كتاب الإمامة

১০. ইমামত - জামাআতের অধ্যায়

অধ্যায় ১০ · ৯৯ টি হাদীস

ইমামত ও জামাআত:আলিম এবং মর্যাদাবানদের ইমামত।

ذكر الإمامة والجماعة :<br>إمامة أهل العلم والفضل

৭৭৭

أَخْبَرَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، وَهَنَّادُ بْنُ السَّرِيِّ، عَنْ حُسَيْنِ بْنِ عَلِيٍّ، عَنْ زَائِدَةَ، عَنْ عَاصِمٍ، عَنْ زِرٍّ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ لَمَّا قُبِضَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَتِ الأَنْصَارُ مِنَّا أَمِيرٌ وَمِنْكُمْ أَمِيرٌ . فَأَتَاهُمْ عُمَرُ فَقَالَ أَلَسْتُمْ تَعْلَمُونَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَدْ أَمَرَ أَبَا بَكْرٍ أَنْ يُصَلِّيَ بِالنَّاسِ فَأَيُّكُمْ تَطِيبُ نَفْسُهُ أَنْ يَتَقَدَّمَ أَبَا بَكْرٍ قَالُوا نَعُوذُ بِاللَّهِ أَنْ نَتَقَدَّمَ أَبَا بَكْرٍ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ)

৭৭৮। ইসহাক ইবনে ইবরাহীম ও হান্নাদ ইবনে সাররী (রাহঃ) ......... আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যখন ইন্তিকাল করলেন, আনসার সম্পদায় বললেন, আমাদের মধ্য থেকে একজন আমীর হবে আর তোমাদের মধ্য থেকে একজন আমীর হবে। তাঁদের নিকট উমর (রাযিঃ) এসে বললেনঃ তোমরা কি জান না যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আবু বকর (রাযিঃ)-কে আদেশ করেছিলেন, লোকের ইমাম হয়ে নামায আদায় করতে? অতএব তোমাদের মধ্যে কার মন খুশি হবে আবু বকরের অগ্রগামী হতে? তাঁরা বললেন, নাউযু বিল্লাহ! আমরা আবু বকরের অগ্রবর্তী হতে চাই না।

অত্যাচারী শাসকের সাথে নামায পড়া।

الصلاة مع أئمة الجور

৭৭৮

أَخْبَرَنَا زِيَادُ بْنُ أَيُّوبَ، قَالَ حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ ابْنُ عُلَيَّةَ، قَالَ حَدَّثَنَا أَيُّوبُ، عَنْ أَبِي الْعَالِيَةِ الْبَرَّاءِ، قَالَ أَخَّرَ زِيَادٌ الصَّلاَةَ فَأَتَانِي ابْنُ صَامِتٍ فَأَلْقَيْتُ لَهُ كُرْسِيًّا فَجَلَسَ عَلَيْهِ فَذَكَرْتُ لَهُ صُنْعَ زِيَادٍ فَعَضَّ عَلَى شَفَتَيْهِ وَضَرَبَ عَلَى فَخِذِي وَقَالَ إِنِّي سَأَلْتُ أَبَا ذَرٍّ كَمَا سَأَلْتَنِي فَضَرَبَ فَخِذِي كَمَا ضَرَبْتُ فَخِذَكَ وَقَالَ إِنِّي سَأَلْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَمَا سَأَلْتَنِي فَضَرَبَ فَخِذِي كَمَا ضَرَبْتُ فَخِذَكَ فَقَالَ عَلَيْهِ الصَّلاَةُ وَالسَّلاَمُ " صَلِّ الصَّلاَةَ لِوَقْتِهَا فَإِنْ أَدْرَكْتَ مَعَهُمْ فَصَلِّ وَلاَ تَقُلْ إِنِّي صَلَّيْتُ فَلاَ أُصَلِّي "

বর্ণনাকারী: হযরত আবু যার গিফারী (রাঃ)

৭৭৯। যিয়াদ ইবনে আইয়্যুব (রাহঃ) ......... আবুল আলিয়া বাররা (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, যিয়াদ বিলম্বে নামায আদায় করল। তারপর ইবনে সামিত (রাযিঃ) আমার নিকট আসলে আমি তাঁর জন্য একখানা কুরসী পেতে দিলাম। তিনি তার উপর উপবেশন করলেন। আমি তার নিকট যিয়াদের কান্ড বর্ণনা করলাম- তিনি তার ওষ্ঠদ্বয় কামড়ে ধরলেন এবং আমার উরুদেশ চেপে ধরলেন এবং বললেনঃ আমি আবু যর (রাযিঃ) কে জিজ্ঞাসা করেছিলাম যেমন তুমি আমাকে জিজ্ঞাসা করলে। তিনিও আমার উষ্ঠদেশে হাত মেরেছিলেন যেমন আমি হাত মেরেছি তোমার উরুর উপর এবং বলেছিলেনঃ আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে জিজ্ঞাসা করেছিলাম যেমন তুমি আমাকে জিজ্ঞাসা করলে। তারপর তিনি আমার উরুতে হাত মারলেন, যেমন আমি তোমার উরুতে হাত মেরেছি। এরপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছিলেনঃ নামায যথাসময়ে আদায় করবে। যদি তাদের সাথে নামায পাও, তবে আদায় করে নিবে কিন্তু একথা বলো না যে আমি নামায আদায় করে ফেলেছি এখন আর আদায় করবো না।

৭৭৯

أَخْبَرَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ سَعِيدٍ، قَالَ حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ عَيَّاشٍ، عَنْ عَاصِمٍ، عَنْ زِرٍّ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " لَعَلَّكُمْ سَتُدْرِكُونَ أَقْوَامًا يُصَلُّونَ الصَّلاَةَ لِغَيْرِ وَقْتِهَا فَإِنْ أَدْرَكْتُمُوهُمْ فَصَلُّوا الصَّلاَةَ لِوَقْتِهَا وَصَلُّوا مَعَهُمْ وَاجْعَلُوهَا سُبْحَةً " .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ)

৭৮০। উবাইদুল্লাহ ইবনে সাঈদ (রাহঃ) ......... আব্দুল্লাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ হয়ত তোমরা এমন লোকের সাক্ষাত পাবে যারা অসময়ে নামায আদায় করবে। যদি তোমরা তাদের পাও, তাহলে সময়মত নামায আদায় করবে এবং তাদের সাথে নামায আদায় করবে এবং তা নফল ধরে নেবে।

কে ইমাম হওয়ার যোগ্য ব্যক্তি

من أحق بالإمامة

৭৮০

أَخْبَرَنَا قُتَيْبَةُ، قَالَ أَنْبَأَنَا فُضَيْلُ بْنُ عِيَاضٍ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ إِسْمَاعِيلَ بْنِ رَجَاءٍ، عَنْ أَوْسِ بْنِ ضَمْعَجٍ، عَنْ أَبِي مَسْعُودٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " يَؤُمُّ الْقَوْمَ أَقْرَؤُهُمْ لِكِتَابِ اللَّهِ فَإِنْ كَانُوا فِي الْقِرَاءَةِ سَوَاءً فَأَقْدَمُهُمْ فِي الْهِجْرَةِ فَإِنْ كَانُوا فِي الْهِجْرَةِ سَوَاءً فَأَعْلَمُهُمْ بِالسُّنَّةِ فَإِنْ كَانُوا فِي السُّنَّةِ سَوَاءً فَأَقْدَمُهُمْ سِنًّا وَلاَ تَؤُمَّ الرَّجُلَ فِي سُلْطَانِهِ وَلاَ تَقْعُدْ عَلَى تَكْرِمَتِهِ إِلاَّ أَنْ يَأْذَنَ لَكَ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু মাসউদ বদরী আনসারী (রাঃ)

৭৮১। কুতায়বা (রাহঃ) ......... আবু মাসউদ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ দলের ইমামতি করবে ঐ ব্যক্তি যে তাদের মধ্যে আল্লাহর কিতাব অধিক ভাল পাঠ করে। যদি তারা সকলেই কিরাআতে সমপর্যায়ভুক্ত হয়, তাহলে তাদের মধ্যে যে পূর্বে হিজরত করেছে। যদি তারা সকলেই হিজরতে সমপর্যায়ের হয়, তবে তাদের মধ্যে যে সুন্নাহ সম্পর্কে অধিক জ্ঞাত। যদি তারা সুন্নাহতেও যদি সমপর্যাযের হয়, তাহলে যার বয়স অধিক, সে ব্যক্তি। আর তুমি কোন ব্যক্তির কর্তূতের স্থানে ইমামতি করবে না। আর তুমি তার আসনে উপবেশন করবে না, হ্যাঁ, যদি তিনি তোমাকে অনুমতি দেন।

যে বয়সে বড় তাকে ইমাম মনোনীত করা।

تقديم ذوي السن

৭৮১

أَخْبَرَنَا حَاجِبُ بْنُ سُلَيْمَانَ الْمَنْبِجِيُّ، عَنْ وَكِيعٍ، عَنْ سُفْيَانَ، عَنْ خَالِدٍ الْحَذَّاءِ، عَنْ أَبِي قِلاَبَةَ، عَنْ مَالِكِ بْنِ الْحُوَيْرِثِ، قَالَ أَتَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَنَا وَابْنُ عَمٍّ لِي - وَقَالَ مَرَّةً أَنَا وَصَاحِبٌ لِي - فَقَالَ " إِذَا سَافَرْتُمَا فَأَذِّنَا وَأَقِيمَا وَلْيَؤُمَّكُمَا أَكْبَرُكُمَا " .

বর্ণনাকারী: মালিক ইবনে হুওয়াইরিস (রাঃ)

৭৮২। হাজিব ইবনে সুলাইমান মানবিজী (রাহঃ) ......... মালিক ইবনে হুয়াইরিস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক সময় আমি এবং আমার এক চাচাত ভাই রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট এলাম। অন্য এক সময় বলেছেন, আমি এবং আমার এক সাথী রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকট এলে তিনি বললেনঃ যখন তোমরা সফর করবে, তখন তোমরা আযান দিবে এবং ইকামত বলবে, আর তোমাদের ইমামতি করবে, তোমাদের মধ্যে যে বয়সে বড়।

একদল লোকের এমন স্থানে একত্রিত হওয়া যেখানে সকলেই সমান।

اجتماع القوم في موضع هم فيه سواء

৭৮২

أَخْبَرَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ سَعِيدٍ، عَنْ يَحْيَى، عَنْ هِشَامٍ، قَالَ حَدَّثَنَا قَتَادَةُ، عَنْ أَبِي نَضْرَةَ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " إِذَا كَانُوا ثَلاَثَةً فَلْيَؤُمَّهُمْ أَحَدُهُمْ وَأَحَقُّهُمْ بِالإِمَامَةِ أَقْرَؤُهُمْ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ)

৭৮৩। উবাইদুল্লাহ ইবনে সাঈদ (রাহঃ) ......... আবু সাঈদ (রাযিঃ) সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন তিন ব্যক্তি একত্র হবে তখন তাদের একজন ইমামতি করবে আর তাদের মধ্যে ইমামতের অধিক হকদার সেই- যে বেশী কুরআন জানে।

যদি দলে শাসক উপস্থিত থাকেন।

اجتماع القوم وفيهم الوالي

৭৮৩

أَخْبَرَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ مُحَمَّدٍ التَّيْمِيُّ، قَالَ حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ، عَنْ شُعْبَةَ، عَنْ إِسْمَاعِيلَ بْنِ رَجَاءٍ، عَنْ أَوْسِ بْنِ ضَمْعَجٍ، عَنْ أَبِي مَسْعُودٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " لاَ يُؤَمُّ الرَّجُلُ فِي سُلْطَانِهِ وَلاَ يُجْلَسُ عَلَى تَكْرِمَتِهِ إِلاَّ بِإِذْنِهِ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু মাসউদ বদরী আনসারী (রাঃ)

৭৮৪। ইবরাহীম ইবনে মুহাম্মাদ তায়মী (রাহঃ) ......... আবু মাসউদ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ কোন ব্যক্তির কর্তৃত্বের স্থানে অন্য কেউ তার ইমাম হবে না। অথবা তার বসার স্থানেও বসা যাবে না। হ্যাঁ, তার অনুমতি পেলে ভিন্ন কথা।

প্রজার ইমামতের সময় শাসক আসলে।

إذا تقدم الرجل من الرعية ثم جاء الوالي , هل يتأخر؟

৭৮৪

أَخْبَرَنَا قُتَيْبَةُ، قَالَ حَدَّثَنَا يَعْقُوبُ، - وَهُوَ ابْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ - عَنْ أَبِي حَازِمٍ، عَنْ سَهْلِ بْنِ سَعْدٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بَلَغَهُ أَنَّ بَنِي عَمْرِو بْنِ عَوْفٍ كَانَ بَيْنَهُمْ شَىْءٌ فَخَرَجَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لِيُصْلِحَ بَيْنَهُمْ فِي أُنَاسٍ مَعَهُ فَحُبِسَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَحَانَتِ الأُولَى فَجَاءَ بِلاَلٌ إِلَى أَبِي بَكْرٍ فَقَالَ يَا أَبَا بَكْرٍ إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَدْ حُبِسَ وَقَدْ حَانَتِ الصَّلاَةُ فَهَلْ لَكَ أَنْ تَؤُمَّ النَّاسَ قَالَ نَعَمْ إِنْ شِئْتَ . فَأَقَامَ بِلاَلٌ وَتَقَدَّمَ أَبُو بَكْرٍ فَكَبَّرَ بِالنَّاسِ وَجَاءَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَمْشِي فِي الصُّفُوفِ حَتَّى قَامَ فِي الصَّفِّ وَأَخَذَ النَّاسُ فِي التَّصْفِيقِ وَكَانَ أَبُو بَكْرٍ لاَ يَلْتَفِتُ فِي صَلاَتِهِ فَلَمَّا أَكْثَرَ النَّاسُ الْتَفَتَ فَإِذَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَأَشَارَ إِلَيْهِ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَأْمُرُهُ أَنْ يُصَلِّيَ فَرَفَعَ أَبُو بَكْرٍ يَدَيْهِ فَحَمِدَ اللَّهَ عَزَّ وَجَلَّ وَرَجَعَ الْقَهْقَرَى وَرَاءَهُ حَتَّى قَامَ فِي الصَّفِّ فَتَقَدَّمَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَصَلَّى بِالنَّاسِ فَلَمَّا فَرَغَ أَقْبَلَ عَلَى النَّاسِ فَقَالَ " يَا أَيُّهَا النَّاسُ مَا لَكُمْ حِينَ نَابَكُمْ شَىْءٌ فِي الصَّلاَةِ أَخَذْتُمْ فِي التَّصْفِيقِ إِنَّمَا التَّصْفِيقُ لِلنِّسَاءِ مَنْ نَابَهُ شَىْءٌ فِي صَلاَتِهِ فَلْيَقُلْ سُبْحَانَ اللَّهِ فَإِنَّهُ لاَ يَسْمَعُهُ أَحَدٌ حِينَ يَقُولُ سُبْحَانَ اللَّهِ إِلاَّ الْتَفَتَ إِلَيْهِ يَا أَبَا بَكْرٍ مَا مَنَعَكَ أَنْ تُصَلِّيَ لِلنَّاسِ حِينَ أَشَرْتُ إِلَيْكَ " . قَالَ أَبُو بَكْرٍ مَا كَانَ يَنْبَغِي لاِبْنِ أَبِي قُحَافَةَ أَنْ يُصَلِّيَ بَيْنَ يَدَىْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم

বর্ণনাকারী: হযরত সাহল ইবনে সা'দ সাঈ'দী (রাঃ)

৭৮৫। কুতায়বা (রাহঃ) ......... সাহল ইবনে সা’দ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট সংবাদ পৌঁছল যে, বনু আমর ইবনে আউফ-এর মধ্যে কোন বিরোধ দেখা দিয়েছে। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কিছু লোকসহ তাদের মধ্যে মীমাংসা করার জন্য বের হলেন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) সেখানে কাজে আটকা পড়লেন। ইত্যবসরে যোহরের সময় হলো। বিলাল (রাযিঃ) আবু বকর (রাযিঃ)-এর নিকট এসে বললেনঃ হে আবু বকর (রাযিঃ) রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তো আটকা পড়েছেন, আর এদিকে নামাযের সময় হয়েছে। আপনি কি লোকদের ইমাম হবেন? তিনি বললেন, হ্যাঁ, যদি তুমি ইচ্ছা কর। তখন বিলাল (রাযিঃ) ইকামত বললেন আর আবু বকর (রাযিঃ) সন্মুখে অগ্রসর হলেন। তিনি লোকদের নিয়ে নামাযের তাকবীর বললেন। এদিকে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) হেঁটে এসে কাতারে দাঁড়ালেন। আর লোক (রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর উপস্থিতির কথা জানানোর জন্য) হাত তালি দিতে লাগলেন।

আবু বকর (রাযিঃ) নামাযের মধ্যে এদিকে লক্ষ্য করছিলেন না। যখন লোক এগুলো বারবার করতে লাগলেন তখন তিনি লক্ষ্য করে দেখলেন যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) উপস্থিত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাকে ইঙ্গিতে নামায আদায় করতে আদেশ করলেন। আবু বকর (রাযিঃ) তার হস্তদ্বয় উত্তোলন করে আল্লাহর প্রশ্নংসা করলেন এবং পেছনে সরে আসলেন এবং নামাযের কাতারে দাঁড়িয়ে গেলেন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ), সম্মুখে অগ্রসর হয়ে লোকদের নিয়ে নামায আদায় করলেন।

তিনি নামায শেয করে লোকদের দিকে ফিরে বললেনঃ হে লোক সকল! তোমাদের কি হলো যে নামাযে কোন সমস্যা দেখা দিলে তোমরা হাত তালি দিতে আরম্ভ কর? হাত তালি দেওয়া তো নারীদের জন্য। নামাযে কারো কোন সমস্যা দেখা দিলে সে যেন সূবহানাল্লাহ বলে। কেননা সুবহানাল্লাহ বলতে শুনলে সকলের তার দিকে লক্ষ্য করবে। (তারপর তিনি বললেনঃ) হে আবু বকর! আমি যখন তোমার প্রতি ইঙ্গিত করলাম তখন নামায আদায় করা থেকে তোমাকে কোন বস্তু বিরত রাখলো? আবু বকর (রাযিঃ) বললেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সামনে আবু কুহাফার পূত্রের ইমামতি করা শোভা পায় না।

অধীনস্থের পেছনে শাসকের নামায পড়া।

صلاة الإمام خلف رجل من رعيته

৭৮৫

أَخْبَرَنَا عَلِيُّ بْنُ حُجْرٍ، قَالَ حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ، قَالَ حَدَّثَنَا حُمَيْدٌ، عَنْ أَنَسٍ، قَالَ آخِرُ صَلاَةٍ صَلاَّهَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مَعَ الْقَوْمِ صَلَّى فِي ثَوْبٍ وَاحِدٍ مُتَوَشِّحًا خَلْفَ أَبِي بَكْرٍ .

বর্ণনাকারী: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

৭৮৬। আলী ইবনে হুজর (রাহঃ) ......... আনাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) সর্বশেষ যে নামায লোকের সাথে জামাআতে আদায় করেন তা ছিল আবু বকর (রাযিঃ)-এর পেছনে। তিনি এক কাপড়ে নামায আদায় করেছিলেন এবং বিপরীত দিক হতে কাঁধের ওপর কাপড় পরে বুকের ওপর এর দুপ্রান্তে গিট দিয়ে নিয়েছিলেন।

৭৮৬

أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، قَالَ حَدَّثَنَا بَكْرُ بْنُ عِيسَى، - صَاحِبُ الْبُصْرَى - قَالَ سَمِعْتُ شُعْبَةَ، يَذْكُرُ عَنْ نُعَيْمِ بْنِ أَبِي هِنْدٍ، عَنْ أَبِي وَائِلٍ، عَنْ مَسْرُوقٍ، عَنْ عَائِشَةَ، رضى الله عنها أَنَّ أَبَا بَكْرٍ، صَلَّى لِلنَّاسِ وَرَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي الصَّفِّ .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

৭৮৭। মুহাম্মাদ ইবনে মুসান্না (রাহঃ) ......... আয়িশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। আবু বকর (রাযিঃ) লোকের ইমাম হয়ে নামায আদায় করলেন আর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ছিলেন তাঁর পেছনের কাতারে।

সাক্ষাতকারীর ইমামতি।

إمامة الزائر

৭৮৭

أَخْبَرَنَا سُوَيْدُ بْنُ نَصْرٍ، قَالَ أَنْبَأَنَا عَبْدُ اللَّهِ، عَنْ أَبَانَ بْنِ يَزِيدَ، قَالَ حَدَّثَنَا بُدَيْلُ بْنُ مَيْسَرَةَ، قَالَ حَدَّثَنَا أَبُو عَطِيَّةَ، مَوْلًى لَنَا عَنْ مَالِكِ بْنِ الْحُوَيْرِثِ، قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " إِذَا زَارَ أَحَدُكُمْ قَوْمًا فَلاَ يُصَلِّيَنَّ بِهِمْ " .

বর্ণনাকারী: মালিক ইবনে হুওয়াইরিস (রাঃ)

৭৮৮। সুয়ায়দ ইবনে নসর (রাহঃ) ......... মালিক ইবনে হুয়ায়রিস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে বলতে শুনেছি, যখন তোমাদের কেউ কোন দলের সাক্ষাতের জন্য যায়, তখন সে যেন তাদের ইমামতি না করে।

অন্ধের ইমামতি।

إمامة الأعمى

৭৮৮

أَخْبَرَنَا هَارُونُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ حَدَّثَنَا مَعْنٌ، قَالَ حَدَّثَنَا مَالِكٌ، ح قَالَ وَحَدَّثَنَا الْحَارِثُ بْنُ مِسْكِينٍ، قِرَاءَةً عَلَيْهِ وَأَنَا أَسْمَعُ، - وَاللَّفْظُ لَهُ - عَنِ ابْنِ الْقَاسِمِ، قَالَ حَدَّثَنِي مَالِكٌ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ مَحْمُودِ بْنِ الرَّبِيعِ، . أَنَّ عِتْبَانَ بْنَ مَالِكٍ، كَانَ يَؤُمُّ قَوْمَهُ وَهُوَ أَعْمَى وَأَنَّهُ قَالَ لِرَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِنَّهَا تَكُونُ الظُّلْمَةُ وَالْمَطَرُ وَالسَّيْلُ وَأَنَا رَجُلٌ ضَرِيرُ الْبَصَرِ فَصَلِّ يَا رَسُولَ اللَّهِ فِي بَيْتِي مَكَانًا أَتَّخِذُهُ مُصَلًّى . فَجَاءَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ " أَيْنَ تُحِبُّ أَنْ أُصَلِّيَ لَكَ " . فَأَشَارَ إِلَى مَكَانٍ مِنَ الْبَيْتِ فَصَلَّى فِيهِ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم .

বর্ণনাকারী: ‘ইতবান ইবন মালিক ইবন 'আমর আল খাযরাজী (রা)

৭৮৯। হারুন ইবনে আব্দুল্লাহ (রাহঃ) ও হারিস ইবনে মিসকীন (রাহঃ) ......... মাহমুদ ইবনে রবী (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। ইতবান ইবনে মালিক (রাযিঃ) তার দলের লোকের ইমামতি করতেন আর তিনি ছিলেন অন্ধ।[১] তিনি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে বললেনঃ অনেক সময় অন্ধকার বৃষ্টি এবং বন্যা হয়, আর আমি একজন অন্ধ ব্যক্তি। অতএব ইয়া রাসুলল্লাহ! আপনি আমার বাড়িতে একস্থানে একবার নামায আদায় করবেন। আমি ঐ স্থানটি আমার নামাযের জন্য নির্ধারণ করে নেব। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাঁর বাড়িতে আগমন করে জিজ্ঞাসা করলেনঃ আমার কোথায় নামায আদায় করা কে তুমি পছন্দ কর? তখন তিনি তাঁর ঘরের একটা জায়গা দেখিয়ে দিলেন। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) সেখানে নামায আদায় করলেন।

[১] উপস্থিত লোকদের মধ্যে অন্ধের চাইতে শরীআতের অধিক জ্ঞানসম্পন্ন কিংবা তার সমান জ্ঞানসম্পন্ন লোক থাকতে অন্ধের ইমামতি মাকরূহ।

বালেগ হওয়ার পূর্বে ইমামতি।

إمامة الغلام قبل أن يحتلم

৭৮৯

أَخْبَرَنَا مُوسَى بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ الْمَسْرُوقِيُّ، حَدَّثَنَا حُسَيْنُ بْنُ عَلِيٍّ، عَنْ زَائِدَةَ، عَنْ سُفْيَانَ، عَنْ أَيُّوبَ، قَالَ حَدَّثَنِي عَمْرُو بْنُ سَلِمَةَ الْجَرْمِيُّ، قَالَ كَانَ يَمُرُّ عَلَيْنَا الرُّكْبَانُ فَنَتَعَلَّمُ مِنْهُمُ الْقُرْآنَ فَأَتَى أَبِي النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ " لِيَؤُمَّكُمْ أَكْثَرُكُمْ قُرْآنًا " . فَجَاءَ أَبِي فَقَالَ إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " لِيَؤُمَّكُمْ أَكْثَرُكُمْ قُرْآنًا " . فَنَظَرُوا فَكُنْتُ أَكْثَرَهُمْ قُرْآنًا فَكُنْتُ أَؤُمُّهُمْ وَأَنَا ابْنُ ثَمَانِ سِنِينَ .

বর্ণনাকারী: আমর ইবনে সালামাহ (রাঃ)

৭৯০। মুসা ইবনে আব্দুর রহমান মাসরুকী (রাহঃ) ......... আমর ইবনে সালামা (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমাদের নিকট আরোহী যাত্রীগণ আসতেন আমরা তাঁদের নিকট কুরআন শিক্ষা করতাম। আমার পিতা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট আসলে তিনি বললেন, তোমাদের মধ্যে যে কুরআন বেশী জানে- সেই ইমামত করবে। আমার পিতা এসে বললেন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ তোমাদের মধ্যে যে বেশী কুরআন জানে, সেই ইমামত করবে। তারা দেখলেন, আমি কুরআন অধিক জানি, তখন আমিই তাদের ইমামত করতাম আর তখন আমি ছিলাম আট বছরের বালক।[১]

[১] নাবালেগের ফরয সালাত নফল সালাত হিসেবে গণ্য। সুতরাং তার পেছনে বয়স্ক লোক ফরয সালাতের ইকতিদা করলে তার ফরয সালাতও নফল সালাত হিসেবে গণ্য হবে। এ কারণে নাবালেগের পেছনে বয়স্ক লোকের ফরম সালাতের ইকতিদা করা জায়েয নয়। এমনকি অধিকাংশ আলিমের মতে নাবালেগের পেছনে নফল সালাতের ইকতিদা করাও জায়েয নয়। আলোচা হাদীসের জবাবে বলা হবে যে, সাহাবীগণের এ ঘটনা রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর জ্ঞাতসারে হয়নি। তাঁরা ইজতিহাদবশত এরূপ করেছিলেন। তারা মনে করেছিলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নির্দেশ, সাধারণ অর্থাৎ বালেগ-নাবালেগ সকলের মধ্যে যেই অধিক কুরআন জানে, সেই ইমামতি করবে। অথচ এ নির্দেশের মর্ম ছিল এই যে, বয়স্কদের মধ্যে যে অধিক কুরআান জানে, সে-ই ইমামতি করবে। অনুবাদক

ইমামকে দেখলে দাঁড়ানো।

قيام الناس إذا رأوا الإمام

৭৯০

أَخْبَرَنَا عَلِيُّ بْنُ حُجْرٍ، قَالَ حَدَّثَنَا هُشَيْمٌ، عَنْ هِشَامِ بْنِ أَبِي عَبْدِ اللَّهِ، وَحَجَّاجُ بْنُ أَبِي عُثْمَانَ، عَنْ يَحْيَى بْنِ أَبِي كَثِيرٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي قَتَادَةَ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " إِذَا نُودِيَ لِلصَّلاَةِ فَلاَ تَقُومُوا حَتَّى تَرَوْنِي " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু কাতাদা আনসারী (রাঃ)

৭৯১। আলী ইবনে হুজর (রাহঃ) ......... আবু কাতাদা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যখন নামাযের আযান দেওয়া হয়, তখন তোমরা আমাকে না দেখা পর্যন্ত দাঁড়াবে না।

ইকামতের পর ইমামের কোন প্রয়োজন দেখা দিলে।

الإمام تعرض له الحاجة بعد الإقامة

৭৯১

أَخْبَرَنَا زِيَادُ بْنُ أَيُّوبَ، قَالَ حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ، قَالَ حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ، عَنْ أَنَسٍ، قَالَ أُقِيمَتِ الصَّلاَةُ وَرَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم نَجِيٌّ لِرَجُلٍ فَمَا قَامَ إِلَى الصَّلاَةِ حَتَّى نَامَ الْقَوْمُ .

বর্ণনাকারী: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

৭৯২। যিয়াদ ইবনে আইয়্যুব (রাহঃ) ......... আনাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নামাযের ইকামত বলা হলো আর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এক ব্যক্তির সাথে একান্তে কথা বলছিলেন। তারপর তিনি নামাযে দাঁড়ালেন না, যতক্ষণ না লোকেরা ঘুমিয়ে পড়ল।[১]

[১] বিশেষ জরুরী কাজের জন্য রাসুলুল্লাহ (ﷺ) এরূপ করেছিলেন কিংবা বিশেষ প্রয়োজনে এরূপ করা যে জায়েয, তা বুঝানোর জন্য তিনি এরূপ করেছিলেন।

মুসল্লায় দাঁড়ানোর পর ইমামের স্মরণ হলো যে তিনি পবিত্র নন।

الإمام يذكر بعد قيامه في مصلاه أنه على غير طهارة

৭৯২

أَخْبَرَنَا عَمْرُو بْنُ عُثْمَانَ بْنِ سَعِيدِ بْنِ كَثِيرٍ، قَالَ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ حَرْبٍ، عَنِ الزُّبَيْدِيِّ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، وَالْوَلِيدُ، عَنِ الأَوْزَاعِيِّ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ أُقِيمَتِ الصَّلاَةُ فَصَفَّ النَّاسُ صُفُوفَهُمْ وَخَرَجَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم حَتَّى إِذَا قَامَ فِي مُصَلاَّهُ ذَكَرَ أَنَّهُ لَمْ يَغْتَسِلْ فَقَالَ لِلنَّاسِ " مَكَانَكُمْ " . ثُمَّ رَجَعَ إِلَى بَيْتِهِ فَخَرَجَ عَلَيْنَا يَنْطِفُ رَأْسُهُ فَاغْتَسَلَ وَنَحْنُ صُفُوفٌ .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৭৯৩। আমর ইবনে উসমান ইবনে সাঈদ ইবনে কাছীর (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নামাযের ইকামত বলা হলো, লোক তাদের কাতার ঠিক করল। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বের হলেন যখন তিনি তার মুসল্লায় দাড়ালেন, তখন তাঁর স্মরণ হলো, তিনি গোসল করেন নি। তখন তিনি লোকদের বললেন তোমরা তোমাদের জায়গায় থাক। তারপর তিনি ঘরে গেলেন। পরে বের হলেন তখন তাঁর মাথা থেকে পানি বেয়ে পড়ছিল। তিনি গোসল করলেন, তখন আমরা কাতারে ছিলাম।

ইমাম অনুপস্থিত থাকলে ভারপ্রাপ্ত নিযুক্ত করা।

استخلاف الإمام إذا غاب

৭৯৩

أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَبْدَةَ، عَنْ حَمَّادِ بْنِ زَيْدٍ، ثُمَّ ذَكَرَ كَلِمَةً مَعْنَاهَا قَالَ حَدَّثَنَا أَبُو حَازِمٍ، قَالَ سَهْلُ بْنُ سَعْدٍ كَانَ قِتَالٌ بَيْنَ بَنِي عَمْرِو بْنِ عَوْفٍ فَبَلَغَ ذَلِكَ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فَصَلَّى الظُّهْرَ ثُمَّ أَتَاهُمْ لِيُصْلِحَ بَيْنَهُمْ ثُمَّ قَالَ لِبِلاَلٍ " يَا بِلاَلُ إِذَا حَضَرَ الْعَصْرُ وَلَمْ آتِ فَمُرْ أَبَا بَكْرٍ فَلْيُصَلِّ بِالنَّاسِ " . فَلَمَّا حَضَرَتْ أَذَّنَ بِلاَلٌ ثُمَّ أَقَامَ فَقَالَ لأَبِي بَكْرٍ رضى الله عنه تَقَدَّمْ . فَتَقَدَّمَ أَبُو بَكْرٍ فَدَخَلَ فِي الصَّلاَةِ ثُمَّ جَاءَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَجَعَلَ يَشُقُّ النَّاسَ حَتَّى قَامَ خَلْفَ أَبِي بَكْرٍ وَصَفَّحَ الْقَوْمُ وَكَانَ أَبُو بَكْرٍ إِذَا دَخَلَ فِي الصَّلاَةِ لَمْ يَلْتَفِتْ فَلَمَّا رَأَى أَبُو بَكْرٍ التَّصْفِيحَ لاَ يُمْسَكُ عَنْهُ الْتَفَتَ فَأَوْمَأَ إِلَيْهِ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِيَدِهِ فَحَمِدَ اللَّهَ عَزَّ وَجَلَّ عَلَى قَوْلِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لَهُ امْضِهْ ثُمَّ مَشَى أَبُو بَكْرٍ الْقَهْقَرَى عَلَى عَقِبَيْهِ فَتَأَخَّرَ فَلَمَّا رَأَى ذَلِكَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم تَقَدَّمَ فَصَلَّى بِالنَّاسِ فَلَمَّا قَضَى صَلاَتَهُ قَالَ " يَا أَبَا بَكْرٍ مَا مَنَعَكَ إِذْ أَوْمَأْتُ إِلَيْكَ أَنْ لاَ تَكُونَ مَضَيْتَ " . فَقَالَ لَمْ يَكُنْ لاِبْنِ أَبِي قُحَافَةَ أَنْ يَؤُمَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم . وَقَالَ لِلنَّاسِ " إِذَا نَابَكُمْ شَىْءٌ فَلْيُسَبِّحِ الرِّجَالُ وَلْيُصَفِّحِ النِّسَاءُ " .

বর্ণনাকারী: হযরত সাহল ইবনে সা'দ সাঈ'দী (রাঃ)

৭৯৪। আহমদ ইবনে আব্দা (রাহঃ) ......... সাহল ইবনে সা’দ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, বনু আমর ইবনে আউফ-এর মধ্যে মারামারি হচ্ছিল। এ সংবাদ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট পৌছলো। তিনি যোহরের নামায আদায় করে তাদের মধ্যে আপোষ করে দেবার জন্য তাদের নিকট গেলেন। তিনি বিলাল (রাযিঃ)-কে বললেন, বিলাল! যদি আসরের নামাযের সময় হয় আর আমি আসতে না পারি তবে আবু বকর (রাযিঃ)-কে বলবে সে যেন লোকদের নিয়ে নামায আদায় করে।

যখন নামাযের সময় উপস্থিত হলো তখন বিলাল (রাযিঃ) আযান দিলেন। তারপর ইকামত বললেন এবং আবু বকর (রাযিঃ)-কে বললেন, সামনে যান। তখন আবু বকর (রাযিঃ) সামনে গিয়ে নামায আরম্ভ করলেন। তারপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আগমন করলেন এবং লোকদের কাতারের মধ্য দিয়ে এসে আবু বকরের পেছনে দাঁড়ালেন।

লোকজন হাততালি দিয়ে ইঙ্গিত করলেন। আর আবু বকর (রাযিঃ) নামাযে দাঁড়ালে কোনদিকে লক্ষ্য করতেন না। যখন তিনি দেখলেন তাদের হাততালি বন্ধ হচ্ছে না। তখন তিনি লক্ষ্য করলেন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তার নিজ হাত দ্বারা ইঙ্গিত করলেন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তার নামায চালিয়ে যাওয়ার ইঙ্গিতের জন্য তিনি আল্লাহর শোকর আদায় করলেন। তারপর আবু বকর (রাযিঃ) পেছনে সরে আসলেন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তা দেখে সম্মুখে অগ্রসর হলেন এবং লোকদের নিয়ে নামায আদায় করলেন।

যখন নামায শেয করলেন তখন তিনি বললেনঃ হে আবু বকর! আমি যখন তোমাকে ইঙ্গিত করলাম, তখন তুমি পিছে সরে আসা থেকে কেন বিরত থাকলে না? তিনি বললেনঃ আবু ফুহাফার পুত্রের জন্য রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর ইমামত করা শোভা পায় না। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) লোকদের বললেনঃ যখন তোমাদের কোন সমস্যা দেখা দেয়, তখন পূরুষরা সুবহানাল্লাহ বলবে আর মহিলারা হাততালি দিবে।

ইমামের পেছনে ইক্তিদা করা।

الائتمام بالإمام

৭৯৪

أَخْبَرَنَا هَنَّادُ بْنُ السَّرِيِّ، عَنِ ابْنِ عُيَيْنَةَ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ أَنَسٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم سَقَطَ مِنْ فَرَسٍ عَلَى شِقِّهِ الأَيْمَنِ فَدَخَلُوا عَلَيْهِ يَعُودُونَهُ فَحَضَرَتِ الصَّلاَةُ فَلَمَّا قَضَى الصَّلاَةَ قَالَ " إِنَّمَا جُعِلَ الإِمَامُ لِيُؤْتَمَّ بِهِ فَإِذَا رَكَعَ فَارْكَعُوا وَإِذَا رَفَعَ فَارْفَعُوا وَإِذَا سَجَدَ فَاسْجُدُوا وَإِذَا قَالَ سَمِعَ اللَّهُ لِمَنْ حَمِدَهُ فَقُولُوا رَبَّنَا لَكَ الْحَمْدُ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

৭৯৫। হান্নাদ ইবনে সাররী (রাহঃ) ......... আনাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে (একদা) রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ঘোড়া থেকে ডানদিকে পড়ে গেলেন। লোক তাকে দেখতে (তার ঘরে) প্রবেশ করল। ইতিমধ্যে নামাযের সময় উপস্থিত হলে। তিনি নামায শেষ করে বললেনঃ ইমাম বানানো হয় তার অনুসরণ করার জন্য। যখন তিনি রুকু করেন, তখন তোমরাও রুকু করবে। আর যখন মাথা উঠান, তোমরাও মাথা উঠাবে আর যখন সিজদা করেন, তোমরাও সিজদা করবে। আর যখন ইমাম ″সামিআল্লাহু লিমান হামিদা″ বলেন, তখন তোমরা বলবে ″রাব্বানা লাকাল হামদ।″

যে ইমামের ইক্তিদা করেছেন তার ইক্তিদা করা।

الائتمام بمن يأتم بالإمام

৭৯৫

أَخْبَرَنَا سُوَيْدُ بْنُ نَصْرٍ، قَالَ أَنْبَأَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ الْمُبَارَكِ، عَنْ جَعْفَرِ بْنِ حَيَّانَ، عَنْ أَبِي نَضْرَةَ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم رَأَى فِي أَصْحَابِهِ تَأَخُّرًا فَقَالَ " تَقَدَّمُوا فَأْتَمُّوا بِي وَلْيَأْتَمَّ بِكُمْ مَنْ بَعْدَكُمْ وَلاَ يَزَالُ قَوْمٌ يَتَأَخَّرُونَ حَتَّى يُؤَخِّرَهُمُ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ)

৭৯৬। সূওয়ায়দ ইবনে নসর (রাহঃ) ......... আবু সাঈদ খুদরী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাঁর সাহাবীদের মধ্যে পেছনে থাকার প্রবণতা লক্ষ্য করলেন। তিনি বললেনঃ তোমরা সামনে এগিয়ে আস এবং আমার সাথে ইক্তিদা কর। আর তোমাদের পরবর্তীগণ তোমাদের ইক্তিদা করবে। কোন সাম্প্রদায় সর্বদা পেছনে থাকলে পরিশেষে আল্লাহ তা-আলা তাদেরকে পিছিয়েই রাখেন।

৭৯৬

أَخْبَرَنَا سُوَيْدُ بْنُ نَصْرٍ، قَالَ أَنْبَأَنَا عَبْدُ اللَّهِ، عَنِ الْجُرَيْرِيِّ، عَنْ أَبِي نَضْرَةَ، نَحْوَهُ .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ)

৭৯৭। সুওয়য়াদ ইবনে নসর (রাহঃ) ......... আবু নযরাহ (রাহঃ) সূত্রেও অনুরূপ হাদীস বর্ণিত রয়েছে।

৭৯৭

أَخْبَرَنَا مَحْمُودُ بْنُ غَيْلاَنَ، قَالَ حَدَّثَنِي أَبُو دَاوُدَ، قَالَ أَنْبَأَنَا شُعْبَةُ، عَنْ مُوسَى بْنِ أَبِي عَائِشَةَ، قَالَ سَمِعْتُ عُبَيْدَ اللَّهِ بْنَ عَبْدِ اللَّهِ، يُحَدِّثُ عَنْ عَائِشَةَ، رضى الله عنها أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَمَرَ أَبَا بَكْرٍ أَنْ يُصَلِّيَ بِالنَّاسِ قَالَتْ وَكَانَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم بَيْنَ يَدَىْ أَبِي بَكْرٍ فَصَلَّى قَاعِدًا وَأَبُو بَكْرٍ يُصَلِّي بِالنَّاسِ وَالنَّاسُ خَلْفَ أَبِي بَكْرٍ .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

৭৯৮। মাহমুদ ইবনে গায়লান (রাহঃ) ......... আয়িশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আবু বকর (রাযিঃ)-কে লোকদের নিয়ে নামায আদায় করতে আদেশ করলেন। তিনি বলেনঃ তখন নবী (ﷺ) ছিলেন আবু বকর (রাযিঃ)-এর সামনে। তিনি বসে নামায আদায় করলেন। আর আবু বকর (রাযিঃ) লোকদের ইমাম হয়ে নামায আদায় করলেন। লোকজন ছিল আবু বকর (রাযিঃ)-এর পেছনে।

৭৯৮

أَخْبَرَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ فَضَالَةَ بْنِ إِبْرَاهِيمَ، قَالَ حَدَّثَنَا يَحْيَى، - يَعْنِي ابْنَ يَحْيَى - قَالَ حَدَّثَنَا حُمَيْدُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ حُمَيْدٍ الرُّؤَاسِيُّ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ، عَنْ جَابِرٍ، قَالَ صَلَّى بِنَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم الظُّهْرَ وَأَبُو بَكْرٍ خَلْفَهُ فَإِذَا كَبَّرَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَبَّرَ أَبُو بَكْرٍ يُسْمِعُنَا .

বর্ণনাকারী: জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ আনসারী (রাঃ)

৭৯৯। উবাইদুল্লাহ ইবনে ফাযালা ইবনে ইবরাহীম (রাহঃ) ......... জাবির (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদের ইমাম হয়ে যোহরের নামায আদায় করলেন তখন আবু বকর (রাযিঃ) ছিলেন তার পেছনে। যখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাকবীর বলতেন তখন আবু বকর (রাযিঃ)-ও আমাদেরকে শোনাবার জন্য তাকবীর বলতেন।

তিনজন মুসল্লী হলে ইমামের স্থান এবং এ ব্যাপারে মতপার্থক্য।

موقف الإمام إذا كانوا ثلاثة والاختلاف في ذلك

৭৯৯

أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عُبَيْدٍ الْكُوفِيُّ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ فُضَيْلٍ، عَنْ هَارُونَ بْنِ عَنْتَرَةَ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ الأَسْوَدِ، عَنِ الأَسْوَدِ، وَعَلْقَمَةَ، قَالاَ دَخَلْنَا عَلَى عَبْدِ اللَّهِ نِصْفَ النَّهَارِ فَقَالَ إِنَّهُ سَيَكُونُ أُمَرَاءُ يَشْتَغِلُونَ عَنْ وَقْتِ الصَّلاَةَ فَصَلُّوا لِوَقْتِهَا . ثُمَّ قَامَ فَصَلَّى بَيْنِي وَبَيْنَهُ فَقَالَ هَكَذَا رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَعَلَ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ)

৮০০। মুহাম্মাদ ইবনে উবাইদ কুফী (রাহঃ) ......... আসওয়াদ এবং আলকামা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তারা বলেনঃ আমরা দ্বিপ্রহরে আব্দুল্লাহ (রাযিঃ)-এর নিকট গেলাম। তিনি বললেন, অচিরেই এমন নেতা আবির্ভূত হবে যারা যথাসময়ে নামায আদায় থেকে বিরত থাকবে। অতএব তোমরা যথা সময়ে নামায আদায় করবে। তারপর তিনি আমার এবং তার (আলকামা) মধ্যে দাঁড়িয়ে নামায আদায় করলেন এবং বললেনঃ আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে এরূপ করতে দেখেছি।[১]

[১] সম্ভবত রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) স্থান সংকীর্ণ হওয়ার কারণে কোন কোন সময় এরূপ করেছিলেন কিংবা এই হাদীস পরবর্তীতে রহিত হয়ে গেছে।
৮০০

أَخْبَرَنَا عَبْدَةُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ حَدَّثَنَا زَيْدُ بْنُ الْحُبَابِ، قَالَ حَدَّثَنَا أَفْلَحُ بْنُ سَعِيدٍ، قَالَ حَدَّثَنَا بُرَيْدَةُ بْنُ سُفْيَانَ بْنِ فَرْوَةَ الأَسْلَمِيُّ، عَنْ غُلاَمٍ، لِجَدِّهِ يُقَالُ لَهُ مَسْعُودٌ فَقَالَ مَرَّ بِي رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَأَبُو بَكْرٍ فَقَالَ لِي أَبُو بَكْرٍ يَا مَسْعُودُ ائْتِ أَبَا تَمِيمٍ - يَعْنِي مَوْلاَهُ - فَقُلْ لَهُ يَحْمِلْنَا عَلَى بَعِيرٍ وَيَبْعَثْ إِلَيْنَا بِزَادٍ وَدَلِيلٍ يَدُلُّنَا . فَجِئْتُ إِلَى مَوْلاَىَ فَأَخْبَرْتُهُ فَبَعَثَ مَعِي بِبَعِيرٍ وَوَطْبٍ مِنْ لَبَنٍ فَجَعَلْتُ آخُذُ بِهِمْ فِي إِخْفَاءِ الطَّرِيقِ وَحَضَرَتِ الصَّلاَةُ فَقَامَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يُصَلِّي وَقَامَ أَبُو بَكْرٍ عَنْ يَمِينِهِ وَقَدْ عَرَفْتُ الإِسْلاَمَ وَأَنَا مَعَهُمَا فَجِئْتُ فَقُمْتُ خَلْفَهُمَا فَدَفَعَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي صَدْرِ أَبِي بَكْرٍ فَقُمْنَا خَلْفَهُ . قَالَ أَبُو عَبْدِ الرَّحْمَنِ بُرَيْدَةُ هَذَا لَيْسَ بِالْقَوِيِّ فِي الْحَدِيثِ .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু বকর সিদ্দীক (রাঃ)

৮০১। আব্দা ইবনে আব্দুল্লাহ (রাহঃ) ......... বুরায়দা ইবনে সুফিয়ান ইবনে ফরওয়াতুল আসলামী তাঁর দাদার এক গোলাম থেকে বর্ণনা করেন। যার নাম ছিল মাসউদ। তিনি বলেন, আমার নিকট রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এবং আবু বকর (রাযিঃ) আগমন করলেন। আবু বকর (রাযিঃ) আমাকে বললেন, হে মাসউদ! আবু তামীমের নিকট যাও অর্থাৎ তার মনিব-এর নিকট এবং তাদের বল সে যেন আমাদের জন্য উটের সওয়ারীর ব্যবস্থা করে আমাদের জন্য কিছু সামান ও একজন পথপ্রদর্শক পাঠায় যে আমাদের পথ দেখাবে। আমি আমার মালিকের নিকট গিয়ে এ সংবাদ দিলাম। তিনি আমার সাথে একটি উট ও এক মশক দুধ পাঠিয়ে দিলেন।

আমি তাঁদের নিরিবিলি স্থানে নিয়ে গেলাম, এমতাবস্থায় নামাযের সময় হলো। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) নামাযে দাঁড়ালেন আর আবু বকর (রাযিঃ) তার ডানদিকে দাঁড়ালেন। আমি ইসলাম সম্বন্ধে জানতাম। আমিও তাদের সঙ্গে নামাযে শরীক হলাম। অতএব আমি তাদের পেছনে দাঁড়ালাম। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আবু বকর (রাযিঃ)-এয় বক্ষে হাত রেখে তাকে পেছনে সরিয়ে দিলেন। আমরা তখন তার পেছনে দাঁড়ালাম।

তিনজন পুরুষ ও এক জন স্ত্রীলোক হলে।

إذا كانوا ثلاثة وامرأة

৮০১

أَخْبَرَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ إِسْحَاقَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي طَلْحَةَ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، أَنَّ جَدَّتَهُ، مُلَيْكَةَ دَعَتْ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لِطَعَامٍ قَدْ صَنَعَتْهُ لَهُ فَأَكَلَ مِنْهُ ثُمَّ قَالَ " قُومُوا فَلأُصَلِّيَ لَكُمْ " . قَالَ أَنَسٌ فَقُمْتُ إِلَى حَصِيرٍ لَنَا قَدِ اسْوَدَّ مِنْ طُولِ مَا لُبِسَ فَنَضَحْتُهُ بِمَاءٍ فَقَامَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَصَفَفْتُ أَنَا وَالْيَتِيمُ وَرَاءَهُ وَالْعَجُوزُ مِنْ وَرَائِنَا فَصَلَّى لَنَا رَكْعَتَيْنِ ثُمَّ انْصَرَفَ .

বর্ণনাকারী: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

৮০২। কুতায়বা ইবনে সাঈদ (রাহঃ) ......... আনাস ইবনে মালিক (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, তার দাদী মুলায়কা (রাযিঃ) রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর জন্য খানা তৈরী করে তাকে দাওয়াত করলেন। তিনি তা খেলেন। তারপর বললেনঃ তোমরা উঠ। আমি তোমাদের নিয়ে নামায আদায় করব। আনাস (রাযিঃ) বলেন অতএব আমি আমাদের একখানা চাটাই ছিল তা আনতে গেলাম। যা বহু ব্যবহারে কালো হয়ে গিয়েছিল- আমি তাতে পানি ছিটালাম। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) নামাযে দাড়ালেন। আমি এবং ইয়াতীম তার পেছনে সারিবদ্ধ হয়ে দাড়ালাম আর বৃদ্ধা আমাদের পেছনে। তিনি আমাদের নিয়ে দুই রাক’আত নামায আদায় করে (ঘরে) ফিরে গেলেন।

দুই জন পুরুষ ও দুই জন স্ত্রীলোক হলে।

إذا كانوا رجلين وامرأتين

৮০২

أَخْبَرَنَا سُوَيْدُ بْنُ نَصْرٍ، قَالَ أَنْبَأَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ الْمُبَارَكِ، عَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ الْمُغِيرَةِ، عَنْ ثَابِتٍ، عَنْ أَنَسٍ، قَالَ دَخَلَ عَلَيْنَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَمَا هُوَ إِلاَّ أَنَا وَأُمِّي وَالْيَتِيمُ وَأُمُّ حَرَامٍ خَالَتِي فَقَالَ " قُومُوا فَلأُصَلِّيَ بِكُمْ " . قَالَ فِي غَيْرِ وَقْتِ صَلاَةٍ - قَالَ - فَصَلَّى بِنَا .

বর্ণনাকারী: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

৮০৩। সুওয়ায়দ ইবনে নসর (রাহঃ) ......... আনাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদের নিকট আসলেন আর তখন আমি, আমার মা, ইয়াতীম এবং আমার খালা উম্মে হারাম ব্যতীত আর কেউ ছিল না। তিনি বললেনঃ তোমরা দাঁড়াও, আমি তোমাদের নিয়ে নামায আদায় করব। আনাস (রাযিঃ) বলেনঃ তখন (পাঁচ ওয়াক্ত নামাযের মধ্য হতে কোন) নামাযের সময় ছিল না। তিনি বলেন, তিনি আমাদের নিয়ে নামায আদায় করলেন (অর্থাৎ বরকতের জন্য নফল নামায আদায় করলেন)।

৮০৩

أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، قَالَ حَدَّثَنَا مُحَمَّدٌ، قَالَ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، قَالَ سَمِعْتُ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ مُخْتَارٍ، يُحَدِّثُ عَنْ مُوسَى بْنِ أَنَسٍ، عَنْ أَنَسٍ، أَنَّهُ كَانَ هُوَ وَرَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَأُمُّهُ وَخَالَتُهُ فَصَلَّى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَجَعَلَ أَنَسًا عَنْ يَمِينِهِ وَأُمَّهُ وَخَالَتَهُ خَلْفَهُمَا .

বর্ণনাকারী: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

৮০৪। মুহাম্মাদ ইবনে বাশশার (রাহঃ) ......... আনাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি রাসূলুল্লাহ (ﷺ), তার মা এবং খালা এক জায়গায় ছিলেন। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) নামায আদায় করলেন। আনাস (রাযিঃ) কে তাঁর ডানদিকে রাখলেন। আর তাঁর মা ও খালাকে উভয়ের পেছনে দাঁড় করালেন।

ইমামের সাথে একজন বাচ্চা এবং একজন মহিলা থাকলে ইমামের স্থান।

موقف الإمام إذا كان معه صبي وامرأة

৮০৪

أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ بْنِ إِبْرَاهِيمَ، قَالَ حَدَّثَنَا حَجَّاجٌ، قَالَ قَالَ ابْنُ جُرَيْجٍ أَخْبَرَنِي زِيَادٌ، أَنَّ قَزَعَةَ، مَوْلًى لِعَبْدِ قَيْسٍ أَخْبَرَهُ أَنَّهُ، سَمِعَ عِكْرِمَةَ، مَوْلَى ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ قَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ صَلَّيْتُ إِلَى جَنْبِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَعَائِشَةُ خَلْفَنَا تُصَلِّي مَعَنَا وَأَنَا إِلَى جَنْبِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أُصَلِّي مَعَهُ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

৮০৫। মুহাম্মাদ ইবনে ইসমাঈল ইবনে ইবরাহীম (রাহঃ) ......... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর পাশে দাঁড়িয়ে নামায আদায় করেছি। তখন আয়িশা (রাযিঃ) আমাদের পেছনে দাঁড়িয়ে আমাদের সঙ্গে নামায আদায় করেন। আর আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর পাশে দাঁড়িয়ে তাঁর সাথে নামায আদায় করি।

৮০৫

أَخْبَرَنَا عَمْرُو بْنُ عَلِيٍّ، قَالَ حَدَّثَنَا يَحْيَى، قَالَ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الْمُخْتَارِ، عَنْ مُوسَى بْنِ أَنَسٍ، عَنْ أَنَسٍ، قَالَ صَلَّى بِي رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَبِامْرَأَةٍ مِنْ أَهْلِي فَأَقَامَنِي عَنْ يَمِينِهِ وَالْمَرْأَةُ خَلْفَنَا .

বর্ণনাকারী: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

৮০৬। আমর ইবনে আলী (রাহঃ) ......... আনাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাকে এবং আমার পরিবারের এক মহিলাকে সঙ্গে নিয়ে নামায আদায় করেন। তিনি আমাকে দাঁড় করালেন তাঁর ডানদিকে আর মহিলা ছিলেন আমাদের পেছনে।

মুকতাদী শিশু হলে ইমামের স্থান।

موقف الإمام والمأموم صبي

৮০৬

أَخْبَرَنَا يَعْقُوبُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، قَالَ حَدَّثَنَا ابْنُ عُلَيَّةَ، عَنْ أَيُّوبَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ بِتُّ عِنْدَ خَالَتِي مَيْمُونَةَ فَقَامَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يُصَلِّي مِنَ اللَّيْلِ فَقُمْتُ عَنْ شِمَالِهِ فَقَالَ بِي هَكَذَا فَأَخَذَ بِرَأْسِي فَأَقَامَنِي عَنْ يَمِينِهِ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

৮০৭। ইয়াকুব ইবনে ইবরাহীম (রাহঃ) ......... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আমার খালা মায়মুনা (রাযিঃ)-এর নিকট রাত যাপন করলাম। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) রাতের নামায আদায় করতে উঠলেন। আমি তাঁর বামদিকে দাঁড়ালাম। তিনি আমাকে বললেন এভাবে এবং আমার মাথা ধরে আমাকে তার ডানদিকে দাঁড় করালেন।

ইমামের কাছে কে দাঁড়াবে এবং তার কাছে কে দাঁড়াবে।

من يلي الإمام ثم الذي يليه

৮০৭

أَخْبَرَنَا هَنَّادُ بْنُ السَّرِيِّ، عَنْ أَبِي مُعَاوِيَةَ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ عُمَارَةَ بْنِ عُمَيْرٍ، عَنْ أَبِي مَعْمَرٍ، عَنْ أَبِي مَسْعُودٍ، قَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَمْسَحُ مَنَاكِبَنَا فِي الصَّلاَةِ وَيَقُولُ " لاَ تَخْتَلِفُوا فَتَخْتَلِفَ قُلُوبُكُمْ لِيَلِيَنِّي مِنْكُمْ أُولُو الأَحْلاَمِ وَالنُّهَى ثُمَّ الَّذِينَ يَلُونَهُمْ ثُمَّ الَّذِينَ يَلُونَهُمْ " . قَالَ أَبُو مَسْعُودٍ فَأَنْتُمُ الْيَوْمَ أَشَدُّ اخْتِلاَفًا . قَالَ أَبُو عَبْدِ الرَّحْمَنِ أَبُو مَعْمَرٍ اسْمُهُ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ سَخْبَرَةَ .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু মাসউদ বদরী আনসারী (রাঃ)

৮০৮। হান্নাদ ইবনে সাররী (রাহঃ) ......... আবু মাসউদ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) নামাযে আমাদের স্কন্ধ স্পর্শ করে বলতেনঃ তোমরা কাতারে এলোমেলো হয়ে দাঁড়াবে না। তাহলে তোমাদের অন্তর এলোমেলো হয়ে যাবে। তোমাদের মধ্যে যারা জ্ঞানী ও বুদ্ধিমান তারা আমার কাছে দাঁড়াবে। তারপর যারা তাদের কাছাকাছি এবং তারপর যারা তাদের কাছাকাছি। আবু মাসউদ বলেনঃ আজকাল তোমাদের মধ্যে প্রচণ্ড মত বিরোধ। আবু আব্দুর রহমান বলেনঃ আবু মা’মারের নাম আব্দুল্লাহ ইবনে সাখবারাহ।

৮০৮

أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عُمَرَ بْنِ عَلِيِّ بْنِ مُقَدَّمٍ، قَالَ حَدَّثَنَا يُوسُفُ بْنُ يَعْقُوبَ، قَالَ أَخْبَرَنِي التَّيْمِيُّ، عَنْ أَبِي مِجْلَزٍ، عَنْ قَيْسِ بْنِ عَبَّادٍ، قَالَ بَيْنَا أَنَا فِي الْمَسْجِدِ، فِي الصَّفِّ الْمُقَدَّمِ فَجَبَذَنِي رَجُلٌ مِنْ خَلْفِي جَبْذَةً فَنَحَّانِي وَقَامَ مَقَامِي فَوَاللَّهِ مَا عَقَلْتُ صَلاَتِي فَلَمَّا انْصَرَفَ فَإِذَا هُوَ أُبَىُّ بْنُ كَعْبٍ فَقَالَ يَا فَتَى لاَ يَسُؤْكَ اللَّهُ إِنَّ هَذَا عَهْدٌ مِنَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم إِلَيْنَا أَنْ نَلِيَهُ ثُمَّ اسْتَقْبَلَ الْقِبْلَةَ فَقَالَ هَلَكَ أَهْلُ الْعُقَدِ وَرَبِّ الْكَعْبَةِ ثَلاَثًا ثُمَّ قَالَ وَاللَّهِ مَا عَلَيْهِمْ آسَى وَلَكِنْ آسَى عَلَى مَنْ أَضَلُّوا . قُلْتُ يَا أَبَا يَعْقُوبَ مَا يَعْنِي بِأَهْلِ الْعُقَدِ قَالَ الأُمَرَاءُ .

বর্ণনাকারী: কায়স ইবনে উবাদ (রহঃ)

৮০৯। মুহাম্মাদ ইবনে উমর ইবনে আলী ইবনে মুকাদ্দাম (রাহঃ) ......... কায়স ইবনে আব্বাদ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি এক সময় মসজিদে প্রথম কাতারে ছিলাম, হঠাৎ এক ব্যক্তি আমার পেছন থেকে আমাকে টেনে পেছনে হটিয়ে আমার স্থানে দাঁড়ালেন। আল্লাহর শপথ! আমি আমার নামাযই ভুলে যেতে লাগলাম। যখন সেই ব্যক্তি নামায সম্পন্ন করল, দেখা গেল তিনি ছিলেন উবাই ইবনে কাব (রাযিঃ)।

তিনি আমাকে বললেনঃ হে যুবক! আল্লাহ যেন তোমাকে চিন্তিত না করেন, এটা আমাদের ওপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নির্দেশ, যেন আমরা তাঁর কাছে দাঁড়াই। তারপর তিনি কিবলার দিকে মুখ করে তিনবার বললেন, কাবার প্রভূর কসম! আহলে উকাদ’ ধংস হয়েছে। তারপর বললেন, আল্লাহর কসম! আমি তাদের জন্য আক্ষেপ করি না, কিন্তু আমি আক্ষেপ করি ঐ সকল লোকের জন্য, যারা পথভ্রষ্ট করেছে। আমি বললাম, হে আবু ইয়াকুব! আহলে উকাদ এর অর্থ কি? তিনি বললেন প্রশাসকগণ।

ইমামের বের হবার আগেই কাতার ঠিক করা।

إقامة الصفوف قبل خروج الإمام

৮০৯

أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ سَلَمَةَ، قَالَ أَنْبَأَنَا ابْنُ وَهْبٍ، عَنْ يُونُسَ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، قَالَ أَخْبَرَنِي أَبُو سَلَمَةَ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، أَنَّهُ سَمِعَ أَبَا هُرَيْرَةَ، يَقُولُ أُقِيمَتِ الصَّلاَةُ فَقُمْنَا فَعُدِّلَتِ الصُّفُوفُ قَبْلَ أَنْ يَخْرُجَ إِلَيْنَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَأَتَانَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم حَتَّى إِذَا قَامَ فِي مُصَلاَّهُ قَبْلَ أَنْ يُكَبِّرَ فَانْصَرَفَ فَقَالَ لَنَا " مَكَانَكُمْ " . فَلَمْ نَزَلْ قِيَامًا نَنْتَظِرُهُ حَتَّى خَرَجَ إِلَيْنَا قَدِ اغْتَسَلَ يَنْطِفُ رَأْسُهُ مَاءً فَكَبَّرَ وَصَلَّى .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৮১০। মুহাম্মাদ ইবনে সালামা (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। নামাযের ইকামত বলা হলে আমরা দাঁড়ালাম। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদের নিকট বের হয়ে আসার পূর্বেই কাতার ঠিক করা হলো। তারপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদের নিকট এসে মুসল্লায় দাঁড়ালেন। তাকবীর বলার পূর্বে আমাদের দিকে ফিরে বললেন, তোমাদের নিজ নিজ স্থানে স্থির থাক। আমরা তার অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে রইলাম, তিনি গোসল করে আমাদের নিকট আসছিলেন তখন তাঁর মাথা থেকে পানি ফোঁটা ফোঁটা করে পড়ছিল। তখন তিনি তাকবীর বললেন এবং নামায আদায় করলেন।

ইমাম কিভাবে কাতার সোজা করবেন?

كيف يقوم الإمام الصفوف

৮১০

أَخْبَرَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، قَالَ أَنْبَأَنَا أَبُو الأَحْوَصِ، عَنْ سِمَاكٍ، عَنِ النُّعْمَانِ بْنِ بَشِيرٍ، قَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يُقَوِّمُ الصُّفُوفَ كَمَا تُقَوَّمُ الْقِدَاحُ فَأَبْصَرَ رَجُلاً خَارِجًا صَدْرُهُ مِنَ الصَّفِّ فَلَقَدْ رَأَيْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " لَتُقِيمُنَّ صُفُوفَكُمْ أَوْ لَيُخَالِفَنَّ اللَّهُ بَيْنَ وُجُوهِكُمْ " .

বর্ণনাকারী: হযরত নু'মান ইবন বাশীর রাযি.

৮১১। কুতায়বা ইবনে সাঈদ (রাহঃ) ......... নু’মান ইবনে বশীর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কাতার সোজা করতেন যেমন তীর সোজা করা হয়। (একদা) তিনি দেখলেন এক ব্যক্তির বুক কাতারের বাইরে চলে গেছে তখন আমি তাকে বলতে শুনেছিঃ তোমরা তোমাদের কাতার সোজা কর তা না হলে আল্লাহ তাআলা তোমাদের চেহারা পরিবর্তন করে দিবেন।

৮১১

أَخْبَرَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، قَالَ حَدَّثَنَا أَبُو الأَحْوَصِ، عَنْ مَنْصُورٍ، عَنْ طَلْحَةَ بْنِ مُصَرِّفٍ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَوْسَجَةَ، عَنِ الْبَرَاءِ بْنِ عَازِبٍ، قَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَتَخَلَّلُ الصُّفُوفَ مِنْ نَاحِيَةٍ إِلَى نَاحِيَةٍ يَمْسَحُ مَنَاكِبَنَا وَصُدُورَنَا وَيَقُولُ " لاَ تَخْتَلِفُوا فَتَخْتَلِفَ قُلُوبُكُمْ " . وَكَانَ يَقُولُ " إِنَّ اللَّهَ وَمَلاَئِكَتَهُ يُصَلُّونَ عَلَى الصُّفُوفِ الْمُتَقَدِّمَةِ " .

বর্ণনাকারী: হযরত বারা’ ইবনে আযিব (রাঃ)

৮১২। কুতায়বা ইবনে সাঈদ (রাহঃ) ......... বারা ইবনে আযিব (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কাতারের একদিক থেকে অন্যদিকে প্রবেশ করে আমাদের কাঁধ ও বুক স্পর্শ করে বলতেনঃ তোমরা কাতারে এলোমেলো হয়ে দাঁড়াবেনা। তাহলে তোমাদের অন্তরে অনৈক্য হবে। তিনি বলতেনঃ আল্লাহ প্রথম কাতারের প্রতি অনুগ্রহ করেন এবং তার ফিরিশতাগণও প্রথম কাতারের জন্য অনুগ্রহ প্রার্থনা করেন।

ইমাম কাতার ঠিক করতে কি বলবেন

ما يقول الإمام إذا تقدم في تسوية الصفوف

৮১২

أَخْبَرَنَا بِشْرُ بْنُ خَالِدٍ الْعَسْكَرِيُّ، قَالَ حَدَّثَنَا غُنْدَرٌ، عَنْ شُعْبَةَ، عَنْ سُلَيْمَانَ، عَنْ عُمَارَةَ بْنِ عُمَيْرٍ، عَنْ أَبِي مَعْمَرٍ، عَنْ أَبِي مَسْعُودٍ، قَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَمْسَحُ عَوَاتِقَنَا وَيَقُولُ " اسْتَوُوا وَلاَ تَخْتَلِفُوا فَتَخْتَلِفَ قُلُوبُكُمْ وَلْيَلِيَنِّي مِنْكُمْ أُولُو الأَحْلاَمِ وَالنُّهَى ثُمَّ الَّذِينَ يَلُونَهُمْ ثُمَّ الَّذِينَ يَلُونَهُمْ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু মাসউদ বদরী আনসারী (রাঃ)

৮১৩। বিশর ইবনে খালিদ আসকারী (রাহঃ) ......... আবু মাসউদ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদের কাঁধ স্পর্শ করে বলতেনঃ তোমরা সোজা হয়ে দাঁড়াও, বিচ্ছিন্ন হয়ো না, তাহলে তোমাদের অন্তরে অনৈক্য হবে। আর তোমাদের মধ্যে জ্ঞানীগণ আমার সাথে মিলিত হয়ে দাঁড়াবে, তারপর যারা তার নিকটবর্তী তারপর যারা তাদের নিকটবর্তী (এভাবে দাঁড়াবে)।

সোজা হয়ে দাঁড়াও কতবার বলবেন

كم مرة يقول استووا

৮১৩

أَخْبَرَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ نَافِعٍ، قَالَ حَدَّثَنَا بَهْزُ بْنُ أَسَدٍ، قَالَ حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ، عَنْ ثَابِتٍ، عَنْ أَنَسٍ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم كَانَ يَقُولُ " اسْتَوُوا اسْتَوُوا اسْتَوُوا فَوَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ إِنِّي لأَرَاكُمْ مِنْ خَلْفِي كَمَا أَرَاكُمْ مِنْ بَيْنِ يَدَىَّ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

৮১৪। আবু বকর ইবনে নাফি (রাহঃ) ......... আনাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। নবী (ﷺ) বলতেনঃ তোমরা বরাবর হয়ে দাঁড়াও, বরাবর হয়ে দাঁড়াও, বরাবর হয়ে দাঁড়াও। যার হাতে আমার প্রাণ তাঁর শপথ! আমি তোমাদের দেখছি আমার পেছন থেকে যেভাবে আমি তোমাদের দেখছি আমার সম্মুখ থেকে।[১]

[১] রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) অলৌকিকভাবে পেছনের সারির লোকদের অবস্থা দেখতে পেতেন।

কাতার ঠিক করতে ইমামের উৎসাহ দেয়া

حث الإمام على رص الصفوف والمقاربة بينها

৮১৪

أَخْبَرَنَا عَلِيُّ بْنُ حُجْرٍ، أَنْبَأَنَا إِسْمَاعِيلُ، عَنْ حُمَيْدٍ، عَنْ أَنَسٍ، - رضى الله عنه - قَالَ أَقْبَلَ عَلَيْنَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِوَجْهِهِ حِينَ قَامَ إِلَى الصَّلاَةِ قَبْلَ أَنْ يُكَبِّرَ فَقَالَ " أَقِيمُوا صُفُوفَكُمْ وَتَرَاصُّوا فَإِنِّي أَرَاكُمْ مِنْ وَرَاءِ ظَهْرِي " .

বর্ণনাকারী: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

৮১৫। আলী ইবনে হুজর (রাহঃ) ......... আনাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, (একদা) রাসূলুল্লাহ (ﷺ) নামাযে দাঁড়ালেন, তখন তাকবীর বলার পূর্বে আমাদের দিকে মুখ করে বললেন, তোমরা তোমাদের কাতার ঠিক কর এবং পরস্পর মিশে দাঁড়াও। আমি তোমাদেরকে আমার পেছন থেকেও দেখে থাকি।

৮১৫

أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الْمُبَارَكِ الْمُخَرِّمِيُّ، قَالَ حَدَّثَنَا أَبُو هِشَامٍ، قَالَ حَدَّثَنَا أَبَانُ، قَالَ حَدَّثَنَا قَتَادَةُ، قَالَ حَدَّثَنَا أَنَسٌ، أَنَّ نَبِيَّ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " رَاصُّوا صُفُوفَكُمْ وَقَارِبُوا بَيْنَهَا وَحَاذُوا بِالأَعْنَاقِ فَوَالَّذِي نَفْسُ مُحَمَّدٍ بِيَدِهِ إِنِّي لأَرَى الشَّيَاطِينَ تَدْخُلُ مِنْ خَلَلِ الصَّفِّ كَأَنَّهَا الْحَذَفُ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

৮১৬। মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে মুবারক মুখাররামা (রাহঃ) ......... আনাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন নবী (ﷺ) বলেছেনঃ তোমরা কাতারে পরস্পর মিশে দাঁড়াও। কাতার সমূহকে পরস্পর নিকটবর্তী রাখ এবং কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দাঁড়াও। যার হাতে মুহাম্মাদের প্রাণ তার শপথ! আমি শয়তানকে দেখছি ছোট ছোট বকরীর মত কাতারের মধ্যে প্রবেশ করতে।

৮১৬

أَخْبَرَنَا قُتَيْبَةُ، قَالَ حَدَّثَنَا الْفُضَيْلُ بْنُ عِيَاضٍ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنِ الْمُسَيَّبِ بْنِ رَافِعٍ، عَنْ تَمِيمِ بْنِ طَرَفَةَ، عَنْ جَابِرِ بْنِ سَمُرَةَ، قَالَ خَرَجَ إِلَيْنَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ " أَلاَ تَصُفُّونَ كَمَا تَصُفُّ الْمَلاَئِكَةُ عِنْدَ رَبِّهِمْ " . قَالُوا وَكَيْفَ تَصُفُّ الْمَلاَئِكَةُ عِنْدَ رَبِّهِمْ قَالَ " يُتِمُّونَ الصَّفَّ الأَوَّلَ ثُمَّ يَتَرَاصُّونَ فِي الصَّفِّ " .

বর্ণনাকারী: হযরত জাবির ইবনে সামুরা (রাঃ)

৮১৭। কুতায়বা (রাহঃ) ......... জাবির ইবনে সামুরা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদের নিকট বের হয়ে বললেনঃ তোমরা কি কাতার সোজা করবে না যেরূপ ফিরিশতাগণ তাঁদের প্রভূর সামনে কাতার সোজা করে দাঁড়ান। তাঁরা বললেন, ফিরিশতাগণ তাদের রবের সামনে কিভাবে কাতারবন্দী হয়ে দাঁড়ান? রাসুল (ﷺ) বললেনঃ তারা প্রথম কাতার পুর্ণ করে তারপর কাতারে পরস্পর মিশে দাঁড়ান।

দ্বিতীয় কাতারের উপর প্রথম কাতারের মর্যাদা।

فضل الصف الأول علي الثاني

৮১৭

أَخْبَرَنِي يَحْيَى بْنُ عُثْمَانَ الْحِمْصِيُّ، قَالَ حَدَّثَنَا بَقِيَّةُ، عَنْ بَحِيرِ بْنِ سَعْدٍ، عَنْ خَالِدِ بْنِ مَعْدَانَ، عَنْ جُبَيْرِ بْنِ نُفَيْرٍ، عَنِ الْعِرْبَاضِ بْنِ سَارِيَةَ، عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَانَ يُصَلِّي عَلَى الصَّفِّ الأَوَّلِ ثَلاَثًا وَعَلَى الثَّانِي وَاحِدَةً .

বর্ণনাকারী: ইরবায ইবনে সারিয়াহ (রাঃ)

৮১৮। ইয়াহয়া ইবনে উসমান হিমসী (রাহঃ) ......... ইরবায ইবনে সারিয়া (রাযিঃ) রাসূলুল্লাহ (ﷺ) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি প্রথম কাতারের জন্য তিনবার (রহমত ও মাগফিরাতের) দোয়া করতেন, তারপর দ্বিতীয় কাতারের জন্য একবার।

শেষের কাতার।

الصف المؤخر

৮১৮

أَخْبَرَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ مَسْعُودٍ، عَنْ خَالِدٍ، قَالَ حَدَّثَنَا سَعِيدٌ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ أَنَسٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " أَتِمُّوا الصَّفَّ الأَوَّلَ ثُمَّ الَّذِي يَلِيهِ وَإِنْ كَانَ نَقْصٌ فَلْيَكُنْ فِي الصَّفِّ الْمُؤَخَّرِ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

৮১৯। ইসমাঈল ইবনে মাসউদ (রাহঃ) ......... আনাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন প্রথম কাতার পূর্ণ কর তারপর পরবর্তী কাতার। যদি খালি থাকে, তবে তা থাকবে শেষ কাতারে।

যে ব্যক্তি কাতার মিলায়।

من وصل صفا

৮১৯

أَخْبَرَنَا عِيسَى بْنُ إِبْرَاهِيمَ بْنِ مَثْرُودٍ، قَالَ حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ وَهْبٍ، عَنْ مُعَاوِيَةَ بْنِ صَالِحٍ، عَنْ أَبِي الزَّاهِرِيَّةِ، عَنْ كَثِيرِ بْنِ مُرَّةَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " مَنْ وَصَلَ صَفًّا وَصَلَهُ اللَّهُ وَمَنْ قَطَعَ صَفًّا قَطَعَهُ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

৮২০। ঈসা ইবনে ইবরাহীম ইবনে মাসরুদ (রাহঃ) ......... আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি কাতার মিলায়, আল্লাহ তাআলা তাকে মিলিয়ে দেন, আর যে ব্যক্তি তাকে পৃথক করে, আল্লাহ তাআলা তাকে পৃথক করে দেন।

নারীর উত্তম কাতার ও পুরুষদের নিকৃষ্ট কাতার প্রসঙ্গে আলোচনা।

ذكر خير صفوف النساء وشر صفوف الرجال

৮২০

أَخْبَرَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، قَالَ حَدَّثَنَا جَرِيرٌ، عَنْ سُهَيْلٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " خَيْرُ صُفُوفِ الرِّجَالِ أَوَّلُهَا وَشَرُّهَا آخِرُهَا وَخَيْرُ صُفُوفِ النِّسَاءِ آخِرُهَا وَشَرُّهَا أَوَّلُهَا " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৮২১। ইসহাক ইবনে ইবরাহীম (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ পুরুষদের কাতারের মধ্যে উত্তম হলো প্রথম কাতার এবং নিকৃষ্ট কাতার হলো শেষ কাতার। আর নারীদের কাতারের মধ্যে উত্তম হলো শেষের কাতার এবং নিকৃষ্ট হলো প্রথম কাতার।

স্তম্ভসমূহের মধ্যে নামায

الصف بين السواري

৮২১

أَخْبَرَنَا عَمْرُو بْنُ مَنْصُورٍ، قَالَ حَدَّثَنَا أَبُو نُعَيْمٍ، عَنْ سُفْيَانَ، عَنْ يَحْيَى بْنِ هَانِئٍ، عَنْ عَبْدِ الْحَمِيدِ بْنِ مَحْمُودٍ، قَالَ كُنَّا مَعَ أَنَسٍ فَصَلَّيْنَا مَعَ أَمِيرٍ مِنَ الأُمَرَاءِ فَدَفَعُونَا حَتَّى قُمْنَا وَصَلَّيْنَا بَيْنَ السَّارِيَتَيْنِ فَجَعَلَ أَنَسٌ يَتَأَخَّرُ وَقَالَ قَدْ كُنَّا نَتَّقِي هَذَا عَلَى عَهْدِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم .

বর্ণনাকারী: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

৮২২। আমর ইবনে মনসুর (রাহঃ) ......... আব্দুল্লাহ হামীদ ইবনে মাহমুদ (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা আনাস (রাযিঃ)-এর সঙ্গে ছিলাম। আমরা আমীরদের মধ্য থেকে এক আমীরের সঙ্গে নামায আদায় করছিলাম। তারা আমাদের পেছনে হটিয়ে দিল। তারপর আমরা দুই স্তম্ভের মধ্যে দাঁড়িয়ে নামায আদায় করলাম। আনাস (রাযিঃ) পিছিয়ে যেতে থাকলেন এবং বললেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সময়ে আমরা এটা (দুই স্তম্ভের মধ্যে দাঁড়ানো) পরিহার করতাম।

কাতারের মধ্যে যে স্থান মুস্তাহাব

المكان الذي يستحب من الصف

৮২২

أَخْبَرَنَا سُوَيْدُ بْنُ نَصْرٍ، قَالَ أَنْبَأَنَا عَبْدُ اللَّهِ، عَنْ مِسْعَرٍ، عَنْ ثَابِتِ بْنِ عُبَيْدٍ، عَنِ ابْنِ الْبَرَاءِ، عَنِ الْبَرَاءِ، قَالَ كُنَّا إِذَا صَلَّيْنَا خَلْفَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَحْبَبْتُ أَنْ أَكُونَ عَنْ يَمِينِهِ .

বর্ণনাকারী: হযরত বারা’ ইবনে আযিব (রাঃ)

৮২৩। সুওয়ায়দ ইবনে নসর (রাহঃ) ......... বারা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা যখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর পেছনে নামায আদায় করতাম। তখন আমি তাঁর ডানদিকে থাকতে পছন্দ করতাম।

ইমাম কর্তৃক নামায সহজ করা

ما على الإمام من التخفيف

৮২৩

أَخْبَرَنَا قُتَيْبَةُ، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ أَبِي الزِّنَادِ، عَنِ الأَعْرَجِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " إِذَا صَلَّى أَحَدُكُمْ بِالنَّاسِ فَلْيُخَفِّفْ فَإِنَّ فِيهِمُ السَّقِيمَ وَالضَّعِيفَ وَالْكَبِيرَ فَإِذَا صَلَّى أَحَدُكُمْ لِنَفْسِهِ فَلْيُطَوِّلْ مَا شَاءَ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৮২৪। কুতায়বা (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) নবী (ﷺ) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেনঃ যখন তোমাদের কেউ লোকদের নিয়ে নামায আদায় করবে, তখন সে যেন সংক্ষিপ্ত করে। কেননা তাদের মধ্যে রোগী, দুর্বল এবং বৃদ্ধ লোক থাকে। আর যখন কেউ একা একা নামায আদায় করে, তখন সে যত ইচ্ছা নামায দেরী করতে পারে।

৮২৪

أَخْبَرَنَا قُتَيْبَةُ، قَالَ حَدَّثَنَا أَبُو عَوَانَةَ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ أَنَسٍ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم كَانَ أَخَفَّ النَّاسِ صَلاَةً فِي تَمَامٍ .

বর্ণনাকারী: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

৮২৫। কুতায়বা (রাহঃ) ......... আনাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, নবী (ﷺ) সবচাইতে পূর্ণ আহকাম-আরকানসহ জামাআতের নামায সকলের চেয়ে সহজে আদায় করতেন।

৮২৫

أَخْبَرَنَا سُوَيْدُ بْنُ نَصْرٍ، قَالَ حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ، عَنِ الأَوْزَاعِيِّ، قَالَ حَدَّثَنِي يَحْيَى بْنُ أَبِي كَثِيرٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي قَتَادَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " إِنِّي لأَقُومُ فِي الصَّلاَةِ فَأَسْمَعُ بُكَاءَ الصَّبِيِّ فَأُوجِزُ فِي صَلاَتِي كَرَاهِيَةَ أَنْ أَشُقَّ عَلَى أُمِّهِ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু কাতাদা আনসারী (রাঃ)

৮২৬। সুওয়ায়দ ইবনে নসর (রাহঃ) ......... আবু কাতাদা (রাযিঃ) সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেছেনঃ আমি নামাযে দাঁড়ালে শিশুর ক্রন্দন শুনতে পাই তখন আমি নামায সংক্ষেপ করি, পাছে তার মাকে কষ্ট দিয়ে ফেলি।

ইমামের জন্য লম্বা করার অনুমতি।

الرخصة للإمام في التطويل

৮২৬

أَخْبَرَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ مَسْعُودٍ، قَالَ حَدَّثَنَا خَالِدُ بْنُ الْحَارِثِ، عَنِ ابْنِ أَبِي ذِئْبٍ، قَالَ أَخْبَرَنِي الْحَارِثُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ سَالِمِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ، قَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَأْمُرُ بِالتَّخْفِيفِ وَيَؤُمُّنَا بِالصَّافَّاتِ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

৮২৭। ইসমাঈল ইবনে মাসউদ (রাহঃ) ......... আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদেরকে নামায সহজ করতে বলতেন আর তিনি আমাদের ইমামতি করতেন, “সূরা সাফফাত”- দিয়ে।

ইমামের জন্য নামাযে যা বৈধ।

ما يجوز للإمام من العمل في الصلاة

৮২৭

أَخْبَرَنَا قُتَيْبَةُ، قَالَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ عُثْمَانَ بْنِ أَبِي سُلَيْمَانَ، عَنْ عَامِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الزُّبَيْرِ، عَنْ عَمْرِو بْنِ سُلَيْمٍ الزُّرَقِيِّ، عَنْ أَبِي قَتَادَةَ، قَالَ رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَؤُمُّ النَّاسَ وَهُوَ حَامِلٌ أُمَامَةَ بِنْتَ أَبِي الْعَاصِ عَلَى عَاتِقِهِ فَإِذَا رَكَعَ وَضَعَهَا وَإِذَا رَفَعَ مِنْ سُجُودِهِ أَعَادَهَا .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু কাতাদা আনসারী (রাঃ)

৮২৮। কুতায়বা (রাহঃ) ......... আবু কাতাদা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে দেখেছি তিনি লোকের ইমামতি করছেন। আর তখন তিনি উমামা বিনতে আবুল আসকে তার কাঁধে উঠিয়ে রাখছেন। যখন তিনি রুকু করেন, তাকে রেখে দিচ্ছেন। আর যখন সিজদা থেকে উঠলে, তাকে পুনরায় তুলে নিলেন।

ইমাম থেকে অগ্রগামী হওয়া

مبادرة الإمام

৮২৮

أَخْبَرَنَا قُتَيْبَةُ، قَالَ حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ زِيَادٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ مُحَمَّدٌ صلى الله عليه وسلم " أَلاَ يَخْشَى الَّذِي يَرْفَعُ رَأْسَهُ قَبْلَ الإِمَامِ أَنْ يُحَوِّلَ اللَّهُ رَأْسَهُ رَأْسَ حِمَارٍ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৮২৯। কুতায়বা (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি, বলেন, মুহাম্মাদ (ﷺ) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি ইমামের আগে মাথা উঠায়, সে কি ভয় করে না যে, আল্লাহ তাআলা তার মাথাকে গাধার মাথায় পরিবর্তিত করে দিবেন?

৮২৯

أَخْبَرَنَا يَعْقُوبُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، قَالَ حَدَّثَنَا ابْنُ عُلَيَّةَ، قَالَ أَنْبَأَنَا شُعْبَةُ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، قَالَ سَمِعْتُ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ يَزِيدَ، يَخْطُبُ قَالَ حَدَّثَنَا الْبَرَاءُ، وَكَانَ، غَيْرَ كَذُوبٍ أَنَّهُمْ كَانُوا إِذَا صَلَّوْا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَرَفَعَ رَأْسَهُ مِنَ الرُّكُوعِ قَامُوا قِيَامًا حَتَّى يَرَوْهُ سَاجِدًا ثُمَّ سَجَدُوا .

বর্ণনাকারী: হযরত বারা’ ইবনে আযিব (রাঃ)

৮৩০। ইয়াকুব ইবনে ইবরাহীম (রাহঃ) ......... আব্দুল্লাহ ইবনে ইয়াযীদ (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, বারা (রাযিঃ) বর্ণনা করেছেন, আর তিনি মিথ্যাবাদী ছিলেন না, তারা যখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সঙ্গে নামায আদায় করতেন তখন তিনি রুকু থেকে মাথা উঠাতেন আর তারা দাঁড়িয়ে যেতেন। তারপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) সিজদা করতে দেখে তাঁরা সিজদা করতেন।

৮৩০

أَخْبَرَنَا مُؤَمَّلُ بْنُ هِشَامٍ، قَالَ حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ ابْنُ عُلَيَّةَ، عَنْ سَعِيدٍ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ يُونُسَ بْنِ جُبَيْرٍ، عَنْ حِطَّانَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ صَلَّى بِنَا أَبُو مُوسَى فَلَمَّا كَانَ فِي الْقَعْدَةِ دَخَلَ رَجُلٌ مِنَ الْقَوْمِ فَقَالَ أُقِرَّتِ الصَّلاَةُ بِالْبِرِّ وَالزَّكَاةِ . فَلَمَّا سَلَّمَ أَبُو مُوسَى أَقْبَلَ عَلَى الْقَوْمِ فَقَالَ أَيُّكُمُ الْقَائِلُ هَذِهِ الْكَلِمَةَ فَأَرَمَّ الْقَوْمُ . قَالَ يَا حِطَّانُ لَعَلَّكَ قُلْتَهَا قَالَ لاَ وَقَدْ خَشِيتُ أَنْ تَبْكَعَنِي بِهَا فَقَالَ إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَانَ يُعَلِّمُنَا صَلاَتَنَا وَسُنَّتَنَا فَقَالَ " إِنَّمَا الإِمَامُ لِيُؤْتَمَّ بِهِ فَإِذَا كَبَّرَ فَكَبِّرُوا وَإِذَا قَالَ ( غَيْرِ الْمَغْضُوبِ عَلَيْهِمْ وَلاَ الضَّالِّينَ ) فَقُولُوا آمِينَ يُجِبْكُمُ اللَّهُ وَإِذَا رَكَعَ فَارْكَعُوا وَإِذَا رَفَعَ فَقَالَ سَمِعَ اللَّهُ لِمَنْ حَمِدَهُ فَقُولُوا رَبَّنَا لَكَ الْحَمْدُ يَسْمَعِ اللَّهُ لَكُمْ وَإِذَا سَجَدَ فَاسْجُدُوا وَإِذَا رَفَعَ فَارْفَعُوا فَإِنَّ الإِمَامَ يَسْجُدُ قَبْلَكُمْ وَيَرْفَعُ قَبْلَكُمْ " . قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " فَتِلْكَ بِتِلْكَ " .

বর্ণনাকারী: হিত্তান ইবনে আবদুল্লাহ (রহঃ)

৮৩১। মুহাম্মাদ ইবনে হিশাম (রাহঃ) ......... হিত্তান ইবনে আব্দুল্লাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আবু মুসা (রাযিঃ) আমাদের নিয়ে নামায আদায় করলেন। তিনি বৈঠকে থাকাকালে এক ব্যক্তি প্রবেশ করে বলল, “নামায নেকী এবং যাকাত” এর সাথে মিলিত হয়েছে। আবু মুসা (রাযিঃ) যখন সালাম ফিরালেন তখন তিনি লোকের দিকে ফিরে বললেনঃ তোমাদের মধ্যে কে একথা বলেছে? তখন লোকটা চুপ হয়ে গেল আর, তিনি বললেনঃ হে হিত্তান! তুমি এটা বলে থাকবে। তিনি বললেনঃ না, আমি ভয় করছিলাম, আপনি এর জন্য আমাকে দোষারোপ করবেন।

তিনি বললেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদের নামায ও তার নিয়ম-কানুন শিক্ষা দিয়েছিলেন। তিনি বলেছেনঃ ইমাম এজন্য যে তার ইক্তিদা করা হবে। যখন তিনি তাকবীর বলবেন তোমরাও তাকবীর বলবে, আর যখন তিনি غَيْرِ الْمَغْضُوبِ عَلَيْهِمْ وَلاَ الضَّالِّينَ বলেন তখন তোমরা আমীন বলবে। তাহলে আল্লাহ তোমাদের দু'আ কবুল করবেন। আর যখন তিনি রুকু করেন তখন তোমরাও রুকু করবে। আর যখন তিনি মাথা উঠিয়েছেন سَمِعَ اللَّهُ لِمَنْ حَمِدَهُ বলেন, তখন তোমরা বলবে رَبَّنَا لَكَ الْحَمْدُ আল্লাহ তোমাদের কথা শুনবেন।

আর যখন ইমাম সিজদা করেন, তোমরাও সিজদা করবে, যখন সিজদা থেকে মাথা উঠাবেন, তোমরাও মাথা উঠাবে। কেননা ইমাম তোমাদের পূর্বে সিজদা করবেন এবং তোমাদের পূর্বে মাথা উঠাবেন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ এটা তার সমান হয়ে যাবে।

মুসল্লী কর্তৃক ইমামের নামায থেকে বের হয়ে মসজিদের কোন প্রান্তে পৃথক নামায আদায় করা

خروج الرجل من صلاة الإمام وفراغه من صلاته في ناحية المسجد

৮৩১

أَخْبَرَنَا وَاصِلُ بْنُ عَبْدِ الأَعْلَى، قَالَ حَدَّثَنَا ابْنُ فُضَيْلٍ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ مُحَارِبِ بْنِ دِثَارٍ، وَأَبِي، صَالِحٍ عَنْ جَابِرٍ، قَالَ جَاءَ رَجُلٌ مِنَ الأَنْصَارِ وَقَدْ أُقِيمَتِ الصَّلاَةُ فَدَخَلَ الْمَسْجِدَ فَصَلَّى خَلْفَ مُعَاذٍ فَطَوَّلَ بِهِمْ فَانْصَرَفَ الرَّجُلُ فَصَلَّى فِي نَاحِيَةِ الْمَسْجِدِ ثُمَّ انْطَلَقَ فَلَمَّا قَضَى مُعَاذٌ الصَّلاَةَ قِيلَ لَهُ إِنَّ فُلاَنًا فَعَلَ كَذَا وَكَذَا . فَقَالَ مُعَاذٌ لَئِنْ أَصْبَحْتُ لأَذْكُرَنَّ ذَلِكَ لِرَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم . فَأَتَى مُعَاذٌ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فَذَكَرَ ذَلِكَ لَهُ فَأَرْسَلَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِلَيْهِ فَقَالَ " مَا حَمَلَكَ عَلَى الَّذِي صَنَعْتَ " . فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ عَمِلْتُ عَلَى نَاضِحِي مِنَ النَّهَارِ فَجِئْتُ وَقَدْ أُقِيمَتِ الصَّلاَةُ فَدَخَلْتُ الْمَسْجِدَ فَدَخَلْتُ مَعَهُ فِي الصَّلاَةِ فَقَرَأَ سُورَةَ كَذَا وَكَذَا فَطَوَّلَ فَانْصَرَفْتُ فَصَلَّيْتُ فِي نَاحِيَةِ الْمَسْجِدِ . فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " أَفَتَّانٌ يَا مُعَاذُ أَفَتَّانٌ يَا مُعَاذُ أَفَتَّانٌ يَا مُعَاذُ " .

বর্ণনাকারী: জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ আনসারী (রাঃ)

৮৩২। ওয়াসিল ইবনে আব্দুল আ’লা (রাহঃ) ......... জাবির (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিন বলেন, নামাযের ইকামত বলার পরে এক আনসারী ব্যক্তি আগমন করল। সে মসজিদে প্রবেশ করে মু’আয (রাযিঃ)-এর পেছনে নামাযে দাঁড়াল। তিনি কিরাআত লম্বা করলেন। লোকটি নামায থেকে বের হয়ে মসজিদের এক কোণে নামায আদায় করে চলে গেল। মু’আয (রাযিঃ) যখন নামায শেষ করলেন, তাকে বলা হল, অমুক ব্যক্তি এরূপ এরূপ করেছে। মু’আয (রাযিঃ) বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে এ ব্যাপারে অবশ্যই অবহিত করব।

মু’আয (রাযিঃ) নবী (ﷺ) এর নিকট উপস্থিত হয়ে ঘটনা ব্যক্ত করলেন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) লোকটির নিকট লোক পাঠিয়ে তাকে ডেকে আনলেন এবং তাকে জিজ্ঞাসা করলেনঃ তুমি যা করেছ তা করতে তোমাকে কিসে বাধ্য করেছে? সে ব্যক্তি বলল, ইয়া রাসুলাল্লাহ! আমি দিনের বেলায় আমার উটের কাজে ব্যাস্ত ছিলাম। এরপর আমি আসলাম এবং পূর্বেই নামাযের ইকামত বলা হয়েছিল। আমি মসজিদে প্রবেশ করে তার সঙ্গে নামাযে শরীক হলাম।

কিন্তু তিনিও নামাযে অমুক অমুক সূরা আরম্ভ করে নামায লম্বা করে দিলেন। এজন্য আমি নামায থেকে বের হয়ে মসজিদের এক কোণে নামায আদায় করি। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ হে মু’আয! তুমি কি ফিতনা সৃষ্টিকারী হবে? হে মু’আয! তুমি কি ফিতনা সৃষ্টিকারী হবে? হে মু’আয! তুমি কি ফিতনা সৃষ্টিকারী হবে?

বসে নামায আদায়কারী ইমামের পেছনে ইকতিদা করা।

الائتمام بالإمام يصلي قاعدا

৮৩২

أَخْبَرَنَا قُتَيْبَةُ، عَنْ مَالِكٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم رَكِبَ فَرَسًا فَصُرِعَ عَنْهُ فَجُحِشَ شِقُّهُ الأَيْمَنُ فَصَلَّى صَلاَةً مِنَ الصَّلَوَاتِ وَهُوَ قَاعِدٌ فَصَلَّيْنَا وَرَاءَهُ قُعُودًا فَلَمَّا انْصَرَفَ قَالَ " إِنَّمَا جُعِلَ الإِمَامُ لِيُؤْتَمَّ بِهِ فَإِذَا صَلَّى قَائِمًا فَصَلُّوا قِيَامًا وَإِذَا رَكَعَ فَارْكَعُوا وَإِذَا قَالَ سَمِعَ اللَّهُ لِمَنْ حَمِدَهُ فَقُولُوا رَبَّنَا لَكَ الْحَمْدُ وَإِذَا صَلَّى جَالِسًا فَصَلُّوا جُلُوسًا أَجْمَعُونَ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

৮৩৩। কুতায়বা (রাহঃ) ......... আনাস ইবনে মালিক (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এক ঘোড়ায় আরোহণ করলেন এবং তা থেকে পড়ে তার ডান পাঁজরে আঘাত পেলেন। এরপর এক ওয়াক্ত নামায বসে আদায় করলেন আমরাও তার পেছনে বসে নামায আদায় করি। নামায শেষ করে তিনি বললেনঃ ইমাম নিযুক্ত হয় তার অনুসরণ করার জন্য। ইমাম যখন দাঁড়িয়ে নামায আদায় করেন, তখন তোমরাও দাঁড়িয়ে নামায আদায় করবে। যখন ইমাম سَمِعَ اللَّهُ لِمَنْ حَمِدَهُ বলেন, তখন তোমরা বলবে رَبَّنَا لَكَ الْحَمْدُ আর যখন ইমান বসে নামায আদায় করবে তখন তোমরাও বসে নামায আদায় করবে।

৮৩৩

أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْعَلاَءِ، قَالَ حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ، عَنِ الأَسْوَدِ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ لَمَّا ثَقُلَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم جَاءَ بِلاَلٌ يُؤْذِنُهُ بِالصَّلاَةِ فَقَالَ " مُرُوا أَبَا بَكْرٍ فَلْيُصَلِّ بِالنَّاسِ " . قَالَتْ قُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّ أَبَا بَكْرٍ رَجُلٌ أَسِيفٌ وَإِنَّهُ مَتَى يَقُومُ فِي مَقَامِكَ لاَ يُسْمِعُ النَّاسَ فَلَوْ أَمَرْتَ عُمَرَ . فَقَالَ " مُرُوا أَبَا بَكْرٍ فَلْيُصَلِّ بِالنَّاسِ " . فَقُلْتُ لِحَفْصَةَ قُولِي لَهُ فَقَالَتْ لَهُ . فَقَالَ " إِنَّكُنَّ لأَنْتُنَّ صَوَاحِبَاتُ يُوسُفَ مُرُوا أَبَا بَكْرٍ فَلْيُصَلِّ بِالنَّاسِ " . قَالَتْ فَأَمَرُوا أَبَا بَكْرٍ فَلَمَّا دَخَلَ فِي الصَّلاَةِ وَجَدَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مِنْ نَفْسِهِ خِفَّةً - قَالَتْ - فَقَامَ يُهَادَى بَيْنَ رَجُلَيْنِ وَرِجْلاَهُ تَخُطَّانِ فِي الأَرْضِ فَلَمَّا دَخَلَ الْمَسْجِدَ سَمِعَ أَبُو بَكْرٍ حِسَّهُ فَذَهَبَ لِيَتَأَخَّرَ فَأَوْمَأَ إِلَيْهِ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَنْ قُمْ كَمَا أَنْتَ قَالَتْ فَجَاءَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم حَتَّى قَامَ عَنْ يَسَارِ أَبِي بَكْرٍ جَالِسًا فَكَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يُصَلِّي بِالنَّاسِ جَالِسًا وَأَبُو بَكْرٍ قَائِمًا يَقْتَدِي أَبُو بَكْرٍ بِرَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَالنَّاسُ يَقْتَدُونَ بِصَلاَةِ أَبِي بَكْرٍ رضى الله عنه .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

৮৩৪। মুহাম্মাদ ইবনুল আ’লা (রাহঃ) ......... আয়িশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর রোগ যখন বেড়ে গেল, তখন বিলাল (রাযিঃ) তাকে নামাযের খবর দিতে আসলেন। তিনি বললেনঃ আবু বকর (রাযিঃ)-কে বল, সে যেন লোকদের নিয়ে নামায আদায় করে। আয়িশা (রাযিঃ) বলেনঃ আমি বললাম, ইয়া রাসুলাল্লাহ! আবু বকর একজন কোমল হৃদয়ের মানুষ। তিনি যখন আপনার স্থানে দাঁড়াবেন, তখন তিনি লোকদের কির’আত শোনাতে পারবেন না।

অতএব যদি আপনি উমর (রাযিঃ)-কে আদেশ করতেন তবে ভাল হত। তিনি বললেনঃ আবু বকর (রাযিঃ)-কে বল, যেন লোকদের নিয়ে নামায আদায় করে। তারপর আমি হাফসা (রাযিঃ)-কে আমার কথা বলার জন্য বললাম। তিনিও তাঁকে তা বললেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, তোমরা (পীড়াপীড়ি করার ব্যাপারে) ঐ সকল নারীর ন্যায় যারা ইউসূফ (আলাইহিস সালাম) এর ব্যাপারে জড়িত ছিল। আবু বকর (রাযিঃ)-কে বল, লোকদের নিয়ে নামায আদায় করতে।

তিনি [আয়িশা (রাযিঃ)] বলেনঃ তাঁকে অনুরোধ করা হলে যখন তিনি নামায আরম্ভ করলেন, তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কিছুটা স্বস্তিবোধ করলেন, তিনি দাঁড়িয়ে দু’জন লোকের সহায়তায় চললেন আর তার পদদ্বয় মাটিতে হেঁচড়াচ্ছিল। যখন তিনি মসজিদে প্রবেশ করলেন, আবু বকর (রাযিঃ) তাঁর আগমন অনুভব করে পেছনে হটতে চাইলেন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাঁকে ইঙ্গিতে নিজ অবস্থায় থাকতে বললেন।

আয়িশা (রাযিঃ) বলেনঃ তারপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এসে আবু বকর (রাযিঃ)-এর বামদিকে দাঁড়ালেন এবং লোকদের সাথে বসে নামায আদায় করলেন। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) লোকদের নিয়ে নামায আদায় করছিলেন বসে, আবু বকর (রাযিঃ) ছিলেন দাঁড়ানো। আবু বকর (রাযিঃ) রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর ইক্তিদা করছিলেন আর অন্য লোকেরা ইক্তিদা করছিল আবু বকর (রাযিঃ)-এর নামাযের।
৮৩৪

أَخْبَرَنَا الْعَبَّاسُ بْنُ عَبْدِ الْعَظِيمِ الْعَنْبَرِيُّ، قَالَ حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ مَهْدِيٍّ، قَالَ حَدَّثَنَا زَائِدَةُ، عَنْ مُوسَى بْنِ أَبِي عَائِشَةَ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ دَخَلْتُ عَلَى عَائِشَةَ فَقُلْتُ أَلاَ تُحَدِّثِينِي عَنْ مَرَضِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم . قَالَتْ لَمَّا ثَقُلَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ " أَصَلَّى النَّاسُ " . فَقُلْنَا لاَ وَهُمْ يَنْتَظِرُونَكَ يَا رَسُولَ اللَّهِ . فَقَالَ " ضَعُوا لِي مَاءً فِي الْمِخْضَبِ " . فَفَعَلْنَا فَاغْتَسَلَ ثُمَّ ذَهَبَ لِيَنُوءَ فَأُغْمِيَ عَلَيْهِ ثُمَّ أَفَاقَ فَقَالَ " أَصَلَّى النَّاسُ " . قُلْنَا لاَ هُمْ يَنْتَظِرُونَكَ يَا رَسُولَ اللَّهِ . فَقَالَ " ضَعُوا لِي مَاءً فِي الْمِخْضَبِ " . فَفَعَلْنَا فَاغْتَسَلَ ثُمَّ ذَهَبَ لِيَنُوءَ ثُمَّ أُغْمِيَ عَلَيْهِ ثُمَّ قَالَ فِي الثَّالِثَةِ مِثْلَ قَوْلِهِ قَالَتْ وَالنَّاسُ عُكُوفٌ فِي الْمَسْجِدِ يَنْتَظِرُونَ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لِصَلاَةِ الْعِشَاءِ فَأَرْسَلَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِلَى أَبِي بَكْرٍ " أَنْ صَلِّ بِالنَّاسِ " . فَجَاءَهُ الرَّسُولُ فَقَالَ إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَأْمُرُكَ أَنْ تُصَلِّيَ بِالنَّاسِ وَكَانَ أَبُو بَكْرٍ رَجُلاً رَقِيقًا فَقَالَ يَا عُمَرُ صَلِّ بِالنَّاسِ . فَقَالَ أَنْتَ أَحَقُّ بِذَلِكَ . فَصَلَّى بِهِمْ أَبُو بَكْرٍ تِلْكَ الأَيَّامَ ثُمَّ إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَجَدَ مِنْ نَفْسِهِ خِفَّةً فَجَاءَ يُهَادَى بَيْنَ رَجُلَيْنِ أَحَدُهُمَا الْعَبَّاسُ لِصَلاَةِ الظُّهْرِ فَلَمَّا رَآهُ أَبُو بَكْرٍ ذَهَبَ لِيَتَأَخَّرَ فَأَوْمَأَ إِلَيْهِ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَنْ لاَ يَتَأَخَّرَ وَأَمَرَهُمَا فَأَجْلَسَاهُ إِلَى جَنْبِهِ فَجَعَلَ أَبُو بَكْرٍ يُصَلِّي قَائِمًا وَالنَّاسُ يُصَلُّونَ بِصَلاَةِ أَبِي بَكْرٍ وَرَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يُصَلِّي قَاعِدًا . فَدَخَلْتُ عَلَى ابْنِ عَبَّاسٍ فَقُلْتُ أَلاَ أَعْرِضُ عَلَيْكَ مَا حَدَّثَتْنِي عَائِشَةُ عَنْ مَرَضِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ نَعَمْ . فَحَدَّثْتُهُ فَمَا أَنْكَرَ مِنْهُ شَيْئًا غَيْرَ أَنَّهُ قَالَ أَسَمَّتْ لَكَ الرَّجُلَ الَّذِي كَانَ مَعَ الْعَبَّاسِ قُلْتُ لاَ . قَالَ هُوَ عَلِيٌّ كَرَّمَ اللَّهُ وَجْهَهُ .

বর্ণনাকারী: উবাইদুল্লাহ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে উতবা ইবনে মাসউদ (রহঃ)

৮৩৫। আব্বাস ইবনে আব্দুল আযীম আম্বারী (রাহঃ) ......... উবাইদুল্লাহ ইবনে আব্দুল্লাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আয়িশা (রাযিঃ)-এর নিকট উপস্থিত হয়ে বললাম, আপনি কি আমাকে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর রোগ সম্বন্ধে অবহিত করবেন না? তিনি বললেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর রোগ যখন বেড়ে গেল তখন তিনি বললেন, লোকেরা কি নামায আদায় করে ফেলেছে? আমরা বললামঃ না, আপনার অপেক্ষা করছে ইয়া রাসুলাল্লাহ! তিনি বললেন আমার জন্য পাত্রে কিছু পানি রাখ। আমরা তা করলে তিনি গোসল করলেন এবং মসজিদে যাওয়ার ইচ্ছা করলেন। ইত্যবসরে তিনি সংজ্ঞাহীন হয়ে পড়েন। তারপর কিছুটা সূস্থ হয়ে বললেন, লোকগণ কি নামায আদায় করে ফেলেছে? আমরা বললাম, না, ইয়া রাসুলাল্লাহ! তারা আপনার অপেক্ষা করছে। তিনি বললেন আমার জন্য পাত্রে কিছু পানি রাখ। আমরা যখন পানি রাখলাম তিনি গোসল করলেন। তারপর দাঁড়াবার ইচ্ছা করলে আবার তিনি সংজ্ঞাহীন হয়ে পড়েন। এরপর তৃতীয়বারও তিনি ঐরূপ বললেন।

আয়িশা (রাযিঃ) বলেনঃ তখন লোকেরা মসজিদে ইশার নামাযের জন্য রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর অপেক্ষায় অবস্থান করছিলেন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আবু বকর (রাযিঃ) এর নিকট লোক পাঠিয়ে লোকদের নিয়ে নামায আদায় করতে বললেন। সেই লোক এসে তাঁকে সংবাদ দিল যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আপনাকে লোকদের নিয়ে নামায আদায় করতে বলেছেন। আবু বকর (রাযিঃ) ছিলেন কোমল হৃদয়ের লোক। তিনি উমর (রাযিঃ)-কে বললেন, হে উমর! লোকদের নিয়ে নামায আদায় করুন। তিনি বললেন, এ কাজের জন্য আপনিই উপযুক্ত। তারপর আবু বকর (রাযিঃ) এই কয়দিন লোকদের নিয়ে নামায আদায় করলেন।

এরপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কিছুটা সুস্থতা অনুভব করলেন এবং তিনি দু’জন লোকের সাহায্য নিয়ে যোহরের নামাযের জন্য আসলেন। তাদের একজন ছিলেন আব্বাস (রাযিঃ)। যখন আবু বকর (রাযিঃ) তাঁকে দেখলেন তখন তিনি পিছে হটতে চাইলেন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাকে ইঙ্গিতে পিছু হটতে নিষেধ করলেন এবং ঐ ব্যক্তিকে আদেশ করলে তাঁরা তাঁকে আবু বকর (রাযিঃ) এর পাশে বসিয়ে দিলেন। তখন আবু বকর (রাযিঃ) দাঁড়িয়ে নামায আদায় করছিলেন আর লোকগণ আবু বকরের ইক্তিদা করছিলেন। আর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বসে নামায আদায় করছিলেন।

বর্ণনাকারী বলেনঃ তারপর আমি ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) এর নিকট গিয়ে বললাম, আয়িশা (রাযিঃ) আমাকে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর রোগ সম্বন্ধে যা বলেছেন, তা কি আপনার নিকট বর্ণনা করব? তিনি বললেন, হ্যাঁ। আমি তাঁর নিকট বর্ণনা করলাম। তিনি তার কোন কিছুই অস্বীকার করলেন না। কিন্তু তিনি বললেন তিনি তোমার নিকট ঐ ব্যক্তির নাম বলেছেন কি, যিনি আব্বাসের সঙ্গে ছিলেন? আমি বললাম, না। ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) বললেন, তিনি ছিলেন আলী (রাযিঃ)।

ইমাম ও মুক্তাদীর নিয়তের ভিন্নতা।

اختلاف نية الإمام والمأموم

৮৩৫

أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ مَنْصُورٍ، قَالَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ عَمْرٍو، قَالَ سَمِعْتُ جَابِرَ بْنَ عَبْدِ اللَّهِ، يَقُولُ كَانَ مُعَاذٌ يُصَلِّي مَعَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم ثُمَّ يَرْجِعُ إِلَى قَوْمِهِ يَؤُمُّهُمْ فَأَخَّرَ ذَاتَ لَيْلَةٍ الصَّلاَةَ وَصَلَّى مَعَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم ثُمَّ رَجَعَ إِلَى قَوْمِهِ يَؤُمُّهُمْ فَقَرَأَ سُورَةَ الْبَقَرَةِ فَلَمَّا سَمِعَ رَجُلٌ مِنَ الْقَوْمِ تَأَخَّرَ فَصَلَّى ثُمَّ خَرَجَ فَقَالُوا نَافَقْتَ يَا فُلاَنُ . فَقَالَ وَاللَّهِ مَا نَافَقْتُ وَلآتِيَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فَأُخْبِرُهُ . فَأَتَى النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّ مُعَاذًا يُصَلِّي مَعَكَ ثُمَّ يَأْتِينَا فَيَؤُمُّنَا وَإِنَّكَ أَخَّرْتَ الصَّلاَةَ الْبَارِحَةَ فَصَلَّى مَعَكَ ثُمَّ رَجَعَ فَأَمَّنَا فَاسْتَفْتَحَ بِسُورَةِ الْبَقَرَةِ فَلَمَّا سَمِعْتُ ذَلِكَ تَأَخَّرْتُ فَصَلَّيْتُ وَإِنَّمَا نَحْنُ أَصْحَابُ نَوَاضِحَ نَعْمَلُ بِأَيْدِينَا . فَقَالَ لَهُ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم " يَا مُعَاذُ أَفَتَّانٌ أَنْتَ اقْرَأْ بِسُورَةِ كَذَا وَسُورَةِ كَذَا " .

বর্ণনাকারী: হযরত আমর ইবনুল আস রাযি.

৮৩৬। মুহাম্মাদ ইবনে মনসুর (রাহঃ) ......... আমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ (রাযিঃ)-কে বলতে শুনেছি যে, মু’আয (রাযিঃ) রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সাথে নামায আদায় করে স্বীয় গোত্রের নিকট ফিরে যেতেন এবং তাদের ইমাম হয়ে নামায আদায় করতেন। একদা নবী (ﷺ) এর সাথে তিনি বিলম্বে নামায আদায় করলেন।

তারপর নিজ গোত্রের নিকট ফিরে তাদের ইমামতি করেন এবং তিনি তাতে সূরা বাকারা পাঠ করেন। গোত্রের এক ব্যক্তি এরূপ কিরাআত শুনে নামায থেকে সরে পড়ল এবং একা নামায আদায় করে বেরিয়ে পড়ল। তখন লোকগণ তাকে বললেন, হে অমুক! তুমি কি মুনাফিক হয়ে গেছ? সে বলল আল্লাহর শপথ! আমি মুনাফিক হইনি। আমি নিশ্চয়ই রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর-নিকট গিয়ে তাঁকে বলব।

তারপর সে নবী (ﷺ) এর নিকট গিয়ে বলল, ইয়া রাসুলাল্লাহ! মু’আয আপনার সঙ্গে নামায আদায় করেন। তারপর আমাদের নিকট এসে আমাদের ইমামতি করেন। গত রাতে আপনি নামায দেরি করে আদায় করেন। তিনি আপনার সঙ্গে নামায আদায় করার পর আমাদের ইমামতি করতে যান এবং তিনি সূরা বাকারা শুরু করে দেন। আমি তা শুনে পেছনে হটে যাই এবং একা নামায আদায় করি। আমরা উটের রাখাল, আমরা নিজ হাতে কাজ করি। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, হে মু’আয! তুমি কি ফিতনা সৃষ্টিকারী হবে? তুমি অমুক অমুক সূরা পাঠ করবে।
৮৩৬

أَخْبَرَنَا عَمْرُو بْنُ عَلِيٍّ، قَالَ حَدَّثَنَا يَحْيَى، عَنْ أَشْعَثَ، عَنِ الْحَسَنِ، عَنْ أَبِي بَكْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ صَلَّى صَلاَةَ الْخَوْفِ فَصَلَّى بِالَّذِينَ خَلْفَهُ رَكْعَتَيْنِ وَبِالَّذِينَ جَاءُوا رَكْعَتَيْنِ فَكَانَتْ لِلنَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَرْبَعًا وَلِهَؤُلاَءِ رَكْعَتَيْنِ رَكْعَتَيْنِ

বর্ণনাকারী: হযরত আবু বাকরা (রাঃ)

৮৩৭। আমর ইবনে আলী (রাহঃ) ......... আবু বাকরা (রাযিঃ) সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে বর্ণিত। একবার তিনি ভয়কালীন নামায আদায় করলেন। তিনি প্রথমে তাঁর পেছনের লোকদের নিয়ে দুই রাক’আত নামায আদায় করলেন। আর যারা পরে আসল তাদের নিয়ে দুই রাক’আত নামায আদায় করলেন। ফলে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নামায চার রাক’আত হল আর অন্যদের হলো দুই দুই রাক’আত।

জামাআতের মর্যাদা।

فضل الجماعة

৮৩৭

أَخْبَرَنَا قُتَيْبَةُ، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " صَلاَةُ الْجَمَاعَةِ تَفْضُلُ عَلَى صَلاَةِ الْفَذِّ بِسَبْعٍ وَعِشْرِينَ دَرَجَةً " .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

৮৩৮। কুতায়বা (রাহঃ) ......... ইবনে উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ জামাআতের নামায একাকী নামায অপেক্ষা সাতাশ গুণ মর্যাদাপূর্ণ।

৮৩৮

أَخْبَرَنَا قُتَيْبَةُ، عَنْ مَالِكٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيَّبِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " صَلاَةُ الْجَمَاعَةِ أَفْضَلُ مِنْ صَلاَةِ أَحَدِكُمْ وَحْدَهُ خَمْسًا وَعِشْرِينَ جُزْءًا " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৮৩৯। কুতায়বা (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ জামাআতের নামায তোমাদের একাকী নামায থেকে পঁচিশ গুণ উত্তম।

৮৩৯

أَخْبَرَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ سَعِيدٍ، قَالَ حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَمَّارٍ، قَالَ حَدَّثَنِي الْقَاسِمُ بْنُ مُحَمَّدٍ، عَنْ عَائِشَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " صَلاَةُ الْجَمَاعَةِ تَزِيدُ عَلَى صَلاَةِ الْفَذِّ خَمْسًا وَعِشْرِينَ دَرَجَةً " .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

৮৪০। উবাইদুল্লাহ ইবনে সাঈদ (রাহঃ) ......... আয়িশা (রাযিঃ) সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেছেনঃ জামাআতের নামায একাকী নামায অপেক্ষা পঁচিশ গুণ মর্যাদাশালী।

তিনজনের জামাআত

الجماعة إذا كانوا ثلاثة

৮৪০

أَخْبَرَنَا قُتَيْبَةُ، قَالَ حَدَّثَنَا أَبُو عَوَانَةَ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ أَبِي نَضْرَةَ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " إِذَا كَانُوا ثَلاَثَةً فَلْيَؤُمَّهُمْ أَحَدُهُمْ وَأَحَقُّهُمْ بِالإِمَامَةِ أَقْرَؤُهُمْ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ)

৮৪১। কুতায়বা (রাহঃ) ......... আবু সাঈদ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যখন তিনজন লোক হবে তখন তাদের একজন ইমামতি করবে, আর তাদের মধ্যে ইমামতের সর্বাপেক্ষা উপযুক্ত ব্যক্তি যে অধিক কিরাআত জানে (আল্লাহর কিতাব সন্বন্ধে অধিক জ্ঞান সস্পন্ন)।

তিনজনের একজন পুরুষ, একজন বালক ও একজন মহিলার জামাআত।

الجماعة إذا كانوا ثلاثة: رجل وصبي وامرأة

৮৪১

أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ بْنِ إِبْرَاهِيمَ، قَالَ حَدَّثَنَا حَجَّاجٌ، قَالَ ابْنُ جُرَيْجٍ أَخْبَرَنِي زِيَادٌ، أَنَّ قَزَعَةَ، مَوْلًى لِعَبْدِ الْقَيْسِ أَخْبَرَهُ أَنَّهُ، سَمِعَ عِكْرِمَةَ، قَالَ قَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ صَلَّيْتُ إِلَى جَنْبِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَعَائِشَةُ خَلْفَنَا تُصَلِّي مَعَنَا وَأَنَا إِلَى جَنْبِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أُصَلِّي مَعَهُ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

৮৪২। মুহাম্মাদ ইবনে ইসমাঈল ইবনে ইবরাহীম (রাহঃ) ......... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি নবী (ﷺ)-এর পাশে নামায আদায় করেছি। তখন আয়িশা (রাযিঃ) আমাদের পেছনে থেকে আমাদের সাথে নামায আদায় করছিলেন। আর আমি নবী (ﷺ) এর পাশে থেকে তাঁর সঙ্গে নামায আদায় করছিলাম।

দু’জনের জামাআত

الجماعة إذا كانوا اثنين

৮৪২

أَخْبَرَنَا سُوَيْدُ بْنُ نَصْرٍ، قَالَ حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ، عَنْ عَبْدِ الْمَلِكِ بْنِ أَبِي سُلَيْمَانَ، عَنْ عَطَاءٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ صَلَّيْتُ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقُمْتُ عَنْ يَسَارِهِ فَأَخَذَنِي بِيَدِهِ الْيُسْرَى فَأَقَامَنِي عَنْ يَمِينِهِ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

৮৪৩। সুওয়ায়দ ইবনে নসর (রাহঃ) ......... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সঙ্গে নামায আদায় করি। আমি তাঁর বাম পাশে দাঁড়ালে তিনি আমাকে তার বাম হাতে ধরে তাঁর ডান পাশে দাঁড় করান।

৮৪৩

أَخْبَرَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ مَسْعُودٍ، قَالَ حَدَّثَنَا خَالِدُ بْنُ الْحَارِثِ، عَنْ شُعْبَةَ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، أَنَّهُ أَخْبَرَهُمْ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي بَصِيرٍ، عَنْ أَبِيهِ، - قَالَ شُعْبَةُ وَقَالَ أَبُو إِسْحَاقَ وَقَدْ سَمِعْتُهُ مِنْهُ، وَمِنْ أَبِيهِ - قَالَ سَمِعْتُ أُبَىَّ بْنَ كَعْبٍ، يَقُولُ صَلَّى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَوْمًا صَلاَةَ الصُّبْحِ فَقَالَ " أَشَهِدَ فُلاَنٌ الصَّلاَةَ " . قَالُوا لاَ . قَالَ " فَفُلاَنٌ " . قَالُوا لاَ . قَالَ " إِنَّ هَاتَيْنِ الصَّلاَتَيْنِ مِنْ أَثْقَلِ الصَّلاَةِ عَلَى الْمُنَافِقِينَ وَلَوْ يَعْلَمُونَ مَا فِيهِمَا لأَتَوْهُمَا وَلَوْ حَبْوًا وَالصَّفُّ الأَوَّلُ عَلَى مِثْلِ صَفِّ الْمَلاَئِكَةِ وَلَوْ تَعْلَمُونَ فَضِيلَتَهُ لاَبْتَدَرْتُمُوهُ وَصَلاَةُ الرَّجُلِ مَعَ الرَّجُلِ أَزْكَى مِنْ صَلاَتِهِ وَحْدَهُ وَصَلاَةُ الرَّجُلِ مَعَ الرَّجُلَيْنِ أَزْكَى مِنْ صَلاَتِهِ مَعَ الرَّجُلِ وَمَا كَانُوا أَكْثَرَ فَهُوَ أَحَبُّ إِلَى اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ " .

বর্ণনাকারী: হযরত উবাই ইবনে কা‘ব (রাঃ)

৮৪৪। ইসমাঈল ইবনে মাসউদ (রাহঃ) ......... উবাই ইবনে কা’ব (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ফজরের নামায আদায় করলেন। পরে তিনি বললেনঃ অমুক কি নামাযে উপস্থিত হয়েছে? উপস্থিত মুসল্লীগণ বললেন, না। তিনি বললেনঃ অমুক ব্যক্তি? তাঁরা বললেন, না। তিনি বললেন, এ দুটি নামায (ইশা ও ফজর) মুনাফিকদের উপর অত্যন্ত কঠিন। তাতে কি মর্যাদা রয়েছে তারা যদি তা জানতো তাহলে নিশ্চয়ই তারা তাতে উপস্থিত হতো হামাগুড়ি দিয়ে হলেও। আর প্রথম সারি হলো ফিরিশতাদের সারির ন্যায়। যদি তোমরা তার মর্যাদা জানতে তাহলে তোমরা তাতে উপস্থিত হওয়ার জন্য প্রতিযোগিতা করতে। একজন লোকের সাথে নামায আদায় করা একাকী নামায আদায় করা থেকে উত্তম। আর দুইজন লোকের সাথে কোন ব্যক্তির নামায আদায় করা এক ব্যক্তির সাথে নামায আদায় করার চেয়ে উত্তম। আর সংখ্যা যতই বৃদ্ধি পাবে ততই আল্লাহর নিকট-পছন্দনীয় হবে।

নফল নামাযের জামাআত

الجماعة للنافلة

৮৪৪

أَخْبَرَنَا نَصْرُ بْنُ عَلِيٍّ، قَالَ أَنْبَأَنَا عَبْدُ الأَعْلَى، قَالَ حَدَّثَنَا مَعْمَرٌ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ مَحْمُودٍ، عَنْ عِتْبَانَ بْنِ مَالِكٍ، أَنَّهُ قَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّ السُّيُولَ لَتَحُولُ بَيْنِي وَبَيْنَ مَسْجِدِ قَوْمِي فَأُحِبُّ أَنْ تَأْتِيَنِي فَتُصَلِّيَ فِي مَكَانٍ مِنْ بَيْتِي أَتَّخِذُهُ مَسْجِدًا . فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " سَنَفْعَلُ " . فَلَمَّا دَخَلَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " أَيْنَ تُرِيدُ " . فَأَشَرْتُ إِلَى نَاحِيَةٍ مِنَ الْبَيْتِ فَقَامَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَصَفَفْنَا خَلْفَهُ فَصَلَّى بِنَا رَكْعَتَيْنِ .

বর্ণনাকারী: ‘ইতবান ইবন মালিক ইবন 'আমর আল খাযরাজী (রা)

৮৪৫। নসর ইবনে আলী (রাহঃ) ......... ইতবান ইবনে মালিক (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বললেন, ইয়া রাসুলাল্লাহ! আমার কওমের মসজিদ এবং আমার মধ্যে পানির স্রোত বাধা সৃষ্টি করে। অতএব আমার মনের বাসনা আপনি আমার বাড়ি এসে আমার ঘরের এক স্থানে নামায আদায় করেন এবং আমি সে স্থানটিকে মসজিদ বানিয়ে নই। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ আমি তাই করব, তারপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এসে বললেনঃ কোথায় নামায আদায় করা তুমি পছন্দ কর? আমি ঘরের এক কোণের দিকে ইঙ্গিত করলে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) সেখানে দাঁড়ালেন, আমরা তাঁর পেছনে কাতার বেঁধে দাঁড়ালাম। তিনি আমাদের নিয়ে দুই রাকআত নামায আদায় করলেন।

ক্বাযা নামাযের জামাআত

الجماعة للفائت من الصلاة

৮৪৫

أَنْبَأَنَا عَلِيُّ بْنُ حُجْرٍ، قَالَ أَنْبَأَنَا إِسْمَاعِيلُ، عَنْ حُمَيْدٍ، عَنْ أَنَسٍ، قَالَ أَقْبَلَ عَلَيْنَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِوَجْهِهِ حِينَ قَامَ إِلَى الصَّلاَةِ قَبْلَ أَنْ يُكَبِّرَ فَقَالَ " أَقِيمُوا صُفُوفَكُمْ وَتَرَاصُّوا فَإِنِّي أَرَاكُمْ مِنْ وَرَاءِ ظَهْرِي " .

বর্ণনাকারী: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

৮৪৬। আলী ইবনে হুজর (রাহঃ) ......... আনাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) নামাযে দাঁড়িয়ে তাকবীর বলার পূর্বে আমাদের দিকে মূখ ফিরিয়ে বললেন। তোমরা কাতার সোজা কর এবং পরস্পর মিলে মিশে দাঁড়াও। কেননা আমি তোমাদের আমার পিঠের পেছন দিক থেকে দেখে থাকি।

৮৪৬

أَخْبَرَنَا هَنَّادُ بْنُ السَّرِيِّ، قَالَ حَدَّثَنَا أَبُو زُبَيْدٍ، - وَاسْمُهُ عَبْثَرُ بْنُ الْقَاسِمِ - عَنْ حُصَيْنٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي قَتَادَةَ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ كُنَّا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِذْ قَالَ بَعْضُ الْقَوْمِ لَوْ عَرَّسْتَ بِنَا يَا رَسُولَ اللَّهِ . قَالَ " إِنِّي أَخَافُ أَنْ تَنَامُوا عَنِ الصَّلاَةِ " . قَالَ بِلاَلٌ أَنَا أَحْفَظُكُمْ . فَاضْطَجَعُوا فَنَامُوا وَأَسْنَدَ بِلاَلٌ ظَهْرَهُ إِلَى رَاحِلَتِهِ فَاسْتَيْقَظَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَقَدْ طَلَعَ حَاجِبُ الشَّمْسِ فَقَالَ " يَا بِلاَلُ أَيْنَ مَا قُلْتَ " . قَالَ مَا أُلْقِيَتْ عَلَىَّ نَوْمَةٌ مِثْلُهَا قَطُّ . قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " إِنَّ اللَّهَ عَزَّ وَجَلَّ قَبَضَ أَرْوَاحَكُمْ حِينَ شَاءَ فَرَدَّهَا حِينَ شَاءَ قُمْ يَا بِلاَلُ فَآذِنِ النَّاسَ بِالصَّلاَةِ " . فَقَامَ بِلاَلٌ فَأَذَّنَ فَتَوَضَّئُوا - يَعْنِي حِينَ ارْتَفَعَتِ الشَّمْسُ - ثُمَّ قَامَ فَصَلَّى بِهِمْ .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু কাতাদা আনসারী (রাঃ)

৮৪৭। হান্নাদ ইবনে সাররী (রাহঃ) ......... আবু কাতাদা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সঙ্গে ছিলাম হঠাৎ দলের একজন বললেন, ইয়া রাসুলাল্লাহ! যদি আরও বিলম্ব করে নামায আদায় করতেন। তিনি বললেনঃ আমি ভয় করি তোমরা নামায ছেড়ে শুয়ে পড়বে। বিলাল (রাযিঃ) বললেন আমি আপনাদের দেখাশুনা করব। তারপর সকলেই শুয়ে পড়লেন এবং নিদ্রা গেলেন। বিলাল (রাযিঃ) তার সওয়ারীর সাথে হেলান দিয়ে পিঠ লাগিয়ে রইলেন। তারপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) জাগ্রত হয়ে দেখলেন সূর্য উদিত হচ্ছে।

তিনি বললেনঃ হে বিলাল! তুমি যা বলেছিলে তা কোথায়? তিনি বললেন আমাকে এত গভীর নিদ্রা আর কখনো পায়নি। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ আল্লাহ তাআলা যখন ইচ্ছা করলেন তখন তোমাদের রুহ কবজ করে নিলেন আর যখন ইচ্ছা ফিরিয়ে দিলেন। উঠ লোকদের নামাযের আহবান কর। তারপর বিলাল (রাযিঃ) উঠে আযান দিলেন, এরপর সকলে উযু করলেন অর্থাৎ যখন সূর্য বেশ উপরে উঠলো। পরে তিনি দাঁড়িয়ে লোকদের নিয়ে নামায আদায় করলেন।

জামাআত ছেড়ে দেয়ার পরিণতি সম্পর্কে কঠোর হুশিয়ারি।

التشديد في ترك الجماعة

৮৪৭

أَخْبَرَنَا سُوَيْدُ بْنُ نَصْرٍ، قَالَ أَنْبَأَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ الْمُبَارَكِ، عَنْ زَائِدَةَ بْنِ قُدَامَةَ، قَالَ حَدَّثَنَا السَّائِبُ بْنُ حُبَيْشٍ الْكَلاَعِيُّ، عَنْ مَعْدَانَ بْنِ أَبِي طَلْحَةَ الْيَعْمَرِيِّ، قَالَ قَالَ لِي أَبُو الدَّرْدَاءِ أَيْنَ مَسْكَنُكَ قُلْتُ فِي قَرْيَةٍ دُوَيْنَ حِمْصَ . فَقَالَ أَبُو الدَّرْدَاءِ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " مَا مِنْ ثَلاَثَةٍ فِي قَرْيَةٍ وَلاَ بَدْوٍ لاَ تُقَامُ فِيهِمُ الصَّلاَةُ إِلاَّ قَدِ اسْتَحْوَذَ عَلَيْهِمُ الشَّيْطَانُ فَعَلَيْكُمْ بِالْجَمَاعَةِ فَإِنَّمَا يَأْكُلُ الذِّئْبُ الْقَاصِيَةَ " . قَالَ السَّائِبُ يَعْنِي بِالْجَمَاعَةِ الْجَمَاعَةَ فِي الصَّلاَةِ .

বর্ণনাকারী: হযরত আবুদ দারদা রাযি.

৮৪৮। সুওয়ায়দ ইবনে নসর (রাহঃ) ......... মাদান ইবনে আবু তালহা ইয়া’মুরী (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আবুদ-দারদা (রাযিঃ) আমাকে বললেনঃ তোমার বাড়ি কোথায়? আমি বললামঃ আমার বাড়ি হিমসের নিকটবর্তী এক গ্রামে। তখন আবু-দারদা বললেনঃ আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলতে শুনেছি, কোন গ্রামে অথবা অনাবাদী স্থানে তিনজন লোক থাকাবস্থায় সেখানে নামায প্রতিষ্ঠিত না হলে তাদের উপর শয়তানের আধিপত্য বিস্তার লাভ করে। অতএব তোমরা জামাতকে অত্যাবশ্যকীয়রূপে গ্রহণ করবে। কেননা বাঘ বিচ্ছিন্ন ছাগলকে খেয়ে ফেলে। সায়িব (রাহঃ) বলেনঃ জামাআত অর্থ নামাযের জামাআত।

জামাআত হতে পিছনে থাকার পরিণতি সম্পর্কে কঠোর হুঁশিয়ারি।

التشديد في التخلف عن الجماعة

৮৪৮

أَخْبَرَنَا قُتَيْبَةُ، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ أَبِي الزِّنَادِ، عَنِ الأَعْرَجِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ لَقَدْ هَمَمْتُ أَنْ آمُرَ بِحَطَبٍ فَيُحْطَبَ ثُمَّ آمُرَ بِالصَّلاَةِ فَيُؤَذَّنَ لَهَا ثُمَّ آمُرَ رَجُلاً فَيَؤُمَّ النَّاسَ ثُمَّ أُخَالِفَ إِلَى رِجَالٍ فَأُحَرِّقَ عَلَيْهِمْ بُيُوتَهُمْ وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ لَوْ يَعْلَمُ أَحَدُهُمْ أَنَّهُ يَجِدُ عَظْمًا سَمِينًا أَوْ مَرْمَاتَيْنِ حَسْنَتَيْنِ لَشَهِدَ الْعِشَاءَ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৮৪৯। কুতায়বা (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যার হাতে আমার প্রাণ তার শপথ করে বলছি, আমি ইচ্ছা করেছি যে, আমি কিছু জ্বালানি কাঠ আনতে আদেশ করব, তা সংগ্রহ হলে নামাযের আদেশ করব। তারপর তার জন্য আযান দেয়া হবে। পরে এক ব্যক্তিকে আদেশ করব সে লোকের ইমামতি করবে। আর আমি লোকদের পেছন থেকে তাদের ঘর জ্বালিয়ে দেব (যারা জামাআতে আসে না)। যার হাতে আমার প্রাণ তাঁর শপথ! যদি তাদের কেউ জানত যে, একখানা গোশতবহুল হাড় অথবা দুই টূকরা বকরীর সুন্দর খুর পাবে, তাহলে তারা ইশার নামাযে অবশ্যই উপস্থিত হতো।

নামাযের আযান দিলে তার হিফাজত করা।

المحافظة على الصلوات حيث ينادى بهن

৮৪৯

أَخْبَرَنَا سُوَيْدُ بْنُ نَصْرٍ، قَالَ أَنْبَأَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ الْمُبَارَكِ، عَنِ الْمَسْعُودِيِّ، عَنْ عَلِيِّ بْنِ الأَقْمَرِ، عَنْ أَبِي الأَحْوَصِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ، أَنَّهُ كَانَ يَقُولُ مَنْ سَرَّهُ أَنْ يَلْقَى اللَّهَ عَزَّ وَجَلَّ غَدًا مُسْلِمًا فَلْيُحَافِظْ عَلَى هَؤُلاَءِ الصَّلَوَاتِ الْخَمْسِ حَيْثُ يُنَادَى بِهِنَّ فَإِنَّ اللَّهَ عَزَّ وَجَلَّ شَرَعَ لِنَبِيِّهِ صلى الله عليه وسلم سُنَنَ الْهُدَى وَإِنَّهُنَّ مِنْ سُنَنِ الْهُدَى وَإِنِّي لاَ أَحْسَبُ مِنْكُمْ أَحَدًا إِلاَّ لَهُ مَسْجِدٌ يُصَلِّي فِيهِ فِي بَيْتِهِ فَلَوْ صَلَّيْتُمْ فِي بُيُوتِكُمْ وَتَرَكْتُمْ مَسَاجِدَكُمْ لَتَرَكْتُمْ سُنَّةَ نَبِيِّكُمْ وَلَوْ تَرَكْتُمْ سُنَّةَ نَبِيِّكُمْ لَضَلَلْتُمْ وَمَا مِنْ عَبْدٍ مُسْلِمٍ يَتَوَضَّأُ فَيُحْسِنُ الْوُضُوءَ ثُمَّ يَمْشِي إِلَى صَلاَةٍ إِلاَّ كَتَبَ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ لَهُ بِكُلِّ خُطْوَةٍ يَخْطُوهَا حَسَنَةً أَوْ يَرْفَعُ لَهُ بِهَا دَرَجَةً أَوْ يُكَفِّرُ عَنْهُ بِهَا خَطِيئَةً وَلَقَدْ رَأَيْتُنَا نُقَارِبُ بَيْنَ الْخُطَا وَلَقَدْ رَأَيْتُنَا وَمَا يَتَخَلَّفُ عَنْهَا إِلاَّ مُنَافِقٌ مَعْلُومٌ نِفَاقُهُ وَلَقَدْ رَأَيْتُ الرَّجُلَ يُهَادَى بَيْنَ الرَّجُلَيْنِ حَتَّى يُقَامَ فِي الصَّفِّ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ)

৮৫০। সূওয়ায়দ ইবনে নসর (রাহঃ) ......... আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলতেন, যে ব্যক্তি কাল আল্লাহ তাআলার সঙ্গে একজন মুসলমান হিসাবে সাক্ষাত করার আশা রাখে, সে যেন পাঁচ ওয়াক্ত নামাযের হিফাযত করে, সেখানে তার আযান দেয়া হয়। আল্লাহ তাআলা তার নবীকে হিদায়াতের নিয়মাবলী বর্ণনা করেছেন, আর ঐগুলো হিদায়াতের নিয়মের অন্তর্ভুক্ত। আর আমি ধারণা করি, তোমাদের ঘরে প্রত্যেকের একটা নামাযের স্থান রয়েছে। অতএব যদি তোমরা তোমাদের ঘরে নামায আদায় কর আর তোমাদের মসজিদ পরিত্যাগ কর, তাহলে তোমরা তোমাদের নবী (ﷺ) এর তরীকা পরিত্যাগ করলে। আর যদি তোমরা তোমাদের নবী (ﷺ) এর তরীকাই পরিত্যাগ করলে তাহলে তোমরা পথভ্রষ্ট হলে।

আর যে মুসলিমই উত্তমরূপে উযু করে, তারপর সে নামাযের জন্য পায়ে হেঁটে যায়, আল্লাহ তাআলা তার প্রতি পদক্ষেপে একটি পুণ্য লেখেন, অথবা তার জন্য তার মর্যাদার একটি ধাপ উন্নত করে দেন। অথবা তদদ্বারা তার একটি পাপের প্রায়শ্চিত্ত করেন। আমি সেই সময়টা যেন দেখতে পাচ্ছি যখন আমরা (মসজিদে যাওয়ার সময়) কাছাকাছি পা ফেলে চলতাম (যাতে অধিক নেকী পাওয়া যায়) আর তা থেকে বিরত থাকত না কেউ ঐ মুনাফিক ব্যতীত যার নিফাক প্রকাশ্য। পক্ষান্তরে আমি দেখেছি, এক ব্যক্তি দুই ব্যক্তির সাহায্যে চলতে থাকত। অবশেষে তাকে কাতারে দাঁড় করানো হত।
৮৫০

أَخْبَرَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، قَالَ حَدَّثَنَا مَرْوَانُ بْنُ مُعَاوِيَةَ، قَالَ حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الأَصَمِّ، عَنْ عَمِّهِ، يَزِيدَ بْنِ الأَصَمِّ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ جَاءَ أَعْمَى إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ إِنَّهُ لَيْسَ لِي قَائِدٌ يَقُودُنِي إِلَى الصَّلاَةِ فَسَأَلَهُ أَنْ يُرَخِّصَ لَهُ أَنْ يُصَلِّيَ فِي بَيْتِهِ فَأَذِنَ لَهُ فَلَمَّا وَلَّى دَعَاهُ قَالَ لَهُ " أَتَسْمَعُ النِّدَاءَ بِالصَّلاَةِ " . قَالَ نَعَمْ . قَالَ " فَأَجِبْ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৮৫১। ইসহাক ইবনে ইবরাহীম (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একজন অন্ধ লোক রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট এসে বললেন, আমার এমন কোন পথপ্রদর্শক নেই, যে আমাকে নামাযে নিয়ে যাবে। সে ব্যক্তি তাঁর নিকট নিজ ঘরে নামায আদায় করার অনুমতি চাইলেন। তিনি তাঁকে অনুমতি দিলেন। যখন ঐ ব্যক্তি চলে যাচ্ছিলেন তখন তাকে ডেকে বললেনঃ তুমি কি নামাযের আযান শুনতে পাও? তিনি বললেন, হ্যাঁ। তিনি বললেনঃ তাহলে তার উত্তর দাও (অর্থাৎ আযানের উত্তর দাও এবং জামাআতে উপস্থিত হও)

৮৫১

أَخْبَرَنَا هَارُونُ بْنُ زَيْدِ بْنِ أَبِي الزَّرْقَاءِ، قَالَ حَدَّثَنَا أَبِي قَالَ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، ح وَأَخْبَرَنِي عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ إِسْحَاقَ، قَالَ حَدَّثَنَا قَاسِمُ بْنُ يَزِيدَ، قَالَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَابِسٍ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبِي لَيْلَى، عَنِ ابْنِ أُمِّ مَكْتُومٍ، أَنَّهُ قَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّ الْمَدِينَةَ كَثِيرَةُ الْهَوَامِّ وَالسِّبَاعِ . قَالَ " هَلْ تَسْمَعُ حَىَّ عَلَى الصَّلاَةِ حَىَّ عَلَى الْفَلاَحِ " . قَالَ نَعَمْ . قَالَ " فَحَىَّ هَلاً " . وَلَمْ يُرَخِّصْ لَهُ .

বর্ণনাকারী: আব্দুল্লাহ ইবনে উম্মে মাকতুম (রাঃ)

৮৫২। হারুন ইবনে যায়দ ইবনে আবু যরকা (রাহঃ) ও আব্দুল্লাহ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে ইসহাক (রাহঃ) ......... ইবনে উম্মে মাকতূম (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বললেনঃ ইয়া রাসুলাল্লাহ! মদীনায় বহু পশু এবং হিংস্র প্রাণী রয়েছে। তিনি বললেনঃ তুমি কি ″নামাযের দিকে আস, কল্যাণের দিকে আস″ এ আওয়াজ শুনতে পাও? তিনি বললেন, হ্যাঁ। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ তাহলে তুমি আসবে। তিনি তাকে অনুমতি দিলেন না।

জামাআত ত্যাগের কারণ।

العذر في ترك الجماعة

৮৫২

أَخْبَرَنَا قُتَيْبَةُ، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ، عَنْ أَبِيهِ، أَنَّ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ أَرْقَمَ، كَانَ يَؤُمُّ أَصْحَابَهُ فَحَضَرَتِ الصَّلاَةُ يَوْمًا فَذَهَبَ لِحَاجَتِهِ ثُمَّ رَجَعَ فَقَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " إِذَا وَجَدَ أَحَدُكُمُ الْغَائِطَ فَلْيَبْدَأْ بِهِ قَبْلَ الصَّلاَةِ " .

বর্ণনাকারী: আব্দুল্লাহ ইবনে আরকাম (রাঃ)

৮৫৩। কুতায়বা (রাহঃ) ......... উরওয়া (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। আব্দুল্লাহ ইবনে আরকাম (রাযিঃ) তাঁর সাথীদের ইমামতি করতেন। একদিন নামাযের সময় হলে তিনি তাঁর প্রয়োজনে চলে গেলেন। তারপর ফিরে এসে বললেন- আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে বলতে শুনেছি যখন তোমাদের কারও পায়খানার প্রয়োজন হয়, তখন সে যেন নামাযের পূর্বে তা সেরে নেয়।

৮৫৩

أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ مَنْصُورٍ، قَالَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ أَنَسٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " إِذَا حَضَرَ الْعَشَاءُ وَأُقِيمَتِ الصَّلاَةُ فَابْدَءُوا بِالْعَشَاءِ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

৮৫৪। মুহাম্মাদ ইবনে মনসুর (রাহঃ) ......... আনাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যখন রাতের খানা উপস্থিত আর নামায আরম্ভ হয়, তখন প্রথমে আহার করে নেবে।

৮৫৪

أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، قَالَ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ، قَالَ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ أَبِي الْمَلِيحِ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ كُنَّا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِحُنَيْنٍ فَأَصَابَنَا مَطَرٌ فَنَادَى مُنَادِي رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَنْ صَلُّوا فِي رِحَالِكُمْ .

বর্ণনাকারী: আবুল মালীহ (রহঃ)

৮৫৫। মুহাম্মাদ ইবনে মুসান্না (রাহঃ) ......... আবুল মলীহ (রাহঃ) এর পিতা থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সাথে হুনায়নে ছিলাম, এমন সময়ে আমাদের উপর বর্যণ আরম্ভ হলো। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর মুয়াযযিন ঘোষণা দিলেন, আপনারা নিজ নিজ বাসস্থানে নামায আদায় করুন।

জামাআতের প্রাপ্তির সীমা।

حد إدراك الجماعة

৮৫৫

أَخْبَرَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، قَالَ حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ مُحَمَّدٍ، عَنِ ابْنِ طَحْلاَءَ، عَنْ مُحْصِنِ بْنِ عَلِيٍّ الْفِهْرِيِّ، عَنْ عَوْفِ بْنِ الْحَارِثِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " مَنْ تَوَضَّأَ فَأَحْسَنَ الْوُضُوءَ ثُمَّ خَرَجَ عَامِدًا إِلَى الْمَسْجِدِ فَوَجَدَ النَّاسَ قَدْ صَلَّوْا كَتَبَ اللَّهُ لَهُ مِثْلَ أَجْرِ مَنْ حَضَرَهَا وَلاَ يَنْقُصُ ذَلِكَ مِنْ أُجُورِهِمْ شَيْئًا " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৮৫৬। ইসহাক ইবনে ইবরাহীম (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) সূত্রে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেছেন, যে ব্যক্তি উত্তমরূপে ওজু করল তৎপর মসজিদের উদ্দেশে বের হয়ে দেখল লোক নামায শেয করেছে- আল্লাহ তাআলা তার জন্য নামাযে উক্ত ব্যক্তিদের সমান সাওয়াব লিখে দিবেন এবং তাদের সাওয়াব থেকে কিছুই কমানো হবে না।

৮৫৬

أَخْبَرَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ دَاوُدَ، عَنِ ابْنِ وَهْبٍ، قَالَ أَخْبَرَنِي عَمْرُو بْنُ الْحَارِثِ، أَنَّ الْحُكَيْمَ بْنَ عَبْدِ اللَّهِ الْقُرَشِيَّ، حَدَّثَهُ أَنَّ نَافِعَ بْنَ جُبَيْرٍ وَعَبْدَ اللَّهِ بْنَ أَبِي سَلَمَةَ حَدَّثَاهُ أَنَّ مُعَاذَ بْنَ عَبْدِ الرَّحْمَنِ حَدَّثَهُمَا عَنْ حُمْرَانَ، مَوْلَى عُثْمَانَ بْنِ عَفَّانَ عَنْ عُثْمَانَ بْنِ عَفَّانَ، قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " مَنْ تَوَضَّأَ لِلصَّلاَةِ فَأَسْبَغَ الْوُضُوءَ ثُمَّ مَشَى إِلَى الصَّلاَةِ الْمَكْتُوبَةِ فَصَلاَّهَا مَعَ النَّاسِ أَوْ مَعَ الْجَمَاعَةِ أَوْ فِي الْمَسْجِدِ غَفَرَ اللَّهُ لَهُ ذُنُوبَهُ " .

বর্ণনাকারী: উসমান ইবনে আফফান (রাঃ)

৮৫৭। সুলাইমান ইবনে দাউদ (রাহঃ) ......... উসমান ইবনে আফফান (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)কে বলতে শুনেছি, যে ব্যক্তি নামাযের জন্য উযু করল পূর্ণরূপে, তারপর ফরয নামাযের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হলো এবং তা আদায় করল লোকের সাথে। অথবা তিনি বলেছেন জামাআতে অথবা বলেছেন মসজিদে, আল্লাহ তাআলা তাঁর পাপসমূহ মার্জনা করে দিবেন।

একাকী নামায আদায় করে পরে জামাআতে আদায় করা

إعادة الصلاة مع الجماعة بعد صلاة الرجل لنفسه

৮৫৭

أَخْبَرَنَا قُتَيْبَةُ، عَنْ مَالِكٍ، عَنِ زَيْدِ بْنِ أَسْلَمَ، عَنْ رَجُلٍ، مِنْ بَنِي الدِّيلِ يُقَالُ لَهُ بُسْرُ بْنُ مِحْجَنٍ عَنْ مِحْجَنٍ، أَنَّهُ كَانَ فِي مَجْلِسٍ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَأَذَّنَ بِالصَّلاَةِ - فَقَامَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ثُمَّ رَجَعَ وَمِحْجَنٌ فِي مَجْلِسِهِ - فَقَالَ لَهُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " مَا مَنَعَكَ أَنْ تُصَلِّيَ أَلَسْتَ بِرَجُلٍ مُسْلِمٍ " . قَالَ بَلَى وَلَكِنِّي كُنْتُ قَدْ صَلَّيْتُ فِي أَهْلِي فَقَالَ لَهُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " إِذَا جِئْتَ فَصَلِّ مَعَ النَّاسِ وَإِنْ كُنْتَ قَدْ صَلَّيْتَ " .

বর্ণনাকারী: মিহজান আবু বুসর (রাঃ)

৮৫৮। কুতায়বা (রাহঃ) ......... মিহজান (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি এক সময় রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সাথে এক মজলিসে ছিলেন। তখন নামাযের সময় হলে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) দাঁড়ালেন, তারপর নামায আদায় করে এসে দেখলেন মিহজান (রাযিঃ) সেই মজলিসেই রয়েছেন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাকে বললেনঃ তোমাকে নামায আদায় করা থেকে কোন জিনিস বাধা দিল? তুমি কি মুসলমান নও? তিনি বললেন, হ্যাঁ। কিন্তু আমি আমার ঘরে নামায আদায় করে ফেলেছি। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাকে বললেনঃ যখন আসবে, তখন লোকের সাথে নামায আদায় করে নেবে- যদিও পৃর্বে নামায আদায় করে থাক।

একাকী ফজরের নামায আদায় করলে পুনরায় জামাআতে আদায় করা।

إعادة الفجر مع الجماعة لمن صلى وحده

৮৫৮

أَخْبَرَنَا زِيَادُ بْنُ أَيُّوبَ، قَالَ حَدَّثَنَا هُشَيْمٌ، قَالَ حَدَّثَنَا يَعْلَى بْنُ عَطَاءٍ، قَالَ حَدَّثَنَا جَابِرُ بْنُ يَزِيدَ بْنِ الأَسْوَدِ الْعَامِرِيُّ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ شَهِدْتُ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم صَلاَةَ الْفَجْرِ فِي مَسْجِدِ الْخَيْفِ فَلَمَّا قَضَى صَلاَتَهُ إِذَا هُوَ بِرَجُلَيْنِ فِي آخِرِ الْقَوْمِ لَمْ يُصَلِّيَا مَعَهُ قَالَ " عَلَىَّ بِهِمَا " . فَأُتِيَ بِهِمَا تُرْعَدُ فَرَائِصُهُمَا فَقَالَ " مَا مَنَعَكُمَا أَنْ تُصَلِّيَا مَعَنَا " . قَالاَ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّا قَدْ صَلَّيْنَا فِي رِحَالِنَا . قَالَ " فَلاَ تَفْعَلاَ إِذَا صَلَّيْتُمَا فِي رِحَالِكُمَا ثُمَّ أَتَيْتُمَا مَسْجِدَ جَمَاعَةٍ فَصَلِّيَا مَعَهُمْ فَإِنَّهَا لَكُمَا نَافِلَةٌ " .

বর্ণনাকারী: ইয়াযীদ বিন আসওয়াদ (রাঃ)

৮৫৯। যিয়াদ ইবনে আইয়্যুব (রাহঃ) ......... ইয়াযীদ ইবনে আসওয়াদ আমিরী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি মসজিদে খায়ফে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সঙ্গে ফজরের নামায আদায় করলাম। যখন তিনি নামায শেষ করলেন, লোকজনের শেষ প্রান্তে দু’জন লোক দেখলেন, যারা তাঁর সঙ্গে নামায আদায় করেনি। তিনি বললেনঃ ঐ দুই ব্যক্তিকে আমার নিকট নিয়ে এস। তাদেরকে আনা হলো। ভয়ে তাঁরা কাপছিল। তিনি বললেনঃ কি কারণে তোমরা আমাদের সাথে নামায আদায় করলে না? তারা বলল, ইয়া রাসুলাল্লাহ! আমরা আমাদের ঘরে নামায আদায় করেছি। তিনি বললেন আর এরূপ করবে না। যখন তোমরা তোমাদের ঘরে নামায আদায় করে জামাআতের মসজিদে আগমন করবে, তখন তাদের সাথে নামায আদায় করবে আর তা তোমাদের জন্য নফল (বলে গণ্য) হবে।[১]

[১] একবার ফরয সালাত আদায়ের পর দ্বিতীয়বার সেই সালাত আদায় করলে তা নফল সালাত হিসেবে গণ্য হয়ে থাকে। অপরদিকে ফজর ও আসরের পরে নফল সালাত পড়া নিষিদ্ধ। আর মাগরিবের তিন রাক'আত ফরয সালাত দ্বিতীয়বার নফল হিসেবে আদায়ে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। এতে বোঝা যায় যে, আলোচ্য হাদীসটি উল্লিখিত নিষেধাজ্ঞার পূর্বেকার।

সময় চলে গেলে জামাআতে পুনঃ নামায পড়া।

إعادة الصلاة بعد ذهاب وقتها مع الجماعة

৮৫৯

أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الأَعْلَى، وَمُحَمَّدُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ بْنِ صُدْرَانَ، - وَاللَّفْظُ لَهُ - عَنْ خَالِدِ بْنِ الْحَارِثِ، قَالَ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ بُدَيْلٍ، قَالَ سَمِعْتُ أَبَا الْعَالِيَةِ، يُحَدِّثُ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الصَّامِتِ، عَنْ أَبِي ذَرٍّ، قَالَ قَالَ لِي رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَضَرَبَ فَخِذِي " كَيْفَ أَنْتَ إِذَا بَقِيتَ فِي قَوْمٍ يُؤَخِّرُونَ الصَّلاَةَ عَنْ وَقْتِهَا " . قَالَ مَا تَأْمُرُ قَالَ " صَلِّ الصَّلاَةَ لِوَقْتِهَا ثُمَّ اذْهَبْ لِحَاجَتِكَ فَإِنْ أُقِيمَتِ الصَّلاَةُ وَأَنْتَ فِي الْمَسْجِدِ فَصَلِّ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু যার গিফারী (রাঃ)

৮৬০। মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল আলা (রাহঃ) ও মুহাম্মাদ ইবনে ইবরাহীম ইবনে সুদরান (রাহঃ) ......... আবু যর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমার উরুদেশে হাত রেখে বললেনঃ যদি তুমি এমন লোকের মধ্যে বেঁচে থাক যারা সঠিক সময় থেকে নামাযকে পিছিয়ে দেবে তখন তুমি কি করবে? তিনি বললেন, আপনি যা আদেশ করবেন। তিনি বললেনঃ তুমি সময়মত নামায আদায় করে নেবে। তারপর তোমার প্রয়োজনে যাবে। যদি নামায আরম্ভ হয় আর তুমি মসজিদে থাক, তাহলে নামায আদায় করবে।

মসজিদের ইমামের সাথে জামাআতে নামায আদায় করলে

سقوط الصلاة عمن صلى مع الإمام في المسجد جماعة

৮৬০

أَخْبَرَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ مُحَمَّدٍ التَّيْمِيُّ، قَالَ حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ، عَنْ حُسَيْنٍ الْمُعَلِّمِ، عَنْ عَمْرِو بْنِ شُعَيْبٍ، عَنْ سُلَيْمَانَ، مَوْلَى مَيْمُونَةَ قَالَ رَأَيْتُ ابْنَ عُمَرَ جَالِسًا عَلَى الْبَلاَطِ وَالنَّاسُ يُصَلُّونَ قُلْتُ يَا أَبَا عَبْدِ الرَّحْمَنِ مَا لَكَ لاَ تُصَلِّي قَالَ إِنِّي قَدْ صَلَّيْتُ إِنِّي سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " لاَ تُعَادُ الصَّلاَةُ فِي يَوْمٍ مَرَّتَيْنِ " .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত মাইমুনা (রাঃ)

৮৬১। ইবরাহীম ইবনে মুহাম্মাদ তায়মী (রাহঃ) ......... মায়মুনা (রাযিঃ)-এর আযাদকৃত গোলাম সুলাইমান (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ইবনে উমর (রাযিঃ)-কে বালাত নামক স্থানে উপবিষ্ট দেখলাম আর লোকেরা তখন নামায আদায় করছিল। আমি বললাম, হে আবু আব্দুর রহমান! আপনার কি হয়েছে, নামায আদায় করছেন না কেন? তিনি বললেনঃ আমি নামায আদায় করে ফেলেছি। আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে বলতে শুনেছি যে, একদিনে এক নামায দু’বার আদায় করা যাবে না।

নামাযের জন্য দৌড়ানো।

السعي إلى الصلاة

৮৬১

أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ الزُّهْرِيُّ، قَالَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، حَدَّثَنَا الزُّهْرِيُّ، عَنْ سَعِيدٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " إِذَا أَتَيْتُمُ الصَّلاَةَ فَلاَ تَأْتُوهَا وَأَنْتُمْ تَسْعَوْنَ وَأْتُوهَا تَمْشُونَ وَعَلَيْكُمُ السَّكِينَةُ فَمَا أَدْرَكْتُمْ فَصَلُّوا وَمَا فَاتَكُمْ فَاقْضُوا " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৮৬২। আব্দুল্লাহ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুর রহমান যুহরী (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যখন তোমরা নামাযে আগমন করবে তখন তোমরা দৌড়ে আসবে না, বরং হেঁটে আসবে। তোমাদের কর্তব্য স্বস্তিতে আসা। তারপর যা পাবে তা আদায় করবে আর যা ছুটে যাবে তা পরে আদায় করে নেবে।

নামাযের জন্য না দৌড়ে দ্রুত গমন করা।

الإسراع إلى الصلاة من غير سعي

৮৬২

أَخْبَرَنَا عَمْرُو بْنُ سَوَّادِ بْنِ الأَسْوَدِ بْنِ عَمْرٍو، قَالَ أَنْبَأَنَا ابْنُ وَهْبٍ، قَالَ أَنْبَأَنَا ابْنُ جُرَيْجٍ، عَنْ مَنْبُوذٍ، عَنِ الْفَضْلِ بْنِ عُبَيْدِ اللَّهِ، عَنْ أَبِي رَافِعٍ، قَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِذَا صَلَّى الْعَصْرَ ذَهَبَ إِلَى بَنِي عَبْدِ الأَشْهَلِ فَيَتَحَدَّثُ عِنْدَهُمْ حَتَّى يَنْحَدِرَ لِلْمَغْرِبِ . قَالَ أَبُو رَافِعٍ فَبَيْنَمَا النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم يُسْرِعُ إِلَى الْمَغْرِبِ مَرَرْنَا بِالْبَقِيعِ فَقَالَ " أُفٍّ لَكَ أُفٍّ لَكَ " . قَالَ فَكَبُرَ ذَلِكَ فِي ذَرْعِي فَاسْتَأْخَرْتُ وَظَنَنْتُ أَنَّهُ يُرِيدُنِي فَقَالَ " مَا لَكَ امْشِ " . فَقُلْتُ أَحْدَثْتُ حَدَثًا . قَالَ " مَا ذَاكَ " . قُلْتُ أَفَّفْتَ بِي . قَالَ " لاَ وَلَكِنْ هَذَا فُلاَنٌ بَعَثْتُهُ سَاعِيًا عَلَى بَنِي فُلاَنٍ فَغَلَّ نَمِرَةً فَدُرِّعَ الآنَ مِثْلَهَا مِنْ نَارٍ " .

বর্ণনাকারী: আবু রাফি' (রাঃ)

৮৬৩। আমর ইবনে সাওয়াদ ইবনে আসওয়াদ ইবনে আমর (রাহঃ) ......... আবু রাফি (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আসরের নামায আদায় করে বনু আব্দুল আশহালের নিকট যেতেন এবং তাদের সাথে কিছু কথা বার্তা বলতেন। তারপর মাগরিবের নামাযের জন্য তাড়াতাড়ি চলে আসতেন। আবু রাফি বলেনঃ একবার রাসূলুল্লাহ (ﷺ) মাগরিব নামাযের জন্য তাড়াতাড়ি আসছিলেন। আমরা বাকী নামক স্থানের নিকট দিয়ে যাচ্ছিলাম তখন তিনি বললেন, “তোমার জন্য আফসোস, তোমার জন্য আফসোস।”

তিনি বলেনঃ এটা আমার কাছে কঠিন মনে হল। অতএব আমি পেছনে রয়ে গেলাম, আর আমি মনে করলাম, তিনি আমাকেই উদ্দেশ্য করেছেন। তিনি বললেনঃ তোমার কি হলো, চলো। আমি বললাম, আমি কি কোন ঘটনা ঘটিয়েছি? তিনি বললেনঃ তা কি? আমি বললাম, আপনি বললেন তোমার জন্য আফসোস। তিনি বললেনঃ না, (আমি যাকে লক্ষ করে)আফসোস বলছি সে হচ্ছে সে ব্যক্তি যাকে আমি অমূক গোত্রের নিকট যাকাত উসুলকারী করে পাঠিয়েছিলাম। সে একখানা চাদর আত্মসাৎ করেছিল। এখন তাকে ঐরূপ আগুনের একখানা চাদর পরিয়ে দেয়া হয়েছে।
৮৬৩

أَخْبَرَنَا هَارُونُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ حَدَّثَنَا مُعَاوِيَةُ بْنُ عَمْرٍو، قَالَ حَدَّثَنَا أَبُو إِسْحَاقَ، عَنِ ابْنِ جُرَيْجٍ، قَالَ أَخْبَرَنِي مَنْبُوذٌ، - رَجُلٌ مِنْ آلِ أَبِي رَافِعٍ - عَنِ الْفَضْلِ بْنِ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي رَافِعٍ، عَنْ أَبِي رَافِعٍ، نَحْوَهُ .

বর্ণনাকারী: আবু রাফি‘ (রহঃ)

৮৬৪। হারুন ইবনে আব্দুল্লাহ (রাহঃ) ......... আবু রাফি (রাযিঃ) সূত্রে অনুরূপ হাদীস বর্ণিত আছে।

আগে ভাগে নামাযে উপস্থিত হওয়া।

التهجير إلى الصلاة

৮৬৪

أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ الْمُغِيرَةِ، قَالَ حَدَّثَنَا عُثْمَانُ، عَنْ شُعَيْبٍ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، قَالَ أَخْبَرَنِي أَبُو سَلَمَةَ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، وَأَبُو عَبْدِ اللَّهِ الأَغَرُّ، أَنَّ أَبَا هُرَيْرَةَ، حَدَّثَهُمَا . أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " إِنَّمَا مَثَلُ الْمُهَجِّرِ إِلَى الصَّلاَةِ كَمَثَلِ الَّذِي يُهْدِي الْبَدَنَةَ ثُمَّ الَّذِي عَلَى إِثْرِهِ كَالَّذِي يُهْدِي الْبَقَرَةَ ثُمَّ الَّذِي عَلَى إِثْرِهِ كَالَّذِي يُهْدِي الْكَبْشَ ثُمَّ الَّذِي عَلَى إِثْرِهِ كَالَّذِي يُهْدِي الدَّجَاجَةَ ثُمَّ الَّذِي عَلَى إِثْرِهِ كَالَّذِي يُهْدِي الْبَيْضَةَ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৮৬৫। আহমদ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে মুগীরা (রাহঃ) ......... যুহরী (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আবু সালামা ইবনে আব্দুর রহমান এবং আবু আব্দুল্লাহ আগারর আমাকে সংবাদ দিয়েছেন যে, আবু হুরায়রা (রাযিঃ) তাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ সবাগ্রে নামাযে যে ব্যক্তি উপস্থিত হয় সে ঐ ব্যক্তির ন্যায় যে একটি উট কুরবানী করে, তারপর যে ব্যক্তি আসে সে ঐ ব্যক্তির ন্যায় যে একটি গাভী কুরবানী করে। এরপর যে ব্যক্তি আসে সে ঐ ব্যক্তির ন্যায় যে একটি দুম্বা কুরবানী করে। পরে যে ব্যক্তি আসে সে ঐ ব্যক্তির ন্যায় যে একটি মুরগী আল্লাহর রাস্তায় দান করে। তারপর যে ব্যক্তি আগমন করে সে ঐ ব্যক্তির ন্যায় যে একটি ডিম আল্লাহর রাস্তায় দান করে।

ইকামতের সময় যে নামায মাকরূহ

ما يكره من الصلاة عند الإقامة

৮৬৫

أَخْبَرَنَا سُوَيْدُ بْنُ نَصْرٍ، قَالَ أَنْبَأَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ الْمُبَارَكِ، عَنْ زَكَرِيَّا، قَالَ حَدَّثَنِي عَمْرُو بْنُ دِينَارٍ، قَالَ سَمِعْتُ عَطَاءَ بْنَ يَسَارٍ، يُحَدِّثُ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " إِذَا أُقِيمَتِ الصَّلاَةُ فَلاَ صَلاَةَ إِلاَّ الْمَكْتُوبَةُ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৮৬৬। সুওয়ায়দ ইবনে নসর (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যখন ইকামত বলা হয় তখন ফরয নামায ব্যতীত আর কোন নামায নেই।

৮৬৬

أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الْحَكَمِ، وَمُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، قَالاَ حَدَّثَنَا مُحَمَّدٌ، عَنْ شُعْبَةَ، عَنْ وَرْقَاءَ بْنِ عُمَرَ، عَنْ عَمْرِو بْنِ دِينَارٍ، عَنْ عَطَاءِ بْنِ يَسَارٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " إِذَا أُقِيمَتِ الصَّلاَةُ فَلاَ صَلاَةَ إِلاَّ الْمَكْتُوبَةُ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৮৬৭। আহমদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে হাকাম ও মুহাম্মাদ ইবনে বাশশার (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন ইকামত বলা হয় তখন ফরয নামায ব্যতীত আর কোন নামায নেই।[১]

[১] ফজরের দু' রাকআত সুন্নত সালাত আদায় করার অনেক ফযীলত বর্ণিত হয়েছে। এ ছাড়া এ সালাত আদায় করার যথেষ্টও তাকিদ রয়েছে। তাই এ সুন্নত সালাত আদায় করে যদি ফজরের ফরয সালাতের এক রাকআত পাওয়ার সম্ভাবনা থাকে, তাহলে মসজিদের দরজার কাছে কিংবা কোন খুঁটির পেছনে এ সালাত আদায় করে জামা'আতে শরীক হওয়ার বিধান রয়েছে। অনুবাদক
৮৬৭

أَخْبَرَنَا قُتَيْبَةُ، قَالَ حَدَّثَنَا أَبُو عَوَانَةَ، عَنْ سَعْدِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ، عَنْ حَفْصِ بْنِ عَاصِمٍ، عَنِ ابْنِ بُحَيْنَةَ، قَالَ أُقِيمَتْ صَلاَةُ الصُّبْحِ فَرَأَى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم رَجُلاً يُصَلِّي وَالْمُؤَذِّنُ يُقِيمُ فَقَالَ " أَتُصَلِّي الصُّبْحَ أَرْبَعًا " .

বর্ণনাকারী: আব্দুল্লাহ ইবনে মালিক বুহায়না (রাঃ)

৮৬৮। কুতায়বা (রাহঃ) ......... ইবনে বুহায়না (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, ফজর নামাযের ইকামত বলা হলে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এক ব্যক্তিকে দেখলেন সে নামায আদায় করছে আর মুয়াযযিন ইকামত বলছে। তিনি তখন বললেন তুমি কি ফজরের নামায চার রাক’আত আদায় করছো?

ইমাম নামাযরত থাকা অবস্থায় যে ফজরের দু’রাক'আত সুন্নত নামায পড়ে

فيمن يصلي ركعتي الفجر والإمام في الصلاة

৮৬৮

أَخْبَرَنَا يَحْيَى بْنُ حَبِيبِ بْنِ عَرَبِيٍّ، قَالَ حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، قَالَ حَدَّثَنَا عَاصِمٌ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ سَرْجِسَ، قَالَ جَاءَ رَجُلٌ وَرَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي صَلاَةِ الصُّبْحِ فَرَكَعَ الرَّكْعَتَيْنِ ثُمَّ دَخَلَ فَلَمَّا قَضَى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم صَلاَتَهُ قَالَ " يَا فُلاَنُ أَيُّهُمَا صَلاَتُكَ الَّتِي صَلَّيْتَ مَعَنَا أَوِ الَّتِي صَلَّيْتَ لِنَفْسِكَ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে সারজিস রাযি.

৮৬৯। ইয়াহয়া ইবনে হাবীব ইবনে আরাবী (রাহঃ) ......... আব্দুল্লাহ ইবনে সারজিস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক ব্যক্তি আগমন করল রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তখন ফজরের নামায আদায় করছিলেন। সে ব্যক্তি দু রাক’আত নামায আদায় করে নামাযে শরীক হলো। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাঁর নামায শেষ করে বললেনঃ হে অমুক! তোমার নামায কোনটি, তুমি যে নামায আমাদের সাথে আদায় করেছ সেটি, না যে নামায একা আদায় করেছ?

কাতারের পিছনে একাকী নামায আদায়কারী

المنفرد خلف الصف

৮৬৯

أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، قَالَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، قَالَ حَدَّثَنِي إِسْحَاقُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ سَمِعْتُ أَنَسًا، - رضى الله عنه - قَالَ أَتَانَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي بَيْتِنَا فَصَلَّيْتُ أَنَا وَيَتِيمٌ لَنَا خَلْفَهُ وَصَلَّتْ أُمُّ سُلَيْمٍ خَلْفَنَا .

বর্ণনাকারী: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

৮৭০। আব্দুল্লাহ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুর রহমান (রাহঃ) ......... ইসহাক ইবনে আব্দুল্লাহ (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আনাস (রাযিঃ)-কে বলতে শুনেছি যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদের ঘরে আসলেন। আমি এবং আমাদের এক ইয়াতীম তার পেছনে নামায আদায় করলাম। আর উম্মে সুলায়ম আমাদের পেছনে নামায আদায় করলেন।

৮৭০

أَخْبَرَنَا قُتَيْبَةُ، قَالَ حَدَّثَنَا نُوحٌ، - يَعْنِي ابْنَ قَيْسٍ - عَنِ ابْنِ مَالِكٍ، - وَهُوَ عَمْرٌو - عَنْ أَبِي الْجَوْزَاءِ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ كَانَتِ امْرَأَةٌ تُصَلِّي خَلْفَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم حَسْنَاءُ مِنْ أَحْسَنِ النَّاسِ - قَالَ - فَكَانَ بَعْضُ الْقَوْمِ يَتَقَدَّمُ فِي الصَّفِّ الأَوَّلِ لِئَلاَّ يَرَاهَا وَيَسْتَأْخِرُ بَعْضُهُمْ حَتَّى يَكُونَ فِي الصَّفِّ الْمُؤَخَّرِ فَإِذَا رَكَعَ نَظَرَ مِنْ تَحْتِ إِبْطِهِ فَأَنْزَلَ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ ( وَلَقَدْ عَلِمْنَا الْمُسْتَقْدِمِينَ مِنْكُمْ وَلَقَدْ عَلِمْنَا الْمُسْتَأْخِرِينَ ) .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

৮৭১। কুতায়বা (রাহঃ) ......... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ অতি সূন্দরী এক মহিলা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর পেছনে নামায আদায় করছিল। তিনি বলেন তখন তাদের মধ্য থেকে কেউ কেউ প্রথম কাতারে এগিয়ে গেল, যেন তাকে দেখতে না পায়। আর তাদের কেউ কেউ পেছনে রয়ে গেল। যখন রুকু করল তখন তারা বগলের নিচ দিয়ে তাকাচ্ছিল তখন আল্লাহ তাআলা নাযিল করলেনঃ

وَلَقَدْ عَلِمْنَا الْمُسْتَقْدِمِينَ مِنْكُمْ وَلَقَدْ عَلِمْنَا الْمُسْتَأْخِرِينَ

অর্থাৎ “তোমাদের মধ্যে যারা আগে অগ্রসর হয়ে গেছে, তাদেরকেও আমি জানি আর যারা পেছনে রয়ে গেছে- তাদেরকেও জানি।” (১৫ঃ ২৪)।

কাতারের বাইরে রুকু করা।

الركوع دون الصف

৮৭১

خْبَرَنَا حُمَيْدُ بْنُ مَسْعَدَةَ، عَنْ يَزِيدَ بْنِ زُرَيْعٍ، قَالَ حَدَّثَنَا سَعِيدٌ، عَنْ زِيَادٍ الأَعْلَمِ، قَالَ حَدَّثَنَا الْحَسَنُ، أَنَّ أَبَا بَكْرَةَ، حَدَّثَهُ أَنَّهُ، دَخَلَ الْمَسْجِدَ وَالنَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم رَاكِعٌ فَرَكَعَ دُونَ الصَّفِّ فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم " زَادَكَ اللَّهُ حِرْصًا وَلاَ تَعُدْ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু বকর সিদ্দীক (রাঃ)

৮৭২। হুমায়দ ইবনে মাসআদাহ (রাহঃ) ......... হাসান (রাহঃ) থেকে বর্ণিত যে, আবু বাকরা (রাযিঃ) তার নিকট বর্ণনা করেছেন যে, তিনি এমন সময় মসজিদে প্রবেশ করলেন যখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) রুকুতে চলে গেছেন। তিনি (তাড়াতাড়ি) কাতারের বাইরেই রুকু করে ফেললেন। পরে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাঁকে বললেনঃ আল্লাহ তোমার আগ্রহ বাড়িয়ে দিন কিন্তু আর কখনও এরূপ করবে না।

৮৭২

أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الْمُبَارَكِ، قَالَ حَدَّثَنِي أَبُو أُسَامَةَ، قَالَ حَدَّثَنِي الْوَلِيدُ بْنُ كَثِيرٍ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ أَبِي سَعِيدٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ صَلَّى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَوْمًا ثُمَّ انْصَرَفَ فَقَالَ " يَا فُلاَنُ أَلاَ تُحَسِّنُ صَلاَتَكَ أَلاَ يَنْظُرُ الْمُصَلِّي كَيْفَ يُصَلِّي لِنَفْسِهِ إِنِّي أُبْصِرُ مِنْ وَرَائِي كَمَا أُبْصِرُ بَيْنَ يَدَىَّ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৮৭৩। মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে মুবারক (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) নামায আদায় করলেন। নামায শেষে বললেন হে অমুক ব্যক্তি, তুমি তোমার নামায ঠিকমত আদায় কর না। তুমি কি মুসল্লীদেরকে দেখ না তারা কিরূপে তাদের নামায আদায় করে? আমি (তোমাদেরকে) পেছনে থেকে দেখি যেরূপ তোমাদেরকে সামনে দিয়ে দেখি।

যোহরের পর নামায

الصلاة بعد الظهر

৮৭৩

أَخْبَرَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَانَ يُصَلِّي قَبْلَ الظُّهْرِ رَكْعَتَيْنِ وَبَعْدَهَا رَكْعَتَيْنِ وَكَانَ يُصَلِّي بَعْدَ الْمَغْرِبِ رَكْعَتَيْنِ فِي بَيْتِهِ وَبَعْدَ الْعِشَاءِ رَكْعَتَيْنِ وَكَانَ لاَ يُصَلِّي بَعْدَ الْجُمُعَةِ حَتَّى يَنْصَرِفَ فَيُصَلِّيَ رَكْعَتَيْنِ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

৮৭৪। কুতায়বা ইবনে সাঈদ (রাহঃ) ......... ইবনে উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যোহরের পূর্বে দুই রাক’আত নামায আদায় করতেন আর তার পরেও দুই রাক’আত। আর তিনি মাগরিবের পরও গৃহে দুই রাক’আত নামায আদায় করতেন। তিনি ঈশার পরেও দুই রাক’আত আদায় করতেন। আর তিনি জুমআর পর কোন নামায আদায় করতেন না (ঘরে) না ফেরা পর্যন্ত। তারপর তিনি দুই রাক’আত নামায আদায় করতেন।[১]

[১] পাঁচ ওয়াক্তের সুন্নত সালাত সম্পর্কে বিভিন্ন হাদীস বর্ণিত হয়েছে। তবে প্রসিদ্ধ মতানুযায়ী ফজর সালাতের পূর্বে দু' রাক'আত, যোহরের আগে চার রাক'আত ও পরে দু' রাক'আত, আসরের পূর্বে চার রাক'আত মাগরিবের পরে দু' রাক'আত, ইশার পূর্বে চার রাক'আত ও পরে দু রাক'আত পড়বে। আর ইচ্ছা করলে ইশার পর চার রাক'আত পড়বে।

আসরের নামাযের পূর্বে নামায এবং হাদীস বর্ণনায় আবু ইসহাকের উপর মতানৈক্য

الصلاة قبل العصر وذكر اختلاف الناقلين عن أبي إسحاق في ذلك

৮৭৪

أَخْبَرَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ مَسْعُودٍ، قَالَ حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ زُرَيْعٍ، قَالَ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، عَنْ عَاصِمِ بْنِ ضَمْرَةَ، قَالَ سَأَلْنَا عَلِيًّا عَنْ صَلاَةِ، رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ أَيُّكُمْ يُطِيقُ ذَلِكَ قُلْنَا إِنْ لَمْ نُطِقْهُ سَمِعْنَا . قَالَ كَانَ إِذَا كَانَتِ الشَّمْسُ مِنْ هَا هُنَا كَهَيْئَتِهَا مِنْ هَا هُنَا عِنْدَ الْعَصْرِ صَلَّى رَكْعَتَيْنِ فَإِذَا كَانَتْ مِنْ هَا هُنَا كَهَيْئَتِهَا مِنْ هَا هُنَا عِنْدَ الظُّهْرِ صَلَّى أَرْبَعًا وَيُصَلِّي قَبْلَ الظُّهْرِ أَرْبَعًا وَبَعْدَهَا ثِنْتَيْنِ وَيُصَلِّي قَبْلَ الْعَصْرِ أَرْبَعًا يَفْصِلُ بَيْنَ كُلِّ رَكْعَتَيْنِ بِتَسْلِيمٍ عَلَى الْمَلاَئِكَةِ الْمُقَرَّبِينَ وَالنَّبِيِّ صلى الله عليه وسلمينَ وَمَنْ تَبِعَهُمْ مِنَ الْمُؤْمِنِينَ وَالْمُسْلِمِينَ .

বর্ণনাকারী: হযরত আলী ইবনে আবী তালিব (রাঃ)

৮৭৫। ইসমাঈল ইবনে মাসউদ (রাহঃ) ......... আসিম ইবনে যামরাহ (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আলী (রাযিঃ)-কে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নামায সম্বন্ধে জিজ্ঞাসা করলাম। তিনি বললেনঃ তোমাদের কার ক্ষমতা আছে? আমি বললাম- আমি তার ক্ষমতা না রাখলেও শুনতে বাসনা রাখি। তিনি বললেন, যখন সূর্য আসরের সময় আপন অবস্থায় এখানে থাকত তখন তিনি দুই রাক’আত নামায আদায় করতেন। আর যিক্‌রের সময় যখন তা আপন অবস্থায় এখানে উপস্থিত হতো, তখন তিনি চার রাক’আত নামায আদায় করতেন। আর তিনি যোহরের পূর্বে চার রাক’আত এবং তারপর দুই রাক’আত আদায় করতেন। প্রতি দুই রাক’আত সালামের মাধ্যমে পৃথক করতেন, তাঁর এই সালাম ছিল নৈকট্য প্রাপ্ত ফিরিশতাগণ, নবীগণ আর-তাঁদের অনুগামী মুসলমান এবং মু’মিনদের প্রতি।

৮৭৫

أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، قَالَ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، قَالَ حَدَّثَنَا حُصَيْنُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، عَنْ عَاصِمِ بْنِ ضَمْرَةَ، قَالَ سَأَلْتُ عَلِيَّ بْنَ أَبِي طَالِبٍ عَنْ صَلاَةِ، رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي النَّهَارِ قَبْلَ الْمَكْتُوبَةِ قَالَ مَنْ يُطِيقُ ذَلِكَ ثُمَّ أَخْبَرَنَا قَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يُصَلِّي حِينَ تَزِيغُ الشَّمْسُ رَكْعَتَيْنِ وَقَبْلَ نِصْفِ النَّهَارِ أَرْبَعَ رَكَعَاتٍ يَجْعَلُ التَّسْلِيمَ فِي آخِرِهِ .

বর্ণনাকারী: হযরত আলী ইবনে আবী তালিব (রাঃ)

৮৭৬। মুহাম্মাদ ইবনে মুসান্না (রাহঃ) ......... আসিম ইবনে যামরা (রাহঃ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, আমি আলী ইবনে আবু তালিব (রাযিঃ)-কে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর দিনের ফরযের পূর্বের নামায সম্বন্ধে জিজ্ঞাসা করি। তিনি বললেন কে এর সামর্থ রাখে? তারপর তিনি তা আমাদের অবহিত করলেন। বললেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যখন সূর্য উপরে উঠতো তখন দুই রাক’আত নামায আদায় করতেন। আর দূপুরের পূর্বে চার রাক’আত আদায় করে তার শেষে সালাম ফিরাতেন।