كتاب الصيام

২২. রোযার অধ্যায়

অধ্যায় ২২ · ৩৪৫ টি হাদীস

রোযা ফরয হওয়া

باب وُجُوبِ الصِّيَامِ

২০৯০

أَخْبَرَنَا عَلِيُّ بْنُ حُجْرٍ، قَالَ حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ، - وَهُوَ ابْنُ جَعْفَرٍ - قَالَ حَدَّثَنَا أَبُو سُهَيْلٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ طَلْحَةَ بْنِ عُبَيْدِ اللَّهِ، أَنَّ أَعْرَابِيًّا، جَاءَ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ثَائِرَ الرَّأْسِ فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَخْبِرْنِي مَاذَا فَرَضَ اللَّهُ عَلَىَّ مِنَ الصَّلاَةِ قَالَ " الصَّلَوَاتُ الْخَمْسُ إِلاَّ أَنْ تَطَوَّعَ شَيْئًا " . قَالَ أَخْبِرْنِي بِمَا افْتَرَضَ اللَّهُ عَلَىَّ مِنَ الصِّيَامِ قَالَ " صِيَامُ شَهْرِ رَمَضَانَ إِلاَّ أَنْ تَطَوَّعَ شَيْئًا " . قَالَ أَخْبِرْنِي بِمَا افْتَرَضَ اللَّهُ عَلَىَّ مِنَ الزَّكَاةِ فَأَخْبَرَهُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِشَرَائِعِ الإِسْلاَمِ . فَقَالَ وَالَّذِي أَكْرَمَكَ لاَ أَتَطَوَّعُ شَيْئًا وَلاَ أَنْقُصُ مِمَّا فَرَضَ اللَّهُ عَلَىَّ شَيْئًا . فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " أَفْلَحَ إِنْ صَدَقَ " . أَوْ " دَخَلَ الْجَنَّةَ إِنْ صَدَقَ " .

বর্ণনাকারী: তালহা ইবনে উবায়দুল্লাহ (রাঃ)

২০৯৪। আলী ইবনে হুজর (রাহঃ) ......... তালহা ইবনে উবাইদুল্লাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, এলোমেলো চুল বিশিষ্ট এক বেদুঈন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কাছে এসে বললো, ইয়া রাসুলাল্লাহ! আল্লাহ তাআলা আমার উপর যে নামাযসমূহ ফরয করেছেন সে সম্পর্কে আমাকে অবহিত করুন। তিনি বললেন, আল্লাহ তাআলা দৈনিক পাঁচ ওয়াক্ত নামায ফরয করেছেন। তবে হ্যাঁ, তুমি যা খুশী নফল আদায় করবে।

তারপর সে বললো, আপনি আমাকে আল্লাহ তাআলা আমার উপর যে রোযা ফরয করেছেন সে সম্বন্ধে অবহিত করুন। তিনি বললেন, রমযান মাসের রোযা। তবে হ্যাঁ, তুমি যা খুশী নফল আদায় করবে। অতঃপর সে বললো, আপনি আমাকে আল্লাহ তাআলা আমার উপর যে যাকাত ফরয করেছেন সে সম্বন্ধে অবহিত করুন। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাকে ইসলামী শরীয়ার আহকাম সম্পর্কে অবহিত করলেন।

অতঃপর সে বললো, ঐ সত্তার শপথ, যিনি আপনাকে সম্মানিত করেছেন আমি অতিরিক্ত কোন নফলও আদায় করবনা এবং আল্লাহ তাআলা আমার উপর যা যা ফরয করেছেন তাতে কোন কম করব না। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, যদি সে সত্যই বলে থাকে তবে সে কৃতকার্য হয়ে যাবে অথবা তিনি বললেন, যদি সে সত্যই বলে থাকে তবে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে।
২০৯১

أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ مَعْمَرٍ، قَالَ حَدَّثَنَا أَبُو عَامِرٍ الْعَقَدِيُّ، قَالَ حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ الْمُغِيرَةِ، عَنْ ثَابِتٍ، عَنْ أَنَسٍ، قَالَ نُهِينَا فِي الْقُرْآنِ أَنْ نَسْأَلَ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم عَنْ شَىْءٍ فَكَانَ يُعْجِبُنَا أَنْ يَجِيءَ الرَّجُلُ الْعَاقِلُ مِنْ أَهْلِ الْبَادِيَةِ فَيَسْأَلَهُ فَجَاءَ رَجُلٌ مِنْ أَهْلِ الْبَادِيَةِ فَقَالَ يَا مُحَمَّدُ أَتَانَا رَسُولُكَ فَأَخْبَرَنَا أَنَّكَ تَزْعُمُ أَنَّ اللَّهَ عَزَّ وَجَلَّ أَرْسَلَكَ قَالَ " صَدَقَ " . قَالَ فَمَنْ خَلَقَ السَّمَاءَ قَالَ " اللَّهُ " . قَالَ فَمَنْ خَلَقَ الأَرْضَ قَالَ " اللَّهُ " . قَالَ فَمَنْ نَصَبَ فِيهَا الْجِبَالَ قَالَ " اللَّهُ " . قَالَ فَمَنْ جَعَلَ فِيهَا الْمَنَافِعَ قَالَ " اللَّهُ " . قَالَ فَبِالَّذِي خَلَقَ السَّمَاءَ وَالأَرْضَ وَنَصَبَ فِيهَا الْجِبَالَ وَجَعَلَ فِيهَا الْمَنَافِعَ آللَّهُ أَرْسَلَكَ قَالَ " نَعَمْ " . قَالَ وَزَعَمَ رَسُولُكَ أَنَّ عَلَيْنَا خَمْسَ صَلَوَاتٍ فِي كُلِّ يَوْمٍ وَلَيْلَةٍ قَالَ " صَدَقَ " . قَالَ فَبِالَّذِي أَرْسَلَكَ آللَّهُ أَمَرَكَ بِهَذَا قَالَ " نَعَمْ " . قَالَ وَزَعَمَ رَسُولُكَ أَنَّ عَلَيْنَا زَكَاةَ أَمْوَالِنَا قَالَ " صَدَقَ " . قَالَ فَبِالَّذِي أَرْسَلَكَ آللَّهُ أَمَرَكَ بِهَذَا قَالَ " نَعَمْ " . قَالَ وَزَعَمَ رَسُولُكَ أَنَّ عَلَيْنَا صَوْمَ شَهْرِ رَمَضَانَ فِي كُلِّ سَنَةٍ . قَالَ " صَدَقَ " . قَالَ فَبِالَّذِي أَرْسَلَكَ آللَّهُ أَمَرَكَ بِهَذَا قَالَ " نَعَمْ " . قَالَ وَزَعَمَ رَسُولُكَ أَنَّ عَلَيْنَا الْحَجَّ مَنِ اسْتَطَاعَ إِلَيْهِ سَبِيلاً . قَالَ " صَدَقَ " . قَالَ فَبِالَّذِي أَرْسَلَكَ آللَّهُ أَمَرَكَ بِهَذَا قَالَ " نَعَمْ " . قَالَ فَوَالَّذِي بَعَثَكَ بِالْحَقِّ لاَ أَزِيدَنَّ عَلَيْهِنَّ شَيْئًا وَلاَ أَنْقُصُ . فَلَمَّا وَلَّى قَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم " لَئِنْ صَدَقَ لَيَدْخُلَنَّ الْجَنَّةَ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

২০৯৫। মুহাম্মাদ ইবনে মা’মার (রাহঃ) ......... আনাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, কুরআনে আমাদের নিষেধ করা হয়েছে যেন নবী (ﷺ) এর কাছে কোন ব্যাপারে প্রশ্ন না করি। তাই আমরা মনে মনে আশঙ্কা করতাম যেন গ্রাম থেকে কোন জ্ঞানী ব্যক্তি এসে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে প্রশ্ন করে। ইতিমধ্যে একজন গ্রাম্য ব্যক্তি এসে বলল, হে মুহাম্মাদ! আমাদের কাছে আপনার দুত এসেছিলেন। তিনি আমাদের বললেন যে, আপনি নাকি দাবী করেন যে, আল্লাহ তাআলা আপনাকে রাসুল করে পাঠিয়েছেন? তিনি বললেন যে, সে সত্যই বলেছে। অতঃপর সে প্রশ্ন করলঃ তবে আসমান কে সৃষ্টি করেছে?

তিনি বললেনঃ আল্লাহ তাআলা, অতঃপর সে প্রশ্ন করলঃ যমীন কে সৃষ্টি করেছে? তিনি বললেনঃ আল্লাহ তাআলা। তারপর সে প্রশ্ন করলঃ যমীনে পাহাড় সমূহ কে স্থাপন করেছে? তিনি বললেনঃ আল্লাহ তাআলা। এরপর সে প্রশ্ন করলঃ তাতে উপকারী বৃক্ষসমূহ কে সৃষ্টি করেছে? তিনি বললেনঃ আল্লাহ তাআলা। অতঃপর সে বললোঃ ঐ সত্তার শপথ যিনি আসমান এবং যমীন সৃষ্টি করেছেন আর তাতে পাহাড়সমুহ স্থাপন করেছেন এবং তাতে উপকারী (বৃক্ষসমূহ সৃষ্টি করেছেন- আল্লাহ তাআলা কি আপনাকে রাসুল করে পাঠিয়েছেন? তিনি বললেনঃ হ্যাঁ।

অতঃপর সে বললোঃ আপনার দুত বলেন যে, আমাদের উপর প্রত্যেক দিন রাতে পাঁচ ওয়াক্ত নামায ফরয? তিনি বললেনঃ সে তো সত্যই বলেছে। অতঃপর সে বললোঃ ঐ সত্তার শপথ যিনি-আপনাকে রাসুল রূপে প্রেরণ করেছেন, আল্লাহ তাআলা কি আপনাকে এর নির্দেশ দিয়েছেন? তিনি বললেন, হ্যাঁ। অতঃপর সে বললোঃ আপনার দুত বলেন যে, আমাদের উপর স্বীয় ধন-সম্পদের যাকাত আদায় করা ফরয? তিনি বললেনঃ সে তো সত্যই বলেছে। সে বললোঃ সেই সত্তার শপথ যিনি আপনাকে প্রেরণ করেছেন, আল্লাহ তাআলা কি আপনাকে এর নির্দেশ দিয়েছেন? তিনি বললেন, হ্যাঁ।

অতঃপর সে বললোঃ আপনার দূত বলেন যে, আমাদের উপর প্রত্যেক বছর রমযানের রোযা ফরয? তিনি বললেনঃ সে তো সত্যই বলেছে। সে বলল, ঐ সত্তার শপথ যিনি আপনাকে প্রেরণ করেছেন, আল্লাহ তাআলা কি আপনাকে এর নির্দেশ দিয়েছেন? তিনি বললেন, হ্যাঁ। অতঃপর সে বললোঃ আপনার দূত বলেন যে, আমাদের মধ্যে যারা খরচ বহনে সামর্থবান তাদের উপর হজ্জ ফরয? তিনি বললেনঃ সে তো সত্যই বলেছে। সে বললো, ঐ সত্তার শপথ যিনি আপনাকে প্রেরণ করেছেন, আল্লাহ তাআলা কি আপনাকে এর নির্দেশ দিয়েছেন? তিনি বললেন, হ্যাঁ। অতঃপর সে বললোঃ ঐ সত্তার শপথ যিনি আপনাকে প্রেরণ করেছেন, আমি-এগুলোর উপর কোন কিছু কখনো বৃদ্ধিও করবো না আর এর থেকে (কিছু) হ্রাসও করবো না। যখন সে ফিরে গেলো, তখন নবী (ﷺ) বললেন, যদি সে তার কথায় সত্যবাদী হয়ে থাকে তবে সে অবশ্যই জান্নাতে প্রবেশ করবে।
২০৯২

أَخْبَرَنَا عِيسَى بْنُ حَمَّادٍ، عَنِ اللَّيْثِ، عَنْ سَعِيدٍ، عَنْ شَرِيكِ بْنِ أَبِي نَمِرٍ، أَنَّهُ سَمِعَ أَنَسَ بْنَ مَالِكٍ، يَقُولُ بَيْنَا نَحْنُ جُلُوسٌ فِي الْمَسْجِدِ جَاءَ رَجُلٌ عَلَى جَمَلٍ فَأَنَاخَهُ فِي الْمَسْجِدِ ثُمَّ عَقَلَهُ فَقَالَ لَهُمْ أَيُّكُمْ مُحَمَّدٌ - وَرَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مُتَّكِئٌ بَيْنَ ظَهْرَانَيْهِمْ - قُلْنَا لَهُ هَذَا الرَّجُلُ الأَبْيَضُ الْمُتَّكِئُ فَقَالَ لَهُ الرَّجُلُ يَا ابْنَ عَبْدِ الْمُطَّلِبِ . فَقَالَ لَهُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " قَدْ أَجَبْتُكَ " . فَقَالَ الرَّجُلُ إِنِّي سَائِلُكَ يَا مُحَمَّدُ فَمُشَدِّدٌ عَلَيْكَ فِي الْمَسْأَلَةِ فَلاَ تَجِدَنَّ فِي نَفْسِكَ . قَالَ " سَلْ مَا بَدَا لَكَ " . فَقَالَ الرَّجُلُ نَشَدْتُكَ بِرَبِّكَ وَرَبِّ مَنْ قَبْلَكَ آللَّهُ أَرْسَلَكَ إِلَى النَّاسِ كُلِّهِمْ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " اللَّهُمَّ نَعَمْ " . قَالَ فَأَنْشُدُكَ اللَّهَ آللَّهُ أَمَرَكَ أَنْ تُصَلِّيَ الصَّلَوَاتِ الْخَمْسَ فِي الْيَوْمِ وَاللَّيْلَةِ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " اللَّهُمَّ نَعَمْ " . قَالَ فَأَنْشُدُكَ اللَّهَ آللَّهُ أَمَرَكَ أَنْ تَصُومَ هَذَا الشَّهْرَ مِنَ السَّنَةِ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " اللَّهُمَّ نَعَمْ " . قَالَ فَأَنْشُدُكَ اللَّهَ آللَّهُ أَمَرَكَ أَنْ تَأْخُذَ هَذِهِ الصَّدَقَةَ مِنْ أَغْنِيَائِنَا فَتَقْسِمَهَا عَلَى فُقَرَائِنَا فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " اللَّهُمَّ نَعَمْ " . فَقَالَ الرَّجُلُ آمَنْتُ بِمَا جِئْتَ بِهِ وَأَنَا رَسُولُ مَنْ وَرَائِي مِنْ قَوْمِي وَأَنَا ضِمَامُ بْنُ ثَعْلَبَةَ أَخُو بَنِي سَعْدِ بْنِ بَكْرٍ . خَالَفَهُ يَعْقُوبُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ .

বর্ণনাকারী: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

২০৯৬। ঈসা ইবনে হাম্মাদ (রাহঃ) ......... আনাস ইবনে মালিক (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা মসজিদে বসা ছিলাম। ইতিমধ্যে উটের উপর আরোহণ করে এক ব্যক্তি আসলো এবং সেই উটকে মসজিদের (আঙ্গিনায়) বসালো ও বাঁধলো আর উপস্থিত লোকদের জিজ্ঞাসা করলোঃ তোমাদের মধ্যে মুহাম্মাদ (ﷺ) কে? রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তখন উপস্থিতদের মধ্যে ঠেস দিয়ে বসা ছিলেন। আমরা তাকে বললাম, এই ঠেস দিয়ে বসা ফর্সা ব্যক্তি।

তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে সেই ব্যক্তি বললোঃ হে আব্দুল মুত্তালিবের বংশজাত! তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাকে বললেনঃ আমি তোমার ডাকে সাড়া দিয়েছি। তখন সেই ব্যক্তি বললোঃ হে মুহাম্মাদ! আমি আপনাকে কিছু প্রশ্ন করবো এবং প্রশ্নের ব্যাপারে কঠোরতা অবলম্বন করব। আপনি কিছু মনে করবেন না। তখন তিনি বললেনঃ তোমার যা মনে চায় প্রশ্ন করো।

তখন সে বললোঃ আমি আপনাকে আপনার প্রভু এবং আপনার পূর্ববর্তীদের প্রভুর নামে শপথ দিয়ে বলছি আল্লাহ তাআলা কি আপনাকে সমস্ত মানুষের হিদায়াতের জন্য পাঠিয়েছেন? রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ “হে আল্লাহ আপনি সাক্ষী থাকুন নিশ্চয়ই। সে বললো, এখন আমি আপনাকে আল্লাহর নামে শপথ দিয়ে বলছি, আল্লাহ তাআলা কি আপনাকে রাত-দিন পাঁচ ওয়াক্ত নামায আদায় করতে নির্দেশ দিয়েছেন? রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ হে আল্লাহ আপনি সাক্ষী থাকুন নিশ্চয়ই।

অতপর সে বললোঃ আমি আপনাকে আল্লাহর নামে শপথ দিয়ে বলছি, আল্লাহ তাআলা কি আপনাকে বছরের এ (রমযান) মাসে রোযা পালন করতে নির্দেশ দিয়েছেন? রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ নিশ্চয়। হে আল্লাহ! আপনি সাক্ষী থাকুন। অতঃপর সে বললোঃ আমি আপনাকে আল্লাহর নামে শপথ দিয়ে বলছি, আল্লাহ তাআলা কি আপনাকে আমাদের বিত্তশালীদের থেকে এ যাকাত নিয়ে তা আমাদের অভাবীদের মধ্যে বন্টন করার নির্দেশ দিয়েছেন? রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ নিশ্চয়ই, হে আল্লাহ আপনি সাক্ষী থাকুন। তারপর সে ব্যক্তি বললোঃ আপনি যা নিয়ে এসেছেন তার উপর আমি বিশ্বাস স্থাপন করলাম। আর আমি নিজ গোত্রের অবশিষ্ট লোকদের জন্য দুতরূপে এসেছি এবং আমার নাম হল দিমাম ইবনে ছা’লাবা; আমি সাদ ইবনে বকর গোত্রের লোক।
২০৯৩

أَخْبَرَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ سَعْدِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ، مِنْ كِتَابِهِ قَالَ حَدَّثَنَا عَمِّي، قَالَ حَدَّثَنَا اللَّيْثُ، قَالَ حَدَّثَنَا ابْنُ عَجْلاَنَ، وَغَيْرُهُ، مِنْ إِخْوَانِنَا عَنْ سَعِيدٍ الْمَقْبُرِيِّ، عَنْ شَرِيكِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي نَمِرٍ، أَنَّهُ سَمِعَ أَنَسَ بْنَ مَالِكٍ، يَقُولُ بَيْنَمَا نَحْنُ عِنْدَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم جُلُوسٌ فِي الْمَسْجِدِ دَخَلَ رَجُلٌ عَلَى جَمَلٍ فَأَنَاخَهُ فِي الْمَسْجِدِ ثُمَّ عَقَلَهُ ثُمَّ قَالَ أَيُّكُمْ مُحَمَّدٌ - وَهُوَ مُتَّكِئٌ بَيْنَ ظَهْرَانَيْهِمْ - فَقُلْنَا لَهُ هَذَا الرَّجُلُ الأَبْيَضُ الْمُتَّكِئُ فَقَالَ لَهُ الرَّجُلُ يَا ابْنَ عَبْدِ الْمُطَّلِبِ . فَقَالَ لَهُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " قَدْ أَجَبْتُكَ " . قَالَ الرَّجُلُ يَا مُحَمَّدُ إِنِّي سَائِلُكَ فَمُشَدِّدٌ عَلَيْكَ فِي الْمَسْأَلَةِ . قَالَ " سَلْ عَمَّا بَدَا لَكَ " . قَالَ أَنْشُدُكَ بِرَبِّكَ وَرَبِّ مَنْ قَبْلَكَ آللَّهُ أَرْسَلَكَ إِلَى النَّاسِ كُلِّهِمْ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " اللَّهُمَّ نَعَمْ " . قَالَ فَأَنْشُدُكَ اللَّهَ آللَّهُ أَمَرَكَ أَنْ تَصُومَ هَذَا الشَّهْرَ مِنَ السَّنَةِ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " اللَّهُمَّ نَعَمْ " . قَالَ فَأَنْشُدُكَ اللَّهَ آللَّهُ أَمَرَكَ أَنْ تَأْخُذَ هَذِهِ الصَّدَقَةَ مِنْ أَغْنِيَائِنَا فَتَقْسِمَهَا عَلَى فُقَرَائِنَا فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " اللَّهُمَّ نَعَمْ " . فَقَالَ الرَّجُلُ إِنِّي آمَنْتُ بِمَا جِئْتَ بِهِ وَأَنَا رَسُولُ مَنْ وَرَائِي مِنْ قَوْمِي وَأَنَا ضِمَامُ بْنُ ثَعْلَبَةَ أَخُو بَنِي سَعْدِ بْنِ بَكْرٍ . خَالَفَهُ عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ .

বর্ণনাকারী: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

২০৯৭। উবাইদুল্লাহ ইবনে সা’দ (রাহঃ) ......... আনাস ইবনে মালিক (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সাথে মসজিদে বসা ছিলাম। ইতিমধ্যে উটের উপর আরোহণ করে এক ব্যক্তি আসলো এবং সেই উটকে মসজিদের (আঙ্গিনায়) বসিয়ে বেঁধে ফেললো। অতঃপর বললোঃ তোমাদের মধ্যে মুহাম্মাদ (ﷺ) কে? তিনি তখন আমাদের মধ্যে ঠেস দিয়ে বসা ছিলেন।

তখন আমরা তাকে বললাম, এই ঠেস দিয়ে বসা ফর্সা ব্যক্তি। তৎপর সে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে বললোঃ হে আব্দুল মুত্তালিবের বংশজাত! তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাকে বললেনঃ আমি তোমার ডাকে সাড়া দিয়েছি। অতঃপর সে বললোঃ হে মুহাম্মাদ! আমি আপনাকে কিছু প্রশ্ন করবো এবং প্রশ্নের ব্যাপারে আপনার সাথে কঠোরতা অবলম্বন করবো। তখন তিনি বললেনঃ তোমার যা মনে চায় প্রশ্ন করো।

সে বললোঃ আমি আপনাকে আপনার প্রভু এবং আপনার পূর্ববর্তীদের প্রভুর নামে শপথ দিয়ে বলছি- আল্লাহ তাআলা কি আপনাকে সমস্ত মানুষের হিদায়াতের জন্য পাঠিয়েছেন? রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, নিশ্চয়ই, হে আল্লাহ আপনি সাক্ষী থাকুন। অতঃপর সে বললোঃ আমি আপনাকে আল্লাহর শপথ দিয়ে বলছি- আল্লাহ তাআলা কি আপনাকে প্রত্যেক বছরের এ (রমযান) মাসে রোযা পালন করার নির্দেশ দিয়েছেন?

রাবী বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ নিশ্চয়ই, হে আল্লাহ আপনি সাক্ষী থাকুন। অতঃপর সে বললোঃ আমি আপনাকে আল্লাহর শপথ দিয়ে বলছি- আল্লাহ তাআলা কি আপনাকে আমাদের বিত্তশালীদের থেকে এ যাকাত নিয়ে তা আমাদের অভাবীদের মধ্যে বন্টন করার নির্দেশ দিয়েছেন? রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ নিশ্চয়ই, হে আল্লাহ আপনি সাক্ষী থাকুন। অতঃপর সে বললো, আপনি যা নিয়ে এসেছেন তার উপর আমি বিশ্বাস স্থাপন করলাম। আর আমি নিজ গোত্রের অবশিষ্ট লোকদের জন্য দূত স্বরূপ এসেছি। আর আমার নাম হল দিমাম ইবনে ছা’লাবা, আমি সা’দ ইবনে বকর গোত্রের লোক।
২০৯৪

أَخْبَرَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ عَلِيٍّ، قَالَ حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ، قَالَ حَدَّثَنَا أَبُو عُمَارَةَ، حَمْزَةُ بْنُ الْحَارِثِ بْنِ عُمَيْرٍ قَالَ سَمِعْتُ أَبِي يَذْكُرُ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ أَبِي سَعِيدٍ الْمَقْبُرِيِّ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ بَيْنَمَا النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم مَعَ أَصْحَابِهِ جَاءَ رَجُلٌ مِنْ أَهْلِ الْبَادِيَةِ قَالَ أَيُّكُمُ ابْنُ عَبْدِ الْمُطَّلِبِ قَالُوا هَذَا الأَمْغَرُ الْمُرْتَفِقُ - قَالَ حَمْزَةُ الأَمْغَرُ الأَبْيَضُ مُشْرَبٌ حُمْرَةً - فَقَالَ إِنِّي سَائِلُكَ فَمُشْتَدٌّ عَلَيْكَ فِي الْمَسْأَلَةِ قَالَ " سَلْ عَمَّا بَدَا لَكَ " . قَالَ أَسْأَلُكَ بِرَبِّكَ وَرَبِّ مَنْ قَبْلَكَ وَرَبِّ مَنْ بَعْدَكَ آللَّهُ أَرْسَلَكَ قَالَ " اللَّهُمَّ نَعَمْ " . قَالَ فَأَنْشُدُكَ بِهِ آللَّهُ أَمَرَكَ أَنْ تُصَلِّيَ خَمْسَ صَلَوَاتٍ فِي كُلِّ يَوْمٍ وَلَيْلَةٍ قَالَ " اللَّهُمَّ نَعَمْ " . قَالَ فَأَنْشُدُكَ بِهِ آللَّهُ أَمَرَكَ أَنْ تَأْخُذَ مِنْ أَمْوَالِ أَغْنِيَائِنَا فَتَرُدَّهُ عَلَى فُقَرَائِنَا قَالَ " اللَّهُمَّ نَعَمْ " . قَالَ فَأَنْشُدُكَ بِهِ آللَّهُ أَمَرَكَ أَنْ تَصُومَ هَذَا الشَّهْرَ مِنَ اثْنَىْ عَشَرَ شَهْرًا قَالَ " اللَّهُمَّ نَعَمْ " . قَالَ فَأَنْشُدُكَ بِهِ آللَّهُ أَمَرَكَ أَنْ يَحُجَّ هَذَا الْبَيْتَ مَنِ اسْتَطَاعَ إِلَيْهِ سَبِيلاً قَالَ " اللَّهُمَّ نَعَمْ " . قَالَ فَإِنِّي آمَنْتُ وَصَدَّقْتُ وَأَنَا ضِمَامُ بْنُ ثَعْلَبَةَ .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

২০৯৮। আবু বকর ইবনে আলী (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) নিজ সাহাবীদের সাথে ছিলেন, ইতিমধ্যে একজন গ্রাম্য ব্যক্তি তাদের কাছে এসে বললোঃ তোমাদের মধ্যে আব্দুল মুত্তালিবের বংশজাত কে? সাহাবীগণ বললেনঃ এই হেলান দেওয়া লালবর্ন মিশ্রিত ফর্সা ব্যক্তি। হামযা (রাহঃ) বলেনঃامغر শব্দের অর্থ হল লালবর্ণ মিশ্রিত ফর্সা। অতঃপর সেই ব্যক্তি বললোঃ আমি আপনাকে কিছু প্রশ্ন করবো। আর প্রশ্নের ব্যাপারে আপনার সঙ্গে কঠোরতা অবলম্বন করবো।

তিনি বললেনঃ তোমার যা মনে চায় প্রশ্ন কর। সে বললোঃ আমি আপনার প্রভু এবং আপনার পূর্ববর্তীদের প্রভুর নামে আপনাকে শপথ দিয়ে বলছি, আল্লাহ তাআলা কি আপনাকে প্রেরণ করেছেন? তিনি বললেন, নিশ্চয়ই, হে আল্লাহ তুমি সাক্ষী থেকো, তারপর সে বললোঃ আমি আল্লাহর শপথ দিয়ে আপনাকে প্রশ্ন করবো। আল্লাহ তাআলা কি আপনাকে রাতদিন পাঁচ ওয়াক্ত নামায আদায় করার নির্দেশ দিয়েছেন? তিনি বললেনঃ নিশ্চয়ই, হে আল্লাহ তুমি সাক্ষী থেকো।

তারপর সে বললোঃ আমি আপনাকে আল্লাহর শপথ দিয়ে প্রশ্ন করছি, আল্লাহ তাআলা কি আপনাকে আমাদের বিত্তশালীদের ধন-সম্পদ থেকে এ যাকাত নিয়ে তা আমাদের অভাবীদের দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন? তিনি বললেনঃ নিশ্চয়, হে আল্লাহ আপনি সাক্ষী থাকুন। তারপর সে বললোঃ আমি আপনাকে আল্লাহর শপথ দিয়ে প্রশ্ন করছি, আল্লাহ তাআলা কি আপনাকে বার মাসের মধ্যে এ (রমযান) মাসে রোযা পালন করার নির্দেশ দিয়েছেন? তিনি বললেন, নিশ্চয়ই, হে আল্লাহ আপনি সাক্ষী থাকুন।

তারপর সে বললোঃ আমি আপনাকে আল্লাহর শপথ দিয়ে প্রশ্ন করছি, আল্লাহ তাআলা কি আপনাকে আমাদের মধ্যে রাস্তার খরচ বহনের উপর সামর্থ্যবানদের জন্য কাবা ঘরের হজ্জ করার নির্দেশ দিয়েছেন? তিনি বললেনঃ নিশ্চয়, হে আল্লাহ আপনি সাক্ষী থাকুন। তারপর সে বললোঃ আপনার উপর আমি বিশ্বাস স্থাপন করলাম এবং আপনাকে সত্যবাদীরূপে মেনে নিলাম। আর আমার নাম হল দিমাম ইবনে ছা’লাবা।

রমযান মাসে দান এবং অত্যধিক দানশীলতার বর্ণনা

باب الْفَضْلِ وَالْجُودِ فِي شَهْرِ رَمَضَانَ

২০৯৫

أَخْبَرَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ دَاوُدَ، عَنِ ابْنِ وَهْبٍ، قَالَ أَخْبَرَنِي يُونُسُ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُتْبَةَ، أَنَّ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عَبَّاسٍ، كَانَ يَقُولُ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَجْوَدَ النَّاسِ وَكَانَ أَجْوَدَ مَا يَكُونُ فِي رَمَضَانَ حِينَ يَلْقَاهُ جِبْرِيلُ وَكَانَ جِبْرِيلُ يَلْقَاهُ فِي كُلِّ لَيْلَةٍ مِنْ شَهْرِ رَمَضَانَ فَيُدَارِسُهُ الْقُرْآنَ . قَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم حِينَ يَلْقَاهُ جِبْرِيلُ عَلَيْهِ السَّلاَمُ أَجْوَدَ بِالْخَيْرِ مِنَ الرِّيحِ الْمُرْسَلَةِ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

২০৯৯। সুলাইমান ইবনে দাউদ (রাহঃ) ......... আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) অন্যান্য লোকদের তুলনায় অত্যধিক দানশীল ব্যক্তি ছিলেন। রমযান মাসে যখন জিবরাঈল (আলাইহিস সালাম) তাঁর সাথে সাক্ষাত করতেন তখন তিনি অত্যধিক দানশীল হয়ে যেতেন। জিবরাঈল (আলাইহিস সালাম) রমযানের প্রত্যেক রাত্রে তার সাথে সাক্ষাত করতেন এবং তাকে কুরআন শিক্ষা দিতেন। আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) বলেন, যখন জিবরাঈল (আলাইহিস সালাম) রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সঙ্গে সাক্ষাত করতেন তখন তিনি প্রবাহমান বায়ু অপেক্ষাও অত্যধিক দানশীল হয়ে যেতেন।

২০৯৬

أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ، قَالَ حَدَّثَنِي حَفْصُ بْنُ عُمَرَ بْنِ الْحَارِثِ، قَالَ حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، قَالَ حَدَّثَنَا مَعْمَرٌ، وَالنُّعْمَانُ بْنُ رَاشِدٍ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ عُرْوَةَ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ مَا لَعَنَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مِنْ لَعْنَةٍ تُذْكَرُ وَكَانَ إِذَا كَانَ قَرِيبَ عَهْدٍ بِجِبْرِيلَ عَلَيْهِ السَّلاَمُ يُدَارِسُهُ كَانَ أَجْوَدَ بِالْخَيْرِ مِنَ الرِّيحِ الْمُرْسَلَةِ . قَالَ أَبُو عَبْدِ الرَّحْمَنِ هَذَا خَطَأٌ وَالصَّوَابُ حَدِيثُ يُونُسَ بْنِ يَزِيدَ وَأَدْخَلَ هَذَا حَدِيثًا فِي حَدِيثٍ .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

২১০০। মুহাম্মাদ ইবনে ইসমাঈল (রাহঃ) ......... আয়িশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) উল্লেখযোগ্য কোন অভিশাপ দিতেন না। আর যখন জিবরাঈল (আলাইহিস সালাম) এর অবতরণের সময় নিকটবর্তী হত যিনি তাঁকে কুরআন শিক্ষা দিতেন, তখন তিনি প্রবামান বায়ূ অপেক্ষাও অত্যধিক দানশীল হতেন।

রমযান মাসের ফযীলত

باب فَضْلِ شَهْرِ رَمَضَانَ

২০৯৭

أَخْبَرَنَا عَلِيُّ بْنُ حُجْرٍ، قَالَ حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ، قَالَ حَدَّثَنَا أَبُو سُهَيْلٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " إِذَا دَخَلَ شَهْرُ رَمَضَانَ فُتِّحَتْ أَبْوَابُ الْجَنَّةِ وَغُلِّقَتْ أَبْوَابُ النَّارِ وَصُفِّدَتِ الشَّيَاطِينُ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

২১০১। আলী ইবনে হুজর (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যখন রমযান মাস আসে তখন জান্নাতের দরজাসমূহ খুলে দেয়া হয়, জাহান্নামের দরজাসমূহ বন্ধ করে দেয়া হয় আর শয়তানদেরকে বেঁধে রাখা হয়।

২০৯৮

أَخْبَرَنِي إِبْرَاهِيمُ بْنُ يَعْقُوبَ الْجُوزَجَانِيُّ، قَالَ حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي مَرْيَمَ، قَالَ أَنْبَأَنَا نَافِعُ بْنُ يَزِيدَ، عَنْ عُقَيْلٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، قَالَ أَخْبَرَنِي أَبُو سُهَيْلٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " إِذَا دَخَلَ رَمَضَانُ فُتِّحَتْ أَبْوَابُ الْجَنَّةِ وَغُلِّقَتْ أَبْوَابُ النَّارِ وَصُفِّدَتِ الشَّيَاطِينُ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

২১০২। ইবরাহীম ইবনে ইয়াকুব (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যখন রমযান মাস আসে তখন জান্নাতের দরজাসমূহ খুলে দেয়া হয়, জাহান্নামের দরজাসমূহ বন্ধ করে দেয়া হয় আর শয়তানদেরকে বেঁধে রাখা হয়।

যুহরী (রাহঃ) থেকে বর্ণনাকারীদের মধ্যে পার্থক্য

باب ذِكْرِ الاِخْتِلاَفِ عَلَى الزُّهْرِيِّ فِيهِ

২০৯৯

أَخْبَرَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ سَعْدِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ، قَالَ حَدَّثَنَا عَمِّي، قَالَ حَدَّثَنَا أَبِي، عَنْ صَالِحٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، قَالَ أَخْبَرَنِي نَافِعُ بْنُ أَنَسٍ، أَنَّ أَبَاهُ، حَدَّثَهُ أَنَّهُ، سَمِعَ أَبَا هُرَيْرَةَ، يَقُولُ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " إِذَا دَخَلَ رَمَضَانُ فُتِّحَتْ أَبْوَابُ الْجَنَّةِ وَغُلِّقَتْ أَبْوَابُ جَهَنَّمَ وَسُلْسِلَتِ الشَّيَاطِينُ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

২১০৩। আব্দুল্লাহ ইবনে সা’দ (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যখন রমযান মাস আগমন করে তখন জান্নাতের দরজাসমূহ খূলে দেয়া হয়, জাহান্নামের দরজাসমুহ বন্ধ করে দেয়া হয় আর শয়তানদের শৃঙ্খলাবদ্ধ করে রাখা হয়।

২১০০

أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ خَالِدٍ، قَالَ حَدَّثَنَا بِشْرُ بْنُ شُعَيْبٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، قَالَ حَدَّثَنِي ابْنُ أَبِي أَنَسٍ، مَوْلَى التَّيْمِيِّينَ أَنَّ أَبَاهُ، حَدَّثَهُ أَنَّهُ، سَمِعَ أَبَا هُرَيْرَةَ، يَقُولُ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " إِذَا جَاءَ رَمَضَانُ فُتِّحَتْ أَبْوَابُ الرَّحْمَةِ وَغُلِّقَتْ أَبْوَابُ جَهَنَّمَ وَسُلْسِلَتِ الشَّيَاطِينُ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

২১০৪। মুহাম্মাদ ইবনে খালিদ (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যখন রমযান মাস আগমন করে তখন জান্নাতের দরজাসমুহ খুলে দেয়া হয়, জাহান্নামের দরজাসমুহ বন্ধ করে দেয়া হয় আর শয়তানকে শৃঙ্খলাবদ্ধ করে রাখা হয়।

২১০১

أَخْبَرَنَا الرَّبِيعُ بْنُ سُلَيْمَانَ، فِي حَدِيثِهِ عَنِ ابْنِ وَهْبٍ، قَالَ أَخْبَرَنِي يُونُسُ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنِ ابْنِ أَبِي أَنَسٍ، أَنَّ أَبَاهُ، حَدَّثَهُ أَنَّهُ، سَمِعَ أَبَا هُرَيْرَةَ، يَقُولُ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " إِذَا كَانَ رَمَضَانُ فُتِّحَتْ أَبْوَابُ الْجَنَّةِ وَغُلِّقَتْ أَبْوَابُ جَهَنَّمَ وَسُلْسِلَتِ الشَّيَاطِينُ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

২১০৫। রবী ইবনে সুলাইমান (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যখন রমযান আসে তখন জান্নাতের দরজাসমূহ খুলে দেয়া হয়, জাহান্নামের দরজাসমূহ বন্ধ করে দেয়া হয় আর শয়তানকে শৃঙ্খলাবদ্ধ করে রাখা হয়।

২১০২

أَخْبَرَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ سَعْدٍ، قَالَ حَدَّثَنَا عَمِّي، قَالَ حَدَّثَنَا أَبِي، عَنِ ابْنِ إِسْحَاقَ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنِ ابْنِ أَبِي أَنَسٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " إِذَا دَخَلَ شَهْرُ رَمَضَانَ فُتِّحَتْ أَبْوَابُ الْجَنَّةِ وَغُلِّقَتْ أَبْوَابُ النَّارِ وَسُلْسِلَتِ الشَّيَاطِينُ " . قَالَ أَبُو عَبْدِ الرَّحْمَنِ هَذَا - يَعْنِي حَدِيثَ ابْنِ إِسْحَاقَ - خَطَأٌ وَلَمْ يَسْمَعْهُ ابْنُ إِسْحَاقَ مِنَ الزُّهْرِيِّ وَالصَّوَابُ مَا تَقَدَّمَ ذِكْرُنَا لَهُ .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

২১০৬। উবাইদুল্লাহ ইবনে সা’দ (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন রমযান মাস আসে তখন জান্নাতের দরজাসমুহ খুলে দেয়া হয়, জাহান্নামের দরজাসমূহ বন্ধ করে দেয়া হয় আর শয়তানকে শৃঙ্খলাবদ্ধ করে রাখা হয়।

২১০৩

أَخْبَرَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ سَعْدٍ، قَالَ حَدَّثَنَا عَمِّي، قَالَ حَدَّثَنَا أَبِي، عَنِ ابْنِ إِسْحَاقَ، قَالَ وَذَكَرَ مُحَمَّدُ بْنُ مُسْلِمٍ عَنْ أُوَيْسِ بْنِ أَبِي أُوَيْسٍ، عَدِيدِ بَنِي تَيْمٍ عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " هَذَا رَمَضَانُ قَدْ جَاءَكُمْ تُفَتَّحُ فِيهِ أَبْوَابُ الْجَنَّةِ وَتُغَلَّقُ فِيهِ أَبْوَابُ النَّارِ وَتُسَلْسَلُ فِيهِ الشَّيَاطِينُ " . قَالَ أَبُو عَبْدِ الرَّحْمَنِ هَذَا الْحَدِيثُ خَطَأٌ .

বর্ণনাকারী: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

২১০৭। উবাইদুল্লাহ ইবনে সা’দ (রাহঃ) ......... আনাস ইবনে মালিক (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ এই রমযান মাস যা তোমাদের কাছে আগমন করেছে। এ মাসে জান্নাতের দরজাসমূহ খুলে দেয়া হয়, জাহান্নামের দরজাসমূহ বন্ধ করে দেয়া হয় আর শয়তানদেরকে শৃঙ্খলাবদ্ধ করে রাখা হয়।

মা’মার থেকে বর্ণনাকারীদের মধ্যে পার্থক্য

باب ذِكْرِ الاِخْتِلاَفِ عَلَى مَعْمَرٍ فِيهِ

২১০৪

أَخْبَرَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ عَلِيٍّ، قَالَ حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، قَالَ حَدَّثَنَا عَبْدُ الأَعْلَى، عَنْ مَعْمَرٍ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم كَانَ يُرَغِّبُ فِي قِيَامِ رَمَضَانَ مِنْ غَيْرِ عَزِيمَةٍ وَقَالَ " إِذَا دَخَلَ رَمَضَانُ فُتِّحَتْ أَبْوَابُ الْجَنَّةِ وَغُلِّقَتْ أَبْوَابُ الْجَحِيمِ وَسُلْسِلَتْ فِيهِ الشَّيَاطِينُ " . أَرْسَلَهُ ابْنُ الْمُبَارَكِ .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

২১০৮। আবু বকর ইবনে আলী (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, নবী (ﷺ) ফরয ব্যতীত রমযানের তারাবীহর নামায আদায় করার জন্যও উৎসাহিত করতেন। তিনি বলতেন যে, যখন রমযান আগমন করে জান্নাতের দরজাসমূহ খূলে দেয়া হয়, জাহান্নামের দরজাসমূহ বন্ধ করে দেয়া হয় আর শয়তানদেরকে শৃঙ্খলাবদ্ধ করে রাখা হয়।

২১০৫

أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ حَاتِمٍ، قَالَ أَنْبَأَنَا حِبَّانُ بْنُ مُوسَى، - خُرَاسَانِيٌّ - قَالَ أَنْبَأَنَا عَبْدُ اللَّهِ، عَنْ مَعْمَرٍ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " إِذَا دَخَلَ رَمَضَانُ فُتِّحَتْ أَبْوَابُ الرَّحْمَةِ وَغُلِّقَتْ أَبْوَابُ جَهَنَّمَ وَسُلْسِلَتِ الشَّيَاطِينُ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

২১০৯। মুহাম্মাদ ইবনে হাতিম (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ যখন রমযান আগমন করে তখন রহমতের দরজাসমুহ খুলে দেয়া হয়, জাহান্নামের দরজাসমূহ বন্ধ করে দেয়া হয় আর শয়তানদেরকে শৃঙ্খলাবদ্ধ করে রাখা হয়।

২১০৬

أَخْبَرَنَا بِشْرُ بْنُ هِلاَلٍ، قَالَ حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَارِثِ، عَنْ أَيُّوبَ، عَنْ أَبِي قِلاَبَةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " أَتَاكُمْ رَمَضَانُ شَهْرٌ مُبَارَكٌ فَرَضَ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ عَلَيْكُمْ صِيَامَهُ تُفْتَحُ فِيهِ أَبْوَابُ السَّمَاءِ وَتُغْلَقُ فِيهِ أَبْوَابُ الْجَحِيمِ وَتُغَلُّ فِيهِ مَرَدَةُ الشَّيَاطِينِ لِلَّهِ فِيهِ لَيْلَةٌ خَيْرٌ مِنْ أَلْفِ شَهْرٍ مَنْ حُرِمَ خَيْرَهَا فَقَدْ حُرِمَ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

২১১০। বিশর ইবনে হিলাল (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন যে, তোমাদের নিকট রমযান উপস্থিত হয়েছে, যা একটি বরকতময় মাস। তোমাদের উপরে আল্লাহ তাআলা অত্র মাসের রোযা ফরয করেছেন। এ মাস আগমনে জান্নাতের দরজাসমূহ খুলে দেয়া হয়, জাহান্নামের দরজাসমূহ বন্ধ করে দেয়া হয়, আর আল্লাহর অবাধ্য শয়তানদের গলায় লোহার বেড়ী পরানো হয়। এ মাসে একটি রাত রয়েছে যা এক হাজার মাস অপেক্ষাও উত্তম। যে ব্যক্তি সে রাতের কল্যাণ থেকে বঞ্চিত রয়ে গেল সে প্রকৃত বঞ্চিত রয়ে গেল।

২১০৭

أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ مَنْصُورٍ، قَالَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ عَطَاءِ بْنِ السَّائِبِ، عَنْ عَرْفَجَةَ، قَالَ عُدْنَا عُتْبَةَ بْنَ فَرْقَدٍ فَتَذَاكَرْنَا شَهْرَ رَمَضَانَ فَقَالَ مَا تَذْكُرُونَ قُلْنَا شَهْرَ رَمَضَانَ . قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " تُفْتَحُ فِيهِ أَبْوَابُ الْجَنَّةِ وَتُغْلَقُ فِيهِ أَبْوَابُ النَّارِ وَتُغَلُّ فِيهِ الشَّيَاطِينُ وَيُنَادِي مُنَادٍ كُلَّ لَيْلَةٍ يَا بَاغِيَ الْخَيْرِ هَلُمَّ وَيَا بَاغِيَ الشَّرِّ أَقْصِرْ " . قَالَ أَبُو عَبْدِ الرَّحْمَنِ هَذَا خَطَأٌ .

বর্ণনাকারী: বিবিধ

২১১১। মুহাম্মাদ ইবনে মনসুর (রাহঃ) ......... আরফাজা (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন যে, আমরা উতবা ইবনে ফারকাদের অসুস্থতা দেখতে গিয়ে আমরা সেখানে রমযান মাস সম্পর্কে আলোচনা করছিলাম। তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, তোমরা কি ব্যাপারে আলোচনা করছ? আমরা বললাম, রমযান মাস সম্পর্কে। তিনি বললেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে বলতে শুনেছি যে, রমযান মাসে জান্নাতের দরজাসমূহ খুলে দেয়া হয়, জাহান্নামের দরজাসমূহ বন্ধ করে দেয়া হয় এবং শয়তানদের গলায় লোহার শিকল পরানো হয়। এবং প্রত্যেক রাতে একজন আহবানকারী ডাক দিয়ে বলে, হে কল্যাণকামীগণ তোমরা নেক কাজ কর, হে পাপিষ্ঠগণ তোমরা পাপকর্ম থেকে বিরত থাকো।

২১০৮

أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، قَالَ حَدَّثَنَا مُحَمَّدٌ، قَالَ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ عَطَاءِ بْنِ السَّائِبِ، عَنْ عَرْفَجَةَ، قَالَ كُنْتُ فِي بَيْتٍ فِيهِ عُتْبَةُ بْنُ فَرْقَدٍ فَأَرَدْتُ أَنْ أُحَدِّثَ بِحَدِيثٍ وَكَانَ رَجُلٌ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم كَأَنَّهُ أَوْلَى بِالْحَدِيثِ مِنِّي فَحَدَّثَ الرَّجُلُ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " فِي رَمَضَانَ تُفْتَحُ فِيهِ أَبْوَابُ السَّمَاءِ وَتُغْلَقُ فِيهِ أَبْوَابُ النَّارِ وَيُصَفَّدُ فِيهِ كُلُّ شَيْطَانٍ مَرِيدٍ وَيُنَادِي مُنَادٍ كُلَّ لَيْلَةٍ يَا طَالِبَ الْخَيْرِ هَلُمَّ وَيَا طَالِبَ الشَّرِّ أَمْسِكْ " .

২১১২। মুহাম্মাদ ইবনে বাশশার (রাহঃ) ......... আরফাজা (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি একটি ঘরে অবস্থান করছিলাম যেখানে উতবা ইবনে ফারকাদ (রাযিঃ) ছিলেন। আমি একটি হাদীস বর্ণনা করতে চাইলাম, কিন্তু সেখানে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর কাছে একজন সাহাবীও উপস্থিত ছিলেন, যিনি হাদীস বর্ণনার ব্যাপারে আমার চেয়ে অধিক অভিজ্ঞ ছিলেন। তিনি নবী (ﷺ) থেকে বর্ণনা করলেন যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) রমযান মাসের ব্যাপারে বলেছেন, রমযান মাসে আসমানের দরজাসমূহ খূলে দেয়া হয়, আর জাহান্নামের দরজাসমূহ বন্ধ করে দেয়া হয়, আর প্রত্যেক শয়তানকে বন্দী করে রাখা হয়। প্রত্যেক রাতে একজন আহবানকারী আহবান করতে থাকে, হে কল্যাণকামীগণ তোমরা নেক কাজ কর, হে পাপিষ্ঠগণ তোমরা পাপ হতে বিরত থাকো।

রমযান মাসকে শুধু রমযান বলার অনুমতি

باب الرُّخْصَةِ فِي أَنْ يُقَالَ لِشَهْرِ رَمَضَانَ رَمَضَانُ

২১০৯

أَخْبَرَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، قَالَ أَنْبَأَنَا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ، قَالَ أَنْبَأَنَا الْمُهَلَّبُ بْنُ أَبِي حَبِيبَةَ، ح وَأَنْبَأَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ سَعِيدٍ، قَالَ حَدَّثَنَا يَحْيَى، عَنِ الْمُهَلَّبِ بْنِ أَبِي حَبِيبَةَ، قَالَ أَخْبَرَنِي الْحَسَنُ، عَنْ أَبِي بَكْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " لاَ يَقُولَنَّ أَحَدُكُمْ صُمْتُ رَمَضَانَ وَلاَ قُمْتُهُ كُلَّهُ " . وَلاَ أَدْرِي كَرِهَ التَّزْكِيَةَ أَوْ قَالَ لاَ بُدَّ مِنْ غَفْلَةٍ وَرَقْدَةٍ اللَّفْظُ لِعُبَيْدِ اللَّهِ .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু বাকরা (রাঃ)

২১১৩। ইসহাক ইবনে ইবরাহীম এবং উবাইদুল্লাহ ইবনে সাঈদ (রাহঃ) ......... আবু বাকরা (রাযিঃ) সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ তোমাদের কেউ কখনও এরূপ বলবে না, আমি পূরা রমযানের রোযা পালন করেছি অথবা আমি পূরা রমযান মাসে তারাবীহর নামায আদায় করেছি। রাবী বলেন, কেন তিনি এরূপ বলা অসমীচীন মনে করেছেন তা আমার জানা নেই। হয়তো বা এর মধ্যে নিজ প্রশংসা বা অসাবধানতা আছে বলেই তিনি এরূপ বলাকে সমীচীন মনে করেন নি।

২১১০

أَخْبَرَنَا عِمْرَانُ بْنُ يَزِيدَ بْنِ خَالِدٍ، قَالَ حَدَّثَنَا شُعَيْبٌ، قَالَ أَخْبَرَنِي ابْنُ جُرَيْجٍ، قَالَ أَخْبَرَنِي عَطَاءٌ، قَالَ سَمِعْتُ ابْنَ عَبَّاسٍ، يُخْبِرُنَا قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لاِمْرَأَةٍ مِنَ الأَنْصَارِ " إِذَا كَانَ رَمَضَانُ فَاعْتَمِرِي فِيهِ فَإِنَّ عُمْرَةً فِيهِ تَعْدِلُ حَجَّةً " .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

২১১৪। ইমরান ইবনে ইয়াযীদ (রাহঃ) ......... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) একজন আনসারী মহিলাকে বলেছিলেন, যখন রমযান এসে যাবে তখন তুমি একটি উমরাহ আদায় করবে। কেননা রমযানের একটি উমরাহ একটি হজ্জের সমপরিমাণ।

বিভিন্ন দেশে চাঁদ দেখার বিভিন্নতা

باب اخْتِلاَفِ أَهْلِ الآفَاقِ فِي الرُّؤْيَةِ

২১১১

أَخْبَرَنَا عَلِيُّ بْنُ حُجْرٍ، قَالَ حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ، قَالَ حَدَّثَنَا مُحَمَّدٌ، - وَهُوَ ابْنُ أَبِي حَرْمَلَةَ - قَالَ أَخْبَرَنِي كُرَيْبٌ، أَنَّ أُمَّ الْفَضْلِ، بَعَثَتْهُ إِلَى مُعَاوِيَةَ بِالشَّامِ - قَالَ - فَقَدِمْتُ الشَّامَ فَقَضَيْتُ حَاجَتَهَا وَاسْتَهَلَّ عَلَىَّ هِلاَلُ رَمَضَانَ وَأَنَا بِالشَّامِ فَرَأَيْتُ الْهِلاَلَ لَيْلَةَ الْجُمُعَةِ ثُمَّ قَدِمْتُ الْمَدِينَةَ فِي آخِرِ الشَّهْرِ فَسَأَلَنِي عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عَبَّاسٍ ثُمَّ ذَكَرَ الْهِلاَلَ فَقَالَ مَتَى رَأَيْتُمْ فَقُلْتُ رَأَيْنَاهُ لَيْلَةَ الْجُمُعَةِ . قَالَ أَنْتَ رَأَيْتَهُ لَيْلَةَ الْجُمُعَةِ قُلْتُ نَعَمْ وَرَآهُ النَّاسُ فَصَامُوا وَصَامَ مُعَاوِيَةُ . قَالَ لَكِنْ رَأَيْنَاهُ لَيْلَةَ السَّبْتِ فَلاَ نَزَالُ نَصُومُ حَتَّى نُكْمِلَ ثَلاَثِينَ يَوْمًا أَوْ نَرَاهُ . فَقُلْتُ أَوَلاَ تَكْتَفِي بِرُؤْيَةِ مُعَاوِيَةَ وَأَصْحَابِهِ قَالَ لاَ هَكَذَا أَمَرَنَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم .

বর্ণনাকারী: উম্মুল ফযল লুবাবা (রাঃ)

২১১৫। আলী ইবনে হুজর (রাহঃ) ......... কুরায়ব (রাহঃ) থেকে বর্ণিত যে, একদা উম্মে ফযল (রাযিঃ) তাঁকে মুআবিয়া (রাযিঃ)-এর কাছে সিরিয়ায় পাঠিয়ে ছিলেন। তিনি বলেন, আমি সিরিয়ায় গিয়ে তাঁর প্রয়োজন সমাধা করলাম এবং সিরিয়ায় অবস্থান করলে জুমআর রাত্রে রমযান এর চাঁদ দর্শন করলাম। অতঃপর আমি মাসের শেষের দিকে মদীনায় ফিরে এলাম। আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) আমাকে জিজ্ঞাসাবাদ করলেন। অতঃপর চন্দ্রের কথা উল্লেখ করে আমাকে বললেন, তোমরা চাঁদ কখন দেখেছিলে? আমি বললাম, আমরা তো চাঁদ জুমআর রাত্রে দেখেছিলাম। তিনি আবারো প্রশ্ন করলেন যে, তুমি কি চাঁদ জুমআর রাত্রে নিজে দেখেছিলে?

আমি বললাম, হ্যাঁ, অন্যন্য লোকেরাও দেখেছে এবং তারাও রোযা পালন করেছে এবং মুআবিয়া (রাযিঃ)-ও রোযা পালন করেছেন। তিনি বললেন, অথচ আমরা তো চাঁদ শনিবার রাত্রে দেখেছি। আমরা রোযা পালন করতেই-থাকব, ত্রিশ রোযা পূরা করা পর্যন্ত অথবা চাঁদ দেখা পর্যন্ত। আমি বললাম, আপনি কি মুআবিয়া অথবা তার সাথীদের দেখা যথেষ্ট মনে করেন না? তিনি বললেন, না, বরং আমাদেরকে নবী (ﷺ) এরূপই নির্দেশ দিয়েছেন।

রমযান মাসের চাঁদ দেখার ব্যাপারে একজনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা এবং এ ব্যাপারে সিমাক (রাহঃ) এর হাদীসে সুফিয়ান এর বর্ণনা পার্থক্য

باب قَبُولِ شَهَادَةِ الرَّجُلِ الْوَاحِدِ عَلَى هِلاَلِ شَهْرِ رَمَضَانَ وَذِكْرِ الاِخْتِلاَفِ فِيهِ عَلَى سُفْيَانَ فِي حَدِيثِ سِمَاكٍ

২১১২

أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الْعَزِيزِ بْنِ أَبِي رِزْمَةَ، قَالَ أَنْبَأَنَا الْفَضْلُ بْنُ مُوسَى، عَنْ سُفْيَانَ، عَنْ سِمَاكٍ، عَنْ عِكْرِمَةَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ جَاءَ أَعْرَابِيٌّ إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ رَأَيْتُ الْهِلاَلَ . فَقَالَ " أَتَشْهَدُ أَنْ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَأَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ " . قَالَ نَعَمْ . فَنَادَى النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم " أَنْ صُومُوا " .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

২১১৬। মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল আযীয (রাহঃ) ......... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর কাছে এক বেদুঈন এসে বললো যে, আমি চাঁদ দেখেছি, তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন যে, তুমি কি সাক্ষ্য দাও যে, আল্লাহ ছাড়া অন্য কোন মা’বুদ নাই এবং মুহাম্মাদ (ﷺ) তার বান্দা এবং রাসুল? সে বললো, হ্যাঁ। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ঘোষণা দিলেন যে, তোমরা সবাই রোযা পালন কর।

২১১৩

أَخْبَرَنَا مُوسَى بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، قَالَ حَدَّثَنَا حُسَيْنٌ، عَنْ زَائِدَةَ، عَنْ سِمَاكٍ، عَنْ عِكْرِمَةَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ جَاءَ أَعْرَابِيٌّ إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ أَبْصَرْتُ الْهِلاَلَ اللَّيْلَةَ . قَالَ " أَتَشْهَدُ أَنْ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَأَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ " . قَالَ نَعَمْ . قَالَ " يَا بِلاَلُ أَذِّنْ فِي النَّاسِ فَلْيَصُومُوا غَدًا " .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

২১১৭। মুসা ইবনে আব্দুর রহমান (রাহঃ) ......... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ)-এর কাছে একজন বেদুঈন এসে বললেন যে, আমি রাত্রে চাঁদ দেখেছি, তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন যে, তুমি কি সাক্ষ্য দেও যে, আল্লাহ তাআলা ছাড়া অন্য কোন মা’বুদ নেই এবং মুহাম্মাদ (ﷺ) আল্লাহর বান্দা এবং রাসুল? সে বললো, হ্যাঁ। তখন তিনি বললেনঃ হে বেলাল! তুমি লোকদের সামনে ঘোযণা করে দাও যে তারা যেন রোযা পালন করে।

২১১৪

أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ سُلَيْمَانَ، عَنْ أَبِي دَاوُدَ، عَنْ سُفْيَانَ، عَنْ سِمَاكٍ، عَنْ عِكْرِمَةَ، مُرْسَلٌ .

বর্ণনাকারী: ইকরিমা (রহঃ)

২১১৮। আহমাদ ইবনে সুলাইমান (রাহঃ) ......... ইকরিমা (রাহঃ) থেকেও মুরসাল সূত্রে এই হাদীসটি বর্ণিত।

২১১৫

أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ حَاتِمِ بْنِ نُعَيْمٍ، - مِصِّيصِيٌّ - قَالَ أَنْبَأَنَا حِبَّانُ بْنُ مُوسَى الْمَرْوَزِيُّ، قَالَ أَنْبَأَنَا عَبْدُ اللَّهِ، عَنْ سُفْيَانَ، عَنْ سِمَاكٍ، عَنْ عِكْرِمَةَ، مُرْسَلٌ .

বর্ণনাকারী: ইকরিমা (রহঃ)

২১১৯। মুহাম্মাদ ইবনে হাতিম (রাহঃ) ......... ইকরিমা (রাহঃ) থেকেও মুরসাল সূত্রেই হাদীসটি বর্ণিত।

২১১৬

أَخْبَرَنِي إِبْرَاهِيمُ بْنُ يَعْقُوبَ، قَالَ حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ شَبِيبٍ أَبُو عُثْمَانَ، - وَكَانَ شَيْخًا صَالِحًا بِطَرَسُوسَ - قَالَ أَنْبَأَنَا ابْنُ أَبِي زَائِدَةَ، عَنْ حُسَيْنِ بْنِ الْحَارِثِ الْجَدَلِيِّ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ زَيْدِ بْنِ الْخَطَّابِ، أَنَّهُ خَطَبَ النَّاسَ فِي الْيَوْمِ الَّذِي يُشَكُّ فِيهِ فَقَالَ أَلاَّ إِنِّي جَالَسْتُ أَصْحَابَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَسَاءَلْتُهُمْ وَأَنَّهُمْ حَدَّثُونِي أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " صُومُوا لِرُؤْيَتِهِ وَأَفْطِرُوا لِرُؤْيَتِهِ وَانْسُكُوا لَهَا فَإِنْ غُمَّ عَلَيْكُمْ فَأَكْمِلُوا ثَلاَثِينَ فَإِنْ شَهِدَ شَاهِدَانِ فَصُومُوا وَأَفْطِرُوا " .

বর্ণনাকারী: বিবিধ

২১২০। ইবরাহীম ইবনে ইয়াকুব (রাহঃ) ......... আব্দুর রহমান ইবনে যায়দ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, রমযান বা শা’বান মাসের সন্দেহযূক্ত দিনে লোকদের উদ্দেশ্য করে বললেনঃ শুন, আমি একবার রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সাহাবীদের সাথে বসা ছিলাম। আমি তাদের প্রশ্ন করলে তাঁরা আমার কাছে বর্ণনা করলেন যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ তোমরা চাঁদ দেখে রোযা পালন কর এবং চাঁদ দেখে রোযা ভঙ্গ কর আর চাঁদ দেখেই কুরবানী কর। তবে হ্যাঁ, (শা’বান মাসের ২৯ তারিখে) যদি আকাশে মেঘাচ্ছন্ন থাকে তবে তোমরা মাসের ৩০ দিন পূর্ণ করে নেবে। তবে দু’জন সাক্ষী সাক্ষ্য দিলে তোমরা রোযা পালন করবে এবং ভঙ্গ করবে।

আকাশ মেঘাচ্ছন্ন থাকলে শা’বান মাসের ত্রিশ দিন পূর্ণ করা এবং আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণনাকারীদের মধ্যে বর্ণনা পার্থক্য

باب إِكْمَالِ شَعْبَانَ ثَلاَثِينَ إِذَا كَانَ غَيْمٌ وَذِكْرِ اخْتِلاَفِ النَّاقِلِينَ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ

২১১৭

أَخْبَرَنَا مُؤَمَّلُ بْنُ هِشَامٍ، عَنْ إِسْمَاعِيلَ، عَنْ شُعْبَةَ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ زِيَادٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " صُومُوا لِرُؤْيَتِهِ وَأَفْطِرُوا لِرُؤْيَتِهِ فَإِنْ غُمَّ عَلَيْكُمُ الشَّهْرُ فَعُدُّوا ثَلاَثِينَ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

২১২১। মুয়াম্মাল ইবনে হিশাম (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন তোমরা চাঁদ দেখে রোযা পালন করবে এবং চাঁদ দেখেই রোযা ভঙ্গ করবে। তবে হ্যাঁ, আকাশ মেঘাছন্ন থাকলে মাসের ত্রিশ দিন পূর্ণ করবে।

২১১৮

أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ يَزِيدَ، قَالَ حَدَّثَنَا أَبِي قَالَ، حَدَّثَنَا وَرْقَاءُ، عَنْ شُعْبَةَ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ زِيَادٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " صُومُوا لِرُؤْيَتِهِ وَأَفْطِرُوا لِرُؤْيَتِهِ فَإِنْ غُمَّ عَلَيْكُمْ فَاقْدُرُوا ثَلاَثِينَ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

২১২২। মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল্লাহ (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ তোমরা চাঁদ দেখে রোযা পালন করবে এবং চাঁদ দেখেই রোযা ভঙ্গ করবে। তবে হ্যাঁ, আকাশ মেঘাছন্ন থাকলে মাসের ত্রিশ দিন পূর্ণ করবে।

২১১৯

أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يَحْيَى بْنِ عَبْدِ اللَّهِ النَّيْسَابُورِيُّ، قَالَ حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ دَاوُدَ، قَالَ حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ مُسْلِمٍ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيَّبِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " إِذَا رَأَيْتُمُ الْهِلاَلَ فَصُومُوا وَإِذَا رَأَيْتُمُوهُ فَأَفْطِرُوا فَإِنْ غُمَّ عَلَيْكُمْ فَصُومُوا ثَلاَثِينَ يَوْمًا " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

২১২৩। মুহাম্মাদ ইবনে ইয়াহয়া (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যখন তোমরা (রমযানের) চাঁদ দেখ তখন রোযা পালন কর। আর যখন তোমরা (শাওয়াল মাসের) চাঁদ দেখ তখন রোযা ভঙ্গ কর। তবে হ্যাঁ, আকাশ মেঘাচ্ছন্ন থাকলে মাসের ত্রিশ দিন রোযা পালন করবে।

২১২০

أَخْبَرَنَا الرَّبِيعُ بْنُ سُلَيْمَانَ، قَالَ حَدَّثَنَا ابْنُ وَهْبٍ، قَالَ أَخْبَرَنِي يُونُسُ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، قَالَ حَدَّثَنِي سَالِمُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، أَنَّ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عُمَرَ، قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " إِذَا رَأَيْتُمُ الْهِلاَلَ فَصُومُوا وَإِذَا رَأَيْتُمُوهُ فَأَفْطِرُوا فَإِنْ غُمَّ عَلَيْكُمْ فَاقْدُرُوا لَهُ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

২১২৪। রবী ইবনে সুলাইমান (রাহঃ) ......... আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাযিঃ) বলেছেনঃ আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে বলতে শুনেছি যে, তিনি বলেছেন যখন তোমারা চাঁদ দেখবে তখন রোযা পালন করবে। যখন (শাওয়াল মাসের) চাঁদ দেখবে রোযা ভঙ্গ করবে। তবে হ্যাঁ, আকাশ মেঘাছন্ন থাকলে মাসের ত্রিশ দিন পূর্ণ করবে।

২১২১

أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ سَلَمَةَ، وَالْحَارِثُ بْنُ مِسْكِينٍ، قِرَاءَةً عَلَيْهِ وَأَنَا أَسْمَعُ، - وَاللَّفْظُ لَهُ - عَنِ ابْنِ الْقَاسِمِ، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ذَكَرَ رَمَضَانَ فَقَالَ " لاَ تَصُومُوا حَتَّى تَرَوُا الْهِلاَلَ وَلاَ تُفْطِرُوا حَتَّى تَرَوْهُ فَإِنْ غُمَّ عَلَيْكُمْ فَاقْدُرُوا لَهُ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

২১২৫। মুহাম্মাদ ইবনে সালামা এবং হারিছ ইবনে মিসকীন (রাহঃ) ......... ইবনে উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) রমযানের আলোচনা করছিলেন, তখন তিনি বললেনঃ যতক্ষণ পর্যন্ত তোমরা চাঁদ দেখতে না পাও রোযা পালন করবে না। আবার যতক্ষণ পর্যন্ত (চাঁদ শাওয়ালের) চাঁদ দেখতে না পাও তোমরা রোযা ভঙ্গ করবে না। হ্যাঁ, যদি আকাশ মেঘাছন্ন থাকে তবে তোমরা মাসের দিন গুণে নেবে (ত্রিশ দিন পূর্ণ করবে)।

উবাইদুল্লাহ ইবনে উমর থেকে এ হাদীসের সনদের পার্থক্য বর্ণনা

باب ذِكْرِ الاِخْتِلاَفِ عَلَى عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ فِي هَذَا الْحَدِيثِ

২১২২

أَخْبَرَنَا عَمْرُو بْنُ عَلِيٍّ، قَالَ حَدَّثَنَا يَحْيَى، قَالَ حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ، قَالَ حَدَّثَنِي نَافِعٌ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " لاَ تَصُومُوا حَتَّى تَرَوْهُ وَلاَ تُفْطِرُوا حَتَّى تَرَوْهُ فَإِنْ غُمَّ عَلَيْكُمْ فَاقْدُرُوا لَهُ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

২১২৬। আমর ইবনে আলী (রাহঃ) ......... ইবনে উমর (রাযিঃ) সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেছেনঃ যতক্ষণ পর্যন্ত (রমযানের) চাঁদ দেখতে না পাও তোমরা রোযা পালন করবে না এবং যতক্ষণ পর্যন্ত (শাওয়ালের) চাঁদ দেখতে না পাও তোমরা রোযা ভঙ্গ করবে না। হ্যাঁ, যদি আকাশ মেঘাছন্ন থাকে তবে তোমরা দিন গুণে নেবে (ত্রিশ দিন পূর্ণ করবে)।

২১২৩

أَخْبَرَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ عَلِيٍّ، صَاحِبُ حِمْصَ قَالَ حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، قَالَ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بِشْرٍ، قَالَ حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ، عَنْ أَبِي الزِّنَادِ، عَنِ الأَعْرَجِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ ذَكَرَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم الْهِلاَلَ فَقَالَ " إِذَا رَأَيْتُمُوهُ فَصُومُوا وَإِذَا رَأَيْتُمُوهُ فَأَفْطِرُوا فَإِنْ غُمَّ عَلَيْكُمْ فَعُدُّوا ثَلاَثِينَ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

২১২৭। আবু বকর ইবনে আলী (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) চাঁদের ব্যাপারে আলোচনা করে বললেনঃ যখন তোমরা (রমযানের) চাঁদ দেখবে রোযা পালন করবে আর যখন তোমরা (শাওয়াল মাসের) চাঁদ দেখবে তখন রোযা ভঙ্গ করবে। হ্যাঁ, যদি আকাশ মেঘাছন্ন থাকে তবে তোমরা ত্রিশ দিন পূর্ণ করবে।

আমর ইবনে দীনার (রাহঃ) কর্তৃক ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) থেকে উক্ত হাদীসের বর্ণনায় সনদের পার্থক্য

باب ذِكْرِ الاِخْتِلاَفِ عَلَى عَمْرِو بْنِ دِينَارٍ فِي حَدِيثِ ابْنِ عَبَّاسٍ فِيهِ

২১২৪

أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ عُثْمَانَ أَبُو الْجَوْزَاءِ، - وَهُوَ ثِقَةٌ بَصْرِيٌّ أَخُو أَبِي الْعَالِيَةِ - قَالَ أَنْبَأَنَا حَبَّانُ بْنُ هِلاَلٍ، قَالَ حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ، عَنْ عَمْرِو بْنِ دِينَارٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " صُومُوا لِرُؤْيَتِهِ وَأَفْطِرُوا لِرُؤْيَتِهِ فَإِنْ غُمَّ عَلَيْكُمْ فَأَكْمِلُوا الْعِدَّةَ ثَلاَثِينَ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

২১২৮। আহমাদ ইবনে উসমান আবুল জাওযা (রাহঃ) ......... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন যে, তোমরা (রমযান মাসের) চাঁদ দেখে রোযা পালন করবে এবং (শাওয়াল মাসের) চাঁদ দেখে রোযা ভঙ্গ করবে। হ্যাঁ, যদি আকাশ মেঘাছন্ন থাকে তবে (শাবান মাসের দিন গণনা করে) ত্রিশ দিন পূর্ণ করবে।

২১২৫

أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ يَزِيدَ، قَالَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ عَمْرِو بْنِ دِينَارٍ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ حُنَيْنٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ عَجِبْتُ مِمَّنْ يَتَقَدَّمُ الشَّهْرَ وَقَدْ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " إِذَا رَأَيْتُمُ الْهِلاَلَ فَصُومُوا وَإِذَا رَأَيْتُمُوهُ فَأَفْطِرُوا فَإِنْ غُمَّ عَلَيْكُمْ فَأَكْمِلُوا الْعِدَّةَ ثَلاَثِينَ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

২১২৯। মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল্লাহ (রাহঃ) ......... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি আশ্চর্যবোধ করি ঐ ব্যক্তির ব্যাপারে যে রমযান মাস আসার পূর্বেই রোযা পালন করে, অথচ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন যে, যখন তোমরা (রমযানের) চাঁদ দেখবে তখন রোযা পালন করবে আর যখন (শাওয়াল মাসের) চাঁদ দেখবে তখন রোযা ভঙ্গ করবে। হ্যাঁ, যদি আকাশ মেঘাছন্ন থাকে তবে (শা’বান মাসের দিন গণনা করে) ত্রিশ দিন পূর্ণ করবে।

মনসুর (রাহঃ) কর্তৃক রিবয়ী হিরাশ (রাহঃ) সূত্রে উক্ত হাদীস বর্ণনায় সনদের পার্থক্য বর্ণনা

باب ذِكْرِ الاِخْتِلاَفِ عَلَى مَنْصُورٍ فِي حَدِيثِ رِبْعِيٍّ فِيهِ

২১২৬

أَخْبَرَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، قَالَ أَنْبَأَنَا جَرِيرٌ، عَنْ مَنْصُورٍ، عَنْ رِبْعِيِّ بْنِ حِرَاشٍ، عَنْ حُذَيْفَةَ بْنِ الْيَمَانِ، عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " لاَ تَقَدَّمُوا الشَّهْرَ حَتَّى تَرَوُا الْهِلاَلَ قَبْلَهُ أَوْ تُكْمِلُوا الْعِدَّةَ ثُمَّ صُومُوا حَتَّى تَرَوُا الْهِلاَلَ أَوْ تُكْمِلُوا الْعِدَّةَ قَبْلَهُ " .

বর্ণনাকারী: হযরত হুযায়ফা রাযি

২১৩০। ইসহাক ইবনে ইবরাহীম (রাহঃ) ......... হুযাইফা ইবনে ইয়ামান (রাযিঃ) সূত্রে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেছেন যে, তোমরা রমযান মাসের চাঁদ না দেখার পূর্বে কিংবা শা’বান মাস ত্রিশ দিন পূর্ণ হওয়ার আগে রমযানের রোযা পালন করবে না। এরপর তোমরা রমযানের রোযা পালন করতে থাকবে যতক্ষণ পর্যন্ত না শাওয়ালের চাঁদ দেখবে কিংবা তার পূর্বেই রমযানের মাস ত্রিশ দিন পূর্ণ হবে।

২১২৭

أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، قَالَ حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ، قَالَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ مَنْصُورٍ، عَنْ رِبْعِيٍّ، عَنْ بَعْضِ، أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " لاَ تَقَدَّمُوا الشَّهْرَ حَتَّى تُكْمِلُوا الْعِدَّةَ أَوْ تَرَوُا الْهِلاَلَ ثُمَّ صُومُوا وَلاَ تُفْطِرُوا حَتَّى تَرَوُا الْهِلاَلَ أَوْ تُكْمِلُوا الْعِدَّةَ ثَلاَثِينَ " . أَرْسَلَهُ الْحَجَّاجُ بْنُ أَرْطَاةَ .

বর্ণনাকারী: অজ্ঞাত সাহাবী

২১৩১। মুহাম্মাদ ইবনে বাশশার (রাহঃ) ......... নবী (ﷺ) এর জনৈক সাহাবী থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন যে, তোমরা রমযান মাসের চাঁদ না দেখার পূর্বে কিংবা শা’বান মাস ত্রিশ দিন পূর্ণ হওয়ার আগে রমযানের রোযা পালন করবে না। এরপর তোমরা রমযানের রোযা পালন করতে থাকবে যতক্ষণ পর্যন্ত না শাওয়ালের চাঁদ দেখবে কিংবা তার পূর্বেই রমযান মাস ত্রিশ দিন হবে।

২১২৮

أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ حَاتِمٍ، قَالَ حَدَّثَنَا حِبَّانُ، قَالَ حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ، عَنِ الْحَجَّاجِ بْنِ أَرْطَاةَ، عَنْ مَنْصُورٍ، عَنْ رِبْعِيٍّ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " إِذَا رَأَيْتُمُ الْهِلاَلَ فَصُومُوا وَإِذَا رَأَيْتُمُوهُ فَأَفْطِرُوا فَإِنْ غُمَّ عَلَيْكُمْ فَأَتِمُّوا شَعْبَانَ ثَلاَثِينَ إِلاَّ أَنْ تَرَوُا الْهِلاَلَ قَبْلَ ذَلِكَ ثُمَّ صُومُوا رَمَضَانَ ثَلاَثِينَ إِلاَّ أَنْ تَرَوُا الْهِلاَلَ قَبْلَ ذَلِكَ " .

বর্ণনাকারী: রিবঈ ইবনে হিরাশ (রহঃ)

২১৩২। মুহাম্মাদ ইবনে হাতিম (রাহঃ) ......... রিব’য়ী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন যে, যখন তোমরা রমযান মাসের চাঁদ দেখবে তখন রোযা পালন করবে আর যখন (শাওয়াল মাসের) চাঁদ দেখবে তখন রোযা ভঙ্গ করবে। তবে হ্যাঁ যদি আকাশে মেঘাছন্ন থাকে তাহলে শা’বান মাসকে ত্রিশ দিন পূর্ণ করবে। তবে এর পূর্বেই চাঁদ দেখলে রমযানের রোযা পালন করবে। এরপর রমাযানের রোযা পালন করতে থাকবে যতক্ষণ পর্যন্ত না শাওয়ালের চাঁদ দেখবে বা তার পূর্বেই রমযান মাস ত্রিশ দিন পূর্ণ হবে।

২১২৯

أَخْبَرَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، قَالَ حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، قَالَ حَدَّثَنَا حَاتِمُ بْنُ أَبِي صَغِيرَةَ، عَنْ سِمَاكِ بْنِ حَرْبٍ، عَنْ عِكْرِمَةَ، قَالَ حَدَّثَنَا ابْنُ عَبَّاسٍ، عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " صُومُوا لِرُؤْيَتِهِ وَأَفْطِرُوا لِرُؤْيَتِهِ فَإِنْ حَالَ بَيْنَكُمْ وَبَيْنَهُ سَحَابٌ فَأَكْمِلُوا الْعِدَّةَ وَلاَ تَسْتَقْبِلُوا الشَّهْرَ اسْتِقْبَالاً " .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

২১৩৩। ইসহাক ইবনে ইবরাহীম (রাহঃ) ......... ইকরিমা (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) রাসূলুল্লাহ (ﷺ) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেনঃ তোমরা (রমযানের) চাঁদ দেখে রোযা পালন করবে এবং (শাওয়ালের) চাঁদ দেখে রোযা ভঙ্গ করবে। তবে হ্যাঁ, তোমাদের এবং চাঁদের মাঝখানে যদি মেঘ আড়াল হয় তাহলে তোমরা (শাবান) মাসকে ত্রিশ দিন পূর্ণ করবে। চাঁদ দেখার পূর্বেই রোযা পালন দ্বারা রমযান মাসকে সংবর্ধনা জানাবে না।

২১৩০

أَخْبَرَنَا قُتَيْبَةُ، قَالَ حَدَّثَنَا أَبُو الأَحْوَصِ، عَنْ سِمَاكٍ، عَنْ عِكْرِمَةَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " لاَ تَصُومُوا قَبْلَ رَمَضَانَ صُومُوا لِلرُّؤْيَةِ وَأَفْطِرُوا لِلرُّؤْيَةِ فَإِنْ حَالَتْ دُونَهُ غَيَايَةٌ فَأَكْمِلُوا ثَلاَثِينَ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

২১৩৪। কুতায়বা (রাহঃ) ......... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন যে, তোমরা রমযানের পূর্বে রোযা পালন করবে না। বরং তোমরা চাঁদ দেখে রোযা পালন করবে এবং চাঁদ দেখে রোযা ভঙ্গও করবে। তবে হ্যাঁ, যদি চাঁদকে মেঘ আড়াল করে দেয় তবে তোমরা (শা’বান) মাসকে ত্রিশ দিন পূর্ণ করবে।

যুহরী (রাহঃ) কর্তৃক আয়িশা (রাযিঃ) থেকে উক্ত রেওয়ায়ত বর্ণনায় সনদের পার্থক্য বর্ণনা

باب كَمِ الشَّهْرُ وَذِكْرِ الاِخْتِلاَفِ عَلَى الزُّهْرِيِّ فِي الْخَبَرِ عَنْ عَائِشَةَ

২১৩১

أَخْبَرَنَا نَصْرُ بْنُ عَلِيٍّ الْجَهْضَمِيُّ، عَنْ عَبْدِ الأَعْلَى، قَالَ حَدَّثَنَا مَعْمَرٌ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ عُرْوَةَ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ أَقْسَمَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَنْ لاَ يَدْخُلَ عَلَى نِسَائِهِ شَهْرًا فَلَبِثَ تِسْعًا وَعِشْرِينَ فَقُلْتُ أَلَيْسَ قَدْ كُنْتَ آلَيْتَ شَهْرًا فَعَدَدْتُ الأَيَّامَ تِسْعًا وَعِشْرِينَ . فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " الشَّهْرُ تِسْعٌ وَعِشْرُونَ ".

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

২১৩৫। নসর ইবনে জাহদামী (রাহঃ) ......... আয়িশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) শপথ করেছিলেন যে তিনি এক মাস বিবিদের কাছে যাবেন না। অতঃপর তিনি উত্রিশ দিন হওয়ার পর (আমার ঘরে প্রবেশ করলে) আমি বললাম, আপনি কি এক মাসের শপথ করেছিলেন না? আমি তো মাসকে উনত্রিশ দিন গণনা করেছি। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ মাসটি ছিল উনত্রিশ দিনের।

২১৩২

أَخْبَرَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ سَعْدِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ، قَالَ حَدَّثَنَا عَمِّي، قَالَ حَدَّثَنِي أَبِي، عَنْ صَالِحٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، أَنَّ عُبَيْدَ اللَّهِ بْنَ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي ثَوْرٍ، حَدَّثَهُ ح، وَأَخْبَرَنَا عَمْرُو بْنُ مَنْصُورٍ، قَالَ حَدَّثَنَا الْحَكَمُ بْنُ نَافِعٍ، قَالَ أَنْبَأَنَا شُعَيْبٌ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، قَالَ أَخْبَرَنِي عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي ثَوْرٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ لَمْ أَزَلْ حَرِيصًا أَنْ أَسْأَلَ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ عَنِ الْمَرْأَتَيْنِ مِنْ أَزْوَاجِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم اللَّتَيْنِ قَالَ اللَّهُ لَهُمَا ( إِنْ تَتُوبَا إِلَى اللَّهِ فَقَدْ صَغَتْ قُلُوبُكُمَا ) وَسَاقَ الْحَدِيثَ وَقَالَ فِيهِ فَاعْتَزَلَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم نِسَاءَهُ مِنْ أَجْلِ ذَلِكَ الْحَدِيثِ حِينَ أَفْشَتْهُ حَفْصَةُ إِلَى عَائِشَةَ تِسْعًا وَعِشْرِينَ لَيْلَةً . قَالَتْ عَائِشَةُ وَكَانَ قَالَ " مَا أَنَا بِدَاخِلٍ عَلَيْهِنَّ شَهْرًا " . مِنْ شِدَّةِ مَوْجِدَتِهِ عَلَيْهِنَّ حِينَ حَدَّثَهُ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ حَدِيثَهُنَّ فَلَمَّا مَضَتْ تِسْعٌ وَعِشْرُونَ لَيْلَةً دَخَلَ عَلَى عَائِشَةَ فَبَدَأَ بِهَا فَقَالَتْ لَهُ عَائِشَةُ إِنَّكَ قَدْ كُنْتَ آلَيْتَ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَنْ لاَ تَدْخُلَ عَلَيْنَا شَهْرًا وَإِنَّا أَصْبَحْنَا مِنْ تِسْعٍ وَعِشْرِينَ لَيْلَةً نَعُدُّهَا عَدَدًا فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " الشَّهْرُ تِسْعٌ وَعِشْرُونَ لَيْلَةً " .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

২১৩৬। উবাইদুল্লাহ ইবনে সা’দ এবং আমর ইবনে মনসুর (রাহঃ) ......... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি সর্বদা লালায়িত ছিলাম যে, উমর ইবনে খাত্তাব (রাযিঃ)-কে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর বিবিদের মধ্য থেকে ঐ দুই জন বিবি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করব যাদের সম্পর্কে আল্লাহ তাআলা বলেছেনঃ إِنْ تَتُوبَا إِلَى اللَّهِ فَقَدْ صَغَتْ قُلُوبُكُمَا যদি তোমরা উভয়ে অনুতপ্ত হয়ে আল্লাহর দিকে প্রত্যাবর্তন কর যেহেতু তোমাদের হৃদয় কে পড়েছে - আল্লাহ তোমাদের ক্ষমা করবেন। রাবী এ হাদীসকে বিস্তারিত বর্ণনা করেছেন এবং এ ব্যাপারে উমর (রাযিঃ) বলেন যে, হাফসা (রাযিঃ) এ ঘটনা আয়িশা (রাযিঃ)-এর কাছে প্রকাশ করায় রাসূলুল্লাহ (ﷺ) নিজ বিবিদের থেকে উনত্রিশ রাত বিচ্ছিন্ন রইলেন।

আয়িশা (রাযিঃ) বলেন, তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) অত্যধিক ক্রোধবশত বলেছিলেন, যখন আল্লাহ তাআলা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কাছে তাদের ঘটনা ব্যক্ত করেছিলেন যে আমি তাদের ঘরে এক মাস পর্যন্ত প্রবেশ করব না। যখন উনত্রিশ রাত্র অতিবাহিত হয়ে গেল রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আয়িশা (রাযিঃ)-এর ঘরে প্রবেশ করলেন এবং তাঁকে দিয়েই পূনরায় বিবিদের ঘরে যাওয়া শুরু করলেন, তখন আয়িশা (রাযিঃ) রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে বললেন ইয়া রাসুলাল্লাহ! আপনি তো শপথ করেছিলেন যে, আপনি আমাদের ঘরে একমাস পর্যন্ত প্রবেশ করবেন না; আজকে তো আমরা উনত্রিশ রাত্র অতিবাহিত করলাম, আমরা তো তা গণনা করে রেখেছি। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন যে, মাসটি উনত্রিশ রাত্রের।

এ প্রসঙ্গে ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) এর হাদীস বর্ণনা

باب ذِكْرِ خَبَرِ ابْنِ عَبَّاسٍ فِيهِ

২১৩৩

أَخْبَرَنَا عَمْرُو بْنُ يَزِيدَ، - هُوَ أَبُو بُرَيْدٍ الْجَرْمِيُّ بَصْرِيٌّ - عَنْ بَهْزٍ، قَالَ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ سَلَمَةَ، عَنْ أَبِي الْحَكَمِ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " أَتَانِي جِبْرِيلُ عَلَيْهِ السَّلاَمُ فَقَالَ الشَّهْرُ تِسْعٌ وَعِشْرُونَ يَوْمًا " .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

২১৩৭। আমর ইবনে ইয়াযীদ অর্থাৎ আবু ইয়াযীদ জারমী বসরী (রাহঃ) ......... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমার কাছে জিবরাঈল (আলাইহিস সালাম) এসে বললো যে, মাসটি উনত্রিশ দিনের।

২১৩৪

أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، عَنْ مُحَمَّدٍ، وَذَكَرَ، كَلِمَةً مَعْنَاهَا حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ سَلَمَةَ، قَالَ سَمِعْتُ أَبَا الْحَكَمِ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " الشَّهْرُ تِسْعٌ وَعِشْرُونَ يَوْمًا " .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

২১৩৮। মুহাম্মাদ ইবনে বাশশার (রাহঃ) ......... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন যে, মাসটি উনত্রিশ দিনের।

ইসমাঈল (রাহঃ) সূত্রে সা’দ ইবনে মালিক থেকে হাদীস বর্ণনা পার্থক্য

باب ذِكْرِ الاِخْتِلاَفِ عَلَى إِسْمَاعِيلَ فِي خَبَرِ سَعْدِ بْنِ مَالِكٍ فِيهِ

২১৩৫

أَخْبَرَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، قَالَ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بِشْرٍ، عَنْ إِسْمَاعِيلَ بْنِ أَبِي خَالِدٍ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ سَعْدِ بْنِ أَبِي وَقَّاصٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ ضَرَبَ بِيَدِهِ عَلَى الأُخْرَى وَقَالَ " الشَّهْرُ هَكَذَا وَهَكَذَا وَهَكَذَا " . وَنَقَصَ فِي الثَّالِثَةِ إِصْبَعًا .

বর্ণনাকারী: হযরত সা'দ ইবন আবী ওয়াক্কাস রাযি.

২১৩৯। ইসহাক ইবনে ইবরাহীম (রাহঃ) ......... মুহাম্মাদ (রাহঃ)-এর পিতা সা’দ (রাযিঃ) সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি এক হাত অন্য হাতের উপর মেরে বললেন যে, মাস এত দিনের হয়, মাস এতদিনের হয়, মাস এত দিনের হয়, তৃতীয় বারে তিনি একটি আঙ্গুল কমিয়ে দিলেন (উনত্রিশ দিনেরও হয়)।

২১৩৬

أَخْبَرَنَا سُوَيْدُ بْنُ نَصْرٍ، قَالَ أَنْبَأَنَا عَبْدُ اللَّهِ، عَنْ إِسْمَاعِيلَ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ سَعْدٍ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " الشَّهْرُ هَكَذَا وَهَكَذَا وَهَكَذَا " . يَعْنِي تِسْعَةً وَعِشْرِينَ . رَوَاهُ يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ وَغَيْرُهُ عَنْ إِسْمَاعِيلَ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ سَعْدٍ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم .

বর্ণনাকারী: হযরত সা'দ ইবন আবী ওয়াক্কাস রাযি.

২১৪০। সুওয়াইদ ইবনে নসর (রাহঃ) ......... মুহাম্মাদ (রাহঃ)-এর পিতা [সা’দ (রাযিঃ)] সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন যে, মাস এত দিনের হয়, মাস এত দিনের হয়, মাস এত দিনের হয়। অর্থাৎ উনত্রিশ দিনের (২৯ দিনেরও হয়)।

২১৩৭

أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ سُلَيْمَانَ، قَالَ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عُبَيْدٍ، قَالَ حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ سَعْدِ بْنِ أَبِي وَقَّاصٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " الشَّهْرُ هَكَذَا وَهَكَذَا وَهَكَذَا " . وَصَفَّقَ مُحَمَّدُ بْنُ عُبَيْدٍ بِيَدَيْهِ يَنْعَتُهَا ثَلاَثًا ثُمَّ قَبَضَ فِي الثَّالِثَةِ الإِبْهَامَ فِي الْيُسْرَى . قَالَ يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ قُلْتُ لإِسْمَاعِيلَ عَنْ أَبِيهِ قَالَ لاَ .

বর্ণনাকারী: হযরত সা'দ ইবন আবী ওয়াক্কাস রাযি.

২১৪১। আহমদ ইবনে সুলাইমান (রাহঃ) ......... মুহাম্মাদ ইবনে সা’দ (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ মাস এত দিনের হয়, মাস এত দিনের হয়, মাস এত দিনের হয় এবং মুহাম্মাদ ইবনে উবাইদ (রাহঃ) তার রূপ বর্ণনা করতে গিয়ে তিনবার নিজ হাতে তালি দিলেন, অতঃপর তৃতীয়বারে বাম হাতের বৃদ্ধা আঙ্গুল বন্ধ করে ফেললেন।

ইয়াহয়া ইবনে আবী কাসীর (রাহঃ) সূত্রে আবু সালামা থেকে উক্ত হাদীস বর্ণনায় সনদের পার্থক্য বর্ণনা

باب ذِكْرِ الاِخْتِلاَفِ عَلَى يَحْيَى بْنِ أَبِي كَثِيرٍ فِي خَبَرِ أَبِي سَلَمَةَ فِيهِ

২১৩৮

أَخْبَرَنَا أَبُو دَاوُدَ، قَالَ حَدَّثَنَا هَارُونُ، قَالَ حَدَّثَنَا عَلِيٌّ، - هُوَ ابْنُ الْمُبَارَكِ - قَالَ حَدَّثَنَا يَحْيَى، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " الشَّهْرُ يَكُونُ تِسْعَةً وَعِشْرِينَ وَيَكُونُ ثَلاَثِينَ فَإِذَا رَأَيْتُمُوهُ فَصُومُوا وَإِذَا رَأَيْتُمُوهُ فَأَفْطِرُوا فَإِنْ غُمَّ عَلَيْكُمْ فَأَكْمِلُوا الْعِدَّةَ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

২১৪২। আবু দাউদ (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন যে, মাস কখনো উনত্রিশ দিনের হয় আবার কখনো ত্রিশ দিনের হয়। যখন তোমরা (রমযানের) চাঁদ দেখবে তখন রোযা পালন করবে, আর যখন (শাওয়াল মাসের) চাঁদ দেখবে তখন রোযা ভঙ্গ করবে। তবে হ্যাঁ, যদি আকাশ মেঘাছন্ন থাকে তবে মাসের ত্রিশ দিন পূর্ণ করবে।

২১৩৯

أَخْبَرَنِي عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ فَضَالَةَ بْنِ إِبْرَاهِيمَ، قَالَ أَنْبَأَنَا مُحَمَّدٌ، قَالَ حَدَّثَنَا مُعَاوِيَةُ، ح وَأَخْبَرَنِي أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ الْمُغِيرَةِ، قَالَ حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ سَعِيدٍ، عَنْ مُعَاوِيَةَ، - وَاللَّفْظُ لَهُ - عَنْ يَحْيَى بْنِ أَبِي كَثِيرٍ، أَنَّ أَبَا سَلَمَةَ، أَخْبَرَهُ أَنَّهُ، سَمِعَ عَبْدَ اللَّهِ، وَهُوَ - ابْنُ عُمَرَ - يَقُولُ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " الشَّهْرُ تِسْعٌ وَعِشْرُونَ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

২১৪৩। উবাইদুল্লাহ ইবনে ফাদালাহ এবং আহমাদ ইবনে মুহাম্মাদ (রাহঃ) ......... আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাযিঃ) বলেছেন যে, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে বলতে শুনেছি যে, মাস কখনো ত্রিশ দিনের হয়।

২১৪০

أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، قَالَ حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ، عَنْ سُفْيَانَ، عَنِ الأَسْوَدِ بْنِ قَيْسٍ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ عَمْرٍو، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " إِنَّا أُمَّةٌ أُمِّيَّةٌ لاَ نَكْتُبُ وَلاَ نَحْسِبُ الشَّهْرُ هَكَذَا وَهَكَذَا وَهَكَذَا " . ثَلاَثًا حَتَّى ذَكَرَ تِسْعًا وَعِشْرِينَ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

২১৪৪। মুহাম্মাদ ইবনে মুছান্না (রাহঃ) ......... ইবনে উমর (রাযিঃ) সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন যে, আমরা হলাম উম্মতে উম্মিয়্যা। (মা এর শিশু সন্তানের মত) আমরা ভাল করে লিখা জানি না আর ভাল করে হিসাবও জানি না। মাস এত দিনের হয়, মাস এত দিনের হয়, মাস এত দিনের হয়। এরকম তিনবার বলে তিনি উনত্রিশ দিনের উল্লেখ করলেন।

২১৪১

أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، وَمُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، عَنْ مُحَمَّدٍ، عَنْ شُعْبَةَ، عَنِ الأَسْوَدِ بْنِ قَيْسٍ، قَالَ سَمِعْتُ سَعِيدَ بْنَ عَمْرِو بْنِ سَعِيدِ بْنِ أَبِي الْعَاصِ، أَنَّهُ سَمِعَ ابْنَ عُمَرَ، يُحَدِّثُ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ إِنَّا أُمَّةٌ أُمِّيَّةٌ لاَ نَحْسِبُ وَلاَ نَكْتُبُ وَالشَّهْرُ هَكَذَا وَهَكَذَا وَهَكَذَا . وَعَقَدَ الإِبْهَامَ فِي الثَّالِثَةِ وَالشَّهْرُ هَكَذَا وَهَكَذَا وَهَكَذَا . تَمَامَ الثَّلاَثِينَ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

২১৪৫। মুহাম্মাদ ইবনে মুছান্না (রাহঃ) এবং মুহাম্মাদ ইবনে বাশশার (রাহঃ) ......... ইবনে উমর (রাযিঃ) নবী (ﷺ) থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন যে, আমরা হলাম (মা এর শিশু সন্তানের ন্যায়) অজ্ঞ উম্মত, (ভাল করে) হিসাবও জানি না এবং (ভাল করে) লিখতেও জানি না। আর মাস এত দিনের হয়, মাস এত দিনের হয়, মাস এত দিনের হয়। এবং তৃতীয় বারে বৃদ্ধ আঙুল বন্ধ করে ফেললেন। (২৯ দিন বুঝাবার জন্য)। আর মাস এরকম, এরকম, এরকম, পূর্ণ ত্রিশ দিনেরও হয়।

২১৪২

أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الأَعْلَى، قَالَ حَدَّثَنَا خَالِدٌ، قَالَ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ جَبَلَةَ بْنِ سُحَيْمٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " الشَّهْرُ هَكَذَا " . وَوَصَفَ شُعْبَةُ عَنْ صِفَةِ جَبَلَةَ عَنْ صِفَةِ ابْنِ عُمَرَ أَنَّهُ تِسْعٌ وَعِشْرُونَ فِيمَا حَكَى مِنْ صَنِيعِهِ مَرَّتَيْنِ بِأَصَابِعِ يَدَيْهِ وَنَقَصَ فِي الثَّالِثَةِ إِصْبَعًا مِنْ أَصَابِعِ يَدَيْهِ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

২১৪৬। মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল আ’লা (রাহঃ) ......... ইবনে উমর (রাযিঃ) সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন যে, মাস এত দিনের হয়। ইবনে উমর (রাযিঃ) থেকে জাবালা (রাহঃ) যে বর্ণনা করেছেন তার ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে শুবা (রাহঃ) বলেছেন যে, ইবনে উমর (রাযিঃ) দু’বার তাঁর হস্ত প্রসারিত করে এবং তৃতীয়বারে হস্তদ্বয়ের অঙ্গুলিসমুহ থেকে একটি অঙ্গুলি নামিয়ে ফেলে বলতে চেয়েছেন যে, মাস উনত্রিশ দিনেরও হয়।

২১৪৩

أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، قَالَ حَدَّثَنَا مُحَمَّدٌ، قَالَ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ عُقْبَةَ، - يَعْنِي ابْنَ حُرَيْثٍ - قَالَ سَمِعْتُ ابْنَ عُمَرَ، يَقُولُ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " الشَّهْرُ تِسْعٌ وَعِشْرُونَ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

২১৪৭। মুহাম্মাদ ইবনে মুছান্না (রাহঃ) ......... ইবনে উমর (রাযিঃ) বলেন যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ মাস (কখনো) উনত্রিশ দিনেরও হয়।

সাহরী খাওয়ার উৎসাহ প্রদান

باب الْحَثِّ عَلَى السَّحُورِ

২১৪৪

أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، قَالَ حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ، قَالَ حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ عَيَّاشٍ، عَنْ عَاصِمٍ، عَنْ زِرٍّ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " تَسَحَّرُوا فَإِنَّ فِي السَّحُورِ بَرَكَةً " . وَقَفَهُ عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ سَعِيدٍ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ)

২১৪৮। মুহাম্মাদ ইবনে বাশশার (রাহঃ) ......... আব্দুলাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন যে, তোমরা সাহরী (ভোর রাত্রের খাওয়া) খাও। কেননা সাহরীতে বরকত রয়েছে।

২১৪৫

أَخْبَرَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ سَعِيدٍ، قَالَ حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ، عَنْ أَبِي بَكْرِ بْنِ عَيَّاشٍ، عَنْ عَاصِمٍ، عَنْ زِرٍّ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ تَسَحَّرُوا . قَالَ عُبَيْدُ اللَّهِ لاَ أَدْرِي كَيْفَ لَفْظُهُ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ)

২১৪৯। উবাইদুল্লাহ ইবনে সাঈদ (রাহঃ) ......... আব্দুল্লাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন যে, তোমরা সাহরী খাও। উবাইদুল্লাহ (রাহঃ) বলেন যে, আমি পুরোপুরি জানি না যে, এ হাদীসের বাক্য কিরূপ ছিল।

২১৪৬

أَخْبَرَنَا قُتَيْبَةُ، قَالَ حَدَّثَنَا أَبُو عَوَانَةَ، عَنْ قَتَادَةَ، وَعَبْدِ الْعَزِيزِ، عَنْ أَنَسٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " تَسَحَّرُوا فَإِنَّ فِي السَّحُورِ بَرَكَةً " .

বর্ণনাকারী: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

২১৫০। কুতায়বা (রাহঃ) ......... আনাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন যে, তোমরা সাহরী খাও। কেননা সাহরীতে বরকত রয়েছে।

আব্দুল মালিক ইবনে আবু সুলাইমান (রাহঃ) সূত্রে এ হাদীস বর্ণনায় সনদের পার্থক্য

باب ذِكْرِ الاِخْتِلاَفِ عَلَى عَبْدِ الْمَلِكِ بْنِ أَبِي سُلَيْمَانَ فِي هَذَا الْحَدِيثِ

২১৪৭

أَخْبَرَنَا عَلِيُّ بْنُ سَعِيدِ بْنِ جَرِيرٍ، - نَسَائِيٌّ - قَالَ حَدَّثَنَا أَبُو الرَّبِيعِ، قَالَ حَدَّثَنَا مَنْصُورُ بْنُ أَبِي الأَسْوَدِ، عَنْ عَبْدِ الْمَلِكِ بْنِ أَبِي سُلَيْمَانَ، عَنْ عَطَاءٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " تَسَحَّرُوا فَإِنَّ فِي السَّحُورِ بَرَكَةً " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

২১৫১। আলী ইবনে সাঈদ (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ তোমরা সাহরী খাও। কেননা সাহরীতে বরকত রয়েছে।

২১৪৮

أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ سُلَيْمَانَ، قَالَ حَدَّثَنَا يَزِيدُ، قَالَ أَنْبَأَنَا عَبْدُ الْمَلِكِ بْنُ أَبِي سُلَيْمَانَ، عَنْ عَطَاءٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ تَسَحَّرُوا فَإِنَّ فِي السَّحُورِ بَرَكَةً . رَفَعَهُ ابْنُ أَبِي لَيْلَى .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

২১৫২। আহমদ ইবনে সুলাইমান (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ তোমরা সাহরী খাও, কেননা সাহরীতে বরকত রয়েছে।

২১৪৯

أَخْبَرَنَا عَمْرُو بْنُ عَلِيٍّ، قَالَ حَدَّثَنَا يَحْيَى، قَالَ حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي لَيْلَى، عَنْ عَطَاءٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " تَسَحَّرُوا فَإِنَّ فِي السَّحُورِ بَرَكَةً " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

২১৫৩। আমর ইবনে আলী (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ তোমরা সাহরী খাও, কেননা সাহরীতে বরকত রয়েছে।

২১৫০

أَخْبَرَنَا عَبْدُ الأَعْلَى بْنُ وَاصِلِ بْنِ عَبْدِ الأَعْلَى، قَالَ حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ آدَمَ، عَنْ سُفْيَانَ، عَنِ ابْنِ أَبِي لَيْلَى، عَنْ عَطَاءٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " تَسَحَّرُوا فَإِنَّ فِي السَّحُورِ بَرَكَةً " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

২১৫৪। আব্দুল আলা ইবনে আব্দুল ওয়াসিল (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন যে, তোমরা সাহরী খাও। কেননা সাহরীতে বরকত রয়েছে।

২১৫১

أَخْبَرَنَا زَكَرِيَّا بْنُ يَحْيَى، قَالَ حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ خَلاَّدٍ، قَالَ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ فُضَيْلٍ، قَالَ حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " تَسَحَّرُوا فَإِنَّ فِي السَّحُورِ بَرَكَةً " . قَالَ أَبُو عَبْدِ الرَّحْمَنِ حَدِيثُ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ هَذَا إِسْنَادُهُ حَسَنٌ وَهُوَ مُنْكَرٌ وَأَخَافُ أَنْ يَكُونَ الْغَلَطُ مِنْ مُحَمَّدِ بْنِ فُضَيْلٍ .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

২১৫৫। যাকারিয়া ইবনে ইয়াহয়া (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন যে, তোমরা সাহরী খাও। কেননা সাহরীতে বরকত রয়েছে।

সাহরী বিলম্বে খাওয়া

باب تَأْخِيرِ السَّحُورِ وَذِكْرِ الاِخْتِلاَفِ عَلَى زِرٍّ فِيهِ

২১৫২

أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يَحْيَى بْنِ أَيُّوبَ، قَالَ أَنْبَأَنَا وَكِيعٌ، قَالَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ عَاصِمٍ، عَنْ زِرٍّ، قَالَ قُلْنَا لِحُذَيْفَةَ أَىَّ سَاعَةٍ تَسَحَّرْتَ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ هُوَ النَّهَارُ إِلاَّ أَنَّ الشَّمْسَ لَمْ تَطْلُعْ .

বর্ণনাকারী: হযরত হুযায়ফা রাযি

২১৫৬। মুহাম্মাদ ইবনে ইয়াহয়া (রাহঃ) ......... যির (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন যে, আমরা হুযাইফা (রাযিঃ)-এর কাছে বললাম, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সাথে আপনি কখন সাহরী খেতেন? তিনি বললেনঃ খুব ভোরেই। তবে হ্যাঁ, তখনো সূর্য উদয় হত না (ভোর রাত্রের শেষের দিকে)।

২১৫৩

أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، قَالَ حَدَّثَنَا مُحَمَّدٌ، قَالَ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ عَدِيٍّ، قَالَ سَمِعْتُ زِرَّ بْنَ حُبَيْشٍ، قَالَ تَسَحَّرْتُ مَعَ حُذَيْفَةَ ثُمَّ خَرَجْنَا إِلَى الصَّلاَةِ فَلَمَّا أَتَيْنَا الْمَسْجِدَ صَلَّيْنَا رَكْعَتَيْنِ وَأُقِيمَتِ الصَّلاَةُ وَلَيْسَ بَيْنَهُمَا إِلاَّ هُنَيْهَةٌ .

বর্ণনাকারী: হযরত হুযায়ফা রাযি

২১৫৭। মুহাম্মাদ ইবনে বাশশার (রাহঃ) ......... যির ইবনে হুবায়স (রাহঃ) বলেন যে, আমি হুযাইফা (রাযিঃ)-এর সাথে সাহরী খেলাম। অতঃপর নামায আদায় করার জন্য বের হলাম। যখন আমরা মসজিদে পৌছে দু’রাকআত নামায আদায় করলাম (ফজরের সুন্নত)। তখনই (জামাআতের) ইকামত বলা হল। উভয়ের মাঝখানে মাত্র অল্প কিছুক্ষণ সময়ের ব্যবধান ছিল।

২১৫৪

أَخْبَرَنَا عَمْرُو بْنُ عَلِيٍّ، قَالَ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ فُضَيْلٍ، قَالَ حَدَّثَنَا أَبُو يَعْفُورٍ، قَالَ حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ، عَنْ صِلَةَ بْنِ زُفَرَ، قَالَ تَسَحَّرْتُ مَعَ حُذَيْفَةَ ثُمَّ خَرَجْنَا إِلَى الْمَسْجِدِ فَصَلَّيْنَا رَكْعَتَىِ الْفَجْرِ ثُمَّ أُقِيمَتِ الصَّلاَةُ فَصَلَّيْنَا .

বর্ণনাকারী: হযরত হুযায়ফা রাযি

২১৫৮। আমর ইবনে আলী (রাহঃ) ......... সিলাহ ইবনে যুফার (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি হুযাইফা (রাযিঃ)-এর সাথে সাহরী খেলাম। অতঃপর মসজিদে গিয়ে দু’রাক'আত ফজরের নামায (সুন্নত) আদায় করলাম। তারপরই নামাযের (জামাআতের) ইকামত দেয়া হল এবং আমরা নামায (ফজরের ফরয) আদায় করলাম।

সাহরী এবং ফজরের নামাযের মধ্যকার ব্যবধান

باب قَدْرِ مَا بَيْنَ السُّحُورِ وَبَيْنَ صَلاَةِ الصُّبْحِ

২১৫৫

أَخْبَرَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، قَالَ حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، قَالَ حَدَّثَنَا هِشَامٌ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ أَنَسٍ، عَنْ زَيْدِ بْنِ ثَابِتٍ، قَالَ تَسَحَّرْنَا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ثُمَّ قُمْنَا إِلَى الصَّلاَةِ . قُلْتُ كَمْ كَانَ بَيْنَهُمَا قَالَ قَدْرَ مَا يَقْرَأُ الرَّجُلُ خَمْسِينَ آيَةً .

বর্ণনাকারী: যায়দ ইবনে ছাবিত (রাঃ)

২১৫৯। ইসহাক ইবনে ইবরাহীম (রাহঃ) ......... আনাস (রাযিঃ) সূত্রে যায়দ ইবনে ছাবিত (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন যে, আমরা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সাথে সাহরী খেলাম। অতঃপর নামায আদায়ের জন্য দাঁড়িয়ে গেলাম। রাবী বলেনঃ আমি জিজ্ঞাসা করলাম যে, এতদুভয়ের মধ্যকার ব্যবধান কতক্ষণ ছিল? তিনি বললেনঃ কোন ব্যক্তির পঞ্চাশ আয়াত পড়ার সম পরিমাণ সময়।

হিশাম ও সাঈদ (রাহঃ) কর্তৃক কাতাদার বর্ণনায় পার্থক্য

باب ذِكْرِ اخْتِلاَفِ هِشَامٍ وَسَعِيدٍ عَلَى قَتَادَةَ فِيهِ

২১৫৬

أَخْبَرَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ مَسْعُودٍ، قَالَ حَدَّثَنَا خَالِدٌ، قَالَ حَدَّثَنَا هِشَامٌ، قَالَ حَدَّثَنَا قَتَادَةُ، عَنْ أَنَسٍ، عَنْ زَيْدِ بْنِ ثَابِتٍ، قَالَ تَسَحَّرْنَا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ثُمَّ قُمْنَا إِلَى الصَّلاَةِ . قُلْتُ زُعِمَ أَنَّ أَنَسًا الْقَائِلُ مَا كَانَ بَيْنَ ذَلِكَ قَالَ قَدْرَ مَا يَقْرَأُ الرَّجُلُ خَمْسِينَ آيَةً .

বর্ণনাকারী: যায়দ ইবনে ছাবিত (রাঃ)

২১৬০। ইসমাঈল ইবনে মাসউদ (রাহঃ) ......... যায়দ ইবনে ছাবিত (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সাথে সাহরী খেলাম। অতঃপর (ফজরের) নামায আদায়ের জন্য দাঁড়িয়ে গেলাম। রাবী বলেনঃ সম্ভবত আনাস (রাযিঃ) জিজ্ঞাসা করছিলেন, উভয়ের মাঝখানের ব্যবধান কতক্ষণ ছিল? তখন তিনি বলেছিলেন কোন ব্যক্তির পঞ্চাশ আয়াত পড়ার সমপরিমাণ সময় (এর ব্যবধান ছিল)।

২১৫৭

أَخْبَرَنَا أَبُو الأَشْعَثِ، قَالَ حَدَّثَنَا خَالِدٌ، قَالَ حَدَّثَنَا سَعِيدٌ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ أَنَسٍ، رضى الله عنه قَالَ تَسَحَّرَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَزَيْدُ بْنُ ثَابِتٍ ثُمَّ قَامَا فَدَخَلاَ فِي صَلاَةِ الصُّبْحِ . فَقُلْنَا لأَنَسٍ كَمْ كَانَ بَيْنَ فَرَاغِهِمَا وَدُخُولِهِمَا فِي الصَّلاَةِ قَالَ قَدْرَ مَا يَقْرَأُ الإِنْسَانُ خَمْسِينَ آيَةً .

বর্ণনাকারী: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

২১৬১। আবুল আসআছ (রাহঃ) ......... আনাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এবং যায়দ ইবনে ছাবিত (রাযিঃ) একত্রে সাহরী খেলেন। অতঃপর উভয়ে ফজরের নামায শুরু করে দিলেন। রাবী বলেনঃ আমরা আনাস (রাযিঃ)-কে জিজ্ঞাসা করলাম যে, তাঁদের সাহরী শেষ করা এবং নামায শুরু করার মধ্যকার ব্যবধান কতক্ষণ ছিল। তিনি বলেনঃ কোন ব্যক্তির পঞ্চাশ আয়াত পড়ার সমপরিমাণ সময়।

সুলাইমান ইবনে মিহরান (রাহঃ) কর্তৃক আয়িশা (রাযিঃ) থেকে সাহরী বিলম্বে খাওয়ার শব্দ ও সনদের পার্থক্য বর্ণনা

باب ذِكْرِ الاِخْتِلاَفِ عَلَى سُلَيْمَانَ بْنِ مِهْرَانَ فِي حَدِيثِ عَائِشَةَ فِي تَأْخِيرِ السُّحُورِ وَاخْتِلاَفِ أَلْفَاظِهِمْ

২১৫৮

أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الأَعْلَى، قَالَ حَدَّثَنَا خَالِدٌ، قَالَ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ سُلَيْمَانَ، عَنْ خَيْثَمَةَ، عَنْ أَبِي عَطِيَّةَ، قَالَ قُلْتُ لِعَائِشَةَ فِينَا رَجُلاَنِ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَحَدُهُمَا يُعَجِّلُ الإِفْطَارَ وَيُؤَخِّرُ السُّحُورَ وَالآخَرُ يُؤَخِّرُ الإِفْطَارَ وَيُعَجِّلُ السُّحُورَ . قَالَتْ أَيُّهُمَا الَّذِي يُعَجِّلُ الإِفْطَارَ وَيُؤَخِّرُ السُّحُورَ قُلْتُ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مَسْعُودٍ . قَالَتْ هَكَذَا كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَصْنَعُ .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

২১৬২। মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল আলা (রাহঃ) ......... আবু আতিয়্যা (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি আয়িশা (রাযিঃ)-কে বললাম, আমাদের মধ্যে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর এমন দু’জন সাহাবী আছেন, যাদের একজন ইফতার তাড়াতাড়ি করেন এবং সাহরী বিলম্বে খান। আর দ্বিতীয়জন ইফতার বিলম্বে করেন এবং সাহরী তাড়াতাড়ি খান। তিনি জিজ্ঞাসা করলেন যে, তাঁদের মধ্যে কে ইফতার তাড়াতাড়ি করেন এবং সাহরী বিলম্বে খান? আমি বললাম আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাযিঃ)। তিনি [আয়িশা (রাযিঃ)] বললেন যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এরকমই করতেন।

২১৫৯

أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، قَالَ حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ، قَالَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ خَيْثَمَةَ، عَنْ أَبِي عَطِيَّةَ، قَالَ قُلْتُ لِعَائِشَةَ فِينَا رَجُلاَنِ أَحَدُهُمَا يُعَجِّلُ الإِفْطَارَ وَيُؤَخِّرُ السُّحُورَ وَالآخَرُ يُؤَخِّرُ الْفِطْرَ وَيُعَجِّلُ السُّحُورَ . قَالَتْ أَيُّهُمَا الَّذِي يُعَجِّلُ الإِفْطَارَ وَيُؤَخِّرُ السُّحُورَ قُلْتُ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مَسْعُودٍ . قَالَتْ هَكَذَا كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَصْنَعُ .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

২১৬৩। মুহাম্মাদ ইবনে বাশাশার (রাহঃ) ......... আবু আতিয়্যা (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আয়িশা (রাযিঃ)-কে বললাম যে, আমাদের মধ্যে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর এমন দুজন সাহাবী আছেন যাদের একজন ইফতার তাড়াতাড়ি করেন, সাহরী বিলম্বে খান। অন্যজন ইফতার বিলম্বে করেন এবং সাহরী তাড়াতাড়ি খান। তিনি জিজ্ঞাসা করলেন যে, কে ইফতার তাড়াতাড়ি করেন এবং সাহরী বিলম্বে খান? আমি বললামঃ আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাযিঃ)। তখন তিনি বললেন যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এ রকমই করতেন।

২১৬০

أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ سُلَيْمَانَ، قَالَ حَدَّثَنَا حُسَيْنٌ، عَنْ زَائِدَةَ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ عُمَارَةَ، عَنْ أَبِي عَطِيَّةَ، قَالَ دَخَلْتُ أَنَا وَمَسْرُوقٌ، عَلَى عَائِشَةَ فَقَالَ لَهَا مَسْرُوقٌ رَجُلاَنِ مِنْ أَصْحَابِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كِلاَهُمَا لاَ يَأْلُو عَنِ الْخَيْرِ أَحَدُهُمَا يُؤَخِّرُ الصَّلاَةَ وَالْفِطْرَ وَالآخَرُ يُعَجِّلُ الصَّلاَةَ وَالْفِطْرَ . فَقَالَتْ عَائِشَةُ أَيُّهُمَا الَّذِي يُعَجِّلُ الصَّلاَةَ وَالْفِطْرَ قَالَ مَسْرُوقٌ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مَسْعُودٍ . فَقَالَتْ عَائِشَةُ هَكَذَا كَانَ يَصْنَعُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

২১৬৪। আহমদ ইবনে সুলাইমান (রাহঃ) ......... আবু আতিয়্যা (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন যে, একদা আমি এবং মাসরুক (রাহঃ) আয়িশা (রাযিঃ)-এর কাছে গেলাম। তখন মাসরুক (রাহঃ) আয়িশা (রাযিঃ)-কে বললেন যে, আমাদের মাঝে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর এমন দু’জন সাহাবী আছে, তারা উভয়েই সাওয়াব পাওয়ার আকাঙ্ক্ষী। তন্মধ্যে একজন মাগরিবের নামায এবং ইফতার বিলম্বে করেন। আর অপরজন মাগরিবের নামায এবং ইফতার তাড়াতাড়ি করেন।

তখন আয়িশা (রাযিঃ) জিজ্ঞাসা করলেন যে, কে মাগবিবের নামায এবং ইফতার তাড়াতাড়ি করেন, মাসরুক (রাহঃ) বললেন, আব্দুলাহ ইবনে মাসউদ (রাযিঃ)। তখন আয়িশা (রাযিঃ) বললেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এরকমই করতেন।
২১৬১

أَخْبَرَنَا هَنَّادُ بْنُ السَّرِيِّ، عَنْ أَبِي مُعَاوِيَةَ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ عُمَارَةَ، عَنْ أَبِي عَطِيَّةَ، قَالَ دَخَلْتُ أَنَا وَمَسْرُوقٌ، عَلَى عَائِشَةَ فَقُلْنَا لَهَا يَا أُمَّ الْمُؤْمِنِينَ رَجُلاَنِ مِنْ أَصْحَابِ مُحَمَّدٍ صلى الله عليه وسلم أَحَدُهُمَا يُعَجِّلُ الإِفْطَارَ وَيُعَجِّلُ الصَّلاَةَ وَالآخَرُ يُؤَخِّرُ الإِفْطَارَ وَيُؤَخِّرُ الصَّلاَةَ . فَقَالَتْ أَيُّهُمَا يُعَجِّلُ الإِفْطَارَ وَيُعَجِّلُ الصَّلاَةَ قُلْنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مَسْعُودٍ . قَالَتْ هَكَذَا كَانَ يَصْنَعُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم . وَالآخَرُ أَبُو مُوسَى رضى الله عنهما .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

২১৬৫। হান্নাদ ইবনে সারী (রাহঃ) ......... আবু আতিয়্যা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন যে, আমি এবং মাসরুক (রাহঃ) আয়িশা (রাযিঃ)-এর কাছে গেলাম এবং বললাম হে মু’মিনদের মাতা! আমাদের মধ্যে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর এমন দু’জন সাহাবী আছেন যাদের একজন ইফতার তাড়াতাড়ি করেন এবং মাগরিবের নামাযও তাড়াতাড়ি করেন। আর অন্যজন ইফতার বিলম্বে করেন এবং এবং মাগরিবের নামাযও বিলম্বে আদায় করেন। তখন তিনি জিজ্ঞাসা করলেন যে, তাদের মধ্যে কে ইফতার তাড়াতাড়ি করেন এবং মাগরিবের নামায তাড়াতাড়ি আদায় করেন? আমরা বললাম আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাযিঃ)। তখন তিনি বললেন যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-ও এরকমই করতেন। (রাবী বলেন) দ্বিতীয় সাহাবী ছিলেন আবু মুসা (রাযিঃ)।

সাহরীর ফযীলত

باب فَضْلِ السُّحُورِ

২১৬২

أَخْبَرَنَا إِسْحَاقُ بْنُ مَنْصُورٍ، قَالَ أَنْبَأَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ، قَالَ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ عَبْدِ الْحَمِيدِ، صَاحِبِ الزِّيَادِيِّ قَالَ سَمِعْتُ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ الْحَارِثِ، يُحَدِّثُ عَنْ رَجُلٍ، مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ دَخَلْتُ عَلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَهُوَ يَتَسَحَّرُ فَقَالَ " إِنَّهَا بَرَكَةٌ أَعْطَاكُمُ اللَّهُ إِيَّاهَا فَلاَ تَدَعُوهُ " .

বর্ণনাকারী: অজ্ঞাত সাহাবী

২১৬৬। ইসহাক ইবনে মনসুর (রাহঃ) ......... নবী (ﷺ) এর জনৈক সাহাবী থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন যে, আমি একদা নবী (ﷺ) এর কাছে গেলাম যখন তিনি সাহরী খাচ্ছিলেন। তখন তিনি বললেন যে, এতে বরকত রয়েছে, আল্লাহ তাআলা এ বরকত তোমাদেরকেই দান করেছেন। অতএব তোমরা একে ছাড়বে না।

সাহরী খাওয়ার জন্য আহবান করা

باب دَعْوَةِ السُّحُورِ

২১৬৩

أَخْبَرَنَا شُعَيْبُ بْنُ يُوسُفَ، - بَصْرِيٌّ - قَالَ حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ، عَنْ مُعَاوِيَةَ بْنِ صَالِحٍ، عَنْ يُونُسَ بْنِ سَيْفٍ، عَنِ الْحَارِثِ بْنِ زِيَادٍ، عَنْ أَبِي رُهْمٍ، عَنِ الْعِرْبَاضِ بْنِ سَارِيَةَ، قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَهُوَ يَدْعُو إِلَى السَّحُورِ فِي شَهْرِ رَمَضَانَ وَقَالَ " هَلُمُّوا إِلَى الْغَدَاءِ الْمُبَارَكِ " .

বর্ণনাকারী: ইরবায ইবনে সারিয়াহ (রাঃ)

২১৬৭। শুআয়ব ইবনে ইউসুফ বসরী (রাহঃ) ......... ইরবায ইবনে সারিয়া (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন যে, আমি রমযান মাসে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে সাহরী খাওয়ার জন্য আহবান করতে এবং বলতে শুনেছি যে, তোমরা সকলে পবিত্র আহারের দিকে এস।

সাহরীকে সকালের খাদ্য বলে নামকরণ

باب تَسْمِيَةِ السَّحُورِ غَدَاءً

২১৬৪

أَخْبَرَنَا سُوَيْدُ بْنُ نَصْرٍ، قَالَ أَنْبَأَنَا عَبْدُ اللَّهِ، عَنْ بَقِيَّةَ بْنِ الْوَلِيدِ، قَالَ أَخْبَرَنِي بَحِيرُ بْنُ سَعْدٍ، عَنْ خَالِدِ بْنِ مَعْدَانَ، عَنِ الْمِقْدَامِ بْنِ مَعْدِيكَرِبَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " عَلَيْكُمْ بِغَدَاءِ السُّحُورِ فَإِنَّهُ هُوَ الْغَدَاءُ الْمُبَارَكُ " .

বর্ণনাকারী: হযরত মিকদাম ইবনে মা’দীকারিব (রাঃ)

২১৬৮। সুওয়াইদ ইবনে নসর (রাহঃ) ......... মিকদাম ইবনে মা’দী কারিব (রাযিঃ) সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন তোমরা ভোর রাত্রের খাদ্য অবশ্যই খাবে। কেননা সেটাই সকাল বেলার পবিত্র খাবার।

২১৬৫

أَخْبَرَنَا عَمْرُو بْنُ عَلِيٍّ، قَالَ حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ، قَالَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ ثَوْرٍ، عَنْ خَالِدِ بْنِ مَعْدَانَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لِرَجُلٍ " هَلُمَّ إِلَى الْغَدَاءِ الْمُبَارَكِ " . يَعْنِي السَّحُورَ .

বর্ণনাকারী: খালিদ ইবনে মা‘দান (রহঃ)

২১৬৯। আমর ইবনে আলী (রাহঃ) ......... খালিদ ইবনে মা’দান (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এক ব্যক্তিকে বলেছেনঃ তোমরা সকাল বেলার পবিত্র আহারের দিকে এসো অর্থাৎ সাহরীর দিকে এস।

আমাদের রোযা এবং আহলে কিতাবের রোযার মধ্যে পার্থক্য

باب فَصْلِ مَا بَيْنَ صِيَامِنَا وَصِيَامِ أَهْلِ الْكِتَابِ

২১৬৬

أَخْبَرَنَا قُتَيْبَةُ، قَالَ حَدَّثَنَا اللَّيْثُ، عَنْ مُوسَى بْنِ عُلَىٍّ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي قَيْسٍ، عَنْ عَمْرِو بْنِ الْعَاصِ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " إِنَّ فَصْلَ مَا بَيْنَ صِيَامِنَا وَصِيَامِ أَهْلِ الْكِتَابِ أَكْلَةُ السُّحُورِ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আমর ইবনুল আস রাযি.

২১৭০। কুতায়বা (রাহঃ) ......... আমর ইবনে আস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন যে, আমাদের রোযা এবং আহলে কিতাব-এর রোযার মধ্যে পার্থক্য হল সাহরী খাওয়া। (আমরা সাহরী খাই কিন্তু ইয়াহুদী ও খ্রিস্টানরা তা খায় না)

ছাতু এবং খোরমা দ্বারা সাহরী খাওয়া

باب السُّحُورِ بِالسَّوِيقِ وَالتَّمْرِ

২১৬৭

أَخْبَرَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، قَالَ أَنْبَأَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، قَالَ أَنْبَأَنَا مَعْمَرٌ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ أَنَسٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَذَلِكَ عِنْدَ السُّحُورِ " يَا أَنَسُ إِنِّي أُرِيدُ الصِّيَامَ أَطْعِمْنِي شَيْئًا " . فَأَتَيْتُهُ بِتَمْرٍ وَإِنَاءٍ فِيهِ مَاءٌ وَذَلِكَ بَعْدَ مَا أَذَّنَ بِلاَلٌ فَقَالَ " يَا أَنَسُ انْظُرْ رَجُلاً يَأْكُلُ مَعِي " . فَدَعَوْتُ زَيْدَ بْنَ ثَابِتٍ فَجَاءَ فَقَالَ إِنِّي قَدْ شَرِبْتُ شَرْبَةَ سَوِيقٍ وَأَنَا أُرِيدُ الصِّيَامَ . فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " وَأَنَا أُرِيدُ الصِّيَامَ " . فَتَسَحَّرَ مَعَهُ ثُمَّ قَامَ فَصَلَّى رَكْعَتَيْنِ ثُمَّ خَرَجَ إِلَى الصَّلاَةِ .

বর্ণনাকারী: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

২১৭১। ইসহাক ইবনে ইবরাহীম (রাহঃ) ......... আনাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, (একদা) রাসূলুল্লাহ (ﷺ) সাহরীর সময় বললেন যে, হে আনাস! আমি রোযা পালন করার ইচ্ছা করেছি, তুমি আমাকে কিছু খাবার দাও। তখন আমি তাঁর কাছে কিছু খোরমা এবং পানীয় একটি পাত্র আনলাম। এগুলো আমি বেলাল (রাযিঃ)-এর (সাহরী) আযান দেওয়ার পর এনেছিলাম। তখন তিনি বললেনঃ হে আনাস! একজন লোক তালাশ করে আন সে আমার সাথে আহার করবে।

তখন আমি যায়দ ইবনে ছাবিত (রাযিঃ)-কে ডাকলাম, তিনি এসে বললেনঃ আমি কিছু ছাতূর পানি পান করেছি এবং রোযা পালন করার ইচ্ছা করেছি। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ আমিও তো রোযা পালন করার ইচ্ছা করেছি। অতঃপর তার সাথে সাহরী খেলেন এবং দাঁড়িয়ে গিয়ে দু’রাক'আত নামায (ফজরের সুন্নত) আদায় করে ফজরের ফরয নামায আদায় করার জন্য বের হয়ে গেলেন।

আল্লাহ তাআলার বাণীঃ وَكُلُوا وَاشْرَبُوا حَتَّى يَتَبَيَّنَ لَكُمُ الْخَيْطُ الأَبْيَضُ مِنَ الْخَيْطِ الأَسْوَدِ مِنَ الْفَجْرِ এর ব্যাখা

باب تَأْوِيلِ قَوْلِ اللَّهِ تَعَالَى وَكُلُوا وَاشْرَبُوا حَتَّى يَتَبَيَّنَ لَكُمُ الْخَيْطُ الأَبْيَضُ مِنَ الْخَيْطِ الأَسْوَدِ مِنَ الْفَجْرِ

২১৬৮

أَخْبَرَنِي هِلاَلُ بْنُ الْعَلاَءِ بْنِ هِلاَلٍ، قَالَ حَدَّثَنَا حُسَيْنُ بْنُ عَيَّاشٍ، قَالَ حَدَّثَنَا زُهَيْرٌ، قَالَ حَدَّثَنَا أَبُو إِسْحَاقَ، عَنِ الْبَرَاءِ بْنِ عَازِبٍ، أَنَّ أَحَدَهُمْ، كَانَ إِذَا نَامَ قَبْلَ أَنْ يَتَعَشَّى لَمْ يَحِلَّ لَهُ أَنْ يَأْكُلَ شَيْئًا وَلاَ يَشْرَبَ لَيْلَتَهُ وَيَوْمَهُ مِنَ الْغَدِ حَتَّى تَغْرُبَ الشَّمْسُ حَتَّى نَزَلَتْ هَذِهِ الآيَةُ ( وَكُلُوا وَاشْرَبُوا ) إِلَى ( الْخَيْطِ الأَسْوَدِ ) قَالَ وَنَزَلَتْ فِي أَبِي قَيْسِ بْنِ عَمْرٍو أَتَى أَهْلَهُ وَهُوَ صَائِمٌ بَعْدَ الْمَغْرِبِ فَقَالَ هَلْ مِنْ شَىْءٍ فَقَالَتِ امْرَأَتُهُ مَا عِنْدَنَا شَىْءٌ وَلَكِنْ أَخْرُجُ أَلْتَمِسُ لَكَ عَشَاءً . فَخَرَجَتْ وَوَضَعَ رَأْسَهُ فَنَامَ فَرَجَعَتْ إِلَيْهِ فَوَجَدَتْهُ نَائِمًا وَأَيْقَظَتْهُ فَلَمْ يَطْعَمْ شَيْئًا وَبَاتَ وَأَصْبَحَ صَائِمًا حَتَّى انْتَصَفَ النَّهَارُ فَغُشِيَ عَلَيْهِ وَذَلِكَ قَبْلَ أَنْ تَنْزِلَ هَذِهِ الآيَةُ فَأَنْزَلَ اللَّهُ فِيهِ .

বর্ণনাকারী: হযরত বারা’ ইবনে আযিব (রাঃ)

২১৭২। হিলাল ইবনে আলা (রাহঃ) ......... বারা ইবনে আযিব (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ তাদের কেউ যদি রাত্রের আহার না করেই ঘুমিয়ে পড়ত তবে তার জন্য সেই রাত্রে এবং পরের দিন সূর্যাস্ত পর্যন্ত কিছু খাওয়া ও পান করা বৈধ ছিল না। (... وَكُلُوا وَاشْرَبُوا) এই আয়াত অবতীর্ণ হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত (এ নিয়ম ছিল)। রাবী বলেন, এই আয়াত আবু কায়স ইবনে আমর (রাযিঃ) সম্পর্কে অবতীর্ণ হয়েছিল। তিনি রোযা পালন করে মাগরিবের পর নিজ স্ত্রীর কাছে এসে বললেন যে, আহার করার মত কিছু আছে কি? তার স্ত্রী বললেন, আমার কাছে তো আহার করার মত কিছু নেই। তবে আমি আপনার জন্য রাত্রের আহারের সন্ধানে বের হচ্ছি। তারপর তাঁর স্ত্রী বের হয়ে গেলেন।

ইতিমধ্যে তিনি মাথা রেখে শুয়ে পড়লেন এবং ঘুমিয়ে গেলেন। কিছুক্ষণ পর স্ত্রী তাঁর কাছে ফিরে এসে তাকে নিদ্রিত অবস্থায় পেয়ে জাগিয়ে দিলেন কিন্তু তিনি কিছুই না খেয়েই রাত্র কাটিয়ে সকাল থেকে রোযা পালনরত থাকলেন। দুপুর হলে তিনি সংজ্ঞা হারিয়ে ফেললেন। এ ঘটনাটি এ আয়াত অবতীর্ণ হওয়ার পূর্বেই সংঘটিত হয়েছিল। তার পরেই আল্লাহ তাআলা এ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে অত্র আয়াত অবতীর্ণ করেন।
২১৬৯

أَخْبَرَنَا عَلِيُّ بْنُ حُجْرٍ، قَالَ حَدَّثَنَا جَرِيرٌ، عَنْ مُطَرِّفٍ، عَنِ الشَّعْبِيِّ، عَنْ عَدِيِّ بْنِ حَاتِمٍ، أَنَّهُ سَأَلَ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَنْ قَوْلِهِ تَعَالَى (حَتَّى يَتَبَيَّنَ لَكُمُ الْخَيْطُ الأَبْيَضُ مِنَ الْخَيْطِ الأَسْوَدِ) قَالَ " هُوَ سَوَادُ اللَّيْلِ وَبَيَاضُ النَّهَارِ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আদী ইবনে হাতিম (রাঃ)

২১৭৩। আলী ইবনে হুজর (রাহঃ) ......... আদি ইবনে হাতিম (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে আল্লাহর বাণীঃ حَتَّى يَتَبَيَّنَ لَكُمُ الْخَيْطُ الأَبْيَضُ مِنَ الْخَيْطِ الأَسْوَدِ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বললেন, এ হল রাত্রের অন্ধকার এবং দিনের শুভ্রতা।

ফজর কখন হবে?

باب كَيْفَ الْفَجْرُ

২১৭০

أَخْبَرَنَا عَمْرُو بْنُ عَلِيٍّ، قَالَ حَدَّثَنَا يَحْيَى، قَالَ حَدَّثَنَا التَّيْمِيُّ، عَنْ أَبِي عُثْمَانَ، عَنِ ابْنِ مَسْعُودٍ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " إِنَّ بِلاَلاً يُؤَذِّنُ بِلَيْلٍ لِيُنَبِّهَ نَائِمَكُمْ وَيُرْجِعَ قَائِمَكُمْ وَلَيْسَ الْفَجْرُ أَنْ يَقُولَ هَكَذَا " . وَأَشَارَ بِكَفِّهِ " وَلَكِنِ الْفَجْرُ أَنْ يَقُولَ هَكَذَا " . وَأَشَارَ بِالسَّبَّابَتَيْنِ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ)

২১৭৪। আমর ইবনে আলী (রাহঃ) ......... ইবনে মাসউদ (রাযিঃ) সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেছেন যে, তোমাদের মধ্যে যারা নিদ্রিত তাদের জাগ্রত করার জন্য এবং তোমাদের মধ্যে যারা তাহাজ্জুদের নামায আদায়ে রত আছে তাদের বিরত করার জন্য বিলাল (রাযিঃ) রাত্রে আযান দেয়। অতঃপর তিনি (নবী (ﷺ)) উভয় হাতের কব্জি দ্বারা ইঙ্গিত করে দেখালেন যে এরূপ চিহ্ন প্রকাশ পাওয়া ফজর হওয়ার লক্ষণ নয়। বরং ফজর হওয়ার লক্ষণ হল এরকম চিহ্ন প্রকাশ পাওয়া। এই বলে তিনি স্বীয় তর্জনী অঙ্গূলিদ্বয় দ্বারা ইঙ্গিত করলেন।

২১৭১

أَخْبَرَنَا مَحْمُودُ بْنُ غَيْلاَنَ، قَالَ حَدَّثَنَا أَبُو دَاوُدَ، قَالَ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، أَنْبَأَنَا سَوَادَةُ بْنُ حَنْظَلَةَ، قَالَ سَمِعْتُ سَمُرَةَ، يَقُولُ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " لاَ يَغُرَّنَّكُمْ أَذَانُ بِلاَلٍ وَلاَ هَذَا الْبَيَاضُ حَتَّى يَنْفَجِرَ الْفَجْرُ هَكَذَا وَهَكَذَا " . يَعْنِي مُعْتَرِضًا . قَالَ أَبُو دَاوُدَ وَبَسَطَ بِيَدَيْهِ يَمِينًا وَشِمَالاً مَادًّا يَدَيْهِ .

বর্ণনাকারী: হযরত সামুরা ইবনে জুনদুব (রাঃ)

২১৭৫। মাহমুদ ইবনে গায়ালান (রাহঃ) ......... সামুরা (রাযিঃ) বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন যে, বিলাল (রাযিঃ)-এর আযান এবং এই শুভ্রতা যেন তোমাদেরকে বিভ্রান্তিতে ফেলে না দেয়, যতক্ষণ না এ রকম, এরকমভাবে প্রভাতের আলোর রেখা প্রকাশ পায় অর্থাৎ দিগন্তে। আবু দাউদ (রাহঃ) বলেন যে, এরপর তিনি স্বীয় হস্তদ্বয় লম্বালম্বিভাবে ডানে বামে ছড়িয়ে দিলেন।

রমযান মাস আসার পূর্বেই রোযা পালন করে দেয়া

باب التَّقَدُّمِ قَبْلَ شَهْرِ رَمَضَانَ

২১৭২

أَخْبَرَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، قَالَ أَنْبَأَنَا الْوَلِيدُ، عَنِ الأَوْزَاعِيِّ، عَنْ يَحْيَى، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " لاَ تَقَدَّمُوا قَبْلَ الشَّهْرِ بِصِيَامٍ إِلاَّ رَجُلٌ كَانَ يَصُومُ صِيَامًا أَتَى ذَلِكَ الْيَوْمُ عَلَى صِيَامِهِ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

২১৭৬। ইসহাক ইবনে ইবরাহীম (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) রাসূলুল্লাহ (ﷺ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেছেন যে, তোমরা রমযান মাস আগমন করার পূর্বেই রোযা পালন শুরু করে দেবে না। তবে হ্যাঁ, ঐ ব্যক্তি শুরু করতে পারবে, যে সর্বদা নিয়মিত রোযা পালন করত এবং তার নিয়মিত রোযা পালনকালীন দিনটি রমযান মাস আগমনের পূর্বের দিন হয়।

ইয়াহয়া ইবনে আবু কাসীর ও মুহাম্মাদ ইবনে আমর (রাহঃ) কর্তৃক আবু সালামা (রাহঃ) সূত্রে হাদীস বর্ণনায় পার্থক্যের উল্লেখ

باب ذِكْرِ الاِخْتِلاَفِ عَلَى يَحْيَى بْنِ أَبِي كَثِيرٍ وَمُحَمَّدِ بْنِ عَمْرٍو عَلَى أَبِي سَلَمَةَ فِيهِ

২১৭৩

أَخْبَرَنِي عِمْرَانُ بْنُ يَزِيدَ بْنِ خَالِدٍ، قَالَ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ شُعَيْبٍ، قَالَ أَنْبَأَنَا الأَوْزَاعِيُّ، عَنْ يَحْيَى، قَالَ حَدَّثَنِي أَبُو سَلَمَةَ، قَالَ أَخْبَرَنِي أَبُو هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " لاَ يَتَقَدَّمَنَّ أَحَدٌ الشَّهْرَ بِيَوْمٍ وَلاَ يَوْمَيْنِ إِلاَّ أَحَدٌ كَانَ يَصُومُ صِيَامًا قَبْلَهُ فَلْيَصُمْهُ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

২১৭৭। ইমরান ইবনে ইয়াযীদ (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ তোমাদের কেউ কখনো রমযান মাস আগমনের একদিন বা দুই দিন পূর্বেই রোযা পালন শুরু করে দেবে না। তবে হ্যাঁ, ঐ ব্যক্তি শুরু করতে পারবে, যে ইতিপূর্বেও ঐ সময় নিয়মিত রোযা পালন করত, সে তার রোযা পালন করতে পারবে।

২১৭৪

أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْعَلاَءِ، قَالَ حَدَّثَنَا أَبُو خَالِدٍ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَمْرٍو، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " لاَ تَتَقَدَّمُوا الشَّهْرَ بِصِيَامِ يَوْمٍ وَلاَ يَوْمَيْنِ إِلاَّ أَنْ يُوَافِقَ ذَلِكَ يَوْمًا كَانَ يَصُومُهُ أَحَدُكُمْ " . قَالَ أَبُو عَبْدِ الرَّحْمَنِ هَذَا خَطَأٌ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

২১৭৮। মুহাম্মাদ ইবনে ’আলা (রাহঃ) ......... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ তোমরা রমযান মাস আগমনের একদিন বা দুই দিন আগে রোযা পালন শুরু করে দেবে না। তবে হ্যাঁ, তোমাদের কেউ যদি পূর্ব থেকেই নিয়মিত রোযা পালন করত এবং তার সাথে এই সময়ের মিল হয়ে যায় তবে সেটা স্বতন্ত্র ব্যাপার।

এ প্রসঙ্গে আবু সালামা (রাহঃ) কর্তৃক হাদীস বর্ণনার উল্লেখ

باب ذِكْرِ حَدِيثِ أَبِي سَلَمَةَ فِي ذَلِكَ

২১৭৫

أَخْبَرَنَا شُعَيْبُ بْنُ يُوسُفَ، وَمُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، - وَاللَّفْظُ لَهُ - قَالاَ حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ، قَالَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ مَنْصُورٍ، عَنْ سَالِمٍ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ أُمِّ سَلَمَةَ، قَالَتْ مَا رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَصُومُ شَهْرَيْنِ مُتَتَابِعَيْنِ إِلاَّ أَنَّهُ كَانَ يَصِلُ شَعْبَانَ بِرَمَضَانَ .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন উম্মে সালামা (রাঃ)

২১৭৯। শুআয়ব ইবনে ইউসুফ (রাহঃ) ......... উম্মে সালামা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন যে, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে কখনো একাধারে দুই মাস রোযা পালন করতে দেখিনি। তবে হ্যাঁ, তিনি শা’বান মাসকে রমযান মাসের সাথে মিলাতেন (রোযা পালনসহ) অর্থাৎ তিনি একাধারে শা’বান ও রমযান মাসের রোযা পালন করতেন।

এ প্রসঙ্গে মুহাম্মাদ ইবনে ইবরাহীম (রাহঃ) সূত্রে হাদীস বর্ণনায় পার্থক্যের উল্লেখ

باب الاِخْتِلاَفِ عَلَى مُحَمَّدِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ فِيهِ

২১৭৬

أَخْبَرَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، قَالَ أَنْبَأَنَا النَّضْرُ، قَالَ أَنْبَأَنَا شُعْبَةُ، عَنْ تَوْبَةَ الْعَنْبَرِيِّ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ أُمِّ سَلَمَةَ، قَالَتْ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَصِلُ شَعْبَانَ بِرَمَضَانَ .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন উম্মে সালামা (রাঃ)

২১৮০। ইসহাক ইবনে ইবরাহীম (রাহঃ) ......... উম্মে সালামা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) শা’বান মাসকে রমযান মাসের সাথে মিলাতেন রোযা পালনসহ।

২১৭৭

أَخْبَرَنَا الرَّبِيعُ بْنُ سُلَيْمَانَ، قَالَ حَدَّثَنَا ابْنُ وَهْبٍ، قَالَ أَخْبَرَنِي أُسَامَةُ بْنُ زَيْدٍ، أَنَّ مُحَمَّدَ بْنَ إِبْرَاهِيمَ، حَدَّثَهُ عَنْ أَبِي سَلَمَةَ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، أَنَّهُ سَأَلَ عَائِشَةَ عَنْ صِيَامِ، رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَتْ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَصُومُ حَتَّى نَقُولَ لاَ يُفْطِرُ وَيُفْطِرُ حَتَّى نَقُولَ لاَ يَصُومُ وَكَانَ يَصُومُ شَعْبَانَ أَوْ عَامَّةَ شَعْبَانَ .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

২১৮১। রবী ইবনে সুলাইমান (রাহঃ) ......... আবু সালামা ইবনে আব্দুর রহমান (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি আয়িশা (রাযিঃ)-কে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর রোযা পালন সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বললেন যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যখন রোযা পালন করা শুরু করতেন তখন আমরা মনে মনে বলতাম যে, তিনি আর রোযা ভঙ্গ করবেন না। আবার যখন রোযা ভঙ্গ করা শুরু করতেন তখন আমরা মনে মনে বলতাম যে তিনি আর রোযা পালন করবেন না। তিনি শা’বান মাসের পূরা অধিকাংশ দিন রোযা পালন করতেন।

২১৭৮

أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ سَعْدِ بْنِ الْحَكَمِ، قَالَ حَدَّثَنَا عَمِّي، قَالَ حَدَّثَنَا نَافِعُ بْنُ يَزِيدَ، أَنَّ ابْنَ الْهَادِ، حَدَّثَهُ أَنَّ مُحَمَّدَ بْنَ إِبْرَاهِيمَ حَدَّثَهُ عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، - يَعْنِي ابْنَ عَبْدِ الرَّحْمَنِ - عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ لَقَدْ كَانَتْ إِحْدَانَا تُفْطِرُ فِي رَمَضَانَ فَمَا تَقْدِرُ عَلَى أَنْ تَقْضِيَ حَتَّى يَدْخُلَ شَعْبَانُ وَمَا كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَصُومُ فِي شَهْرٍ مَا يَصُومُ فِي شَعْبَانَ كَانَ يَصُومُهُ كُلَّهُ إِلاَّ قَلِيلاً بَلْ كَانَ يَصُومُهُ كُلَّهُ .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

২১৮২। আহমদ ইবনে সা’দ (রাহঃ) ......... আয়িশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, আমাদের কেউ (ঋতু ইত্যাদির কারণে) রমযান মাসের রোযা পালন করতে পারত না এবং তার কাযা আদায় করার সূযোগ পাওয়ার পূর্বেই শা’বান মাস এসে যেত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) শা’বান মাসের মত অন্য কোন মাসে এত অধিক রোযা পালন করতেন না। তিনি অল্প কয়েক দিন ব্যতীত পুরো শা’বান মাসই রোযা পালন করতেন; বরং (বলতে গেলে) পুরো শা’বান মাসই রোযা পালন করতেন।

এ বিষয়ে আয়িশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণনাকারীদের শব্দের পার্থক্য-এর উল্লেখ

باب ذِكْرِ اخْتِلاَفِ أَلْفَاظِ النَّاقِلِينَ لِخَبَرِ عَائِشَةَ فِيهِ

২১৭৯

أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ يَزِيدَ، قَالَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي لَبِيدٍ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، قَالَ سَأَلْتُ عَائِشَةَ فَقُلْتُ أَخْبِرِينِي عَنْ صِيَامِ، رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَتْ كَانَ يَصُومُ حَتَّى نَقُولَ قَدْ صَامَ وَيُفْطِرُ حَتَّى نَقُولَ قَدْ أَفْطَرَ وَلَمْ يَكُنْ يَصُومُ شَهْرًا أَكْثَرَ مِنْ شَعْبَانَ كَانَ يَصُومُ شَعْبَانَ إِلاَّ قَلِيلاً كَانَ يَصُومُ شَعْبَانَ كُلَّهُ .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

২১৮৩। মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল্লাহ (রাহঃ) ......... আবু সালামা (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন যে, আমি আয়িশা (রাযিঃ)-কে জিজ্ঞাসা করলাম, আমি তাঁকে বললাম, আপনি আমাকে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর রোযা পালন সম্পর্কে অবহিত করুন। তিনি বললেন যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যখন রোযা পালন করতে শুরু করতেন তখন আমরা মনে মনে বলতাম যে, তিনি হয়ত রোযাই পালন করতে থাকবেন।

আবার যখন রোযা ভঙ্গ করা শুরু করতেন তখন আমরা মনে মনে ধারণা করতাম যে, হয়ত রোযা ভঙ্গই করতে থাকবেন। আর তিনি শা’বান মাস অপেক্ষা অন্য কোন মাসে এত অবিক রোযা পালন করতেন না। উনি অল্প কিছু দিন ব্যতীত প্রায় পুরো শা’বান মাসই রোযা পালন করতেন।
২১৮০

أَخْبَرَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، قَالَ أَنْبَأَنَا مُعَاذُ بْنُ هِشَامٍ، قَالَ حَدَّثَنِي أَبِي، عَنْ يَحْيَى بْنِ أَبِي كَثِيرٍ، قَالَ حَدَّثَنِي أَبُو سَلَمَةَ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ لَمْ يَكُنْ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي شَهْرٍ مِنَ السَّنَةِ أَكْثَرَ صِيَامًا مِنْهُ فِي شَعْبَانَ كَانَ يَصُومُ شَعْبَانَ كُلَّهُ .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

২১৮৪। ইসহাক ইবনে ইবরাহীম (রাহঃ) ......... আয়িশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) পূরো বছরে শা’বান মাসের চেয়ে বেশী অন্য কোন মাসে এত অধিক (নফল) রোযা পালন করতেন না। তিনি পুরো শা’বান মাসই রোযা পালন করতেন।

২১৮১

أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ سُلَيْمَانَ، قَالَ حَدَّثَنَا أَبُو دَاوُدَ، عَنْ سُفْيَانَ، عَنْ مَنْصُورٍ، عَنْ خَالِدِ بْنِ سَعْدٍ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ كَانَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم يَصُومُ شَعْبَانَ .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

২১৮৫। আহমদ ইবনে সূলায়মাল (রাহঃ) ......... আয়িশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন যে, নবী (ﷺ) শা’বান মাস রোযা পালন করতেন।

২১৮২

أَخْبَرَنَا هَارُونُ بْنُ إِسْحَاقَ، عَنْ عَبْدَةَ، عَنْ سَعِيدٍ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ زُرَارَةَ بْنِ أَوْفَى، عَنْ سَعْدِ بْنِ هِشَامٍ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ لاَ أَعْلَمُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَرَأَ الْقُرْآنَ كُلَّهُ فِي لَيْلَةٍ وَلاَ قَامَ لَيْلَةً حَتَّى الصَّبَاحِ وَلاَ صَامَ شَهْرًا كَامِلاً قَطُّ غَيْرَ رَمَضَانَ .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

২১৮৬। হারুন ইবনে ইসহাক (রাহঃ) ......... আয়িশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি জানি না যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এক রাত্রে পূর্ণ কুরআন খতম করেছিলেন কিনা বা পূর্ণ রাত্রে সকাল পর্যন্ত জাগ্রত থেকে ছিলেন কিনা বা কখনো রমযান মাস ব্যতীত পূর্ণ মাস রোযা পালন করেছিলেন কিনা।

২১৮৩

أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ أَبِي يُوسُفَ الصَّيْدَلاَنِيُّ، - حَرَّانِيٌّ - قَالَ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ سَلَمَةَ، عَنْ هِشَامٍ، عَنِ ابْنِ سِيرِينَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ شَقِيقٍ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَ سَأَلْتُهَا عَنْ صِيَامِ، رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَتْ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَصُومُ حَتَّى نَقُولَ قَدْ صَامَ وَيُفْطِرُ حَتَّى نَقُولَ قَدْ أَفْطَرَ وَلَمْ يَصُمْ شَهْرًا تَامًّا مُنْذُ أَتَى الْمَدِينَةَ إِلاَّ أَنْ يَكُونَ رَمَضَانُ .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

২১৮৭। মুহাম্মাদ ইবনে আহমদ (রাহঃ) ......... আব্দুল্লাহ ইবনে শকীক (রাহঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি আয়িশা (রাযিঃ)-কে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর রোযা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বললেন যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যখন রোযা পালন করা শুরু করতেন তখন আমরা মনে মনে বলতাম যে তিনি হয়ত রোযাই পালন করতে থাকবেন আর যখন রোযা ভঙ্গ করা শুরু করতেন তখন আমরা মনে মনে বলতাম যে, তিনি হয়ত রোযা ভঙ্গই করতে থাকবেন। আর তিনি মদীনায় আসার পর থেকেই রমযান মাস ব্যতীত কখনো এক মাস রোযা পালন করতেন না।

২১৮৪

أَخْبَرَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ مَسْعُودٍ، قَالَ أَنْبَأَنَا خَالِدٌ، - وَهُوَ ابْنُ الْحَارِثِ - عَنْ كَهْمَسٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ شَقِيقٍ، قَالَ قُلْتُ لِعَائِشَةَ أَكَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يُصَلِّي صَلاَةَ الضُّحَى قَالَتْ لاَ إِلاَّ أَنْ يَجِيءَ مِنْ مَغِيبِهِ . قُلْتُ هَلْ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَصُومُ شَهْرًا كُلَّهُ قَالَتْ لاَ مَا عَلِمْتُ صَامَ شَهْرًا كُلَّهُ إِلاَّ رَمَضَانَ وَلاَ أَفْطَرَ حَتَّى يَصُومَ مِنْهُ حَتَّى مَضَى لِسَبِيلِهِ .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

২১৮৮। ইসমাঈল মাসউদ (রাহঃ) ......... আব্দুল্লাহ ইবনে শকীক (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আয়িশা (রাযিঃ) কে জিজ্ঞাসা করলাম যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কি চাশতের নামায আদায় করতেন? তিনি বললেন, না। তবে হ্যাঁ সফর থেকে আগমন করলে আদায় করতেন। আমি তাঁকে প্রশ্ন করলাম যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কি কখনো পূর্ণ এক মাস রোযা পালন করতেন? তিনি বললেনঃ না। আমি জানি না যে, তিনি কখনো রমযান মাস ব্যতীত পূর্ণ এক মাস রোযা পালন করেছেন আর কোন এক মাস ভঙ্গও করেন নাই বরং মৃত্যুর আগ পর্যন্ত মাসের কিছুদিন রোযা পালন করতেন (করতে অভ্যস্ত ছিলেন)।

২১৮৫

أَخْبَرَنَا أَبُو الأَشْعَثِ، عَنْ يَزِيدَ، - وَهُوَ ابْنُ زُرَيْعٍ - قَالَ حَدَّثَنَا الْجُرَيْرِيُّ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ شَقِيقٍ، قَالَ قُلْتُ لِعَائِشَةَ أَكَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يُصَلِّي صَلاَةَ الضُّحَى قَالَتْ لاَ إِلاَّ أَنْ يَجِيءَ مِنْ مَغِيبِهِ . قُلْتُ هَلْ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لَهُ صَوْمٌ مَعْلُومٌ سِوَى رَمَضَانَ قَالَتْ وَاللَّهِ إِنْ صَامَ شَهْرًا مَعْلُومًا سِوَى رَمَضَانَ حَتَّى مَضَى لِوَجْهِهِ وَلاَ أَفْطَرَ حَتَّى يَصُومَ مِنْهُ .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

২১৮৯। আবুল আশআছ (রাহঃ) ......... আব্দুল্লাহ ইবনে শাকীক (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আয়িশা (রাযিঃ)-কে জিজ্ঞাসা করলাম যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কি চাশতের নামায আদায় করতেন? তিনি বললেন, না; তবে হ্যাঁ সফর থেকে আসলে তখন আদায় করতেন। আমি আবার প্রশ্ন করলাম যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর জন্য কি রমযান মাস ব্যতীত কোন নির্দিষ্ট রোযা ছিল? তিনি বললেনঃ আল্লাহর শপথ, তিনি রমযান মাস ব্যতীত মৃত্যু অবধি কখনো পূর্ণ এক মাস রোযা পালন করতেন না আর পুর্ণ এক মাস রোযা ভঙ্গও করতেন না, বরং মাসের কিছুদিন রোযা পালন করতেন।

এ হাদীসে খালিদ ইবনে মা’দান (রাহঃ) থেকে বর্ণনার পার্থক্যের উল্লেখ

باب ذِكْرِ الاِخْتِلاَفِ عَلَى خَالِدِ بْنِ مَعْدَانَ فِي هَذَا الْحَدِيثِ

২১৮৬

أَخْبَرَنِي عَمْرُو بْنُ عُثْمَانَ، عَنْ بَقِيَّةَ، قَالَ حَدَّثَنَا بَحِيرٌ، عَنْ خَالِدٍ، عَنْ جُبَيْرِ بْنِ نُفَيْرٍ، أَنَّ رَجُلاً، سَأَلَ عَائِشَةَ عَنِ الصِّيَامِ، فَقَالَتْ إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَانَ يَصُومُ شَعْبَانَ كُلَّهُ وَيَتَحَرَّى صِيَامَ الاِثْنَيْنِ وَالْخَمِيسِ .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

২১৯০। আমর ইবনে উসমান (রাহঃ) ......... জুবাইর ইবনে নুফায়র থেকে বর্ণিত যে, এক ব্যক্তি আয়িশা (রাযিঃ)-কে রোযা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) পূর্ণ শা’বান মাস রোযা পালন করতেন আর সোমবার এবং বৃহস্পতিবারের রোযা উত্তম মনে করতেন।

২১৮৭

أَخْبَرَنَا عَمْرُو بْنُ عَلِيٍّ، قَالَ حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ دَاوُدَ، قَالَ حَدَّثَنَا ثَوْرٌ، عَنْ خَالِدِ بْنِ مَعْدَانَ، عَنْ رَبِيعَةَ الْجُرَشِيِّ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَصُومُ شَعْبَانَ وَرَمَضَانَ وَيَتَحَرَّى الاِثْنَيْنِ وَالْخَمِيسَ .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

২১৯১। আমর ইবনে আলী (রাহঃ) ......... আয়িশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) শা’বান এবং রমযান মাসে রোযা পালন করতেন আর সোমবার এবং বৃহষ্পতিবারের রোযাকে উত্তম মনে করতেন।

সন্দেহযুক্ত দিনে রোযা পালন করা

باب صِيَامِ يَوْمِ الشَّكِّ

২১৮৮

أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ سَعِيدٍ الأَشَجُّ، عَنْ أَبِي خَالِدٍ، عَنْ عَمْرِو بْنِ قَيْسٍ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، عَنْ صِلَةَ، قَالَ كُنَّا عِنْدَ عَمَّارٍ فَأُتِيَ بِشَاةٍ مَصْلِيَّةٍ فَقَالَ كُلُوا . فَتَنَحَّى بَعْضُ الْقَوْمِ قَالَ إِنِّي صَائِمٌ . فَقَالَ عَمَّارٌ مَنْ صَامَ الْيَوْمَ الَّذِي يُشَكُّ فِيهِ فَقَدْ عَصَى أَبَا الْقَاسِمِ صلى الله عليه وسلم .

বর্ণনাকারী: আম্মার ইবন ইয়াসির আল-'আনযী (রা)

২১৯২। আব্দুল্লাহ ইবনে সাঈদ আশাজ্জ (রাহঃ) ......... সিলাহ (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন যে, আমরা আম্মার (রাযিঃ)-এর কাছে ছিলাম, এমন সময়ে একটি ভুনা বকরী নিয়ে আসা হল। তিনি বললেন খাও। তখন উপস্থিত লোকদের একজন পাশে সরে গেলেন এবং বললেন যে, আমি রোযা পালন করছি। তখন আম্মার (রাযিঃ) বললেনঃ যে ব্যক্তি সন্দেহযুক্ত দিনে রোযা পালন করল সে আবুল কাসিম [রাসূলুল্লাহ (ﷺ)]-এর অবাধ্যতা করল।

২১৮৯

أَخْبَرَنَا قُتَيْبَةُ، قَالَ حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي عَدِيٍّ، عَنْ أَبِي يُونُسَ، عَنْ سِمَاكٍ، قَالَ دَخَلْتُ عَلَى عِكْرِمَةَ فِي يَوْمٍ قَدْ أُشْكِلَ مِنْ رَمَضَانَ هُوَ أَمْ مِنْ شَعْبَانَ وَهُوَ يَأْكُلُ خُبْزًا وَبَقْلاً وَلَبَنًا فَقَالَ لِي هَلُمَّ . فَقُلْتُ إِنِّي صَائِمٌ . قَالَ وَحَلَفَ بِاللَّهِ لَتُفْطِرَنَّ قُلْتُ سُبْحَانَ اللَّهِ مَرَّتَيْنِ فَلَمَّا رَأَيْتُهُ يَحْلِفُ لاَ يَسْتَثْنِي تَقَدَّمْتُ قُلْتُ هَاتِ الآنَ مَا عِنْدَكَ قَالَ سَمِعْتُ ابْنَ عَبَّاسٍ يَقُولُ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " صُومُوا لِرُؤْيَتِهِ وَأَفْطِرُوا لِرُؤْيَتِهِ فَإِنْ حَالَ بَيْنَكُمْ وَبَيْنَهُ سَحَابَةٌ أَوْ ظُلْمَةٌ فَأَكْمِلُوا الْعِدَّةَ عِدَّةَ شَعْبَانَ وَلاَ تَسْتَقْبِلُوا الشَّهْرَ اسْتِقْبَالاً وَلاَ تَصِلُوا رَمَضَانَ بِيَوْمٍ مِنْ شَعْبَانَ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

২১৯৩। কুতায়বা (রাহঃ) ......... সিমাক (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন যে, আমি ইকরিমা (রাহঃ) এর কাছে এমন একদিন গেলাম যে দিনটি সম্পর্কে সন্দেহ করা হলো যে, তা কি রমযান না শা’বান। তিনি তখন রুটি ও সবজী খাচ্ছিলেন এবং দুধ পান করছিলেন। তিনি আমাকে বললেনঃ আসো (এবং খাও) আমি বললাম, আমি তো রোযা পালন করছি। তিনি আল্লাহর নামে শপথ করে বললেন যে, তোমাকে অবশ্যই রোযা ভঙ্গ করতে হবে। আমি দুই বার বললামঃ সুবহানাল্লাহ। যখন আমি তাঁকে দেখলাম যে, তিনি শপথ করছেন এবং আমাকে ছাড়বেন না-আমি নিজেই অগ্রসর হয়ে বললামঃ এখন আপনার কাছে কি আছে আনুন।

তিনি বললেন, আমি ইবনে আব্বাস (রাযিঃ)-কে বলতে শুনেছি যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ তোমরা (রমযান মাসের) চাঁদ দেখে রোযা পালন করবে এবং (শাওয়াল মাসের) চাঁদ দেখে রোযা ভঙ্গ করবে, তবে হ্যাঁ, তোমাদের এবং চাঁদের মাঝখানে যদি মেঘ অথবা অন্ধকার আড়াল হয় তবে তোমরা শা’বান মাসের গণনা পূর্ণ করে নেবে এবং রমযান মাস আগমন করার পূর্বে তোমরা রোযা পালন দ্বারা রমযান মাসকে সন্বর্ধনা জানাবে না আর একদিনের রোযা পালন দ্বারা রমযান মাসকে শা’বান মাসের সাথে মিলিয়ে ফেলবে না।

সন্দেহযুক্ত দিনে রোযা রাখা

باب التَّسْهِيلِ فِي صِيَامِ يَوْمِ الشَّكِّ

২১৯০

أَخْبَرَنَا عَبْدُ الْمَلِكِ بْنُ شُعَيْبِ بْنِ اللَّيْثِ بْنِ سَعْدٍ، قَالَ أَخْبَرَنِي أَبِي، عَنْ جَدِّي، قَالَ أَخْبَرَنِي شُعَيْبُ بْنُ إِسْحَاقَ، عَنِ الأَوْزَاعِيِّ، وَابْنِ أَبِي عَرُوبَةَ، عَنْ يَحْيَى بْنِ أَبِي كَثِيرٍ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ كَانَ يَقُولُ " أَلاَ لاَ تَقَدَّمُوا الشَّهْرَ بِيَوْمٍ أَوِ اثْنَيْنِ إِلاَّ رَجُلٌ كَانَ يَصُومُ صِيَامًا فَلْيَصُمْهُ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

২১৯৪। আব্দুল মালিক ইবনে শুআয়ব (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) সূত্রে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলতেনঃ খবরদার! তোমরা রমযান মাসকে এক অথবা দুই দিনের রোযা পালন দ্বারা অগ্রে নিয়ে আসবে না। হ্যাঁ, ঐ ব্যক্তি যে নিয়মিত রোযা পালন করে, সে ঐদিনও রোযা পালন করতে পারবে।

যে ব্যক্তি আল্লাহ তাআলার উপর দৃঢ় বিশ্বাস রেখে সাওাবের নিয়তে রমযান মাসে কিয়ামুল লাইল আদায় করে এবং রোযা পালন করে তার সাওয়াব- এ বিষয়ে যুহরী (রাহঃ) থেকে রেওয়ায়াত বর্ণনায় পার্থক্য

باب ثَوَابِ مَنْ قَامَ رَمَضَانَ وَصَامَهُ إِيمَانًا وَاحْتِسَابًا وَالاِخْتِلاَفِ عَلَى الزُّهْرِيِّ فِي الْخَبَرِ فِي ذَلِكَ

২১৯১

أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ الْحَكَمِ، عَنْ شُعَيْبٍ، عَنِ اللَّيْثِ، قَالَ أَنْبَأَنَا خَالِدٌ، عَنِ ابْنِ أَبِي هِلاَلٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيَّبِ، عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " مَنْ قَامَ رَمَضَانَ إِيمَانًا وَاحْتِسَابًا غُفِرَ لَهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِهِ " .

বর্ণনাকারী: সাঈদ ইবনুল মুসাইয়্যাব (রহঃ)

২১৯৫। মুহাম্মাদ ইবনে আলা (রাহঃ) ......... সাঈদ ইবনে মুসায়্যাব (রাহঃ) সূত্রে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, যে ব্যক্তি রমযান মাসে আল্লাহ তাআলার উপর দূঢ় বিশ্বাস রেখে সাওয়াবের নিয়তে তারাবীহর নামায আদায় করবে তার পূর্বাপর সমস্ত (সগীরা) গুনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হবে।

২১৯২

أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَبَلَةَ، قَالَ حَدَّثَنَا الْمُعَافَى، قَالَ حَدَّثَنَا مُوسَى، عَنْ إِسْحَاقَ بْنِ رَاشِدٍ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، قَالَ أَخْبَرَنِي عُرْوَةُ بْنُ الزُّبَيْرِ، أَنَّ عَائِشَةَ، زَوْجَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَخْبَرَتْهُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَانَ يُرَغِّبُ النَّاسَ فِي قِيَامِ رَمَضَانَ مِنْ غَيْرِ أَنْ يَأْمُرَهُمْ بِعَزِيمَةِ أَمْرٍ فِيهِ فَيَقُولُ " مَنْ قَامَ رَمَضَانَ إِيمَانًا وَاحْتِسَابًا غُفِرَ لَهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِهِ " .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

২১৯৬। মুহাম্মাদ ইবনে জাবালা (রাহঃ) ......... উরওয়া ইবনে যুবাইর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সহধর্মিণী আয়িশা (রাযিঃ) তাকে অবহিত করেছেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ফরযের নির্দেশ দেওয়া ব্যতীতই লোকদেরকে তারাবীহর নামাযের ব্যাপারে উৎসাহিত করতেন এবং বলতেন, যে ব্যক্তি আল্লাহ তাআলার উপর দৃঢ় বিশ্বাস রেখে সাওয়াবের নিয়তে তারাবীহর নামায আদায় করবে তার পূর্বের সমস্ত (সগীরা) গুনাহ ক্ষমা করে দেয়া হবে।

২১৯৩

أَخْبَرَنَا زَكَرِيَّا بْنُ يَحْيَى، قَالَ أَنْبَأَنَا إِسْحَاقُ، قَالَ أَنْبَأَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ الْحَارِثِ، عَنْ يُونُسَ الأَيْلِيِّ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، قَالَ أَخْبَرَنِي عُرْوَةُ بْنُ الزُّبَيْرِ، أَنَّ عَائِشَةَ، أَخْبَرَتْهُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم خَرَجَ فِي جَوْفِ اللَّيْلِ يُصَلِّي فِي الْمَسْجِدِ فَصَلَّى بِالنَّاسِ وَسَاقَ الْحَدِيثَ وَفِيهِ قَالَتْ فَكَانَ يُرَغِّبُهُمْ فِي قِيَامِ رَمَضَانَ مِنْ غَيْرِ أَنْ يَأْمُرَهُمْ بِعَزِيمَةٍ وَيَقُولُ " مَنْ قَامَ لَيْلَةَ الْقَدْرِ إِيمَانًا وَاحْتِسَابًا غُفِرَ لَهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِهِ " . قَالَ فَتُوُفِّيَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَالأَمْرُ عَلَى ذَلِكَ .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

২১৯৭। যাকারিয়্যা ইবনে ইয়াহিয়া (রাহঃ) ......... উরওয়া ইবনে যুবাইর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, আয়িশা (রাযিঃ) তাঁকে খবর দিয়েছেন যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) (একদা) গভীর রাত্রে বের হয়ে গেলেন এবং মসজিদে গিয়ে লোকদের নিয়ে নামায আদায় করলেন। এটা দীর্ঘ হাদীস; এতে উল্লেখ রয়েছে যে, আয়িশা (রাযিঃ) বলেছেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) লোকদের ফরযের নির্দেশ দেওয়া ব্যতীতই তারাবীহর নামাযের ব্যাপারে উৎসাহ দিতেন এবং বলতেন যে, যে ব্যক্তি আল্লাহ তাআলার উপর দৃঢ় বিশ্বাস রেখে সাওয়াবের নিয়তে কদরের রাত্রিতে জাগরণ করে তার পূর্বাপর সমস্ত (সগীরা) গুনাহ ক্ষমা করে দেয়া হবে। রাবী বলেন যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ইনতিকাল পর্যন্ত তাঁর আমল এরকমই ছিল।

২১৯৪

أَخْبَرَنَا الرَّبِيعُ بْنُ سُلَيْمَانَ، قَالَ حَدَّثَنَا ابْنُ وَهْبٍ، قَالَ أَخْبَرَنِي يُونُسُ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، قَالَ أَخْبَرَنِي أَبُو سَلَمَةَ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، أَنَّ أَبَا هُرَيْرَةَ، قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ فِي رَمَضَانَ " مَنْ قَامَهُ إِيمَانًا وَاحْتِسَابًا غُفِرَ لَهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِهِ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

২১৯৮। রবী ইবনে সুলাইমান (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন যে, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে রমাযানের ব্যাপারে বলতে শুনেছিঃ যে ব্যক্তি আল্লাহ তাআলার উপর দৃঢ় বিশ্বাস রেখে সাওয়াবের নিয়তে তারাবীহর নামায আদায় করে তার পূর্বাপর সমস্ত গুনাহ ক্ষমা করে দেয়া হয়।

যে ব্যক্তি আল্লাহ তাআলার উপর দৃঢ় বিশ্বাস রেখে সাওাবের নিয়তে রমযান মাসে তারাবীহর নামায আদায় করে এবং রোযা পালন করে তার সাওয়াব- এ বিষয়ে যুহরী (রাহঃ) থেকে রেওয়ায়াত বর্ণনায় পার্থক্য

باب ثَوَابِ مَنْ قَامَ رَمَضَانَ وَصَامَهُ إِيمَانًا وَاحْتِسَابًا وَالاِخْتِلاَفِ عَلَى الزُّهْرِيِّ فِي الْخَبَرِ فِي ذَلِكَ

২১৯৫

أَخْبَرَنِي مُحَمَّدُ بْنُ خَالِدٍ، قَالَ حَدَّثَنَا بِشْرُ بْنُ شُعَيْبٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، قَالَ أَخْبَرَنِي عُرْوَةُ بْنُ الزُّبَيْرِ، أَنَّ عَائِشَةَ، أَخْبَرَتْهُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم خَرَجَ مِنْ جَوْفِ اللَّيْلِ فَصَلَّى فِي الْمَسْجِدِ وَسَاقَ الْحَدِيثَ وَقَالَ فِيهِ وَكَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يُرَغِّبُهُمْ فِي قِيَامِ رَمَضَانَ مِنْ غَيْرِ أَنْ يَأْمُرَهُمْ بِعَزِيمَةِ أَمْرٍ فِيهِ فَيَقُولُ " مَنْ قَامَ رَمَضَانَ إِيمَانًا وَاحْتِسَابًا غُفِرَ لَهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِهِ " .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

২১৯৯। মুহাম্মাদ ইবনে খালিদ (রাহঃ) ......... উরওয়া ইবনে যুবাইর (রাহঃ) থেকে বর্ণিত যে, আয়িশা (রাযিঃ) তাঁকে খবর দিয়েছেন একদা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) গভীর রাত্রে বের হয়ে গেলেন এবং মসজিদে নামায আদায় করলেন। এটি দীর্ঘ হাদীস। রাবী তাতে বলেছেন যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) লোকদের ফরযের নির্দেশ দেওয়া ব্যতীতই তারাবীহর নামাযের ব্যাপারে উৎসাহিত করতেন এবং বলতেন, যে ব্যক্তি আল্লাহ তাআলার উপর দৃঢ় বিশ্বাস রেখে সাওয়াবের নিয়তে রমযানে তারাবীহর নামায আদায় করে তার পূর্বাপর সমস্ত গুনাহ ক্ষমা করে দেয়া হয়।

২১৯৬

أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ خَالِدٍ، قَالَ حَدَّثَنَا بِشْرُ بْنُ شُعَيْبٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، قَالَ حَدَّثَنَا أَبُو سَلَمَةَ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، أَنَّ أَبَا هُرَيْرَةَ، قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ لِرَمَضَانَ " مَنْ قَامَهُ إِيمَانًا وَاحْتِسَابًا غُفِرَ لَهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِهِ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

২২০০। মুহাম্মাদ ইবনে খালিদ (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে রমযানের ব্যাপারে বলতে শুনেছিঃ যে ব্যক্তি আল্লাহ তাআলার উপর দূঢ় বিশ্বাস রেখে সাওয়াবের নিয়তে রমযানে তারাবীহর নামায আদায় করে তার পূর্বাপর সমস্ত গুনাহ ক্ষমা করে দেয়া হয়।

২১৯৭

أَخْبَرَنَا أَبُو دَاوُدَ، قَالَ حَدَّثَنَا يَعْقُوبُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، قَالَ حَدَّثَنَا أَبِي، عَنْ صَالِحٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، أَنَّ أَبَا سَلَمَةَ، أَخْبَرَهُ أَنَّ أَبَا هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " مَنْ قَامَ رَمَضَانَ إِيمَانًا وَاحْتِسَابًا غُفِرَ لَهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِهِ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

২২০১। আবু দাউদ (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি আল্লাহ তাআলার উপর দৃঢ় বিশ্বাস রেখে সাওয়াবের নিয়তে রমযানে তারাবীহর নামায আদায় করে, তার পূর্বাপর সমস্ত গুনাহ ক্ষমা করে দেয়া হয়।

২১৯৮

أَخْبَرَنَا نُوحُ بْنُ حَبِيبٍ، قَالَ حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، قَالَ أَنْبَأَنَا مَعْمَرٌ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يُرَغِّبُ فِي قِيَامِ رَمَضَانَ مِنْ غَيْرِ أَنْ يَأْمُرَهُمْ بِعَزِيمَةٍ قَالَ " مَنْ قَامَ رَمَضَانَ إِيمَانًا وَاحْتِسَابًا غُفِرَ لَهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِهِ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

২২০২। নুহ ইবনে হাবীব (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ফরযের নির্দেশ দেওয়া ব্যতীতই তারাবীহর নামাযের ব্যাপারে উৎসাহিত করতেন। তিনি বলেনঃ যে ব্যক্তি আল্লাহ তাআলার উপর দৃঢ় বিশ্বাস রেখে সাওয়াবের নিয়তে তারারীহর নামায আদায় করে তার পূর্বাপর সমস্ত গুনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হয়।

২১৯৯

أَخْبَرَنَا قُتَيْبَةُ، عَنْ مَالِكٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ حُمَيْدِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " مَنْ قَامَ رَمَضَانَ إِيمَانًا وَاحْتِسَابًا غُفِرَ لَهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِهِ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

২২০৩। কুতায়বা (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি আল্লাহ তাআলার উপর দৃঢ় বিশ্বাস রেখে সাওয়াবের নিয়তে তারাবীহর নামায আদায় করে তার পূর্বাপর সমস্ত গুনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হয়।

২২০০

أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ سَلَمَةَ، قَالَ حَدَّثَنَا ابْنُ الْقَاسِمِ، عَنْ مَالِكٍ، قَالَ حَدَّثَنِي ابْنُ شِهَابٍ، عَنْ حُمَيْدِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " مَنْ قَامَ رَمَضَانَ إِيمَانًا وَاحْتِسَابًا غُفِرَ لَهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِهِ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

২২০৪। মুহাম্মাদ ইবনে সালামা (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি আল্লাহ তাআলার উপর দৃঢ় বিশ্বাস রেখে সাওয়াবের নিয়তে তারাবীহর নামায আদায় করে, তার পূর্বাপর সমস্ত গুনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হয়।

২২০১

أَخْبَرَنِي مُحَمَّدُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ، قَالَ حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ أَسْمَاءَ، قَالَ حَدَّثَنَا جُوَيْرِيَةُ، عَنْ مَالِكٍ، قَالَ الزُّهْرِيُّ أَخْبَرَنِي أَبُو سَلَمَةَ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، وَحُمَيْدُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " مَنْ قَامَ رَمَضَانَ إِيمَانًا وَاحْتِسَابًا غُفِرَ لَهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِهِ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

২২০৫। মুহাম্মাদ ইবনে ইসমাঈল (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি আল্লাহ তাআলার উপর দূঢ় বিশ্বাস রেখে সাওয়াবের নিয়তে তারাবীহর নামায আদায় করে তার পূর্বাপর সমস্ত গুনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হয়।

২২০২

أَخْبَرَنَا قُتَيْبَةُ، وَمُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ يَزِيدَ، قَالاَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " مَنْ صَامَ رَمَضَانَ " . وَفِي حَدِيثِ قُتَيْبَةَ أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " مَنْ قَامَ شَهْرَ رَمَضَانَ إِيمَانًا وَاحْتِسَابًا غُفِرَ لَهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِهِ وَمَنْ قَامَ لَيْلَةَ الْقَدْرِ إِيمَانًا وَاحْتِسَابًا غُفِرَ لَهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِهِ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

২২০৬। কুতায়বা ও মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল্লাহ (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ যে ব্যক্তি রমযান মাসের রোযা পালন করে। আর কুতায়বা (রাহঃ)-এর বর্ণিত হাদীসে আছে যে, নবী (ﷺ) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি আল্লাহ তাআলার উপর দৃঢ় বিশ্বাস রেখে সাওয়াবের নিয়তে তারাবীহর নামায আদায় করে, তার পূর্বাপর সমস্ত গুনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হয়। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ তাআলার উপর দূঢ় বিশ্বাস রেখে সাওয়াবের নিয়তে কদরের রাত্রে জাগ্রত থাকে তার পূর্বাপর সমস্ত গুনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হয়।

২২০৩

أَخْبَرَنَا قُتَيْبَةُ، قَالَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " مَنْ صَامَ رَمَضَانَ إِيمَانًا وَاحْتِسَابًا غُفِرَ لَهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِهِ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

২২০৭। কুতায়বা (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, নবী (ﷺ) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি আল্লাহ উপর দূঢ় বিশ্বাস রেখে সাওয়াবের নিয়তে রমযান মাসের রোযা পালন করে, তার পূর্বাপর সমস্ত গুনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হয়।

২২০৪

أَخْبَرَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، قَالَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " مَنْ صَامَ رَمَضَانَ إِيمَانًا وَاحْتِسَابًا غُفِرَ لَهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِهِ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

২২০৮। ইসহাক ইবনে ইবরাহীম (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি আল্লাহ তাআলার উপর দৃঢ় বিশ্বাস রেখে সাওয়াবের নিয়তে রমযান মাসের রোযা পালন করে, তার পূর্বাপর সমস্ত গুনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হয়।

২২০৫

أَخْبَرَنَا عَلِيُّ بْنُ الْمُنْذِرِ، قَالَ حَدَّثَنَا ابْنُ فُضَيْلٍ، قَالَ حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، رضى الله عنه قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " مَنْ صَامَ رَمَضَانَ إِيمَانًا وَاحْتِسَابًا غُفِرَ لَهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِهِ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

২২০৯। আলী ইবনে মুনযির (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি আল্লাহ তাআলার উপর দূঢ় বিশ্বাস রেখে সাওয়াবের নিয়তে রমযান মাসের রোযা পালন করে, তার পূর্বাপর সমস্ত গুনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হয়।

এ হাদীস বর্ণনায় ইয়াহয়া ইবনে আবু কাসীর ও নযর ইবনে শায়বান (রাহঃ) এর বর্ণনার পার্থক্যের উল্লেখ

باب ذِكْرِ اخْتِلاَفِ يَحْيَى بْنِ أَبِي كَثِيرٍ وَالنَّضْرِ بْنِ شَيْبَانَ فِيهِ

২২০৬

أَخْبَرَنِي مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الأَعْلَى، وَمُحَمَّدُ بْنُ هِشَامٍ، وَأَبُو الأَشْعَثِ، - وَاللَّفْظُ لَهُ - قَالُوا حَدَّثَنَا خَالِدٌ، قَالَ حَدَّثَنَا هِشَامٌ، عَنْ يَحْيَى بْنِ أَبِي كَثِيرٍ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، قَالَ حَدَّثَنِي أَبُو هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " مَنْ قَامَ رَمَضَانَ إِيمَانًا وَاحْتِسَابًا غُفِرَ لَهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِهِ وَمَنْ قَامَ لَيْلَةَ الْقَدْرِ إِيمَانًا وَاحْتِسَابًا غُفِرَ لَهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِهِ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

২২১০। মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল আ’লা (রাহঃ), মুহাম্মাদ ইবনে হিশাম এবং আবুল আশআছ (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি আল্লাহ তাআলার উপর দূঢ় বিশ্বাস রেখে সাওয়াবের নিয়তে তারাবীহর নামায আদায় করে, তার পূর্বাপর সমস্ত গুনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হয়। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ তাআলার উপর দৃঢ় বিশ্বাস রেখে সাওয়াবের নিয়তে কদরের রাত্রে জাগ্রত থাকে, তার পূর্বাপর সমস্ত গুনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হয়।

২২০৭

أَخْبَرَنِي مَحْمُودُ بْنُ خَالِدٍ، عَنْ مَرْوَانَ، أَنْبَأَنَا مُعَاوِيَةُ بْنُ سَلاَّمٍ، عَنْ يَحْيَى بْنِ أَبِي كَثِيرٍ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " مَنْ قَامَ شَهْرَ رَمَضَانَ إِيمَانًا وَاحْتِسَابًا غُفِرَ لَهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِهِ وَمَنْ قَامَ لَيْلَةَ الْقَدْرِ إِيمَانًا وَاحْتِسَابًا غُفِرَ لَهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِهِ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

২২১১। মুহাম্মাদ ইবনে খালিদ (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি আল্লাহ তাআলার উপর দৃঢ় বিশ্বাস রেখে সাওয়াবের নিয়তে তারাবীহর নামায আদায় করে, তার পূর্বাপর সমস্ত গুনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হয়। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ তাআলার উপর দৃঢ় বিশ্বাস রেখে সাওয়াবের নিয়তে কদরের রাত্রে জাগ্রত থাকে, তার পূর্বাপর সমস্ত গুনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হয়।

২২০৮

أَخْبَرَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، قَالَ حَدَّثَنَا الْفَضْلُ بْنُ دُكَيْنٍ، قَالَ حَدَّثَنَا نَصْرُ بْنُ عَلِيٍّ، قَالَ حَدَّثَنِي النَّضْرُ بْنُ شَيْبَانَ، أَنَّهُ لَقِيَ أَبَا سَلَمَةَ بْنَ عَبْدِ الرَّحْمَنِ فَقَالَ لَهُ حَدِّثْنِي بِأَفْضَلِ، شَىْءٍ سَمِعْتَهُ يُذْكَرُ، فِي شَهْرِ رَمَضَانَ . فَقَالَ أَبُو سَلَمَةَ حَدَّثَنِي عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ عَوْفٍ، عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ ذَكَرَ شَهْرَ رَمَضَانَ فَفَضَّلَهُ عَلَى الشُّهُورِ وَقَالَ " مَنْ قَامَ رَمَضَانَ إِيمَانًا وَاحْتِسَابًا خَرَجَ مِنْ ذُنُوبِهِ كَيَوْمِ وَلَدَتْهُ أُمُّهُ " . قَالَ أَبُو عَبْدِ الرَّحْمَنِ هَذَا خَطَأٌ وَالصَّوَابُ أَبُو سَلَمَةَ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ .

বর্ণনাকারী: আব্দুর রহমান ইবনে আউফ (রাঃ)

২২১২। ইসহাক ইবনে ইবরাহীম (রাহঃ) ......... নযর ইবনে শায়বান (রাহঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি আবু সালামা ইবনে আব্দুর রহমান (রাহঃ)-এর সাথে সাক্ষাত করে তাঁকে বললেন, আপনি রমযান মাস সম্পর্কে উত্তম যা কিছু আলোচনা শুনেছেন তা আমার কাছে বর্ণনা করুন। তখন আবু সালামা (রাহঃ) বললেন যে, আব্দুর রহমান ইবনে আউফ (রাযিঃ) আমার কাছে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) রমযান মাসের আলোচনা করলেন এবং রমযান মাসকে সকল মাসের উপর মর্যাদা দান করে বললেনঃ যে ব্যক্তি আল্লাহ তাআলার উপর দৃঢ় বিশ্বাস রেখে সাওয়াবের নিয়তে তারাবীহর নামায আদায় করে, সে স্বীয় গুনাহসমূহ থেকে ঐ দিনের মত পবিত্র হয়ে যায় যে দিন তার মাতা তাকে প্রসব করেছিল।

২২০৯

أَخْبَرَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، قَالَ أَنْبَأَنَا النَّضْرُ بْنُ شُمَيْلٍ، قَالَ أَنْبَأَنَا الْقَاسِمُ بْنُ الْفَضْلِ، قَالَ حَدَّثَنَا النَّضْرُ بْنُ شَيْبَانَ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، فَذَكَرَ مِثْلَهُ وَقَالَ " مَنْ صَامَهُ وَقَامَهُ إِيمَانًا وَاحْتِسَابًا " .

বর্ণনাকারী: আব্দুর রহমান ইবনে আউফ (রাঃ)

২২১৩। ইসহাক ইবনে ইবরাহীম (রাহঃ) ......... আবু সালামা (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। অতঃপর পূর্বের অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করলেন এবং বললেন যে, যে ব্যক্তি রমযান মাসে রোযা পালন করে এবং তারাবীহর নামায আদায় করে আল্লাহ তাআলার উপর দৃঢ় বিশ্বাস রেখে এবং সাওয়াবের নিয়তে।

২২১০

أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الْمُبَارَكِ، قَالَ حَدَّثَنَا أَبُو هِشَامٍ، قَالَ حَدَّثَنَا الْقَاسِمُ بْنُ الْفَضْلِ، قَالَ حَدَّثَنَا النَّضْرُ بْنُ شَيْبَانَ، قَالَ قُلْتُ لأَبِي سَلَمَةَ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ حَدِّثْنِي بِشَىْءٍ، سَمِعْتَهُ مِنْ، أَبِيكَ سَمِعَهُ أَبُوكَ، مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لَيْسَ بَيْنَ أَبِيكَ وَبَيْنَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَحَدٌ فِي شَهْرِ رَمَضَانَ . قَالَ نَعَمْ حَدَّثَنِي أَبِي قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " إِنَّ اللَّهَ تَبَارَكَ وَتَعَالَى فَرَضَ صِيَامَ رَمَضَانَ عَلَيْكُمْ وَسَنَنْتُ لَكُمْ قِيَامَهُ فَمَنْ صَامَهُ وَقَامَهُ إِيمَانًا وَاحْتِسَابًا خَرَجَ مِنْ ذُنُوبِهِ كَيَوْمِ وَلَدَتْهُ أُمُّهُ " .

বর্ণনাকারী: বিবিধ

২২১৪। মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল্লাহ (রাহঃ) ......... নযর ইবনে শায়বান (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আবু সালামা ইবনে আব্দুর রহমান (রাহঃ)-কে বললামঃ আপনি আমার কাছে বর্ণনা করুন রমযান মাস সম্পর্কে যা আপনি আপনার পিতা থেকে শুনেছেন। আর আপনার পিতা তা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) থেকে এমতাবস্থায় শুনেছিলেন যে, আপনার পিতা এবং রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর মাঝখানে অন্য আর কেউ ছিল না।

তিনি বললেন, হ্যাঁ, আমার পিতা আমার কাছে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ আল্লাহ তাআলা তোমাদের উপর রমযান মাসের রোযা ফরয করেছেন এবং আমি তোমাদের জন্য তারাবীহর নামায কে সুন্নত করে দিয়েছি। অতএব যে ব্যক্তি আল্লাহ তাআলার উপর দৃঢ় বিশ্বাস রেখে সাওয়াবের নিয়তে রমযান মাসে রোযা পালন করে এবং তারাবীহর নামায আদায় করে, সে স্বীয় গুনাহসমূহ থেকে সে দিনের মত পবিত্র হয়ে যায় যে দিন তার মাতা তাকে প্রসব করেছিল।

রোযা পালনের ফযীলত, এ প্রসঙ্গে আলী ইবনে আবু তালিব (রাযিঃ) সূত্রে বর্ণিত হাদীসে আবু ইসহাক (রাহঃ) থেকে বর্ণনাকারীদের বর্ণনায় পার্থক্য

باب فَضْلِ الصِّيَامِ وَالاِخْتِلاَفِ عَلَى أَبِي إِسْحَاقَ فِي حَدِيثِ عَلِيِّ بْنِ أَبِي طَالِبٍ فِي ذَلِكَ

২২১১

أَخْبَرَنِي هِلاَلُ بْنُ الْعَلاَءِ، قَالَ حَدَّثَنَا أَبِي قَالَ، حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ، عَنْ زَيْدٍ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الْحَارِثِ، عَنْ عَلِيِّ بْنِ أَبِي طَالِبٍ، عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " إِنَّ اللَّهَ تَبَارَكَ وَتَعَالَى يَقُولُ الصَّوْمُ لِي وَأَنَا أَجْزِي بِهِ وَلِلصَّائِمِ فَرْحَتَانِ حِينَ يُفْطِرُ وَحِينَ يَلْقَى رَبَّهُ وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ لَخُلُوفُ فَمِ الصَّائِمِ أَطْيَبُ عِنْدَ اللَّهِ مِنْ رِيحِ الْمِسْكِ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আলী ইবনে আবী তালিব (রাঃ)

২২১৫। হিলাল ইবনে আলা (রাহঃ) ......... আলী ইবনে আর তালিব (রাযিঃ) সূত্রে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেছেন যে, আল্লাহ তাআলা বলেছেনঃ রোযা আমারই জন্য আর আমিই তার প্রতিদান দেব। রোযা পালনকারীর জন্য দুটি আনন্দের মুহূর্ত রয়েছে, যখন সে ইফতার করে এবং যখন সে তার রবের সাথে (আল্লাহ তাআলার) সাথে সাক্ষাত করবে, ঐ সত্তার শপথ যার হস্তে আমার জীবন রয়েছে রোযা পালনকারীর (ক্ষুধাজনিত কারণে নির্গত) মুখের দুর্গন্ধ আল্লাহ তাআলার নিকট মিশকের সুগন্ধি থেকে অধিক পছন্দনীয়।

২২১২

أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، قَالَ حَدَّثَنَا مُحَمَّدٌ، قَالَ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، عَنْ أَبِي الأَحْوَصِ، قَالَ عَبْدُ اللَّهِ " قَالَ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ الصَّوْمُ لِي وَأَنَا أَجْزِي بِهِ وَلِلصَّائِمِ فَرْحَتَانِ فَرْحَةٌ حِينَ يَلْقَى رَبَّهُ وَفَرْحَةٌ عِنْدَ إِفْطَارِهِ وَلَخُلُوفُ فَمِ الصَّائِمِ أَطْيَبُ عِنْدَ اللَّهِ مِنْ رِيحِ الْمِسْكِ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ)

২২১৬। মুহাম্মাদ ইবনে বাশশার (রাহঃ) ......... আবুল আহওয়াস (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। আব্দুল্লাহ (রাযিঃ) বলেছেন যে, আল্লাহ তাআলা বলেনঃ রোযা আমারই জন্য আর আমিই তার প্রতিদান দেব। রোযা পালনকারীর জন্য দু’টি আনন্দের মুহূর্ত রয়েছে- একটি যখন সে তার রবের (প্রভুর) সাথে সাক্ষাত করবে আর তার ইফতারের সময়। আর রোযা পালনকারীর (ক্ষুধাজনিত কারণে নির্গত) মুখের দুর্গন্ধ আল্লাহ তাআলার নিকট মিশকের সুগন্ধি থেকে অধিক পছন্দনীয়।

এ হাদীসের বর্ণনায় আবু সালিহ (রাহঃ) থেকে বর্ণনাকারীদের বর্ণনা পার্থক্যের উল্লেখ

باب ذِكْرِ الاِخْتِلاَفِ عَلَى أَبِي صَالِحٍ فِي هَذَا الْحَدِيثِ

২২১৩

أَخْبَرَنَا عَلِيُّ بْنُ حَرْبٍ، قَالَ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ فُضَيْلٍ، قَالَ حَدَّثَنَا أَبُو سِنَانٍ، ضِرَارُ بْنُ مُرَّةَ عَنْ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ، قَالَ قَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم " إِنَّ اللَّهَ تَبَارَكَ وَتَعَالَى يَقُولُ الصَّوْمُ لِي وَأَنَا أَجْزِي بِهِ وَلِلصَّائِمِ فَرْحَتَانِ إِذَا أَفْطَرَ فَرِحَ وَإِذَا لَقِيَ اللَّهَ فَجَزَاهُ فَرِحَ وَالَّذِي نَفْسُ مُحَمَّدٍ بِيَدِهِ لَخُلُوفُ فَمِ الصَّائِمِ أَطْيَبُ عِنْدَ اللَّهِ مِنْ رِيحِ الْمِسْكِ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ)

২২১৭। আলী ইবনে হারব (রাহঃ) ......... আবু সাঈদ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) বলেছেনঃ আল্লাহ তাআলা বলেন যে, রোযা আমারই জন্য আর আমিই তার প্রতিদান দেব। রোযা পালনকারীর জন্য দু’টি আনন্দের মুহূর্ত রয়েছে- সে যখন ইফতার করে আনন্দ লাভ করে আর সে যখন আল্লাহ তাআলার সাথে সাক্ষাত করবে এবং আল্লাহ তাকে প্রতিদান দিবেন তখনও সে আনন্দ লাভ করবে। ঐ সত্তার শপথ যরে হাতে আমার জীবন, রোযা পালনকারীর মুখের দুর্গন্ধ আল্লাহ তাআলার নিকট মিশকের সুগন্ধি থেকে বেশী পছন্দ।

২২১৪

أَخْبَرَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ دَاوُدَ، عَنِ ابْنِ وَهْبٍ، قَالَ أَخْبَرَنِي عَمْرٌو، أَنَّ الْمُنْذِرَ بْنَ عُبَيْدٍ، حَدَّثَهُ عَنْ أَبِي صَالِحٍ السَّمَّانِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " الصِّيَامُ لِي وَأَنَا أَجْزِي بِهِ وَالصَّائِمُ يَفْرَحُ مَرَّتَيْنِ عِنْدَ فِطْرِهِ وَيَوْمَ يَلْقَى اللَّهَ وَخُلُوفُ فَمِ الصَّائِمِ أَطْيَبُ عِنْدَ اللَّهِ مِنْ رِيحِ الْمِسْكِ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

২২১৮। সুলাইমান ইবনে দাউদ (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) সূত্রে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেছেন যে, (আল্লাহ বলেন) রোযা আমারই জন্য। আমিই তার প্রতিদান দেব। রোযা পালনকারীর জন্য দু’টি আনন্দ রয়েছে; ইফতারের সময় এবং আল্লাহ তাআলার সাথে সাক্ষাতের সময়। আর রোযা পালনকারীর (ক্ষুধাজনিত কারণে) নির্গত মুখের দুর্গন্ধ আল্লাহ তাআলার নিকট কস্তুরীর সুগন্ধি থেকেও অধিক পছন্দনীয়।

২২১৫

أَخْبَرَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، قَالَ أَنْبَأَنَا جَرِيرٌ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " مَا مِنْ حَسَنَةٍ عَمِلَهَا ابْنُ آدَمَ إِلاَّ كُتِبَ لَهُ عَشْرُ حَسَنَاتٍ إِلَى سَبْعِمِائَةِ ضِعْفٍ قَالَ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ إِلاَّ الصِّيَامَ فَإِنَّهُ لِي وَأَنَا أَجْزِي بِهِ يَدَعُ شَهْوَتَهُ وَطَعَامَهُ مِنْ أَجْلِي الصِّيَامُ جُنَّةٌ لِلصَّائِمِ فَرْحَتَانِ فَرْحَةٌ عِنْدَ فِطْرِهِ وَفَرْحَةٌ عِنْدَ لِقَاءِ رَبِّهِ وَلَخُلُوفُ فَمِ الصَّائِمِ أَطْيَبُ عِنْدَ اللَّهِ مِنْ رِيحِ الْمِسْكِ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

২২১৯। ইসহাক ইবনে ইবরাহীম (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) সূত্রে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, যে কোন নেককাজ আদম সন্তান করে না কেন তার জন্য দশ থেকে সাতশত গুণ পর্যন্ত বর্ধিত করে সাওয়াব লিপিবদ্ধ করা হয়। কিন্তু আল্লাহ তাআলা বলেছেনঃ রোযা ব্যতীত, যেহেতু রোযা আমার জন্য এবং আমিই তার প্রতিদান দিব। রোযা পালনকারী আমারই কারণে স্বীয় কামভাব এবং পানাহার পরিত্যাগ করে। রোযা পালনকারীর জন্য রোযা ঢাল স্বরূপ। রোযা পালনকারীর জন্য দু’টি আনন্দ রয়েছে- তার ইফতারের সময় এবং তার রবের সাথে সাক্ষাতের সময়। আর রোযা পালনকারীর (ক্ষুধাজনিত কারণে নির্গত) মুখের দুর্গন্ধ আল্লাহ তাআলার কাছে মিশকের সুগন্ধি থেকেও অধিক পছন্দনীয়।

২২১৬

أَخْبَرَنِي إِبْرَاهِيمُ بْنُ الْحَسَنِ، عَنْ حَجَّاجٍ، قَالَ قَالَ ابْنُ جُرَيْجٍ أَخْبَرَنِي عَطَاءٌ، عَنْ أَبِي صَالِحٍ الزَّيَّاتِ، أَنَّهُ سَمِعَ أَبَا هُرَيْرَةَ، يَقُولُ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " كُلُّ عَمَلِ ابْنِ آدَمَ لَهُ إِلاَّ الصِّيَامَ هُوَ لِي وَأَنَا أَجْزِي بِهِ وَالصِّيَامُ جُنَّةٌ إِذَا كَانَ يَوْمُ صِيَامِ أَحَدِكُمْ فَلاَ يَرْفُثْ وَلاَ يَصْخَبْ فَإِنْ شَاتَمَهُ أَحَدٌ أَوْ قَاتَلَهُ فَلْيَقُلْ إِنِّي صَائِمٌ وَالَّذِي نَفْسُ مُحَمَّدٍ بِيَدِهِ لَخُلُوفُ فَمِ الصَّائِمِ أَطْيَبُ عِنْدَ اللَّهِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ مِنْ رِيحِ الْمِسْكِ لِلصَّائِمِ فَرْحَتَانِ يَفْرَحُهُمَا إِذَا أَفْطَرَ فَرِحَ بِفِطْرِهِ وَإِذَا لَقِيَ رَبَّهُ عَزَّ وَجَلَّ فَرِحَ بِصَوْمِهِ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

২২২০। ইবরাহীম ইবনে হাসান (রাহঃ) ......... আবু সালিহ যায়্যাত (রাহঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি আবু হুরায়রা (রাযিঃ) কে বলতে শুনেছেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন যে, বনী আদমের প্রত্যেক নেক কাজ তার নিজের জন্য (কেননা সব কাজের প্রতিদান তাকে দেওয়া হয়) কিন্তু রোযা আমারই জন্য (আল্লাহর জন্য) এবং আমিই নিজে তার প্রতিদান দিব। আর রোযা ঢাল স্বরূপ। তোমাদের মধ্যে কেহ যখন রোযা পালন করে, তখন সে যেন অশ্লীল বাক্য ব্যবহার না করে এবং উচ্চস্বরে কথা না বলে ও কারো উপর রাগান্বিত না হয়। যদি কেউ তাকে গালি দেয় বা গায়ে পড়ে ঝগড়া করতে আসে তখন সে যেন বলে, আমি রোযা পালন করছি।

ঐ সত্তার শপথ যার পবিত্র হাতে মুহাম্মাদ (ﷺ) এর প্রাণ, রোযা পালনকারীর (ক্ষুধাজনিত কারণে) মুখের দুর্গন্ধ আল্লাহ তাআলার কাছে কস্তুরীর সুগন্ধি থেকেও অধিক পছন্দনীয় হবে। রোযা পালনকারীর জন্য দু’টি আনন্দ রয়েছে- যার দ্বারা সে আনন্দিত হবে। স্বীয় ইফতারের সময় সে আনন্দিত হবে এবং তার রবের সাথে সাক্ষাত করার সময় তার রোযা পালনের কারণে আনন্দিত হবে।
২২১৭

أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ حَاتِمٍ، قَالَ أَنْبَأَنَا سُوَيْدٌ، قَالَ أَنْبَأَنَا عَبْدُ اللَّهِ، عَنِ ابْنِ جُرَيْجٍ، قِرَاءَةً عَلَيْهِ عَنْ عَطَاءِ بْنِ أَبِي رَبَاحٍ، قَالَ أَخْبَرَنِي عَطَاءٌ الزَّيَّاتُ، أَنَّهُ سَمِعَ أَبَا هُرَيْرَةَ، يَقُولُ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " قَالَ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ كُلُّ عَمَلِ ابْنِ آدَمَ لَهُ إِلاَّ الصِّيَامَ هُوَ لِي وَأَنَا أَجْزِي بِهِ الصِّيَامُ جُنَّةٌ فَإِذَا كَانَ يَوْمُ صَوْمِ أَحَدِكُمْ فَلاَ يَرْفُثْ وَلاَ يَصْخَبْ فَإِنْ شَاتَمَهُ أَحَدٌ أَوْ قَاتَلَهُ فَلْيَقُلْ إِنِّي امْرُؤٌ صَائِمٌ وَالَّذِي نَفْسُ مُحَمَّدٍ بِيَدِهِ لَخُلُوفُ فَمِ الصَّائِمِ أَطْيَبُ عِنْدَ اللَّهِ مِنْ رِيحِ الْمِسْكِ " . وَقَدْ رَوَى هَذَا الْحَدِيثَ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ سَعِيدُ بْنُ الْمُسَيَّبِ .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

২২২১। মুহাম্মাদ ইবনে হাতিম (রাহঃ) ......... আতা যায়্যাত (রাহঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি আবু হুরায়রা (রাযিঃ)-কে বলতে শুনেছেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ আল্লাহ তাআলা বলেনঃ বনী আদমের প্রত্যেক নেক কাজ তারই। (কেননা নেক কাজের প্রতিদান তাকে দিয়ে দেওয়া হয়) কিন্তু রোযা একমাত্র আমারই জন্য এবং আমিই নিজে তার প্রতিদান দিব। আর রোযা ঢাল স্বরূপ। তোমাদের মধ্যে কেও যখন রোযা পালন করে, তখন সে যেন অশ্লীল বাক্য ব্যবহার না করে এবং উচ্চস্বরে কথা না বলে ও কারো উপর রাগান্বিত না হয়। যদি কেউ তাকে গালি দেয় বা গায়ে পড়ে ঝগড়া করতে আসে তখন সে যেন বলে, আমি রোযা পালন করছি। ঐ সত্তার শপথ যার পবিত্র হস্তে মুহাম্মাদ (ﷺ)-এর জীবন, আল্লাহ তাআলার নিকট রোযা পালনকারীর (ক্ষুধাজনিত কারণে নির্গত) মুখের দুর্গন্ধ কস্তুরীর সুগন্ধি থেকেও অধিক পছন্দনীয়।

২২১৮

أَخْبَرَنَا الرَّبِيعُ بْنُ سُلَيْمَانَ، قَالَ حَدَّثَنَا ابْنُ وَهْبٍ، قَالَ أَخْبَرَنِي يُونُسُ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، قَالَ حَدَّثَنِي سَعِيدُ بْنُ الْمُسَيَّبِ، أَنَّ أَبَا هُرَيْرَةَ، قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " قَالَ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ كُلُّ عَمَلِ ابْنِ آدَمَ لَهُ إِلاَّ الصِّيَامَ هُوَ لِي وَأَنَا أَجْزِي بِهِ وَالَّذِي نَفْسُ مُحَمَّدٍ بِيَدِهِ لَخِلْفَةُ فَمِ الصَّائِمِ أَطْيَبُ عِنْدَ اللَّهِ مِنْ رِيحِ الْمِسْكِ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

২২২২। রবী ইবনে সুলাইমান (রাহঃ) ......... সাঈদ ইবনে মুসায়্যাব (রাহঃ) থেকে বর্ণিত যে, আবু হুরায়রা (রাযিঃ) বলেছেন যে, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে বলতে শুনেছিঃ আল্লাহ তাআলা বলেনঃ বনী আদমের প্রত্যেক নেক কাজ তার নিজের। (কেননা সব নেক কাজের প্রতিদান তাকে দিয়ে দেওয়া হয়) কিন্তু রোযা একমাত্র আমারই জন্য এবং আমিই নিজে তার প্রতিদান দিব। ঐ সত্তার শপথ যার পবিত্র হস্তে মুহাম্মাদ (ﷺ) এর জীবন, রোযা পালনকারীর (ক্ষুধাজনিত কারণে নির্গত) মুখের দু্র্গন্ধ আল্লাহ তাআলার নিকট কস্তুরীর সুগন্ধি-থেকেও অধিক পছন্দনীয়।

২২১৯

أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ عِيسَى، قَالَ حَدَّثَنَا ابْنُ وَهْبٍ، عَنْ عَمْرٍو، عَنْ بُكَيْرٍ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيَّبِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " كُلُّ حَسَنَةٍ يَعْمَلُهَا ابْنُ آدَمَ فَلَهُ عَشْرُ أَمْثَالِهَا إِلاَّ الصِّيَامَ لِي وَأَنَا أَجْزِي بِهِ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

২২২৩। আহমদ ইবনে ঈসা (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ (আল্লাহ বলেন) বনী আদম যে নেক কাজ করে তাকে তার দশ গুণ প্রতিদান দেওয়া হয়। কিন্তু রোযা আমারই জন্য এবং আমি নিজেই তার প্রতিদান দিব।

রোযা পালনকারীর ফযীলত সম্পর্কে আবু উমামা (রাযিঃ) এর হাদীসে মুহাম্মাদ ইবনে আবু ইয়াকুব (রাহঃ) থেকে বর্ণনাকারীদের বর্ণনা পার্থক্যের উল্লেখ

باب ذِكْرِ الاِخْتِلاَفِ عَلَى مُحَمَّدِ بْنِ أَبِي يَعْقُوبَ فِي حَدِيثِ أَبِي أُمَامَةَ فِي فَضْلِ الصَّائِمِ

২২২০

أَخْبَرَنَا عَمْرُو بْنُ عَلِيٍّ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، قَالَ حَدَّثَنَا مَهْدِيُّ بْنُ مَيْمُونٍ، قَالَ أَخْبَرَنِي مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي يَعْقُوبَ، قَالَ أَخْبَرَنِي رَجَاءُ بْنُ حَيْوَةَ، عَنْ أَبِي أُمَامَةَ، قَالَ أَتَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقُلْتُ مُرْنِي بِأَمْرٍ آخُذُهُ عَنْكَ . قَالَ " عَلَيْكَ بِالصَّوْمِ فَإِنَّهُ لاَ مِثْلَ لَهُ " .

বর্ণনাকারী: আবু উমামা বাহিলী রাযি.

২২২৪। আমর ইবনে আলী (রাহঃ) ......... আবু উমামা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন যে, আমি একবার রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কাছে এসে বললামঃ আমাকে এমন একটি ইবাদাতের নির্দেশ দিন যা আমি আপনার নির্দেশক্রমে পালন করব। তিনি বললেন, তুমি রোযা-কে আকড়ে ধর যেহেতু এর কোন বিকল্প নাই।

২২২১

أَخْبَرَنَا الرَّبِيعُ بْنُ سُلَيْمَانَ، قَالَ أَنْبَأَنَا ابْنُ وَهْبٍ، قَالَ أَخْبَرَنِي جَرِيرُ بْنُ حَازِمٍ، أَنَّ مُحَمَّدَ بْنَ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي يَعْقُوبَ الضَّبِّيَّ، حَدَّثَهُ عَنْ رَجَاءِ بْنِ حَيْوَةَ، قَالَ حَدَّثَنَا أَبُو أُمَامَةَ الْبَاهِلِيُّ، قَالَ قُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ مُرْنِي بِأَمْرٍ يَنْفَعُنِي اللَّهُ بِهِ . قَالَ " عَلَيْكَ بِالصِّيَامِ فَإِنَّهُ لاَ مِثْلَ لَهُ " .

বর্ণনাকারী: আবু উমামা বাহিলী রাযি.

২২২৫। রবী’ ইবনে সুলাইমান (রাহঃ) ......... আবু উমামা বাহীলি (রাযিঃ) বর্ণনা করেছেন যে, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে বললাম, ইয়া রাসুলাল্লাহ! আমাকে এমন একটি ইবাদাতের নির্দেশ দিন যা দ্বারা আল্লাহ আমার উপকার করবেন। তিনি বললেনঃ তুমি রোযা-কে আকড়ে ধর, যেহেতু এর কোন বিকল্প নাই।

২২২২

أَخْبَرَنِي عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدٍ الضَّعِيفُ، - شَيْخٌ صَالِحٌ وَالضَّعِيفُ لَقَبٌ لِكَثْرَةِ عِبَادَتِهِ - قَالَ أَخْبَرَنَا يَعْقُوبُ الْحَضْرَمِيُّ قَالَ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي يَعْقُوبَ عَنْ أَبِي نَصْرٍ عَنْ رَجَاءِ بْنِ حَيْوَةَ عَنْ أَبِي أُمَامَةَ أَنَّهُ سَأَلَ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَىُّ الْعَمَلِ أَفْضَلُ قَالَ " عَلَيْكَ بِالصَّوْمِ فَإِنَّهُ لاَ عِدْلَ لَهُ " .

বর্ণনাকারী: আবু উমামা বাহিলী রাযি.

২২২৬। আব্দুল্লাহ ইবনে মুহাম্মাদ দয়ীফ (রাহঃ) ......... আর উমামা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে প্রশ্ন করেছিলেন, কোন ইবাদাত সর্বোত্তম? রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ তুমি রোযাকে আকড়ে ধর, যেহেতু রোযা এর কোন বিকল্প নাই।

২২২৩

أَخْبَرَنَا يَحْيَى بْنُ مُحَمَّدٍ، - هُوَ ابْنُ السَّكَنِ أَبُو عُبَيْدِ اللَّهِ - قَالَ حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ كَثِيرٍ، قَالَ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ أَبِي يَعْقُوبَ الضَّبِّيِّ، عَنْ أَبِي نَصْرٍ الْهِلاَلِيِّ، عَنْ رَجَاءِ بْنِ حَيْوَةَ، عَنْ أَبِي أُمَامَةَ، قَالَ قُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ مُرْنِي بِعَمَلٍ . قَالَ " عَلَيْكَ بِالصَّوْمِ فَإِنَّهُ لاَ عِدْلَ لَهُ " . قُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ مُرْنِي بِعَمَلٍ . قَالَ " عَلَيْكَ بِالصَّوْمِ فَإِنَّهُ لاَ عِدْلَ لَهُ " .

বর্ণনাকারী: আবু উমামা বাহিলী রাযি.

২২২৭। ইয়াহয়া ইবনে মুহাম্মাদ অর্থাৎ ইবনে সাকান আবু উবাইদুল্লাহ (রাহঃ) ......... আবু উমামা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন যে, আমি বললাম যে, ইয়া রাসুলাল্লাহ! আমাকে কোন একটি আমলের নির্দেশ দিন। তিনি বললেন, তুমি রোযাকে আকড়ে ধর যেহেতু রোযা এর কোন বিকল্প নাই। (এ একটি অদ্বিতীয় ইবাদত)।

২২২৪

أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ بْنِ سَمُرَةَ، قَالَ حَدَّثَنَا الْمُحَارِبِيُّ، عَنْ فِطْرٍ، أَخْبَرَنِي حَبِيبُ بْنُ أَبِي ثَابِتٍ، عَنِ الْحَكَمِ بْنِ عُتَيْبَةَ، عَنْ مَيْمُونِ بْنِ أَبِي شَبِيبٍ، عَنْ مُعَاذِ بْنِ جَبَلٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " الصَّوْمُ جُنَّةٌ " .

বর্ণনাকারী: হযরত মু‘আয ইবনে জাবাল (রাঃ)

২২২৮। মুহাম্মাদ ইবনে ইসমাঈল (রাহঃ) ......... মু’আয ইবনে জাবাল (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন যে, রোযা ঢালস্বরূপ।

২২২৫

أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، قَالَ حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ حَمَّادٍ، قَالَ حَدَّثَنَا أَبُو عَوَانَةَ، عَنْ سُلَيْمَانَ، عَنْ حَبِيبِ بْنِ أَبِي ثَابِتٍ، وَالْحَكَمِ، عَنْ مَيْمُونِ بْنِ أَبِي شَبِيبٍ، عَنْ مُعَاذِ بْنِ جَبَلٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " الصَّوْمُ جُنَّةٌ " .

বর্ণনাকারী: হযরত মু‘আয ইবনে জাবাল (রাঃ)

২২২৯। মুহাম্মাদ ইবনে মুছান্না (রাহঃ) ......... মু’আয ইবনে জাবাল (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন যে, রোযা ঢাল স্বরূপ।

২২২৬

أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، وَمُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، قَالاَ حَدَّثَنَا مُحَمَّدٌ، قَالَ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنِ الْحَكَمِ، قَالَ سَمِعْتُ عُرْوَةَ بْنَ النَّزَّالِ، يُحَدِّثُ عَنْ مُعَاذٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " الصَّوْمُ جُنَّةٌ " .

বর্ণনাকারী: হযরত মু‘আয ইবনে জাবাল (রাঃ)

২২৩০। মুহাম্মাদ ইবনে মুছান্না এবং মুহাম্মাদ ইবনে বাশশার (রাহঃ) ......... মু’আয (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ রোযা ঢাল স্বরূপ।

২২২৭

أَخْبَرَنِي إِبْرَاهِيمُ بْنُ الْحَسَنِ، عَنْ حَجَّاجٍ، عَنْ شُعْبَةَ، قَالَ لِي الْحَكَمُ سَمِعْتُهُ مِنْهُ، مُنْذُ أَرْبَعِينَ سَنَةً ثُمَّ قَالَ الْحَكَمُ وَحَدَّثَنِي بِهِ مَيْمُونُ بْنُ أَبِي شَبِيبٍ عَنْ مُعَاذِ بْنِ جَبَلٍ .

বর্ণনাকারী: হযরত মু‘আয ইবনে জাবাল (রাঃ)

২২৩১। ইবরাহীম ইবনে হাসান (রাহঃ) ......... আবু সালিহ যায়্যাত (রাহঃ) থেকে বর্ণিত।

২২২৮

أَخْبَرَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ الْحَسَنِ، عَنْ حَجَّاجٍ، قَالَ ابْنُ جُرَيْجٍ أَخْبَرَنِي عَطَاءٌ، عَنْ أَبِي صَالِحٍ الزَّيَّاتِ، أَنَّهُ سَمِعَ أَبَا هُرَيْرَةَ، يَقُولُ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " الصِّيَامُ جُنَّةٌ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

২২৩২। ইবরাহীম ইবনে হাসান (রাহঃ) ......... আবু সালিহ যায়্যাত (রাহঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি আবু হুরায়রা (রাযিঃ)-কে বলতে শুনেছেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ রোযা ঢাল স্বরূপ।

২২২৯

وَأَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ حَاتِمٍ، أَنْبَأَنَا سُوَيْدٌ، قَالَ أَنْبَأَنَا عَبْدُ اللَّهِ، عَنِ ابْنِ جُرَيْجٍ، قِرَاءَةً عَنْ عَطَاءٍ، قَالَ أَنْبَأَنَا عَطَاءٌ الزَّيَّاتُ، أَنَّهُ سَمِعَ أَبَا هُرَيْرَةَ، يَقُولُ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " الصِّيَامُ جُنَّةٌ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

২২৩৩। মুহাম্মাদ ইবনে হাতিম (রাহঃ) ......... আতা যায়্যাত (রাহঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি আবু হুরায়রা (রাযিঃ) কে বলতে শুনেছেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ রোযা ঢাল স্বরূপ।

২২৩০

أَخْبَرَنَا قُتَيْبَةُ، قَالَ حَدَّثَنَا اللَّيْثُ، عَنْ يَزِيدَ بْنِ أَبِي حَبِيبٍ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ أَبِي هِنْدٍ، أَنَّ مُطَرِّفًا، - رَجُلٌ مِنْ بَنِي عَامِرِ بْنِ صَعْصَعَةَ - حَدَّثَهُ أَنَّ عُثْمَانَ بْنَ أَبِي الْعَاصِ دَعَا لَهُ بِلَبَنٍ لِيَسْقِيَهُ فَقَالَ مُطَرِّفٌ إِنِّي صَائِمٌ فَقَالَ عُثْمَانُ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " الصِّيَامُ جُنَّةٌ كَجُنَّةِ أَحَدِكُمْ مِنَ الْقِتَالِ " .

বর্ণনাকারী: উসমান ইবনে আফফান (রাঃ)

২২৩৪। কুতায়বা (রাহঃ) ......... সাঈদ ইবনে আবু হিনদ (রাহঃ) থেকে বর্ণিত যে, আমির ইবনে সা’অসা’আ গোত্রের মুতাররিফ (রাহঃ) নামক জনৈক ব্যক্তি বর্ণনা করেছেন যে, উছমান ইবনে আবুল আস (রাযিঃ) তাকে পান করাবার জন্য দুধ আনালে তিনি বললেন যে, আমি রোযা পালন করছি। তখন উছমান (রাযিঃ) বললেনঃ আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে বলতে শুনেছি যে, রোযা ঢাল স্বরূপ, তোমাদের যুদ্ধে ব্যবহৃত ঢালের ন্যায়।

২২৩১

أَخْبَرَنَا عَلِيُّ بْنُ الْحُسَيْنِ، قَالَ حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي عَدِيٍّ، عَنِ ابْنِ إِسْحَاقَ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ أَبِي هِنْدٍ، عَنْ مُطَرِّفٍ، قَالَ دَخَلْتُ عَلَى عُثْمَانَ بْنِ أَبِي الْعَاصِ فَدَعَا بِلَبَنٍ فَقُلْتُ إِنِّي صَائِمٌ . فَقَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " الصَّوْمُ جُنَّةٌ مِنَ النَّارِ كَجُنَّةِ أَحَدِكُمْ مِنَ الْقِتَالِ " .

বর্ণনাকারী: উসমান ইবনে আবুল আস ছাকাফী (রাঃ)

২২৩৫। আলী ইবনে হুসাইন (রাহঃ) ......... মুতাররিফ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন যে, আমি উছমান ইবনে আবুল আস (রাযিঃ)-এর কাছে গেলে তিনি আমার জন্য দুধ আনালেন। তখন আমি বললাম, আমি তো রোযা পালন করছি। তিনি বললেন যে, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে বলতে শুনেছি, রোযা জাহান্নামের অগ্নি থেকে ঢাল স্বরূপ, তোমাদের যুদ্ধে ব্যবহত ঢালের ন্যায়।

২২৩২

أَخْبَرَنِي زَكَرِيَّا بْنُ يَحْيَى، قَالَ حَدَّثَنَا أَبُو مُصْعَبٍ، عَنِ الْمُغِيرَةِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ سَعِيدِ بْنِ أَبِي هِنْدٍ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِسْحَاقَ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ أَبِي هِنْدٍ، قَالَ دَخَلَ مُطَرِّفٌ عَلَى عُثْمَانَ نَحْوَهُ مُرْسَلٌ .

বর্ণনাকারী: উসমান ইবনে আফফান (রাঃ)

২২৩৬। যাকারিয়্যা ইবনে ইয়াহয়া (রাহঃ) থেকে অনুরূপ হাদীস বর্ণিত।

২২৩৩

أَخْبَرَنَا يَحْيَى بْنُ حَبِيبِ بْنِ عَرَبِيٍّ، قَالَ حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، قَالَ حَدَّثَنَا وَاصِلٌ، عَنْ بَشَّارِ بْنِ أَبِي سَيْفٍ، عَنِ الْوَلِيدِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ عِيَاضِ بْنِ غُطَيْفٍ، قَالَ أَبُو عُبَيْدَةَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " الصَّوْمُ جُنَّةٌ مَا لَمْ يَخْرِقْهَا " .

বর্ণনাকারী: আবু উবায়দা ইবনুল জাররাহ (রাঃ)

২২৩৭। ইয়াহয়া ইবনে হাবীব (রাহঃ) ......... ইয়াদ ইবনে গুতায়ফ (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। আবু উবাইদা (রাযিঃ) বলেছেন যে, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে বলতে শুনেছি, রোযা ঢাল স্বরূপ যতক্ষণ পর্যন্ত কেউ তা ভেঙ্গে না ফেলে।

২২৩৪

أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يَزِيدَ الآدَمِيُّ، قَالَ حَدَّثَنَا مَعْنٌ، عَنْ خَارِجَةَ بْنِ سُلَيْمَانَ، عَنْ يَزِيدَ بْنِ رُومَانَ، عَنْ عُرْوَةَ، عَنْ عَائِشَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " الصِّيَامُ جُنَّةٌ مِنَ النَّارِ فَمَنْ أَصْبَحَ صَائِمًا فَلاَ يَجْهَلْ يَوْمَئِذٍ وَإِنِ امْرُؤٌ جَهِلَ عَلَيْهِ فَلاَ يَشْتِمْهُ وَلاَ يَسُبَّهُ وَلْيَقُلْ إِنِّي صَائِمٌ وَالَّذِي نَفْسُ مُحَمَّدٍ بِيَدِهِ لَخُلُوفُ فَمِ الصَّائِمِ أَطْيَبُ عِنْدَ اللَّهِ مِنْ رِيحِ الْمِسْكِ " .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

২২৩৮। মুহাম্মাদ ইবনে ইয়াযীদ আদমী (রাহঃ) ......... আয়িশা (রাযিঃ) সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রোযা জাহান্নামের অগ্নি থেকে ঢাল স্বরূপ। তাই যে ব্যক্তি রোযা পালনরত অবস্থায় যার ভোর হয় সে যেন অজ্ঞ ব্যক্তির ন্যায় ব্যবহার না করে। অন্য কেউ যদি তার সাথে অজ্ঞ ব্যক্তির ন্যায় আচরণ করে তবে সে যেন তার সাথে অশ্লীল বাক্য ব্যবহার না করে এবং গালি না দেয়। বরং বলে যে, আমি রোযা পালন করছি। ঐ সত্তার শপথ যার হস্তে মুহাম্মাদ (ﷺ) এর জীবন, রোযা পালনকারীর (ক্ষুধাজনিত কারণে নির্গত) মুখের দুর্গন্ধ আল্লাহ তাআলার নিকট কস্তুরীর সুগন্ধি থেকেও অধিক পছন্দনীয়।

২২৩৫

أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ حَاتِمٍ، قَالَ أَنْبَأَنَا حِبَّانُ، قَالَ أَنْبَأَنَا عَبْدُ اللَّهِ، عَنْ مِسْعَرٍ، عَنِ الْوَلِيدِ بْنِ أَبِي مَالِكٍ، قَالَ حَدَّثَنَا أَصْحَابُنَا، عَنْ أَبِي عُبَيْدَةَ، قَالَ الصِّيَامُ جُنَّةٌ مَا لَمْ يَخْرِقْهَا .

বর্ণনাকারী: আবু উবায়দা ইবনুল জাররাহ (রাঃ)

২২৩৯। মুহাম্মাদ ইবনে হাতিম (রাহঃ) ......... আবু উবাইদা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রোযা ঢালস্বরূপ যতক্ষণ পর্যন্ত সে তা ভেঙ্গে না ফেলে।

২২৩৬

أَخْبَرَنَا عَلِيُّ بْنُ حُجْرٍ، قَالَ أَنْبَأَنَا سَعِيدُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ أَبِي حَازِمٍ، عَنْ سَهْلِ بْنِ سَعْدٍ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " لِلصَّائِمِينَ بَابٌ فِي الْجَنَّةِ يُقَالُ لَهُ الرَّيَّانُ لاَ يَدْخُلُ فِيهِ أَحَدٌ غَيْرُهُمْ فَإِذَا دَخَلَ آخِرُهُمْ أُغْلِقَ مَنْ دَخَلَ فِيهِ شَرِبَ وَمَنْ شَرِبَ لَمْ يَظْمَأْ أَبَدًا " .

বর্ণনাকারী: হযরত সাহল ইবনে সা'দ সাঈ'দী (রাঃ)

২২৪০। আলী ইবনে হুজর (রাহঃ) ......... সাহল ইবনে সা’দ (রাযিঃ) সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেছেন যে, রোযা পালনকারীদের জন্য জান্নাতে একটি দরজা রয়েছে যাকে রাইয়ান বলা হয়, সে দরজা দিয়ে রোযা পালনকারীগণ ব্যতীত অন্য কেউ প্রবেশ করতে পারবে না। যখন তাদের শেষ ব্যক্তি প্রবেশ করে ফেলবে, সে দরজা বন্ধ করে দেওয়া হবে। যে ব্যক্তি সে দরজা দিযে প্রবেশ করবে সে পানি পান করবে আর যে পানি পান করবে সে কখনো ক্ষুধার্ত হবে না।

২২৩৭

أَخْبَرَنَا قُتَيْبَةُ، قَالَ حَدَّثَنَا يَعْقُوبُ، عَنْ أَبِي حَازِمٍ، قَالَ حَدَّثَنِي سَهْلٌ، أَنَّ فِي الْجَنَّةِ، بَابًا يُقَالُ لَهُ الرَّيَّانُ يُقَالُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ أَيْنَ الصَّائِمُونَ هَلْ لَكُمْ إِلَى الرَّيَّانِ مَنْ دَخَلَهُ لَمْ يَظْمَأْ أَبَدًا فَإِذَا دَخَلُوا أُغْلِقَ عَلَيْهِمْ فَلَمْ يَدْخُلْ فِيهِ أَحَدٌ غَيْرُهُمْ .

বর্ণনাকারী: হযরত সাহল ইবনে সা'দ সাঈ'দী (রাঃ)

২২৪১। কুতায়বা (রাহঃ) ......... আবু হাকিম (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, সাহল আমার কাছে বর্ণনা করেছেন যে, নিশ্চয়ই জান্নাতে একটি দরজা আছে যাকে রাইয়ান বলা হয়। কিমামতের দিন বলা হবে কোথায় রোযা পালনকারীরা? তোমরা কেন রাইয়ান এর দিকে আসছ না? যে ব্যক্তি সে দরজা দিয়ে প্রবেশ করবে সে কখনো তৃষ্ণার্ত হবে না। যখন রোযা পালনকারীরা প্রবেশ করে ফেলবে সে দরজা বন্ধ করে দেওয়া হবে। অতএব সে দরজা দিয়ে রোযা পালনকারীগণ ব্যতীত অন্য কেউ প্রবেশ করতে পারবে না।

২২৩৮

أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَمْرِو بْنِ السَّرْحِ، وَالْحَارِثُ بْنُ مِسْكِينٍ، قِرَاءَةً عَلَيْهِ وَأَنَا أَسْمَعُ، عَنِ ابْنِ وَهْبٍ، قَالَ أَخْبَرَنِي مَالِكٌ، وَيُونُسُ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ حُمَيْدِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " مَنْ أَنْفَقَ زَوْجَيْنِ فِي سَبِيلِ اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ نُودِيَ فِي الْجَنَّةِ يَا عَبْدَ اللَّهِ هَذَا خَيْرٌ فَمَنْ كَانَ مِنْ أَهْلِ الصَّلاَةِ يُدْعَى مِنْ بَابِ الصَّلاَةِ وَمَنْ كَانَ مِنْ أَهْلِ الْجِهَادِ يُدْعَى مِنْ بَابِ الْجِهَادِ وَمَنْ كَانَ مِنْ أَهْلِ الصَّدَقَةِ يُدْعَى مِنْ بَابِ الصَّدَقَةِ وَمَنْ كَانَ مِنْ أَهْلِ الصِّيَامِ دُعِيَ مِنْ بَابِ الرَّيَّانِ " . قَالَ أَبُو بَكْرٍ الصِّدِّيقُ يَا رَسُولَ اللَّهِ مَا عَلَى أَحَدٍ يُدْعَى مِنْ تِلْكَ الأَبْوَابِ مِنْ ضَرُورَةٍ فَهَلْ يُدْعَى أَحَدٌ مِنْ تِلْكَ الأَبْوَابِ كُلِّهَا قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " نَعَمْ وَأَرْجُو أَنْ تَكُونَ مِنْهُمْ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

২২৪২। আহমদ ইবনে আমর এবং হারিছ ইবনে মিসকীন (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) সূত্রে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, যে ব্যক্তি আল্লাহর রাস্তায় এক জোড়া (ভাল জিনিস) দান করবে তাকে কিয়ামতের দিন ডাকা হবে, হে আল্লাহর বান্দা! তোমার এ দানটা কতই না ভালো। যে ব্যক্তি নামায আদায়ে অভ্যস্ত হবে তাকে নামাযের দরজা দিয়ে ডাকা হবে, আর যে ব্যক্তি জিহাদে অভ্যস্ত হবে তাকে জিহাদের দরজা দিয়ে ডাকা হবে যে ব্যক্তি দান খয়রাতে অভ্যস্ত হবে তাকে দান খয়রাতের দরজা দিয়ে ডাকা হবে আর যে ব্যক্তি রোযা পালনে অভ্যস্ত হবে তাকে রাইয়ান নামক দরজা দিয়ে ডাকা হবে।

তখন আবু বকর সিদ্দিক (রাযিঃ) বললেন, ইয়া রাসুলাল্লাহ! কাউকে এক যোগে এই সকল দরজা দিয়ে ডাকার কোন প্রয়োজন নেই। তাও কাউকে কি এই সকল দরজা দিয়ে এক যোগে ডাকা হবে? রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, হ্যাঁ এবং আমি আশা করি যে, আপনি সেই সৌভাগ্যবান ব্যক্তিদের অন্যতম হবেন।
২২৩৯

أَخْبَرَنَا مَحْمُودُ بْنُ غَيْلاَنَ، قَالَ حَدَّثَنَا أَبُو أَحْمَدَ، قَالَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ عُمَارَةَ بْنِ عُمَيْرٍ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ يَزِيدَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ خَرَجْنَا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَنَحْنُ شَبَابٌ لاَ نَقْدِرُ عَلَى شَىْءٍ قَالَ " يَا مَعْشَرَ الشَّبَابِ عَلَيْكُمْ بِالْبَاءَةِ فَإِنَّهُ أَغَضُّ لِلْبَصَرِ وَأَحْصَنُ لِلْفَرْجِ وَمَنْ لَمْ يَسْتَطِعْ فَعَلَيْهِ بِالصَّوْمِ فَإِنَّهُ لَهُ وِجَاءٌ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ)

২২৪৩। মাহমুদ ইবনে গায়লান (রাহঃ) ......... আব্দুল্লাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন যে, আমরা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সাথে একবার বের হলাম; তখন আমরা যুবক ছিলাম। কিন্তু আমাদের বিবাহের সামর্থ্য ছিল না রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, হে যুবক শোন! তোমরা বিবাহ করে ফেল। কেননা তা দৃষ্টিকে অবনত রাখে আর লজ্জাস্থানের সংরক্ষণ করে। আর যে ব্যক্তি বিবাহের সামর্থ্য রাখে না সে যেন রোযা পালন করে। কেননা রোযা তার কামভাব দমন করবে।

২২৪০

أَخْبَرَنَا بِشْرُ بْنُ خَالِدٍ، قَالَ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ، عَنْ شُعْبَةَ، عَنْ سُلَيْمَانَ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ، عَنْ عَلْقَمَةَ، أَنَّ ابْنَ مَسْعُودٍ، لَقِيَ عُثْمَانَ بِعَرَفَاتٍ فَخَلاَ بِهِ فَحَدَّثَهُ وَأَنَّ، عُثْمَانَ قَالَ لاِبْنِ مَسْعُودٍ هَلْ لَكَ فِي فَتَاةٍ أُزَوِّجُكَهَا فَدَعَا عَبْدُ اللَّهِ عَلْقَمَةَ فَحَدَّثَهُ أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " مَنِ اسْتَطَاعَ مِنْكُمُ الْبَاءَةَ فَلْيَتَزَوَّجْ فَإِنَّهُ أَغَضُّ لِلْبَصَرِ وَأَحْصَنُ لِلْفَرْجِ وَمَنْ لَمْ يَسْتَطِعْ فَلْيَصُمْ فَإِنَّ الصَّوْمَ لَهُ وِجَاءٌ " .

বর্ণনাকারী: আলকামা ইবনে কায়স নাখঈ (রহঃ)

২২৪৪। বিশর ইবনে খালিদ (রাহঃ) ......... আলকামা (রাহঃ) থেকে বর্ণিত যে, ইবনে মাসউদ (রাযিঃ) একদা আরাফাতে উছমান (রাযিঃ) এর সাথে সাক্ষাত করলেন। তিনি ইবনে মাসউদ (রাযিঃ) কে নির্জনে নিয়ে গিয়ে বললেন যে, তোমার কি কোন যুবতীর প্রয়োজন আছে যাকে আমি তোমার সাথে বিবাহ দিয়ে দিব? তখন আব্দুল্লাহ (রাযিঃ) আলকামা (রাহঃ)-কে ডেকে তার কাছে বর্ণনা করলেন যে, নবী (ﷺ) বলেছেনঃ তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি বিবাহের সামর্থ্য রাখে সে যেন বিবাহ করে ফেলে। কেননা বিবাহ দৃষ্টিকে অবনত রাখে এবং লজ্জাস্থানকে সংরক্ষণ করে। আর যে ব্যক্তি বিবাহের সামর্থ্য রাখে না সে যেন রোযা পালন করে, যেহেতু রোযা তার কামভাব দমনকারী।

২২৪১

أَخْبَرَنَا هَارُونُ بْنُ إِسْحَاقَ، قَالَ حَدَّثَنَا الْمُحَارِبِيُّ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ، عَنْ عَلْقَمَةَ، وَالأَسْوَدِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " مَنِ اسْتَطَاعَ مِنْكُمُ الْبَاءَةَ فَلْيَتَزَوَّجْ وَمَنْ لَمْ يَجِدْ فَعَلَيْهِ بِالصَّوْمِ فَإِنَّهُ لَهُ وِجَاءٌ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ)

২২৪৫। হারুন ইবনে ইসহাক (রাহঃ) ......... আব্দুলাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন যে, তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি বিবাহের সামর্থ্য রাখে সে যেন বিবাহ করে আর যে ব্যক্তি বিবাহের সামর্থ্য না রাখে সে যেন রোযা পালন করে। কেননা রোযা তার কামভাবকে দমন করবে।

২২৪২

أَخْبَرَنِي هِلاَلُ بْنُ الْعَلاَءِ بْنِ هِلاَلٍ، قَالَ حَدَّثَنَا أَبِي قَالَ، حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ هَاشِمٍ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ عُمَارَةَ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ يَزِيدَ، قَالَ دَخَلْنَا عَلَى عَبْدِ اللَّهِ وَمَعَنَا عَلْقَمَةُ وَالأَسْوَدُ وَجَمَاعَةٌ فَحَدَّثَنَا بِحَدِيثٍ مَا رَأَيْتُهُ حَدَّثَ بِهِ الْقَوْمَ إِلاَّ مِنْ أَجْلِي لأَنِّي كُنْتُ أَحْدَثَهُمْ سِنًّا قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " يَا مَعْشَرَ الشَّبَابِ مَنِ اسْتَطَاعَ مِنْكُمُ الْبَاءَةَ فَلْيَتَزَوَّجْ فَإِنَّهُ أَغَضُّ لِلْبَصَرِ وَأَحْصَنُ لِلْفَرْجِ " . قَالَ عَلِيٌّ وَسُئِلَ الأَعْمَشُ عَنْ حَدِيثِ إِبْرَاهِيمَ فَقَالَ عَنْ إِبْرَاهِيمَ عَنْ عَلْقَمَةَ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ مِثْلَهُ قَالَ نَعَمْ .

বর্ণনাকারী: আব্দুর রহমান ইবনে ইয়াযীদ (রহঃ)

২২৪৬। হিলাল ইবনে আলা (রাহঃ) ......... আব্দুর রহমান ইবনে ইয়াযীদ (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন যে, আমরা আব্দুল্লাহ (রাযিঃ)-এর কাছে গেলাম। তখন আমাদের সাথে আলকামা, আসওয়াদ (রাহঃ) এবং একজন লোক ছিলেন। তিনি আমাদের সামনে এমন একটি হাদীস বর্ণনা করলেন, যা আমার ধারণায় উপস্থিত লোকদের নয় বরং আমাকেই উপলক্ষ করে বর্ণনা করলেন। যেহেতু আমি উপস্থিত লোকদের মধ্যে কম বয়সের ছিলাম। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন যে, হে যুবক শ্রেনী! তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি বিবাহের সামর্থ রাখে সে যেন বিবাহ করে, যেহেতু বিবাহ দৃষ্টিকে অবনত রাখে এবং লজ্জাস্থানকে সংরক্ষণ করে।

২২৪৩

أَخْبَرَنَا عَمْرُو بْنُ زُرَارَةَ، قَالَ أَنْبَأَنَا إِسْمَاعِيلُ، قَالَ حَدَّثَنَا يُونُسُ، عَنْ أَبِي مَعْشَرٍ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ، عَنْ عَلْقَمَةَ، قَالَ كُنْتُ مَعَ ابْنِ مَسْعُودٍ وَهُوَ عِنْدَ عُثْمَانَ فَقَالَ عُثْمَانُ خَرَجَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَلَى فِتْيَةٍ فَقَالَ " مَنْ كَانَ مِنْكُمْ ذَا طَوْلٍ فَلْيَتَزَوَّجْ فَإِنَّهُ أَغَضُّ لِلْبَصَرِ وَأَحْصَنُ لِلْفَرْجِ وَمَنْ لاَ فَالصَّوْمُ لَهُ وِجَاءٌ " . قَالَ أَبُو عَبْدِ الرَّحْمَنِ أَبُو مَعْشَرٍ هَذَا اسْمُهُ زِيَادُ بْنُ كُلَيْبٍ وَهُوَ ثِقَةٌ وَهُوَ صَاحِبُ إِبْرَاهِيمَ رَوَى عَنْهُ مَنْصُورٌ وَمُغِيرَةُ وَشُعْبَةُ وَأَبُو مَعْشَرٍ الْمَدَنِيُّ اسْمُهُ نَجِيحٌ وَهُوَ ضَعِيفٌ وَمَعَ ضَعْفِهِ أَيْضًا كَانَ قَدِ اخْتَلَطَ عِنْدَهُ أَحَادِيثُ مَنَاكِيرُ مِنْهَا مُحَمَّدُ بْنُ عَمْرٍو عَنْ أَبِي سَلَمَةَ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " مَا بَيْنَ الْمَشْرِقِ وَالْمَغْرِبِ قِبْلَةٌ " . وَمِنْهَا هِشَامُ بْنُ عُرْوَةَ عَنْ أَبِيهِ عَنْ عَائِشَةَ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم " لاَ تَقْطَعُوا اللَّحْمَ بِالسِّكِّينِ وَلَكِنِ انْهَسُوا نَهْسًا " .

বর্ণনাকারী: উসমান ইবনে আফফান (রাঃ)

২২৪৭। আমর ইবনে যুরারাহ (রাহঃ) ......... আলকামা (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ইবনে মাসউদ (রাযিঃ)-এর সাথে বসা ছিলাম। তিনি তখন উসমান (রাযিঃ) এর কাছে ছিলেন। উসমান (রাযিঃ) বললেন যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কয়েকজন যুবকের কাছে গেলেন এবং বললেন যে, তোমাদের মধ্যে যার সামর্থ্য রয়েছে সে যেন বিবাহ করে ফেলে। কেননা বিবাহ দৃষ্টিকে অবনত রাখে এবং লজ্জাস্থানকে সংরক্ষণ করে। আর যার সামর্থ্য নেই, রোযা তার কামভাবকে দমন করবে।

যে ব্যক্তি মহান আল্লাহর রাস্তায় একদিন রোযা পালন করলো তার সাওয়াব, এ বিষয়ে হাদীস বর্ণনায় সুহাঈল ইবনে আবু সালিহ (রাহঃ) থেকে বর্ণনা পার্থক্য প্রসঙ্গ

باب ثَوَابِ مَنْ صَامَ يَوْمًا فِي سَبِيلِ اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ وَذِكْرِ الاِخْتِلاَفِ عَلَى سُهَيْلِ بْنِ أَبِي صَالِحٍ فِي الْخَبَرِ فِي ذَلِكَ

২২৪৪

أَخْبَرَنَا يُونُسُ بْنُ عَبْدِ الأَعْلَى، قَالَ أَخْبَرَنِي أَنَسٌ، عَنْ سُهَيْلِ بْنِ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " مَنْ صَامَ يَوْمًا فِي سَبِيلِ اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ زَحْزَحَ اللَّهُ وَجْهَهُ عَنِ النَّارِ بِذَلِكَ الْيَوْمِ سَبْعِينَ خَرِيفًا " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

২২৪৮। ইউনুস ইবনে আব্দুল আলা (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) সূত্রে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন যে, যে ব্যক্তি আল্লাহর রাস্তায় একদিন রোযা পালন করবে আল্লাহ তাআলা সেই একদিনের রোযার বিনিময়ে তার চেহারাকে জাহান্নামের আগুন থেকে সত্তর বছরের দূরে সরিয়ে রাখবেন। (অর্থাৎ তার চেহারা জাহান্নাম থেকে বহু দুরে থাকবে।)

২২৪৫

أَخْبَرَنَا دَاوُدُ بْنُ سُلَيْمَانَ بْنِ حَفْصٍ، قَالَ حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ الضَّرِيرُ، عَنْ سُهَيْلٍ، عَنِ الْمَقْبُرِيِّ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " مَنْ صَامَ يَوْمًا فِي سَبِيلِ اللَّهِ بَاعَدَ اللَّهُ بَيْنَهُ وَبَيْنَ النَّارِ بِذَلِكَ الْيَوْمِ سَبْعِينَ خَرِيفًا " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ)

২২৪৯। দাউদ ইবনে সুলাইমান (রাহঃ) ......... আবু সাঈদ খুদরী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি আল্লাহর রাস্তায় একদিন রোযা পালন করবে আল্লাহ তাআলা সেই রোযার বিনিময়ে তার জাহান্নামের মাঝখানে সত্তর বছরের দুরত্ব করে দেবেন।

২২৪৬

أَخْبَرَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ يَعْقُوبَ، قَالَ: حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي مَرْيَمَ، قَالَ: حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، قَالَ: أَخْبَرَنِي سُهَيْلٌ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «مَنْ صَامَ يَوْمًا فِي سَبِيلِ اللَّهِ بَاعَدَ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ وَجْهَهُ عَنِ النَّارِ سَبْعِينَ خَرِيفًا»

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

২২৫০। ইবরাহীম ইবনে ইয়াকুব (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি আল্লাহর রাস্তায় একদিন রোযা পালন করবে আল্লাহ তাআলা তার চেহারাকে জাহান্নামের আগুন থেকে সত্তর বছরের দূরে রাখবেন।

২২৪৭

أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، قَالَ حَدَّثَنَا مُحَمَّدٌ، قَالَ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ سُهَيْلٍ، عَنْ صَفْوَانَ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " مَنْ صَامَ يَوْمًا فِي سَبِيلِ اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ بَاعَدَ اللَّهُ وَجْهَهُ مِنْ جَهَنَّمَ سَبْعِينَ عَامًا " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ)

২২৫১। মুহাম্মাদ ইবনে বাশশার (রাহঃ) ......... আবু সাঈদ (রাযিঃ) সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ যে ব্যক্তি আল্লাহর রাস্তায় একদিন রোযা পালন করবে আল্লাহ তাআলা তার চেহারাকে জাহান্নামের আগুন থেকে সত্তর বছরের দুরত্বে সরিয়ে রাখবেন।

২২৪৮

أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ الْحَكَمِ، عَنْ شُعَيْبٍ، قَالَ أَنْبَأَنَا اللَّيْثُ، عَنِ ابْنِ الْهَادِ، عَنْ سُهَيْلٍ، عَنِ ابْنِ أَبِي عَيَّاشٍ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ، أَنَّهُ سَمِعَ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " مَا مِنْ عَبْدٍ يَصُومُ يَوْمًا فِي سَبِيلِ اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ إِلاَّ بَعَّدَ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ بِذَلِكَ الْيَوْمِ وَجْهَهُ عَنِ النَّارِ سَبْعِينَ خَرِيفًا " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ)

২২৫২। মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল্লাহ (রাহঃ) ......... আবু সাঈদ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে বলতে শুনেছেনঃ যে ব্যক্তি আল্লাহর রাস্তায় একদিন রোযা পালন করবে আল্লাহ তাআলা সেই রোযার বিনিময়ে তার চেহারাকে জাহান্নামের আগুন থেকে সত্তর বছরের দূরত্বে সরিয়ে রাখবেন।

২২৪৯

أَخْبَرَنَا الْحَسَنُ بْنُ قَزَعَةَ، عَنْ حُمَيْدِ بْنِ الأَسْوَدِ، قَالَ حَدَّثَنَا سُهَيْلٌ، عَنِ النُّعْمَانِ بْنِ أَبِي عَيَّاشٍ، قَالَ سَمِعْتُ أَبَا سَعِيدٍ الْخُدْرِيَّ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " مَنْ صَامَ يَوْمًا فِي سَبِيلِ اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ بَاعَدَهُ اللَّهُ عَنِ النَّارِ سَبْعِينَ خَرِيفًا " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ)

২২৫৩। হাসান ইবনে কাযাআ (রাহঃ) ......... আবু সাঈদ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেছেন, যে ব্যক্তি আল্লাহর রাস্তায় একদিন রোযা পালন করবে আল্লাহ তাআলা সেই রোযার বিনিময়ে তার চেহারাকে জাহান্নামের আগুন থেকে সত্তর বছরের দূরত্বে সরিয়ে রাখবেন।

২২৫০

أَخْبَرَنَا مُؤَمَّلُ بْنُ إِهَابٍ، قَالَ حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، قَالَ أَنْبَأَنَا ابْنُ جُرَيْجٍ، قَالَ أَخْبَرَنِي يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ، وَسُهَيْلُ بْنُ أَبِي صَالِحٍ، سَمِعَا النُّعْمَانَ بْنَ أَبِي عَيَّاشٍ، قَالَ سَمِعْتُ أَبَا سَعِيدٍ الْخُدْرِيَّ، يَقُولُ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " مَنْ صَامَ يَوْمًا فِي سَبِيلِ اللَّهِ تَبَارَكَ وَتَعَالَى بَاعَدَ اللَّهُ وَجْهَهُ عَنِ النَّارِ سَبْعِينَ خَرِيفًا " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ)

২২৫৪। মুআম্মাল ইবনে ইহাব (রাহঃ) ......... আবু সাঈদ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে বলতে শুনেছিঃ যে ব্যক্তি আল্লাহর রাস্তায় একদিন রোযা পালন করবে আল্লাহ তাআলা তার চেহারাকে জাহান্নামের আগুন থেকে সত্তর বছরের দূরে সরিয়ে রাখবেন।

এ বিষয়ে সুফিয়ান (রাহঃ) সূত্রে হাদীস বর্ণনায় বর্ণনা পার্থক্য

باب ذِكْرِ الاِخْتِلاَفِ عَلَى سُفْيَانَ الثَّوْرِيِّ فِيهِ

২২৫১

أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُنِيرٍ، - نَيْسَابُورِيٌّ - قَالَ حَدَّثَنَا يَزِيدُ الْعَدَنِيُّ، قَالَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ سُهَيْلِ بْنِ أَبِي صَالِحٍ، عَنِ النُّعْمَانِ بْنِ أَبِي عَيَّاشٍ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " لاَ يَصُومُ عَبْدٌ يَوْمًا فِي سَبِيلِ اللَّهِ إِلاَّ بَاعَدَ اللَّهُ تَعَالَى بِذَلِكَ الْيَوْمِ النَّارَ عَنْ وَجْهِهِ سَبْعِينَ خَرِيفًا " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ)

২২৫৫। আব্দুল্লাহ ইবনে মুনীর নিশাপূরী (রাহঃ) ......... আবু সাঈদ খুদরী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যে কোন ব্যক্তি আল্লাহর রাস্তায় একদিন রোযা পালন করবে আল্লাহ তাআলা সেই রোযার বিনিময়ে তার চেহারাকে জাহান্নামের আগুন থেকে সত্তর বছরের দূরত্বে সরিয়ে রাখবেন।

২২৫২

أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ حَرْبٍ، قَالَ حَدَّثَنَا قَاسِمٌ، عَنْ سُفْيَانَ، عَنْ سُهَيْلِ بْنِ أَبِي صَالِحٍ، عَنِ النُّعْمَانِ بْنِ أَبِي عَيَّاشٍ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " مَنْ صَامَ يَوْمًا فِي سَبِيلِ اللَّهِ بَاعَدَ اللَّهُ بِذَلِكَ الْيَوْمِ حَرَّ جَهَنَّمَ عَنْ وَجْهِهِ سَبْعِينَ خَرِيفًا " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ)

২২৫৬। আহমাদ ইবনে হারব (রাহঃ) ......... আবু সাঈদ খুদরী (রাযিঃ) সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ যে ব্যক্তি আল্লাহর রাস্তায় একদিন রোযা পালন করবে আল্লাহ তাআলা সেই রোযার বিনিময়ে তার চেহারা থেকে জাহান্নামের উত্তাপকে সত্তর বছরের দূরত্বে সরিয়ে রাখবেন।

২২৫৩

أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ حَنْبَلٍ، قَالَ قَرَأْتُ عَلَى أَبِي حَدَّثَكُمُ ابْنُ نُمَيْرٍ، قَالَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ سُمَىٍّ، عَنِ النُّعْمَانِ بْنِ أَبِي عَيَّاشٍ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " مَنْ صَامَ يَوْمًا فِي سَبِيلِ اللَّهِ بَاعَدَ اللَّهُ بِذَلِكَ الْيَوْمِ النَّارَ عَنْ وَجْهِهِ سَبْعِينَ خَرِيفًا " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ)

২২৫৭। আব্দুল্লাহ ইবনে আহমদ (রাহঃ) ......... আবু সাঈদ খুদরী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন যে, যে ব্যক্তি আল্লাহর রাস্তায় একদিন রোযা পালন করবে আল্লাহ তাআলা সেই রোযার বিনিময়ে তার চেহারাকে জাহান্নামের আগুন থেকে সত্তর বছরের দূরত্বে সরিয়ে রাখবেন।

২২৫৪

أَخْبَرَنَا مَحْمُودُ بْنُ خَالِدٍ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ شُعَيْبٍ، قَالَ أَخْبَرَنِي يَحْيَى بْنُ الْحَارِثِ، عَنِ الْقَاسِمِ أَبِي عَبْدِ الرَّحْمَنِ، أَنَّهُ حَدَّثَهُ عَنْ عُقْبَةَ بْنِ عَامِرٍ، عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " مَنْ صَامَ يَوْمًا فِي سَبِيلِ اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ بَاعَدَ اللَّهُ مِنْهُ جَهَنَّمَ مَسِيرَةَ مِائَةِ عَامٍ " .

বর্ণনাকারী: হযরত উকবা ইবন আমির রাযি.

২২৫৮। মাহমুদ ইবনে খালিদ (রাহঃ) ......... উকবা ইবনে আমির (রাযিঃ) সূত্রে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, যে ব্যক্তি আল্লাহর রাস্তায় একদিন রোযা পালন করবে আল্লাহ তাআলা তার থেকে জাহান্নামকে একশত বছরের দুরত্বে সরিয়ে রাখবেন।

সফরকালীন রোযা মাকরূহ হওয়া

باب مَا يُكْرَهُ مِنَ الصِّيَامِ فِي السَّفَرِ

২২৫৫

أَخْبَرَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، قَالَ أَنْبَأَنَا سُفْيَانُ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ صَفْوَانَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، عَنْ أُمِّ الدَّرْدَاءِ، عَنْ كَعْبِ بْنِ عَاصِمٍ، قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " لَيْسَ مِنَ الْبِرِّ الصِّيَامُ فِي السَّفَرِ " .

২২৫৯। ইসহাক ইবনে ইবরাহীম (রাহঃ) ......... কা’ব ইবনে আসিম (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে বলতে শুনেছিঃ সফরকালীন অবস্থায় রোযা পালন করা সাওয়াবের কাজ নয়।

২২৫৬

أَخْبَرَنِي إِبْرَاهِيمُ بْنُ يَعْقُوبَ، قَالَ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ كَثِيرٍ، عَنِ الأَوْزَاعِيِّ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيَّبِ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " لَيْسَ مِنَ الْبِرِّ الصِّيَامُ فِي السَّفَرِ " . قَالَ أَبُو عَبْدِ الرَّحْمَنِ هَذَا خَطَأٌ وَالصَّوَابُ الَّذِي قَبْلَهُ لاَ نَعْلَمُ أَحَدًا تَابَعَ ابْنَ كَثِيرٍ عَلَيْهِ .

বর্ণনাকারী: সাঈদ ইবনুল মুসাইয়্যাব (রহঃ)

২২৬০। ইবরাহীম ইবনে ইয়াকুব (রাহঃ) ......... সাঈদ ইবনে মুসায়্যাব (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন যে, সফরকালীন অবস্থায় রোযা পালন করা সাওয়াবের কাজ নয়।

যে কারণে সফরে রোযা পালন সম্পর্কে উক্ত বক্তব্য দেওয়া হয়েছে এবং এ বিষয়ে জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত সনদে মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুর রহমান (রাহঃ) এর বর্ণনা পার্থক্য

باب الْعِلَّةِ الَّتِي مِنْ أَجْلِهَا قِيلَ ذَلِكَ وَذِكْرِ الاِخْتِلاَفِ عَلَى مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ فِي حَدِيثِ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ فِي ذَلِكَ

২২৫৭

أَخْبَرَنَا قُتَيْبَةُ، قَالَ حَدَّثَنَا بَكْرٌ، عَنْ عُمَارَةَ بْنِ غَزِيَّةَ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم رَأَى نَاسًا مُجْتَمِعِينَ عَلَى رَجُلٍ فَسَأَلَ فَقَالُوا رَجُلٌ أَجْهَدَهُ الصَّوْمُ . قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " لَيْسَ مِنَ الْبِرِّ الصِّيَامُ فِي السَّفَرِ " .

বর্ণনাকারী: জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ আনসারী (রাঃ)

২২৬১। কুতায়বা (রাহঃ) ......... জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) দেখলেন যে, কিছু লোক একজন লোককে ঘিরে রেখেছে। তিনি জিজ্ঞাসা করলে তারা বলল যে, এই ব্যক্তিকে রোযা পরিশ্রান্ত করে ফেলেছে। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, সফরকালীন অবস্থায় রোযা পালন করা সাওয়াবের কাজ নয়।

২২৫৮

أَخْبَرَنِي شُعَيْبُ بْنُ شُعَيْبِ بْنِ إِسْحَاقَ، قَالَ حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَهَّابِ بْنُ سَعِيدٍ، قَالَ حَدَّثَنَا شُعَيْبٌ، قَالَ حَدَّثَنَا الأَوْزَاعِيُّ، قَالَ حَدَّثَنِي يَحْيَى بْنُ أَبِي كَثِيرٍ، قَالَ أَخْبَرَنِي مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، قَالَ أَخْبَرَنِي جَابِرُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مَرَّ بِرَجُلٍ فِي ظِلِّ شَجَرَةٍ يُرَشُّ عَلَيْهِ الْمَاءُ قَالَ " مَا بَالُ صَاحِبِكُمْ هَذَا " . قَالُوا يَا رَسُولَ اللَّهِ صَائِمٌ . قَالَ " إِنَّهُ لَيْسَ مِنَ الْبِرِّ أَنْ تَصُومُوا فِي السَّفَرِ وَعَلَيْكُمْ بِرُخْصَةِ اللَّهِ الَّتِي رَخَّصَ لَكُمْ فَاقْبَلُوهَا " .

বর্ণনাকারী: জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ আনসারী (রাঃ)

২২৬২। শুআয়ব ইবনে শুআয়ব (রাহঃ) ......... জাবির ইবনে আব্দূল্লাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এক ব্যক্তির পাশ দিয়ে গেলেন যিনি গাছের ছায়ায় (বসা) ছিলেন আর তার উপর পানি ছিটানো হচ্ছিল, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) জিজ্ঞাসা করলেন যে, তোমাদের এ সাথীর কি হল? তারা উত্তর দিল, ইয়া রাসুলাল্লাহ! সে রোযা পালন করছিল, তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, সফরকালীন অবস্থায় রোযা পালন করা সাওয়াবের কাজ নয়। তোমরা আল্লাহ প্রদত্ত সুযোগের সদ্ব্যবহার কর; যে সুযোগ আল্লাহ তাআলা তোমাদের দিয়েছেন, তোমরা তা গ্রহণ কর।

২২৫৯

أَخْبَرَنَا مَحْمُودُ بْنُ خَالِدٍ، قَالَ حَدَّثَنَا الْفِرْيَابِيُّ، قَالَ حَدَّثَنَا الأَوْزَاعِيُّ، قَالَ حَدَّثَنِي يَحْيَى، قَالَ أَخْبَرَنِي مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، قَالَ حَدَّثَنِي مَنْ، سَمِعَ جَابِرًا، نَحْوَهُ .

বর্ণনাকারী: জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ আনসারী (রাঃ)

২২৬৩। মাহমুদ ইবনে খালিদ (রাহঃ) ......... মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুর রহমান (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, সফরকালীন অবস্থায় রোযা পালন করা সাওয়াবের কাজ নয়। তোমরা আল্লাহ প্রদত্ত সুযোগের সদ্ব্যবহার কর এবং তা গ্রহণ কর।

আলী ইবনে মুবারাক (রাহঃ) থেকে বর্ণনায় সনদের বিভিন্নতা

باب ذِكْرِ الاِخْتِلاَفِ عَلَى عَلِيِّ بْنِ الْمُبَارَكِ

২২৬০

أَخْبَرَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، قَالَ أَنْبَأَنَا وَكِيعٌ، قَالَ حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ الْمُبَارَكِ، عَنْ يَحْيَى بْنِ أَبِي كَثِيرٍ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ ثَوْبَانَ، عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، رضى الله عنهما عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " لَيْسَ مِنَ الْبِرِّ الصِّيَامُ فِي السَّفَرِ عَلَيْكُمْ بِرُخْصَةِ اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ فَاقْبَلُوهَا " .

বর্ণনাকারী: জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ আনসারী (রাঃ)

২২৬৪। ইসহাক ইবনে ইবরাহীম (রাহঃ) ......... জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ (রাযিঃ) সূত্রে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, সফরকালীন অবস্থায় রোযা পালন করা সাওয়াবের কাজ নয়। তোমরা আল্লাহ প্রদত্ত সুযোগের সদ্ব্যবহার কর এবং তা গ্রহণ কর।

২২৬১

أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، عَنْ عُثْمَانَ بْنِ عُمَرَ، قَالَ أَنْبَأَنَا عَلِيُّ بْنُ الْمُبَارَكِ، عَنْ يَحْيَى، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ رَجُلٍ، عَنْ جَابِرٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " لَيْسَ مِنَ الْبِرِّ الصِّيَامُ فِي السَّفَرِ " .

বর্ণনাকারী: জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ আনসারী (রাঃ)

২২৬৫। মুহাম্মাদ ইবনে মুছান্না (রাহঃ) ......... জাবির (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ সফরকালীন অবস্থায় রোযা পালন করা সাওয়াবের কাজ নয়।

জাবির (রাযিঃ) থেকে বর্ণনাকারী ব্যক্তির নাম

باب ذِكْرِ اسْمِ الرَّجُلِ

২২৬২

أَخْبَرَنَا عَمْرُو بْنُ عَلِيٍّ، قَالَ حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ، وَخَالِدُ بْنُ الْحَارِثِ، عَنْ شُعْبَةَ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَمْرِو بْنِ حَسَنٍ، عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم رَأَى رَجُلاً قَدْ ظُلِّلَ عَلَيْهِ فِي السَّفَرِ فَقَالَ " لَيْسَ مِنَ الْبِرِّ الصِّيَامُ فِي السَّفَرِ " .

বর্ণনাকারী: জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ আনসারী (রাঃ)

২২৬৬। আমর ইবনে আলী (রাহঃ) ......... জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, তাকে সফররত অবস্থায় ছায়া দেওয়া হচ্ছিল। তখন তিনি বললেন যে, সফরকালীন অবস্থায় রোযা পালন করা সাওয়াবের কাজ নয়।

২২৬৩

أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ الْحَكَمِ، عَنْ شُعَيْبٍ، قَالَ أَنْبَأَنَا اللَّيْثُ، عَنِ ابْنِ الْهَادِ، عَنْ جَعْفَرِ بْنِ مُحَمَّدٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَابِرٍ، قَالَ خَرَجَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِلَى مَكَّةَ عَامَ الْفَتْحِ فِي رَمَضَانَ فَصَامَ حَتَّى بَلَغَ كُرَاعَ الْغَمِيمِ فَصَامَ النَّاسُ فَبَلَغَهُ أَنَّ النَّاسَ قَدْ شَقَّ عَلَيْهِمُ الصِّيَامُ فَدَعَا بِقَدَحٍ مِنَ الْمَاءِ بَعْدَ الْعَصْرِ فَشَرِبَ وَالنَّاسُ يَنْظُرُونَ فَأَفْطَرَ بَعْضُ النَّاسِ وَصَامَ بَعْضٌ فَبَلَغَهُ أَنَّ نَاسًا صَامُوا فَقَالَ " أُولَئِكَ الْعُصَاةُ " .

বর্ণনাকারী: জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ আনসারী (রাঃ)

২২৬৭। মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল্লাহ (রাহঃ) ......... জাবির (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) মক্কা বিজয়ের বছর মক্কা অভিমুখে রওয়ানা হলেন এবং রোযা পালন করেই কুরাউল গামীম নামক উপত্যকা পর্যন্ত পৌছলেন। সাহাবীগণও রোযা পালন করতে লাগলেন। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর কাছে সংবাদ পৌঁছাল যে, সাহাবীদের জন্য রোযা পালন করা কষ্টদায়ক হয়ে পড়েছে। তখন তিনি আসরের পরে এক পেয়ালা পানি চাইলেন এবং তা পান করে ফেললেন। আর সাহাবীগণ (এ দৃশ্য) দেখছিল এবং কিছু সাহাবী রোযা ভঙ্গ করে ফেললেন আর কিছু সাহাবী রোযা পালন করতে থাকলেন। যখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর কাছে সংবাদ পৌঁছাল যে, কিছু সাহাবী এখনো রোযা পালন করেছেন তিনি বললেন যে, তারা অপরাধী।

২২৬৪

أَخْبَرَنَا هَارُونُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، وَعَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ سَلاَّمٍ، قَالاَ حَدَّثَنَا أَبُو دَاوُدَ، عَنْ سُفْيَانَ، عَنِ الأَوْزَاعِيِّ، عَنْ يَحْيَى، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ أُتِيَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم بِطَعَامٍ بِمَرِّ الظَّهْرَانِ فَقَالَ لأَبِي بَكْرٍ وَعُمَرَ " أَدْنِيَا فَكُلاَ " . فَقَالاَ إِنَّا صَائِمَانِ . فَقَالَ " ارْحَلُوا لِصَاحِبَيْكُمُ اعْمَلُوا لِصَاحِبَيْكُمْ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

২২৬৮। হারুন ইবনে আব্দুল্লাহ এবং আব্দুর রহমান ইবনে মুহাম্মাদ (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ)-এর কাছে মাররুজ জাহরান নামক স্থানে কিছু খানা নিয়ে আসা হলে তিনি আবু বকর (রাযিঃ) এবং উমর (রাযিঃ)-কে বললেন, তোমরা দু’জন কাছে এসো এবং খাও। তাঁরা উভয়ে বললেন, আমরা রোযা পালন করছি। তখন তিনি বললেন, তোমাদের সাথীদ্বয়ের জন্য হাওদা প্রস্তুত কর এবং তাদেরকে সহযোগিতা কর।

২২৬৫

أَخْبَرَنَا عِمْرَانُ بْنُ يَزِيدَ، قَالَ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ شُعَيْبٍ، قَالَ أَخْبَرَنِي الأَوْزَاعِيُّ، عَنْ يَحْيَى، أَنَّهُ حَدَّثَهُ عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، قَالَ بَيْنَمَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَتَغَدَّى بِمَرِّ الظَّهْرَانِ وَمَعَهُ أَبُو بَكْرٍ وَعُمَرُ فَقَالَ " الْغَدَاءَ " . مُرْسَلٌ .

বর্ণনাকারী: আবু সালামা ইবনে আব্দুর রহমান ইবনে আউফ (রহঃ)

২২৬৯। ইমরান ইবনে ইয়াযীদ (রাহঃ) ......... আবু সালামা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) মাররুজ জাহুরান নামক স্থানে দ্বিপ্রহরের আহার করছিলেন আর তার সাথে আবু বকর এবং উমর (রাযিঃ)-ও ছিলেন। তখন তিনি (তাঁদেরকে) বললেন, এসো খাও।

২২৬৬

أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، قَالَ حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ عُمَرَ، قَالَ حَدَّثَنَا عَلِيٌّ، عَنْ يَحْيَى، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَأَبَا بَكْرٍ وَعُمَرَ كَانُوا بِمَرِّ الظَّهْرَانِ مُرْسَلٌ .

বর্ণনাকারী: আবু সালামা ইবনে আব্দুর রহমান ইবনে আউফ (রহঃ)

২২৭০। মুহাম্মাদ ইবনে মুছান্না (রাহঃ) ......... আবু সালামা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এবং আবু বকর ও উমর (রাযিঃ) মাররুজ জাহরান নামক স্থানে ছিলেন।

মুসাফির থেকে রোযা মুলতবীকরণ এবং আমর ইবনে উমাইয়া থেকে আওযায়ী কর্তৃক রেওয়ায়ত বর্ণনায় সনদের বিভিন্নতা

باب ذِكْرِ وَضْعِ الصِّيَامِ عَنِ الْمُسَافِرِ، وَالاِخْتِلاَفِ، عَلَى الأَوْزَاعِيِّ فِي خَبَرِ عَمْرِو بْنِ أُمَيَّةَ فِيهِ

২২৬৭

أَخْبَرَنِي عَبْدَةُ بْنُ عَبْدِ الرَّحِيمِ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ شُعَيْبٍ، قَالَ حَدَّثَنَا الأَوْزَاعِيُّ، عَنْ يَحْيَى، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، قَالَ أَخْبَرَنِي عَمْرُو بْنُ أُمَيَّةَ الضَّمْرِيُّ، قَالَ قَدِمْتُ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مِنْ سَفَرٍ فَقَالَ " انْتَظِرِ الْغَدَاءَ يَا أَبَا أُمَيَّةَ " . فَقُلْتُ إِنِّي صَائِمٌ . فَقَالَ " تَعَالَ ادْنُ مِنِّي حَتَّى أُخْبِرَكَ عَنِ الْمُسَافِرِ إِنَّ اللَّهَ عَزَّ وَجَلَّ وَضَعَ عَنْهُ الصِّيَامَ وَنِصْفَ الصَّلاَةِ " .

বর্ণনাকারী: আমর ইবনে উমাইয়্যা যামরী (রাঃ)

২২৭১। আব্দুল্লাহ ইবনে আব্দুর রহীম (রাহঃ) ......... আমর ইবনে উমাইয়া দমরী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি একবার সফর থেকে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কাছে আসলাম। তিনি বললেন, হে আবু উমাইয়া! দ্বিপ্রহরের আহার গ্রহণের জন্য অপেক্ষা কর। আমি বললাম যে, আমি রোযা পালন করছি। তিনি বললেন, আসো আমার কাছে আসো, যাতে আমি তোমাকে মুসাফিরের সম্পর্কে বিধান বলতে পারি। আল্লাহ তাআলা মুসাফির থেকে রোযাকে মুলতবী রেখেছেন আর অর্ধেক নামায রহিত করে দিয়েছেন।

২২৬৮

أَخْبَرَنِي عَمْرُو بْنُ عُثْمَانَ، قَالَ حَدَّثَنَا الْوَلِيدُ، عَنِ الأَوْزَاعِيِّ، قَالَ حَدَّثَنِي يَحْيَى بْنُ أَبِي كَثِيرٍ، قَالَ حَدَّثَنِي أَبُو قِلاَبَةَ، قَالَ حَدَّثَنِي جَعْفَرُ بْنُ عَمْرِو بْنِ أُمَيَّةَ الضَّمْرِيُّ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ قَدِمْتُ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ لِي رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " أَلاَ تَنْتَظِرُ الْغَدَاءَ يَا أَبَا أُمَيَّةَ " . قُلْتُ إِنِّي صَائِمٌ . فَقَالَ " تَعَالَ أُخْبِرْكَ عَنِ الْمُسَافِرِ إِنَّ اللَّهَ وَضَعَ عَنْهُ الصِّيَامَ وَنِصْفَ الصَّلاَةِ " .

বর্ণনাকারী: জাফর ইবন আমর ইবন উমাইয়া যামরী (রহঃ)

২২৭২। আমর ইবনে উসমান (রাহঃ) ......... জা’ফর ইবনে আমর (রাহঃ)-এর পিতা [আমর (রাযিঃ)] থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি একবার রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কাছে আসলাম। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাকে বললেন, হে আবু উমাইয়্যা! তুমি কি দ্বিপ্রহরের খানা পর্যন্ত অপেক্ষা করবে না? আমি বললাম, ইয়া রাসুলাল্লাহ! আমি রোযা পালন করছি। তিনি বললেন, আসো আমার কাছে আসো; আমি তোমাকে মুসাফির সম্পর্কে বিধান অবহিত করি। আল্লাহ তাআলা মুসাফির থেকে রোযাকে মুলতবী এবং অর্ধেক নামায রহিত করে দিয়েছেন।

২২৬৯

أَخْبَرَنَا إِسْحَاقُ بْنُ مَنْصُورٍ، قَالَ أَنْبَأَنَا أَبُو الْمُغِيرَةِ، قَالَ حَدَّثَنَا الأَوْزَاعِيُّ، عَنْ يَحْيَى، عَنْ أَبِي قِلاَبَةَ، عَنْ أَبِي الْمُهَاجِرِ، عَنْ أَبِي أُمَيَّةَ الضَّمْرِيِّ، قَالَ قَدِمْتُ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مِنْ سَفَرٍ فَسَلَّمْتُ عَلَيْهِ فَلَمَّا ذَهَبْتُ لأَخْرُجَ قَالَ " انْتَظِرِ الْغَدَاءَ يَا أَبَا أُمَيَّةَ " . قُلْتُ إِنِّي صَائِمٌ يَا نَبِيَّ اللَّهِ . قَالَ " تَعَالَ أُخْبِرْكَ عَنِ الْمُسَافِرِ إِنَّ اللَّهَ تَعَالَى وَضَعَ عَنْهُ الصِّيَامَ وَنِصْفَ الصَّلاَةِ " .

বর্ণনাকারী: আমর ইবনে উমাইয়্যা যামরী (রাঃ)

২২৭৩। ইসহাক ইবনে মনসুর (রাহঃ) ......... আবু উমাইয়া দমরী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি একবার রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কাছে সফর থেকে আসলাম এবং তাঁকে সালাম দিলাম। যখন আমি চলে যেতে উদ্যত হলাম, তিনি বললেনঃ দ্বিপ্রহরের আহারের জন্য অপেক্ষা কর, হে আবু উমাইয়া! আমি বললাম, ইয়া নবীয়্যাল্লাহ! আমি তো রোযা পালন করছি। তিনি বললেন, কাছে এসো; আমি তোমাকে মুসাফিরের বিধান সম্পর্কে অবহিত করি। আল্লাহ তাআলা মুসাফিরের উপর থেকে রোযাকে মুলতবী এবং অর্ধেক নামায-কে রহিত করেছেন।

২২৭০

أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ سُلَيْمَانَ، قَالَ حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ مَرْوَانَ، قَالَ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ حَرْبٍ، عَنِ الأَوْزَاعِيِّ، قَالَ أَخْبَرَنِي يَحْيَى، قَالَ حَدَّثَنِي أَبُو قِلاَبَةَ، قَالَ حَدَّثَنِي أَبُو الْمُهَاجِرِ، قَالَ حَدَّثَنِي أَبُو أُمَيَّةَ يَعْنِي الضَّمْرِيَّ، أَنَّهُ قَدِمَ عَلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَذَكَرَ نَحْوَهُ .

বর্ণনাকারী: আমর ইবনে উমাইয়্যা যামরী (রাঃ)

২২৭৪। আহামদ ইবনে সূলাইমান (রাহঃ) ......... আবু উমাইয়া দমরী (রাযিঃ) বর্ণনা করেছেন যে, তিনি একবার সফর থেকে আসলেন এবং তখন তিনি রোযা পালন করছিলেন। অতঃপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাকে খাবারের জন্য ডাকলেন, তিনি বললেনঃ আমি রোযা পালন করছি। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, কাছে এসো; আমি তোমাকে মুসাফিরের বিধান সম্পর্কে অবহিত করি। আল্লাহ তাআলা মুসাফিরের উপর থেকে রোযাকে মুলতবী এবং অর্ধেক নামায কে রহিত করেছেন।

২২৭১

أَخْبَرَنِي شُعَيْبُ بْنُ شُعَيْبِ بْنِ إِسْحَاقَ، قَالَ حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَهَّابِ، قَالَ حَدَّثَنَا شُعَيْبٌ، قَالَ حَدَّثَنِي الأَوْزَاعِيُّ، قَالَ حَدَّثَنِي يَحْيَى، قَالَ حَدَّثَنِي أَبُو قِلاَبَةَ الْجَرْمِيُّ، أَنَّ أَبَا أُمَيَّةَ الضَّمْرِيَّ، حَدَّثَهُمْ أَنَّهُ، قَدِمَ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مِنْ سَفَرٍ فَقَالَ " انْتَظِرِ الْغَدَاءَ يَا أَبَا أُمَيَّةَ " . قُلْتُ إِنِّي صَائِمٌ . قَالَ " ادْنُ أُخْبِرْكَ عَنِ الْمُسَافِرِ إِنَّ اللَّهَ وَضَعَ عَنْهُ الصِّيَامَ وَنِصْفَ الصَّلاَةِ " .

বর্ণনাকারী: আমর ইবনে উমাইয়্যা যামরী (রাঃ)

২২৭৫ (ক)। শুআয়ব ইবনে শুআয়ব (রাহঃ) ......... আবু উমাইয়া দমরী (রাযিঃ) বর্ণনা করেছেন যে, তিনি একবার সফর থেকে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কাছে আসলেন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, হে আবু উমাইয়া! দ্বিপ্রহরের খানার অপেক্ষা কর, আমি বললাম, আমি তো রোযা পালন করছি। কাছে এসো, আমি তোমাকে মুসাফিরের বিধান সম্পর্কে অবহিত করি। আল্লাহ তাআলা মুসাফির থেকে রোযাকে মুলতবী এবং অর্ধেক নামাযকে রহিত করে দিয়েছেন।

এ হাদীসে মুআবিয়া ইবনে সাল্লাম ও আলী ইবনুল মুবারক (রাহঃ) এর বর্ণনার বিভিন্নতা

باب ذِكْرِ اخْتِلاَفِ مُعَاوِيَةَ بْنِ سَلاَّمٍ وَعَلِيِّ بْنِ الْمُبَارَكِ فِي هَذَا الْحَدِيثِ

২২৭২

أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ يَزِيدَ بْنِ إِبْرَاهِيمَ الْحَرَّانِيُّ، قَالَ حَدَّثَنَا عُثْمَانُ، قَالَ حَدَّثَنَا مُعَاوِيَةُ، عَنْ يَحْيَى بْنِ أَبِي كَثِيرٍ، عَنْ أَبِي قِلاَبَةَ، أَنَّ أَبَا أُمَيَّةَ الضَّمْرِيَّ، أَخْبَرَهُ أَنَّهُ، أَتَى رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مِنْ سَفَرٍ وَهُوَ صَائِمٌ فَقَالَ لَهُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " أَلاَ تَنْتَظِرِ الْغَدَاءَ " . قَالَ إِنِّي صَائِمٌ . فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " تَعَالَ أُخْبِرْكَ عَنِ الصِّيَامِ إِنَّ اللَّهَ عَزَّ وَجَلَّ وَضَعَ عَنِ الْمُسَافِرِ الصِّيَامَ وَنِصْفَ الصَّلاَةِ " .

বর্ণনাকারী: বিবিধ

২২৭৫ (খ)। মুহাম্মাদ ইবনে উবাইদুল্লাহ (রাহঃ) ......... আবু উমাইয়া দমরী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি একবার সফর থেকে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কাছে আসলেন আর তখন তিনি রোযা পালন করছিলেন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাকে বললেন, তুমি কি দ্বিপ্রহরের আহার করা পর্যন্ত অপেক্ষা করবে না? তিনি বললেন, আমি তো রোযা পালন করছি। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, তুমি কাছে এসো; আমি তোমাকে মুসাফিরের রোযার বিধান সম্পর্কে অবহিত করি। আল্লাহ তাআলা মুসাফিরের উপর থেকে রোযাকে মুলতবী এবং অর্ধেক নামাযকে রহিত করে দিয়েছেন।

২২৭৩

أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، قَالَ حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ عُمَرَ، قَالَ أَنْبَأَنَا عَلِيٌّ، عَنْ يَحْيَى، عَنْ أَبِي قِلاَبَةَ، عَنْ رَجُلٍ، أَنَّ أَبَا أُمَيَّةَ، أَخْبَرَهُ أَنَّهُ، أَتَى النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم مِنْ سَفَرٍ نَحْوَهُ .

২২৭৬। মুহাম্মাদ ইবনে মুছান্না (রাহঃ) ......... আবু উমাইয়্যা (রাযিঃ) তাঁর নিকট বর্ণনা করেছেন যে, তিনি এক সফর থেকে নবী (ﷺ) এর কাছে আসেন এরপর উক্তরূপ বর্ণনা করেছেন।

২২৭৪

أَخْبَرَنَا عُمَرُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ الْحَسَنِ بْنِ التَّلِّ، قَالَ حَدَّثَنَا أَبِي قَالَ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ الثَّوْرِيُّ، عَنْ أَيُّوبَ، عَنْ أَبِي قِلاَبَةَ، عَنْ أَنَسٍ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " إِنَّ اللَّهَ وَضَعَ عَنِ الْمُسَافِرِ نِصْفَ الصَّلاَةِ وَالصَّوْمَ وَعَنِ الْحُبْلَى وَالْمُرْضِعِ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

২২৭৭। উমর ইবনে মুহাম্মাদ (রাহঃ) ......... আনাস (রাযিঃ) সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহ তাআলা মুসাফিরের উপর থেকে রহিত করে দিয়েছে অর্ধেক নামায এবং মুলতবী রেখেছেন রোযাকে। আর গর্ভবতী মহিলা এবং দুগ্ধদানকারী মহিলা থেকেও মুলতবী করে দিয়েছেন রোযা।

২২৭৫

أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ حَاتِمٍ، قَالَ حَدَّثَنَا حِبَّانُ، قَالَ أَنْبَأَنَا عَبْدُ اللَّهِ، عَنِ ابْنِ عُيَيْنَةَ، عَنْ أَيُّوبَ، عَنْ شَيْخٍ، مِنْ قُشَيْرٍ عَنْ عَمِّهِ، حَدَّثَنَا ثُمَّ، أَلْفَيْنَاهُ فِي إِبِلٍ لَهُ فَقَالَ لَهُ أَبُو قِلاَبَةَ حَدِّثْهُ فَقَالَ الشَّيْخُ حَدَّثَنِي عَمِّي أَنَّهُ ذَهَبَ فِي إِبِلٍ لَهُ فَانْتَهَى إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَهُوَ يَأْكُلُ أَوْ قَالَ يَطْعَمُ فَقَالَ " ادْنُ فَكُلْ أَوْ قَالَ " ادْنُ فَاطْعَمْ " . فَقُلْتُ إِنِّي صَائِمٌ . فَقَالَ " إِنَّ اللَّهَ عَزَّ وَجَلَّ وَضَعَ عَنِ الْمُسَافِرِ شَطْرَ الصَّلاَةِ وَالصِّيَامَ وَعَنِ الْحَامِلِ وَالْمُرْضِعِ " .

২২৭৮। মুহাম্মাদ ইবনে হাতিম (রাহঃ) ......... আনাস ইবনে মালিক আল কুশাইরী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, আমার প্রাপ্য উটের ব্যাপারে সফর করে যেতে যেতে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর কাছে পৌঁছলাম। তখন তিনি খাচ্ছিলেন অথবা বলেন যে, তিনি আহার গ্রহণ করার ইচ্ছে করছিলেন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, কাছে এসো এবং খানা খাও। আমি বললাম, আমি তো রোযা পালন করছি। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, আল্লাহ মুসাফিরের উপর থেকে অর্ধেক নামায মুলতবি করেছেন এবং রোযা মুলতবি করে দিয়েছেন। আর গর্ভবতী মহিলা এবং দুগ্ধদানকারী মহিলা থেকেও মুলতবী করে দিয়েছেন রোযা।

২২৭৬

أَخْبَرَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ عَلِيٍّ، قَالَ حَدَّثَنَا سُرَيْجٌ، قَالَ حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ ابْنُ عُلَيَّةَ، عَنْ أَيُّوبَ، قَالَ حَدَّثَنِي أَبُو قِلاَبَةَ، هَذَا الْحَدِيثَ ثُمَّ قَالَ هَلْ لَكَ فِي صَاحِبِ الْحَدِيثِ فَدَلَّنِي عَلَيْهِ فَلَقِيتُهُ فَقَالَ حَدَّثَنِي قَرِيبٌ لِي يُقَالُ لَهُ أَنَسُ بْنُ مَالِكٍ قَالَ أَتَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي إِبِلٍ كَانَتْ لِي أُخِذَتْ فَوَافَقْتُهُ وَهُوَ يَأْكُلُ فَدَعَانِي إِلَى طَعَامِهِ فَقُلْتُ إِنِّي صَائِمٌ . فَقَالَ " ادْنُ أُخْبِرْكَ عَنْ ذَلِكَ إِنَّ اللَّهَ وَضَعَ عَنِ الْمُسَافِرِ الصَّوْمَ وَشَطْرَ الصَّلاَةِ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

২২৭৯। আবু বকর ইবনে আলী (রাহঃ) ......... আনাস ইবনে মালিক (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর কাছে (বনু হাওয়াজেন এর সাথে লড়াইয়ে প্রাপ্ত) আমার ভাগের উট নেয়ার জন্য আসলাম। তাঁর কাছে গিয়ে দেখলাম যে তিনি আহার করছেন। তিনি আমাকেও আহার করতে ডাকলেন। আমি বললাম যে, আমি তো রোযা পালন করছি। তিনি বললেন, কাছে এসো; আমি তোমাকে এ ব্যাপারে অবহিত করব। আল্লাহ তাআলা মুসাফিরের উপর থেকে রোযা মুলতবী এবং অর্ধেক নামায রহিত করে দিয়েছেন।

২২৭৭

أَخْبَرَنَا سُوَيْدُ بْنُ نَصْرٍ، قَالَ أَنْبَأَنَا عَبْدُ اللَّهِ، عَنْ خَالِدٍ الْحَذَّاءِ، عَنْ أَبِي قِلاَبَةَ، عَنْ رَجُلٍ، قَالَ أَتَيْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم لِحَاجَةٍ فَإِذَا هُوَ يَتَغَدَّى قَالَ " هَلُمَّ إِلَى الْغَدَاءِ " . فَقُلْتُ إِنِّي صَائِمٌ . قَالَ " هَلُمَّ أُخْبِرْكَ عَنِ الصَّوْمِ إِنَّ اللَّهَ وَضَعَ عَنِ الْمُسَافِرِ نِصْفَ الصَّلاَةِ وَالصَّوْمَ وَرَخَّصَ لِلْحُبْلَى وَالْمُرْضِعِ " .

বর্ণনাকারী: অজ্ঞাত সাহাবী

২২৮০। সুওয়ায়দ ইবনে নসর (রাহঃ) ......... এক সাহাবী থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন যে, আমি কোন প্রয়োজনে নবী (ﷺ)-এর কাছে আসলাম। তখন তিনি দ্বিপ্রহরের আহার করছিলেন। তিনি বললেন, খেতে এসো। আমি বললাম, আমি তো রোযা পালন করছি। তিনি বললেন, কাছে এসো; আমি তোমাকে রোযার বিধান সম্পর্কে অবহিত করব। আল্লাহ তাআলা মুসাফিরের উপর থেকে রোযা মুলতবী এবং অর্ধেক নামায রহিত করে দিয়েছে। আর গর্ভবতী এবং দুগ্ধদানকারী মহিলাকেও রোযা মুলতবী রাখার সুযোগ দিয়েছেন।

২২৭৮

أَخْبَرَنَا سُوَيْدُ بْنُ نَصْرٍ، قَالَ أَنْبَأَنَا عَبْدُ اللَّهِ، عَنْ خَالِدٍ الْحَذَّاءِ، عَنْ أَبِي الْعَلاَءِ بْنِ الشِّخِّيرِ، عَنْ رَجُلٍ، نَحْوَهُ .

বর্ণনাকারী: অজ্ঞাত সাহাবী

২২৮১। সুওয়ায়দ ইবনে নসর (রাহঃ) ......... আবুল আলা ইবনুল শিখখীর অপর এক ব্যক্তি থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।

২২৭৯

أَخْبَرَنَا قُتَيْبَةُ، قَالَ حَدَّثَنَا أَبُو عَوَانَةَ، عَنْ أَبِي بِشْرٍ، عَنْ هَانِئِ بْنِ الشِّخِّيرِ، عَنْ رَجُلٍ، مِنْ بَلْحَرِيشٍ عَنْ أَبِيهِ، قَالَ كُنْتُ مُسَافِرًا فَأَتَيْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم وَأَنَا صَائِمٌ وَهُوَ يَأْكُلُ قَالَ " هَلُمَّ " . قُلْتُ إِنِّي صَائِمٌ . قَالَ " تَعَالَ أَلَمْ تَعْلَمْ مَا وَضَعَ اللَّهُ عَنِ الْمُسَافِرِ " . قُلْتُ وَمَا وَضَعَ عَنِ الْمُسَافِرِ قَالَ " الصَّوْمَ وَنِصْفَ الصَّلاَةِ " .

বর্ণনাকারী: বিবিধ

২২৮২। কুতায়বা (রাহঃ) ......... বালহারীশ গোত্রের এক ব্যক্তির পিতা থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি একবার মুসাফির অবস্থায় নবী (ﷺ)-এর কাছে আসলাম। তখন আমি রোযা পালন করছিলাম আর তিনি আহার গ্রহণ করছিলেন। তিনি বললেন, এসো, আমি বললাম, আমি তো রোযা পালন করছি। তিনি বললেন, এসো, তুমি কি আল্লাহ তাআলা মুসাফিরের উপর থেকে কী কী মুলতবী করে দিয়েছেন তা জান না? আমি বললাম, মুসাফিরের উপর থেকে কী কী মুলতবী করে দিয়েছেন? তিনি বললেন, রোযা এবং অর্ধেক নামায।

২২৮০

أَخْبَرَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ سَلاَّمٍ، قَالَ حَدَّثَنَا أَبُو دَاوُدَ، قَالَ حَدَّثَنَا أَبُو عَوَانَةَ، عَنْ أَبِي بِشْرٍ، عَنْ هَانِئِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الشِّخِّيرِ، عَنْ رَجُلٍ، مِنْ بَلْحَرِيشٍ عَنْ أَبِيهِ، قَالَ كُنَّا نُسَافِرُ مَا شَاءَ اللَّهُ فَأَتَيْنَا رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَهُوَ يَطْعَمُ فَقَالَ " هَلُمَّ فَاطْعَمْ " . فَقُلْتُ إِنِّي صَائِمٌ . فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " أُحَدِّثُكُمْ عَنِ الصِّيَامِ إِنَّ اللَّهَ وَضَعَ عَنِ الْمُسَافِرِ الصَّوْمَ وَشَطْرَ الصَّلاَةِ " .

বর্ণনাকারী: বিবিধ

২২৮৩। আব্দুর রহমান ইবনে মুহাম্মাদ (রাহঃ) ......... বালহারীশ গোত্রের এক ব্যক্তির পিতা থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি যথায় ইচ্ছা সফর করতাম। একবার আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কাছে আসলাম। তখন তিনি আহার করছিলেন। তিনি বললেন, এসো, খাও। আমি বললাম আমি তো রোযা পালন করছি। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, আমি তোমাকে রোযা সম্পর্কে অবহিত করব। আল্লাহ তাআলা মুসাফিরের উপর থেকে রোযা মুলতবী এবং অর্ধেক নামায রহিত করে দিয়েছেন।

২২৮১

أَخْبَرَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ عَبْدِ الْكَرِيمِ، قَالَ حَدَّثَنَا سَهْلُ بْنُ بَكَّارٍ، قَالَ حَدَّثَنَا أَبُو عَوَانَةَ، عَنْ أَبِي بِشْرٍ، عَنْ هَانِئِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الشِّخِّيرِ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ كُنْتُ مُسَافِرًا فَأَتَيْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم وَهُوَ يَأْكُلُ وَأَنَا صَائِمٌ فَقَالَ " هَلُمَّ " . قُلْتُ إِنِّي صَائِمٌ . قَالَ " أَتَدْرِي مَا وَضَعَ اللَّهُ عَنِ الْمُسَافِرِ " . قُلْتُ وَمَا وَضَعَ اللَّهُ عَنِ الْمُسَافِرِ قَالَ " الصَّوْمَ وَشَطْرَ الصَّلاَةِ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ)

২২৮৪। উবাইদুল্লাহ ইবনে আব্দুল করীম (রাহঃ) ......... হানী (রাহঃ)-এর পিতা [আব্দুল্লাহ (রাযিঃ)] থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি সফর করছিলাম। একবার রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কাছে আসলাম। তখন তিনি আহার করছিলেন আর আমি রোযা পালন করছিলাম। তিনি বললেন, এসো, আমি বললাম, আমি তো রোযা পালন করছি। তিনি বললেন, তুমি কি জান, আল্লাহ তাআলা মুসাফিরের উপর থেকে কী কী মুলতবী করে রেখেছেন? আমি জিজ্ঞাসা করলাম- কী কী মুলতবী করে রেখেছেন? তিনি বললেন, রোযা এবং অর্ধেক নামায।

২২৮২

أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ سُلَيْمَانَ، قَالَ حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ، قَالَ أَنْبَأَنَا إِسْرَائِيلُ، عَنْ مُوسَى، - هُوَ ابْنُ أَبِي عَائِشَةَ - عَنْ غَيْلاَنَ، قَالَ خَرَجْتُ مَعَ أَبِي قِلاَبَةَ فِي سَفَرٍ فَقَرَّبَ طَعَامًا فَقُلْتُ إِنِّي صَائِمٌ . فَقَالَ إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم خَرَجَ فِي سَفَرٍ فَقَرَّبَ طَعَامًا فَقَالَ لِرَجُلٍ " ادْنُ فَاطْعَمْ " . قَالَ إِنِّي صَائِمٌ . قَالَ " إِنَّ اللَّهَ وَضَعَ عَنِ الْمُسَافِرِ نِصْفَ الصَّلاَةِ وَالصِّيَامَ فِي السَّفَرِ " . فَادْنُ فَاطْعَمْ فَدَنَوْتُ فَطَعِمْتُ .

বর্ণনাকারী: আবু কিলাবা (রহঃ)

২২৮৫। আহমাদ ইবনে সুলাইমান (রাহঃ) ......... গায়লান (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি একবার আবু কিলাবা (রাযিঃ)-এর সাথে সফরে বের হলাম। খানা উপস্থিত করা হলে আমি বললাম, আমি তো রোযা পালন করছি। তখন তিনি বললেন যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) একবার সফরে বের হয়েছিলেন, তখন তার সামনে খানা উপস্থিত করা হলে তিনি এক ব্যক্তিকে বলেছিলেন, কাছে এসো এবং খাও। তখন সে ব্যক্তি বলেছিল যে, আমি তো রোযা পালন করছি। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছিলেন, আল্লাহ তাআলা মুসাফিরের উপর থেকে সফরের অবস্থায় রোযা মুলতবী এবং অর্ধেক নামায রহিত করে দিয়েছেন। অতএব তুমি এসো এবং খাও। অতঃপর আমি কাছে গেলাম এবং খেলাম।

সফরকালীন অবস্থায় রোযা পালনকারীর উপর রোযা ভঙ্গকারীর ফযীলত

باب فَضْلِ الإِفْطَارِ فِي السَّفَرِ عَلَى الصِّيَامِ

২২৮৩

أَخْبَرَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، قَالَ حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ، قَالَ حَدَّثَنَا عَاصِمٌ الأَحْوَلُ، عَنْ مُوَرِّقٍ الْعِجْلِيِّ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، قَالَ كُنَّا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي السَّفَرِ فَمِنَّا الصَّائِمُ وَمِنَّا الْمُفْطِرُ فَنَزَلْنَا فِي يَوْمٍ حَارٍّ وَاتَّخَذْنَا ظِلاَلاً فَسَقَطَ الصُّوَّامُ وَقَامَ الْمُفْطِرُونَ فَسَقَوُا الرِّكَابَ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " ذَهَبَ الْمُفْطِرُونَ الْيَوْمَ بِالأَجْرِ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

২২৮৬। ইসহাক ইবনে ইবরাহীম (রাহঃ) ......... আনাস ইবনে মালিক (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা এক সফরে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সাথে ছিলাম। আমাদের মধ্যে কিছু রোযা পালনকারী লোকও ছিলেন আর কিছু রোযা ভঙ্গকারী লোকও ছিলেন। একদিন গরম পড়লে আমরা একটি ছায়াযূক্ত স্থানে উপনীত হলাম; রোযা পালনকারীরা বিশ্রাম নিতে লাগলেন আর রোযা ভঙ্গকারীরা সওয়ারী উটগুলোকে পানি পান করাতে লাগলেন। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, আজ তো রোযা ভঙ্গকারীরা সমুদয় সাওয়াব নিয়ে গেল।

সফরকালীন রোযা পালনকারী বাড়িতে অবস্থানকালীন রোযা ভঙ্গকারীর ন্যায়

باب ذِكْرِ قَوْلِهِ الصَّائِمُ فِي السَّفَرِ كَالْمُفْطِرِ فِي الْحَضَرِ

২২৮৪

أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ أَبَانَ الْبَلْخِيُّ، قَالَ حَدَّثَنَا مَعْنٌ، عَنِ ابْنِ أَبِي ذِئْبٍ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَوْفٍ، قَالَ يُقَالُ الصِّيَامُ فِي السَّفَرِ كَالإِفْطَارِ فِي الْحَضَرِ .

বর্ণনাকারী: আব্দুর রহমান ইবনে আউফ (রাঃ)

২২৮৭। মুহাম্মাদ ইবনে আবান বালাখী (রাহঃ) ......... আব্দুর রহমান ইবনে আউফ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, বলা হয় যে, সফরকালীন অবস্থায় রোযা পালন করা বাড়ীতে অবস্থানকালে রোযা ভঙ্গ করার ন্যায়। (সফরকালীন অবস্থায় রোযা পালন দ্বারা যদি রোযা পালনকারী পরিশ্রান্ত হয়ে যায় তবে তার জন্য রোযা ভঙ্গ করাই উত্তম)।

২২৮৫

أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يَحْيَى بْنِ أَيُّوبَ، قَالَ حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ الْخَيَّاطِ، وَأَبُو عَامِرٍ قَالاَ حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي ذِئْبٍ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَوْفٍ، قَالَ الصَّائِمُ فِي السَّفَرِ كَالْمُفْطِرِ فِي الْحَضَرِ .

বর্ণনাকারী: আব্দুর রহমান ইবনে আউফ (রাঃ)

২২৮৮। মুহাম্মাদ ইবনে ইয়াহয়া (রাহঃ) ......... আব্দুর রহমান ইবনে আউফ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, সফরকালীন অবস্থায় রোযা পালনকারী ব্যক্তি বাড়িতে অবস্থানকালে রোযা ভঙ্গকারী ব্যক্তির ন্যায়।

২২৮৬

أَخْبَرَنِي مُحَمَّدُ بْنُ يَحْيَى بْنِ أَيُّوبَ، قَالَ حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ، قَالَ حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي ذِئْبٍ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ حُمَيْدِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَوْفٍ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ الصَّائِمُ فِي السَّفَرِ كَالْمُفْطِرِ فِي الْحَضَرِ .

বর্ণনাকারী: হুমাইদ ইবনে আবদুর রহমান ইবনে আউফ (রহঃ)

২২৮৯। মুহাম্মাদ ইবনে ইয়াহয়া (রাহঃ) ......... হুমায়দ ইবনে আব্দুর রহমান (রাহঃ) এর পিতা [আব্দুর রহমান ইবনে আউফ (রাযিঃ)] থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন যে, সফরকালীন অবস্থায় রোযা পালন করা বাড়িতে অবস্থানকালে রোযা ভঙ্গ করার ন্যায়।

সফরকালীন অবস্থায় রোযা পালন করা- এ বিষয়ে ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) এর হাদীসে বর্ণনাভেদের উল্লেখ

باب الصِّيَامِ فِي السَّفَرِ وَذِكْرِ اخْتِلاَفِ خَبَرِ ابْنِ عَبَّاسٍ فِيهِ

২২৮৭

أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ حَاتِمٍ، قَالَ أَنْبَأَنَا سُوَيْدٌ، قَالَ أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ، عَنْ شُعْبَةَ، عَنِ الْحَكَمِ، عَنْ مِقْسَمٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم خَرَجَ فِي رَمَضَانَ فَصَامَ حَتَّى أَتَى قُدَيْدًا ثُمَّ أُتِيَ بِقَدَحٍ مِنْ لَبَنٍ فَشَرِبَ وَأَفْطَرَ هُوَ وَأَصْحَابُهُ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

২২৯০। মুহাম্মাদ ইবনে হাতিম (রাহঃ) ......... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, নবী (ﷺ) একবার রমযান মাসে সফরে বের হলেন। যখন কুদায়দ নামক স্থানে পৌছলেন তখন একটি দুধের পেয়ালা আনা হলে তিনি এবং তার সাহাবীগণ তা পান করলেন এবং রোযা ভঙ্গ করে ফেললেন।

২২৮৮

أَخْبَرَنَا الْقَاسِمُ بْنُ زَكَرِيَّا، قَالَ حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ عَمْرٍو، قَالَ حَدَّثَنَا عَبْثَرٌ، عَنِ الْعَلاَءِ بْنِ الْمُسَيَّبِ، عَنِ الْحَكَمِ بْنِ عُتَيْبَةَ، عَنْ مُجَاهِدٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ صَامَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مِنَ الْمَدِينَةِ حَتَّى أَتَى قُدَيْدًا ثُمَّ أَفْطَرَ حَتَّى أَتَى مَكَّةَ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

২২৯১। কাসিম ইবনে যাকারিয়্যা (রাহঃ) ......... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) মদীনায় রোযা শুরু করে (সফর করে) কুদায়দ নামক স্থানে আসলেন এবং রোযা ভঙ্গ করে মক্কায় পৌছলেন।

২২৮৯

أَخْبَرَنَا زَكَرِيَّا بْنُ يَحْيَى، قَالَ أَنْبَأَنَا الْحَسَنُ بْنُ عِيسَى، قَالَ أَنْبَأَنَا ابْنُ الْمُبَارَكِ، قَالَ أَنْبَأَنَا شُعْبَةُ، عَنِ الْحَكَمِ، عَنْ مِقْسَمٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم صَامَ فِي السَّفَرِ حَتَّى أَتَى قُدَيْدًا ثُمَّ دَعَا بِقَدَحٍ مِنْ لَبَنٍ فَشَرِبَ فَأَفْطَرَ هُوَ وَأَصْحَابُهُ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

২২৯২। যাকারিয়্যা ইবনে ইয়াহয়া (রাহঃ) ......... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) সফরকালীন অবস্থায় রোযা শুরু করে কুদায়দ নামক স্থানে পৌছলেন এবং এক পেয়ালা দুগ্ধ চেয়ে নিয়ে পান করে তিনিও রোযা ভঙ্গ করে ফেললেন এবং তার সাহাবীগণও রোযা ভঙ্গ করে ফেললেন।

মনসুর (রাহঃ) এর বর্ণনার পার্থক্য

باب ذِكْرِ الاِخْتِلاَفِ عَلَى مَنْصُورٍ

২২৯০

أَخْبَرَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ مَسْعُودٍ، قَالَ حَدَّثَنَا خَالِدٌ، عَنْ شُعْبَةَ، عَنْ مَنْصُورٍ، عَنْ مُجَاهِدٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ خَرَجَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِلَى مَكَّةَ فَصَامَ حَتَّى أَتَى عُسْفَانَ فَدَعَا بِقَدَحٍ فَشَرِبَ - قَالَ شُعْبَةُ - فِي رَمَضَانَ فَكَانَ ابْنُ عَبَّاسٍ يَقُولُ مَنْ شَاءَ صَامَ وَمَنْ شَاءَ أَفْطَرَ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

২২৯৩। ইসমাঈল ইবনে মাসউদ (রাহঃ) ......... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) মক্কার উদ্দেশ্যে বের হলেন এবং রোযা শুরু করলেন। যখন উসফান নামক স্থানে পৌছলেন, এক পেয়ালা দুধ চেয়ে নিয়ে তা পান করলেন। শুবা (রাহঃ)-এর বর্ণনায় “রমযান মাসে” এ উল্লেখ রয়েছে। ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) বলতেন, যার ইচ্ছা হয় রোযা পালন করবে আর যার ইচ্ছা হয় রোযা ভঙ্গ করে ফেলবে।

২২৯১

أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ قُدَامَةَ، عَنْ جَرِيرٍ، عَنْ مَنْصُورٍ، عَنْ مُجَاهِدٍ، عَنْ طَاوُسٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ سَافَرَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي رَمَضَانَ فَصَامَ حَتَّى بَلَغَ عُسْفَانَ ثُمَّ دَعَا بِإِنَاءٍ فَشَرِبَ نَهَارًا يَرَاهُ النَّاسُ ثُمَّ أَفْطَرَ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

২২৯৪। মুহাম্মাদ ইবনে কুদামাহ (রাহঃ) ......... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) একবার রমযানে সফর করলেন এবং রোযা শুরু করে উসফান নামক স্থানে পৌছেলেন। অতঃপর একটি (দুধের) পাত্র চেয়ে নিয়ে তা দিনের বেলায় পান করলেন। লোকজন তাঁকে দেখছিল। তারপর রোযা ভঙ্গ করে ফেললেন। (রোযা ভঙ্গ করতে থাকলেন মক্কা পৌছা পর্যন্ত।)

২২৯২

أَخْبَرَنَا حُمَيْدُ بْنُ مَسْعَدَةَ، قَالَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنِ الْعَوَّامِ بْنِ حَوْشَبٍ، قَالَ قُلْتُ لِمُجَاهِدٍ الصَّوْمُ فِي السَّفَرِ قَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَصُومُ وَيُفْطِرُ .

বর্ণনাকারী: বিবিধ

২২৯৫। হুমায়দ ইবনে মাসআদাহ (রাহঃ) ......... আওয়াম ইবনে হাওশাব (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বললেন, আমি মুজাহিদ (রাহঃ) কে বললাম, সফর অবস্থায় রোযা (কি পালন করতে হবে?) তিনি বললেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) (সফর অবস্থায় কখনো) রোযা পালন করতেন (আবার কখনো) রোযা ভঙ্গ করতেন।

২২৯৩

أَخْبَرَنِي هِلاَلُ بْنُ الْعَلاَءِ، قَالَ حَدَّثَنَا حُسَيْنٌ، قَالَ حَدَّثَنَا زُهَيْرٌ، قَالَ حَدَّثَنَا أَبُو إِسْحَاقَ، قَالَ أَخْبَرَنِي مُجَاهِدٌ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم صَامَ فِي شَهْرِ رَمَضَانَ وَأَفْطَرَ فِي السَّفَرِ .

বর্ণনাকারী: মুজাহিদ ইবনে জাবর (রহঃ)

২২৯৬। হিলাল ইবনে আলা (রাহঃ) ......... মুজাহিদ (রাহঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) একবার রমযান মাসে রোযা শুরু করে তা সফরের মধ্যে ভঙ্গ করে ফেলেছিলেন।

এ বিষয়ে হামযা ইবনে আমর (রাযিঃ) এর হাদীসে সুলাইমান ইবনে ইয়াসার (রাহঃ) থেকে বর্ণনার ইখতিলাফের উল্লেখ

باب ذِكْرِ الاِخْتِلاَفِ عَلَى سُلَيْمَانَ بْنِ يَسَارٍ فِي حَدِيثِ حَمْزَةَ بْنِ عَمْرٍو فِيهِ

২২৯৪

أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ رَافِعٍ، قَالَ حَدَّثَنَا أَزْهَرُ بْنُ الْقَاسِمِ، قَالَ حَدَّثَنَا هِشَامٌ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ يَسَارٍ، عَنْ حَمْزَةَ بْنِ عَمْرٍو الأَسْلَمِيِّ، أَنَّهُ سَأَلَ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَنِ الصَّوْمِ فِي السَّفَرِ قَالَ " إِنْ - ثُمَّ ذَكَرَ كَلِمَةً مَعْنَاهَا إِنْ - شِئْتَ صُمْتَ وَإِنْ شِئْتَ أَفْطَرْتَ " .

বর্ণনাকারী: হামযা ইবনে আমর আসলামী (রাঃ)

২২৯৭। মুহাম্মাদ ইবনে রাফি (রাহঃ) ......... হামযা ইবনে আমর আসলামী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত সে, তিনি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে সফরকালীন অবস্থায় রোযা পালন সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বললেন, ’যদি’। অতঃপর তিনি এমন কিছু বাক্য ব্যবহার করলেন যার অর্থ হল যদি তোমার ইচ্ছা হয় তবে রোযা পালন কর আর যদি ইচ্ছা হয় তবে রোযা ভঙ্গ করে ফেল।

২২৯৫

أَخْبَرَنَا قُتَيْبَةُ، قَالَ: حَدَّثَنَا اللَّيْثُ، عَنْ بُكَيْرٍ، عَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ يَسَارٍ، أَنَّ حَمْزَةَ بْنَ عَمْرٍو، قَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، مِثْلَهُ مُرْسَلٌ

বর্ণনাকারী: হামযা ইবনে আমর আসলামী (রাঃ)

২২৯৫। কুতায়বা (রাহঃ) ......... হামযা ইবনে আমর (রাযিঃ) থেকে অনুরুপ বর্ণনা করেন।

২২৯৬

أَخْبَرَنَا سُوَيْدُ بْنُ نَصْرٍ، قَالَ أَنْبَأَنَا عَبْدُ اللَّهِ، عَنْ عَبْدِ الْحَمِيدِ بْنِ جَعْفَرٍ، عَنْ عِمْرَانَ بْنِ أَبِي أَنَسٍ، عَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ يَسَارٍ، عَنْ حَمْزَةَ، قَالَ سَأَلْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَنِ الصَّوْمِ فِي السَّفَرِ قَالَ " إِنْ شِئْتَ أَنْ تَصُومَ فَصُمْ وَإِنْ شِئْتَ أَنْ تُفْطِرَ فَأَفْطِرْ " .

বর্ণনাকারী: হামযা ইবনে আমর আসলামী (রাঃ)

২২৯৮। সুওয়ায়দ ইবনে নসর (রাহঃ) ......... হামযা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে সফরকালীন অবস্থায় রোযা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বললেনঃ যদি তোমার রোযা পালন করতে ইচ্ছা হয় তবে রোযা পালন কর, আর যদি রোযা ভঙ্গ করতে ইচ্ছা হয় তবে রোযা ভঙ্গ করে ফেল।

২২৯৭

أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، قَالَ حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرٍ، قَالَ حَدَّثَنَا عَبْدُ الْحَمِيدِ بْنُ جَعْفَرٍ، عَنْ عِمْرَانَ بْنِ أَبِي أَنَسٍ، عَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ يَسَارٍ، عَنْ حَمْزَةَ بْنِ عَمْرٍو، قَالَ سَأَلْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَنِ الصَّوْمِ فِي السَّفَرِ فَقَالَ " إِنْ شِئْتَ أَنْ تَصُومَ فَصُمْ وَإِنْ شِئْتَ أَنْ تُفْطِرَ فَأَفْطِرْ " .

বর্ণনাকারী: হামযা ইবনে আমর আসলামী (রাঃ)

২২৯৯। মুহাম্মাদ ইবনে বাশশার (রাহঃ) ......... হামযা ইবনে আমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে সফরকালীন অবস্থায় রোযা পালন সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বললেন, যদি তোমার রোযা পালন করতে ইচ্ছা হয় তবে রোযা পালন কর, আর যদি তোমার রোযা ভঙ্গ করে ফেলতে ইচ্ছা হয় তবে রোযা ভঙ্গ করে ফেল।

২২৯৮

أَخْبَرَنَا الرَّبِيعُ بْنُ سُلَيْمَانَ، قَالَ حَدَّثَنَا ابْنُ وَهْبٍ، قَالَ أَخْبَرَنِي عَمْرُو بْنُ الْحَارِثِ، وَاللَّيْثُ، وَذَكَرَ، آخَرَ عَنْ بُكَيْرٍ، عَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ يَسَارٍ، عَنْ حَمْزَةَ بْنِ عَمْرٍو الأَسْلَمِيِّ، قَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنِّي أَجِدُ قُوَّةً عَلَى الصِّيَامِ فِي السَّفَرِ قَالَ " إِنْ شِئْتَ فَصُمْ وَإِنْ شِئْتَ فَأَفْطِرْ " .

বর্ণনাকারী: হামযা ইবনে আমর আসলামী (রাঃ)

২৩০০। রবী ইবনে সুলাইমান (রাহঃ) ......... হামযা ইবনে আমর আসলামী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, ইয়া রাসুলাল্লাহ! আমি সফরকালীন অবস্থায় রোযা পালন করার সামর্থ্য রাখি। তিনি বললেন, যদি তোমার ইচ্ছা হয় তবে রোযা পালন কর আর যদি ইচ্ছা হয় তবে রোযা ভঙ্গ করে ফেল।

২২৯৯

أَخْبَرَنِي هَارُونُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَكْرٍ، قَالَ أَنْبَأَنَا عَبْدُ الْحَمِيدِ بْنُ جَعْفَرٍ، قَالَ أَخْبَرَنِي عِمْرَانُ بْنُ أَبِي أَنَسٍ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ حَمْزَةَ بْنِ عَمْرٍو، أَنَّهُ سَأَلَ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَنِ الصَّوْمِ فِي السَّفَرِ قَالَ " إِنْ شِئْتَ أَنْ تَصُومَ فَصُمْ وَإِنْ شِئْتَ أَنْ تُفْطِرَ فَأَفْطِرْ " .

বর্ণনাকারী: হামযা ইবনে আমর আসলামী (রাঃ)

২৩০১। হারুন ইবনে আব্দুল্লাহ (রাহঃ) ......... হামযা ইবনে আমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে সফরকালীন অবস্থায় রোযা পালন সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বললেনঃ যদি তোমার রোযা পালন করতে ইচ্ছা হয় তবে রোযা পালন কর। আর যদি তোমার রোযা ভঙ্গ করতে ইচ্ছা হয় তবে রোযা ভঙ্গ করে ফেল।

২৩০০

أَخْبَرَنَا عِمْرَانُ بْنُ بَكَّارٍ، قَالَ حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ خَالِدٍ، قَالَ حَدَّثَنَا مُحَمَّدٌ، عَنْ عِمْرَانَ بْنِ أَبِي أَنَسٍ، عَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ يَسَارٍ، وَحَنْظَلَةَ بْنِ عَلِيٍّ، قَالَ حَدَّثَانِي جَمِيعًا، عَنْ حَمْزَةَ بْنِ عَمْرٍو، قَالَ كُنْتُ أَسْرُدُ الصِّيَامَ عَلَى عَهْدِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنِّي أَسْرُدُ الصِّيَامَ فِي السَّفَرِ فَقَالَ " إِنْ شِئْتَ فَصُمْ وَإِنْ شِئْتَ فَأَفْطِرْ " .

বর্ণনাকারী: হামযা ইবনে আমর আসলামী (রাঃ)

২৩০২। ইমরান ইবনে বাক্কার (রাহঃ) ......... হামযা ইবনে আমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর যুগে বিরামহীন রোযা পলন করতাম। তাই অমি জিজ্ঞাসা করলাম, ইয়া রাসুলাল্লাহ! আমি সফরকালীন অবস্থায় বিরামহীন রোযা পালন করি। তিনি বললেন, যদি তোমার ইচ্ছা হয় তবে রোযা পালন কর আর যদি ইচ্ছা হয় তবে রোযা ভঙ্গ করে ফেল।

২৩০১

أَخْبَرَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ سَعْدِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ، قَالَ حَدَّثَنَا عَمِّي، قَالَ حَدَّثَنَا أَبِي، عَنِ ابْنِ إِسْحَاقَ، عَنْ عِمْرَانَ بْنِ أَبِي أَنَسٍ، عَنْ حَنْظَلَةَ بْنِ عَلِيٍّ، عَنْ حَمْزَةَ، قَالَ قُلْتُ يَا نَبِيَّ اللَّهِ إِنِّي رَجُلٌ أَسْرُدُ الصِّيَامَ أَفَأَصُومُ فِي السَّفَرِ قَالَ " إِنْ شِئْتَ فَصُمْ وَإِنْ شِئْتَ فَأَفْطِرْ " .

বর্ণনাকারী: হামযা ইবনে আমর আসলামী (রাঃ)

২৩০৩। উবাইাদুল্লাহ ইবনে সা’দ (রাহঃ) ......... হামযা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি বললাম, হে আল্লাহর নবী! আমি বিরামহীন রোযা পালনকারী ব্যক্তি। তাই আমি কি সফরকালীন অবস্থায় রোযা পালন করব? তিনি বললেন, যদি তোমার ইচ্ছা হয় তবে রোযা পালন কর আর যদি ইচ্ছা হয় তবে রোযা ভঙ্গ করে ফেল।

২৩০২

أَخْبَرَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ سَعْدٍ، قَالَ حَدَّثَنَا عَمِّي، قَالَ حَدَّثَنَا أَبِي، عَنِ ابْنِ إِسْحَاقَ، قَالَ حَدَّثَنِي عِمْرَانُ بْنُ أَبِي أَنَسٍ، أَنَّ سُلَيْمَانَ بْنَ يَسَارٍ، حَدَّثَهُ أَنَّ أَبَا مُرَاوِحٍ حَدَّثَهُ أَنَّ حَمْزَةَ بْنَ عَمْرٍو حَدَّثَهُ أَنَّهُ، سَأَلَ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَكَانَ رَجُلاً يَصُومُ فِي السَّفَرِ فَقَالَ " إِنْ شِئْتَ فَصُمْ وَإِنْ شِئْتَ فَأَفْطِرْ " .

বর্ণনাকারী: হামযা ইবনে আমর আসলামী (রাঃ)

২৩০৪। উবাইদুল্লাহ ইবনে সা’দ (রাহঃ) ......... হামযা ইবনে আমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে জিজ্ঞাসা করলেন আর তিনি সফরকালীন অবস্থায় রোযা পালনকারী ব্যক্তি ছিলেন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, যদি তোমার ইচ্ছা হয় তবে রোযা পালন কর আর যদি ইচ্ছা হয় তবে রোযা ভঙ্গ করে ফেল।

এ প্রসঙ্গে হামযা (রাযিঃ) কর্তৃক বর্ণিত হাদীসে উরওয়াহ (রাহঃ) এর বর্ণনা পার্থক্যের উল্লেখ

باب ذِكْرِ الاِخْتِلاَفِ عَلَى عُرْوَةَ فِي حَدِيثِ حَمْزَةَ فِيهِ

২৩০৩

أَخْبَرَنَا الرَّبِيعُ بْنُ سُلَيْمَانَ، قَالَ أَنْبَأَنَا ابْنُ وَهْبٍ، قَالَ أَنْبَأَنَا عَمْرٌو، وَذَكَرَ، آخَرَ عَنْ أَبِي الأَسْوَدِ، عَنْ عُرْوَةَ، عَنْ أَبِي مُرَاوِحٍ، عَنْ حَمْزَةَ بْنِ عَمْرٍو، أَنَّهُ قَالَ لِرَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَجِدُ فِيَّ قُوَّةً عَلَى الصِّيَامِ فِي السَّفَرِ فَهَلْ عَلَىَّ جُنَاحٌ قَالَ " هِيَ رُخْصَةٌ مِنَ اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ فَمَنْ أَخَذَ بِهَا فَحَسَنٌ وَمَنْ أَحَبَّ أَنْ يَصُومَ فَلاَ جُنَاحَ عَلَيْهِ " .

বর্ণনাকারী: হামযা ইবনে আমর আসলামী (রাঃ)

২৩০৫। রবী ইবনে সুলাইমান (রাহঃ) ......... হামযা ইবনে আমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে বললেনঃ আমি সফরকালীন অবস্থায় রোযা পালন করার সামর্থ্য রাখি, তাতে কি আমার কোন অসুবিধা হবে? রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন যে, সেটা হল আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে একটি সুযোগ। অতএব, যে ব্যক্তি তার সদ্ব্যবহার করল সে ভাল কাজ করল আর যে ব্যক্তি রোযা পালন করতে ভালবাসে তার কোন অসুবিধা নেই।

এ প্রসঙ্গে হিশাম ইবনে উরওয়াহ (রাহঃ) এর বর্ণনাভেদের উল্লেখ

باب ذِكْرِ الاِخْتِلاَفِ عَلَى هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ فِيهِ

২৩০৪

أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ بْنِ إِبْرَاهِيمَ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ بِشْرٍ، عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ حَمْزَةَ بْنِ عَمْرٍو الأَسْلَمِيِّ، أَنَّهُ سَأَلَ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَصُومُ فِي السَّفَرِ قَالَ " إِنْ شِئْتَ فَصُمْ وَإِنْ شِئْتَ فَأَفْطِرْ " .

বর্ণনাকারী: হামযা ইবনে আমর আসলামী (রাঃ)

২৩০৬। মুহাম্মাদ ইবনে ইসমাঈল (রাহঃ) ......... হামযা ইবনে আমর আসলামী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে জিজ্ঞাসা করলেনঃ আমি সফরকালীন অবস্থায় রোযা পালন করতে পারব? তিনি বললেনঃ যদি তোমার ইচ্ছা হয় তবে রোযা পালন করবে আর যদি ইচ্ছা হয় তবে রোযা ভঙ্গ করে ফেলবে।

২৩০৫

أَخْبَرَنَا عَلِيُّ بْنُ الْحَسَنِ اللاَّنِيُّ، بِالْكُوفَةِ قَالَ حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحِيمِ الرَّازِيُّ، عَنْ هِشَامٍ، عَنْ عُرْوَةَ، عَنْ عَائِشَةَ، عَنْ حَمْزَةَ بْنِ عَمْرٍو، أَنَّهُ قَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنِّي رَجُلٌ أَصُومُ أَفَأَصُومُ فِي السَّفَرِ قَالَ " إِنْ شِئْتَ فَصُمْ وَإِنْ شِئْتَ فَأَفْطِرْ " .

বর্ণনাকারী: হামযা ইবনে আমর আসলামী (রাঃ)

২৩০৭। আলী ইবনে হাসান (রাহঃ) ......... হামযা ইবনে আমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি বললেনঃ ইয়া রাসুলাল্লাহ! আমি সর্বদা রোযা পালনকারী ব্যক্তি, আমি কি সফরকালীন অবস্থায় রোযা পালন করব? তিনি বললেনঃ যদি তোমার ইচ্ছা হয় তবে রোযা পালন কর, আর যদি তোমার ইচ্ছা হয় তবে রোযা ভঙ্গ করে ফেল।

২৩০৬

أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ سَلَمَةَ، قَالَ أَنْبَأَنَا ابْنُ الْقَاسِمِ، قَالَ حَدَّثَنِي مَالِكٌ، عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ إِنَّ حَمْزَةَ قَالَ لِرَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَا رَسُولَ اللَّهِ أَصُومُ فِي السَّفَرِ وَكَانَ كَثِيرَ الصِّيَامِ . فَقَالَ لَهُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " إِنْ شِئْتَ فَصُمْ وَإِنْ شِئْتَ فَأَفْطِرْ " .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

২৩০৮। মুহাম্মাদ ইবনে সালামা (রাহঃ) ......... আয়িশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন যে, হামযা (রাযিঃ) রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে বললেনঃ ইয়া রাসুলাল্লাহ! আমি কি সফরকালীন অবস্থায় রোযা পালন করব? আর তিনি অধিক রোযা পালনকারী ছিলেন। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাঁকে বললেনঃ যদি তোমার ইচ্ছা হয় তবে রোযা পালন কর আর যদি তোমার ইচ্ছা হয় তবে রোযা ভঙ্গ করে ফেল।

২৩০৭

أَخْبَرَنِي عَمْرُو بْنُ هِشَامٍ، قَالَ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ سَلَمَةَ، عَنِ ابْنِ عَجْلاَنَ، عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ إِنَّ حَمْزَةَ سَأَلَ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَصُومُ فِي السَّفَرِ فَقَالَ " إِنْ شِئْتَ فَصُمْ وَإِنْ شِئْتَ فَأَفْطِرْ " .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

২৩০৯। আমর ইবনে হিশাম (রাহঃ) ......... আয়িশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, হামযা (রাযিঃ) রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে জিজ্ঞাসা করলেনঃ ইয়া রাসুলাল্লাহ! আমি কি সফরকালীন অবস্থায় রোযা পালন করব? তিনি বললেনঃ যদি তোমার ইচ্ছা হয় তবে রোযা পালন কর আর যদি ইচ্ছা হয় তবে রোযা ভঙ্গ করে ফেল।

২৩০৮

أَخْبَرَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، قَالَ أَنْبَأَنَا عَبْدَةُ بْنُ سُلَيْمَانَ، قَالَ حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ عُرْوَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَائِشَةَ، أَنَّ حَمْزَةَ الأَسْلَمِيَّ، سَأَلَ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَنِ الصَّوْمِ فِي السَّفَرِ وَكَانَ رَجُلاً يَسْرُدُ الصِّيَامَ . فَقَالَ " إِنْ شِئْتَ فَصُمْ وَإِنْ شِئْتَ فَأَفْطِرْ " .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

২৩১০। ইসহাক ইবনে ইবরাহীম (রাহঃ) ......... আয়িশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, হামযা আসলামী (রাযিঃ) রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে সফরকালীন অবস্থায় রোযা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলেন আর তিনি সর্বদা রোযা পালনকারী ব্যক্তি ছিলেন। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ যদি তোমার ইচ্ছা হয় তবে রোযা পালন কর আর যদি তোমার ইচ্ছা হয় তবে রোযা ভঙ্গ করে ফেল।

এ প্রসঙ্গে আবু নযরাহ মুনযির ইবনে মালিক ইবনে কাত’আ থেকে বর্ণিত পার্থক্যের উল্লেখ

باب ذِكْرِ الاِخْتِلاَفِ عَلَى أَبِي نَضْرَةَ الْمُنْذِرِ بْنِ مَالِكِ بْنِ قُطَعَةَ فِيهِ

২৩০৯

أَخْبَرَنَا يَحْيَى بْنُ حَبِيبِ بْنِ عَرَبِيٍّ، قَالَ حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، عَنْ سَعِيدٍ الْجُرَيْرِيِّ، عَنْ أَبِي نَضْرَةَ، قَالَ حَدَّثَنَا أَبُو سَعِيدٍ، قَالَ كُنَّا نُسَافِرُ فِي رَمَضَانَ فَمِنَّا الصَّائِمُ وَمِنَّا الْمُفْطِرُ لاَ يَعِيبُ الصَّائِمُ عَلَى الْمُفْطِرِ وَلاَ يَعِيبُ الْمُفْطِرُ عَلَى الصَّائِمِ .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ)

২৩১১। ইয়াহয়া ইবনে হাবীব (রাহঃ) ......... আবু সাঈদ (রাযিঃ) বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেছেন, আমরা একবার রমযান মাসে সফর করছিলাম। আমাদের কতক রোযা পালনকারী ছিলেন আর কতক রোযা ভঙ্গকারী ছিলেন। আমাদের রোযা পালনকারীরাও রোযা ভঙ্গকারীদের তিরস্কার করছিলেন না আর রোযা ভঙ্গকারীরাও রোযা পালনকারীদের তিরস্কার করছিলেন না।

২৩১০

أَخْبَرَنَا سَعِيدُ بْنُ يَعْقُوبَ الطَّالْقَانِيُّ، قَالَ حَدَّثَنَا خَالِدٌ، - وَهُوَ ابْنُ عَبْدِ اللَّهِ الْوَاسِطِيُّ - عَنْ أَبِي مَسْلَمَةَ، عَنْ أَبِي نَضْرَةَ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ، قَالَ كُنَّا نُسَافِرُ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَمِنَّا الصَّائِمُ وَمِنَّا الْمُفْطِرُ وَلاَ يَعِيبُ الصَّائِمُ عَلَى الْمُفْطِرِ وَلاَ يَعِيبُ الْمُفْطِرُ عَلَى الصَّائِمِ .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ)

২৩১২। সাঈদ ইবনে ইয়াকুব তালকানী (রাহঃ) ......... আবু সাঈদ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমরা একবার নবী (ﷺ) এর সাথে সফর করছিলাম। আমাদের মধ্যে কতক রোযা পালনকারী ছিলেন আর কতক রোযা ভঙ্গকারী ছিলেন কিন্তু আমাদের রোযা পালনকারীরাও রোযা ভঙ্গকারীদের তিরস্কার করছিলেন না আর রোযা ভঙ্গকারীরাও রোযা পালনকারীদের তিরস্কার করছিলেন না।

২৩১১

أَخْبَرَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ عَلِيٍّ، قَالَ حَدَّثَنَا الْقَوَارِيرِيُّ، قَالَ حَدَّثَنَا بِشْرُ بْنُ مَنْصُورٍ، عَنْ عَاصِمٍ الأَحْوَلِ، عَنْ أَبِي نَضْرَةَ، عَنْ جَابِرٍ، قَالَ سَافَرْنَا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَصَامَ بَعْضُنَا وَأَفْطَرَ بَعْضُنَا .

বর্ণনাকারী: জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ আনসারী (রাঃ)

২৩১৩। আবু বকর ইবনে আলী (রাহঃ) ......... জাবির (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সাথে একবার সফর করছিলাম, আমাদের কতক রোযা পালন করছিলেন আর কতক রোযা ভঙ্গ করছিলেন।

২৩১২

أَخْبَرَنِي أَيُّوبُ بْنُ مُحَمَّدٍ، قَالَ حَدَّثَنَا مَرْوَانُ، قَالَ حَدَّثَنَا عَاصِمٌ، عَنْ أَبِي نَضْرَةَ الْمُنْذِرِ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ، وَجَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، أَنَّهُمَا سَافَرَا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَيَصُومُ الصَّائِمُ وَيُفْطِرُ الْمُفْطِرُ وَلاَ يَعِيبُ الصَّائِمُ عَلَى الْمُفْطِرِ وَلاَ الْمُفْطِرُ عَلَى الصَّائِمِ .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ)

২৩১৪। আইয়্যুব ইবনে মুহাম্মাদ (রাহঃ) ......... আবু সাঈদ (রাযিঃ) এবং জাবির (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, তাঁরা দু’জন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সাথে সফর করছিলেন, তখন রোযা পালনকারীরা রোযা পালন করতেন আর রোযা ভঙ্গকারীরা রোযা ভঙ্গ করতেন। কিন্তু রোযা পালনকারীরাও রোযা ভঙ্গকারীদের তিরস্কার করতেন না আর রোযা ভঙ্গকারীরাও রোযা পালনকারীদের তিরস্কার করতেন না।

মুসাফিরের জন্য কিছু রোযা পালন করার এবং কিছু রোযা ভঙ্গ করে ফেলার অনুমতি

باب الرُّخْصَةِ لِلْمُسَافِرِ أَنْ يَصُومَ بَعْضًا وَيُفْطِرَ بَعْضًا

২৩১৩

أَخْبَرَنَا قُتَيْبَةُ، قَالَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ خَرَجَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَامَ الْفَتْحِ صَائِمًا فِي رَمَضَانَ حَتَّى إِذَا كَانَ بِالْكَدِيدِ أَفْطَرَ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

২৩১৫। কুতায়বা (রাহঃ) ......... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, মক্কা বিজয়ের বছর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) রমযান মাসে রোযা পালন অবস্থায় বের হলেন। যখন কাদীদ নামক স্থানে পৌছলেন তখন রোযা ভঙ্গ করে ফেললেন।

যে ব্যক্তি রমযান মাস ব্যতীত অবস্থানকালে রোযা শুরু করে তারপর সফর শুরু করে, তার জন্য রোযা ভঙ্গ করার অনুমতি

باب الرُّخْصَةِ فِي الإِفْطَارِ لِمَنْ حَضَرَ شَهْرَ رَمَضَانَ فَصَامَ ثُمَّ سَافَرَ

২৩১৪

أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ رَافِعٍ، قَالَ حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ آدَمَ، قَالَ حَدَّثَنَا مُفَضَّلٌ، عَنْ مَنْصُورٍ، عَنْ مُجَاهِدٍ، عَنْ طَاوُسٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ سَافَرَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَصَامَ حَتَّى بَلَغَ عُسْفَانَ ثُمَّ دَعَا بِإِنَاءٍ فَشَرِبَ نَهَارًا لِيَرَاهُ النَّاسُ ثُمَّ أَفْطَرَ حَتَّى دَخَلَ مَكَّةَ فَافْتَتَحَ مَكَّةَ فِي رَمَضَانَ قَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ فَصَامَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي السَّفَرِ وَأَفْطَرَ فَمَنْ شَاءَ صَامَ وَمَنْ شَاءَ أَفْطَرَ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

২৩১৬। মুহাম্মাদ ইবনে রাফি’ (রাহঃ) ......... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) একবার সফর করছিলেন এবং রোযা শুরু করে উসফান নামক স্থানে পৌছলেন। তারপর একটি পাত্র চেয়ে নিয়ে দিনের বেলায়ই পান করলেন যাতে লোকজন দেখতে পায়। অতঃপর রোযা ভঙ্গ করে ফেললেন এবং মক্কায় প্রবেশ করে রমযান মাসে মক্কা বিজয় করে ফেললেন। ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) বলেন যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) সফরকালীন অবস্থায় রোযা শুরু করে তারপর তা ভঙ্গ করে ফেলেছিলেন। তাই যার ইচ্ছা হয় সে রোযা পালন করবে আর যার ইচ্ছা হয় সে রোযা ভঙ্গ করে ফেলবে।

গর্ভবতী এবং স্তন্য দানকারিণী মহিলা থেকে রোযাকে মুলতবী করা

باب وَضْعِ الصِّيَامِ عَنِ الْحُبْلَى، وَالْمُرْضِعِ،

২৩১৫

أَخْبَرَنَا عَمْرُو بْنُ مَنْصُورٍ، قَالَ حَدَّثَنَا مُسْلِمُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، عَنْ وُهَيْبِ بْنِ خَالِدٍ، قَالَ حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ سَوَادَةَ الْقُشَيْرِيُّ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، رَجُلٌ مِنْهُمْ أَنَّهُ أَتَى النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم بِالْمَدِينَةِ وَهُوَ يَتَغَدَّى فَقَالَ لَهُ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم " هَلُمَّ إِلَى الْغَدَاءِ " . فَقَالَ إِنِّي صَائِمٌ . فَقَالَ لَهُ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم " إِنَّ اللَّهَ عَزَّ وَجَلَّ وَضَعَ لِلْمُسَافِرِ الصَّوْمَ وَشَطْرَ الصَّلاَةِ وَعَنِ الْحُبْلَى وَالْمُرْضِعِ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

২৩১৭। আমর ইবনে মনসুর (রাহঃ) ......... আনাস ইবনে মালিক (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, সাহাবীদের থেকে এক ব্যক্তি নবী (ﷺ) এর কাছে মদীনায় আসলেন। তখন তিনি দ্বিপ্রহরের আহার করছিলেন। নবী (ﷺ) তাঁকে বললেন যে, খেতে এসো। তিনি বললেনঃ আমি তো রোযা পালন করছি। নবী (ﷺ) তাকে বললেন যে, আল্লাহ তাআলা মুসাফির, গর্ভবতী এবং স্তন্য দানকারিণী মহিলার উপর থেকে রোযাকে মুলতবী, অর্ধেক নামাযকে রহিত করে দিয়েছেন।

আল্লাহর বাণীঃ وَعَلَى الَّذِينَ يُطِيقُونَهُ فِدْيَةٌ طَعَامُ مِسْكِينٍ এর তাফসীর

باب تَأْوِيلِ قَوْلِ اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ وَعَلَى الَّذِينَ يُطِيقُونَهُ فِدْيَةٌ طَعَامُ مِسْكِينٍ

২৩১৬

أَخْبَرَنَا قُتَيْبَةُ، قَالَ أَنْبَأَنَا بَكْرٌ، - وَهُوَ ابْنُ مُضَرَ - عَنْ عَمْرِو بْنِ الْحَارِثِ، عَنْ بُكَيْرٍ، عَنْ يَزِيدَ، مَوْلَى سَلَمَةَ بْنِ الأَكْوَعِ عَنْ سَلَمَةَ بْنِ الأَكْوَعِ، قَالَ لَمَّا نَزَلَتْ هَذِهِ الآيَةُ (وَعَلَى الَّذِينَ يُطِيقُونَهُ فِدْيَةٌ طَعَامُ مِسْكِينٍ) كَانَ مَنْ أَرَادَ مِنَّا أَنْ يُفْطِرَ وَيَفْتَدِيَ حَتَّى نَزَلَتِ الآيَةُ الَّتِي بَعْدَهَا فَنَسَخَتْهَا .

বর্ণনাকারী: সালামা ইবনুল আকওয়া' (রাঃ)

২৩১৮। কুতায়বা (রাহঃ) ......... সালামা ইবনে আকওয়া (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন وَعَلَى الَّذِينَ يُطِيقُونَهُ فِدْيَةٌ طَعَامُ مِسْكِينٍ আয়াত অবতীর্ণ হল তখন আমাদের মধ্যে যারা ইচ্ছা করত রোযা ভঙ্গ করে ফেলত এবং ফিদয়া দিত। যখন তার পরবর্তী আয়াত (فَمَن شَهِدَ مِنكُمُ الشَّهْرَ فَلْيَصُمْهُ) অবতীর্ণ হল উক্ত আয়াতের হুকুমকে রহিত করে দিল।

২৩১৭

أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ بْنِ إِبْرَاهِيمَ، قَالَ حَدَّثَنَا يَزِيدُ، قَالَ أَنْبَأَنَا وَرْقَاءُ، عَنْ عَمْرِو بْنِ دِينَارٍ، عَنْ عَطَاءٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، فِي قَوْلِهِ عَزَّ وَجَلَّ (وَعَلَى الَّذِينَ يُطِيقُونَهُ فِدْيَةٌ طَعَامُ مِسْكِينٍ) يُطِيقُونَهُ يُكَلَّفُونَهُ فِدْيَةٌ طَعَامُ مِسْكِينٍ وَاحِدٍ (فَمَنْ تَطَوَّعَ خَيْرًا) طَعَامُ مِسْكِينٍ آخَرَ لَيْسَتْ بِمَنْسُوخَةٍ (فَهُوَ خَيْرٌ لَهُ وَأَنْ تَصُومُوا خَيْرٌ لَكُمْ) لاَ يُرَخَّصُ فِي هَذَا إِلاَّ لِلَّذِي لاَ يُطِيقُ الصِّيَامَ أَوْ مَرِيضٍ لاَ يُشْفَى .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

২৩১৯। মুহাম্মাদ ইবনে ইসমাঈল (রাহঃ) ......... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। আল্লাহ তাআলার বাণীঃ وَعَلَى الَّذِينَ يُطِيقُونَهُ فِدْيَةٌ طَعَامُ مِسْكِينٍ (অর্থঃ আর যাদের রোযা পালন করার সামর্থ্য আছে তারা ইচ্ছা করলে রোযা ভঙ্গ করে একজন মিসকীনকে তার বিনিময়ে খাদ্য দান করতে পারবে) এর ব্যাখ্যায় বর্ণিত আছে, যাদের রোযা পালন করতে খুব বেশী কষ্ট হয় তারা প্রত্যেকটি রোযার পরিবরর্তে ফিদয়া ,স্বরূপ একজন মিসকীনকে খাদ্য দান করবে। আর যে ব্যক্তি আরো অধিক দান করবে তা তার জন্য উত্তম হবে-এই আয়াতের হুকুম রহিত হয়নি আর যদি তোমরা রোযা পালন কর তবে তা তোমাদের জন্য উত্তম। অত্র আয়াতে রোযা পালনে সামর্থ্যবানদের অব্যাহতি দেওয়া হয়নি বরং অক্ষম এবং এমন অসুস্থ ব্যক্তিকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে যাদের রোগ মুক্তির আশা নেই।

ঋতুবতী মহিলার উপর থেকে রোযাকে মুলতবী করা

باب وَضْعِ الصِّيَامِ عَنِ الْحَائِضِ

২৩১৮

أَخْبَرَنَا عَلِيُّ بْنُ حُجْرٍ، قَالَ أَنْبَأَنَا عَلِيٌّ، - يَعْنِي ابْنَ مُسْهَرٍ - عَنْ سَعِيدٍ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ مُعَاذَةَ الْعَدَوِيَّةِ، أَنَّ امْرَأَةً، سَأَلَتْ عَائِشَةَ أَتَقْضِي الْحَائِضُ الصَّلاَةَ إِذَا طَهُرَتْ قَالَتْ أَحَرُورِيَّةٌ أَنْتِ كُنَّا نَحِيضُ عَلَى عَهْدِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ثُمَّ نَطْهُرُ فَيَأْمُرُنَا بِقَضَاءِ الصَّوْمِ وَلاَ يَأْمُرُنَا بِقَضَاءِ الصَّلاَةِ .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

২৩২০। আলী ইবনে হুজর (রাহঃ) ......... মুআযা আদাবীয়া (রাহঃ) থেকে বর্ণিত যে, এক মহিলা আয়িশা (রাযিঃ)-এর কাছে জিজ্ঞাসা করল যে, ঋতুবতী মহিলা যখন ঋতু থেকে পবিত্র হবে তখন কি সে নামায কাযা করবে? তিনি বললেন, তুমি কি হারুরী গোত্রের মহিলা? আমরা তো রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর যুগে ঋতুবতী হতাম এবং যখন পবিত্র হতাম তখন আমাদেরকে রোযা কাযা করার নির্দেশ দেওয়া হল কিন্তু নামায কাযা করার নির্দেশ দেওয়া হত না।

২৩১৯

أَخْبَرَنَا عَمْرُو بْنُ عَلِيٍّ، قَالَ حَدَّثَنَا يَحْيَى، قَالَ حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ، قَالَ سَمِعْتُ أَبَا سَلَمَةَ، يُحَدِّثُ عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ إِنْ كَانَ لَيَكُونُ عَلَىَّ الصِّيَامُ مِنْ رَمَضَانَ فَمَا أَقْضِيهِ حَتَّى يَجِيءَ شَعْبَانُ .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

২৩২১। আমর ইবনে আলী (রাহঃ) ......... আয়িশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, যদি আমার উপর রমযানের রোযা অনাদায়ী থেকে যেত তবে আমি তা পুনরায় শাবান মাস না আসা পর্যন্ত কাযা করতাম না।

রমযান মাসে ঋতুবতী মহিলা পবিত্র হলে বা মুসাফির (বাড়ীতে) ফিরে এলে তারা কি দিনের অবশিষ্ট সময় রোযা পালন করবে?

باب إِذَا طَهُرَتِ الْحَائِضُ أَوْ قَدِمَ الْمُسَافِرُ فِي رَمَضَانَ هَلْ يَصُومُ بَقِيَّةَ يَوْمِهِ

২৩২০

أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ يُونُسَ أَبُو حَصِينٍ، قَالَ حَدَّثَنَا عَبْثَرٌ، قَالَ حَدَّثَنَا حُصَيْنٌ، عَنِ الشَّعْبِيِّ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ صَيْفِيٍّ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَوْمَ عَاشُورَاءَ " أَمِنْكُمْ أَحَدٌ أَكَلَ الْيَوْمَ " . فَقَالُوا مِنَّا مَنْ صَامَ وَمِنَّا مَنْ لَمْ يَصُمْ . قَالَ " فَأَتِمُّوا بَقِيَّةَ يَوْمِكُمْ وَابْعَثُوا إِلَى أَهْلِ الْعَرُوضِ فَلْيُتِمُّوا بَقِيَّةَ يَوْمِهِمْ " .

বর্ণনাকারী: বিবিধ

২৩২২। আব্দুল্লাহ ইবনে আহমদ (রাহঃ) ......... মুহাম্মাদ ইবনে সায়ফী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আশূরা-র দিন জিজ্ঞাসা করলেন যে, আজ কি তোমরা কেউ কিছু খেয়েছ? তারা বললেন, আমাদের কেউ কেউ রোযা পালন করছে আর কেউ কেউ রোযা ভঙ্গ করেছে। তখন তিনি বললেন, তবে তোমরা অবশিষ্ট দিন পূর্ণ করে ফেল (না খেয়ে থাক)। আর মক্কা ও মদীনার আশেপাশেও সংবাদ পাঠাও তারাও যেন তাদের দিনের অবশিষ্ট অংশ পূর্ণ করে ফেলে।

রাত্রে রোযার নিয়ত না করলে পরবর্তী দিনের নফল রোযা পালন হবে কি?

باب إِذَا لَمْ يُجْمِعْ مِنَ اللَّيْلِ هَلْ يَصُومُ ذَلِكَ الْيَوْمَ مِنَ التَّطَوُّعِ

২৩২১

أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، قَالَ حَدَّثَنَا يَحْيَى، عَنْ يَزِيدَ، قَالَ حَدَّثَنَا سَلَمَةُ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ لِرَجُلٍ " أَذِّنْ - يَوْمَ عَاشُورَاءَ - مَنْ كَانَ أَكَلَ فَلْيُتِمَّ بَقِيَّةَ يَوْمِهِ وَمَنْ لَمْ يَكُنْ أَكَلَ فَلْيَصُمْ " .

বর্ণনাকারী: সালামা ইবনুল আকওয়া' (রাঃ)

২৩২৩। মুহাম্মাদ ইবনে মুছান্না (রাহঃ) ......... সালামা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এক ব্যক্তিকে বলেছিলেন, তুমি আশূরার দিন ঘোষণা করে দাও, যে ব্যক্তি না খেয়ে থাকে আর যে ব্যক্তি এখনো কিছু খায়নি সে যেন রোযা পালন করে।

রোযার নিয়ত এবং এ প্রসঙ্গে আয়িশা সিদ্দিকা (রাযিঃ) সূত্রে বর্ণিত হাদীসে তালহা ইবনে ইয়াহয়া (রাহঃ) থেকে বর্ণনার বিভিন্নতার উল্লেখ

باب النِّيَّةِ فِي الصِّيَامِ وَالاِخْتِلاَفِ عَلَى طَلْحَةَ بْنِ يَحْيَى بْنِ طَلْحَةَ فِي خَبَرِ عَائِشَةَ فِيهِ

২৩২২

أَخْبَرَنَا عَمْرُو بْنُ مَنْصُورٍ، قَالَ حَدَّثَنَا عَاصِمُ بْنُ يُوسُفَ، قَالَ حَدَّثَنَا أَبُو الأَحْوَصِ، عَنْ طَلْحَةَ بْنِ يَحْيَى بْنِ طَلْحَةَ، عَنْ مُجَاهِدٍ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ دَخَلَ عَلَىَّ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَوْمًا فَقَالَ " هَلْ عِنْدَكُمْ شَىْءٌ " . فَقُلْتُ لاَ . قَالَ " فَإِنِّي صَائِمٌ " . ثُمَّ مَرَّ بِي بَعْدَ ذَلِكَ الْيَوْمِ وَقَدْ أُهْدِيَ إِلَىَّ حَيْسٌ فَخَبَأْتُ لَهُ مِنْهُ وَكَانَ يُحِبُّ الْحَيْسَ قَالَتْ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّهُ أُهْدِيَ لَنَا حَيْسٌ فَخَبَأْتُ لَكَ مِنْهُ . قَالَ " أَدْنِيهِ أَمَا إِنِّي قَدْ أَصْبَحْتُ وَأَنَا صَائِمٌ " . فَأَكَلَ مِنْهُ ثُمَّ قَالَ " إِنَّمَا مَثَلُ صَوْمِ الْمُتَطَوِّعِ مَثَلُ الرَّجُلِ يُخْرِجُ مِنْ مَالِهِ الصَّدَقَةَ فَإِنْ شَاءَ أَمْضَاهَا وَإِنْ شَاءَ حَبَسَهَا " .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

২৩২৪। আমর ইবনে মনসুর (রাহঃ) ......... আয়িশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) একদিন আমার কাছে আসলেন এবং বললেনঃ তোমার কাছে কি খাওয়ার কিছু আছে? আমি বললাম না; তিনি বললেন, তাহলে আমি রোযার নিয়ত করে নিলাম। এরপর তিনি আরেক দিন আমার কাছে আসলেন এবং সে দিন আমাকে কিছু “হায়স”- (খেজুরে এবং ঘি ইত্যাদি দ্বারা প্রস্তুত এক প্রকার খাদ্য), উপহার দেওয়া হয়েছিল, আমি তা থেকে কিছু রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর জন্য রেখে দিয়েছিলাম। আর তিনি হায়স খুব পছন্দ করতেন।

তিনি বললেন, ইয়া রাসুলাল্লাহ! আমাকে কিছু হায়স উপহার দেওয়া হয়েছিল, আমি সেখান থেকে আপনার জন্য কিছু পৃথক করে রেখে দিয়েছি। তিনি বললেন, নিয়ে এসো, আমি তো আজকে সকালে রোযার নিয়ত করে ফেলেছিলাম, অতঃপর তা থেকে খেলেন। তারপর বললেন, নফল রোযার হল ঐ ব্যক্তির ন্যায় যে স্বীয় ধন-সম্পদ থেকে দান করার নিয়তে কিছু মাল বের করল। এখন সে ব্যক্তি ইচ্ছা করলে তা দানও করতে পারে আবার ইচ্ছা করলে রেখেও দিতে পারে।
২৩২৩

أَخْبَرَنَا أَبُو دَاوُدَ، قَالَ حَدَّثَنَا يَزِيدُ، أَنْبَأَنَا شَرِيكٌ، عَنْ طَلْحَةَ بْنِ يَحْيَى بْنِ طَلْحَةَ، عَنْ مُجَاهِدٍ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ دَارَ عَلَىَّ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم دَوْرَةً قَالَ " أَعِنْدَكِ شَىْءٌ " . قَالَتْ لَيْسَ عِنْدِي شَىْءٌ . قَالَ " فَأَنَا صَائِمٌ " . قَالَتْ ثُمَّ دَارَ عَلَىَّ الثَّانِيَةَ وَقَدْ أُهْدِيَ لَنَا حَيْسٌ فَجِئْتُ بِهِ فَأَكَلَ فَعَجِبْتُ مِنْهُ فَقُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ دَخَلْتَ عَلَىَّ وَأَنْتَ صَائِمٌ ثُمَّ أَكَلْتَ حَيْسًا . قَالَ " نَعَمْ يَا عَائِشَةُ إِنَّمَا مَنْزِلَةُ مَنْ صَامَ فِي غَيْرِ رَمَضَانَ - أَوْ غَيْرِ قَضَاءِ رَمَضَانَ أَوْ فِي التَّطَوُّعِ - بِمَنْزِلَةِ رَجُلٍ أَخْرَجَ صَدَقَةَ مَالِهِ فَجَادَ مِنْهَا بِمَا شَاءَ فَأَمْضَاهُ وَبَخِلَ مِنْهَا بِمَا بَقِيَ فَأَمْسَكَهُ " .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

২৩২৫। আর দাউদ (রাহঃ) ......... আয়িশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) একবার আমার কাছে এসে বললেন, তোমার কাছে কি খাওয়ার কিছু আছে? আমি বললাম, আমার কাছে তো কিছুই নেই। তিনি বললেন, তা হলে আমি রোযার নিয়ত করে নিলাম। আয়িশা (রাযিঃ) বলেন, অতঃপর তিনি আরেক বার আমার কাছে আসলেন, তখন আমাকে কিছু হায়স উপহার দেওয়া হয়েছিল। আমি উহা তাঁকে দিলাম।

তিনি তা খেয়ে ফেললেন। আমি তাতে আশ্চার্যানিত হয়ে গেলাম এবং বললাম ইয়া রাসুলাল্লাহ! আপনি (একবার) রোযা পালনরত অবস্থায় আমার কাছে এলেন তারপর হায়স খেয়ে ফেললেন। তিনি বললেন, হে আয়িশা! হ্যাঁ, যে ব্যক্তি রমযানের রোযা বা তার কাযা ছাড়া নফল রোযা পালন করে তার তুলনা ঐ ব্যক্তির ন্যায় যে স্বীয় মাল দান করার জন্য বের করল এবং সেখান থেকে যা ইচ্ছা দান করল আর বাকী যা ইচ্ছা ফিরিয়ে নিল।
২৩২৪

أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ الْهَيْثَمِ، قَالَ حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرٍ الْحَنَفِيُّ، قَالَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ طَلْحَةَ بْنِ يَحْيَى، عَنْ مُجَاهِدٍ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَجِيءُ وَيَقُولُ " هَلْ عِنْدَكُمْ غَدَاءٌ " . فَنَقُولُ لاَ . فَيَقُولُ " إِنِّي صَائِمٌ " . فَأَتَانَا يَوْمًا وَقَدْ أُهْدِيَ لَنَا حَيْسٌ فَقَالَ " هَلْ عِنْدَكُمْ شَىْءٌ " . قُلْنَا نَعَمْ أُهْدِيَ لَنَا حَيْسٌ . قَالَ " أَمَا إِنِّي قَدْ أَصْبَحْتُ أُرِيدُ الصَّوْمَ " . فَأَكَلَ خَالَفَهُ قَاسِمُ بْنُ يَزِيدَ .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

২৩২৬। আব্দুল্লাহ ইবনে হায়ছাম (রাহঃ) ......... আয়িশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একবার রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এসে বললেনঃ তোমার কাছে আহারের কিছু আছে কি? আমি বললামঃ না; তিনি বললেন, তাহলে আমি রোযার নিয়ত করে ফেললাম। আরেক দিন তিনি আমার কাছে আসলেন তখন আমাকে কিছু হায়স উপহার দেওয়া হয়েছে। তিনি বললেন, আমি তো সকালে রোযার নিয়ত করে ফেলেছিলাম, অতঃপর খেলেন।

২৩২৫

أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ حَرْبٍ، قَالَ حَدَّثَنَا قَاسِمٌ، قَالَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ طَلْحَةَ بْنِ يَحْيَى، عَنْ عَائِشَةَ بِنْتِ طَلْحَةَ، عَنْ عَائِشَةَ أُمِّ الْمُؤْمِنِينَ، قَالَتْ أَتَانَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَوْمًا فَقُلْنَا أُهْدِيَ لَنَا حَيْسٌ قَدْ جَعَلْنَا لَكَ مِنْهُ نَصِيبًا . فَقَالَ " إِنِّي صَائِمٌ " . فَأَفْطَرَ .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

২৩২৭। আহমদ ইবনে হারব (রাহঃ) ......... উম্মুল মু’মিনীন আয়িশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) একদিন আমাদের কাছে আসলেন তখন আমরা বললাম যে, আমাদেরকে কিছু হায়স উপহার দেওয়া ছিল। আমরা তার থেকে আপনার জন্য কিছু রেখে দিয়েছিলাম। তিনি বললেন যে, আমি তো রোযার নিয়ত করে ফেলেছিলাম অতঃপর তিনি রোযা ভঙ্গ করে ফেললেন।

২৩২৬

أَخْبَرَنَا عَمْرُو بْنُ عَلِيٍّ، قَالَ حَدَّثَنَا يَحْيَى، قَالَ حَدَّثَنَا طَلْحَةُ بْنُ يَحْيَى، قَالَ حَدَّثَتْنِي عَائِشَةُ بِنْتُ طَلْحَةَ، عَنْ عَائِشَةَ أُمِّ الْمُؤْمِنِينَ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم كَانَ يَأْتِيهَا وَهُوَ صَائِمٌ فَقَالَ " أَصْبَحَ عِنْدَكُمْ شَىْءٌ تُطْعِمِينِيهِ " . فَنَقُولُ لاَ . فَيَقُولُ " إِنِّي صَائِمٌ " . ثُمَّ جَاءَهَا بَعْدَ ذَلِكَ فَقَالَتْ أُهْدِيَتْ لَنَا هَدِيَّةٌ . فَقَالَ " مَا هِيَ " . قَالَتْ حَيْسٌ . قَالَ " قَدْ أَصْبَحْتُ صَائِمًا " . فَأَكَلَ .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

২৩২৮। আমর ইবনে আলী (রাহঃ) ......... উম্মুল মু’মিনীন আয়িশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, নবী (ﷺ) একবার তার কাছে আসলেন তখন তিনি রোযা পালন করছিলেন। তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, তোমাদের কাছে আহারের কিছু আছে কি যা আমাকে খাওয়াতে পার? আমরা বললাম, না; তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, তাহলে আমি রোযার নিয়ত করে নিলাম।

এরপর তিনি আয়িশা (রাযিঃ)-এর কাছে আবার আসলেন তখন আয়িশা (রাযিঃ) বললেন যে, আমাদেরকে কিছু উপহার দেওয়া হয়েছে তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, কি? তিনি বললেন, হায়স, তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, আমি তো সকালে রোযার নিয়ত করে ফেলেছিলাম, অতঃপর খেলেন।
২৩২৭

أَخْبَرَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، قَالَ أَنْبَأَنَا وَكِيعٌ، قَالَ حَدَّثَنَا طَلْحَةُ بْنُ يَحْيَى، عَنْ عَمَّتِهِ، عَائِشَةَ بِنْتِ طَلْحَةَ عَنْ عَائِشَةَ أُمِّ الْمُؤْمِنِينَ، قَالَتْ دَخَلَ عَلَىَّ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ذَاتَ يَوْمٍ فَقَالَ " هَلْ عِنْدَكُمْ شَىْءٌ " . قُلْنَا لاَ . قَالَ " فَإِنِّي صَائِمٌ " .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

২৩২৯। ইসহাক ইবনে ইবরাহীম (রাহঃ) ......... উম্মুল মু’মিনীন আয়িশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একবার রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমার কাছে এসে জিজ্ঞাসা করলেন তোমার কাছে আহারের কিছু আছে কি? আমি বললাম, না; তিনি বললেন, তাহলে আমি রোযার নিয়তে করে ফেললাম।

২৩২৮

أَخْبَرَنِي أَبُو بَكْرِ بْنُ عَلِيٍّ، قَالَ حَدَّثَنَا نَصْرُ بْنُ عَلِيٍّ، قَالَ أَخْبَرَنِي أَبِي، عَنِ الْقَاسِمِ بْنِ مَعْنٍ، عَنْ طَلْحَةَ بْنِ يَحْيَى، عَنْ عَائِشَةَ بِنْتِ طَلْحَةَ، وَمُجَاهِدٍ، عَنْ عَائِشَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَتَاهَا فَقَالَ " هَلْ عِنْدَكُمْ طَعَامٌ " . فَقُلْتُ لاَ . قَالَ " إِنِّي صَائِمٌ " . ثُمَّ جَاءَ يَوْمًا آخَرَ فَقَالَتْ عَائِشَةُ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّا قَدْ أُهْدِيَ لَنَا حَيْسٌ فَدَعَا بِهِ فَقَالَ " أَمَا إِنِّي قَدْ أَصْبَحْتُ صَائِمًا " . فَأَكَلَ .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

২৩৩০। আবু বকর ইবনে আলী (রাহঃ) ......... আয়িশা বিনতে তালহা এবং মুজাহিদ (রাহঃ) সূত্রে আয়িশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, একবার রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তার কাছে এসে বললেন, তোমার কাছে আহারের কিছু আছে কি? আমি বললাম না; তিনি বললেন, তাহলে আমি রোযার নিয়ত করে ফেললাম। রাবী বলেন, তিনি আরেক দিন আসলেন তখন আয়িশা (রাযিঃ) বললেন, ইয়া রাসুলাল্লাহ! আমাকে কিছু হায়স উপহার দেওয়া হয়েছে। তিনি তা চেয়ে নিলেন এবং বললেন যে, আজকে সকালে তো আমি রোযার নিয়ত করে ফেলেছিলাম। অতঃপর তা খেলেন।

২৩২৯

أَخْبَرَنِي عَمْرُو بْنُ يَحْيَى بْنِ الْحَارِثِ، قَالَ حَدَّثَنَا الْمُعَافَى بْنُ سُلَيْمَانَ، قَالَ حَدَّثَنَا الْقَاسِمُ، عَنْ طَلْحَةَ بْنِ يَحْيَى، عَنْ مُجَاهِدٍ، وَأُمِّ كُلْثُومٍ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم دَخَلَ عَلَى عَائِشَةَ فَقَالَ " هَلْ عِنْدَكُمْ طَعَامٌ " . نَحْوَهُ . قَالَ أَبُو عَبْدِ الرَّحْمَنِ وَقَدْ رَوَاهُ سِمَاكُ بْنُ حَرْبٍ قَالَ حَدَّثَنِي رَجُلٌ عَنْ عَائِشَةَ بِنْتِ طَلْحَةَ .

বর্ণনাকারী: হযরত উম্মে কুলছুম বিনতে উকবা (রাঃ)

২৩৩১। আমর ইবনে ইয়াহয়া (রাহঃ) ......... মুজাহিদ এবং উম্মে কুলসূম (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) একবার আয়িশা (রাযিঃ)-এর কাছে গেলেন এবং জিজ্ঞাসা করলেন যে, তোমার কাছে আহারের কিছু আছে কি? রাবী পূর্বের বর্ণনার অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।

২৩৩০

أَخْبَرَنِي صَفْوَانُ بْنُ عَمْرٍو، قَالَ حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ خَالِدٍ، قَالَ حَدَّثَنَا إِسْرَائِيلُ، عَنْ سِمَاكِ بْنِ حَرْبٍ، قَالَ حَدَّثَنِي رَجُلٌ، عَنْ عَائِشَةَ بِنْتِ طَلْحَةَ، عَنْ عَائِشَةَ أُمِّ الْمُؤْمِنِينَ، قَالَتْ جَاءَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَوْمًا فَقَالَ " هَلْ عِنْدَكُمْ مِنْ طَعَامٍ " . قُلْتُ لاَ . قَالَ " إِذًا أَصُومَ " . قَالَتْ وَدَخَلَ عَلَىَّ مَرَّةً أُخْرَى فَقُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ قَدْ أُهْدِيَ لَنَا حَيْسٌ . فَقَالَ " إِذًا أُفْطِرَ الْيَوْمَ وَقَدْ فَرَضْتُ الصَّوْمَ " .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

২৩৩২। সাফওয়ান ইবনে আমর (রাহঃ) ......... উম্মুল মু’মিনীন আয়িশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) একবার তাঁর কাছে আসলেন এবং জিজ্ঞাসা করলেন, তোমার কাছে আহারের কিছু আছে কি? আমি বললাম না; তখন তিনি বললেন, তাহলে আমি রোযার নিয়ত করে ফেললাম। আয়িশা (রাযিঃ) বলেন, তিনি আমার কাছে আরেকবার আসলেন, তখন আমি বললামঃ ইয়া রাসুলাল্লাহ! আমাকে কিছু হায়স উপহার দেওয়া হয়েছে। তিনি বললেন, তাহলে আজ আমি রোযা পালন করব না অথচ আমি রোযার নিয়ত করে ফেলেছিলাম।

এ প্রসঙ্গে হাফসা (রাযিঃ) এর হাদীস বর্ণনাকারীদের মধ্যে বর্ণনা পার্থক্যের উল্লেখ

باب ذِكْرِ اخْتِلاَفِ النَّاقِلِينَ لِخَبَرِ حَفْصَةَ فِي ذَلِكَ

২৩৩১

أَخْبَرَنِي الْقَاسِمُ بْنُ زَكَرِيَّا بْنِ دِينَارٍ، قَالَ حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ شُرَحْبِيلَ، قَالَ أَنْبَأَنَا اللَّيْثُ، عَنْ يَحْيَى بْنِ أَيُّوبَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي بَكْرٍ، عَنْ سَالِمِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ، عَنْ حَفْصَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " مَنْ لَمْ يُبَيِّتِ الصِّيَامَ قَبْلَ الْفَجْرِ فَلاَ صِيَامَ لَهُ " .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হাফসা (রাঃ)

২৩৩৩। কাসেম ইবনে যাকারিয়া (রাহঃ) ......... হাফসা (রাযিঃ) রাসূলুল্লাহ (ﷺ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ যে ব্যক্তি (রমযানের রোযা ব্যতীত) রাত্রে রোযার নিয়ত না করে তার রোযা পালন করা হবে না।

২৩৩২

أَخْبَرَنَا عَبْدُ الْمَلِكِ بْنُ شُعَيْبِ بْنِ اللَّيْثِ بْنِ سَعْدٍ، قَالَ حَدَّثَنِي أَبِي، عَنْ جَدِّي، قَالَ حَدَّثَنِي يَحْيَى بْنُ أَيُّوبَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي بَكْرٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ سَالِمٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ، عَنْ حَفْصَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " مَنْ لَمْ يُبَيِّتِ الصِّيَامَ قَبْلَ الْفَجْرِ فَلاَ صِيَامَ لَهُ " .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হাফসা (রাঃ)

২৩৩৪। আব্দুল মালিক ইবনে শুআয়ব (রাহঃ) ......... হাফসা (রাযিঃ) সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, যে ব্যক্তি রাত্রে ফজরের পূর্বেই রোযার নিয়ত (দৃঢ় ইচ্ছা) না করে তার রোযা পালন হবে না।

২৩৩৩

أَخْبَرَنِي مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ الْحَكَمِ، عَنْ أَشْهَبَ، قَالَ أَخْبَرَنِي يَحْيَى بْنُ أَيُّوبَ، وَذَكَرَ، آخَرَ أَنَّ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ أَبِي بَكْرِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ عَمْرِو بْنِ حَزْمٍ، حَدَّثَهُمَا عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ سَالِمِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ حَفْصَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " مَنْ لَمْ يُجْمِعِ الصِّيَامَ قَبْلَ طُلُوعِ الْفَجْرِ فَلاَ يَصُومُ " .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হাফসা (রাঃ)

২৩৩৫। মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল্লাহ (রাহঃ) ......... হাফসা (রাযিঃ) সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, যে ব্যক্তি ফজর উদয়ের পূর্বেই রাত্রে রোযার নিয়ত না করে তার রোযা পালন হবে না।

২৩৩৪

أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ الأَزْهَرِ، قَالَ حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، عَنِ ابْنِ جُرَيْجٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ سَالِمٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، عَنْ حَفْصَةَ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " مَنْ لَمْ يُبَيِّتِ الصِّيَامَ مِنَ اللَّيْلِ فَلاَ صِيَامَ لَهُ " .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হাফসা (রাঃ)

২৩৩৬। আহমদ ইবনে আযহার (রাহঃ) ......... হাফসা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। যে ব্যক্তি রাত্রে রোযার নিয়ত না করে তার রোযা পালন হবে না।

২৩৩৫

أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الأَعْلَى، قَالَ حَدَّثَنَا مُعْتَمِرٌ، قَالَ سَمِعْتُ عُبَيْدَ اللَّهِ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ سَالِمٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ، عَنْ حَفْصَةَ، أَنَّهَا كَانَتْ تَقُولُ مَنْ لَمْ يُجْمِعِ الصِّيَامَ مِنَ اللَّيْلِ فَلاَ يَصُومُ .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হাফসা (রাঃ)

২৩৩৭। মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল আলা (রাহঃ) ......... আব্দুল্লাহ (রাযিঃ) হাফসা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলতেন, যে ব্যক্তি রাত্রে রোযার নিয়ত না করবে তার রোযা পালন হবে না।

২৩৩৬

أَخْبَرَنَا الرَّبِيعُ بْنُ سُلَيْمَانَ، قَالَ حَدَّثَنَا ابْنُ وَهْبٍ، قَالَ أَخْبَرَنِي يُونُسُ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، قَالَ أَخْبَرَنِي حَمْزَةُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ قَالَتْ حَفْصَةُ زَوْجُ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم لاَ صِيَامَ لِمَنْ لَمْ يُجْمِعْ قَبْلَ الْفَجْرِ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

২৩৩৮। রবী ইবনে সুলাইমান (রাহঃ) ......... আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, হাফসা (রাযিঃ) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি ফজরের পূর্বেই রাত্রে রোযার নিয়ত না করে তার রোযা পালন হবে না।

২৩৩৭

أَخْبَرَنِي زَكَرِيَّا بْنُ يَحْيَى، قَالَ حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ عِيسَى، قَالَ أَنْبَأَنَا ابْنُ الْمُبَارَكِ، قَالَ أَنْبَأَنَا مَعْمَرٌ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ حَمْزَةَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ، عَنْ حَفْصَةَ، قَالَتْ لاَ صِيَامَ لِمَنْ لَمْ يُجْمِعْ قَبْلَ الْفَجْرِ .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হাফসা (রাঃ)

২৩৩৯। যাকারিয়া ইবনে ইয়াহয়া (রাহঃ) ......... হাফসা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, যে ব্যক্তি ফজরের পূর্বে রাত্রে রোযার নিয়ত না করে তার রোযা পালন হবে না।

২৩৩৮

أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ حَاتِمٍ، قَالَ أَنْبَأَنَا حِبَّانُ، قَالَ أَنْبَأَنَا عَبْدُ اللَّهِ، عَنْ سُفْيَانَ بْنِ عُيَيْنَةَ، وَمَعْمَرٍ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ حَمْزَةَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ حَفْصَةَ، قَالَتْ لاَ صِيَامَ لِمَنْ لَمْ يُجْمِعِ الصِّيَامَ قَبْلَ الْفَجْرِ .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হাফসা (রাঃ)

২৩৪০। মুহাম্মাদ ইবনে হাতিম (রাহঃ) ......... হাফসা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, যে ব্যক্তি ফজরের পূর্বে রাত্রেই রোযার নিয়ত না করে তার রোযা পালন হবে না।

২৩৩৯

أَخْبَرَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، قَالَ أَنْبَأَنَا سُفْيَانُ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ حَمْزَةَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ، عَنْ حَفْصَةَ، قَالَتْ لاَ صِيَامَ لِمَنْ لَمْ يُجْمِعِ الصِّيَامَ قَبْلَ الْفَجْرِ .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হাফসা (রাঃ)

২৩৪১। ইসহাক ইবনে ইবরাহীম (রাহঃ) ......... হাফসা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, যে ব্যক্তি ফজরের পূর্বে রাত্রেই রোযার নিয়ত না করে তার রোযা পালন হবে না।

২৩৪০

أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ حَرْبٍ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ حَمْزَةَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، عَنْ حَفْصَةَ، قَالَتْ لاَ صِيَامَ لِمَنْ لَمْ يُجْمِعِ الصِّيَامَ قَبْلَ الْفَجْرِ . أَرْسَلَهُ مَالِكُ بْنُ أَنَسٍ .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হাফসা (রাঃ)

২৩৪২। আহমদ ইবনে হারব (রাহঃ) ......... হাফসা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, যে ব্যক্তি ফজরের পূর্বে রাত্রেই রোযার নিয়ত না করে তার রোযা পালন হবে না।

২৩৪১

قَالَ الْحَارِثُ بْنُ مِسْكِينٍ قِرَاءَةً عَلَيْهِ وَأَنَا أَسْمَعُ، عَنِ ابْنِ الْقَاسِمِ، قَالَ حَدَّثَنِي مَالِكٌ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ عَائِشَةَ، وَحَفْصَةَ، مِثْلَهُ لاَ يَصُومُ إِلاَّ مَنْ أَجْمَعَ الصِّيَامَ قَبْلَ الْفَجْرِ .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

২৩৪৩। হারিছ ইবনে মিসকীন (রাহঃ) এর সামনে পাঠ করা অবস্থায় শ্রুত হাফসা (রাযিঃ) এবং আয়িশা (রাযিঃ) থেকে অনুরূপ হাদীস বর্ণিত আছে, যে ব্যক্তি ফজরের পূর্বে রাত্রে রোযার নিয়ত না করে তার রোযা পালন হবে না।

২৩৪২

أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الأَعْلَى، قَالَ حَدَّثَنَا الْمُعْتَمِرُ، قَالَ سَمِعْتُ عُبَيْدَ اللَّهِ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، قَالَ إِذَا لَمْ يُجْمِعِ الرَّجُلُ الصَّوْمَ مِنَ اللَّيْلِ فَلاَ يَصُمْ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

২৩৪৪। মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল আলা (রাহঃ) ......... ইবনে উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, যদি কোন ব্যক্তি রাত্রেই রোযার নিয়ত না করে তবে সে যেন রোযা পালন না করে (তার রোযা পালন হবে না)।

২৩৪৩

قَالَ الْحَارِثُ بْنُ مِسْكِينٍ قِرَاءَةً عَلَيْهِ وَأَنَا أَسْمَعُ، عَنِ ابْنِ الْقَاسِمِ، قَالَ حَدَّثَنِي مَالِكٌ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، أَنَّهُ كَانَ يَقُولُ لاَ يَصُومُ إِلاَّ مَنْ أَجْمَعَ الصِّيَامَ قَبْلَ الْفَجْرِ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

২৩৪৫। হারিছ ইবনে মিসকীন (রাহঃ)-এর সামনে পাঠ করা অবস্থায় শ্রুত ......... ইবনে উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলতেন, যে ব্যক্তি ফজরের পূর্বে রাত্রেই রোযার নিয়ত না করে তার রোযা পালন হবে না।

আল্লাহর নবী দাউদ (আলাইহিস সালাম) এর রোযা

باب صَوْمِ نَبِيِّ اللَّهِ دَاوُدَ عَلَيْهِ السَّلاَمُ

২৩৪৪

أَخْبَرَنَا قُتَيْبَةُ، قَالَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ عَمْرِو بْنِ دِينَارٍ، عَنْ عَمْرِو بْنِ أَوْسٍ، أَنَّهُ سَمِعَ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عَمْرِو بْنِ الْعَاصِ، يَقُولُ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " أَحَبُّ الصِّيَامِ إِلَى اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ صِيَامُ دَاوُدَ عَلَيْهِ السَّلاَمُ كَانَ يَصُومُ يَوْمًا وَيُفْطِرُ يَوْمًا وَأَحَبُّ الصَّلاَةِ إِلَى اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ صَلاَةُ دَاوُدَ عَلَيْهِ السَّلاَمُ كَانَ يَنَامُ نِصْفَ اللَّيْلِ وَيَقُومُ ثُلُثَهُ وَيَنَامُ سُدُسَهُ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনে আ'স (রাঃ)

২৩৪৬। কুতায়বা (রাহঃ) ......... আব্দুল্লাহ ইবনে আমর (রাযিঃ) বলেন যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ আল্লাহ তাআলার কাছে সবচেয়ে পছন্দনীয় রোযা দাউদ (আলাইহিস সালাম) এর রোযা। তিনি একদিন রোযা পালন করতেন আর একদিন রোযা পালন করতেন না। আর আল্লাহ তাআলার কাছে সবচেয়ে পছন্দনীয় নামায দাউদ (আলাইহিস সালাম) এর নামায। তিনি-অর্ধরাত্র নিদ্রা যেতেন এবং রাত্রের এক তৃতীয়াংশ নামায আদায় করতেন আবার রাত্রের ষষ্ঠমাংশ নিদ্রা যেতেন।

নবী (ﷺ) এর রোযা, তাঁর উপর আমার মাতা পিতা উতসর্গীত হোক

باب صَوْمِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم - بِأَبِي هُوَ وَأُمِّي - وَذِكْرِ اخْتِلاَفِ النَّاقِلِينَ لِلْخَبَرِ فِي ذَلِكَ

২৩৪৫

أَخْبَرَنَا الْقَاسِمُ بْنُ زَكَرِيَّا، قَالَ حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ، قَالَ حَدَّثَنَا يَعْقُوبُ، عَنْ جَعْفَرٍ، عَنْ سَعِيدٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لاَ يُفْطِرُ أَيَّامَ الْبِيضِ فِي حَضَرٍ وَلاَ سَفَرٍ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

২৩৪৭। কাসেম ইবনে যাকারিয়া (রাহঃ) ......... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বাড়ীতে অবস্থানকালীন অবস্থায় এবং সফরকালীন অবস্থায় আইয়ামে বীযের রোযা পালন করা থেকে বিরত থাকতেন না।

২৩৪৬

أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، قَالَ حَدَّثَنَا مُحَمَّدٌ، قَالَ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ أَبِي بِشْرٍ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَصُومُ حَتَّى نَقُولَ لاَ يُفْطِرُ وَيُفْطِرُ حَتَّى نَقُولَ مَا يُرِيدُ أَنْ يَصُومَ وَمَا صَامَ شَهْرًا مُتَتَابِعًا غَيْرَ رَمَضَانَ مُنْذُ قَدِمَ الْمَدِينَةَ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

২৩৪৮। মুহাম্মাদ ইবনে বাশাশার (রাহঃ) ......... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যখন রোযা পালন শুরু করতেন তখন আমরা মনে মনে বলতাম যে, হয়ত আর রোযা ছাড়বেন না আবার যখন রোযা রাখা থেকে বিরত থাকতেন তখন আমরা মনে মনে ধারণা করতাম যে, তিনি হয়ত আর রোযা পালন করার ইচ্ছাই রাখেন না। আর মদীনায় আগমনের পর থেকে রমযান মাস ব্যতীত কখনো পূর্ণ এক মাস বিরামহীন রোযা পালন করতেন না।

২৩৪৭

أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ النَّضْرِ بْنِ مُسَاوِرٍ الْمَرْوَزِيُّ، قَالَ حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، عَنْ مَرْوَانَ أَبِي لُبَابَةَ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَصُومُ حَتَّى نَقُولَ مَا يُرِيدُ أَنْ يُفْطِرَ وَيُفْطِرُ حَتَّى نَقُولَ مَا يُرِيدُ أَنْ يَصُومَ .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

২৩৪৯। মুহাম্মাদ ইবনে নযর (রাহঃ) ......... আয়িশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) যখন রোযা পালন শুরু করতেন তখন আমরা মনে মনে ধারণা করতাম যে, তিনি হয়ত আর রোযা পালন থেকে বিরত থাকার ইচ্ছা রাখেন না। আবার যখন রোযা পালন থেকে বিরত থাকতেন তখনো আমরা মনে মনে ধারণা করতাম যে, তিনি হয়ত আর রোযা পালনের ইচ্ছা রাখেন না।

২৩৪৮

أَخْبَرَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ مَسْعُودٍ، عَنْ خَالِدٍ، قَالَ حَدَّثَنَا سَعِيدٌ، قَالَ حَدَّثَنَا قَتَادَةُ، عَنْ زُرَارَةَ بْنِ أَوْفَى، عَنْ سَعْدِ بْنِ هِشَامٍ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ لاَ أَعْلَمُ نَبِيَّ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَرَأَ الْقُرْآنَ كُلَّهُ فِي لَيْلَةٍ وَلاَ قَامَ لَيْلَةً حَتَّى الصَّبَاحِ وَلاَ صَامَ شَهْرًا قَطُّ كَامِلاً غَيْرَ رَمَضَانَ .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

২৩৫০। ইসমাঈল ইবনে মাসউদ (রাহঃ) ......... আয়িশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) কখনো এক রাত্রে পূর্ণ কুরআন খতম করেছেন বা কখনো সকাল পর্যন্ত পূর্ণ রাত্র নামায আদায় করেছেন কিংবা রমযান মাস ব্যতীত পূর্ণ এক মাস কখনো রোযা পালন করেছেন বলে আমার জানা নেই।

২৩৪৯

أَخْبَرَنَا قُتَيْبَةُ، قَالَ حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، عَنْ أَيُّوبَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ شَقِيقٍ، قَالَ سَأَلْتُ عَائِشَةَ عَنْ صِيَامِ النَّبِيِّ، صلى الله عليه وسلم قَالَتْ كَانَ يَصُومُ حَتَّى نَقُولَ قَدْ صَامَ وَيُفْطِرُ حَتَّى نَقُولَ قَدْ أَفْطَرَ وَمَا صَامَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم شَهْرًا كَامِلاً مُنْذُ قَدِمَ الْمَدِينَةَ إِلاَّ رَمَضَانَ .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

২৩৫১। কুতায়বা (রাহঃ) ......... আব্দুল্লাহ ইবনে শাকীক (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আয়িশা (রাযিঃ)-কে নবী (ﷺ) এর রোযা পালন সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বললেন যে, তিনি যখন রোযা পালন শুরু করতেন তখন আমরা মনে মনে ধারণা করতাম যে, তিনি হয়ত এবার রোযা পালন করতে থাকবেন। আবার যখন রোযা ভঙ্গ করা শুরু করতেন তখনো আমরা মনে মনে ধারণা করতাম যে তিনি হয়ত এবার রোযা ভঙ্গ করতে থাকবেন। আর তিনি মদীনায় আগমনের পর থেকে রমযান মাস ব্যতীত কখনো পূর্ণ এক মাস রোযা পালন করেননি।

২৩৫০

أَخْبَرَنَا الرَّبِيعُ بْنُ سُلَيْمَانَ، قَالَ حَدَّثَنَا ابْنُ وَهْبٍ، قَالَ حَدَّثَنَا مُعَاوِيَةُ بْنُ صَالِحٍ، أَنَّ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ أَبِي قَيْسٍ، حَدَّثَهُ أَنَّهُ، سَمِعَ عَائِشَةَ، تَقُولُ كَانَ أَحَبَّ الشُّهُورِ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَنْ يَصُومَهُ شَعْبَانُ بَلْ كَانَ يَصِلُهُ بِرَمَضَانَ .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

২৩৫২। রবী ইবনে সুলাইমান (রাহঃ) ......... আব্দুল্লাহ ইবনে আবু কায়স (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কাছে মাস সমূহের মধ্যে শা’বান মাসের রোযা পালন করা সর্বাধিক পছন্দনীয় ছিল। বরং তিনি শা’বান মাসকে (রোযা পালনসহ) রমযানের সাথে মিলিয়ে নিতেন।

২৩৫১

أَخْبَرَنَا الرَّبِيعُ بْنُ سُلَيْمَانَ بْنِ دَاوُدَ، قَالَ حَدَّثَنَا ابْنُ وَهْبٍ، قَالَ أَخْبَرَنِي مَالِكٌ، وَعَمْرُو بْنُ الْحَارِثِ، وَذَكَرَ، آخَرَ قَبْلَهُمَا أَنَّ أَبَا النَّضْرِ، حَدَّثَهُمْ عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَصُومُ حَتَّى نَقُولَ مَا يُفْطِرُ وَيُفْطِرُ حَتَّى نَقُولَ مَا يَصُومُ وَمَا رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي شَهْرٍ أَكْثَرَ صِيَامًا مِنْهُ فِي شَعْبَانَ .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

২৩৫৩। রবী’ ইবনে সুলাইমান (রাহঃ) ......... আয়িশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যখন রোযা পালন শুরু করতেন তখন আমরা মনে মনে ধারণা করতাম যে, তিনি হয়ত আর রোযা ভঙ্গই করবেন না। আবার যখন রোযা ভঙ্গ করা শুরু করতেন তখনো আমরা মনে মনে ধারণা করতাম যে তিনি হয়ত আর রোযা পালনই করবেন না এবং আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে শা’বান মাসের চেয়ে বেশী অন্য কোন মাসে রোযা পালন করতে দেখিনি।

২৩৫২

أَخْبَرَنَا مَحْمُودُ بْنُ غَيْلاَنَ، قَالَ حَدَّثَنَا أَبُو دَاوُدَ، قَالَ أَنْبَأَنَا شُعْبَةُ، عَنْ مَنْصُورٍ، قَالَ سَمِعْتُ سَالِمَ بْنَ أَبِي الْجَعْدِ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ أُمِّ سَلَمَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَانَ لاَ يَصُومُ شَهْرَيْنِ مُتَتَابِعَيْنِ إِلاَّ شَعْبَانَ وَرَمَضَانَ .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন উম্মে সালামা (রাঃ)

২৩৫৪। মাহমুদ ইবনে গায়লান (রাহঃ) ......... উম্মে সালামা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) শা’বান এবং রমযান মাস ব্যতীত কখনো বিরামহীন দুই মাসের রোযা পালন করতেন না।

২৩৫৩

أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْوَلِيدِ، قَالَ حَدَّثَنَا مُحَمَّدٌ، قَالَ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ تَوْبَةَ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ أُمِّ سَلَمَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ لَمْ يَكُنْ يَصُومُ مِنَ السَّنَةِ شَهْرًا تَامًّا إِلاَّ شَعْبَانَ وَيَصِلُ بِهِ رَمَضَانَ .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন উম্মে সালামা (রাঃ)

২৩৫৫। মুহাম্মাদ ইবনে ওলীদ (রাহঃ) ......... উম্মে সালামা (রাযিঃ) সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি শা’বান মাস ব্যতীত কখনো বছরের পূর্ণ মাস রোযা পালন করতেন না আর উহাকে রমযানের সাথে মিলিয়ে নিতেন।

২৩৫৪

أَخْبَرَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ سَعْدِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ، قَالَ حَدَّثَنَا عَمِّي، قَالَ حَدَّثَنَا أَبِي، عَنِ ابْنِ إِسْحَاقَ، قَالَ حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ لَمْ يَكُنْ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لِشَهْرٍ أَكْثَرَ صِيَامًا مِنْهُ لِشَعْبَانَ كَانَ يَصُومُهُ أَوْ عَامَّتَهُ .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

২৩৫৬। উবাইাদুল্লাহ ইবনে সা’দ (রাহঃ) ......... আয়িশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কখনো শা’বান মাসের চেয়ে বেশী অন্য কোন মাসে রোযা পালন করতেন না। তিনি পূর্ণ শা’বান মাস অথবা তার অধিকাংশ দিন রোযা পালন করতেন।

২৩৫৫

أَخْبَرَنِي عَمْرُو بْنُ هِشَامٍ، قَالَ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ سَلَمَةَ، عَنِ ابْنِ إِسْحَاقَ، عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَصُومُ شَعْبَانَ إِلاَّ قَلِيلاً .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

২৩৫৭। আমর ইবনে হিশাম (রাহঃ) ......... আয়িশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কয়েক দিন ব্যতীত পূর্ণ শাবান মাসের রোযা পালন করতেন।

২৩৫৬

أَخْبَرَنَا عَمْرُو بْنُ عُثْمَانَ، قَالَ حَدَّثَنَا بَقِيَّةُ، قَالَ حَدَّثَنَا بَحِيرٌ، عَنْ خَالِدِ بْنِ مَعْدَانَ، عَنْ جُبَيْرِ بْنِ نُفَيْرٍ، أَنَّ عَائِشَةَ، قَالَتْ إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَانَ يَصُومُ شَعْبَانَ كُلَّهُ .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

২৩৫৮। আমর ইবনে উসমান (রাহঃ) ......... জুবায়ের ইবনে নূফায়র (রাহঃ) থেকে বর্ণিত যে, আয়িশা (রাযিঃ) বলেছেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) পূর্ণ শা’বান মাসই রোযা পালন করতেন।

২৩৫৭

أَخْبَرَنَا عَمْرُو بْنُ عَلِيٍّ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، قَالَ حَدَّثَنَا ثَابِتُ بْنُ قَيْسٍ أَبُو الْغُصْنِ، - شَيْخٌ مِنْ أَهْلِ الْمَدِينَةِ - قَالَ حَدَّثَنِي أَبُو سَعِيدٍ الْمَقْبُرِيُّ، قَالَ حَدَّثَنِي أُسَامَةُ بْنُ زَيْدٍ، قَالَ قُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ لَمْ أَرَكَ تَصُومُ شَهْرًا مِنَ الشُّهُورِ مَا تَصُومُ مِنْ شَعْبَانَ . قَالَ " ذَلِكَ شَهْرٌ يَغْفُلُ النَّاسُ عَنْهُ بَيْنَ رَجَبٍ وَرَمَضَانَ وَهُوَ شَهْرٌ تُرْفَعُ فِيهِ الأَعْمَالُ إِلَى رَبِّ الْعَالَمِينَ فَأُحِبُّ أَنْ يُرْفَعَ عَمَلِي وَأَنَا صَائِمٌ " .

বর্ণনাকারী: হযরত উসামা ইবন যায়দ রাযি.

২৩৫৯। আমর ইবনে আলী (রাহঃ) ......... উসামা ইবনে যায়দ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি জিজ্ঞাসা করলাম, ইয়া রাসুলাল্লাহ! আমি আপনাকে তো শা’বান মাসে যে পরিমাণ রোযা পালন করতে দেখি বছরের অন্য কোন মাসে সে পরিমাণ রোযা পালন করতে দেখি না। তিনি বললেন শা’বান মাস রজব এবং রমযানের মধ্যবর্তী এমন একটি মাস যে মাসের (গুরুত্ব সম্পর্কে) মানুষ খবর রাখে না অথচ এ মাসে আমলনামা সমূহ আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের নিকটে উত্তোলন করা হয়। তাই আমি পছন্দ করি যে, আমার আমলনামা আল্লাহ তাআলার নিকটে উত্তোলন করা হবে আমার রোযা পালনরত অবস্থায়।

২৩৫৮

أَخْبَرَنَا عَمْرُو بْنُ عَلِيٍّ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، قَالَ حَدَّثَنَا ثَابِتُ بْنُ قَيْسٍ أَبُو الْغُصْنِ، - شَيْخٌ مِنْ أَهْلِ الْمَدِينَةِ - قَالَ حَدَّثَنِي أَبُو سَعِيدٍ الْمَقْبُرِيُّ، قَالَ حَدَّثَنِي أُسَامَةُ بْنُ زَيْدٍ، قَالَ قُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّكَ تَصُومُ حَتَّى لاَ تَكَادَ تُفْطِرُ وَتُفْطِرُ حَتَّى لاَ تَكَادَ أَنْ تَصُومَ إِلاَّ يَوْمَيْنِ إِنْ دَخَلاَ فِي صِيَامِكَ وَإِلاَّ صُمْتَهُمَا . قَالَ " أَىُّ يَوْمَيْنِ " . قُلْتُ يَوْمَ الاِثْنَيْنِ وَيَوْمَ الْخَمِيسِ . قَالَ " ذَانِكَ يَوْمَانِ تُعْرَضُ فِيهِمَا الأَعْمَالُ عَلَى رَبِّ الْعَالَمِينَ فَأُحِبُّ أَنْ يُعْرَضَ عَمَلِي وَأَنَا صَائِمٌ " .

বর্ণনাকারী: হযরত উসামা ইবন যায়দ রাযি.

২৩৬০। আমর ইবনে আলী (রাহঃ) ......... উসামা ইবনে যায়দ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি জিজ্ঞাসা করলাম, ইয়া রাসুলাল্লাহ! আপনি যখন রোযা পালন করা শুরু করেন তখন সহসা আর রোযা ভঙ্গ করেন না আবার যখন রোযা ভঙ্গ করা শুরু করেন তখন আর সহসা রোযা পালন ভরা করেন না কিন্তু দুইটি দিন; দুই দিন আপনার রোযা পালন করার দিন সমূহের মধ্যে এসে পড়ে (তবে আপনি সে দু’দিন রোযা পালন করেন) তা না হলেও আপনি ঐ দুই দিনের রোযা পালন করে থাকেন।

রাসূলুল্লাহ (ﷺ) জিজ্ঞাসা করলেন, সে কোন দু’দিন? আমি বললাম, সোমবার এবং বৃহস্পতিবার। তিনি বললেন, সেই দু’দিন মানুষের আমলনামা আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের নিকটে উত্তোলন করা হয়। তাই আমি পছন্দ করি যে, আমার আমলনামা আল্লাহর নিকটে এমন অবস্থায় উত্তোলন করা হয় যখন আমি রোযা পালনরত থাকি।
২৩৫৯

أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ سُلَيْمَانَ، قَالَ حَدَّثَنَا زَيْدُ بْنُ الْحُبَابِ، قَالَ أَخْبَرَنِي ثَابِتُ بْنُ قَيْسٍ الْغِفَارِيُّ، قَالَ حَدَّثَنِي أَبُو سَعِيدٍ الْمَقْبُرِيُّ، قَالَ حَدَّثَنِي أَبُو هُرَيْرَةَ، عَنْ أُسَامَةَ بْنِ زَيْدٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَانَ يَسْرُدُ الصَّوْمَ فَيُقَالُ لاَ يُفْطِرُ وَيُفْطِرُ فَيُقَالُ لاَ يَصُومُ .

বর্ণনাকারী: হযরত উসামা ইবন যায়দ রাযি.

২৩৬১। আহমদ ইবনে সুলাইমান (রাহঃ) ......... উসামা ইবনে যায়দ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যখন বিরামহীন রোযা পালন শুরু করতেন তখন মনে মনে ধারণা করা হত যে, হয়ত তিনি রোযা ভঙ্গ করবেন না। আবার যখন রোযা ভঙ্গ করা শুরু করতেন তখনো মনে মনে ধারণা করা হত যে, তিনি হয়ত আর রোযা পালনই করবেন না।

২৩৬০

أَخْبَرَنَا عَمْرُو بْنُ عُثْمَانَ، عَنْ بَقِيَّةَ، قَالَ حَدَّثَنَا بَحِيرٌ، عَنْ خَالِدِ بْنِ مَعْدَانَ، عَنْ جُبَيْرِ بْنِ نُفَيْرٍ، أَنَّ عَائِشَةَ، قَالَتْ إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَانَ يَتَحَرَّى صِيَامَ الاِثْنَيْنِ وَالْخَمِيسِ .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

২৩৬২। আমর ইবনে উসমান (রাহঃ) ......... জুবাইর ইবনে নুফায়র (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। আয়িশা (রাযিঃ) বলেছেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) সর্বদা সোমবার এবং বৃহস্পতিবার রোযা পালন করতেন (রোযা পালন করাকে অধিক গুরুত্ব দিতেন)।

২৩৬১

أَخْبَرَنَا عَمْرُو بْنُ عَلِيٍّ، قَالَ حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ دَاوُدَ، قَالَ أَخْبَرَنِي ثَوْرٌ، عَنْ خَالِدِ بْنِ مَعْدَانَ، عَنْ رَبِيعَةَ الْجُرَشِيِّ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَتَحَرَّى يَوْمَ الاِثْنَيْنِ وَالْخَمِيسِ .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

২৩৬৩। আমর ইবনে আলী (রাহঃ) ......... আয়িশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) সর্বদা সোমবার এবং বৃহস্পতিবার রোযা পালন করতেন।

২৩৬২

أَخْبَرَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، قَالَ أَنْبَأَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ سَعِيدٍ الأُمَوِيُّ، قَالَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ ثَوْرٍ، عَنْ خَالِدِ بْنِ مَعْدَانَ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَتَحَرَّى الاِثْنَيْنِ وَالْخَمِيسَ .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

২৩৬৪। ইসহাক ইবনে ইবরাহীম (রাহঃ) ......... আয়িশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) সর্বদা সোমবার এবং বৃহস্পতিবার রোযা পালন করতেন।

২৩৬৩

أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ سُلَيْمَانَ، قَالَ حَدَّثَنَا أَبُو دَاوُدَ، عَنْ سُفْيَانَ، عَنْ مَنْصُورٍ، عَنْ خَالِدِ بْنِ سَعْدٍ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَتَحَرَّى يَوْمَ الاِثْنَيْنِ وَالْخَمِيسِ .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

২৩৬৫। আহমদ ইবনে সুলাইমান (রাহঃ) ......... আয়িশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) সর্বদা সোমবার এবং বৃহস্পতিবার রোযা পালন করতেন।

২৩৬৪

أَخْبَرَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ بْنِ حَبِيبِ بْنِ الشَّهِيدِ، قَالَ حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ يَمَانٍ، عَنْ سُفْيَانَ، عَنْ عَاصِمٍ، عَنِ الْمُسَيَّبِ بْنِ رَافِعٍ، عَنْ سَوَاءٍ الْخُزَاعِيِّ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ كَانَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم يَصُومُ الاِثْنَيْنِ وَالْخَمِيسَ .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

২৩৬৬। ইসহাক ইবনে ইবরাহীম (রাহঃ) ......... আয়িশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) সর্বদা সোমবার এবং বৃহস্পতিবার রোযা পালন করতেন।

২৩৬৫

أَخْبَرَنِي أَبُو بَكْرِ بْنُ عَلِيٍّ، قَالَ حَدَّثَنَا أَبُو نَصْرٍ التَّمَّارُ، قَالَ حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ، عَنْ عَاصِمٍ، عَنْ سَوَاءٍ، عَنْ أُمِّ سَلَمَةَ، قَالَتْ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَصُومُ مِنْ كُلِّ شَهْرٍ ثَلاَثَةَ أَيَّامٍ الاِثْنَيْنِ وَالْخَمِيسَ مِنْ هَذِهِ الْجُمُعَةِ وَالاِثْنَيْنِ مِنَ الْمُقْبِلَةِ .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন উম্মে সালামা (রাঃ)

২৩৬৭। আবু বকর ইবনে আলী (রাহঃ) ......... উম্মে সালামা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) প্রত্যেক মাসে তিন দিন রোযা পালন করতেন (প্রথম সপ্তাহে) সোমবার, বৃহস্পতিবার এবং পরবর্তী সপ্তাহে শুধু সোমবার।

২৩৬৬

أَخْبَرَنِي زَكَرِيَّا بْنُ يَحْيَى، قَالَ حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ، قَالَ أَنْبَأَنَا النَّضْرُ، قَالَ أَنْبَأَنَا حَمَّادٌ، عَنْ عَاصِمِ بْنِ أَبِي النَّجُودِ، عَنْ سَوَاءٍ، عَنْ حَفْصَةَ، قَالَتْ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَصُومُ مِنْ كُلِّ شَهْرٍ يَوْمَ الْخَمِيسِ وَيَوْمَ الاِثْنَيْنِ وَمِنَ الْجُمُعَةِ الثَّانِيَةِ يَوْمَ الاِثْنَيْنِ .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হাফসা (রাঃ)

২৩৬৮। যাকারিয়া ইবনে ইয়াহয়া (রাহঃ) ......... হাফসা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) প্রত্যেক মাসের সোমবার এবং বৃহস্পতিবার দিন রোযা পালন করতেন এবং পরবর্তী সপ্তাহে শুধু সোমবার।

২৩৬৭

أَخْبَرَنَا الْقَاسِمُ بْنُ زَكَرِيَّا بْنِ دِينَارٍ، قَالَ حَدَّثَنَا حُسَيْنٌ، عَنْ زَائِدَةَ، عَنْ عَاصِمٍ، عَنِ الْمُسَيَّبِ، عَنْ حَفْصَةَ، قَالَتْ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِذَا أَخَذَ مَضْجَعَهُ جَعَلَ كَفَّهُ الْيُمْنَى تَحْتَ خَدِّهِ الأَيْمَنِ وَكَانَ يَصُومُ الاِثْنَيْنَ وَالْخَمِيسَ .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হাফসা (রাঃ)

২৩৬৯। কাসেম ইবনে যাকারিয়া (রাহঃ) ......... হাফসা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যখন নিদ্রা যেতেন তখন তার পবিত্র ডান হাত তার গাল মুবারকের নীচে রখেতেন এবং সোমবার ও বৃহস্পতিবার দিন রোযা পালন করতেন।

২৩৬৮

أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ الْحَسَنِ بْنِ شَقِيقٍ، قَالَ أَبِي أَنْبَأَنَا أَبُو حَمْزَةَ، عَنْ عَاصِمٍ، عَنْ زِرٍّ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ، قَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَصُومُ ثَلاَثَةَ أَيَّامٍ مِنْ غُرَّةِ كُلِّ شَهْرٍ وَقَلَّمَا يُفْطِرُ يَوْمَ الْجُمُعَةِ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ)

২৩৭০। মুহাম্মাদ ইবনে আলী (রাহঃ) ......... আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) প্রত্যেক মাসের শুরুতে তিন দিন রোযা পালন করতেন, আর শুক্রবার দিন খুব কমই রোযা ভঙ্গ করতেন।

২৩৬৯

أَخْبَرَنَا زَكَرِيَّا بْنُ يَحْيَى، قَالَ حَدَّثَنَا أَبُو كَامِلٍ، قَالَ حَدَّثَنَا أَبُو عَوَانَةَ، عَنْ عَاصِمِ بْنِ بَهْدَلَةَ، عَنْ رَجُلٍ، عَنِ الأَسْوَدِ بْنِ هِلاَلٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ أَمَرَنِي رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِرَكْعَتَىِ الضُّحَى وَأَنْ لاَ أَنَامَ إِلاَّ عَلَى وِتْرٍ وَصِيَامِ ثَلاَثَةِ أَيَّامٍ مِنَ الشَّهْرِ .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

২৩৭১। যাকারিয়া ইবনে ইয়াহয়া (রাহঃ) ......... আর হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমাকে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) চাশতের দুই রাকআত নামায আদায় করার নির্দেশ দিয়েছেন এবং বিতরের নামায আদায় না করে নিদ্রা না যাওয়ার এবং প্রত্যেক মাসে তিন দিন রোযা পালন করারও নির্দেশ দিতেন।

২৩৭০

أَخْبَرَنَا قُتَيْبَةُ، قَالَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ، أَنَّهُ سَمِعَ ابْنَ عَبَّاسٍ، وَسُئِلَ، عَنْ صِيَامِ، عَاشُورَاءَ قَالَ مَا عَلِمْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم صَامَ يَوْمًا يَتَحَرَّى فَضْلَهُ عَلَى الأَيَّامِ إِلاَّ هَذَا الْيَوْمَ يَعْنِي شَهْرَ رَمَضَانَ وَيَوْمَ عَاشُورَاءَ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

২৩৭২। কুতায়বা (রাহঃ) ......... উবাইদুল্লাহ (রাহঃ) থেকে বর্ণিত যে, ইবনে আব্বাস (রাযিঃ)-কে যখন আশূরার রোযা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল তখন তিনি তাকে বলতে শুনেছেন নবী (ﷺ) রমযান মাসের ও আশূরার রোযা ব্যতীত অন্য কোন দিনের রোযাকে অন্য দিনের রোযার উপর গুরুত্ব দিয়েছেন বলে আমার জানা নেই।

২৩৭১

أَخْبَرَنَا قُتَيْبَةُ، عَنْ سُفْيَانَ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ حُمَيْدِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَوْفٍ، قَالَ سَمِعْتُ مُعَاوِيَةَ، يَوْمَ عَاشُورَاءَ وَهُوَ عَلَى الْمِنْبَرِ يَقُولُ يَا أَهْلَ الْمَدِينَةِ أَيْنَ عُلَمَاؤُكُمْ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ فِي هَذَا الْيَوْمِ " إِنِّي صَائِمٌ فَمَنْ شَاءَ أَنْ يَصُومَ فَلْيَصُمْ " .

বর্ণনাকারী: মুআবিয়া ইবনে আবু সুফয়ান (রাঃ)

২৩৭৩। কুতায়বা (রাহঃ) ......... হুমায়দ ইবনে আব্দুর রহমান (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি মুআবিয়া (রাযিঃ)-কে আশূরার দিন মিম্বরের উপর দাঁড়িয়ে বলতে শুনেছি যে, হে মদীনাবাসীগণ, তোমাদের আলিমগণ কোথায়? আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে এদিন সম্পর্কে বলতে শুনেছি যে, আমি তো রোযা পালন করছি। অতএব যারা রোযা পালন করতে ইচ্ছুক তারা যেন রোযা পালন করে।

২৩৭২

أَخْبَرَنِي زَكَرِيَّا بْنُ يَحْيَى، قَالَ حَدَّثَنَا شَيْبَانُ، قَالَ حَدَّثَنَا أَبُو عَوَانَةَ، عَنِ الْحُرِّ بْنِ صَيَّاحٍ، عَنْ هُنَيْدَةَ بْنِ خَالِدٍ، عَنِ امْرَأَتِهِ، قَالَتْ حَدَّثَتْنِي بَعْضُ، نِسَاءِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم كَانَ يَصُومُ يَوْمَ عَاشُورَاءَ وَتِسْعًا مِنْ ذِي الْحِجَّةِ وَثَلاَثَةَ أَيَّامٍ مِنَ الشَّهْرِ أَوَّلَ اثْنَيْنِ مِنَ الشَّهْرِ وَخَمِيسَيْنِ .

বর্ণনাকারী: বিবিধ

২৩৭৪। যাকারিয়া ইবনে ইয়াহয়া (রাহঃ) ......... হুনায়দাহ ইবনে খালিদ (রাযিঃ)-এর স্ত্রী থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমার কাছে নবী (ﷺ) এর সাহাবীগণের মধ্যে কোন একজন বর্ণনা করেছেন যে, নবী (ﷺ) আশূরার দিন, জিলহজ্ব মাসের নবম তারিখ এবং প্রত্যেক মাসের তিন দিন মাসের প্রথম সোমবার ও দু’ বৃহস্পতিবার রোযা পালন করতেন।

এ বিষয়ে আতা (রাহঃ) বর্ণিত রেওয়ায়তে বর্ণনার ইখতিলাফ

باب ذِكْرِ الاِخْتِلاَفِ عَلَى عَطَاءٍ فِي الْخَبَرِ فِيهِ

২৩৭৩

أَخْبَرَنِي حَاجِبُ بْنُ سُلَيْمَانَ، قَالَ حَدَّثَنَا الْحَارِثُ بْنُ عَطِيَّةَ، قَالَ حَدَّثَنَا الأَوْزَاعِيُّ، عَنْ عَطَاءِ بْنِ أَبِي رَبَاحٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " مَنْ صَامَ الأَبَدَ فَلاَ صَامَ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

২৩৭৫। হাজিব ইবনে সুলাইমান (রাহঃ) ......... আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, যে ব্যক্তি সারা জীবন রোযা পালন করে তার রোযা পালন হবে না।

২৩৭৪

حَدَّثَنَا عِيسَى بْنُ مُسَاوِرٍ، عَنِ الْوَلِيدِ، قَالَ حَدَّثَنَا الأَوْزَاعِيُّ، قَالَ أَخْبَرَنِي عَطَاءٌ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ، ح وَأَنْبَأَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ حَدَّثَنِي الْوَلِيدُ، عَنِ الأَوْزَاعِيِّ، قَالَ حَدَّثَنَا عَطَاءٌ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " مَنْ صَامَ الأَبَدَ فَلاَ صَامَ وَلاَ أَفْطَرَ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

২৩৭৬। ঈসা ইবনে মুসাবির (রাহঃ) এবং মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল্লাহ (রাহঃ) ......... আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, যে ব্যক্তি সারা জীবন রোযা পালন করে তার রোযা পালন হবে না এবং ইফতারও গ্রহণযোগ্য হবে না।

২৩৭৫

أَخْبَرَنَا الْعَبَّاسُ بْنُ الْوَلِيدِ، قَالَ حَدَّثَنَا أَبِي وَعُقْبَةُ، عَنِ الأَوْزَاعِيِّ، قَالَ حَدَّثَنِي عَطَاءٌ، قَالَ حَدَّثَنِي مَنْ، سَمِعَ ابْنَ عُمَرَ، يَقُولُ قَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم " مَنْ صَامَ الأَبَدَ فَلاَ صَامَ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

২৩৭৭। আব্বাস ইবনে ওলীদ (রাহঃ) ......... ইবনে উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, যে ব্যক্তি সারা জীবন রোযা পালন করে তার রোযা পালন হবে না।

২৩৭৬

أَخْبَرَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ يَعْقُوبَ، قَالَ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ مُوسَى، قَالَ حَدَّثَنَا أَبِي، عَنِ الأَوْزَاعِيِّ، عَنْ عَطَاءٍ، قَالَ حَدَّثَنِي مَنْ، سَمِعَ ابْنَ عُمَرَ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " مَنْ صَامَ الأَبَدَ فَلاَ صَامَ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

২৩৭৮। ইসমাঈল ইবনে ইয়াকুব (রাহঃ) ......... ইবনে উমর (রাযিঃ) থেকে শ্রবণকারী এক ব্যক্তি বর্ণনা করেছেন যে, নবী (ﷺ) বলেছেন, যে ব্যক্তি সারা জীবন রোযা পালন করে তার রোযা পালন গ্রহণযোগ্য হবে না।

২৩৭৭

أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ بْنِ مُحَمَّدٍ، قَالَ حَدَّثَنَا ابْنُ عَائِذٍ، قَالَ حَدَّثَنَا يَحْيَى، عَنِ الأَوْزَاعِيِّ، عَنْ عَطَاءٍ، أَنَّهُ حَدَّثَهُ قَالَ حَدَّثَنِي مَنْ، سَمِعَ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عَمْرِو بْنِ الْعَاصِ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " مَنْ صَامَ الأَبَدَ فَلاَ صَامَ وَلاَ أَفْطَرَ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনে আ'স (রাঃ)

২৩৭৯। আহমাদ ইবনে ইবরাহীম (রাহঃ) ......... আব্দুল্লাহ ইবনে আমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, যে ব্যক্তি সারা জীবন রোযা পালন করে তার রোযা ও ইফতার গ্রহণযোগ্য হবে না।

২৩৭৮

أَخْبَرَنِي إِبْرَاهِيمُ بْنُ الْحَسَنِ، قَالَ حَدَّثَنَا حَجَّاجُ بْنُ مُحَمَّدٍ، قَالَ قَالَ ابْنُ جُرَيْجٍ سَمِعْتُ عَطَاءً، أَنَّ أَبَا الْعَبَّاسِ الشَّاعِرَ، أَخْبَرَهُ أَنَّهُ، سَمِعَ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عَمْرِو بْنِ الْعَاصِ، قَالَ بَلَغَ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم أَنِّي أَصُومُ أَسْرُدُ الصَّوْمَ وَسَاقَ الْحَدِيثَ . قَالَ قَالَ عَطَاءٌ لاَ أَدْرِي كَيْفَ ذَكَرَ صِيَامَ الأَبَدِ لاَ صَامَ مَنْ صَامَ الأَبَدَ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনে আ'স (রাঃ)

২৩৮০। ইবরাহীম ইবনে হাসান (রাহঃ) ......... আব্দুল্লাহ ইবনে আমর (রাযিঃ) বলেনঃ তিনি একবার রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কাছে সংবাদ পৌছাল যে, আমি সর্বদা রোযা পালন করি। (ইহা একটি দীর্ঘ হাদীস) রাবী বলেন, আতা (রাহঃ) বলেছেন যে, আমি বলতে পারব না তিনি সর্বদা রোযা পালনের ব্যাপার কিভাবে উল্লেখ করেছিলেন, যে ব্যক্তি সর্বদা রোযা পালন করে তার রোযা গ্রহণ যোগ্য নয়”। (এভাবে বলেছেন না অন্যভাবে বলেছেন, সঠিক শব্দগুলি আমার মনে নাই।)

সর্বদা রোযা পালন থেকে নিষেধ করা এ বিষয়ে মুতাররিফ ইবনে আব্দুল্লাহ থেকে বর্ণনায় রাবীদের ইখতিলাফ

باب النَّهْىِ عَنْ صِيَامِ الدَّهْرِ، وَذِكْرِ الاِخْتِلاَفِ، عَلَى مُطَرِّفِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ فِي الْخَبَرِ فِيهِ

২৩৭৯

أَخْبَرَنَا عَلِيُّ بْنُ حُجْرٍ، قَالَ أَنْبَأَنَا إِسْمَاعِيلُ، عَنِ الْجُرَيْرِيِّ، عَنْ يَزِيدَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الشِّخِّيرِ، عَنْ أَخِيهِ، مُطَرِّفٍ عَنْ عِمْرَانَ، قَالَ قِيلَ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّ فُلاَنًا لاَ يُفْطِرُ نَهَارًا الدَّهْرَ . قَالَ " لاَ صَامَ وَلاَ أَفْطَرَ " .

বর্ণনাকারী: হযরত ইমরান ইবনে হুসাইন রাযি.

২৩৮১। আলী ইবনে হুজর (রাহঃ) ......... ইমরান (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে জিজ্ঞাসা করা হল ইয়া রাসুলাল্লাহ! অমুক ব্যক্তি সারা বছর দিনে খায় না (রোযা পালন করে)। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, তার রোযা পালন এবং তার ইফতার গ্রহণযোগ্য হবে না।

২৩৮০

أَخْبَرَنِي عَمْرُو بْنُ هِشَامٍ، قَالَ حَدَّثَنَا مَخْلَدٌ، عَنِ الأَوْزَاعِيِّ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ مُطَرِّفِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الشِّخِّيرِ، أَخْبَرَنِي أَبِي أَنَّهُ، سَمِعَ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَذُكِرَ عِنْدَهُ رَجُلٌ يَصُومُ الدَّهْرَ قَالَ " لاَ صَامَ وَلاَ أَفْطَرَ " .

বর্ণনাকারী: মুতাররিফ ইবনে আব্দুল্লাহ (রহঃ)

২৩৮২। আমর ইবনে হিশাম (রাহঃ) ......... মুতাররিফ (রাহঃ) এর পিতা আব্দুল্লাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। একদা রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সামনে এক ব্যক্তি সম্পর্কে আলোচনা করা হল। যে সর্বদা রোযা পালন করত। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ তার রোযা এবং তার ইফতার গ্রহণযোগ্য নয়।

২৩৮১

أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، قَالَ حَدَّثَنَا أَبُو دَاوُدَ، قَالَ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ قَتَادَةَ، قَالَ سَمِعْتُ مُطَرِّفَ بْنَ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الشِّخِّيرِ، يُحَدِّثُ عَنْ أَبِيهِ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ فِي صَوْمِ الدَّهْرِ " لاَ صَامَ وَلاَ أَفْطَرَ " .

বর্ণনাকারী: আব্দুল্লাহ বিন শিখখীর (রাঃ)

২৩৮৩। মুহাম্মাদ ইবনে মুছান্না (রাহঃ) ......... মুতাররিফ-এর পিতা আব্দুল্লাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) সর্বদা রোযা পালনকারীর ব্যাপারে বলেছেন যে, তার রোযা এবং ইফতার গ্রহণযোগ্য হবে না।

এ হাদীসের বর্ণনায় গায়লান ইবনে জারীর (রাহঃ) থেকে বর্ণনাভেদের উল্লেখ

باب ذِكْرِ الاِخْتِلاَفِ عَلَى غَيْلاَنَ بْنِ جَرِيرٍ فِيهِ

২৩৮২

أَخْبَرَنِي هَارُونُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ مُوسَى، قَالَ أَنْبَأَنَا أَبُو هِلاَلٍ، قَالَ حَدَّثَنَا غَيْلاَنُ، - وَهُوَ ابْنُ جَرِيرٍ - قَالَ حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ، - وَهُوَ ابْنُ مَعْبَدٍ الزِّمَّانِيُّ - عَنْ أَبِي قَتَادَةَ، عَنْ عُمَرَ، قَالَ كُنَّا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَمَرَرْنَا بِرَجُلٍ فَقَالُوا يَا نَبِيَّ اللَّهِ هَذَا لاَ يُفْطِرُ مُنْذُ كَذَا وَكَذَا . فَقَالَ " لاَ صَامَ وَلاَ أَفْطَرَ " .

বর্ণনাকারী: হযরত উমর ইবনুল খাত্তাব রাযি.

২৩৮৪। হারুন ইবনে আব্দুল্লাহ (রাহঃ) ......... উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা একবার রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সাথে ছিলাম। আমরা এক ব্যক্তির পাশ দিয়ে যাচ্ছিলাম। সাহাবীরা বললেনঃ হে আল্লাহর নবী! এই ব্যক্তি দীর্ঘ দিন পর্যন্ত রোযা ভঙ্গ করে না। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ তার রোযাও গ্রহণযোগ্য নয় আর তার রোযা ভঙ্গও গ্রহণযোগ্য নয়।

২৩৮৩

أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، قَالَ حَدَّثَنَا مُحَمَّدٌ، قَالَ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ غَيْلاَنَ، أَنَّهُ سَمِعَ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ مَعْبَدٍ الزِّمَّانِيَّ، عَنْ أَبِي قَتَادَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم سُئِلَ عَنْ صَوْمِهِ فَغَضِبَ فَقَالَ عُمَرُ رَضِينَا بِاللَّهِ رَبًّا وَبِالإِسْلاَمِ دِينًا وَبِمُحَمَّدٍ رَسُولاً . وَسُئِلَ عَمَّنْ صَامَ الدَّهْرَ فَقَالَ " لاَ صَامَ وَلاَ أَفْطَرَ أَوْ مَا صَامَ وَمَا أَفْطَرَ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু কাতাদা আনসারী (রাঃ)

২৩৮৫। মুহাম্মাদ ইবনে বাশশার (রাহঃ) ......... আবু কাতাদা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে তার রোযা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি রাগান্বিত হয়ে গেলেন, তখন উমর (রাযিঃ) বললেন যে, আমরা রব হিসাবে আল্লাহর উপর, ধর্ম হিসাবে ইসলামের উপর এবং রাসুল হিসাবে মুহাম্মাদ (ﷺ) এর উপর সন্তুষ্ট। আরেকবার সর্বদা রোযা পালনকারী ব্যক্তি সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হলে তিনি বললেনঃ তার রোযা পালনও গ্রহণযোগ্য নয়। তার রোযা ভঙ্গও গ্রহণযোগ্য নয়।

সর্বদা রোযা পালন করা

باب سَرْدِ الصِّيَامِ

২৩৮৪

أَخْبَرَنَا يَحْيَى بْنُ حَبِيبِ بْنِ عَرَبِيٍّ، قَالَ حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، عَنْ هِشَامٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَائِشَةَ، أَنَّ حَمْزَةَ بْنَ عَمْرٍو الأَسْلَمِيَّ، سَأَلَ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنِّي رَجُلٌ أَسْرُدُ الصَّوْمَ أَفَأَصُومُ فِي السَّفَرِ قَالَ " صُمْ إِنْ شِئْتَ أَوْ أَفْطِرْ إِنْ شِئْتَ " .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

২৩৮৬। ইয়াহয়া ইবনে হাবীব (রাহঃ) ......... আয়িশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, হামযা ইবনে আমর আসলামী (রাযিঃ) রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে জিজ্ঞাসা করলেনঃ ইয়া রাসুলাল্লাহ! আমি সর্বদা রোযা পালনকারী ব্যক্তি। তাই আমি কি সফরকালীন সময়ে রোযা পালন করব? তিনি বললেনঃ যদি তোমার ইচ্ছা হয় তবে রোযা পালন করবে আর যদি ইচ্ছা হয় তবে রোযা ভঙ্গ করে ফেলবে।

সারা বছরের দুই-তৃতীয়াংশকাল রোযা পালন করা এবং এ বিষয়ে রেওয়ায়ত বর্ণনায় বর্ণনাকারীদের ইখতিলাফের উল্লেখ

باب صَوْمِ ثُلُثَىِ الدَّهْرِ وَذِكْرِ اخْتِلاَفِ النَّاقِلِينَ لِلْخَبَرِ فِي ذَلِكَ

২৩৮৫

أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، قَالَ حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ، قَالَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ أَبِي عَمَّارٍ، عَنْ عَمْرِو بْنِ شُرَحْبِيلَ، عَنْ رَجُلٍ، مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ قِيلَ لِلنَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم رَجُلٌ يَصُومُ الدَّهْرَ . قَالَ " وَدِدْتُ أَنَّهُ لَمْ يَطْعَمِ الدَّهْرَ " . قَالُوا فَثُلُثَيْهِ قَالَ " أَكْثَرَ " . قَالُوا فَنِصْفَهُ قَالَ " أَكْثَرَ " . ثُمَّ قَالَ " أَلاَ أُخْبِرُكُمْ بِمَا يُذْهِبُ وَحَرَ الصَّدْرِ صَوْمُ ثَلاَثَةِ أَيَّامٍ مِنْ كُلِّ شَهْرٍ " .

বর্ণনাকারী: অজ্ঞাত সাহাবী

২৩৮৭। মুহাম্মাদ ইবনে বাশশার (রাহঃ) ......... নবী (ﷺ) এর এক সাহাবী থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ)-কে বলা হল যে, এক ব্যক্তি সর্বদা রোযা পালন করে। তিনি বললেনঃ আমার মনে চায় সে যেন কখনো কিছু আহার না করে। সাহাবীরা বললেন, তাহলে বছরের দুই তৃতীয়াংশকালে রোযা পালন করুক? তিনি বললেন, তাও অধিক। সাহাবীরা বললেন, তাহলে সারা বছরের অর্ধেক? তিনি বললেন, তাও অধিক। অতঃপর তিনি বললেন, আমি কি তোমাদের অন্তরের ওয়াসওয়াসা বিদূরিত করার আমল সম্পর্কে অবহিত করব না? তা হল প্রত্যেক মাসের তিন দিন রোযা পালন করা।

২৩৮৬

أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْعَلاَءِ، قَالَ حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ، قَالَ حَدَّثَنَا الأَعْمَشُ، عَنْ أَبِي عَمَّارٍ، عَنْ عَمْرِو بْنِ شُرَحْبِيلَ، قَالَ أَتَى رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم رَجُلٌ فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ مَا تَقُولُ فِي رَجُلٍ صَامَ الدَّهْرَ كُلَّهُ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " وَدِدْتُ أَنَّهُ لَمْ يَطْعَمِ الدَّهْرَ شَيْئًا " . قَالَ فَثُلُثَيْهِ قَالَ " أَكْثَرَ " . قَالَ فَنِصْفَهُ قَالَ " أَكْثَرَ " . قَالَ " أَفَلاَ أُخْبِرُكُمْ بِمَا يُذْهِبُ وَحَرَ الصَّدْرِ " . قَالُوا بَلَى . قَالَ " صِيَامُ ثَلاَثَةِ أَيَّامٍ مِنْ كُلِّ شَهْرٍ " .

বর্ণনাকারী: শা‘বী (রহঃ)

২৩৮৮। মুহাম্মাদ ইবনে আলা (রাহঃ) ......... আমর ইবনে শুরাহবীল (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কাছে এক ব্যক্তি আসল এবং জিজ্ঞাসা করল যে, ইয়া রাসুলাল্লাহ! আপনি এমন ব্যক্তি সম্পর্কে কি বলেন, যে সারা বছর রোযা পালন করে? রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, আমার মনে চায় সে যেন কখনো কিছু আহার করে।

তখন আগত ব্যক্তি বলল, সারা বছরের দুই তৃতীয়াংশ কাল? রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন যে, তাও অধিক। সে বলল, তাহলে সারা বছরের অর্ধেক কাল? রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, তাও অধিক। অতঃপর তিনি বললেন, আমি কি তোমাদের অন্তরের ওয়াসওয়াসা দূর করার আমল সষ্পর্কে অবহিত করব না? সাহাবীগণ বললেন, কেন নয়? তিনি বললেন, তা হল প্রত্যেক মাসের তিন দিন রোযা পালন করা।
২৩৮৭

أَخْبَرَنَا قُتَيْبَةُ، قَالَ حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، عَنْ غَيْلاَنَ بْنِ جَرِيرٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَعْبَدٍ الزِّمَّانِيِّ، عَنْ أَبِي قَتَادَةَ، قَالَ قَالَ عُمَرُ يَا رَسُولَ اللَّهِ كَيْفَ بِمَنْ يَصُومُ الدَّهْرَ كُلَّهُ قَالَ " لاَ صَامَ وَلاَ أَفْطَرَ أَوْ لَمْ يَصُمْ وَلَمْ يُفْطِرْ " . قَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ كَيْفَ بِمَنْ يَصُومُ يَوْمَيْنِ وَيُفْطِرُ يَوْمًا قَالَ " أَوَيُطِيقُ ذَلِكَ أَحَدٌ " . قَالَ فَكَيْفَ بِمَنْ يَصُومُ يَوْمًا وَيُفْطِرُ يَوْمًا قَالَ " ذَلِكَ صَوْمُ دَاوُدَ عَلَيْهِ السَّلاَمُ " . قَالَ فَكَيْفَ بِمَنْ يَصُومُ يَوْمًا وَيُفْطِرُ يَوْمَيْنِ قَالَ " وَدِدْتُ أَنِّي أُطِيقُ ذَلِكَ " . قَالَ ثُمَّ قَالَ " ثَلاَثٌ مِنْ كُلِّ شَهْرٍ وَرَمَضَانُ إِلَى رَمَضَانَ هَذَا صِيَامُ الدَّهْرِ كُلِّهِ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু কাতাদা আনসারী (রাঃ)

২৩৮৯। কুতায়বা (রাহঃ) ......... আবু কাতাদা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, উমর (রাযিঃ) জিজ্ঞাসা করলেন, ইয়া রাসুলাল্লাহ! সারা বছর রোযা পালনকারী ব্যক্তির অবস্থা কেমন হবে? তিনি বলেন, তার রোযাও গ্রহণযোগ্য হবে না, আর তার রোযা ভঙ্গও গ্রহণ যোগ্য হবে না। তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, ইয়া রাসুলাল্লাহ! দুই দিন রোযা পালনকারী এবং একদিন রোযা ভঙ্গকারীর অবস্থা কেমন হবে? (উত্তরে) তিনি বললেন, এও কি কারো দ্বারা সম্ভব? [উমর (রাযিঃ)] জিজ্ঞাসা করলেন যে, একদিন রোযা পালনকারী এবং একদিন রোযা ভঙ্গকারীর অবস্থা কেমন হবে?

(উত্তরে) তিনি বললেন যে, এ হল দাউদ (আলাইহিস সালাম) এর রোযা। তিনি [উমর (রাযিঃ)] বললেন একদিন রোযা পালনকারী এবং দুই দিন রোযা ভঙ্গকারীর অবস্থা কেমন হবে? (উত্তরে) তিনি বললেন, আমার ইচ্ছা হয় আমি যেন সেই শক্তি পাই। উমর (রাযিঃ) বলেন যে, অতঃপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ রমযান মাসের রোযা এবং প্রত্যেক মাসে তিন দিন রোযা পালন করা, ইহাই সারা বছর রোযা পালন করার সমতুল্য।

একদিন রোযা পালন করা, এবং একদিন রোযা ভঙ্গ করা এবং এ প্রসঙ্গে আব্দুল্লাহ ইবনে আমর (রাযিঃ) এর হাদীস বর্ণনায় রাবীদের শব্দ বর্ণনার পার্থক্যের উল্লেখ

باب صَوْمِ يَوْمٍ وَإِفْطَارِ يَوْمٍ وَذِكْرِ اخْتِلاَفِ أَلْفَاظِ النَّاقِلِينَ فِي ذَلِكَ لِخَبَرِ عَبْدِ الله بن عمر فيه

২৩৮৮

قَالَ وَفِيمَا قَرَأَ عَلَيْنَا أَحْمَدُ بْنُ مَنِيعٍ قَالَ حَدَّثَنَا هُشَيْمٌ، قَالَ أَنْبَأَنَا حُصَيْنٌ، وَمُغِيرَةُ، عَنْ مُجَاهِدٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " أَفْضَلُ الصِّيَامِ صِيَامُ دَاوُدَ عَلَيْهِ السَّلاَمُ كَانَ يَصُومُ يَوْمًا وَيُفْطِرُ يَوْمًا " .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনে আ'স (রাঃ)

২৩৯০। আহমদ ইবনে মানী (রাহঃ) ......... আব্দুল্লাহ ইবনে আমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ সর্বত্তম রোযা হল দাউদ (আলাইহিস সালাম) এর রোযা। তিনি একদিন রোযা পালন করতেন আর একদিন রোযা ভঙ্গ করতেন।

২৩৮৯

أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ مَعْمَرٍ، قَالَ حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ حَمَّادٍ، قَالَ حَدَّثَنَا أَبُو عَوَانَةَ، عَنْ مُغِيرَةَ، عَنْ مُجَاهِدٍ، قَالَ قَالَ لِي عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عَمْرٍو أَنْكَحَنِي أَبِي امْرَأَةً ذَاتَ حَسَبٍ فَكَانَ يَأْتِيهَا فَيَسْأَلُهَا عَنْ بَعْلِهَا، فَقَالَتْ نِعْمَ الرَّجُلُ مِنْ رَجُلٍ لَمْ يَطَأْ لَنَا فِرَاشًا وَلَمْ يُفَتِّشْ لَنَا كَنَفًا مُنْذُ أَتَيْنَاهُ . فَذَكَرَ ذَلِكَ لِلنَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ " ائْتِنِي بِهِ " . فَأَتَيْتُهُ مَعَهُ فَقَالَ " كَيْفَ تَصُومُ " . قُلْتُ كُلَّ يَوْمٍ . قَالَ " صُمْ مِنْ كُلِّ جُمُعَةٍ ثَلاَثَةَ أَيَّامٍ " . قُلْتُ إِنِّي أُطِيقُ أَفْضَلَ مِنْ ذَلِكَ . قَالَ " صُمْ يَوْمَيْنِ وَأَفْطِرْ يَوْمًا " . قَالَ إِنِّي أُطِيقُ أَفْضَلَ مِنْ ذَلِكَ . قَالَ " صُمْ أَفْضَلَ الصِّيَامِ صِيَامَ دَاوُدَ عَلَيْهِ السَّلاَمُ صَوْمُ يَوْمٍ وَفِطْرُ يَوْمٍ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনে আ'স (রাঃ)

২৩৯১। মুহাম্মাদ ইবনে মা’মার (রাহঃ) ......... আব্দুল্লাহ ইবনে আমর (রাযিঃ) বলেছেন যে, আমাকে আমার পিতা এক সম্ভ্রান্ত মহিলা বিবাহ করালেন। অতঃপর আমার পিতা তার কাছে এসে তার স্বামী সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করতেন। আমার স্ত্রী বলত যে, আমার স্বামী খুবই ভাল মানুষ (তবে) তিনি কখনো আমার সাথে বিছানা মাড়ান নি এবং আমি তার কাছে আসা অবধি তিনি কখনো আমার পাশে আসেন নি। আমার পিতা তা নবী (ﷺ) এর কাছে উল্লেখ করলে তিনি বললেনঃ তুমি তাকে আমার কাছে নিয়ে এসো।

অতঃপর আমি আমার পিতার সাথে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কাছে গেলে তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, তুমি কিভাবে রোযা পালন কর? আমি বললাম, আমি প্রত্যেক দিন রোযা পালন করি। তিনি বললেন, তুমি প্রত্যেক সপ্তাহে তিন দিন রোযা পালন করবে। আমি বললাম, (ইয়া রাসুলাল্লাহ!) আমি এর চেয়েও বেশী রোযা পালন করার সামর্থ্য রাখি। তিনি বললেন, তাহলে তুমি দুইদিন রোযা পালন কর এবং একদিন রোযা ভঙ্গ কর। আমি বললাম, ইয়া রাসুলাল্লাহ! আমি এর চেয়েও বেশী রোযা পালন করার সামর্থ্য রাখি। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, তাহলে তুমি সর্বোত্তম রোযা অর্থাৎ দাউদ (আলাইহিস সালাম) এর রোযা পালন কর; একদিন রোযা পালন কর আর একদিন রোযা ভঙ্গ কর।
২৩৯০

أَخْبَرَنَا أَبُو حَصِينٍ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ يُونُسَ، قَالَ حَدَّثَنَا عَبْثَرٌ، قَالَ حَدَّثَنَا حُصَيْنٌ، عَنْ مُجَاهِدٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو، قَالَ زَوَّجَنِي أَبِي امْرَأَةً فَجَاءَ يَزُورُهَا فَقَالَ كَيْفَ تَرَيْنَ بَعْلَكِ فَقَالَتْ نِعْمَ الرَّجُلُ مِنْ رَجُلٍ لاَ يَنَامُ اللَّيْلَ وَلاَ يُفْطِرُ النَّهَارَ . فَوَقَعَ بِي وَقَالَ زَوَّجْتُكَ امْرَأَةً مِنَ الْمُسْلِمِينَ فَعَضَلْتَهَا . قَالَ فَجَعَلْتُ لاَ أَلْتَفِتُ إِلَى قَوْلِهِ مِمَّا أَرَى عِنْدِي مِنَ الْقُوَّةِ وَالاِجْتِهَادِ فَبَلَغَ ذَلِكَ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ " لَكِنِّي أَنَا أَقُومُ وَأَنَامُ وَأَصُومُ وَأُفْطِرُ فَقُمْ وَنَمْ وَصُمْ وَأَفْطِرْ " . قَالَ " صُمْ مِنْ كُلِّ شَهْرٍ ثَلاَثَةَ أَيَّامٍ " . فَقُلْتُ أَنَا أَقْوَى مِنْ ذَلِكَ . قَالَ " صُمْ صَوْمَ دَاوُدَ عَلَيْهِ السَّلاَمُ صُمْ يَوْمًا وَأَفْطِرْ يَوْمًا " . قُلْتُ أَنَا أَقْوَى مِنْ ذَلِكَ . قَالَ " اقْرَإِ الْقُرْآنَ فِي كُلِّ شَهْرٍ " . ثُمَّ انْتَهَى إِلَى خَمْسَ عَشْرَةَ وَأَنَا أَقُولُ أَنَا أَقْوَى مِنْ ذَلِكَ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনে আ'স (রাঃ)

২৩৯২। আবু হাসীন আব্দুল্লাহ ইবনে আহমদ (রাহঃ) ......... আব্দুল্লাহ ইবনে আমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমার পিতা আমাকে এক মহিলা বিবাহ করালেন এবং তাকে দেখতে আসলেন এবং জিজ্ঞাসা করলেন যে, তুমি তোমার স্বামীকে কেমন পেলে? সে বলল খুবই ভাল লোক। তিনি রাত্রে নিদ্রাও যান না আর দিনেও রোযা ভঙ্গ করেন না। তখন আমার পিতা আমাকে তিরস্কার করে বললেন, আমি তোমাকে এক মুসলিম মহিলা বিবাহ করালাম আর তুমি তাকে এভাবে ঠেলে রাখলে। [আব্দুল্লাহ (রাযিঃ)] বলেন, আমি নিজের মধ্যে শক্তি অনুভব করার কারণে আমর পিতার তিরস্কারের প্রতি ভ্রুক্ষেপ করছিলাম না। এ সংবাদ নবী (ﷺ) পর্যন্ত পৌছালে তিনি বললেন, আমি তো নামাযও আদায় করি আবার নিদ্রাও যাই, রোযা পালনও করি আবার রোযা ভঙ্গও করি। তাই তুমিও নামায আদায় কর, নিদ্রা যাও, রোযা পালন কর এবং রোযা ভঙ্গও কর।

তিনি বললেন, তুমি প্রত্যেক মাসে তিন দিন রোযা পালন কর। তখন আমি বললাম, আমি তো এরও অধিক রোযা পালনের সামর্থ্য রাখি। তিনি বললেন, তাহলে তুমি দাউদ (আলাইহিস সালাম) এর রোযা পালন কর। একদিন রোযা পালন কর আর একদিন রোযা ভঙ্গ কর। আমি বললাম আমি তো এর চেয়েও অধিক রোযা পালনের সামর্থ্য রাখি। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, তাহলে তুমি প্রতি মাসে এক খতম করে কুরআন তিলাওয়াত কর। অতঃপর তিনি তা পনের দিনে খতম করার অনুমতি দিলে আমি বললাম, আমি এর চেয়েও অধিক এর চেয়ে অধিক সামর্থ্য রাখি।
২৩৯১

أَخْبَرَنَا يَحْيَى بْنُ دُرُسْتَ، قَالَ حَدَّثَنَا أَبُو إِسْمَاعِيلَ، قَالَ حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ أَبِي كَثِيرٍ، أَنَّ أَبَا سَلَمَةَ، حَدَّثَهُ أَنَّ عَبْدَ اللَّهِ قَالَ دَخَلَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم حُجْرَتِي فَقَالَ " أَلَمْ أُخْبَرْ أَنَّكَ تَقُومُ اللَّيْلَ وَتَصُومُ النَّهَارَ " . قَالَ بَلَى . قَالَ " فَلاَ تَفْعَلَنَّ نَمْ وَقُمْ وَصُمْ وَأَفْطِرْ فَإِنَّ لِعَيْنِكَ عَلَيْكَ حَقًّا وَإِنَّ لِجَسَدِكَ عَلَيْكَ حَقًّا وَإِنَّ لِزَوْجَتِكَ عَلَيْكَ حَقًّا وَإِنَّ لِضَيْفِكَ عَلَيْكَ حَقًّا وَإِنَّ لِصَدِيقِكَ عَلَيْكَ حَقًّا وَإِنَّهُ عَسَى أَنْ يَطُولَ بِكَ عُمُرٌ وَإِنَّهُ حَسْبُكَ أَنْ تَصُومَ مِنْ كُلِّ شَهْرٍ ثَلاَثًا فَذَلِكَ صِيَامُ الدَّهْرِ كُلِّهِ وَالْحَسَنَةُ بِعَشْرِ أَمْثَالِهَا " . قُلْتُ إِنِّي أَجِدُ قُوَّةً فَشَدَّدْتُ فَشُدِّدَ عَلَىَّ . قَالَ " صُمْ مِنْ كُلِّ جُمُعَةٍ ثَلاَثَةَ أَيَّامٍ " . قُلْتُ إِنِّي أُطِيقُ أَكْثَرَ مِنْ ذَلِكَ فَشَدَّدْتُ فَشُدِّدَ عَلَىَّ . قَالَ " صُمْ صَوْمَ نَبِيِّ اللَّهِ دَاوُدَ عَلَيْهِ السَّلاَمُ " . قُلْتُ وَمَا كَانَ صَوْمُ دَاوُدَ قَالَ " نِصْفُ الدَّهْرِ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ)

২৩৯৩। ইয়াহয়া ইবনে দুরুসত (রাহঃ) ......... আব্দুল্লাহ (রাযিঃ) বলেছেন যে, একবার রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমার কামরায় প্রবেশ করলেন এবং বললেন, আমাকে অবহিত করা হয়েছে যে, তুমি নাকি সারা রাত্র নামায আদায় কর এবং সারাদিন রোযা পালন কর? তিনি বললেন, হ্যাঁ। তখন তিনি (রাসূলুল্লাহ (ﷺ)) বললেন, তুমি কখনো এরূপ করবে না বরং কিছুক্ষণ নিদ্রা যাবে। আর কিছুক্ষণ নামায আদায় করবে এবং কখনো কখনো রোযা পালন করবে আবার কখনো রোযা ভঙ্গও করে ফেলবে। কেননা তোমার চক্ষুর জন্য তোমার উপর হক রয়েছে, তোমার শরীরের জন্য তোমার উপর হক রয়েছে, তোমার স্ত্রীর জন্য তোমার উপর হক রয়েছে, তোমার মেহমানের জন্য তোমার উপর হক রয়েছে, তোমার বন্ধুর জন্য তোমার হক রয়েছে। আশা করি, তুমি দীর্ঘজীবী হও!

তোমার জন্য এটাই যথেষ্ট যে, তুমি প্রত্যেক মাসে তিন দিন রোযা পালন করবে। ইহাই সারা বছর রোযা পালন করার সমান হবে, যেহেতু প্রত্যেক ভাল কাজের জন্য তার দশ দশ গুণ সাওয়াব রয়েছে। আমি বললাম, আমি তো এর চেয়েও অধিক সামর্থ্য রাখি। আমি কঠোরতা অবলম্বন করতে চাইলে তিনি তার অনুমতি দিলেন। তিনি বললেন, তুমি প্রতি সপ্তাহে তিন দিন রোযা পালন করবে। আমি বললাম, আমি তো এর চেয়েও অধিক রোযা পালনের সামর্থ্য রাখি। আমি কঠোরতা অবলম্বন করতে চাইলে তিনি তার অনুমতি দিলেন। তিনি বললেন, তুমি আল্লাহর নবী দাউদ (আলাইহিস সালাম) এর ন্যায় রোযা পালন কর। আমি জিজ্ঞাসা করলাম, দাউদ (আলাইহিস সালাম) এর রোযা কিরূপ ছিল? রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, বছরের অর্ধেক সময়।
২৩৯২

أَخْبَرَنَا الرَّبِيعُ بْنُ سُلَيْمَانَ، قَالَ حَدَّثَنَا ابْنُ وَهْبٍ، قَالَ أَخْبَرَنِي يُونُسُ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، قَالَ أَخْبَرَنِي سَعِيدُ بْنُ الْمُسَيَّبِ، وَأَبُو سَلَمَةَ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ أَنَّ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عَمْرِو بْنِ الْعَاصِ، قَالَ ذُكِرَ لِرَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ يَقُولُ لأَقُومَنَّ اللَّيْلَ وَلأَصُومَنَّ النَّهَارَ مَا عِشْتُ . فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " أَنْتَ الَّذِي تَقُولُ ذَلِكَ " . فَقُلْتُ لَهُ قَدْ قُلْتُهُ يَا رَسُولَ اللَّهِ . فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " فَإِنَّكَ لاَ تَسْتَطِيعُ ذَلِكَ فَصُمْ وَأَفْطِرْ وَنَمْ وَقُمْ وَصُمْ مِنَ الشَّهْرِ ثَلاَثَةَ أَيَّامٍ فَإِنَّ الْحَسَنَةَ بِعَشْرِ أَمْثَالِهَا وَذَلِكَ مِثْلُ صِيَامِ الدَّهْرِ " . قُلْتُ فَإِنِّي أُطِيقُ أَفْضَلَ مِنْ ذَلِكَ . قَالَ " صُمْ يَوْمًا وَأَفْطِرْ يَوْمَيْنِ " . فَقُلْتُ إِنِّي أُطِيقُ أَفْضَلَ مِنْ ذَلِكَ يَا رَسُولَ اللَّهِ . قَالَ " فَصُمْ يَوْمًا وَأَفْطِرْ يَوْمًا وَذَلِكَ صِيَامُ دَاوُدَ وَهُوَ أَعْدَلُ الصِّيَامِ " . قُلْتُ فَإِنِّي أُطِيقُ أَفْضَلَ مِنْ ذَلِكَ . قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " لاَ أَفْضَلَ مِنْ ذَلِكَ " . قَالَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عَمْرٍو لأَنْ أَكُونَ قَبِلْتُ الثَّلاَثَةَ الأَيَّامَ الَّتِي قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَحَبُّ إِلَىَّ مِنْ أَهْلِي وَمَالِي .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনে আ'স (রাঃ)

২৩৯৪। রবী ইবনে সুলাইমান (রাহঃ) ......... আব্দুল্লাহ ইবনে আমর (রাযিঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সামনে তার সম্বন্ধে উল্লেখ করা হলে তিনি বলেনঃ আমি যতদিন বেঁচে থাকব ততদিন অবশ্যই সারা রাত্র নামায আদায় করব এবং অবশ্যই সারা দিন রোযা পালন করব। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, তুমি কি এরূপ বলেছ? আমি তাঁকে বললাম ইয়া রাসুলাল্লাহ! আমি নিশ্চয়ই এরূপ বলেছি। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, তুমি এ রকম পারবে না। অতএব তুমি কখনো কখনো রোযা পালন কর-আর কখনো রোযা ভঙ্গ করে ফেল এবং কিছু সময় নিদ্রা যাও আর কিছু সময় নামায আদায় কর। আর প্রতি মাসে তিন দিন রোযা পালন কর। কেননা প্রত্যেক ভাল কাজের জন্য তার দশ দশ গুণ সাওয়াব রয়েছে। আর এটাই বছর রোযা পালনের সমান।

আমি বললাম, আমি তো এর চেয়েও অধিক রোযা পালন করার সামর্থ্য রাখি। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, তুমি এক দিন রোযা পালন কর এবং দুই দিন রোযা ভঙ্গ কর। আমি বললাম, ইয়া রাসুলাল্লাহ! আমি তো এর চেয়েও অধিক রোযা পালন করার সামর্থ্য রাখি। তিনি বললেন, তাহলে তুমি একদিন রোযা পালন কর, একদিন রোযা ভঙ্গ কর। আর এটাই দাউদ (আলাইহিস সালাম) এর রোযা এবং এটাই হলো সর্বোত্তম রোযা। আমি বললাম, আমি তো এর চেয়েও অধিক রোযা পালন করার সামর্থ্য রাখি। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, এর চেয়ে উত্তম রোযা আর হয় না। আব্দুল্লাহ ইবনে আমর (রাযিঃ) বলেন, যে তিন দিনের রোযা পালন করার কথা বলেছিলেন তা গ্রহণ করাই আমার নিকট আমার পরিবার-পরিজন ও আমার ধন-সম্পদ থেকে অধিকতর প্রিয় মনে হয়।
২৩৯৩

أَخْبَرَنِي أَحْمَدُ بْنُ بَكَّارٍ، قَالَ حَدَّثَنَا مُحَمَّدٌ، - وَهُوَ ابْنُ سَلَمَةَ - عَنِ ابْنِ إِسْحَاقَ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، قَالَ دَخَلْتُ عَلَى عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو قُلْتُ أَىْ عَمِّ حَدِّثْنِي عَمَّا قَالَ لَكَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ يَا ابْنَ أَخِي إِنِّي كُنْتُ أَجْمَعْتُ عَلَى أَنْ أَجْتَهِدَ اجْتِهَادًا شَدِيدًا حَتَّى قُلْتُ لأَصُومَنَّ الدَّهْرَ وَلأَقْرَأَنَّ الْقُرْآنَ فِي كُلِّ يَوْمٍ وَلَيْلَةٍ فَسَمِعَ بِذَلِكَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَأَتَانِي حَتَّى دَخَلَ عَلَىَّ فِي دَارِي فَقَالَ " بَلَغَنِي أَنَّكَ قُلْتَ لأَصُومَنَّ الدَّهْرَ وَلأَقْرَأَنَّ الْقُرْآنَ " . فَقُلْتُ قَدْ قُلْتُ ذَلِكَ يَا رَسُولَ اللَّهِ . قَالَ " فَلاَ تَفْعَلْ صُمْ مِنْ كُلِّ شَهْرٍ ثَلاَثَةَ أَيَّامٍ " . قُلْتُ إِنِّي أَقْوَى عَلَى أَكْثَرَ مِنْ ذَلِكَ . قَالَ " فَصُمْ مِنَ الْجُمُعَةِ يَوْمَيْنِ الاِثْنَيْنِ وَالْخَمِيسَ " . قُلْتُ فَإِنِّي أَقْوَى عَلَى أَكْثَرَ مِنْ ذَلِكَ . قَالَ " فَصُمْ صِيَامَ دَاوُدَ عَلَيْهِ السَّلاَمُ فَإِنَّهُ أَعْدَلُ الصِّيَامِ عِنْدَ اللَّهِ يَوْمًا صَائِمًا وَيَوْمًا مُفْطِرًا وَإِنَّهُ كَانَ إِذَا وَعَدَ لَمْ يُخْلِفْ وَإِذَا لاَقَى لَمْ يَفِرَّ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনে আ'স (রাঃ)

২৩৯৫। আহমদ ইবনে বাককার (রাহঃ) ......... আবু সালামা ইবনে আব্দুর রহমান (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আব্দুল্লাহ ইবনে আমর (রাযিঃ) এর কাছে গিয়ে বললাম, হে চাচা! রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আপনাকে যা বলেছিলেন তা আমাকে বলুন। তিনি বললেন, হে আমার ভ্রাতূষ্পুত্র, আমি দৃঢ় সংকল্প করেছিলাম যে, আমি অত্যধিক পবিশ্রম করব, এমনকি মনে মনে বলেছিলাম যে, আমি অবশ্যই সারা জীবন রোযা পালন করব এবং প্রত্যেক দিবা রাত্রে একবার কুরআন খতম করব। এ খবর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) শুনে ফেললে তিনি আমার কাছে আসলেন এবং ঘরে প্রবেশ করে বললেন যে, আমি শুনেছি তুমি নাকি বলেছ যে, আমি অবশ্যই সারা জীবন রোযা পালন করব এবং সারাক্ষণ কুরআন তিলাওয়াত করব? আমি বললাম, ইয়া রাসুলাল্লাহ! আমি অবশ্যই বলেছি।

তিনি বললেন, তুমি এরূপ কর না বরং তুমি প্রত্যেক মাসে তিন দিন রোযা পালন করবে। আমি বললাম, আমি তো এর চেয়েও অধিক রোযা পালন করার সামর্থ্য রাখি। তিনি বললেন, তাহলে তুমি প্রত্যেক সপ্তাহে দুই দিন রোযা পালন করবে সোমবার এবং বৃহষ্পতিবার। আমি বললাম, আমি তো এর চেয়েও অধিক রোযা পালনের সামর্থ্য রাখি। তিনি বললেন, তাহলে তুমি দাউদ (আলাইহিস সালাম) এর ন্যায় রোযা পালন করবে। কেননা সেটাই আল্লাহ তাআলার নিকট সর্বোত্তম রোযা। একদিন রোযা পালন করবে আর একদিন রোযা ভঙ্গ করে ফেলবে। আর দাউদ (আলাইহিস সালাম) যখন ওয়াদা করতেন তা পূর্ণ করতেন আর যখন শক্রর মুখোমুখী হতেন পলায়ন করতেন না।

রোযা হ্রাস-বৃদ্ধি করা এবং এ বিষয়ে আব্দুল্লাহ ইবনে আমর (রাযিঃ) বর্ণিত হাদীসের বর্ণনাকারীদের বর্ণনা পার্থক্য এর উল্লেখ

باب ذِكْرِ الزِّيَادَةِ فِي الصِّيَامِ وَالنُّقْصَانِ وَذِكْرِ اخْتِلاَفِ النَّاقِلِينَ لِخَبَرِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو فِيهِ

২৩৯৪

أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، قَالَ حَدَّثَنَا مُحَمَّدٌ، قَالَ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ زِيَادِ بْنِ فَيَّاضٍ، سَمِعْتُ أَبَا عِيَاضٍ، يُحَدِّثُ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ لَهُ " صُمْ يَوْمًا وَلَكَ أَجْرُ مَا بَقِيَ " . قَالَ إِنِّي أُطِيقُ أَكْثَرَ مِنَ ذَلِكَ . قَالَ " صُمْ يَوْمَيْنِ وَلَكَ أَجْرُ مَا بَقِيَ " . قَالَ إِنِّي أُطِيقُ أَكْثَرَ مِنْ ذَلِكَ . قَالَ " صُمْ ثَلاَثَةَ أَيَّامٍ وَلَكَ أَجْرُ مَا بَقِيَ " . قَالَ إِنِّي أُطِيقُ أَكْثَرَ مِنْ ذَلِكَ . قَالَ " صُمْ أَرْبَعَةَ أَيَّامٍ وَلَكَ أَجْرُ مَا بَقِيَ " . قَالَ إِنِّي أُطِيقُ أَكْثَرَ مِنْ ذَلِكَ . قَالَ " صُمْ أَفْضَلَ الصِّيَامِ عِنْدَ اللَّهِ صَوْمَ دَاوُدَ عَلَيْهِ السَّلاَمُ كَانَ يَصُومُ يَوْمًا وَيُفْطِرُ يَوْمًا " .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনে আ'স (রাঃ)

২৩৯৬। মুহাম্মাদ ইবনে মুছান্না (রাহঃ) ......... আব্দুল্লাহ ইবনে আমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাকে বলেছিলেন, তুমি (প্রত্যেক দশ দিনে) একদিন রোযা পালন করবে তা হলে অবশিষ্ট দিনগুলোর সাওয়াবও তোমার অংশে লেখা হবে। তিনি বলেন, আমি তো এর চেয়েও অধিক রোযা পালনের সামর্থ্য রাখি। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, তা হলে তুমি দুই দিন রোযা পালন কর তাহলে অবশিষ্ট দিনগুলোর সাওয়াবও তোমার অংশে লেখা হবে। তিনি বললেন, আমি তো এর চেয়েও অধিক রোযা পালনের সামর্থ্য রাখি।

রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, তাহলে তুমি তিন দিন রোযা পালন কর, তাহলে অবশিষ্ট দিনগুলোর সাওয়াবও তোমার অংশে লেখা হবে। তিনি বললেন, আমি তো এর চেয়েও অধিক রোযা পালনের সামর্থ্য রাখি। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, তাহলে তুমি আল্লাহ তা’আালার নিকট সর্বোত্তম রোযা দাউদ (আলাইহিস সালাম) এর রোযা পালন কর। তিনি একদিন রোযা পালন করতেন আর একদিন রোযা ভঙ্গ করতেন।
২৩৯৫

أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الأَعْلَى، قَالَ حَدَّثَنَا الْمُعْتَمِرُ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ حَدَّثَنَا أَبُو الْعَلاَءِ، عَنْ مُطَرِّفٍ، عَنِ ابْنِ أَبِي رَبِيعَةَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو، قَالَ ذَكَرْتُ لِلنَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم الصَّوْمَ فَقَالَ " صُمْ مِنْ كُلِّ عَشْرَةِ أَيَّامٍ يَوْمًا وَلَكَ أَجْرُ تِلْكَ التِّسْعَةِ " . فَقُلْتُ إِنِّي أَقْوَى مِنْ ذَلِكَ . قَالَ " صُمْ مِنْ كُلِّ تِسْعَةِ أَيَّامٍ يَوْمًا وَلَكَ أَجْرُ تِلْكَ الثَّمَانِيَةِ " . قُلْتُ إِنِّي أَقْوَى مِنْ ذَلِكَ . قَالَ " فَصُمْ مِنْ كُلِّ ثَمَانِيَةِ أَيَّامٍ يَوْمًا وَلَكَ أَجْرُ تِلْكَ السَّبْعَةِ " . قُلْتُ إِنِّي أَقْوَى مِنْ ذَلِكَ قَالَ فَلَمْ يَزَلْ حَتَّى قَالَ " صُمْ يَوْمًا وَأَفْطِرْ يَوْمًا " .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনে আ'স (রাঃ)

২৩৯৭। মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল আলা (রাহঃ) ......... আব্দুল্লাহ ইবনে আমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী (ﷺ) এর কাছে রোযার উল্লেখ করলে তিনি বললেন, তুমি প্রত্যেক দশ দিনে এক দিন রোযা পালন কর তাহলে অবশিষ্ট নয় দিনের সাওয়াবও তোমার অংশে লেখা হবে। আমি বললাম, আমি তো এর চেয়েও অধিক রোযা পালনের সামর্থ্য রাখি। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, তাহলে তুমি প্রত্যেক নয়দিনে এক দিন রোযা পালন কর তাহলে অবশিষ্ট আট দিনের সাওয়াবও তোমার অংশে লেখা হবে। আমি বললাম, আমি তো এর চেয়েও অধিক রোযা পানলের সামর্থ্য রাখি।

রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, তাহলে তুমি প্রত্যেক আট দিনে এক দিন রোযা পালন কর তাহলে অবশিষ্ট সাত দিনের সাওয়াবও তুমি পাবে। আমি বললাম, আমি তো এর চেয়েও অধিক রোযা পালনের সামর্থ্য রাখি। তিনি বললেন, আমি এরকম বলতেই থাকলাম, শেষ পর্যন্ত রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, তুমি একদিন রোযা পালন কর আর একদিন রোযা ভঙ্গ কর।
২৩৯৬

أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ بْنِ إِبْرَاهِيمَ، قَالَ حَدَّثَنَا يَزِيدُ، قَالَ حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، ح وَأَخْبَرَنِي زَكَرِيَّا بْنُ يَحْيَى، قَالَ حَدَّثَنَا عَبْدُ الأَعْلَى، قَالَ حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، عَنْ ثَابِتٍ، عَنْ شُعَيْبِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ قَالَ لِي رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " صُمْ يَوْمًا وَلَكَ أَجْرُ عَشْرَةٍ " . فَقُلْتُ زِدْنِي . فَقَالَ " صُمْ يَوْمَيْنِ وَلَكَ أَجْرُ تِسْعَةٍ " . قُلْتُ زِدْنِي . قَالَ " صُمْ ثَلاَثَةَ أَيَّامٍ وَلَكَ أَجْرُ ثَمَانِيَةٍ " . قَالَ ثَابِتٌ فَذَكَرْتُ ذَلِكَ لِمُطَرِّفٍ فَقَالَ مَا أُرَاهُ إِلاَّ يَزْدَادُ فِي الْعَمَلِ وَيَنْقُصُ مِنَ الأَجْرِ وَاللَّفْظُ لِمُحَمَّدٍ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ)

২৩৯৮। মুহাম্মাদ ইবনে ইসমাঈল (রাহঃ) এবং যাকারিয়া ইবনে ইয়াহয়া (রাহঃ) ......... শুআয়ব (রাহঃ)-এর পিতা আব্দুল্লাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাকে বললেনঃ তুমি একদিনের রোযা পালন কর তাহলে তুমি দশ দশ দিন রোযা পালন করার সাওয়াব পাবে। আমি বললাম, আরো কিছু বাড়িয়ে দিন। তিনি বললেন, তাহলে তুমি দুই দিনের রোযা পালন কর, তাহলে অবশিষ্ট নয়দিনের রোযা পালন করার সাওয়াবও তোমার অংশে লেখা হবে। আমি বললাম, আরো কিছু বাড়িয়ে দিন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, তাহলে তুমি তিন দিনের রোযা পালন কর, তাহলে অবশিষ্ট আট দিনের রোযা পালন করার সওযাবও তোমার অংশে লেখা হবে।

ছাবিত (রাহঃ) বলেন যে, আমি এ হাদীস মুতাররিফ (রাহঃ)-এর কাছে উল্লেখ করলে তিনি বললেন, আমার মনে হয় এ হাদীসের অর্থ হল, রোযা পালনকারী আমলের সংখ্যা বাড়ালেও সাওয়াব কম হবে। বর্ণনাকারী মুহাম্মাদ ইবনে ইসমাঈল (রাহঃ) এভাবে বর্ণনা করেছেন।

মাসে দশ দিন রোযা পালন করা এবং এ বিষয়ে আব্দুল্লাহ ইবনে আমর (রাযিঃ) এর হাদীস বর্ণনাকারীদের মধ্যে শব্দ বর্ণনায় পার্থক্য

باب صَوْمِ عَشْرَةِ أَيَّامٍ مِنَ الشَّهْرِ وَاخْتِلاَفِ أَلْفَاظِ النَّاقِلِينَ لِخَبَرِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو فِيهِ

২৩৯৭

أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عُبَيْدٍ، عَنْ أَسْبَاطٍ، عَنْ مُطَرِّفٍ، عَنْ حَبِيبِ بْنِ أَبِي ثَابِتٍ، عَنْ أَبِي الْعَبَّاسِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " إِنَّهُ بَلَغَنِي أَنَّكَ تَقُومُ اللَّيْلَ وَتَصُومُ النَّهَارَ " . قُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ مَا أَرَدْتُ بِذَلِكَ إِلاَّ الْخَيْرَ . قَالَ " لاَ صَامَ مَنْ صَامَ الأَبَدَ وَلَكِنْ أَدُلُّكَ عَلَى صَوْمِ الدَّهْرِ ثَلاَثَةُ أَيَّامٍ مِنَ الشَّهْرِ " . قُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنِّي أُطِيقُ أَكْثَرَ مِنْ ذَلِكَ . قَالَ " صُمْ خَمْسَةَ أَيَّامٍ " . قُلْتُ إِنِّي أُطِيقُ أَكْثَرَ مِنْ ذَلِكَ . قَالَ " فَصُمْ عَشْرًا " . فَقُلْتُ إِنِّي أُطِيقُ أَكْثَرَ مِنْ ذَلِكَ . قَالَ " صُمْ صَوْمَ دَاوُدَ عَلَيْهِ السَّلاَمُ كَانَ يَصُومُ يَوْمًا وَيُفْطِرُ يَوْمًا " .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনে আ'স (রাঃ)

২৩৯৯। মুহাম্মাদ ইবনে উবাইদ (রাহঃ) ......... আব্দুল্লাহ ইবনে আমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ আমার কাছে সংবাদ পৌছেছে যে, তুমি নাকি সারা রাত্র নামায আদায় কর এবং সারা দিন রোযা পালন কর? আমি বললাম, ইয়া রাসুলাল্লাহ! এর দ্বারা তো আমি ভালই আশা করে থাকি। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, সর্বদা রোযা পালনকারীর রোযা গ্রহণযোগ্য নয়। তবে আমি তোমাকে সর্বদা রোযা পালন করার নিয়ম বলে দিচ্ছি। তা হল প্রত্যেক মাসে তিন দিন রোযা পালন করা। আমি বললাম, ইয়া রাসুলাল্লাহ! আমি তো এর চেয়েও অধিক রোযা পালন করার সামর্থ্য রাখি।

রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, তাহলে তুমি পাঁচ দিন রোযা পালন কর। আমি বললাম, আমি তো এর চেয়েও অধিক রোযা পালন করার সামর্থ্য রাখি। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, তাহলে তুমি দশ দিন রোযা পালন কর। আমি বললাম, আমি তো এর চেয়েও অধিক রোযা পালন করার সামর্থ্য রাখি। তিনি বললেনঃ তাহলে তুমি দাউদ (আলাইহিস সালাম) এর রোযা পালন কর- তিনি একদিন রোযা পালন করতেন আর একদিন রোযা ভঙ্গ করতেন।
২৩৯৮

أَخْبَرَنَا عَلِيُّ بْنُ الْحُسَيْنِ، قَالَ حَدَّثَنَا أُمَيَّةُ، عَنْ شُعْبَةَ، عَنْ حَبِيبٍ، قَالَ حَدَّثَنِي أَبُو الْعَبَّاسِ، - وَكَانَ رَجُلاً مِنْ أَهْلِ الشَّامِ وَكَانَ شَاعِرًا وَكَانَ صَدُوقًا - عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو قَالَ قَالَ لِي رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَسَاقَ الْحَدِيثَ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনে আ'স (রাঃ)

২৪০০। আলী ইবনে হুসাইন (রাহঃ) ......... আব্দুল্লাহ ইবনে আমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমাকে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, তারপর দীর্ঘ হাদীস বর্ণনা করলেন।

২৩৯৯

أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الْأَعْلَى قَالَ حَدَّثَنَا خَالِدٌ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ قَالَ أَخْبَرَنِي حَبِيبُ بْنُ أَبِي ثَابِتٍ قَالَ سَمِعْتُ أَبَا الْعَبَّاسِ هُوَ الشَّاعِرُ يُحَدِّثُ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو قَالَ قَالَ لِي رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَا عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عَمْرٍو إِنَّكَ تَصُومُ الدَّهْرَ وَتَقُومُ اللَّيْلَ وَإِنَّكَ إِذَا فَعَلْتَ ذَلِكَ هَجَمَتْ الْعَيْنُ وَنَفِهَتْ لَهُ النَّفْسُ لَا صَامَ مَنْ صَامَ الْأَبَدَ صَوْمُ الدَّهْرِ ثَلَاثَةُ أَيَّامٍ مِنْ الشَّهْرِ صَوْمُ الدَّهْرِ كُلِّهِ قُلْتُ إِنِّي أُطِيقُ أَكْثَرَ مِنْ ذَلِكَ قَالَ صُمْ صَوْمَ دَاوُدَ كَانَ يَصُومُ يَوْمًا وَيُفْطِرُ يَوْمًا وَلَا يَفِرُّ إِذَا لَاقَى

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনে আ'স (রাঃ)

২৪০১. মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল আ’লা (রাহঃ) ......... আব্দুল্লাহ ইবনে আমার (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমাকে রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেছেন, হে আব্দুল্লাহ ইবনে আমর! তুমি নাকি সর্বদা রোযা পালন কর এবং সারা রাত্রে নামায আদায় কর? তুমি যখন এরূপ করতে থাকবে তখন তোমার চক্ষু কোটেরাগত হয়ে যাবে এবং শরীর দুর্বল হয়ে যাবে। সর্বদা রোযা পালনকারীর রোযা গ্রহণযোগ্য নয়। সারা জীবনের রোযা হল প্রত্যেক মাসে তিন দিন রোযা পালন করা। আমি বললাম, আমি তো এর চেয়েও অধিক রোযাি পালন করার সামর্থ্য রাখি। তিনি বললেন, তাহলে তুমি দাউদ (আলাইহিস সালাম)-এর রোযাি পালন কর- তিনি একদিন রোযা পালন করতেন আর একদিন রোযা ভঙ্গ করতেন। এবং (শত্রুর) মুখোমুখী হলে পলায়ন করতেন না।

২৪০০

أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ قَالَ حَدَّثَنَا مُحَمَّدٌ قَالَ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ عَنْ عَمْرِو بْنِ دِينَارٍ عَنْ أَبِي الْعَبَّاسِ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو قَالَ قَالَ لِي رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ اقْرَأْ الْقُرْآنَ فِي شَهْرٍ قُلْتُ إِنِّي أُطِيقُ أَكْثَرَ مِنْ ذَلِكَ فَلَمْ أَزَلْ أَطْلُبُ إِلَيْهِ حَتَّى قَالَ فِي خَمْسَةِ أَيَّامٍ وَقَالَ صُمْ ثَلَاثَةَ أَيَّامٍ مِنْ الشَّهْرِ قُلْتُ إِنِّي أُطِيقُ أَكْثَرَ مِنْ ذَلِكِ فَلَمْ أَزَلْ أَطْلُبُ إِلَيْهِ حَتَّى قَالَ صُمْ أَحَبَّ الصِّيَامِ إِلَى اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ صَوْمَ دَاوُدَ كَانَ يَصُومُ يَوْمًا وَيُفْطِرُ يَوْمًا

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনে আ'স (রাঃ)

২৪০২. মুহাম্মাদ ইবনে বাশশার (রাহঃ) ......... আব্দুল্লাহ ইবনে আমার (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমাকে রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বললেনঃ তুমি মাসে একবার কুরআন খতম কর। আমি বললাম, আমি তো এর চেয়েও অধিক পড়তে পারি। আমি তাঁর কাছে আরো বাড়াবার আবেদন করতে থাকলে শেষ পর্যন্ত তিনি আমাকে পাঁচ দিনে কুরআন খতম করতে বললেন। রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) আরো বললেন, তুমি মাসে তিন দিন রোযা পালন কর । আমি বললাম, আমি তো এর চেয়েও অধিক রোযা পালন করার সামর্থ্য রাখি। আমি তার কাছে আরো বাড়াবার আবেদন করতে থাকলে শেষ পর্যন্ত তিনি আমাকে আল্লাহ তাআলার নিকট সবেত্তিম রোযা দাউদ (আলাইহিস সালাম)-এর রোযা পালন করতে বললেন। তিনি একদিন রোযা পালন করতেন। আর একদিন রোযা ভঙ্গ করতেন।

২৪০১

أَخْبَرَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ الْحَسَنِ قَالَ حَدَّثَنَا حَجَّاجٌ قَالَ قَالَ ابْنُ جُرَيْجٍ سَمِعْتُ عَطَاءً يَقُولُ إِنَّ أَبَا الْعَبَّاسِ الشَّاعِرَ أَخْبَرَهُ أَنَّهُ سَمِعَ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عَمْرِو بْنِ الْعَاصِ قَالَ بَلَغَ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنِّي أَصُومُ أَسْرُدُ الصَّوْمَ وَأُصَلِّي اللَّيْلَ فَأَرْسَلَ إِلَيْهِ وَإِمَّا لَقِيَهُ قَالَ أَلَمْ أُخْبَرْ أَنَّكَ تَصُومُ وَلَا تُفْطِرُ وَتُصَلِّي اللَّيْلَ فَلَا تَفْعَلْ فَإِنَّ لِعَيْنِكَ حَظًّا وَلِنَفْسِكَ حَظًّا وَلِأَهْلِكَ حَظًّا وَصُمْ وَأَفْطِرْ وَصَلِّ وَنَمْ وَصُمْ مِنْ كُلِّ عَشَرَةِ أَيَّامٍ يَوْمًا وَلَكَ أَجْرُ تِسْعَةٍ قَالَ إِنِّي أَقْوَى لِذَلِكَ يَا رَسُولَ اللَّهِ قَالَ صُمْ صِيَامَ دَاوُدَ إِذًا قَالَ وَكَيْفَ كَانَ صِيَامُ دَاوُدَ يَا نَبِيَّ اللَّهِ قَالَ كَانَ يَصُومُ يَوْمًا وَيُفْطِرُ يَوْمًا وَلَا يَفِرُّ إِذَا لَاقَى قَالَ وَمَنْ لِي بِهَذَا يَا نَبِيَّ اللَّهِ

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনে আ'স (রাঃ)

২৪০৩. ইবরাহীম ইবনে হাসান (রাহঃ) ......... আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনে আস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-এর কাছে সংবাদ পৌঁছলে যে, আমি সর্বদা রোযা পালন করে থাকি এবং সারা রাত্রে নামায আদায় করে থাকি। তখন নবী (ﷺ) তাঁর কাছে সংবাদ পাঠালেন কিংবা তিনি তাঁর সাথে সাক্ষাত করলেন।

নবী (ﷺ) বললেন আমাকে সংবাদ দেওয়া হয়েছে যে, তুমি সর্বদা রোযা পালন কর; রোযা ভঙ্গ কর না এবং সারা রাত্রে নামায আদায় করে থাকে। তুমি এরূপ করবে না। কেননা, তোমার চক্ষুর জন্য তোমার উপর হক রয়েছে। তোমার শরীরের জন্য তোমার উপর হক রয়েছে। তোমার স্ত্রীর জন্য তোমার উপর হক রয়েছে। তুমি কখনো কখনো রোযা পালন করবে। আবার কখনো রোযা ভঙ্গও করে ফেলবে। এবং রাত্রের কিছু সময় নামায আদায় করবে। আর কিছু সময় নিদ্ৰা যাবে। তুমি প্রত্যেক দশ দিনে একদিন রোযা পালন করবে, তাহলে তোমার জন্য অবশিষ্ট নয় দিনের সওয়াবও লেখা হবে।

আমি বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমি তো এর চেয়েও অধিক সাত্তম পালন করার সামর্থ্য রাখি। তিনি বলেন, তাহলে তুমি দাউদ (আলাইহিস সালাম)-এর রোযা পালন কর। তিনি বলেন দাউদ (আলাইহিস সালাম)-এর রোযা কিরূপ ছিল। ইয়া রাসূলাল্লাহ? তিনি বলেন, দাউদ (আলাইহিস সালাম) একদিন রোযা পালন করতেন আর তিনি একদিন রোযা ভঙ্গ করতেন। আর তিনি শত্রুর মুখোমুখী হলে পলায়ন করতেন না। তিনি বললেন যে, হে আল্লাহর নবী! আমার সেই শক্তি কোথায়?

মাসের পাঁচ দিন রোযা পালন করা

باب صِيَامِ خَمْسَةِ أَيَّامٍ مِنَ الشَّهْرِ

২৪০২

أَخْبَرَنَا زَكَرِيَّاءُ بْنُ يَحْيَى قَالَ حَدَّثَنَا وَهْبُ بْنُ بَقِيَّةَ قَالَ أَنْبَأَنَا خَالِدٌ عَنْ خَالِدٍ وَهُوَ الْحَذَّاءُ عَنْ أَبِي قِلَابَةَ عَنْ أَبِي الْمَلِيحِ قَالَ دَخَلْتُ مَعَ أَبِيكَ زَيْدٍ عَلَى عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو فَحَدَّثَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ذُكِرَ لَهُ صَوْمِي فَدَخَلَ عَلَيَّ فَأَلْقَيْتُ لَهُ وِسَادَةَ أَدَمٍ رَبْعَةً حَشْوُهَا لِيفٌ فَجَلَسَ عَلَى الْأَرْضِ وَصَارَتْ الْوِسَادَةُ فِيمَا بَيْنِي وَبَيْنَهُ قَالَ أَمَا يَكْفِيكَ مِنْ كُلِّ شَهْرٍ ثَلَاثَةُ أَيَّامٍ قُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ قَالَ خَمْسًا قُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ قَالَ سَبْعًا قُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ قَالَ تِسْعًا قُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ قَالَ إِحْدَى عَشْرَةَ قُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَا صَوْمَ فَوْقَ صَوْمِ دَاوُدَ شَطْرَ الدَّهْرِ صِيَامُ يَوْمٍ وَفِطْرُ يَوْمٍ

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনে আ'স (রাঃ)

২৪০৪. যাকারিয়া ইবনে ইয়াহইয়া (রাহঃ) ......... আব্দুল্লাহ ইবনে আমার (রাযিঃ) বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সামনে আমার রোযা পালন সম্পর্কে উল্লেখ করা হলে তিনি আমার কাছে আসলেন এবং আমি তাঁর জন্য একটি খেজুরের বাকল ভর্তি মধ্যম আকারের চামড়ার বালিশ আগিয়ে দিলাম। তিনি মাটিতে বসে গেলেন এবং বালিশ আমার আর তাঁর মাঝখানে ছিল। তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, তোমার জন্য কি প্রত্যেক মাসে তিন দিন রোযা পালন যথেষ্ট নয়? আমি বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ! (আমার জন্য আরো বাড়িয়ে দিন) তিনি বললেন, তাহলে পাঁচ দিন?

আমি বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ! (আমার জন্য আরো বাড়িয়ে দিন) তিনি বললেন, তাহলে সাত দিন? আমি বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ! (আমার জন্য আরো বাড়িয়ে দিন) তিনি বললেন, নয় দিন? আমি বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ! (আমার জন্য আরো বাড়িয়ে দিন) তিনি বললেন, তাহলে এগার দিন? আমি বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ! (আরো বাড়িয়ে দিন) তিনি বললেন, দাউদ (আলাইহিস সালাম)-এর রোযার উপরে কোন রোযা হতে পারে না। আর তা হল সারা জীবনের অর্ধেক একদিন রোযা পালন করা আর একদিন রোযা ভঙ্গ করা।

মাসে চার দিন রোযা পালন করা

باب صِيَامِ أَرْبَعَةِ أَيَّامٍ مِنَ الشَّهْرِ

২৪০৩

أَخْبَرَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ الْحَسَنِ قَالَ حَدَّثَنَا حَجَّاجُ بْنُ مُحَمَّدٍ قَالَ حَدَّثَنِي شُعْبَةُ عَنْ زِيَادِ بْنِ فَيَّاضٍ قَالَ سَمِعْتُ أَبَا عِيَاضٍ قَالَ قَالَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عَمْرٍو قَالَ لِي رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ صُمْ مِنْ الشَّهْرِ يَوْمًا وَلَكَ أَجْرُ مَا بَقِيَ قُلْتُ إِنِّي أُطِيقُ أَكْثَرَ مِنْ ذَلِكَ قَالَ فَصُمْ يَوْمَيْنِ وَلَكَ أَجْرُ مَا بَقِيَ قُلْتُ إِنِّي أُطِيقُ أَكْثَرَ مِنْ ذَلِكَ قَالَ فَصُمْ ثَلَاثَةَ أَيَّامٍ وَلَكَ أَجْرُ مَا بَقِيَ قُلْتُ إِنِّي أُطِيقُ أَكْثَرَ مِنْ ذَلِكَ قَالَ صُمْ أَرْبَعَةَ أَيَّامٍ وَلَكَ أَجْرُ مَا بَقِيَ قُلْتُ إِنِّي أُطِيقُ أَكْثَرَ مِنْ ذَلِكَ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَفْضَلُ الصَّوْمِ صَوْمُ دَاوُدَ كَانَ يَصُومُ يَوْمًا وَيُفْطِرُ يَوْمًا

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনে আ'স (রাঃ)

২৪০৫. ইবরাহীম ইবনে হাসান (রাহঃ) ......... আব্দুল্লাহ ইবনে আমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) আমাকে বললেনঃ তুমি প্রত্যেক মাসে একদিন রোযা পালন কর তাহলে অবশিষ্ট দিনগুলোর সওয়াবও তুমি পাবে। আমি বললাম, আমি তো এর চেয়েও অধিক রোযা পালনের সামর্থ্য রাখি। তিনি বললেন, তবে তুমি দুইদিন রোযা পালন কর, অবশিষ্ট দিনগুলোর সওয়াবও তুমি পাবে। আমি বললাম, আমি তো এর চেয়েও অধিক রোযা পালনের সামর্থ্য রাখি।

তিনি বললেন, তবে তুমি তিন দিন রোযা পালন কর, অবশিষ্ট দিনগুলোর সওয়াবও তুমি পাবে। আমি বললাম, আমি তো এর চেয়েও অধিক রোযা পালনের সামৰ্থ্য রাখি। তিনি বললেন, তবে তুমি চারদিন রোযা পালন কর, তুমি অবশিষ্ট দিনগুলোর সওয়াবও তুমি পাবে। আমি বললাম, আমি তো এর চেয়েও অধিক রোযা পালনের সামর্থ্য রাখি। তখন রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বললেন, সর্বোত্তম রোযা হল দাউদ (আলাইহিস সালাম)-এর রোযা। তিনি একদিন রোযা পালন করতেন আর একদিন রোযা ভঙ্গ করতেন।

মাসে তিন দিন রোযা পালন করা

باب صَوْمِ ثَلاَثَةِ أَيَّامٍ مِنَ الشَّهْرِ

২৪০৪

أَخْبَرَنَا عَلِيُّ بْنُ حُجْرٍ قَالَ حَدَّثَنَا إِسْمَعِيلُ قَالَ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ أَبِي حَرْمَلَةَ عَنْ عَطَاءِ بْنِ يَسَارٍ عَنْ أَبِي ذَرٍّ قَالَ أَوْصَانِي حَبِيبِي صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِثَلَاثَةٍ لَا أَدَعُهُنَّ إِنْ شَاءَ اللَّهُ تَعَالَى أَبَدًا أَوْصَانِي بِصَلَاةِ الضُّحَى وَبِالْوَتْرِ قَبْلَ النَّوْمِ وَبِصِيَامِ ثَلَاثَةِ أَيَّامٍ مِنْ كُلِّ شَهْرٍ

বর্ণনাকারী: হযরত আবু যার গিফারী (রাঃ)

২৪০৬. আলী ইবনে হজর (রাহঃ) ......... আবু যর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমার বন্ধু (রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) আমাকে তিনটি আমলের ওসীয়্যত করেছেন; ইনশাআল্লাহ আমি সেগুলো কখনো পরিত্যাগ করব না। তিনি আমাকে চাশতের নামায এবং নিদ্ৰা যাওয়ার পূর্বে বিতরের নামায আদায় করার আর প্রত্যেক মাসে তিন দিন রোযা পালন করার ওসীয়্যত করেছেন।

২৪০৫

أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ الْحَسَنِ قَالَ سَمِعْتُ أَبِي قَالَ أَنْبَأَنَا أَبُو حَمْزَةَ عَنْ عَاصِمٍ عَنْ الْأَسْوَدِ بْنِ هِلَالٍ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ أَمَرَنِي رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِثَلَاثٍ بِنَوْمٍ عَلَى وِتْرٍ وَالْغُسْلِ يَوْمَ الْجُمُعَةِ وَصَوْمِ ثَلَاثَةِ أَيَّامٍ مِنْ كُلِّ شَهْرٍ

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

২৪০৭. মুহাম্মাদ ইবনে আলী (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) আমাকে তিনটি আমলের নির্দেশ দিয়েছেন- বিতরের নামায আদায় করেই নিদ্রা যাওয়ার, শুক্রবার দিন গোসল করার এবং প্রত্যেক মাসে তিন দিন রোযা পালন করার।

২৪০৬

أَخْبَرَنَا زَكَرِيَّا بْنُ يَحْيَى قَالَ حَدَّثَنَا أَبُو كَامِلٍ قَالَ حَدَّثَنَا أَبُو عَوَانَةَ عَنْ عَاصِمِ بْنِ بَهْدَلَةَ عَنْ رَجُلٍ عَنْ الْأَسْوَدِ بْنِ هِلَالٍ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ أَمَرَنِي رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِرَكْعَتَيْ الضُّحَى وَأَنْ لَا أَنَامَ إِلَّا عَلَى وِتْرٍ وَصِيَامِ ثَلَاثَةِ أَيَّامٍ مِنْ كُلِّ شَهْرٍ

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

২৪০৮. যাকারিয়া ইবনে ইয়াহইয়া (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাকে দুই রাক'আত চাশতের নামায আদায় করার, বিতরের নামায আদায় করার পরই নিদ্ৰা যাওয়ার এবং প্রত্যেক মাসে তিন দিন রোযা পালন করার নির্দেশ দিয়েছেন।

২৪০৭

أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ رَافِعٍ حَدَّثَنَا أَبُو النَّضْرِ حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ عَنْ عَاصِمٍ عَنْ الْأَسْوَدِ بْنِ هِلَالٍ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ أَمَرَنِي رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِنَوْمٍ عَلَى وَتْرٍ وَالْغُسْلِ يَوْمَ الْجُمُعَةِ وَصِيَامِ ثَلَاثَةِ أَيَّامٍ مِنْ كُلِّ شَهْرٍ

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

২৪০৯. মুহাম্মাদ ইবনে রাফি’ (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাকে বিতরের নামায আদায় করার পরই নিদ্ৰা যাওয়ার, শুক্রবার দিন গোসল করার এবং প্রত্যেক মাসে তিন দিন রোযা পালন করার নির্দেশ দিয়েছেন।

মাসে তিন দিন রোযা পালন করা বিষয়ে আবু হুরায়রা (রাযিঃ) বর্ণিত হাদীসে আলী ইবনে উসমান (রাযিঃ) থেকে বর্ণনার বিভিন্ন রূপ

باب ذِكْرِ الاِخْتِلاَفِ عَلَى أَبِي عُثْمَانَ فِي حَدِيثِ أَبِي هُرَيْرَةَ فِي صِيَامِ ثَلاَثَةِ أَيَّامٍ مِنَ كُلِّ شَهْرٍ

২৪০৮

أَخْبَرَنَا زَكَرِيَّا بْنُ يَحْيَى قَالَ حَدَّثَنَا عَبْدُ الْأَعْلَى قَالَ حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ عَنْ ثَابِتٍ عَنْ أَبِي عُثْمَانَ أَنَّ أَبَا هُرَيْرَةَ قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ شَهْرُ الصَّبْرِ وَثَلَاثَةُ أَيَّامٍ مِنْ كُلِّ شَهْرٍ صَوْمُ الدَّهْرِ

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

২৪১০. যাকারিয়া ইবনে ইয়াহইয়া (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) বলেছেন যে, আমি রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-কে বলতে শুনেছি, ধৈর্যের মাস হল রমযান মাস আর প্রত্যেক মাসে তিন দিন রোযা পালন করা সারা বছর রোযা পালন করার সমতুল্য।

২৪০৯

أَخْبَرَنَا عَلِيُّ بْنُ الْحَسَنِ اللَّانِيُّ بِالْكُوفَةِ عَنْ عَبْدِ الرَّحِيمِ وَهُوَ ابْنُ سُلَيْمَانَ عَنْ عَاصِمٍ الْأَحْوَلِ عَنْ أَبِي عُثْمَانَ عَنْ أَبِي ذَرٍّ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَنْ صَامَ ثَلَاثَةَ أَيَّامٍ مِنْ الشَّهْرِ فَقَدْ صَامَ الدَّهْرَ كُلَّهُ ثُمَّ قَالَ صَدَقَ اللَّهُ فِي كِتَابِهِ مَنْ جَاءَ بِالْحَسَنَةِ فَلَهُ عَشْرُ أَمْثَالِهَا

বর্ণনাকারী: হযরত আবু যার গিফারী (রাঃ)

২৪১১. আলী ইবনে হাসান লানী (রাহঃ) ......... আবু যর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেছেন, যে ব্যক্তি প্রতি মাসে তিন দিন রোযা পালন করল সে যেন সারা বছর রোযা পালন করল। অতঃপর তিনি বললেন, আল্লাহ তাআলা কুরআনে সত্যই বলেছেন, যে ব্যক্তি একটি ভাল কাজ করবে: তাকে তার দশ গুণ সওয়াব দেওয়া হবে।

২৪১০

أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ حَاتِمٍ قَالَ أَنْبَأَنَا حِبَّانُ قَالَ أَنْبَأَنَا عَبْدُ اللَّهِ عَنْ عَاصِمٍ عَنْ أَبِي عُثْمَانَ عَنْ رَجُلٍ قَالَ أَبُو ذَرٍّ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ مَنْ صَامَ ثَلَاثَةَ أَيَّامٍ مِنْ كُلِّ شَهْرٍ فَقَدْ تَمَّ صَوْمُ الشَّهْرِ أَوْ فَلَهُ صَوْمُ الشَّهْرِ شَكَّ عَاصِمٌ

বর্ণনাকারী: হযরত আবু যার গিফারী (রাঃ)

২৪১২. মুহাম্মাদ ইবনে হাতিম (রাহঃ) ......... আবু যর (রাযিঃ) বলেছেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে বলতে শুনেছি ঐ যে ব্যক্তি প্রতি মাসে তিন দিন রোযা পালন করল সে যেন সারা মাস রোযা পালন করল অথবা তিনি বলেছেনঃ তার জন্য সারা মাস রোযা পালন করার সওয়াব রয়েছে।

২৪১১

أَخْبَرَنَا قُتَيْبَةُ قَالَ حَدَّثَنَا اللَّيْثُ عَنْ يَزِيدَ بْنِ أَبِي حَبِيبٍ عَنْ سَعِيدِ بْنِ أَبِي هِنْدٍ أَنَّ مُطَرِّفًا حَدَّثَهُ أَنَّ عُثْمَانَ بْنَ أَبِي الْعَاصِ قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ صِيَامٌ حَسَنٌ ثَلَاثَةُ أَيَّامٍ مِنْ الشَّهْرِ

বর্ণনাকারী: উসমান ইবনে আবুল আস ছাকাফী (রাঃ)

২৪১৩, কুতায়বা (রাহঃ) ......... উসমান ইবনে আবুল আস (রাযিঃ) বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-কে বলতে শুনেছি? উত্তম রোযা হল প্ৰতি মাসে তিন দিন রোযা পালন করা।

২৪১২

أَخْبَرَنَا زَكَرِيَّا بْنُ يَحْيَى قَالَ أَنْبَأَنَا أَبُو مُصْعَبٍ عَنْ مُغِيرَةَ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ سَعِيدِ بْنِ أَبِي هِنْدٍ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِسْحَقَ عَنْ سَعِيدِ بْنِ أَبِي هِنْدٍ قَالَ عُثْمَانُ بْنُ أَبِي الْعَاصِ نَحْوَهُ مُرْسَلٌ

বর্ণনাকারী: উসমান ইবনে আবুল আস ছাকাফী (রাঃ)

২৪১৪. যাকারিয়া ইবনে ইয়াহইয়া (রাহঃ) ......... উসমান ইবনে আবুল আস (রাযিঃ) মুরসালরূপে অনুরূপ বলেছেন।

২৪১৩

أَخْبَرَنَا يُوسُفُ بْنُ سَعِيدٍ قَالَ حَدَّثَنَا حَجَّاجٌ عَنْ شَرِيكٍ عَنْ الْحُرِّ بْنِ صَيَّاحٍ قَالَ سَمِعْتُ ابْنَ عُمَرَ يَقُولُ كَانَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَصُومُ ثَلَاثَةَ أَيَّامٍ مِنْ كُلِّ شَهْرٍ

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

২৪১৫. ইউসুফ ইবনে সাঈদ (রাহঃ) ......... ইবনে উমর (রাযিঃ) বলেছেন যে, (ﷺ) প্রত্যেক মাসে তিন দিন রোযা পালন করতেন।

প্রত্যেক মাসে তিন দিন রোযা কিভাবে পালন করবে এবং এ বিষয়ে রেওয়ায়ত বর্ণনাকারীদের বর্ণনার পার্থক্য

باب كَيْفَ يَصُومُ ثَلاَثَةَ أَيَّامٍ مِنْ كُلِّ شَهْرٍ وَذِكْرِ اخْتِلاَفِ النَّاقِلِينَ لِلْخَبَرِ فِي ذَلِكَ .

২৪১৪

أَخْبَرَنَا الْحَسَنُ بْنُ مُحَمَّدٍ الزَّعْفَرَانِيُّ قَالَ حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ سُلَيْمَانَ عَنْ شَرِيكٍ عَنْ الْحُرِّ بْنِ صَيَّاحٍ عَنْ ابْنِ عُمَرَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ يَصُومُ ثَلَاثَةَ أَيَّامٍ مِنْ كُلِّ شَهْرٍ يَوْمَ الِاثْنَيْنِ مِنْ أَوَّلِ الشَّهْرِ وَالْخَمِيسِ الَّذِي يَلِيهِ ثُمَّ الْخَمِيسِ الَّذِي يَلِيهِ

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

২৪১৬. হাসান ইবনে মুহাম্মাদ যাফরানী (রাহঃ) ......... ইবনে উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) প্রত্যেক মাসে তিন দিন রোযা পালন করতেন। মাসের প্রথম সপ্তাহে সোমবার, তার পরবর্তী সপ্তাহে বৃহস্পতিবার এবং তার পরবতী সপ্তাহে বৃহস্পতিবার।

২৪১৫

أَخْبَرَنَا عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عَلِيٍّ قَالَ حَدَّثَنَا خَلَفُ بْنُ تَمِيمٍ عَنْ زُهَيْرٍ عَنْ الْحُرِّ بْنِ الصَّيَّاحِ قَالَ سَمِعْتُ هُنَيْدَةَ الْخُزَاعِيَّ قَالَ دَخَلْتُ عَلَى أُمِّ الْمُؤْمِنِينَ سَمِعْتُهَا تَقُولُ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَصُومُ مِنْ كُلِّ شَهْرٍ ثَلَاثَةَ أَيَّامٍ أَوَّلَ اثْنَيْنِ مِنْ الشَّهْرِ ثُمَّ الْخَمِيسَ ثُمَّ الْخَمِيسَ الَّذِي يَلِيهِ

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হাফসা (রাঃ)

২৪১৭. আলী ইবনে মুহাম্মাদ (রাহঃ) ......... উম্মুল মু'মিনীন [হাফসা (রাযিঃ)] বলেছেন যে, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) প্রত্যেক মাসে তিন দিন রোযা পালন করতেন। মাসের প্রথম সোমবার, তারপর বৃহস্পতিবার এবং তার পরবর্তী বৃহস্পতিবার।

২৪১৬

أَخْبَرَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي النَّضْرِ قَالَ حَدَّثَنِي أَبُو النَّضْرِ قَالَ حَدَّثَنَا أَبُو إِسْحَقَ الْأَشْجَعِيُّ كُوفِيٌّ عَنْ عَمْرِو بْنِ قَيْسٍ الْمُلَائِيِّ عَنْ الْحُرِّ بْنِ الصَّيَّاحِ عَنْ هُنَيْدَةَ بْنِ خَالِدٍ الْخُزَاعِيِّ عَنْ حَفْصَةَ قَالَتْ أَرْبَعٌ لَمْ يَكُنْ يَدَعُهُنَّ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ صِيَامَ عَاشُورَاءَ وَالْعَشْرَ وَثَلَاثَةَ أَيَّامٍ مِنْ كُلِّ شَهْرٍ وَرَكْعَتَيْنِ قَبْلَ الْغَدَاةِ

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হাফসা (রাঃ)

২৪১৮ আবু বকর ইবনে আবু নযর (রাহঃ) ......... হাফসা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, চারটি আমল রাসূল (ﷺ) কখনো পরিত্যাগ করতেন না। আশুরার দিনের রোযা, যিলহজ্জ মাসের নয় দিনের রোযা, প্রত্যেক মাসে তিন দিনের রোযা এবং ফজরের দু’ রাক'আত সুন্নত।

২৪১৭

أَخْبَرَنِي أَحْمَدُ بْنُ يَحْيَى عَنْ أَبِي نُعَيْمٍ قَالَ حَدَّثَنَا أَبُو عَوَانَةَ عَنْ الْحُرِّ بْنِ الصَّيَّاحِ عَنْ هُنَيْدَةَ بْنِ خَالِدٍ عَنْ امْرَأَتِهِ عَنْ بَعْضِ أَزْوَاجِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ يَصُومُ تِسْعًا مِنْ ذِي الْحِجَّةِ وَيَوْمَ عَاشُورَاءَ وَثَلَاثَةَ أَيَّامٍ مِنْ كُلِّ شَهْرٍ أَوَّلَ اثْنَيْنِ مِنْ الشَّهْرِ وَخَمِيسَيْنِ

বর্ণনাকারী: বিবিধ

২৪১৯. আহমদ ইবনে ইয়াহইয়া (রাহঃ) ......... নবী (ﷺ) এর কোন স্ত্রী থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) যিলহজ্জ মাসের নয় দিন, আশুরার দিন এবং প্রত্যেক মাসের তিন দিন রোযা পালন করতেন-মাসের সোমবার এবং দুই বৃহস্পতিবার

২৪১৮

أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عُثْمَانَ بْنِ أَبِي صَفْوَانَ الثَّقَفِيُّ قَالَ حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ قَالَ حَدَّثَنَا أَبُو عَوَانَةَ عَنْ الْحُرِّ بْنِ الصَّيَّاحِ عَنْ هُنَيْدَةَ بْنِ خَالِدٍ عَنْ امْرَأَتِهِ عَنْ بَعْضِ أَزْوَاجِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَتْ كَانَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَصُومُ الْعَشْرَ وَثَلَاثَةَ أَيَّامٍ مِنْ كُلِّ شَهْرٍ الِاثْنَيْنِ وَالْخَمِيسَ

বর্ণনাকারী: বিবিধ

২৪২০. মুহাম্মাদ ইবনে উসমান (রাহঃ) ......... নবী (ﷺ) এর কোন স্ত্রী থেকে বর্ণিত, নবী (ﷺ) যিলহজ্জ মাসের নবম তারিখ এবং প্রত্যেক মাসের তিন দিন রোযা পালন করতেন-সোমবার (দু’ সোমবার) এবং বৃহস্পতিবার।

২৪১৯

أَخْبَرَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ سَعِيدٍ الْجَوْهَرِيُّ قَالَ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ فُضَيْلٍ عَنْ الْحَسَنِ بْنِ عُبَيْدِ اللَّهِ عَنْ هُنَيْدَةَ الْخُزَاعِيِّ عَنْ أُمِّهِ عَنْ أُمِّ سَلَمَةَ قَالَتْ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَأْمُرُ بِصِيَامِ ثَلَاثَةِ أَيَّامٍ أَوَّلِ خَمِيسٍ وَالِاثْنَيْنِ وَالِاثْنَيْنِ

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন উম্মে সালামা (রাঃ)

২৪২১. ইবরাহীম ইবনে সাঈদ জাওহারী (রাহঃ) ......... উম্মে সালামা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত । তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) প্রত্যেক মাসের তিন দিন রোযা পালন করার নির্দেশ দিতেন। মাসের প্রথম বৃহস্পতিবার, তারপরে পরবর্তী সোমবার এবং তার পরবর্তী সোমবার।

২৪২০

أَخْبَرَنَا مَخْلَدُ بْنُ الْحَسَنِ قَالَ حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ عَنْ زَيْدِ بْنِ أَبِي أُنَيْسَةَ عَنْ أَبِي إِسْحَقَ عَنْ جَرِيرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ صِيَامُ ثَلَاثَةِ أَيَّامٍ مِنْ كُلِّ شَهْرٍ صِيَامُ الدَّهْرِ وَأَيَّامُ الْبِيضِ صَبِيحَةَ ثَلَاثَ عَشْرَةَ وَأَرْبَعَ عَشْرَةَ وَخَمْسَ عَشْرَةَ

বর্ণনাকারী: জারীর ইবনে আব্দুল্লাহ বাজালী (রাঃ)

২৪২২, মাখলাদ ইবনে হাসান (রাহঃ) ......... জারীর ইবনে আব্দুল্লাহ (রাযিঃ) সূত্র থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, প্ৰত্যেক মাসের তিন দিন রোযা পালন করা সারা জীবন রোযা পালন করার সমতুল্য। আর আইয়ামে বীয - তের তারিখের সকাল থেকে চৌদ্দ এবং পনের তারিখ পর্যন্ত ।

মাসে তিন দিন রোযা পালন করা প্রসঙ্গে মুসা ইবনে তালহা (রাহঃ) থেকে বর্ণনাকারীদের বর্ণনা পার্থক্য

باب ذِكْرِ الاِخْتِلاَفِ عَلَى مُوسَى بْنِ طَلْحَةَ فِي الْخَبَرِ فِي صِيَامِ ثَلاَثَةِ أَيَّامٍ مِنَ الشَّهْرِ

২৪২১

أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ مَعْمَرٍ قَالَ حَدَّثَنَا حَبَّانُ قَالَ حَدَّثَنَا أَبُو عَوَانَةَ عَنْ عَبْدِ الْمَلِكِ بْنِ عُمَيْرٍ عَنْ مُوسَى بْنِ طَلْحَةَ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ جَاءَ أَعْرَابِيٌّ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِأَرْنَبٍ قَدْ شَوَاهَا فَوَضَعَهَا بَيْنَ يَدَيْهِ فَأَمْسَكَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَلَمْ يَأْكُلْ وَأَمَرَ الْقَوْمَ أَنْ يَأْكُلُوا وَأَمْسَكَ الْأَعْرَابِيُّ فَقَالَ لَهُ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَا يَمْنَعُكَ أَنْ تَأْكُلَ قَالَ إِنِّي صَائِمٌ ثَلَاثَةَ أَيَّامٍ مِنْ الشَّهْرِ قَالَ إِنْ كُنْتَ صَائِمًا فَصُمْ الْغُرَّ

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

২৪২৩. মুহাম্মাদ ইবনে মা’মার (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) এর কাছে একজন বেদুঈন একটি ভুনা খরগোশ নিয়ে আসল এবং তা রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) এর সামনে রাখল। রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) তা খাওয়া থেকে বিরত রইলেন। কিন্তু উপস্থিত সাহাবীগণকে তা খেতে বললেন। বেদুঈন ব্যক্তিও বিরত রইল। তখন রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) তাকে বললেন, তুমি কেন খাওয়া থেকে বিরত রাইলে? সে বলল, আমি মাসের তিন দিন রোযা পালন করছি। রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বললেন, যদি রোযা পালনই কর তবে আলোময় দিনের রোযাই পালন কর (আইয়ামে বীয্যের রোযা পালন কর)।

২৪২২

أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الْعَزِيزِ قَالَ أَنْبَأَنَا الْفَضْلُ بْنُ مُوسَى عَنْ فِطْرٍ عَنْ يَحْيَى بْنِ سَامٍ عَنْ مُوسَى بْنِ طَلْحَةَ عَنْ أَبِي ذَرٍّ قَالَ أَمَرَنَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنْ نَصُومَ مِنْ الشَّهْرِ ثَلَاثَةَ أَيَّامٍ الْبِيضَ ثَلَاثَ عَشْرَةَ وَأَرْبَعَ عَشْرَةَ وَخَمْسَ عَشْرَةَ

বর্ণনাকারী: হযরত আবু যার গিফারী (রাঃ)

২৪২৪. মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল আযীয (রাহঃ) ......... আবু যর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) আমাদেরকে প্রত্যেক মাসের আইয়ামে বীযের তিন দিন রোযা পালন করার নির্দেশ দিয়েছেন- তের তারিখ, চৌদ্দ তারিখ এবং পনের তারিখের।

২৪২৩

أَخْبَرَنَا عَمْرُو بْنُ يَزِيدَ قَالَ حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ قَالَ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ عَنْ الْأَعْمَشِ قَالَ سَمِعْتُ يَحْيَى بْنَ سَامٍ عَنْ مُوسَى بْنِ طَلْحَةَ عَنْ أَبِي ذَرٍّ قَالَ أَمَرَنَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنْ نَصُومَ مِنْ الشَّهْرِ ثَلَاثَةَ أَيَّامٍ الْبِيضَ ثَلَاثَ عَشْرَةَ وَأَرْبَعَ عَشْرَةَ وَخَمْسَ عَشْرَةَ

বর্ণনাকারী: হযরত আবু যার গিফারী (রাঃ)

২৪২৫. আমর ইবনে ইয়াযীদ (রাহঃ) ......... আবু যর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) আমাদেরকে প্রত্যেক মাসে আইয়ামে বীযের তিন দিন রোযা পালন করার নির্দেশ দিয়েছেন অর্থাৎ তের তারিখ, চৌদ্দ তারিখ এবং পনের তারিখের।

২৪২৪

أَخْبَرَنَا عَمْرُو بْنُ يَزِيدَ قَالَ حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ قَالَ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ عَنْ الْأَعْمَشِ قَالَ سَمِعْتُ يَحْيَى بْنَ سَامٍ عَنْ مُوسَى بْنِ طَلْحَةَ قَالَ سَمِعْتُ أَبَا ذَرٍّ بِالرَّبَذَةِ قَالَ قَالَ لِي رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا صُمْتَ شَيْئًا مِنْ الشَّهْرِ فَصُمْ ثَلَاثَ عَشْرَةَ وَأَرْبَعَ عَشْرَةَ وَخَمْسَ عَشْرَةَ

বর্ণনাকারী: হযরত আবু যার গিফারী (রাঃ)

২৪২৬. আমর ইবনে ইয়াযীদ (রাহঃ) ......... আবু যর (রাযিঃ) রাবাযা নামক স্থানে বলেছেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) আমাকে বলেছেনঃ তুমি যখন মাসের কোন রোযা পালন করবে তখন তের তারিখ, চৌদ্দ এবং পনের তারিখের রোযা পালন করবে।

২৪২৫

أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ مَنْصُورٍ عَنْ سُفْيَانَ عَنْ بَيَانِ بْنِ بِشْرٍ عَنْ مُوسَى بْنِ طَلْحَةَ عَنْ ابْنِ الْحَوْتَكِيَّةِ عَنْ أَبِي ذَرٍّ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ لِرَجُلٍ عَلَيْكَ بِصِيَامِ ثَلَاثَ عَشْرَةَ وَأَرْبَعَ عَشْرَةَ وَخَمْسَ عَشْرَةَ قَالَ أَبُو عَبْد الرَّحْمَنِ هَذَا خَطَأٌ لَيْسَ مِنْ حَدِيثِ بَيَانٍ وَلَعَلَّ سُفْيَانَ قَالَ حَدَّثَنَا اثْنَانِ فَسَقَطَ الْأَلِفُ فَصَارَ بَيَانٌ

বর্ণনাকারী: হযরত আবু যার গিফারী (রাঃ)

২৪২৭. মুহাম্মাদ ইবনে মনসুর (রাহঃ) ......... আবু যর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, নবী (ﷺ) এক ব্যক্তিকে বলেছিলেন, তোমার উপর তের তারিখ, চৌদ্দ তারিখ এবং পনের তারিখের রোযা পালন করা উচিত।

২৪২৬

أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى قَالَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ قَالَ حَدَّثَنَا رَجُلَانِ مُحَمَّدٌ وَحَكِيمٌ عَنْ مُوسَى بْنِ طَلْحَةَ عَنْ ابْنِ الْحَوْتَكِيَّةِ عَنْ أَبِي ذَرٍّ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَمَرَ رَجُلًا بِصِيَامِ ثَلَاثَ عَشْرَةَ وَأَرْبَعَ عَشْرَةَ وَخَمْسَ عَشْرَةَ

বর্ণনাকারী: হযরত আবু যার গিফারী (রাঃ)

২৪২৮. মুহাম্মাদ ইবনে মুছান্না (রাহঃ) ......... আবু যর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, নবী (ﷺ) এক ব্যক্তিকে তের তারিখ, চৌদ্দ তারিখ এবং পনের তারিখের রোযা পালন করার নির্দেশ দিয়েছিলেন।

২৪২৭

أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ عُثْمَانَ بْنِ حَكِيمٍ عَنْ بَكْرٍ عَنْ عِيسَى عَنْ مُحَمَّدٍ عَنْ الْحَكَمِ عَنْ مُوسَى بْنِ طَلْحَةَ عَنْ ابْنِ الْحَوْتَكِيَّةِ قَالَ قَالَ أَبِي جَاءَ أَعْرَابِيٌّ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَمَعَهُ أَرْنَبٌ قَدْ شَوَاهَا وَخُبْزٌ فَوَضَعَهَا بَيْنَ يَدَيْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ثُمَّ قَالَ إِنِّي وَجَدْتُهَا تَدْمَى فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لِأَصْحَابِهِ لَا يَضُرُّ كُلُوا وَقَالَ لِلْأَعْرَابِيِّ كُلْ قَالَ إِنِّي صَائِمٌ قَالَ صَوْمُ مَاذَا قَالَ صَوْمُ ثَلَاثَةِ أَيَّامٍ مِنْ الشَّهْرِ قَالَ إِنْ كُنْتَ صَائِمًا فَعَلَيْكَ بِالْغُرِّ الْبِيضِ ثَلَاثَ عَشْرَةَ وَأَرْبَعَ عَشْرَةَ وَخَمْسَ عَشْرَةَ قَالَ أَبُو عَبْد الرَّحْمَنِ الصَّوَابُ عَنْ أَبِي ذَرٍّ وَيُشْبِهُ أَنْ يَكُونَ وَقَعَ مِنْ الْكُتَّابِ ذَرٌّ فَقِيلَ أَبِي

বর্ণনাকারী: ইবনুল হাওতাকিয়্যা তার পিতা (রাঃ) থেকে

২৪২৯. আহমদ ইবনে উসমান (রাহঃ) ......... ইবনুল হাওতাকিয়্যা (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমার পিতা বলেছেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) এর কাছে এক বেদুঈন ব্যক্তি আসল, তার সাথে একটি ভুনা খরগোশ এবং কিছু রুটি ছিল। সে তা রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) এর সামনে রাখল এবং বলল যে, আমি তাকে রক্তস্রাব অবস্থায় পেয়েছি। রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) স্বীয় সাহাবীগণকে বললেন: এটা ক্ষতিকর নয়, অতএব তোমরা খাও এবং বেদুঈন ব্যক্তিটিকে বললেন, তুমিও খাও। সে বলল, আমি রোযা পালন করছি।

রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) জিজ্ঞাসা করলেন, এটা কিসের রোযা? সে বলল, মাসের তিন দিনের রোযা। রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বললেনঃ যদি তুমি রোযা পালন করই তবে উজ্জ্বল আলোময় দিনগুলোয় রোযা পালন কর অর্থাৎ তের তারিখ, চৌদ্দ তারিখ এবং পনের তারিখের ।
২৪২৮

أَخْبَرَنَا عَمْرُو بْنُ يَحْيَى بْنِ الْحَارِثِ قَالَ حَدَّثَنَا الْمُعَافَى بْنُ سُلَيْمَانَ قَالَ حَدَّثَنَا الْقَاسِمُ بْنُ مَعْنٍ عَنْ طَلْحَةَ بْنِ يَحْيَى عَنْ مُوسَى بْنِ طَلْحَةَ أَنَّ رَجُلًا أَتَى النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِأَرْنَبٍ وَكَانَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَدَّ يَدَهُ إِلَيْهَا فَقَالَ الَّذِي جَاءَ بِهَا إِنِّي رَأَيْتُ بِهَا دَمًا فَكَفَّ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَدَهُ وَأَمَرَ الْقَوْمَ أَنْ يَأْكُلُوا وَكَانَ فِي الْقَوْمِ رَجُلٌ مُنْتَبِذٌ فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَا لَكَ قَالَ إِنِّي صَائِمٌ فَقَالَ لَهُ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَهَلَّا ثَلَاثَ الْبِيضِ ثَلَاثَ عَشْرَةَ وَأَرْبَعَ عَشْرَةَ وَخَمْسَ عَشْرَةَ

বর্ণনাকারী: মুসা ইবনে তালহা (রহঃ)

২৪৩০. আমর ইবনে ইয়াহইয়া (রাহঃ) ......... মুসা ইবনে তালহা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, এক ব্যক্তি নবী (ﷺ) এর কাছে একটি খরগোশ নিয়ে আসল। নবী (ﷺ) তার দিকে হাত বাড়িয়ে দিলেন। তখন বাহক বলল যে, আমি এর সাথে রক্ত দেখেছি তারপর রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) হাত গুটিয়ে নিলেন এবং সাহাবীদের নির্দেশ দিলেন যে, তোমরা খাও, উপস্থিত সাহাবীদের মধ্যে একজন পাশে বসা ছিল। নবী (ﷺ) বললেন তোমার কি হল? সে বলল যে, আমি রোযা পালন করছি। নবী (ﷺ) তাকে বললেন, তুমি আইয়ামে বীযের তিন দিনের রোযা কখনো পরিত্যাগ করবে না। অর্থাৎ তের তারিখ, চৌদ্দ তারিখ এবং পনের তারিখের রোযা ।

২৪২৯

أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ إِسْمَعِيلَ بْنِ إِبْرَاهِيمَ قَالَ حَدَّثَنَا يَعْلَى عَنْ طَلْحَةَ بْنِ يَحْيَى عَنْ مُوسَى بْنِ طَلْحَةَ قَالَ أُتِيَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِأَرْنَبٍ قَدْ شَوَاهَا رَجُلٌ فَلَمَّا قَدَّمَهَا إِلَيْهِ قَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنِّي قَدْ رَأَيْتُ بِهَا دَمًا فَتَرَكَهَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَلَمْ يَأْكُلْهَا وَقَالَ لِمَنْ عِنْدَهُ كُلُوا فَإِنِّي لَوْ اشْتَهَيْتُهَا أَكَلْتُهَا وَرَجُلٌ جَالِسٌ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ادْنُ فَكُلْ مَعَ الْقَوْمِ فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنِّي صَائِمٌ قَالَ فَهَلَّا صُمْتَ الْبِيضَ قَالَ وَمَا هُنَّ قَالَ ثَلَاثَ عَشْرَةَ وَأَرْبَعَ عَشْرَةَ وَخَمْسَ عَشْرَةَ

বর্ণনাকারী: মুসা ইবনে তালহা (রহঃ)

২৪৩১. মুহাম্মাদ ইবনে ইসমাঈল (রাহঃ) ......... মুসা ইবনে তালহা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) এর কাছে এক ব্যক্তি একটি ভুনা খরগোশ রেখে বলল, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমি এর সাথে রক্ত দেখেছি। তখন রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বিরত রইলেন এবং খেলেন না, কিন্তু তাঁর সামনে যারা ছিলেন তাদেরকে বললেন, তোমরা খাও। কেননা আমার আগ্রহ থাকলে আমিও খেতাম। আর এক ব্যক্তি পাশে বসা ছিল। রাসূলুল্লাহ(ﷺ) তাকে বললেন, এসো। এদের সাথে খাও। সে বলল, ইয়া রাসূলাল্লাহ্ ! আমি রোযা পালন করছি। তখন তিনি বললেন, তুমি আইয়ামে বীযের রোযা কেন পালন করলে না? সে বলল, আইয়ামে বীয কি? রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বললেন, তের তারিখ, চৌদ্দ তারিখ এবং পনের তারিখ।

২৪৩০

أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الْأَعْلَى قَالَ حَدَّثَنَا خَالِدٌ عَنْ شُعْبَةَ قَالَ أَنْبَأَنَا أَنَسُ بْنُ سِيرِينَ عَنْ رَجُلٍ يُقَالُ لَهُ عَبْدُ الْمَلِكِ يُحَدِّثُ عَنْ أَبِيهِ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ يَأْمُرُ بِهَذِهِ الْأَيَّامِ الثَّلَاثِ الْبِيضِ وَيَقُولُ هُنَّ صِيَامُ الشَّهْرِ

বর্ণনাকারী: বিবিধ

২৪৩২. মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল আ’লা (রাহঃ) ......... আব্দুল মালিক (রাহঃ)-এর পিতা থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) আইয়ামে বীযের এই তিন দিন রোযা পালন করার নির্দেশ দিতেন এবং বলতেন যে, এই তিন দিনের রোযা সারা মাসের রোযা পালন করার সমতুল্য।

২৪৩১

أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ حَاتِمٍ قَالَ أَنْبَأَنَا حِبَّانُ قَالَ أَنْبَأَنَا عَبْدُ اللَّهِ عَنْ شُعْبَةَ عَنْ أَنَسِ بْنِ سِيرِينَ قَالَ سَمِعْتُ عَبْدَ الْمَلِكِ بْنَ أَبِي الْمِنْهَالِ يُحَدِّثُ عَنْ أَبِيهِ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَمَرَهُمْ بِصِيَامِ ثَلَاثَةِ أَيَّامٍ الْبِيضِ قَالَ هِيَ صَوْمُ الشَّهْرِ

বর্ণনাকারী: বিবিধ

২৪৩৩. মুহাম্মাদ ইবনে হাতিম (রাহঃ) ......... আব্দুল মালিক (রাহঃ)-এর পিতা আবুল মিনহাল (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, (ﷺ) তাদেরকে আইয়ামে বীযের তিন দিনের রোযা পালন করার নির্দেশ দিতেন এবং বলতেন যে, এই তিন দিনের রোযা সারা মাস রোযা পালন করার সমতুল্য।

২৪৩২

أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ مَعْمَرٍ قَالَ حَدَّثَنَا حَبَّانُ قَالَ حَدَّثَنَا هَمَّامٌ قَالَ حَدَّثَنَا أَنَسُ بْنُ سِيرِينَ قَالَ حَدَّثَنِي عَبْدُ الْمَلِكِ بْنُ قُدَامَةَ بْنِ مِلْحَانَ عَنْ أَبِيهِ قَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَأْمُرُنَا بِصَوْمِ أَيَّامِ اللَّيَالِي الْغُرِّ الْبِيضِ ثَلَاثَ عَشْرَةَ وَأَرْبَعَ عَشْرَةَ وَخَمْسَ عَشْرَةَ

বর্ণনাকারী: বিবিধ

২৪৩৪. মুহাম্মাদ ইবনে মামার (রাহঃ) ......... আব্দুল মালিক (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) আমাদেরকে আলোকোজ্জ্বল রাত বিশিষ্ট আইয়ামের বীযের তিন দিনের রোযা পালন করার নির্দেশ দিয়েছেন। তের, চৌদ্দ এবং পনের তারিখের।

প্রতি মাসে দুই দিন রোযা পালন করা

باب صَوْمِ يَوْمَيْنِ مِنَ الشَّهْرِ

২৪৩৩

أَخْبَرَنَا عَمْرُو بْنُ عَلِيٍّ قَالَ حَدَّثَنِي سَيْفُ بْنُ عُبَيْدِ اللَّهِ مِنْ خِيَارِ الْخَلْقِ قَالَ حَدَّثَنَا الْأَسْوَدُ بْنُ شَيْبَانَ عَنْ أَبِي نَوْفَلِ بْنِ أَبِي عَقْرَبٍ عَنْ أَبِيهِ قَالَ سَأَلْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنْ الصَّوْمِ فَقَالَ صُمْ يَوْمًا مِنْ الشَّهْرِ قُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ زِدْنِي زِدْنِي قَالَ تَقُولُ يَا رَسُولَ اللَّهِ زِدْنِي زِدْنِي يَوْمَيْنِ مِنْ كُلِّ شَهْرٍ قُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ زِدْنِي زِدْنِي إِنِّي أَجِدُنِي قَوِيًّا فَقَالَ زِدْنِي زِدْنِي أَجِدُنِي قَوِيًّا فَسَكَتَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ حَتَّى ظَنَنْتُ أَنَّهُ لَيَرُدُّنِي قَالَ صُمْ ثَلَاثَةَ أَيَّامٍ مِنْ كُلِّ شَهْرٍ

বর্ণনাকারী: আবু আকরাব (রাঃ)

২৪৩৫. আমর ইবনে আলী (রাহঃ) ......... আবু নওফল (রাহঃ)-এর পিতা আবু আকারাব (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-কে একবার (নফল) রোযা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম। তিনি বললেন, তুমি প্রতি মাসে এক দিন রোযা পালন কর। আমি বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আরো বাড়িয়ে দিন। আরো বাড়িয়ে দিন। রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বললেন, তুমি বলছ, আরো বাড়িয়ে দিন, আরো বাড়িয়ে দিন ইয়া রাসূলাল্লাহ! তাহলে প্রতি মাসে দু’দিন।

আমি বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ। আর একটু বাড়িয়ে দিন, আর একটু বাড়িয়ে দিন, আমি এর চেয়েও অধিক রোযা পালন করার সামর্থ্য রাখি। তিনি বললেন, “আর একটু বাড়িয়ে দিন, আর একটু বাড়িয়ে দিন, আমি এর চেয়েও অধিক রোযা পালন করার সামর্থ্য রাখি!" একথা বলে রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) চুপ হয়ে গেলেন। আমি ধারণা করলাম যে, তিনি নিশ্চয়ই আমার আবেদনে সাড়া দিবেন। রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বললেন, তুমি প্রত্যেক মাসে তিন দিন রোযা পালন কর।
২৪৩৪

أَخْبَرَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ سَلَّامٍ قَالَ حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ قَالَ أَنْبَأَنَا الْأَسْوَدُ بْنُ شَيْبَانَ عَنْ أَبِي نَوْفَلِ بْنِ أَبِي عَقْرَبٍ عَنْ أَبِيهِ أَنَّهُ سَأَلَ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنْ الصَّوْمِ فَقَالَ صُمْ يَوْمًا مِنْ كُلِّ شَهْرٍ وَاسْتَزَادَهُ قَالَ بِأَبِي أَنْتَ وَأُمِّي أَجِدُنِي قَوِيًّا فَزَادَهُ قَالَ صُمْ يَوْمَيْنِ مِنْ كُلِّ شَهْرٍ فَقَالَ بِأَبِي أَنْتَ وَأُمِّي يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنِّي أَجِدُنِي قَوِيًّا فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِنِّي أَجِدُنِي قَوِيًّا إِنِّي أَجِدُنِي قَوِيًّا فَمَا كَادَ أَنْ يَزِيدَهُ فَلَمَّا أَلَحَّ عَلَيْهِ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ صُمْ ثَلَاثَةَ أَيَّامٍ مِنْ كُلِّ شَهْرٍ

বর্ণনাকারী: আবু আকরাব (রাঃ)

২৪৩৬. আব্দুর রহমান ইবনে মুহাম্মাদ (রাহঃ) ......... আবু নওফল (রাযিঃ)-এর পিতা আবু আকারাব (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি নবী (ﷺ)-কে রোযা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলেন। তিনি বললেন, তুমি প্রত্যেক মাসে একদিন রোযা পালন কর। তিনি রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) এর কাছে আরো সময় বাড়ানোর আবেদন করে বললেন, আপনার উপর আমার পিতা-মাতা কুরবান হােক। আমি তো এর চেয়েও অধিক রোযা পালনের সামৰ্থ্য রাখি। তখন রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) তাকে সময় আরো বাড়িয়ে দিলেন। তিনি বললেন, তুমি প্রতি মাসে দু’দিন রোযা পালন কর। তখন তিনি বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আপনার উপর আমার পিতা-মাতা কুরবান হােক।

আমি তো এর চেয়েও অধিক রোযা পালন করার সামৰ্থ্য রাখি। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাকে সময় আরো বাড়িয়ে দিলেন। তিনি বললেন, তুমি প্রতি মাসে দুদিন রোযা পালন কর। তখন তিনি বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আপনার উপর আমার পিতা-মাতা কুরবান হােক। “আমি তো এর চেয়েও অধিক রোযা পালন করার সামর্থ্য রাখি। রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বললেন, আমি তো এর চেয়েও অধিক রোযা পালন করার সামর্থ্য রাখি। আমি তো এর চেয়েও অধিক রোযা পালন করার সামৰ্থ্য রাখি। রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) তার জন্য বাড়াতেই রাজী ছিলেন না। যখন তিনি রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) এর কাছে বারবার মিনতি করছিলেন তখন রাসূলুল্লাহ বললেন, তুমি প্রতি মাসে তিন দিন রোযা পালন কর।