كتاب القبلة

৯. ক্বিবলা সম্পর্কিত

অধ্যায় ৯ · ৩৫ টি হাদীস

কিবলার দিকে মুখ করা

باب استقبال القبلة

৭৪২

أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ بْنِ إِبْرَاهِيمَ، قَالَ حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ يُوسُفَ الأَزْرَقُ، عَنْ زَكَرِيَّا بْنِ أَبِي زَائِدَةَ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، عَنِ الْبَرَاءِ بْنِ عَازِبٍ، قَالَ قَدِمَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم الْمَدِينَةَ فَصَلَّى نَحْوَ بَيْتِ الْمَقْدِسِ سِتَّةَ عَشَرَ شَهْرًا ثُمَّ وُجِّهَ إِلَى الْكَعْبَةِ فَمَرَّ رَجُلٌ قَدْ كَانَ صَلَّى مَعَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم عَلَى قَوْمٍ مِنَ الأَنْصَارِ فَقَالَ أَشْهَدُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَدْ وُجِّهَ إِلَى الْكَعْبَةِ . فَانْحَرَفُوا إِلَى الْكَعْبَةِ .

বর্ণনাকারী: হযরত বারা’ ইবনে আযিব (রাঃ)

৭৪৩। মুহাম্মাদ ইবনে ইসমাঈল (রাহঃ) ......... বারা ইবনে আযিব (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) মদীনায় আগমনের পর ষোল মাস বায়তুল মুকাদ্দাসের দিকে মুখ করে নামায আদায় করেন। তারপর তাকে কাবার দিকে মুখ করার নির্দেশ দেয়া হলো। এরপর এক ব্যক্তি, যিনি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সঙ্গে নামায আদায় করেছিলেন, আনসার সম্প্রদায়ের একদল লোকের নিকট গিয়ে বললেন যে, আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি, রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে কাবা অভিমুখী করা হয়েছে। ফলে তারা কাঁবার দিকে মুখ ফিরিয়ে নিলেন।

যে অবস্থায় কিবলাহ ছাড়া অন্য দিকে মুখ করা বৈধ

باب الحال التي يجوز عليها استقبال غير القبلة

৭৪৩

أَخْبَرَنَا قُتَيْبَةُ، عَنْ مَالِكِ بْنِ أَنَسٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ دِينَارٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، قَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يُصَلِّي عَلَى رَاحِلَتِهِ فِي السَّفَرِ حَيْثُمَا تَوَجَّهَتْ بِهِ . قَالَ مَالِكٌ قَالَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ دِينَارٍ وَكَانَ ابْنُ عُمَرَ يَفْعَلُ ذَلِكَ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

৭৪৪। কুতায়বা (রাহঃ) ......... ইবনে উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) সফরে তাঁর সওয়ারীর উপর সওয়ারী যেদিকেই মুখ করত সেদিকেই মুখ করে নামায আদায় করতেন। মালিক (রাহঃ) বলেনঃ আব্দুল্লাহ ইবনে দীনার বলেছেন, ইবনে উমরও এরূপই করতেন।

৭৪৪

أَخْبَرَنَا عِيسَى بْنُ حَمَّادٍ، قَالَ حَدَّثَنَا ابْنُ وَهْبٍ، قَالَ أَخْبَرَنِي يُونُسُ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ سَالِمٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يُصَلِّي عَلَى الرَّاحِلَةِ قِبَلَ أَىِّ وَجْهٍ تَوَجَّهُ بِهِ وَيُوتِرُ عَلَيْهَا غَيْرَ أَنَّهُ لاَ يُصَلِّي عَلَيْهَا الْمَكْتُوبَةَ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

৭৪৫। ঈসা ইবনে হাম্মাদ (রাহঃ) ......... আব্দুল্লাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সওয়ারী তাঁকে নিয়ে যেদিকে মুখ করতো সেদিকে ফিরেই তিনি নামায আদায় করতেন। তারপর বিতর আদায় করতেন কিন্তু তিনি এর ওপর ফরয নামায আদায় করতেন না।

ইজতিহাদের পর ভুলের প্রকাশ

باب استبانة الخطإ بعد الاجتهاد

৭৪৫

أَخْبَرَنَا قُتَيْبَةُ، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ دِينَارٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، قَالَ بَيْنَمَا النَّاسُ بِقُبَاءٍ فِي صَلاَةِ الصُّبْحِ جَاءَهُمْ آتٍ فَقَالَ إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَدْ أُنْزِلَ عَلَيْهِ اللَّيْلَةَ قُرْآنٌ وَقَدْ أُمِرَ أَنْ يَسْتَقْبِلَ الْقِبْلَةَ . فَاسْتَقْبَلُوهَا وَكَانَتْ وُجُوهُهُمْ إِلَى الشَّامِ فَاسْتَدَارُوا إِلَى الْكَعْبَةِ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

৭৪৬। কুতায়বা (রাহঃ) ......... ইবনে উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, লোক কুবায় ফজরের নামাযে ছিলেন। তখন এক ব্যক্তি এসে বলল, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর উপর এই রাতে কুরআন অবতীর্ণ হয়েছে। তাতে তাঁকে কিবলার দিকে মুখ করার আদেশ করা হয়েছে। অতএব আপনারা কিবলার দিকে মুখ করুন। তখন তাদের চেহারা ছিল সিরিয়ার দিকে, পরে তারা কাবার দিকে নিয়ে গেলেন।

মুসল্লীর সুতরাহ ব্যবহার করা

سترة المصلي

৭৪৬

أَخْبَرَنَا الْعَبَّاسُ بْنُ مُحَمَّدٍ الدُّورِيُّ، قَالَ حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ يَزِيدَ، قَالَ حَدَّثَنَا حَيْوَةُ بْنُ شُرَيْحٍ، عَنْ أَبِي الأَسْوَدِ، عَنْ عُرْوَةَ، عَنْ عَائِشَةَ، - رضى الله عنها - قَالَتْ سُئِلَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي غَزْوَةِ تَبُوكَ عَنْ سُتْرَةِ الْمُصَلِّي فَقَالَ " مِثْلُ مُؤْخِرَةِ الرَّحْلِ " .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

৭৪৭। আব্বাস ইবনে মুহাম্মাদ (রাহঃ) ......... আয়িশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, তাবুক যুদ্ধে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে নামায আদায়কারীর সুতরা সম্বন্ধে জিজ্ঞাসা করা হলে বললেনঃ তা হাওদার পেছনের হেলান-কাঠের ন্যায়।[১]

[১] খোলা জায়গায় সালাত আদায় করার সময় মুসল্লীর সামনে কিছু সুতরা (আড়াল) থাকা উচিত। সুতরা অন্তত এক হাত লম্বা ও আঙ্গুল পরিমিত মোটা হলেই চলে। জামাআতের সালাতে ইমামের সুতরা মুসল্লীদের জন্য যথেষ্ট ।
৭৪৭

أَخْبَرَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ سَعِيدٍ، قَالَ حَدَّثَنَا يَحْيَى، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ، قَالَ أَنْبَأَنَا نَافِعٌ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ كَانَ يَرْكُزُ الْحَرْبَةَ ثُمَّ يُصَلِّي إِلَيْهَا .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

৭৪৮। উবাইদুল্লাহ ইবনে সাঈদ (রাহঃ) ......... ইবনে উমর (রাযিঃ) সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেছেন, তিনি বর্শার ফলা পুঁতে তার দিকে মুখ করে নামায আদায় করতেন।

সুতরার নিকটবর্তী হওয়ার আদেশ

الأمر بالدنو من السترة

৭৪৮

أَخْبَرَنَا عَلِيُّ بْنُ حُجْرٍ، وَإِسْحَاقُ بْنُ مَنْصُورٍ، قَالاَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ صَفْوَانَ بْنِ سُلَيْمٍ، عَنْ نَافِعِ بْنِ جُبَيْرٍ، عَنْ سَهْلِ بْنِ أَبِي حَثْمَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " إِذَا صَلَّى أَحَدُكُمْ إِلَى سُتْرَةٍ فَلْيَدْنُ مِنْهَا لاَ يَقْطَعُ الشَّيْطَانُ عَلَيْهِ صَلاَتَهُ " .

বর্ণনাকারী: সাহল ইবনে আবি হাছমা (রাঃ)

৭৪৯। আলী ইবনে হুজর ও ইসহাক ইবনে মনসুর (রাহঃ) ......... সাহল ইবনে আবু হাসমা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যখন তোমাদের কেউ সুতরার দিকে মুখ করে নামায আদায় করে, তখন সে যেন তার নিকটবর্তী হয়। তাহলে শয়তান তার নামায ভঙ্গ করতে পারবে না।

এর পরিমাণ

مقدار ذلك

৭৪৯

أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ سَلَمَةَ، وَالْحَارِثُ بْنُ مِسْكِينٍ، قِرَاءَةً عَلَيْهِ وَأَنَا أَسْمَعُ، عَنِ ابْنِ الْقَاسِمِ، قَالَ حَدَّثَنِي مَالِكٌ، عَنْ نَافِعٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم دَخَلَ الْكَعْبَةَ هُوَ وَأُسَامَةُ بْنُ زَيْدٍ وَبِلاَلٌ وَعُثْمَانُ بْنُ طَلْحَةَ الْحَجَبِيُّ فَأَغْلَقَهَا عَلَيْهِ قَالَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ فَسَأَلْتُ بِلاَلاً حِينَ خَرَجَ مَاذَا صَنَعَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ جَعَلَ عَمُودًا عَنْ يَسَارِهِ وَعَمُودَيْنِ عَنْ يَمِينِهِ وَثَلاَثَةَ أَعْمِدَةٍ وَرَاءَهُ - وَكَانَ الْبَيْتُ يَوْمَئِذٍ عَلَى سِتَّةِ أَعْمِدَةٍ - ثُمَّ صَلَّى وَجَعَلَ بَيْنَهُ وَبَيْنَ الْجِدَارِ نَحْوًا مِنْ ثَلاَثَةِ أَذْرُعٍ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

৭৫০। মুহাম্মাদ ইবনে সালামা ও হারিস ইবনে মিসকীন (রাহঃ) ......... আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) উসামা ইবনে যায়দ, বিলাল ও উসমান ইবনে তালহা হাজাবী কাবায় প্রবেশ করলেন এবং দরজা বন্ধ করে দিলেন। আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাযিঃ) বলেন। বিলাল যখন বের হলেন তখন আমি তাকে জিজ্ঞাসা করলাম রাসূলুল্লাহ (ﷺ) সেখানে কি করলেন? তিনি বললেন- তিনি একটি খুটি তাঁর বামদিকে, দু’টি খুটি তাঁর ডান দিকে রাখলেন আর তিনটি খুটি তার পেছনে রাখলেন। আর বায়তূল্লাহ তৎকালে ছয়টি খুটির উপর ছিল তারপর তিনি নামায আদায় করলেন। তিনি তার এবং দেওয়ালের মধ্যস্থলে প্রায় তিন হাত ব্যবধান রাখলেন।

নামায আদায়কারীর সামনে সুতরাহ না থাকলে, যাতে নামায নষ্ট হয় আর যাতে নষ্ট হয় না।

ذكر ما يقطع الصلاة وما لا يقطع إذا لم يكن بين يدي المصلي سترة

৭৫০

أَخْبَرَنَا عَمْرُو بْنُ عَلِيٍّ، قَالَ أَنْبَأَنَا يَزِيدُ، قَالَ حَدَّثَنَا يُونُسُ، عَنْ حُمَيْدِ بْنِ هِلاَلٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الصَّامِتِ، عَنْ أَبِي ذَرٍّ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " إِذَا كَانَ أَحَدُكُمْ قَائِمًا يُصَلِّي فَإِنَّهُ يَسْتُرُهُ إِذَا كَانَ بَيْنَ يَدَيْهِ مِثْلُ آخِرَةِ الرَّحْلِ فَإِنْ لَمْ يَكُنْ بَيْنَ يَدَيْهِ مِثْلُ آخِرَةِ الرَّحْلِ فَإِنَّهُ يَقْطَعُ صَلاَتَهُ الْمَرْأَةُ وَالْحِمَارُ وَالْكَلْبُ الأَسْوَدُ " . قُلْتُ مَا بَالُ الأَسْوَدِ مِنَ الأَصْفَرِ مِنَ الأَحْمَرِ فَقَالَ سَأَلْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَمَا سَأَلْتَنِي فَقَالَ " الْكَلْبُ الأَسْوَدُ شَيْطَانٌ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু যার গিফারী (রাঃ)

৭৫১। আমর ইবনে আলী (রাহঃ) ......... আবু যর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ তোমাদের কেউ যখন নামায আদায় করার জন্য দাঁড়ায়, তখন সে নিজেকে আড়াল করে নেবে যদি তার সামনে হাওদার হেলান কাঠের মত কিছু থাকে। যদি তার সামনে হাওদার হেলান কাঠের মত কিছু না থাকে, তাহলে তার নামায নষ্ট করবে নারী- গাধা এবং কাল কুকুর। আমি বললাম, লাল ও হলুদে কুকুরের তুলনায় কালো কুকুরের অবস্থা কি?। তিনি বললেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে প্রশ্ন করেছিলাম, যেমন তুমি আমাকে প্রশ্ন করেছ। তখন তিনি বললেনঃ কালো কুকুর শয়তান।[১]

[১] স্ত্রীলোক দৃষ্টি আকর্ষণকারিণী, গাধার স্বর কর্কশ এবং কুকুর ভীতির কারণ। এজন্য বলা হয়েছে যে, এগুলো সালাত বিনষ্টকারী । সালাত বিনষ্ট দ্বারা সালাতের একাগ্রতা নষ্ট হওয়া বুঝানো হয়েছে।
৭৫১

أَخْبَرَنَا عَمْرُو بْنُ عَلِيٍّ، قَالَ حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ، قَالَ حَدَّثَنِي شُعْبَةُ، وَهِشَامٌ، عَنْ قَتَادَةَ، قَالَ قُلْتُ لِجَابِرِ بْنِ زَيْدٍ مَا يَقْطَعُ الصَّلاَةَ قَالَ كَانَ ابْنُ عَبَّاسٍ يَقُولُ الْمَرْأَةُ الْحَائِضُ وَالْكَلْبُ . قَالَ يَحْيَى رَفَعَهُ شُعْبَةُ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

৭৫২। আমর ইবনে আলী (রাহঃ) ......... কাতাদা (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি জাবির (রাযিঃ) কে জিজ্ঞাসা করলাম, কোনৃ বস্তু নামায নষ্ট করে? তিনি বললেন, ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) বলতেনঃ ঋতুবতী নারী, কুকুর। ইয়াহয়া বলেন, শু’বা একে মারফু করিয়েছেন [অর্থাৎ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) পর্যন্ত সনদের ধারা পৌছিয়েছেন]।

৭৫২

أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ مَنْصُورٍ، عَنْ سُفْيَانَ، قَالَ حَدَّثَنَا الزُّهْرِيُّ، قَالَ أَخْبَرَنِي عُبَيْدُ اللَّهِ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ جِئْتُ أَنَا وَالْفَضْلُ، عَلَى أَتَانٍ لَنَا وَرَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يُصَلِّي بِالنَّاسِ بِعَرَفَةَ ثُمَّ ذَكَرَ كَلِمَةً مَعْنَاهَا فَمَرَرْنَا عَلَى بَعْضِ الصَّفِّ فَنَزَلْنَا وَتَرَكْنَاهَا تَرْتَعُ فَلَمْ يَقُلْ لَنَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم شَيْئًا .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

৭৫৩। মুহাম্মাদ ইবনে মনসুর (রাহঃ) ......... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি এবং ফযল আমাদের এক গর্দভীর উপর সওয়ার হয়ে আসলাম, তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আরাফায় লোকদের নিয়ে নামায আদায় করছিলেন। তারপর তিনি কিছু বললেন, যার অর্থ হচ্ছে, আমরা কোন এক কাতারের মধ্যে ঢুকে পড়লাম এবং তা থেকে নামলাম এবং ওটাকে ঘাস খেতে ছেড়ে দিলাম। কিন্তু রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদের কিছুই বললেন না।

৭৫৩

أَخْبَرَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ خَالِدٍ، قَالَ حَدَّثَنَا حَجَّاجٌ، قَالَ قَالَ ابْنُ جُرَيْجٍ أَخْبَرَنِي مُحَمَّدُ بْنُ عُمَرَ بْنِ عَلِيٍّ، عَنْ عَبَّاسِ بْنِ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عَبَّاسٍ، عَنِ الْفَضْلِ بْنِ الْعَبَّاسِ، قَالَ زَارَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَبَّاسًا فِي بَادِيَةٍ لَنَا وَلَنَا كُلَيْبَةٌ وَحِمَارَةٌ تَرْعَى فَصَلَّى النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم الْعَصْرَ وَهُمَا بَيْنَ يَدَيْهِ فَلَمْ يُزْجَرَا وَلَمْ يُؤَخَّرَا .

বর্ণনাকারী: ফযল ইবনে আব্বাস (রাঃ)

৭৫৪। আব্দুর রহমান ইবনে খালিদ (রাহঃ) ......... ফযল ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদের এক বাগানে আব্বাস (রাযিঃ)-এর সাথে সাক্ষাত করলেন সেখানে আমাদের ছোঢ কুকুর ছিল আর গর্দভী ঘাস খাচ্ছিল। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) সেখানে আসরের নামায আদায় করলেন। তখন যে দু’টি তাঁর সামনে ছিল, না এ দুটিকে ধমক দেওয়া হয়েছিল, না পেছনে সরানো হয়েছিল।

৭৫৪

أَخْبَرَنَا أَبُو الأَشْعَثِ، قَالَ حَدَّثَنَا خَالِدٌ، قَالَ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، أَنَّ الْحَكَمَ، أَخْبَرَهُ قَالَ سَمِعْتُ يَحْيَى بْنَ الْجَزَّارِ، يُحَدِّثُ عَنْ صُهَيْبٍ، قَالَ سَمِعْتُ ابْنَ عَبَّاسٍ، يُحَدِّثُ أَنَّهُ مَرَّ بَيْنَ يَدَىْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم هُوَ وَغُلاَمٌ مِنْ بَنِي هَاشِمٍ عَلَى حِمَارٍ بَيْنَ يَدَىْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَهُوَ يُصَلِّي فَنَزَلُوا وَدَخَلُوا مَعَهُ فَصَلَّوْا وَلَمْ يَنْصَرِفْ فَجَاءَتْ جَارِيَتَانِ تَسْعَيَانِ مِنْ بَنِي عَبْدِ الْمُطَّلِبِ فَأَخَذَتَا بِرُكْبَتَيْهِ فَفَرَعَ بَيْنَهُمَا وَلَمْ يَنْصَرِفْ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

৭৫৫। আবুল আশআস (রাহঃ) ......... সুহায়ব (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ইবনে আব্বাস (রাযিঃ)-কে বর্ণনা করতে শুনেছি যে, তিনি এবং বনু হাশিমের এক বালক রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সামনে দিয়ে গাধার উপর সওয়ার হয়ে গেলেন। তখন তিনি নামায আদায় করছিলেন। তখন তারা অবতরণ করে তাঁর সাথে নামায আদায় করলেন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) নামায সমাপ্ত না করতেই বনু আব্দুল মুত্তালিবের দু’টি বালিকা দৌড়ে আসল। তারা এসে তার হাটুদ্বয় ধরল। তিনি তাদের উভয়কে পৃথক করে দিলেন। তখনও তিনি নামায শেষ করেননি।

৭৫৫

أَخْبَرَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ مَسْعُودٍ، قَالَ حَدَّثَنَا خَالِدٌ، قَالَ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ مَنْصُورٍ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ، عَنِ الأَسْوَدِ، عَنْ عَائِشَةَ، - رضى الله عنها - قَالَتْ كُنْتُ بَيْنَ يَدَىْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَهُوَ يُصَلِّي فَإِذَا أَرَدْتُ أَنْ أَقُومَ كَرِهْتُ أَنْ أَقُومَ - فَأَمُرَّ بَيْنَ يَدَيْهِ - انْسَلَلْتُ انْسِلاَلاً .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

৭৫৬। ইসমাঈল ইবনে মাসউদ (রাহঃ) ......... আয়িশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সামনে ছিলাম আর তিনি নামায আদায় করছিলেন। আমি যখন উঠে যেতে চাইলাম, তখন আমি দাঁড়িয়ে তার সম্মুখ দিয়ে যাওয়াটাকে খারাপ মনে করে আস্তে আস্তে (চাঁদরের নিচ থেকে) বের হয়ে গেলাম।

মুসল্লী ও তার সুতরার ভিতর দিয়ে যাওয়া সম্পর্কে কঠোর বাণী।

التشديد في المرور بين يدي المصلي وبين سترته

৭৫৬

أَخْبَرَنَا قُتَيْبَةُ، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ أَبِي النَّضْرِ، عَنْ بُسْرِ بْنِ سَعِيدٍ، أَنَّ زَيْدَ بْنَ خَالِدٍ، أَرْسَلَهُ إِلَى أَبِي جُهَيْمٍ يَسْأَلُهُ مَاذَا سَمِعَ مِنْ، رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ فِي الْمَارِّ بَيْنَ يَدَىِ الْمُصَلِّي فَقَالَ أَبُو جُهَيْمٍ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " لَوْ يَعْلَمُ الْمَارُّ بَيْنَ يَدَىِ الْمُصَلِّي مَاذَا عَلَيْهِ لَكَانَ أَنْ يَقِفَ أَرْبَعِينَ خَيْرًا لَهُ مِنْ أَنْ يَمُرَّ بَيْنَ يَدَيْهِ " .

বর্ণনাকারী: আবু জুহাইম (রাঃ)

৭৫৭। কুতায়বা (রাহঃ) ......... বুসর ইবনে সাঈদ (রাহঃ) থেকে বর্ণিত যে, যায়দ ইবনে খালিদ তাকে আবু জুহায়মের নিকট মুসল্লীর সামনে দিয়ে গমনকারী সম্বন্ধে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে তিনি কি বলতে শুনেছেন তা জিজ্ঞাসা করার জন্য পাঠালেন। তখন আবু জুহায়ম (রাযিঃ) বললেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ মুসল্লীর সামনে দিয়ে গমনকারী যদি জানত তার কি (ক্ষতি ও পাপ) হবে, তাহলে মুসল্লীর সম্মুখ দিয়ে গমন করার চাইতে চল্লিশ (বছর, মাস, দিন নিশ্চিত নয়) দাঁড়িয়ে থাকা সে উত্তম মনে করতো।

৭৫৭

أَخْبَرَنَا قُتَيْبَةُ، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ زَيْدِ بْنِ أَسْلَمَ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبِي سَعِيدٍ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " إِذَا كَانَ أَحَدُكُمْ يُصَلِّي فَلاَ يَدَعْ أَحَدًا أَنْ يَمُرَّ بَيْنَ يَدَيْهِ فَإِنْ أَبَى فَلْيُقَاتِلْهُ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ)

৭৫৮। কুতায়বা (রাহঃ) ......... আবু সাঈদ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ তোমাদের কেউ যখন নামায আদায় করতে থাকে তাহলে সে যেন কাউকে তার সামনে দিয়ে যেতে না দেয় যদি সে না মানে, তাহলে সে যেন শক্তি প্রয়োগ করে বাধা দেয়।

এর অনুমতি

الرخصة في ذلك

৭৫৮

أَخْبَرَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، قَالَ أَنْبَأَنَا عِيسَى بْنُ يُونُسَ، قَالَ حَدَّثَنَا عَبْدُ الْمَلِكِ بْنُ عَبْدِ الْعَزِيزِ بْنِ جُرَيْجٍ، عَنْ كَثِيرِ بْنِ كَثِيرٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَدِّهِ (المطلب بن أبى وداعة) قَالَ رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم طَافَ بِالْبَيْتِ سَبْعًا ثُمَّ صَلَّى رَكْعَتَيْنِ بِحِذَائِهِ فِي حَاشِيَةِ الْمَقَامِ وَلَيْسَ بَيْنَهُ وَبَيْنَ الطُّوَّافِ أَحَدٌ .

বর্ণনাকারী: মুত্তালিব ইবনে আবু ওয়াদাআহ (রাঃ)

৭৫৯। ইসহাক ইবনে ইবরাহীম (রাহঃ) ......... কাছীর (রাহঃ) তার দাদা মুত্তালিব ইবনে আবু ওয়াদাআহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে দেখলাম তিনি সাতবার কাবার তাওয়াফ করলেন। তারপর মাকামে ইবরাহীমের নিকট বরাবর দু’রাক আত নামায আদায় করলেন। তখন তার ও তাওয়াফকারীদের মধ্যে কেউ ছিল না।

নিদ্রিত ব্যক্তির পেছনে নামায আদায় করার অনুমতি।

الرخصة في الصلاة خلف النائم

৭৫৯

أَخْبَرَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ سَعِيدٍ، قَالَ حَدَّثَنَا يَحْيَى، عَنْ هِشَامٍ، قَالَ حَدَّثَنَا أَبِي، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يُصَلِّي مِنَ اللَّيْلِ وَأَنَا رَاقِدَةٌ مُعْتَرِضَةٌ بَيْنَهُ وَبَيْنَ الْقِبْلَةِ عَلَى فِرَاشِهِ فَإِذَا أَرَادَ أَنْ يُوتِرَ أَيْقَظَنِي فَأَوْتَرْتُ .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

৭৬০। উবাইদুল্লাহ ইবনে সাঈদ (রাহঃ) ......... আয়িশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) (তাহাজ্জুদের) নামায আদায় করতেন, তখন আমি তার ও কিবলার মধ্যস্থলে নিদ্রিত অবস্থায় তার বিছানায় শুয়ে থাকতাম। যখন তিনি বিতরের নামায আদায় করতে ইচ্ছা করতেন, তখন আমাকে জাগিয়ে দিতেন এবং আমি বিতরের নামায আদায় করতাম।

কবরের দিকে নামায আদায় করার নিষেধাজ্ঞা।

النهي عن الصلاة إلى القبر

৭৬০

أَخْبَرَنَا عَلِيُّ بْنُ حُجْرٍ، قَالَ حَدَّثَنَا الْوَلِيدُ، عَنِ ابْنِ جَابِرٍ، عَنْ بُسْرِ بْنِ عُبَيْدِ اللَّهِ، عَنْ وَاثِلَةَ بْنِ الأَسْقَعِ، عَنْ أَبِي مَرْثَدٍ الْغَنَوِيِّ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " لاَ تُصَلُّوا إِلَى الْقُبُورِ وَلاَ تَجْلِسُوا عَلَيْهَا " .

বর্ণনাকারী: আবূ মারছাদ আল-গানাবী (রা)

৭৬১। আলী ইবনে হুজর (রাহঃ) .... আবু মারসাদ গানবী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ তোমরা কবরের দিকে মুখ করে নামায আদায় করবে না এবং তার উপর উপবেশন করবে না।

ছবিওয়ালা কাপড়ের দিকে মুখ করে নামায আদায় করা

الصلاة إلى ثوب فيه تصاوير

৭৬১

أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الأَعْلَى الصَّنْعَانِيُّ، قَالَ حَدَّثَنَا خَالِدٌ، قَالَ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ الْقَاسِمِ، قَالَ سَمِعْتُ الْقَاسِمَ، يُحَدِّثُ عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ كَانَ فِي بَيْتِي ثَوْبٌ فِيهِ تَصَاوِيرُ فَجَعَلْتُهُ إِلَى سَهْوَةٍ فِي الْبَيْتِ فَكَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يُصَلِّي إِلَيْهِ ثُمَّ قَالَ " يَا عَائِشَةُ أَخِّرِيهِ عَنِّي " . فَنَزَعْتُهُ فَجَعَلْتُهُ وَسَائِدَ .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

৭৬২। মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল আলা সান’আনী (রাহঃ) ......... আয়িশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমার ঘরে একখানা কাপড় ছিল যাতে ছবি ছিল। আমি তা ঘরের তাকের দিকে রাখলাম। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তার দিকে মুখ করে নামায আদায় করতেন। তারপর তিনি বলেছিলেনঃ হে আয়িশা! ওটা আমার সম্মুখ থেকে সরাও। আমি সরিয়ে ফেললাম এবং তা দ্বারা বালিশ বানালাম।

মুসল্লী এবং ইমামের মাঝে আড়াল।

المصلي يكون بينه وبين الإمام سترة

৭৬২

أَخْبَرَنَا قُتَيْبَةُ، قَالَ حَدَّثَنَا اللَّيْثُ، عَنِ ابْنِ عَجْلاَنَ، عَنْ سَعِيدٍ الْمَقْبُرِيِّ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ كَانَ لِرَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم حَصِيرَةٌ يَبْسُطُهَا بِالنَّهَارِ وَيَحْتَجِرُهَا بِاللَّيْلِ فَيُصَلِّي فِيهَا فَفَطِنَ لَهُ النَّاسُ فَصَلَّوْا بِصَلاَتِهِ وَبَيْنَهُ وَبَيْنَهُمُ الْحَصِيرَةُ فَقَالَ " اكْلَفُوا مِنَ الْعَمَلِ مَا تُطِيقُونَ فَإِنَّ اللَّهَ عَزَّ وَجَلَّ لاَ يَمَلُّ حَتَّى تَمَلُّوا وَإِنَّ أَحَبَّ الأَعْمَالِ إِلَى اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ أَدْوَمُهُ وَإِنْ قَلَّ " . ثُمَّ تَرَكَ مُصَلاَّهُ ذَلِكَ فَمَا عَادَ لَهُ حَتَّى قَبَضَهُ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ وَكَانَ إِذَا عَمِلَ عَمَلاً أَثْبَتَهُ .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

৭৬৩। কুতায়বা (রাহঃ) ......... আয়িশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেছেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর একখানা মাদুর ছিল। তিনি দিনের বেলা তা বিছাতেন এবং রাতের বেলায় তা দ্বারা কুঠুরীর মতো বানাতেন এবং তার ভেতর নামায আদায় করতেন। লোক তা জানতে পেরে তাঁর সঙ্গে নামাযে শরীক হতেন, তখন তাঁর মধ্যে এবং তাদের মধ্যে থাকত ঐ মাদুর। তিনি বললেন, যতক্ষণ সামর্থ্য হয়, খুশিমনে আমল করতে থাকা তোমরা যতক্ষণ ক্লান্ত না হও ততক্ষণ পর্যন্ত আল্লাহ তাআলাও তোমাদের থেকে অনূগ্রহের ধারা বন্ধ করেন না। আর আল্লাহর নিকট ঐ আমলই সবচেয়ে অধিক পছন্দনীয় যা স্থায়ীভাবে করা হয়। যদিও তা স্বল্প হয়। তারপর তিনি তাঁর এই নামাযের স্থান ত্যাগ করলেন। আল্লাহ তাআলা তাকে তুলে নেয়ার পূর্ব পর্যন্ত তিনি আর সেখানে ফিরে আসেন নি। তিনি যখন কোন কাজ আরম্ভ করতেন, তা সব সময় আদায় করতেন।

এক বস্ত্রে নামায

الصلاة في الثوب الواحد

৭৬৩

أَخْبَرَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، عَنْ مَالِكٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيَّبِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ سَائِلاً، سَأَلَ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَنِ الصَّلاَةِ فِي الثَّوْبِ الْوَاحِدِ فَقَالَ " أَوَلِكُلِّكُمْ ثَوْبَانِ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৭৬৪। কুতায়বা ইবনে সাঈদ (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, এক প্রশ্নকারী রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে এক বস্ত্রে নামায আদায় করা সম্বন্ধে প্রশ্ন করলে তিনি বললেনঃ তোমাদের প্রত্যেকের কি দু’খানা কাপড় রয়েছে?[১]

[১] এতে বুঝা যায় যে, দু' কাপড়ে অর্থাৎ তহবন্দ ও চাদর কিংবা তহবন্দ ও জামায় সালাত আদায় করা উত্তম হলেও এক কাপড়েও তা জায়েয।
৭৬৪

أَخْبَرَنَا قُتَيْبَةُ، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عُمَرَ بْنِ أَبِي سَلَمَةَ، أَنَّهُ رَأَى رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يُصَلِّي فِي ثَوْبٍ وَاحِدٍ فِي بَيْتِ أُمِّ سَلَمَةَ وَاضِعًا طَرَفَيْهِ عَلَى عَاتِقَيْهِ .

বর্ণনাকারী: হযরত উমর ইবনে আবূ সালামা রাযি.

৭৬৫। কুতায়বা (রাহঃ) ......... উমর ইবনে আবু সালামা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে এক বস্ত্রে তার দু’দিক তার দুই কাঁধের উপর রেখে উম্মে সালামার ঘরে নামায আদায় করতে দেখেছেন।

এক জামায় নামায আদায় করা

الصلاة في قميص واحد

৭৬৫

أَخْبَرَنَا قُتَيْبَةُ، قَالَ حَدَّثَنَا الْعَطَّافُ، عَنْ مُوسَى بْنِ إِبْرَاهِيمَ، عَنْ سَلَمَةَ بْنِ الأَكْوَعِ، قَالَ قُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنِّي لأَكُونُ فِي الصَّيْدِ وَلَيْسَ عَلَىَّ إِلاَّ الْقَمِيصُ أَفَأُصَلِّي فِيهِ قَالَ " وَزُرَّهُ عَلَيْكَ وَلَوْ بِشَوْكَةٍ " .

বর্ণনাকারী: সালামা ইবনুল আকওয়া' (রাঃ)

৭৬৬। কুতায়বা (রাহঃ) ......... সালামা ইবনে আকওয়া (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি বললাম ইয়া রাসুলাল্লাহ! আমি শিকার করতে যাই তখন জামা ছাড়া আমার গায়ে আর কিছু থাকে না। আমি কি তাতেই নামায আদায় করব? তিনি বললেনঃ তার গেরেবান বন্ধ করে নেবে কাটা দ্বারা হলেও।[১]

[১] গেরেবান জামার গলার বা বুকের দিকে উন্মুক্ত অংশ। গেরেবান বন্ধ করার উদ্দেশ্য এই যে, এতে ভেতরের দিকে সতর দেখা যাবে না।

ইযার পরিধান করে নামায আদায় করা

الصلاة في الإزار

৭৬৬

أَخْبَرَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ سَعِيدٍ، قَالَ حَدَّثَنَا يَحْيَى، عَنْ سُفْيَانَ، قَالَ حَدَّثَنِي أَبُو حَازِمٍ، عَنْ سَهْلِ بْنِ سَعْدٍ، قَالَ كَانَ رِجَالٌ يُصَلُّونَ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَاقِدِينَ أُزْرَهُمْ كَهَيْئَةِ الصِّبْيَانِ فَقِيلَ لِلنِّسَاءِ لاَ تَرْفَعْنَ رُءُوسَكُنَّ حَتَّى يَسْتَوِيَ الرِّجَالُ جُلُوسًا .

বর্ণনাকারী: হযরত সাহল ইবনে সা'দ সাঈ'দী (রাঃ)

৭৬৭। উবাইদুল্লাহ ইবনে সাঈদ (রাহঃ) ......... সাহল ইবনে সা’দ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ কিছু লোক রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সঙ্গে শিশুদের মত ইযারে গিরা দিয়ে নামায আদায় করতেন। মহিলাদের বলা হতো, পুরুষেরা সোজা হয়ে বসার পূর্বে তোমরা তোমাদের মাথা সিজদা থেকে উঠাবে না।

৭৬৭

أَخْبَرَنَا شُعَيْبُ بْنُ يُوسُفَ، قَالَ حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ، قَالَ أَنْبَأَنَا عَاصِمٌ، عَنْ عَمْرِو بْنِ سَلِمَةَ، قَالَ لَمَّا رَجَعَ قَوْمِي مِنْ عِنْدِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالُوا إِنَّهُ قَالَ " لِيَؤُمَّكُمْ أَكْثَرُكُمْ قِرَاءَةً لِلْقُرْآنِ " . قَالَ فَدَعَوْنِي فَعَلَّمُونِي الرُّكُوعَ وَالسُّجُودَ فَكُنْتُ أُصَلِّي بِهِمْ وَكَانَتْ عَلَىَّ بُرْدَةٌ مَفْتُوقَةٌ فَكَانُوا يَقُولُونَ لأَبِي أَلاَ تُغَطِّي عَنَّا اسْتَ ابْنِكَ .

বর্ণনাকারী: আমর ইবনে সালামাহ (রাঃ)

৭৬৮। শুআয়ব ইবনে ইউসূফ (রাহঃ) ......... আমর ইবনে সালামা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন আমার সস্প্রদায় রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট থেকে প্রত্যাবর্তন করল, তখন তারা বলল যে, তিনি বলেছেন, তোমাদের ইমামতি করবে সে-ই, যে তোমাদের মধ্যে কুরআন বেশী পড়তে পারে। তিনি আরো বলেনঃ তখন তারা আমাকে ডাকল এবং আমাকে রুকু-সিজদা শিখিয়ে দিল। তারপর আমি তাদের নিয়ে নামায আদায় করতাম। তখন আমার গায়ে থাকত একখানা কাটা চাদর। তারা আমার পিতাকে বলতো, আপনি কি আমাদের থেকে আপনার ছেলের নিতম্ব ঢাকবেন না?

কোন পুরুষের এমন কাপড়ে নামায পড়া যার কিছু অংশ তার স্ত্রীর উপর থাকে।

صلاة الرجل في ثوب بعضه على امرأته

৭৬৮

أَخْبَرَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، قَالَ أَنْبَأَنَا وَكِيعٌ، قَالَ حَدَّثَنَا طَلْحَةُ بْنُ يَحْيَى، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يُصَلِّي بِاللَّيْلِ وَأَنَا إِلَى جَنْبِهِ وَأَنَا حَائِضٌ وَعَلَىَّ مِرْطٌ بَعْضُهُ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

৭৬৯। ইসহাক ইবনে ইবরাহীম (রাহঃ) ......... আয়িশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) রাতে নামায আদায় করতেন তখন আমি তার পাশে ঋতুমতি অবস্থসায় থাকতাম। তখন আমার গায়ে একখানা চাদর থাকত যার কিয়দংশ থাকত রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর গায়ে।

পুরুষের এমন এক বস্ত্রে নামায পড়া যার কোন অংশ কাঁধের উপর না থাকে।

صلاة الرجل في الثوب الواحد ليس على عاتقه منه شيء

৭৬৯

أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ مَنْصُورٍ، قَالَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، قَالَ حَدَّثَنَا أَبُو الزِّنَادِ، عَنِ الأَعْرَجِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " لاَ يُصَلِّيَنَّ أَحَدُكُمْ فِي الثَّوْبِ الْوَاحِدِ لَيْسَ عَلَى عَاتِقِهِ مِنْهُ شَىْءٌ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৭৭০। মুহাম্মাদ ইবনে মনসুর (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ তোমাদের কেউ যেন এমন এক কাপড়ে নামায আদায় না করে যার কিছু অংশ তার কাঁধে না থাকে।

রেশমি বস্ত্রে নামায

الصلاة في الحرير

৭৭০

أَخْبَرَنَا قُتَيْبَةُ، وَعِيسَى بْنُ حَمَّادٍ، زُغْبَةُ عَنِ اللَّيْثِ، عَنْ يَزِيدَ بْنِ أَبِي حَبِيبٍ، عَنْ أَبِي الْخَيْرِ، عَنْ عُقْبَةَ بْنِ عَامِرٍ، قَالَ أُهْدِيَ لِرَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَرُّوجُ حَرِيرٍ فَلَبِسَهُ ثُمَّ صَلَّى فِيهِ ثُمَّ انْصَرَفَ فَنَزَعَهُ نَزْعًا شَدِيدًا كَالْكَارِهِ لَهُ ثُمَّ قَالَ " لاَ يَنْبَغِي هَذَا لِلْمُتَّقِينَ " .

বর্ণনাকারী: হযরত উকবা ইবন আমির রাযি.

৭৭১। কুতায়বা ও ঈসা ইবনে হাম্মাদ যুগবা (রাহঃ) ......... উকবা ইবনে আমির (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে একটি রেশমী কাবা (قبا) হাদিয়া দেয়া হয়েছিল। তিনি তা পরিধান করে নামায আদায় করলেন। তিনি নামায আদায় করে অতি তাড়াতাড়ি অপছন্দকারীর ন্যায় তা খুলে ফেললেন। তারপর তিনি বললেনঃ এটা মুত্তাকীদের জন্য উপযুক্ত নয়।[১]

[১] রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) রেশমী বস্তু পুরুষের জন্য নিষিদ্ধ হওয়ার পূর্বে পরিধান করেছিলেন । অথবা কাপড়টি রেশম ও অন্য বস্তুর সংমিশ্রণে তৈরী করা হয়েছিল।

নকশা করা কাপড়ে নামায

الرخصة في الصلاة في خميصة لها أعلام

৭৭১

أَخْبَرَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، وَقُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، - وَاللَّفْظُ لَهُ - عَنْ سُفْيَانَ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ عُرْوَةَ بْنِ الزُّبَيْرِ، عَنْ عَائِشَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم صَلَّى فِي خَمِيصَةٍ لَهَا أَعْلاَمٌ ثُمَّ قَالَ " شَغَلَتْنِي أَعْلاَمُ هَذِهِ اذْهَبُوا بِهَا إِلَى أَبِي جَهْمٍ وَائْتُونِي بِأَنْبِجَانِيِّهِ " .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

৭৭২। ইসহাক ইবনে ইবরাহীম ও কুতায়বা ইবনে সাঈদ (রাহঃ) ......... আয়িশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) নকশা করা কাপড়ে নামায আদায় করলেন। তারপর বললেনঃ এর নকশা আমাকে অন্যমনষ্ক করে দিয়েছে। এটা আবু জাহমের নিকট নিয়ে যাও এবং আমার জন্য নকশা বিহীন মোটা চাদর আন।

লাল কাপড়ে নামায

الصلاة في الثياب الحمر

৭৭২

أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، قَالَ حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ، قَالَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ عَوْنِ بْنِ أَبِي جُحَيْفَةَ، عَنْ أَبِيهِ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم خَرَجَ فِي حُلَّةٍ حَمْرَاءَ فَرَكَزَ عَنَزَةً فَصَلَّى إِلَيْهَا يَمُرُّ مِنْ وَرَائِهَا الْكَلْبُ وَالْمَرْأَةُ وَالْحِمَارُ .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু জুহাইফা (রাঃ)

৭৭৩। মুহাম্মাদ ইবনে বাশশার (রাহঃ) ......... আবু জুহায়ফা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) লাল ডোরাযুক্ত জুব্বা পরিধান করে বের হলেন এবং একটি তীর পুঁতে তার দিকে নামায আদায় করলেন যার অপরদিক দিয়ে কুকুর, নারী এবং গাধা চলাচল করছিল।

চাদরে নামায

الصلاة في الشعار

৭৭৩

أَخْبَرَنَا عَمْرُو بْنُ مَنْصُورٍ، قَالَ حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ عَبْدِ الْمَلِكِ، قَالَ حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ، قَالَ حَدَّثَنَا جَابِرُ بْنُ صُبْحٍ، قَالَ سَمِعْتُ خِلاَسَ بْنَ عَمْرٍو، يَقُولُ سَمِعْتُ عَائِشَةَ، تَقُولُ كُنْتُ أَنَا وَرَسُولُ اللَّهِ، صلى الله عليه وسلم أَبُو الْقَاسِمِ فِي الشِّعَارِ الْوَاحِدِ وَأَنَا حَائِضٌ، طَامِثٌ فَإِنْ أَصَابَهُ مِنِّي شَىْءٌ غَسَلَ مَا أَصَابَهُ لَمْ يَعْدُهُ إِلَى غَيْرِهِ وَصَلَّى فِيهِ ثُمَّ يَعُودُ مَعِي فَإِنْ أَصَابَهُ مِنِّي شَىْءٌ فَعَلَ مِثْلَ ذَلِكَ لَمْ يَعْدُهُ إِلَى غَيْرِهِ .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

৭৭৪। আমর ইবনে মনসুর (রাহঃ) ......... খিলাস ইবনে আমর (রাযিঃ) খেবে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আয়িশা (রাযিঃ)-কে বলতে শুনেছি, আমি এবং আবুল কাসেম (রাসূলুল্লাহ (ﷺ)) একই চাদরে থাকতাম আর তখন আমি অধিক হায়য গ্রস্থা ছিলাম, যদি আমা হতে কিছু তাঁর গায়ে লাগত তাহলে তিনি তা ধুয়ে ফেলতেন, এর অতিরিক্ত ধুতেন না এবং তাতেই নামায আদায় করতেন। তারপর আবার আমার সাথে অবস্থান করতেন। যদি আমা হতে কিছু তাঁর শরীরে লাগত তিনি তা-ই ধুতেন, তাছাড়া আর কোন জায়গা ধুতেন না।

চামড়ার মোজা পরিধান করে নামায আদায় করা

الصلاة في الخفين

৭৭৪

أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الأَعْلَى، قَالَ حَدَّثَنَا خَالِدٌ، قَالَ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ سُلَيْمَانَ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ، عَنْ هَمَّامٍ، قَالَ رَأَيْتُ جَرِيرًا بَالَ ثُمَّ دَعَا بِمَاءٍ فَتَوَضَّأَ وَمَسَحَ عَلَى خُفَّيْهِ ثُمَّ قَامَ فَصَلَّى فَسُئِلَ عَنْ ذَلِكَ فَقَالَ رَأَيْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم صَنَعَ مِثْلَ هَذَا .

বর্ণনাকারী: জারীর ইবনে আব্দুল্লাহ বাজালী (রাঃ)

৭৭৫। মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল আলা (রাহঃ) ......... হাম্মাম (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি জারীর (রাযিঃ)-কে দেখলাম যে, তিনি পেশাব করলেন, তারপর পানি আনিয়ে উযু করলেন এবং মোজার উপর মাসাহ্‌ করলেন, পরে উঠে নামায আদায় করলেন। এ ব্যাপারে তাঁকে প্রশ্ন করা হলে তিনি বললেনঃ আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে এরূপ করতে দেখেছি।

উভয় জুতা পরিহিত অবস্থায় নামায।

الصلاة في النعلين

৭৭৫

أَخْبَرَنَا عَمْرُو بْنُ عَلِيٍّ، عَنْ يَزِيدَ بْنِ زُرَيْعٍ، وَغَسَّانَ بْنِ مُضَرَ، قَالاَ حَدَّثَنَا أَبُو مَسْلَمَةَ، - وَاسْمُهُ سَعِيدُ بْنُ يَزِيدَ بَصْرِيٌّ - ثِقَةٌ قَالَ سَأَلْتُ أَنَسَ بْنَ مَالِكٍ أَكَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يُصَلِّي فِي النَّعْلَيْنِ قَالَ نَعَمْ .

বর্ণনাকারী: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

৭৭৬। আমর ইবনে আলী (রাহঃ) ......... আবু সালামা সাঈদ ইবনে ইয়াযীদ বসরী (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি আনাস ইবনে মালিক (রাযিঃ)-কে জিজ্ঞাসা করলাম, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) জুতা পরিধান করে নামায আদায় করতেন কি? তিনি বললেনঃ হ্যাঁ।

ইমামতি করার সময় ইমাম জুতা কোথায় রাখবেন

أين يضع الإمام نعليه إذا صلى بالناس

৭৭৬

أَخْبَرَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ سَعِيدٍ، وَشُعَيْبُ بْنُ يُوسُفَ، عَنْ يَحْيَى، عَنِ ابْنِ جُرَيْجٍ، قَالَ أَخْبَرَنِي مُحَمَّدُ بْنُ عَبَّادٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ سُفْيَانَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ السَّائِبِ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم صَلَّى يَوْمَ الْفَتْحِ فَوَضَعَ نَعْلَيْهِ عَنْ يَسَارِهِ .

বর্ণনাকারী: আব্দুল্লাহ ইবনুস সাঈব (রাঃ)

৭৭৭। উবাইদুল্লাহ ইবনে সাঈদ ও শুআয়ব ইবনে ইউসুফ (রাহঃ) ......... আব্দুল্লাহ ইবনে সায়িব (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) মক্কা বিজয়ের দিন নামায আদায় করলেনঃ তিনি তাঁর জুতা তাঁর বামদিকে রাখলেন।