كتاب فضائل الصحابة رضى الله تعالى عنهم

৪৭- সাহাবায়ে কিরামের রাঃ মানাকিব ও ফাযায়েল

Chapter 47 · 316 hadith

১. আবু বকর সিদ্দীক (রাযিঃ) এর ফযীলত

باب مِنْ فَضَائِلِ أَبِي بَكْرٍ الصِّدِّيقِ رضى الله عنه

5953

حَدَّثَنِي زُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، وَعَبْدُ بْنُ حُمَيْدٍ، وَعَبْدُ اللَّهِ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ الدَّارِمِيُّ، قَالَ عَبْدُ اللَّهِ أَخْبَرَنَا وَقَالَ الآخَرَانِ، حَدَّثَنَا حَبَّانُ بْنُ هِلاَلٍ، حَدَّثَنَا هَمَّامٌ، حَدَّثَنَا ثَابِتٌ، حَدَّثَنَا أَنَسُ بْنُ مَالِكٍ، أَنَّ أَبَا بَكْرٍ الصِّدِّيقَ، حَدَّثَهُ قَالَ نَظَرْتُ إِلَى أَقْدَامِ الْمُشْرِكِينَ عَلَى رُءُوسِنَا وَنَحْنُ فِي الْغَارِ فَقُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ لَوْ أَنَّ أَحَدَهُمْ نَظَرَ إِلَى قَدَمَيْهِ أَبْصَرَنَا تَحْتَ قَدَمَيْهِ فَقَالَ " يَا أَبَا بَكْرٍ مَا ظَنُّكَ بِاثْنَيْنِ اللَّهُ ثَالِثُهُمَا " .

Narrator: হযরত আবু বকর সিদ্দীক (রাঃ)

৫৯৫৩। যুহাইর ইবনে হারব, আব্দ ইবনে হুমায়দ ও আব্দুল্লাহ ইবনে আব্দুর রহমান দারিমী (রাহঃ) ......... আবু বকর সিদ্দীক (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা গুহায় থাকা অবস্থায় আমাদের মাথার উপর মুশরিকদের পা দেখতে পেলাম। আমি বললাম, ইয়া রাসুলাল্লাহ! এদের কেউ যদি নিজের পায়ের দিকে তাকায়, তা হলে পায়ের নীচেই আমাদের দেখতে পাবে। রাসুল (ﷺ) বললেনঃ আবু বকর! তুমি সে দু’জন সম্পর্কে কি মনে কর যাদের সাথে তৃতীয়জন (হিসেবে) আল্লাহ রয়েছেন।

5954

حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ جَعْفَرِ بْنِ يَحْيَى بْنِ خَالِدٍ، حَدَّثَنَا مَعْنٌ، حَدَّثَنَا مَالِكٌ، عَنْ أَبِي، النَّضْرِ عَنْ عُبَيْدِ بْنِ حُنَيْنٍ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم جَلَسَ عَلَى الْمِنْبَرِ فَقَالَ " عَبْدٌ خَيَّرَهُ اللَّهُ بَيْنَ أَنْ يُؤْتِيَهُ زَهْرَةَ الدُّنْيَا وَبَيْنَ مَا عِنْدَهُ فَاخْتَارَ مَا عِنْدَهُ " . فَبَكَى أَبُو بَكْرٍ وَبَكَى فَقَالَ فَدَيْنَاكَ بِآبَائِنَا وَأُمَّهَاتِنَا . قَالَ فَكَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم هُوَ الْمُخَيَّرُ وَكَانَ أَبُو بَكْرٍ أَعْلَمَنَا بِهِ . وَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " إِنَّ أَمَنَّ النَّاسِ عَلَىَّ فِي مَالِهِ وَصُحْبَتِهِ أَبُو بَكْرٍ وَلَوْ كُنْتُ مُتَّخِذًا خَلِيلاً لاَتَّخَذْتُ أَبَا بَكْرٍ خَلِيلاً وَلَكِنْ أُخُوَّةُ الإِسْلاَمِ لاَ تُبْقَيَنَّ فِي الْمَسْجِدِ خَوْخَةٌ إِلاَّ خَوْخَةَ أَبِي بَكْرٍ " .

Narrator: হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ)

৫৯৫৪। আব্দুল্লাহ ইবনে জাফর ইবনে ইয়াহয়া ইবনে খালিদ (রাহঃ) ......... আবু সাঈদ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) মিম্বরের উপর বসলেন এবং বললেন, আল্লাহর একজন বান্দা, আল্লাহ তাআলা তাঁকে ইখতিয়ার দিয়েছেন যে, তাকে পার্থিব সম্পদ দিবেন, না আল্লাহর কাছে যা আছে, তা। অতএব এ বান্দা আল্লাহর কাছে যা রয়েছে, তা বেছে নিলেন। এ কথা শুনে আবু বকর (রাযিঃ) কাঁদতে লাগলেন এবং বললেন, আমাদের পিতামাতা আপনার জন্য উৎসর্গীকৃত হোক। ইখতিয়ার প্রাপ্ত এ বান্দাটি ছিলেন স্বয়ং রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এ ব্যাপারে আবু বকরই আমাদের সবার চেয়ে জ্ঞানী ছিলেন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ আমার উপর সর্বাধিক অনুগ্রহ আবু বকরের, সম্পদে ও সঙ্গ দানেও। আমি যদি কাউকে পরম বন্ধু বলে গ্রহণ করতাম, তাহল আবু বকরকেই করতাম। কিন্তু ইসলামী ভ্রাতৃত্বই (যথেষ্ট) আছে। মসজিদে যেন কারো ছোট দরজা না থাকে, শুধু আবু বকরের ছোট দরজা ব্যতীত।

5955

حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ مَنْصُورٍ، حَدَّثَنَا فُلَيْحُ بْنُ سُلَيْمَانَ، عَنْ سَالِمٍ أَبِي النَّضْرِ، عَنْ عُبَيْدِ، بْنِ حُنَيْنٍ وَبُسْرِ بْنِ سَعِيدٍ عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، قَالَ خَطَبَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم النَّاسَ يَوْمًا . بِمِثْلِ حَدِيثِ مَالِكٍ .

Narrator: হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ)

৫৯৫৫। সাঈদ ইবনে মনসুর (রাহঃ) ......... আবু সাঈদ খুদরী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) লোকদের সামনে ভাষন দিলেন ...... এরপর মালিক (রাহঃ) এর অনুরূপ হাদীস বললেন।

5956

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ الْعَبْدِيُّ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ إِسْمَاعِيلَ، بْنِ رَجَاءٍ قَالَ سَمِعْتُ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ أَبِي الْهُذَيْلِ، يُحَدِّثُ عَنْ أَبِي الأَحْوَصِ، قَالَ سَمِعْتُ عَبْدَ، اللَّهِ بْنَ مَسْعُودٍ يُحَدِّثُ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ قَالَ " لَوْ كُنْتُ مُتَّخِذًا خَلِيلاً لاَتَّخَذْتُ أَبَا بَكْرٍ خَلِيلاً وَلَكِنَّهُ أَخِي وَصَاحِبِي وَقَدِ اتَّخَذَ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ صَاحِبَكُمْ خَلِيلاً " .

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ)

৫৯৫৬। মুহাম্মাদ ইবনে বাশশার আল আব্দী (রাহঃ) ......... আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ আমি যদি বন্ধু গ্রহণ করতাম, তাহলে আবু বকরকে বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করতাম। কিন্তু তিনি আমার ভাই এবং সাথী। আর তোমাদের সাথীকে আল্লাহ তাআলা বন্ধু বানিয়েছেন।

5957

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، وَابْنُ، بَشَّارٍ - وَاللَّفْظُ لاِبْنِ الْمُثَنَّى - قَالاَ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ، بْنُ جَعْفَرٍ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، عَنْ أَبِي الأَحْوَصِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ قَالَ " لَوْ كُنْتُ مُتَّخِذًا مِنْ أُمَّتِي أَحَدًا خَلِيلاً لاَتَّخَذْتُ أَبَا بَكْرٍ " .

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ)

৫৯৫৭। মুহাম্মাদ ইবনে মুসান্না ও ইবনে বাশশার (রাহঃ) ......... আব্দুল্লাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ আমার উম্মতের মধ্যে থেকে কাউকে যদি আমি বন্ধু বানাতাম, তাহলে আবু বকরকেই বানাতাম।

5958
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، وَابْنُ، بَشَّارٍ قَالاَ حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ، حَدَّثَنِي سُفْيَانُ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، عَنْ أَبِي الأَحْوَصِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ، ح
وَحَدَّثَنَا عَبْدُ بْنُ حُمَيْدٍ، أَخْبَرَنَا جَعْفَرُ بْنُ عَوْنٍ، أَخْبَرَنَا أَبُو عُمَيْسٍ، عَنِ ابْنِ أَبِي، مُلَيْكَةَ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " لَوْ كُنْتُ مُتَّخِذًا خَلِيلاً لاَتَّخَذْتُ ابْنَ أَبِي قُحَافَةَ خَلِيلاً " .

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ)

৫৯৫৮। মুহাম্মাদ ইবনে মুসান্না ও ইবনে বাশশার (রাহঃ) ......... আব্দুল্লাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ আমি যদি কোন বন্ধু বানাতাম তবে আবু কুহাফার পুত্রকেই বানাতাম।

5959

حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، وَزُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، وَإِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، قَالَ إِسْحَاقُ أَخْبَرَنَا وَقَالَ الآخَرَانِ، حَدَّثَنَا جَرِيرٌ، عَنْ مُغِيرَةَ، عَنْ وَاصِلِ بْنِ حَيَّانَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي، الْهُذَيْلِ عَنْ أَبِي الأَحْوَصِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " لَوْ كُنْتُ مُتَّخِذًا مِنْ أَهْلِ الأَرْضِ خَلِيلاً لاَتَّخَذْتُ ابْنَ أَبِي قُحَافَةَ خَلِيلاً وَلَكِنْ صَاحِبُكُمْ خَلِيلُ اللَّهِ " .

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ)

৫৯৫৯। উসমান ইবনে আবি শাঈবা, যুহাইর ইবনে হারব ও ইসহাক ইবনে ইবরাহীম (রাহঃ) ......... আব্দুল্লাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ পৃথিবীর কাউকে যদি আমি পরম বন্ধু বানাতাম তবে আবু কুহাফার পুত্রকেই বানাতাম; কিন্তু তোমাদের সাথী তো আল্লাহর বন্ধু।

5960

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ، وَوَكِيعٌ، ح وَحَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ، إِبْرَاهِيمَ أَخْبَرَنَا جَرِيرٌ، ح وَحَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي عُمَرَ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، كُلُّهُمْ عَنِ الأَعْمَشِ، ح وَحَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ نُمَيْرٍ، وَأَبُو سَعِيدٍ الأَشَجُّ - وَاللَّفْظُ لَهُمَا - قَالاَ حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، حَدَّثَنَا الأَعْمَشُ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مُرَّةَ، عَنْ أَبِي الأَحْوَصِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " أَلاَ إِنِّي أَبْرَأُ إِلَى كُلِّ خِلٍّ مِنْ خِلِّهِ وَلَوْ كُنْتُ مُتَّخِذًا خَلِيلاً لاَتَّخَذْتُ أَبَا بَكْرٍ خَلِيلاً إِنَّ صَاحِبَكُمْ خَلِيلُ اللَّهِ " .

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ)

৫৯৬০। আবু বকর ইবনে আবি শাঈবা, ইসহাক ইবনে ইবরাহীম, ইবনে আবু উমর, মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে নুমাইর ও আবু সাঈদ আশাজ্জ (রাহঃ) ......... আব্দুল্লাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ জেনে রাখো! কারো সঙ্গে আমার একান্ত বন্ধুত্ব, এ থেকে আমি দায়মুক্তি ঘোষণা করছি। যদি আমি কাউকে বন্ধু বানাতাম তবে আবু বকরকেই বানাতাম। আর তোমাদের সাথী আল্লাহর পরম বন্ধু।

5961

حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ يَحْيَى، أَخْبَرَنَا خَالِدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، عَنْ خَالِدٍ، عَنْ أَبِي عُثْمَانَ، أَخْبَرَنِي عَمْرُو بْنُ الْعَاصِ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بَعَثَهُ عَلَى جَيْشِ ذَاتِ السَّلاَسِلِ فَأَتَيْتُهُ فَقُلْتُ أَىُّ النَّاسِ أَحَبُّ إِلَيْكَ قَالَ " عَائِشَةُ " . قُلْتُ مِنَ الرِّجَالِ قَالَ " أَبُوهَا " . قُلْتُ ثُمَّ مَنْ قَالَ " عُمَرُ " . فَعَدَّ رِجَالاً .

Narrator: হযরত আমর ইবনুল আস রাযি.

৫৯৬১। ইয়াহয়া ইবনে ইয়াহয়া (রাহঃ) ......... আমর ইবনুল আস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাঁকে যাতুস-সালাসিলের সৈন্য বাহিনীর (সেনাপতির) দায়িত্ব দিয়ে পাঠালেন, তখন আমি তার (রাসূলের) কাছে এসে বললাম, আপনার কাছে সবচেয়ে বেশী প্রিয় কে? তিনি বললেন, আয়িশা। আমি বললাম, পুরুষদের মধ্যে? তিনি বললেনঃ আয়িশার পিতা। আমি বললাম, এরপর? তিনি বললেনঃ উমর। এরপর তিনি আরো কয়েক জনের নাম উল্লেখ করলেন।

5962

وَحَدَّثَنِي الْحَسَنُ بْنُ عَلِيٍّ الْحُلْوَانِيُّ، حَدَّثَنَا جَعْفَرُ بْنُ عَوْنٍ، عَنْ أَبِي عُمَيْسٍ، ح وَحَدَّثَنَا عَبْدُ بْنُ حُمَيْدٍ، - وَاللَّفْظُ لَهُ - أَخْبَرَنَا جَعْفَرُ بْنُ عَوْنٍ، أَخْبَرَنَا أَبُو عُمَيْسٍ، عَنِ ابْنِ، أَبِي مُلَيْكَةَ سَمِعْتُ عَائِشَةَ، وَسُئِلَتْ، مَنْ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مُسْتَخْلِفًا لَوِ اسْتَخْلَفَهُ قَالَتْ أَبُو بَكْرٍ . فَقِيلَ لَهَا ثُمَّ مَنْ بَعْدَ أَبِي بَكْرٍ قَالَتْ عُمَرُ . ثُمَّ قِيلَ لَهَا مَنْ بَعْدَ عُمَرَ قَالَتْ أَبُو عُبَيْدَةَ بْنُ الْجَرَّاحِ . ثُمَّ انْتَهَتْ إِلَى هَذَا .

Narrator: আব্দুল্লাহ ইবনে আবি মুলায়কা (রহঃ)

৫৯৬২। হাসান ইবনে আলী হুলওয়ানী ও আব্দ ইবনে হুমায়দ (রাহঃ) ......... ইবনে আবু মুলায়কা (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আয়িশা (রাযিঃ) থেকে শুনেছি, তাকে প্রশ্ন করা হয়েছিলো, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যদি কাউকে খলীফা বানাতেন তাহলে কাকে বানাতেন? আয়িশা (রাযিঃ) বললেন, আবু বকরকে। প্রশ্ন করা হলো, আবু বকরের পর কাকে? বললেন, উমরকে। প্রশ্ন করা হলো, উমরের পর কাকে? তিনি বললেন, আবু উবাইদা ইবনুল জাররাহকে। এ পর্যন্ত বলেই তিনি শেষ করলেন।

5963

حَدَّثَنِي عَبَّادُ بْنُ مُوسَى، حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ سَعْدٍ، أَخْبَرَنِي أَبِي، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ جُبَيْرِ، بْنِ مُطْعِمٍ عَنْ أَبِيهِ، أَنَّ امْرَأَةً، سَأَلَتْ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم شَيْئًا فَأَمَرَهَا أَنْ تَرْجِعَ إِلَيْهِ فَقَالَتْ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَرَأَيْتَ إِنْ جِئْتُ فَلَمْ أَجِدْكَ قَالَ أَبِي كَأَنَّهَا تَعْنِي الْمَوْتَ . قَالَ " فَإِنْ لَمْ تَجِدِينِي فَأْتِي أَبَا بَكْرٍ " .

Narrator: জুবায়র ইবনে মুতঈম (রাঃ)

৫৯৬৩। আব্বাদ ইবনে মুসা (রাহঃ) ......... জুবাইর ইবনে মুতইম (রাযিঃ) তার পিতা থেকে বর্ণনা করেন যে, এক মহিলা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কাছে কিছু চাইল। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাকে অন্য সময় আসার জন্য বললেন। মহিলাটি বললো, যদি আমি এসে আপনাকে আর না পাই তবে (মহিলাটি মৃত্যুর ব্যাপারেই বলেছিলেন)? রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ যদি আমাকে না পাও তবে আবু বকর এর কাছে এসো।

5964

وَحَدَّثَنِيهِ حَجَّاجُ بْنُ الشَّاعِرِ، حَدَّثَنَا يَعْقُوبُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، حَدَّثَنَا أَبِي، عَنْ أَبِيهِ، أَخْبَرَنِي مُحَمَّدُ بْنُ جُبَيْرِ بْنِ مُطْعِمٍ، أَنَّ أَبَاهُ، جُبَيْرَ بْنَ مُطْعِمٍ أَخْبَرَهُ أَنَّ امْرَأَةً أَتَتْ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَكَلَّمَتْهُ فِي شَىْءٍ فَأَمَرَهَا بِأَمْرٍ . بِمِثْلِ حَدِيثِ عَبَّادِ بْنِ مُوسَى .

Narrator: জুবায়র ইবনে মুতঈম (রাঃ)

৫৯৬৪। হাজ্জাজ ইবনে শায়ির (রাহঃ) ......... মুহাম্মাদ ইবনে জুবাইর ইবনে মুতইম (রাযিঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে, তাঁর পিতা যুবাইর ইবনে মুতইম তাকে বলেছেন যে, একজন স্ত্রীলোক রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কাছে এসে কোন বিষয়ে তার সাথে কথা বললে তিনি তাকে নির্দেশ দিলেন ...... আব্বাদ ইবনে মুসা (রাহঃ) এর হাদীসের অনুরূপ।

5965

حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ، أَخْبَرَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ سَعْدٍ، حَدَّثَنَا صَالِحُ بْنُ كَيْسَانَ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ عُرْوَةَ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ قَالَ لِي رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي مَرَضِهِ " ادْعِي لِي أَبَا بَكْرٍ وَأَخَاكِ حَتَّى أَكْتُبَ كِتَابًا فَإِنِّي أَخَافُ أَنْ يَتَمَنَّى مُتَمَنٍّ وَيَقُولَ قَائِلٌ أَنَا أَوْلَى . وَيَأْبَى اللَّهُ وَالْمُؤْمِنُونَ إِلاَّ أَبَا بَكْرٍ " .

Narrator: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

৫৯৬৫। উবাইদুল্লাহ ইবনে সাঈদ (রাহঃ) ......... আয়িশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাকে তাঁর রোগ শয্যায় বললেনঃ তোমার আব্বা ও ভাইকে তুমি ডাক। আমি একটা পত্র লিখে দই। কেননা আমি ভয় করছি যে, কোন বাসনা পোষণকারী বাসনা করবে, আর কেউ বলবে, আমিই অগ্রাধিকারী (অধিক যোগ্য)। অথচ আবু বকর ছাড়া অন্য কাউকে আল্লাহ অস্বীকার করেন এবং মুসলমানরাও (অস্বীকার করে)।

5966

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ أَبِي عُمَرَ الْمَكِّيُّ، حَدَّثَنَا مَرْوَانُ بْنُ مُعَاوِيَةَ الْفَزَارِيُّ، عَنْ يَزِيدَ، - وَهُوَ ابْنُ كَيْسَانَ - عَنْ أَبِي حَازِمٍ الأَشْجَعِيِّ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " مَنْ أَصْبَحَ مِنْكُمُ الْيَوْمَ صَائِمًا " . قَالَ أَبُو بَكْرٍ أَنَا . قَالَ " فَمَنْ تَبِعَ مِنْكُمُ الْيَوْمَ جَنَازَةً " . قَالَ أَبُو بَكْرٍ أَنَا . قَالَ " فَمَنْ أَطْعَمَ مِنْكُمُ الْيَوْمَ مِسْكِينًا " . قَالَ أَبُو بَكْرٍ أَنَا . قَالَ " فَمَنْ عَادَ مِنْكُمُ الْيَوْمَ مَرِيضًا " . قَالَ أَبُو بَكْرٍ أَنَا . فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " مَا اجْتَمَعْنَ فِي امْرِئٍ إِلاَّ دَخَلَ الْجَنَّةَ " .

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৫৯৬৬। মুহাম্মাদ ইবনে আবু উমর মক্কী (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ আজ তোমাদের মধ্যে কে রোযা পালনকারী? আবু বকর (রাযিঃ) বললেন, আমি। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ তোমাদের মধ্যে কে আজ একটা জানাযাকে অনুসরণ করেছ? আবু বকর (রাযিঃ) বললেন, আমি। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ তোমাদের মধ্যে কে কোন মিসকীনকে আজ আহার করিয়েছ? আবু বকর (রাযিঃ) বললেন, আমি। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ তোমাদের মধ্যে কে আজ একজন রোগীকে দেখতে গিয়েছে? আবু বকর (রাযিঃ) বললেন, আমি। অতঃপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, যার মাঝে এ কাজগুলোর সমাবেশ ঘটেছে, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে।

5967

حَدَّثَنِي أَبُو الطَّاهِرِ، أَحْمَدُ بْنُ عَمْرِو بْنِ سَرْحٍ وَحَرْمَلَةُ بْنُ يَحْيَى قَالاَ أَخْبَرَنَا ابْنُ وَهْبٍ، أَخْبَرَنِي يُونُسُ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، حَدَّثَنِي سَعِيدُ بْنُ الْمُسَيَّبِ، وَأَبُو سَلَمَةَ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ أَنَّهُمَا سَمِعَا أَبَا هُرَيْرَةَ، يَقُولُ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " بَيْنَمَا رَجُلٌ يَسُوقُ بَقَرَةً لَهُ قَدْ حَمَلَ عَلَيْهَا الْتَفَتَتْ إِلَيْهِ الْبَقَرَةُ فَقَالَتْ إِنِّي لَمْ أُخْلَقْ لِهَذَا وَلَكِنِّي إِنَّمَا خُلِقْتُ لِلْحَرْثِ " . فَقَالَ النَّاسُ سُبْحَانَ اللَّهِ . تَعَجُّبًا وَفَزَعًا . أَبَقَرَةٌ تَكَلَّمُ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " فَإِنِّي أُومِنُ بِهِ وَأَبُو بَكْرٍ وَعُمَرُ " . قَالَ أَبُو هُرَيْرَةَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " بَيْنَا رَاعٍ فِي غَنَمِهِ عَدَا عَلَيْهِ الذِّئْبُ فَأَخَذَ مِنْهَا شَاةً فَطَلَبَهُ الرَّاعِي حَتَّى اسْتَنْقَذَهَا مِنْهُ فَالْتَفَتَ إِلَيْهِ الذِّئْبُ فَقَالَ لَهُ مَنْ لَهَا يَوْمَ السَّبُعِ يَوْمَ لَيْسَ لَهَا رَاعٍ غَيْرِي " . فَقَالَ النَّاسُ سُبْحَانَ اللَّهِ . فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " فَإِنِّي أُومِنُ بِذَلِكَ أَنَا وَأَبُو بَكْرٍ وَعُمَرُ " .

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৫৯৬৭। আবু তাহির আহমদ ইবনে আমর ইবনে সারহ ও হারামালা ইবনে ইয়াহয়া (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ এক ব্যক্তি পিঠে বোঝা দিয়ে একটি গাভীকে হাঁকাচ্ছিল। গাভীটি লোকটির দিকে চেয়ে বললো, আমাকে তো এজন্য সৃষ্টি করা হয়নি, আমার সৃষ্টি তো হাল-চাষ করার জন্য। লোকেরা আশ্চার্যাম্বিত ও ভীত হয়ে বলে উঠলো, সুবহানাল্লাহ! গাভী কথা বলে? রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ এটা আমি বিশ্বাস করি এবং আবু বকর, উমরও বিশ্বাস করে।

আবু হুরায়রা (রাযিঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ এক রাখাল ছাগল চরাচ্ছিল। এমন সময় একটি নেকড়ে এসে একটী ছাগল নিয়ে গেলে রাখাল নেকড়ের থেকে ছাগলটিকে মুক্ত করলো। তখন নেকড়ে রাখালটির দিকে তাকিয়ে বললো, যে দিন আমি ছাড়া আর কোন রাখাল থাকবে না, সেদিন বকরীগুলোকে কে রক্ষা করবে? লোকেরা বলে উঠলো, সুবহানাল্লাহ! রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ আমি, আবু বকর এবং উমর এ ব্যাপারটি বিশ্বাস করি।
5968

وَحَدَّثَنِي عَبْدُ الْمَلِكِ بْنُ شُعَيْبِ بْنِ اللَّيْثِ، حَدَّثَنِي أَبِي، عَنْ جَدِّي، حَدَّثَنِي عُقَيْلُ بْنُ، خَالِدٍ عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، بِهَذَا الإِسْنَادِ . قِصَّةَ الشَّاةِ وَالذِّئْبِ وَلَمْ يَذْكُرْ قِصَّةَ الْبَقَرَةِ .

Narrator: ইবনে শিহাব যুহরী (রহঃ)

৫৯৬৮। আব্দুল মালিক ইবনে শুয়ায়ব ইবনে লাইস (রাহঃ) ......... ইবনে শিহাব থেকে এ সনদেই এ হাদীসটি বর্ণনা করেছেন, যাতে রাখাল ও ছাগলের কাহিনী রয়েছে, কিন্তু গাভীর ঘটনাটি তিনি উল্লেখ করেন নি।

5969

وَحَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبَّادٍ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ، ح وَحَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ رَافِعٍ، حَدَّثَنَا أَبُو دَاوُدَ الْحَفَرِيُّ، عَنْ سُفْيَانَ، كِلاَهُمَا عَنْ أَبِي الزِّنَادِ، عَنِ الأَعْرَجِ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ أَبِي، هُرَيْرَةَ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم . بِمَعْنَى حَدِيثِ يُونُسَ عَنِ الزُّهْرِيِّ وَفِي حَدِيثِهِمَا ذِكْرُ الْبَقَرَةِ وَالشَّاةِ مَعًا وَقَالاَ فِي حَدِيثِهِمَا " فَإِنِّي أُومِنُ بِهِ أَنَا وَأَبُو بَكْرٍ وَعُمَرُ " . وَمَا هُمَا ثَمَّ .

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৫৯৬৯। মুহাম্মাদ ইবনে আব্বাদ ও মুহাম্মাদ ইবনে রাফি (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) এর বরাতে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) থেকে যুহরী (রাহঃ) সূত্রে ইউনুস বর্ণিত হাদীসের সমর্থনে হাদীস বর্ণনা করেছেন। তাদের হাদীসে একই সাথে গাভী ও ছাগলের কাহিনী রয়েছে। তাদের দু’জনের বর্ণিত হাদীসে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ এ ব্যাপারটি আমি, আবু বকর এবং উমর বিশ্বাস করি। তাঁরা দু’জন [আবু বকর এবং উমর (রাযিঃ)] তখন সেখানে ছিলেন না।

5970

وَحَدَّثَنَاهُ مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، وَابْنُ، بَشَّارٍ قَالاَ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، ح وَحَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبَّادٍ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ، عَنْ مِسْعَرٍ، كِلاَهُمَا عَنْ سَعْدِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم .

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৫৯৭০। মুহাম্মাদ ইবনে মুসান্না, ইবনে বাশশার ও মুহাম্মাদ ইবনে আব্বাদ (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।

২. উমর (রাযিঃ) এর ফযীলত

باب مِنْ فَضَائِلِ عُمَرَ رضى الله تعالى عنه

5971

حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ عَمْرٍو الأَشْعَثِيُّ، وَأَبُو الرَّبِيعِ الْعَتَكِيُّ، وَأَبُو كُرَيْبٍ مُحَمَّدُ بْنُ الْعَلاَءِ - وَاللَّفْظُ لأَبِي كُرَيْبٍ - قَالَ أَبُو الرَّبِيعِ حَدَّثَنَا وَقَالَ الآخَرَانِ، أَخْبَرَنَا ابْنُ الْمُبَارَكِ، عَنْ عُمَرَ بْنِ سَعِيدِ بْنِ أَبِي حُسَيْنٍ، عَنِ ابْنِ أَبِي مُلَيْكَةَ، قَالَ سَمِعْتُ ابْنَ عَبَّاسٍ، يَقُولُ وُضِعَ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ عَلَى سَرِيرِهِ فَتَكَنَّفَهُ النَّاسُ يَدْعُونَ وَيُثْنُونَ وَيُصَلُّونَ عَلَيْهِ قَبْلَ أَنْ يُرْفَعَ وَأَنَا فِيهِمْ - قَالَ - فَلَمْ يَرُعْنِي إِلاَّ بِرَجُلٍ قَدْ أَخَذَ بِمَنْكِبِي مِنْ وَرَائِي فَالْتَفَتُّ إِلَيْهِ فَإِذَا هُوَ عَلِيُّ فَتَرَحَّمَ عَلَى عُمَرَ وَقَالَ مَا خَلَّفْتَ أَحَدًا أَحَبَّ إِلَىَّ أَنْ أَلْقَى اللَّهَ بِمِثْلِ عَمَلِهِ مِنْكَ وَايْمُ اللَّهِ إِنْ كُنْتُ لأَظُنُّ أَنْ يَجْعَلَكَ اللَّهُ مَعَ صَاحِبَيْكَ وَذَاكَ أَنِّي كُنْتُ أُكَثِّرُ أَسْمَعُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " جِئْتُ أَنَا وَأَبُو بَكْرٍ وَعُمَرُ وَدَخَلْتُ أَنَا وَأَبُو بَكْرٍ وَعُمَرُ وَخَرَجْتُ أَنَا وَأَبُو بَكْرٍ وَعُمَرُ " . فَإِنْ كُنْتُ لأَرْجُو أَوْ لأَظُنُّ أَنْ يَجْعَلَكَ اللَّهُ مَعَهُمَا .

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

৫৯৭১। সাঈদ ইবনে আমর আল-আশআসী, আবুর রবীহ আল আতাকী ও আবু কুরায়ব মুহাম্মাদ ইবনুল আলা (রাহঃ) ......... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, উমর (রাযিঃ) কে তাঁর খাটিয়ায় রাখা হলে লোকেরা তার পাশে জমা হয়ে দুআ, প্রশংসা ও রহম কামনা করছিলো, তখনও তাঁর জানাযা হয় নি। আমিও লোকদের সঙ্গে ছিলাম। এক ব্যক্তি পেছন থেকে আমার কাঁধে হাত রাখলে আমি ভয় পেলাম। ফিরে দেখি আলী (রাযিঃ)। তিনি বললেন, আল্লাহ উমর (রাযিঃ) এর উপর রহম করুন। তারপর উমরকে সম্বোধন করে বললেন, হে উমর! আপনি আপনার চেয়ে বেশী প্রিয় কোন ব্যক্তি রেখে যাননি (যার আমল এমন যে), তার মত আমল নিয়ে আমি আল্লাহর সাথে মিলিত হতে পছন্দ করি। আল্লাহর শপথ! আমার মনে হয়, আল্লাহ আপনাকে আপনার দুই সাথীর সঙ্গেই রাখবেন। কেননা আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে প্রায়ই বলতে শুনেছি, আমি, আবু বকর ও উমর এসেছি; প্রবেশ করেছি আমি, আবু বকর ও উমর; বেরও হয়েছি আমি, আবু বকর ও উমর। এ জন্যে আমার দৃঢ় আশা ও বিশ্বাস এই যে, আল্লাহ আপনাকে তাঁদের সাথেই রাখবেন।

5972

وَحَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، أَخْبَرَنَا عِيسَى بْنُ يُونُسَ، عَنْ عُمَرَ بْنِ سَعِيدٍ، فِي هَذَا الإِسْنَادِ بِمِثْلِهِ .

Narrator: উমর ইবনু সাঈদ ইবনু মাসরুক (রহঃ)

৫৯৭২। ইসহাক ইবনে ইবরাহীম (রাহঃ) ......... উমর ইবনে সাঈদ (রাযিঃ) থেকে একই সনদে অনুরূপ (হাদীস বর্ণনা করেন)।

5973

حَدَّثَنَا مَنْصُورُ بْنُ أَبِي مُزَاحِمٍ، حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ سَعْدٍ، عَنْ صَالِحِ بْنِ كَيْسَانَ، ح وَحَدَّثَنَا زُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، وَالْحَسَنُ بْنُ عَلِيٍّ الْحُلْوَانِيُّ، وَعَبْدُ بْنُ حُمَيْدٍ، - وَاللَّفْظُ لَهُمْ - قَالُوا حَدَّثَنَا يَعْقُوبُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، حَدَّثَنَا أَبِي، عَنْ صَالِحٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، حَدَّثَنِي أَبُو أُمَامَةَ، بْنُ سَهْلٍ أَنَّهُ سَمِعَ أَبَا سَعِيدٍ الْخُدْرِيَّ، يَقُولُ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " بَيْنَا أَنَا نَائِمٌ رَأَيْتُ النَّاسَ يُعْرَضُونَ وَعَلَيْهِمْ قُمُصٌ مِنْهَا مَا يَبْلُغُ الثُّدِيَّ وَمِنْهَا مَا يَبْلُغُ دُونَ ذَلِكَ وَمَرَّ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ وَعَلَيْهِ قَمِيصٌ يَجُرُّهُ " . قَالُوا مَاذَا أَوَّلْتَ ذَلِكَ يَا رَسُولَ اللَّهِ قَالَ " الدِّينَ " .

Narrator: হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ)

৫৯৭৩। মনসুর ইবনে আবু মুযাহিম ও যুহাইর ইবনে হারব (রাহঃ) ......... আবু সাঈদ খুদরী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ আমি ঘুমিয়ে ছিলাম, দেখি আমার সামনে লোকদের আনা হচ্ছে, এদের পরনে জামা। কারো জামা বুক পর্যন্ত কারো বা এর নীচে। উমরকে আনা হলো তার গায়ের জামাটি সে টেনে চলছিল (ঝুল মাটিতে গিয়ে ঠেকেছিল)। লোকেরা বললো, ইয়া রাসুলাল্লাহ! আপনি এর ব্যাখ্যা কি করেন? তিনি বললেনঃ দ্বীন।

5974

حَدَّثَنِي حَرْمَلَةُ بْنُ يَحْيَى، أَخْبَرَنَا ابْنُ وَهْبٍ، أَخْبَرَنِي يُونُسُ، أَنَّ ابْنَ شِهَابٍ، أَخْبَرَهُ عَنْ حَمْزَةَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " بَيْنَا أَنَا نَائِمٌ إِذْ رَأَيْتُ قَدَحًا أُتِيتُ بِهِ فِيهِ لَبَنٌ فَشَرِبْتُ مِنْهُ حَتَّى إِنِّي لأَرَى الرِّيَّ يَجْرِي فِي أَظْفَارِي ثُمَّ أَعْطَيْتُ فَضْلِي عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ " . قَالُوا فَمَا أَوَّلْتَ ذَلِكَ يَا رَسُولَ اللَّهِ قَالَ " الْعِلْمَ " .

Narrator: হযরত উমর ইবনুল খাত্তাব রাযি.

৫৯৭৪। হারামালা ইবনে ইয়াহয়া (রাহঃ) ......... আব্দুল্লাহ ইবনে উমর ইবনে খাত্তাব তাঁর পিতা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ আমি ঘুমিয়ে আছি, দেখলাম দুধ ভর্তি একটি পেয়ালা আনা হলো। আমি তা থেকে পান করলাম এবং আমার মুখে তৃপ্তি ও সজীবতা ফুটে উঠলো। এরপর যা বেচে রইল তা উমর ইবনুল খাত্তাবকে দিলাম। লোকেরা বললো, ইয়া রাসুলাল্লাহ! এর ব্যাখ্যা কি? তিনি বললেন, ইলম।

5975

وَحَدَّثَنَاهُ قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا لَيْثٌ، عَنْ عُقَيْلٍ، ح وَحَدَّثَنَا الْحُلْوَانِيُّ، وَعَبْدُ بْنُ، حُمَيْدٍ كِلاَهُمَا عَنْ يَعْقُوبَ بْنِ إِبْرَاهِيمَ بْنِ سَعْدٍ، حَدَّثَنَا أَبِي، عَنْ صَالِحٍ، بِإِسْنَادِ يُونُسَ نَحْوَ حَدِيثِهِ .

Narrator: সালিহ (রহঃ)

৫৯৭৫। কুতায়বা ইবনে সাঈদ, হুলওয়ানী ও আব্দ ইবনে হুমায়দ (রাহঃ) ......... সালিহ (রাযিঃ) থেকে ইউনুসের সনদে অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন।

5976

حَدَّثَنَا حَرْمَلَةُ، أَخْبَرَنَا ابْنُ وَهْبٍ، أَخْبَرَنِي يُونُسُ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، أَنَّ سَعِيدَ بْنَ، الْمُسَيَّبِ أَخْبَرَهُ أَنَّهُ، سَمِعَ أَبَا هُرَيْرَةَ، يَقُولُ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " بَيْنَا أَنَا نَائِمٌ رَأَيْتُنِي عَلَى قَلِيبٍ عَلَيْهَا دَلْوٌ فَنَزَعْتُ مِنْهَا مَا شَاءَ اللَّهُ ثُمَّ أَخَذَهَا ابْنُ أَبِي قُحَافَةَ فَنَزَعَ بِهَا ذَنُوبًا أَوْ ذَنُوبَيْنِ وَفِي نَزْعِهِ وَاللَّهُ يَغْفِرُ لَهُ ضَعْفٌ ثُمَّ اسْتَحَالَتْ غَرْبًا فَأَخَذَهَا ابْنُ الْخَطَّابِ فَلَمْ أَرَ عَبْقَرِيًّا مِنَ النَّاسِ يَنْزِعُ نَزْعَ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ حَتَّى ضَرَبَ النَّاسُ بِعَطَنٍ " .

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৫৯৭৬। হারামালা ইবনে ইয়াহয়া (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে বলতে শুনেছি, আমি ঘুমের মধ্যে আমাকেএকটি কূপের পাড়ে দেখলাম, এতে একটি বালতি। আমি আল্লাহ তাআলার ইচ্ছা মতো পানি তুললাম। এরপর আবু কুহাফার পুত্র বালতি হাতে নিলো এবং এক বা দুই বালতি পানি তুললো। তাঁর উত্তোলনে কিছু দুর্বলতা ছিল। আল্লাহ তাকে ক্ষমা করে দিন। বালতিটি এবার বড় হয়ে গেল। ইবনে খাত্তাব সেটি নিলো। আমি উমর ইবনে খাত্তাবের মতো (পারদর্শী) পানি উত্তোলনকারী আর কাউকে দেখি নি। তখন লোকেরা নিজেদের উটগুলোকে (পানি পান করিয়ে) বিশ্রামের স্থানে নিয়ে গেলো।

5977

وَحَدَّثَنِي عَبْدُ الْمَلِكِ بْنُ شُعَيْبِ بْنِ اللَّيْثِ، حَدَّثَنِي أَبِي، عَنْ جَدِّي، حَدَّثَنِي عُقَيْلُ بْنُ، خَالِدٍ ح وَحَدَّثَنَا عَمْرٌو النَّاقِدُ، وَالْحُلْوَانِيُّ، وَعَبْدُ بْنُ حُمَيْدٍ، عَنْ يَعْقُوبَ بْنِ إِبْرَاهِيمَ بْنِ سَعْدٍ، حَدَّثَنَا أَبِي، عَنْ صَالِحٍ، بِإِسْنَادِ يُونُسَ نَحْوَ حَدِيثِهِ .

Narrator: সালিহ (রহঃ)

৫৯৭৭। আব্দুল মালিক ইবনে শুআয়ব ইবনে লাইস (রাহঃ) ......... সালিহ (রাহঃ) থেকে ইউনুস (রাহঃ) এর সনদে অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন।

5978

حَدَّثَنَا الْحُلْوَانِيُّ، وَعَبْدُ بْنُ حُمَيْدٍ، قَالاَ حَدَّثَنَا يَعْقُوبُ، حَدَّثَنَا أَبِي، عَنْ صَالِحٍ، قَالَ قَالَ الأَعْرَجُ وَغَيْرُهُ إِنَّ أَبَا هُرَيْرَةَ قَالَ إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " رَأَيْتُ ابْنَ أَبِي قُحَافَةَ يَنْزِعُ " . بِنَحْوِ حَدِيثِ الزُّهْرِيِّ .

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৫৯৭৮। হুলওয়ানী ও আব্দ ইবনে হুমায়দ (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণনা করেন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ আমি ইবনে আবু কুহাফাকে পানি তুলতে দেখেছি ......... (পরবর্তী অংশ) যুহরীর হাদীসের অনুরূপ।

5979

حَدَّثَنِي أَحْمَدُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ وَهْبٍ، حَدَّثَنَا عَمِّي عَبْدُ اللَّهِ بْنُ وَهْبٍ، أَخْبَرَنِي عَمْرُو بْنُ الْحَارِثِ، أَنَّ أَبَا يُونُسَ، مَوْلَى أَبِي هُرَيْرَةَ حَدَّثَهُ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " بَيْنَا أَنَا نَائِمٌ أُرِيتُ أَنِّي أَنْزِعُ عَلَى حَوْضِي أَسْقِي النَّاسَ فَجَاءَنِي أَبُو بَكْرٍ فَأَخَذَ الدَّلْوَ مِنْ يَدِي لِيُرَوِّحَنِي فَنَزَعَ دَلْوَيْنِ وَفِي نَزْعِهِ ضُعْفٌ وَاللَّهُ يَغْفِرُ لَهُ فَجَاءَ ابْنُ الْخَطَّابِ فَأَخَذَ مِنْهُ فَلَمْ أَرَ نَزْعَ رَجُلٍ قَطُّ أَقْوَى مِنْهُ حَتَّى تَوَلَّى النَّاسُ وَالْحَوْضُ مَلآنُ يَتَفَجَّرُ " .

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৫৯৭৯। আহমদ ইবনে আব্দুর রহমান ইবনে ওয়াহব (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ ঘুমের মধ্যে আমি দেখলাম, আমার হাউয হতে পানি উত্তোলন করছি। আর লোকদের পানি দিচ্ছি। আবু বকর এসে আমাকে বিশ্রাম করতে দেয়ার জন্য আমার হাত থেকে বালতি নিয়ে দু’বালতি পানি উঠালেন এবং তার উত্তোলনে দুর্বলতা ছিলো। আল্লাহ তাকে ক্ষমা করুন। এরপর ইবনে খাত্তাব এসে তার হাত থেকে বালতি নিলেন। তার চেয়ে অধিক শক্তিশালী উত্তোলনকারী আমি আর কোনদিন দেখি নি। লোকেরা (তৃপ্ত হয়ে) ফিরে গেলো আর তখন হাউয পরিপূর্ণ অবস্থায় প্রবাহমান ছিল।

5980

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، وَمُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ نُمَيْرٍ، - وَاللَّفْظُ لأَبِي بَكْرٍ - قَالاَ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بِشْرٍ، حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ، حَدَّثَنِي أَبُو بَكْرِ بْنُ سَالِمٍ، عَنْ سَالِمِ، بْنِ عَبْدِ اللَّهِ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " أُرِيتُ كَأَنِّي أَنْزِعُ بِدَلْوِ بَكْرَةٍ عَلَى قَلِيبٍ فَجَاءَ أَبُو بَكْرٍ فَنَزَعَ ذَنُوبًا أَوْ ذَنُوبَيْنِ فَنَزَعَ نَزْعًا ضَعِيفًا وَاللَّهُ تَبَارَكَ وَتَعَالَى يَغْفِرُ لَهُ ثُمَّ جَاءَ عُمَرُ فَاسْتَقَى فَاسْتَحَالَتْ غَرْبًا فَلَمْ أَرَ عَبْقَرِيًّا مِنَ النَّاسِ يَفْرِي فَرْيَهُ حَتَّى رَوِيَ النَّاسُ وَضَرَبُوا الْعَطَنَ " .

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

৫৯৮০। আবু বকর ইবনে আবি শাঈবা ও মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে নুমাইর (রাহঃ) ......... আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ আমি স্বপ্লে দেখলাম যেন কূপের চাক্কির বালতি দ্বারা একটি কুয়া থেকে পানি উঠাচ্ছি। তখন আবু বকর এসে এক বালতি বা দুই বালতি তুললেন। তাঁর উত্তোলনে ছিল দূর্বলভাব। আল্লাহ তাকে ক্ষমা করুন। এরপর উমর এসে পানি তোলা শুরু করলেন। আর বালতিটি বিরাট আকার ধারণ করল। লোকদের মাঝে এত বড় সবল জওয়ান আমি আর দেখি নি যে, তার মত কাজ করে। এমন কি লোকেরা তৃপ্তি লাভ করল এবং সেখানে উটশালা বানিয়ে ফেলল।

5981

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ يُونُسَ، حَدَّثَنَا زُهَيْرٌ، حَدَّثَنِي مُوسَى بْنُ عُقْبَةَ، عَنْ سَالِمِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ رُؤْيَا، رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي أَبِي بَكْرٍ وَعُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ رضى الله عنهما بِنَحْوِ حَدِيثِهِمْ .

Narrator: সালিম ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রহঃ)

৫৯৮১। আহমাদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে ইউনুস (রাহঃ) ......... আব্দুল্লাহ (রাযিঃ) তাঁর পিতা (রাযিঃ) থেকে আবু বকর ও উমর (রাযিঃ) সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর স্বপ্ন সম্বলিত তাঁদের হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।

5982

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ نُمَيْرٍ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ عَمْرٍو، وَابْنِ الْمُنْكَدِرِ، سَمِعَا جَابِرًا، يُخْبِرُ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم ح وَحَدَّثَنَا زُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، - وَاللَّفْظُ لَهُ - حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ، عَنِ ابْنِ الْمُنْكَدِرِ، وَعَمْرٍو، عَنْ جَابِرٍ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " دَخَلْتُ الْجَنَّةَ فَرَأَيْتُ فِيهَا دَارًا أَوْ قَصْرًا فَقُلْتُ لِمَنْ هَذَا فَقَالُوا لِعُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ . فَأَرَدْتُ أَنْ أَدْخُلَ . فَذَكَرْتُ غَيْرَتَكَ " . فَبَكَى عُمَرُ وَقَالَ أَىْ رَسُولَ اللَّهِ أَوَعَلَيْكَ يُغَارُ

Narrator: জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ আনসারী (রাঃ)

৫৯৮২। মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে নুমাইর ও যুহাইর ইবনে হারব (রাহঃ) ......... জাবির (রাযিঃ) থেকে বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ আমি জান্নাতে প্রবেশ করলাম, ওখানে একটা বাড়ি বা প্রাসাদ দেখলাম। বললাম, এটা কার? লোকেরা বললো, উমর ইবনুল খাত্তাবের। আমি এতে প্রবেশের ইচ্ছা করলাম। তখনি তোমার আত্মমর্যাদাবোধের কথা আমার মনে পড়লো। এ কথা শুনে উমর (রাযিঃ) কেঁদে ফেললেন এবং বললেন, ইয়া রাসুলাল্লাহ! আত্মমর্যাদাবোধ কি আপনার প্রতিও চলে?

5983
وَحَدَّثَنَاهُ إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، أَخْبَرَنَا سُفْيَانُ، عَنْ عَمْرٍو، وَابْنِ الْمُنْكَدِرِ، عَنْ جَابِرٍ، ح

وَحَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ عَمْرٍو، سَمِعَ جَابِرًا، ح

وَحَدَّثَنَاهُ عَمْرٌو النَّاقِدُ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنِ ابْنِ الْمُنْكَدِرِ، سَمِعْتُ جَابِرًا، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم بِمِثْلِ حَدِيثِ ابْنِ نُمَيْرٍ وَزُهَيْرٍ .

Narrator: জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ আনসারী (রাঃ)

৫৯৮৩। ইসহাক ইবনে ইবরাহীম, আবু বকর ইবনে আবি শাঈবা ও আমর আন-নাকিদ (রাহঃ) ......... জাবির (রাযিঃ) সূত্রে নবী(ﷺ) থেকে ইবনে নুমাইর ও যুহাইরের সূত্রে বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।

5984
حَدَّثَنِي حَرْمَلَةُ بْنُ يَحْيَى، أَخْبَرَنَا ابْنُ وَهْبٍ، أَخْبَرَنِي يُونُسُ، أَنَّ ابْنَ شِهَابٍ، أَخْبَرَهُ عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيَّبِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ قَالَ " بَيْنَا أَنَا نَائِمٌ إِذْ رَأَيْتُنِي فِي الْجَنَّةِ فَإِذَا امْرَأَةٌ تَوَضَّأُ إِلَى جَانِبِ قَصْرٍ فَقُلْتُ لِمَنْ هَذَا فَقَالُوا لِعُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ . فَذَكَرْتُ غَيْرَةَ عُمَرَ فَوَلَّيْتُ مُدْبِرًا " . قَالَ أَبُو هُرَيْرَةَ فَبَكَى عُمَرُ وَنَحْنُ جَمِيعًا فِي ذَلِكَ الْمَجْلِسِ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ثُمَّ قَالَ عُمَرُ بِأَبِي أَنْتَ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَعَلَيْكَ أَغَارُ

وَحَدَّثَنِيهِ عَمْرٌو النَّاقِدُ، وَحَسَنٌ الْحُلْوَانِيُّ، وَعَبْدُ بْنُ حُمَيْدٍ، قَالُوا حَدَّثَنَا يَعْقُوبُ بْنُ، إِبْرَاهِيمَ حَدَّثَنَا أَبِي، عَنْ صَالِحٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، بِهَذَا الإِسْنَادِ مِثْلَهُ .

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৫৯৮৪। হারামালা ইবনে ইয়াহয়া (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ আমি ঘুমিয়ে ছিলাম। স্বপ্নে আমাকে আমি জান্নাতে দেখতে পাই। ওখানে একটি প্রাসাদের কোণে একজন মহিলা উযু করছিল। আমি জিজ্ঞাসা করলাম, এটি কার? তারা বললো উমর ইবনুল খাত্তাবের। তখন উমরের আত্মমর্যাদাবোধের কথা আমার মনে পড়ে, আমি ফিরে চলে এলাম। আবু হুরায়রা (রাযিঃ) বলেন, একথা শুনে উমর (রাযিঃ) কাঁদতে লাগলেন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সঙ্গে আমরা সবাই এ মজলিসে ছিলাম। তারপর উমর (রাযিঃ) বললেন, আপনার উপর আমার মা-বাবা কুরবান হোক, ইয়া রাসুলাল্লাহ! আপনার প্রতিও কি আমি আত্মমর্যাদাবোধ দেখাবো?

আমর আন-নাকিদ, হাসান হুলওয়ানী ও আব্দ ইবনে হুমায়দ (রাহঃ) ......... ইবনে শিহাব (রাহঃ) থেকে উক্ত সনদে অনুরূপ বর্ণনা করেন।
5985

حَدَّثَنَا مَنْصُورُ بْنُ أَبِي مُزَاحِمٍ، حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ يَعْنِي ابْنَ سَعْدٍ، ح وَحَدَّثَنَا حَسَنٌ، الْحُلْوَانِيُّ وَعَبْدُ بْنُ حُمَيْدٍ قَالَ عَبْدٌ أَخْبَرَنِي وَقَالَ، حَسَنٌ حَدَّثَنَا يَعْقُوبُ، - وَهُوَ ابْنُ إِبْرَاهِيمَ بْنِ سَعْدٍ - حَدَّثَنَا أَبِي، عَنْ صَالِحٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، أَخْبَرَنِي عَبْدُ الْحَمِيدِ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، بْنِ زَيْدٍ أَنَّ مُحَمَّدَ بْنَ سَعْدِ بْنِ أَبِي وَقَّاصٍ، أَخْبَرَهُ أَنَّ أَبَاهُ سَعْدًا قَالَ اسْتَأْذَنَ عُمَرُ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَعِنْدَهُ نِسَاءٌ مِنْ قُرَيْشٍ يُكَلِّمْنَهُ وَيَسْتَكْثِرْنَهُ عَالِيَةً أَصْوَاتُهُنَّ فَلَمَّا اسْتَأْذَنَ عُمَرُ قُمْنَ يَبْتَدِرْنَ الْحِجَابَ فَأَذِنَ لَهُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَرَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَضْحَكُ فَقَالَ عُمَرُ أَضْحَكَ اللَّهُ سِنَّكَ يَا رَسُولَ اللَّهِ . فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " عَجِبْتُ مِنْ هَؤُلاَءِ اللاَّتِي كُنَّ عِنْدِي فَلَمَّا سَمِعْنَ صَوْتَكَ ابْتَدَرْنَ الْحِجَابَ " . قَالَ عُمَرُ فَأَنْتَ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَحَقُّ أَنْ يَهَبْنَ . ثُمَّ قَالَ عُمَرُ أَىْ عَدُوَّاتِ أَنْفُسِهِنَّ أَتَهَبْنَنِي وَلاَ تَهَبْنَ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قُلْنَ نَعَمْ أَنْتَ أَغْلَظُ وَأَفَظُّ مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم . قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ مَا لَقِيَكَ الشَّيْطَانُ قَطُّ سَالِكًا فَجًّا إِلاَّ سَلَكَ فَجًّا غَيْرَ فَجِّكَ " .

Narrator: হযরত সা'দ ইবন আবী ওয়াক্কাস রাযি.

৫৯৮৫। মানসুর ইবনে আবু মুযাহিম, হাসান হুলওয়ানী ও আব্দ ইবনে হুমায়দ (রাহঃ) ......... সা’দ (রাযিঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে, উমর (রাযিঃ) রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট প্রবেশের অনুমতি চাইলে তখন কুরাইশ মহিলারা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কাছে আলাপরত ছিল এবং উচ্চস্বরে তারা বেশী বেশী কথা বলছিল। যখন উমর (রাযিঃ) অনুমতি চাইলেন, এরা উঠে আড়ালে চলে গেলো। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাঁকে অনুমতি দিলেন এবং তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) হাসছিলেন। উমর বললেন, ইয়া রাসুলাল্লাহ! আল্লাহর আপনার মুখকে হাস্যোজ্জ্বল রাখুন।

রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ আমি এদের ব্যাপারে আশ্চোর্যবোধ করছি যারা আমার কাছে বসা ছিল। আর তোমার শব্দটি শোনামাত্রই আড়ালে চলে গেল। উমর (রাযিঃ) বললেন, ইয়া রাসুলাল্লাহ! আপনাকেই তো এদের বেশী ভয় করা উচিত। এরপর উমর (রাযিঃ) বললেন, ওহে! নিজের প্রাণের শক্ররা! তোমরা আমাকে ভয় কর আর আল্লাহর রাসুলকে ভয় কর না! তারা বললো, হ্যাঁ, তুমি তো আল্লাহর রাসূলের চেয়ে বেশী কঠোর এবং রাগী। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ যার হাতে আমার প্রাণ তাঁর শপথ! শয়তান যখন তোমাকে কোন পথে চলতে দেখে, তখন সে তোমার পথ ছেড়ে অন্য পথ ধরে চলে।
5986

حَدَّثَنَا هَارُونُ بْنُ مَعْرُوفٍ، حَدَّثَنَا بِهِ عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ مُحَمَّدٍ، أَخْبَرَنِي سُهَيْلٌ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ، جَاءَ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَعِنْدَهُ نِسْوَةٌ قَدْ رَفَعْنَ أَصْوَاتَهُنَّ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَلَمَّا اسْتَأْذَنَ عُمَرُ ابْتَدَرْنَ الْحِجَابَ . فَذَكَرَ نَحْوَ حَدِيثِ الزُّهْرِيِّ .

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৫৯৮৬। হারুন ইবনে মারুফ (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কাছে উমর ইবনে খাত্তাব (রাযিঃ) এলেন। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট কিছু স্ত্রীলোক উচ্চঃস্বরে কথা বলছিল। যখন উমর প্রবেশের অনুমতি চাইলেন, মহিলারা সব ততক্ষণাৎ আড়ালে চলে গেল ...... (পরবর্তী অংশ) যুহরী (রাহঃ) এর হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।

5987

حَدَّثَنِي أَبُو الطَّاهِرِ، أَحْمَدُ بْنُ عَمْرِو بْنِ سَرْحٍ حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ وَهْبٍ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ، بْنِ سَعْدٍ عَنْ أَبِيهِ، سَعْدِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ عَائِشَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ كَانَ يَقُولُ " قَدْ كَانَ يَكُونُ فِي الأُمَمِ قَبْلَكُمْ مُحَدَّثُونَ فَإِنْ يَكُنْ فِي أُمَّتِي مِنْهُمْ أَحَدٌ فَإِنَّ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ مِنْهُمْ " . قَالَ ابْنُ وَهْبٍ تَفْسِيرُ مُحَدَّثُونَ مُلْهَمُونَ .

Narrator: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

৫৯৮৭। আবু তাহির আহমদ ইবনে আমর ইবনে সারহ (রাহঃ) ......... আয়িশা (রাযিঃ) সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলতেনঃ তোমাদের পুর্ববর্তী উম্মতসমূহের মধ্যে কিছু লোক ছিলেন মুহাদ্দাস, আমার উম্মতের মধ্যে যদি কেউ এমন থেকে থাকে তবে সে উমর ইবনুল খাত্তাবই হবে।

ইবনে ওয়াহব বলেন ’মুহাদ্দাস’ এর ব্যাখ্যা হল যার প্রতি (আল্লাহর পক্ষ থেকে) ইলহাম হয়।
5988

حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا لَيْثٌ، ح وَحَدَّثَنَا عَمْرٌو النَّاقِدُ، وَزُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، قَالاَ حَدَّثَنَا ابْنُ عُيَيْنَةَ، كِلاَهُمَا عَنِ ابْنِ عَجْلاَنَ، عَنْ سَعْدِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ، بِهَذَا الإِسْنَادِ مِثْلَهُ .

Narrator: সা'দ ইবনে ইবরাহীম (রহঃ)

৫৯৮৮। কুতায়বা ইবনে সাঈদ, আমর আন-নাকিদ ও যুহাইর ইবনে হারব (রাহঃ) ......... সা’দ ইবনে ইবরাহীম (রাহঃ) থেকে উক্ত সনদে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।

5989

حَدَّثَنَا عُقْبَةُ بْنُ مُكْرَمٍ الْعَمِّيُّ، حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ عَامِرٍ، قَالَ جُوَيْرِيَةُ بْنُ أَسْمَاءَ أَخْبَرَنَا عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، قَالَ قَالَ عُمَرُ وَافَقْتُ رَبِّي فِي ثَلاَثٍ فِي مَقَامِ إِبْرَاهِيمَ وَفِي الْحِجَابِ وَفِي أُسَارَى بَدْرٍ .

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

৫৯৮৯। উকবা ইবনে মুকরিম আম্মী (রাহঃ) ......... ইবনে উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, উমর (রাযিঃ) বলেছেনঃ যে, তিনটি বিষয়ে আমি আল্লাহ তাআলার ইচ্ছার অনুরূপ (পূর্বেই) মত ব্যক্ত করেছি। মাকামে ইবরাহীম (এ নামায আদায়) সম্পর্কে, মাহিলাদের পর্দা এবং বদরের যুদ্ধবন্দীদের ব্যাপারে।

5990

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا أَبُو أُسَامَةَ، حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، قَالَ لَمَّا تُوُفِّيَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ أُبَىٍّ ابْنُ سَلُولَ جَاءَ ابْنُهُ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَسَأَلَهُ أَنْ يُعْطِيَهُ قَمِيصَهُ أَنْ يُكَفِّنَ فِيهِ أَبَاهُ فَأَعْطَاهُ ثُمَّ سَأَلَهُ أَنْ يُصَلِّيَ عَلَيْهِ فَقَامَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لِيُصَلِّيَ عَلَيْهِ فَقَامَ عُمَرُ فَأَخَذَ بِثَوْبِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَتُصَلِّي عَلَيْهِ وَقَدْ نَهَاكَ اللَّهُ أَنْ تُصَلِّيَ عَلَيْهِ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " إِنَّمَا خَيَّرَنِيَ اللَّهُ فَقَالَ ( اسْتَغْفِرْ لَهُمْ أَوْ لاَ تَسْتَغْفِرْ لَهُمْ إِنْ تَسْتَغْفِرْ لَهُمْ سَبْعِينَ مَرَّةً) وَسَأَزِيدُ عَلَى سَبْعِينَ " . قَالَ إِنَّهُ مُنَافِقٌ . فَصَلَّى عَلَيْهِ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَأَنْزَلَ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ ( وَلاَ تُصَلِّ عَلَى أَحَدٍ مِنْهُمْ مَاتَ أَبَدًا وَلاَ تَقُمْ عَلَى قَبْرِهِ) .

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

৫৯৯০। আবু বকর ইবনে আবি শাঈবা (রাহঃ) ......... ইবনে উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, যখন আব্দুল্লাহ ইবনে উবাই ইবনে সালূল মারা যায়, তখন তার পুত্র আব্দুল্লাহ ইবনে আব্দুল্লাহ (রাযিঃ) রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট এসে আবেদন করলেন, তিনি যেন নিজ জামা তার পিতার কাফনের জন্য দান করেন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাঁকে দান করলেন।

তারপর আব্দুল্লাহ (রাযিঃ) রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে তাঁর পিতার জানাযা পড়ার অনুরোধ জানালেন। তিনি তার জানাযা পড়ার জন্য উঠে দাড়ালেন। তখন উমর (রাযিঃ) দাঁড়িয়ে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর পরিধেয় বস্ত্র ধরে বললেন, ইয়া রাসুলাল্লাহ! আপনি কি ওর জানাযা পড়বেন অথচ আল্লাহ আপনাকে তার জানাযা পড়তে নিষেধ করেছেন?

রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ আল্লাহ অবশ্য আমাকে ইখতিয়ার দিয়েছেন। বলেছেনঃ আপনি তাদের জন্যে ক্ষমা প্রার্থনা করুন আর নাই করুন, যদি আপনি সত্তরবারও এদের জন্যে ক্ষমা প্রার্থনা করেন’ ...... (৯ঃ ৮০) সুতরাং আমি সত্তরবারের চেয়েও বেশী ক্ষমা চাইবো।

উমর (রাযিঃ) বললেন, সে তো মুনাফিক। এরপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তার জানাযা পড়লেন। তখন আল্লাহ তাআলা আয়াত অবতীর্ণ করলেনঃ ‘মুনাফিকদের মধ্যে কেউ মরে গেলে কখনো তার জানাযা পড়বেন না; আর তার কবরের পাশেও দাঁড়াবেন না’ (৯ঃ ৮৪)।
5991

وَحَدَّثَنَاهُ مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، وَعُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ سَعِيدٍ، قَالاَ حَدَّثَنَا يَحْيَى، - وَهُوَ الْقَطَّانُ - عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ، بِهَذَا الإِسْنَادِ فِي مَعْنَى حَدِيثِ أَبِي أُسَامَةَ وَزَادَ قَالَ فَتَرَكَ الصَّلاَةَ عَلَيْهِمْ .

Narrator: উবাইদুল্লাহ ইবনু উমার (রহঃ)

৫৯৯১। মুহাম্মাদ ইবনে মুসান্না ও উবাইদুল্লাহ ইবনে সাঈদ (রাহঃ) ......... উবাইদুল্লাহ (রাযিঃ) থেকে এ সনদে আবু উসামার হাদীসের সমার্থক হাদীস বর্ণনা করেছেন এবং অতিরিক্ত বলেছেন, ‘এরপর তিনি তাদের উপর জানাযা পড়া ছেড়ে দেন।’

৩. উসমান ইবনে আফফান (রাযিঃ) এর ফযীলত

باب مِنْ فَضَائِلِ عُثْمَانَ بْنِ عَفَّانَ رضى الله عنه

5992

حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ يَحْيَى، وَيَحْيَى بْنُ أَيُّوبَ، وَقُتَيْبَةُ، وَابْنُ، حُجْرٍ قَالَ يَحْيَى بْنُ يَحْيَى أَخْبَرَنَا وَقَالَ الآخَرُونَ، حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ، - يَعْنُونَ ابْنَ جَعْفَرٍ - عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ أَبِي حَرْمَلَةَ، عَنْ عَطَاءٍ، وَسُلَيْمَانَ، ابْنَىْ يَسَارٍ وَأَبِي سَلَمَةَ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ أَنَّ عَائِشَةَ، قَالَتْ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مُضْطَجِعًا فِي بَيْتِي كَاشِفًا عَنْ فَخِذَيْهِ أَوْ سَاقَيْهِ فَاسْتَأْذَنَ أَبُو بَكْرٍ فَأَذِنَ لَهُ وَهُوَ عَلَى تِلْكَ الْحَالِ فَتَحَدَّثَ ثُمَّ اسْتَأْذَنَ عُمَرُ فَأَذِنَ لَهُ وَهُوَ كَذَلِكَ فَتَحَدَّثَ ثُمَّ اسْتَأْذَنَ عُثْمَانُ فَجَلَسَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَسَوَّى ثِيَابَهُ - قَالَ مُحَمَّدٌ وَلاَ أَقُولُ ذَلِكَ فِي يَوْمٍ وَاحِدٍ - فَدَخَلَ فَتَحَدَّثَ فَلَمَّا خَرَجَ قَالَتْ عَائِشَةُ دَخَلَ أَبُو بَكْرٍ فَلَمْ تَهْتَشَّ لَهُ وَلَمْ تُبَالِهِ ثُمَّ دَخَلَ عُمَرُ فَلَمْ تَهْتَشَّ لَهُ وَلَمْ تُبَالِهِ ثُمَّ دَخَلَ عُثْمَانُ فَجَلَسْتَ وَسَوَّيْتَ ثِيَابَكَ فَقَالَ " أَلاَ أَسْتَحِي مِنْ رَجُلٍ تَسْتَحِي مِنْهُ الْمَلاَئِكَةُ " .

Narrator: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

৫৯৯২। ইয়াহয়া ইবনে ইয়াহয়া, ইয়াহয়া ইবনে আইয়ুব, কুতায়বা ও ইবনে হাজর (রাহঃ) ......... আয়িশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাঁর ঘরে শোয়া ছিলেন তার উরু অথবা পায়ের গোছা খোলা ছিল। আবু বকর (রাযিঃ) এসে অনুমতি চাইলে তিনি অনুমতি দিলেন এবং এ অবস্থাতেই কথাবার্তা বললেন। এরপর উমর (রাযিঃ) অনুমতি চাইলে অনুমতি দিলেন এবং এ অবস্থায়ই কথাবার্তা বললেন। উসমান (রাযিঃ) অনুমতি চাইলেন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) উঠে বসলেন এবং কাপড় ঠিক করলেন।

রাবী মুহাম্মাদ বলেন, এ ব্যাপারটি একই দিনে ঘটেছে বলে আমি বলতে পারি না। এরপর উসমান (রাযিঃ) এসে কথা বলে চলে যাওয়ার পর আয়িশা (রাযিঃ) বললেন,’আবু বকর (রাযিঃ) এলেন, আপনি পরিবর্তিত হলেন না এবং বিশেষ গুরুত্ব প্রদান করলেন না। উমর (রাযিঃ) এলেন, আপনি পরিবর্তিত হলেন না এবং বিশেষ গুরুত্ব প্রদান করলেন না। উসমান (রাযিঃ) আসতেই আপনি উঠে বসলেন এবং কাপড় ঠিক করে নিলেন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ আমি কি সে ব্যক্তিকে লজ্জা করবো না, ফিরিশতারা যাকে লজ্জা করে থাকেন।
5993

حَدَّثَنَا عَبْدُ الْمَلِكِ بْنُ شُعَيْبِ بْنِ اللَّيْثِ بْنِ سَعْدٍ، حَدَّثَنِي أَبِي، عَنْ جَدِّي، حَدَّثَنِي عُقَيْلُ، بْنُ خَالِدٍ عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدِ بْنِ الْعَاصِ، أَنَّ سَعِيدَ بْنَ الْعَاصِ، أَخْبَرَهُ أَنَّ عَائِشَةَ زَوْجَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَعُثْمَانَ حَدَّثَاهُ أَنَّ أَبَا بَكْرٍ اسْتَأْذَنَ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَهُوَ مُضْطَجِعٌ عَلَى فِرَاشِهِ لاَبِسٌ مِرْطَ عَائِشَةَ فَأَذِنَ لأَبِي بَكْرٍ وَهُوَ كَذَلِكَ فَقَضَى إِلَيْهِ حَاجَتَهُ ثُمَّ انْصَرَفَ ثُمَّ اسْتَأْذَنَ عُمَرُ فَأَذِنَ لَهُ وَهُوَ عَلَى تِلْكَ الْحَالِ فَقَضَى إِلَيْهِ حَاجَتَهُ ثُمَّ انْصَرَفَ . قَالَ عُثْمَانُ ثُمَّ اسْتَأْذَنْتُ عَلَيْهِ فَجَلَسَ وَقَالَ لِعَائِشَةَ " اجْمَعِي عَلَيْكِ ثِيَابَكِ " . فَقَضَيْتُ إِلَيْهِ حَاجَتِي ثُمَّ انْصَرَفْتُ فَقَالَتْ عَائِشَةُ يَا رَسُولَ اللَّهِ مَا لِي لَمْ أَرَكَ فَزِعْتَ لأَبِي بَكْرٍ وَعُمَرَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا كَمَا فَزِعْتَ لِعُثْمَانَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " إِنَّ عُثْمَانَ رَجُلٌ حَيِيٌّ وَإِنِّي خَشِيتُ إِنْ أَذِنْتُ لَهُ عَلَى تِلْكَ الْحَالِ أَنْ لاَ يَبْلُغَ إِلَىَّ فِي حَاجَتِهِ " .

Narrator: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

৫৯৯৩। আব্দুল মালিক ইবনে শুআয়ব ইবনে লাইস ইবনে সা’দ (রাহঃ) ......... সাঈদ ইবনুল আস নবী (ﷺ) এর স্ত্রী আয়িশা ও উসমান (রাযিঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে, আবু বকর (রাযিঃ) রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কাছে প্রবেশের অনুমতি চাইলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তখন নিজের বিছানায় আয়িশার চাদর গায়ে দিয়ে শুয়ে ছিলেন। তিনি আবু বকরকে অনুমতি দিলেন। আর তিনি এ অবস্থায়ই রইলেন। আবু বকর (রাযিঃ) তাঁর প্রয়োজনে শেষ করে চলে গেলেন। এরপর উমর (রাযিঃ) অনুমতি চাইলে তাঁকে অনুমতি দিলেন এবং রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এ অবস্থায়ই রইলেন। উমর (রাযিঃ) তাঁর কাজ সেরে চলে গেলেন।

উসমান (রাযিঃ) বলেন, এরপর আমি অনুমতি চাইলাম, তিনি উঠে বসে পড়লেন এবং আমাকে বললেন, ভালোমতো তোমার গায়ে কাপড় ঠিক করে নাও। আমি আমার কাজ শেষ করে চলে গেলে আয়িশা (রাযিঃ) বললেন, ইয়া রাসুলাল্লাহ! কি ব্যাপার, আবু বকর ও উমর (রাযিঃ) এলে আপনাকে এমন ব্যতিব্যস্ত হতে দেখলাম না, যেমন উসমান আসতেই আপনি ব্যতিব্যস্ত হলেন! রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ উসমান (রাযিঃ) বড়ই লাজুক পুরুষ। তাই আমি ভাবলাম, এ অবস্থায় তাকে আসতে বললে হয়ত সে তার প্রয়োজন আমার কাছে পেশ করতে পারবে না।
5994

حَدَّثَنَاهُ عَمْرٌو النَّاقِدُ، وَالْحَسَنُ بْنُ عَلِيٍّ الْحُلْوَانِيُّ، وَعَبْدُ بْنُ حُمَيْدٍ، كُلُّهُمْ عَنْ يَعْقُوبَ، بْنِ إِبْرَاهِيمَ بْنِ سَعْدٍ حَدَّثَنَا أَبِي، عَنْ صَالِحِ بْنِ كَيْسَانَ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، قَالَ أَخْبَرَنِي يَحْيَى، بْنُ سَعِيدِ بْنِ الْعَاصِ أَنَّ سَعِيدَ بْنَ الْعَاصِ، أَخْبَرَهُ أَنَّ عُثْمَانَ وَعَائِشَةَ حَدَّثَاهُ أَنَّ أَبَا بَكْرٍ الصِّدِّيقَ اسْتَأْذَنَ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم . فَذَكَرَ بِمِثْلِ حَدِيثِ عُقَيْلٍ عَنِ الزُّهْرِيِّ .

Narrator: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

৫৯৯৪। আমর আন-নাকিদ, হাসান ইবনে আলী হুলওয়ানী ও আব্দ ইবনে হুমায়দ (রাহঃ) ......... সাঈদ ইবনুল আস উসমান ও আয়িশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে, আবু বকর সিদ্দীক (রাযিঃ) রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কাছে প্রবেশের অনুমতি চাইলেন ...... পরবর্তী অংশ যুহরী (রাহঃ) থেকে উকায়ল (রাহঃ) বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ উল্লেখ করেছেন।

5995

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى الْعَنَزِيُّ، حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي عَدِيٍّ، عَنْ عُثْمَانَ بْنِ غِيَاثٍ، عَنْ أَبِي عُثْمَانَ النَّهْدِيِّ، عَنْ أَبِي مُوسَى الأَشْعَرِيِّ، قَالَ بَيْنَمَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي حَائِطٍ مِنْ حَائِطِ الْمَدِينَةِ وَهُوَ مُتَّكِئٌ يَرْكُزُ بِعُودٍ مَعَهُ بَيْنَ الْمَاءِ وَالطِّينِ إِذَا اسْتَفْتَحَ رَجُلٌ فَقَالَ " افْتَحْ وَبَشِّرْهُ بِالْجَنَّةِ " . قَالَ فَإِذَا أَبُو بَكْرٍ فَفَتَحْتُ لَهُ وَبَشَّرْتُهُ بِالْجَنَّةِ - قَالَ - ثُمَّ اسْتَفْتَحَ رَجُلٌ آخَرُ فَقَالَ " افْتَحْ وَبَشِّرْهُ بِالْجَنَّةِ " . قَالَ فَذَهَبْتُ فَإِذَا هُوَ عُمَرُ فَفَتَحْتُ لَهُ وَبَشَّرْتُهُ بِالْجَنَّةِ ثُمَّ اسْتَفْتَحَ رَجُلٌ آخَرُ - قَالَ - فَجَلَسَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ " افْتَحْ وَبَشِّرْهُ بِالْجَنَّةِ عَلَى بَلْوَى تَكُونُ " . قَالَ فَذَهَبْتُ فَإِذَا هُوَ عُثْمَانُ بْنُ عَفَّانَ - قَالَ - فَفَتَحْتُ وَبَشَّرْتُهُ بِالْجَنَّةِ - قَالَ - وَقُلْتُ الَّذِي قَالَ فَقَالَ اللَّهُمَّ صَبْرًا أَوِ اللَّهُ الْمُسْتَعَانُ .

Narrator: আবু মুসা আশ'আরী (রাঃ)

৫৯৯৫। মুহাম্মাদ ইবনে মুসান্না আনাযী (রাহঃ) ......... আবু মুসা আশআরী (রাযিঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে, একবার রাসূলুল্লাহ (ﷺ) মদীনার একটি বাগানে হেলান দিয়ে বসা অবস্থায় একটি লাকড়ি কাদামাটিতে গাড়তে চেষ্টা করছিলেন। এমন সময় কেউ দরজা খোলার অনুমতি চাইলেন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেনঃ খুলে দাও এবং তাকে জান্নাতের সুসংবাদ দাও। তখন আমি দেখি তিনি আবু বকর (রাযিঃ)। আমি দরজা খুললাম এবং তাঁকে জান্নাতের সুসংবাদ দিলাম। এরপর আরেক ব্যক্তি দরজা খোলার অনুমতি চাইলেন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ খুলে দাও এবং তাকে জান্নাতের সুসংবাদ দাও। তখন আমি গিয়ে দেখলাম তিনি উমর (রাযিঃ)। (দরজা) খুলে দিলাম এবং তাঁকে জান্নাতের সুসংবাদ দিলাম।

এরপর আরেক ব্যক্তি দরজা খোলার অনুমতি চাইলেন। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) সোজা হয়ে বসে পড়লেন এবং বললেনঃ (দরজা) খুলে দাও এবং তাঁকে আসন্ন বিপদসহ জান্নাতের সুসংবাদ দাও। আমি গিয়ে দেখি তিনি উসমান ইবনে আফফান (রাযিঃ)। আমি দরজা খুলে দিয়ে তাকে জান্নাতের সুসংবাদ দিলাম এবং রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যা বলেছেন (বিপদের কথা) তা উল্লেখ করলাম। উসমান (রাযিঃ) বললেনঃ ‘হে আল্লাহ! আমাকে ধৈর্য দান কর। আল্লাহর কাছে (আমি) সাহায্য প্রার্থনা করছি।
5996

حَدَّثَنَا أَبُو الرَّبِيعِ الْعَتَكِيُّ، حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، عَنْ أَيُّوبَ، عَنْ أَبِي عُثْمَانَ النَّهْدِيِّ، عَنْ أَبِي مُوسَى الأَشْعَرِيِّ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم دَخَلَ حَائِطًا وَأَمَرَنِي أَنْ أَحْفَظَ الْبَابَ . بِمَعْنَى حَدِيثِ عُثْمَانَ بْنِ غِيَاثٍ .

Narrator: আবু মুসা আশ'আরী (রাঃ)

৫৯৯৬। আবু রবী আতাকী (রাহঃ) ......... আবু মুসা আশআরী (রাযিঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) একটি বাগানে গেলেন এবং আমাকে দরজায় প্রহরা দিতে বললেন ......... (এরপর) উসমান ইবনে গিয়াস (রাহঃ) বর্ণিত হাদীসের সমার্থক হাদীস বর্ণনা করেন।

5997
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ مِسْكِينٍ الْيَمَامِيُّ، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ حَسَّانَ، حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ، - وَهُوَ ابْنُ بِلاَلٍ - عَنْ شَرِيكِ بْنِ أَبِي نَمِرٍ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيَّبِ، أَخْبَرَنِي أَبُو مُوسَى الأَشْعَرِيُّ، أَنَّهُ تَوَضَّأَ فِي بَيْتِهِ ثُمَّ خَرَجَ فَقَالَ لأَلْزَمَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَلأَكُونَنَّ مَعَهُ يَوْمِي هَذَا . قَالَ فَجَاءَ الْمَسْجِدَ فَسَأَلَ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَقَالُوا خَرَجَ . وَجَّهَ هَا هُنَا - قَالَ - فَخَرَجْتُ عَلَى أَثَرِهِ أَسْأَلُ عَنْهُ حَتَّى دَخَلَ بِئْرَ أَرِيسٍ - قَالَ - فَجَلَسْتُ عِنْدَ الْبَابِ وَبَابُهَا مِنْ جَرِيدٍ حَتَّى قَضَى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم حَاجَتَهُ وَتَوَضَّأَ فَقُمْتُ إِلَيْهِ فَإِذَا هُوَ قَدْ جَلَسَ عَلَى بِئْرِ أَرِيسٍ وَتَوَسَّطَ قُفَّهَا وَكَشَفَ عَنْ سَاقَيْهِ وَدَلاَّهُمَا فِي الْبِئْرِ - قَالَ - فَسَلَّمْتُ عَلَيْهِ ثُمَّ انْصَرَفْتُ فَجَلَسْتُ عِنْدَ الْبَابِ فَقُلْتُ لأَكُونَنَّ بَوَّابَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم الْيَوْمَ . فَجَاءَ أَبُو بَكْرٍ فَدَفَعَ الْبَابَ فَقُلْتُ مَنْ هَذَا فَقَالَ أَبُو بَكْرٍ . فَقُلْتُ عَلَى رِسْلِكَ - قَالَ - ثُمَّ ذَهَبْتُ فَقُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ هَذَا أَبُو بَكْرٍ يَسْتَأْذِنُ فَقَالَ " ائْذَنْ لَهُ وَبَشِّرْهُ بِالْجَنَّةِ " . قَالَ فَأَقْبَلْتُ حَتَّى قُلْتُ لأَبِي بَكْرٍ ادْخُلْ وَرَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يُبَشِّرُكَ بِالْجَنَّةِ - قَالَ - فَدَخَلَ أَبُو بَكْرٍ فَجَلَسَ عَنْ يَمِينِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مَعَهُ فِي الْقُفِّ وَدَلَّى رِجْلَيْهِ فِي الْبِئْرِ كَمَا صَنَعَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم وَكَشَفَ عَنْ سَاقَيْهِ ثُمَّ رَجَعْتُ فَجَلَسْتُ وَقَدْ تَرَكْتُ أَخِي يَتَوَضَّأُ وَيَلْحَقُنِي فَقُلْتُ إِنْ يُرِدِ اللَّهُ بِفُلاَنٍ - يُرِيدُ أَخَاهُ - خَيْرًا يَأْتِ بِهِ . فَإِذَا إِنْسَانٌ يُحَرِّكُ الْبَابَ فَقُلْتُ مَنْ هَذَا فَقَالَ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ . فَقُلْتُ عَلَى رِسْلِكَ . ثُمَّ جِئْتُ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَسَلَّمْتُ عَلَيْهِ وَقُلْتُ هَذَا عُمَرُ يَسْتَأْذِنُ فَقَالَ " ائْذَنْ لَهُ وَبَشِّرْهُ بِالْجَنَّةِ " . فَجِئْتُ عُمَرَ فَقُلْتُ أَذِنَ وَيُبَشِّرُكَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِالْجَنَّةِ - قَالَ - فَدَخَلَ فَجَلَسَ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي الْقُفِّ عَنْ يَسَارِهِ وَدَلَّى رِجْلَيْهِ فِي الْبِئْرِ ثُمَّ رَجَعْتُ فَجَلَسْتُ فَقُلْتُ إِنْ يُرِدِ اللَّهُ بِفُلاَنٍ خَيْرًا - يَعْنِي أَخَاهُ - يَأْتِ بِهِ فَجَاءَ إِنْسَانٌ فَحَرَّكَ الْبَابَ فَقُلْتُ مَنْ هَذَا فَقَالَ عُثْمَانُ بْنُ عَفَّانَ . فَقُلْتُ عَلَى رِسْلِكَ - قَالَ - وَجِئْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فَأَخْبَرْتُهُ فَقَالَ " ائْذَنْ لَهُ وَبَشِّرْهُ بِالْجَنَّةِ مَعَ بَلْوَى تُصِيبُهُ " . قَالَ فَجِئْتُ فَقُلْتُ ادْخُلْ وَيُبَشِّرُكَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِالْجَنَّةِ مَعَ بَلْوَى تُصِيبُكَ - قَالَ - فَدَخَلَ فَوَجَدَ الْقُفَّ قَدْ مُلِئَ فَجَلَسَ وُجَاهَهُمْ مِنَ الشِّقِّ الآخَرِ . قَالَ شَرِيكٌ فَقَالَ سَعِيدُ بْنُ الْمُسَيَّبِ فَأَوَّلْتُهَا قُبُورَهُمْ .
حَدَّثَنِيهِ أَبُو بَكْرِ بْنُ إِسْحَاقَ، حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ عُفَيْرٍ، حَدَّثَنِي سُلَيْمَانُ بْنُ بِلاَلٍ، حَدَّثَنِي شَرِيكُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي نَمِرٍ، سَمِعْتُ سَعِيدَ بْنَ الْمُسَيَّبِ، يَقُولُ حَدَّثَنِي أَبُو مُوسَى الأَشْعَرِيُّ، هَا هُنَا - وَأَشَارَ لِي سُلَيْمَانُ إِلَى مَجْلِسِ سَعِيدٍ نَاحِيَةَ الْمَقْصُورَةِ - قَالَ أَبُو مُوسَى خَرَجْتُ أُرِيدُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَوَجَدْتُهُ قَدْ سَلَكَ فِي الأَمْوَالِ فَتَبِعْتُهُ فَوَجَدْتُهُ قَدْ دَخَلَ مَالاً فَجَلَسَ فِي الْقُفِّ وَكَشَفَ عَنْ سَاقَيْهِ وَدَلاَّهُمَا فِي الْبِئْرِ . وَسَاقَ الْحَدِيثَ بِمَعْنَى حَدِيثِ يَحْيَى بْنِ حَسَّانَ وَلَمْ يَذْكُرْ قَوْلَ سَعِيدٍ فَأَوَّلْتُهَا قُبُورَهُمْ .

Narrator: আবু মুসা আশ'আরী (রাঃ)

৫৯৯৭। মুহাম্মাদ ইবনে মিসকীন ইয়ামামী (রাহঃ) ......... আবু মুসা আশআরী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি তাঁর বাড়ি থেকে উযু করে বের হয়ে এসে বলেন, আজকের দিন আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সাথে থাকব। তিনি মসজিদে আসলেন এবং রাসূলুল্লাহ (ﷺ) সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলেন। লোকেরা বললো, এ দিকে গিয়েছেন। আবু মুসা (রাযিঃ) লোকদের কাছে জিজ্ঞাসা করে করে তার পায়ের চিহ্ন দেখে দেখে আরীস কূপে (-র বাগানে) গিয়ে পৌছলেন। আবু মুসা (রাযিঃ) বলেনঃ আমি দরজায় বসলাম। এর দরজাটি ছিল কাঠের।

রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাঁর প্রাকৃতিক কাজ সেরে উযু করলে আমি তাঁর কাছে গিয়ে দাঁড়ালাম। তিনি আরীস কূপের উপর বসা ছিলেন অর্থাৎ তার কিনারের মধ্যে তাঁর পা দুটো নলা পর্যন্ত খুলে রেখেছিলেন এবং তা দু’পা কূপের ভেতর ঝুলিয়ে দিয়েছিলেন। আমি তাঁকে সালাম দিয়ে দরজার কাছে চলে গেলাম। বললাম, আমি আজ অবশ্যই রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর দারোয়ান হবো। আবু বকর (রাযিঃ) এসে দরজায় ধাক্কা দিলে আমি বললাম কে? তিনি বললেন, আবু বকর। আমি বললাম, একটু অপেক্ষা করুন! এরপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কাছে গিয়ে বললাম, ইয়া রাসুলাল্লাহ! আবু বকর (রাযিঃ) এসেছেন এবং অনুমতি চাচ্ছেন।

তিনি বললেনঃ তাকে আসার অনুমতি এবং জান্নাতের সুসংবাদ দাও। আমি এগিয়ে গিয়ে আবু বকরকে বললাম, প্রবেশ করুন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আপনাকে জান্নাতের সুসংবাদ দিয়েছেন। আবু বকর (রাযিঃ) প্রবেশ করে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সঙ্গে তার ডানদিকে কূপের কিনারায় কূপে পা ঝুলিয়ে বসলেন যেমনটি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) করেছেন আর পা দুটো নলা পর্যন্ত খোলা রাখলেন। এরপর আমি ফিরে এসে বসে পড়লাম। আমি আমার ভাইকে রেখে এসেছিলাম, তিনি উযু করছিলেন। তিনি আমার সাথে দেখা করবেন। আমি মনে করলাম, আল্লাহ তাআলা যদি তাঁর কল্যাণ চান তাহলে তাঁকে এখনই এনে দিবেন।

এমন সময় একজন মানুষ দরজা নাড়লো। বললাম, কে? উত্তর দিলো, উমর (রাযিঃ) ইবনুল খাত্তাব। বললাম, একটু অপেক্ষা করুন! পরে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কাছে এসে বললাম, উমর (রাযিঃ) এসেছেন, তিনি প্রবেশর অনুমতি চাইছেন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেনঃ অনুমতি দাও এবং তাকে জান্নাতের সুসংবাদ দাও। আমি উমর (রাযিঃ) এর কাছে এসে বললাম, অনুমতি দিয়েছেন এবং রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আপনাকে জান্নাতের সুসংবাদ দিয়েছেন। উমর (রাযিঃ) প্রবেশ করে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর বামপাশের কূপের কিনারায় বসলেন এবং কূপের ভিতরে পা ঝুলিয়ে দিলেন। আমি ফিরে এসে বসে পড়লাম, বললাম, আল্লাহ যদি আমার ভাইয়ের কল্যাণ চান তাহলে তাঁকে এনে দিবেন।

একজন লোক এসে দরজা নাড়লো। আমি বললাম, কে? তিনি বললেন, উসমান ইবনে আফফান। বললাম, একটু অপেক্ষা করুন! আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কাছে এসে খবর দিলাম। তিনি বললেনঃ তাকে ঢুকতে দাও এবং আসন্ন বিপদের সাথে জান্নাতের সুসংবাদ দাও। আমি এসে বললাম, প্রবেশ করুন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আপনাকে একটি আসন্ন বিপদের সাথে জান্নাতের সুসংবাদ দিচ্ছেন। রাবী বলেন, তিনি [উসমান (রাযিঃ)] প্রবেশ করে দেখলেন কূপের একপাশ ভরে গেছে। তিনি তাঁদের মুখোমুখি হয়ে কূপের অন্যপাশে বসলেন।

শুরাইক (রাহঃ) বলেনঃ সাঈদ ইবনে মুসায়্যিব (রাহঃ) বলেন, আমি এ বৈঠকের ব্যাখ্যা করলাম যে, এ হচ্ছে তাদের কবর এর অবস্থান।

আবু বকর ইবনে ইসহাক (রাহঃ) ......... আবু মুসা আশআরী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে খুঁজতে বের হয়ে দেখলাম, তিনি মালসমুহের (বাগানের) দিকে গিয়েছেন। আমি তাঁর পিছনে গিয়ে দেখি তিনি মালে (বাগানে) ঢুকে কুয়ার চাকের উপর পা দু’টো ঝুলিয়ে বসে আছেন, তাঁর পা দুটো নলা পর্যন্ত খোলা। এরপর রাবী পূর্বোক্ত হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করলেন। এখানে সাঈদ ইবনে মুসাইয়্যিব (রাহঃ) এর কথা ″আমি এটিকে, তাদের কবররূপে″ কথাটি নেই।
5998

حَدَّثَنَا حَسَنُ بْنُ عَلِيٍّ الْحُلْوَانِيُّ، وَأَبُو بَكْرِ بْنُ إِسْحَاقَ قَالاَ حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ أَبِي، مَرْيَمَ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرِ بْنِ أَبِي كَثِيرٍ، أَخْبَرَنِي شَرِيكُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي نَمِرٍ، عَنْ سَعِيدِ، بْنِ الْمُسَيَّبِ عَنْ أَبِي مُوسَى الأَشْعَرِيِّ، قَالَ خَرَجَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَوْمًا إِلَى حَائِطٍ بِالْمَدِينَةِ لِحَاجَتِهِ فَخَرَجْتُ فِي إِثْرِهِ . وَاقْتَصَّ الْحَدِيثَ بِمَعْنَى حَدِيثِ سُلَيْمَانَ بْنِ بِلاَلٍ وَذَكَرَ فِي الْحَدِيثِ قَالَ ابْنُ الْمُسَيَّبِ . فَتَأَوَّلْتُ ذَلِكَ قُبُورَهُمُ اجْتَمَعَتْ هَا هُنَا وَانْفَرَدَ عُثْمَانُ .

Narrator: আবু মুসা আশ'আরী (রাঃ)

৫৯৯৮। হাসান ইবনে আলী হুলওয়ানী ও আবু বকর ইবনে ইসহাক (রাহঃ) ......... আবু মুসা আশ’আরী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাঁর কোন প্রয়োজনে মদীনার এক বাগানে গেলেন। আমি তাঁর পায়ের চিহ্ন অনুসরণ করলাম ...... অতঃপর সুলাইমান ইবনে বিলাল-এর হাদীসের অনুরূপ অর্থে রাবী এ হাদীস বর্ণনা করেন। এ হাদীসে এও উল্লেখ আছে যে, ইবনে মুসায়্যিব (রাহঃ) বলেন আমি এ ব্যাখ্যা করলাম যে, তা হচ্ছে তাঁদের কবরের নমুনা। এরা এখানে একত্রে, আর পৃথকভাবে আছেন উসমান (রাযিঃ)।

৪. আলী ইবনে আবু তালিব (রাযিঃ) এর ফযীলত

باب مِنْ فَضَائِلِ عَلِيِّ بْنِ أَبِي طَالِبٍ رضى الله عنه

5999

حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ يَحْيَى التَّمِيمِيُّ، وَأَبُو جَعْفَرٍ مُحَمَّدُ بْنُ الصَّبَّاحِ وَعُبَيْدُ اللَّهِ الْقَوَارِيرِيُّ وَسُرَيْجُ بْنُ يُونُسَ كُلُّهُمْ عَنْ يُوسُفَ الْمَاجِشُونِ، - وَاللَّفْظُ لاِبْنِ الصَّبَّاحِ - حَدَّثَنَا يُوسُفُ، أَبُو سَلَمَةَ الْمَاجِشُونُ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُنْكَدِرِ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيَّبِ، عَنْ عَامِرِ بْنِ سَعْدِ، بْنِ أَبِي وَقَّاصٍ عَنْ أَبِيهِ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لِعَلِيٍّ " أَنْتَ مِنِّي بِمَنْزِلَةِ هَارُونَ مِنْ مُوسَى إِلاَّ أَنَّهُ لاَ نَبِيَّ بَعْدِي " . قَالَ سَعِيدٌ فَأَحْبَبْتُ أَنْ أُشَافِهَ بِهَا سَعْدًا فَلَقِيتُ سَعْدًا فَحَدَّثْتُهُ بِمَا حَدَّثَنِي عَامِرٌ فَقَالَ أَنَا سَمِعْتُهُ . فَقُلْتُ آنْتَ سَمِعْتَهُ فَوَضَعَ إِصْبَعَيْهِ عَلَى أُذُنَيْهِ فَقَالَ نَعَمْ وَإِلاَّ فَاسْتَكَّتَا .

Narrator: আমির ইবন সা'দ (রহঃ)

৫৯৯৯। ইয়াহয়া ইবনে ইয়াহয়া তামীমী, আবু জাফর মুহাম্মাদ ইবনুস সাব্বাহ, উবাইদুল্লাহ কাওয়ারীরী ও সুরায়জ ইবনে ইউনুস (রাহঃ) ......... আমির ইবনে সা’দ সূত্রে সা’দ ইবনে আবু ওয়াক্কাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আলী (রাযিঃ) কে বলেছেনঃ তুমি আমার জন্য মুসা (আলাইহিস সালাম) এর হারুন এর মতো। কিন্তু আমার পর কোন নবী নেই। সাঈদ (রাহঃ) বলেন, (আমিরের কাছে শোনার পরে) আমি ভাল মনে করলাম যে, হাদীসটি প্রত্যক্ষভাবে সা’দ (রাযিঃ) থেকে শুনে নেই। অতএব আমি সা’দর সাথে মিলিত হলাম এবং আমের আমাকে যা বলেছেন, আমি তাঁকে তা বললাম। তিনি বললেন, আমি এ কথা শুনেছি। আমি বললাম, আপনি কি এ কথা শুনেছেন? তিনি দু’কানে দুটো আঙ্গুল দিয়ে বললেন, হ্যাঁ শুনেছি, অন্যথা এ কান দুটো বধির হয়ে যাবে।

6000

وَحَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا غُنْدَرٌ، عَنْ شُعْبَةَ، ح وَحَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، وَابْنُ بَشَّارٍ قَالاَ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنِ الْحَكَمِ، عَنْ مُصْعَبِ بْنِ سَعْدِ بْنِ، أَبِي وَقَّاصٍ عَنْ سَعْدِ بْنِ أَبِي وَقَّاصٍ، قَالَ خَلَّفَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَلِيَّ بْنَ أَبِي طَالِبٍ فِي غَزْوَةِ تَبُوكَ فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ تُخَلِّفُنِي فِي النِّسَاءِ وَالْصِّبْيَانِ فَقَالَ " أَمَا تَرْضَى أَنْ تَكُونَ مِنِّي بِمَنْزِلَةِ هَارُونَ مِنْ مُوسَى غَيْرَ أَنَّهُ لاَ نَبِيَّ بَعْدِي " .

Narrator: হযরত সা'দ ইবন আবী ওয়াক্কাস রাযি.

৬০০০। আবু বকর ইবনে আবি শাঈবা, মুহাম্মাদ ইবনে মুসান্না ও ইবনে বাশশার (রাহঃ) ......... সা’দ ইবনে আবু ওয়াককাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, তাবুকের যুদ্ধের সময় রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আলী (রাযিঃ) কে মদীনায় তাঁর প্রতিনিধি বানিয়ে রেখে গেলেন। আলী (রাযিঃ) বললেন, ইয়া রাসুলাল্লাহ! আমাকে কি মহিলা ও শিশুদের কাছে রেখে যাচ্ছেন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ তুমি কি খুশি হবে না যে, তোমার মর্যাদা আমার কাছে মুসা (আলাইহিস সালাম) এর কাছে হারুন (আলাইহিস সালাম) এর মতো। তবে (পার্থক্য এই যে) আমার পর আর কোন নবী নেই।

6001

حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ مُعَاذٍ، حَدَّثَنَا أَبِي، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، فِي هَذَا الإِسْنَادِ .

Narrator: শু'বা ইবনুল হাজ্জাজ (রহঃ)

৬০০১। উবাইদুল্লাহ ইবনে মু’আয (রাহঃ) ......... শুবা (রাহঃ) থেকে এ সনদে হাদীস বর্ণনা করেছেন।

6002

حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، وَمُحَمَّدُ بْنُ عَبَّادٍ، - وَتَقَارَبَا فِي اللَّفْظِ - قَالاَ حَدَّثَنَا حَاتِمٌ، - وَهُوَ ابْنُ إِسْمَاعِيلَ - عَنْ بُكَيْرِ بْنِ مِسْمَارٍ، عَنْ عَامِرِ بْنِ سَعْدِ بْنِ أَبِي وَقَّاصٍ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ أَمَرَ مُعَاوِيَةُ بْنُ أَبِي سُفْيَانَ سَعْدًا فَقَالَ مَا مَنَعَكَ أَنْ تَسُبَّ أَبَا التُّرَابِ فَقَالَ أَمَّا مَا ذَكَرْتُ ثَلاَثًا قَالَهُنَّ لَهُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَلَنْ أَسُبَّهُ لأَنْ تَكُونَ لِي وَاحِدَةٌ مِنْهُنَّ أَحَبُّ إِلَىَّ مِنْ حُمْرِ النَّعَمِ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ لَهُ خَلَّفَهُ فِي بَعْضِ مَغَازِيهِ فَقَالَ لَهُ عَلِيٌّ يَا رَسُولَ اللَّهِ خَلَّفْتَنِي مَعَ النِّسَاءِ وَالصِّبْيَانِ فَقَالَ لَهُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " أَمَا تَرْضَى أَنْ تَكُونَ مِنِّي بِمَنْزِلَةِ هَارُونَ مِنْ مُوسَى إِلاَّ أَنَّهُ لاَ نُبُوَّةَ بَعْدِي " . وَسَمِعْتُهُ يَقُولُ يَوْمَ خَيْبَرَ " لأُعْطِيَنَّ الرَّايَةَ رَجُلاً يُحِبُّ اللَّهَ وَرَسُولَهُ وَيُحِبُّهُ اللَّهُ وَرَسُولُهُ " . قَالَ فَتَطَاوَلْنَا لَهَا فَقَالَ " ادْعُوا لِي عَلِيًّا " . فَأُتِيَ بِهِ أَرْمَدَ فَبَصَقَ فِي عَيْنِهِ وَدَفَعَ الرَّايَةَ إِلَيْهِ فَفَتَحَ اللَّهُ عَلَيْهِ وَلَمَّا نَزَلَتْ هَذِهِ الآيَةُ ( فَقُلْ تَعَالَوْا نَدْعُ أَبْنَاءَنَا وَأَبْنَاءَكُمْ) دَعَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَلِيًّا وَفَاطِمَةَ وَحَسَنًا وَحُسَيْنًا فَقَالَ " اللَّهُمَّ هَؤُلاَءِ أَهْلِي " .

Narrator: আমির ইবন সা'দ (রহঃ)

৬০০২। কুতায়বা ইবনে সাঈদ ও মুহাম্মাদ ইবনে আব্বাদ (রাহঃ) ......... আমির ইবনে সা’দ (রাহঃ) সূত্রে সা’দ ইবনে আবু ওয়াক্কাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, মুআবিয়া ইবনে আবু সুফিয়ান (রাযিঃ) সা’দ (রাহঃ) কে আমীর বানালেন এবং বললেন, আপনি আলী (রাযিঃ) কে কেন মন্দ বলেন না? সা’দ বললেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তার সম্পর্কে যে তিনটি কথা বলেছেনঃ তা মনে করে এ কারণে আমি কখনও তাকে মন্দ বলবো না। ওসব কথার মধ্য হতে যদি একটিও আমি লাভ করতে পারতাম তাহলে তা আমার জন্য লাল উটের চেয়েও বেশী পছন্দনীয় হতো।

রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে আলী (রাযিঃ) এর উদ্দেশ্যে বলতে শুনেছি, আলী (রাযিঃ) কে কোন যুদ্ধের সময় প্রতিনিধি বানিয়ে রেখে গেলে তিনি বললেন, মহিলা ও শিশুদের মাঝে আমাকে রেখে যাচ্ছে, ইয়া রাসুলাল্লাহ! তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ তুমি কি এতে আনন্দবোধ কর না যে, আমার কাছে তোমার মর্যাদা মুসা (আলাইহিস সালাম) এর কাছে হারুন (আলাইহিস সালাম) এর মতো। তবে মনে রাখতে হবে যে, আমার পর আর কোন নবী নেই।

খায়বরের যুদ্ধের দিন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে আমি বলতে শুনেছি, আমি এমন এক ব্যক্তিকে পতাকা দেবো যে আল্লাহ ও তার রাসুল (ﷺ) কে ভালবাসে আর আল্লাহ ও তার রাসুলও তাকে ভালবাসেন। এ কথা শুনে আমরা অপেক্ষা করতে থাকলাম। তখন তিনি বললেন, আলীকে ডাকো। আলী আসলেন, তাঁর চোখ উঠেছিলো। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাঁর চোখে লালা দিলেন এবং তাঁর হাতে পতাকা অর্পণ করলেন। পরিশেষে তাঁর হাতেই বিজয় তুলে দিলেন আল্লাহ।

আর যখন (মুবাহালা সংক্রান্ত) আয়াতঃ “আমরা আমাদের এবং তোমাদের সন্তান-সন্ততিকে ডাকি” (৩ঃ ৬১) অবতীর্ণ হলো, তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আলী, ফাতিমা, হাসান ও হুসাইন (রাযিঃ) কে ডাকলেন। অতঃপর বললেন হে আল্লাহ! এরাই আমার পরিবার।
6003

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا غُنْدَرٌ، عَنْ شُعْبَةَ، ح وَحَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، وَابْنُ بَشَّارٍ قَالاَ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ سَعْدِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ، سَمِعْتُ إِبْرَاهِيمَ، بْنَ سَعْدٍ عَنْ سَعْدٍ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ قَالَ لِعَلِيٍّ " أَمَا تَرْضَى أَنْ تَكُونَ مِنِّي بِمَنْزِلَةِ هَارُونَ مِنْ مُوسَى " .

Narrator: হযরত সা'দ ইবন আবী ওয়াক্কাস রাযি.

৬০০৩। আবু বকর ইবনে আবি শাঈবা ও মুহাম্মাদ ইবনে মুসান্না (রাহঃ) ......... সা’দ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আলী (রাযিঃ) কে বলেছেনঃ তুমি কি সন্তুষ্ট নও যে, তুমি আমার তুলনায় হবে মুসা (আলাইহিস সালাম) এর তুলনায় হারুন(আলাইহিস সালাম) এর অবস্থানে।

6004

حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا يَعْقُوبُ، - يَعْنِي ابْنَ عَبْدِ الرَّحْمَنِ الْقَارِيَّ - عَنْ سُهَيْلٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ يَوْمَ خَيْبَرَ " لأُعْطِيَنَّ هَذِهِ الرَّايَةَ رَجُلاً يُحِبُّ اللَّهَ وَرَسُولَهُ يَفْتَحُ اللَّهُ عَلَى يَدَيْهِ " . قَالَ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ مَا أَحْبَبْتُ الإِمَارَةَ إِلاَّ يَوْمَئِذٍ - قَالَ - فَتَسَاوَرْتُ لَهَا رَجَاءَ أَنْ أُدْعَى لَهَا - قَالَ - فَدَعَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَلِيَّ بْنَ أَبِي طَالِبٍ فَأَعْطَاهُ إِيَّاهَا وَقَالَ " امْشِ وَلاَ تَلْتَفِتْ حَتَّى يَفْتَحَ اللَّهُ عَلَيْكَ " . قَالَ فَسَارَ عَلِيٌّ شَيْئًا ثُمَّ وَقَفَ وَلَمْ يَلْتَفِتْ فَصَرَخَ يَا رَسُولَ اللَّهِ عَلَى مَاذَا أُقَاتِلُ النَّاسَ قَالَ " قَاتِلْهُمْ حَتَّى يَشْهَدُوا أَنْ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَأَنَّ مُحَمَّدًا رَسُولُ اللَّهِ فَإِذَا فَعَلُوا ذَلِكَ فَقَدْ مَنَعُوا مِنْكَ دِمَاءَهُمْ وَأَمْوَالَهُمْ إِلاَّ بِحَقِّهَا وَحِسَابُهُمْ عَلَى اللَّهِ " .

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৬০০৪। কুতায়বা ইবনে সাঈদ (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) খায়বর যুদ্ধের সময় বললেন, অবশ্যই খায়বরের দিন আমি ঐ ব্যক্তির কাছে পতাকা অর্পণ করবো, যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসুলকে ভালবাসে। তাঁর হাতেই আল্লাহ তাআলা বিজয় দিবেন। উমর (রাযিঃ) বলেনঃ শুধু ঐ দিনটি ছাড়া আমি কখনো নেতৃত্বে বাসনা করি নি। এ আশা নিয়ে আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কাছে দৌড়িয়ে গেলাম, হয়ত এ কাজের জন্য আমাকে ডাকা হতে পারে। রাবী বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আলী ইবনে আবু তালিবকে ডেকে তার হাতে পতাকা দিলেন এবং বললেনঃ এগিয়ে চলো, এদিক ওদিক তাকিও না। তোমার হাতেই আল্লাহ বিজয় তুলে দেয়া পর্যন্ত।

রাবী বলেন, এরপর আলী (রাযিঃ) কিছু দুরে চললেন, মৃদু স্বরে কিছু বললেন এবং থামলেন, এদিক সেদিক দেখেন নি। এরপর চিৎকার করে বললেনঃ ইয়া রাসুলাল্লাহ! কোন কথার উপর আমি লোকদের সাথে লড়াই করবো? রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ তাদের সাথে লড়াই চালিয়ে যাও যতক্ষণ না তারা সাক্ষ্য প্রদান করে যে, আল্লাহ ছাড়া আর কোন ইলাহ নেই আর নিঃসন্দেহে মুহাম্মাদ আল্লাহর রাসুল। যখনই তারা এ সাক্ষ্য প্রদান করবে, তখনই তারা তাদের প্রাণসমূহ (জানমাল) তোমার হাত থেকে রক্ষা করে ফেলবে। তবে কোন আইনগত কারণে (হলে ভিন্ন কথা) আর তাদের (আন্তরিকতার) হিসাব আল্লাহর কাছে।
6005

حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ، - يَعْنِي ابْنَ أَبِي حَازِمٍ - عَنْ أَبِي، حَازِمٍ عَنْ سَهْلٍ، ح وَحَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، - وَاللَّفْظُ هَذَا - حَدَّثَنَا يَعْقُوبُ، - يَعْنِي ابْنَ عَبْدِ الرَّحْمَنِ - عَنْ أَبِي حَازِمٍ، أَخْبَرَنِي سَهْلُ بْنُ سَعْدٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ يَوْمَ خَيْبَرَ " لأُعْطِيَنَّ هَذِهِ الرَّايَةَ رَجُلاً يَفْتَحُ اللَّهُ عَلَى يَدَيْهِ يُحِبُّ اللَّهَ وَرَسُولَهُ وَيُحِبُّهُ اللَّهُ وَرَسُولُهُ " . قَالَ فَبَاتَ النَّاسُ يَدُوكُونَ لَيْلَتَهُمْ أَيُّهُمْ يُعْطَاهَا - قَالَ - فَلَمَّا أَصْبَحَ النَّاسُ غَدَوْا عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كُلُّهُمْ يَرْجُونَ أَنْ يُعْطَاهَا فَقَالَ " أَيْنَ عَلِيُّ بْنُ أَبِي طَالِبٍ " . فَقَالُوا هُوَ يَا رَسُولَ اللَّهِ يَشْتَكِي عَيْنَيْهِ - قَالَ - فَأَرْسَلُوا إِلَيْهِ فَأُتِيَ بِهِ فَبَصَقَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي عَيْنَيْهِ وَدَعَا لَهُ فَبَرَأَ حَتَّى كَأَنْ لَمْ يَكُنْ بِهِ وَجَعٌ فَأَعْطَاهُ الرَّايَةَ فَقَالَ عَلِيٌّ يَا رَسُولَ اللَّهِ أُقَاتِلُهُمْ حَتَّى يَكُونُوا مِثْلَنَا . فَقَالَ " انْفُذْ عَلَى رِسْلِكَ حَتَّى تَنْزِلَ بِسَاحَتِهِمْ ثُمَّ ادْعُهُمْ إِلَى الإِسْلاَمِ وَأَخْبِرْهُمْ بِمَا يَجِبُ عَلَيْهِمْ مِنْ حَقِّ اللَّهِ فِيهِ فَوَاللَّهِ لأَنْ يَهْدِيَ اللَّهُ بِكَ رَجُلاً وَاحِدًا خَيْرٌ لَكَ مِنْ أَنْ يَكُونَ لَكَ حُمْرُ النَّعَمِ " .

Narrator: হযরত সাহল ইবনে সা'দ সাঈ'দী (রাঃ)

৬০০৫। কুতায়বা ইবনে সাঈদ (রাহঃ) ......... সাহল ইবনে সা’দ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) খায়বরের যুদ্ধের দিন বললেনঃ আমি অবশ্যই এমন এক ব্যক্তির হাতে পতাকা অর্পণ করবো যার হাতে আল্লাহর তাআলা বিজয় দান করবেন। সে ব্যক্তি আল্লাহ ও তার রাসুলকে ভালবাসে আর আল্লাহ তাআলা ও তাঁর রাসুলও তাকে ভালবাসেন। রাবী বলেন, অতঃপর লোকেরা রাতভর এ আলোচনাই করতে থাকলো যে, কাকে এ পতাকা অর্পণ করা হয়। তিনি বলেন, তারপর সকাল হলে সবাই রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কাছে এলো। প্রত্যেকের এটাই আশা যে আমাকেই হয়ত দেয়া হবে এ পতাকা। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ আলী ইবনে আবু তালিব কোথায়? লোকেরা বললো, ইযা রাসুলাল্লাহ! তাঁর চোখে অসুখ। তিনি বলেনঃ তোমরা তাকে ডেকে পাঠাও, পরে তাকে আনা হলো। তিনি তার চোখে লালা লাগালেন এবং দুআ করলেন তার জন্য। তিনি সম্পূর্ণ ভালো হয়ে গেলেন, এমনভাবে, যেন তাঁর কোন রোগই ছিল না।

রাসুলূল্লাহ (ﷺ) তাকে পতাকা দিলেন। আলী (রাযিঃ) বললেনঃ ইয়া রাসুলাল্লাহ! আমি তাদের সাথে লড়াই করবো যতক্ষণ না তারা আমাদের মতো হয়ে যায়। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ তুমি তোমার উদ্দেশ্যে চলে যাও ব্যস্ত না হয়ে এবং ওদের মাঠে অবতীর্ণ হয়ে তাদের ইসলামের দিকে দাওয়াত দাও। আর তাদের অবশ্য করণীয় আল্লাহর হকগুলো সম্পর্কে অবহিত করা। কেননা আল্লাহর শপথ! তোমার মাধ্যমে যদি আল্লাহ একটা মানুষকেও হিদায়াত করেন তবে তা তোমার জন্য লাল উট থেকেও উত্তম।
6006

حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا حَاتِمٌ، - يَعْنِي ابْنَ إِسْمَاعِيلَ - عَنْ يَزِيدَ بْنِ أَبِي، عُبَيْدٍ عَنْ سَلَمَةَ بْنِ الأَكْوَعِ، قَالَ كَانَ عَلِيٌّ قَدْ تَخَلَّفَ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فِي خَيْبَرَ وَكَانَ رَمِدًا فَقَالَ أَنَا أَتَخَلَّفُ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم . فَخَرَجَ عَلِيٌّ فَلَحِقَ بِالنَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَلَمَّا كَانَ مَسَاءُ اللَّيْلَةِ الَّتِي فَتَحَهَا اللَّهُ فِي صَبَاحِهَا قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " لأُعْطِيَنَّ الرَّايَةَ - أَوْ لَيَأْخُذَنَّ بِالرَّايَةِ - غَدًا رَجُلٌ يُحِبُّهُ اللَّهُ وَرَسُولُهُ أَوْ قَالَ يُحِبُّ اللَّهَ وَرَسُولَهُ يَفْتَحُ اللَّهُ عَلَيْهِ " . فَإِذَا نَحْنُ بِعَلِيٍّ وَمَا نَرْجُوهُ فَقَالُوا هَذَا عَلِيٌّ . فَأَعْطَاهُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم الرَّايَةَ فَفَتَحَ اللَّهُ عَلَيْهِ .

Narrator: সালামা ইবনুল আকওয়া' (রাঃ)

৬০০৬। কুতায়বা ইবনে সাঈদ (রাহঃ) ......... সালামা ইবনে আকওয়া (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, খায়বরের যুদ্ধে আলী (রাযিঃ) পেছনে রয়ে গেলেন। তাঁর চোখ উঠেছিল। তিনি বললেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে ছেড়ে পিছনে পড়ে থাকবো? তিনি বের হলেন এবং রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সাথে মিলিত হলেন। বিজয় প্রভাতের আগের দিন সন্ধ্যায় রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ আগামীকাল এমন এক ব্যক্তিকে পতাকা প্রদান করবো, অথবা (বললেন) পতাকা এমন এক ব্যক্তি গ্রহণ করবে যাকে আল্লাহ ও তাঁর রাসুল ভালবাসেন। অথবা (বললেন) যিনি আল্লাহ ও তাঁবু রাসুলকে ভালবাসেন। তার হাতেই আল্লাহ বিজয় দিবেন। হঠাৎ আমরা আলী (রাযিঃ) কে দেখলাম। আমরা তাঁকে আশা করি নি। লোকেরা বললো, ইনি তো আলী। আর একেই রাসূলুল্লাহ (ﷺ) পতাকা দিলেন এবং আর আল্লাহ বিজয় দান করলেন!

6007

حَدَّثَنِي زُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، وَشُجَاعُ بْنُ مَخْلَدٍ، جَمِيعًا عَنِ ابْنِ عُلَيَّةَ، قَالَ زُهَيْرٌ حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، حَدَّثَنِي أَبُو حَيَّانَ، حَدَّثَنِي يَزِيدُ بْنُ حَيَّانَ، قَالَ انْطَلَقْتُ أَنَا وَحُصَيْنُ، بْنُ سَبْرَةَ وَعُمَرُ بْنُ مُسْلِمٍ إِلَى زَيْدِ بْنِ أَرْقَمَ فَلَمَّا جَلَسْنَا إِلَيْهِ قَالَ لَهُ حُصَيْنٌ لَقَدْ لَقِيتَ يَا زَيْدُ خَيْرًا كَثِيرًا رَأَيْتَ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَسَمِعْتَ حَدِيثَهُ وَغَزَوْتَ مَعَهُ وَصَلَّيْتَ خَلْفَهُ لَقَدْ لَقِيتَ يَا زَيْدُ خَيْرًا كَثِيرًا حَدِّثْنَا يَا زَيْدُ مَا سَمِعْتَ مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم - قَالَ - يَا ابْنَ أَخِي وَاللَّهِ لَقَدْ كَبِرَتْ سِنِّي وَقَدُمَ عَهْدِي وَنَسِيتُ بَعْضَ الَّذِي كُنْتُ أَعِي مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَمَا حَدَّثْتُكُمْ فَاقْبَلُوا وَمَا لاَ فَلاَ تُكَلِّفُونِيهِ . ثُمَّ قَالَ قَامَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَوْمًا فِينَا خَطِيبًا بِمَاءٍ يُدْعَى خُمًّا بَيْنَ مَكَّةَ وَالْمَدِينَةِ فَحَمِدَ اللَّهَ وَأَثْنَى عَلَيْهِ وَوَعَظَ وَذَكَّرَ ثُمَّ قَالَ " أَمَّا بَعْدُ أَلاَ أَيُّهَا النَّاسُ فَإِنَّمَا أَنَا بَشَرٌ يُوشِكُ أَنْ يَأْتِيَ رَسُولُ رَبِّي فَأُجِيبَ وَأَنَا تَارِكٌ فِيكُمْ ثَقَلَيْنِ أَوَّلُهُمَا كِتَابُ اللَّهِ فِيهِ الْهُدَى وَالنُّورُ فَخُذُوا بِكِتَابِ اللَّهِ وَاسْتَمْسِكُوا بِهِ " . فَحَثَّ عَلَى كِتَابِ اللَّهِ وَرَغَّبَ فِيهِ ثُمَّ قَالَ " وَأَهْلُ بَيْتِي أُذَكِّرُكُمُ اللَّهَ فِي أَهْلِ بَيْتِي أُذَكِّرُكُمُ اللَّهَ فِي أَهْلِ بَيْتِي أُذَكِّرُكُمُ اللَّهَ فِي أَهْلِ بَيْتِي " . فَقَالَ لَهُ حُصَيْنٌ وَمَنْ أَهْلُ بَيْتِهِ يَا زَيْدُ أَلَيْسَ نِسَاؤُهُ مِنْ أَهْلِ بَيْتِهِ قَالَ نِسَاؤُهُ مِنْ أَهْلِ بَيْتِهِ وَلَكِنْ أَهْلُ بَيْتِهِ مَنْ حُرِمَ الصَّدَقَةَ بَعْدَهُ . قَالَ وَمَنْ هُمْ قَالَ هُمْ آلُ عَلِيٍّ وَآلُ عَقِيلٍ وَآلُ جَعْفَرٍ وَآلُ عَبَّاسٍ . قَالَ كُلُّ هَؤُلاَءِ حُرِمَ الصَّدَقَةَ قَالَ نَعَمْ .

Narrator: হযরত যায়দ ইবনে আরকাম (রাঃ)

৬০০৭। যুহাইর ইবনে হারব ও শুজা ইবনে মাখলাদ (রাহঃ) ......... ইয়াযীদ ইবনে হায়্যান (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি, হুসাইন ইবনে সাবুরা এবং উমর ইবনে মুসলিম-- আমরা যায়দ ইবনে আরকাম (রাযিঃ) এর নিকট গেলাম। আমরা যখন তার কাছে বসি, তখন হুসাইন বললেন, হে যায়দ! আপনি তো বহু কল্যাণ প্রত্যক্ষ করেছেন, আল্লাহর রাসুল (ﷺ) কে দেখেছেন, তাঁর হাদীস শুনেছেন, তার পাশে থেকে যুদ্ধ করেছেন এবং তাঁর পেছনে নামায আদায় করেছেন। আপনি বহু কল্যাণ লাভ করেছেন, হে যায়দ! আপনি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) থেকে যা শুনেছেন, তা আমাদের বলুন না। যায়দ (রাযিঃ) বললেন, ভ্রাতূষ্পূত্র! আমার বয়স হয়েছে, আমি পুরানো যুগের মানুষ। সুতরাং রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কাছ থেকে যা আমি সংরক্ষণ করোছিলাম, এর কিছু অংশ ভুলে গিয়েছি। তাই আমি যা বলি, তা কবুল কর আর আমি যা না বলি, সে ব্যাপারে আমাকে কষ্ট দিও না।

তারপর তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) একদিন মক্কা ও মদীনার মধ্যবর্তী “খুম্ম” নামক স্থানে দাঁড়িয়ে আমাদের সামনে ভাষণ দিলেন। আল্লাহর প্রশংসা ও সানা বর্ণনা শেষে ওয়ায-নসীহত করলেন। তারপর বললেন, সাবধান, হে লোক সকল! আমি একজন মানুষ, আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রেরিত ফিরিশতা আসবে, আর আমিও তাঁর ডাকে সাড়া দেব। আমি তোমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ দুটো জিনিস রেখে যাচ্ছি। এর প্রথমটি হলো আল্লাহর কিতাব। এতে হিদায়াত এবং নূর রয়েছে। সুতরাং তোমরা আল্লাহর কিতাবকে অবলম্বন কর, একে শক্ত করে ধরে রাখো। এরপর কুরআনের প্রতি আগ্রহ ও অনুপ্রেরণা দিলেন।

তারপর বললেনঃ আর হলো আমার আহলে বাইত। আর আমি আহলে বাইতের ব্যাপারে তোমাদের আল্লাহর কথা স্মরণ করিয়ে দিচ্ছি, আহলে বাইতের ব্যাপারে তোমাদের আল্লাহর কথা স্মরণ করিয়ে দিচ্ছি, আহলে বাইতের ব্যাপারে তোমাদের আল্লাহর কথা স্মরণ করিয়ে দিচ্ছি। হুসাইন বললেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর ’আহলে বাইত’ কারা, হে যায়দ? রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর বিবিগণ কি আহলে বাইতর অন্তভুক্ত নন?

যায়দ (রাযিঃ) বললেন, বিবিগণও আহলে বাইতের অন্তর্ভুক্ত; তবে আহলে বাইত তাঁরাই, যাদের উপর যাকাত গ্রহণ হারাম। হুসাইন বললেন, এ সব লোক কারা? যায়দ (রাযিঃ) বললেন, এরা আলী, আকীল, জাফের ও আব্বাস (রাযিঃ) এর পরিবার-পরিজন। হুসাইন বললেন, এদের সবার জন্য যাকাত হারাম? যায়দ (রাযিঃ) বললেন, হ্যাঁ।
6008

وَحَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَكَّارِ بْنِ الرَّيَّانِ، حَدَّثَنَا حَسَّانُ، - يَعْنِي ابْنَ إِبْرَاهِيمَ - عَنْ سَعِيدِ بْنِ مَسْرُوقٍ، عَنْ يَزِيدَ بْنِ حَيَّانَ، عَنْ زَيْدِ بْنِ أَرْقَمَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم . وَسَاقَ الْحَدِيثَ بِنَحْوِهِ بِمَعْنَى حَدِيثِ زُهَيْرٍ .

Narrator: হযরত যায়দ ইবনে আরকাম (রাঃ)

৬০০৮। মুহাম্মাদ ইবনে বাক্কার ইবনে রাইয়্যান (রাহঃ) ......... যায়দ ইবনে আরকাম (রাযিঃ) সূত্রে নবী (ﷺ) হতে যুহাইর (রাহঃ) এর অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন।

6009

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ فُضَيْلٍ، ح وَحَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، أَخْبَرَنَا جَرِيرٌ، كِلاَهُمَا عَنْ أَبِي حَيَّانَ، بِهَذَا الإِسْنَادِ . نَحْوَ حَدِيثِ إِسْمَاعِيلَ وَزَادَ فِي حَدِيثِ جَرِيرٍ " كِتَابُ اللَّهِ فِيهِ الْهُدَى وَالنُّورُ مَنِ اسْتَمْسَكَ بِهِ وَأَخَذَ بِهِ كَانَ عَلَى الْهُدَى وَمَنْ أَخْطَأَهُ ضَلَّ " .

Narrator: হযরত যায়দ ইবনে আরকাম (রাঃ)

৬০০৯। আবু বকর ইবনে আবি শাঈবা ও ইসহাক ইবনে ইবরাহীম (রাহঃ) ......... ইবনে হায়্যান (রাহঃ) থেকে এ সনদেই ইসমাঈলের হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করেন। জারীরের হাদীসে ″আল্লাহর কিতাব, তাতে রয়েছে হিদায়াত ও আলো, যে এটাকে ধরে রাখরে, হিদায়াতের উপর প্রতিষ্ঠিত থাকবে। আর যে এটা ছেড়ে দেবে, সে পথ হারিয়ে ফেলবে″ বাক্যটি অধিক উল্লেখ আছে।

6010

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَكَّارِ بْنِ الرَّيَّانِ، حَدَّثَنَا حَسَّانُ، - يَعْنِي ابْنَ إِبْرَاهِيمَ - عَنْ سَعِيدٍ، - وَهُوَ ابْنُ مَسْرُوقٍ - عَنْ يَزِيدَ بْنِ حَيَّانَ، عَنْ زَيْدِ بْنِ أَرْقَمَ، قَالَ دَخَلْنَا عَلَيْهِ فَقُلْنَا لَهُ لَقَدْ رَأَيْتَ خَيْرًا . لَقَدْ صَاحَبْتَ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَصَلَّيْتَ خَلْفَهُ . وَسَاقَ الْحَدِيثَ بِنَحْوِ حَدِيثِ أَبِي حَيَّانَ غَيْرَ أَنَّهُ قَالَ " أَلاَ وَإِنِّي تَارِكٌ فِيكُمْ ثَقَلَيْنِ أَحَدُهُمَا كِتَابُ اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ هُوَ حَبْلُ اللَّهِ مَنِ اتَّبَعَهُ كَانَ عَلَى الْهُدَى وَمَنْ تَرَكَهُ كَانَ عَلَى ضَلاَلَةٍ " . وَفِيهِ فَقُلْنَا مَنْ أَهْلُ بَيْتِهِ نِسَاؤُهُ قَالَ لاَ وَايْمُ اللَّهِ إِنَّ الْمَرْأَةَ تَكُونُ مَعَ الرَّجُلِ الْعَصْرَ مِنَ الدَّهْرِ ثُمَّ يُطَلِّقُهَا فَتَرْجِعُ إِلَى أَبِيهَا وَقَوْمِهَا أَهْلُ بَيْتِهِ أَصْلُهُ وَعَصَبَتُهُ الَّذِينَ حُرِمُوا الصَّدَقَةَ بَعْدَهُ .

Narrator: হযরত যায়দ ইবনে আরকাম (রাঃ)

৬০১০। মুহাম্মাদ ইবনে বাক্কার ইবনে রায়্যান (রাহঃ) ......... ইয়াযীদ ইবনে হায়্যান (রাহঃ) সূত্রে যায়দ ইবনে আরকাম (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি (ইয়াযীদ) বলেন আমরা তাঁর কাছে গিয়ে বললাম, আপনি তো বহু কল্যাণ প্রত্যক্ষ করেছেন, আপনি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সাহচর্যে রয়েছেন, তার পেছনে নামায আদায় করেছেন। এরপর আবু হায়্যানের হাদীসের অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন। তবে এ হাদীসে আছে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ আমি তোমাদের মাঝে দুটো ভারী (গুরুত্বপূর্ণ) জিনিস ছেড়ে যাচ্ছি। আল্লাহর কিতাব যেটি আল্লাহর রশি, যে এর অনুসরণ করবে, হিদায়াতের উপর থাকবে; আর যে একে ছেড়ে দেবে, সে পথভ্রষ্টতায় পতিত হবে।

এ বর্ণনায় আরো আছে যে, আমরা বললাম, রাসূলের আহলে বায়আতের মধ্যে কি তাঁর বিবিরা অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন? যায়দ (রাযিঃ) বললেন, আল্লাহর শপথ! স্ত্রীরা একটা সময় পূরুষদের সাথে থাকে, এরপর তাকে স্বামী তালাক দিলে সে তার পিতা এবং গোষ্ঠীর কাছে ফিরে যায়। আহলে বাইত হলো রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর মূল বংশ এবং তাঁর স্বগোত্রীয়রা, যাদের জন্য (নবীর তিরোধানের) পর যাকাত হারাম।
6011

حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ، - يَعْنِي ابْنَ أَبِي حَازِمٍ - عَنْ أَبِي، حَازِمٍ عَنْ سَهْلِ بْنِ سَعْدٍ، قَالَ اسْتُعْمِلَ عَلَى الْمَدِينَةِ رَجُلٌ مِنْ آلِ مَرْوَانَ - قَالَ - فَدَعَا سَهْلَ بْنَ سَعْدٍ فَأَمَرَهُ أَنْ يَشْتِمَ عَلِيًّا - قَالَ - فَأَبَى سَهْلٌ فَقَالَ لَهُ أَمَّا إِذْ أَبَيْتَ فَقُلْ لَعَنَ اللَّهُ أَبَا التُّرَابِ . فَقَالَ سَهْلٌ مَا كَانَ لِعَلِيٍّ اسْمٌ أَحَبَّ إِلَيْهِ مِنْ أَبِي التُّرَابِ وَإِنْ كَانَ لَيَفْرَحُ إِذَا دُعِيَ بِهَا . فَقَالَ لَهُ أَخْبِرْنَا عَنْ قِصَّتِهِ لِمَ سُمِّيَ أَبَا تُرَابٍ قَالَ جَاءَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بَيْتَ فَاطِمَةَ فَلَمْ يَجِدْ عَلِيًّا فِي الْبَيْتِ فَقَالَ " أَيْنَ ابْنُ عَمِّكِ " . فَقَالَتْ كَانَ بَيْنِي وَبَيْنَهُ شَىْءٌ فَغَاضَبَنِي فَخَرَجَ فَلَمْ يَقِلْ عِنْدِي فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لإِنْسَانٍ " انْظُرْ أَيْنَ هُوَ " . فَجَاءَ فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ هُوَ فِي الْمَسْجِدِ رَاقِدٌ . فَجَاءَهُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَهُوَ مُضْطَجِعٌ قَدْ سَقَطَ رِدَاؤُهُ عَنْ شِقِّهِ فَأَصَابَهُ تُرَابٌ فَجَعَلَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَمْسَحُهُ عَنْهُ وَيَقُولُ " قُمْ أَبَا التُّرَابِ قُمْ أَبَا التُّرَابِ " .

Narrator: হযরত সাহল ইবনে সা'দ সাঈ'দী (রাঃ)

৬০১১। কুতায়বা ইবনে সাঈদ (রাহঃ) ......... সাহল ইবনে সা’দ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, মারওয়ানের বংশের এক ব্যক্তি মদীনার শাসনকর্তা নিহত হলো, সে সাহলকে ডেকে এনে আলী (রাযিঃ) কে গালি দিতে বলল। সালব (রাযিঃ) অস্বীকার করলেন। শাসক ব্যক্তিটি বললো, তুমি যদি গালি নাই দাও তবে অন্তত বল যে, আবু তুরাবের উপর আল্লাহর অভিসম্পাত। সা’দ (রাযিঃ) বললেন, আলী (রাযিঃ) এর কাছে কোন নামই এর চেয়ে বেশী পছন্দনীয় ছিল না। এ নামে ডাকলে তিনি খুশি হতেন। সে ব্যক্তি বললো, তা হলে আবু তুরাব নাম হওয়ার ঘটনা বর্ণনা কর।

তিনি বললেন যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ফাতিমা (রাযিঃ) এর ঘরে পদার্পণ করলেন; কিন্তু আলী (রাযিঃ) কে ঘরে পেলেন না। ফাতিমা (রাযিঃ) কে জিজ্ঞাসা করলেন, তোমার চাচাত ভাই কোথায়? ফাতিমা (রাযিঃ) বললেন, তাঁর আর আমার মাঝে একটা (বাক-বিতন্ডা) ঘটেছিল, যার ফলে তিনি রাগ করে চলে গেছেন, আর তিনি আমার কাছে ঘুমোন নি।

তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এক ব্যক্তিকে বললেন, দেখ তো, আলী কোথায়। লোকটি এসে বললো, ইয়া রাসুলাল্লাহ! তিনি মসজিদে শুয়ে আছেন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাঁর কাছে এলেন। আলী (রাযিঃ) শুয়েছিলেন। তাঁর এক পাশের চাঁদর সরে গিয়েছিল, ফলে শরীরে মাটি লেগে গিয়েছিলো। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) সে মাটি ঝাড়তে শুরু করলেন এবং বললেন, হে আবু তুরাব, উঠ! হে আবু তুরাব, উঠ!

৫. সা’দ ইবনে আবু ওয়াক্কাস (রাযিঃ) এর ফযীলত

باب فِي فَضْلِ سَعْدِ بْنِ أَبِي وَقَّاصٍ رضى الله عنه

6012

حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مَسْلَمَةَ بْنِ قَعْنَبٍ، حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ بِلاَلٍ، عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَامِرِ بْنِ رَبِيعَةَ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ أَرِقَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ذَاتَ لَيْلَةٍ فَقَالَ لَيْتَ رَجُلاً صَالِحًا مِنْ أَصْحَابِي يَحْرُسُنِي اللَّيْلَةَ . قَالَتْ وَسَمِعْنَا صَوْتَ السِّلاَحِ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " مَنْ هَذَا " . قَالَ سَعْدُ بْنُ أَبِي وَقَّاصٍ يَا رَسُولَ اللَّهِ جِئْتُ أَحْرُسُكَ . قَالَتْ عَائِشَةُ فَنَامَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم حَتَّى سَمِعْتُ غَطِيطَهُ .

Narrator: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

৬০১২। আব্দুল্লাহ ইবনে মাসলামা ইবনে কা’নাব (রাহঃ) ......... আয়িশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, এক রাতে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) জাগ্রত রইলেন আর তিনি বললেন, যদি আমার কোন পুণ্যবান সাহাবী এ রাতটিতে আমাকে প্রহরা দিতো! এমন সময় আমরা অস্ত্রের ঝনঝনানি শুনতে পেলাম। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ এ কে? উত্তর এলো, (আমি) সা’দ ইবনে আবু ওয়াক্কাস। আপনাকে পাহারা দিতে এসেছি ইয়া রাসুলাল্লাহ! আয়িশা (রাযিঃ) বললেন, তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ঘুমিয়ে পড়লেন। এমনকি আমি তাঁর নাক ডাকার শব্দও শুনতে পেলাম।

6013

حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا لَيْثٌ، ح وَحَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ رُمْحٍ، أَخْبَرَنَا اللَّيْثُ، عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَامِرِ بْنِ رَبِيعَةَ، أَنَّ عَائِشَةَ، قَالَتْ سَهِرَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مَقْدَمَهُ الْمَدِينَةَ لَيْلَةً فَقَالَ " لَيْتَ رَجُلاً صَالِحًا مِنْ أَصْحَابِي يَحْرُسُنِي اللَّيْلَةَ " . قَالَتْ فَبَيْنَا نَحْنُ كَذَلِكَ سَمِعْنَا خَشْخَشَةَ سِلاَحٍ فَقَالَ " مَنْ هَذَا " . قَالَ سَعْدُ بْنُ أَبِي وَقَّاصٍ . فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " مَا جَاءَ بِكَ " . قَالَ وَقَعَ فِي نَفْسِي خَوْفٌ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَجِئْتُ أَحْرُسُهُ . فَدَعَا لَهُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ثُمَّ نَامَ . وَفِي رِوَايَةِ ابْنِ رُمْحٍ فَقُلْنَا مَنْ هَذَا

Narrator: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

৬০১৩। কুতায়বা ইবনে সাঈদ ও মুহাম্মাদ ইবনে রুমহ (রাহঃ) ......... আয়িশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, মদীনা আগমনের প্রথম সময়ে এক রাত্রে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) জাগ্রত রইলেন। আর তিনি বললেনঃ আমার সাহাবীদের মধ্য হতে কোন নেক ব্যক্তি আমাকে এ রাত্রে পাহারা দিলে কতই না ভালো হতো! আয়িশা (রাযিঃ) বলেন যে, এমতাবস্থায়ই আমরা অস্ত্রের ঝনঝন শব্দ শুনতে পেলাম। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ এ কে? তিনি বললেন, সা’দ ইবনে আবু ওয়াক্কাস। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ এসেছো? তোমার আসার কারণ? তিনি [সা’দ (রাযিঃ)] বললেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর ব্যাপারে আমার মনে ভয় জেগেছে, তাই তাকে পাহারা দিতে এলাম। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাঁর জন্যে দুআ করলেন, তারপর তিনি ঘুমিয়ে পড়লেন। ইবনে রুমহ (রাহঃ) এর বর্ণনায় আছে, “আমরা বললাম, ইনি কে”?

6014

حَدَّثَنَاهُ مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَهَّابِ، سَمِعْتُ يَحْيَى بْنَ سَعِيدٍ، يَقُولُ سَمِعْتُ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عَامِرِ بْنِ رَبِيعَةَ، يَقُولُ قَالَتْ عَائِشَةُ أَرِقَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ذَاتَ لَيْلَةٍ . بِمِثْلِ حَدِيثِ سُلَيْمَانَ بْنِ بِلاَلٍ .

Narrator: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

৬০১৪। মুহাম্মাদ ইবনে মুসান্না (রাহঃ) ......... আয়িশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক রাত্রে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) জাগ্রত রইলেন ...... (পরবর্তী অংশ) সুলাইমান ইবনে বিলালের অনুরূপ হাদীস বর্ণিত আছে।

6015

حَدَّثَنَا مَنْصُورُ بْنُ أَبِي مُزَاحِمٍ، حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ، - يَعْنِي ابْنَ سَعْدٍ - عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ شَدَّادٍ، قَالَ سَمِعْتُ عَلِيًّا، يَقُولُ مَا جَمَعَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَبَوَيْهِ لأَحَدٍ غَيْرَ سَعْدِ بْنِ مَالِكٍ فَإِنَّهُ جَعَلَ يَقُولُ لَهُ يَوْمَ أُحُدٍ " ارْمِ فِدَاكَ أَبِي وَأُمِّي " .

Narrator: হযরত আলী ইবনে আবী তালিব (রাঃ)

৬০১৫। মানসুর ইবনে আবু মুযাহিম (রাহঃ) ......... আলী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, সা’দ ইবনে মালিক (রাযিঃ) ছাড়া আর কারো জন্য রাসূলুল্লাহ (ﷺ) নিজের মাতাপিতা উভয়ের (উৎসর্গীকরণের) উল্লেখ এক সাথে করেন নি। উহুদ যুদ্ধের দিন তিনি সা’দকে বলেছিলেন, তীর নিক্ষেপ কর সা’দ! আমার মা-বাবা তোমার জন্য উৎসর্গ হোন।

6016

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، وَابْنُ، بَشَّارٍ قَالاَ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، ح وَحَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، ح حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، ح وَحَدَّثَنَا أَبُو كُرَيْبٍ، وَإِسْحَاقُ الْحَنْظَلِيُّ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ بِشْرٍ، عَنْ مِسْعَرٍ، ح وَحَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي عُمَرَ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ مِسْعَرٍ، كُلُّهُمْ عَنْ سَعْدِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ شَدَّادٍ، عَنْ عَلِيٍّ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم بِمِثْلِهِ .

Narrator: হযরত আলী ইবনে আবী তালিব (রাঃ)

৬০১৬। মুহাম্মাদ ইবনে মুসান্না, ইবনে বাশশার, আবু বকর ইবনে আবি শাঈবা, আবু কুরায়ব, ইসহাক হানযালী ও ইবনে আবু উমর (রাহঃ) ......... আলী (রাযিঃ) সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে অনুরূপ হাদীস হাদীস বর্ণিত আছে।

6017

حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مَسْلَمَةَ بْنِ قَعْنَبٍ، حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ، - يَعْنِي ابْنَ بِلاَلٍ - عَنْ يَحْيَى، - وَهُوَ ابْنُ سَعِيدٍ - عَنْ سَعِيدٍ، عَنْ سَعْدِ بْنِ أَبِي وَقَّاصٍ، قَالَ لَقَدْ جَمَعَ لِي رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَبَوَيْهِ يَوْمَ أُحُدٍ .

Narrator: হযরত সা'দ ইবন আবী ওয়াক্কাস রাযি.

৬০১৭। আব্দুল্লাহ ইবনে মাসলামা ইবনে কা’নাব (রাহঃ) ......... সা’দ ইবনে আবু ওয়াককাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, উহুদ দিবসে আমার জন্য রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাঁর পিতা ও মাতাকে একত্রে উৎসর্গিত করেছেন।

6018

حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، وَابْنُ، رُمْحٍ عَنِ اللَّيْثِ بْنِ سَعْدٍ، ح وَحَدَّثَنَا ابْنُ الْمُثَنَّى، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَهَّابِ، كِلاَهُمَا عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ، بِهَذَا الإِسْنَادِ .

Narrator: ইয়াহয়া ইবনে সাঈদ আনসারী (রহঃ)

৬০১৮। কুতায়বা ইবনে সাঈদ, ইবনে রুমহ ও ইবনে মুসান্না (রাহঃ) ......... ইয়াহয়া ইবনে সাঈদ (রাযিঃ) সূত্রে এ সনদেই বর্ণনা করেছেন।

6019

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبَّادٍ، حَدَّثَنَا حَاتِمٌ، - يَعْنِي ابْنَ إِسْمَاعِيلَ - عَنْ بُكَيْرِ بْنِ مِسْمَارٍ، عَنْ عَامِرِ بْنِ سَعْدٍ، عَنْ أَبِيهِ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم جَمَعَ لَهُ أَبَوَيْهِ يَوْمَ أُحُدٍ . قَالَ كَانَ رَجُلٌ مِنَ الْمُشْرِكِينَ قَدْ أَحْرَقَ الْمُسْلِمِينَ فَقَالَ لَهُ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم " ارْمِ فِدَاكَ أَبِي وَأُمِّي " . قَالَ فَنَزَعْتُ لَهُ بِسَهْمٍ لَيْسَ فِيهِ نَصْلٌ فَأَصَبْتُ جَنْبَهُ فَسَقَطَ فَانْكَشَفَتْ عَوْرَتُهُ فَضَحِكَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم حَتَّى نَظَرْتُ إِلَى نَوَاجِذِهِ .

Narrator: হযরত সা'দ ইবন আবী ওয়াক্কাস রাযি.

৬০১৯। মুহাম্মাদ ইবনে আব্বাদ (রাহঃ) ......... সা’দ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) উহুদ যুদ্ধের দিন তাঁর জন্য তাঁর পিতা ও মাতাকে একত্রে উল্লেখ করেছিলেন। সা’দ (রাযিঃ) বলেন, মুশরিকদের একটা লোক মুসলমানদের জ্বালিয়ে মারছিলো। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ হে সা’দ তীর মারো। আমার পিতামাতা তোমার জন্য উৎসর্গ। আমি তার উদ্দেশ্যে একটা তীর বের করলাম যাতে ফলা (ধারালো অংশটি) ছিলো না, ওটা তার পাঁজরে লাগলে সে পড়ে গেলো, এতে তার লজ্জাস্থান প্রকাশিত হয়ে গেল। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এমনভাবে হাসলেন, আমি তার মাড়ির দাঁত পর্যন্ত দেখতে পেলাম।

6020

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، وَزُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، قَالاَ حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ مُوسَى، حَدَّثَنَا زُهَيْرٌ، حَدَّثَنَا سِمَاكُ بْنُ حَرْبٍ، حَدَّثَنِي مُصْعَبُ بْنُ سَعْدٍ، عَنْ أَبِيهِ، أَنَّهُ نَزَلَتْ فِيهِ آيَاتٌ مِنَ الْقُرْآنِ - قَالَ - حَلَفَتْ أُمُّ سَعْدٍ أَنْ لاَ تُكَلِّمَهُ أَبَدًا حَتَّى يَكْفُرَ بِدِينِهِ وَلاَ تَأْكُلَ وَلاَ تَشْرَبَ . قَالَتْ زَعَمْتَ أَنَّ اللَّهَ وَصَّاكَ بِوَالِدَيْكَ وَأَنَا أُمُّكَ وَأَنَا آمُرُكَ بِهَذَا . قَالَ مَكَثَتْ ثَلاَثًا حَتَّى غُشِيَ عَلَيْهَا مِنَ الْجَهْدِ فَقَامَ ابْنٌ لَهَا يُقَالُ لَهُ عُمَارَةُ فَسَقَاهَا فَجَعَلَتْ تَدْعُو عَلَى سَعْدٍ فَأَنْزَلَ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ فِي الْقُرْآنِ هَذِهِ الآيَةَ ( وَوَصَّيْنَا الإِنْسَانَ بِوَالِدَيْهِ حُسْنًا) ( وَإِنْ جَاهَدَاكَ عَلَى أَنْ تُشْرِكَ بِي) وَفِيهَا ( وَصَاحِبْهُمَا فِي الدُّنْيَا مَعْرُوفًا) قَالَ وَأَصَابَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم غَنِيمَةً عَظِيمَةً فَإِذَا فِيهَا سَيْفٌ فَأَخَذْتُهُ فَأَتَيْتُ بِهِ الرَّسُولَ صلى الله عليه وسلم فَقُلْتُ نَفِّلْنِي هَذَا السَّيْفَ فَأَنَا مَنْ قَدْ عَلِمْتَ حَالَهُ . فَقَالَ " رُدُّهُ مِنْ حَيْثُ أَخَذْتَهُ " . فَانْطَلَقْتُ حَتَّى إِذَا أَرَدْتُ أَنْ أُلْقِيَهُ فِي الْقَبَضِ لاَمَتْنِي نَفْسِي فَرَجَعْتُ إِلَيْهِ فَقُلْتُ أَعْطِنِيهِ . قَالَ فَشَدَّ لِي صَوْتَهُ " رُدُّهُ مِنْ حَيْثُ أَخَذْتَهُ " . قَالَ فَأَنْزَلَ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ ( يَسْأَلُونَكَ عَنِ الأَنْفَالِ) قَالَ وَمَرِضْتُ فَأَرْسَلْتُ إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَأَتَانِي فَقُلْتُ دَعْنِي أَقْسِمْ مَالِي حَيْثُ شِئْتُ . قَالَ فَأَبَى . قُلْتُ فَالنِّصْفَ . قَالَ فَأَبَى . قُلْتُ فَالثُّلُثَ . قَالَ فَسَكَتَ فَكَانَ بَعْدُ الثُّلُثُ جَائِزًا . قَالَ وَأَتَيْتُ عَلَى نَفَرٍ مِنَ الأَنْصَارِ وَالْمُهَاجِرِينَ فَقَالُوا تَعَالَ نُطْعِمْكَ وَنَسْقِيكَ خَمْرًا . وَذَلِكَ قَبْلَ أَنْ تُحَرَّمَ الْخَمْرُ - قَالَ - فَأَتَيْتُهُمْ فِي حَشٍّ - وَالْحَشُّ الْبُسْتَانُ - فَإِذَا رَأْسُ جَزُورٍ مَشْوِيٌّ عِنْدَهُمْ وَزِقٌّ مِنْ خَمْرٍ - قَالَ - فَأَكَلْتُ وَشَرِبْتُ مَعَهُمْ - قَالَ - فَذُكِرَتِ الأَنْصَارُ وَالْمُهَاجِرُونَ عِنْدَهُمْ فَقُلْتُ الْمُهَاجِرُونَ خَيْرٌ مِنَ الأَنْصَارِ - قَالَ - فَأَخَذَ رَجُلٌ أَحَدَ لَحْيَىِ الرَّأْسِ فَضَرَبَنِي بِهِ فَجَرَحَ بِأَنْفِي فَأَتَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَأَخْبَرْتُهُ فَأَنْزَلَ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ فِيَّ - يَعْنِي نَفْسَهُ - شَأْنَ الْخَمْرِ ( إِنَّمَا الْخَمْرُ وَالْمَيْسِرُ وَالأَنْصَابُ وَالأَزْلاَمُ رِجْسٌ مِنْ عَمَلِ الشَّيْطَانِ)

Narrator: মুসআব ইবনে সা‘দ (রহঃ)

৬০২০। আবু বকর ইবনে আবি শাঈবা ও যুহাইর ইবনে হারব (রাহঃ) ......... মুসআব ইবনে সা’দ (রাযিঃ) তার পিতা থেকে বর্ণিত যে, তাঁর সম্পর্কে কুরআনের কিছু আয়াত অবতীর্ণ হলো। তিনি বলেন, তাঁর মা শপথ করে ফেলেছে যে, যতক্ষণ তিনি ইসলামকে অস্বীকার না করবেন ততক্ষণ তার সাথে কথা বলবে না খাবেও না, পানও করবে না। সে বললো, আল্লাহ তাআলা তোকে আদেশ করেছেন, পিতামাতার কথা মানতে। আর আমি তোর মা। আমি তোকে এ আদেশ করছি। মা তিন দিন পর্যন্ত কিছু খেলেন না। কষ্টে সে বেহুশ হয়ে গেলে উমরাহ নামক তার এক ছেলে তাকে পানি পান করালো। মা সা’দের উপর বদদুআ করতে লাগলো। তখন আল্লাহ তাআলা কুরআন শরীফে এ আয়াত অবতীর্ণ করলেনঃ আমি মানুষকে নির্দেশ দিয়েছি তার পিতামাতার প্রতি সদ্ব্যব্যবহার করতে। তবে ওরা যদি তোমার উপর বল প্রয়োগ করে, আমার সাথে এমন কিছু শরীক করতে যার সম্পর্কে তোমার কোন জ্ঞান নেই, তুমি তাদের মেনো না।” (২৯ঃ ৮) আর পৃথিবীতে তাদের সাথে বসবাস করবে সদ্ভাবে।” (৩১ঃ ১৫)

সা’দ বলেন, একবার রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর হাতে বিপূল পরিমাণ যুদ্ধলব্ধ সস্পদ আসলো। এতে একটি তলোয়ারও ছিল। আমি সেটা নিয়ে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কাছে এলাম, বললাম এ তলোয়ারটি আমায় দান করুন। আর আমার অবস্থা তো আপনি জানেনই। তিনি বললেন এটা যেখান থেকে নিয়েছ সেখানেই রেখে দাও। আমি গেলাম এবং ইচ্ছে করলাম যে, এটাকে ভাণ্ডারে রেখে দেই; কিন্তু আমার মন আমাকে ধিক্কার দিল। অমনি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কাছে ফিরে এলাম। বললাম, আমায় এটা দান করুন তিনি উচু আওয়াযে বললেন, এটা যেখানে থেকে এনেছ সেখানে রেখে দাও। তখন আল্লাহ তাআলা অবতীর্ণ করলেনঃ তারা আপনাকে যুদ্ধ লব্ধ মাল সম্পর্কে প্রশ্ন করে।” (৮ঃ ১)।

তিনি বলেন, অসুস্থ হয়ে আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে আসতে বললাম, তিনি আসলেন। আমি বললাম, আমাকে অনুমতি দান করুন, আমি যাকে ইচ্ছা তাকে আমার ধন-মাল বণ্টন করে দিয়ে দিই। তিনি অস্বীকৃতি জানালেন। আমি বললাম, আচ্ছা অর্ধেক (ধন-মাল বণ্টন করি)। তিনি তাও অস্বীকৃতি জানালেন। আমি বললাম আচ্ছা তবে এক-তৃতীয়াংশ (মাল দিয়ে দেই)। তিনি চুপ হয়ে রইলেন। পরবর্তীতে এক-তৃতীয়াংশ ধন-সম্পদ দান করাই অনুমোদিত হলো।

সা’দ বলেন একবার আমি আনসার ও মুহাজিরদের কিছু লোকের কাছে গেলাম। তারা আমাকে বললো, এসো, তোমায় আমরা আহার করাবো এবং মদ পান করাবো। এ ঘটনা মদ হারাম হওয়ার পূর্বের। আমি তাদের কাছে একটি বাগানে গেলাম। সেখানে উটের মাথার গোশত ভুনা হয়েছিল আর মদের একটা মশক ছিল। আমি তাদের সাথে গোশত খেলাম এবং মদ পান করলাম। সেখানে মুহাজির ও আনসারদের আলোচনা উঠলে আমি বললাম, মুহাজিররা আনসারদের চেয়ে উত্তম। এক লোক মাথার একটি চেয়াল (এর হাড়) দিয়ে আমাকে আঘাত করলো। আমার নাকে যখম হয়ে গেলো। আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কাছে এসে তা অবহিত করলাম। তখন আল্লাহ তাআলা আমার সম্পর্কে আয়াত নাযিল করলেনঃ “মদ, জুয়া, মুর্তি (পূজার বেদী) ও ভাগ্য নির্ণায়ক শর ঘৃণ্য বস্তু শয়তানের কাজ (৫ঃ ৯০)।
6021

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، وَمُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، قَالاَ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ سِمَاكِ بْنِ حَرْبٍ، عَنْ مُصْعَبِ بْنِ سَعْدٍ، عَنْ أَبِيهِ، أَنَّهُ قَالَ أُنْزِلَتْ فِيَّ أَرْبَعُ آيَاتٍ . وَسَاقَ الْحَدِيثَ بِمَعْنَى حَدِيثِ زُهَيْرٍ عَنْ سِمَاكٍ وَزَادَ فِي حَدِيثِ شُعْبَةَ قَالَ فَكَانُوا إِذَا أَرَادُوا أَنْ يُطْعِمُوهَا شَجَرُوا فَاهَا بِعَصًا ثُمَّ أَوْجَرُوهَا . وَفِي حَدِيثِهِ أَيْضًا فَضَرَبَ بِهِ أَنْفَ سَعْدٍ فَفَزَرَهُ وَكَانَ أَنْفُ سَعْدٍ مَفْزُورًا .

Narrator: মুসআব ইবনে সা‘দ (রহঃ)

৬০২১। মুহাম্মাদ ইবনে মুসান্না ও মুহাম্মাদ ইবনে বাশশার (রাহঃ) ......... মুসআব ইবনে সা’দ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন তিনি বলেন আমার পিতার প্রসঙ্গে চারটি আয়াত অবতীর্ণ হয়েছে। অতঃপর পূর্বোক্ত হাদীসের অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করলেন। শু’বা শুধু এটুকু কথা অধিক বলেছেন “সা’দ (রাযিঃ) বলেনঃ লোকেরা আমার মাকে খানা খাওয়ানোর সময় একটি কাঠি দিয়ে তার মুখ ফাঁকা করত, পরে তার মুখে খাদ্য দিতো।” এ বর্ণনায় এরূপ আছে, ″সা’দের নাকে আঘাত করলো, এতে তার নাক ভেঙ্গে ফেটে গেলো। এরপর সব সময়ই তাঁর নাক ভাঙ্গাই ছিল।″

6022

حَدَّثَنَا زُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ، عَنْ سُفْيَانَ، عَنِ الْمِقْدَامِ بْنِ شُرَيْحٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ سَعْدٍ، فِيَّ نَزَلَتْ ( وَلاَ تَطْرُدِ الَّذِينَ يَدْعُونَ رَبَّهُمْ بِالْغَدَاةِ وَالْعَشِيِّ) قَالَ نَزَلَتْ فِي سِتَّةٍ أَنَا وَابْنُ مَسْعُودٍ مِنْهُمْ وَكَانَ الْمُشْرِكُونَ قَالُوا لَهُ تُدْنِي هَؤُلاَءِ .

Narrator: হযরত সা'দ ইবন আবী ওয়াক্কাস রাযি.

৬০২২। যুহাইর ইবনে হারব (রাহঃ) ......... সা’দ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, ‘যারা তাদের প্রতিপালককে প্রাতে ও সন্ধ্যায় তাঁর সন্তুষ্টি লাভার্থে ডাকে, তাদের আপনি বিতাড়িত করবেন না।” (৬ঃ ৫২)-এ আয়াতটি ছয় ব্যক্তি প্রসঙ্গে অবতীর্ণ হয়। তন্মধ্যে আমিও একজন ছিলাম এবং আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদও ছিলেন। মুশরিকরা বলতো, এ সব (ছোট) লোককে আপনি সাথে রাখবেন না।

6023

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الأَسَدِيُّ، عَنْ إِسْرَائِيلَ، عَنِ الْمِقْدَامِ بْنِ شُرَيْحٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ سَعْدٍ، قَالَ كُنَّا مَعَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم سِتَّةَ نَفَرٍ فَقَالَ الْمُشْرِكُونَ لِلنَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم اطْرُدْ هَؤُلاَءِ لاَ يَجْتَرِئُونَ عَلَيْنَا . قَالَ وَكُنْتُ أَنَا وَابْنُ مَسْعُودٍ وَرَجُلٌ مِنْ هُذَيْلٍ وَبِلاَلٌ وَرَجُلاَنِ لَسْتُ أُسَمِّيهِمَا فَوَقَعَ فِي نَفْسِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مَا شَاءَ اللَّهُ أَنْ يَقَعَ فَحَدَّثَ نَفْسَهُ فَأَنْزَلَ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ ( وَلاَ تَطْرُدِ الَّذِينَ يَدْعُونَ رَبَّهُمْ بِالْغَدَاةِ وَالْعَشِيِّ يُرِيدُونَ وَجْهَهُ)

Narrator: হযরত সা'দ ইবন আবী ওয়াক্কাস রাযি.

৬০২৩। আবু বকর ইবনে আবি শাঈবা (রাহঃ) ......... সা’দ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, আমরা ছয় ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সাথে ছিলাম। মুশরিকরা বললো, আপনি এসব লোককে আপনার কাছে থেকে তাড়িয়ে দিন। তারা আমাদের মাঝে আসার সাহস করবে না। সা’দ (রাযিঃ) বলেন, তাদের মধ্যে আমি, ইবনে মাসউদ, বনু হুযায়লের এক ব্যক্তি, বিলাল এবং আর দু’জন ব্যক্তি ছিলাম, যাদের নাম আমি নিচ্ছি না। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর মনে আল্লাহ তাআলার অবতীর্ণ করলেনঃ ″যারা তাদের প্রতিপালককে প্রভাতে ও সন্ধ্যায় তাঁর সন্তুষ্টি লাভার্থে ডাকে, তাদের আপনি বিতাড়িত করবেন না (৬ঃ ৫২)।″

৬. তালহা ও যুবাইর (রাযিঃ) এর ফযীলত

باب مِنْ فَضَائِلِ طَلْحَةَ وَالزُّبَيْرِ رضى الله عنهما

6024

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ أَبِي بَكْرٍ الْمُقَدَّمِيُّ، وَحَامِدُ بْنُ عُمَرَ الْبَكْرَاوِيُّ، وَمُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الأَعْلَى، قَالُوا حَدَّثَنَا الْمُعْتَمِرُ، - وَهُوَ ابْنُ سُلَيْمَانَ - قَالَ سَمِعْتُ أَبِي، عَنْ أَبِي عُثْمَانَ، قَالَ لَمْ يَبْقَ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي بَعْضِ تِلْكَ الأَيَّامِ الَّتِي قَاتَلَ فِيهِنَّ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم غَيْرُ طَلْحَةَ وَسَعْدٍ . عَنْ حَدِيثِهِمَا .

Narrator: আবু উসমান নাহদী (রহঃ)

৬০২৪। মুহামাদ ইবনে আবু বকর মুকাদ্দামী, হামিদ ইবনে আমর বাকারাবী ও মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল আ’লা (রাহঃ) ......... আবু উসমান (রাহঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে, যখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কাফিরদের সাথে লড়াই করছিলেন, তখন কোন কোন দিন তালহা এবং সা’দ (রাযিঃ) ব্যতীত আর কেউই রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর পাশে থাকতো না। এটা তাদের দু’জনের বর্ণিত হাদীস অনুসারে।

6025

حَدَّثَنَا عَمْرٌو النَّاقِدُ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ الْمُنْكَدِرِ، عَنْ جَابِرِ، بْنِ عَبْدِ اللَّهِ قَالَ سَمِعْتُهُ يَقُولُ نَدَبَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم النَّاسَ يَوْمَ الْخَنْدَقِ فَانْتَدَبَ الزُّبَيْرُ ثُمَّ نَدَبَهُمْ فَانْتَدَبَ الزُّبَيْرُ ثُمَّ نَدَبَهُمْ فَانْتَدَبَ الزُّبَيْرُ فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم " لِكُلِّ نَبِيٍّ حَوَارِيٌّ وَحَوَارِيَّ الزُّبَيْرُ " .

Narrator: জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ আনসারী (রাঃ)

৬০২৫। আমর আন-নাকিদ (রাহঃ) ......... জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, খন্দকের যুদ্ধের দিন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) লোকদের জিহাদের প্রেরণা দিলেন। যুবাইর (রাযিঃ) ডাকে সাড়া দিলেন। আবার রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ডাকলেন। তখনও যুবাইরই সাড়া দিলেন। অতঃপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আবার ডাকলেন। যুবাইরই সাড়া দিলেন। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ প্রত্যেক নবীরই একজন একান্ত সাহায্যকারী থাকে, আর আমার একান্ত সাহায্য- কারী হল যুবাইর।

6026

حَدَّثَنَا أَبُو كُرَيْبٍ، حَدَّثَنَا أَبُو أُسَامَةَ، عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ، ح وَحَدَّثَنَا أَبُو كُرَيْبٍ، وَإِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ جَمِيعًا عَنْ وَكِيعٍ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، كِلاَهُمَا عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ الْمُنْكَدِرِ، عَنْ جَابِرٍ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم بِمَعْنَى حَدِيثِ ابْنِ عُيَيْنَةَ .

Narrator: জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ আনসারী (রাঃ)

৬০২৬। আবু কুরায়ব ও ইসহাক ইবনে ইবরাহীম (রাহঃ) ......... জাবির (রাযিঃ) সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে বর্ণিত, হাদীসটি তিনি ইবনে উয়াইনার হাদীসের সমার্থক বর্ণনা করেছেন।

6027

حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ الْخَلِيلِ، وَسُوَيْدُ بْنُ سَعِيدٍ، كِلاَهُمَا عَنِ ابْنِ مُسْهِرٍ، قَالَ إِسْمَاعِيلُ أَخْبَرَنَا عَلِيُّ بْنُ مُسْهِرٍ، عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الزُّبَيْرِ، قَالَ كُنْتُ أَنَا وَعُمَرُ بْنُ أَبِي سَلَمَةَ، يَوْمَ الْخَنْدَقِ مَعَ النِّسْوَةِ فِي أُطُمِ حَسَّانٍ فَكَانَ يُطَأْطِئُ لِي مَرَّةً فَأَنْظُرُ وَأُطَأْطِئُ لَهُ مَرَّةً فَيَنْظُرُ فَكُنْتُ أَعْرِفُ أَبِي إِذَا مَرَّ عَلَى فَرَسِهِ فِي السِّلاَحِ إِلَى بَنِي قُرَيْظَةَ . قَالَ وَأَخْبَرَنِي عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عُرْوَةَ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الزُّبَيْرِ قَالَ فَذَكَرْتُ ذَلِكَ لأَبِي فَقَالَ وَرَأَيْتَنِي يَا بُنَىَّ قُلْتُ نَعَمْ . قَالَ أَمَا وَاللَّهِ لَقَدْ جَمَعَ لِي رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَوْمَئِذٍ أَبَوَيْهِ فَقَالَ " فِدَاكَ أَبِي وَأُمِّي " .

Narrator: আব্দুল্লাহ ইবনে যুবায়র (রাঃ)

৬০২৭। ইসমাঈল ইবনে খলীল ও সুয়ায়দ ইবনে সাঈদ (রাহঃ) ......... আব্দুল্লাহ ইবনে যুবাইর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ খন্দকের দিন আমি এবং উমর ইবনে আবু সালামা, হাসসান (ইবনে সাবিত) এর কিল্লায় মহিলাদের সাথে ছিলাম। কখনো সে আমার দিকে ঝুকে পড়ত (পিঠ নিচু করে দিত), তখন আমি দেখতাম, আর কোন সময় আমি তার জন্য নিচু হতাম, তখন সে দেখত। আমার পিতাকে আমি চিনে ফেলতাম, যখন তিনি সসস্ত্র অবস্থায় ঘোড়ায় চড়ে বনু কুরায়যার দিকে যেতেন। অন্য সূত্রে আব্দুল্লাহ ইবনে যুবাইর (রাযিঃ) বলেন, আমি পিতার কাছে এ কথার উল্লেখ করলাম। তিনি বললেন, বাছা, তুমি আমায় দেখেছিলে,? আমি বললাম, হ্যাঁ। তিনি বললেন, আল্লাহর শপথ! সেদিন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমার জন্য তাঁর পিতামাতা উভয়কে একত্রে উল্লেখ করেছেন। আর বলেছেনঃ তোমার জন্য আমার মা-বাবা উৎসর্গ হোন।

6028

وَحَدَّثَنَا أَبُو كُرَيْبٍ، حَدَّثَنَا أَبُو أُسَامَةَ، عَنْ هِشَامٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الزُّبَيْرِ، قَالَ لَمَّا كَانَ يَوْمُ الْخَنْدَقِ كُنْتُ أَنَا وَعُمَرُ بْنُ أَبِي سَلَمَةَ فِي الأُطُمِ الَّذِي فِيهِ النِّسْوَةُ يَعْنِي نِسْوَةَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَسَاقَ الْحَدِيثَ بِمَعْنَى حَدِيثِ ابْنِ مُسْهِرٍ فِي هَذَا الإِسْنَادِ وَلَمْ يَذْكُرْ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عُرْوَةَ فِي الْحَدِيثِ وَلَكِنْ أَدْرَجَ الْقِصَّةَ فِي حَدِيثِ هِشَامٍ عَنْ أَبِيهِ عَنِ ابْنِ الزُّبَيْرِ .

Narrator: আব্দুল্লাহ ইবনে যুবায়র (রাঃ)

৬০২৮। আবু কুরায়ব (রাহঃ) ......... আব্দুল্লাহ ইবনে যুবাইর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, খন্দকের দিন আমি এবং উমর ইবনে আবু সালামা (রাযিঃ) ঐ কিল্লায় ছিলাম, যেখানে মহিলারা ছিলেন অর্থাৎ নবী (ﷺ) এর (পরিবারের) নারীগণ। এ সনদেই ইবনে মুসহিরের হাদীসের সমার্থক হাদীস বর্ণনা করেন। তবে তিনি হাদীসে আব্দুল্লাহ ইবনে উরওয়ার উল্লেখ করেননি। কিন্তু হিশাম তাঁর পিতা সূত্রে ইবনে যুবাইর থেকে বর্ণিত হাদীসে এ ঘটনাটি হাদীসের মাঝে প্রবিষ্ট করে বিবৃত করেছেন।

6029

وَحَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ، - يَعْنِي ابْنَ مُحَمَّدٍ - عَنْ سُهَيْلٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَانَ عَلَى حِرَاءٍ هُوَ وَأَبُو بَكْرٍ وَعُمَرُ وَعُثْمَانُ وَعَلِيٌّ وَطَلْحَةُ وَالزُّبَيْرُ فَتَحَرَّكَتِ الصَّخْرَةُ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " اهْدَأْ فَمَا عَلَيْكَ إِلاَّ نَبِيٌّ أَوْ صِدِّيقٌ أَوْ شَهِيدٌ " .

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৬০২৯। কুতায়বা ইবনে সাঈদ (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) হেরা পর্বতের উপর ছিলেন। তাঁর সাথে ছিলেন আবু বকর, উমর, উসমান আলী, তালহা ও যুবাইর (রাযিঃ)। তখন পাথরটি কেঁপে উঠল। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ স্থির হও। তোর উপর নবী, সিদ্দীক বা শহীদ ছাড়া আর কেউ নয়।

6030

حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ يَزِيدَ بْنِ خُنَيْسٍ، وَأَحْمَدُ بْنُ يُوسُفَ الأَزْدِيُّ، قَالاَ حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ أَبِي أُوَيْسٍ، حَدَّثَنِي سُلَيْمَانُ بْنُ بِلاَلٍ، عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ، عَنْ سُهَيْلِ، بْنِ أَبِي صَالِحٍ عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَانَ عَلَى جَبَلِ حِرَاءٍ فَتَحَرَّكَ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " اسْكُنْ حِرَاءُ فَمَا عَلَيْكَ إِلاَّ نَبِيٌّ أَوْ صِدِّيقٌ أَوْ شَهِيدٌ " . وَعَلَيْهِ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم وَأَبُو بَكْرٍ وَعُمَرُ وَعُثْمَانُ وَعَلِيٌّ وَطَلْحَةُ وَالزُّبَيْرُ وَسَعْدُ بْنُ أَبِي وَقَّاصٍ رضى الله عنهم .

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৬০৩০। উবাইদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে ইয়াযীদ ইবনে খুনায়স ও আহবদ ইবনে ইউসূফ আযদী (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) হেরা পর্বতের উপর ছিলেন, পর্বত নড়ে উঠলে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ শান্ত হও, হেরা! তোমার উপর নবী, সিদ্দীক বা শহীদ ছাড়া আর কেউ নয়। (তখন) তার উপর নবী (ﷺ), আবু বকর, উমর, উসমান, আলী, তালহা, যুবাইর ও সা’দ ইবনে আবু ওয়াক্কাস (রাযিঃ) ছিলেন।

6031

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا ابْنُ نُمَيْرٍ، وَعَبْدَةُ، قَالاَ حَدَّثَنَا هِشَامٌ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ قَالَتْ لِي عَائِشَةُ أَبَوَاكَ وَاللَّهِ مِنَ الَّذِينَ اسْتَجَابُوا لِلَّهِ وَالرَّسُولِ مِنْ بَعْدِ مَا أَصَابَهُمُ الْقَرْحُ .

Narrator: হিশাম ইবনে উরওয়া (রহঃ)

৬০৩১। আবু বকর ইবনে আবি শাঈবা (রাহঃ) ......... হিশাম (রাহঃ) তাঁর পিতা থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আয়িশা (রাযিঃ) আমাকে বললেন, আল্লাহর শপথ! তোমার দুই পৃর্ব পূরুষ [পিতা যুবাইর (রাযিঃ) ও নানা আবু বকর (রাযিঃ)] ঐ সব লোকের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন, যাদের কথা এ আয়াতে রয়েছে- ″ক্ষতবিক্ষত হওয়ার পরও যারা আল্লাহ ও রাসুলের ডাকে সাড়া দিয়েছে (৩ঃ ১৭২)।″

6032

وَحَدَّثَنَاهُ أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا أَبُو أُسَامَةَ، حَدَّثَنَا هِشَامٌ، بِهَذَا الإِسْنَادِ وَزَادَ تَعْنِي أَبَا بَكْرٍ وَالزُّبَيْرَ .

Narrator: হিশাম ইবনে উরওয়া (রহঃ)

৬০৩২। আবু বকর ইবনে আবি শাঈবা (রাহঃ) ......... হিশাম (রাযিঃ) থেকে একই সনদে এ হাদীস বর্ণনা করেছেন। তবে তিনি ″অর্থাৎ আবু বকর এবং যুবাইর″ কথাটি বর্ধিত করেছেন।

6033

حَدَّثَنَا أَبُو كُرَيْبٍ، مُحَمَّدُ بْنُ الْعَلاَءِ حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ، عَنِ الْبَهِيِّ، عَنْ عُرْوَةَ، قَالَ قَالَتْ لِي عَائِشَةُ كَانَ أَبَوَاكَ مِنَ الَّذِينَ اسْتَجَابُوا لِلَّهِ وَالرَّسُولِ مِنْ بَعْدِ مَا أَصَابَهُمُ الْقَرْحُ .

Narrator: উরওয়া ইবনে যুবায়র (রহঃ)

৬০৩৩। আবু কুরায়ব মুহাম্মাদ ইবনুল আলা (রাহঃ) ......... উরওয়া (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আয়িশা (রাযিঃ) আমাকে বলেছেন, ″যারা আল্লাহ ও রাসুলের ডাকে সাড়া দিয়েছেন, আঘাত পাওয়া সত্ত্বেও″ তোমার দুই পূর্ব পুরুষ তাঁদের অন্তর্ভুক্ত।

৭. আবু উবাইদা ইবনে জাররাহ (রাযিঃ) এর ফযীলত

باب فَضَائِلِ أَبِي عُبَيْدَةَ بْنِ الْجَرَّاحِ رضى الله تعالى عنه

6034

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ ابْنُ عُلَيَّةَ، عَنْ خَالِدٍ، ح وَحَدَّثَنِي زُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ ابْنُ عُلَيَّةَ، أَخْبَرَنَا خَالِدٌ، عَنْ أَبِي قِلاَبَةَ، قَالَ قَالَ أَنَسٌ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " إِنَّ لِكُلِّ أُمَّةٍ أَمِينًا وَإِنَّ أَمِينَنَا أَيَّتُهَا الأُمَّةُ أَبُو عُبَيْدَةَ بْنُ الْجَرَّاحِ " .

Narrator: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

৬০৩৪। আবু বকর ইবনে আবি শাঈবা ও যুহাইর ইবনে হারব (রাহঃ) ......... আনাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ প্রত্যেক উম্মতের একজন আমীন থাকে। আর হে উম্মত! আমাদের ’আমীন’ হলেন, আবু উবাইদা ইবনে জাররাহ (রাযিঃ)।

6035

حَدَّثَنِي عَمْرٌو النَّاقِدُ، حَدَّثَنَا عَفَّانُ، حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، - وَهُوَ ابْنُ سَلَمَةَ - عَنْ ثَابِتٍ، عَنْ أَنَسٍ، أَنَّ أَهْلَ الْيَمَنِ، قَدِمُوا عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالُوا ابْعَثْ مَعَنَا رَجُلاً يُعَلِّمْنَا السُّنَّةَ وَالإِسْلاَمَ . قَالَ فَأَخَذَ بِيَدِ أَبِي عُبَيْدَةَ فَقَالَ " هَذَا أَمِينُ هَذِهِ الأُمَّةِ " .

Narrator: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

৬০৩৫। আমর আন-নাকিদ (রাহঃ) ......... আনাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, ইয়েমান থেকে কিছু লোক এসে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে বললো, আমাদের সঙ্গে একজন লোক প্রেরণ করুন, যিনি আমাদের ইসলাম ও সুন্নত শিখাবেন। আনাস (রাযিঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তখন আবু উবাইদার হাত ধরে বললেন, তিনি হলেন এ উম্মতের আমীন।

6036

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، وَابْنُ، بَشَّارٍ - وَاللَّفْظُ لاِبْنِ الْمُثَنَّى - قَالاَ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ، بْنُ جَعْفَرٍ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، قَالَ سَمِعْتُ أَبَا إِسْحَاقَ، يُحَدِّثُ عَنْ صِلَةَ بْنِ زُفَرَ، عَنْ حُذَيْفَةَ، قَالَ جَاءَ أَهْلُ نَجْرَانَ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالُوا يَا رَسُولَ اللَّهِ ابْعَثْ إِلَيْنَا رَجُلاً أَمِينًا . فَقَالَ " لأَبْعَثَنَّ إِلَيْكُمْ رَجُلاً أَمِينًا حَقَّ أَمِينٍ حَقَّ أَمِينٍ " . قَالَ فَاسْتَشْرَفَ لَهَا النَّاسُ - قَالَ - فَبَعَثَ أَبَا عُبَيْدَةَ بْنَ الْجَرَّاحِ .

Narrator: হযরত হুযায়ফা রাযি

৬০৩৬। মুহাম্মাদ ইবনে মুসান্না ও ইবনে বাশশার (রাহঃ) ......... হুযাইফা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, নযরান থেকে লোকেরা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কাছে এসে বললো, ইয়া রাসুলাল্লাহ! আমাদেরকে একজন আমীন (বিশ্বস্ত) লোক দিন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ আমি তোমাদের মাঝে একজন আমীন (বিশ্বস্ত) লোককে পাঠাবো, তিনি সত্যই আমীন, সত্যই আমীন। রাবী বললেন, লোকেরা অপেক্ষায় ছিল যে, (তিনি কাকে পাঠান)। রাবী বলেন, অবশেষে তিনি আবু উবাইদা ইবনে জাররাহ (রাযিঃ) কে পাঠালেন।

6037

حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، أَخْبَرَنَا أَبُو دَاوُدَ الْحَفَرِيُّ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، بِهَذَا الإِسْنَادِ نَحْوَهُ .

Narrator: আবু ইসহাক সাবিঈ (রহঃ)

৬০৩৭। ইসহাক ইবনে ইবরাহীম ......... আবু ইসহাক থেকে একই সনদে অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন।

৮. হাসান ও হুসাইন (রাযিঃ) এর ফযীলত

باب فَضَائِلِ الْحَسَنِ وَالْحُسَيْنِ رضى الله عنهما

6038

حَدَّثَنِي أَحْمَدُ بْنُ حَنْبَلٍ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ، حَدَّثَنِي عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ أَبِي يَزِيدَ، عَنْ نَافِعِ بْنِ جُبَيْرٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ قَالَ لِحَسَنٍ " اللَّهُمَّ إِنِّي أُحِبُّهُ فَأَحِبَّهُ وَأَحْبِبْ مَنْ يُحِبُّهُ " .

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৬০৩৮। আহমদ ইবনে হাম্বল (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) হাসান (রাযিঃ) সম্পর্কে বললেনঃ হে আল্লাহ! আমি একে ভালবাসি! তুমিও তাকে ভালবাসো, আর যে তাকে ভালবাসে, তাকেও ভালবাসুন।

6039

حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي عُمَرَ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي يَزِيدَ، عَنْ نَافِعِ بْنِ جُبَيْرِ، بْنِ مُطْعِمٍ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ خَرَجْتُ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي طَائِفَةٍ مِنَ النَّهَارِ لاَ يُكَلِّمُنِي وَلاَ أُكَلِّمُهُ حَتَّى جَاءَ سُوقَ بَنِي قَيْنُقَاعَ ثُمَّ انْصَرَفَ حَتَّى أَتَى خِبَاءَ فَاطِمَةَ فَقَالَ " أَثَمَّ لُكَعُ أَثَمَّ لُكَعُ " . يَعْنِي حَسَنًا فَظَنَنَّا أَنَّهُ إِنَّمَا تَحْبِسُهُ أُمُّهُ لأَنْ تُغَسِّلَهُ وَتُلْبِسَهُ سِخَابًا فَلَمْ يَلْبَثْ أَنْ جَاءَ يَسْعَى حَتَّى اعْتَنَقَ كُلُّ وَاحِدٍ مِنْهُمَا صَاحِبَهُ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " اللَّهُمَّ إِنِّي أُحِبُّهُ فَأَحِبَّهُ وَأَحْبِبْ مَنْ يُحِبُّهُ " .

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৬০৩৯। ইবনে আবু উমর (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেন, দিনের এক প্রহরে আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সাথে বের হলাম। তিনি আমার সাথে কথা বলছিলেন না, আমিও তাঁর সাথে কথা বলছিলাম না। অবশেষে বনু কায়নুকা এর বাজারে পৌঁছলেন, এরপর চললেন এবং ফাতিমা (রাযিঃ) এর ঘরে গেলেন। বললেন, এখানে দুষ্টটা (খোকা) আছে, দুষ্টটা (খোকা) আছে, অর্থাৎ হাসান। আমরা ধারণা করলাম যে, তাঁর মা তাকে আটকিয়ে রেখেছেন গোছল করানো এবং সুবাসিত মালা পরানোর জন্য। কিন্তু কিছুক্ষণের মধ্যেই হাসান দৌড়ে চলে এলেন এবং তাঁরা একে অপরকে গলায় জড়িয়ে ধরলেন। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ ইয়া আল্লাহ! আমি তাকে ভালবাসি, তুমিও তাকে ভালবাসো, আর ভালবাসো ঐ লোককে, যে তাকে ভালবাসে।

6040

حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ مُعَاذٍ، حَدَّثَنَا أَبِي، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ عَدِيٍّ، - وَهُوَ ابْنُ ثَابِتٍ - حَدَّثَنَا الْبَرَاءُ بْنُ عَازِبٍ، قَالَ رَأَيْتُ الْحَسَنَ بْنَ عَلِيٍّ عَلَى عَاتِقِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَهُوَ يَقُولُ " اللَّهُمَّ إِنِّي أُحِبُّهُ فَأَحِبَّهُ " .

Narrator: হযরত বারা’ ইবনে আযিব (রাঃ)

৬০৪০। উবাইদুল্লাহ ইবনে মু’আয (রাহঃ) ......... বারা ইবনে আযিব (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি হাসান ইবনে আলী (রাযিঃ) কে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কাঁধের উপর দেখেছি। তিনি বলছেন, হে আল্লাহ! আমি একে ভালবাসি, আপনিও তাকে ভালবাসুন।

6041

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، وَأَبُو بَكْرِ بْنُ نَافِعٍ قَالَ ابْنُ نَافِعٍ حَدَّثَنَا غُنْدَرٌ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ عَدِيٍّ، - وَهُوَ ابْنُ ثَابِتٍ - عَنِ الْبَرَاءِ، قَالَ رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَاضِعًا الْحَسَنَ بْنَ عَلِيٍّ عَلَى عَاتِقِهِ وَهُوَ يَقُولُ " اللَّهُمَّ إِنِّي أُحِبُّهُ فَأَحِبَّهُ " .

Narrator: হযরত বারা’ ইবনে আযিব (রাঃ)

৬০৪১। মুহাম্মাদ ইবনে বাশশার ও আবু বকর ইবনে নাফি (রাহঃ) ......... বারা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে দেখলাম, হাসান ইবনে আলীকে তাঁর কাঁধে বসিয়ে রেখেছেন। তিনি বলছেনঃ হে আল্লাহ! আমি একে ভালবাসি, আপনিও তাকে ভালবাসুন।

6042

حَدَّثَنِي عَبْدُ اللَّهِ بْنُ الرُّومِيِّ الْيَمَامِيُّ، وَعَبَّاسُ بْنُ عَبْدِ الْعَظِيمِ الْعَنْبَرِيُّ، قَالاَ حَدَّثَنَا النَّضْرُ بْنُ مُحَمَّدٍ، حَدَّثَنَا عِكْرِمَةُ، - وَهُوَ ابْنُ عَمَّارٍ - حَدَّثَنَا إِيَاسٌ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ لَقَدْ قُدْتُ بِنَبِيِّ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَالْحَسَنِ وَالْحُسَيْنِ بَغْلَتَهُ الشَّهْبَاءَ حَتَّى أَدْخَلْتُهُمْ حُجْرَةَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم هَذَا قُدَّامَهُ وَهَذَا خَلْفَهُ .

Narrator: বিবিধ

৬০৪২। আব্দুল্লাহ ইবনে রুমী ইয়ামামী ও আব্বাস ইবনে আব্দুল আযীম আম্বারী (রাহঃ) ......... ইয়াস তাঁর পিতা (রাযিঃ) থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, আমি নবী (ﷺ) এর ’শাহবা’ (সাদা) খচ্চরটিকে চালিয়ে নবী (ﷺ) এর হুজরা পর্যন্ত নিয়ে গেলাম। এর উপর আরোহী ছিলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) হাসান ও হুসাইন। একজন সামনে, একজন পেছনে।

৯. নবী (ﷺ) এর আহলে বায়তের ফযীলত

باب فَضَائِلِ أَهْلِ بَيْتِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم

6043

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، وَمُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ نُمَيْرٍ، - وَاللَّفْظُ لأَبِي بَكْرٍ - قَالاَ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بِشْرٍ، عَنْ زَكَرِيَّاءَ، عَنْ مُصْعَبِ بْنِ شَيْبَةَ، عَنْ صَفِيَّةَ بِنْتِ شَيْبَةَ، قَالَتْ قَالَتْ عَائِشَةُ خَرَجَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم غَدَاةً وَعَلَيْهِ مِرْطٌ مُرَحَّلٌ مِنْ شَعْرٍ أَسْوَدَ فَجَاءَ الْحَسَنُ بْنُ عَلِيٍّ فَأَدْخَلَهُ ثُمَّ جَاءَ الْحُسَيْنُ فَدَخَلَ مَعَهُ ثُمَّ جَاءَتْ فَاطِمَةُ فَأَدْخَلَهَا ثُمَّ جَاءَ عَلِيٌّ فَأَدْخَلَهُ ثُمَّ قَالَ ( إِنَّمَا يُرِيدُ اللَّهُ لِيُذْهِبَ عَنْكُمُ الرِّجْسَ أَهْلَ الْبَيْتِ وَيُطَهِّرَكُمْ تَطْهِيرًا)

Narrator: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

৬০৪৩। আবু বকর ইবনে আবি শাঈবা ও মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে নূমায়র (রাহঃ) ......... আয়িশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) সকালে বের হলেন। তাঁর গায়ে ছিলো কাল পশম দ্বারা খচিত একটি পশমী চাঁদর। হাসান ইবনে আলী (রাযিঃ) এলেন, তিনি তাঁকে চাঁদরের ভেতর ঢুকিয়ে নিলেন। হুসাইন ইবনে আলী (রাযিঃ) এলেন, তিনিও তার সঙ্গে (চাদরে) ঢুকে পড়লেন। ফাতিমা (রাযিঃ) এলেন, তাকেও ভেতরে ঢুকিয়ে ফেললেন। অতঃপর আলী (রাযিঃ) এলেন, তাঁকেও ভেতরে ঢুকিয়ে নিলেন। পরে বললেনঃ হে আহলে বাইত! আল্লাহ তাআলা তোমাদের থেকে অপবিত্রতাকে বিদুরিত করে তোমাদের অতিশয় পবিত্রময় করতে চান।

১০. যায়দ ইবনে হারিসা ও তার পুত্র উসামা (রাযিঃ) এর ফযীলত

باب فَضَائِلِ زَيْدِ بْنِ حَارِثَةَ وَأُسَامَةَ بْنِ زَيْدٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا

6044

دَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا يَعْقُوبُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ الْقَارِيُّ، عَنْ مُوسَى بْنِ عُقْبَةَ، عَنْ سَالِمِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، عَنْ أَبِيهِ، أَنَّهُ كَانَ يَقُولُ مَا كُنَّا نَدْعُو زَيْدَ بْنَ حَارِثَةَ إِلاَّ زَيْدَ بْنَ مُحَمَّدٍ حَتَّى نَزَلَ الْقُرْآنُ ( ادْعُوهُمْ لآبَائِهِمْ هُوَ أَقْسَطُ عِنْدَ اللَّهِ)

Narrator: সালিম ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রহঃ)

৬০৪৪। কুতায়বা ইবনে সাঈদ (রাহঃ) ......... সালিম ইবনে আব্দুল্লাহ তাঁর পিতা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, আমরা যায়দ ইবনে হারিসাকে যায়দ ইবনে মুহাম্মাদ বলতাম, যতক্ষণ না কুরআনের আয়াত অবতীর্ণ হলোঃ ″তোমরা তাদেরকে তাদের পিতৃ পরিচয়ে ডাক, আল্লাহর দৃষ্টিতে এটাই অধিক ন্যায়সঙ্গত (৩৩ঃ ৫)।″

6045

حَدَّثَنِي أَحْمَدُ بْنُ سَعِيدٍ الدَّارِمِيُّ، حَدَّثَنَا حَبَّانُ، حَدَّثَنَا وُهَيْبٌ، حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ عُقْبَةَ، حَدَّثَنِي سَالِمٌ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ، بِمِثْلِهِ .

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

৬০৪৫। আহমদ ইবনে সাঈদ দারিমী (রাহঃ) ......... আব্দুল্লাহ (রাযিঃ) থেকে এর অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।

6046

حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ يَحْيَى، وَيَحْيَى بْنُ أَيُّوبَ، وَقُتَيْبَةُ، وَابْنُ، حُجْرٍ قَالَ يَحْيَى بْنُ يَحْيَى أَخْبَرَنَا وَقَالَ الآخَرُونَ، حَدَّثَنَا - إِسْمَاعِيلُ، - يَعْنُونَ ابْنَ جَعْفَرٍ - عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ دِينَارٍ، أَنَّهُ سَمِعَ ابْنَ عُمَرَ، يَقُولُ بَعَثَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بَعْثًا وَأَمَّرَ عَلَيْهِمْ أُسَامَةَ بْنَ زَيْدٍ فَطَعَنَ النَّاسُ فِي إِمْرَتِهِ فَقَامَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ " إِنْ تَطْعَنُوا فِي إِمْرَتِهِ فَقَدْ كُنْتُمْ تَطْعَنُونَ فِي إِمْرَةِ أَبِيهِ مِنْ قَبْلُ وَايْمُ اللَّهِ إِنْ كَانَ لَخَلِيقًا لِلإِمْرَةِ وَإِنْ كَانَ لَمِنْ أَحَبِّ النَّاسِ إِلَىَّ وَإِنَّ هَذَا لَمِنْ أَحَبِّ النَّاسِ إِلَىَّ بَعْدَهُ " .

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

৬০৪৬। ইয়াহয়া ইবনে ইয়াহয়া, ইয়াহয়া ইবনে আইয়ুব, কুতায়বা ও ইবনে হুজর (রাহঃ) ......... ইবনে উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) একটা সৈন্যদল প্রেরণ করলেন, এতে উসামা ইবনে যায়দকে আমীর (সেনাপতি) নিয়োগ করলেন। লোকেরা তাঁর নেতৃত্ব নিয়ে সমালোচনা করলে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) দাঁড়িয়ে বললেনঃ এর নেতৃত্বের যদি তোমরা সমালোচনা কর, তোমরা এর পিতার নেতৃত্ব নিয়েও পূর্বে সমালোচনা করেছিলে। আল্লাহর শপথ! তার পিতা নেতৃত্বের যোগ্য ছিল। সে আমার কাছে সবচে প্রিয় মানুষ ছিল। আর তারপর এখন আমার কাছে সবচেয়ে বেশী প্রিয় মানুষ হলেন [উসামা (রাযিঃ)]।

6047

حَدَّثَنَا أَبُو كُرَيْبٍ، مُحَمَّدُ بْنُ الْعَلاَءِ حَدَّثَنَا أَبُو أُسَامَةَ، عَنْ عُمَرَ، - يَعْنِي ابْنَ حَمْزَةَ - عَنْ سَالِمٍ، عَنْ أَبِيهِ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ وَهُوَ عَلَى الْمِنْبَرِ " إِنْ تَطْعَنُوا فِي إِمَارَتِهِ - يُرِيدُ أُسَامَةَ بْنَ زَيْدٍ - فَقَدْ طَعَنْتُمْ فِي إِمَارَةِ أَبِيهِ مِنْ قَبْلِهِ وَايْمُ اللَّهِ إِنْ كَانَ لَخَلِيقًا لَهَا . وَايْمُ اللَّهِ إِنْ كَانَ لأَحَبَّ النَّاسِ إِلَىَّ . وَايْمُ اللَّهِ إِنَّ هَذَا لَهَا لَخَلِيقٌ - يُرِيدُ أُسَامَةَ بْنَ زَيْدٍ - وَايْمُ اللَّهِ إِنْ كَانَ لأَحَبَّهُمْ إِلَىَّ مِنْ بَعْدِهِ فَأُوصِيكُمْ بِهِ فَإِنَّهُ مِنْ صَالِحِيكُمْ " .

Narrator: সালিম ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রহঃ)

৬০৪৭। আবু কুরায়ব মুহাম্মাদ ইবনে আ’লা (রাহঃ) ......... সালিম (রাহঃ) তাঁর পিতা থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) মিম্বরের উপর দাঁড়িয়ে বলেছেনঃ তোমরা যদি তাঁর নেতৃত্বের ব্যাপারে সমালোচনা কর এখানে উসামা ইবনে যায়দকে বুঝাতে চেয়েছেন, তবে তোমরা তো ইতিপূর্বে এর পিতার নেতৃত্ব নিয়েও সমালোচনা করেছিলে। আল্লাহর শপথ! সে নেতৃত্বের যোগ্য ছিল। সে আমার কাছে সর্বাধিক প্রিয় ছিল। এও খুব যোগ্য- তিনি উসামাকেই বুঝাতে চেয়েছেন; তার পরে এ-ই আমার সর্বাধিক প্রিয়। সুতরাং আমি তোমাদের উপদেশ দিচ্ছি, (উসামার সাথে সুন্দর ব্যবহার কর)। সে তোমাদের মধ্যে সৎকর্মশীলদের অন্যতম।

১১. আব্দুল্লাহ ইবনে জা’ফার (রাযিঃ) এর ফযীলত

باب فَضَائِلِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ جَعْفَرٍ رضى الله عنهما

6048

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ ابْنُ عُلَيَّةَ، عَنْ حَبِيبِ بْنِ الشَّهِيدِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مُلَيْكَةَ، قَالَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ جَعْفَرٍ لاِبْنِ الزُّبَيْرِ أَتَذْكُرُ إِذْ تَلَقَّيْنَا رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَنَا وَأَنْتَ وَابْنُ عَبَّاسٍ قَالَ نَعَمْ فَحَمَلَنَا وَتَرَكَكَ .

Narrator: আব্দুল্লাহ ইবনে আবি মুলায়কা (রহঃ)

৬০৪৮। আবু বকর ইবনে আবি শাঈবা (রাহঃ) ......... আব্দুল্লাহ ইবনে আবু মুলায়কা (রাহঃ) থেকে বর্ণিত যে, আব্দুল্লাহ ইবনে জাফর (রাযিঃ) আব্দুল্লাহ ইবনে যুবাইর (রাযিঃ) কে বললেন, তোমার মনে আছে কি যখন আমি, তুমি এবং ইবনে আব্বাস, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সাথে মিলিত হয়েছিলাম? তখন তিনি বললেন, হ্যাঁ মনে আছে তিনি আমাদের আরোহণ করালেন, আর তোমাকে রেখে দিলেন। তিনি (ইবনে জা’ফার) বললেন, হ্যাঁ।

6049

حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، أَخْبَرَنَا أَبُو أُسَامَةَ، عَنْ حَبِيبِ بْنِ الشَّهِيدِ، بِمِثْلِ حَدِيثِ ابْنِ عُلَيَّةَ وَإِسْنَادِهِ .

Narrator: হাবীব ইবন শাহীদ (রহঃ)

৬০৪৯। ইসহাক ইবনে ইবরাহীম (রাহঃ) ......... হাবীব ইবনে শাহীদ (রাহঃ) থেকে ইবনে উলাইয়ার সনদ ও হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।

6050

حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ يَحْيَى، وَأَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ - وَاللَّفْظُ لِيَحْيَى - قَالَ أَبُو بَكْرٍ حَدَّثَنَا وَقَالَ، يَحْيَى أَخْبَرَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ، عَنْ عَاصِمٍ الأَحْوَلِ، عَنْ مُوَرِّقٍ الْعِجْلِيِّ، عَنْ عَبْدِ، اللَّهِ بْنِ جَعْفَرٍ قَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِذَا قَدِمَ مِنْ سَفَرٍ تُلُقِّيَ بِصِبْيَانِ أَهْلِ بَيْتِهِ - قَالَ - وَإِنَّهُ قَدِمَ مِنْ سَفَرٍ فَسُبِقَ بِي إِلَيْهِ فَحَمَلَنِي بَيْنَ يَدَيْهِ ثُمَّ جِيءَ بِأَحَدِ ابْنَىْ فَاطِمَةَ فَأَرْدَفَهُ خَلْفَهُ - قَالَ - فَأُدْخِلْنَا الْمَدِينَةَ ثَلاَثَةً عَلَى دَابَّةٍ .

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে জাফর রাযি.

৬০৫০। ইয়াহয়া ইবনে ইয়াহয়া ও আবু বকর ইবনে আবি শাঈবা (রাহঃ) ......... আব্দুল্লাহ ইবনে জা’ফর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যখন সফর থেকে ফিরে আসতেন তখন বাড়ির শিশুদের সাথে তিনি মিলিত হতেন। রাবী বলেন, একবার তিনি সফর থেকে এলেন, প্রথমে আমার সাথে সাক্ষাত হয়, তখন তিনি আমাকে তাঁর সামনে বসিয়ে দিলেন, এরপর ফাতিমা (রাযিঃ)এর এক ছেলেকে নিয়ে আসা হলে তাকে তিনি পেছনে বসালেন। আমরা তিনজন একই সওয়ারে চড়ে মদীনায় প্রবেশ করলাম।

6051

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحِيمِ بْنُ سُلَيْمَانَ، عَنْ عَاصِمٍ، حَدَّثَنِي مُوَرِّقٌ، حَدَّثَنِي عَبْدُ اللَّهِ بْنُ جَعْفَرٍ، قَالَ كَانَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم إِذَا قَدِمَ مِنْ سَفَرٍ تُلُقِّيَ بِنَا - قَالَ - فَتُلُقِّيَ بِي وَبِالْحَسَنِ أَوْ بِالْحُسَيْنِ - قَالَ - فَحَمَلَ أَحَدَنَا بَيْنَ يَدَيْهِ وَالآخَرَ خَلْفَهُ حَتَّى دَخَلْنَا الْمَدِينَةَ .

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে জাফর রাযি.

৬০৫১। আবু বকর ইবনে আবি শাঈবা (রাহঃ) ......... আব্দুল্লাহ ইবনে জা’ফর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যখন সফর থেকে আসতেন, তখন আমাদের তার কাছে নিয়ে যাওয়া হত। তিনি বলেন, একবার আমাকে এবং হাসান অথবা হুসাইনকে তার কাছে নিয়ে যাওয়া হল। তিনি আমাদের একজনকে বসালেন তার সামনে, অন্য জনকে পেছনে। এভাবে আমরা মদীনায় প্রবেশ করলাম।

6052

حَدَّثَنَا شَيْبَانُ بْنُ فَرُّوخَ، حَدَّثَنَا مَهْدِيُّ بْنُ مَيْمُونٍ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ، أَبِي يَعْقُوبَ عَنِ الْحَسَنِ بْنِ سَعْدٍ، مَوْلَى الْحَسَنِ بْنِ عَلِيٍّ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ جَعْفَرٍ، قَالَ أَرْدَفَنِي رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ذَاتَ يَوْمٍ خَلْفَهُ فَأَسَرَّ إِلَىَّ حَدِيثًا لاَ أُحَدِّثُ بِهِ أَحَدًا مِنَ النَّاسِ .

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে জাফর রাযি.

৬০৫২। শায়বান ইবনে ফাররুখ (রাহঃ) ......... আব্দুল্লাহ ইবনে জাফর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাকে তাঁর পিছনে সওয়ারীতে বসালেন এবং চুপি চুপি আমাকে একটা কথা বললেন, এটা আমি কোন লোককেই বলবো না।

১২. উম্মুল মু’মিনীন খাদীজা (রাযিঃ) এর ফযীলত

باب فَضَائِلِ خَدِيجَةَ أُمِّ الْمُؤْمِنِينَ رضى الله تعالى عنها

6053

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ نُمَيْرٍ، وَأَبُو أُسَامَةَ ح وَحَدَّثَنَا أَبُو كُرَيْبٍ، حَدَّثَنَا أَبُو أُسَامَةَ، وَابْنُ، نُمَيْرٍ وَوَكِيعٌ وَأَبُو مُعَاوِيَةَ ح وَحَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، أَخْبَرَنَا عَبْدَةُ بْنُ سُلَيْمَانَ، كُلُّهُمْ عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ، وَاللَّفْظُ، حَدِيثُ أَبِي أُسَامَةَ ح وَحَدَّثَنَا أَبُو كُرَيْبٍ، حَدَّثَنَا أَبُو أُسَامَةَ، عَنْ هِشَامٍ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ سَمِعْتُ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ جَعْفَرٍ، يَقُولُ سَمِعْتُ عَلِيًّا، بِالْكُوفَةِ يَقُولُ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " خَيْرُ نِسَائِهَا مَرْيَمُ بِنْتُ عِمْرَانَ وَخَيْرُ نِسَائِهَا خَدِيجَةُ بِنْتُ خُوَيْلِدٍ " . قَالَ أَبُو كُرَيْبٍ وَأَشَارَ وَكِيعٌ إِلَى السَّمَاءِ وَالأَرْضِ .

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে জাফর রাযি.

৬০৫৩। আবু বকর ইবনে শায়বা, আবু কুরায়ব ও ইসহাক ইবনে ইবরাহীম (রাহঃ) ......... আব্দুল্লাহ ইবনে জাফর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি আলীকে কুফায় বলতে শুনেছি যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ মহিলাদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ হলেন সে যুগে মরিয়ম বিনতে ইমরান, আর এ যুগে খাদীজা বিনতে খুওয়াইলিদ। রাবী আবু কুরায়ব (রাহঃ) বলেন, ওয়াকী ইঙ্গিত করলেন আসমান ও যমীনের প্রতি।

6054

وَحَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، وَأَبُو كُرَيْبٍ قَالاَ حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، ح وَحَدَّثَنَا مُحَمَّدُ، بْنُ الْمُثَنَّى وَابْنُ بَشَّارٍ قَالاَ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ، جَمِيعًا عَنْ شُعْبَةَ، ح وَحَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ، بْنُ مُعَاذٍ الْعَنْبَرِيُّ - وَاللَّفْظُ لَهُ - حَدَّثَنَا أَبِي، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ عَمْرِو بْنِ مُرَّةَ، عَنْ مُرَّةَ، عَنْ أَبِي مُوسَى، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " كَمَلَ مِنَ الرِّجَالِ كَثِيرٌ وَلَمْ يَكْمُلْ مِنَ النِّسَاءِ غَيْرُ مَرْيَمَ بِنْتِ عِمْرَانَ وَآسِيَةَ امْرَأَةِ فِرْعَوْنَ وَإِنَّ فَضْلَ عَائِشَةَ عَلَى النِّسَاءِ كَفَضْلِ الثَّرِيدِ عَلَى سَائِرِ الطَّعَامِ " .

Narrator: আবু মুসা আশ'আরী (রাঃ)

৬০৫৪। আবি শাঈবা, আবু কুয়ায়ব, মুহাম্মাদ ইবনে মুসান্না, ইবনে বাশশার ও ইবনে মুআয আম্বারী (রাহঃ) ......... আবু মুসা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ পূরুষদের মধ্যে অনেকেই পূর্ণতা লাভ করেছেন, কিন্তু মহিলাদের মধ্যে মরিয়ম বিনতে ইমরান ও ফিরআউনের স্ত্রী আসিয়া (রাযিঃ) ছাড়া আর কেউ পূর্ণতা লাভ করেননি। আর অন্যান্য মাহিলাদের উপর আয়িশার ফযীলত অন্যান্য খাদ্যের উপর সারীদের ফযীলতের মত।

6055

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، وَأَبُو كُرَيْبٍ وَابْنُ نُمَيْرٍ قَالُوا حَدَّثَنَا ابْنُ فُضَيْلٍ، عَنْ عُمَارَةَ، عَنْ أَبِي زُرْعَةَ، قَالَ سَمِعْتُ أَبَا هُرَيْرَةَ، قَالَ أَتَى جِبْرِيلُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ هَذِهِ خَدِيجَةُ قَدْ أَتَتْكَ مَعَهَا إِنَاءٌ فِيهِ إِدَامٌ أَوْ طَعَامٌ أَوْ شَرَابٌ فَإِذَا هِيَ أَتَتْكَ فَاقْرَأْ عَلَيْهَا السَّلاَمَ مِنْ رَبِّهَا عَزَّ وَجَلَّ وَمِنِّي وَبَشِّرْهَا بِبَيْتٍ فِي الْجَنَّةِ مِنْ قَصَبٍ لاَ صَخَبَ فِيهِ وَلاَ نَصَبَ . قَالَ أَبُو بَكْرٍ فِي رِوَايَتِهِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ وَلَمْ يَقُلْ سَمِعْتُ . وَلَمْ يَقُلْ فِي الْحَدِيثِ وَمِنِّي .

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৬০৫৫। আবু বকর ইবনে আবি শাঈবা, আবু কুরায়ব ও উবন নুমাইর (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কাছে জিবরাঈল (আলাহিস সালাম) এসে বললেন, ইয়া রাসুলাল্লাহ! এই তো খাদীজা আপনার কাছে একটা পাত্র নিয়ে আসছেন, যারা মধ্যে কিছু তরকারি, খাদ্য ও পানীয় রয়েছেন। তিনি যখন আপনার কাছে আসবেন তখন তাকে তার পালনকর্তার এবং আমার পক্ষ হতে সালাম দিবেন। আর তাঁকে জান্নাতের একটি ঘরের সুসংবাদ দিবেন, যা এমন একটি মুক্তা দিয়ে তৈরী, যার ভিতর খোলা। যেখানে কোন হৈচৈ আর দুঃখ-কষ্ট নেই।

আবু বকর ইবনে আবি শাঈবা (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) সূত্রে তার বর্ণনায় বলেছেন এবং তিনিسَمِعْتُ (আমি শুনেছি) বলেন নি এবং আমরা হাদীসেوَمِنِّي অর্থাৎ ’আমার পক্ষ হতে’ বলেন নি।
6056

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ نُمَيْرٍ، حَدَّثَنَا أَبِي وَمُحَمَّدُ بْنُ بِشْرٍ الْعَبْدِيُّ، عَنْ إِسْمَاعِيلَ، قَالَ قُلْتُ لِعَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي أَوْفَى أَكَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بَشَّرَ خَدِيجَةَ بِبَيْتٍ فِي الْجَنَّةِ قَالَ نَعَمْ بَشَّرَهَا بِبَيْتٍ فِي الْجَنَّةِ مِنْ قَصَبٍ لاَ صَخَبَ فِيهِ وَلاَ نَصَبَ .

Narrator: ইসমা‘ঈল (রহঃ)

৬০৫৬। মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে নুমাইর (রাহঃ) ......... ইসমাঈল (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আব্দুল্লাহ ইবনে আবু আওফা কে বললাম, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কি খাদীজা (রাযিঃ) কে কোন ঘরের সুসংবাদ দিয়েছেন জান্নাতের মধ্যে? বললেন, হ্যাঁ, তাকে জান্নাতের মধ্যে একটি মুক্তা দ্বারা নির্মিত ঘরের সুসংবাদ দিয়েছেন। যেখানে কোন হৈ চৈ আর দুঃখ-কষ্ট নেই।

6057

حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ يَحْيَى، أَخْبَرَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ، ح وَحَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، ح وَحَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، أَخْبَرَنَا الْمُعْتَمِرُ بْنُ سُلَيْمَانَ، وَجَرِيرٌ، ح وَحَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي عُمَرَ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، كُلُّهُمْ عَنْ إِسْمَاعِيلَ بْنِ أَبِي خَالِدٍ، عَنِ ابْنِ أَبِي أَوْفَى، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم بِمِثْلِهِ .

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আবী আউফা (রাঃ)

৬০৫৭। ইয়াহয়া ইবনে ইয়াহয়া, আবু বকর ইবনে আবি শাঈবা, ইসহাক ইবনে ইবরাহীম ও ইবনে আবু উমর (রাহঃ) ......... ইবনে আবু আওফা (রাযিঃ) সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।

6058

حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا عَبْدَةُ، عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ بَشَّرَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم خَدِيجَةَ بِنْتَ خُوَيْلِدٍ بِبَيْتٍ فِي الْجَنَّةِ .

Narrator: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

৬০৫৮। উসমান ইবনে আবি শাঈবা (রাহঃ) ......... আয়িশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) খাদীজাকে জান্নাতের একটা ঘরের সুসংবাদ দিয়েছেন।

6059

حَدَّثَنَا أَبُو كُرَيْبٍ، مُحَمَّدُ بْنُ الْعَلاَءِ حَدَّثَنَا أَبُو أُسَامَةَ، حَدَّثَنَا هِشَامٌ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ مَا غِرْتُ عَلَى امْرَأَةٍ مَا غِرْتُ عَلَى خَدِيجَةَ وَلَقَدْ هَلَكَتْ قَبْلَ أَنْ يَتَزَوَّجَنِي بِثَلاَثِ سِنِينَ لِمَا كُنْتُ أَسْمَعُهُ يَذْكُرُهَا وَلَقَدْ أَمَرَهُ رَبُّهُ عَزَّ وَجَلَّ أَنْ يُبَشِّرَهَا بِبَيْتٍ مِنْ قَصَبٍ فِي الْجَنَّةِ وَإِنْ كَانَ لَيَذْبَحُ الشَّاةَ ثُمَّ يُهْدِيهَا إِلَى خَلاَئِلِهَا .

Narrator: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

৬০৫৯। আবু কুরায়ব মুহাম্মাদ ইবনে আ’লা (রাহঃ) ......... আয়িশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, কোন মহিলার প্রতিই আমি এত ঈর্ষা পোষণ করি নি যতটুকু খাদীজার প্রতি করেছি; অথচ তিনি আমাদের বিয়ের তিন বছর আগেই মারা গিয়েছিলেন। কারণ আমি শুনতাম যে, তিনি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাঁর কথা আলোচনা করতেন, আল্লাহ তাআলা তাকে আদেশ করেছিলেন যে, আপনি খাদীজাকে জান্নাতে একটি মুক্তা দ্বারা নির্মিত ঘরের সুসংবাদ দিন। এবং তিনি বকরী যবেহ করলে তার (খাদীজার) বান্ধবীদের গোশত হাদিয়া দিতেন।

6060

حَدَّثَنَا سَهْلُ بْنُ عُثْمَانَ، حَدَّثَنَا حَفْصُ بْنُ غِيَاثٍ، عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ مَا غِرْتُ عَلَى نِسَاءِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم إِلاَّ عَلَى خَدِيجَةَ وَإِنِّي لَمْ أُدْرِكْهَا . قَالَتْ وَكَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِذَا ذَبَحَ الشَّاةَ فَيَقُولُ " أَرْسِلُوا بِهَا إِلَى أَصْدِقَاءِ خَدِيجَةَ " . قَالَتْ فَأَغْضَبْتُهُ يَوْمًا فَقُلْتُ خَدِيجَةَ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " إِنِّي قَدْ رُزِقْتُ حُبَّهَا " .

Narrator: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

৬০৬০। সাহল ইবনে উসমান (রাহঃ) ......... আয়িশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি খাদীজা ছাড়া নবী (ﷺ) স্ত্রীদের আর কাউকে ঈর্ষা করি নি, যদিও আমি তাঁকে পাই নি। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যখন বকরী যবেহ করতেন তখন বলতেন, এর গোশত খাদীজার বান্ধবীদের পাঠিয়ে দাও। একদিন আমি তাঁকে রাগান্বিত করার জন্য বললাম, শুধু খাদীজা খাদীজা (খাদীজাকে এতই ভালবাসেন?) রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তখন বললেনঃ তার ভালোবাসা আমার অন্তরে গেঁথে দেয়া হয়েছে।

6061

حَدَّثَنَا زُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، وَأَبُو كُرَيْبٍ جَمِيعًا عَنْ أَبِي مُعَاوِيَةَ، حَدَّثَنَا هِشَامٌ، بِهَذَا الإِسْنَادِ . نَحْوَ حَدِيثِ أَبِي أُسَامَةَ إِلَى قِصَّةِ الشَّاةِ وَلَمْ يَذْكُرِ الزِّيَادَةَ بَعْدَهَا .

Narrator: হিশাম ইবনে উরওয়া (রহঃ)

৬০৬১। যুহাইর ইবনে হারব ও আবু কুরায়ব (রাহঃ) ......... হিশাম (রাহঃ) থেকে একই সনদে আবু উসামার হাদীসের বকরীর ঘটনা পর্যন্ত অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। এর পরবর্তী কথাগুলো তিনি উল্লেখ করেননি।

6062

حَدَّثَنَا عَبْدُ بْنُ حُمَيْدٍ، أَخْبَرَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، أَخْبَرَنَا مَعْمَرٌ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ عُرْوَةَ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ مَا غِرْتُ لِلنَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم عَلَى امْرَأَةٍ مِنْ نِسَائِهِ مَا غِرْتُ عَلَى خَدِيجَةَ لِكَثْرَةِ ذِكْرِهِ إِيَّاهَا وَمَا رَأَيْتُهَا قَطُّ .

Narrator: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

৬০৬২। আব্দ ইবনে হুমায়দ (রাহঃ) ......... আয়িশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) এর স্ত্রীদের কারো উপর আমি এত ঈর্ষা করি নি যতটুকু ঈর্ষা খাদীজাকে করেছি, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর তাঁকে অধিক স্মরণ করার কারণে। অথচ আমি তাঁকে কখনো দেখি নি।

6063

حَدَّثَنَا عَبْدُ بْنُ حُمَيْدٍ، أَخْبَرَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، أَخْبَرَنَا مَعْمَرٌ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ عُرْوَةَ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ لَمْ يَتَزَوَّجِ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم عَلَى خَدِيجَةَ حَتَّى مَاتَتْ .

Narrator: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

৬০৬৩। আব্দ ইবনে হুমায়দ (রাহঃ) ......... আয়িশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) খাদীজা থাকা অবস্থায় আর কোন বিবাহ করেননি। যতদিন না তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

6064

حَدَّثَنَا سُوَيْدُ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ مُسْهِرٍ، عَنْ هِشَامٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتِ اسْتَأْذَنَتْ هَالَةُ بِنْتُ خُوَيْلِدٍ أُخْتُ خَدِيجَةَ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَعَرَفَ اسْتِئْذَانَ خَدِيجَةَ فَارْتَاحَ لِذَلِكَ فَقَالَ " اللَّهُمَّ هَالَةُ بِنْتُ خُوَيْلِدٍ " . فَغِرْتُ فَقُلْتُ وَمَا تَذْكُرُ مِنْ عَجُوزٍ مِنْ عَجَائِزِ قُرَيْشٍ حَمْرَاءِ الشِّدْقَيْنِ هَلَكَتْ فِي الدَّهْرِ فَأَبْدَلَكَ اللَّهُ خَيْرًا مِنْهَا .

Narrator: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

৬০৬৪। সুয়ায়দ ইবনে সাঈদ (রাহঃ) ......... আয়িশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, খাদীজা (রাযিঃ) এর বোন হালা বিনতে খুওয়াইলিদ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কাছে প্রবেশের অনুমতি চাইলেন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) খাদীজার অনুমতি চাওয়ার কথা স্মরণ করে শিহরিত হয়ে বললেন, ইয়া আল্লাহ! এতো খূওয়াইলিদের কন্যা হালা। এতে আমি ঈর্ষান্বিত হয়ে বললাম, আপনি কি স্মরণ করছেন কুরাইশের এক লাল মাড়ি এবং সরু পায়ের গোছাওয়ালা বৃদ্ধাকে, যিনি যুগের আবর্তনে বিলীন হয়ে গেছেন। এরপর আল্লাহ তাআলা আপনাকে তাঁর পরিবর্তে উত্তম সহধর্মিনী দান করেছেন।

১৩. আয়িশা (রাযিঃ) এর ফযীলত

باب فِي فَضْلِ عَائِشَةَ رضى الله تعالى عنها

6065

حَدَّثَنَا خَلَفُ بْنُ هِشَامٍ، وَأَبُو الرَّبِيعِ، جَمِيعًا عَنْ حَمَّادِ بْنِ زَيْدٍ، - وَاللَّفْظُ لأَبِي الرَّبِيعِ - حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، حَدَّثَنَا هِشَامٌ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَائِشَةَ، أَنَّهَا قَالَتْ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " أُرِيتُكِ فِي الْمَنَامِ ثَلاَثَ لَيَالٍ جَاءَنِي بِكِ الْمَلَكُ فِي سَرَقَةٍ مِنْ حَرِيرٍ فَيَقُولُ هَذِهِ امْرَأَتُكَ . فَأَكْشِفُ عَنْ وَجْهِكِ فَإِذَا أَنْتِ هِيَ فَأَقُولُ إِنْ يَكُ هَذَا مِنْ عِنْدِ اللَّهِ يُمْضِهِ " .

Narrator: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

৬০৬৫। খালফ ইবনে হিশাম ও আবুর রাবি (রাহঃ) ......... আয়িশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ আমাকে স্বপ্নযোগে তিনদিন তোমায় দেখানো হয়েছে। একজন ফিরিশতা তোমাকে একটি রেশম বস্ত্র খণ্ডে আবৃত করে নিয়ে এসে বললো, এটা আপনার স্ত্রী। আমি তোমার মুখের কাপড় সরিয়ে দেখি সেটি তুমিই। আমি বললাম, যদি এ স্বপ্ল আল্লাহর পক্ষ হতে হয়, তবে তা তিনি বাস্তবায়িত করবেন।

6066

حَدَّثَنَا ابْنُ نُمَيْرٍ، حَدَّثَنَا ابْنُ إِدْرِيسَ، ح وَحَدَّثَنَا أَبُو كُرَيْبٍ، حَدَّثَنَا أَبُو أُسَامَةَ، جَمِيعًا عَنْ هِشَامٍ، بِهَذَا الإِسْنَادِ نَحْوَهُ .

Narrator: হিশাম ইবনে উরওয়া (রহঃ)

৬০৬৬। ইবনে নুমাইর ও আবু কুরায়ব (রাহঃ) ......... হিশাম (রাহঃ) থেকে উত্তম সনদে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।

6067

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، قَالَ وَجَدْتُ فِي كِتَابِي عَنْ أَبِي أُسَامَةَ، حَدَّثَنَا هِشَامٌ، ح وَحَدَّثَنَا أَبُو كُرَيْبٍ، مُحَمَّدُ بْنُ الْعَلاَءِ حَدَّثَنَا أَبُو أُسَامَةَ، عَنْ هِشَامٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ قَالَ لِي رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " إِنِّي لأَعْلَمُ إِذَا كُنْتِ عَنِّي رَاضِيَةً وَإِذَا كُنْتِ عَلَىَّ غَضْبَى " . قَالَتْ فَقُلْتُ وَمِنْ أَيْنَ تَعْرِفُ ذَلِكَ قَالَ " أَمَّا إِذَا كُنْتِ عَنِّي رَاضِيَةً فَإِنَّكِ تَقُولِينَ لاَ وَرَبِّ مُحَمَّدٍ وَإِذَا كُنْتِ غَضْبَى قُلْتِ لاَ وَرَبِّ إِبْرَاهِيمَ " . قَالَتْ قُلْتُ أَجَلْ وَاللَّهِ يَا رَسُولَ اللَّهِ مَا أَهْجُرُ إِلاَّ اسْمَكَ .

Narrator: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

৬০৬৭। আবু বকর ইবনে আবি শাঈবা ও আবু কুরায়ব মুহাম্মাদ ইবনে আ’লা (রাহঃ) ......... আয়িশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমায় বলেছেনঃ আমি বুঝতে পারি তুমি কখন আমার উপর খুশি থাকো, আর কখনো আমার উপর রাগ করো। আমি বললাম, এটা কিসের দ্বারা বুঝতে পারেন? রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ যখন তুমি আমার উপর খুশি থাকো তখন তুমি বলে থাকো, না, মুহাম্মাদের রবের শপথ! আর যখন তুমি রেগে যাও তখন বল, না, ইবরাহীমের রবের কসম! আমি বললাম, হ্যাঁ। আল্লাহর কসম! হে আল্লাহর রাসুল! আপনার নামটা শুধু বাদ দেই।

6068

وَحَدَّثَنَاهُ ابْنُ نُمَيْرٍ، حَدَّثَنَا عَبْدَةُ، عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ، بِهَذَا الإِسْنَادِ إِلَى قَوْلِهِ لاَ وَرَبِّ إِبْرَاهِيمَ . وَلَمْ يَذْكُرْ مَا بَعْدَهُ .

Narrator: হিশাম ইবনে উরওয়া (রহঃ)

৬০৬৮। ইবনে নুমাইর (রাহঃ) ......... হিশাম (রাহঃ) সূত্রে উক্ত সনদে “না, ইবরাহীমের রবের কসম” পর্যন্ত বর্ণনা করেছেন পরবর্তী অংশ উল্লেখ করেন নি।

6069

حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ يَحْيَى، أَخْبَرَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ مُحَمَّدٍ، عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَائِشَةَ، أَنَّهَا كَانَتْ تَلْعَبُ بِالْبَنَاتِ عِنْدَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَتْ وَكَانَتْ تَأْتِينِي صَوَاحِبِي فَكُنَّ يَنْقَمِعْنَ مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَتْ فَكَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يُسَرِّبُهُنَّ إِلَىَّ .

Narrator: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

৬০৬৯। ইয়াহয়া ইবনে ইয়াহয়া (রাহঃ) ......... আয়িশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কাছে (পুতুল) নিয়ে খেলতেন। তিনি বলেন, আমার কাছে আমার বান্ধবীরা আসতো। তারা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে দেখে লজ্জায় সংকুচিত হয়ে সরে পড়তো। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাদেরকে (ডেকে) আমার কাছে পাঠিয়ে দিতেন।

6070

حَدَّثَنَاهُ أَبُو كُرَيْبٍ، حَدَّثَنَا أَبُو أُسَامَةَ، ح وَحَدَّثَنَا زُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، حَدَّثَنَا جَرِيرٌ، ح وَحَدَّثَنَا ابْنُ نُمَيْرٍ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بِشْرٍ، كُلُّهُمْ عَنْ هِشَامٍ، بِهَذَا الإِسْنَادِ وَقَالَ فِي حَدِيثِ جَرِيرٍ كُنْتُ أَلْعَبُ بِالْبَنَاتِ فِي بَيْتِهِ وَهُنَّ اللُّعَبُ .

Narrator: হিশাম ইবনে উরওয়া (রহঃ)

৬০৭০। আবু কুরায়ব, যুহাইর ইবনে হারব ও ইবনে নুমাইর (রাহঃ) ......... হিশাম (রাহঃ) থেকে উক্ত সনদে বর্ণনা করেছেন। জারীর এর হাদীসে আছে, ″আমি মেয়ে নিয়ে তাঁর ঘরে খেলা করতাম, সেগুলো হলো খেলনা পুতুল।″

6071

حَدَّثَنَا أَبُو كُرَيْبٍ، حَدَّثَنَا عَبْدَةُ، عَنْ هِشَامٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَائِشَةَ، أَنَّ النَّاسَ، كَانُوا يَتَحَرَّوْنَ بِهَدَايَاهُمْ يَوْمَ عَائِشَةَ يَبْتَغُونَ بِذَلِكَ مَرْضَاةَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم .

Narrator: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

৬০৭১। আবু কুরায়ব (রাহঃ) ......... আয়িশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। লোকেরা হাদিয়া পাঠাবার জন্য আয়িশা (রাযিঃ) আমার এর পালার অপেক্ষা করতো। এর দ্বারা তারা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে খুশি করার চেষ্টা করত।

6072
حَدَّثَنِي الْحَسَنُ بْنُ عَلِيٍّ الْحُلْوَانِيُّ، وَأَبُو بَكْرِ بْنُ النَّضْرِ وَعَبْدُ بْنُ حُمَيْدٍ قَالَ عَبْدٌ حَدَّثَنِي وَقَالَ الآخَرَانِ، حَدَّثَنَا يَعْقُوبُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ بْنِ سَعْدٍ، حَدَّثَنِي أَبِي، عَنْ صَالِحٍ، عَنِ ابْنِ، شِهَابٍ أَخْبَرَنِي مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ الْحَارِثِ بْنِ هِشَامٍ، أَنَّ عَائِشَةَ، زَوْجَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَتْ أَرْسَلَ أَزْوَاجُ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَاطِمَةَ بِنْتَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَاسْتَأْذَنَتْ عَلَيْهِ وَهُوَ مُضْطَجِعٌ مَعِي فِي مِرْطِي فَأَذِنَ لَهَا فَقَالَتْ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّ أَزْوَاجَكَ أَرْسَلْنَنِي إِلَيْكَ يَسْأَلْنَكَ الْعَدْلَ فِي ابْنَةِ أَبِي قُحَافَةَ وَأَنَا سَاكِتَةٌ - قَالَتْ - فَقَالَ لَهَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " أَىْ بُنَيَّةُ أَلَسْتِ تُحِبِّينَ مَا أُحِبُّ " . فَقَالَتْ بَلَى . قَالَ " فَأَحِبِّي هَذِهِ " . قَالَتْ فَقَامَتْ فَاطِمَةُ حِينَ سَمِعَتْ ذَلِكَ مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَرَجَعَتْ إِلَى أَزْوَاجِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَأَخْبَرَتْهُنَّ بِالَّذِي قَالَتْ وَبِالَّذِي قَالَ لَهَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقُلْنَ لَهَا مَا نُرَاكِ أَغْنَيْتِ عَنَّا مِنْ شَىْءٍ فَارْجِعِي إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقُولِي لَهُ إِنَّ أَزْوَاجَكَ يَنْشُدْنَكَ الْعَدْلَ فِي ابْنَةِ أَبِي قُحَافَةَ . فَقَالَتْ فَاطِمَةُ وَاللَّهِ لاَ أُكَلِّمُهُ فِيهَا أَبَدًا . قَالَتْ عَائِشَةُ فَأَرْسَلَ أَزْوَاجُ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم زَيْنَبَ بِنْتَ جَحْشٍ زَوْجَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَهِيَ الَّتِي كَانَتْ تُسَامِينِي مِنْهُنَّ فِي الْمَنْزِلَةِ عِنْدَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَلَمْ أَرَ امْرَأَةً قَطُّ خَيْرًا فِي الدِّينِ مِنْ زَيْنَبَ وَأَتْقَى لِلَّهِ وَأَصْدَقَ حَدِيثًا وَأَوْصَلَ لِلرَّحِمِ وَأَعْظَمَ صَدَقَةً وَأَشَدَّ ابْتِذَالاً لِنَفْسِهَا فِي الْعَمَلِ الَّذِي تَصَدَّقُ بِهِ وَتَقَرَّبُ بِهِ إِلَى اللَّهِ تَعَالَى مَا عَدَا سَوْرَةً مِنْ حَدٍّ كَانَتْ فِيهَا تُسْرِعُ مِنْهَا الْفَيْئَةَ قَالَتْ فَاسْتَأْذَنَتْ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَرَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مَعَ عَائِشَةَ فِي مِرْطِهَا عَلَى الْحَالَةِ الَّتِي دَخَلَتْ فَاطِمَةُ عَلَيْهَا وَهُوَ بِهَا فَأَذِنَ لَهَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَتْ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّ أَزْوَاجَكَ أَرْسَلْنَنِي إِلَيْكَ يَسْأَلْنَكَ الْعَدْلَ فِي ابْنَةِ أَبِي قُحَافَةَ . قَالَتْ ثُمَّ وَقَعَتْ بِي فَاسْتَطَالَتْ عَلَىَّ وَأَنَا أَرْقُبُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَأَرْقُبُ طَرْفَهُ هَلْ يَأْذَنُ لِي فِيهَا - قَالَتْ - فَلَمْ تَبْرَحْ زَيْنَبُ حَتَّى عَرَفْتُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لاَ يَكْرَهُ أَنْ أَنْتَصِرَ - قَالَتْ - فَلَمَّا وَقَعْتُ بِهَا لَمْ أَنْشَبْهَا حِينَ أَنْحَيْتُ عَلَيْهَا - قَالَتْ - فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَتَبَسَّمَ " إِنَّهَا ابْنَةُ أَبِي بَكْرٍ " .
حَدَّثَنِيهِ مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ قُهْزَاذَ، قَالَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عُثْمَانَ حَدَّثَنِيهِ عَنْ عَبْدِ، اللَّهِ بْنِ الْمُبَارَكِ عَنْ يُونُسَ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، بِهَذَا الإِسْنَادِ . مِثْلَهُ فِي الْمَعْنَى غَيْرَ أَنَّهُ قَالَ فَلَمَّا وَقَعْتُ بِهَا لَمْ أَنْشَبْهَا أَنْ أَثْخَنْتُهَا غَلَبَةً .

Narrator: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

৬০৭২। হাসান ইবনে আলী আল হুলওয়ানী, আবু বকর ইবনে নযর ও আব্দ ইবনে হুমায়দ (রাহঃ) ......... নবী (ﷺ) স্ত্রী আয়িশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) এর স্ত্রীগণ রাসুল তনয়া ফাতিমাকে তাঁর কাছে পঠালেন। সে এসে অনুমতি চাইলো। তিনি তখন আমার চাদর গায়ে, আমার সাথে শোয়া ছিলেন। তিনি তাকে অনুমতি দিলেন। ফাতিমা (রাযিঃ) বললেন, ইয়া রাসুলাল্লাহ! আপনার বিবিগণ আমাকে পাঠিয়েছেন, আবু কুহাফার কন্যার (আয়িশা) ব্যাপারে তাঁরা আপনার সুবিচার চান। আমি চুপ করে রইলাম। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাঁকে বললেনঃ হে স্নেহের মেয়ে! আমি যা ভালবাসি, তা কি তুমি ভালবাস না? সে বলল, হ্যাঁ, অবশ্যই। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, তবে একে ভালবাসো।

রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কাছে এ কথা শুনে ফাতিমা (রাযিঃ) নবী (ﷺ) স্ত্রীদের কাছে ফিরে গেলেন এবং রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে তিনি যা বলেছেন, আর তিনি তাঁকে যা উত্তর দিয়েছেন, তা তাঁদেরকে বললেন। তারা বললেনঃ তুমি আমাদের কোন উপকার করতে পারলে না। তুমি আবার রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কাছে গিয়ে তাঁকে বল, আপনার বিবিগণ আবু কুহাফার মেয়ের ব্যাপারে আপনার কাছে সুবিচার চাচ্ছে। ফাতিমা (রাযিঃ) বললেন, আল্লাহর কসম! তার ব্যাপারে আমি কোনদিন তার সাথে কথা বলতে যাবো না।

আয়িশা (রাযিঃ) বলেন, এরপর নবী (ﷺ) এর স্ত্রীগণনবী (ﷺ) এর (অন্যতম) স্ত্রী যয়নাব বিনতে জাহাশ (রাযিঃ) তাঁর কাছে পাঠালেন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর চোখে তিনি ছিলেন আমার সমপর্যায়ের। যয়নাবের চেয়ে দ্বীনদার, আল্লাহভীরু, সত্যভাষিনী, মায়ামযী, দানশীনা এবং আল্লাহর নৈকট্যলাভের পথে ও দান-খয়রাতের জন্যে নিজেকে শক্তভাবে ব্যবহার করার মত কোন মহিলা আমি দেখি নি। তবে তাঁর মাঝে শুধু একটা হঠাৎ ক্ষিপ্ততা ছিল, এটা থেকেও তিনি খুব দ্রুত ঠাণ্ডা হয়ে যেতেন।

তিনি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কাছে অনুমতি চাইলেন। আর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমার চাঁদরে আবৃত থাকা অবস্থায়ই অনুমতি দিলেন, যে অবস্থায় ফাতিমা (রাযিঃ) তার কাছে এসেছিল। তিনি বললেন, ইয়া রাসুলাল্লাহ! আপনার বিবিগণ আমাকে পাঠিয়েছেন। আবু কুহাফার মেয়ের ব্যাপারে তাঁরা আপনার সুবিচার চান।

আয়িশা (রাযিঃ) বলেন, অতঃপর তিনি আমাকে নিয়ে এলেন এবং কিছু বড় বড় কথা বললেন। আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর চোখের দিকে দেখছিলাম, তিনি আমায় কিছু বলার অনুমতি দিবেন কিনা? আমি বুঝতে পারলাম যে, যয়নাবের কথার উত্তর দিলে তিনি কিছু মনে করবেন না। তিনি বলেন, তখন আমিও তাঁর উপর কথা বলতে লাগলাম এবং কিছুক্ষণের মধ্যে তাঁকে চুপ করিয়ে দিলাম। তিনি বলেন, পরে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) হেসে বললেনঃ এটা তো আবু বকরের মেয়ে (না)।

মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে কুহযায (রাহঃ) ......... যুহরী (রাহঃ) থেকে উক্ত সনদে এর সমার্থবোধক হাদীস বর্ণনা করেছেন। তবে তিনি ″যখন আমিও তাঁর সাথে কথা বলা শুরু করলাম তখন অল্প সময়েই তাকে পরাভূত করে দিলাম″ বলেছেন।
6073

وَحَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، قَالَ وَجَدْتُ فِي كِتَابِي عَنْ أَبِي أُسَامَةَ، عَنْ هِشَامٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ إِنْ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لَيَتَفَقَّدُ يَقُولُ " أَيْنَ أَنَا الْيَوْمَ أَيْنَ أَنَا غَدًا " . اسْتِبْطَاءً لِيَوْمِ عَائِشَةَ . قَالَتْ فَلَمَّا كَانَ يَوْمِي قَبَضَهُ اللَّهُ بَيْنَ سَحْرِي وَنَحْرِي .

Narrator: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

৬০৭৩। আবু বকর ইবনে আবি শাঈবা (রাহঃ) ......... আয়িশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, (শেষ অসুস্থতাকালে) রাসূলুল্লাহ (ﷺ) খোঁজ নিয়ে থাকত, আজ আমি কোথায় থাকব, কাল আমি কোথায় থাকব? আয়িশা (রাযিঃ) এর পালা হয়ত বহু দেরী মনে করে। আয়িশা (রাযিঃ) বলেন, যখন আমার কাছে তাঁর অবস্থানের দিন এলো, তখন আল্লাহ তাআলা তাকে আমার বুক এ গলার মাঝে থেকে (হেলান দেয়া অবস্থায়) তুলে নিলেন।

6074

حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، عَنْ مَالِكِ بْنِ أَنَسٍ، فِيمَا قُرِئَ عَلَيْهِ عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ، عَنْ عَبَّادِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الزُّبَيْرِ، عَنْ عَائِشَةَ، أَنَّهَا أَخْبَرَتْهُ أَنَّهَا، سَمِعَتْ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ قَبْلَ أَنْ يَمُوتَ وَهُوَ مُسْنِدٌ إِلَى صَدْرِهَا وَأَصْغَتْ إِلَيْهِ وَهُوَ يَقُولُ " اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِي وَارْحَمْنِي وَأَلْحِقْنِي بِالرَّفِيقِ " .

Narrator: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

৬০৭৪। কুতায়বা ইবনে সাঈদ (রাহঃ) ......... আয়িশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি মৃত্যুর পূর্ব মুহূর্তে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে বলতে শুনেছেন তিনি তাঁর বুকে হেলান দেওয়া অবস্থায় ছিলেন,এবং তার প্রতি কান লাগিয়ে রেখেছিলেন। হে আল্লাহ! তুমি আমাকে ক্ষমা কর, রহম কর এবং আমাকে (উর্ধ্ব জগতের) বন্ধুর সাথে মিলিত কর।

6075

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، وَأَبُو كُرَيْبٍ قَالاَ حَدَّثَنَا أَبُو أُسَامَةَ، ح وَحَدَّثَنَا ابْنُ، نُمَيْرٍ حَدَّثَنَا أَبِي ح، وَحَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، أَخْبَرَنَا عَبْدَةُ بْنُ سُلَيْمَانَ، كُلُّهُمْ عَنْ هِشَامٍ، بِهَذَا الإِسْنَادِ مِثْلَهُ .

Narrator: হিশাম ইবনে উরওয়া (রহঃ)

৬০৭৫। আবু বকর ইবনে আবি শাঈবা, আবু কুরায়ব ইবনে নুমাইর ও ইসহাক ইবনে ইবরাহীম (রাহঃ) ......... হিশাম (রাহঃ) থেকে এ সনদেই অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেন।

6076

وَحَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، وَابْنُ، بَشَّارٍ - وَاللَّفْظُ لاِبْنِ الْمُثَنَّى - قَالاَ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ، بْنُ جَعْفَرٍ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ سَعْدِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ، عَنْ عُرْوَةَ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ كُنْتُ أَسْمَعُ أَنَّهُ لَنْ يَمُوتَ نَبِيٌّ حَتَّى يُخَيَّرَ بَيْنَ الدُّنْيَا وَالآخِرَةِ - قَالَتْ - فَسَمِعْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فِي مَرَضِهِ الَّذِي مَاتَ فِيهِ وَأَخَذَتْهُ بُحَّةٌ يَقُولُ ( مَعَ الَّذِينَ أَنْعَمَ اللَّهُ عَلَيْهِمْ مِنَ النَّبِيِّينَ وَالصِّدِّيقِينَ وَالشُّهَدَاءِ وَالصَّالِحِينَ وَحَسُنَ أُولَئِكَ رَفِيقًا) قَالَتْ فَظَنَنْتُهُ خُيِّرَ حِينَئِذٍ .

Narrator: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

৬০৭৬। মুহাম্মাদ ইবনে মুসান্না ও ইবনে বাশশার (রাহঃ) ......... আয়িশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি শুনতাম যে, কোন নবীই মৃত্যুবরণ করবেন না, যতক্ষণ না তাঁকে দুনিয়া ও আখিরাতের মধ্য থেকে একটি বেছে নেয়ার সাধীনতা দেওয়া হবে। মৃত্যু শয্যায় শায়িতাবস্থায় রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে বলতে শুনেছি, তখন তাঁর আওয়াজ ভারী হয়ে গিয়েছিল, ″ওদের সাথে, যাদের উপর আল্লাহ অনুগ্রহ করেছেন, সিদ্দীক, শহীদ ও সৎকর্মশীল (লোকদের সাথে), তাঁরা কতই না ভালো বন্ধু।″ আয়িশা (রাযিঃ) বলেনঃ আমার ধারণা তখনই তাঁকে ইখতিয়ার দেওয়া হয়েছিল।

6077

حَدَّثَنَاهُ أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، ح وَحَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ مُعَاذٍ، حَدَّثَنَا أَبِي قَالاَ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ سَعْدٍ، بِهَذَا الإِسْنَادِ مِثْلَهُ .

Narrator: হযরত সা'দ ইবন আবী ওয়াক্কাস রাযি.

৬০৭৭। আবু বকর ইবনে আবি শাঈবা ও উবাইদুল্লাহ ইবনে মুআয (রাহঃ) ......... সা’দ (রাযিঃ) থেকে উক্ত সনদে অনুরূপ হাদীস রিওয়ায়াত করেছেন।

6078

حَدَّثَنِي عَبْدُ الْمَلِكِ بْنُ شُعَيْبِ بْنِ اللَّيْثِ بْنِ سَعْدٍ، حَدَّثَنِي أَبِي، عَنْ جَدِّي، حَدَّثَنِي عُقَيْلُ بْنُ خَالِدٍ، قَالَ قَالَ ابْنُ شِهَابٍ أَخْبَرَنِي سَعِيدُ بْنُ الْمُسَيَّبِ، وَعُرْوَةُ بْنُ الزُّبَيْرِ، فِي رِجَالٍ مِنْ أَهْلِ الْعِلْمِ أَنَّ عَائِشَةَ زَوْجَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَتْ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ وَهُوَ صَحِيحٌ " إِنَّهُ لَمْ يُقْبَضْ نَبِيٌّ قَطُّ حَتَّى يَرَى مَقْعَدَهُ فِي الْجَنَّةِ ثُمَّ يُخَيَّرُ " . قَالَتْ عَائِشَةُ فَلَمَّا نَزَلَ بِرَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَرَأْسُهُ عَلَى فَخِذِي غُشِيَ عَلَيْهِ سَاعَةً ثُمَّ أَفَاقَ فَأَشْخَصَ بَصَرَهُ إِلَى السَّقْفِ ثُمَّ قَالَ " اللَّهُمَّ الرَّفِيقَ الأَعْلَى " . قَالَتْ عَائِشَةُ قُلْتُ إِذًا لاَ يَخْتَارُنَا . قَالَتْ عَائِشَةُ وَعَرَفْتُ الْحَدِيثَ الَّذِي كَانَ يُحَدِّثُنَا بِهِ وَهُوَ صَحِيحٌ فِي قَوْلِهِ " إِنَّهُ لَمْ يُقْبَضْ نَبِيٌّ قَطُّ حَتَّى يَرَى مَقْعَدَهُ مِنَ الْجَنَّةِ ثُمَّ يُخَيَّرُ " . قَالَتْ عَائِشَةُ فَكَانَتْ تِلْكَ آخِرُ كَلِمَةٍ تَكَلَّمَ بِهَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَوْلَهُ " اللَّهُمَّ الرَّفِيقَ الأَعْلَى " .

Narrator: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

৬০৭৮। আব্দুল মালিক ইবনে শুআয়র ইবনে লাইস (রাহঃ) ......... নবী স্ত্রী আয়িশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) সুস্থবস্থায় বলেছেনঃ কোন নবীই মৃত্যুবরণ করেন নি যতক্ষণ না তিনি জান্নাতে তাঁর স্থানটি দেখে নিয়েছেন। আর তাঁকে ইখতিয়ার দেওয়া হয়েছে। আয়িশা (রাযিঃ) বলেন, যখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) অসুস্থতায় আক্রান্ত হলেন, তখন তাঁর মাথা আমার রানের উপর, কিছুক্ষণ তিনি বেহুশ হয়ে রইলেন। হুশ ফিরে এলে তিনি ছাদের দিকে চেয়ে রইলেন। অতঃপর বলবেন, আল্লাহ, সুউচ্চ (জগতের) বন্ধুদের সাথে মিলিত কর।

আয়িশা (রাযিঃ) বলেন, আমি বললাম, এখন তিনি আর আমাদের গ্রহণ করবেন না। আয়িশা (রাযিঃ) বলেন, তখন আমার ঐ হাদীসটি মনে পড়লো যেটি তিনি সুস্থ থাকাকালে বলেছিলেন যে, কোন নবী মৃত্যুবরণ করেন না, যতক্ষণ না তিনি জান্নাতে তাঁর স্থানটি দেখে নেন। এরপর তাঁকে ইখতিয়ার দেওয়া হয়। আযেশা (রাযিঃ) বলেন, এটাই সেই শেষ কথা যা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ অর্থাৎ তার উক্তি “হে আল্লাহ! উচ্চ মর্যাদাসম্পন্ন বন্ধুদের সাথে”।
6079

حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ الْحَنْظَلِيُّ، وَحَدَّثَنَا عَبْدُ بْنُ حُمَيْدٍ، كِلاَهُمَا عَنْ أَبِي نُعَيْمٍ، قَالَ عَبْدٌ حَدَّثَنَا أَبُو نُعَيْمٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَاحِدِ بْنُ أَيْمَنَ، حَدَّثَنِي ابْنُ أَبِي مُلَيْكَةَ، عَنِ الْقَاسِمِ، بْنِ مُحَمَّدٍ عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِذَا خَرَجَ أَقْرَعَ بَيْنَ نِسَائِهِ فَطَارَتِ الْقُرْعَةُ عَلَى عَائِشَةَ وَحَفْصَةَ فَخَرَجَتَا مَعَهُ جَمِيعًا وَكَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِذَا كَانَ بِاللَّيْلِ سَارَ مَعَ عَائِشَةَ يَتَحَدَّثُ مَعَهَا فَقَالَتْ حَفْصَةُ لِعَائِشَةَ أَلاَ تَرْكَبِينَ اللَّيْلَةَ بَعِيرِي وَأَرْكَبُ بَعِيرَكِ فَتَنْظُرِينَ وَأَنْظُرُ قَالَتْ بَلَى . فَرَكِبَتْ عَائِشَةُ عَلَى بَعِيرِ حَفْصَةَ وَرَكِبَتْ حَفْصَةُ عَلَى بَعِيرِ عَائِشَةَ فَجَاءَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِلَى جَمَلِ عَائِشَةَ وَعَلَيْهِ حَفْصَةُ فَسَلَّمَ ثُمَّ صَارَ مَعَهَا حَتَّى نَزَلُوا فَافْتَقَدَتْهُ عَائِشَةُ فَغَارَتْ فَلَمَّا نَزَلُوا جَعَلَتْ تَجْعَلُ رِجْلَهَا بَيْنَ الإِذْخِرِ وَتَقُولُ يَا رَبِّ سَلِّطْ عَلَىَّ عَقْرَبًا أَوْ حَيَّةً تَلْدَغُنِي رَسُولُكَ وَلاَ أَسْتَطِيعُ أَنْ أَقُولَ لَهُ شَيْئًا .

Narrator: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

৬০৭৯। ইসহাক ইবনে ইবরাহীম হানযালী ও আব্দ ইবনে হুমায়দ (রাহঃ) ......... আয়িশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যখন সফরে বের হতেন, তখন নিজ বিবিদের ব্যপারে লটারি করতেন। একবার লটারিতে আয়িশা ও হাফসার নাম উঠলো। উভয়েই তার সাথে বের হলেন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যখন রাতে সফর করতেন তখন তিনি আয়িশার সাথে আলাপ করে করে চলতেন। হাফসা (রাযিঃ) আয়িশাকে বললেন, আজ রাত তুমি আমার উটে চড় আর আমি তোমার উটে চড়ি। এরপর তুমি অপেক্ষা করবে আমিও অপেক্ষা করব। অতঃপর আয়িশা (রাযিঃ) হাফসার উটে আর হাফসা (রাযিঃ) আয়িশার উটে আরোহণ করলেন। যখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আয়িশার উটের কাছে এলেন এবং এতে সওয়ার ছিলেন হাফসা (রাযিঃ) তখন তিনি সালাম দিলেন এবং তাঁর সাথে চললেন। অবশেষে মনযিলে গিয়ে অবতরণ করলেন। আয়িশা (রাযিঃ) তাঁকে না পেয়ে ঈর্ষান্বিত হয়ে পড়লেন। যখন সবাই মনযিলে গিয়ে নামলেন, আয়িশা তাঁর পা ইযখির ঘাসের উপর রেখে বলতে লাগলেন, হে রব! একটা সাপ বা বিচ্ছু আমার দিকে ধাবিত করে দিন যেন আমাকে দংশন করে। তিনি তো আপনার রাসুল, আমি তাঁকে কিছু বলতেও পারি না।

6080

حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مَسْلَمَةَ بْنِ قَعْنَبٍ، حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ، - يَعْنِي ابْنَ بِلاَلٍ - عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " فَضْلُ عَائِشَةَ عَلَى النِّسَاءِ كَفَضْلِ الثَّرِيدِ عَلَى سَائِرِ الطَّعَامِ " .

Narrator: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

৬০৮০। আব্দুল্লাহ ইবনে মাসলামা ইবনে কানাব (রাহঃ) ......... আনাস ইবনে মালিক (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে বলতে শুনেছি, অন্যান্য মহিলাদের উপর আছে আয়িশার শ্রেষ্ঠত্ব সমস্ত খাদ্যের উপর ’সারীদের’ শ্রেষ্ঠত্বের মতো।

6081

حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ يَحْيَى، وَقُتَيْبَةُ، وَابْنُ، حُجْرٍ قَالُوا حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ، يَعْنُونَ ابْنَ جَعْفَرٍ ح وَحَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ، - يَعْنِي ابْنَ مُحَمَّدٍ - كِلاَهُمَا عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ، عَبْدِ الرَّحْمَنِ عَنْ أَنَسٍ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم . بِمِثْلِهِ وَلَيْسَ فِي حَدِيثِهِمَا سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم . وَفِي حَدِيثِ إِسْمَاعِيلَ أَنَّهُ سَمِعَ أَنَسَ بْنَ مَالِكٍ .

Narrator: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

৬০৮১। ইয়াহয়া ইবনে ইয়াহয়া, কুতায়বা ও ইবনে হুজর (রাহঃ) ......... আনাস (রাযিঃ) সূত্রে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেন। তাদের দু’জনের হাদীসে “রাসূলুল্লাহ (ﷺ) থেকে শুনেছি” নেই। ইসমাঈলের হাদীসে “আনাস (রাযিঃ) থেকে শুনেছি” রয়েছে।

6082

وَحَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحِيمِ بْنُ سُلَيْمَانَ، وَيَعْلَى بْنُ عُبَيْدٍ، عَنْ زَكَرِيَّاءَ، عَنِ الشَّعْبِيِّ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ عَائِشَةَ، أَنَّهَا حَدَّثَتْهُ أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ لَهَا " إِنَّ جِبْرِيلَ يَقْرَأُ عَلَيْكِ السَّلاَمَ " . قَالَتْ فَقُلْتُ وَعَلَيْهِ السَّلاَمُ وَرَحْمَةُ اللَّهِ .

Narrator: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

৬০৮২। আবু বকর ইবনে আবি শাঈবা (রাহঃ) ......... আয়িশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাঁকে বলেছেন, জিবরাঈল (আলাইহিস সালাম) তোমাকে সালাম দিচ্ছেন। আমি বললাম, তার প্রতি সালাম এবং আল্লাহর রহমত।

6083
حَدَّثَنَاهُ إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، أَخْبَرَنَا الْمُلاَئِيُّ، حَدَّثَنَا زَكَرِيَّاءُ بْنُ أَبِي زَائِدَةَ، قَالَ سَمِعْتُ عَامِرًا، يَقُولُ حَدَّثَنِي أَبُو سَلَمَةَ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، أَنَّ عَائِشَةَ، حَدَّثَتْهُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ لَهَا . بِمِثْلِ حَدِيثِهِمَا .
وَحَدَّثَنَاهُ إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، أَخْبَرَنَا أَسْبَاطُ بْنُ مُحَمَّدٍ، عَنْ زَكَرِيَّاءَ، بِهَذَا الإِسْنَادِ مِثْلَهُ .

Narrator: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

৬০৮৩। ইসহাক ইবনে ইবরাহীম (রাহঃ) ......... আয়িশা (রাযিঃ) থেকে তাঁদের হাদীসের অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেন। ইসহাক (রাহঃ) ......... যাকারিয়া (রাহঃ) থেকে উক্ত সনদে অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেন।

6084

حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ الدَّارِمِيُّ، أَخْبَرَنَا أَبُو الْيَمَانِ، أَخْبَرَنَا شُعَيْبٌ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، حَدَّثَنِي أَبُو سَلَمَةَ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، أَنَّ عَائِشَةَ، زَوْجَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَتْ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " يَا عَائِشُ هَذَا جِبْرِيلُ يَقْرَأُ عَلَيْكِ السَّلاَمَ " . قَالَتْ فَقُلْتُ وَعَلَيْهِ السَّلاَمُ وَرَحْمَةُ اللَّهِ . قَالَتْ وَهُوَ يَرَى مَا لاَ أَرَى .

Narrator: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

৬০৮৪। আব্দুল্লাহ ইবনে আব্দুর রহমান দারিমী (রাহঃ) ......... নবী (ﷺ) এর স্ত্রী আয়িশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ হে আয়িশা! এই যে জিবরাঈল (আলাইহিস সালাম) তোমাকে সালাম বলছেন। আয়িশা (রাযিঃ) বললেন,وَعَلَيْهِ السَّلاَمُ وَرَحْمَةُ اللَّهِ (তাঁর উপরও সালাম এবং আল্লাহর রহমত)। এরপর আয়িশা (রাযিঃ) বললেন, তিনি তো এমন কিছু দেখেন যা আমি দেখতে পাই না।

১৪. উম্মে যারা এর হাদীস

باب ذِكْرِ حَدِيثِ أُمِّ زَرْعٍ

6085
حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ حُجْرٍ السَّعْدِيُّ، وَأَحْمَدُ بْنُ جَنَابٍ، كِلاَهُمَا عَنْ عِيسَى، - وَاللَّفْظُ لاِبْنِ حُجْرٍ - حَدَّثَنَا عِيسَى بْنُ يُونُسَ، حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ عُرْوَةَ، عَنْ أَخِيهِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُرْوَةَ، عَنْ عُرْوَةَ، عَنْ عَائِشَةَ، أَنَّهَا قَالَتْ جَلَسَ إِحْدَى عَشْرَةَ امْرَأَةً فَتَعَاهَدْنَ وَتَعَاقَدْنَ أَنْ لاَ يَكْتُمْنَ مِنْ أَخْبَارِ أَزْوَاجِهِنَّ شَيْئًا قَالَتِ الأُولَى زَوْجِي لَحْمُ جَمَلٍ غَثٌّ عَلَى رَأْسِ جَبَلٍ وَعْرٍ لاَ سَهْلٌ فَيُرْتَقَى وَلاَ سَمِينٌ فَيُنْتَقَلَ . قَالَتِ الثَّانِيَةُ زَوْجِي لاَ أَبُثُّ خَبَرَهُ إِنِّي أَخَافُ أَنْ لاَ أَذَرَهُ إِنْ أَذْكُرْهُ أَذْكُرْ عُجَرَهُ وَبُجَرَهُ . قَالَتِ الثَّالِثَةُ زَوْجِي الْعَشَنَّقُ إِنْ أَنْطِقْ أُطَلَّقْ وَإِنْ أَسْكُتْ أُعَلَّقْ . قَالَتِ الرَّابِعَةُ زَوْجِي كَلَيْلِ تِهَامَةَ لاَ حَرٌّ وَلاَ قُرٌّ وَلاَ مَخَافَةَ وَلاَ سَآمَةَ . قَالَتِ الْخَامِسَةُ زَوْجِي إِنْ دَخَلَ فَهِدَ وَإِنْ خَرَجَ أَسِدَ وَلاَ يَسْأَلُ عَمَّا عَهِدَ . قَالَتِ السَّادِسَةُ زَوْجِي إِنْ أَكَلَ لَفَّ وَإِنْ شَرِبَ اشْتَفَّ وَإِنِ اضْطَجَعَ الْتَفَّ وَلاَ يُولِجُ الْكَفَّ لِيَعْلَمَ الْبَثَّ . قَالَتِ السَّابِعَةُ زَوْجِي غَيَايَاءُ أَوْ عَيَايَاءُ طَبَاقَاءُ كُلُّ دَاءٍ لَهُ دَاءٌ شَجَّكِ أَوْ فَلَّكِ أَوْ جَمَعَ كُلاًّ لَكِ . قَالَتِ الثَّامِنَةُ زَوْجِي الرِّيحُ رِيحُ زَرْنَبٍ وَالْمَسُّ مَسُّ أَرْنَبٍ . قَالَتِ التَّاسِعَةُ زَوْجِي رَفِيعُ الْعِمَادِ طَوِيلُ النِّجَادِ عَظِيمُ الرَّمَادِ قَرِيبُ الْبَيْتِ مِنَ النَّادِي . قَالَتِ الْعَاشِرَةُ زَوْجِي مَالِكٌ وَمَا مَالِكٌ مَالِكٌ خَيْرٌ مِنْ ذَلِكِ لَهُ إِبِلٌ كَثِيرَاتُ الْمَبَارِكِ قَلِيلاَتُ الْمَسَارِحِ إِذَا سَمِعْنَ صَوْتَ الْمِزْهَرِ أَيْقَنَّ أَنَّهُنَّ هَوَالِكُ . قَالَتِ الْحَادِيَةَ عَشْرَةَ زَوْجِي أَبُو زَرْعٍ فَمَا أَبُو زَرْعٍ أَنَاسَ مِنْ حُلِيٍّ أُذُنَىَّ وَمَلأَ مِنْ شَحْمٍ عَضُدَىَّ وَبَجَّحَنِي فَبَجِحَتْ إِلَىَّ نَفْسِي وَجَدَنِي فِي أَهْلِ غُنَيْمَةٍ بِشَقٍّ فَجَعَلَنِي فِي أَهْلِ صَهِيلٍ وَأَطِيطٍ وَدَائِسٍ وَمُنَقٍّ فَعِنْدَهُ أَقُولُ فَلاَ أُقَبَّحُ وَأَرْقُدُ فَأَتَصَبَّحُ وَأَشْرَبُ فَأَتَقَنَّحُ . أُمُّ أَبِي زَرْعٍ فَمَا أُمُّ أَبِي زَرْعٍ عُكُومُهَا رَدَاحٌ وَبَيْتُهَا فَسَاحٌ . ابْنُ أَبِي زَرْعٍ فَمَا ابْنُ أَبِي زَرْعٍ مَضْجِعُهُ كَمَسَلِّ شَطْبَةٍ وَيُشْبِعُهُ ذِرَاعُ الْجَفْرَةِ . بِنْتُ أَبِي زَرْعٍ فَمَا بِنْتُ أَبِي زَرْعٍ طَوْعُ أَبِيهَا وَطَوْعُ أُمِّهَا وَمِلْءُ كِسَائِهَا وَغَيْظُ جَارَتِهَا . جَارِيَةُ أَبِي زَرْعٍ فَمَا جَارِيَةُ أَبِي زَرْعٍ لاَ تَبُثُّ حَدِيثَنَا تَبْثِيثًا وَلاَ تُنَقِّثُ مِيرَتَنَا تَنْقِيثًا وَلاَ تَمْلأُ بَيْتَنَا تَعْشِيشًا . قَالَتْ خَرَجَ أَبُو زَرْعٍ وَالأَوْطَابُ تُمْخَضُ فَلَقِيَ امْرَأَةً مَعَهَا وَلَدَانِ لَهَا كَالْفَهْدَيْنِ يَلْعَبَانِ مِنْ تَحْتِ خَصْرِهَا بِرُمَّانَتَيْنِ فَطَلَّقَنِي وَنَكَحَهَا فَنَكَحْتُ بَعْدَهُ رَجُلاً سَرِيًّا رَكِبَ شَرِيًّا وَأَخَذَ خَطِّيًّا وَأَرَاحَ عَلَىَّ نَعَمًا ثَرِيًّا وَأَعْطَانِي مِنْ كُلِّ رَائِحَةٍ زَوْجًا . قَالَ كُلِي أُمَّ زَرْعٍ وَمِيرِي أَهْلَكِ فَلَوْ جَمَعْتُ كُلَّ شَىْءٍ أَعْطَانِي مَا بَلَغَ أَصْغَرَ آنِيَةِ أَبِي زَرْعٍ . قَالَتْ عَائِشَةُ قَالَ لِي رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " كُنْتُ لَكِ كَأَبِي زَرْعٍ لأُمِّ زَرْعٍ " .
وَحَدَّثَنِيهِ الْحَسَنُ بْنُ عَلِيٍّ الْحُلْوَانِيُّ، حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ، حَدَّثَنَا سَعِيدُ، بْنُ سَلَمَةَ عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ، بِهَذَا الإِسْنَادِ غَيْرَ أَنَّهُ قَالَ عَيَايَاءُ طَبَاقَاءُ . وَلَمْ يَشُكَّ وَقَالَ قَلِيلاَتُ الْمَسَارِحِ . وَقَالَ وَصِفْرُ رِدَائِهَا وَخَيْرُ نِسَائِهَا وَعَقْرُ جَارَتِهَا . وَقَالَ وَلاَ تَنْقُثُ مِيرَتَنَا تَنْقِيثًا . وَقَالَ وَأَعْطَانِي مِنْ كُلِّ ذَابِحَةٍ زَوْجًا .

Narrator: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

৬০৮৫। আলী ইবনে হুজর সা’দী ও আহমদ ইবনে জানাব (রাহঃ) ......... আয়িশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, এগারজন মহিলা বসে অঙ্গীকার ও চুক্তিবদ্ধ হলো যে, তারা নিজ নিজ স্বামীর ব্যাপারে কিছু গোপন করবে না। প্রথম মহিলা বললো, আমার স্বামী লাল উটের গোশতের মতো, যা দুর্গম এক পাহাড়ের চূড়ায় রক্ষিত। না ওখানে আরোহণ করা সম্ভব, আর না এমন মোটা তাজা যা সংরক্ষণ করা যায়। দ্বিতীয় মহিলা বললো, আমি আমার স্বামীর খবর ছড়াতে পারবো না। আমার ভয় হয়, আমি তাকে ছেড়ে না দেই। আমি যদি তার বিবরণ দিতে যাই তবে তার গোপনীয় ও প্রকাশ্য সব দোষই বর্ণনা করতে হবে।

তৃতীয় মহিলা বললো, আমার স্বামী খুব লম্বা। ওর দোষ বললে আমি পরিত্যক্ত হবো, আর চুপ থাকলে ঝুলে থাকবো। চতুর্থ মহিলা বললো, আমার স্বামী ‘তিহামা’ (নির্জন মরু আরব) এর রজনীর মতো (নিথর)। নাতিশীতোষ্ণ (গরমও নয় আর ঠাণ্ডাও নয়) ভয়ও নেই, বিরক্তিও নেই। পঞ্চম মহিলা বললো, আমার স্বামী যখন ঘরে আসে তখন চিতা বাঘ, আর যখন বাইরে যায় তখন সিংহ। রক্ষিত মাল-সম্পদ নিয়ে সে কোন প্রশ্ন করে না। ষষ্ঠ মহিলা বললো, আমার স্বামী খেতে বসলে সব খেয়ে ফেলে পান করলে একেবারে নিঃশেষ করে ফেলে। আর শুতে গেলে একদম হাত পা গুটিয়ে রয়। আমার প্রতি হাত বাড়ায় না, যাতে আমার (মনের) অবস্থা বুঝতে পারে।

সপ্তম মহিলা বললো, আমার স্বামী নির্বোধ, অক্ষম ও বোবার মত। সব দোষই তার মধ্যে বিদ্যমান। চাইলে তোমার মাথায় আঘাত করবে অথবা অঙ্গে প্রহার করবে অথবা উভয়ই একত্রে সংঘটিত করবে। অষ্টম মহিলা বললো, আমার স্বামীর গন্ধ যারনাবের সুগন্ধির মতো, তার স্পর্শ খরগোশের মতো। নবম মহিলা বললো, আমার স্বামী এমন যার প্রাসা’দের খাম্বাগুলো সুউচ্চ, তরবারির খাপগুলো দীর্ঘ, বাড়ির আঙ্গিনায় অধিক ছাই। কাচারী ঘরের পার্শ্বেই তার বাড়ি। দশম মহিলা বললো, আমার স্বামী মালিক। আর মালিক এর কথা কি বলব, আমার এ প্রশংসার চেয়ে আরো শ্রেষ্ঠ সে। তার আছে অনেক উট, তাদের জন্য উটশালাও অনেক, তবে চারণভূমি কম। উটেরা যখন বাদ্য-বাজনার শব্দ শোনে, তখন নিজেদের যবেহের ব্যাপারে নিশ্চিত হয়ে পড়ে।

একাদশ মহিলা বললো, আমার স্বামীর নাম আবু যর। কি চমৎকার আবু যর। অলংকার দিয়ে সে আমর দুকান ঝুলিয়ে দিয়েছে, বাহুদ্বয় ভরপুর করেছে চর্বিতে। আমাকে আদর সোহাগ দিয়েছে, আমিও নিজেকে আদরনীয়া-সোহাগিণী বোধ করছি। সে আমাকে পাহাড়ের পাদদেশে ভেড়া ও বকরীওয়ালাদের মাঝে পেয়েছিল। এরপর সে আমাকে উট, ঘোড়া, জমি-জমা ও ফসলাদির অধিকারী বানিয়েছে। তার কাছে আমি কথা বললে সে তা ফেলে না। আমি ঘুমালে ভোর পর্যন্ত শুয়ে থাকি আর পান করলে তৃপ্তি অর্জন করি। আবু যার এর মা, কতই না ভালো আবু যার এর মা। তার পাত্র বিরাট আকারের। তার কুঠুরি প্রশ্বস্ত। আবু যর এর ছেলে, কত ভালো আবু যার এর ছেলে, তার শয্যা যেন তরবারির খাপ। বকরির একটি বান (দুধ) খেয়েই সে তৃপ্তিবোধ করে। আবু যর এর মেয়ে কতই না ভালো আবু যার এর মেয়ে। মা-বাবার অনুগত, পোশাকভরা শরীর, প্রতিবেশীর ঈর্ষার পাত্রী। আবু যর এর বাদী, কত ভালো আবু যর এর বাদী। আমাদের কথা প্রচার করে বেড়ায় না। আমাদের খাদ্য নষ্ট করে না, ঘর-বাড়ি আবর্জনা পূর্ণ রাখে না।

উম্মু যারা বলেন, একদা আবু যর বাইরে বের হলেন। তখন আমাদের অবস্থা ছিল, বড় বড় দুধের পাত্র থেকে মাখন তোলা হতো। তখন এক মহিলার সাথে তার সাক্ষাত ঘটে। তার সাথে ছিলো দুটো শিশু। (শিশু দুটো ছিল) দুটি চিতার মত। তারা তার কোকের নীচ দিয়ে দুটি ডালিম নিয়ে খেলা করছিল। তখন আবু যর আমাকে তালাক দেয় এবং সে মহিলাকে বিয়ে করে।

তারপর আমি এক ব্যক্তিকে বিবাহ করলাম। সে ছিল সরদার, খুব ভালো ঘোড় সওয়ার ও বর্শা ধারণকারী। সে আমার আস্তাবলে বহু চতুষ্পদ জন্তু সমবেত করে। প্রত্যেক প্রকার থেকে সে আমাকে একেক জোড়া দান করে এবং সে আমাকে বলে, হে উম্মু যারা! তুমি খাও এবং তোমার আপনজনকে দান কর। তবে দ্বিতীয় স্বামী আমায় যা কিছু দিয়েছে তার সব যদি জমা করি, তবু আবু যর এর ছোট্ট একটি পাত্রের সমান হবে না। আয়িশা (রাযিঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাকে বললেনঃ তোমার জন্য আমি উম্মে যার এর জন্য আবু যর এর মতো।

হাসান ইবনে আলী হুলওয়ানী (রাহঃ) ......... হিশাম ইবনে উরওয়া (রাযিঃ) থেকে উক্ত সনদে বর্ণনা করেছেন। তবে এতে বর্ণনা সন্দেহ ছাড়া يَايَاءُ طَبَاقَاءُ রয়েছে, আরো রয়েছে قَلِيلاَتُ الْمَسَارِحِ এবং রয়েছে صِفْرُ رِدَائِهَا وَخَيْرُ نِسَائِهَا وَعَقْرُ جَارَتِهَا (অর্থাৎ তার কটিদেশ ছিল কৃশ, অন্যান্য মহিলার তুলনায় ছিল শ্রেষ্ঠ, সতীনের ঈর্ষার পাত্র) এবং বলেছেন لاَ تَنْقُثُ مِيرَتَنَا تَنْقِيثًا আরো বলেছেন أَعْطَانِي مِنْ كُلِّ ذَابِحَةٍ زَوْجً।

১৫. নবী (ﷺ) এর কন্যা ফাতিমা (রাযিঃ) এর ফযীলত

باب فَضَائِلِ فَاطِمَةَ بِنْتِ النَّبِيِّ عَلَيْهَا الصَّلاَةُ وَالسَّلاَمُ

6086

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ يُونُسَ، وَقُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، كِلاَهُمَا عَنِ اللَّيْثِ بْنِ سَعْدٍ، قَالَ ابْنُ يُونُسَ حَدَّثَنَا لَيْثٌ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي مُلَيْكَةَ الْقُرَشِيُّ التَّيْمِيُّ، أَنَّحَدَّثَهُ أَنَّهُ، سَمِعَ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَلَى الْمِنْبَرِ وَهُوَ يَقُولُ " إِنَّ بَنِي هِشَامِ بْنِ الْمُغِيرَةِ اسْتَأْذَنُونِي أَنْ يُنْكِحُوا ابْنَتَهُمْ عَلِيَّ بْنَ أَبِي طَالِبٍ فَلاَ آذَنُ لَهُمْ ثُمَّ لاَ آذَنُ لَهُمْ ثُمَّ لاَ آذَنُ لَهُمْ إِلاَّ أَنْ يُحِبَّ ابْنُ أَبِي طَالِبٍ أَنْ يُطَلِّقَ ابْنَتِي وَيَنْكِحَ ابْنَتَهُمْ فَإِنَّمَا ابْنَتِي بَضْعَةٌ مِنِّي يَرِيبُنِي مَا رَابَهَا وَيُؤْذِينِي مَا آذَاهَا " .

Narrator: মিসওয়ার ইবনে মাখরামা (রাঃ)

৬০৮৬। আহমদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে ইউনুস ও কুতায়বা ইবনে সাঈদ (রাহঃ) ......... মিসওয়ার ইবনে মাখরামা (রাযিঃ) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে মিম্বরের উপর থেকে বলতে শুনেছেন, হিশাম ইবনে মুগীরার সন্তানরা আমার কাছে অনুমতি চেয়েছে যে, তাদের কন্যাকে আলী ইবনে আবু তালিবের কাছে তারা বিয়ে দিতে চায়। আমি তাদের অনুমতি দিচ্ছি না, আবার (বলছি) আমি তাদের অনুমতি দিচ্ছি না। আবার আমি তাদের অনুমতি দিচ্ছি না। তবে যদি আলী ইবনে আবু তালিব আমার মেয়েকে তালাক দিয়ে তাদের মেয়েকে বিয়ে করতে চায়, তা ভিন্ন কথা। কেননা আমার মেয়ে আমারই একটা অংশ। যা তাকে বিষন্ন করে, তা আমাকেও বিষন্ন করে, তাকে যা কষ্ট দেয়, আমাকেও তা কষ্ট দেয়।

6087

حَدَّثَنِي أَبُو مَعْمَرٍ، إِسْمَاعِيلُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ الْهُذَلِيُّ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ عَمْرٍو، عَنِ ابْنِ أَبِي مُلَيْكَةَ، عَنِ الْمِسْوَرِ بْنِ مَخْرَمَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " إِنَّمَا فَاطِمَةُ بَضْعَةٌ مِنِّي يُؤْذِينِي مَا آذَاهَا " .

Narrator: মিসওয়ার ইবনে মাখরামা (রাঃ)

৬০৮৭। আবু মা’মার ইসমাঈল ইবনে ইবরাহীম হুযালী (রাহঃ) ......... মিসওয়ার ইবনে মাখরামা (রাযিঃ) থেকে বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, ফাতিমা আমারই অঙ্গ, তাকে যা কষ্ট দেয়, তা আমাকেও কষ্ট দেয়।

6088

حَدَّثَنِي أَحْمَدُ بْنُ حَنْبَلٍ، أَخْبَرَنَا يَعْقُوبُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، حَدَّثَنَا أَبِي، عَنِ الْوَلِيدِ بْنِ كَثِيرٍ، حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ عَمْرِو بْنِ حَلْحَلَةَ الدُّؤَلِيُّ، أَنَّ ابْنَ شِهَابٍ، حَدَّثَهُ أَنَّ عَلِيَّ بْنَ الْحُسَيْنِ حَدَّثَهُ أَنَّهُمْ، حِينَ قَدِمُوا الْمَدِينَةَ مِنْ عِنْدِ يَزِيدَ بْنِ مُعَاوِيَةَ مَقْتَلَ الْحُسَيْنِ بْنِ عَلِيٍّ رضى الله عنهما لَقِيَهُ الْمِسْوَرُ بْنُ مَخْرَمَةَ فَقَالَ لَهُ هَلْ لَكَ إِلَىَّ مِنْ حَاجَةٍ تَأْمُرُنِي بِهَا قَالَ فَقُلْتُ لَهُ لاَ . قَالَ لَهُ هَلْ أَنْتَ مُعْطِيَّ سَيْفَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَإِنِّي أَخَافُ أَنْ يَغْلِبَكَ الْقَوْمُ عَلَيْهِ وَايْمُ اللَّهِ لَئِنْ أَعْطَيْتَنِيهِ لاَ يُخْلَصُ إِلَيْهِ أَبَدًا حَتَّى تَبْلُغَ نَفْسِي إِنَّ عَلِيَّ بْنَ أَبِي طَالِبٍ خَطَبَ بِنْتَ أَبِي جَهْلٍ عَلَى فَاطِمَةَ فَسَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَهُوَ يَخْطُبُ النَّاسَ فِي ذَلِكَ عَلَى مِنْبَرِهِ هَذَا وَأَنَا يَوْمَئِذٍ مُحْتَلِمٌ فَقَالَ " إِنَّ فَاطِمَةَ مِنِّي وَإِنِّي أَتَخَوَّفُ أَنْ تُفْتَنَ فِي دِينِهَا " . قَالَ ثُمَّ ذَكَرَ صِهْرًا لَهُ مِنْ بَنِي عَبْدِ شَمْسٍ فَأَثْنَى عَلَيْهِ فِي مُصَاهَرَتِهِ إِيَّاهُ فَأَحْسَنَ قَالَ " حَدَّثَنِي فَصَدَقَنِي وَوَعَدَنِي فَأَوْفَى لِي وَإِنِّي لَسْتُ أُحَرِّمُ حَلاَلاً وَلاَ أُحِلُّ حَرَامًا وَلَكِنْ وَاللَّهِ لاَ تَجْتَمِعُ بِنْتُ رَسُولِ اللَّهِ وَبِنْتُ عَدُوِّ اللَّهِ مَكَانًا وَاحِدًا أَبَدًا " .

Narrator: আলী ইবনে হুসাইন যাইনুল আবিদীন (রহঃ)

৬০৮৮। আহমদ ইবনে হাম্বল (রাহঃ) ......... আলী ইবনে হুসাইন (রাহঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে, হুসাইন ইবনে আলী (রাযিঃ) এর শাহাদতের পর ইয়াযীদ ইবনে মুআবিয়া (রাযিঃ) এর কাছ থেকে তারা যখন মদীনায় এলেন, মিসওয়ার ইবনে মাখরামা তখন তার সাথে দেখা করলেন এবং তাকে বললেন, আপনার কোন প্রয়োজন থাকলে আমাকে বলবেন। আমি বললাম, না। মিসওয়ার বললেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর তরবারিখানা কি আপনি আমাকে দান করবেন? কারণ আমার ভয় হয় যে, আপনার লোকেরা এটি আপনার কাছ থেকে কবজা করে নিবে। আল্লাহর কসম, আপনি যদি সে তরবারিটি আমাকে দিয়ে দেন তাহলে যতক্ষণ আমার প্রাণ থাকে এটি কেউ স্পর্শ করতে পারবে না।

(মিসওয়ার আরো বলেন) ফাতিমার জীবিত থাকাকালে আলী (রাযিঃ) আবু জাহলের কন্যাকে বিয়ের প্রন্তাব দিয়েছিলেন। তখন আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে এ বিষয় নিয়ে লোকদের সামনে এ মিম্বরে দাঁড়িয়ে ভাষণ দিতে শুনেছি। আমি সে সময় সদ্য বালিগ বয়সের। তখন তিনি বললেন, ফাতিমা আমারই অঙ্গ। আমার ভয় হচ্ছে, সে তার দ্বীনের ব্যাপারে ফিতনায় না পতিত হয়। অতঃপর তিনি আব্দ ই-শামস গোত্রীয় তাঁর জামাতার আলোচনা করলেন। তার আত্মীয়তার সুন্দর প্রশংসা করলেন, এবং বললেন, সে আমায় যা বলেছে সত্য বলেছে, সে অঙ্গীকার করেছে, আর আমি কোন হালালকে হারাম করি না বা হারামকে হালাল করি না। তবে আল্লাহর কসম, আল্লাহর রাসূলের মেয়ে এবং আল্লাহর দুশমনের মেয়ে কখনো এক জায়গায় একত্রিত হবে না।
6089
حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ الدَّارِمِيُّ، أَخْبَرَنَا أَبُو الْيَمَانِ، أَخْبَرَنَا شُعَيْبٌ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، أَخْبَرَنِي عَلِيُّ بْنُ حُسَيْنٍ، أَنَّ الْمِسْوَرَ بْنَ مَخْرَمَةَ، أَخْبَرَهُ أَنَّ عَلِيَّ بْنَ أَبِي طَالِبٍ خَطَبَ بِنْتَ أَبِي جَهْلٍ وَعِنْدَهُ فَاطِمَةُ بِنْتُ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَلَمَّا سَمِعَتْ بِذَلِكَ فَاطِمَةُ أَتَتِ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَتْ لَهُ إِنَّ قَوْمَكَ يَتَحَدَّثُونَ أَنَّكَ لاَ تَغْضَبُ لِبَنَاتِكَ وَهَذَا عَلِيٌّ نَاكِحًا ابْنَةَ أَبِي جَهْلٍ . قَالَ الْمِسْوَرُ فَقَامَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم فَسَمِعْتُهُ حِينَ تَشَهَّدَ ثُمَّ قَالَ " أَمَّا بَعْدُ فَإِنِّي أَنْكَحْتُ أَبَا الْعَاصِ بْنَ الرَّبِيعِ فَحَدَّثَنِي فَصَدَقَنِي وَإِنَّ فَاطِمَةَ بِنْتَ مُحَمَّدٍ مُضْغَةٌ مِنِّي وَإِنَّمَا أَكْرَهُ أَنْ يَفْتِنُوهَا وَإِنَّهَا وَاللَّهِ لاَ تَجْتَمِعُ بِنْتُ رَسُولِ اللَّهِ وَبِنْتُ عَدُوِّ اللَّهِ عِنْدَ رَجُلٍ وَاحِدٍ أَبَدًا " . قَالَ فَتَرَكَ عَلِيٌّ الْخِطْبَةَ .
وَحَدَّثَنِيهِ أَبُو مَعْنٍ الرَّقَاشِيُّ، حَدَّثَنَا وَهْبٌ، - يَعْنِي ابْنَ جَرِيرٍ - عَنْ أَبِيهِ، قَالَ سَمِعْتُ النُّعْمَانَ، - يَعْنِي ابْنَ رَاشِدٍ - يُحَدِّثُ عَنِ الزُّهْرِيِّ، بِهَذَا الإِسْنَادِ نَحْوَهُ .

Narrator: মিসওয়ার ইবনে মাখরামা (রাঃ)

৬০৮৯। আব্দুল্লাহ ইবনে আব্দুল রহমান দারিমী (রাহঃ) ......... মিসওয়ার ইবনে মাখরামা (রাযিঃ) থেকে বর্ণনা করেন, আলী ইবনে আবু তালিব (রাযিঃ) নবী (ﷺ) তনয়া ফাতিমাকে ঘরে রেখেই আবু জাহলের কন্যাকে বিয়ের প্রস্তাব দিয়েছিলেন। ফাতিমা (রাযিঃ) যখন এ খবর শুনলেন তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কাছে এসে বললেন, লোকেরা বলাবলি করে যে, আপনি আপনার মেয়েদের ব্যাপারে রাগ প্রকাশ করেন না। আর এই যে আলী (রাযিঃ) আবু জাহলের মেয়েকে বিয়ে করতে যাচ্ছে। মিসওয়ার (রাযিঃ) বললেন, তখন নবী (ﷺ) দাঁড়ালেন। এ সময় আমি শুনলাম তিনি তাশাহ্‌হুদ পড়লেন এবং বললেনঃ আমি আবুল আস ইবনুল রাবীর কাছে বিয়ে দিয়েছি, সে আমাকে যা বলেছে, তা সত্য পরিণত করেছে। আর মুহাম্মাদ তনয়া ফাতিমা আমারই একটা টুকরা, আমি পছন্দ করি না যে, লোকে তাকে ফিতনায় ফেলুক। আল্লাহর কসম! আল্লাহর রাসূলের মেয়ে ও আল্লাহর দুশমনের মেয়ে কোন ব্যক্তির কাছে কখনো একত্রিত হতে পারে না। মিসওয়ার (রাযিঃ) বলেন, এরপর আলী (রাযিঃ) প্রস্তাব ছেড়ে দেন।

আবু মা’আন রাক্কাশী (রাহঃ) ......... যুহরী (রাহঃ) থেকে এ সনদে অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেন।
6090
حَدَّثَنَا مَنْصُورُ بْنُ أَبِي مُزَاحِمٍ، حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ، - يَعْنِي ابْنَ سَعْدٍ - عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عُرْوَةَ، عَنْ عَائِشَةَ، ح

وَحَدَّثَنِي زُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، - وَاللَّفْظُ لَهُ - حَدَّثَنَا يَعْقُوبُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، حَدَّثَنَا أَبِي، عَنْ أَبِيهِ، أَنَّ عُرْوَةَ بْنَ الزُّبَيْرِ، حَدَّثَهُ أَنَّ عَائِشَةَ حَدَّثَتْهُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم دَعَا فَاطِمَةَ ابْنَتَهُ فَسَارَّهَا فَبَكَتْ ثُمَّ سَارَّهَا فَضَحِكَتْ فَقَالَتْ عَائِشَةُ فَقُلْتُ لِفَاطِمَةَ مَا هَذَا الَّذِي سَارَّكِ بِهِ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَبَكَيْتِ ثُمَّ سَارَّكِ فَضَحِكْتِ قَالَتْ سَارَّنِي فَأَخْبَرَنِي بِمَوْتِهِ فَبَكَيْتُ ثُمَّ سَارَّنِي فَأَخْبَرَنِي أَنِّي أَوَّلُ مَنْ يَتْبَعُهُ مِنْ أَهْلِهِ فَضَحِكْتُ .

Narrator: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

৬০৯০। মনসুর ইবনে আবু মুযাহিম ও যুহাইর ইবনে হারব (রাহঃ) ......... আয়িশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাঁর মেয়ে ফাতিমাকে ডেকে চুপি চুপি কিছু বললেন। তখন তিনি কাঁদলেন। আবার চুপে চুপে তিনি কিছু বললেন। তখন তিনি হেসে ফেললেন। আয়িশা (রাযিঃ) বলেন, আমি ফাতিমাকে বললাম, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তোমাকে চুপেচুপে কি বললেন যে, তুমি কেঁদে ফেললে এবং তারপর কি বললেন যে, তুমি হেসে ফেললে? ফাতিমা (রাযিঃ) বললেন চুপে চুপে তিনি আমাকে তাঁর মৃত্যু সংবাদ দিলেন, তাই আমি কাঁদলাম। এরপর চুপি চুপি তিনি বললেন, তাঁর পরিজনদের মধ্যে তার পরে আমি সর্বপ্রথম (মিলিতি হব) যাবো আমি, তাই হাসলাম।

6091

حَدَّثَنَا أَبُو كَامِلٍ الْجَحْدَرِيُّ، فُضَيْلُ بْنُ حُسَيْنٍ حَدَّثَنَا أَبُو عَوَانَةَ، عَنْ فِرَاسٍ، عَنْ عَامِرٍ، عَنْ مَسْرُوقٍ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ كُنَّ أَزْوَاجُ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم عِنْدَهُ لَمْ يُغَادِرْ مِنْهُنَّ وَاحِدَةً فَأَقْبَلَتْ فَاطِمَةُ تَمْشِي مَا تُخْطِئُ مِشْيَتُهَا مِنْ مِشْيَةِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم شَيْئًا فَلَمَّا رَآهَا رَحَّبَ بِهَا فَقَالَ " مَرْحَبًا بِابْنَتِي " . ثُمَّ أَجْلَسَهَا عَنْ يَمِينِهِ أَوْ عَنْ شِمَالِهِ ثُمَّ سَارَّهَا فَبَكَتْ بُكَاءً شَدِيدًا فَلَمَّا رَأَى جَزَعَهَا سَارَّهَا الثَّانِيَةَ فَضَحِكَتْ . فَقُلْتُ لَهَا خَصَّكِ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مِنْ بَيْنِ نِسَائِهِ بِالسِّرَارِ ثُمَّ أَنْتِ تَبْكِينَ فَلَمَّا قَامَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم سَأَلْتُهَا مَا قَالَ لَكِ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَتْ مَا كُنْتُ أُفْشِي عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم سِرَّهُ . قَالَتْ فَلَمَّا تُوُفِّيَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قُلْتُ عَزَمْتُ عَلَيْكِ بِمَا لِي عَلَيْكِ مِنَ الْحَقِّ لَمَا حَدَّثْتِنِي مَا قَالَ لَكِ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَتْ أَمَّا الآنَ فَنَعَمْ أَمَّا حِينَ سَارَّنِي فِي الْمَرَّةِ الأُولَى فَأَخْبَرَنِي " أَنَّ جِبْرِيلَ كَانَ يُعَارِضُهُ الْقُرْآنَ فِي كُلِّ سَنَةٍ مَرَّةً أَوْ مَرَّتَيْنِ وَإِنَّهُ عَارَضَهُ الآنَ مَرَّتَيْنِ وَإِنِّي لاَ أُرَى الأَجَلَ إِلاَّ قَدِ اقْتَرَبَ فَاتَّقِي اللَّهَ وَاصْبِرِي فَإِنَّهُ نِعْمَ السَّلَفُ أَنَا لَكِ " . قَالَتْ فَبَكَيْتُ بُكَائِي الَّذِي رَأَيْتِ فَلَمَّا رَأَى جَزَعِي سَارَّنِي الثَّانِيَةَ فَقَالَ " يَا فَاطِمَةُ أَمَا تَرْضَىْ أَنْ تَكُونِي سَيِّدَةَ نِسَاءِ الْمُؤْمِنِينَ أَوْ سَيِّدَةَ نِسَاءِ هَذِهِ الأُمَّةِ " . قَالَتْ فَضَحِكْتُ ضَحِكِي الَّذِي رَأَيْتِ .

Narrator: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

৬০৯১। আবু কামিল জাহদারী ফুযায়ল ইবনে হুসাইন (রাহঃ) ......... আয়িশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর বিবিরা সকলেই তার কাছে ছিলেন, তাদের মধ্যে কেউ বাদ ছিলেন না। এমন সময় ফাতিমা (রাযিঃ) এলেন। তাঁর চলার ভঙ্গি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর চলার ভঙ্গি থেকে একটুও পৃথক ছিল না। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যখন তাঁকে দেখলেন তখন তিনি এ বলে খোশ আমদেদ জানালেন মারহাবা, হে আমার স্নেহের কন্যা! এরপর তাঁকে তাঁর ডানপাশে অথবা বামপাশে বসালেন এবং তাঁর সাথে চুপে চুপে কিছু বললেন। এতে তিনি খুব কাঁদলেন। যখন তিনি তাঁর অস্থিরতা দেখলেন, তিনি পুনরায় তাঁর সাথে চুপেচুপে কিছু বললেন, তখন তিনি হেসে দিলেন। আমি তাঁকে বললাম, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তার স্ত্রীগণের মধ্যে (কাউকে না বলে) তোমার সঙ্গে বিশেষভাবে কোন গোপন কথা বলেছেন। আবার তুমি কাঁদছো? অতঃপর যখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) উঠে গেলেন, আমি তাকে জিজ্ঞাসা করলাম, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তোমার কাছে কি বলেছেন?

তিনি বললেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর গোপন কথা প্রকাশ করবো না। আয়িশা (রাযিঃ) বলেন, যখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর ওফাত হয়ে গেলো, তখন আমি তার উপর আমার অধিকারের শপথ দিয়ে বললাম, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তোমাকে কী বলেছেন, অবশ্যই আমাকে বলতে হবে। তিনি বললেন, আচ্ছা। এখন তবে, হ্যাঁ। প্রথমবার তিনি আমাকে গোপনে বললেনঃ জিবরাঈল (আলাইহিস সালাম) প্রতি বছর একবার [ কি দু’বার ] আমাকে কুরআন পুনরাবৃত্তি করান। এ বছর তিনি দু’বার পুনরাবৃত্তি করালেন। আমার মনে হয় আমার সময় কাছে এসে গেছে। তুমি আল্লাহকে ভয় কর এবং ধৈর্যধারণ কর। কেননা আমি তোমার জন্য কত উত্তম পূর্বসূরী। তখন আমি কঁদলাম যা আপনি দেখেছেন। এরপর আমার অস্থিরতা দেখে তিনি দ্বিতীয়বার চুপি চুপি বললেন, হে ফাতিমা! মুমিন রমণীদের প্রধান ও এ উম্মতের সকল মহিলাদের সরদার হওয়া কি তুমি পছন্দ কর না? ফাতিমা (রাযিঃ) বললেন, তখন আমি হাসলাম। আমার যে হাসি আপনি দেখেছেন।
6092

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، وَحَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ نُمَيْرٍ، عَنْ زَكَرِيَّاءَ، ح وَحَدَّثَنَا ابْنُ نُمَيْرٍ، حَدَّثَنَا أَبِي، حَدَّثَنَا زَكَرِيَّاءُ، عَنْ فِرَاسٍ، عَنْ عَامِرٍ، عَنْ مَسْرُوقٍ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتِ اجْتَمَعَ نِسَاءُ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَلَمْ يُغَادِرْ مِنْهُنَّ امْرَأَةً فَجَاءَتْ فَاطِمَةُ تَمْشِي كَأَنَّ مِشْيَتَهَا مِشْيَةُ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ " مَرْحَبًا بِابْنَتِي " . فَأَجْلَسَهَا عَنْ يَمِينِهِ أَوْ عَنْ شِمَالِهِ ثُمَّ إِنَّهُ أَسَرَّ إِلَيْهَا حَدِيثًا فَبَكَتْ فَاطِمَةُ ثُمَّ إِنَّهُ سَارَّهَا فَضَحِكَتْ أَيْضًا فَقُلْتُ لَهَا مَا يُبْكِيكِ فَقَالَتْ مَا كُنْتُ لأُفْشِيَ سِرَّ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم . فَقُلْتُ مَا رَأَيْتُ كَالْيَوْمِ فَرَحًا أَقْرَبَ مِنْ حُزْنٍ . فَقُلْتُ لَهَا حِينَ بَكَتْ أَخَصَّكِ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِحَدِيثِهِ دُونَنَا ثُمَّ تَبْكِينَ وَسَأَلْتُهَا عَمَّا قَالَ فَقَالَتْ مَا كُنْتُ لأُفْشِيَ سِرَّ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم . حَتَّى إِذَا قُبِضَ سَأَلْتُهَا فَقَالَتْ إِنَّهُ كَانَ حَدَّثَنِي " أَنَّ جِبْرِيلَ كَانَ يُعَارِضُهُ بِالْقُرْآنِ كُلَّ عَامٍ مَرَّةً وَإِنَّهُ عَارَضَهُ بِهِ فِي الْعَامِ مَرَّتَيْنِ وَلاَ أُرَانِي إِلاَّ قَدْ حَضَرَ أَجَلِي وَإِنَّكِ أَوَّلُ أَهْلِي لُحُوقًا بِي وَنِعْمَ السَّلَفُ أَنَا لَكِ " . فَبَكَيْتُ لِذَلِكِ ثُمَّ إِنَّهُ سَارَّنِي فَقَالَ " أَلاَ تَرْضَيْنَ أَنْ تَكُونِي سَيِّدَةَ نِسَاءِ الْمُؤْمِنِينَ أَوْ سَيِّدَةَ نِسَاءِ هَذِهِ الأُمَّةِ " . فَضَحِكْتُ لِذَلِكِ .

Narrator: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

৬০৯২। আবু বকর ইবনে আবি শাঈবা ও ইবনে নুমাইর (রাহঃ) ......... আয়িশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) এর সকল বিবি একত্রিত হলেন। তাঁদের মধ্যে একজনও বাদ রইলেন না। তখন ফাতিমা (রাযিঃ) হেঁটে আসলেন। তার হাটার ভঙ্গী যেন একেবারে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর চলার মত। তিনি বললেন, খোশ আমদেদ স্নেহের মেয়ে আমার! অতঃপর তাকে তাঁর ডানদিকে কিংবা তাঁর বামদিকে বসালেন এবং চুপি চুপি কিছু কথা বললেন। এতে ফাতিমা (রাযিঃ) কেঁদে ফেললেন। তারপর তিনি তাঁকে চুপি চুপি আবার কিছু বললেন, এতে তিনি হাসলেন। আমি তাঁকে বললাম, কিসে তোমাকে কাদালো? তিনি বললেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর গোপন কথা ফাস করতে পারি না। আমি বললাম আমি আজকের মতো কোন আনন্দকে বেদনার এতো নিকটবর্তী দেখি নি। আমি বললাম, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদের ছেড়ে তোমাকে তাঁর কথা বলার জন্য বিশেষত্ব দান করলেন। আর তুমি কাঁদছো? আবার তাকে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কী বলেছেনঃ তা জিজ্ঞাসা করলাম।

তিনি বললেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর গোপন কথা প্রকাশ করতে পারি না। অবশেষে যখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ইন্‌তিকাল করলেন, তখন আমি তাঁকে জিজ্ঞাসা করলাম। তখন তিনি বললেন, তিনি আমাকে বলেছিলেন জিবরাঈল (আলাইহিস সালাম) প্রতি বছর একবার তাঁর সঙ্গে কুরআন আবৃতি করতেন। আর এ বছর তিনি তাঁর সঙ্গে দু’বার আবৃতি করেছেন। এতে আমার মনে হয় নিশ্চয়ই মৃত্যু আমার নিকটবর্তী। আর তুমিই আমার পরিজনদের মাঝে সর্বপ্রথম আমার সঙ্গে মিলিত হবে। তোমার জন্য আমি কতই না উত্তম অগ্রগামী। তখন আমি কেঁদেছি। এরপর তিনি আমাকে চুপ চুপি বললেন, তুমি ঈমানদার মহিলাদের প্রধান অথবা এ উম্মতের মহিলাদের সরদার হওয়া কি পছন্দ কর না? একথা শুনে আমি হেসেছি।

১৬. উম্মুল মউ’মিনীন উম্মে সালামা (রাযিঃ) এর ফযীলত

باب مِنْ فَضَائِلِ أُمِّ سَلَمَةَ أُمِّ الْمُؤْمِنِينَ رضى الله عنها

6093

حَدَّثَنِي عَبْدُ الأَعْلَى بْنُ حَمَّادٍ، وَمُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الأَعْلَى الْقَيْسِيُّ، كِلاَهُمَا عَنِ الْمُعْتَمِرِ، - قَالَ ابْنُ حَمَّادٍ حَدَّثَنَا مُعْتَمِرُ بْنُ سُلَيْمَانَ، - قَالَ سَمِعْتُ أَبِي، حَدَّثَنَا أَبُو عُثْمَانَ، عَنْ سَلْمَانَ، قَالَ لاَ تَكُونَنَّ إِنِ اسْتَطَعْتَ أَوَّلَ مَنْ يَدْخُلُ السُّوقَ وَلاَ آخِرَ مَنْ يَخْرُجُ مِنْهَا فَإِنَّهَا مَعْرَكَةُ الشَّيْطَانِ وَبِهَا يَنْصِبُ رَايَتَهُ . قَالَ وَأُنْبِئْتُ أَنَّ جِبْرِيلَ عَلَيْهِ السَّلاَمُ أَتَى نَبِيَّ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَعِنْدَهُ أُمُّ سَلَمَةَ - قَالَ - فَجَعَلَ يَتَحَدَّثُ ثُمَّ قَامَ فَقَالَ نَبِيُّ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لأُمِّ سَلَمَةَ " مَنْ هَذَا " . أَوْ كَمَا قَالَ قَالَتْ هَذَا دِحْيَةُ - قَالَ - فَقَالَتْ أُمُّ سَلَمَةَ ايْمُ اللَّهِ مَا حَسِبْتُهُ إِلاَّ إِيَّاهُ حَتَّى سَمِعْتُ خُطْبَةَ نَبِيِّ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يُخْبِرُ خَبَرَنَا أَوْ كَمَا قَالَ قَالَ فَقُلْتُ لأَبِي عُثْمَانَ مِمَّنْ سَمِعْتَ هَذَا قَالَ مِنْ أُسَامَةَ بْنِ زَيْدٍ .

Narrator: সালমান ফারিসী (রাঃ)

৬০৯৩। আব্দুল আলা ইবনে হাম্মাদ ও মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল আ’লা কায়সী (রাহঃ) ......... সালমান (রাযিঃ) থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, যদি তোমার পক্ষে সম্ভব হয় তবে বাজারে প্রবেশকারীদের মধ্যে তুমি প্রথম হয়ো না এবং তথা হতে বহির্গমনকারীদের মধ্যে তুমি শেষ ব্যক্তি হয়ো না। বাজার হলো শয়তানের আড্ডাখানা। আর তথায়ই সে তার ঝান্ডা উত্তোলন করে রাখে। সালমান (রাযিঃ) বলেন, আমাকে এ খবরও দেওয়া হয়েছে যে, জিবরাঈল (আলাইহিস সালাম) নবী (ﷺ) এর কাছে এলেন। তখন তাঁর পাশে উম্মে সালামা (রাযিঃ) ছিলেন। রাবী বলেন, অতঃপর জিবরাঈল (আলাইহিস সালাম) কথা বলতে লাগলেন এবং পরে চলে গেলেন।

অতঃপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) উম্মে সালামাকে জিজ্ঞাসা করলেন, ইনি কে ছিলেন? বা এরূপ কথা বললেন। উম্মে সালামা (রাযিঃ) উত্তর দিলেন, দাহইয়া কালবী। তিনি বলেন, উম্মে সালামা (রাযিঃ) বলেন, আল্লাহর কসম! আমি তো তাকে দাহইয়া কালবী বলেই ধারণা করেছিলাম। যতক্ষণ না রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর ভাষণ শুনলাম। তিনি আমাদের কথা বলছিলেন অথবা এরূপ বলেছিলেন। অর্থাৎ জিবরাঈলের আগমনের বর্ণনা দিচ্ছিলেন। বর্ণনাকারী বলেন, আমি রাবী আবু উসমানকে জিজ্ঞাসা করলাম যে, আপনি এ হাদীস কার মাধ্যমে শুনেছেন? তিনি বললেন, উসামা ইবনে যায়দ (রাযিঃ) থেকে।

১৭. উম্মুল মু’মিনীন যায়নাব (রাযিঃ) এর ফযীলত

باب مِنْ فَضَائِلِ زَيْنَبَ أُمِّ الْمُؤْمِنِينَ رضى الله عنها

6094

حَدَّثَنَا مَحْمُودُ بْنُ غَيْلاَنَ أَبُو أَحْمَدَ، حَدَّثَنَا الْفَضْلُ بْنُ مُوسَى السِّيْنَانِيُّ، أَخْبَرَنَا طَلْحَةُ بْنُ يَحْيَى بْنِ طَلْحَةَ، عَنْ عَائِشَةَ بِنْتِ طَلْحَةَ، عَنْ عَائِشَةَ أُمِّ الْمُؤْمِنِينَ، قَالَتْ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " أَسْرَعُكُنَّ لَحَاقًا بِي أَطْوَلُكُنَّ يَدًا " . قَالَتْ فَكُنَّ يَتَطَاوَلْنَ أَيَّتُهُنَّ أَطْوَلُ يَدًا . قَالَتْ فَكَانَتْ أَطْوَلَنَا يَدًا زَيْنَبُ لأَنَّهَا كَانَتْ تَعْمَلُ بِيَدِهَا وَتَصَدَّقُ .

Narrator: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

৬০৯৪। মাহমুদ ইবনে গায়লান আবু আহমদ (রাহঃ) ......... উম্মুল মু’মিনীন আয়িশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ তোমাদের মধ্যে সর্বপ্রথম সে-ই আমার সাথে মিলিত হবে যার হাত সর্বাধিক লম্বা। সুতরাং তারা (সব বিবিরা) নিজ নিজ হাত মেপে দেখতে লাগলেন কার হাত বেশী লম্বা। আয়িশা (রাযিঃ) বলেন, অবশেষে আমাদের মধ্যে যয়নাবের হাতই সবচেয়ে লম্বা বলে স্থির হল। কারণ তিনি হাত দিয়ে কাজ করতেন এবং দান-খয়রাত করতেন।

১৮. উম্মু আয়মান (রাযিঃ) এর ফযীলত

باب مِنْ فَضَائِلِ أُمِّ أَيْمَنَ رضى الله عنها

6095

حَدَّثَنَا أَبُو كُرَيْبٍ، مُحَمَّدُ بْنُ الْعَلاَءِ حَدَّثَنَا أَبُو أُسَامَةَ، عَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ الْمُغِيرَةِ، عَنْ ثَابِتٍ، عَنْ أَنَسٍ، قَالَ انْطَلَقَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِلَى أُمِّ أَيْمَنَ فَانْطَلَقْتُ مَعَهُ فَنَاوَلَتْهُ إِنَاءً فِيهِ شَرَابٌ - قَالَ - فَلاَ أَدْرِي أَصَادَفَتْهُ صَائِمًا أَوْ لَمْ يُرِدْهُ فَجَعَلَتْ تَصْخَبُ عَلَيْهِ وَتَذَمَّرُ عَلَيْهِ .

Narrator: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

৬০৯৫। আবু কুরায়ব মুহাম্মাদ ইবনে আ’লা (রাহঃ) ......... আনাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) উম্মু আয়মানের কাছে গেলেন। আমিও তাঁর সঙ্গে গেলাম। তিনি তাঁর দিকে একটি শরবতের পাত্র এগিয়ে দিলেন। তিনি বলেন, আমি জানি না যে, নবী (ﷺ) রোযা পালন করছিলেন, না তা (পান করার) ইচ্ছা করলেন না। উম্মু আয়মান (রাযিঃ) এতে চিৎকার করে উঠলেন এবং তাঁর উপর রাগ প্রকাশ করতে লাগলেন।

6096

حَدَّثَنَا زُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، أَخْبَرَنِي عَمْرُو بْنُ عَاصِمٍ الْكِلاَبِيُّ، حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ الْمُغِيرَةِ، عَنْ ثَابِتٍ، عَنْ أَنَسٍ، قَالَ قَالَ أَبُو بَكْرٍ رضى الله عنه بَعْدَ وَفَاةِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لِعُمَرَ انْطَلِقْ بِنَا إِلَى أُمِّ أَيْمَنَ نَزُورُهَا كَمَا كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَزُورُهَا . فَلَمَّا انْتَهَيْنَا إِلَيْهَا بَكَتْ فَقَالاَ لَهَا مَا يُبْكِيكِ مَا عِنْدَ اللَّهِ خَيْرٌ لِرَسُولِهِ صلى الله عليه وسلم . فَقَالَتْ مَا أَبْكِي أَنْ لاَ أَكُونَ أَعْلَمُ أَنَّ مَا عِنْدَ اللَّهِ خَيْرٌ لِرَسُولِهِ صلى الله عليه وسلم وَلَكِنْ أَبْكِي أَنَّ الْوَحْىَ قَدِ انْقَطَعَ مِنَ السَّمَاءِ . فَهَيَّجَتْهُمَا عَلَى الْبُكَاءِ فَجَعَلاَ يَبْكِيَانِ مَعَهَا .

Narrator: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

৬০৯৬। যুহাইর ইবনে হারব (রাহঃ) ......... আনাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর ওফাতের পর আবু বকর (রাযিঃ) উমর (রাযিঃ) কে বললেন, চলো উম্মু আয়মানের কাছে যাই, তাঁর সঙ্গে সাক্ষাত করতে যাবো যেমন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাঁর সাক্ষাতে যেতেন। যখন আমরা তার কাছে গেলাম, তখন তিনি কাঁদতে লাগলেন। তাঁরা দুজন বললেন, তুমি কাঁদছ কেন? আল্লাহ তাআলার কাছে যা কিছু রয়েছে তা তাঁর রাসুলের জন্য বেশী উত্তম। উম্মু আয়মান (রাযিঃ) বললেন, এজন্য আমি কাদছি না যে, আমি জানি না আল্লাহর কাছে যা কিছু আছে তা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর জন্য উত্তম; বরং এ জন্য আমি কাদছি যে, আসমান থেকে ওহী আসা বন্ধ হয়ে গেলো। উম্মু আয়মানের এ কথা তাঁদের মধ্যেও কান্নার আবেগ সৃষ্টি করল। সুতরাং তারাও তার সাথে কাঁদতে লাগলেন।

১৯. উম্মে আনাস ইবনে মালিকের মাতা উম্মে সুলায়ম এবং বিলাল (রাযিঃ) এর ফযীলত

باب مِنْ فَضَائِلِ أُمِّ سُلَيْمٍ أُمِّ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ وَبِلاَلٍ رضى الله عنهما

6097

حَدَّثَنَا حَسَنٌ الْحُلْوَانِيُّ، حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ عَاصِمٍ، حَدَّثَنَا هَمَّامٌ، عَنْ إِسْحَاقَ بْنِ عَبْدِ، اللَّهِ عَنْ أَنَسٍ، قَالَ كَانَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم لاَ يَدْخُلُ عَلَى أَحَدٍ مِنَ النِّسَاءِ إِلاَّ عَلَى أَزْوَاجِهِ إِلاَّ أُمِّ سُلَيْمٍ فَإِنَّهُ كَانَ يَدْخُلُ عَلَيْهَا فَقِيلَ لَهُ فِي ذَلِكَ فَقَالَ " إِنِّي أَرْحَمُهَا قُتِلَ أَخُوهَا مَعِي " .

Narrator: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

৬০৯৭। হাসান হুলওয়ানী (রাহঃ) ......... আনাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তার স্ত্রীদের ছাড়া অন্য কোন মহিলার বাড়িতে প্রবেশ করতেন না। কিন্তু উম্মে সুলায়মের কাছে যেতেন। লোকেরা এর কারণ জিজ্ঞাসা করলে তিনি বললেন, এর উপর আমার বড় করুণা হয়। আমার সঙ্গে থেকে তার ভাই নিহত হয়েছে।

6098

وَحَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي عُمَرَ، حَدَّثَنَا بِشْرٌ، - يَعْنِي ابْنَ السَّرِيِّ - حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ، عَنْ ثَابِتٍ، عَنْ أَنَسٍ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " دَخَلْتُ الْجَنَّةَ فَسَمِعْتُ خَشْفَةً فَقُلْتُ مَنْ هَذَا قَالُوا هَذِهِ الْغُمَيْصَاءُ بِنْتُ مِلْحَانَ أُمُّ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ " .

Narrator: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

৬০৯৮। ইবনে আবু উমর (রাহঃ) ......... আনাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, আমি জান্নাতে গেলাম, সেখানে আমি কারও চলার শব্দ পেলাম। আমি জিজ্ঞাসা করলাম, কে? লোকেরা বললো, তিনি গুমায়সা বিনতে মিলহান (রাযিঃ), আনাস ইবনে মালিকের মা।

6099

حَدَّثَنِي أَبُو جَعْفَرٍ، مُحَمَّدُ بْنُ الْفَرَجِ حَدَّثَنَا زَيْدُ بْنُ الْحُبَابِ، أَخْبَرَنِي عَبْدُ الْعَزِيزِ، بْنُ أَبِي سَلَمَةَ أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُنْكَدِرِ، عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " أُرِيتُ الْجَنَّةَ فَرَأَيْتُ امْرَأَةَ أَبِي طَلْحَةَ ثُمَّ سَمِعْتُ خَشْخَشَةً أَمَامِي فَإِذَا بِلاَلٌ " .

Narrator: জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ আনসারী (রাঃ)

৬০৯৯। আবু জাফর মুহাম্মাদ ইবনে ফারাজ (রাহঃ) ......... জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ আমাকে জান্নাত দেখানো হয়েছে যে, আমি আবু তালহার স্ত্রীকে দেখলাম। অতঃপর আমার সামনে পদধ্বনি শুনতে পেলাম তাকিয়ে দেখি বিলাল।

২০. আবু তালহা আনসারী (রাযিঃ) এর ফযীলত

باب مِنْ فَضَائِلِ أَبِي طَلْحَةَ الأَنْصَارِيِّ رضى الله تعالى عنه

6100

حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ حَاتِمِ بْنِ مَيْمُونٍ، حَدَّثَنَا بَهْزٌ، حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ الْمُغِيرَةِ، عَنْ ثَابِتٍ، عَنْ أَنَسٍ، قَالَ مَاتَ ابْنٌ لأَبِي طَلْحَةَ مِنْ أُمِّ سُلَيْمٍ فَقَالَتْ لأَهْلِهَا لاَ تُحَدِّثُوا أَبَا طَلْحَةَ بِابْنِهِ حَتَّى أَكُونَ أَنَا أُحَدِّثُهُ - قَالَ - فَجَاءَ فَقَرَّبَتْ إِلَيْهِ عَشَاءً فَأَكَلَ وَشَرِبَ - فَقَالَ - ثُمَّ تَصَنَّعَتْ لَهُ أَحْسَنَ مَا كَانَ تَصَنَّعُ قَبْلَ ذَلِكَ فَوَقَعَ بِهَا فَلَمَّا رَأَتْ أَنَّهُ قَدْ شَبِعَ وَأَصَابَ مِنْهَا قَالَتْ يَا أَبَا طَلْحَةَ أَرَأَيْتَ لَوْ أَنَّ قَوْمًا أَعَارُوا عَارِيَتَهُمْ أَهْلَ بَيْتٍ فَطَلَبُوا عَارِيَتَهُمْ أَلَهُمْ أَنْ يَمْنَعُوهُمْ قَالَ لاَ . قَالَتْ فَاحْتَسِبِ ابْنَكَ . قَالَ فَغَضِبَ وَقَالَ تَرَكْتِنِي حَتَّى تَلَطَّخْتُ ثُمَّ أَخْبَرْتِنِي بِابْنِي . فَانْطَلَقَ حَتَّى أَتَى رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَأَخْبَرَهُ بِمَا كَانَ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " بَارَكَ اللَّهُ لَكُمَا فِي غَابِرِ لَيْلَتِكُمَا " . قَالَ فَحَمَلَتْ - قَالَ - فَكَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي سَفَرٍ وَهِيَ مَعَهُ وَكَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِذَا أَتَى الْمَدِينَةَ مِنْ سَفَرٍ لاَ يَطْرُقُهَا طُرُوقًا فَدَنَوْا مِنَ الْمَدِينَةِ فَضَرَبَهَا الْمَخَاضُ فَاحْتُبِسَ عَلَيْهَا أَبُو طَلْحَةَ وَانْطَلَقَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم - قَالَ - يَقُولُ أَبُو طَلْحَةَ إِنَّكَ لَتَعْلَمُ يَا رَبِّ إِنَّهُ يُعْجِبُنِي أَنْ أَخْرُجَ مَعَ رَسُولِكَ إِذَا خَرَجَ وَأَدْخُلَ مَعَهُ إِذَا دَخَلَ وَقَدِ احْتُبِسْتُ بِمَا تَرَى - قَالَ - تَقُولُ أُمُّ سُلَيْمٍ يَا أَبَا طَلْحَةَ مَا أَجِدُ الَّذِي كُنْتُ أَجِدُ انْطَلِقْ . فَانْطَلَقْنَا - قَالَ - وَضَرَبَهَا الْمَخَاضُ حِينَ قَدِمَا فَوَلَدَتْ غُلاَمًا فَقَالَتْ لِي أُمِّي يَا أَنَسُ لاَ يُرْضِعُهُ أَحَدٌ حَتَّى تَغْدُوَ بِهِ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم . فَلَمَّا أَصْبَحَ احْتَمَلْتُهُ فَانْطَلَقْتُ بِهِ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم - قَالَ - فَصَادَفْتُهُ وَمَعَهُ مِيسَمٌ فَلَمَّا رَآنِي قَالَ " لَعَلَّ أُمَّ سُلَيْمٍ وَلَدَتْ " . قُلْتُ نَعَمْ . فَوَضَعَ الْمِيسَمَ - قَالَ - وَجِئْتُ بِهِ فَوَضَعْتُهُ فِي حَجْرِهِ وَدَعَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِعَجْوَةٍ مِنْ عَجْوَةِ الْمَدِينَةِ فَلاَكَهَا فِي فِيهِ حَتَّى ذَابَتْ ثُمَّ قَذَفَهَا فِي فِي الصَّبِيِّ فَجَعَلَ الصَّبِيُّ يَتَلَمَّظُهَا - قَالَ - فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " انْظُرُوا إِلَى حُبِّ الأَنْصَارِ التَّمْرَ " . قَالَ فَمَسَحَ وَجْهَهُ وَسَمَّاهُ عَبْدَ اللَّهِ .

Narrator: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

৬১০০। মুহাম্মাদ ইবনে হাতিম ইবনে মায়মুন (রাহঃ) ......... আনাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আবু তালহার ঔরষজাত উম্মে সুলায়মের ছেলে মারা গেলো। তখন উম্মে সুলায়ম (রাযিঃ) তার পরিবারে লোকদের বললো, আবু তালহাকে তাঁর ছেলের খবর দিও না, যতক্ষণ আমি না বলি। তিনি বলেন, অতঃপর আবু তালহা (রাযিঃ) এলেন। উম্মে সুলায়ম (রাযিঃ) রাতের খানা সামনে আনলে তিনি পানাহার করলেন। তারপর উম্মে সুলায়ম ভালোমতো সাজগোজ করলেন। আবু তালহা (রাযিঃ) তাঁর সাথে মিলিত হলেন। যখন উস্মু সুলায়ম (রাযিঃ) দেখলেন যে, তিনি মিলনে পরিতৃপ্ত, তখন তাঁকে বললেন, হে আবু তালহা! কেউ যদি কাউকে কোন জিনিস রাখতে দেয়, এরপর তা নিয়ে নেয়, তবে কি সে তা ফিরাতে পারে? আবু তালহা (রাযিঃ) বললেন, না। উম্মে সুলায়ম (রাযিঃ) বললেন, আমি তোমার ছেলের মৃত্যু সংবাদ দিচ্ছি।

আবু তালহা (রাযিঃ) রেগে গিয়ে বললেন, তুমি আমাকে আগে বল নি, আর এখন আমি অপবিত্র, এখন খবরটা দিলে? তিনি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কাছে গিয়ে খবরটা দিলেন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন তোমাদের বিগত রাতটিতে আল্লাহ তাআলা বরকত দিন, উম্মে সুলায়ম অন্তসত্তা হয়ে গেছে। পরে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এক সফরে ছিলেন। উম্মে সুলায়মও এ সফরে ছিলেন। তিনি যখন সফর থেকে ফেরতেন, তখন রাতের বেলা মদীনায় প্রবেশ করতেন না। লোকেরা যখন মদীনার কাছে পৌছলো তখন উম্মে সুলায়মের প্রসব বেদনা শুরু হল। আবু তালহা (রাযিঃ) তাঁর কাছে রয়ে গেলেন। আর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) চলে গেলেন।

আবু তালহা (রাযিঃ) বললেন, হে পরোয়ারদিগার তুমি তো জানো যে, তোমার রাসূলের সাথে বের হতে আমার ভাল লাগে যখন তিনি বের হন, আর তাঁর সাথে যেতে আমার ভালো লাগে যখন তিনি যান। কিন্তু তুমি জানো কেন আমি থেকে গিয়েছি। রাবী বলেন, উম্মে সুলায়ম (রাযিঃ) বললেন, হে আবু তালহা! আগের মতো বেদনা আমার নেই। চলুন আমরা চলে যাই। স্বামী-স্ত্রী মদীনায় পৌছলে উম্মে সুলায়মের বেদনা পুনরায় শুরু হলো। আর তিনি একটি শিশু পুত্র প্রসব করলেন। আমার মা বললেন, হে আনাস! শিশুটিকে যেন কেউ দুধপান না করায় যতক্ষণ তুমি তাকে ভোরবেলা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কাছে নিয়ে যাও।

সকাল হলে আমি শিশুটিকে নিয়ে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কাছে গেলাম। আমি দেখলাম তাঁর হাতে উট দাগানোর যন্ত্র। আমাকে যখন তিনি দেখলেন, বললেন, সম্ভবত উম্মু সূলায়ম (এ ছেলেটি) প্রসব করেছে। আমি বললাম, হ্যাঁ। বর্ণনাকারী বলেন, তিনি সে যন্ত্রটি হাত থেকে রেখে দিলেন। আমি শিশুটিকে নিয়ে তার কোলে রাখলাম। তিনি মদীনার আজওয়া খেজুর আনালেন এবং নিজের মুখে দিয়ে চিবুলেন। যখন খেজুর গলে গেল, তখন শিশুটির মুখে দিলেন। শিশুটি তা চুষতে লাগলো। তিনি বললেন, দেখো আনসারদের খেজুর প্রীতি। পরে তিনি শিশুর মুখে হাত বুলালেন এবং এর নাম রাখলেন আব্দুল্লাহ।
6101

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ الْحَسَنِ بْنِ خِرَاشٍ، حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ عَاصِمٍ، حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ، الْمُغِيرَةِ حَدَّثَنَا ثَابِتٌ، حَدَّثَنِي أَنَسُ بْنُ مَالِكٍ، قَالَ مَاتَ ابْنٌ لأَبِي طَلْحَةَ . وَاقْتَصَّ الْحَدِيثَ بِمِثْلِهِ .

Narrator: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

৬১০১। আহমদ ইবনে হাসান ইবনে খারাশ (রাহঃ) ......... আনাস ইবনে মালিক (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আবু তালহার একটি ছেলে মারা গেল ...... এর পরের অংশ উল্লেখিত হাদীসের অনুরূপ।

২১. বিলাল (রাযিঃ) এর ফযীলত

باب مِنْ فَضَائِلِ بِلاَلٍ رضى الله عنه

6102

حَدَّثَنَا عُبَيْدُ بْنُ يَعِيشَ، وَمُحَمَّدُ بْنُ الْعَلاَءِ الْهَمْدَانِيُّ، قَالاَ حَدَّثَنَا أَبُو أُسَامَةَ، عَنْ أَبِي حَيَّانَ، ح وَحَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ نُمَيْرٍ، - وَاللَّفْظُ لَهُ - حَدَّثَنَا أَبِي، حَدَّثَنَا أَبُو حَيَّانَ التَّيْمِيُّ يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ عَنْ أَبِي زُرْعَةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لِبِلاَلٍ عِنْدَ صَلاَةِ الْغَدَاةِ " يَا بِلاَلُ حَدِّثْنِي بِأَرْجَى عَمَلٍ عَمِلْتَهُ عِنْدَكَ فِي الإِسْلاَمِ مَنْفَعَةً فَإِنِّي سَمِعْتُ اللَّيْلَةَ خَشْفَ نَعْلَيْكَ بَيْنَ يَدَىَّ فِي الْجَنَّةِ " . قَالَ بِلاَلٌ مَا عَمِلْتُ عَمَلاً فِي الإِسْلاَمِ أَرْجَى عِنْدِي مَنْفَعَةً مِنْ أَنِّي لاَ أَتَطَهَّرُ طُهُورًا تَامًّا فِي سَاعَةٍ مِنْ لَيْلٍ وَلاَ نَهَارٍ إِلاَّ صَلَّيْتُ بِذَلِكَ الطُّهُورِ مَا كَتَبَ اللَّهُ لِي أَنْ أُصَلِّيَ .

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৬১০২। উবাইদ ইবনে ইয়াঈশ, মুহাম্মাদ ইবনে আলা হামদানী ও মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে নুমাইর (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ভোরের নামাযের সময় বিলাল (রাযিঃ) কে বলেন, হে বিলাল! তুমি আমাকে বল, ইসলামের পর তুমি এমন কোন আমল করেছ যার উপকারের ব্যাপারে তুমি বেশী আশাবাদী। কেননা আজ রাতে আমি জান্নাতে আমার সামনে তোমার জুতার আওয়াজ শুনেছি। বর্ণনাকারী বলেন, বিলাল বলেন, ইসলামের মধ্যে এর চেয়ে বেশী লাভের আশা আমি অন্য কোন আমলে করতে পারি না যে, আমি দিনে বা রাতে যখনই পূর্ণ উযু করি, তখনই আল্লাহ তাআলা আমার ভাগ্যে যতক্ষণ লিখেছেন, ততক্ষণ ঐ উযু দিয়ে নামায আদায় করে থাকি।

২২. আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাযিঃ) ও তার মায়ের ফযীলত

باب مِنْ فَضَائِلِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ وَأُمِّهِ رَضِيَ اللَّهُ تَعَالَى عَنْهُمَا

6103

حَدَّثَنَا مِنْجَابُ بْنُ الْحَارِثِ التَّمِيمِيُّ، وَسَهْلُ بْنُ عُثْمَانَ، وَعَبْدُ اللَّهِ بْنُ عَامِرِ بْنِ، زُرَارَةَ الْحَضْرَمِيُّ وَسُوَيْدُ بْنُ سَعِيدٍ وَالْوَلِيدُ بْنُ شُجَاعٍ قَالَ سَهْلٌ وَمِنْجَابٌ أَخْبَرَنَا وَقَالَ، الآخَرُونَ حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ مُسْهِرٍ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ، عَنْ عَلْقَمَةَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ لَمَّا نَزَلَتْ هَذِهِ الآيَةُ ( لَيْسَ عَلَى الَّذِينَ آمَنُوا وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ جُنَاحٌ فِيمَا طَعِمُوا إِذَا مَا اتَّقَوْا وَآمَنُوا) إِلَى آخِرِ الآيَةِ قَالَ لِي رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " قِيلَ لِي أَنْتَ مِنْهُمْ " .

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ)

৬১০৩। মিনজাব ইবনে হারিস তায়মী, সাহল ইবনে উসমান, আব্দুল্লাহ ইবনে আমির ইবনে যুরারাহ হাজরামী, সুয়ায়দ ইবনে সাঈদ ও ওয়ালীদ ইবনে শুজা (রাহঃ) ......... আব্দুল্লাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণনা করেন, যখন এ আয়াত অবতীর্ণ হলোঃ “যারা ঈমান এনেছে এবং নেক আমল করেছে তাদের রক্ষিত বস্তুর মধ্যে কোন অসুবিধা নেই যখন তারা (আল্লাহকে) ভয় করে এবং ঈমানদার হয়” ...... শেষ পর্যন্ত (৫ঃ ৯৩), রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তখন আমাকে বললেন, “আমাকে বলা হয়েছে যে, তুমিও এদের অন্তর্ভুক্ত।”

6104
حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ الْحَنْظَلِيُّ، وَمُحَمَّدُ بْنُ رَافِعٍ، - وَاللَّفْظُ لاِبْنِ رَافِعٍ - قَالَ إِسْحَاقُ أَخْبَرَنَا وَقَالَ ابْنُ رَافِعٍ، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ آدَمَ، حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي زَائِدَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، عَنِ الأَسْوَدِ بْنِ يَزِيدَ، عَنْ أَبِي مُوسَى، قَالَ قَدِمْتُ أَنَا وَأَخِي، مِنَ الْيَمَنِ فَكُنَّا حِينًا وَمَا نُرَى ابْنَ مَسْعُودٍ وَأُمَّهُ إِلاَّ مِنْ أَهْلِ بَيْتِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مِنْ كَثْرَةِ دُخُولِهِمْ وَلُزُومِهِمْ لَهُ .
حَدَّثَنِيهِ مُحَمَّدُ بْنُ حَاتِمٍ، حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ مَنْصُورٍ، حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ يُوسُفَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، أَنَّهُ سَمِعَ الأَسْوَدَ، يَقُولُ سَمِعْتُ أَبَا مُوسَى، يَقُولُ لَقَدْ قَدِمْتُ أَنَا وَأَخِي، مِنَ الْيَمَنِ . فَذَكَرَ بِمِثْلِهِ .

Narrator: আবু মুসা আশ'আরী (রাঃ)

৬১০৪। ইসহাক ইবনে ইবরাহীম হানযালী ও মুহাম্মাদ ইবনে রাফি (রাহঃ) ......... আবু মুসা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি এবং আমার ভাই ইয়েমেন থেকে এলাম। আমরা দীর্ঘদিন থাকার পর ইবনে মাসউদ (রাযিঃ) ও তার মাকে রাসুল পরিবারেরই লোক বলে মনে করেছি। কেননা তারা রাসুলের কাছে খুব যাওয়া-আসা এবং সব সময় এক সঙ্গে থাকার কারণে।

মুহাম্মাদ ইবনে হাতিম (রাহঃ) ......... আবু মুসা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি এবং আমার ভাই ইয়েমেন থেকে এলাম ......... পরবর্তী অংশ পূর্বোক্ত হাদীসের অনুরূপ।
6105

حَدَّثَنَا زُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، وَمُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، وَابْنُ، بَشَّارٍ قَالُوا حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ، عَنْ سُفْيَانَ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، عَنِ الأَسْوَدِ، عَنْ أَبِي مُوسَى، قَالَ أَتَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَأَنَا أُرَى أَنَّ عَبْدَ اللَّهِ مِنْ أَهْلِ الْبَيْتِ . أَوْ مَا ذَكَرَ مِنْ نَحْوِ هَذَا .

Narrator: আবু মুসা আশ'আরী (রাঃ)

৬১০৫। যুহাইর ইবনে হারব, মুহাম্মাদ ইবনে মুসান্না ও ইবনে বাশশার (রাহঃ) ......... আবু মুসা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর খিদমতে এলাম আমার ধারণা ছিল যে, আব্দুল্লাহ তাঁরই পরিজনের অন্তর্ভুক্ত অথবা ......... তিনি অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।

6106

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، وَابْنُ، بَشَّارٍ - وَاللَّفْظُ لاِبْنِ الْمُثَنَّى - قَالاَ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ، بْنُ جَعْفَرٍ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، قَالَ سَمِعْتُ أَبَا الأَحْوَصِ، قَالَ شَهِدْتُ أَبَا مُوسَى وَأَبَا مَسْعُودٍ حِينَ مَاتَ ابْنُ مَسْعُودٍ فَقَالَ أَحَدُهُمَا لِصَاحِبِهِ أَتُرَاهُ تَرَكَ بَعْدَهُ مِثْلَهُ فَقَالَ إِنْ قُلْتَ ذَاكَ إِنْ كَانَ لَيُؤْذَنُ لَهُ إِذَا حُجِبْنَا وَيَشْهَدُ إِذَا غِبْنَا .

Narrator: আবুল আহওয়াস (রহঃ)

৬১০৬। মুহাম্মাদ ইবনে মুসান্না ও ইবনে বাশশার (রাহঃ) ......... আবুল আহওয়াস (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, ইবনে মাসউদ (রাযিঃ) এর ইন্‌তিকালের সময় আমি আবু মাসউদ ও আবু মুসার পাশে ছিলাম। তাঁরা একজন আরেকজনকে বললেন, আপনার কি মনে হয়, তাঁর পর তার মতো আর কাউকে কি রেখে গেছেন? অন্যজন বললেন, তুমি এ কথা বলছো, তার অবস্হাই ছিলো এ রকম যে, [রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কাছে প্রবেশের ব্যাপারে] আমাদের বাধা দেওয়া হতো, আর তাকে অনুমতি দেওয়া হতো; আমরা অনুপস্থিত থাকতাম, আর সে উপস্থিত থাকতো।

6107

حَدَّثَنَا أَبُو كُرَيْبٍ، مُحَمَّدُ بْنُ الْعَلاَءِ حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ آدَمَ، حَدَّثَنَا قُطْبَةُ، هُوَ ابْنُ عَبْدِ الْعَزِيزِ عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ مَالِكِ بْنِ الْحَارِثِ، عَنْ أَبِي الأَحْوَصِ، قَالَ كُنَّا فِي دَارِ أَبِي مُوسَى مَعَ نَفَرٍ مِنْ أَصْحَابِ عَبْدِ اللَّهِ وَهُمْ يَنْظُرُونَ فِي مُصْحَفٍ فَقَامَ عَبْدُ اللَّهِ فَقَالَ أَبُو مَسْعُودٍ مَا أَعْلَمُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم تَرَكَ بَعْدَهُ أَعْلَمَ بِمَا أَنْزَلَ اللَّهُ مِنْ هَذَا الْقَائِمِ . فَقَالَ أَبُو مُوسَى أَمَا لَئِنْ قُلْتَ ذَاكَ لَقَدْ كَانَ يَشْهَدُ إِذَا غِبْنَا وَيُؤْذَنُ لَهُ إِذَا حُجِبْنَا .

Narrator: আবুল আহওয়াস (রহঃ)

৬১০৭। আবু কুরায়ব মুহাম্মাদ ইবনুল আ’লা (রাহঃ) ......... আবুল আহওয়াস (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা আব্দুল্লাহ কতিপয় সাহাবীর সঙ্গে আবু মুসা (রাযিঃ) এর বাড়িতে ছিলাম। তাঁরা একটি কুরআন শরীফ দেখছিলেন। আব্দুল্লাহ উঠে দাঁড়ালেন (চলে গেলেন)। তখন আবু মাসউদ বললেন, আল্লাহর অবতীর্ণ কিতাব সম্পর্কে দণ্ডায়মান ব্যক্তির চেয়ে বেশী পরিজ্ঞাত কোন মানুষ তাঁর পর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) রেখে গেছেন বলে আমি জানি না। আবু মুসা (রাযিঃ) বললেন, আপনি যদি এ কথা বলেন, তবে তার কারণ, তাঁর অবস্থা এ ছিল যে, যখন আমরা অনুপস্থিত থাকতাম, তখন সে থাকতো উপস্থিত; আর আমাদের যখন বাধা দেওয়া হতো, তখন তাঁকে প্রবেশাধিকার দেওয়া হতো।

6108

وَحَدَّثَنِي الْقَاسِمُ بْنُ زَكَرِيَّاءَ، حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ، - هُوَ ابْنُ مُوسَى - عَنْ شَيْبَانَ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ مَالِكِ بْنِ الْحَارِثِ، عَنْ أَبِي الأَحْوَصِ، قَالَ أَتَيْتُ أَبَا مُوسَى فَوَجَدْتُ عَبْدَ اللَّهِ وَأَبَا مُوسَى ح وَحَدَّثَنَا أَبُو كُرَيْبٍ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ أَبِي عُبَيْدَةَ، حَدَّثَنَا أَبِي، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ زَيْدِ بْنِ وَهْبٍ، قَالَ كُنْتُ جَالِسًا مَعَ حُذَيْفَةَ وَأَبِي مُوسَى وَسَاقَ الْحَدِيثَ وَحَدِيثُ قُطْبَةَ أَتَمُّ وَأَكْثَرُ .

Narrator: আবুল আহওয়াস (রহঃ)

৬১০৮। কাসিম ইবনে যাকারিয়া (রাহঃ) ......... আবুল আহওয়াস (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন যে, আমি আবু মুসা (রাযিঃ) এর কাছে এলাম। তখন আব্দুল্লাহ ও আবু মুসাকে পেলাম ...... অন্য সনদে আবু কুরায়ব ......... যায়দ ইবনে ওয়াহব (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি হুযাইফা ও আবু মুসা (রাযিঃ) এর সঙ্গে বসা ছিলাম ......... এরপর হাদীসের বাকী অংশ বর্ণনা করেছেন তবে কুতায়বা বর্ণিত হাদীস পূর্ণ ও অধিক প্রচলিত।

6109

حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ الْحَنْظَلِيُّ، أَخْبَرَنَا عَبْدَةُ بْنُ سُلَيْمَانَ، حَدَّثَنَا الأَعْمَشُ، عَنْ شَقِيقٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ، أَنَّهُ قَالَ ( وَمَنْ يَغْلُلْ يَأْتِ بِمَا غَلَّ يَوْمَ الْقِيَامَةِ) ثُمَّ قَالَ عَلَى قِرَاءَةِ مَنْ تَأْمُرُونِي أَنْ أَقْرَأَ فَلَقَدْ قَرَأْتُ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِضْعًا وَسَبْعِينَ سُورَةً وَلَقَدْ عَلِمَ أَصْحَابُ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَنِّي أَعْلَمُهُمْ بِكِتَابِ اللَّهِ وَلَوْ أَعْلَمُ أَنَّ أَحَدًا أَعْلَمُ مِنِّي لَرَحَلْتُ إِلَيْهِ . قَالَ شَقِيقٌ فَجَلَسْتُ فِي حَلَقِ أَصْحَابِ مُحَمَّدٍ صلى الله عليه وسلم فَمَا سَمِعْتُ أَحَدًا يَرُدُّ ذَلِكَ عَلَيْهِ وَلاَ يَعِيبُهُ .

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ)

৬১০৯। ইসহাক ইবনে ইবরাহীম হানযালী (রাহঃ) ......... আব্দুল্লাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, ″আর যে ব্যক্তি কোন কিছু আত্মসাৎ করবে, কিয়ামতের দিন সে যা আত্মসাৎ করেছে তা নিয়ে সে উঠবে।″ অতঃপর বললেন, তোমরা আমাকে কার কিরাআত অনুসরণে পড়ার কথা বল? আমি তো রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সামনে সত্তরের উর্ধ্বে সূরা পড়েছি। আর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সাহাবাগণ জানেন যে, আমি তাঁদের মধ্যে কুরআন সম্পর্কে সর্বাধিক পরিজ্ঞাত। আমি যদি জানতাম যে, আর কেউ আমার চেয়ে বেশী কুরআন জানে, তবে আমি তার দিকে সফর করে যেতাম।

শাকীক (রাহঃ) বলেনঃ আমি মুহাম্মাদ (ﷺ) এর সাহাবীদের বিভিন্ন মজলিসে বসেছি। তার (আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদের) এ বক্তব্যকে রদ করতে কাউকে শুনি নি এবং তাকে দোষারোপ করতেও শুনি নি।
6110

حَدَّثَنَا أَبُو كُرَيْبٍ، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ آدَمَ، حَدَّثَنَا قُطْبَةُ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ مُسْلِمٍ، عَنْ مَسْرُوقٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ وَالَّذِي لاَ إِلَهَ غَيْرُهُ مَا مِنْ كِتَابِ اللَّهِ سُورَةٌ إِلاَّ أَنَا أَعْلَمُ حَيْثُ نَزَلَتْ وَمَا مِنْ آيَةٍ إِلاَّ أَنَا أَعْلَمُ فِيمَا أُنْزِلَتْ وَلَوْ أَعْلَمُ أَحَدًا هُوَ أَعْلَمُ بِكِتَابِ اللَّهِ مِنِّي تَبْلُغُهُ الإِبِلُ لَرَكِبْتُ إِلَيْهِ .

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ)

৬১১০। আবু কুরায়ব (রাহঃ) ......... আব্দুল্লাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহ ছাড়া আর কোন ইলাহ নেই, তার শপথ! আল্লাহর কিতাবে এমন কোন সূরা নেই যার অবতীর্ণ হওয়ার স্থান সম্পর্কে আমী না জানি, এমন কোন আয়াত নেই যার অবতীর্ণ হওয়ার কারণ সম্পর্কে আমি না জানি। আমি যদি এমন কোন ব্যক্তিকে জানতাম যিনি আমার চেয়েও বেশী কুরআন জানেন, আর তার কাছে উট যেতে পারে, তবে আমি তার কাছে সওয়ার হয়ে তার কাছে অবশ্যই যেতাম।

6111

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، وَمُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ نُمَيْرٍ، قَالاَ حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، حَدَّثَنَا الأَعْمَشُ، عَنْ شَقِيقٍ، عَنْ مَسْرُوقٍ، قَالَ كُنَّا نَأْتِي عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عَمْرٍو فَنَتَحَدَّثُ إِلَيْهِ - وَقَالَ ابْنُ نُمَيْرٍ عِنْدَهُ - فَذَكَرْنَا يَوْمًا عَبْدَ اللَّهِ بْنَ مَسْعُودٍ فَقَالَ لَقَدْ ذَكَرْتُمْ رَجُلاً لاَ أَزَالُ أُحِبُّهُ بَعْدَ شَىْءٍ سَمِعْتُهُ مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " خُذُوا الْقُرْآنَ مِنْ أَرْبَعَةٍ مِنِ ابْنِ أُمِّ عَبْدٍ - فَبَدَأَ بِهِ - وَمُعَاذِ بْنِ جَبَلٍ وَأُبَىِّ بْنِ كَعْبٍ وَسَالِمٍ مَوْلَى أَبِي حُذَيْفَةَ " .

Narrator: মাসরূক ইবনে আজদা' (রহঃ)

৬১১১। আবু বকর ইবনে আবি শাঈবা ও মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে নুমাইর (রাহঃ) ......... মাসরুক (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা আব্দুল্লাহ ইবনে আমরের কাছে গিয়ে তাঁর সঙ্গে কথাবার্তা বলতাম। একদিন আমরা আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদের উল্লেখ করলাম, তিনি বললেন, তোমরা এমন এক ব্যক্তির উল্লেখ করেছ, যাকে এ হাদীসে শোনার পর থেকে আমি ভালোবেসে আসছি। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে আমি বলতে শুনেছি, তোমরা চারজনের কাছে কুরআন শিখ। আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ, এখানে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) সর্ব প্রথম আব্দুল্লাহর নাম উল্লেখ করেন; মুআয ইবনে জাবাল, উবাই ইবনে কা’ব ও আবু হুযাইফার ক্রীতদাস গোলাম সালিমের কাছ থেকে।

6112

حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، وَزُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، وَعُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، قَالُوا حَدَّثَنَا جَرِيرٌ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ أَبِي وَائِلٍ، عَنْ مَسْرُوقٍ، قَالَ كُنَّا عِنْدَ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو فَذَكَرْنَا حَدِيثًا عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ، فَقَالَ إِنَّ ذَاكَ الرَّجُلَ لاَ أَزَالُ أُحِبُّهُ بَعْدَ شَىْءٍ سَمِعْتُهُ مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُهُ سَمِعْتُهُ يَقُولُ " اقْرَءُوا الْقُرْآنَ مِنْ أَرْبَعَةِ نَفَرٍ مِنِ ابْنِ أُمِّ عَبْدٍ - فَبَدَأَ بِهِ - وَمِنْ أُبَىِّ بْنِ كَعْبٍ وَمِنْ سَالِمٍ مَوْلَى أَبِي حُذَيْفَةَ وَمِنْ مُعَاذِ بْنِ جَبَلٍ " . وَحَرْفٌ لَمْ يَذْكُرْهُ زُهَيْرٌ قَوْلُهُ يَقُولُهُ .

Narrator: মাসরূক ইবনে আজদা' (রহঃ)

৬১১২। কুতায়বা ইবনে সাঈদ, যুহাইর ইবনে হারব ও উসমান ইবনে আবি শাঈবা (রাহঃ) ......... মাসরুক (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা আব্দুল্লাহ ইবনে আমর (রাযিঃ) এর কাছে ছিলাম। তখন আমরা ইবনে মাসউদ (রাযিঃ) এর একটি হাদীসের উল্লেখ করি। এ সময় আব্দুল্লাহ ইবনে আমর (রাযিঃ) বললেন, ইনি ঐ ব্যক্তি যাকে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর একটি কথা শোনার পর থেকে ভালোবেসে আসছি। আমি তাকে বলতে শুনেছি, তোমরা চার ব্যক্তির কাছ থেকে কুরআন পড়। আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ তাঁর নামই প্রথমে বললেন এবং উবাই ইবনে কা’ব, সালিম -আবু হুযাইফার ক্রীতদাস ও মুআয ইবনে জাবাল (রাযিঃ)। আর একটি অক্ষর যা যুহাইর ইবনে হারব উল্লেখ করেননি, ওটা হলো (যা তিনি বলতেন) يَقُولُهُ শব্দটি।

6113

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، وَأَبُو كُرَيْبٍ قَالاَ حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ، عَنِ الأَعْمَشِ، بِإِسْنَادِ جَرِيرٍ وَوَكِيعٍ فِي رِوَايَةِ أَبِي بَكْرٍ عَنْ أَبِي مُعَاوِيَةَ، قَدَّمَ مُعَاذًا قَبْلَ أُبَىٍّ . وَفِي رِوَايَةِ أَبِي كُرَيْبٍ أُبَىٌّ قَبْلَ مُعَاذٍ .

Narrator: সুলাইমান আ‘মাশ (রহঃ)

৬১১৩। আবু বকর ইবনে শায়বা ও আবু কুরায়ব (রাহঃ) ......... আমাশ (রাহঃ) থেকে জারীর ও ওয়াকীর সনদে আবু মুআবিয়া থেকে আবু বকর বর্ণিত রিওয়ায়াতে মুআয (রাযিঃ) কে উবাইয়ের পূর্বে রেখেছেন। আর আবু কুরায়বের বর্ণনায় উবাই এর নাম মুআয (রাযিঃ) এর আগে।

6114

حَدَّثَنَا ابْنُ الْمُثَنَّى، وَابْنُ، بَشَّارٍ قَالاَ حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي عَدِيٍّ، ح وَحَدَّثَنِي بِشْرُ بْنُ، خَالِدٍ أَخْبَرَنَا مُحَمَّدٌ، - يَعْنِي ابْنَ جَعْفَرٍ - كِلاَهُمَا عَنْ شُعْبَةَ، عَنِ الأَعْمَشِ، بِإِسْنَادِهِمْ وَاخْتَلَفَا عَنْ شُعْبَةَ، فِي تَنْسِيقِ الأَرْبَعَةِ .

Narrator: সুলাইমান আ‘মাশ (রহঃ)

৬১১৪। ইবনে মুসান্না, ইবনে বাশশার ও বিশর ইবনে খালিদ (রাহঃ) ......... আমাশ (রাহঃ) থেকে তাঁদের সনদে বর্ণনা করেছেন। কিন্তু শু’বার সূত্রে বর্ণনায় চারজনের ক্রমবিন্যাস এ দু’জনের মধ্যে বিরোধ রয়েছে।

6115

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، وَابْنُ، بَشَّارٍ قَالاَ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ عَمْرِو بْنِ مُرَّةَ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ، عَنْ مَسْرُوقٍ، قَالَ ذَكَرُوا ابْنَ مَسْعُودٍ عِنْدَ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو فَقَالَ ذَاكَ رَجُلٌ لاَ أَزَالُ أُحِبُّهُ بَعْدَ مَا سَمِعْتُ مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " اسْتَقْرِئُوا الْقُرْآنَ مِنْ أَرْبَعَةٍ مِنِ ابْنِ مَسْعُودٍ وَسَالِمٍ مَوْلَى أَبِي حُذَيْفَةَ وَأُبَىِّ بْنِ كَعْبٍ وَمُعَاذِ بْنِ جَبَلٍ " .

Narrator: মাসরূক ইবনে আজদা' (রহঃ)

৬১১৫। মুহাম্মাদ ইবনে মুসান্না ও ইবনে বাশশার (রাহঃ) ......... মাসরুক থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন যে, তাঁরা ইবনে আমর এর সামনে আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদের আলোচনা করলে তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর এ কথা শোনার পর থেকে আমি ঐ লোকটিকে ভালোবেসে আসছি। চারজনের কাছ থেকে তোমরা কুরআন পড়, ইবনে মাসউদ,আবু হুযাইফার আযাদকৃত গোলাম সালিম, উবাই ইবনে কা’ব ও মুআয ইবনে জাবাল (রাযিঃ)।

6116

حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ مُعَاذٍ، حَدَّثَنَا أَبِي، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، بِهَذَا الإِسْنَادِ وَزَادَ قَالَ شُعْبَةُ بَدَأَ بِهَذَيْنِ لاَ أَدْرِي بِأَيِّهِمَا بَدَأَ .

Narrator: বিবিধ

৬১১৬। উবাইদুল্লাহ ইবনে মুআয তার পিতা মু’আয (রাযিঃ) থেকে শু’বা সূত্রে উক্ত সনদে বর্ণনা করেন। তিনি অধিক বলেছেন “এ দু’জনকে দিয়ে শুরু করা হয়েছে, কিন্তু কার নাম প্রথমে, তা আমি জানি না।”

২৩. উবাই ইবনে কা’ব (রাযিঃ) ও আনসারদের এক দলের ফযীলত

باب مِنْ فَضَائِلِ أُبَىِّ بْنِ كَعْبٍ وَجَمَاعَةٍ مِنَ الأَنْصَارِ رَضِيَ اللَّهُ تَعَالَى عَنْهُمْ .

6117

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، حَدَّثَنَا أَبُو دَاوُدَ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ قَتَادَةَ، قَالَ سَمِعْتُ أَنَسًا، يَقُولُ جَمَعَ الْقُرْآنَ عَلَى عَهْدِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَرْبَعَةٌ كُلُّهُمْ مِنَ الأَنْصَارِ مُعَاذُ بْنُ جَبَلٍ وَأُبَىُّ بْنُ كَعْبٍ وَزَيْدُ بْنُ ثَابِتٍ وَأَبُو زَيْدٍ . قَالَ قَتَادَةُ قُلْتُ لأَنَسٍ مَنْ أَبُو زَيْدٍ قَالَ أَحَدُ عُمُومَتِي .

Narrator: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

৬১১৭। মুহাম্মাদ ইবনে মুসান্না (রাহঃ) ......... আনাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর যুগেই চারজন কুরআন সংকলন করেছেন। ঐদের সবাই আনসার। মুআয ইবনে জাবাল, উবাই ইবনে কা’ব, যায়দ ইবনে সাবিত ও আবু যায়দ (রাযিঃ)। কাতাদা (রাহঃ) বলেন, আমি আনাসকে জিজ্ঞাসা করলাম, আবু যায়দ কে? তিনি বললেন আমার চাচাদের মধ্যে একজন।

6118

حَدَّثَنِي أَبُو دَاوُدَ، سُلَيْمَانُ بْنُ مَعْبَدٍ حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ عَاصِمٍ، حَدَّثَنَا هَمَّامٌ، حَدَّثَنَا قَتَادَةُ، قَالَ قُلْتُ لأَنَسِ بْنِ مَالِكٍ مَنْ جَمَعَ الْقُرْآنَ عَلَى عَهْدِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ أَرْبَعَةٌ كُلُّهُمْ مِنَ الأَنْصَارِ أُبَىُّ بْنُ كَعْبٍ وَمُعَاذُ بْنُ جَبَلٍ وَزَيْدُ بْنُ ثَابِتٍ وَرَجُلٌ مِنَ الأَنْصَارِ يُكْنَى أَبَا زَيْدٍ .

Narrator: কাতাদা ইবনে দিআমা (রহঃ)

৬১১৮। আবু দাউদ সুলাইমান ইবনে মা’বাদ (রাহঃ) ......... কাতাদা (রাহঃ) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, আমি আনাস ইবনে মালিক (রাযিঃ) কে জিজ্ঞাসা করলাম, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর যুগে কে কে কুরআন একত্রিত করেছিলেন? তিনি বললেন, চারজন, ঐদের সবাই আনসারী। উবাই ইবনে কা’ব, মুআয ইবনে জাবাল, যায়দ ইবনে সাবিত ও আনসারদের মধ্যে একজন তাঁর কুনিয়াত আবু যায়দ (রাযিঃ)।

6119

حَدَّثَنَا هَدَّابُ بْنُ خَالِدٍ، حَدَّثَنَا هَمَّامٌ، حَدَّثَنَا قَتَادَةُ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ لأُبَىٍّ " إِنَّ اللَّهَ عَزَّ وَجَلَّ أَمَرَنِي أَنْ أَقْرَأَ عَلَيْكَ " . قَالَ آللَّهُ سَمَّانِي لَكَ قَالَ " اللَّهُ سَمَّاكَ لِي " . قَالَ فَجَعَلَ أُبَىٌّ يَبْكِي .

Narrator: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

৬১১৯। হাদ্দাব ইবনে খালিদ (রাহঃ) ......... আনাস ইবনে মালিক (রাযিঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) উবাইকে বললেন, তোমাকে কুরআন পড়ে শোনানোর জন্যে আল্লাহ আমাকে আদেশ করেছেন। উবাই (রাযিঃ) বললেন, আল্লাহ তাআলা কি আপনার কাছে আমার নাম নিয়ে বলেছেন? তিনি বললেন, হ্যাঁ, আল্লাহই আমার কাছে তোমার নাম নিয়েছেন। এতে উবাই (রাযিঃ) কাঁদতে আরম্ভ করলেন।

6120
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، وَابْنُ، بَشَّارٍ قَالاَ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، قَالَ سَمِعْتُ قَتَادَةَ، يُحَدِّثُ عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لأُبَىِّ بْنِ كَعْبٍ " إِنَّ اللَّهَ أَمَرَنِي أَنْ أَقْرَأَ عَلَيْكَ ( لَمْ يَكُنِ الَّذِينَ كَفَرُوا) " . قَالَ وَسَمَّانِي قَالَ " نَعَمْ " . قَالَ فَبَكَى .
حَدَّثَنِيهِ يَحْيَى بْنُ حَبِيبٍ، حَدَّثَنَا خَالِدٌ، - يَعْنِي ابْنَ الْحَارِثِ - حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ قَتَادَةَ، قَالَ سَمِعْتُ أَنَسًا، يَقُولُ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لأُبَىٍّ بِمِثْلِهِ .

Narrator: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

৬১২০। মুহাম্মাদ ইবনে মুসান্না ও ইবনে বাশশার (রাহঃ) ......... আনাস ইবনে মালিক (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) উবাই ইবনে কা’ব (রাযিঃ) কে বললেনঃ আল্লাহ তাআলা আমাকে আদেশ করেছেন, তোমাকে لَمْ يَكُنِ الَّذِينَ كَفَرُوا (সূরা বায়্যিনাহ) পড়ে শোনাবার জন্য। উবাই (রাযিঃ) বললেন, আল্লাহ তাআলা কি আমার নাম নিয়েছেন? তিনি বললেন, হ্যাঁ। আনাস (রাযিঃ) বলেন, উবাই (রাযিঃ) তখন কেঁদে ফেললেন।

ইয়াহয়া ইবনে হাবীব (রাহঃ) ......... কাতাদা (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আনাসকে বলতে শুনেছি, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) উবাইকে অনুরূপ কথা বলেছেন।

২৪. সা’দ ইবনে মু’আয (রাযিঃ) এর ফযীলত

باب مِنْ فَضَائِلِ سَعْدِ بْنِ مُعَاذٍ رضى الله عنه

6121

حَدَّثَنَا عَبْدُ بْنُ حُمَيْدٍ، أَخْبَرَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، أَخْبَرَنَا ابْنُ جُرَيْجٍ، أَخْبَرَنِي أَبُو الزُّبَيْرِ، أَنَّهُ سَمِعَ جَابِرَ بْنَ عَبْدِ اللَّهِ، يَقُولُ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَجَنَازَةُ سَعْدِ بْنِ مُعَاذٍ بَيْنَ أَيْدِيهِمْ " اهْتَزَّ لَهَا عَرْشُ الرَّحْمَنِ " .

Narrator: জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ আনসারী (রাঃ)

৬১২১। আব্দ ইবনে হুমায়দ (রাহঃ) ......... জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন সা’দ ইবনে মুআয (রাযিঃ) এর জানাযা সামনে রাখা হয়েছিলো, তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ তার জানাযার জন্যে রহমান (দয়ালু আল্লাহর) আরশ কেঁপে উঠেছে।

6122

حَدَّثَنَا عَمْرٌو النَّاقِدُ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ إِدْرِيسَ الأَوْدِيُّ، حَدَّثَنَا الأَعْمَشُ، عَنْ أَبِي، سُفْيَانُ عَنْ جَابِرٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " اهْتَزَّ عَرْشُ الرَّحْمَنِ لِمَوْتِ سَعْدِ بْنِ مُعَاذٍ " .

Narrator: জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ আনসারী (রাঃ)

৬১২২। আমর আন-নাকিদ (রাহঃ) ......... জাবির (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ সা’দ ইবনে মুআযের মৃত্যুতে দয়ালু রহমান (দয়ালু আল্লাহর) আরশ কেঁপে ওঠে।

6123

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الرُّزِّيُّ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَهَّابِ بْنُ عَطَاءٍ الْخَفَّافُ، عَنْ سَعِيدٍ، عَنْ قَتَادَةَ، حَدَّثَنَا أَنَسُ بْنُ مَالِكٍ، أَنَّ نَبِيَّ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ وَجِنَازَتُهُ مَوْضُوعَةٌ - يَعْنِي سَعْدًا - " اهْتَزَّ لَهَا عَرْشُ الرَّحْمَنِ " .

Narrator: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

৬১২৩। মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল্লাহ রুযযী (রাহঃ) ......... আনাস ইবনে মালিক (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, যখন মুআয (রাযিঃ) এর জানাযা রাখা ছিল, তখন নবী (ﷺ) বললেনঃ তার জন্য রহমান (দয়ালু আল্লাহর) আরশ কেঁপে উঠেছে।

6124

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، وَابْنُ، بَشَّارٍ قَالاَ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، قَالَ سَمِعْتُ الْبَرَاءَ، يَقُولُ أُهْدِيَتْ لِرَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم حُلَّةُ حَرِيرٍ فَجَعَلَ أَصْحَابُهُ يَلْمُسُونَهَا وَيَعْجَبُونَ مِنْ لِينِهَا فَقَالَ " أَتَعْجَبُونَ مِنْ لِينِ هَذِهِ لَمَنَادِيلُ سَعْدِ بْنِ مُعَاذٍ فِي الْجَنَّةِ خَيْرٌ مِنْهَا وَأَلْيَنُ " .

Narrator: হযরত বারা’ ইবনে আযিব (রাঃ)

৬১২৪। মুহাম্মাদ ইবনে মুসান্না ও ইবনে বাশশার (রাহঃ) ......... বারা’ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কাছে এক জোড়া রেশমী পোশাক হাদিয়া দেওয়া হল। সাহাবারা তখন তা স্পর্শ করে এর কোমলতায় আশ্চর্যবোধ করতে লাগলেন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ তোমরা এ কোমলতায় আশ্চর্যাম্বিত হচ্ছো? জান্নাতের মধ্যে সা’দ ইবনে মুআয এর রুমালগুলো হবে এর চেয়েও উত্তম ও মোলায়েম।

6125

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَبْدَةَ الضَّبِّيُّ، حَدَّثَنَا أَبُو دَاوُدَ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، أَنْبَأَنِي أَبُو إِسْحَاقَ، قَالَ سَمِعْتُ الْبَرَاءَ بْنَ عَازِبٍ، يَقُولُ أُتِيَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِثَوْبِ حَرِيرٍ . فَذَكَرَ الْحَدِيثَ ثُمَّ قَالَ ابْنُ عَبْدَةَ أَخْبَرَنَا أَبُو دَاوُدَ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ حَدَّثَنِي قَتَادَةُ عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم بِنَحْوِ هَذَا أَوْ بِمِثْلِهِ .

Narrator: হযরত বারা’ ইবনে আযিব (রাঃ)

৬১২৫। আহমদ ইবনে আব্দাহ দাব্বী (রাহঃ) ......... বারা ইবনে আযিব (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে রেশমী বস্ত্র দেওয়া হলো ...... তারপর তিনি পুর্ববর্তী হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করেন। ইবনে আব্দাহ ......... আনাস ইবনে মালিক (রাযিঃ) সূত্রে নবী(ﷺ) থেকেও অনুরূপ অর্থযুক্ত বা অনুরূপ শব্দের হাদীসে বর্ণনা করেছেন।

6126

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَمْرِو بْنِ جَبَلَةَ، حَدَّثَنَا أُمَيَّةُ بْنُ خَالِدٍ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، بِهَذَا الْحَدِيثِ بِالإِسْنَادَيْنِ جَمِيعًا كَرِوَايَةِ أَبِي دَاوُدَ .

Narrator: শু'বা ইবনুল হাজ্জাজ (রহঃ)

৬১২৬। মুহাম্মাদ ইবনে আমর ইবনে জাবাল (রাহঃ) ......... শু’বা (রাহঃ) থেকে এ দুটো সনদেই আবু দাউদের রিওয়ায়াতের মতো বর্ণনা করেন।

6127

حَدَّثَنَا زُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، حَدَّثَنَا يُونُسُ بْنُ مُحَمَّدٍ، حَدَّثَنَا شَيْبَانُ، عَنْ قَتَادَةَ، حَدَّثَنَا أَنَسُ بْنُ مَالِكٍ، أَنَّهُ أُهْدِيَ لِرَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم جُبَّةٌ مِنْ سُنْدُسٍ وَكَانَ يَنْهَى عَنِ الْحَرِيرِ فَعَجِبَ النَّاسُ مِنْهَا فَقَالَ " وَالَّذِي نَفْسُ مُحَمَّدٍ بِيَدِهِ إِنَّ مَنَادِيلَ سَعْدِ بْنِ مُعَاذٍ فِي الْجَنَّةِ أَحْسَنُ مِنْ هَذَا " .

Narrator: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

৬১২৭। যুহাইর ইবনে হারব (রাহঃ) ......... আনাস ইবনে মালিক (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে মিহি রেশমের একটি জোব্বা হাদিয়া দেওয়া হলো। অবশ্য নবী(ﷺ) রেশম পরতে নিষেধ করতেন। লোকেরা এতে (এর কোমলতায়) আশ্চর্যাম্বিত হলো। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ যার কবজায় মুহাম্মাদের জীবন, তাঁর কসম! জান্নাতে সা’দ ইবনে মুআযের রুমালগুলো এর চেয়েও উৎকৃষ্ট।

6128

حَدَّثَنَاهُ مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، حَدَّثَنَا سَالِمُ بْنُ نُوحٍ، حَدَّثَنَا عُمَرُ بْنُ عَامِرٍ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ أَنَسٍ، أَنَّ أُكَيْدِرَ، دُومَةِ الْجَنْدَلِ أَهْدَى لِرَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم . حُلَّةً فَذَكَرَ نَحْوَهُ وَلَمْ يَذْكُرْ فِيهِ وَكَانَ يَنْهَى عَنِ الْحَرِيرِ .

Narrator: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

৬১২৮। মুহাম্মাদ ইবনে বাশশার (রাহঃ) ......... আনাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, দাওমাতুল জান্দালের (বাদশাহ) উকায়দির রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর খিদমতে একজোড়া পোশাক উপহার পাঠালো ...... তারপর তিনি অনুরূপ বর্ণনা করলেন। তবে এতে ″তিনি রেশম পরতে নিষেধ করতেন″ কথাটি উল্লেখ করেননি।

২৫. আবু দুজানাহ সিমাক ইবনে খারাশাহ (রাযিঃ) এর ফযীলত

باب مِنْ فَضَائِلِ أَبِي دُجَانَةَ سِمَاكِ بْنِ خَرَشَةَ رضى الله تعالى عنه

6129

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا عَفَّانُ، حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ، حَدَّثَنَا ثَابِتٌ، عَنْ أَنَسٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَخَذَ سَيْفًا يَوْمَ أُحُدٍ فَقَالَ " مَنْ يَأْخُذُ مِنِّي هَذَا " . فَبَسَطُوا أَيْدِيَهُمْ كُلُّ إِنْسَانٍ مِنْهُمْ يَقُولُ أَنَا أَنَا . قَالَ " فَمَنْ يَأْخُذُهُ بِحَقِّهِ " . قَالَ فَأَحْجَمَ الْقَوْمُ فَقَالَ سِمَاكُ بْنُ خَرَشَةَ أَبُو دُجَانَةَ أَنَا آخُذُهُ بِحَقِّهِ . قَالَ فَأَخَذَهُ فَفَلَقَ بِهِ هَامَ الْمُشْرِكِينَ .

Narrator: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

৬১২৯। আবু বকর ইবনে আবি শাঈবা (রাহঃ) ......... আনাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) উহুদ যুদ্ধের দিন একটি তরবারি হাতে নিয়ে বললেন এটা আমার কাছ থেকে কে গ্রহণ করবে? তখন তাঁদের মধ্যে প্রত্যেক ব্যক্তি হাত বাড়িয়ে বলতে লাগল, আমি, আমি। তিনি বললেন, এর হক আদায় করে কে গ্রহণ করবে? এ কথা শুনেই লোকজন দমে গেল। তখন সিমাক ইবনে খারাশাহ আবু দুজনাহ (রাযিঃ) বললেন, আমি এটির হক আদায় করার অঙ্গীকার গ্রহণ করব। রাবী বলেন, অতঃপর তিনি এটি নিয়ে নিলেন আর এ দ্বারা মুশরিকদের মাথার খুলি বিদীর্ণ করলেন।

২৬. জাবির (রাযিঃ) এর পিতা আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনে হারাম (রাযিঃ) এর ফযীলত

باب مِنْ فَضَائِلِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرِو بْنِ حَرَامٍ وَالِدِ جَابِرٍ رضى الله تعالى عنهما

6130

حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ الْقَوَارِيرِيُّ، وَعَمْرٌو النَّاقِدُ، كِلاَهُمَا عَنْ سُفْيَانَ، قَالَ عُبَيْدُ اللَّهِ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ، قَالَ سَمِعْتُ ابْنَ الْمُنْكَدِرِ، يَقُولُ سَمِعْتُ جَابِرَ بْنَ عَبْدِ اللَّهِ، يَقُولُ لَمَّا كَانَ يَوْمُ أُحُدٍ جِيءَ بِأَبِي مُسَجًّى وَقَدْ مُثِلَ بِهِ - قَالَ - فَأَرَدْتُ أَنْ أَرْفَعَ الثَّوْبَ فَنَهَانِي قَوْمِي ثُمَّ أَرَدْتُ أَنْ أَرْفَعَ الثَّوْبَ فَنَهَانِي قَوْمِي فَرَفَعَهُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَوْ أَمَرَ بِهِ فَرُفِعَ فَسَمِعَ صَوْتَ بَاكِيَةٍ أَوْ صَائِحَةٍ فَقَالَ " مَنْ هَذِهِ " . فَقَالُوا بِنْتُ عَمْرٍو أَوْ أُخْتُ عَمْرٍو فَقَالَ " وَلِمَ تَبْكِي فَمَا زَالَتِ الْمَلاَئِكَةُ تُظِلُّهُ بِأَجْنِحَتِهَا حَتَّى رُفِعَ " .

Narrator: জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ আনসারী (রাঃ)

৬১৩০। উবাইদুল্লাহ ইবনে উমর আল কাওয়ারীরী ও আমর নাকিদ (রাহঃ) ......... জাবির (রাযিঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে, উহুদ যুদ্ধের দিন আমার পিতাকে কাপড়ে আবৃত করে আনা হলো, তার কান-নাক, হাত-পা কেটে ফেলা হয়েছে। আমি তার কাপড় সরাতে চাইলে লোকেরা আমায় নিষেধ করলো। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কাপড় সরালেন অথবা তিনি সরানোর আদেশ দেওয়ায় সরানো হলো। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) একজন ক্রন্দনকারিনী অথবা চিৎকার (বিলাপ) কারিণীর আওয়াজ শুনে জিজ্ঞাসা করলেন, ইনি কে? লোকেরা বললো, আমরের মেয়ে অথবা আমরের বোন। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ সে কাঁদছে কেন? উঠিয়ে নেয়া পর্যন্ত ফিরিশতারা পাখা মেলে তাকে ছায়া দিয়েছে।

6131

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، حَدَّثَنَا وَهْبُ بْنُ جَرِيرٍ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ الْمُنْكَدِرِ، عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ أُصِيبَ أَبِي يَوْمَ أُحُدٍ فَجَعَلْتُ أَكْشِفُ الثَّوْبَ عَنْ وَجْهِهِ، وَأَبْكِي، وَجَعَلُوا يَنْهَوْنَنِي وَرَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لاَ يَنْهَانِي - قَالَ - وَجَعَلَتْ فَاطِمَةُ بِنْتُ عَمْرٍو تَبْكِيهِ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " تَبْكِيهِ أَوْ لاَ تَبْكِيهِ مَا زَالَتِ الْمَلاَئِكَةُ تُظِلُّهُ بِأَجْنِحَتِهَا حَتَّى رَفَعْتُمُوهُ " .

Narrator: জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ আনসারী (রাঃ)

৬১৩১। মুহাম্মাদ ইবনে মুসান্না (রাহঃ) ......... জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে, আমার পিতা উহুদের দিন শহীদ হলেন, আমি তাঁর মুখ থেকে কাপড় সরাই আর কাঁদি। লোকেরা আমাকে বারণ করলো। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাকে নিষেধ করেননি। আর আমরের মেয়ে ফাতিমাও তার জন্য কাঁদতে থাকলেন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন সে (কেউ) তার জন্য কাঁদুক বা নাই কাঁদুক, ফিরিশতাগণ তার উপর আপন পাখার ছায়া বিস্তার করে রয়েছে, যতক্ষণ না তোমরা তাকে উঠিয়ে নিয়েছ।

6132

حَدَّثَنَا عَبْدُ بْنُ حُمَيْدٍ، حَدَّثَنَا رَوْحُ بْنُ عُبَادَةَ، حَدَّثَنَا ابْنُ جُرَيْجٍ، ح وَحَدَّثَنَا إِسْحَاقُ، بْنُ إِبْرَاهِيمَ أَخْبَرَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، حَدَّثَنَا مَعْمَرٌ، كِلاَهُمَا عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ الْمُنْكَدِرِ، عَنْ جَابِرٍ، . بِهَذَا الْحَدِيثِ غَيْرَ أَنَّ ابْنَ جُرَيْجٍ، لَيْسَ فِي حَدِيثِهِ ذِكْرُ الْمَلاَئِكَةِ وَبُكَاءُ الْبَاكِيَةِ .

Narrator: জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ আনসারী (রাঃ)

৬১৩২। আব্দ ইবনে হুমায়দ (রাহঃ) ......... জাবির (রাযিঃ) সূত্রে এ হাদীস বর্ণনা করেছেন। তবে জুরায়েজের বর্ণনায় ফিরিশতা ও ক্রন্দনকারিণীর কান্নার উল্লেখ নেই।

6133

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ أَبِي خَلَفٍ، حَدَّثَنَا زَكَرِيَّاءُ بْنُ عَدِيٍّ، أَخْبَرَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ، بْنُ عَمْرٍو عَنْ عَبْدِ الْكَرِيمِ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ الْمُنْكَدِرِ، عَنْ جَابِرٍ، قَالَ جِيءَ بِأَبِي يَوْمَ أُحُدٍ مُجَدَّعًا فَوُضِعَ بَيْنَ يَدَىِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم . فَذَكَرَ نَحْوَ حَدِيثِهِمْ .

Narrator: জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ আনসারী (রাঃ)

৬১৩৩। মুহাম্মাদ ইবনে আহমাদ ইবনে আবু খালফ (রাযিঃ) ......... জাবির (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, উহুদের দিন আমার পিতাকে বস্ত্রাবৃত অবস্থায় আনা হলো এবং রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সম্মুখে রাখা হল ...... অতঃপর তাদের অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেন।

২৭. আবু জুলায়বীব (রাযিঃ) এর ফযীলত

باب مِنْ فَضَائِلِ جُلَيْبِيبٍ رضى الله عنه

6134

حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ عُمَرَ بْنِ سَلِيطٍ، حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ، عَنْ ثَابِتٍ، عَنْ كِنَانَةَ، بْنِ نُعَيْمٍ عَنْ أَبِي بَرْزَةَ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم كَانَ فِي مَغْزًى لَهُ فَأَفَاءَ اللَّهُ عَلَيْهِ فَقَالَ لأَصْحَابِهِ " هَلْ تَفْقِدُونَ مِنْ أَحَدٍ " . قَالُوا نَعَمْ فُلاَنًا وَفُلاَنًا وَفُلاَنًا . ثُمَّ قَالَ " هَلْ تَفْقِدُونَ مِنْ أَحَدٍ " . قَالُوا نَعَمْ فُلاَنًا وَفُلاَنًا وَفُلاَنًا . ثُمَّ قَالَ " هَلْ تَفْقِدُونَ مِنْ أَحَدٍ " . قَالُوا لاَ . قَالَ " لَكِنِّي أَفْقِدُ جُلَيْبِيبًا فَاطْلُبُوهُ " . فَطُلِبَ فِي الْقَتْلَى فَوَجَدُوهُ إِلَى جَنْبِ سَبْعَةٍ قَدْ قَتَلَهُمْ ثُمَّ قَتَلُوهُ فَأَتَى النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم فَوَقَفَ عَلَيْهِ فَقَالَ " قَتَلَ سَبْعَةً ثُمَّ قَتَلُوهُ هَذَا مِنِّي وَأَنَا مِنْهُ هَذَا مِنِّي وَأَنَا مِنْهُ " . قَالَ فَوَضَعَهُ عَلَى سَاعِدَيْهِ لَيْسَ لَهُ إِلاَّ سَاعِدَا النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ فَحُفِرَ لَهُ وَوُضِعَ فِي قَبْرِهِ . وَلَمْ يَذْكُرْ غَسْلاً .

Narrator: হযরত আবু বারযা আসলামী রাযি.

৬১৩৪। ইসহাক ইবনে আমর ইবনে সালীত (রাহঃ) ......... আবু বারযাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, নবী (ﷺ) এক জিহাদে ছিলেন। আল্লাহ তাআলা তাঁকে গনিমতের সম্পদ দিলেন। তিনি তার সাহাবাদের বললেন, তোমরা কি কাউকে হারিয়েছ? লোকেরা বললো, হ্যাঁ, অমুক, অমুক ও অমুককে। তিনি বললেন, তোমরা কি কাউকে হারিয়েছ? লোকেরা বললো, হ্যাঁ, অমুক, অমুক এবং অমুককে। তিনি আবার বললেন, তোমরা কি কাউকে হারিয়েছ? লোকেরা বললো, জি-না। তিনি বললেন, কিন্তু আমি জুলায়বীবকে হারিয়েছি। তোমরা তাঁকে খোঁজ কর। তখন নিহতদের মধ্যে তাকে খোঁজ করা হল। এরপর তারা সাতটা লাশের পাশে তাকে পেলো। তিনি এই সাতজনকে হত্যা করেছিলেন। এরপর দুশমনরা তাকে হত্যা করে। তখন নবী (ﷺ) তাঁর কাছে এলেন এবং ওখানে দাঁড়িয়ে বললেন, সে সাতজনকে হত্যা করেছে; এরপর দুশমনরা তাঁকে হত্যা করে। সে আমার আর আমিও তাঁর। সে আমার আর আমি তাঁর। অতঃপর তিনি তাঁকে দু'বাহুর উপর তুলে ধরলেন। একমাত্র নবী (ﷺ) এর বাহুই তাঁকে বহন করছিল। তাঁর কবর খোঁড়া হল এবং তাঁকে তাঁর কবরে রাখলেন। বর্ণনাকারী তাঁর গোসলের উল্লেখ করেননি।

২৮. আবু যর (রাযিঃ) এর ফযীলত

باب مِنْ فَضَائِلِ أَبِي ذَرٍّ رضى الله عنه

6135

حَدَّثَنَا هَدَّابُ بْنُ خَالِدٍ الأَزْدِيُّ، حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ الْمُغِيرَةِ، أَخْبَرَنَا حُمَيْدُ بْنُ هِلاَلٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الصَّامِتِ، قَالَ قَالَ أَبُو ذَرٍّ خَرَجْنَا مِنْ قَوْمِنَا غِفَارٍ وَكَانُوا يُحِلُّونَ الشَّهْرَ الْحَرَامَ فَخَرَجْتُ أَنَا وَأَخِي أُنَيْسٌ وَأُمُّنَا فَنَزَلْنَا عَلَى خَالٍ لَنَا فَأَكْرَمَنَا خَالُنَا وَأَحْسَنَ إِلَيْنَا فَحَسَدَنَا قَوْمُهُ فَقَالُوا إِنَّكَ إِذَا خَرَجْتَ عَنْ أَهْلِكَ خَالَفَ إِلَيْهِمْ أُنَيْسٌ فَجَاءَ خَالُنَا فَنَثَا عَلَيْنَا الَّذِي قِيلَ لَهُ فَقُلْتُ لَهُ أَمَّا مَا مَضَى مِنْ مَعْرُوفِكَ فَقَدْ كَدَّرْتَهُ وَلاَ جِمَاعَ لَكَ فِيمَا بَعْدُ . فَقَرَّبْنَا صِرْمَتَنَا فَاحْتَمَلْنَا عَلَيْهَا وَتَغَطَّى خَالُنَا ثَوْبَهُ فَجَعَلَ يَبْكِي فَانْطَلَقْنَا حَتَّى نَزَلْنَا بِحَضْرَةِ مَكَّةَ فَنَافَرَ أُنَيْسٌ عَنْ صِرْمَتِنَا وَعَنْ مِثْلِهَا فَأَتَيَا الْكَاهِنَ فَخَيَّرَ أُنَيْسًا فَأَتَانَا أُنَيْسٌ بِصِرْمَتِنَا وَمِثْلِهَا مَعَهَا - قَالَ - وَقَدْ صَلَّيْتُ يَا ابْنَ أَخِي قَبْلَ أَنْ أَلْقَى رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِثَلاَثِ سِنِينَ . قُلْتُ لِمَنْ قَالَ لِلَّهِ . قُلْتُ فَأَيْنَ تَوَجَّهُ قَالَ أَتَوَجَّهُ حَيْثُ يُوَجِّهُنِي رَبِّي أُصَلِّي عِشَاءً حَتَّى إِذَا كَانَ مِنْ آخِرِ اللَّيْلِ أُلْقِيتُ كَأَنِّي خِفَاءٌ حَتَّى تَعْلُوَنِي الشَّمْسُ . فَقَالَ أُنَيْسٌ إِنَّ لِي حَاجَةً بِمَكَّةَ فَاكْفِنِي . فَانْطَلَقَ أُنَيْسٌ حَتَّى أَتَى مَكَّةَ فَرَاثَ عَلَىَّ ثُمَّ جَاءَ فَقُلْتُ مَا صَنَعْتَ قَالَ لَقِيتُ رَجُلاً بِمَكَّةَ عَلَى دِينِكَ يَزْعُمُ أَنَّ اللَّهَ أَرْسَلَهُ . قُلْتُ فَمَا يَقُولُ النَّاسُ قَالَ يَقُولُونَ شَاعِرٌ كَاهِنٌ سَاحِرٌ . وَكَانَ أُنَيْسٌ أَحَدَ الشُّعَرَاءِ . قَالَ أُنَيْسٌ لَقَدْ سَمِعْتُ قَوْلَ الْكَهَنَةِ فَمَا هُوَ بِقَوْلِهِمْ وَلَقَدْ وَضَعْتُ قَوْلَهُ عَلَى أَقْرَاءِ الشِّعْرِ فَمَا يَلْتَئِمُ عَلَى لِسَانِ أَحَدٍ بَعْدِي أَنَّهُ شِعْرٌ وَاللَّهِ إِنَّهُ لَصَادِقٌ وَإِنَّهُمْ لَكَاذِبُونَ . قَالَ قُلْتُ فَاكْفِنِي حَتَّى أَذْهَبَ فَأَنْظُرَ . قَالَ فَأَتَيْتُ مَكَّةَ فَتَضَعَّفْتُ رَجُلاً مِنْهُمْ فَقُلْتُ أَيْنَ هَذَا الَّذِي تَدْعُونَهُ الصَّابِئَ فَأَشَارَ إِلَىَّ فَقَالَ الصَّابِئَ . فَمَالَ عَلَىَّ أَهْلُ الْوَادِي بِكُلِّ مَدَرَةٍ وَعَظْمٍ حَتَّى خَرَرْتُ مَغْشِيًّا عَلَىَّ - قَالَ - فَارْتَفَعْتُ حِينَ ارْتَفَعْتُ كَأَنِّي نُصُبٌ أَحْمَرُ - قَالَ - فَأَتَيْتُ زَمْزَمَ فَغَسَلْتُ عَنِّي الدِّمَاءَ وَشَرِبْتُ مِنْ مَائِهَا وَلَقَدْ لَبِثْتُ يَا ابْنَ أَخِي ثَلاَثِينَ بَيْنَ لَيْلَةٍ وَيَوْمٍ مَا كَانَ لِي طَعَامٌ إِلاَّ مَاءُ زَمْزَمَ فَسَمِنْتُ حَتَّى تَكَسَّرَتْ عُكَنُ بَطْنِي وَمَا وَجَدْتُ عَلَى كَبِدِي سُخْفَةَ جُوعٍ - قَالَ - فَبَيْنَا أَهْلُ مَكَّةَ فِي لَيْلَةٍ قَمْرَاءَ إِضْحِيَانَ إِذْ ضُرِبَ عَلَى أَسْمِخَتِهِمْ فَمَا يَطُوفُ بِالْبَيْتِ أَحَدٌ وَامْرَأَتَيْنِ مِنْهُمْ تَدْعُوَانِ إِسَافًا وَنَائِلَةَ - قَالَ - فَأَتَتَا عَلَىَّ فِي طَوَافِهِمَا فَقُلْتُ أَنْكِحَا أَحَدَهُمَا الأُخْرَى - قَالَ - فَمَا تَنَاهَتَا عَنْ قَوْلِهِمَا - قَالَ - فَأَتَتَا عَلَىَّ فَقُلْتُ هَنٌ مِثْلُ الْخَشَبَةِ غَيْرَ أَنِّي لاَ أَكْنِي . فَانْطَلَقَتَا تُوَلْوِلاَنِ وَتَقُولاَنِ لَوْ كَانَ هَا هُنَا أَحَدٌ مِنْ أَنْفَارِنَا . قَالَ فَاسْتَقْبَلَهُمَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَأَبُو بَكْرٍ وَهُمَا هَابِطَانِ قَالَ " مَا لَكُمَا " . قَالَتَا الصَّابِئُ بَيْنَ الْكَعْبَةِ وَأَسْتَارِهَا قَالَ " مَا قَالَ لَكُمَا " . قَالَتَا إِنَّهُ قَالَ لَنَا كَلِمَةً تَمْلأُ الْفَمَ . وَجَاءَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم حَتَّى اسْتَلَمَ الْحَجَرَ وَطَافَ بِالْبَيْتِ هُوَ وَصَاحِبُهُ ثُمَّ صَلَّى فَلَمَّا قَضَى صَلاَتَهُ قَالَ أَبُو ذَرٍّ . فَكُنْتُ أَنَا أَوَّلُ مَنْ حَيَّاهُ بِتَحِيَّةِ الإِسْلاَمِ - قَالَ - فَقُلْتُ السَّلاَمُ عَلَيْكَ يَا رَسُولَ اللَّهِ . فَقَالَ " وَعَلَيْكَ وَرَحْمَةُ اللَّهِ " . ثُمَّ قَالَ " مَنْ أَنْتَ " . قَالَ قُلْتُ مِنْ غِفَارٍ - قَالَ - فَأَهْوَى بِيَدِهِ فَوَضَعَ أَصَابِعَهُ عَلَى جَبْهَتِهِ فَقُلْتُ فِي نَفْسِي كَرِهَ أَنِ انْتَمَيْتُ إِلَى غِفَارٍ . فَذَهَبْتُ آخُذُ بِيَدِهِ فَقَدَعَنِي صَاحِبُهُ وَكَانَ أَعْلَمَ بِهِ مِنِّي ثُمَّ رَفَعَ رَأْسَهُ ثُمَّ قَالَ " مَتَى كُنْتَ هَا هُنَا " . قَالَ قُلْتُ قَدْ كُنْتُ هَا هُنَا مُنْذُ ثَلاَثِينَ بَيْنَ لَيْلَةٍ وَيَوْمٍ قَالَ " فَمَنْ كَانَ يُطْعِمُكَ " . قَالَ قُلْتُ مَا كَانَ لِي طَعَامٌ إِلاَّ مَاءُ زَمْزَمَ . فَسَمِنْتُ حَتَّى تَكَسَّرَتْ عُكَنُ بَطْنِي وَمَا أَجِدُ عَلَى كَبِدِي سُخْفَةَ جُوعٍ قَالَ " إِنَّهَا مُبَارَكَةٌ إِنَّهَا طَعَامُ طُعْمٍ " . فَقَالَ أَبُو بَكْرٍ يَا رَسُولَ اللَّهِ ائْذَنْ لِي فِي طَعَامِهِ اللَّيْلَةَ . فَانْطَلَقَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَأَبُو بَكْرٍ وَانْطَلَقْتُ مَعَهُمَا فَفَتَحَ أَبُو بَكْرٍ بَابًا فَجَعَلَ يَقْبِضُ لَنَا مِنْ زَبِيبِ الطَّائِفِ وَكَانَ ذَلِكَ أَوَّلَ طَعَامٍ أَكَلْتُهُ بِهَا ثُمَّ غَبَرْتُ مَا غَبَرْتُ ثُمَّ أَتَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ " إِنَّهُ قَدْ وُجِّهَتْ لِي أَرْضٌ ذَاتُ نَخْلٍ لاَ أُرَاهَا إِلاَّ يَثْرِبَ فَهَلْ أَنْتَ مُبَلِّغٌ عَنِّي قَوْمَكَ عَسَى اللَّهُ أَنْ يَنْفَعَهُمْ بِكَ وَيَأْجُرَكَ فِيهِمْ " . فَأَتَيْتُ أُنَيْسًا فَقَالَ مَا صَنَعْتَ قُلْتُ صَنَعْتُ أَنِّي قَدْ أَسْلَمْتُ وَصَدَّقْتُ . قَالَ مَا بِي رَغْبَةٌ عَنْ دِينِكَ فَإِنِّي قَدْ أَسْلَمْتُ وَصَدَّقْتُ . فَأَتَيْنَا أُمَّنَا فَقَالَتْ مَا بِي رَغْبَةٌ عَنْ دِينِكُمَا فَإِنِّي قَدْ أَسْلَمْتُ وَصَدَّقْتُ . فَاحْتَمَلْنَا حَتَّى أَتَيْنَا قَوْمَنَا غِفَارًا فَأَسْلَمَ نِصْفُهُمْ وَكَانَ يَؤُمُّهُمْ إِيمَاءُ بْنُ رَحَضَةَ الْغِفَارِيُّ وَكَانَ سَيِّدَهُمْ . وَقَالَ نِصْفُهُمْ إِذَا قَدِمَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم الْمَدِينَةَ أَسْلَمْنَا . فَقَدِمَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم الْمَدِينَةَ فَأَسْلَمَ نِصْفُهُمُ الْبَاقِي وَجَاءَتْ أَسْلَمُ فَقَالُوا يَا رَسُولَ اللَّهِ إِخْوَتُنَا نُسْلِمُ عَلَى الَّذِي أَسْلَمُوا عَلَيْهِ . فَأَسْلَمُوا فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " غِفَارُ غَفَرَ اللَّهُ لَهَا وَأَسْلَمُ سَالَمَهَا اللَّهُ " .

Narrator: হযরত আবু যার গিফারী (রাঃ)

৬১৩৫। হাদ্দাব ইবনে খালিদ আযদী (রাহঃ) ......... আবু যর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা আমাদের গিফার গোত্র থেকে বের হলাম। তারা হারাম মাসগুলোকে হালাল গণ্য করত। আমি আমার ভাই উনায়স এবং আমাদের মা সহ বের হলাম এবং আমরা আমাদের এক মামার কাছে উঠলাম। আমাদের মামা খুব সম্মান দেখালেন এবং আমাদের সাথে সৌজন্যমূলক ব্যবহার করলেন। এতে তাঁর গোত্রের লোকেরা আমাদের প্রতি হিংসা করতে লাগল। তারা বলল, তুমি যখন তোমার পরিবার থেকে বের হও তখন উনায়স তোমার অনুপস্থিতিতে তাদের কাছে যাতায়াত করে।

এরপর আমাদের মামা আসলেন এবং তাকে যা বলা হয়েছে তিনি তা আমাদের নিকট প্রকাশ করে দিলেন। তখন আমি বললাম আপনি আমাদের সাথে অতীতে যে সদ্ব্যবহার করেছেন তাকে ম্লান করে দিলেন। এরপর আপনার সঙ্গে আমাদের একত্রে থাকার অবকাশ নেই। তারপর আমরা আমাদের উটগুলোকে নিকটবর্তী করলাম এবং তাদের উপর আরোহণ করলাম। তখন আমাদের মামা তাঁর কাপড় দিয়ে নিজেকে ঢেকে কাঁদতে শুরু করলেন। আমরা রওয়ানা হয়ে মক্কার নিকটে অবতরণ করলাম। উনায়স আমাদের পশুগুলো এবং সে পরিমাণ পশুর মধ্যে (কবিতা রচনার) বাজি ধরল। তারপর তারা উভয়ে এক গণকের কাছে গেল।

গণক উনায়সকে শ্রেষ্ঠ বলে ঘোষণা করল। এরপর উনায়স আমাদের উটগুলো এবং তার সমপরিমাণ উট নিয়ে আমাদের নিকট ফিরে এল। আবু যর (রাযিঃ) বললেন, হে ভ্রাতুষ্পূত্র! আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সঙ্গে সাক্ষাতের তিন বছর পূর্বে নামায আদায় করেছি। আমি (রাবী) বললাম, কার জন্যে? তিনি বললেন, আল্লাহর জন্যে। আমি (রাবী) “বললাম, কোন দিকে মুখ ফিরাতেন? তিনি বললেন, আমার মহান প্রতিপালক যে দিকে আমার মুখ ফিরিয়ে দিতেন সে দিকে মুখ ফিরাতাম। আমি ইশার নামায আদায় করতে করতে রাতের শেষ অংশে নিদ্রার চাদরে ঢলে পড়তাম, যতক্ষণ না সূর্য আমার উপর পড়ত।

তারপর উনায়স (রাযিঃ) বললেন, মক্কায় আমার একটু প্রয়োজন আছে। কাজেই আপনি আমার সংসার তত্ত্বাবধান করবেন। তারপর উনায়স (রাযিঃ) চলে গেল এবং মক্কায় পৌছলো এবং সে বিলম্বে আমার কাছে ফিরে এল। আমি তাকে জিজ্ঞাসা করলাম, তুমি কী করলে? সে বলল, আমি মক্কায় এমন এক ব্যক্তির সাক্ষাত লাভ করেছি, যে আপনার দ্বীনের উপর প্রতিষ্ঠিত। তিনি দাবী করেন যে, আল্লাহ তাকে (রাসুল হিসেবে) প্রেরণ করেছেন। [আমি আবু যর (রাযিঃ)] বললাম, লোকেরা তাঁর সম্পর্কে কী বলে? সে বলল, তারা তাঁকে কবি, গণক ও যাদুকর বলে।

উনায়স (রাযিঃ) নিজেও একজন কবি ছিল। উনায়স (রাযিঃ) বলল, আমি অনেক গণকের কথা শুনেছি; কিন্তু ঐ ব্যক্তির কথা গণকের মত নয়। আমি তাঁর বাক্যকে কবিদের রচনার সাথে তুলনা করে দেখেছি; কিন্তু কোন কবির ভাষার সাথে তার কোন মিল নেই। আল্লাহর কসম! নিশ্চয়ই তিনি সত্যবাদী এবং ওরা মিথ্যাবাদী। তিনি বললেন, আমি বললাম, তুমি আমার সংসার দেখাশোনা কর এবং আমি গিয়ে একটু দেখে নিই।

তিনি বললেন, আমি মক্কায় এলাম এবং তাদের এক দুর্বল ব্যক্তিকে লক্ষ্য করে বললাম, সে ব্যক্তি কোথায়, যাকে তোমরা সাবী (ধর্ম পরিবর্তনকারী) বলে ডাক? সে আমার প্রতি ইশারা করল এবং বলল, এই সাবী। এরপর মক্কা উপত্যকার লোকেরা ঢিল ও হাড়সহ আমার উপর চড়াও হল, এমন কি আমি বেহুশ হয়ে পড়ে গেলাম। তিনি বললেন, আমি যখন উঠলম তখন লাল মূর্তির (অর্থাৎ রক্তে রঞ্জিত) অবস্থায় উঠলাম। তিনি বলেন, এরপর আমি যমযম কূপের কাছে এসে আমার রক্ত ধুয়ে নিলাম। এরপর তার পানি পান করলামা হে ভ্রাতুষ্পূত্র! আমি সেখানে ত্রিশ রাত্র-দিন অবস্থান করেছিলাম। সে সময় যমযমের পানি ছাড়া আমার কাছে কোন খাদ্য ছিলনা। অতঃপর আমি স্থুলদেহী হয়ে গেলাম। এমনকি আমার পেটের চামড়ায় ভাজ পড়ে গেল। আমি আমার কলিজায় ক্ষুধার কষ্ট অনুভব করিনি।

তিনি বললেন, ইতিমধ্যে মক্কাবাসীরা যখন এক উজ্জ্বল চাঁদনী রাতে ঘুমিয়ে পড়ল, তখন কেউ বায়তুল্লাহর তাওয়াফ করছিল না। সে সময় তাদের মধ্য থেকে দু'জন মহিলা ইসাফ ও নায়েলাকে* ডাকছিল। তিনি বললেন, তারা তাওয়াফ করতে করতে আমার কাছে এসে পড়ল। আমি বললাম, তাদের একজনকে অপরজনের সাথে বিয়ে দিয়ে দাও। তিনি বললেন, তবু তারা তাদের কথা থেকে বিরত হল না। তিনি বলেন, তারা আবার আমার সম্মুখ দিয়ে এল। আমি (বিরক্ত হয়ে) বললাম, (ওদের) লজ্জাস্থান পুরুষাঙ্গ ও যোনিদ্বার কাঠের মত। তিনি বললেন, আমি তাদের নাম স্পষ্ট উচ্চারণ করিনি। এতে তারা অভিশাপ দিতে দিতে চলে গেল এবং বলতে লাগল এখানে যদি আমাদের লোকদের কেউ থাকত (তাহলে এই বেআদবকে শাস্তি দিত)!

প্রতিমধ্যে এই দুই মহিলার সাথে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ও আবু বকর (রাযিঃ) এর সাক্ষাত হল। তখন তারা দু’জন নীচে (অর্থাৎ বাইরে থেকে কাবা চত্বরে) অবতরণ করছিলেন। তিনি তাদের দু’জনকে বললেন, তোমাদের কি হয়েছে? তারা বলল কাবা ও তাঁর পর্দার মাঝখানে এক বিধর্মী অবস্থান করছে। তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, সে তোমাদের কি বলেছে? তারা বলল, সে এমন কথা বলেছে যাতে মুখ ভরে যায় (অর্থাৎ মুখে উচ্চারণ করা সম্ভব নয়)। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এসে তাঁর সঙ্গীসহ হাজরে আসওয়াদ চুম্বন করলেন এবং বায়তুল্লাহ তাওয়াফ করে নামায আদায় করলেন। যখন তিনি তাঁর নামায সমাপন করলেন [তখন আবু যর (রাযিঃ) বললেন] আমিই প্রথম ব্যক্তি, যে তাকে ইসলামী কায়দায় সালাম জানিয়ে বললাম, আসসালামু আলাইকা ইয়া রাসুলাল্লাহ (হে আল্লাহর রাসুল, আপনার প্রতি সালাম ও শান্তি বর্ষিত হোক)। উত্তরে তিনি বলেলেন, ওয়া আলাইকা ওয়া রাহমাতুল্লাহ (তোমার প্রতিও শান্তি ও রহমত বর্ষিত হোক)।

অতঃপর তিনি বললেন, তুমি কে? তিনি বললেন, আমি গিফার গোত্রের লোক। তিনি বললেন, তখন তিনি তাঁর হাত প্রসারিত করলেন এবং তাঁর হাতের আঙ্গুলগুলো কপালে রাখলেন। আমি মনে মনে ভাবলাম, গিফার গোত্রের প্রতি আমার সম্পর্ককে তিনি অপছন্দ করছেন। এরপর আমি তাঁর হাত ধরতে চাইলাম। তাঁর সঙ্গী আমাকে বাঁধা দিলেন। তিনি তাকে আমার চাইতে অনেক বেশী ভালো জানতেন। তারপর তিনি মাথা তুলে তাকালেন এবং আমাকে জিজ্ঞাসা করলেন, তুমি কতদিন যাবত এখানে আছ? আমি বললাম, আমি এখানে ত্রিশটি রাতদিন অবস্থান করছি। তিনি বললেন, তোমাকে কে খাওয়াত? আমি বললাম, যমযম কূপের পানি ছাড়া আমার জন্য কোন খাদ্য ছিল না। এই পানি পান করেই আমি মোটাতাজা হয়ে গেছি, এমনকি আমার পেটের চামড়ায় ভাজ পড়েছে এবং আমি কখনো ক্ষুধা (জঠর জ্বালা) অনুভব করি নি। তিনি বললেন, তাতো বরকতময় এবং তা অনেক খাদ্যগুণে সমৃদ্ধ খাবার।

এরপর আবু বকর (রাযিঃ) বললেন, ইয়া রাসুলাল্লাহ! তাঁর আজ রাতের খানার (মেহমানদারীর) জন্য আমাকে অনুমতি দিন। তারপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ও আবু বকর (রাযিঃ) রওয়ানা হলেন এবং আমিও তাদের সাথে চললাম। আবু বকর (রাযিঃ) একটি দরজা খুললেন এবং আমাদের জন্য তিনি মুষ্টি ভরে তায়েফের কিসমিস পরিবেশন করলেন। এটাই ছিল আমার প্রথম খাদ্য যা সেখানে (মক্কায়) আমি খেলাম। তারপর যতদিন থাকার ততদিন রইলাম। এরপর আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কাছে এলাম। তিনি বললেন, আমাকে খেজুর গাছ সমৃদ্ধ একটি দেশের প্রতি ইশারা করা হয়েছে। আমার ধারণা সেটি ইয়াসরিব (মদীনার পূর্ব নাম) ছাড়া অন্য কোন স্থান নয়।

তারপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, তুমি কি আমার পক্ষ থেকে তোমার গোত্রের কাছে আমার পয়গাম পৌঁছিয়ে দিবে? হয়ত তোমার মাধ্যমে আল্লাহ তাদের উপকৃত করবেন এবং এদের (হিদায়াতের) কারণে তোমাকে পুরস্কৃত করবেন। এরপর আমি উনায়সের কাছে ফিরে এলাম। সে বলল, আপনি কি করেছেন? আমি বললাম, আমি তো ইসলাম গ্রহণ করেছি এবং বিশ্বাস করেছি। সে (উনায়স) বলল, আপনার দ্বীন সম্পর্কে আমার কোন আপত্তি নেই। আমিও ইসলাম গ্রহণ করেছি এবং বিশ্বাস করছি।

এরপর আমরা উভয়ে মায়ের কাছে এলাম। তিনি বললেন, তোমাদের দ্বীন সম্পর্কে আমার কোন আপত্তি নেই, আমিও ইসলাম গ্রহণ করলাম এবং বিশ্বাস করলাম। তারপর আমরা সওয়ার হয়ে আমদের গিফার গোত্রের কাছে এলাম। তাদের অর্ধেক লোক ইসলাম গ্রহণ করল এবং ঈমা ইবনে রাহাদা গিফারী তাদের ইমমত করেন। তিনি ছিলেন তাদের সর্দার। তাদের বাকী অর্ধেক বলল, যখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) মদীনায় আসবেন তখন আমরা ইসলাম গ্রহণ করব।

পরে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) মদীনাতে আসলেন এবং তাদের (গিফার গোত্রের) অবশিষ্ট অর্ধেক লোক ইসলামে দীক্ষিত হল। তারপর আসলাম গোত্রের লোকেরা এল। তারা বলল, ইয়া রাসুলাল্লাহ! আমাদের ভাইয়েরা (মিত্রেরা) যার উপরে ইসলাম কবুল করছেন আমরাও তাদের মত ইসলাম গ্রহণ করলাম। এভাবে তারাও ইসলামে দীক্ষিত হল।

তারপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, গিফার গোত্রকে আল্লাহ তাআলা মাগফিরাত দান করুন এবং আসলাম গোত্রকে আল্লাহ তাআলা সালামাত (নিরাপত্তা) দান করুন।

* ইসাফ ও নায়েলা নামে সাফা ও মারওয়াতে দুটি মুর্তি ছিল। ইসাফ ছিল পুরুষ এবং নায়েলা স্ত্রী। মক্কাবাসীদের মধ্যে প্রসিদ্ধ ছিল যে এরা উভয়ে হারামে যিনায় লিপ্ত হয়েছিল বলে শাস্তিস্বরূপ ওদের বিকৃত করে পাথরে রূপান্তরিত করে দেওয়া হয়, কিন্তু তারা প্রতীমা হিসেবে এগুলির পৃজা করত।
6136

حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ الْحَنْظَلِيُّ، أَخْبَرَنَا النَّضْرُ بْنُ شُمَيْلٍ، حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ، بْنُ الْمُغِيرَةِ حَدَّثَنَا حُمَيْدُ بْنُ هِلاَلٍ، بِهَذَا الإِسْنَادِ وَزَادَ بَعْدَ قَوْلِهِ قُلْتُ فَاكْفِنِي حَتَّى أَذْهَبَ فَأَنْظُرَ . قَالَ نَعَمْ وَكُنْ عَلَى حَذَرٍ مِنْ أَهْلِ مَكَّةَ فَإِنَّهُمْ قَدْ شَنِفُوا لَهُ وَتَجَهَّمُوا .

Narrator: হুমাইদ ইবনে হিলাল (রহঃ)

৬১৩৬। ইসহাক ইবনে ইবরাহীম হানযালী (রাহঃ) ......... হুমায়দ ইবনে হিলাল (রাযিঃ) থেকে এই সনদে (রাবী) আবু যর (রাযিঃ) এর কথা “আমি বললাম, তুমি এখানে অবস্থান কর, আমি গিয়ে সে ব্যক্তিকে দেখে নই।” এরপরে অতিরিক্ত বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বললেন, আচ্ছা, তবে মক্কাবাসীদের ব্যপারে সতর্ক থাকবেন। তারা তাঁর প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করে এবং কঠোর ও রুঢ় আচরণ করে।

6137

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى الْعَنَزِيُّ، حَدَّثَنِي ابْنُ أَبِي عَدِيٍّ، قَالَ أَنْبَأَنَا ابْنُ عَوْنٍ، عَنْ حُمَيْدِ بْنِ هِلاَلٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الصَّامِتِ، قَالَ قَالَ أَبُو ذَرٍّ يَا ابْنَ أَخِي صَلَّيْتُ سَنَتَيْنِ قَبْلَ مَبْعَثِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم . قَالَ قُلْتُ فَأَيْنَ كُنْتَ تَوَجَّهُ قَالَ حَيْثُ وَجَّهَنِيَ اللَّهُ . وَاقْتَصَّ الْحَدِيثَ بِنَحْوِ حَدِيثِ سُلَيْمَانَ بْنِ الْمُغِيرَةِ وَقَالَ فِي الْحَدِيثِ فَتَنَافَرَا إِلَى رَجُلٍ مِنَ الْكُهَّانِ . قَالَ فَلَمْ يَزَلْ أَخِي أُنَيْسٌ يَمْدَحُهُ حَتَّى غَلَبَهُ - قَالَ - فَأَخَذْنَا صِرْمَتَهُ فَضَمَمْنَاهَا إِلَى صِرْمَتِنَا . وَقَالَ أَيْضًا فِي حَدِيثِهِ قَالَ فَجَاءَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم فَطَافَ بِالْبَيْتِ وَصَلَّى رَكْعَتَيْنِ خَلْفَ الْمَقَامِ - قَالَ - فَأَتَيْتُهُ فَإِنِّي لأَوَّلُ النَّاسِ حَيَّاهُ بِتَحِيَّةِ الإِسْلاَمِ - قَالَ - قُلْتُ السَّلاَمُ عَلَيْكَ يَا رَسُولَ اللَّهِ . قَالَ " وَعَلَيْكَ السَّلاَمُ مَنْ أَنْتَ " . وَفِي حَدِيثِهِ أَيْضًا فَقَالَ " مُنْذُ كَمْ أَنْتَ هَا هُنَا " . قَالَ قُلْتُ مُنْذُ خَمْسَ عَشْرَةَ . وَفِيهِ فَقَالَ أَبُو بَكْرٍ أَتْحِفْنِي بِضِيَافَتِهِ اللَّيْلَةَ .

Narrator: হযরত আবু যার গিফারী (রাঃ)

৬১৩৭। মুহাম্মাদ ইবনে মুসান্না আনাযী (রাহঃ) ......... আব্দুল্লাহ ইবনে সামিত (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আবু যর (রাযিঃ) বলেছেন , হে ভ্রাতুষ্পুত্র! নবী (ﷺ) এর আবির্ভাবের পূর্বে আমি দুই বছর নামায আদায় করেছি। রাবী বললেন, আমি বললাম, আপনি কোন দিকে মুখ করতেন। তিনি [আবু যর (রাযিঃ)] বললেন, আল্লাহ যে দিকে আমার মুখ ফিরিয়ে দিতেন সেদিকে। ...... এরপর তিনি সুলাইমান ইবনে মুগীরা (রাহঃ) এর বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করেন।

আর তিনি হাদীসে বলেছেন, এরপর (কাব্য রচনায় শ্রেষ্ঠত্বের বাজি ধরেন) উভয়ে এক জ্যোতিষীর কাছে গেলেন। তিনি [আবু যর (রাযিঃ)] বলেন, আমার ভাই উনায়স কবিতায় এই জ্যোতিষীর প্রশংসা করতে লাগল, অবশেষে প্রতিপক্ষের উপর জয়ী হল। রাবী বলেন, তারপর আমরা তার পশুগুলো নিলাম এবং আমাদের পশুগুলোর সাথে মিলিয়ে ফেললাম।

তিনি তার হাদীসে আরও বলেছেন, তারপর নবী (ﷺ) আসলেন এবং বায়তুল্লাহর তাওয়াফ করলেন। এরপর মাকামে ইবরাহীম এর পিছনে দু’রাক'আত নামায আদায় করলেন। তিনি [আবু যর (রাযিঃ)] বলেন, আমি তাঁর [নবী (ﷺ)] এর নিকট এলাম এবং আমিই প্রথম ব্যক্তি, যে তাঁকে ইসলামী নিয়মে সালাম করলাম। তিনি বলেন, আমি বললাম, আস সালামু আলাইকা ইয়া রাসূলাল্লাহ (ﷺ)! (হে আল্লাহর রাসূল আপনার প্রতি শান্তি বর্ষিত হোক!) তিনি [নবী (ﷺ)] বললেন, ‘ওয়া আলাইকাস সালাম’ (তোমার প্রতিও সালাম বর্ষিত হোক)। তুমি কে?

তার বর্ণিত হাদীসে আরও আছে যে, তারপর তিনি বললেন, তুমি এখানে কতদিন যাবৎ আছ? আমি বললাম, পনের (দিন) ধরে অবস্থান করছি। এই হাদীসে আরও আছে, তারপর আবু বকর (রাযিঃ) বললেন , তাঁকে এক রাত্রির মেহমানদারীর সুযোগ আমাকে দিন।
6138

وَحَدَّثَنِي إِبْرَاهِيمُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنُ عَرْعَرَةَ السَّامِيُّ، وَمُحَمَّدُ بْنُ حَاتِمٍ، - وَتَقَارَبَا فِي سِيَاقِ الْحَدِيثِ وَاللَّفْظُ لاِبْنِ حَاتِمٍ - قَالاَ حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ مَهْدِيٍّ حَدَّثَنَا الْمُثَنَّى بْنُ سَعِيدٍ عَنْ أَبِي جَمْرَةَ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ لَمَّا بَلَغَ أَبَا ذَرٍّ مَبْعَثُ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم بِمَكَّةَ قَالَ لأَخِيهِ ارْكَبْ إِلَى هَذَا الْوَادِي فَاعْلَمْ لِي عِلْمَ هَذَا الرَّجُلِ الَّذِي يَزْعُمُ أَنَّهُ يَأْتِيهِ الْخَبَرُ مِنَ السَّمَاءِ فَاسْمَعْ مِنْ قَوْلِهِ ثُمَّ ائْتِنِي . فَانْطَلَقَ الآخَرُ حَتَّى قَدِمَ مَكَّةَ وَسَمِعَ مِنْ قَوْلِهِ ثُمَّ رَجَعَ إِلَى أَبِي ذَرٍّ فَقَالَ رَأَيْتُهُ يَأْمُرُ بِمَكَارِمِ الأَخْلاَقِ وَكَلاَمًا مَا هُوَ بِالشِّعْرِ . فَقَالَ مَا شَفَيْتَنِي فِيمَا أَرَدْتُ . فَتَزَوَّدَ وَحَمَلَ شَنَّةً لَهُ فِيهَا مَاءٌ حَتَّى قَدِمَ مَكَّةَ فَأَتَى الْمَسْجِدَ فَالْتَمَسَ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم وَلاَ يَعْرِفُهُ وَكَرِهَ أَنْ يَسْأَلَ عَنْهُ حَتَّى أَدْرَكَهُ - يَعْنِي اللَّيْلَ - فَاضْطَجَعَ فَرَآهُ عَلِيٌّ فَعَرَفَ أَنَّهُ غَرِيبٌ فَلَمَّا رَآهُ تَبِعَهُ فَلَمْ يَسْأَلْ وَاحِدٌ مِنْهُمَا صَاحِبَهُ عَنْ شَىْءٍ حَتَّى أَصْبَحَ ثُمَّ احْتَمَلَ قُرَيْبَتَهُ وَزَادَهُ إِلَى الْمَسْجِدِ فَظَلَّ ذَلِكَ الْيَوْمَ وَلاَ يَرَى النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم حَتَّى أَمْسَى فَعَادَ إِلَى مَضْجَعِهِ فَمَرَّ بِهِ عَلِيٌّ فَقَالَ مَا أَنَى لِلرَّجُلِ أَنْ يَعْلَمَ مَنْزِلَهُ فَأَقَامَهُ فَذَهَبَ بِهِ مَعَهُ وَلاَ يَسْأَلُ وَاحِدٌ مِنْهُمَا صَاحِبَهُ عَنْ شَىْءٍ حَتَّى إِذَا كَانَ يَوْمُ الثَّالِثِ فَعَلَ مِثْلَ ذَلِكَ فَأَقَامَهُ عَلِيٌّ مَعَهُ ثُمَّ قَالَ لَهُ أَلاَ تُحَدِّثُنِي مَا الَّذِي أَقْدَمَكَ هَذَا الْبَلَدَ قَالَ إِنْ أَعْطَيْتَنِي عَهْدًا وَمِيثَاقًا لَتُرْشِدَنِّي فَعَلْتُ . فَفَعَلَ فَأَخْبَرَهُ فَقَالَ فَإِنَّهُ حَقٌّ وَهُوَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَإِذَا أَصْبَحْتَ فَاتَّبِعْنِي فَإِنِّي إِنْ رَأَيْتُ شَيْئًا أَخَافُ عَلَيْكَ قُمْتُ كَأَنِّي أُرِيقُ الْمَاءَ فَإِنْ مَضَيْتُ فَاتَّبِعْنِي حَتَّى تَدْخُلَ مَدْخَلِي . فَفَعَلَ فَانْطَلَقَ يَقْفُوهُ حَتَّى دَخَلَ عَلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَدَخَلَ مَعَهُ فَسَمِعَ مِنْ قَوْلِهِ وَأَسْلَمَ مَكَانَهُ فَقَالَ لَهُ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم " ارْجِعْ إِلَى قَوْمِكَ فَأَخْبِرْهُمْ حَتَّى يَأْتِيَكَ أَمْرِي " . فَقَالَ وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ لأَصْرُخَنَّ بِهَا بَيْنَ ظَهْرَانَيْهِمْ . فَخَرَجَ حَتَّى أَتَى الْمَسْجِدَ فَنَادَى بِأَعْلَى صَوْتِهِ أَشْهَدُ أَنْ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَأَنَّ مُحَمَّدًا رَسُولُ اللَّهِ . وَثَارَ الْقَوْمُ فَضَرَبُوهُ حَتَّى أَضْجَعُوهُ فَأَتَى الْعَبَّاسُ فَأَكَبَّ عَلَيْهِ فَقَالَ وَيْلَكُمْ أَلَسْتُمْ تَعْلَمُونَ أَنَّهُ مِنْ غِفَارٍ وَأَنَّ طَرِيقَ تُجَّارِكُمْ إِلَى الشَّامِ عَلَيْهِمْ . فَأَنْقَذَهُ مِنْهُمْ ثُمَّ عَادَ مِنَ الْغَدِ بِمِثْلِهَا وَثَارُوا إِلَيْهِ فَضَرَبُوهُ فَأَكَبَّ عَلَيْهِ الْعَبَّاسُ فَأَنْقَذَهُ .

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

৬১৩৮। ইবরাহীম ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে আর’আরা সামী ও মুহাম্মাদ ইবনে হাতিম (রাহঃ) ......... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন আবু যর (রাযিঃ) এর কাছে খবর পৌছল যে, মক্কায় নবী (ﷺ) প্রেরিত হয়েছেন, তখন তিনি তাঁর ভাইকে বললেন, তুমি সওয়ারীতে আরোহণ করে সেই (মক্কা) উপত্যকায় যাও এবং সেই ব্যক্তি সম্পর্কে আমাকে জানাও, যিনি দাবি করেন যে, আসমান থেকে তাঁর কাছে ওহী আসে। তাঁর কথা ভাল করে শুনবে এবং তারপর তুমি আমার কাছে আসবে। তখন অপর ব্যক্তি (তার ভাই) রওয়ানা হয়ে মক্কা এল এবং তার কথা শুনল।

তারপর সে আবু যর (রাযিঃ)-এর কাছে ফিরে এল এবং সে বলল, আমি তাঁকে লক্ষ্য করেছি যে, তিনি উত্তম চরিত্রের নির্দেশ দেন এবং এমন বাণী শোনান, যা কবিতা নয়। তখন তিনি (আবু যর (রাযিঃ) বললেন, তুমি আমার চাহিদা মেটাতে পারলে না। তারপর তিনি পাথেয় জোগাড় করলেন এবং একটি পানি ভর্তি মশক নিলেন। অবশেষে মক্কায় পৌছে তিনি মসজিদুল হারামে এলেন। আর নবী (ﷺ) কে তালাশ করলেন। কিন্তু তিনি তাঁকে চিনতেন না। আর তাঁর সম্পর্কে (কারও কাছে) জিজ্ঞাসা করাও অপছন্দ করলেন।

অবশেষে রাত হয়ে গেল। তিনি শুয়ে পড়লেন। তখন আলী (রাযিঃ) তাকে দেখলেন এবং তিনি বুঝতে পারলেন যে ইনি একজন আগন্তুক। যখন তিনি তাকে দেখলেন (তাঁর আহবানে) তাঁর [আলী (রাযিঃ)] অনুসরণ করলেন; কিন্তু কেউ কারো কাছে কিছু জিজ্ঞাসা করলেন না। এমনকি (এভাবে) ভোর হয়ে গেল। এরপর তিনি [আবু যর (রাযিঃ)] তাঁর আসবাবপত্র ও মশক মসজিদে রাখলেন এবং সেদিনটি সেখানে অতিবাহিত করলেন। তিনি নবী (ﷺ) কে দেখতে পেলেন না, এমনকি সন্ধ্যা হয়ে গেল। তারপর তিনি তাঁর শোবার জায়গায় ফিরে এলেন।

আলী (রাযিঃ) তাঁর কাছে এলেন, তিনি বললেন, এখনো সময় আসেনি, যে সে ব্যক্তি (আপনি) তাঁর উদ্দিষ্ট স্থান সম্পর্কে অবগত হবে। এরপর তিনি তাকে উঠিয়ে সঙ্গে নিয়ে চললেন। তবে কেউ কারো কাছে কোন বিষয়ে জিজ্ঞাসা করলেন না। এমনকি তৃতীয় দিন এসে গেল। এই দিনও সেইরূপ করলেন। আলী (রাযিঃ) তাকে তাঁর সঙ্গে উঠিয়ে নিয়ে নিলেন এবং তাকে বললেন, আপনি কি আমাকে জানাবেন না, কিসে আপনাকে এই শহরে এনেছে? তিনি (আবু যর (রাযিঃ) বললেন, আপনি যদি আমাকে সঠিক পথ দেখানোর প্রতিশ্রুতি দেন ও প্রতিজ্ঞা করেন তাহলে আমি আপনার কাছে বলব। তিনি ওয়াদা করলেন।

তখন (আবু যর (রাযিঃ) তাকে সব অবহিত করলেন। এরপর আলী (রাযিঃ) বললেন, তিনি [নবী (ﷺ)] সত্য এবং তিনি আল্লাহর রাসুল। সকাল হলে আপনি আমাকে অনুসরণ করবেন। আমি যদি এমন কিছু দেখতে পাই যাতে আপনার আশঙ্কা আছে, তখন আমি দাঁড়িয়ে যাব, যেন আমি মুত্র ত্যাগ করছি। আর যদি আমি চলতে থাকি তাহলে আমাকে অনুসরণ করবেন। অবশেষে আমার প্রবেশস্থলে আপনি ঢুকে পড়বেন। তিনি তাই করলেন। তিনি তাঁর পিছনে চললেন, শেষ পর্যন্ত তিনি [আলী (রাযিঃ)] নবী (ﷺ) এর নিকট প্রবেশ করলেন আর আবু যর (রাযিঃ) ও তাঁর সঙ্গে প্রবেশ করলেন।

তারপর তিনি তার (নবী (ﷺ) এর) কথা শুনলেন এবং সেখানেই ইসলাম গ্রহণ করলেন। এরপর নবী (ﷺ) তাকে বললেন, তুমি তোমার গোত্রের কাছে ফিরে যাও এবং তাদের কাছে দ্বীনের দাওয়াত পৌঁছে দাও। এ আমার নির্দেশ তোমার কাছে পৌছা পর্যন্ত (এভাবে থাকবে)। এরপর তিনি [আবু যর (রাযিঃ)] বললেন, সেই মহান সত্তার কসম! যার হাতে আমার প্রাণ, আমি তা মক্কাবাসীদের মাঝে চিৎকার করে ঘোষণা করব। তারপর তিনি বেরিয়ে পড়লেন এবং মসজিদুল হারামে প্রবেশ করলেন। তারপর উচ্চস্বরে ঘোষণা করলেনঃ أَشْهَدُ أَنْ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَأَنَّ مُحَمَّدًا رَسُولُ اللَّهِ ″আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে,আল্লাহ ছাড়া কোন ইলাহ নেই এবং আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে মুহাম্মাদ (ﷺ) আল্লাহর রাসুল।″

এতে লোকেরা তাঁর উপর ঝাপিয়ে পড়ল এবং প্রহার করে তাকে ধরাশায়ী করে ফেলল। আব্বাস (রাযিঃ) সেখানে এলেন এবং ঝুকে পড়ে তাকে দেখলেন। তিনি [আব্বাস (রাযিঃ)] বললেন, তোমাদের জন্য আফসোস! তোমরা কি জান না যে, ইনি গিফার গোত্রের লোক? তোমাদের সিরিয়া দেশে বাণিজ্যের যাতায়াতের রাস্তা তাদের এলাকায়। তারপর তিনি তাকে তাদের কাছ থেকে ছাড়িয়ে আনলেন। পরের দিন তিনি আবার আগের দিনের মতই করলেন। লোকেরা তাঁর উপর ঝাপিয়ে পড়ল এবং প্রহার করল। আব্বাস (রাযিঃ) তাকে আড়াল করলেন এবং তাঁকে তিনি মুক্ত করলেন।

২৯. জারীর ইবনে আব্দুল্লাহ (রাযিঃ) এর ফযীলত

باب مِنْ فَضَائِلِ جَرِيرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ رضى الله تعالى عنه

6139
حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ يَحْيَى، أَخْبَرَنَا خَالِدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، عَنْ بَيَانٍ، عَنْ قَيْسِ بْنِ أَبِي، حَازِمٍ عَنْ جَرِيرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، ح

وَحَدَّثَنِي عَبْدُ الْحَمِيدِ بْنُ بَيَانٍ، حَدَّثَنَا خَالِدٌ، عَنْ بَيَانٍ، قَالَ سَمِعْتُ قَيْسَ بْنَ أَبِي، حَازِمٍ يَقُولُ قَالَ جَرِيرُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ مَا حَجَبَنِي رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مُنْذُ أَسْلَمْتُ وَلاَ رَآنِي إِلاَّ ضَحِكَ .

Narrator: জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ আনসারী (রাঃ)

৬১৩৯। ইয়াহয়া ইবনে ইয়াহয়া তামিমী ও আব্দুল হামীদ ইবনে বায়ান (রাহঃ) ......... জারীর ইবনে আব্দুল্লাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ইসলাম গ্রহণ করার পর থেকে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাকে (তাঁর কাছে প্রবেশে) বাধা দেননি। আর তিনি আমার প্রতি হাসিমুখে ছাড়া তাকাতেন না।

6140

وَحَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، وَأَبُو أُسَامَةَ عَنْ إِسْمَاعِيلَ، ح وَحَدَّثَنَا ابْنُ نُمَيْرٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ إِدْرِيسَ، حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ، عَنْ قَيْسٍ، عَنْ جَرِيرٍ، قَالَ مَا حَجَبَنِي رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مُنْذُ أَسْلَمْتُ وَلاَ رَآنِي إِلاَّ تَبَسَّمَ فِي وَجْهِي . زَادَ ابْنُ نُمَيْرٍ فِي حَدِيثِهِ عَنِ ابْنِ إِدْرِيسَ وَلَقَدْ شَكَوْتُ إِلَيْهِ أَنِّي لاَ أَثْبُتُ عَلَى الْخَيْلِ فَضَرَبَ بِيَدِهِ فِي صَدْرِي وَقَالَ " اللَّهُمَّ ثَبِّتْهُ وَاجْعَلْهُ هَادِيًا مَهْدِيًّا " .

Narrator: জারীর ইবনে আব্দুল্লাহ বাজালী (রাঃ)

৬১৪০। আবু বকর ইবনে আবি শাঈবা, আবু উসামা ও ইবনে নুমাইর (রাহঃ) ......... জারীর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ইসলাম গ্রহণ করার পর থেকে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাকে (প্রবেশে) বাধা দেন নি। তিনি আমার চেহারায় মৃদু হাসি ছাড়া আমার চেহারার দিকে দেখেননি। ইবনে নুমাইর (রাহঃ) তাঁর হাদীসে ইবনে ইদরীস (রাহঃ) থেকে অধিক বর্ণনা করেছেন, “আমি তার কাছে অভিযোগ করলাম যে, আমি ঘোড়ার পিঠে দৃঢ়ভাবে থাকতে পারি না। তখন তিনি তাঁর হাতে আমার বুকে মৃদু আঘাত করে দুআ করলেনঃ اللَّهُمَّ ثَبِّتْهُ وَاجْعَلْهُ هَادِيًا مَهْدِيًّا হে আল্লাহ! তাকে স্থির রাখুন এবং তাকে হিদায়াতকারী ও হিদায়াতপ্রাপ্ত বানিয়ে দিন।

6141

حَدَّثَنِي عَبْدُ الْحَمِيدِ بْنُ بَيَانٍ، أَخْبَرَنَا خَالِدٌ، عَنْ بَيَانٍ، عَنْ قَيْسٍ، عَنْ جَرِيرٍ، قَالَ كَانَ فِي الْجَاهِلِيَّةِ بَيْتٌ يُقَالُ لَهُ ذُو الْخَلَصَةِ وَكَانَ يُقَالُ لَهُ الْكَعْبَةُ الْيَمَانِيَةُ وَالْكَعْبَةُ الشَّامِيَّةُ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " هَلْ أَنْتَ مُرِيحِي مِنْ ذِي الْخَلَصَةِ وَالْكَعْبَةِ الْيَمَانِيَةِ وَالشَّامِيَّةِ " . فَنَفَرْتُ إِلَيْهِ فِي مِائَةٍ وَخَمْسِينَ مِنْ أَحْمَسَ فَكَسَرْنَاهُ وَقَتَلْنَا مَنْ وَجَدْنَا عِنْدَهُ فَأَتَيْتُهُ فَأَخْبَرْتُهُ - قَالَ - فَدَعَا لَنَا وَلأَحْمَسَ .

Narrator: জারীর ইবনে আব্দুল্লাহ বাজালী (রাঃ)

৬১৪১। আব্দুল হামীদ ইবনে বায়ান (রাহঃ) ......... জারীর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, জাহিলী যুগে একটি ঘর ছিল, যেটিকে ‘যুলখালাসা’ বলা হত এবং এবং এটাকে ইয়ামানী কা'বা ও শামীয়াহ কা'বাও বলা হত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) (জারীরকে) বললেন, তুমি কি আমাকে যুলখালাসা এবং ইয়ামানী কাবা ও শামীয়াহ কাবা থেকে চিন্তা মুক্ত করতে পারবে? তখন আমি গোত্রের একশ পঞ্চাশজনসহ আহমাসকে সঙ্গে নিয়ে রওয়ানা হলাম। যুলখালাসাকে ভেঙ্গে ফেললাম এবং সেখানে যাদের পেলাম তাদের হত্যা করলাম। এরপর আমি তাঁর কাছে ফিরে এসে তাঁকে অবহিত করলাম। রাবী বলেন, তখন তিনি আমাদের জন্য ও আহমাসের জন্য দুআ করলেন।

6142

حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، أَخْبَرَنَا جَرِيرٌ، عَنْ إِسْمَاعِيلَ بْنِ أَبِي خَالِدٍ، عَنْ قَيْسِ، بْنِ أَبِي حَازِمٍ عَنْ جَرِيرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ الْبَجَلِيِّ، قَالَ قَالَ لِي رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " يَا جَرِيرُ أَلاَ تُرِيحُنِي مِنْ ذِي الْخَلَصَةِ " . بَيْتٍ لِخَثْعَمَ كَانَ يُدْعَى كَعْبَةَ الْيَمَانِيَةِ . قَالَ فَنَفَرْتُ فِي خَمْسِينَ وَمِائَةِ فَارِسٍ وَكُنْتُ لاَ أَثْبُتُ عَلَى الْخَيْلِ فَذَكَرْتُ ذَلِكَ لِرَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَضَرَبَ يَدَهُ فِي صَدْرِي فَقَالَ " اللَّهُمَّ ثَبِّتْهُ وَاجْعَلْهُ هَادِيًا مَهْدِيًّا " . قَالَ فَانْطَلَقَ فَحَرَّقَهَا بِالنَّارِ ثُمَّ بَعَثَ جَرِيرٌ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم رَجُلاً يُبَشِّرُهُ يُكْنَى أَبَا أَرْطَاةَ مِنَّا فَأَتَى رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ لَهُ مَا جِئْتُكَ حَتَّى تَرَكْنَاهَا كَأَنَّهَا جَمَلٌ أَجْرَبُ . فَبَرَّكَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَلَى خَيْلِ أَحْمَسَ وَرِجَالِهَا خَمْسَ مَرَّاتٍ .

Narrator: জারীর ইবনে আব্দুল্লাহ বাজালী (রাঃ)

৬১৪২। ইসহাক ইবনে ইবরাহীম (রাহঃ) ......... জারীর ইবনে আব্দুল্লাহ বাজালী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাকে বললেন, হে জারীর! তুমি কি আমাকে খাছ’আম গোত্রের গৃহ (প্রতিমা মন্দির) যুলখালাসা থেকে চিন্তা মুক্ত করবে না? যেটিকে ইয়ামানী কাবাও বলা হত। জারীর বলেন, আমি দেড়শ অশ্বারোহীসহ সেদিকে রওয়ানা হলাম। আমি অশ্বপৃষ্ঠে স্থিরভাবে থাকতে পারতাম না। আমি এই বিষয়টি রাসূলুল্লাহ(ﷺ) এর কাছে উল্লেখ করলাম। তিনি আমার বুকে তাঁর হাত মারলেন এবং দুআ করলেনঃ اللَّهُمَّ ثَبِّتْهُ وَاجْعَلْهُ هَادِيًا مَهْدِيًّا “হে আল্লাহ! তাকে (অশ্বপৃষ্ঠে) স্থির রাখুন এবং তাকে হিদায়াতকারী ও হিদায়াতপ্রাপ্ত বানিয়ে দিন।”

রাবী বলেন, এরপর তিনি চলে গেলেন এবং সেটি (যুলখালাসা মন্দির) আগুন লাগিয়ে জ্বালিয়ে দিলেন। তারপর জারীর (রাযিঃ) আমাদের মধ্যে থেকে আবু আরতাত (রাযিঃ) নামে এক ব্যক্তিকে সুসংবাদ পৌঁছানোর জন্য রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কাছে পাঠালেন। তিনি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর কাছে এসে তাঁকে বললেন, আমরা যুলখালাসাকে পাঁচড়ার কারণে আলকাতরার প্রলেপযুক্ত (কালো) উটের মত করে দিয়ে আপনার কাছে এসেছি। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আহমাস’ এর ঘোড়া সওয়ার ও পদাতিকদের জন্য পাঁচবার বরকতের দুআ করলেন।
6143

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، ح وَحَدَّثَنَا ابْنُ نُمَيْرٍ، حَدَّثَنَا أَبِي ح، وَحَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبَّادٍ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، ح وَحَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي عُمَرَ، حَدَّثَنَا مَرْوَانُ، - يَعْنِي الْفَزَارِيَّ ح وَحَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ رَافِعٍ، حَدَّثَنَا أَبُو أُسَامَةَ، كُلُّهُمْ عَنْ إِسْمَاعِيلَ، بِهَذَا الإِسْنَادِ وَقَالَ فِي حَدِيثِ مَرْوَانَ فَجَاءَ بَشِيرُ جَرِيرٍ أَبُو أَرْطَاةَ حُصَيْنُ بْنُ رَبِيعَةَ يُبَشِّرُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم .

৬১৪৩। বিভিন্ন সনদে আবু বকর ইবনে আবি শাঈবা (রাহঃ) ......... মুহাম্মাদ ইবনে আব্বাদ (রাহঃ) ইবনে আবু উমর (রাহঃ) ও মুহাম্মাদ ইবনে রাফি’ (রাহঃ) ইসমাঈল (রাহঃ) সূত্রে উক্ত সনদে (পূর্বানুরূপ হাদীস বর্ণিত) মারওয়ান (রাহঃ) থেকে ইবনে আবু উমরের হাদীসে বলেছেন যে, জারীর (রাযিঃ) এর সুসংবাদদাতা আবু আরতাত হুসাইন ইবনে রাবীআ (রাযিঃ) নবী (ﷺ) কে সুসংবাদ দেওয়ার জন্য আসলেন।

৩০. আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) এর ফযীলত

باب فَضَائِلِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَبَّاسٍ رضى الله عنهما

6144

حَدَّثَنَا زُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، وَأَبُو بَكْرِ بْنُ النَّضْرِ قَالاَ حَدَّثَنَا هَاشِمُ بْنُ الْقَاسِمِ، حَدَّثَنَا وَرْقَاءُ بْنُ عُمَرَ الْيَشْكُرِيُّ، قَالَ سَمِعْتُ عُبَيْدَ اللَّهِ بْنَ أَبِي يَزِيدَ، يُحَدِّثُ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، أَنَّوسلم أَتَى الْخَلاَءَ فَوَضَعْتُ لَهُ وَضُوءًا فَلَمَّا خَرَجَ قَالَ " مَنْ وَضَعَ هَذَا " . فِي رِوَايَةِ زُهَيْرٍ قَالُوا . وَفِي رِوَايَةِ أَبِي بَكْرٍ قُلْتُ ابْنُ عَبَّاسٍ . قَالَ " اللَّهُمَّ فَقِّهْهُ " .

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

৬১৪৪। যুহাইর ইবনে হারব ও আবু বকর ইবনে নযর (রাহঃ) ......... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, নবী (ﷺ) ইস্তিঞ্জায় গেলেন। আমি তাঁর জন্য উযুর পানি রাখলাম। তিনি হাজত সেরে এসে জিজ্ঞাসা করলেন, এই পানি কে রেখেছে? [যুহাইর (রাহঃ) এর বর্ণনায়] ‘তারা বলল’ অথবা [এবং আবু বকর (রাযিঃ) এর বর্ণনায়] আমি বললাম’ ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) (রেখেছে)। নবী (ﷺ) দুআ করলেন, اللَّهُمَّ فَقِّهْهُ “হে আল্লাহ! তাকে
দ্বীনের ‘ফিকহ’ (সুক্ষ গভীর জ্ঞান) দান করুন।”

৩১. আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাযিঃ) এর ফযীলত

باب مِنْ فَضَائِلِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ رضى الله عنهما

6145

حَدَّثَنَا أَبُو الرَّبِيعِ الْعَتَكِيُّ، وَخَلَفُ بْنُ هِشَامٍ، وَأَبُو كَامِلٍ الْجَحْدَرِيُّ كُلُّهُمْ عَنْ حَمَّادِ، بْنِ زَيْدٍ - قَالَ أَبُو الرَّبِيعِ حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ، - حَدَّثَنَا أَيُّوبُ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، قَالَ رَأَيْتُ فِي الْمَنَامِ كَأَنَّ فِي يَدِي قِطْعَةَ إِسْتَبْرَقٍ وَلَيْسَ مَكَانٌ أُرِيدُ مِنَ الْجَنَّةِ إِلاَّ طَارَتْ إِلَيْهِ - قَالَ - فَقَصَصْتُهُ عَلَى حَفْصَةَ فَقَصَّتْهُ حَفْصَةُ عَلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم " أَرَى عَبْدَ اللَّهِ رَجُلاً صَالِحًا " .

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

৬১৪৫। আবুর রাবী আতাকী, খালফ ইবনে হিশাম ও আবু কামিল জাহদারী (রাহঃ) ......... ইবনে উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি স্বপ্নে দেখলাম যে, আমার হাতে সুক্ষ রেশমী বস্ত্রের একটি টুকরা এবং জান্নাতের যেথায় আমি ইচ্ছা করতাম সেই বস্ত্র খণ্ডটি আমাকে সেখানেই উড়িয়ে নিয়ে যেত। তিনি বলেন, এরপর আমি হাফসা (রাযিঃ) এর কাছে ঘটনাটি বর্ণনা করলাম। হাফসা (রাযিঃ) তা নবী (ﷺ) এর কাছে বর্ণনা করলেন। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, আমি আব্দুল্লাহকে একজন সৎলোক দেখতে পাচ্ছি।

6146

حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، وَعَبْدُ بْنُ حُمَيْدٍ، - وَاللَّفْظُ لِعَبْدٍ - قَالاَ أَخْبَرَنَا عَبْدُ، الرَّزَّاقِ أَخْبَرَنَا مَعْمَرٌ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ سَالِمٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، قَالَ كَانَ الرَّجُلُ فِي حَيَاةِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِذَا رَأَى رُؤْيَا قَصَّهَا عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَتَمَنَّيْتُ أَنْ أَرَى رُؤْيَا أَقُصُّهَا عَلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ وَكُنْتُ غُلاَمًا شَابًّا عَزَبًا وَكُنْتُ أَنَامُ فِي الْمَسْجِدِ عَلَى عَهْدِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَرَأَيْتُ فِي النَّوْمِ كَأَنَّ مَلَكَيْنِ أَخَذَانِي فَذَهَبَا بِي إِلَى النَّارِ فَإِذَا هِيَ مَطْوِيَّةٌ كَطَىِّ الْبِئْرِ وَإِذَا لَهَا قَرْنَانِ كَقَرْنَىِ الْبِئْرِ وَإِذَا فِيهَا نَاسٌ قَدْ عَرَفْتُهُمْ فَجَعَلْتُ أَقُولُ أَعُوذُ بِاللَّهِ مِنَ النَّارِ أَعُوذُ بِاللَّهِ مِنَ النَّارِ أَعُوذُ بِاللَّهِ مِنَ النَّارِ - قَالَ - فَلَقِيَهُمَا مَلَكٌ فَقَالَ لِي لَمْ تُرَعْ . فَقَصَصْتُهَا عَلَى حَفْصَةَ فَقَصَّتْهَا حَفْصَةُ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم " نِعْمَ الرَّجُلُ عَبْدُ اللَّهِ لَوْ كَانَ يُصَلِّي مِنَ اللَّيْلِ " . قَالَ سَالِمٌ فَكَانَ عَبْدُ اللَّهِ بَعْدَ ذَلِكَ لاَ يَنَامُ مِنَ اللَّيْلِ إِلاَّ قَلِيلاً .

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

৬১৪৬। ইসহাক ইবনে ইবরাহীম ও আব্দ ইবনে হুমায়দ (রাহঃ) ......... ইবনে উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর জীবদ্দশায় কোন ব্যক্তি স্বপ্নে দেখলে তা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কাছে বর্ণনা করতেন। আমি আশা করেছিলাম যে, আমি কোন স্বপ্ন দেখে নবী (ﷺ) এর নিকট তা বর্ণনা করি। রাবী বলেন, সে সময় আমি নওজোয়ান অবিবাহিত যুবক ছিলাম এবং রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর জীবদ্দশায় আমি মসজিদে নিদ্রা যেতাম। তখন আমি স্বপ্ন দেখলাম যেন দুজন ফিরিশতা আমাকে পাকড়াও করলেন এবং তাঁরা আমাকে জাহান্নামের নিকট নিয়ে গেলেন। তখন দেখলাম যে, সেটি একটি গভীর গর্ত, একটি কূপের গর্তের মতা তাতে দুইটি কাষ্ঠখণ্ড দেখলাম যা কূপের উপরে স্বাভাবিকভাবে থাকে। সেখানে কিছু লোক ছিল যাদের আমি চিনলাম।

আমি তখন বলতে শুরু করলাম أَعُوذُ بِاللَّهِ مِنَ النَّارِ আমি জাহান্নাম থেকে আল্লাহর পানাহ চাই, আমি জাহান্নাম থেকে আল্লাহর পানাহ চাই, আমি জাহান্নাম থেকে আল্লাহর পানাহ চাই”। রাবী বলেন, সে দুই ফিরিশতার সঙ্গে আরও একজন ফিরিশতা মিলিত হলেন। তিনি আমাকে বললেন, তোমার কোন ভয় নেই। তারপর আমি এই স্বপ্নের কথা হাফসা (রাযিঃ) এর কাছে বর্ণনা করলাম। হাফসা (রাযিঃ) তা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কাছে ব্যক্ত করলেন। তখন নবী (ﷺ) বললেন, আব্দুল্লাহ কতই না ভাল লোক! যদি সে রাতে (তাহাজ্জুদ) নামায আদায় করত। সালিম (রাযিঃ) বলেন, এরপর আব্দুল্লাহ (রাযিঃ) রাত্রে খুব কম সময়ই নিদ্রা যেতেন।
6147

حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ الدَّارِمِيُّ، أَخْبَرَنَا مُوسَى بْنُ خَالِدٍ، خَتَنُ الْفِرْيَابِيِّ عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ الْفَزَارِيِّ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، قَالَ كُنْتُ أَبِيتُ فِي الْمَسْجِدِ وَلَمْ يَكُنْ لِي أَهْلٌ فَرَأَيْتُ فِي الْمَنَامِ كَأَنَّمَا انْطُلِقَ بِي إِلَى بِئْرٍ . فَذَكَرَ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم بِمَعْنَى حَدِيثِ الزُّهْرِيِّ عَنْ سَالِمٍ عَنْ أَبِيهِ .

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

৬১৪৭। আব্দুল্লাহ ইবনে আব্দুর রহমান দারিমী (রাহঃ) ......... ইবনে উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি মসজিদে রাত্রি যাপন করতাম। সে সময় আমার কোন পরিবার-পরিজন (স্ত্রী) ছিল না। একবার আমি স্বপ্নে দেখলাম যেন আমাকে একটি কূপের নিকট নেয়া হয়েছে। অতঃপর রাবী (উবাইদুল্লাহ ইবনে উমর) সালিম (রাহঃ) তার পিতা সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে বর্ণিত যুহরীর হাদীসের মর্মে বর্ণনা করেন।

৩২. আনাস বিন মালিক (রাযিঃ) এর ফযীলত

باب مِنْ فَضَائِلِ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ رضى الله عنه

6148

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، وَابْنُ، بَشَّارٍ قَالاَ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، سَمِعْتُ قَتَادَةَ، يُحَدِّثُ عَنْ أَنَسٍ، عَنْ أُمِّ سُلَيْمٍ، أَنَّهَا قَالَتْ يَا رَسُولَ اللَّهِ خَادِمُكَ أَنَسٌ ادْعُ اللَّهَ لَهُ فَقَالَ " اللَّهُمَّ أَكْثِرْ مَالَهُ وَوَلَدَهُ وَبَارِكْ لَهُ فِيمَا أَعْطَيْتَهُ " .

Narrator: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

৬১৪৮। মুহাম্মাদ ইবনে মুসান্না ও ইবনে বাশশার (রাহঃ) ......... আনাস (রাযিঃ) সূত্রে উম্মে সুলায়ম (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আপনার খাদিম আনাসের জন্য আল্লাহর কাছে দুআ করুন। তখন তিনি দুআ করলেন, اللَّهُمَّ أَكْثِرْ مَالَهُ وَوَلَدَهُ وَبَارِكْ لَهُ فِيمَا أَعْطَيْتَهُ “ইয়া আল্লাহ! তাকে ধন-সম্পদ ও তার সন্তান-সন্ততি বাড়িয়ে দিন এবং আপনি তাঁকে যা দান করবেন তাতে বরকত দিন।”

6149

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، حَدَّثَنَا أَبُو دَاوُدَ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ قَتَادَةَ، سَمِعْتُ أَنَسًا، يَقُولُ قَالَتْ أُمُّ سُلَيْمٍ يَا رَسُولَ اللَّهِ خَادِمُكَ أَنَسٌ . فَذَكَرَ نَحْوَهُ .

Narrator: কাতাদা ইবনে দিআমা (রহঃ)

৬১৪৯। মুহাম্মাদ ইবনে মুসান্না ও ইবনে বাশশার (রাহঃ) ......... কাতাদা (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি আনাস (রাযিঃ) কে বলতে শুনেছেন যে, উম্মে সুলায়ম (রাযিঃ) বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আপনার খাদিম আনাস ...... তারপর তাঁর পুর্বানুরূপ উল্লেখ করেন।

6150

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ هِشَامِ بْنِ زَيْدٍ، سَمِعْتُ أَنَسَ بْنَ مَالِكٍ، يَقُولُ مِثْلَ ذَلِكَ .

Narrator: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

৬১৫০। মুহাম্মাদ ইবনে বাশশার (রাহঃ) ......... আনাস ইবনে মালিক (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত ...... অনুরূপ।

6151

وَحَدَّثَنِي زُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، حَدَّثَنَا هَاشِمُ بْنُ الْقَاسِمِ، حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ، عَنْ ثَابِتٍ، عَنْ أَنَسٍ، قَالَ دَخَلَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم عَلَيْنَا وَمَا هُوَ إِلاَّ أَنَا وَأُمِّي وَأُمُّ حَرَامٍ خَالَتِي فَقَالَتْ أُمِّي يَا رَسُولَ اللَّهِ خُوَيْدِمُكَ ادْعُ اللَّهَ لَهُ - قَالَ - فَدَعَا لِي بِكُلِّ خَيْرٍ وَكَانَ فِي آخِرِ مَا دَعَا لِي بِهِ أَنْ قَالَ " اللَّهُمَّ أَكْثِرْ مَالَهُ وَوَلَدَهُ وَبَارِكْ لَهُ فِيهِ " .

Narrator: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

৬১৫১। যুহাইর ইবনে হারব (রাহঃ) ......... আনাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) আমাদের নিকট আসলেন। সে সময় আমি, আমার মা ও আমার খালা উম্মে হারাম ছাড়া সেখানে কেউ ছিল না। আমার মা বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আপনার ছোট খাদিমের জন্য আল্লাহর কাছে দুআ করুন। রাবী বলেন, তিনি আমার জন্য সব রকমের কল্যাণের দুআ করলেন। তিনি আমার জন্য যে দুআ করেছিলেন তার শেষাংশ ছিল اللَّهُمَّ أَكْثِرْ مَالَهُ وَوَلَدَهُ وَبَارِكْ لَهُ فِيهِ “হে আল্লাহ! তাঁকে ধনে-জনে বাড়িয়ে দিন এবং তাতে তাঁকে বরকত দিন।”

6152

حَدَّثَنِي أَبُو مَعْنٍ الرَّقَاشِيُّ، حَدَّثَنَا عُمَرُ بْنُ يُونُسَ، حَدَّثَنَا عِكْرِمَةُ، حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ، حَدَّثَنَا أَنَسٌ، قَالَ جَاءَتْ بِي أُمِّي أُمُّ أَنَسٍ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَقَدْ أَزَّرَتْنِي بِنِصْفِ خِمَارِهَا وَرَدَّتْنِي بِنِصْفِهِ فَقَالَتْ يَا رَسُولَ اللَّهِ هَذَا أُنَيْسٌ ابْنِي أَتَيْتُكَ بِهِ يَخْدُمُكَ فَادْعُ اللَّهَ لَهُ . فَقَالَ " اللَّهُمَّ أَكْثِرْ مَالَهُ وَوَلَدَهُ " . قَالَ أَنَسٌ فَوَاللَّهِ إِنَّ مَالِي لَكَثِيرٌ وَإِنَّ وَلَدِي وَوَلَدَ وَلَدِي لَيَتَعَادُّونَ عَلَى نَحْوِ الْمِائَةِ الْيَوْمَ .

Narrator: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

৬১৫২। আবু মা’আনি রাকাশী (রাহঃ) ......... আনাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমার মা উম্মে আনাস (রাযিঃ) আমাকে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কাছে নিয়ে গেলেন। তখন তিনি তাঁর ওড়নার অর্ধেক দিয়ে আমার ইযার (লুঙ্গী) এবং বাকী অর্ধেক দিয়ে আমার চাঁদর বানিয়ে দিয়েছিলেন। তিনি বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! এই আমার বালক ছেলে উনায়স (ছোট আনাস), আমি তাকে আপনার কাছে নিয়ে এসেছি, সে আপনার খিদমত করবে। তার জন্য আল্লাহর কাছে দুআ করুন। তখন তিনি দুআ করলেন, اللَّهُمَّ أَكْثِرْ مَالَهُ وَوَلَدَهُ “ইয়া আল্লাহ! তাঁর ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি বাড়িয়ে দিন।” আনাস (রাযিঃ) বলেন, আল্লাহর কসম! আমার ধন-সম্পদ প্রচুর আর আজ আমার সন্তান ও সন্তানের সন্তান-সন্ততি গণনায় একশ’র মত।

6153

حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا جَعْفَرٌ، - يَعْنِي ابْنَ سُلَيْمَانَ - عَنِ الْجَعْدِ أَبِي عُثْمَانَ، قَالَ حَدَّثَنَا أَنَسُ بْنُ مَالِكٍ، قَالَ مَرَّ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَسَمِعَتْ أُمِّي أُمُّ سُلَيْمٍ صَوْتَهُ فَقَالَتْ بِأَبِي وَأُمِّي يَا رَسُولَ اللَّهِ أُنَيْسٌ . فَدَعَا لِي رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ثَلاَثَ دَعَوَاتٍ قَدْ رَأَيْتُ مِنْهَا اثْنَتَيْنِ فِي الدُّنْيَا وَأَنَا أَرْجُو الثَّالِثَةَ فِي الآخِرَةِ .

Narrator: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

৬১৫৩। কুতায়বা ইবনে সাঈদ (রাহঃ) ......... আনাস ইবনে মালিক (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একবার রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যাচ্ছিলেন। তখন আমার মা উম্মে সুলায়ম (রাযিঃ) তাঁর কণ্ঠস্বর শুনতে পেলেন এবং তিনি বললেন ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমার পিতা-মাতা আপনার জন্য কুরবান হোক, এই ছোট আনাস। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমার জন্য তিনটি দুআ করলেন। এর দু’টি আমি দুনিয়াতেই পেয়েছি এবং তৃতীয়টি পাওয়ার দৃঢ় আশা রাখি।

6154

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ نَافِعٍ، حَدَّثَنَا بَهْزٌ، حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، أَخْبَرَنَا ثَابِتٌ، عَنْ أَنَسٍ، قَالَ أَتَى عَلَىَّ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَأَنَا أَلْعَبُ مَعَ الْغِلْمَانِ - قَالَ - فَسَلَّمَ عَلَيْنَا فَبَعَثَنِي إِلَى حَاجَةٍ فَأَبْطَأْتُ عَلَى أُمِّي فَلَمَّا جِئْتُ قَالَتْ مَا حَبَسَكَ قُلْتُ بَعَثَنِي رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لِحَاجَةٍ . قَالَتْ مَا حَاجَتُهُ قُلْتُ إِنَّهَا سِرٌّ . قَالَتْ لاَ تُحَدِّثَنَّ بِسِرِّ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَحَدًا . قَالَ أَنَسٌ وَاللَّهِ لَوْ حَدَّثْتُ بِهِ أَحَدًا لَحَدَّثْتُكَ يَا ثَابِتُ .

Narrator: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

৬১৫৪। আবু বকর ইবনে নাফি’ (রাহঃ) ......... আনাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমার কাছে আসলেন। আমি তখন বালকদের সাথে খেলছিলাম। তিনি বলেন তিনি আমাদের সালাম জানালেন। তিনি আমাকে একটি বিশেষ প্রয়োজনে পাঠালেন। আমি আমার মায়ের কাছে ফেরতে দেরী করলাম। আমি মায়ের কাছে গেলে তিনি আমাকে জিজ্ঞাসা করলেন, তোমাকে কিসে আটকিয়ে ছিল? আমি বললাম, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাকে একটি প্রয়োজনে পাঠিয়েছিলেন। তিনি বললেন, প্রয়োজনটি কি? আমি বললাম, তা গোপনীয়। তিনি বললেন, রাসুল (ﷺ) এর গোপন তথ্য কখনো কাউকে বলবে না। আনাস (রাযিঃ) বললেন, আল্লাহর কসম, হে সাবিত! সেই গোপন তথ্য কারও কাছে ব্যক্ত করলে তা তোমাকে অবশ্যই জানাতাম।

6155

حَدَّثَنَا حَجَّاجُ بْنُ الشَّاعِرِ، حَدَّثَنَا عَارِمُ بْنُ الْفَضْلِ، حَدَّثَنَا مُعْتَمِرُ بْنُ سُلَيْمَانَ، قَالَ سَمِعْتُ أَبِي يُحَدِّثُ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، قَالَ أَسَرَّ إِلَىَّ نَبِيُّ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم سِرًّا فَمَا أَخْبَرْتُ بِهِ أَحَدًا بَعْدُ . وَلَقَدْ سَأَلَتْنِي عَنْهُ أُمُّ سُلَيْمٍ فَمَا أَخْبَرْتُهَا بِهِ .

Narrator: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

৬১৫৫। হাজ্জাজ ইবনে শায়ির (রাহঃ) ......... আনাস ইবনে মালিক (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) একটি গোপনীয় বিষয় আমার কাছে বলেছিলেন। পরে আমি কারও কাছে তা ব্যক্ত করিনি এমনকি (আমার মা) উম্মে সুলায়ম (রাযিঃ) সে বিষয়ে আমাকে প্রশ্ন করেছিলেন; কিন্তু আমি তাঁকেও তা অবহিত করিনি।

৩৩. আব্দুল্লাহ ইবনে সালাম (রাযিঃ) এর ফযীলত

باب مِنْ فَضَائِلِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ سَلاَمٍ رضى الله عنه

6156

حَدَّثَنِي زُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ عِيسَى، حَدَّثَنِي مَالِكٌ، عَنْ أَبِي النَّضْرِ، عَنْ عَامِرِ بْنِ سَعْدٍ، قَالَ سَمِعْتُ أَبِي يَقُولُ، مَا سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ لِحَىٍّ يَمْشِي أَنَّهُ فِي الْجَنَّةِ إِلاَّ لِعَبْدِ اللَّهِ بْنِ سَلاَمٍ .

Narrator: হযরত সা'দ ইবন আবী ওয়াক্কাস রাযি.

৬১৫৬। যুহাইর ইবনে হারব (রাহঃ) ......... সা’দ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে আব্দুল্লাহ ইবনে সালাম (রাযিঃ) ব্যতিরেকে ভূপৃষ্ঠে বিচরণকারী কোন জীবিত ব্যক্তি সম্পর্কে বলতে শুনিনি যে, সে জান্নাতে (যাবে)।

6157

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى الْعَنَزِيُّ، حَدَّثَنَا مُعَاذُ بْنُ مُعَاذٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عَوْنٍ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ سِيرِينَ، عَنْ قَيْسِ بْنِ عُبَادٍ، قَالَ كُنْتُ بِالْمَدِينَةِ فِي نَاسٍ فِيهِمْ بَعْضُ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَجَاءَ رَجُلٌ فِي وَجْهِهِ أَثَرٌ مِنْ خُشُوعٍ فَقَالَ بَعْضُ الْقَوْمِ هَذَا رَجُلٌ مِنْ أَهْلِ الْجَنَّةِ هَذَا رَجُلٌ مِنْ أَهْلِ الْجَنَّةِ . فَصَلَّى رَكْعَتَيْنِ يَتَجَوَّزُ فِيهِمَا ثُمَّ خَرَجَ فَاتَّبَعْتُهُ فَدَخَلَ مَنْزِلَهُ وَدَخَلْتُ فَتَحَدَّثْنَا فَلَمَّا اسْتَأْنَسَ قُلْتُ لَهُ إِنَّكَ لَمَّا دَخَلْتَ قَبْلُ قَالَ رَجُلٌ كَذَا وَكَذَا قَالَ سُبْحَانَ اللَّهِ مَا يَنْبَغِي لأَحَدٍ أَنْ يَقُولَ مَا لاَ يَعْلَمُ وَسَأُحَدِّثُكَ لِمَ ذَاكَ رَأَيْتُ رُؤْيَا عَلَى عَهْدِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَصَصْتُهَا عَلَيْهِ رَأَيْتُنِي فِي رَوْضَةٍ - ذَكَرَ سَعَتَهَا وَعُشْبَهَا وَخُضْرَتَهَا - وَوَسْطَ الرَّوْضَةِ عَمُودٌ مِنْ حَدِيدٍ أَسْفَلُهُ فِي الأَرْضِ وَأَعْلاَهُ فِي السَّمَاءِ فِي أَعْلاَهُ عُرْوَةٌ . فَقِيلَ لِي ارْقَهْ . فَقُلْتُ لَهُ لاَ أَسْتَطِيعُ . فَجَاءَنِي مِنْصَفٌ - قَالَ ابْنُ عَوْنٍ وَالْمِنْصَفُ الْخَادِمُ - فَقَالَ بِثِيَابِي مِنْ خَلْفِي - وَصَفَ أَنَّهُ رَفَعَهُ مِنْ خَلْفِهِ بِيَدِهِ - فَرَقِيتُ حَتَّى كُنْتُ فِي أَعْلَى الْعَمُودِ فَأَخَذْتُ بِالْعُرْوَةِ فَقِيلَ لِيَ اسْتَمْسِكْ . فَلَقَدِ اسْتَيْقَظْتُ وَإِنَّهَا لَفِي يَدِي فَقَصَصْتُهَا عَلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ " تِلْكَ الرَّوْضَةُ الإِسْلاَمُ وَذَلِكَ الْعَمُودُ عَمُودُ الإِسْلاَمِ وَتِلْكَ الْعُرْوَةُ عُرْوَةُ الْوُثْقَى وَأَنْتَ عَلَى الإِسْلاَمِ حَتَّى تَمُوتَ " . قَالَ وَالرَّجُلُ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ سَلاَمٍ .

Narrator: কায়স ইবনে উবাদ (রহঃ)

৬১৫৭। মুহাম্মাদ ইবনে মুসান্না (রাহঃ) ......... কায়স ইবনে উবাদ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি মদীনাতে এমন লোকদের মধ্যে ছিলাম, যাদের মাঝে নবী (ﷺ) এর কতিপয় সাহাবী বিদ্যমান ছিলেন। সে সময় এক ব্যক্তি এল, যার মুখমণ্ডলে ভয় ভীতির চিহ্ন বিদ্যমান ছিল। তখন লোকদের মধ্যে থেকে কেউ কেউ বললেন, এই ব্যক্তি জান্নাতিদের একজন, এই ব্যক্তি জান্নাতিদের একজন। তিনি সেখানে দুই রাকআত নামায আদায় করলেন এবং তা সংক্ষেপ করলেন। তারপর বেরিয়ে গেলেন, আমি তাকে অনুসরণ করলাম। তিনি তাঁর ঘরে প্রবেশ করলেন। আমিও প্রবেশ করলাম। তারপর আমরা আলাপ আলোচনা করলাম। যখন তিনি অন্তরং্গ হলেন তখন আমি তাকে বললাম, আপনি যখন একটু আগে (মসজিদে) প্রবেশ করেছিলেন, তখন এক ব্যক্তি এইরূপ বলেছিল (এ ব্যক্তি জান্নাতিদের একজন)।

তিনি বললেন, সুবহানাল্লাহ! কারো পক্ষে এমন কিছু বলা উচিৎ নয়, যা সে (নিশ্চিত) জানে না। তিনি বললেন, আমি আপনাকে বলছি, কেন এরূপ বলে। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সময় একবার আমি একটি স্বপ্ন দেখেছিলাম। আমি সেই স্বপ্নের কথা তাঁর কাছে ব্যাক্ত করেছিলাম। আমি আমাকে একটি বাগানে দেখতে পাই। এই বাগানের প্রশস্ততা, ঘাসপাতা (সজীবতা) ও সৌন্দর্যের কথাও তিনি উল্লেখ করেন। এই বাগানের মধ্যভাগে একটি লৌহদণ্ড ছিল যার নিম্নভাগ ছিল মাটির মধ্যে আর উপরভাগ ছিল আকাশে। এর উপরিভাগে ছিল একটি রশি। তখন আমাকে বলা হল, তুমি এতে আরোহণ কর। আমি বললাম, আমি পারব না। এরপর একজন মিনসাফ (সেবক) আসলো। তিনি বলেন, ইবনে আউন (রাহঃ) বলেন, মিনসাফ (মানে খাদিম)।

তিনি বলেন, তিনি পিছন থেকে আমার কাপড় ধরলেন। তিনি বর্ণনা করেন যে, সে (খাদিম) তাঁর হাত দ্বারা তাঁর পিছন থেকে তাকে তুলে দিল। আমি আরোহণ করলাম, এমনকি সেই স্তম্ভের চূড়ায় পৌঁছলাম, এরপর রশিটি ধরলাম। তারপর আমাকে বলা হল, একে মজবুত করে ধর। যখন আমি জাগ্রত হলাম, তখনও ঐ রশিটি আমার হাতে। আমি নবী (ﷺ) এর কাছে এই স্বপ্নের কথা বর্ণনা করলাম। তিনি বললেন, সেই বাগানটি হচ্ছে ইসলাম। আর সে স্তম্ভটি হচ্ছে ইসলামের স্তম্ভ এবং সেই রশিটি হচ্ছে মজবুত দৃঢ় রশি। তুমি আমৃত্যু ইসলামের উপরে থাকবে। রাবী বলেন, আর সেই ব্যক্তি আব্দুল্লাহ ইবনে সালাম (রাযিঃ)।
6158

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَمْرِو بْنِ عَبَّادِ بْنِ جَبَلَةَ بْنِ أَبِي رَوَّادٍ، حَدَّثَنَا حَرَمِيُّ بْنُ عُمَارَةَ، حَدَّثَنَا قُرَّةُ بْنُ خَالِدٍ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ سِيرِينَ، قَالَ قَالَ قَيْسُ بْنُ عُبَادٍ كُنْتُ فِي حَلْقَةٍ فِيهَا سَعْدُ بْنُ مَالِكٍ وَابْنُ عُمَرَ فَمَرَّ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ سَلاَمٍ فَقَالُوا هَذَا رَجُلٌ مِنْ أَهْلِ الْجَنَّةِ . فَقُمْتُ فَقُلْتُ لَهُ إِنَّهُمْ قَالُوا كَذَا وَكَذَا . قَالَ سُبْحَانَ اللَّهِ مَا كَانَ يَنْبَغِي لَهُمْ أَنْ يَقُولُوا مَا لَيْسَ لَهُمْ بِهِ عِلْمٌ إِنَّمَا رَأَيْتُ كَأَنَّ عَمُودًا وُضِعَ فِي رَوْضَةٍ خَضْرَاءَ فَنُصِبَ فِيهَا وَفِي رَأْسِهَا عُرْوَةٌ وَفِي أَسْفَلِهَا مِنْصَفٌ - وَالْمِنْصَفُ الْوَصِيفُ - فَقِيلَ لِيَ ارْقَهْ . فَرَقِيتُ حَتَّى أَخَذْتُ بِالْعُرْوَةِ فَقَصَصْتُهَا عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " يَمُوتُ عَبْدُ اللَّهِ وَهُوَ آخِذٌ بِالْعُرْوَةِ الْوُثْقَى " .

Narrator: কায়স ইবনে উবাদ (রহঃ)

৬১৫৮। মুহাম্মাদ ইবনে আমর ইবনে আব্বাদ ইবনে জাবালা ইবনে আবু রাওয়াদ (রাহঃ) ......... কায়স ইবনে উবাদ (রাহঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি এক সমাবেশে ছিলাম, সেখানে সা’দ ইবনে মালিক (রাযিঃ) ও ইবনে উমর (রাযিঃ) উপস্থিত ছিলেন। তখন আব্দুল্লাহ ইবনে সালাম (রাযিঃ) যাচ্ছিলেন। তারা বললেন, এই লোকটি জান্নাতীদের একজন। আমি দাঁড়িয়ে গেলাম এবং তাকে বললাম, তারা আপনাকে এরূপ এরূপ বলেছেন। তিনি বললেন, সুবহানাল্লাহ! তাদের এমন কথা বলা উচিৎ নয়, যে বিষয়ে তাদের (নিশ্চিত) জানা নেই।

একবার (স্বপ্নে) আমি দেখতে পেলাম, যেন একটি সবুজ শ্যামল উদ্যানের মাঝখানে একটি স্তম্ভ রাখা হয়েছে, এর চূড়ায় ছিল একটি রশি। এর নিম্নভাগে একজন মিনসাফ (দণ্ডায়মান) ছিল। মিনসাফ (মানে খাদিম)। তখন আমাকে বলা হল, এতে আরোহণ কর। আমি তাতে আরোহণ করলাম। শেষপর্যন্ত রশিটি দৃঢ়ভাবে ধরলাম। তারপর আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট তা বর্ণনা করলাম। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ মজবুত রশিটি আঁকড়ে ধরা অবস্থায় আব্দুল্লাহ (রাযিঃ) ইন্‌তিকাল করবে।
6159

حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، وَإِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، - وَاللَّفْظُ لِقُتَيْبَةَ - حَدَّثَنَا جَرِيرٌ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ مُسْهِرٍ، عَنْ خَرَشَةَ بْنِ الْحُرِّ، قَالَ كُنْتُ جَالِسًا فِي حَلْقَةٍ فِي مَسْجِدِ الْمَدِينَةِ - قَالَ - وَفِيهَا شَيْخٌ حَسَنُ الْهَيْئَةِ وَهُوَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ سَلاَمٍ - قَالَ - فَجَعَلَ يُحَدِّثُهُمْ حَدِيثًا حَسَنًا - قَالَ - فَلَمَّا قَامَ قَالَ الْقَوْمُ مَنْ سَرَّهُ أَنْ يَنْظُرَ إِلَى رَجُلٍ مِنْ أَهْلِ الْجَنَّةِ فَلْيَنْظُرْ إِلَى هَذَا . قَالَ فَقُلْتُ وَاللَّهِ لأَتْبَعَنَّهُ فَلأَعْلَمَنَّ مَكَانَ بَيْتِهِ . قَالَ فَتَبِعْتُهُ فَانْطَلَقَ حَتَّى كَادَ أَنْ يَخْرُجَ مِنَ الْمَدِينَةِ ثُمَّ دَخَلَ مَنْزِلَهُ - قَالَ - فَاسْتَأْذَنْتُ عَلَيْهِ فَأَذِنَ لِي فَقَالَ مَا حَاجَتُكَ يَا ابْنَ أَخِي قَالَ فَقُلْتُ لَهُ سَمِعْتُ الْقَوْمَ يَقُولُونَ لَكَ لَمَّا قُمْتَ مَنْ سَرَّهُ أَنْ يَنْظُرَ إِلَى رَجُلٍ مِنْ أَهْلِ الْجَنَّةِ فَلْيَنْظُرْ إِلَى هَذَا . فَأَعْجَبَنِي أَنْ أَكُونَ مَعَكَ قَالَ اللَّهُ أَعْلَمُ بِأَهْلِ الْجَنَّةِ وَسَأُحَدِّثُكَ مِمَّ قَالُوا ذَاكَ إِنِّي بَيْنَمَا أَنَا نَائِمٌ إِذْ أَتَانِي رَجُلٌ فَقَالَ لِي قُمْ . فَأَخَذَ بِيَدِي فَانْطَلَقْتُ مَعَهُ - قَالَ - فَإِذَا أَنَا بِجَوَادَّ عَنْ شِمَالِي - قَالَ - فَأَخَذْتُ لآخُذَ فِيهَا فَقَالَ لِي لاَ تَأْخُذْ فِيهَا فَإِنَّهَا طُرُقُ أَصْحَابِ الشِّمَالِ - قَالَ - فَإِذَا جَوَادُّ مَنْهَجٌ عَلَى يَمِيِنِي فَقَالَ لِي خُذْ هَا هُنَا . فَأَتَى بِي جَبَلاً فَقَالَ لِي اصْعَدْ - قَالَ - فَجَعَلْتُ إِذَا أَرَدْتُ أَنْ أَصْعَدَ خَرَرْتُ عَلَى اسْتِي - قَالَ - حَتَّى فَعَلْتُ ذَلِكَ مِرَارًا - قَالَ - ثُمَّ انْطَلَقَ بِي حَتَّى أَتَى بِي عَمُودًا رَأْسُهُ فِي السَّمَاءِ وَأَسْفَلُهُ فِي الأَرْضِ فِي أَعْلاَهُ حَلْقَةٌ فَقَالَ لِيَ . اصْعَدْ فَوْقَ هَذَا . قَالَ قُلْتُ كَيْفَ أَصْعَدُ هَذَا وَرَأْسُهُ فِي السَّمَاءِ - قَالَ - فَأَخَذَ بِيَدِي فَزَجَلَ بِي - قَالَ - فَإِذَا أَنَا مُتَعَلِّقٌ بِالْحَلْقَةِ - قَالَ - ثُمَّ ضَرَبَ الْعَمُودَ فَخَرَّ - قَالَ - وَبَقِيتُ مُتَعَلِّقًا بِالْحَلْقَةِ حَتَّى أَصْبَحْتُ - قَالَ - فَأَتَيْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فَقَصَصْتُهَا عَلَيْهِ فَقَالَ " أَمَّا الطُّرُقُ الَّتِي رَأَيْتَ عَنْ يَسَارِكَ فَهِيَ طُرُقُ أَصْحَابِ الشِّمَالِ - قَالَ - وَأَمَّا الطُّرُقُ الَّتِي رَأَيْتَ عَنْ يَمِينِكَ فَهِيَ طُرُقُ أَصْحَابِ الْيَمِينِ وَأَمَّا الْجَبَلُ فَهُوَ مَنْزِلُ الشُّهَدَاءِ وَلَنْ تَنَالَهُ وَأَمَّا الْعَمُودُ فَهُوَ عَمُودُ الإِسْلاَمِ وَأَمَّا الْعُرْوَةُ فَهِيَ عُرْوَةُ الإِسْلاَمِ وَلَنْ تَزَالَ مُتَمَسِّكًا بِهَا حَتَّى تَمُوتَ " .

Narrator: আব্দুল্লাহ ইবনে সালাম (রাঃ)

৬১৫৯। কুতায়বা ইবনে সাঈদ ও ইসহাক ইবনে ইবরাহীম (রাহঃ) ......... খারাশা ইবনে হুরর (রাহঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি মদীনার মসজিদে একটি মজলিসে বসা ছিলাম। তিনি বলেন, সে মজলিসে উপস্থিত ছিলেন সুন্দর অবয়ব বিশিষ্ট একজন প্রবীণ ব্যক্তি। তিনিই আব্দুল্লাহ ইবনে সালাম (রাযিঃ)। তিনি (রাবী) বলেন, তিনি তাদের সামনে সুন্দর সুন্দর কথা বলছিলেন। তিনি (রাবী) বলেন, যখন তিনি মজলিস থেকে উঠে দাঁড়ালেন তখন লোকেরা বলল, যে ব্যক্তি কোন জান্নাতিকে দেখে আনন্দিত হতে চায় সে যেন এই লোকটিকে দেখে। তিনি (খারাশা) বলেন, আমি বললাম, আল্লাহর কসম! নিশ্চয়ই আমি তাঁর অনুসরণ করব, যেন আমি তাঁর আবাসস্থল জেনে নিতে পারি।

তিনি (রাবী) বললেন, তারপর আমি তাকে অনুসরণ করলাম। তিনি রওয়ানা হলেন এবং মদীনা থেকে প্রায় বেরিয়ে যাচ্ছিলেন। এ সময় তিনি তাঁর ঘরে প্রবেশ করলেন। তিনি (রাবী) বলেন, আমিও তাঁর কাছে প্রবেশের অনুমতি চাইলাম। তিনি আমাকে অনুমতি দিলেন। তারপর বললেন হে ভ্রাতুষ্পুত্র! তোমার কি প্রয়োজন? রাবী বলেন, আমি তাকে বললাম, যখন আপনি মজলিস থেকে উঠে আসছিলেন তখন আমি আপনার সম্পর্কে লোকদের বলতে শুনেছি, যে ব্যক্তি কোন জান্নাতিকে দেখে খুশী হতে চায়, সে যেন এই ব্যক্তির প্রতি দৃষ্টিপাত করে। তখন আমার মনে আপনার সাহচর্য লাভের আগ্রহ জাগে। তিনি বললেন, জান্নাতিদের সম্পর্কে আল্লাহই সম্যক জ্ঞাত আছেন। তবে লোকদের এই কথা বলার কারণ আমি তোমার কাছে বর্ণনা করছি।

একবার আমি নিদ্রামগ্ন ছিলাম, স্বপ্নে দেখলাম যে, এক ব্যক্তি আমার কাছে এসেছে। সে আমাকে বলল, উঠ। তারপর সে আমার হাত ধরল। আমি তাঁর সঙ্গে রওয়ানা করলাম। আমি আমার বাম দিকে কয়েকটি রাস্তা দেখতে পেলাম এবং আমি সে পথ ধরে চলতে চাইলাম। সে আমাকে বলল, ও পথে চলবে না। কেননা, এটা হচ্ছে বামপন্থিদের (জাহান্নামীদের) রাস্তা। তিনি বলেন, তারপর আমি আমার ডানদিকে কয়েকটি উজ্জ্বল সরল পথ দেখতে পেলাম। তারপর সে বলল, এই পথে চল। তিনি বলেন, তারপর সে আমাকে একটি পাহাড়ের কাছে নিয়ে এল। এরপর আমাকে পাহাড়ে উঠতে বলল। আমি যখনই উঠতে চেষ্টা করছিলাম তখন (হোঁচট খেয়ে) পড়ে যাচ্ছিলাম। তিনি বলেন, আমি বেশ কয়বার এরূপ চেষ্টা করলাম। তিনি বলেন, তারপর সে আমাকে নিয়ে রওয়ানা হল এবং একটি স্তম্ভের কাছে পৌঁছল, যার মাথা ছিল আকাশে এবং নিম্নভাগ ভূপৃষ্ঠে নীচে। স্তম্ভটির চূড়ায় একটি কড়া ছিল, সে বলল, এর উপরে আরোহণ কর।

তিনি বলেন, আমি বললাম, কিভাবে এতে আরোহণ করব? এর মাথা তো আকাশের উপরে। তিনি বলেন, তারপর সে আমার হাত ধরল এবং আমাকে উপরে নিক্ষেপ করল। হঠাৎ আমি দেখলাম যে, আমি কড়ার সাথে ঝুলন্ত আছি। তিনি বলেন তারপর সে স্তম্ভের উপর আঘাত হানল এবং তা পড়ে গেল। তিনি বলেন, আর আমি কড়ার সাথে ঝুলন্ত রয়ে গেলাম। এভাবে আমার প্রভাত হল।

তিনি বলেন, এরপর আমি নবী (ﷺ) এর কাছে এসে স্বপ্নের কথা বর্ণনা করলাম। তিনি বললেন, তুমি তোমার বাম দিকে যে রাস্তাগুলি দেখছ, তা হচ্ছে বামপন্থীদের (কাফিরদের) পথ এবং তোমার ডানদিকে যে সব রাস্তা দেখেছ, তো হচ্ছে আসহাবুল ইয়ামীন (বা জান্নাতিগণের) রাস্তা। তুমি যে পাহাড়টি দেখেছিলে তা হচ্ছে শহীদগণের বাসস্থান, তা তুমি পাবে না। তুমি যে স্তম্ভটি দেখেছিলে সেটা হচ্ছে ইসলামের স্তম্ভ। যে কড়াটি তুমি দেখেছিলে সেটা হচ্ছে ইসলামের কড়া। আর তুমি মৃত্যু পর্যন্ত ইসলামের উপর প্রতিষ্ঠিত থাকবে।

৩৪. হাসসান ইবনে সাবিত (রাযিঃ) এর ফযীলত

باب فَضَائِلِ حَسَّانَ بْنِ ثَابِتٍ رضى الله عنه

6160

حَدَّثَنَا عَمْرٌو النَّاقِدُ، وَإِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، وَابْنُ أَبِي عُمَرَ، كُلُّهُمْ عَنْ سُفْيَانَ، قَالَ عَمْرٌو حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ سَعِيدٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ عُمَرَ، مَرَّ بِحَسَّانَ وَهُوَ يُنْشِدُ الشِّعْرَ فِي الْمَسْجِدِ فَلَحَظَ إِلَيْهِ فَقَالَ قَدْ كُنْتُ أُنْشِدُ وَفِيهِ مَنْ هُوَ خَيْرٌ مِنْكَ . ثُمَّ الْتَفَتَ إِلَى أَبِي هُرَيْرَةَ فَقَالَ أَنْشُدُكَ اللَّهَ أَسَمِعْتَ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " أَجِبْ عَنِّي اللَّهُمَّ أَيِّدْهُ بِرُوحِ الْقُدُسِ " . قَالَ اللَّهُمَّ نَعَمْ .

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৬১৬০। আমর নাকিদ, ইসহাক ইবনে ইবরাহীম ও ইবনে আবু উমর (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, একদা উমর (রাযিঃ) হাসসান (রাযিঃ) এর কাছ দিয়ে যাচ্ছিলেন। তখন তিনি মসজিদে কবিতা আবৃত্তি করছিলেন। উমর (রাযিঃ) তার প্রতি দৃষ্টিপাত করলেন। তখন তিনি বললেন, আমি কবিতা আবৃত্তি করতাম এমন অবস্থায়, যখন মসজিদে আপনার চাইতে উত্তম ব্যক্তি উপস্থিত ছিলেন। এরপর তিনি আবু হুরায়রা (রাযিঃ) এর প্রতি লক্ষ্য করে বললেন, আল্লাহর কসম! আপনি কি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে বলতে শুনেছেন, তুমি আমার পক্ষ থেকে জবাব দাও। হে আল্লাহ! তাকে পবিত্র আত্মা (জিবরাঈল) দ্বারা সাহায্য কর। আবু হুরায়রা (রাযিঃ) বললেন, “ইয়া আল্লাহ! হ্যাঁ।”

6161

حَدَّثَنَاهُ إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، وَمُحَمَّدُ بْنُ رَافِعٍ، وَعَبْدُ بْنُ حُمَيْدٍ، عَنْ عَبْدِ الرَّزَّاقِ، أَخْبَرَنَا مَعْمَرٌ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنِ ابْنِ الْمُسَيَّبِ، أَنَّ حَسَّانَ، قَالَ فِي حَلْقَةٍ فِيهِمْ أَبُو هُرَيْرَةَ أَنْشُدُكَ اللَّهَ يَا أَبَا هُرَيْرَةَ أَسَمِعْتَ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم . فَذَكَرَ مِثْلَهُ .

Narrator: সাঈদ ইবনুল মুসাইয়্যাব (রহঃ)

৬১৬১। ইসহাক ইবনে ইবরাহীম মুহাম্মাদ ইবনে রাফি ও আব্দ ইবনে হুমায়দ (রাহঃ) ......... ইবনুল মুসায়্যাব (রাহঃ) থেকে বর্ণিত যে, একবার হাসসান (রাযিঃ) আবু হুরায়রা (রাযিঃ) সহ সাহাবীদের এক সমাবেশে বলেছিলেন, হে আবু হুরায়রা, আল্লাহর কসম! আপনি কি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলতে শুনেছেন? ...... এরপর তিনি উপরোক্ত হাদীসের অনুরূপ উল্লেখ করেন।

6162

حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ الدَّارِمِيُّ، أَخْبَرَنَا أَبُو الْيَمَانِ، أَخْبَرَنَا شُعَيْبٌ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، أَخْبَرَنِي أَبُو سَلَمَةَ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، أَنَّهُ سَمِعَ حَسَّانَ بْنَ ثَابِتٍ الأَنْصَارِيَّ، يَسْتَشْهِدُ أَبَا هُرَيْرَةَ أَنْشُدُكَ اللَّهَ هَلْ سَمِعْتَ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " يَا حَسَّانُ أَجِبْ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم اللَّهُمَّ أَيِّدْهُ بِرُوحِ الْقُدُسِ " . قَالَ أَبُو هُرَيْرَةَ نَعَمْ .

Narrator: আবু সালামা ইবনে আব্দুর রহমান ইবনে আউফ (রহঃ)

৬১৬২। আব্দুল্লাহ ইবনে আব্দুর রহমান দারিমী (রাহঃ) ......... আবু সালামা ইবনে আব্দুর রহমান (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি হাসসান ইবনে সাবিত আনসারী (রাযিঃ) কে আবু হুরায়রা (রাযিঃ) কে সাক্ষী করে বলতে শুনেছেন যে, হে আবু হুরায়রা! আপনাকে আল্লাহর কসম দিয়ে বলছি, আপনি কি নবী (ﷺ) কে বলতে শুনেছেন যে, হে হাসসান! তুমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর পক্ষ থেকে জবাব দাও। হে আল্লাহ! তাকে পবিত্র আত্মা (জিবরাঈল) দ্বারা মদদ করুন। তখন আবু হুরায়রা (রাযিঃ) বললেন, হ্যাঁ।

6163
حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ مُعَاذٍ، حَدَّثَنَا أَبِي، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ عَدِيٍّ، - وَهُوَ ابْنُ ثَابِتٍ - قَالَ سَمِعْتُ الْبَرَاءَ بْنَ عَازِبٍ، قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ لِحَسَّانَ بْنِ ثَابِتٍ " اهْجُهُمْ أَوْ هَاجِهِمْ وَجِبْرِيلُ مَعَكَ " .
حَدَّثَنِيهِ زُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ، ح وَحَدَّثَنِي أَبُو بَكْرِ بْنُ نَافِعٍ، حَدَّثَنَا غُنْدَرٌ، ح وَحَدَّثَنَا ابْنُ بَشَّارٍ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ، وَعَبْدُ الرَّحْمَنِ، كُلُّهُمْ عَنْ شُعْبَةَ، بِهَذَا الإِسْنَادِ مِثْلَهُ .

Narrator: হযরত বারা’ ইবনে আযিব (রাঃ)

৬১৬৩। উবাইদুল্লাহ ইবনে মু’আয (রাহঃ) ......... বারা ইবনে আযিব (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি হাসসান ইবনে ছাবিতের উদ্দেশ্যে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে বলতে শুনেছি, তুমি তাদের (কাফিরদের) বিরুদ্ধে ব্যাঙ্গ কবিতা রচনা কর, অথবা বলেছেন, তুমি তাদের ব্যাঙ্গ কবিতার উত্তর দাও। জিবরাঈল (আলাইহিস সালাম) তোমার সঙ্গে রয়েছেন।

যুহাইর ইবনে হারব, আবু বকর ইবনে নাফি, ইবনে বাশশার (রাহঃ) ভিন্ন ভিন্নরূপে ......... শু’বা (রাহঃ) থেকে উক্ত সনদে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।
6164

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، وَأَبُو كُرَيْبٍ قَالاَ حَدَّثَنَا أَبُو أُسَامَةَ، عَنْ هِشَامٍ، عَنْ أَبِيهِ، أَنَّ حَسَّانَ بْنَ ثَابِتٍ، كَانَ مِمَّنْ كَثَّرَ عَلَى عَائِشَةَ فَسَبَبْتُهُ فَقَالَتْ يَا ابْنَ أُخْتِي دَعْهُ فَإِنَّهُ كَانَ يُنَافِحُ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم .

Narrator: হিশাম ইবনে উরওয়া (রহঃ)

৬১৬৪। আবু বকর ইবনে আবি শাঈবা ও আবু কুরায়ব (রাহঃ) ......... হিশাম থেকে তাঁর পিতার সূত্রে বর্ণনা করেন যে, হাসসান ইবনে সাবিত (রাযিঃ) সেসব লোকের মধ্যে শামিল ছিলেন, যারা আয়িশা (রাযিঃ) সম্পর্কে বাড়াবাড়ি করেছিলেন। তাই আমি তাকে গালাগালি করেছিলাম। তখন আয়িশা (রাযিঃ) বললেন, হে আমর ভগ্নিপুত্র! তাকে ছেড়ে দাও। কেননা তিনি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর পক্ষ থেকে কাফিরদের বিরুদ্ধে (ব্যাঙ্গ) কবিতা দ্বারা প্রতিরোধ করতেন।

6165

حَدَّثَنَاهُ عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا عَبْدَةُ، عَنْ هِشَامٍ، بِهَذَا الإِسْنَادِ .

Narrator: হিশাম ইবনে উরওয়া (রহঃ)

৬১৬৫। উসমান ইবনে আবি শাঈবা (রাহঃ) ......... হিশাম (রাহঃ) থেকে এ সনদে অনুরূপ বর্ণিত আছে।

6166

حَدَّثَنِي بِشْرُ بْنُ خَالِدٍ، أَخْبَرَنَا مُحَمَّدٌ، - يَعْنِي ابْنَ جَعْفَرٍ - عَنْ شُعْبَةَ، عَنْ سُلَيْمَانَ، عَنْ أَبِي الضُّحَى، عَنْ مَسْرُوقٍ، قَالَ دَخَلْتُ عَلَى عَائِشَةَ وَعِنْدَهَا حَسَّانُ بْنُ ثَابِتٍ يُنْشِدُهَا شِعْرًا يُشَبِّبُ بِأَبْيَاتٍ لَهُ فَقَالَ حَصَانٌ رَزَانٌ مَا تُزَنُّ بِرِيبَةٍ وَتُصْبِحُ غَرْثَى مِنْ لُحُومِ الْغَوَافِلِ فَقَالَتْ لَهُ عَائِشَةُ لَكِنَّكَ لَسْتَ كَذَلِكَ . قَالَ مَسْرُوقٌ فَقُلْتُ لَهَا لِمَ تَأْذَنِينَ لَهُ يَدْخُلُ عَلَيْكِ وَقَدْ قَالَ اللَّهُ ( وَالَّذِي تَوَلَّى كِبْرَهُ مِنْهُمْ لَهُ عَذَابٌ عَظِيمٌ) فَقَالَتْ فَأَىُّ عَذَابٍ أَشَدُّ مِنَ الْعَمَى إِنَّهُ كَانَ يُنَافِحُ أَوْ يُهَاجِي عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم .

Narrator: মাসরূক ইবনে আজদা' (রহঃ)

৬১৬৬। বিশর ইবনে খালিক (রাহঃ) ......... মাসরুক (রাহঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, (একদা) আমি আয়িশা (রাযিঃ) এর কাছে গেলাম। তখন তাঁর কাছে হাসসান ইবনে সাবিত (রাযিঃ) উপস্থিত ছিলেন। তিনি সে সময় তাঁর জন্য কবিতা আবৃতি করে শোনাচ্ছিলেন এবং তাঁর কবিতাটির কয়েকটি পংক্তি দ্বারা (নবীর) স্তুতিকাব্য আবৃতি করছিলেন। তিনি বলছিলেন,

“তিনি সতী (আত্মা)! বুদ্ধিমতী, কোন সন্দেহ দ্বারা তাকে অপবাদ দেয়া যাবে না। তিনি উদাসীনদের গোশত থেকে অভুক্ত থেকে ক্ষুধার্ত অবস্থায় শয্যা ত্যাগ করেন (কারো গিবত করেন না)”

তখন আয়িশা (রাযিঃ) তাকে বললেন, কিন্তু আপনি তো এমন নন। মাসরুক (রাযিঃ) বলেন, আমি তাকে (আয়িশাকে) বললাম, আপনি তাকে আপনার কাছে প্রবেশের অনুমতি দেন কেন? অথচ আল্লাহ বলেছেন, وَالَّذِي تَوَلَّى كِبْرَهُ مِنْهُمْ لَهُ عَذَابٌ عَظِيمٌ “এবং তার মধ্যে যে এ ব্যাপারে [আয়িশা (রাযিঃ)]-এর দুর্নাম করার ব্যাপারে প্রধান ভুমিকা গ্রহণ করেছে তার জন্য রয়েছে মহাশাস্তি” (২৪ঃ ১১)

তখন আয়িশা (রাযিঃ) বললেন, এর চাইতে কঠিন শাস্তি আর কি হতে পারে যে, সে অন্ধ হয়ে গিয়েছে? এরপর তিনি বললেন, তিনি তো রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর পক্ষ থেকে তাদের (কাফিরদের) বিরুদ্ধে কবিতা দ্বারা প্রতিহত (যুদ্ধ) করতেন অথবা ব্যাঙ্গ কবিতার দ্বারা বাকযুদ্ধ করতেন।
6167

حَدَّثَنَاهُ ابْنُ الْمُثَنَّى، حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي عَدِيٍّ، عَنْ شُعْبَةَ، فِي هَذَا الإِسْنَادِ وَقَالَ قَالَتْ كَانَ يَذُبُّ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم . وَلَمْ يَذْكُرْ حَصَانٌ رَزَانٌ .

Narrator: শু'বা ইবনুল হাজ্জাজ (রহঃ)

৬১৬৭। ইবনে মুসান্না (রাহঃ) ......... শু’বা (রাহঃ) সূত্রে এই সনদে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, আয়িশা (রাযিঃ) বলেছেন, তিনি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর পক্ষ থেকে প্রতিরোধ করতেন। তবে তিনি বর্ণনায় حَصَانٌ ও رَزَانٌ উল্লেখ করেননি।

6168

حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ يَحْيَى، أَخْبَرَنَا يَحْيَى بْنُ زَكَرِيَّاءَ، عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ قَالَ حَسَّانُ يَا رَسُولَ اللَّهِ ائْذَنْ لِي فِي أَبِي سُفْيَانَ قَالَ " كَيْفَ بِقَرَابَتِي مِنْهُ " . قَالَ وَالَّذِي أَكْرَمَكَ لأَسُلَّنَّكَ مِنْهُمْ كَمَا تُسَلُّ الشَّعَرَةُ مِنَ الْخَمِيرِ . فَقَالَ حَسَّانُ وَإِنَّ سَنَامَ الْمَجْدِ مِنْ آلِ هَاشِمٍ بَنُو بِنْتِ مَخْزُومٍ وَوَالِدُكَ الْعَبْدُ قَصِيدَتَهُ هَذِهِ .

Narrator: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

৬১৬৮। ইয়াহয়া ইবনে ইয়াহয়া (রাহঃ) ......... আয়িশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, হাসসান (রাযিঃ) বললেন, ইয়া রাসুলাল্লাহ! আমাকে আবু সুফিয়ানের (ইবনুল হারিস ইবনে আব্দুল মুত্তালিব) বিরুদ্ধে ব্যাঙ্গ কবিতা রচনার অনুমতি দিন। তিনি বললেন, তাঁর সঙ্গে আমার আত্মীয়তার সম্পর্ক থাকা অবস্থায় তা কিভাবে (করবে)? তখন তিনি বললেন, সেই মহান সত্তার কসম, যিনি আপনাকে সম্মানিত করেছেন, আটার খামির থেকে যেভাবে চুল সন্তপর্ণে বের করে নেয়া হয়, আমি আপনাকে সেভাবে তাদের ভিতর থেকে বের করে নেব। এরপর হাসসান (রাযিঃ) বললেনঃ “মান-সম্মান ও আভিজাত্যের শীর্ষ চূড়া বনু হাশিমের বংশধরদের মধ্যে বিনতে মাখযুমের সন্তানদের জন্য। আর তোমার বাপ তো গোলাম ছিল।“ এই হচ্ছে তাঁর কাসীদাহ।

6169

حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا عَبْدَةُ، حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ عُرْوَةَ، بِهَذَا الإِسْنَادِ قَالَتِ اسْتَأْذَنَ حَسَّانُ بْنُ ثَابِتٍ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فِي هِجَاءِ الْمُشْرِكِينَ . وَلَمْ يَذْكُرْ أَبَا سُفْيَانَ وَقَالَ بَدَلَ الْخَمِيرِ الْعَجِينِ .

Narrator: হিশাম ইবনে উরওয়া (রহঃ)

৬১৬৯। উসমান ইবনে আবি শাঈবা (রাহঃ) ......... হিশাম ইবনে উরওয়া (রাযিঃ) এর সূত্রে এই সনদে বর্ণিত যে, আয়িশা (রাযিঃ) বলেন, হাসসান ইবনে সাবিত (রাযিঃ) নবী (ﷺ) এর কাছে মুশরিকদের বিরুদ্ধে ব্যাঙ্গ কবিতা রচনার অনুমতি চাইলেন। তবে তাঁরা এই বর্ণনায় আবু সুফিয়ানের কথা উল্লেখ করেননি। আব্দার বর্ণনায়الْخَمِيرِ এর স্থলে الْعَجِينِ রয়েছে।

6170

حَدَّثَنَا عَبْدُ الْمَلِكِ بْنُ شُعَيْبِ بْنِ اللَّيْثِ، حَدَّثَنِي أَبِي، عَنْ جَدِّي، حَدَّثَنِي خَالِدُ بْنُ يَزِيدَ، حَدَّثَنِي سَعِيدُ بْنُ أَبِي هِلاَلٍ، عَنْ عُمَارَةَ بْنِ غَزِيَّةَ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ عَنْ عَائِشَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " اهْجُوا قُرَيْشًا فَإِنَّهُ أَشَدُّ عَلَيْهَا مِنْ رَشْقٍ بِالنَّبْلِ " . فَأَرْسَلَ إِلَى ابْنِ رَوَاحَةَ فَقَالَ " اهْجُهُمْ " . فَهَجَاهُمْ فَلَمْ يُرْضِ فَأَرْسَلَ إِلَى كَعْبِ بْنِ مَالِكٍ ثُمَّ أَرْسَلَ إِلَى حَسَّانَ بْنِ ثَابِتٍ فَلَمَّا دَخَلَ عَلَيْهِ قَالَ حَسَّانُ قَدْ آنَ لَكُمْ أَنْ تُرْسِلُوا إِلَى هَذَا الأَسَدِ الضَّارِبِ بِذَنَبِهِ ثُمَّ أَدْلَعَ لِسَانَهُ فَجَعَلَ يُحَرِّكُهُ فَقَالَ وَالَّذِي بَعَثَكَ بِالْحَقِّ لأَفْرِيَنَّهُمْ بِلِسَانِي فَرْىَ الأَدِيمِ . فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " لاَ تَعْجَلْ فَإِنَّ أَبَا بَكْرٍ أَعْلَمُ قُرَيْشٍ بِأَنْسَابِهَا - وَإِنَّ لِي فِيهِمْ نَسَبًا - حَتَّى يُلَخِّصَ لَكَ نَسَبِي " . فَأَتَاهُ حَسَّانُ ثُمَّ رَجَعَ فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ قَدْ لَخَّصَ لِي نَسَبَكَ وَالَّذِي بَعَثَكَ بِالْحَقِّ لأَسُلَّنَّكَ مِنْهُمْ كَمَا تُسَلُّ الشَّعَرَةُ مِنَ الْعَجِينِ . قَالَتْ عَائِشَةُ فَسَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ لِحَسَّانَ " إِنَّ رُوحَ الْقُدُسِ لاَ يَزَالُ يُؤَيِّدُكَ مَا نَافَحْتَ عَنِ اللَّهِ وَرَسُولِهِ " . وَقَالَتْ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " هَجَاهُمْ حَسَّانُ فَشَفَى وَاشْتَفَى " . قَالَ حَسَّانُ هَجَوْتَ مُحَمَّدًا فَأَجَبْتُ عَنْهُ وَعِنْدَ اللَّهِ فِي ذَاكَ الْجَزَاءُ هَجَوْتَ مُحَمَّدًا بَرًّا تَقِيًّا رَسُولَ اللَّهِ شِيمَتُهُ الْوَفَاءُ فَإِنَّ أَبِي وَوَالِدَهُ وَعِرْضِي لِعِرْضِ مُحَمَّدٍ مِنْكُمْ وِقَاءُ ثَكِلْتُ بُنَيَّتِي إِنْ لَمْ تَرَوْهَا تُثِيرُ النَّقْعَ مِنْ كَنَفَىْ كَدَاءِ يُبَارِينَ الأَعِنَّةَ مُصْعِدَاتٍ عَلَى أَكْتَافِهَا الأَسَلُ الظِّمَاءُ تَظَلُّ جِيَادُنَا مُتَمَطِّرَاتٍ تُلَطِّمُهُنَّ بِالْخُمُرِ النِّسَاءُ فَإِنْ أَعْرَضْتُمُو عَنَّا اعْتَمَرْنَا وَكَانَ الْفَتْحُ وَانْكَشَفَ الْغِطَاءُ وَإِلاَّ فَاصْبِرُوا لِضِرَابِ يَوْمٍ يُعِزُّ اللَّهُ فِيهِ مَنْ يَشَاءُ وَقَالَ اللَّهُ قَدْ أَرْسَلْتُ عَبْدًا يَقُولُ الْحَقَّ لَيْسَ بِهِ خَفَاءُ وَقَالَ اللَّهُ قَدْ يَسَّرْتُ جُنْدًا هُمُ الأَنْصَارُ عُرْضَتُهَا اللِّقَاءُ لَنَا فِي كُلِّ يَوْمٍ مِنْ مَعَدٍّ سِبَابٌ أَوْ قِتَالٌ أَوْ هِجَاءُ فَمَنْ يَهْجُو رَسُولَ اللَّهِ مِنْكُمْ وَيَمْدَحُهُ وَيَنْصُرُهُ سَوَاءُ وَجِبْرِيلٌ رَسُولُ اللَّهِ فِينَا وَرُوحُ الْقُدْسِ لَيْسَ لَهُ كِفَاءُ

Narrator: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

৬১৭০। আব্দুল মালিক ইনব শু’আয়ব ইবনে লাইস (রাহঃ) ......... আয়িশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ কুরাইশদের বিরুদ্ধে তোমরা ব্যাঙ্গাত্মক কবিতা রচনা কর। কেননা, তা তাদের বিরুদ্ধে তীর নিক্ষেপের চাইতে অধিকতর শক্তিশালী। এরপর তিনি আব্দুল্লাহ ইবনে রাওয়াহ (রাযিঃ) এর কাছে এক ব্যক্তিকে প্রেরণ করলেন। তিনি তাকে বললেন, ওদের বিরুদ্ধে ব্যাঙ্গাত্মক কবিতা রচনা কর। তিনি ব্যাঙ্গ কবিতা আবৃতি করলেন, কিন্তু তিনি তাতে খুশী হলেন না। তখন তিনি কা’ব ইবনে মালিককে ডেকে পাঠালেন। এরপর তিনি হাসসান ইবনে সাবিতের কাছে লোক পাঠালেন। সে যখন তাঁর কাছে গেল তখন হাসসান (রাযিঃ) বললেন, তোমাদের জন্য সঠিক সময় এসেছে যে, তোমরা সেই পশুরাজ সিংহকে ডেকে পাঠিয়েছ, যে তাঁর লেজ দ্বারা সাবাড় করে দেয়। এরপর তিনি তাঁর জিহবা বের করে নাড়াতে লাগলেন।

এরপর বললেন, সেই মহান সত্তার কসম, যিনি আপনাকে সত্যসহ প্রেরণ করেছনে, আমি আমার জিহবা দ্বারা ওদেরকে ফেড়ে টুকরো টুকরো করে দেব, যেমনিভাবে হিংস্র বাঘ তার থাবা দিয়ে চামড়া খসিয়ে ফেলে। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ হে হাসসান! তুমি তড়িঘড়ি করো না। কেননা, আবু বকর (রাযিঃ) কুরাইশদের বংশলতিকা সম্পর্কে সর্বাধিক জ্ঞাত আছেন। কারণ, তাদের মধ্যে আমারও আত্মীয়তার সম্পর্ক রয়েছে। সুতরাং তিনি এসে আমার বংশ তোমাকে পৃথক করে বাতলে দিবেন।

এরপর হাসসান (রাযিঃ) তাঁর (আবু বকর (রাযিঃ) এর কাছে গেলেন এবং (বংশলতিকা সম্পর্কে ওয়াকিফহাল হয়ে) ফিরে এলেন। এরপর তিনি বললেন, ইয়া রাসুলাল্লাহ! তিনি আপনার বংশপঞ্জী সম্পর্কে আমাকে অবহিত করেছেন। সেই মহান সত্তার কসম! যিনি আপনাকে সত্যসহ প্রেরণ করেছেন, আমি আপনাকে তাদের মধ্য থেকে এমন সুকৌশলে বের করে আনব, যেমনিভাবে অটার মণ্ড থেকে সূক্ষ্ম কেশাগ্র বের করা হয়।

আয়িশা (রাযিঃ) বলেন, এরপর আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে হাসসান সম্পর্কে বলতে শুনেছি যে, যতক্ষণ পর্যন্ত আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের পক্ষ থেকে কাফিরদের দাঁতভাঙ্গা জবাব দিতে থাকবে ততক্ষণ পর্যন্ত ’রুহুল কুদ্স’ অর্থাৎ জিবরাঈল (আলাইহিস সালাম) সারাক্ষণ তোমাকে সাহায্য করতে থাকবেন। আর তিনি [আয়িশা (রাযিঃ)] বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে বলতে শুনেছি যে, হাসসান তাদের (বিরুদ্ধে) নিন্দাবাদ করলেন। তিনি মুমিনদের অন্তরে প্রশান্তি এনে দিলেন এবং আত্মতৃপ্তি লাভ করলেন। হাসসান (রাযিঃ) বললেনঃ

তুমি মুহাম্মাদ (ﷺ) এর নিন্দাবাদ করছ, আর আমি তার পক্ষ থেকে জবাব দিচ্ছি এতে আছে আল্লাহর কাছে পুরষ্কার ও প্রতিদান।

তুমি ব্যাঙ্গ করেছ এমন মুহাম্মাদকে, যিনি পুন্যবান, একনিষ্ঠ ও সর্বশ্রেষ্ঠ পরহেযগার,

তিনি হচ্ছে আল্লাহর রাসুল, যার চরিত্র মাধুর্য অনুপম।

আমার পিতা ও তাঁর পিতা, আমার ইজ্জত আবরু

মুহাম্মাদের সম্মানের জন্য রক্ষাকবচ (অতন্দ্র প্রহরী)।

আমি কসম করে বলছি, কাদা (পার্বত্য ঘাঁটি)-র দুই প্রান্তে (মুসলিম মুজাহিদ বাহিনীর) বিজয় ধুলি উড়বে

তা তোমরা দেখতে পাবে, নতুবা আমার জন্য মতম করা হবে (আমি ধ্বংস হয়ে যাব)

যুদ্ধাভিযানকালে সে অশ্বারোহী বাহিনীর লাগামের সাথে দৌড় পাল্লা দেয়

(অথবা বললাম নিয়ে ঠোকাঠুকি করে)

(আর) তাদের কাঁধের উপরে রয়েছে রক্তের তৃষ্ণার্ত বর্শা (অথবা ক্ষুধার্ত সিংহ)

আমাদের অশ্বারোহীরা ছুটে চলে দ্রুতবেগে দুরন্ত।

আর মহিলারা আদর ও সম্মান করে নিজেদের ওড়না দিয়ে তাদের (ঘোড়াদের) মুছে দেয়।

তোমরা যদি আমাদের (ইসলামের) বিমুখ হও, (জনশূন্যকর)

তাহলেও আমরা উমরা পালন করবই এবং ইসলামের বিজয় নিশান উড়বে

আর আবরণ উন্মুক্ত হয়ে যাবে (অন্ধকার চিরদিনের জন্য বিদূরিত হয়ে যাবে)।

নতুবা তোমরা প্রতিক্ষায় থাক ঐ সময়ের, যে দিন (মুসলমানদের সাথে কাফিরদের) মুকাবিলা হবে;

আর সেদিন আল্লাহ যাকে চান বিজয় মাল্য পরিয়ে দেবেন।

আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন, আমি আমার বান্দাকে রাসুল হিসাবে পাঠিয়েছি;

যিনি সত্য বলেন (সর্বদা লোকদের সত্যের দিকে আহবান জানান) যার মধ্যে নেই কোন কপটতা, অস্পষ্টতা।

আল্লাহ তাআলা আরও ইরশাদ করেন,

আমি এমন এক বাহিনী তৈরী করেছি যারা আনসার।

যাদের একমাত্র লক্ষ্য হচ্ছে শত্রু মুকাবিলা করা

(প্রত্যহ তারা শত্রু মুকাবিলায় থাকে সতত প্রস্তুত)

প্রতিদিন আমাদের ভাগ্যে জুটে মা’আদ (কুরাইশ গোষ্ঠী) এর পক্ষ থেকে

কখনো বা গাল মন্দ, যুদ্ধ বিগ্রহ অথবা নিন্দাবাদ।

তোমাদের মধ্যে যে, আল্লাহর রাসূলের নিন্দাবাদ করে;

অথবা তাঁর, প্রশংসা ও সাহায্য সহায়তা করে এ দুইই সমান।

(কেননা) জিবরাঈল (আলাইহিস সালাম) আমাদের জন্য আল্লাহর পক্ষ থেকে নির্বাচিত সম্মানিত বাণীবাহক (দূত)

এবং তিনি রুহুল কুদ্স (পবিত্র আত্মা) যার সমকক্ষ ও প্রতিদ্বন্দ্বী কেউ নেই।

৩৫. আবু হুরায়রা আদ-দুসী (রাযিঃ) এর ফযীলত

باب مِنْ فَضَائِلِ أَبِي هُرَيْرَةَ الدَّوْسِيِّ رضى الله عنه

6171

حَدَّثَنَا عَمْرٌو النَّاقِدُ، حَدَّثَنَا عُمَرُ بْنُ يُونُسَ الْيَمَامِيُّ، حَدَّثَنَا عِكْرِمَةُ بْنُ عَمَّارٍ، عَنْ أَبِي كَثِيرٍ، يَزِيدَ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ حَدَّثَنِي أَبُو هُرَيْرَةَ، قَالَ كُنْتُ أَدْعُو أُمِّي إِلَى الإِسْلاَمِ وَهِيَ مُشْرِكَةٌ فَدَعَوْتُهَا يَوْمًا فَأَسْمَعَتْنِي فِي رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مَا أَكْرَهُ فَأَتَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَأَنَا أَبْكِي قُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنِّي كُنْتُ أَدْعُو أُمِّي إِلَى الإِسْلاَمِ فَتَأْبَى عَلَىَّ فَدَعَوْتُهَا الْيَوْمَ فَأَسْمَعَتْنِي فِيكَ مَا أَكْرَهُ فَادْعُ اللَّهَ أَنْ يَهْدِيَ أُمَّ أَبِي هُرَيْرَةَ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " اللَّهُمَّ اهْدِ أُمَّ أَبِي هُرَيْرَةَ " . فَخَرَجْتُ مُسْتَبْشِرًا بِدَعْوَةِ نَبِيِّ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَلَمَّا جِئْتُ فَصِرْتُ إِلَى الْبَابِ فَإِذَا هُوَ مُجَافٌ فَسَمِعَتْ أُمِّي خَشْفَ قَدَمَىَّ فَقَالَتْ مَكَانَكَ يَا أَبَا هُرَيْرَةَ . وَسَمِعْتُ خَضْخَضَةَ الْمَاءِ قَالَ - فَاغْتَسَلَتْ وَلَبِسَتْ دِرْعَهَا وَعَجِلَتْ عَنْ خِمَارِهَا فَفَتَحَتِ الْبَابَ ثُمَّ قَالَتْ يَا أَبَا هُرَيْرَةَ أَشْهَدُ أَنْ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ - قَالَ - فَرَجَعْتُ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَأَتَيْتُهُ وَأَنَا أَبْكِي مِنَ الْفَرَحِ - قَالَ - قُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَبْشِرْ قَدِ اسْتَجَابَ اللَّهُ دَعْوَتَكَ وَهَدَى أُمَّ أَبِي هُرَيْرَةَ . فَحَمِدَ اللَّهَ وَأَثْنَى عَلَيْهِ وَقَالَ خَيْرًا - قَالَ - قُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ ادْعُ اللَّهَ أَنْ يُحَبِّبَنِي أَنَا وَأُمِّي إِلَى عِبَادِهِ الْمُؤْمِنِينَ وَيُحَبِّبَهُمْ إِلَيْنَا - قَالَ - فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " اللَّهُمَّ حَبِّبْ عُبَيْدَكَ هَذَا - يَعْنِي أَبَا هُرَيْرَةَ وَأُمَّهُ - إِلَى عِبَادِكَ الْمُؤْمِنِينَ وَحَبِّبْ إِلَيْهِمُ الْمُؤْمِنِينَ " . فَمَا خُلِقَ مُؤْمِنٌ يَسْمَعُ بِي وَلاَ يَرَانِي إِلاَّ أَحَبَّنِي .

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৬১৭১। আমর আন-নাকিদ (রাহঃ) ......... আবু কাসীর থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আবু হুরায়রা (রাযিঃ) বর্ণনা করেছেন যেন, আমি আমার মাকে ইসলামের প্রতি আহবান জানাতাম, তখন তিনি মুশরিক ছিলেন। একদিন আমি তাকে ইসলাম কবুলের জন্য আহবান জানালাম। তখন তিনি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) সম্পর্কে আমাকে এমন এক কথা শোনালেন যা আমার কাছে খুবই অপ্রিয় ছিল। আমি কাঁদতে কাঁদতে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কাছে এলাম। আমি বললাম, ইয়া রাসুলাল্লাহ! আমি আমার মাকে ইসলামের দাওয়াত দিয়ে আসছিলাম। আর তিনি অস্বীকার করে আসছিলেন। এরপর আমি তাকে আজ দাওয়াত দেওয়াতে তিনি আমাকে আপনার সম্পর্কে এমন কথা শোনালেন, যা আমি পছন্দ করি না। সুতরাং আপনি আল্লাহর কাছে দুআ করুন যেন তিনি আবু হুরায়রার মাকে হিদায়াত দান করেন।

তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ “হে আল্লাহ! আবু হুরায়রার মাকে হিদায়াত দান কর”। নবী (ﷺ) এর দুআর কারণে আমি খুশি মনে বেরিয়ে এলাম। যখন আমি (ঘরের) দরজায় পৌঁছলাম তখন তা বন্ধ দেখতে পেলাম। আমার মা আমার পায়ের আওয়াজ শুনতে পেলেন। তিনি বললেন, আবু হুরায়রা! একটু দাড়াও (থাম)। তখন আমি পানির কলকল শব্দ শুনছিলাম। তিনি বলেন, এরপর তিনি (আমার মা) গোসল করলেন এবং গায়ে চাঁদর পরলেন। আর তড়িঘড়ি করে দোপাট্টা ও ওড়না জড়িয়ে নিলেন, এরপর ঘরের দরজা খুলে দিলেন।

এরপর বললেন, “হে আবু হুরায়রা! আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ব্যতিত কোন ইলাহ নেই, আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মাদ (ﷺ) তাঁর বান্দা ও রাসুল”। তিনি বলেন, তখন আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর খিদমতে রওয়ানা হলাম। এরপর তাঁর কাছে গেলাম এবং আমি তখন আনন্দে কাঁদছিলাম। তিনি বলেন, আমি বললাম, ইয়া রাসুলাল্লাহ! সুসংবাদ গ্রহণ করুন। আল্লাহ আপনার দুআ কবুল করেছেন এবং আবু হুরায়রার মাকে হিদায়াত দান করেছেন। তখন তিনি আল্লাহর শুকর আদায় করলেন ও তাঁর প্রশংসা করলেন এবং ভাল ভাল (কথা) বললেন।

তিনি বলেন, এরপর আমি বললাম, ইয়া রাসুলাল্লাহ! আপনি আল্লাহর কাছে দুআ করুন, তিনি যেন আমাকে এবং আমার মাকে মু’মিন বান্দাদের কাছে প্রিয় করেন এবং তাদের ভালবাসা আমাদের অন্তরে বদ্ধমূল করে দেন। তিনি (বর্ণনাকারী) বলেন, এরপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ “হে আল্লাহ! তোমার এই বান্দা (আবু হুরায়রা) কে এবং তাঁর মাকে মুমিন বান্দাদের কাছে প্রিয়ভাজন করে দাও এবং তাদের কাছেও মুমিন বান্দাদের প্রিয় করে দাও”। এরপর এমন কোন মুমিন বান্দা সৃষ্টি হয়নি, যে আমার কথা শুনেছে অথবা আমাকে দেখেছে অথচ আমাকে ভালোবাসেনি।
6172

حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، وَأَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ وَزُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ جَمِيعًا عَنْ سُفْيَانَ، قَالَ زُهَيْرٌ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنِ الأَعْرَجِ، قَالَ سَمِعْتُ أَبَا هُرَيْرَةَ، يَقُولُ إِنَّكُمْ تَزْعُمُونَ أَنَّ أَبَا هُرَيْرَةَ، يُكْثِرُ الْحَدِيثَ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَاللَّهُ الْمَوْعِدُ كُنْتُ رَجُلاً مِسْكِينًا أَخْدُمُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَلَى مِلْءِ بَطْنِي وَكَانَ الْمُهَاجِرُونَ يَشْغَلُهُمُ الصَّفْقُ بِالأَسْوَاقِ وَكَانَتِ الأَنْصَارُ يَشْغَلُهُمُ الْقِيَامُ عَلَى أَمْوَالِهِمْ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " مَنْ يَبْسُطُ ثَوْبَهُ فَلَنْ يَنْسَى شَيْئًا سَمِعَهُ مِنِّي " . فَبَسَطْتُ ثَوْبِي حَتَّى قَضَى حَدِيثَهُ ثُمَّ ضَمَمْتُهُ إِلَىَّ فَمَا نَسِيتُ شَيْئًا سَمِعْتُهُ مِنْهُ .

Narrator: আ'রাজ (রহঃ)

৬১৭২। কুতায়বা ইবনে সাঈদ, আবু বকর ইবনে আবি শাঈবা ও যুহাযুর ইবনে হারব (রাহঃ) ......... আরাজ (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আবু হুরায়রা (রাযিঃ) কে বলতে শুনেছি যে, তোমরা ধারণা করছ যে, আবু হুরায়রা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) থেকে বেশী হাদীস বর্ণনা করেছে। এর হিসাব নিকাশ আল্লাহর কাছেই হবে। আমি ছিলাম একজন গরীব লোক। আমি কোন রকমে পেট পুরে খেয়ে না খেয়ে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর খিদমত করতাম (তাঁর সাহচর্যে থাকতাম)। তখন মুহাজিরগণ বাজারে ব্যবসায়-বাণিজ্যে মশগুল থাকতেন এবং আনসারগণ তাঁদের ধন-সম্পদের (ক্ষেত খামারে) রক্ষণাবেক্ষন ও হিফাযতে ব্যস্ত থাকতেন।

এরপর একবার রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, যে ব্যক্তি তার কাপড়ের আচল বিছিয়ে দেবে সে আমার কাছ থেকে যা কিছু শুনবে তা ভুলবে না। আমি আমার কাপড়ের আচল বিছিয়ে দিলাম এবং তিনি হাদীস বর্ণনা করলেন। এরপর আমি সেই কাপড়টা আমার বুকের সঙ্গে মিলিয়ে নিলাম। তখন থেকে আমি তাঁর নিকট হতে যা কিছু শুনেছি তার কিছুই ভুলিনি।
6173

حَدَّثَنِي عَبْدُ اللَّهِ بْنُ جَعْفَرِ بْنِ يَحْيَى بْنِ خَالِدٍ، أَخْبَرَنَا مَعْنٌ، أَخْبَرَنَا مَالِكٌ، ح وَحَدَّثَنَا عَبْدُ بْنُ حُمَيْدٍ، أَخْبَرَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، أَخْبَرَنَا مَعْمَرٌ، كِلاَهُمَا عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنِ الأَعْرَجِ، عَنْ أَبِي، هُرَيْرَةَ بِهَذَا الْحَدِيثِ غَيْرَ أَنَّ مَالِكًا، انْتَهَى حَدِيثُهُ عِنْدَ انْقِضَاءِ قَوْلِ أَبِي هُرَيْرَةَ وَلَمْ يَذْكُرْ فِي حَدِيثِهِ الرِّوَايَةَ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم " مَنْ يَبْسُطْ ثَوْبَهُ " . إِلَى آخِرِهِ .

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৬১৭৩। আব্দুল্লাহ ইবনে জাফর ইবনে ইয়াহয়া ইবনে খালিদ ও আব্দ ইবনে হুমায়দ (রাহঃ) ......... আ’রাজ (রাহঃ) সূত্রে আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে এই হাদীস বর্ণনা করেছেন। তবে মালিক ইবনে আনাস (রাহঃ) এর হাদীস আবু হুরায়রা (রাযিঃ) এর বক্তব্য পর্যন্ত শেষ হয়েছে এবং তিনি তাঁর হাদীসে নবী (ﷺ) থেকে “যে তার কাপড় বিছাবে” শেষ পর্যন্ত উল্লেখ করেননি।

6174
وَحَدَّثَنِي حَرْمَلَةُ بْنُ يَحْيَى التُّجِيبِيُّ، أَخْبَرَنَا ابْنُ وَهْبٍ، أَخْبَرَنِي يُونُسُ، عَنِ ابْنِ، شِهَابٍ أَنَّ عُرْوَةَ بْنَ الزُّبَيْرِ، حَدَّثَهُ أَنَّ عَائِشَةَ قَالَتْ أَلاَ يُعْجِبُكَ أَبُو هُرَيْرَةَ جَاءَ فَجَلَسَ إِلَى جَنْبِ حُجْرَتِي يُحَدِّثُ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم يُسْمِعُنِي ذَلِكَ وَكُنْتُ أُسَبِّحُ فَقَامَ قَبْلَ أَنْ أَقْضِيَ سُبْحَتِي وَلَوْ أَدْرَكْتُهُ لَرَدَدْتُ عَلَيْهِ إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لَمْ يَكُنْ يَسْرُدُ الْحَدِيثَ كَسَرْدِكُمْ .
قَالَ ابْنُ شِهَابٍ وَقَالَ ابْنُ الْمُسَيَّبِ إِنَّ أَبَا هُرَيْرَةَ قَالَ يَقُولُونَ إِنَّ أَبَا هُرَيْرَةَ قَدْ أَكْثَرَ وَاللَّهُ الْمَوْعِدُ وَيَقُولُونَ مَا بَالُ الْمُهَاجِرِينَ وَالأَنْصَارِ لاَ يَتَحَدَّثُونَ مِثْلَ أَحَادِيثِهِ وَسَأُخْبِرُكُمْ عَنْ ذَلِكَ إِنَّ إِخْوَانِي مِنَ الأَنْصَارِ كَانَ يَشْغَلُهُمْ عَمَلُ أَرَضِيهِمْ وَإِنَّ إِخْوَانِي مِنَ الْمُهَاجِرِينَ كَانَ يَشْغَلُهُمُ الصَّفْقُ بِالأَسْوَاقِ وَكُنْتُ أَلْزَمُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَلَى مِلْءِ بَطْنِي فَأَشْهَدُ إِذَا غَابُوا وَأَحْفَظُ إِذَا نَسُوا وَلَقَدْ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَوْمًا " أَيُّكُمْ يَبْسُطُ ثَوْبَهُ فَيَأْخُذُ مِنْ حَدِيثِي هَذَا ثُمَّ يَجْمَعُهُ إِلَى صَدْرِهِ فَإِنَّهُ لَمْ يَنْسَ شَيْئًا سَمِعَهُ " . فَبَسَطْتُ بُرْدَةً عَلَىَّ حَتَّى فَرَغَ مِنْ حَدِيثِهِ ثُمَّ جَمَعْتُهَا إِلَى صَدْرِي فَمَا نَسِيتُ بَعْدَ ذَلِكَ الْيَوْمِ شَيْئًا حَدَّثَنِي بِهِ وَلَوْلاَ آيَتَانِ أَنْزَلَهُمَا اللَّهُ فِي كِتَابِهِ مَا حَدَّثْتُ شَيْئًا أَبَدًا ( إِنَّ الَّذِينَ يَكْتُمُونَ مَا أَنْزَلْنَا مِنَ الْبَيِّنَاتِ وَالْهُدَى) إِلَى آخِرِ الآيَتَيْنِ .

Narrator: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

৬১৭৪। হারামালা ইবনে ইয়াহয়া তুজীবী (রাহঃ) ......... আয়িশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, (হে উরওয়াহ্!) তোমার কাছে কি আশ্চর্য বলে মনে হয় না যে, আবু হুরাইরা্ (রাযিঃ) আমার কক্ষে একদিকে বসে রসূলুল্লাহ (ﷺ) হতে হাদীস রিওয়ায়াত করছেন এবং তিনি তা আমাকে শুনাচ্ছেন? কিন্তু আমি সে সময় নফল নামাযে মশগুল ছিলাম। সে আমার নফল সম্পন্ন করার পূর্বেই উঠে চলে গেল। আমি যদি তখন তাঁকে পেতাম তাহলে তাকে প্রতিবাদ জানাতাম। কেননা, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এই রকম তড়িঘড়ি কথাবার্তা বলা পছন্দ করতেন না যেমন তোমরা কর।

ইবনে শিহাব ও ইবনে মুসায়্যাব (রাহঃ) বলেন যে, আবু হুরায়রা (রাযিঃ) বললেন, লোকেরা বলাবলি করে যে, আবু হুরায়রা অধিক সংখ্যক হাদীস বর্ণনা করেন আর আল্লাহর কাছেই এ অভিযোগের বিচার। তিনি বলেন যে, লোকেরা এই মর্মে আরও বলাবলি করত যে, মুহাজির ও আনসারগণ আবু হুরায়রার মত বেশী বেশী হাদীস বর্ণনা করেন না কেন?

এর জবাবে আমি তোমাদের অবহিত করতে চাই যে, আমার আনসার ভাইয়েরা তাদের জমিজমার (কৃষি) কাজে ব্যস্ত থাকতো আর আমার মুহাজির ভাইয়েরা হাট-বাজারে ব্যবসা-বাণিজ্যর উদ্দেশ্যে বেচা কেনার কাজে ব্যাস্ত থাকতেন। আর আমি রাসুলুল্ললাহ (ﷺ) এর সুহবত আমার জন্য অপরিহার্য করে নিতাম এবং খেয়ে না খেয়ে তাঁর সাহচর্যে থাকতাম। তাঁরা যখন অনুপস্থিত থাকতেন তখন আমি হাযির থাকতাম এবং তাঁরা ভুলে যেতেন আমি মুখস্থ করতাম।

রাসূলুল্লাহ (ﷺ) একদিন বললেনঃ তোমাদের মধ্যে কে আছে, যে তাঁর কাপড়ের আচল বিছিয়ে দেবে আর আমার হাদীস গ্রহণ করবে? এরপর তা (কাপড়) নিজের বুকে মিলিয়ে নিলে সে যা শুনবে কখনও ভুলবে না। আমি আমার চাদর পেতে দিলাম এবং তিনি তাঁর হাদীস বর্ণনার সমাপ্তি টানলেন। এরপর আমি চাদরখানি আমার বুকে মিলিয়ে নিলাম। সেদিন হতে আমি কোন বিষয়ই বিস্মৃত হইনি যা তিনি বলেছেন (সবটুকুই স্মরণে আছে)।

আল্লাহ তাঁর কিতাবে দুটি আয়াত যদি নাযিল না করতেন তাহলে আমি কখনও হাদীস বর্ণনা করতাম না। আয়াত দুই এইঃ إِنَّ الَّذِينَ يَكْتُمُونَ مَا أَنْزَلْنَا مِنَ الْبَيِّنَاتِ وَالْهُدَى إِلَى آخِرِ الآيَتَيْنِ “আমি যে স্পষ্ট নিদর্শন ও পথ নির্দেশ অবতীর্ণ করেছি মানুষের জন্য, কিতাবে তা স্পষ্টভাবে ব্যাক্ত করার পরও যারা তা গোপন রাখে আল্লাহ তাদেরকে লানত দেন এবং অভিশাপকারীরাও অভিশাপ দেয়; কিন্তু যারা তাওবা করে এবং নিজেদের সংশোধন করে আর (সত্যকে) স্পষ্টভাবে ব্যাক্ত করে, এ সকল লোক তারাই যাদের তাওবা আমি কবুল করি। (কারণ) আমি তো তাওবা কবুলকারী, পরম দয়ালু” (২ঃ ১৫৯-১৬০)।
6175

وَحَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ الدَّارِمِيُّ، أَخْبَرَنَا أَبُو الْيَمَانِ، عَنْ شُعَيْبٍ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، أَخْبَرَنِي سَعِيدُ بْنُ الْمُسَيَّبِ، وَأَبُو سَلَمَةَ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ أَنَّ أَبَا هُرَيْرَةَ، قَالَ إِنَّكُمْ تَقُولُونَ إِنَّ أَبَا هُرَيْرَةَ يُكْثِرُ الْحَدِيثَ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِنَحْوِ حَدِيثِهِمْ .

Narrator: সাঈদ ইবনুল মুসাইয়্যাব (রহঃ)

৬১৭৫। আব্দুল্লাহ ইবনে আব্দুর রহমান দারিমী (রাহঃ) ......... সাঈদ ইবনে মুসাইয়্যাব ও আবু সালামা ইবনুন আব্দুর রহমান (রাযিঃ) বর্ণনা করেন যে, আবু হুরায়রা (রাযিঃ) বলেছেন, তোমরা বলাবলি করছ যে, আবু হুরায়রা (রাযিঃ) রাসূলুল্লাহ (ﷺ) থেকে অধিক সংখ্যক হাদীস বর্ণনা করেন ...... হাদীসের বাকি অংশ তাদের বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ।

৩৬. হাতিব ইবনে আবু বালতা’আ (রাযিঃ) এবং বদরী সাহাবীগণ (রাযিঃ) এর ফযীলত

باب مِنْ فَضَائِلِ أَهْلِ بَدْرٍ رضى الله عنهم وَقِصَّةِ حَاطِبِ بْنِ أَبِي بَلْتَعَةَ

6176

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، وَعَمْرٌو النَّاقِدُ، وَزُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، وَإِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، وَابْنُ أَبِي عُمَرَ - وَاللَّفْظُ لِعَمْرٍو - قَالَ إِسْحَاقُ أَخْبَرَنَا وَقَالَ الآخَرُونَ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ، عُيَيْنَةَ عَنْ عَمْرٍو، عَنِ الْحَسَنِ بْنِ مُحَمَّدٍ، أَخْبَرَنِي عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ أَبِي رَافِعٍ، - وَهُوَ كَاتِبُ عَلِيٍّ قَالَ سَمِعْتُ عَلِيًّا، رضى الله عنه وَهُوَ يَقُولُ بَعَثَنَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَنَا وَالزُّبَيْرَ وَالْمِقْدَادَ فَقَالَ " ائْتُوا رَوْضَةَ خَاخٍ فَإِنَّ بِهَا ظَعِينَةً مَعَهَا كِتَابٌ فَخُذُوهُ مِنْهَا " . فَانْطَلَقْنَا تَعَادَى بِنَا خَيْلُنَا فَإِذَا نَحْنُ بِالْمَرْأَةِ فَقُلْنَا أَخْرِجِي الْكِتَابَ . فَقَالَتْ مَا مَعِي كِتَابٌ . فَقُلْنَا لَتُخْرِجِنَّ الْكِتَابَ أَوْ لَتُلْقِيَنَّ الثِّيَابَ . فَأَخْرَجَتْهُ مِنْ عِقَاصِهَا فَأَتَيْنَا بِهِ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَإِذَا فِيهِ مِنْ حَاطِبِ بْنِ أَبِي بَلْتَعَةَ إِلَى نَاسٍ مِنَ الْمُشْرِكِينَ مِنْ أَهْلِ مَكَّةَ يُخْبِرُهُمْ بِبَعْضِ أَمْرِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " يَا حَاطِبُ مَا هَذَا " . قَالَ لاَ تَعْجَلْ عَلَىَّ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنِّي كُنْتُ امْرَأً مُلْصَقًا فِي قُرَيْشٍ - قَالَ سُفْيَانُ كَانَ حَلِيفًا لَهُمْ وَلَمْ يَكُنْ مِنْ أَنْفُسِهَا - وَكَانَ مِمَّنْ كَانَ مَعَكَ مِنَ الْمُهَاجِرِينَ لَهُمْ قَرَابَاتٌ يَحْمُونَ بِهَا أَهْلِيهِمْ فَأَحْبَبْتُ إِذْ فَاتَنِي ذَلِكَ مِنَ النَّسَبِ فِيهِمْ أَنْ أَتَّخِذَ فِيهِمْ يَدًا يَحْمُونَ بِهَا قَرَابَتِي وَلَمْ أَفْعَلْهُ كُفْرًا وَلاَ ارْتِدَادًا عَنْ دِينِي وَلاَ رِضًا بِالْكُفْرِ بَعْدَ الإِسْلاَمِ . فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم " صَدَقَ " . فَقَالَ عُمَرُ دَعْنِي يَا رَسُولَ اللَّهِ أَضْرِبْ عُنُقَ هَذَا الْمُنَافِقِ . فَقَالَ " إِنَّهُ قَدْ شَهِدَ بَدْرًا وَمَا يُدْرِيكَ لَعَلَّ اللَّهَ اطَّلَعَ عَلَى أَهْلِ بَدْرٍ فَقَالَ اعْمَلُوا مَا شِئْتُمْ فَقَدْ غَفَرْتُ لَكُمْ " . فَأَنْزَلَ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ ( يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لاَ تَتَّخِذُوا عَدُوِّي وَعَدُوَّكُمْ أَوْلِيَاءَ) وَلَيْسَ فِي حَدِيثِ أَبِي بَكْرٍ وَزُهَيْرٍ ذِكْرُ الآيَةِ وَجَعَلَهَا إِسْحَاقُ فِي رِوَايَتِهِ مِنْ تِلاَوَةِ سُفْيَانَ .

Narrator: উবায়দুল্লাহ ইবনে আবু রাফি' (রাঃ)

৬১৭৬। আবু বকর ইবনে আবি শাঈবা, আমর নাকিদ, যুহাইর ইবনে হারব, ইসহাক ইবনে ইবরাহীম ও ইবনে আবু উমর (রাহঃ) ......... আলী (রাযিঃ) এর কাতিব উবাইদুল্লাহ ইবনে আবু রাফি (রাহঃ) বর্ণনা করেন যে, তিনি আলী (রাযিঃ) কে বলতে শুনেছেন যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাকে এবং যুবাইর ও মিকদাদ (রাযিঃ) কে (বিশেষ কাজে) পাঠালেন এবং বললেনঃ তোমরা রাওযা খাখ (মদীনার নিকটবর্তী একটি স্থানের নাম) যাও। সেখানে উটের পিঠে আরোহি এক মহিলা আছে। তার কাছে একখানা গোপন চিঠি আছে। তোমরা তার কাছ থেকে সেটা নিয়ে এসো। আমরা ঘোড়ার পিঠে আরোহণ করে ছুটে চললাম। সেখানে আমরা এক মহিলাকে দেখতে পেলাম।

আমরা তাকে বললাম, চিঠি বের করে দাও সে বলল, আমার কাছে কোন চিঠি নেই। আমরা বললাম, তোমাকে চিঠি বের করতেই হবে, অন্যথায় তোমার পোশাকাদি খুলে ফেলেতে হবে। এরপর সে তার চুলের বেণীর মধ্য থেকে তা বের করে দিল। তখন আমরা তা নিয়ে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কাছে এলাম। চিঠিতে দেখা গেল যে, হাতিব ইবনে আবু বালতা (রাযিঃ) এর পক্ষ থেকে মক্কার কতক মুশরিকের প্রতি লেখা ছিল। তিনি (এই চিঠিতে) রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কতিপয় বিষয় সম্পর্কে তাদের অবহিত করছিলেন (গুরুত্বপূর্ণ কাজের গোপন তথ্য ফাঁস করে দিয়েছিলেন)।

তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ হে হাতিব! তুমি একি কাজ করলে? সে বলল, ইয়া রাসুলাল্লাহ! আমার ব্যাপারে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিবেন না। আমি কুরাইশ সংযুক্ত একজন লোক। সুফিয়ান (রাহঃ) বলেন, তিনি তাদের (চুক্তিবদ্ধ) মিত্র ছিলেন, তাদের গোত্রভুক্ত ছিলেন না। আর আপনার মুহাজির সাহাবীদের অনেকের আত্মীয় স্বজন সেখানে রয়েছে, যাদের বদৌলতে তাদের পরিবার পরিজনের নিরপত্তা নিশ্চিত হচ্ছিল। তাই আমি মনস্থ করলাম যে, কুরাইশের শঙ্গে যখন আমার কোন আত্মীয়তার সম্পর্ক নেই তখন তাদের প্রতি এমন কোন (কাজ) উপকার করি যার কারণে তারা আমার পরিবার পরিজন রক্ষা করবে। আমি এ কাজটি এজন্য করিনি যে, আমি কাফির হয়ে গেছি কিংবা দ্বীন থেকে মুরতাদ হয়েছি। আমি ইসলাম গ্রহণের পরে কুফরের প্রতি আসক্তও হইনি।

এরপর নবী (ﷺ) বললেন, সে সত্যই বলেছ। উমর (রাযিঃ) বললেন, ইয়া রাসুলাল্লাহ! আমাকে অনুমতি দিন, আমি এই মুনাফিকের গর্দান উড়িয়ে দেই। তখন তিনি বললেন, সে তো বদর যুদ্ধে শরীক হয়েছিল আর নিশ্চয় আল্লাহ তাআলা বদরী সাহাবিদের বিষয়ে অবগত আছেন। আল্লাহ তাআলা বলে দিয়েছেন: اعْمَلُوا مَا شِئْتُمْ فَقَدْ غَفَرْتُ لَكُمْ অর্থাৎ “তোমরা যা খুশী করতে পার, আমি তোমাদের (অগ্রিম) ক্ষমা করে দিয়েছি”। এরপর আল্লাহ তাআলা এই আয়াত নাযিল করেন, يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لاَ تَتَّخِذُوا عَدُوِّي وَعَدُوَّكُمْ أَوْلِيَاءَ অর্থাৎ “হে মুমিনগণ! আমার শত্রু ও তোমাদের শত্রুকে বন্ধুরূপে গ্রহণ কর না”। (সূরা মুমতাহানাঃ ১)।

আবু বকর ও যুহাইর বর্ণিত হাদীসে আয়াতের উল্লেখ নেই। আর ইসহাক তাঁর বর্ণনায় আয়তটিকে সুফিয়ানের তিলাওয়াত হিসাবে গণ্য করেছেন।
6177

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ فُضَيْلٍ، ح وَحَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ إِدْرِيسَ، ح وَحَدَّثَنَا رِفَاعَةُ بْنُ الْهَيْثَمِ الْوَاسِطِيُّ، حَدَّثَنَا خَالِدٌ، - يَعْنِي ابْنَ عَبْدِ اللَّهِ - كُلُّهُمْ عَنْ حُصَيْنٍ، عَنْ سَعْدِ بْنِ عُبَيْدَةَ، عَنْ أَبِي عَبْدِ الرَّحْمَنِ السُّلَمِيِّ، عَنْ عَلِيٍّ، قَالَ بَعَثَنِي رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَأَبَا مَرْثَدٍ الْغَنَوِيَّ وَالزُّبَيْرَ بْنَ الْعَوَّامِ وَكُلُّنَا فَارِسٌ فَقَالَ " انْطَلِقُوا حَتَّى تَأْتُوا رَوْضَةَ خَاخٍ فَإِنَّ بِهَا امْرَأَةً مِنَ الْمُشْرِكِينَ مَعَهَا كِتَابٌ مِنْ حَاطِبٍ إِلَى الْمُشْرِكِينَ " . فَذَكَرَ بِمَعْنَى حَدِيثِ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي رَافِعٍ عَنْ عَلِيٍّ .

Narrator: হযরত আলী ইবনে আবী তালিব (রাঃ)

৬১৭৭। আবু বকর ইবনে আবি শাঈবা (রাহঃ) ......... আলী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাকে আবু মারসাদ গানবী ও জুবাইর ইবনুল আওয়াম (রাযিঃ) কে পাঠালেন। আমরা সবাই অশ্বারোহী ছিলাম। তিনি বললেনঃ তোমরা ‘রাওয়া খাখ’ এর উদ্দেশ্যে রওয়ানা হয়ে যাও। সেখানে এক মুশরিক নারীকে পাবে। তাঁর কাছে হাতিবের পক্ষ থেকে মুশরিকদের কাছে লেখা একখানা চিঠি আছে। ...... এরপর তিনি (বর্ণনাকারী) আলী (রাযিঃ) থেকে উবাইদুল্লাহ ইবনে আবু রাফি বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ উল্লেখ করেন।

6178

حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا لَيْثٌ، ح وَحَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ رُمْحٍ، أَخْبَرَنَا اللَّيْثُ، عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ، عَنْ جَابِرٍ، أَنَّ عَبْدًا، لِحَاطِبٍ جَاءَ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَشْكُو حَاطِبًا فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ لَيَدْخُلَنَّ حَاطِبٌ النَّارَ . فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " كَذَبْتَ لاَ يَدْخُلُهَا فَإِنَّهُ شَهِدَ بَدْرًا وَالْحُدَيْبِيَةَ " .

Narrator: জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ আনসারী (রাঃ)

৬১৭৮। কুতায়বা ইবনে সাঈদ (রাহঃ) ......... জাবির (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, হাতিবের এক গোলাম রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কাছে এসে তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ উত্থাপন করল। সে বলল, ইয়া রাসুলাল্লাহ! হাতিব অবশ্যই জাহান্নামে যাবে। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, তুমি মিথ্যা বলেছ, সে সেখানে (জাহান্নামে) যাবে না, কেননা সে বদর ও হুদায়বিয়ায় শরীক হয়েছিল।

৩৭. বায়আতে রিদওয়ানে অংশগ্রহণকারী (বৃক্ষতলে উপস্থিত) ’আশাবুস শাজারা’ (রাযিঃ) এর ফযীলত

باب مِنْ فَضَائِلِ أَصْحَابِ الشَّجَرَةِ أَهْلِ بَيْعَةِ الرِّضْوَانِ رضى الله عنهم

6179

حَدَّثَنِي هَارُونُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، حَدَّثَنَا حَجَّاجُ بْنُ مُحَمَّدٍ، قَالَ قَالَ ابْنُ جُرَيْجٍ أَخْبَرَنِي أَبُو الزُّبَيْرِ، أَنَّهُ سَمِعَ جَابِرَ بْنَ عَبْدِ اللَّهِ، يَقُولُ أَخْبَرَتْنِي أُمُّ مُبَشِّرٍ، أَنَّهَا سَمِعَتِ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ عِنْدَ حَفْصَةَ " لاَ يَدْخُلُ النَّارَ إِنْ شَاءَ اللَّهُ مِنْ أَصْحَابِ الشَّجَرَةِ أَحَدٌ . الَّذِينَ بَايَعُوا تَحْتَهَا " . قَالَتْ بَلَى يَا رَسُولَ اللَّهِ . فَانْتَهَرَهَا فَقَالَتْ حَفْصَةُ ( وَإِنْ مِنْكُمْ إِلاَّ وَارِدُهَا) فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم " قَدْ قَالَ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ ( ثُمَّ نُنَجِّي الَّذِينَ اتَّقَوْا وَنَذَرُ الظَّالِمِينَ فِيهَا جِثِيًّا)

Narrator: জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ আনসারী (রাঃ)

৬১৭৯। হারুন ইবনে আব্দুল্লাহ (রাহঃ) ......... জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ (রাযিঃ) বলেন যে, আমাকে উম্মু মুবাশশির (রাযিঃ) অবহিত করেছেন যে, তিনি নবী (ﷺ) কে হাফসা (রাযিঃ) এর কাছে বলতে শুনেছেন, ইনশাআল্লাহ (আল্লাহ চাহে) তো (হুদায়বিয়ায় বাবলা) গাছের নীচে বায়য়াত (রিদওয়ানে) অংশগ্রহণকারীদের কেউই জাহান্নামে প্রবেশ করবে না। তিনি (হাফসা) বললেন, হ্যাঁ, ইয়া রাসুলাল্লাহ! (কেন যাবে না?)। তখন তিনি তাকে ধমক দিলেন। হাফসা (রাযিঃ) বলেছিলেন, আল্লাহ তাআলা বলেছেন, তোমাদের মধ্যে এমন কেউ নেই, যে তাতে (জাহান্নামে) অবতরণ না করবে। তখন নবী (ﷺ) বললেন, আল্লাহ তো এও বলেছেনঃثُمَّ نُنَجِّي الَّذِينَ اتَّقَوْا وَنَذَرُ الظَّالِمِينَ فِيهَا جِثِيًّا অতঃপর যারা তাকওয়া অবলম্বন করেছে আমি তাদের নাজাদ দেব এবং যালিমদের অধঃমুখে জাহান্নামে নিক্ষেপ করব।

৩৮. আবু মুসা আশআরী ও আবু আমির আশআরী (রাযিঃ) এর ফযীলত

باب مِنْ فَضَائِلِ أَبِي مُوسَى وَأَبِي عَامِرٍ الأَشْعَرِيَّيْنِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا

6180

حَدَّثَنَا أَبُو عَامِرٍ الأَشْعَرِيُّ، وَأَبُو كُرَيْبٍ جَمِيعًا عَنْ أَبِي أُسَامَةَ، قَالَ أَبُو عَامِرٍ حَدَّثَنَا أَبُو أُسَامَةَ، حَدَّثَنَا بُرَيْدٌ، عَنْ جَدِّهِ أَبِي بُرْدَةَ، عَنْ أَبِي مُوسَى، قَالَ كُنْتُ عِنْدَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَهُوَ نَازِلٌ بِالْجِعْرَانَةِ بَيْنَ مَكَّةَ وَالْمَدِينَةِ وَمَعَهُ بِلاَلٌ فَأَتَى رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم رَجُلٌ أَعْرَابِيٌّ فَقَالَ أَلاَ تُنْجِزُ لِي يَا مُحَمَّدُ مَا وَعَدْتَنِي فَقَالَ لَهُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " أَبْشِرْ " . فَقَالَ لَهُ الأَعْرَابِيُّ أَكْثَرْتَ عَلَىَّ مِنْ " أَبْشِرْ " . فَأَقْبَلَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَلَى أَبِي مُوسَى وَبِلاَلٍ كَهَيْئَةِ الْغَضْبَانِ فَقَالَ " إِنَّ هَذَا قَدْ رَدَّ الْبُشْرَى فَاقْبَلاَ أَنْتُمَا " . فَقَالاَ قَبِلْنَا يَا رَسُولَ اللَّهِ . ثُمَّ دَعَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِقَدَحٍ فِيهِ مَاءٌ فَغَسَلَ يَدَيْهِ وَوَجْهَهُ فِيهِ وَمَجَّ فِيهِ ثُمَّ قَالَ " اشْرَبَا مِنْهُ وَأَفْرِغَا عَلَى وُجُوهِكُمَا وَنُحُورِكُمَا وَأَبْشِرَا " . فَأَخَذَا الْقَدَحَ فَفَعَلاَ مَا أَمَرَهُمَا بِهِ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَنَادَتْهُمَا أُمُّ سَلَمَةَ مِنْ وَرَاءِ السِّتْرِ أَفْضِلاَ لأُمِّكُمَا مِمَّا فِي إِنَائِكُمَا . فَأَفْضَلاَ لَهَا مِنْهُ طَائِفَةً .

Narrator: আবু মুসা আশ'আরী (রাঃ)

৬১৮০। আবু আমির আশআরী ও আবু কুরায়ব (রাহঃ) ......... আবু মুসা আশআরী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি নবী (ﷺ) এর খিদমতে ছিলাম। সে সময় তিনি মক্কা ও মদীনার মধ্যবর্তী জিইররানা নামক স্থানে অবস্থান করছিলেন। তাঁর সঙ্গে বিলাল (রাযিঃ)ও ছিলেন। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কাছে এক আরব বেদুঈন এল। সে বলল, ইয়া মুহাম্মাদ! আপনি আমাকে যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তা কি পুরন করবেন না? তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাকে বললেনঃ “তুমি সুসংবাদ গ্রহণ কর”। তখন সে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে বলল, আপনি তো অনেকবারই বলেছেনঃ “সুসংবাদ গ্রহণ কর”। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) অসন্তুষ্টি প্রকাশ করে আবু মুসা ও বিলাল (রাযিঃ) এর প্রতি লক্ষ্য করে বললেন, দেখ এই ব্যক্তি সুসংবাদ প্রত্যাখ্যান করেছে। সুতরাং তোমরা দুইজন তা গ্রহণ কর।

তখন তারা দুইজনে বললেন, ইয়া রাসুলাল্লাহ! আমরা কবুল করলাম। এরপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) একটি পানি ভর্তি পেয়ালা আনালেন। তিনি তাঁর দুই হাত ও মুখমণ্ডল ধুলেন এবং তাতে কুলি করলেন। এরপর তিনি বললেন, তোমরা দুইজনে এ থেকে পানি পান কর এবং তোমাদের মুখমণ্ডলে ও বক্ষদেশে ঢেলে দাও, আর তোমরা সুসংবাদ গ্রহণ কর। তারা দুইজনে পেয়ালাটি গ্রহণ করলেন এবং রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নির্দেশ মোতাবেক কাজ করলেন। তখন উম্মুল মু’মিনীন উম্মে সালামা (রাযিঃ) পর্দার আড়াল থেকে তাদের ডেকে বললেন, তোমাদের মায়ের জন্য তোমাদের পাত্রে কিন্তু পানি রেখে দাও। তখন তারা তাঁর জন্য সামান্য পরিমাণ উদ্ধৃত্ত রাখলেন।
6181

حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ بَرَّادٍ أَبُو عَامِرٍ الأَشْعَرِيُّ، وَأَبُو كُرَيْبٍ مُحَمَّدُ بْنُ الْعَلاَءِ - وَاللَّفْظُ لأَبِي عَامِرٍ - قَالاَ حَدَّثَنَا أَبُو أُسَامَةَ، عَنْ بُرَيْدٍ، عَنْ أَبِي بُرْدَةَ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ لَمَّا فَرَغَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم مِنْ حُنَيْنٍ بَعَثَ أَبَا عَامِرٍ عَلَى جَيْشٍ إِلَى أَوْطَاسٍ فَلَقِيَ دُرَيْدَ بْنَ الصِّمَّةِ فَقُتِلَ دُرَيْدٌ وَهَزَمَ اللَّهُ أَصْحَابَهُ فَقَالَ أَبُو مُوسَى وَبَعَثَنِي مَعَ أَبِي عَامِرٍ - قَالَ - فَرُمِيَ أَبُو عَامِرٍ فِي رُكْبَتِهِ رَمَاهُ رَجُلٌ مِنْ بَنِي جُشَمٍ بِسَهْمٍ فَأَثْبَتَهُ فِي رُكْبَتِهِ فَانْتَهَيْتُ إِلَيْهِ فَقُلْتُ يَا عَمِّ مَنْ رَمَاكَ فَأَشَارَ أَبُو عَامِرٍ إِلَى أَبِي مُوسَى فَقَالَ إِنَّ ذَاكَ قَاتِلِي تَرَاهُ ذَلِكَ الَّذِي رَمَانِي . قَالَ أَبُو مُوسَى فَقَصَدْتُ لَهُ فَاعْتَمَدْتُهُ فَلَحِقْتُهُ فَلَمَّا رَآنِي وَلَّى عَنِّي ذَاهِبًا فَاتَّبَعْتُهُ وَجَعَلْتُ أَقُولُ لَهُ أَلاَ تَسْتَحْيِي أَلَسْتَ عَرَبِيًّا أَلاَ تَثْبُتُ فَكَفَّ فَالْتَقَيْتُ أَنَا وَهُوَ فَاخْتَلَفْنَا أَنَا وَهُوَ ضَرْبَتَيْنِ فَضَرَبْتُهُ بِالسَّيْفِ فَقَتَلْتُهُ ثُمَّ رَجَعْتُ إِلَى أَبِي عَامِرٍ فَقُلْتُ إِنَّ اللَّهَ قَدْ قَتَلَ صَاحِبَكَ . قَالَ فَانْزِعْ هَذَا السَّهْمَ فَنَزَعْتُهُ فَنَزَا مِنْهُ الْمَاءُ فَقَالَ يَا ابْنَ أَخِي انْطَلِقْ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَأَقْرِئْهُ مِنِّي السَّلاَمَ وَقُلْ لَهُ يَقُولُ لَكَ أَبُو عَامِرٍ اسْتَغْفِرْ لِي . قَالَ وَاسْتَعْمَلَنِي أَبُو عَامِرٍ عَلَى النَّاسِ وَمَكَثَ يَسِيرًا ثُمَّ إِنَّهُ مَاتَ فَلَمَّا رَجَعْتُ إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم دَخَلْتُ عَلَيْهِ وَهُوَ فِي بَيْتٍ عَلَى سَرِيرٍ مُرْمَلٍ وَعَلَيْهِ فِرَاشٌ وَقَدْ أَثَّرَ رِمَالُ السَّرِيرِ بِظَهْرِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَجَنْبَيْهِ فَأَخْبَرْتُهُ بِخَبَرِنَا وَخَبَرِ أَبِي عَامِرٍ وَقُلْتُ لَهُ قَالَ قُلْ لَهُ يَسْتَغْفِرْ لِي . فَدَعَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِمَاءٍ فَتَوَضَّأَ مِنْهُ ثُمَّ رَفَعَ يَدَيْهِ ثُمَّ قَالَ " اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِعُبَيْدٍ أَبِي عَامِرٍ " . حَتَّى رَأَيْتُ بَيَاضَ إِبْطَيْهِ ثُمَّ قَالَ " اللَّهُمَّ اجْعَلْهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ فَوْقَ كَثِيرٍ مِنْ خَلْقِكَ أَوْ مِنَ النَّاسِ " . فَقُلْتُ وَلِي يَا رَسُولَ اللَّهِ فَاسْتَغْفِرْ . فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم " اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِعَبْدِ اللَّهِ بْنِ قَيْسٍ ذَنْبَهُ وَأَدْخِلْهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ مُدْخَلاً كَرِيمًا " . قَالَ أَبُو بُرْدَةَ إِحْدَاهُمَا لأَبِي عَامِرٍ وَالأُخْرَى لأَبِي مُوسَى .

Narrator: আবু বুরদা আশআরী (রহঃ)

৬১৮১। আব্দুল্লাহ ইবনে বাররাদ আবু আমির আশআরী ও আবু কুরায়ব মুহাম্মাদ ইবনুল আলা (রাহঃ) ......... আবু বুরদাহ (রাযিঃ) এর পিতার সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) যখন হুনায়ন যুদ্ধ সম্পন্ন করেন তখন আবু আমির (রাযিঃ) কে একটি বাহিনীর নেতৃত্ব প্রদান করা আওতাস’ অভিযানে প্রেরণ করেন। তিনি দুরায়দ ইবনে সিম্মাহ এর মুখোমুখি হলে। দুরায়দ নিহত হল এবং আল্লাহ তাঁর বাহিনীকে পরাস্থ করলেন। এরপর আবু মুসা (রাযিঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাকে আবু আমিরের সঙ্গে পাঠিয়ে ছিলেন। আবু আমিরের হাঁটুতে তীরের আঘাত লেগেছিল। জুছাম গোত্রের জনৈক ব্যক্তি সেই তীরটি নিক্ষেপ করেছিল। এই তীরটি তাঁর ঘাড়ে বিদ্ধ হয়েছিল। তখন আমি তাঁর কাছে গেলাম এবং বললাম, চাচাজান! কে আপনাকে তীর বিদ্ধ করেছে? তখন আবু আমির ইশারায় আবু মুসা (রাযিঃ) কে জানালেন, ঐ আমার ঘাতক যাকে তুমি দেখতে পাচ্ছ, সেই আমাকে তীরবিদ্ধ করেছে।

আবু মুসা (রাযিঃ) বলেন, আমি তাকে আক্রমণ করে হত্যা করার প্রতিজ্ঞা করলাম। আমি তাঁর মুখোমুখি হলাম, সে আমাকে দেখা মাত্রই পালিয়ে যাচ্ছিল। আমি তাকে ধাওয়া করলাম এবং বলছিলাম, হে বেহায়া, বেশরম! পালাচ্ছ কেন? তুমি কি আরবী নও? বীরত্ব আছে তো দাঁড়িয়ে যাও, ভাগছ কেন? তখন সে থামল। এরপর সে ও আমি কাছাকাছি হলাম। আমরা পরস্পরে দুইবার আক্রমণ পাল্টা আক্রমণ করলাম। আমি তাকে তরবারি দ্বারা আঘাত করে ধরাশায়ী করলাম এবং শেষ অবধী হত্যা করলাম। এরপর আমি আবু আমির (রাযিঃ) এর কাছে ফিরে এলাম এবং তাকে বললাম, আল্লাহ আপনার ঘাতককে হত্যা করেছেন।

তখন আবু আমির (রাযিঃ) বললেন, এই তীরটি বের করে নাও। আমি সেটি তুলে ফেললাম। তখন তা থেকে পানি বের হচ্ছিল। এরপর তিনি বললেন, হে আমার ভ্রাতুষ্পুত্র! তুমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কাছে যাও এবং আমার পক্ষ থেকে সালাম পৌঁছে দিও। আর তাঁর কাছে গিয়ে আরয করবে, আবু আমির আপনাকে তাঁর জন্য মাগফিরাতের দুআ চেয়েছেন। তিনি (আবু মুসা) বলেন, আবু আমির আমাকে লোকের উপর কর্মকর্তা (শাসক) নিয়োগ করলেন এবং কিছু সময় এ অবস্থায় থাকার পর তিনি মৃত্যুবরণ করলেন।

আমি নবী (ﷺ) এর কাছে গেলাম এবং তাঁর খিদমতে হাজির হলাম। তখন তিনি চাটাইপাতা খাটের উপর ছিলেন এবং ঐ খাটের উপর চাঁদর বিছানো ছিল না। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর পিঠে ও পাজরে চাটাইয়ের দাগ বসে গিয়েছিল। এরপর আমি তাঁর কাছে আমাদের ও আবু আমিরের খবর দিলাম এবং আমি তাকে বললাম, তিনি (আবু আমির) বলেছেন, তাঁর জন্য আপনাকে মাগফিরাতের দুআ করতে।

রাসূলুল্লাহ (ﷺ) পানি আনালেন এবং তা দিয়ে উযু করলেন। এরপর দু’হাত দুলে বললেনঃ اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِعُبَيْدٍ أَبِي عَامِرٍ “হে আল্লাহ! উবাইদ আবু আমিরকে ক্ষমা করে দাও” (হাত উচু করার কারণে) তখন আমি তাঁর উভয় বগলের শুভ্রতা দেখছিলাম। পুনরায় তিনি বললেনঃ اللَّهُمَّ اجْعَلْهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ فَوْقَ كَثِيرٍ مِنْ خَلْقِكَ أَوْ مِنَ النَّاسِ “হে আল্লাহ! তাকে কিয়ামতের দিন তোমার মাখলুকের অনেকের উপরে অথবা অনেক মানুষের উপরে স্থান দিও”।

তখন আমি বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমার জন্যও মাগফিরাতের দুআ করুন। তখন নবী (ﷺ) বললেনঃ اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِعَبْدِ اللَّهِ بْنِ قَيْسٍ ذَنْبَهُ وَأَدْخِلْهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ مُدْخَلاً كَرِيمًا “হে আল্লাহ! আব্দুল্লাহ ইবনে কায়েসের গুনাহ ক্ষমা করে দাও এবং তাকে কিয়ামত দিবসে সম্মানজনক জান্নাতে প্রবেশ করাও।“ আবু বুরদাহ (রাযিঃ) বলেন, একটি দুআ আবু আমিরের জন্য এবং অন্যটি আবু মুসা আশআরীর জন্য।

৩৯. আশআরী গোত্রের লোকজনের ফযীলত

باب مِنْ فَضَائِلِ الأَشْعَرِيِّينَ رضى الله عنهم

6182

حَدَّثَنَا أَبُو كُرَيْبٍ، مُحَمَّدُ بْنُ الْعَلاَءِ حَدَّثَنَا أَبُو أُسَامَةَ، حَدَّثَنَا بُرَيْدٌ، عَنْ أَبِي بُرْدَةَ، عَنْ أَبِي مُوسَى، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " إِنِّي لأَعْرِفُ أَصْوَاتَ رُفْقَةِ الأَشْعَرِيِّينَ بِالْقُرْآنِ حِينَ يَدْخُلُونَ بِاللَّيْلِ وَأَعْرِفُ مَنَازِلَهُمْ مِنْ أَصْوَاتِهِمْ بِالْقُرْآنِ بِاللَّيْلِ وَإِنْ كُنْتُ لَمْ أَرَ مَنَازِلَهُمْ حِينَ نَزَلُوا بِالنَّهَارِ وَمِنْهُمْ حَكِيمٌ إِذَا لَقِيَ الْخَيْلَ - أَوْ قَالَ الْعَدُوَّ - قَالَ لَهُمْ إِنَّ أَصْحَابِي يَأْمُرُونَكُمْ أَنْ تَنْظُرُوهُمْ " .

Narrator: আবু মুসা আশ'আরী (রাঃ)

৬১৮২। আবু করায়ব মুহাম্মাদ ইবনুল আলা (রাহঃ) ......... আবু মুসা আশআরী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ আমি অবশ্যই আশআরী বন্ধুদের কুরআন তিলাওয়াতের আওয়াজ চিনতে পারি যখন তারা রাতে প্রবেশ করে। আর রাতের বেলা তাদের কুরআন পাঠের কণ্ঠস্বর দ্বারা তাদের চিনে ফেলি যদিও দিনের বেলা আমি তাদের আবাসসমুহ দেখিনি। তাদের মধ্যে রয়েছে একজন প্রজ্ঞাবান ও দূরদর্শী ব্যক্তি। যখন সে অশ্বারোহী কিংবা (তিনি বলেছেন) শত্রুর সাক্ষাত লাভ করে তখন তাদের উদ্দেশ্যে বলে আমাদের লোকজন তোমাদের নির্দেশ দিচ্ছেন, একটু অপেক্ষা কর।

6183

حَدَّثَنَا أَبُو عَامِرٍ الأَشْعَرِيُّ، وَأَبُو كُرَيْبٍ جَمِيعًا عَنْ أَبِي أُسَامَةَ، قَالَ أَبُو عَامِرٍ حَدَّثَنَا أَبُو أُسَامَةَ، حَدَّثَنِي بُرَيْدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي بُرْدَةَ، عَنْ جَدِّهِ أَبِي بُرْدَةَ، عَنْ أَبِي مُوسَى، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " إِنَّ الأَشْعَرِيِّينَ إِذَا أَرْمَلُوا فِي الْغَزْوِ أَوْ قَلَّ طَعَامُ عِيَالِهِمْ بِالْمَدِينَةِ جَمَعُوا مَا كَانَ عِنْدَهُمْ فِي ثَوْبٍ وَاحِدٍ ثُمَّ اقْتَسَمُوهُ بَيْنَهُمْ فِي إِنَاءٍ وَاحِدٍ بِالسَّوِيَّةِ فَهُمْ مِنِّي وَأَنَا مِنْهُمْ " .

Narrator: আবু মুসা আশ'আরী (রাঃ)

৬১৮৩। আবু আমির আশআরী ও আবু কুরায়ব (রাহঃ) ......... আবু মুসা আশ আরী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ আশআরী গোত্রের লোকজন যখন যুদ্ধের ময়দানে সমবেত হয় অথবা বলা হয়েছে মদীনাতে তাদের পরিবার-পরিজনের যখন খাদ্য সংকট দেখা দেয় তখন তাঁদের কাছে যা কিছু থাকে তা এক কাপড়ে জড়ো করে নেয়। এরপর তা নিজেদের একটি পাত্র দ্বারা সমানভাবে বন্টন করে দেয়। তখন তিনি বললেন তাঁরা আমার থেকে এবং আমি তাঁদের থেকে। (অর্থাৎ আমি তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট)।

৪০. আবু সুফিয়ান ইবনে হারব (রাযিঃ) এর ফযীলত

باب مِنْ فَضَائِلِ أَبِي سُفْيَانَ بْنِ حَرْبٍ رضى الله عنه

6184

حَدَّثَنِي عَبَّاسُ بْنُ عَبْدِ الْعَظِيمِ الْعَنْبَرِيُّ، وَأَحْمَدُ بْنُ جَعْفَرٍ الْمَعْقِرِيُّ، قَالاَ حَدَّثَنَا النَّضْرُ، - وَهُوَ ابْنُ مُحَمَّدٍ الْيَمَامِيُّ - حَدَّثَنَا عِكْرِمَةُ، حَدَّثَنَا أَبُو زُمَيْلٍ، حَدَّثَنِي ابْنُ عَبَّاسٍ، قَالَ كَانَ الْمُسْلِمُونَ لاَ يَنْظُرُونَ إِلَى أَبِي سُفْيَانَ وَلاَ يُقَاعِدُونَهُ فَقَالَ لِلنَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم يَا نَبِيَّ اللَّهِ ثَلاَثٌ أَعْطِنِيهِنَّ قَالَ " نَعَمْ " . قَالَ عِنْدِي أَحْسَنُ الْعَرَبِ وَأَجْمَلُهُ أُمُّ حَبِيبَةَ بِنْتُ أَبِي سُفْيَانَ أُزَوِّجُكَهَا قَالَ " نَعَمْ " . قَالَ وَمُعَاوِيَةُ تَجْعَلُهُ كَاتِبًا بَيْنَ يَدَيْكَ . قَالَ " نَعَمْ " . قَالَ وَتُؤَمِّرُنِي حَتَّى أُقَاتِلَ الْكُفَّارَ كَمَا كُنْتُ أُقَاتِلُ الْمُسْلِمِينَ . قَالَ " نَعَمْ " . قَالَ أَبُو زُمَيْلٍ وَلَوْلاَ أَنَّهُ طَلَبَ ذَلِكَ مِنَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم مَا أَعْطَاهُ ذَلِكَ لأَنَّهُ لَمْ يَكُنْ يُسْئَلُ شَيْئًا إِلاَّ قَالَ " نَعَمْ " .

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

৬১৮৪। আব্বাস ইবনে আব্দুল আযীয আল আম্বারী (রাহঃ) ......... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) বর্ণনা করেন যে, মুসলমানরা আবু সুফিয়ানের দিকে তাকাতেন না এবং তাঁর সঙ্গে উঠাবসা করতেন না। তখন তিনি নবী (ﷺ) কে বললেন, ইয়া নবীয়াল্লাহ। তিনটি জিনিস আমাকে দেওয়া হয়েছে। তিনি বললেন, হ্যাঁ। তিনি (আবু সুফিয়ান) বললেনঃ আমার কাছে আরবের সর্বাপেক্ষা উত্তম ও সুন্দরী উম্মে হাবীবা বিনতে আবু সুফিয়ান (রাযিঃ) ছিল, যাকে আমি আপনার সঙ্গে বিয়ে দিয়েছি। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ হ্যাঁ। আবু সুফিয়ান (রাযিঃ) আবার বললেন, আমার পুত্র মুআবিয়া যাকে আপনি ওহী লিখক নিযুক্ত করেছেন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, হ্যাঁ। আবু সুফিয়ান (রাযিঃ) বললেন, আমাকে কাফিরদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার আদেশ দিন, যেমন আমি (ইসলাম গ্রহণের পূর্বে) মুসলমানদের বিরুদ্ধে অস্ত্র ধারণ করেছিলাম। তিনি বললেন, বেশ তো, হ্যাঁ। আবু যুমায়ল (রাযিঃ) বলেন, যদি তিনি এই সব বিষযে নবী (ﷺ) এর কাছে প্রশ্ন না করতেন তাহলে তিনি তা দিতেন না। কেননা, তার কাছে যা চাওয়া হত (তা দিয়ে দিতেন)।

৪১. জা’ফার ইবনে আবু তালিব, আসমা বিনতে উমায়স (রাযিঃ) ও তাদের নৌযান সঙ্গীদের ফযীলত

باب مِنْ فَضَائِلِ جَعْفَرِ بْنِ أَبِي طَالِبٍ وَأَسْمَاءَ بِنْتِ عُمَيْسٍ وَأَهْلِ سَفِينَتِهِمْ رضى

6185
حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ بَرَّادٍ الأَشْعَرِيُّ، وَمُحَمَّدُ بْنُ الْعَلاَءِ الْهَمْدَانِيُّ، قَالاَ حَدَّثَنَا أَبُو أُسَامَةَ حَدَّثَنِي بُرَيْدٌ، عَنْ أَبِي بُرْدَةَ، عَنْ أَبِي مُوسَى، قَالَ بَلَغَنَا مَخْرَجُ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَنَحْنُ بِالْيَمَنِ فَخَرَجْنَا مُهَاجِرِينَ إِلَيْهِ أَنَا وَأَخَوَانِ لِي أَنَا أَصْغَرُهُمَا أَحَدُهُمَا أَبُو بُرْدَةَ وَالآخَرُ أَبُو رُهْمٍ - إِمَّا قَالَ بِضْعًا وَإِمَّا قَالَ ثَلاَثَةً وَخَمْسِينَ أَوِ اثْنَيْنِ وَخَمْسِينَ رَجُلاً مِنْ قَوْمِي - قَالَ فَرَكِبْنَا سَفِينَةً فَأَلْقَتْنَا سَفِينَتُنَا إِلَى النَّجَاشِيِّ بِالْحَبَشَةِ فَوَافَقْنَا جَعْفَرَ بْنَ أَبِي طَالِبٍ وَأَصْحَابَهُ عِنْدَهُ فَقَالَ جَعْفَرٌ إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بَعَثَنَا هَا هُنَا وَأَمَرَنَا بِالإِقَامَةِ فَأَقِيمُوا مَعَنَا . فَأَقَمْنَا مَعَهُ حَتَّى قَدِمْنَا جَمِيعًا - قَالَ - فَوَافَقْنَا رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم حِينَ افْتَتَحَ خَيْبَرَ فَأَسْهَمَ لَنَا - أَوْ قَالَ أَعْطَانَا مِنْهَا - وَمَا قَسَمَ لأَحَدٍ غَابَ عَنْ فَتْحِ خَيْبَرَ مِنْهَا شَيْئًا إِلاَّ لِمَنْ شَهِدَ مَعَهُ إِلاَّ لأَصْحَابِ سَفِينَتِنَا مَعَ جَعْفَرٍ وَأَصْحَابِهِ قَسَمَ لَهُمْ مَعَهُمْ - قَالَ - فَكَانَ نَاسٌ مِنَ النَّاسِ يَقُولُونَ لَنَا - يَعْنِي لأَهْلِ السَّفِينَةِ - نَحْنُ سَبَقْنَاكُمْ بِالْهِجْرَةِ .

قَالَ فَدَخَلَتْ أَسْمَاءُ بِنْتُ عُمَيْسٍ - وَهِيَ مِمَّنْ قَدِمَ مَعَنَا - عَلَى حَفْصَةَ زَوْجِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم زَائِرَةً وَقَدْ كَانَتْ هَاجَرَتْ إِلَى النَّجَاشِيِّ فِيمَنْ هَاجَرَ إِلَيْهِ فَدَخَلَ عُمَرُ عَلَى حَفْصَةَ وَأَسْمَاءُ عِنْدَهَا فَقَالَ عُمَرُ حِينَ رَأَى أَسْمَاءَ مَنْ هَذِهِ قَالَتْ أَسْمَاءُ بِنْتُ عُمَيْسٍ . قَالَ عُمَرُ الْحَبَشِيَّةُ هَذِهِ الْبَحْرِيَّةُ هَذِهِ فَقَالَتْ أَسْمَاءُ نَعَمْ . فَقَالَ عُمَرُ سَبَقْنَاكُمْ بِالْهِجْرَةِ فَنَحْنُ أَحَقُّ بِرَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مِنْكُمْ . فَغَضِبَتْ وَقَالَتْ كَلِمَةً كَذَبْتَ يَا عُمَرُ كَلاَّ وَاللَّهِ كُنْتُمْ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يُطْعِمُ جَائِعَكُمْ وَيَعِظُ جَاهِلَكُمْ وَكُنَّا فِي دَارِ أَوْ فِي أَرْضِ الْبُعَدَاءِ الْبُغَضَاءِ فِي الْحَبَشَةِ وَذَلِكَ فِي اللَّهِ وَفِي رَسُولِهِ وَايْمُ اللَّهِ لاَ أَطْعَمُ طَعَامًا وَلاَ أَشْرَبُ شَرَابًا حَتَّى أَذْكُرَ مَا قُلْتَ لِرَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَنَحْنُ كُنَّا نُؤْذَى وَنُخَافُ وَسَأَذْكُرُ ذَلِكَ لِرَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَأَسْأَلُهُ وَوَاللَّهِ لاَ أَكْذِبُ وَلاَ أَزِيغُ وَلاَ أَزِيدُ عَلَى ذَلِكَ . قَالَ فَلَمَّا جَاءَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم قَالَتْ يَا نَبِيَّ اللَّهِ إِنَّ عُمَرَ قَالَ كَذَا وَكَذَا . فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " لَيْسَ بِأَحَقَّ بِي مِنْكُمْ وَلَهُ وَلأَصْحَابِهِ هِجْرَةٌ وَاحِدَةٌ وَلَكُمْ أَنْتُمْ أَهْلَ السَّفِينَةِ هِجْرَتَانِ " . قَالَتْ فَلَقَدْ رَأَيْتُ أَبَا مُوسَى وَأَصْحَابَ السَّفِينَةِ يَأْتُونِي أَرْسَالاً يَسْأَلُونِي عَنْ هَذَا الْحَدِيثِ مَا مِنَ الدُّنْيَا شَىْءٌ هُمْ بِهِ أَفْرَحُ وَلاَ أَعْظَمُ فِي أَنْفُسِهِمْ مِمَّا قَالَ لَهُمْ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم . قَالَ أَبُو بُرْدَةَ فَقَالَتْ أَسْمَاءُ فَلَقَدْ رَأَيْتُ أَبَا مُوسَى وَإِنَّهُ لَيَسْتَعِيدُ هَذَا الْحَدِيثَ مِنِّي .

Narrator: আবু মুসা আশ'আরী (রাঃ)

৬১৮৫। আব্দুল্লাহ ইবনে বাররাদ আশআরী ও মুহাম্মাদ ইবনুল আলা আল হামদানী (রাহঃ) ......... আবু মুসা আশআরী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন আমাদের কাছে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর হিজরতের খবর পৌছল তখন আমরা ইয়ামানে ছিলাম। তখন আমরা আমি ও আমার দুই ভাই তার কাছে হিজরত করার জন্য রওয়ানা হলাম। আমি ছিলাম সে দুইজনের ছোট। তাঁদের একজনের নাম ছিল আবু বুরদাহ (রাযিঃ) অপরজন ছিলেন আবু রুহম (রাযিঃ)। তিনি হয়ত বলেছেন,আমাদের গোত্রের (কিছু লোক) তিপ্পান্ন জন কিংবা বায়ান্নজন লোক ছিল। আমরা একটি (পালের) জাহাজে আরোহণ করলাম। জাহাজটি আমাদের নিয়ে আবিসিনিয়ায় গিয়ে উপনীত হল, যেখানের বাদশাহ ছিলেন নাজ্জাশী।

তখন আমরা তার কাছে জাফর ইবনে আবু তালিব (রাযিঃ) ও তাঁর সঙ্গীদের দেখা পেলাম। এরপর জাফর (রাযিঃ) বললেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদেরকে এখানে পাঠিয়েছেন। এবং এখানে অবস্থান করার নির্দেশ দিয়েছেন। সুতরাং আপনারা আমাদের সঙ্গে অবস্থান করুন। তিনি বলেন, আমরা তার সঙ্গে থাকতে লাগলাম, অবশেষে আমরা সবাই একত্রে ফিরে এলাম।

তিনি বলেন, আমরা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর খায়বর বিজয়ের সময়ে মিলিত হলাম। তিনি আমাদেরও গনিমতের মালের অংশ দিলেন অথবা তিনি বলেছেন, তিনি তা থেকে আমাদেরও দান করেছেন। খায়বর বিজয়ে অনুপস্থিত কাউকে তিনি হিসসা দেননি। শুধু যারা তার সঙ্গে যুদ্ধের ময়দানে উপস্থিত হয়েছিলেন (তাদের দিয়েছেন) তাদের ব্যতিত কাউকে গণিমতের হিসসা দেননি। তবে জাফর ও তাঁর সঙ্গীদের সঙ্গে আমাদের জাহাজে আরোহী সাথীদেরও তাঁদের সঙ্গে হিসসা প্রদান করেছিলেন।

বর্ণনাকারী বলেন, লোকদের কেউ কেউ আমাদের অর্থাৎ জাহাজের আরোহীদের বলে বেড়াত যে, আমরা অগ্রগামী হিজরতকারী। বর্ণনাকারী বলেন, এরপর আমাদের নৌকায় সফর সঙ্গিনী আসমা বিনতে উমায়স (রাযিঃ) নবী (ﷺ) এর সহধর্মিনী হাফসা (রাযিঃ) এর সঙ্গে দেখা করার জন্য গমন করেন। যাঁরা নাজ্জাশীর কাছে হিজরত করেছিলেন, তিনি ছিলেন তাঁদের অন্যতমা।

ইত্যবসরে উমর (রাযিঃ) হাফসার কাছে এলেন। আসমা বিনতে উমায়স (রাযিঃ) তখন তাঁর কাছে উপস্থিত ছিলেন। তখন উমর (রাযিঃ) আসমাকে দেখে বললেন, ইনি কে? হাফসা (রাযিঃ) বললেন, ইনি আসমা বিনতে উমায়স। উমর (রাযিঃ) বললেন, এই কি হাবশায় হিজরতকারিণী, জাহাজে আরোহণকারিণী? তখন আসমা (রাযিঃ) বললেন, জ্বী, হ্যাঁ। উমর (রাযিঃ) বললেন, হিজরতে আমরা তোমাদের চাইতে অগ্রগামী। সুতরাং তোমাদের তুলনায় আমরা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর ব্যাপারে অধিকতর হকদার।

তখন আসমা (রাযিঃ) রাগাম্বিত হলেন এবং বললেন, হে উমর। কথাটি সঠিক নয়। কখনো নয়। আল্লাহর কসম! তোমরা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সাহচর্যে ছিলে। তিনি তোমাদের ক্ষুধার্তদের আহার দান করতেন, জ্ঞানহীনদের জ্ঞানের আলো বিলাতেন। আর আমরা আবিসিনিয়ায় প্রবাসে অনাত্মীয়দের মাঝে প্রতিকুল পরিবেশে অবস্থান করছিলাম। এটা ছিল কেবল আল্লাহ ও তার রাসুলের সন্তুষ্টির জন্যই। আল্লাহর কসম! তুমি যা বলেছ তা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কাছে আলোচনা না করা পর্যন্ত আমি কোন আহার গ্রহণ করব না এবং পানীয় দ্রব্য স্পর্শ করব না। আমরা (বিদেশ বিভুঁইয়ে) সারাক্ষণ বিপদ ও ভয়ভীতির মধ্যে থাকতাম।

আমি বিষয়টি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কাছে পেশ করব এবং জিজ্ঞাসা করব। আল্লাহর কসম! আমি মিথ্যা বলব না, কোন কিছু বিকৃত করব না এবং প্রকৃত ঘটনার চাইতে বাড়িয়ে বলব না। বর্ণনাকারী বলেন, যখন নবী (ﷺ) আসলেন তখন আসমা (রাযিঃ) বললেন, ইয়া নবীয়্যাল্লাহ! উমর (রাযিঃ) এই এই বলেছেন। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ আমার প্রতি তোমাদের চেয়ে তার হক বেশী নেই। কেননা তার ও তার সঙ্গীদের জন্য রয়েছে একটি মাত্র হিজরত। আর তোমাদের জাহাজ আরোহীদের জন্য রয়েছে দুটি হিজরত।

আসমা (রাযিঃ) বলেন, আমি আবু মুসা (রাযিঃ) ও জাহাজের আরোহীদের দলে দলে এসে আমার কাছে এই হাদীস খানি জিজ্ঞাসা করতে দেখেছি। তাদের ব্যাপারে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যা বলেছেন তাঁদের কাছে এর চাইতে অধিকতর আনন্দদায়ক ও বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত কোন বিষয় দুনিয়াতে ছিল না। আবু বুরদাহ (রাযিঃ) বলেন যে, আসমা (রাযিঃ) বলেছেন, আমি আবু মুসা (রাযিঃ) কে দেখেছি, তিনি আমার কাছ থেকে বারবার এই হাদীসখানি শুনতেন।

৪২. সালমান ফারসী (রাযিঃ) সুহায়ব (রাযিঃ) ও বিলাল (রাযিঃ) এর ফযীলত

باب مِنْ فَضَائِلِ سَلْمَانَ وَصُهَيْبٍ وَبِلاَلٍ رضى الله تعالى عنهم

6186

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ حَاتِمٍ، حَدَّثَنَا بَهْزٌ، حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ، عَنْ ثَابِتٍ، عَنْ مُعَاوِيَةَ، بْنِ قُرَّةَ عَنْ عَائِذِ بْنِ عَمْرٍو، أَنَّ أَبَا سُفْيَانَ، أَتَى عَلَى سَلْمَانَ وَصُهَيْبٍ وَبِلاَلٍ فِي نَفَرٍ فَقَالُوا وَاللَّهِ مَا أَخَذَتْ سُيُوفُ اللَّهِ مِنْ عُنُقِ عَدُوِّ اللَّهِ مَأْخَذَهَا . قَالَ فَقَالَ أَبُو بَكْرٍ أَتَقُولُونَ هَذَا لِشَيْخِ قُرَيْشٍ وَسَيِّدِهِمْ فَأَتَى النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فَأَخْبَرَهُ فَقَالَ " يَا أَبَا بَكْرٍ لَعَلَّكَ أَغْضَبْتَهُمْ لَئِنْ كُنْتَ أَغْضَبْتَهُمْ لَقَدْ أَغْضَبْتَ رَبَّكَ " . فَأَتَاهُمْ أَبُو بَكْرٍ فَقَالَ يَا إِخْوَتَاهْ أَغْضَبْتُكُمْ قَالُوا لاَ يَغْفِرُ اللَّهُ لَكَ يَا أُخَىَّ .

Narrator: আয়িয ইবনে আমর (রাঃ)

৬১৮৬। মুহাম্মাদ ইবনে হাতিম (রাহঃ) ......... আয়িয ইবনে আমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত আছে যে, আবু সুফিয়ান (রাযিঃ) একদল লোকের সাথে সালমান ফারসী (রাযিঃ), সুহায়ব (রাযিঃ) ও বিলাল (রাযিঃ)-এর কাছে এলেন। তখন তাঁরা বললেন, আল্লাহর তরবারীসমূহ আল্লাহর দুশমনদের গর্দান হতে তার যথাপ্রাপ্য আদায় করেনি। বর্ণনাকারী বলেন, আবু বকর (রাযিঃ) বললেন, তোমরা কি একজন প্রবীণ কুরাইশ নেতাকে এমন কথা বলছ? এরপর তিনি নবী (ﷺ) এর কাছে এসে তাকে বিষয়টি অবহিত করলেন। তখন তিনি (রাসূলুল্লাহ (ﷺ)) বললেনঃ হে আবু বকর! তুমি বোধ হয় তাদের রাগিয়েছ। যদি তুমি তাদের রাগিয়ে থাক তাহলে তুমি তাদের রবকেই রাগিয়েছ। এরপর আবু বকর (রাযিঃ) তাদের কাছে এলেন এবং বললেন, হে ভাই সকল! আমি তোমাদের রাগিয়েছি, তাই না? তারা বললেন, না, হে ভাই! আল্লাহ আপনাকে ক্ষমা করে দিন।

৪৩. আনসার (রাযিঃ)-গণের ফযীলত

باب مِنْ فَضَائِلِ الأَنْصَارِ رضى الله تعالى عنهم

6187

حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ الْحَنْظَلِيُّ، وَأَحْمَدُ بْنُ عَبْدَةَ، - وَاللَّفْظُ لإِسْحَاقَ - قَالاَ أَخْبَرَنَا سُفْيَانُ، عَنْ عَمْرٍو، عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ فِينَا نَزَلَتْ ( إِذْ هَمَّتْ طَائِفَتَانِ مِنْكُمْ أَنْ تَفْشَلاَ وَاللَّهُ وَلِيُّهُمَا) بَنُو سَلِمَةَ وَبَنُو حَارِثَةَ وَمَا نُحِبُّ أَنَّهَا لَمْ تَنْزِلْ لِقَوْلِ اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ ( وَاللَّهُ وَلِيُّهُمَا) .

Narrator: জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ আনসারী (রাঃ)

৬১৮৭। ইসহাক ইবনে ইবরাহীম হানযালী ও আহমাদ ইবনে আব্দা (রাহঃ) ......... জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, إِذْ هَمَّتْ طَائِفَتَانِ مِنْكُمْ أَنْ تَفْشَلاَ وَاللَّهُ وَلِيُّهُمَ “তোমাদের দু’টি গোত্র যখন পলায়ন করতে যাচ্ছিল, আর আল্লাহই তাদের অভিভাবক”। এই আয়াত আমাদের অর্থাৎ বনু সালিমাহ ও বনু হারিসাহ সম্পর্কে নাযিল হয়েছিল। আর আমরা চাই না যে, এই আয়াতটি নাযিল না হোক। কেননা, আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেনঃ “আল্লাহ এদের দু’দলের অভিভাবক (বন্ধু)।”

6188
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ، وَعَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ مَهْدِيٍّ، قَالاَ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنِ النَّضْرِ بْنِ أَنَسٍ، عَنْ زَيْدِ بْنِ أَرْقَمَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِلأَنْصَارِ وَلأَبْنَاءِ الأَنْصَارِ وَأَبْنَاءِ أَبْنَاءِ الأَنْصَارِ " .

وَحَدَّثَنِيهِ يَحْيَى بْنُ حَبِيبٍ، حَدَّثَنَا خَالِدٌ، - يَعْنِي ابْنَ الْحَارِثِ - حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، بِهَذَا الإِسْنَادِ .

Narrator: হযরত যায়দ ইবনে আরকাম (রাঃ)

৬১৮৮। মুহাম্মাদ ইবনুল মুসান্না (রাহঃ) ......... যায়দ ইবনে আরকাম (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ হে আল্লাহ! আনসারদের ক্ষমা করুন, (ক্ষমা করে দিন) পুত্রদের এবং তাদের পুত্রদের পুত্রদের। ইয়াহয়া ইবনে হাবীব (রাহঃ) ......... সূত্রে শুবা (রাহঃ) থেকে এই সনদে অনুরূপ বর্ণিত।

6189

حَدَّثَنِي أَبُو مَعْنٍ الرَّقَاشِيُّ، حَدَّثَنَا عُمَرُ بْنُ يُونُسَ، حَدَّثَنَا عِكْرِمَةُ، - وَهُوَ ابْنُ عَمَّارٍ - حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ، - وَهُوَ ابْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي طَلْحَةَ - أَنَّ أَنَسًا، حَدَّثَهُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم اسْتَغْفَرَ لِلأَنْصَارِ - قَالَ - وَأَحْسِبُهُ قَالَ " وَلِذَرَارِيِّ الأَنْصَارِ وَلِمَوَالِي الأَنْصَارِ " . لاَ أَشُكُّ فِيهِ .

Narrator: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

৬১৮৯। আবু মা’আন রাকাশী (রাহঃ) ......... আব্দুল্লাহ ইবনে তালহার পুত্র ইসহাক (রাহঃ) থেকে বর্ণিত, আনাস (রাযিঃ) তাকে হাদীস শুনিয়েছেন যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আনসারদের জন্য মাগফিরাত কামনা করেছেন। বর্ণনাকারী বলেন, আমি মনে করি যে, তিনি বলেছেনঃ আনসারদের সন্তান সন্ততি ও তাদের ‘মাওলা’ (আযাদকৃত গোলাম) দের জন্য আশ্রিত ব্যক্তিবর্গের মাগফিরাতের দুআ করেছেন। আমি তাতে কোন সন্দেহ পোষণ করছি না।

6190

حَدَّثَنِي أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، وَزُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، جَمِيعًا عَنِ ابْنِ عُلَيَّةَ، - وَاللَّفْظُ لِزُهَيْرٍ - حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ، عَنْ عَبْدِ الْعَزِيزِ، - وَهُوَ ابْنُ صُهَيْبٍ - عَنْ أَنَسٍ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم رَأَى صِبْيَانًا وَنِسَاءً مُقْبِلِينَ مِنْ عُرْسٍ فَقَامَ نَبِيُّ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مُمْثِلاً فَقَالَ " اللَّهُمَّ أَنْتُمْ مِنْ أَحَبِّ النَّاسِ إِلَىَّ اللَّهُمَّ أَنْتُمْ مِنْ أَحَبِّ النَّاسِ إِلَىَّ " . يَعْنِي الأَنْصَارَ .

Narrator: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

৬১৯০। আবু বকর ইবনে আবি শাঈবা ও যুহাইর ইবনে হারব (রাহঃ) ......... আনাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, নবী (ﷺ) কতক বালক ও মহিলাকে কোন এক উৎসব অনুষ্ঠান থেকে আসতে দেখেন। তখন তিনি দাঁড়িয়ে গেলেন এবং বললেনঃ আল্লাহর কসম! তোমরা (আনসাররা) আমার কাছে সর্বাপেক্ষা প্রিয় মানুষ, তোমরা আমার নিকট সর্বাপেক্ষা প্রিয় মানুষ।

6191
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، وَابْنُ، بَشَّارٍ جَمِيعًا عَنْ غُنْدَرٍ، قَالَ ابْنُ الْمُثَنَّى حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ، بْنُ جَعْفَرٍ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ هِشَامِ بْنِ زَيْدٍ، سَمِعْتُ أَنَسَ بْنَ مَالِكٍ، يَقُولُ جَاءَتِ امْرَأَةٌ مِنَ الأَنْصَارِ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم - قَالَ - فَخَلاَ بِهَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَقَالَ " وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ إِنَّكُمْ لأَحَبُّ النَّاسِ إِلَىَّ " . ثَلاَثَ مَرَّاتٍ .
حَدَّثَنِيهِ يَحْيَى بْنُ حَبِيبٍ، حَدَّثَنَا خَالِدُ بْنُ الْحَارِثِ، ح وَحَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، وَأَبُو كُرَيْبٍ قَالاَ حَدَّثَنَا ابْنُ إِدْرِيسَ، كِلاَهُمَا عَنْ شُعْبَةَ، بِهَذَا الإِسْنَادِ .

Narrator: হিশাম ইবনে যায়দ (রহঃ)

৬১৯১। মুহাম্মাদ ইবনুল মুসান্না ও ইবনুল বাশশার (রাহঃ) ......... হিশাম ইবনে যায়দ (রাহঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আনাস (রাযিঃ) কে বলতে শুনেছি যে, এক আনসারী মহিলা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কাছে এলেন। বর্ণনাকারী বলেন, তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাঁর সঙ্গে নির্জনে আলাপ করলেন এবং বললেন, যার হাতে আমার জীবন সেই সত্তার কসম, তোমরা আমরা কাছে সর্বাপেক্ষা প্রিয় মানুষ। তিনি এই কথাটি তিনবার বলেন।

ইয়াহয়া ইবনে হাবীব (রাহঃ) অন্য সূত্রে বকর ইবনে আবি শাঈবা ও আবু করায়ব (রাহঃ) ......... শু’বার সূত্রে এই সনদে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।
6192

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، وَمُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، - وَاللَّفْظُ لاِبْنِ الْمُثَنَّى - قَالاَ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ، أَخْبَرَنَا شُعْبَةُ، سَمِعْتُ قَتَادَةَ، يُحَدِّثُ عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " إِنَّ الأَنْصَارَ كَرِشِي وَعَيْبَتِي وَإِنَّ النَّاسَ سَيَكْثُرُونَ وَيَقِلُّونَ فَاقْبَلُوا مِنْ مُحْسِنِهِمْ وَاعْفُوا عَنْ مُسِيئِهِمْ " .

Narrator: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

৬১৯২। মুহাম্মাদ ইবনুল মুসান্না ও মুহাম্মাদ ইবনে বাশশার (রাহঃ) ......... আনাস ইবনে মালিক (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ আনসারগণ আমার পাকস্থলী ও সিন্দুক তুল্য। আমার একান্ত ও বিশিষ্ট জন। আর মানুষের সংখ্যা ক্রমাগত বাড়বে এবং তাদের (আনসারদের) সংখ্যা হ্রাস পেতে থাকবে। সতরাং তাদের ভালো আচরণকারীদের গ্রহণ করবে এবং তাদের মন্দ আচরণকারীদের ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবে।

৪৪. আনসারীদের (রাযিঃ) শ্রেষ্ঠ পরিবার (গোত্র) প্রসঙ্গ

باب فِي خَيْرِ دُورِ الأَنْصَارِ رضى الله عنهم

6193

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، وَابْنُ، بَشَّارٍ - وَاللَّفْظُ لاِبْنِ الْمُثَنَّى - قَالاَ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ، بْنُ جَعْفَرٍ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، سَمِعْتُ قَتَادَةَ، يُحَدِّثُ عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، عَنْ أَبِي أُسَيْدٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " خَيْرُ دُورِ الأَنْصَارِ بَنُو النَّجَّارِ ثُمَّ بَنُو عَبْدِ الأَشْهَلِ ثُمَّ بَنُو الْحَارِثِ بْنِ الْخَزْرَجِ ثُمَّ بَنُو سَاعِدَةَ وَفِي كُلِّ دُورِ الأَنْصَارِ خَيْرٌ " . فَقَالَ سَعْدٌ مَا أُرَى رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِلاَّ قَدْ فَضَّلَ عَلَيْنَا . فَقِيلَ قَدْ فَضَّلَكُمْ عَلَى كَثِيرٍ .

Narrator: হযরত আবু উসাইদ সাঈদী (রাঃ)

৬১৯৩। মুহাম্মাদ ইবনুল মুসান্না ও ইবনে বাশশার (রাহঃ) ......... আবু উসায়দ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ আনসার গোত্রসমুহের মধ্যে সর্বোত্তম গোত্র হচ্ছে বনু নাজ্জার, এরপর বনু আশহাল, এরপর বনু হারিস ইবনে খাযরাজ, এরপর হচ্ছে বনু সাইদাহ গোত্র। আনসারীদের সকল গোত্রের কল্যাণ নিহিত আছে। সা’দ (রাযিঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদের উপর অন্যদের প্রাধ্যান্য দিয়েছেন। (তাঁকে) বলা হল, তোমাদেরকেও অনেকের উপর মর্যাদা দিয়েছেন।

6194

حَدَّثَنَاهُ مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، حَدَّثَنَا أَبُو دَاوُدَ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ قَتَادَةَ، سَمِعْتُ أَنَسًا، يُحَدِّثُ عَنْ أَبِي أُسَيْدٍ الأَنْصَارِيِّ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم نَحْوَهُ .

Narrator: হযরত আবু উসাইদ সাঈদী (রাঃ)

৬১৯৪। ইবনুল মুসান্না (রাহঃ) ......... আবু উসায়দ আনসারী (রাযিঃ) এর সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে অনুরূপ বর্ণিত।

6195

حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، وَابْنُ، رُمْحٍ عَنِ اللَّيْثِ بْنِ سَعْدٍ، ح وَحَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ، يَعْنِي ابْنَ مُحَمَّدٍ ح وَحَدَّثَنَا ابْنُ الْمُثَنَّى، وَابْنُ أَبِي عُمَرَ، قَالاَ حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَهَّابِ الثَّقَفِيُّ، كُلُّهُمْ عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ، عَنْ أَنَسٍ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم بِمِثْلِهِ غَيْرَ أَنَّهُ لاَ يَذْكُرُ فِي الْحَدِيثِ قَوْلَ سَعْدٍ .

Narrator: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

৬১৯৫। কুতায়বা ও ইবনে রুমহ, অন্য সূত্রে কুতায়বা, অন্য সূত্রে মুহাম্মাদ ইবনুল মুসান্না (রাহঃ) ......... আনাস (রাযিঃ) এর সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। তবে তিনি তাঁর বর্ণিত হাদীসে সা’দ (রাযিঃ) এর কথাটি উল্লেখ করেননি।

6196

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبَّادٍ، وَمُحَمَّدُ بْنُ مِهْرَانَ الرَّازِيُّ، - وَاللَّفْظُ لاِبْنِ عَبَّادٍ - حَدَّثَنَا حَاتِمٌ، - وَهُوَ ابْنُ إِسْمَاعِيلَ - عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ حُمَيْدٍ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ طَلْحَةَ، قَالَ سَمِعْتُ أَبَا أُسَيْدٍ، خَطِيبًا عِنْدَ ابْنِ عُتْبَةَ فَقَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " خَيْرُ دُورِ الأَنْصَارِ دَارُ بَنِي النَّجَّارِ وَدَارُ بَنِي عَبْدِ الأَشْهَلِ وَدَارُ بَنِي الْحَارِثِ بْنِ الْخَزْرَجِ وَدَارُ بَنِي سَاعِدَةَ " . وَاللَّهِ لَوْ كُنْتُ مُؤْثِرًا بِهَا أَحَدًا لآثَرْتُ بِهَا عَشِيرَتِي .

Narrator: হযরত আবু উসাইদ সাঈদী (রাঃ)

৬১৯৬। মুহাম্মাদ ইবনুল আব্বাদ ও মুহাম্মাদ ইবনে মিহরান (রাহঃ) ......... ইবরাহীম ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে তালহা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আবু উসায়দ (রাযিঃ) কে ইবনে উতবার কাছে ভাষণ দিতে শুনেছি যে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ আনসারদের ঘরসমুহের মধ্যে উত্তম গোত্র হচ্ছে বনু নাজ্জার, বনু আব্দুল আশহাল, বনু হারিছ ইবনে খাযরাজ এবং বনু সাইদাহ।

তিনি বলেন, আল্লাহর কসম! আমি যদি এই বিষয়ে কাউকে (মর্যাদায়) প্রাধান্য দিতাম তাহলে আমার গোত্রকে অগ্রাধিকার দিতাম।
6197

حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ يَحْيَى التَّمِيمِيُّ، أَخْبَرَنَا الْمُغِيرَةُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ أَبِي الزِّنَادِ، قَالَ شَهِدَ أَبُو سَلَمَةَ لَسَمِعَ أَبَا أُسَيْدٍ الأَنْصَارِيَّ يَشْهَدُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " خَيْرُ دُورِ الأَنْصَارِ بَنُو النَّجَّارِ ثُمَّ بَنُو عَبْدِ الأَشْهَلِ ثُمَّ بَنُو الْحَارِثِ بْنِ الْخَزْرَجِ ثُمَّ بَنُو سَاعِدَةَ وَفِي كُلِّ دُورِ الأَنْصَارِ خَيْرٌ " . قَالَ أَبُو سَلَمَةَ قَالَ أَبُو أُسَيْدٍ أُتَّهَمُ أَنَا عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لَوْ كُنْتُ كَاذِبًا لَبَدَأْتُ بِقَوْمِي بَنِي سَاعِدَةَ . وَبَلَغَ ذَلِكَ سَعْدَ بْنَ عُبَادَةَ فَوَجَدَ فِي نَفْسِهِ وَقَالَ خُلِّفْنَا فَكُنَّا آخِرَ الأَرْبَعِ أَسْرِجُوا لِي حِمَارِي آتِي رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم . وَكَلَّمَهُ ابْنُ أَخِيهِ سَهْلٌ فَقَالَ أَتَذْهَبُ لِتَرُدَّ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَرَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَعْلَمُ أَوَلَيْسَ حَسْبُكَ أَنْ تَكُونَ رَابِعَ أَرْبَعٍ . فَرَجَعَ وَقَالَ اللَّهُ وَرَسُولُهُ أَعْلَمُ وَأَمَرَ بِحِمَارِهِ فَحُلَّ عَنْهُ .

Narrator: আবু সালামা ইবনে আব্দুর রহমান ইবনে আউফ (রহঃ)

৬১৯৭। ইয়াহয়া ইবনে ইয়াহয়া তামিমী (রাহঃ) ......... আবু সালামা (রাহঃ) সাক্ষ্য দেন যে, তিনি আবু উসায়দ আনসারী (রাযিঃ) কে সাক্ষ্য দিতে শুনেছেন যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ আনসারীদের গোত্রসমূহের মধ্যে সর্বোত্তম হচ্ছে বনু নাজ্জার, এরপর বনু আব্দুল আশহাল, এরপর বনু হারিস ইবনে খাযরাজ, এরপর বনু সাঈদার ঘর। এ ছাড়া প্রত্যেক আনসারীর ঘরেই কল্যাণ নিহিত রয়েছে।

আবু সালাম (রাহঃ) বলেন, আবু উসায়দ (রাযিঃ) বলেছেন, যদি আমি মিথ্যাবাদী হতাম তাহলে আমি আমার গোত্র বনু সাইদাহ দিয়ে শুরু করতাম। আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর উপর মিথ্যা আরোপের অভিযোগে অভিযুক্ত হব? বিষয়টি সা’দ ইবনে উবাদা (রাযিঃ) এর নিকট পৌছলে তিনি মনকষ্ট পেলেন এবং তিনি বললেন, আমাদের পেছনে রাখা হয়েছে। আমরা চার জনে মধ্যে শেষ স্থানে (পড়ে গেছি)? আমার গাধার পীঠে গদি লাগাও। আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কাছে যাব।

তখন তাঁর সঙ্গে আমার ভাইপো সাহল কথা বলল। সে বলল, আপনি কি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কাছে প্রতিবাদ জানানোর জন্য যাবেন, অথচ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) অধিক জ্ঞাত। চার জনের মধ্যে চতুর্থ হওয়া কি আপনার জন্য যথেষ্ট নয়? তখন তিনি থামলেন এবং বললেন, আল্লাহ ও তাঁর রাসুল সর্বাধিক জ্ঞাত। এরপর তিনি তাঁর গাধার জিন খুলতে নির্দেশ দিলেন এবং সেখান থেকে চলে গেলেন।
6198

حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ عَلِيِّ بْنِ بَحْرٍ، حَدَّثَنِي أَبُو دَاوُدَ، حَدَّثَنَا حَرْبُ بْنُ شَدَّادٍ، عَنْ يَحْيَى، بْنِ أَبِي كَثِيرٍ حَدَّثَنِي أَبُو سَلَمَةَ، أَنَّ أَبَا أُسَيْدٍ الأَنْصَارِيَّ، حَدَّثَهُ أَنَّهُ، سَمِعَ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " خَيْرُ الأَنْصَارِ أَوْ خَيْرُ دُورِ الأَنْصَارِ " . بِمِثْلِ حَدِيثِهِمْ فِي ذِكْرِ الدُّورِ وَلَمْ يَذْكُرْ قِصَّةَ سَعْدِ بْنِ عُبَادَةَ رضى الله عنه .

Narrator: হযরত আবু উসাইদ সাঈদী (রাঃ)

৬১৯৮। আমর ইবনে আলী ইবনে বাহর (রাহঃ) ......... আবু উসায়দ আনসারী (রাযিঃ) বর্ণনা করেন যে, তিনি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে বলতে শুনেছেন যে, خَيْرُ الأَنْصَارِ “সর্বোত্তম আনসার” অথবা خَيْرُ دُورِ الأَنْصَارِ “আনসারদের সর্বোত্তম গোত্র” الدُّورِ উল্লেখ করার ক্ষেত্রে তাদের বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ। তবে তিনি তাঁর বর্ণনায় সা’দ ইবনে উবাদার ঘটনা উল্লেখ করেননি।

6199

وَحَدَّثَنِي عَمْرٌو النَّاقِدُ، وَعَبْدُ بْنُ حُمَيْدٍ، قَالاَ حَدَّثَنَا يَعْقُوبُ، - وَهُوَ ابْنُ إِبْرَاهِيمَ بْنِ سَعْدٍ - حَدَّثَنَا أَبِي، عَنْ صَالِحٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، قَالَ قَالَ أَبُو سَلَمَةَ وَعُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُتْبَةَ بْنِ مَسْعُودٍ سَمِعَا أَبَا هُرَيْرَةَ، يَقُولُ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَهُوَ فِي مَجْلِسٍ عَظِيمٍ مِنَ الْمُسْلِمِينَ " أُحَدِّثُكُمْ بِخَيْرِ دُورِ الأَنْصَارِ " . قَالُوا نَعَمْ يَا رَسُولَ اللَّهِ . قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " بَنُو عَبْدِ الأَشْهَلِ " . قَالُوا ثُمَّ مَنْ يَا رَسُولَ اللَّهِ قَالَ " ثُمَّ بَنُو النَّجَّارِ " . قَالُوا ثُمَّ مَنْ يَا رَسُولَ اللَّهِ قَالَ " ثُمَّ بَنُو الْحَارِثِ بْنِ الْخَزْرَجِ " . قَالُوا ثُمَّ مَنْ يَا رَسُولَ اللَّهِ قَالَ " ثُمَّ بَنُو سَاعِدَةَ " . قَالُوا ثُمَّ مَنْ يَا رَسُولَ اللَّهِ قَالَ " ثُمَّ فِي كُلِّ دُورِ الأَنْصَارِ خَيْرٌ " . فَقَامَ سَعْدُ بْنُ عُبَادَةَ مُغْضَبًا فَقَالَ أَنَحْنُ آخِرُ الأَرْبَعِ حِينَ سَمَّى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم دَارَهُمْ فَأَرَادَ كَلاَمَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ لَهُ رِجَالٌ مِنْ قَوْمِهِ اجْلِسْ أَلاَ تَرْضَى أَنْ سَمَّى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم دَارَكُمْ فِي الأَرْبَعِ الدُّورِ الَّتِي سَمَّى فَمَنْ تَرَكَ فَلَمْ يُسَمِّ أَكْثَرُ مِمَّنْ سَمَّى . فَانْتَهَى سَعْدُ بْنُ عُبَادَةَ عَنْ كَلاَمِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم .

Narrator: আবু সালামা ইবনে আব্দুর রহমান ইবনে আউফ (রহঃ)

৬১৯৯। আমর নাকিদ ও আব্দ ইবনে হুমায়দ (রাহঃ) ......... আবু সালামা ও উবাইদুল্লাহ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে উতবা ইবনে মাসউদ (রাহঃ) আবু হুরায়রা (রাযিঃ) কে বলতে শুনেছেন যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) মুসলমানদের একটি বিরাট গণজমায়েতে বললেনঃ আমি কি তোমাদের কাছে আনসারদের সর্বাপেক্ষা উত্তম গোত্র সম্পর্কে বর্ণনা করব? তখন তারা বললেন, জি হ্যাঁ, ইয়া রাসুলাল্লাহ। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ বনু আব্দুল আশহাল। তারা বললেন, এরপর কারা ইয়া রাসুলাল্লাহ? তিনি বললেন এরপর বনু নাজ্জার। তারা বললেন, ইয়া রাসুলাল্লাহ, এরপর কারা? তিনি বললেনঃ এরপর বনু হারিস ইবনে খাযরাজ। তারা বললেন, এরপর কারা ইয়া রাসুলাল্লাহ? তিনি বললেনঃ বনু সাইদাহ। তারা বললেন, এরপর কারা? তখন তিনি বললেন, আনসারীদের প্রত্যেক গোত্রেই কল্যাণ নিহিত আছে।

তখন সা’দ ইবনে উবাদা (রাযিঃ) মনঃক্ষুণ্ণ হয়ে উঠে দাঁড়ালেন এবং বললেন, আমরা কি চারের মধ্যে সর্বশেষ? যখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাদের নাম উল্লেখ করলেন তখন তিনি তাঁর সাথে কথা বলার ইচ্ছা করছিলেন। তখন তাঁর গোত্রের কতিপয় ব্যক্তি তাকে বলল, আপনি বসে পড়ুন। আপনি কি এতে সন্তুষ্ট নন যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যে চারটি গোত্রের কথা বলেছেন তাঁর মধ্যে আপনার গোত্রকে স্থান দিয়েছেন? এমন অনেক ঘরই রয়েছে, যাদের কথা তিনি উল্লেখ করেননি। তখন সা’দ ইবনে উবাদা (রাযিঃ) রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সাথে কথা বলা থেকে বিরত থাকলেন।

৪৫. আনসার (রাযিঃ)-গণের উত্তম সান্নিধ্য

باب فِي حُسْنِ صُحْبَةِ الأَنْصَارِ رضى الله عنهم

6200

حَدَّثَنَا نَصْرُ بْنُ عَلِيٍّ الْجَهْضَمِيُّ، وَمُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، وَابْنُ، بَشَّارٍ جَمِيعًا عَنِ ابْنِ، عَرْعَرَةَ - وَاللَّفْظُ لِلْجَهْضَمِيِّ - حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ عَرْعَرَةَ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ يُونُسَ بْنِ عُبَيْدٍ، عَنْ ثَابِتٍ الْبُنَانِيِّ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، قَالَ خَرَجْتُ مَعَ جَرِيرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ الْبَجَلِيِّ فِي سَفَرٍ فَكَانَ يَخْدُمُنِي فَقُلْتُ لَهُ لاَ تَفْعَلْ . فَقَالَ إِنِّي قَدْ رَأَيْتُ الأَنْصَارَ تَصْنَعُ بِرَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم شَيْئًا آلَيْتُ أَنْ لاَ أَصْحَبَ أَحَدًا مِنْهُمْ إِلاَّ خَدَمْتُهُ . زَادَ ابْنُ الْمُثَنَّى وَابْنُ بَشَّارٍ فِي حَدِيثِهِمَا وَكَانَ جَرِيرٌ أَكْبَرَ مِنْ أَنَسٍ . وَقَالَ ابْنُ بَشَّارٍ أَسَنَّ مِنْ أَنَسٍ .

Narrator: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

৬২০০। নসর ইবনে আলী জাহযামী, মুহাম্মাদ ইবনুল মুসান্না ও ইবনে বাশশার (রাহঃ) ......... আনাস ইবনে মালিক (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি জারীর ইবনে আব্দুল্লাহ বাজালী (রাযিঃ) এর সঙ্গে এক সফরে বের হলাম। (এই সফরে) তিনি আমার খিদমত আঞ্জাম দিতেন। তখন আমি তাকে বললাম, এরূপ করবে না। তিনি বললেন, আমি আনসারগণ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সঙ্গে এরূপ কিছু (খিদমত) করতে দেখেছি। যাতে আমি কসম করেছি যে, যখন আমি আনসারদের কারো সাথী হব তখন তাঁর খিদমত করব। ইবনুল মুসান্না ও ইবনে বাশশার তাদের হাদীসে আরো বলেছেন,وَكَانَ جَرِيرٌ أَكْبَرَ مِنْ أَنَسٍ وَقَالَ ابْنُ بَشَّارٍ أَسَنَّ مِنْ أَنَسٍ অর্থাৎ জারীর আনাসের চাইতে বড় ছিলেন। আর ইবনে বাশশার বলেছেন, তিনি আনাসের তুলনায় প্রবীণ ও অধিক বয়স্ক ছিলেন।

৪৬. গিফার, আসলাম গোত্রের জন্য নবী (ﷺ) এর দু'আ

باب دُعَاءِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم لِغِفَارَ وَأَسْلَمَ

6201

حَدَّثَنَا هَدَّابُ بْنُ خَالِدٍ، حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ الْمُغِيرَةِ، حَدَّثَنَا حُمَيْدُ بْنُ هِلاَلٍ، عَنْ عَبْدِ، اللَّهِ بْنِ الصَّامِتِ قَالَ قَالَ أَبُو ذَرٍّ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " غِفَارُ غَفَرَ اللَّهُ لَهَا وَأَسْلَمُ سَالَمَهَا اللَّهُ " .

Narrator: হযরত আবু যার গিফারী (রাঃ)

৬২০১। হাদ্দাব ইবনে খালিদ (রাহঃ) ......... আব্দুল্লাহ ইবনে সামিত (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আবু যর (রাযিঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ গিফার গোত্রকে আল্লাহ তাআলা ক্ষমা করে দিয়েছেন এবং আসলাম গোত্রকে আল্লাহ তাআলা নিরাপত্তা ও শান্তি প্রদান করেছেন।

6202

حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ الْقَوَارِيرِيُّ، وَمُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، وَابْنُ، بَشَّارٍ جَمِيعًا عَنِ ابْنِ مَهْدِيٍّ، قَالَ قَالَ ابْنُ الْمُثَنَّى حَدَّثَنِي عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ مَهْدِيٍّ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ أَبِي عِمْرَانَ، الْجَوْنِيِّ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الصَّامِتِ، عَنْ أَبِي ذَرٍّ، قَالَ قَالَ لِي رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " ائْتِ قَوْمَكَ فَقُلْ إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ أَسْلَمُ سَالَمَهَا اللَّهُ وَغِفَارُ غَفَرَ اللَّهُ لَهَا " .

Narrator: হযরত আবু যার গিফারী (রাঃ)

৬২০২। উবাইদুল্লাহ আল কাওয়ারীরী, মুহাম্মাদ ইবনুল মুসান্না ও ইবনে বাশশার (রাহঃ) ......... আবু যর গিফারী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাকে বলেছেনঃ তুমি তোমার গোত্রের কাছে যাও এবং বলে দাও যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ আসলাম গোত্রকে আল্লাহ তাআলা নিরাপত্তা দান করেছেন এবং গিফার গোত্রকে আল্লাহ তাআলা ক্ষমা করে দিয়েছেন।

6203

حَدَّثَنَاهُ مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، وَابْنُ، بَشَّارٍ قَالاَ حَدَّثَنَا أَبُو دَاوُدَ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، فِي هَذَا الإِسْنَادِ .

Narrator: শু'বা ইবনুল হাজ্জাজ (রহঃ)

৬২০৩। ইবনুল মুসান্না ও ইবনে বাশশার (রাহঃ) ......... শু’বার সূত্রে এই সনদে অনুরূপ বর্ণিত।

6204
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، وَابْنُ، بَشَّارٍ وَسُوَيْدُ بْنُ سَعِيدٍ وَابْنُ أَبِي عُمَرَ قَالُوا حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَهَّابِ الثَّقَفِيُّ، عَنْ أَيُّوبَ، عَنْ مُحَمَّدٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، ح

وَحَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ مُعَاذٍ، حَدَّثَنَا أَبِي ح، وَحَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، حَدَّثَنَا عَبْدُ، الرَّحْمَنِ بْنُ مَهْدِيٍّ قَالاَ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ زِيَادٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، ح

وَحَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ رَافِعٍ، حَدَّثَنَا شَبَابَةُ، حَدَّثَنِي وَرْقَاءُ، عَنْ أَبِي الزِّنَادِ، عَنِ الأَعْرَجِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، ح

وَحَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ حَبِيبٍ، حَدَّثَنَا رَوْحُ بْنُ عُبَادَةَ، ح وَحَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، بْنِ نُمَيْرٍ وَعَبْدُ بْنُ حُمَيْدٍ عَنْ أَبِي عَاصِمٍ، كِلاَهُمَا عَنِ ابْنِ جُرَيْجٍ، عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ، عَنْ جَابِرٍ، ح

وَحَدَّثَنِي سَلَمَةُ بْنُ شَبِيبٍ، حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ أَعْيَنَ، حَدَّثَنَا مَعْقِلٌ، عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ، عَنْ جَابِرٍ، كُلُّهُمْ قَالَ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " أَسْلَمُ سَالَمَهَا اللَّهُ وَغِفَارُ غَفَرَ اللَّهُ لَهَا " .

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৬২০৪। মুহাম্মাদ ইবনে মুসান্না, ইবনে বাশশার, সুয়াইদ ইবনে সাঈদ ও ইবনে আবু উমর (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে অন্য সনদে উবাইদুল্লাহ ইবনে মু’আয (রাহঃ), অন্য সনদে মুহাম্মাদ ইবনুল মুসান্না (রাহঃ), আরেক সনদে ইয়াহয়া ইবনে হাবীব (রাহঃ), অন্য সনদে মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে নুমাইর ও আব্দ ইবনে হুমায়দ (রাহঃ) আরেক সনদে সালামা ইবনে শাবীব (রাহঃ) ......... জারীর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি নবী (ﷺ) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেনঃ আল্লাহ তাআলা আসলাম গোত্রের নিরাপত্তা বিধান করুন এবং গিফার গোত্রকে আল্লাহ তাআলা ক্ষমা করে দিন।

6205

وَحَدَّثَنِي حُسَيْنُ بْنُ حُرَيْثٍ، حَدَّثَنَا الْفَضْلُ بْنُ مُوسَى، عَنْ خُثَيْمِ بْنِ عِرَاكٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " أَسْلَمُ سَالَمَهَا اللَّهُ وَغِفَارُ غَفَرَ اللَّهُ لَهَا أَمَا إِنِّي لَمْ أَقُلْهَا وَلَكِنْ قَالَهَا اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ " .

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৬২০৫। হুসাইন ইবনে হুরায়স (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ আসলাম গোত্রকে আল্লাহ তাআলা নিরাপত্তা দান করেছেন এবং গিফার গোত্রকে আল্লাহ তাআলা ক্ষমা করে দিয়েছেন। শোন এ কথা আমি বলিনি বরং মহীয়ান আল্লাহ তাআলাই ইরশাদ করেছেন।

6206

حَدَّثَنِي أَبُو الطَّاهِرِ، حَدَّثَنَا ابْنُ وَهْبٍ، عَنِ اللَّيْثِ، عَنْ عِمْرَانَ بْنِ أَبِي أَنَسٍ، عَنْ حَنْظَلَةَ بْنِ عَلِيٍّ، عَنْ خُفَافِ بْنِ إِيمَاءَ الْغِفَارِيِّ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي صَلاَةٍ " اللَّهُمَّ الْعَنْ بَنِي لِحْيَانَ وَرِعْلاً وَذَكْوَانَ وَعُصَيَّةَ عَصَوُا اللَّهَ وَرَسُولَهُ غِفَارُ غَفَرَ اللَّهُ لَهَا وَأَسْلَمُ سَالَمَهَا اللَّهُ " .

Narrator: খুফাফ ইবনে ইমা (রাঃ)

৬২০৬। আবু তাহির (রাহঃ) ......... খাফফাফ ইবনে ঈমা আল গিফারী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এক নামাযের দুআয় বলেছেনঃ হে আল্লাহ! বনু লিহয়ান, রি’ল ও যাকওয়ান গোত্রের উপর লানত বর্ষণ কর। আর উসাইয়্যা (গোত্র) তারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের প্রতি নাফরমানী করেছে। আর গিফারকে আল্লাহ তাআলা ক্ষমা করে দিন। এবং আসলামকে নিরাপত্তা দান করুন।

6207

حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ يَحْيَى، وَيَحْيَى بْنُ أَيُّوبَ، وَقُتَيْبَةُ، وَابْنُ، حُجْرٍ قَالَ يَحْيَى بْنُ يَحْيَى أَخْبَرَنَا وَقَالَ الآخَرُونَ، حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ جَعْفَرٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ دِينَارٍ، أَنَّهُ سَمِعَ ابْنَ، عُمَرَ يَقُولُ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " غِفَارُ غَفَرَ اللَّهُ لَهَا وَأَسْلَمُ سَالَمَهَا اللَّهُ وَعُصَيَّةُ عَصَتِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ " .

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

৬২০৭। ইয়াহয়া ইবনে ইয়াহয়া, ইবনে আইয়ুব, কুতায়বা ও ইবনে হুজর (রাহঃ) ......... ইবনে উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ গিফার গোত্রকে আল্লাহ ক্ষমা করে দিয়েছেন, আসলাম গোত্রকে নিরাপত্তা দান করেছেন। আর উসাইয়্যা গোত্র আল্লাহ ও তার রাসুলের নাফরমানী করেছে।

6208
حَدَّثَنَا ابْنُ الْمُثَنَّى، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَهَّابِ، حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ، ح وَحَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ سَوَّادٍ، أَخْبَرَنَا ابْنُ وَهْبٍ، أَخْبَرَنِي أُسَامَةُ، ح وَحَدَّثَنِي زُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، وَالْحُلْوَانِيُّ، وَعَبْدُ بْنُ حُمَيْدٍ، عَنْ يَعْقُوبَ بْنِ إِبْرَاهِيمَ بْنِ سَعْدٍ، حَدَّثَنَا أَبِي، عَنْ صَالِحٍ، كُلُّهُمْ عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم . بِمِثْلِهِ وَفِي حَدِيثِ صَالِحٍ وَأُسَامَةَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ ذَلِكَ عَلَى الْمِنْبَرِ .
وَحَدَّثَنِيهِ حَجَّاجُ بْنُ الشَّاعِرِ، حَدَّثَنَا أَبُو دَاوُدَ الطَّيَالِسِيُّ، حَدَّثَنَا حَرْبُ بْنُ شَدَّادٍ، عَنْ يَحْيَى، حَدَّثَنِي أَبُو سَلَمَةَ، حَدَّثَنِي ابْنُ عُمَرَ، قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ . مِثْلَ حَدِيثِ هَؤُلاَءِ عَنِ ابْنِ عُمَرَ .

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

৬২০৮। ইবনুল মুসান্না (রাহঃ) ......... অন্য সূত্রে আমর ইবনে সাওয়াদ (রাহঃ), আরেক সূত্রে যুহাইর ইবনে হারব (রাহঃ) ......... ইবনে উমর (রাযিঃ) নবী (ﷺ) এর সূত্রে অনুরূপ বর্ণিত। তবে সালিহ ও উসামা বর্ণিত হাদীসে আছে যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) মিম্বরে আরোহণ পূর্বক এই কথা বলেছেন।

হাজ্জাজ ইবনে শাঈর (রাহঃ) ......... আবু সালামা (রাযিঃ) সূত্রে হাদীস বর্ণনা করেন। তিনি বলেছেন যে, ইবনে উমর (রাযিঃ) বলেছেন আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে বলতে শুনেছি ...... উপরোক্ত ব্যক্তিবর্গের বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ।

৪৭. গিফার, আসলাম, জুহায়না, আশজা, মুযায়না, তামীম, দাউস ও তাঈ গোত্রের ফযীলত

باب مِنْ فَضَائِلِ غِفَارَ وَأَسْلَمَ وُجُهَيْنَةَ وَأَشْجَعَ وَمُزَيْنَةَ وَتَمِيمٍ وَدَوْسٍ وَطَيِّئٍ

6209

حَدَّثَنِي زُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، حَدَّثَنَا يَزِيدُ، - وَهُوَ ابْنُ هَارُونَ - أَخْبَرَنَا أَبُو مَالِكٍ، الأَشْجَعِيُّ عَنْ مُوسَى بْنِ طَلْحَةَ، عَنْ أَبِي أَيُّوبَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " الأَنْصَارُ وَمُزَيْنَةُ وَجُهَيْنَةُ وَغِفَارُ وَأَشْجَعُ وَمَنْ كَانَ مِنْ بَنِي عَبْدِ اللَّهِ مَوَالِيَّ دُونَ النَّاسِ وَاللَّهُ وَرَسُولُهُ مَوْلاَهُمْ " .

Narrator: হযরত আবু আইয়ুব আনসারী (রাঃ)

৬২০৯। যুহাইর ইবনে হারব (রাহঃ) ......... আবু আইয়ুব (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ আনসার,মুযায়না, জুহায়না, গিফার, আশজা এবং বনু আব্দুল্লাহ আমার একান্ত আপনজন, অন্যরা নয়। আর আল্লাহ ও তাঁর রাসূল এদের অভিভাবক (বন্ধু)।

6210

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ نُمَيْرٍ، حَدَّثَنَا أَبِي، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ سَعْدِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ هُرْمُزَ الأَعْرَجِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " قُرَيْشٌ وَالأَنْصَارُ وَمُزَيْنَةُ وَجُهَيْنَةُ وَأَسْلَمُ وَغِفَارُ وَأَشْجَعُ مَوَالِيَّ لَيْسَ لَهُمْ مَوْلًى دُونَ اللَّهِ وَرَسُولِهِ " .

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৬২১০। মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে নুমাইর (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ কুরাইশ, আনসার, মুযায়না, জুহায়না, আসলাম, গিফার, আশজা আমার আপনজন। আর আল্লাহ তাআলা ও তার রাসূল ব্যতিরেকে তাদের কোন অভিভাবক ও পৃষ্ঠপোষক নেই।

6211

حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ مُعَاذٍ، حَدَّثَنَا أَبِي، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ سَعْدِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ، بِهَذَا الإِسْنَادِ . مِثْلَهُ غَيْرَ أَنَّ فِي الْحَدِيثِ قَالَ سَعْدٌ فِي بَعْضِ هَذَا فِيمَا أَعْلَمُ .

Narrator: সা'দ ইবনে ইবরাহীম (রহঃ)

৬২১১। উবাইদুল্লাহ ইবনে মু’আয (রাহঃ) ......... সা’দ ইবনে ইবরাহীম (রাযিঃ) থেকে এই সনদে অনুরূপ বর্ণিত আছে। তবে সা’দ তাঁর বর্ণিত হাদীসে কোন কোন সময় বলেছেন,فِيمَا أَعْلَمُ “আমার জানা মতে।”

6212

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، وَمُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، قَالَ ابْنُ الْمُثَنَّى حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ سَعْدِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ، قَالَ سَمِعْتُ أَبَا سَلَمَةَ، يُحَدِّثُ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ قَالَ " أَسْلَمُ وَغِفَارُ وَمُزَيْنَةُ وَمَنْ كَانَ مِنْ جُهَيْنَةَ أَوْ جُهَيْنَةُ خَيْرٌ مِنْ بَنِي تَمِيمٍ وَبَنِي عَامِرٍ وَالْحَلِيفَيْنِ أَسَدٍ وَغَطَفَانَ " .

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৬২১২। মুহাম্মাদ ইববুল মুসান্না ও মুহাম্মাদ ইবনে বাশশার (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) এর সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেছেনঃ আসলাম, গিফার, মুযায়না এবং যারা জুহায়নার অন্তর্ভুক্ত অথবা (বলেছেন) জুহায়না গোত্র বনু তামীম, বনু আমির এবং তাদের দুই মিত্র আসাদ ও গাতফানের চাইতে উত্তম।

6213
حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا الْمُغِيرَةُ، - يَعْنِي الْحِزَامِيَّ - عَنْ أَبِي الزِّنَادِ، عَنِ الأَعْرَجِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ح

وَحَدَّثَنَا عَمْرٌو النَّاقِدُ، وَحَسَنٌ الْحُلْوَانِيُّ، وَعَبْدُ بْنُ حُمَيْدٍ، قَالَ عَبْدٌ أَخْبَرَنِي وَقَالَ، الآخَرَانِ حَدَّثَنَا يَعْقُوبُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ بْنِ سَعْدٍ، حَدَّثَنَا أَبِي، عَنْ صَالِحٍ، عَنِ الأَعْرَجِ، قَالَ قَالَ أَبُو هُرَيْرَةَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " وَالَّذِي نَفْسُ مُحَمَّدٍ بِيَدِهِ لَغِفَارُ وَأَسْلَمُ وَمُزَيْنَةُ وَمَنْ كَانَ مِنْ جُهَيْنَةَ أَوْ قَالَ جُهَيْنَةُ وَمَنْ كَانَ مِنْ مُزَيْنَةَ خَيْرٌ عِنْدَ اللَّهِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ مِنْ أَسَدٍ وَطَيِّئٍ وَغَطَفَانَ " .

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৬২১৩। কুতায়বা ইবনে সাঈদ (রাহঃ) ......... অন্য সূত্রে আমর নাকিদ, হাসান আল হুলওয়ানী ও আব্দ ইবনে হুমায়দ (রাহঃ) ......... আ’রাজ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আবু হুরায়রা (রাযিঃ) বলেছেন যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ সেই সত্তার কসম যার নিয়ন্ত্রণে মুহাম্মাদের জীবন! অবশ্যই গিফার, আসলাম, মুযায়না এবং যারা জুহায়নার অন্তর্ভুক্ত (অথবা বলেছেন) জুহায়ন গোত্র এবং যারা মুযায়নার অন্তর্ভুক্ত তাঁরা আল্লাহর নিকট কিয়ামত দিবসে আসাদ, তাঈ ও গাতফান গোত্র থেকে উত্তম বলে বিবেচিত হবেন।

6214

حَدَّثَنِي زُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، وَيَعْقُوبُ الدَّوْرَقِيُّ، قَالاَ حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ، - يَعْنِيَانِ ابْنَ عُلَيَّةَ - حَدَّثَنَا أَيُّوبُ، عَنْ مُحَمَّدٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " لأَسْلَمُ وَغِفَارُ وَشَىْءٌ مِنْ مُزَيْنَةَ وَجُهَيْنَةَ أَوْ شَىْءٌ مِنْ جُهَيْنَةَ وَمُزَيْنَةَ خَيْرٌ عِنْدَ اللَّهِ - قَالَ أَحْسِبُهُ قَالَ - يَوْمَ الْقِيَامَةِ مِنْ أَسَدٍ وَغَطَفَانَ وَهَوَازِنَ وَتَمِيمٍ " .

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৬২১৪। যুহাইর ইবনে হারব ও ইয়াকুব আদ দাওরাকী (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ অবশ্যই আসলাম, গিফার, মুযায়না ও জুহায়নার কিছু অংশ অথবা (বলেছেন) জুহায়না ও মুযায়নার কিছু অংশ আল্লাহর নিকট বর্ণনাকারী বলেন যে, আমার মনে হয় তিনি বলেছেন, কিয়ামত দিবসে আসাদ, গাতফান, হাওয়াযিন ও তামীম গোত্রের চাইতে উত্তম (বলে গণ্য হবে)।

6215

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا غُنْدَرٌ، عَنْ شُعْبَةَ، ح وَحَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، وَابْنُ بَشَّارٍ قَالاَ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ أَبِي يَعْقُوبَ، سَمِعْتُ عَبْدَ، الرَّحْمَنِ بْنَ أَبِي بَكْرَةَ يُحَدِّثُ عَنْ أَبِيهِ، أَنَّ الأَقْرَعَ بْنَ حَابِسٍ، جَاءَ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ إِنَّمَا بَايَعَكَ سُرَّاقُ الْحَجِيجِ مِنْ أَسْلَمَ وَغِفَارَ وَمُزَيْنَةَ - وَأَحْسِبُ جُهَيْنَةَ - مُحَمَّدٌ الَّذِي شَكَّ - فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " أَرَأَيْتَ إِنْ كَانَ أَسْلَمُ وَغِفَارُ وَمُزَيْنَةُ - وَأَحْسِبُ جُهَيْنَةَ - خَيْرًا مِنْ بَنِي تَمِيمٍ وَبَنِي عَامِرٍ وَأَسَدٍ وَغَطَفَانَ أَخَابُوا وَخَسِرُوا " . فَقَالَ نَعَمْ . قَالَ " فَوَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ إِنَّهُمْ لأَخْيَرُ مِنْهُمْ " . وَلَيْسَ فِي حَدِيثِ ابْنِ أَبِي شَيْبَةَ مُحَمَّدٌ الَّذِي شَكَّ .

Narrator: হযরত আবু বাকরা (রাঃ)

৬২১৫। আবু বকর ইবনে আবি শাঈবা (রাহঃ) ......... অন্য সূত্রে মুহাম্মাদ ইবনুল মুসান্না ও ইবনে বাশশার (রাহঃ) ......... আবু বাকরা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আকরা ইবনে হাবিস (রাযিঃ) রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কাছে এলেন। এরপর তিনি বললেন, আপনার হাতে বাইয়াত গ্রহণ করেছেন। হাজীদের মাল সামান চুরিতে অভ্যস্ত আসলাম, গিফার, মুযায়না ও জুহায়নার লোকেরা (জুহায়নার উল্লেখের ব্যাপারে রাবী মুহাম্মাদের সন্দেহ)। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, তুমি কি মনে কর? যদি আসলাম, গিফার, মুযায়না ও জুহায়না (নামটি উল্লেখে রাবীর সন্দেহ) ও বনু তামীম, বনু আমির, আসাদ ও গাতফানের চাইতে উত্তম হলে (কেমন হয়)। আর তাহলে এরা লোকসানের সম্মুখীন হবে, ক্ষতিগ্রস্ত হবে কে? তখন তিনি (আবার) বললেন, হ্যাঁ। এরপর তিনি (রাসুল (ﷺ)) বললেনঃ সেই সত্তার কসম যার নিয়ন্ত্রণে আমার জীবন, নিশ্চয়ই এরা তাদের তুলনায় উত্তম। তবে ইবনে আবি শাঈবার হাদীসে রাবী মুহাম্মাদের সন্দেহের কথাটির উল্লেখ নেই।

6216

حَدَّثَنِي هَارُونُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الصَّمَدِ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، حَدَّثَنِي سَيِّدُ بَنِي، تَمِيمٍ مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي يَعْقُوبَ الضَّبِّيُّ بِهَذَا الإِسْنَادِ . مِثْلَهُ قَالَ " وَجُهَيْنَةُ " . وَلَمْ يَقُلْ أَحْسِبُ .

Narrator: বিবিধ

৬২১৬। হারুন ইবনে আব্দুল্লাহ (রাহঃ) ......... বনু তামীম গোত্রের দলপতি মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে ইয়াকুব দাবীয়্যা (রাহঃ) এই সনদে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। এ বর্ণনায় রাবী وَجُهَيْنَةُ (এবং জুহায়না নিশ্চিত রূপে বলেছেন) এবং أَحْسِبُ (আমি মনে করি) বলেন নি।

6217

حَدَّثَنَا نَصْرُ بْنُ عَلِيٍّ الْجَهْضَمِيُّ، حَدَّثَنَا أَبِي، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ أَبِي بِشْرٍ، عَنْ عَبْدِ، الرَّحْمَنِ بْنِ أَبِي بَكْرَةَ عَنْ أَبِيهِ، عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " أَسْلَمُ وَغِفَارُ وَمُزَيْنَةُ وَجُهَيْنَةُ خَيْرٌ مِنْ بَنِي تَمِيمٍ وَمِنْ بَنِي عَامِرٍ وَالْحَلِيفَيْنِ بَنِي أَسَدٍ وَغَطَفَانَ " .

Narrator: হযরত আবু বাকরা (রাঃ)

৬২১৭। নসর ইবনে আলী আল জাহযামী (রাহঃ) ......... আবু বাকরা (রাযিঃ) সূত্রে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেছেনঃ আসলাম, গিফার, মুযায়না ও জুহায়না গোত্র, বনু তামীম, বনু আমির এবং তাদের দুই মিত্র আসাদ ও গাতফানের চাইতে উত্তম।

6218

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، وَهَارُونُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، قَالاَ حَدَّثَنَا عَبْدُ الصَّمَدِ، ح وَحَدَّثَنِيهِ عَمْرٌو النَّاقِدُ، حَدَّثَنَا شَبَابَةُ بْنُ سَوَّارٍ، قَالاَ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ أَبِي بِشْرٍ، بِهَذَا الإِسْنَادِ .

Narrator: আবু বিশর (রহঃ)

৬২১৮। মুহাম্মাদ ইবনুল মুসান্না ও হারুন ইবনে আব্দুল্লাহ (রাহঃ) ......... অন্য সূত্রে আমর নাকিদ (রাহঃ) ......... আবু বিশর (রাহঃ) এর সূত্রে এই সনদে অনুরূপ বর্ণিত।

6219

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، وَأَبُو كُرَيْبٍ - وَاللَّفْظُ لأَبِي بَكْرٍ - قَالاَ حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، عَنْ سُفْيَانَ، عَنْ عَبْدِ الْمَلِكِ بْنِ عُمَيْرٍ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبِي بَكْرَةَ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " أَرَأَيْتُمْ إِنْ كَانَ جُهَيْنَةُ وَأَسْلَمُ وَغِفَارُ خَيْرًا مِنْ بَنِي تَمِيمٍ وَبَنِي عَبْدِ اللَّهِ بْنِ غَطَفَانَ وَعَامِرِ بْنِ صَعْصَعَةَ " . وَمَدَّ بِهَا صَوْتَهُ فَقَالُوا يَا رَسُولَ اللَّهِ فَقَدْ خَابُوا وَخَسِرُوا . قَالَ " فَإِنَّهُمْ خَيْرٌ " . وَفِي رِوَايَةِ أَبِي كُرَيْبٍ " أَرَأَيْتُمْ إِنْ كَانَ جُهَيْنَةُ وَمُزَيْنَةُ وَأَسْلَمُ وَغِفَارُ " .

Narrator: হযরত আবু বাকরা (রাঃ)

৬২১৯। আবু বকর ইবনে আবি শাঈবা ও আবু কুরায়ব (রাহঃ) ......... আবু বাকরা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ তোমরা বলতো যে, যদি জুহায়না, আসলাম, গিফার গোত্র বনু তামীম, বনু আব্দুল্লাহ ইবনে গাতফান ও আমির ইবনে সা’সা’আহ এর চাইতে উত্তম হয়? (এ কথা বলার সময়) তিনি তাঁর আওয়াজ বুলন্দ করলেন। তখন তারা বললেন, ইয়া রাসুলাল্লাহ! তবে তারা ধ্বংস হয়ে গেছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তখন তিনি বললেন, নিশ্চয়ই এরা তাদের চাইতে উত্তম। তবে আবু কুরায়ব (রাহঃ) এর বর্ণিত হাদীসে “তোমরা বলতো যে যদি জুহায়না, মুযায়না, আসলাম, ও গিফার” - এভাবে কথাটির উল্লেখ রয়েছে।

6220

حَدَّثَنِي زُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ إِسْحَاقَ، حَدَّثَنَا أَبُو عَوَانَةَ، عَنْ مُغِيرَةَ، عَنْ عَامِرٍ، عَنْ عَدِيِّ بْنِ حَاتِمٍ، قَالَ أَتَيْتُ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ فَقَالَ لِي إِنَّ أَوَّلَ صَدَقَةٍ بَيَّضَتْ وَجْهَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَوُجُوهَ أَصْحَابِهِ صَدَقَةُ طَيِّئٍ جِئْتَ بِهَا إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم .

Narrator: হযরত আদী ইবনে হাতিম (রাঃ)

৬২২০। যুহাইর ইবনে হারব (রাহঃ) ......... আদী ইবনে হাতিম (রাহঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি উমর ইবনুল খাত্তাব (রাযিঃ) এর কাছে এলাম। তখন তিনি আমাকে বললেন, প্রথম যে সাদ্‌কা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ও তাঁর সাহাবীদের চেহারা (আনন্দে) উজ্জ্বল করেছিল তা হচ্ছে তাঈ গোত্রের সাদ্‌কা- যা আমি নিজে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কাছে নিয়ে এসেছিলাম অথবা যা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সামনে নিয়ে আসা হয়েছিল।

6221

حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ يَحْيَى، أَخْبَرَنَا الْمُغِيرَةُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ أَبِي الزِّنَادِ، عَنِ الأَعْرَجِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَدِمَ الطُّفَيْلُ وَأَصْحَابُهُ فَقَالُوا يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّ دَوْسًا قَدْ كَفَرَتْ وَأَبَتْ فَادْعُ اللَّهَ عَلَيْهَا . فَقِيلَ هَلَكَتْ دَوْسٌ فَقَالَ " اللَّهُمَّ اهْدِ دَوْسًا وَائْتِ بِهِمْ " .

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৬২২১। ইয়াহয়া ইবনে ইয়াহয়া (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, তুফায়ল ও তাঁর সঙ্গিরা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কাছে এসে বললেন, ইয়া রাসুলাল্লাহ! দাওস গোত্রের কুফরী (ইখতিয়ার) করেছে এবং (ইসলাম গ্রহণে) অস্বীকৃতি জ্ঞাপন করেছে। সুতরাং আপনি তাদের বিরুদ্ধে বদ দুআ করুন। তখন বল হল, দাওস নিপাত হয়ে গেল। তিনি বললেনঃ اللَّهُمَّ اهْدِ دَوْسًا وَائْتِ بِهِمْ “হে আল্লাহ দাওসকে হিদায়াত নসীব করুন এবং তাদেরকে আমার কাছে নিয়ে আসুন”।

6222
حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا جَرِيرٌ، عَنْ مُغِيرَةَ، عَنِ الْحَارِثِ، عَنْ أَبِي زُرْعَةَ، قَالَ قَالَ أَبُو هُرَيْرَةَ لاَ أَزَالُ أُحِبُّ بَنِي تَمِيمٍ مِنْ ثَلاَثٍ سَمِعْتُهُنَّ مِنْ، رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " هُمْ أَشَدُّ أُمَّتِي عَلَى الدَّجَّالِ " . قَالَ وَجَاءَتْ صَدَقَاتُهُمْ فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم " هَذِهِ صَدَقَاتُ قَوْمِنَا " . قَالَ وَكَانَتْ سَبِيَّةٌ مِنْهُمْ عِنْدَ عَائِشَةَ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " أَعْتِقِيهَا فَإِنَّهَا مِنْ وَلَدِ إِسْمَاعِيلَ " .

وَحَدَّثَنِيهِ زُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، حَدَّثَنَا جَرِيرٌ، عَنْ عُمَارَةَ، عَنْ أَبِي زُرْعَةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ لاَ أَزَالُ أُحِبُّ بَنِي تَمِيمٍ بَعْدَ ثَلاَثٍ سَمِعْتُهُنَّ مِنْ، رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُهَا فِيهِمْ . فَذَكَرَ مِثْلَهُ .

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৬২২২। কুতায়বা ইবনে সাঈদ (রাহঃ) ......... আবু যুরআ (রাহঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আবু হুরায়রা (রাযিঃ) বলেছেন, আমি তিনটি কারণে বনু তামীমকে ভালবাসতে থাকব। যা (তিনটি বিষয়ে) রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে বলতে শুনেছি। আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে বলতে শুনেছি যে, এরা আমার উম্মতের মধ্যে দাজ্জালের বিরুদ্ধে সর্বাপেক্ষা শক্তিশালী। বর্ণনাকারী বলেন, যখন তাদের সাদ্‌কা এল তখন নবী (ﷺ) বললেনঃ এটা আমাদের সম্প্রদায়ের সাদ্‌কা। বর্ণনাকারী বলেন, তাদের গোত্রের কোন বন্দিনী আয়িশা (রাযিঃ) এর কাছে ছিল। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, একে মুক্তি দাও! কেননা, সে ইসমাঈল (আলাইহিস সালাম) এর বংশধর।

যুহাইর ইবনে হারব (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, বনু তামীম সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কাছে তিনটি কথা শোনার পর আমি তাদের ভালবাসতে থাকব ...... এরপর তিনি অনুরূপ উল্লেখ করেন।
6223

وَحَدَّثَنَا حَامِدُ بْنُ عُمَرَ الْبَكْرَاوِيُّ، حَدَّثَنَا مَسْلَمَةُ بْنُ عَلْقَمَةَ الْمَازِنِيُّ، إِمَامُ مَسْجِدِ دَاوُدَ حَدَّثَنَا دَاوُدُ، عَنِ الشَّعْبِيِّ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ ثَلاَثُ خِصَالٍ سَمِعْتُهُنَّ مِنْ، رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي بَنِي تَمِيمٍ لاَ أَزَالُ أُحِبُّهُمْ بَعْدُ وَسَاقَ الْحَدِيثَ بِهَذَا الْمَعْنَى غَيْرَ أَنَّهُ قَالَ " هُمْ أَشَدُّ النَّاسِ قِتَالاً فِي الْمَلاَحِمِ " . وَلَمْ يَذْكُرِ الدَّجَّالَ .

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৬২২৩। হামিদ ইবনে উমর আল-বাকারাবী (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কাছে বনু তামীম সম্পর্কে তিনটি বৈশিষ্টের কথা শুনেছি। এরপর থেকে আমি তাদের ভালবাসতে শুরু করি। এরপর তিনি এই উপরোক্ত অর্থযুক্ত হাদীস বর্ণনা করেন। তবে এই বর্ণনায় দাজ্জালের কথা উল্লেখ করেননি। এর স্থলে هُمْ أَشَدُّ النَّاسِ قِتَالاً فِي الْمَلاَحِمِ ″তারা যুদ্ধক্ষেত্রে সর্বাপেক্ষা দুর্ধর্ষ লড়াকু″ কথাটি বলেছেন।

৪৮. সর্বাপেক্ষা উত্তম লোকদের বর্ণনা

باب خِيَارِ النَّاسِ

6224

حَدَّثَنِي حَرْمَلَةُ بْنُ يَحْيَى، أَخْبَرَنَا ابْنُ وَهْبٍ، أَخْبَرَنِي يُونُسُ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، حَدَّثَنِي سَعِيدُ بْنُ الْمُسَيَّبِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " تَجِدُونَ النَّاسَ مَعَادِنَ فَخِيَارُهُمْ فِي الْجَاهِلِيَّةِ خِيَارُهُمْ فِي الإِسْلاَمِ إِذَا فَقُهُوا وَتَجِدُونَ مِنْ خَيْرِ النَّاسِ فِي هَذَا الأَمْرِ أَكْرَهُهُمْ لَهُ قَبْلَ أَنْ يَقَعَ فِيهِ وَتَجِدُونَ مِنْ شِرَارِ النَّاسِ ذَا الْوَجْهَيْنِ الَّذِي يَأْتِي هَؤُلاَءِ بِوَجْهٍ وَهَؤُلاَءِ بِوَجْهٍ " .

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৬২২৪। হারামালা ইবনে ইয়াহয়া (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ তোমরা লোকদের মৌলিক গুণাবলী সম্পন্ন (খনিজ ও গুপ্তধনের মত) দেখতে পাবে। সুতরাং যারা জাহিলীয়াত যুগে উত্তম ছিল তারা ইসলামেও উত্তম হবে, যখন তাঁরা দ্বীনে সমঝদার হবে। অথবা তোমরা এই বিষয়ে অর্থাৎ ইসলামে উত্তম লোক দেখতে পাবে যারা এতে প্রবিষ্ট হওয়ার আগে চরম ইসলাম বিদ্বেষী ছিল, আর তোমরা সর্বাপেক্ষা মন্দ লোক হিসাবে দেখতে পাবে সে সব মানুষকে, যারা দু’মুখো; এর এই দলের কাছে একমুখে কথা বলে আবার আরেক দলের কাছে এসে আরেক মুখে কথা বলে।

6225
حَدَّثَنِي زُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، حَدَّثَنَا جَرِيرٌ، عَنْ عُمَارَةَ، عَنْ أَبِي زُرْعَةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، ح

وَحَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا الْمُغِيرَةُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ الْحِزَامِيُّ، عَنْ أَبِي الزِّنَادِ، عَنِ الأَعْرَجِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " تَجِدُونَ النَّاسَ مَعَادِنَ " . بِمِثْلِ حَدِيثِ الزُّهْرِيِّ غَيْرَ أَنَّ فِي حَدِيثِ أَبِي زُرْعَةَ وَالأَعْرَجِ " تَجِدُونَ مِنْ خَيْرِ النَّاسِ فِي هَذَا الشَّأْنِ أَشَدَّهُمْ لَهُ كَرَاهِيَةً حَتَّى يَقَعَ فِيهِ " .

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৬২২৫। যুহাইর ইবনে হারব (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ তোমরা লোকদের মৌলিক গুণাবলী ভূষিত (খনির মত) পাবে। ...... এরপর যুহরীর হাদীসের অনুরূপ। তবে আবু যুর’আ ও আ’রাজের বর্ণিত হাদীসঃ تَجِدُونَ مِنْ خَيْرِ النَّاسِ فِي هَذَا الشَّأْنِ أَشَدَّهُمْ لَهُ كَرَاهِيَةً حَتَّى يَقَعَ فِيهِ অর্থাৎ তোমরা এ (ইসলামের) বিষয়ে উত্তম লোকদের মধ্যে পাবে তাদের যারা এতে প্রবিষ্ট হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত এর প্রতি অতিশয় বিদ্বেষ পোষণকারী।

৪৯. কুরাইশী মহিলাদের ফযীলত

باب مِنْ فَضَائِلِ نِسَاءِ قُرَيْشٍ

6226

حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي عُمَرَ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ، عَنْ أَبِي الزِّنَادِ، عَنِ الأَعْرَجِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، وَعَنِ ابْنِ طَاوُسٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " خَيْرُ نِسَاءٍ رَكِبْنَ الإِبِلَ - قَالَ أَحَدُهُمَا صَالِحُ نِسَاءِ قُرَيْشٍ . وَقَالَ الآخَرُ نِسَاءُ قُرَيْشٍ - أَحْنَاهُ عَلَى يَتِيمٍ فِي صِغَرِهِ وَأَرْعَاهُ عَلَى زَوْجٍ فِي ذَاتِ يَدِهِ " .

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৬২২৬। ইবনে আবু উমর (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ সর্বোত্তম নারী যারা উটে সওয়ার হয়। বর্ণনাকারীদের একজন বলেন, কুরাইশী পুণ্যবতী মহিলারা। অন্যজন বলেন, কুরাইশী মহিলারা যারা ইয়াতিমের প্রতি তাদের শৈশবে অত্যন্ত মায়াবতী এবং যারা তাদের স্বামীর ধন-সম্পদের অত্যন্ত হিফাযতকারিণী।

6227

حَدَّثَنَا عَمْرٌو النَّاقِدُ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ أَبِي الزِّنَادِ، عَنِ الأَعْرَجِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، يَبْلُغُ بِهِ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم وَابْنُ طَاوُسٍ عَنْ أَبِيهِ يَبْلُغُ بِهِ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم . بِمِثْلِهِ غَيْرَ أَنَّهُ قَالَ " أَرْعَاهُ عَلَى وَلَدٍ فِي صِغَرِهِ " . وَلَمْ يَقُلْ يَتِيمٍ .

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৬২২৭। আমর নাকিদ (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে নবী (ﷺ) পর্যন্ত পৌঁছিয়েছে (অর্থাৎ মারফু করেছেন) এবং ইবনে তাউস (রাহঃ) থেকে যা তিনি নবী (ﷺ) পর্যন্ত পৌঁছিয়েছেন (মারফু করেছেন)। তবে এই বর্ণনায় এইটুকু পার্থক্য রয়েছেঃ أَرْعَاهُ عَلَى وَلَدٍ فِي صِغَرِهِ وَلَمْ يَقُلْ يَتِيمٍ অর্থাৎ তারা তাদের শিশুদের প্রতি অতন্ত্য দয়াশীল, তাদের শৈশবে” এবং তিনি “ইয়াতিম” শব্দটি বলেন নি।

6228

حَدَّثَنِي حَرْمَلَةُ بْنُ يَحْيَى، أَخْبَرَنَا ابْنُ وَهْبٍ، أَخْبَرَنِي يُونُسُ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، حَدَّثَنِي سَعِيدُ بْنُ الْمُسَيَّبِ، أَنَّ أَبَا هُرَيْرَةَ، قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " نِسَاءُ قُرَيْشٍ خَيْرُ نِسَاءٍ رَكِبْنَ الإِبِلَ أَحْنَاهُ عَلَى طِفْلٍ وَأَرْعَاهُ عَلَى زَوْجٍ فِي ذَاتِ يَدِهِ " . قَالَ يَقُولُ أَبُو هُرَيْرَةَ عَلَى إِثْرِ ذَلِكَ وَلَمْ تَرْكَبْ مَرْيَمُ بِنْتُ عِمْرَانَ بَعِيرًا قَطُّ .

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৬২২৮। হারামালা ইবনে ইয়াহয়া (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) বলেন যে, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে বলতে শুনেছি, কুরাইশী মহিলারা সর্বোত্তম মহিলা। তারা উটের পিঠে সওয়ার হয়ে থাকেন। তারা শিশুদের প্রতি অধিক মমতাময়ী এবং স্বামীর ধন-সম্পদ সংরক্ষণের ক্ষেত্রে অধিক যত্নবান। বর্ণনাকারী বলেন, আবু হুরায়রা (রাযিঃ) এরপর বলতেন, মারযাম বিনতে ইমরান (রাযিঃ) কখনো উটের পিঠে আরোহণ করেননি।

6229

حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ رَافِعٍ، وَعَبْدُ بْنُ حُمَيْدٍ، قَالَ عَبْدٌ أَخْبَرَنَا وَقَالَ ابْنُ رَافِعٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، أَخْبَرَنَا مَعْمَرٌ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنِ ابْنِ الْمُسَيَّبِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم خَطَبَ أُمَّ هَانِئٍ بِنْتَ أَبِي طَالِبٍ فَقَالَتْ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنِّي قَدْ كَبِرْتُ وَلِيَ عِيَالٌ . فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " خَيْرُ نِسَاءٍ رَكِبْنَ " . ثُمَّ ذَكَرَ بِمِثْلِ حَدِيثِ يُونُسَ غَيْرَ أَنَّهُ قَالَ " أَحْنَاهُ عَلَى وَلَدٍ فِي صِغَرِهِ " .

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৬২২৯। মুহাম্মাদ ইবনে রাফি ও আব্দ ইবনে হুমায়দ (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) আবু তালিবের কন্যা উম্মে হানীকে বিবাহের পয়গাম পাঠালেন। তখন তিনি বললেন, ইয়া রাসুলাল্লাহ! আমি তো বার্ধক্যে উপনীত হয়েছি এবং আমার সন্তান সন্ততি আছে। এরপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ সর্বাপেক্ষা উত্তম নারী। যারা উটে আরোহণ করে ......। এরপর মা’মার ইউনূস বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করেন। তরে তার বর্ণনায় এতটুকু পার্থক্য যে, তিনি বলেন, أَحْنَاهُ عَلَى وَلَدٍ فِي صِغَرِهِ অর্থাৎ ″তারা
শিশুর শৈশবে তার প্রতি মমতাময়ী হয়ে থাকেন।″
6230
حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ رَافِعٍ، وَعَبْدُ بْنُ حُمَيْدٍ، قَالَ ابْنُ رَافِعٍ حَدَّثَنَا وَقَالَ عَبْدٌ، أَخْبَرَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، أَخْبَرَنَا مَعْمَرٌ، عَنِ ابْنِ طَاوُسٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، ح

وَحَدَّثَنَا مَعْمَرٌ، عَنْ هَمَّامِ بْنِ مُنَبِّهٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " خَيْرُ نِسَاءٍ رَكِبْنَ الإِبِلَ صَالِحُ نِسَاءِ قُرَيْشٍ أَحْنَاهُ عَلَى وَلَدٍ فِي صِغَرِهِ وَأَرْعَاهُ عَلَى زَوْجٍ فِي ذَاتِ يَدِهِ " .

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৬২৩০। মুহাম্মাদ ইবনে রাফি ও আব্দ ইবনে হুমায়দ (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ উত্তম মহিলা হচ্ছে তারাই যারা উটে সওয়ার হয়ে থাকে। (তারা হচ্ছে) কুরাইশী পুণ্যবতী মহিলা। তারা সন্তানদের প্রতি তার শৈশবে অতি মমতাময়ী এবং স্বামীর ধন-সস্পদের প্রতি অধিক যত্নবান।

6231

حَدَّثَنِي أَحْمَدُ بْنُ عُثْمَانَ بْنِ حَكِيمٍ الأَوْدِيُّ، حَدَّثَنَا خَالِدٌ، - يَعْنِي ابْنَ مَخْلَدٍ - حَدَّثَنِي سُلَيْمَانُ، - وَهُوَ ابْنُ بِلاَلٍ - حَدَّثَنِي سُهَيْلٌ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم . بِمِثْلِ حَدِيثِ مَعْمَرٍ هَذَا سَوَاءً .

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৬২৩১। আহমাদ ইবনে উসমান ইবনে হাকীম আল আওদী (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) এর সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে ......... বর্ণিত মা’মার এর হাদীসের অনুরূপ।

৫০. নবী (ﷺ) কর্তৃক তার সাহাবী (রাযিঃ)-গণের মধ্যে পরস্পরে ভ্রাতৃত্ব বন্ধনে আব্দ্ধ করার বর্ণনা

باب مُؤَاخَاةِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم بَيْنَ أَصْحَابِهِ رضى الله تعالى عنهم

6232

حَدَّثَنِي حَجَّاجُ بْنُ الشَّاعِرِ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الصَّمَدِ، حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، - يَعْنِي ابْنَ سَلَمَةَ - عَنْ ثَابِتٍ، عَنْ أَنَسٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم آخَى بَيْنَ أَبِي عُبَيْدَةَ بْنِ الْجَرَّاحِ وَبَيْنَ أَبِي طَلْحَةَ .

Narrator: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

৬২৩২। হাজ্জাজ ইবনে শাঈর (রাহঃ) ......... আনাস ইবনে মালিক (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আবু উবাইদা ইবনুল জাররাহ (রাযিঃ) ও আবু তালহা (রাযিঃ) এর মধ্যে ভ্রাতৃত্বের বন্ধন স্থাপন করে দিয়েছিলেন।

6233

حَدَّثَنِي أَبُو جَعْفَرٍ، مُحَمَّدُ بْنُ الصَّبَّاحِ حَدَّثَنَا حَفْصُ بْنُ غِيَاثٍ، حَدَّثَنَا عَاصِمٌ الأَحْوَلُ، قَالَ قِيلَ لأَنَسِ بْنِ مَالِكٍ بَلَغَكَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " لاَ حِلْفَ فِي الإِسْلاَمِ " . فَقَالَ أَنَسٌ قَدْ حَالَفَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بَيْنَ قُرَيْشٍ وَالأَنْصَارِ فِي دَارِهِ .

Narrator: আসিম আল আহওয়াল (রহঃ)

৬২৩৩। আবু জাফর মুহাম্মাদ ইবনে সাব্বাহ (রাহঃ) ......... আসিম ইবনুল আহওয়াল (রাহঃ) বর্ণনা করেন যে, আনাস ইবনে মালিক (রাযিঃ) কে জিজ্ঞাসা করা হল, আপনার কাছে এ মর্মে রেওয়ায়াত পৌঁছেছে কি যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ ইসলামে কোন হিলফ-(মৈত্রী বন্ধন নেই)? তখন আনাস (রাযিঃ) বললেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কুরাইশ ও আনসারদের মধ্যে তাঁর ঘরে বসেই মৈত্রী স্থাপন করেছিলেন।

6234

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، وَمُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ نُمَيْرٍ، قَالاَ حَدَّثَنَا عَبْدَةُ بْنُ، سُلَيْمَانَ عَنْ عَاصِمٍ، عَنْ أَنَسٍ، قَالَ حَالَفَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بَيْنَ قُرَيْشٍ وَالأَنْصَارِ فِي دَارِهِ الَّتِي بِالْمَدِينَةِ .

Narrator: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

৬২৩৪। আবু বকর ইবনে আবি শাঈবা ও মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে নুমাইর (রাহঃ) ......... আনাস ইবনে মালিক (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কুরাইশ ও আনসারদের মধ্যে মদীনাতে তার ঘরে বসেই মৈত্রী বন্ধন ভ্রাতৃত্ব স্থাপন করেছিলেন।

6235

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ نُمَيْرٍ، وَأَبُو أُسَامَةَ عَنْ زَكَرِيَّاءَ، عَنْ سَعْدِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جُبَيْرِ بْنِ مُطْعِمٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " لاَ حِلْفَ فِي الإِسْلاَمِ وَأَيُّمَا حِلْفٍ كَانَ فِي الْجَاهِلِيَّةِ لَمْ يَزِدْهُ الإِسْلاَمُ إِلاَّ شِدَّةً " .

Narrator: জুবায়র ইবনে মুতঈম (রাঃ)

৬২৩৫। আবু বকর ইবনে আবি শাঈবা (রাহঃ) ......... জুবাইর ইবনে মুতঈম (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ ইসলামে কোন হিলফ (জাহিলী যুগে প্রচলিত মৈত্রীতা চুক্তি) নেই। তবে জাহিলীয়া যুগে ভাল কাজের জন্য যে সব (মৈত্রী চুক্তি) করা হয়েছে তাকে ইসলামে আরও দৃঢ় ও মজবুত করেছে।

৫১. নবী (ﷺ) এর জীবনাবস্থিতি তার সাহাবীদের জন্য নিরাপত্তা এবং সাহাবীগণের জীবন উপস্থিতি সমগ্র উম্মতের জন্য নিরাপত্তা

باب بَيَانِ أَنَّ بَقَاءَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَمَانٌ لأَصْحَابِهِ وَبَقَاءَ أَصْحَابِهِ أَمَانٌ

6236

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، وَإِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، وَعَبْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ بْنِ أَبَانَ، كُلُّهُمْ عَنْ حُسَيْنٍ، - قَالَ أَبُو بَكْرٍ حَدَّثَنَا حُسَيْنُ بْنُ عَلِيٍّ الْجُعْفِيُّ، - عَنْ مُجَمِّعِ بْنِ يَحْيَى، عَنْ سَعِيدِ بْنِ أَبِي بُرْدَةَ، عَنْ أَبِي بُرْدَةَ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ صَلَّيْنَا الْمَغْرِبَ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ثُمَّ قُلْنَا لَوْ جَلَسْنَا حَتَّى نُصَلِّيَ مَعَهُ الْعِشَاءَ - قَالَ - فَجَلَسْنَا فَخَرَجَ عَلَيْنَا فَقَالَ " مَا زِلْتُمْ هَا هُنَا " . قُلْنَا يَا رَسُولَ اللَّهِ صَلَّيْنَا مَعَكَ الْمَغْرِبَ ثُمَّ قُلْنَا نَجْلِسُ حَتَّى نُصَلِّيَ مَعَكَ الْعِشَاءَ قَالَ " أَحْسَنْتُمْ أَوْ أَصَبْتُمْ " . قَالَ فَرَفَعَ رَأْسَهُ إِلَى السَّمَاءِ وَكَانَ كَثِيرًا مِمَّا يَرْفَعُ رَأْسَهُ إِلَى السَّمَاءِ فَقَالَ " النُّجُومُ أَمَنَةٌ لِلسَّمَاءِ فَإِذَا ذَهَبَتِ النُّجُومُ أَتَى السَّمَاءَ مَا تُوعَدُ وَأَنَا أَمَنَةٌ لأَصْحَابِي فَإِذَا ذَهَبْتُ أَتَى أَصْحَابِي مَا يُوعَدُونَ وَأَصْحَابِي أَمَنَةٌ لأُمَّتِي فَإِذَا ذَهَبَ أَصْحَابِي أَتَى أُمَّتِي مَا يُوعَدُونَ " .

Narrator: আবু বুরদা আশআরী (রহঃ)

৬২৩৬। আবু বকর ইবনে আবি শাঈবা, ইসহাক ইবনে ইবরাহীম ও আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনে আবান (রাহঃ) ......... আবু বুরদাহ (রাহঃ) এর পিতার সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সঙ্গে মাগরিবের নামায আদায় করলাম। এরপর আমরা বললাম- যদি আমরা তাঁর সঙ্গে ইশার নামায আদায় করা পর্যন্ত বসতে পারতাম (তাহলে ভাল হত)। বর্ণনাকারী বলেন, আমরা বসে থাকলাম। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদের কাছে এলেন। এরপর বললেনঃ তোমরা এখানে কতক্ষণ পর্যন্ত বসে আছ? আমরা বললাম, ইয়া রাসুলাল্লাহ! আমরা আপনার সঙ্গে মাগরিবের নামায আদায় করেছি। এরপর আমরা বললাম যে, ইশার নামায আপনার সঙ্গে আদায় করার জন্যে বসে আছি। তিনি বললেনঃ তোমরা বেশ ভাল করেছ অথবা (বললেন) তোমরা ঠিকই করেছ।

তিনি (বর্ণনাকারী) বলেন, এরপর তিনি আসমানের দিকে মাথা উত্তোলন করলেন এবং তিনি অনেক সময়ই তাঁর মাথা আসমানের দিকে তুলতেন। এরপর বললেনঃ তারকারাজি আসমানের জন্য নিরাপত্তা (রক্ষাকবচ) স্বরূপ। যখন তারকারাজি নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে তখন আসমানের জন্য প্রতিশ্রুত বিপদ আসন্ন হবে (অর্থাৎ কিয়ামত সংঘটিত হবে)। আর আমি আমার সাহাবীদের জন্য রক্ষাকবচ স্বরূপ। যখন আমি বিদায় নেব তখন আমার সাহাবীদের উপর প্রতিশ্রুত সময় সমুপস্থিত হবে (অর্থাৎ ফিতনা-ফাসাদ ও যুদ্ধ-বিগ্রহ শুরু হয়ে যাবে)। আর আমার সাহাবীগণ সমগ্র উম্মতের জন্য নিরাপত্তা (রক্ষাকবচ) স্বরূপ। যখন আমার সাহাবীগণ বিদায় হয়ে যাবে তখন আমার উম্মতের উপর প্রতিশ্রুত সময় উপস্থিত হবে (অর্থাৎ শিরক, বিদআত ছড়িয়ে পড়বে, ফিতনা-ফাসাদ সৃষ্টি হবে, শয়তানের শিং উদয় হবে, নাসারাদের রাজত্ব কায়েম হবে, মক্কা ও মদীনার অবমাননা করা হবে ইত্যাদি)।

৫২. সাহাবা, অতঃপর যারা তাদের সন্নিকটে, অতঃপর যারা তাদের সন্নিকটে (অর্থাৎ তাবিঈ ও তাবে তাবিঈগণের) ফযীলত

باب فَضْلِ الصَّحَابَةِ ثُمَّ الَّذِينَ يَلُونَهُمْ ثُمَّ الَّذِينَ يَلُونَهُمْ

6237

حَدَّثَنَا أَبُو خَيْثَمَةَ، زُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ وَأَحْمَدُ بْنُ عَبْدَةَ الضَّبِّيُّ - وَاللَّفْظُ لِزُهَيْرٍ - قَالاَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ، قَالَ سَمِعَ عَمْرٌو، جَابِرًا يُخْبِرُ عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " يَأْتِي عَلَى النَّاسِ زَمَانٌ يَغْزُو فِئَامٌ مِنَ النَّاسِ فَيُقَالُ لَهُمْ فِيكُمْ مَنْ رَأَى رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَيَقُولُونَ . نَعَمْ فَيُفْتَحُ لَهُمْ ثُمَّ يَغْزُو فِئَامٌ مِنَ النَّاسِ فَيُقَالُ لَهُمْ فِيكُمْ مَنْ رَأَى مَنْ صَحِبَ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَيَقُولُونَ نَعَمْ . فَيُفْتَحُ لَهُمْ ثُمَّ يَغْزُو فِئَامٌ مِنَ النَّاسِ فَيُقَالُ لَهُمْ هَلْ فِيكُمْ مَنْ رَأَى مَنْ صَحِبَ مَنْ صَحِبَ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَيَقُولُونَ نَعَمْ . فَيُفْتَحُ لَهُمْ " .

Narrator: হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ)

৬২৩৭। আবু খায়সামা যুহাইর ইবনে হারব ও আহমাদ ইবনে আব্দা আদ-দাবিয়্যু (রাহঃ) ......... আবু সাঈদ খুদরী (রাযিঃ) এর সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেছেনঃ মানুষের উপর এমন যুগ আসবে, যখন তাদের একদল জিহাদ করতে থাকবে। এরপর তাদের জিজ্ঞাসা করা হবে, তোমাদের মধ্যে এমন কেউ আছেন যিনি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে দেখেছেন? তারা বলবে, জ্বি হ্যাঁ। তখন তাঁরা বিজয় লাভ করবে। এরপর মানুষের মধ্য থেকে একদল যুদ্ধ করতে থাকবে। তখন তাদের জিজ্ঞাসা করা হবে, তোমাদের মধ্যে কি এমন কোন ব্যক্তি আছেন, যিনি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সাহাবীগণকে দেখেছন? তারা বলবে, জি হ্যাঁ। তখন তারা বিজয় লাভ করবে। এরপর মানুষের আরেকটি দল জিহাদ করতে থাকবে। তখন তাদের জিজ্ঞাসা করা হবে, তোমাদের মধ্যে কি এমন কেউ আছে, যিনি সাহাবীদের সাহচর্য লাভকারী অর্থাৎ তাবিঈকে দেখেছেন? তখন লোকেরা বলবে, জি হ্যাঁ। তখন বিজয় তাদের মুঠোয় এসে যাবে। এরপর আরেকদল যুদ্ধরত থাকবে। তখন তাদের জিজ্ঞাসা করা হবে তোমাদের মধ্যে এমন কেউ আছে কি, যারা রাসূল (ﷺ) এর সহচর্য লাভকারীদের (তাবিঈনের সাহচর্য লাভকারী অর্থাৎ তাবি-তাবিঈকে) দেখেছেন? লোকেরা বলবে, জি হ্যাঁ। তখন তাঁদের বিজয় দেয়া হবে।

6238

حَدَّثَنِي سَعِيدُ بْنُ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ الأُمَوِيُّ، حَدَّثَنَا أَبِي، حَدَّثَنَا ابْنُ جُرَيْجٍ، عَنْ أَبِي، الزُّبَيْرِ عَنْ جَابِرٍ، قَالَ زَعَمَ أَبُو سَعِيدٍ الْخُدْرِيُّ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " يَأْتِي عَلَى النَّاسِ زَمَانٌ يُبْعَثُ مِنْهُمُ الْبَعْثُ فَيَقُولُونَ انْظُرُوا هَلْ تَجِدُونَ فِيكُمْ أَحَدًا مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَيُوجَدُ الرَّجُلُ فَيُفْتَحُ لَهُمْ بِهِ ثُمَّ يُبْعَثُ الْبَعْثُ الثَّانِي فَيَقُولُونَ هَلْ فِيهِمْ مَنْ رَأَى أَصْحَابَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَيُفْتَحُ لَهُمْ بِهِ ثُمَّ يُبْعَثُ الْبَعْثُ الثَّالِثُ فَيُقَالُ انْظُرُوا هَلْ تَرَوْنَ فِيهِمْ مَنْ رَأَى مَنْ رَأَى أَصْحَابَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم ثُمَّ يَكُونُ الْبَعْثُ الرَّابِعُ فَيُقَالُ انْظُرُوا هَلْ تَرَوْنَ فِيهِمْ أَحَدًا رَأَى مَنْ رَأَى أَحَدًا رَأَى أَصْحَابَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَيُوجَدُ الرَّجُلُ فَيُفْتَحُ لَهُمْ بِهِ " .

Narrator: জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ আনসারী (রাঃ)

৬২৩৮। সাঈদ ইবনে ইয়াহয়া ইবনে সাঈদ উমাবী (রাহঃ) ......... জাবির (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আবু সাঈদ খুদরী (রাযিঃ) মনে করেন যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ মানুষের উপর এমন যুগ আসবে, যখন তাদের মধ্য থেকে কোন যোদ্ধা দল প্রেরণ করা হবে। এরপর লোকেরা বলাবলি করবে, খুঁজে দেখ, তোমাদের মধ্যে নবী (ﷺ) এর সাহাবীগণের কাউকে পাও কি না। তখন একজন সাহাবী পাওয়া যাবে। এরপর তাঁর বদৌলতে তাদের বিজয় অর্জিত হবে।

এরপর দ্বিতীয় সেনাদল পাঠানো হবে। তখন লোকেরা বলবে, তোমাদের মধ্যে কি এমন কোন ব্যক্তি আছেন, যিনি নবী (ﷺ) এর সাহাবীদের দেখেছেন? [তখন একজন (তাবিঈ) কে পাওয়া যাবে] তখন এর বদৌলতে তাদের বিজয় অর্জিত হবে।

এরপর তৃতীয় সেনাদল পাঠানো হবে। তখন জিজ্ঞাসা করা হবে, অনুসন্ধান করে দেখ, এদের মধ্যে তাদের কাউকে দেখতে পাও কি না, যারা এমন কাউকে দেখেছেন যিনি নবী (ﷺ) এর সাহাবীদের দেখেছেন (অর্থাৎ তাবিঈ)।

এরপর চতুর্থ সেনাদল পাঠানো হবে। তখন বলা হবে দেখ, তোমরা এদের মধ্যে এমন কাউকে পাও কি-না, যারা এমন কাউকে দেখেছেন, যিনি এমন কাউকে দেখেছেন, যিনি নবী (ﷺ) এর সাহাবীদের দেখেছেন অর্থাৎ কোন তাবে-তাবিঈকে দেখেছ? তখন (এমন) এক ব্যক্তিকে পাওয়া যাবে। এরপর তার বদৌলতে তাদের বিজয় অর্জিত হবে।
6239

حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، وَهَنَّادُ بْنُ السَّرِيِّ، قَالاَ حَدَّثَنَا أَبُو الأَحْوَصِ، عَنْ مَنْصُورٍ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ بْنِ يَزِيدَ، عَنْ عَبِيدَةَ السَّلْمَانِيِّ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " خَيْرُ أُمَّتِي الْقَرْنُ الَّذِينَ يَلُونِي ثُمَّ الَّذِينَ يَلُونَهُمْ ثُمَّ الَّذِينَ يَلُونَهُمْ ثُمَّ يَجِيءُ قَوْمٌ تَسْبِقُ شَهَادَةُ أَحَدِهِمْ يَمِينَهُ وَيَمِينُهُ شَهَادَتَهُ " . لَمْ يَذْكُرْ هَنَّادٌ الْقَرْنَ فِي حَدِيثِهِ وَقَالَ قُتَيْبَةُ " ثُمَّ يَجِيءُ أَقْوَامٌ " .

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ)

৬২৩৯। কুতায়বা ইবনে সাঈদ ও হান্নাদ ইবনে সাররী (রাহঃ) ......... আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ আমার উম্মতের মধ্যে সর্বোত্তম তারা যারা আমার যুগের সংযুক্ত (অর্থাৎ সাহাবীগণ), এরপর তাদের নিকটবর্তী সন্নিহিত যুগ (অর্থাৎ তাবিঈগণ), এরপর তাদের সন্নিহিত যুগ (অর্থাৎ তাবে-তাবেঈন)। এরপর এমন এক সম্প্রদায়ের উদ্ভব হবে যারা কসমের আগে সাক্ষ্য দেবে এবং সাক্ষ্যের আগে কসম করবে।

আর হান্নাদ তাঁর হাদীসে لْقَرْن (অর্থাৎ যুগ বা সময়) শব্দটি উল্লেখ করেননি এবং কুতায়বা বলেছেন ثُمَّ يَجِيءُ أَقْوَامٌ অর্থাৎ অনেক সম্প্রদায়ের উদ্ভব হবে।
6240

حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، وَإِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ الْحَنْظَلِيُّ، قَالَ إِسْحَاقُ أَخْبَرَنَا وَقَالَ، عُثْمَانُ حَدَّثَنَا جَرِيرٌ، عَنْ مَنْصُورٍ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ، عَنْ عَبِيدَةَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ سُئِلَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَىُّ النَّاسِ خَيْرٌ قَالَ " قَرْنِي ثُمَّ الَّذِينَ يَلُونَهُمْ ثُمَّ الَّذِينَ يَلُونَهُمْ ثُمَّ يَجِيءُ قَوْمٌ تَبْدُرُ شَهَادَةُ أَحَدِهِمْ يَمِينَهُ وَتَبْدُرُ يَمِينُهُ شَهَادَتَهُ " . قَالَ إِبْرَاهِيمُ كَانُوا يَنْهَوْنَنَا وَنَحْنُ غِلْمَانٌ عَنِ الْعَهْدِ وَالشَّهَادَاتِ .

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ)

৬২৪০। উসমান ইবনে আবি শাঈবা ও ইসহাক ইবনে ইবরাহীম আল-হানযালী (রাহঃ) ......... আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে জিজ্ঞাসা করা হল, সর্বাপেক্ষা উত্তম মানুষ কারা? তিনি বললেন, আমার যুগ। এরপর তাদের নিকটবর্তী যুগ, এরপর তাদের নিকটবর্তী যুগ। এরপর এমন এক সম্প্রদায়ের উদ্ভব হবে, যাদের কসম সাক্ষ্যের আগেই ত্বরান্বিত হবে এবং সাক্ষ্য কসমের আগেই সংঘটিত হবে। ইবরাহীম বলেছেন, আমাদের শৈশবে তারা (মুরুব্বিগণ) আমাদের কথায় কথায় সাক্ষ্যদান থেকে নিষেধ করতেন।

6241

وَحَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، وَابْنُ، بَشَّارٍ قَالاَ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، ح وَحَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، وَابْنُ، بَشَّارٍ قَالاَ حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، كِلاَهُمَا عَنْ مَنْصُورٍ، بِإِسْنَادِ أَبِي الأَحْوَصِ وَجَرِيرٍ بِمَعْنَى حَدِيثِهِمَا وَلَيْسَ فِي حَدِيثِهِمَا سُئِلَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم .

Narrator: আবুল আহওয়াস (রহঃ)

৬২৪১। মুহাম্মাদ ইবনুল মুসান্না ও ইবনে বাশশার (রাহঃ) ......... আবুল আহওয়াস ও জারীর (রাহঃ) এর সনদে মানসুর (রাহঃ) থেকে অনুরূপ বর্ণিত আছে। তবে তাদের দুই জনের হাদীসেঃ سُئِلَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسل “রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল” এটার উল্লেখ নেই।

6242

وَحَدَّثَنِي الْحَسَنُ بْنُ عَلِيٍّ الْحُلْوَانِيُّ، حَدَّثَنَا أَزْهَرُ بْنُ سَعْدٍ السَّمَّانُ، عَنِ ابْنِ عَوْنٍ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ، عَنْ عَبِيدَةَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " خَيْرُ النَّاسِ قَرْنِي ثُمَّ الَّذِينَ يَلُونَهُمْ ثُمَّ الَّذِينَ يَلُونَهُمْ " . فَلاَ أَدْرِي فِي الثَّالِثَةِ أَوْ فِي الرَّابِعَةِ قَالَ " ثُمَّ يَتَخَلَّفُ مِنْ بَعْدِهِمْ خَلْفٌ تَسْبِقُ شَهَادَةُ أَحَدِهِمْ يَمِينَهُ وَيَمِينُهُ شَهَادَتَهُ " .

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ)

৬২৪২। হাসান ইবনে আলী আল-হুলওয়ানী (রাহঃ) ......... আব্দুল্লাহ (রাযিঃ) এর সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেনঃ সর্বাপেক্ষা উত্তম মানুষ আমার যুগ (অর্থাৎ সাহাবীগণ) এরপর যারা তাদের সাথে সংযুক্ত (অর্থাৎ তাবীঈগণ) এরপর যারা তাদের সাথে সংযুক্ত (অর্থাৎ তাবে-তাবেঈগণ)। এরপর তিনি বলেন, আমি সঠিক জানি না তৃতীয় কিংবা চতুর্থটি সম্পর্কে। তিনি (বর্ণনাকারী) বলেন, এরপর তাদের পরবর্তীতে এমন লোক আসবে, যাদের কেউ কেউ কসমের আগে সাক্ষ্য দেবে এবং সাক্ষ্যের আগে কসম করবে।

6243

حَدَّثَنِي يَعْقُوبُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، حَدَّثَنَا هُشَيْمٌ، عَنْ أَبِي بِشْرٍ، ح وَحَدَّثَنِي إِسْمَاعِيلُ، بْنُ سَالِمٍ أَخْبَرَنَا هُشَيْمٌ، أَخْبَرَنَا أَبُو بِشْرٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ شَقِيقٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " خَيْرُ أُمَّتِي الْقَرْنُ الَّذِينَ بُعِثْتُ فِيهِمْ ثُمَّ الَّذِينَ يَلُونَهُمْ " . وَاللَّهُ أَعْلَمُ أَذَكَرَ الثَّالِثَ أَمْ لاَ قَالَ " ثُمَّ يَخْلُفُ قَوْمٌ يُحِبُّونَ السَّمَانَةَ يَشْهَدُونَ قَبْلَ أَنْ يُسْتَشْهَدُوا " .

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৬২৪৩। ইয়াকুব ইবনে ইবরাহীম (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ সর্বাপেক্ষা ভাল মানুষ তারা, যাদের মধ্যে আমি প্রেরিত হয়েছি (অর্থাৎ সাহাবীগণ)। এরপর তাদের সঙ্গে সম্পৃক্ত লোকজন (অর্থাৎ তাবীঈগণ)। আর আল্লাহই সম্যক জ্ঞাত যে, এরপর তিনি তৃতীয়টি উল্লেখ করেছেন কি করেননি। বর্ণনাকারী বলেন, এরপর এমন এক জাতির উদ্ভব হবে, যারা মোটাতাজা হওয়া (বিলাসিতাপূর্ণ) পানাহার ও জীবন যাপন পছন্দ করবে এবং সাক্ষ্য চাওয়ার পূর্বেই সাক্ষ্য দান করবে।

6244

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ، ح وَحَدَّثَنِي أَبُو بَكْرِ بْنُ نَافِعٍ، حَدَّثَنَا غُنْدَرٌ، عَنْ شُعْبَةَ، ح وَحَدَّثَنِي حَجَّاجُ بْنُ الشَّاعِرِ، حَدَّثَنَا أَبُو الْوَلِيدِ، حَدَّثَنَا أَبُو عَوَانَةَ، كِلاَهُمَا عَنْ أَبِي بِشْرٍ، بِهَذَا الإِسْنَادِ . مِثْلَهُ غَيْرَ أَنَّ فِي حَدِيثِ شُعْبَةَ قَالَ أَبُو هُرَيْرَةَ فَلاَ أَدْرِي مَرَّتَيْنِ أَوْ ثَلاَثَةً .

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৬২৪৪। ভিন্ন ভিন্ন সনদে মুহাম্মাদ ইবনে বাশশার (রাহঃ) আবু বকর ইবনে নাফি (রাহঃ) এজাজ ইবনে শাইর (রাহঃ) ......... আবু বিশর (রাহঃ) থেকে এই সনদে অনুরূপ বর্ণিত আছে। তবে শু’বা বর্ণিত হাদীসে এতটুকু পার্থক্য রয়েছে, আবু হুরায়রা (রাযিঃ) বলেছেন, আমি জানি না যে, তিনি দু’বার কিংবা তিনবার বলেছেন।

6245

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، وَمُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، وَابْنُ، بَشَّارٍ جَمِيعًا عَنْ غُنْدَرٍ، قَالَ ابْنُ الْمُثَنَّى حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، سَمِعْتُ أَبَا جَمْرَةَ، حَدَّثَنِي زَهْدَمُ بْنُ، مُضَرِّبٍ سَمِعْتُ عِمْرَانَ بْنَ حُصَيْنٍ، يُحَدِّثُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " إِنَّ خَيْرَكُمْ قَرْنِي ثُمَّ الَّذِينَ يَلُونَهُمْ ثُمَّ الَّذِينَ يَلُونَهُمْ ثُمَّ الَّذِينَ يَلُونَهُمْ " . قَالَ عِمْرَانُ فَلاَ أَدْرِي أَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بَعْدَ قَرْنِهِ مَرَّتَيْنِ أَوْ ثَلاَثَةً " ثُمَّ يَكُونُ بَعْدَهُمْ قَوْمٌ يَشْهَدُونَ وَلاَ يُسْتَشْهَدُونَ وَيَخُونُونَ وَلاَ يُتَّمَنُونَ وَيَنْذُرُونَ وَلاَ يُوفُونَ وَيَظْهَرُ فِيهِمُ السِّمَنُ " .

Narrator: হযরত ইমরান ইবনে হুসাইন রাযি.

৬২৪৫। আবু বকর ইবনে আবি শাঈবা, মুহাম্মাদ ইবনুল মুসান্না ও ইবনে বাশশার (রাহঃ) ......... ইমরান ইবনে হুসাইন (রাযিঃ) বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ তোমাদের মধ্যে সর্বাপেক্ষা উত্তম আমার যুগের লোকেরা। এরপর তারা যারা তাদের সন্নিহিত। এরপর তারা যারা তাদের সন্নিহিত যুগ। এরপর তারা যারা তাদের সন্নিহিত যুগ। ইমরান (রাযিঃ) বলেন, আমি জানি না যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কি তাঁর যুগের পর দু’বার না কি তিনবার উল্লেখ করেছেন। এরপর তাদের পরবর্তী এমন এক সম্প্রদায়ের উদ্ভব হবে যারা সাক্ষ্য দেবে অথচ তাদের কাছে সাক্ষ্য চাওয়া হবে না। আর তারা খিয়ানত করবে এবং তাদের আমানতদার মনে করা হবে না। তারা মান্নত করবে অথচ তা পুরন করবে না। আর তাদের মধ্যে স্থুলতা (বিলাসিতা) প্রকাশ পাবে।

6246

حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ حَاتِمٍ، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ، ح وَحَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ بِشْرٍ، الْعَبْدِيُّ حَدَّثَنَا بَهْزٌ، ح وَحَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ رَافِعٍ، حَدَّثَنَا شَبَابَةُ، كُلُّهُمْ عَنْ شُعْبَةَ، بِهَذَا الإِسْنَادِ . وَفِي حَدِيثِهِمْ قَالَ لاَ أَدْرِي أَذَكَرَ بَعْدَ قَرْنِهِ قَرْنَيْنِ أَوْ ثَلاَثَةً . وَفِي حَدِيثِ شَبَابَةَ قَالَ سَمِعْتُ زَهْدَمَ بْنَ مُضَرِّبٍ وَجَاءَنِي فِي حَاجَةٍ عَلَى فَرَسٍ فَحَدَّثَنِي أَنَّهُ سَمِعَ عِمْرَانَ بْنَ حُصَيْنٍ . وَفِي حَدِيثِ يَحْيَى وَشَبَابَةَ " يَنْذُرُونَ وَلاَ يَفُونَ " . وَفِي حَدِيثِ بَهْزٍ " يُوفُونَ " . كَمَا قَالَ ابْنُ جَعْفَرٍ .

Narrator: শু'বা ইবনুল হাজ্জাজ (রহঃ)

৬২৪৬। ভিন্ন ভিন্ন সনদে মুহাম্মাদ ইবনে হাতিম (রাহঃ) আব্দুর রহমান ইবনে বিশর আব্দী (রাহঃ), মুহাম্মাদ ইবনে রাফি (রাহঃ) ......... শু’বা (রাযিঃ) সূত্রে এই সনদে অনুরূপ বর্ণিত। আর তাদের (অর্থাৎ ইয়াহয়া ইবনে সাঈদ, বাহয ও শাবাবাহ) বর্ণিত হাদীসে তিনি বলেছেনঃ “আমি জানি না যে, তিনি কি তাঁর যুগের পরে দু’যুগ অথবা তিন যুগের কথা উল্লেখ করেছেন? শাবাবাহ বর্ণিত হাদীসে তিনি বলেছেন, আমি যাহদাম ইবনে মুদাররাব থেকে শুনেছি, তিনি আমার কাছে ঘোড়ার পিঠে আরোহণ করে কোন প্রয়োজনে এসেছিলেন। এরপর তিনি আমাকে হাদীস শোনান যে, তিনি ইমরান ইবনে হুসাইন (রাযিঃ) থেকে শুনেছেন। আর ইয়াহহিয়া ও বাহয বর্ণিত হাদীসে উল্লেখ আছেঃ يَنْذُرُونَ وَلاَ يَفُونَ তারা মান্নত করবে কিন্তু তা পুরন করবে না। আর বাহয বর্ণিত হাদীসে ইবনে জাফর এর বর্ণনা অনুযায়ী يُوفُونَ শব্দ আছে।

6247

وَحَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، وَمُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الْمَلِكِ الأُمَوِيُّ، قَالاَ حَدَّثَنَا أَبُو عَوَانَةَ، ح وَحَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، وَابْنُ، بَشَّارٍ قَالاَ حَدَّثَنَا مُعَاذُ بْنُ هِشَامٍ، حَدَّثَنَا أَبِي كِلاَهُمَا، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ زُرَارَةَ بْنِ أَوْفَى، عَنْ عِمْرَانَ بْنِ حُصَيْنٍ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم بِهَذَا الْحَدِيثِ " خَيْرُ هَذِهِ الأُمَّةِ الْقَرْنُ الَّذِينَ بُعِثْتُ فِيهِمْ ثُمَّ الَّذِينَ يَلُونَهُمْ " . زَادَ فِي حَدِيثِ أَبِي عَوَانَةَ قَالَ وَاللَّهُ أَعْلَمُ أَذَكَرَ الثَّالِثَ أَمْ لاَ . بِمِثْلِ حَدِيثِ زَهْدَمٍ عَنْ عِمْرَانَ وَزَادَ فِي حَدِيثِ هِشَامٍ عَنْ قَتَادَةَ " وَيَحْلِفُونَ وَلاَ يُسْتَحْلَفُونَ " .

Narrator: হযরত ইমরান ইবনে হুসাইন রাযি.

৬২৪৭। কুতায়বা ইবনে সাঈদ, মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল মালিক উমাবী (রাহঃ) ......... ইমরান ইবনে হুসাইন (রাহঃ) সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে এই হাদীসটি বর্ণিত। এই বর্ণনায় আছে, এই উম্মতের সর্বাপেক্ষা উত্তম হচ্ছে সে যুগ, যাদের মধ্যে আমি প্রেরিত হয়ছি (অর্থাৎ সাহাবীগণ) এরপর তারা যারা এদের সন্নিহিত। আবু আওয়ানা বর্ণিত হাদীসে অধিক আছে যে, তিনি বলেন, আল্লাহই ভালো জানেন, তিনি তৃতীয়টি উল্লেখ করেছেন কি না? ইমরান (রাহঃ) থেকে যাহদাম (রাহঃ) বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ। কাতাদা (রাহঃ) এর সূত্রে হিশাম বর্ণিত হাদীসে এতটুকু বেশী আছে যে, يَحْلِفُونَ وَلاَ يُسْتَحْلَفُونَ অর্থাৎ ″তারা হলফ করবে অথচ তাদের কাছে হলফ চাওয়া হবে না।″

6248

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، وَشُجَاعُ بْنُ مَخْلَدٍ، - وَاللَّفْظُ لأَبِي بَكْرٍ - قَالاَ حَدَّثَنَا حُسَيْنٌ، - وَهُوَ ابْنُ عَلِيٍّ الْجُعْفِيُّ - عَنْ زَائِدَةَ، عَنِ السُّدِّيِّ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ الْبَهِيِّ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ سَأَلَ رَجُلٌ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم أَىُّ النَّاسِ خَيْرٌ قَالَ " الْقَرْنُ الَّذِي أَنَا فِيهِ ثُمَّ الثَّانِي ثُمَّ الثَّالِثُ " .

Narrator: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

৬২৪৮। আবু বকর ইবনে আবি শাঈবা ও শুজা ইবনে মাখলাদ (রাহঃ) ......... আয়িশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, জনৈক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে জিজ্ঞাসা করল, সর্বাপেক্ষা উত্তম মানুষ কে? তিনি বললেনঃ সেই যুগ, যাতে আমি প্রেরিত হয়েছি। এরপর দ্বিতীয় (যুগ), এরপর তৃতীয় (যুগ)।

৫৩. নবী (ﷺ) এর বাণীঃ একশ’ বছরের মাথায় বর্তমান কোন ব্যক্তি ভূপৃষ্ঠে জীবিত থাকবে না

باب قَوْلِهِ صلى الله عليه وسلم " لاَ تَأْتِي مِائَةُ سَنَةٍ وَعَلَى الأَرْضِ نَفْسٌ مَنْفُوسَةٌ الْيَوْ

6249

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ رَافِعٍ، وَعَبْدُ بْنُ حُمَيْدٍ، قَالَ مُحَمَّدُ بْنُ رَافِعٍ حَدَّثَنَا وَقَالَ عَبْدٌ، أَخْبَرَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، أَخْبَرَنَا مَعْمَرٌ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، أَخْبَرَنِي سَالِمُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، وَأَبُو بَكْرِ بْنُ سُلَيْمَانَ أَنَّ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عُمَرَ، قَالَ صَلَّى بِنَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ذَاتَ لَيْلَةٍ صَلاَةَ الْعِشَاءِ فِي آخِرِ حَيَاتِهِ فَلَمَّا سَلَّمَ قَامَ فَقَالَ " أَرَأَيْتَكُمْ لَيْلَتَكُمْ هَذِهِ فَإِنَّ عَلَى رَأْسِ مِائَةِ سَنَةٍ مِنْهَا لاَ يَبْقَى مِمَّنْ هُوَ عَلَى ظَهْرِ الأَرْضِ أَحَدٌ " . قَالَ ابْنُ عُمَرَ فَوَهَلَ النَّاسُ فِي مَقَالَةِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم تِلْكَ فِيمَا يَتَحَدَّثُونَ مِنْ هَذِهِ الأَحَادِيثِ عَنْ مِائَةِ سَنَةٍ وَإِنَّمَا قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لاَ يَبْقَى مِمَّنْ هُوَ الْيَوْمَ عَلَى ظَهْرِ الأَرْضِ . أَحَدٌ يُرِيدُ بِذَلِكَ أَنْ يَنْخَرِمَ ذَلِكَ الْقَرْنُ .

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

৬২৪৯। মুহাম্মাদ ইবনে রাফি ও আব্দ ইবনে হুমায়দ (রাহঃ) ......... আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাঁর জীবনের শেষ প্রান্তে একরাতে আমাদের সঙ্গে ইশার নামায আদায় করলেন। তিনি সালাম শেষে দাঁড়িয়ে বললেনঃ তোমরা এই রাত সম্পর্কে লক্ষ্য করেছ? (শোন) এর একশ বছরের মাথায়, আজ যারা পৃথিবীর পৃষ্ঠে বিদ্যমান আছে তাদের কেউ জীবিত থাকবে না। ইবনে উমর (রাযিঃ) বললেন, তখন লোকেরা একশ বছর সংক্রান্ত এই সব হাদীসের বর্ণনায় ভ্রান্তিতে পড়ে গেল। মুলতঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ “আজ যারা পৃথিবী পৃষ্ঠে বর্তমান আছে তাদের কেউ বাকী থাকবে না” দ্বারা এই যুগের পরিসমাপ্তির কথা বুঝাতে চেয়েছেন।

6250

حَدَّثَنِي عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ الدَّارِمِيُّ، أَخْبَرَنَا أَبُو الْيَمَانِ، أَخْبَرَنَا شُعَيْبٌ، وَرَوَاهُ، اللَّيْثُ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ خَالِدِ بْنِ مُسَافِرٍ، كِلاَهُمَا عَنِ الزُّهْرِيِّ، بِإِسْنَادِ مَعْمَرٍ كَمِثْلِ حَدِيثِهِ .

Narrator: বিবিধ

৬২৫০। আব্দুল্লাহ ইবনে আব্দুর রহমান দারিমী (রাযিঃ) ......... থেকে যুহুরী (রাহঃ) থেকে মা’মার (রাহঃ) তাঁর সনদে অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন।

6251
حَدَّثَنِي هَارُونُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، وَحَجَّاجُ بْنُ الشَّاعِرِ، قَالاَ حَدَّثَنَا حَجَّاجُ بْنُ مُحَمَّدٍ، قَالَ قَالَ ابْنُ جُرَيْجٍ أَخْبَرَنِي أَبُو الزُّبَيْرِ، أَنَّهُ سَمِعَ جَابِرَ بْنَ عَبْدِ اللَّهِ، يَقُولُ سَمِعْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ قَبْلَ أَنْ يَمُوتَ بِشَهْرٍ " تَسْأَلُونِي عَنِ السَّاعَةِ وَإِنَّمَا عِلْمُهَا عِنْدَ اللَّهِ وَأُقْسِمُ بِاللَّهِ مَا عَلَى الأَرْضِ مِنْ نَفْسٍ مَنْفُوسَةٍ تَأْتِي عَلَيْهَا مِائَةُ سَنَةٍ " .
حَدَّثَنِيهِ مُحَمَّدُ بْنُ حَاتِمٍ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَكْرٍ، أَخْبَرَنَا ابْنُ جُرَيْجٍ، بِهَذَا الإِسْنَادِ وَلَمْ يَذْكُرْ قَبْلَ مَوْتِهِ بِشَهْرٍ .

Narrator: জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ আনসারী (রাঃ)

৬২৫১। হারুন ইবনে আব্দুল্লাহ ও হাজ্জাজ ইবনে শা’ইর (রাহঃ) ......... জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন যে, আমি নবী (ﷺ) কে তাঁর ইন্‌তিকালের এক মাস পূর্বে বলতে শুনেছি যে, তোমরা আমাকে কিয়ামত সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করছ, অথচ তার জ্ঞান তো আল্লাহরই কাছে। আমি আল্লাহর কসম করে বলছি যে, পৃথিবীতে এমন কোন প্রাণবন্ত জীব নেই, যার উপর একশ বছর পূর্ণ হবে।

মুহাম্মাদ ইবনে হাতিম (রাহঃ) ......... ইবনে জুরায়জের সূত্রে এই সনদে হাদীস বর্ণনা করেছেন। তবে তিনি ″তার ওফাতের এক মাস পূর্বে″ কথাটি উল্লেখ করেননি।
6252
حَدَّثَنِي يَحْيَى بْنُ حَبِيبٍ، وَمُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الأَعْلَى، كِلاَهُمَا عَنِ الْمُعْتَمِرِ، قَالَ ابْنُ حَبِيبٍ حَدَّثَنَا مُعْتَمِرُ بْنُ سُلَيْمَانَ، قَالَ سَمِعْتُ أَبِي، حَدَّثَنَا أَبُو نَضْرَةَ، عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ قَالَ ذَلِكَ قَبْلَ مَوْتِهِ بِشَهْرٍ أَوْ نَحْوِ ذَلِكَ " مَا مِنْ نَفْسٍ مَنْفُوسَةٍ الْيَوْمَ تَأْتِي عَلَيْهَا مِائَةُ سَنَةٍ وَهْىَ حَيَّةٌ يَوْمَئِذٍ " .

وَعَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، صَاحِبِ السِّقَايَةِ عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم بِمِثْلِ ذَلِكَ وَفَسَّرَهَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ قَالَ نَقْصُ الْعُمُرِ .

Narrator: জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ আনসারী (রাঃ)

৬২৫২। ইয়াহয়া ইবনে হাবীব ও মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল আ’লা (রাহঃ) ......... জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ (রাযিঃ) সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে বর্ণিত। তিনি তাঁর ইন্‌তিকালের একমাস পূর্বে বা অনুরূপ সময়ে বলেছেন যে, যেসব প্রাণীধারী আজ জীবিত আছে, তাদের উপর একশ বছর অতিবাহিত হতেই তারাও সেদিন জীবিত থাকবে না। ‘সিকায়া’ গ্রন্থাকার আব্দুর রহমান (রাহঃ) ......... জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ (রাযিঃ) সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে অনুরূপ বর্ণিত। আব্দুর-রহমান (রাহঃ) ″আয়ু হ্রাস″ পাওয়া দ্বারা এর ব্যাখ্যা করেছেন।

6253

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ، أَخْبَرَنَا سُلَيْمَانُ التَّيْمِيُّ، بِالإِسْنَادَيْنِ جَمِيعًا . مِثْلَهُ .

Narrator: সুলাইমান আত তাইমী (রহঃ)

৬২৫৩। আবু বকর ইবনে আবি শাঈবা (রাহঃ) ......... সুলাইমান তাইমী (রাহঃ) সূত্রে দুই সনদে তাঁর অনুরূপ বর্ণনা করেন।

6254

حَدَّثَنَا ابْنُ نُمَيْرٍ، حَدَّثَنَا أَبُو خَالِدٍ، عَنْ دَاوُدَ، وَاللَّفْظُ، لَهُ ح وَحَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي، شَيْبَةَ حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ حَيَّانَ، عَنْ دَاوُدَ، عَنْ أَبِي نَضْرَةَ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ، قَالَ لَمَا رَجَعَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم مِنْ تَبُوكَ سَأَلُوهُ عَنِ السَّاعَةِ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " لاَ تَأْتِي مِائَةُ سَنَةٍ وَعَلَى الأَرْضِ نَفْسٌ مَنْفُوسَةٌ الْيَوْمَ " .

Narrator: হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ)

৬২৫৪। ইবনে নুমাইর (রাহঃ) অন্য সূত্রে আবু বকর ইবনে আবি শাঈবা (রাহঃ) ......... আবু সাঈদ খুদরী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) তাবুক অভিযান থেকে ফিরে এলে লোকেরা তাঁকে কিয়ামত সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করল। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ একশ বছর অতিক্রান্ত হলে এখনকার কোন ব্যক্তি জীবিত থাকবে না।

6255

حَدَّثَنِي إِسْحَاقُ بْنُ مَنْصُورٍ، أَخْبَرَنَا أَبُو الْوَلِيدِ، أَخْبَرَنَا أَبُو عَوَانَةَ، عَنْ حُصَيْنٍ، عَنْ سَالِمٍ، عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ قَالَ نَبِيُّ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " مَا مِنْ نَفْسٍ مَنْفُوسَةٍ تَبْلُغُ مِائَةَ سَنَةٍ " . فَقَالَ سَالِمٌ تَذَاكَرْنَا ذَلِكَ عِنْدَهُ إِنَّمَا هِيَ كُلُّ نَفْسٍ مَخْلُوقَةٍ يَوْمَئِذٍ .

Narrator: জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ আনসারী (রাঃ)

৬২৫৫। ইসহাক ইবনে মনসুর (রাহঃ) ......... জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) বলেছেনঃ কোন জীবন (ব্যক্তি) শতবর্ষ পর্যন্ত পৌছবে না। তখন সালিম (রাহঃ) বললেন, আমরা বিষয়টি তাঁর (জাবির) নিকট উল্লেখ করলাম। তিনি বললেন, এই কথা দ্বারা আজকের সৃষ্ট সকল প্রাণধারীকে বুঝানো হয়েছে।

৫৪. সাহাবী (রাযিঃ)-গণকে গালমন্দ করা হারাম

باب تَحْرِيمِ سَبِّ الصَّحَابَةِ رضى الله عنهم

6256

حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ يَحْيَى التَّمِيمِيُّ، وَأَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ وَمُحَمَّدُ بْنُ الْعَلاَءِ قَالَ يَحْيَى أَخْبَرَنَا وَقَالَ الآخَرَانِ، حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِي، هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " لاَ تَسُبُّوا أَصْحَابِي لاَ تَسُبُّوا أَصْحَابِي فَوَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ لَوْ أَنَّ أَحَدَكُمْ أَنْفَقَ مِثْلَ أُحُدٍ ذَهَبًا مَا أَدْرَكَ مُدَّ أَحَدِهِمْ وَلاَ نَصِيفَهُ " .

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৬২৫৬। ইয়াহয়া ইবনে ইয়াহয়া তামিমী, আবু বকর ইবনে আবি শাঈবা ও মুহাম্মাদ ইবনুল আ’লা (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ তোমরা আমার সাহাবীগণকে গালমন্দ করো না। তোমরা আমার সাহাবীগণকে গালমন্দ করবে না। সেই সত্তার কসম, যার হাতে আমার জীবন, যদি তোমাদের মধ্যে কেউ উহুদ পাহাড় বরাবর স্বর্ণ ব্যয় করে তাহলেও তাঁদের কারো এক মুদ অথবা অর্ধ মুদ্দের সমান হবে না।

6257

حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا جَرِيرٌ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِي، سَعِيدٍ قَالَ كَانَ بَيْنَ خَالِدِ بْنِ الْوَلِيدِ وَبَيْنَ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَوْفٍ شَىْءٌ فَسَبَّهُ خَالِدٌ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " لاَ تَسُبُّوا أَحَدًا مِنْ أَصْحَابِي فَإِنَّ أَحَدَكُمْ لَوْ أَنْفَقَ مِثْلَ أُحُدٍ ذَهَبًا مَا أَدْرَكَ مُدَّ أَحَدِهِمْ وَلاَ نَصِيفَهُ " .

Narrator: হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ)

৬২৫৭। উসমান ইবনে আবি শাঈবা (রাহঃ) ......... আবু সাঈদ খুদরী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একবার খালিদ ইবনে ওয়ালীদ ও আব্দুর রহমান ইবনে আউফ (রাযিঃ) এর মধ্যে (অপ্রীতিকর) কিছু একটা ঘটেলছিল। তখন খালিদ (রাযিঃ) তাকে গালি দেন। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ তোমরা আমার সাহাবীদের কাউকে গালি দিবে না। কেননা, তোমাদের কেউ যদি উহুদ পাহাড় সমান স্বর্ণ ব্যয় করে তাহলেও তাঁদের এক মুদ্দ কিংবা অর্ধ মুদ্দের সমান হবে না।

6258

حَدَّثَنَا أَبُو سَعِيدٍ الأَشَجُّ، وَأَبُو كُرَيْبٍ قَالاَ حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، عَنِ الأَعْمَشِ، ح وَحَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ مُعَاذٍ، حَدَّثَنَا أَبِي ح، وَحَدَّثَنَا ابْنُ الْمُثَنَّى، وَابْنُ، بَشَّارٍ قَالاَ حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي عَدِيٍّ، جَمِيعًا عَنْ شُعْبَةَ، عَنِ الأَعْمَشِ، بِإِسْنَادِ جَرِيرٍ وَأَبِي مُعَاوِيَةَ . بِمِثْلِ حَدِيثِهِمَا وَلَيْسَ فِي حَدِيثِ شُعْبَةَ وَوَكِيعٍ ذِكْرُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَوْفٍ وَخَالِدِ بْنِ الْوَلِيدِ .

Narrator: বিবিধ

৬২৫৮। আবু সাঈদ আশাজ্জ ও আবু কুরায়ব (রাহঃ) ......... অন্য সূত্রে উবাইদুল্লাহ ইবনে মুআয (রাহঃ) আরেক সূত্রে ইবনুল মুসান্না ও ইবনে বাশশার (রাহঃ) আ’মাশ (রাহঃ) থেকে জারীর ও আবু মুআবিয়ার সনদে তাঁদের হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। তবে শু’বা ও ওয়াকী এর হাদীসে আব্দুর রহমান ইবনে আউফ (রাযিঃ) ও খালিদ ইবনে ওয়ালীদ (রাযিঃ) এর উল্লেখ নেই।

৫৫. উওয়াইস করনী (রাহঃ) এর ফযীলত

باب مِنْ فَضَائِلِ أُوَيْسٍ الْقَرَنِيِّ رضى الله عنه

6259

حَدَّثَنِي زُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، حَدَّثَنَا هَاشِمُ بْنُ الْقَاسِمِ، حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ الْمُغِيرَةِ، حَدَّثَنِي سَعِيدٌ الْجُرَيْرِيُّ، عَنْ أَبِي نَضْرَةَ، عَنْ أُسَيْرِ بْنِ جَابِرٍ، أَنَّ أَهْلَ الْكُوفَةِ، وَفَدُوا، إِلَى عُمَرَ وَفِيهِمْ رَجُلٌ مِمَّنْ كَانَ يَسْخَرُ بِأُوَيْسٍ فَقَالَ عُمَرُ هَلْ هَا هُنَا أَحَدٌ مِنَ الْقَرَنِيِّينَ فَجَاءَ ذَلِكَ الرَّجُلُ فَقَالَ عُمَرُ إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَدْ قَالَ " إِنَّ رَجُلاً يَأْتِيكُمْ مِنَ الْيَمَنِ يُقَالُ لَهُ أُوَيْسٌ لاَ يَدَعُ بِالْيَمَنِ غَيْرَ أُمٍّ لَهُ قَدْ كَانَ بِهِ بَيَاضٌ فَدَعَا اللَّهَ فَأَذْهَبَهُ عَنْهُ إِلاَّ مَوْضِعَ الدِّينَارِ أَوِ الدِّرْهَمِ فَمَنْ لَقِيَهُ مِنْكُمْ فَلْيَسْتَغْفِرْ لَكُمْ " .

Narrator: উসায়র ইবনে জাবির (রহঃ)

৬২৫৯। যুহাইর ইবনে হারব (রাহঃ) ......... উসায়র ইবনে জাবির (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, কুফার একটি প্রতিনিধি দল উমর (রাযিঃ) এর কাছে এলো। তাদের মধ্যে এমন এক ব্যক্তিও ছিল, যে উওয়াইস (রাহঃ) কে উপহাস করত। তখন উমর (রাযিঃ) বললেন, এখানে করনী গোত্রের কোন লোক আছে কি? তখন সেই লোকটি এলো। এরপর উমর (রাযিঃ) বললেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ তোমাদের কাছে ইয়ামান থেকে এক ব্যক্তি আসবে, যে উওয়াইস নামে পরিচিত। ইয়ামানে তাঁর মা ব্যতীত কেউ থাকবে না। তার শ্বেতরোগ হয়েছিল। সে আল্লাহর কাছে দুআ করার বদৌলতে আল্লাহ তাকে শ্বেত রোগ মুক্ত করে দেন। তবে কেবল মাত্র এক দীনার অথবা এক দিরহাম পরিমাণ স্থান বাকী থাকে। তোমাদের মধ্য থেকে যদি কেউ তাঁর সাক্ষাত পায় সে যেন নিজের জন্য তাঁর কাছে মাগফিরাতের দুআ কামনা করে।

৫৫. উওয়াস করনী (রাহঃ) এর ফযীলত

باب مِنْ فَضَائِلِ أُوَيْسٍ الْقَرَنِيِّ رضى الله عنه

6260

حَدَّثَنَا زُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، وَمُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، قَالاَ حَدَّثَنَا عَفَّانُ بْنُ مُسْلِمٍ، حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، - وَهُوَ ابْنُ سَلَمَةَ - عَنْ سَعِيدٍ الْجُرَيْرِيِّ، بِهَذَا الإِسْنَادِ عَنْ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ، قَالَ إِنِّي سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " إِنَّ خَيْرَ التَّابِعِينَ رَجُلٌ يُقَالُ لَهُ أُوَيْسٌ وَلَهُ وَالِدَةٌ وَكَانَ بِهِ بَيَاضٌ فَمُرُوهُ فَلْيَسْتَغْفِرْ لَكُمْ " .

Narrator: হযরত উমর ইবনুল খাত্তাব রাযি.

৬২৬০। যুহাইর ইবনে হারব ও মুহাম্মাদ ইবনে মুসান্না (রাহঃ) ......... উমর ইবনুল খাত্তাব (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে বলতে শুনেছি যে, অবশ্যই তাবিঈনগণের মধ্যে সেই ব্যক্তি শ্রেষ্ঠ যে উওয়াস নামে পরিচিত। তাঁর একমাত্র মা আছে এবং তার শ্বেত রোগ হয়েছিল। তোমরা তাঁর কাছে অনুরোধ করবে যেন সে তোমাদের মাগফিরাতের জন্য দুআ করে।

৫৫. উওয়াইস করনী (রাহঃ) এর ফযীলত

باب مِنْ فَضَائِلِ أُوَيْسٍ الْقَرَنِيِّ رضى الله عنه

6261

حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ الْحَنْظَلِيُّ، وَمُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، وَمُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، - قَالَ إِسْحَاقُ أَخْبَرَنَا وَقَالَ الآخَرَانِ، حَدَّثَنَا - وَاللَّفْظُ، لاِبْنِ الْمُثَنَّى - حَدَّثَنَا مُعَاذُ بْنُ هِشَامٍ، حَدَّثَنِي أَبِي، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ زُرَارَةَ بْنِ أَوْفَى، عَنْ أُسَيْرِ بْنِ جَابِرٍ، قَالَ كَانَ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ إِذَا أَتَى عَلَيْهِ أَمْدَادُ أَهْلِ الْيَمَنِ سَأَلَهُمْ أَفِيكُمْ أُوَيْسُ بْنُ عَامِرٍ حَتَّى أَتَى عَلَى أُوَيْسٍ فَقَالَ أَنْتَ أُوَيْسُ بْنُ عَامِرٍ قَالَ نَعَمْ . قَالَ مِنْ مُرَادٍ ثُمَّ مِنْ قَرَنٍ قَالَ نَعَمْ . قَالَ فَكَانَ بِكَ بَرَصٌ فَبَرَأْتَ مِنْهُ إِلاَّ مَوْضِعَ دِرْهَمٍ قَالَ نَعَمْ . قَالَ لَكَ وَالِدَةٌ قَالَ نَعَمْ . قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " يَأْتِي عَلَيْكُمْ أُوَيْسُ بْنُ عَامِرٍ مَعَ أَمْدَادِ أَهْلِ الْيَمَنِ مِنْ مُرَادٍ ثُمَّ مِنْ قَرَنٍ كَانَ بِهِ بَرَصٌ فَبَرَأَ مِنْهُ إِلاَّ مَوْضِعَ دِرْهَمٍ لَهُ وَالِدَةٌ هُوَ بِهَا بَرٌّ لَوْ أَقْسَمَ عَلَى اللَّهِ لأَبَرَّهُ فَإِنِ اسْتَطَعْتَ أَنْ يَسْتَغْفِرَ لَكَ فَافْعَلْ " . فَاسْتَغْفِرْ لِي . فَاسْتَغْفَرَ لَهُ . فَقَالَ لَهُ عُمَرُ أَيْنَ تُرِيدُ قَالَ الْكُوفَةَ . قَالَ أَلاَ أَكْتُبُ لَكَ إِلَى عَامِلِهَا قَالَ أَكُونُ فِي غَبْرَاءِ النَّاسِ أَحَبُّ إِلَىَّ . قَالَ فَلَمَّا كَانَ مِنَ الْعَامِ الْمُقْبِلِ حَجَّ رَجُلٌ مِنْ أَشْرَافِهِمْ فَوَافَقَ عُمَرَ فَسَأَلَهُ عَنْ أُوَيْسٍ قَالَ تَرَكْتُهُ رَثَّ الْبَيْتِ قَلِيلَ الْمَتَاعِ . قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " يَأْتِي عَلَيْكُمْ أُوَيْسُ بْنُ عَامِرٍ مَعَ أَمْدَادِ أَهْلِ الْيَمَنِ مِنْ مُرَادٍ ثُمَّ مِنْ قَرَنٍ كَانَ بِهِ بَرَصٌ فَبَرَأَ مِنْهُ إِلاَّ مَوْضِعَ دِرْهَمٍ لَهُ وَالِدَةٌ هُوَ بِهَا بَرٌّ لَوْ أَقْسَمَ عَلَى اللَّهِ لأَبَرَّهُ فَإِنِ اسْتَطَعْتَ أَنْ يَسْتَغْفِرَ لَكَ فَافْعَلْ " . فَأَتَى أُوَيْسًا فَقَالَ اسْتَغْفِرْ لِي . قَالَ أَنْتَ أَحْدَثُ عَهْدًا بِسَفَرٍ صَالِحٍ فَاسْتَغْفِرْ لِي . قَالَ اسْتَغْفِرْ لِي . قَالَ أَنْتَ أَحْدَثُ عَهْدًا بِسَفَرٍ صَالِحٍ فَاسْتَغْفِرْ لِي . قَالَ لَقِيتَ عُمَرَ قَالَ نَعَمْ . فَاسْتَغْفَرَ لَهُ . فَفَطِنَ لَهُ النَّاسُ فَانْطَلَقَ عَلَى وَجْهِهِ . قَالَ أُسَيْرٌ وَكَسَوْتُهُ بُرْدَةً فَكَانَ كُلَّمَا رَآهُ إِنْسَانٌ قَالَ مِنْ أَيْنَ لأُوَيْسٍ هَذِهِ الْبُرْدَةُ

Narrator: উসায়র ইবনে জাবির (রহঃ)

৬২৬১। ইসহাক ইবনে ইবরাহীম হানযালী, মুহাম্মাদ ইবনে মুসান্না ও মুহাম্মাদ ইবনে বাশশার (রাহঃ) ......... উসায়র ইবনে জাবির (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, উমর ইবনে খাত্তাব (রাযিঃ) এর অভ্যাস ছিল, যখন ইয়ামানের কোন সাহায্যকারী দল তার কাছে আসত তখন তিনি তাঁদের জিজ্ঞাসা করতেন, তোমাদের মধ্যে কি উওয়াইস ইবনে আমির আছে? অবশেষে তিনি উওয়াসকে পান। তখন তিনি বললেন, তুমি কি উওয়াইস ইবনে আমির? তিনি বললেন, হ্যাঁ। তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, মুরাদ গোত্রের কারান বংশের? বললেন, হ্যাঁ। জিজ্ঞাসা করলেন, তোমার কি শ্বেত রোগ ছিল এবং তা নিরাময় হয়েছে, কেবলমাত্র এক দিরহাম স্থান ব্যতীত? তিনি বললেন, হ্যাঁ। তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, তোমার মা কি আছেন? তিনি বললেন, হ্যাঁ।

তখন উমর (রাযিঃ) বললেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেনঃ “তোমাদের কাছে মুরাদ গোত্রের কারান বংশের উওয়াইস ইবনে আমির ইয়ামানের সাহায্যকারী দলের সঙ্গে আসবে। তাঁর ছিল শ্বেত রোগ। পরে তা নিরাময় হয়ে গিয়েছে। কেবলমাত্র এক দিরহাম ব্যতিরেকে। তার মা রয়েছেন। সে তাঁর প্রতি অতি সেবাপরায়ন। এমন ব্যক্তি আল্লাহর উপর কসম করে নিলে আল্লাহ তা পূর্ণ করে দেন। কাজেই যদি তুমি তোমার জন্য তার কাছে মাগফিরাতের দুআ কামনার সুযোগ পাও তাহলে তা করবে।” সুতরাং আপনি আমার জন্য মাগফিরাতের দুআ করুন।

তখন উওয়াইস (রাহঃ) তার মাগফিরাতের জন্য দুআ করলেন। এরপর উমর (রাযিঃ) তাকে বললেন, তুমি কোথায় যেতে চাও? তিনি বললেন, কুফা এলাকায়। উমর (রাযিঃ) বললেন, আমি কি তোমার জন্য কুফার গভর্ণরের কাছে চিঠি লিখে দেব? তিনি বললেন, আমি অখ্যাত গরীব লোকদের মধ্যে থাকাই পছন্দ করি।

বর্ণনাকারী বলেন, পরবর্তী বছরে তাদের অভিজাত লোকদের মধ্যে এক ব্যক্তি হজ্জ করতে এলো এবং উমর (রাযিঃ) এর সঙ্গে তার সাক্ষাত হল। তখন তিনি তাকে উওয়াইস কারানী (রাহঃ) এর অবস্থা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলেন। সে বলল, আমি তাঁকে জীর্ণ ঘরে সম্পদহীন অবস্থায় রেখে এসেছি। তিনি বললেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে বলতে শুনেছি যে, তিনি বলেছেনঃ তোমাদের কাছে কারান বংশের মুরাদ গোত্রের উওয়াইস ইবনে আমির (রাহঃ) ইয়ামানের সাহায্যকারীর সেনাদলের সঙ্গে আসবে। তার শ্বেত রোগ ছিল। সে তা থেকে আরোগ্য লাভ করে, এক দিরহাম পরিমাণ স্থান ব্যতীত। তাঁর মা রয়েছেন, সে তার অতি সেবাপরায়ণ। যদি সে আল্লাহর নামে কসম খায় তবে আল্লাহ তাআলা তা পূর্ণ করে দেন। তোমরা নিজের জন্য তাঁর কাছে মাগফিরাতের দুআ চাওয়ার সুযোগ পেলে তা করবে।

পরে অভিজাত সে ব্যক্তি উওয়াইস (রাহঃ) এর কাছে এল এবং বলল, আমার জন্য মাগফিরাত এর দুআ করুন। তিনি বললেন, আপনি তো নেক সফর (হজ্জের সফর) থেকে সদ্য আগত। সুতরাং আপনি আমার জন্য মাগফিরাতের দুআ করুন। সে ব্যক্তি বলল আপনি আমার জন্য মাগফিরাতের এর দুআ করুন। উওয়াইস (রাহঃ) বললেন, আপনি সদ্য নেক সফর থেকে এসেছেন আপনি আমার জন্য মাগফিরাতের এর দুআ করুন।

এরপর তিনি বললেন। আপনি কি উমর (রাযিঃ) এর সাক্ষাত লাভ করেছেন? সে বললঃ হ্যাঁ। তখন তিনি তার জন্য মাগফিরাতের দুআ করলেন। তখন লোকেরা তার (মর্যাদা) সম্পর্কে অবহিত হল। তারপর তিনি যেদিকে মুখ সেদিকে চললেন (অর্থাৎ নিরুদ্দেশ হয়ে গেলেন)। উসাইর (রাহঃ) বলেন, আমি তাকে একখানি ডোরাদার চাদর দিয়েছিলাম। এরপর যখন কোন ব্যক্তি তাকে দেখত তখন বলত, উওয়াসার এই চাদরখানি কোথায় গেল?

৫৬. মিসরবাসীদের ব্যাপারে নবী (ﷺ) এর ওসীয়্যত

باب وَصِيَّةِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم بِأَهْلِ مِصْرَ

6262

حَدَّثَنِي أَبُو الطَّاهِرِ، أَخْبَرَنَا ابْنُ وَهْبٍ، أَخْبَرَنِي حَرْمَلَةُ، ح وَحَدَّثَنِي هَارُونُ بْنُ، سَعِيدٍ الأَيْلِيُّ حَدَّثَنَا ابْنُ وَهْبٍ، حَدَّثَنِي حَرْمَلَةُ، - وَهُوَ ابْنُ عِمْرَانَ التُّجِيبِيُّ - عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، بْنِ شُمَاسَةَ الْمَهْرِيِّ قَالَ سَمِعْتُ أَبَا ذَرٍّ، يَقُولُ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " إِنَّكُمْ سَتَفْتَحُونَ أَرْضًا يُذْكَرُ فِيهَا الْقِيرَاطُ فَاسْتَوْصُوا بِأَهْلِهَا خَيْرًا فَإِنَّ لَهُمْ ذِمَّةً وَرَحِمًا فَإِذَا رَأَيْتُمْ رَجُلَيْنِ يَقْتَتِلاَنِ فِي مَوْضِعِ لَبِنَةٍ فَاخْرُجْ مِنْهَا " . قَالَ فَمَرَّ بِرَبِيعَةَ وَعَبْدِ الرَّحْمَنِ ابْنَىْ شُرَحْبِيلَ بْنِ حَسَنَةَ يَتَنَازَعَانِ فِي مَوْضِعِ لَبِنَةٍ فَخَرَجَ مِنْهَا .

Narrator: হযরত আবু যার গিফারী (রাঃ)

৬২৬২। আবু তাহির ও হারুন ইবনে সাঈদ আইলী (রাহঃ) ......... আবু যর গিফারী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ(ﷺ) বলেছেনঃ অচিরেই তোমরা এমন একটি দেশ জয় করবে, যেখানে কীরাতের প্রচলন রয়েছে। তোমরা সেখানকার অধিবাসীদের সাথে ভাল ব্যবহার করবে। কেননা (তোমাদের উপর) তাদের প্রতি রয়েছে যিম্মাদারী দায়বোধ এবং আত্মীয়তা। যদি তোমরা সেখানে দু’ ব্যক্তিকে একখানি ইটের জায়গার ব্যপারে ঝগড়া করতে দেখ তাহলে সেখান থেকে বেরিয়ে পড়বে। বর্ণনাকারী বলেন, এরপর তিনি (আবু যর) সূরাহবীল ইবনে হাসানার দুই পুত্র রাবী’আ ও আব্দুর রহমানের নিকট দিয়ে যাবার সময় একটি ইটের জায়গা নিয়ে ঝগড়া করতে দেখলেন। তখন তিনি সেখান থেকে বেরিয়ে পড়লেন।

6263

حَدَّثَنِي زُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، وَعُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ سَعِيدٍ، قَالاَ حَدَّثَنَا وَهْبُ بْنُ جَرِيرٍ، حَدَّثَنَا أَبِي، سَمِعْتُ حَرْمَلَةَ الْمِصْرِيَّ، يُحَدِّثُ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ شُمَاسَةَ، عَنْ أَبِي بَصْرَةَ، عَنْ أَبِي، ذَرٍّ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " إِنَّكُمْ سَتَفْتَحُونَ مِصْرَ وَهِيَ أَرْضٌ يُسَمَّى فِيهَا الْقِيرَاطُ فَإِذَا فَتَحْتُمُوهَا فَأَحْسِنُوا إِلَى أَهْلِهَا فَإِنَّ لَهُمْ ذِمَّةً وَرَحِمًا " . أَوْ قَالَ " ذِمَّةً وَصِهْرًا فَإِذَا رَأَيْتَ رَجُلَيْنِ يَخْتَصِمَانِ فِيهَا فِي مَوْضِعِ لَبِنَةٍ فَاخْرُجْ مِنْهَا " . قَالَ فَرَأَيْتُ عَبْدَ الرَّحْمَنِ بْنَ شُرَحْبِيلَ بْنِ حَسَنَةَ وَأَخَاهُ رَبِيعَةَ يَخْتَصِمَانِ فِي مَوْضِعِ لَبِنَةٍ فَخَرَجْتُ مِنْهَا .

Narrator: হযরত আবু যার গিফারী (রাঃ)

৬২৬৩। যুহাইর ইবনে হারব ও উবাইদুল্লাহ ইবনে সাঈদ (রাহঃ) ......... আবু যর গিফারী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ অচিরেই তোমরা মিসর জয় করবে। সেটা এমন একটি দেশ, যেখানে ‘কীরাত’ নামের মুদ্রা প্রচলিত। যখন তোমরা সেই দেশ জয় করবে তখন সেখানকার অধিবাসীদের সঙ্গে সদাচরণ করবে। কেননা তাদের জন্য রয়েছে দায়িত্ব ও আত্মীয়তার সম্পর্ক। অথবা তিনি বলেছেনঃ যিম্মাদারী ও দাম্পত্য সম্পর্কে রয়েছে। যখন তোমরা সেখানে দু’ব্যক্তিকে একখানি ইটের জায়গা নিয়ে ঝগড়া করতে দেখবে তখন সেখান থেকে সরে পড়বে।

রাবী আবু যর (রাযিঃ) বলেন, এরপর আমি যখন আব্দুর রহমান ইবনে শুরাহবীল ইবনে হাসান ও তার ভাই রাবী’আকে একখানি ইটের জায়গা নিয়ে ঝগড়া করতে দেখলাম তখন আমি সেখান থেকে বেরিয়ে পড়লাম।

৫৭. উমানের অধিবাসীগণের ফযীলত

باب فَضْلِ أَهْلِ عُمَانَ

6264

حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ مَنْصُورٍ، حَدَّثَنَا مَهْدِيُّ بْنُ مَيْمُونٍ، عَنْ أَبِي الْوَازِعِ، جَابِرِ بْنِ عَمْرٍو الرَّاسِبِيِّ سَمِعْتُ أَبَا بَرْزَةَ، يَقُولُ بَعَثَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم رَجُلاً إِلَى حَىٍّ مِنْ أَحْيَاءِ الْعَرَبِ فَسَبُّوهُ وَضَرَبُوهُ فَجَاءَ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَأَخْبَرَهُ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " لَوْ أَنَّ أَهْلَ عُمَانَ أَتَيْتَ مَا سَبُّوكَ وَلاَ ضَرَبُوكَ " .

Narrator: হযরত আবু বারযা আসলামী রাযি.

৬২৬৪। সাঈদ ইবনে মানসুর (রাহঃ) ......... আবু বারযাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এক ব্যক্তিকে কোন এক আরব গোত্রের কাছে পাঠালেন। তারা তাকে গালি গালাজ ও মারপিট করল। সে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কাছে এসে তাকে ঘটনা অবহিত করল। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ যদি তুমি উমানের অধিবাসীদের কাছে যেতে তাহলে তারা তোমাকে গালি দিত না এবং প্রহারও করত না।

৫৮. ছাকীফ গোত্রের মিথ্যাবাদী ও দুর্ধর্ষ খুনীর বর্ণনা

باب ذِكْرِ كَذَّابِ ثَقِيفٍ وَمُبِيرِهَا

6265

حَدَّثَنَا عُقْبَةُ بْنُ مُكْرَمٍ الْعَمِّيُّ، حَدَّثَنَا يَعْقُوبُ، - يَعْنِي ابْنَ إِسْحَاقَ الْحَضْرَمِيَّ - أَخْبَرَنَا الأَسْوَدُ بْنُ شَيْبَانَ، عَنْ أَبِي نَوْفَلٍ، رَأَيْتُ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ الزُّبَيْرِ عَلَى عَقَبَةِ الْمَدِينَةِ - قَالَ - فَجَعَلَتْ قُرَيْشٌ تَمُرُّ عَلَيْهِ وَالنَّاسُ حَتَّى مَرَّ عَلَيْهِ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ فَوَقَفَ عَلَيْهِ فَقَالَ السَّلاَمُ عَلَيْكَ أَبَا خُبَيْبٍ السَّلاَمُ عَلَيْكَ أَبَا خُبَيْبٍ السَّلاَمُ عَلَيْكَ أَبَا خُبَيْبٍ أَمَا وَاللَّهِ لَقَدْ كُنْتُ أَنْهَاكَ عَنْ هَذَا أَمَا وَاللَّهِ لَقَدْ كُنْتُ أَنْهَاكَ عَنْ هَذَا أَمَا وَاللَّهِ لَقَدْ كُنْتُ أَنْهَاكَ عَنْ هَذَا أَمَا وَاللَّهِ إِنْ كُنْتَ مَا عَلِمْتُ صَوَّامًا قَوَّامًا وَصُولاً لِلرَّحِمِ أَمَا وَاللَّهِ لأُمَّةٌ أَنْتَ أَشَرُّهَا لأُمَّةٌ خَيْرٌ . ثُمَّ نَفَذَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ فَبَلَغَ الْحَجَّاجَ مَوْقِفُ عَبْدِ اللَّهِ وَقَوْلُهُ فَأَرْسَلَ إِلَيْهِ فَأُنْزِلَ عَنْ جِذْعِهِ فَأُلْقِيَ فِي قُبُورِ الْيَهُودِ ثُمَّ أَرْسَلَ إِلَى أُمِّهِ أَسْمَاءَ بِنْتِ أَبِي بَكْرٍ فَأَبَتْ أَنْ تَأْتِيَهُ فَأَعَادَ عَلَيْهَا الرَّسُولَ لَتَأْتِيَنِّي أَوْ لأَبْعَثَنَّ إِلَيْكِ مِنْ يَسْحَبُكِ بِقُرُونِكِ - قَالَ - فَأَبَتْ وَقَالَتْ وَاللَّهِ لاَ آتِيكَ حَتَّى تَبْعَثَ إِلَىَّ مَنْ يَسْحَبُنِي بِقُرُونِي - قَالَ - فَقَالَ أَرُونِي سِبْتَىَّ . فَأَخَذَ نَعْلَيْهِ ثُمَّ انْطَلَقَ يَتَوَذَّفُ حَتَّى دَخَلَ عَلَيْهَا فَقَالَ كَيْفَ رَأَيْتِنِي صَنَعْتُ بِعَدُوِّ اللَّهِ قَالَتْ رَأَيْتُكَ أَفْسَدْتَ عَلَيْهِ دُنْيَاهُ وَأَفْسَدَ عَلَيْكَ آخِرَتَكَ بَلَغَنِي أَنَّكَ تَقُولُ لَهُ يَا ابْنَ ذَاتِ النِّطَاقَيْنِ أَنَا وَاللَّهِ ذَاتُ النِّطَاقَيْنِ أَمَّا أَحَدُهُمَا فَكُنْتُ أَرْفَعُ بِهِ طَعَامَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَطَعَامَ أَبِي بَكْرٍ مِنَ الدَّوَابِّ وَأَمَّا الآخَرُ فَنِطَاقُ الْمَرْأَةِ الَّتِي لاَ تَسْتَغْنِي عَنْهُ أَمَا إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم حَدَّثَنَا " أَنَّ فِي ثَقِيفٍ كَذَّابًا وَمُبِيرًا " . فَأَمَّا الْكَذَّابُ فَرَأَيْنَاهُ وَأَمَّا الْمُبِيرُ فَلاَ إِخَالُكَ إِلاَّ إِيَّاهُ - قَالَ - فَقَامَ عَنْهَا وَلَمْ يُرَاجِعْهَا .

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

৬২৬৫। উকবা ইবনে মুকরাম আল-আম্মী (রাহঃ) ......... আবু নাওফাল (রাহঃ) বলেন যে, আমি (মক্কায়) আকাবাতুল মদীনা নামক ঘাঁটিতে আব্দুল্লাহ ইবনে যুবাইর (রাযিঃ) কে (শুলীকাষ্ঠে ঝুলতে) দেখতে পেলাম। বর্ণনাকারী বলেন, তখন কুরাইশী ও অন্যান্য লোকজন তাঁর নিকট দিয়ে যাচ্ছিল। অবশেষে আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাযিঃ) তাঁর নিকট দিয়ে যাওয়ার সময় থামলেন এবং বললেন, আসসালামু আলাইকা ইয়া আবু খুবাইব, আসসালামু আলাইকা ইয়া আবু খুবাইব, আসসালামু আলাইকা ইয়া আবু খুবাইব। আল্লাহর কসম! আমি অবশ্য আপনাকে এ থেকে বিরত থাকতে বলেছিলাম, আমি অবশ্য আপনাকে এ থেকে বিরত থাকতে বলেছিলাম, আমি অবশ্য আপনাকে এ থেকে বিরত থাকতে বলেছিলাম।

আল্লাহর কসম! আমি যতদূর জানি আপনি ছিলেন অত্যধিক (নফল) রোযা পালনকারী, অত্যধিক নামায আদায়কারী এবং আত্মীয়তার সম্পর্ক অধিক রক্ষাকারী। আল্লাহর কসম, যে উম্মতের আপনি নিকৃষ্ট ব্যক্তি (যদি তা-ই বাস্তব হয়) তবে সে উম্মতে অবশ্যই শ্রেষ্ঠ উম্মত। এরপর আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাযিঃ) সেখান থেকে চলে গেলেন। আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাযিঃ) এর এই অবস্থান (থামা) ও তাঁর বক্তব্য হাজ্জাজ্জের কানে পৌঁছল। তখন সে আব্দুল্লাহ ইবনে যুবাইরের কাছে লোক পাঠাল এবং তাঁকে শূলীর উপর থেকে নামানো হল।

এরপর ইয়াহুদীদের কবরস্থানে তাঁকে নিক্ষেপ করা হোল। এরপর সে তাঁর মা আসমা বিনত আবু বকর (রাযিঃ) কে ডেকে পাঠাল। তিনি তাঁর কাছে আসতে অস্বীকার করলেন। হাজ্জাজ পুনরায় তাঁর কাছে লোক পাঠাল, তাঁকে তাঁর কাছে আসার জন্য এই বলে যে, তোমাকে অবশ্যই আসতে হবে। অন্যথায় তোমার কাছে এমন লোক পাঠাবো যে তোমাকে তোমার চুলের বেণী ধরে টেনে আনবে। বর্ণনাকারী বললেন, এরপরও তিনি অস্বীকার করলেন এবং বললেন, আল্লাহর কসম! আমি সে পর্যন্ত তোমার কাছে আসব না যতক্ষণ না তুমি আমার কাছে এমন লোক পাঠাবে, যে আমার চুলের বেণী ধরে টেনে নিয়ে যাবে।

বর্ণনাকারী বলেন, এরপর হাজ্জাজ বলল, আমার জুতা মোজা আন। তারপর সে জুতা পরিধান করলো এবং দ্রুতগতিতে আসমা বিনত আবু বকর (রাযিঃ) এর কাছে পৌঁছল এবং সে বলল, তুমি তো দেখলে আল্লাহর দুশমন (তোমার পুত্র ইবনে যুবাইর) এর সঙ্গে আমি কী আচরণ করেছি। তিনি বললেন, “হ্যাঁ আমি তোকে দেখছি, তুই তাঁর দুনিয়া নষ্ট করে দিয়েছিস। আর সে তোর আখিরাত বরবাদ করে দিয়েছে। আমি জানতে পেরেছি যে, তুই তাঁকে (তিরস্কার সরূপ) দুই কোমরবন্দ পরিহিতার পুত্র বলে সম্বোধন করে থাকিস। আল্লাহর কসম! আমিই দুই কোমরবন্দ পরিহিতা।

এর একটির মধ্যে আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লালাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এবং আবু বকর (রাযিঃ) এর আহার্য সামগ্রী বেঁধে তুলে রাখতাম, বাহনের পশু থেকে। আরেকটি হল যা স্ত্রীলোকের জন্য অপরিহার্য। জেনে রাখ, রাসূলুল্লাহ (সাল্লালাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাদের কাছে বর্ণনা করেছে যে, সাকীফ গোত্রে এক মিথ্যুকের আবির্ভাব ঘটবে এবং এক রক্ত প্রবাহকারী (খুনীর)। মিথ্যুককে তো আমরা সবাই দেখেছি, আমি রক্ত প্রবাহকারী তোকে ছাড়া আর কাউকে মনে করছি না” একথা শুনে সে (হাজ্জাজ) উঠে দাঁড়াল এবং তাঁর [আসমা (রাযিঃ) এর] কথার কোন প্রতি উত্তর করল না।

৫৯. পারস্যবাসীর ফযীলত

باب فَضْلِ فَارِسَ

6266

حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ رَافِعٍ، وَعَبْدُ بْنُ حُمَيْدٍ، قَالَ عَبْدٌ أَخْبَرَنَا وَقَالَ ابْنُ رَافِعٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، أَخْبَرَنَا مَعْمَرٌ، عَنْ جَعْفَرٍ الْجَزَرِيِّ، عَنِ يَزِيدَ بْنِ الأَصَمِّ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " لَوْ كَانَ الدِّينُ عِنْدَ الثُّرَيَّا لَذَهَبَ بِهِ رَجُلٌ مِنْ فَارِسَ - أَوْ قَالَ مِنْ أَبْنَاءِ فَارِسَ - حَتَّى يَتَنَاوَلَهُ " .

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৬২৬৬। মুহাম্মাদ ইবনে রাফি ও আব্দ ইবনে হুমায়দ (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। যদি দ্বীন (আসমানের দূরবর্তী) ছুরায়য়া নক্ষত্ররাজির কাছে থাকত, তাহলেও পারস্যের কিছুলোক; অথবা তিনি বলেছেন, পারস্যের সন্তানরা তা নিয়ে এসে (তা) আত্মস্থ করত।

6267

حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ، - يَعْنِي ابْنَ مُحَمَّدٍ - عَنْ ثَوْرٍ، عَنْ أَبِي الْغَيْثِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ كُنَّا جُلُوسًا عِنْدَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم إِذْ نَزَلَتْ عَلَيْهِ سُورَةُ الْجُمُعَةِ فَلَمَّا قَرَأَ ( وَآخَرِينَ مِنْهُمْ لَمَّا يَلْحَقُوا بِهِمْ) قَالَ رَجُلٌ مَنْ هَؤُلاَءِ يَا رَسُولَ اللَّهِ فَلَمْ يُرَاجِعْهُ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم حَتَّى سَأَلَهُ مَرَّةً أَوْ مَرَّتَيْنِ أَوْ ثَلاَثًا - قَالَ - وَفِينَا سَلْمَانُ الْفَارِسِيُّ - قَالَ - فَوَضَعَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم يَدَهُ عَلَى سَلْمَانَ ثُمَّ قَالَ " لَوْ كَانَ الإِيمَانُ عِنْدَ الثُّرَيَّا لَنَالَهُ رِجَالٌ مِنْ هَؤُلاَءِ " .

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৬২৬৭। কুতায়বা ইবনে সাঈদ (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা নবী (ﷺ) এর কাছে বসা ছিলাম। তখন তার উপর সূরা জুমআ নাযিল হল। যখন তিনি এই আয়াত পড়লেন وَآخَرِينَ مِنْهُمْ لَمَّا يَلْحَقُوا بِهِمْ তখন জনৈক ব্যক্তি বলল, ইয়া রাসুলাল্লাহ! এরা কারা? নবী (ﷺ) তার কোন উত্তর দিলেন না। এমন কি সে একবার অথবা দু’বার কিংবা তিনবার তাঁকে জিজ্ঞাসা করল।

রাবী বলেন তখন আমাদের মধ্যে সালামাল ফারসী (রাযিঃ) ছিলেন। বর্ণনাকারী বলেন, নবী (ﷺ) তার হাত সালমান (রাযিঃ) এর উপর রাখলেন; এরপর বললেন, যদি ঈমান ছুরায়য়া তারকার কাছে (অর্থাৎ বহু দুরে) থাকত তাহলে অবশ্যই এদের লোকেরা তা আরোহণ করত।

৬০. রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর বাণীঃ মানুষ সেই একশ উটের মত, যার মধ্যে সওয়ারীর উপযুক্ত একটিও (হয়ত) তুমি পাবে না

باب قَوْلِهِ صلى الله عليه وسلم " النَّاسُ كَإِبِلٍ مِائَةٍ لاَ تَجِدُ فِيهَا رَاحِلَةً "

6268

حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ رَافِعٍ، وَعَبْدُ بْنُ حُمَيْدٍ، - وَاللَّفْظُ لِمُحَمَّدٍ - قَالَ عَبْدٌ أَخْبَرَنَا وَقَالَ، ابْنُ رَافِعٍ حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، أَخْبَرَنَا مَعْمَرٌ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ سَالِمٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " تَجِدُونَ النَّاسَ كَإِبِلٍ مِائَةٍ لاَ يَجِدُ الرَّجُلُ فِيهَا رَاحِلَةً " .

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

৬২৬৮। মুহাম্মাদ ইবনে রাফি ও আব্দ ইবনে হুমায়দ (রাহঃ) ......... ইবনে উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ তোমরা লোকদের পাবে সেরূপ একশ উটের মত, যার মধ্যে মানুষ ভার বহনকারী একটি (উট)-ও পায় না।