كتاب المواقيت

৬. নামাযের সময়সূচী

অধ্যায় ৬ · ১৩২ টি হাদীস

অধ্যায়ঃ সালাতের ওয়াক্তসমূহ

كتاب المواقيت

৪৯৪

أَخْبَرَنَا قُتَيْبَةُ، قَالَ حَدَّثَنَا اللَّيْثُ بْنُ سَعْدٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، أَنَّ عُمَرَ بْنَ عَبْدِ الْعَزِيزِ، أَخَّرَ الْعَصْرَ شَيْئًا فَقَالَ لَهُ عُرْوَةُ أَمَا إِنَّ جِبْرِيلَ عَلَيْهِ السَّلاَمُ قَدْ نَزَلَ فَصَلَّى أَمَامَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم . فَقَالَ عُمَرُ اعْلَمْ مَا تَقُولُ يَا عُرْوَةُ . فَقَالَ سَمِعْتُ بَشِيرَ بْنَ أَبِي مَسْعُودٍ يَقُولُ سَمِعْتُ أَبَا مَسْعُودٍ يَقُولُ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " نَزَلَ جِبْرِيلُ فَأَمَّنِي فَصَلَّيْتُ مَعَهُ ثُمَّ صَلَّيْتُ مَعَهُ ثُمَّ صَلَّيْتُ مَعَهُ ثُمَّ صَلَّيْتُ مَعَهُ ثُمَّ صَلَّيْتُ مَعَهُ " . يَحْسُبُ بِأَصَابِعِهِ خَمْسَ صَلَوَاتٍ .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু মাসউদ বদরী আনসারী (রাঃ)

৪৯৫। কুতায়বা (রাহঃ) ......... ইবনে শিহাব (রাহঃ) থেকে বর্ণিত যে, উমর ইবনে আব্দুল আযীয (রাহঃ) (একদিন) আসরের নামায একটু বিলম্বে আদায় করলে উরওয়া তাঁকে বললেন যে, আপনি কি অবহিত নন যে, জিবরাঈল (আলাইহিস সালাম) অবতীর্ণ হন এবং রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সামনে নামায আদায় করেন। উমর (রাহঃ) বললেন, হে উরওয়া! তুমি কি বলছো তা ভালভাবে চিন্তা করে বল। উরওয়া বললেন, আমি বাশীর ইবনে আবু মাসউদ (রাহঃ)-কে বলতে শুনেছি। তিনি বললেনঃ আমি আবু মাসউদকে বলতে শুনেছিঃ তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে বলতে শুনেছি যে, জিবরাঈল (আলাইহিস সালাম) অবতীর্ণ হয়ে আমার নামাযের ইমামতি করেন। আমি তাঁর সঙ্গে নামায আদায় করি, পুনরায় তাঁর সঙ্গে নামায আদায় করি। পুনরায় তাঁর সঙ্গে নামায আদায় করি। পুনরায় তাঁর সঙ্গে নামায আদায় করি। পুনরায় তাঁর সঙ্গে নামায আদায় করি। তিনি তার হাতের আঙ্গুলে পাঁচ ওয়াক্ত নামায গণনা করেন।

যোহরেরে প্রথম ওয়াক্ত

أول وقت الظهر

৪৯৫

أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الأَعْلَى، قَالَ حَدَّثَنَا خَالِدٌ، قَالَ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، قَالَ حَدَّثَنَا سَيَّارُ بْنُ سَلاَمَةَ، قَالَ سَمِعْتُ أَبِي يَسْأَلُ أَبَا بَرْزَةَ، عَنْ صَلاَةِ، رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قُلْتُ أَنْتَ سَمِعْتَهُ قَالَ كَمَا أَسْمَعُكَ السَّاعَةَ فَقَالَ سَمِعْتُ أَبِي يَسْأَلُ عَنْ صَلاَةِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ كَانَ لاَ يُبَالِي بَعْضَ تَأْخِيرِهَا - يَعْنِي الْعِشَاءَ - إِلَى نِصْفِ اللَّيْلِ وَلاَ يُحِبُّ النَّوْمَ قَبْلَهَا وَلاَ الْحَدِيثَ بَعْدَهَا . قَالَ شُعْبَةُ ثُمَّ لَقِيتُهُ بَعْدُ فَسَأَلْتُهُ قَالَ كَانَ يُصَلِّي الظُّهْرَ حِينَ تَزُولُ الشَّمْسُ وَالْعَصْرَ يَذْهَبُ الرَّجُلُ إِلَى أَقْصَى الْمَدِينَةِ وَالشَّمْسُ حَيَّةٌ وَالْمَغْرِبَ لاَ أَدْرِي أَىَّ حِينٍ ذَكَرَ ثُمَّ لَقِيتُهُ بَعْدُ فَسَأَلْتُهُ فَقَالَ وَكَانَ يُصَلِّي الصُّبْحَ فَيَنْصَرِفُ الرَّجُلُ فَيَنْظُرُ إِلَى وَجْهِ جَلِيسِهِ الَّذِي يَعْرِفُهُ فَيَعْرِفُهُ . قَالَ وَكَانَ يَقْرَأُ فِيهَا بِالسِّتِّينَ إِلَى الْمِائَةِ .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু বারযা আসলামী রাযি.

৪৯৬। মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল আ’লা (রাহঃ) ......... সাইয়ার ইবনে সালামা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি আমার পিতাকে আবু বারযা (রাযিঃ)-এর নিকট রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নামায সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করতে শুনেছি। (সনদের একজন রাবী) শু’বাহ সাইয়ার ইবনে সালামাকে বললেন, আপনি নিজে তা শুনেছেন কি? (সাইয়ার) বললেনঃ হ্যাঁ, যেমন আপনাকে শোনাচ্ছি। তিনি-(সাইয়ার) বলেনঃ আমার পিতাকে আমি আবু বারযা (রাযিঃ)-এর নিকট রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নামায সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করতে শুনেছি। আবু বারযা (রাযিঃ) বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ইশার নামায কখনো অর্ধরাতে আদায় করতেন এবং তিনি নামাযের পূর্বে নিদ্রা যাওয়া ও নামাযের পর কথা বলা পছন্দ করতেন না।

শু’বা (রাহঃ) বলেনঃ আমি আবার সাইয়ার ইবনে সালামার সঙ্গে সাক্ষাত করি এবং রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নামায সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করি। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যোহরের নামায আদায় করতেন যখন সূর্য ঢলে পড়তো, আসরের নামায এমন সময়ে আদায় করতেন যে, কোন লোক মদীনার দূর প্রান্ত পর্যন্ত যেতে পারত এবং সূর্যের আলো তখনও উজ্জ্বল থাকত। মাগরিবের নামায কোন সময় আদায় করতেন বলে তিনি উল্লেখ করেছিলেন তা আমার জানা নেই। আবার আমি তাঁর সাথে সাক্ষাত করি এবং রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নামায সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করি। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ফযরের নামায এমন সময় আদায় করতেন যে, লোক ফিরে যেত এবং তার পাশের উপবিষ্ট কোন পরিচিত লোকের দিকে তাকালে চিনতে পারত। রাবী বলেনঃ তিনি উক্ত নামাযে ষাট থেকে এক’শ আয়াত পর্যন্ত পাঠ করতেন।
৪৯৬

أَخْبَرَنَا كَثِيرُ بْنُ عُبَيْدٍ، قَالَ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ حَرْبٍ، عَنِ الزُّبَيْدِيِّ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، قَالَ أَخْبَرَنِي أَنَسٌ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم خَرَجَ حِينَ زَاغَتِ الشَّمْسُ فَصَلَّى بِهِمْ صَلاَةَ الظُّهْرِ

বর্ণনাকারী: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

৪৯৭। কাসীর ইবনে উবাইদ (রাহঃ) ......... যুহরী (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আনাস (রাযিঃ) আমার নিকট বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) একদা সূর্য ঢলে পড়লে বের হন এবং তাঁদের নিয়ে যোহরের নামায আদায় করেন।

৪৯৭

أَخْبَرَنَا يَعْقُوبُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، قَالَ حَدَّثَنَا حُمَيْدُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، قَالَ حَدَّثَنَا زُهَيْرٌ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ وَهْبٍ، عَنْ خَبَّابٍ، قَالَ شَكَوْنَا إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم حَرَّ الرَّمْضَاءِ فَلَمْ يُشْكِنَا . قِيلَ لأَبِي إِسْحَاقَ فِي تَعْجِيلِهَا قَالَ نَعَمْ .

বর্ণনাকারী: খাব্বাব (রাঃ)

৪৯৮। ইয়াকুব ইবনে ইবরাহীম (রাহঃ) ......... খাব্বাব (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমরা রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকট উত্তপ্ত বালুর অভিযোগ করলাম। তিনি আমাদের অভিযোগ গ্রহণ করলেন না। আবু ইসহাক (রাযিঃ)-কে বলা হল, সাথীরা কি নামায তাড়াতাড়ি আদায় করার অভিযোগ করেছিলেন? তিনি বললেন, হ্যাঁ।

সফরের সময় যোহরের নামায তাড়াতাড়ি আদায় করা

باب تعجيل الظهر في السفر

৪৯৮

أَخْبَرَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ، عَنْ شُعْبَةَ، قَالَ حَدَّثَنِي حَمْزَةُ الْعَائِذِيُّ، قَالَ سَمِعْتُ أَنَسَ بْنَ مَالِكٍ، يَقُولُ كَانَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم إِذَا نَزَلَ مَنْزِلاً لَمْ يَرْتَحِلْ مِنْهُ حَتَّى يُصَلِّيَ الظُّهْرَ . فَقَالَ رَجُلٌ وَإِنْ كَانَتْ بِنِصْفِ النَّهَارِ قَالَ وَإِنْ كَانَتْ بِنِصْفِ النَّهَارِ .

বর্ণনাকারী: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

৪৯৯। উবাইদুল্লাহ ইবনে সাঈদ (রাহঃ) ......... হামযাতুল আয়িযী (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি আনাস ইবনে মালিক (রাযিঃ)-কে বলতে শুনেছি যে, নবী (ﷺ) কোন মনযিলে যোহরের পূর্বে অবতরণ করতেন তখন যোহরের নামায আদায় না করে সেই স্থান ত্যাগ করতেন না। এক ব্যক্তি বলল, অর্ধদিন ঠিক দুপুর হলেও? তিনি বললেন, ঠিক দুপুর বেলায় হলেও।[১]

[১] দুপুর অর্থ হচ্ছে দুপুরের কাছাকাছি সময়, অর্থাৎ তিনি দুপুরের সময় আদায় করলেও সূর্য ঢলে পড়া পর্যন্ত অপেক্ষা করে সালাত আদায় করে স্থল ত্যাগ করতেন।

ঠাণ্ডার মধ্যে যোহরের নামায তাড়াতাড়ি পড়া।

تعجيل الظهر في البرد

৪৯৯

أَخْبَرَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ سَعِيدٍ، قَالَ حَدَّثَنَا أَبُو سَعِيدٍ، مَوْلَى بَنِي هَاشِمٍ قَالَ حَدَّثَنَا خَالِدُ بْنُ دِينَارٍ أَبُو خَلْدَةَ، قَالَ سَمِعْتُ أَنَسَ بْنَ مَالِكٍ، قَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِذَا كَانَ الْحَرُّ أَبْرَدَ بِالصَّلاَةِ وَإِذَا كَانَ الْبَرْدُ عَجَّلَ .

বর্ণনাকারী: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

৫০০। উবাইদুল্লাহ ইবনে সাঈদ (রাহঃ) ......... খালিদ ইবনে দীনার খালদাহ (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি আনাস ইবনে মালিক (রাযিঃ)-কে বলতে শুনেছি যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) গরমের সময় (যোহরের নামায) বিলম্বে এবং ঠাণ্ডার সময় তাড়াতাড়ি আদায় করতেন।

প্রচণ্ড গরম হলে যোহরের নামায গরম কমলে পড়া।

الإبراد بالظهر إذا اشتد الحر

৫০০

أَخْبَرَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، قَالَ حَدَّثَنَا اللَّيْثُ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنِ ابْنِ الْمُسَيَّبِ، وَأَبِي، سَلَمَةَ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " إِذَا اشْتَدَّ الْحَرُّ فَأَبْرِدُوا عَنِ الصَّلاَةِ فَإِنَّ شِدَّةَ الْحَرِّ مِنْ فَيْحِ جَهَنَّمَ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৫০১। কুতায়বা ইবনে সাঈদ (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ গরম প্রচন্ড হলে নামায বিলম্ব করে আদায় কর। কেননা গরমের প্রচন্ডতা জাহান্নামের ভাপ।[১]

[১] গরমের প্রচণ্ডতা জাহন্নামের ভাপ’ অর্থাৎ মৌসুমী তাপের আধিক্য জাহান্নামের গর্মিরই নমুনা।
৫০১

أَخْبَرَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ يَعْقُوبَ، قَالَ حَدَّثَنَا عُمَرُ بْنُ حَفْصٍ، قَالَ حَدَّثَنَا أَبِي ح، وَأَنْبَأَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ يَعْقُوبَ، قَالَ حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ مَعِينٍ، قَالَ حَدَّثَنَا حَفْصٌ، ح وَأَنْبَأَنَا عَمْرُو بْنُ مَنْصُورٍ، قَالَ حَدَّثَنَا عُمَرُ بْنُ حَفْصِ بْنِ غِيَاثٍ، قَالَ حَدَّثَنَا أَبِي، عَنِ الْحَسَنِ بْنِ عُبَيْدِ اللَّهِ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ، عَنْ يَزِيدَ بْنِ أَوْسٍ، عَنْ ثَابِتِ بْنِ قَيْسٍ، عَنْ أَبِي مُوسَى، يَرْفَعُهُ قَالَ " أَبْرِدُوا بِالظُّهْرِ فَإِنَّ الَّذِي تَجِدُونَ مِنَ الْحَرِّ مِنْ فَيْحِ جَهَنَّمَ "

বর্ণনাকারী: আবু মুসা আশ'আরী (রাঃ)

৫০২। ইবরাহীম ইবনে ইয়াকুব (রাহঃ) ও আমর ইবনে মনসুর (রাহঃ) ......... আবু মুসা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ তোমরা যোহরের নামায বিলম্ব করে আদায় কর। কারণ তোমরা যে গরম অনুভব কর তা জাহান্নামের ভাপ।

যোহরের নামাযের শেষ সময়।

آخر وقت الظهر

৫০২

أَخْبَرَنَا الْحُسَيْنُ بْنُ حُرَيْثٍ، قَالَ أَنْبَأَنَا الْفَضْلُ بْنُ مُوسَى، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَمْرٍو، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " هَذَا جِبْرِيلُ عَلَيْهِ السَّلاَمُ جَاءَكُمْ يُعَلِّمُكُمْ دِينَكُمْ " . فَصَلَّى الصُّبْحَ حِينَ طَلَعَ الْفَجْرُ وَصَلَّى الظُّهْرَ حِينَ زَاغَتِ الشَّمْسُ ثُمَّ صَلَّى الْعَصْرَ حِينَ رَأَى الظِّلَّ مِثْلَهُ ثُمَّ صَلَّى الْمَغْرِبَ حِينَ غَرَبَتِ الشَّمْسُ وَحَلَّ فِطْرُ الصَّائِمِ ثُمَّ صَلَّى الْعِشَاءَ حِينَ ذَهَبَ شَفَقُ اللَّيْلِ ثُمَّ جَاءَهُ الْغَدَ فَصَلَّى بِهِ الصُّبْحَ حِينَ أَسْفَرَ قَلِيلاً ثُمَّ صَلَّى بِهِ الظُّهْرَ حِينَ كَانَ الظِّلُّ مِثْلَهُ ثُمَّ صَلَّى الْعَصْرَ حِينَ كَانَ الظِّلُّ مِثْلَيْهِ ثُمَّ صَلَّى الْمَغْرِبَ بِوَقْتٍ وَاحِدٍ حِينَ غَرَبَتِ الشَّمْسُ وَحَلَّ فِطْرُ الصَّائِمِ ثُمَّ صَلَّى الْعِشَاءَ حِينَ ذَهَبَ سَاعَةٌ مِنَ اللَّيْلِ ثُمَّ قَالَ " الصَّلاَةُ مَا بَيْنَ صَلاَتِكَ أَمْسِ وَصَلاَتِكَ الْيَوْمَ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৫০৩। হুসাইন ইবনে হুরায়স (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ ইনি জিবরাঈল (আলাইহিস সালাম), যিনি তোমাদেরকে তোমাদের দ্বীন শিক্ষা দেয়ার জন্য এসেছিলান। তিনি উষা উদিত হলে ফজরের নামায আদায় করেন। যোহরের নামায আদায় করেন সুর্য ঢলে পড়লে, তারপর আসরের নামায আদায় করেন যখন ছায়া তাঁর সমান দেখেন। তারঃপর যখন সূর্য অস্তমিত হলো, আর রোযা পালনকারীর জন্য ইফতার করা হালাল হল তখন মাগরিবের নামায আদায় করলেন। তারপর ইশার নামায আদায় করেন সুর্য অস্তমিত হওয়ার পর যে শাফাক দেখা[১] যায়, তা অদৃশ্য হওয়ার পর।

জিবরাঈল (আলাইহিস সালাম) আবার পরদিন আসলেন এবং নবী (ﷺ)-কে সাথে নিয়ে ফজরের নামায আদায় করলেন যখন কিছুটা ফর্সা হলো তখন। পরে তাকে নিয়ে যোহরের নামায আদায় করেন যখন ছায়া তার সমান হলো। তারপর আসরের নামায আদায় করেন যখন ছায়া তার দিগুণ হলো। পরে মাগরিবের নামায একই সময়ে পূর্বের দিনের ন্যায় আদায় করেন। যখন সূর্য অস্তমিত হলো এবং রোজা পালনকারীর জন্য ইফতার করা হালাল হলো। এরপর রাতের কিছু অংশ অতিবাহিত হয়ে গেলে ইশার নামায আদায় করেন। পরে তিনি বলেন, আপনার আজকের নামায ও গতকালকের নামাযের মধ্যবর্তী সময়ই হলো নামাযের সময়।

[১] ইমাম মালিক, শাফিঈ, আহমদ, আবু ইউসুফ ও মুহাম্মাদ (রাহঃ)-এর মতে- অস্তাচলে যে লালিমা দৃষ্ট হয় তাই ‘শফক'। ইমাম আবু হানীফা (রাহঃ)-এর মতে- লালিমা অস্ত যাওয়ার পর যে সাদা বর্ণ দেখা যায়, তাই শফক । এটা অদৃশ্য হলে ইশার সালাতের সময় আরম্ভ হয়।
৫০৩

أَخْبَرَنَا أَبُو عَبْدِ الرَّحْمَنِ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدٍ الأَذْرَمِيُّ، قَالَ حَدَّثَنَا عَبِيدَةُ بْنُ حُمَيْدٍ، عَنْ أَبِي مَالِكٍ الأَشْجَعِيِّ، سَعْدِ بْنِ طَارِقٍ عَنْ كَثِيرِ بْنِ مُدْرِكٍ، عَنِ الأَسْوَدِ بْنِ يَزِيدَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ، قَالَ كَانَ قَدْرُ صَلاَةِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم الظُّهْرَ فِي الصَّيْفِ ثَلاَثَةَ أَقْدَامٍ إِلَى خَمْسَةِ أَقْدَامٍ وَفِي الشِّتَاءِ خَمْسَةَ أَقْدَامٍ إِلَى سَبْعَةِ أَقْدَامٍ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ)

৫০৪। আবু আব্দুর রহমান আব্দুল্লাহ ইবনে মুহাম্মাদ আযরামী (রাহঃ) ......... আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ গ্রীষ্মকালে যোহরের নামায আদায় করতেন যখন কোন ব্যক্তির ছায়া তিন হতে পাঁচ কদমের মধ্যে হতো এবং শীতকালে ছায়া যখন পাঁচ হতে সাত কদমের মধ্যে হতো।

আসরের প্রথম ওয়াক্ত

أول وقت العصر

৫০৪

أَخْبَرَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ سَعِيدٍ، قَالَ حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ الْحَارِثِ، قَالَ حَدَّثَنَا ثَوْرٌ، حَدَّثَنِي سُلَيْمَانُ بْنُ مُوسَى، عَنْ عَطَاءِ بْنِ أَبِي رَبَاحٍ، عَنْ جَابِرٍ، قَالَ سَأَلَ رَجُلٌ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَنْ مَوَاقِيتِ الصَّلاَةِ فَقَالَ " صَلِّ مَعِي " . فَصَلَّى الظُّهْرَ حِينَ زَاغَتِ الشَّمْسُ وَالْعَصْرَ حِينَ كَانَ فَىْءُ كُلِّ شَىْءٍ مِثْلَهُ وَالْمَغْرِبَ حِينَ غَابَتِ الشَّمْسُ وَالْعِشَاءَ حِينَ غَابَ الشَّفَقُ قَالَ ثُمَّ صَلَّى الظُّهْرَ حِينَ كَانَ فَىْءُ الإِنْسَانِ مِثْلَهُ وَالْعَصْرَ حِينَ كَانَ فَىْءُ الإِنْسَانِ مِثْلَيْهِ وَالْمَغْرِبَ حِينَ كَانَ قُبَيْلَ غَيْبُوبَةِ الشَّفَقِ . قَالَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ الْحَارِثِ ثُمَّ قَالَ فِي الْعِشَاءِ أُرَى إِلَى ثُلُثِ اللَّيْلِ .

বর্ণনাকারী: জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ আনসারী (রাঃ)

৫০৫। উবাইদুল্লাহ ইবনে সাঈদ (রাহঃ) ......... জাবির (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে নামাযের নির্ধারিত সময় সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করল। তিনি বললেনঃ আমার সঙ্গে নামায আদায় কর। তারপর তিনি যোহরের নামায আদায় করেন যখন সুর্য অনেকখানি ঢলে যায়। আসরের নামায আদায় করেন যখন প্রতিটি বস্তুর ছায়া তার সমান হয়ে গেল, মাগরিবের নামায আদায় করেন যখন সুর্য অদৃশ্য হয়ে গেল এবং ইশার নামায আদায় করেন যখন সুর্য অস্তমিত হওয়ার পর শাফাক অদৃশ্য হয়ে গেল।

রাবী বলেনঃ (পরদিন) যোহরের নামায আদায় করেন যখন মানুষের ছায়া তার সমান হল, আসরের নামায আদায় করেন যখন মানুষের ছায়া দ্বিগুণ হল। মাগরিবের নামায আদায় করলেন শাফাক অদৃশ্য হওয়ার পূর্বে। আব্দুল্লাহ ইবনে হারিস বলেন, তারপর বর্ণনাকারী ইশার নামাযের কথা উল্লেখ করেছেন এবং বলেছেন, তা রাতের এক-তৃতীয়াংশের দিকে আদায় করেছেন বলে আমার মনে হয়।

আসরের নামায তাড়াতাড়ি পড়া।

تعجيل العصر

৫০৫

أَخْبَرَنَا قُتَيْبَةُ، قَالَ حَدَّثَنَا اللَّيْثُ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ عُرْوَةَ، عَنْ عَائِشَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم صَلَّى صَلاَةَ الْعَصْرِ وَالشَّمْسُ فِي حُجْرَتِهَا لَمْ يَظْهَرِ الْفَىْءُ مِنْ حُجْرَتِهَا .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

৫০৬। কুতায়বা (রাহঃ) ......... আয়িশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) (এমন সময়) আসরের নামায আদায় করলেন যে, সুর্যরশ্মি তখনও তাঁর ঘরে ছিলো এবং সুর্যরশ্মি তখনো গৃহের আঙিনা থেকে উপরে উঠেনি।

৫০৬

أَخْبَرَنَا سُوَيْدُ بْنُ نَصْرٍ، قَالَ أَنْبَأَنَا عَبْدُ اللَّهِ، عَنْ مَالِكٍ، قَالَ حَدَّثَنِي الزُّهْرِيُّ، وَإِسْحَاقُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، عَنْ أَنَسٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَانَ يُصَلِّي الْعَصْرَ ثُمَّ يَذْهَبُ الذَّاهِبُ إِلَى قُبَاءٍ فَقَالَ أَحَدُهُمَا فَيَأْتِيهِمْ وَهُمْ يُصَلُّونَ وَقَالَ الآخَرُ وَالشَّمْسُ مُرْتَفِعَةٌ .

বর্ণনাকারী: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

৫০৭। সুওয়ায়দ ইবনে নসর (রাহঃ) ......... আনাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এমন সময় আদায় করতেন যে, কোনো গমনকারী ‘কুবা’[১] পর্যন্ত যেত। (বর্ণনাকারী) যুহরী অথবা ইসহাকের মধ্যে একজন বলেন, গমনকারী এসে ‘কুবা’ বাসিদেরকে (আসরের) নামায আদায় করতে দেখতে পেত। অন্যজন বলেন, সুর্য তখনও উপরে (উজ্জ্বল) থাকত।

[১] মদীনা থেকে প্রায় তিন মাইল দূরে অবস্থিত।
৫০৭

أَخْبَرَنَا قُتَيْبَةُ، قَالَ حَدَّثَنَا اللَّيْثُ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، أَنَّهُ أَخْبَرَهُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَانَ يُصَلِّي الْعَصْرَ وَالشَّمْسُ مُرْتَفِعَةٌ حَيَّةٌ وَيَذْهَبُ الذَّاهِبُ إِلَى الْعَوَالِي وَالشَّمْسُ مُرْتَفِعَةٌ

বর্ণনাকারী: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

৫০৮। কুতায়বা (রাহঃ) ......... আনাস ইবনে মালিক (রাযিঃ) বলেন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আসরের নামায এমন সময় আদায় করতেন যে, সুর্য তখনও অনেক উপরে উজ্জ্বল থাকত। কোনো গমনকারী আওয়ালী’[১] তে পৌছলেও সুর্য তখনও উপরে থাকত।

[১] আওয়ালী অর্থ মদীনার পার্শ্ববর্তী উঁচু মহল্লা, কোন কোন আওয়ালী চার মাইল দূরে অবস্থিত।
৫০৮

أَخْبَرَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، قَالَ حَدَّثَنَا جَرِيرٌ، عَنْ مَنْصُورٍ، عَنْ رِبْعِيِّ بْنِ حِرَاشٍ، عَنْ أَبِي الأَبْيَضِ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، قَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يُصَلِّي بِنَا الْعَصْرَ وَالشَّمْسُ بَيْضَاءُ مُحَلِّقَةٌ .

বর্ণনাকারী: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

৫০৯। ইসহাক ইবনে ইবরাহীম (রাহঃ) ......... আনাস ইবনে মালিক (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদেরকে নিয়ে আসরের নামায আদায় করতেন যখন সুর্য উর্ধাকাশে করোজ্জ্বল থাকত।

৫০৯

أَخْبَرَنَا سُوَيْدُ بْنُ نَصْرٍ، قَالَ أَنْبَأَنَا عَبْدُ اللَّهِ، عَنْ أَبِي بَكْرِ بْنِ عُثْمَانَ بْنِ سَهْلِ بْنِ حُنَيْفٍ، قَالَ سَمِعْتُ أَبَا أُمَامَةَ بْنَ سَهْلٍ، يَقُولُ صَلَّيْنَا مَعَ عُمَرَ بْنِ عَبْدِ الْعَزِيزِ الظُّهْرَ ثُمَّ خَرَجْنَا حَتَّى دَخَلْنَا عَلَى أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ فَوَجَدْنَاهُ يُصَلِّي الْعَصْرَ قُلْتُ يَا عَمِّ مَا هَذِهِ الصَّلاَةُ الَّتِي صَلَّيْتَ قَالَ الْعَصْرَ وَهَذِهِ صَلاَةُ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم الَّتِي كُنَّا نُصَلِّي

বর্ণনাকারী: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

৫১০। সুওয়ায়দ ইবনে নসর (রাহঃ) ......... আবু বকর ইবনে উসমান (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আবু উমামা ইবনে সাহল (রাহঃ)-কে বলতে শুনেছি যে, আমরা উমর ইবনে আব্দুল আজীজ (রাহঃ)-এর সঙ্গে যোহরের নামায আদায় করে বের হলাম। তারপর আমরা আনাস (রাযিঃ)-এর নিকট গেলাম এবং তাঁকে আসরের নামায আদায় করতে দেখতে পেলাম। আমি বললাম, হে পিতৃব্য! এ কোন নামায, যা আপনি আদায় করলেন? তিনি বললেন, আসরের নামায এবং এটাই রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নামায যা আমরা (তাঁর সাথে) আদায় করতাম।

৫১০

أَخْبَرَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، قَالَ حَدَّثَنَا أَبُو عَلْقَمَةَ الْمَدَنِيُّ، قَالَ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَمْرٍو، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، قَالَ صَلَّيْنَا فِي زَمَانِ عُمَرَ بْنِ عَبْدِ الْعَزِيزِ ثُمَّ انْصَرَفْنَا إِلَى أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ فَوَجَدْنَاهُ يُصَلِّي فَلَمَّا انْصَرَفَ قَالَ لَنَا أَصَلَّيْتُمْ قُلْنَا صَلَّيْنَا الظُّهْرَ . قَالَ إِنِّي صَلَّيْتُ الْعَصْرَ . فَقَالُوا لَهُ عَجَّلْتَ . فَقَالَ إِنَّمَا أُصَلِّي كَمَا رَأَيْتُ أَصْحَابِي يُصَلُّونَ .

বর্ণনাকারী: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

৫১১। ইসহাক ইবনে ইবরাহীম (রাহঃ) ......... আবু সালামা (রাহঃ) বলেন, আমরা উমর ইবনে আব্দুল আজীজ (রাহঃ)-এর জমানায় একদা (যোহরের) নামায আদায় করে আনাস (রাযিঃ)-এর নিকটে গেলাম এবং তাঁকে নামায আদায় করা অবস্থায় পেলাম। নামায সমাপ্ত করার পর তিনি আমাদের বললেন যে, তোমরা কি নামায আদায় করেছ? আমরা বললাম, যোহরের নামায আদায় করেছি। তিনি বললেন, আমি তো আসরের নামায আদায় করেছি। লোকেরা বলল, আপনি তাড়াতাড়ি আদায় করে ফেলেছেন। তিনি বললেন, আমি ঐভাবেই নামায আদায় করি যেভাবে আমার সাথীদেরকে আদায় করতে দেখেছি।

আসরের নামায বিলম্বে আদায়ের ব্যাপারে সতর্কবাণী।

باب التشديد في تأخير العصر

৫১১

أَخْبَرَنَا عَلِيُّ بْنُ حُجْرِ بْنِ إِيَاسِ بْنِ مُقَاتِلِ بْنِ مُشَمْرِجِ بْنِ خَالِدٍ، قَالَ حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ، قَالَ حَدَّثَنَا الْعَلاَءُ، أَنَّهُ دَخَلَ عَلَى أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ فِي دَارِهِ بِالْبَصْرَةِ حِينَ انْصَرَفَ مِنَ الظُّهْرِ - وَدَارُهُ بِجَنْبِ الْمَسْجِدِ - فَلَمَّا دَخَلْنَا عَلَيْهِ قَالَ أَصَلَّيْتُمُ الْعَصْرَ قُلْنَا لاَ إِنَّمَا انْصَرَفْنَا السَّاعَةَ مِنَ الظُّهْرِ . قَالَ فَصَلُّوا الْعَصْرَ . قَالَ فَقُمْنَا فَصَلَّيْنَا فَلَمَّا انْصَرَفْنَا قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " تِلْكَ صَلاَةُ الْمُنَافِقِ جَلَسَ يَرْقُبُ صَلاَةَ الْعَصْرِ حَتَّى إِذَا كَانَتْ بَيْنَ قَرْنَىِ الشَّيْطَانِ قَامَ فَنَقَرَ أَرْبَعًا لاَ يَذْكُرُ اللَّهَ عَزَّ وَجَلَّ فِيهَا إِلاَّ قَلِيلاً "

বর্ণনাকারী: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

৫১২। আলী ইবনে হুজর (রাহঃ) ......... আ’লা (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি যোহরের নামায আদায় করার পর আনাস ইবনে মালিক (রাযিঃ)-এর বসরায় অবস্থিত বাসস্থানে গেলেন। তাঁর বাড়ি মসজিদের পার্শ্বেই ছিল। আ’লা (রাহঃ) বলেন, যখন আমরা তাঁর নিকট উপস্থিত হলাম, তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, তোমরা কি আসরের নামায আদায় করেছ? আমরা বললাম, না। আমরা তো এইমাত্র যোহরের নামায আদায় করলাম। তিনি বললেন, এখন আসরের নামায আদায় কর।

আ’লা বলেন, আমরা তত্ক্ষণাত নামাযে দাঁড়িয়ে গেলাম এবং নামায আদায় করলাম। নামায শেষে তিনি বললেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে বলতে শুনেছি, এটা মুনাফিকের নামায যে, বসে নামাযের অপেক্ষারত থাকে, তারপর সুর্য যখন শয়তানের দুই শিং-এর মধ্যবর্তী স্থানে অবস্থান করে[১] (সূর্যাস্তের সময় নিকটবর্তী হয়ে যায়) তখন (তাড়াহুড়া করে মোরগের মত) চারটি ঠোকর মারে এবং তাতে আল্লাহ তাআলার স্মরণ সামান্যই করে।

[১] শয়তানের দুই শিং-এর মধ্যবর্তী স্থানে অবস্থান করে”- সূর্য পূজারীরা সূর্যের উদয় ও অস্তের সময় এর পূজা করে। আর শয়তান তাদের পূজা গ্রহণের জন্য সূর্যের সামনে এসে দাঁড়ায়। এটাই উক্ত বাক্যের ভাবার্থ।
৫১২
أَخْبَرَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، قَالَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ سَالِمٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " الَّذِي تَفُوتُهُ صَلاَةُ الْعَصْرِ فَكَأَنَّمَا وُتِرَ أَهْلَهُ وَمَالَهُ " .

أَخْبَرَنَا قُتَيْبَةُ، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، - رضى الله عنهما - أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " الَّذِي تَفُوتُهُ صَلاَةُ الْعَصْرِ فَكَأَنَّمَا وُتِرَ أَهْلَهُ وَمَالَهُ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

৫১৩। ইসহাক ইবনে ইবরাহীম (রাহঃ) ......... সালিমের পিতার সূত্রে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, যার আসরের নামায ফওত হল, তার যেন পরিবার-পরিজন ও ধন-সম্পদ লুন্ঠিত হয়ে গেল।

আসরের শেষ সময়

آخر وقت العصر

৫১৩

أَخْبَرَنَا يُوسُفُ بْنُ وَاضِحٍ، قَالَ حَدَّثَنَا قُدَامَةُ، - يَعْنِي ابْنَ شِهَابٍ - عَنْ بُرْدٍ، عَنْ عَطَاءِ بْنِ أَبِي رَبَاحٍ، عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، أَنَّ جِبْرِيلَ، أَتَى النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم يُعَلِّمُهُ مَوَاقِيتَ الصَّلاَةِ فَتَقَدَّمَ جِبْرِيلُ وَرَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم خَلْفَهُ وَالنَّاسُ خَلْفَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَصَلَّى الظُّهْرَ حِينَ زَالَتِ الشَّمْسُ وَأَتَاهُ حِينَ كَانَ الظِّلُّ مِثْلَ شَخْصِهِ فَصَنَعَ كَمَا صَنَعَ فَتَقَدَّمَ جِبْرِيلُ وَرَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم خَلْفَهُ وَالنَّاسُ خَلْفَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَصَلَّى الْعَصْرَ ثُمَّ أَتَاهُ حِينَ وَجَبَتِ الشَّمْسُ فَتَقَدَّمَ جِبْرِيلُ وَرَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم خَلْفَهُ وَالنَّاسُ خَلْفَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَصَلَّى الْمَغْرِبَ ثُمَّ أَتَاهُ حِينَ غَابَ الشَّفَقُ فَتَقَدَّمَ جِبْرِيلُ وَرَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم خَلْفَهُ وَالنَّاسُ خَلْفَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَصَلَّى الْعِشَاءَ ثُمَّ أَتَاهُ حِينَ انْشَقَّ الْفَجْرُ فَتَقَدَّمَ جِبْرِيلُ وَرَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم خَلْفَهُ وَالنَّاسُ خَلْفَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَصَلَّى الْغَدَاةَ ثُمَّ أَتَاهُ الْيَوْمَ الثَّانِيَ حِينَ كَانَ ظِلُّ الرَّجُلِ مِثْلَ شَخْصِهِ فَصَنَعَ مِثْلَ مَا صَنَعَ بِالأَمْسِ فَصَلَّى الظُّهْرَ ثُمَّ أَتَاهُ حِينَ كَانَ ظِلُّ الرَّجُلِ مِثْلَ شَخْصَيْهِ فَصَنَعَ كَمَا صَنَعَ بِالأَمْسِ فَصَلَّى الْعَصْرَ ثُمَّ أَتَاهُ حِينَ وَجَبَتِ الشَّمْسُ فَصَنَعَ كَمَا صَنَعَ بِالأَمْسِ فَصَلَّى الْمَغْرِبَ فَنِمْنَا ثُمَّ قُمْنَا ثُمَّ نِمْنَا ثُمَّ قُمْنَا فَأَتَاهُ فَصَنَعَ كَمَا صَنَعَ بِالأَمْسِ فَصَلَّى الْعِشَاءَ ثُمَّ أَتَاهُ حِينَ امْتَدَّ الْفَجْرُ وَأَصْبَحَ وَالنُّجُومُ بَادِيَةٌ مُشْتَبِكَةٌ فَصَنَعَ كَمَا صَنَعَ بِالأَمْسِ فَصَلَّى الْغَدَاةَ ثُمَّ قَالَ " مَا بَيْنَ هَاتَيْنِ الصَّلاَتَيْنِ وَقْتٌ " .

বর্ণনাকারী: জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ আনসারী (রাঃ)

৫১৪। ইউসুফ ইবনে ওয়াদিহ (রাহঃ) ......... জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। জিবরাঈল (আলাইহিস সালাম) নবী (ﷺ)-কে নামাযের ওয়াক্ত শিক্ষা দেয়ার জন্য আসলেন। তারপর জিবরাঈল (আলাইহিস সালাম) সামনে দাঁড়ালেন এবং রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাঁর পেছনে এবং অনান্য লোকেরা দাঁড়ালেন রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর পেছনে। এরপর যোহরের নামায আদায় করলেন যখন সুর্য ঢলে পড়লো, আবার যখন প্রত্যেক বস্তুর ছায়া তার বরাবর হল, তখন জিবরাঈল (আলাইহিস সালাম) আগমন করলেন এবং পূর্বের মত তিনি আগে দাঁড়ালেন, আর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাঁর পেছনে এবং অনান্য লোকগণ রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর পেছনে (সারিবদ্ধ হয়ে) দাঁড়িয়ে গেলেন। (এভাবে) আসরের নামায আদায় করলেন। পুনরায় সূর্যাস্তের পর জিবরাঈল (আলাইহিস সালাম) আসলেন এবং সামনে দাঁড়ালেন।

রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাঁর পেছনে এবং অনান্য লোকগণ রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর পেছনে দাঁড়িয়ে মাগরিবের নামায আদায় করলেন। আবার সূর্যাস্তের পর যখন শফক অদৃশ্য হয়ে গেলো, তখন জিবরাঈল (আলাইহিস সালাম) আসলেন এবং সামনে দাঁড়ালেন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাঁর পেছনে দাঁড়ালেন এবং লোকগণ রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর পেছনে দাঁড়িয়ে গেলেন। এইভাবে ইশার নামায আদায় করলেন। পুনরায় প্রভাত হওয়ার পর জিবরাঈল (আলাইহিস সালাম) আসলেন এবং সামনে দাঁড়ালেন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাঁর পেছনে ও অনান্য লোকগণ রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর পেছনে দাঁড়িয়ে ফজরের নামায আদায় করলেন।

তারপর দ্বিতীয় দিন আসলেন যখন লোকের ছায়া তার সমান হল। তখন গতদিন যেরূপ করা হয়েছিল সেরূপ করা হল-- যোহরের নামায আদায় করলেন। পরে আবার তিনি আসলেন যখন লোকের ছায়া তার দ্বিগুণ হল, তখন গত দিনের ন্যায় আসরের নামায আদায় করলেন। আবার আসলেন যখন সুর্য অস্তমিত হয়ে গেল, তখন গত দিনের ন্যায় মাগরিবের নামায আদায় করলেন। পরে আমরা ঘুমিয়ে পড়লাম। ঘুম থেকে জাগলাম, পুনরায় ঘুমিয়ে ঘুম থেকে জাগলাম। এরপর তিনি এসে পূর্বের ন্যায় ইশার নামায আদায় করলেন। পুনরায় আসলেন যখন প্রভাত হল এবং (আকাশে) তারকাগুলি দৃশ্যমান ছিল। তখনও পূর্বের ন্যায় ফজরের নামায আদায় করলেন। তারপর বললেনঃ উভয় দিনের নামাযের মধ্যবর্তী সময় নামাযের জন্য নির্ধারিত।[১]

[১] জিবরাঈল (আ) আল্লাহর নির্দেশে রসূলুল্লাহ্ (ﷺ) ও তাঁর সঙ্গীদের সালাতের ইমামতি করেছিলেন, কাজেই এ সময়ের জন্য তাঁর উপরে সালাত ফরয হয়েছিল। তাঁর পেছনে নবী (ﷺ) ও অন্যান্য লোকদের মুকতাদী হয়ে সালাত আদায় করা ফরয আদায়কারী ইমামের পেছনে ফরয আদায়কারী মুকতাদীর সালাত আদায় হিসাবে গণ্য। এ হাদীসকে নফল আদায়কারীর পেছনে ফরয আদায়কারী মুক্তাদির ইকতিদা করা বৈধ বলে দলীল হিসাবে গ্রহণ করা ঠিক হবে না।

যে ব্যক্তি আসরের দু’রাক'আত পেল

من أدرك ركعتين من العصر

৫১৪

أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الأَعْلَى، قَالَ حَدَّثَنَا مُعْتَمِرٌ، قَالَ سَمِعْتُ مَعْمَرًا، عَنِ ابْنِ طَاوُسٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، - رضى الله عنه - عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " مَنْ أَدْرَكَ رَكْعَتَيْنِ مِنْ صَلاَةِ الْعَصْرِ قَبْلَ أَنْ تَغْرُبَ الشَّمْسُ أَوْ رَكْعَةً مِنْ صَلاَةِ الصُّبْحِ قَبْلَ أَنْ تَطْلُعَ الشَّمْسُ فَقَدْ أَدْرَكَ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৫১৫। মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল আ’লা (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) সূত্রে নবী করিম (ﷺ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, যে ব্যক্তি সূর্যাস্তের পূর্বে আসরের নামাযের দুই রাক’আত পেল, অথবা সূর্যোদয়ের পূর্বে ফজরের নামাযের এক রাক’আত পেল, সে নামায পেয়ে গেল।[১]

[১] এ হাদীসের ব্যাখ্যা এই যে, কোন ব্যক্তি এক রাক'আত সালাতের সময় থাকতে মুসলমান হল এরূপ অবস্থায় তার উপর সে ওয়াক্তের সালাত ফরয হলো। অর্থাৎ সে ওয়াক্তের সালাত কাযা করতে হবে। কোন ব্যক্তি এক রাক'আত অবশিষ্ট থাকতে শরীক হলে তবে সে জামাআতের ফযীলত পাবে। এর এই অর্থ নয় যে, সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের সময় সালাত আদায় করবে। কেননা এই সময় সালাত আদায় করতে নিষেধ করা হয়েছে।
৫১৫

أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الأَعْلَى، قَالَ حَدَّثَنَا مُعْتَمِرٌ، قَالَ سَمِعْتُ مَعْمَرًا، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " مَنْ أَدْرَكَ رَكْعَةً مِنْ صَلاَةِ الْعَصْرِ قَبْلَ أَنْ تَغِيبَ الشَّمْسُ أَوْ أَدْرَكَ رَكْعَةً مِنَ الْفَجْرِ قَبْلَ طُلُوعِ الشَّمْسِ فَقَدْ أَدْرَكَ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৫১৬। মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল আ’লা (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, যে ব্যক্তি সূর্যাস্তের পূর্বে আসরের নামাযের এক রাক’আত পেল, অথবা সূর্যোদয়ের পূর্বে ফজরের এক রাক’আত পেল, সে নামায পেল।

৫১৬

أَخْبَرَنَا عَمْرُو بْنُ مَنْصُورٍ، قَالَ حَدَّثَنَا الْفَضْلُ بْنُ دُكَيْنٍ، قَالَ حَدَّثَنَا شَيْبَانُ، عَنْ يَحْيَى، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " إِذَا أَدْرَكَ أَحَدُكُمْ أَوَّلَ سَجْدَةٍ مِنْ صَلاَةِ الْعَصْرِ قَبْلَ أَنْ تَغْرُبَ الشَّمْسُ فَلْيُتِمَّ صَلاَتَهُ وَإِذَا أَدْرَكَ أَوَّلَ سَجْدَةٍ مِنْ صَلاَةِ الصُّبْحِ قَبْلَ أَنْ تَطْلُعَ الشَّمْسُ فَلْيُتِمَّ صَلاَتَهُ "

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৫১৭। আমর ইবনে মানসুর (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন তোমাদের কেউ সূর্যাস্তের পূর্বে আসরের নামাযের প্রথম সিজদা পায়, সে যেন তার বাকী নামায সম্পূর্ণ করে। এবং যখন কেউ সূর্যোদয়ের পূর্বে ফজরের নামাযের প্রথম সিজদা পায়, সে যেন তার বাকী নামায সম্পূর্ণ করে।

৫১৭

أَخْبَرَنَا قُتَيْبَةُ، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ زَيْدِ بْنِ أَسْلَمَ، عَنْ عَطَاءِ بْنِ يَسَارٍ، وَعَنْ بُسْرِ بْنِ سَعِيدٍ، وَعَنِ الأَعْرَجِ، يُحَدِّثُونَ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " مَنْ أَدْرَكَ رَكْعَةً مِنْ صَلاَةِ الصُّبْحِ قَبْلَ أَنْ تَطْلُعَ الشَّمْسُ فَقَدْ أَدْرَكَ الصُّبْحَ وَمَنْ أَدْرَكَ رَكْعَةً مِنَ الْعَصْرِ قَبْلَ أَنْ تَغْرُبَ الشَّمْسُ فَقَدْ أَدْرَكَ الْعَصْرَ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৫১৮। আমর ইবনে মানসুর (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) সূত্রে নবী (ﷺ)থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, যে ব্যক্তি সূর্য উদয়ের পূর্বে ফজরের নামাযের এক রাক'আত পেল, সে ফজরের নামায পেল এবং যে ব্যক্তি সূর্যাস্তের পূর্বে আসরের নামাযের এক রাক'আত পেল সে আসরের নামায পেল।

৫১৮

أَخْبَرَنَا أَبُو دَاوُدَ، قَالَ حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ عَامِرٍ، قَالَ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ سَعْدِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ، عَنْ نَصْرِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ جَدِّهِ، مُعَاذٍ أَنَّهُ طَافَ مَعَ مُعَاذِ ابْنِ عَفْرَاءَ فَلَمْ يُصَلِّ فَقُلْتُ أَلاَ تُصَلِّي فَقَالَ إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " لاَ صَلاَةَ بَعْدَ الْعَصْرِ حَتَّى تَغِيبَ الشَّمْسُ وَلاَ بَعْدَ الصُّبْحِ حَتَّى تَطْلُعَ الشَّمْسُ "

বর্ণনাকারী: হযরত মু‘আয ইবনে জাবাল (রাঃ)

৫১৯। আবু দাউদ (রাহঃ) ......... মু’আয (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি (একদা) মু’আয ইবনে আফরা (রাযিঃ)-এর সঙ্গে তওয়াফ করলেন; (তাওয়াফের পর) তিনি নামায আদায় করলেন না। আমি বললাম, আপনি নামায আদায় করলেন না? উত্তরে তিনি বললেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ আসরের পর সূর্যাস্ত পর্যন্ত কোন নামায নেই এবং ফজরের নামাযের পর সূর্যোদয় পর্যন্ত কোনো নামায নেই।

মাগরিবের প্রথম ওয়াক্ত।

أول وقت المغرب

৫১৯

أَخْبَرَنِي عَمْرُو بْنُ هِشَامٍ، قَالَ حَدَّثَنَا مَخْلَدُ بْنُ يَزِيدَ، عَنْ سُفْيَانَ الثَّوْرِيِّ، عَنْ عَلْقَمَةَ بْنِ مَرْثَدٍ، عَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ بُرَيْدَةَ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ جَاءَ رَجُلٌ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَسَأَلَهُ عَنْ وَقْتِ الصَّلاَةِ فَقَالَ " أَقِمْ مَعَنَا هَذَيْنِ الْيَوْمَيْنِ " . فَأَمَرَ بِلاَلاً فَأَقَامَ عِنْدَ الْفَجْرِ فَصَلَّى الْفَجْرَ ثُمَّ أَمَرَهُ حِينَ زَالَتِ الشَّمْسُ فَصَلَّى الظُّهْرَ ثُمَّ أَمَرَهُ حِينَ رَأَى الشَّمْسَ بَيْضَاءَ فَأَقَامَ الْعَصْرَ ثُمَّ أَمَرَهُ حِينَ وَقَعَ حَاجِبُ الشَّمْسِ فَأَقَامَ الْمَغْرِبَ ثُمَّ أَمَرَهُ حِينَ غَابَ الشَّفَقُ فَأَقَامَ الْعِشَاءَ ثُمَّ أَمَرَهُ مِنَ الْغَدِ فَنَوَّرَ بِالْفَجْرِ ثُمَّ أَبْرَدَ بِالظُّهْرِ وَأَنْعَمَ أَنْ يُبْرِدَ ثُمَّ صَلَّى الْعَصْرَ وَالشَّمْسُ بَيْضَاءُ وَأَخَّرَ عَنْ ذَلِكَ ثُمَّ صَلَّى الْمَغْرِبَ قَبْلَ أَنْ يَغِيبَ الشَّفَقُ ثُمَّ أَمَرَهُ فَأَقَامَ الْعِشَاءَ حِينَ ذَهَبَ ثُلُثُ اللَّيْلِ فَصَلاَّهَا ثُمَّ قَالَ " أَيْنَ السَّائِلُ عَنْ وَقْتِ الصَّلاَةِ وَقْتُ صَلاَتِكُمْ مَا بَيْنَ مَا رَأَيْتُمْ " .

বর্ণনাকারী: হযরত বুরায়দা আসলামী (রাঃ)

৫২০। আমর ইবনে হিশাম (রাহঃ) ......... বুরায়দা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, (একদা) এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকট এসে নামাযের ওয়াক্ত সম্বন্ধে জিজ্ঞাসা করল। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, তুমি আমাদের সঙ্গে দুই দিন অবস্থান কর। তারপর তিনি বিলাল (রাযিঃ)-কে আদেশ করলেন, তিনি ফজরের ইকামত বললেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ফজরের নামায আদায় করলেন। পুনরায় যখন সুর্য ঢলে পড়ল, তাঁকে (ইকামতের জন্য) আদেশ করলেন, তারপর যোহরের নামায আদায় করলেন।

এরপরে যখন সুর্য শুভ্র করোজ্জ্বল দেখাচ্ছিল, তখন পুনরায় তাঁকে ইকামতের আদেশ করলেন এবং আসরের নামায আদায় করলেন। তারপর যখন লালিমা অদৃশ্য হয়ে গেল, তখন তাকে ইকমাতের আদেশ করলেন এবং মাগরিবের নামায পড়লেন। তারপর যখন লালিমা অদৃশ্য হয়ে গেল, তখন তাঁকে ইকামতের আদেশ করলেন এবং ইশার নামায আদায় করলেন (অর্থাত পাঁচ ওয়াক্তের নামায প্রথম ওয়াক্তের আদায় করলেন)।

পরদিন পুনরায় বিলাল (রাযিঃ)-কে আদেশ করলেন, এরপর ফজরের নামায আলোকোজ্জ্বল প্রভাতে আদায় করলেন। পুনরায় যোহরের নামায বেশ বিলম্ব করে আদায় করলেন। তারপর আসরের নামায আলোকোজ্জ্বল সময় থেকে বিলম্ব করে আদায় করলেন। তারপর শাফাক অদৃশ্য হয়ে যাওয়ার পূর্বেই মাগরিবের নামায আদায় করলেন। তারপর এক-তৃতীয়াংশ রাত্র অতিক্রান্ত হওয়ার পর তাঁকে ইশার ইকামত বলার আদেশ করলেন এবং ইশার নামায আদায় করলেন। এরপর বললেনঃ নামাযের ওয়াক্ত সম্পর্কে জিজ্ঞাসাকারী কোথায়? তোমরা যা দেখলে, তার মধ্যখানেই তোমাদের নামাযের সময়।

মাগরিবের নামায তাড়াতাড়ি আদায় করা।

تعجيل المغرب

৫২০

أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، قَالَ حَدَّثَنَا مُحَمَّدٌ، قَالَ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ أَبِي بِشْرٍ، قَالَ سَمِعْتُ حَسَّانَ بْنَ بِلاَلٍ، عَنْ رَجُلٍ، مِنْ أَسْلَمَ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُمْ كَانُوا يُصَلُّونَ مَعَ نَبِيِّ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم الْمَغْرِبَ ثُمَّ يَرْجِعُونَ إِلَى أَهَالِيهِمْ إِلَى أَقْصَى الْمَدِينَةِ يَرْمُونَ وَيُبْصِرُونَ مَوَاقِعَ سِهَامِهِمْ .

বর্ণনাকারী: অজ্ঞাত সাহাবী

৫২১। মুহাম্মাদ ইবনে বাশশার (রাহঃ) ......... আবু বিশর (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি হাসসান ইবনে বিলাল (রাযিঃ)-কে নবী (ﷺ) এর সহচরদের মধ্য থেকে আসলাম গোত্রের জনৈক ব্যক্তি থেকে বর্ণনা করতে শুনেছি যে, নবী (ﷺ) এর সাহাবীগণ তাঁর সঙ্গে মাগরিবের নামায আদায় করতেন। তারপর মদীনার প্রান্তরে নিজ নিজ পরিবার-পরিজনের নিকট ফিরে যেতেন। এমতাবস্থায় তারা তীর নিক্ষেপ করতেন এবং তারা তীর পতনের স্থান দেখতে পেতেন।(অর্থাত রাত্র অন্ধকার হওয়ার পূর্বেই মাগরিবের নামায আদায় করতেন )

মাগরিবের নামায বিলম্বে পড়া।

تأخير المغرب

৫২১

أَخْبَرَنَا قُتَيْبَةُ، قَالَ حَدَّثَنَا اللَّيْثُ، عَنْ خَيْرِ بْنِ نُعَيْمٍ الْحَضْرَمِيِّ، عَنِ ابْنِ هُبَيْرَةَ، عَنْ أَبِي تَمِيمٍ الْجَيْشَانِيِّ، عَنْ أَبِي بَصْرَةَ الْغِفَارِيِّ، قَالَ صَلَّى بِنَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم الْعَصْرَ بِالْمُخَمَّصِ قَالَ " إِنَّ هَذِهِ الصَّلاَةَ عُرِضَتْ عَلَى مَنْ كَانَ قَبْلَكُمْ فَضَيَّعُوهَا وَمَنْ حَافَظَ عَلَيْهَا كَانَ لَهُ أَجْرُهُ مَرَّتَيْنِ وَلاَ صَلاَةَ بَعْدَهَا حَتَّى يَطْلُعَ الشَّاهِدُ " . وَالشَّاهِدُ النَّجْمُ .

বর্ণনাকারী: আবু বাসরা গিফারী (রহঃ)

৫২২। কুতায়বা (রাহঃ) ......... আবু বাসরা গিফারী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, (একদা) রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ‘মুখাম্মাস’ নামক স্থানে আমাদের নিয়ে আসরের নামায আদায় করলেন। (এবং) বললেনঃ এই নামায তোমাদের পূর্ববর্তী উম্মতগণের নিকট পেশ করা হয়েছিল। কিন্তু তারা এর মর্যাদা রক্ষা করেনি। যে ব্যক্তি উক্ত নামায যথাযথ আদায় করবে, সে দ্বিগুণ সাওয়াব পাবে। তার (আসর) পর শাহিদ উদয়ের পূর্ব পর্যন্ত আর কোন নামায নেই। শাহিদ (অর্থ) তারকারাজি।

মাগরিবের শেষ সময়।

آخر وقت المغرب

৫২২

أَخْبَرَنَا عَمْرُو بْنُ عَلِيٍّ، قَالَ حَدَّثَنَا أَبُو دَاوُدَ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ قَتَادَةَ، قَالَ سَمِعْتُ أَبَا أَيُّوبَ الأَزْدِيَّ، يُحَدِّثُ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو، - قَالَ شُعْبَةُ كَانَ قَتَادَةُ يَرْفَعُهُ أَحْيَانًا وَأَحْيَانًا لاَ يَرْفَعُهُ - قَالَ " وَقْتُ صَلاَةِ الظُّهْرِ مَا لَمْ تَحْضُرِ الْعَصْرُ وَوَقْتُ صَلاَةِ الْعَصْرِ مَا لَمْ تَصْفَرَّ الشَّمْسُ وَوَقْتُ الْمَغْرِبِ مَا لَمْ يَسْقُطْ ثَوْرُ الشَّفَقِ وَوَقْتُ الْعِشَاءِ مَا لَمْ يَنْتَصِفِ اللَّيْلُ وَوَقْتُ الصُّبْحِ مَا لَمْ تَطْلُعِ الشَّمْسُ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনে আ'স (রাঃ)

৫২৩। আমর ইবনে আলী (রাহঃ) ......... আব্দুল্লাহ ইবনে আমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। শু’বা (রাহঃ) বলেন, কাতাদা (রাযিঃ) এই হাদীস কখনও রাসূলুল্লাহ (ﷺ) থেকে মারফু’ রূপে বর্ণনা করেন, কখনও এরূপ বর্ণনা করেন না। তিনি [আব্দুল্লাহ ইবনে আমর (রাযিঃ)] বলেনঃ যোহরের শেষ সময় যতক্ষণ পর্যন্ত আসর উপস্থিত না হয়, আর আসরের সময় যতক্ষণ পর্যন্ত সুর্য হলুদ বর্ণ না হয় এবং মাগরিবের শেষ সময় যতক্ষণ পর্যন্ত শাফাক অদৃশ্য না হয়। ইশার শেষ সময় অর্ধ রাত্রের পূর্ব পর্যন্ত এবং ফজরের শেষ সময় সূর্যোদয়ের পূর্ব পর্যন্ত।

৫২৩

أَخْبَرَنَا عَبْدَةُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، وَأَحْمَدُ بْنُ سُلَيْمَانَ، - وَاللَّفْظُ لَهُ - قَالاَ حَدَّثَنَا أَبُو دَاوُدَ، عَنْ بَدْرِ بْنِ عُثْمَانَ، قَالَ إِمْلاَءً عَلَىَّ حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي مُوسَى، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ أَتَى النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم سَائِلٌ يَسْأَلُهُ عَنْ مَوَاقِيتِ الصَّلاَةِ فَلَمْ يَرُدَّ عَلَيْهِ شَيْئًا فَأَمَرَ بِلاَلاً فَأَقَامَ بِالْفَجْرِ حِينَ انْشَقَّ ثُمَّ أَمَرَهُ فَأَقَامَ بِالظُّهْرِ حِينَ زَالَتِ الشَّمْسُ وَالْقَائِلُ يَقُولُ انْتَصَفَ النَّهَارُ وَهُوَ أَعْلَمُ ثُمَّ أَمَرَهُ فَأَقَامَ بِالْعَصْرِ وَالشَّمْسُ مُرْتَفِعَةٌ ثُمَّ أَمَرَهُ فَأَقَامَ بِالْمَغْرِبِ حِينَ غَرَبَتِ الشَّمْسُ ثُمَّ أَمَرَهُ فَأَقَامَ بِالْعِشَاءِ حِينَ غَابَ الشَّفَقُ ثُمَّ أَخَّرَ الْفَجْرَ مِنَ الْغَدِ حِينَ انْصَرَفَ وَالْقَائِلُ يَقُولُ طَلَعَتِ الشَّمْسُ ثُمَّ أَخَّرَ الظُّهْرَ إِلَى قَرِيبٍ مِنْ وَقْتِ الْعَصْرِ بِالأَمْسِ ثُمَّ أَخَّرَ الْعَصْرَ حَتَّى انْصَرَفَ وَالْقَائِلُ يَقُولُ احْمَرَّتِ الشَّمْسُ ثُمَّ أَخَّرَ الْمَغْرِبَ حَتَّى كَانَ عِنْدَ سُقُوطِ الشَّفَقِ ثُمَّ أَخَّرَ الْعِشَاءَ إِلَى ثُلُثِ اللَّيْلِ ثُمَّ قَالَ " الْوَقْتُ فِيمَا بَيْنَ هَذَيْنِ " .

বর্ণনাকারী: আবু মুসা আশ'আরী (রাঃ)

৫২৪। আব্দা ইবনে আব্দুল্লাহ ও আহমদ ইবনে সুলায়মান (রাহঃ) ......... আবু মুসা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক ব্যক্তি নবী (ﷺ) এর নিকট এসে নামাযের ওয়াক্ত সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করল। তিনি কোন উত্তর না দিয়ে বিলাল (রাযিঃ)-কে নামাযের প্রস্তুতির জন্য আদেশ করলেন। প্রভাতের সময় বিলাল (রাযিঃ) ফজরের ইকামত বললেন।[১] যখন সুর্য ঢলে পড়ল তখন তিনি বিলালকে নির্দেশ দিলেন এবং তিনি যোহরের ইকামত বললেন। কেউ বলতো (এই মাত্র) দ্বিপ্রহর হল না কি? অথচ তিনি অবগত ছিলেন। পুনরায় আদেশ করলেন, অতঃপর সুর্য উর্ধাকাশে থাকতেই আসরের ইকামত বললেন। পুনরায় আদেশ করলেন এবং সুর্য অস্ত যাওয়ার পরই মাগরিবের ইকামত বললেন। এরপর শাফাক অদৃশ্য হয়ে যাওয়ার পর ইশার নামাযের ইকামত বললেন।

পরদিন ফজরের নামায এত বিলম্বে আদায় করলেন যে, নামায শেষে প্রত্যাবর্তনের সময় কেউ (সন্দেহ করে) বললো, সূর্যোদয় হয়ে গেছে।[২] পরে যোহরের নামাযকে এত বিলম্বে আদায় করলেন যে, গতকালের আসরের সময়ের নিকটবর্তী হয়ে গিয়েছিল। আসরের নামাযকে এত বিলম্বে আদায় করলেন যে, প্রত্যাবর্তনের সময় (সন্দিহান হয়ে) কেউ বললো, সুর্য রক্তিম বর্ণ হয়ে গেছে। পুনরায় মাগরিবের নামাযকে এত বিলম্বে করে আদায় করলেন যে, শাফাক অদৃশ্য হওয়ার উপক্রম হয়ে গিয়েছিলো। তিনি ইশার নামাযকে রাতের এক-তৃতীয়াংশ পর্যন্ত বিলম্ব করে আদায় করলেন। পুনরায় বললেন, এই দুই দিনের দুই ধরনের ওয়াক্তের মধ্যখানেই নামাযের ওয়াক্ত।

[১] যোহরের সালাত সূর্য ঢলে পড়ামাত্র এত শীঘ্র আদায় করতেন যে, কেউ সূর্য দেখে মনে করতো যে, এখন ঠিক দ্বিপ্রহর। অথচ নবী (ﷺ) অবগত ছিলেন যে, সূর্য ঢলে গিয়েছে এবং সালাতের প্রথম ওয়াক্ত হয়েছে।
[১] অর্থাৎ দ্বিতীয় দিন ফজরের সালাত এত বিলম্বে আদায় করলেন যে, সূর্যোদয় হয়েছে বলে কারো কারো সন্দেহ হয়েছিল।
৫২৪

أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ سُلَيْمَانَ، قَالَ حَدَّثَنَا زَيْدُ بْنُ الْحُبَابِ، قَالَ حَدَّثَنَا خَارِجَةُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ سُلَيْمَانَ بْنِ زَيْدِ بْنِ ثَابِتٍ، قَالَ حَدَّثَنِي الْحُسَيْنُ بْنُ بَشِيرِ بْنِ سَلاَّمٍ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ دَخَلْتُ أَنَا وَمُحَمَّدُ بْنُ عَلِيٍّ، عَلَى جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ الأَنْصَارِيِّ فَقُلْنَا لَهُ أَخْبِرْنَا عَنْ صَلاَةِ، رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَذَاكَ زَمَنُ الْحَجَّاجِ بْنِ يُوسُفَ . قَالَ خَرَجَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَصَلَّى الظُّهْرَ حِينَ زَالَتِ الشَّمْسُ وَكَانَ الْفَىْءُ قَدْرَ الشِّرَاكِ ثُمَّ صَلَّى الْعَصْرَ حِينَ كَانَ الْفَىْءُ قَدْرَ الشِّرَاكِ وَظِلِّ الرَّجُلِ ثُمَّ صَلَّى الْمَغْرِبَ حِينَ غَابَتِ الشَّمْسُ ثُمَّ صَلَّى الْعِشَاءَ حِينَ غَابَ الشَّفَقُ ثُمَّ صَلَّى الْفَجْرَ حِينَ طَلَعَ الْفَجْرُ ثُمَّ صَلَّى مِنَ الْغَدِ الظُّهْرَ حِينَ كَانَ الظِّلُّ طُولَ الرَّجُلِ ثُمَّ صَلَّى الْعَصْرَ حِينَ كَانَ ظِلُّ الرَّجُلِ مِثْلَيْهِ قَدْرَ مَا يَسِيرُ الرَّاكِبُ سَيْرَ الْعَنَقِ إِلَى ذِي الْحُلَيْفَةِ ثُمَّ صَلَّى الْمَغْرِبَ حِينَ غَابَتِ الشَّمْسُ ثُمَّ صَلَّى الْعِشَاءَ إِلَى ثُلُثِ اللَّيْلِ أَوْ نِصْفِ اللَّيْلِ - شَكَّ زَيْدٌ - ثُمَّ صَلَّى الْفَجْرَ فَأَسْفَرَ .

বর্ণনাকারী: জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ আনসারী (রাঃ)

৫২৫। আহমদ ইবনে সুলায়মান (রাহঃ) ......... বশীর ইবনে সাল্লাম (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, হাজ্জাজ ইবনে ইউসুফের আমলে আমি এবং মুহাম্মাদ ইবনে আলী (রাযিঃ) জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ আনসারী (রাযিঃ)-এর নিকট উপস্থিত হয়ে বললাম, আমাদেরকে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নামায সম্পর্কে অবগত করুন। তিনি [জাবির (রাযিঃ)] বললেন, যখন সুর্য ঢলে পড়ল এবং ছায়া জুতার ফিতার সমান হল, তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) নিজ গৃহ থেকে বের হয়ে যোহরের নামায আদায় করলেন। পুনরায় যখন ছায়া জুতার ফিতা পরিমাণ ও মানুষের ছায়ার সমপরিমাণ হল, তখন আসরের নামায আদায় করলেন। সুর্য অস্তমিত হলে মাগরিবের নামায আদায় করলেন। শাফাক অদৃশ্য হলে ইশার নামায আদায় করলেন। প্রভাত হলে (প্রথম ওয়াক্তে) ফজরের নামায আদায় করলেন।

পরদিন লোকের ছায়া তার সমান হলে যোহরের নামায আদায় করলেন। মানুষের ছায়া যখন তার দ্বিগুণ হল এবং সূর্যাস্তের পূর্বে এতটুকু সময় বাকী রইল যে, একজন দ্রুতগামী আরোহী (মদীনা থেকে) যুল হুলাইফা পর্যন্ত পৌছতে পারে, তখন তিনি আসরের নামায আদায় করলেন। সূর্যাস্তের পর মাগরিবের নামায আদায় করলেন। রাত এক-তৃতীয়াংশ অথবা অর্ধাংশ শেষ হওয়ার পূর্বে (বর্ণনাকারী যায়দ সন্দেহ করলেন) ইশার নামায আদায় করলেন। তারপর ফজরের নামায আদায় করলেন যখন ফর্সা হয়ে গেল।

মাগরিবের নামাযের পর ঘুমানো মাকরূহ ।

كراهية النوم بعد صلاة المغرب

৫২৫

أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، قَالَ حَدَّثَنَا يَحْيَى، قَالَ حَدَّثَنَا عَوْفٌ، قَالَ حَدَّثَنِي سَيَّارُ بْنُ سَلاَمَةَ، قَالَ دَخَلْتُ عَلَى أَبِي بَرْزَةَ فَسَأَلَهُ أَبِي كَيْفَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يُصَلِّي الْمَكْتُوبَةَ قَالَ كَانَ يُصَلِّي الْهَجِيرَ الَّتِي تَدْعُونَهَا الأُولَى حِينَ تَدْحَضُ الشَّمْسُ وَكَانَ يُصَلِّي الْعَصْرَ حِينَ يَرْجِعُ أَحَدُنَا إِلَى رَحْلِهِ فِي أَقْصَى الْمَدِينَةِ وَالشَّمْسُ حَيَّةٌ وَنَسِيتُ مَا قَالَ فِي الْمَغْرِبِ وَكَانَ يَسْتَحِبُّ أَنْ يُؤَخِّرَ الْعِشَاءَ الَّتِي تَدْعُونَهَا الْعَتَمَةَ وَكَانَ يَكْرَهُ النَّوْمَ قَبْلَهَا وَالْحَدِيثَ بَعْدَهَا وَكَانَ يَنْفَتِلُ مِنْ صَلاَةِ الْغَدَاةِ حِينَ يَعْرِفُ الرَّجُلُ جَلِيسَهُ وَكَانَ يَقْرَأُ بِالسِّتِّينَ إِلَى الْمِائَةِ .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু বারযা আসলামী রাযি.

৫২৬। মুহাম্মাদ ইবনে বাশশার (রাহঃ) ......... সাইয়ার ইবনে সালামা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আমার পিতার সঙ্গে আবু বারযাহ (রাযিঃ)-এর খেদমতে উপস্থিত হলাম। আমার পিতা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কিভাবে ফরজ নামায আদায় করতেন, এ সম্বন্ধে তাঁকে জিজ্ঞাসা করলেন। তিনি বললেনঃ সুর্য ঢলে পড়লে যোহরের নামায আদায় করতেন যাকে তোমরা প্রথম নামায[১] বল। তিনি এমন সময় আসরের নামায আদায় করতেন যে, নামায আদায় করে কেউ মদীনার এক প্রান্তে নিজ অবস্থানে আসতে পারত এবং তখনও সুর্য করোজ্জ্বল থাকত।

বর্ণনাকারী সাইয়ার (রাযিঃ) বলেনঃ মাগরিব সম্বন্ধে কি বলেছিলেন তা আমি ভুলে গেয়েছি। ইশার নামায যাকে তোমরা আতামা’ বল, বিলম্বে আদায় করাকে তিনি পছন্দ করতেন। ইশার পূর্বে ঘুমানো ও ইশার পর কথা বলাকে মকরূহ জানতেন।[২] আর ফজরের নামায আদায় করে এমন সময় ফেরতেন যে, তখন যে কেউ তার পার্শ্ববর্তী লোককে চিনতে পারত। আর এ নামাযে ষাট আয়াত থেকে একশত আয়াত পাঠ করতেন।

[১] নবী (ﷺ)-কে নিয়ে জিবরাঈল (আ) সর্বপ্রথম যোহরের সালাত আদায় করেছিলেন। এ কারণে সাহাবীগণ এই সালাতকে প্রথম সালাত বলে অভিহিত করতেন।
[২] এই হাদীস অনুযায়ী প্রায় সকল ফিকহবিদ ইশার পূর্বে নিদ্রা যাওয়া ও পরে কথা বলাকে মাকরূহ বলেন । তবে ক্লান্তি দূর করার জন্য এ সালাতের পূর্বে সামান্য বিশ্রাম করা বা পরে কোন সৎ অথবা জরুরী কথা বলা এর অন্তর্ভুক্ত নয় ।

ইশার প্রথম ওয়াক্ত

أول وقت العشاء

৫২৬

أَخْبَرَنَا سُوَيْدُ بْنُ نَصْرٍ، قَالَ أَنْبَأَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ الْمُبَارَكِ، عَنْ حُسَيْنِ بْنِ عَلِيِّ بْنِ حُسَيْنٍ، قَالَ أَخْبَرَنِي وَهْبُ بْنُ كَيْسَانَ، قَالَ حَدَّثَنَا جَابِرُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ جَاءَ جِبْرِيلُ عَلَيْهِ السَّلاَمُ إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم حِينَ زَالَتِ الشَّمْسُ فَقَالَ قُمْ يَا مُحَمَّدُ فَصَلِّ الظُّهْرَ حِينَ مَالَتِ الشَّمْسُ ثُمَّ مَكَثَ حَتَّى إِذَا كَانَ فَىْءُ الرَّجُلِ مِثْلَهُ جَاءَهُ لِلْعَصْرِ فَقَالَ قُمْ يَا مُحَمَّدُ فَصَلِّ الْعَصْرَ . ثُمَّ مَكَثَ حَتَّى إِذَا غَابَتِ الشَّمْسُ جَاءَهُ فَقَالَ قُمْ فَصَلِّ الْمَغْرِبَ فَقَامَ فَصَلاَّهَا حِينَ غَابَتِ الشَّمْسُ سَوَاءً ثُمَّ مَكَثَ حَتَّى إِذَا ذَهَبَ الشَّفَقُ جَاءَهُ فَقَالَ قُمْ فَصَلِّ الْعِشَاءَ . فَقَامَ فَصَلاَّهَا ثُمَّ جَاءَهُ حِينَ سَطَعَ الْفَجْرُ فِي الصُّبْحِ فَقَالَ قُمْ يَا مُحَمَّدُ فَصَلِّ . فَقَامَ فَصَلَّى الصُّبْحَ ثُمَّ جَاءَهُ مِنَ الْغَدِ حِينَ كَانَ فَىْءُ الرَّجُلِ مِثْلَهُ فَقَالَ قُمْ يَا مُحَمَّدُ فَصَلِّ . فَصَلَّى الظُّهْرَ ثُمَّ جَاءَهُ جِبْرِيلُ عَلَيْهِ السَّلاَمُ حِينَ كَانَ فَىْءُ الرَّجُلِ مِثْلَيْهِ فَقَالَ قُمْ يَا مُحَمَّدُ فَصَلِّ . فَصَلَّى الْعَصْرَ ثُمَّ جَاءَهُ لِلْمَغْرِبِ حِينَ غَابَتِ الشَّمْسُ وَقْتًا وَاحِدًا لَمْ يَزُلْ عَنْهُ فَقَالَ قُمْ فَصَلِّ . فَصَلَّى الْمَغْرِبَ ثُمَّ جَاءَهُ لِلْعِشَاءِ حِينَ ذَهَبَ ثُلُثُ اللَّيْلِ الأَوَّلُ فَقَالَ قُمْ فَصَلِّ . فَصَلَّى الْعِشَاءَ ثُمَّ جَاءَهُ لِلصُّبْحِ حِينَ أَسْفَرَ جِدًّا فَقَالَ قُمْ فَصَلِّ . فَصَلَّى الصُّبْحَ فَقَالَ " مَا بَيْنَ هَذَيْنِ وَقْتٌ كُلُّهُ " .

বর্ণনাকারী: জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ আনসারী (রাঃ)

৫২৭। সুওয়ায়দ ইবনে নসর (রাহঃ) ......... জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, সুর্য ঢলে পড়ার পর জিবরাঈল (আলাইহিস সালাম) নবী (ﷺ) এর নিকট এসে বললেনঃ হে মুহাম্মাদ! আপনি দাঁড়ান, সুর্য মাথার উপর থেকে ঢলে পড়লে যোহরের নামায আদায় করুন। তারপর অপেক্ষা করলেন। যখন মানুষের ছায়া তার সমান হল, তখন আসরের জন্য তাঁর নিকট এসে বললেনঃ হে মুহাম্মাদ! উঠুন এবং আসরের নামায আদায় করুন। আবার অপেক্ষা করলেন।

যখন সুর্য অস্তমিত হল তখন এসে বললেন, হে মুহাম্মাদ! উঠুন এবং মাগরিবের নামায আদায় করুন। নবী (ﷺ) দাঁড়ালেন এবং সুর্য ডোবার সাথে সাথেই মাগরিবের নামায আদায় করলেন। পুনরায় অপেক্ষা করলেন এবং আকাশের শাফাক অদৃশ্য হয়ে গেলে তিনি এসে বললেনঃ উঠুন এবং ইশার নামায আদায় করুন। তিনি দাঁড়িয়ে ইশার নামায আদায় করলেন। যখন স্পষ্টরূপে প্রভাত হল, আবার এসে বললেনঃ হে মুহাম্মাদ! উঠুন এবং ফজরের নামায আদায় করুন। তিনি ফজরের নামায আদায় করলেন। পরদিন ছায়া মানুষের বরাবর হলে আবার এসে বললেনঃ হে মুহাম্মাদ! আপনি উঠুন এবং নামায আদায় করুন।

তিনি যোহরের নামায আদায় করলেন। কোনো মানুষের ছায়া যখন দ্বিগুণ হল জিবরাঈল (আলাইহিস সালাম) আবার আসলেন এবং বললেনঃ হে মুহাম্মাদ! উঠুন এবং নামায আদায় করুন। তিনি আসরের নামায আদায় করলেন। সূর্যাস্তের পর পূর্ব দিনের ন্যায় মাগরিবের জন্য আবার আসলেন এবং বললেন, উঠে নামায আদায় করুন। তিনি মাগরিবের নামায আদায় করলেন। রাতের এক-তৃতীয়াংশ চলে গেলে ইশার জন্য আবার এসে বললেনঃ উঠুন এবং নামায আদায় করুন। তিনি ঈশা আদায় করলেন। প্রভাত স্পষ্ট হওয়ার পর ফজরের নামাযের জন্য আবার আসলেন এবং বললেন, উঠুন, নামায আদায় করুন এবং তিনি ফজরের নামায আদায় করলেন। অতঃপর বললেন, এই দুইদিনের সময়ের মধ্যবর্তী সময়ই নামাযের সময়।

ইশার নামায তাড়াতাড়ি আদায় করা

تعجيل العشاء

৫২৭

أَخْبَرَنَا عَمْرُو بْنُ عَلِيٍّ، وَمُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، قَالاَ حَدَّثَنَا مُحَمَّدٌ، قَالَ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ سَعْدِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَمْرِو بْنِ حَسَنٍ، قَالَ قَدِمَ الْحَجَّاجُ فَسَأَلْنَا جَابِرَ بْنَ عَبْدِ اللَّهِ قَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يُصَلِّي الظُّهْرَ بِالْهَاجِرَةِ وَالْعَصْرَ وَالشَّمْسُ بَيْضَاءُ نَقِيَّةٌ وَالْمَغْرِبَ إِذَا وَجَبَتِ الشَّمْسُ وَالْعِشَاءَ أَحْيَانًا كَانَ إِذَا رَآهُمْ قَدِ اجْتَمَعُوا عَجَّلَ وَإِذَا رَآهُمْ قَدْ أَبْطَئُوا أَخَّرَ .

বর্ণনাকারী: জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ আনসারী (রাঃ)

৫২৮। আমর ইবনে আলী ও মুহাম্মাদ ইবনে বাশশার (রাহঃ) ......... জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যোহরের নামায সময়ের শুরুতে আদায় করতেন। আসরের নামায সুর্য উজ্জ্বল থাকতেই আদায় করে নিতেন। সূর্যাস্তের পরেই মাগরিবের নামায আদায় করতেন। ইশার নামায কখনও লোক একত্র হলে তাড়াতাড়ি আদায় করতেন আবার কখনও লোক জমায়েত দেরিতে হলে বিলম্বে আদায় করতেন।

শাফাক [১]

الشفق

৫২৮

أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ قُدَامَةَ، قَالَ حَدَّثَنَا جَرِيرٌ، عَنْ رَقَبَةَ، عَنْ جَعْفَرِ بْنِ إِيَاسٍ، عَنْ حَبِيبِ بْنِ سَالِمٍ، عَنِ النُّعْمَانِ بْنِ بَشِيرٍ، قَالَ أَنَا أَعْلَمُ النَّاسِ، بِمِيقَاتِ هَذِهِ الصَّلاَةِ عِشَاءِ الآخِرَةِ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يُصَلِّيهَا لِسُقُوطِ الْقَمَرِ لِثَالِثَةٍ .

বর্ণনাকারী: হযরত নু'মান ইবন বাশীর রাযি.

৫২৯। মুহাম্মাদ ইবনে কুদামা (রাহঃ) ......... নু’মান ইবনে বশীর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ইশার নামাযের ওয়াক্ত সম্পর্কে অধিক অবগত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তৃতীয়ার (তৃতীয় রাতের চাঁদ) চাঁদ অস্ত যাওয়ার সময় ইশার নামায আদায় করতেন।

[১] অধিকাংশ ইমাম এবং ইমাম আবু হানীফা (রাহঃ)-এর মত অনুসারে সূর্যাস্তের পর পশ্চিম দিগন্তে যে লালিমা দেখা যায়, তাকে ‘শফক' বলে । ইমাম আবু হানীফার প্রসিদ্ধ মত অনুসারে লালিমা অদৃশ্য হওয়ার পর যে শুভ্রতা দেখা যায়- যার পর আঁধারি আসে, তাকে 'শফক' বলে।

শাফাক

الشفق

৫২৯

أَخْبَرَنَا عُثْمَانُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ حَدَّثَنَا عَفَّانُ، قَالَ حَدَّثَنَا أَبُو عَوَانَةَ، عَنْ أَبِي بِشْرٍ، عَنْ بَشِيرِ بْنِ ثَابِتٍ، عَنْ حَبِيبِ بْنِ سَالِمٍ، عَنِ النُّعْمَانِ بْنِ بَشِيرٍ، قَالَ وَاللَّهِ إِنِّي لأَعْلَمُ النَّاسِ بِوَقْتِ هَذِهِ الصَّلاَةِ صَلاَةِ الْعِشَاءِ الآخِرَةِ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يُصَلِّيهَا لِسُقُوطِ الْقَمَرِ لِثَالِثَةٍ .

বর্ণনাকারী: হযরত নু'মান ইবন বাশীর রাযি.

৫৩০। উসমান ইবনে আব্দুল্লাহ (রাহঃ) ......... নু’মান ইবনে বশীর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর কসম, আমি লোকদের মধ্যে ইশার নামাযের ওয়াক্ত সম্বন্ধে অধিক অবগত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তৃতীয়ার চাঁদ অস্ত যাওয়ার সময় ইশার নামায আদায় করতেন।

ইশার নামায দেরী করে আদায় করা মুস্তাহাব।

ما يستحب من تأخير العشاء

৫৩০

أَخْبَرَنَا سُوَيْدُ بْنُ نَصْرٍ، قَالَ أَنْبَأَنَا عَبْدُ اللَّهِ، عَنْ عَوْفٍ، عَنْ سَيَّارِ بْنِ سَلاَمَةَ، قَالَ دَخَلْتُ أَنَا وَأَبِي، عَلَى أَبِي بَرْزَةَ الأَسْلَمِيِّ فَقَالَ لَهُ أَبِي أَخْبِرْنَا كَيْفَ، كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يُصَلِّي الْمَكْتُوبَةَ قَالَ كَانَ يُصَلِّي الْهَجِيرَ الَّتِي تَدْعُونَهَا الأُولَى حِينَ تَدْحَضُ الشَّمْسُ وَكَانَ يُصَلِّي الْعَصْرَ ثُمَّ يَرْجِعُ أَحَدُنَا إِلَى رَحْلِهِ فِي أَقْصَى الْمَدِينَةِ وَالشَّمْسُ حَيَّةٌ قَالَ وَنَسِيتُ مَا قَالَ فِي الْمَغْرِبِ قَالَ وَكَانَ يَسْتَحِبُّ أَنْ تُؤَخَّرَ صَلاَةُ الْعِشَاءِ الَّتِي تَدْعُونَهَا الْعَتَمَةَ قَالَ وَكَانَ يَكْرَهُ النَّوْمَ قَبْلَهَا وَالْحَدِيثَ بَعْدَهَا وَكَانَ يَنْفَتِلُ مِنْ صَلاَةِ الْغَدَاةِ حِينَ يَعْرِفُ الرَّجُلُ جَلِيسَهُ وَكَانَ يَقْرَأُ بِالسِّتِّينَ إِلَى الْمِائَةِ .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু বারযা আসলামী রাযি.

৫৩১। সুওয়ায়দ ইবনে নসর (রাহঃ) ......... সাইয়ার ইবনে সালামা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি এবং আমার পিতা আবু বারযাহ (রাযিঃ)-এর নিকট উপস্থিত হলাম। আমার পিতা জিজ্ঞাসা করলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ফরজ নামায কিভাবে আদায় করতেন? তিনি বললেনঃ সুর্য পশ্চিম আকাশে ঢলে পড়লে যোহরের নামায আদায় করতেন, যাকে তোমরা (নামাযে) উলা বল এবং আসরের নামায এমন সময় আদায় করতেন যে, আমাদের কেউ মদীনার দূর প্রান্তে নিজ অবস্থানে চলে যেতে পারত, তখনও সুর্য দীপ্তিমান থাকত।

[বর্ণনাকারী সাইয়ার (রাযিঃ)] বলেনঃ মাগরিব সম্বন্ধে কি বলেছিলেন আমার স্মরণ নেই। ইশার নামায যাকে তোমরা আতামা’ বল, বিলম্বে আদায় করা তিনি পছন্দ করতেন। ইশার পূর্বে ঘুমানো ও পরে কথা বলাকে তিনি অপছন্দ করতেন। আর ফজরের নামায আদায় করে এমন সময় ফেরতেন যখন কোনো ব্যক্তি তার পার্শ্ববর্তী লোককে চিনতে পারত। তিনি ফজরের নামাযে ষাট থেকে একশত আয়াত পর্যন্ত পাঠ করতেন।
৫৩১

أَخْبَرَنِي إِبْرَاهِيمُ بْنُ الْحَسَنِ، وَيُوسُفُ بْنُ سَعِيدٍ، - وَاللَّفْظُ لَهُ - قَالاَ حَدَّثَنَا حَجَّاجٌ، عَنِ ابْنِ جُرَيْجٍ، قَالَ قُلْتُ لِعَطَاءٍ أَىُّ حِينٍ أَحَبُّ إِلَيْكَ أَنْ أُصَلِّيَ الْعَتَمَةَ إِمَامًا أَوْ خِلْوًا قَالَ سَمِعْتُ ابْنَ عَبَّاسٍ يَقُولُ أَعْتَمَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ذَاتَ لَيْلَةٍ بِالْعَتَمَةِ حَتَّى رَقَدَ النَّاسُ وَاسْتَيْقَظُوا وَرَقَدُوا وَاسْتَيْقَظُوا فَقَامَ عُمَرُ فَقَالَ الصَّلاَةَ الصَّلاَةَ قَالَ عَطَاءٌ قَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ خَرَجَ نَبِيُّ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَأَنِّي أَنْظُرُ إِلَيْهِ الآنَ يَقْطُرُ رَأْسُهُ مَاءً وَاضِعًا يَدَهُ عَلَى شِقِّ رَأْسِهِ قَالَ وَأَشَارَ فَاسْتَثْبَتُّ عَطَاءً كَيْفَ وَضَعَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم يَدَهُ عَلَى رَأْسِهِ فَأَوْمَأَ إِلَىَّ كَمَا أَشَارَ ابْنُ عَبَّاسٍ فَبَدَّدَ لِي عَطَاءٌ بَيْنَ أَصَابِعِهِ بِشَىْءٍ مِنْ تَبْدِيدٍ ثُمَّ وَضَعَهَا فَانْتَهَى أَطْرَافُ أَصَابِعِهِ إِلَى مُقَدَّمِ الرَّأْسِ ثُمَّ ضَمَّهَا يَمُرُّ بِهَا كَذَلِكَ عَلَى الرَّأْسِ حَتَّى مَسَّتْ إِبْهَامَاهُ طَرَفَ الأُذُنِ مِمَّا يَلِي الْوَجْهَ ثُمَّ عَلَى الصَّدْغِ وَنَاحِيَةِ الْجَبِينِ لاَ يَقْصُرُ وَلاَ يَبْطُشُ شَيْئًا إِلاَّ كَذَلِكَ ثُمَّ قَالَ " لَوْلاَ أَنْ أَشُقَّ عَلَى أُمَّتِي لأَمَرْتُهُمْ أَنْ لاَ يُصَلُّوهَا إِلاَّ هَكَذَا " .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

৫৩২। ইবরাহীম ইবনে হাসান ও ইউসুফ ইবনে সাঈদ (রাহঃ) ......... ইবনে যুরায়জ (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আতা (রাহঃ)-কে জিজ্ঞাসা করলাম, আপনার কাছে আমার ইশার নামাযের জন্য কোন সময়টি বেশী পছন্দ - তা ইমামরূপে আদায় করি বা একাকী? তিনি বললেনঃ আমি ইবনে আব্বাস (রাযিঃ)-কে বলতে শুনেছি, একরাত্রে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ইশার নামায এত বিলম্বে আদায় করলেন যে, লোকজন ঘুমিয়ে পড়ল, আবার জাগ্রত হল, আবার ঘুমিয়ে পড়ল, আবার জাগ্রত হল।

এমতাবস্থায় উমর (রাযিঃ) দাঁড়িয়ে বললেনঃ নামায, নামায। আতা (রাহঃ) বলেন, ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) বলেছেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বের হলেন এমতাবস্থায় যে, আমি যেন এখনও দেখতে পাচ্ছি তাঁর মাথা থেকে গোসলের পানি ফোঁটা ফোঁটা করে পড়ছিল এবং তাঁর মাথার একপাশে হাত রাখা ছিলো। আতা বলেন, ইবনে আব্বাস ইঙ্গিতে দেখালেন।

আমি আতা (রাহঃ)-কে পুনরায় জিজ্ঞাসা করলামঃ নবী (ﷺ) কিভাবে মাথায় হাত রাখলেন? তিনি আমাকে ইঙ্গিতে দেখালেন যেভাবে ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) ইঙ্গিতে দেখিয়েছিলেন। আতা (রাহঃ) হাতের আঙ্গুলগুলো কিছু ফাঁক ফাঁক করে মাথার উপর এমনভাবে রাখলেন যে, আঙ্গুলগুলোর পার্শ্বদেশ মাথার অগ্রভাগে পৌঁছল।

তারপর আঙ্গুলগুলো একত্র করে মাথার উপর এমনভাবে ঘর্ষণ করলেন যে, উভয় বৃদ্ধাঙ্গুলী চেহারা সংলগ্ন কানের অংশ স্পর্শ করলো। তারপর কানের পার্শ্ব ও ললাট এমনভাবে (মাসাহ) করলেন যেন কোন কাজ দ্রুত ও ধীরগতিতে করেননি, বরং তা স্বাভাবিকভাবে করেছেন। তারপর বললেনঃ আমার উম্মতের উপর যদি কঠিন না হতো, তবে আমি তাদের আদেশ করতাম, ইশার নামায যেনো এভাবে বিলম্ব করে আদায় করে।
৫৩২

أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ مَنْصُورٍ الْمَكِّيُّ، قَالَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ عَمْرٍو، عَنْ عَطَاءٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، وَعَنِ ابْنِ جُرَيْجٍ، عَنْ عَطَاءٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ أَخَّرَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم الْعِشَاءَ ذَاتَ لَيْلَةٍ حَتَّى ذَهَبَ مِنَ اللَّيْلِ فَقَامَ عُمَرُ - رضى الله عنه - فَنَادَى الصَّلاَةَ يَا رَسُولَ اللَّهِ رَقَدَ النِّسَاءُ وَالْوِلْدَانُ . فَخَرَجَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَالْمَاءُ يَقْطُرُ مِنْ رَأْسِهِ وَهُوَ يَقُولُ " إِنَّهُ الْوَقْتُ لَوْلاَ أَنْ أَشُقَّ عَلَى أُمَّتِي "

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

৫৩৩। মুহাম্মাদ ইবনে মানসুর মক্কী (রাহঃ) ......... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক রাত্রে নবী (ﷺ) ইশার নামাযে বিলম্ব করলেন। রাতের এক অংশ চলে গেলে উমর (রাযিঃ) দাঁড়িয়ে বললেন - ইয়া রাসুলাল্লাহ! নামায। মহিলা ও ছেলেমেয়েরা সকলে ঘুমিয়ে পরেছে। তিনি এমতাবস্থায় বের হলেন যে, পবিত্র মাথা থেকে পানির ফোঁটা পড়ছিল এবং তিনি বলছিলেন, যদি আমি আমার উম্মতের পক্ষে কষ্টকর হবে বলে মনে না করতাম তাহলে এটাই (ইশার মুস্তাহাব) ওয়াক্ত ছিলো।

৫৩৩

أَخْبَرَنَا قُتَيْبَةُ، قَالَ حَدَّثَنَا أَبُو الأَحْوَصِ، عَنْ سِمَاكٍ، عَنْ جَابِرِ بْنِ سَمُرَةَ، قَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يُؤَخِّرُ الْعِشَاءَ الآخِرَةَ .

বর্ণনাকারী: হযরত জাবির ইবনে সামুরা (রাঃ)

৫৩৪। কুতায়বা (রাহঃ) ......... জাবির ইবনে সামুরা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ইশার নামায বিলম্বে আদায় করতেন।

৫৩৪

أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ مَنْصُورٍ، قَالَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، قَالَ حَدَّثَنَا أَبُو الزِّنَادِ، عَنِ الأَعْرَجِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " لَوْلاَ أَنْ أَشُقَّ عَلَى أُمَّتِي لأَمَرْتُهُمْ بِتَأْخِيرِ الْعِشَاءِ وَبِالسِّوَاكِ عِنْدَ كُلِّ صَلاَةٍ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৫৩৫। মুহাম্মাদ ইবনে মানসুর (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যদি আমার উম্মতের পক্ষে কষ্টকর হবে বলে মনে না করতাম, তাহলে ইশার নামায বিলম্বে আদায় করার এবং প্রত্যেক নামাযের (উযুর) সময় মিসওয়াক করার জন্য আদেশ করতাম।

ইশার শেষ সময়

آخر وقت العشاء

৫৩৫

أَخْبَرَنِي عَمْرُو بْنُ عُثْمَانَ، قَالَ حَدَّثَنَا ابْنُ حِمْيَرَ، قَالَ حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي عَبْلَةَ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، وَأَخْبَرَنِي عَمْرُو بْنُ عُثْمَانَ، قَالَ حَدَّثَنِي أَبِي، عَنْ شُعَيْبٍ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ عُرْوَةَ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ أَعْتَمَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لَيْلَةً بِالْعَتَمَةِ فَنَادَاهُ عُمَرُ رضى الله عنه نَامَ النِّسَاءُ وَالصِّبْيَانُ . فَخَرَجَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَقَالَ " مَا يَنْتَظِرُهَا غَيْرُكُمْ " . وَلَمْ يَكُنْ يُصَلَّى يَوْمَئِذٍ إِلاَّ بِالْمَدِينَةِ ثُمَّ قَالَ " صَلُّوهَا فِيمَا بَيْنَ أَنْ يَغِيبَ الشَّفَقُ إِلَى ثُلُثِ اللَّيْلِ " . وَاللَّفْظُ لاِبْنِ حِمْيَرَ .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

৫৩৬। আমর ইবনে উসমান (রাহঃ) ......... আয়িশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একরাতে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ইশার নামাযে অনেক বিলম্ব করে ফেললেন। তখন উমর (রাযিঃ) রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে সম্বোধন করে বললেনঃ স্ত্রীলোক ও শিশুরা ঘুমিয়ে পড়েছে। তারপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) (নামাযের জন্য) বের হলেন এবং বললেনঃ তোমাদের ব্যতীত আর কেউই এ নামাযের জন্য অপেক্ষা করে না। তখন মদীনা ব্যতীত কোথাও এভাবে জামাআতে নামায আদায় করা হতো না। তারপর বললেন, তোমরা ইশার নামায আকাশের শাফাক অদৃশ্য হওয়ার পর রাতের এক-তৃতীয়াংশ পর্যন্ত সময়ের মধ্যে আদায় করবে।

৫৩৬

أَخْبَرَنِي إِبْرَاهِيمُ بْنُ الْحَسَنِ، قَالَ حَدَّثَنَا حَجَّاجٌ، قَالَ قَالَ ابْنُ جُرَيْجٍ ح وَأَخْبَرَنِي يُوسُفُ بْنُ سَعِيدٍ، قَالَ حَدَّثَنَا حَجَّاجٌ، عَنِ ابْنِ جُرَيْجٍ، قَالَ أَخْبَرَنِي الْمُغِيرَةُ بْنُ حَكِيمٍ، عَنْ أُمِّ كُلْثُومٍ ابْنَةِ أَبِي بَكْرٍ، أَنَّهَا أَخْبَرَتْهُ عَنْ عَائِشَةَ أُمِّ الْمُؤْمِنِينَ، قَالَتْ أَعْتَمَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم ذَاتَ لَيْلَةٍ حَتَّى ذَهَبَ عَامَّةُ اللَّيْلِ وَحَتَّى نَامَ أَهْلُ الْمَسْجِدِ ثُمَّ خَرَجَ فَصَلَّى وَقَالَ " إِنَّهُ لَوَقْتُهَا لَوْلاَ أَنْ أَشُقَّ عَلَى أُمَّتِي " .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

৫৩৭। ইবরাহীম ইবনে হাসান ও ইউসুফ ইবনে সাইদ (রাহঃ) ......... উম্মুল মু'মিনীন আয়িশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) এক রাতে ইশার নামায এত দেরি করে আদায় করলেন যে, রাতের অনেক অংশ চলে গেছে, আর মসজিদে মুসল্লীগণ ঘুমিয়ে পড়েছে। এরপর তিনি বের হয়ে নামায আদায় করলেন এবং বললেনঃ যদি আমার উম্মতের পক্ষে কষ্টকর হবে বলে মনে না করতাম, তবে এটাই তার মুস্তাহাব ওয়াক্ত ছিলো।

৫৩৭

أَخْبَرَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، قَالَ أَنْبَأَنَا جَرِيرٌ، عَنْ مَنْصُورٍ، عَنِ الْحَكَمِ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، قَالَ مَكَثْنَا ذَاتَ لَيْلَةٍ نَنْتَظِرُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لِعِشَاءِ الآخِرَةِ فَخَرَجَ عَلَيْنَا حِينَ ذَهَبَ ثُلُثُ اللَّيْلِ أَوْ بَعْدَهُ فَقَالَ حِينَ خَرَجَ " إِنَّكُمْ تَنْتَظِرُونَ صَلاَةً مَا يَنْتَظِرُهَا أَهْلُ دِينٍ غَيْرُكُمْ وَلَوْلاَ أَنْ يَثْقُلَ عَلَى أُمَّتِي لَصَلَّيْتُ بِهِمْ هَذِهِ السَّاعَةَ " ثُمَّ أَمَرَ الْمُؤَذِّنَ فَأَقَامَ ثُمَّ صَلَّى .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

৫৩৮। ইসহাক ইবনে ইবরাহীম (রাহঃ) ......... ইবনে উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক রাতে আমরা ইশার নামাযের জন্য রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর অপেক্ষা করছিলাম। তারপর রাতের এক-তৃতীয়াংশ বা আরও বেশী অতিক্রান্ত হওয়ার পর তিনি আমাদের নিকট বের হয়ে আসলেন এবং বললেনঃ তোমরা এমন একটি নামাযের অপেক্ষা করছো যে, তোমাদের ব্যতীত অন্য কোন ধর্মে অনুসারীরা তার অপেক্ষা করে না। তিনি আরও বললেনঃ আমার উম্মতের পক্ষে কঠিন না হলে এমন সময়ই আমি তাদের নিয়ে (ইশার নামায) আদায় করতাম। তারপর মুয়াযযিনকে আদেশ করলেন, তিনি ইকামত বললেন। তারপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) নামায আদায় করলেন।

৫৩৮

أَخْبَرَنَا عِمْرَانُ بْنُ مُوسَى، قَالَ حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَارِثِ، قَالَ حَدَّثَنَا دَاوُدُ، عَنْ أَبِي نَضْرَةَ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، قَالَ صَلَّى بِنَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم صَلاَةَ الْمَغْرِبِ ثُمَّ لَمْ يَخْرُجْ إِلَيْنَا حَتَّى ذَهَبَ شَطْرُ اللَّيْلِ فَخَرَجَ فَصَلَّى بِهِمْ ثُمَّ قَالَ " إِنَّ النَّاسَ قَدْ صَلُّوا وَنَامُوا وَأَنْتُمْ لَمْ تَزَالُوا فِي صَلاَةٍ مَا انْتَظَرْتُمُ الصَّلاَةَ وَلَوْلاَ ضَعْفُ الضَّعِيفِ وَسُقْمُ السَّقِيمِ لأَمَرْتُ بِهَذِهِ الصَّلاَةِ أَنْ تُؤَخَّرَ إِلَى شَطْرِ اللَّيْلِ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ)

৫৩৯। ইমরান ইবনে মুসা (রাহঃ) ......... আবু সাঈদ খুদরী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদের নিয়ে মাগরিবের নামায আদায় করলেন। তারপর অর্ধেক রাত অতিবাহিত হওয়ার পর বের হয়ে ইশার নামায আদায় করলেন এবং বললেনঃ অন্যান্য লোক নামায আদায় করে ঘুমিয়ে পরেছে। তোমরা যতক্ষণ পর্যন্ত নামাযের জন্য অপেক্ষা করছ, ততক্ষণ পর্যন্ত তোমরা নামাযে মধ্যে আছ (বলে গণ্য হবে)। আর মুসল্লীদের মধ্যে যদি দুর্বল ও পীড়িত লোক না থাকত, তবে আমি এ নামায অর্ধ রজনী পর্যন্ত দেরি করে আদায় করার আদেশ করতাম।

৫৩৯

أَخْبَرَنَا عَلِيُّ بْنُ حُجْرٍ، قَالَ حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ، ح وَأَنْبَأَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، قَالَ حَدَّثَنَا خَالِدٌ، قَالاَ حَدَّثَنَا حُمَيْدٌ، قَالَ سُئِلَ أَنَسٌ هَلِ اتَّخَذَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم خَاتَمًا قَالَ نَعَمْ أَخَّرَ لَيْلَةً صَلاَةَ الْعِشَاءِ الآخِرَةِ إِلَى قَرِيبٍ مِنْ شَطْرِ اللَّيْلِ فَلَمَّا أَنْ صَلَّى أَقْبَلَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم عَلَيْنَا بِوَجْهِهِ ثُمَّ قَالَ " إِنَّكُمْ لَنْ تَزَالُوا فِي صَلاَةٍ مَا انْتَظَرْتُمُوهَا " . قَالَ أَنَسٌ كَأَنِّي أَنْظُرُ إِلَى وَبِيصِ خَاتَمِهِ . فِي حَدِيثِ عَلِيٍّ إِلَى شَطْرِ اللَّيْلِ .

বর্ণনাকারী: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

৫৪০। আলী ইবনে হুজর ও মুহামদ ইবনে মুসান্না (রাহঃ) ......... হুমায়দ (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আনাস (রাযিঃ)-কে জিজ্ঞাসা করা হল যে, নবী (ﷺ) কি আংটি ব্যবহার করতেন? তিনি বললেনঃ হ্যাঁ। একদা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ইশার নামায প্রায় অর্ধরাত পর্যন্ত বিলম্ব করে আদায় করলেন এবং নামাযের পর নবী (ﷺ) আমাদের অভিমুখী হয়ে বললেনঃ তোমরা যতক্ষণ পর্যন্ত নামাযের অপেক্ষা করবে ততক্ষণ পর্যন্ত নামাযের মধ্যেই আছ (বলে গণ্য হবে)। আনাস (রাযিঃ) বলেনঃ আমি ঐ সময় তাঁর (রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর) আংটির উজ্জ্বলতা লক্ষ্য করছিলাম।

আলী ইবনে হুজর-এর হাদীসে ‘প্রায় অর্ধ রাত্রির’ স্থলে ‘অর্ধরাত পর্যন্ত’ উল্লেখ রয়েছে।

ইশাকে আতামাহ[১] বলার অনুমতি

الرخصة في أن يقال للعشاء العتمة

৫৪০

أَخْبَرَنَا عُتْبَةُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ قَرَأْتُ عَلَى مَالِكِ بْنِ أَنَسٍ وَالْحَارِثُ بْنُ مِسْكِينٍ قِرَاءَةً عَلَيْهِ وَأَنَا أَسْمَعُ، عَنِ ابْنِ الْقَاسِمِ، قَالَ حَدَّثَنِي مَالِكٌ، عَنْ سُمَىٍّ، عَنْ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " لَوْ يَعْلَمُ النَّاسُ مَا فِي النِّدَاءِ وَالصَّفِّ الأَوَّلِ ثُمَّ لَمْ يَجِدُوا إِلاَّ أَنْ يَسْتَهِمُوا عَلَيْهِ لاَسْتَهَمُوا وَلَوْ يَعْلَمُ النَّاسُ مَا فِي التَّهْجِيرِ لاَسْتَبَقُوا إِلَيْهِ وَلَوْ عَلِمُوا مَا فِي الْعَتَمَةِ وَالصُّبْحِ لأَتَوْهُمَا وَلَوْ حَبْوًا " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৫৪১। উতবা ইবনে আব্দুল্লাহ ও হারিস ইবনে মিসকিন (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ লোকেরা যদি আযান দেয়া ও নামাযে প্রথম কাতারে দাঁড়াবার ফযিলত জানত, আর এ ফযিলত অর্জন করার জন্য লটারি[২] ব্যতীত অন্য কোন বিকল্প ব্যবস্থা না পেত, তাহলে অবশ্যই তারা লটারির সাহায্য নিত। আর যদি তারা জানত যে, প্রথম ওয়াক্তে নামায আদায় করার কত বেশী ফযিলত তাহলে তারা ওয়াক্তের প্রথমভাগেই নামাযে আসার ব্যাপারে একে অপরের অগ্রগামী হতো। আর তারা যদি জানত যে, আতামা (আরবের বেদুইনরা মাগরিবের নামাযকে ঈশা এবং ইশার নামাযকে আতামাহ বলত) ও ফজরের নামাযে কত বেশী ফযিলত, তাহলে তারা হামাগুড়ি দিয়ে হলেও নামাযে উপস্থিত হতো।

[১] আরবের বেদুঈনরা মাগরিবের সালাতকে ইশা এবং ইশার সালাতকে আতামাহ বলত। আতামাহ্ -এর অর্থ অন্ধকার, লালিমা অন্তর্হিত হওয়ার পর যে ঘন অন্ধকার নেমে আসে, তাকে আতামাহ বলে। বেদুঈনরা এ সময়ে উটের দুধ-দোহন করত। ইশার সালাতও এ সময় পড়তে হয়। এ কারণে তারা একে আতামাহর সালাত বলতে আরম্ভ করে। নবী করীম (ﷺ) তাদের অনুকরণে ইশাকে আতামাহ্ বলা পছন্দ করেননি।
[১] হানাফী মাযহাবমতে যেসব হকের কারণ শরীয়ত অনুযায়ী নির্দিষ্ট ও জানা আছে, সে সব হকের মীমাংসা লটারী যোগে করা নাজায়েয এবং তা জুয়ার অন্তর্ভুক্ত। উদাহরণত শরীকানাধীন বস্তুর মীমাংসা লটারীযোগে করা এবং লটারীতে যার নাম বের হয় তাকে সম্পূর্ণ বস্তুটি দিয়ে দেওয়া অথবা কোন শিশুর পিতৃত্বে মতবিরোধ দেখা দিলে লটারীযোগে একজনকে পিতা মনে করে নেওয়া। পক্ষান্তরে যে সব হকের কারণ জনগণের রায়ের উপর ন্যস্ত, সেসব হকের মীমাংসা লটারীর মাধ্যমে করা জায়েয, যথা কোন শরীককে কোন অংশ দেওয়া হবে সে ব্যাপারে লটারীর মাধ্যমে মীমাংসা করা। এক্ষেত্রে লটারীর মাধ্যমে একজনকে পূর্বের অংশ ও অন্যজনকে পশ্চিমের অংশ দেওয়া জায়েয়। এর কারণ এই যে, লটারী ছাড়াই উভয়পক্ষ একমত হয়ে যদি এভাবে অংশ নিত অথবা বিচারকের রায়ের ভিত্তিতে এভাবে নিত, তবুও তা জায়েয হতো। (তাফসীরে মা'আরেফুল কোরআন, ইফাবা খ, '২, পৃ ৫১)।

ইশাকে আতামাহ বলা মাকরূহ।

الكراهية في ذلك

৫৪১

أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ سُلَيْمَانَ، قَالَ حَدَّثَنَا أَبُو دَاوُدَ، - هُوَ الْحَفَرِيُّ - عَنْ سُفْيَانَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي لَبِيدٍ، عن أَبِي سَلَمَةَ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " لاَ تَغْلِبَنَّكُمُ الأَعْرَابُ عَلَى اسْمِ صَلاَتِكُمْ هَذِهِ فَإِنَّهُمْ يُعْتِمُونَ عَلَى الإِبِلِ وَإِنَّهَا الْعِشَاءُ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

৫৪২। আহমদ ইবনে সুলাইমান (রাহঃ) ......... ইবনে উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ বেদুঈনগণ যেন এই নামাযের নামের ব্যাপারে তোমাদের উপর প্রভাব বিস্তার করতে না পারে। কেননা তারা উট দোহনের কারণে আতামা বা অন্ধকারে উপনিত হয় (তাই একে আতামা বলে)। প্রকৃতপক্ষে এটি ঈশা।

৫৪২

أَخْبَرَنَا سُوَيْدُ بْنُ نَصْرٍ، قَالَ حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ الْمُبَارَكِ، عَنِ ابْنِ عُيَيْنَةَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي لَبِيدٍ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ عَلَى الْمِنْبَرِ " لاَ تَغْلِبَنَّكُمُ الأَعْرَابُ عَلَى اسْمِ صَلاَتِكُمْ أَلاَ إِنَّهَا الْعِشَاءُ "

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

৫৪৩। সুয়ায়দ ইবনে নসর (রাহঃ) ......... ইবনে উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে মিম্বরে (বসে) বলতে শুনেছি যে, বেদুঈনগণ যেন নামাযের নামের ব্যাপারে তোমাদের উপর প্রভাব বিস্তার না করে। জেনে রেখো, এটি ঈশা।

ফজরের প্রথম ওয়াক্ত।

أول وقت الصبح

৫৪৩

أَخْبَرَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ هَارُونَ، قَالَ حَدَّثَنَا حَاتِمُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ، قَالَ حَدَّثَنَا جَعْفَرُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عَلِيِّ بْنِ الْحُسَيْنِ، عَنْ أَبِيهِ، أَنَّ جَابِرَ بْنَ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ صَلَّى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم الصُّبْحَ حِينَ تَبَيَّنَ لَهُ الصُّبْحُ .

বর্ণনাকারী: জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ আনসারী (রাঃ)

৫৪৪। ইবরাহীম ইবনে হারুন (রাহঃ) ......... মুহাম্মাদ ইবনে আলী ইবনে হুসাইন (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ (রাযিঃ) বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ফজরের নামায আদায় করতেন, যখন ফজর তাঁর কাছে সুস্পষ্ট হয়ে উঠত।

৫৪৪

أَخْبَرَنَا عَلِيُّ بْنُ حُجْرٍ، قَالَ حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ، قَالَ حَدَّثَنَا حُمَيْدٌ، عَنْ أَنَسٍ، أَنَّ رَجُلاً، أَتَى النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فَسَأَلَهُ عَنْ وَقْتِ صَلاَةِ الْغَدَاةِ فَلَمَّا أَصْبَحْنَا مِنَ الْغَدِ أَمَرَ حِينَ انْشَقَّ الْفَجْرُ أَنْ تُقَامَ الصَّلاَةُ فَصَلَّى بِنَا فَلَمَّا كَانَ مِنَ الْغَدِ أَسْفَرَ ثُمَّ أَمَرَ فَأُقِيمَتِ الصَّلاَةُ فَصَلَّى بِنَا ثُمَّ قَالَ " أَيْنَ السَّائِلُ عَنْ وَقْتِ الصَّلاَةِ مَا بَيْنَ هَذَيْنِ وَقْتٌ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

৫৪৫। আলী ইবনে হুজর (রাহঃ) ......... আনাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। এক ব্যক্তি নবী (ﷺ)-এর নিকট উপস্থিত হয়ে তাঁকে ফজরের নামাযের ওয়াক্ত সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলেন। পরবর্তী দিন প্রভাত হওয়ার পরই তিনি ফজরের প্রথম ওয়াক্তে ইকামত দেয়ার জন্য আদেশ করলেন এবং আমাদের নিয়ে নামায আদায় করলেন। পরদিন উষা ফর্সা হওয়ার পর নামাযের ইকামত বলার জন্য আদেশ করলেন। নামাযের ইকামত বলা হল এবং তিনি আমাদেরকে নিয়ে নামায আদায় করলেন। তারপর বললেনঃ নামাযের সময় সম্পর্কে প্রশ্নকারী কোথায়? এ দুই ওয়াক্তের মধ্যখানেই নামাযের সময়।

আবাসে অন্ধকারে ফজরের নামায আদায় করা

التغليس في الحضر

৫৪৫

أَخْبَرَنَا قُتَيْبَةُ، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ، عَنْ عَمْرَةَ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ إِنْ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لَيُصَلِّي الصُّبْحَ فَيَنْصَرِفُ النِّسَاءُ مُتَلَفِّعَاتٍ بِمُرُوطِهِنَّ مَا يُعْرَفْنَ مِنَ الْغَلَسِ .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

৫৪৬। কুতায়বা (রাহঃ) ......... আয়িশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এমন সময় ফজরের নামায আদায় করতেন যে, মহিলাগণ চাঁদর আবৃত অবস্থায় বাড়ি ফিরে যেতেন অথচ অন্ধকারের কারণে তাদের চেনা যেত না।

৫৪৬

أَخْبَرَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، قَالَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ عُرْوَةَ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ كُنَّ النِّسَاءُ يُصَلِّينَ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم الصُّبْحَ مُتَلَفِّعَاتٍ بِمُرُوطِهِنَّ فَيَرْجِعْنَ فَمَا يَعْرِفْهُنَّ أَحَدٌ مِنَ الْغَلَسِ .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

৫৪৭। ইসহাক ইবনে ইবরাহীম (রাহঃ) ......... আয়িশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, মহিলাগণ রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সঙ্গে চাঁদর পরিহিত অবস্থায় ফজরের নামায আদায় করে বাড়ি ফেরতেন আর অন্ধকারের কারণে তাঁদের কেউ চিনতে পারত না।

সফরে ফজরের নামায অন্ধকারে আদায় করা

التغليس في السفر

৫৪৭

أَخْبَرَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، قَالَ أَنْبَأَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ حَرْبٍ، قَالَ حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ، عَنْ ثَابِتٍ، عَنْ أَنَسٍ، قَالَ صَلَّى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَوْمَ خَيْبَرَ صَلاَةَ الصُّبْحِ بِغَلَسٍ وَهُوَ قَرِيبٌ مِنْهُمْ فَأَغَارَ عَلَيْهِمْ وَقَالَ " اللَّهُ أَكْبَرُ خَرِبَتْ خَيْبَرُ - مَرَّتَيْنِ - إِنَّا إِذَا نَزَلْنَا بِسَاحَةِ قَوْمٍ فَسَاءَ صَبَاحُ الْمُنْذَرِينَ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

৫৪৮। ইসহাক ইবনে ইবরাহীম (রাহঃ) ......... আনাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) খায়বর যুদ্ধের দিন অন্ধকারে ফজরের নামায আদায় করলেন আর তখন তিনি খায়বরবাসীদের নিকটবর্তী ছিলেন। ফজরের পর তাদের উপর আক্রমণ করলেন এবং বললেনঃ আল্লাহু আকবার, খায়বর ধ্বংস হোক, এটি দু’বার বললেন; আরও বললেনঃ “যখন আমরা কোনো সম্প্রদায়ের আঙ্গিনায় (আক্রমণ পরিচালনার উদ্দেশ্যে) অবতরণ করি তখন সতর্কীকৃতদের প্রভাত কতই না মন্দ হয়।

ফর্সা হওয়ার পরে ফজরের নামায পড়া।

الإسفار

৫৪৮

أَخْبَرَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ سَعِيدٍ، قَالَ حَدَّثَنَا يَحْيَى، عَنِ ابْنِ عَجْلاَنَ، قَالَ حَدَّثَنِي عَاصِمُ بْنُ عُمَرَ بْنِ قَتَادَةَ، عَنْ مَحْمُودِ بْنِ لَبِيدٍ، عَنْ رَافِعِ بْنِ خَدِيجٍ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " أَسْفِرُوا بِالْفَجْرِ " .

বর্ণনাকারী: রাফি' ইবনে খাদীজ (রাঃ)

৫৪৯। উবাইদুল্লাহ ইবনে সাঈদ (রাহঃ) ......... রাফি ইবনে খাদিজ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, তোমরা ফজরের নামায ফর্সা হলে পড়বে।

৫৪৯

أَخْبَرَنِي إِبْرَاهِيمُ بْنُ يَعْقُوبَ، قَالَ حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي مَرْيَمَ، قَالَ أَخْبَرَنَا أَبُو غَسَّانَ، قَالَ حَدَّثَنِي زَيْدُ بْنُ أَسْلَمَ، عَنْ عَاصِمِ بْنِ عُمَرَ بْنِ قَتَادَةَ، عَنْ مَحْمُودِ بْنِ لَبِيدٍ، عَنْ رِجَالٍ، مِنْ قَوْمِهِ مِنَ الأَنْصَارِ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " مَا أَسْفَرْتُمْ بِالْفَجْرِ فَإِنَّهُ أَعْظَمُ بِالأَجْرِ " .

বর্ণনাকারী: অজ্ঞাত সাহাবী

৫৫০। ইবরাহীম ইবনে ইয়াকুব (রাহঃ) ......... মাহমুদ ইবনে লাবীদ (রাহঃ) এর মাধ্যমে তাঁর আনসার সম্প্রদায়ের কতিপয় ব্যক্তি হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ ফজরের নামায যতঈ ফর্সা হওয়ার পর আদায় করবে, ততই তোমাদের অধিক সাওয়াবের কারণ হবে।[১]

[১] হাদীসে ফজরের সালাত অন্ধকারে এবং ফর্সা হওয়ার পর আদায় করা সম্পর্কে উল্লেখ রয়েছে। ইমাম তাহাবী (রাহঃ) এ ধরনের হাদীসের মধ্যে এভাবে সমন্বয় সাধন করেন যে, অন্ধকারে ফজরের সালাত শুরু করবে এবং শেষ করবে ভোর ফর্সা হলে। ইমাম বায়হাকী (রাহঃ) হযরত মুআয (রাযিঃ) সূত্রে বর্ণনা করেন : রাসূলুল্লাহ্ (স) তাঁকে ফজরের সালাত শীতকালে সকালে এবং গ্রীষ্মকালে বিলম্বে পড়তে বলেছিলেন। এ হাদীসের অনুসরণ করা হলে সমস্ত হাদীসের একটা মীমাংসা হয়ে যায়।

যে ব্যক্তি ফজরের এক রাক'আত পেল

باب من أدرك ركعة من صلاة الصبح

৫৫০

أَخْبَرَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ مُحَمَّدٍ، وَمُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، - وَاللَّفْظُ لَهُ - قَالاَ حَدَّثَنَا يَحْيَى، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ سَعِيدٍ، قَالَ حَدَّثَنِي عَبْدُ الرَّحْمَنِ الأَعْرَجُ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " مَنْ أَدْرَكَ سَجْدَةً مِنَ الصُّبْحِ قَبْلَ أَنْ تَطْلُعَ الشَّمْسُ فَقَدْ أَدْرَكَهَا وَمَنْ أَدْرَكَ سَجْدَةً مِنَ الْعَصْرِ قَبْلَ أَنْ تَغْرُبَ الشَّمْسُ فَقَدْ أَدْرَكَهَا " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৫৫১। ইবরাহীম ইবনে মুহাম্মাদ ও মুহাম্মাদ ইবনে মুসান্না (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেছেন, যে ব্যক্তি সূর্যোদয়ের পূর্বে ফজরের নামাযের এক রাক’আত পেল, সে ফজরের নামায পেল এবং যে সূর্যাস্তের পূর্বে আসরের নামাযের এক রাক’আত পেল, সে আসরের নামায পেল।

৫৫১

أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ رَافِعٍ، قَالَ حَدَّثَنَا زَكَرِيَّا بْنُ عَدِيٍّ، قَالَ أَنْبَأَنَا ابْنُ الْمُبَارَكِ، عَنْ يُونُسَ بْنِ يَزِيدَ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ عُرْوَةَ، عَنْ عَائِشَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " مَنْ أَدْرَكَ رَكْعَةً مِنَ الْفَجْرِ قَبْلَ أَنْ تَطْلُعَ الشَّمْسُ فَقَدْ أَدْرَكَهَا وَمَنْ أَدْرَكَ رَكْعَةً مِنَ الْعَصْرِ قَبْلَ أَنْ تَغْرُبَ الشَّمْسُ فَقَدْ أَدْرَكَهَا "

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

৫৫২। মুহাম্মাদ ইবনে রাফি (রাহঃ) ......... আয়িশা (রাযিঃ) সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেছেন, যে ব্যক্তি সূর্যোদয়ের পূর্বে ফজরের এক রাক’আত পেল, সে ফজরের নামায পেল এবং যে সূর্যাস্তের পূর্বে এক রাক’আত পেল, সে আসরের নামায পেল।

ফজরের শেষ ওয়াক্ত

آخر وقت الصبح

৫৫২

أَخْبَرَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ مَسْعُودٍ، وَمُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الأَعْلَى، قَالاَ حَدَّثَنَا خَالِدٌ، عَنْ شُعْبَةَ، عَنْ أَبِي صَدَقَةَ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، قَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يُصَلِّي الظُّهْرَ إِذَا زَالَتِ الشَّمْسُ وَيُصَلِّي الْعَصْرَ بَيْنَ صَلاَتَيْكُمْ هَاتَيْنِ وَيُصَلِّي الْمَغْرِبَ إِذَا غَرَبَتِ الشَّمْسُ وَيُصَلِّي الْعِشَاءَ إِذَا غَابَ الشَّفَقُ - ثُمَّ قَالَ عَلَى إِثْرِهِ - وَيُصَلِّي الصُّبْحَ إِلَى أَنْ يَنْفَسِحَ الْبَصَرُ .

বর্ণনাকারী: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

৫৫৩। ইসমাঈল ইবনে মাসউদ্ ও মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল আ’লা (রাহঃ) ......... আনাস ইবনে মালিক (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যখন সুর্য ঢলে পড়তো তখন যোহরের নামায আদায় করতেন এবং আসরের নামায আদায় করতেন তোমাদের যোহর ও আসর উভয় নামাযের মধ্যবর্তী সময় (অর্থাৎ আসরের নামায প্রথম ওয়াক্তে আদায় করতেন)। সূর্যাস্তের পর মাগরিবের নামায আদায় করতেন। আর ইশার নামায সূর্যাস্তের পর আকাশে শফক অদৃশ্য হলে আদায় করতেন। এরপর তিনি আবার বললেনঃ আর যখন দৃষ্টি বিস্তৃত হতো (অর্থাৎ ফর্সা হওয়ার কারণে দূর পর্যন্ত দেখা যেত) তখন ফজরের নামায আদায় করতেন।

যে ব্যক্তি নামাযের এক রাক'আত পেল।

من أدرك ركعة من الصلاة

৫৫৩

أَخْبَرَنَا قُتَيْبَةُ، عَنْ مَالِكٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، . أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " مَنْ أَدْرَكَ مِنَ الصَّلاَةِ رَكْعَةً فَقَدْ أَدْرَكَ الصَّلاَةَ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৫৫৪। কুতায়বা (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি নামাযের এক রাক’আত পেল, সে নামায পেল।

৫৫৪

أَخْبَرَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، قَالَ حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ إِدْرِيسَ، قَالَ حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " مَنْ أَدْرَكَ مِنَ الصَّلاَةِ رَكْعَةً فَقَدْ أَدْرَكَهَا " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৫৫৫। ইসহাক ইবনে ইবরাহীম (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) সূত্রে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেছেন, যে ব্যক্তি নামাযের এক রাক’আত পেল, সে নামায পেল।

৫৫৫

أَخْبَرَنِي يَزِيدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ الصَّمَدِ، قَالَ حَدَّثَنَا هِشَامٌ الْعَطَّارُ، قَالَ حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ، - وَهُوَ ابْنُ سَمَاعَةَ - عَنْ مُوسَى بْنِ أَعْيَنَ، عَنْ أَبِي عَمْرٍو الأَوْزَاعِيِّ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " مَنْ أَدْرَكَ مِنَ الصَّلاَةِ رَكْعَةً فَقَدْ أَدْرَكَ الصَّلاَةَ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৫৫৬। মুসা ইবনে সুলাইমান (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেছেন, যে ব্যক্তি কোনো নামাযের এক রাক’আত পেল, সে ঐ নামায পেল (অর্থাৎ সে জামাআতের সাওয়াব পেল)।

৫৫৬

أَخْبَرَنِي شُعَيْبُ بْنُ شُعَيْبِ بْنِ إِسْحَاقَ، قَالَ حَدَّثَنَا أَبُو الْمُغِيرَةِ، قَالَ حَدَّثَنَا الأَوْزَاعِيُّ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيَّبِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " مَنْ أَدْرَكَ مِنَ الصَّلاَةِ رَكْعَةً فَقَدْ أَدْرَكَهَا " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৫৫৭। শুআয়ব ইবনে শুআয়ব ইনব ইসহাক (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি কোন নামাযের এক রাক’আত পেল, সে ঐ নামায পেল।

৫৫৭

أَخْبَرَنِي مُوسَى بْنُ سُلَيْمَانَ بْنِ إِسْمَاعِيلَ بْنِ الْقَاسِمِ، قَالَ حَدَّثَنَا بَقِيَّةُ، عَنْ يُونُسَ، قَالَ حَدَّثَنِي الزُّهْرِيُّ، عَنْ سَالِمٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " مَنْ أَدْرَكَ رَكْعَةً مِنَ الْجُمُعَةِ أَوْ غَيْرِهَا فَقَدْ تَمَّتْ صَلاَتُهُ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

৫৫৮। মুসা ইবনে সুলায়মান (রাহঃ) ......... সালিম (রাহঃ) এর পিতা (রাযিঃ) সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেছেন, যে ব্যক্তি জুমআ বা অন্য কোনো নামাযের এক রাক’আত পেল, তার নামায পূর্ণ হয়ে গেলো (অর্থাৎ সে জামাআতের সাওয়াব পেল)।

৫৫৮

أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ التِّرْمِذِيُّ، قَالَ حَدَّثَنَا أَيُّوبُ بْنُ سُلَيْمَانَ، قَالَ حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرٍ، عَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ بِلاَلٍ، عَنْ يُونُسَ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ سَالِمٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " مَنْ أَدْرَكَ رَكْعَةً مِنْ صَلاَةٍ مِنَ الصَّلَوَاتِ فَقَدْ أَدْرَكَهَا إِلاَّ أَنَّهُ يَقْضِي مَا فَاتَهُ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

৫৫৯। মুহাম্মাদ ইবনে ইসমাঈল তিরমিযী (রাহঃ) ......... সালিম (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি কোন নামাযের এক রাক’আত পেল, সে ঐ নামায পেল; তবে (উক্ত নামাযের) যতটুকু ছুটে গেছে ততটুকু আদায় করবে।

নামাযের নিষিদ্ধ ওয়াক্তসমূহ।

الساعات التي نهي عن الصلاة فيها

৫৫৯

أَخْبَرَنَا قُتَيْبَةُ، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ زَيْدِ بْنِ أَسْلَمَ، عَنْ عَطَاءِ بْنِ يَسَارٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ الصُّنَابِحِيِّ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " الشَّمْسُ تَطْلُعُ وَمَعَهَا قَرْنُ الشَّيْطَانِ فَإِذَا ارْتَفَعَتْ فَارَقَهَا فَإِذَا اسْتَوَتْ قَارَنَهَا فَإِذَا زَالَتْ فَارَقَهَا فَإِذَا دَنَتْ لِلْغُرُوبِ قَارَنَهَا فَإِذَا غَرَبَتْ فَارَقَهَا " . وَنَهَى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَنِ الصَّلاَةِ فِي تِلْكَ السَّاعَاتِ .

বর্ণনাকারী: আব্দুল্লাহ সুনাবিহী (রাঃ)

৫৬০। কুতায়বা (রাহঃ) ......... আব্দুল্লাহ সুনাবিহী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, সুর্য শয়তানের দুই শিঙের মধ্য দিয়ে উদিত হয়। যখন সুর্য উপরে উঠে, তখন শয়তান তা থেকে দুরে সরে যায়। আবার যখন সুর্য মাথার উপর আসে, তখন শয়তান এসে মিলিত হয়। আবার ঢলে পড়লে পৃথক হয়ে যায়। আবার যখন সুর্য অস্তগমনের নিকটবর্তী হয়, তখন শয়তান মিলিত হয় এবং যখন সুর্য অস্তমিত হয়, তখন শয়তান সরে যায়। এ জন্যই রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এ তিন সময় নামায আদায় করতে নিষেধ করেছেন।

৫৬০

أَخْبَرَنَا سُوَيْدُ بْنُ نَصْرٍ، قَالَ حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ، عَنْ مُوسَى بْنِ عُلِيِّ بْنِ رَبَاحٍ، قَالَ سَمِعْتُ أَبِي يَقُولُ، سَمِعْتُ عُقْبَةَ بْنَ عَامِرٍ الْجُهَنِيَّ، يَقُولُ ثَلاَثُ سَاعَاتٍ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَنْهَانَا أَنْ نُصَلِّيَ فِيهِنَّ أَوْ نَقْبُرَ فِيهِنَّ مَوْتَانَا حِينَ تَطْلُعُ الشَّمْسُ بَازِغَةً حَتَّى تَرْتَفِعَ وَحِينَ يَقُومُ قَائِمُ الظَّهِيرَةِ حَتَّى تَمِيلَ وَحِينَ تَضَيَّفُ الشَّمْسُ لِلْغُرُوبِ حَتَّى تَغْرُبَ .

বর্ণনাকারী: হযরত উকবা ইবন আমির রাযি.

৫৬১। সুওয়ায়দ ইবনে নসর (রাহঃ) ......... উকবা ইবনে আমির জুহানী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, তিনটি সময় রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদের নামায আদায় করতে ও মৃত ব্যক্তিকে কবরস্থ করতে নিষেধ করেছেন (১) যখন সুর্য আলোকিত হয়ে উদয় হয়, যাবৎ না উর্ধাকাশে উঠে; (২) যখন দ্বিপ্রহর হয়, যাবৎ না সুর্য হেলে পড়ে আর (৩) যখন সুর্য অস্ত যাওয়ার উপক্রম হয়, যাবৎ না সম্পূর্ণ অস্ত যায়।

ফজরের নামাযের পর অন্য কোন নামায পড়া নিষিদ্ধ।

النهي عن الصلاة بعد الصبح

৫৬১

أَخْبَرَنَا قُتَيْبَةُ، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ يَحْيَى بْنِ حِبَّانَ، عَنِ الأَعْرَجِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم نَهَى عَنِ الصَّلاَةِ بَعْدَ الْعَصْرِ حَتَّى تَغْرُبَ الشَّمْسُ وَعَنِ الصَّلاَةِ بَعْدَ الصُّبْحِ حَتَّى تَطْلُعَ الشَّمْسُ .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৫৬২। কুতায়বা (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। নবী (ﷺ) আসরের পর সূর্যাস্ত না যাওয়া পর্যন্ত এবং ফজরের পর সূর্যোদয় না হওয়া পর্যন্ত নামায আদায় করতে নিষেধ করেছেন।

৫৬২

أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ مَنِيعٍ، قَالَ حَدَّثَنَا هُشَيْمٌ، قَالَ أَنْبَأَنَا مَنْصُورٌ، عَنْ قَتَادَةَ، قَالَ حَدَّثَنَا أَبُو الْعَالِيَةِ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ سَمِعْتُ غَيْرَ، وَاحِدٍ، مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم مِنْهُمْ عُمَرُ - وَكَانَ مِنْ أَحَبِّهِمْ إِلَىَّ - أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم نَهَى عَنِ الصَّلاَةِ بَعْدَ الْفَجْرِ حَتَّى تَطْلُعَ الشَّمْسُ وَعَنِ الصَّلاَةِ بَعْدَ الْعَصْرِ حَتَّى تَغْرُبَ الشَّمْسُ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

৫৬৩। আহমদ ইবনে মানী (রাহঃ) ......... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী (ﷺ)-এর একাধিক সাহাবীর নিকট শুনেছি, তাঁদের মধ্যে উমর (রাযিঃ) অন্যতম। তিনি আমার অধিক প্রিয় ছিলেন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ফজরের পর সূর্যোদয় না হওয়া পর্যন্ত এবং আসরের পর সূর্যাস্ত না যাওয়া পর্যন্ত নামায আদায় করতে নিষেধ করেছেন।

সূর্যোদয়ের সময় নামায পড়া নিষিদ্ধ।

باب النهي عن الصلاة عند طلوع الشمس

৫৬৩

أَخْبَرَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " لاَ يَتَحَرَّ أَحَدُكُمْ فَيُصَلِّيَ عِنْدَ طُلُوعِ الشَّمْسِ وَعِنْدَ غُرُوبِهَا " .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

৫৬৪। কুতায়বা ইবনে সাঈদ (রাহঃ) ......... ইবনে উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ তোমাদের কেউ যেন সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের সময় নামায আদায়ের ইচ্ছা না করে।

৫৬৪

أَخْبَرَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ مَسْعُودٍ، أَنْبَأَنَا خَالِدٌ، حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم نَهَى أَنْ يُصَلَّى مَعَ طُلُوعِ الشَّمْسِ أَوْ غُرُوبِهَا .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

৫৬৫। ইসমাঈল ইবনে মাসউদ্ (রাহঃ) ......... ইবনে উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) সূর্যোদয়ের এবং সূর্যাস্তের সময় নামায আদায় করতে নিষেধ করেছেন।[১]

[১] কোন কারণবশত কেউ যদি আসরের সালাত যথাসময়ে আদায় করতে অপারগ হয়, তাহলে ঐ ব্যক্তির জন্য ঐ দিনের আসরের সালাত (কাযা না করে) সূর্যাস্তের সময়ও আদায় করা জায়েয।

দ্বি প্রহরে নামায পড়া নিষিদ্ধ।

النهي عن الصلاة نصف النهار

৫৬৫

أَخْبَرَنَا حُمَيْدُ بْنُ مَسْعَدَةَ، قَالَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، - وَهُوَ ابْنُ حَبِيبٍ - عَنْ مُوسَى بْنِ عُلَىٍّ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ سَمِعْتُ عُقْبَةَ بْنَ عَامِرٍ، يَقُولُ ثَلاَثُ سَاعَاتٍ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَنْهَانَا أَنْ نُصَلِّيَ فِيهِنَّ أَوْ نَقْبُرَ فِيهِنَّ مَوْتَانَا حِينَ تَطْلُعُ الشَّمْسُ بَازِغَةً حَتَّى تَرْتَفِعَ وَحِينَ يَقُومُ قَائِمُ الظَّهِيرَةِ حَتَّى تَمِيلَ وَحِينَ تَضَيَّفُ لِلْغُرُوبِ حَتَّى تَغْرُبَ .

বর্ণনাকারী: হযরত উকবা ইবন আমির রাযি.

৫৬৬। হুমায়দ ইবনে মাস’আদা (রাহঃ) ......... উকবা ইনব আমির (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তিনটি সময়ে আমাদেরকে নামায আদায় ও মৃত ব্যক্তিকে দাফন করতে নিষেধ করতেন (১) যখন সুর্য উদয় আরম্ভ হয়, তখন থেকে সুর্য উপরে উঠা পর্যন্ত; (২) ঠিক দ্বিপ্রহরের সময়, পশ্চিম আকাশে সুর্য ঢলে না পড়া পর্যন্ত এবং (৩) যখন সুর্য অস্তমিত হওয়ার উপক্রম হয়, তখন থেকে সুর্য অস্তমিত না যাওয়া পর্যন্ত।

আসরের পর নামায আদায় করা নিষিদ্ধ।

النهي عن الصلاة بعد العصر

৫৬৬

أَخْبَرَنَا مُجَاهِدُ بْنُ مُوسَى، قَالَ حَدَّثَنَا ابْنُ عُيَيْنَةَ، عَنْ ضَمْرَةَ بْنِ سَعِيدٍ، سَمِعَ أَبَا سَعِيدٍ الْخُدْرِيَّ، يَقُولُ نَهَى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَنِ الصَّلاَةِ بَعْدَ الصُّبْحِ حَتَّى الطُّلُوعِ وَعَنِ الصَّلاَةِ بَعْدَ الْعَصْرِ حَتَّى الْغُرُوبِ .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ)

৫৬৭। মুজাহিদ ইবনে মুসা (রাহঃ) ......... আবু সাঈদ খুদরী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ফজরের পর সূর্যোদয় না হওয়া পর্যন্ত এবং আসরের পর সূর্যাস্ত না যাওয়া পর্যন্ত নামায আদায় করতে নিষেধ করেছেন।

৫৬৭

حَدَّثَنَا عَبْدُ الْحَمِيدِ بْنُ مُحَمَّدٍ، قَالَ حَدَّثَنَا مَخْلَدٌ، عَنِ ابْنِ جُرَيْجٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ عَطَاءِ بْنِ يَزِيدَ، أَنَّهُ سَمِعَ أَبَا سَعِيدٍ الْخُدْرِيَّ، يَقُولُ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " لاَ صَلاَةَ بَعْدَ الْفَجْرِ حَتَّى تَبْزُغَ الشَّمْسُ وَلاَ صَلاَةَ بَعْدَ الْعَصْرِ حَتَّى تَغْرُبَ الشَّمْسُ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ)

৫৬৮। আব্দুল হামীদ ইবনে মুহাম্মাদ (রাহঃ) ......... আবু সাঈদ খুদরী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে বলতে শুনেছি, ফজরের পর সুর্য উদিত না হওয়া পর্যন্ত এবং আসরের পর সুর্য অস্ত না যাওয়া পর্যন্ত কোনো নামায নেই।[১]

[১] ঐ সময় কাযা সালাত আদায় করা জায়েয। এ হাদীসে নফল সালাত আদায় করতে নিষেধ করা হয়েছে।
৫৬৮

أَخْبَرَنِي مَحْمُودُ بْنُ غَيْلاَنَ، حَدَّثَنَا الْوَلِيدُ، قَالَ أَخْبَرَنِي عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ نَمِرٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ عَطَاءِ بْنِ يَزِيدَ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِنَحْوِهِ .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ)

৫৬৯। মাহমুদ ইবনে গায়লান (রাহঃ) ......... আবু সাঈদ খুদরী (রাযিঃ) সূত্রে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর থেকে অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে।

৫৬৯

أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ حَرْبٍ، قَالَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ هِشَامِ بْنِ حُجَيْرٍ، عَنْ طَاوُسٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم نَهَى عَنِ الصَّلاَةِ بَعْدَ الْعَصْرِ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

৫৭০। আহমদ ইবনে হারব (রাহঃ) ......... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। নবী (ﷺ) আসরের পর নামায আদায় করতে নিষেধ করেছেন।

৫৭০
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الْمُبَارَكِ الْمُخَرِّمِيُّ، قَالَ حَدَّثَنَا الْفَضْلُ بْنُ عَنْبَسَةَ، قَالَ حَدَّثَنَا وُهَيْبٌ، عَنِ ابْنِ طَاوُسٍ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ قَالَتْ عَائِشَةُ رضى الله عنها أَوْهَمَ عُمَرُ - رضى الله عنه - إِنَّمَا نَهَى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " لاَ تَتَحَرَّوْا بِصَلاَتِكُمْ طُلُوعَ الشَّمْسِ وَلاَ غُرُوبَهَا فَإِنَّهَا تَطْلُعُ بَيْنَ قَرْنَىْ شَيْطَانٍ " .

أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الْمُبَارَكِ، قَالَ حَدَّثَنَا الْفَضْلُ بْنُ عَنْبَسَةَ، قَالَ أَنْبَأَنَا وُهَيْبٌ، عَنِ ابْنِ طَاوُسٍ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ قَالَتْ عَائِشَةُ أَوْهَمَ عُمَرُ - رضى الله عنه - إِنَّمَا نَهَى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَنْ يَتَحَرَّى طُلُوعَ الشَّمْسِ أَوْ غُرُوبَهَا .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

৫৭১। মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে মুবারক মাখযুমি (রাহঃ) ......... তাউস (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আয়িশা (রাযিঃ) বলেছেনঃ উমর (রাযিঃ)-এর ভুল হয়ে গেছে। [উমর (রাযিঃ) হাদীসের কিছু অংশও ভুলবশত ছেড়ে দিয়েছেন এবং তিনি আসরের দু’রাক’আত পড়তে নিষেধ করছেন।] অথচ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) নিষেধ করে বলেছেঃ তোমরা সূর্যোদয় এবং সূর্যাস্তের সময় নামায আদায়ের ইচ্ছা করবে না। কেননা সুর্য শয়তানের দুই শিঙের মাঝখান দিয়ে উদিত হয়।

৫৭১
أَخْبَرَنَا عَمْرُو بْنُ عَلِيٍّ، قَالَ حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ، قَالَ حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ عُرْوَةَ، قَالَ أَخْبَرَنِي أَبِي قَالَ، أَخْبَرَنِي ابْنُ عُمَرَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " إِذَا طَلَعَ حَاجِبُ الشَّمْسِ فَأَخِّرُوا الصَّلاَةَ حَتَّى تُشْرِقَ وَإِذَا غَابَ حَاجِبُ الشَّمْسِ فَأَخِّرُوا الصَّلاَةَ حَتَّى تَغْرُبَ " .

أَخْبَرَنَا عَمْرُو بْنُ عَلِيٍّ، قَالَ حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ، قَالَ حَدَّثَنَا هِشَامٌ، قَالَ أَخْبَرَنِي أَبِي قَالَ، أَخْبَرَنِي ابْنُ عُمَرَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " لاَ تَتَحَرَّوْا بِصَلاَتِكُمْ طُلُوعَ الشَّمْسِ وَلاَ غُرُوبَهَا فَإِنَّهَا تَطْلُعُ بَيْنَ قَرْنَىْ شَيْطَانٍ "

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

৫৭২। আমর ইবনে আলী (রাহঃ) ......... ইবনে উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যখন সূর্যের উপরিভাগ উদিত হয়, তখন পূর্ণ আলোকিত না হওয়া পর্যন্ত নামায আদায় করবেনা এবং যখন সূর্যের এক পার্শ্ব অস্তমিত হয়, তখন পূর্ণ অস্ত না হওয়া পর্যন্ত নামায আদায় করা থেকে বিরত থাকবে।

৫৭২

أَخْبَرَنَا عَمْرُو بْنُ مَنْصُورٍ، قَالَ أَنْبَأَنَا آدَمُ بْنُ أَبِي إِيَاسٍ، قَالَ حَدَّثَنَا اللَّيْثُ بْنُ سَعْدٍ، قَالَ حَدَّثَنَا مُعَاوِيَةُ بْنُ صَالِحٍ، قَالَ أَخْبَرَنِي أَبُو يَحْيَى، سُلَيْمُ بْنُ عَامِرٍ وَضَمْرَةُ بْنُ حَبِيبٍ وَأَبُو طَلْحَةَ نُعَيْمُ بْنُ زِيَادٍ قَالُوا سَمِعْنَا أَبَا أُمَامَةَ الْبَاهِلِيَّ، يَقُولُ سَمِعْتُ عَمْرَو بْنَ عَبَسَةَ، يَقُولُ قُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ هَلْ مِنْ سَاعَةٍ أَقْرَبُ مِنَ الأُخْرَى أَوْ هَلْ مِنْ سَاعَةٍ يُبْتَغَى ذِكْرُهَا قَالَ " نَعَمْ إِنَّ أَقْرَبَ مَا يَكُونُ الرَّبُّ عَزَّ وَجَلَّ مِنَ الْعَبْدِ جَوْفُ اللَّيْلِ الآخِرِ فَإِنِ اسْتَطَعْتَ أَنْ تَكُونَ مِمَّنْ يَذْكُرُ اللَّهَ عَزَّ وَجَلَّ فِي تِلْكَ السَّاعَةِ فَكُنْ فَإِنَّ الصَّلاَةَ مَحْضُورَةٌ مَشْهُودَةٌ إِلَى طُلُوعِ الشَّمْسِ فَإِنَّهَا تَطْلُعُ بَيْنَ قَرْنَىِ الشَّيْطَانِ وَهِيَ سَاعَةُ صَلاَةِ الْكُفَّارِ فَدَعِ الصَّلاَةَ حَتَّى تَرْتَفِعَ قِيدَ رُمْحٍ وَيَذْهَبَ شُعَاعُهَا ثُمَّ الصَّلاَةُ مَحْضُورَةٌ مَشْهُودَةٌ حَتَّى تَعْتَدِلَ الشَّمْسُ اعْتِدَالَ الرُّمْحِ بِنِصْفِ النَّهَارِ فَإِنَّهَا سَاعَةٌ تُفْتَحُ فِيهَا أَبْوَابُ جَهَنَّمَ وَتُسْجَرُ فَدَعِ الصَّلاَةَ حَتَّى يَفِيءَ الْفَىْءُ ثُمَّ الصَّلاَةُ مَحْضُورَةٌ مَشْهُودَةٌ حَتَّى تَغِيبَ الشَّمْسُ فَإِنَّهَا تَغِيبُ بَيْنَ قَرْنَىْ شَيْطَانٍ وَهِيَ صَلاَةُ الْكُفَّارِ "

বর্ণনাকারী: আমর ইবনে আবাসা (রাঃ)

৫৭৩। আমর ইবনে মানসুর (রাহঃ) ......... আমর ইবনে আবাসা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি জিজ্ঞাসা করলাম, ইয়া রাসুলাল্লাহ! এমন কোনো সময় আছে কি, যে সময় অন্য সময়ের তুলনায় আল্লাহ তাআলার নৈকট্যলাভের বেশী উপযোগী? অথবা এমন কোন মুহূর্ত আছে কি, সেই সময়ের যিক্‌র কাম্য? তিনি বললেন, হ্যাঁ, রাতের শেষার্ধে আল্লাহ তাআলা বান্দার অতি নিকটবর্তী হন। সক্ষম হলে তুমিও সে মুহুর্তে আল্লাহর যিক্‌রকারীদের অন্তর্ভুক্ত হবে। কারণ ঐ মুহুর্তের নামাযে ফিরিশতাগণ শামিল থাকেন এবং প্রত্যক্ষ করেন, আর এ অবস্থা সূর্যোদয় পর্যন্ত থাকে।

সুর্য শয়তানের দুই শিঙের মাঝখান দিয়ে উদিত হয়, আর তা কাফিরদের ইবাদতের সময়। কাজেই ঐ সময় নামায আদায় করা থেকে বিরত থাকবে, যতক্ষণ না এক বল্লম বরাবর সুর্য উপরে ওঠে এবং তার উদয়কালীন আলোকরশ্মি দূরীভূত হয়। আবার যোহরের নামাযে ফিরিশতাগণ শামিল হন এবং প্রত্যক্ষ করেন। দ্বিপ্রহরের সুর্য বর্শার মত সোজা না হওয়া পর্যন্ত।

কেননা তা এমন একটি সময় যে সময়ে জাহান্নামের দরজা খুলে দেওয়া হয় এবং আরো প্রজ্জ্বলিত করা হয়। তখন ছায়া ঝুঁকে না পড়া পর্যন্ত নামায আদায় করবে না। আবার আসরের নামাযে ফিরিশতাগণ শামিল হন এবং প্রত্যক্ষ করেন যাবৎ না সুর্য অস্ত যায়। কেননা সুর্য শয়তানের দুই শিংয়ের মাঝখানে অস্ত যায় আর তা কাফিরদের ইবাদতের সময়।

আসরের পর নামাযের অনুমতি

الرخصة في الصلاة بعد العصر

৫৭৩

أَخْبَرَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، قَالَ حَدَّثَنَا جَرِيرٌ، عَنْ مَنْصُورٍ، عَنْ هِلاَلِ بْنِ يِسَافٍ، عَنْ وَهْبِ بْنِ الأَجْدَعِ، عَنْ عَلِيٍّ، قَالَ نَهَى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَنِ الصَّلاَةِ بَعْدَ الْعَصْرِ إِلاَّ أَنْ تَكُونَ الشَّمْسُ بَيْضَاءَ نَقِيَّةً مُرْتَفِعَةً .

বর্ণনাকারী: হযরত আলী ইবনে আবী তালিব (রাঃ)

৫৭৪। ইসহাক ইবনে ইবরাহীম (রাহঃ) ......... আলী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আসরের পর নামায আদায় করতে নিষেধ করেছেন। তবে হ্যাঁ, যতক্ষণ পর্যন্ত সুর্য উর্ধাকাশে শুভ্র ও উজ্জ্বল থাকে (ততক্ষণ কাযা নামায আদায় করা যাবে)।

৫৭৪

أَخْبَرَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ سَعِيدٍ، قَالَ حَدَّثَنَا يَحْيَى، عَنْ هِشَامٍ، قَالَ أَخْبَرَنِي أَبِي قَالَ، قَالَتْ عَائِشَةُ مَا تَرَكَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم السَّجْدَتَيْنِ بَعْدَ الْعَصْرِ عِنْدِي قَطُّ .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

৫৭৫। উবাইদুল্লাহ ইবনে সাঈদ (রাহঃ) ......... আয়িশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমার কাছে থাকা অবস্থায় রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আসরের পর দুই রাক’আত নামায কখনও ত্যাগ করেন নি।[১]

[১] যেহেতু অন্য হাদীসে আসরের পর সালাত আদায় করতে নিষেধ করা হয়েছে, তাই এ হাদীসের ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে যে, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) একবার কোন কারণবশত যোহরের পর দু'রাকআত সালাত আদায় করতে পারেন নি। তিনি আসরের পর সে দু'রাক'আত আদায় করেন। পরে তাঁর অভ্যাস অনুযায়ী সে দু'রাক'আত নিয়মিত আদায় করতে থাকেন । এটা তাঁর জন্য খাস ছিল। এ মর্মে আবু দাউদ শরীফে আয়েশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত একটি হাদীসে বলা হয়েছে যে, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) নিজে আসরের পর সালাত আদায় করতেন কিন্তু অন্যদেরকে এ সময়ে সালাত আদায় করতে নিষেধ করতেন। তিনি বিরতিহীন সিয়াম পালন করতেন কিন্তু অন্যদেরকে এরূপ সিয়াম পালন করতে নিষেধ করতেন।
৫৭৫

أَخْبَرَنِي مُحَمَّدُ بْنُ قُدَامَةَ، قَالَ حَدَّثَنَا جَرِيرٌ، عَنْ مُغِيرَةَ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ، عَنِ الأَسْوَدِ، قَالَ قَالَتْ عَائِشَةُ رضى الله تعالى عنها مَا دَخَلَ عَلَىَّ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بَعْدَ الْعَصْرِ إِلاَّ صَلاَّهُمَا .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

৫৭৬। মুহাম্মাদ ইবনে কুদামা (রাহঃ) ......... আসওয়াদ (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আয়িশা (রাযিঃ) বলেছেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আসরের পরে যখনই আমার কাছে আসতেন, দু’রাক’আত নামায আদায় করতেন।

৫৭৬

أَخْبَرَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ مَسْعُودٍ، عَنْ خَالِدِ بْنِ الْحَارِثِ، عَنْ شُعْبَةَ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، قَالَ سَمِعْتُ مَسْرُوقًا، وَالأَسْوَدَ، قَالاَ نَشْهَدُ عَلَى عَائِشَةَ أَنَّهَا قَالَتْ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِذَا كَانَ عِنْدِي بَعْدَ الْعَصْرِ صَلاَّهُمَا .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

৫৭৭। ইসমাঈল ইবনে মাসউদ (রাহঃ) ......... আবু ইসহাক (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি মাসরুক ও আসওয়াদ-কে বলতে শুনেছি: আমরা সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আয়িশা (রাযিঃ) বলেছেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আসরের পর যখন আমার নিকট আসতেন, দু’রাক’আত নামায আদায় করতেন।

৫৭৭

أَخْبَرَنَا عَلِيُّ بْنُ حُجْرٍ، قَالَ أَنْبَأَنَا عَلِيُّ بْنُ مُسْهِرٍ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ الأَسْوَدِ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ صَلاَتَانِ مَا تَرَكَهُمَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي بَيْتِي سِرًّا وَلاَ عَلاَنِيَةً رَكْعَتَانِ قَبْلَ الْفَجْرِ وَرَكْعَتَانِ بَعْدَ الْعَصْرِ .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

৫৭৮। আলী ইবনে হুজর (রাহঃ) ......... আয়িশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমার গৃহাভ্যন্তরে প্রকাশ্য ও গোপনে কখনও দু’ নামায ত্যাগ করেননি। (১) ফজরের পূর্বে দু’রাক’আত এবং (২) আসরের পর দু’রাক’আত।

৫৭৮

أَخْبَرَنَا عَلِيُّ بْنُ حُجْرٍ، قَالَ حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ، قَالَ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ أَبِي حَرْمَلَةَ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، أَنَّهُ سَأَلَ عَائِشَةَ عَنِ السَّجْدَتَيْنِ اللَّتَيْنِ، كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يُصَلِّيهِمَا بَعْدَ الْعَصْرِ فَقَالَتْ إِنَّهُ كَانَ يُصَلِّيهِمَا قَبْلَ الْعَصْرِ ثُمَّ إِنَّهُ شُغِلَ عَنْهُمَا أَوْ نَسِيَهُمَا فَصَلاَّهُمَا بَعْدَ الْعَصْرِ وَكَانَ إِذَا صَلَّى صَلاَةً أَثْبَتَهَا .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

৫৭৯। আলী ইবনে হুজর (রাহঃ) ......... আবু সালামা (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আসরের পরে যে দু’রাক’আত নামায আদায় করতেন, তিনি সে বিষয়ে আয়িশা (রাযিঃ)-কে জিজ্ঞাসা করলেন। তদুত্তরে তিনি বললেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এ দু’রাক’আত আসরের পূর্বেই আদায় করতেন। একদা তিনি সে দু’রাক’আত নামায আসরের পূর্বে আদায় করতে পারলেন না অতি ব্যস্ততা বা ভুলে যাওয়ার কারণে, তাই তিনি আসরের পর দু’রাক’আত আদায় করলেন (তারপর থেকে তিনি দু’রাক’আত নামায আসরের পর আদায় করতেন)। কারণ তিনি কোনো নামায একবার আদায় করলে তা নিয়মিত আদায় করতেন।

৫৭৯

أَخْبَرَنِي مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الأَعْلَى، قَالَ حَدَّثَنَا الْمُعْتَمِرُ، قَالَ سَمِعْتُ مَعْمَرًا، عَنْ يَحْيَى بْنِ أَبِي كَثِيرٍ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ أُمِّ سَلَمَةَ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم صَلَّى فِي بَيْتِهَا بَعْدَ الْعَصْرِ رَكْعَتَيْنِ مَرَّةً وَاحِدَةً وَأَنَّهَا ذَكَرَتْ ذَلِكَ لَهُ فَقَالَ " هُمَا رَكْعَتَانِ كُنْتُ أُصَلِّيهِمَا بَعْدَ الظُّهْرِ فَشُغِلْتُ عَنْهُمَا حَتَّى صَلَّيْتُ الْعَصْرَ " .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন উম্মে সালামা (রাঃ)

৫৮০। মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল আ’লা (রাহঃ) ......... উম্মে সালামা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। নবী (ﷺ) একদা তাঁর ঘরে আসরের পর দু’রাক’আত নামায আদায় করলেন। এ সম্বন্ধে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বললেন, এ দু’রাক’আত নামায আমি যোহরের পর আদায় করতাম কিন্তু আমি আসরের নামায আদায় করা পর্যন্ত কর্মব্যস্ততার দরুন সে দু’রাক’আত আদায় করতে পারিনি।

৫৮০

أَخْبَرَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، قَالَ أَنْبَأَنَا وَكِيعٌ، قَالَ حَدَّثَنَا طَلْحَةُ بْنُ يَحْيَى، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُتْبَةَ، عَنْ أُمِّ سَلَمَةَ، قَالَتْ شُغِلَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَنِ الرَّكْعَتَيْنِ قَبْلَ الْعَصْرِ فَصَلاَّهُمَا بَعْدَ الْعَصْرِ .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন উম্মে সালামা (রাঃ)

৫৮১। ইসহাক ইবনে ইবরাহীম (রাহঃ) ......... উম্মে সালামা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, (একদা) রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কর্মব্যস্ততার দরুন আসরের পূর্বে দু’রাক’আত নামায আদায় করতে পারলেন না। ফলে তা আসরের পর আদায় করলেন।

সূর্যাস্তের পূর্বে নামায আদায় করার অনুমতি।

الرخصة في الصلاة قبل غروب الشمس

৫৮১

أَخْبَرَنَا عُثْمَانُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ مُعَاذٍ، قَالَ أَنْبَأَنَا أَبِي قَالَ، حَدَّثَنَا عِمْرَانُ بْنُ حُدَيْرٍ، قَالَ سَأَلْتُ لاَحِقًا عَنِ الرَّكْعَتَيْنِ، قَبْلَ غُرُوبِ الشَّمْسِ فَقَالَ كَانَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ الزُّبَيْرِ يُصَلِّيهِمَا فَأَرْسَلَ إِلَيْهِ مُعَاوِيَةُ مَا هَاتَانِ الرَّكْعَتَانِ عِنْدَ غُرُوبِ الشَّمْسِ فَاضْطَرَّ الْحَدِيثَ إِلَى أُمِّ سَلَمَةَ فَقَالَتْ أُمُّ سَلَمَةَ إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَانَ يُصَلِّي رَكْعَتَيْنِ قَبْلَ الْعَصْرِ فَشُغِلَ عَنْهُمَا فَرَكَعَهُمَا حِينَ غَابَتِ الشَّمْسُ فَلَمْ أَرَهُ يُصَلِّيهِمَا قَبْلُ وَلاَ بَعْدُ .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন উম্মে সালামা (রাঃ)

৫৮২। উসমান ইবনে আব্দুল্লাহ (রাহঃ) ......... ইমরান ইবনে হুদায়র (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, সূর্যাস্তের পূর্বে দু’রাক’আত আদায় করা সম্বন্ধে আমি লাহিক (ইবনে হুমায়দ সা’দুসী) (রাহঃ) কে জিজ্ঞাসা করলাম। তিনি বললেন, আব্দুল্লাহ ইবনে যুবাইর (রাযিঃ) তা আদায় করতেন। তখন মুআবিয়া (রাযিঃ) আব্দুল্লাহ ইবনে জুবায়র (রাযিঃ) এর নিকট পত্র পাঠালেন যে, সূর্যাস্তের পূর্বে এই দু’রাক'আত কিসের নামায? আব্দুল্লাহ ইবনে জুবায়র (রাযিঃ) উম্মে সালামা (রাযিঃ)-এর শরণাপন্ন হলেন। উম্মে সালামা (রাযিঃ) বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এ দু’রাক’আত আসরের পূর্বে আদায় করতেন। একদিন কর্মব্যস্ততার দরুন আদায় করতে পারলেন না বলে সূর্যাস্তের সময় তা আদায় করলেন। আমি এর আগে বা পরে কখনও রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে তা আদায় করতে দেখিনি।

মাগরিবের পূর্বে নামাযের অনুমতি।

الرخصة في الصلاة قبل المغرب

৫৮২

أَخْبَرَنَا عَلِيُّ بْنُ عُثْمَانَ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ سَعِيدِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ نُفَيْلٍ، قَالَ حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ عِيسَى، قَالَ حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ الْقَاسِمِ، قَالَ حَدَّثَنَا بَكْرُ بْنُ مُضَرَ، عَنْ عَمْرِو بْنِ الْحَارِثِ، عَنْ يَزِيدَ بْنِ أَبِي حَبِيبٍ، أَنَّ أَبَا الْخَيْرِ، حَدَّثَهُ أَنَّ أَبَا تَمِيمٍ الْجَيْشَانِيَّ قَامَ لِيَرْكَعَ رَكْعَتَيْنِ قَبْلَ الْمَغْرِبِ فَقُلْتُ لِعُقْبَةَ بْنِ عَامِرٍ انْظُرْ إِلَى هَذَا أَىَّ صَلاَةٍ يُصَلِّي فَالْتَفَتَ إِلَيْهِ فَرَآهُ فَقَالَ هَذِهِ صَلاَةٌ كُنَّا نُصَلِّيهَا عَلَى عَهْدِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم .

বর্ণনাকারী: হযরত উকবা ইবন আমির রাযি.

৫৮৩। আলী ইবনে উসমান (রাহঃ) ......... ইয়াযিদ ইবনে আবু হাবিব (রাহঃ) থেকে বর্ণিত যে, আবুল খায়র তাঁর কাছে বর্ণনা করেছেন যে, আবু তামিম জায়শানী (রাযিঃ) একদা মাগরিবের পূর্বে দু’রাক’আত নফল নামায আদায় করতে দাঁড়ালেন, তখন আমি উকবা ইবনে আমির (রাযিঃ)-কে বললামঃ দেখুন! ইনি কিসের নামায আদায় করছেন? তিনি ফিরে তাঁকে দেখলেন এবং বললেনঃ আমারা এ নামায রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর যুগে আদায় করতাম।

ফজর প্রকাশের পর নামায

الصلاة بعد طلوع الفجر

৫৮৩

أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الْحَكَمِ، قَالَ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ، قَالَ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ زَيْدِ بْنِ مُحَمَّدٍ، قَالَ سَمِعْتُ نَافِعًا، يُحَدِّثُ عَنِ ابْنِ عُمَرَ، عَنْ حَفْصَةَ، أَنَّهَا قَالَتْ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِذَا طَلَعَ الْفَجْرُ لاَ يُصَلِّي إِلاَّ رَكْعَتَيْنِ خَفِيفَتَيْنِ .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হাফসা (রাঃ)

৫৮৪। আহমাদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে হাকাম (রাহঃ) ......... হাফসা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ফজর উদ্ভাসিত হওয়ার পর সংক্ষেপে (ফজরের পূর্বে) মাত্র দু’রাক’আত নামায আদায় করতেন।

ফজরের পূর্ব পর্যন্ত নফল নামাযের অনুমতি

إباحة الصلاة إلى أن يصلي الصبح

৫৮৪

أَخْبَرَنِي الْحَسَنُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ بْنِ سُلَيْمَانَ، وَأَيُّوبُ بْنُ مُحَمَّدٍ، قَالاَ حَدَّثَنَا حَجَّاجُ بْنُ مُحَمَّدٍ، قَالَ أَيُّوبُ حَدَّثَنَا وَقَالَ، حَسَنٌ أَخْبَرَنِي شُعْبَةُ، عَنْ يَعْلَى بْنِ عَطَاءٍ، عَنْ يَزِيدَ بْنِ طَلْقٍ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ الْبَيْلَمَانِيِّ، عَنْ عَمْرِو بْنِ عَبَسَةَ، قَالَ أَتَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ مَنْ أَسْلَمَ مَعَكَ قَالَ " حُرٌّ وَعَبْدٌ " . قُلْتُ هَلْ مِنْ سَاعَةٍ أَقْرَبُ إِلَى اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ مِنْ أُخْرَى قَالَ " نَعَمْ جَوْفُ اللَّيْلِ الآخِرُ فَصَلِّ مَا بَدَا لَكَ حَتَّى تُصَلِّيَ الصُّبْحَ ثُمَّ انْتَهِ حَتَّى تَطْلُعَ الشَّمْسُ وَمَا دَامَتْ " . وَقَالَ أَيُّوبُ فَمَا دَامَتْ " كَأَنَّهَا حَجَفَةٌ حَتَّى تَنْتَشِرَ ثُمَّ صَلِّ مَا بَدَا لَكَ حَتَّى يَقُومَ الْعَمُودُ عَلَى ظِلِّهِ ثُمَّ انْتَهِ حَتَّى تَزُولَ الشَّمْسُ فَإِنَّ جَهَنَّمَ تُسْجَرُ نِصْفَ النَّهَارِ ثُمَّ صَلِّ مَا بَدَا لَكَ حَتَّى تُصَلِّيَ الْعَصْرَ ثُمَّ انْتَهِ حَتَّى تَغْرُبَ الشَّمْسُ فَإِنَّهَا تَغْرُبُ بَيْنَ قَرْنَىْ شَيْطَانٍ وَتَطْلُعُ بَيْنَ قَرْنَىْ شَيْطَانٍ " .

বর্ণনাকারী: আমর ইবনে আবাসা (রাঃ)

৫৮৫। হাসান ইবনে ইসমাঈল ইবনে সুলায়মান আইয়্যুব ইবনে মুহাম্মাদ (রাহঃ) ......... আমর ইবনে আবাসা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকট এসে বললাম, ইয়া রাসুলাল্লাহ! আপনার উপর কে ঈমান এনেছিলেন? উত্তরে বললেন, একজন আযাদ পুরুষ আর একজন কৃতদাস [আবু বকর ও বিলাল (রাযিঃ)]। জিজ্ঞাসা করলাম, এমন কোন সময় আছে কি যাতে অন্য সময়ের তুলনায় আল্লাহ পাকের অধিক নৈকট্য লাভ করা যায়? উত্তরে বললেনঃ হ্যাঁ। রাত্রের শেষার্ধে, ফজর পড়ার পূর্ব পর্যন্ত যা মনে চায়, পড়। তারপর সূর্যোদয় হওয়া এবং লালিমা কেটে রৌদ্র প্রখর না হওয়া পর্যন্ত বিরত থাকবে।

(রাবী) আইয়্যুব বলেন, যতক্ষণ সুর্যকে ঢালের মত মনে হয় এবং সূর্যের কিরণ ছড়িয়ে না পড়ে, ততক্ষণ পর্যন্ত বিরত থাকবে। তারপর খুঁটি তার মূল ছায়ার উপর অবস্থান না করা পর্যন্ত (দ্বি-প্রহরের পূর্ব পর্যন্ত) যা মনে চায়, আদায় কর। তারপর সুর্য না হেলা পর্যন্ত বিরত থাক। কেননা দ্বি-প্রহরে জাহান্নামের অগ্নি অধিক প্রজ্জ্বলিত করা হয়। তারপর আসরের পূর্ব পর্যন্ত যা মনে চায়, আদায় কর। আবার সূর্যাস্ত পর্যন্ত বিরত থাক। কেননা সূর্যের অস্ত এবং উদয় উভয়ই শয়তানের দুই শিংয়ের মাঝখান দিয়ে হয়।

মক্কা নগরীতে সব সময় নামাযের অনুমতি

إباحة الصلاة في الساعات كلها بمكة

৫৮৫

أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ مَنْصُورٍ، قَالَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، قَالَ سَمِعْتُ مِنْ أَبِي الزُّبَيْرِ، قَالَ سَمِعْتُ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ بَابَاهْ، يُحَدِّثُ عَنْ جُبَيْرِ بْنِ مُطْعِمٍ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " يَا بَنِي عَبْدِ مَنَافٍ لاَ تَمْنَعُوا أَحَدًا طَافَ بِهَذَا الْبَيْتِ وَصَلَّى أَيَّةَ سَاعَةٍ شَاءَ مِنْ لَيْلٍ أَوْ نَهَارٍ "

বর্ণনাকারী: জুবায়র ইবনে মুতঈম (রাঃ)

৫৮৬। মুহাম্মাদ ইবনে মানসুর (রাহঃ) ......... জুবায়র ইবনে মুত’ইম (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। নবী (ﷺ) বলেছেনঃ হে আব্দে মানাফের বংশধরগণ! এ ঘরের (বায়তুল্লাহ) তাওয়াফ এবং এতে নামায আদায়ের উদ্দেশ্যে রাত বা দিনের যে কোন মুহুর্তে কেউ এতে প্রবেশ করতে চাইলে তাকে তোমরা বাধা দেবে না।

যে সব মুসাফির যোহর ও আসরের নামায একসাথে আদায় করবে।

الوقت الذي يجمع فيه المسافر بين الظهر والعصر

৫৮৬

أَخْبَرَنَا قُتَيْبَةُ، قَالَ حَدَّثَنَا مُفَضَّلٌ، عَنْ عُقَيْلٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، قَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِذَا ارْتَحَلَ قَبْلَ أَنْ تَزِيغَ الشَّمْسُ أَخَّرَ الظُّهْرَ إِلَى وَقْتِ الْعَصْرِ ثُمَّ نَزَلَ فَجَمَعَ بَيْنَهُمَا فَإِنْ زَاغَتِ الشَّمْسُ قَبْلَ أَنْ يَرْتَحِلَ صَلَّى الظُّهْرَ ثُمَّ رَكِبَ .

বর্ণনাকারী: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

৫৮৭। কুতায়বা (রাহঃ) ......... আনাস ইবনে মালিক (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) দ্বি-প্রহরের পূর্বে সফরে রওয়ানা হলে আসর পর্যন্ত যোহরের নামাযকে বিলম্বিত করতেন। তারপর অবতরণ করে উভয় নামায একত্রে আদায় করতেন। দ্বি-প্রহরের পর রওয়ানা হলে যোহরের নামায আদায় করে আরোহণ করতেন।

৫৮৭

أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ سَلَمَةَ، وَالْحَارِثُ بْنُ مِسْكِينٍ، قِرَاءَةً عَلَيْهِ وَأَنَا أَسْمَعُ، - وَاللَّفْظُ لَهُ - عَنِ ابْنِ الْقَاسِمِ، قَالَ حَدَّثَنِي مَالِكٌ، عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ الْمَكِّيِّ، عَنْ أَبِي الطُّفَيْلِ، عَامِرِ بْنِ وَاثِلَةَ أَنَّ مُعَاذَ بْنَ جَبَلٍ، أَخْبَرَهُ أَنَّهُمْ، خَرَجُوا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَامَ تَبُوكَ فَكَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَجْمَعُ بَيْنَ الظُّهْرِ وَالْعَصْرِ وَالْمَغْرِبِ وَالْعِشَاءِ فَأَخَّرَ الصَّلاَةَ يَوْمًا ثُمَّ خَرَجَ فَصَلَّى الظُّهْرَ وَالْعَصْرَ جَمِيعًا ثُمَّ دَخَلَ ثُمَّ خَرَجَ فَصَلَّى الْمَغْرِبَ وَالْعِشَاءَ .

বর্ণনাকারী: আবু তুফাইল লাইছী (রাঃ)

৫৮৮। মুহাম্মাদ ইবনে সালামা ও হারিস ইবনে মিসকিন (রাহঃ) ......... আবু তুফায়ল আমির ইবনে ওয়াসিলা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। মুআয ইবনে জাবাল (রাযিঃ) তাঁকে বলেছেন যে, তাবুকের যুদ্ধে সাহাবায়ে কিরাম (রাযিঃ) রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সাথে রওয়ানা হলেন। এতে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যোহর এবং আসরের নামায একত্রে আদায় করলেন। আবার মাগরিব ও ঈশা একত্রে আদায় করলেন। একদিন যোহরের নামাযকে বিলম্বিত করে যোহর ও আসর একত্রে আদায় করলেন। তারপর মাগরিবের নামাযকে দেরী করে মাগরিব ও ঈশাকে একত্রে আদায় করলেন।

এর বিবরণ

بيان ذلك

৫৮৮

أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ بَزِيعٍ، قَالَ حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ زُرَيْعٍ، قَالَ حَدَّثَنَا كَثِيرُ بْنُ قَارَوَنْدَا، قَالَ سَأَلْتُ سَالِمَ بْنَ عَبْدِ اللَّهِ عَنْ صَلاَةِ، أَبِيهِ فِي السَّفَرِ وَسَأَلْنَاهُ هَلْ كَانَ يَجْمَعُ بَيْنَ شَىْءٍ مِنْ صَلاَتِهِ فِي سَفَرِهِ فَذَكَرَ أَنَّ صَفِيَّةَ بِنْتَ أَبِي عُبَيْدٍ كَانَتْ تَحْتَهُ فَكَتَبَتْ إِلَيْهِ وَهُوَ فِي زَرَّاعَةٍ لَهُ أَنِّي فِي آخِرِ يَوْمٍ مِنْ أَيَّامِ الدُّنْيَا وَأَوَّلِ يَوْمٍ مِنَ الآخِرَةِ . فَرَكِبَ فَأَسْرَعَ السَّيْرَ إِلَيْهَا حَتَّى إِذَا حَانَتْ صَلاَةُ الظُّهْرِ قَالَ لَهُ الْمُؤَذِّنُ الصَّلاَةَ يَا أَبَا عَبْدِ الرَّحْمَنِ . فَلَمْ يَلْتَفِتْ حَتَّى إِذَا كَانَ بَيْنَ الصَّلاَتَيْنِ نَزَلَ فَقَالَ أَقِمْ فَإِذَا سَلَّمْتُ فَأَقِمْ . فَصَلَّى ثُمَّ رَكِبَ حَتَّى غَابَتِ الشَّمْسُ قَالَ لَهُ الْمُؤَذِّنُ الصَّلاَةَ . فَقَالَ كَفِعْلِكَ فِي صَلاَةِ الظُّهْرِ وَالْعَصْرِ . ثُمَّ سَارَ حَتَّى إِذَا اشْتَبَكَتِ النُّجُومُ نَزَلَ ثُمَّ قَالَ لِلْمُؤَذِّنِ أَقِمْ فَإِذَا سَلَّمْتُ فَأَقِمْ . فَصَلَّى ثُمَّ انْصَرَفَ فَالْتَفَتَ إِلَيْنَا فَقَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " إِذَا حَضَرَ أَحَدَكُمُ الأَمْرُ الَّذِي يَخَافُ فَوْتَهُ فَلْيُصَلِّ هَذِهِ الصَّلاَةَ "

বর্ণনাকারী: সালিম ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রহঃ)

৫৮৯। মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে বাযীগ (রাহঃ) ......... কাছীর ইবনে ক্বারাওয়ান্দা (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি সালিম ইবনে আব্দুল্লাহ (রাহঃ) কে তাঁর পিতার সফরের নামায সম্বন্ধে জানতে চাইলাম এবং তাঁকে জিজ্ঞাসা করলাম, তিনি সফরে দু’ ওয়াক্তের নামায একত্রে আদায় করতেন কি? তখন সালিম (রাহঃ) এই ঘটনা উল্লেখ করলেন যে, সফিয়্যা বিনতে আবু উবাইদ (রাযিঃ) তাঁর (আব্দুল্লাহর) সহধর্মিনী ছিলেন। সফিয়্যা অসুস্থ হয়ে আব্দুল্লাহ (রাযিঃ)-এর নিকট পত্র লিখলেন। তখন আব্দুল্লাহ (রাযিঃ) তাঁর দূরবর্তী জমিনে কৃষিকাজ করছিলেন।

পত্রে লিখলেন যে, আমি মনে করি আমার পার্থিব জীবনের শেষ দিনে এবং আখিরাতের প্রথম দিনে উপনীত হয়েছি। সংবাদ পাওয়ামাত্রই তিনি অশ্বারোহণ করে দ্রুতগতিতে আসতে লাগলেন। যখন যোহরের নামাযের সময় হল, মুয়াযযিন বলল, হে আবু আব্দুর রহমান! নামায। তিনি ভ্রুক্ষেপ না করে চলতে লাগলেন। যখন দুই নামাযের মধ্যবর্তী সময়ে উপনীত হল, (অর্থাত যোহরের শেষ ওয়াক্ত আসরের প্রথম ওয়াক্ত) তখন অবতরণ করলেন এবং বললেন, ইকামত দাও। যখন আমি নামায সমাপ্ত করি তখন আবার ইকামত দিবে। তারপর নামায আদায় করে আরোহণ করলেন।

আবার যখন সূর্যাস্ত গেল, মুয়াযযিন তাঁকে বললেন, নামায। তিনি বললেন, ঐরূপ আমল কর যেরূপ যোহর ও আসরের নামাযে করেছিলে। আবার পথ চললেন। তারপর যখন সমুজ্জ্বল তারকা আকাশে উদ্ভাসিত হল, তখন অবতরণ করে মুয়াযযিনকে বললেন, ইকামত বল। যখন নামায সমাপ্ত করি, তখন আবার ইকামত বলবে। এবার নামায আদায় করে তাদের দিকে ফিরলেন এবং বললেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যখন তোমাদের কারও সামনে এমন কোন জটিল কাজ দেখা দিবে যা ফওত হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকবে, তখন এভাবে দু’ ওয়াক্তের নামায একত্রে আদায় করে নেবে।[১]

[১] ইমাম আবু হানীফা (রাহঃ)-এর মতে সফরে, রোগ কিংবা বৃষ্টির কারণে দুই সালাতকে একত্রে আদায় করা দুরস্ত নয়। তবে হজ্জের মওসুমে আরাফাতে যোহর ও আসরের সালাত এবং মুযদালিফায় মাগরিব ও ইশার সালাতকে একত্রে আদায় করা এর অন্তর্ভুক্ত নয়।

যে ওয়াক্তে মুকিম দু’ নামায এক সাথে আদায় করতে পারে।

الوقت الذي يجمع فيه المقيم

৫৮৯

أَخْبَرَنَا قُتَيْبَةُ، قَالَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ عَمْرٍو، عَنْ جَابِرِ بْنِ زَيْدٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ صَلَّيْتُ مَعَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم بِالْمَدِينَةِ ثَمَانِيًا جَمِيعًا وَسَبْعًا جَمِيعًا أَخَّرَ الظُّهْرَ وَعَجَّلَ الْعَصْرَ وَأَخَّرَ الْمَغْرِبَ وَعَجَّلَ الْعِشَاءَ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

৫৯০। কুতায়বা (রাহঃ) ......... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি মদীনায় নবী (ﷺ)-এর সঙ্গে আট রাক’আত একত্রে এবং সাত রাক’আত একত্রে আদায় করেছি যে, তিনি যোহরের শেষ ওয়াক্তে ও আসরকে প্রথম ওয়াক্তে, আবার মাগরিবকে শেষ ওয়াক্তে ও ইশাকে প্রথম ওয়াক্তে আদায় করলেন।

৫৯০

أَخْبَرَنَا أَبُو عَاصِمٍ، خُشَيْشُ بْنُ أَصْرَمَ قَالَ حَدَّثَنَا حَبَّانُ بْنُ هِلاَلٍ، حَدَّثَنَا حَبِيبٌ، - وَهُوَ ابْنُ أَبِي حَبِيبٍ - عَنْ عَمْرِو بْنِ هَرِمٍ، عَنْ جَابِرِ بْنِ زَيْدٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، أَنَّهُ صَلَّى بِالْبَصْرَةِ الأُولَى وَالْعَصْرَ لَيْسَ بَيْنَهُمَا شَىْءٌ وَالْمَغْرِبَ وَالْعِشَاءَ لَيْسَ بَيْنَهُمَا شَىْءٌ فَعَلَ ذَلِكَ مِنْ شُغْلٍ وَزَعَمَ ابْنُ عَبَّاسٍ أَنَّهُ صَلَّى مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِالْمَدِينَةِ الأُولَى وَالْعَصْرَ ثَمَانِ سَجَدَاتٍ لَيْسَ بَيْنَهُمَا شَىْءٌ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

৫৯১। আবু আসিম খাশীশ ইবনে আসরাম (রাহঃ) ......... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বসরায় যোহরের এবং আসর একত্রে আদায় করেন। তাতে কোন সময়ের ব্যবধান ছিল না আর মাগরিব ও ঈশাও একত্রে আদায় করলেন, তাতে ও কোন ব্যবধান ছিল না। কর্মব্যস্ততার কারণেই তিনি এরূপ করেছিলেন। আর ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) বলেন যে, তিনি মদীনায় রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সাথে যোহর ও আসর একত্রে আট রাক’আত আদায় করেছেন। দুই নামাযের মধ্যে সময়ের কোন ব্যবধান ছিল না।

যে ওয়াক্তে মুসাফির মাগরিব ও ইশার নামায এক সাথে পড়তে পারে।

الوقت الذي يجمع فيه المسافر بين المغرب والعشاء

৫৯১

أَخْبَرَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، قَالَ أَنْبَأَنَا سُفْيَانُ، عَنِ ابْنِ أَبِي نَجِيحٍ، عَنْ إِسْمَاعِيلَ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، - شَيْخٌ مِنْ قُرَيْشٍ - قَالَ صَحِبْتُ ابْنَ عُمَرَ إِلَى الْحِمَى فَلَمَّا غَرَبَتِ الشَّمْسُ هِبْتُ أَنْ أَقُولَ لَهُ الصَّلاَةَ فَسَارَ حَتَّى ذَهَبَ بَيَاضُ الأُفُقِ وَفَحْمَةُ الْعِشَاءِ ثُمَّ نَزَلَ فَصَلَّى الْمَغْرِبَ ثَلاَثَ رَكَعَاتٍ ثُمَّ صَلَّى رَكْعَتَيْنِ عَلَى إِثْرِهَا ثُمَّ قَالَ هَكَذَا رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَفْعَلُ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

৫৯২। ইসহাক ইবনে ইবরাহীম (রাহঃ) ......... ইসমাঈল ইবনে আব্দুর রহমান (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি হিমা[১] পর্যন্ত ইবনে উমর (রাযিঃ)-এর সঙ্গে ছিলাম। যখন সুর্য ডুবে গেল, আমি তাঁকে নামাযের কথা স্মরণ করিয়ে দিতে সাহস পেলাম না। তিনি চলতে চলতে যখন আকাশ দিগন্তে শুভ্র রেখা অদৃশ্য হওয়ার নিকটবর্তী হল এবং রাতের প্রথমাংশের অন্ধকার অর্থাৎ শাফাক অদৃশ্য হওয়ার উপক্রম হল, তখন অবতরণ করে মাগরিবের তিন রাক’আত এবং তার সাথে আরও দু’রাক’আত আদায় করলেন। তারপর বললেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে আমি এভাবেই আদায় করতে দেখেছি।

[১] সরকার কর্তৃক সংরক্ষিত ভূমিকে 'হিমা' বলা হয় : মদীনার নিকটবর্তী একটি স্থান।
৫৯২

أَخْبَرَنِي عَمْرُو بْنُ عُثْمَانَ، قَالَ حَدَّثَنَا بَقِيَّةُ، عَنِ ابْنِ أَبِي حَمْزَةَ، ح وَأَنْبَأَنَا أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ الْمُغِيرَةِ، قَالَ حَدَّثَنَا عُثْمَانُ، - وَاللَّفْظُ لَهُ - عَنْ شُعَيْبٍ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، قَالَ أَخْبَرَنِي سَالِمٌ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِذَا أَعْجَلَهُ السَّيْرُ فِي السَّفَرِ يُؤَخِّرُ صَلاَةَ الْمَغْرِبِ حَتَّى يَجْمَعَ بَيْنَهَا وَبَيْنَ الْعِشَاءِ

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

৫৯৩। আমর ইবনে উসমান ও আহমাদ ইবনে মুহাম্মাদ (রাহঃ) ......... সালিমের পিতা আব্দুল্লাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে দেখেছি যে, যখন কোন সফরে তাঁর ত্বরা থাকত তখন মাগরিবের নামায এভাবে বিলম্বে আদায় করতেন যে, মাগরিব ও ইশাকে একত্রিত করে ফেলতেন।

৫৯৩

أَخْبَرَنَا الْمُؤَمَّلُ بْنُ إِهَابٍ، قَالَ حَدَّثَنِي يَحْيَى بْنُ مُحَمَّدٍ الْجَارِيُّ، قَالَ حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ مُحَمَّدٍ، عَنْ مَالِكِ بْنِ أَنَسٍ، عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ، عَنْ جَابِرٍ، قَالَ غَابَتِ الشَّمْسُ وَرَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِمَكَّةَ فَجَمَعَ بَيْنَ الصَّلاَتَيْنِ بِسَرِفَ .

বর্ণনাকারী: জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ আনসারী (রাঃ)

৫৯৪। মুয়াম্মাল ইবনে ইহাব (রাহঃ) ......... জাবির (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, সুর্য অস্তমিত হল এবং রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তখন মক্কাতেই ছিলেন। তারপর ‘সারিফ’ নামক স্থানে তিনি (মাগরিব ও ঈশা) দুই নামায একত্রে আদায় করলেন।

৫৯৪

أَخْبَرَنِي عَمْرُو بْنُ سَوَّادِ بْنِ الأَسْوَدِ بْنِ عَمْرٍو، قَالَ أَنْبَأَنَا ابْنُ وَهْبٍ، قَالَ حَدَّثَنَا جَابِرُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ، عَنْ عُقَيْلٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ أَنَسٍ، عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ كَانَ إِذَا عَجِلَ بِهِ السَّيْرُ يُؤَخِّرُ الظُّهْرَ إِلَى وَقْتِ الْعَصْرِ فَيَجْمَعُ بَيْنَهُمَا وَيُؤَخِّرُ الْمَغْرِبَ حَتَّى يَجْمَعَ بَيْنَهَا وَبَيْنَ الْعِشَاءِ حِينَ يَغِيبُ الشَّفَقُ

বর্ণনাকারী: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

৫৯৫। আমর ইবনে সাওয়াদ ইবনে আসওয়াদ (রাহঃ) ......... আনাস (রাযিঃ) সূত্রে থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যখন সফরে থাকতেন, তখন যোহরের নামায আসর পর্যন্ত বিলম্বে করতেন। তারপর উভয়কে একত্রে আদায় করতেন এবং মাগরিবকে বিলম্বে করে মাগরিব ও ঈশাকে একত্রে আদায় করতেন।

৫৯৫

أَخْبَرَنَا مَحْمُودُ بْنُ خَالِدٍ، قَالَ حَدَّثَنَا الْوَلِيدُ، قَالَ حَدَّثَنَا ابْنُ جَابِرٍ، قَالَ حَدَّثَنِي نَافِعٌ، قَالَ خَرَجْتُ مَعَ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ فِي سَفَرٍ يُرِيدُ أَرْضًا لَهُ فَأَتَاهُ آتٍ فَقَالَ إِنَّ صَفِيَّةَ بِنْتَ أَبِي عُبَيْدٍ لَمَا بِهَا فَانْظُرْ أَنْ تُدْرِكَهَا . فَخَرَجَ مُسْرِعًا وَمَعَهُ رَجُلٌ مِنْ قُرَيْشٍ يُسَايِرُهُ وَغَابَتِ الشَّمْسُ فَلَمْ يُصَلِّ الصَّلاَةَ وَكَانَ عَهْدِي بِهِ وَهُوَ يُحَافِظُ عَلَى الصَّلاَةِ فَلَمَّا أَبْطَأَ قُلْتُ الصَّلاَةَ يَرْحَمُكَ اللَّهُ . فَالْتَفَتَ إِلَىَّ وَمَضَى حَتَّى إِذَا كَانَ فِي آخِرِ الشَّفَقِ نَزَلَ فَصَلَّى الْمَغْرِبَ ثُمَّ أَقَامَ الْعِشَاءَ وَقَدْ تَوَارَى الشَّفَقُ فَصَلَّى بِنَا ثُمَّ أَقْبَلَ عَلَيْنَا فَقَالَ إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَانَ إِذَا عَجِلَ بِهِ السَّيْرُ صَنَعَ هَكَذَا .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

৫৯৬। মাহমুদ ইবনে খালিদ (রাহঃ) ......... নাফি (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আব্দুল্লাহ ইবনে উমরের কিছু জমি ছিল। সেখানে কৃষিকাজের উদ্দেশ্যে আমি আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাযিঃ)-এর সঙ্গে রওয়ানা হলাম ও সেখানে পৌঁছার পড়ে হঠাৎ একদিন এক সংবাদদাতা বললো যে, আপনার স্ত্রী সফিয়্যা বিনতে আবু উবাইদ (রাযিঃ) মুমূর্ষু অবস্থায়, দেখতে চাইলে যেতে পারেন। তারপর তিনি দ্রুতবেগে চললেন। এক কুরায়শী ব্যক্তি সফরসঙ্গী ছিলেন। সুর্য অস্তমিত হলেও মাগরিবের নামায আদায় করলেন না। আমি তাঁকে যতদিন ধরে জানি, যথাসময়ে নামায আদায়ে যত্নবান থাকতেন।

এরপরও যখন দেরী করেছেন, তখন আমি বললাম, নামায, আল্লাহপাক আপনাকে রহম করুন। তিনি আমার দিকে তাকালেন এবং চলতে লাগলেন। এ অবস্থায় যখন পশ্চিম আকাশের লালিমা প্রায় অদৃশ্য হল, তখন মাগরিবের নামায আদায় করলেন। তারপর আমাদের দিকে লক্ষ্য করে বললেনঃ যখন সফরে কোন ত্বরা থাকত, তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এরূপ করতেন।
৫৯৬

أَخْبَرَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا الْعَطَّافُ، عَنْ نَافِعٍ، قَالَ أَقْبَلْنَا مَعَ ابْنِ عُمَرَ مِنْ مَكَّةَ فَلَمَّا كَانَ تِلْكَ اللَّيْلَةُ سَارَ بِنَا حَتَّى أَمْسَيْنَا فَظَنَنَّا أَنَّهُ نَسِيَ الصَّلاَةَ فَقُلْنَا لَهُ الصَّلاَةَ . فَسَكَتَ وَسَارَ حَتَّى كَادَ الشَّفَقُ أَنْ يَغِيبَ ثُمَّ نَزَلَ فَصَلَّى وَغَابَ الشَّفَقُ فَصَلَّى الْعِشَاءَ ثُمَّ أَقْبَلَ عَلَيْنَا فَقَالَ هَكَذَا كُنَّا نَصْنَعُ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِذَا جَدَّ بِهِ السَّيْرُ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

৫৯৭। কুতায়বা ইবনে সাঈদ (রাহঃ) ......... নাফি (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা ইবনে উমর (রাযিঃ)-এর সঙ্গে মক্কা হতে আসছিলাম। যখন ঐ রাত হল (তাঁর স্ত্রীর মুমূর্ষুতার সংবাদ পাওয়ার পর) তিনি আমাদের নিয়ে দ্রুত চললেন। যখন সন্ধা হল, আমরা ধারণা করলাম, তিনি নামাযের কথা ভুলে গেছেন, এজন্য আমরা তাঁকে নামাযের কথা স্মরণ করিয়ে দিলাম। তিনি চুপ রইলেন এবং আরো অগ্রসর হলেন। তারপর আকাশের লালিমা অদৃশ্য হওয়ার উপক্রম হলে অবতরণ করে মাগরিবের নামায আদায় করলেন। আবার যখন শাফাক অদৃশ্য হয়ে গেলো তখন ইশার নামায আদায় করলেন। তারপর আমাদের লক্ষ্য করে বললেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সঙ্গে যখন সফরে তাঁর কোনো ত্বরা থাকত, তখন আমরা এরূপ করতাম।

৫৯৭

أَخْبَرَنَا عَبْدَةُ بْنُ عَبْدِ الرَّحِيمِ، قَالَ حَدَّثَنَا ابْنُ شُمَيْلٍ، قَالَ حَدَّثَنَا كَثِيرُ بْنُ قَارَوَنْدَا، قَالَ سَأَلْنَا سَالِمَ بْنَ عَبْدِ اللَّهِ عَنِ الصَّلاَةِ، فِي السَّفَرِ فَقُلْنَا أَكَانَ عَبْدُ اللَّهِ يَجْمَعُ بَيْنَ شَىْءٍ مِنَ الصَّلَوَاتِ فِي السَّفَرِ فَقَالَ لاَ إِلاَّ بِجَمْعٍ ثُمَّ أَتَيْتُهُ فَقَالَ كَانَتْ عِنْدَهُ صَفِيَّةُ فَأَرْسَلَتْ إِلَيْهِ أَنِّي فِي آخِرِ يَوْمٍ مِنَ الدُّنْيَا وَأَوَّلِ يَوْمٍ مِنَ الآخِرَةِ . فَرَكِبَ وَأَنَا مَعَهُ فَأَسْرَعَ السَّيْرَ حَتَّى حَانَتِ الصَّلاَةُ فَقَالَ لَهُ الْمُؤَذِّنُ الصَّلاَةَ يَا أَبَا عَبْدِ الرَّحْمَنِ . فَسَارَ حَتَّى إِذَا كَانَ بَيْنَ الصَّلاَتَيْنِ نَزَلَ فَقَالَ لِلْمُؤَذِّنِ أَقِمْ فَإِذَا سَلَّمْتُ مِنَ الظُّهْرِ فَأَقِمْ مَكَانَكَ . فَأَقَامَ فَصَلَّى الظُّهْرَ رَكْعَتَيْنِ ثُمَّ سَلَّمَ ثُمَّ أَقَامَ مَكَانَهُ فَصَلَّى الْعَصْرَ رَكْعَتَيْنِ ثُمَّ رَكِبَ فَأَسْرَعَ السَّيْرَ حَتَّى غَابَتِ الشَّمْسُ فَقَالَ لَهُ الْمُؤَذِّنُ الصَّلاَةَ يَا أَبَا عَبْدِ الرَّحْمَنِ . فَقَالَ كَفِعْلِكَ الأَوَّلِ . فَسَارَ حَتَّى إِذَا اشْتَبَكَتِ النُّجُومُ نَزَلَ فَقَالَ أَقِمْ فَإِذَا سَلَّمْتُ فَأَقِمْ . فَصَلَّى الْمَغْرِبَ ثَلاَثًا ثُمَّ أَقَامَ مَكَانَهُ فَصَلَّى الْعِشَاءَ الآخِرَةَ ثُمَّ سَلَّمَ وَاحِدَةً تِلْقَاءَ وَجْهِهِ ثُمَّ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " إِذَا حَضَرَ أَحَدَكُمْ أَمْرٌ يَخْشَى فَوْتَهُ فَلْيُصَلِّ هَذِهِ الصَّلاَةَ " .

বর্ণনাকারী: সালিম ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রহঃ)

৫৯৮। আব্দা ইবনে আব্দুর রহীম (রাহঃ) ......... কাছীর ইবনে কারাওয়ান্দা (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা সফরের নামায সম্বন্ধে সালিম ইবনে আব্দুল্লাহকে জিজ্ঞাসা করলাম যে, আপনার পিতা আব্দুল্লাহ (রাযিঃ) সফরের একাধিক নামায একত্রে আদায় করেছেন কি? উত্তরে বললেনঃ না, মুযদালিফা ব্যতীত আর কোথাও একত্রে আদায় করেননি। পুনরায় সতর্ক হয়ে ঘটনার উল্লেখ করে বললেনঃ সফিয়্যা আব্দুল্লাহ (রাযিঃ)-এর স্ত্রী ছিলেন। সফিয়্যা (রাযিঃ) তাঁর নিকট খবর পাঠালেন যে, আমি পার্থিব জীবনের শেষ দিনে এবং আখিরাতের প্রথম দিনে উপনীত হয়েছি। সংবাদ পাওয়ামাত্রই তিনি আরোহণ করলেন, আমিও তাঁর সঙ্গে ছিলাম। তিনি অত্যন্ত দ্রুতবেগে চললেন।

পরে যখন নামাযের সময় হল, মুয়াযযিন বললেন, হে আব্দুর রহমান! নামায। তিনি চলতে লাগলেন। তারপর দুই নামাযের মাঝামাঝি সময়ে উপনীত হলেন, তখন অবতরণ করে মুয়াযযিনকে বললেনঃ ইকামত বল। যখন যোহরের নামায সমাপ্ত করি তখন আবার সেখানে দাঁড়িয়েই ইকামত বলবে। ইকামত বলা হলে যোহরের দু’রাক’আত্ আদায় করলেন। আবার সেখানেই ইকামত দিলে আসরের দু’রাক’আত্ আদায় করে আরোহণ করলেন এবং সুর্য অস্ত যাওয়ার পূর্ব পর্যন্ত দ্রুত চললেন।

আবার মুআযযীন বললেন, হে আব্দুর রহমান! নামায। তিনি বললেনঃ পূর্বের মতই কাজ কর, এই বলে চলতে লাগলেন। তারপর যখন আকাশে তারকারাশি ছেয়ে গেল, তখন অবতরণ করেন এবং ইকামতের আদেশ দিলেন। বললেনঃ যখন সালাম ফিরাব, আবার ইকামত বলবে। তারপর মাগরিবের তিন রাক’আত্ আদায় করলেন। তারপর সেখানেই ইকামত বলে ইশার নামায আদায় করলেন। তারপর একদিকে সালাম ফিরিয়ে বললেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যখন তোমাদের কারও সামনে এমন কোন কাজ দেখা দেয়, যা ফওত হয়ে যাওয়ার (ছুটে যাওয়ার) আশঙ্কা থাকে, এভাবেই নামায আদায় করে নেবে।

যে অবস্থায় দু’ নামায একসাথে পড়া যায়।

الحال التي يجمع فيها بين الصلاتين

৫৯৮

أَخْبَرَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَانَ إِذَا جَدَّ بِهِ السَّيْرُ جَمَعَ بَيْنَ الْمَغْرِبِ وَالْعِشَاءِ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

৫৯৯। কুতায়বা ইবনে সাঈদ (রাহঃ) ......... ইবনে উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে যখন কোথাও সফরে দ্রুত চলতে হতো, তখন মাগরিব ও ঈশা একত্রে আদায় করে নিতেন।

৫৯৯

أَخْبَرَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، قَالَ أَنْبَأَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، قَالَ حَدَّثَنَا مَعْمَرٌ، عَنْ مُوسَى بْنِ عُقْبَةَ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، قَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِذَا جَدَّ بِهِ السَّيْرُ أَوْ حَزَبَهُ أَمْرٌ جَمَعَ بَيْنَ الْمَغْرِبِ وَالْعِشَاءِ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

৬০০। ইসহাক ইবনে ইবরাহীম (রাহঃ) ......... ইবনে উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বললেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে যখন কোথাও সফরে দ্রুত চলতে হতো, অথবা তাঁর সামনে কোনো জটিল কাজ উপস্থিত হতো, তখন তিনি মাগরিব ও ঈশা একত্রে আদায় করে নিতেন।

৬০০

أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ مَنْصُورٍ، قَالَ أَنْبَأَنَا سُفْيَانُ، قَالَ سَمِعْتُ الزُّهْرِيَّ، قَالَ أَخْبَرَنِي سَالِمٌ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ رَأَيْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم إِذَا جَدَّ بِهِ السَّيْرُ جَمَعَ بَيْنَ الْمَغْرِبِ وَالْعِشَاءِ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

৬০১। মুহাম্মাদ ইবনে মানসুর (রাহঃ) ......... সালিম (রাহঃ)-এর পিতা আব্দুল্লাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি নবী (ﷺ) কে দেখেছি, যখন তাঁকে সফরে দ্রুত চলতে হতো, তখন তিনি মাগরিব ও ইশা একত্রে আদায় করতেন।

আবাসে দু’ নামায একসাথে আদায় করা।

الجمع بين الصلاتين في الحضر

৬০১

أَخْبَرَنَا قُتَيْبَةُ، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ صَلَّى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم الظُّهْرَ وَالْعَصْرَ جَمِيعًا وَالْمَغْرِبَ وَالْعِشَاءَ جَمِيعًا مِنْ غَيْرِ خَوْفٍ وَلاَ سَفَرٍ

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

৬০২। কুতায়বা (রাহঃ) ......... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যোহর ও আসর একত্রে আদায় করেছেন এবং মাগরিব ও ইশা একত্রে আদায় করেছেন। তখন সফররত অবস্থায়ও ছিলেন না এবং তার মধ্যে কোন ভয়-তীতিও ছিল না।[১]

[১] রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) যোহরের সালাত শেষ সময়ে এবং আসরের সালাত তার প্রথম সময়ে আদায় করেছিলেন। এমনিভাবে মাগরিবের শেষ সময়ে ও ইশার প্রথম ওয়াক্তে আদায় করেছিলেন। যাতে সফরের সময়ে, ব্যাধিগ্রস্থাবস্থায় এবং অতি ব্যস্ততার সময়ে তাঁর উম্মতগণ এভাবে সালাত আদায় করতে পারে। এটা দৃশ্যত দুই সালাতকে একত্রে আদায় করা বুঝালেও মূলত পৃথক দুই ওয়াক্তেই দুই সালাত আদায় করা হয়েছিল।
৬০২

أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الْعَزِيزِ بْنِ أَبِي رِزْمَةَ، - وَاسْمُهُ غَزْوَانُ - قَالَ حَدَّثَنَا الْفَضْلُ بْنُ مُوسَى، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ حَبِيبِ بْنِ أَبِي ثَابِتٍ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم كَانَ يُصَلِّي بِالْمَدِينَةِ يَجْمَعُ بَيْنَ الصَّلاَتَيْنِ بَيْنَ الظُّهْرِ وَالْعَصْرِ وَالْمَغْرِبِ وَالْعِشَاءِ مِنْ غَيْرِ خَوْفٍ وَلاَ مَطَرٍ . قِيلَ لَهُ لِمَ قَالَ لِئَلاَّ يَكُونَ عَلَى أُمَّتِهِ حَرَجٌ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

৬০৩। মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল-আযীয ইবনে রিযমা (রাহঃ) ......... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত নবী (ﷺ) মদীনায় যোহর ও আসর একত্রে আদায় করতেন এবং মাগরিব ও ইশা একত্রে আদায় করতেন। তখন কোন ভয়ও ছিল না বা ও বৃষ্টিও ছিল না। ইবনে আব্বাস (রাযিঃ)-কে জিজ্ঞাসা করা হল, তিনি কেন এরূপ করতেন? ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) বললেনঃ তার উম্মতের যেন অসুবিধা না হয়।

৬০৩

أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الأَعْلَى، قَالَ حَدَّثَنَا خَالِدٌ، قَالَ حَدَّثَنَا ابْنُ جُرَيْجٍ، عَنْ عَمْرِو بْنِ دِينَارٍ، عَنْ أَبِي الشَّعْثَاءِ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ صَلَّيْتُ وَرَاءَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ثَمَانِيًا جَمِيعًا وَسَبْعًا جَمِيعًا .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

৬০৪। মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল আ’লা (রাহঃ) ......... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর পেছনে একত্রে আট রাক’আত আদায় করেছি এবং সাত রাক’আতও।[১]

[১] আট রাকআত বলতে যোহর ও আসর এবং সাত রাক'আত বলতে মাগরিব ও ইশাকে বুঝানো হয়েছে।

আরাফাতে যোহর ও আসর একত্রে পড়া।

الجمع بين الظهر والعصر بعرفة

৬০৪

أَخْبَرَنِي إِبْرَاهِيمُ بْنُ هَارُونَ، قَالَ حَدَّثَنَا حَاتِمُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ، قَالَ حَدَّثَنَا جَعْفَرُ بْنُ مُحَمَّدٍ، عَنْ أَبِيهِ، أَنَّ جَابِرَ بْنَ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ سَارَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم حَتَّى أَتَى عَرَفَةَ فَوَجَدَ الْقُبَّةَ قَدْ ضُرِبَتْ لَهُ بِنَمِرَةَ فَنَزَلَ بِهَا حَتَّى إِذَا زَاغَتِ الشَّمْسُ أَمَرَ بِالْقَصْوَاءِ فَرُحِّلَتْ لَهُ حَتَّى إِذَا انْتَهَى إِلَى بَطْنِ الْوَادِي خَطَبَ النَّاسَ ثُمَّ أَذَّنَ بِلاَلٌ ثُمَّ أَقَامَ فَصَلَّى الظُّهْرَ ثُمَّ أَقَامَ فَصَلَّى الْعَصْرَ وَلَمْ يُصَلِّ بَيْنَهُمَا شَيْئًا .

বর্ণনাকারী: জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ আনসারী (রাঃ)

৬০৫। ইবরাহীম ইবনে হারুন (রাহঃ) ......... জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) সফর করে যখন আরাফাতে আসলেন এবং ’নামিরা’ নামক স্থানে তার জন্য একটি নিদিঁষ্ট তাবু খাটানো হয়েছে দেখতে পেলেন, তখন তিনি সেখানে অবতরণ করলেন। যখন সূর্য ঢলে পড়লো তখন তার নির্দেশে ’কাসওয়া’ নামক উষ্ট্রির পিঠে হাওদা লাগানো হলো। তারপর যখন ’বাতনুল ওয়াদী’তে পৌছলেন, সমবেত লোকদের উদ্দেশ্যে ভাষণ দিলেন। তারপর বিলাল (রাযিঃ) আযান ও ইকামত বললেন। তিনি যোহরের নামায আদায় করলেন, পুনরায় ইকামত বলার পর আসর আদায় করলেন এবং এই দুই নামাযের মধ্যে আর কোন নামায আদায় করেননি।

মুযদালিফাতে মাগরিব ও ইশা একত্রে পড়া।

الجمع بين المغرب والعشاء بالمزدلفة

৬০৫

أَخْبَرَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ، عَنْ عَدِيِّ بْنِ ثَابِتٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ يَزِيدَ، أَنَّ أَبَا أَيُّوبَ الأَنْصَارِيَّ، أَخْبَرَهُ أَنَّهُ، صَلَّى مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي حَجَّةِ الْوَدَاعِ الْمَغْرِبَ وَالْعِشَاءَ بِالْمُزْدَلِفَةِ جَمِيعًا .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু আইয়ুব আনসারী (রাঃ)

৬০৬। কুতায়বা ইবনে সাঈদ (রাহঃ) ......... আব্দুল্লাহ ইবনে ইয়াযীদ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। আবু আইয়্যুব আনসারী (রাযিঃ) তাকে জানান যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সঙ্গে তিনি বিদায় হজ্জে- মুযদালিফায় মাগরিব ও ঈশা একত্রে আদায় করেছেন।

৬০৬

أَخْبَرَنَا يَعْقُوبُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، قَالَ حَدَّثَنَا هُشَيْمٌ، عَنْ إِسْمَاعِيلَ بْنِ أَبِي خَالِدٍ، قَالَ حَدَّثَنَا أَبُو إِسْحَاقَ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ، قَالَ كُنْتُ مَعَ ابْنِ عُمَرَ حَيْثُ أَفَاضَ مِنْ عَرَفَاتٍ فَلَمَّا أَتَى جَمْعًا جَمَعَ بَيْنَ الْمَغْرِبِ وَالْعِشَاءِ فَلَمَّا فَرَغَ قَالَ فَعَلَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي هَذَا الْمَكَانِ مِثْلَ هَذَا .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

৬০৭। ইয়াকুব ইবনে ইবরাহীম (রাহঃ) ......... সাঈদ ইবনে জুবাইর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ ইবনে উমর (রাযিঃ) যখন আরাফার হতে মুযদালিফার দিকে রওয়ানা করেন, তখন আমি তাঁর সঙ্গে ছিলাম। মুযদালিফায় এসে তিনি মাগরিব ও ইশা একত্রে আদায় করলেন। নামায সমাপ্ত করে বলেলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এই স্থানে এরূপই করেছেন।

৬০৭

أَخْبَرَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ سَعِيدٍ، قَالَ حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ، عَنْ مَالِكٍ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ سَالِمٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم صَلَّى الْمَغْرِبَ وَالْعِشَاءَ بِالْمُزْدَلِفَةِ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

৬০৮। উবাইদুল্লাহ ইবনে সাঈদ (রাহঃ) ......... ইবনে উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। নবী (ﷺ) মুযদালিফাতে মাগরিব ও ইশা (একত্রে) আদায় করেছেন।

৬০৮

أَخْبَرَنَا قُتَيْبَةُ، قَالَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ عُمَارَةَ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ يَزِيدَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ مَا رَأَيْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم جَمَعَ بَيْنَ صَلاَتَيْنِ إِلاَّ بِجَمْعٍ وَصَلَّى الصُّبْحَ يَوْمَئِذٍ قَبْلَ وَقْتِهَا .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ)

৬০৯। কুতায়বা (রাহঃ) ......... আব্দুল্লাহ (ইবনে মাসউদ) (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে মুযদালিফা ব্যতীত আর কোথাও দুই নামায একত্রে আদায় করতে দেখিনি। [রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আরাফাতে এবং সফরে এমনকি মদীনাতেও যে দু নামায একত্রে আদায় করেছিলেন, সে সম্পর্কে আব্দুল্লাহ (রাযিঃ) তখনো জানতেন না] এবং ঐ দিন ফজরের নামায স্বাভাবিক সময়ের পূর্বেই আদায় করেছিলেন।

দু’ নামায একত্রে আদায় করার পদ্ধতি

كيف الجمع

৬০৯

أَخْبَرَنَا الْحُسَيْنُ بْنُ حُرَيْثٍ، قَالَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ بْنِ عُقْبَةَ، وَمُحَمَّدُ بْنُ أَبِي حَرْمَلَةَ، عَنْ كُرَيْبٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، عَنْ أُسَامَةَ بْنِ زَيْدٍ، وَكَانَ النَّبِيُّ، صلى الله عليه وسلم أَرْدَفَهُ مِنْ عَرَفَةَ فَلَمَّا أَتَى الشِّعْبَ نَزَلَ فَبَالَ وَلَمْ يَقُلْ أَهْرَاقَ الْمَاءَ قَالَ فَصَبَبْتُ عَلَيْهِ مِنْ إِدَاوَةٍ فَتَوَضَّأَ وُضُوءًا خَفِيفًا . فَقُلْتُ لَهُ الصَّلاَةَ . فَقَالَ " الصَّلاَةُ أَمَامَكَ " فَلَمَّا أَتَى الْمُزْدَلِفَةَ صَلَّى الْمَغْرِبَ ثُمَّ نَزَعُوا رِحَالَهُمْ ثُمَّ صَلَّى الْعِشَاءَ .

বর্ণনাকারী: হযরত উসামা ইবন যায়দ রাযি.

৬১০। হুসাইন ইবনে হুয়ারস (রাহঃ) ......... উসামা ইবনে যায়দ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। নবী (ﷺ) তাকে আরাফার হতে উষ্ঠীর পিঠে তার পেছনে বসিয়ে ছিলেন। শি’বে পৌছে তিনি অবতরণ করলেন। তারপর পেশাব করলেন। আমি পাত্র হতে তার উযুর জন্য পানি ঢাললাম। তিনি হালকাভাবে উযু করলেন। আমি তাঁকে বললাম, নামায। তিনি বললেনঃ নামায সম্মুখে। মুযদালিফায় পৌছার পর তিনি মাগরিবের নামায আদায় করলেন। তারপর উটের পিঠের হাওদা নামনো হলো। এরপর ঈশার নামায আদায় করলেন।

যথা সময়ে নামায আদায় করার ফযীলত

فضل الصلاة لمواقيتها

৬১০

أَخْبَرَنَا عَمْرُو بْنُ عَلِيٍّ، قَالَ حَدَّثَنَا يَحْيَى، قَالَ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، قَالَ أَخْبَرَنِي الْوَلِيدُ بْنُ الْعَيْزَارِ، قَالَ سَمِعْتُ أَبَا عَمْرٍو الشَّيْبَانِيَّ، يَقُولُ حَدَّثَنَا صَاحِبُ، هَذِهِ الدَّارِ وَأَشَارَ إِلَى دَارِ عَبْدِ اللَّهِ قَالَ سَأَلْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَىُّ الْعَمَلِ أَحَبُّ إِلَى اللَّهِ تَعَالَى قَالَ " الصَّلاَةُ عَلَى وَقْتِهَا وَبِرُّ الْوَالِدَيْنِ وَالْجِهَادُ فِي سَبِيلِ اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ)

৬১১। আমর ইবনে আলী (রাহঃ) ......... আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাযিঃ) এর ঘরের দিকে নির্দেশ করে বলেন যে, এ ঘরের মালিক আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন যে, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে জিজ্ঞাসা করলাম- কোন আমলটি আল্লাহর নিকট অধিক প্রিয়? তিনি বললেনঃ যথা সময়ে নামায আদায় করা। মা-বাপের সাথে সদ্ব্যবহার করা এবং আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ করা।

৬১১

أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، قَالَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، قَالَ حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ النَّخَعِيُّ، سَمِعَهُ مِنْ أَبِي عَمْرٍو، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ، قَالَ سَأَلْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَىُّ الْعَمَلِ أَحَبُّ إِلَى اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ قَالَ " إِقَامُ الصَّلاَةِ لِوَقْتِهَا وَبِرُّ الْوَالِدَيْنِ وَالْجِهَادُ فِي سَبِيلِ اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ)

৬১২। আব্দুল্লাহ ইবনে মুহাম্মাদ (রাহঃ) ......... আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে জিজ্ঞাসা করলামঃ কোন আমলটি আল্লাহর নিকট অধিক প্রিয়? তিনি বললেনঃ যথাসময়ে নামায আদায় করা- মা-বাপের সাথে সদ্যবহার করা এবং আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ করা।

৬১২

أَخْبَرَنَا يَحْيَى بْنُ حَكِيمٍ، وَعَمْرُو بْنُ يَزِيدَ، قَالاَ حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي عَدِيٍّ، عَنْ شُعْبَةَ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ الْمُنْتَشِرِ، عَنْ أَبِيهِ، أَنَّهُ كَانَ فِي مَسْجِدِ عَمْرِو بْنِ شُرَحْبِيلَ فَأُقِيمَتِ الصَّلاَةُ فَجَعَلُوا يَنْتَظِرُونَهُ فَقَالَ إِنِّي كُنْتُ أُوتِرُ قَالَ وَسُئِلَ عَبْدُ اللَّهِ هَلْ بَعْدَ الأَذَانِ وِتْرٌ قَالَ نَعَمْ وَبَعْدَ الإِقَامَةِ وَحَدَّثَ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ نَامَ عَنِ الصَّلاَةِ حَتَّى طَلَعَتِ الشَّمْسُ ثُمَّ صَلَّى . وَاللَّفْظُ لِيَحْيَى .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ)

৬১৩। ইয়াহয়া ইবনে হাকীম ও আমর ইবনে ইয়াযীদ (রাহঃ) ......... মুহাম্মাদ ইবনে মুনতাশির (রাহঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি একদা আমর ইবনে শুরাহবীল (রাযিঃ)-এর মসজিদে উপস্থিত ছিলেন। এমন সময় ইকামত বলা হলো। মুসল্লীগণ তার অপেক্ষায় করতে লাগলেন পরে তিনি বললেন আামি বিতরের নামায আদায় করছিলাম (এ জন্যই বিলম্ব হয়েছে)। রাবী বলেনঃ তখন আব্দুল্লাহ (রাযিঃ)-এর নিকট ফাতওয়া জিজ্ঞাসা করা হলো যে, আযানের পর কি বিতর আদায় করা যায়? তিনি বললেনঃ হ্যাঁ, শুধু আযান কেন ইকামতের পরও।[১] এ ব্যাপারে তিনি নবী (ﷺ) থেকে হাদীসও বর্ণনা করলেন যে, একদা নবী (ﷺ) ফজরের নামাযের সময় নিদ্রিত ছিলেন। এমতাবস্হায় সূর্য উদিত হলো। তারপর ঘুম থেকে উঠে নামায আদায় করলেন।[২]

[১] এই সময়ে বিতর কাযা আদায় করা যায়।
[২] এটা ৭ম হিজরীতে খায়বার যুদ্ধ থেকে প্রত্যাবর্তনের সময় লাইলাতুত-তারীসের ঘটনা ছিল। প্রায় শেষরাত্রে পথিমধ্যে অবতরণ করে বিলাল (রাযিঃ)-কে পাহারাদার নিযুক্ত করে সকলেই ঘুমিয়ে পড়লেন। কিছুক্ষণ পর বিলাল (রাযিঃ)-ও ঘুমিয়ে পড়লেন। এমতাবস্থায় সূর্যোদয় হয়ে গেল। সকলে জাগ্রত হওয়ার পর এ জায়গা ত্যাগ করে অন্যত্র গিয়ে সালাত

সময় অতিবাহিত হয়ে গেলে সালাত কাযা করে নেবে

যে লোক নামায ভুলে যায়।

فيمن نسي صلاة

৬১৩

أَخْبَرَنَا قُتَيْبَةُ، قَالَ حَدَّثَنَا أَبُو عَوَانَةَ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ أَنَسٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " مَنْ نَسِيَ صَلاَةً فَلْيُصَلِّهَا إِذَا ذَكَرَهَا " .

বর্ণনাকারী: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

৬১৪। কুতায়বা (রাহঃ) ......... আনাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি নামায ভুলে যায়, তারপর যখন স্মরণ হয় তখন যেন সে তা আদায় করে নেয়।

যে লোক নামায না পড়ে ঘুমিয়ে যায়।

فيمن نام عن الصلاة

৬১৪

أَخْبَرَنَا حُمَيْدُ بْنُ مَسْعَدَةَ، عَنْ يَزِيدَ، قَالَ حَدَّثَنَا حَجَّاجٌ الأَحْوَلُ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ أَنَسٍ، قَالَ سُئِلَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَنِ الرَّجُلِ يَرْقُدُ عَنِ الصَّلاَةِ أَوْ يَغْفُلُ عَنْهَا قَالَ " كَفَّارَتُهَا أَنْ يُصَلِّيَهَا إِذَا ذَكَرَهَا " .

বর্ণনাকারী: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

৬১৫। হুমায়দ ইবনে মাসআদা (রাহঃ) ......... আনাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট এমন ব্যক্তি সম্বন্ধে জিজ্ঞাসা করা হলো যে, সে নামায আদায় না করে ঘুমিয়ে পড়ে বা নামায ভুলে যায়। তিনি বললেনঃ এর কাফফারা হলো যখনই স্মরণ আসবে তখনই তা আদায় করে নেবে।[১]

[১] সময় অতিবাহিত হয়ে গেলে সালাত কাযা করে নেবে।
৬১৫

أَخْبَرَنَا قُتَيْبَةُ، قَالَ حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ، عَنْ ثَابِتٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ رَبَاحٍ، عَنْ أَبِي قَتَادَةَ، قَالَ ذَكَرُوا لِلنَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم نَوْمَهُمْ عَنِ الصَّلاَةِ فَقَالَ " إِنَّهُ لَيْسَ فِي النَّوْمِ تَفْرِيطٌ إِنَّمَا التَّفْرِيطُ فِي الْيَقَظَةِ فَإِذَا نَسِيَ أَحَدُكُمْ صَلاَةً أَوْ نَامَ عَنْهَا فَلْيُصَلِّهَا إِذَا ذَكَرَهَا " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু কাতাদা আনসারী (রাঃ)

৬১৬। কুতায়বা (রাহঃ) ......... আবু কাতাদা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ সাহাবায়ে কিরাম (রাযিঃ) নিদ্রাবস্থায় নামাযের সময় তাদের ঘুমে থাকার বিষয়টি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট উল্লেখ করলেন। তিনি বললেনঃ ঘুমে থাকার মধ্যে অবহেলা নেই। অবহেলা হয় জাগ্রত অবস্থায় (যথাসময়ে নামায আদায় না করলে)।[১] সুতরাং যদি তোমাদের কেউ নামায ভুলে যায় বা ঘুমিয়ে পড়ে, তবে যখনই স্মরণ হয় তখনই পড়ে নেবে।

[১] এ হাদীসের অর্থ এ নয় যে, সালাত আদায় না করে ঘুমিয়ে থাকলে কোন অপরাধ হবে না। বরং এর অর্থ এই যে, বিশেষ কারণ ও ওষুরবশত নিদ্রাবস্থায় কোন সময় সালাত চলে গেলে তা অপরাধ বলে গণ্য হবে না। কিন্তু কেউ যদি একে অভ্যাসে পরিণত করে, তবে এটা অবশ্যই অপরাধ বলে গণ্য হবে। কেননা হাদীসে যথাসময়ে সালাত আদায় করার ফযীলত এবং এ বিষয়ে অবহেলার পরিণতি উল্লেখ করা হয়েছে।
৬১৬

أَخْبَرَنَا سُوَيْدُ بْنُ نَصْرٍ، قَالَ أَنْبَأَنَا عَبْدُ اللَّهِ، - وَهُوَ ابْنُ الْمُبَارَكِ - عَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ الْمُغِيرَةِ، عَنْ ثَابِتٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ رَبَاحٍ، عَنْ أَبِي قَتَادَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " لَيْسَ فِي النَّوْمِ تَفْرِيطٌ إِنَّمَا التَّفْرِيطُ فِيمَنْ لَمْ يُصَلِّ الصَّلاَةَ حَتَّى يَجِيءَ وَقْتُ الصَّلاَةِ الأُخْرَى حِينَ يَنْتَبِهُ لَهَا " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু কাতাদা আনসারী (রাঃ)

৬১৭। সুওয়ায়দ ইবনে নসর (রাহঃ) ......... আবু কাতাদা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ ঘুমের মধ্যে দোষ নেই। নিশ্চয়ই দোষ ঐ ব্যক্তির বেলায় যে নামায আদায় করল না, এমতাবস্থায় অন্য নামাযের ওয়াক্ত উপস্থিত হলো। তারপর সে নামায সম্পর্কে সচেতন হলো।

নামায না পড়ে ঘুমিয়ে পড়লে পরের দিন সে ওয়াক্তে ক্বাযা আদায় করা।

إعادة من نام عن الصلاة لوقتها من الغد

৬১৭

أَخْبَرَنَا عَمْرُو بْنُ عَلِيٍّ، قَالَ حَدَّثَنَا أَبُو دَاوُدَ، قَالَ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ ثَابِتٍ الْبُنَانِيِّ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ رَبَاحٍ، عَنْ أَبِي قَتَادَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لَمَّا نَامُوا عَنِ الصَّلاَةِ حَتَّى طَلَعَتِ الشَّمْسُ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " فَلْيُصَلِّهَا أَحَدُكُمْ مِنَ الْغَدِ لِوَقْتِهَا " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু কাতাদা আনসারী (রাঃ)

৬১৮। আমর ইবনে আলী (রাহঃ) ......... আবু কাতাদা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। (লাইলাতুল-তারীসে) যখন সাহাবায়ে কিরাম (রাযিঃ) (ক্লান্তিজনিত কারণে) নামায আদায় না করে ঘুমিয়ে পড়লেন (আর) এমতাবস্থায় সূর্য উদিত হলো, তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ আগামীকাল এই নামায যথাসময়ে আদায় করতে সচেষ্ট হবে।

৬১৮

أَخْبَرَنَا عَبْدُ الأَعْلَى بْنُ وَاصِلِ بْنِ عَبْدِ الأَعْلَى، قَالَ حَدَّثَنَا يَعْلَى، قَالَ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ إِسْحَاقَ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ سَعِيدٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " إِذَا نَسِيتَ الصَّلاَةَ فَصَلِّ إِذَا ذَكَرْتَ فَإِنَّ اللَّهَ تَعَالَى يَقُولُ (أَقِمِ الصَّلاَةَ لِذِكْرِي) " . قَالَ عَبْدُ الأَعْلَى حَدَّثَنَا بِهِ يَعْلَى مُخْتَصَرًا .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৬১৯। আব্দুল আলা (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যখন নামায ভুলে যাবে, স্মরণ হওয়া মাত্র আদায় করে নেবে। কেননা আল্লাহ তা-আলা বলেনঃأَقِمِ الصَّلاَةَ لِذِكْرِي অর্থাৎ “এবং আমার স্মরণার্থে নামায কায়েম কর (২০: ১৪)”। আব্দুল আলা বলেনঃ এ হাদীসকে ইয়ালা সংক্ষিপ্ত বর্ণনা করেছেন।

৬১৯

أَخْبَرَنَا عَمْرُو بْنُ سَوَّادِ بْنِ الأَسْوَدِ بْنِ عَمْرٍو، قَالَ أَنْبَأَنَا ابْنُ وَهْبٍ، قَالَ أَنْبَأَنَا يُونُسُ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيَّبِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " مَنْ نَسِيَ صَلاَةً فَلْيُصَلِّهَا إِذَا ذَكَرَهَا فَإِنَّ اللَّهَ تَعَالَى قَالَ (أَقِمِ الصَّلاَةَ لِذِكْرِي) " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৬২০। আমর ইবনে সাওয়াদ (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি কোন নামায ভুলে যায়, সে যখনই স্মরণ হয় তখনই তা আদায় করে নেবে। কেননা আল্লাহ তাআলা বলেছেনঃأَقِمِ الصَّلاَةَ لِذِكْرِي অর্থাৎ “এবং আমার স্মরণার্থে নামায কায়েম কর (২০: ১৪)।

৬২০

أَخْبَرَنَا سُوَيْدُ بْنُ نَصْرٍ قَالَ: حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ، عَنْ مَعْمَرٍ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيِّبِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: " مَنْ نَسِيَ صَلَاةً فَلْيُصَلِّهَا إِذَا ذَكَرَهَا؛ فَإِنَّ اللَّهَ تَعَالَى يَقُولُ: {أَقِمِ الصَّلَاةَ لِلذِّكْرَى} " قُلْتُ لِلزُّهْريِّ: هَكَذَا قَرَأَهَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ؟ قَالَ: نَعَمْ

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৬২১। সুয়ায়দ ইবনে নসর (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি নামায ভুলে যায়, সে যেন যখনই স্মরণ হয় তখন আদায় করে নেয়। কেননা আল্লাহ তাআলা বলেনঃ আমার স্মরণার্থে নামায কায়েম কর। মা’মার (রাহঃ) বলেনঃ আমি যুহুরীকে জিজ্ঞাসা করলামঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এভাবেই আদায় করেছিলেন? তিনি বললেনঃ হ্যাঁ।

কিভাবে ক্বাযা নামায আদায় করতে হয়

كيف يقضى الفائت من الصلاة

৬২১

أَخْبَرَنَا هَنَّادُ بْنُ السَّرِيِّ، عَنْ أَبِي الأَحْوَصِ، عَنْ عَطَاءِ بْنِ السَّائِبِ، عَنْ بُرَيْدِ بْنِ أَبِي مَرْيَمَ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ كُنَّا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي سَفَرٍ فَأَسْرَيْنَا لَيْلَةً فَلَمَّا كَانَ فِي وَجْهِ الصُّبْحِ نَزَلَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَنَامَ وَنَامَ النَّاسُ فَلَمْ نَسْتَيْقِظْ إِلاَّ بِالشَّمْسِ قَدْ طَلَعَتْ عَلَيْنَا فَأَمَرَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم الْمُؤَذِّنَ فَأَذَّنَ ثُمَّ صَلَّى الرَّكْعَتَيْنِ قَبْلَ الْفَجْرِ ثُمَّ أَمَرَهُ فَأَقَامَ فَصَلَّى بِالنَّاسِ ثُمَّ حَدَّثَنَا بِمَا هُوَ كَائِنٌ حَتَّى تَقُومَ السَّاعَةُ .

বর্ণনাকারী: আবু মারইয়াম আযদী (রাঃ)

৬২২। হান্নাদ ইবনে সাররী (রাহঃ) ......... আবু মারয়াম (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদা আমরা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সঙ্গে সারা রাত্র সফর করলাম। পরে রাতের শেষাংশে ফজরের নিকটবর্তী সময়ে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এক স্থানে অবতরণ করলেন এবং কিছুক্ষণ পরই ঘুমিয়ে পড়লেন। তার সঙ্গীগণও ঘুমিয়ে পড়লেন। সূর্যের আলোকরশ্মি স্পর্শ না করা পর্যন্ত কেউই জাগ্রত হলেন না। পরে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) মুয়াযযিনকে আযান দিতে আদেশ করলেন। মুয়াযযিন আযান দিলে তিনি দুই রাক’আত ফজরের সুন্নত নামায আদায় করলেন। আবার ইকামত বললে তিনি সাহাবীদের নিয়ে ফরয আদায় করলেন। তারপর আমাদেরকে কিয়ামত পর্যন্ত সংঘটিতব্য বড় বড় ঘটনাবলীর কথা বর্ণনা করলেন।

৬২২

أَخْبَرَنَا سُوَيْدُ بْنُ نَصْرٍ، قَالَ حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ، عَنْ هِشَامٍ الدَّسْتَوَائِيِّ، عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ، عَنْ نَافِعِ بْنِ جُبَيْرِ بْنِ مُطْعِمٍ، عَنْ أَبِي عُبَيْدَةَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ، قَالَ كُنَّا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَحُبِسْنَا عَنْ صَلاَةِ الظُّهْرِ وَالْعَصْرِ وَالْمَغْرِبِ وَالْعِشَاءِ فَاشْتَدَّ ذَلِكَ عَلَىَّ فَقُلْتُ فِي نَفْسِي نَحْنُ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَفِي سَبِيلِ اللَّهِ فَأَمَرَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِلاَلاً فَأَقَامَ فَصَلَّى بِنَا الظُّهْرَ ثُمَّ أَقَامَ فَصَلَّى بِنَا الْعَصْرَ ثُمَّ أَقَامَ فَصَلَّى بِنَا الْمَغْرِبَ ثُمَّ أَقَامَ فَصَلَّى بِنَا الْعِشَاءَ ثُمَّ طَافَ عَلَيْنَا فَقَالَ " مَا عَلَى الأَرْضِ عِصَابَةٌ يَذْكُرُونَ اللَّهَ عَزَّ وَجَلَّ غَيْرُكُمْ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ)

৬২৩। সুওয়ায়দ ইবনে নসর (রাহঃ) ......... আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদা আমরা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সঙ্গে ছিলাম। যোহর, আসর, মাগরিব ও ঈশা। এই চার ওয়াক্তের নামায আদায় করা হতে আমরা বাধাপ্রাপ্ত হলাম। এটা আমার নিকট কষ্টদায়ক হলো। মনে মনে ভাবলাম, আমরা তো রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সঙ্গে থেকে আল্লাহর পথে জিহাদ করছি (এরপরও কি আমাদের এরূপ দুর্ভাগ্য?) তারপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বিলাল (রাযিঃ)-কে ইকামত দিতে আদেশ করলেন। ইকামত বললে আমাদের নিয়ে যোহরের নামায আদায় করলেন। আবার ইকামত বললে আসরের নামায আদায় করলেন। আবার ইকামত বললে মাগরিবের নামায আদায় করলেন। পূনরায় ইকামত বললে ঈশার নামায আদায় করলেন। তারপর আমাদের উদ্দেশ্য করে বলতে লাগলেনঃ ভূপৃষ্টে তোমাদের ছাড়া এমন কোন জামাআত নেই যারা আল্লাহ তা আলাকে স্মরণ করে।

৬২৩

أَخْبَرَنَا يَعْقُوبُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، قَالَ حَدَّثَنَا يَحْيَى، عَنْ يَزِيدَ بْنِ كَيْسَانَ، قَالَ حَدَّثَنِي أَبُو حَازِمٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ عَرَّسْنَا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَلَمْ نَسْتَيْقِظْ حَتَّى طَلَعَتِ الشَّمْسُ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " لِيَأْخُذْ كُلُّ رَجُلٍ بِرَأْسِ رَاحِلَتِهِ فَإِنَّ هَذَا مَنْزِلٌ حَضَرَنَا فِيهِ الشَّيْطَانُ " . قَالَ فَفَعَلْنَا فَدَعَا بِالْمَاءِ فَتَوَضَّأَ ثُمَّ صَلَّى سَجْدَتَيْنِ ثُمَّ أُقِيمَتِ الصَّلاَةُ فَصَلَّى الْغَدَاةَ .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৬২৪। ইয়াকুব ইবনে ইবরাহীম (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমরা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সঙ্গে সারারাত সফর করার পর শেষরাতে অবতরণ করি এবং ঘুমিয়ে পড়ি। সূর্য উদয় না হওয়া পর্যন্ত আমাদের কারো নিদ্রাভঙ্গ হলো না। তারপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদের বললেনঃ প্রত্যেকেই নিজ নিজ বাহনের লাগাম ধরে এ স্থান ত্যাগ কর। কেননা এ স্থানে শয়তান আমাদের কাছে হাযির হয়েছে। আবু হুরায়রা (রাযিঃ) বলেনঃ আমরা এরূপই করলাম। তারপর গিয়ে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) পানি আনিয়ে উযু করলেন। এরপর দূ রাক’আত ফজরের সুন্নত আদায় করলেন। তারপর ইকামত হলে ফজরের ফরয আদায় করলেন।

৬২৪

أَخْبَرَنَا أَبُو عَاصِمٍ، خُشَيْشُ بْنُ أَصْرَمَ قَالَ حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ حَسَّانَ، قَالَ حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ، عَنْ عَمْرِو بْنِ دِينَارٍ، عَنْ نَافِعِ بْنِ جُبَيْرٍ، عَنْ أَبِيهِ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ فِي سَفَرٍ لَهُ " مَنْ يَكْلَؤُنَا اللَّيْلَةَ لاَ نَرْقُدَ عَنْ صَلاَةِ الصُّبْحِ " . قَالَ بِلاَلٌ أَنَا . فَاسْتَقْبَلَ مَطْلَعَ الشَّمْسِ فَضُرِبَ عَلَى آذَانِهِمْ حَتَّى أَيْقَظَهُمْ حَرُّ الشَّمْسِ فَقَامُوا فَقَالَ " تَوَضَّئُوا " . ثُمَّ أَذَّنَ بِلاَلٌ فَصَلَّى رَكْعَتَيْنِ وَصَلَّوْا رَكْعَتَىِ الْفَجْرِ ثُمَّ صَلَّوُا الْفَجْرَ .

বর্ণনাকারী: জুবায়র ইবনে মুতঈম (রাঃ)

৬২৫। আবু আসিম খুশায়শ ইবনে আসরাম (রাহঃ) ......... জুবাইর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। একদা কোন এক সফরে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ কে আমাদের আজ রাতে পাহারা দেবে? যাতে ফজরের নামাযের সময় ঘুমিয়ে না থাকি। বিলাল (রাযিঃ) বললেন, আমি। এই বলে তিনি সূর্যের উদয়-অন্ত অভিমুখী হয়ে রইলেন। কিন্তু তাদেরকে নিদ্রাগ্রস্ত করে দেওয়া হল। পরিশেষে সূর্যের কিরণ তাদের জাগ্রত করল। তখন সকলে সরে পড়লেন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, তোমরা উযু কর। পরে বিলাল (রাযিঃ) আযান দিলেন। তিনি দু রাক’আত সূন্নত আদায় করলেন এবং অন্যরাও দু রাক’আত সূন্নত আদায় করলেন। তারপর সকলে দু রাক’আত ফজরের ফরয আদায় করলেন।

৬২৫

أَخْبَرَنَا أَبُو عَاصِمٍ، قَالَ حَدَّثَنَا حَبَّانُ بْنُ هِلاَلٍ، حَدَّثَنَا حَبِيبٌ، عَنْ عَمْرِو بْنِ هَرِمٍ، عَنْ جَابِرِ بْنِ زَيْدٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ أَدْلَجَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ثُمَّ عَرَّسَ فَلَمْ يَسْتَيْقِظْ حَتَّى طَلَعَتِ الشَّمْسُ أَوْ بَعْضُهَا فَلَمْ يُصَلِّ حَتَّى ارْتَفَعَتِ الشَّمْسُ فَصَلَّى وَهِيَ صَلاَةُ الْوُسْطَى .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

৬২৬। আবু আসিম (রাহঃ) ......... আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) রাত্রে সফর করলেন এবং শেষরাতে একস্থানে অবতরণ করে ঘুমিয়ে পড়লেন। এমতাবস্থায় সূর্যোদয় হলো অথবা সূর্যের কিয়দাংশ উদিত হলো। তারপর পূর্ণরূপে সূর্য উদয় না হওয়া পর্যন্ত নামায আদায় করলেন না। তারপর নামায আদায় করলেন। এই নামায ছিল উসতা বা মধ্যবর্তী নামায।