كتاب الزكاة

১৩- যাকাতের অধ্যায়

Chapter 13 · 231 hadith

শিরোনামবিহীন পরিচ্ছেদ

2135

وَحَدَّثَنِي عَمْرُو بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ بُكَيْرٍ النَّاقِدُ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ، قَالَ سَأَلْتُ عَمْرَو بْنَ يَحْيَى بْنِ عُمَارَةَ فَأَخْبَرَنِي عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " لَيْسَ فِيمَا دُونَ خَمْسَةِ أَوْسُقٍ صَدَقَةٌ وَلاَ فِيمَا دُونَ خَمْسِ ذَوْدٍ صَدَقَةٌ وَلاَ فِيمَا دُونَ خَمْسِ أَوَاقٍ صَدَقَةٌ " .

Narrator: হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ)

২১৩৫। আমর ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে বুকায়র আন-নাকিদ (রাহঃ) ......... আবু সাঈদ খুদরী (রাযিঃ) সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, পাঁচ ওয়াসাকের* কম পরিমাণ মালে যাকাত নেই, পাঁচ উটের কম সংখ্যায় যাকাত নেই এবং পাঁচ উকিয়ার কম পরিমাণে (রৌপ্যে) যাকাত নেই।

*এক ওয়াসাক ষাট সা'। ইমাম আযম আবু হানীফা (রাহঃ)-এর মতে এক সা' আট রতল, বর্তমান প্রচলিত হিসাব অনুসারে এক সা=৩ সের ৯ ছটাক। সুতরাং পাঁচ ওয়াসাকে ২৬ মণ ২৮ সের ৯ ছটাক।

এক উকিয়া-৪০ দিরহাম। পাঁচ উকিয়া আমাদের প্রচলিত হিসাব অনুসারে ‘সাড়ে বায়ান্ন' তোলার সমান। ইমাম শাফিঈ, আবৃ ইউসুফ, মুহাম্মাদ ও জমহূরের মতে উৎপাদিত ফল ও ফসলে যাকাত ধার্য হওয়ার নিম্নতম পরিমাণ হচ্ছে পাঁচ ওয়াসাক। এর কম পরিমাণের উপর যাকাত ধার্য হবে না। কিন্তু ইমাম আযম আবু হানীফা ও উমর ইবন আব্দুল আযীয (রাহঃ)-এর মতে উৎপাদিত ফল ও ফসলের উপর যাকাত ধার্য হবে না; বরং উশ্ন (উৎপাদনের এক-দশমাংশ) বা অর্ধ উশ্বর ধার্য হবে। উৎপন্ন দ্রব্যের পরিমাণ পাঁচ ওয়াসাকের কম হলেও তার উপর উশর ধার্য হবে। ইমাম আযম আবু হানীফা (রাহঃ)-এর মতে স্বল্পস্থায়ী শস্য যেমন শাকসবজি ইত্যাদির উপরও উশর ধার্য হবে। কিন্তু অন্যান্য ইমামদের মতে এই সমস্ত বস্তুর উপর উশর ধার্য হবে না।
2136

وَحَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ رُمْحِ بْنِ الْمُهَاجِرِ، أَخْبَرَنَا اللَّيْثُ، ح وَحَدَّثَنِي عَمْرٌو النَّاقِدُ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ إِدْرِيسَ، كِلاَهُمَا عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ، عَنْ عَمْرِو بْنِ يَحْيَى، بِهَذَا الإِسْنَادِ . مِثْلَهُ.

Narrator: হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ)

২১৩৬। মুহাম্মাদ ইবনে রুমহ ইবনে মুহাজির ও আমরুন নাকিদ (রাহঃ) ......... আমর ইবনে ইয়াহয়া (রাহঃ) তার সূত্রে এই সনদে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।

2137

وَحَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ رَافِعٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، أَخْبَرَنَا ابْنُ جُرَيْجٍ، أَخْبَرَنِي عَمْرُو، بْنُ يَحْيَى بْنِ عُمَارَةَ عَنْ أَبِيهِ، يَحْيَى بْنِ عُمَارَةَ قَالَ سَمِعْتُ أَبَا سَعِيدٍ الْخُدْرِيَّ، يَقُولُ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ . وَأَشَارَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم بِكَفِّهِ بِخَمْسِ أَصَابِعِهِ ثُمَّ ذَكَرَ بِمِثْلِ حَدِيثِ ابْنِ عُيَيْنَةَ .

Narrator: হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ)

২১৩৭। মুহাম্মাদ ইবনে রাফি (রাহঃ) ......... আবু সাঈদ খুদরী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে বলতে শুনেছি, তিনি তাঁর হাতের পাঁচ আঙ্গুলের দ্বারা ইঙ্গিত করেছিলেন। তারপর রাবী ইবনে উয়াইনা (রাহঃ) বর্ণিত পূর্ব হাদীসটির অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।

2138

وَحَدَّثَنِي أَبُو كَامِلٍ، فُضَيْلُ بْنُ حُسَيْنٍ الْجَحْدَرِيُّ حَدَّثَنَا بِشْرٌ، - يَعْنِي ابْنَ مُفَضَّلٍ - حَدَّثَنَا عُمَارَةُ بْنُ غَزِيَّةَ، عَنْ يَحْيَى بْنِ عُمَارَةَ، قَالَ سَمِعْتُ أَبَا سَعِيدٍ الْخُدْرِيَّ، يَقُولُ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " لَيْسَ فِيمَا دُونَ خَمْسَةِ أَوْسُقٍ صَدَقَةٌ وَلَيْسَ فِيمَا دُونَ خَمْسِ ذَوْدٍ صَدَقَةٌ وَلَيْسَ فِيمَا دُونَ خَمْسِ أَوَاقٍ صَدَقَةٌ " .

Narrator: হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ)

২১৩৮। আবু কামিল ফুযায়ল ইবনে হুসাইন জাহদারী (রাহঃ) ......... আবু সাঈদ খুদরী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বললেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে বলতে শুনেছি যে, পাঁচ ওয়াসাকের কম পরিমাণ মালে যাকাত নেই, পাঁচ উটের কম সংখ্যায় যাকাত নেই এবং পাঁচ উকিয়ার কম পরিমাণ (রূপায়) যাকাত নেই।

2139

وَحَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، وَعَمْرٌو النَّاقِدُ، وَزُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، قَالُوا حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، عَنْ سُفْيَانَ، عَنْ إِسْمَاعِيلَ بْنِ أُمَيَّةَ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ يَحْيَى بْنِ حَبَّانَ، عَنْ يَحْيَى بْنِ عُمَارَةَ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " لَيْسَ فِيمَا دُونَ خَمْسَةِ أَوْسَاقٍ مِنْ تَمْرٍ وَلاَ حَبٍّ صَدَقَةٌ " .

Narrator: হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ)

২১৩৯। আবু বকর ইবনে আবি শাঈবা, আমরুন নাকিদ ও যূহায়র ইবনে হারব (রাহঃ) ......... আবু সাঈদ খুদরী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, পাঁচ ওয়াসাকের কম পরিমাণ খেজুরে যাকাত নেই এবং ঐ পরিমাণ শস্যের কমেও যাকাত নেই।

2140

وَحَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ مَنْصُورٍ، أَخْبَرَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ، - يَعْنِي ابْنَ مَهْدِيٍّ - حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ إِسْمَاعِيلَ بْنِ أُمَيَّةَ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ يَحْيَى بْنِ حَبَّانَ، عَنْ يَحْيَى بْنِ عُمَارَةَ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " لَيْسَ فِي حَبٍّ وَلاَ تَمْرٍ صَدَقَةٌ حَتَّى يَبْلُغَ خَمْسَةَ أَوْسُقٍ وَلاَ فِيمَا دُونَ خَمْسِ ذَوْدٍ صَدَقَةٌ وَلاَ فِيمَا دُونَ خَمْسِ أَوَاقٍ صَدَقَةٌ" .

Narrator: হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ)

২১৪০। ইসহাক ইবনে মনসুর (রাহঃ) ......... আবু সাঈদ খুদরী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, নবী (ﷺ) বলেছেন, শস্য এবং খেজুরের পাঁচ ওয়াসাকের কমে যাকাত নেই, পাঁচ উটের কম সংখ্যায় যাকাত নেই এবং পাঁচ উকিয়ার কম পরিমাণে (রূপায়) যাকাত নেই।

2141

وَحَدَّثَنِي عَبْدُ بْنُ حُمَيْدٍ، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ آدَمَ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ الثَّوْرِيُّ، عَنْ إِسْمَاعِيلَ، بْنِ أُمَيَّةَ بِهَذَا الإِسْنَادِ . مِثْلَ حَدِيثِ ابْنِ مَهْدِيٍّ .

Narrator: হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ)

২১৪১। আব্দ ইবনে হুমায়দ (রাহঃ) ......... ইসমাঈল ইবনে উমাইয়া (রাহঃ) এর সূত্রে এই সনদে আব্দুর রহমান ইবনে মাহদী (রাহঃ) এর অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন।

2142

وَحَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ رَافِعٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، أَخْبَرَنَا الثَّوْرِيُّ، وَمَعْمَرٌ، عَنْ إِسْمَاعِيلَ، بْنِ أُمَيَّةَ بِهَذَا الإِسْنَادِ . مِثْلَ حَدِيثِ ابْنِ مَهْدِيٍّ وَيَحْيَى بْنِ آدَمَ غَيْرَ أَنَّهُ قَالَ - بَدَلَ التَّمْرِ - ثَمَرٍ .

Narrator: হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ)

২১৪২। মুহাম্মাদ ইবনে রাফি (রাহঃ) ......... ইসমাঈল ইবনে উমাইয়া (রাহঃ) এর সূত্রে এই সনদে আব্দুর রহমান ইবনে মাহদী ও ইয়াহয়া ইবনে আদম (রাহঃ) এর অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন। তবে এই হাদীসের মধ্যে খেজুরের (تَّمْرِ) স্থলে ফলের (ثَمَرٍ) কথা উল্লেখ রয়েছে।

2143

حَدَّثَنَا هَارُونُ بْنُ مَعْرُوفٍ، وَهَارُونُ بْنُ سَعِيدٍ الأَيْلِيُّ، قَالاَ حَدَّثَنَا ابْنُ وَهْبٍ، أَخْبَرَنِي عِيَاضُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ، عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ قَالَ " لَيْسَ فِيمَا دُونَ خَمْسِ أَوَاقٍ مِنَ الْوَرِقِ صَدَقَةٌ وَلَيْسَ فِيمَا دُونَ خَمْسِ ذَوْدٍ مِنَ الإِبِلِ صَدَقَةٌ وَلَيْسَ فِيمَا دُونَ خَمْسَةِ أَوْسُقٍ مِنَ التَّمْرِ صَدَقَةٌ " .

Narrator: জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ আনসারী (রাঃ)

২১৪৩। হারুন ইবনে মারুফ ও হারুন ইবনে সাঈদ আয়লী (রাহঃ) ......... জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, পাঁচ উকিয়ার কম রূপায় যাকাত নেই, পাঁচ উটের কমে যাকাত নেই এবং পাঁচ ওয়াসাকের কম পরিমাণ খেজুরে যাকাত নেই।

2144

حَدَّثَنِي أَبُو الطَّاهِرِ، أَحْمَدُ بْنُ عَمْرِو بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرِو بْنِ سَرْحٍ وَهَارُونُ بْنُ سَعِيدٍ الأَيْلِيُّ وَعَمْرُو بْنُ سَوَّادٍ وَالْوَلِيدُ بْنُ شُجَاعٍ كُلُّهُمْ عَنِ ابْنِ وَهْبٍ، قَالَ أَبُو الطَّاهِرِ أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ وَهْبٍ، عَنْ عَمْرِو بْنِ الْحَارِثِ، أَنَّ أَبَا الزُّبَيْرِ، حَدَّثَهُ أَنَّهُ، سَمِعَ جَابِرَ بْنَ، عَبْدِ اللَّهِ يَذْكُرُ أَنَّهُ سَمِعَ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " فِيمَا سَقَتِ الأَنْهَارُ وَالْغَيْمُ الْعُشُورُ وَفِيمَا سُقِيَ بِالسَّانِيَةِ نِصْفُ الْعُشْرِ " .

Narrator: জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ আনসারী (রাঃ)

২১৪৪। আবু তাহির, আহমাদ ইবনে আমর ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে আমর সারহ, হারুন ইবনে সাঈদ আয়লী, আমর ইবনে সাওয়াদ এবং ওয়ালীদ ইবনে সূজা (রাহঃ) ......... জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি নবী (ﷺ) কে বলতে শুনেছেন, যে ভূমি নদ-নদী ও বৃষ্টির পানি দ্বারা সঞ্চিত হয়, তাতে উশর (এক দশমাংশ) ওয়াজিব হবে। আর যে ভূমিতে উটের দ্বারা পানি সেচ করা হয় তাতে অর্ধ ওশর ওয়াজিব হবে।

2145

وَحَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ يَحْيَى التَّمِيمِيُّ، قَالَ قَرَأْتُ عَلَى مَالِكٍ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ دِينَارٍ، عَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ يَسَارٍ، عَنْ عِرَاكِ بْنِ مَالِكٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " لَيْسَ عَلَى الْمُسْلِمِ فِي عَبْدِهِ وَلاَ فَرَسِهِ صَدَقَةٌ " .

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

২১৪৫। ইয়াহয়া ইবনে ইয়াহয়া তামীমী (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, মুসলিমের উপর তার গোলাম (ব্যক্তিগত প্রয়োজনের) এবং ঘোড়ার জন্য কোন যাকাত নেই।

2146

وَحَدَّثَنِي عَمْرٌو النَّاقِدُ، وَزُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، قَالاَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ، حَدَّثَنَا أَيُّوبُ، بْنُ مُوسَى عَنْ مَكْحُولٍ، عَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ يَسَارٍ، عَنْ عِرَاكِ بْنِ مَالِكٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، - قَالَ عَمْرٌو - عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَقَالَ زُهَيْرٌ يَبْلُغُ بِهِ " لَيْسَ عَلَى الْمُسْلِمِ فِي عَبْدِهِ وَلاَ فَرَسِهِ صَدَقَةٌ " .

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

২১৪৬। আমরুন নাকিদ ও যুহাইর ইবনে হারব (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে,নবী (ﷺ) করীম (ﷺ) বলেছেন, মুসলমানের উপর তার (ব্যক্তিগত প্রয়োজনের) গোলাম এবং ঘোড়ার মধ্যে কোন যাকাত নেই।

2147

حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ يَحْيَى، أَخْبَرَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ بِلاَلٍ، ح وَحَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، حَدَّثَنَا حَمَّادُ، بْنُ زَيْدٍ ح وَحَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا حَاتِمُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ، كُلُّهُمْ عَنْ خُثَيْمِ بْنِ، عِرَاكِ بْنِ مَالِكٍ عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم . بِمِثْلِهِ .

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

২১৪৭। ইয়াহয়া ইবনে ইয়াহয়া কুতায়বা ও আবু বকর ইবনে আবি শাঈবা (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) সূত্রে নবী (ﷺ) করীম (ﷺ) থেকে অনূরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন।

2148

وَحَدَّثَنِي أَبُو الطَّاهِرِ، وَهَارُونُ بْنُ سَعِيدٍ الأَيْلِيُّ، وَأَحْمَدُ بْنُ عِيسَى، قَالُوا حَدَّثَنَا ابْنُ وَهْبٍ، أَخْبَرَنِي مَخْرَمَةُ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عِرَاكِ بْنِ مَالِكٍ، قَالَ سَمِعْتُ أَبَا هُرَيْرَةَ، يُحَدِّثُ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " لَيْسَ فِي الْعَبْدِ صَدَقَةٌ إِلاَّ صَدَقَةُ الْفِطْرِ " .

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

২১৪৮। আবু তাহির হারূন ইবনে সাঈদ আয়লী ও আহমাদ ইবনে ঈসা (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) সূত্রে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, গোলামের জন্য (মনিবের উপর) যাকাত নেই। তবে সাদ্‌কায়ে ফিতর আছে।

2149

وَحَدَّثَنِي زُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ حَفْصٍ، حَدَّثَنَا وَرْقَاءُ، عَنْ أَبِي الزِّنَادِ، عَنِ الأَعْرَجِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ بَعَثَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عُمَرَ عَلَى الصَّدَقَةِ فَقِيلَ مَنَعَ ابْنُ جَمِيلٍ وَخَالِدُ بْنُ الْوَلِيدِ وَالْعَبَّاسُ عَمُّ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " مَا يَنْقِمُ ابْنُ جَمِيلٍ إِلاَّ أَنَّهُ كَانَ فَقِيرًا فَأَغْنَاهُ اللَّهُ وَأَمَّا خَالِدٌ فَإِنَّكُمْ تَظْلِمُونَ خَالِدًا قَدِ احْتَبَسَ أَدْرَاعَهُ وَأَعْتَادَهُ فِي سَبِيلِ اللَّهِ وَأَمَّا الْعَبَّاسُ فَهِيَ عَلَىَّ وَمِثْلُهَا مَعَهَا " . ثُمَّ قَالَ " يَا عُمَرُ أَمَا شَعَرْتَ أَنَّ عَمَّ الرَّجُلِ صِنْوُ أَبِيهِ " .

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

২১৪৯। যুহাইর ইবনে হারব (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিন বলেন যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) উমর (রাযিঃ) কে যাকাত আদায়ের জন্য প্রেরণ করেন। এরপর তাঁকে বলা হল ইবনে জামীল খালিদ ইবনে ওয়ালীদ ও রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর চাচা আব্বাস (রাযিঃ) যাকাত দিতে অস্বীকার করেছেন। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, ইবনে জামীল তো নিঃস্ব ছিল অতঃপর আল্লাহ তাকে বিত্তশালী করেছেন এখন সে তার প্রতিশোধ নিচ্ছে। আর খালিদের কথা এই যে তোমরা তার প্রতি যুলুম করছ, কেননা সে তার লৌহ বর্ম ও যুদ্ধ সরঞ্জমাদি আল্লাহর পথে বিলিয়ে দিয়েছে। আর আব্বাস, তাঁর (উপর দাবীকৃত) যাকাত এবং তৎসঙ্গে অনুরূপ পরিমাণ আদায় করা আমার দায়িত্বে। এরপর তিনি বললেন, হে উমর! তুমি কি জান না, চাচা বাপের সমমর্যাদা সস্পন্ন।

১. সাদ্‌কা-ই-ফিতর

اب زَكَاةِ الْفِطْرِ

2150

حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مَسْلَمَةَ بْنِ قَعْنَبٍ، وَقُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، قَالاَ حَدَّثَنَا مَالِكٌ، ح وَحَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ يَحْيَى، - وَاللَّفْظُ لَهُ - قَالَ قَرَأْتُ عَلَى مَالِكٍ عَنْ نَافِعٍ عَنِ ابْنِ عُمَرَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَرَضَ زَكَاةَ الْفِطْرِ مِنْ رَمَضَانَ عَلَى النَّاسِ صَاعًا مِنْ تَمْرٍ أَوْ صَاعًا مِنْ شَعِيرٍ عَلَى كُلِّ حُرٍّ أَوْ عَبْدٍ ذَكَرٍ أَوْ أُنْثَى مِنَ الْمُسْلِمِينَ .

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

২১৫০। আব্দুল্লাহ ইবনে মাসলামা ইবনে কা’নাব, কুতায়বা ইবনে সাঈদ, ইয়াহয়া ইবনে ইয়াহয়া (রাহঃ) ......... ইবনে উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) প্রত্যেকের উপর রমযানের সাদ্‌কা-ই-ফিতর ধার্য করেছেন। প্রতিজন মুসলিম স্বাধীন পুরুষ ও মহিলার উপর এক সা’ খেজুরে অথবা এক সা’ যব নির্ধারিত করে দিয়েছেন।

2151

حَدَّثَنَا ابْنُ نُمَيْرٍ، حَدَّثَنَا أَبِي ح، وَحَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، - وَاللَّفْظُ لَهُ - قَالَ حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ نُمَيْرٍ، وَأَبُو أُسَامَةَ عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، قَالَ فَرَضَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم زَكَاةَ الْفِطْرِ صَاعًا مِنْ تَمْرٍ أَوْ صَاعًا مِنْ شَعِيرٍ عَلَى كُلِّ عَبْدٍ أَوْ حُرٍّ، صَغِيرٍ أَوْ كَبِيرٍ»

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

২১৫১। ইবনে নুমাইর ও আবু বকর ইবনে আবি শাঈবা (রাহঃ) ......... ইবনে উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ক্রীতদাস ও স্বাধীন ছোট-বড় প্রত্যেকের উপর সাদ্‌কাতুল ফিতর হিসেবে এক সা’ খেজুর অথবা এক সা' যব নির্ধারিত করেন।

2152

وَحَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ يَحْيَى، أَخْبَرَنَا يَزِيدُ بْنُ زُرَيْعٍ، عَنْ أَيُّوبَ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ، عُمَرَ قَالَ فَرَضَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم صَدَقَةَ رَمَضَانَ عَلَى الْحُرِّ وَالْعَبْدِ وَالذَّكَرِ وَالأُنْثَى صَاعًا مِنْ تَمْرٍ أَوْ صَاعًا مِنْ شَعِيرٍ . قَالَ فَعَدَلَ النَّاسُ بِهِ نِصْفَ صَاعٍ مِنْ بُرٍّ .

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

২১৫২। ইয়াহয়া ইবনে ইয়াহয়া (রাহঃ) ......... ইবনে উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) রমযানের সাদ্‌কা (সাদ্‌কাতুল ফিতর) বাবদ স্বাধীন ও ক্রীতদাস পুরুষ ও মহিলা সকলের উপর এক সা’ খেজুর অথবা এক সা’ যব নির্ধারিত করেন। রাবী বলেন, এরপর লোকেরা অর্ধ সা’ গমকে এক সা' এর সমান করে নিয়েছে।

2153

حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا لَيْثٌ، ح وَحَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ رُمْحٍ، أَخْبَرَنَا اللَّيْثُ، عَنْ نَافِعٍ، أَنَّ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عُمَرَ، قَالَ إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَمَرَ بِزَكَاةِ الْفِطْرِ صَاعٍ مِنْ تَمْرٍ أَوْ صَاعٍ مِنْ شَعِيرٍ . قَالَ ابْنُ عُمَرَ فَجَعَلَ النَّاسُ عِدْلَهُ مُدَّيْنِ مِنْ حِنْطَةٍ .

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

২১৫৩। কুতায়বা ইবনে সাঈদ ও মুহাম্মাদ ইবনে রুমহ (রাহঃ) ......... আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাযিঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) সাদ্‌কাতুল ফিতর হিসেবে এক সা’ খেজুর অথবা এক সা’ যব আদায় করার নির্দেশ দিয়েছেন। ইবনে উমর (রাযিঃ) বলেন, (পরবতীকালে) লোকেরা গমের দু’মুদকে তার সমপরিমাণ ধরে নিয়েছে।

2154

وَحَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ رَافِعٍ، حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي فُدَيْكٍ، أَخْبَرَنَا الضَّحَّاكُ، عَنْ نَافِعٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَرَضَ زَكَاةَ الْفِطْرِ مِنْ رَمَضَانَ عَلَى كُلِّ نَفْسٍ مِنَ الْمُسْلِمِينَ حُرٍّ أَوْ عَبْدٍ أَوْ رَجُلٍ أَوِ امْرَأَةٍ صَغِيرٍ أَوْ كَبِيرٍ صَاعًا مِنْ تَمْرٍ أَوْ صَاعًا مِنْ شَعِيرٍ .

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

২১৫৪। মুহাম্মাদ ইবনে রাফি (রাহঃ) ......... আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) স্বাধীন ও ক্রীতদাস, নর ও নারী, ছেটি ও বড় প্রত্যেক মুসলমানের উপর রমযানের সাদ্‌কাতুল ফিতর বাবদ এক সা’ খেজুর অথবা এক সা’ যব নির্ধারণ করে দিয়েছেন।

2155

حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ يَحْيَى، قَالَ قَرَأْتُ عَلَى مَالِكٍ عَنْ زَيْدِ بْنِ أَسْلَمَ، عَنْ عِيَاضِ بْنِ، عَبْدِ اللَّهِ بْنِ سَعْدِ بْنِ أَبِي سَرْحٍ أَنَّهُ سَمِعَ أَبَا سَعِيدٍ الْخُدْرِيَّ، يَقُولُ كُنَّا نُخْرِجُ زَكَاةَ الْفِطْرِ صَاعًا مِنْ طَعَامٍ أَوْ صَاعًا مِنْ شَعِيرٍ أَوْ صَاعًا مِنْ تَمْرٍ أَوْ صَاعًا مِنْ أَقِطٍ أَوْ صَاعًا مِنْ زَبِيبٍ .

Narrator: হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ)

২১৫৫। ইয়াহয়া ইবনে ইয়াহয়া (রাহঃ) ......... আবু সাঈদ খুদরী (রাযিঃ) বলেন, আমরা সাদ্‌কাতুল ফিতর বাবদ এক সা’ খাদ্য (গম) অথবা এক সা’ যব অথবা এক সা’ খেজুর অথবা এক সা’ পনির কিংবা এক সা’ কিশমিশ প্রদান করতাম।

2156

حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مَسْلَمَةَ بْنِ قَعْنَبٍ، حَدَّثَنَا دَاوُدُ، - يَعْنِي ابْنَ قَيْسٍ - عَنْ عِيَاضِ، بْنِ عَبْدِ اللَّهِ عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، قَالَ كُنَّا نُخْرِجُ إِذْ كَانَ فِينَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم زَكَاةَ الْفِطْرِ عَنْ كُلِّ صَغِيرٍ وَكَبِيرٍ حُرٍّ أَوْ مَمْلُوكٍ صَاعًا مِنْ طَعَامٍ أَوْ صَاعًا مِنْ أَقِطٍ أَوْ صَاعًا مِنْ شَعِيرٍ أَوْ صَاعًا مِنْ تَمْرٍ أَوْ صَاعًا مِنْ زَبِيبٍ فَلَمْ نَزَلْ نُخْرِجُهُ حَتَّى قَدِمَ عَلَيْنَا مُعَاوِيَةُ بْنُ أَبِي سُفْيَانَ حَاجًّا أَوْ مُعْتَمِرًا فَكَلَّمَ النَّاسَ عَلَى الْمِنْبَرِ فَكَانَ فِيمَا كَلَّمَ بِهِ النَّاسَ أَنْ قَالَ إِنِّي أُرَى أَنَّ مُدَّيْنِ مِنْ سَمْرَاءِ الشَّامِ تَعْدِلُ صَاعًا مِنْ تَمْرٍ فَأَخَذَ النَّاسُ بِذَلِكَ . قَالَ أَبُو سَعِيدٍ فَأَمَّا أَنَا فَلاَ أَزَالُ أُخْرِجُهُ كَمَا كُنْتُ أُخْرِجُهُ أَبَدًا مَا عِشْتُ .

Narrator: হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ)

২১৫৬। আব্দুল্লাহ ইবনে মাসলামা ইবনে কানাব (রাহঃ) ......... আবু সাঈদ খুদরী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যখন আমাদের মধ্যে ছিলেন, তখন আমরা ছোট ও বড় স্বাধীন ও ক্রীতদাস প্রত্যেকের পক্ষ হতে সাদ্‌কাতুল ফিতর বাবদ এক সা’ পরিমাণ খাদ্য অথবা এক সা’ পনির অথবা এক সা’ যব অথবা এক সা’ খেজুর অথবা এক সা’ কিশমিশ প্রদান করতাম। এভাবেই আমরা তা আদায় করতে থাকি।

পরে মুআবিয়া ইবনে আবু সুফিয়ান (রাযিঃ) হজ্জ অথবা উমরার উদ্দেশ্যে যখন আমাদের নিকট আসলেন তখন তিনি মিম্বরে আরোহণ করে উপস্থিত লোকদের সাথে এ বিষয়ে আলাপ-আলোচনা করলেন। আলোচনার এক পর্যায়ে তিনি বললেন, আমার মতে সিরিয়ার দু’মুদ গম এক সা’ খেজুরের সামান। লোকেরা তা গ্রহণ করে নিলেন।

আবু সাঈদ (রাযিঃ) বলেন, আমি তো যত দিন জীবিত থাকব ঐভাবেই সাদ্‌কাতুল ফিতর আদায় করব, যেভাবে আমি (পূর্বে) আদায় করতাম।
2157

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ رَافِعٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، عَنْ مَعْمَرٍ، عَنْ إِسْمَاعِيلَ بْنِ أُمَيَّةَ، قَالَ أَخْبَرَنِي عِياضُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ سَعْدِ بْنِ أَبِي سَرْحٍ، أَنَّهُ سَمِعَ أَبَا سَعِيدٍ الْخُدْرِيَّ، يَقُولُ كُنَّا نُخْرِجُ زَكَاةَ الْفِطْرِ وَرَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِينَا عَنْ كُلِّ صَغِيرٍ وَكَبِيرٍ حُرٍّ وَمَمْلُوكٍ مِنْ ثَلاَثَةِ أَصْنَافٍ صَاعًا مِنْ تَمْرٍ صَاعًا مِنْ أَقِطٍ صَاعًا مِنْ شَعِيرٍ فَلَمْ نَزَلْ نُخْرِجُهُ كَذَلِكَ حَتَّى كَانَ مُعَاوِيَةُ فَرَأَى أَنَّ مُدَّيْنِ مِنْ بُرٍّ تَعْدِلُ صَاعًا مِنْ تَمْرٍ . قَالَ أَبُو سَعِيدٍ فَأَمَّا أَنَا فَلاَ أَزَالُ أُخْرِجُهُ كَذَلِكَ .

Narrator: হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ)

২১৫৭। মুহাম্মাদ ইবনে রাফি (রাহঃ) ......... আবু সাঈদ খুদরী (রাযিঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যখন আমাদের মধ্যে ছিলেন, তখন আমরা ছোট ও বড়, স্বাধীন ও ক্রীতদাস প্রত্যেকের পক্ষ হতে তিন প্রকার বস্তু থেকে সাদ্‌কাতুল ফিতর আদায় করতাম। এক সা’ খেজুর, এক সা’ পনির অথবা এক সা’ যব। এভাবে আমরা সাদ্‌কাতুল ফিতর আদায় করছিলাম। অতঃপর মুআবিয়া (রাযিঃ) এর সময় আসল। তখন তিনি দু’মুদ গম এক সা’ খেজুরের সমান ধার্য করেন। আবু সাঈদ খুদরী (রাযিঃ) বলেন, আমি তো সর্বদা পূর্বের ন্যায়ই আদায় করতে থাকব।

2158

وَحَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ رَافِعٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، أَخْبَرَنَا ابْنُ جُرَيْجٍ، عَنِ الْحَارِثِ بْنِ، عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبِي ذُبَابٍ عَنْ عِيَاضِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي سَرْحٍ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، قَالَ كُنَّا نُخْرِجُ زَكَاةَ الْفِطْرِ مِنْ ثَلاَثَةِ أَصْنَافٍ الأَقِطِ وَالتَّمْرِ وَالشَّعِيرِ .

Narrator: হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ)

২১৫৮। মুহাম্মাদ ইবনে রাফি (রাহঃ) ......... আবু সাঈদ খুদরী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা পনির, খেজুর ও যব এ তিন প্রকার বস্তু থেকে সাদ্‌কাতুল ফিতর আদায় করতাম।

2159

وَحَدَّثَنِي عَمْرٌو النَّاقِدُ، حَدَّثَنَا حَاتِمُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ، عَنِ ابْنِ عَجْلاَنَ، عَنْ عِيَاضِ، بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي سَرْحٍ عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، أَنَّ مُعَاوِيَةَ، لَمَّا جَعَلَ نِصْفَ الصَّاعِ مِنَ الْحِنْطَةِ عِدْلَ صَاعٍ مِنْ تَمْرٍ أَنْكَرَ ذَلِكَ أَبُو سَعِيدٍ وَقَالَ لاَ أُخْرِجُ فِيهَا إِلاَّ الَّذِي كُنْتُ أُخْرِجُ فِي عَهْدِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم صَاعًا مِنْ تَمْرٍ أَوْ صَاعًا مِنْ زَبِيبٍ أَوْ صَاعًا مِنْ شَعِيرٍ أَوْ صَاعًا مِنْ أَقِطٍ .

Narrator: হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ)

২১৫৯। আমরুন নাকিদ (রাহঃ) ......... আবু সাঈদ খুদরী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, মুআবিয়া (রাযিঃ) যখন অর্ধ সা’ গমকে এক সা’ খেজুরের সমপরিমাণ নির্ধারণ করলেন, তখন আবু সাঈদ (রাযিঃ) তা মেনে নিলেন না এবং বললেন, আমি সাদ্‌কাতুল ফিতর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সময়ে যা আদায় করতাম এখনও তাই আদায় করব-এক সা’ খেজুর অথবা এক সা’ কিশমিশ অথবা এক সা’ যব কিংবা এক সা’ পনির।

2160

حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ يَحْيَى، أَخْبَرَنَا أَبُو خَيْثَمَةَ، عَنْ مُوسَى بْنِ عُقْبَةَ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَمَرَ بِزَكَاةِ الْفِطْرِ أَنْ تُؤَدَّى قَبْلَ خُرُوجِ النَّاسِ إِلَى الصَّلاَةِ .

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

২১৬০। ইয়াহয়া ইবনে ইয়াহয়া (রাহঃ) ......... ইবনে উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) লোকদের (ঈদের) নামাযে গমনের পূর্বেই সাদ্‌কাতুল ফিতর আদায় করার নির্দেশ দিয়েছেন।

2161

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ رَافِعٍ، حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي فُدَيْكٍ، أَخْبَرَنَا الضَّحَّاكُ، عَنْ نَافِعٍ، عَنْ عَبْدِ، اللَّهِ بْنِ عُمَرَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَمَرَ بِإِخْرَاجِ زَكَاةِ الْفِطْرِ أَنْ تُؤَدَّى قَبْلَ خُرُوجِ النَّاسِ إِلَى الصَّلاَةِ .

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

২১৬১। মুহাম্মাদ ইবনে রাফি (রাহঃ) ......... আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) লোকদের (ঈদের) নামাযে গমনের পূর্বে সাদ্‌কাতুল ফিতর আদায় করার নির্দেশ দিয়েছেন।

২. যাকাত অনাদায়কারীর অপরাধ

باب إِثْمِ مَانِعِ الزَّكَاةِ

2162

وَحَدَّثَنِي سُوَيْدُ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا حَفْصٌ، - يَعْنِي ابْنَ مَيْسَرَةَ الصَّنْعَانِيَّ - عَنْ زَيْدِ بْنِ أَسْلَمَ، أَنَّ أَبَا صَالِحٍ، ذَكْوَانَ أَخْبَرَهُ أَنَّهُ، سَمِعَ أَبَا هُرَيْرَةَ، يَقُولُ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " مَا مِنْ صَاحِبِ ذَهَبٍ وَلاَ فِضَّةٍ لاَ يُؤَدِّي مِنْهَا حَقَّهَا إِلاَّ إِذَا كَانَ يَوْمُ الْقِيَامَةِ صُفِّحَتْ لَهُ صَفَائِحَ مِنْ نَارٍ فَأُحْمِيَ عَلَيْهَا فِي نَارِ جَهَنَّمَ فَيُكْوَى بِهَا جَنْبُهُ وَجَبِينُهُ وَظَهْرُهُ كُلَّمَا بَرَدَتْ أُعِيدَتْ لَهُ فِي يَوْمٍ كَانَ مِقْدَارُهُ خَمْسِينَ أَلْفَ سَنَةٍ حَتَّى يُقْضَى بَيْنَ الْعِبَادِ فَيُرَى سَبِيلُهُ إِمَّا إِلَى الْجَنَّةِ وَإِمَّا إِلَى النَّارِ " . قِيلَ يَا رَسُولَ اللَّهِ فَالإِبِلُ قَالَ " وَلاَ صَاحِبُ إِبِلٍ لاَ يُؤَدِّي مِنْهَا حَقَّهَا وَمِنْ حَقِّهَا حَلَبُهَا يَوْمَ وِرْدِهَا إِلاَّ إِذَا كَانَ يَوْمُ الْقِيَامَةِ بُطِحَ لَهَا بِقَاعٍ قَرْقَرٍ أَوْفَرَ مَا كَانَتْ لاَ يَفْقِدُ مِنَهَا فَصِيلاً وَاحِدًا تَطَؤُهُ بِأَخْفَافِهَا وَتَعَضُّهُ بِأَفْوَاهِهَا كُلَّمَا مَرَّ عَلَيْهِ أُولاَهَا رُدَّ عَلَيْهِ أُخْرَاهَا فِي يَوْمٍ كَانَ مِقْدَارُهُ خَمْسِينَ أَلْفَ سَنَةٍ حَتَّى يُقْضَى بَيْنَ الْعِبَادِ فَيُرَى سَبِيلُهُ إِمَّا إِلَى الْجَنَّةِ وَإِمَّا إِلَى النَّارِ " . قِيلَ يَا رَسُولَ اللَّهِ فَالْبَقَرُ وَالْغَنَمُ قَالَ " وَلاَ صَاحِبُ بَقَرٍ وَلاَ غَنَمٍ لاَ يُؤَدِّي مِنْهَا حَقَّهَا إِلاَّ إِذَا كَانَ يَوْمُ الْقِيَامَةِ بُطِحَ لَهَا بِقَاعٍ قَرْقَرٍ لاَ يَفْقِدُ مِنْهَا شَيْئًا لَيْسَ فِيهَا عَقْصَاءُ وَلاَ جَلْحَاءُ وَلاَ عَضْبَاءُ تَنْطِحُهُ بِقُرُونِهَا وَتَطَؤُهُ بِأَظْلاَفِهَا كُلَّمَا مَرَّ عَلَيْهِ أُولاَهَا رُدَّ عَلَيْهِ أُخْرَاهَا فِي يَوْمٍ كَانَ مِقْدَارُهُ خَمْسِينَ أَلْفَ سَنَةٍ حَتَّى يُقْضَى بَيْنَ الْعِبَادِ فَيُرَى سَبِيلُهُ إِمَّا إِلَى الْجَنَّةِ وَإِمَّا إِلَى النَّارِ " . قِيلَ يَا رَسُولَ اللَّهِ فَالْخَيْلُ قَالَ " الْخَيْلُ ثَلاَثَةٌ هِيَ لِرَجُلٍ وِزْرٌ وَهِيَ لِرَجُلٍ سِتْرٌ وَهِيَ لِرَجُلٍ أَجْرٌ فَأَمَّا الَّتِي هِيَ لَهُ وِزْرٌ فَرَجُلٌ رَبَطَهَا رِيَاءً وَفَخْرًا وَنِوَاءً عَلَى أَهْلِ الإِسْلاَمِ فَهِيَ لَهُ وِزْرٌ وَأَمَّا الَّتِي هِيَ لَهُ سِتْرٌ فَرَجُلٌ رَبَطَهَا فِي سَبِيلِ اللَّهِ ثُمَّ لَمْ يَنْسَ حَقَّ اللَّهِ فِي ظُهُورِهَا وَلاَ رِقَابِهَا فَهِيَ لَهُ سِتْرٌ وَأَمَّا الَّتِي هِيَ لَهُ أَجْرٌ فَرَجُلٌ رَبَطَهَا فِي سَبِيلِ اللَّهِ لأَهْلِ الإِسْلاَمِ فِي مَرْجٍ وَرَوْضَةٍ فَمَا أَكَلَتْ مِنْ ذَلِكَ الْمَرْجِ أَوِ الرَّوْضَةِ مِنْ شَىْءٍ إِلاَّ كُتِبَ لَهُ عَدَدَ مَا أَكَلَتْ حَسَنَاتٌ وَكُتِبَ لَهُ عَدَدَ أَرْوَاثِهَا وَأَبْوَالِهَا حَسَنَاتٌ وَلاَ تَقْطَعُ طِوَلَهَا فَاسْتَنَّتْ شَرَفًا أَوْ شَرَفَيْنِ إِلاَّ كَتَبَ اللَّهُ لَهُ عَدَدَ آثَارِهَا وَأَرْوَاثِهَا حَسَنَاتٍ وَلاَ مَرَّ بِهَا صَاحِبُهَا عَلَى نَهْرٍ فَشَرِبَتْ مِنْهُ وَلاَ يُرِيدُ أَنْ يَسْقِيَهَا إِلاَّ كَتَبَ اللَّهُ لَهُ عَدَدَ مَا شَرِبَتْ حَسَنَاتٍ " . قِيلَ يَا رَسُولَ اللَّهِ فَالْحُمُرُ قَالَ " مَا أُنْزِلَ عَلَىَّ فِي الْحُمُرِ شَىْءٌ إِلاَّ هَذِهِ الآيَةُ الْفَاذَّةُ الْجَامِعَةُ ( فَمَنْ يَعْمَلْ مِثْقَالَ ذَرَّةٍ خَيْرًا يَرَهُ * وَمَنْ يَعْمَلْ مِثْقَالَ ذَرَّةٍ شَرًّا يَرَهُ) " .

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

২১৬২। সুওয়ায়দ ইবনে সাঈদ (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, কোন স্বর্ণ ও রৌপ্যের মালিক যদি এগুলোর হক (যাকাত) আদায় না করে তবে কিয়ামতের দিনে তার জন্য আগুনের পাত তৈরী করা হবে। তারপর জাহান্নামের অগ্নিতে উত্তপ্ত করে তা দিয়ে তার পার্শ্বে ও ললাটে, পৃষ্ঠদেশে দাগ দেয়া হবে। এরপর যখন উত্তপ্ততা কমে যাবে তখন পূনরায় তা উত্তপ্ত করা হরে। এভাবে চলতে থাকবে, দিনভর যার পরিমাণ হবে পঞ্চাশ হাজার বছর, যে পর্যন্ত না বান্দাদের মধ্যে ফয়সালা হবে। অতঃপর দেখান হবে তার পথ হয় জান্নাতের দিকে, না হয় জাহান্নামের দিকে।

বলা হল, ইয়া রাসুলাল্লাহ! উট সম্বন্ধে বিধান কি? তিনি বললেন, আর উটের হক হল, পানি পান করার দিন তা দোহন করা। উটের কোন মালিক যদি এর হক আদায় না করে তবে কিয়ামতের দিন তাকে এক প্রশস্ত প্রান্তরে অধঃমুখী করে শয়িত করা হবে। তারপর ঐ উট পূর্বের চাইতেও অধিক মোটাতাজা অবস্থায় মালিকের নিকট উপস্থিত হবে এমন কি একটি বাচ্চাও বাদ পড়বেনা এবং স্বীয় খুর দ্বারা উটের মালিক যদি তার হক আদায় না করে তাকে পায়ে মাড়াতে থাকবে ও মুখে কাটতে থাকবে। মালিককে দলিত করে একটি উট চলে গেলে অপরটি আসবে। এমনি করে চলতে থাকবে ঐ দিন, যে দিনের পরিমাণ হবে পঞ্চাশ হাজার বছর।

অতঃপর লোকদের ফয়সালা হরে। পথ দেখানো হবে তাকে হয় তো জান্নাতের দিকে অথবা জাহান্নামের দিকে। প্রশ্ন করা হল, হে আল্লাহর রাসুল! গরু ও ছাগলের হক কি? তিনি বললেন, গরু-ছাগলের কোন মালিক যদি তাদের হক আদায় না করে তবে কিয়ামতের দিন তাকে এক প্রশস্ত সমতল প্রান্তরে শোয়ানো হবে। অতঃপর গরু-ছাগল তাকে স্বীয় খুর দ্বারা দলিত এবং শিং দ্বারা আঘাত করতে থাকবে। সেদিন সেগুলোর কোন একটিকেও অনুপস্থিত দেখতে পাবে না এবং তাদের মধ্যে কোন গরু-ছাগল শিংবিহীন, উল্টো শিং এবং ভাঙ্গা শিং বিশিষ্টও থাকবে না। এদের প্রথম দলটি যখন চলে যাবে তৎক্ষণাৎ অন্য দলটি এসে যাবে। এভাবে চলতে থাকবে চলতে থাকবে ঐ দিন, যে দিনের পরিমাণ হবে পঞ্চাশ হাজার বছর।

অবশেষে যখন লোকদের বিচার অনুষ্ঠান সমাপ্ত হবে তখন পথ প্রদর্শন করা হবে তাকে হয় তো জান্নাতের দিকে অথবা জাহান্নামের দিকে। জিজ্ঞাসা করা হল, হে আল্লাহর রাসুল! ঘোড়ার হক কি? উত্তরে তিনি বললেন, ঘোড়া তিন প্রকার। ঘোড়া কারো জন্য বোঝা হবে। আর কারো জন্য হবে আবরণ। আর কারো জন্য তা হবে পূণ্য। যার জন্য ঘোড়া বোঝা স্বরূপ হবে তা সে ব্যক্তি যে তার ঘোড়াকে বেধে রেখেছে লোকদের দেখানো, গর্ব প্রকাশ এবং মুসলমানদের শক্রতা পোষণের জন্য। এ ঘোড়াই হবে তার জন্য বোঝা স্বরূপ। যে ঘোড়া কারো জন্য আবরণ স্বরূপ হবে, তা সে ব্যক্তির ঘোড়া যে তার ঘোড়াকে আল্লাহর পথে জিহাদ করার জন্য বেঁধে রেখেছে এবং এর পিঠ ও ঘাড়ের সাথে সংশ্লিষ্ট আল্লাহর হকের কথাও সে ভুলে যায়নি। এ ঘোড়াই হরে তার জন্য ঢাল স্বরূপ। আর যে ঘোড়া মালিকের জন্য পূণ্য স্বরূপ হবে তা ঐ ব্যক্তির ঘোড়া, যে তার ঘোড়াকে আল্লাহর পথে মুসলিমদের উদ্দেশ্যে বাগান বা সবুজ তৃণভূমিতে বেঁধে রেখেছে। ঘোড়াটি ঐ চারণভূমি বাগান থেকে যে পরিমাপ ভক্ষণ করবে এর বিনিময়ে তাকে দেয়া হবে পুণ্য। অনরূপভাবে এর মল মূত্রের বিনিময়েও পরিমাণ তাকে পূণ্য দেয়া হবে। আর ঘোড়াটি যদি তার রশি ছিড়ে এক বা দুটি টিলা অতিক্রম করে; তবে তার প্রতিটি পদচিহ্ন ও গোবরের বিনিময়েও তাকে পুণ্য দেয়া হবে। যদি মালিক ঘোড়াটি নিয়ে কোন নদী-নালা অতিক্রম করে এবং মালিক ঘোড়াটিকে পানি পান করানোর ইচ্ছা না করা সত্ত্বেও যদি ঘোড়াটি কিছু পানি পান করে নেয়, তবে যে পরিমাণ পানি পান করেছে সে পরিমাণ নেকী তাকে দেয়া হবে।

অতঃপর জিজ্ঞাসা করা হল, ইয়া রাসুলাল্লাহ! গাধা (সম্বন্ধে কোন বিধান আছে কি?) উত্তরে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন গাধা সম্পর্কে আমার নিকট কোন আদেশ অবর্তীর্ণ হয়নি। তবে ব্যাপক অর্থবোধক এই একটি আয়াত বিদ্যমান আছেঃفَمَنْ يَعْمَلْ مِثْقَالَ ذَرَّةٍ خَيْرًا يَرَهُ * وَمَنْ يَعْمَلْ مِثْقَالَ ذَرَّةٍ شَرًّا يَرَهُ ″কেউ অণু পরিমাণ সৎকর্ম করলে তা দেখবে এবং কেউ অণু পরিমাণ অসৎকর্ম করলে তাও দেখবে। (সূরা যিলযালঃ ৭-৮)।
2163

وَحَدَّثَنِي يُونُسُ بْنُ عَبْدِ الأَعْلَى الصَّدَفِيُّ، أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ وَهْبٍ، حَدَّثَنِي هِشَامُ، بْنُ سَعْدٍ عَنْ زَيْدِ بْنِ أَسْلَمَ، فِي هَذَا الإِسْنَادِ بِمَعْنَى حَدِيثِ حَفْصِ بْنِ مَيْسَرَةَ إِلَى آخِرِهِ غَيْرَ أَنَّهُ قَالَ " مَا مِنْ صَاحِبِ إِبِلٍ لاَ يُؤَدِّي حَقَّهَا " . وَلَمْ يَقُلْ " مِنْهَا حَقَّهَا " . وَذَكَرَ فِيهِ " لاَ يَفْقِدُ مِنْهَا فَصِيلاً وَاحِدًا " . وَقَالَ " يُكْوَى بِهَا جَنْبَاهُ وَجَبْهَتُهُ وَظَهْرُهُ " .

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

২১৬৩। ইউনুস ইবনে আব্দুল আ’লা আল সাদাফী (রাহঃ) ......... যায়দ ইবনে আসলাম (রাহঃ) থেকে এই সনদে হাফস ইবনে মায়সারা (রাহঃ) এর হাদীসের মর্মানুযায়ী শেয পর্যন্ত হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। তবে তিনি বলেছেন مَا مِنْ صَاحِبِ إِبِلٍ لاَ يُؤَدِّي حَقَّهَا আর তিনি مِنْهَا حَقَّهَا বলেননি এবং এ হাদীসে لاَ يَفْقِدُ مِنْهَا فَصِيلاً وَاحِدًا উল্লেখ করেছেন এবং يُكْوَى بِهَا جَنْبَاهُ وَجَبْهَتُهُ وَظَهْرُهُ বলেছেন।

2164

وَحَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الْمَلِكِ الأُمَوِيُّ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ الْمُخْتَارِ، حَدَّثَنَا سُهَيْلُ، بْنُ أَبِي صَالِحٍ عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " مَا مِنْ صَاحِبِ كَنْزٍ لاَ يُؤَدِّي زَكَاتَهُ إِلاَّ أُحْمِيَ عَلَيْهِ فِي نَارِ جَهَنَّمَ فَيُجْعَلُ صَفَائِحَ فَيُكْوَى بِهَا جَنْبَاهُ وَجَبِينُهُ حَتَّى يَحْكُمَ اللَّهُ بَيْنَ عِبَادِهِ فِي يَوْمٍ كَانَ مِقْدَارُهُ خَمْسِينَ أَلْفَ سَنَةٍ ثُمَّ يُرَى سَبِيلَهُ إِمَّا إِلَى الْجَنَّةِ وَإِمَّا إِلَى النَّارِ وَمَا مِنْ صَاحِبِ إِبِلٍ لاَ يُؤَدِّي زَكَاتَهَا إِلاَّ بُطِحَ لَهَا بِقَاعٍ قَرْقَرٍ كَأَوْفَرِ مَا كَانَتْ تَسْتَنُّ عَلَيْهِ كُلَّمَا مَضَى عَلَيْهِ أُخْرَاهَا رُدَّتْ عَلَيْهِ أُولاَهَا حَتَّى يَحْكُمَ اللَّهُ بَيْنَ عِبَادِهِ فِي يَوْمٍ كَانَ مِقْدَارُهُ خَمْسِينَ أَلْفَ سَنَةٍ ثُمَّ يُرَى سَبِيلَهُ إِمَّا إِلَى الْجَنَّةِ وَإِمَّا إِلَى النَّارِ وَمَا مِنْ صَاحِبِ غَنَمٍ لاَ يُؤَدِّي زَكَاتَهَا إِلاَّ بُطِحَ لَهَا بِقَاعٍ قَرْقَرٍ كَأَوْفَرِ مَا كَانَتْ فَتَطَؤُهُ بِأَظْلاَفِهَا وَتَنْطِحُهُ بِقُرُونِهَا لَيْسَ فِيهَا عَقْصَاءُ وَلاَ جَلْحَاءُ كُلَّمَا مَضَى عَلَيْهِ أُخْرَاهَا رُدَّتْ عَلَيْهِ أُولاَهَا حَتَّى يَحْكُمَ اللَّهُ بَيْنَ عِبَادِهِ فِي يَوْمٍ كَانَ مِقْدَارُهُ خَمْسِينَ أَلْفَ سَنَةٍ مِمَّا تَعُدُّونَ ثُمَّ يُرَى سَبِيلَهُ إِمَّا إِلَى الْجَنَّةِ وَإِمَّا إِلَى النَّارِ " . قَالَ سُهَيْلٌ فَلاَ أَدْرِي أَذَكَرَ الْبَقَرَ أَمْ لاَ . قَالُوا فَالْخَيْلُ يَا رَسُولَ اللَّهِ قَالَ " الْخَيْلُ فِي نَوَاصِيهَا - أَوْ قَالَ - الْخَيْلُ مَعْقُودٌ فِي نَوَاصِيهَا - قَالَ سُهَيْلٌ أَنَا أَشُكُّ - الْخَيْرُ إِلَى يَوْمِ الْقِيَامَةِ الْخَيْلُ ثَلاَثَةٌ فَهْىَ لِرَجُلٍ أَجْرٌ وَلِرَجُلٍ سِتْرٌ وَلِرَجُلٍ وِزْرٌ فَأَمَّا الَّتِي هِيَ لَهُ أَجْرٌ فَالرَّجُلُ يَتَّخِذُهَا فِي سَبِيلِ اللَّهِ وَيُعِدُّهَا لَهُ فَلاَ تُغَيِّبُ شَيْئًا فِي بُطُونِهَا إِلاَّ كَتَبَ اللَّهُ لَهُ أَجْرًا وَلَوْ رَعَاهَا فِي مَرْجٍ مَا أَكَلَتْ مِنْ شَىْءٍ إِلاَّ كَتَبَ اللَّهُ لَهُ بِهَا أَجْرًا وَلَوْ سَقَاهَا مِنْ نَهْرٍ كَانَ لَهُ بِكُلِّ قَطْرَةٍ تُغَيِّبُهَا فِي بُطُونِهَا أَجْرٌ - حَتَّى ذَكَرَ الأَجْرَ فِي أَبْوَالِهَا وَأَرْوَاثِهَا - وَلَوِ اسْتَنَّتْ شَرَفًا أَوْ شَرَفَيْنِ كُتِبَ لَهُ بِكُلِّ خَطْوَةٍ تَخْطُوهَا أَجْرٌ وَأَمَّا الَّذِي هِيَ لَهُ سِتْرٌ فَالرَّجُلُ يَتَّخِذُهَا تَكَرُّمًا وَتَجَمُّلاً وَلاَ يَنْسَى حَقَّ ظُهُورِهَا وَبُطُونِهَا فِي عُسْرِهَا وَيُسْرِهَا وَأَمَّا الَّذِي عَلَيْهِ وِزْرٌ فَالَّذِي يَتَّخِذُهَا أَشَرًا وَبَطَرًا وَبَذَخًا وَرِيَاءَ النَّاسِ فَذَاكَ الَّذِي هِيَ عَلَيْهِ وِزْرٌ " . قَالُوا فَالْحُمُرُ يَا رَسُولَ اللَّهِ قَالَ " مَا أَنْزَلَ اللَّهُ عَلَىَّ فِيهَا شَيْئًا إِلاَّ هَذِهِ الآيَةَ الْجَامِعَةَ الْفَاذَّةَ ( فَمَنْ يَعْمَلْ مِثْقَالَ ذَرَّةٍ خَيْرًا يَرَهُ * وَمَنْ يَعْمَلْ مِثْقَالَ ذَرَّةٍ شَرًّا يَرَهُ) " .

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

২১৬৪। মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল মালিক উমাবী (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, সোনা-রূপা সঞ্চয়কারী ব্যক্তি যদি এর যাকাত আদায় না করে তবে জাহান্নামের আগুনে তা উত্তপ্ত করা হবে। অতঃপর এগুলোকে পাতের ন্যায় বানিয়ে এর দ্বারা তার পার্শ্ব এবং ললাটে দাগ দেয়া হবে। আল্লাহ তাঁর বান্দাদের মধ্যে ফয়সালা করা পর্যন্ত, এমন দিনে যে দিনের পরিমাণ হবে পঞ্চাশ হাজার বছরের সমান। এরপর দেখানো হবে তাকে তার পথ জান্নাতের দিকে অথবা জাহান্নামের দিকে।

কোন উটের মালিক যদি এর যাকাত আদায় না করে তবে তাকে এক প্রশস্ত সমতল প্রান্তরে অধোমুখী করে শায়িত করা হবে। এরপর সে উট পূর্বের চাইতেও অধিক মোটাতাজা অবস্থায় মালিকের নিকট উপস্থিত হবে এবং তাকে পদদলিত করতে থাকবে। এদের শেষটি চলে গেলে আবার প্রথমটি ফিরে আসবে। আল্লাহ তাআলা তাঁর বান্দাদের মধ্যে ফয়সালা করা পর্যন্ত এমন এক দিনে, যে দিনের পরিমাণ হবে পঞ্চাশ হাজার বছর। এরপর দেখান হবে তাকে তার পথ জান্নাতের দিকে অথবা জাহান্নামের দিকে।

বকরীর কোন মালিক যদি এর যাকাত আদায় না করে তবে তাকে প্রশস্ত সমতল প্রান্তরে শায়িত করা হবে। এরপর সে বকরী পূর্বের চেয়েও অধিক মোটাতাজা অবস্থায় মালিকের নিকট উপস্থিত হবে এবং স্বীয় খুর দ্বারা তাকে দলিত ও শিং দ্বারা আঘাত করতে থাকবে। এদের মধ্যে সেদিন কোনটাই শিংবিহীন এবং উল্টো শিং বিশিষ্ট থাকবে না। যখন এদের শেষটি চলে যাবে তখন আবার প্রথমটি ফিরে আসবে। এরপর আল্লাহ তাআলা তাঁর বান্দাদের মধ্যে ফয়সালা করা পর্যন্ত এমন দিনে, যে দিনের পরিমাণ হবে তোমাদের হিসাব অনুসারে পঞ্চাশ হাজার বছর। এরপর তাকে দেখান হবে তার রাস্তা জান্নাতের দিকে অথবা জাহান্নামের দিকে।

রাবী সুহাঈল (রাযিঃ) বলেন, তিনি গরুর কথা উল্লেখ করছেন কি না, আমি জানি না। এরপর সাহাবাগণ বললেন, ইয়া রাসুলাল্লাহ! ঘোড়ার হুকুম কি? তিনি বললেন, ঘোড়ার কপালে আছে কল্যাণ অথবা বললেন ঘোড়া তার কপালের সাথে আব্দ্ধ করা হয়েছে কিয়ামত পর্যন্ত। [বর্ণনাকারী সুহাঈল (রাযিঃ) বলেন, এ সন্দেহ আমার]

অতঃপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, ঘোড়া তিন প্রকার। এক ব্যক্তির জন্য তা পুণ্য, এক ব্যক্তির জন্য আবরণ স্বরূপ এক ব্যক্তির জন্য হবে বোঝা স্বরূপ। যে ঘোড়া তার মালিকের জন্য পূণ্য স্বরূপ হবে, তা সে ব্যক্তি, যে তার ঘোড়াকে আল্লাহর রাস্তায় নিয়োজিত রাখে এবং সদা তৈরী রাখে তাকে তাঁরই জন্য। এ ঘোড়া যা কিছু গলধ করণ করে এর প্রতিটির বিনিময়ে তাকে দেওয়া হবে পুণ্য। যদি সে তাকে কোন সবুজ চারণ ভুমিতে চরায় তবে তার যা কিছু আহার করে তার প্রতিটি তৃণের বিনিময়ে আল্লাহ তার জন্য সাওয়াব লিখবেন।। যদি সে ঘোড়াকে কোন নদী হতে পানি পান করায়, তবে যতটা পান করল তার প্রতিটি ফোটার বিনিময়ে সে সাওয়াব পাবে। এমনকি অবশেষে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) (সাওয়াবের উল্লেখ করলেন এর পেশাব এবং গোবরের ব্যাপারে)। যদি তা এক বা দুটি টিলা অতিক্রম করে, তবে এর প্রতিটি কদমের বিনিময়ে রয়েছে মালিকের জন্য পূণ্য।

যে ঘোড়া তার মালিকের জন্য আবরণ স্বরূপ তা সেই ব্যক্তি, যে তার ঘোড়াকে আদর-যত্ন সহকারে সুন্দরভাবে প্রতিপালন করে ’এবং তার ভাল অবস্থায় ও মন্দ অবস্থায় তার পেট ও পিঠের হকের কথা কখনো ভুলেনা।

আর ঘোড়া বোঝা স্বরূপ সে ব্যক্তির জন্য, যে ঘোড়া প্রতিপালন করে মানুষের সাথে অহংকার ও গরিমা প্রকাশ এবং লোক দেখানোর জন্য, এ ঘোড়াই তার উপর বোঝা স্বরূপ হবে।

তারা বললেন, ইয়া রাসুলাল্লাহ! গাধা সম্পর্কে হুকুম কি? তিনি বললেন, আল্লাহ তাআলার ব্যাপক অর্থবোধক আয়াতটি ব্যতীত এ সম্পর্কে আমার প্রতি কিছু নাযিল করেননিঃ فَمَنْ يَعْمَلْ مِثْقَالَ ذَرَّةٍ خَيْرًا يَرَهُ * وَمَنْ يَعْمَلْ مِثْقَالَ ذَرَّةٍ شَرًّا يَرَهُ ″কেউ অণু পরিমাণ সৎকর্ম করলে তা দেখবে এবং কেউ অণু পরিমাণ অসৎকর্ম করলে তাও দেখবে″ (সূরা যিলযালঃ ৭-৮)
2165

وَحَدَّثَنَاهُ قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ، - يَعْنِي الدَّرَاوَرْدِيَّ - عَنْ سُهَيْلٍ، بِهَذَا الإِسْنَادِ . وَسَاقَ الْحَدِيثَ

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

২১৬৫। কুতায়বা ইবনে সাঈদ (রাহঃ) ......... সুহাঈল (রাযিঃ) থেকে এ সনদে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

2166

وَحَدَّثَنِيهِ مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ بَزِيعٍ، حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ زُرَيْعٍ، حَدَّثَنَا رَوْحُ بْنُ الْقَاسِمِ، حَدَّثَنَا سُهَيْلُ بْنُ أَبِي صَالِحٍ، بِهَذَا الإِسْنَادِ وَقَالَ بَدَلَ عَقْصَاءُ عَضْبَاءُ وَقَالَ " فَيُكْوَى بِهَا جَنْبُهُ وَظَهْرُهُ " . وَلَمْ يَذْكُرْ جَبِينُهُ .

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

২১৬৬। মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে বাযী (রাহঃ) ......... সুহাঈল ইবনে আবু সালিহ (রাহঃ) থেকে এ সনদে হাদীস বর্ণনা করেছেন। তবে তিনি উল্টো শিং এর স্থলে কোন কাটা বলেছেন এবং ললাটে দাগ দেয়ার কথা উল্লেখ করা ছাড়া কেবল পার্শ্ব এবং পৃষ্ঠে দাগ দেয়া হবে কথাটি উল্লেখ করেছেন।

2167

وَحَدَّثَنِي هَارُونُ بْنُ سَعِيدٍ الأَيْلِيُّ، حَدَّثَنَا ابْنُ وَهْبٍ، أَخْبَرَنِي عَمْرُو بْنُ الْحَارِثِ، أَنَّ بُكَيْرًا، حَدَّثَهُ عَنْ ذَكْوَانَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ قَالَ " إِذَا لَمْ يُؤَدِّ الْمَرْءُ حَقَّ اللَّهِ أَوِ الصَّدَقَةَ فِي إِبِلِهِ " . وَسَاقَ الْحَدِيثَ بِنَحْوِ حَدِيثِ سُهَيْلٍ عَنْ أَبِيهِ .

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

২১৬৭। হারুন ইবনে সাঈদ আয়লী (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, যদি মানুষ আল্লাহর হক আদায় না করে অথবা (বলেছেন) উটের সাদ্‌কা আদায় না করে- এরপর রাবী হাদীসটি সুহাঈল (রাহঃ) কর্তৃক তার পিতার সূত্রে বর্ণিত হাদীসটির অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।

2168

حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، أَخْبَرَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، ح وَحَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ رَافِعٍ، - وَاللَّفْظُ لَهُ - حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، أَخْبَرَنَا ابْنُ جُرَيْجٍ، أَخْبَرَنِي أَبُو الزُّبَيْرِ، أَنَّهُ سَمِعَ جَابِرَ بْنَ، عَبْدِ اللَّهِ الأَنْصَارِيَّ يَقُولُ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " مَا مِنْ صَاحِبِ إِبِلٍ لاَ يَفْعَلُ فِيهَا حَقَّهَا إِلاَّ جَاءَتْ يَوْمَ الْقِيَامَةِ أَكْثَرَ مَا كَانَتْ قَطُّ وَقَعَدَ لَهَا بِقَاعٍ قَرْقَرٍ تَسْتَنُّ عَلَيْهِ بِقَوَائِمِهَا وَأَخْفَافِهَا وَلاَ صَاحِبِ بَقَرٍ لاَ يَفْعَلُ فِيهَا حَقَّهَا إِلاَّ جَاءَتْ يَوْمَ الْقِيَامَةِ أَكْثَرَ مَا كَانَتْ وَقَعَدَ لَهَا بِقَاعٍ قَرْقَرٍ تَنْطِحُهُ بِقُرُونِهَا وَتَطَؤُهُ بِقَوَائِمِهَا وَلاَ صَاحِبِ غَنَمٍ لاَ يَفْعَلُ فِيهَا حَقَّهَا إِلاَّ جَاءَتْ يَوْمَ الْقِيَامَةِ أَكْثَرَ مَا كَانَتْ وَقَعَدَ لَهَا بِقَاعٍ قَرْقَرٍ تَنْطِحُهُ بِقُرُونِهَا وَتَطَؤُهُ بِأَظْلاَفِهَا لَيْسَ فِيهَا جَمَّاءُ وَلاَ مُنْكَسِرٌ قَرْنُهَا وَلاَ صَاحِبِ كَنْزٍ لاَ يَفْعَلُ فِيهِ حَقَّهُ إِلاَّ جَاءَ كَنْزُهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ شُجَاعًا أَقْرَعَ يَتْبَعُهُ فَاتِحًا فَاهُ فَإِذَا أَتَاهُ فَرَّ مِنْهُ فَيُنَادِيهِ خُذْ كَنْزَكَ الَّذِي خَبَأْتَهُ فَأَنَا عَنْهُ غَنِيٌّ فَإِذَا رَأَى أَنْ لاَ بُدَّ مِنْهُ سَلَكَ يَدَهُ فِي فِيهِ فَيَقْضَمُهَا قَضْمَ الْفَحْلِ " . قَالَ أَبُو الزُّبَيْرِ سَمِعْتُ عُبَيْدَ بْنَ عُمَيْرٍ يَقُولُ هَذَا الْقَوْلَ ثُمَّ سَأَلْنَا جَابِرَ بْنَ عَبْدِ اللَّهِ عَنْ ذَلِكَ فَقَالَ مِثْلَ قَوْلِ عُبَيْدِ بْنِ عُمَيْرٍ . وَقَالَ أَبُو الزُّبَيْرِ سَمِعْتُ عُبَيْدَ بْنَ عُمَيْرٍ يَقُولُ قَالَ رَجُلٌ يَا رَسُولَ اللَّهِ مَا حَقُّ الإِبِلِ قَالَ " حَلَبُهَا عَلَى الْمَاءِ وَإِعَارَةُ دَلْوِهَا وَإِعَارَةُ فَحْلِهَا وَمَنِيحَتُهَا وَحَمْلٌ عَلَيْهَا فِي سَبِيلِ اللَّهِ " .

Narrator: জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ আনসারী (রাঃ)

২১৬৮। ইসহাক ইবনে ইবরাহীম ও মুহাম্মাদ ইবনে রাফি (রাহঃ) ......... জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ আনসারী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে বলতে শুনেছি, যে উটের মালিক তার (যাকাত) আদায় করবে না, কিয়ামতের দিন সে উট পূর্বের চেয়ে অধিক মোটাতাজা হয়ে মালিকের নিকট উপস্থিত হবে। এরপর তাকে একটি প্রশস্ত সমতল মাঠে বসান হবে এবং ঐ উট তার পা ও খুরের দ্বারা তাকে পিষ্ট করবে।

যদি কোন গরুর মালিক তার হক আদায় না করে তবে কিয়ামতের দিন সে গরু পূর্বের চেয়েও অধিক মোটা-তাজা অবস্থায় মালিকের নিকট উপস্থিত হবে। এরপর তাকে এক প্রশস্ত সমতল প্রান্তরে বসান হবে এবং সেগুলো তাকে শিং দ্বারা গুতাবে ও খুর দ্বারা পিষ্ট করবে।

যদি কোন ছাগলের মালিক তার হক আদায় না করে তবে কিয়ামতের দিন সে ছাগল পূর্বের চেয়েও অধিক মোটা-তাজা অবস্থায় মালিকের নিকট উপস্থিত হবে। আর তাকে এক প্রশস্ত প্রান্তরে বসান হবে এবং সে ছাগল তাকে শিং দ্বারা গুতাবে ও খুর দ্বারা পিষ্ট করতে থাকবে। সেদিন এ ছাগল সমুহে কোনটি শিংবিহীন এবং শিংভাঙ্গা হবে না।

আর যদি সোনা-এরূপা সঞ্চয়কারী কোন ব্যক্তি এর হক আদায় না করে, তবে তার এ সঞ্চয় কিয়ামতের দিন মাথার চুলপড়া বিষধর সাপরূপে মালিকের নিকট উপস্থিত হবে এবং মুখ হা করে তার পেছনে ধাওয়া করবে। যখন সে সাপ তার নিকট আসবে তখন সে এর থেকে পালাবে। তখন সে তাকে ডেকে বলবে, তুমি তোমার সঞ্চয় গ্রহণ কর, যা তুমি লুকিয়ে রেখেছিলে। আমার তার কোন প্রয়োজন নেই। মালিক যখন দেখবে যে, এর থেকে বাচবার কোন উপায় নেই তখন সে সাপটির মুখে হাত ঢুকিয়ে দিবে। এরপর সাপটি তার হাতকে ষাঁড়ের মত কামড় দিয়ে ধরবে।

আবু যুবাইর (রাহঃ) বলেন, আমি উবাইদ ইবনে উমায়র (রাযিঃ) কে এ কথা বলতে শুনেছি। এরপর আমি জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ (রাযিঃ) কে এ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম তিনিও উবাইদ ইবনে উমায়র (রাযিঃ) এর মত বললেন। রাবী আবু যুবাইর (রাহঃ) বলেন, আমি উবাইদ ইবনে উমায়রকে বলতে শুনেছি, এক ব্যক্তি জিজ্ঞাসা করল, ইয়া রাসুলাল্লাহ! উটের হক কি? তিনি বললেন, এর হক হল, পানি পান করাবার স্থানে এদেরকে দোহন করা, এদের (দ্বারা পানি উঠাবার) পাত্র অন্যকে ধার দেয়া, এগুলোর মধ্যে ষাড় উট ও দুগ্ধবতী উটনী অন্যকে ধার দেয়া এবং আল্লাহর পথে লোকদেরকে এগুলোর উপর আরোহণ করান।
2169

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ نُمَيْرٍ، حَدَّثَنَا أَبِي، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْمَلِكِ، عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ، عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " مَا مِنْ صَاحِبِ إِبِلٍ وَلاَ بَقَرٍ وَلاَ غَنَمٍ لاَ يُؤَدِّي حَقَّهَا إِلاَّ أُقْعِدَ لَهَا يَوْمَ الْقِيَامَةِ بِقَاعٍ قَرْقَرٍ تَطَؤُهُ ذَاتُ الظِّلْفِ بِظِلْفِهَا وَتَنْطِحُهُ ذَاتُ الْقَرْنِ بِقَرْنِهَا لَيْسَ فِيهَا يَوْمَئِذٍ جَمَّاءُ وَلاَ مَكْسُورَةُ الْقَرْنِ " . قُلْنَا يَا رَسُولَ اللَّهِ وَمَا حَقُّهَا قَالَ " إِطْرَاقُ فَحْلِهَا وَإِعَارَةُ دَلْوِهَا وَمَنِيحَتُهَا وَحَلَبُهَا عَلَى الْمَاءِ وَحَمْلٌ عَلَيْهَا فِي سَبِيلِ اللَّهِ وَلاَ مِنْ صَاحِبِ مَالٍ لاَ يُؤَدِّي زَكَاتَهُ إِلاَّ تَحَوَّلَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ شُجَاعًا أَقْرَعَ يَتْبَعُ صَاحِبَهُ حَيْثُمَا ذَهَبَ وَهُوَ يَفِرُّ مِنْهُ وَيُقَالُ هَذَا مَالُكَ الَّذِي كُنْتَ تَبْخَلُ بِهِ فَإِذَا رَأَى أَنَّهُ لاَ بُدَّ مِنْهُ أَدْخَلَ يَدَهُ فِي فِيهِ فَجَعَلَ يَقْضَمُهَا كَمَا يَقْضَمُ الْفَحْلُ " .

Narrator: জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ আনসারী (রাঃ)

২১৬৯। মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে নুমাইর (রাহঃ) ......... জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, উট এবং গরু-ছাগলের কোন মালিক যদি এগুলোর যাকাত না দেয় তবে কিয়ামতের দিন তাকে এক প্রশস্ত সমতল ভূমিতে বসান হবে। এরপর খূর বিশিষ্ট প্রাণী তাকে স্বীয় খুর দ্বারা দলিত করবে এবং শিংবিশিষ্ট পশু তাকে স্বীয় শিং দ্বারা আঘাত করতে থাকবে। সেদিন এদের মধ্যে শিংবিহীন এবং শিং ভাঙ্গা কোন পশু থাকবে না। আমরা বললাম, ইয়া রাসুলাল্লাহ! এদের হক কি? রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, উটকে উটনীর পাল নিতে দেয়া, এদের পাত্রসহ পানি উঠাবার জন্য কাউকে ধার দেয়া। দুগ্ধবর্তী উট অন্যকে ধার দেয়া, পানি পান করবার স্থানে এদের দুগ্ধদোহন করা এবং আল্লাহর পথে এদের উপর লোকদেরকে আরোহণ করতে দেয়া।

যে বিত্তশালী ব্যক্তি তার তার মালের যাকাত দেয় না, কিয়ামতের দিন তা তার জন্য মাথার চুলপড়া বিষধর সাপে রূপান্তরিত করা হবে। অতঃপর সে সাপ যাকাত অস্বীকারকারী ব্যক্তি যেখানে যাবে সেখানেই তাকে ধাওয়া করবে। তখন সে সাপ থেকে পলায়ন করতে থাকবে। কিন্তু তাকে বলা হবে, এই তোমার সম্পদ যার ব্যাপারে তুমি কার্পণ্য করতে। অতঃপর যখন সে দেখবে এর থেকে বাঁচার কোন উপায় নেই, তখন সে তার হাত এর মুখের মধ্যে ঢুকিয়ে দিবে। সে সাপ তার হাত চিবাতে থাকবে, ষাড়ের চিবানোর মত।

৩. যাকাত উসুলে কর্মরতদের সন্তুষ্ট রাখা

باب إِرْضَاءِ السُّعَاةِ

2170

حَدَّثَنَا أَبُو كَامِلٍ، فُضَيْلُ بْنُ حُسَيْنٍ الْجَحْدَرِيُّ حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَاحِدِ بْنُ زِيَادٍ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ أَبِي إِسْمَاعِيلَ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ هِلاَلٍ الْعَبْسِيُّ، عَنْ جَرِيرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ جَاءَ نَاسٌ مِنَ الأَعْرَابِ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالُوا إِنَّ نَاسًا مِنَ الْمُصَدِّقِينَ يَأْتُونَنَا فَيَظْلِمُونَنَا . قَالَ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " ارْضُوا مُصَدِّقِيكُمْ " . قَالَ جَرِيرٌ مَا صَدَرَ عَنِّي مُصَدِّقٌ مُنْذُ سَمِعْتُ هَذَا مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِلاَّ وَهُوَ عَنِّي رَاضٍ .

Narrator: জারীর ইবনে আব্দুল্লাহ বাজালী (রাঃ)

২১৭০। আবু কামিল ফুযায়ল ইবনে হুসাইন জাহদারী (রাহঃ) ......... জারীর ইবনে আব্দুল্লাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, কয়েকজন বেদুঈন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট এসে বলল, যাকাত উসূলকারী লোকজন আমাদের প্রতি যুলুম করে থাকে। বর্ণনাকারী বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, তোমরা যাকাত আদায়কারী লোকদেরকে সন্তুষ্ট করে দাও। জারীর (রাযিঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর এ বাণী শোনার পর কোন যাকাত আদায়কারী ব্যক্তি আমার নিকট হতে সন্তুষ্ট না হয়ে যায় নি।

2171

وَحَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحِيمِ بْنُ سُلَيْمَانَ، ح وَحَدَّثَنَا مُحَمَّدُ، بْنُ بَشَّارٍ حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ، ح وَحَدَّثَنَا إِسْحَاقُ، أَخْبَرَنَا أَبُو أُسَامَةَ، كُلُّهُمْ عَنْ مُحَمَّدِ، بْنِ أَبِي إِسْمَاعِيلَ بِهَذَا الإِسْنَادِ نَحْوَهُ .

Narrator: জারীর ইবনে আব্দুল্লাহ বাজালী (রাঃ)

২১৭১। আবু বকর ইবনে আবি শাঈবা, মুহাম্মাদ ইবনে বাশশার ও ইসহাক (রাহঃ) ......... মুহাম্মাদ ইবনে আবু ইসমাঈল (রাহঃ) তাঁরা সকলেই মুহাম্মাদ ইবনে ইসমাঈল (রাহঃ) থেকে এ সনদে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।

৪. যে ব্যক্তি যাকাত আদায় করে না, তার প্রতি কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা

باب تَغْلِيظِ عُقُوبَةِ مَنْ لاَ يُؤَدِّي الزَّكَاةَ

2172

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، حَدَّثَنَا الأَعْمَشُ، عَنِ الْمَعْرُورِ بْنِ سُوَيْدٍ، عَنْ أَبِي ذَرٍّ، قَالَ انْتَهَيْتُ إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَهُوَ جَالِسٌ فِي ظِلِّ الْكَعْبَةِ . فَلَمَّا رَآنِي قَالَ " هُمُ الأَخْسَرُونَ وَرَبِّ الْكَعْبَةِ " . قَالَ فَجِئْتُ حَتَّى جَلَسْتُ فَلَمْ أَتَقَارَّ أَنْ قُمْتُ فَقُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ فِدَاكَ أَبِي وَأُمِّي مَنْ هُمْ قَالَ " هُمُ الأَكْثَرُونَ أَمْوَالاً إِلاَّ مَنْ قَالَ هَكَذَا وَهَكَذَا وَهَكَذَا - مِنْ بَيْنِ يَدَيْهِ وَمِنْ خَلْفِهِ وَعَنْ يَمِينِهِ وَعَنْ شِمَالِهِ - وَقَلِيلٌ مَا هُمْ مَا مِنْ صَاحِبِ إِبِلٍ وَلاَ بَقَرٍ وَلاَ غَنَمٍ لاَ يُؤَدِّي زَكَاتَهَا إِلاَّ جَاءَتْ يَوْمَ الْقِيَامَةِ أَعْظَمَ مَا كَانَتْ وَأَسْمَنَهُ تَنْطِحُهُ بِقُرُونِهَا وَتَطَؤُهُ بِأَظْلاَفِهَا كُلَّمَا نَفِدَتْ أُخْرَاهَا عَادَتْ عَلَيْهِ أُولاَهَا حَتَّى يُقْضَى بَيْنَ النَّاسِ " .

Narrator: হযরত আবু যার গিফারী (রাঃ)

২১৭২। আবু বকর ইবনে আবি শাঈবা (রাহঃ) ......... আবু যর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কাছে গেলাম। তখন তিনি কাবা গৃহের ছায়ায় উপবিষ্ট ছিলেন। তিনি আমাকে দেখে বললেন, কাবা গৃহের মালিকের শপথ, তারাই ক্ষতিগ্রস্ত। আবু যর (রাযিঃ) বলেন, আমি তাঁর নিকট গিয়ে বসলাম, কিন্তু বিলম্ব না করে দাঁড়িয়ে গেলাম এবং বললাম, ইয়া রাসুলাল্লাহ! আপনার প্রতি আমার পিতা-মাতা উৎসর্গিত হোক, তারা কারা? তিনি বললেন, তারা হল অধিক সম্পদের মালিকরা। কিন্তু তারা ব্যতীত যারা এদিক ওদিকে, (ডানে, বামে, সন্মুখে, পশ্চাতে) ব্যয় করেছে। তবে এদের সংখ্যা অনেক কম। যে সমস্ত উট, গবাদি পশু বা ভেড়ার মালিক তাদের যাকাত আদায় করে না, কিয়ামতের দ্বীন সে উট ও গরু মোটা-তাজা অবস্থায় মালিকের নিকট আসবে এবং তাকে ওদের শিং দ্বারা আঘাত করবে ও খুর দ্বারা পদদলিত করতে থাকবে। পদদলিত করে যখনই সর্বশেষটি চলে যাবে, তৎক্ষণাৎ প্রথমটি পূনরায় ফিরে আসবে এবং তা চলতে থাকবে লোকদের ফয়সালা না হওয়া পর্যন্ত।

2173

وَحَدَّثَنَاهُ أَبُو كُرَيْبٍ، مُحَمَّدُ بْنُ الْعَلاَءِ حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنِ الْمَعْرُورِ، عَنْ أَبِي ذَرٍّ، قَالَ انْتَهَيْتُ إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَهُوَ جَالِسٌ فِي ظِلِّ الْكَعْبَةِ . فَذَكَرَ نَحْوَ حَدِيثِ وَكِيعٍ غَيْرَ أَنَّهُ قَالَ " وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ مَا عَلَى الأَرْضِ رَجُلٌ يَمُوتُ فَيَدَعُ إِبِلاً أَوْ بَقَرًا أَوْ غَنَمًا لَمْ يُؤَدِّ زَكَاتَهَا " .

Narrator: হযরত আবু যার গিফারী (রাঃ)

২১৭৩। আবু কুরায়ব মুহাম্মাদ ইবনুল আতনা (রাহঃ) ......... আবু যর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একবার আমি নবী (ﷺ) এর কাছে গেলাম। তখন তিনি কাবা গৃহের ছায়াতলে উপবিষ্ট ছিলেন। এরপর ওয়াকীর হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। তবে এতে তিনি বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, সে সত্তার শপথ, যার হাতে আমার প্রাণ! যমীনের উপর এমন কোন লোক নেই যে, মরে যাবে এবং রেখে যাবে এমন উট অথবা গরুর অথবা ছাগল যার যাকাত সে আদায় করে নি।

2174

حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ سَلاَّمٍ الْجُمَحِيُّ، حَدَّثَنَا الرَّبِيعُ، - يَعْنِي ابْنَ مُسْلِمٍ - عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ زِيَادٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " مَا يَسُرُّنِي أَنَّ لِي أُحُدًا ذَهَبًا تَأْتِي عَلَىَّ ثَالِثَةٌ وَعِنْدِي مِنْهُ دِينَارٌ إِلاَّ دِينَارٌ أُرْصِدُهُ لِدَيْنٍ عَلَىَّ " .

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

২১৭৪। আব্দুর রহমান ইবনে সাল্লাম জুমাহী (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, নবী (ﷺ) বলেন, এতে আমি খুশী নই যে, আমার জন্য উহুদ পাহাড় পরিমাণ স্বর্ণ হোক এবং তিন দিন এ অবস্থায় অতিবাহিত হোক যে, সে স্বর্ণ থেকে আমার কাছে একটি দীনার অবশিষ্ট থাকবে। তবে সে দীনার ব্যতীত, যা আমি কারো ঋণ পরিশোধ করার জন্য প্রস্তুত রাখি।

2175

وَحَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ زِيَادٍ، قَالَ سَمِعْتُ أَبَا هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم بِمِثْلِهِ .

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

২১৭৫। মুহাম্মাদ ইবনে বাশশার (রাহঃ) ......... মুহাম্মাদ ইবনে যিয়াদ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আবু হুরায়রা (রাযিঃ) কে নবী (ﷺ) থেকে অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করতে শুনেছি।

৫. দান-সাদ্‌কায় উৎসাহ প্রদান

باب التَّرْغِيبِ فِي الصَّدَقَةِ

2176

حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ يَحْيَى، وَأَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ وَابْنُ نُمَيْرٍ وَأَبُو كُرَيْبٍ كُلُّهُمْ عَنْ أَبِي مُعَاوِيَةَ، - قَالَ يَحْيَى أَخْبَرَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ، - عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ زَيْدِ بْنِ وَهْبٍ، عَنْ أَبِي، ذَرٍّ قَالَ كُنْتُ أَمْشِي مَعَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فِي حَرَّةِ الْمَدِينَةِ عِشَاءً وَنَحْنُ نَنْظُرُ إِلَى أُحُدٍ فَقَالَ لِي رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " يَا أَبَا ذَرٍّ " . قَالَ قُلْتُ لَبَّيْكَ يَا رَسُولَ اللَّهِ . قَالَ " مَا أُحِبُّ أَنَّ أُحُدًا ذَاكَ عِنْدِي ذَهَبٌ أَمْسَى ثَالِثَةً عِنْدِي مِنْهُ دِينَارٌ إِلاَّ دِينَارًا أُرْصِدُهُ لِدَيْنٍ إِلاَّ أَنْ أَقُولَ بِهِ فِي عِبَادِ اللَّهِ هَكَذَا - حَثَا بَيْنَ يَدَيْهِ - وَهَكَذَا - عَنْ يَمِينِهِ - وَهَكَذَا - عَنْ شِمَالِهِ " . قَالَ ثُمَّ مَشَيْنَا فَقَالَ " يَا أَبَا ذَرٍّ " . قَالَ قُلْتُ لَبَّيْكَ يَا رَسُولَ اللَّهِ . قَالَ " إِنَّ الأَكْثَرِينَ هُمُ الأَقَلُّونَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ إِلاَّ مَنْ قَالَ هَكَذَا وَهَكَذَا وَهَكَذَا " . مِثْلَ مَا صَنَعَ فِي الْمَرَّةِ الأُولَى قَالَ ثُمَّ مَشَيْنَا قَالَ " يَا أَبَا ذَرٍّ كَمَا أَنْتَ حَتَّى آتِيَكَ " . قَالَ فَانْطَلَقَ حَتَّى تَوَارَى عَنِّي - قَالَ - سَمِعْتُ لَغَطًا وَسَمِعْتُ صَوْتًا - قَالَ - فَقُلْتُ لَعَلَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عُرِضَ لَهُ - قَالَ - فَهَمَمْتُ أَنْ أَتَّبِعَهُ قَالَ ثُمَّ ذَكَرْتُ قَوْلَهُ " لاَ تَبْرَحْ حَتَّى آتِيَكَ " . قَالَ فَانْتَظَرْتُهُ فَلَمَّا جَاءَ ذَكَرْتُ لَهُ الَّذِي سَمِعْتُ - قَالَ - فَقَالَ " ذَاكَ جِبْرِيلُ أَتَانِي فَقَالَ مَنْ مَاتَ مِنْ أُمَّتِكَ لاَ يُشْرِكُ بِاللَّهِ شَيْئًا دَخَلَ الْجَنَّةَ " . قَالَ قُلْتُ وَإِنْ زَنَى وَإِنْ سَرَقَ قَالَ " وَإِنْ زَنَى وَإِنْ سَرَقَ " .

Narrator: হযরত আবু যার গিফারী (রাঃ)

২১৭৬। ইয়াহিয়া ইবনে ইয়াহহিয়া, আবু বকর ইবনে আবি শাঈবা, ইবনে নুমাইর ও আবু কুরায়ব (রাহঃ) ......... আবু যর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ইশার সময় মদীনার হাররা অঞ্চলে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সঙ্গে পায়ে হেঁটে যাচ্ছিলাম। আমরা উহুদ পর্বতের দিকে তাকিয়ে ছিলম। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, আবু যর! আমি বললাম, লাব্বাইক ইয়া রাসুলাল্লাহ! অতঃপর তিনি বললেন, আমি এটা পছন্দ করি না যে, এই উহুদ পাহাড়টি আমার জন্য স্বর্ণ হয়ে যাক আর আমি তিন রাত এ অবস্থায় অতিবাহিত করি যে, স্বর্ণের একটি দীনারও আমার কাছে থাকছে, তবে সে দীনারের কথা স্বতন্ত্র যা আমি ঋণ পরিশোধ করার জন্য রেখে থাকি।

বরং আমি তা ডানে, বামে, সামনে আল্লাহর বান্দাদের মধ্যে এমনিভাবে বিতরণ করব। তিনি উভয় হাতে অঞ্জলি দেখালেন। আবু যর (রাযিঃ) বলেন, তারপর আমরা পথ চলতে লাগলাম। তিনি বললেন, হে আবু যর! আমি বললাম লাব্বাইক, ইয়া রাসুলাল্লাহ! তিনি বললেন, বিত্তশালী লোকেই হবে কিয়ামতের দিন গরীব। তবে যারা ব্যয় করেছে এভাবে এভাবে এভাবে যেরূপ তিনি প্রথমবার করেছিলেন সেরূপ করলেন। আবু যর (রাযিঃ) বললেন, আমরা পথ চলতে লাগলাম। তিনি বললেন, হে আবু যর! আমি তোমার কাছে ফিরে আসা পর্যন্ত তুমি এখানে অবস্থান কর।

রাবী বলেন, অতঃপর তিনি যেতে যেতে আমার দৃষ্টি হতে অদূশ্য হয়ে গেলেন। আবু যর (রাযিঃ) বলেন, এরপর আমি কতিপয় অর্থহীন শব্দ এবং আওয়াজ শুনতে পেলাম। মনে করলাম, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কোন বিপদের সস্মুর্খীন হয়েছেন। তখন আমি তার অনুসরণ করার ইচ্ছা করলাম। হঠাৎ স্মরণ হল, ″আমি তোমার নিকট ফিরে না আসা পর্যন্ত তুমি এখানেই অবস্থান করবে″ তার এ নির্দেশটি।

আবু যর (রাযিঃ) বলেন, আমি তাঁর অপেক্ষা করতে লাগলাম। অবশেষে তিনি ফিরে আসার পর, আমি যা শুনতে পেলাম তা তাঁর নিকট বর্ণনা করলাম। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, এ হলেন জিবরাঈল (আলাইহিস সালাম) আমার নিকট এসে বললেন, আপনার উম্মতের কোন লোক যদি আল্লাহর সঙ্গে অন্য কাউকে শরীক না করে মৃত্যুবরণ করে, তবে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে। আবু যর (রাযিঃ) বলেন, আমি বললাম, যদি সে চুরি এবং ব্যভিচার করে তবুও? তিনি বললেন, হ্যাঁ, যদি সে চুরি এবং ব্যভিচার করে তবুও।
2177

وَحَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا جَرِيرٌ، عَنْ عَبْدِ الْعَزِيزِ، - وَهُوَ ابْنُ رُفَيْعٍ - عَنْ زَيْدِ بْنِ وَهْبٍ، عَنْ أَبِي ذَرٍّ، قَالَ خَرَجْتُ لَيْلَةً مِنَ اللَّيَالِي فَإِذَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَمْشِي وَحْدَهُ لَيْسَ مَعَهُ إِنْسَانٌ قَالَ فَظَنَنْتُ أَنَّهُ يَكْرَهُ أَنْ يَمْشِيَ مَعَهُ أَحَدٌ - قَالَ - فَجَعَلْتُ أَمْشِي فِي ظِلِّ الْقَمَرِ فَالْتَفَتَ فَرَآنِي فَقَالَ " مَنْ هَذَا " . فَقُلْتُ أَبُو ذَرٍّ جَعَلَنِي اللَّهُ فِدَاءَكَ . قَالَ " يَا أَبَا ذَرٍّ تَعَالَهْ " . قَالَ فَمَشَيْتُ مَعَهُ سَاعَةً فَقَالَ " إِنَّ الْمُكْثِرِينَ هُمُ الْمُقِلُّونَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ إِلاَّ مَنْ أَعْطَاهُ اللَّهُ خَيْرًا فَنَفَحَ فِيهِ يَمِينَهُ وَشِمَالَهُ وَبَيْنَ يَدَيْهِ وَوَرَاءَهُ وَعَمِلَ فِيهِ خَيْرًا " . قَالَ فَمَشَيْتُ مَعَهُ سَاعَةً فَقَالَ " اجْلِسْ هَا هُنَا " . قَالَ فَأَجْلَسَنِي فِي قَاعٍ حَوْلَهُ حِجَارَةٌ فَقَالَ لِيَ " اجْلِسْ هَا هُنَا حَتَّى أَرْجِعَ إِلَيْكَ " . قَالَ فَانْطَلَقَ فِي الْحَرَّةِ حَتَّى لاَ أَرَاهُ فَلَبِثَ عَنِّي فَأَطَالَ اللَّبْثَ ثُمَّ إِنِّي سَمِعْتُهُ وَهُوَ مُقْبِلٌ وَهُوَ يَقُولُ " وَإِنْ سَرَقَ وَإِنْ زَنَى " . قَالَ فَلَمَّا جَاءَ لَمْ أَصْبِرْ فَقُلْتُ يَا نَبِيَّ اللَّهِ جَعَلَنِي اللَّهُ فِدَاءَكَ مَنْ تُكَلِّمُ فِي جَانِبِ الْحَرَّةِ مَا سَمِعْتُ أَحَدًا يَرْجِعُ إِلَيْكَ شَيْئًا . قَالَ " ذَاكَ جِبْرِيلُ عَرَضَ لِي فِي جَانِبِ الْحَرَّةِ فَقَالَ بَشِّرْ أُمَّتَكَ أَنَّهُ مَنْ مَاتَ لاَ يُشْرِكُ بِاللَّهِ شَيْئًا دَخَلَ الْجَنَّةَ . فَقُلْتُ يَا جِبْرِيلُ وَإِنْ سَرَقَ وَإِنْ زَنَى قَالَ نَعَمْ . قَالَ قُلْتُ وَإِنْ سَرَقَ وَإِنْ زَنَى قَالَ نَعَمْ . قَالَ قُلْتُ وَإِنْ سَرَقَ وَإِنْ زَنَى قَالَ نَعَمْ وَإِنْ شَرِبَ الْخَمْرَ " .

Narrator: হযরত আবু যার গিফারী (রাঃ)

২১৭৭। কুতায়বা ইবনে সাঈদ (রাহঃ) ......... আবু যর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক রাতে আমি বের হলাম। দেখলাম, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) একাকী পায়চারী করছেন। তাঁর সঙ্গে অন্য কোন মানুষ ছিল না। তিনি বলেন, আমি মনে করলাম, হয়ত তাঁর সঙ্গে কারো হ্যাঁটা তিনি পছন্দ করছেন না। তাই আমি চাঁদের ছায়ায় হাটতে আরম্ভ করলাম। এরপর তিনি এদিকে তাকালেন এবং আমাকে দেখে ফেললেন। তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, এ কে? আমি বললাম, আবু যর। আল্লাহ তাআলা আপনার প্রতি আমাকে উৎসর্গিত করুন। তিনি বললেন, হে আবু যর! এসো। এরপর আমি তাঁর সঙ্গে কিছুক্ষণ পথ চললাম। এক পর্যায়ে তিনি বললেন, কিয়ামতের দিন বিত্তশালী লোকেরাই নিঃস্ব হবে, কিন্তু সে ব্যতীত যাকে আল্লাহ মাল দিয়েছেন, এরপর সে বিলিয়ে দিয়েছে সে সস্পদ ডানে বামে সামনে ও পেছনে এবং এর দ্বারা কল্যাণকর কাজ করেছে।

তিনি বলেন, এরপর আমি তার সঙ্গে আরো কিছুক্ষণ চললাম। তিনি বললেন এখানে বস। এ বলে তিনি আমাকে পাথরঘেরা একটি সমতল মাঠে বসালেন এবং বললেন, আমি তোমার কাছে ফিরে আসা পর্যন্ত তুমি এখানে বসে থাকবে। রাবী বলেন, এর পর তিনি ″হাররা″ এর দিকে চলতে লাগলেন। এমনকি আমি তাঁকে দেখতে পাচ্ছিলাম না। তিনি আমার থেকে পৃথক হয়ে দীর্ঘ সময় বিলম্ব করলেন। এরপর তিনি ফিরে আসার পথে আমি শুনতে পেলাম তিনি বলছেন, ″যদিও সে চুরি করে থাকে″ ″যদিও সে ব্যভিচার করে থাকে″। আবু যর (রাযিঃ) বলেন, যখন তিনি আসলেন, তখন আমি আর সহ্য করতে পারলাম না। তৎক্ষণাৎ জিজ্ঞাসা করলাম, হে আল্লাহর নবী! আল্লাহ আমাকে আপনার প্রতি উৎসর্গিত করুন, আপনি হাররা অঞ্চলে কার সাথে কথা বলছিলেন? আমি তো কাউকে আপনার কথার কোন উত্তর দিতে শুনলাম না।

তখন তিনি বললেন, এ হলেন জিবরাঈল (আলাইহিস সালাম) হাররা অঞ্চলে তাঁর সঙ্গে আমার সাক্ষাত হয়েছে। তিনি বলেছেন, আপনি আপনার উম্মতকে এ সুসংবাদ শুনিয়ে দিন যে, যে ব্যক্তি আল্লাহর সঙ্গে কোন কিছুকে শরীক না করে মারা যায় সে জান্নাতে প্রবেশ করবে। এরপর আমি বললাম, হে জিবরাঈল! যদিও সে চুরি করে, যদিও সে যিনা করে। তিনি বললেন, হ্যাঁ। পুনরায় আমি বললাম, যদিও সে চুরি করে, যদিও সে ব্যভিচার করে? তিনি বললেন, হ্যাঁ। এরপর আবার আমি বললাম, যদিও সে চুরি করে, যদিও সে ব্যভিচার করে? তিনি বললেন, হ্যাঁ, যদি সে মদ্যপানও করে।”
2178

وَحَدَّثَنِي زُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، عَنِ الْجُرَيْرِيِّ، عَنْ أَبِي، الْعَلاَءِ عَنِ الأَحْنَفِ بْنِ قَيْسٍ، قَالَ قَدِمْتُ الْمَدِينَةَ فَبَيْنَا أَنَا فِي، حَلْقَةٍ فِيهَا مَلأٌ مِنْ قُرَيْشٍ إِذْ جَاءَ رَجُلٌ أَخْشَنُ الثِّيَابِ أَخْشَنُ الْجَسَدِ أَخْشَنُ الْوَجْهِ فَقَامَ عَلَيْهِمْ فَقَالَ بَشِّرِ الْكَانِزِينَ بِرَضْفٍ يُحْمَى عَلَيْهِ فِي نَارِ جَهَنَّمَ فَيُوضَعُ عَلَى حَلَمَةِ ثَدْىِ أَحَدِهِمْ حَتَّى يَخْرُجَ مِنْ نُغْضِ كَتِفَيْهِ وَيُوضَعُ عَلَى نُغْضِ كَتِفَيْهِ حَتَّى يَخْرُجَ مِنْ حَلَمَةِ ثَدْيَيْهِ يَتَزَلْزَلُ قَالَ فَوَضَعَ الْقَوْمُ رُءُوسَهُمْ فَمَا رَأَيْتُ أَحَدًا مِنْهُمْ رَجَعَ إِلَيْهِ شَيْئًا - قَالَ - فَأَدْبَرَ وَاتَّبَعْتُهُ حَتَّى جَلَسَ إِلَى سَارِيَةٍ فَقُلْتُ مَا رَأَيْتُ هَؤُلاَءِ إِلاَّ كَرِهُوا مَا قُلْتَ لَهُمْ . قَالَ إِنَّ هَؤُلاَءِ لاَ يَعْقِلُونَ شَيْئًا إِنَّ خَلِيلِي أَبَا الْقَاسِمِ صلى الله عليه وسلم دَعَانِي فَأَجَبْتُهُ فَقَالَ " أَتَرَى أُحُدًا " . فَنَظَرْتُ مَا عَلَىَّ مِنَ الشَّمْسِ وَأَنَا أَظُنُّ أَنَّهُ يَبْعَثُنِي فِي حَاجَةٍ لَهُ فَقُلْتُ أَرَاهُ . فَقَالَ " مَا يَسُرُّنِي أَنَّ لِي مِثْلَهُ ذَهَبًا أُنْفِقُهُ كُلَّهُ إِلاَّ ثَلاَثَةَ دَنَانِيرَ " . ثُمَّ هَؤُلاَءِ يَجْمَعُونَ الدُّنْيَا لاَ يَعْقِلُونَ شَيْئًا . قَالَ قُلْتُ مَا لَكَ وَلإِخْوَتِكَ مِنْ قُرَيْشٍ لاَ تَعْتَرِيهِمْ وَتُصِيبُ مِنْهُمْ . قَالَ لاَ وَرَبِّكَ لاَ أَسْأَلُهُمْ عَنْ دُنْيَا وَلاَ أَسْتَفْتِيهِمْ عَنْ دِينٍ حَتَّى أَلْحَقَ بِاللَّهِ وَرَسُولِهِ .

Narrator: হযরত আবু যার গিফারী (রাঃ)

২১৭৮। যুহাইর ইবনে হারব (রাহঃ) ......... আহনাফ ইবনে কায়স (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি মদীনায় এলাম। সে সময় কুরাইশ নেতৃবৃন্দের একটি হালকায় বসাছিলাম। তখন খসখসে বস্ত্র, খসখসে শরীর ও খসখসে চেহারাবিশিষ্ট এক ব্যক্তি এসে তাদের কাছে দাঁড়িয়ে বললেন, সম্পদ পূঞ্জীভূতকারী ব্যক্তিদেরকে সুসংবাদ দিন, এমন গরম পাথরের যা জাহান্নামের আগুনে উত্তপ্ত করে তাদের স্তনাগ্রে রাখা হবে। ফলে তাদের গ্রীবা দেশের হাড় বিদীর্ণ করে অপর দিকে বের হয়ে যাবে। আবার তার ঘাড়ের হাড়ের উপর রাখা হবে। এমনকি তা স্তনাগ্র ভেদ করে বের হবে।

রাবী বলেন, এ সময় লোকেরা তাদের মাথা নত করে রাখলেন। উপস্থিত কাউকে তার এ কথার প্রতিবাদ করতে দেখলাম না। এরপর লোকটি ফিরে গেলেন। আমি তাঁর পেছনে পেছনে গেলাম। অবশেষে তিনি একটি থামের নিকট গিয়ে বসলেন। আমি বললাম, আপনি তাদেরকে যা বলেছেন, আমার ধারণা তারা তা অপছন্দ মনে করছে। এ কথা শুনে তিনি বললেন, তারা এমন লোক যারা কিছুই বুঝতে পারছে না। আমার বন্ধু আবুল কাসিম (ﷺ) আমাকে ডাকলেন। তাঁর ডাকে সাড়া দিয়ে আমি তাঁর নিকট যাওয়ার পর তিনি বললেন, তুমি কি উহুদ পাহাড়টি দেখতে পাচ্ছ? তখন আমি লক্ষ্য করলাম, আমার উপর সূর্য আর কতটুকু অবশিষ্ট আছে এবং তিনি তাঁর কোন প্রয়োজনে আমাকে তথায় পাঠাবেন। আমি বললাম, জ্বী, হ্যাঁ, দেখতে পাচ্ছি।

তখন তিনি বললেন, আমাকে আনন্দিত করবে না এ সমপরিমাণ স্বর্ণ আমার কাছে হোক, আর আমি এসব ব্যয় করি তিনটি স্বর্ণ মুদ্রা ব্যতীত। এরপর এসব লোক দুনিয়া সঞ্চয় করছে। অথচ তারা কোন কিছুই বুঝছে না। বর্ণনাকারী বলেন, আমি তাঁকে জিজ্ঞাসা করলাম, আপনার কুরাইশী ভাইদের সাথে আপনার কী হয়েছে যে, আপনি তাদের সাথে মেলামেশা করেন না, যান না এবং তাদের কাছ থেকে কিছু লাভ করেন না? তিনি বললেন, না তোমার রবের কসম! আমি তাদের নিকট দুনিয়াও চাইব না এবং দ্বীন সম্পর্কেও কোন কথা জিজ্ঞাসা করব না। আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের সাথে মিলিত না হওয়া পর্যন্ত।
2179

وَحَدَّثَنَا شَيْبَانُ بْنُ فَرُّوخَ، حَدَّثَنَا أَبُو الأَشْهَبِ، حَدَّثَنَا خُلَيْدٌ الْعَصَرِيُّ، عَنِ الأَحْنَفِ، بْنِ قَيْسٍ قَالَ كُنْتُ فِي نَفَرٍ مِنْ قُرَيْشٍ فَمَرَّ أَبُو ذَرٍّ وَهُوَ يَقُولُ بَشِّرِ الْكَانِزِينَ بِكَىٍّ فِي ظُهُورِهِمْ يَخْرُجُ مِنْ جُنُوبِهِمْ وَبِكَىٍّ مِنْ قِبَلِ أَقْفَائِهِمْ يَخْرُجُ مِنْ جِبَاهِهِمْ . - قَالَ - ثُمَّ تَنَحَّى فَقَعَدَ . - قَالَ - قُلْتُ مَنْ هَذَا قَالُوا هَذَا أَبُو ذَرٍّ . قَالَ فَقُمْتُ إِلَيْهِ فَقُلْتُ مَا شَىْءٌ سَمِعْتُكَ تَقُولُ قُبَيْلُ قَالَ مَا قُلْتُ إِلاَّ شَيْئًا قَدْ سَمِعْتُهُ مِنْ نَبِيِّهِمْ صلى الله عليه وسلم . قَالَ قُلْتُ مَا تَقُولُ فِي هَذَا الْعَطَاءِ قَالَ خُذْهُ فَإِنَّ فِيهِ الْيَوْمَ مَعُونَةً فَإِذَا كَانَ ثَمَنًا لِدِينِكَ فَدَعْهُ.

Narrator: হযরত আবু যার গিফারী (রাঃ)

২১৭৯। শায়বান ইবনে ফাররুখ (রাহঃ) ......... আহকাফ ইবনে কায়স (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি কুরাইশের একদল লোকের মধ্যে ছিলাম। তখন আবু যর (রাযিঃ) এলেন। আবু যর (রাযিঃ) এদিক দিয়ে যাওয়ার পথে বলছিলেন, সুসংবাদ দাও সস্পদ সঞ্চয়কারীদেরকে। গরম লোহা দ্বারা তাদের পৃষ্ঠদেশ দাগ দেয়ার যে গরম লোহা তাদের দেহের হাড় পাশ দিয়ে বের হয়ে আসবে এবং তাদের ঘাড়ের দিকে গরম লোহা দ্বারা এমনভাবে দাগ দেয়া হবে যে, ললাটের দিক দিয়ে বের হয়ে যাবে। বর্ণনাকারী বলেন, এরপর তিনি একটু সরে বসে পড়লেন।

রাবী বলেন, এরপর আমি জিজ্ঞাসা করলাম এ লোকটি কে? তারা বললেন, তিনি আবু যর (রাযিঃ)। তখন আমি তার নিকট গিয়ে জিজ্ঞাসা করলাম, কিছুক্ষণ পূর্বে আপনাকে যা বলতে শুনলাম, এ-কি? তিনি বললেন, আমি তাই বলেছি, যা নবী (ﷺ) থেকে শুনেছি। এরপর আমি বললাম, এ সরকারী অনুদান সম্পর্কে আপনার মতামত কি? তিনি বললেন, তুমি-তা গ্রহণ কর কেননা আজকের দিন এতে রয়েছে সাহায্য। কিন্তু তা যদি হয় দ্বীন বিক্রয়ের মূল্যস্বরূপ তবে তুমি তা গ্রহণ করবে না।

৬. দানের ব্যাপারে উৎসাহ প্রদান এবং দাতাকে বিনিময় প্রদানের সুসংবাদ

باب الْحَثِّ عَلَى النَّفَقَةِ وَتَبْشِيرِ الْمُنْفِقِ بِالْخَلَفِ

2180

حَدَّثَنِي زُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، وَمُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ نُمَيْرٍ، قَالاَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ، عَنْ أَبِي الزِّنَادِ، عَنِ الأَعْرَجِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، يَبْلُغُ بِهِ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " قَالَ اللَّهُ تَبَارَكَ وَتَعَالَى يَا ابْنَ آدَمَ أَنْفِقْ أُنْفِقْ عَلَيْكَ " . وَقَالَ " يَمِينُ اللَّهِ مَلأَى - وَقَالَ ابْنُ نُمَيْرٍ مَلآنُ - سَحَّاءُ لاَ يَغِيضُهَا شَىْءٌ اللَّيْلَ وَالنَّهَارَ " .

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

২১৮০। যুহাইর ইবনে হারব ও মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে নুমাইর (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, নবী (ﷺ) বলেন, আল্লাহ তাআলা বলেছেন, হে আদম সন্তান! তুমি দান কর, আমি তোমাকে দান করব। তিনি আরো বলেন, আল্লাহর ডান হাত পরিপূর্ণ। দিবারাত্রির অনবরত দান তাতে কিছু কমায় না।

2181

وَحَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ رَافِعٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ بْنُ هَمَّامٍ، حَدَّثَنَا مَعْمَرُ بْنُ رَاشِدٍ، عَنْ هَمَّامِ بْنِ مُنَبِّهٍ، أَخِي وَهْبِ بْنِ مُنَبِّهٍ قَالَ هَذَا مَا حَدَّثَنَا أَبُو هُرَيْرَةَ، عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَذَكَرَ أَحَادِيثَ مِنْهَا . وَقَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " إِنَّ اللَّهَ قَالَ لِي أَنْفِقْ أُنْفِقْ عَلَيْكَ " . وَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " يَمِينُ اللَّهِ مَلأَى لاَ يَغِيضُهَا سَحَّاءُ اللَّيْلَ وَالنَّهَارَ أَرَأَيْتُمْ مَا أَنْفَقَ مُذْ خَلَقَ السَّمَاءَ وَالأَرْضَ فَإِنَّهُ لَمْ يَغِضْ مَا فِي يَمِينِهِ " . قَالَ " وَعَرْشُهُ عَلَى الْمَاءِ وَبِيَدِهِ الأُخْرَى الْقَبْضُ يَرْفَعُ وَيَخْفِضُ " .

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

২১৮১। মুহাম্মাদ ইবনে রাফি (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) রাসূলুল্লাহ (ﷺ) থেকে কয়েকটি হাদীস বর্ণনা করেন, তন্মধ্যে একটি হল রাসুল (ﷺ) বলেন, আল্লাহ আমাকে বলেছেন, তুমি দান কর, আমি তোমাকে দান করব। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেন, আল্লাহর ডান হাত পরিপূর্ণ। রাত-দিনের অনবরত দান তা হ্রাস করতে পারে না। তোমরা কি দেখনি, আকাশ ও পৃথিবীর পর হতে তিনি কি পরিমাণ দান করেছেন? কিন্তু এ দান তাঁর হাতের সস্পদের কিছুই কমাতে পারে নি। তিনি বলেন, তাঁর আরশ পানির উপর। তার অপর হস্তে রয়েছে মৃত্যু। তিনি (যাকে ইচ্ছা) উন্নীত করেন এবং (যাকে ইচ্ছা) অবনমিত করেন।

৭. পরিবার-পরিজন ও দাস-দাসীদের প্রতি ব্যয় করার ফযীলত এবং তাদের হক নষ্টকারী ব্যক্তির পাপ

باب فَضْلِ النَّفَقَةِ عَلَى الْعِيَالِ وَالْمَمْلُوكِ وَإِثْمِ مَنْ ضَيَّعَهُمْ أَوْ حَبَسَ نَفَقَتَهُمْ عَنْهُمْ

2182

حَدَّثَنَا أَبُو الرَّبِيعِ الزَّهْرَانِيُّ، وَقُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، كِلاَهُمَا عَنْ حَمَّادِ بْنِ زَيْدٍ، - قَالَ أَبُو الرَّبِيعِ حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، - حَدَّثَنَا أَيُّوبُ، عَنْ أَبِي قِلاَبَةَ، عَنْ أَبِي أَسْمَاءَ، عَنْ ثَوْبَانَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " أَفْضَلُ دِينَارٍ يُنْفِقُهُ الرَّجُلُ دِينَارٌ يُنْفِقُهُ عَلَى عِيَالِهِ وَدِينَارٌ يُنْفِقُهُ الرَّجُلُ عَلَى دَابَّتِهِ فِي سَبِيلِ اللَّهِ وَدِينَارٌ يُنْفِقُهُ عَلَى أَصْحَابِهِ فِي سَبِيلِ اللَّهِ " . قَالَ أَبُو قِلاَبَةَ وَبَدَأَ بِالْعِيَالِ ثُمَّ قَالَ أَبُو قِلاَبَةَ وَأَىُّ رَجُلٍ أَعْظَمُ أَجْرًا مِنْ رَجُلٍ يُنْفِقُ عَلَى عِيَالٍ صِغَارٍ يُعِفُّهُمْ أَوْ يَنْفَعُهُمُ اللَّهُ بِهِ وَيُغْنِيهِمْ .

Narrator: হযরত ছাওবান (রাঃ)

২১৮২। আবু রাবী যাহরানী ও কুতায়বা ইবনে সাঈদ (রাহঃ) ......... সাওবান (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, সর্বোত্তম সে দীনার (মূদ্রা) সেটি, যা মানুষ তার পরিবারের জন্য ব্যয় করে এবং সেই দীনার, যা আল্লাহর পথে জিহাদ করার উদ্দেশ্যে বেঁধে রাখা জানোয়ারের জন্য ব্যয় করে এবং সেই দীনার, যা আল্লাহর পথে জিহাদকারী সঙ্গী-সাথীদের জন্য ব্যয় করে।

বর্ণনাকারী আবু কিলাবা (রাহঃ) বলেন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) পরিবার-পরিজনের- কথা প্রথমে বলেন। এরপর আবু কিলাবা (রাহঃ) বলেন, যে ব্যক্তি তার ছোট ছোট সন্তান-সন্ততির প্রতি ব্যয় করে, যার ফলে আল্লাহ তাদেরকে পবিত্র রাখেন, অভাবমুক্ত করেন অথবা উপকৃত করেন এবং তাদের অভাবমুক্ত রাখেন তার চাইতে মহান পারিশ্রমিকের অধিকারী আর কে হতে পারে?
2183

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، وَزُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، وَأَبُو كُرَيْبٍ - وَاللَّفْظُ لأَبِي كُرَيْبٍ - قَالُوا حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، عَنْ سُفْيَانَ، عَنْ مُزَاحِمِ بْنِ زُفَرَ، عَنْ مُجَاهِدٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " دِينَارٌ أَنْفَقْتَهُ فِي سَبِيلِ اللَّهِ وَدِينَارٌ أَنْفَقْتَهُ فِي رَقَبَةٍ وَدِينَارٌ تَصَدَّقْتَ بِهِ عَلَى مِسْكِينٍ وَدِينَارٌ أَنْفَقْتَهُ عَلَى أَهْلِكَ أَعْظَمُهَا أَجْرًا الَّذِي أَنْفَقْتَهُ عَلَى أَهْلِكَ " .

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

২১৮৩। আবু বকর ইবনে আবি শাঈবা, যুহাইর ইবনে হারব ও আবু কুরায়ব (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেন, কোন দীনার তুমি আল্লাহর পথে ব্যয় করেছ, কোন দীনার তুমি ব্যয় করেছ ক্রীতদাসকে মুক্ত করার জন্য, কোন দীনার তুমি সাদ্‌কা করেছ মিসকীনের জন্য এবং কোন দীনার তুমি তোমার পরিবার-পরিজনের জন্য ব্যয় করেছ। সাওয়াবের দিক সর্বোত্তম হল যা তুমি তোমার পরিবারের জন্য ব্যয় করেছ।

2184

حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ مُحَمَّدٍ الْجَرْمِيُّ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ عَبْدِ الْمَلِكِ بْنِ أَبْجَرَ الْكِنَانِيُّ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ طَلْحَةَ بْنِ مُصَرِّفٍ، عَنْ خَيْثَمَةَ، قَالَ كُنَّا جُلُوسًا مَعَ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو إِذْ جَاءَهُ قَهْرَمَانٌ لَهُ فَدَخَلَ فَقَالَ أَعْطَيْتَ الرَّقِيقَ قُوتَهُمْ قَالَ لاَ . قَالَ فَانْطَلِقْ فَأَعْطِهِمْ . قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " كَفَى بِالْمَرْءِ إِثْمًا أَنْ يَحْبِسَ عَمَّنْ يَمْلِكُ قُوتَهُ " .

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনে আ'স (রাঃ)

২১৮৪। সাঈদ ইবনে মুহাম্মাদ জারমী (রাহঃ) ......... খায়সামা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা আব্দুল্লাহ ইবনে আমর (রাযিঃ) এর সঙ্গে বসা ছিলাম। এ সময় তার কাছে তার খাজাঞ্চী এলেন এবং ভিতরে প্রবেশ করলেন। তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, তুমি ভৃত্যদেরকে তাদের খোরাকী দিয়েছ কি? তিনি বললেন, না দেই নি। এ কথা শুনে তিনি বললেন, যাও তাদেরকে দিয়ে দাও। এরপর তিনি বললেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, ″পাপের জন্য এই যথেষ্ট যে, যাদের খোরপোষ তোমার দায়িত্বে, তুমি তাদের খোরাকী আটকিয়ে রাখবে।″

৮. ব্যয়ের ব্যাপারে প্রথমে হক নিজের, এরপর পরিবার পরিজনের, তারপর নিকটতম আত্মীয়-স্বজনের

باب الاِبْتِدَاءِ فِي النَّفَقَةِ بِالنَّفْسِ ثُمَّ أَهْلِهِ ثُمَّ الْقَرَابَةِ

2185

حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا لَيْثٌ، ح وَحَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ رُمْحٍ، أَخْبَرَنَا اللَّيْثُ، عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ، عَنْ جَابِرٍ، قَالَ أَعْتَقَ رَجُلٌ مِنْ بَنِي عُذْرَةَ عَبْدًا لَهُ عَنْ دُبُرٍ، فَبَلَغَ ذَلِكَ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم . فَقَالَ " أَلَكَ مَالٌ غَيْرُهُ " . فَقَالَ لاَ . فَقَالَ " مَنْ يَشْتَرِيهِ مِنِّي " . فَاشْتَرَاهُ نُعَيْمُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الْعَدَوِيُّ بِثَمَانِمِائَةِ دِرْهَمٍ فَجَاءَ بِهَا رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَدَفَعَهَا إِلَيْهِ ثُمَّ قَالَ " ابْدَأْ بِنَفْسِكَ فَتَصَدَّقْ عَلَيْهَا فَإِنْ فَضَلَ شَىْءٌ فَلأَهْلِكَ فَإِنْ فَضَلَ عَنْ أَهْلِكَ شَىْءٌ فَلِذِي قَرَابَتِكَ فَإِنْ فَضَلَ عَنْ ذِي قَرَابَتِكَ شَىْءٌ فَهَكَذَا وَهَكَذَا " . يَقُولُ فَبَيْنَ يَدَيْكَ وَعَنْ يَمِينِكَ وَعَنْ شِمَالِكَ .

Narrator: জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ আনসারী (রাঃ)

২১৮৫। কুতায়বা ইবনে সাঈদ ও মুহাম্মাদ ইবনে রুমহ (রাহঃ) ......... জাবির (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, বনী ওযরার এক ব্যক্তি তার মৃত্যুর পরবর্তীকালের জন্য তার এক গোলামকে আযাদ করল। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এ খবর শুনার পর (মালিককে) বললেন, তোমার নিকট ইহা ব্যতিরেকে অন্য কোন মাল আছে কি? সে বলল, নেই। তখন তিনি বললেন, আমার কাছ থেকে এ গোলামকে খরিদ করবে কি? তখন নুয়াইম ইবনে আব্দুল্লাহ আব্দী (রাযিঃ) আটশ রৌপ্য দিরহামের বিনিময়ে তাকে খরিদ করলেন। এরপর তিনি এ মুদ্রাগুলো রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কাছে নিয়ে এলেন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এগুলো তাকে দিয়ে বললেন, প্রথমে নিজের জন্য ব্যয় কর। এরপর অবশিষ্ট থাকলে পরিজনের জন্য ব্যয় কর। নিজ পরিজনের জন্য ব্যয় করার পরও যদি কিছু অবশিষ্ট থাকে তবে নিকটাত্নীয়দের জন্য ব্যয় কর। আতীয়-স্বজনদেরকে দান করার পরও যদি কিছু অবশিষ্ট থাকে তাহলে এদিক অর্থাৎ সম্মুখে-ডানে-বামে ব্যয় করবে।

2186

وَحَدَّثَنِي يَعْقُوبُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ الدَّوْرَقِيُّ، حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ، - يَعْنِي ابْنَ عُلَيَّةَ - عَنْ أَيُّوبَ، عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ، عَنْ جَابِرٍ، أَنَّ رَجُلاً، مِنَ الأَنْصَارِ - يُقَالُ لَهُ أَبُو مَذْكُورٍ - أَعْتَقَ غُلاَمًا لَهُ عَنْ دُبُرٍ يُقَالُ لَهُ يَعْقُوبُ وَسَاقَ الْحَدِيثَ بِمَعْنَى حَدِيثِ اللَّيْثِ .

Narrator: জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ আনসারী (রাঃ)

২১৮৬। ইয়াকুব ইবনে ইবরাহীম দাওরাকী (রাহঃ) ......... জাবির (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, আবু মাযকুর নামক এক আনসারী নিজের মরণের পর ইয়াকুব নামক তার এক গোলামকে আযাদ হওয়ার ঘোষণা দিল। এরপর লাঈস বর্ণিত হাদীসের মর্মানুযায়ী বর্ণনা করেন।

৯. নিকটাত্মীয়, স্বামী, সন্তান-সন্তুতি ও মাতা-পিতার জন্য খরচ করার ফযীলত, যদিও তারা মুশরিক হয়

باب فَضْلِ النَّفَقَةِ وَالصَّدَقَةِ عَلَى الْأَقْرَبِينَ وَالزَّوْجِ وَالْأَوْلَادِ وَالْوَالِدَيْنِ وَلَوْ كَانُوا مُشْرِكِينَ

2187

حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ يَحْيَى، قَالَ قَرَأْتُ عَلَى مَالِكٍ عَنْ إِسْحَاقَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي، طَلْحَةَ أَنَّهُ سَمِعَ أَنَسَ بْنَ مَالِكٍ، يَقُولُ كَانَ أَبُو طَلْحَةَ أَكْثَرَ أَنْصَارِيٍّ بِالْمَدِينَةِ مَالاً وَكَانَ أَحَبَّ أَمْوَالِهِ إِلَيْهِ بَيْرَحَى وَكَانَتْ مُسْتَقْبِلَةَ الْمَسْجِدِ وَكَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَدْخُلُهَا وَيَشْرَبُ مِنْ مَاءٍ فِيهَا طَيِّبٍ . قَالَ أَنَسٌ فَلَمَّا نَزَلَتْ هَذِهِ الآيَةُ ( لَنْ تَنَالُوا الْبِرَّ حَتَّى تُنْفِقُوا مِمَّا تُحِبُّونَ) قَامَ أَبُو طَلْحَةَ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ إِنَّ اللَّهَ يَقُولُ فِي كِتَابِهِ ( لَنْ تَنَالُوا الْبِرَّ حَتَّى تُنْفِقُوا مِمَّا تُحِبُّونَ) وَإِنَّ أَحَبَّ أَمْوَالِي إِلَىَّ بَيْرَحَى وَإِنَّهَا صَدَقَةٌ لِلَّهِ أَرْجُو بِرَّهَا وَذُخْرَهَا عِنْدَ اللَّهِ فَضَعْهَا يَا رَسُولَ اللَّهِ حَيْثُ شِئْتَ . قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " بَخْ ذَلِكَ مَالٌ رَابِحٌ ذَلِكَ مَالٌ رَابِحٌ قَدْ سَمِعْتُ مَا قُلْتَ فِيهَا وَإِنِّي أَرَى أَنْ تَجْعَلَهَا فِي الأَقْرَبِينَ " . فَقَسَمَهَا أَبُو طَلْحَةَ فِي أَقَارِبِهِ وَبَنِي عَمِّهِ .

Narrator: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

২১৮৭। ইয়াহয়া ইবনে ইয়াহয়া (রাহঃ) ......... আনাস ইবনে মালিক (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, মদীনার আনসারী সাহাবীদের মধ্যে আবু তালহা (রাযিঃ) সর্বাপেক্ষা বিত্তবান ছিলেন। তার সস্পত্তির মধ্যে ‘বায়রুহা’ই ছিল সর্বাধিক প্রিয় সম্পদ। সেটি মসজিদুন নবী (ﷺ) সম্মুখে অবস্থিত ছিল। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) সেখানে গিয়ে এর সুপেয় পানি পান করতেন। আনাস (রাযিঃ) বলেন, ″তোমরা যা ভালবাস তা থেকে ব্যয় না করা পর্যন্ত তোমরা তোমরা কখনো পূন্যতা লাভ করবে না″ এ আয়াত নাযিল হলে তখন আবু তালহা (রাযিঃ) রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট গিয়ে বললেন, আল্লাহ তাআলা আল কুরআনে বলছেন, ″তোমরা যা ভালবাস তা থেকে ব্যয় না করা পর্যন্ত তোমরা কখনো পুন্য লাভ করবে না।″

‘বায়রুহা’ আমার সর্বপেক্ষা প্রিয় সম্পদ। অতএব আমি তা আল্লাহর রাহে সাদ্‌কা করলাম। বিনিময়ে আমি আল্লাহর কাছে নেকী ও সঞ্চয় আশা করি এবং আখিরাতে পুজির আশা রাখি। ইয়া রাসুলাল্লাহ! আপনার মর্জি মাফিক আপনি তা সদ্ব্যবহার করুন। এ কথা শুনে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, বাহ! সম্পদটি লাভজনক। সম্পদটি লাভজনক। এ সম্পর্কে তুমি যা বললে, অবশ্যই আমি তা শুনেছি তবে আমার পছন্দ হচ্ছে তা তুমি তোমার আত্মীয়-স্বজনদের মাঝে বন্টন করে দাও। অতঃপর আবু তালহা (রাযিঃ) আত্মীয়-স্বজন ও তার চাচাতো ভাইদের মাঝে তা বন্টন করে দিলেন।
2188

حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ حَاتِمٍ، حَدَّثَنَا بَهْزٌ، حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ، حَدَّثَنَا ثَابِتٌ، عَنْ أَنَسٍ، قَالَ لَمَّا نَزَلَتْ هَذِهِ الآيَةُ ( لَنْ تَنَالُوا الْبِرَّ حَتَّى تُنْفِقُوا مِمَّا تُحِبُّونَ) قَالَ أَبُو طَلْحَةَ أُرَى رَبَّنَا يَسْأَلُنَا مِنْ أَمْوَالِنَا فَأُشْهِدُكَ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَنِّي قَدْ جَعَلْتُ أَرْضِي بَرِيحَا لِلَّهِ . قَالَ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " اجْعَلْهَا فِي قَرَابَتِكَ " . قَالَ فَجَعَلَهَا فِي حَسَّانَ بْنِ ثَابِتٍ وَأُبَىِّ بْنِ كَعْبٍ .

Narrator: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

২১৮৮। মুহাম্মাদ ইবনে হাতিম (রাহঃ) ......... আনাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, ″তোমরা যা ভালবাস তা থেকে ব্যয় না করা পর্যন্ত তোমরা কখনো পূণ্য লাভ করবে না″ এ আযাতটি নাযিল হওয়ার পর আবু তালহা (রাযিঃ) বললেন, আমি মনে করি আমাদের রব আমাদের সম্পদ থেকে কিছু চাচ্ছেন। ইয়া রাসুলাল্লাহ! আমি আপনাকে সাক্ষী করে বলছি, আমি আমার, ‘বায়রুহা’ নামক ভূমি আল্লাহর রাহে দান করলাম। তিনি বলেন, অতঃপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, তুমি তা তোমার আত্মীয়-স্বজনদের মধ্যে বণ্টন করে দাও। তিনি তা হাসসান ইবনে সাবিত ও উবাই ইবনে কাব (রাযিঃ) এর মধ্যে বণ্টন করে দিলেন।

2189

حَدَّثَنِي هَارُونُ بْنُ سَعِيدٍ الأَيْلِيُّ، حَدَّثَنَا ابْنُ وَهْبٍ، أَخْبَرَنِي عَمْرٌو، عَنْ بُكَيْرٍ، عَنْ كُرَيْبٍ، عَنْ مَيْمُونَةَ بِنْتِ الْحَارِثِ، أَنَّهَا أَعْتَقَتْ وَلِيدَةً فِي زَمَانِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَذَكَرَتْ ذَلِكَ لِرَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ " لَوْ أَعْطَيْتِهَا أَخْوَالَكِ كَانَ أَعْظَمَ لأَجْرِكِ " .

Narrator: উম্মুল মু'মিনীন হযরত মাইমুনা (রাঃ)

২১৮৯। হারুন ইবনে সাঈদ আয়লী (রাহঃ) ......... মায়মুনা বিনতে হারিস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর জীবদ্দায় একটি বাদী আযাদ করেছিলেন। এ কথা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট বর্ণনা করার পর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, যদি তুমি তোমার মামাদের দান করতে, তাহলে তুমি অধিকতর সাওয়াব পেতে।

2190

حَدَّثَنَا حَسَنُ بْنُ الرَّبِيعِ، حَدَّثَنَا أَبُو الأَحْوَصِ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ أَبِي وَائِلٍ، عَنْ عَمْرِو بْنِ الْحَارِثِ، عَنْ زَيْنَبَ، امْرَأَةِ عَبْدِ اللَّهِ قَالَتْ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " تَصَدَّقْنَ يَا مَعْشَرَ النِّسَاءِ وَلَوْ مِنْ حُلِيِّكُنَّ " . قَالَتْ فَرَجَعْتُ إِلَى عَبْدِ اللَّهِ فَقُلْتُ إِنَّكَ رَجُلٌ خَفِيفُ ذَاتِ الْيَدِ وَإِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَدْ أَمَرَنَا بِالصَّدَقَةِ فَأْتِهِ فَاسْأَلْهُ فَإِنْ كَانَ ذَلِكَ يَجْزِي عَنِّي وَإِلاَّ صَرَفْتُهَا إِلَى غَيْرِكُمْ . قَالَتْ فَقَالَ لِي عَبْدُ اللَّهِ بَلِ ائْتِيهِ أَنْتِ . قَالَتْ فَانْطَلَقْتُ فَإِذَا امْرَأَةٌ مِنَ الأَنْصَارِ بِبَابِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم حَاجَتِي حَاجَتُهَا - قَالَتْ - وَكَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَدْ أُلْقِيَتْ عَلَيْهِ الْمَهَابَةُ - قَالَتْ - فَخَرَجَ عَلَيْنَا بِلاَلٌ فَقُلْنَا لَهُ ائْتِ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَأَخْبِرْهُ أَنَّ امْرَأَتَيْنِ بِالْبَابِ تَسْأَلاَنِكَ أَتَجْزِي الصَّدَقَةُ عَنْهُمَا عَلَى أَزْوَاجِهِمَا وَعَلَى أَيْتَامٍ فِي حُجُورِهِمَا وَلاَ تُخْبِرْهُ مَنْ نَحْنُ - قَالَتْ - فَدَخَلَ بِلاَلٌ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَسَأَلَهُ فَقَالَ لَهُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " مَنْ هُمَا " . فَقَالَ امْرَأَةٌ مِنَ الأَنْصَارِ وَزَيْنَبُ . فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " أَىُّ الزَّيَانِبِ " . قَالَ امْرَأَةُ عَبْدِ اللَّهِ . فَقَالَ لَهُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " لَهُمَا أَجْرَانِ أَجْرُ الْقَرَابَةِ وَأَجْرُ الصَّدَقَةِ " .

Narrator: যায়নাব -ইবনে মাসউদ রাঃ এর স্ত্রী- (রাঃ)

২১৯০। হাসান ইবনুর রাবী (রাহঃ) ......... আব্দুল্লাহর স্ত্রী যায়নব (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, হে নারী সমাজ! তোমাদের অলংকার দিয়ে হলেও তোমরা সাদ্‌কা কর। তিনি বলেন, এ কথা শুনে আমি আমার স্বামী আব্দুল্লাহর নিকট চলে গেলাম এবং তাকে বললাম, আপনি তো অসচ্ছল। রাসূলুল্লাহ আমাদেরকে সাদ্‌কা করার নির্দেশ দিয়েছেন। সুতরাং আপনি গিয়ে তাকে জিজ্ঞাসা করুন যদি আপনাকে দিলে আমার সাদ্‌কা আদায় হয়ে যায় তা হলে তো হলই। আর যদি আদায় না হয় তাহলে আমি আপনাকে ছাড়া অন্যকে দিয়ে দিব।

তখন আব্দুল্লাহ (রাযিঃ) আমাকে বললেন, বরং তাঁর নিকট তুমি যাও। যায়নাব (রাযিঃ) বলেন, আমি গেলাম এবং এক আনসারী মহিলাকে আমার মত একই প্রয়োজনে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) -এর দ্বারপ্রান্তে উপস্থিত দেখতে পেলাম। তিনি বলেন, তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর চেহারায় ভীতিকর গাম্ভীর্য দেওয়া হয়েছিল। এমতাবস্থায় বিলাল (রাযিঃ) আমাদের সামনে এসে উপস্থিত হলেন। আমরা তাকে বললাম, আপনি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে গিয়ে বলুন, দরজার নিকট দু-জন মহিলা আপনাকে জিজ্ঞাসা করছে, তাদের নিজ নিজ স্বামীকে এবং তাঁদের তত্ত্বাবধানে প্রতিপালিত ইয়াতীমদের সাদ্‌কা দিলে তাঁদের সাদ্‌কা আদায় হবে কি? তবে আমরা কারা রাসুল (ﷺ) কে তা জানাবেন না।

অতঃপর বিলাল (রাযিঃ) রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কাছে গিয়ে এ কথা জিজ্ঞাসা করলেন। উত্তরে তিনি বললেন, এরা কারা? বিলাল (রাযিঃ) বললেন, একজন আনসারী মহিলা এবং যায়নাব। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, কোন যায়নাব? তিনি বললেন, আব্দুল্লাহর স্ত্রী যায়নাব। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, তাদের জন্য দ্বিগুণ সাওয়াব রয়েছে। আত্মীয়তার সাওয়াব এবং সাদ্‌কার সাওয়াব।
2191

حَدَّثَنِي أَحْمَدُ بْنُ يُوسُفَ الأَزْدِيُّ، حَدَّثَنَا عُمَرُ بْنُ حَفْصِ بْنِ غِيَاثٍ، حَدَّثَنَا أَبِي، حَدَّثَنَا الأَعْمَشُ، حَدَّثَنِي شَقِيقٌ، عَنْ عَمْرِو بْنِ الْحَارِثِ، عَنْ زَيْنَبَ، امْرَأَةِ عَبْدِ اللَّهِ . قَالَ فَذَكَرْتُ لإِبْرَاهِيمَ فَحَدَّثَنِي عَنْ أَبِي عَبَيْدَةَ عَنْ عَمْرِو بْنِ الْحَارِثِ عَنْ زَيْنَبَ امْرَأَةِ عَبْدِ اللَّهِ . بِمِثْلِهِ سَوَاءً قَالَ قَالَتْ كُنْتُ فِي الْمَسْجِدِ فَرَآنِي النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ " تَصَدَّقْنَ وَلَوْ مِنْ حُلِيِّكُنَّ " . وَسَاقَ الْحَدِيثَ بِنَحْوِ حَدِيثِ أَبِي الأَحْوَصِ .

Narrator: যায়নাব -ইবনে মাসউদ রাঃ এর স্ত্রী- (রাঃ)

২১৯১। আহমাদ ইবনে ইউসুফ আযদী (রাহঃ) ......... আব্দুল্লাহর স্ত্রী যায়নাব (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রাবী আ’মাশ (রাহঃ) বলেন, আমি ইবরাহীমকে এ হাদীস সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম, তখন তিনি আবু উবাইদা আমর ইবনে হারীস (রাহঃ) সূত্রে আব্দুল্লাহর স্ত্রী যায়নব থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেন। এতে রয়েছে যে, আমি ছিলাম মসজিদে তখন নবী (ﷺ) আমাকে দেখলেন এবং বললেন, নিজেদের অলংকার থেকে হলেও তোমরা সাদ্‌কা কর। হাদীসের পরবর্তী অংশ আবুল আহওয়াসের অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।

2192

حَدَّثَنَا أَبُو كُرَيْبٍ، مُحَمَّدُ بْنُ الْعَلاَءِ حَدَّثَنَا أَبُو أُسَامَةَ، حَدَّثَنَا هِشَامٌ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ زَيْنَبَ بِنْتِ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ أُمِّ سَلَمَةَ، قَالَتْ قُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ هَلْ لِي أَجْرٌ فِي بَنِي أَبِي سَلَمَةَ أُنْفِقُ عَلَيْهِمْ وَلَسْتُ بِتَارِكَتِهِمْ هَكَذَا وَهَكَذَا إِنَّمَا هُمْ بَنِيَّ . فَقَالَ " نَعَمْ لَكِ فِيهِمْ أَجْرُ مَا أَنْفَقْتِ عَلَيْهِمْ " .

Narrator: উম্মুল মু'মিনীন উম্মে সালামা (রাঃ)

২১৯২। আবু কুরায়ব মুহাম্মাদ ইবনে আলা (রাহঃ) ......... উম্মে সালামা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি বললাম, ইয়া রাসুলাল্লাহ! আমি আবু সালামার সন্তানদের জন্য যা খরচ করে থাকি তাতে আমি সাওয়াব পাব কি? আমি তো তাদেরকে এভাবে ছাড়তে পানি না। তারা তো আমারই সন্তান। উত্তরে তিনি বললেন, হ্যাঁ, তাদের জন্য তুমি ব্যয় করবে, তাতে তোমার জন্য সাওয়াব রয়েছে।

2193

وَحَدَّثَنِي سُوَيْدُ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ مُسْهِرٍ، ح وَحَدَّثَنَاهُ إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، وَعَبْدُ بْنُ حُمَيْدٍ قَالاَ أَخْبَرَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، أَخْبَرَنَا مَعْمَرٌ، جَمِيعًا عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ، فِي هَذَا الإِسْنَادِ بِمِثْلِهِ .

Narrator: উম্মুল মু'মিনীন উম্মে সালামা (রাঃ)

২১৯৩। সুওয়ায়দ ইবনে সাঈদ, ইসহাক ইবনে ইবরাহীম ও আব্দ ইবনে হুমায়দ (রাহঃ) ......... হিশাম ইবনে উরওয়া (রাহঃ) এর সূত্রে এ সনদ পূর্বোক্ত হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।

2194

حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ مُعَاذٍ الْعَنْبَرِيُّ، حَدَّثَنَا أَبِي، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ عَدِيٍّ، - وَهُوَ ابْنُ ثَابِتٍ - عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ يَزِيدَ، عَنْ أَبِي مَسْعُودٍ الْبَدْرِيِّ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " إِنَّ الْمُسْلِمَ إِذَا أَنْفَقَ عَلَى أَهْلِهِ نَفَقَةً وَهُوَ يَحْتَسِبُهَا كَانَتْ لَهُ صَدَقَةً " .

Narrator: হযরত আবু মাসউদ বদরী আনসারী (রাঃ)

২১৯৪। উবাইদুল্লাহ ইবনে মুআয আনবারী (রাহঃ) ......... আবু মাসউদ বদরী (রাহঃ) থেকে বর্ণিত নবী (ﷺ) বলেন, কোন মুসলিম যদি সাওয়াবের আশায় স্বীয় পরিবার-পরিজনের জন্য কিছু ব্যয় করে, তবে তার জন্য সাদ্‌কা হবে।

2195

وَحَدَّثَنَاهُ مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، وَأَبُو بَكْرِ بْنُ نَافِعٍ كِلاَهُمَا عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ جَعْفَرٍ، ح وَحَدَّثَنَاهُ أَبُو كُرَيْبٍ، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، جَمِيعًا عَنْ شُعْبَةَ، فِي هَذَا الإِسْنَادِ .

Narrator: হযরত আবু মাসউদ বদরী আনসারী (রাঃ)

২১৯৫। মুহাম্মাদ ইবনে বাশশার, আবু বকর ইবনে নাফি ও আবু কুবায়ব (রাহঃ) ......... শু’বা (রাহঃ) এর সূত্রে উক্ত সনদে পূর্বের হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।

2196

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ إِدْرِيسَ، عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَسْمَاءَ، قَالَتْ قُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّ أُمِّي قَدِمَتْ عَلَىَّ وَهْىَ رَاغِبَةٌ - أَوْ رَاهِبَةٌ - أَفَأَصِلُهَا قَالَ " نَعَمْ " .

Narrator: হযরত আসমা বিনতে আবু বকর রাযি.

২১৯৬। আবু বকর ইবনে আবি শাঈবা (রাযিঃ) ......... আসমা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি বললাম, ইয়া রাসুলাল্লাহ! আমার আম্মা আমার নিকট এসেছেন। তিনি দ্বীন ইসলাম গ্রহণে বিমুখ বা অনাগ্রহী, আমি তার সাথে সদাচরণ করবো? রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, হ্যাঁ।

2197

وَحَدَّثَنَا أَبُو كُرَيْبٍ، مُحَمَّدُ بْنُ الْعَلاَءِ حَدَّثَنَا أَبُو أُسَامَةَ، عَنْ هِشَامٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَسْمَاءَ بِنْتِ أَبِي بَكْرٍ، قَالَتْ قَدِمَتْ عَلَىَّ أُمِّي وَهِيَ مُشْرِكَةٌ فِي عَهْدِ قُرَيْشٍ إِذْ عَاهَدَهُمْ فَاسْتَفْتَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ قَدِمَتْ عَلَىَّ أُمِّي وَهْىَ رَاغِبَةٌ أَفَأَصِلُ أُمِّي قَالَ " نَعَمْ صِلِي أُمَّكِ " .

Narrator: হযরত আসমা বিনতে আবু বকর রাযি.

২১৯৭। আবু কুরায়ব, মুহাম্মাদ ইবনুল আলা (রাহঃ) ......... আসমা বিনতে আবু বকর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন আমি বললাম, ইয়া রাসুলাল্লাহ! আমার মা আমার নিকট এসেছেন। সে তো মুশরিক মহিলা। আসমা (রাযিঃ) বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে এ কথা সে সময় জিজ্ঞাসা করেছিলাম যখন কুরাইশদের সাথে তিনি সন্ধিচুক্তি করেছিলেন। আমি তাকে বললাম, আমার আম্মা আমার কাছে এসেছেন আশা নিয়ে। আমি আমার আম্মার সাথে ভাল ব্যবহার করব কি? রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, হ্যাঁ, তুমি তোমার আম্মার সাথে ভাল ব্যবহার কর।

১০. মৃত ব্যক্তির পক্ষ হতে সাদ্‌কা করা এবং করলে এর সাওয়াব তার কাছে পৌঁছে যাওয়া

باب وُصُولِ ثَوَابِ الصَّدَقَةِ عَنِ الْمَيِّتِ، إِلَيْهِ

2198

وَحَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ نُمَيْرٍ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بِشْرٍ، حَدَّثَنَا هِشَامٌ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَائِشَةَ، أَنَّ رَجُلاً، أَتَى النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّ أُمِّيَ افْتُلِتَتْ نَفْسَهَا وَلَمْ تُوصِ وَأَظُنُّهَا لَوْ تَكَلَّمَتْ تَصَدَّقَتْ أَفَلَهَا أَجْرٌ إِنْ تَصَدَّقْتُ عَنْهَا قَالَ " نَعَمْ ".

Narrator: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

২১৯৮। মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে নুমাইর (রাহঃ) ......... আয়িশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক ব্যক্তি নবী (ﷺ) এর কাছে এসে বললেন, ইয়া রাসুলাল্লাহ! আমার আম্মা হঠাৎ মৃত্যু বরন করেছেন। তিনি অসিয়্যত করে যেতে পারেন নি। আমার মনে হয়, তিনি যদি কথা বলতে পারতেন, তা হলে সাদ্‌কা করতেন। অতএব আমি যদি তার পক্ষ হতে সাদ্‌কা করি তবে এর সাওয়াব তিনি পাবেন কি? রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, হ্যাঁ, পাবেন।

2199

وَحَدَّثَنِيهِ زُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ، ح وَحَدَّثَنَا أَبُو كُرَيْبٍ، حَدَّثَنَا أَبُو أُسَامَةَ، ح وَحَدَّثَنِي عَلِيُّ بْنُ حُجْرٍ، أَخْبَرَنَا عَلِيُّ بْنُ مُسْهِرٍ، ح حَدَّثَنَا الْحَكَمُ بْنُ مُوسَى، حَدَّثَنَا شُعَيْبُ بْنُ إِسْحَاقَ، كُلُّهُمْ عَنْ هِشَامٍ، بِهَذَا الإِسْنَادِ . وَفِي حَدِيثِ أَبِي أُسَامَةَ وَلَمْ تُوصِ . كَمَا قَالَ ابْنُ بِشْرٍ وَلَمْ يَقُلْ ذَلِكَ الْبَاقُونَ .

Narrator: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

২১৯৯। যুহাইর ইবনে হারব, আবু কুরায়ব, আলী ইবনে হুজর ও হাকাম ইবনে মুসা (রাহঃ) ......... হিশাম (রাহঃ) এর সূত্রে এ সনদে অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন। তবে আবু উসামার হাদীসের মধ্যে মুহাম্মাদ ইবনে বিশরের হাদীসের মত ″অসিয়ত করে যেতে পারেননি″ কথাটি বর্ণিত আছে। কিন্তু অন্যরা এ কথাটি উল্লেখ করেন নাই।

১১. প্রত্যেক কল্যাণকর কাজই সাদ্‌কা

باب بَيَانِ أَنَّ اسْمَ الصَّدَقَةِ يَقَعُ عَلَى كُلِّ نَوْعٍ مِنَ الْمَعْرُوفِ

2200

حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا أَبُو عَوَانَةَ، ح وَحَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا عَبَّادُ بْنُ الْعَوَّامِ، كِلاَهُمَا عَنْ أَبِي مَالِكٍ الأَشْجَعِيِّ، عَنْ رِبْعِيِّ بْنِ حِرَاشٍ، عَنْ حُذَيْفَةَ، فِي حَدِيثِ قُتَيْبَةَ قَالَ قَالَ نَبِيُّكُمْ صلى الله عليه وسلم وَقَالَ ابْنُ أَبِي شَيْبَةَ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " كُلُّ مَعْرُوفٍ صَدَقَةٌ " .

Narrator: হযরত হুযায়ফা রাযি

২২০০। কুতায়বা ইবনে সাঈদ ও আবু বকর ইবনে আবি শাঈবা (রাহঃ) ......... হুযাইফা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তবে কুতায়বার হাদীসে আছে যে, ″তোমাদের নবী (ﷺ) বলেছেন″ আর ইবনে আবি শাঈবার হাদীসে রয়েছে যে, নবী (ﷺ) বলেছেন, প্রত্যেক কল্যাণকর কাজই সাদ্‌কা।

2201

حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ أَسْمَاءَ الضُّبَعِيُّ، حَدَّثَنَا مَهْدِيُّ بْنُ مَيْمُونٍ، حَدَّثَنَا وَاصِلٌ، مَوْلَى أَبِي عُيَيْنَةَ عَنْ يَحْيَى بْنِ عُقَيْلٍ، عَنْ يَحْيَى بْنِ يَعْمَرَ، عَنْ أَبِي الأَسْوَدِ الدِّيلِيِّ، عَنْ أَبِي، ذَرٍّ أَنَّ نَاسًا، مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالُوا لِلنَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم يَا رَسُولَ اللَّهِ ذَهَبَ أَهْلُ الدُّثُورِ بِالأُجُورِ يُصَلُّونَ كَمَا نُصَلِّي وَيَصُومُونَ كَمَا نَصُومُ وَيَتَصَدَّقُونَ بِفُضُولِ أَمْوَالِهِمْ . قَالَ " أَوَلَيْسَ قَدْ جَعَلَ اللَّهُ لَكُمْ مَا تَصَّدَّقُونَ إِنَّ بِكُلِّ تَسْبِيحَةٍ صَدَقَةً وَكُلِّ تَكْبِيرَةٍ صَدَقَةٌ وَكُلِّ تَحْمِيدَةٍ صَدَقَةٌ وَكُلِّ تَهْلِيلَةٍ صَدَقَةٌ وَأَمْرٌ بِالْمَعْرُوفِ صَدَقَةٌ وَنَهْىٌ عَنْ مُنْكَرٍ صَدَقَةٌ وَفِي بُضْعِ أَحَدِكُمْ صَدَقَةٌ " . قَالُوا يَا رَسُولَ اللَّهِ أَيَأْتِي أَحَدُنَا شَهْوَتَهُ وَيَكُونُ لَهُ فِيهَا أَجْرٌ قَالَ " أَرَأَيْتُمْ لَوْ وَضَعَهَا فِي حَرَامٍ أَكَانَ عَلَيْهِ فِيهَا وِزْرٌ فَكَذَلِكَ إِذَا وَضَعَهَا فِي الْحَلاَلِ كَانَ لَهُ أَجْرٌ " .

Narrator: হযরত আবু যার গিফারী (রাঃ)

২২০১। আব্দুল্লাহ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে আসমা আয-যুবাঈ (রাহঃ) ......... আবু যর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, নবী (ﷺ) এর সাহাবীদের কয়েকজন নবী (ﷺ) কে বললেন, ইয়া রাসুলাল্লাহ! বিত্তবানরা সাওয়াব নিয়ে যাচ্ছে। তারা আমাদের মত নামায আদায় করেন, আমাদের মত রোযা পালন করেন এবং তারা নিজেদের ধন সম্পদ হতে কিছু দান করে থাকেন। তিনি বললেন, তোমাদের জন্য কী আল্লাহ তাআলা সাদ্‌কা করার ব্যবস্থা করেননি? প্রতিটি তাসবীহ সাদ্‌কা, প্রতিটি তাকবীর সাদ্‌কা, প্রতিটি তাহমীদ সাদ্‌কা, প্রতিটি তাহলীল সাদ্‌কা, সৎকাজের আদেশ দেয়া, অসৎকাজ হতে বিরত রাখা সাদ্‌কা এবং স্ত্রীর সঙ্গে মিলনও সাদ্‌কা। তারা বললেন, ইয়া রাসুলাল্লাহ! কেউ যদি স্ত্রী সঙ্গম করে এতেও কি সে সাওয়াব পাবে? তিনি বললেন তোমরা কি মনে কর যদি সে কামাচার করে হারাম পথে তাতে কি তার পাপ হবে না? অনুরূপভাবে যদি সে কামাচার করে হালাল পথে, তবে সে সাওয়াব পাবে।

2202

حَدَّثَنَا حَسَنُ بْنُ عَلِيٍّ الْحُلْوَانِيُّ، حَدَّثَنَا أَبُو تَوْبَةَ الرَّبِيعُ بْنُ نَافِعٍ، حَدَّثَنَا مُعَاوِيَةُ، - يَعْنِي ابْنَ سَلاَّمٍ - عَنْ زَيْدٍ، أَنَّهُ سَمِعَ أَبَا سَلاَّمٍ، يَقُولُ حَدَّثَنِي عَبْدُ اللَّهِ بْنُ فَرُّوخَ، أَنَّهُ سَمِعَ عَائِشَةَ، تَقُولُ إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " إِنَّهُ خُلِقَ كُلُّ إِنْسَانٍ مِنْ بَنِي آدَمَ عَلَى سِتِّينَ وَثَلاَثِمَائَةِ مَفْصِلٍ فَمَنْ كَبَّرَ اللَّهَ وَحَمِدَ اللَّهَ وَهَلَّلَ اللَّهَ وَسَبَّحَ اللَّهَ وَاسْتَغْفَرَ اللَّهَ وَعَزَلَ حَجَرًا عَنْ طَرِيقِ النَّاسِ أَوْ شَوْكَةً أَوْ عَظْمًا عَنْ طَرِيقِ النَّاسِ وَأَمَرَ بِمَعْرُوفٍ أَوْ نَهَى عَنْ مُنْكَرٍ عَدَدَ تِلْكَ السِّتِّينَ وَالثَّلاَثِمِائَةِ السُّلاَمَى فَإِنَّهُ يَمْشِي يَوْمَئِذٍ وَقَدْ زَحْزَحَ نَفْسَهُ عَنِ النَّارِ " . قَالَ أَبُو تَوْبَةَ وَرُبَّمَا قَالَ " يُمْسِي " .

Narrator: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

২১০২। হাসান ইবনে আলী হুলওয়ানী (রাহঃ) ......... আয়িশা (রাযিঃ) বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, আল্লাহ তাআলা বনী আদমের প্রতি মানুষকে ৩৬০ টি গ্রন্থিবিশিষ্ট করে সৃষ্টি করেছেন। অতএব যে ব্যক্তি ঐ সংখ্যা পরিমাণ আল্লাহু আকবার বলবে, আলহামদুলিল্লাহ বলবে, লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ বলবে, সুবহানাল্লাহ বলবে, আসতাগফিরুল্লাহ বলবে, মানুষের চলার পথ থেকে কোন পাথর সরাবে কিংবা কাটা বা হাড় সরাবে, সৎকাজের আদেশ দেবে এবং অসৎকাজ থেকে বিরত রাখবে। সে কিয়ামতের দিন এমনভাবে চলাফেরা করবে যে, সে নিজেকেজাহান্নামের আগুন থেকে দুরে রেখে দিয়েছে। আবু তাওবা (রাহঃ) বলেন, বর্ণনাকারী يَمْشِي এর স্থলে يُمْسِي বলতেন (অর্থাৎ তার সন্ধ্যা হবে এ অবস্থায় যে সে নিজকে......)।

2203

وَحَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ الدَّارِمِيُّ، أَخْبَرَنَا يَحْيَى بْنُ حَسَّانَ، حَدَّثَنِي مُعَاوِيَةُ، أَخْبَرَنِي أَخِي، زَيْدٌ بِهَذَا الإِسْنَادِ . مِثْلَهُ غَيْرَ أَنَّهُ قَالَ " أَوْ أَمَرَ بِمَعْرُوفٍ " . وَقَالَ " فَإِنَّهُ يُمْسِي يَوْمَئِذٍ " .

Narrator: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

২২০৩। আব্দুল্লাহ ইবনে আব্দুর রহমান দারিমী (রাহঃ) ......... যায়দ সূত্রে এই সনদে অনুরূপ বর্ণিত। তবে ″সৎকাজের আদেশ দেবে″ কথাটি ব্যতীত। অন্য সূত্রে তিনি বলেন, ″সে দিন যে সন্ধ্যা করবে।″

2204

وَحَدَّثَنِي أَبُو بَكْرِ بْنُ نَافِعٍ الْعَبْدِيُّ، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ كَثِيرٍ، حَدَّثَنَا عَلِيٌّ، - يَعْنِي ابْنَ الْمُبَارَكِ - حَدَّثَنَا يَحْيَى، عَنْ زَيْدِ بْنِ سَلاَّمٍ، عَنْ جَدِّهِ أَبِي سَلاَّمٍ، قَالَ حَدَّثَنِي عَبْدُ اللَّهِ، بْنُ فَرُّوخَ أَنَّهُ سَمِعَ عَائِشَةَ، تَقُولُ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " خُلِقَ كُلُّ إِنْسَانٍ " . بِنَحْوِ حَدِيثِ مُعَاوِيَةَ عَنْ زَيْدٍ . وَقَالَ " فَإِنَّهُ يَمْشِي يَوْمَئِذٍ " .

Narrator: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

২২০৪। আবু বকর ইবনে নাফি আল আব্দী (রাহঃ) ......... আয়িশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, প্রতিটি মানুষকে সৃষ্টি করা হয়েছে। অতঃপর রাবী যায়দের হাদীসের অনূরূপ বর্ণনা করেছেন। তবে তাঁর হাদীসের মধ্যে ″সে দিন সে চলাফেরা করবে″ কথাটি বর্ণিত রয়েছে।

2205

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا أَبُو أُسَامَةَ، عَنْ شُعْبَةَ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ أَبِي، بُرْدَةَ عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَدِّهِ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " عَلَى كُلِّ مُسْلِمٍ صَدَقَةٌ " . قِيلَ أَرَأَيْتَ إِنْ لَمْ يَجِدْ قَالَ " يَعْتَمِلُ بِيَدَيْهِ فَيَنْفَعُ نَفْسَهُ وَيَتَصَدَّقُ " . قَالَ قِيلَ أَرَأَيْتَ إِنْ لَمْ يَسْتَطِعْ قَالَ " يُعِينُ ذَا الْحَاجَةِ الْمَلْهُوفَ " . قَالَ قِيلَ لَهُ أَرَأَيْتَ إِنْ لَمْ يَسْتَطِعْ قَالَ " يَأْمُرُ بِالْمَعْرُوفِ أَوِ الْخَيْرِ " . قَالَ أَرَأَيْتَ إِنْ لَمْ يَفْعَلْ قَالَ " يُمْسِكُ عَنِ الشَّرِّ فَإِنَّهَا صَدَقَةٌ " .

২২০৫। আবু বকর ইবনে আবি শাঈবা (রাহঃ) ......... সাঈদ ইবনে আবু বুরদা (রাহঃ) তাঁর পিতার সূত্রে তার দাদা থেকে তিনি নবী (ﷺ) থেকে বর্ণনা করেন যে, নবী (ﷺ) বলেন, প্রত্যেক মুসলিমের উপর সাদ্‌কা করা ওয়াজিব। প্রশ্ন করা হল, যদি সাদ্‌কা করার জন্য কিছু না পায়? তিনি বললেন, তবে সে নিজ হাতে উপার্জন করবে এবং নিজে উপকৃত হবে ও সাদ্‌কা করবে। পূনরায় জিজ্ঞাসা করা হল যদি সে এতেও সক্ষম না হয় তবে কি হবে? তিনি বললেন, তাহলে সে অসহায় আর্ত মানুষের সাহায্য করবে। রাবী বলেন, আবার জিজ্ঞাসা করা হল, যদি সে এতেও সক্ষম না হয়? তিনি বললেন, তাহলে সৎকাজের কিংবা কল্যাণের আদেশ করবে। আবারো জিজ্ঞাসা করা হল যদি সে তাও না করে? তিনি বললেন, তবে মন্দকাজ থেকে বিরত থাকবে। কেননা এটাও সাদ্‌কা।

2206

وَحَدَّثَنَاهُ مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ مَهْدِيٍّ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، بِهَذَا الإِسْنَادِ.

২২০৬। মুহাম্মাদ ইবনুল মুসান্না (রাহঃ) ......... শু’বা (রাহঃ) থেকে বর্ণিত।

2207

وَحَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ رَافِعٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ بْنُ هَمَّامٍ، حَدَّثَنَا مَعْمَرٌ، عَنْ هَمَّامِ بْنِ، مُنَبِّهٍ قَالَ هَذَا مَا حَدَّثَنَا أَبُو هُرَيْرَةَ، عَنْ مُحَمَّدٍ، رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَذَكَرَ أَحَادِيثَ مِنْهَا وَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " كُلُّ سُلاَمَى مِنَ النَّاسِ عَلَيْهِ صَدَقَةٌ كُلَّ يَوْمٍ تَطْلُعُ فِيهِ الشَّمْسُ - قَالَ - تَعْدِلُ بَيْنَ الاِثْنَيْنِ صَدَقَةٌ وَتُعِينُ الرَّجُلَ فِي دَابَّتِهِ فَتَحْمِلُهُ عَلَيْهَا أَوْ تَرْفَعُ لَهُ عَلَيْهَا مَتَاعَهُ صَدَقَةٌ - قَالَ - وَالْكَلِمَةُ الطَّيِّبَةُ صَدَقَةٌ وَكُلُّ خَطْوَةٍ تَمْشِيهَا إِلَى الصَّلاَةِ صَدَقَةٌ وَتُمِيطُ الأَذَى عَنِ الطَّرِيقِ صَدَقَةٌ " .

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

২২০৭। মুহাম্মাদ ইবনে রাফি (রাহঃ) ......... হাম্মাম ইবনে মুনাব্বিহ (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন,এ হচ্ছে আবু হুরায়রা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) থেকে যে হাদীস বর্ণনা করেছেন তা। এরপর তিনি কিছু হাদীস বর্ণনা করলেন, তার মধ্যে এটিও রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, প্রত্যেক দিন যখন সূর্য উদিত হয়, তখন মানুষের প্রত্যেক প্রাপ্ত বয়স্কর জন্য সাদ্‌কা ওয়াজিব। তিনি বলেন, দু’ব্যক্তির মাঝে ন্যায়বিচার করা সাদ্‌কা, কোন ব্যক্তিকে তার সওয়ারীর ব্যাপারে সাহায্য করা অথবা তার মাল সামগ্রী তুলে দেয়া সাদ্‌কা। তিনি আরও বলেছেন, ভাল কথা বলা সাদ্‌কা, নামাযের উদ্দেশ্যে গমনের পথে প্রতিটি পদক্ষেপ সাদ্‌কা। চলার পথ হতে কষ্টদায়ক বস্তু সরিয়ে দেয়া সাদ্‌কা।

১২. দানশীল ও কৃপণ প্রসঙ্গ

باب فِي الْمُنْفِقِ وَالْمُمْسِكِ

2208

وَحَدَّثَنِي الْقَاسِمُ بْنُ زَكَرِيَّا، حَدَّثَنَا خَالِدُ بْنُ مَخْلَدٍ، حَدَّثَنِي سُلَيْمَانُ، - وَهُوَ ابْنُ بِلاَلٍ - حَدَّثَنِي مُعَاوِيَةُ بْنُ أَبِي مُزَرِّدٍ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ يَسَارٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " مَا مِنْ يَوْمٍ يُصْبِحُ الْعِبَادُ فِيهِ إِلاَّ مَلَكَانِ يَنْزِلاَنِ فَيَقُولُ أَحَدُهُمَا اللَّهُمَّ أَعْطِ مُنْفِقًا خَلَفًا . وَيَقُولُ الآخَرُ اللَّهُمَّ أَعْطِ مُمْسِكًا تَلَفًا " .

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

২২০৮। কাসিম ইবনে যাকারিয়্যা (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেন, প্রত্যহ মানুষের যখন ভোর হয়, তখন দু-জন ফিরিশতা অবতরণ করেন। অতঃপর তাদের একজন বলেন, হে আল্লাহ! দানকারীকে তার বদলা দাও। অপরজন বলেন, কৃপনের ধন ধ্বংস কর।

১৩. সেই দিন আসার আগে দান-সাদ্‌কায় উৎসাহ প্রদান যেদিন তার কোন গ্রহীতা পাওয়া যাবে না

باب التَّرْغِيبِ فِي الصَّدَقَةِ قَبْلَ أَنْ لاَ يُوجَدَ مَنْ يَقْبَلُهَا

2209

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، وَابْنُ، نُمَيْرٍ قَالاَ حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، ح وَحَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، - وَاللَّفْظُ لَهُ - حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ مَعْبَدِ بْنِ خَالِدٍ، قَالَ سَمِعْتُ حَارِثَةَ بْنَ وَهْبٍ، يَقُولُ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " تَصَدَّقُوا فَيُوشِكُ الرَّجُلُ يَمْشِي بِصَدَقَتِهِ فَيَقُولُ الَّذِي أُعْطِيَهَا لَوْ جِئْتَنَا بِهَا بِالأَمْسِ قَبِلْتُهَا فَأَمَّا الآنَ فَلاَ حَاجَةَ لِي بِهَا . فَلاَ يَجِدُ مَنْ يَقْبَلُهَا " .

Narrator: হযরত হারিছা ইবনু ওয়াহব (রাঃ)

২২০৯। আবু বকর ইবনে আবি শাঈবা, ইবনে নুমাইর ও মুহাম্মাদ ইবনুল মুসান্না (রাহঃ) ......... হারিসা ইবনে ওয়াহব (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে বলতে শুনেছি, তোমরা সাদ্‌কা দাও। অচিরেই এমন হবে যে, যখন এক মানুষ তার সাদ্‌কার সামগ্রী নিয়ে ঘুরবে। যাকে দিতে চাইবে সে বলবে, যদি গতকালও নিয়ে আসতে তাহলে আমি তা গ্রহণ করতাম। কিন্তু আমার আজ এর কোন প্রয়োজন নেই। অবশেষে সাদ্‌কা গ্রহণের জন্য কাউকেই পাওয়া যাবে না।

2210

وَحَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ بَرَّادٍ الأَشْعَرِيُّ، وَأَبُو كُرَيْبٍ مُحَمَّدُ بْنُ الْعَلاَءِ قَالاَ حَدَّثَنَا أَبُو أُسَامَةَ عَنْ بُرَيْدٍ، عَنْ أَبِي بُرْدَةَ، عَنْ أَبِي مُوسَى، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " لَيَأْتِيَنَّ عَلَى النَّاسِ زَمَانٌ يَطُوفُ الرَّجُلُ فِيهِ بِالصَّدَقَةِ مِنَ الذَّهَبِ ثُمَّ لاَ يَجِدُ أَحَدًا يَأْخُذُهَا مِنْهُ وَيُرَى الرَّجُلُ الْوَاحِدُ يَتْبَعُهُ أَرْبَعُونَ امْرَأَةً يَلُذْنَ بِهِ مِنْ قِلَّةِ الرِّجَالِ وَكَثْرَةِ النِّسَاءِ " . وَفِي رِوَايَةِ ابْنِ بَرَّادٍ " وَتَرَى الرَّجُلَ " .

Narrator: আবু মুসা আশ'আরী (রাঃ)

২২১০। আব্দুল্লাহ ইবনে বাররাদ আশ’আরী ও আবু কুরায়ব মুহাম্মাদ ইবনুল আলা (রাহঃ) ......... আবু মুসা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। নবী (ﷺ) বলেন, মানুষের এমন এক সময় আসবে যখন সোনা নিয়ে সাদ্‌কা করার জন্য লোক ঘুরে বেড়াবে কিন্তু তা নেয়ার মতো কাউকে পাওয়া যাবে না। আরো দেখা যাবে যে, পুরুষের সংখ্যা স্বল্পতা ও নারীদের আধিক্যের দরুন চল্লিশজন নারী একজন পুরুষের অধীনস্থ হবে এবং তারা তার আশ্রয় গ্রহণ করবে। ইবনে বাররাদ (রাহঃ) এর অপর এক রিওয়ায়াতে আছে ″তুমি এক ব্যক্তিকে দেখতে পাবে।″

2211

وَحَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا يَعْقُوبُ، - وَهُوَ ابْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ الْقَارِيُّ - عَنْ سُهَيْلٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " لاَ تَقُومُ السَّاعَةُ حَتَّى يَكْثُرَ الْمَالُ وَيَفِيضَ حَتَّى يَخْرُجَ الرَّجُلُ بِزَكَاةِ مَالِهِ فَلاَ يَجِدُ أَحَدًا يَقْبَلُهَا مِنْهُ وَحَتَّى تَعُودَ أَرْضُ الْعَرَبِ مُرُوجًا وَأَنْهَارًا " .

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

২২১১। কুতায়বা ইবনে সাঈদ (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, কিয়ামত সংঘটিত হবে না যতক্ষণ না প্রচুর ধন-সম্পদ ও বিপুল প্রাচুর্য প্রকাশ পায়। এমনকি তখন মানুষ তাঁর মালের যাকাত নিয়ে বের হবে, কিন্তু তা গ্রহণ করার মত কাউকে পাওয়া যাবে না। আরব দেশ চারণভূমি ও নদী-নালায় পরিণত হবে।

2212

وَحَدَّثَنَا أَبُو الطَّاهِرِ، حَدَّثَنَا ابْنُ وَهْبٍ، عَنْ عَمْرِو بْنِ الْحَارِثِ، عَنْ أَبِي يُونُسَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " لاَ تَقُومُ السَّاعَةُ حَتَّى يَكْثُرَ فِيكُمُ الْمَالُ فَيَفِيضَ حَتَّى يُهِمَّ رَبَّ الْمَالِ مَنْ يَقْبَلُهُ مِنْهُ صَدَقَةً وَيُدْعَى إِلَيْهِ الرَّجُلُ فَيَقُولُ لاَ أَرَبَ لِي فِيهِ " .

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

২২১২। আবু তাহির (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। নবী (ﷺ) বলেন, কিয়ামত সংঘটিত হবে না যে পর্যন্ত না তোমাদের মাঝে এত প্রাচুর্য দেখা দেবে যে, তা উপচে পড়বে। এমনকি সম্পদের মালিক তখন ভাবনা করবে যে, কে তার সাদ্‌কা গ্রহণ করবে? সাদ্‌কা দেয়ার জন্য লোকদেরকে আহবান করা হবে। তখন সে বলবে, আমার প্রয়োজন নেই।

2213

وَحَدَّثَنَا وَاصِلُ بْنُ عَبْدِ الأَعْلَى، وَأَبُو كُرَيْبٍ وَمُحَمَّدُ بْنُ يَزِيدَ الرِّفَاعِيُّ - وَاللَّفْظُ لِوَاصِلٍ - قَالُوا حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ فُضَيْلٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي حَازِمٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " تَقِيءُ الأَرْضُ أَفْلاَذَ كَبِدِهَا أَمْثَالَ الأُسْطُوَانِ مِنَ الذَّهَبِ وَالْفِضَّةِ فَيَجِيءُ الْقَاتِلُ فَيَقُولُ فِي هَذَا قَتَلْتُ . وَيَجِيءُ الْقَاطِعُ فَيَقُولُ فِي هَذَا قَطَعْتُ رَحِمِي . وَيَجِيءُ السَّارِقُ فَيَقُولُ فِي هَذَا قُطِعَتْ يَدِي ثُمَّ يَدَعُونَهُ فَلاَ يَأْخُذُونَ مِنْهُ شَيْئًا " .

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

২২১৩। ওয়াসিল ইবনে আব্দুল আ’লা, আবু কুরায়ব ও মুহাম্মাদ ইবনে ইয়াযীদ রিফাঈ (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, ভূমি তার বক্ষস্থিত বস্তুসমূহ সোনা স্তম্ভের মত বের করে দেবে। তখন হত্যাকারী ব্যক্তি এসে বলবে, আমি এর জন্য হত্যা করেছি। আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্নকারী ব্যক্তি এসে বলবে, আমি এর জন্য আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন করেছি। চোর এসে বলবে, এরই কারণে আমার হাত কাটা হয়েছে। অতঃপর সকলেই তা ছেড়ে দেবে। এর থেকে তাঁরা কেউ কিছুই গ্রহণ করবে না।

১৪. হালাল উপার্জন থেকে সাদ্‌কা গৃহীত হওয়া ও তার পরিচর্যা

باب قَبُولِ الصَّدَقَةِ مِنَ الْكَسْبِ الطَّيِّبِ وَتَرْبِيَتِهَا

2214

وَحَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا لَيْثٌ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ أَبِي سَعِيدٍ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ يَسَارٍ، أَنَّهُ سَمِعَ أَبَا هُرَيْرَةَ، يَقُولُ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " مَا تَصَدَّقَ أَحَدٌ بِصَدَقَةٍ مِنْ طَيِّبٍ - وَلاَ يَقْبَلُ اللَّهُ إِلاَّ الطَّيِّبَ - إِلاَّ أَخَذَهَا الرَّحْمَنُ بِيَمِينِهِ وَإِنْ كَانَتْ تَمْرَةً فَتَرْبُو فِي كَفِّ الرَّحْمَنِ حَتَّى تَكُونَ أَعْظَمَ مِنَ الْجَبَلِ كَمَا يُرَبِّي أَحَدُكُمْ فَلُوَّهُ أَوْ فَصِيلَهُ " .

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

২২১৪। কুতায়বা ইবনে সাঈদ (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেন, কোন ব্যক্তি হালাল সম্পদ হতে সাদ্‌কা করলে, বস্তুত আল্লাহ হালাল ছাড়া গ্রহণ করেন না, রহমান তা ডান হস্তে গ্রহণ করবেন। যদি তা একটি খেজুরও হয়, তবে তা রহমান আল্লাহর হাতে লালিত হবে। ফলে তা পাহাড়ের চাইতেও বড় হবে। যেভাবে তোমাদের কেউ নিজের ঘোড়ার বাচ্চা ও উটের শাবককে পালন করে।

2215

حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا يَعْقُوبُ، - يَعْنِي ابْنَ عَبْدِ الرَّحْمَنِ الْقَارِيَّ - عَنْ سُهَيْلٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " لاَ يَتَصَدَّقُ أَحَدٌ بِتَمْرَةٍ مِنْ كَسْبٍ طَيِّبٍ إِلاَّ أَخَذَهَا اللَّهُ بِيَمِينِهِ فَيُرَبِّيهَا كَمَا يُرَبِّي أَحَدُكُمْ فَلُوَّهُ أَوْ قَلُوصَهُ حَتَّى تَكُونَ مِثْلَ الْجَبَلِ أَوْ أَعْظَمَ " .

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

২২১৫। কুতায়বা ইবনে সাঈদ (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেন, হালাল উপায়ে উপার্জিত সম্পদ হতে যদি কোন ব্যক্তি একটি খেজুর সাদ্‌কা করে তবে আল্লাহ তা তাঁর ডানহস্তে গ্রহণ করেন। অতঃপর তিনি তা পালন করেন যেমন তোমার তোমাদের ঘোড়ার বাচ্চা ও উটের শাবক পালন করে থাক। অবশেষে তা পর্বতসম হয়ে যায় কিংবা তার চেয়েও অধিক গুণে বেড়ে যায়।

2216

وَحَدَّثَنِي أُمَيَّةُ بْنُ بِسْطَامَ، حَدَّثَنَا يَزِيدُ، - يَعْنِي ابْنَ زُرَيْعٍ - حَدَّثَنَا رَوْحُ بْنُ الْقَاسِمِ، ح وَحَدَّثَنِيهِ أَحْمَدُ بْنُ عُثْمَانَ الأَوْدِيُّ، حَدَّثَنَا خَالِدُ بْنُ مَخْلَدٍ، حَدَّثَنِي سُلَيْمَانُ، - يَعْنِي ابْنَ بِلاَلٍ - كِلاَهُمَا عَنْ سُهَيْلٍ، بِهَذَا الإِسْنَادِ . فِي حَدِيثِ رَوْحٍ " مِنَ الْكَسْبِ الطَّيِّبِ فَيَضَعُهَا فِي حَقِّهَا " . وَفِي حَدِيثِ سُلَيْمَانَ " فَيَضَعُهَا فِي مَوْضِعِهَا " .

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

২২১৬। উমাইয়া ইবনে বিসতাম ও আহমাদ ইবনে উসমান আওদী (রাহঃ) ......... সুহাঈল (রাহঃ) এর সূত্রে এ সনদে অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন। তবে রাওহ (রাহঃ) এর হাদীসে রয়েছে ″হালাল উপার্জন থেকে, অতঃপর ব্যয় করে সে তা তার প্রাপ্য স্থানে″ এবং সুলাইমানের হাদীসে রয়েছে ″অতঃপর ব্যয় করে সে তা যথাস্থানে।″

2217

وَحَدَّثَنِيهِ أَبُو الطَّاهِرِ، أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ وَهْبٍ، أَخْبَرَنِي هِشَامُ بْنُ سَعْدٍ، عَنْ زَيْدِ بْنِ أَسْلَمَ، عَنْ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم نَحْوَ حَدِيثِ يَعْقُوبَ عَنْ سُهَيْلٍ .

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

২২১৭। আবু তাহির (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) এর সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে সুহাঈলের বরাত দিয়ে ইয়াকুব (রাহঃ) বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করেন।

2218

وَحَدَّثَنِي أَبُو كُرَيْبٍ، مُحَمَّدُ بْنُ الْعَلاَءِ حَدَّثَنَا أَبُو أُسَامَةَ، حَدَّثَنَا فُضَيْلُ بْنُ مَرْزُوقٍ، حَدَّثَنِي عَدِيُّ بْنُ ثَابِتٍ، عَنْ أَبِي حَازِمٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " أَيُّهَا النَّاسُ إِنَّ اللَّهَ طَيِّبٌ لاَ يَقْبَلُ إِلاَّ طَيِّبًا وَإِنَّ اللَّهَ أَمَرَ الْمُؤْمِنِينَ بِمَا أَمَرَ بِهِ الْمُرْسَلِينَ فَقَالَ ( يَا أَيُّهَا الرُّسُلُ كُلُوا مِنَ الطَّيِّبَاتِ وَاعْمَلُوا صَالِحًا إِنِّي بِمَا تَعْمَلُونَ عَلِيمٌ) وَقَالَ ( يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا كُلُوا مِنْ طَيِّبَاتِ مَا رَزَقْنَاكُمْ) " . ثُمَّ ذَكَرَ الرَّجُلَ يُطِيلُ السَّفَرَ أَشْعَثَ أَغْبَرَ يَمُدُّ يَدَيْهِ إِلَى السَّمَاءِ يَا رَبِّ يَا رَبِّ وَمَطْعَمُهُ حَرَامٌ وَمَشْرَبُهُ حَرَامٌ وَمَلْبَسُهُ حَرَامٌ وَغُذِيَ بِالْحَرَامِ فَأَنَّى يُسْتَجَابُ لِذَلِكَ " .

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

২২১৮। আবু কুরায়ব মুহাম্মাদ ইবনুল আ’লা (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেন, হে লোক সকল! আল্লাহ পবিত্র। তিনি পবিত্র ছাড়া অন্য কিছু গ্রহণ করে না।আল্লাহ তাআলা মুমিনদেরকে সেই আদেশ করেছেন, যে আদেশ করেছেন তিনি রাসুলগণকে। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন, ″হে রাসুলগণ! তোমরা পবিত্র বস্তু হতে আহার কর ও সৎকর্ম কর, তোমরা যা কর, সে সম্বন্ধে আমি অবহিত।″ (সূরা মু’মিনুনঃ ৫১) তিনি আরো ইরশাদ করেছেন, ″হে মুমিনগণ! তোমাদেরকে আমি যে সব পবিত্র বস্তু দিয়েছি, তা থেকে আহার কর।″ (সূরা বাকারাঃ ১৭২)

এরপর নবী (ﷺ) এক ব্যক্তির কথা উল্লেখ করলেন যে, দীর্ঘ সফর করে, যার এলোমেলো চুল ধুলায় ধুসরিত সে আকাশের দিকে দু’হাত তুলে বলে, হে আমার প্রতিপালক! হে আমার প্রতিপালক! অথচ তার খাদ্য হারাম, পানীয় হারাম, পোশাক-পরিচ্ছদ হারাম এবং তাঁর শরীর গঠিত হয়েছে হারামে। অতএব, তাঁর দুআ কিভাবে কবুল করা হবে?

১৫. সাদ্‌কায় উৎসাহ দান, যদিও তা এক টুকরা খেজুর অথবা উত্তম কথার দ্বারা হয়, সাদ্‌কা জাহান্নামের আগুন থেকে রক্ষাকবচ

باب الْحَثِّ عَلَى الصَّدَقَةِ وَلَوْ بِشِقِّ تَمْرَةٍ أَوْ كَلِمَةٍ طَيِّبَةٍ وَأَنَّهَا حِجَابٌ مِنْ النَّارِ

2219

حَدَّثَنَا عَوْنُ بْنُ سَلاَّمٍ الْكُوفِيُّ، حَدَّثَنَا زُهَيْرُ بْنُ مُعَاوِيَةَ الْجُعْفِيُّ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَعْقِلٍ، عَنْ عَدِيِّ بْنِ حَاتِمٍ، قَالَ سَمِعْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " مَنِ اسْتَطَاعَ مِنْكُمْ أَنْ يَسْتَتِرَ مِنَ النَّارِ وَلَوْ بِشِقِّ تَمْرَةٍ فَلْيَفْعَلْ " .

Narrator: হযরত আদী ইবনে হাতিম (রাঃ)

২২১৯। আওন ইবনে সাল্লাম আল কুফী (রাহঃ) ......... আদী ইবনে হাতিম (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী (ﷺ) কে বলতে শুনেছি, তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি নিজেকে জাহান্নামের আগুন থেকে বাঁচতে সমর্থ, এক টুকরা খেজুর দিয়ে হলেও সেটা তাঁর করা উচিত।

2220

حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ حُجْرٍ السَّعْدِيُّ، وَإِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، وَعَلِيُّ بْنُ خَشْرَمٍ، قَالَ ابْنُ حُجْرٍ حَدَّثَنَا وَقَالَ الآخَرَانِ، أَخْبَرَنَا عِيسَى بْنُ يُونُسَ، حَدَّثَنَا الأَعْمَشُ، عَنْ خَيْثَمَةَ، عَنْ عَدِيِّ، بْنِ حَاتِمٍ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " مَا مِنْكُمْ مِنْ أَحَدٍ إِلاَّ سَيُكَلِّمُهُ اللَّهُ لَيْسَ بَيْنَهُ وَبَيْنَهُ تُرْجُمَانٌ فَيَنْظُرُ أَيْمَنَ مِنْهُ فَلاَ يَرَى إِلاَّ مَا قَدَّمَ وَيَنْظُرُ أَشْأَمَ مِنْهُ فَلاَ يَرَى إِلاَّ مَا قَدَّمَ وَيَنْظُرُ بَيْنَ يَدَيْهِ فَلاَ يَرَى إِلاَّ النَّارَ تِلْقَاءَ وَجْهِهِ فَاتَّقُوا النَّارَ وَلَوْ بِشِقِّ تَمْرَةٍ " . زَادَ ابْنُ حُجْرٍ قَالَ الأَعْمَشُ وَحَدَّثَنِي عَمْرُو بْنُ مُرَّةَ عَنْ خَيْثَمَةَ مِثْلَهُ وَزَادَ فِيهِ " وَلَوْ بِكَلِمَةٍ طَيِّبَةٍ " . وَقَالَ إِسْحَاقُ قَالَ الأَعْمَشُ عَنْ عَمْرِو بْنِ مُرَّةَ عَنْ خَيْثَمَةَ .

Narrator: হযরত আদী ইবনে হাতিম (রাঃ)

২২২০। আলী ইবনে হুজর আস-সা’দী, ইসহাক ইবনে ইবরাহীম ও আলী ইবনে খাশরাম (রাহঃ) ......... আদী ইবনে হাতিম (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, তোমাদের প্রত্যেকেরই সাথে আল্লাহ নিশ্চয়ই কথা বলবেন। তাঁর ও বান্দার মাঝখানে কোন দোভাষী থাকবে না। অতঃপর বান্দা তাঁর ডানদিকে তাকাবে, কিন্তু কৃতকর্মগুলো ছাড়া আর কোন কিছুই সে দেখবে না। এরপর বান্দা তার বামদিকে তাকবে। কিন্তু কৃতকর্ম ছাড়া আর কিছুই দেখবে না। অতঃপর সামনের দিকে তাকাবে, কিন্তু চোখের সামনে সে আগুন ছাড়া আর কিছুই দেখবে না। সুতরাং এক টুকরা খেজুর সাদ্‌কা করে হলেও তোমরা জাহান্নামের আগুন থেকে বাঁচ।

ইবনে হুজর (রাহঃ) ......... খায়সামা (রাহঃ) থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। তবে তাঁর বর্ণনায়بِكَلِمَةٍ طَيِّبَةٍ ″উত্তম কথা হলেও″ কথাটি অতিরিক্ত বর্ণিত আছে। ইসহাক আমর ইবনে মুররা (রাহঃ) সূত্রে খায়সামা (রাহঃ) থেকে বর্ণনা করেছেন।
2221

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، وَأَبُو كُرَيْبٍ قَالاَ حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ عَمْرِو بْنِ مُرَّةَ، عَنْ خَيْثَمَةَ، عَنْ عَدِيِّ بْنِ حَاتِمٍ، قَالَ ذَكَرَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم النَّارَ فَأَعْرَضَ وَأَشَاحَ ثُمَّ قَالَ " اتَّقُوا النَّارَ " . ثُمَّ أَعْرَضَ وَأَشَاحَ حَتَّى ظَنَنَّا أَنَّهُ كَأَنَّمَا يَنْظُرُ إِلَيْهَا ثُمَّ قَالَ " اتَّقُوا النَّارَ وَلَوْ بِشِقِّ تَمْرَةٍ فَمَنْ لَمْ يَجِدْ فَبِكَلِمَةٍ طَيِّبَةٍ " . وَلَمْ يَذْكُرْ أَبُو كُرَيْبٍ كَأَنَّمَا وَقَالَ حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ حَدَّثَنَا الأَعْمَشُ .

Narrator: হযরত আদী ইবনে হাতিম (রাঃ)

২২২১। আবু বকর ইবনে আবি শাঈবা ও আবু কুরায়ব (রাহঃ) ......... আদী ইবনে হাতিম (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) জাহান্নামের আলোচনা করলেন। অতঃপর তিনি মুখ ফিরিয়ে নিলেন এবং ভ্রুকুঞ্চিত করলেন। এরপর বললেন, তোমরা আগুন থেকে বাঁচ। এবারও তিনি মুখ ফিরিয়ে নিলেন এবং ভ্রূকুঞ্চিত করলেন। এমনকি আমাদের ধারণা হল তিনি যেন আগুন দেখতে পাচ্ছেন। এরপর বললেন, এক টূকরা খেজুর দিয়ে হলেও তোমরা আগুন থেকে বাঁচ। যদি সে তা না পায় তবে একটি উত্তম কথার বিনিময়ে হলেও।

ইমাম মুসলিম (রাহঃ) বলেন, আবু কুয়ায়ব (রাহঃ) তাঁর বর্ণনায়,كَأَنَّمَا শব্দটি উল্লেখ করেননি এবং বলেন, আমাদের কাছে আবু মুআবিয়া রিওয়ায়াত করেছেন যে, আ’মাশ এ হাদীস বর্ণনা করেছেন।
2222

وَحَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، وَابْنُ، بَشَّارٍ قَالاَ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ عَمْرِو بْنِ مُرَّةَ، عَنْ خَيْثَمَةَ، عَنْ عَدِيِّ بْنِ حَاتِمٍ، عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ ذَكَرَ النَّارَ فَتَعَوَّذَ مِنْهَا وَأَشَاحَ بِوَجْهِهِ ثَلاَثَ مِرَارٍ ثُمَّ قَالَ " اتَّقُوا النَّارَ وَلَوْ بِشِقِّ تَمْرَةٍ فَإِنْ لَمْ تَجِدُوا فَبِكَلِمَةٍ طَيِّبَةٍ " .

Narrator: হযরত আদী ইবনে হাতিম (রাঃ)

২২২২। মুহাম্মাদ ইবনুল মুসান্না ও ইবনে বাশশার (রাহঃ) ......... আদী ইবনে হাতিম (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) জাহান্নামের অগ্নি সম্পর্কে আলোচনা করলেন। এরপর তা থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করলেন এবং মুখমণ্ডল তিনবার ফিরিয়ে নিলেন। এরপর তিনি বললেন, এক টুকরা খেজুরের বিনিময়ে হলেও তোমরা অগ্নি থেকে বেঁচে থাক। যদি তা না পাও তবে অন্তত একটি ভাল কথার বিনিময়ে হলেও।

2223

حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى الْعَنَزِيُّ، أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ عَوْنِ، بْنِ أَبِي جُحَيْفَةَ عَنِ الْمُنْذِرِ بْنِ جَرِيرٍ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ كُنَّا عِنْدَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي صَدْرِ النَّهَارِ قَالَ فَجَاءَهُ قَوْمٌ حُفَاةٌ عُرَاةٌ مُجْتَابِي النِّمَارِ أَوِ الْعَبَاءِ مُتَقَلِّدِي السُّيُوفِ عَامَّتُهُمْ مِنْ مُضَرَ بَلْ كُلُّهُمْ مِنْ مُضَرَ فَتَمَعَّرَ وَجْهُ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لِمَا رَأَى بِهِمْ مِنَ الْفَاقَةِ فَدَخَلَ ثُمَّ خَرَجَ فَأَمَرَ بِلاَلاً فَأَذَّنَ وَأَقَامَ فَصَلَّى ثُمَّ خَطَبَ فَقَالَ " ( يَا أَيُّهَا النَّاسُ اتَّقُوا رَبَّكُمُ الَّذِي خَلَقَكُمْ مِنْ نَفْسٍ وَاحِدَةٍ) إِلَى آخِرِ الآيَةِ ( إِنَّ اللَّهَ كَانَ عَلَيْكُمْ رَقِيبًا) وَالآيَةَ الَّتِي فِي الْحَشْرِ ( اتَّقُوا اللَّهَ وَلْتَنْظُرْ نَفْسٌ مَا قَدَّمَتْ لِغَدٍ وَاتَّقُوا اللَّهَ) تَصَدَّقَ رَجُلٌ مِنْ دِينَارِهِ مِنْ دِرْهَمِهِ مِنْ ثَوْبِهِ مِنْ صَاعِ بُرِّهِ مِنْ صَاعِ تَمْرِهِ - حَتَّى قَالَ - وَلَوْ بِشِقِّ تَمْرَةٍ " . قَالَ فَجَاءَ رَجُلٌ مِنَ الأَنْصَارِ بِصُرَّةٍ كَادَتْ كَفُّهُ تَعْجِزُ عَنْهَا بَلْ قَدْ عَجَزَتْ - قَالَ - ثُمَّ تَتَابَعَ النَّاسُ حَتَّى رَأَيْتُ كَوْمَيْنِ مِنْ طَعَامٍ وَثِيَابٍ حَتَّى رَأَيْتُ وَجْهَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَتَهَلَّلُ كَأَنَّهُ مُذْهَبَةٌ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " مَنْ سَنَّ فِي الإِسْلاَمِ سُنَّةً حَسَنَةً فَلَهُ أَجْرُهَا وَأَجْرُ مَنْ عَمِلَ بِهَا بَعْدَهُ مِنْ غَيْرِ أَنْ يَنْقُصَ مِنْ أُجُورِهِمْ شَىْءٌ وَمَنْ سَنَّ فِي الإِسْلاَمِ سُنَّةً سَيِّئَةً كَانَ عَلَيْهِ وِزْرُهَا وَوِزْرُ مَنْ عَمِلَ بِهَا مِنْ بَعْدِهِ مِنْ غَيْرِ أَنْ يَنْقُصَ مِنْ أَوْزَارِهِمْ شَىْءٌ " .

Narrator: জারীর ইবনে আব্দুল্লাহ বাজালী (রাঃ)

২২২৩। মুহাম্মাদ ইবনুল মুসান্না আনাযী (রাহঃ) ......... মুনযির ইবনে জারীর (রাহঃ) কর্তৃক তার পিতা থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা দিনের পূর্বভাগে আমরা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কাছে ছিলাম। এ সময় নগ্নপদ, খালি মাথা, চামড়ার বস্ত্র পরিহিত ও তরবারী গলায় লটকিয়ে এক দল লোক তাঁর নিকট আসল। তাদের অধিকাংশ বরং সকলেই ‘মুযার’ গোত্রের লোক ছিল। তাদের মাঝে অনাহারের নিদর্শন দেখে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর মুখমণ্ডল বিবর্ণ হয়ে গেল। অতঃপর তিনি (গৃহাভ্যন্তরে) প্রবেশ করলেন এবং বেরিয়ে এলেন। এরপর বিলাল (রাযিঃ) কে নির্দেশ দিলেন। তিনি (বিলাল (রাযিঃ) আযান দিলেন ও ইকামত দিলেন।

নামায আদায় করার পর নবী (ﷺ) ভাষণ দিলেন এবং তিলাওয়াত করলেন, “হে মানব! তোমরা তোমাদের প্রতিপাল কে ভয় কর; যিনি তোমাদেরকে এক ব্যক্তি হতেই সৃষ্টি করেছেন এবং যিনি তা থেকে তার সঙ্গিনী সৃষ্টি করেন; যিনি তাদের দু’জন থেকে বহু নর নারী ছড়িয়ে দেন এবং আল্লাহকে ভয় কর যার নামে তোমরা একে অপরের নিকট যাঞা কর এবং সতর্ক থাক জ্ঞাতি বন্ধন সম্পর্কে। আল্লাহ তোমাদের উপর তীক্ষ্ম দৃষ্টি রাখেন” (সূরা নিসাঃ ১)।

(অন্য আয়াত) ″হে মুমিনগণ! আল্লাহকে ভয় কর, প্রত্যেকেই ভেবে দেখ আগামী কালের জন্য সে কী অগ্রিম পাঠিয়েছে। (সূরা হাশরঃ ১৮)। পূরুষ তার দীনার হতে, তার দিরহাম হতে, তার বস্ত্র হতে সাদ্‌কা করুক এবং গম থেকে এক সা’ খেজুর থেকে এক সা’ দান করুক। এমন কি তিনি বললেন, এক টূকরো খেজুর দিয়ে হলেও।

বর্ণনাকারী বলেন, তখন এক আনসারী ব্যক্তি একটি থলে নিয়ে আসল তার হাত যেন তা তুলতে সক্ষম হচ্ছিলেন না। বরং অপারগই হয়েছিল। বর্ণনাকারী বলেন, অতঃপর লোকজন একের পর এক সাদ্‌কা নিয়ে আসতে লাগল। অবশেষে আমি খাদ্য ও বস্ত্রের দুটি স্তুপ দেখতে পেলাম। তখন আমি দেখলাম, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর চেহারা সমুজ্জল হল যেন এক টুকরা সোনা।

অতঃপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, যে ব্যক্তি ইসলামে কোন নেক প্রথা চালু করবে, সে তার নেককর্মের সাওয়াব পাবে এবং ঐ ব্যক্তির সম পরিমাণ সাওয়াবও লাভ করবে যে ব্যক্তি তার পরে ঐ নেক আমল করবে, এতে তাদের নেকী বিন্দুমাত্র ও কমবে না। পক্ষান্তরে যদি কোন ব্যক্তি ইসলামে কোন কূপ্রথা চালু করে তবে এ অসৎকর্মের গুনাহ তার উপর বর্তাবে এবং ঐ ব্যক্তির গুনাহও, যারা তার পরবর্তীতে সে অসৎকর্ম করবে, এতে তাদের গুনাহ বিন্দু পরিমাণও কমবে না।
2224

وَحَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا أَبُو أُسَامَةَ، ح وَحَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ مُعَاذٍ، الْعَنْبَرِيُّ حَدَّثَنَا أَبِي قَالاَ، جَمِيعًا حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، حَدَّثَنِي عَوْنُ بْنُ أَبِي جُحَيْفَةَ، قَالَ سَمِعْتُ الْمُنْذِرَ بْنَ جَرِيرٍ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ كُنَّا عِنْدَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم صَدْرَ النَّهَارِ . بِمِثْلِ حَدِيثِ ابْنِ جَعْفَرٍ وَفِي حَدِيثِ ابْنِ مُعَاذٍ مِنَ الزِّيَادَةِ قَالَ ثُمَّ صَلَّى الظُّهْرَ ثُمَّ خَطَبَ .

Narrator: জারীর ইবনে আব্দুল্লাহ বাজালী (রাঃ)

২২২৪। আবু বকর ইবনে আবি শাঈবা ও উবাইদুল্লাহ ইবনে মু’আয আম্বারী (রাহঃ) ......... জারীর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা দিনের প্রথম ভাগে আমরা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট ছিলাম। তারা ইবনে জাফরের অনুরূপ এ হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। তবে মু’আয (রাযিঃ) এর হাদীসের ম্যধ্যثُمَّ صَلَّى الظُّهْرَ ثُمَّ خَطَبَ “অতঃপর তিনি যোহরের নামায আদায় করলেন এবং ভাষণ দিলেন” কথাটি অতিরিক্ত বর্ণিত হয়েছে।

2225

حَدَّثَنِي عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ الْقَوَارِيرِيُّ، وَأَبُو كَامِلٍ وَمُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الْمَلِكِ الأُمَوِيُّ قَالُوا حَدَّثَنَا أَبُو عَوَانَةَ، عَنْ عَبْدِ الْمَلِكِ بْنِ عُمَيْرٍ، عَنِ الْمُنْذِرِ بْنِ جَرِيرٍ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ كُنْتُ جَالِسًا عِنْدَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَأَتَاهُ قَوْمٌ مُجْتَابِي النِّمَارِ وَسَاقُوا الْحَدِيثَ بِقِصَّتِهِ وَفِيهِ فَصَلَّى الظُّهْرَ ثُمَّ صَعِدَ مِنْبَرًا صَغِيرًا فَحَمِدَ اللَّهَ وَأَثْنَى عَلَيْهِ ثُمَّ قَالَ " أَمَّا بَعْدُ فَإِنَّ اللَّهَ أَنْزَلَ فِي كِتَابِهِ ( يَا أَيُّهَا النَّاسُ اتَّقُوا رَبَّكُمُ) الآيَةَ " .

Narrator: জারীর ইবনে আব্দুল্লাহ বাজালী (রাঃ)

২২২৫। উবাইদুল্লাহ ইবনে উমর কাওয়ারীরী, আবু কামিল এবং মুহাম্মাদ আব্দুল মালিক উমাবী (রাহঃ) ......... জারীর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আমরা নবী (ﷺ) এর নিকট উপবিষ্ট ছিলাম। তখন চামড়ার বস্ত্র পরিহিত অবস্থায় একদল লোক তার নিকট আসল। তারপর তারা পূর্বোক্ত হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। তবে এতে অতিরিক্ত রয়েছে, তিনি যোহরের নামায আদায় করলেন। এরপর ছোট একটি মিম্বরে আরোহণ করে প্রথমে আল্লাহর প্রশংসা ও মহিমা বর্ণনা করলেন। তারপর বললেন, আম্মা বা’দ! আল্লাহ তাআলা তাঁর কিতাবে অবর্তীর্ণ করেছেন। ″হে মানব! তোমরা তোমাদের প্রতিপালককে ভয় কর......। (সূরা নিসাঃ ১)

2226

وَحَدَّثَنِي زُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، حَدَّثَنَا جَرِيرٌ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ مُوسَى بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ، يَزِيدَ وَأَبِي الضُّحَى عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ هِلاَلٍ الْعَبْسِيِّ، عَنْ جَرِيرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ جَاءَ نَاسٌ مِنَ الأَعْرَابِ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَلَيْهِمُ الصُّوفُ فَرَأَى سُوءَ حَالِهِمْ . قَدْ أَصَابَتْهُمْ حَاجَةٌ . فَذَكَرَ بِمَعْنَى حَدِيثِهِمْ .

Narrator: জারীর ইবনে আব্দুল্লাহ বাজালী (রাঃ)

২২২৬। যুহাইর ইবনে হারব (রাহঃ) ......... জারীর ইবনে আব্দুল্লাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, কয়েকজন বেদুঈন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট এল। তাদের গায়ে পশমের কাপড় ছিল। ...... রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাদের এ অবস্থা দেখে বুঝলেন যে, তারা অভাবগ্রস্থ। তারপর তাদের হাদীসের মর্ম বর্ণনা করলেন।

১৬. দান-সাদ্‌কা করার উদ্দেশ্যে পারিশ্রমিকের বিনিময়ে বোঝা বহন করা এবং স্বল্প পরিমাণ দান-সাদ্‌কাকারী ব্যক্তিকে হেয় মনে না করা

باب الْحَمْلِ بِأُجْرَةٍ يُتَصَدَّقُ بِهَا وَالنَّهْىِ الشَّدِيدِ عَنْ تَنْقِيصِ الْمُتَصَدِّقِ بِقَلِيل

2227

حَدَّثَنِي يَحْيَى بْنُ مَعِينٍ، حَدَّثَنَا غُنْدَرٌ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، ح وَحَدَّثَنِيهِ بِشْرُ بْنُ خَالِدٍ، - وَاللَّفْظُ لَهُ - أَخْبَرَنَا مُحَمَّدٌ، - يَعْنِي ابْنَ جَعْفَرٍ - عَنْ شُعْبَةَ، عَنْ سُلَيْمَانَ، عَنْ أَبِي وَائِلٍ، عَنْ أَبِي مَسْعُودٍ، قَالَ أُمِرْنَا بِالصَّدَقَةِ . قَالَ كُنَّا نُحَامِلُ - قَالَ - فَتَصَدَّقَ أَبُو عَقِيلٍ بِنِصْفِ صَاعٍ - قَالَ - وَجَاءَ إِنْسَانٌ بِشَىْءٍ أَكْثَرَ مِنْهُ فَقَالَ الْمُنَافِقُونَ إِنَّ اللَّهَ لَغَنِيٌّ عَنْ صَدَقَةِ هَذَا وَمَا فَعَلَ هَذَا الآخَرُ إِلاَّ رِيَاءً فَنَزَلَتْ ( الَّذِينَ يَلْمِزُونَ الْمُطَّوِّعِينَ مِنَ الْمُؤْمِنِينَ فِي الصَّدَقَاتِ وَالَّذِينَ لاَ يَجِدُونَ إِلاَّ جُهْدَهُمْ) وَلَمْ يَلْفِظْ بِشْرٌ بِالْمُطَّوِّعِينَ .

Narrator: হযরত আবু মাসউদ বদরী আনসারী (রাঃ)

২২২৭। ইয়াহয়া ইবনে মুঈন ও বিশর ইবনে খালিদ (রাহঃ) ......... আবু মাসউদ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমাদের সাদ্‌কা প্রদান করার নির্দেশ দেয়া হল। আমরা এ উদ্দেশ্যে বোঝা বহন করতাম। আবু মাসউদ (রাযিঃ) বলেন, তখন আবু আকীল (রাযিঃ) অর্ধ সা’ সাদ্‌কা করলেন এবং অন্য এক ব্যক্তি তার-চাইতে অধিক সাদ্‌কা নিয়ে আসলেন। তখন মুনাফিকরা বলল, আল্লাহ তার সাদ্‌কার মুখাপেক্ষী নন। আর এ দ্বিতীয় লোকটি তো লোক দেখানোর জন্যই দান করেছেন। তখন অবর্তীর্ণ হল, ″মুমিনদের মধ্যে যারা স্বতঃস্ফুর্তভাবে সাদ্‌কা দেয় এবং যারা নিজ শ্রম ব্যতিরেকে কিছুই পায় না, তাদের যারা দোষারোপ করে ও বিদ্রূপ করে, আল্লাহ তাদের প্রতি বিদ্রূপ করেন।″ (সূরা তাওবাঃ ৭৯) বিশর (রাহঃ)بِالْمُطَّوِّعِينَ শব্দটি এখানে উল্লেখ করেননি।

2228

وَحَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، حَدَّثَنِي سَعِيدُ بْنُ الرَّبِيعِ، ح وَحَدَّثَنِيهِ إِسْحَاقُ بْنُ مَنْصُورٍ، أَخْبَرَنَا أَبُو دَاوُدَ، كِلاَهُمَا عَنْ شُعْبَةَ، بِهَذَا الإِسْنَادِ . وَفِي حَدِيثِ سَعِيدِ بْنِ الرَّبِيعِ قَالَ كُنَّا نُحَامِلُ عَلَى ظُهُورِنَا .

Narrator: হযরত আবু মাসউদ বদরী আনসারী (রাঃ)

২২২৮। মুহাম্মাদ ইবনে বাশশার ও ইসহাক ইবনে মানসুর (রাহঃ) ......... শু’বা (রাহঃ) এর থেকে এ সনদে অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন। তবে সাঈদ ইবনে রাবী (রাহঃ) এর হাদীসের মধ্যে আছে, ″আমরা পিঠের উপর বোঝা বহন করতাম।″

১৭. দুগ্ধবতী পশু দান করার ফযীলত

باب فَضْلِ الْمَنِيحَةِ

2229

حَدَّثَنَا زُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ، عَنْ أَبِي الزِّنَادِ، عَنِ الأَعْرَجِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، يَبْلُغُ بِهِ " أَلاَ رَجُلٌ يَمْنَحُ أَهْلَ بَيْتٍ نَاقَةً تَغْدُو بِعُسٍّ وَتَرُوحُ بِعُسٍّ إِنَّ أَجْرَهَا لَعَظِيمٌ " .

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

২২২৯। যুহাইর ইবনে হারব (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি এ হাদীস রাসূলুল্লাহ (ﷺ) পর্যন্ত পৌঁছিয়েছেন। জেনে রেখ, যে ব্যক্তি কোন গৃহবাসীকে দুগ্ধবতী এমন একটি উট দান করল, যা সকাল সন্ধ্যা বড় পাত্র ভর্তি দুধ দেয়, অবশ্য তার জন্য রয়েছে মহা পূরস্কার।

2230

حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ أَبِي خَلَفٍ، حَدَّثَنَا زَكَرِيَّاءُ بْنُ عَدِيٍّ، أَخْبَرَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ، بْنُ عَمْرٍو عَنْ زَيْدٍ، عَنْ عَدِيِّ بْنِ ثَابِتٍ، عَنْ أَبِي حَازِمٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ نَهَى فَذَكَرَ خِصَالاً وَقَالَ " مَنْ مَنَحَ مَنِيحَةً غَدَتْ بِصَدَقَةٍ وَرَاحَتْ بِصَدَقَةٍ صَبُوحِهَا وَغَبُوقِهَا " .

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

২২৩০। মুহাম্মাদ ইবনে আহমাদ ইবনে আবু খালাফ (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কয়েকটি কাজ নিষেধ করলেন। সেগুলোর উল্লেখ করার পর তিনি বললেন, যে দুগ্ধবতী পশু দান করে সে সকালে এক সাদ্‌কা করে এবং বিকেলেও একটি সাদ্‌কা করে। অর্থাৎ সকালে তার দুধ ও বিকালে তার দুধ পান (দাতার জন্য সাদ্‌কাস্বরূপ গণ্য হয়)।

১৮. দানশীল ও কৃপণের দৃষ্টান্ত

باب مَثَلِ الْمُنْفِقِ وَالْبَخِيلِ

2231

حَدَّثَنَا عَمْرٌو النَّاقِدُ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ، عَنْ أَبِي الزِّنَادِ، عَنِ الأَعْرَجِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم . قَالَ عَمْرٌو وَحَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ قَالَ وَقَالَ ابْنُ جُرَيْجٍ عَنِ الْحَسَنِ بْنِ مُسْلِمٍ عَنْ طَاوُسٍ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " مَثَلُ الْمُنْفِقِ وَالْمُتَصَدِّقِ كَمَثَلِ رَجُلٍ عَلَيْهِ جُبَّتَانِ أَوْ جُنَّتَانِ مِنْ لَدُنْ ثُدِيِّهِمَا إِلَى تَرَاقِيهِمَا فَإِذَا أَرَادَ الْمُنْفِقُ - وَقَالَ الآخَرُ فَإِذَا أَرَادَ الْمُتَصَدِّقُ - أَنْ يَتَصَدَّقَ سَبَغَتْ عَلَيْهِ أَوْ مَرَّتْ وَإِذَا أَرَادَ الْبَخِيلُ أَنْ يُنْفِقَ قَلَصَتْ عَلَيْهِ وَأَخَذَتْ كُلُّ حَلْقَةٍ مَوْضِعَهَا حَتَّى تُجِنَّ بَنَانَهُ وَتَعْفُوَ أَثَرَهُ " . قَالَ فَقَالَ أَبُو هُرَيْرَةَ فَقَالَ يُوَسِّعُهَا فَلاَ تَتَّسِعُ .

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

২২৩১। আমরূন নাকিদ (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। নবী (ﷺ) বলেন, অর্থ ব্যয়কারী ও সাদ্‌কাকারীর দৃষ্টান্ত ঐ ব্যক্তির ন্যায়, যার গায়ে বক্ষ থেকে কণ্ঠনালী পর্যন্ত দুটি লৌহবর্ম রয়েছে, যখন ব্যয়কারী ইচ্ছা করে, (অন্য রাবী বলেন, যখন সাদ্‌কাকারী সাদ্‌কা করার ইচ্ছা করে) তখন তা তার উপর প্রশস্ত বা সম্প্রসারিত হয়ে যায়। আর কৃপণ ব্যক্তি যখন দান করার ইচ্ছা করে তখন তা তার উপর সংকুচিত হয়ে যায় এবং বর্মের প্রতিটি আংটা সস্থানে দৃঢ়ভাবে এটে যায়। এমন কি তা তার নখাগ্র পর্যন্ত আবৃত করে ফেলে এবং তার পদচিহ্ন নিশ্চিহ্ন করে দেয়। রাবী বলেন, আবু হুরায়রা (রাযিঃ) বলেন, অর্থাৎ সে বর্মটিকে প্রশস্ত ও বিস্তৃত করতে চায় কিন্তু তা বিস্তৃত হয় না।

2232

حَدَّثَنِي سُلَيْمَانُ بْنُ عُبَيْدِ اللَّهِ أَبُو أَيُّوبَ الْغَيْلاَنِيُّ، حَدَّثَنَا أَبُو عَامِرٍ، - يَعْنِي الْعَقَدِيَّ - حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ نَافِعٍ، عَنِ الْحَسَنِ بْنِ مُسْلِمٍ، عَنْ طَاوُسٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ ضَرَبَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " مَثَلَ الْبَخِيلِ وَالْمُتَصَدِّقِ كَمَثَلِ رَجُلَيْنِ عَلَيْهِمَا جُنَّتَانِ مِنْ حَدِيدٍ قَدِ اضْطُرَّتْ أَيْدِيهِمَا إِلَى ثُدَيِّهِمَا وَتَرَاقِيهِمَا فَجَعَلَ الْمُتَصَدِّقُ كُلَّمَا تَصَدَّقَ بِصَدَقَةٍ انْبَسَطَتْ عَنْهُ حَتَّى تُغَشِّيَ أَنَامِلَهُ وَتَعْفُوَ أَثَرَهُ وَجَعَلَ الْبَخِيلُ كُلَّمَا هَمَّ بِصَدَقَةٍ قَلَصَتْ وَأَخَذَتْ كُلُّ حَلْقَةٍ مَكَانَهَا " . قَالَ فَأَنَا رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ بِإِصْبَعِهِ فِي جَيْبِهِ فَلَوْ رَأَيْتَهُ يُوَسِّعُهَا وَلاَ تَوَسَّعُ .

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

২২৩২। সুলাইমান ইবনে উবাইদুল্লাহ আবু আইয়ুব গায়লানী (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেন, কৃপণ ও দানশীল ব্যক্তির উপমা ঐ ব্যক্তির ব্যক্তির অনুরূপ, যাদের গায়ে রয়েছে দুটি লৌহবর্ম এবং যাদের উভয় হাত তাদের বক্ষ ও কন্ঠনালীর সাথে জড়িয়ে আছে। অতঃপর দানশীল ব্যক্তি যখনই দান করতে চায় তখন এ বর্ম প্রশস্ত হয়ে যায়। এমনকি তার নখগ্র পর্যন্ত আবৃত করে ফেলে এবং তার পদচিহ্ন নিশ্চিহ্ন করে দেয়। আর কৃপণ ব্যক্তি যখনই সাদ্‌কা করার ইচ্ছা করে তখন লৌহ বর্মটি সংকুচিত হয়ে যায় এবং এর প্রতিটি আংটা স্বস্থানে এটে যায়। বর্ণনাকারী বলেন, আমি দেখতে পাই যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাঁর জামার ফোকরে অঙ্গুলি দিয়ে দেখাচ্ছেন। তুমি যদি তাকে এমন দেখতে যে, তিনি তা প্রশস্ত করতে চাইছে কিন্তু তা প্রশস্ত হচ্ছে না।

2233

وَحَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ إِسْحَاقَ الْحَضْرَمِيُّ، عَنْ وُهَيْبٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ طَاوُسٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " مَثَلُ الْبَخِيلِ وَالْمُتَصَدِّقِ مَثَلُ رَجُلَيْنِ عَلَيْهِمَا جُنَّتَانِ مِنْ حَدِيدٍ إِذَا هَمَّ الْمُتَصَدِّقُ بِصَدَقَةٍ اتَّسَعَتْ عَلَيْهِ حَتَّى تُعَفِّيَ أَثَرَهُ وَإِذَا هَمَّ الْبَخِيلُ بِصَدَقَةٍ تَقَلَّصَتْ عَلَيْهِ وَانْضَمَّتْ يَدَاهُ إِلَى تَرَاقِيهِ وَانْقَبَضَتْ كُلُّ حَلْقَةٍ إِلَى صَاحِبَتِهَا " . قَالَ فَسَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " فَيَجْهَدُ أَنْ يُوَسِّعَهَا فَلاَ يَسْتَطِيعُ " .

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

২২৩৩। আবু বকর ইবনে আবি শাঈবা (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেন, কৃপণ ও দানশীল ব্যক্তিদ্বয়ের দৃষ্টান্ত ঐ দুই ব্যক্তির অনুরূপ যাদের গায়ে রয়েছে দুটি লৌহবর্ম; দানশীল ব্যক্তি যখনই দান করার ইচ্ছা করে তখন তা তার শরীরে বিস্তূত হয়ে যায়, এমনকি তার পদচিহ্ন পর্যন্ত মুছে যায়। আর কৃপণ যখন সাদ্‌কা করার জন্য উদ্যত হয় তখন তা তার শরীরে সংকুচিত হয়ে যায়। তার উভয় হাত তার কণ্ঠনালীর সাথে মিলে যায় এবং তার প্রতিটি আংটা অন্য আংটাকে আঁকড়িয়ে ধরে। বর্ণনাকারী বলেন,আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে বলতে শুনেছি, সে ঐ বর্ম প্রশস্ত করার প্রয়াস পাবে। কিন্তু প্রশস্ত করতে পারবে না।

১৯. সাদ্‌কাদাতা সাওয়াব পাবে, যদিও তা কোন ফাসিক এবং অনুরূপ কারো হস্তগত হয়

باب ثُبُوتِ أَجْرِ الْمُتَصَدِّقِ وَإِنْ وَقَعَتِ الصَّدَقَةُ فِي يَدِ غَيْرِ أَهْلِهَا

2234

حَدَّثَنِي سُوَيْدُ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنِي حَفْصُ بْنُ مَيْسَرَةَ، عَنْ مُوسَى بْنِ عُقْبَةَ، عَنْ أَبِي، الزِّنَادِ عَنِ الأَعْرَجِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " قَالَ رَجُلٌ لأَتَصَدَّقَنَّ اللَّيْلَةَ بِصَدَقَةٍ فَخَرَجَ بِصَدَقَتِهِ فَوَضَعَهَا فِي يَدِ زَانِيَةٍ فَأَصْبَحُوا يَتَحَدَّثُونَ تُصُدِّقَ اللَّيْلَةَ عَلَى زَانِيَةٍ . قَالَ اللَّهُمَّ لَكَ الْحَمْدُ عَلَى زَانِيَةٍ لأَتَصَدَّقَنَّ بِصَدَقَةٍ . فَخَرَجَ بِصَدَقَتِهِ فَوَضَعَهَا فِي يَدِ غَنِيٍّ فَأَصْبَحُوا يَتَحَدَّثُونَ تُصُدِّقَ عَلَى غَنِيٍّ . قَالَ اللَّهُمَّ لَكَ الْحَمْدُ عَلَى غَنِيٍّ لأَتَصَدَّقَنَّ بِصَدَقَةٍ . فَخَرَجَ بِصَدَقَتِهِ فَوَضَعَهَا فِي يَدِ سَارِقٍ فَأَصْبَحُوا يَتَحَدَّثُونَ تُصُدِّقَ عَلَى سَارِقٍ . فَقَالَ اللَّهُمَّ لَكَ الْحَمْدُ عَلَى زَانِيَةٍ وَعَلَى غَنِيٍّ وَعَلَى سَارِقٍ . فَأُتِيَ فَقِيلَ لَهُ أَمَّا صَدَقَتُكَ فَقَدْ قُبِلَتْ أَمَّا الزَّانِيَةُ فَلَعَلَّهَا تَسْتَعِفُّ بِهَا عَنْ زِنَاهَا وَلَعَلَّ الْغَنِيَّ يَعْتَبِرُ فَيُنْفِقُ مِمَّا أَعْطَاهُ اللَّهُ وَلَعَلَّ السَّارِقَ يَسْتَعِفُّ بِهَا عَنْ سَرِقَتِهِ " .

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

২২৩৪। সুওয়ায়দ ইবনে সাঈদ (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। নবী (ﷺ) বলেন, এক ব্যক্তি বলল, আমি অদ্য রাত্রে কিছু সাদ্‌কা করব। তারপর সে সাদ্‌কা নিয়ে বের হল এবং একজন ব্যভিচারিনীর হাতে তা প্রদান করল। ভোর হলে, লোকেরা বলাবলি করতে লাগল যে, আজ রাতে এক ব্যভিচারিনীকে সাদ্‌কা প্রদান করা হয়েছে। দাতা একথা শুনে বলল, আয় আল্লাহ! সমস্ত প্রশংসা তোমারই, (আমার সাদ্‌কা) ব্যভিচারিনীর হাতে পড়লেও অবশ্য আমি আবার সাদ্‌কা করব।

তারপর সে তার সাদ্‌কা নিয়ে বের হল এবং তা এক ধনীর হাতে প্রদান করল। ভোর হলে লোকেরা বলাবলি করতে লাগল যে, একজন ধনীকে সাদ্‌কা দেওয়া হয়েছে। লোকটি তখন বলল, আয় আল্লাহ! সকল প্রশংসা তোমারই, (আমার সাদ্‌কা) ধনী ব্যক্তির হাতে পড়ল। সে বলল, আমি অবশ্যই আবার সাদ্‌কা দিব।

তারপর সে তার সাদ্‌কা নিয়ে বেল হল এবং একজন চোরের হাতে তা অর্পণ করল। ভোর হলে লোকেরা বলাবলি করতে লাগল, একটি চোরকে সাদ্‌কা দেয়া হয়েছে এ কথা শুনে সে বলল, আয় আল্লাহ! তোমারই সকল প্রশংসা (আমার দান) ব্যভিচারিনী, ধনী ও চোরের হাতে অর্পিত হল।

পরে (স্বপ্নযোগে) এক ব্যক্তি তার নিকট এসে বলল, তোমার সাদ্‌কা কবুল হয়েছে। জেনে রাখ, ব্যভিচারিনী হয়তো এর কারণে ব্যভিচার থেকে বিরত থাকবে, ধনী ব্যক্তি হয় তো এর থেকে উপদেশ করবে এবং আল্লাহ তাকে যে সম্পদ দিয়েছেন তা থেকে খরচ করবে এবং চোর হয়তো এর বদৌলতে তার চুরি থেকে বিরত থাকবে।

২০. আমানতদার খাজাঞ্চি এবং যে স্ত্রী তার স্বামীর গৃহ হতে তার স্পষ্ট অনুমতি বা প্রচলিত নিয়মানুসারে ক্ষতি করার ইচ্ছা ব্যতীত যা দান করে, তার সাওয়াব পাবে

باب أجر الخازن الأمين والمرأة إذا تصدقت من بيت زوجها غير مفسدة بإذنه الصريح أو العرفي

2235

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، وَأَبُو عَامِرٍ الأَشْعَرِيُّ وَابْنُ نُمَيْرٍ وَأَبُو كُرَيْبٍ كُلُّهُمْ عَنْ أَبِي أُسَامَةَ، - قَالَ أَبُو عَامِرٍ حَدَّثَنَا أَبُو أُسَامَةَ، - حَدَّثَنَا بُرَيْدٌ، عَنْ جَدِّهِ أَبِي بُرْدَةَ، عَنْ أَبِي مُوسَى، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " إِنَّ الْخَازِنَ الْمُسْلِمَ الأَمِينَ الَّذِي يُنْفِذُ - وَرُبَّمَا قَالَ يُعْطِي - مَا أُمِرَ بِهِ فَيُعْطِيهِ كَامِلاً مُوَفَّرًا طَيِّبَةً بِهِ نَفْسُهُ فَيَدْفَعُهُ إِلَى الَّذِي أُمِرَ لَهُ بِهِ - أَحَدُ الْمُتَصَدِّقَيْنِ " .

Narrator: আবু মুসা আশ'আরী (রাঃ)

২২৩৫। আবু বকর ইবনে আবি শাঈবা, আবু আমির আশ’আরী, ইবনে নুমাইর ও আবু কুরায়ব (রাহঃ) ......... আবু মুসা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। নবী (ﷺ) বলেছেন, যে আমানতদার মুসলিম খাজাঞ্চি, তাকে যা আদেশ করা হয়েছে তা পুরোপুরিভাবে সন্তুষ্টচিত্তে কার্যকরী করে, অথবা বলেছেন, দান করে এবং যাকে প্রদানের নির্দেশ দেয়া হয়েছে, তাকে তা পৌছিয়ে দেয়, সে দুই দানকারীর একজন।

2236

حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ يَحْيَى، وَزُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، وَإِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، جَمِيعًا عَنْ جَرِيرٍ، - قَالَ يَحْيَى - أَخْبَرَنَا جَرِيرٌ، عَنْ مَنْصُورٍ، عَنْ شَقِيقٍ، عَنْ مَسْرُوقٍ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " إِذَا أَنْفَقَتِ الْمَرْأَةُ مِنْ طَعَامِ بَيْتِهَا غَيْرَ مُفْسِدَةٍ كَانَ لَهَا أَجْرُهَا بِمَا أَنْفَقَتْ وَلِزَوْجِهَا أَجْرُهُ بِمَا كَسَبَ وَلِلْخَازِنِ مِثْلُ ذَلِكَ لاَ يَنْقُصُ بَعْضُهُمْ أَجْرَ بَعْضٍ شَيْئًا " .

Narrator: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

২২৩৬। ইয়াহয়া ইবনে ইয়াহিয়া, যুহাইর ইবনে হারব ও ইসহাক ইবনে ইবরাহীম (রাহঃ) ......... আয়িশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, যদি কোন স্ত্রীলোক ক্ষতি সাধনের ইচ্ছা না করে তার ঘরের খাদ্য থেকে কিছু দান করে তবে সে দান করার কারণে সাওয়াব লাভ করবে। আর তার স্বামী তা উপার্জনের কারণে সাওয়াব পাবে; আর খাজাঞ্চিও অনুরূপ সাওয়াব লাভ করবে। তাদের একের দ্বারা অন্যের সাওয়াব কিছুই কমবে না।

2237

وَحَدَّثَنَاهُ ابْنُ أَبِي عُمَرَ، حَدَّثَنَا فُضَيْلُ بْنُ عِيَاضٍ، عَنْ مَنْصُورٍ، بِهَذَا الإِسْنَادِ وَقَالَ " مِنْ طَعَامِ زَوْجِهَا " .

Narrator: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

২২৩৭। ইবনে আবু উমর (রাহঃ) ......... মনসুর (রাহঃ) এর সূত্রে উক্ত সনদে বর্ণনা করেছেন। তবে এ হাদীসে আছে, ″তার স্বামীর খাদ্য সামগ্রী থেকে।″

2238

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ شَقِيقٍ، عَنْ مَسْرُوقٍ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " إِذَا أَنْفَقَتِ الْمَرْأَةُ مِنْ بَيْتِ زَوْجِهَا غَيْرَ مُفْسِدَةٍ كَانَ لَهَا أَجْرُهَا وَلَهُ مِثْلُهُ بِمَا اكْتَسَبَ وَلَهَا بِمَا أَنْفَقَتْ وَلِلْخَازِنِ مِثْلُ ذَلِكَ مِنْ غَيْرِ أَنْ يَنْتَقِصَ مِنْ أُجُورِهِمْ شَيْئًا " .

Narrator: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

২২৩৮। আবু বকর ইবনে আবি শাঈবা (রাহঃ) ......... আয়িশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (রাহঃ) বলেছেন, যদি কোন মহিলা ক্ষতি না করে তার স্বামীর ঘর থেকে ব্যয় করে, তবে তার জন্য রয়েছে প্রতিদান, তার সামীর জন্যও রয়েছে অনুরূপ প্রতিদান, যেহেতু সে উপার্জন করেছে। মহিলার জন্য এ কারণে, যেহেতু সে খরচ করেছে। আর খাজাঞ্চির জন্যও রয়েছে অনুরূপ প্রতিদান, এতে তাদের প্রতিদান বিন্দুমাত্রও কমবে না।

2239

وَحَدَّثَنَاهُ ابْنُ نُمَيْرٍ، حَدَّثَنَا أَبِي وَأَبُو مُعَاوِيَةَ عَنِ الأَعْمَشِ، بِهَذَا الإِسْنَادِ نَحْوَهُ.

Narrator: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

২২৩৯। ইবনে নুমাইর (রাহঃ) ......... আমাশ (রাহঃ) এর সূত্রে উক্ত সনদে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।

২১. মনিবের মাল থেকে দাসের ব্যয় করা

باب مَا أَنْفَقَ الْعَبْدُ مِنْ مَالِ مَوْلاَهُ

2240

وَحَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، وَابْنُ، نُمَيْرٍ وَزُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ جَمِيعًا عَنْ حَفْصِ، بْنِ غِيَاثٍ - قَالَ ابْنُ نُمَيْرٍ حَدَّثَنَا حَفْصٌ، - عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ زَيْدٍ، عَنْ عُمَيْرٍ، مَوْلَى آبِي اللَّحْمِ قَالَ كُنْتُ مَمْلُوكًا فَسَأَلْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَأَتَصَدَّقُ مِنْ مَالِ مَوَالِيَّ بِشَىْءٍ قَالَ " نَعَمْ وَالأَجْرُ بَيْنَكُمَا نِصْفَانِ " .

২২৪০। আবু বকর ইবনে আবি শাঈবা, ইবনে নুমাইর ও যুহাইর ইবনে হারব (রাহঃ) ......... আবিল লাহমের আযাদকৃত গোলাম উমায়র (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ছিলাম একজন গোলাম। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে জিজ্ঞাসা করলাম, আমি কি আমার মনিবের মাল থেকে কিছু সাদ্‌কা করতে পারি? তিনি বললেন, হ্যাঁ পার। তবে সাওয়াব উভয়ই অর্ধেক অর্ধেক পাবে।

2241

وَحَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا حَاتِمٌ، - يَعْنِي ابْنَ إِسْمَاعِيلَ - عَنْ يَزِيدَ، - يَعْنِي ابْنَ أَبِي عُبَيْدٍ - قَالَ سَمِعْتُ عُمَيْرًا، مَوْلَى آبِي اللَّحْمِ قَالَ أَمَرَنِي مَوْلاَىَ أَنْ أُقَدِّدَ، لَحْمًا فَجَاءَنِي مِسْكِينٌ فَأَطْعَمْتُهُ مِنْهُ فَعَلِمَ بِذَلِكَ مَوْلاَىَ فَضَرَبَنِي فَأَتَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَذَكَرْتُ ذَلِكَ لَهُ فَدَعَاهُ . فَقَالَ " لِمَ ضَرَبْتَهُ " . فَقَالَ يُعْطِي طَعَامِي بِغَيْرِ أَنْ آمُرَهُ . فَقَالَ " الأَجْرُ بَيْنَكُمَا " .

২২৪১। কুতায়বা ইবনে সাঈদ (রাহঃ) ......... আবিল লাহমের গোলাম উমায়র (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমাকে আমার মনিব গোশত শুকাবার নির্দেশ দিলেন। এ সময় একজন মিসকীন আসল। আমি এর থেকে কিছু তাকে খেতে দিলাম। আমার মনিব এ কথা জানতে পেরে আমাকে প্রহার করলেন। আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট উপস্থিত হয়ে ঘটনাটি বর্ণনা করলাম। তখন তিনি তাকে ডেকে জিজ্ঞাসা করলেন, তুমি তাকে কেন প্রহার করেছ? সে বলল, সে আমার নির্দেশ ছাড়াই আমার খাদ্যদ্রব্য অন্যকে দিয়ে দিচ্ছে। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, সাওয়াব তোমাদের উভয়ের জন্যই।

2242

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ رَافِعٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، حَدَّثَنَا مَعْمَرٌ، عَنْ هَمَّامِ بْنِ مُنَبِّهٍ، قَالَ هَذَا مَا حَدَّثَنَا أَبُو هُرَيْرَةَ، عَنْ مُحَمَّدٍ، رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَذَكَرَ أَحَادِيثَ مِنْهَا وَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " لاَ تَصُمِ الْمَرْأَةُ وَبَعْلُهَا شَاهِدٌ إِلاَّ بِإِذْنِهِ وَلاَ تَأْذَنْ فِي بَيْتِهِ وَهُوَ شَاهِدٌ إِلاَّ بِإِذْنِهِ وَمَا أَنْفَقَتْ مِنْ كَسْبِهِ مِنْ غَيْرِ أَمْرِهِ فَإِنَّ نِصْفَ أَجْرِهِ لَهُ " .

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

২২৪২। মুহাম্মাদ ইবনে রাফি (রাহঃ) ......... হাম্মাম ইবনে মুনাব্বিহ (রাহঃ) বলেন, আবু হুরায়রা (রাযিঃ) রাসূলুল্লাহ (ﷺ) থেকে আমাদের কাছে কিছু হাদীস বর্ণনা করেন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, কোন স্ত্রী স্বামীর উপস্থিতিতে তার অনুমতি ছাড়া (নফল) রোযা পালন করবে না। স্বামীর উপস্থিতিতে কাউকে তার অনুমতি ছাড়া তার ঘরে প্রবেশের অনুমতি দিবে না, স্বামীর উপার্জন থেকে তার হুকুম ছাড়া কোন স্ত্রীলোক যে পরিমাণ দান করবে; তার সাওয়াব স্বামীও অর্ধেক পাবে।

২২. সাদ্‌কার সাথে অন্যান্য নেককাজ মিলিয়ে করার ফযীলত

باب مَنْ جَمَعَ الصَّدَقَةَ وَأَعْمَالَ الْبِرِّ

2243

حَدَّثَنِي أَبُو الطَّاهِرِ، وَحَرْمَلَةُ بْنُ يَحْيَى التُّجِيبِيُّ، - وَاللَّفْظُ لأَبِي الطَّاهِرِ - قَالاَ حَدَّثَنَا ابْنُ وَهْبٍ، أَخْبَرَنِي يُونُسُ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ حُمَيْدِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " مَنْ أَنْفَقَ زَوْجَيْنِ فِي سَبِيلِ اللَّهِ نُودِيَ فِي الْجَنَّةِ يَا عَبْدَ اللَّهِ هَذَا خَيْرٌ . فَمَنْ كَانَ مِنْ أَهْلِ الصَّلاَةِ دُعِيَ مِنْ بَابِ الصَّلاَةِ وَمَنْ كَانَ مِنْ أَهْلِ الْجِهَادِ دُعِيَ مِنْ بَابِ الْجِهَادِ ، وَمَنْ كَانَ مِنْ أَهْلِ الصَّدَقَةِ دُعِيَ مِنْ بَابِ الصَّدَقَةِ ، وَمَنْ كَانَ مِنْ أَهْلِ الصِّيَامِ دُعِيَ مِنْ بَابِ الرَّيَّانِ " ، قَالَ أَبُو بَكْرٍ الصِّدِّيقُ : يَا رَسُولَ اللَّهِ مَا عَلَى أَحَدٍ يُدْعَى مِنْ تِلْكَ الْأَبْوَابِ مِنْ ضَرُورَةٍ ، فَهَلْ يُدْعَى أَحَدٌ مِنْ تِلْكَ الْأَبْوَابِ كُلِّهَا ؟ ، قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : " نَعَمْ وَأَرْجُو أَنْ تَكُونَ مِنْهُمْ "

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

২২৪৩। আবু-তাহির ও হারামালা ইবনে ইয়াহয়া তুজীবী (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেন, যে ব্যক্তি আল্লাহর রাস্তায় জোড়া দান করবে, তাকে জান্নাতে প্রবেশের জন্য আহবান করা হবেঃ হে আল্লাহর বান্দা! এ কাজ উত্তম। যে ব্যক্তি নামায আদায়ে নিষ্ঠাবান, তাকে ‘বাবুস সালাত’ থেকে আহবান জানান হবে। যে ব্যক্তি মুজাহিদ, তাকে ’বাবুল জিহাদ’ থেকে আহবান জানান হবে। যে ব্যক্তি দানশীল, তাকে ‘বাবুস সাদ্‌কা’ থেকে আহবান জানান হবে। যে ব্যক্তি রোযা পালনকারী তাকে ’বাবুর রায়্যান’ থেকে আহবান জানান হবে।

আবু বকর সিদ্দীক (রাযিঃ) বললেন, ইয়া রাসুলাল্লাহ! এর সকল দরজা থেকে কাউকে আহবান করা তো জরুরী নয়। তবে এমন কি কেউ হবে যাকে এ সকল দরজা থেকে আহবান জানান হবে? রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, হ্যাঁ, এবং আমি আশা করি তুমিও তাঁদের একজন হবে।
2244

حَدَّثَنِي عَمْرٌو النَّاقِدُ ، وَالْحَسَنُ الْحُلْوَانِيُّ ، وَعَبْدُ بْنُ حُمَيْدٍ ، قَالُوا : حَدَّثَنَا يَعْقُوبُ وَهُوَ ابْنُ إِبْرَاهِيمَ بْنِ سَعْدٍ ، حَدَّثَنَا أَبِي ، عَنْ صَالِحٍ . وحَدَّثَنَا عَبْدُ بْنُ حُمَيْدٍ ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ ، أَخْبَرَنَا مَعْمَرٌ كِلَاهُمَا ، عَنْ الزُّهْرِيِّ بِإِسْنَادِ يُونُسَ وَمَعْنَى حَدِيثِهِ

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

২২৪৪। আমরুন নাকিদ, হাসান আল হুলওয়ানি ও আব্দ ইবনে হুমায়দ (রাহঃ) ......... যুহরী (রাহঃ) সূত্রে ইউনুস (রাহঃ) বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।

2245

وَحَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ رَافِعٍ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الزُّبَيْرِ، حَدَّثَنَا شَيْبَانُ، ح وَحَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ حَاتِمٍ، - وَاللَّفْظُ لَهُ - حَدَّثَنَا شَبَابَةُ، حَدَّثَنِي شَيْبَانُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ يَحْيَى بْنِ أَبِي كَثِيرٍ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، أَنَّهُ سَمِعَ أَبَا هُرَيْرَةَ، يَقُولُ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " مَنْ أَنْفَقَ زَوْجَيْنِ فِي سَبِيلِ اللَّهِ دَعَاهُ خَزَنَةُ الْجَنَّةِ كُلُّ خَزَنَةِ بَابٍ أَىْ فُلُ هَلُمَّ " . فَقَالَ أَبُو بَكْرٍ يَا رَسُولَ اللَّهِ ذَلِكَ الَّذِي لاَ تَوَى عَلَيْهِ . قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " إِنِّي لأَرْجُو أَنْ تَكُونَ مِنْهُمْ " .

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

২২৪৫। মুহাম্মাদ ইবনে রাফি ও মুহাম্মাদ ইবনে হাতিম (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, যে ব্যক্তি আল্লাহর রাস্তায় জোড়া বস্তু দান করবে তাকে জান্নাতের প্রত্যেক দরজা থেকে দ্বার রক্ষকগণ আহবান করবে, হে অমুক! তুমি এদিকে এসো। তখন আবু বকর (রাযিঃ) বললেন, ইয়া রাসুলাল্লাহ! তবে তো তার কোন ধ্বংস নেই। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, আমি অবশ্যই আশা করি তুমিও তাঁদের একজন হবে।

2246

حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي عُمَرَ، حَدَّثَنَا مَرْوَانُ، - يَعْنِي الْفَزَارِيَّ - عَنْ يَزِيدَ، - وَهُوَ ابْنُ كَيْسَانَ - عَنْ أَبِي حَازِمٍ الأَشْجَعِيِّ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " مَنْ أَصْبَحَ مِنْكُمُ الْيَوْمَ صَائِمًا " . قَالَ أَبُو بَكْرٍ رضى الله عنه أَنَا . قَالَ " فَمَنْ تَبِعَ مِنْكُمُ الْيَوْمَ جَنَازَةً " . قَالَ أَبُو بَكْرٍ رضى الله عنه أَنَا . قَالَ " فَمَنْ أَطْعَمَ مِنْكُمُ الْيَوْمَ مِسْكِينًا " . قَالَ أَبُو بَكْرٍ رضى الله عنه أَنَا . قَالَ " فَمَنْ عَادَ مِنْكُمُ الْيَوْمَ مَرِيضًا " . قَالَ أَبُو بَكْرٍ رضى الله عنه أَنَا . فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " مَا اجْتَمَعْنَ فِي امْرِئٍ إِلاَّ دَخَلَ الْجَنَّةَ " .

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

২২৪৬। ইবনে আবু উমর (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, তোমাদের মাঝে আজ কে রোযারত আছে? আবু বকর (রাযিঃ) বললেন, আমি আছি। তিনি বললেন, আজ তোমাদের কে জানাযার সাথে চলেছ? আবু বকর (রাযিঃ) বললেন, আমি। তিনি বললেন, আজ তোমাদের কেউ রোগীর শুশ্রুষা করেছ? আবু বকর (রাযিঃ) বললেন, আমি। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, যার মধ্যে এই কাজ সমূহের সমাবেশ ঘটবে সে নিশ্চয়ই জান্নাতে প্রবেশ করবে।

২৩. ব্যয় করার প্রতি উৎসাহ দান এবং গুণে গুণে দান করা অপছন্দ হওয়া

باب الْحَثِّ فِي الإِنْفَاقِ وَكَرَاهَةِ الإِحْصَاءِ

2247

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا حَفْصٌ، - يَعْنِي ابْنَ غِيَاثٍ - عَنْ هِشَامٍ، عَنْ فَاطِمَةَ بِنْتِ الْمُنْذِرِ، عَنْ أَسْمَاءَ بِنْتِ أَبِي بَكْرٍ، - رضى الله عنها - قَالَتْ قَالَ لِي رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " أَنْفِقِي - أَوِ انْضَحِي أَوِ انْفَحِي - وَلاَ تُحْصِي فَيُحْصِيَ اللَّهُ عَلَيْكِ " .

Narrator: হযরত আসমা বিনতে আবু বকর রাযি.

২২৪৭। আবু বকর ইবনে আবি শাঈবা (রাহঃ) ......... আসমা বিনতে আবু বকর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাকে বলেছেনঃ তুমি খরচ কর অথবা ছড়িয়ে দাও অথবা ঢেলে দাও। আর গুণে রেখ না তা হলে আল্লাহও তোমকে গুণে গুণে দিবেন।

2248

وَحَدَّثَنَا عَمْرٌو النَّاقِدُ، وَزُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، وَإِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، جَمِيعًا عَنْ أَبِي، مُعَاوِيَةَ - قَالَ زُهَيْرٌ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ خَازِمٍ، - حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ عُرْوَةَ، عَنْ عَبَّادِ بْنِ حَمْزَةَ، وَعَنْ فَاطِمَةَ بِنْتِ الْمُنْذِرِ، عَنْ أَسْمَاءَ، قَالَتْ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " انْفَحِي - أَوِ انْضَحِي أَوْ أَنْفِقِي - وَلاَ تُحْصِي فَيُحْصِيَ اللَّهُ عَلَيْكِ وَلاَ تُوعِي فَيُوعِيَ اللَّهُ عَلَيْكِ " .

Narrator: হযরত আসমা বিনতে আবু বকর রাযি.

২২৪৮। আমরুন নাকিদ, যুহাইর ইবনে হারব ও ইবনে ইবরাহীম (রাহঃ) ......... আসমা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাকে বলেছেনঃ তুমি ছড়িয়ে দাও অথবা বিলিয়ে দাও অথবা ব্যয় কর। গুণে গুণে রেখ না, তাহলে আল্লাহও তোমাকে গুণে গুণে দিবেন। আর গুটিয়ে রেখ না তবে আল্লাহও তোমা থেকে গুটিয়ে রাখবেন।

2249

وَحَدَّثَنَا ابْنُ نُمَيْرٍ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بِشْرٍ، حَدَّثَنَا هِشَامٌ، عَنْ عَبَّادِ بْنِ حَمْزَةَ، عَنْ أَسْمَاءَ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ لَهَا نَحْوَ حَدِيثِهِمْ .

Narrator: হযরত আসমা বিনতে আবু বকর রাযি.

২২৪৯। ইবনে নুমাইর (রাহঃ) ......... আসমা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, নবী (ﷺ) তাকে বলেছেন, পরবর্তী অংশ তাদের হাদীসের অনুরূপ।

2250

وَحَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ حَاتِمٍ، وَهَارُونُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، قَالاَ حَدَّثَنَا حَجَّاجُ بْنُ مُحَمَّدٍ، قَالَ قَالَ ابْنُ جُرَيْجٍ أَخْبَرَنِي ابْنُ أَبِي مُلَيْكَةَ، أَنَّ عَبَّادَ بْنَ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الزُّبَيْرِ، أَخْبَرَهُ عَنْ أَسْمَاءَ، بِنْتِ أَبِي بَكْرٍ أَنَّهَا جَاءَتِ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَتْ يَا نَبِيَّ اللَّهِ لَيْسَ لِي شَىْءٌ إِلاَّ مَا أَدْخَلَ عَلَىَّ الزُّبَيْرُ فَهَلْ عَلَىَّ جُنَاحٌ أَنْ أَرْضَخَ مِمَّا يُدْخِلُ عَلَىَّ فَقَالَ " ارْضَخِي مَا اسْتَطَعْتِ وَلاَ تُوعِي فَيُوعِيَ اللَّهُ عَلَيْكِ " .

Narrator: হযরত আসমা বিনতে আবু বকর রাযি.

২২৫০। মুহাম্মাদ ইবনে হাতিম ও হারুন ইবনে আব্দুল্লাহ (রাহঃ) ......... আসমা বিনতে আবু বকর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। একদা তিনি নবী (ﷺ) এর নিকট উপস্থিত হয়ে বললেন, হে আল্লাহর নবী! যুবাইর আমাকে যা দেন তা ব্যতীত আমার কিছুই নেই। তিনি আমাকে যা দেন তা থেকে আমি যদি দান করি তবে আমার কোন গুনাহ হবে কি? রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, যা তোমার সামর্থে আছে, তা দান কর। গুটিয়ে রেখ না, তাহলে আল্লাহও তোমা থেকে গুটিয়ে রাখবেন।

২৪. পরিমাণ অল্প হলেও তা থেকে সাদ্‌কা দেওয়ার উৎসাহ দান, অল্প পরিমাণ দান তুচ্ছ মনে করে বিরত না থাকা

باب الْحَثِّ عَلَى الصَّدَقَةِ وَلَوْ بِالْقَلِيلِ وَلاَ تُمْتَنَعُ مِنَ الْقَلِيلِ لاِحْتِقَارِهِ

2251

حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ يَحْيَى، أَخْبَرَنَا اللَّيْثُ بْنُ سَعْدٍ، ح وَحَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا اللَّيْثُ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ أَبِي سَعِيدٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَانَ يَقُولُ " يَا نِسَاءَ الْمُسْلِمَاتِ لاَ تَحْقِرَنَّ جَارَةٌ لِجَارَتِهَا وَلَوْ فِرْسِنَ شَاةٍ " .

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

২২৫১। ইয়াহয়া ইবনে ইয়াহয়া ও কুতায়বা ইবনে সাঈদ (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, হে মুসলিম নারীগণ! এক প্রতিবেশী অন্য প্রতিবেশীকে অল্প পরিমাণ দান করাকে যেন তুচ্ছ মনে না করে, যদিও তা বকরীর একটি খুরও হয়।

২৫. গোপনে দান করার ফযীলত

باب فَضْلِ إِخْفَاءِ الصَّدَقَةِ

2252

حَدَّثَنِي زُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، وَمُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، جَمِيعًا عَنْ يَحْيَى الْقَطَّانِ، - قَالَ زُهَيْرٌ حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ، - عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ، أَخْبَرَنِي خُبَيْبُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ حَفْصِ بْنِ عَاصِمٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " سَبْعَةٌ يُظِلُّهُمُ اللَّهُ فِي ظِلِّهِ يَوْمَ لاَ ظِلَّ إِلاَّ ظِلُّهُ الإِمَامُ الْعَادِلُ وَشَابٌّ نَشَأَ بِعِبَادَةِ اللَّهِ وَرَجُلٌ قَلْبُهُ مُعَلَّقٌ فِي الْمَسَاجِدِ وَرَجُلاَنِ تَحَابَّا فِي اللَّهِ اجْتَمَعَا عَلَيْهِ وَتَفَرَّقَا عَلَيْهِ وَرَجُلٌ دَعَتْهُ امْرَأَةٌ ذَاتُ مَنْصِبٍ وَجَمَالٍ فَقَالَ إِنِّي أَخَافُ اللَّهَ . وَرَجُلٌ تَصَدَّقَ بِصَدَقَةٍ فَأَخْفَاهَا حَتَّى لاَ تَعْلَمَ يَمِينُهُ مَا تُنْفِقُ شِمَالُهُ وَرَجُلٌ ذَكَرَ اللَّهَ خَالِيًا فَفَاضَتْ عَيْنَاهُ " .

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

২২৫২। যুহাইর ইবনে হারব ও মুহাম্মাদ ইবনুল মুসান্না (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। নবী (ﷺ) বলেন, সাত ব্যক্তিকে আল্লাহ তার (আরশের) ছায়াতলে ছায়া দিবেন, যেদিন তাঁর ছায়া ব্যতীত অন্য কোন ছায়া থাকবে না।

১. ন্যায়পরায়ণ ইমাম (রাষ্ট্রনায়ক)।

২. ঐ যুবক যে আল্লাহর ইবাদতের মধ্যে বয়ঃপ্রাপ্ত হয়েছে।

৩. ঐ ব্যক্তি যার অন্তর মসজিদের সাথে জড়িত।

৪. ঐ ব্যক্তি যারা একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে একে অন্যকে ভালবাসে এবং মিলিত হয় এ প্রেরণা নিয়ে এবং পৃথক হয় এ প্রেরণাসহ।

৫. ঐ ব্যক্তি যাকে কোন অতিজাত সুন্দরী মহিলা (অসৎ কাজে) আহবান করে, আর সে বলে, আমি আল্লাহকে ভয় করি।

৬. ঐ ব্যক্তি, যে কিছু দান করল এবং এত গোপনভাবে করল যে, তার ডান হাত জানতে পারল না, তার বাম হাত কি দান করেছে,

৭. ঐ ব্যক্তি যে একাকী বসে আল্লাহকে স্মরণ করে এবং তাঁর দুই চোখে (আল্লাহর ভয়ে) অশ্রু ঝরে।
2253

وَحَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ يَحْيَى، قَالَ قَرَأْتُ عَلَى مَالِكٍ عَنْ خُبَيْبِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ حَفْصِ بْنِ عَاصِمٍ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، - أَوْ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، - أَنَّهُ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم . بِمِثْلِ حَدِيثِ عُبَيْدِ اللَّهِ . وَقَالَ " وَرَجُلٌ مُعَلَّقٌ بِالْمَسْجِدِ إِذَا خَرَجَ مِنْهُ حَتَّى يَعُودَ إِلَيْهِ " .

Narrator: হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ)

২২৫৩। ইয়াহয়া ইবনে ইয়াহয়া (রাহঃ) ......... আবু সাঈদ খুদরী (রাযিঃ) কিংবা আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, পরবর্তী অংশ উবাইদুল্লাহর হাদীসের অনুরূপ। তবে এ হাদীসে রয়েছে যে, যে ব্যক্তি মসজিদের সাথে জড়িত থাকে মসজিদ থেকে পূনরায় মসজিদে ফিরে আসা পর্যন্ত।

২৬. সুস্থ অবস্থায় সম্পদের প্রতি আকর্ষণ থাকাকালের সাদ্‌কাই হল উত্তম সাদ্‌কা

باب بَيَانِ أَنَّ أَفْضَلَ الصَّدَقَةِ صَدَقَةُ الصَّحِيحِ الشَّحِيحِ

2254

حَدَّثَنَا زُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، حَدَّثَنَا جَرِيرٌ، عَنْ عُمَارَةَ بْنِ الْقَعْقَاعِ، عَنْ أَبِي زُرْعَةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ أَتَى رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم رَجُلٌ فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَىُّ الصَّدَقَةِ أَعْظَمُ فَقَالَ " أَنْ تَصَدَّقَ وَأَنْتَ صَحِيحٌ شَحِيحٌ تَخْشَى الْفَقْرَ وَتَأْمُلُ الْغِنَى وَلاَ تُمْهِلْ حَتَّى إِذَا بَلَغَتِ الْحُلْقُومَ قُلْتَ لِفُلاَنٍ كَذَا وَلِفُلاَنٍ كَذَا أَلاَ وَقَدْ كَانَ لِفُلاَنٍ " .

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

২২৫৪। যুহাইর ইবনে হারব (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট উপস্থিত হয়ে জিজ্ঞাসা করল, ইয়া রাসুলাল্লাহ! উত্তম সাদ্‌কা কি? তিনি বললেন, অর্থের প্রতি লোভ থাকাকালে সুস্থ অবস্থায় তোমার দান করা, যখন তুমি দারিদ্রের ভয় কর এবং ধনী হওয়ার আকাঙ্ক্ষা রাখ। আর (সাদ্‌কা প্রদানে) এত বিলম্ব করবে না যে, যখন তোমার প্রাণ কন্ঠনালীতে এসে যায়, তখন তুমি বলতে থাকবে যে, অমুকের জন্য এ পরিমাণ এবং অমুকের জন্য এ পরিমাণ। জেনে রাখ, এ সম্পদ তো অমুকের হয়েই আছে।

2255

وَحَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، وَابْنُ، نُمَيْرٍ قَالاَ حَدَّثَنَا ابْنُ فُضَيْلٍ، عَنْ عُمَارَةَ، عَنْ أَبِي زُرْعَةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ جَاءَ رَجُلٌ إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَىُّ الصَّدَقَةِ أَعْظَمُ أَجْرًا فَقَالَ " أَمَا وَأَبِيكَ لَتُنَبَّأَنَّهُ أَنْ تَصَدَّقَ وَأَنْتَ صَحِيحٌ شَحِيحٌ تَخْشَى الْفَقْرَ وَتَأْمُلُ الْبَقَاءَ وَلاَ تُمْهِلْ حَتَّى إِذَا بَلَغَتِ الْحُلْقُومَ قُلْتَ لِفُلاَنٍ كَذَا وَلِفُلاَنٍ كَذَا وَقَدْ كَانَ لِفُلاَنٍ " .

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

২২৫৫। আবু বকর ইবনে আবি শাঈবা ও ইবনে নুমাইর (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। এক ব্যক্তি নবী (ﷺ) এর নিকট এসে বলল, ইয়া রাসুলাল্লাহ! বিরাট সাওয়াব কোন সাদ্‌কায়? তিনি বললেন, জেনে রাখ, তোমার পিতার শপথ! (অবশ্য) তোমাকে অবহিত করা হচ্ছে যে, অর্থ লোভ থাকাকালে সুস্থ অবস্থায় তোমার সাদ্‌কা করা, যখন তুমি দারিদ্র্যের আশঙ্কা কর এবং দীর্ঘায়ু কামনা কর। (সাদ্‌কা প্রদানে) এত বিলম্ব করবে না যে, যখন প্রাণ কন্ঠাগত হয়ে যাবে তখন তুমি বলতে থাকবে, এ পরিমাণ অমুকের জন্য এবং এ পরিমাণ অমুকের জন্য। অথচ তা তো অমুকের জন্য হয়েই আছে।

2256

حَدَّثَنَا أَبُو كَامِلٍ الْجَحْدَرِيُّ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَاحِدِ، حَدَّثَنَا عُمَارَةُ بْنُ الْقَعْقَاعِ، بِهَذَا الإِسْنَادِ نَحْوَ حَدِيثِ جَرِيرٍ غَيْرَ أَنَّهُ قَالَ أَىُّ الصَّدَقَةِ أَفْضَلُ .

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

২২৫৬। আবু কামিল জাহদারী (রাহঃ) ......... উমরা ইবনে কা’কা (রাহঃ) থেকে উক্ত সনদে জাবির (রাযিঃ) এর অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন। তবে তিনি أَىُّ الصَّدَقَةِ أَعْظَمُ এর স্থলে أَىُّ الصَّدَقَةِ أَفْضَلُ বলেছেন।

২৭. উপরের হাত নীচের হাত থেকে উত্তম; উপরের হাত হল দানকারীর এবং নীচের হাত হল যাচনাকারীর

باب بَيَانِ أَنَّ الْيَدَ الْعُلْيَا خَيْرٌ مِنْ الْيَدِ السُّفْلَى وَأَنَّ الْيَدَ الْعُلْيَا هِيَ الْمُنْفِقَةُ وَأَنَّ السُّفْلَى هِيَ الْآخِذَةُ

2257

حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، عَنْ مَالِكِ بْنِ أَنَسٍ، فِيمَا قُرِئَ عَلَيْهِ عَنْ نَافِعٍ، عَنْ عَبْدِ، اللَّهِ بْنِ عُمَرَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ وَهُوَ عَلَى الْمِنْبَرِ وَهُوَ يَذْكُرُ الصَّدَقَةَ وَالتَّعَفُّفَ عَنِ الْمَسْأَلَةِ " الْيَدُ الْعُلْيَا خَيْرٌ مِنَ الْيَدِ السُّفْلَى وَالْيَدُ الْعُلْيَا الْمُنْفِقَةُ وَالسُّفْلَى السَّائِلَةُ " .

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

২২৫৭। কুতায়বা ইবনে সাঈদ (রাহঃ) ......... আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) (একদা) মিম্বরে দাঁড়িয়ে দান খয়রাত ও ভিক্ষা থেকে নিবৃত্তির কথা উল্লেখ করে বললেন, উপরের হাত নীচের হাত থেকে উত্তম। উপরের হাত হল দানকারী আর নীচের হাত হল যাচঞ্চাকারী।

2258

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، وَمُحَمَّدُ بْنُ حَاتِمٍ، وَأَحْمَدُ بْنُ عَبْدَةَ، جَمِيعًا عَنْ يَحْيَى الْقَطَّانِ، - قَالَ ابْنُ بَشَّارٍ حَدَّثَنَا يَحْيَى، - حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ عُثْمَانَ، قَالَ سَمِعْتُ مُوسَى بْنَ طَلْحَةَ، يُحَدِّثُ أَنَّ حَكِيمَ بْنَ حِزَامٍ، حَدَّثَهُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " أَفْضَلُ الصَّدَقَةِ - أَوْ خَيْرُ الصَّدَقَةِ - عَنْ ظَهْرِ غِنًى وَالْيَدُ الْعُلْيَا خَيْرٌ مِنَ الْيَدِ السُّفْلَى وَابْدَأْ بِمَنْ تَعُولُ ".

Narrator: হাকীম ইবনে হিযাম (রাঃ)

২২৫৮। মুহাম্মাদ ইবনে বাশশার, মুহাম্মাদ ইবনে হাতিম ও আহমাদ ইবনে আব্দা (রাহঃ) ......... হাকীম ইবনে হিযাম (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেন, ধনী অবস্থায় যে দান করা হয়, তাই উত্তম সাদ্‌কা অথবা বলেছেন উৎকৃষ্ট সাদ্‌কা। উপরের হাত নীচের হাত থেকে উত্তম। আর যাদের লালন পালন কর, তাদের দিয়ে (দান) শুরু কর।

2259

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، وَعَمْرٌو النَّاقِدُ، قَالاَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ عُرْوَةَ بْنِ الزُّبَيْرِ، وَسَعِيدٍ، عَنْ حَكِيمِ بْنِ حِزَامٍ، قَالَ سَأَلْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فَأَعْطَانِي ثُمَّ سَأَلْتُهُ فَأَعْطَانِي ثُمَّ سَأَلْتُهُ فَأَعْطَانِي ثُمَّ قَالَ " إِنَّ هَذَا الْمَالَ خَضِرَةٌ حُلْوَةٌ فَمَنْ أَخَذَهُ بِطِيبِ نَفْسٍ بُورِكَ لَهُ فِيهِ وَمَنْ أَخَذَهُ بِإِشْرَافِ نَفْسٍ لَمْ يُبَارَكْ لَهُ فِيهِ وَكَانَ كَالَّذِي يَأْكُلُ وَلاَ يَشْبَعُ وَالْيَدُ الْعُلْيَا خَيْرٌ مِنَ الْيَدِ السُّفْلَى " .

Narrator: হাকীম ইবনে হিযাম (রাঃ)

২২৫৯। আবু বকর ইবনে আবি শাঈবা ও আমরূন নাকিদ (রাহঃ) ......... হাকীম ইবনে হিযাম (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী (ﷺ) এর নিকট সাওয়ালকরলাম। তিনি আমাকে দান করলেন। আমি আবার তার নিকট সাওয়ালকরলাম। তিনি আবার আমাকে দান করলেন। আমি আবারও তাঁর নিকট সাওয়ালকরলাম। তিনি আমাকে দান করলেন। এরপর বললেন, এই ধন সম্পদ আকর্ষনীয় ও মধুর। যদি কোন ব্যক্তি সাওয়ালব্যতিরেকে নির্লোভ অবস্থায় তা গ্রহণ করে তবে তাঁর জন্য একে বরকতময় করে দেওয়া হয়। আর যদি কোন ব্যক্তি নির্লোভ অন্তরের সাথে তা গ্রহণ করে তবে এতে তাঁর জন্য বরকত দেওয়া হয় না। সে ঐ ব্যক্তির মত হয় যে খায় কিন্তু তৃপ্ত হয় না। উপরের হাত নীচের হাত থেকে উত্তম।

2260

حَدَّثَنَا نَصْرُ بْنُ عَلِيٍّ الْجَهْضَمِيُّ، وَزُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، وَعَبْدُ بْنُ حُمَيْدٍ، قَالُوا حَدَّثَنَا عُمَرُ بْنُ يُونُسَ، حَدَّثَنَا عِكْرِمَةُ بْنُ عَمَّارٍ، حَدَّثَنَا شَدَّادٌ، قَالَ سَمِعْتُ أَبَا أُمَامَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " يَا ابْنَ آدَمَ إِنَّكَ أَنْ تَبْذُلَ الْفَضْلَ خَيْرٌ لَكَ وَأَنْ تُمْسِكَهُ شَرٌّ لَكَ وَلاَ تُلاَمُ عَلَى كَفَافٍ وَابْدَأْ بِمَنْ تَعُولُ وَالْيَدُ الْعُلْيَا خَيْرٌ مِنَ الْيَدِ السُّفْلَى ".

Narrator: আবু উমামা বাহিলী রাযি.

২২৬০। নসর ইবনে আলী জাহযামী, যুহাইর ইবনে হারব ও আব্দ ইবনে হুমায়দ (রাহঃ) ......... আবু উমামা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, হে আদম সন্তান! তুমি অতিরিক্ত সম্পদ ব্যয় কর। তা তোমার জন্য উত্তম। আর তুমি যা আটকিয়ে রাখ তা তোমার জন্য মন্দ। প্রয়োজন পরিমাণ রাখার ব্যাপারে তোমাকে অভিযুক্ত করা হবে না। আর যাদের লালন পালনের দায়িত্ব তোমার উপরে তাদের দিয়ে শুরু কর এবং উপরের হাত নীচের হাত অপেক্ষা উত্তম।

২৮. সাওয়াল করা নিষিদ্ধ হওয়া

باب النَّهْىِ عَنِ الْمَسْأَلَةِ

2261

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا زَيْدُ بْنُ الْحُبَابِ، أَخْبَرَنِي مُعَاوِيَةُ بْنُ صَالِحٍ، حَدَّثَنِي رَبِيعَةُ بْنُ يَزِيدَ الدِّمَشْقِيُّ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَامِرٍ الْيَحْصَبِيِّ، قَالَ سَمِعْتُ مُعَاوِيَةَ، يَقُولُ إِيَّاكُمْ وَأَحَادِيثَ إِلاَّ حَدِيثًا كَانَ فِي عَهْدِ عُمَرَ فَإِنَّ عُمَرَ كَانَ يُخِيفُ النَّاسَ فِي اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَهُوَ يَقُولُ " مَنْ يُرِدِ اللَّهُ بِهِ خَيْرًا يُفَقِّهْهُ فِي الدِّينِ " . وَسَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " إِنَّمَا أَنَا خَازِنٌ فَمَنْ أَعْطَيْتُهُ عَنْ طِيبِ نَفْسٍ فَيُبَارَكُ لَهُ فِيهِ وَمَنْ أَعْطَيْتُهُ عَنْ مَسْأَلَةٍ وَشَرَهٍ كَانَ كَالَّذِي يَأْكُلُ وَلاَ يَشْبَعُ " .

Narrator: মুআবিয়া ইবনে আবু সুফয়ান (রাঃ)

২২৬১। আবু বকর ইবনে আবি শাঈবা (রাহঃ) ......... আব্দুল্লাহ ইবনে আমির ইয়াহসাবী থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি মুআবিয়া (রাযিঃ) কে বলতে শুনেছি, উমর (রাযিঃ) এর সময় প্রচলিত হাদীস ছাড়া অন্য হাদীস বর্ণনা করা থেকে তোমরা আত্মসংবরণ কর। কারণ তিনি হাদীস বর্ণনার ক্ষেত্রে লোকদের আল্লাহর ভয় প্রদর্শন করতেন। আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট শুনেছি, তিনি বলেছেন, আল্লাহ যার কল্যাণ চান, তাকেই দ্বীনের সুক্ষ বোধশক্তি দান করেন। আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট আরো শুনেছি, তিনি বলতেন, আমি (স্বীয় সস্পদের) খাজাঞ্চি মাত্র। সন্তুষ্টচিত্তে আমি যা যাকে দান করি, তা তার জন্য বরকতপূর্ণ হবে। আর যে ব্যক্তিকে সওয়ালের ও লোভের কারণে দান করি, তার অবস্থা ঐ ব্যক্তির মত যে আহার করে কিন্তু তৃপ্ত হয় না।

2262

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ نُمَيْرٍ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ عَمْرٍو، عَنْ وَهْبِ بْنِ مُنَبِّهٍ، عَنْ أَخِيهِ، هَمَّامٍ عَنْ مُعَاوِيَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " لاَ تُلْحِفُوا فِي الْمَسْأَلَةِ فَوَاللَّهِ لاَ يَسْأَلُنِي أَحَدٌ مِنْكُمْ شَيْئًا فَتُخْرِجَ لَهُ مَسْأَلَتُهُ مِنِّي شَيْئًا وَأَنَا لَهُ كَارِهٌ فَيُبَارَكَ لَهُ فِيمَا أَعْطَيْتُهُ " .

Narrator: মুআবিয়া ইবনে আবু সুফয়ান (রাঃ)

২২৬২। মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে নুমাইর (রাহঃ) ......... মুআবিয়া (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেন, তোমরা সওয়ালে করো না। আল্লাহর কসম, তোমাদের কেউ আমার কাছে কিছু সাওয়ালকরে, এবং তার সে সাওয়ালআমার অপছন্দ হওয়া সত্ত্বেও আমার কাছ থেকে কিছু বের করে নেয়, তাতে আমার এ দানে তার জন্য কোন বরকত হবে না।

2263

حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي عُمَرَ الْمَكِّيُّ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ عَمْرِو بْنِ دِينَارٍ، حَدَّثَنِي وَهْبُ بْنُ، مُنَبِّهٍ - وَدَخَلْتُ عَلَيْهِ فِي دَارِهِ بِصَنْعَاءَ فَأَطْعَمَنِي مِنْ جَوْزَةٍ فِي دَارِهِ - عَنْ أَخِيهِ قَالَ سَمِعْتُ مُعَاوِيَةَ بْنَ أَبِي سُفْيَانَ يَقُولُ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ . فَذَكَرَ مِثْلَهُ .

Narrator: মুআবিয়া ইবনে আবু সুফয়ান (রাঃ)

২২৬৩। ইবনে আবু উমর মক্কী (রাহঃ) ......... আমর ইবনে দীনার (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ‘সান’আ’ অঞ্চলে অবস্থিত ওয়াহব ইবনে মুনাব্বিহ (রাযিঃ) এর ঘরে প্রবেশ করলাম। তিনি আখরোট এনে তার ঘরে আমাকে খাওয়ালেন। তারপর তিনি বললেন, আমি মুআবিয়া ইবনে আবু সুফিয়ান (রাযিঃ) কে বলতে শুনেছি. ......... আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট শুনেছি......... এরপর তিনি অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেন।

2264

وَحَدَّثَنِي حَرْمَلَةُ بْنُ يَحْيَى، أَخْبَرَنَا ابْنُ وَهْبٍ، أَخْبَرَنِي يُونُسُ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، قَالَ حَدَّثَنِي حُمَيْدُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَوْفٍ، قَالَ سَمِعْتُ مُعَاوِيَةَ بْنَ أَبِي سُفْيَانَ، وَهُوَ يَخْطُبُ يَقُولُ إِنِّي سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " مَنْ يُرِدِ اللَّهُ بِهِ خَيْرًا يُفَقِّهْهُ فِي الدِّينِ وَإِنَّمَا أَنَا قَاسِمٌ وَيُعْطِي اللَّهُ " .

Narrator: মুআবিয়া ইবনে আবু সুফয়ান (রাঃ)

২২৬৪। হারামালা ইবনে ইয়াহয়া (রাহঃ) ......... মুআবিয়া ইবনে আবু সুফিয়ান (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি ভাষণ দানকালে বললেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে বলতে শুনেছি, আল্লাহ যার কল্যাণের ইচ্ছা করেন, তাকেই তিনি দ্বীনের গভীর জ্ঞান দান করেন। আমি তো বণ্টনকারী মাত্র, দানকারী আল্লাহ তাআলা।

2265

حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا الْمُغِيرَةُ، - يَعْنِي الْحِزَامِيَّ - عَنْ أَبِي الزِّنَادِ، عَنِ الأَعْرَجِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " لَيْسَ الْمِسْكِينُ بِهَذَا الطَّوَّافِ الَّذِي يَطُوفُ عَلَى النَّاسِ فَتَرُدُّهُ اللُّقْمَةُ وَاللُّقْمَتَانِ وَالتَّمْرَةُ وَالتَّمْرَتَانِ " . قَالُوا فَمَا الْمِسْكِينُ يَا رَسُولَ اللَّهِ قَالَ " الَّذِي لاَ يَجِدُ غِنًى يُغْنِيهِ وَلاَ يُفْطَنُ لَهُ فَيُتَصَدَّقَ عَلَيْهِ وَلاَ يَسْأَلُ النَّاسَ شَيْئًا " .

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

২২৬৫। কুতায়বা ইবনে সাঈদ (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেন, ঐ ব্যক্তি মিসকীন নয় যে মানুষের মধ্যে ঘোরাফেরা করে এবং দু’এক লুকমা (খাদ্য) অথবা দু’ একটি খেজুর পেয়ে ফিরে যায়। সাহাবাগণ প্রশ্ন করলেন, ইয়া রাসুলাল্লাহ! তাহলে মিসকীন কে? তিনি বললেন, প্রকৃত মিসকীন সেই, যে অতটুকু মালের অধিকারী নয় যা তাকে অভাবমুক্ত করতে পারে এবং তার অবস্থাও বুঝা যায় না, যাতে তাকে সাদ্‌কা প্রদান করা হবে; আর সে লোকের কাছে চায় না।

2266

حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ أَيُّوبَ، وَقُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، قَالَ ابْنُ أَيُّوبَ حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ، - وَهُوَ ابْنُ جَعْفَرٍ - أَخْبَرَنِي شَرِيكٌ، عَنْ عَطَاءِ بْنِ يَسَارٍ، مَوْلَى مَيْمُونَةَ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " لَيْسَ الْمِسْكِينُ بِالَّذِي تَرُدُّهُ التَّمْرَةُ وَالتَّمْرَتَانِ وَلاَ اللُّقْمَةُ وَاللُّقْمَتَانِ إِنَّمَا الْمِسْكِينُ الْمُتَعَفِّفُ اقْرَءُوا إِنْ شِئْتُمْ ( لاَ يَسْأَلُونَ النَّاسَ إِلْحَافًا) " .

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

২২৬৬। ইয়াহহয়া ইবনে আইয়ুব ও কুতায়বা ইবনে সাইদ (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, ঐ ব্যক্তি মিসকীন নয়, যে দু’একটি খেজুর এবং দু’একটি লুকমা খাদ্য পেয়ে ফিরে যায়। প্রকৃত মিসকীন সেই দরিদ্র, যে সাওয়ালথেকে বেঁচে থাকে। ইচ্ছা হলে তোমরা (আল্লাহর এ বাণী) পাঠ করঃ ″যারা লোকের কাছে পীড়াপীড়ি করে সাওয়ালকরে না।″ (সূরা বাকারাঃ ২৭৩)

2267

وَحَدَّثَنِيهِ أَبُو بَكْرِ بْنُ إِسْحَاقَ، حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي مَرْيَمَ، أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ، أَخْبَرَنِي شَرِيكٌ، أَخْبَرَنِي عَطَاءُ بْنُ يَسَارٍ، وَعَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ أَبِي عَمْرَةَ، أَنَّهُمَا سَمِعَا أَبَا هُرَيْرَةَ، يَقُولُ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم . بِمِثْلِ حَدِيثِ إِسْمَاعِيلَ .

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

২২৬৭। আবু বকর ইবনে ইসহাক (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন......... পরবর্তী অংশ ইসমাঈলের হাদীসের অনুরূপ।

2268
وَحَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الأَعْلَى بْنُ عَبْدِ الأَعْلَى، عَنْ مَعْمَرٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مُسْلِمٍ، أَخِي الزُّهْرِيِّ عَنْ حَمْزَةَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، عَنْ أَبِيهِ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " لاَ تَزَالُ الْمَسْأَلَةُ بِأَحَدِكُمْ حَتَّى يَلْقَى اللَّهَ وَلَيْسَ فِي وَجْهِهِ مُزْعَةُ لَحْمٍ " .
وَحَدَّثَنِي عَمْرٌو النَّاقِدُ، حَدَّثَنِي إِسْمَاعِيلُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، أَخْبَرَنَا مَعْمَرٌ، عَنْ أَخِي الزُّهْرِيِّ، بِهَذَا الإِسْنَادِ . مِثْلَهُ وَلَمْ يَذْكُرْ " مُزْعَةُ " .

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

২২৬৮। আবু বকর ইবনে আবি শাঈবা (রাহঃ) ......... আব্দুল্লাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। নবী (ﷺ) বলেছেন, তোমাদের যে কেউ ভিক্ষা করে সে আল্লাহর সাথে সাক্ষাত করা পর্যন্ত এ অবস্থায় থাকবে যে, তার মুখমণ্ডলে গোশতের এক টুকরাও থাকবে না।

আমরুন নাকিদ (রাহঃ) ......... মা’মার (রাহঃ) যুহরীর ভাই এর সূত্রে এ সনদে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। তবে তিনি مُزْعَةُ (টুকরা) কথাটি উল্লেখ করেননি।
2269

حَدَّثَنِي أَبُو الطَّاهِرِ، أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ وَهْبٍ، أَخْبَرَنِي اللَّيْثُ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ، أَبِي جَعْفَرٍ عَنْ حَمْزَةَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ، أَنَّهُ سَمِعَ أَبَاهُ، يَقُولُ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " مَا يَزَالُ الرَّجُلُ يَسْأَلُ النَّاسَ حَتَّى يَأْتِيَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ وَلَيْسَ فِي وَجْهِهِ مُزْعَةُ لَحْمٍ " .

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

২২৬৯। আবু তাহির (রাহঃ) ......... আব্দুল্লাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেন, যে ব্যক্তি সর্বদা মানুষের নিকট ভিক্ষা করে, কিয়ামতের দিন সে এমতাবস্থায় উপস্থিত হবে যে, তার মুখমণ্ডলে গোশতের এক টুকরাও থাকবে না।

2270

حَدَّثَنَا أَبُو كُرَيْبٍ، وَوَاصِلُ بْنُ عَبْدِ الأَعْلَى، قَالاَ حَدَّثَنَا ابْنُ فُضَيْلٍ، عَنْ عُمَارَةَ بْنِ، الْقَعْقَاعِ عَنْ أَبِي زُرْعَةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " مَنْ سَأَلَ النَّاسَ أَمْوَالَهُمْ تَكَثُّرًا فَإِنَّمَا يَسْأَلُ جَمْرًا فَلْيَسْتَقِلَّ أَوْ لِيَسْتَكْثِرْ " .

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

২২৭০। আবু কুরায়ব ও ওয়াসিল ইবনে আব্দুল আলা (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেন, যে ব্যক্তি সম্পদ বাড়ানোর জন্য লোকের কাছে মাল ভিক্ষা করে, সে যেন আগুনের অঙ্গার ভিক্ষা করল। চাইলে সে তা কম করুক বা বেশী করুক।

2271

حَدَّثَنِي هَنَّادُ بْنُ السَّرِيِّ، حَدَّثَنَا أَبُو الأَحْوَصِ، عَنْ بَيَانٍ أَبِي بِشْرٍ، عَنْ قَيْسِ بْنِ، أَبِي حَازِمٍ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " لأَنْ يَغْدُوَ أَحَدُكُمْ فَيَحْطِبَ عَلَى ظَهْرِهِ فَيَتَصَدَّقَ بِهِ وَيَسْتَغْنِيَ بِهِ مِنَ النَّاسِ خَيْرٌ لَهُ مِنْ أَنْ يَسْأَلَ رَجُلاً أَعْطَاهُ أَوْ مَنَعَهُ ذَلِكَ فَإِنَّ الْيَدَ الْعُلْيَا أَفْضَلُ مِنَ الْيَدِ السُّفْلَى وَابْدَأْ بِمَنْ تَعُولُ " .

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

২২৭১। হান্নাদ ইবনে সারী (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে বলতে শুনেছি যে, তোমাদের যে কেউ ভোর বেলা বের হয়ে কাঠের বোঝা পিঠে বহন করে আনে এবং তা থেকে সে সাদ্‌কা করে ও লোকের কাছে সাহায্য চাওয়া থেকে মুক্ত থাকে, সে ঐ ব্যক্তি থেকে অনেক ভাল, যে কারো কাছে সাওয়ালকরে, যে তাকে দিতেও পারে, নাও পারে। উপরের হাত নীচের হাত হতে উত্তম। যাদের লালন-পাননের দায়িত্ব তোমার উপর রয়েছে তাদের দিয়ে (সাদ্‌কা) শুরু কর।

2272

وَحَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ حَاتِمٍ، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ، عَنْ إِسْمَاعِيلَ، حَدَّثَنِي قَيْسُ بْنُ، أَبِي حَازِمٍ قَالَ أَتَيْنَا أَبَا هُرَيْرَةَ فَقَالَ قَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم " وَاللَّهِ لأَنْ يَغْدُوَ أَحَدُكُمْ فَيَحْطِبَ عَلَى ظَهْرِهِ فَيَبِيعَهُ " . ثُمَّ ذَكَرَ بِمِثْلِ حَدِيثِ بَيَانٍ .

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

২২৭২। মুহাম্মাদ ইবনে হাতিম (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। নবী (ﷺ) বলেন, আল্লাহর কসম, তোমাদের যে কেউ ভোরবেলা বের হয়ে পিঠে করে কাঠের বোঝা বহন করে এনে তা বিক্রি করে.... পরবর্তী অংশ রাবী বায়ানের হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করেন।

2273

حَدَّثَنِي أَبُو الطَّاهِرِ، وَيُونُسُ بْنُ عَبْدِ الأَعْلَى، قَالاَ حَدَّثَنَا ابْنُ وَهْبٍ، أَخْبَرَنِي عَمْرُو، بْنُ الْحَارِثِ عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ أَبِي عُبَيْدٍ، مَوْلَى عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَوْفٍ أَنَّهُ سَمِعَ أَبَا هُرَيْرَةَ، يَقُولُ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " لأَنْ يَحْتَزِمَ أَحَدُكُمْ حُزْمَةً مِنْ حَطَبٍ فَيَحْمِلَهَا عَلَى ظَهْرِهِ فَيَبِيعَهَا خَيْرٌ لَهُ مِنْ أَنْ يَسْأَلَ رَجُلاً يُعْطِيهِ أَوْ يَمْنَعُهُ " .

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

২২৭৩। আবু তাহির ও ইউনুস ইবনে আব্দুল আ’লা (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেন, তোমাদের কেউ কাঠের একটি আটি বেঁধে তা পিঠে বহন করে এনে বিক্রি করে তা ঐ ব্যক্তি থেকে অনেক ভাল যে লোকের কাছে সাওয়ালকরে। সে হয় তো তাকে দান করবে অথবা ফিরিয়ে দিবে।

2274

حَدَّثَنِي عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ الدَّارِمِيُّ، وَسَلَمَةُ بْنُ شَبِيبٍ، - قَالَ سَلَمَةُ حَدَّثَنَا وَقَالَ الدَّارِمِيُّ، أَخْبَرَنَا مَرْوَانُ، وَهُوَ ابْنُ مُحَمَّدٍ الدِّمَشْقِيُّ - حَدَّثَنَا سَعِيدٌ، - وَهُوَ ابْنُ عَبْدِ الْعَزِيزِ - عَنْ رَبِيعَةَ بْنِ يَزِيدَ، عَنْ أَبِي إِدْرِيسَ الْخَوْلاَنِيِّ، عَنْ أَبِي مُسْلِمٍ الْخَوْلاَنِيِّ، قَالَ حَدَّثَنِي الْحَبِيبُ الأَمِينُ، أَمَّا هُوَ فَحَبِيبٌ إِلَىَّ وَأَمَّا هُوَ عِنْدِي فَأَمِينٌ عَوْفُ بْنُ مَالِكٍ الأَشْجَعِيُّ قَالَ كُنَّا عِنْدَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم تِسْعَةً أَوْ ثَمَانِيَةً أَوْ سَبْعَةً فَقَالَ " أَلاَ تُبَايِعُونَ رَسُولَ اللَّهِ " وَكُنَّا حَدِيثَ عَهْدٍ بِبَيْعَةٍ فَقُلْنَا قَدْ بَايَعْنَاكَ يَا رَسُولَ اللَّهِ . ثُمَّ قَالَ " أَلاَ تُبَايِعُونَ رَسُولَ اللَّهِ " . فَقُلْنَا قَدْ بَايَعْنَاكَ يَا رَسُولَ اللَّهِ . ثُمَّ قَالَ " أَلاَ تُبَايِعُونَ رَسُولَ اللَّهِ " . قَالَ فَبَسَطْنَا أَيْدِيَنَا وَقُلْنَا قَدْ بَايَعْنَاكَ يَا رَسُولَ اللَّهِ فَعَلاَمَ نُبَايِعُكَ قَالَ " عَلَى أَنْ تَعْبُدُوا اللَّهَ وَلاَ تُشْرِكُوا بِهِ شَيْئًا وَالصَّلَوَاتِ الْخَمْسِ وَتُطِيعُوا - وَأَسَرَّ كَلِمَةً خَفِيَّةً - وَلاَ تَسْأَلُوا النَّاسَ شَيْئًا " . فَلَقَدْ رَأَيْتُ بَعْضَ أُولَئِكَ النَّفَرِ يَسْقُطُ سَوْطُ أَحَدِهِمْ فَمَا يَسْأَلُ أَحَدًا يُنَاوِلُهُ إِيَّاهُ .

Narrator: আউফ ইবনে মালিক (রাঃ)

২২৭৪। আব্দুল্লাহ ইবনে আব্দুর রহমান দারিমী ও সালামা ইবনে শাবীব (রাহঃ) ......... আউফ ইবনে মালিক (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা নয় বা আট কিংবা সাতজন লোক রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট উপস্থিত ছিলাম। তিনি বললেন, তোমরা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট বায়আত গ্রহণ করবে কি? অথচ আমরা কিছু দিন আগে তার হাতে বায়আত গ্রহণ করেছিলাম। তাই আমরা বললাম, হে আল্লাহর রাসুল! আমরা তো আপনার নিকট বায়আত গ্রহণ করেছি। তিনি আবার বললেন, তোমরা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট বায়আত গ্রহণ করবে কি? আমরা বললাম, ইয়া রাসুলাল্লাহ! আমরা তো বায়আত গ্রহণ করেছি। তিনি আবার বললেন, তোমরা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট বায়আত গ্রহণ করবে কি?

তখন আমরা আমাদের হাত প্রসারিত করে দিলাম এবং বললাম, ইয়া রাসুলাল্লাহ! আমরা তো আপনার নিকট বায়আত গ্রহণ করেছি। এখনি আবার কিসের উপর বায়আত গ্রহণ করবো? বললেন, (এ কথার উপর বায়আত গ্রহণ করবে যে,) তোমরা আল্লাহর ইবাদত করবে এবং তাঁর সঙ্গে অন্য কাউকে শরীক করবে না। পাঁচ ওয়াক্ত নামায আদায় করবে। আল্লাহর আনুগত্য করবে। তারপর তিনি ফিসফিস করে একটি কথা বললেন, মানুষের নিকট কোন কিছু সাওয়ালকরবে না। আমি দেখেছি, এই কাফিলার কারো পশুর পৃষ্ট থেকে চাবুক পড়ে যাওয়ার পর সে কাউকে তা তুলে দেয়ার জন্য অনুরোধ জানাত না।

২৯. যার জন্য সাওয়াল করা হালাল

باب مَنْ تَحِلُّ لَهُ الْمَسْأَلَةُ

2275

حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ يَحْيَى، وَقُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، كِلاَهُمَا عَنْ حَمَّادِ بْنِ زَيْدٍ، قَالَ يَحْيَى أَخْبَرَنَا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ، عَنْ هَارُونَ بْنِ رِيَابٍ، حَدَّثَنِي كِنَانَةُ بْنُ نُعَيْمٍ الْعَدَوِيُّ، عَنْ قَبِيصَةَ بْنِ، مُخَارِقٍ الْهِلاَلِيِّ قَالَ تَحَمَّلْتُ حَمَالَةً فَأَتَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَسْأَلُهُ فِيهَا فَقَالَ " أَقِمْ حَتَّى تَأْتِيَنَا الصَّدَقَةُ فَنَأْمُرَ لَكَ بِهَا " . قَالَ ثُمَّ قَالَ " يَا قَبِيصَةُ إِنَّ الْمَسْأَلَةَ لاَ تَحِلُّ إِلاَّ لأَحَدِ ثَلاَثَةٍ رَجُلٍ تَحَمَّلَ حَمَالَةً فَحَلَّتْ لَهُ الْمَسْأَلَةُ حَتَّى يُصِيبَهَا ثُمَّ يُمْسِكُ وَرَجُلٍ أَصَابَتْهُ جَائِحَةٌ اجْتَاحَتْ مَالَهُ فَحَلَّتْ لَهُ الْمَسْأَلَةُ حَتَّى يُصِيبَ قِوَامًا مِنْ عَيْشٍ - أَوْ قَالَ سِدَادًا مِنْ عَيْشٍ - وَرَجُلٍ أَصَابَتْهُ فَاقَةٌ حَتَّى يَقُومَ ثَلاَثَةٌ مِنْ ذَوِي الْحِجَا مِنْ قَوْمِهِ لَقَدْ أَصَابَتْ فُلاَنًا فَاقَةٌ فَحَلَّتْ لَهُ الْمَسْأَلَةُ حَتَّى يُصِيبَ قِوَامًا مِنْ عَيْشٍ - أَوْ قَالَ سِدَادًا مِنْ عَيْشٍ - فَمَا سِوَاهُنَّ مِنَ الْمَسْأَلَةِ يَا قَبِيصَةُ سُحْتًا يَأْكُلُهَا صَاحِبُهَا سُحْتًا " .

Narrator: কাবীসা ইবনে মুখারিক্ব (রাঃ)

২২৭৫। ইয়াহয়া ইবনে ইয়াহয়া ও কুতায়বা সাঈদ (রাহঃ) ......... কাবীসা ইবনে মুখারিক আল হিলালী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি অন্যের দায়ভার বহন করতে গিয়ে ঋণী হয়ে পড়েছিলাম। তখন আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কাছে কিছু চাওযার জন্য তার কাছে এলাম। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, আমার নিকট সাদ্‌কার সামগ্রী আসা পর্যন্ত তুমি এখানে অপেক্ষা কর, আমি তা থেকে তোমাকে কিছু দিতে বলে দিব। তারপর তিনি বললেন, হে কাবীসা! তিন ব্যক্তি ছাড়া কারো সাওয়ালকরা বৈধ নয়।

১. ঐ ব্যক্তি, যে কারো দায়ভার বহন করে ঋণগ্রস্থ হয়ে পড়েছে, তার ঋণ পরিশোধের পরিমাণ সাওয়ালকরা, তারপর সে বিরত থাকবে।

২. ঐ ব্যক্তি, বিপর্যয় যার ধন সম্পদ ধ্বংস করে দিয়েছে, তার জীবিকা নির্বাহের কোন উপায় না পাওয়া পর্যন্ত।

৩. আর যে ব্যক্তি ক্ষুধাক্লিষ্ট এবং তার গোত্রের তিনজন লোক তার সম্পর্কে এ সাক্ষ্য দেয় যে, সে ব্যক্তি অবশ্যই ক্ষুধাক্লিষ্ট; তার জীবিকা নির্বাহের কোন উপায় না পাওয়া পর্যন্ত সাওয়ালকরা বৈধ।
হে কাবীসা! এ তিনজন ছাড়া যে ভিক্ষা করে খায় সে হারাম খায়।

৩০. সাওয়াল ও লালসা ব্যতীত দান গ্রহণ বৈধ

باب جواز الاخذ بغير سوال ولاتطلع

2276

وَحَدَّثَنَا هَارُونُ بْنُ مَعْرُوفٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ وَهْبٍ، ح وَحَدَّثَنِي حَرْمَلَةُ بْنُ يَحْيَى، أَخْبَرَنَا ابْنُ وَهْبٍ، أَخْبَرَنِي يُونُسُ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ سَالِمِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ سَمِعْتُ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ، - رضى الله عنه - يَقُولُ قَدْ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يُعْطِينِي الْعَطَاءَ فَأَقُولُ أَعْطِهِ أَفْقَرَ إِلَيْهِ مِنِّي . حَتَّى أَعْطَانِي مَرَّةً مَالاً فَقُلْتُ أَعْطِهِ أَفْقَرَ إِلَيْهِ مِنِّي . فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " خُذْهُ وَمَا جَاءَكَ مِنْ هَذَا الْمَالِ وَأَنْتَ غَيْرُ مُشْرِفٍ وَلاَ سَائِلٍ فَخُذْهُ وَمَا لاَ فَلاَ تُتْبِعْهُ نَفْسَكَ " .

Narrator: হযরত উমর ইবনুল খাত্তাব রাযি.

২২৭৬। হারুন ইবনে মারুফ ও হারামালা ইবনে ইয়াহিয়া (রাহঃ) ......... উমর উবনুল খাত্তাব (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাকে কিছু দান করতে চাইলেন। আমি বললাম, আমার চাইতে যারা বেশী দারিদ্র তাদের দান করুন। অবশেষ একবার আমাকে কিছু মাল দিলেন। আমি বললাম, আমার চাইতে বেশী দারিদ্র তা দান করুন। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, তুমি এটি নাও। সাওয়ালও লালসা ছাড়া যে মাল তোমার নিকট আসে তুমি তা গ্রহণ কর। আর যে সম্পদ এভাবে আসে না তুমি তার পেছনে লেগো না।

2277

وَحَدَّثَنِي أَبُو الطَّاهِرِ، أَخْبَرَنَا ابْنُ وَهْبٍ، أَخْبَرَنِي عَمْرُو بْنُ الْحَارِثِ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ سَالِمِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، عَنْ أَبِيهِ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَانَ يُعْطِي عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ - رضى الله عنه - الْعَطَاءَ فَيَقُولُ لَهُ عُمَرُ أَعْطِهِ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَفْقَرَ إِلَيْهِ مِنِّي . فَقَالَ لَهُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " خُذْهُ فَتَمَوَّلْهُ أَوْ تَصَدَّقْ بِهِ وَمَا جَاءَكَ مِنْ هَذَا الْمَالِ وَأَنْتَ غَيْرُ مُشْرِفٍ وَلاَ سَائِلٍ فَخُذْهُ وَمَا لاَ فَلاَ تُتْبِعْهُ نَفْسَكَ " . قَالَ سَالِمٌ فَمِنْ أَجْلِ ذَلِكَ كَانَ ابْنُ عُمَرَ لاَ يَسْأَلُ أَحَدًا شَيْئًا وَلاَ يَرُدُّ شَيْئًا أُعْطِيَهُ .

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

২২৭৭। আবু তাহির (রাহঃ) ......... আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) উমর (রাযিঃ) কে কিছু দান করলেন। উমর (রাযিঃ) তাকে বললেন, ইয়া রাসুলাল্লাহ! আমার চেয়ে যে অধিক মুখাপেক্ষী, এটি তাকে দান করুন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাকে বললেন, তুমি এটি গ্রহণ কর ও সঞ্চয় কর কিংবা দান কর। সাওয়ালও লালসা ব্যতীত যে মাল তোমার কাছে আসে তুমি তা গ্রহণ কর। আর যে মাল এভাবে আসে না তুমি নিজে তার পেছনে লেগো না।

সালিম (রাহঃ) বলেন, এ কারণেই ইবনে উমর (রাযিঃ) কারো নিকট কোন কিছু সাওয়ালকরতেন না এবং তাঁকে কোন বস্তু (উপঢৌকন) দেয়া হলে, তা ফিরিয়েও দিতেন না।
2278

وَحَدَّثَنِي أَبُو الطَّاهِرِ، أَخْبَرَنَا ابْنُ وَهْبٍ، قَالَ عَمْرٌو وَحَدَّثَنِي ابْنُ شِهَابٍ، بِمِثْلِ ذَلِكَ عَنِ السَّائِبِ بْنِ يَزِيدَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ السَّعْدِيِّ، عَنْ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ، - رضى الله عنه - عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم .

Narrator: হযরত উমর ইবনুল খাত্তাব রাযি.

২২৭৮। আবু তাহির (রাহঃ) ......... উমর ইবনুল খাত্তাব (রাযিঃ) এর সূত্রে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।

2279

حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا لَيْثٌ، عَنْ بُكَيْرٍ، عَنْ بُسْرِ بْنِ سَعِيدٍ، عَنِ ابْنِ السَّاعِدِيِّ، الْمَالِكِيِّ أَنَّهُ قَالَ اسْتَعْمَلَنِي عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ - رضى الله عنه - عَلَى الصَّدَقَةِ فَلَمَّا فَرَغْتُ مِنْهَا وَأَدَّيْتُهَا إِلَيْهِ أَمَرَ لِي بِعُمَالَةٍ فَقُلْتُ إِنَّمَا عَمِلْتُ لِلَّهِ وَأَجْرِي عَلَى اللَّهِ . فَقَالَ خُذْ مَا أُعْطِيتَ فَإِنِّي عَمِلْتُ عَلَى عَهْدِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَعَمَّلَنِي فَقُلْتُ مِثْلَ قَوْلِكَ فَقَالَ لِي رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " إِذَا أُعْطِيتَ شَيْئًا مِنْ غَيْرِ أَنْ تَسْأَلَ فَكُلْ وَتَصَدَّقْ " .

Narrator: হযরত উমর ইবনুল খাত্তাব রাযি.

২২৭৯। কুতায়বা ইবনে সাঈদ (রাহঃ) ......... ইবনে সাঈদী মালিকী (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, উমর ইবনুল খাত্তাব (রাযিঃ) আমাকে সাদ্‌কা উসূলকারী নিযুক্ত করেন। যখন আমি কাজ সমাধা করে সাদ্‌কার মালামাল তাঁর নিকট অর্পণ করলাম, তখন তিনি আমাকে আমার পারিশ্রমিক দেওয়ার নির্দেশ দিলেন। আমি বললাম, আমি তো আল্লাহর ওয়াস্তে কাজ করেছি। আমার পারিশ্রমিক তো আল্লাহর নিকটই আছে। বললেন, তোমাকে যা দেওয়া হায়ছে তা তুমি গ্রহণ কর। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সময়ও আমি উসূলকারীরূপে কাজ করেছি। তিনি আমাকে উসূলকারী নিয়োগ করেছিলেন। আামিও তোমার মত বলেছিলাম। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাকে বলেছেন, যদি সাওয়ালছাড়া তোমাকে কিছু দেওয়া হয় তবে তা খাও এবং সাদ্‌কা কর।

2280

وَحَدَّثَنِي هَارُونُ بْنُ سَعِيدٍ الأَيْلِيُّ، حَدَّثَنَا ابْنُ وَهْبٍ، أَخْبَرَنِي عَمْرُو بْنُ الْحَارِثِ، عَنْ بُكَيْرِ بْنِ الأَشَجِّ، عَنْ بُسْرِ بْنِ سَعِيدٍ، عَنِ ابْنِ السَّعْدِيِّ، أَنَّهُ قَالَ اسْتَعْمَلَنِي عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ - رضى الله عنه - عَلَى الصَّدَقَةِ . بِمِثْلِ حَدِيثِ اللَّيْثِ .

Narrator: হযরত উমর ইবনুল খাত্তাব রাযি.

২২৮০। হারুন ইবনে সাঈদ আয়লী (রাহঃ) ......... ইবনে সাঈদী (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি লাঈস (রাহঃ) এর হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করে বললেন, উমর ইবনুল খাত্তাব (রাযিঃ) আমাকে সাদ্‌কা উসূলকারী নিযুক্ত করেছিলেন।

৩১. পার্থিব সম্পদের প্রতি লোভ করা অপছন্দনীয়

باب كَرَاهَةِ الْحِرْصِ عَلَى الدُّنْيَا

2281

حَدَّثَنَا زُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ، عَنْ أَبِي الزِّنَادِ، عَنِ الأَعْرَجِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، يَبْلُغُ بِهِ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " قَلْبُ الشَّيْخِ شَابٌّ عَلَى حُبِّ اثْنَتَيْنِ حُبِّ الْعَيْشِ وَالْمَالِ " .

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

২২৮১। যুহাইর ইবনে হারব (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। নবী (ﷺ) বলেন, বৃদ্ধ মানুষের হৃদয় দুটি বস্তুর ভালবাসার ব্যাপারে অত্যন্ত তরুণ ১. জীবনের মোহ ও ২. ধন সম্পদের মোহ।

2282

وَحَدَّثَنِي أَبُو الطَّاهِرِ، وَحَرْمَلَةُ، قَالاَ أَخْبَرَنَا ابْنُ وَهْبٍ، عَنْ يُونُسَ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيَّبِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " قَلْبُ الشَّيْخِ شَابٌّ عَلَى حُبِّ اثْنَتَيْنِ طُولُ الْحَيَاةِ وَحُبُّ الْمَالِ " .

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

২২৮২। আবু তাহির ও হারামালা (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেন, বৃদ্ধ লোকের হৃদয় দুটি বস্তুর ভালবাসার ব্যাপারে যুবক (তা হলোঃ) ১. দীর্ঘায়ু ও ২. প্রাচুর্যের লোভ।

2283

وَحَدَّثَنِي يَحْيَى بْنُ يَحْيَى، وَسَعِيدُ بْنُ مَنْصُورٍ، وَقُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، كُلُّهُمْ عَنْ أَبِي عَوَانَةَ، - قَالَ يَحْيَى أَخْبَرَنَا أَبُو عَوَانَةَ، - عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ أَنَسٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " يَهْرَمُ ابْنُ آدَمَ وَتَشِبُّ مِنْهُ اثْنَتَانِ الْحِرْصُ عَلَى الْمَالِ وَالْحِرْصُ عَلَى الْعُمُرِ " .

Narrator: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

২২৮৩। ইয়াহয়া ইবনে ইয়াহয়া, সাঈদ ইবনে মনসুর ও কুতায়বা ইবনে সাঈদ (রাহঃ) ......... আনাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেন, আদম সন্তান বৃদ্ধ হয় এবং তার দুটি জিনিস যুবক হয়। ১. প্রাচুর্যের আকাঙ্ক্ষা ও ২. দীর্ঘায়ু কামনা।

2284

وَحَدَّثَنِي أَبُو غَسَّانَ الْمِسْمَعِيُّ، وَمُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، قَالاَ حَدَّثَنَا مُعَاذُ بْنُ هِشَامٍ، حَدَّثَنِي أَبِي، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ أَنَسٍ، أَنَّ نَبِيَّ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ بِمِثْلِهِ .

Narrator: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

২২৮৪। আবু গাসশান মিসমাঈ ও মুহাম্মাদ ইবনুল মুসান্না (রাহঃ) ......... আনাস (রাযিঃ) এর সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।

2285

وَحَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، وَابْنُ، بَشَّارٍ قَالاَ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، قَالَ سَمِعْتُ قَتَادَةَ، يُحَدِّثُ عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم بِنَحْوِهِ .

Narrator: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

২২৮৫। মুহাম্মাদ ইবনুল মুসান্না ও ইবনে বাশশার (রাহঃ) ......... আনাস ইবনে মালিক (রাযিঃ) এর সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে বর্ণনা করেছেন।

2286

حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ يَحْيَى، وَسَعِيدُ بْنُ مَنْصُورٍ، وَقُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، قَالَ يَحْيَى أَخْبَرَنَا وَقَالَ الآخَرَانِ، حَدَّثَنَا أَبُو عَوَانَةَ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ أَنَسٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " لَوْ كَانَ لاِبْنِ آدَمَ وَادِيَانِ مِنْ مَالٍ لاَبْتَغَى وَادِيًا ثَالِثًا وَلاَ يَمْلأُ جَوْفَ ابْنِ آدَمَ إِلاَّ التُّرَابُ وَيَتُوبُ اللَّهُ عَلَى مَنْ تَابَ "

Narrator: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

২২৮৬। ইয়াহয়া ইবনে ইয়াহয়া সাঈদ ইবনে মনসুর ও কুতায়বা ইবনে সাঈদ (রাহঃ) ......... আনাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেন, আদম সন্তানের যদি দুই উপত্যকা পরিপূর্ণ সম্পদ জমা হয় তবে সে তৃতীয় উপত্যকা কামনা করবে। আদম সন্তানের পেট মাটি ব্যতীত কিছু পূর্ণ করতে পারবে না। (কিন্তু) যে তাওবা করে আল্লাহ তার তাওবা কবুল করেন।

2287

وَحَدَّثَنَا ابْنُ الْمُثَنَّى، وَابْنُ، بَشَّارٍ قَالَ ابْنُ الْمُثَنَّى حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ، أَخْبَرَنَا شُعْبَةُ، قَالَ سَمِعْتُ قَتَادَةَ، يُحَدِّثُ عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ - فَلاَ أَدْرِي أَشَىْءٌ أُنْزِلَ أَمْ شَىْءٌ كَانَ يَقُولُهُ - بِمِثْلِ حَدِيثِ أَبِي عَوَانَةَ .

Narrator: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

২২৮৭। ইবনুল মুসান্না ও ইবনে বাশশার (রাহঃ) ......... আনাস ইবনে মালিক (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে বলতে শুনেছি, তিনি (আনাস) বলেন, আমি জানি না, এটা তাঁর প্রতি অবর্তীর্ণ হয়েছিল না তিনি নিজের পক্ষ থেকেই এ কথা বলছিলেন। তারপর তিনি আওয়ানার অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।

2288

وَحَدَّثَنِي حَرْمَلَةُ بْنُ يَحْيَى، أَخْبَرَنِي ابْنُ وَهْبٍ، أَخْبَرَنِي يُونُسُ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ قَالَ " لَوْ كَانَ لاِبْنِ آدَمَ وَادٍ مِنْ ذَهَبٍ أَحَبَّ أَنَّ لَهُ وَادِيًا آخَرَ وَلَنْ يَمْلأَ فَاهُ إِلاَّ التُّرَابُ وَاللَّهُ يَتُوبُ عَلَى مَنْ تَابَ " .

Narrator: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

২২৮৮। হারামালা ইবনে ইয়াহয়া (রাহঃ) ......... আনাস ইবনে মালিক (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেন, যদি আদম সন্তানের স্বর্ণের একটি ময়দান থাকে তবু সে অনুরূপ আরেকটি প্রান্তর কামনা করবে। মাটি ব্যতীত কিছুই মানুষের মুখ পূর্ণ করতে পারবে না, যে তাওবা করে আল্লাহ তার তাওবা কবুল করেন।

2289

وَحَدَّثَنِي زُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، وَهَارُونُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، قَالاَ حَدَّثَنَا حَجَّاجُ بْنُ مُحَمَّدٍ، عَنِ ابْنِ جُرَيْجٍ، قَالَ سَمِعْتُ عَطَاءً، يَقُولُ سَمِعْتُ ابْنَ عَبَّاسٍ، يَقُولُ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " لَوْ أَنَّ لاِبْنِ آدَمَ مِلْءَ وَادٍ مَالاً لأَحَبَّ أَنْ يَكُونَ إِلَيْهِ مِثْلُهُ وَلاَ يَمْلأُ نَفْسَ ابْنِ آدَمَ إِلاَّ التُّرَابُ وَاللَّهُ يَتُوبُ عَلَى مَنْ تَابَ " . قَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ فَلاَ أَدْرِي أَمِنَ الْقُرْآنِ هُوَ أَمْ لاَ . وَفِي رِوَايَةِ زُهَيْرٍ قَالَ فَلاَ أَدْرِي أَمِنَ الْقُرْآنِ . لَمْ يَذْكُرِ ابْنَ عَبَّاسٍ .

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

২২৮৯। যুহাইর ইবনে হারব ও হারুন ইবনে আব্দুল্লাহ (রাহঃ) ......... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট শুনেছি তিনি বলেন, যদি আদম সন্তানের ধন-সম্পদে পরিপূর্ণ একটি উপত্যকা থাকে তবু সে অনুরূপ অপর একটি উপত্যকা কামনা করবে। মানুষের কামনাকে মাটি ব্যতীত অন্য কিছু পূর্ণ করতে পারবে না। যে ব্যক্তি তাওবা করে আল্লাহ তার তাওবা কবুল করেন।

ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) বলেন, এ কথা কুরআনের বাণী কিনা আমি জানি না। যুহাইরের অপর বর্ণনায় “ইহা কুরআনের বাণী কিনা আমি জানি না” এ কথাটির উল্লেখ রয়েছে। তবে তিনি ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) এর নাম উল্লেখ করেননি।
2290

حَدَّثَنِي سُوَيْدُ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ مُسْهِرٍ، عَنْ دَاوُدَ، عَنْ أَبِي حَرْبِ بْنِ أَبِي، الأَسْوَدِ عَنْ أَبِيهِ، قَالَ بَعَثَ أَبُو مُوسَى الأَشْعَرِيُّ إِلَى قُرَّاءِ أَهْلِ الْبَصْرَةِ فَدَخَلَ عَلَيْهِ ثَلاَثُمِائَةِ رَجُلٍ قَدْ قَرَءُوا الْقُرْآنَ فَقَالَ أَنْتُمْ خِيَارُ أَهْلِ الْبَصْرَةِ وَقُرَّاؤُهُمْ فَاتْلُوهُ وَلاَ يَطُولَنَّ عَلَيْكُمُ الأَمَدُ فَتَقْسُوَ قُلُوبُكُمْ كَمَا قَسَتْ قُلُوبُ مَنْ كَانَ قَبْلَكُمْ وَإِنَّا كُنَّا نَقْرَأُ سُورَةً كُنَّا نُشَبِّهُهَا فِي الطُّولِ وَالشِّدَّةِ بِبَرَاءَةَ فَأُنْسِيتُهَا غَيْرَ أَنِّي قَدْ حَفِظْتُ مِنْهَا لَوْ كَانَ لاِبْنِ آدَمَ وَادِيَانِ مِنْ مَالٍ لاَبْتَغَى وَادِيًا ثَالِثًا وَلاَ يَمْلأُ جَوْفَ ابْنِ آدَمَ إِلاَّ التُّرَابُ . وَكُنَّا نَقْرَأُ سُورَةً كُنَّا نُشَبِّهُهَا بِإِحْدَى الْمُسَبِّحَاتِ فَأُنْسِيتُهَا غَيْرَ أَنِّي حَفِظْتُ مِنْهَا ( يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لِمَ تَقُولُونَ مَا لاَ تَفْعَلُونَ) فَتُكْتَبُ شَهَادَةً فِي أَعْنَاقِكُمْ فَتُسْأَلُونَ عَنْهَا يَوْمَ الْقِيَامَةِ .

Narrator: আবু মুসা আশ'আরী (রাঃ)

২২৯০। সুওয়ায়দ ইবনে সাঈদ (রাহঃ) ......... আবুল আসওয়াদ (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আবু মুসা আশ’আরী (রাযিঃ) কে বসরাবাসী ক্বারীগণের নিকট প্রেরণ করা হল। তিনি তথায় গিয়ে এমন তিনশ লোকের সাক্ষাত পেলেন, যারা কুরআনের ক্বারী ছিলেন। তিনি তাদের উদ্দেশ্য করে বললেন, আপনারা বসরা শহরের সম্রান্ত লোক এবং আল কুরআনের ক্বারী, আপনারা আল-কুরআন তিলাওয়াত করতে থাকুন। বহুকাল অতিক্রান্ত হওয়ার কারণে আপনাদের মন যেন কঠিন না হয়ে যায়, যেমন পূর্বেকার লোকদের মন কঠিন হয়ে গিয়েছিল। আমি একটি সূরা পাঠ করতাম যা দৈর্ঘ ও কাঠিন্যের দিক থেকে সূরা (বারাআত) তাওবার অনুরূপ। আমাদেরকে তা ভুলিয়ে দেওয়া হয়েছে। তবে তার থেকে এ কথাটি আমার স্মরণ আছে “যদি আদম সন্তানের জন্য দুই মাঠ পরিপূর্ণ ধন-দৌলত হয়, তবে সে তৃতীয় মাঠ অবশ্যই খুজে বেড়াবে। মাটি ব্যতীত অন্য কিছু আদম সন্তানের পেট পুরা করতে পারবে না”।

আমি অন্য একটি সূরাও পাঠ করতাম যা কোন একটি মুশাববিহতের সমপরিমাণ (দৈর্ঘ্য)। আমাদেরকে তা ভুলিয়ে দেওয়া হয়েছে। তবে তা থেকে আমার এতটুকু মুখস্থ আছেঃ ″হে মুমিনগণ! তোমরা যা কর না তা তোমরা কেন বল”? বললে তা সাক্ষ্য তা সাক্ষ্য স্বরূপ তোমাদের গর্দানে লিখে দেওয়া হবে এবং এ বিষয়ে কিয়ামতের দিন তোমাদের জিজ্ঞাসা করা হবে।

৩২. অল্পে তুষ্টির ফযীলত

باب فَضْلِ الْقَنَاعَةِ

2291

حَدَّثَنَا زُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، وَابْنُ، نُمَيْرٍ قَالاَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ، عَنْ أَبِي الزِّنَادِ، عَنِ الأَعْرَجِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " لَيْسَ الْغِنَى عَنْ كَثْرَةِ الْعَرَضِ وَلَكِنَّ الْغِنَى غِنَى النَّفْسِ " .

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

২২৯১। যুহাইর ইবনে হারব ও ইবনে নুমাইর (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, অধিক ধন-সম্পদে ঐশ্বর্য নেই। অন্তরের অভাব মুক্তিই প্রকৃত ঐশ্বর্য।

৩৩. পার্থিব জাঁকজমক ও প্রাচুর্যে প্রতারিত হওয়া সম্পর্কে ভীতি প্রদর্শন

باب التحذير من الاغترار بزينة الدنيا وما يبسط منها

2292

وَحَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ يَحْيَى، أَخْبَرَنَا اللَّيْثُ بْنُ سَعْدٍ، ح وَحَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، - وَتَقَارَبَا فِي اللَّفْظِ - قَالَ حَدَّثَنَا لَيْثٌ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ أَبِي سَعِيدٍ الْمَقْبُرِيِّ، عَنْ عِيَاضِ بْنِ، عَبْدِ اللَّهِ بْنِ سَعْدٍ أَنَّهُ سَمِعَ أَبَا سَعِيدٍ الْخُدْرِيَّ، يَقُولُ قَامَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَخَطَبَ النَّاسَ فَقَالَ " لاَ وَاللَّهِ مَا أَخْشَى عَلَيْكُمْ أَيُّهَا النَّاسُ إِلاَّ مَا يُخْرِجُ اللَّهُ لَكُمْ مِنْ زَهْرَةِ الدُّنْيَا " . فَقَالَ رَجُلٌ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَيَأْتِي الْخَيْرُ بِالشَّرِّ فَصَمَتَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم سَاعَةً ثُمَّ قَالَ " كَيْفَ قُلْتَ " . قَالَ قُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَيَأْتِي الْخَيْرُ بِالشَّرِّ فَقَالَ لَهُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " إِنَّ الْخَيْرَ لاَ يَأْتِي إِلاَّ بِخَيْرٍ أَوَ خَيْرٌ هُوَ إِنَّ كُلَّ مَا يُنْبِتُ الرَّبِيعُ يَقْتُلُ حَبَطًا أَوْ يُلِمُّ إِلاَّ آكِلَةَ الْخَضِرِ أَكَلَتْ حَتَّى إِذَا امْتَلأَتْ خَاصِرَتَاهَا اسْتَقْبَلَتِ الشَّمْسَ ثَلَطَتْ أَوْ بَالَتْ ثُمَّ اجْتَرَّتْ فَعَادَتْ فَأَكَلَتْ فَمَنْ يَأْخُذْ مَالاً بِحَقِّهِ يُبَارَكْ لَهُ فِيهِ وَمَنْ يَأْخُذْ مَالاً بِغَيْرِ حَقِّهِ فَمَثَلُهُ كَمَثَلِ الَّذِي يَأْكُلُ وَلاَ يَشْبَعُ " .

Narrator: হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ)

২২৯২। ইয়াহয়া ইবনে ইয়াহয়া ও কুতায়বা ইবনে সাঈদ (রাহঃ) ......... আবু সাঈদ খুদরী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) দাঁড়ালেন এবং লোকদের উদ্দেশ্যে ভাষণ দিলেন। তিনি বললেন, হে লোক সকল! আল্লাহর কসম, আমি তো তোমাদের জন্য আশঙ্কা করি কেবল সেই পার্থিব ধনৈশ্বর্যের, যা আল্লাহ তোমাদের জন্য উদগত করে দিবেন। তখন এক ব্যক্তি বলল, ইয়া রাসুলাল্লাহ! কল্যাণ কি অকল্যাণ আনতে পারে? রাসূলুল্লাহ (ﷺ) (একথা শুনে) কিছুক্ষণ নীরব থাকলেন। তারপর বললেন, তুমি কী বলেছিলে? লোকটি বলল, আমি বলেছিলাম, কল্যাণ কি অকল্যাণ আনতে পারে?

রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেন, কল্যাণ কেবল কল্যাণই আনয়ন করে। যেমন, বসন্তকাল যা (তৃণলতা) উদগত করে, তা জীবজন্তুকে পেট ফুলিয়ে মারে বা মরার নিকটবর্তী করে দেয়। কিন্তু যে তৃণভোজী পশু তা খায় এবং খেয়ে উদরপূর্তি করে, তারপর সূর্যের আলোকে থাকে, পেশাব ও পায়খানা করে এবং জাবর কাটে এরপর আবার আসে এবং খায়। অতএব যে ব্যক্তি ন্যায়ভাবে মাল উপার্জন করে তার জন্য এ মাল বরকত পূর্ণ করে দেওয়া হবে। আর যে ব্যক্তি অন্যায়ভাবে মাল উপার্জন করে সে ঐ লোকের অনুরূপ যে ভক্ষণ করে কিন্তু তৃপ্ত হয় না।
2293

حَدَّثَنِي أَبُو الطَّاهِرِ، أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ وَهْبٍ، قَالَ أَخْبَرَنِي مَالِكُ بْنُ أَنَسٍ، عَنْ زَيْدِ بْنِ أَسْلَمَ، عَنْ عَطَاءِ بْنِ يَسَارٍ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " أَخْوَفُ مَا أَخَافُ عَلَيْكُمْ مَا يُخْرِجُ اللَّهُ لَكُمْ مِنْ زَهْرَةِ الدُّنْيَا " . قَالُوا وَمَا زَهْرَةُ الدُّنْيَا يَا رَسُولَ اللَّهِ قَالَ " بَرَكَاتُ الأَرْضِ " . قَالُوا يَا رَسُولَ اللَّهِ وَهَلْ يَأْتِي الْخَيْرُ بِالشَّرِّ قَالَ " لاَ يَأْتِي الْخَيْرُ إِلاَّ بِالْخَيْرِ لاَ يَأْتِي الْخَيْرُ إِلاَّ بِالْخَيْرِ لاَ يَأْتِي الْخَيْرُ إِلاَّ بِالْخَيْرِ إِنَّ كُلَّ مَا أَنْبَتَ الرَّبِيعُ يَقْتُلُ أَوْ يُلِمُّ إِلاَّ آكِلَةَ الْخَضِرِ فَإِنَّهَا تَأْكُلُ حَتَّى إِذَا امْتَدَّتْ خَاصِرَتَاهَا اسْتَقْبَلَتِ الشَّمْسَ ثُمَّ اجْتَرَّتْ وَبَالَتْ وَثَلَطَتْ ثُمَّ عَادَتْ فَأَكَلَتْ إِنَّ هَذَا الْمَالَ خَضِرَةٌ حُلْوَةٌ فَمَنْ أَخَذَهُ بِحَقِّهِ وَوَضَعَهُ فِي حَقِّهِ فَنِعْمَ الْمَعُونَةُ هُوَ وَمَنْ أَخَذَهُ بِغَيْرِ حَقِّهِ كَانَ كَالَّذِي يَأْكُلُ وَلاَ يَشْبَعُ " .

Narrator: হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ)

২২৯৩। আবু তাহির (রাহঃ) ......... আবু সাঈদ খুদরী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, আমি তোমাদের ব্যাপারে সর্বাধিক আশঙ্কা করি পার্থিব চাকচিক্যের, যা আল্লাহ তা'আলা তোমাদের জন্য সৃষ্টি করে দিবেন। তখন সাহাবাগণ বললেন, ইয়া রাসুলাল্লাহ! পার্থিব চাকচিক্য কি? তিনি বললেন, যমীনের বরকতসমূহ। তারা আবার বললেন, ইয়া রাসুলাল্লাহ! কল্যাণ কি অকল্যাণ আনতে পারে? তিনি বললেন, কল্যাণ কল্যাণই আনয়ন করে। একথা তিনি তিনবার বললেন। তবে বসন্তকাল যা উদগত করে তা হয় তো (জীব জন্তুকে) মেরে ফেলে অথবা মরার নিকটবর্তী করে দেয়। কিন্তু যে পশু তা খেয়ে উদরপূর্তি করে, তারপর রৌদ্রে গিয়ে জাবর কাটে এবং পেশাব পায়খানা করে, তারপর ফিরে আসে এবং খায়, তার কথা ভিন্ন।

পার্থিব সম্পদ মধুর ও চাকচিক্যময়! যে ন্যয়ভাবে মাল উপার্জন করে এবং যথাস্থানে তা ব্যয় করে তবে তা হয় উত্তম সহায়ক আর যে অন্যায়ভারে সস্পদ উপার্জন করে সে ঐ ব্যক্তির ন্যায়, যে ভক্ষণ করে কিন্তু তৃপ্ত হয় না।
2294

حَدَّثَنِي عَلِيُّ بْنُ حُجْرٍ، أَخْبَرَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، عَنْ هِشَامٍ، صَاحِبِ الدَّسْتَوَائِيِّ عَنْ يَحْيَى بْنِ أَبِي كَثِيرٍ، عَنْ هِلاَلِ بْنِ أَبِي مَيْمُونَةَ، عَنْ عَطَاءِ بْنِ يَسَارٍ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، قَالَ جَلَسَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَلَى الْمِنْبَرِ وَجَلَسْنَا حَوْلَهُ فَقَالَ " إِنَّ مِمَّا أَخَافُ عَلَيْكُمْ بَعْدِي مَا يُفْتَحُ عَلَيْكُمْ مِنْ زَهْرَةِ الدُّنْيَا وَزِينَتِهَا " . فَقَالَ رَجُلٌ أَوَيَأْتِي الْخَيْرُ بِالشَّرِّ يَا رَسُولَ اللَّهِ قَالَ فَسَكَتَ عَنْهُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقِيلَ لَهُ مَا شَأْنُكَ تُكَلِّمُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَلاَ يُكَلِّمُكَ قَالَ وَرُئِينَا أَنَّهُ يُنْزَلُ عَلَيْهِ فَأَفَاقَ يَمْسَحُ عَنْهُ الرُّحَضَاءَ وَقَالَ " إِنَّ هَذَا السَّائِلَ - وَكَأَنَّهُ حَمِدَهُ فَقَالَ - إِنَّهُ لاَ يَأْتِي الْخَيْرُ بِالشَّرِّ وَإِنَّ مِمَّا يُنْبِتُ الرَّبِيعُ يَقْتُلُ أَوْ يُلِمُّ إِلاَّ آكِلَةَ الْخَضِرِ فَإِنَّهَا أَكَلَتْ حَتَّى إِذَا امْتَلأَتْ خَاصِرَتَاهَا اسْتَقْبَلَتْ عَيْنَ الشَّمْسِ فَثَلَطَتْ وَبَالَتْ ثُمَّ رَتَعَتْ وَإِنَّ هَذَا الْمَالَ خَضِرٌ حُلْوٌ وَنِعْمَ صَاحِبُ الْمُسْلِمِ هُوَ لِمَنْ أَعْطَى مِنْهُ الْمِسْكِينَ وَالْيَتِيمَ وَابْنَ السَّبِيلِ أَوْ كَمَا قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَإِنَّهُ مَنْ يَأْخُذُهُ بِغَيْرِ حَقِّهِ كَانَ كَالَّذِي يَأْكُلُ وَلاَ يَشْبَعُ وَيَكُونُ عَلَيْهِ شَهِيدًا يَوْمَ الْقِيَامَةِ " .

Narrator: হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ)

২২৯৪। আলী ইবনে হুজর (রাহঃ) ......... আবু সাঈদ খুদরী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) মিম্বরের উপর বসলেন। আমরাও তার চতুষ্পার্শ্বে বসলাম। তারপর তিনি বললেন, আমার পর তোমাদের ব্যাপারে আমি যে সব বিষয়ের আশঙ্কা করি এর মধ্যে প্রধানতম বিষয় হচ্ছে পার্থিব জাঁকজমক ও এর চাকচিক্য। তখন এক ব্যক্তি বললেন, ইয়া রাসুলাল্লাহ! কল্যাণ কি অকল্যাণ আনতে পারে? এ কথা শুনে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) নীরব থাকলেন। তাঁকে বলা হল, তোমার কী ব্যাপার তুমি তো রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সাথে কথা বলছ, আর তিনি তোমার সাথে কথা বলছেন না। বর্ণনাকারী বলেন, তখন আমরা লক্ষ্য করলাম যে, তাঁর উপর ওহী নাযিল হচ্ছে। তারপর তিনি স্বাভাবিক হয়ে নিজের ঘাম মুছে ফেলে বললেন, প্রশ্নকারী কোথায়? মনে হল, তিনি তার প্রশ্ন পছন্দ করেছেন।

এরপর তিনি বললেন, কল্যাণ কখনো অকল্যাণ আনে না। অবশ্য বসন্তকাল যা কিছু উদগত করে (ভক্ষণকারী) পশুকে পেট ফুলিয়ে মেরে ফেলে বা মৃত্যুর নিকটবর্তী করে দেয়। কিন্তু যে তৃণভোজী পশু তা খায় এমনকি যখন তার উভয় কোঁক পূর্ণ হয়ে যায় তখন সে উত্তাপ গ্রহণ করে, এরপর সে মল ত্যাগ ও পেশাব করে এবং পূনরায় চরতে যায়।

মনে রাখবে, এ ধন সস্পদ সবুজ শ্যামল ও মধূর! এ সম্পদ ঐ মুসলমানের উত্তম সঙ্গী যে এ থেকে মিসকীন, ইয়াতীম ও মুসাফিরদেরকে দান করে। অথবা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যে শব্দ বলেছেন। আর যে ব্যক্তি এ সম্পদ অবৈধভাবে উপার্জন করে সে ঐ ব্যক্তির মত যে ভক্ষণ করে কিন্তু তৃপ্ত হয় না। অধিকন্তু কিয়ামতের দিন এ সম্পদ তার বিরুদ্ধে সাক্ষী হবে।

৩৪. ভিক্ষা থেকে বিরত থাকা, ধৈর্যধারণ ও অল্পে তুষ্ট থাকার ফযীলত এবং এগুলোর প্রতি উৎসাহ দান

باب فَضْلِ التَّعَفُّفِ وَالصَّبْرِ

2295

حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، عَنْ مَالِكِ بْنِ أَنَسٍ، فِيمَا قُرِئَ عَلَيْهِ عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ عَطَاءِ بْنِ يَزِيدَ اللَّيْثِيِّ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، أَنَّ نَاسًا، مِنَ الأَنْصَارِ سَأَلُوا رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَأَعْطَاهُمْ ثُمَّ سَأَلُوهُ فَأَعْطَاهُمْ حَتَّى إِذَا نَفِدَ مَا عِنْدَهُ قَالَ " مَا يَكُنْ عِنْدِي مِنْ خَيْرٍ فَلَنْ أَدَّخِرَهُ عَنْكُمْ وَمَنْ يَسْتَعْفِفْ يُعِفَّهُ اللَّهُ وَمَنْ يَسْتَغْنِ يُغْنِهِ اللَّهُ وَمَنْ يَصْبِرْ يُصَبِّرْهُ اللَّهُ وَمَا أُعْطِيَ أَحَدٌ مِنْ عَطَاءٍ خَيْرٌ وَأَوْسَعُ مِنَ الصَّبْرِ " .

Narrator: হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ)

২২৯৫। কুতায়বা ইবনে সাঈদ (রাহঃ) ......... আবু সাঈদ খুদরী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা কয়েকজন আনসারী রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট সাওয়ালকরলে তিনি তখন তাদের কিছু দান করলেন। আবার তারা সাওয়ালকরলেন তিনি তাদেরকে আবার দান করলেন। এমনকি তার নিকট যা ছিল তা নিঃশেষ হয়ে গেলে। তিনি বললেন, আমার নিকট আরও মাল থাকলে আমি তা কখনো তোমাদের না দিয়ে মওজুদ রাখব না। যে ব্যক্তি ভিক্ষা থেকে বিরত থাকে, আল্লাহ তাকে ভিক্ষা থেকে পবিত্র রাখেন এবং যে ব্যক্তি পরমুখাপেক্ষী না হয়, আল্লাহ তাকে পরমুখাপেক্ষী করেন না এবং যে ধৈর্যধারণ করে আল্লাহ তাকে ধৈর্যশীল করেন। ধৈর্যের চাইতে অধিক কল্যাণকর ও প্রশস্ততর সম্পদ কাউকে দান করা হয়নি।

2296

حَدَّثَنَا عَبْدُ بْنُ حُمَيْدٍ، أَخْبَرَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، أَخْبَرَنَا مَعْمَرٌ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، بِهَذَا الإِسْنَادِ . نَحْوَهُ .

Narrator: হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ)

২২৯৬। আব্দ ইবনে হুমায়দ (রাহঃ) ......... যুহরী (রাহঃ) এর সূত্রে এ সনদে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।

2297

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا أَبُو عَبْدِ الرَّحْمَنِ الْمُقْرِئُ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ أَبِي، أَيُّوبَ حَدَّثَنِي شُرَحْبِيلُ، - وَهُوَ ابْنُ شَرِيكٍ - عَنْ أَبِي عَبْدِ الرَّحْمَنِ الْحُبُلِيِّ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ، بْنِ عَمْرِو بْنِ الْعَاصِ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " قَدْ أَفْلَحَ مَنْ أَسْلَمَ وَرُزِقَ كَفَافًا وَقَنَّعَهُ اللَّهُ بِمَا آتَاهُ " .

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনে আ'স (রাঃ)

২২৯৭। আবু বকর ইবনে আবি শাঈবা (রাহঃ) ......... আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনে আস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেন, যে ব্যক্তি ইসলাম গ্রহণ করল, তাকে প্রয়োজন মাফিক জীবিকা প্রদান করা হল এবং তাকে আল্লাহ যা দিয়েছেন তার উপর সন্তুষ্ট থাকল সেই সফলকাম হল।

2298

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، وَعَمْرٌو النَّاقِدُ، وَأَبُو سَعِيدٍ الأَشَجُّ قَالُوا حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، حَدَّثَنَا الأَعْمَشُ، ح وَحَدَّثَنِي زُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ فُضَيْلٍ، عَنْ أَبِيهِ، كِلاَهُمَا عَنْ عُمَارَةَ بْنِ الْقَعْقَاعِ، عَنْ أَبِي زُرْعَةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " اللَّهُمَّ اجْعَلْ رِزْقَ آلِ مُحَمَّدٍ قُوتًا " .

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

২২৯৮। আবু বকর ইবনে আবি শাঈবা, আমরুন নাকিদ, আবু সাঈদ আশাজ্জ ও যুহাইর ইবনে হারব (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেন, হে আল্লাহ! আপনি মুহাম্মাদ (ﷺ) এর পরিবার পরিজনকে জীবন ধারণ করা যায় এ পরিমাণ রিযক দান করুন।

৩৫. ইসলামের প্রতি কাউকে আকৃষ্ট করা উদ্দেশ্য, তাকে এবং ঐ ব্যক্তি, যাকে দান না করলে ঈমান থেকে ফিরে যাবার আশঙ্কা রয়েছে, তাদের দান করা এবং মূর্খতার কারণে কঠোরতার সাথে সাওয়াল করলে তা সহ্য করা আর খারিজীদের বর্ণনা ও তাদের বিধান

باب اعطاء المؤلفة ومن يخاف على ايمانه ان لم يعط

2299

حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، وَزُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، وَإِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ الْحَنْظَلِيُّ، قَالَ إِسْحَاقُ أَخْبَرَنَا وَقَالَ الآخَرَانِ، حَدَّثَنَا جَرِيرٌ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ أَبِي وَائِلٍ، عَنْ سَلْمَانَ، بْنِ رَبِيعَةَ قَالَ قَالَ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ رضى الله عنه قَسَمَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَسْمًا فَقُلْتُ وَاللَّهِ يَا رَسُولَ اللَّهِ لَغَيْرُ هَؤُلاَءِ كَانَ أَحَقَّ بِهِ مِنْهُمْ . قَالَ " إِنَّهُمْ خَيَّرُونِي أَنْ يَسْأَلُونِي بِالْفُحْشِ أَوْ يُبَخِّلُونِي فَلَسْتُ بِبَاخِلٍ " .

Narrator: হযরত উমর ইবনুল খাত্তাব রাযি.

২২৯৯। উসমান ইবনে আবি শাঈবা, যূহায়র ইবনে হারব ও ইসহাক ইবনে ইবরাহীম হানযালী (রাহঃ) ......... উমর ইবনুল খাত্তাব (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বিশেষ ক্ষেত্রে বন্টন করলেন। তখন আমি বললাম, ইয়া রাসুলাল্লাহ! এদের ছাড়া অন্যেরা এর অধিক হকদার ছিল। তিনি বললেন, এরা দু’টি কাজের একটি গ্রহণের ইখতিয়ার দিয়েছে। এরা হয় অভাবে আমার কাছে সাওয়ালকরবে অথবা আমার প্রতি কৃপণতার অভিযোগ আনবে। অথচ আমি কৃপণ হতে রাজী নই।

2300

حَدَّثَنِي عَمْرٌو النَّاقِدُ، حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ سُلَيْمَانَ الرَّازِيُّ، قَالَ سَمِعْتُ مَالِكًا، ح وَحَدَّثَنِي يُونُسُ بْنُ عَبْدِ الأَعْلَى، - وَاللَّفْظُ لَهُ - أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ وَهْبٍ، حَدَّثَنِي مَالِكُ، بْنُ أَنَسٍ عَنْ إِسْحَاقَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي طَلْحَةَ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، قَالَ كُنْتُ أَمْشِي مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَعَلَيْهِ رِدَاءٌ نَجْرَانِيٌّ غَلِيظُ الْحَاشِيَةِ فَأَدْرَكَهُ أَعْرَابِيٌّ فَجَبَذَهُ بِرِدَائِهِ جَبْذَةً شَدِيدَةً نَظَرْتُ إِلَى صَفْحَةِ عُنُقِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَقَدْ أَثَّرَتْ بِهَا حَاشِيَةُ الرِّدَاءِ مِنْ شِدَّةِ جَبْذَتِهِ ثُمَّ قَالَ يَا مُحَمَّدُ مُرْ لِي مِنْ مَالِ اللَّهِ الَّذِي عِنْدَكَ . فَالْتَفَتَ إِلَيْهِ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَضَحِكَ ثُمَّ أَمَرَ لَهُ بِعَطَاءٍ .

Narrator: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

২৩০০। আমরুন নাকিদ ও ইউনুস ইবনে আব্দুল আ’লা (রাহঃ) ......... আনাস ইবনে মালিক (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সঙ্গে হেঁটে যাচ্ছিলাম। তখন নযরানে তৈরী মোটা পাড়বিশিষ্ট একটি চাঁদর তাঁর গায়ে ছিল। তাঁর সঙ্গে এক বেদুঈনের সাক্ষাত হয়। সে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর চাঁদর ধরে এমন জোরে টান দিল যে, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর গর্দানের উপরিভাগে তাকিয়ে দেখলাম এ শক্ত টানের কারণে তাঁর গর্দানের উপর চাঁদরের পাড়ের দাগ বসে গেছে। তারপর সে বলল, হে মুহাম্মাদ! আল্লাহ প্রদত্ত যে মাল তোমার নিকট মওজুদ আছে এর থেকে আমাকে কিছু দেয়ার জন্য আদেশ কর। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তার দিকে তাকালেন এবং হেসে দিলেন! এরপর তাকে দান করার জন্য নির্দেশ দিলেন।

2301

حَدَّثَنَا زُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الصَّمَدِ بْنُ عَبْدِ الْوَارِثِ، حَدَّثَنَا هَمَّامٌ، ح وَحَدَّثَنِي زُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، حَدَّثَنَا عُمَرُ بْنُ يُونُسَ، حَدَّثَنَا عِكْرِمَةُ بْنُ عَمَّارٍ، ح وَحَدَّثَنِي سَلَمَةُ بْنُ شَبِيبٍ، حَدَّثَنَا أَبُو الْمُغِيرَةِ، حَدَّثَنَا الأَوْزَاعِيُّ، كُلُّهُمْ عَنْ إِسْحَاقَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي طَلْحَةَ، عَنْ أَنَسِ، بْنِ مَالِكٍ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم بِهَذَا الْحَدِيثِ . وَفِي حَدِيثِ عِكْرِمَةَ بْنِ عَمَّارٍ مِنَ الزِّيَادَةِ قَالَ ثُمَّ جَبَذَهُ إِلَيْهِ جَبْذَةً رَجَعَ نَبِيُّ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي نَحْرِ الأَعْرَابِيِّ . وَفِي حَدِيثِ هَمَّامٍ فَجَاذَبَهُ حَتَّى انْشَقَّ الْبُرْدُ وَحَتَّى بَقِيَتْ حَاشِيَتُهُ فِي عُنُقِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم .

Narrator: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

২৩০১। যুহাইর ইবনে হারব ও সালামা ইবনে শাবীব (রাহঃ) ......... আনাস ইবনে মালিক (রাযিঃ) এর সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। তবে ইকরিমা ইবনে আম্মারের হাদীসে এ কথাটি উল্লেখ আছে যে, বেদুঈন লোকটি চাদর ধরে তার দিকে নবী (ﷺ) কে এমনভাবে টান দিলে যে, তিনি বেদুঈনের বুকের উপর পড়ে গেলেন। আর হাম্মামের বর্ণনায় আছে যে, “সে তার সঙ্গে এমনভাবে টানাটানি করল যে, চাঁদরটি ছিড়ে একপার্শ্ব রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর ঘাড়ের উপর আটকে রইল।

2302

حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا لَيْثٌ، عَنِ ابْنِ أَبِي مُلَيْكَةَ، عَنِ الْمِسْوَرِ بْنِ مَخْرَمَةَ، أَنَّهُ قَالَ قَسَمَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَقْبِيَةً وَلَمْ يُعْطِ مَخْرَمَةَ شَيْئًا فَقَالَ مَخْرَمَةُ يَا بُنَىَّ انْطَلِقْ بِنَا إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم . فَانْطَلَقْتُ مَعَهُ قَالَ ادْخُلْ فَادْعُهُ لِي . قَالَ فَدَعَوْتُهُ لَهُ فَخَرَجَ إِلَيْهِ وَعَلَيْهِ قَبَاءٌ مِنْهَا فَقَالَ " خَبَأْتُ هَذَا لَكَ " . قَالَ فَنَظَرَ إِلَيْهِ فَقَالَ " رَضِيَ مَخْرَمَةُ " .

Narrator: মিসওয়ার ইবনে মাখরামা (রাঃ)

২৩০২। কুতায়বা ইবনে সাঈদ (রাহঃ) ......... মিসওয়ার ইবনে মাখরামা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কয়েকটি ‘কাবা’ বিতরণ করলেন এবং মাখরামা (রাযিঃ) কে কিছু দিলেন না। তখন মাখরামা (রাযিঃ) বললেন, হে বৎস! তুমি আমাকে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট নিয়ে চল। আমি তাঁর সঙ্গে চললাম। তারপর তিনি বললেন, তুমি যাও এবং তাঁকে আমার পক্ষ থেকে ডাক। তিনি বলেন, আমি তাঁর পক্ষ থেকে তাঁকে ডাকলাম। তিনি বের হয়ে নিকট এলেন। এ সময় ঐগুলোর একটি ‘কাবা’ তাঁর সঙ্গে ছিল। তিনি বললেন, এটি আমি তোমার জন্য লুকিয়ে রেখেছিলাম। তারপর তিনি মাখরামা (রাযিঃ) এর দিকে তাকিয়ে বললেন, মাখরামা খুশী হয়েছে।

2303

حَدَّثَنَا أَبُو الْخَطَّابِ، زِيَادُ بْنُ يَحْيَى الْحَسَّانِيُّ حَدَّثَنَا حَاتِمُ بْنُ وَرْدَانَ أَبُو صَالِحٍ، حَدَّثَنَا أَيُّوبُ السَّخْتِيَانِيُّ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي مُلَيْكَةَ، عَنِ الْمِسْوَرِ بْنِ مَخْرَمَةَ، قَالَ قَدِمَتْ عَلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَقْبِيَةٌ فَقَالَ لِي أَبِي مَخْرَمَةُ انْطَلِقْ بِنَا إِلَيْهِ عَسَى أَنْ يُعْطِيَنَا مِنْهَا شَيْئًا . قَالَ فَقَامَ أَبِي عَلَى الْبَابِ فَتَكَلَّمَ فَعَرَفَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم صَوْتَهُ فَخَرَجَ وَمَعَهُ قَبَاءٌ وَهُوَ يُرِيهِ مَحَاسِنَهُ وَهُوَ يَقُولُ " خَبَأْتُ هَذَا لَكَ خَبَأْتُ هَذَا لَكَ " .

Narrator: মিসওয়ার ইবনে মাখরামা (রাঃ)

২৩০৩। আবুল খাত্তাব যিয়াদ ইবনে ইয়াহয়া হাসসানী (রাহঃ) ......... মিসওয়ার ইবনে মাখরামা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একবার রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট কয়েকটি ‘কাবা’ আসল। তখন আমার পিতা মাখরামা আমাকে বললেন, তুমি আমাকে তাঁর নিকট নিয়ে চল হয় তো এর থেকে তিনি আমাকেও কিছু দিবেন। তারপর আমার পিতা (রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর) গূহ দ্বারে গিয়ে দাঁড়িয়ে একথা বলতে লাগলেন। রাসূলুল্লাহ-(ﷺ) তাঁর আওয়াজ চিনে ফেললেন এবং বেরিয়ে এলেন, এ সময় তাকে সঙ্গে একটি ‘কাবা’ ছিল। তিনি মাখরামাকে ‘কাবা’ সৌন্দর্য দেখাতে দেখাতে বললেন, এটি তোমার জন্য লুকিয়ে রেখেছিলাম, এটি আমি তোমার জন্য আমি লুকিয়ে রেখেছিলাম।

2304

حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ عَلِيٍّ الْحُلْوَانِيُّ، وَعَبْدُ بْنُ حُمَيْدٍ، قَالاَ حَدَّثَنَا يَعْقُوبُ، - وَهُوَ ابْنُ إِبْرَاهِيمَ بْنِ سَعْدٍ - حَدَّثَنَا أَبِي، عَنْ صَالِحٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، أَخْبَرَنِي عَامِرُ بْنُ سَعْدٍ، عَنْ أَبِيهِ، سَعْدٍ أَنَّهُ أَعْطَى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم رَهْطًا وَأَنَا جَالِسٌ فِيهِمْ قَالَ فَتَرَكَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مِنْهُمْ رَجُلاً لَمْ يُعْطِهِ وَهُوَ أَعْجَبُهُمْ إِلَىَّ فَقُمْتُ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَسَارَرْتُهُ فَقُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ مَا لَكَ عَنْ فُلاَنٍ وَاللَّهِ إِنِّي لأَرَاهُ مُؤْمِنًا . قَالَ " أَوْ مُسْلِمًا " . فَسَكَتُّ قَلِيلاً ثُمَّ غَلَبَنِي مَا أَعْلَمُ مِنْهُ فَقُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ مَا لَكَ عَنْ فُلاَنٍ فَوَاللَّهِ إِنِّي لأَرَاهُ مُؤْمِنًا . قَالَ " أَوْ مُسْلِمًا " . فَسَكَتُّ قَلِيلاً ثُمَّ غَلَبَنِي مَا أَعْلَمُ مِنْهُ فَقُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ مَا لَكَ عَنْ فُلاَنٍ فَوَاللَّهِ إِنِّي لأَرَاهُ مُؤْمِنًا . قَالَ " أَوْ مُسْلِمًا " . قَالَ " إِنِّي لأُعْطِي الرَّجُلَ . وَغَيْرُهُ أَحَبُّ إِلَىَّ مِنْهُ خَشْيَةَ أَنْ يُكَبَّ فِي النَّارِ عَلَى وَجْهِهِ " . وَفِي حَدِيثِ الْحُلْوَانِيِّ تَكْرَارُ الْقَوْلِ مَرَّتَيْنِ .

Narrator: হযরত সা'দ ইবন আবী ওয়াক্কাস রাযি.

২৩০৪। হাসান ইবনে আলী হুলওয়ানি এবং আব্দ ইবনে হুমায়দ (রাহঃ) ......... সা’দ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) একদল লোককে (কিছু মাল) দান করলেন। আমিও তাদের মাঝে বসাছিলাম। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাদের থেকে এক ব্যক্তিকে এড়িয়ে গেলেন, তাকে দিলেন না। অথচ এ লোকটি এদের তুলনায় আমার কাছে অধিক যোগ্য ছিল। তাই আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট গিয়ে তাকে গোপনে বললাম, অমুক লোকটির ব্যাপারে আপনার কি খেয়াল? আল্লাহর কসম! আমি তো তাকে একজন মূমিন বলে ধারণা করি। তিনি বলেন, বরং মুসলমান।

এরপর আমি কিছুক্ষণ চুপ করে থাকলাম। কিন্তু তার সম্বন্ধে আমি যা জানি তা আমাকে প্রভাবিত করল। ফলে পূনরায় আমি বললাম, ইয়া রাসুলাল্লাহ! অমুকের ব্যাপারে আপনার কি খেয়াল? আল্লাহর শপথ! আমি তো তাকে অবশ্যই একজন মুমিন বলে মনে করি। তিনি বললেন, বরং মুসলিম। পুনরায় আমি বললাম, ইয়া রাসুলাল্লাহ! অমুকের ব্যাপারে আপনার কি খেয়াল? আল্লাহর শপথ! আমি তো তাকে অবশ্যই একজন মুমিন বলে মনে করি তিনি বললেন, বরং মুসলিম। তার পরে নবী (ﷺ) বললেন, আমি কোন একজনকে কিছু দান করি অথচ অন্যজন তার চাইতে আমার নিকট অধিক প্রিয়, এই আশঙ্কায় যে, অধোমুখী হয়ে সে জাহান্নামে পতিত হতে পারে। হুলওয়ানীর হাদীসে কথাটি তিনবারের স্থলে দু’বার বর্ণিত আছে।
2305

حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي عُمَرَ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، ح وَحَدَّثَنِيهِ زُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، حَدَّثَنَا يَعْقُوبُ، بْنُ إِبْرَاهِيمَ بْنِ سَعْدٍ حَدَّثَنَا ابْنُ أَخِي ابْنِ شِهَابٍ، ح وَحَدَّثَنَاهُ إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، وَعَبْدُ، بْنُ حُمَيْدٍ قَالاَ أَخْبَرَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، أَخْبَرَنَا مَعْمَرٌ، كُلُّهُمْ عَنِ الزُّهْرِيِّ، بِهَذَا الإِسْنَادِ عَلَى مَعْنَى حَدِيثِ صَالِحٍ عَنِ الزُّهْرِيِّ .

Narrator: হযরত সা'দ ইবন আবী ওয়াক্কাস রাযি.

২৩০৫। ইবনে আবু উমর, যুহাইর ইবনে হারব, ইসহাক ইবনে ইবরাহীম ও আব্দ ইবনে হুমায়দ (রাহঃ) ......... যুহরী (রাহঃ) থেকে সালিহ (রাহঃ) এর সূত্রে বর্ণিত হাদীসের মর্মে বর্ণনা করেছেন।

2306

حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ عَلِيٍّ الْحُلْوَانِيُّ، حَدَّثَنَا يَعْقُوبُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ بْنِ سَعْدٍ، حَدَّثَنَا أَبِي، عَنْ صَالِحٍ، عَنْ إِسْمَاعِيلَ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ سَعْدٍ، قَالَ سَمِعْتُ مُحَمَّدَ بْنَ سَعْدٍ، يُحَدِّثُ بِهَذَا الْحَدِيثِ - يَعْنِي حَدِيثَ الزُّهْرِيِّ الَّذِي ذَكَرْنَا - فَقَالَ فِي حَدِيثِهِ فَضَرَبَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِيَدِهِ بَيْنَ عُنُقِي وَكَتِفِي ثُمَّ قَالَ " أَقِتَالاً أَىْ سَعْدُ إِنِّي لأُعْطِي الرَّجُلَ " .

Narrator: হযরত সা'দ ইবন আবী ওয়াক্কাস রাযি.

২৩০৬। হাসান ইবনে আলী আল হুলওয়ানী (রাহঃ) ......... মুহাম্মাদ ইবনে সা’দ (রাহঃ) এর সূত্রে যুহরী কর্তৃক হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। তবে এ হাদীসে এও বর্ণিত আছে যে, তারপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাঁর হাত আমার ঘাড় ও কাঁধের উপর মারলেন এবং বললেন, হে সা’দ! তুমি কি আমার সাথে লড়াই করতে চাইছ? আমি অবশ্যই কোন ব্যক্তিকে দান করি......।

2307

حَدَّثَنِي حَرْمَلَةُ بْنُ يَحْيَى التُّجِيبِيُّ، أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ وَهْبٍ، أَخْبَرَنِي يُونُسُ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، أَخْبَرَنِي أَنَسُ بْنُ مَالِكٍ، أَنَّ أُنَاسًا، مِنَ الأَنْصَارِ قَالُوا يَوْمَ حُنَيْنٍ حِينَ أَفَاءَ اللَّهُ عَلَى رَسُولِهِ مِنْ أَمْوَالِ هَوَازِنَ مَا أَفَاءَ فَطَفِقَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يُعْطِي رِجَالاً مِنْ قُرَيْشٍ الْمِائَةَ مِنَ الإِبِلِ فَقَالُوا يَغْفِرُ اللَّهُ لِرَسُولِ اللَّهِ يُعْطِي قُرَيْشًا وَيَتْرُكُنَا وَسُيُوفُنَا تَقْطُرُ مِنْ دِمَائِهِمْ . قَالَ أَنَسُ بْنُ مَالِكٍ فَحُدِّثَ ذَلِكَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مِنْ قَوْلِهِمْ فَأَرْسَلَ إِلَى الأَنْصَارِ فَجَمَعَهُمْ فِي قُبَّةٍ مِنْ أَدَمٍ فَلَمَّا اجْتَمَعُوا جَاءَهُمْ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ " مَا حَدِيثٌ بَلَغَنِي عَنْكُمْ " . فَقَالَ لَهُ فُقَهَاءُ الأَنْصَارِ أَمَّا ذَوُو رَأْيِنَا يَا رَسُولَ اللَّهِ فَلَمْ يَقُولُوا شَيْئًا وَأَمَّا أُنَاسٌ مِنَّا حَدِيثَةٌ أَسْنَانُهُمْ قَالُوا يَغْفِرُ اللَّهُ لِرَسُولِهِ يُعْطِي قُرَيْشًا وَيَتْرُكُنَا وَسُيُوفُنَا تَقْطُرُ مِنْ دِمَائِهِمْ . فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " فَإِنِّي أُعْطِي رِجَالاً حَدِيثِي عَهْدٍ بِكُفْرٍ أَتَأَلَّفُهُمْ أَفَلاَ تَرْضَوْنَ أَنْ يَذْهَبَ النَّاسُ بِالأَمْوَالِ وَتَرْجِعُونَ إِلَى رِحَالِكُمْ بِرَسُولِ اللَّهِ فَوَاللَّهِ لَمَا تَنْقَلِبُونَ بِهِ خَيْرٌ مِمَّا يَنْقَلِبُونَ بِهِ " . فَقَالُوا بَلَى يَا رَسُولَ اللَّهِ قَدْ رَضِينَا . قَالَ " فَإِنَّكُمْ سَتَجِدُونَ أَثَرَةً شَدِيدَةً فَاصْبِرُوا حَتَّى تَلْقَوُا اللَّهَ وَرَسُولَهُ فَإِنِّي عَلَى الْحَوْضِ " . قَالُوا سَنَصْبِرُ .

Narrator: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

২৩০৭। হারামালা ইবনে ইয়াহয়া তুজীবী (রাহঃ) ......... আনাস ইবনে মালিক (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, হুনায়ন যুদ্ধের দিন আল্লাহ তাঁর রাসুলকে হাওয়াযিন গোত্রের যে সম্পদ দান করলেন তা থেকে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কুরাইশদের কিছু লোককে একশত উট দান করলেন। আনসারগণ বলতে লাগলেন, আল্লাহ তাঁর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে ক্ষমা করুন। তিনি কুরাইশদের দিচ্ছেন, আর আমাদেরকে বাদ দিচ্ছেন। অথচ আমাদের তরবারী থেকে এখনো তাদের রক্ত ঝরছে।

আনাস ইবনে মালিক (রাযিঃ) বলেন, তাদের এ কথাটি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট বর্ণনা করা হল। তখন তিনি আনসারদের ডেকে পাঠালেন এবং তাদের চামড়ার একটি তাঁবুর মধ্যে সমবেত করলেন। তাঁরা সকলে সমবেত হলে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাদের নিকট আসলেন এবং তাদেরকে জিজ্ঞাসা করলেন, কথাটি কী, যা তোমাদের থেকে আমার নিকট পৌছেছে? তখন প্রজ্ঞাবান আনসারগণ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে বললেন, ইয়া রাসুলাল্লাহ! আমাদের জ্ঞানী লেকেরা কিছুই বলেনি, অবশ্য আমাদের মধ্যে কিছু অল্প বয়সের লোক বলেছে যে, আল্লাহ তাঁর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে ক্ষমা করুন, তিনি কুরাইশদের দান করছেন। আর আমাদের বাদ দিচ্ছেন। অথচ তাদের রক্ত এখনো আমাদের তরবারী থেকে ঝরছে।

রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, যারা সবেমাত্র কুফুরি বর্জন করে ইসলাম গ্রহণ করেছে, এমন কতিপয় ব্যক্তিকে ইসলামের প্রতি আকৃষ্ট করার জন্য আমি দান করেছি। তোমরা কি এতে সন্তুষ্ট নও যে, লোকেরা ধন দৌলত নিয়ে যাবে আর তোমরা আপন গৃহে প্রস্থান করবে আল্লাহর রাসুল (ﷺ) কে নিয়ে? আল্লাহর কসম! তোমরা যা নিয়ে প্রত্যাবর্তন করবে তা উত্তম এ জিনিস থেকে যা নিয়ে তারা প্রত্যাবর্তন করছো। তারপর আনসারগণ বললেন, ইয়া রাসুলাল্লাহ! হ্যাঁ, অবশ্যই আমরা এতে সন্তুষ্ট আছি। এরপর তিনি বললেন, তোমরা তোমাদের উপর অন্যকে অগ্রাধিকার পেতে দেখবে। এমতাবস্থায় তোমরা ধৈর্য ধারণ করবে, যে পর্যন্ত না আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের সঙ্গে সাক্ষাত লাভ করবে। আমি অবশ্য হাউযে কাউসারের পাশে থাকব (সেখানে আমাকে তোমরা পাবে)।
2308

حَدَّثَنَا حَسَنٌ الْحُلْوَانِيُّ، وَعَبْدُ بْنُ حُمَيْدٍ، قَالاَ حَدَّثَنَا يَعْقُوبُ، - وَهُوَ ابْنُ إِبْرَاهِيمَ بْنِ سَعْدٍ - حَدَّثَنَا أَبِي، عَنْ صَالِحٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، حَدَّثَنِي أَنَسُ بْنُ مَالِكٍ، أَنَّهُ قَالَ لَمَّا أَفَاءَ اللَّهُ عَلَى رَسُولِهِ مَا أَفَاءَ مِنْ أَمْوَالِ هَوَازِنَ . وَاقْتَصَّ الْحَدِيثَ بِمِثْلِهِ غَيْرَ أَنَّهُ قَالَ قَالَ أَنَسٌ فَلَمْ نَصْبِرْ . وَقَالَ فَأَمَّا أُنَاسٌ حَدِيثَةٌ أَسْنَانُهُمْ .

Narrator: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

২৩০৮। হাসান আল-হুলওয়ানী ও আব্দ ইবনে হুমায়দ (রাহঃ) ......... আনাস ইবনে মালিক (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, হাওয়াযিন গোত্রের যে ধন সম্পদ থেকে আল্লাহ তাআলা তাঁর রাসুল (ﷺ) কে (ফায় হিসেবে) দিয়েছেন......... এরপর অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। তবে এ হাদীসের মধ্যে রয়েছে যে, আনাস (রাযিঃ) বললেন, আমরা ধৈর্য্যধারণ করতে পারিনি কারণ আমাদের মধ্যে অল্পবয়সী রয়েছে।

2309

وَحَدَّثَنِي زُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، حَدَّثَنَا يَعْقُوبُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، حَدَّثَنَا ابْنُ أَخِي ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ عَمِّهِ، قَالَ أَخْبَرَنِي أَنَسُ بْنُ مَالِكٍ، . وَسَاقَ الْحَدِيثَ بِمِثْلِهِ . إِلاَّ أَنَّهُ قَالَ قَالَ أَنَسٌ قَالُوا نَصْبِرُ . كَرِوَايَةِ يُونُسَ عَنِ الزُّهْرِيِّ .

Narrator: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

২৩০৯। যুহাইর ইবনে হারব (রাহঃ) ......... আনাস ইবনে মালিক (রাযিঃ) থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। তবে আনাস (রাযিঃ) বলেছেন যে, তারা বললেন, “আমরা ধৈর্য্যধারণ করব”। যেমন যুহরি থেকে ইউনূসের রিওয়ায়াতে বর্ণিত আছে।

2310

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، وَابْنُ، بَشَّارٍ قَالَ ابْنُ الْمُثَنَّى حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ، أَخْبَرَنَا شُعْبَةُ، قَالَ سَمِعْتُ قَتَادَةَ، يُحَدِّثُ عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، قَالَ جَمَعَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم الأَنْصَارَ فَقَالَ " أَفِيكُمْ أَحَدٌ مِنْ غَيْرِكُمْ " . فَقَالُوا لاَ إِلاَّ ابْنُ أُخْتٍ لَنَا . فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " إِنَّ ابْنَ أُخْتِ الْقَوْمِ مِنْهُمْ " . فَقَالَ " إِنَّ قُرَيْشًا حَدِيثُ عَهْدٍ بِجَاهِلِيَّةٍ وَمُصِيبَةٍ وَإِنِّي أَرَدْتُ أَنْ أَجْبُرَهُمْ وَأَتَأَلَّفَهُمْ أَمَا تَرْضَوْنَ أَنْ يَرْجِعَ النَّاسُ بِالدُّنْيَا وَتَرْجِعُونَ بِرَسُولِ اللَّهِ إِلَى بُيُوتِكُمْ لَوْ سَلَكَ النَّاسُ وَادِيًا وَسَلَكَ الأَنْصَارُ شِعْبًا لَسَلَكْتُ شِعْبَ الأَنْصَارِ " .

Narrator: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

২৩১০। মুহাম্মাদ ইবনুল মাসান্না ও ইবনে বাশশার (রাহঃ) ......... আনাস ইবনে মালিক (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আনসারদের একত্রিত করলেন এবং বললেন, তোমাদের মধ্যে অন্য গোত্রের কেউ আছে কি? তারা বললেন, নেই। তবে আমাদের ভগ্নিপূত্রগণ। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, ভগ্নিপূত্রগণ কওমেরই অন্তর্ভুক্ত। অতঃপর তিনি পূনরায় বললেন, কুরাইশ লোকেরা সবেমাত্র জাহিলী যুগ বর্জন করেছে এবং সদ্য বিপদমুক্ত হয়েছে। অতএব আমার ইচ্ছা, আমি তাদের ক্ষতির প্রতিদান দিব এবং তাদের হৃদয়কে আকৃষ্ট করব। তোমরা কি সন্তুষ্ট নও যে, লোকেরা পার্থিব সম্পদ নিয়ে প্রত্যাবর্তন করবে আর তোমরা আল্লাহর রাসুল (ﷺ) কে নিয়ে বাড়ীতে প্রত্যাবর্তন করবে। যদি সমস্ত মানুষ এক প্রান্তরে চলতে থাকে আর আনসারগণ চলে অন্য একটি ঘাটি দিয়ে, তাহলে আমি অবশ্যই আনসারদের ঘাটিতে তাদের সাথে চলব।

2311

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْوَلِيدِ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ أَبِي التَّيَّاحِ، قَالَ سَمِعْتُ أَنَسَ بْنَ مَالِكٍ، قَالَ لَمَّا فُتِحَتْ مَكَّةُ قَسَمَ الْغَنَائِمَ فِي قُرَيْشٍ فَقَالَتِ الأَنْصَارُ إِنَّ هَذَا لَهُوَ الْعَجَبُ إِنَّ سُيُوفَنَا تَقْطُرُ مِنْ دِمَائِهِمْ وَإِنَّ غَنَائِمَنَا تُرَدُّ عَلَيْهِمْ . فَبَلَغَ ذَلِكَ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَجَمَعَهُمْ فَقَالَ " مَا الَّذِي بَلَغَنِي عَنْكُمْ " . قَالُوا هُوَ الَّذِي بَلَغَكَ . وَكَانُوا لاَ يَكْذِبُونَ . قَالَ " أَمَا تَرْضَوْنَ أَنْ يَرْجِعَ النَّاسُ بِالدُّنْيَا إِلَى بُيُوتِهِمْ وَتَرْجِعُونَ بِرَسُولِ اللَّهِ إِلَى بُيُوتِكُمْ لَوْ سَلَكَ النَّاسُ وَادِيًا أَوْ شِعْبًا وَسَلَكَتِ الأَنْصَارُ وَادِيًا أَوْ شِعْبًا لَسَلَكْتُ وَادِيَ الأَنْصَارِ أَوْ شِعْبَ الأَنْصَارِ " .

Narrator: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

২৩১১। মুহাম্মাদ ইবনে ওয়ালীদ (রাহঃ) ......... আনাস ইবনে মালিক (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, মক্কা বিজয়ের পর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) গণিমতের মাল কুরাইশদের মধ্যে বন্টন করলেন। এতে আননারগণ বলতে লাগল যে, একি আাশ্চর্য। আমাদের তরবারী থেকে তাদের রক্ত ঝরছে আর আমাদের গণিমত তাদের দেওয়া হচ্ছে! এ সংবাদ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট পৌছলে তিনি তাদেরকে একত্রিত করলেন এবং বললেন, কী তা, যা তোমাদের পক্ষ হতে আমার নিকট পৌছেছে? তারা বললেন, যা আপনার কাছে পৌছেছে তা ঠিকই আর আনসাররা মিথ্যা কথা বলতেন না।

রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, তোমরা কি সন্তুষ্ট নও যে, লোকেরা পার্থিব ধন-সম্পদ নিয়ে নিজ বাড়ীতে ফিরে যাবে আর তোমরা তোমাদের বাড়ীতে ফিরে যাবে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে সঙ্গে নিয়ে। যদি লোকজন কোন প্রান্তর বা ঘাঁটি দিয়ে চলে আর আনসারগণ চলে অন্য প্রান্তর বা ঘাঁটি দিয়ে, তবে অবশ্যই আমি আনসারদের প্রান্তর বা ঘাঁটিতেই চলব।
2312

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، وَإِبْرَاهِيمُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عَرْعَرَةَ، - يَزِيدُ أَحَدُهُمَا عَلَى الآخَرِ الْحَرْفَ بَعْدَ الْحَرْفِ - قَالاَ حَدَّثَنَا مُعَاذُ بْنُ مُعَاذٍ حَدَّثَنَا ابْنُ عَوْنٍ عَنْ هِشَامِ بْنِ زَيْدِ بْنِ أَنَسٍ عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ قَالَ لَمَّا كَانَ يَوْمُ حُنَيْنٍ أَقْبَلَتْ هَوَازِنُ وَغَطَفَانُ وَغَيْرُهُمْ بِذَرَارِيِّهِمْ وَنَعَمِهِمْ وَمَعَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم يَوْمَئِذٍ عَشَرَةُ آلاَفٍ وَمَعَهُ الطُّلَقَاءُ فَأَدْبَرُوا عَنْهُ حَتَّى بَقِيَ وَحْدَهُ - قَالَ - فَنَادَى يَوْمَئِذٍ نِدَاءَيْنِ لَمْ يَخْلِطْ بَيْنَهُمَا شَيْئًا - قَالَ - فَالْتَفَتَ عَنْ يَمِينِهِ فَقَالَ " يَا مَعْشَرَ الأَنْصَارِ " . فَقَالُوا لَبَّيْكَ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَبْشِرْ نَحْنُ مَعَكَ - قَالَ - ثُمَّ الْتَفَتَ عَنْ يَسَارِهِ فَقَالَ " يَا مَعْشَرَ الأَنْصَارِ " . قَالُوا لَبَّيْكَ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَبْشِرْ نَحْنُ مَعَكَ - قَالَ - وَهُوَ عَلَى بَغْلَةٍ بَيْضَاءَ فَنَزَلَ فَقَالَ أَنَا عَبْدُ اللَّهِ وَرَسُولُهُ . فَانْهَزَمَ الْمُشْرِكُونَ وَأَصَابَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم غَنَائِمَ كَثِيرَةً فَقَسَمَ فِي الْمُهَاجِرِينَ وَالطُّلَقَاءِ وَلَمْ يُعْطِ الأَنْصَارَ شَيْئًا فَقَالَتِ الأَنْصَارُ إِذَا كَانَتِ الشِّدَّةُ فَنَحْنُ نُدْعَى وَتُعْطَى الْغَنَائِمُ غَيْرَنَا . فَبَلَغَهُ ذَلِكَ فَجَمَعَهُمْ فِي قُبَّةٍ فَقَالَ " يَا مَعْشَرَ الأَنْصَارِ مَا حَدِيثٌ بَلَغَنِي عَنْكُمْ " . فَسَكَتُوا فَقَالَ " يَا مَعْشَرَ الأَنْصَارِ أَمَا تَرْضَوْنَ أَنْ يَذْهَبَ النَّاسُ بِالدُّنْيَا وَتَذْهَبُونَ بِمُحَمَّدٍ تَحُوزُونَهُ إِلَى بُيُوتِكُمْ " . قَالُوا بَلَى يَا رَسُولَ اللَّهِ رَضِينَا . قَالَ فَقَالَ " لَوْ سَلَكَ النَّاسُ وَادِيًا وَسَلَكَتِ الأَنْصَارُ شِعْبًا لأَخَذْتُ شِعْبَ الأَنْصَارِ " . قَالَ هِشَامٌ فَقُلْتُ يَا أَبَا حَمْزَةَ أَنْتَ شَاهِدٌ ذَاكَ قَالَ وَأَيْنَ أَغِيبُ عَنْهُ.

Narrator: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

২৩১২। মুহাম্মাদ ইবনুল মুসান্না ও ইবরাহীম ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে আর’আরা (রাহঃ) ......... আনাস ইবনে মালিক (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, হুনায়নের যুদ্ধে হাওয়াযিন, গাতফান ও অন্যান্য গোত্রের লোকেরা তাদের সন্তান সন্ততি এবং পশুপাল নিয়ে যুদ্ধক্ষেত্রে অগ্রসর হল। নবী (ﷺ) এর সঙ্গে দশ হাজার সৈন্য ছিল এবং তাঁর সঙ্গে আরো ছিল ক্ষমাপ্রাপ্ত মক্কাবাসী। যুদ্ধ আরম্ভ হলে তারা সবাই পালিয়ে গেল, এমনকি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) একাকী রয়ে গেলেন।

এ সময় তিনি উচ্চস্বরে দু’বার ডাক দিলেন। এ দু’য়ের মধ্যে কথা মিলিত ছিল না। আনাস (রাযিঃ) বলেন যে, তিনি ডান দিকে তাকিয়ে বললেন, হে আনসার সম্প্রদায়! তাঁরা বললেন, লাব্বাইক ইয়া রাসুলাল্লাহ! আপনি সুসংবাদ গ্রহণ করুন, আমরা আপনার সঙ্গে আছি। আনাস (রাযিঃ) বলেন, তারপর বাম দিকে তাকিয়ে তিনি বললেন, হে আনসার সম্প্রদায়! তারা বললেন, লাব্বাইক ইয়া রাসুলাল্লাহ! সুসংবাদ গ্রহণ করুন, আমরা আপনার সঙ্গে আছি। এ সময় রাসূলুল্লাহ (ﷺ) একটি সাদা খচ্চরের উপর ছিলেন এরপর তিনি নেমে পড়লেন এবং বললেন, আমি আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসুল। অবশেষে মুশরিকরা পরাজিত হল। ফলে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) লাভ করেন তাদের থেকে বহু গণিমতের মাল।

তিনি ঐগুলো মুহাজির এবং ক্ষমাপ্রাপ্ত মক্কাবাসীদের মধ্যে বন্টন করে দিলেন। কিন্তু আনসারদেরকে কিছু দিলেন না। এতে আনসারগণ বলতে লাগল, বিপদকালে আমাদের ডাকা হয় আর গণিমত আমাদের ছাড়া অন্যদেরকে দেওয়া হয়। এ খবর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট পৌছার পর তিনি তাদের একটি তাঁবুতে সমবেত করলেন এবং বললেন হে আনসার সম্প্রদায়! এ কি কথা তোমাদের পক্ষ হতে আমার নিকট পৌছেছে? তারা নীরব রইলেন।

তারপর তিনি বললেন, হে আনসার সম্প্রদায়! তোমার কি এতে সন্তুষ্ট নও যে, লোকেরা পার্থিব ধন-সম্পদ নিয়ে চলে যাবে আর তোমরা মুহাম্মাদ (ﷺ) কে নিয়ে ফিরে যাবে এবং তার সঙ্গে মিলিত হয়ে থাকার সৌভাগ্য লাভ করবে। তারা বললেন, হ্যাঁ ইয়া রাসুলাল্লাহ! এতে আমরা সন্তুষ্ট আছি।

তারপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, যদি লোকেরা একটি প্রান্তরে চলে আর আনসারগণ চলে অন্য একটি ঘাঁটিতে তাহলে আমি আনসারদের ঘাঁটিই অবলন্বন করব। রাবী বলেন, আমি বললাম, হে আবু হামযা (আনাস)! তুমি কি এ সময় উপস্থিত ছিলে? তিনি বললেন, আমি তাঁকে ছেড়ে কোথায় যেতে পারি?
2313

حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ مُعَاذٍ، وَحَامِدُ بْنُ عُمَرَ، وَمُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الأَعْلَى، قَالَ ابْنُ مُعَاذٍ حَدَّثَنَا الْمُعْتَمِرُ بْنُ سُلَيْمَانَ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ حَدَّثَنِي السُّمَيْطُ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، قَالَ افْتَتَحْنَا مَكَّةَ ثُمَّ إِنَّا غَزَوْنَا حُنَيْنًا فَجَاءَ الْمُشْرِكُونَ بِأَحْسَنِ صُفُوفٍ رَأَيْتُ - قَالَ - فَصُفَّتِ الْخَيْلُ ثُمَّ صُفَّتِ الْمُقَاتِلَةُ ثُمَّ صُفَّتِ النِّسَاءُ مِنْ وَرَاءِ ذَلِكَ ثُمَّ صُفَّتِ الْغَنَمُ ثُمَّ صُفَّتِ النَّعَمُ - قَالَ - وَنَحْنُ بَشَرٌ كَثِيرٌ قَدْ بَلَغْنَا سِتَّةَ آلاَفٍ وَعَلَى مُجَنِّبَةِ خَيْلِنَا خَالِدُ بْنُ الْوَلِيدِ - قَالَ - فَجَعَلَتْ خَيْلُنَا تَلْوِي خَلْفَ ظُهُورِنَا فَلَمْ نَلْبَثْ أَنِ انْكَشَفَتْ خَيْلُنَا وَفَرَّتِ الأَعْرَابُ وَمَنْ نَعْلَمُ مِنَ النَّاسِ - قَالَ - فَنَادَى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " يَا لَلْمُهَاجِرِينَ يَا لَلْمُهَاجِرِينَ " . ثُمَّ قَالَ " يَا لَلأَنْصَارِ يَا لَلأَنْصَارِ " . قَالَ قَالَ أَنَسٌ هَذَا حَدِيثُ عِمِّيَّةٍ . قَالَ قُلْنَا لَبَّيْكَ يَا رَسُولَ اللَّهِ - قَالَ - فَتَقَدَّمَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم - قَالَ - فَايْمُ اللَّهِ مَا أَتَيْنَاهُمْ حَتَّى هَزَمَهُمُ اللَّهُ - قَالَ - فَقَبَضْنَا ذَلِكَ الْمَالَ ثُمَّ انْطَلَقْنَا إِلَى الطَّائِفِ فَحَاصَرْنَاهُمْ أَرْبَعِينَ لَيْلَةً ثُمَّ رَجَعْنَا إِلَى مَكَّةَ فَنَزَلْنَا - قَالَ - فَجَعَلَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يُعْطِي الرَّجُلَ الْمِائَةَ مِنَ الإِبِلِ . ثُمَّ ذَكَرَ بَاقِيَ الْحَدِيثِ كَنَحْوِ حَدِيثِ قَتَادَةَ وَأَبِي التَّيَّاحِ وَهِشَامِ بْنِ زَيْدٍ .

Narrator: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

২৩১৩। উবাইদুল্লাহ ইবনে মু’আয, হামিদ ইবনে উমর ও মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল আ’লা (রাহঃ) ......... আনাস ইবনে মালিক (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা মক্কা বিজয় করলাম। তারপর হুনায়নের যুদ্ধে অগ্রসর হলাম। এ সময় মুশরিকরা সুশৃঙ্খল ও সারিবদ্ধভাবে যুদ্ধের ময়দানে উপস্থিত হল। প্রথম কাতারে ছিল তাদের অশ্বারোহী দল, তারপর পদাতিক বাহিনীর কাতার, তারপর মহিলাদের কাতার, তারপর বকরীর কাতার, তারপর উটের কাতার। আনাস (রাযিঃ) বলেন, আমরা। ছিলাম সংখ্যায় অনেক। আমারা সংখ্যা ছয় হাজার গিয়ে পৌছেছিল। আমাদের ডান দিকের অশ্বরোহী দলের সেনাপতি ছিলেন খালিদ ইবনে ওয়ালীদ (রাযিঃ)। এক সময় আমাদের ঘোড়াগুলো পাশ্চাদপদ হতে লাগল এবং আমাদের ঘোড়াগুলো দ্রুত ময়দান ছেড়ে গেল। আর বেদুঈন লোকেরা এবং আমদের কিছু জানা লোকও পালাল।

আনাস (রাযিঃ) বলেন, তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) উচ্চস্বরে ডাক দিলেন, হে মুহাজির সম্প্রদায়! হে মুহাজির সম্প্রদায়! তিনি আবার বললেন, হে আনসার সম্প্রদায়! হে আনসার সম্প্রদায়! রাবী বলেন, আনাস (রাযিঃ) বলেছেন, হাদীসের পরবর্তী অংশ আমার চাচাদের কাছ থেকে বর্ণিত। আমরা বললাম, লাব্বাইক ইয়া রাসুলাল্লাহ! তারপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) সন্মুখের দিকে অগ্রসর হলেন।

আনাস (রাযিঃ) বলেন, আল্লাহর কসম আমরা আমাদের স্থানে পৌছার পূর্বেই আল্লাহ তাআলা মুশরিকদের পরাজিত করে দিলেন। আমরা তাদের সকল সম্পদ হস্থগত করলাম। তারপর আমরা তায়িফের দিকে চললাম এবং তায়িফবাসীদের চল্লিশ দিন পর্যন্ত অবরোধ করে রাখলাম। তারপর আমরা মক্কার দিকে ফিরে এলাম এবং সেখানে অবতরণ করলাম।

রাবী বলেন, এরপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কতিপয় লোককে একশ করে উট দিতে লাগলেন। হাদীসের পরবর্তী অংশ কাতাদা, আবু তায়্যাহ ও হিশাম ইবনে যায়দ (রাহঃ) কর্তৃক বর্ণিত উপরোক্ত হাদীসের অনুরূপ।
2314

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ أَبِي عُمَرَ الْمَكِّيُّ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ عُمَرَ بْنِ سَعِيدِ بْنِ مَسْرُوقٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَبَايَةَ بْنِ رِفَاعَةَ، عَنْ رَافِعِ بْنِ خَدِيجٍ، قَالَ أَعْطَى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَبَا سُفْيَانَ بْنَ حَرْبٍ وَصَفْوَانَ بْنَ أُمَيَّةَ وَعُيَيْنَةَ بْنَ حِصْنٍ وَالأَقْرَعَ بْنَ حَابِسٍ كُلَّ إِنْسَانٍ مِنْهُمْ مِائَةً مِنَ الإِبِلِ وَأَعْطَى عَبَّاسَ بْنَ مِرْدَاسٍ دُونَ ذَلِكَ . فَقَالَ عَبَّاسُ بْنُ مِرْدَاسٍ أَتَجْعَلُ نَهْبِي وَنَهْبَ الْعُبَيْدِ بَيْنَ عُيَيْنَةَ وَالأَقْرَعِ فَمَا كَانَ بَدْرٌ وَلاَ حَابِسٌ يَفُوقَانِ مِرْدَاسَ فِي الْمَجْمَعِ وَمَا كُنْتُ دُونَ امْرِئٍ مِنْهُمَا وَمَنْ تَخْفِضِ الْيَوْمَ لاَ يُرْفَعِ قَالَ فَأَتَمَّ لَهُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مِائَةً .

Narrator: রাফি' ইবনে খাদীজ (রাঃ)

২৩১৪। মুহাম্মাদ ইবনে আবু উমর আল মক্কী (রাহঃ) ......... রাফি ইবনে খাদীজ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আবু সুফিয়ান ইবনে হারব, সাফওয়ান ইবনে উমাইয়া, উয়াইনা ইবনে হিসন ও আকরা ইবনে হাবিস (রাযিঃ) কে একশ করে উট প্রদান করলেন। আব্বাস ইবনে মিরদাস (রাযিঃ) কে ঐ পরিমাণ সংখ্যা থেকে কিছু কম দিলেন। তখন আব্বাস ইবনে মিরদাস (রাযিঃ) বললেনঃ
আপনি আমার ও আমার ঘোড়ার অংশকে বণ্টন করেছেন, উয়াইনা এবং আকরার মাঝে। অথচ উয়াইনা ও আকরার কোন সমাবেশে - মিরদাস হতে অগ্রগামী হতে পারেনি। আমি তাদের চেয়ে কম বাহাদূর নই। আজকে যাকে নীচে রাখা হবে, তাকে উপরে ওঠানো হবে না।

বর্ণনাকারী বলেন, এ কথা শুনে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তকেও একশ উট পূর্ণ করে দিলেন।
2315

وَحَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَبْدَةَ الضَّبِّيُّ، أَخْبَرَنَا ابْنُ عُيَيْنَةَ، عَنْ عُمَرَ بْنِ سَعِيدِ بْنِ مَسْرُوقٍ، بِهَذَا الإِسْنَادِ أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَسَمَ غَنَائِمَ حُنَيْنٍ فَأَعْطَى أَبَا سُفْيَانَ بْنَ حَرْبٍ مِائَةً مِنَ الإِبِلِ . وَسَاقَ الْحَدِيثَ بِنَحْوِهِ وَزَادَ وَأَعْطَى عَلْقَمَةَ بْنَ عُلاَثَةَ مِائَةً .

Narrator: রাফি' ইবনে খাদীজ (রাঃ)

২৪১৫। আহমাদ ইবনে আব্দা আদ-দাব্বী (রাহঃ) ......... উমর ইবনে সাঈদ ইবনে মাসরুক (রাহঃ) সূত্রে এ সনদে বর্ণনা করেছেন যে, নবী (ﷺ) হুনায়নের যুদ্ধলব্ধ সস্পদ বণ্টন করলেন এবং আবু সুফিয়ান ইবনে হারব (রাযিঃ) কে একশ উট প্রদান করলেন। তারপর পূর্বোক্ত হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। তবে এ হাদীসে একথাও রয়েছে যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আলকামা ইবনে উলাসা (রাযিঃ) কে একশ উট প্রদান করলেন।

2316

وَحَدَّثَنَا مَخْلَدُ بْنُ خَالِدٍ الشَّعِيرِيُّ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، حَدَّثَنِي عُمَرُ بْنُ سَعِيدٍ، بِهَذَا الإِسْنَادِ وَلَمْ يَذْكُرْ فِي الْحَدِيثِ عَلْقَمَةَ بْنَ عُلاَثَةَ وَلاَ صَفْوَانَ بْنَ أُمَيَّةَ وَلَمْ يَذْكُرِ الشِّعْرَ فِي حَدِيثِهِ.

Narrator: রাফি' ইবনে খাদীজ (রাঃ)

২৩১৬। মাখলাদ ইবনে খালিদ (রাহঃ) ......... উমর ইবনে সাঈদ (রাহঃ) থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। তবে তিনি তার হাদীসের মধ্যে আলকামা ইবনে উলাসা ও সাফওয়ান ইবনে উমাইয়ার কথা উল্লেখ করেননি এবং তার হাদীসে কবিতারও উল্লেখ নেই।

2317

حَدَّثَنَا سُرَيْجُ بْنُ يُونُسَ، حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ جَعْفَرٍ، عَنْ عَمْرِو بْنِ يَحْيَى بْنِ عُمَارَةَ، عَنْ عَبَّادِ بْنِ تَمِيمٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ زَيْدٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لَمَّا فَتَحَ حُنَيْنًا قَسَمَ الْغَنَائِمَ فَأَعْطَى الْمُؤَلَّفَةَ قُلُوبُهُمْ فَبَلَغَهُ أَنَّ الأَنْصَارَ يُحِبُّونَ أَنْ يُصِيبُوا مَا أَصَابَ النَّاسُ فَقَامَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَخَطَبَهُمْ فَحَمِدَ اللَّهَ وَأَثْنَى عَلَيْهِ ثُمَّ قَالَ " يَا مَعْشَرَ الأَنْصَارِ أَلَمْ أَجِدْكُمْ ضُلاَّلاً فَهَدَاكُمُ اللَّهُ بِي وَعَالَةً فَأَغْنَاكُمُ اللَّهُ بِي وَمُتَفَرِّقِينَ فَجَمَعَكُمُ اللَّهُ بِي " . وَيَقُولُونَ اللَّهُ وَرَسُولُهُ أَمَنُّ . فَقَالَ " أَلاَ تُجِيبُونِي " . فَقَالُوا اللَّهُ وَرَسُولُهُ أَمَنُّ . فَقَالَ " أَمَا إِنَّكُمْ لَوْ شِئْتُمْ أَنْ تَقُولُوا كَذَا وَكَذَا وَكَانَ مِنَ الأَمْرِ كَذَا وَكَذَا " . لأَشْيَاءَ عَدَّدَهَا . زَعَمَ عَمْرٌو أَنْ لاَ يَحْفَظُهَا فَقَالَ " أَلاَ تَرْضَوْنَ أَنْ يَذْهَبَ النَّاسُ بِالشَّاءِ وَالإِبِلِ وَتَذْهَبُونَ بِرَسُولِ اللَّهِ إِلَى رِحَالِكُمُ الأَنْصَارُ شِعَارٌ وَالنَّاسُ دِثَارٌ وَلَوْلاَ الْهِجْرَةُ لَكُنْتُ امْرَأً مِنَ الأَنْصَارِ وَلَوْ سَلَكَ النَّاسُ وَادِيًا وَشِعْبًا لَسَلَكْتُ وَادِيَ الأَنْصَارِ وَشِعْبَهُمْ إِنَّكُمْ سَتَلْقَوْنَ بَعْدِي أَثَرَةً فَاصْبِرُوا حَتَّى تَلْقَوْنِي عَلَى الْحَوْضِ " .

Narrator: আব্দুল্লাহ ইবনে যায়দ মাযিনী (রাঃ)

২৩১৭। সুরায়জ ইবনে ইউনূস (রাহঃ) ......... আব্দুল্লাহ ইবনে যায়দ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) হুনায়ন বিজয় হয়ে গেলে গনিমতের মাল বন্টন করলেন এবং আকর্ষণ সৃষ্টির উদ্দেশ্যে নওমুসলিমদের তা থেকে দিলেন। পরে তার কাছে এ খবর পৌছল যে, আনসারদের পছন্দ এই যে, তাদেরও অন্যান্য লোকদের সমান দেওয়া হোক। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) দাঁড়ালেন এবং আনসারদের উদ্দেশ্যে খুতবা দিলেন। তিনি আল্লাহর প্রশংসা এবং গুণাবলী বর্ণনা করলেন। তারপর বললেন, হে আনসার সম্প্রদায়! আমি কি তোমাদের পথহারা পাইনি? পরে আল্লাহ তাআলা আমার দ্বারা তোমাদের হিদায়াত করেছেন। আমি কি তোমাদের নিঃস্ব পাইনি? তারপর আল্লাহ তাআলা আমার দ্বারা তোমাদের বিত্তশালী করেছেন। আমি কি তোমাকের বিচ্ছিন্ন পাইনি? তারপর আল্লাহ তাআলা আমার মাধ্যমে তোমাদের সংহত করেছেন।

আনসারগণ বললেন, আল্লাহ ও তাঁর রাসুল (ﷺ) অনুগ্রহশীল। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, তোমরা কি আমার কথার উত্তর দিবে না? তারা বললেন, আল্লাহ ও তাঁর রাসুল অনুগ্রহশীল। তিনি বললেন, তোমরা চাইলে এরূপ, এরূপ বলতে পার এবং বিষয়টা সে রকমই ছিল। তিনি কয়েকটি বিষয়ের কথা উল্লেখ করলেন। (বর্ণনাকারী) আমর (রাযিঃ) বলেন যে, তিনি তা স্মরণ রাখতে পারেন নি।

তারপর নবী (ﷺ) বললেন, তোমরা কি খুশী হবে না যে, লোকেরা বকরী এবং উট নিয়ে (ফিরে) যাবে আর তোমরা তোমাদের গৃহে যাবে আল্লাহর রাসুল (ﷺ) কে নিয়ে? আনসারগণ আমার অন্তর্বাসস্বরূপ আর অন্যান্যরা আমার বহির্বাসস্বরূপ। যদি হিজরত না হত তবে অবশ্যই আমি আনসারদেরই একজন হতাম। যদি লোকেরা এক প্রান্তরে বা এক ঘাঁটিতে চলে তবে আমি অবশ্যই আনসারদের প্রান্তর ও ঘাটি দিয়েই পথ চলব। তোমরা আমার পর একের উপর অন্যকে প্রাধান্য দিতে দেখবে তখন তোমরা ধৈর্যধারণ করবে, হাউযে কাউসারে আমার সাথে সাক্ষাত হওয়া পর্যন্ত।
2318

حَدَّثَنَا زُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، وَعُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، وَإِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، قَالَ إِسْحَاقُ أَخْبَرَنَا وَقَالَ الآخَرَانِ، حَدَّثَنَا جَرِيرٌ، عَنْ مَنْصُورٍ، عَنْ أَبِي وَائِلٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ لَمَّا كَانَ يَوْمُ حُنَيْنٍ آثَرَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم نَاسًا فِي الْقِسْمَةِ فَأَعْطَى الأَقْرَعَ بْنَ حَابِسٍ مِائَةً مِنَ الإِبِلِ وَأَعْطَى عُيَيْنَةَ مِثْلَ ذَلِكَ وَأَعْطَى أُنَاسًا مِنْ أَشْرَافِ الْعَرَبِ وَآثَرَهُمْ يَوْمَئِذٍ فِي الْقِسْمَةِ فَقَالَ رَجُلٌ وَاللَّهِ إِنَّ هَذِهِ لَقِسْمَةٌ مَا عُدِلَ فِيهَا وَمَا أُرِيدَ فِيهَا وَجْهُ اللَّهِ . قَالَ فَقُلْتُ وَاللَّهِ لأُخْبِرَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم - قَالَ - فَأَتَيْتُهُ فَأَخْبَرْتُهُ بِمَا قَالَ - قَالَ - فَتَغَيَّرَ وَجْهُهُ حَتَّى كَانَ كَالصِّرْفِ ثُمَّ قَالَ " فَمَنْ يَعْدِلُ إِنْ لَمْ يَعْدِلِ اللَّهُ وَرَسُولُهُ " . قَالَ ثُمَّ قَالَ " يَرْحَمُ اللَّهُ مُوسَى قَدْ أُوذِيَ بِأَكْثَرَ مِنْ هَذَا فَصَبَرَ " . قَالَ قُلْتُ لاَ جَرَمَ لاَ أَرْفَعُ إِلَيْهِ بَعْدَهَا حَدِيثًا .

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ)

২৩১৮। যুহাইর ইবনে হারব, উসমান ইবনে আবি শাঈবা ও ইসহাক ইবনে ইবরাহীম (রাহঃ) ......... আব্দুল্লাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, হুনায়নের দিন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) গনিমতের মাল বন্টনে কতিপয় ব্যক্তিকে প্রাধান্য দিলেন। তিনি আকরা ইবনে হাবিস (রাযিঃ) কে একশ উট দিলেন। উয়াইনা (রাযিঃ) কেও অনুরূপ দিলেন। আরবের শীর্য স্থানীয় কতিপয় ব্যক্তিকেও গনিমতের মাল দিলেন। বণ্টনে তাদের সেদিন অন্যদের উপর প্রাধান্য দিলেন। তখন এক ব্যক্তি বললেন, আল্লাহর কসম! এ বন্টনে ইনসাফ করা হয়নি। এতে আল্লাহর সন্তুষ্টি কামনা করা হয়নি।

আব্দুল্লাহ (রাযিঃ) বলেন, এ কথা শুনে আমি মনে মনে বললাম, এ সংবাদ অবশ্যই আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট পৌছিয়ে দিব। তারপর আমি তাঁর নিকট এসে সে যা বলেছিল তা বলে দিলাম। এতে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর চেহারা মুবারক লাল হয়ে গেল। তারপর তিনি বললেন, যখন আল্লাহ ও তাঁর রাসুল (ﷺ) ন্যায়বিচার করেননি তবে ন্যায়বিচার আর কেই বা করবে? তারপর তিনি বলেলন, আল্লাহ মুসা (আলাইহিস সালাম) এর প্রতি দয়া করুন। তাকে এর চেয়েও অধিক কষ্ট দেওয়া হয়েছে। তিনি ধৈর্যধারণ করেছেন। রাবী বলেন, আমি মনে মনে করলাম, ভবিষ্যতে এ ধরনের সংবাদ কখনো আমি তার নিকট আর পৌছাব না।
2319

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا حَفْصُ بْنُ غِيَاثٍ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ شَقِيقٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ قَسَمَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَسْمًا فَقَالَ رَجُلٌ إِنَّهَا لَقِسْمَةٌ مَا أُرِيدَ بِهَا وَجْهُ اللَّهِ - قَالَ - فَأَتَيْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فَسَارَرْتُهُ فَغَضِبَ مِنْ ذَلِكَ غَضَبًا شَدِيدًا وَاحْمَرَّ وَجْهُهُ حَتَّى تَمَنَّيْتُ أَنِّي لَمْ أَذْكُرْهُ لَهُ - قَالَ - ثُمَّ قَالَ " قَدْ أُوذِيَ مُوسَى بِأَكْثَرَ مِنْ هَذَا فَصَبَرَ " .

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ)

২৩১৯। আবু বকর ইবনে আবি শাঈবা (রাহঃ) ......... আব্দুল্লাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) গনিমতের মাল বণ্টন করলেন। তখন এক ব্যক্তি বলল, এ বন্টনে আল্লাহর সন্তুষ্টি কামনা করা হয়নি। রাবী বলেন, তারপর আমি নবী (ﷺ) এর নিকট এসে চুপিচুপি তাকে এ কথা বললাম। এতে তিনি ভীষণ রাগান্বিত হলেন এমনকি তাঁর চেহারা লাল হয়ে গেল। আমি ভাবলাম, যদি আমি তার নিকট (এ কথা) না বলতাম! বর্ণনাকারী বলেন, তারপর তিনি বললেন, মুসা (আলাইহিস সালাম) কে এর চাইতেও অধিক কষ্ট দেওয়া হয়েছে। আর তিনি ধৈর্যধারণ করেছেন।

2320

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ رُمْحِ بْنِ الْمُهَاجِرِ، أَخْبَرَنَا اللَّيْثُ، عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ، عَنْ أَبِي، الزُّبَيْرِ عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ أَتَى رَجُلٌ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِالْجِعْرَانَةِ مُنْصَرَفَهُ مِنْ حُنَيْنٍ وَفِي ثَوْبِ بِلاَلٍ فِضَّةٌ وَرَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقْبِضُ مِنْهَا يُعْطِي النَّاسَ فَقَالَ يَا مُحَمَّدُ اعْدِلْ . قَالَ " وَيْلَكَ وَمَنْ يَعْدِلُ إِذَا لَمْ أَكُنْ أَعْدِلُ لَقَدْ خِبْتَ وَخَسِرْتَ إِنْ لَمْ أَكُنْ أَعْدِلُ " . فَقَالَ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ رضى الله عنه دَعْنِي يَا رَسُولَ اللَّهِ فَأَقْتُلَ هَذَا الْمُنَافِقَ . فَقَالَ " مَعَاذَ اللَّهِ أَنْ يَتَحَدَّثَ النَّاسُ أَنِّي أَقْتُلُ أَصْحَابِي إِنَّ هَذَا وَأَصْحَابَهُ يَقْرَءُونَ الْقُرْآنَ لاَ يُجَاوِزُ حَنَاجِرَهُمْ يَمْرُقُونَ مِنْهُ كَمَا يَمْرُقُ السَّهْمُ مِنَ الرَّمِيَّةِ " .

Narrator: জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ আনসারী (রাঃ)

২৩২০। মুহাম্মাদ ইবনে রুমহ ইবনে মুহাজির (রাহঃ) ......... জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, হুনায়ন থেকে প্রত্যাবর্তনের সময় জি-রানাতে অবস্থানকালে এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট আসল। এ সময় বিলাল (রাযিঃ) এর কাপড়ের মধ্যে কিছু রৌপ্য ছিল। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এ থেকে নিয়ে নিয়ে লোকদের দান করতে লাগলেন। তখন লোকটি বলল, হে মুহাম্মাদ! ন্যায়ভারে বণ্টন করুন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, তোমার ধ্বংস হোক, আমি যদি ন্যায় না করি, তবে কে ন্যায় করবে?

যদি আমি ন্যায় না করি তবে তো আমি বঞ্চিত ও ক্ষতিগ্রস্ত হব। তখন উমর ইবনুল খাত্তাব (রাযিঃ) বললেন, ইয়া রাসুলাল্লাহ! অনুমতি দিন, আমি এ মুনাফিককে কতল করে ফেলি। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, আল্লাহর পানাহ, এতে লোকেরা রটাবে যে, আমি আমার সঙ্গীদের হত্যা করছি। এ ব্যক্তি এবং তার সঙ্গীরা তো কুরআন পাঠ করে কিন্তু কুরআন তাদের কণ্ঠনালী অতিক্রম করে না। তারা কুরআন থেকে রেরিয়ে যায় যেমন তীর শিকার ভেদ করে বেরিয়ে যায়।
2321

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَهَّابِ الثَّقَفِيُّ، قَالَ سَمِعْتُ يَحْيَى بْنَ سَعِيدٍ، يَقُولُ أَخْبَرَنِي أَبُو الزُّبَيْرِ، أَنَّهُ سَمِعَ جَابِرَ بْنَ عَبْدِ اللَّهِ، ح. وَحَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا زَيْدُ بْنُ الْحُبَابِ، حَدَّثَنِي قُرَّةُ بْنُ خَالِدٍ، حَدَّثَنِي أَبُو الزُّبَيْرِ، عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم كَانَ يَقْسِمُ مَغَانِمَ . وَسَاقَ الْحَدِيثَ .

Narrator: জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ আনসারী (রাঃ)

২৩২১। মুহাম্মাদ ইবনুল মুসান্না ও ইবনে আবি শাঈবা (রাহঃ) ......... জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) গনিমতের সম্পদ বণ্টন করছিলেন। উক্ত হাদীস শেষ পর্যন্ত বর্ণনা করেন।

2322

حَدَّثَنَا هَنَّادُ بْنُ السَّرِيِّ، حَدَّثَنَا أَبُو الأَحْوَصِ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ مَسْرُوقٍ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، بْنِ أَبِي نُعْمٍ عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، قَالَ بَعَثَ عَلِيٌّ - رضى الله عنه - وَهُوَ بِالْيَمَنِ بِذَهَبَةٍ فِي تُرْبَتِهَا إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَسَمَهَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بَيْنَ أَرْبَعَةِ نَفَرٍ الأَقْرَعُ بْنُ حَابِسٍ الْحَنْظَلِيُّ وَعُيَيْنَةُ بْنُ بَدْرٍ الْفَزَارِيُّ وَعَلْقَمَةُ بْنُ عُلاَثَةَ الْعَامِرِيُّ ثُمَّ أَحَدُ بَنِي كِلاَبٍ وَزَيْدُ الْخَيْرِ الطَّائِيُّ ثُمَّ أَحَدُ بَنِي نَبْهَانَ - قَالَ - فَغَضِبَتْ قُرَيْشٌ فَقَالُوا أَتُعْطِي صَنَادِيدَ نَجْدٍ وَتَدَعُنَا فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " إِنِّي إِنَّمَا فَعَلْتُ ذَلِكَ لأَتَأَلَّفَهُمْ " فَجَاءَ رَجُلٌ كَثُّ اللِّحْيَةِ مُشْرِفُ الْوَجْنَتَيْنِ غَائِرُ الْعَيْنَيْنِ نَاتِئُ الْجَبِينِ مَحْلُوقُ الرَّأْسِ فَقَالَ اتَّقِ اللَّهَ يَا مُحَمَّدُ . - قَالَ - فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " فَمَنْ يُطِعِ اللَّهَ إِنْ عَصَيْتُهُ أَيَأْمَنُنِي عَلَى أَهْلِ الأَرْضِ وَلاَ تَأْمَنُونِي " قَالَ ثُمَّ أَدْبَرَ الرَّجُلُ فَاسْتَأْذَنَ رَجُلٌ مِنَ الْقَوْمِ فِي قَتْلِهِ - يُرَوْنَ أَنَّهُ خَالِدُ بْنُ الْوَلِيدِ - فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " إِنَّ مِنْ ضِئْضِئِ هَذَا قَوْمًا يَقْرَءُونَ الْقُرْآنَ لاَ يُجَاوِزُ حَنَاجِرَهُمْ يَقْتُلُونَ أَهْلَ الإِسْلاَمِ وَيَدَعُونَ أَهْلَ الأَوْثَانِ يَمْرُقُونَ مِنَ الإِسْلاَمِ كَمَا يَمْرُقُ السَّهْمُ مِنَ الرَّمِيَّةِ لَئِنْ أَدْرَكْتُهُمْ لأَقْتُلَنَّهُمْ قَتْلَ عَادٍ " .

Narrator: হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ)

২৩২২। হান্নাদ ইবনে সারী (রাহঃ) ......... আবু সাঈদ খুদরী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আলী (রাযিঃ) ইয়ামান থেকে কিছু মাটি মিশ্রিত স্বর্ণ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট পাঠালেন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তা চারজন লোকের মধ্যে বন্টন করলেন। আকরা ইবনে হাবিস হানযালী, উয়াইনা ইবনে বদর ফাযারী, আলকামা ইবনে উলাসা আমিরী, তিনি বনী কিলাবের একজন, আর যায়দ আন খায়র তাঈ, তিনি বনী নাবহানের একজন। আবু সাঈদ (রাযিঃ) বলেন, এতে কুরাইশারা ক্রোধান্বিত হয়ে পড়ল এবং বলল, তিনি নজদের সর্দারদের দিচ্ছেন আর আমাদের বাদ দিচ্ছেন। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, আমি তাদের মন আকৃষ্ট করার জন্যই তা করেছি।

ইতিমধ্যে ঘন দাঁড়ি, ফোলা গাল কোটরাগত চোখ, উঁচু ললাট এবং মুণ্ডিত মস্তক এক ব্যক্তি এসে বলল, হে মুহাম্মাদ! আল্লাহকে ভয় কর। রাবী বলেন, তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, আমি যদি আল্লাহর নাফরমানী করি তবে তার আনুগত্য করবে কে? এ পৃথিবীর অধিবাসীদের ব্যাপারে আল্লাহ আমাকে বিশ্বাস করেছেন। অথচ তোমরা আমাকে বিশ্বাস করছ না। রাবী বলেন, এরপর লোকটি চলে গেল।

তখন উপস্থিত সাহাবীদের একজন তাকে হত্যা করার অনুমতি চাইলেন, সম্ভবত তিনি খালিদ ইবনে ওয়ালীদ (রাযিঃ) হবেন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, এ লোকটির বংশ থেকে এমন সম্প্রদায় সৃষ্টি হবে যারা কুরআন পাঠ করবে কিন্তু কুরআন তাদের কণ্ঠনালীর ভিতরে প্রবেশ করবেনা। তারা মূর্তি পূজকদের বাদ দিয়ে মুসলমানদের হত্যা করবে। তারাই ইসলাম থেকে এমনভাবে বেরিয়ে যাবে যেমনভাবে বেরিয়ে যায় তীর শিকার ভেদ করে। আমি যদি তাদের পাই তাহলে অবশ্যই আদ সম্প্রদায়ের মত তাদের হত্যা করব।
2323

حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَاحِدِ، عَنْ عُمَارَةَ بْنِ الْقَعْقَاعِ، حَدَّثَنَا عَبْدُ، الرَّحْمَنِ بْنُ أَبِي نُعْمٍ قَالَ سَمِعْتُ أَبَا سَعِيدٍ الْخُدْرِيَّ، يَقُولُ بَعَثَ عَلِيُّ بْنُ أَبِي طَالِبٍ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مِنَ الْيَمَنِ بِذَهَبَةٍ فِي أَدِيمٍ مَقْرُوظٍ لَمْ تُحَصَّلْ مِنْ تُرَابِهَا - قَالَ - فَقَسَمَهَا بَيْنَ أَرْبَعَةِ نَفَرٍ بَيْنَ عُيَيْنَةَ بْنِ حِصْنٍ وَالأَقْرَعِ بْنِ حَابِسٍ وَزَيْدِ الْخَيْلِ وَالرَّابِعُ إِمَّا عَلْقَمَةُ بْنُ عُلاَثَةَ وَإِمَّا عَامِرُ بْنُ الطُّفَيْلِ فَقَالَ رَجُلٌ مِنْ أَصْحَابِهِ كُنَّا نَحْنُ أَحَقَّ بِهَذَا مِنْ هَؤُلاَءِ - قَالَ - فَبَلَغَ ذَلِكَ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم . فَقَالَ " أَلاَ تَأْمَنُونِي وَأَنَا أَمِينُ مَنْ فِي السَّمَاءِ يَأْتِينِي خَبَرُ السَّمَاءِ صَبَاحًا وَمَسَاءً " . قَالَ فَقَامَ رَجُلٌ غَائِرُ الْعَيْنَيْنِ مُشْرِفُ الْوَجْنَتَيْنِ نَاشِزُ الْجَبْهَةِ كَثُّ اللِّحْيَةِ مَحْلُوقُ الرَّأْسِ مُشَمَّرُ الإِزَارِ فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ اتَّقِ اللَّهَ . فَقَالَ " وَيْلَكَ أَوَلَسْتُ أَحَقَّ أَهْلِ الأَرْضِ أَنْ يَتَّقِيَ اللَّهَ " . قَالَ ثُمَّ وَلَّى الرَّجُلُ فَقَالَ خَالِدُ بْنُ الْوَلِيدِ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَلاَ أَضْرِبُ عُنُقَهُ فَقَالَ " لاَ لَعَلَّهُ أَنْ يَكُونَ يُصَلِّي " . قَالَ خَالِدٌ وَكَمْ مِنْ مُصَلٍّ يَقُولُ بِلِسَانِهِ مَا لَيْسَ فِي قَلْبِهِ . فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " إِنِّي لَمْ أُومَرْ أَنْ أَنْقُبَ عَنْ قُلُوبِ النَّاسِ وَلاَ أَشُقَّ بُطُونَهُمْ " . قَالَ ثُمَّ نَظَرَ إِلَيْهِ وَهُوَ مُقَفٍّ فَقَالَ " إِنَّهُ يَخْرُجُ مِنْ ضِئْضِئِ هَذَا قَوْمٌ يَتْلُونَ كِتَابَ اللَّهِ رَطْبًا لاَ يُجَاوِزُ حَنَاجِرَهُمْ يَمْرُقُونَ مِنَ الدِّينِ كَمَا يَمْرُقُ السَّهْمُ مِنَ الرَّمِيَّةِ - قَالَ أَظُنُّهُ قَالَ - لَئِنْ أَدْرَكْتُهُمْ لأَقْتُلَنَّهُمْ قَتْلَ ثَمُودَ " .

Narrator: হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ)

২৩২৩। কুতায়বা ইবনে সাঈদ (রাহঃ) ......... আবু সাঈদ খুদরী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, ইয়ামান থেকে আলী (রাযিঃ) দাবাগাত করা চামড়ার থলিতে করে কিছু সোনা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট পাঠালেন। তখনো স্বর্নগুলো মাটি থেকে পৃথক করা হয়নি। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এগুলো চার ব্যক্তির মাঝে বণ্টন করে দিলেন। উয়াইনা ইবনে হিসন, আকরা ইবনে হাবিস, যায়দ জাল-খায়ল, চতুর্থ ব্যক্তি হয়তো আলকামা ইবনে উলাসা অথবা আমির ইবনে তুফায়ল (রাযিঃ)। তখন সাহাবাদের মধ্য থেকে একজন বললেন, তাদের থেকে আমরাই এ মালের অধিক হকদার ছিলাম। এ খবর নবী (ﷺ) এর নিকট পৌছার পর তিনি বললেন, তোমরা কি আমাকে আমানতদার মনে কর না? অথচ যিনি আসমানে আছেন, তাঁর কাছে আমি আমানতদার। আমার কাছে সকাল সন্ধ্যায় আসমানের খবর আসে।

রাবী বলেন, তখন কোটরাগত চোখ, ফোলা গাল, উঁচু ললাট, ঘন দাঁড়ি, মুণ্ডিত মস্তক এবং লুঙ্গি কাঁচানো এক ব্যক্তি দাঁড়িয়ে বলল, ইয়া রাসুলাল্লাহ! আপনি আল্লাহকে ভয় করুন। তখন নবী (ﷺ) বললেছেন, তোমার সর্বনাশ হোক। আল্লাহকে ভয় করার ব্যাপারে পৃথিবীতে আমি কি সর্বাধিক যোগ্য নই? রাবী বলেন, অতঃপর লোকটি ফিরে চলে গেল। এ সময় খালিদ ইবনে ওয়ালীদ (রাযিঃ) বললেন, ইয়া রাসুলাল্লাহ! আমি কি তার গর্দান উড়িয়ে দেব না? তিনি বললেন, না সম্ভবত সে নামায আদায় করে।

খালিদ (রাযিঃ) বললেন, অনেক মুসল্লী আছে যারা মুখ দিয়ে এমন কথা বলে যা তাদের অন্তরে নেই। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, মানুষের হদয় অনুসন্ধানের এবং পেট বিদীর্ণ করার জন্য আমি আদিষ্ট হইনি। তারপর তিনি লোকটির দিকে তাকালেন, সে ঘাড় ফিরিয়ে চলে যাচ্ছে। তখন তিনি বললেন, তার বংশে এমন লোক জন্মগ্রহণ করবে যারা অনায়াসে আল্লাহর কিতাব তিলাওয়াত করবে কিন্তু তা তাদের কণ্ঠনালী অতিক্রম করবে না। তারা দ্বীন থেকে এভাবে বেরিয়ে যাবে যেমন বেরিয়ে যায় তীর তার শিকার ভেদ করে। রাবী বলেন, আমার মনে হয়, তিনি এও বলেছেন যদি আমি তাদের পাই তবে অবশ্যই আমি তাদের সামুদ সম্প্রদায়ের মত হত্যা করব।
2324

حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا جَرِيرٌ، عَنْ عُمَارَةَ بْنِ الْقَعْقَاعِ، بِهَذَا الإِسْنَادِ قَالَ وَعَلْقَمَةُ بْنُ عُلاَثَةَ وَلَمْ يَذْكُرْ عَامِرَ بْنَ الطُّفَيْلِ وَقَالَ نَاتِئُ الْجَبْهَةِ وَلَمْ يَقُلْ نَاشِزُ . وَزَادَ فَقَامَ إِلَيْهِ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ - رضى الله عنه - فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَلاَ أَضْرِبُ عُنُقَهُ قَالَ " لاَ " . قَالَ ثُمَّ أَدْبَرَ فَقَامَ إِلَيْهِ خَالِدٌ سَيْفُ اللَّهِ فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَلاَ أَضْرِبُ عُنُقَهُ قَالَ " لاَ " . فَقَالَ " إِنَّهُ سَيَخْرُجُ مِنْ ضِئْضِئِ هَذَا قَوْمٌ يَتْلُونَ كِتَابَ اللَّهِ لَيِّنًا رَطْبًا - وَقَالَ قَالَ عُمَارَةُ حَسِبْتُهُ قَالَ " لَئِنْ أَدْرَكْتُهُمْ لأَقْتُلَنَّهُمْ قَتْلَ ثَمُودَ " .

Narrator: হযরত উমর ইবনুল খাত্তাব রাযি.

২৩২৪। উসমান ইবনে আবি শাঈবা (রাহঃ) ......... উমর ইবনে কা’কা (রাহঃ) সূত্রে এ সনদে উক্ত হাদীস বর্ণনা করেছেন। তবে বর্ণনাকারীর এ হাদীসের মধ্যে আলকামা ইবনে উলাসার কথা রয়েছে। কিন্তু আমির ইবনে তুফায়লের কথা উল্লেখ নেই। অনুরূপভাবে এ হাদীসের মধ্যেنَاشِزُ এর স্থলেنَاتِئُ الْجَبْهَةِ কথাটি উল্লেখ রয়েছে।

এ হাদীসের মধ্যে অতিরিক্ত এ কথাও বর্ণিত আছে যে, এরপর উমর ইবনে খাত্তাব (রাযিঃ) দাঁড়িয়ে বললেন, হে আল্লাহর রাসুল! আমি কি তার গর্দান উড়িয়ে দেব না? তিনি বললেন, না। তারপর লোকটি পেছনের দিকে চলে গেল। এরপর খালিদ সাইফুল্লাহ (রাযিঃ) দাঁড়িয়ে বললেন, হে আল্লাহর রাসুল! আমি কি তার গর্দান উড়িয়ে দেব না? তিনি বললেন, না। এরপর বললেন, অচিরেই তার বংশ থেকে এমন কওম হবে, যারা নমরভাবে মধুর সূরে আল্লাহর কিতাব পাঠ করবে। বর্ণনাকারী বলেন, উমর (রাযিঃ) বলেছেন, আমার মনে হয়, তিনি বলেছেনঃ যদি আমি তাদেরকে পাই তবে সামূদ সম্প্রদায়ের মত অবশ্যই তাদের হত্যা করব।
2325

وَحَدَّثَنَا ابْنُ نُمَيْرٍ، حَدَّثَنَا ابْنُ فُضَيْلٍ، عَنْ عُمَارَةَ بْنِ الْقَعْقَاعِ، بِهَذَا الإِسْنَادِ وَقَالَ بَيْنَ أَرْبَعَةِ نَفَرٍ زَيْدُ الْخَيْرِ وَالأَقْرَعُ بْنُ حَابِسٍ وَعُيَيْنَةُ بْنُ حِصْنٍ وَعَلْقَمَةُ بْنُ عُلاَثَةَ أَوْ عَامِرُ بْنُ الطُّفَيْلِ . وَقَالَ نَاشِزُ الْجَبْهَةِ . كَرِوَايَةِ عَبْدِ الْوَاحِدِ . وَقَالَ إِنَّهُ سَيَخْرُجُ مِنْ ضِئْضِئِ هَذَا قَوْمٌ وَلَمْ يَذْكُرْ " لَئِنْ أَدْرَكْتُهُمْ لأَقْتُلَنَّهُمْ قَتْلَ ثَمُودَ " .

Narrator: হযরত উমর ইবনুল খাত্তাব রাযি.

২৩২৫। ইবনে নুমাইর (রাহঃ) ......... উমরা ইবনে কা’কা (রাহঃ) সূত্রে এ সনদে উক্ত হাদীস বর্ণনা করেছেন। এ হাদীসে এও বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) সোনাগুলো যায়দ আল খায়র, আকরা ইবনে হাবিস, উয়াইনা ইবনে হিসন ও আলকামা ইবনে উলাসা বা আমির ইবনে তুফায়ল (রাযিঃ) এই চার ব্যক্তির মাঝে বণ্টন করে দিলেন। আব্দুল ওয়াহিদের হাদীসের মত এ হাদীসেওنَاشِزُ الْجَبْهَةِ কথাটি উল্লেখ রয়েছে।

এ হাদীসে আছে যে, ″এর ঔরষ থেকে এমন এক কওম বের হবে″। তবে এ হাদীসের মধ্যে ″যদি আমি তাদেরকে পাই; তবে সামূদ সম্প্রদায়ের হত্যা করার মত আমিও তাদেরকে হত্যা করব″ কথাটি উল্লেখ নেই।
2326

وَحَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَهَّابِ، قَالَ سَمِعْتُ يَحْيَى بْنَ سَعِيدٍ، يَقُولُ أَخْبَرَنِي مُحَمَّدُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، وَعَطَاءِ بْنِ يَسَارٍ، أَنَّهُمَا أَتَيَا أَبَا سَعِيدٍ الْخُدْرِيَّ فَسَأَلاَهُ عَنِ الْحَرُورِيَّةِ، هَلْ سَمِعْتَ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَذْكُرُهَا قَالَ لاَ أَدْرِي مَنِ الْحَرُورِيَّةُ وَلَكِنِّي سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " يَخْرُجُ فِي هَذِهِ الأُمَّةِ - وَلَمْ يَقُلْ مِنْهَا - قَوْمٌ تَحْقِرُونَ صَلاَتَكُمْ مَعَ صَلاَتِهِمْ فَيَقْرَءُونَ الْقُرْآنَ . لاَ يُجَاوِزُ حُلُوقَهُمْ - أَوْ حَنَاجِرَهُمْ - يَمْرُقُونَ مِنَ الدِّينِ مُرُوقَ السَّهْمِ مِنَ الرَّمِيَّةِ فَيَنْظُرُ الرَّامِي إِلَى سَهْمِهِ إِلَى نَصْلِهِ إِلَى رِصَافِهِ فَيَتَمَارَى فِي الْفُوقَةِ هَلْ عَلِقَ بِهَا مِنَ الدَّمِ شَىْءٌ " .

Narrator: হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ)

২৩২৬। মুহাম্মাদ ইবনুল মুসান্না (রাহঃ) ......... আবু সালামা ও আতা ইবনে ইয়াসার (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। একদা তারা দু’জন আবু সাঈদ খুদরী (রাযিঃ) এর নিকট এসে হারুরিয়্যা (খারেজী সম্প্রদায়)-দের সম্পর্কে প্রশ্ন করলেন এবং বললেন, আপনি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে হারুরিয়্যাদের আলোচনা করতে শুনেছেন কি? তিনি বললেন, হারুরিয়্যা কারা আমি জানি না, তবে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে একথা বলতে শুনেছি যে, এ উম্মতের মাঝে, তিনি ″এ উম্মত থেকে″ (এ কথা বলেন নি) এমন কওম বের হবে তোমরা তোমাদের নামাযকে তাদের নামাযের তুলনায় তুচ্ছ মনে করবে। তারা কুরআন পাঠ করবে কিন্তু এ কুরআন তাদের কন্ঠনালী অতিক্রম করবে না। তারা দ্বীন থেকে বেরিয়ে যাবে যেমন বেরিয়ে যায় তীর তার লক্ষ্যস্থল ভেদ করে। এরপর তীর নিক্ষেপকারী ব্যক্তি তার তীর, নাসল রুসাফ এর ফুকার (ধনুকের অংশের আরবী নাম) প্রতি তাকিয়ে দেখে যে, এগুলি রক্তে লেগেছে কিনা?

2327

حَدَّثَنِي أَبُو الطَّاهِرِ، أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ وَهْبٍ، أَخْبَرَنِي يُونُسُ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، أَخْبَرَنِي أَبُو سَلَمَةَ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، ح . وَحَدَّثَنِي حَرْمَلَةُ بْنُ يَحْيَى، وَأَحْمَدُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ الْفِهْرِيُّ، قَالاَ أَخْبَرَنَا ابْنُ وَهْبٍ، أَخْبَرَنِي يُونُسُ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، أَخْبَرَنِي أَبُو سَلَمَةَ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، وَالضَّحَّاكُ الْهَمْدَانِيُّ، أَنَّ أَبَا سَعِيدٍ الْخُدْرِيَّ، قَالَ بَيْنَا نَحْنُ عِنْدَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَهُوَ يَقْسِمُ قَسْمًا أَتَاهُ ذُو الْخُوَيْصِرَةِ وَهُوَ رَجُلٌ مِنْ بَنِي تَمِيمٍ فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ اعْدِلْ . قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " وَيْلَكَ وَمَنْ يَعْدِلُ إِنْ لَمْ أَعْدِلْ قَدْ خِبْتَ وَخَسِرْتَ إِنْ لَمْ أَعْدِلْ " . فَقَالَ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ رضى الله عنه يَا رَسُولَ اللَّهِ ائْذَنْ لِي فِيهِ أَضْرِبْ عُنُقَهُ . قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " دَعْهُ فَإِنَّ لَهُ أَصْحَابًا يَحْقِرُ أَحَدُكُمْ صَلاَتَهُ مَعَ صَلاَتِهِمْ وَصِيَامَهُ مَعَ صِيَامِهِمْ يَقْرَءُونَ الْقُرْآنَ لاَ يُجَاوِزُ تَرَاقِيَهُمْ يَمْرُقُونَ مِنَ الإِسْلاَمِ كَمَا يَمْرُقُ السَّهْمُ مِنَ الرَّمِيَّةِ يُنْظَرُ إِلَى نَصْلِهِ فَلاَ يُوجَدُ فِيهِ شَىْءٌ ثُمَّ يُنْظَرُ إِلَى رِصَافِهِ فَلاَ يُوجَدُ فِيهِ شَىْءٌ ثُمَّ يُنْظَرُ إِلَى نَضِيِّهِ فَلاَ يُوجَدُ فِيهِ شَىْءٌ - وَهُوَ الْقِدْحُ - ثُمَّ يُنْظَرُ إِلَى قُذَذِهِ فَلاَ يُوجَدُ فِيهِ شَىْءٌ سَبَقَ الْفَرْثَ وَالدَّمَ . آيَتُهُمْ رَجُلٌ أَسْوَدُ إِحْدَى عَضُدَيْهِ مِثْلُ ثَدْىِ الْمَرْأَةِ أَوْ مِثْلُ الْبَضْعَةِ تَدَرْدَرُ يَخْرُجُونَ عَلَى حِينِ فُرْقَةٍ مِنَ النَّاسِ " . قَالَ أَبُو سَعِيدٍ فَأَشْهَدُ أَنِّي سَمِعْتُ هَذَا مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَأَشْهَدُ أَنَّ عَلِيَّ بْنَ أَبِي طَالِبٍ - رضى الله عنه - قَاتَلَهُمْ وَأَنَا مَعَهُ فَأَمَرَ بِذَلِكَ الرَّجُلِ فَالْتُمِسَ فَوُجِدَ فَأُتِيَ بِهِ حَتَّى نَظَرْتُ إِلَيْهِ عَلَى نَعْتِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم الَّذِي نَعَتَ .

Narrator: হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ)

২৩২৭। আবু তাহির, হারামালা ইবনে ইয়াহয়া ও আহমাদ ইবনে আব্দুর রহমান ফিহরী (রাহঃ) ......... আবু সাঈদ খুদরী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আমরা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট বসা ছিলাম। তখন তিনি কিছু সম্পদ বন্টন করলেন। এ সময় বনী তামীম গোত্রের যুল খুওয়াইসিরা নামক এক ব্যাক্ত রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট এসে বলল, হে আল্লাহর রাসুল! ইনসাফ করুন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, তোমার ধ্বংস হোক, কে ইনসাফ করবে যদি আমি ইনসাফ না করি! আমি যদি ইসনাফ না করি তবে তো আমি অকৃতকার্য ও ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে যাব।

তখন উমর ইবনুল খাত্তাব (রাযিঃ) বললেন, হে আল্লাহর রাসুল! আমাকে অনুমতি দিন, আমি তার গর্দান উড়িয়ে দেই। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, তাকে ছেড়ে দাও। তার সঙ্গী সাথীরা তো এমন যে, তোমরা তোমাদের নামাযকে তাদের তুলনায় তুচ্ছ মনে করবে এবং তোমরা তোমাদের রোযাকে তাদের রোযার তুলনায় নগণ্য মনে করবে। তারা কুরআন পাঠ করবে কিন্তু কুরআন তাদের কন্ঠনালী অতিক্রম করবে না। তারা ইসলাম থেকে বেরিয়ে যাবে যেমন বেরিয়ে যায় তীর তার লক্ষ্যস্থল অতিক্রম করে। তখন তীর নিক্ষেপকারী ব্যক্তি ধনুকের নাসল পরীক্ষা করে দেখবে এতেও কিছু পাওয়া যাবে না। এরপর সে এর রুসাফ পরীক্ষা করে দেখবে এতেও কিছু পাওয়া যাবে না। তারপর সে এর নাদীহ পরীক্ষা করে দেখবে এতে ও কিছুই পাওয়া যাবে না। কিদাহকেই নাাদী বলা হয়। তারপর সে এর কুযায পরীক্ষা করে দেখবে এতেও পাওয়া যাবে না। তীর এত তীব্র গতিতে বেরিয়ে যায় যে মল বা রক্তের দাগ এতে লাগতেই পারে না।

এ সম্প্রদায়ের লোকদের পরিচয় এই যে, এক কালোকায় ব্যক্তি যার উভয় বাহু হতে একটি বাহু হবে মহিলাদের স্তনের ন্যায় অথবা এক টূকরা বাড়তি গোশতের ন্যায়। এদের আবির্ভাব তখন হবে যখন লোকদের মধ্যে মতানৈক্য দেখা দেবে। আবু সাঈদ (রাযিঃ) বলেন, আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আমি একথা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) থেকে শুনেছি। আরো সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আলী (রাযিঃ) তাদের সাথে যুদ্ধ করেছেন, তখন আমি তার সাথে ছিলাম। আলী (রাযিঃ) এ লোকটিকে খোজ করার নির্দেশ দেওয়ার পর তাকে তালাশ করে পাওয়া গেল। এরপর তাকে আনা হল। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তার যে নিদর্শন করেছেন তা তার মধ্যে দেখতে পেলাম।
2328

وَحَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي عَدِيٍّ، عَنْ سُلَيْمَانَ، عَنْ أَبِي نَضْرَةَ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم ذَكَرَ قَوْمًا يَكُونُونَ فِي أُمَّتِهِ يَخْرُجُونَ فِي فُرْقَةٍ مِنَ النَّاسِ سِيمَاهُمُ التَّحَالُقُ قَالَ " هُمْ شَرُّ الْخَلْقِ - أَوْ مِنْ أَشَرِّ الْخَلْقِ - يَقْتُلُهُمْ أَدْنَى الطَّائِفَتَيْنِ إِلَى الْحَقِّ " . قَالَ فَضَرَبَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم لَهُمْ مَثَلاً أَوْ قَالَ قَوْلاً " الرَّجُلُ يَرْمِي الرَّمِيَّةَ - أَوْ قَالَ الْغَرَضَ - فَيَنْظُرُ فِي النَّصْلِ فَلاَ يَرَى بَصِيرَةً وَيَنْظُرُ فِي النَّضِيِّ فَلاَ يَرَى بَصِيرَةً وَيَنْظُرُ فِي الْفُوقِ فَلاَ يَرَى بَصِيرَةً " . قَالَ قَالَ أَبُو سَعِيدٍ وَأَنْتُمْ قَتَلْتُمُوهُمْ يَا أَهْلَ الْعِرَاقِ .

Narrator: হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ)

২৩২৮। মুহাম্মাদ ইবনুল মুসান্না (রাহঃ) ......... আবু সাঈদ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। নবী (ﷺ) একদল লোক সম্পর্কে আলোচনা করলেন যারা তাঁর উম্মতের মাঝেই সৃষ্টি হবে। তারা আবির্ভূত হবে ঐ সময় যখন মানুষের মধ্যে বিরোধ দেখা দিবে। তাদের নিদর্শন এই যে, তাদের মাথা মুণ্ডানো থাকবে। তারা সৃষ্টির নিকৃষ্ট বা সর্বাধিক নিকৃষ্ট লোক হবে। তাদেরকে দু’দলের এমন দলটি হত্যা করবে যারা সত্যের দিকে অধিক নিকটবর্তী। এরপর নবী (ﷺ) তাদের একটি উপমা বর্ণনা করলেন অথবা বললেন, এক ব্যক্তি লক্ষ্যস্থল নিরূপন করে তীর নিক্ষেপ করে। এরপর তার ফলা পরীক্ষা করে দেখে কিন্তু এতে বিন্দুমাত্র রক্তও সে দেখতে পায় না। এরপর এর নাযীহ পরীক্ষা করে দেখে, এতেও বিন্দুমাত্র রক্ত সে দেখে না। তারপর সে এর ফুক পরীক্ষা করে দেখে কিন্তু এতেও সে বিন্দুমাত্র কোন কিছু দেখতে পায় না। বর্ণনাকারী আবু সাঈদ (রাযিঃ) বলেন, হে ইরাকবাসী! তোমরা তাদেরকে হত্যা করেছ।

2329

حَدَّثَنَا شَيْبَانُ بْنُ فَرُّوخَ، حَدَّثَنَا الْقَاسِمُ، - وَهُوَ ابْنُ الْفَضْلِ الْحُدَّانِيُّ - حَدَّثَنَا أَبُو نَضْرَةَ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " تَمْرُقُ مَارِقَةٌ عِنْدَ فُرْقَةٍ مِنَ الْمُسْلِمِينَ يَقْتُلُهَا أَوْلَى الطَّائِفَتَيْنِ بِالْحَقِّ " .

Narrator: হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ)

২৩২৯। শায়বান ইবনে ফাররুখ (রাহঃ) ......... আবু সাঈদ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, মুসলমানদের মতবিরোধের সময় একটি দল বের হবে, তাদেরকে হত্যা করবে, দু’দলের এমন দলটি, যারা হকের অধিক নিকটবর্তী।

2330

حَدَّثَنَا أَبُو الرَّبِيعِ الزَّهْرَانِيُّ، وَقُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، قَالَ قُتَيْبَةُ حَدَّثَنَا أَبُو عَوَانَةَ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ أَبِي نَضْرَةَ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " تَكُونُ فِي أُمَّتِي فِرْقَتَانِ فَتَخْرُجُ مِنْ بَيْنِهِمَا مَارِقَةٌ يَلِي قَتْلَهُمْ أَوْلاَهُمْ بِالْحَقِّ " .

Narrator: হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ)

২৩৩০। আবুর রাবী যাহরানী ও কুতায়বা ইবনে সাঈদ (রাহঃ) ......... আবু সাঈদ খুদরী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, আমার উম্মতে দু’টি দল সৃষ্টি হবে। তখন তাদের থেকে অন্য আরেকটি দল সৃষ্টি হবে। এ দলকে দু’ দলের ঐ দল হত্যা করবে যারা হকের অধিক নিকটবর্তী।

2331

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، حَدَّثَنَا عَبْدُ الأَعْلَى، حَدَّثَنَا دَاوُدُ، عَنْ أَبِي نَضْرَةَ، عَنْ أَبِي، سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " تَمْرُقُ مَارِقَةٌ فِي فُرْقَةٍ مِنَ النَّاسِ فَيَلِي قَتْلَهُمْ أَوْلَى الطَّائِفَتَيْنِ بِالْحَقِّ " .

Narrator: হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ)

২৩৩১। মুহাম্মাদ ইবনুল মুসান্না (রাহঃ) ......... আবু সাঈদ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেন, মানুষের মধ্যে যখন মতবিরোধ দেখা দিবে তখন একদল লোক বের হবে। তাদেরকে হত্যা করবে দু’দলের যে দলটি হকের অধিক নিকটবর্তী।

2332

حَدَّثَنِي عُبَيْدُ اللَّهِ الْقَوَارِيرِيُّ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الزُّبَيْرِ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ حَبِيبِ بْنِ أَبِي ثَابِتٍ، عَنِ الضَّحَّاكِ الْمِشْرَقِيِّ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فِي حَدِيثٍ ذَكَرَ فِيهِ قَوْمًا يَخْرُجُونَ عَلَى فُرْقَةٍ مُخْتَلِفَةٍ يَقْتُلُهُمْ أَقْرَبُ الطَّائِفَتَيْنِ مِنَ الْحَقِّ .

Narrator: হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ)

২৩৩২। উবাইদুল্লাহ কাওয়ারীরী (রাহঃ) ......... আবু সাঈদ (রাযিঃ) সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে বর্ণিত হাদীসে তিনি এক কওম সম্পর্কে আলোচনা করলেন যে, এক ভীষণ মতবিরোধ চনাকালীন অবস্থায় তারা আবির্ভূত হবে। দু’দলের যে দলটি সত্যের অধিক নিকটবর্তী হবে, তারা তাদেরকে হত্যা করবে।

৩৬. খারিজীদের হত্যা করতে উৎসাহ দান

باب التحريض على قتل الخوارج

2333

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ نُمَيْرٍ، وَعَبْدُ اللَّهِ بْنُ سَعِيدٍ الأَشَجُّ، جَمِيعًا عَنْ وَكِيعٍ، - قَالَ الأَشَجُّ حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، - حَدَّثَنَا الأَعْمَشُ، عَنْ خَيْثَمَةَ، عَنْ سُوَيْدِ بْنِ غَفَلَةَ، قَالَ قَالَ عَلِيٌّ إِذَا حَدَّثْتُكُمْ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَلأَنْ أَخِرَّ مِنَ السَّمَاءِ أَحَبُّ إِلَىَّ مِنْ أَنْ أَقُولَ عَلَيْهِ مَا لَمْ يَقُلْ وَإِذَا حَدَّثْتُكُمْ فِيمَا بَيْنِي وَبَيْنَكُمْ فَإِنَّ الْحَرْبَ خَدْعَةٌ . سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " سَيَخْرُجُ فِي آخِرِ الزَّمَانِ قَوْمٌ أَحْدَاثُ الأَسْنَانِ سُفَهَاءُ الأَحْلاَمِ يَقُولُونَ مِنْ خَيْرِ قَوْلِ الْبَرِيَّةِ يَقْرَءُونَ الْقُرْآنَ لاَ يُجَاوِزُ حَنَاجِرَهُمْ يَمْرُقُونَ مِنَ الدِّينِ كَمَا يَمْرُقُ السَّهْمُ مِنَ الرَّمِيَّةِ فَإِذَا لَقِيتُمُوهُمْ فَاقْتُلُوهُمْ فَإِنَّ فِي قَتْلِهِمْ أَجْرًا لِمَنْ قَتَلَهُمْ عِنْدَ اللَّهِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ " .

Narrator: হযরত আলী ইবনে আবী তালিব (রাঃ)

২৩৩৩। মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে নুমাইর ও আব্দুল্লাহ ইবনে সাঈদ আশাজ্জ (রাহঃ) ......... সুওয়ায়দ ইবনে গাফালা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আলী (রাযিঃ) বলেছেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যা বলেন নি এরূপ কোন কথা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নামে বলার চেয়ে আমার নিকট আকাশ হতে পতিত হওয়া অধিক পছন্দনীয়। যখন আমি এবং তোমরা পরস্পর কোন কথা বলি তখন মনে রাখবে যে, যুদ্ধে প্রতারণা সাদৃশ্য কৌশল বৈধ। আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট শুনেছি; তিনি বলেন, শেষ যুগে একদল লোক বের হবে, তাদের বয়স কম হবে এবং জ্ঞানের দিক থেকে তারা হবে মুর্খ। তারা পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ মানুষের ন্যায় উত্তম কথা বলবে, কুরআন পাঠ করবে। কিন্তু কুরআন তাদের কণ্ঠনালী অতিক্রম করবে না। তারা দ্বীন থেকে বেরিয়ে যাবে যেমন বেরিয়ে যায় তীর তার লক্ষ্যস্থল ভেদ করে। যখন তোমরা তাদের সাথে যুদ্ধ করবে তখন তাদেরকে তোমরা হত্যা করে ফেলবে। কেননা তাদেরকে হত্যা করার মাঝে রয়েছে কিয়ামতের দিন আল্লাহর নিকট প্রতিদান ঐ ব্যক্তির জন্য যে তাদেরকে হত্যা করবে।

2334

حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، أَخْبَرَنَا عِيسَى بْنُ يُونُسَ، ح وَحَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ أَبِي، بَكْرٍ الْمُقَدَّمِيُّ وَأَبُو بَكْرِ بْنُ نَافِعٍ قَالاَ حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ مَهْدِيٍّ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، كِلاَهُمَا عَنِ الأَعْمَشِ، بِهَذَا الإِسْنَادِ . مِثْلَهُ .

Narrator: হযরত আলী ইবনে আবী তালিব (রাঃ)

২৩৩৪। ইসহাক ইবনে ইবরাহীম, মুহাম্মাদ ইবনে আবু বকর মুকাদ্দমী, আবু বকর ইবনে নাফি (রাহঃ) ......... আ’মাশ (রাহঃ) সূত্রে এ সনদে অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন।

2335

حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا جَرِيرٌ، ح وَحَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، وَأَبُو كُرَيْبٍ وَزُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ قَالُوا حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ، كِلاَهُمَا عَنِ الأَعْمَشِ، بِهَذَا الإِسْنَادِ . وَلَيْسَ فِي حَدِيثِهِمَا " يَمْرُقُونَ مِنَ الدِّينِ كَمَا يَمْرُقُ السَّهْمُ مِنَ الرَّمِيَّةِ " .

Narrator: হযরত আলী ইবনে আবী তালিব (রাঃ)

২৩৩৫। উসমান ইবনে আবি শাঈবা, আবু বকর ইবনে আবি শাঈবা, আবু কুরায়ব ও যুহাইর ইবনে হারব (রাহঃ) ......... আ’মাশ (রাহঃ) সূত্রে এ সনদে অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন। তবে এ হাদীসের মধ্যে “তারা দ্বীন থেকে বেরিয়ে যাবে যেমন তীর তার লক্ষ্যস্থল ভেদ করে বের হয়ে যায়” কথাটি উল্লেখ নেই।

2336

وَحَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ أَبِي بَكْرٍ الْمُقَدَّمِيُّ، حَدَّثَنَا ابْنُ عُلَيَّةَ، وَحَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ، ح وَحَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ، ح وَحَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، وَزُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، - وَاللَّفْظُ لَهُمَا - قَالاَ حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ ابْنُ عُلَيَّةَ، عَنْ أَيُّوبَ، عَنْ مُحَمَّدٍ، عَنْ عَبِيدَةَ، عَنْ عَلِيٍّ، قَالَ ذَكَرَ الْخَوَارِجَ فَقَالَ فِيهِمْ رَجُلٌ مُخْدَجُ الْيَدِ - أَوْ مُودَنُ الْيَدِ أَوْ مَثْدُونُ الْيَدِ - لَوْلاَ أَنْ تَبْطَرُوا لَحَدَّثْتُكُمْ بِمَا وَعَدَ اللَّهُ الَّذِينَ يَقْتُلُونَهُمْ عَلَى لِسَانِ مُحَمَّدٍ صلى الله عليه وسلم - قَالَ - قُلْتُ آنْتَ سَمِعْتَهُ مِنْ مُحَمَّدٍ صلى الله عليه وسلم قَالَ إِي وَرَبِّ الْكَعْبَةِ إِي وَرَبِّ الْكَعْبَةِ إِي وَرَبِّ الْكَعْبَةِ .

Narrator: হযরত আলী ইবনে আবী তালিব (রাঃ)

২৩৩৬। মুহাম্মাদ ইবনে আবু বকর মুকাদ্দমী, কুতায়বা ইবনে সাঈদ, আবু বকর ইবনে আবি শাঈবা ও যুহাইর ইবনে হারব (রাহঃ) ......... আলী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি খারেজী সম্প্রদায় সম্পর্কে আলোচনা করলেন এবং বললেন, এদের মধ্য এক ব্যক্তি এমন হবে যার হস্তদ্বয় খাটো হবে। তোমরা ঔদ্ধত্য প্রদর্শন না করলে, আল্লাহ তাআলা মুহাম্মাদ (ﷺ) এর যবাণীতে তাদেরকে যারা হত্যা করবে তাদের সাথে যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তা আমি তোমাদেরকে বলে দিতে পারি। বর্ণনাকারী বলেন, আমি তাঁকে বললাম, আপনি এ কথা মুহাম্মাদ (ﷺ) থেকে শুনেছো কি? তিনি বললেন, হ্যাঁ, আমি শুনেছি, এ কাবা গৃহের মালিকের শপথ, এ কাবা গৃহের মালিকের শপথ, এ কাবা গৃহের মালিকের শপথ।

2337

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي عَدِيٍّ، عَنِ ابْنِ عَوْنٍ، عَنْ مُحَمَّدٍ، عَنْ عَبِيدَةَ، قَالَ لاَ أُحَدِّثُكُمْ إِلاَّ مَا سَمِعْتُ مِنْهُ، . فَذَكَرَ عَنْ عَلِيٍّ، نَحْوَ حَدِيثِ أَيُّوبَ مَرْفُوعًا .

Narrator: হযরত আলী ইবনে আবী তালিব (রাঃ)

২৩৩৭। মুহাম্মাদ ইবনুল মুসান্না (রাহঃ) ......... মুহাম্মাদ ইবনে আবীদা (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, তার থেকে আমি যা শুনেছি তাই তোমাদের নিকট বর্ণনা করছি। এরপর তিনি আলী (রাযিঃ) থেকে আইয়ুবের অনুরূপ মারফুরূপে বর্ণনা করলেন।

2338

حَدَّثَنَا عَبْدُ بْنُ حُمَيْدٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ بْنُ هَمَّامٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْمَلِكِ بْنُ أَبِي سُلَيْمَانَ، حَدَّثَنَا سَلَمَةُ بْنُ كُهَيْلٍ، حَدَّثَنِي زَيْدُ بْنُ وَهْبٍ الْجُهَنِيُّ، أَنَّهُ كَانَ فِي الْجَيْشِ الَّذِينَ كَانُوا مَعَ عَلِيٍّ - رضى الله عنه - الَّذِينَ سَارُوا إِلَى الْخَوَارِجِ فَقَالَ عَلِيٌّ رضى الله عنه أَيُّهَا النَّاسُ إِنِّي سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " يَخْرُجُ قَوْمٌ مِنْ أُمَّتِي يَقْرَءُونَ الْقُرْآنَ لَيْسَ قِرَاءَتُكُمْ إِلَى قِرَاءَتِهِمْ بِشَىْءٍ وَلاَ صَلاَتُكُمْ إِلَى صَلاَتِهِمْ بِشَىْءٍ وَلاَ صِيَامُكُمْ إِلَى صِيَامِهِمْ بِشَىْءٍ يَقْرَءُونَ الْقُرْآنَ يَحْسِبُونَ أَنَّهُ لَهُمْ وَهُوَ عَلَيْهِمْ لاَ تُجَاوِزُ صَلاَتُهُمْ تَرَاقِيَهُمْ يَمْرُقُونَ مِنَ الإِسْلاَمِ كَمَا يَمْرُقُ السَّهْمُ مِنَ الرَّمِيَّةِ " . لَوْ يَعْلَمُ الْجَيْشُ الَّذِينَ يُصِيبُونَهُمْ مَا قُضِيَ لَهُمْ عَلَى لِسَانِ نَبِيِّهِمْ صلى الله عليه وسلم لاَتَّكَلُوا عَنِ الْعَمَلِ وَآيَةُ ذَلِكَ أَنَّ فِيهِمْ رَجُلاً لَهُ عَضُدٌ وَلَيْسَ لَهُ ذِرَاعٌ عَلَى رَأْسِ عَضُدِهِ مِثْلُ حَلَمَةِ الثَّدْىِ عَلَيْهِ شَعَرَاتٌ بِيضٌ فَتَذْهَبُونَ إِلَى مُعَاوِيَةَ وَأَهْلِ الشَّامِ وَتَتْرُكُونَ هَؤُلاَءِ يَخْلُفُونَكُمْ فِي ذَرَارِيِّكُمْ وَأَمْوَالِكُمْ وَاللَّهِ إِنِّي لأَرْجُو أَنْ يَكُونُوا هَؤُلاَءِ الْقَوْمَ فَإِنَّهُمْ قَدْ سَفَكُوا الدَّمَ الْحَرَامَ وَأَغَارُوا فِي سَرْحِ النَّاسِ فَسِيرُوا عَلَى اسْمِ اللَّهِ . قَالَ سَلَمَةُ بْنُ كُهَيْلٍ فَنَزَّلَنِي زَيْدُ بْنُ وَهْبٍ مَنْزِلاً حَتَّى قَالَ مَرَرْنَا عَلَى قَنْطَرَةٍ فَلَمَّا الْتَقَيْنَا وَعَلَى الْخَوَارِجِ يَوْمَئِذٍ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ وَهْبٍ الرَّاسِبِيُّ فَقَالَ لَهُمْ أَلْقُوا الرِّمَاحَ وَسُلُّوا سُيُوفَكُمْ مِنْ جُفُونِهَا فَإِنِّي أَخَافُ أَنْ يُنَاشِدُوكُمْ كَمَا نَاشَدُوكُمْ يَوْمَ حَرُورَاءَ . فَرَجَعُوا فَوَحَّشُوا بِرِمَاحِهِمْ وَسَلُّوا السُّيُوفَ وَشَجَرَهُمُ النَّاسُ بِرِمَاحِهِمْ - قَالَ - وَقُتِلَ بَعْضُهُمْ عَلَى بَعْضٍ وَمَا أُصِيبَ مِنَ النَّاسِ يَوْمَئِذٍ إِلاَّ رَجُلاَنِ فَقَالَ عَلِيٌّ رضى الله عنه الْتَمِسُوا فِيهِمُ الْمُخْدَجَ . فَالْتَمَسُوهُ فَلَمْ يَجِدُوهُ فَقَامَ عَلِيٌّ - رضى الله عنه - بِنَفْسِهِ حَتَّى أَتَى نَاسًا قَدْ قُتِلَ بَعْضُهُمْ عَلَى بَعْضٍ قَالَ أَخِّرُوهُمْ . فَوَجَدُوهُ مِمَّا يَلِي الأَرْضَ فَكَبَّرَ ثُمَّ قَالَ صَدَقَ اللَّهُ وَبَلَّغَ رَسُولُهُ - قَالَ - فَقَامَ إِلَيْهِ عَبِيدَةُ السَّلْمَانِيُّ فَقَالَ يَا أَمِيرَ الْمُؤْمِنِينَ اللَّهَ الَّذِي لاَ إِلَهَ إِلاَّ هُوَ لَسَمِعْتَ هَذَا الْحَدِيثَ مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ إِي وَاللَّهِ الَّذِي لاَ إِلَهَ إِلاَّ هُوَ . حَتَّى اسْتَحْلَفَهُ ثَلاَثًا وَهُوَ يَحْلِفُ لَهُ .

Narrator: হযরত আলী ইবনে আবী তালিব (রাঃ)

২৩৩৮। আব্দ ইবনে হুমায়দ (রাহঃ) ......... যায়দ ইবনে ওয়াহব জুহানী (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি ঐ সৈন্যদলের মধ্যে ছিলেন, যারা আলী (রাযিঃ) এর সাথে খারেজী সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার জন্য সফর করেছিলেন। আলী (রাযিঃ) বললেন, হে লোক সকল! আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট শুনেছি, তিনি বলেছেন, আমার উম্মত থেকে এমন একদল লোক বের হবে যারা কুরআন পাঠ করবে। কিন্তু তোমাদের কিরা’আত তাদের কিরা’আতের সামনে কিছুই নয়। তোমাদের নামায তাদের নামাযের তুলনায় কিছুই নয় এবং তোমাদের রোযা তাদের রোযার তুলনায় কিছুই নয়। তারা কুরআন পাঠ করবে আর ভাববে তা তাদের পক্ষে। প্রকৃতপক্ষে তা তাদের বিপক্ষে। তাদের নামায তাদের কণ্ঠনালী অতিক্রম করবে না। তারা ইসলাম থেকে বের হয়ে যাবে যেমন তীর তার লক্ষ্যস্থল ভেদ করে বের হয়ে যায়, যে সেনাদল কর্তৃক তারা আক্রান্ত হবে তাদের সম্পর্কে নবী (ﷺ) এর মুখে যে সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হয়েছে তা যদি সৈন্যগণ জানত তবে অবশ্যই তারা আমল ছেড়ে দিয়ে বসে থাকত।

তাদের নিদর্শন এই যে, তাদের মাঝে এমন এক ব্যক্তি হবে যার বাহুর সঙ্গে হাত থাকবে না। স্তনের বোটার ন্যায় এর উপরে থাকবে সাদা কতগুলো পশম। [আলী (রাযিঃ)] বলেন, তোমরা মুআবিয়া (রাযিঃ) ও সিরিয়াবাসীদের দিকে আগ্রসর হচ্ছে এবং তাদেরকে এড়িয়ে যাচ্ছ অথচ তারা তোমাদের পেছনে তোমাদের সন্তান-সন্ততিদেরকে কষ্ট দিবে এবং তোমাদের ধন সম্পদ নষ্ট করবে। আল্লাহর শপথ! আমি আশঙ্কা করি তারাই ঐ কওম যারা অন্যায়ভাবে রক্তপাত ঘটাবে এবং মানুষের পশুগুলো লুণ্ঠন করবে। অতএব তোমরা আল্লাহর নাম নিয়ে তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার জন্য চল।

সালামা ইবনে কুহায়ল (রাযিঃ) বলেন, এরপর যায়দ ইবনে ওয়াহব (রাহঃ) আমার নিকট সৈন্যদের বিভিন্ন মনযিলে অবতরণের কথা বর্ণনা করলেন। তারপর বললেন, যেতে যেতে আমরা একটি পুল অতিক্রম করলাম। এরপর আমরা তাদের সাক্ষাত পেলাম। সে দিন খারেজীদের সেনাপতি ছিল, আব্দুল্লাহ ইবনে ওয়াহাব রাসিবী। সে তাদেরকে নির্দেশ দিল, তোমরা বর্শা রেখে দাও এবং তরবারী খাপ মুক্ত কর। আমি আশঙ্কা করছি, তারা তোমাদের প্রতি হামলা করবে যেমন হারুরার দিন হামলা করেছিল। এরপর তারা ফিরে গিয়ে নিজ বর্শা খুলে রেখে দিল এবং তরবারী কোষমুক্ত করল। মুসলমানগণ বর্শা দ্বারা তাদের প্রতি আক্রমণ করলে তারা নিতে হয়ে একের পর এক ধরাশায়ী হতে লাগল। সে দিন মুসলমানদের দুই ব্যক্তি কেবল শহীদ হয়েছিলেন।

তখন আলী (রাযিঃ) বললেন, তোমরা এদের মধ্যে খাটো হাত বিশিষ্ট লোকটিকে তালাশ কর। তারা সকলেই তাকে তালাশ করলেন কিন্তু কোথাও পেলেন না। এরপর আলী (রাযিঃ) স্বয়ং দাঁড়ালেন এবং একের পর এক পতিত লাশগুলোর কাছে গেলেন। এরপর তিনি লাশগুলো সরাবার নির্দেশ দিলেন। এ সময় তারা মাটির সাথে লেগে থাকা অবস্থায় খাটো হাত বিশিষ্ট লোকটিকে পেয়ে গেলেন।

তখন আলী (রাযিঃ) “আল্লাহু আকবার” ধ্বনি দিলেন এবং বললেন, আল্লাহ সত্য বলেছেন এবং তাঁর রাসুল (ﷺ) যথাযথভাবে পৌছিয়েছেন। বর্ণনাকারী বলেন, এরপর আবীদা সালমানী (রাযিঃ) তার নিকট দাঁড়িয়ে বললেন, হে আমীযুল মু'মিনীন! তিনিই আল্লাহ , যিনি ব্যতীত আর কোন ইলাহ নেই। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) থেকে আপনি এ হাদীস শুনেছো কি? তিনি বললেন, হ্যাঁ, ঐ আল্লাহর শপথ! যিনি ব্যতীত আর কোন ইলাহ নেই। এভাবে আবীদা তাকে তিনবার কসম করতে বললেন এবং তিনি তার কথায় কসম করলেন।
2339

حَدَّثَنِي أَبُو الطَّاهِرِ، وَيُونُسُ بْنُ عَبْدِ الأَعْلَى، قَالاَ أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ وَهْبٍ، أَخْبَرَنِي عَمْرُو بْنُ الْحَارِثِ، عَنْ بُكَيْرِ بْنِ الأَشَجِّ، عَنْ بُسْرِ بْنِ سَعِيدٍ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي رَافِعٍ، مَوْلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَنَّ الْحَرُورِيَّةَ لَمَّا خَرَجَتْ وَهُوَ مَعَ عَلِيِّ بْنِ أَبِي طَالِبٍ - رضى الله عنه - قَالُوا لاَ حُكْمَ إِلاَّ لِلَّهِ . قَالَ عَلِيٌّ كَلِمَةُ حَقٍّ أُرِيدَ بِهَا بَاطِلٌ إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَصَفَ نَاسًا إِنِّي لأَعْرِفُ صِفَتَهُمْ فِي هَؤُلاَءِ " يَقُولُونَ الْحَقَّ بِأَلْسِنَتِهِمْ لاَ يَجُوزُ هَذَا مِنْهُمْ - وَأَشَارَ إِلَى حَلْقِهِ - مِنْ أَبْغَضِ خَلْقِ اللَّهِ إِلَيْهِ مِنْهُمْ أَسْوَدُ إِحْدَى يَدَيْهِ طُبْىُ شَاةٍ أَوْ حَلَمَةُ ثَدْىٍ " . فَلَمَّا قَتَلَهُمْ عَلِيُّ بْنُ أَبِي طَالِبٍ - رضى الله عنه - قَالَ انْظُرُوا . فَنَظَرُوا فَلَمْ يَجِدُوا شَيْئًا فَقَالَ ارْجِعُوا فَوَاللَّهِ مَا كَذَبْتُ وَلاَ كُذِبْتُ . مَرَّتَيْنِ أَوْ ثَلاَثًا ثُمَّ وَجَدُوهُ فِي خَرِبَةٍ فَأَتَوْا بِهِ حَتَّى وَضَعُوهُ بَيْنَ يَدَيْهِ . قَالَ عُبَيْدُ اللَّهِ وَأَنَا حَاضِرُ ذَلِكَ مِنْ أَمْرِهِمْ . وَقَوْلِ عَلِيٍّ فِيهِمْ زَادَ يُونُسُ فِي رِوَايَتِهِ قَالَ بُكَيْرٌ وَحَدَّثَنِي رَجُلٌ عَنِ ابْنِ حُنَيْنٍ أَنَّهُ قَالَ رَأَيْتُ ذَلِكَ الأَسْوَدَ .

Narrator: উবায়দুল্লাহ ইবনে আবু রাফি' (রাঃ)

২৩৩৯। আবুত তাহির ও ইউনুস ইবনে আব্দুল আ’লা (রাহঃ) ......... রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর আযাদকৃত গোলাম উবাইদুল্লাহ ইবনে আবু রাফি (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। যখন খারেজী সম্প্রদায়ের লোকেরা বেরিয়ে গেল তখন তিনি (রাবী) আলী (রাযিঃ) এর সাথে ছিলেন, তারা বলতে লাগল যে, ″হুকুম একমাত্র আল্লাহর″ তখন আলী (রাযিঃ) বললেন, কথা তো হক কিন্তু এর উদ্দেশ্য বাতিল। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কতিপয় লোকের নিদর্শন বর্ণনা করেছেন, এ নিদর্শনগুলো এদের মাঝে আমি অবশ্যই দেখতে পাচ্ছি। দেখতে পাচ্ছি তারা মুখে সত্য কথা বলবে কিন্তু এ কথা তাদের এস্থানও অতিক্রম করবে না। এ সময় তিনি কণ্ঠনালীর দিকে ইশারা করেছেন। তারা সৃষ্টি জগতের সর্বাপেক্ষা ঘৃণিত লোক। তাদের মধ্যে একজন কাল লোক রয়েছে। তার একটি হাত বকরীর স্তনের মত অথবা স্তনের বোটার মত।

যখন আলী (রাযিঃ) তাদেরকে হত্যা করলেন তখন তিনি বললেন, তোমরা (তাকে) তালাশ কর। তারা তালাশ করলেন কিন্তু কিছুই পেলেন না। এরপর তিনি বললেন, তোমরা ফিরে যাও, আল্লাহর শপথ! আমি মিথ্যা বলিনি এবং আমার নিকট মিথ্যা বলা হয়নি, একথা তিনি দু’বার কিংবা তিনবার বললেন। অতঃপর তারা তাকে লাশের স্তুপের মধ্যে পেয়ে আলী (রাযিঃ) এর নিকট নিয়ে আসলেন এবং তার সামনে রেখে দিলেন।

উবাইদুল্লাহ (রাহঃ) বলেন, তাদের বিষয়টি আমি প্রত্যক্ষ করেছি এবং তাদের সম্পর্কে আলী (রাযিঃ) যা বলেছেন আমি তা শুনেছি। ইউনূস (রাহঃ) এর রিওয়ায়াতে তিনি এ কথা অতিরিক্ত বর্ণনা করেছেন যে, বুকায়র বলেন, এক ব্যক্তি ইবনে হুনায়ন থেকে আমাকে বর্ণনা করেছেন, ইবনে হুনায়ন (রাহঃ) বলেছেন, আমি কাল লোকটিকে দেখেছি।
2340

حَدَّثَنَا شَيْبَانُ بْنُ فَرُّوخَ، حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ الْمُغِيرَةِ، حَدَّثَنَا حُمَيْدُ بْنُ هِلاَلٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الصَّامِتِ، عَنْ أَبِي ذَرٍّ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " إِنَّ بَعْدِي مِنْ أُمَّتِي - أَوْ سَيَكُونُ بَعْدِي مِنْ أُمَّتِي - قَوْمٌ يَقْرَءُونَ الْقُرْآنَ لاَ يُجَاوِزُ حَلاَقِيمَهُمْ يَخْرُجُونَ مِنَ الدِّينِ كَمَا يَخْرُجُ السَّهْمُ مِنَ الرَّمِيَّةِ ثُمَّ لاَ يَعُودُونَ فِيهِ هُمْ شَرُّ الْخَلْقِ وَالْخَلِيقَةِ " . فَقَالَ ابْنُ الصَّامِتِ فَلَقِيتُ رَافِعَ بْنَ عَمْرٍو الْغِفَارِيَّ أَخَا الْحَكَمِ الْغِفَارِيِّ قُلْتُ مَا حَدِيثٌ سَمِعْتُهُ مِنْ أَبِي ذَرٍّ كَذَا وَكَذَا فَذَكَرْتُ لَهُ هَذَا الْحَدِيثَ فَقَالَ وَأَنَا سَمِعْتُهُ مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم .

Narrator: হযরত আবু যার গিফারী (রাঃ)

২৩৪০। শায়বান ইবনে ফাররুখ (রাহঃ) ......... আবু যর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, আমার পর আমার উম্মতের থেকে অথবা অচিরেই আমার পর আমার উম্মত থেকে এমন কওম আবির্ভূত হবে যারা কুরআন পাঠ করবে কিন্তু কুরআন তাদের কন্ঠনালী অতিক্রম করবে না। তারা দ্বীন থেকে বেরিয়ে যারে যেমন বেরিয়ে যায় তীর তার লক্ষ্যস্থল ভেদ করে। এরপর তারা আর দ্বীনের দিকে আসবে না। তারা সৃষ্টি জগতের সর্ব নিকৃষ্ট লোক হবে এবং তাদের স্বভাবও হবে নীচু ধরনের।

ইবনে সামিত (রাযিঃ) বলেন, হাকাম গিফারীর ভাই রাফি ইবনে আমর গিফারী (রাযিঃ) এর সঙ্গে সাক্ষাত করে বললাম, এ কেমন কেমন হাদীস শুনতে পেলাম আবু যর (রাযিঃ) থেকে। তার নিকট আমি হাদীসটি উল্লেখ করলাম। তখন তিনি বললেন, এ হাদীস আমিও রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট শুনেছি।
2341

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ مُسْهِرٍ، عَنِ الشَّيْبَانِيِّ، عَنْ يُسَيْرِ بْنِ، عَمْرٍو قَالَ سَأَلْتُ سَهْلَ بْنَ حُنَيْفٍ هَلْ سَمِعْتَ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم يَذْكُرُ الْخَوَارِجَ فَقَالَ سَمِعْتُهُ - وَأَشَارَ بِيَدِهِ نَحْوَ الْمَشْرِقِ " قَوْمٌ يَقْرَءُونَ الْقُرْآنَ بِأَلْسِنَتِهِمْ لاَ يَعْدُو تَرَاقِيَهُمْ يَمْرُقُونَ مِنَ الدِّينِ كَمَا يَمْرُقُ السَّهْمُ مِنَ الرَّمِيَّةِ " .

Narrator: হযরত সাহল ইবনে হুনায়ফ রাযি.

২৩৪১। আবু বকর ইবনে আবি শাঈবা (রাহঃ) ......... ইউসায়র ইবনে আমর (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি সাহল ইবনে হুনায়ফ (রাযিঃ)-কে জিজ্ঞাসা করলাম যে, নবী (ﷺ) খারেজীদের সম্পর্কে যে আলোচনা করেছেন, তা কি আপনি শুনেছেন? তিনি বললেন, আমি তা শুনেছি। এ সময় নবী (ﷺ) (পূর্ব দিকে হাত দিয়ে ইশারা করে) বললেন, তারা এমন কওম যারা মুখে কুরআন পাঠ করবে কিন্তু কুরআন তাদের কণ্ঠনালী অতিক্রম করবে না। তারা দ্বীন থেকে বেরিয়ে যাবে যেমন বেরিয়ে যায় তীর তার লক্ষ্যস্থল ভেদ করে।

2342

وَحَدَّثَنَاهُ أَبُو كَامِلٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَاحِدِ، حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ الشَّيْبَانِيُّ، بِهَذَا الإِسْنَادِ وَقَالَ يَخْرُجُ مِنْهُ أَقْوَامٌ .

Narrator: হযরত সাহল ইবনে হুনায়ফ রাযি.

২৩৪২। আবু কামিল (রাহঃ) ......... সুলাইমান শায়বানী (রাহঃ) এর সূত্রে এ সনদে হাদীস বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, এ উম্মতের থেকে কতিপয় সম্প্রদায় আবির্ভূত হবে।

2343

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، وَإِسْحَاقُ، جَمِيعًا عَنْ يَزِيدَ، - قَالَ أَبُو بَكْرٍ حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ، - عَنِ الْعَوَّامِ بْنِ حَوْشَبٍ، حَدَّثَنَا أَبُو إِسْحَاقَ الشَّيْبَانِيُّ، عَنْ أُسَيْرِ بْنِ عَمْرٍو، عَنْ سَهْلِ بْنِ حُنَيْفٍ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " يَتِيهُ قَوْمٌ قِبَلَ الْمَشْرِقِ مُحَلَّقَةٌ رُءُوسُهُمْ " .

Narrator: হযরত সাহল ইবনে হুনায়ফ রাযি.

২৩৪৩। আবু বকর ইবনে আবি শাঈবা ও ইসহাক (রাহঃ) ......... সাহল ইবনে হুনায়ফ (রাযিঃ) সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, পূর্বাঞ্চলে এমন এক সম্প্রদায় আবির্ভূত হবে যাদের মাথা মুণ্ডানো থাকবে।

৩৭. রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এবং তার বংশধরদের জন্য যাকাত গ্রহণ করা অবৈধ; তার বংশধর হল, বনী হাশিম এবং বনী মুত্তালিব গোত্রের লোকজন, অন্য কেউ নয়

باب تَحْرِيمِ الزَّكَاةِ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَعَلَى آلِهِ وَهُمْ بَنُو هَاشِمٍ وَبَنُو الْمُطَّلِبِ دُونَ غَيْرِهِمْ

2344

حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ مُعَاذٍ الْعَنْبَرِيُّ، حَدَّثَنَا أَبِي، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ مُحَمَّدٍ، - وَهُوَ ابْنُ زِيَادٍ - سَمِعَ أَبَا هُرَيْرَةَ، يَقُولُ أَخَذَ الْحَسَنُ بْنُ عَلِيٍّ تَمْرَةً مِنْ تَمْرِ الصَّدَقَةِ فَجَعَلَهَا فِي فِيهِ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " كِخْ كِخْ ارْمِ بِهَا أَمَا عَلِمْتَ أَنَّا لاَ نَأْكُلُ الصَّدَقَةَ " .

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

২৩৪৪। উবাইদুল্লাহ ইবনে মু’আয আম্বারি (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, হাসান ইবনে আলী (রাযিঃ) সাদ্‌কার একটি খেজুর হাতে নিয়ে তা মুখে দিলেন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ‘কাখ-কাখ’, ধ্বনি দ্বারা ইঙ্গিত করে বললেন, এ ফেলে দাও। তুমি কি জাননা আমরা সাদ্‌কা খাই না?

2345

حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ يَحْيَى، وَأَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ وَزُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ جَمِيعًا عَنْ وَكِيعٍ، عَنْ شُعْبَةَ، بِهَذَا الإِسْنَادِ وَقَالَ " أَنَّا لاَ، تَحِلُّ لَنَا الصَّدَقَةُ " .

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

২৩৪৫। ইয়াহয়া ইবনে ইয়াহয়া, আবু বকর ইবনে আবি শাঈবা ও যুহাইর ইবনে হারব (রাহঃ) ......... শু’বা (রাহঃ) থেকে এ সনদে অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন। তবে এ হাদীসে আছে যে, সাদ্‌কা আমাদের জন্য হালাল নয়।

2346

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ، ح وَحَدَّثَنَا ابْنُ الْمُثَنَّى، حَدَّثَنَا ابْنُ، أَبِي عَدِيٍّ كِلاَهُمَا عَنْ شُعْبَةَ، فِي هَذَا الإِسْنَادِ كَمَا قَالَ ابْنُ مُعَاذٍ " أَنَّا لاَ، نَأْكُلُ الصَّدَقَةَ " .

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

২৩৪৬। মুহাম্মাদ ইবনে বাশশার ও ইবনুল মুসান্না (রাহঃ) ......... শু’বা (রাহঃ) থেকে এ সনদে ইবনে মু’আয (রাযিঃ) এর অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, সাদ্‌কা আমরা খাই না।

2347

حَدَّثَنِي هَارُونُ بْنُ سَعِيدٍ الأَيْلِيُّ، حَدَّثَنَا ابْنُ وَهْبٍ، أَخْبَرَنِي عَمْرٌو، أَنَّ أَبَا يُونُسَ، مَوْلَى أَبِي هُرَيْرَةَ حَدَّثَهُ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ قَالَ " إِنِّي لأَنْقَلِبُ إِلَى أَهْلِي فَأَجِدُ التَّمْرَةَ سَاقِطَةً عَلَى فِرَاشِي ثُمَّ أَرْفَعُهَا لآكُلَهَا ثُمَّ أَخْشَى أَنْ تَكُونَ صَدَقَةً فَأُلْقِيهَا " .

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

২৩৪৭। হারুন ইবনে সাঈদ আয়লী (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) সূত্রে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আমার পরিবার পরিজনের নিকট প্রত্যাবর্তন করে আমার বিছানার উপর একটি খেজুর পড়ে আছে দেখতে পেলাম। এরপর খাওয়ার জন্য আমি তা উঠিয়ে নিই। তারপর আমার আশঙ্কা হয় তা সাদ্‌কার হতে পারে তাই আমি তা ফেলে দেই।

2348

وَحَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ رَافِعٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ بْنُ هَمَّامٍ، حَدَّثَنَا مَعْمَرٌ، عَنْ هَمَّامِ بْنِ، مُنَبِّهٍ قَالَ هَذَا مَا حَدَّثَنَا أَبُو هُرَيْرَةَ، عَنْ مُحَمَّدٍ، رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَذَكَرَ أَحَادِيثَ مِنْهَا وَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " وَاللَّهِ إِنِّي لأَنْقَلِبُ إِلَى أَهْلِي فَأَجِدُ التَّمْرَةَ سَاقِطَةً عَلَى فِرَاشِي - أَوْ فِي بَيْتِي - فَأَرْفَعُهَا لآكُلَهَا ثُمَّ أَخْشَى أَنْ تَكُونَ صَدَقَةً - أَوْ مِنَ الصَّدَقَةِ - فَأُلْقِيهَا " .

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

২৩৪৮। মুহাম্মাদ ইবনে রাফি (রাহঃ) ......... হাম্মাম ইবনে মুনাব্বিহ (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আবু হুরায়রা (রাযিঃ) রাসূলুল্লাহ (ﷺ) থেকে এ হাদীস বর্ণনা করেছেন। এ বলে তিনি তার থেকে কয়েকটি হাদীস উল্লেখ করলেন। এরপর বললেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, আল্লাহর শপথ! আমি আমার পরিবার পরিজনের নিকট প্রত্যাবর্তন করে একটি খেজুর বিছানায় অথবা ঘরের ভেতর পড়ে থাকা অবস্থায় দেখতে পেলাম এবং খাওয়ার জন্য তা উঠিয়ে নিই। এরপর আমার ভয় হল, হয়ত তা সাদ্‌কা হবে। তাই আমি তা ফেলে দেই।

2349

حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ يَحْيَى، أَخْبَرَنَا وَكِيعٌ، عَنْ سُفْيَانَ، عَنْ مَنْصُورٍ، عَنْ طَلْحَةَ بْنِ مُصَرِّفٍ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم وَجَدَ تَمْرَةً فَقَالَ " لَوْلاَ أَنْ تَكُونَ مِنَ الصَّدَقَةِ لأَكَلْتُهَا " .

Narrator: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

২৩৪৯। ইয়াহয়া ইবনে ইয়াহয়া (রাহঃ) ......... আনাস ইবনে মালিক (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। একদা নবী (ﷺ) একটি খেজুর পেয়ে বললেন, এটা যদি সাদ্‌কার খেজুর না হত তাহলে অবশ্যই আমি তা খেয়ে ফেলতাম।

2350

وَحَدَّثَنَا أَبُو كُرَيْبٍ، حَدَّثَنَا أَبُو أُسَامَةَ، عَنْ زَائِدَةَ، عَنْ مَنْصُورٍ، عَنْ طَلْحَةَ بْنِ مُصَرِّفٍ، حَدَّثَنَا أَنَسُ بْنُ مَالِكٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مَرَّ بِتَمْرَةٍ بِالطَّرِيقِ فَقَالَ " لَوْلاَ أَنْ تَكُونَ مِنَ الصَّدَقَةِ لأَكَلْتُهَا " .

Narrator: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

২৩৫০। আবু কুরায়ব (রাহঃ) ......... আনাস ইবনে মালিক (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) রাস্তায় পড়ে থাকা একটি খেজুরের পাশ দিয়ে পথ অতিক্রম করার সময় বললেন, যদি এটা সাদ্‌কা না হত তাহলে অবশ্যই আমি খেয়ে ফেলতাম।

2351

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، وَابْنُ، بَشَّارٍ قَالاَ حَدَّثَنَا مُعَاذُ بْنُ هِشَامٍ، حَدَّثَنِي أَبِي، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ أَنَسٍ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم وَجَدَ تَمْرَةً فَقَالَ " لَوْلاَ أَنْ تَكُونَ صَدَقَةً لأَكَلْتُهَا " .

Narrator: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

২৩৫১। মুহাম্মাদ ইবনুল মুসান্না ও ইবনে বাশশার (রাহঃ) ......... আনাস ইবনে মালিক (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, নবী (ﷺ) একটি খেজুর পেয়ে বললেন, যদি সাদ্‌কার না হত তাহলে অবশ্যই আমি এটা খেয়ে ফেলতাম।

2352

حَدَّثَنِي عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ أَسْمَاءَ الضُّبَعِيُّ، حَدَّثَنَا جُوَيْرِيَةُ، عَنْ مَالِكٍ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، أَنَّ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ نَوْفَلِ بْنِ الْحَارِثِ بْنِ عَبْدِ الْمُطَّلِبِ، حَدَّثَهُ أَنَّ عَبْدَ الْمُطَّلِبِ بْنَ رَبِيعَةَ بْنِ الْحَارِثِ حَدَّثَهُ قَالَ اجْتَمَعَ رَبِيعَةُ بْنُ الْحَارِثِ وَالْعَبَّاسُ بْنُ عَبْدِ الْمُطَّلِبِ فَقَالاَ وَاللَّهِ لَوْ بَعَثْنَا هَذَيْنِ الْغُلاَمَيْنِ - قَالاَ لِي وَلِلْفَضْلِ بْنِ عَبَّاسٍ - إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَكَلَّمَاهُ فَأَمَّرَهُمَا عَلَى هَذِهِ الصَّدَقَاتِ فَأَدَّيَا مَا يُؤَدِّي النَّاسُ وَأَصَابَا مِمَّا يُصِيبُ النَّاسُ - قَالَ - فَبَيْنَمَا هُمَا فِي ذَلِكَ جَاءَ عَلِيُّ بْنُ أَبِي طَالِبٍ فَوَقَفَ عَلَيْهِمَا فَذَكَرَا لَهُ ذَلِكَ فَقَالَ عَلِيُّ بْنُ أَبِي طَالِبٍ لاَ تَفْعَلاَ فَوَاللَّهِ مَا هُوَ بِفَاعِلٍ . فَانْتَحَاهُ رَبِيعَةُ بْنُ الْحَارِثِ فَقَالَ وَاللَّهِ مَا تَصْنَعُ هَذَا إِلاَّ نَفَاسَةً مِنْكَ عَلَيْنَا فَوَاللَّهِ لَقَدْ نِلْتَ صِهْرَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَمَا نَفِسْنَاهُ عَلَيْكَ . قَالَ عَلِيٌّ أَرْسِلُوهُمَا . فَانْطَلَقَا وَاضْطَجَعَ عَلِيٌّ - قَالَ - فَلَمَّا صَلَّى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم الظُّهْرَ سَبَقْنَاهُ إِلَى الْحُجْرَةِ فَقُمْنَا عِنْدَهَا حَتَّى جَاءَ فَأَخَذَ بِآذَانِنَا . ثُمَّ قَالَ " أَخْرِجَا مَا تُصَرِّرَانِ " ثُمَّ دَخَلَ وَدَخَلْنَا عَلَيْهِ وَهُوَ يَوْمَئِذٍ عِنْدَ زَيْنَبَ بِنْتِ جَحْشٍ - قَالَ - فَتَوَاكَلْنَا الْكَلاَمَ ثُمَّ تَكَلَّمَ أَحَدُنَا فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَنْتَ أَبَرُّ النَّاسِ وَأَوْصَلُ النَّاسِ وَقَدْ بَلَغْنَا النِّكَاحَ فَجِئْنَا لِتُؤَمِّرَنَا عَلَى بَعْضِ هَذِهِ الصَّدَقَاتِ فَنُؤَدِّيَ إِلَيْكَ كَمَا يُؤَدِّي النَّاسُ وَنُصِيبَ كَمَا يُصِيبُونَ - قَالَ - فَسَكَتَ طَوِيلاً حَتَّى أَرَدْنَا أَنْ نُكَلِّمَهُ - قَالَ - وَجَعَلَتْ زَيْنَبُ تُلْمِعُ عَلَيْنَا مِنْ وَرَاءِ الْحِجَابِ أَنْ لاَ تُكَلِّمَاهُ - قَالَ - ثُمَّ قَالَ " إِنَّ الصَّدَقَةَ لاَ تَنْبَغِي لآلِ مُحَمَّدٍ . إِنَّمَا هِيَ أَوْسَاخُ النَّاسِ ادْعُوَا لِي مَحْمِيَةَ - وَكَانَ عَلَى الْخُمُسِ - وَنَوْفَلَ بْنَ الْحَارِثِ بْنِ عَبْدِ الْمُطَّلِبِ " . قَالَ فَجَاءَاهُ فَقَالَ لِمَحْمِيَةَ " أَنْكِحْ هَذَا الْغُلاَمَ ابْنَتَكَ " . لِلْفَضْلِ بْنِ عَبَّاسٍ فَأَنْكَحَهُ وَقَالَ لِنَوْفَلِ بْنِ الْحَارِثِ " أَنْكِحْ هَذَا الْغُلاَمَ ابْنَتَكَ " . لِي فَأَنْكَحَنِي وَقَالَ لِمَحْمِيَةَ " أَصْدِقْ عَنْهُمَا مِنَ الْخُمُسِ كَذَا وَكَذَا " . قَالَ الزُّهْرِيُّ وَلَمْ يُسَمِّهِ لِي .

Narrator: আব্বাস ইবনে আব্দুল মুত্তালিব (রাঃ)

২৩৫২। আব্দুল্লাহ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে আসমা আয যুবাঈ (রাহঃ) ......... আব্দুল মুত্তালিব ইবনুল হারিস (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা রাবী’আ ইবনুল হারিস এবং আব্বাস ইবনে আব্দুল মুত্তালিব (রাযিঃ) একত্রিত হলেন। এরপর তারা আমার এবং ফযল ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) সম্পর্কে বললেন, আল্লাহর শপথ! আমরা যদি এ দু’জন যুবককে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট পাঠাই এবং তারা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) সাথে কথা বলে; ফলে তিনি তাদেরকে যাকাত উসূলকারী নিয়োগ করেন এবং মানুষ যা যাকাত প্রদান করবে তা তারা তার নিকট পৌছিয়ে দেয় এবং তারা পারিশ্রমিক হিসাবে ঐ পরিমাণ পায় যা অন্যান্য লোকেরা পেয়ে থাকে; তবে ভাল হবে।

এ সময় আলী ইবনে আবু তালিব (রাযিঃ) এসে তাদের নিকট দাঁড়ালেন। তারা এ বিষয়টি তার নিকট উল্লেখ করলেন। তখন আলী (রাযিঃ) বললেন, আপনারা পাঠাবেন না। কারণ আল্লাহর শপথ! রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এ কাজ করবেন না। তখন রাবী’আ ইবনুল হারিস (রাযিঃ) আলী (রাযিঃ) এর প্রতি রেগে গেলেন এবং বললেন, আল্লাহর শপথ। আপনি আমাদের প্রতি ঈর্ষান্বিত হয়ে এ আচরণ করছেন। আল্লাহর কসম! আপনি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর জামাতা হবার সৌভাগ্য অর্জন করেছেন। কিন্তু আমরা তো এতে আপনার প্রতি ঈর্ষা করিনা।

এ কথা শুনে আলী (রাযিঃ) বললেন, তোমরা তাদেরকে পাঠিয়ে দাও। এরপর তারা চললেন এবং আলী (রাযিঃ) শুয়ে পড়লেন। তারপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যখন যোহরের নামায আদায় করলেন তখন তারা অগ্রে গিয়ে হুজরার নিকট দাঁড়িয়ে রইলেন। এরপর নবী (ﷺ) এসে তাদের উভয়ের কান ধরে বললেন, তোমাদের মনে কি কথা জমা আছে বল। তারপর তিনি হুজরায় প্রবেশ করলেন। আমরাও তাঁর সাথে প্রবেশ করলাম। এ সময় তিনি যয়নাব বিনতে জাহশের গৃহে অবস্থান করছিলেন। রাবী বলেন, আমরা একে অন্যের উপর ভরসা করে ছিলাম। এ সময় আমাদের একজন কথা বলতে আরম্ভ করলেন এবং বললেন, হে আল্লাহর রাসুল! আপনি মানুষের মধ্যে সর্বাধিক দয়াবান এবং আত্মীয়তা রক্ষাকারী। আমরা বিবাহের বয়সে পদার্পণ করেছি আমরা এসেছি, যেন আপনি আমাদেরকে এই যাকাতের মাল উসুলকারী নিয়োজিত করেন। আমরাও আপনার নিকট পৌছিয়ে দিব যেমন অন্যান্য লোকেরা পৌছিয়ে দেন এবং আমরাও (এর থেকে কিছু) পাব যেমন অন্যান্যরা পান।

বর্ণনাকারী বলেন, এ কথা শুনে তিনি দীর্ঘক্ষণ নীরব থাকলেন। অবশেষে পূনরায় আমরা তার সাথে (এ বিষয়ে) কথা বলার ইচ্ছা করলাম। তখন যয়নাব (রাযিঃ) পর্দার অন্তরাল থেকে আমাদেরকে ইশারা করে বললেন, তাঁর সাথে এখন কোন কথা বলো না। রাবী বলেন, তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, মুহাম্মাদ (ﷺ) এর পরিবার পরিজনের জন্য সাদ্‌কার মাল ভক্ষণ করা বৈধ নয়। এতো মানুষের ময়লা। তোমরা মাহমিয়াকে আমার নিকট ডেকে আন। সে খুমুসের রক্ষণাবেক্ষণকারী ছিল। আর নাওফল ইবনুল হারিস ইবনে আব্দুল মুত্তালিব কেও।

তারা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট আসলেন। তিনি মাহমিয়াকে বললেন, তুমি তোমার কন্যাকে ফযল ইবনে আব্বাসের নিকট বিয়ে দিয়ে দাও। তিনি তাই করলেন। এরপর নাওফল ইবনে হারিস (রাযিঃ) কে বললেন, তুমিও তোমার কন্যাকে এ ছেলেটির নিকট বিয়ে দিয়ে দাও। বর্ণনাকারী আব্দুল মুত্তালিব (রাযিঃ) বলেন, সুতরাং তিনি আমার নিকট নিজ কন্যাকে বিয়ে দিয়ে দিলেন। তারপর তিনি মাহমিয়াকে বললেন, খুমুসের মাল থেকে তাদেরকে এই এই পরিমাণ সাদ্‌কা দিয়ে দাও। ইমাম যুহরী বলেন, তিনি আমার নিকট তার নাম উল্লেখ করেন নি।
2353

حَدَّثَنَا هَارُونُ بْنُ مَعْرُوفٍ، حَدَّثَنَا ابْنُ وَهْبٍ، أَخْبَرَنِي يُونُسُ بْنُ يَزِيدَ، عَنِ ابْنِ، شِهَابٍ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الْحَارِثِ بْنِ نَوْفَلٍ الْهَاشِمِيِّ، أَنَّ عَبْدَ الْمُطَّلِبِ بْنَ رَبِيعَةَ بْنِ الْحَارِثِ، بْنِ عَبْدِ الْمُطَّلِبِ أَخْبَرَهُ أَنَّ أَبَاهُ رَبِيعَةَ بْنَ الْحَارِثِ بْنِ عَبْدِ الْمُطَّلِبِ وَالْعَبَّاسَ بْنَ عَبْدِ الْمُطَّلِبِ قَالاَ لِعَبْدِ الْمُطَّلِبِ بْنِ رَبِيعَةَ وَلِلْفَضْلِ بْنِ عَبَّاسٍ ائْتِيَا رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَسَاقَ الْحَدِيثَ بِنَحْوِ حَدِيثِ مَالِكٍ وَقَالَ فِيهِ فَأَلْقَى عَلِيٌّ رِدَاءَهُ ثُمَّ اضْطَجَعَ عَلَيْهِ وَقَالَ أَنَا أَبُو حَسَنٍ الْقَرْمُ وَاللَّهِ لاَ أَرِيمُ مَكَانِي حَتَّى يَرْجِعَ إِلَيْكُمَا ابْنَاكُمَا بِحَوْرِ مَا بَعَثْتُمَا بِهِ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم . وَقَالَ فِي الْحَدِيثِ ثُمَّ قَالَ لَنَا " إِنَّ هَذِهِ الصَّدَقَاتِ إِنَّمَا هِيَ أَوْسَاخُ النَّاسِ وَإِنَّهَا لاَ تَحِلُّ لِمُحَمَّدٍ وَلاَ لآلِ مُحَمَّدٍ " . وَقَالَ أَيْضًا ثُمَّ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " ادْعُوَا لِي مَحْمِيَةَ بْنَ جَزْءٍ " . وَهُوَ رَجُلٌ مِنْ بَنِي أَسَدٍ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم اسْتَعْمَلَهُ عَلَى الأَخْمَاسِ .

Narrator: আব্বাস ইবনে আব্দুল মুত্তালিব (রাঃ)

২৩৫৩। হারুন ইবনে মারুফ (রাহঃ) ......... আব্দুল মুত্তালিব ইবনে রাবী’আ ইবনে হারিস ইবনে আব্দুল মুত্তালিব (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, তাঁর পিতা রাবী’আ ইবনুল হারিস ও আব্বাস ইবনে আব্দুল মুত্তালিব (রাযিঃ) আব্দুল মুত্তালিব ইবনে রাবী’আ ও ফযল ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) কে বললেন, তোমরা উভয়েই রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট যাও। এরপর তিনি মালিক (রাহঃ) এর বর্ণিত অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করবেন।

তবে এতে এও আছে যে তারপর আলী (রাযিঃ) চাঁদর বিছিয়ে এর উপর শুয়ে পড়লেন এবং বললেন, আমি হাসানের বাবা, প্রজ্ঞাবান ও রায় প্রদানে বলিষ্ঠ। আল্লাহর শপথ! আমি এ স্থান পরিত্যাগ করার পূর্বেই তোমাদের উভয়ের ছেলে ঐ উত্তর নিয়ে ফিরে আসবে যার জন্য তোমরা তাদেরকে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট পাঠিয়েছ।

এ হাদীসের মধ্যে এ কথাও বর্ণিত আছে যে, অতঃপর তিনি আমাদেরকে বললেন, এতো সাদ্‌কা এতো মানুষের ময়লা এ মুহাম্মাদ (ﷺ) এবং তাঁর পরিবার পরিজনের জন্য হালাল নয়।

হাদীসে এ কথাও বর্ণিত আছে যে, অতঃপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, আমার নিকট মাহমিয়া ইবনে জু’আ (রাযিঃ) কে ডেকে নিয়ে আস। তিনি ছিলেন বর্নী আসাদের এক ব্যক্তি। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাকে গনিমতের মালের খুমুস (এক পঞ্চমাংশ) উসূলকারী নিয়োগ করেছিলেন।

৩৮. নবী (ﷺ), বনী হাশিম এবং বনী মুত্তালিবের জন্য হাদিয়া গ্রহণ করা বৈধ, যদিও হাদিয়াদাতা তার মালিক হয়েছে সাদ্‌কা হিসেবে

بَابُ إِبَاحَةِ الْهَدِيَّةِ لِلنَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَلِبَنِي هَاشِمٍ وَبَنِي الْمُطَّلِبِ، وَإِنْ كَانَ الْمُهْدِي مَلَكَهَا بِطَرِيقِ الصَّدَقَةِ، وَبَيَانِ أَنَّ الصَّدَقَةَ، إِذَا قَبَضَهَا الْمُتَصَدَّقُ عَلَيْهِ زَالَ عَنْهَا وَصْفُ الصَّدَقَةِ وَحَلَّتْ لِكُلِّ أَحَدٍ مِمَّنْ كَانَتِ الصَّدَقَةُ مُحَرَّمَةً عَلَيْهِ

2354

حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا لَيْثٌ، ح وَحَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ رُمْحٍ، أَخْبَرَنَا اللَّيْثُ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، أَنَّ عُبَيْدَ بْنَ السَّبَّاقِ، قَالَ إِنَّ جُوَيْرِيَةَ زَوْجَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَخْبَرَتْهُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم دَخَلَ عَلَيْهَا فَقَالَ " هَلْ مِنْ طَعَامٍ " . قَالَتْ لاَ وَاللَّهِ يَا رَسُولَ اللَّهِ مَا عِنْدَنَا طَعَامٌ إِلاَّ عَظْمٌ مِنْ شَاةٍ أُعْطِيَتْهُ مَوْلاَتِي مِنَ الصَّدَقَةِ . فَقَالَ " قَرِّبِيهِ فَقَدْ بَلَغَتْ مَحِلَّهَا " .

Narrator: উম্মুল মু'মিনীন জুওয়াইরিয়্যা বিনতে হারিস (রাঃ)

২৩৫৪। কুতায়বা ইবনে সাঈদ ও মুহাম্মাদ ইবনে রুমহ (রাহঃ) ......... নবী (ﷺ) এর সহধর্মিণী জুওয়রিয়্যা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাঁর গৃহে প্রবেশ করে বললেন, কিছু খাবার আছে কি? তিনি বললেন, না। আল্লাহর কসম! হে আল্লাহর রাসুল! আমার নিকট কোন খাবার নেই। তবে বকরীর কিছু হাড়গোড় আছে যা আমার আযাদকৃত দাসীকে সাদ্‌কা হিসাবে দেয়া হয়েছিল। একথা শুনে তিনি বললেন, তা আমার নিকট আন। বস্তুত সাদ্‌কা তার আপন স্থানে পৌঁছে গিয়েছে।

2355

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، وَعَمْرٌو النَّاقِدُ، وَإِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، جَمِيعًا عَنِ ابْنِ عُيَيْنَةَ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، بِهَذَا الإِسْنَادِ نَحْوَهُ .

Narrator: উম্মুল মু'মিনীন জুওয়াইরিয়্যা বিনতে হারিস (রাঃ)

২৩৫৫। আবু বকর ইবনে আবি শাঈবা আমরুন নাকিদ ও ইসহাক ইবনে ইবরাহীম (রাহঃ) ......... যুহুরি (রাহঃ) থেকে এ সনদে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।

2356

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، وَأَبُو كُرَيْبٍ قَالاَ حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، ح وَحَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ، الْمُثَنَّى وَابْنُ بَشَّارٍ قَالَ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ، كِلاَهُمَا عَنْ شُعْبَةَ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ أَنَسٍ، ح وَحَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ مُعَاذٍ، - وَاللَّفْظُ لَهُ - حَدَّثَنَا أَبِي، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ قَتَادَةَ، سَمِعَ أَنَسَ بْنَ مَالِكٍ، قَالَ أَهْدَتْ بَرِيرَةُ إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم لَحْمًا تُصُدِّقَ بِهِ عَلَيْهَا فَقَالَ " هُوَ لَهَا صَدَقَةٌ وَلَنَا هَدِيَّةٌ " .

Narrator: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

২৩৫৬। আবু বকর ইবনে আবি শাঈবা, আবু কুরায়ব, মুহাম্মাদ ইবনুল মুসান্না, ইবনে বাশশার ও উবাইাদুল্লাহ ইবনে মু’আয (রাহঃ) ......... আনাস ইবনে মালিক (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। বারীরা (রাযিঃ) সাদ্‌কা হিসাবে প্রাপ্ত কিছু গোশত নবী (ﷺ) কে হাদিয়া দিলেন। তখন নবী (ﷺ) বললেন, ইহা তার জন্য সাদ্‌কা আর আমার জন্য হাদিয়া।

2357

حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ مُعَاذٍ، حَدَّثَنَا أَبِي، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، ح وَحَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، وَابْنُ بَشَّارٍ - وَاللَّفْظُ لاِبْنِ الْمُثَنَّى - قَالاَ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنِ الْحَكَمِ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ، عَنِ الأَسْوَدِ، عَنْ عَائِشَةَ، وَأُتِيَ النَّبِيُّ، صلى الله عليه وسلم بِلَحْمِ بَقَرٍ فَقِيلَ هَذَا مَا تُصُدِّقَ بِهِ عَلَى بَرِيرَةَ . فَقَالَ " هُوَ لَهَا صَدَقَةٌ وَلَنَا هَدِيَّةٌ " .

Narrator: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

২৩৫৭। উবাইদুল্লাহ ইবনে মু’আয, মুহাম্মাদ ইবনুল মুসান্না ও ইবনে বাশশার (রাহঃ) ......... আয়িশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। নবী (ﷺ) এর নিকট কিছু গরুর গোশত আসল। তখন তাকে বলা হল, এগুলো বারীরা (রাযিঃ) কে সাদ্‌কা দেওয়া হয়েছে। তখন তিনি বললেন, ইহা বারীরার জন্য সাদ্‌কা, আর আমার জন্য হাদিয়া।

2358

حَدَّثَنَا زُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، وَأَبُو كُرَيْبٍ قَالاَ حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ، حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ عُرْوَةَ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ الْقَاسِمِ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَائِشَةَ، - رضى الله عنها - قَالَتْ كَانَتْ فِي بَرِيرَةَ ثَلاَثُ قَضِيَّاتٍ كَانَ النَّاسُ يَتَصَدَّقُونَ عَلَيْهَا وَتُهْدِي لَنَا فَذَكَرْتُ ذَلِكَ لِلنَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ " هُوَ عَلَيْهَا صَدَقَةٌ وَلَكُمْ هَدِيَّةٌ فَكُلُوهُ " .

Narrator: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

২৩৫৮। যুহাইর ইবনে হারব ও আবু কুরায়ব (রাহঃ) ......... আয়িশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, বারীরা (রাযিঃ) কে কেন্দ্র করে তিনটি বিধান প্রবর্তিত হয়েছে। লোকেরা তাকে সাদ্‌কা দিত। আর সে তা আমাকে হাদিয়া করত। আমি তা নবী (ﷺ) এর নিকট আলোচনা করার পর তিনি বললেন, এ তার জন্য সাদ্‌কা, আর তোমাদের জন্য হাদিয়া সুতরাং তোমরা তা খাও।

2359

وَحَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا حُسَيْنُ بْنُ عَلِيٍّ، عَنْ زَائِدَةَ، عَنْ سِمَاكٍ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ الْقَاسِمِ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَائِشَةَ، ح . وَحَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، قَالَ سَمِعْتُ عَبْدَ، الرَّحْمَنِ بْنَ الْقَاسِمِ قَالَ سَمِعْتُ الْقَاسِمَ، يُحَدِّثُ عَنْ عَائِشَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم بِمِثْلِ ذَلِكَ .

Narrator: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

২৩৫৯। আবু বকর আবি শাঈবা, মুহাম্মাদ ইবনুল মুসান্না (রাহঃ) ......... আয়িশা (রাযিঃ) থেকে নবী (ﷺ) সূত্রে অনুরূপ বর্ণিত।

2360

وَحَدَّثَنِي أَبُو الطَّاهِرِ، حَدَّثَنَا ابْنُ وَهْبٍ، أَخْبَرَنِي مَالِكُ بْنُ أَنَسٍ، عَنْ رَبِيعَةَ، عَنِ الْقَاسِمِ، عَنْ عَائِشَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم بِمِثْلِ ذَلِكَ غَيْرَ أَنَّهُ قَالَ " وَهُوَ لَنَا مِنْهَا هَدِيَّةٌ " .

Narrator: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

২৩৬০। আবুত-তাহির (রাহঃ) ......... আয়িশা (রাযিঃ) সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। তবে এতে রয়েছে ″তা আমাদের জন্য তার পক্ষ থেকে হাদিয়া।″

2361

حَدَّثَنِي زُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، عَنْ خَالِدٍ، عَنْ حَفْصَةَ، عَنْ أُمِّ عَطِيَّةَ، قَالَتْ بَعَثَ إِلَىَّ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِشَاةٍ مِنَ الصَّدَقَةِ فَبَعَثْتُ إِلَى عَائِشَةَ مِنْهَا بِشَىْءٍ فَلَمَّا جَاءَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِلَى عَائِشَةَ قَالَ " هَلْ عِنْدَكُمْ شَىْءٌ " . قَالَتْ لاَ . إِلاَّ أَنَّ نُسَيْبَةَ بَعَثَتْ إِلَيْنَا مِنَ الشَّاةِ الَّتِي بَعَثْتُمْ بِهَا إِلَيْهَا قَالَ " إِنَّهَا قَدْ بَلَغَتْ مَحِلَّهَا " .

Narrator: উম্মে আতিয়্যা (রাঃ)

২৩৬১। যুহাইর ইবনে হারব (রাহঃ) ......... উম্মে আতিয়্যা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমার নিকট সাদ্‌কার একটি বকরী পাঠালেন। আমি তা থেকে কিছু অংশ আয়িশা (রাযিঃ) এর নিকট পাঠিয়ে দিলাম। এরপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যখন আয়িশা (রাযিঃ) এর নিকট আসলেন তখন জিজ্ঞাসা তোমার নিকট কোন কিছু আছে কি? তিনি বললেন, না কোন কিছুই নেই। তবে নূসায়বা আমাদের জন্য বকরীর যে গোশত পাঠিয়েছেন যা আপনি তাকে দিয়েছিলেন তা আছে, তখন তিনি বললেন, বস্তুতঃ সাদ্‌কা তার স্থানে পৌঁছে গেছে।

2362

حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ سَلاَّمٍ الْجُمَحِيُّ، حَدَّثَنَا الرَّبِيعُ، - يَعْنِي ابْنَ مُسْلِمٍ - عَنْ مُحَمَّدٍ، - وَهُوَ ابْنُ زِيَادٍ - عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، . أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم كَانَ إِذَا أُتِيَ بِطَعَامٍ سَأَلَ عَنْهُ فَإِنْ قِيلَ هَدِيَّةٌ أَكَلَ مِنْهَا وَإِنْ قِيلَ صَدَقَةٌ لَمْ يَأْكُلْ مِنْهَا .

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

২৩৬২। আব্দুর রহমান ইবনে সাল্লাম জুমাহী (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, নবী (ﷺ) এর নিকট কোন খাদ্যদ্রব্য আসলে তিনি সে সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করতেন। যদি বলা হত, হাদিয়া, তবে তা খেতেন। আর যদি বলা হত সাদ্‌কা, তবে তা খেতেন না।

৩৯. যাকাতদাতার জন্য দুআ করা

باب الدُّعَاءِ لِمَنْ أَتَى بِصَدَقَتِهِ

2363

حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ يَحْيَى، وَأَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ وَعَمْرٌو النَّاقِدُ وَإِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ قَالَ يَحْيَى أَخْبَرَنَا وَكِيعٌ، عَنْ شُعْبَةَ، عَنْ عَمْرِو بْنِ مُرَّةَ، قَالَ سَمِعْتُ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ أَبِي أَوْفَى، ح . وَحَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ مُعَاذٍ، - وَاللَّفْظُ لَهُ - حَدَّثَنَا أَبِي، عَنْ شُعْبَةَ، عَنْ عَمْرٍو، - وَهُوَ ابْنُ مُرَّةَ - حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ أَبِي أَوْفَى، قَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِذَا أَتَاهُ قَوْمٌ بِصَدَقَتِهِمْ قَالَ " اللَّهُمَّ صَلِّ عَلَيْهِمْ " . فَأَتَاهُ أَبِي أَبُو أَوْفَى بِصَدَقَتِهِ فَقَالَ " اللَّهُمَّ صَلِّ عَلَى آلِ أَبِي أَوْفَى " .

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আবী আউফা (রাঃ)

২৩৬৩। ইয়াহয়া ইবনে ইয়াহয়া, আবু বকর ইবনে আবি শাঈবা, আমরুন নাকিদ, ইসহাক ইবনে ইবরাহীম ও উবাইদুল্লাহ ইবনে মু’আয (রাহঃ) ......... আব্দুল্লাহ ইবনে আবু আওফা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন কোন কওম তাদের সাদ্‌কা নিয়ে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট আসত তখন তিনি বলতেন, হে আল্লাহ! তাদের প্রতি করুণা বর্ষণ করুন। একদা আবু আওফা (রাযিঃ) রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট তার সাদ্‌কা নিয়ে আসলে তিনি বললেন, হে আল্লাহ! আবু আওফার পরিবারের প্রতি রহমত বর্ষণ করুন।

2364

وَحَدَّثَنَاهُ ابْنُ نُمَيْرٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ إِدْرِيسَ، عَنْ شُعْبَةَ، بِهَذَا الإِسْنَادِ غَيْرَ أَنَّهُ قَالَ " صَلِّ عَلَيْهِمْ " .

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আবী আউফা (রাঃ)

২৩৬৪। ইবনে নুমাইর (রাহঃ) ......... শু’বা (রাহঃ) থেকে এ সনদে অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন। তবে এ হাদীসেরاللَّهُمَّ صَلِّ عَلَيْهِمْ এর স্থলেصَلِّ عَلَيْهِمْ আছে।

৪০. যাকাত উসূলকারীকে সন্তুষ্ট করা, যতক্ষণ না সে হারাম বস্তু যাচঞা করে

باب إِرْضَاءِ السَّاعِي مَا لَمْ يَطْلُبْ حَرَامًا

2365

حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ يَحْيَى، أَخْبَرَنَا هُشَيْمٌ، ح وَحَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا حَفْصُ بْنُ غِيَاثٍ، وَأَبُو خَالِدٍ الأَحْمَرُ ح وَحَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَهَّابِ، وَابْنُ، أَبِي عَدِيٍّ وَعَبْدُ الأَعْلَى كُلُّهُمْ عَنْ دَاوُدَ، ح وَحَدَّثَنِي زُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، - وَاللَّفْظُ لَهُ - قَالَ حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، أَخْبَرَنَا دَاوُدُ، عَنِ الشَّعْبِيِّ، عَنْ جَرِيرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " إِذَا أَتَاكُمُ الْمُصَدِّقُ فَلْيَصْدُرْ عَنْكُمْ وَهُوَ عَنْكُمْ رَاضٍ " .

Narrator: জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ আনসারী (রাঃ)

২৩৬৫। ইয়াহহয়া ইবনে ইয়াহয়া, আবু বকর ইবনে আবি শাঈবা, মুহাম্মাদ ইবনুল মুসান্না ও যুহাইর ইবনে হারব (রাহঃ) ......... জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, যখন যাকাত উসূলকারী তোমাদের নিকট আসবে, তখন সে যেন তোমাদের থেকে সন্তুষ্ট চিত্তে প্রত্যাবর্তন করে।