যাহরানী (রাহঃ) ......... উম্মু আতিয়্যা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমাদিগকে কোন মৃতের জন্য তিন দিনের বেশী শোক পালন করতে নিষেধ করা হয়েছে। তরে স্বামীর মৃত্যুতে চার মাস দশ দিন পর্যন্ত শোক পালনের বিষয়টা ব্যতিক্রম। আমরা চোখে (ইদ্দতকালীন সময়ে) সুরমা লাগাতাম না, কোন প্রকার সুগন্ধি দ্রব্য ব্যবহার করতাম না এবং রংীন কাপড়-চোপড় পরতাম না। তবে আমাদের মধ্য থেকে কোন মহিলা যখন হায়য থেকে পবিত্র হয়ে গোসল করত তখন দুর্গন্ধ দূর করার জন্য তাকে কুসত ও আযফার নামক সুগন্ধি ব্যবহার করার অনুমতি দেওয়া হত।