كتاب الذكر والدعاء والتوبة والاستغفار

৫১- যিকর, দুআ, তাওবা ও ইসতিগফারের অধ্যায়

Chapter 51 · 206 hadith

১. আল্লাহ তাআলার যিক্‌রের প্রতি অনুপ্রেরণা প্রদান

باب الْحَثِّ عَلَى ذِكْرِ اللَّهِ تَعَالَى

6561

حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، وَزُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، - وَاللَّفْظُ لِقُتَيْبَةَ - قَالاَ حَدَّثَنَا جَرِيرٌ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " يَقُولُ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ أَنَا عِنْدَ ظَنِّ عَبْدِي بِي وَأَنَا مَعَهُ حِينَ يَذْكُرُنِي إِنْ ذَكَرَنِي فِي نَفْسِهِ ذَكَرْتُهُ فِي نَفْسِي وَإِنْ ذَكَرَنِي فِي مَلإٍ ذَكَرْتُهُ فِي مَلإٍ هُمْ خَيْرٌ مِنْهُمْ وَإِنْ تَقَرَّبَ مِنِّي شِبْرًا تَقَرَّبْتُ إِلَيْهِ ذِرَاعًا وَإِنْ تَقَرَّبَ إِلَىَّ ذِرَاعًا تَقَرَّبْتُ مِنْهُ بَاعًا وَإِنْ أَتَانِي يَمْشِي أَتَيْتُهُ هَرْوَلَةً " .

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৬৫৬১। কুতায়বা ইবনে সাঈদ ও যুহাইর ইবনে হারব (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ আল্লাহ তাআলা বলেন, আমি আমার বান্দার কাছে তার ধারণা অনুযায়ী। যখন সে আমার যিক্‌র করে তখন আমি তার সঙ্গে থাকি। বান্দা আমাকে একাকী (তার মনে মনে) স্মরণ করলে আমিও তাকে একাকী স্মরণ করি। আর যদি সে কোন মজলিসে আমার যিক্‌র (স্মরণ) করে তাহলে আমি তাকে তাদের চাইতে উত্তম মজলিসে স্মরণ করি। যদি সে আমার দিকে এক বিঘত এগিয়ে আসে তাহলে আমি তার দিকে এক হাত নিকটবর্তী (অগ্রসর) হই। যদি সে আমার দিকে হেঁটে আসে আমি তার দিকে অতি দ্রুত আসি।

6562

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، وَأَبُو كُرَيْبٍ قَالاَ حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ، عَنِ الأَعْمَشِ، بِهَذَا الإِسْنَادِ وَلَمْ يَذْكُرْ " وَإِنْ تَقَرَّبَ إِلَىَّ ذِرَاعًا تَقَرَّبْتُ مِنْهُ بَاعًا " .

Narrator: সুলাইমান আ‘মাশ (রহঃ)

৬৫৬২। আবু বকর ইবনে আবি শাঈবা ও আবু কুরায়ব (রাহঃ) ......... আ’মাশ (রাহঃ) থেকে এই সনদে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। তবে ″যদি সে আমর দিকে এক হাত নিকটবর্তী হয় তাহলে আমি তার দিকে এক ’বাগ’ নিকটবর্তী হই ...″ কথাটি উল্লেখ করেননি।

6563

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ رَافِعٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، حَدَّثَنَا مَعْمَرٌ، عَنْ هَمَّامِ بْنِ مُنَبِّهٍ، قَالَ هَذَا مَا حَدَّثَنَا أَبُو هُرَيْرَةَ، عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَذَكَرَ أَحَادِيثَ مِنْهَا وَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " إِنَّ اللَّهَ قَالَ إِذَا تَلَقَّانِي عَبْدِي بِشِبْرٍ تَلَقَّيْتُهُ بِذِرَاعٍ وَإِذَا تَلَقَّانِي بِذِرَاعٍ تَلَقَّيْتُهُ بِبَاعٍ وَإِذَا تَلَقَّانِي بِبَاعٍ أَتَيْتُهُ بِأَسْرَعَ " .

Narrator: হাম্মাম ইবনে মুনাব্বিহ (রহঃ)

৬৫৬৩। মুহাম্মাদ ইবনে রাফি (রাহঃ) ......... হাম্মাম ইবনে মুনাব্বিহ (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, এইগুলি আমাদের কাছে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) থেকে আবু হুরায়রা (রাযিঃ) এর বর্ণিত হাদীস। এরপর তিনি কতিপয় হাদীস উল্লেখ করেন। এর মধ্যে রয়েছে যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ আল্লাহ তাআলা বলেন, যখন কোন বান্দা আমার দিকে এক বিঘত অগ্রসর হয় তখন আমি তার পানে এক হাত এগিয়ে আসি। আর যখন সে একহাত আগায় তখন আমি এক ’বাগ’ আগাই। যখন সে এক ’বাগ’ এগিয়ে আসে তখন আমি তার দিকে অতি দ্রুত আসি।

6564

حَدَّثَنَا أُمَيَّةُ بْنُ بِسْطَامَ الْعَيْشِيُّ، حَدَّثَنَا يَزِيدُ، - يَعْنِي ابْنَ زُرَيْعٍ - حَدَّثَنَا رَوْحُ، بْنُ الْقَاسِمِ عَنِ الْعَلاَءِ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَسِيرُ فِي طَرِيقِ مَكَّةَ فَمَرَّ عَلَى جَبَلٍ يُقَالُ لَهُ جُمْدَانُ فَقَالَ " سِيرُوا هَذَا جُمْدَانُ سَبَقَ الْمُفَرِّدُونَ " . قَالُوا وَمَا الْمُفَرِّدُونَ يَا رَسُولَ اللَّهِ قَالَ " الذَّاكِرُونَ اللَّهَ كَثِيرًا وَالذَّاكِرَاتُ " .

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৬৫৬৪। উমাইয়া ইবনে বিসতাম আয়শী (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একবার রাসূলুল্লাহ (ﷺ) মক্কার রাস্তা দিয়ে ভ্রমণ করতে করতে জুমদান নামক একটি পাহাড়ের নিকটে গেলেন। তখন তিনি বললেন, তোমরা এই জুমদান পর্বতে পরিভ্রমণ করতে থাক। এ হল জুমাদান (পর্বত) আজ তা ’মুফাররিদরা’ অগ্রবর্তী হয়ে গেল। লোকেরা জিজ্ঞাসা করল, ’মুফাররিদ’ কারা, ইয়া রাসুলাল্লাহ! তিনি বললেনঃ অধিক যিক্‌রকারী ও অধিক যিক্‌রকারিণী।

২. আল্লাহর নামসমুহ ও তার সংরক্ষণকারীর ফযীলত

باب فِي أَسْمَاءِ اللَّهِ تَعَالَى وَفَضْلِ مَنْ أَحْصَاهَا

6565

حَدَّثَنَا عَمْرٌو النَّاقِدُ، وَزُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، وَابْنُ أَبِي عُمَرَ، جَمِيعًا عَنْ سُفْيَانَ، - وَاللَّفْظُ لِعَمْرٍو - حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ، عَنْ أَبِي الزِّنَادِ، عَنِ الأَعْرَجِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " لِلَّهِ تِسْعَةٌ وَتِسْعُونَ اسْمًا مَنْ حَفِظَهَا دَخَلَ الْجَنَّةَ وَإِنَّ اللَّهَ وِتْرٌ يُحِبُّ الْوِتْرَ " . وَفِي رِوَايَةِ ابْنِ أَبِي عُمَرَ " مَنْ أَحْصَاهَا " .

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৬৫৬৫। আমর নাকিদ, যুহাইর ইবনে হারব ও ইবনে আবু উমর (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহ তাআলার নিরানব্বইটি নাম আছে। যে ব্যক্তি তার হিফাযত করবে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে। আর আল্লাহ তাআলা বেজোড়। তিনি বেজোড় পছন্দ করেন।

ইবনে আবু উমর (রাহঃ) এর বর্ণনায় مَنْ حَفِظَهَا (হিফাযত করে) এর স্থলে مَنْ أَحْصَاهَا (যে সংরক্ষণ করে) উল্লেখ আছে।
6566

حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ رَافِعٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، حَدَّثَنَا مَعْمَرٌ، عَنْ أَيُّوبَ، عَنِ ابْنِ سِيرِينَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، وَعَنْ هَمَّامِ بْنِ مُنَبِّهٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " إِنَّ لِلَّهِ تِسْعَةً وَتِسْعِينَ اسْمًا مِائَةً إِلاَّ وَاحِدًا مَنْ أَحْصَاهَا دَخَلَ الْجَنَّةَ " . وَزَادَ هَمَّامٌ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم " إِنَّهُ وِتْرٌ يُحِبُّ الْوِتْرَ " .

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৬৫৬৬। মুহাম্মাদ ইবনে রাফি (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেছেন, নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলার নিরানব্বইটি অর্থাৎ এক কম একশটি নাম আছে। যে ব্যক্তি তা গণনা করবে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে। হাম্মাম (রাহঃ) আবু হুরায়রা (রাযিঃ) সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে এইটুকু বর্ধিত করে বলেছেন যে, তিনি (আল্লাহ) বেজোড় এবং তিনি বেজোড় ভালবাসেন।

৩. দৃঢ় আস্থা ও বিশ্বাসের সঙ্গে দুআ করা এবং এরূপ বলবে না যে, (আল্লাহ) তুমি যদি চাও

باب الْعَزْمِ بِالدُّعَاءِ وَلاَ يَقُلْ إِنْ شِئْتَ

6567

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، وَزُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، جَمِيعًا عَنِ ابْنِ عُلَيَّةَ، قَالَ أَبُو بَكْرٍ حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ ابْنُ عُلَيَّةَ، عَنْ عَبْدِ الْعَزِيزِ بْنِ صُهَيْبٍ، عَنْ أَنَسٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " إِذَا دَعَا أَحَدُكُمْ فَلْيَعْزِمْ فِي الدُّعَاءِ وَلاَ يَقُلِ اللَّهُمَّ إِنْ شِئْتَ فَأَعْطِنِي فَإِنَّ اللَّهَ لاَ مُسْتَكْرِهَ لَهُ " .

Narrator: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

৬৫৬৭। আবু বকর ইবনে আবি শাঈবা ও যুহাইর ইবনে হারব (রাহঃ) ......... আনাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ তোমাদের কেউ যখন দুআ করবে তখন দৃঢ় আস্থার সাথে দুআ করবে। আর সে যেন ″হে আল্লাহ! যদি আপনি চান তাহলে আমাকে দান করুন″ না বলে। কেননা আল্লাহকে বাধ্য করার কেউ নেই।

6568

حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ أَيُّوبَ، وَقُتَيْبَةُ، وَابْنُ، حُجْرٍ قَالُوا حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ، - يَعْنُونَ ابْنَ جَعْفَرٍ - عَنِ الْعَلاَءِ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " إِذَا دَعَا أَحَدُكُمْ فَلاَ يَقُلِ اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِي إِنْ شِئْتَ وَلَكِنْ لِيَعْزِمِ الْمَسْأَلَةَ وَلْيُعَظِّمِ الرَّغْبَةَ فَإِنَّ اللَّهَ لاَ يَتَعَاظَمُهُ شَىْءٌ أَعْطَاهُ " .

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৬৫৬৮। ইয়াহয়া ইবনে আইয়ুব, কুতায়বা ও ইবনে হুজর (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ তোমদের কেউ যখন দুআ করে তখন সে যেন না বলে اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِي إِنْ شِئْتَ (হে আল্লাহ! আপনি ইচ্ছা করলে আমাকে ক্ষমা করুন)। বরং সে যেন মযবুতভাবে দৃঢ়তার সাথে দুআ করে। কেননা আল্লাহ তাআলা তাকে যা দান করেন তা তাঁর কাছে বিরাট কিছু নয়।

6569

حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ مُوسَى الأَنْصَارِيُّ، حَدَّثَنَا أَنَسُ بْنُ عِيَاضٍ، حَدَّثَنَا الْحَارِثُ، - وَهُوَ ابْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبِي ذُبَابٍ - عَنْ عَطَاءِ بْنِ مِينَاءَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم " لاَ يَقُولَنَّ أَحَدُكُمُ اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِي إِنْ شِئْتَ اللَّهُمَّ ارْحَمْنِي إِنْ شِئْتَ . لِيَعْزِمْ فِي الدُّعَاءِ فَإِنَّ اللَّهَ صَانِعٌ مَا شَاءَ لاَ مُكْرِهَ لَهُ " .

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৬৫৬৯। ইসহাক ইবনে মুসা আনসারী (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ তোমাদের কেউ যেন কখনো না বলে যে, اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِي إِنْ شِئْتَ اللَّهُمَّ ارْحَمْنِي إِنْ شِئْتَ (হে আল্লাহ! আপনি চাইলে আমাকে ক্ষমা করুন, হে আল্লাহ! আপনি ইচ্ছা করলে আমার প্রতি দয়া বর্ষণ করুন)। সে যেন অবশ্যই দৃঢ় সংকল্পের সাথে দুআ করে। কেননা, আল্লাহ তাআলা যা ইচ্ছা করতে পারেন। তাকে বল প্রয়োগকারী কেউ নেই।

৪. কোন বিপদ-সংকট আপতিত হলে মৃত্যু কামনা করা মাকরূহ

باب كَرَاهَةِ تَمَنِّي الْمَوْتِ لِضُرٍّ نَزَلَ بِهِ

6570

حَدَّثَنَا زُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ، - يَعْنِي ابْنَ عُلَيَّةَ - عَنْ عَبْدِ الْعَزِيزِ، عَنْ أَنَسٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " لاَ يَتَمَنَّيَنَّ أَحَدُكُمُ الْمَوْتَ لِضُرٍّ نَزَلَ بِهِ فَإِنْ كَانَ لاَ بُدَّ مُتَمَنِّيًا فَلْيَقُلِ اللَّهُمَّ أَحْيِنِي مَا كَانَتِ الْحَيَاةُ خَيْرًا لِي وَتَوَفَّنِي إِذَا كَانَتِ الْوَفَاةُ خَيْرًا لِي " .

Narrator: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

৬৫৭০। যুহাইর ইবনে হারব (রাহঃ) ......... আনাস (রাযিঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ তোমাদের কেউ যেন বিপদাক্রান্ত হওয়ার কারণে মৃত্যু কামনা না করে। যদি অগত্যা মৃত্যু কামনা করতেই হয় তাহলে সে যেন বলে- ″হে আল্লাহ! আপনি আমাকে জীবিত রাখুন যতক্ষণ পর্যন্ত আমার হায়াত আমার জন্য মঙ্গলজনক হয়। আর আমাকে মৃত্যু দান করুন যদি আমার জন্য মৃত্যু মঙ্গলজনক হয়।″

6571

حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي خَلَفٍ، حَدَّثَنَا رَوْحٌ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، ح وَحَدَّثَنِي زُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، حَدَّثَنَا عَفَّانُ، حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، - يَعْنِي ابْنَ سَلَمَةَ - كِلاَهُمَا عَنْ ثَابِتٍ، عَنْ أَنَسٍ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم بِمِثْلِهِ غَيْرَ أَنَّهُ قَالَ " مِنْ ضُرٍّ أَصَابَهُ " .

Narrator: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

৬৫৭১। ইবনে আবু খালফ ও যুহাইর ইবনে হারব (রাহঃ) ......... আনাস (রাযিঃ) সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। তবে তিনি لِضُرٍّ نَزَلَ بِهِ (তার উপর পতিত বিপদের কারণে) এর স্থলে مِنْ ضُرٍّ أَصَابَهُ (যে বিপদ তার উপর আপতিত হয়েছে তা থেকে) বলেছেন।

6572

حَدَّثَنِي حَامِدُ بْنُ عُمَرَ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَاحِدِ، حَدَّثَنَا عَاصِمٌ، عَنِ النَّضْرِ بْنِ أَنَسٍ، وَأَنَسٌ، يَوْمَئِذٍ حَىٌّ قَالَ أَنَسٌ لَوْلاَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " لاَ يَتَمَنَّيَنَّ أَحَدُكُمُ الْمَوْتَ " . لَتَمَنَّيْتُهُ .

Narrator: নযর ইবনে আনাস ইবনে মালিক (রহঃ)

৬৫৭২। হামিদ ইবনে উমর (রাহঃ) ......... নযর ইবনে আনাস ও আনাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। আনাস (রাযিঃ) তখন জীবিত। তিনি বলেন, আনাস (রাযিঃ) বলেছেন, যদি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) “তোমাদের কেউ কখনো মৃত্যু কামনা করবে না” না বলতেন তাহলে অবশ্যই (বার্ধক্যজনিত কষ্টের কারণে) আমি মৃত্যু কামনা করতাম।

6573

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ إِدْرِيسَ، عَنْ إِسْمَاعِيلَ بْنِ أَبِي، خَالِدٍ عَنْ قَيْسِ بْنِ أَبِي حَازِمٍ، قَالَ دَخَلْنَا عَلَى خَبَّابٍ وَقَدِ اكْتَوَى سَبْعَ كَيَّاتٍ فِي بَطْنِهِ فَقَالَ لَوْمَا أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم نَهَانَا أَنْ نَدْعُوَ بِالْمَوْتِ لَدَعَوْتُ بِهِ .

Narrator: কায়স ইবনে আবু হাযিম (রহঃ)

৬৫৭৩। আবু বকর ইবনে আবি শাঈবা (রাহঃ) ......... কায়স ইবনে আবু হাযিম (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা খাব্বাব (রাযিঃ) এর কাছে গেলাম। তিনি তার পেটে সাতটি (লোহা পোড়ার) দাগ দেখিয়েছিলেন। তখন তিনি বললেন, যদি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদের মৃত্যুর জন্য দুআ করতে নিষেধ না করতেন তাহলে অবশ্যই আমি তার জন্য দুআ করতাম।

6574

حَدَّثَنَاهُ إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، أَخْبَرَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ، وَجَرِيرُ بْنُ عَبْدِ الْحَمِيدِ، وَوَكِيعٌ ح وَحَدَّثَنَا ابْنُ نُمَيْرٍ، حَدَّثَنَا أَبِي ح، وَحَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ مُعَاذٍ، وَيَحْيَى بْنُ حَبِيبٍ، قَالاَ حَدَّثَنَا مُعْتَمِرٌ، ح وَحَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ رَافِعٍ، حَدَّثَنَا أَبُو أُسَامَةَ، كُلُّهُمْ عَنْ إِسْمَاعِيلَ، بِهَذَا الإِسْنَادِ .

Narrator: বিবিধ

৬৫৭৪। ইসহাক ইবনে ইবরাহীম (রাহঃ) ......... অন্য সূত্রে ইবনে নুমাইর, উবাইদুল্লাহ ইবনে মু’আয ও ইয়াহয়া ইবনে হাবীব ও মুহাম্মাদ ইবনে রাফি (রাহঃ) ইসমাঈল (রাহঃ) থেকে এই সনদে অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন।

6575

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ رَافِعٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، أَخْبَرَنَا مَعْمَرٌ، عَنْ هَمَّامِ بْنِ مُنَبِّهٍ، قَالَ هَذَا مَا حَدَّثَنَا أَبُو هُرَيْرَةَ، عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَذَكَرَ أَحَادِيثَ مِنْهَا وَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " لاَ يَتَمَنَّى أَحَدُكُمُ الْمَوْتَ وَلاَ يَدْعُ بِهِ مِنْ قَبْلِ أَنْ يَأْتِيَهُ إِنَّهُ إِذَا مَاتَ أَحَدُكُمُ انْقَطَعَ عَمَلُهُ وَإِنَّهُ لاَ يَزِيدُ الْمُؤْمِنَ عُمْرُهُ إِلاَّ خَيْرًا " .

Narrator: হাম্মাম ইবনে মুনাব্বিহ (রহঃ)

৬৫৭৫। মুহাম্মাদ ইবনে রাফি (রাহঃ) ......... হাম্মাম ইবনে মুনাব্বিহ (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি এই মর্মে, আবু হুরায়রা (রাযিঃ) নবী (ﷺ) থেকে আমাদের কাছে যা বর্ণনা করেছেন, তন্মধ্যে কতিপয় হাদীস উল্লেখ করেছেন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ তোমাদের কেউ যেন মৃত্যু কামনা না করে এবং তা আসার পূর্বে যেন তার জন্য দুআ না করে। কেননা তোমাদের কেউ মারা গেলে তার আমল বন্ধ হয়ে যায়। আর মুমিন ব্যক্তির বয়স দীর্ঘায়িত হলে এতে তার কল্যাণই বৃদ্ধি পেতে থাকে।

৫. যারা আল্লাহর দীদার পছন্দ করে আল্লাহ তাদের সাক্ষাত পছন্দ করেন আর যারা আল্লাহর দীদার অপছন্দ করে আল্লাহ তাদের সাক্ষাত অপছন্দ করেন

بَاب مَنْ أَحَبَّ لِقَاءَ اللَّهِ أَحَبَّ اللَّهُ لِقَاءَهُ وَمَنْ كَرِهَ لِقَاءَ اللَّهِ كَرِهَ اللَّهُ لِقَاءَهُ

6576

حَدَّثَنَا هَدَّابُ بْنُ خَالِدٍ، حَدَّثَنَا هَمَّامٌ، حَدَّثَنَا قَتَادَةُ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، عَنْ عُبَادَةَ، بْنِ الصَّامِتِ أَنَّ نَبِيَّ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " مَنْ أَحَبَّ لِقَاءَ اللَّهِ أَحَبَّ اللَّهُ لِقَاءَهُ وَمَنْ كَرِهَ لِقَاءَ اللَّهِ كَرِهَ اللَّهُ لِقَاءَهُ " .

Narrator: হযরত উবাদা ইব্‌নুস সামিত (রাঃ)

৬৫৭৬। হাদ্দাব ইবনে খালিদ (রাহঃ) ......... উবাদা ইবনে সামিত (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি আল্লাহর দীদার পছন্দ করে আল্লাহ তার সাক্ষাত পছন্দ করেন। আর যে ব্যক্তি আল্লাহর দীদার অপছন্দ করে আল্লাহ তার সাক্ষাত অপছন্দ করেন।

6577

وَحَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، وَابْنُ، بَشَّارٍ قَالاَ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ قَتَادَةَ، قَالَ سَمِعْتُ أَنَسَ بْنَ مَالِكٍ، يُحَدِّثُ عَنْ عُبَادَةَ بْنِ الصَّامِتِ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم مِثْلَهُ .

Narrator: হযরত উবাদা ইব্‌নুস সামিত (রাঃ)

৬৫৭৭। মুহাম্মাদ ইবনুল মুসান্না ও ইবনে বাশশার (রাহঃ) ......... উবাদা ইবনে সামিত (রাযিঃ) সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।

6578

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الرُّزِّيُّ، حَدَّثَنَا خَالِدُ بْنُ الْحَارِثِ الْهُجَيْمِيُّ، حَدَّثَنَا سَعِيدٌ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ زُرَارَةَ، عَنْ سَعْدِ بْنِ هِشَامٍ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " مَنْ أَحَبَّ لِقَاءَ اللَّهِ أَحَبَّ اللَّهُ لِقَاءَهُ وَمَنْ كَرِهَ لِقَاءَ اللَّهِ كَرِهَ اللَّهُ لِقَاءَهُ " . فَقُلْتُ يَا نَبِيَّ اللَّهِ أَكَرَاهِيَةُ الْمَوْتِ فَكُلُّنَا نَكْرَهُ الْمَوْتَ فَقَالَ " لَيْسَ كَذَلِكِ وَلَكِنَّ الْمُؤْمِنَ إِذَا بُشِّرَ بِرَحْمَةِ اللَّهِ وَرِضْوَانِهِ وَجَنَّتِهِ أَحَبَّ لِقَاءَ اللَّهِ فَأَحَبَّ اللَّهُ لِقَاءَهُ وَإِنَّ الْكَافِرَ إِذَا بُشِّرَ بِعَذَابِ اللَّهِ وَسَخَطِهِ كَرِهَ لِقَاءَ اللَّهِ وَكَرِهَ اللَّهُ لِقَاءَهُ " .

Narrator: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

৬৫৭৮। মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল্লাহ রুযযী (রাহঃ) ......... আয়িশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি আল্লাহর সাক্ষাত পছন্দ করে আল্লাহও তার সাক্ষাত পছন্দ করেন। আর যে ব্যক্তি আল্লাহর সাক্ষাত অপছন্দ করে আল্লাহ তার সাক্ষাত অপছন্দ করেন। তখন আমি বললাম, হে আল্লাহর নবী! এর দ্বারা কি মৃত্যুর অপছন্দনীয়তা উদ্দেশ্য? তাকে তো আমরা সবাই অপছন্দ করি?

তিনি বলেন, বিষয়টি এরূপ নয়। তবে যখন একজন মুমিনকে আল্লাহর রহমত, তার রিযামন্দি ও জান্নাতের সুসংবাদ দেওয়া হয় তখন সে আল্লাহর সাক্ষাত পছন্দ করে এবং আল্লাহও তার সাক্ষাত পছন্দ করেন। আর যখন কাফিরকে আল্লাহর আযাব ও তার অসন্তুষ্টির খবর দেওয়া হয় তখন সে আল্লাহর সাক্ষাত অপছন্দ করে এবং আল্লাহও তার সাক্ষাত অপছন্দ করেন।
6579

حَدَّثَنَاهُ مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَكْرٍ، حَدَّثَنَا سَعِيدٌ، عَنْ قَتَادَةَ، بِهَذَا الإِسْنَادِ .

Narrator: কাতাদা ইবনে দিআমা (রহঃ)

৬৫৭৯। মুহাম্মাদ ইবনে মুসান্না ও ইবনে বাশশার (রাহঃ) ......... কাতাদা (রাহঃ) থেকে এই সনদে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।

6580

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ مُسْهِرٍ، عَنْ زَكَرِيَّاءَ، عَنِ الشَّعْبِيِّ، عَنْ شُرَيْحِ بْنِ هَانِئٍ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " مَنْ أَحَبَّ لِقَاءَ اللَّهِ أَحَبَّ اللَّهُ لِقَاءَهُ وَمَنْ كَرِهَ لِقَاءَ اللَّهِ كَرِهَ اللَّهُ لِقَاءَهُ وَالْمَوْتُ قَبْلَ لِقَاءِ اللَّهِ " .

Narrator: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

৬৫৮০। আবু বকর ইবনে আবি শাঈবা (রাহঃ) ......... আয়িশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি আল্লাহর দীদার পছন্দ করে আল্লাহ তার সাক্ষাত পছন্দ করেন। আর যে ব্যক্তি আল্লাহর দীদার অপছন্দ করে আল্লাহ তার সাক্ষাত অপছন্দ করেন। আর মৃত্যু তো আল্লাহর সঙ্গে সাক্ষাতের পূর্বে সংঘটিত হয়।

6581

حَدَّثَنَاهُ إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، أَخْبَرَنَا عِيسَى بْنُ يُونُسَ، حَدَّثَنَا زَكَرِيَّاءُ، عَنْ عَامِرٍ، حَدَّثَنِي شُرَيْحُ بْنُ هَانِئٍ، أَنَّ عَائِشَةَ، أَخْبَرَتْهُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ بِمِثْلِهِ .

Narrator: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

৬৫৮১। ইসহাক ইবনে ইবরাহীম (রাহঃ) ......... আয়িশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি প্রায়ই ইবনে হানী (রাহঃ) কে অবহিত করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন ......... তার অনুরূপ।

6582

حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ عَمْرٍو الأَشْعَثِيُّ، أَخْبَرَنَا عَبْثَرٌ، عَنْ مُطَرِّفٍ، عَنْ عَامِرٍ، عَنْ شُرَيْحِ، بْنِ هَانِئٍ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " مَنْ أَحَبَّ لِقَاءَ اللَّهِ أَحَبَّ اللَّهُ لِقَاءَهُ وَمَنْ كَرِهَ لِقَاءَ اللَّهِ كَرِهَ اللَّهُ لِقَاءَهُ " . قَالَ فَأَتَيْتُ عَائِشَةَ فَقُلْتُ يَا أُمَّ الْمُؤْمِنِينَ سَمِعْتُ أَبَا هُرَيْرَةَ يَذْكُرُ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم حَدِيثًا إِنْ كَانَ كَذَلِكَ فَقَدْ هَلَكْنَا . فَقَالَتْ إِنَّ الْهَالِكَ مَنْ هَلَكَ بِقَوْلِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَمَا ذَاكَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " مَنْ أَحَبَّ لِقَاءَ اللَّهِ أَحَبَّ اللَّهُ لِقَاءَهُ وَمَنْ كَرِهَ لِقَاءَ اللَّهِ كَرِهَ اللَّهُ لِقَاءَهُ " . وَلَيْسَ مِنَّا أَحَدٌ إِلاَّ وَهُوَ يَكْرَهُ الْمَوْتَ . فَقَالَتْ قَدْ قَالَهُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَلَيْسَ بِالَّذِي تَذْهَبُ إِلَيْهِ وَلَكِنْ إِذَا شَخَصَ الْبَصَرُ وَحَشْرَجَ الصَّدْرُ وَاقْشَعَرَّ الْجِلْدُ وَتَشَنَّجَتِ الأَصَابِعُ فَعِنْدَ ذَلِكَ مَنْ أَحَبَّ لِقَاءَ اللَّهِ أَحَبَّ اللَّهُ لِقَاءَهُ وَمَنْ كَرِهَ لِقَاءَ اللَّهِ كَرِهَ اللَّهُ لِقَاءَهُ .

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৬৫৮২। সাঈদ ইবনে আমর আশআসী (রাহঃ) ......... শুরায়হ ইবনে হানী (রাহঃ) সূত্রে আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি আল্লাহর সঙ্গে সাক্ষাত পছন্দ করে আল্লাহ তার সাক্ষাত পছন্দ করেন। আর যে ব্যক্তি আল্লাহর সঙ্গে সাক্ষাত অপছন্দ করে আল্লাহ তার সাক্ষাত অপছন্দ করেন। তিনি (শুরায়হ) বলেন, এরপর আমি আয়িশা (রাযিঃ) এর কাছে এলাম এবং বললাম, হে উম্মুল মু'মিনীন! আমি আবু হুরায়রা (রাযিঃ) কে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) থেকে একটি হাদীস বর্ণনা করতে শুনেছি। যদি বিষয়টি এরূপ হয় তাহলে আমরা ধ্বংস হয়ে গেছি।

তখন তিনি [আয়িশা (রাযিঃ)] বললেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কথা মত যে ব্যক্তি ধ্বংস হয়েছে, সে বস্তুতই ধ্বংস হয়েছে। বিষয়টি কী? (রাবী) বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি আল্লাহর সাক্ষাত ভালবাসে আল্লাহ তার সাক্ষাত ভালবাসেন। আর যে ব্যক্তি আল্লাহর সাক্ষাত অপছন্দ করে আল্লাহও তার সাক্ষাত অপছন্দ করেন। অথচ আমাদের মাঝে এমন কেউ নেই, যে মৃত্যুকে অপছন্দ করে না।

তখন তিনি (আয়িশা (রাযিঃ) বললেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এই কথাই বলেছেন। তবে তুমি যা বুঝেছ ব্যাপারটি ঠিক তা নয়। প্রকৃতপক্ষে যখন চক্ষু স্থির হয়ে যাবে, শ্বাস বক্ষে আটকে যাবে, শরীর শিউরে উঠবে এবং আঙ্গুলগুলো সংকুচিত টানটান হয়ে যাবে তখন (ঐ মুহূর্তে) যে ব্যক্তি আল্লাহর সাক্ষাত পছন্দ করবে আল্লাহ তার সাক্ষাত পছন্দ করবেন এবং সে সময় যে আল্লাহর সাক্ষাত অপছন্দ করবে আল্লাহ তার সাক্ষাত অপছন্দ করবেন।
6583

وَحَدَّثَنَاهُ إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ الْحَنْظَلِيُّ، أَخْبَرَنِي جَرِيرٌ، عَنْ مُطَرِّفٍ، بِهَذَا الإِسْنَادِ نَحْوَ حَدِيثِ عَبْثَرٍ .

Narrator: মুতাররিফ (রহঃ)

৬৫৮৩। ইসহাক হানযালী (রাহঃ) ......... মুতাররিফ (রাহঃ) থেকে এ সনদে পূর্ব বর্ণিত আবসার (রাহঃ) এর হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।

6584

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، وَأَبُو عَامِرٍ الأَشْعَرِيُّ وَأَبُو كُرَيْبٍ قَالُوا حَدَّثَنَا أَبُو أُسَامَةَ عَنْ بُرَيْدٍ، عَنْ أَبِي بُرْدَةَ، عَنْ أَبِي مُوسَى، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " مَنْ أَحَبَّ لِقَاءَ اللَّهِ أَحَبَّ اللَّهُ لِقَاءَهُ وَمَنْ كَرِهَ لِقَاءَ اللَّهِ كَرِهَ اللَّهُ لِقَاءَهُ " .

Narrator: আবু মুসা আশ'আরী (রাঃ)

৬৫৮৪। আবু বকর ইবনে আবি শাঈবা, আবু আমির আশআরী ও আবু কুরায়ব (রাহঃ) ......... আবু মুসা আশআরী (রাযিঃ) সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেছেনঃ যে ব্যক্তি আল্লাহর সাক্ষাত ভালবাসে আল্লাহ তার সাক্ষাত ভালবাসেন। আর যে ব্যক্তি আল্লাহর সাথে সাক্ষাত অপছন্দ করে আল্লাহও তার সাথে সাক্ষাত অপছন্দ করেন।

৬. যিক্‌র, দুআ, আল্লাহর নৈকট্য হাসিল করা এবং তার (আল্লাহর) প্রতি সুধারণা পোষণের ফযীলত

باب فَضْلِ الذِّكْرِ وَالدُّعَاءِ وَالتَّقَرُّبِ إِلَى اللَّهِ تَعَالَى

6585

حَدَّثَنَا أَبُو كُرَيْبٍ، مُحَمَّدُ بْنُ الْعَلاَءِ حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، عَنْ جَعْفَرِ بْنِ بُرْقَانَ، عَنْ يَزِيدَ، بْنِ الأَصَمِّ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " إِنَّ اللَّهَ يَقُولُ أَنَا عِنْدَ ظَنِّ عَبْدِي بِي وَأَنَا مَعَهُ إِذَا دَعَانِي " .

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৬৫৮৫। আবু কুরায়ব মুহাম্মাদ ইবনে আ’লা (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন, আমার বান্দা আমাকে যে রূপ ধারণা করে আমি (তার জন্য তেমিনই)। আর আমি তার সঙ্গে থাকি যখন সে আমাকে ডাকে।

6586

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارِ بْنِ عُثْمَانَ الْعَبْدِيُّ، حَدَّثَنَا يَحْيَى، - يَعْنِي ابْنَ سَعِيدٍ - وَابْنُ أَبِي عَدِيٍّ عَنْ سُلَيْمَانَ، - وَهُوَ التَّيْمِيُّ - عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " قَالَ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ إِذَا تَقَرَّبَ عَبْدِي مِنِّي شِبْرًا تَقَرَّبْتُ مِنْهُ ذِرَاعًا وَإِذَا تَقَرَّبَ مِنِّي ذِرَاعًا تَقَرَّبْتُ مِنْهُ بَاعًا - أَوْ بُوعًا - وَإِذَا أَتَانِي يَمْشِي أَتَيْتُهُ هَرْوَلَةً " .

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৬৫৮৬। মুহাম্মাদ ইবনে বাশশার ইবনে উসমান আব্দী (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেনঃ যখন আমার বান্দা আমার দিকে এক বিঘত অগ্রসর হয় তখন আমি তার দিকে একহাত অগ্রসর হই। আর যখন সে আমার দিকে এক হাত এগিয়ে আসে তখন আমি তার দিকে এক ’বাগ’* এগিয়ে আসি। আর যখন সে আমার দিকে হেঁটে আসে তখন আমি তার দিকে দৌড়ে আসি।

* দুই হাতের বাহু ডানে-বামে প্রসারিত করলে যে দূরত্ব হয় তাকে 'বাগ' বলে।
6587

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الأَعْلَى الْقَيْسِيُّ، حَدَّثَنَا مُعْتَمِرٌ، عَنْ أَبِيهِ، بِهَذَا الإِسْنَادِ وَلَمْ يَذْكُرْ " إِذَا أَتَانِي يَمْشِي أَتَيْتُهُ هَرْوَلَةً " .

Narrator: মু’তামির ইবনে সুলাইমান (রহঃ)

৬৫৮৭। মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল আলা কায়সী (রাহঃ) ......... মু’তামির (রাহঃ) তার পিতার সূত্রে এই সনদে অনুরূপ বর্ণনা করেন। তবে তিনি তার বর্ণনায় إِذَا أَتَانِي يَمْشِي أَتَيْتُهُ هَرْوَلَةً (যখন সে পায়ে হেটে আসে) উল্লেখ করেননি।

6588

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، وَأَبُو كُرَيْبٍ - وَاللَّفْظُ لأَبِي كُرَيْبٍ - قَالاَ حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " يَقُولُ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ أَنَا عِنْدَ ظَنِّ عَبْدِي وَأَنَا مَعَهُ حِينَ يَذْكُرُنِي فَإِنْ ذَكَرَنِي فِي نَفْسِهِ ذَكَرْتُهُ فِي نَفْسِي وَإِنْ ذَكَرَنِي فِي مَلإٍ ذَكَرْتُهُ فِي مَلإٍ خَيْرٍ مِنْهُ وَإِنِ اقْتَرَبَ إِلَىَّ شِبْرًا تَقَرَّبْتُ إِلَيْهِ ذِرَاعًا وَإِنِ اقْتَرَبَ إِلَىَّ ذِرَاعًا اقْتَرَبْتُ إِلَيْهِ بَاعًا وَإِنْ أَتَانِي يَمْشِي أَتَيْتُهُ هَرْوَلَةً " .

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৬৫৮৮। আবু বকর ইবনে আবি শাঈবা ও আবু কুরায়ব (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেনঃ আমি আমার বান্দার কাছে তার ধারণা অনুযায়ী থাকি। যখন সে আমার যিক্‌র (আমাকে স্মরণ) করে তখন আমি তার সঙ্গী হয়ে যাই। যখন সে একাকী (মনে মনে) আমার যিক্‌র করে তখন আমি একাকী তাকে স্মরণ করি। যখন সে কোন মজলিসে আমার যিক্‌র করে তখন আমি তাকে তার চাইতে উত্তম মজলিসে স্মরণ করি। যদি সে আমার দিকে এক বিঘত অগ্রসর হয় আমি তার দিকে এক হাত এগিয়ে আসি। যদি সে আমার দিকে এক হাত অগ্রসর হয় তাহলে আমি তার দিকে এক বাম (সাড়ে তিন হাত) এগিয়ে আসি। যদি সে আমার দিকে পায়ে হেটে আস আমি তার দিকে ছুটে আসি।

6589

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، حَدَّثَنَا الأَعْمَشُ، عَنِ الْمَعْرُورِ بْنِ سُوَيْدٍ، عَنْ أَبِي ذَرٍّ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " يَقُولُ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ مَنْ جَاءَ بِالْحَسَنَةِ فَلَهُ عَشْرُ أَمْثَالِهَا وَأَزِيدُ وَمَنْ جَاءَ بِالسَّيِّئَةِ فَجَزَاؤُهُ سَيِّئَةٌ مِثْلُهَا أَوْ أَغْفِرُ وَمَنْ تَقَرَّبَ مِنِّي شِبْرًا تَقَرَّبْتُ مِنْهُ ذِرَاعًا وَمَنْ تَقَرَّبَ مِنِّي ذِرَاعًا تَقَرَّبْتُ مِنْهُ بَاعًا وَمَنْ أَتَانِي يَمْشِي أَتَيْتُهُ هَرْوَلَةً وَمَنْ لَقِيَنِي بِقُرَابِ الأَرْضِ خَطِيئَةً لاَ يُشْرِكُ بِي شَيْئًا لَقِيتُهُ بِمِثْلِهَا مَغْفِرَةً " . قَالَ إِبْرَاهِيمُ حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ بِشْرٍ حَدَّثَنَا وَكِيعٌ بِهَذَا الْحَدِيثِ .

Narrator: হযরত আবু যার গিফারী (রাঃ)

৬৫৮৯। আবু বকর ইবনে আবি শাঈবা (রাহঃ) ......... আবু যর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন, যে ব্যক্তি একটি নেক কাজ করবে তার জন্য রয়েছে দশগুণ সাওয়াব; আর আমি তাকে আরও বাড়িয়ে দেব। অ্যর যে ব্যক্তি একটি মন্দ কাজ (গুনাহ) করবে তার প্রতিফল সেই কাজের অনুরূপ কিংবা আমি তাকে ক্ষমা করে দেব। যে ব্যক্তি আমার দিকে এক বিঘত অগ্রসর (নিকটবর্তী) হয় আমি তার দিকে একহাত এগিয়ে আসি। আর যে ব্যক্তি আমার প্রতি একহাত অগ্রসর হয় আমি তার দিকে এক বাম এগিয়ে আসি। যে ব্যক্তি আমার কাছে হেঁটে আসে আমি তার দিকে ছুটে আসি। যে ব্যক্তি আমার কাছে পৃথিবী সমান গুনাহ করে এবং আমার সঙ্গে কাউকে শরীক করেনি আমি তার সঙ্গে অনুরূপ পৃথিবীতুল্য মাগফিরাত নিয়ে মিলিত হই।

ইবরাহীম (রাহঃ) বলেন, হাসান ইবনে বিশর (রাহঃ) ওয়াকী (রাহঃ) সূত্রে ......... অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন।
6590

حَدَّثَنَا أَبُو كُرَيْبٍ، حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ، عَنِ الأَعْمَشِ، بِهَذَا الإِسْنَادِ . نَحْوَهُ غَيْرَ أَنَّهُ قَالَ " فَلَهُ عَشْرُ أَمْثَالِهَا أَوْ أَزِيدُ " .

Narrator: সুলাইমান আ‘মাশ (রহঃ)

৬৫৯০। আবু কুরায়ব (রাহঃ) ......... আ’মাশ সূত্রে এই সনদে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। তবে পার্থক্য এই যে, তিনি বলেছেন, তার জন্য রয়েছে দশগুণ সাওয়াব অথবা আমি আরও বাড়িয়ে দেব।

৭. দুনিয়াতে শাস্তি ত্বরান্বিত (অগ্রিম) করার দুআ করা মাকরূহ

باب كَرَاهَةِ الدُّعَاءِ بِتَعْجِيلِ الْعُقُوبَةِ فِي الدُّنْيَا

6591

حَدَّثَنَا أَبُو الْخَطَّابِ، زِيَادُ بْنُ يَحْيَى الْحَسَّانِيُّ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ أَبِي عَدِيٍّ، عَنْ حُمَيْدٍ، عَنْ ثَابِتٍ، عَنْ أَنَسٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَادَ رَجُلاً مِنَ الْمُسْلِمِينَ قَدْ خَفَتَ فَصَارَ مِثْلَ الْفَرْخِ فَقَالَ لَهُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " هَلْ كُنْتَ تَدْعُو بِشَىْءٍ أَوْ تَسْأَلُهُ إِيَّاهُ " . قَالَ نَعَمْ كُنْتُ أَقُولُ اللَّهُمَّ مَا كُنْتَ مُعَاقِبِي بِهِ فِي الآخِرَةِ فَعَجِّلْهُ لِي فِي الدُّنْيَا . فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " سُبْحَانَ اللَّهِ لاَ تُطِيقُهُ - أَوْ لاَ تَسْتَطِيعُهُ - أَفَلاَ قُلْتَ اللَّهُمَّ آتِنَا فِي الدُّنْيَا حَسَنَةً وَفِي الآخِرَةِ حَسَنَةً وَقِنَا عَذَابَ النَّارِ " . قَالَ فَدَعَا اللَّهَ لَهُ فَشَفَاهُ .

Narrator: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

৬৫৯১। আবুল খাত্তাব যিয়াদ ইবনে ইয়াহয়া হাসসানী (রাহঃ) ......... আনাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) একজন মুসলিমকে তার অসুস্থ অবস্থায় দেখার জন্য গেলেন। সে অসুখে কাতর হয়ে অত্যন্ত দুর্বল হয়ে পড়েছিল। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাকে বললেনঃ তুমি কি কোন দুআ করছিলে কিংবা আল্লাহর কাছে বিশেষভাবে কিছু কামনা করছিলে? সে বললঃ হ্যাঁ। আমি বলছিলাম, হে আল্লাহ! আপনি আখিরাতে আমাকে যে শাস্তি দিবেন তা এই দুনিয়াতেই ত্বরান্বিত করে দিন।

তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ সুবহানাল্লাহ! তোমার এমন শক্তি নেই যে, তা বহন করবে? অথবা (বললেন) তুমি তা বরদাশত করতে পারবে না। তুমি এরূপ বললে না কেন? হে আল্লাহ! আমাদের কল্যাণ দিন দুনিয়াতে এবং কল্যাণ দান করুন আখিরাতে। আর জাহান্নাম থেকে আমাদের নাজাত দিন।

তিনি (রাবী) বলেন, তখন তিনি তার জন্য আল্লাহর কাছে দুআ করেন। আর আল্লাহ তাকে নিরাময় দান করেন।
6592

حَدَّثَنَاهُ عَاصِمُ بْنُ النَّضْرِ التَّيْمِيُّ، حَدَّثَنَا خَالِدُ بْنُ الْحَارِثِ، حَدَّثَنَا حُمَيْدٌ، بِهَذَا الإِسْنَادِ إِلَى قَوْلِهِ " وَقِنَا عَذَابَ النَّارِ " . وَلَمْ يَذْكُرِ الزِّيَادَةَ .

Narrator: হুমাইদ আত তাবীল (রহঃ)

৬৫৯২। আসিম ইবনে নযর তায়মী (রাহঃ) ......... হুমায়দ (রাহঃ) এবং জাহান্নাম থেকে আমাদের বাচান’ পর্যন্ত উল্লেখ করেছেন। এর বর্ধিত অংশ তিনি উল্লেখ করেননি।

6593

وَحَدَّثَنِي زُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، حَدَّثَنَا عَفَّانُ، حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، أَخْبَرَنَا ثَابِتٌ، عَنْ أَنَسٍ، أَنَّعليه وسلم دَخَلَ عَلَى رَجُلٍ مِنْ أَصْحَابِهِ يَعُودُهُ وَقَدْ صَارَ كَالْفَرْخِ . بِمَعْنَى حَدِيثِ حُمَيْدٍ غَيْرَ أَنَّهُ قَالَ " لاَ طَاقَةَ لَكَ بِعَذَابِ اللَّهِ " . وَلَمْ يَذْكُرْ فَدَعَا اللَّهَ لَهُ فَشَفَاهُ .

Narrator: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

৬৫৯৩। যুহাইর ইবনে হারব (রাহঃ) ......... আনাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাঁর এক সাহাবীর অসুখে দেখতে যান। সে ভীষণ কাতর হয়ে পড়েছিল। হুমায়দের হাদীসের মর্মানুযায়ী বর্ণনা করেন। তবে (তার বর্ণনায়) তিনি বলেছেন, ’আল্লাহর আযাব বরদাশত করার মত শক্তি তোমার নেই’ আর এরপর তিনি আল্লাহর কাছে দুআ করলেন এবং ’তিনি তাকে নিরাময় করেন’ কথাটি তিনি উল্লেখ করেননি।

6594

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، وَابْنُ، بَشَّارٍ قَالاَ حَدَّثَنَا سَالِمُ بْنُ نُوحٍ الْعَطَّارُ، عَنْ سَعِيدِ، بْنِ أَبِي عَرُوبَةَ عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ أَنَسٍ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم بِهَذَا الْحَدِيثِ .

Narrator: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

৬৫৯৪। মুহাম্মাদ ইবনুল মুসান্না ও ইবনে বাশশার (রাহঃ) ......... আনাস (রাযিঃ) সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে এই হাদীস বর্ণনা করেছেন।

৮. যিক্‌রের মজলিসের ফযীলত

باب فَضْلِ مَجَالِسِ الذِّكْرِ

6595

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ حَاتِمِ بْنِ مَيْمُونٍ، حَدَّثَنَا بَهْزٌ، حَدَّثَنَا وُهَيْبٌ، حَدَّثَنَا سُهَيْلٌ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " إِنَّ لِلَّهِ تَبَارَكَ وَتَعَالَى مَلاَئِكَةً سَيَّارَةً فُضْلاً يَتَبَّعُونَ مَجَالِسَ الذِّكْرِ فَإِذَا وَجَدُوا مَجْلِسًا فِيهِ ذِكْرٌ قَعَدُوا مَعَهُمْ وَحَفَّ بَعْضُهُمْ بَعْضًا بِأَجْنِحَتِهِمْ حَتَّى يَمْلَئُوا مَا بَيْنَهُمْ وَبَيْنَ السَّمَاءِ الدُّنْيَا فَإِذَا تَفَرَّقُوا عَرَجُوا وَصَعِدُوا إِلَى السَّمَاءِ - قَالَ - فَيَسْأَلُهُمُ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ وَهُوَ أَعْلَمُ بِهِمْ مِنْ أَيْنَ جِئْتُمْ فَيَقُولُونَ جِئْنَا مِنْ عِنْدِ عِبَادٍ لَكَ فِي الأَرْضِ يُسَبِّحُونَكَ وَيُكَبِّرُونَكَ وَيُهَلِّلُونَكَ وَيَحْمَدُونَكَ وَيَسْأَلُونَكَ . قَالَ وَمَاذَا يَسْأَلُونِي قَالُوا يَسْأَلُونَكَ جَنَّتَكَ . قَالَ وَهَلْ رَأَوْا جَنَّتِي قَالُوا لاَ أَىْ رَبِّ . قَالَ فَكَيْفَ لَوْ رَأَوْا جَنَّتِي قَالُوا وَيَسْتَجِيرُونَكَ . قَالَ وَمِمَّ يَسْتَجِيرُونَنِي قَالُوا مِنْ نَارِكَ يَا رَبِّ . قَالَ وَهَلْ رَأَوْا نَارِي قَالُوا لاَ . قَالَ فَكَيْفَ لَوْ رَأَوْا نَارِي قَالُوا وَيَسْتَغْفِرُونَكَ - قَالَ - فَيَقُولُ قَدْ غَفَرْتُ لَهُمْ فَأَعْطَيْتُهُمْ مَا سَأَلُوا وَأَجَرْتُهُمْ مِمَّا اسْتَجَارُوا - قَالَ - فَيَقُولُونَ رَبِّ فِيهِمْ فُلاَنٌ عَبْدٌ خَطَّاءٌ إِنَّمَا مَرَّ فَجَلَسَ مَعَهُمْ قَالَ فَيَقُولُ وَلَهُ غَفَرْتُ هُمُ الْقَوْمُ لاَ يَشْقَى بِهِمْ جَلِيسُهُمْ " .

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৬৫৯৫। মুহাম্মাদ ইবনে হাতিম ইবনে মায়মুন (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহ তাআলার একদল ভ্রাম্যমান বিশেষ ফিরিশতা আছে। তারা যিক্‌রের মজলিসসমূহ অনুসন্ধান করে বেড়ায়। তাঁরা যখন কোন যিক্‌রের মজলিস পায় তখন সেখানে তাদের (যিক্‌রকারীরদের) সঙ্গে বসে যায়। আর তারা একে অপরকে তাদের পাখা বিস্তার করে বেষ্টন করে নেয়। এমনিভাবে তাঁরা তাদের ও নিকটবর্তী আসমানের ফাঁকা স্থান পূর্ণ করে ফেলে। যিক্‌রকারীরা যখন আলাদা হয়ে যায় তখন তাঁরা আসমানে আরোহণ করে। তিনি বলেন, তখন আল্লাহ তাআলা তাদের প্রশ্ন করেন, তোমরা কোথা হতে এসেছ? অথচ তিনি তাদের সম্পর্কে সর্বাধিক অবহিত।

তখন তারা বলতে থাকেন, আমরা যমীনে অবস্থানকারী আপনার বান্দাদের নিকট থেকে এসেছি, যারা আপনার তাসবীহ পাঠ করে, তাকবীর পাঠ করে, (তাহলীল পাঠ করে) “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ” এর যিক্‌র করে, আপনার প্রশংসা ঘোষণা করে আর আপনার কাছে তাদের (কাঙ্খিত বস্তু) কামনা করে। তখন আল্লাহ বলেন, আমার বান্দারা আমার কাছে কি চায়? তারা বলেন, তারা আপনার কাছে আপনার জান্নাত কামনা করে। তিনি বলেন, তারা কি আমার জান্নাত দেখেছে? তাঁরা বলেন, না; হে আমাদের প্রতিপালক! তিনি বলেন, যদি তারা আমার জান্নাত দেখতে পেত (তাহলে কী করত)? তাঁরা বলেন, তাহলে তারা আপনার কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করত। তিনি বলেন, কিসের থেকে তারা আমার কাছে পানাহ চাইত? তাঁরা বলেন, হে আমাদের প্রতিপালক! আপনার জাহান্নাম থেকে। তিনি বলেন, তারা কি আমার জাহান্নাম দেখেছে? তারা বলেন, না; তারা দেখেননি।

তিনি বলেন, যদি তারা আমার জাহান্নাম দেখতে পেত (তাহলে কী করত)? তারা বলেন, তাহলে তারা আপনার কাছে মাগফিরাত কামনা করত। তিনি বলেন, তখন আল্লাহ বলবেন, আমি তাদের ক্ষমা করে দিলাম এবং তারা যা চাইছিল আমি তা তাদের দান করলাম। আর তারা যা থেকে আশ্রয় চাইছিল আমি তা থেকে তাদের নাজাত দিলাম। এরপর তারা বলবে, হে আমাদের প্রতিপালক! তাদের মধ্যে তো অমুক গুনাহগার বান্দা ছিল, যে তাদের (যাকিরীরনদের) সঙ্গে মজলিসের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় বসেছিল। তিনি বলেন, তখন আল্লাহ বলবেন, আমি তাকেও ক্ষমা করে দিলাম। তারা তো এমন একটি সম্প্রদায় যাদের সঙ্গে উপবেশনকারী ব্যক্তি দুর্ভাগা হতে পারে না।

৯. হে আল্লাহ! আমাদের কল্যাণ দান করুন দুনিয়াতে এবং কল্যাণ দান করুন আখিরাতে আর জাহান্নাম থেকে আমাদের নাজাত দিন - এ দুআর ফযীলত

بَاب فَضْلِ الدُّعَاءِ بِاللَّهُمَّ آتِنَا فِي الدُّنْيَا حَسَنَةً وَفِي الْآخِرَةِ حَسَنَةً وَقِنَا عَذَابَ النَّارِ

6596

حَدَّثَنِي زُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ، - يَعْنِي ابْنَ عُلَيَّةَ - عَنْ عَبْدِ الْعَزِيزِ، - وَهُوَ ابْنُ صُهَيْبٍ - قَالَ سَأَلَ قَتَادَةُ أَنَسًا أَىُّ دَعْوَةٍ كَانَ يَدْعُو بِهَا النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم أَكْثَرَ قَالَ كَانَ أَكْثَرُ دَعْوَةٍ يَدْعُو بِهَا يَقُولُ " اللَّهُمَّ آتِنَا فِي الدُّنْيَا حَسَنَةً وَفِي الآخِرَةِ حَسَنَةً وَقِنَا عَذَابَ النَّارِ " . قَالَ وَكَانَ أَنَسٌ إِذَا أَرَادَ أَنْ يَدْعُوَ بِدَعْوَةٍ دَعَا بِهَا فَإِذَا أَرَادَ أَنْ يَدْعُوَ بِدُعَاءٍ دَعَا بِهَا فِيهِ .

Narrator: আব্দুল আযীয ইবন সুহায়ব (রহঃ)

৬৫৯৬। যুহাইর ইবনে হারব (রাহঃ) ......... আব্দুল আযীয ইবনে সুহায়ব (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, কাতাদা আনাস (রাযিঃ) কে জিজ্ঞাসা করলেন, কোন দুআ দ্বারা নবী (ﷺ) অধিক দুআ করতেন? তিনি বললেন, তিনি যে দুআ দ্বারা অধিক দুআ করতেন তা এই যে, তিনি বলতেনঃ ″হে আল্লাহ! আমাদের দান করুন দুনিয়ায় কল্যাণ এবং পরকালে কল্যাণ। আর আমাদের রক্ষা করুন জাহান্নামের আযাব থেকে।″

রাবী বলেন, আনাস (রাযিঃ) যখন কোন দুআ করার ইচ্ছা করতেন তিনি এই দুআ (পাঠ) করতেন। যখন তিনি কোন কিছুর ব্যাপারে দুআ করার ইচ্ছা করতেন তখনও এই দুআ পড়তেন।
6597

حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ مُعَاذٍ، حَدَّثَنَا أَبِي، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ ثَابِتٍ، عَنْ أَنَسٍ، قَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " رَبَّنَا آتِنَا فِي الدُّنْيَا حَسَنَةً وَفِي الآخِرَةِ حَسَنَةً وَقِنَا عَذَابَ النَّارِ " .

Narrator: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

৬৫৯৭। উবাইদুল্লাহ ইবনে মু’আয (রাহঃ) ......... আনাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলতেন (এই দুআ পাঠ করতেনঃ) হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদের কল্যাণ দান করুন পার্থিব জীবনে, কল্যাণ দান করুন আখিরাতে। আর জাহান্নামের আযাব থেকে আমাদের রক্ষা করুন।

১০. তাহলীল (لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ বলা), তাসবীহ (سُبْحَانَ اللَّه বলা) ও দুআর ফযীলত

باب فَضْلِ التَّهْلِيلِ وَالتَّسْبِيحِ وَالدُّعَاءِ

6598

حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ يَحْيَى، قَالَ قَرَأْتُ عَلَى مَالِكٍ عَنْ سُمَىٍّ، عَنْ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " مَنْ قَالَ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَحْدَهُ لاَ شَرِيكَ لَهُ لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَىْءٍ قَدِيرٌ . فِي يَوْمٍ مِائَةَ مَرَّةٍ . كَانَتْ لَهُ عَدْلَ عَشْرِ رِقَابٍ وَكُتِبَتْ لَهُ مِائَةُ حَسَنَةٍ وَمُحِيَتْ عَنْهُ مِائَةُ سَيِّئَةٍ وَكَانَتْ لَهُ حِرْزًا مِنَ الشَّيْطَانِ يَوْمَهُ ذَلِكَ حَتَّى يُمْسِيَ وَلَمْ يَأْتِ أَحَدٌ أَفْضَلَ مِمَّا جَاءَ بِهِ إِلاَّ أَحَدٌ عَمِلَ أَكْثَرَ مِنْ ذَلِكَ . وَمَنْ قَالَ سُبْحَانَ اللَّهِ وَبِحَمْدِهِ فِي يَوْمٍ مِائَةَ مَرَّةٍ حُطَّتْ خَطَايَاهُ وَلَوْ كَانَتْ مِثْلَ زَبَدِ الْبَحْرِ " .

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৬৫৯৮। ইয়াহয়া ইবনে ইয়াহয়া (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَحْدَهُ لاَ شَرِيكَ لَهُ لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَىْءٍ قَدِيرٌ (আল্লাহ ব্যতীত কোন ইলাহ নেই; তিনি একক, তাঁর কোন শরীক নেই; রাজত্ব তাঁরই, যাবতীয় প্রশংসা তাঁরই; তিনিই সবকিছু উপর ক্ষমতাবান) এই দুআ দিনে একশ বার পাঠ করে সে দশজন গোলাম আযাদ করার সাওয়াব পাবে, তার আমল নামায় একশ নেকী লিপিবদ্ধ করা হবে এবং তার থেকে একশ গোনাহ মুছে দেওয়া হবে। আর তা ঐ দিন সন্ধ্যা পর্যন্ত শয়তান (তার কুমন্ত্রণা) থেকে তার জন্য রক্ষাকবচ হয়ে যায়। সেদিন সে যা করেছে তার চেয়ে উত্তম পুণ্য সম্পাদনকারী কেউ হবে না। কিন্তু কেউ তার বেশী আমল করলে তার কথা ভিন্ন।

আর যে ব্যক্তি দিনে একশ’ বার سُبْحَانَ اللَّهِ وَبِحَمْدِهِ (আমি আল্লাহর সপ্রশংসা পবিত্রতা বর্ণনা করছি) পাঠ করবে, তার যাবতীয় গোনাহ মোচন করে দেওয়া হবে, যদিও তা সমুদ্রের ফেনার সমতুল্য হয়।
6599

حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الْمَلِكِ الأُمَوِيُّ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ الْمُخْتَارِ، عَنْ سُهَيْلٍ، عَنْ سُمَىٍّ، عَنْ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " مَنْ قَالَ حِينَ يُصْبِحُ وَحِينَ يُمْسِي سُبْحَانَ اللَّهِ وَبِحَمْدِهِ مِائَةَ مَرَّةٍ . لَمْ يَأْتِ أَحَدٌ يَوْمَ الْقِيَامَةِ بِأَفْضَلَ مِمَّا جَاءَ بِهِ إِلاَّ أَحَدٌ قَالَ مِثْلَ مَا قَالَ أَوْ زَادَ عَلَيْهِ " .

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৬৫৯৯। মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল মালিক উমাবী (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি সকালে ও সন্ধ্যায় سُبْحَانَ اللَّهِ وَبِحَمْدِهِ (আল্লাহ পবিত্র ও সমস্ত প্রশংসা তাঁরই) একশ’ বার পাঠ করে কিয়ামতের দিনে তার চেয়ে উত্তম আমল কেউ আসবে না। তবে সে ছাড়া, যে ব্যক্তি তদানুরূপ আমল করে কিংবা তার চেয়ে আরও বেশী আমল করে।

6600

حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ عُبَيْدِ اللَّهِ أَبُو أَيُّوبَ الْغَيْلاَنِيُّ، حَدَّثَنَا أَبُو عَامِرٍ، - يَعْنِي الْعَقَدِيَّ - حَدَّثَنَا عُمَرُ، - وَهُوَ ابْنُ أَبِي زَائِدَةَ - عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، عَنْ عَمْرِو بْنِ مَيْمُونٍ، قَالَ " مَنْ قَالَ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَحْدَهُ لاَ شَرِيكَ لَهُ لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَىْءٍ قَدِيرٌ عَشْرَ مِرَارٍ كَانَ كَمَنْ أَعْتَقَ أَرْبَعَةَ أَنْفُسٍ مِنْ وَلَدِ إِسْمَاعِيلَ " . وَقَالَ سُلَيْمَانُ حَدَّثَنَا أَبُو عَامِرٍ حَدَّثَنَا عُمَرُ حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ أَبِي السَّفَرِ عَنِ الشَّعْبِيِّ عَنْ رَبِيعِ بْنِ خُثَيْمٍ . بِمِثْلِ ذَلِكَ قَالَ فَقُلْتُ لِلرَّبِيعِ مِمَّنْ سَمِعْتَهُ قَالَ مِنْ عَمْرِو بْنِ مَيْمُونٍ - قَالَ - فَأَتَيْتُ عَمْرَو بْنَ مَيْمُونٍ فَقُلْتُ مِمَّنْ سَمِعْتَهُ قَالَ مِنِ ابْنِ أَبِي لَيْلَى - قَالَ - فَأَتَيْتُ ابْنَ أَبِي لَيْلَى فَقُلْتُ مِمَّنْ سَمِعْتَهُ قَالَ مِنْ أَبِي أَيُّوبَ الأَنْصَارِيِّ يُحَدِّثُهُ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم .

Narrator: আমর ইবনু মায়মূন (রহঃ)

৬৬০০। সুলাইমান ইবনে উবাইদুল্লাহ আবু আইয়ুব গায়লানী (রাহঃ) ......... আমর ইবনে মায়মুন (রাহঃ) বলেন, যে ব্যক্তি দশবার لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَحْدَهُ لاَ شَرِيكَ لَهُ لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَىْءٍ قَدِيرٌ “আল্লাহ ব্যতীত কোন ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোন শরীক নেই, রাজত্ব (সার্বভৌম ক্ষমতা) তাঁরই, যাবতীয় প্রশংসা তাঁরই, তিনি-ই সব কিছুর উপর পূর্ণ ক্ষমতাবান” পাঠ করবে সে যেন ইসমাঈল (আলাইহিস সালাম) এর বংশের চারজন গোলামকে মুক্তি দান করল।

সুলাইমান (রাহঃ) রাবী ইবনে খাছায়ম (রাহঃ) এর সূত্রে অনুরূপ বলেছেন। তিনি বলেন, আমি রাবীকে জিজ্ঞাসা করলাম, আপনি কার নিকট থেকে তা শুনেছেন? তিনি বললেন, আমর ইবনে মায়মুন (রাহঃ) থেকে। তিনি বলেন, তখন আমি আমর ইবনে মায়মুন (রাহঃ) এর কাছে গেলাম এবং বললাম, আপনি কার নিকট থেকে শুনেছেন? তিনি বললেন, আবু আইয়ুব আনসারী (রাযিঃ) থেকে। তিনি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) থেকে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।
6601

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ نُمَيْرٍ، وَزُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، وَأَبُو كُرَيْبٍ وَمُحَمَّدُ بْنُ طَرِيفٍ الْبَجَلِيُّ قَالُوا حَدَّثَنَا ابْنُ فُضَيْلٍ، عَنْ عُمَارَةَ بْنِ الْقَعْقَاعِ، عَنْ أَبِي زُرْعَةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " كَلِمَتَانِ خَفِيفَتَانِ عَلَى اللِّسَانِ ثَقِيلَتَانِ فِي الْمِيزَانِ حَبِيبَتَانِ إِلَى الرَّحْمَنِ سُبْحَانَ اللَّهِ وَبِحَمْدِهِ سُبْحَانَ اللَّهِ الْعَظِيمِ " .

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৬৬০১। মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে নুমাইর, যুহাইর ইবনে হারব, আবু কুরায়ব ও মুহাম্মাদ ইবনে তারীফ বাজালী (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ দুটি কালেমা জিহ্বার উপর (উচ্চারণে) খুবই হালকা, মীযানের (পাল্লায়) অত্যান্ত ভারী, রহমান (পরম দয়ালু আল্লাহ) এর কাছে খুবই প্রিয়। তা হলোঃ سُبْحَانَ اللَّهِ وَبِحَمْدِهِ سُبْحَانَ اللَّهِ الْعَظِيمِ (আমি আল্লাহ তাআলার জন্য সপ্রশংসা পবিত্রতা জ্ঞাপন করছি, আমি মহান আল্লাহর পবিত্রতা বর্ণনা করছি)।

6602

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، وَأَبُو كُرَيْبٍ قَالاَ حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " لأَنْ أَقُولَ سُبْحَانَ اللَّهِ وَالْحَمْدُ لِلَّهِ وَلاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَاللَّهُ أَكْبَرُ أَحَبُّ إِلَىَّ مِمَّا طَلَعَتْ عَلَيْهِ الشَّمْسُ " .

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৬৬০২। আবু বকর ইবনে আবি শাঈবা ও আবু কুরায়ব (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ অবশ্যই আমার এ (বাক্যে) বলা-سُبْحَانَ اللَّهِ وَالْحَمْدُ لِلَّهِ وَلاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَاللَّهُ أَكْبَرُ (আল্লাহ পবিত্র, সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর এবং আল্লাহ ছাড়া ইলাহ নেই, আল্লাহ মহান) পাঠ করা আমার অধিক পছন্দনীয় সে সব জিনিসের চাইতে, যার উপর সূর্য উদিত হয়।

6603

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ مُسْهِرٍ، وَابْنُ، نُمَيْرٍ عَنْ مُوسَى الْجُهَنِيِّ، ح وَحَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ نُمَيْرٍ، - وَاللَّفْظُ لَهُ - حَدَّثَنَا أَبِي، حَدَّثَنَا مُوسَى الْجُهَنِيُّ، عَنْ مُصْعَبِ بْنِ سَعْدٍ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ جَاءَ أَعْرَابِيٌّ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ عَلِّمْنِي كَلاَمًا أَقُولُهُ قَالَ " قُلْ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَحْدَهُ لاَ شَرِيكَ لَهُ اللَّهُ أَكْبَرُ كَبِيرًا وَالْحَمْدُ لِلَّهِ كَثِيرًا سُبْحَانَ اللَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ لاَ حَوْلَ وَلاَ قُوَّةَ إِلاَّ بِاللَّهِ الْعَزِيزِ الْحَكِيمِ " . قَالَ فَهَؤُلاَءِ لِرَبِّي فَمَا لِي قَالَ " قُلِ اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِي وَارْحَمْنِي وَاهْدِنِي وَارْزُقْنِي " . قَالَ مُوسَى أَمَّا عَافِنِي فَأَنَا أَتَوَهَّمُ وَمَا أَدْرِي . وَلَمْ يَذْكُرِ ابْنُ أَبِي شَيْبَةَ فِي حَدِيثِهِ قَوْلَ مُوسَى .

Narrator: হযরত সা'দ ইবন আবী ওয়াক্কাস রাযি.

৬৬০৩। আবু বকর ইবনে আবি শাঈবা (রাহঃ) ......... অন্য সূত্রে মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে নুমাইর (রাহঃ) ......... সা’দ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কাছে এক বেদুঈন এসে বলল, আমাকে একটি কালাম শিক্ষা দিন, যা আমি পাঠ করব। তিনি বললেন, তুমি বলবে-

لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَحْدَهُ لاَ شَرِيكَ لَهُ اللَّهُ أَكْبَرُ كَبِيرًا وَالْحَمْدُ لِلَّهِ كَثِيرًا سُبْحَانَ اللَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ لاَ حَوْلَ وَلاَ قُوَّةَ إِلاَّ بِاللَّهِ الْعَزِيزِ الْحَكِيمِ

″আল্লাহ ব্যতীত কোন ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোন শরীক নেই, আল্লাহ মহান, সর্বাপেক্ষা মহান, আল্লাহরই জন্য যাবতীয় প্রশংসা এবং আমি আল্লাহ রাব্বূল আলামীনের পবিত্রতা জ্ঞাপন করছি। আল্লাহর সাহায্য ব্যতীত ভাল কাজ করার এবং মন্দ কাজ থেকে বিরত থাকার সাধ্য কারো নেই, তিনি পরাক্রমশালী জ্ঞানবান।″

সে বলল, এই সব তো আমার প্রতিপালকের জন্য। আমার জন্য কি? তিনি বললেন, বল,

للَّهُمَّ اغْفِرْ لِي وَارْحَمْنِي وَاهْدِنِي وَارْزُقْنِي

হে আল্লাহ! আপনি আমাকে ক্ষমা করুন, আমার প্রতি রহম করুন, আমাকে হিদায়াত নসীব করুন এবং আমাকে রিযক দান করুন।

মুসা (রাহঃ) বলেন, আমার মনে হয় তিনি (عَافِنِي) আল্লাহ আমাকে ক্ষমা করুনও বলেছেন। তবে আমার তা সঠিক মনে নেই। ইবনে আবি শাঈবা (রাহঃ) তার হাদীসে মুসা (রাহঃ) এর এ উক্তি উল্লেখ করেননি।
6604

حَدَّثَنَا أَبُو كَامِلٍ الْجَحْدَرِيُّ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَاحِدِ، - يَعْنِي ابْنَ زِيَادٍ - حَدَّثَنَا أَبُو مَالِكٍ الأَشْجَعِيُّ عَنْ أَبِيهِ، قَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يُعَلِّمُ مَنْ أَسْلَمَ يَقُولُ " اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِي وَارْحَمْنِي وَاهْدِنِي وَارْزُقْنِي " .

Narrator: আবু মালেক আশজাঈ (রহঃ) পিতা তারিক ইবনে আশয়াম (রাঃ) থেকে

৬৬০৪। আবু কামিল জাহদারী (রাহঃ) ......... আবু মালিক আশজায়ী (রাহঃ) তাঁর পিতার সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, কোন ব্যক্তি ইসলাম গ্রহণ করলে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাকে এই দুআ শিক্ষা দিতেনঃ

اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِي وَارْحَمْنِي وَاهْدِنِي وَارْزُقْنِي

″হে আল্লাহ! আপনি আমাকে ক্ষমা করুন, আমার প্রতি রহম করুন, আমাকে হিদায়াত করুন এবং আমাকে জীবিকা দান করুন।″
6605

حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ أَزْهَرَ الْوَاسِطِيُّ، حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ، حَدَّثَنَا أَبُو مَالِكٍ الأَشْجَعِيُّ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ كَانَ الرَّجُلُ إِذَا أَسْلَمَ عَلَّمَهُ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم الصَّلاَةَ ثُمَّ أَمَرَهُ أَنْ يَدْعُوَ بِهَؤُلاَءِ الْكَلِمَاتِ " اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِي وَارْحَمْنِي وَاهْدِنِي وَعَافِنِي وَارْزُقْنِي " .

Narrator: আবু মালেক আশজাঈ (রহঃ) পিতা তারিক ইবনে আশয়াম (রাঃ) থেকে

৬৬০৫। সাঈদ ইবনে আযহার ওয়াসিতী (রাহঃ) ......... আবু মালিক আশজাঈ (রাহঃ) পিতার সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন কোন ব্যক্তি ইসলামে দীক্ষা গ্রহণ করত তখন নবী (ﷺ) তাকে নামায শিক্ষা দিতেন। এরপর তাকে এই কালেমাসমূহ পাঠ করার নির্দেশ দিতেনঃ

اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِي وَارْحَمْنِي وَاهْدِنِي وَعَافِنِي وَارْزُقْنِي

হে আল্লাহ! আমাকে ক্ষমা করুন, আমর প্রতি রহমত বর্ষণ করুন, আমাকে হিদায়াত দান করুন, আমাকে রোগমুক্ত করে দিন এবং আমার জীবিকা দান করুন।
6606

حَدَّثَنِي زُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ، أَخْبَرَنَا أَبُو مَالِكٍ، عَنْ أَبِيهِ، أَنَّهُ سَمِعَ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم وَأَتَاهُ رَجُلٌ فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ كَيْفَ أَقُولُ حِينَ أَسْأَلُ رَبِّي قَالَ " قُلِ اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِي وَارْحَمْنِي وَعَافِنِي وَارْزُقْنِي " . وَيَجْمَعُ أَصَابِعَهُ إِلاَّ الإِبْهَامَ " فَإِنَّ هَؤُلاَءِ تَجْمَعُ لَكَ دُنْيَاكَ وَآخِرَتَكَ " .

Narrator: আবু মালেক আশজাঈ (রহঃ) পিতা তারিক ইবনে আশয়াম (রাঃ) থেকে

৬৬০৬। যুহাইর ইবনে হারব (রাহঃ) ......... আবু মালিক (রাহঃ) এর পিতার সূত্রে বর্ণিত। তিনি নবী (ﷺ) থেকে শুনেছেন যে, তাঁর কাছে জনৈক ব্যক্তি এসে বলল, ইয়া রাসুলাল্লাহ! আমি যখন আমার রবের কাছে প্রার্থনা করব তখন কিভাবে তা ব্যক্ত করব? তিনি বললেন, তুমি বল, اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِي وَارْحَمْنِي وَعَافِنِي وَارْزُقْنِي (হে আল্লাহ! আপনি আমাকে ক্ষমা করে দিন, আমার প্রতি রহম করুন, আমাকে মাফ করে দিন এবং আমাকে জীবিকা দান করুন।) আর (দুআ করার সময়) বৃদ্ধাঙ্গুলী ব্যতীত সব আঙ্গুল একত্র করবে। (তিনি বললেন) এই শব্দগুলো তোমার দুনিয়া ও আখিরাতকে একত্র করে দেবে।

6607

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا مَرْوَانُ، وَعَلِيُّ بْنُ مُسْهِرٍ، عَنْ مُوسَى الْجُهَنِيِّ، ح وَحَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ نُمَيْرٍ، - وَاللَّفْظُ لَهُ - حَدَّثَنَا أَبِي، حَدَّثَنَا مُوسَى الْجُهَنِيُّ، عَنْ مُصْعَبِ بْنِ سَعْدٍ، حَدَّثَنِي أَبِي قَالَ، كُنَّا عِنْدَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ " أَيَعْجِزُ أَحَدُكُمْ أَنْ يَكْسِبَ كُلَّ يَوْمٍ أَلْفَ حَسَنَةٍ " . فَسَأَلَهُ سَائِلٌ مِنْ جُلَسَائِهِ كَيْفَ يَكْسِبُ أَحَدُنَا أَلْفَ حَسَنَةٍ قَالَ " يُسَبِّحُ مِائَةَ تَسْبِيحَةٍ فَيُكْتَبُ لَهُ أَلْفُ حَسَنَةٍ أَوْ يُحَطُّ عَنْهُ أَلْفُ خَطِيئَةٍ " .

Narrator: মুসআব ইবনে সা‘দ (রহঃ)

৬৬০৭। আবু বকর ইবনে আবি শাঈবা ও মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে নূমায়র (রাহঃ) ......... মুসআব ইবনে সা’দ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমার পিতা আমাকে হাদীস শুনিয়েছেন যে, তিনি বলেন, আমরা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কাছে বসা ছিলাম। তখন তিনি বললেনঃ তোমাদের মধ্যে কেউ কি প্রতিদিন এক হাজার নেকী অর্জন করতে সক্ষম? তখন সেখানে উপবিষ্টদের মধ্য থেকে এক প্রশ্নকারী বলল, আমাদের কেউ কিভাবে এক হাজার নেকী অর্জন করতে পারবে? তিনি বললেনঃ যে একশ’বার তাসবীহ (سبحان الله ) পাঠ করলে তার জন্য এক হাজার নেকী লিপিবদ্ধ করা হবে (অথবা) এবং তার থেকে এক হাজার গুনাহ মিটিয়ে দেওয়া হবে।

১১. কুরআন তিলওয়াত ও যিক্‌রের জন্য সমাবেশের ফযীলত

باب فَضْلِ الاِجْتِمَاعِ عَلَى تِلاَوَةِ الْقُرْآنِ وَعَلَى الذِّكْرِ

6608

حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ يَحْيَى التَّمِيمِيُّ، وَأَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ وَمُحَمَّدُ بْنُ الْعَلاَءِ الْهَمْدَانِيُّ - وَاللَّفْظُ لِيَحْيَى - قَالَ يَحْيَى أَخْبَرَنَا وَقَالَ الآخَرَانِ، حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " مَنْ نَفَّسَ عَنْ مُؤْمِنٍ كُرْبَةً مِنْ كُرَبِ الدُّنْيَا نَفَّسَ اللَّهُ عَنْهُ كُرْبَةً مِنْ كُرَبِ يَوْمِ الْقِيَامَةِ وَمَنْ يَسَّرَ عَلَى مُعْسِرٍ يَسَّرَ اللَّهُ عَلَيْهِ فِي الدُّنْيَا وَالآخِرَةِ وَمَنْ سَتَرَ مُسْلِمًا سَتَرَهُ اللَّهُ فِي الدُّنْيَا وَالآخِرَةِ وَاللَّهُ فِي عَوْنِ الْعَبْدِ مَا كَانَ الْعَبْدُ فِي عَوْنِ أَخِيهِ وَمَنْ سَلَكَ طَرِيقًا يَلْتَمِسُ فِيهِ عِلْمًا سَهَّلَ اللَّهُ لَهُ بِهِ طَرِيقًا إِلَى الْجَنَّةِ وَمَا اجْتَمَعَ قَوْمٌ فِي بَيْتٍ مِنْ بُيُوتِ اللَّهِ يَتْلُونَ كِتَابَ اللَّهِ وَيَتَدَارَسُونَهُ بَيْنَهُمْ إِلاَّ نَزَلَتْ عَلَيْهِمُ السَّكِينَةُ وَغَشِيَتْهُمُ الرَّحْمَةُ وَحَفَّتْهُمُ الْمَلاَئِكَةُ وَذَكَرَهُمُ اللَّهُ فِيمَنْ عِنْدَهُ وَمَنْ بَطَّأَ بِهِ عَمَلُهُ لَمْ يُسْرِعْ بِهِ نَسَبُهُ " .

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৬৬০৮। ইয়াহয়া ইবনে ইয়াহয়া তামীমী, আবু বকর ইবনে আবি শাঈবা ও মুহাম্মাদ ইবনুল আলা হামদানী (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি কোন মুমিনের পার্থিব কোন বিপদ-আপদ দূর করে দেবে, আল্লাহ তাআলা কিয়ামতের দিনে তার থেকে বিপদ দূরীভূত করবেন। যে ব্যক্তি কোন অভাবগ্রস্ত লোকের জন্য সহজ ব্যবস্থা (দুর্দশা লাঘব) করবে, আল্লাহ তাআলা দুনিয়া ও আখিরাতে তার দুর্দশা মোচন করবেন। যে ব্যক্তি কোন মূসলমানের ক্রটি গোপন রাখবে আল্লাহ তাআলা দুনিয়া ও আখিরাতে তার ক্রটি গোপন রাখবেন। বান্দা যতক্ষণ তার ভাই এর সাহায্যে নিয়োজিত থাকে আল্লাহ ততক্ষণ তার সাহায্যে নিয়োজিত থাকেন।

যে ব্যক্তি ইলম হাসিলের জন্য পথে বের হয়, আল্লাহ তার জন্য জান্নাতের পথ সুগম করে দেন। যখন কোন সম্প্রদায় আল্লাহর ঘর সমূহের কোন একটিতে সমবেত হয়ে আল্লাহর কিতাব তিলাওয়াত করে এবং পরস্পরে তার পর্যালোচনায় নিয়োজিত থাকে তখন তাদের উপর প্রশান্তি অবতীর্ণ হয়। রহমতের (শামিয়ানা) তাদের আচ্ছাদিত করে এবং ফিরিশতাগণ তাদের পরিবেষ্টন করে রাখেন। আর আল্লাহ তাআলা তাঁর নৈকট্যধারীদের (ফিরিশতাগণের) মাঝে তাদের স্মরণ (আলোচনা) করেন। আর যে ব্যক্তির আমল তাকে পিছিয়ে দেবে তার বংশ মর্যাদা তাকে এগিয়ে নিতে পারবে না।
6609

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ نُمَيْرٍ، حَدَّثَنَا أَبِي ح، وَحَدَّثَنَاهُ نَصْرُ بْنُ عَلِيٍّ الْجَهْضَمِيُّ، حَدَّثَنَا أَبُو أُسَامَةَ، قَالاَ حَدَّثَنَا الأَعْمَشُ، عَنْ أَبِي صَالِحٍ، وَفِي حَدِيثِ أَبِي أُسَامَةَ حَدَّثَنَا أَبُو صَالِحٍ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِمِثْلِ حَدِيثِ أَبِي مُعَاوِيَةَ غَيْرَ أَنَّ حَدِيثَ أَبِي أُسَامَةَ لَيْسَ فِيهِ ذِكْرُ التَّيْسِيرِ عَلَى الْمُعْسِرِ .

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৬৬০৯। মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে নুমাইর ও নসর ইবনে আলী জাহযামী (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ ...... আবু মুআবিয়া (রাহঃ) এর হাদীসের অনুরূপ। আবু উসামার হাদীসে (একটু পার্থক্য আছে) (তার হাদীসে) “অভাবগ্রস্তের অভাব লাঘব করার” উল্লেখ নেই।

6610
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، وَابْنُ، بَشَّارٍ قَالاَ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، سَمِعْتُ أَبَا إِسْحَاقَ، يُحَدِّثُ عَنِ الأَغَرِّ أَبِي مُسْلِمٍ، أَنَّهُ قَالَ أَشْهَدُ عَلَى أَبِي هُرَيْرَةَ وَأَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ أَنَّهُمَا شَهِدَا عَلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ قَالَ " لاَ يَقْعُدُ قَوْمٌ يَذْكُرُونَ اللَّهَ عَزَّ وَجَلَّ إِلاَّ حَفَّتْهُمُ الْمَلاَئِكَةُ وَغَشِيَتْهُمُ الرَّحْمَةُ وَنَزَلَتْ عَلَيْهِمُ السَّكِينَةُ وَذَكَرَهُمُ اللَّهُ فِيمَنْ عِنْدَهُ " .

وَحَدَّثَنِيهِ زُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، فِي هَذَا الإِسْنَادِ نَحْوَهُ .

Narrator: হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ)

৬৬১০। মুহাম্মাদ ইবনে মুসান্না ও ইবনে বাশশার (রাহঃ) ......... আগারর আবু মুসলিম থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আবু হুরায়রা ও আবু সাঈদ খুদরী (রাযিঃ) সাক্ষ্য দিয়েছেন নবী (ﷺ) বলেছেনঃ কোন সম্প্রদায় আল্লাহ তাআলার যিক্‌র করতে বসলে একদল ফিরিশতা তাদের পরিবেষ্টন করে নেন এবং রহমত তাদের উপর আচ্ছাদন হয়ে যায়। আর তাদের প্রতি প্রশান্তি অবতীর্ণ হয় এবং আল্লাহ তাআলা তার কাছের ফিরিশতাগণের মাঝে তাদের আলোচনা করেন।

যুহাইর ইবনে হারব (রাহঃ) ......... শু’বা থেকে এই সনদে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।
6611

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا مَرْحُومُ بْنُ عَبْدِ الْعَزِيزِ، عَنْ أَبِي نَعَامَةَ السَّعْدِيِّ، عَنْ أَبِي عُثْمَانَ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، قَالَ خَرَجَ مُعَاوِيَةُ عَلَى حَلْقَةٍ فِي الْمَسْجِدِ فَقَالَ مَا أَجْلَسَكُمْ قَالُوا جَلَسْنَا نَذْكُرُ اللَّهَ . قَالَ آللَّهِ مَا أَجْلَسَكُمْ إِلاَّ ذَاكَ قَالُوا وَاللَّهِ مَا أَجْلَسَنَا إِلاَّ ذَاكَ . قَالَ أَمَا إِنِّي لَمْ أَسْتَحْلِفْكُمْ تُهْمَةً لَكُمْ وَمَا كَانَ أَحَدٌ بِمَنْزِلَتِي مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَقَلَّ عَنْهُ حَدِيثًا مِنِّي وَإِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم خَرَجَ عَلَى حَلْقَةٍ مِنْ أَصْحَابِهِ فَقَالَ " مَا أَجْلَسَكُمْ " . قَالُوا جَلَسْنَا نَذْكُرُ اللَّهَ وَنَحْمَدُهُ عَلَى مَا هَدَانَا لِلإِسْلاَمِ وَمَنَّ بِهِ عَلَيْنَا . قَالَ " آللَّهِ مَا أَجْلَسَكُمْ إِلاَّ ذَاكَ " . قَالُوا وَاللَّهِ مَا أَجْلَسَنَا إِلاَّ ذَاكَ . قَالَ " أَمَا إِنِّي لَمْ أَسْتَحْلِفْكُمْ تُهْمَةً لَكُمْ وَلَكِنَّهُ أَتَانِي جِبْرِيلُ فَأَخْبَرَنِي أَنَّ اللَّهَ عَزَّ وَجَلَّ يُبَاهِي بِكُمُ الْمَلاَئِكَةَ " .

Narrator: হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ)

৬৬১১। আবু বকর ইবনে আবি শাঈবা (রাহঃ) ......... আবু সাঈদ খুদরী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, মুআবিয়া (রাযিঃ) মসজিদে একটি ’হালকা’য় আসলেন। তখন তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, কিসে তোমাদের এখানে বসিয়েছে (তোমরা এখানে বসেছ কেন)? তারা বলল, আমরা আল্লাহর যিক্‌র করতে বসেছি। তিনি বললেন, আল্লাহর কসম! এ ছাড়া আর কিছু তোমাদের বসায়নি? (তোমরা কি শুধু এই জন্যই বসেছ?) তারা বলল, আল্লাহর কসম! এ ছাড়া অন্য কিছু আমাদের বসায়নি। তিনি বললেন, আমি তোমাদের প্রতি (মিথ্যার) সন্দেহ পোষণ (করে তা নিরসনের সে উদ্দেশ্যে) কসম করতে বলিনি। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর দৃষ্টিতে আমার যে মর্যাদা ছিল সে অনুযায়ী আমার চেয়ে কম হাদীস বর্ণনাকারী কেউ নেই।

একবার রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তার সাহাবীদের একটি “হলকায়” যোগ দিয়ে বললেন, কিসে তোমাদের বসিয়েছে? তারা বলল, আমরা বসেছি আল্লাহর যিক্‌র ও তার প্রশংসা করার জন্য। যেহেতু তিনি আমাদের ইসলামের দিকে পরিচালিত করেছেন এবং আমাদের উপর তিনি তার অনুগ্রহ করেছেন। তিনি বললেনঃ আল্লাহর কসম! তোমাদের কি কেবল এটাই বসিয়েছে? তারা বলল, আল্লাহর কসম! শুধুমাত্র ঐ উদ্দেশ্যেই আমাদের বসিয়েছে। তিনি বললেনঃ আমি তোমাদের প্রতি মিথ্যার সন্দেহ পোষণ (করে তা দূর করার উদ্দেশ্যে) তোমাদের কসম করতে বলিনি; বরং আমার কাছে জিবরাঈল (আলাইহিস সালাম) এসেছেন। তিনি আমাকে জানিয়েছেন যে, আল্লাহ তাআলা ফিরিশতাগণের কাছে তোমাদের নিয়ে গর্ব প্রকাশ করছেন।

১২. অধিক পরিমাণে ইস্তিগফারের ফযীলত

باب اسْتِحْبَابِ الاِسْتِغْفَارِ وَالاِسْتِكْثَارِ مِنْهُ

6612

حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ يَحْيَى، وَقُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، وَأَبُو الرَّبِيعِ الْعَتَكِيُّ، جَمِيعًا عَنْ حَمَّادٍ، قَالَ يَحْيَى أَخْبَرَنَا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ، عَنْ ثَابِتٍ، عَنْ أَبِي بُرْدَةَ، عَنِ الأَغَرِّ الْمُزَنِيِّ، - وَكَانَتْ لَهُ صُحْبَةٌ - أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " إِنَّهُ لَيُغَانُ عَلَى قَلْبِي وَإِنِّي لأَسْتَغْفِرُ اللَّهَ فِي الْيَوْمِ مِائَةَ مَرَّةٍ " .

Narrator: হযরত আগার ইবনে ইয়াসার আল-মুযানী রাযি.

৬৬১২। ইয়াহয়া ইবনে ইয়াহয়া, কুতায়বা ইবনে সাঈদ ও আবু রাবী আতাকী (রাহঃ) ......... রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সাহাবী আগারর মুযানী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমার ক্বলবে (কখনো কখনো) আবরণ পড়ে যায়, তাই আমি প্রতিদিন একশ বার ইস্তিগফার পাঠ করে থাকি।

১৩. তাওবার বর্ণনা

باب في التوبة

6613

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا غُنْدَرٌ، عَنْ شُعْبَةَ، عَنْ عَمْرِو بْنِ مُرَّةَ، عَنْ أَبِي، بُرْدَةَ قَالَ سَمِعْتُ الأَغَرَّ، وَكَانَ، مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم يُحَدِّثُ ابْنَ عُمَرَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " يَا أَيُّهَا النَّاسُ تُوبُوا إِلَى اللَّهِ فَإِنِّي أَتُوبُ فِي الْيَوْمِ إِلَيْهِ مِائَةَ مَرَّةٍ " .

Narrator: আবু বুরদা আশআরী (রহঃ)

৬৬১৩। আবু বকর ইবনে আবি শাঈবা (রাহঃ) ......... আবু বুরদাহ (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী (ﷺ) এর সাহাবী আগারর (রাযিঃ) থেকে শুনেছি যে, ইবনে উমর (রাযিঃ) হাদীস বর্ণনা করেছিলেন। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ হে লোক সকল! তোমরা আল্লাহর কাছে তাওবা কর। কেননা আমি আল্লাহর কাছে দৈনিক একশ’ বার তাওবা করে থাকি।

6614

حَدَّثَنَاهُ عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ مُعَاذٍ، حَدَّثَنَا أَبِي ح، وَحَدَّثَنَا ابْنُ الْمُثَنَّى، حَدَّثَنَا أَبُو دَاوُدَ، وَعَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ مَهْدِيٍّ كُلُّهُمْ عَنْ شُعْبَةَ، فِي هَذَا الإِسْنَادِ .

Narrator: শু'বা ইবনুল হাজ্জাজ (রহঃ)

৬৬১৪। উবাইদুল্লাহ ইবনে মু’আয, ইবনে মুসান্না (রাহঃ) ......... শু’বা (রাহঃ) সূত্রে এই সনদে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।

6615

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا أَبُو خَالِدٍ يَعْنِي سُلَيْمَانَ بْنَ حَيَّانَ، ح وَحَدَّثَنَا ابْنُ نُمَيْرٍ، حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ، ح وَحَدَّثَنِي أَبُو سَعِيدٍ الأَشَجُّ، حَدَّثَنَا حَفْصٌ، - يَعْنِي ابْنَ غِيَاثٍ - كُلُّهُمْ عَنْ هِشَامٍ، ح وَحَدَّثَنِي أَبُو خَيْثَمَةَ، زُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ - وَاللَّفْظُ لَهُ - حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ، بْنُ إِبْرَاهِيمَ عَنْ هِشَامِ بْنِ حَسَّانَ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ سِيرِينَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " مَنْ تَابَ قَبْلَ أَنْ تَطْلُعَ الشَّمْسُ مِنْ مَغْرِبِهَا تَابَ اللَّهُ عَلَيْهِ " .

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৬৬১৫। আবু বকর ইবনে আবি শাঈবা, ইবনে নুমাইর, আবু সাঈদ আশাজ্জ, আবু খায়সামা ও যুহাইর ইবনে হারব (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি পশ্চিম দিক থেকে সূর্য উদিত হওয়ার পূর্বে তাওবা করবে আল্লাহ তার তাওবা কবুল করবেন।

১৪. আস্তে যিক্‌র করা মুস্তাহাব

باب اسْتِحْبَابِ خَفْضِ الصَّوْتِ بِالذِّكْرِ

6616

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ فُضَيْلٍ، وَأَبُو مُعَاوِيَةَ عَنْ عَاصِمٍ، عَنْ أَبِي عُثْمَانَ، عَنْ أَبِي مُوسَى، قَالَ كُنَّا مَعَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فِي سَفَرٍ فَجَعَلَ النَّاسُ يَجْهَرُونَ بِالتَّكْبِيرِ فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم " أَيُّهَا النَّاسُ ارْبَعُوا عَلَى أَنْفُسِكُمْ إِنَّكُمْ لَيْسَ تَدْعُونَ أَصَمَّ وَلاَ غَائِبًا إِنَّكُمْ تَدْعُونَ سَمِيعًا قَرِيبًا وَهُوَ مَعَكُمْ " . قَالَ وَأَنَا خَلْفَهُ وَأَنَا أَقُولُ لاَ حَوْلَ وَلاَ قُوَّةَ إِلاَّ بِاللَّهِ فَقَالَ " يَا عَبْدَ اللَّهِ بْنَ قَيْسٍ أَلاَ أَدُلُّكَ عَلَى كَنْزٍ مِنْ كُنُوزِ الْجَنَّةِ " . فَقُلْتُ بَلَى يَا رَسُولَ اللَّهِ . قَالَ " قُلْ لاَ حَوْلَ وَلاَ قُوَّةَ إِلاَّ بِاللَّهِ " .

Narrator: আবু মুসা আশ'আরী (রাঃ)

৬৬১৬। আবু বকর ইবনে আবি শাঈবা (রাহঃ) ......... আবু মুসা আশআরী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একবার আমরা নবী (ﷺ) এর সঙ্গে কোন এক সফরে ছিলাম। তখন লোকেরা জোরে জোরে তাকবীর পাঠ করছিল। নবী (ﷺ) বললেনঃ হে লোক সকল! তোমরা তোমাদের প্রাণের প্রতি সদয় হও। কেননা, তোমরা তো কোন বধির কিংবা কোন অনুপস্থিত সত্তাকে ডাকছ না। নিশ্চয়ই তোমরা ডাকছ এমন এক সত্তাকে যিনি সর্বশ্রোতা, নিকটবর্তী এবং তিনি তোমাদের সঙ্গে আছেন।

আবু মুসা (রাযিঃ) বলেন, আমি তার পিছনে ছিলাম। তখন আমি বললাম, لاَ حَوْلَ وَلاَ قُوَّةَ إِلاَّ بِاللَّهِ (আল্লাহর সাহায্য ব্যতীত কারো ভাল কাজের দিকে উদ্যোগী হওয়ার এবং মন্দ কাজ থেকে বিরত থাকার সাধ্য নেই)

তখন তিনি (রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেন, হে আব্দুল্লাহ ইবনে কায়স! আমি কি তোমাকে জান্নাতের ভাণ্ডারসমূহের কোন একটি ভাণ্ডারের সন্ধান দেব না? তখন আমি বললাম, নিশ্চয়ই ইয়া রাসুলাল্লাহ! তখন তিনি বললেন, তুমি বল, لاَ حَوْلَ وَلاَ قُوَّةَ إِلاَّ بِاللَّهِ (আল্লাহর সাহায্য ব্যতীত কারো ভাল কাজের দিকে উদ্যোগী হওয়ার এবং মন্দ কাজ থেকে বিরত থাকার সাধ্য নেই)
6617

حَدَّثَنَا ابْنُ نُمَيْرٍ، وَإِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، وَأَبُو سَعِيدٍ الأَشَجُّ جَمِيعًا عَنْ حَفْصِ بْنِ، غِيَاثٍ عَنْ عَاصِمٍ، بِهَذَا الإِسْنَادِ نَحْوَهُ .

Narrator: আসিম আল আহওয়াল (রহঃ)

৬৬১৭। ইবনে নুমাইর, ইসহাক ইবনে ইবরাহীম ও আবু সাঈদ আশাজ্জ (রাহঃ) ......... আসিম সূত্রে এই সনদে তার অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।

6618

حَدَّثَنَا أَبُو كَامِلٍ، فُضَيْلُ بْنُ حُسَيْنٍ حَدَّثَنَا يَزِيدُ، - يَعْنِي ابْنَ زُرَيْعٍ - حَدَّثَنَا التَّيْمِيُّ، عَنْ أَبِي عُثْمَانَ، عَنْ أَبِي مُوسَى، أَنَّهُمْ كَانُوا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَهُمْ يَصْعَدُونَ فِي ثَنِيَّةٍ - قَالَ - فَجَعَلَ رَجُلٌ كُلَّمَا عَلاَ ثَنِيَّةً نَادَى لاَ إِلَهَ إِلاَ اللَّهُ وَاللَّهُ أَكْبَرُ - قَالَ - فَقَالَ نَبِيُّ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " إِنَّكُمْ لاَ تُنَادُونَ أَصَمَّ وَلاَ غَائِبًا " . قَالَ فَقَالَ " يَا أَبَا مُوسَى - أَوْ يَا عَبْدَ اللَّهِ بْنَ قَيْسٍ - أَلاَ أَدُلُّكَ عَلَى كَلِمَةٍ مِنْ كَنْزِ الْجَنَّةِ " . قُلْتُ مَا هِيَ يَا رَسُولَ اللَّهِ قَالَ " لاَ حَوْلَ وَلاَ قُوَّةَ إِلاَّ بِاللَّهِ " .

Narrator: আবু মুসা আশ'আরী (রাঃ)

৬৬১৮। আবু কামিল, ফূযায়ল ইবনে হুসাইন (রাহঃ) ......... আবু মুসা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তারা (সাহাবীগণ) রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সঙ্গে ছিলেন এবং তারা তখন একটি পার্বত্য ঘাঁটিতে (মোড়ে) আরোহণ করছিলেন। তিনি বলেন, এক ব্যক্তি যখনই কোন টিলার উপর উঠত তখন উচ্চস্বরে لاَ إِلَهَ إِلاَ اللَّهُ وَاللَّهُ أَكْبَرُ ’আল্লাহ ব্যতীত কোন ইলাহ নেই এবং আল্লাহ মহান’ বলত। তিনি (রাবী) বলেন, তখন নবী (ﷺ) বললেনঃ তোমরা তো নিশ্চয়ই কোন বধির কিংবা অনুপস্থিত সত্তাকে ডাকছ না। তিনি বলেন, এরপর নবী (ﷺ) বললেনঃ হে আব্দুল্লাহ ইবনে কায়স! আমি কি তোমাকে একটি কালেমা বাতলে দেব, যা জান্নাতের ভাণ্ডার (তুল্য)। আমি বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ! সেটা কি? তিনি বললেনঃ لاَ حَوْلَ وَلاَ قُوَّةَ إِلاَّ بِاللَّهِ ’আল্লাহর সাহায্য ব্যতীত কারো ভাল কাজ করার এবং মন্দ কাজ থেকে ফিরে থাকার সাধ্য নেই।’

6619

وَحَدَّثَنَاهُ مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الأَعْلَى، حَدَّثَنَا الْمُعْتَمِرُ، عَنْ أَبِيهِ، حَدَّثَنَا أَبُو عُثْمَانَ، عَنْ أَبِي مُوسَى، قَالَ بَيْنَمَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَذَكَرَ نَحْوَهُ .

Narrator: আবু মুসা আশ'আরী (রাঃ)

৬৬১৯। মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল আলা (রাহঃ) ......... আবু মুসা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদের কাছে আসলেন। এরপর তিনি তার (পূর্ববর্তী হাদীসের) অনুরূপ উল্লেখ করেন।

6620

حَدَّثَنَا خَلَفُ بْنُ هِشَامٍ، وَأَبُو الرَّبِيعِ، قَالاَ حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ، عَنْ أَيُّوبَ، عَنْ أَبِي، عُثْمَانَ عَنْ أَبِي مُوسَى، قَالَ كُنَّا مَعَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فِي سَفَرٍ . فَذَكَرَ نَحْوَ حَدِيثِ عَاصِمٍ .

Narrator: আবু মুসা আশ'আরী (রাঃ)

৬৬২০। খালফ ইবনে হিশাম ও আবু রাবী (রাহঃ) ......... আবু মুসা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। কোন এক যুদ্ধে আমরা রাসুল (ﷺ) এর সঙ্গে ছিলম। ...... এরপর তিনি আসিমের হাদীসের অনুরূপ উল্লেখ করেন।

6621

وَحَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، أَخْبَرَنَا الثَّقَفِيُّ، حَدَّثَنَا خَالِدٌ الْحَذَّاءُ، عَنْ أَبِي عُثْمَانَ، عَنْ أَبِي مُوسَى، قَالَ كُنَّا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي غَزَاةٍ . فَذَكَرَ الْحَدِيثَ وَقَالَ فِيهِ " وَالَّذِي تَدْعُونَهُ أَقْرَبُ إِلَى أَحَدِكُمْ مِنْ عُنُقِ رَاحِلَةِ أَحَدِكُمْ " . وَلَيْسَ فِي حَدِيثِهِ ذِكْرُ لاَ حَوْلَ وَلاَ قُوَّةَ إِلاَّ بِاللَّهِ .

Narrator: আবু মুসা আশ'আরী (রাঃ)

৬৬২১। ইসহাক ইবনে ইবরাহীম (রাহঃ) ......... আবু মুসা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সঙ্গে কোন এক যুদ্ধে ছিলাম। ...... এরপর তিনি পুরো হাদীস উল্লেখ করেন। তিনি তার বর্ণনায় বলেছেন, ″তোমরা যাকে ডাকছ তিনি তোমাদের বাহনের (উটের) গর্দানের চাইতেও নিকটতর।″ তবে তার হাদীসে لاَ حَوْلَ وَلاَ قُوَّةَ إِلاَّ بِاللَّهِ প্রসঙ্গের উল্লেখ নেই।

6622

حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، أَخْبَرَنَا النَّضْرُ بْنُ شُمَيْلٍ، حَدَّثَنَا عُثْمَانُ، - وَهُوَ ابْنُ غِيَاثٍ - حَدَّثَنَا أَبُو عُثْمَانَ، عَنْ أَبِي مُوسَى الأَشْعَرِيِّ، قَالَ قَالَ لِي رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " أَلاَ أَدُلُّكَ عَلَى كَلِمَةٍ مِنْ كُنُوزِ الْجَنَّةِ - أَوْ قَالَ - عَلَى كَنْزٍ مِنْ كُنُوزِ الْجَنَّةِ " . فَقُلْتُ بَلَى . فَقَالَ " لاَ حَوْلَ وَلاَ قُوَّةَ إِلاَّ بِاللَّهِ " .

Narrator: আবু মুসা আশ'আরী (রাঃ)

৬৬২২। ইসহাক ইবনে ইবরাহীম (রাহঃ) ......... আবু মুসা আশআরী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাকে বলেছেনঃ আমি তোমাকে জান্নাতের ভাণ্ডারসমূহের একটি কালেমার কথা বাতলে দেব না? অথবা তিনি বলেছেনঃ জান্নাতের ভাণ্ডারসমূহের মধ্যে একটি ভাণ্ডার সম্পর্কে বলব না? তখন আমি বললামঃ হ্যাঁ। তখন তিনি বললেনঃ لاَ حَوْلَ وَلاَ قُوَّةَ إِلاَّ بِاللَّهِ (আল্লাহর সাহায্য ব্যতীত কারো ভাল কাজ করার এবং মন্দ কাজ থেকে বিরত থাকার সাধ্য নেই)।

১৫. (আল্লাহর কাছে) ফিতনা ও দুর্যোগের অকল্যাণ থেকে আশ্রয় প্রার্থনা

باب التَّعَوُّذِ مِنْ شَرِّ الْفِتَنِ وَغَيْرِهَا

6623
حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا لَيْثٌ، ح وَحَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ رُمْحٍ، أَخْبَرَنَا اللَّيْثُ، عَنْ يَزِيدَ بْنِ أَبِي حَبِيبٍ، عَنْ أَبِي الْخَيْرِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو، عَنْ أَبِي بَكْرٍ، أَنَّهُ قَالَ لِرَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَلِّمْنِي دُعَاءً أَدْعُو بِهِ فِي صَلاَتِي قَالَ " قُلِ اللَّهُمَّ إِنِّي ظَلَمْتُ نَفْسِي ظُلْمًا كَبِيرًا - وَقَالَ قُتَيْبَةُ كَثِيرًا - وَلاَ يَغْفِرُ الذُّنُوبَ إِلاَّ أَنْتَ فَاغْفِرْ لِي مَغْفِرَةً مِنْ عِنْدِكَ وَارْحَمْنِي إِنَّكَ أَنْتَ الْغَفُورُ الرَّحِيمُ " .
وَحَدَّثَنِيهِ أَبُو الطَّاهِرِ، أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ وَهْبٍ، أَخْبَرَنِي رَجُلٌ، سَمَّاهُ وَعَمْرُو بْنُ الْحَارِثِ عَنْ يَزِيدَ بْنَ أَبِي حَبِيبٍ، عَنْ أَبِي الْخَيْرِ، أَنَّهُ سَمِعَ عَبْدَ اللَّهِ بْنِ عَمْرِو بْنِ الْعَاصِ، يَقُولُ إِنَّ أَبَا بَكْرٍ الصِّدِّيقَ قَالَ لِرَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَلِّمْنِي يَا رَسُولَ اللَّهِ دُعَاءً أَدْعُو بِهِ فِي صَلاَتِي وَفِي بَيْتِي . ثُمَّ ذَكَرَ بِمِثْلِ حَدِيثِ اللَّيْثِ غَيْرَ أَنَّهُ قَالَ " ظُلْمًا كَثِيرًا " .

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনে আ'স (রাঃ)

৬৬২৩। কুতায়বা ইবনে সাঈদ ও মুহাম্মাদ ইবনে রুমহ (রাহঃ) ......... আব্দুল্লাহ ইবনে আমর (রাযিঃ) সূত্রে আবু বকর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কাছে বললেন, আপনি আমাকে এমন একটি দুআ শিক্ষা দিন, যা আমি আমার নামাযে পড়ব। তিনি বললেনঃ তুমি বল,

اللَّهُمَّ إِنِّي ظَلَمْتُ نَفْسِي ظُلْمًا كَبِيرًا - وَقَالَ قُتَيْبَةُ كَثِيرًا - وَلاَ يَغْفِرُ الذُّنُوبَ إِلاَّ أَنْتَ فَاغْفِرْ لِي مَغْفِرَةً مِنْ عِنْدِكَ وَارْحَمْنِي إِنَّكَ أَنْتَ الْغَفُورُ الرَّحِيمُ

(হে আল্লাহ! আমি আমার নিজের উপর (সাংঘাতিক) বড় রকমের যুলুম করেছি। কুতায়বা (রাহঃ) বলেন, অত্যধিক (যুলুম)। আপনি ব্যতীত কেউ গোনাহসমূহ ক্ষমা করতে পারে না। সুতরাং আপনি আপনার তরফ থেকে আমাকে ক্ষমা করুন এবং আমার প্রতি রহম করুন। নিশ্চয়ই আপনি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।)

আবু তাহির (রাহঃ) ......... আবুল খায়ের (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আ’স (রাযিঃ) কে বলতে শুনেছেন যে, আবু বকর সিদ্দীক (রাযিঃ) রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কাছে বললেন, ইয়া রাসুলাল্লাহ! আপনি আমাকে এমন একটি দুআ শিক্ষা দিন যার দ্বারা আমি আমার নামাযে ও ঘরে দুআ করতে পারি। এরপর তিনি লাঈসের হাদীসের অনুরূপ উল্লেখ করেছেন। তবে তিনি ظُلْمًا كَثِيرًا 'অনেক যুলুম’ উল্লেখ করেছেন।
6624

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، وَأَبُو كُرَيْبٍ - وَاللَّفْظُ لأَبِي بَكْرٍ - قَالاَ حَدَّثَنَا ابْنُ، نُمَيْرٍ حَدَّثَنَا هِشَامٌ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَائِشَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَانَ يَدْعُو بِهَؤُلاَءِ الدَّعَوَاتِ " اللَّهُمَّ فَإِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنْ فِتْنَةِ النَّارِ وَعَذَابِ النَّارِ وَفِتْنَةِ الْقَبْرِ وَعَذَابِ الْقَبْرِ وَمِنْ شَرِّ فِتْنَةِ الْغِنَى وَمِنْ شَرِّ فِتْنَةِ الْفَقْرِ وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّ فِتْنَةِ الْمَسِيحِ الدَّجَّالِ اللَّهُمَّ اغْسِلْ خَطَايَاىَ بِمَاءِ الثَّلْجِ وَالْبَرَدِ وَنَقِّ قَلْبِي مِنَ الْخَطَايَا كَمَا نَقَّيْتَ الثَّوْبَ الأَبْيَضَ مِنَ الدَّنَسِ وَبَاعِدْ بَيْنِي وَبَيْنَ خَطَايَاىَ كَمَا بَاعَدْتَ بَيْنَ الْمَشْرِقِ وَالْمَغْرِبِ اللَّهُمَّ فَإِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنَ الْكَسَلِ وَالْهَرَمِ وَالْمَأْثَمِ وَالْمَغْرَمِ " .

Narrator: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

৬৬২৪। আবু বকর ইবনে আবি শাঈবা ও আবু কুরায়ব (রাহঃ) ......... আয়িশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এই সব দুআ করতেনঃ (দুআর অর্থঃ) ″হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে জাহান্নামের ফিতনা থেকে আশ্রয় চাই, জাহান্নামের আযাব থেকে আশ্রয় চাই, কবরের ফিতনা, কবরের সংকট, কবরের আযাব ও ধন-সম্পদের ফিতনা এবং দারিদ্রের ফিতনার অনিষ্ট থেকে আপনার আশ্রয় চাই। আমি আপনার কাছে মাসীহ দাজ্জালের ফিতনার অশুভ পরিণতি থেকে পানাহ চাই। হে আল্লাহ! আমার পাপরাশি বরফ ও ঠাণ্ডা পানি দ্বারা ধুয়ে সাফ করে দিন। আমার কলব পরিস্কার করে দিন যেভাবে আপনি সাদা কাপড় ময়লা থেকে সাফ করে দেন। আমি ও আমার পাপরাশির মধ্যে ব্যবধান করে দিন যেমন আপনি পূর্ব ও পশ্চিমের মধ্যে ব্যবধান সৃষ্টি করেছেন। হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে অলসতা, বার্ধক্য, পাপ ও ধার-কর্জ থেকে পানাহ চাই।″

6625

وَحَدَّثَنَاهُ أَبُو كُرَيْبٍ، حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ، وَوَكِيعٌ، عَنْ هِشَامٍ، بِهَذَا الإِسْنَادِ .

Narrator: হিশাম ইবনে উরওয়া (রহঃ)

৬৬২৫। আবু কুবায়ব (রাহঃ) ......... হিশাম (রাহঃ) এর সূত্রে এই সনদে অনুরূপ বর্ণিত।

১৬. অক্ষমতা ও অলসতা ইত্যাদি থেকে আশ্রয় প্রার্থনা

باب التَّعَوُّذِ مِنَ الْعَجْزِ وَالْكَسَلِ وَغَيْرِهِ

6626

حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ أَيُّوبَ، حَدَّثَنَا ابْنُ عُلَيَّةَ، قَالَ وَأَخْبَرَنَا سُلَيْمَانُ التَّيْمِيُّ، حَدَّثَنَا أَنَسُ، بْنُ مَالِكٍ قَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنَ الْعَجْزِ وَالْكَسَلِ وَالْجُبْنِ وَالْهَرَمِ وَالْبُخْلِ وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ عَذَابِ الْقَبْرِ وَمِنْ فِتْنَةِ الْمَحْيَا وَالْمَمَاتِ " .

Narrator: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

৬৬২৬। ইয়াহয়া ইবনে আইয়ুব (রাহঃ) ......... আনাস ইবনে মালিক (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ হে আল্লাহ! আমি আপনার নিকট অক্ষমতা, অলসতা, কাপুরষতা, বার্ধক্য, কৃপণতা থেকে আশ্রয় চাচ্ছি। আমি আপনার কাছে আরও আশ্রয় চাচ্ছি কবরের আযাব, জীবন ও মৃত্যুর দুর্যোগের অনিষ্ট থেকে।

6627

وَحَدَّثَنَا أَبُو كَامِلٍ، حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ زُرَيْعٍ، ح وَحَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الأَعْلَى، حَدَّثَنَا مُعْتَمِرٌ، كِلاَهُمَا عَنِ التَّيْمِيِّ، عَنْ أَنَسٍ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم . بِمِثْلِهِ غَيْرَ أَنَّ يَزِيدَ لَيْسَ فِي حَدِيثِهِ قَوْلُهُ " وَمِنْ فِتْنَةِ الْمَحْيَا وَالْمَمَاتِ " .

Narrator: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

৬৬২৭। আবু কামিল ও মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল আলা (রাহঃ) ......... আনাস (রাযিঃ) সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে ......... পূর্বোক্ত হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত। তবে ইয়াযীদের হাদীসে ‘র্জীবন ও মৃত্যুর দুর্যোগের অনিষ্ট হতে’ কথাটির উল্লেখ নেই।

6628

حَدَّثَنَا أَبُو كُرَيْبٍ، مُحَمَّدُ بْنُ الْعَلاَءِ أَخْبَرَنَا ابْنُ مُبَارَكٍ، عَنْ سُلَيْمَانَ التَّيْمِيِّ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ تَعَوَّذَ مِنْ أَشْيَاءَ ذَكَرَهَا وَالْبُخْلِ .

Narrator: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

৬৬২৮। আবু কুরায়ব মুহাম্মাদ ইবনে আ’লা (রাহঃ) ......... আনাস ইবনে মালিক (রাযিঃ) নবী (ﷺ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি আশ্রয় চেয়েছেন বর্ণিত বস্তুসমূহ থেকে এবং কৃপণতা হতে।

6629

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ نَافِعٍ الْعَبْدِيُّ، حَدَّثَنَا بَهْزُ بْنُ أَسَدٍ الْعَمِّيُّ، حَدَّثَنَا هَارُونُ الأَعْوَرُ، حَدَّثَنَا شُعَيْبُ بْنُ الْحَبْحَابِ، عَنْ أَنَسٍ، قَالَ كَانَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم يَدْعُو بِهَؤُلاَءِ الدَّعَوَاتِ " اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنَ الْبُخْلِ وَالْكَسَلِ وَأَرْذَلِ الْعُمُرِ وَعَذَابِ الْقَبْرِ وَفِتْنَةِ الْمَحْيَا وَالْمَمَاتِ " .

Narrator: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

৬৬২৯। আবু বকর ইবনে নাফি আব্দী (রাহঃ) ......... আনাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এই দুআসমূহ দ্বারা দুআ করতেনঃ

اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنَ الْبُخْلِ وَالْكَسَلِ وَأَرْذَلِ الْعُمُرِ وَعَذَابِ الْقَبْرِ وَفِتْنَةِ الْمَحْيَا وَالْمَمَاتِ

হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে কৃপণতা, অলসতা, বয়সের নিকৃষ্টতম সময় (বার্ধক্যের দৈন্য), কবরের আযাব এবং জীবন ও মৃত্যুর দুর্যোগ থেকে আশ্রয় চাই।

১৭. মন্দ অবস্থা, দুর্ভাগ্যের প্রকোপ ইত্যাদি থেকে আশ্রয় প্রার্থনা

باب فِي التَّعَوُّذِ مِنْ سُوءِ الْقَضَاءِ وَدَرَكِ الشَّقَاءِ وَغَيْرِهِ

6630

حَدَّثَنِي عَمْرٌو النَّاقِدُ، وَزُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، قَالاَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ، حَدَّثَنِي سُمَىٌّ، عَنْ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم كَانَ يَتَعَوَّذُ مِنْ سُوءِ الْقَضَاءِ وَمِنْ دَرَكِ الشَّقَاءِ وَمِنْ شَمَاتَةِ الأَعْدَاءِ وَمِنْ جَهْدِ الْبَلاَءِ . قَالَ عَمْرٌو فِي حَدِيثِهِ قَالَ سُفْيَانُ أَشُكُّ أَنِّي زِدْتُ وَاحِدَةً مِنْهَا .

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৬৬৩০। আমর নাকিদ ও যুহাইর ইবনে হারব (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আশ্রয় চাইতেন অদৃষ্টের মন্দ অবস্থা থেকে, পাপের প্রাবাল্য থেকে, দুশমনের আনন্দিত হওয়া থেকে এবং বিপদের কঠিন সংকট থেকে। আমর তাঁর হাদীসে বলেছেন যে, সুফিয়ান (রাহঃ) বলেছেন, আমি সন্দেহ পোষণ করছি, এর থেকে একটি বাড়িয়ে বলতে।

6631

حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا لَيْثٌ، ح وَحَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ رُمْحٍ، وَاللَّفْظُ، لَهُ أَخْبَرَنَا اللَّيْثُ، عَنْ يَزِيدَ بْنِ أَبِي حَبِيبٍ، عَنِ الْحَارِثِ بْنِ يَعْقُوبَ، أَنَّ يَعْقُوبَ بْنَ عَبْدِ اللَّهِ، حَدَّثَهُ أَنَّهُ، سَمِعَ بُسْرَ بْنَ سَعِيدٍ، يَقُولُ سَمِعْتُ سَعْدَ بْنَ أَبِي وَقَّاصٍ، يَقُولُ سَمِعْتُ خَوْلَةَ بِنْتَ حَكِيمٍ السُّلَمِيَّةَ، تَقُولُ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " مَنْ نَزَلَ مَنْزِلاً ثُمَّ قَالَ أَعُوذُ بِكَلِمَاتِ اللَّهِ التَّامَّاتِ مِنْ شَرِّ مَا خَلَقَ . لَمْ يَضُرُّهُ شَىْءٌ حَتَّى يَرْتَحِلَ مِنْ مَنْزِلِهِ ذَلِكَ " .

Narrator: হযরত খাওলা বিনতে হাকীম সুলামিয়্যা রাযি.

৬৬৩১। কুতায়বা ইবনে সাঈদ, মুহাম্মাদ ইবনে রুমহ (রাহঃ) ......... খাওলা বিনতে হাকীম সুলাইমান (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে বলতে শুনেছি যে, তিনি বলেছেনঃ যে ব্যক্তি কোন মনযিলে অবতরণ করে বলবে, أَعُوذُ بِكَلِمَاتِ اللَّهِ التَّامَّاتِ مِنْ شَرِّ مَا خَلَقَ ″আমি আল্লাহর পূর্ণাঙ্গ কালাম দ্বারা তার কাছে তাঁর সৃষ্টির অনিষ্ট থেকে আশ্রয় চাই।″ সে ঐ মানযিল থেকে অন্যত্র রওয়ানা হওয়া পর্যন্ত তাকে কোন ক্ষতি করতে পারবে না।

6632
وَحَدَّثَنَا هَارُونُ بْنُ مَعْرُوفٍ، وَأَبُو الطَّاهِرِ، كِلاَهُمَا عَنِ ابْنِ وَهْبٍ، - وَاللَّفْظُ لِهَارُونَ - حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ وَهْبٍ، قَالَ وَأَخْبَرَنَا عَمْرٌو، - وَهُوَ ابْنُ الْحَارِثِ - أَنَّ يَزِيدَ بْنَ أَبِي، حَبِيبٍ وَالْحَارِثَ بْنَ يَعْقُوبَ حَدَّثَاهُ عَنْ يَعْقُوبَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الأَشَجِّ، عَنْ بُسْرِ بْنِ سَعِيدٍ، عَنْ سَعْدِ بْنِ أَبِي وَقَّاصٍ، عَنْ خَوْلَةَ بِنْتِ حَكِيمٍ السُّلَمِيَّةِ، أَنَّهَا سَمِعَتْ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " إِذَا نَزَلَ أَحَدُكُمْ مَنْزِلاً فَلْيَقُلْ أَعُوذُ بِكَلِمَاتِ اللَّهِ التَّامَّاتِ مِنْ شَرِّ مَا خَلَقَ . فَإِنَّهُ لاَ يَضُرُّهُ شَىْءٌ حَتَّى يَرْتَحِلَ مِنْهُ " .

قَالَ يَعْقُوبُ وَقَالَ الْقَعْقَاعُ بْنُ حَكِيمٍ عَنْ ذَكْوَانَ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّهُ قَالَ جَاءَ رَجُلٌ إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ مَا لَقِيتُ مِنْ عَقْرَبٍ لَدَغَتْنِي الْبَارِحَةَ قَالَ " أَمَا لَوْ قُلْتَ حِينَ أَمْسَيْتَ أَعُوذُ بِكَلِمَاتِ اللَّهِ التَّامَّاتِ مِنْ شَرِّ مَا خَلَقَ لَمْ تَضُرُّكَ " .

Narrator: হযরত সা'দ ইবন আবী ওয়াক্কাস রাযি.

৬৬৩২। হারুন ইবনে মারুফ ও আবু তাহির (রাহঃ) ......... সা’দ ইবনে আবু ওয়াক্কাস (রাযিঃ) সূত্রে খাওহল বিনতে হাকীম সুলামী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, তিনি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে বলতে শুনেছেন যে, তিনি বলেছেনঃ তোমাদের কেউ যখন কোন মনযিলে অবস্থান করে তখন সে যেন বলে (এই দুআ পাঠ করে) ″আমি আল্লাহর পরিপূর্ণ কালাম দ্বারা তাঁর কাছে তাঁর সৃষ্টির অনিষ্ট থেকে আশ্রয় চাই।″ এতে সে ব্যক্তি এ মনযিল থেকে অন্যত্র রওয়ানা হওয়া অবধি কোন কিছু তাকে ক্ষতি করতে পারবে না।

ইয়াকুব (রাহঃ) বলেন, কা’কা ইবনে হাকীম (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, জনৈক ব্যক্তি নবী (ﷺ) এর কাছে এসে বলল, ইয়া রাসুলাল্লাহ! গত রাতে একটি বিচ্ছু আমাকে দংশন কারণে আমি বড় কষ্ট পাচ্ছি। তিনি বললেনঃ যদি তুমি সন্ধ্যায় এই দুআটি পাঠ করতে أَعُوذُ بِكَلِمَاتِ اللَّهِ التَّامَّاتِ مِنْ شَرِّ مَا خَلَقَ তাহলে সে তোমাকে কষ্ট দিতে পারত না।
6633

وَحَدَّثَنِي عِيسَى بْنُ حَمَّادٍ الْمِصْرِيُّ، أَخْبَرَنِي اللَّيْثُ، عَنْ يَزِيدَ بْنِ أَبِي حَبِيبٍ، عَنْ جَعْفَرٍ، عَنْ يَعْقُوبَ، أَنَّهُ ذَكَرَ لَهُ أَنَّ أَبَا صَالِحٍ، مَوْلَى غَطَفَانَ أَخْبَرَهُ أَنَّهُ، سَمِعَ أَبَا هُرَيْرَةَ، يَقُولُ قَالَ رَجُلٌ يَا رَسُولَ اللَّهِ لَدَغَتْنِي عَقْرَبٌ . بِمِثْلِ حَدِيثِ ابْنِ وَهْبٍ .

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৬৬৩৩। ঈসা ইবনে হাম্মাদ (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কাছে এল এবং বলল, ইয়া রাসুলাল্লাহ! আমাকে একটি বিচ্ছু দংশন করেছে। ...... এরপর ইবনে ওয়াহবের হাদীসের অনুরূপ।

১৮. নিদ্রা ও বিছানায় শোওয়ার সময় দুআ

باب مَا يَقُولُ عِنْدَ النَّوْمِ وَأَخْذِ الْمَضْجَعِ

6634

حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، وَإِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، - وَاللَّفْظُ لِعُثْمَانَ - قَالَ إِسْحَاقُ أَخْبَرَنَا وَقَالَ، عُثْمَانُ حَدَّثَنَا جَرِيرٌ، عَنْ مَنْصُورٍ، عَنْ سَعْدِ بْنِ عُبَيْدَةَ، حَدَّثَنِي الْبَرَاءُ بْنُ عَازِبٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " إِذَا أَخَذْتَ مَضْجَعَكَ فَتَوَضَّأْ وُضُوءَكَ لِلصَّلاَةِ ثُمَّ اضْطَجِعْ عَلَى شِقِّكَ الأَيْمَنِ ثُمَّ قُلِ اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْلَمْتُ وَجْهِي إِلَيْكَ وَفَوَّضْتُ أَمْرِي إِلَيْكَ وَأَلْجَأْتُ ظَهْرِي إِلَيْكَ رَغْبَةً وَرَهْبَةً إِلَيْكَ لاَ مَلْجَأَ وَلاَ مَنْجَا مِنْكَ إِلاَّ إِلَيْكَ آمَنْتُ بِكِتَابِكَ الَّذِي أَنْزَلْتَ وَبِنَبِيِّكَ الَّذِي أَرْسَلْتَ وَاجْعَلْهُنَّ مِنْ آخِرِ كَلاَمِكَ فَإِنْ مُتَّ مِنْ لَيْلَتِكَ مُتَّ وَأَنْتَ عَلَى الْفِطْرَةِ " . قَالَ فَرَدَّدْتُهُنَّ لأَسْتَذْكِرَهُنَّ فَقُلْتُ آمَنْتُ بِرَسُولِكَ الَّذِي أَرْسَلْتَ قَالَ " قُلْ آمَنْتُ بِنَبِيِّكَ الَّذِي أَرْسَلْتَ " .

Narrator: হযরত বারা’ ইবনে আযিব (রাঃ)

৬৬৩৪। উসমান ইবনে আবি শাঈবা ও ইসহাক ইবনে ইবরাহীম (রাহঃ) ......... বারা’ ইবনে আযিব (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যখন তুমি তোমার শয্যা গ্রহণ করবে তখন নামাযের ন্যায় তুমি উযু করে নেবে। এরপর ডান কাত হয়ে শুয়ে পড়বে। এরপর তুমি বল,

اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْلَمْتُ وَجْهِي إِلَيْكَ وَفَوَّضْتُ أَمْرِي إِلَيْكَ وَأَلْجَأْتُ ظَهْرِي إِلَيْكَ رَغْبَةً وَرَهْبَةً إِلَيْكَ لاَ مَلْجَأَ وَلاَ مَنْجَا مِنْكَ إِلاَّ إِلَيْكَ آمَنْتُ بِكِتَابِكَ الَّذِي أَنْزَلْتَ وَبِنَبِيِّكَ الَّذِي أَرْسَلْتَ وَاجْعَلْهُنَّ مِنْ آخِرِ كَلاَمِكَ فَإِنْ مُتَّ مِنْ لَيْلَتِكَ مُتَّ وَأَنْتَ عَلَى الْفِطْرَةِ . قَالَ فَرَدَّدْتُهُنَّ لأَسْتَذْكِرَهُنَّ فَقُلْتُ آمَنْتُ بِرَسُولِكَ الَّذِي أَرْسَلْتَ

অর্থঃ ″হে আল্লাহ! আমি আমার মুখমণ্ডল আপনার দিকে সোপর্দ করলাম, আমার কাজ-কর্ম আপনার কাছে সমর্পণ করলাম। আমি পুরস্কার লাভের আশায় এবং শাস্তির ভয়ে আমার পিঠ আপনার আশ্রয়ে অর্পণ করলাম (আপনার উপর ভরসা করলাম)। আপনার ছাড়া কোন আশ্রয়স্থল ও মুক্তির স্থান নেই। আপনার যে কিতাব নাযিল করেছন তার উপর ঈমান আনলাম, আপনার যে নবীকে প্রেরণ করেছ তাঁর প্রতি ঈমান আনলাম।″

আর এই বাক্যগুলোকে তোমার শেষ কথা বানিয়ে নাও। এরপর যদি তুমি এই রাতে ইন্‌তিকাল কর তাহলে তুমি ইসলামের উপরই ইন্‌তিকাল করলে। বারাআ (রাযিঃ) বলেন, আমি এই বাক্যগুলো স্মরণে রাখার জন্য পুনর্বার পড়লাম। তখন আমি বললাম, آمَنْتُ بِرَسُولِكَ الَّذِي أَرْسَلْتَ (আমি আপনার রাসুলের প্রতি ঈমান এনেছি যাকে আপনি রাসুলরূপে পাঠিয়েছেন)। অর্থাৎ তোমার نَبِيِّكَ স্থলে رَسُولِكَ বললাম। তিনি বললেন, তুমি বল, آمَنْتُ بِنَبِيِّكَ الَّذِي أَرْسَلْتَ (আমি ঈমান এনেছি আপনার নবীর প্রতি যাকে আপনি পাঠিয়েছেন)।
6635

وَحَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ نُمَيْرٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ، - يَعْنِي ابْنَ إِدْرِيسَ - قَالَ سَمِعْتُ حُصَيْنًا، عَنْ سَعْدِ بْنِ عُبَيْدَةَ، عَنِ الْبَرَاءِ بْنِ عَازِبٍ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم . بِهَذَا الْحَدِيثِ غَيْرَ أَنَّ مَنْصُورًا أَتَمُّ حَدِيثًا وَزَادَ فِي حَدِيثِ حُصَيْنٍ " وَإِنْ أَصْبَحَ أَصَابَ خَيْرًا " .

Narrator: হযরত বারা’ ইবনে আযিব (রাঃ)

৬৬৩৫। মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে নুমাইর (রাহঃ) ......... বারাআ ইবনে আযীয (রাযিঃ) সূত্রে থেকে এই হাদীস বর্ণনা করেছেন। তিনি মানসুর বর্ণিত হাদীসটি পরিপূর্ণ। সা’দ ইবনে উবাইদা হুসাইনের হাদীসে ’যদি তার সকাল হয় তাহলে সে কল্যাণ লাভ করবে’ কথাটি অধিক উল্লেখ করেছেন।

6636

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، حَدَّثَنَا أَبُو دَاوُدَ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، ح وَحَدَّثَنَا ابْنُ بَشَّارٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ، وَأَبُو دَاوُدَ قَالاَ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ عَمْرِو بْنِ مُرَّةَ، قَالَ سَمِعْتُ سَعْدَ بْنَ عُبَيْدَةَ، يُحَدِّثُ عَنِ الْبَرَاءِ بْنِ عَازِبٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَمَرَ رَجُلاً إِذَا أَخَذَ مَضْجَعَهُ مِنَ اللَّيْلِ أَنْ يَقُولَ " اللَّهُمَّ أَسْلَمْتُ نَفْسِي إِلَيْكَ وَوَجَّهْتُ وَجْهِي إِلَيْكَ وَأَلْجَأْتُ ظَهْرِي إِلَيْكَ وَفَوَّضْتُ أَمْرِي إِلَيْكَ رَغْبَةً وَرَهْبَةً إِلَيْكَ لاَ مَلْجَأَ وَلاَ مَنْجَا مِنْكَ إِلاَّ إِلَيْكَ آمَنْتُ بِكِتَابِكَ الَّذِي أَنْزَلْتَ وَبِرَسُولِكَ الَّذِي أَرْسَلْتَ . فَإِنْ مَاتَ مَاتَ عَلَى الْفِطْرَةِ " . وَلَمْ يَذْكُرِ ابْنُ بَشَّارٍ فِي حَدِيثِهِ مِنَ اللَّيْلِ .

Narrator: হযরত বারা’ ইবনে আযিব (রাঃ)

৬৬৩৬। মুহাম্মাদ ইবনে মুসান্না ও ইবনে বাশশার (রাহঃ) ......... বারাআ ইবনে আযীয (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এক ব্যক্তিকে নির্দেশ দিলেন যেন রাতে শয্যা গ্রহণের সময় সে বলেঃ

اللَّهُمَّ أَسْلَمْتُ نَفْسِي إِلَيْكَ وَوَجَّهْتُ وَجْهِي إِلَيْكَ وَأَلْجَأْتُ ظَهْرِي إِلَيْكَ وَفَوَّضْتُ أَمْرِي إِلَيْكَ رَغْبَةً وَرَهْبَةً إِلَيْكَ لاَ مَلْجَأَ وَلاَ مَنْجَا مِنْكَ إِلاَّ إِلَيْكَ آمَنْتُ بِكِتَابِكَ الَّذِي أَنْزَلْتَ وَبِرَسُولِكَ الَّذِي أَرْسَلْتَ

অর্থঃ হে আল্লাহ! আমি আমার জীবন আপনার কাছে সঁপে দিলাম। আমার মুখমণ্ডল আপনার প্রতি ফিরালাম। আমার পিঠ আপনার আশ্রয়ে অর্পণ করলাম, (পুরস্কার লাভের) আশায় ও (আযাবের) ভয়ে; আপনার (অসন্তুষ্টি) হতে আপনারই কাছে ব্যতীত কোন ঠিকানা ও আশ্রয় নেই। আমি ঈমান এনেছি আপনার কিতাবের প্রতি যা আপনি নাযিল করেছেন এবং রাসূলের প্রতি যাকে আপনি পাঠিয়েছেন।

এরপর যদি সে ঐ রাতে ইন্‌তিকাল করে তাহলে ইসলামের উপরই ইন্‌তিকাল করেছে বলে গণ্য হবে। ইবনে বাশশার (রাহঃ) তার হাদীসে مِنَ اللَّيْلِ শব্দটি উল্লেখ করেননি।
6637

حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ يَحْيَى، أَخْبَرَنَا أَبُو الأَحْوَصِ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، عَنِ الْبَرَاءِ بْنِ، عَازِبٍ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لِرَجُلٍ " يَا فُلاَنُ إِذَا أَوَيْتَ إِلَى فِرَاشِكَ " . بِمِثْلِ حَدِيثِ عَمْرِو بْنِ مُرَّةَ غَيْرَ أَنَّهُ قَالَ " وَبِنَبِيِّكَ الَّذِي أَرْسَلْتَ . فَإِنْ مُتَّ مِنْ لَيْلَتِكَ مُتَّ عَلَى الْفِطْرَةِ وَإِنْ أَصْبَحْتَ أَصَبْتَ خَيْرًا " .

Narrator: হযরত বারা’ ইবনে আযিব (রাঃ)

৬৬৩৭। ইয়াহয়া ইবনে ইয়াহয়া (রাহঃ) ......... বারাআ ইবনে আযীয (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এক ব্যক্তিকে বললেনঃ হে অমুক! যখন তুমি তোমার শয্যায় আশ্রয় গ্রহণ করবে ...... এরপর আমর ইবনে মুররা বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ। তবে (পার্থক্য এই যে), তিনি বলেছেন, وَبِنَبِيِّكَ الَّذِي أَرْسَلْتَ (এবং আপনার সেই নবীর প্রতি, যাকে আপনি পাঠিয়েছেন)। যদি তুমি রাতে মারা যাও তাহলে ইসলামের উপরই মারা গেলে। যদি ভোর বেলায় উঠ তাহলে তুমি কল্যাণ লাভ করবে।

6638

حَدَّثَنَا ابْنُ الْمُثَنَّى، وَابْنُ، بَشَّارٍ قَالاَ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ أَبِي، إِسْحَاقَ أَنَّهُ سَمِعَ الْبَرَاءَ بْنَ عَازِبٍ، يَقُولُ أَمَرَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم رَجُلاً . بِمِثْلِهِ وَلَمْ يَذْكُرْ " وَإِنْ أَصْبَحْتَ أَصَبْتَ خَيْرًا " .

Narrator: হযরত বারা’ ইবনে আযিব (রাঃ)

৬৬৩৮। ইবনে মুসান্না ও ইবনে বাশশার (রাহঃ) ......... বারা’ ইবনে আযিব (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেছেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এক ব্যক্তিকে আদেশ করলেন ...... এরপর তার অনুরূপ। তবে তিনি “যদি তুমি ভোর বেলায় উঠ তাহলে তোমার কল্যাণ হবে” কথাটি উল্লেখ করেননি।

6639

حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ مُعَاذٍ، حَدَّثَنَا أَبِي، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي السَّفَرِ، عَنْ أَبِي بَكْرِ بْنِ أَبِي مُوسَى، عَنِ الْبَرَاءِ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم كَانَ إِذَا أَخَذَ مَضْجَعَهُ قَالَ " اللَّهُمَّ بِاسْمِكَ أَحْيَا وَبِاسْمِكَ أَمُوتُ " . وَإِذَا اسْتَيْقَظَ قَالَ " الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي أَحْيَانَا بَعْدَ مَا أَمَاتَنَا وَإِلَيْهِ النُّشُورُ " .

Narrator: হযরত বারা’ ইবনে আযিব (রাঃ)

৬৬৩৯। উবাইদুল্লাহ ইবনে মু’আয (রাহঃ) ......... বারাআ ইবনে আযিব (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, নবী (ﷺ) যখন শয্যা-গ্রহণ করতেন তখন তিনি বলতেন, اللَّهُمَّ بِاسْمِكَ أَحْيَا وَبِاسْمِكَ أَمُوتُ ″হে আল্লাহ! আমি তোমার নামেই জীবিত আছি আর তোমার নামেই মৃত্যুবরণ করছি।″

আর যখন তিনি নিদ্রা থেকে উঠতেন তখন বলতেনঃ الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي أَحْيَانَا بَعْدَ مَا أَمَاتَنَا وَإِلَيْهِ النُّشُورُ ″সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্যই যিনি আমাদেরকে মৃত্যুর পর জীবন দান করেছেন। আর তার দিকেই প্রত্যাবর্তন।″
6640

حَدَّثَنَا عُقْبَةُ بْنُ مُكْرَمٍ الْعَمِّيُّ، وَأَبُو بَكْرِ بْنُ نَافِعٍ قَالاَ حَدَّثَنَا غُنْدَرٌ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ خَالِدٍ، قَالَ سَمِعْتُ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ الْحَارِثِ، يُحَدِّثُ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ، أَنَّهُ أَمَرَ رَجُلاً إِذَا أَخَذَ مَضْجَعَهُ قَالَ " اللَّهُمَّ خَلَقْتَ نَفْسِي وَأَنْتَ تَوَفَّاهَا لَكَ مَمَاتُهَا وَمَحْيَاهَا إِنْ أَحْيَيْتَهَا فَاحْفَظْهَا وَإِنْ أَمَتَّهَا فَاغْفِرْ لَهَا اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ الْعَافِيَةَ " . فَقَالَ لَهُ رَجُلٌ أَسَمِعْتَ هَذَا مِنْ عُمَرَ فَقَالَ مِنْ خَيْرٍ مِنْ عُمَرَ مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم . قَالَ ابْنُ نَافِعٍ فِي رِوَايَتِهِ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الْحَارِثِ . وَلَمْ يَذْكُرْ سَمِعْتُ .

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

৬৬৪০। উকবা ইবনে মুকরাম আম্মী ও আবু বকর ইবনে নাফি (রাহঃ) ......... আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি এক ব্যক্তিকে নির্দেশ দিলেন, যখন শয্যাগ্রহণ করবে তখন বলবে,

اللَّهُمَّ خَلَقْتَ نَفْسِي وَأَنْتَ تَوَفَّاهَا لَكَ مَمَاتُهَا وَمَحْيَاهَا إِنْ أَحْيَيْتَهَا فَاحْفَظْهَا وَإِنْ أَمَتَّهَا فَاغْفِرْ لَهَا اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ الْعَافِيَةَ

হে আল্লাহ! তুমি আমার প্রাণ সৃষ্টি করেছ এবং তুমিই তার মৃত্যুদানকারী। তোমার জন্য তার (নফসের) জীবন ও মৃত্যু। যদি তুমি একে জীবিত রাখ তাহলে এর হিফাযত কর। আর যদি তুমি এর মৃত্যু ঘটাও তাহলে একে ক্ষমা করে দাও। হে আল্লাহ! আমি তোমার কাছে সুস্থতা কামনা করছি।

তখন সে তাকে বলল, আপনি কি তা উমর (রাযিঃ) থেকে শুনেছেন? তিনি বললেন, উমরের চাইতে যিনি উত্তম (অর্থাৎ) রাসূলুল্লাহ (ﷺ) থেকে শুনেছি। ইবনে নাফি (রাহঃ) তার বর্ণনায় আব্দুল্লাহ ইবনে হারিস (রাহঃ) থেকে বলেছেন। তিনি سَمِعْتُ শব্দটি উল্লেখ করেন নি।
6641

حَدَّثَنِي زُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، حَدَّثَنَا جَرِيرٌ، عَنْ سُهَيْلٍ، قَالَ كَانَ أَبُو صَالِحٍ يَأْمُرُنَا إِذَا أَرَادَ أَحَدُنَا أَنْ يَنَامَ أَنْ يَضْطَجِعَ عَلَى شِقِّهِ الأَيْمَنِ ثُمَّ يَقُولُ " اللَّهُمَّ رَبَّ السَّمَوَاتِ وَرَبَّ الأَرْضِ وَرَبَّ الْعَرْشِ الْعَظِيمِ رَبَّنَا وَرَبَّ كُلِّ شَىْءٍ فَالِقَ الْحَبِّ وَالنَّوَى وَمُنْزِلَ التَّوْرَاةِ وَالإِنْجِيلِ وَالْفُرْقَانِ أَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّ كُلِّ شَىْءٍ أَنْتَ آخِذٌ بِنَاصِيَتِهِ اللَّهُمَّ أَنْتَ الأَوَّلُ فَلَيْسَ قَبْلَكَ شَىْءٌ وَأَنْتَ الآخِرُ فَلَيْسَ بَعْدَكَ شَىْءٌ وَأَنْتَ الظَّاهِرُ فَلَيْسَ فَوْقَكَ شَىْءٌ وَأَنْتَ الْبَاطِنُ فَلَيْسَ دُونَكَ شَىْءٌ اقْضِ عَنَّا الدَّيْنَ وَأَغْنِنَا مِنَ الْفَقْرِ " . وَكَانَ يَرْوِي ذَلِكَ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم .

Narrator: সুহায়ল ইবনে আবু সালিহ (রহঃ)

৬৬৪১। যুহাইর ইবনে হারব (রাহঃ) ......... সুহাঈল (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আবু সালিহ (রাহঃ) আমাদিগকে নির্দেশ দিতেন, যখন আমাদের কেউ নিদ্রায় যায় সে যেন ডান কাত হয়ে শয্যা গ্রহণ করে। এরপর সে বলবে,

اللَّهُمَّ رَبَّ السَّمَوَاتِ وَرَبَّ الأَرْضِ وَرَبَّ الْعَرْشِ الْعَظِيمِ رَبَّنَا وَرَبَّ كُلِّ شَىْءٍ فَالِقَ الْحَبِّ وَالنَّوَى وَمُنْزِلَ التَّوْرَاةِ وَالإِنْجِيلِ وَالْفُرْقَانِ أَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّ كُلِّ شَىْءٍ أَنْتَ آخِذٌ بِنَاصِيَتِهِ اللَّهُمَّ أَنْتَ الأَوَّلُ فَلَيْسَ قَبْلَكَ شَىْءٌ وَأَنْتَ الآخِرُ فَلَيْسَ بَعْدَكَ شَىْءٌ وَأَنْتَ الظَّاهِرُ فَلَيْسَ فَوْقَكَ شَىْءٌ وَأَنْتَ الْبَاطِنُ فَلَيْسَ دُونَكَ شَىْءٌ اقْضِ عَنَّا الدَّيْنَ وَأَغْنِنَا مِنَ الْفَقْرِ

হে আল্লাহ! আপনি আসমান, যমীন ও মহান আরশের প্রতিপালক। আমাদের প্রতিপালক ও সব কিছুর পালনকর্তা। আপনি বীজ ও উদ্ভিদের সৃষ্টিকর্তা, আপনি তাওরাত, ইনজীল ও ফুরকানের অবতীর্ণকারী। আমি আপনার কাছে সকল প্রকার অনিষ্ট থেকে পানাহ চাই, আপনি তার মস্তক ধারণকারী (নিয়ন্ত্রণকারী)। হে আল্লাহ! আপনিই আদি, আপনার পূর্বে কোন কিছুর (অস্তিত্ব) নেই এবং আপনিই অন্ত, আপনার পরে কোন কিছু নেই। আপনিই যাহির, আপনার উর্ধ্বে কেউ নেই। আপনিই বাতিন, আপনার অগোচরে কিছু নেই। আমাদের ঋণ পরিশোধ করে দিন এবং দারিদ্র্য থেকে আমাদের অভাবমুক্ত করে দিন।

তিনি (আবু সালিহ)আবু হুরায়রা (রাযিঃ) সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে এ হাদীসটি রিওয়ায়াত করতেন।
6642

وَحَدَّثَنِي عَبْدُ الْحَمِيدِ بْنُ بَيَانٍ الْوَاسِطِيُّ، حَدَّثَنَا خَالِدٌ، - يَعْنِي الطَّحَّانَ - عَنْ سُهَيْلٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَأْمُرُنَا إِذَا أَخَذْنَا مَضْجَعَنَا أَنْ نَقُولَ . بِمِثْلِ حَدِيثِ جَرِيرٍ وَقَالَ " مِنْ شَرِّ كُلِّ دَابَّةٍ أَنْتَ آخِذٌ بِنَاصِيَتِهَا " .

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৬৬৪২। আব্দুল হামীদ ইবনে বায়ান ওয়াসেতী (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদের আদেশ দিতেন যে, যখন আমরা শয্যাগ্রহণ করি তখন যেন আমরা বলি ......... এরপর জারীরের হাদীসের অনুরূপ। আর তিনি বলেছেনঃ সকল প্রাণীর অনিষ্ট থেকে যাদের মস্তক ধারণকারী (নিয়ন্ত্রণকর্তা) আপনিই।

6643

وَحَدَّثَنَا أَبُو كُرَيْبٍ، مُحَمَّدُ بْنُ الْعَلاَءِ حَدَّثَنَا أَبُو أُسَامَةَ، ح وَحَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي، شَيْبَةَ وَأَبُو كُرَيْبٍ قَالاَ حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي عُبَيْدَةَ، حَدَّثَنَا أَبِي كِلاَهُمَا، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ أَبِي، صَالِحٍ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ أَتَتْ فَاطِمَةُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم تَسْأَلُهُ خَادِمًا فَقَالَ لَهَا " قُولِي اللَّهُمَّ رَبَّ السَّمَوَاتِ السَّبْعِ " . بِمِثْلِ حَدِيثِ سُهَيْلٍ عَنْ أَبِيهِ .

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৬৬৪৩। আবু কুরায়ব মুহাম্মাদ ইবনুল আ’লা ও আবু বকর ইবনে আবি শাঈবা(রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, ফাতিমা (রাযিঃ) নবী (ﷺ) এর কাছে এসে একজন খাদিম চাইলেন। তখন তিনি তাঁকে বললেনঃ তুমি বল, اللَّهُمَّ رَبَّ السَّمَوَاتِ السَّبْعِ “সাত আসমানের মালিক হে আল্লাহ! ...... “(তারপর) সুহাঈলের পিতা থেকে বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ।

6644

وَحَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ مُوسَى الأَنْصَارِيُّ، حَدَّثَنَا أَنَسُ بْنُ عِيَاضٍ، حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ، حَدَّثَنِي سَعِيدُ بْنُ أَبِي سَعِيدٍ الْمَقْبُرِيُّ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " إِذَا أَوَى أَحَدُكُمْ إِلَى فِرَاشِهِ فَلْيَأْخُذْ دَاخِلَةَ إِزَارِهِ فَلْيَنْفُضْ بِهَا فِرَاشَهُ وَلْيُسَمِّ اللَّهَ فَإِنَّهُ لاَ يَعْلَمُ مَا خَلَفَهُ بَعْدَهُ عَلَى فِرَاشِهِ فَإِذَا أَرَادَ أَنْ يَضْطَجِعَ فَلْيَضْطَجِعْ عَلَى شِقِّهِ الأَيْمَنِ وَلْيَقُلْ سُبْحَانَكَ اللَّهُمَّ رَبِّي بِكَ وَضَعْتُ جَنْبِي وَبِكَ أَرْفَعُهُ إِنْ أَمْسَكْتَ نَفْسِي فَاغْفِرْ لَهَا وَإِنْ أَرْسَلْتَهَا فَاحْفَظْهَا بِمَا تَحْفَظُ بِهِ عِبَادَكَ الصَّالِحِينَ " .

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৬৬৪৪। ইসহাক ইবনে মুসা আনসারী (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ তোমাদের কেউ যখন তার আশ্রয় নেয়, তখন সে যেন তার কাপড়ের আচল দিয়ে বিছানা ঝেড়ে নেয় এবং বিসমিল্লাহ পড়ে নেয়। কেননা সে জানেনা যে, শয্যা ত্যাগ করার পর তার বিছানায় কি আছে। এরপর যখন সে শয়ন করবে তখন যেন ডান কাতে শয়ন করে। এরপর সে যেন বলে,

سُبْحَانَكَ اللَّهُمَّ رَبِّي بِكَ وَضَعْتُ جَنْبِي وَبِكَ أَرْفَعُهُ إِنْ أَمْسَكْتَ نَفْسِي فَاغْفِرْ لَهَا وَإِنْ أَرْسَلْتَهَا فَاحْفَظْهَا بِمَا تَحْفَظُ بِهِ عِبَادَكَ الصَّالِحِينَ

হে আমার প্রতিপালক! আপনি পবিত্র। আপনার নামেই আমি আমার পার্শ্ব (পাঁজর) রাখলাম, আপনার নামেই তা উঠাব। আপনি যদি আমার প্রাণ বায়ু নিভিয়ে দেন তাহলে আমাকে ক্ষমা করে দিবেন। আর যদি আপনি তাকে উঠবার অবকাশ দেন তাহলে তাকে হিফাযত করুন, যেমন আপনি আপনার নেক বান্দাদের হিফাযত করে থাকেন।
6645

وَحَدَّثَنَا أَبُو كُرَيْبٍ، حَدَّثَنَا عَبْدَةُ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ، بِهَذَا الإِسْنَادِ وَقَالَ " ثُمَّ لْيَقُلْ بِاسْمِكَ رَبِّي وَضَعْتُ جَنْبِي فَإِنْ أَحْيَيْتَ نَفْسِي فَارْحَمْهَا " .

Narrator: উবাইদুল্লাহ ইবনু উমার (রহঃ)

৬৬৪৫। আবু কুরায়ব (রাহঃ) ......... উবাইদুল্লাহ ইবনে উমর (রাহঃ) এই সনদে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেছেনঃ এরপর সে যেন বলে ″হে আমার প্রতিপালক! তোমার নামে আমার পার্শ্ব রাখলাম। যদি তুমি আমার প্রাণ জীবিত রাখ তাহলে তার উপর অনুগ্রহ বর্ষণ কর।″

6646

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ، عَنْ حَمَّادِ بْنِ سَلَمَةَ، عَنْ ثَابِتٍ، عَنْ أَنَسٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَانَ إِذَا أَوَى إِلَى فِرَاشِهِ قَالَ " الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي أَطْعَمَنَا وَسَقَانَا وَكَفَانَا وَآوَانَا فَكَمْ مِمَّنْ لاَ كَافِيَ لَهُ وَلاَ مُئْوِيَ " .

Narrator: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

৬৬৪৬। আবু বকর ইবনে আবি শাঈবা (রাহঃ) ......... আনাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যখন শয্যা গ্রহণ করতেন তখন তিনি বলতেনঃ

الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي أَطْعَمَنَا وَسَقَانَا وَكَفَانَا وَآوَانَا فَكَمْ مِمَّنْ لاَ كَافِيَ لَهُ وَلاَ مُئْوِيَ

″সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি আমাদের আহার দিয়েছেন, পানি পান করিয়েছেন, তিনি আমাদের পৃষ্ঠপোষকতা করেছেন, আমাদের আশ্রয় দিয়েছেন। এমন অনেক আছে যাদের জন্য কোন পৃষ্ঠপোষক নেই, আশ্রয় দাতাও নেই।″

১৯. কৃত আমল ও না করা আমলের অনিষ্ট হতে আশ্রয় চাওয়া

باب التَّعَوُّذِ مِنْ شَرِّ مَا عَمِلَ وَمِنْ شَرِّ مَا لَمْ يَعْمَلْ

6647

حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ يَحْيَى، وَإِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، - وَاللَّفْظُ لِيَحْيَى - قَالاَ أَخْبَرَنَا جَرِيرٌ، عَنْ مَنْصُورٍ، عَنْ هِلاَلٍ، عَنْ فَرْوَةَ بْنِ نَوْفَلٍ الأَشْجَعِيِّ، قَالَ سَأَلْتُ عَائِشَةَ عَمَّا كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَدْعُو بِهِ اللَّهَ قَالَتْ كَانَ يَقُولُ " اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّ مَا عَمِلْتُ وَمِنْ شَرِّ مَا لَمْ أَعْمَلْ " .

Narrator: ফারওয়া ইবনে নওফাল (রহঃ)

৬৬৪৭। ইয়াহয়া ইবনে ইয়াহয়া, ইসহাক ইবনে ইবরাহীম (রাহঃ) ......... ফারওয়া ইবনে নাওফাল আশজা’ঈ (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আয়িশা (রাযিঃ) কে জিজ্ঞাসা করলাম, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আল্লাহর কাছে কি কি দুআ করতেন? তিনি বললেন, তিনি বলতেনঃ

اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّ مَا عَمِلْتُ وَمِنْ شَرِّ مَا لَمْ أَعْمَلْ

হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে সে সব কর্মের অনিষ্ট থেকে পানাহ চাই যা আমি আমল করেছি এবং আমি যা করিনি তা থেকে”।
6648

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، وَأَبُو كُرَيْبٍ قَالاَ حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ إِدْرِيسَ، عَنْ حُصَيْنٍ، عَنْ هِلاَلٍ، عَنْ فَرْوَةَ بْنِ نَوْفَلٍ، قَالَ سَأَلْتُ عَائِشَةَ عَنْ دُعَاءٍ، كَانَ يَدْعُو بِهِ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَتْ كَانَ يَقُولُ " اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّ مَا عَمِلْتُ وَشَرِّ مَا لَمْ أَعْمَلْ " .

Narrator: ফারওয়া ইবনে নওফাল (রহঃ)

৬৬৪৮। আবু বকর ইবনে আবি শাঈবা ও আবু কুরায়ব (রাহঃ) ......... ফারওয়া ইবনে নাওফাল (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আয়িশা (রাযিঃ) কে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর দুআ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম। তিনি বললেন, তিনি বলতেনঃ

للَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّ مَا عَمِلْتُ وَشَرِّ مَا لَمْ أَعْمَلْ

হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে সে সব কর্মের অনিষ্ট থেকে আশ্রয় চাই যা আমি করেছি এবং যা আমি করিনি।
6649

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، وَابْنُ، بَشَّارٍ قَالاَ حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي عَدِيٍّ، ح وَحَدَّثَنَا مُحَمَّدُ، بْنُ عَمْرِو بْنِ جَبَلَةَ حَدَّثَنَا مُحَمَّدٌ، - يَعْنِي ابْنَ جَعْفَرٍ - كِلاَهُمَا عَنْ شُعْبَةَ، عَنْ حُصَيْنٍ، بِهَذَا الإِسْنَادِ مِثْلَهُ غَيْرَ أَنَّ فِي حَدِيثِ مُحَمَّدِ بْنِ جَعْفَرٍ " وَمِنْ شَرِّ مَا لَمْ أَعْمَلْ " .

Narrator: বিবিধ

৬৬৪৯। মুহাম্মাদ ইবনে মুসান্না ও ইবনে বাশশার, মুহাম্মাদ ইবনে আমর ইবনে জাবালা (রাহঃ) ......... হুসাইন (রাহঃ) থেকে এই সনদে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। মুহাম্মাদ ইবনে জাফরের হাদীসে রয়েছে (وَمِنْ شَرِّ مَا لَمْ أَعْمَلْ)।

6650

وَحَدَّثَنِي عَبْدُ اللَّهِ بْنُ هَاشِمٍ، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، عَنِ الأَوْزَاعِيِّ، عَنْ عَبْدَةَ بْنِ أَبِي لُبَابَةَ، عَنْ هِلاَلِ بْنِ يَسَافٍ، عَنْ فَرْوَةَ بْنِ نَوْفَلٍ، عَنْ عَائِشَةَ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم كَانَ يَقُولُ فِي دُعَائِهِ " اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّ مَا عَمِلْتُ وَشَرِّ مَا لَمْ أَعْمَلْ " .

Narrator: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

৬৬৫০। আব্দুল্লাহ ইবনে হাশিম (রাহঃ) ......... আয়িশা (রাযিঃ) সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে বর্ণিত। তিনি তাঁর দুআয় বলতেনঃ اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّ مَا عَمِلْتُ وَشَرِّ مَا لَمْ أَعْمَلْ হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে আশ্রয় চাই সে সব আমলের অনিষ্ট থেকে, যা আমি করেছি এবং যা আমি করিনি (তার অনিষ্ট থেকেও)।

6651

حَدَّثَنِي حَجَّاجُ بْنُ الشَّاعِرِ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عَمْرٍو أَبُو مَعْمَرٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَارِثِ، حَدَّثَنَا الْحُسَيْنُ، حَدَّثَنِي ابْنُ بُرَيْدَةَ، عَنْ يَحْيَى بْنِ يَعْمُرَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَانَ يَقُولُ " اللَّهُمَّ لَكَ أَسْلَمْتُ وَبِكَ آمَنْتُ وَعَلَيْكَ تَوَكَّلْتُ وَإِلَيْكَ أَنَبْتُ وَبِكَ خَاصَمْتُ اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِعِزَّتِكَ لاَ إِلَهَ إِلاَّ أَنْتَ أَنْ تُضِلَّنِي أَنْتَ الْحَىُّ الَّذِي لاَ يَمُوتُ وَالْجِنُّ وَالإِنْسُ يَمُوتُونَ " .

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

৬৬৫১। হাজ্জাজ ইবনে শাঈর (রাহঃ) ......... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলতেনঃ

اللَّهُمَّ لَكَ أَسْلَمْتُ وَبِكَ آمَنْتُ وَعَلَيْكَ تَوَكَّلْتُ وَإِلَيْكَ أَنَبْتُ وَبِكَ خَاصَمْتُ اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِعِزَّتِكَ لاَ إِلَهَ إِلاَّ أَنْتَ أَنْ تُضِلَّنِي أَنْتَ الْحَىُّ الَّذِي لاَ يَمُوتُ وَالْجِنُّ وَالإِنْسُ يَمُوتُونَ

হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছেই আত্মসমর্পণ করছি, আপনার প্রতই ঈমান এনেছি, আপনার উপরই ভরসা করছি, আপনার দিকেই ধাবিত হয়েছি এবং আপনার সাহায্যেই (দুশমনের বিরুদ্ধে) লড়ছি। হে আল্লাহ! আপনার ইজ্জতের কাছে আশ্রয় চাচ্ছি আপনার ব্যতীত কোন ইলাহ নেই। আপনার আমাকে পথ ভ্রান্তি থেকে রক্ষা করুন।আপনার চিরঞ্জীব সত্তা, যার মৃত্যু নেই। আর জ্বীন ও মানব জাতি মারা যাবেই।
6652

حَدَّثَنِي أَبُو الطَّاهِرِ، أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ وَهْبٍ، أَخْبَرَنِي سُلَيْمَانُ بْنُ بِلاَلٍ، عَنْ سُهَيْلِ، بْنِ أَبِي صَالِحٍ عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم كَانَ إِذَا كَانَ فِي سَفَرٍ وَأَسْحَرَ يَقُولُ " سَمَّعَ سَامِعٌ بِحَمْدِ اللَّهِ وَحُسْنِ بَلاَئِهِ عَلَيْنَا رَبَّنَا صَاحِبْنَا وَأَفْضِلْ عَلَيْنَا عَائِذًا بِاللَّهِ مِنَ النَّارِ " .

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৬৬৫২। আবু তাহির (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) যখন সফরে থাকতেন তখন ভোর রাতে বলতেন,

سَمَّعَ سَامِعٌ بِحَمْدِ اللَّهِ وَحُسْنِ بَلاَئِهِ عَلَيْنَا رَبَّنَا صَاحِبْنَا وَأَفْضِلْ عَلَيْنَا عَائِذًا بِاللَّهِ مِنَ النَّارِ

শ্রোতা শ্রবণ করুন আল্লাহর প্রশংসা আমাদের জন্য তার উত্তম দান বখশিশ, কল্যাণ বয়ে এনেছে। হে আমাদের প্রতিপালক! আপনি আমাদের সঙ্গী হন। আমাদের উপর ফযল ও করম করুন। আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাই জাহান্নাম থেকে।
6653

حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ مُعَاذٍ الْعَنْبَرِيُّ، حَدَّثَنَا أَبِي، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، عَنْ أَبِي بُرْدَةَ بْنِ أَبِي مُوسَى الأَشْعَرِيِّ، عَنْ أَبِيهِ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ كَانَ يَدْعُو بِهَذَا الدُّعَاءِ " اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِي خَطِيئَتِي وَجَهْلِي وَإِسْرَافِي فِي أَمْرِي وَمَا أَنْتَ أَعْلَمُ بِهِ مِنِّي اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِي جِدِّي وَهَزْلِي وَخَطَئِي وَعَمْدِي وَكُلُّ ذَلِكَ عِنْدِي اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِي مَا قَدَّمْتُ وَمَا أَخَّرْتُ وَمَا أَسْرَرْتُ وَمَا أَعْلَنْتُ وَمَا أَنْتَ أَعْلَمُ بِهِ مِنِّي أَنْتَ الْمُقَدِّمُ وَأَنْتَ الْمُؤَخِّرُ وَأَنْتَ عَلَى كُلِّ شَىْءٍ قَدِيرٌ " .

Narrator: আবু মুসা আশ'আরী (রাঃ)

৬৬৫৩। উবাইদুল্লাহ ইবনে মুআয আম্বারী (রাহঃ) ......... আবু মুসা আশ’আরী (রাযিঃ) তাঁর পিতার সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে বর্ণিত। তিনি এই দুআ দ্বারা আল্লাহর কাছে প্রার্থনা জানাতেনঃ

اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِي خَطِيئَتِي وَجَهْلِي وَإِسْرَافِي فِي أَمْرِي وَمَا أَنْتَ أَعْلَمُ بِهِ مِنِّي اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِي جِدِّي وَهَزْلِي وَخَطَئِي وَعَمْدِي وَكُلُّ ذَلِكَ عِنْدِي اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِي مَا قَدَّمْتُ وَمَا أَخَّرْتُ وَمَا أَسْرَرْتُ وَمَا أَعْلَنْتُ وَمَا أَنْتَ أَعْلَمُ بِهِ مِنِّي أَنْتَ الْمُقَدِّمُ وَأَنْتَ الْمُؤَخِّرُ وَأَنْتَ عَلَى كُلِّ شَىْءٍ قَدِيرٌ

হে আল্লাহ! আপনি আমার গুনাহ, আমার মূর্খতা ও আমার কাজের সীমালংঘন এবং যে বিষয়ে আপনি আমার চাইতে অধিক জানেন তা ক্ষমা করে দিন। হে আল্লাহ! আমাকে ক্ষমা করে দিন আমার উদ্দেশ্যমূলক ও উদ্দেশ্যহীন অপরাধ এবং আমার ইচ্ছাকৃত ও অনিচ্ছাকৃত সব রকমের অপরাধ (যা আমি করেছি)। হে আল্লাহ! ক্ষমা করে দিন যা আমি আগে করে ফেলেছি এবং যা আমি পরে করব, যা আমি গোপনে করেছি এবং যা প্রকাশ্যে করেছি। আর আপনি আমার চাইতে আমার বিষয়ে সর্বাধিক জ্ঞাত। আপনিই অগ্রবর্তী এবং আপনিই পরবর্তী। আপনি সব কিছুর উপর সর্বশক্তিমান।
6654

وَحَدَّثَنَاهُ مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْمَلِكِ بْنُ الصَّبَّاحِ الْمِسْمَعِيُّ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، فِي هَذَا الإِسْنَادِ .

Narrator: শু'বা ইবনুল হাজ্জাজ (রহঃ)

৬৬৫৪। মুহাম্মাদ ইবনে বাশশার (রাহঃ) ......... শুবা (রাহঃ) সূত্রে এই সনদে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।

6655

حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ دِينَارٍ، حَدَّثَنَا أَبُو قَطَنٍ، عَمْرُو بْنُ الْهَيْثَمِ الْقُطَعِيُّ عَنْ عَبْدِ الْعَزِيزِ، بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي سَلَمَةَ الْمَاجِشُونِ عَنْ قُدَامَةَ بْنِ مُوسَى، عَنْ أَبِي صَالِحٍ السَّمَّانِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " اللَّهُمَّ أَصْلِحْ لِي دِينِيَ الَّذِي هُوَ عِصْمَةُ أَمْرِي وَأَصْلِحْ لِي دُنْيَاىَ الَّتِي فِيهَا مَعَاشِي وَأَصْلِحْ لِي آخِرَتِي الَّتِي فِيهَا مَعَادِي وَاجْعَلِ الْحَيَاةَ زِيَادَةً لِي فِي كُلِّ خَيْرٍ وَاجْعَلِ الْمَوْتَ رَاحَةً لِي مِنْ كُلِّ شَرٍّ " .

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৬৬৫৫। ইবরাহীম ইবনে দীনার (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলতেনঃ

اللَّهُمَّ أَصْلِحْ لِي دِينِيَ الَّذِي هُوَ عِصْمَةُ أَمْرِي وَأَصْلِحْ لِي دُنْيَاىَ الَّتِي فِيهَا مَعَاشِي وَأَصْلِحْ لِي آخِرَتِي الَّتِي فِيهَا مَعَادِي وَاجْعَلِ الْحَيَاةَ زِيَادَةً لِي فِي كُلِّ خَيْرٍ وَاجْعَلِ الْمَوْتَ رَاحَةً لِي مِنْ كُلِّ شَرٍّ

হে আল্লাহ! আপনি আমার দ্বীন ইসলাহ (পরিশুদ্ধ) করে দিন, যে দ্বীনে আমার রক্ষাকবচ। আপনি সংশোধন করে দিন আমার দুনিয়াকে, যেথায় আমার জীবিকা (রয়েছে), আপনি ইসলাহ (কল্যাণকর) করে দিন আমার আখিরাতকে, যেখানে আমাকে প্রত্যাবর্তন (করতে হবে)। আপনি আমার জীবনকে দীর্ঘায়িত করে দিন প্রত্যেকটি কল্যাণময় কাজের জন্য এবং আপনি আমার মৃত্যু কে আরামদায়ক বানিয়ে দিন সব মন্দ থেকে।
6656

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، وَمُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، قَالاَ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، عَنْ أَبِي الأَحْوَصِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ كَانَ يَقُولُ " اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ الْهُدَى وَالتُّقَى وَالْعَفَافَ وَالْغِنَى " .

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ)

৬৬৫৬। মুহাম্মাদ ইবনে মুসান্না ও ইবনে বাশশার (রাহঃ) ......... আব্দুল্লাহ (রাযিঃ) সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে বর্ণিত। তিনি এই বলে দুআ করতেনঃ اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ الْهُدَى وَالتُّقَى وَالْعَفَافَ وَالْغِنَى ″হে আল্লাহ! আমি তোমার কাছে হিদায়াত, তাকওয়া, নিষ্কলুষতা ও সচ্চলতার জন্য প্রার্থনা করছি।″

6657

وَحَدَّثَنَا ابْنُ الْمُثَنَّى، وَابْنُ، بَشَّارٍ قَالاَ حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ، عَنْ سُفْيَانَ، عَنْ أَبِي، إِسْحَاقَ بِهَذَا الإِسْنَادِ . مِثْلَهُ غَيْرَ أَنَّ ابْنَ الْمُثَنَّى، قَالَ فِي رِوَايَتِهِ " وَالْعِفَّةَ " .

Narrator: আবু ইসহাক সাবিঈ (রহঃ)

৬৬৫৭। মুহাম্মাদ ইবনে মুসান্না ও ইবনে বাশশার (রাহঃ) ......... ইবনে ইসহাক (রাহঃ) সূত্রে এই সনদে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। তবে (পার্থক্য এইটুকু যে), ইবনে মুসান্না তার বর্ণনায় (الْعَفَافَ এর স্থলে) الْعِفَّةَ (হারাম থেকে ও চারিত্রিক পবিত্রতা) উল্লেখ করেছেন।

6658

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، وَإِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، وَمُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ نُمَيْرٍ، - وَاللَّفْظُ لاِبْنِ نُمَيْرٍ - قَالَ إِسْحَاقُ أَخْبَرَنَا وَقَالَ الآَخَرَانِ، حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ، عَنْ عَاصِمٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الْحَارِثِ، وَعَنْ أَبِي عُثْمَانَ النَّهْدِيِّ، عَنْ زَيْدِ بْنِ أَرْقَمَ، قَالَ لاَ أَقُولُ لَكُمْ إِلاَّ كَمَا كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ كَانَ يَقُولُ " اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنَ الْعَجْزِ وَالْكَسَلِ وَالْجُبْنِ وَالْبُخْلِ وَالْهَرَمِ وَعَذَابِ الْقَبْرِ اللَّهُمَّ آتِ نَفْسِي تَقْوَاهَا وَزَكِّهَا أَنْتَ خَيْرُ مَنْ زَكَّاهَا أَنْتَ وَلِيُّهَا وَمَوْلاَهَا اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنْ عِلْمٍ لاَ يَنْفَعُ وَمِنْ قَلْبٍ لاَ يَخْشَعُ وَمِنْ نَفْسٍ لاَ تَشْبَعُ وَمِنْ دَعْوَةٍ لاَ يُسْتَجَابُ لَهَا " .

Narrator: হযরত যায়দ ইবনে আরকাম (রাঃ)

৬৬৫৮। আবু বকর ইবনে আবি শাঈবা, ইসহাক ইবনে ইবরাহীম ও মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে নুমাইর (রাহঃ) ......... যাযিদ ইবনে আরকাম (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি তোমাদের কাছে তেমনই বলব যেমন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলতেন। তিনি (রাসূলুল্লাহ (ﷺ)) বলতেনঃ

اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنَ الْعَجْزِ وَالْكَسَلِ وَالْجُبْنِ وَالْبُخْلِ وَالْهَرَمِ وَعَذَابِ الْقَبْرِ اللَّهُمَّ آتِ نَفْسِي تَقْوَاهَا وَزَكِّهَا أَنْتَ خَيْرُ مَنْ زَكَّاهَا أَنْتَ وَلِيُّهَا وَمَوْلاَهَا اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنْ عِلْمٍ لاَ يَنْفَعُ وَمِنْ قَلْبٍ لاَ يَخْشَعُ وَمِنْ نَفْسٍ لاَ تَشْبَعُ وَمِنْ دَعْوَةٍ لاَ يُسْتَجَابُ لَهَا

″হে আল্লাহ! আমি আপনার কছে আশ্রয় চাই, অক্ষমতা, অলসতা, কাপুরষতা, কৃপণতা, বার্ধক্য এবং কবরের আযাব থেকে। হে আল্লাহ! আপনার আমার নফসে (অন্তর) তাকওয়া দান করুন এবং একে পরিশুদ্ধ করে দিন। আপনি একে সর্বোত্তম পরিশোধনকারী, আপনিই এর মালিক ও এর অভিবাবক। হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে আশ্রয় চাই অনুপকারী ইলম থেকে ও ভয় ভীতিহীন কলব থেকে; অতৃপ্ত নফস থেকে ও এমন দুআ থেকে যা কবুল হয় না।″
6659

حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَاحِدِ بْنُ زِيَادٍ، عَنِ الْحَسَنِ بْنِ عُبَيْدِ اللَّهِ، حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ سُوَيْدٍ النَّخَعِيُّ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ يَزِيدَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ، قَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِذَا أَمْسَى قَالَ " أَمْسَيْنَا وَأَمْسَى الْمُلْكُ لِلَّهِ وَالْحَمْدُ لِلَّهِ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَحْدَهُ لاَ شَرِيكَ لَهُ " . قَالَ الْحَسَنُ فَحَدَّثَنِي الزُّبَيْدُ أَنَّهُ حَفِظَ عَنْ إِبْرَاهِيمَ فِي هَذَا " لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَىْءٍ قَدِيرٌ اللَّهُمَّ أَسْأَلُكَ خَيْرَ هَذِهِ اللَّيْلَةِ وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّ هَذِهِ اللَّيْلَةِ وَشَرِّ مَا بَعْدَهَا اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنَ الْكَسَلِ وَسُوءِ الْكِبَرِ اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنْ عَذَابٍ فِي النَّارِ وَعَذَابٍ فِي الْقَبْرِ " .

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ)

৬৬৫৯। কুতায়বা ইবনে সাঈদ (রাহঃ) ......... আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন সন্ধ্যা হত তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলতেনঃ

أَمْسَيْنَا وَأَمْسَى الْمُلْكُ لِلَّهِ وَالْحَمْدُ لِلَّهِ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَحْدَهُ لاَ شَرِيكَ لَهُ

“আমরা সন্ধ্যায় উপনীত হয়েছি এবং আল্লাহর রাজ্যও সন্ধ্যায় পৌছেছে। সকল প্রশংসা সেই আল্লাহর যিনি ব্যতীত ইলাহ নেই। তিনি একক সত্তা, তার শরীক নেই।”

হাসান (রাহঃ) বলেন, আমাকে যুবায়দ (রাহঃ) হাদীস বর্ণনা করেন যে, তিনি ইবরাহীম (রাহঃ) থেকে এ বিষয়ে মুখস্ত করেছেনঃ

لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَىْءٍ قَدِيرٌ اللَّهُمَّ أَسْأَلُكَ خَيْرَ هَذِهِ اللَّيْلَةِ وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّ هَذِهِ اللَّيْلَةِ وَشَرِّ مَا بَعْدَهَا اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنَ الْكَسَلِ وَسُوءِ الْكِبَرِ اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنْ عَذَابٍ فِي النَّارِ وَعَذَابٍ فِي الْقَبْرِ

″রাজত্ব তাঁরই, প্রশংসা তারই, তিনি সকল বিষয়ের উপর সর্বশক্তিমান। হে আল্লাহ! আমি তোমার কাছে এ রাতের কল্যাণ কামনা করি এবং এ রাতের অনিষ্ট থেকে পানাহ চাই এবং এর পরবর্তী (রাত) থেকেও। হে আল্লাহ! আমি তোমার কাছে আশ্রয় চাই অলসতা থেকে ও বার্ধক্যের মন্দ অবস্থা (অহংকারের অনিষ্ট) থেকে। হে আল্লাহ! আমি তোমার কাছে আশ্রয় চাই জাহান্নামের আযাব থেকে এবং কবরের আযাব থেকে।″
6660

حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا جَرِيرٌ، عَنِ الْحَسَنِ بْنِ عُبَيْدِ اللَّهِ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ، بْنِ سُوَيْدٍ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ يَزِيدَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ كَانَ نَبِيُّ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِذَا أَمْسَى قَالَ " أَمْسَيْنَا وَأَمْسَى الْمُلْكُ لِلَّهِ وَالْحَمْدُ لِلَّهِ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَحْدَهُ لاَ شَرِيكَ لَهُ " . قَالَ أُرَاهُ قَالَ فِيهِنَّ " لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَىْءٍ قَدِيرٌ رَبِّ أَسْأَلُكَ خَيْرَ مَا فِي هَذِهِ اللَّيْلَةِ وَخَيْرَ مَا بَعْدَهَا وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّ مَا فِي هَذِهِ اللَّيْلَةِ وَشَرِّ مَا بَعْدَهَا رَبِّ أَعُوذُ بِكَ مِنَ الْكَسَلِ وَسُوءِ الْكِبَرِ رَبِّ أَعُوذُ بِكَ مِنْ عَذَابٍ فِي النَّارِ وَعَذَابٍ فِي الْقَبْرِ " . وَإِذَا أَصْبَحَ قَالَ ذَلِكَ أَيْضًا " أَصْبَحْنَا وَأَصْبَحَ الْمُلْكُ لِلَّهِ " .

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ)

৬৬৬০। উসমান ইবনে আবি শাঈবা (রাহঃ) ......... আব্দুল্লাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন সন্ধ্যা হত তখন নবী (ﷺ) বলতেনঃ أَمْسَيْنَا وَأَمْسَى الْمُلْكُ لِلَّهِ وَالْحَمْدُ لِلَّهِ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَحْدَهُ لاَ شَرِيكَ لَهُ ″আমরা সন্ধ্যায় উপনীত হয়েছি এবং আল্লাহর রাজ্যও সন্ধ্যায় পৌছেছে। আল্লাহর জন্যই সকল প্রশংসা। আল্লাহ ব্যতীত ইলাহ নেই। তিনি একক সত্তা, তার শরীক নেই।″

রাবী মনে করেন যে, তিনি তার দুআর মধ্যে বলেছেন, ″রাজত্ব তারই, প্রশংসা তাঁরই এবং তিনিই সব কিছু উপর সর্বশক্তিমান। হে আমার প্রতিপালক! আমি তোমার কাছে কল্যাণ চাই এই রাতের এবং তার পরবর্তী রাতেরও। আর আমি তোমার কাছে আশ্রয় চাচ্ছি এই রাতের অনিষ্ট থেকে এবং এর পরবর্তী রাতের অনিষ্ট থেকেও। হে আমার প্রতিপালক! আমি তোমার কাছে আশ্রয় চাই অলসতা, বার্ধক্যের (অহংকারের) মন্দ পরিণাম থেকে। হে আমার প্রতিপালক! আমি তোমার কাছে পানাহ চাই জাহান্নাম ও কবরের আযাব থেকে।″

আর যখন সকাল হতো, তিনি বলতেনঃ ″আমরা সকালে উপনীত হয়েছি এবং আল্লাহর রাজ্যও সকালে পৌঁছেছে।″
6661

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا حُسَيْنُ بْنُ عَلِيٍّ، عَنْ زَائِدَةَ، عَنِ الْحَسَنِ بْنِ، عُبَيْدِ اللَّهِ عَنْ إِبْرَاهِيمَ بْنِ سُوَيْدٍ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ يَزِيدَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِذَا أَمْسَى قَالَ " أَمْسَيْنَا وَأَمْسَى الْمُلْكُ لِلَّهِ وَالْحَمْدُ لِلَّهِ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَحْدَهُ لاَ شَرِيكَ لَهُ اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ مِنْ خَيْرِ هَذِهِ اللَّيْلَةِ وَخَيْرِ مَا فِيهَا وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّهَا وَشَرِّ مَا فِيهَا اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنَ الْكَسَلِ وَالْهَرَمِ وَسُوءِ الْكِبَرِ وَفِتْنَةِ الدُّنْيَا وَعَذَابِ الْقَبْرِ " . قَالَ الْحَسَنُ بْنُ عُبَيْدِ اللَّهِ وَزَادَنِي فِيهِ زُبَيْدٌ عَنْ إِبْرَاهِيمَ بْنِ سُوَيْدٍ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ يَزِيدَ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ رَفَعَهُ أَنَّهُ قَالَ " لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَحْدَهُ لاَ شَرِيكَ لَهُ لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَىْءٍ قَدِيرٌ " .

Narrator: ইবরাহীম ইবনু সুওয়াইদ নাখঈ (রহঃ)

৬৬৬১। আবু বকর ইবনে আবি শাঈবা (রাহঃ) ......... আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন সন্ধা হতো তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলতেনঃ

أَمْسَيْنَا وَأَمْسَى الْمُلْكُ لِلَّهِ وَالْحَمْدُ لِلَّهِ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَحْدَهُ لاَ شَرِيكَ لَهُ اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ مِنْ خَيْرِ هَذِهِ اللَّيْلَةِ وَخَيْرِ مَا فِيهَا وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّهَا وَشَرِّ مَا فِيهَا اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنَ الْكَسَلِ وَالْهَرَمِ وَسُوءِ الْكِبَرِ وَفِتْنَةِ الدُّنْيَا وَعَذَابِ الْقَبْرِ

“আমরা সন্ধ্যায় উপনীত হয়েছি এবং রাজ্য অল্লাহর জন্য সন্ধ্যয় পৌছেছে। যাবতীয় প্রশংসা আল্লাহরই। আল্লাহ ব্যতীত কোন ইলাহ নেই। তিনি একক (সত্তা) তার শরীক নেই। হে আল্লাহ! আমি তোমার কাছে কল্যাণ চাই এই রাতের ও তার মধ্যে যা কিছু আছে তার (কল্যাণ) এবং আমি তোমার কাছে আশ্রয় চাই এই রাতের ও তার মধ্যে যা কিছু আছে তার অনিষ্ট থেকে। হে আল্লাহ! আমি তোমার কাছে আশ্রয় চাই অলসতা, বার্ধক্য, অহংকারের অনিষ্ট, দুনিয়ার ফিতনা ও কবরের আযাব থেকে।”

হাসান ইবনে উবাইদুল্লাহ (রাহঃ) বলেছেন, যুবায়দ (রাহঃ) আব্দুল্লাহ (রাযিঃ) সূত্রে মারফূ সনদে অধিক বলেছেন। তিনি বলেন,

لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَحْدَهُ لاَ شَرِيكَ لَهُ لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَىْءٍ قَدِيرٌ

“আল্লাহ ব্যতীত ইলাহ নেই। তিনি একক (সত্তা), তার কোন শরীক নেই। রাজত্ব তাঁরই, প্রশংসা তাঁরই এবং তিনিই সকল কিছুর উপর সর্বশক্তিমান।”
6662

حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا لَيْثٌ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ أَبِي سَعِيدٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي، هُرَيْرَةَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَانَ يَقُولُ " لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَحْدَهُ أَعَزَّ جُنْدَهُ وَنَصَرَ عَبْدَهُ وَغَلَبَ الأَحْزَابَ وَحْدَهُ فَلاَ شَىْءَ بَعْدَهُ " .

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৬৬৬২। কুতায়বা ইবনে সাঈদ (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলতেনঃ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَحْدَهُ أَعَزَّ جُنْدَهُ وَنَصَرَ عَبْدَهُ وَغَلَبَ الأَحْزَابَ وَحْدَهُ فَلاَ شَىْءَ بَعْدَهُ “আল্লাহ ব্যতীত ইলাহ নেই। তিনি একক সত্তা, তিনি তার বাহিনীকে শক্তিমত্তা দিয়েছেন এবং তাঁর বান্দাকে সাহায্যে করেছেন। আর তিনি একাই (কাফির) সকল বাহিনীর উপর বিজয়ী হয়েছেন। তাঁর পরে আর কোন কিছু নেই।”

6663

حَدَّثَنَا أَبُو كُرَيْبٍ، مُحَمَّدُ بْنُ الْعَلاَءِ حَدَّثَنَا ابْنُ إِدْرِيسَ، قَالَ سَمِعْتُ عَاصِمَ بْنَ كُلَيْبٍ، عَنْ أَبِي بُرْدَةَ، عَنْ عَلِيٍّ، قَالَ قَالَ لِي رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " قُلِ اللَّهُمَّ اهْدِنِي وَسَدِّدْنِي وَاذْكُرْ بِالْهُدَى هِدَايَتَكَ الطَّرِيقَ وَالسَّدَادِ سَدَادَ السَّهْمِ " .

Narrator: হযরত আলী ইবনে আবী তালিব (রাঃ)

৬৬৬৩। আবু কুরায়ব মুহাম্মাদ ইবনুল আলা (রাহঃ) ......... আলী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাকে বলেছেনঃ তুমি বলঃ اللَّهُمَّ اهْدِنِي وَسَدِّدْنِي وَاذْكُرْ بِالْهُدَى “হে আল্লাহ! তুমি আমাকে হিদায়াত দান কর, আমাকে সরল পথে পরিচালিত কর।” তিনি আমাকে আরও বলেছেন, (এ দুআর সময়) هِدَايَتَكَ الطَّرِيقَ وَالسَّدَادِ سَدَادَ السَّهْمِ তোমার সোজা রাস্তায় চলার মত হিদায়াত এবং তীর সোজা করার মত সঠিকতার সাথে তুমি স্মরণ করবে।”

6664

وَحَدَّثَنَا ابْنُ نُمَيْرٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ، - يَعْنِي ابْنَ إِدْرِيسَ - أَخْبَرَنَا عَاصِمُ بْنُ كُلَيْبٍ، بِهَذَا الإِسْنَادِ قَالَ قَالَ لِي رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " قُلِ اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ الْهُدَى وَالسَّدَادَ " . ثُمَّ ذَكَرَ بِمِثْلِهِ .

Narrator: আসিম ইবনে কুলাইব (রহঃ)

৬৬৬৪। ইবনে নুমাইর (রাহঃ) ......... আসিম ইবনে কুলায়ব (রাহঃ) এই সনদে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাকে এভাবে বলতে বলেছেনঃ ″হে আল্লাহ! আমি তোমার কাছে হিদায়াত ও সঠিকতা কামনা করছি।″ এরপর তিনি তার অনুরূপ উল্লেখ করেছেন।

২০. দিনের প্রথম ভাগে ও শোয়ার সময় তাসবীহ পাঠ

باب التَّسْبِيحِ أَوَّلَ النَّهَارِ وَعِنْدَ النَّوْمِ

6665

حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، وَعَمْرٌو النَّاقِدُ، وَابْنُ أَبِي عُمَرَ، - وَاللَّفْظُ لاِبْنِ أَبِي عُمَرَ - قَالُوا حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، مَوْلَى آلِ طَلْحَةَ عَنْ كُرَيْبٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، عَنْ جُوَيْرِيَةَ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم خَرَجَ مِنْ عِنْدِهَا بُكْرَةً حِينَ صَلَّى الصُّبْحَ وَهِيَ فِي مَسْجِدِهَا ثُمَّ رَجَعَ بَعْدَ أَنْ أَضْحَى وَهِيَ جَالِسَةٌ فَقَالَ " مَا زِلْتِ عَلَى الْحَالِ الَّتِي فَارَقْتُكِ عَلَيْهَا " . قَالَتْ نَعَمْ . قَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم " لَقَدْ قُلْتُ بَعْدَكِ أَرْبَعَ كَلِمَاتٍ ثَلاَثَ مَرَّاتٍ لَوْ وُزِنَتْ بِمَا قُلْتِ مُنْذُ الْيَوْمِ لَوَزَنَتْهُنَّ سُبْحَانَ اللَّهِ وَبِحَمْدِهِ عَدَدَ خَلْقِهِ وَرِضَا نَفْسِهِ وَزِنَةَ عَرْشِهِ وَمِدَادَ كَلِمَاتِهِ " .

Narrator: উম্মুল মু'মিনীন জুওয়াইরিয়্যা বিনতে হারিস (রাঃ)

৬৬৬৫। কুতায়বা ইবনে সাঈদ, আমর নাকিদ, ইবনে আবু উমর (রাহঃ) ......... জুওয়ায়রিয়া (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) প্রত্যূষে তাঁর নিকট থেকে বের হলেন। যখন তিনি ফজরের নামায আদায় করলেন তখন তিনি নামাযের জায়গায় ছিলেন। এরপর তিনি দুহা’র পরে ফিরে এলেন। তখনও তিনি বসেছিলেন। তিনি বললেন, আমি তোমাকে যে অবস্থায় রেখে গিয়েছিলাম তুমি সেই অবস্থায়ই আছ। তিনি বললেন, হ্যাঁ। নবী (ﷺ) বললেনঃ আমি তোমার নিকট থেকে যাওয়ার পর চারটি কালেমা তিনবার পাঠ করেছি। আজকে তুমি এ পর্যন্ত যা বলেছ তার সাথে ওজন করলে এই কালেমা চারটির ওজনই বেশী হবে। কালেমাগুলো এই-

سُبْحَانَ اللَّهِ وَبِحَمْدِهِ عَدَدَ خَلْقِهِ وَرِضَا نَفْسِهِ وَزِنَةَ عَرْشِهِ وَمِدَادَ كَلِمَاتِهِ

″আমি আল্লাহর সপ্রশংস পবিত্রতা জ্ঞাপন করছি তার অগণিত সৃষ্টির সমান, তার সন্তুষ্টি, তার আরশের ওজনের পরিমাণ ও তার কালেমার (কালির) সংখ্যার পরিমাণ।″

২০. দিনের প্রথম ভাগে ও শোওয়ার সময় তাসবীহ পাঠ

باب التَّسْبِيحِ أَوَّلَ النَّهَارِ وَعِنْدَ النَّوْمِ

6666

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، وَأَبُو كُرَيْبٍ وَإِسْحَاقُ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ بِشْرٍ، عَنْ مِسْعَرٍ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ أَبِي رِشْدِينَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، عَنْ جُوَيْرِيَةَ، قَالَتْ مَرَّ بِهَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم حِينَ صَلَّى صَلاَةَ الْغَدَاةِ أَوْ بَعْدَ مَا صَلَّى الْغَدَاةَ . فَذَكَرَ نَحْوَهُ غَيْرَ أَنَّهُ قَالَ " سُبْحَانَ اللَّهِ عَدَدَ خَلْقِهِ سُبْحَانَ اللَّهِ رِضَا نَفْسِهِ سُبْحَانَ اللَّهِ زِنَةَ عَرْشِهِ سُبْحَانَ اللَّهِ مِدَادَ كَلِمَاتِهِ " .

Narrator: উম্মুল মু'মিনীন জুওয়াইরিয়্যা বিনতে হারিস (রাঃ)

৬৬৬৬। আবু বকর ইবনে আবি শাঈবা, আবু কুরায়ব ও ইসহাক (রাহঃ) ......... জুওয়ায়রিয়া (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, ফজরের নামাযের সময় রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তার কাছে আসলেন অথবা ফজরের নামাযের পরে আসলেন। এরপর বর্ণনাকারী তার (পূর্ববর্তী রিওয়ায়াতের) অনুরূপ উল্লেখ করেন। তবে (এতে পার্থক্য এই যে), তিনি বলেছেন, سُبْحَانَ اللَّهِ زِنَةَ عَرْشِهِ سُبْحَانَ اللَّهِ مِدَادَ كَلِمَاتِهِ ″আমি আল্লাহর প্রশংসার সঙ্গে পবিত্রতা জ্ঞাপন করছি তাঁর সৃষ্টির পরিমাণ, তার সন্তুষ্টির সমান, তাঁর আরশের ওজন পরিমাণ এবং তার কালেমাসমূহের সংখ্যার পরিমাণ।″

6667

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، وَمُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، - وَاللَّفْظُ لاِبْنِ الْمُثَنَّى - قَالاَ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنِ الْحَكَمِ، قَالَ سَمِعْتُ ابْنَ أَبِي لَيْلَى، حَدَّثَنَا عَلِيٌّ، أَنَّ فَاطِمَةَ، اشْتَكَتْ مَا تَلْقَى مِنَ الرَّحَى فِي يَدِهَا وَأَتَى النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم سَبْىٌ فَانْطَلَقَتْ فَلَمْ تَجِدْهُ وَلَقِيَتْ عَائِشَةَ فَأَخْبَرَتْهَا فَلَمَّا جَاءَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم أَخْبَرَتْهُ عَائِشَةُ بِمَجِيءِ فَاطِمَةَ إِلَيْهَا فَجَاءَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم إِلَيْنَا وَقَدْ أَخَذْنَا مَضَاجِعَنَا فَذَهَبْنَا نَقُومُ فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم " عَلَى مَكَانِكُمَا " . فَقَعَدَ بَيْنَنَا حَتَّى وَجَدْتُ بَرْدَ قَدَمِهِ عَلَى صَدْرِي ثُمَّ قَالَ " أَلاَ أُعَلِّمُكُمَا خَيْرًا مِمَّا سَأَلْتُمَا إِذَا أَخَذْتُمَا مَضَاجِعَكُمَا أَنْ تُكَبِّرَا اللَّهَ أَرْبَعًا وَثَلاَثِينَ وَتُسَبِّحَاهُ ثَلاَثًا وَثَلاَثِينَ وَتَحْمَدَاهُ ثَلاَثًا وَثَلاَثِينَ فَهُوَ خَيْرٌ لَكُمَا مِنْ خَادِمٍ " .

Narrator: হযরত আলী ইবনে আবী তালিব (রাঃ)

৬৬৬৭। মুহাম্মাদ ইবনে মুসান্না ও মুহাম্মাদ ইবনে বাশশার (রাহঃ) ......... আলী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, ফাতিমা (রাযিঃ) যাতা পিষতে গিয়ে তাঁর হাতে ব্যথা পেলেন। তিনি একটি খাদিম চাওয়ার জন্য নবী (ﷺ) এর কাছে এলেন। কিন্তু তিনি এসে নবী (ﷺ) কে পেলেন না। তিনি আয়িশা (রাযিঃ) এর সঙ্গে দেখা করে তাঁকে বিষয়টি অবহিত করলেন। এরপর যখন নবী (ﷺ) আসলেন তখন আয়িশা (রাযিঃ) তার কাছে ফাতিমা (রাযিঃ) এর আগমনের বিষয় জানালেন।

এরপর নবী (ﷺ) আমাদের কাছে এলেন। তখন আমরা আমাদের শয্যা গ্রহণ করেছিলাম। আমরা আমাদের শয্যা থেকে উঠতে চাইলাম। নবী (ﷺ) বললেনঃ তোমরা তোমাদের জায়গায় থাক। এরপর তিনি আমাদের সামনে বসলেন। তখন আমি তাঁর কদম মুবারকের শীতলতা আমার বুকে অনুভব করলাম। তিনি বললেন, আমি কি তোমাদের এমন কিছু শিক্ষা দেব না, যা তোমরা চেয়েছিলে তার চাইতে উত্তম? যখন তোমরা তোমাদের শয্যা গ্রহণ করবে তখন ৩৪ বার ’আল্লাহু আকবার’ ৩৩ বার ’সুবহানাল্লাহ’ এবং ৩৩ বার ’আলহামদুলিল্লাহ’ পড়বে। এটি তোমাদের জন্য খাদিমের চাইতে উত্তম।
6668

وَحَدَّثَنَاهُ أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، ح وَحَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ مُعَاذٍ، حَدَّثَنَا أَبِي ح، وَحَدَّثَنَا ابْنُ الْمُثَنَّى، حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي عَدِيٍّ، كُلُّهُمْ عَنْ شُعْبَةَ، بِهَذَا الإِسْنَادِ وَفِي حَدِيثِ مُعَاذٍ " أَخَذْتُمَا مَضْجَعَكُمَا مِنَ اللَّيْلِ " .

Narrator: শু'বা ইবনুল হাজ্জাজ (রহঃ)

৬৬৬৮। আবু বকর ইবনে আবি শাঈবা, উবাইদুল্লাহ ইবনে মু’আয ও ইবনে মুসান্না (রাহঃ) ......... শু’বা সূত্রে এই সনদে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। তবে মুআযের হাদীসে مِنَ اللَّيْلِ (রাতে) শব্দটি অধিক উল্লেখ আছে।

6669
وَحَدَّثَنِي زُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي يَزِيدَ، عَنْ مُجَاهِدٍ، عَنِ ابْنِ أَبِي لَيْلَى، عَنْ عَلِيِّ بْنِ أَبِي طَالِبٍ، ح

وَحَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ نُمَيْرٍ، وَعُبَيْدُ بْنُ يَعِيشَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ نُمَيْرٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْمَلِكِ، عَنْ عَطَاءِ بْنِ أَبِي رَبَاحٍ، عَنْ مُجَاهِدٍ، عَنِ ابْنِ أَبِي لَيْلَى، عَنْ عَلِيٍّ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم . بِنَحْوِ حَدِيثِ الْحَكَمِ عَنِ ابْنِ أَبِي لَيْلَى، وَزَادَ، فِي الْحَدِيثِ قَالَ عَلِيٌّ مَا تَرَكْتُهُ مُنْذُ سَمِعْتُهُ مِنَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم . قِيلَ لَهُ وَلاَ لَيْلَةَ صِفِّينَ قَالَ وَلاَ لَيْلَةَ صِفِّينِ . وَفِي حَدِيثِ عَطَاءٍ عَنْ مُجَاهِدٍ عَنِ ابْنِ أَبِي لَيْلَى قَالَ قُلْتُ لَهُ وَلاَ لَيْلَةَ صِفِّينَ

Narrator: হযরত আলী ইবনে আবী তালিব (রাঃ)

৬৬৬৯। যুহাইর ইবনে হারব ও মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে নুমাইর ও উবাইদ ইবনে ইয়াঈশ (রাহঃ) ......... আলী (রাযিঃ) সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে ইবনে আবু লায়লা (রাহঃ) সূত্রে হাকামের হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। তিনি [হাকাম (রাহঃ)] হাদীসে এইটুকু বাড়িয়ে বলেছেন যে, আলী (রাযিঃ) বলেছেন, নবী (ﷺ) থেকে শোনার পর থেকে কখনো আমি তা ছাড়িনি। তাঁকে জিজ্ঞাসা করা হল, সিফফীনের রাতেও নয়? তিনি বললেন, সিফফীনের রাতেও নয়। ইবনে আবু লায়লা সূত্রে আতা বর্ণিত হাদীসে তিনি বলেছেন, আমি তাকে বললাম, সিফফীনের রাতেও কি ছেড়ে দেননি?

6670
حَدَّثَنِي أُمَيَّةُ بْنُ بِسْطَامَ الْعَيْشِيُّ، حَدَّثَنَا يَزِيدُ، - يَعْنِي ابْنَ زُرَيْعٍ - حَدَّثَنَا رَوْحٌ، وَهُوَ ابْنُ الْقَاسِمِ عَنْ سُهَيْلٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ فَاطِمَةَ، أَتَتِ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم تَسْأَلُهُ خَادِمًا وَشَكَتِ الْعَمَلَ فَقَالَ " مَا أَلْفَيْتِيهِ عِنْدَنَا " . قَالَ " أَلاَ أَدُلُّكِ عَلَى مَا هُوَ خَيْرٌ لَكِ مِنْ خَادِمٍ تُسَبِّحِينَ ثَلاَثًا وَثَلاَثِينَ وَتَحْمَدِينَ ثَلاَثًا وَثَلاَثِينَ وَتُكَبِّرِينَ أَرْبَعًا وَثَلاَثِينَ حِينَ تَأْخُذِينَ مَضْجَعَكِ " .

وَحَدَّثَنِيهِ أَحْمَدُ بْنُ سَعِيدٍ الدَّارِمِيُّ، حَدَّثَنَا حَبَّانُ، حَدَّثَنَا وُهَيْبٌ، حَدَّثَنَا سُهَيْلٌ، بِهَذَا الإِسْنَادِ .

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৬৬৭০। উমাইয়া ইবনে বিসতাম আয়শী (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একবার ফাতিমা (রাযিঃ) একজন খাদিমের জন্য নবী (ﷺ) এর কাছে এলেন এবং কাজের অভিযোগ করলেন। তিনি বললেনঃ আমার কাছে তো কোন খাদিম নেই। তিনি বললেনঃ তবে আমি কি তোমাকে এমন কিছুর কথা বলব না, যা তোমার খাদিম থেকে উত্তম? তা হল রাতে শয্যা গ্রহণের সময় তুমি ৩৩ বার সুবহানাল্লাহ, ৩৩ বার আলহামদুলিল্লাহ এবং ৩৪ বার আল্লাহু আকবার পাঠ করবে।

আহমাদ ইবনে সাঈদ দারিমী (রাহঃ) ......... সুহাঈল (রাযিঃ) থেকে এই সনদে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।

২১. মোরগ ডাকার সময় দুআ করা মুস্তাহাব

باب اسْتِحْبَابِ الدُّعَاءِ عِنْدَ صِيَاحِ الدِّيكِ

6671

حَدَّثَنِي قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا لَيْثٌ، عَنْ جَعْفَرِ بْنِ رَبِيعَةَ، عَنِ الأَعْرَجِ، عَنْ أَبِي، هُرَيْرَةَ أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " إِذَا سَمِعْتُمْ صِيَاحَ الدِّيَكَةِ فَاسْأَلُوا اللَّهَ مِنْ فَضْلِهِ فَإِنَّهَا رَأَتْ مَلَكًا وَإِذَا سَمِعْتُمْ نَهِيقَ الْحِمَارِ فَتَعَوَّذُوا بِاللَّهِ مِنَ الشَّيْطَانِ فَإِنَّهَا رَأَتْ شَيْطَانًا " .

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৬৬৭১। কুতায়বা ইবনে সাঈদ (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, নবী (ﷺ) বলেছেনঃ যখন তোমরা মোরগের ডাক শুনতে পাবে তখন আল্লাহর কাছে অনুগ্রহ চাইবে। কেননা সে ফিরিশতা দেখেছে। আর যখন তোমরা গাধার বিকট আওয়ায শুনতে পাবে তখন আল্লাহর কাছে শয়তান থেকে আশ্রয় চাইবে। কেননা সে শয়তান দেখেছে।

২২. কঠিন মুসীবতের (সময়ের) দুআ

باب دُعَاءِ الْكَرْبِ

6672

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، وَابْنُ، بَشَّارٍ وَعُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ سَعِيدٍ - وَاللَّفْظُ لاِبْنِ سَعِيدٍ - قَالُوا حَدَّثَنَا مُعَاذُ بْنُ هِشَامٍ، حَدَّثَنِي أَبِي، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ أَبِي الْعَالِيَةِ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، أَنَّ نَبِيَّ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَانَ يَقُولُ عِنْدَ الْكَرْبِ " لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ الْعَظِيمُ الْحَلِيمُ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ رَبُّ الْعَرْشِ الْعَظِيمِ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ رَبُّ السَّمَوَاتِ وَرَبُّ الأَرْضِ وَرَبُّ الْعَرْشِ الْكَرِيمِ " .

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

৬৬৭২। মুহাম্মাদ ইবনে মুসান্না, ইবনে বাশশার ও উবাইদুল্লাহ সাঈদ (রাহঃ) ......... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) কঠিন বিপদের সময় বলতেনঃ

لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ الْعَظِيمُ الْحَلِيمُ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ رَبُّ الْعَرْشِ الْعَظِيمِ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ رَبُّ السَّمَوَاتِ وَرَبُّ الأَرْضِ وَرَبُّ الْعَرْشِ الْكَرِيمِ

″মহান, সহনশীল আল্লাহ ব্যতীত ইলাহ নেই। আরশের অধিপতি মহান আল্লাহ ব্যতীত কোন ইলাহ নেই। আসমানের রব ও যমীনের রব এবং সম্মানিত আরশের রব আল্লাহ ব্যতীত কোন ইলাহ নেই।″
6673

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، عَنْ هِشَامٍ، بِهَذَا الإِسْنَادِ وَحَدِيثُ مُعَاذِ بْنِ هِشَامٍ أَتَمُّ .

Narrator: হিশাম ইবনে উরওয়া (রহঃ)

৬৬৭৩। আবু বকর ইবনে আবি শাঈবা (রাহঃ) ......... হিশাম (রাহঃ) এর সূত্রে এই সনদে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। আর মু’আয ইবনে হিশামের হাদীস অধিক পূর্ণাঙ্গ।

6674

وَحَدَّثَنَا عَبْدُ بْنُ حُمَيْدٍ، أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بِشْرٍ الْعَبْدِيُّ، حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ أَبِي عَرُوبَةَ، عَنْ قَتَادَةَ، أَنَّ أَبَا الْعَالِيَةِ الرِّيَاحِيَّ، حَدَّثَهُمْ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَانَ يَدْعُو بِهِنَّ وَيَقُولُهُنَّ عِنْدَ الْكَرْبِ فَذَكَرَ بِمِثْلِ حَدِيثِ مُعَاذِ بْنِ هِشَامٍ عَنْ أَبِيهِ عَنْ قَتَادَةَ غَيْرَ أَنَّهُ قَالَ " رَبُّ السَّمَوَاتِ وَالأَرْضِ " .

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

৬৬৭৪। আব্দ ইবনে হুমায়দ (রাহঃ) ......... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এই বাক্যগুলো দ্বারা দুআ করতেন এবং কঠিন বিপদের সময় এইগুলো বলতেন। এরপর তিনি কাতাদা সূত্রে মূআয ইবনে হিশামের হাদীসের অনুরূপ উল্লেখ করেন। এই বর্ণনায় رَبُّ السَّمَوَاتِ وَرَبُّ الأَرْضِ স্থলে رَبُّ السَّمَوَاتِ وَالأَرْضِ আছে।

6675

وَحَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ حَاتِمٍ، حَدَّثَنَا بَهْزٌ، حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ، أَخْبَرَنِي يُوسُفُ بْنُ، عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الْحَارِثِ عَنْ أَبِي الْعَالِيَةِ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم كَانَ إِذَا حَزَبَهُ أَمْرٌ قَالَ . فَذَكَرَ بِمِثْلِ حَدِيثِ مُعَاذٍ عَنْ أَبِيهِ وَزَادَ مَعَهُنَّ " لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ رَبُّ الْعَرْشِ الْكَرِيمِ " .

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

৬৬৭৫। মুহাম্মাদ ইবনে হাতিম (রাহঃ) ......... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সামনে যখন কোন কঠিন সংকট আগত হত তখন তিনি বলতেন ...... এরপর তিনি মুআযের পিতার বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ উল্লেখ করেছেন এবং এর সাথে لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ رَبُّ الْعَرْشِ الْكَرِيمِ ’মহান আরশের অধিপতি আল্লাহ ছাড়া কোন ইলাহ নেই’ অধিক উল্লেখ করেছেন।

২২. سُبْحَانَ اللَّهِ وَبِحَمْدِهِ এর ফযীলত

باب فَضْلِ سُبْحَانَ اللَّهِ وَبِحَمْدِهِ

6676

حَدَّثَنَا زُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، حَدَّثَنَا حَبَّانُ بْنُ هِلاَلٍ، حَدَّثَنَا وُهَيْبٌ، حَدَّثَنَا سَعِيدٌ الْجُرَيْرِيُّ، عَنْ أَبِي عَبْدِ اللَّهِ الْجِسْرِيِّ، عَنِ ابْنِ الصَّامِتِ، عَنْ أَبِي ذَرٍّ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم سُئِلَ أَىُّ الْكَلاَمِ أَفْضَلُ قَالَ " مَا اصْطَفَى اللَّهُ لِمَلاَئِكَتِهِ أَوْ لِعِبَادِهِ سُبْحَانَ اللَّهِ وَبِحَمْدِهِ " .

Narrator: হযরত আবু যার গিফারী (রাঃ)

৬৬৭৬। যুহাইর ইবনে হারব (রাহঃ) ......... আবু যর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে জিজ্ঞাসা করা হল কোন কালাম সর্বাপেক্ষা উত্তম? তিনি বললেন, আল্লাহ তাআলা তার ফিরিশতা অথবা (বললেন) তার বান্দাদের জন্য যে কালাম পছন্দ করেছেন, তা হল, سُبْحَانَ اللَّهِ وَبِحَمْدِهِ (আমি আল্লাহর সপ্রশংস পবিত্রতা বর্ণনা করছি)।

6677

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ أَبِي بُكَيْرٍ، عَنْ شُعْبَةَ، عَنِ الْجُرَيْرِيِّ، عَنْ أَبِي عَبْدِ اللَّهِ الْجَسْرِيِّ، مِنْ عَنَزَةَ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الصَّامِتِ، عَنْ أَبِي ذَرٍّ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " أَلاَ أُخْبِرُكَ بِأَحَبِّ الْكَلاَمِ إِلَى اللَّهِ " . قُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَخْبِرْنِي بِأَحَبِّ الْكَلاَمِ إِلَى اللَّهِ . فَقَالَ " إِنَّ أَحَبَّ الْكَلاَمِ إِلَى اللَّهِ سُبْحَانَ اللَّهِ وَبِحَمْدِهِ " .

Narrator: হযরত আবু যার গিফারী (রাঃ)

৬৬৭৭। আবু বকর ইবনে আবি শাঈবা (রাহঃ) ......... আবু যর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ হে আবু যর! আমি কি তোমাকে আল্লাহর কাছে সর্বাধিক প্রিয় কালাম বাতলে দেব না? আমি বললাম, ইয়া রাসুলাল্লাহ! আল্লাহর কাছে সর্বাপেক্ষা প্রিয় কালামটি আপনি আমাকে বাতলে দিন। তখন তিনি বললেনঃ আল্লাহর কাছে সর্বাধিক প্রিয় কালাম হল, سُبْحَانَ اللَّهِ وَبِحَمْدِهِ ″আমি আল্লাহর সপ্রশংস পবিত্রতা জ্ঞাপন করছি।″

২৩. মুসলমানদের জন্য তাদের অনুপস্থিতিতে দুআর ফযীলত

باب فَضْلِ الدُّعَاءِ لِلْمُسْلِمِينَ بِظَهْرِ الْغَيْبِ

6678

حَدَّثَنِي أَحْمَدُ بْنُ عُمَرَ بْنِ حَفْصٍ الْوَكِيعِيُّ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ فُضَيْلٍ، حَدَّثَنَا أَبِي، عَنْ طَلْحَةَ بْنِ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ كَرِيزٍ، عَنْ أُمِّ الدَّرْدَاءِ، عَنْ أَبِي الدَّرْدَاءِ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " مَا مِنْ عَبْدٍ مُسْلِمٍ يَدْعُو لأَخِيهِ بِظَهْرِ الْغَيْبِ إِلاَّ قَالَ الْمَلَكُ وَلَكَ بِمِثْلٍ " .

Narrator: হযরত আবুদ দারদা রাযি.

৬৬৭৮। আহমাদ ইবনে উমর ইবনে হাফস ওয়াকী (রাহঃ) ......... আবু দারদা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ কোন মুসলমান বান্দা তার ভাই এর অনুপস্থিতিতে তার জন্য দুআ করলে একজন ফিরিশতা তার জবাবে বলে, আল্লাহ তোমাকেও অনুরূপ দান করুন।

6679

حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، أَخْبَرَنَا النَّضْرُ بْنُ شُمَيْلٍ، حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ سَرْوَانَ، الْمُعَلِّمُ حَدَّثَنِي طَلْحَةُ بْنُ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ كَرِيزٍ، قَالَ حَدَّثَتْنِي أُمُّ الدَّرْدَاءِ، قَالَتْ حَدَّثَنِي سَيِّدِي، أَنَّهُ سَمِعَ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " مَنْ دَعَا لأَخِيهِ بِظَهْرِ الْغَيْبِ قَالَ الْمَلَكُ الْمُوَكَّلُ بِهِ آمِينَ وَلَكَ بِمِثْلٍ " .

Narrator: উম্মে দারদা (রহঃ)

৬৬৭৯। ইসহাক ইবনে ইবরাহীম (রাহঃ) ......... উম্মে দারদা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমার মনিব (স্বামী) আমাকে হাদীস শুনিয়েছেন যে, তিনি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে বলতে শুনেছেনঃ যে ব্যক্তি তার ভাই এর অনুপস্থিতিতে তার জন্য দুআ করে, তার জন্য একজন নিয়োজিত ফিরিশতা আমীন বলতে থাকে এবং বলে, তোমার জন্যও অনুরূপ।

6680
حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، أَخْبَرَنَا عِيسَى بْنُ يُونُسَ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْمَلِكِ بْنُ أَبِي، سُلَيْمَانَ عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ، عَنْ صَفْوَانَ، - وَهُوَ ابْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ صَفْوَانَ - وَكَانَتْ تَحْتَهُ الدَّرْدَاءُ قَالَ قَدِمْتُ الشَّامَ فَأَتَيْتُ أَبَا الدَّرْدَاءِ فِي مَنْزِلِهِ فَلَمْ أَجِدْهُ وَوَجَدْتُ أُمَّ الدَّرْدَاءِ فَقَالَتْ أَتُرِيدُ الْحَجَّ الْعَامَ فَقُلْتُ نَعَمْ . قَالَتْ فَادْعُ اللَّهَ لَنَا بِخَيْرٍ فَإِنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم كَانَ يَقُولُ " دَعْوَةُ الْمَرْءِ الْمُسْلِمِ لأَخِيهِ بِظَهْرِ الْغَيْبِ مُسْتَجَابَةٌ عِنْدَ رَأْسِهِ مَلَكٌ مُوَكَّلٌ كُلَّمَا دَعَا لأَخِيهِ بِخَيْرٍ قَالَ الْمَلَكُ الْمُوَكَّلُ بِهِ آمِينَ وَلَكَ بِمِثْلٍ " .
قَالَ فَخَرَجْتُ إِلَى السُّوقِ فَلَقِيتُ أَبَا الدَّرْدَاءِ فَقَالَ لِي مِثْلَ ذَلِكَ يَرْوِيهِ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم .

Narrator: উম্মে দারদা (রহঃ)

৬৬৮০। ইসহাক ইবনে ইবরাহীম (রাহঃ) ......... উম্মে দারদা (রাযিঃ) এর স্বামী সাফওয়ান ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে সাফওয়ান (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি সিরিয়াতে গেলাম এবং সেখানে আবু দারদা (রাযিঃ) এর ঘরে গেলাম। আমি তাকে ঘরে পেলাম না; বরং সেখানে উম্মে দারদাকে পেলাম। তিনি বললেন, আপনি কি এ বছর হজ্জ পালন করবেন? আমি বললাম, জি হ্যাঁ। তিনি বললেন, আল্লাহর কাছে আমাদের কল্যাণের জন্য দুআ করবেন। কেননা, নবী (ﷺ) বলতেনঃ একজন মুসলমান বান্দা তার ভাইয়ের অনুপস্থিতিতে তার জন্য দুআ করলে তা কবুল হয়। তার মাথায় একজন ফিরিশতা নিয়োজিত থাকেন, যখন সে তার ভাইয়ের জন্য দুআ করে তখন নিয়োজিত ফিরিশতা বলে থাকে আমীন এবং তোমার জন্যও অনুরূপ। তিনি বলেন, এরপর আমি বাজারের দিকে বের হলাম। আর আবু দারদা (রাযিঃ) এর দেখা পেলাম, তখন তিনি আমাকে তার অনুরূপ নবী (ﷺ) থেকে বর্ণনা করলেন।

6681

وَحَدَّثَنَاهُ أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ، عَنْ عَبْدِ الْمَلِكِ بْنِ أَبِي، سُلَيْمَانَ بِهَذَا الإِسْنَادِ مِثْلَهُ وَقَالَ عَنْ صَفْوَانَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ صَفْوَانَ، .

Narrator: বিবিধ

৬৬৮১। আবু বকর ইবনে আবি শাঈবা (রাহঃ) ......... আব্দুল মালিক ইবনে আবু সুলাইমান থেকে এই সনদে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন এবং তিনি বলেছেন, সাফওয়ান ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে সাফওয়ান (রাহঃ) এর সূত্রে।

২৪. পানাহারের পর الحمد لله বলা মুস্তাহাব

باب اسْتِحْبَابِ حَمْدِ اللَّهِ تَعَالَى بَعْدَ الأَكْلِ وَالشُّرْبِ

6682
حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، وَابْنُ، نُمَيْرٍ - وَاللَّفْظُ لاِبْنِ نُمَيْرٍ - قَالاَ حَدَّثَنَا أَبُو أُسَامَةَ وَمُحَمَّدُ بْنُ بِشْرٍ عَنْ زَكَرِيَّاءَ بْنِ أَبِي زَائِدَةَ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ أَبِي بُرْدَةَ، عَنْ أَنَسِ بْنِ، مَالِكٍ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " إِنَّ اللَّهَ لَيَرْضَى عَنِ الْعَبْدِ أَنْ يَأْكُلَ الأَكْلَةَ فَيَحْمَدَهُ عَلَيْهَا أَوْ يَشْرَبَ الشَّرْبَةَ فَيَحْمَدَهُ عَلَيْهَا " .
وَحَدَّثَنِيهِ زُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ يُوسُفَ الأَزْرَقُ، حَدَّثَنَا زَكَرِيَّاءُ، بِهَذَا الإِسْنَادِ .

Narrator: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

৬৬৮২। আবু বকর ইবনে আবি শাঈবা ও ইবনে নুমাইর (রাহঃ) ......... আনাস ইবনে মালিক (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা সেই বন্দার প্রতি সন্তুষ্ট, যে খাওয়ার পরে তার জন্য الحمد لله বলে এবং পানীয় পান করার পরে তার জন্য (শুকরিয়া স্বরূপ) الحمد لله বলে।

যুহাইর ইবনে হারব (রাহঃ) ......... যাকারিয়্যা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, অনুরূপ বলেছেন।

২৫. দুআকারী "আমি কত দুআ করলাম কিন্তু কবুল হল না" এরূপ উক্তি করে তাড়াহুড়া না করলে তার দুআ কবুল হয়

باب بَيَانِ أَنَّهُ يُسْتَجَابُ لِلدَّاعِي مَا لَمْ يَعْجَلْ فَيَقُولُ دَعَوْتُ فَلَمْ يُسْتَجَبْ لِي

6683

حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ يَحْيَى، قَالَ قَرَأْتُ عَلَى مَالِكٍ عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ أَبِي عُبَيْدٍ، مَوْلَى ابْنِ أَزْهَرَ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " يُسْتَجَابُ لأَحَدِكُمْ مَا لَمْ يَعْجَلْ فَيَقُولُ قَدْ دَعَوْتُ فَلاَ أَوْ فَلَمْ يُسْتَجَبْ لِي " .

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৬৬৮৩। ইয়াহয়া ইবনে ইয়াহয়া (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ তোমাদের কারো দুআ তখনই কবুল করা হয় যখন সে তাড়াহুড়া না করে। (তাড়াহুড়া করে দুআ করার পর) এরূপ না বলতে থাকে যে, আমি আমার প্রতিপালকের নিকট দুআ করলাম; অথচ তিনি আমার দুআ কবুল করছেন না অথবা (বলে) কবুল করা হয় নি।

6684

حَدَّثَنِي عَبْدُ الْمَلِكِ بْنُ شُعَيْبِ بْنِ لَيْثٍ، حَدَّثَنِي أَبِي، عَنْ جَدِّي، حَدَّثَنِي عُقَيْلُ بْنُ خَالِدٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، أَنَّهُ قَالَ حَدَّثَنِي أَبُو عُبَيْدٍ، مَوْلَى عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَوْفٍ وَكَانَ مِنَ الْقُرَّاءِ وَأَهْلِ الْفِقْهِ قَالَ سَمِعْتُ أَبَا هُرَيْرَةَ يَقُولُ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " يُسْتَجَابُ لأَحَدِكُمْ مَا لَمْ يَعْجَلْ فَيَقُولُ قَدْ دَعَوْتُ رَبِّي فَلَمْ يَسْتَجِبْ لِي " .

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৬৬৮৪। আব্দুল মালিক ইবনে শুআয়ব (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ তোমাদের কারো দুআ তখনই কবুল করা হয় যখন সে তাড়াহুড়া না করে। এভাবে না বলতে থাকে যে, আমি আমার প্রতিপালকের কাছে দুআ করলাম তিনি আমার দুআ কবুল করলেন না।

6685

حَدَّثَنِي أَبُو الطَّاهِرِ، أَخْبَرَنَا ابْنُ وَهْبٍ، أَخْبَرَنِي مُعَاوِيَةُ، - وَهُوَ ابْنُ صَالِحٍ - عَنْ رَبِيعَةَ بْنِ يَزِيدَ، عَنْ أَبِي إِدْرِيسَ الْخَوْلاَنِيِّ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ قَالَ " لاَ يَزَالُ يُسْتَجَابُ لِلْعَبْدِ مَا لَمْ يَدْعُ بِإِثْمٍ أَوْ قَطِيعَةِ رَحِمٍ مَا لَمْ يَسْتَعْجِلْ " . قِيلَ يَا رَسُولَ اللَّهِ مَا الاِسْتِعْجَالُ قَالَ " يَقُولُ قَدْ دَعَوْتُ وَقَدْ دَعَوْتُ فَلَمْ أَرَ يَسْتَجِيبُ لِي فَيَسْتَحْسِرُ عِنْدَ ذَلِكَ وَيَدَعُ الدُّعَاءَ " .

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৬৬৮৫। আবু তাহির (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেছেন, বান্দার দুআ হরহামেশা কবুল করা হয় যদি না সে পাপ কর্মের জন্য কিংবা আত্মীয়তার সম্পর্কে ছিন্ন করার জন্য দুআ করে এবং (দুআয়) তাড়াহুড়া না করে। বলা হল, ইয়া রাসুলাল্লাহ! (দুআয়) তাড়াহুড়া করা কি? তিনি বললেন, সে বলতে থাকে, আমি দুআ তো করেছি, কিন্তু তা কবুল হল বলে দেখতে পেলাম না। তখন সে নিরাশ হয়ে পড়ে এবং দুআ করা ছেড়ে দেয়।

২৬. জান্নাতবাসী অধিকাংশই দরিদ্র এবং জাহান্নামবাসী অধিকাংশই নারী এবং নারী সম্পর্কিত ফিতনার বর্ণনা

بَاب أَكْثَرُ أَهْلِ الْجَنَّةِ الْفُقَرَاءُ وَأَكْثَرُ أَهْلِ النَّارِ النِّسَاءُ وَبَيَانِ الْفِتْنَةِ بِالنِّسَاءِ

6686

حَدَّثَنَا هَدَّابُ بْنُ خَالِدٍ، حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ، ح وَحَدَّثَنِي زُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، حَدَّثَنَا مُعَاذُ بْنُ مُعَاذٍ الْعَنْبَرِيُّ، ح وَحَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الأَعْلَى، حَدَّثَنَا الْمُعْتَمِرُ، ح وَحَدَّثَنَا إِسْحَاقُ، بْنُ إِبْرَاهِيمَ أَخْبَرَنَا جَرِيرٌ، كُلُّهُمْ عَنْ سُلَيْمَانَ التَّيْمِيِّ، ح وَحَدَّثَنَا أَبُو كَامِلٍ، فُضَيْلُ بْنُ حُسَيْنٍ - وَاللَّفْظُ لَهُ - حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ زُرَيْعٍ، حَدَّثَنَا التَّيْمِيُّ، عَنْ أَبِي عُثْمَانَ، عَنْ أُسَامَةَ بْنِ زَيْدٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " قُمْتُ عَلَى بَابِ الْجَنَّةِ فَإِذَا عَامَّةُ مَنْ دَخَلَهَا الْمَسَاكِينُ وَإِذَا أَصْحَابُ الْجَدِّ مَحْبُوسُونَ إِلاَّ أَصْحَابَ النَّارِ فَقَدْ أُمِرَ بِهِمْ إِلَى النَّارِ وَقُمْتُ عَلَى بَابِ النَّارِ فَإِذَا عَامَّةُ مَنْ دَخَلَهَا النِّسَاءُ " .

Narrator: হযরত উসামা ইবন যায়দ রাযি.

৬৬৮৬। হাদ্দাব ইবনে খালিদ, যুহাইর ইবনে হারব, মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল আলা, ইসহাক ইবনে ইবরাহীম ও আবু কামিল ফুযায়ল ইবনে হুসাইন (রাহঃ) ......... উসামা ইবনে যায়দ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ আমি জান্নাতের দরজায় দাঁড়ালাম। দেখলাম, অধিকাংশই যারা জান্নাতে প্রবেশ করছে, মিসকীন আর সম্পদশালীরা বন্দী অবস্থায়। যারা জাহান্নামী তাদের জাহান্নামে নিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হলো। আমি জাহান্নামের প্রবেশ পথে দাঁড়ালাম। দেখলাম যে, অধিকাংশই জাহান্নামে প্রবেশ করেছে নারী।

6687

حَدَّثَنَا زُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، عَنْ أَيُّوبَ، عَنْ أَبِي رَجَاءٍ، الْعُطَارِدِيِّ قَالَ سَمِعْتُ ابْنَ عَبَّاسٍ، يَقُولُ قَالَ مُحَمَّدٌ صلى الله عليه وسلم " اطَّلَعْتُ فِي الْجَنَّةِ فَرَأَيْتُ أَكْثَرَ أَهْلِهَا الْفُقَرَاءَ وَاطَّلَعْتُ فِي النَّارِ فَرَأَيْتُ أَكْثَرَ أَهْلِهَا النِّسَاءَ " .

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

৬৬৮৭। যুহাইর ইবনে হারব (রাহঃ) ......... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, মুহাম্মাদ (ﷺ) বলেছেন, আমি জান্নাতের দিকে দৃষ্টি দিলাম, দেখতে পেলাম, তার অধিকাংশ অধিবাসীই ফকীর। এরপর আমি জাহান্নামের দিকে তাকালাম। দেখলাম, তার অধিকাংশ অধিবাসীই নারী।

6688

وَحَدَّثَنَاهُ إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، أَخْبَرَنَا الثَّقَفِيُّ، أَخْبَرَنَا أَيُّوبُ، بِهَذَا الإِسْنَادِ .

Narrator: আইয়ুব সাখতিয়ানী (রহঃ)

৬৬৮৮। ইসহাক ইবনে ইবরাহীম (রাহঃ) ......... আইয়ুব (রাহঃ) থেকে এই সনদে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।

6689

وَحَدَّثَنَا شَيْبَانُ بْنُ فَرُّوخَ، حَدَّثَنَا أَبُو الأَشْهَبِ، حَدَّثَنَا أَبُو رَجَاءٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم اطَّلَعَ فِي النَّارِ . فَذَكَرَ بِمِثْلِ حَدِيثِ أَيُّوبَ .

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

৬৬৮৯। শায়বান ইবনে ফাররুখ (রাহঃ) ......... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, নবী (ﷺ) জাহান্নামের দিকে দৃষ্টি দিয়ে দেখলেন। এরপর আইয়ুব (রাহঃ) এর হাদীসের অনুরূপ উল্লেখ করেন।

6690

حَدَّثَنَا أَبُو كُرَيْبٍ، حَدَّثَنَا أَبُو أُسَامَةَ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ أَبِي عَرُوبَةَ، سَمِعَ أَبَا رَجَاءٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَذَكَرَ مِثْلَهُ .

Narrator: আবু রজা' উতারিদী (রহঃ)

৬৬৯০। আবু কুরায়ব (রাহঃ) ......... আবু রাজা’ (রাহঃ) সূত্রে ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ ...... এরপর সাঈদ (রাহঃ) তার (পূর্বোক্তের) অনুরূপ উল্লেখ করেছেন।

6691

حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ مُعَاذٍ، حَدَّثَنَا أَبِي، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ أَبِي التَّيَّاحِ، قَالَ كَانَ لِمُطَرِّفِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ امْرَأَتَانِ فَجَاءَ مِنْ عِنْدِ إِحْدَاهُمَا فَقَالَتِ الأُخْرَى جِئْتَ مِنْ عِنْدِ فُلاَنَةَ فَقَالَ جِئْتُ مِنْ عِنْدِ عِمْرَانَ بْنِ حُصَيْنٍ فَحَدَّثَنَا أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " إِنَّ أَقَلَّ سَاكِنِي الْجَنَّةِ النِّسَاءُ " .

Narrator: আবুত তাইয়্যাহ (রহঃ)

৬৬৯১। উবাইদুল্লাহ ইবনে মুআয (রাহঃ) ......... আবু তায়্যাহ (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, মুতাররিফ ইবনে আব্দুল্লাহ এর দুই স্ত্রী ছিল। তিনি একদা তাদের একজনের কাছ থেকে এলেন। তখন অন্য জন বলল, আপনি তো অমুকের নিকট থেকে এসেছেন। তিনি বলেন, আমি ইমরান ইবনে হুসাইন (রাযিঃ) এর কাছে থেকে এসেছি। তিনি আমাদের কাছে হাদীস বর্ণনা করলেন যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ জান্নাতের অল্প সংখ্যক অধিবাসী নারী সমাজ।

6692

وَحَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْوَلِيدِ بْنِ عَبْدِ الْحَمِيدِ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ أَبِي التَّيَّاحِ، قَالَ سَمِعْتُ مُطَرِّفًا، يُحَدِّثُ أَنَّهُ كَانَتْ لَهُ امْرَأَتَانِ بِمَعْنَى حَدِيثِ مُعَاذٍ .

Narrator: আবুত তাইয়্যাহ (রহঃ)

৬৬৯২। মুহাম্মাদ ইবনুল ওয়ালীদ ইবনে আব্দুল হামীদ (রাহঃ) ......... আবু তায়্যাহ (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি মুতাররিফকে হাদীস বর্ণনা করতে শুনেছি যে, তার দু’জন স্ত্রী ছিল ......। মুআযের হাদীসের মর্মের অনুরূপ।

6693

حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ عَبْدِ الْكَرِيمِ أَبُو زُرْعَةَ، حَدَّثَنَا ابْنُ بُكَيْرٍ، حَدَّثَنِي يَعْقُوبُ بْنُ، عَبْدِ الرَّحْمَنِ عَنْ مُوسَى بْنِ عُقْبَةَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ دِينَارٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ، قَالَ كَانَ مِنْ دُعَاءِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنْ زَوَالِ نِعْمَتِكَ وَتَحَوُّلِ عَافِيَتِكَ وَفُجَاءَةِ نِقْمَتِكَ وَجَمِيعِ سَخَطِكَ " .

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

৬৬৯৩। উবাইদুল্লাহ ইবনে আব্দুল করীম আবু যুরআ (রাহঃ) ......... আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর দুআর মধ্যে একটি ছিল এইঃ হে আল্লাহ! আমি তোমার কাছে আশ্রয় চাই, তোমার নিআমত সরে যাওয়া, তোমার ক্ষমা ওলটপালট হয়ে যাওয়া, তোমার আকস্মিক প্রতিশোধ এবং তোমার সব রকমের অসন্তুষ্টি থেকে।

6694

حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ مَنْصُورٍ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، وَمُعْتَمِرُ بْنُ سُلَيْمَانَ، عَنْ سُلَيْمَانَ التَّيْمِيِّ، عَنْ أَبِي عُثْمَانَ النَّهْدِيِّ، عَنْ أُسَامَةَ بْنِ زَيْدٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " مَا تَرَكْتُ بَعْدِي فِتْنَةً هِيَ أَضَرُّ عَلَى الرِّجَالِ مِنَ النِّسَاءِ " .

Narrator: হযরত উসামা ইবন যায়দ রাযি.

৬৬৯৪। সাঈদ ইবনে মানসুর (রাহঃ) ......... উসামা ইবনে যায়দ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ আমি আমার (ওফাতের) পরে পুরুষদের জন্য নারীদের চাইতে অধিক ক্ষতিকর কোন ফিতনা রেখে যাচ্ছি না।

6695

حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ مُعَاذٍ الْعَنْبَرِيُّ، وَسُوَيْدُ بْنُ سَعِيدٍ، وَمُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الأَعْلَى، جَمِيعًا عَنِ الْمُعْتَمِرِ، قَالَ ابْنُ مُعَاذٍ حَدَّثَنَا الْمُعْتَمِرُ بْنُ سُلَيْمَانَ، قَالَ قَالَ أَبِي حَدَّثَنَا أَبُو عُثْمَانَ، عَنْ أُسَامَةَ بْنِ زَيْدِ بْنِ حَارِثَةَ، وَسَعِيدِ بْنِ زَيْدِ بْنِ عَمْرِو بْنِ نُفَيْلٍ، أَنَّهُمَا حَدَّثَا عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ قَالَ " مَا تَرَكْتُ بَعْدِي فِي النَّاسِ فِتْنَةً أَضَرَّ عَلَى الرِّجَالِ مِنَ النِّسَاءِ " .

Narrator: হযরত উসামা ইবন যায়দ রাযি.

৬৬৯৫। উবাইদুল্লাহ ইবনে মু’আয আম্বারী, সুওয়ায়দ ইবনে সাঈদ ও মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল আলা (রাহঃ) ......... উসামা ইবনে যায়দ ইবনে হারিসা ও সাঈদ ইবনে যায়দ ইবনে আমর ইবনে নুফায়ল (রাযিঃ) সূত্রে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেছেনঃ আমি আমার (ওফাতের) পরে মানুষের মাঝে পুরুষদের জন্য নারীদের চাইতে অধিকতর ক্ষতিকর কোন ফিতনা রেখে যাইনি।

6696

وَحَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، وَابْنُ، نُمَيْرٍ قَالاَ حَدَّثَنَا أَبُو خَالِدٍ الأَحْمَرُ، ح وَحَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ يَحْيَى، أَخْبَرَنَا هُشَيْمٌ، ح وَحَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، أَخْبَرَنَا جَرِيرٌ، كُلُّهُمْ عَنْ سُلَيْمَانَ التَّيْمِيِّ، بِهَذَا الإِسْنَادِ مِثْلَهُ .

Narrator: সুলাইমান আত তাইমী (রহঃ)

৬৬৯৬। আবু বকর ইবনে আবি শাঈবা ও ইবনে নুমাইর, ইয়াহয়া ইবনে ইয়াহয়া ও ইসহাক ইবনে ইবরাহীম (রাহঃ) ......... সুলাইমান তায়মী থেকে এই সনদে তার অনুরূপ বর্ণিত।

6697

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، وَمُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، قَالاَ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ أَبِي مَسْلَمَةَ، قَالَ سَمِعْتُ أَبَا نَضْرَةَ، يُحَدِّثُ عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " إِنَّ الدُّنْيَا حُلْوَةٌ خَضِرَةٌ وَإِنَّ اللَّهَ مُسْتَخْلِفُكُمْ فِيهَا فَيَنْظُرُ كَيْفَ تَعْمَلُونَ فَاتَّقُوا الدُّنْيَا وَاتَّقُوا النِّسَاءَ فَإِنَّ أَوَّلَ فِتْنَةِ بَنِي إِسْرَائِيلَ كَانَتْ فِي النِّسَاءِ " . وَفِي حَدِيثِ ابْنِ بَشَّارٍ " لِيَنْظُرَ كَيْفَ تَعْمَلُونَ " .

Narrator: হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ)

৬৬৯৭। মুহাম্মাদ ইবনে মুসান্না ও মুহাম্মাদ ইবনে বাশশার (রাহঃ) ......... আবু সাঈদ খুদরী (রাযিঃ) সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেছেনঃ নিশ্চয়ই দুনিয়া মিষ্ট সবুজ (সুস্বাদু দর্শনীয় ও) আল্লাহ তাআলা সেখানে তোমাদের খলীফা হিসেবে পাঠিয়েছেন। তিনি দেখতে চান যে, তোমরা কি কর? তোমরা দুনিয়া ও নারী থেকে সাবধান থাক। কেননা বনী ইসরাঈলদের মধ্যে যে প্রথম ফিতনা দেখা দিয়েছিল তা ছিল নারীকে কেন্দ্র করে।

ইবনে বাশশার (রাহঃ) বর্ণিত হাদীসে فَيَنْظُر এর স্থলেلِيَنْظُرَ كَيْفَ تَعْمَلُونَ (তোমরা কি কর তা দেখার জন্য তিনি তোমাদের দুনিয়াতে পাঠিয়েছেন)।

২৭. গুহাবাসী তিন ব্যক্তির কিসসা এবং নেক আমলের ওসীলা দিয়ে দুআ করা

باب قِصَّةِ أَصْحَابِ الْغَارِ الثَّلاَثَةِ وَالتَّوَسُّلِ بِصَالِحِ الأَعْمَالِ

6698

حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ إِسْحَاقَ الْمُسَيَّبِيُّ، حَدَّثَنِي أَنَسٌ، - يَعْنِي ابْنَ عِيَاضٍ أَبَا ضَمْرَةَ - عَنْ مُوسَى بْنِ عُقْبَةَ، عَنْ نَافِعٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ، عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ قَالَ " بَيْنَمَا ثَلاَثَةُ نَفَرٍ يَتَمَشَّوْنَ أَخَذَهُمُ الْمَطَرُ فَأَوَوْا إِلَى غَارٍ فِي جَبَلٍ فَانْحَطَّتْ عَلَى فَمِ غَارِهِمْ صَخْرَةٌ مِنَ الْجَبَلِ فَانْطَبَقَتْ عَلَيْهِمْ فَقَالَ بَعْضُهُمْ لِبَعْضٍ انْظُرُوا أَعْمَالاً عَمِلْتُمُوهَا صَالِحَةً لِلَّهِ فَادْعُوا اللَّهَ تَعَالَى بِهَا لَعَلَّ اللَّهَ يَفْرُجُهَا عَنْكُمْ . فَقَالَ أَحَدُهُمُ اللَّهُمَّ إِنَّهُ كَانَ لِي وَالِدَانِ شَيْخَانِ كَبِيرَانِ وَامْرَأَتِي وَلِيَ صِبْيَةٌ صِغَارٌ أَرْعَى عَلَيْهِمْ فَإِذَا أَرَحْتُ عَلَيْهِمْ حَلَبْتُ فَبَدَأْتُ بِوَالِدَىَّ فَسَقَيْتُهُمَا قَبْلَ بَنِيَّ وَأَنَّهُ نَأَى بِي ذَاتَ يَوْمٍ الشَّجَرُ فَلَمْ آتِ حَتَّى أَمْسَيْتُ فَوَجَدْتُهُمَا قَدْ نَامَا فَحَلَبْتُ كَمَا كُنْتُ أَحْلُبُ فَجِئْتُ بِالْحِلاَبِ فَقُمْتُ عِنْدَ رُءُوسِهِمَا أَكْرَهُ أَنْ أُوقِظَهُمَا مِنْ نَوْمِهِمَا وَأَكْرَهُ أَنْ أَسْقِيَ الصِّبْيَةَ قَبْلَهُمَا وَالصِّبْيَةُ يَتَضَاغَوْنَ عِنْدَ قَدَمَىَّ فَلَمْ يَزَلْ ذَلِكَ دَأْبِي وَدَأْبَهُمْ حَتَّى طَلَعَ الْفَجْرُ فَإِنْ كُنْتَ تَعْلَمُ أَنِّي فَعَلْتُ ذَلِكَ ابْتِغَاءَ وَجْهِكَ فَافْرُجْ لَنَا مِنْهَا فُرْجَةً نَرَى مِنْهَا السَّمَاءَ . فَفَرَجَ اللَّهُ مِنْهَا فُرْجَةً فَرَأَوْا مِنْهَا السَّمَاءَ . وَقَالَ الآخَرُ اللَّهُمَّ إِنَّهُ كَانَتْ لِيَ ابْنَةُ عَمٍّ أَحْبَبْتُهَا كَأَشَدِّ مَا يُحِبُّ الرِّجَالُ النِّسَاءَ وَطَلَبْتُ إِلَيْهَا نَفْسَهَا فَأَبَتْ حَتَّى آتِيَهَا بِمِائَةِ دِينَارٍ فَتَعِبْتُ حَتَّى جَمَعْتُ مِائَةَ دِينَارٍ فَجِئْتُهَا بِهَا فَلَمَّا وَقَعْتُ بَيْنَ رِجْلَيْهَا قَالَتْ يَا عَبْدَ اللَّهِ اتَّقِ اللَّهَ وَلاَ تَفْتَحِ الْخَاتَمَ إِلاَّ بِحَقِّهِ . فَقُمْتُ عَنْهَا فَإِنْ كُنْتَ تَعْلَمُ أَنِّي فَعَلْتُ ذَلِكَ ابْتِغَاءَ وَجْهِكَ فَافْرُجْ لَنَا مِنْهَا فُرْجَةً . فَفَرَجَ لَهُمْ . وَقَالَ الآخَرُ اللَّهُمَّ إِنِّي كُنْتُ اسْتَأْجَرْتُ أَجِيرًا بِفَرَقِ أَرُزٍّ فَلَمَّا قَضَى عَمَلَهُ قَالَ أَعْطِنِي حَقِّي . فَعَرَضْتُ عَلَيْهِ فَرَقَهُ فَرَغِبَ عَنْهُ فَلَمْ أَزَلْ أَزْرَعُهُ حَتَّى جَمَعْتُ مِنْهُ بَقَرًا وَرِعَاءَهَا فَجَاءَنِي فَقَالَ اتَّقِ اللَّهَ وَلاَ تَظْلِمْنِي حَقِّي . قُلْتُ اذْهَبْ إِلَى تِلْكَ الْبَقَرِ وَرِعَائِهَا فَخُذْهَا . فَقَالَ اتَّقِ اللَّهَ وَلاَ تَسْتَهْزِئْ بِي . فَقُلْتُ إِنِّي لاَ أَسْتَهْزِئُ بِكَ خُذْ ذَلِكَ الْبَقَرَ وَرِعَاءَهَا . فَأَخَذَهُ فَذَهَبَ بِهِ فَإِنْ كُنْتَ تَعْلَمُ أَنِّي فَعَلْتُ ذَلِكَ ابْتِغَاءَ وَجْهِكَ فَافْرُجْ لَنَا مَا بَقِيَ . فَفَرَجَ اللَّهُ مَا بَقِيَ .

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

৬৬৯৮। মুহাম্মাদ ইবনে ইসহাক মুসায়্যাবী (রাহঃ) ......... আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেছেন, একদা তিন ব্যক্তি পথে হেঁটে চলছিল। পথে তাদের উপর বৃষ্টি নামল। তখন তারা একটি পাহাড়ের গুহায় আশ্রয় নিল। তখন পর্বতগাত্র থেকে একটি পাথর খণ্ড খসে তাদের গুহার মুখে গড়িয়ে পড়ল। ফলে গুহার মুখ বন্ধ হয়ে গেল। তখন তারা একে অপরকে বলতে লাগল, আপন আপন নেক আমলের প্রতি লক্ষ্য কর, যা তোমরা আল্লাহর (সন্তুষ্টি লাভের) জন্য করেছ এবং সেই নেক আমলের ওসীলা দিয়ে আল্লাহর কাছে দুআ করতে থাক। আশা করা যায়, আল্লাহ তাআলা তোমাদের থেকে পাথরটি সরিয়ে দিবেন।

তখন তাদের একজন বলল, হে আল্লাহ! আমার পিতামাতা ছিলেন অতিশয়র বৃদ্ধ। আমার একজন স্ত্রী ও ছোট ছোট সন্তানাদি ছিল। আমি তাদের (জীবিকার) জন্য বকরী মাঠে চরাতাম। সন্ধ্যায় ঘরে ফিরে এসে আমি সেগুলোর দুধ দোহন করতাম এবং আমি আমার পুত্র কন্যাদের আগে প্রথমেই আমার পিতামাতাকে দুধ পান করাতাম। একদিন একটি গাছ আমাকে দুরে নিয়ে গেল (অর্থাৎ চারণভূমি দুরে ছিল)। এতে আমার ফিরতে রাত হয়ে গেল। আমি তাদের (পিতামাতা) উভয়কে ঘুমন্ত অবস্থায় পেলাম। এরপর আমি পূর্বের মতই দুধ দোহন করলাম। আমি দুধ নিয়ে আমার পিতামাতার মাথার কাছে দাড়িয়ে রইলাম এবং তাদের নিদ্রা ভঙ্গ করা পছন্দ করলাম না এবং তাদের আগে সন্তানদের দুধ পান করানোও পছন্দ করলাম না। তখন আমার সন্তানরা পিপাসায় আমার দুই পায়ের কাছে কাতরাচ্ছিল। তাদের ও আমার এই অবস্থা চলল। অবশেষে ভোর হয়ে গেল। যদি আপনি জানেন যে, আমি এই কাজ আপনার সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য করেছি, তাহলে আমাদের জন্য এতে পাথরে একটা ফোঁকড় করে দিন, যদ্বারা আমরা আসমান দেখতে পাই। তখন আল্লাহ তাআলা তাতে একটু ফাঁক করে দিলেন। তা দিয়ে তারা আসমান দেখতে পেল।

আরেক জন বলল, হে আল্লাহ! আমার ঘটনা এই, আমার এক চাচাতো বোন ছিল। পুরুষ যেভাবে নারীকে প্রচণ্ডরূপে ভালবাসে আমি তাকে তেমন ভালবাসতাম। আমি তাকে একান্ত কাছে পেতে চাইলাম। সে তাতে অস্বীকৃতি জানাল এবং একশ দীনার বায়না ধরল। আমি চেষ্টা করে একশ দীনার সঞ্চয় করলাম। এরপর সেগুলো নিয়ে তার কাছে গেলাম। যখন আমি তার দুই পায়ের মাঝখানে বসলাম, তখন সে বলল, হে আল্লাহর বান্দা! আল্লাহকে ভয় কর। অন্যায়ভাবে ছিপি খুলো না (কুমারিত্ব নষ্ট করো না)। একথা শুনে আমি তার উপর থেকে উঠে দাঁড়ালাম। আপনি যদি জানেন যে, একমাত্র আপনার সন্তুষ্টি অর্জনের জন্যই আমি এ কাজ করেছি তাহলে আমাদের জন্য একটি ফোঁকড় করে দিন। তখন তিনি তাদের জন্য আরেকটু ফাঁক করে দিলেন।

অপর ব্যক্তি বলল, হে আল্লাহ! আমি এক ফারাক চালের (শস্যের) একজন মজুর নিয়োগ করেছিলাম। সে তার কাজ সমাধা করে তার প্রাপ্য মজুরী দাবী করল। আমি এক ফারাক (শস্য) তার সামনে পেশ করলাম। কিন্তু সে তা নিল না। আমি সে শস্য যমীনে চাষ করতে থাকলাম। পরিশেষে তা দিয়ে গরু-বকরী ও রাখাল সংগ্রহ করলাম। পরে সে আমার কাছে আসল এবং বলল, আল্লাহকে ভয় কর। আর আমার প্রাপ্য পরিশোধের ব্যাপারে আমার উপর যুলুম করো না। আমি বললাম, তুমি এই গরু ও রাখালের কাছে গিয়ে সেগুলো নিয়ে যাও। তখন সে বলল, তুমি আল্লাহকে ভয় কর এবং আমার সঙ্গে ঠাট্রা-মশকরা করো না। আমি বললাম আমি তোমার সঙ্গে ঠাট্রা করছি না। ঐ গরু ও তার রাখালদের নিয়ে যাও। তখন সে তা নিয়ে চলে গেল। যদি আপনি জানেন যে, আমি এ কাজটি আপনার সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য করেছি তাহলে অবশিষ্ট অংশ খুলে দিন। তখন আল্লাহ তাআলা গুহা মুখের অবশিষ্ট অংশ খুলে দিলেন।
6699
وَحَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ مَنْصُورٍ، وَعَبْدُ بْنُ حُمَيْدٍ، قَالاَ أَخْبَرَنَا أَبُو عَاصِمٍ، عَنِ ابْنِ، جُرَيْجٍ أَخْبَرَنِي مُوسَى بْنُ عُقْبَةَ، ح وَحَدَّثَنِي سُوَيْدُ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ مُسْهِرٍ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ، ح وَحَدَّثَنِي أَبُو كُرَيْبٍ، وَمُحَمَّدُ بْنُ طَرِيفٍ الْبَجَلِيُّ، قَالاَ حَدَّثَنَا ابْنُ فُضَيْلٍ، حَدَّثَنَا أَبِي وَرَقَبَةُ بْنُ مَسْقَلَةَ، ح وَحَدَّثَنِي زُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، وَحَسَنٌ الْحُلْوَانِيُّ، وَعَبْدُ بْنُ حُمَيْدٍ، قَالُوا حَدَّثَنَا يَعْقُوبُ، - يَعْنُونَ ابْنَ إِبْرَاهِيمَ بْنِ سَعْدٍ - حَدَّثَنَا أَبِي، عَنْ صَالِحِ بْنِ كَيْسَانَ، كُلُّهُمْ عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم بِمَعْنَى حَدِيثِ أَبِي ضَمْرَةَ عَنْ مُوسَى بْنِ عُقْبَةَ وَزَادُوا فِي حَدِيثِهِمْ " وَخَرَجُوا يَمْشُونَ " . وَفِي حَدِيثِ صَالِحٍ " يَتَمَاشَوْنَ " . إِلاَّ عُبَيْدَ اللَّهِ فَإِنَّ فِي حَدِيثِهِ " وَخَرَجُوا " . وَلَمْ يَذْكُرْ بَعْدَهَا شَيْئًا .

حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ سَهْلٍ التَّمِيمِيُّ، وَعَبْدُ اللَّهِ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ بَهْرَامَ، وَأَبُو بَكْرِ بْنُ إِسْحَاقَ قَالَ ابْنُ سَهْلٍ حَدَّثَنَا وَقَالَ الآخَرَانِ، أَخْبَرَنَا أَبُو الْيَمَانِ، أَخْبَرَنَا شُعَيْبٌ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، أَخْبَرَنِي سَالِمُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، أَنَّ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عُمَرَ، قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " انْطَلَقَ ثَلاَثَةُ رَهْطٍ مِمَّنْ كَانَ قَبْلَكُمْ حَتَّى آوَاهُمُ الْمَبِيتُ إِلَى غَارٍ " . وَاقْتَصَّ الْحَدِيثَ بِمَعْنَى حَدِيثِ نَافِعٍ عَنِ ابْنِ عُمَرَ غَيْرَ أَنَّهُ قَالَ قَالَ رَجُلٌ مِنْهُمُ " اللَّهُمَّ كَانَ لِي أَبَوَانِ شَيْخَانِ كَبِيرَانِ فَكُنْتُ لاَ أَغْبُقُ قَبْلَهُمَا أَهْلاً وَلاَ مَالاً " . وَقَالَ " فَامْتَنَعَتْ مِنِّي حَتَّى أَلَمَّتْ بِهَا سَنَةٌ مِنَ السِّنِينَ فَجَاءَتْنِي فَأَعْطَيْتُهَا عِشْرِينَ وَمِائَةَ دِينَارٍ " . وَقَالَ " فَثَمَّرْتُ أَجْرَهُ حَتَّى كَثُرَتْ مِنْهُ الأَمْوَالُ فَارْتَعَجَتْ " . وَقَالَ " فَخَرَجُوا مِنَ الْغَارِ يَمْشُونَ

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

৬৬৯৯ (ক) ইসহাক ইবনে মনসুর ও আব্দ ইবনে হুমায়দ, সুওয়ায়দ ইবনে সাঈদ, আবু কুরায়ব ও মুহাম্মাদ ইবনে তারীফ বাজালী যুহাইর ইবনে হারব, হাসান হুলওয়ানী, আব্দ ইবনে হুমায়দ ......... সকলে ইবনে উমর (রাযিঃ) সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে, মুসা ইবনে উকবা (রাহঃ) সূত্রের আবু যামরা (রাহঃ) এর হাদীসের মর্ম অনুযায়ী বর্ণনা করেছেন।

তাঁরা তাঁদের হাদীসের এইটুকু বেশী উল্লেখ করেছেন خَرَجُوا يَمْشُونَ তারা হেঁটে হেঁটে বেরিয়ে গেল। সালিহ (রাহঃ) এর হাদীসে يَتَمَاشَوْنَ শব্দ আছে। উবাইদুল্লাহর হাদীসেخَرَجُوا (তারা বের হলো) উল্লেখ আছে। এরপর তিনি কোন শব্দ উল্লেখ করেননি।


৬৬৯৯ (খ) মুহাম্মাদ ইবনে সাহল তামীমী, আব্দুল্লাহ ইবনে আব্দুর রহমান ইবনে বাহরাম, আবু বকর ইবনে ইসহাক (রাহঃ) ......... আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাযিঃ) বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে বলতে শুনেছি, তোমাদের পূর্বেকার যুগের তিন ব্যক্তি পথ চলছিল। অবশেষে রাত যাপন (এর প্রয়োজনে) তারা এক গুহায় আশ্রয় নিল ...... ইবনে উমর (রাযিঃ) থেকে নাফি (রাহঃ) এর বর্ণিত হাদীসের মর্মানুসারে বর্ণনা করেছেন। তবে এতে তিনি (রাবী) বলেছেন “তাদের একজন বলল, হে আল্লাহ আমার ছিলেন অতিশয় বৃদ্ধ পিতামাতা। আমি পরিবার পরিজনের কাউকেই তাদের আগে বিরোলের (বারাদ্দ পানীয়) দুধ পান করাতাম না।

এবং অন্য (দ্বিতীয়) একজন বলেছেন সে (চাচাতো বোন) আমার হাতে আত্মরক্ষা করল। অবশেষে সে (কোন এক) দুর্ভিক্ষের শিকার হল। তখন সে আমার কাছে এলে আমি তাকে একশত বিশ দীনার (স্বর্ণমুদ্রা) দিলাম এবং (তৃতীয়) একজন বলেছেন, আমি তার (প্রাপ্য) মজুরী উৎপাদনে বিনিয়োগ করলাম। অবশেষে তাতে সম্পদ (উট, গরু, ছাগল) অনেক ভাল হল এবং তা (এত অধিক হল যে, তা) নড়াচড়া ও ছুটাছুটি করতে লাগল। ......... এতে রাবী বলেছেন, তারা হ্যাঁটতে হ্যাঁটতে গুহা থেকে বেরিয়ে গেল।

২৮. তাওবার ব্যাপারে উৎসাহ দান ও তাতে আনন্দিত হওয়া

باب فِي الْحَضِّ عَلَى التَّوْبَةِ وَالْفَرَحِ بِهَا

6700

حَدَّثَنِي سُوَيْدُ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا حَفْصُ بْنُ مَيْسَرَةَ، حَدَّثَنِي زَيْدُ بْنُ أَسْلَمَ، عَنْ أَبِي، صَالِحٍ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ قَالَ " قَالَ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ أَنَا عِنْدَ ظَنِّ عَبْدِي بِي وَأَنَا مَعَهُ حَيْثُ يَذْكُرُنِي وَاللَّهِ لَلَّهُ أَفْرَحُ بِتَوْبَةِ عَبْدِهِ مِنْ أَحَدِكُمْ يَجِدُ ضَالَّتَهُ بِالْفَلاَةِ وَمَنْ تَقَرَّبَ إِلَىَّ شِبْرًا تَقَرَّبْتُ إِلَيْهِ ذِرَاعًا وَمَنْ تَقَرَّبَ إِلَىَّ ذِرَاعًا تَقَرَّبْتُ إِلَيْهِ بَاعًا وَإِذَا أَقْبَلَ إِلَىَّ يَمْشِي أَقْبَلْتُ إِلَيْهِ أُهَرْوِلُ " .

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৬৭০০। সাওয়ায়দ ইবনে সাঈদ (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ আল্লাহ রাববুল আলামীন ইরশাদ করেছেনঃ আমার প্রতি বান্দার বিশ্বাসের অনুরূপই (আমার প্রতি বান্দার ধারণা মুতাবিক আমি তার সঙ্গে আচরণ করি)। সে যখন যেখানেই আমাকে স্মরণ করে আমি তার সঙ্গে আছি। মরু বিয়াবানে তোমাদের কেউ হারানো (বাহন) পশু পাওয়ার পর যে পরিমাণ খুশী হয় আল্লাহ তাআলা বান্দার তাওবার পর এর থেকেও অধিক খুশী হন। যদি কেউ এক বিঘত পরিমাণ আমার দিকে এগিয়ে আসে তবে আমি তার প্রতি একহাত এগিয়ে যাই। যদি কেউ একহাত পরিমাণ আমার দিকে এগিয়ে আসে, তবে আমি এক ’বাগ’ (দু’ বাহু ডানে বামে প্রসারিত করলে যে দূরত্ব হয়) পরিমাণ তার দিকে এগিয়ে যাই। যদি কেউ আমার দিকে হেঁটে আসে তবে আমি তার দিকে ছুটে যাই।

6701

حَدَّثَنِي عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مَسْلَمَةَ بْنِ قَعْنَبٍ الْقَعْنَبِيُّ، حَدَّثَنَا الْمُغِيرَةُ، - يَعْنِي ابْنَ عَبْدِ الرَّحْمَنِ الْحِزَامِيَّ - عَنْ أَبِي الزِّنَادِ، عَنِ الأَعْرَجِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " لَلَّهُ أَشَدُّ فَرَحًا بِتَوْبَةِ أَحَدِكُمْ مِنْ أَحَدِكُمْ بِضَالَّتِهِ إِذَا وَجَدَهَا " .

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৬৭০১। আব্দুল্লাহ ইবনে মাসলামা কা’নাব কা’নবী (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ তোমাদের কোন ব্যক্তি হারানো পশু পাওয়ার কারণে যে পরিমাণ খুশী হয়, তোমাদের কারো তাওবার কারণে আল্লাহ তাআলা এর চেয়েও অধিক খুশী হন।

6702

وَحَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ رَافِعٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، حَدَّثَنَا مَعْمَرٌ، عَنْ هَمَّامِ بْنِ مُنَبِّهٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم بِمَعْنَاهُ .

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৬৭০২। মুহাম্মাদ ইবনে রাফি (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) এর সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।

6703

حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، وَإِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، - وَاللَّفْظُ لِعُثْمَانَ - قَالَ إِسْحَاقُ أَخْبَرَنَا وَقَالَ، عُثْمَانُ حَدَّثَنَا جَرِيرٌ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ عُمَارَةَ بْنِ عُمَيْرٍ، عَنِ الْحَارِثِ بْنِ، سُوَيْدٍ قَالَ دَخَلْتُ عَلَى عَبْدِ اللَّهِ أَعُودُهُ وَهُوَ مَرِيضٌ فَحَدَّثَنَا بِحَدِيثَيْنِ حَدِيثًا عَنْ نَفْسِهِ وَحَدِيثًا عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " لَلَّهُ أَشَدُّ فَرَحًا بِتَوْبَةِ عَبْدِهِ الْمُؤْمِنِ مِنْ رَجُلٍ فِي أَرْضٍ دَوِيَّةٍ مَهْلَكَةٍ مَعَهُ رَاحِلَتُهُ عَلَيْهَا طَعَامُهُ وَشَرَابُهُ فَنَامَ فَاسْتَيْقَظَ وَقَدْ ذَهَبَتْ فَطَلَبَهَا حَتَّى أَدْرَكَهُ الْعَطَشُ ثُمَّ قَالَ أَرْجِعُ إِلَى مَكَانِي الَّذِي كُنْتُ فِيهِ فَأَنَامُ حَتَّى أَمُوتَ . فَوَضَعَ رَأْسَهُ عَلَى سَاعِدِهِ لِيَمُوتَ فَاسْتَيْقَظَ وَعِنْدَهُ رَاحِلَتُهُ وَعَلَيْهَا زَادُهُ وَطَعَامُهُ وَشَرَابُهُ فَاللَّهُ أَشَدُّ فَرَحًا بِتَوْبَةِ الْعَبْدِ الْمُؤْمِنِ مِنْ هَذَا بِرَاحِلَتِهِ وَزَادِهِ " .

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ)

৬৭০৩। উসমান ইবনে আবি শাঈবা ও ইসহাক ইবনে ইবরাহীম (রাহঃ) ......... হারিস ইবনে সুওয়ায়দ (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আব্দুল্লাহ (রাযিঃ) অসুস্থ ছিলেন। তার দেখার জন্য (একদা) আমি তাঁর নিকট গেলাম। তখন তিনি আমাকে দু’টি হাদীস শোনালেন। একটি নিজের পক্ষ থেকে (নিজের সম্পর্কে) এবং অপরটি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর পক্ষ থেকে।

তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে একথা বলতে শুনেছি যে, আল্লাহ তাআলা তার মুমিন বান্দার তাওবার কারণে ঐ ব্যক্তির চেয়েও অধিক আনন্দিত হন, যে ব্যক্তি ছায়া-পানিহীন আশঙ্কাপূর্ণ প্রান্তরে রয়েছে এবং তার সাথে আছে তার বাহন সওয়ারী, যার পিঠে রয়েছে তার পানাহার সামগ্রী। সে (সাময়িক বিশ্রামের জন্য) ঘুমিয়ে পড়ে। তারপর ঘুম থেকে জেগে দেখে যে, সওয়ারীটি সেখানে নেই। এরপর সে সেটি তালাশ করতে করতে পিপাসার্ত হয়ে পড়ে এবং বলে, আমি আমার আগের জায়গায়ই ফিরে যাব এবং ঘুমাতে ঘুমাতে মরে যাব। (এ কথা বলে) সে মৃত্যুর জন্য বাহুতে মাথা রাখল।

(কিছুক্ষণ পর) জাগ্রত হয়ে সে দেখল, সওয়ারীটি তার কাছেই রয়েছে এবং (যথারীতি) তার উপর রয়েছে পানাহার সামগ্রী এবং (সওয়ারী এবং পানাহার সামগ্রী পেয়ে) লোকটি যে পরিমাণ আনন্দিত হয়, মুমিন বান্দার তাওবার কারণে আল্লাহ এর চেয়েও অধিক আনন্দিত হন।

২৮. তাওবার ব্যাপারে উৎসাহদান ও তাতে আনন্দিত হওয়া

باب فِي الْحَضِّ عَلَى التَّوْبَةِ وَالْفَرَحِ بِهَا

6704

وَحَدَّثَنَاهُ أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ آدَمَ، عَنْ قُطْبَةَ بْنِ عَبْدِ الْعَزِيزِ، عَنِ الأَعْمَشِ، بِهَذَا الإِسْنَادِ وَقَالَ " مِنْ رَجُلٍ بِدَاوِيَّةٍ مِنَ الأَرْضِ " .

Narrator: বিবিধ

৬৭০৪। আবু বকর ইবনে আবি শাঈবা (রাহঃ) উক্ত-সনদে এ হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। তবে তিনি (فِي أَرْضٍ دَوِيَّةٍ স্থলে) بِدَاوِيَّةٍ مِنَ الأَرْضِ বলেছেন।

6705

وَحَدَّثَنِي إِسْحَاقُ بْنُ مَنْصُورٍ، حَدَّثَنَا أَبُو أُسَامَةَ، حَدَّثَنَا الأَعْمَشُ، حَدَّثَنَا عُمَارَةُ، بْنُ عُمَيْرٍ قَالَ سَمِعْتُ الْحَارِثَ بْنَ سُوَيْدٍ، قَالَ حَدَّثَنِي عَبْدُ اللَّهِ، حَدِيثَيْنِ أَحَدُهُمَا عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَالآخَرُ عَنْ نَفْسِهِ فَقَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " لَلَّهُ أَشَدُّ فَرَحًا بِتَوْبَةِ عَبْدِهِ الْمُؤْمِنِ " . بِمِثْلِ حَدِيثِ جَرِيرٍ .

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ)

৬৭০৫। ইসহাক ইবনে মনসুর (রাহঃ) ......... উমরা ইবনে উমায়র (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি হারিস ইবনে সুওয়ায়দকে একথা বলতে শুনেছি যে, আব্দুল্লাহ (রাযিঃ) আমার নিকট দুটি হাদীস বর্ণনা করেছেন। একটি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) থেকে এবং অপরটি তার নিজের পক্ষ থেকে (নিজের সম্পর্কে)। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ আল্লাহ তার মুমিন বান্দার তাওবার কারণে অধিকতর আনন্দিত হন। জারীরের হাদীসের অনুরূপ।

২৮. তাওবার ব্যাপারে উৎসাহ দান ও তাতে আনন্দিত হওয়া

باب فِي الْحَضِّ عَلَى التَّوْبَةِ وَالْفَرَحِ بِهَا

6706

حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ مُعَاذٍ الْعَنْبَرِيُّ، حَدَّثَنَا أَبِي، حَدَّثَنَا أَبُو يُونُسَ، عَنْ سِمَاكٍ، قَالَ خَطَبَ النُّعْمَانُ بْنُ بَشِيرٍ فَقَالَ " لَلَّهُ أَشَدُّ فَرَحًا بِتَوْبَةِ عَبْدِهِ مِنْ رَجُلٍ حَمَلَ زَادَهُ وَمَزَادَهُ عَلَى بَعِيرٍ ثُمَّ سَارَ حَتَّى كَانَ بِفَلاَةٍ مِنَ الأَرْضِ فَأَدْرَكَتْهُ الْقَائِلَةُ فَنَزَلَ فَقَالَ تَحْتَ شَجَرَةٍ فَغَلَبَتْهُ عَيْنُهُ وَانْسَلَّ بَعِيرُهُ فَاسْتَيْقَظَ فَسَعَى شَرَفًا فَلَمْ يَرَ شَيْئًا ثُمَّ سَعَى شَرَفًا ثَانِيًا فَلَمْ يَرَ شَيْئًا ثُمَّ سَعَى شَرَفًا ثَالِثًا فَلَمْ يَرَ شَيْئًا فَأَقْبَلَ حَتَّى أَتَى مَكَانَهُ الَّذِي قَالَ فِيهِ فَبَيْنَمَا هُوَ قَاعِدٌ إِذْ جَاءَهُ بَعِيرُهُ يَمْشِي حَتَّى وَضَعَ خِطَامَهُ فِي يَدِهِ فَلَلَّهُ أَشَدُّ فَرَحًا بِتَوْبَةِ الْعَبْدِ مِنْ هَذَا حِينَ وَجَدَ بَعِيرَهُ عَلَى حَالِهِ " . قَالَ سِمَاكٌ فَزَعَمَ الشَّعْبِيُّ أَنَّ النُّعْمَانَ رَفَعَ هَذَا الْحَدِيثَ إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَأَمَّا أَنَا فَلَمْ أَسْمَعْهُ .

Narrator: সিমাক ইবনে হারব (রহঃ)

৬৭০৬। উবাইদুল্লাহ ইবনে মু’আয আনবারী (রাহঃ) ......... সিমাক (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা নুমান ইবনে বাশীর (রাযিঃ) খুতবা (ভাষণ) দিতে গিয়ে বললেন, আল্লাহ তার বান্দার তাওবার কারণে ঐ ব্যক্তি থেকেও অধিকতর খুশী হন, যে তার (প্রয়োজনীয়) পাথেয় ও (পানির) মশক একটি উটের উপর তুলে দিয়ে চলতে থাকে এবং অবশেষে এক মরু প্রান্তরে উপস্থিত হয়। তখন তার দুপুরের বিশ্রামের সময় হয়ে যায়। তখন সে নেমে বৃক্ষের নীচে দিবা নিদ্রা যায়। সে ঘোর নিদ্রায় আচ্ছন্ন হয়ে পড়ে এবং তার উটটি চলে যায়। সে জাগ্রত হয়ে ঐ টিলায় দৌড়ে যায়, কিন্তু কিছুই দেখতে পায় না। এরপর সে (দ্বিতীয়) টিলায় দৌড়ে যায় কিন্তু সেখানেও সে কিছু দেখতে পায় না। তারপর সে তৃতীয় এক টিলায় দৌড়ে যায়, কিন্তু ওখানেও সে কিছু দেখতে পায় না।

অবশেষে সে যেখানে ঘুমিয়ে ছিল সেখানে এসে বসে থাকে। এ সময় হঠাৎ হ্যাঁটতে হ্যাঁটতে উটটি তার নিকট চলে আসে। অমনি সে তার হাতে এর লাগাম চেপে ধরে। আল্লাহ তার মুমিন বান্দার তাওবার কারণে যথাবস্থায় তার উট ফিরে পাওয়ার সময়ের (আনন্দের) চেয়েও অধিক আনন্দিত হন।

বর্ণনাকারী সিমাক (রাহঃ) বলেন, শা’বী (রাহঃ) বলেছেন, নুমান এ হাদীসটি নবী (ﷺ) থেকে মারফু’ রূপে বর্ণনা করেছেন। তবে আমি নুমান (রাযিঃ) কে হাদীসটি মারফু’ ভাবে বর্ণনা করতে শুনিনি।
6707

حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ يَحْيَى، وَجَعْفَرُ بْنُ حُمَيْدٍ، قَالَ جَعْفَرٌ حَدَّثَنَا وَقَالَ، يَحْيَى أَخْبَرَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ إِيَادِ بْنِ لَقِيطٍ، عَنْ إِيَادٍ، عَنِ الْبَرَاءِ بْنِ عَازِبٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " كَيْفَ تَقُولُونَ بِفَرَحِ رَجُلٍ انْفَلَتَتْ مِنْهُ رَاحِلَتُهُ تَجُرُّ زِمَامَهَا بِأَرْضٍ قَفْرٍ لَيْسَ بِهَا طَعَامٌ وَلاَ شَرَابٌ وَعَلَيْهَا لَهُ طَعَامٌ وَشَرَابٌ فَطَلَبَهَا حَتَّى شَقَّ عَلَيْهِ ثُمَّ مَرَّتْ بِجِذْلِ شَجَرَةٍ فَتَعَلَّقَ زِمَامُهَا فَوَجَدَهَا مُتَعَلِّقَةً بِهِ " . قُلْنَا شَدِيدًا يَا رَسُولَ اللَّهِ . فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " أَمَا وَاللَّهِ لَلَّهُ أَشَدُّ فَرَحًا بِتَوْبَةِ عَبْدِهِ مِنَ الرَّجُلِ بِرَاحِلَتِهِ " . قَالَ جَعْفَرٌ حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ إِيَادٍ عَنْ أَبِيهِ .

Narrator: হযরত বারা’ ইবনে আযিব (রাঃ)

৬৭০৭। ইয়াহয়া ইবনে ইয়াহয়া ও জাফর ইবনে হুমায়দ (রাহঃ) ......... বারাআ ইবনে আযিব (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ সে ব্যক্তির আনন্দ সম্পর্কে তোমরা কি বল, মরু বিয়াবানে যার উট চলে যায় এবং এর লাগাম মাটিতে হেঁচড়িয়ে চলতে থাকে, অথচ সেখানে কোন খাদ্য পানীয় নেই সে উটের উপর রয়েছে সে ব্যক্তির পানাহারের সামগ্রী। তখন সে তা তালাশ করে ক্লান্ত হয়ে যায়। আর এ সময় উক্ত সওয়ারী কোন বৃক্ষের নীচ দিয়ে যাওয়ার সময় যদি এর লাগাম উক্ত বৃক্ষের কান্ডের সাথে আটকে যায়, আর অটকানো অবস্থায় যদি সে সেটি পেয়ে যায়, তাহলে এ ব্যক্তি কি পরিমাণ আনন্দিত হবে? (রাবী বলেন) সাহাবীগণ বললেন, ইয়া রাসুলাল্লাহ! সে খুবই আনন্দিত হবে। তারপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ স্বীয় বান্দার তাওবার কারণে সওয়ারী পাওয়ার কারণে উক্ত ব্যক্তির চেয়েও আল্লাহ অধিকতর আনন্দিত হন।

জাফর (রাহঃ) عبد الله بن اياد عن اياد এর স্থলে إِيَادٍ عَنْ أَبِيهِ বর্ণনা করেছেন।

২৮. তাওবার ব্যাপারে উৎসাহদান ও তাতে আনন্দিত হওয়া

باب فِي الْحَضِّ عَلَى التَّوْبَةِ وَالْفَرَحِ بِهَا

6708

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الصَّبَّاحِ، وَزُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، قَالاَ حَدَّثَنَا عُمَرُ بْنُ يُونُسَ، حَدَّثَنَا عِكْرِمَةُ بْنُ عَمَّارٍ، حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي طَلْحَةَ، حَدَّثَنَا أَنَسُ بْنُ مَالِكٍ، - وَهُوَ عَمُّهُ - قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " لَلَّهُ أَشَدُّ فَرَحًا بِتَوْبَةِ عَبْدِهِ حِينَ يَتُوبُ إِلَيْهِ مِنْ أَحَدِكُمْ كَانَ عَلَى رَاحِلَتِهِ بِأَرْضِ فَلاَةٍ فَانْفَلَتَتْ مِنْهُ وَعَلَيْهَا طَعَامُهُ وَشَرَابُهُ فَأَيِسَ مِنْهَا فَأَتَى شَجَرَةً فَاضْطَجَعَ فِي ظِلِّهَا قَدْ أَيِسَ مِنْ رَاحِلَتِهِ فَبَيْنَا هُوَ كَذَلِكَ إِذَا هُوَ بِهَا قَائِمَةً عِنْدَهُ فَأَخَذَ بِخِطَامِهَا ثُمَّ قَالَ مِنْ شِدَّةِ الْفَرَحِ اللَّهُمَّ أَنْتَ عَبْدِي وَأَنَا رَبُّكَ . أَخْطَأَ مِنْ شِدَّةِ الْفَرَحِ " .

Narrator: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

৬৭০৮। মুহম্মাদ ইবনে সাব্বাহ ও যুহাইর ইবনে হারব (রাহঃ) ......... আনাস ইবনে মালিক (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ বান্দা যখন আল্লাহর নিকট তাওবা করে তখন তিনি ঐ ব্যক্তি থেকেও অধিক খুশী হন যে মরু বিয়াবানে নিজ সওয়ারীর উপর আরোহিত ছিল। তারপর সওয়ারিটি তার থেকে পালিয়ে গেল। আর তার উপর ছিল তার খাদ্য ও পানীয়। এরপর নিরাশ হয়ে সে একটি বৃক্ষের ছায়ায় এসে শুয়ে পড়ে এবং তার সওয়ারী সম্বন্ধে সম্পূর্ণরূপে নিরাশ হয়ে পড়ে। এমতাবস্থায় হঠাৎ সওয়ারীটি তার সামনে এসে দাড়ায়। তখন সে উহার লাগাম ধরে ফেলে। তারপর সে আনন্দের আতিশয্যে বলে উঠে, ″হে আল্লাহ! তুমি আমার বান্দা, আমি তোমার রব।″ আনন্দের আতিশয্যে সে ভুল করে ফেলেছে।

২৮. তাওবার ব্যাপারে উৎসাহ দান ও তাতে আনন্দিত হওয়া

باب فِي الْحَضِّ عَلَى التَّوْبَةِ وَالْفَرَحِ بِهَا

6709
حَدَّثَنَا هَدَّابُ بْنُ خَالِدٍ، حَدَّثَنَا هَمَّامٌ، حَدَّثَنَا قَتَادَةُ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " لَلَّهُ أَشَدُّ فَرَحًا بِتَوْبَةِ عَبْدِهِ مِنْ أَحَدِكُمْ إِذَا اسْتَيْقَظَ عَلَى بَعِيرِهِ قَدْ أَضَلَّهُ بِأَرْضِ فَلاَةٍ " .

وَحَدَّثَنِيهِ أَحْمَدُ الدَّارِمِيُّ، حَدَّثَنَا حَبَّانُ، حَدَّثَنَا هَمَّامٌ، حَدَّثَنَا قَتَادَةُ، حَدَّثَنَا أَنَسُ بْنُ، مَالِكٍ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم بِمِثْلِهِ .

Narrator: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

৬৭০৯। হাদ্দাব ইবনে খালিদ (রাহঃ) ......... আনাস ইবনে মালিক (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ আল্লাহ তাআলা নিজ বান্দার তাওবার কারণে তোমাদের ঐ ব্যক্তি থেকেও অধিক আনন্দিত হল, যে জেগেই তার ঐ উটটি পেয়ে যায়, যা সে মরু বিয়াবানে হারিয়ে ফেলেছিল।

আহমাদ ইবনে সাঈদ দারিমী (রাহঃ) ......... আনাস (রাযিঃ) সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।

২৯. ইস্তিগফার ও তাওবা দ্বারা গুনাহ ঝরে যাওয়া

باب سُقُوطِ الذُّنُوبِ بِالاِسْتِغْفَارِ تَوْبَةً

6710

حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا لَيْثٌ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ قَيْسٍ، - قَاصِّ عُمَرَ بْنِ عَبْدِ الْعَزِيزِ - عَنْ أَبِي صِرْمَةَ، عَنْ أَبِي أَيُّوبَ، أَنَّهُ قَالَ حِينَ حَضَرَتْهُ الْوَفَاةُ كُنْتُ كَتَمْتُ عَنْكُمْ شَيْئًا سَمِعْتُهُ مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " لَوْلاَ أَنَّكُمْ تُذْنِبُونَ لَخَلَقَ اللَّهُ خَلْقًا يُذْنِبُونَ يَغْفِرُ لَهُمْ " .

Narrator: হযরত আবু আইয়ুব আনসারী (রাঃ)

৬৭১০। কুতায়বা ইবনে সাঈদ (রাহঃ) ......... আইয়ুব (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, তাঁর মৃত্যু উপস্থিত হলে তিনি বললেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) থেকে শ্রুত একটি হাদীস আমি তোমাদের কাছ থেকে গোপন রেখেছিলাম। আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে একথা বলতে শুনেছি যে, যদি তোমরা গুনাহ না করতে তবে আল্লাহ তাআলা এমন মাখলুক সৃষ্টি করতেন যারা গুনাহ করতো এবং আল্লাহ তাদেরকে ক্ষমা করে দিতেন।

6711

حَدَّثَنَا هَارُونُ بْنُ سَعِيدٍ الأَيْلِيُّ، حَدَّثَنَا ابْنُ وَهْبٍ، حَدَّثَنِي عِيَاضٌ، - وَهُوَ ابْنُ عَبْدِ اللَّهِ الْفِهْرِيُّ - حَدَّثَنِي إِبْرَاهِيمُ بْنُ عُبَيْدِ بْنِ رِفَاعَةَ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ كَعْبٍ الْقُرَظِيِّ، عَنْ أَبِي صِرْمَةَ، عَنْ أَبِي أَيُّوبَ الأَنْصَارِيِّ، عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ قَالَ " لَوْ أَنَّكُمْ لَمْ تَكُنْ لَكُمْ ذُنُوبٌ يَغْفِرُهَا اللَّهُ لَكُمْ لَجَاءَ اللَّهُ بِقَوْمٍ لَهُمْ ذُنُوبٌ يَغْفِرُهَا لَهُمْ " .

Narrator: হযরত আবু আইয়ুব আনসারী (রাঃ)

৬৭১১। হারুন ইবনে সাঈদ আয়লী (রাহঃ) ......... আবু আইয়ুব আনসারী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যদি তোমাদের এমন কোন গুনাহ না থাকতো যা আল্লাহ ক্ষমা করে দেন, তবে আল্লাহ অবশ্যই এমন কওম সৃষ্টি করতেন যাদের গুনাহ হতো এবং তিনি তা ক্ষমা করে দিতেন।

6712

حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ رَافِعٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، أَخْبَرَنَا مَعْمَرٌ، عَنْ جَعْفَرٍ الْجَزَرِيِّ، عَنْ يَزِيدَ بْنِ الأَصَمِّ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ لَوْ لَمْ تُذْنِبُوا لَذَهَبَ اللَّهُ بِكُمْ وَلَجَاءَ بِقَوْمٍ يُذْنِبُونَ فَيَسْتَغْفِرُونَ اللَّهَ فَيَغْفِرُ لَهُمْ " .

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৬৭১২। মুহাম্মাদ ইবনে রাফি (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যে সত্তার হাতে আমার প্রাণ, আমি তাঁর শপথ করে বলছি, যদি তোমরা গুনাহ না করতে তবে আল্লাহ অবশ্যই তোমাদের ধ্বংস করে এমন কওম সৃষ্টি করতেন যারা গুনাহ করে ক্ষমা প্রার্থনা করতো এবং তিনি তাদের ক্ষমা করে দিতেন।

৩০. সর্বদা আল্লাহর যিক্‌র ও পরকালের বিষয়ে চিন্তা ও মুরাকাবা করা এবং কখনো কখনো তা থেকে বিরত থাকা ও পার্থিব কাজে মশগুল হওয়া প্রসঙ্গ

بَاب فَضْلِ دَوَامِ الذِّكْرِ وَالْفِكْرِ فِي أُمُورِ الْآخِرَةِ وَالْمُرَاقَبَةِ وَجَوَازِ تَرْكِ ذَلِكَ فِي بَعْضِ الْأَوْقَاتِ وَالِاشْتِغَالِ بِالدُّنْيَا

6713

حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ يَحْيَى التَّمِيمِيُّ، وَقَطَنُ بْنُ نُسَيْرٍ، - وَاللَّفْظُ لِيَحْيَى - أَخْبَرَنَا جَعْفَرُ، بْنُ سُلَيْمَانَ عَنْ سَعِيدِ بْنِ إِيَاسٍ الْجُرَيْرِيِّ، عَنْ أَبِي عُثْمَانَ النَّهْدِيِّ، عَنْ حَنْظَلَةَ الأُسَيِّدِيِّ، قَالَ - وَكَانَ مِنْ كُتَّابِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ - لَقِيَنِي أَبُو بَكْرٍ فَقَالَ كَيْفَ أَنْتَ يَا حَنْظَلَةُ قَالَ قُلْتُ نَافَقَ حَنْظَلَةُ قَالَ سُبْحَانَ اللَّهِ مَا تَقُولُ قَالَ قُلْتُ نَكُونُ عِنْدَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يُذَكِّرُنَا بِالنَّارِ وَالْجَنَّةِ حَتَّى كَأَنَّا رَأْىَ عَيْنٍ فَإِذَا خَرَجْنَا مِنْ عِنْدِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَافَسْنَا الأَزْوَاجَ وَالأَوْلاَدَ وَالضَّيْعَاتِ فَنَسِينَا كَثِيرًا قَالَ أَبُو بَكْرٍ فَوَاللَّهِ إِنَّا لَنَلْقَى مِثْلَ هَذَا . فَانْطَلَقْتُ أَنَا وَأَبُو بَكْرٍ حَتَّى دَخَلْنَا عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قُلْتُ نَافَقَ حَنْظَلَةُ يَا رَسُولَ اللَّهِ . فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " وَمَا ذَاكَ " . قُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ نَكُونُ عِنْدَكَ تُذَكِّرُنَا بِالنَّارِ وَالْجَنَّةِ حَتَّى كَأَنَّا رَأْىَ عَيْنٍ فَإِذَا خَرَجْنَا مِنْ عِنْدِكَ عَافَسْنَا الأَزْوَاجَ وَالأَوْلاَدَ وَالضَّيْعَاتِ نَسِينَا كَثِيرًا . فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ إِنْ لَوْ تَدُومُونَ عَلَى مَا تَكُونُونَ عِنْدِي وَفِي الذِّكْرِ لَصَافَحَتْكُمُ الْمَلاَئِكَةُ عَلَى فُرُشِكُمْ وَفِي طُرُقِكُمْ وَلَكِنْ يَا حَنْظَلَةُ سَاعَةً وَسَاعَةً " . ثَلاَثَ مَرَّاتٍ .

Narrator: হযরত হানযালা ইবনে রাবী উসাইদী (রাঃ)

৬৭১৩। ইয়াহয়া ইবনে ইয়াহয়া ও কাতান ইবনে নুসায়র (রাহঃ) ......... রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কাতিব হানযালা আল উসায়দী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আবু বকর সিদ্দীক (রাযিঃ) আমার সাথে সাক্ষাত করলেন এবং আমাকে জিজ্ঞাসা করলেন, তুমি কেমন আছ, হে হানযালা? তিনি বলেন, আমি বললাম, হানযালা তো মুনাফিক হয়ে গেছে। তখন তিনি বললেন, সুবহানাল্লাহ তুমি কি বলছ? তাকে [হানযানা (রাযিঃ)] বলেন, আমি বললাম, আমরা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট বসি, অবস্থান করি, তিনি আমাদের জান্নাত-জাহান্নামের কথা স্মরণ করিয়ে দেন, যেন চোখ দিয়ে আমরা তা প্রত্যক্ষ করছি। কিন্তু আমরা যখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট থেকে বের হয়ে নিজেদের স্ত্রী-সন্তান এবং ধন-সম্পদের মাঝে ডুবে যাই তখন আমরা এর অনেক কিছু ভুলে যাই।

আবু বকর (রাযিঃ) বললেন, আল্লাহর শপথ! আমারও তো এই অবস্থা। তারপর আমি এবং আবু বকর (রাযিঃ) রওয়ানা হলাম এবং আমরা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট উপস্থিত হলাম। আমি বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ! হানযালা মুনাফিক হয়ে গিয়েছে। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ তা কী? আমি বললাম, আমরা আপনার নিকট থাকি, আপনি আমাদের জান্নাত-জাহান্নামের কথা স্মরণ করিয়ে দেন, যেন আমরা তা প্রত্যক্ষ দেখতে পাই। কিন্তু এরপর আমরা যখন আপনার কাছ থেকে বের হই এবং স্ত্রী-সন্তান সন্ততি ও ধন-সম্পদের মাঝে যাই তখন আমরা এর অনেক কিছু ভুলে যাই।

রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ যে সত্তার হাতে আমার প্রাণ আমি তাঁর শপথ করে বলছি! আমার নিকট থাকাকালে তোমাদের যে হাল হয়, যদি তোমরা সর্বদা এ অবস্থায় অবিচল থাকতে এবং সর্বদা আল্লাহর যিক্‌রে মশগুল থাকতে তবে অবশ্যই ফিরিশতাগণ তোমাদের বিছানায় ও তোমাদের রাস্তায় তোমাদের সাথে মুসাফাহা করতো। কিন্তু হে হানযালা! ক্রমান্বয়ে ক্রমান্বয়ে (ধীরে ধীরে) হবে- (পার্থিব) ব্যয় করবে। কথাটি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তিনবার বললেন।
6714

حَدَّثَنِي إِسْحَاقُ بْنُ مَنْصُورٍ، أَخْبَرَنَا عَبْدُ الصَّمَدِ، سَمِعْتُ أَبِي يُحَدِّثُ، حَدَّثَنَا سَعِيدٌ، الْجُرَيْرِيُّ عَنْ أَبِي عُثْمَانَ النَّهْدِيِّ، عَنْ حَنْظَلَةَ، قَالَ كُنَّا عِنْدَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَوَعَظَنَا فَذَكَّرَ النَّارَ - قَالَ - ثُمَّ جِئْتُ إِلَى الْبَيْتِ فَضَاحَكْتُ الصِّبْيَانَ وَلاَعَبْتُ الْمَرْأَةَ - قَالَ - فَخَرَجْتُ فَلَقِيتُ أَبَا بَكْرٍ فَذَكَرْتُ ذَلِكَ لَهُ فَقَالَ وَأَنَا قَدْ فَعَلْتُ مِثْلَ مَا تَذْكُرُ . فَلَقِينَا رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ نَافَقَ حَنْظَلَةُ فَقَالَ " مَهْ " . فَحَدَّثْتُهُ بِالْحَدِيثِ فَقَالَ أَبُو بَكْرٍ وَأَنَا قَدْ فَعَلْتُ مِثْلَ مَا فَعَلَ فَقَالَ " يَا حَنْظَلَةُ سَاعَةً وَسَاعَةً وَلَوْ كَانَتْ تَكُونُ قُلُوبُكُمْ كَمَا تَكُونُ عِنْدَ الذِّكْرِ لَصَافَحَتْكُمُ الْمَلاَئِكَةُ حَتَّى تُسَلِّمَ عَلَيْكُمْ فِي الطُّرُقِ " .

Narrator: হযরত হানযালা ইবনে রাবী উসাইদী (রাঃ)

৬৭১৪। ইসহাক ইবনে মানসুর (রাহঃ) ......... হানযালা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা একদা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট ছিলাম। তিনি আমাদের ওয়ায-নসীহত করলেন এবং জাহান্নামের কথা স্মরণ করিয়ে দিলেন। তিনি বলেন, তারপর আমি বাড়ীতে আসলাম এবং ছেলে-মেয়েদের সাথে হাসি-তামাশা করলাম এবং স্ত্রীর সাথে ক্রীড়া-কৌতুক করলাম। এরপর আমি বাড়ি থেকে বের হলাম। তখন আবু বকর (রাযিঃ) এর সঙ্গে সাক্ষাত হল। আমি তাঁর সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা করলাম। তিনি বললেন, আমিও তো এরূপ করেছি, যেমন তুমি বললে।

তারপর আমরা উভয়ই রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সঙ্গে সাক্ষাত করলাম। আমি বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ! হানযালা তো মুনাফিক হয়ে গিয়েছে। তিনি বললেনঃ তা কী? তখন আমি আমার পুরা অবস্থা বর্ণনা করলাম। এরপর আবু বকর (রাযিঃ) বললেন, আমিও তো এরূপ করেছি যেমন হানযালা করেছে। তিনি বললেন, হে হানযালা! ক্রমান্বয়ে ধীরে ধীরে ওয়ায-নসীহতের সময় তোমাদের হৃদয় যেমন থাকে, সর্বদাই যদি তা এ অবস্থায় থাকতো তবে ফিরিশতাগণ অবশ্যই তোমাদের সঙ্গে মুসাফাহা করতো। এমনকি পথে ঘাটে তারা তোমাদের সালাম করতো।
6715

حَدَّثَنِي زُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، حَدَّثَنَا الْفَضْلُ بْنُ دُكَيْنٍ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ سَعِيدٍ الْجُرَيْرِيِّ، عَنْ أَبِي عُثْمَانَ النَّهْدِيِّ، عَنْ حَنْظَلَةَ التَّمِيمِيِّ الأُسَيِّدِيِّ الْكَاتِبِ، قَالَ كُنَّا عِنْدَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَذَكَّرَنَا الْجَنَّةَ وَالنَّارَ . فَذَكَرَ نَحْوَ حَدِيثِهِمَا .

Narrator: হযরত হানযালা ইবনে রাবী উসাইদী (রাঃ)

৬৭১৫। যুহাইর ইবনে হারব (রাহঃ) ......... (ওহীর) কাতিব হানযালা তায়মী উসায়দী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা নবী (ﷺ) এর নিকট ছিলাম। তিনি আমাদের জান্নাত-জাহান্নামের কথা স্মরণ করিয়ে দিলেন। ...... তারপর সুফিয়ান হাদীসটি পূর্বোক্ত হাদীসদ্বয়ের অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।

৩১. আল্লাহ তাআলার রহমতের প্রশস্ততা-বিশালতা এবং তার গযবের উপর তার রহমতের প্রাধান্য

باب فِي سَعَةِ رَحْمَةِ اللَّهِ تَعَالَى وَأَنَّهَا سَبَقَتْ غَضَبَهُ

6716

حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا الْمُغِيرَةُ، - يَعْنِي الْحِزَامِيَّ - عَنْ أَبِي الزِّنَادِ، عَنِ الأَعْرَجِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " لَمَّا خَلَقَ اللَّهُ الْخَلْقَ كَتَبَ فِي كِتَابِهِ فَهُوَ عِنْدَهُ فَوْقَ الْعَرْشِ إِنَّ رَحْمَتِي تَغْلِبُ غَضَبِي " .

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৬৭১৬। কুতায়বা ইবনে সাঈদ (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। নবী (ﷺ) বলেন, মাখলুক সৃষ্টির পর আল্লাহ তাআলা তাঁর কিতাবে লিপিবদ্ধ করেন এবং তা (সে লিপি) তাঁর কাছে আরশের উপরে রয়েছে। তা হল আমার রহমত আমার ক্রোধের উপর প্রাধান্য লাভ করবে।

6717

حَدَّثَنِي زُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ، عَنْ أَبِي الزِّنَادِ، عَنِ الأَعْرَجِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم " قَالَ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ سَبَقَتْ رَحْمَتِي غَضَبِي " .

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৬৭১৭। যুহাইর ইবনে হারব (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। নবী (ﷺ) বলেনঃ আল্লাহ তাআলা বলেছেন, আমার রহমত আমার গযবের চেয়ে অগ্রগামী হয়েছে।

6718

حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ خَشْرَمٍ، أَخْبَرَنَا أَبُو ضَمْرَةَ، عَنِ الْحَارِثِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ عَطَاءِ، بْنِ مِينَاءَ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " لَمَّا قَضَى اللَّهُ الْخَلْقَ كَتَبَ فِي كِتَابِهِ عَلَى نَفْسِهِ فَهُوَ مَوْضُوعٌ عِنْدَهُ إِنَّ رَحْمَتِي تَغْلِبُ غَضَبِي " .

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৬৭১৮। আলী ইবনে খাশরাম (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ মাখলুক সৃষ্টির পর আল্লাহ তাঁর কিতাবে তার নিজের উপরে (করণীয় রূপে) লিপিবদ্ধ করেছেন এবং তা তাঁর কাছেই রক্ষিত রয়েছে। তিনি (তাতে তিনি লিপিবদ্ধ করেন) আমার রহমত আমার গযব অপেক্ষা প্রাধান্য লাভ করেছে।

6719

حَدَّثَنَا حَرْمَلَةُ بْنُ يَحْيَى التُّجِيبِيُّ، أَخْبَرَنَا ابْنُ وَهْبٍ، أَخْبَرَنِي يُونُسُ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، أَنَّ سَعِيدَ بْنَ الْمُسَيَّبِ، أَخْبَرَهُ أَنَّ أَبَا هُرَيْرَةَ قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " جَعَلَ اللَّهُ الرَّحْمَةَ مِائَةَ جُزْءٍ فَأَمْسَكَ عِنْدَهُ تِسْعَةً وَتِسْعِينَ وَأَنْزَلَ فِي الأَرْضِ جُزْءًا وَاحِدًا فَمِنْ ذَلِكَ الْجُزْءِ تَتَرَاحَمُ الْخَلاَئِقُ حَتَّى تَرْفَعَ الدَّابَّةُ حَافِرَهَا عَنْ وَلَدِهَا خَشْيَةَ أَنْ تُصِيبَهُ " .

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৬৭১৯। হারামালা ইবনে ইয়াহয়া (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে এ কথা বলতে শুনেছি যে, আল্লাহ তাঁর রহমতকে একশ’ ভাগ করে নিরানব্বই ভাগ নিজের নিকট রেখেছেন এবং একভাগ পৃথিবীতে নাযিল করেছেন। রহমতের এ অংশ থেকেই সৃষ্ট জীব (পরস্পর) একে অন্যের প্রতি দয়া করে। এমনকি প্রাণী পর্যন্ত এ কারণে তার পা সন্তান থেকে তুলে উঁচু করে রাখে এ ভয়ে, যাতে তা তার (সন্তানের গায়ে) না লাগে।

6720

حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ أَيُّوبَ، وَقُتَيْبَةُ، وَابْنُ، حُجْرٍ قَالُوا حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ، - يَعْنُونَ ابْنَ جَعْفَرٍ - عَنِ الْعَلاَءِ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " خَلَقَ اللَّهُ مِائَةَ رَحْمَةٍ فَوَضَعَ وَاحِدَةً بَيْنَ خَلْقِهِ وَخَبَأَ عِنْدَهُ مِائَةً إِلاَّ وَاحِدَةً " .

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৬৭২০। ইয়াহয়া ইবনে আইয়ুব, কুতায়বা ও ইবনে হাজর (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ আল্লাহ তাআলা একশ ভাগ রহমত সৃষ্টি করে একভাগ সৃষ্টির মাঝে বন্টন করে দিয়েছেন এবং নিরানব্বই ভাগ নিজের নিকট গোপন রেখেছেন।

6721

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ نُمَيْرٍ، حَدَّثَنَا أَبِي، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْمَلِكِ، عَنْ عَطَاءٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " إِنَّ لِلَّهِ مِائَةَ رَحْمَةٍ أَنْزَلَ مِنْهَا رَحْمَةً وَاحِدَةً بَيْنَ الْجِنِّ وَالإِنْسِ وَالْبَهَائِمِ وَالْهَوَامِّ فَبِهَا يَتَعَاطَفُونَ وَبِهَا يَتَرَاحَمُونَ وَبِهَا تَعْطِفُ الْوَحْشُ عَلَى وَلَدِهَا وَأَخَّرَ اللَّهُ تِسْعًا وَتِسْعِينَ رَحْمَةً يَرْحَمُ بِهَا عِبَادَهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ " .

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৬৭২১। মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে নুমাইর (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, নবী (ﷺ) বলেছেনঃ আল্লাহর একশ’ (ভাগ) রহমত আছে। তন্মধ্যে একভাগ রহমত জীন, ইনসান, চতুষ্পদ জন্তু ও কীট-পতঙ্গের মাঝে বন্টন করে দিয়েছেন। এ এক ভাগ রহমতের কারণেই সৃষ্ট জীব পরস্পর একে অপরের প্রতি অনুগ্রহ করে এবং এ এক ভাগ রহমতের ভিত্তিতেই বন্য পশু নিজ সন্তানের প্রতি অনুগ্রহ ও অনুকম্পা প্রদর্শন করে। মহান আল্লাহ তার একশ ভাগ রহমতের নিরানব্বই ভাগ রহমত নিজের নিকট রেখে দিয়েছেন। এর দ্বারা তিনি কিয়ামতের দিন স্বীয় বান্দাদের প্রতি অনুগ্রহ প্রদর্শন করবেন।

6722

حَدَّثَنِي الْحَكَمُ بْنُ مُوسَى، حَدَّثَنَا مُعَاذُ بْنُ مُعَاذٍ، حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ التَّيْمِيُّ، حَدَّثَنَا أَبُو عُثْمَانَ النَّهْدِيُّ عَنْ سَلْمَانَ الْفَارِسِيِّ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " إِنَّ لِلَّهِ مِائَةَ رَحْمَةٍ فَمِنْهَا رَحْمَةٌ بِهَا يَتَرَاحَمُ الْخَلْقُ بَيْنَهُمْ وَتِسْعَةٌ وَتِسْعُونَ لِيَوْمِ الْقِيَامَةِ " .

Narrator: সালমান ফারিসী (রাঃ)

৬৭২২। হাকাম ইবনে মুসা (রাহঃ) ......... সালমান ফারসী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ আল্লাহ তাআলার একশ ভাগ রহমত আছে। তন্মধ্যে একভাগ রহমতের দ্বারাই সৃষ্ট জীব পরস্পর (একে অন্যের প্রতি) অনুকম্পা প্রদর্শন করে। বাকী নিরানব্বই ভাগ রহমত রাখা হয়েছে কিয়ামত দিবসের জন্য।

6723

وَحَدَّثَنَاهُ مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الأَعْلَى، حَدَّثَنَا الْمُعْتَمِرُ، عَنْ أَبِيهِ، بِهَذَا الإِسْنَادِ .

Narrator: বিবিধ

৬৭২৩। মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল আলা (রাহঃ) ......... মুতামিরের পিতা থেকে উক্ত সনদে হাদীস বর্ণনা করেছেন।

6724

حَدَّثَنَا ابْنُ نُمَيْرٍ، حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ، عَنْ دَاوُدَ بْنِ أَبِي هِنْدٍ، عَنْ أَبِي عُثْمَانَ، عَنْ سَلْمَانَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " إِنَّ اللَّهَ خَلَقَ يَوْمَ خَلَقَ السَّمَوَاتِ وَالأَرْضَ مِائَةَ رَحْمَةٍ كُلُّ رَحْمَةٍ طِبَاقَ مَا بَيْنَ السَّمَاءِ وَالأَرْضِ فَجَعَلَ مِنْهَا فِي الأَرْضِ رَحْمَةً فَبِهَا تَعْطِفُ الْوَالِدَةُ عَلَى وَلَدِهَا وَالْوَحْشُ وَالطَّيْرُ بَعْضُهَا عَلَى بَعْضٍ فَإِذَا كَانَ يَوْمُ الْقِيَامَةِ أَكْمَلَهَا بِهَذِهِ الرَّحْمَةِ " .

Narrator: সালমান ফারিসী (রাঃ)

৬৭২৪। ইবনে নুমাইর (রাহঃ) ......... সালমান (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ আকাশ ও পৃথিবীর সৃষ্টির দিন আল্লাহ তাআলা একশ’ রহমত সৃষ্টি করেছেন। প্রত্যেকটি রহমত আকাশ ও পৃথিবীর দূরত্বের সমপরিমাণ। এ একশ’ রহমত হতে একভাগ রহমত পৃথিবীর জন্য নির্ধারণ করেছেন। এর কারণেই মা সন্তানের প্রতি দয়া করে এবং বন্য পশু ও পাখিরা পরস্পরে অনুগ্রহ প্রদর্শন করে। অবশেষে কিয়ামত দিবসে আল্লাহ তাআলা এ রহমত দ্বারা তা (রহমত) পূর্ণ করবেন।

6725

حَدَّثَنِي الْحَسَنُ بْنُ عَلِيٍّ الْحُلْوَانِيُّ، وَمُحَمَّدُ بْنُ سَهْلٍ التَّمِيمِيُّ، - وَاللَّفْظُ لِحَسَنٍ - حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي مَرْيَمَ، حَدَّثَنَا أَبُو غَسَّانَ، حَدَّثَنِي زَيْدُ بْنُ أَسْلَمَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ، أَنَّهُ قَالَ قَدِمَ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِسَبْىٍ فَإِذَا امْرَأَةٌ مِنَ السَّبْىِ تَبْتَغِي إِذَا وَجَدَتْ صَبِيًّا فِي السَّبْىِ أَخَذَتْهُ فَأَلْصَقَتْهُ بِبَطْنِهَا وَأَرْضَعَتْهُ فَقَالَ لَنَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " أَتَرَوْنَ هَذِهِ الْمَرْأَةَ طَارِحَةً وَلَدَهَا فِي النَّارِ " . قُلْنَا لاَ وَاللَّهِ وَهِيَ تَقْدِرُ عَلَى أَنْ لاَ تَطْرَحَهُ . فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " لَلَّهُ أَرْحَمُ بِعِبَادِهِ مِنْ هَذِهِ بِوَلَدِهَا " .

Narrator: হযরত উমর ইবনুল খাত্তাব রাযি.

৬৭২৫। হাসান ইবনে আলী হুলওয়ানী এবং মুহাম্মাদ ইবনে সাহল তায়মী (রাহঃ) ......... উমর ইবনে খাত্তাব (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন (একদা) কয়েকজন কয়েদী রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট নিয়ে আসা হল। কয়েদীদের মধ্যে থেকে একজন মহিলা কেবলই খোজাখুঁজি করছিল। যে সে বন্দীদের মাঝে কোন শিশুকে পাওয়া মাত্র তাকে কোলে নিয়ে পেটের সাথে জড়িয়ে ধরে তাকে দুগ্ধ পান করাতো। এ দেখে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদের জিজ্ঞাসা করলেন, এ স্ত্রীলোকটি কি তার সন্তানকে আগুনে নিক্ষেপ করতে রাজি হবে? আমরা বললাম, না। আল্লাহর কসম! সে কখনো তার সন্তানকে আগুনে নিক্ষেপ করতে পারবে না। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ সন্তানের প্রতি এ স্ত্রীলোকটি থেকেও আল্লাহ তার বান্দাদের প্রতি অধিক দয়ালু।

6726

حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ أَيُّوبَ، وَقُتَيْبَةُ، وَابْنُ، حُجْرٍ جَمِيعًا عَنْ إِسْمَاعِيلَ بْنِ جَعْفَرٍ، قَالَ ابْنُ أَيُّوبَ حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ، أَخْبَرَنِي الْعَلاَءُ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " لَوْ يَعْلَمُ الْمُؤْمِنُ مَا عِنْدَ اللَّهِ مِنَ الْعُقُوبَةِ مَا طَمِعَ بِجَنَّتِهِ أَحَدٌ وَلَوْ يَعْلَمُ الْكَافِرُ مَا عِنْدَ اللَّهِ مِنَ الرَّحْمَةِ مَا قَنِطَ مِنْ جَنَّتِهِ أَحَدٌ " .

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৬৭২৬। ইয়াহয়া ইবনে আইয়ুব, কুতায়বা ও ইবনে হুজর (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ আল্লাহর নিকট যে পরিমাণ আযাব ও শাস্তি রয়েছে, যদি তা মুমিনগণ জানতো তবে কেউ তাঁর নিকট জান্নাত কামনা করতো না। অনুরূপভাবে আল্লাহর নিকট যে পরিমাণ রহমত আছে, কাফিররা যদি তা জানতো তবে কেউ তার জান্নাত হতে নিরাশ হতো না।

6727

حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ مَرْزُوقِ ابْنِ بِنْتِ مَهْدِيِّ بْنِ مَيْمُونٍ، حَدَّثَنَا رَوْحٌ، حَدَّثَنَا مَالِكٌ، عَنْ أَبِي الزِّنَادِ، عَنِ الأَعْرَجِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " قَالَ رَجُلٌ لَمْ يَعْمَلْ حَسَنَةً قَطُّ لأَهْلِهِ إِذَا مَاتَ فَحَرِّقُوهُ ثُمَّ اذْرُوا نِصْفَهُ فِي الْبَرِّ وَنِصْفَهُ فِي الْبَحْرِ فَوَاللَّهِ لَئِنْ قَدَرَ اللَّهُ عَلَيْهِ لَيُعَذِّبَنَّهُ عَذَابًا لاَ يُعَذِّبُهُ أَحَدًا مِنَ الْعَالَمِينَ فَلَمَّا مَاتَ الرَّجُلُ فَعَلُوا مَا أَمَرَهُمْ فَأَمَرَ اللَّهُ الْبَرَّ فَجَمَعَ مَا فِيهِ وَأَمَرَ الْبَحْرَ فَجَمَعَ مَا فِيهِ ثُمَّ قَالَ لِمَ فَعَلْتَ هَذَا قَالَ مِنْ خَشْيَتِكَ يَا رَبِّ وَأَنْتَ أَعْلَمُ . فَغَفَرَ اللَّهُ لَهُ " .

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৬৭২৭। মুহাম্মাদ ইবনে মারযুক বিনতে মাহদী ইবনে মায়মুন (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ এক ব্যক্তি যে জীবনে কখনো কোন পূণ্যের কাজ করেনি, (মৃত্যুর সময়) তার পরিবার পরিজনকে ডেকে বলল, মৃত্যুর পর তোমরা তাকে (আমাকে) পুড়িয়ে (ভষ্মীভূত করে) উহার অর্ধাংশ স্থলে এবং অর্ধাংশ পানিতে উড়িয়ে দিবে। কারণ আল্লাহর শপথ! আল্লাহ যদি আমাকে ধরতে পারেন তবে তিনি আমাকে এমন শান্তি দিবেন যা দুনিয়ার অন্য কাউকে তিনি দিবেন না।

তারপর লোকটি যখন মারা গেল তখন তার পরিবারের লোকেরা সে যেরূপ নির্দেশ দিয়েছিল সেরূপ করল। তখন আল্লাহ তাআলা স্থল ভাগকে নির্দেশ দিলে সে তার মধ্যস্থিত সবকিছু (ছাই) একত্রিত করে দিল। এরপর জলভাগকে নির্দেশ দিলেন। সেও তার মধ্যস্থিত সব কিছু একত্রিত করে দিল। তারপর আল্লাহ তাআলা তাকে জিজ্ঞাসা করলেন, তুমি এমন করলে কেন? সে বলল, হে আমার প্রতিপালক! আপনার ভয়ে। আপনি তো সর্বজ্ঞ। তখন আল্লাহ তাআলা তাকে ক্ষমা করে দিলেন।
6728
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ رَافِعٍ، وَعَبْدُ بْنُ حُمَيْدٍ، قَالَ عَبْدٌ أَخْبَرَنَا وَقَالَ ابْنُ رَافِعٍ، - وَاللَّفْظُ لَهُ - حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، أَخْبَرَنَا مَعْمَرٌ، قَالَ قَالَ لِيَ الزُّهْرِيُّ أَلاَ أُحَدِّثُكَ بِحَدِيثَيْنِ عَجِيبَيْنِ قَالَ الزُّهْرِيُّ أَخْبَرَنِي حُمَيْدُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " أَسْرَفَ رَجُلٌ عَلَى نَفْسِهِ فَلَمَّا حَضَرَهُ الْمَوْتُ أَوْصَى بَنِيهِ فَقَالَ إِذَا أَنَا مُتُّ فَأَحْرِقُونِي ثُمَّ اسْحَقُونِي ثُمَّ اذْرُونِي فِي الرِّيحِ فِي الْبَحْرِ فَوَاللَّهِ لَئِنْ قَدَرَ عَلَىَّ رَبِّي لَيُعَذِّبُنِي عَذَابًا مَا عَذَّبَهُ بِهِ أَحَدًا . قَالَ فَفَعَلُوا ذَلِكَ بِهِ فَقَالَ لِلأَرْضِ أَدِّي مَا أَخَذْتِ . فَإِذَا هُوَ قَائِمٌ فَقَالَ لَهُ مَا حَمَلَكَ عَلَى مَا صَنَعْتَ فَقَالَ خَشْيَتُكَ يَا رَبِّ - أَوْ قَالَ - مَخَافَتُكَ . فَغَفَرَ لَهُ بِذَلِكَ " .

قَالَ الزُّهْرِيُّ وَحَدَّثَنِي حُمَيْدٌ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " دَخَلَتِ امْرَأَةٌ النَّارَ فِي هِرَّةٍ رَبَطَتْهَا فَلاَ هِيَ أَطْعَمَتْهَا وَلاَ هِيَ أَرْسَلَتْهَا تَأْكُلُ مِنْ خَشَاشِ الأَرْضِ حَتَّى مَاتَتْ هَزْلاً " . قَالَ الزُّهْرِيُّ ذَلِكَ لِئَلاَّ يَتَّكِلَ رَجُلٌ وَلاَ يَيْأَسَ رَجُلٌ .

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৬৭২৮। মুহাম্মাদ ইবনে রাফি ও আব্দ ইবনে হুমায়দ (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, নবী (ﷺ) বলেছেনঃ এক ব্যক্তি তার নিজের প্রতি বাড়াবাড়ি করল। এরপর মৃত্যু মুখে পতিত হয়ে সে তার সন্তানদেরকে অসিয়্যাত করল এবং বলল, আমি মরে যাওয়ার পর তোমরা আমাকে আগুনে পুড়িয়ে ছাইকে উত্তমরূপে পিষবে। তারপর আমাকে সমুদ্রের মাঝে বায়ুতে উড়িয়ে দিবে। আল্লাহর কসম! আল্লাহ যদি আমাকে পান, তবে অবশ্যই তিনি আমাকে এমন শাস্তি দিবেন, যা তিনি আর কাউকে দেননি। তিনি (রাসূলুল্লাহ (ﷺ)) বলেনঃ সন্তানগণ তার সাথে অনুরূপ আচরণ করল।

এরপর আল্লাহ তাআলা মাটিকে বললেন, তুমি তার যে ছাই গ্রাস করেছ তা একত্রিত করে দাও। ফলে সে সোজা দাড়িয়ে গেল। এ সময় আল্লাহ তাকে জিজ্ঞাসা করলেন, এ কাজ করার ব্যাপারে কিসে তোমাকে উদ্বুদ্ধ করেছে? উত্তরে সে বলল, خَشْيَتُكَ يَا رَبِّ অথবা مَخَافَتُكَ আপনার ভয়ে। তারপর এ কথার বিনিময়ে আল্লাহ তাকে ক্ষমা করে দেন।

অপর এক সূত্রে যুহরী (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রাসুল (ﷺ) বলেছেনঃ কোন এক স্ত্রীলোক বিড়ালের কারণে জাহান্নামে প্রবেশ করেছে। সে বিড়ালটি বেঁধে রেখেছিল; কিন্তু তাকে কোন খাদ্য প্রদান করেনি এবং জমি থেকে কীট পতঙ্গ খাবার জন্য তাকে ছেড়েও দেয়নি। এমনিভাবে বিড়ালটি মরে যায়।

যুহরী (রাহঃ) বলেন, উপরোক্ত হাদীস দুটো এ জন্যই বয়ান করা হয়েছে, যেন কোন মানুষ (আমল বর্জন করে আল্লাহর উপর) নির্ভর করে বসে না থাকে এবং যেন মানুষ (আল্লাহর অনুগ্রহ থেকে) নিরাশ না হয়ে যায়।
6729

حَدَّثَنِي أَبُو الرَّبِيعِ، سُلَيْمَانُ بْنُ دَاوُدَ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ حَرْبٍ، حَدَّثَنِي الزُّبَيْدِيُّ، قَالَ الزُّهْرِيُّ حَدَّثَنِي حُمَيْدُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَوْفٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " أَسْرَفَ عَبْدٌ عَلَى نَفْسِهِ " . بِنَحْوِ حَدِيثِ مَعْمَرٍ إِلَى قَوْلِهِ " فَغَفَرَ اللَّهُ لَهُ " . وَلَمْ يَذْكُرْ حَدِيثَ الْمَرْأَةِ فِي قِصَّةِ الْهِرَّةِ وَفِي حَدِيثِ الزُّبَيْدِيِّ قَالَ " فَقَالَ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ لِكُلِّ شَىْءٍ أَخَذَ مِنْهُ شَيْئًا أَدِّ مَا أَخَذْتَ مِنْهُ " .

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৬৭২৯। আবু রাবী সুলাইমান ইবনে দাউদ (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে একথা বলতে শুনেছি যে, এক বান্দা তার নিজের আত্মার প্রতি বাড়াবাড়ি করল। তারপর তিনি فَغَفَرَ اللَّهُ لَهُ পর্যন্ত মা’মারের অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। তবে বিড়ালের ঘটনা মহিলা সম্পর্কিত হাদীসটির উল্লেখ করেন নি। আর যুবায়দী (রাহঃ) এর হাদীসে আছে, এরপর আল্লাহ তাআলা যারা তার (শরীরের) অংশ গ্রাস করেছে, তাদের বললেন, তার যে যে অংশ তোমরা গ্রাস করেছ, তা একত্রিত করে দাও।

6730

حَدَّثَنِي عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ مُعَاذٍ الْعَنْبَرِيُّ، حَدَّثَنَا أَبِي، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ قَتَادَةَ، سَمِعَ عُقْبَةَ بْنَ عَبْدِ الْغَافِرِ، يَقُولُ سَمِعْتُ أَبَا سَعِيدٍ الْخُدْرِيَّ، يُحَدِّثُ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم " أَنَّ رَجُلاً فِيمَنْ كَانَ قَبْلَكُمْ رَاشَهُ اللَّهُ مَالاً وَوَلَدًا فَقَالَ لِوَلَدِهِ لَتَفْعَلُنَّ مَا آمُرُكُمْ بِهِ أَوْ لأُوَلِّيَنَّ مِيرَاثِي غَيْرَكُمْ إِذَا أَنَا مُتُّ فَأَحْرِقُونِي - وَأَكْثَرُ عِلْمِي أَنَّهُ قَالَ - ثُمَّ اسْحَقُونِي وَاذْرُونِي فِي الرِّيحِ فَإِنِّي لَمْ أَبْتَهِرْ عِنْدَ اللَّهِ خَيْرًا وَإِنَّ اللَّهَ يَقْدِرُ عَلَىَّ أَنْ يُعَذِّبَنِي - قَالَ - فَأَخَذَ مِنْهُمْ مِيثَاقًا فَفَعَلُوا ذَلِكَ بِهِ وَرَبِّي فَقَالَ اللَّهُ مَا حَمَلَكَ عَلَى مَا فَعَلْتَ فَقَالَ مَخَافَتُكَ . قَالَ فَمَا تَلاَفَاهُ غَيْرُهَا " .

Narrator: হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ)

৬৭৩০। উবাইদুল্লাহ ইবনে মু’আয আল আনবারী (রাহঃ) ......... আবু সাঈদ খুদরী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। নবী (ﷺ) বলেছেন, পূর্ববতী যমানায় এক ব্যক্তি ছিল। আল্লাহ তাকে প্রচুর ধন-সম্পদ এবং বহু সন্তান দিয়েছিলেন। সে তার সন্তানদের বলল, আমি যা তোমাদের আদেশ দিব অবশ্যই তোমরা তা পূর্ণ করবে অন্যথা আমি তোমাদের ব্যতীত (অন্য কাউকে) আমার সম্পদের উত্তরাধিকার করে দিব। আমি মরে গেলে তোমরা আমাকে পোড়াবে। বর্ণনাকারী বলেন, আমার প্রবল ধারণা যে, সে এও বলেছে যে, তারপর পিষে আমাকে বাতাসে উড়িয়ে দিবে। কেননা আল্লাহর নিকট অগ্রে আমি কোন নেকী প্রেরণ করিনি। আল্লাহ তাআলা আমাকে শাস্তি দেয়ার ব্যাপারে ক্ষমতাশালী। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেনঃ এ বিষয়ে সে তার সন্তানদের স্বীকারোক্তি গ্রহণ করল। তারপর তারা তার (পিতার) ব্যাপারে সেরূপ করল। আমার প্রতিপালকের শপথ! তারপর আল্লাহ তাআলা তাকে জিজ্ঞাসা করলেন, এ কাজ করার ব্যাপারে কিসে তোমাকে অনুপ্রাণিত করেছে? সে বলল, আপনার ভয়। এ কথা শুনে আল্লাহ তাকে আর কোন বিচার ব্যবস্থা (শাস্তি) দেননি।

6731

وَحَدَّثَنَاهُ يَحْيَى بْنُ حَبِيبٍ الْحَارِثِيُّ، حَدَّثَنَا مُعْتَمِرُ بْنُ سُلَيْمَانَ، قَالَ قَالَ لِي أَبِي حَدَّثَنَا قَتَادَةُ، ح وَحَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ مُوسَى، حَدَّثَنَا شَيْبَانُ، بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ ح وَحَدَّثَنَا ابْنُ الْمُثَنَّى، حَدَّثَنَا أَبُو الْوَلِيدِ، حَدَّثَنَا أَبُو عَوَانَةَ، كِلاَهُمَا عَنْ قَتَادَةَ، ذَكَرُوا جَمِيعًا بِإِسْنَادِ شُعْبَةَ نَحْوَ حَدِيثِهِ وَفِي حَدِيثِ شَيْبَانَ وَأَبِي عَوَانَةَ " أَنَّ رَجُلاً مِنَ النَّاسِ رَغَسَهُ اللَّهُ مَالاً وَوَلَدًا " . وَفِي حَدِيثِ التَّيْمِيِّ " فَإِنَّهُ لَمْ يَبْتَئِرْ عِنْدَ اللَّهِ خَيْرًا " . قَالَ فَسَّرَهَا قَتَادَةُ لَمْ يَدَّخِرْ عِنْدَ اللَّهِ خَيْرًا . وَفِي حَدِيثِ شَيْبَانَ " فَإِنَّهُ وَاللَّهِ مَا ابْتَأَرَ عِنْدَ اللَّهِ خَيْرًا " . وَفِي حَدِيثِ أَبِي عَوَانَةَ " مَا امْتَأَرَ " . بِالْمِيمِ .

Narrator: কাতাদা ইবনে দিআমা (রহঃ)

৬৭৩১। ইয়াহয়া ইবনে হাবীব হারিছী, কাতাদা, আবু বকর ইবনে আবি শাঈবা, শায়বান ইবনে আব্দুর রহমান ও ইবনুল মুসান্না (রাহঃ) ......... কাতাদা (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তারা সকলেই শু’বা (রাহঃ) এর সনদের মত উক্ত হাদীসটি শু’বার হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। তবে এ হাদীসের মধ্যে رَاشَهُ اللَّهُ এর স্থলে رَغَسَهُ (আল্লাহ তাকে অঢেল দান করেছেন) বর্ণিত আছে। এবং তায়মীর হাদীসের মধ্যে لَمْ أَبْتَهِرْ عِنْدَ اللَّهِ خَيْرًا এর স্থলে لَمْ يَدَّخِرْ عِنْدَ اللَّهِ خَيْرًا বর্ণিত আছে।

কাতাদা (রাহঃ) এর ব্যাখ্যায় বলেন, সে আল্লাহর নিকট কোন কিছু সঞ্চয় করেনি। শায়বানের হাদীসে আছে, مَا ابْتَأَرَ عِنْدَ اللَّهِ خَيْرًا এবং আবু আওয়ানার হাদীসে আছে مَا امْتَأَرَعِنْدَ اللَّهِ خَيْرًا ( ب এর স্থলে)ميم এর সংযোগ।

৩২. গুনাহের কারণে তাওবা কবুল হয়, এমন কি বারবার গুনাহ ও বারবার তাওবা করলেও

باب قَبُولِ التَّوْبَةِ مِنَ الذُّنُوبِ وَإِنْ تَكَرَّرَتِ الذُّنُوبُ وَالتَّوْبَةُ

6732
حَدَّثَنِي عَبْدُ الأَعْلَى بْنُ حَمَّادٍ، حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ، عَنْ إِسْحَاقَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، بْنِ أَبِي طَلْحَةَ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبِي عَمْرَةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فِيمَا يَحْكِي عَنْ رَبِّهِ عَزَّ وَجَلَّ قَالَ " أَذْنَبَ عَبْدٌ ذَنْبًا فَقَالَ اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِي ذَنْبِي . فَقَالَ تَبَارَكَ وَتَعَالَى أَذْنَبَ عَبْدِي ذَنْبًا فَعَلِمَ أَنَّ لَهُ رَبًّا يَغْفِرُ الذَّنْبَ وَيَأْخُذُ بِالذَّنْبِ . ثُمَّ عَادَ فَأَذْنَبَ فَقَالَ أَىْ رَبِّ اغْفِرْ لِي ذَنْبِي . فَقَالَ تَبَارَكَ وَتَعَالَى عَبْدِي أَذْنَبَ ذَنْبًا فَعَلِمَ أَنَّ لَهُ رَبًّا يَغْفِرُ الذَّنْبَ وَيَأْخُذُ بِالذَّنْبِ . ثُمَّ عَادَ فَأَذْنَبَ فَقَالَ أَىْ رَبِّ اغْفِرْ لِي ذَنْبِي . فَقَالَ تَبَارَكَ وَتَعَالَى أَذْنَبَ عَبْدِي ذَنْبًا فَعَلِمَ أَنَّ لَهُ رَبًّا يَغْفِرُ الذَّنْبَ وَيَأْخُذُ بِالذَّنْبِ وَاعْمَلْ مَا شِئْتَ فَقَدْ غَفَرْتُ لَكَ " . قَالَ عَبْدُ الأَعْلَى لاَ أَدْرِي أَقَالَ فِي الثَّالِثَةِ أَوِ الرَّابِعَةِ " اعْمَلْ مَا شِئْتَ " .
قَالَ أَبُو أَحْمَدَ حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ زَنْجُويَهْ الْقُرَشِيُّ الْقُشَيْرِيُّ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الأَعْلَى، بْنُ حَمَّادٍ النَّرْسِيُّ بِهَذَا الإِسْنَادِ .

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৬৭৩২। আব্দুল আলা ইবনে হাম্মাদ (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) স্বীয় প্রতিপালক আল্লাহ রাব্বুল আলামীন থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, এক বান্দা গুনাহ করে বলল, হে আমার প্রতিপালক! আমার গুনাহ ক্ষমা করে দাও। তারপর আল্লাহ তাআলা বললেন, আমার বান্দা গুনাহ করেছে এবং সে জানে যে, তার একজন প্রতিপালক আছে, যিনি গুনাহ ক্ষমা করেন এবং গুনাহের কারণে পাকড়াও করেন। এ কথা বলার পর সে পুনরায় গুনাহ করল এবং বলল, হে আমার মনিব! আমার গুনাহ মাফ করে দাও। এরপর আল্লাহ তাআলা বললেন, আমার এক বান্দা গুনাহ করেছে এবং সে জানে যে, তার একজন প্রতিপালক আছে যিনি গুনাহ মাফ করেন এবং গুনাহের কারণে পাকড়াও করেন।

তারপর সে আবারও গুনাহ করে বলল, হে আমার রব! আমার গুনাহ ক্ষমা করে দাও। একথা শুনে আল্লাহ তাআলা আবারও বলেন, আমার বান্দা গুনাহ করেছে এবং সে জানে যে তার একজন মালিক আছে, যিনি বান্দার গুনাহ ক্ষমা করেন এবং গুনাহের কারণে পাকড়াও করেন। তারপর আল্লাহ তাআলা বলেন, হে বান্দা! এখন যা ইচ্ছা তুমি আমল কর। আমি তোমার গুনাহ মাফে করে দিয়েছি। বর্ণনাকারী আব্দুল আ’লা বলেন, “এখন যা ইচ্ছা তুমি আমল কর” কথাটি (আল্লাহ তাআলা) তৃতীয়বারের পর বলেছেন, না চতুর্থবারের পর বলেছেন, তা আমি জানি না।

আবু আহমাদ (রাহঃ) ......... আব্দুল আ’লা ইবনে হাম্মাদ নাররসী (রাহঃ) থেকে উক্ত সনদে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।
6733

حَدَّثَنِي عَبْدُ بْنُ حُمَيْدٍ، حَدَّثَنِي أَبُو الْوَلِيدِ، حَدَّثَنَا هَمَّامٌ، حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، بْنِ أَبِي طَلْحَةَ قَالَ كَانَ بِالْمَدِينَةِ قَاصٌّ يُقَالُ لَهُ عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ أَبِي عَمْرَةَ - قَالَ - فَسَمِعْتُهُ يَقُولُ سَمِعْتُ أَبَا هُرَيْرَةَ يَقُولُ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " إِنَّ عَبْدًا أَذْنَبَ ذَنْبًا " . بِمَعْنَى حَدِيثِ حَمَّادِ بْنِ سَلَمَةَ . وَذَكَرَ ثَلاَثَ مَرَّاتٍ " أَذْنَبَ ذَنْبًا " . وَفِي الثَّالِثَةِ " قَدْ غَفَرْتُ لِعَبْدِي فَلْيَعْمَلْ مَا شَاءَ " .

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৬৭৩৩। আব্দ ইবনে হুমায়দ (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে ’এক ব্যক্তি গুনাহ করল’ এ মর্মে একটি হাদীস বর্ণনা করতে শুনেছি। এরপর রাবী হাম্মাদ ইবনে সালামার অনুরূপ হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। তবে এ হাদীসের মধ্যে أَذْنَبَ ذَنْبًا কথাটি তিনবার বর্ণিত আছে এবং তৃতীয়বারের পর রয়েছে- আমি আমার বান্দাকে মাফ করে দিলাম। সুতরাং এখন সে যা ইচ্ছা তাই আমল করুক।

6734

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ عَمْرِو بْنِ مُرَّةَ، قَالَ سَمِعْتُ أَبَا عُبَيْدَةَ، يُحَدِّثُ عَنْ أَبِي مُوسَى، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " إِنَّ اللَّهَ عَزَّ وَجَلَّ يَبْسُطُ يَدَهُ بِاللَّيْلِ لِيَتُوبَ مُسِيءُ النَّهَارِ وَيَبْسُطُ يَدَهُ بِالنَّهَارِ لِيَتُوبَ مُسِيءُ اللَّيْلِ حَتَّى تَطْلُعَ الشَّمْسُ مِنْ مَغْرِبِهَا " .

Narrator: আবু মুসা আশ'আরী (রাঃ)

৬৭৩৪। মুহাম্মাদ ইবনে মুসান্না (রাহঃ) ......... আবু মুসা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। নবী (ﷺ) বলেন, রাতে আল্লাহ তাআলা তার স্বীয় করুণার হস্ত সম্প্রসারিত করেন যেন দিবসের অপরাধী তার প্রতি ধাবিত হয়ে তার নিকট তাওবা করে। অনুরূপভাবে দিবসে তিনি তার স্বীয় হাত সম্প্রসারিত করেন যেন রাতের অপরাধী তার প্রতি ধাবিত হয় ও তার নিকট তাওবা করে। এমনিভাবে প্রতিনিয়ত চলতে থাকবে পশ্চিম দিগন্ত থেকে সূর্য উদিত হওয়া পর্যন্ত।

6735

وَحَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، حَدَّثَنَا أَبُو دَاوُدَ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، بِهَذَا الإِسْنَادِ نَحْوَهُ .

Narrator: শু'বা ইবনুল হাজ্জাজ (রহঃ)

৬৭৩৫। মুহাম্মাদ ইবনে বাশশার (রাহঃ) ......... শুবা (রাহঃ) থেকে এ সনদে অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন।

৩৩. আল্লাহ তাআলার আত্মমর্যাদা এবং অশ্লীলতা হারাম হওয়া

باب غَيْرَةِ اللَّهِ تَعَالَى وَتَحْرِيمِ الْفَوَاحِشِ

6736

حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، وَإِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، قَالَ إِسْحَاقُ أَخْبَرَنَا وَقَالَ، عُثْمَانُ حَدَّثَنَا جَرِيرٌ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ أَبِي وَائِلٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " لَيْسَ أَحَدٌ أَحَبَّ إِلَيْهِ الْمَدْحُ مِنَ اللَّهِ مِنْ أَجْلِ ذَلِكَ مَدَحَ نَفْسَهُ وَلَيْسَ أَحَدٌ أَغْيَرَ مِنَ اللَّهِ مِنْ أَجْلِ ذَلِكَ حَرَّمَ الْفَوَاحِشَ " .

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ)

৬৭৩৬। উসমান ইবনে আবি শাঈবা ও ইসহাক ইবনে ইবরাহীম (রাহঃ) ......... আব্দুল্লাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেনঃ আল্লাহর চেয়ে আত্মপ্রশংসা অধিক পছন্দকারী কেউ নেই। এ কারণেই তিনি নিজে নিজের প্রশংসা করেছেন। অনুরূপভাবে আল্লাহর চেয়ে অধিক আত্মমর্যাদাবোধ সম্পন্নও কোন সত্তা নেই। এ কারণেই (প্রকাশ্য এবং অপ্রকাশ্য) সমস্ত অশ্লীলতাকে তিনি হারাম ঘোষণা করেছেন।

6737

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ نُمَيْرٍ، وَأَبُو كُرَيْبٍ قَالاَ حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ، ح وَحَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، - وَاللَّفْظُ لَهُ - حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ نُمَيْرٍ، وَأَبُو مُعَاوِيَةَ عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ شَقِيقٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " لاَ أَحَدٌ أَغْيَرَ مِنَ اللَّهِ وَلِذَلِكَ حَرَّمَ الْفَوَاحِشَ مَا ظَهَرَ مِنْهَا وَمَا بَطَنَ وَلاَ أَحَدٌ أَحَبَّ إِلَيْهِ الْمَدْحُ مِنَ اللَّهِ " .

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ)

৬৭৩৭। মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে নুমাইর, আবু কুরায়ব ও আবু বকর ইবনে আবি শাঈবা (রাহঃ) ......... আব্দুল্লাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ আল্লাহর থেকে অধিক আত্মমর্যাদাবোধ সম্পন্ন আর কোন সত্তা নেই। এ কারণেই প্রকাশ্য-অপ্রকাশ্য সমস্ত অশ্লীলতাকে তিনি হারাম ঘোষণা করেছেন এবং আল্লাহ তাআলার প্রশংসা অধিক পছন্দকারীও আর কোন সত্তা নেই।

6738

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، وَابْنُ، بَشَّارٍ قَالاَ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ عَمْرِو بْنِ مُرَّةَ، قَالَ سَمِعْتُ أَبَا وَائِلٍ، يَقُولُ سَمِعْتُ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ مَسْعُودٍ، يَقُولُ قُلْتُ لَهُ آنْتَ سَمِعْتَهُ مِنْ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ نَعَمْ وَرَفَعَهُ أَنَّهُ قَالَ " لاَ أَحَدٌ أَغْيَرَ مِنَ اللَّهِ وَلِذَلِكَ حَرَّمَ الْفَوَاحِشَ مَا ظَهَرَ مِنْهَا وَمَا بَطَنَ وَلاَ أَحَدٌ أَحَبَّ إِلَيْهِ الْمَدْحُ مِنَ اللَّهِ وَلِذَلِكَ مَدَحَ نَفْسَهُ " .

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ)

৬৭৩৮। মুহাম্মাদ ইবনে মুসান্না ও ইবনে বাশশার (রাহঃ) ......... আব্দুল্লাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেন, আল্লাহর চেয়ে অধিক আত্মমর্যাদাবোধ সম্পন্ন আর কোন সত্তা নেই। এ জন্যই প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য সমস্ত অশ্লীলতাকে তিনি হারাম করে দিয়েছেন। এমনিভাবে আল্লাহর চেয়ে অধিক প্রশংসা পছন্দকারীও কেউ নেই। এ কারণেই তিনি নিজে নিজের প্রশংসা করেছেন।

6739

حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، وَزُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، وَإِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، قَالَ إِسْحَاقُ أَخْبَرَنَا وَقَالَ الآخَرَانِ، حَدَّثَنَا جَرِيرٌ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ مَالِكِ بْنِ الْحَارِثِ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، بْنِ يَزِيدَ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " لَيْسَ أَحَدٌ أَحَبَّ إِلَيْهِ الْمَدْحُ مِنَ اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ مِنْ أَجْلِ ذَلِكَ مَدَحَ نَفْسَهُ وَلَيْسَ أَحَدٌ أَغْيَرَ مِنَ اللَّهِ مِنْ أَجْلِ ذَلِكَ حَرَّمَ الْفَوَاحِشَ وَلَيْسَ أَحَدٌ أَحَبَّ إِلَيْهِ الْعُذْرُ مِنَ اللَّهِ مِنْ أَجْلِ ذَلِكَ أَنْزَلَ الْكِتَابَ وَأَرْسَلَ الرُّسُلَ " .

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ)

৬৭৩৯। উসমান ইবনে আবি শাঈবা, যুহাইর ইবনে হারব ও ইসহাক ইবনে ইবরাহীম (রাহঃ) ......... আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ আল্লাহর চেয়ে অধিক আত্মপ্রশংসা পছন্দকারী কেউ নাই। এ জন্যই তিনি নিজে নিজের প্রশংসা করেছেন। অনুরূপভাবে আল্লাহর তুলনায় অধিক আত্মমর্যাদাবোধ সম্পন্ন কেউ নেই। এ কারণেই তিনি সমস্ত অশ্নীলতাকে হারাম করেছেন। আল্লাহর তুলনায় অধিক পরিমাণে ওযর গ্রহণকারী আর কোন সত্তা নেই। এ কারণেই তিনি কিতাব নাযিল করেছেন এবং রাসুল প্রেরণ করেছেন।

৩৩. আল্লাহ তাআলা আত্মমর্যাদা এবং অশ্লীলতা হারাম হওয়া

باب غَيْرَةِ اللَّهِ تَعَالَى وَتَحْرِيمِ الْفَوَاحِشِ

6740
حَدَّثَنَا عَمْرٌو النَّاقِدُ، حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ ابْنُ عُلَيَّةَ، عَنْ حَجَّاجِ بْنِ أَبِي، عُثْمَانَ قَالَ قَالَ يَحْيَى وَحَدَّثَنِي أَبُو سَلَمَةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " إِنَّ اللَّهَ يَغَارُ وَإِنَّ الْمُؤْمِنَ يَغَارُ وَغَيْرَةُ اللَّهِ أَنْ يَأْتِيَ الْمُؤْمِنُ مَا حَرَّمَ عَلَيْهِ " .
قَالَ يَحْيَى وَحَدَّثَنِي أَبُو سَلَمَةَ، أَنَّ عُرْوَةَ بْنَ الزُّبَيْرِ، حَدَّثَهُ أَنَّ أَسْمَاءَ بِنْتَ أَبِي بَكْرٍ حَدَّثَتْهُ أَنَّهَا، سَمِعَتْ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " لَيْسَ شَىْءٌ أَغْيَرَ مِنَ اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ " .

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৬৭৪০। আমর নাকিদ (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ আল্লাহ তাআলা তার আত্মমর্যাদাবোধ প্রকাশ করেন এবং মুমিনগণও আত্মমর্যাদাবোধ প্রকাশ করে। আল্লাহর আত্মমর্যাদাবোধ উজ্জীবিত হয় যখন মুমিন তা করে যা তিনি হারাম করেছেন।

ইয়াহয়া (রাহঃ) ......... আসমা বিনতে আবু বকর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে এ কথা বলতে শুনেছি যে, আল্লাহর চেয়ে অধিক আত্মমর্যাদাবোধ সম্পন্ন আর কোন সত্তা নেই।

৩৩. আল্লাহ তাআলার আত্মমর্যাদা এবং অশ্লীলতা হারাম হওয়া

باب غَيْرَةِ اللَّهِ تَعَالَى وَتَحْرِيمِ الْفَوَاحِشِ

6741

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، حَدَّثَنَا أَبُو دَاوُدَ، حَدَّثَنَا أَبَانُ بْنُ يَزِيدَ، وَحَرْبُ بْنُ شَدَّادٍ، عَنْ يَحْيَى بْنِ أَبِي كَثِيرٍ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم . بِمِثْلِ رِوَايَةِ حَجَّاجٍ حَدِيثَ أَبِي هُرَيْرَةَ خَاصَّةً وَلَمْ يَذْكُرْ حَدِيثَ أَسْمَاءَ .

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৬৭৪১। মুহাম্মাদ ইবনে মুসান্না (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) সূত্রেনবী (ﷺ) থেকে বর্ণিত। হাজ্জাজের বর্ণনার অনুরূপ শুধু আবু হুরায়রা (রাযিঃ) এর হাদীস বর্ণনা করেছেন। তিনি আসমা (রাযিঃ) এর কথা উল্লেখ নেই।

6742

وَحَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ أَبِي بَكْرٍ الْمُقَدَّمِيُّ، حَدَّثَنَا بِشْرُ بْنُ الْمُفَضَّلِ، عَنْ هِشَامٍ، عَنْ يَحْيَى، بْنِ أَبِي كَثِيرٍ عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ عُرْوَةَ، عَنْ أَسْمَاءَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ قَالَ " لاَ شَىْءَ أَغْيَرُ مِنَ اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ " .

Narrator: হযরত আসমা বিনতে আবু বকর রাযি.

৬৭৪২। মুহাম্মাদ ইবনে আবু বকর মুকাদ্দামী (রাহঃ) ......... আসমা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, নবী (ﷺ) বলেছেনঃ আল্লাহ তাআলার চেয়ে অধিক আত্মমর্যাদাবোধ সম্পন্ন কিছুই নেই।

6743

حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ، - يَعْنِي ابْنَ مُحَمَّدٍ - عَنِ الْعَلاَءِ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " الْمُؤْمِنُ يَغَارُ وَاللَّهُ أَشَدُّ غَيْرًا " .

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৬৭৪৩। কুতায়বা ইবনে সাঈদ (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ মুমিন আত্মমর্যাদাবোধে উদ্বুদ্ধ হয়। আল্লাহ তাআলা সর্বাধিক আত্মমর্যাদাবোধ সম্পন্ন।

6744

وَحَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، قَالَ سَمِعْتُ الْعَلاَءَ، بِهَذَا الإِسْنَادِ .

Narrator: আলা ইবনু আবদুর রহমান (রহঃ)

৬৭৪৪। মুহাম্মাদ ইবনে মুসান্না (রাহঃ) ......... আলা (রাহঃ) থেকে এ সনদে বর্ণনা করেছেন।

৩৪. আল্লাহ তাআলার বাণীঃ নিশ্চয় পুণ্য পাপসমূহ মিটিয়ে দেয়। (সূরা হুদঃ ১১৪)

باب قَوْلِهِ تَعَالَى { إِنَّ الْحَسَنَاتِ يُذْهِبْنَ السَّيِّئَاتِ}

6745

حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، وَأَبُو كَامِلٍ فُضَيْلُ بْنُ حُسَيْنٍ الْجَحْدَرِيُّ كِلاَهُمَا عَنْ يَزِيدَ، بْنِ زُرَيْعٍ - وَاللَّفْظُ لأَبِي كَامِلٍ - حَدَّثَنَا يَزِيدُ، حَدَّثَنَا التَّيْمِيُّ، عَنْ أَبِي عُثْمَانَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ، بْنِ مَسْعُودٍ أَنَّ رَجُلاً، أَصَابَ مِنِ امْرَأَةٍ قُبْلَةً فَأَتَى النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فَذَكَرَ لَهُ ذَلِكَ - قَالَ - فَنَزَلَتْ ( أَقِمِ الصَّلاَةَ طَرَفَىِ النَّهَارِ وَزُلَفًا مِنَ اللَّيْلِ إِنَّ الْحَسَنَاتِ يُذْهِبْنَ السَّيِّئَاتِ ذَلِكَ ذِكْرَى لِلذَّاكِرِينَ) قَالَ فَقَالَ الرَّجُلُ أَلِيَ هَذِهِ يَا رَسُولَ اللَّهِ قَالَ " لِمَنْ عَمِلَ بِهَا مِنْ أُمَّتِي " .

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ)

৬৭৪৫। কুতায়বা ইবনে সাঈদ ও আবু কামিল ফুযায়ল ইবনে হুসাইন জাহদারী (রাহঃ) ......... আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, জনৈক ব্যক্তি এক স্ত্রীলোককে চুম্বন করে ফেলে। এরপর সে নবী (ﷺ) এর নিকট এসে এ কথা উল্লেখ করল। রাবী বলেন, তখন নাযিল হলঃ ″নামায কায়িম করবে দিবসের দুই প্রান্তে রজনীর কিছু অংশে। সৎকর্ম অবশ্যই অসৎকর্ম মিটিয়ে দেয়। যারা উপদেশ গ্রহণ করে ইহা তাদের জন্য এক উপদেশ।″ বর্ণণীকারী বলেন, তারপর লোকটি বলল, ইয়া রাসূলাল্লাহ! এ হুকুম কি একমাত্র আমার জন্য? তিনি বললেনঃ আমার উম্মতের যে কেউ আমল করবে তার জন্যও।

6746

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الأَعْلَى، حَدَّثَنَا الْمُعْتَمِرُ، عَنْ أَبِيهِ، حَدَّثَنَا أَبُو عُثْمَانَ، عَنِ ابْنِ، مَسْعُودٍ أَنَّ رَجُلاً، أَتَى النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فَذَكَرَ أَنَّهُ أَصَابَ مِنِ امْرَأَةٍ إِمَّا قُبْلَةً أَوْ مَسًّا بِيَدٍ أَوْ شَيْئًا كَأَنَّهُ يَسْأَلُ عَنْ كَفَّارَتِهَا - قَالَ - فَأَنْزَلَ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ . ثُمَّ ذَكَرَ بِمِثْلِ حَدِيثِ يَزِيدَ .

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ)

৬৭৪৬। মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল আলা (রাহঃ) ......... ইবনে মাসউদ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, এক ব্যক্তি নবী (ﷺ) এর নিকট এসে বললো, সে এক মহিলাকে চুমু দিয়েছে বা হস্ত দ্বারা স্পর্শ করেছে অথবা তেমন কিছু করেছে। এ বলে সে এর কাফফারা সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কাছে জানতে চাইছে। বর্ণনাকারী বলেন, তারপর আল্লাহ তাআলা উপরোক্ত আয়াত নাযিল করলেন। পরবর্তী অংশ ইয়াযীদের হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।

6747

حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا جَرِيرٌ، عَنْ سُلَيْمَانَ التَّيْمِيِّ، بِهَذَا الإِسْنَادِ قَالَ أَصَابَ رَجُلٌ مِنِ امْرَأَةٍ شَيْئًا دُونَ الْفَاحِشَةِ فَأَتَى عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ فَعَظَّمَ عَلَيْهِ ثُمَّ أَتَى أَبَا بَكْرٍ فَعَظَّمَ عَلَيْهِ ثُمَّ أَتَى النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فَذَكَرَ بِمِثْلِ حَدِيثِ يَزِيدَ وَالْمُعْتَمِرِ .

Narrator: সুলাইমান আত তাইমী (রহঃ)

৬৭৪৭। উসমান ইবনে আবি শাঈবা (রাহঃ) ......... সুলাইমান তায়মী (রাহঃ) এর সূত্রে উক্ত সনদে বর্ণনা করেন যে, এক ব্যক্তি ব্যভিচারে লিপ্ত হওয়া ব্যতীত এক স্ত্রীলোকের সাথে কিছু অসৌজন্যমূলক আচরণ করল। তারপর সে উমর ইবনে খাত্তাব (রাযিঃ) এর নিকট আসল। উমর (রাযিঃ) তার এ কাজটিকে গুরুতর অপরাধ মনে করলেন। এরপর সে আবু বকর সিদ্দীক (রাযিঃ) এর নিকট আসল। তিনিও এ কাজটিকে গুরুতর অপরাধ মনে করলেন। অবশেষে সে নবী (ﷺ) এর নিকট আসল। তারপর বর্ণনাকারী হাদীসটি ইয়াযীদ এবং মু’তামির (রাযিঃ) এর হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।

6748

حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ يَحْيَى، وَقُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، وَأَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ - وَاللَّفْظُ لِيَحْيَى - قَالَ يَحْيَى أَخْبَرَنَا وَقَالَ الآخَرَانِ، حَدَّثَنَا أَبُو الأَحْوَصِ، عَنْ سِمَاكٍ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ، عَنْ عَلْقَمَةَ، وَالأَسْوَدِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ جَاءَ رَجُلٌ إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنِّي عَالَجْتُ امْرَأَةً فِي أَقْصَى الْمَدِينَةِ وَإِنِّي أَصَبْتُ مِنْهَا مَا دُونَ أَنْ أَمَسَّهَا فَأَنَا هَذَا فَاقْضِ فِيَّ مَا شِئْتَ . فَقَالَ لَهُ عُمَرُ لَقَدْ سَتَرَكَ اللَّهُ لَوْ سَتَرْتَ نَفْسَكَ - قَالَ - فَلَمْ يَرُدَّ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم شَيْئًا فَقَامَ الرَّجُلُ فَانْطَلَقَ فَأَتْبَعَهُ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم رَجُلاً دَعَاهُ وَتَلاَ عَلَيْهِ هَذِهِ الآيَةَ ( أَقِمِ الصَّلاَةَ طَرَفَىِ النَّهَارِ وَزُلَفًا مِنَ اللَّيْلِ إِنَّ الْحَسَنَاتِ يُذْهِبْنَ السَّيِّئَاتِ ذَلِكَ ذِكْرَى لِلذَّاكِرِينَ) فَقَالَ رَجُلٌ مِنَ الْقَوْمِ يَا نَبِيَّ اللَّهِ هَذَا لَهُ خَاصَّةً قَالَ " بَلْ لِلنَّاسِ كَافَّةً " .

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ)

৬৭৪৮। ইয়াহয়া ইবনে ইয়াহয়া, কুতায়বা ইবনে সাঈদ ও আবু বকর ইবনে আবি শাঈবা (রাহঃ) ......... আব্দুল্লাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক ব্যক্তি নবী (ﷺ) এর নিকট এসে বলল, ইয়া রাসূলাল্লাহ! মদীনার এক প্রান্তে এক স্ত্রীলোককে আমি উপভোগ করেছি। সহবাস ব্যতিরেকে তার সাথে আমি মিলিত হয়েছি। আমিই সেই ব্যক্তি। আপনি আমার সম্পর্কে আপনার যা ইচ্ছা ফয়সালা দিন। তখন উমর (রাযিঃ) তাকে বললেনঃ আল্লাহ তোমার অপরাধ গোপন রেখেছেন। তুমিও যদি তোমার নিজের ব্যাপারটি গোপন রাখতে! বর্ণনাকারী বলেন, কিন্তু নবী (ﷺ) তাকে আর কোন উত্তর দেন নি। তারপর লোকটি উঠে যেতে লাগল। তখন নবী (ﷺ) এক ব্যক্তিকে তার পশ্চাতে পাঠালেন। সে তাকে ডেকে আনল। তিনি তার সামনে এ আয়াত পাঠ করলেনঃ “নামায কায়িম করবে দিবসের দুই প্রান্তে এবং রজনীর কিছু অংশে। সৎকর্ম নিশ্চয়ই অসৎকর্মকে মিটিয়ে দেয়। যারা উপদেশ গ্রহণ করে, এ হল তাদের জন্য এক উপদেশ।” তখন লোকদের মধ্য থেকে এক ব্যক্তি বলল, হে আল্লাহর নবী! এ হুকুম কি তার জন্য খাস? উত্তরে তিনি বললেনঃ না, বরং সমস্ত মানুষের জন্যই এ হুকুম প্রযোজ্য।

6749

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، حَدَّثَنَا أَبُو النُّعْمَانِ الْحَكَمُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الْعِجْلِيُّ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ سِمَاكِ بْنِ حَرْبٍ، قَالَ سَمِعْتُ إِبْرَاهِيمَ، يُحَدِّثُ عَنْ خَالِهِ الأَسْوَدِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم بِمَعْنَى حَدِيثِ أَبِي الأَحْوَصِ وَقَالَ فِي حَدِيثِهِ فَقَالَ مُعَاذٌ يَا رَسُولَ اللَّهِ هَذَا لِهَذَا خَاصَّةً أَوْ لَنَا عَامَّةً قَالَ " بَلْ لَكُمْ عَامَّةً " .

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ)

৬৭৪৯। মুহাম্মাদ ইবনে মুসান্না (রাহঃ) ......... আব্দুল্লাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি নবী (ﷺ) থেকে আবুল আহওয়াসের অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন। তবে এ হাদীসের মধ্যে আছে, তখন মুআয (রাযিঃ) প্রশ্ন করলেন, ইয়া রাসুলাল্লাহ! এ হুকুম কি শুধু তার জন্য, না আমাদের সকলের জন্য সমভাবে প্রযোজ্য? উত্তরে তিনি বললেনঃ না, বরং তোমাদের সকলের জন্য সমভাবে প্রযোজ্য।

6750

حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ عَلِيٍّ الْحُلْوَانِيُّ، حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ عَاصِمٍ، حَدَّثَنَا هَمَّامٌ، عَنْ إِسْحَاقَ، بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي طَلْحَةَ عَنْ أَنَسٍ، قَالَ جَاءَ رَجُلٌ إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَصَبْتُ حَدًّا فَأَقِمْهُ عَلَىَّ - قَالَ - وَحَضَرَتِ الصَّلاَةُ فَصَلَّى مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَلَمَّا قَضَى الصَّلاَةَ قَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنِّي أَصَبْتُ حَدًّا فَأَقِمْ فِيَّ كِتَابَ اللَّهِ . قَالَ " هَلْ حَضَرْتَ الصَّلاَةَ مَعَنَا " . قَالَ نَعَمْ . قَالَ " قَدْ غُفِرَ لَكَ " .

Narrator: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

৬৭৫০। হাসান ইবনে আলী হুলওয়ানী (রাহঃ) ......... আনাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক ব্যক্তি নবী (ﷺ) এর নিকট এসে বলল, ইয়া রাসুলাল্লাহ! আমি হদ্দ কায়িম হওয়ার যোগ্য কাজ করে ফেলেছি। সুতরাং আপনি আমার উপর তো কায়িম করুন। রাবী বলেন, তখন নামাযের ওয়াক্ত হল এবং লোকটি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সঙ্গে নামায আদায় করল। নামায আদায় হয়ে গেলে লোকটি বলল, ইয়া রাসুলাল্লাহ! আমার উপর হদ্দ কায়েম হওয়ার মত অপরাধ করে ফেলেছি। সুতরাং আপনি আল কুরআনের বিধান অনুসারে আমার উপর শাস্তি কায়িম করুন। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ তুমি কি আমাদের সঙ্গে নামাযে ছিলে? লোকটি বলল, হ্যাঁ। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ তোমাকে ক্ষমা করা হয়েছে।

6751

حَدَّثَنَا نَصْرُ بْنُ عَلِيٍّ الْجَهْضَمِيُّ، وَزُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، - وَاللَّفْظُ لِزُهَيْرٍ - قَالاَ حَدَّثَنَا عُمَرُ بْنُ يُونُسَ، حَدَّثَنَا عِكْرِمَةُ بْنُ عَمَّارٍ، حَدَّثَنَا شَدَّادٌ، حَدَّثَنَا أَبُو أُمَامَةَ، قَالَ بَيْنَمَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي الْمَسْجِدِ وَنَحْنُ قُعُودٌ مَعَهُ إِذْ جَاءَ رَجُلٌ فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنِّي أَصَبْتُ حَدًّا فَأَقِمْهُ عَلَىَّ . فَسَكَتَ عَنْهُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ثُمَّ أَعَادَ فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنِّي أَصَبْتُ حَدًّا فَأَقِمْهُ عَلَىَّ . فَسَكَتَ عَنْهُ وَأُقِيمَتِ الصَّلاَةُ فَلَمَّا انْصَرَفَ نَبِيُّ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ أَبُو أُمَامَةَ فَاتَّبَعَ الرَّجُلُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم حِينَ انْصَرَفَ وَاتَّبَعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَنْظُرُ مَا يَرُدُّ عَلَى الرَّجُلِ فَلَحِقَ الرَّجُلُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنِّي أَصَبْتُ حَدًّا فَأَقِمْهُ عَلَىَّ - قَالَ أَبُو أُمَامَةَ - فَقَالَ لَهُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " أَرَأَيْتَ حِينَ خَرَجْتَ مِنْ بَيْتِكَ أَلَيْسَ قَدْ تَوَضَّأْتَ فَأَحْسَنْتَ الْوُضُوءَ " . قَالَ بَلَى يَا رَسُولَ اللَّهِ . قَالَ " ثُمَّ شَهِدْتَ الصَّلاَةَ مَعَنَا " . فَقَالَ نَعَمْ يَا رَسُولَ اللَّهِ . قَالَ فَقَالَ لَهُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " فَإِنَّ اللَّهَ قَدْ غَفَرَ لَكَ حَدَّكَ - أَوْ قَالَ - ذَنْبَكَ " .

Narrator: আবু উমামা বাহিলী রাযি.

৬৭৫১। নসর ইবনে আলী জাহযামী ও যুহাইর ইবনে হারব (রাহঃ) ......... আবু উমামা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) মসজিদে উপবিষ্ট ছিলেন এবং আমরা তাঁর সঙ্গে উপবিষ্ট ছিলাম। তখন এক ব্যক্তি এসে বলল, ইয়া রাসুলাল্লাহ! হদ্দ প্রযোজ্য হওয়ার অপরাধ করে ফেলেছি। সুতরাং আপনি আমার উপর হদ্দ বাস্তবায়িত করুন। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) চুপ করে রইলেন। সে পুনরায় বলল, ইয়া রাসুলাল্লাহ! আমার দ্বারা হদ্দ প্রযোজ্য হওয়ার মত অপরাধ হয়ে গেছে। সুতরাং আপনি আমার উপর হদ্দ বাস্তবায়িত করুন। এবারও রাসূলুল্লাহ (ﷺ) চুপ করে রইলেন। লোকটি তৃতীয়বার অনুরূপ বলল। এমতাবস্থায় নামায শুরু হল।

আল্লাহর নবী (ﷺ) যখন নামায সমাপ্ত করলেন, রাবী আবু উমামা (রাযিঃ) বলেন, নামায শেষে লোকটি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর অনুসরণ করতে লাগল। [আবু উমামা (রাযিঃ)] বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) লোকটিকে কি উত্তর দেন তা দেখার জন্য আমিও তাঁর অনুসরণ করলাম। এরপর প্রশ্নকারী লোকটি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট গিয়ে আবার বলল, ইয়া রাসুলাল্লাহ! আমি আমার উপর হদ্দ হওয়ার মত অপরাধ করে ফেলেছি। সুতরাং আমার উপর বাস্তবায়িত করুন।

আবু উমামা (রাযিঃ) বলেন, এরপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ ঘর থেকে বের হওয়ার সময় তুমি কি উত্তমরূপে উযু করো নি? সে বলল, হ্যাঁ, নিশ্চয়ই, ইয়া রাসুলাল্লাহ! তারপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) জিজ্ঞাসা করলেনঃ তুমি কি আমাদের সঙ্গে নামায আদায় করো নি? সে বলল, হ্যাঁ, ইয়া রাসুলাল্লাহ। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাকে বললেনঃ আল্লাহ তাআলা তোমার হদ্দ ক্ষমা করে দিয়েছেন, অথবা বললেনঃ তিনি তোমার গুনাহ ক্ষমা করে দিয়েছেন।

৩৫. হত্যাকারীর তাওবা আল্লাহর দরবারে গ্রহণযোগ্য; যদিও সে বহু হত্যা করে থাকে

باب قَبُولِ تَوْبَةِ الْقَاتِلِ وَإِنْ كَثُرَ قَتْلُهُ

6752

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، وَمُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، - وَاللَّفْظُ لاِبْنِ الْمُثَنَّى - قَالَ حَدَّثَنَا مُعَاذُ بْنُ هِشَامٍ، حَدَّثَنِي أَبِي، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ أَبِي الصِّدِّيقِ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، أَنَّ نَبِيَّ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " كَانَ فِيمَنْ كَانَ قَبْلَكُمْ رَجُلٌ قَتَلَ تِسْعَةً وَتِسْعِينَ نَفْسًا فَسَأَلَ عَنْ أَعْلَمِ أَهْلِ الأَرْضِ فَدُلَّ عَلَى رَاهِبٍ فَأَتَاهُ فَقَالَ إِنَّهُ قَتَلَ تِسْعَةً وَتِسْعِينَ نَفْسًا فَهَلْ لَهُ مِنَ تَوْبَةٍ فَقَالَ لاَ . فَقَتَلَهُ فَكَمَّلَ بِهِ مِائَةً ثُمَّ سَأَلَ عَنْ أَعْلَمِ أَهْلِ الأَرْضِ فَدُلَّ عَلَى رَجُلٍ عَالِمٍ فَقَالَ إِنَّهُ قَتَلَ مِائَةَ نَفْسٍ فَهَلْ لَهُ مِنْ تَوْبَةٍ فَقَالَ نَعَمْ وَمَنْ يَحُولُ بَيْنَهُ وَبَيْنَ التَّوْبَةِ انْطَلِقْ إِلَى أَرْضِ كَذَا وَكَذَا فَإِنَّ بِهَا أُنَاسًا يَعْبُدُونَ اللَّهَ فَاعْبُدِ اللَّهَ مَعَهُمْ وَلاَ تَرْجِعْ إِلَى أَرْضِكَ فَإِنَّهَا أَرْضُ سَوْءٍ . فَانْطَلَقَ حَتَّى إِذَا نَصَفَ الطَّرِيقَ أَتَاهُ الْمَوْتُ فَاخْتَصَمَتْ فِيهِ مَلاَئِكَةُ الرَّحْمَةِ وَمَلاَئِكَةُ الْعَذَابِ فَقَالَتْ مَلاَئِكَةُ الرَّحْمَةِ جَاءَ تَائِبًا مُقْبِلاً بِقَلْبِهِ إِلَى اللَّهِ . وَقَالَتْ مَلاَئِكَةُ الْعَذَابِ إِنَّهُ لَمْ يَعْمَلْ خَيْرًا قَطُّ . فَأَتَاهُمْ مَلَكٌ فِي صُورَةِ آدَمِيٍّ فَجَعَلُوهُ بَيْنَهُمْ فَقَالَ قِيسُوا مَا بَيْنَ الأَرْضَيْنِ فَإِلَى أَيَّتِهِمَا كَانَ أَدْنَى فَهُوَ لَهُ . فَقَاسُوهُ فَوَجَدُوهُ أَدْنَى إِلَى الأَرْضِ الَّتِي أَرَادَ فَقَبَضَتْهُ مَلاَئِكَةُ الرَّحْمَةِ " . قَالَ قَتَادَةُ فَقَالَ الْحَسَنُ ذُكِرَ لَنَا أَنَّهُ لَمَّا أَتَاهُ الْمَوْتُ نَأَى بِصَدْرِهِ .

Narrator: হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ)

৬৭৫২। মুহাম্মাদ ইবনে মুসান্না ও মুহাম্মাদ ইবনে বাশশার (রাহঃ) ......... আবু সাঈদ খুদরী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) বলেছেনঃ তোমাদের পূর্ববর্তীদের মধ্যে এক লোক ছিলো। সে নিরানব্বই ব্যক্তিকে হত্যা করার পর জিজ্ঞাসা করল, এ পৃথিবীতে সবচেয়ে বড় আলিম ব্যক্তি কে? তাকে এক রাহিবের সন্ধান দেওয়া হয়। সে তার কাছে এসে বলল, যে, সে নিরানব্বই ব্যক্তিকে হত্যা করেছো এমতাবস্থায় তার জন্য কি তাওবা আছে? রাহিব বলল, না। তখন সে রাহিবকেও হত্যা করে ফেলল। এবং এর (রাহিবের) হত্যা দ্বারা একশ পূর্ণ করল।

তারপর সে আবার প্রশ্ন করল এ পৃথিবীতে সবচেয়ে বড় আলিম কে? তখন তাকে এক আলিম ব্যক্তির সন্ধান দেওয়া হল। সে আলিমকে সে বলল যে, সে একশ ব্যক্তিকে হত্যা করেছে, তার জন্য কি তাওবা আছে? আলিম ব্যক্তি বললেন, হ্যাঁ। এ তাওবার মধ্যে কে অন্তরায় হতে পারে? তুমি অমুক দেশে যাও। সেখানে কতিপয় লোক আল্লাহর ইবাদতে নিয়োজিত আছে। তুমিও তাদের সঙ্গে আল্লাহর ইবাদতে মশশুল হয়ে যাও। নিজের দেশে আর কখনো ফিরে যেয়ো না। কেননা এ দেশটি বড় মন্দ। তারপর সে চলতে লাগল। এমন কি যখন সে অর্ধ পথে পৌছে তখন তার মৃত্যু এল।

এরপর রহমতের ফিরিশতা ও আযাবের ফিরিশতার মধ্যে তার সম্পর্কে বিবাদ লেগে গেল। রহমতের ফিরিশতারা বললেন, সে অন্তরের আবেগ নিয়ে আল্লাহর দিকে তাওবার জন্য ধাবিত হয়ে এসেছে। আর আযাবের ফিরিশতারা বললেন, সে তো কখনো কোন নেক আমল করেনি। এ সময় মানুষের সুরতে এক ফিরিশতা এলেন। তারা তাকে তাদের মধ্যে মীমাংসাকারী নির্ধারণ করলেন।

তিনি তাদের বললেন, তোমরা দুই দেশের মধ্যবর্তী দূরত্ব মেপে নাও। দুই স্থানের মধ্যে যে স্থানের দিকে সে অধিক নিকটবর্তী হবে তাকে সে স্থানেরই গণ্য করা হবে। তারা মাপলেন। তখন তাঁরা তাকে উদ্দিষ্ট স্থানের অধিক নিকটবর্তী পেলেন। তখন রহমতের ফিরিশতা তাকে কবজ করে নিলেন। কাতাদা (রাহঃ) বলেন, হাসান (রাহঃ) বলেছেন, আমাদের নিকট বর্ণনা করা হয়েছে যে, যখন তার মৃত্যু এল, তখন সে বুকের উপর ভর দিয়ে (কিছু এগিয়ে) গেল।
6753

حَدَّثَنِي عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ مُعَاذٍ الْعَنْبَرِيُّ، حَدَّثَنَا أَبِي، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ قَتَادَةَ، أَنَّهُ سَمِعَ أَبَا الصِّدِّيقِ النَّاجِيَّ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم " أَنَّ رَجُلاً قَتَلَ تِسْعَةً وَتِسْعِينَ نَفْسًا فَجَعَلَ يَسْأَلُ هَلْ لَهُ مِنْ تَوْبَةٍ فَأَتَى رَاهِبًا فَسَأَلَهُ فَقَالَ لَيْسَتْ لَكَ تَوْبَةٌ . فَقَتَلَ الرَّاهِبَ ثُمَّ جَعَلَ يَسْأَلُ ثُمَّ خَرَجَ مِنْ قَرْيَةٍ إِلَى قَرْيَةٍ فِيهَا قَوْمٌ صَالِحُونَ فَلَمَّا كَانَ فِي بَعْضِ الطَّرِيقِ أَدْرَكَهُ الْمَوْتُ فَنَأَى بِصَدْرِهِ ثُمَّ مَاتَ فَاخْتَصَمَتْ فِيهِ مَلاَئِكَةُ الرَّحْمَةِ وَمَلاَئِكَةُ الْعَذَابِ فَكَانَ إِلَى الْقَرْيَةِ الصَّالِحَةِ أَقْرَبَ مِنْهَا بِشِبْرٍ فَجُعِلَ مِنْ أَهْلِهَا " .

Narrator: হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ)

৬৭৫৩। উবাইদুল্লাহ ইবনে মু’আয আনবারী (রাহঃ) ......... আবু সাঈদ খুদরী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, নবী (ﷺ) বলেন, এক ব্যক্তি নিরানব্বই ব্যক্তিকে হত্যা করে জিজ্ঞাসা করে বেড়াতে লাগল, তার কি তাওবা আছে? অবশেষে সে এক পাদ্রীর নিকট এসে এ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করল। পাদ্রী বলল, তোমার জন্য তাওবা নেই। তখন সে পাদ্রীকে হত্যা করল। এরপর সে আবারো লোকদের জিজ্ঞাসা করতে লাগল। তারপর সে এক জনপদ থেকে অন্য জনপদের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হল যেখানে কিছু নেক লোকের বসবাস ছিলো। রাস্তার এক অংশে তাকে মৃত্যু পেয়ে বসল। তখন সে বুকের উপর ভর করে সামনের দিকে অগ্রসর হলে। তারপর সে মারা গেল। তখন রহমতের ফিরিশতা ও আযাবের ফিরিশতা তার সম্পর্কে বিবাদে লিপ্ত হল। তখন দেখা গেল যে, সে নেক লোকদের জনপদের দিকে এক বিঘত পরিমাণ নিকটবর্তী রয়েছে। তাই তাকে তাদেরই অন্তর্ভুক্ত গণ্য করা হল।

6754

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي عَدِيٍّ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ قَتَادَةَ، بِهَذَا الإِسْنَادِ نَحْوَ حَدِيثِ مُعَاذِ بْنِ مُعَاذٍ وَزَادَ فِيهِ " فَأَوْحَى اللَّهُ إِلَى هَذِهِ أَنْ تَبَاعَدِي وَإِلَى هَذِهِ أَنْ تَقَرَّبِي " .

Narrator: কাতাদা ইবনে দিআমা (রহঃ)

৬৭৫৪। মুহাম্মাদ ইবনে বাশশার (রাহঃ) ......... কাতাদা (রাহঃ) এর সূত্রে মু’আয ইবনে মূআযের অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন। তবে এ হাদীসে আছে যে, তখন আল্লাহ এ ভূমির প্রতি প্রত্যাদেশ করলেন যে, তুমি দূরবর্তী হয়ে যাও এবং ঐ ভূমির প্রতি প্রত্যাদেশ করলেন যে তুমি নিকটবর্তী হয়ে যাও।

6755

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا أَبُو أُسَامَةَ، عَنْ طَلْحَةَ بْنِ يَحْيَى، عَنْ أَبِي، بُرْدَةَ عَنْ أَبِي مُوسَى، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " إِذَا كَانَ يَوْمُ الْقِيَامَةِ دَفَعَ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ إِلَى كُلِّ مُسْلِمٍ يَهُودِيًّا أَوْ نَصْرَانِيًّا فَيَقُولُ هَذَا فَكَاكُكَ مِنَ النَّارِ " .

Narrator: আবু মুসা আশ'আরী (রাঃ)

৬৭৫৫। আবু বকর ইবনে আবি শাঈবা (রাহঃ) ......... আবু মুসা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ কিয়ামত দিবসে আল্লাহ তাআলা প্রত্যেক মুসলমানকে এক এক জন খ্রীষ্টান বা ইয়াহুদী দিয়ে বলবেন, এ হচ্ছে তোমার জন্য জাহান্নামের আগুন হতে মুক্তিপণ।

6756

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا عَفَّانُ بْنُ مُسْلِمٍ، حَدَّثَنَا هَمَّامٌ، حَدَّثَنَا قَتَادَةُ، أَنَّ عَوْنًا، وَسَعِيدَ بْنَ أَبِي بُرْدَةَ، حَدَّثَاهُ أَنَّهُمَا، شَهِدَا أَبَا بُرْدَةَ يُحَدِّثُ عُمَرَ بْنَ عَبْدِ الْعَزِيزِ عَنْ أَبِيهِ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " لاَ يَمُوتُ رَجُلٌ مُسْلِمٌ إِلاَّ أَدْخَلَ اللَّهُ مَكَانَهُ النَّارَ يَهُودِيًّا أَوْ نَصْرَانِيًّا " . قَالَ فَاسْتَحْلَفَهُ عُمَرُ بْنُ عَبْدِ الْعَزِيزِ بِاللَّهِ الَّذِي لاَ إِلَهَ إِلاَّ هُوَ ثَلاَثَ مَرَّاتٍ أَنَّ أَبَاهُ حَدَّثَهُ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ فَحَلَفَ لَهُ - قَالَ - فَلَمْ يُحَدِّثْنِي سَعِيدٌ أَنَّهُ اسْتَحْلَفَهُ وَلَمْ يُنْكِرْ عَلَى عَوْنٍ قَوْلَهُ .

Narrator: আবু বুরদা আশআরী (রহঃ)

৬৭৫৬। আবু বকর ইবনে আবি শাঈবা (রাহঃ) ......... আবু বুরদা (রাহঃ) এর পিতা আবু মুসা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেনঃ যখনই কোন মুসলমান মারা যায় তখন আল্লাহ তার স্থলে একজন ইয়াহুদী বা খ্রীষ্টানকে জাহান্নামে দাখিল করেন। তারপর উমর ইবনে আব্দুল আযীয (রাহঃ) আবু বুরদা (রাহঃ) কে আল্লাহর নাম দিয়ে, যিনি ব্যতীত কোন ইলাহ নেই, তিনবার জিজ্ঞাসা করলেন যে, তার পিতা কি সত্যই এ কথাটি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) থেকে শুনে তাঁর নিকট বর্ণনা করেছেন? তিনি কসম খেয়ে বললেন, হ্যাঁ, নিশ্চয়ই। বর্ণনাকারী (কাতাদা) বলেন, “উমর ইবনে আব্দুল আযীয (রাহঃ) তাকে কসম দিয়েছেন এবং আউন এর বর্ণনা অস্বীকার করেননি।” এরূপ কথা সাঈদ আমার নিকট বর্ণনা করেনি।

6757

حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، وَمُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، جَمِيعًا عَنْ عَبْدِ الصَّمَدِ بْنِ عَبْدِ، الْوَارِثِ أَخْبَرَنَا هَمَّامٌ، حَدَّثَنَا قَتَادَةُ، بِهَذَا الإِسْنَادِ نَحْوَ حَدِيثِ عَفَّانَ وَقَالَ عَوْنُ بْنُ عُتْبَةَ .

Narrator: কাতাদা ইবনে দিআমা (রহঃ)

৬৭৫৭। ইসহাক ইবনে ইবরাহীম ও মুহাম্মাদ ইবনে মুসান্না (রাহঃ) ......... কাতাদা (রাহঃ) থেকে এ সনদে আফফানের হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। তবে এ হাদীসে রয়েছে আউন ইবনে উতবা (অর্থাৎ পিতার উল্লেখ সহ)।

6758

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَمْرِو بْنِ عَبَّادِ بْنِ جَبَلَةَ بْنِ أَبِي رَوَّادٍ، حَدَّثَنَا حَرَمِيُّ بْنُ عُمَارَةَ، حَدَّثَنَا شَدَّادٌ أَبُو طَلْحَةَ الرَّاسِبِيُّ، عَنْ غَيْلاَنَ بْنِ جَرِيرٍ، عَنْ أَبِي بُرْدَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " يَجِيءُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ نَاسٌ مِنَ الْمُسْلِمِينَ بِذُنُوبٍ أَمْثَالِ الْجِبَالِ فَيَغْفِرُهَا اللَّهُ لَهُمْ وَيَضَعُهَا عَلَى الْيَهُودِ وَالنَّصَارَى " . فِيمَا أَحْسِبُ أَنَا . قَالَ أَبُو رَوْحٍ لاَ أَدْرِي مِمَّنِ الشَّكُّ . قَالَ أَبُو بُرْدَةَ فَحَدَّثْتُ بِهِ عُمَرَ بْنَ عَبْدِ الْعَزِيزِ فَقَالَ أَبُوكَ حَدَّثَكَ هَذَا عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قُلْتُ نَعَمْ .

Narrator: আবু মুসা আশ'আরী (রাঃ)

৬৭৫৮। মুহাম্মাদ ইবনে আমর ইবনে আব্বাদ ইবনে জাবালা ইবনে আবু রাওয়াদ (রাহঃ) ......... আবু মুসা আশআরী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। নবী (ﷺ) বলেছেনঃ কিছুসংখ্যক মুসলমান পাহাড় সমান গুনাহ নিয়ে কিয়ামতের ময়দানে আসবে এবং আল্লাহ তাআলা তাদের গুনাহ ক্ষমা করে দিবেন। আর তা ইয়াহুদী ও খ্রীষ্টানদের উপর চড়িয়ে দিবেন। আমার মনে হয় এ রূপই বর্ণনাকারী হাদীসের শেষোক্ত কথাটি সম্পর্কে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। রাবী আবু রাওহ (রাহঃ) বলেন, কার পক্ষ থেকে সন্দেহের উদ্রেক হয়েছে, তা আমার জানা নেই। আবু বুরদা (রাহঃ) বলেন, এ হাদীসটি আমি উমর ইবনে আব্দুল আযীয (রাহঃ) এর নিকট বর্ণনা করার পর তিনি আমাকে জিজ্ঞাসা করলেন, তোমার পিতা এ হাদীসটি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) থেকে সরাসরি (শুনে) তোমার নিকট বর্ণনা করেছে কি? আমি বললাম, হ্যাঁ।

6759

حَدَّثَنَا زُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، عَنْ هِشَامٍ الدَّسْتَوَائِيِّ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ صَفْوَانَ بْنِ مُحْرِزٍ، قَالَ قَالَ رَجُلٌ لاِبْنِ عُمَرَ كَيْفَ سَمِعْتَ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ فِي النَّجْوَى قَالَ سَمِعْتُهُ يَقُولُ " يُدْنَى الْمُؤْمِنُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ مِنْ رَبِّهِ عَزَّ وَجَلَّ حَتَّى يَضَعَ عَلَيْهِ كَنَفَهُ فَيُقَرِّرُهُ بِذُنُوبِهِ فَيَقُولُ هَلْ تَعْرِفُ فَيَقُولُ أَىْ رَبِّ أَعْرِفُ . قَالَ فَإِنِّي قَدْ سَتَرْتُهَا عَلَيْكَ فِي الدُّنْيَا وَإِنِّي أَغْفِرُهَا لَكَ الْيَوْمَ . فَيُعْطَى صَحِيفَةَ حَسَنَاتِهِ وَأَمَّا الْكُفَّارُ وَالْمُنَافِقُونَ فَيُنَادَى بِهِمْ عَلَى رُءُوسِ الْخَلاَئِقِ هَؤُلاَءِ الَّذِينَ كَذَبُوا عَلَى اللَّهِ " .

Narrator: সাফওয়ান ইবনে মুহরিয (রহঃ)

৬৭৫৯। যুহাইর ইবনে হারব (রাহঃ) ......... সাফওয়ান ইবনে মুহরিয (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক ব্যক্তি ইবনে উমর (রাযিঃ) কে জিজ্ঞাসা করলেন, নাজওয়া (আল্লাহ ও বান্দার গোপন পরামর্শ) সম্পর্কে আপনি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) থেকে কিরূপ শুনেছেন? তিনি বললেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে বলতে শুনেছি, কিয়ামত দিবসে মুমিনদের তাদের রবের নিকটবর্তী করা হবে। তারপর আল্লাহ তাআলা তার উপর পর্দা ফেলে দিবেন। এবং তার গুনাহ সম্পর্কে তার থেকে স্বীকারোক্তি গ্রহণ করবেন। তিনি জিজ্ঞাসা করবেন, তুমি (তোমার গুনাহ) স্বীকার কর কি? সে বলবে, আয় রব! আমি স্বীকার করছি। তারপর তিনি বলবেন, তোমার এ গুনাহ দুনিয়ায় আমি গোপন রেখেছিলাম। আজ তোমার এ গুনাহ গুলিকে আমি ক্ষমা করে দিলাম। তারপর তার নেকীর আমলনামা তার নিকট দেওয়া হবে। আর কাফির ও মুনাফিকদেরকে উপস্থিত সমস্ত মানুষের সামনে ডেকে ঘোষণা দেওয়া হবে, এরাই তারা যারা আল্লাহ তাআলার উপর মিথ্যা আরোপ করেছে।

৩৬. কা’ব ইবনে মালিক (রাযিঃ) ও তার দুই সঙ্গীর তাওবার বিবরণ

باب حَدِيثِ تَوْبَةِ كَعْبِ بْنِ مَالِكٍ وَصَاحِبَيْهِ

6760
حَدَّثَنِي أَبُو الطَّاهِرِ، أَحْمَدُ بْنُ عَمْرِو بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرِو بْنِ سَرْحٍ مَوْلَى بَنِي أُمَيَّةَ أَخْبَرَنِي ابْنُ وَهْبٍ، أَخْبَرَنِي يُونُسُ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، قَالَ ثُمَّ غَزَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم غَزْوَةَ تَبُوكَ وَهُوَ يُرِيدُ الرُّومَ وَنَصَارَى الْعَرَبِ بِالشَّامِ . قَالَ ابْنُ شِهَابٍ فَأَخْبَرَنِي عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ كَعْبِ بْنِ مَالِكٍ أَنَّ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ كَعْبٍ كَانَ قَائِدَ كَعْبٍ مِنْ بَنِيهِ حِينَ عَمِيَ قَالَ سَمِعْتُ كَعْبَ بْنَ مَالِكٍ يُحَدِّثُ حَدِيثَهُ حِينَ تَخَلَّفَ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي غَزْوَةِ تَبُوكَ قَالَ كَعْبُ بْنُ مَالِكٍ لَمْ أَتَخَلَّفْ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي غَزْوَةٍ غَزَاهَا قَطُّ إِلاَّ فِي غَزْوَةِ تَبُوكَ غَيْرَ أَنِّي قَدْ تَخَلَّفْتُ فِي غَزْوَةِ بَدْرٍ وَلَمْ يُعَاتِبْ أَحَدًا تَخَلَّفَ عَنْهُ إِنَّمَا خَرَجَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَالْمُسْلِمُونَ يُرِيدُونَ عِيرَ قُرَيْشٍ حَتَّى جَمَعَ اللَّهُ بَيْنَهُمْ وَبَيْنَ عَدُوِّهُمْ عَلَى غَيْرِ مِيعَادٍ وَلَقَدْ شَهِدْتُ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لَيْلَةَ الْعَقَبَةِ حِينَ تَوَاثَقْنَا عَلَى الإِسْلاَمِ وَمَا أُحِبُّ أَنَّ لِي بِهَا مَشْهَدَ بَدْرٍ وَإِنْ كَانَتْ بَدْرٌ أَذْكَرَ فِي النَّاسِ مِنْهَا وَكَانَ مِنْ خَبَرِي حِينَ تَخَلَّفْتُ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي غَزْوَةِ تَبُوكَ أَنِّي لَمْ أَكُنْ قَطُّ أَقْوَى وَلاَ أَيْسَرَ مِنِّي حِينَ تَخَلَّفْتُ عَنْهُ فِي تِلْكَ الْغَزْوَةِ وَاللَّهِ مَا جَمَعْتُ قَبْلَهَا رَاحِلَتَيْنِ قَطُّ حَتَّى جَمَعْتُهُمَا فِي تِلْكَ الْغَزْوَةِ فَغَزَاهَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي حَرٍّ شَدِيدٍ وَاسْتَقْبَلَ سَفَرًا بَعِيدًا وَمَفَازًا وَاسْتَقْبَلَ عَدُوًّا كَثِيرًا فَجَلاَ لِلْمُسْلِمِينَ أَمْرَهُمْ لِيَتَأَهَّبُوا أُهْبَةَ غَزْوِهِمْ فَأَخْبَرَهُمْ بِوَجْهِهِمُ الَّذِي يُرِيدُ وَالْمُسْلِمُونَ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَثِيرٌ وَلاَ يَجْمَعُهُمْ كِتَابُ حَافِظٍ - يُرِيدُ بِذَلِكَ الدِّيوَانَ - قَالَ كَعْبٌ فَقَلَّ رَجُلٌ يُرِيدُ أَنْ يَتَغَيَّبَ يَظُنُّ أَنَّ ذَلِكَ سَيَخْفَى لَهُ مَا لَمْ يَنْزِلْ فِيهِ وَحْىٌ مِنَ اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ وَغَزَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم تِلْكَ الْغَزْوَةَ حِينَ طَابَتِ الثِّمَارُ وَالظِّلاَلُ فَأَنَا إِلَيْهَا أَصْعَرُ فَتَجَهَّزَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَالْمُسْلِمُونَ مَعَهُ وَطَفِقْتُ أَغْدُو لِكَىْ أَتَجَهَّزَ مَعَهُمْ فَأَرْجِعُ وَلَمْ أَقْضِ شَيْئًا . وَأَقُولُ فِي نَفْسِي أَنَا قَادِرٌ عَلَى ذَلِكَ إِذَا أَرَدْتُ . فَلَمْ يَزَلْ ذَلِكَ يَتَمَادَى بِي حَتَّى اسْتَمَرَّ بِالنَّاسِ الْجِدُّ فَأَصْبَحَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم غَادِيًا وَالْمُسْلِمُونَ مَعَهُ وَلَمْ أَقْضِ مِنْ جَهَازِي شَيْئًا ثُمَّ غَدَوْتُ فَرَجَعْتُ وَلَمْ أَقْضِ شَيْئًا فَلَمْ يَزَلْ ذَلِكَ يَتَمَادَى بِي حَتَّى أَسْرَعُوا وَتَفَارَطَ الْغَزْوُ فَهَمَمْتُ أَنْ أَرْتَحِلَ فَأُدْرِكَهُمْ فَيَا لَيْتَنِي فَعَلْتُ ثُمَّ لَمْ يُقَدَّرْ ذَلِكَ لِي فَطَفِقْتُ إِذَا خَرَجْتُ فِي النَّاسِ بَعْدَ خُرُوجِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَحْزُنُنِي أَنِّي لاَ أَرَى لِي أُسْوَةً إِلاَّ رَجُلاً مَغْمُوصًا عَلَيْهِ فِي النِّفَاقِ أَوْ رَجُلاً مِمَّنْ عَذَرَ اللَّهُ مِنَ الضُّعَفَاءِ وَلَمْ يَذْكُرْنِي رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم حَتَّى بَلَغَ تَبُوكًا فَقَالَ وَهُوَ جَالِسٌ فِي الْقَوْمِ بِتَبُوكَ " مَا فَعَلَ كَعْبُ بْنُ مَالِكٍ " . قَالَ رَجُلٌ مِنْ بَنِي سَلِمَةَ يَا رَسُولَ اللَّهِ حَبَسَهُ بُرْدَاهُ وَالنَّظَرُ فِي عِطْفَيْهِ . فَقَالَ لَهُ مُعَاذُ بْنُ جَبَلٍ بِئْسَ مَا قُلْتَ وَاللَّهِ يَا رَسُولَ اللَّهِ مَا عَلِمْنَا عَلَيْهِ إِلاَّ خَيْرًا . فَسَكَتَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَبَيْنَمَا هُوَ عَلَى ذَلِكَ رَأَى رَجُلاً مُبَيِّضًا يَزُولُ بِهِ السَّرَابُ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " كُنْ أَبَا خَيْثَمَةَ " . فَإِذَا هُو أَبُو خَيْثَمَةَ الأَنْصَارِيُّ وَهُوَ الَّذِي تَصَدَّقَ بِصَاعِ التَّمْرِ حِينَ لَمَزَهُ الْمُنَافِقُونَ . فَقَالَ كَعْبُ بْنُ مَالِكٍ فَلَمَّا بَلَغَنِي أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَدْ تَوَجَّهَ قَافِلاً مِنْ تَبُوكَ حَضَرَنِي بَثِّي فَطَفِقْتُ أَتَذَكَّرُ الْكَذِبَ وَأَقُولُ بِمَ أَخْرُجُ مِنْ سَخَطِهِ غَدًا وَأَسْتَعِينُ عَلَى ذَلِكَ كُلَّ ذِي رَأْىٍ مِنْ أَهْلِي فَلَمَّا قِيلَ لِي إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَدْ أَظَلَّ قَادِمًا زَاحَ عَنِّي الْبَاطِلُ حَتَّى عَرَفْتُ أَنِّي لَنْ أَنْجُوَ مِنْهُ بِشَىْءٍ أَبَدًا فَأَجْمَعْتُ صِدْقَهُ وَصَبَّحَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَادِمًا وَكَانَ إِذَا قَدِمَ مِنْ سَفَرٍ بَدَأَ بِالْمَسْجِدِ فَرَكَعَ فِيهِ رَكْعَتَيْنِ ثُمَّ جَلَسَ لِلنَّاسِ فَلَمَّا فَعَلَ ذَلِكَ جَاءَهُ الْمُخَلَّفُونَ فَطَفِقُوا يَعْتَذِرُونَ إِلَيْهِ وَيَحْلِفُونَ لَهُ وَكَانُوا بِضْعَةً وَثَمَانِينَ رَجُلاً فَقَبِلَ مِنْهُمْ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَلاَنِيَتَهُمْ وَبَايَعَهُمْ وَاسْتَغْفَرَ لَهُمْ وَوَكَلَ سَرَائِرَهُمْ إِلَى اللَّهِ حَتَّى جِئْتُ فَلَمَّا سَلَّمْتُ تَبَسَّمَ تَبَسُّمَ الْمُغْضَبِ ثُمَّ قَالَ " تَعَالَ " . فَجِئْتُ أَمْشِي حَتَّى جَلَسْتُ بَيْنَ يَدَيْهِ فَقَالَ لِي " مَا خَلَّفَكَ " . أَلَمْ تَكُنْ قَدِ ابْتَعْتَ ظَهْرَكَ " . قَالَ قُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنِّي وَاللَّهِ لَوْ جَلَسْتُ عِنْدَ غَيْرِكَ مِنْ أَهْلِ الدُّنْيَا لَرَأَيْتُ أَنِّي سَأَخْرُجُ مِنْ سَخَطِهِ بِعُذْرٍ وَلَقَدْ أُعْطِيتُ جَدَلاً وَلَكِنِّي وَاللَّهِ لَقَدْ عَلِمْتُ لَئِنْ حَدَّثْتُكَ الْيَوْمَ حَدِيثَ كَذِبٍ تَرْضَى بِهِ عَنِّي لَيُوشِكَنَّ اللَّهُ أَنْ يُسْخِطَكَ عَلَىَّ وَلَئِنْ حَدَّثْتُكَ حَدِيثَ صِدْقٍ تَجِدُ عَلَىَّ فِيهِ إِنِّي لأَرْجُو فِيهِ عُقْبَى اللَّهِ وَاللَّهِ مَا كَانَ لِي عُذْرٌ وَاللَّهِ مَا كُنْتُ قَطُّ أَقْوَى وَلاَ أَيْسَرَ مِنِّي حِينَ تَخَلَّفْتُ عَنْكَ . قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " أَمَّا هَذَا فَقَدْ صَدَقَ فَقُمْ حَتَّى يَقْضِيَ اللَّهُ فِيكَ " . فَقُمْتُ وَثَارَ رِجَالٌ مِنْ بَنِي سَلِمَةَ فَاتَّبَعُونِي فَقَالُوا لِي وَاللَّهِ مَا عَلِمْنَاكَ أَذْنَبْتَ ذَنْبًا قَبْلَ هَذَا لَقَدْ عَجَزْتَ فِي أَنْ لاَ تَكُونَ اعْتَذَرْتَ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِمَا اعْتَذَرَ بِهِ إِلَيْهِ الْمُخَلَّفُونَ فَقَدْ كَانَ كَافِيَكَ ذَنْبَكَ اسْتِغْفَارُ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لَكَ . قَالَ فَوَاللَّهِ مَا زَالُوا يُؤَنِّبُونَنِي حَتَّى أَرَدْتُ أَنْ أَرْجِعَ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَأُكَذِّبَ نَفْسِي - قَالَ - ثُمَّ قُلْتُ لَهُمْ هَلْ لَقِيَ هَذَا مَعِي مِنْ أَحَدٍ قَالُوا نَعَمْ لَقِيَهُ مَعَكَ رَجُلاَنِ قَالاَ مِثْلَ مَا قُلْتَ فَقِيلَ لَهُمَا مِثْلُ مَا قِيلَ لَكَ - قَالَ - قُلْتُ مَنْ هُمَا قَالُوا مُرَارَةُ بْنُ رَبِيعَةَ الْعَامِرِيُّ وَهِلاَلُ بْنُ أُمَيَّةَ الْوَاقِفِيُّ - قَالَ - فَذَكَرُوا لِي رَجُلَيْنِ صَالِحَيْنِ قَدْ شِهِدَا بَدْرًا فِيهِمَا أُسْوَةٌ - قَالَ - فَمَضَيْتُ حِينَ ذَكَرُوهُمَا لِي . قَالَ وَنَهَى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم الْمُسْلِمِينَ عَنْ كَلاَمِنَا أَيُّهَا الثَّلاَثَةُ مِنْ بَيْنِ مَنْ تَخَلَّفَ عَنْهُ - قَالَ - فَاجْتَنَبَنَا النَّاسُ - وَقَالَ - تَغَيَّرُوا لَنَا حَتَّى تَنَكَّرَتْ لِي فِي نَفْسِيَ الأَرْضُ فَمَا هِيَ بِالأَرْضِ الَّتِي أَعْرِفُ فَلَبِثْنَا عَلَى ذَلِكَ خَمْسِينَ لَيْلَةً فَأَمَّا صَاحِبَاىَ فَاسْتَكَانَا وَقَعَدَا فِي بُيُوتِهِمَا يَبْكِيَانِ وَأَمَّا أَنَا فَكُنْتُ أَشَبَّ الْقَوْمِ وَأَجْلَدَهُمْ فَكُنْتُ أَخْرُجُ فَأَشْهَدُ الصَّلاَةَ وَأَطُوفُ فِي الأَسْوَاقِ وَلاَ يُكَلِّمُنِي أَحَدٌ وَآتِي رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَأُسَلِّمُ عَلَيْهِ وَهُوَ فِي مَجْلِسِهِ بَعْدَ الصَّلاَةِ فَأَقُولُ فِي نَفْسِي هَلْ حَرَّكَ شَفَتَيْهِ بِرَدِّ السَّلاَمِ أَمْ لاَ ثُمَّ أُصَلِّي قَرِيبًا مِنْهُ وَأُسَارِقُهُ النَّظَرَ فَإِذَا أَقْبَلْتُ عَلَى صَلاَتِي نَظَرَ إِلَىَّ وَإِذَا الْتَفَتُّ نَحْوَهُ أَعْرَضَ عَنِّي حَتَّى إِذَا طَالَ ذَلِكَ عَلَىَّ مِنْ جَفْوَةِ الْمُسْلِمِينَ مَشَيْتُ حَتَّى تَسَوَّرْتُ جِدَارَ حَائِطِ أَبِي قَتَادَةَ وَهُوَ ابْنُ عَمِّي وَأَحَبُّ النَّاسِ إِلَىَّ فَسَلَّمْتُ عَلَيْهِ فَوَاللَّهِ مَا رَدَّ عَلَىَّ السَّلاَمَ فَقُلْتُ لَهُ يَا أَبَا قَتَادَةَ أَنْشُدُكَ بِاللَّهِ هَلْ تَعْلَمَنَّ أَنِّي أُحِبُّ اللَّهَ وَرَسُولَهُ قَالَ فَسَكَتَ فَعُدْتُ فَنَاشَدْتُهُ فَسَكَتَ فَعُدْتُ فَنَاشَدْتُهُ فَقَالَ اللَّهُ وَرَسُولُهُ أَعْلَمُ . فَفَاضَتْ عَيْنَاىَ وَتَوَلَّيْتُ حَتَّى تَسَوَّرْتُ الْجِدَارَ فَبَيْنَا أَنَا أَمْشِي فِي سُوقِ الْمَدِينَةِ إِذَا نَبَطِيٌّ مِنْ نَبَطِ أَهْلِ الشَّامِ مِمَّنْ قَدِمَ بِالطَّعَامِ يَبِيعُهُ بِالْمَدِينَةِ يَقُولُ مَنْ يَدُلُّ عَلَى كَعْبِ بْنِ مَالِكٍ - قَالَ - فَطَفِقَ النَّاسُ يُشِيرُونَ لَهُ إِلَىَّ حَتَّى جَاءَنِي فَدَفَعَ إِلَىَّ كِتَابًا مِنْ مَلِكِ غَسَّانَ وَكُنْتُ كَاتِبًا فَقَرَأْتُهُ فَإِذَا فِيهِ أَمَّا بَعْدُ فَإِنَّهُ قَدْ بَلَغَنَا أَنَّ صَاحِبَكَ قَدْ جَفَاكَ وَلَمْ يَجْعَلْكَ اللَّهُ بِدَارِ هَوَانٍ وَلاَ مَضْيَعَةٍ فَالْحَقْ بِنَا نُوَاسِكَ . قَالَ فَقُلْتُ حِينَ قَرَأْتُهَا وَهَذِهِ أَيْضًا مِنَ الْبَلاَءِ . فَتَيَامَمْتُ بِهَا التَّنُّورَ فَسَجَرْتُهَا بِهَا حَتَّى إِذَا مَضَتْ أَرْبَعُونَ مِنَ الْخَمْسِينَ وَاسْتَلْبَثَ الْوَحْىُ إِذَا رَسُولُ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَأْتِينِي فَقَالَ إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَأْمُرُكَ أَنْ تَعْتَزِلَ امْرَأَتَكَ . قَالَ فَقُلْتُ أُطَلِّقُهَا أَمْ مَاذَا أَفْعَلُ قَالَ لاَ بَلِ اعْتَزِلْهَا فَلاَ تَقْرَبَنَّهَا - قَالَ - فَأَرْسَلَ إِلَى صَاحِبَىَّ بِمِثْلِ ذَلِكَ - قَالَ - فَقُلْتُ لاِمْرَأَتِي الْحَقِي بِأَهْلِكِ فَكُونِي عِنْدَهُمْ حَتَّى يَقْضِيَ اللَّهُ فِي هَذَا الأَمْرِ - قَالَ - فَجَاءَتِ امْرَأَةُ هِلاَلِ بْنِ أُمَيَّةَ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَتْ لَهُ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّ هِلاَلَ بْنَ أُمَيَّةَ شَيْخٌ ضَائِعٌ لَيْسَ لَهُ خَادِمٌ فَهَلْ تَكْرَهُ أَنْ أَخْدُمَهُ قَالَ " لاَ وَلَكِنْ لاَ يَقْرَبَنَّكِ " . فَقَالَتْ إِنَّهُ وَاللَّهِ مَا بِهِ حَرَكَةٌ إِلَى شَىْءٍ وَوَاللَّهِ مَا زَالَ يَبْكِي مُنْذُ كَانَ مِنْ أَمْرِهِ مَا كَانَ إِلَى يَوْمِهِ هَذَا . قَالَ فَقَالَ لِي بَعْضُ أَهْلِي لَوِ اسْتَأْذَنْتَ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي امْرَأَتِكَ فَقَدْ أَذِنَ لاِمْرَأَةِ هِلاَلِ بْنِ أُمَيَّةَ أَنْ تَخْدُمَهُ - قَالَ - فَقُلْتُ لاَ أَسْتَأْذِنُ فِيهَا رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَمَا يُدْرِينِي مَاذَا يَقُولُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِذَا اسْتَأْذَنْتُهُ فِيهَا وَأَنَا رَجُلٌ شَابٌّ - قَالَ - فَلَبِثْتُ بِذَلِكَ عَشْرَ لَيَالٍ فَكَمُلَ لَنَا خَمْسُونَ لَيْلَةً مِنْ حِينَ نُهِيَ عَنْ كَلاَمِنَا - قَالَ - ثُمَّ صَلَّيْتُ صَلاَةَ الْفَجْرِ صَبَاحَ خَمْسِينَ لَيْلَةً عَلَى ظَهْرِ بَيْتٍ مِنْ بُيُوتِنَا فَبَيْنَا أَنَا جَالِسٌ عَلَى الْحَالِ الَّتِي ذَكَرَ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ مِنَّا قَدْ ضَاقَتْ عَلَىَّ نَفْسِي وَضَاقَتْ عَلَىَّ الأَرْضُ بِمَا رَحُبَتْ سَمِعْتُ صَوْتَ صَارِخٍ أَوْفَى عَلَى سَلْعٍ يَقُولُ بِأَعْلَى صَوْتِهِ يَا كَعْبَ بْنَ مَالِكٍ أَبْشِرْ - قَالَ - فَخَرَرْتُ سَاجِدًا وَعَرَفْتُ أَنْ قَدْ جَاءَ فَرَجٌ . - قَالَ - فَآذَنَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم النَّاسَ بِتَوْبَةِ اللَّهِ عَلَيْنَا حِينَ صَلَّى صَلاَةَ الْفَجْرِ فَذَهَبَ النَّاسُ يُبَشِّرُونَنَا فَذَهَبَ قِبَلَ صَاحِبَىَّ مُبَشِّرُونَ وَرَكَضَ رَجُلٌ إِلَىَّ فَرَسًا وَسَعَى سَاعٍ مِنْ أَسْلَمَ قِبَلِي وَأَوْفَى الْجَبَلَ فَكَانَ الصَّوْتُ أَسْرَعَ مِنَ الْفَرَسِ فَلَمَّا جَاءَنِي الَّذِي سَمِعْتُ صَوْتَهُ يُبَشِّرُنِي فَنَزَعْتُ لَهُ ثَوْبَىَّ فَكَسَوْتُهُمَا إِيَّاهُ بِبِشَارَتِهِ وَاللَّهِ مَا أَمْلِكُ غَيْرَهُمَا يَوْمَئِذٍ وَاسْتَعَرْتُ ثَوْبَيْنِ . فَلَبِسْتُهُمَا فَانْطَلَقْتُ أَتَأَمَّمُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَتَلَقَّانِي النَّاسُ فَوْجًا فَوْجًا يُهَنِّئُونِي بِالتَّوْبَةِ وَيَقُولُونَ لِتَهْنِئْكَ تَوْبَةُ اللَّهِ عَلَيْكَ . حَتَّى دَخَلْتُ الْمَسْجِدَ فَإِذَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم جَالِسٌ فِي الْمَسْجِدِ وَحَوْلَهُ النَّاسُ فَقَامَ طَلْحَةُ بْنُ عُبَيْدِ اللَّهِ يُهَرْوِلُ حَتَّى صَافَحَنِي وَهَنَّأَنِي وَاللَّهِ مَا قَامَ رَجُلٌ مِنَ الْمُهَاجِرِينَ غَيْرُهُ . قَالَ فَكَانَ كَعْبٌ لاَ يَنْسَاهَا لِطَلْحَةَ . قَالَ كَعْبٌ فَلَمَّا سَلَّمْتُ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ وَهُوَ يَبْرُقُ وَجْهُهُ مِنَ السُّرُورِ وَيَقُولُ " أَبْشِرْ بِخَيْرِ يَوْمٍ مَرَّ عَلَيْكَ مُنْذُ وَلَدَتْكَ أُمُّكَ " . قَالَ فَقُلْتُ أَمِنْ عِنْدِكَ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَمْ مِنْ عِنْدِ اللَّهِ فَقَالَ " لاَ بَلْ مِنْ عِنْدِ اللَّهِ " . وَكَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِذَا سُرَّ اسْتَنَارَ وَجْهُهُ كَأَنَّ وَجْهَهُ قِطْعَةُ قَمَرٍ - قَالَ - وَكُنَّا نَعْرِفُ ذَلِكَ - قَالَ - فَلَمَّا جَلَسْتُ بَيْنَ يَدَيْهِ قُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّ مِنْ تَوْبَتِي أَنْ أَنْخَلِعَ مِنْ مَالِي صَدَقَةً إِلَى اللَّهِ وَإِلَى رَسُولِهِ صلى الله عليه وسلم . فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " أَمْسِكْ بَعْضَ مَالِكَ فَهُوَ خَيْرٌ لَكَ " . قَالَ فَقُلْتُ فَإِنِّي أُمْسِكُ سَهْمِيَ الَّذِي بِخَيْبَرَ - قَالَ - وَقُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّ اللَّهَ إِنَّمَا أَنْجَانِي بِالصِّدْقِ وَإِنَّ مِنْ تَوْبَتِي أَنْ لاَ أُحَدِّثَ إِلاَّ صِدْقًا مَا بَقِيتُ - قَالَ - فَوَاللَّهِ مَا عَلِمْتُ أَنَّ أَحَدًا مِنَ الْمُسْلِمِينَ أَبْلاَهُ اللَّهُ فِي صِدْقِ الْحَدِيثِ مُنْذُ ذَكَرْتُ ذَلِكَ لِرَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِلَى يَوْمِي هَذَا أَحْسَنَ مِمَّا أَبْلاَنِي اللَّهُ بِهِ وَاللَّهِ مَا تَعَمَّدْتُ كَذْبَةً مُنْذُ قُلْتُ ذَلِكَ لِرَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِلَى يَوْمِي هَذَا وَإِنِّي لأَرْجُو أَنْ يَحْفَظَنِيَ اللَّهُ فِيمَا بَقِيَ . قَالَ فَأَنْزَلَ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ ( لَقَدْ تَابَ اللَّهُ عَلَى النَّبِيِّ وَالْمُهَاجِرِينَ وَالأَنْصَارِ الَّذِينَ اتَّبَعُوهُ فِي سَاعَةِ الْعُسْرَةِ مِنْ بَعْدِ مَا كَادَ يَزِيغُ قُلُوبُ فَرِيقٍ مِنْهُمْ ثُمَّ تَابَ عَلَيْهِمْ إِنَّهُ بِهِمْ رَءُوفٌ رَحِيمٌ * وَعَلَى الثَّلاَثَةِ الَّذِينَ خُلِّفُوا حَتَّى إِذَا ضَاقَتْ عَلَيْهِمُ الأَرْضُ بِمَا رَحُبَتْ وَضَاقَتْ عَلَيْهِمْ أَنْفُسُهُمْ) حَتَّى بَلَغَ ( يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَكُونُوا مَعَ الصَّادِقِينَ) قَالَ كَعْبٌ وَاللَّهِ مَا أَنْعَمَ اللَّهُ عَلَىَّ مِنْ نِعْمَةٍ قَطُّ بَعْدَ إِذْ هَدَانِي اللَّهُ لِلإِسْلاَمِ أَعْظَمَ فِي نَفْسِي مِنْ صِدْقِي رَسُولَ اللَّهُ صلى الله عليه وسلم أَنْ لاَ أَكُونَ كَذَبْتُهُ فَأَهْلِكَ كَمَا هَلَكَ الَّذِينَ كَذَبُوا إِنَّ اللَّهَ قَالَ لِلَّذِينَ كَذَبُوا حِينَ أَنْزَلَ الْوَحْىَ شَرَّ مَا قَالَ لأَحَدٍ وَقَالَ اللَّهُ ( سَيَحْلِفُونَ بِاللَّهِ لَكُمْ إِذَا انْقَلَبْتُمْ إِلَيْهِمْ لِتُعْرِضُوا عَنْهُمْ فَأَعْرِضُوا عَنْهُمْ إِنَّهُمْ رِجْسٌ وَمَأْوَاهُمْ جَهَنَّمُ جَزَاءً بِمَا كَانُوا يَكْسِبُونَ * يَحْلِفُونَ لَكُمْ لِتَرْضَوْا عَنْهُمْ فَإِنْ تَرْضَوْا عَنْهُمْ فَإِنَّ اللَّهَ لاَ يَرْضَى عَنِ الْقَوْمِ الْفَاسِقِينَ) قَالَ كَعْبٌ كُنَّا خُلِّفْنَا أَيُّهَا الثَّلاَثَةُ عَنْ أَمْرِ أُولَئِكَ الَّذِينَ قَبِلَ مِنْهُمْ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم حِينَ حَلَفُوا لَهُ فَبَايَعَهُمْ وَاسْتَغْفَرَ لَهُمْ وَأَرْجَأَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَمْرَنَا حَتَّى قَضَى اللَّهُ فِيهِ فَبِذَلِكَ قَالَ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ ( وَعَلَى الثَّلاَثَةِ الَّذِينَ خُلِّفُوا) وَلَيْسَ الَّذِي ذَكَرَ اللَّهُ مِمَّا خُلِّفْنَا تَخَلُّفَنَا عَنِ الْغَزْوِ وَإِنَّمَا هُوَ تَخْلِيفُهُ إِيَّانَا وَإِرْجَاؤُهُ أَمْرَنَا عَمَّنْ حَلَفَ لَهُ وَاعْتَذَرَ إِلَيْهِ فَقَبِلَ مِنْهُ .
وَحَدَّثَنِيهِ مُحَمَّدُ بْنُ رَافِعٍ، حَدَّثَنَا حُجَيْنُ بْنُ الْمُثَنَّى، حَدَّثَنَا اللَّيْثُ، عَنْ عُقَيْلٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، بِإِسْنَادِ يُونُسَ عَنِ الزُّهْرِيِّ، سَوَاءً .

Narrator: ইবনে শিহাব যুহরী (রহঃ)

৬৭৬০। বনু উমাইয়ার আযাদকৃত গোলাম আবু তাহির আহমাদ ইবনে আমর ইবনে সারহ (রাহঃ) ......... ইবনে শিহাব (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাবুকের অভিযানে রওয়ানা হন। তাঁর লক্ষ্য ছিল, সিরিয়ার আরব খ্রীষ্টান ও রোমকরা। ইবনে শিহাব বলেন, আমাকে আব্দুর রহমান ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে কাব ইবনে মালিক (রাহঃ) বলেছেন যে, আব্দুল্লাহ ইবনে কাব বলেছেন, কাব ইবনে মালিক (রাযিঃ) অন্ধ হয়ে যাওয়ার পর তার সন্তানদের মধ্যে তিনি ছিলেন তার চালক। আমি কাব ইবনে মালিক (রাযিঃ) কে তাবুক যুদ্ধে অংশ গ্রহণ না করার ইতিবৃত্ত (নিজ মুখে) বর্ণনা করতে শুনেছি।

কাব ইবনে মালিক (রাযিঃ) বলেছেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যত যুদ্ধ করেছেন তাবুক যুদ্ধ ব্যতীত এর সবকটির মধ্যেই আমি তাঁর সঙ্গে শরীক ছিলাম। তবে বদর যুদ্ধে আমি তাঁর সাথে শরীক হতে পারিনি। আর যারা (এ বছর) থেকে পশ্চাতে রয়েছে তাদের কাউকেও অভিযুক্ত করেননি। তখন তো রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ও মুসলমানগণ শুধুমাত্র কুরাইশ কাফিলার উদ্দেশ্যে বের হয়েছিলেন। অবশেষে আল্লাহ তাআলা মুসলমান ও কাফিরদের অনির্ধারিত সময়ে সমবেত করে দেন। আকাবার রাত্রে যখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদের থেকে ইসলামের উপর অঙ্গীকার নিচ্ছিলেন, সে রাত্রে আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট উপস্থিত ছিলাম। বদর যুদ্ধ যদিও মানুষের নিকট সর্বাধিক প্রসিদ্ধ, তথাপি আকাবা রজনীর পরিবর্তে বদর মুদ্ধে শরীক হওয়া আমার নিকট অধিক পছন্দনীয় নয়।

তাবুক যুদ্ধে শরীক না হওয়ার ব্যাপারে আমার ঘটনা হচ্ছে এই যে, যখন এ যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছিল। তখন আমি যেমন শক্তিশালী ও স্বচ্ছল ছিলাম, তেমন আর কখনো ছিলাম না। আল্লাহর কসম! এর পূর্বে এমনকি দু’টি সওয়ারী আমি আর কখনো একত্রে জমা করতে পারিনি। কিন্তু এ যুদ্ধের সময় দু’টি সওয়ারীর অধিকারী ছিলাম। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এ অভিযানে যান প্রচন্ড গরমের কালে। সফর ছিল মরু প্রান্তরের। বহু সংখ্যক শক্রর সন্মুখীন হতে যাচ্ছিলেন। তাই তিনি বিষয়টি মুসলমানদের সামনে খোলাখুলিভাবে প্রকাশ করেন, যাতে তারা যুদ্ধের জন্য পূর্ণ প্রস্তুতি গ্রহণ করে নিতে পারে। যুদ্ধের গতিবিধি সম্পর্কেও রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাদেরকে জানিয়ে দিলেন।

তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সঙ্গে মুসলমানের সংখ্যা ছিল অনেক এবং তাদের নাম লিপিবদ্ধ ছিল না কোন সংরক্ষণকারীর কিতাবে; অর্থাৎ রেজিষ্টারে সংরক্ষিত ছিল না। কাব (রাযিঃ) বলেন, সুতরাং যে ব্যক্তি অনুরূপ থাকতে ইচ্ছা করে সে কমপক্ষে এ ধারণা করতে পারত যে, তার অনুপস্থিতি গোপন থাকবে, যতক্ষণ না আল্লাহর পক্ষ থেকে তার সম্পর্কে ওহী নাযিল হয়।

এ যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছিল, যখন গাছের ফল পাকছিল এবং বৃক্ষের ছায়া ছিল আনন্দদায়ক। আর আমিও ছিলাম এগুলোর প্রতি আকৃষ্ট। অবশেষে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ও মুসলমানগণ যুদ্বের জন্য পূর্ণ প্রস্তুতি নিলেন। আমিও তাঁদের সাথে যুদ্ধে শরীক হওয়ার জন্য প্রস্ততি গ্রহণের লক্ষ্যে বাড়ী থেকে সকালে বের হতাম, কিন্তু কোন প্রস্তুতি গ্রহণ না করেই ফিরে আসতাম এবং মনে মনে বলতাম, আমি তো যুদ্ধে যেতে সক্ষম, যখনই ইচ্ছা করি। আমার ব্যাপার এভাবেই চলতে লাগল।

এদিকে লোকজন বাস্তব প্রস্তুতি চালিয়ে যেতে লাগল। অবশেষে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) প্রত্যুষে রওয়ানা হলেন এবং তাঁর সঙ্গে মুসলিমগণও রওয়ানা হয়ে গেল। কিন্তু আমি কোন প্রস্তুতই গ্রহণ করি নি। পরদিন সকালে আমি বের হলাম। কিন্তু কোন প্রস্তুতি গ্রহণ না করেই ফিরে এলাম। এভাবে আমার সময় দীর্ঘায়িত হতে লাগল। এদিকে লোকজন দ্রুতগতিতে অগ্রসর হয় আর মুজাহিদ্বীনের দল বহু দুরে চলে যায়। তখন আমি ভাবতে লাগলাম যে, আমিও রওয়ানা হয়ে তাদের সাথে মিলিত হয়ে যাই। আফসোস! আমি যদি তাই করতাম। কিন্তু আমার ভাগ্যে তা হয়নি।

পরবর্তী অবস্থা হল এই যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর যুদ্ধে চলে যাওয়ার পর আমি যখন রাস্তায় বের হতাম তখন এ ব্যাপার আমাকে ব্যথিত করত যে, আমি অনুসরণীয় কাউকে দেখতে পেতাম না, শুধু এমন লোক যাদের উপর নিফাকের অভিযোগ রয়েছে অথবা সে সকল অক্ষম লোক যাদের আল্লাহ তাআলা মা’যুর হিসেবে অবকাশ দিয়েছেন। এদিকে তাবুক পৌছার পূর্বে রাস্তায় রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমার কথা মোটেই আলোচনা করেননি। কিন্তু তাবুক পৌছার পর লোকদের মাঝে বসা অবস্থায় রাসূলুল্লাহ (ﷺ) জিজ্ঞাসা করলেন, কা’ব ইবনে মালিক কি করছে? তখন বনু সালামা গোত্রের এক ব্যক্তি বলল, ইয়া রাসুলাল্লাহ! তার লাল (জোড়া) পোশাক এবং তার দেহের দু’ পাশের প্রতি দৃষ্টি তাকে বিরত রেখেছে। তখন মু’আয ইবনে জাবাল (রাযিঃ) বললেন, তুমি বড় মন্দ কথা বলছ। ইয়া রাসুলাল্লাহ! আল্লাহর কসম! আমরা তো তাকে ভালই জানি। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) নীরব রইলেন।

ইতোমধ্যে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) শুভ্র বসন পরিহিত এক ব্যক্তিকে ধূলা উড়িয়ে আসতে দেখে বললেন, আবু খায়সামাই হবে। দেখা গেল, তিনি আনসারী সাহাবী আবু খায়সামা (রাযিঃ) আর তিনি সে ব্যক্তি যিনি এক সা খেজুর সাদ্‌কা করেছিলেন যাতে মুশরিকরা বিরূপ সমালোচনা করেছিল। কাব ইবনে মালিক (রাযিঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাবুক থেকে প্রত্যাবর্তনের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হওয়ার সংবাদ আমার নিকট পৌছার পর আমার উপর চিন্তার বোঝা নেমে এল। আমি মনে মনে মিথ্যা ওযর কল্পনা করতে লাগলাম এবং এমন কথা ভাবতে লাগলাম যা বলে আমি তার ক্রোধ থেকে বাচতে পারি। আর এ ব্যাপারে আমি বুদ্ধিমান আপন জনেরও সাহায্য নিতে লাগলাম।

অবশেষে যখন আমাকে বলা হল যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) পৌছে গেছেন তখন আমার অন্তর থেকে সমস্ত মন্দ কল্পনা দূর হয়ে গেল। এমনকি আমি অনুভব করলাম যে, কোন কিছুতেই আমি তার কাছ থেকে অব্যহতি পাব না। তাই আমি তার কাছে সত্য বলারই সংকল্প করে নিলাম। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ভোর বেলা সফর থেকে আগমন করলেন। তাঁর অভ্যাস ছিল, সফর থেকে প্রত্যাবর্তন করে প্রথমে তিনি মসজিদে আসতেন এবং তথায় দু’রাক’আত (নামায) আদায় করে মানুষের সাথে সাক্ষাতের জন্য বসতেন। এবারও যখন তিনি বসলেন, তখন যারা যুদ্ধে অংশ গ্রহণ করেনি তারা এসে অজুহাত পেশ করতে শুরু করল এবং এর উপর কসম খেতে লাগল। এ সকল লোক সংখ্যায় আশির অধিক ছিল। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাদের প্রকাশ্য ওজুহাত গ্রহণ করলেন এবং তাদের থেকে বায়আত নিয়ে তাদের জন্য আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করলেন। আর তাদের অন্তর্নিহিতা অবস্থা আল্লাহর উপর ন্যস্ত করলেন।

অবশেষে আমি উপস্থিত হয়ে সালাম করলাম। তখন তিনি ক্রুদ্ধ ব্যক্তির হাসির ন্যায় অস্পষ্ট হাসলেন। তারপর তিনি বললেন, এস। আমি এসে তাঁর সামনে বসলাম। তখন তিনি আমাকে জিজ্ঞাসা করলেন, কিসে তোমাকে পশ্চাতে রেখেছিল? তুমি কি সওয়ারী ক্রয় করনি? তিনি বলেন, আমি বললাম, ইয়া রাসুলাল্লাহ! আমি যদি আপনি ছাড়া কোন দুনিয়াদার মানুষের নিকট বসতাম তবে আপনি দেখতেন যে অবশ্যই আমি কোন ওযর পেশ করে তার ক্রোধ থেকে বেঁচে যেতাম। কারণ আমাকে তর্কের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। কিন্তু আল্লাহর কসম! আমার বিশ্বাস, আজ যদি আমি মিথ্যা কথা বলে আপনাকে আমার প্রতি রাযী করে নেই, তবে অচিরেই আল্লাহ তা'আলা আপনাকে আমার প্রতি অসন্তুষ্ট করে দিবেন। আর যদি আমি সত্য কথা বলি এবং এতে আপনি আমার প্রতি অসন্তষ্ট হন, তবে এতে আল্লাহর পক্ষ থেকে আমি কল্যাণজনক পরিণামের আশা রাখি।

আল্লাহর কসম! আমার কোন ওযর ছিল না। আল্লাহর কসম! আপনার (অভিযান) থেকে পিছনে থাকার সময়ের তুলনায় কোন সময় আমি অধিক ক্ষমতা সম্পন্ন ও অধিক প্রাচুর্যের অধিকারী ছিলাম না। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ অবশ্যই এ ব্যক্তি সত্য কথা বলেছে। তারপর তিনি বললেনঃ তুমি চলে যাও, যতক্ষণ না আল্লাহ তোমার সম্বন্ধে ফয়সালা দেন। তারপর আমি উঠে গেলাম। তখন বনু সালামা গোত্রের কতিপয় লোক দৌড়িয়ে আমার কাছে এসে বলল, আল্লাহর কসম! আমরা তো ইতোপূর্বে তোমাকে আর কোন অন্যায় করতে দেখিনি। যারা পশ্চাতে রয়ে গিয়েছিল, তারা যেমন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কাছে ওযর পেশ করেছে সেভাবে ওযর পেশ করতে কি তুমি অপারগ ছিলে? অতএব, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর ইস্তিগফারই তোমার গুনাহের জন্য যথেষ্ট হতো।

তিনি বলেন, আল্লাহর কসম। এভাবে তারা আমাকে এত ভৎর্সনা করতে লাগল যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট আবার গিয়ে আমার নিজের উক্তি মিথ্যা প্রতিপন্ন করার ইচ্ছা হতে লাগল। আমি লোকদের বললাম, আমার মত আর কারো এমন অবস্থা হয়েছে কি? তারা বলল, হ্যাঁ, আরো দুই জন তোমার মত করেছেন। তুমি যা বলেছ তারাও অনুরূপ বলেছেন এবং তোমাকে যা বলা হয়েছে তাদেরও তাই বলা হয়েছে। আমি বললাম, তারা কারা? তারা বলল, তারা হলেন, মুররা ইবনে রাবীআ আমিরী এবং হেলাল ইবনে উমাইয়া ওয়াকিফী (রাযিঃ)।

কা’ব বলেন, তারা আমার নিকট এমন দুই ব্যক্তির কথা উল্লেখ করল, যারা ছিলেন নেককার, বদর যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী। তারা দুইজনই ছিলেন অনুসরণযোগ্য। কা’ব (রাযিঃ) বলেন, যখন তারা ঐ দুই ব্যক্তির কথা উল্লেখ করল, তখন আমি চলে গেলাম। এদিকে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যারা যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেনি তাদের মধ্য থেকে শুধু আমাদের তিন জনের সাথে মুসলমানদের কথা বলতে নিষেধ করে দিলেন। এরপর লোকেরা আমাদের পরিহার করল অথবা বলেছেন, আমাদের সাথে তাদের ব্যবহার বদলে গেল। এমনকি যমীনও যেন পরিবর্তিত হয়ে গেল, (মনে হল) যে ভূমি আমি চিনতাম, এ যেন তা নেই। এমনি করে পঞ্চাশ রাত্র কাটালাম। আর আমার দুই সাথী ছিলেন হীনবল, তাই তারা নিজ নিজ ঘরে চুপচাপ বসে রইলেন এবং কাঁদতে লাগলেন। আর আমি তাদের মধ্যে কম বয়স্ক ও সবল ছিলাম। আমি রাস্তায় বের হতাম, নামাযে শরীক হতাম এবং বাজারেও ঘোরাফেরা করতাম। কিন্তু কেউ আমার সঙ্গে কোন কথা বলতো না।

রাসূলুল্লাহ (ﷺ) নামায আদায়ের পর নিজ স্থানে বসা ছিলেন, এমতাবস্থায় আমি তার নিকট এলাম, তাকে সালাম করলাম এবং মনে মনে ভাবলাম, তিনি সালামের জওয়াব প্রদান করে তার ওষ্ঠযুগল নাড়িয়েছেন কি না? তারপর আমি তাঁর নিকটে দাঁড়িয়ে নামায আদায় করলাম এবং গোপন চাহনির মাধ্যমে আমি তার দিকে তাকালাম। যখন আমি নামাযে মশগুল হতাম তখন তিনি আমার প্রতি নযর দেন। কিস্তু আমি যখন তার দিকে তাকাই তখন তিনি আমার থেকে মুখ ফিরিয়ে নেন। আমার প্রতি মুসলমানদের এ কঠোর আচরণ যখন দীর্ঘায়িত হয়ে গেল তখন আমি গিয়ে আবু কাতাদা (রাযিঃ) এর বাগানের প্রাচীরের উপর উঠলাম। তিনি ছিলেন আমার চাচাতো ভাই এবং আমার অত্যন্ত প্রিয় ব্যক্তি।

উপরে উঠেই আমি তাঁকে সালাম করলাম। কিন্তু আল্লাহর কসম! তিনি আমার সালামের কোন উত্তর দিলেন না। আমি তাঁকে বললাম, হে আবু কাতাদা! আমি তোমাকে আল্লাহর কসম দিয়ে জিজ্ঞাসা করছি, তুমি কি জান না যে, আমি আল্লাহ ও তাঁর রাসুল (ﷺ) কে ভালবাসি? তিনি কোন উত্তর দিলেন না। আমি পুনরায় তাঁকে কসম দিয়ে জিজ্ঞাসা করলাম। এবারও তিনি কোন উত্তর দিলেন না। তারপর আবারো আমি তাঁকে কসম দিয়ে জিজ্ঞাসা করলাম। উত্তরে তিনি বললেন, আল্লাহ ও তাঁর রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-ই ভাল জানেন। এ কথা শুনে আমার দু’নয়ন দিয়ে অশ্রু ঝরতে লাগল। অবশেষে পিছন ফিরে আমি আবার দেওয়ালের উপর চড়লাম।

তারপর আমি কোন একদিন মদীনার বাজার দিয়ে যাচ্ছিলাম, এ সময় মদীনার বাজারে শাক-সবজি বিক্রির উদ্দেশ্যে আগত সিরিয়ার কৃষকদের মধ্য থেকে একজন বলতে লাগল, আমাকে কা’ব ইবনে মালিকের ঠিকানা বলতে পারে এমন কোন ব্যক্তি আছে কি? লোকেরা ইশারায় আমাকে দেখিয়ে দিলে সে আমার নিকট আসল এবং গাসশান সম্রাটের পক্ষ হতে আমাকে একটি পত্র দিল। আমি লেখাপড়া জানতাম। তাই আমি তা পাঠ করলাম। এতে লেখা ছিল, আমি জানতে পারলাম যে, তোমার সঙ্গী মুহাম্মাদ তোমার প্রতি যুলুম করয়ে অথচ আল্লাহ পাক তোমাকে নীচু ঘরে জন্য দেননি এবং ধ্বংসের স্থানেও নয়। সুতরাং তুমি আমাদের নিকট চলে এসো। আমরা তোমার সহযোগিতা করবো।

এ পত্র পাঠমাত্র আমি বললাম এও আরেক ধরনের পরীক্ষা। তখন এ পত্রটি নিয়ে আমি উনুনের নিকট গেলাম এবং উহা আগুনে জ্বালিয়ে দিলাম। চল্লিশ দিন অতিবাহিত হল। কিন্তু এদিকে কোন ওহী আসছে না। এমতাবস্থায় রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর এক বার্তাবাহক আমার নিকট এসে বললেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তোমাকে তোমার স্ত্রী হতে দূর হয়ে যাবার নির্দেশ দিয়েছেন। আমি তাকে জিজ্ঞাসা করলাম, আমি কি তাকে তালাক দিয়ে দিব, না অন্য কিছু করব? তিনি বললেন, না তালাক দিতে হবে না। বরং তুমি তার থেকে পৃথক হয়ে যাও এবং তার সাথে সহবাস করো না। তিনি বলেন, আমার অন্য দুই সঙ্গীদের নিকটও অনুরূপ বার্তা প্রেরণ করা হল।

কা’ব (রাযিঃ) বলেন, অতঃপর আমি আমার স্ত্রীকে বললাম, তুমি তোমার পিতার বাড়ী চলে যাও এবং যে পর্যন্ত আল্লাহ পাক এ সম্পর্কে কোন ফয়সালা না করেন ততদিন সেখানেই অবস্থান করবে। কাব (রাযিঃ) বলেন, তারপর হিলাল ইবনে উমাইয়া (রাযিঃ) এর স্ত্রী রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট এসে বললেন, ইয়া রাসুলাল্লাহ! হিলাল ইবনে উমাইয়া একজন বৃদ্ধ-অকেজো ব্যক্তি। তার কোন খাদিম নেই। যদি আমি তার খিদমত করি, আপনি কি তা অপছন্দ করেন? তিনি বললেন, না, তবে সে তোমার সাথে সহবাস করতে পারবে না। এ কথা শুনে হিলাল (রাযিঃ) এর স্ত্রী বললেন, আল্লাহর কসম! (কোন ব্যাপারেই) তার মনে কোন স্পন্দন নেই এবং আল্লাহর কসম! ঐ ঘটনার পর থেকে অদ্যাবধি সে কেঁদেই দিনাতিপাত করছে।

তিনি বলেন, আমার পরিবারের কেউ কেউ বললেন, আচ্ছা তুমিও যদি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) থেকে তোমার স্ত্রীর ব্যাপারে অনুমতি নিয়ে নিতে। তিনি তো হিলাল ইবনে উমাইয়ার স্ত্রীকে তার স্বামীর খিদমতের অনুমতি দিয়েছেন। কা’ব বলেন, আমি বললাম, আমি আমার স্ত্রীর ব্যাপারে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট অনুমতি প্রার্থনা করব না। কারণ আমি যুবক মানুষ। আমি আমার স্ত্রীর ব্যাপারে অনুমতি প্রার্থনা করলে না জানি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কি বলেন। এ অবস্থায় আরো দশ রাত কাটালাম। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যখন থেকে আমাদের সাথে কথাবার্তা বলতে নিষেধ করেছিলেন, তখন থেকে আমাদের পঞ্চাশ রাত পূর্ণ হয়।

কাব বলেন, পঞ্চাশতম রাতের ফজরের নামায আমি আমারর গৃহের ছাদের উপর আদায় করলাম। এরপর যখন আমি ঐ অবস্থায় বসা ছিলাম, যা আল্লাহ আমাদের ব্যাপারে উল্লেখ করেছেন, অর্থাৎ আমার জীবন আমার জন্য সংকটাপন্ন হয়ে গিয়েছিল এবং পৃথিবী প্রশস্ত হওয়া সত্ত্বেও আমার কাছে সংকুচিত হয়ে পড়েছিল। তখন আমি একজন ঘোষণাকারীর আওয়াজ শুনলাম, যিনি সালা পাহাড়ের চূড়ায় উঠে উচ্চস্বরে বলছেন, হে কাব ইবনে মালিক! সুসংবাদ গ্রহণ কর। কা’ব বলেন, তখন আমি সিজদায় লুটিয়ে পড়লাম এবং আমি বুঝতে পারলাম যে, সংকট মুক্তি এসে গেছে। কা’ব বলেন, এদিকে ফজরের নামাযের পর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) লোকদের কাছে ঘোষণা করলেন যে, আল্লাহ তাআলা আমাদের তাওবা কবুল করেছেন।

তখনই লোকেরা আমাদের সুসংবাদ দেয়ার জন্য ছুটে চলল এবং আমার সাথীদ্বয়কে খোশখবরী পৌছানোর জন্য কয়েকজন লোক তাদের নিকট গেলেন। আর আমার দিকে একজন ঘোড়ার উপর সওয়ার হয়ে রওয়ানা হলেন এবং আসলাম গোত্রের আর এক ব্যক্তিও রওয়ানা হলেন। তিনি পাহাড়ের উপর আরোহণ করে ঘোষণা দিলেন। অশ্বের চেয়েও আওয়াজের গতি আরো দ্রুত এর তারপর যার সুসংবাদের আওয়াজ আমি শুনেছিলাম তিনি আমার নিকট আসলে আমি আমার পরিধেয় বস্ত্র দু’টো সুসংবাদের পুরস্কার স্বরূপ তাকে দিয়ে দিলাম। আল্লাহর কসম! সেদিন ঐ দু’টো কাপড় ব্যতীত আমি আর কোন কাপড়ের মালিক ছিলাম না। অতএব আমি দু’টো কাপড় ধার নিয়ে পরিধান করলাম।

এরপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সঙ্গে সাক্ষাতের উদ্দেশ্যে আমি রওয়ানা দিলাম। আমার তাওবা কবুলের মুবারকবাদ জানানোর জন্য লোকেরা দলে দলে আমার সঙ্গে সাক্ষাত করতে লাগল এবং বলতে লাগল, আল্লাহর ক্ষমা তোমার জন্য মুবারক হোক। এমতাবস্থায় আমি মসজিদে প্রবেশ করে দেখলাম, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) মসজিদেই উপবিষ্ট আছেন এবং তাঁর পাশে লোকজন রয়েছে। তখন তালহা ইবনে উবাইদুল্লাহ (রাযিঃ) দাঁড়ালেন এবং দৌড়ে এসে আমার সাথে মুসাফাহা করলেন এবং তিনি আমাকে মুবারকবাদ জানালেন। আল্লাহর কসম! মুহাজিরদের মধ্যে তখন তিনি ছাড়া আর কেউ (আমাকে দেখে) দাঁড়াননি।

রাবী বলেন, কা’ব তালহার এ সদাচরণের কথা ভুলেননি। কাব ইবনে মালিক (রাযিঃ) বলেন, তারপর আমি যখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে সালাম করলাম তখন তাঁর চেহারা খুশীতে চমকাতে ছিলো। তিনি বললেন, তোমার মা তোমাকে জন্ম দেয়ার পর থেকে যতদিন অতিবাহিত হয়েছে, তার মধ্যে তোমার জন্য এ মুবারক দিনটির সুসংবাদ। কা’ব (রাযিঃ) বলেন, আমি তাকে জিজ্ঞাসা করলাম, তা কি আপনার পক্ষ থেকে, ইয়া রাসুলাল্লাহ! না মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে। তিনি বললেন, না, বরং মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে।

আর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যখন খুশী হতেন, তখন তাঁর চেহারা মুবারক এমনভাবে প্রদীপ্ত হতো যেন তা এক খণ্ড চাঁদ। কা’ব (রাযিঃ) বলেন, আমরা তাঁর চেহারা দেখেই তা বুঝতে পারতাম। তিনি বলেন, আমি যখন তাঁর সামনে বসলাম তখন বললাম, ইয়া রাসুলাল্লাহ! আমার তাওবার শুকরিয়া হিসেবে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের জন্য সাদ্‌কা স্বরূপ দান করে আমার সমস্ত মাল থেকে মুক্ত হতে চাই। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ কিছু মাল তোমার নিজের জন্য রেখে দাও। এই তোমার জন্য উত্তম। আমি বললাম, তাহলে আমি খায়বরে প্রাপ্ত অংশটুকু রেখে দিব।

কা’ব (রাযিঃ) বলেন, এরপর আমি বললাম, ইয়া রাসুলাল্লাহ! সত্য কথাই আমাকে মুক্তি দিয়েছে; তাই যতদিন জীবিত থাকি আমি সত্য ছাড়া বলব না। তিনি বলেন, আল্লাহর কসম! আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কাছে সে সত্য কথা বলার পর, আল্লাহ তাআলা আমার প্রতি যে অনুগ্রহ প্রদর্শন করেছেন; আল্লাহ তাআলা আর কোন মুসলিম ব্যক্তির প্রতি এরূপ করেছেন বলে আমি জানি না। আল্লাহর কসম! রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সাথে এ আলোচনা করার পর অদ্যাবধি ইচ্ছাকৃতভাবে আমি কখনো মিথ্যা কথা বলিনি। আমার আশা, অবশিষ্ট জীবনেও আল্লাহ তাআলা আমাকে মিথ্যা থেকে বাঁচিয়ে রাখবেন।

কা’ব (রাযিঃ) বলেন, আমার তাওবা গ্রহণযোগ্য হবার ব্যাপারে আল্লাহ তাআলা তখন নিম্নোক্ত আয়াত নাযিল করেছিলেনঃ “আল্লাহ অনুগ্রহপরায়ণ হলেন নবীর প্রতি এবং মুহাজির ও আনসারদের প্রতি, যারা তার অনুগমন করেছিলো সংকটকালে, এমনকি যখন তাদের এক দলের চিত্ত-বৈকল্যের উপক্রম হয়েছিলো। পরে আল্লাহ তাদেরকে ক্ষমা করলেন। তিনি তাদের প্রতি দয়ার্দ্র পরম দয়ালু এবং তিনি ক্ষমা করলেন অপর তিনজনকেও, যাদের সম্পর্কে সিদ্ধান্ত স্থগিত রাখা হয়েছিল, যে পর্যন্ত না পৃথিবী বিস্তৃত হওয়া সত্ত্বেও তাদের জন্য উহা সংকুচিত হয়েছিলো এবং তাদের জীবন তাদের জন্য দুর্বিষহ হয়েছিলো এবং তারা উপলব্ধি করেছিল যে, আল্লাহ ব্যতীত কোন আশ্রয়স্থল নেই। পরে তিনি তাদের প্রতি অনুগ্রহপরায়ণ হলেন, যাতে তারা তাওবা করে। আল্লাহ ক্ষমাশীল পরম দয়ালু। হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় কর এবং সত্যবাদীদের অন্তর্ভুক্ত হও। (সূরা তাওবাঃ ১১৭-১১৯)

কাব (রাযিঃ) বলেন, আল্লাহর কসম! রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট সেদিন সত্য কথা বলার কারণে আল্লাহ তাআলা আমার প্রতি যে অনুগ্রহ করেছেন, অনুরূপ অনুগ্রহ ইসলাম গ্রহণের পর আল্লাহ তাআলা আমার প্রতি আর কখনো করেননি। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট সেদিন আমি মিথ্যা বলিনি। যদি বলতাম তবে অবশ্যই আমি ধ্বংস হয়ে যেতাম, যেমন ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল। মিথ্যাবাদীগণ। ওহী অবতরণকালে আল্লাহ মিথ্যাবাদীদের এমন কঠোর সমালোচনা করেছেন, যা আর কাউকে করেননি। তিনি বলেছেনঃ তোমরা তাদের নিকট ফিরে এলে তারা আল্লাহর শপথ করবে, যেন তোমরা তাদের উপেক্ষা কর সুতরাং তোমরা তাদেরকে উপেক্ষা করবে তারা অপবিত্র, তাদের কৃতকর্মের ফল স্বরূপ জাহান্নাম তাদের আবাস স্থল। তারা তোমাদের নিকট হলফ করবে যাতে তোমরা তাদের প্রতি তুষ্ট হও। তোমরা তাদের প্রতি তুষ্ট হলেও আল্লাহ ফাসিক (সত্যত্যাগী) লোকদের প্রতি তুষ্ট হবেন না। (সূরা তাওবাঃ ৯৫ ও ৯৬)

কা’ব (রাযিঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট শপথ করার পর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যাদের ওযর গ্রহণ করেছিলেন, যাদের বায়আত করেছিলেন এবং যাদের জন্য আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করেছিলেন তাদের থেকে আমাদের তিনজনের বিষয়টিকে বিলম্বিত করা হয়েছিল। আল্লাহর পক্ষ থেকে ফয়সালা আসা পর্যন্ত রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদের বিষয়টিকে স্থগিত রেখেছিলেন। তাই আল কুরআনে আল্লাহ তাআলা বলেছেনঃ আর তিনি ক্ষমা করলেন অপর তিনজনকেও যাদের সিদ্ধান্ত স্থগিত রাখা হয়েছিল।

এখানেخلفوا “যুদ্ধ হতে আমাদের পেছনে থাকা” নয়। বরং এর অর্থ হচ্ছে, রাসুল (ﷺ) কর্তৃক “আমাদের বিষয়টিকে স্থগিত রাখা।” ঐ লোকদের বিপরীতে যারা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সম্মুখে শপথ করেছিল এবং ওযর পেশ করেছিলো অতঃপর তিনি তা কবুল করেছিলেন।

মুহাম্মাদ ইবনে রাফি (রাহঃ) ......... ইবনে শিহাব (রাহঃ) এর সূত্রে যুহরী (রাহঃ) এর সূত্রে অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন।
6761

وَحَدَّثَنِي عَبْدُ بْنُ حُمَيْدٍ، حَدَّثَنِي يَعْقُوبُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ بْنِ سَعْدٍ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ، اللَّهِ بْنِ مُسْلِمٍ ابْنُ أَخِي الزُّهْرِيِّ عَنْ عَمِّهِ، مُحَمَّدِ بْنِ مُسْلِمٍ الزُّهْرِيِّ أَخْبَرَنِي عَبْدُ الرَّحْمَنِ، بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ كَعْبِ بْنِ مَالِكٍ أَنَّ عُبَيْدَ اللَّهِ بْنَ كَعْبِ بْنِ مَالِكٍ، وَكَانَ، قَائِدَ كَعْبٍ حِينَ عَمِيَ قَالَ سَمِعْتُ كَعْبَ بْنَ مَالِكٍ يُحَدِّثُ حَدِيثَهُ حِينَ تَخَلَّفَ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي غَزْوَةِ تَبُوكَ . وَسَاقَ الْحَدِيثَ وَزَادَ فِيهِ عَلَى يُونُسَ فَكَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَلَّمَا يُرِيدُ غَزْوَةً إِلاَّ وَرَّى بِغَيْرِهَا حَتَّى كَانَتْ تِلْكَ الْغَزْوَةُ . وَلَمْ يَذْكُرْ فِي حَدِيثِ ابْنِ أَخِي الزُّهْرِيِّ أَبَا خَيْثَمَةَ وَلُحُوقَهُ بِالنَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم .

Narrator: হযরত কা‘ব ইবনে মালিক রাযি.

৬৭৬১। আব্দ ইবনে হুমায়দ (রাহঃ) ......... আব্দুর রহমান ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে কা’ব ইবনে মালিক (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আব্দুল্লাহ ইবনে কাব ইবনে মালিক (রাযিঃ) যিনি অন্ধ হয়ে যাবার পর কাব (রাযিঃ) এর চালক ছিলেন, বলেছেন, তাবুক যুদ্ধে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সঙ্গে শরীক না হয়ে গৃহে বসে থাকার সময় কা'ব ইবনে মালিক (রাযিঃ) কে আমি একথা বলতে শুনেছি। অতঃপর অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন। তবে এতে তিনি রয়েছে যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যে দিকে যুদ্ধ করার জন্য যেতেন সাধারণতঃ অন্য স্থান দিয়ে প্রস্থান করতেন (তিনি আলোচনায় ঐ জায়গার কথা উল্লেখ না করে অন্য জায়গার কথা উল্লেখ করতেন)। তবে এ যুদ্ধের কথা পরিস্কারভাবে উল্লেখ করেছিলেন। যুহরীর ভ্রাতুষ্পুত্রের এ হাদীসের মধ্যে আবু খায়সামার কথা এবং নবী (ﷺ) এর সঙ্গে তাঁর মিলিত হওয়ার কথা উল্লেখ নেই।

6762

وَحَدَّثَنِي سَلَمَةُ بْنُ شَبِيبٍ، حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ أَعْيَنَ، حَدَّثَنَا مَعْقِلٌ، - وَهُوَ ابْنُ عُبَيْدِ اللَّهِ - عَنِ الزُّهْرِيِّ، أَخْبَرَنِي عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ كَعْبِ بْنِ مَالِكٍ، عَنْ عَمِّهِ، عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ كَعْبٍ وَكَانَ قَائِدَ كَعْبٍ حِينَ أُصِيبَ بَصَرُهُ وَكَانَ أَعْلَمَ قَوْمِهِ وَأَوْعَاهُمْ لأَحَادِيثِ أَصْحَابِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ سَمِعْتُ أَبِي كَعْبَ بْنَ مَالِكٍ وَهُوَ أَحَدُ الثَّلاَثَةِ الَّذِينَ تِيبَ عَلَيْهِمْ يُحَدِّثُ أَنَّهُ لَمْ يَتَخَلَّفْ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي غَزْوَةٍ غَزَاهَا قَطُّ غَيْرَ غَزْوَتَيْنِ . وَسَاقَ الْحَدِيثَ وَقَالَ فِيهِ وَغَزَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِنَاسٍ كَثِيرٍ يَزِيدُونَ عَلَى عَشْرَةِ آلاَفٍ وَلاَ يَجْمَعُهُمْ دِيوَانُ حَافِظٍ .

Narrator: হযরত কা‘ব ইবনে মালিক রাযি.

৬৭৬২। সালামা ইবনে শাবীব (রাহঃ) ......... উবাইদুল্লাহ ইবনে কাব (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। কাব (রাযিঃ) চক্ষু রোগে আক্রান্ত হবার পর উবাইদুল্লাহ তাঁকে হাত ধরে নিয়ে যেতেন। উবাইদুল্লাহ (রাযিঃ) তার কওমের মধ্যে সর্বাধিক জ্ঞানী ব্যক্তি ছিলেন এবং রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সাহাবীদের হাদীস অধিক সংরক্ষণকারী ছিলেন। তিনি বলেন যে, তিন ব্যক্তির তাওবা আল্লাহ কবুল করেছিলেন, আমার পিতা কাব ইবনে মালিক (রাযিঃ) ঐ তিন ব্যক্তির একজন ছিলেন। আমি তাকে বলতে শুনেছি, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যত যুদ্ধ করেছেন এর মধ্যে তিনি দুটি ব্যতীত আর কোন যুদ্ধে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) থেকে পেছনে থাকেন নি। তারপর তিনি আগের অনুরূপ ঘটনাটি বর্ণনা করেছেন। তবে এতে রয়েছে যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) সৈন্য সামন্ত নিয়ে এ যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলেন। তাদের সংখ্যা দশ হাজারের চেয়েও অধিক ছিল। কোন তালিকায় তাদের নাম লিপিবদ্ধ করার অবকাশ ছিল না।

৩৭. অপবাদ রটনার ঘটনা এবং অপবাদ রটনাকারীর তাওবা কবুল হওয়া

باب فِي حَدِيثِ الإِفْكِ وَقَبُولِ تَوْبَةِ الْقَاذِفِ

6763

حَدَّثَنَا حَبَّانُ بْنُ مُوسَى، أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ الْمُبَارَكِ، أَخْبَرَنَا يُونُسُ بْنُ يَزِيدَ، الأَيْلِيُّ ح وَحَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ الْحَنْظَلِيُّ، وَمُحَمَّدُ بْنُ رَافِعٍ، وَعَبْدُ بْنُ حُمَيْدٍ، قَالَ ابْنُ رَافِعٍ حَدَّثَنَا وَقَالَ الآخَرَانِ، أَخْبَرَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، أَخْبَرَنَا مَعْمَرٌ، وَالسِّيَاقُ، حَدِيثُ مَعْمَرٍ مِنْ رِوَايَةِ عَبْدٍ وَابْنِ رَافِعٍ قَالَ يُونُسُ وَمَعْمَرٌ جَمِيعًا عَنِ الزُّهْرِيِّ أَخْبَرَنِي سَعِيدُ بْنُ الْمُسَيَّبِ وَعُرْوَةُ بْنُ الزُّبَيْرِ وَعَلْقَمَةُ بْنِ وَقَّاصٍ وَعُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُتْبَةَ بْنِ مَسْعُودٍ عَنْ حَدِيثِ عَائِشَةَ زَوْجِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم حِينَ قَالَ لَهَا أَهْلُ الإِفْكِ مَا قَالُوا فَبَرَّأَهَا اللَّهُ مِمَّا قَالُوا وَكُلُّهُمْ حَدَّثَنِي طَائِفَةً مِنْ حَدِيثِهَا وَبَعْضُهُمْ كَانَ أَوْعَى لِحَدِيثِهَا مِنْ بَعْضٍ وَأَثْبَتَ اقْتِصَاصًا وَقَدْ وَعَيْتُ عَنْ كُلِّ وَاحِدٍ مِنْهُمُ الْحَدِيثَ الَّذِي حَدَّثَنِي وَبَعْضُ حَدِيثِهِمْ يُصَدِّقُ بَعْضًا ذَكَرُوا أَنَّ عَائِشَةَ زَوْجَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَتْ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِذَا أَرَادَ أَنْ يَخْرُجَ سَفَرًا أَقْرَعَ بَيْنَ نِسَائِهِ فَأَيَّتُهُنَّ خَرَجَ سَهْمُهَا خَرَجَ بِهَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مَعَهُ - قَالَتْ عَائِشَةُ - فَأَقْرَعَ بَيْنَنَا فِي غَزْوَةٍ غَزَاهَا فَخَرَجَ فِيهَا سَهْمِي فَخَرَجْتُ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَذَلِكَ بَعْدَ مَا أُنْزِلَ الْحِجَابُ فَأَنَا أُحْمَلُ فِي هَوْدَجِي وَأُنْزَلُ فِيهِ مَسِيرَنَا حَتَّى إِذَا فَرَغَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مِنْ غَزْوِهِ وَقَفَلَ وَدَنَوْنَا مِنَ الْمَدِينَةِ آذَنَ لَيْلَةً بِالرَّحِيلِ فَقُمْتُ حِينَ آذَنُوا بِالرَّحِيلِ فَمَشَيْتُ حَتَّى جَاوَزْتُ الْجَيْشَ فَلَمَّا قَضَيْتُ مِنْ شَأْنِي أَقْبَلْتُ إِلَى الرَّحْلِ فَلَمَسْتُ صَدْرِي فَإِذَا عِقْدِي مِنْ جَزْعِ ظَفَارِ قَدِ انْقَطَعَ فَرَجَعْتُ فَالْتَمَسْتُ عِقْدِي فَحَبَسَنِي ابْتِغَاؤُهُ وَأَقْبَلَ الرَّهْطُ الَّذِينَ كَانُوا يَرْحَلُونَ لِي فَحَمَلُوا هَوْدَجِي فَرَحَلُوهُ عَلَى بَعِيرِيَ الَّذِي كُنْتُ أَرْكَبُ وَهُمْ يَحْسَبُونَ أَنِّي فِيهِ - قَالَتْ - وَكَانَتِ النِّسَاءُ إِذْ ذَاكَ خِفَافًا لَمْ يُهَبَّلْنَ وَلَمْ يَغْشَهُنَّ اللَّحْمُ إِنَّمَا يَأْكُلْنَ الْعُلْقَةَ مِنَ الطَّعَامِ فَلَمْ يَسْتَنْكِرِ الْقَوْمُ ثِقَلَ الْهَوْدَجِ حِينَ رَحَلُوهُ وَرَفَعُوهُ وَكُنْتُ جَارِيَةً حَدِيثَةَ السِّنِّ فَبَعَثُوا الْجَمَلَ وَسَارُوا وَوَجَدْتُ عِقْدِي بَعْدَ مَا اسْتَمَرَّ الْجَيْشُ فَجِئْتُ مَنَازِلَهُمْ وَلَيْسَ بِهَا دَاعٍ وَلاَ مُجِيبٌ فَتَيَمَّمْتُ مَنْزِلِي الَّذِي كُنْتُ فِيهِ وَظَنَنْتُ أَنَّ الْقَوْمَ سَيَفْقِدُونِي فَيَرْجِعُونَ إِلَىَّ فَبَيْنَا أَنَا جَالِسَةٌ فِي مَنْزِلِي غَلَبَتْنِي عَيْنِي فَنِمْتُ وَكَانَ صَفْوَانُ بْنُ الْمُعَطَّلِ السُّلَمِيُّ ثُمَّ الذَّكْوَانِيُّ قَدْ عَرَّسَ مِنْ وَرَاءِ الْجَيْشِ فَادَّلَجَ فَأَصْبَحَ عِنْدَ مَنْزِلِي فَرَأَى سَوَادَ إِنْسَانٍ نَائِمٍ فَأَتَانِي فَعَرَفَنِي حِينَ رَآنِي وَقَدْ كَانَ يَرَانِي قَبْلَ أَنْ يُضْرَبَ الْحِجَابُ عَلَىَّ فَاسْتَيْقَظْتُ بِاسْتِرْجَاعِهِ حِينَ عَرَفَنِي فَخَمَّرْتُ وَجْهِي بِجِلْبَابِي وَوَاللَّهِ مَا يُكَلِّمُنِي كَلِمَةً وَلاَ سَمِعْتُ مِنْهُ كَلِمَةً غَيْرَ اسْتِرْجَاعِهِ حَتَّى أَنَاخَ رَاحِلَتَهُ فَوَطِئَ عَلَى يَدِهَا فَرَكِبْتُهَا فَانْطَلَقَ يَقُودُ بِي الرَّاحِلَةَ حَتَّى أَتَيْنَا الْجَيْشَ بَعْدَ مَا نَزَلُوا مُوغِرِينَ فِي نَحْرِ الظَّهِيرَةِ فَهَلَكَ مَنْ هَلَكَ فِي شَأْنِي وَكَانَ الَّذِي تَوَلَّى كِبْرَهُ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ أُبَىٍّ ابْنُ سَلُولَ فَقَدِمْنَا الْمَدِينَةَ فَاشْتَكَيْتُ حِينَ قَدِمْنَا الْمَدِينَةَ شَهْرًا وَالنَّاسُ يُفِيضُونَ فِي قَوْلِ أَهْلِ الإِفْكِ وَلاَ أَشْعُرُ بِشَىْءٍ مِنْ ذَلِكَ وَهُوَ يَرِيبُنِي فِي وَجَعِي أَنِّي لاَ أَعْرِفُ مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم اللُّطْفَ الَّذِي كُنْتُ أَرَى مِنْهُ حِينَ أَشْتَكِي إِنَّمَا يَدْخُلُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَيُسَلِّمُ ثُمَّ يَقُولُ " كَيْفَ تِيكُمْ " . فَذَاكَ يَرِيبُنِي وَلاَ أَشْعُرُ بِالشَّرِّ حَتَّى خَرَجْتُ بَعْدَ مَا نَقِهْتُ وَخَرَجَتْ مَعِي أُمُّ مِسْطَحٍ قِبَلَ الْمَنَاصِعِ وَهُوَ مُتَبَرَّزُنَا وَلاَ نَخْرُجُ إِلاَّ لَيْلاً إِلَى لَيْلٍ وَذَلِكَ قَبْلَ أَنَّ نَتَّخِذَ الْكُنُفَ قَرِيبًا مِنْ بُيُوتِنَا وَأَمْرُنَا أَمْرُ الْعَرَبِ الأُوَلِ فِي التَّنَزُّهِ وَكُنَّا نَتَأَذَّى بِالْكُنُفِ أَنْ نَتَّخِذَهَا عِنْدَ بُيُوتِنَا فَانْطَلَقْتُ أَنَا وَأُمُّ مِسْطَحٍ وَهِيَ بِنْتُ أَبِي رُهْمِ بْنِ الْمُطَّلِبِ بْنِ عَبْدِ مَنَافٍ وَأُمُّهَا ابْنَةُ صَخْرِ بْنِ عَامِرٍ خَالَةُ أَبِي بَكْرٍ الصِّدِّيقِ وَابْنُهَا مِسْطَحُ بْنُ أُثَاثَةَ بْنِ عَبَّادِ بْنِ الْمُطَّلِبِ فَأَقْبَلْتُ أَنَا وَبِنْتُ أَبِي رُهْمٍ قِبَلَ بَيْتِي حِينَ فَرَغْنَا مِنْ شَأْنِنَا فَعَثَرَتْ أُمُّ مِسْطَحٍ فِي مِرْطِهَا فَقَالَتْ تَعِسَ مِسْطَحٌ . فَقُلْتُ لَهَا بِئْسَ مَا قُلْتِ أَتَسُبِّينَ رَجُلاً قَدْ شَهِدَ بَدْرًا . قَالَتْ أَىْ هَنْتَاهُ أَوَلَمْ تَسْمَعِي مَا قَالَ قُلْتُ وَمَاذَا قَالَ قَالَتْ فَأَخْبَرَتْنِي بِقَوْلِ أَهْلِ الإِفْكِ فَازْدَدْتُ مَرَضًا إِلَى مَرَضِي فَلَمَّا رَجَعْتُ إِلَى بَيْتِي فَدَخَلَ عَلَىَّ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَسَلَّمَ ثُمَّ قَالَ " كَيْفَ تِيكُمْ " . قُلْتُ أَتَأْذَنُ لِي أَنْ آتِيَ أَبَوَىَّ قَالَتْ وَأَنَا حِينَئِذٍ أُرِيدُ أَنْ أَتَيَقَّنَ الْخَبَرَ مِنْ قِبَلِهِمَا . فَأَذِنَ لِي رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَجِئْتُ أَبَوَىَّ فَقُلْتُ لأُمِّي يَا أُمَّتَاهْ مَا يَتَحَدَّثُ النَّاسُ فَقَالَتْ يَا بُنَيَّةُ هَوِّنِي عَلَيْكِ فَوَاللَّهِ لَقَلَّمَا كَانَتِ امْرَأَةٌ قَطُّ وَضِيئَةٌ عِنْدَ رَجُلٍ يُحِبُّهَا وَلَهَا ضَرَائِرُ إِلاَّ كَثَّرْنَ عَلَيْهَا - قَالَتْ - قُلْتُ سُبْحَانَ اللَّهِ وَقَدْ تَحَدَّثَ النَّاسُ بِهَذَا قَالَتْ فَبَكَيْتُ تِلْكَ اللَّيْلَةَ حَتَّى أَصْبَحْتُ لاَ يَرْقَأُ لِي دَمْعٌ وَلاَ أَكْتَحِلُ بِنَوْمٍ ثُمَّ أَصَبَحْتُ أَبْكِي وَدَعَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَلِيَّ بْنَ أَبِي طَالِبٍ وَأُسَامَةَ بْنَ زَيْدٍ حِينَ اسْتَلْبَثَ الْوَحْىُ يَسْتَشِيرُهُمَا فِي فِرَاقِ أَهْلِهِ - قَالَتْ - فَأَمَّا أُسَامَةُ بْنُ زَيْدٍ فَأَشَارَ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِالَّذِي يَعْلَمُ مِنْ بَرَاءَةِ أَهْلِهِ وَبِالَّذِي يَعْلَمُ فِي نَفْسِهِ لَهُمْ مِنَ الْوُدِّ فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ هُمْ أَهْلُكَ وَلاَ نَعْلَمُ إِلاَّ خَيْرًا . وَأَمَّا عَلِيُّ بْنُ أَبِي طَالِبٍ فَقَالَ لَمْ يُضَيِّقِ اللَّهُ عَلَيْكَ وَالنِّسَاءُ سِوَاهَا كَثِيرٌ وَإِنْ تَسْأَلِ الْجَارِيَةَ تَصْدُقْكَ - قَالَتْ - فَدَعَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بَرِيرَةَ فَقَالَ " أَىْ بَرِيرَةُ هَلْ رَأَيْتِ مِنْ شَىْءٍ يَرِيبُكِ مِنْ عَائِشَةَ " . قَالَتْ لَهُ بَرِيرَةُ وَالَّذِي بَعَثَكَ بِالْحَقِّ إِنْ رَأَيْتُ عَلَيْهَا أَمْرًا قَطُّ أَغْمِصُهُ عَلَيْهَا أَكْثَرَ مِنْ أَنَّهَا جَارِيَةٌ حَدِيثَةُ السِّنِّ تَنَامُ عَنْ عَجِينِ أَهْلِهَا فَتَأْتِي الدَّاجِنُ فَتَأْكُلُهُ - قَالَتْ - فَقَامَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَلَى الْمِنْبَرِ فَاسْتَعْذَرَ مِنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أُبَىٍّ ابْنِ سَلُولَ - قَالَتْ - فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَهُوَ عَلَى الْمِنْبَرِ " يَا مَعْشَرَ الْمُسْلِمِينَ مَنْ يَعْذِرُنِي مِنْ رَجُلٍ قَدْ بَلَغَ أَذَاهُ فِي أَهْلِ بَيْتِي فَوَاللَّهِ مَا عَلِمْتُ عَلَى أَهْلِي إِلاَّ خَيْرًا وَلَقَدْ ذَكَرُوا رَجُلاً مَا عَلِمْتُ عَلَيْهِ إِلاَّ خَيْرًا وَمَا كَانَ يَدْخُلُ عَلَى أَهْلِي إِلاَّ مَعِي " . فَقَامَ سَعْدُ بْنُ مُعَاذٍ الأَنْصَارِيُّ فَقَالَ أَنَا أَعْذِرُكَ مِنْهُ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنْ كَانَ مِنَ الأَوْسِ ضَرَبْنَا عُنُقَهُ وَإِنْ كَانَ مِنْ إِخْوَانِنَا الْخَزْرَجِ أَمَرْتَنَا فَفَعَلْنَا أَمْرَكَ - قَالَتْ - فَقَامَ سَعْدُ بْنُ عُبَادَةَ وَهُوَ سَيِّدُ الْخَزْرَجِ وَكَانَ رَجُلاً صَالِحًا وَلَكِنِ اجْتَهَلَتْهُ الْحَمِيَّةُ فَقَالَ لِسَعْدِ بْنِ مُعَاذٍ كَذَبْتَ لَعَمْرُ اللَّهِ لاَ تَقْتُلُهُ وَلاَ تَقْدِرُ عَلَى قَتْلِهِ . فَقَامَ أُسَيْدُ بْنُ حُضَيْرٍ وَهُوَ ابْنُ عَمِّ سَعْدِ بْنِ مُعَاذٍ فَقَالَ لِسَعْدِ بْنِ عُبَادَةَ كَذَبْتَ لَعَمْرُ اللَّهِ لَنَقْتُلَنَّهُ فَإِنَّكَ مُنَافِقٌ تُجَادِلُ عَنِ الْمُنَافِقِينَ فَثَارَ الْحَيَّانِ الأَوْسُ وَالْخَزْرَجُ حَتَّى هَمُّوا أَنْ يَقْتَتِلُوا وَرَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَائِمٌ عَلَى الْمِنْبَرِ فَلَمْ يَزَلْ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يُخَفِّضُهُمْ حَتَّى سَكَتُوا وَسَكَتَ - قَالَتْ - وَبَكَيْتُ يَوْمِي ذَلِكَ لاَ يَرْقَأُ لِي دَمْعٌ وَلاَ أَكْتَحِلُ بِنَوْمٍ ثُمَّ بَكَيْتُ لَيْلَتِي الْمُقْبِلَةَ لاَ يَرْقَأُ لِي دَمْعٌ وَلاَ أَكْتَحِلُ بِنَوْمٍ وَأَبَوَاىَ يَظُنَّانِ أَنَّ الْبُكَاءَ فَالِقٌ كَبِدِي فَبَيْنَمَا هُمَا جَالِسَانِ عِنْدِي وَأَنَا أَبْكِي اسْتَأْذَنَتْ عَلَىَّ امْرَأَةٌ مِنَ الأَنْصَارِ فَأَذِنْتُ لَهَا فَجَلَسَتْ تَبْكِي - قَالَتْ - فَبَيْنَا نَحْنُ عَلَى ذَلِكَ دَخَلَ عَلَيْنَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَسَلَّمَ ثُمَّ جَلَسَ - قَالَتْ - وَلَمْ يَجْلِسْ عِنْدِي مُنْذُ قِيلَ لِي مَا قِيلَ وَقَدْ لَبِثَ شَهْرًا لاَ يُوحَى إِلَيْهِ فِي شَأْنِي بِشَىْءٍ - قَالَتْ - فَتَشَهَّدَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم حِينَ جَلَسَ ثُمَّ قَالَ " أَمَّا بَعْدُ يَا عَائِشَةُ فَإِنَّهُ قَدْ بَلَغَنِي عَنْكِ كَذَا وَكَذَا فَإِنْ كُنْتِ بَرِيئَةً فَسَيُبَرِّئُكِ اللَّهُ وَإِنْ كُنْتِ أَلْمَمْتِ بِذَنْبٍ فَاسْتَغْفِرِي اللَّهَ وَتُوبِي إِلَيْهِ فَإِنَّ الْعَبْدَ إِذَا اعْتَرَفَ بِذَنْبٍ ثُمَّ تَابَ تَابَ اللَّهُ عَلَيْهِ " . قَالَتْ فَلَمَّا قَضَى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مَقَالَتَهُ قَلَصَ دَمْعِي حَتَّى مَا أُحِسُّ مِنْهُ قَطْرَةً فَقُلْتُ لأَبِي أَجِبْ عَنِّي رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِيمَا قَالَ . فَقَالَ وَاللَّهِ مَا أَدْرِي مَا أَقُولُ لِرَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقُلْتُ لأُمِيِّ أَجِيبِي عَنِّي رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَتْ وَاللَّهِ مَا أَدْرِي مَا أَقُولُ لِرَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقُلْتُ وَأَنَا جَارِيَةٌ حَدِيثَةُ السِّنِّ لاَ أَقْرَأُ كَثِيرًا مِنَ الْقُرْآنِ إِنِّي وَاللَّهِ لَقَدْ عَرَفْتُ أَنَّكُمْ قَدْ سَمِعْتُمْ بِهَذَا حَتَّى اسْتَقَرَّ فِي نُفُوسِكُمْ وَصَدَّقْتُمْ بِهِ فَإِنْ قُلْتُ لَكُمْ إِنِّي بَرِيئَةٌ وَاللَّهُ يَعْلَمُ أَنِّي بَرِيئَةٌ لاَ تُصَدِّقُونِي بِذَلِكَ وَلَئِنِ اعْتَرَفْتُ لَكُمْ بِأَمْرٍ وَاللَّهُ يَعْلَمُ أَنِّي بَرِيئَةٌ لَتُصَدِّقُونَنِي وَإِنِّي وَاللَّهِ مَا أَجِدُ لِي وَلَكُمْ مَثَلاً إِلاَّ كَمَا قَالَ أَبُو يُوسُفَ فَصَبْرٌ جَمِيلٌ وَاللَّهُ الْمُسْتَعَانُ عَلَى مَا تَصِفُونَ . قَالَتْ ثُمَّ تَحَوَّلْتُ فَاضْطَجَعْتُ عَلَى فِرَاشِي - قَالَتْ - وَأَنَا وَاللَّهِ حِينَئِذٍ أَعْلَمُ أَنِّي بَرِيئَةٌ وَأَنَّ اللَّهَ مُبَرِّئِي بِبَرَاءَتِي وَلَكِنْ وَاللَّهِ مَا كُنْتُ أَظُنُّ أَنْ يُنْزَلَ فِي شَأْنِي وَحْىٌ يُتْلَى وَلَشَأْنِي كَانَ أَحْقَرَ فِي نَفْسِي مِنْ أَنْ يَتَكَلَّمَ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ فِيَّ بِأَمْرٍ يُتْلَى وَلَكِنِّي كُنْتُ أَرْجُو أَنْ يَرَى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي النَّوْمِ رُؤْيَا يُبَرِّئُنِي اللَّهُ بِهَا قَالَتْ فَوَاللَّهِ مَا رَامَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مَجْلِسَهُ وَلاَ خَرَجَ مِنْ أَهْلِ الْبَيْتِ أَحَدٌ حَتَّى أَنْزَلَ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ عَلَى نَبِيِّهِ صلى الله عليه وسلم فَأَخَذَهُ مَا كَانَ يَأْخُذُهُ مِنَ الْبُرَحَاءِ عِنْدَ الْوَحْىِ حَتَّى إِنَّهُ لَيَتَحَدَّرُ مِنْهُ مِثْلُ الْجُمَانِ مِنَ الْعَرَقِ فِي الْيَوْمِ الشَّاتِ مِنْ ثِقَلِ الْقَوْلِ الَّذِي أُنْزِلَ عَلَيْهِ - قَالَتْ - فَلَمَّا سُرِّيَ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَهُوَ يَضْحَكُ فَكَانَ أَوَّلَ كَلِمَةٍ تَكَلَّمَ بِهَا أَنْ قَالَ " أَبْشِرِي يَا عَائِشَةُ أَمَّا اللَّهُ فَقَدْ بَرَّأَكِ " . فَقَالَتْ لِي أُمِّي قُومِي إِلَيْهِ فَقُلْتُ وَاللَّهِ لاَ أَقُومُ إِلَيْهِ وَلاَ أَحْمَدُ إِلاَّ اللَّهَ هُوَ الَّذِي أَنْزَلَ بَرَاءَتِي - قَالَتْ - فَأَنْزَلَ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ ( إِنَّ الَّذِينَ جَاءُوا بِالإِفْكِ عُصْبَةٌ مِنْكُمْ) عَشْرَ آيَاتٍ فَأَنْزَلَ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ هَؤُلاَءِ الآيَاتِ بَرَاءَتِي - قَالَتْ - فَقَالَ أَبُو بَكْرٍ وَكَانَ يُنْفِقُ عَلَى مِسْطَحٍ لِقَرَابَتِهِ مِنْهُ وَفَقْرِهِ وَاللَّهِ لاَ أُنْفِقُ عَلَيْهِ شَيْئًا أَبَدًا بَعْدَ الَّذِي قَالَ لِعَائِشَةَ . فَأَنْزَلَ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ ( وَلاَ يَأْتَلِ أُولُو الْفَضْلِ مِنْكُمْ وَالسَّعَةِ أَنْ يُؤْتُوا أُولِي الْقُرْبَى) إِلَى قَوْلِهِ ( أَلاَ تُحِبُّونَ أَنْ يَغْفِرَ اللَّهُ لَكُمْ) قَالَ حِبَّانُ بْنُ مُوسَى قَالَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ الْمُبَارَكِ هَذِهِ أَرْجَى آيَةٍ فِي كِتَابِ اللَّهِ . فَقَالَ أَبُو بَكْرٍ وَاللَّهِ إِنِّي لأُحِبُّ أَنْ يَغْفِرَ اللَّهُ لِي . فَرَجَعَ إِلَى مِسْطَحٍ النَّفَقَةَ الَّتِي كَانَ يُنْفِقُ عَلَيْهِ وَقَالَ لاَ أَنْزِعُهَا مِنْهُ أَبَدًا . قَالَتْ عَائِشَةُ وَكَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم سَأَلَ زَيْنَبَ بِنْتَ جَحْشٍ زَوْجَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم عَنْ أَمْرِي " مَا عَلِمْتِ أَوْ مَا رَأَيْتِ " . فَقَالَتْ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَحْمِي سَمْعِي وَبَصَرِي وَاللَّهِ مَا عَلِمْتُ إِلاَّ خَيْرًا . قَالَتْ عَائِشَةُ وَهِيَ الَّتِي كَانَتْ تُسَامِينِي مِنْ أَزْوَاجِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَعَصَمَهَا اللَّهُ بِالْوَرَعِ وَطَفِقَتْ أُخْتُهَا حَمْنَةُ بِنْتُ جَحْشٍ تُحَارِبُ لَهَا فَهَلَكَتْ فِيمَنْ هَلَكَ . قَالَ الزُّهْرِيُّ فَهَذَا مَا انْتَهَى إِلَيْنَا مِنْ أَمْرِ هَؤُلاَءِ الرَّهْطِ . وَقَالَ فِي حَدِيثِ يُونُسَ احْتَمَلَتْهُ الْحَمِيَّةُ .

Narrator: বিবিধ

৬৭৬৩। হিব্বান ইবনে মুসা, ইসহাক ইবনে ইবরাহীম আল-হানযালী, মুহাম্মাদ ইবনে রাফি ও আব্দ ইবনে হুমায়দ (রাহঃ) সাঈদ ইবনে মুসায়্যাব, উরওয়া ইবনে যুবাইর, আলকামা ইবনে ওয়াক্কাস এবং উবাইদুল্লাহ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে উতবা ইবনে মাসউদ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তাঁরা সকলেই আয়িশা (রাযিঃ) এর ঐ ঘটনাটি বর্ণনা করেছেন, অপবাদ রটনাকারীরা তাঁর ব্যাপারে যে অপবাদ রটনা করে বলেছিল। তারপর রটানো অপবাদ থেকে আল্লাহ তাকে নির্দোষ ঘোষণা করলেন। বর্ণনাকারী যুহরী (রাহঃ) বলেন, তারা সকলেই আমার নিকট হাদীসের এক এক অংশ বর্ণনা করেছেন। তাঁদের কেউ কেউ অন্যের তুলনায় উক্ত হাদীসের সুদৃঢ় হাফিয ছিলেন এবং তা উত্তমরূপে বর্ণনা করতে সক্ষম ছিলেন। তারা আমার নিকট যা বর্ণনা করেছেন, তাদের প্রত্যেকের বর্ণনা আমি যথাযথভাবে মুখস্থ করে রেখেছি। একের হাদীস অন্যের হাদীসকে সত্যায়ন করে।

তারা সকলেই আলোচনা করেছেন যে, নবী (ﷺ) এর সহধর্মিনা আয়িশা সিদ্দীকা (রাযিঃ) বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যখন সফরে যাওয়ার ইচ্ছা করতেন তখন তিনি তাঁর স্ত্রীদের মাঝে লটারী দিতেন। যার নাম আসত তাকেই তিনি তাঁর সঙ্গে সফরে নিতেন। আয়িশা (রাযিঃ) বলেন, এক যুদ্ধ-সফরের ব্যাপারে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) লটারী দিলেন এবং এতে আমার নাম উঠল। আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সঙ্গে সে যুদ্ধে অংশগ্রহণ করি। পর্দার হুকুম নাযিল হবার পর এ যুদ্ধে আমি অংশগ্রহণ করেছিলাম। সওয়ারী অবস্থায় আমি হাওদার ভিতরে থাকতাম এবং অবতরণ কালেও হাওদার ভিতর থাকতাম।

পরে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যুদ্ধ থেকে অব্যহতির পর প্রত্যাবর্তন করে মদীনার নিকটবর্তী স্থানে পৌছার পর এক রাত্রে তিনি রওয়ানা হবার নির্দেশ দিলেন। লোকজন যখন রওয়ানা হবার ব্যাপারে ঘোষণা দিল, তখন আমি পথ চলতে লাগলাম; এমনকি আমি সৈন্যদেরকে ছাড়িয়ে চলে গেলাম। এরপর আমি প্রাকৃতিক প্রয়োজন (প্রসাব পায়খানা) সেরে সওয়ারীর নিকট এলাম এবং স্বীয় বুকে হাত দিয়ে দেখলাম, যিফারী পুতির তৈরী আমার হারটি হারিয়ে গিয়েছে। তাই পূর্বস্থানে ফিরে গিয়ে আমি আমার হারটি তালাশ করলাম। এতে আমার বিলম্ব হয়ে গেল। এদিকে হাওদা বহনকারী লোকজন এসে হাওদা উঠিয়ে আমায় বহনকারী উটের উপর রেখে দিল। তারা মনে করেছিল আমি হাওদার ভিতরেই আছি।

আয়িশা (রাযিঃ) বলেন, তখনকার মহিলারা হালকা-পাতলা গড়নেরই হতো। না অধিক ভারী, না অধিক মোটা। কারণ তারা কম খাবার খেত। তাই উত্তোলনকালে হাওদার ওজন তাদের নিকট সাধারণ অবস্থা থেকে ব্যতিক্রম মনে হয়নি। অধিকন্তু তখন আমি অল্প বয়স্কা ছিলাম। অবশেষে লোকেরা উট দাঁড় করিয়ে পথ চলতে আরম্ভ করে দিল। সৈন্যদের রওয়ানা হয়ে যাবার পর আমি আমার হার পেলাম। তারপর আমি পূর্ববর্তী স্থানে ফিরে এসে দেখলাম, তথায় কোন জন-মানুষের আওয়াজ নেই আর সাড়া দেওয়ার মত কোন ব্যক্তিও তথায় নেই। তখন আমি ইচ্ছা করলাম, আমি যেখানে বসা ছিলাম সেখনেই বসে থাকব এবং আমি ভাবলাম, লোকেরা যখন খুঁজে আমাকে পাবে না তখন অবশ্যই তারা আমার সন্ধানে আমার নিকট ফিরে আসবে।

আয়িশা (রাযিঃ) বলেন, আমি আমার জায়গায়, উপবিষ্ট অবস্থায় আমার ঘুম এল আর আমি ঘুমিয়ে পড়লাম। সাফওয়ান ইবনে মুয়াত্তাল আস-সুলামী আয যাকওয়ানী (রাযিঃ) নামক এক ব্যক্তি ছিল। (বিশেষ দায়িত্ব পালনে সে) সৈন্যদের পেছনে শেষ রাত্রে সে আগের জায়গায়ই রয়ে গিয়েছিল। পরে সে রওয়ানা হয়ে প্রত্যুষে আমার স্থানে পৌছল। দূর থেকে সে একটি মানব দেহ দেখতে পেয়ে আমার নিকট এলেন এবং আমাকে দেখে সে চিনে ফেলল। কেননা পর্দার হুকুম নাযিল হওযার পূর্বে সে আমাকে দেখেছিল। আমাকে চিনে সে “ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন” পড়লে তাঁর ইন্নালিল্লাহ এর আওয়াজে আমার ঘুম ভেঙ্গে গেল। তৎক্ষণাৎ আমি আমার চাদর দিয়ে স্বীয় মুখমণ্ডল আবৃত করে নিলাম। আল্লাহর কসম! সে আমার সাথে কোন কথা বলেনি এবং “ইন্না লিল্লাহ” ......... পাঠ ছাড়া তার কোন কথাই আমি শুনিনি।

তারপর সে তার উট বসিয়ে স্বীয় হস্ত বিছিয়ে দিলে আমি তার উটের পৃষ্ঠে উঠলাম। আর সে পায়ে হেঁটে আমাকে সহ উট হাকিয়ে চলল। যেতে যেতে আমরা সৈন্য দলের নিকট গিয়ে পৌছলাম। তখন তারা দ্বিপ্রহরের প্রচণ্ড রোদের মাঝে সওয়ারী থেকে অবতরণ করে ভূমিতে অবস্থান করছিল। আয়িশা (রাযিঃ) বলেন, আমার বিষয়ে যারা ধ্বংস হবার তারা ধ্বংস হয়ে গেল। এ ব্যাপারে প্রধান ভূমিকা গ্রহণ করেছিল আব্দুল্লাহ ইবনে উবাই ইবনে সাহল। অবশেষে আমরা মদীনায় পৌছলাম। মদীনায় পৌছার পর এক মাস পর্যন্ত আমি অসুস্থ ছিলাম। এদিকে মদীনার লোকজন অপবাদ রটনাকারীদের কথা গভীরভাবে পর্যালোচনা করে দেখতে লাগল। এ সম্পর্কে আমি কিছুই জানতে পারিনি। তবে এ রুগ্ন অবস্থায় রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর পক্ষ থেকে পূর্বের ন্যায় স্নেহ না পাওয়ার ফলে আমার মনে সন্দেহের উদ্রেক হয়েছিল।

রাসূলুল্লাহ (ﷺ) গৃহে প্রবেশ করে কেবল সালাম করে বলতেন, তোমাদের সে (আয়িশা) কেমন আছে? এ আচরণ আমাকে সন্দিহান করে তুলল। আমি সে (মন্দ) বিষয়টি সম্বন্ধে জানতাম না। তারপর রোগ মুক্ত হবার পর আমি বের হলাম। আমার সাথে মিসতাহ এর আম্মাও ’মানাসি’ প্রান্তরের দিকে বের হল। সেটি ছিল আমাদের শৌচাগার। আমরা রাত্রে বের হতাম এবং রাত্রেই চলে আসতাম। এ হল আমাদের ঘরের কাছে শৌচাগার নির্মাণের পূর্ববর্তী সময়ের ঘটনা। তখন আগের দিনের আরব লোকদের মত ময়দানে গিয়ে আমরা শৌচকার্য সারতাম। আর আমরা ঘরের কাছে শৌচাগার নির্মাণ করা অপছন্দ করতাম।

আমি এবং মিসতাহ-এর আম্মা যেতে লাগলাম। সে ছিল আবু রুহম ইবনে মুত্তালিব ইবনে আব্দ মানাফের কন্যা এবং তার মা ছিলেন আবু বকর সিদ্দীক (রাযিঃ) এর খালা সাখর ইবনে আমির এর কন্যা। তার সন্তানের নাম ছিল মিসতাহ ইবনে উসাসা ইবনে আব্বাদ ইবনে মুত্তালিব। মোটকথা, আমি ও বিনতে আবু রুহম (মিসতাহ এর আম্মা।) নিজ নিজ শৌচকার্য সেরে বাড়ীর দিকে রওয়ানা হলাম। এমন সময় মিসতাহ এর আম্মা নিজ চাঁদরে পেঁচ খেয়ে হোঁচট খেয়ে মাটিতে পড়ে যায়। আর সে বলে উঠে মিসতাহ ধ্বংস হোক। তখন আমি বললাম, তুমি অন্যায় কথা বলেছ। তুমি কি বদর যুদ্ধে অংশ গ্রহণকারী ব্যক্তিকে মন্দ বলছ? সে বলল, হে অবলা নারী! মিসতাহ কি বলেছে তুমি কি শোননি? আমি বললাম, সে কি বলেছে?

আয়িশা (রাযিঃ) বলেন, তারপর সে অপবাদ রটনাকারীরা কি বলেছে, সে সম্পর্কে আমাকে সংবাদ দিল। এতে আমার রোগ কয়েক গুণ বেড়ে গেল। আমি যখন বাড়ীতে ফিরে এলাম, তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমার গৃহে প্রবেশ করে আমাকে সালাম করলেন এবং বললেন, সে কেমন আছে? তখন আমি তাকে জিজ্ঞাসা করলাম, আপনি কি আমাকে আমার বাবা-মায়ের বাড়ীতে যাওয়ার অনুমতি দিবেন? আয়িশা (রাযিঃ) বলেন, তখন আমি আমার বাবা-মায়ের বাড়ী গিয়ে এ বিষয়টির অনুসন্ধান করার ইচ্ছা করেছিলাম। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাকে অনুমতি দিলেন। আমি আমার মাতা-পিতার নিকট চলে এলাম।

তারপর আমি আমার আম্মাকে বললাম, লোকেরা কী কথা বলছে? তিনি বললেন, মা! (এদিকে কান দিয়ো না এবং) নিজের জন্য সহজভাবে গ্রহণ কর (শান্ত থাক)। আল্লাহর কসম! কারো যদি কোন সুন্দরী স্ত্রী থাকে ও সে তাকে ভালবাসে আর ঐ মহিলার কোন সতীনও থাকে তবে সতীনরা তার দোষচর্চা করবে না এরূপ খুব কমই হয়। আয়িশা (রাযিঃ) বলেন, এ কথা শুনে আমি বললাম, সুবহানাল্লাহ! লোকেরা এ কথা রটাতে আরম্ভ করেছে? তারপর কেঁদে কেঁদে আমি সারা রাত্র কাটালাম। এমনকি ভোরেও আমার অশ্রু বন্ধ হলো না। আমি ঘুমোতে পারিনি। সকালেও আমি কাঁদছিলাম। এদিকে আমাকে তালাক দেয়ার ব্যাপারে পরামর্শ করার জন্য রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আলী ইবনে আবু তালিব (রাযিঃ) এবং উসামা ইবনে যায়দ (রাযিঃ) কে ডাকলেন। তখন ওহী স্থগিত ছিল।

তিনি বলেন, উসামা ইবনে যায়দ (রাযিঃ) রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর বিবিদের সতীত্ব এবং তাদের সাথে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর ভালবাসা সম্পর্কে যা জানতেন সে দিকেই তিনি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে ইঙ্গিত দিলেন। তিনি বললেন, ইয়া রাসুলাল্লাহ! আয়িশা আপনার স্ত্রী, ভাল ব্যতীত তাঁর সম্বন্ধে কোন কথাই আমাদের জানা নেই। আর আলী ইবনে আবু তালিব (রাযিঃ) বললেন, আল্লাহ তো আপনার উপর কোন সংকীর্ণতা চাপিয়ে দেননি। সর্বোপরি আয়িশা (রাযিঃ) ছাড়াও বহু স্ত্রীলোক আছে। আপনি যদি দাসী (বারীরা) কে জিজ্ঞাসা করেন তবে সে সত্য বলে দিবে।

আয়িশা (রাযিঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বারীরা (রাযিঃ) কে ডেকে বললেন, হে বারীরা! সন্দেহমূলক কোন কাজে আয়িশাকে তুমি কখনো দেখেছ কি? বারীরা (রাযিঃ) তাঁকে বললেন, ঐ সত্তার শপথ! যিনি আপনাকে সত্য পয়গাম্বর হিসাবে প্রেরণ করেছেন, আমি যদি তার মাঝে কোন কিছু দেখতাম তবে অবশ্যই এর দোষ আমি বর্ণনা করতাম। তবে সে একজন অল্প বয়স্কা মেয়ে। পরিবারের জন্য আটার খামীর রেখেই সে ঘুমিয়ে পড়তো আর বকরী এসে তা খেয়ে ফেলতো। এ দোষ ব্যতীত অধিক কোন দোষ আয়িশার মধ্যে আছে বলে আমার জানা নেই।

তিনি বলেন, অতঃপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) মিম্বরে দাঁড়িয়ে বললেন, আব্দুল্লাহ ইবনে উবাই ইবনে সালূল এর আচরণের ব্যাপারে কে আমাকে সহায়তা করবে এবং শাস্তি দিলে কে আমাকে সমর্থন করবে......। তিনি মিম্বরে দাঁড়িয়ে বললেন, হে মুসলিম সম্প্রদায়! আমার পরিবার সম্পর্কে যে ব্যক্তির পক্ষ থেকে কষ্টদায়ক কথা পৌঁছেছে তার প্রতিশোধ গ্রহণ করার ব্যপারে কে আমাকে সহায়তা (সহায়তা) করবে? আমি তো (তদন্ত করে) আমার পরিবার সম্পর্কে ভাল ব্যতীত অন্য কোন কথা জানি নি এবং যে ব্যক্তি সম্পর্কে তারা অপবাদ রটনা করছে তাকেও আমি নেককার বলেই জানি। সে তো আমার সঙ্গ ব্যতীত আমার গৃহে কখনো প্রবেশ করতো না।

এ কথা শুনে সা’দ ইবনে মু’আয আনসারী (রাযিঃ) দাঁড়ালেন এবং বললেন, ইয়া রাসুলাল্লাহ! আমি আপনার পক্ষ থেকে প্রতিশোধ গ্রহণ করব। অপবাদ রটনাকারী ব্যক্তি যদি আউস গোত্রের হয় তবে আমি তার গর্দান উড়িয়ে দেব। আর যদি সে আমাদের ভ্রাতা খাযরাজ গোত্রের হয় তবে আপনি আমাদের নির্দেশ দিন। আমরা আপনার নির্দেশ পালন করব। আয়িশা (রাযিঃ) বলেন, তখন খাযরাজ সর্দার সা’দ ইবনে উবাদা (রাযিঃ) দাঁড়ালেন। তিনি একজন নেককার লোক ছিলেন। তবে তখন বংশীয় অহমিকা তাকে ক্রোধে আচ্ছন্ন করে ফেলেছিল।

তাই তিনি সা’দ ইবনে মু’আয কে বললেন, আল্লাহর কসম! তুমি মিথ্যা বলেছ। তুমি তাকে হত্যা করো না। তুমি তাকে হত্যা করতে পারবেনা। একথা শুনে সা’দ ইবনে মুআয (রাযিঃ) এর চাচাতো ভাই উসায়দ ইবনে হুযায়র (রাযিঃ) দাঁড়িয়ে সা’দ ইবনে উবাদা (রাযিঃ) কে বললেন, তুমি মিথ্যা বলছো। আল্লাহর কসম! আমরা অবশ্যই তাকে হত্যা করব। অবশ্যই তুমি মুনাফিক। তাই মুনাফিকদের পক্ষে কথা বলছো। এ সময় আউস ও খাযরাজ উভয় গোত্রের লোকেরা পরস্পর উত্তেজিত হয়ে উঠল। এমনকি তারা যুদ্ধের সংকল্প করে বসলো। অথচ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তখনও তাদের সামনে মিম্বরে দাঁড়ানো অবস্থায় ছিলেন।

রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাঁদেরকে থামিয়ে শান্ত করলেন। তারা চুপ হলো এবং তিনি নিজেও আর কোন কথা বললেন না। আয়িশা (রাযিঃ) বলেন, সেদিন আমি সারাক্ষণ কেঁদে কাটালাম। অবিরত ধারায় আমার অশ্রূপাত হচ্ছিল। রাত্রে একটুও আমার ঘুম আসল না। অতঃপর রাতেও আমি কেঁদে কাটালাম। এরাতেও অবিরত আমার অশ্রূপাত হল এবং একটুকুও ঘুমাতে পারলাম না। এ দেখে আমার আব্বা-আম্মা মনে করছিলেন যে, কান্নায় আমার হৃদপিন্ড বিদীর্ন হয়ে যাবে। আমি ক্রন্দনরত ছিলাম, আমার আব্বা-আম্মা আমার পাশে উপবিষ্ট ছিলেন। এমতাবস্থায় একজন আনসার স্ত্রীলোক আমার নিকট আসার অনুমতি চাইলে আমি তাকে অনুমতি দিলাম। সে এসে বসে কাঁদতে লাগল।

আয়িশা (রাযিঃ) বলেন, আমাদের যখন এ অবস্থা এমন সময় রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদের নিকট প্রবেশ করলেন এবং আমাদেরকে সালাম করে বসলেন। আয়িশা (রাযিঃ) বলেন, অথচ আমার সম্বন্ধে যা বলাবলি হচ্ছে তারপর থেকে তিনি আমার কাছে বসেননি। এভাবে এক মাস চলে গেল। আমার বিষয়ে তার নিকট কোন ওহী এল না। আয়িশা (রাযিঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বসে তাশাহ্‌হুদ পাঠ করলেন। তারপর বললেন, যা হোক হে আয়িশা! তোমার সম্পর্কে আমার নিকট এমন এমন সংবাদ পৌছেছে। যদি তুমি এ ব্যাপারে নিষ্পাপ এবং পবিত্র হও তবে আল্লাহ তাআলা তোমার পবিত্রতার ব্যাপারে ঘোষণা করবেন। আর যদি তোমার দ্বারা কোন গুনাহ হয়ে থাকে তবে তুমি আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা এবং তাওবা কর। কেননা বান্দা গুনাহ স্বীকার করে তাওবা করলে আল্লাহ তার তাওবা কবুল করেন।

আয়িশা (রাযিঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যখন তার কথা শেষ করলেন, তখন আমার অশ্রূপাত বন্ধ হয়ে গেল। এমনকি এরপর আর এক ফোটা অশ্রুও আমি অনুভব করলাম না। এরপর আমি আমার পিতাকে বললাম, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যা বললেন, আমার পক্ষ থেকে তার জবাব দিন। তিনি বললেন, আল্লাহর কসম! রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কি জবাব দিব, আমি তা জানি না। তারপর আমি আমার আম্মাকে বললাম, আমার পক্ষ থেকে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে জবাব দিন। তিনি বললেন, আল্লাহর কসম! রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে কি জবাব দিব, আমি তা জানি না। আমি বললাম, তখন আমি ছিলাম অল্প বয়স্কা কিশোরী। কুরআন শরীফও খুব বেশী পড়িনি।

এ অবস্থা দেখে আমিই তখন বললাম, আল্লাহর কসম! আমি জানি, আপনারা এ অপবাদের কথা শুনেছেন, মনে তা গেঁখে গিয়েছে এবং আপনারা তা বিশ্বাস করে নিয়েছেন। সুতরাং এখন যদি আমি বলি, আমি নিষ্কলুষ তবে এ বিষয়ে আপনারা আমাকে বিশ্বাস করবেন না। আর যদি আমি স্বীকার করি, যে সম্পর্কে আল্লাহ জানেন যে, আমি নিস্পাপ, তবে আপনারা তা বিশ্বাস করবেন। আল্লাহর কসম! আমার ও আপনাদের জন্য (নবী) ইউসুফ (আলাইহিস সালাম) এর পিতার কথার উদাহরণ ব্যতীত অন্য কোন উদাহরণ আমি খুজে পাচ্ছি না। তিনি বলেছিলেন, “সুতরাং পূর্ণ ধৈর্যই শ্রেয়, তোমরা যা বলছো সে বিষয়ে একমাত্র আল্লাহই আমার আশ্রয়স্থল।” এ কথা বলে আমি মুখ ফিরিয়ে নিলাম এবং বিছানায় শুয়ে পড়লাম।

আয়িশা (রাযিঃ) বলেন, আল্লাহর কসম! আল্লাহ তো ঐ মুহুর্তেও জানেন যে, আমি অবশ্যই নিষ্পাপ এবং অবশ্যই আল্লাহ তাআলা আমার পবিত্রতা প্রকাশ করে দিবেন। তবে আল্লাহর কসম! আমি ধারণা করিনি যে, আল্লাহ আমার এ বিষয়ে ওহী নাযিল করবেন, যা পঠিত হবে। কেননা আল্লাহ কর্তৃক আমার সম্বন্ধে পঠিত হবার মত কোন আয়াত নাযিল করবেন আমার নিজের কাছে আমার অবস্থা এর চেয়ে তুচ্ছতর ছিল। তবে আমি আশা করেছিলাম যে, স্বপ্নের মাধ্যমে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে এমন কোন বিষয় দেখানো হবে যার দ্বারা আল্লাহ তাআলা আমার পবিত্রতা জানিয়ে দিবেন।

আয়িশা সিদ্দীকা (রাযিঃ) বলেন, আল্লাহর কসম! রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তখনো তাঁর স্থান ছেড়ে উঠেননি এবং বাড়ীর লোকও কেউ বাইরে যায়নি। এ সময় আল্লাহ তাআলা তাঁর নবীর উপর ওহী নাযিল করেন। ওহী নাযিলের সময় নবী (ﷺ) এর উপর যে কষ্টকর অবস্থা দেখা দিত সে অবস্থা দেখা দিলো। এমনকি তার প্রতি নাযিলকৃত বাণীর ওজনের কারণে প্রচণ্ড শীতের দিনেও তার দেহ থেকে মুক্তার মত বিন্দু বিন্দু ঘাম গড়িয়ে পড়তো।

আয়িশা (রাযিঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) থেকে এ কষ্টকর অবস্থা চলে গেলে তিনি হাসতে লাগলেন এবং প্রথমে যে কথাটি বললেন তা হলোঃ হে আয়িশা! সুসংবাদ গ্রহণ কর। আল্লাহ তোমার পবিত্রতা ঘোষণা করেছেন। এ কথা শুনে আমার আম্মা আমাকে বললেন, তুমি উঠে তার (রাসূলুল্লাহ (ﷺ)) এর কাছে যাও। আমি বললাম, আমি উঠে তার কাছে যাব না এবং আল্লাহ ছাড়া আর কারো প্রশংসা করবো না। তিনিই আমার পবিত্রতা সম্পর্কিত আয়াত নাযিল করেছেন। আয়িশা (রাযিঃ) বলেন, আল্লাহ তাআলা আমার পবিত্রতা সম্বন্ধে দশটি আয়াত নাযিল করেছেন।

″যারা অপবাদ রটনা করেছে তারা তো তোমাদেরই একটি দল একে তোমরা তোমাদের জন্য অনিষ্টকর মনে করোনা; বরং এ তো তোমাদের জন্য কল্যাণকর।″ (সূরা নুরঃ ১১-২১) ...... আয়িশা (রাযিঃ) বলেন, আত্মীয় বন্ধন ও দারিদ্র্যের কারণে আবু বকর সিদ্দীক (রাযিঃ) মিসতাহকে আর্থিক সহযোগিতা করতেন। কিন্তু আয়িশা সম্পর্কে সে যা বলেছিল সে কারণে আবু বকর (রাযিঃ) কসম করে বললেন, আল্লাহর কসম! আমি আর কখনো মিসতাহকে আর্থিক সাহায্য দিব না। তখন আল্লাহ তাআলা নাযিল করলেনঃ “তোমাদের মধ্যে যারা ঐশ্বর্য ও প্রাচুর্যের অধিকারী তারা যেন শপথ গ্রহণ না করে যে, তারা দান করবে না আত্মীয় স্বজনকে ......... ... ......... তোমরা কি চাওনা যে, আল্লাহ তোমাদের ক্ষমা করেন" পর্যন্ত।

হিব্বান ইবনে মুসা (রাহঃ) বলেন, আব্দুল্লাহ ইবনে মুবারক (রাহঃ) বলেছেন, আল কুরআনের মাঝে এ আয়াত বড়ই আশাব্যঞ্জক। সুতরাং আবু বকর সিদ্দীক (রাযিঃ) বললেন, আল্লাহর কসম! আমি অবশ্যই পছন্দ করি যে, আল্লাহ আমাকে ক্ষমা করে দিন। এরপর তিনি মিসতাহ (রাযিঃ) এর জন্য যে পরিমাণ অর্থ ব্যয় করতেন তা পূনরায় ব্যয় করতে আরম্ভ করলেন। আর বললেন, তাকে আমি এ অর্থ দেওয়া কখনো বন্ধ করবো না।

আয়িশা (রাযিঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাঁর স্ত্রী যয়নাব বিনতে জাহশ (রাযিঃ) কে আমার বিষয়ে জিজ্ঞাসা করেছিলেন, তিনি যয়নাবকে বলেছিলেন, তুমি আয়িশা সম্পর্কে কি জানো বা দেখেছো? উত্তরে তিনি বললেন, হে আল্লাহর রাসুল! আমি আমার কান ও চোখকে রক্ষা করেছি। আল্লাহর কসম! তাঁর সম্পর্কে আমি ভাল ছাড়া কিছুই জানিনা। আয়িশা (রাযিঃ) বলেন, নবী (ﷺ) এর সহধর্মিনাদের মধ্যে তিনি সমকক্ষ ও প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন। কিন্তু আল্লাহ ভীতির দ্বারা আল্লাহ তাকে রক্ষা করেছেন। অথচ তার বোন হামানা বিনতে জাহশ তাঁর পক্ষ অবলম্বন করে বিবাদ-বিতণ্ডা করে, আর এভাবে সে ধ্বংসপ্রাপ্তদের সাথে ধ্বংস হয়ে যায়।

রাবী ইবনে শিহাব (রাহঃ) বলেন, ঐ লোকদের কাছ থেকে আমার নিকট যা পৌছেছে তা এই হাদীস। তবে রাবী ইউনূসের হাদীসের মধ্যে اجْتَملَتْهُ এর স্থলে احْتَمَلَتْهُ রয়েছে, গোত্রীয় অহমিকা তাকে উত্তেজিত করে। ,
6764

وَحَدَّثَنِي أَبُو الرَّبِيعِ الْعَتَكِيُّ، حَدَّثَنَا فُلَيْحُ بْنُ سُلَيْمَانَ، ح وَحَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ عَلِيٍّ، الْحُلْوَانِيُّ وَعَبْدُ بْنُ حُمَيْدٍ قَالاَ حَدَّثَنَا يَعْقُوبُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ بْنِ سَعْدٍ، حَدَّثَنَا أَبِي، عَنْ صَالِحِ، بْنِ كَيْسَانَ كِلاَهُمَا عَنِ الزُّهْرِيِّ، . بِمِثْلِ حَدِيثِ يُونُسَ وَمَعْمَرٍ بِإِسْنَادِهِمَا . وَفِي حَدِيثِ فُلَيْحٍ اجْتَهَلَتْهُ الْحَمِيَّةُ كَمَا قَالَ مَعْمَرٌ . وَفِي حَدِيثِ صَالِحٍ احْتَمَلَتْهُ الْحَمِيَّةُ . كَقَوْلِ يُونُسَ وَزَادَ فِي حَدِيثِ صَالِحٍ قَالَ عُرْوَةُ كَانَتْ عَائِشَةُ تَكْرَهُ أَنْ يُسَبَّ عِنْدَهَا حَسَّانُ وَتَقُولُ فَإِنَّهُ قَالَ فَإِنَّ أَبِي وَوَالِدَهُ وَعِرْضِي لِعِرْضِ مُحَمَّدٍ مِنْكُمْ وِقَاءُ وَزَادَ أَيْضًا قَالَ عُرْوَةُ قَالَتْ عَائِشَةُ وَاللَّهِ إِنَّ الرَّجُلَ الَّذِي قِيلَ لَهُ مَا قِيلَ لَيَقُولُ سُبْحَانَ اللَّهِ فَوَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ مَا كَشَفْتُ عَنْ كَنَفِ أُنْثَى قَطُّ . قَالَتْ ثُمَّ قُتِلَ بَعْدَ ذَلِكَ شَهِيدًا فِي سَبِيلِ اللَّهِ . وَفِي حَدِيثِ يَعْقُوبَ بْنِ إِبْرَاهِيمَ مُوعِرِينَ فِي نَحْرِ الظَّهِيرَةِ وَقَالَ عَبْدُ الرَّزَّاقِ مُوغِرِينَ . قَالَ عَبْدُ بْنُ حُمَيْدٍ قُلْتُ لِعَبْدِ الرَّزَّاقِ مَا قَوْلُهُ مُوغِرِينَ قَالَ الْوَغْرَةُ شِدَّةُ الْحَرِّ .

Narrator: ইবনে শিহাব যুহরী (রহঃ)

৬৭৬৪। আবু রাবী আল আতাকী (রাহঃ) ......... অন্য সনদে হাসান ইবনে আলী আল হুলওয়ানী (রাযিঃ) ......... যুহরী (রাহঃ) হতে ইউনূস এবং মা’মার (রাহঃ) এর অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন। বর্ণনাকারী ফুলায়হ (রাহঃ) এর হাদীসে আছে, গোত্রীয় অহমিকা তাকে মূর্খতা সূলভ আচরণ করতে উৎসাহিত করেছিল। মা’মার তাঁর বর্ণনায় যেমন বলেছেন। আর সালিহের হাদীসের মধ্যে ইউনূসের বর্ণনার মত এতে রয়েছে احْتَمَلَتْهُ الْحَمِيَّةُ অর্থাৎ গোত্রী অহমিকা তাকে উসকিয়ে দিল। সালিহের হাদীসে এও রয়েছে যে, উরওয়া (রাহঃ) বলেন, আয়িশা (রাযিঃ) হাসসান ইবনে সাবিত (রাযিঃ)কে গাল-মন্দ বলার বিষয়টিকে অপছন্দের দৃষ্টিতে দেখতেন। তিনি বলতেন, হাসসান তো নিম্নোক্ত কবিতা আবৃতি করেছেন,

“আমার পিতা-মাতা, আমার ইজ্জত সব কিছুই রাসূলুল্লাহ (ﷺ)এর ইজ্জত-সম্মানের জন্য রক্ষাকবচ। ” এতে আরও রয়েছে যে, আয়িশা (রাযিঃ) বলেন, যে ব্যক্তি [সাফওয়ান (রাযিঃ)] সম্পর্কে অপবাদ দেয়া হয়েছে তিনি বলতেন, সুবহানাল্লাহ! আল্লাহর শপথ! আমি কখনো কোন মহিলার-আবরণ উন্মোচন করিনি। অতঃপর তিনি আল্লাহর পথে শহীদ হন।

ইয়াকুব ইবনে ইবরাহীমের হাদীসে রয়েছে مُوعِرِينَ فِي نَحْرِ الظَّهِيرَةِ কিন্তু আব্দুর রাযযাক (রাহঃ) বলেন, مُوغِرِينَ আব্দ ইবনে হুমায়দ (রাহঃ) বলেন, আমি আব্দুর রাযযাককে مُوغِرِينَ শব্দের ব্যাখ্যা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেন, الْوَغْرَةُ অর্থ প্রচণ্ড গরম।
6765

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، وَمُحَمَّدُ بْنُ الْعَلاَءِ، قَالاَ حَدَّثَنَا أَبُو أُسَامَةَ، عَنْ هِشَامِ، بْنِ عُرْوَةَ عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ لَمَّا ذُكِرَ مِنْ شَأْنِي الَّذِي ذُكِرَ وَمَا عَلِمْتُ بِهِ قَامَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم خَطِيبًا فَتَشَهَّدَ فَحَمِدَ اللَّهَ وَأَثْنَى عَلَيْهِ بِمَا هُوَ أَهْلُهُ ثُمَّ قَالَ " أَمَّا بَعْدُ أَشِيرُوا عَلَىَّ فِي أُنَاسٍ أَبَنُوا أَهْلِي وَايْمُ اللَّهِ مَا عَلِمْتُ عَلَى أَهْلِي مِنْ سُوءٍ قَطُّ وَأَبَنُوهُمْ بِمَنْ وَاللَّهِ مَا عَلِمْتُ عَلَيْهِ مِنْ سُوءٍ قَطُّ وَلاَ دَخَلَ بَيْتِي قَطُّ إِلاَّ وَأَنَا حَاضِرٌ وَلاَ غِبْتُ فِي سَفَرٍ إِلاَّ غَابَ مَعِي " . وَسَاقَ الْحَدِيثَ بِقِصَّتِهِ وَفِيهِ وَلَقَدْ دَخَلَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بَيْتِي فَسَأَلَ جَارِيَتِي فَقَالَتْ وَاللَّهِ مَا عَلِمْتُ عَلَيْهَا عَيْبًا إِلاَّ أَنَّهَا كَانَتْ تَرْقُدُ حَتَّى تَدْخُلَ الشَّاةُ فَتَأْكُلَ عَجِينَهَا أَوْ قَالَتْ خَمِيرَهَا - شَكَّ هِشَامٌ - فَانْتَهَرَهَا بَعْضُ أَصْحَابِهِ فَقَالَ اصْدُقِي رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم حَتَّى أَسْقَطُوا لَهَا بِهِ فَقَالَتْ سُبْحَانَ اللَّهِ وَاللَّهِ مَا عَلِمْتُ عَلَيْهَا إِلاَّ مَا يَعْلَمُ الصَّائِغُ عَلَى تِبْرِ الذَّهَبِ الأَحْمَرِ . وَقَدْ بَلَغَ الأَمْرُ ذَلِكَ الرَّجُلَ الَّذِي قِيلَ لَهُ فَقَالَ سُبْحَانَ اللَّهِ وَاللَّهِ مَا كَشَفْتُ عَنْ كَنَفِ أُنْثَى قَطُّ . قَالَتْ عَائِشَةُ وَقُتِلَ شَهِيدًا فِي سَبِيلِ اللَّهِ . وَفِيهِ أَيْضًا مِنَ الزِّيَادَةَ وَكَانَ الَّذِينَ تَكَلَّمُوا بِهِ مِسْطَحٌ وَحَمْنَةُ وَحَسَّانُ وَأَمَّا الْمُنَافِقُ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ أُبَىٍّ فَهُوَ الَّذِي كَانَ يَسْتَوْشِيهِ وَيَجْمَعُهُ وَهُوَ الَّذِي تَوَلَّى كِبْرَهُ وَحِمْنَةُ .

Narrator: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

৬৭৬৫। আবু বকর ইবনে আবি শাঈবা (রাহঃ) ও মুহাম্মাদ ইবনুল আলা (রাহঃ) ......... আয়িশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমার ব্যাপারে লোকেরা যখন কুৎসা রটাতে আরম্ভ করল, যা আমি জানিনা, তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ভাষণ দেয়ার উদ্দেশ্যে দাঁড়িয়ে তাশাহহুদ পাঠ করলেন এবং আল্লাহর শানের উপযুক্ত শব্দের মাধ্যমে তাঁর প্রশংসা বর্ণনা করলেন। তারপর বললেন, অতঃপর যারা আমার স্ত্রীর ব্যাপারে অপবাদ রটাচ্ছে তাদের সম্বন্ধে তোমরা আমাকে পরামর্শ দাও। আল্লাহর কসম! আমি আমার স্ত্রী সম্বন্ধে মন্দ কোন কিছু জানিনা এবং তারা যার ব্যাপারে অপবাদ রটাচ্ছে তাঁর সম্বন্ধেও খারাপ কিছু আমি জানিনা। আমার অনুপস্থিতিতে সে আমার গৃহে কখনো প্রবেশ করেনি এবং আমি যখন সফরে বের হয়েছি সেও তখন আমার সাথে সফরে বের হয়েছে। অতঃপর বর্ণনাকারী পূর্ণ কাহিনী সহ হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

অবশ্য এতে অধিক রয়েছে যে, একদা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমার গৃহে প্রবেশ করে আমার বাঁদীকে জিজ্ঞাসাবাদ করলেন। তখন সে বললো, আল্লাহর কসম! আয়িশা (রাযিঃ) এর মধ্যে আমি কোন দোষ দেখিনি। তবে তিনি ঘুমিয়ে পড়তেন, আর বকরী এসে মথিত আটা খেয়ে ফেলতো। অথবা বললেন, খামীর খেয়ে ফেলতো। বর্ণনাকারী হিশাম عَجِينَ অথবা خَمِيرَ এতে সন্দেহ করেছেন। তখন নবী (ﷺ) এর কোন সাহাবী তাকে ধমক দিয়ে বললেন, তুমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কাছে সত্য কথা বল। এমনকি তাঁরা তার সামনে ঘটনা তুলে ধরলেন। তখন বারীরা বললেন, সুবহানাল্লাহ! আল্লাহর কসম! স্বর্ণকার খাটি স্বর্ণের টুকরা সম্বন্ধে যেমন জানে আমিও আয়িশা সম্পর্কে সেরূপ জানি। যে ব্যক্তি সম্বন্ধে এ অপবাদ রটানো হচ্ছিল তার নিকট এ সংবাদ পৌছার পর তিনিও বললেন, সুবহানাল্লাহ! আল্লাহর কসম! কোন মহিলার আবরণ আমি কখনো উন্মোচন করিনি। আয়িশা (রাযিঃ) বলেন, পরে তিনি আল্লাহর পথে শহীদ হন।

এতে আরো অধিক রয়েছে যে, অপবাদ রটনাকারীদের মধ্যে ছিলেন মিসতাহ, হামনা ও হাসসান। আর মুনাফিক আব্দুল্লাহ ইবনে উবাই সে ছিল ঐ ব্যক্তি যে খুঁজে খুজে বের করে এসব ছড়িয়ে দেয়ার কাজ করতো। সে এবং হামনাই এ ব্যাপারে প্রধান ভূমিকা পালন করেছে।

৩৮. রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর হেরেম সন্দেহমুক্ত হওয়া

باب بَرَاءَةِ حَرَمِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم مِنَ الرِّيبَةِ

6766

حَدَّثَنِي زُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، حَدَّثَنَا عَفَّانُ، حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ، أَخْبَرَنَا ثَابِتٌ، عَنْ أَنَسٍ، أَنَّ رَجُلاً، كَانَ يُتَّهَمُ بِأُمِّ وَلَدِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لِعَلِيٍّ " اذْهَبْ فَاضْرِبْ عُنُقَهُ " . فَأَتَاهُ عَلِيٌّ فَإِذَا هُوَ فِي رَكِيٍّ يَتَبَرَّدُ فِيهَا فَقَالَ لَهُ عَلِيٌّ اخْرُجْ . فَنَاوَلَهُ يَدَهُ فَأَخْرَجَهُ فَإِذَا هُوَ مَجْبُوبٌ لَيْسَ لَهُ ذَكَرٌ فَكَفَّ عَلِيٌّ عَنْهُ ثُمَّ أَتَى النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّهُ لَمَجْبُوبٌ مَا لَهُ ذَكَرٌ

Narrator: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

৬৭৬৬। যুহাইর ইবনে হারব (রাহঃ) ......... আনাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর উম্মে ওয়ালাদের সাথে এক ব্যক্তির প্রতি অভিযোগ (অপবাদ) উত্থাপিত হয়। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আলী (রাযিঃ) কে বললেন, যাও। তার গর্দান উড়িয়ে দাও। আলী (রাযিঃ) তার নিকট গিয়ে দেখলেন, সে কূপের মধ্যে শরীর শীতল করছে। আলী (রাযিঃ) তাকে বললেন, বেরিয়ে আস। সে আলী (রাযিঃ) এর দিকে হাত বাড়িয়ে দিল। তিনি তাকে বের করলেন এবং দেখলেন, তার পূরুষাঙ্গ কর্তিত, তার লিঙ্গ নেই। তখন আলী (রাযিঃ) তাকে হত্যা করা থেকে বিরত থাকলেন। তারপর তিনি নবী (ﷺ) এর নিকট এসে বললেন, ইয়া রাসুলাল্লাহ! সে তো লিঙ্গ কর্তিত তার তো লিঙ্গ নেই।