كتاب الجهاد

২৫. জিহাদ-শাহাদাতের অধ্যায়

অধ্যায় ২৫ · ১১১ টি হাদীস

১. জিহাদ ওয়াজিব হওয়া

كِتَاب الْجِهَاد بَاب وُجُوبِ الْجِهَادِ

৩০৮৫

أَخْبَرَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ سَلَّامٍ قَالَ حَدَّثَنَا إِسْحَقُ الْأَزْرَقُ قَالَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ عَنْ الْأَعْمَشِ عَنْ مُسْلِمٍ عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ لَمَّا أُخْرِجَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مِنْ مَكَّةَ قَالَ أَبُو بَكْرٍ أَخْرَجُوا نَبِيَّهُمْ إِنَّا لِلَّهِ وَإِنَّا إِلَيْهِ رَاجِعُونَ لَيَهْلِكُنَّ فَنَزَلَتْ أُذِنَ لِلَّذِينَ يُقَاتَلُونَ بِأَنَّهُمْ ظُلِمُوا وَإِنَّ اللَّهَ عَلَى نَصْرِهِمْ لَقَدِيرٌ فَعَرَفْتُ أَنَّهُ سَيَكُونُ قِتَالٌ قَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ فَهِيَ أَوَّلُ آيَةٍ نَزَلَتْ فِي الْقِتَالِ

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

৩০৮৯. আব্দুর রহমান ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে সাল্লাম (রাহঃ) ......... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে মক্কা হতে বহিষ্কার করা হলো, তখন আবু বকর (রাযিঃ) বললেনঃ তারা তাদের নবীকে বের করে দিল ‘ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলায়হি রাজিউন’ তারা নিশ্চয় ধ্বংস হবে, তখন নাযিল হলোঃ (أُذِنَ لِلَّذِينَ يُقَاتَلُونَ بِأَنَّهُمْ ظُلِمُوا وَإِنَّ اللَّهَ عَلَى نَصْرِهِمْ لَقَدِيرٌ) ″যুদ্ধের অনুমতি দেয়া হল তাদের-যারা আক্রান্ত হয়েছে, কারণ তাদের প্রতি অত্যাচার করা হয়েছে, আল্লাহ নিশ্চয়ই তাদের সাহায্য করতে সম্যক সক্ষম। (সূরা হজ্জঃ ৩৯)। তখন আমি বুঝলাম, শীঘ্রই জিহাদ আরম্ভ হবে। ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) বলেন, জিহাদের ব্যাপারে এটিই প্রথম আয়াত।

৩০৮৬

أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ الْحَسَنِ بْنِ شَقِيقٍ قَالَ أَنْبَأَنَا أَبِي قَالَ أَنْبَأَنَا الْحُسَيْنُ بْنُ وَاقِدٍ عَنْ عَمْرِو بْنِ دِينَارٍ عَنْ عِكْرِمَةَ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ أَنَّ عَبْدَ الرَّحْمَنِ بْنَ عَوْفٍ وَأَصْحَابًا لَهُ أَتَوْا النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِمَكَّةَ فَقَالُوا يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّا كُنَّا فِي عِزٍّ وَنَحْنُ مُشْرِكُونَ فَلَمَّا آمَنَّا صِرْنَا أَذِلَّةً فَقَالَ إِنِّي أُمِرْتُ بِالْعَفْوِ فَلَا تُقَاتِلُوا فَلَمَّا حَوَّلَنَا اللَّهُ إِلَى الْمَدِينَةِ أَمَرَنَا بِالْقِتَالِ فَكَفُّوا فَأَنْزَلَ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ أَلَمْ تَرَ إِلَى الَّذِينَ قِيلَ لَهُمْ كُفُّوا أَيْدِيَكُمْ وَأَقِيمُوا الصَّلَاةَ

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

৩০৯০. মুহাম্মাদ ইবনে আলী ইবনে হাসান ইবনে শাকীক (রাহঃ) ......... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) বলেন, আব্দুর রহমান ইবনে আউফ (রাযিঃ) তার কয়েকজন বন্ধুসহ মক্কায় রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) এর খিদমতে উপস্থিত হয়ে আরয করলেনঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমরা মুশরিক অবস্থায় সম্মানিত ছিলাম এখন যখন আমরা ঈমান এনেছি অসম্মানিত হয়ে পড়লাম। তিনি বললেন আমাকে ক্ষমা করার আদেশ করা হয়েছে, অতএব তোমরা যুদ্ধ করবে না। এরপর যখন আল্লাহ তায়ালা আমাদের মদীনায় নিয়ে গেলেন, তখন আমাদেরকে জিহাদের নির্দেশ দিলেন। কিন্তু তারা জিহাদ থেকে বিরত থাকলেন। তখন আল্লাহ তায়ালা আয়াত নাযিল করলেনঃ (أَلَمْ تَرَ إِلَى الَّذِينَ قِيلَ لَهُمْ كُفُّوا أَيْدِيَكُمْ وَأَقِيمُوا الصَّلَاةَ) আপনি কি তাদের প্রতি লক্ষ করেন নি, যাদেরকে বলা হয়েছিল, তোমরা তোমাদের হস্ত সংবরণ কর, এবং নামায কায়েম কর। (সূরা নিসাঃ ৭৭)।

৩০৮৭

أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الْأَعْلَى قَالَ حَدَّثَنَا مُعْتَمِرٌ قَالَ سَمِعْتُ مَعْمَرًا عَنْ الزُّهْرِيِّ قَالَ قُلْتُ عَنْ سَعِيدٍ قَالَ نَعَمْ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ ح وَأَنْبَأَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَمْرِو بْنِ السَّرْحِ وَالْحَارِثُ بْنُ مِسْكِينٍ قِرَاءَةً عَلَيْهِ وَأَنَا أَسْمَعُ وَاللَّفْظُ لِأَحْمَدَ قَالَا حَدَّثَنَا ابْنُ وَهْبٍ عَنْ يُونُسَ عَنْ ابْنِ شِهَابٍ عَنْ ابْنِ الْمُسَيَّبِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بُعِثْتُ بِجَوَامِعِ الْكَلِمِ وَنُصِرْتُ بِالرُّعْبِ وَبَيْنَا أَنَا نَائِمٌ أُتِيتُ بِمَفَاتِيحِ خَزَائِنِ الْأَرْضِ فَوُضِعَتْ فِي يَدِي قَالَ أَبُو هُرَيْرَةَ فَذَهَبَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَأَنْتُمْ تَنْتَثِلُونَهَا

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৩০৯১. মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল আ’লা, আহমদ ইবনে আমর ইবনে সারাহ ও হারিস ইবনে মিসকীন (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ইরশাদ করেনঃ শব্দ কম কিন্তু অধিক অর্থবােধক বাক্যাবলীসহ আমি প্রেরিত হয়েছি। আর আমাকে ঐশী প্রভাব দ্বারা সাহায্য করা হয়েছে। আর এক সময় আমি ঘুমন্ত ছিলাম, তখন পার্থিব ধনাগারের চাবি আমাকে প্রদান করা হলো। আবু হুরায়রা (রাযিঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) পৃথিবী থেকে চলে গেছেন, আর তোমরা সে সম্পদ আহরণ করে ভোগ করছে।

৩০৮৮

أَخْبَرَنَا هَارُونُ بْنُ سَعِيدٍ عَنْ خَالِدِ بْنِ نِزَارٍ قَالَ أَخْبَرَنِي الْقَاسِمُ بْنُ مَبْرُورٍ عَنْ يُونُسَ عَنْ ابْنِ شِهَابٍ عَنْ أَبِي سَلَمَةَ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ نَحْوَهُ

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৩০৯২. হারূন ইন সায়ীদ (রাহঃ) ......... আবু সালামা (রাহঃ) কর্তৃক আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে অনুরূপ বলতে শুনেছি।

৩০৮৯

أَخْبَرَنَا كَثِيرُ بْنُ عُبَيْدٍ قَالَ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ حَرْبٍ عَنْ الزُّبَيْدِيِّ عَنْ الزُّهْرِيِّ عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيَّبِ وَأَبِي سَلَمَةَ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ أَنَّ أَبَا هُرَيْرَةَ قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ بُعِثْتُ بِجَوَامِعِ الْكَلِمِ وَنُصِرْتُ بِالرُّعْبِ وَبَيْنَا أَنَا نَائِمٌ أُتِيتُ بِمَفَاتِيحِ خَزَائِنِ الْأَرْضِ فَوُضِعَتْ فِي يَدِي فَقَالَ أَبُو هُرَيْرَةَ فَقَدْ ذَهَبَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَأَنْتُمْ تَنْتَثِلُونَهَا

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৩০৯৩. কাছীর ইবনে উবায়দ (রাহঃ) ......... সাঈদ ইবনে মুসাইয়্যাব এবং আবু সালামা ইবনে আব্দুর রহমান (রাহঃ) থেকে বর্ণিত যে, আবু হুরায়রা (রাযিঃ) বলেছেন, আমি রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-কে বলতে শুনেছি, আমি শব্দ কম কিন্তু অধিক অর্থবোধক বাক্যাবলীসহ প্রেরিত হয়েছি। আর আমাকে ঐশী প্রভাব দ্বারা সাহায্য করা হয়েছে, আর আমি নিদ্রাবস্থায় ছিলাম, এমন সময় আমার হাতে পৃথিবীর ধনাগারের চাবি দান করা হয়েছে। আবু হুরায়রা (রাযিঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) চলে গেছেন, আর তোমরা সে সম্পদ আহরণ করে ভোগ করছো।

৩০৯০

أَخْبَرَنَا يُونُسُ بْنُ عَبْدِ الْأَعْلَى وَالْحَارِثُ بْنُ مِسْكِينٍ قِرَاءَةً عَلَيْهِ وَأَنَا أَسْمَعُ عَنْ ابْنِ وَهْبٍ قَالَ أَخْبَرَنِي يُونُسُ عَنْ ابْنِ شِهَابٍ قَالَ حَدَّثَنِي سَعِيدُ بْنُ الْمُسَيَّبِ أَنَّ أَبَا هُرَيْرَةَ أَخْبَرَهُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ أُمِرْتُ أَنْ أُقَاتِلَ النَّاسَ حَتَّى يَقُولُوا لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ فَمَنْ قَالَ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ عَصَمَ مِنِّي مَالَهُ وَنَفْسَهُ إِلَّا بِحَقِّهِ وَحِسَابُهُ عَلَى اللَّهِ

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৩০৯৪. ইউনুস ইবনে আব্দুল আ’লা ও হারিস ইন মিসকীন (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত বলেন, ’লাইলাহা ইল্লাল্লাহ’ (আল্লাহ ব্যতীত কোন ইলাহ নেই) এ (তাওহীদ বাক্য) যে, রাসূল যতক্ষণ না বলবে, ততক্ষণ পর্যন্ত লোকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে আমাকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। তাই যে ‘লাইলাহা ইল্লাল্লাহ’ বলবে আমার পক্ষ থেকে সে তার সম্পদ ও প্রাণের নিরাপত্তা লাভ করবে, তবে ইসলামের হক ব্যতীত আর এর হিসাব আল্লাহর নিকট।

৩০৯১

أَخْبَرَنَا كَثِيرُ بْنُ عُبَيْدٍ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ حَرْبٍ عَنْ الزُّبَيْدِيِّ عَنْ الزُّهْرِيِّ عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ لَمَّا تُوُفِّيَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَاسْتُخْلِفَ أَبُو بَكْرٍ وَكَفَرَ مَنْ كَفَرَ مِنْ الْعَرَبِ قَالَ عُمَرُ يَا أَبَا بَكْرٍ كَيْفَ تُقَاتِلُ النَّاسَ وَقَدْ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أُمِرْتُ أَنْ أُقَاتِلَ النَّاسَ حَتَّى يَقُولُوا لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ فَمَنْ قَالَ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ عَصَمَ مِنِّي نَفْسَهُ وَمَالَهُ إِلَّا بِحَقِّهِ وَحِسَابُهُ عَلَى اللَّهِ قَالَ أَبُو بَكْرٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ وَاللَّهِ لَأُقَاتِلَنَّ مَنْ فَرَّقَ بَيْنَ الصَّلَاةِ وَالزَّكَاةِ فَإِنَّ الزَّكَاةَ حَقُّ الْمَالِ وَاللَّهِ لَوْ مَنَعُونِي عَنَاقًا كَانُوا يُؤَدُّونَهَا إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَقَاتَلْتُهُمْ عَلَى مَنْعِهَا فَوَاللَّهِ مَا هُوَ إِلَّا أَنْ رَأَيْتُ اللَّهَ عَزَّ وَجَلَّ قَدْ شَرَحَ صَدْرَ أَبِي بَكْرٍ لِلْقِتَالِ وَعَرَفْتُ أَنَّهُ الْحَقُّ

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৩০৯৫. কাছীর ইবনে উবায়দ (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-এর ওফাত হলো এবং আবু বকর (রাযিঃ)-কে খলীফা নিযুক্ত করা হলো, তখন আরবের কিছু লোক কাফির হয়ে গেল। উমর (রাযিঃ) তাকে বললেনঃ হে আবু বকর! আপনি কিরূপে এমন লোকদের সাথে যুদ্ধ করবেন অথচ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ইরশাদ করেছেনঃ যতক্ষণ লোকেরা ’লাইলাহা ইল্লাল্লাহ’ না বলবে, ততক্ষণ তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে আদিষ্ট হয়েছি। তারপর যে ব্যক্তি ’লাইলাহা ইল্লাল্লাহ’ বলবে, সে আমার পক্ষ হতে তার জান-মালের নিরাপত্তা লাভ করবে। তবে ইসলামী বিধানে কারো জান-মাল হালাল হলে-তা স্বতন্ত্র ব্যপার। আর আল্লাহর কাছেই এর হিসাব।

আবু বকর (রাযিঃ) বললেন, আল্লাহর শপথ! আমি সে ব্যক্তির সাথে যুদ্ধ করব, যে ব্যক্তি নামায এবং যাকাতের মধ্যে পার্থক্য করবে। কেননা, যাকাত মালের হক। আল্লাহর শপথ! যদি তারা আমাকে একটি বকরীর বাচ্চা দিতেও অসম্মত হয়, যা তারা রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে দিত, তাহলে তাদের এ অসম্মতির জন্য আমি তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করব। আল্লাহর শপথ! এ আর কিছু না, বরং আমি বুঝলাম যে, আল্লাহ্ তায়ালা আবু বকরের অন্তর যুদ্ধের জন্য উন্মুক্ত করে দিয়েছেন। আমি অনুধাবন করলাম যে, তার ফয়সালাই সঠিক।
৩০৯২

أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ مُغِيرَةَ قَالَ حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ سَعِيدٍ عَنْ شُعَيْبٍ عَنْ الزُّهْرِيِّ قَالَ حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ ح وَأَنْبَأَنَا كَثِيرُ بْنُ عُبَيْدٍ قَالَ حَدَّثَنَا بَقِيَّةُ عَنْ شُعَيْبٍ قَالَ حَدَّثَنِي الزُّهْرِيُّ عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُتْبَةَ بْنِ مَسْعُودٍ أَنَّ أَبَا هُرَيْرَةَ قَالَ لَمَّا تُوُفِّيَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَكَانَ أَبُو بَكْرٍ بَعْدَهُ وَكَفَرَ مَنْ كَفَرَ مِنْ الْعَرَبِ قَالَ عُمَرُ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ يَا أَبَا بَكْرٍ كَيْفَ تُقَاتِلُ النَّاسَ وَقَدْ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أُمِرْتُ أَنْ أُقَاتِلَ النَّاسَ حَتَّى يَقُولُوا لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ فَمَنْ قَالَ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ فَقَدْ عَصَمَ مِنِّي مَالَهُ وَنَفْسَهُ إِلَّا بِحَقِّهِ وَحِسَابُهُ عَلَى اللَّهِ قَالَ أَبُو بَكْرٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ لَأُقَاتِلَنَّ مَنْ فَرَّقَ بَيْنَ الصَّلَاةِ وَالزَّكَاةِ فَإِنَّ الزَّكَاةَ حَقُّ الْمَالِ وَاللَّهِ لَوْ مَنَعُونِي عَنَاقًا كَانُوا يُؤَدُّونَهَا إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَقَاتَلْتُهُمْ عَلَى مَنْعِهَا قَالَ عُمَرُ فَوَاللَّهِ مَا هُوَ إِلَّا أَنْ رَأَيْتُ أَنَّ اللَّهَ عَزَّ وَجَلَّ شَرَحَ صَدْرَ أَبِي بَكْرٍ لِلْقِتَالِ فَعَرَفْتُ أَنَّهُ الْحَقُّ وَاللَّفْظُ لِأَحْمَدَ

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৩০৯৬. আহমদ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে মুগীরা ও কাছীর ইবনে উবায়দ (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) বলেন, যখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর ওফাত হলো, তারপর খলীফা হলেন আবু বকর (রাযিঃ)। ’আরবের কেউ কেউ কাফির হয়ে গেল। তখন উমর (রাযিঃ) বললেনঃ হে আবু বকর! আপনি কিরূপে এ সকল লোকের সাথে যুদ্ধ করবেন, অথচ রাসূলুল্লহ (ﷺ) বলেছেন, লোকেরা যতক্ষণ লাইলাহা ইল্লাল্লাহ্’ না বলবে, ততক্ষণ পর্যন্ত তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে আমাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে? আর যখন তারা “লাইলাহা ইল্লাল্লাহ বললো, তখন তারা আমার পক্ষ হতে তাদের জান-মালের নিরাপত্তা লাভ করলো। তবে ইসলামের হক ব্যতীত, আর এর মীমাংসা আল্লাহর কাছে? আবু বকর (রাযিঃ) বললেনঃ যে ব্যক্তি নামায এবং যাকাতের মধ্যে পার্থক্য করবে, আমি তার সাথে নিশ্চয়ই যুদ্ধ করব। কেননা, যাকাত মালের হক। আল্লাহর শপথ! তারা যে বকরীর বাচ্চা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সময় যাকাত হিসেবে আদায় করতো, যদি তা আমাকে না দেয়, তবে তা না দেওয়ার অপরাধে আমি তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করব।

উমর (রাযিঃ) বলেনঃ আল্লাহর শপথ! এ আর কিছু নয়, বরং আমি অনুধাবন করলাম যে, আল্লাহ্ তায়ালা আবু বকরের অন্তর যুদ্ধের জন্য উন্মুক্ত করে দিয়েছেন। আমি বুঝতে পারলাম, এটাই সত্য। এ বর্ণনার শব্দ আহমদ (রাহঃ)-এর।
৩০৯৩

أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ سُلَيْمَانَ قَالَ حَدَّثَنَا مُؤَمَّلُ بْنُ الْفَضْلِ قَالَ حَدَّثَنَا الْوَلِيدُ قَالَ حَدَّثَنِي شُعَيْبُ بْنُ أَبِي حَمْزَةَ وَسُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ وَذَكَرَ آخَرَ عَنْ الزُّهْرِيِّ عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيَّبِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ لَمَّا جَمَعَ أَبُو بَكْرٍ لِقِتَالِهِمْ فَقَالَ عُمَرُ يَا أَبَا بَكْرٍ كَيْفَ تُقَاتِلُ النَّاسَ وَقَدْ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أُمِرْتُ أَنْ أُقَاتِلَ النَّاسَ حَتَّى يَقُولُوا لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ فَإِذَا قَالُوهَا عَصَمُوا مِنِّي دِمَاءَهُمْ وَأَمْوَالَهُمْ إِلَّا بِحَقِّهَا قَالَ أَبُو بَكْرٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ لَأُقَاتِلَنَّ مَنْ فَرَّقَ بَيْنَ الصَّلَاةِ وَالزَّكَاةِ وَاللَّهِ لَوْ مَنَعُونِي عَنَاقًا كَانُوا يُؤَدُّونَهَا إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَقَاتَلْتُهُمْ عَلَى مَنْعِهَا قَالَ عُمَرُ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ فَوَاللَّهِ مَا هُوَ إِلَّا أَنْ رَأَيْتُ أَنَّ اللَّهَ تَعَالَى قَدْ شَرَحَ صَدْرَ أَبِي بَكْرٍ لِقِتَالِهِمْ فَعَرَفْتُ أَنَّهُ الْحَقُّ

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৩০৯৭. আহমদ ইবনে সুলায়মান (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, যখন আবু বকর (রাযিঃ) যাকাত দিতে অস্বীকৃতি জ্ঞাপনকারীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধের প্রস্তুতি গ্রহণ করলেন, তখন উমর (রাযিঃ) বললেনঃ হে আবু বকর! আপনি লোকের সাথে কিরূপে যুদ্ধে লিপ্ত হবেন, অথচ রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেছেনঃ যতক্ষণ লোকেরা ’লাইলাহা ইল্লাল্লাহ’ না বলবে, ততক্ষণ আমি তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে আদিষ্ট হয়েছি। যখন তারা তা বলবে, তখন তারা আমার পক্ষ হতে তাদের জান-মালের নিরাপত্তা লাভ করবে। তবে ইসলামের হক ব্যতীত।
আবু বকর (রাযিঃ) বললেনঃ যে ব্যক্তি নামায এবং যাকাতের মধ্যে পার্থক্য করবে, আমি নিশ্চয়ই তার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করব। আল্লাহর শপথ! তারা যে বকরীর বাচ্চা রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে দিত, তা আমাকে দিতে অস্বীকার করলে তাদের এই না দেওয়ার কারণে আমি তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করব। উমর (রাযিঃ) বলেন, এ আর কিছু নয়, বরং আমি বুঝলাম যে, আল্লাহু তাআলা আবৃ বকরের অন্তর যুদ্ধের জন্য উন্মুক্ত করে দিয়েছেন এবং আমি বুঝলাম, এটাই হক্ব।
৩০৯৪

أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ قَالَ حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ عَاصِمٍ قَالَ حَدَّثَنَا عِمْرَانُ أَبُو الْعَوَّامِ الْقَطَّانُ قَالَ حَدَّثَنَا مَعْمَرٌ عَنْ الزُّهْرِيِّ عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ قَالَ لَمَّا تُوُفِّيَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ارْتَدَّتْ الْعَرَبُ قَالَ عُمَرُ يَا أَبَا بَكْرٍ كَيْفَ تُقَاتِلُ الْعَرَبَ فَقَالَ أَبُو بَكْرٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ إِنَّمَا قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أُمِرْتُ أَنْ أُقَاتِلَ النَّاسَ حَتَّى يَشْهَدُوا أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَأَنِّي رَسُولُ اللَّهِ وَيُقِيمُوا الصَّلَاةَ وَيُؤْتُوا الزَّكَاةَ وَاللَّهِ لَوْ مَنَعُونِي عَنَاقًا مِمَّا كَانُوا يُعْطُونَ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَقَاتَلْتُهُمْ عَلَيْهِ قَالَ عُمَرُ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ فَلَمَّا رَأَيْتُ رَأْيَ أَبِي بَكْرٍ قَدْ شُرِحَ عَلِمْتُ أَنَّهُ الْحَقُّ قَالَ أَبُو عَبْد الرَّحْمَنِ عِمْرَانُ الْقَطَّانُ لَيْسَ بِالْقَوِيِّ فِي الْحَدِيثِ وَهَذَا الْحَدِيثُ خَطَأٌ وَالَّذِي قَبْلَهُ الصَّوَابُ حَدِيثُ الزُّهْرِيِّ عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُتْبَةَ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ

বর্ণনাকারী: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

৩০৯৮. মুহাম্মাদ ইন বাশার (রাহঃ) ......... আনাস ইবনে মালিক (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-এর ওফাত হলে আরবের কতিপয় লোক মুরতাদ হয়ে গেল। উমর (রাযিঃ) বললেনঃ হে আবু বকর! আপনি কিরূপে আরবের লোকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবেন? আবু বকর (রাযিঃ) বললেনঃ রাসূলুল্লাহ(ﷺ) বলেছেনঃ ″আল্লাহ ব্যতীত কোন ইলাহ নেই এবং আমি আল্লাহর রাসূল″ এ কথার সাক্ষ্য দেওয়া পর্যন্ত এবং নামায কায়িম করা ও যাকাত আদায় করা পর্যন্ত আমি লোকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে আদিষ্ট হয়েছি। আল্লাহর শপথ! তারা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কাছে যা প্রদান করতো, তা থেকে একটি বকবীর বাচ্চা দান করতে যদি অস্বীকার করে, তবে আমি তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করব।
উমর (রাযিঃ) বলেনঃ তখন আমি আবু বকরের অভিমত উপলব্ধি করলাম, আল্লাহ্ তাআলা তাঁর অন্তুর উন্মুক্ত করেছেন। আমি বুঝতে পারলাম, তার অভিমতই সঠিক।
৩০৯৫

أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ الْمُغِيرَةِ قَالَ حَدَّثَنَا عُثْمَانُ عَنْ شُعَيْبٍ عَنْ الزُّهْرِيِّ ح وَأَخْبَرَنِي عَمْرُو بْنُ عُثْمَانَ بْنِ سَعِيدِ بْنِ كَثِيرٍ قَالَ حَدَّثَنَا أَبِي قَالَ حَدَّثَنَا شُعَيْبٌ عَنْ الزُّهْرِيِّ قَالَ حَدَّثَنِي سَعِيدُ بْنُ الْمُسَيَّبِ أَنَّ أَبَا هُرَيْرَةَ أَخْبَرَهُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ أُمِرْتُ أَنْ أُقَاتِلَ النَّاسَ حَتَّى يَقُولُوا لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ فَمَنْ قَالَهَا فَقَدْ عَصَمَ مِنِّي نَفْسَهُ وَمَالَهُ إِلَّا بِحَقِّهِ وَحِسَابُهُ عَلَى اللَّهِ

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৩০৯৯. আহমদ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে মুগীরা (রাহঃ) ও আমর ইবনে উছমান ইবনে সায়ীদ ইবনে কাসীর (রাহঃ) ......... সাঈদ ইবনে মুসায়্যার (রাহঃ) বর্ণনা করেন, আবু হুরায়রা (রাযিঃ) তাকে সংবাদ দিয়েছেন যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ লোকেরা যতক্ষণ ’লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ না বলবে, ততক্ষণ আমি তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে আদিষ্ট হয়েছি। যে ব্যক্তি তা বললো, সে আমার পক্ষ হতে তার জান-মালের নিরাপত্তা লাভ করলো তবে ইসলামের হক ব্যতীত। তার হিসাব আল্লাহর কাছে।

৩০৯৬

خْبَرَنَا هَارُونُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ وَمُحَمَّدُ بْنُ إِسْمَعِيلَ بْنِ إِبْرَاهِيمَ قَالَا حَدَّثَنَا يَزِيدُ قَالَ أَنْبَأَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ عَنْ حُمَيْدٍ عَنْ أَنَسٍ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ جَاهِدُوا الْمُشْرِكِينَ بِأَمْوَالِكُمْ وَأَيْدِيكُمْ وَأَلْسِنَتِكُمْ

বর্ণনাকারী: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

৩১০০. হারূন ইবনে আব্দুল্লাহ ও মুহাম্মাদ ইবনে ইসমাঈল ইবনে ইবরাহীম (রাহঃ) ......... আনাস (রাযিঃ) রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেনঃ তোমরা মুশরিকদের বিরুদ্ধে তোমাদের মাল, তোমাদের হাত এবং তোমাদের জিহ্বা দ্বারা জিহাদ কর ।

২. জিহাদ পরিত্যাগের প্রতি সতর্কবাণী

التَّشْدِيدُ فِي تَرْكِ الْجِهَادِ

৩০৯৭

أَخْبَرَنَا عَبْدَةُ بْنُ عَبْدِ الرَّحِيمِ قَالَ حَدَّثَنَا سَلَمَةُ بْنُ سُلَيْمَانَ قَالَ أَنْبَأَنَا ابْنُ الْمُبَارَكِ قَالَ أَنْبَأَنَا وُهَيْبٌ يَعْنِي ابْنَ الْوَرْدِ قَالَ أَخْبَرَنِي عُمَرُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ الْمُنْكَدِرِ عَنْ سُمَيٍّ عَنْ أَبِي صَالِحٍ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ مَنْ مَاتَ وَلَمْ يَغْزُ وَلَمْ يُحَدِّثْ نَفْسَهُ بِغَزْوٍ مَاتَ عَلَى شُعْبَةِ نِفَاقٍ

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৩১০১. আব্দা ইবনে আব্দুর রহীম (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি জিহাদ না করে মারা গেল বা তার মনে যুদ্ধের বাসনা জাগলো না, তার মৃত্যু হলো নিফাকের একটি অংশ (জিহাদ বিমুখ হওয়া)-এর উপর।

৩. যুদ্ধে শরীক না হওয়ার ব্যাপারে অনুমতি

الرُّخْصَةُ فِي التَّخَلُّفِ عَنْ السَّرِيَّةِ

৩০৯৮

أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ يَحْيَى بْنِ الْوَزِيرِ بْنِ سُلَيْمَانَ عَنْ ابْنِ عُفَيْرٍ عَنْ اللَّيْثِ عَنْ ابْنِ مُسَافِرٍ عَنْ ابْنِ شِهَابٍ عَنْ أَبِي سَلَمَةَ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ وَسَعِيدِ بْنِ الْمُسَيَّبِ أَنَّ أَبَا هُرَيْرَةَ قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ لَوْلَا أَنَّ رِجَالًا مِنْ الْمُؤْمِنِينَ لَا تَطِيبُ أَنْفُسُهُمْ أَنْ يَتَخَلَّفُوا عَنِّي وَلَا أَجِدُ مَا أَحْمِلُهُمْ عَلَيْهِ مَا تَخَلَّفْتُ عَنْ سَرِيَّةٍ تَغْزُو فِي سَبِيلِ اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ لَوَدِدْتُ أَنِّي أُقْتَلُ فِي سَبِيلِ اللَّهِ ثُمَّ أُحْيَا ثُمَّ أُقْتَلُ ثُمَّ أُحْيَا ثُمَّ أُقْتَلُ ثُمَّ أُحْيَا ثُمَّ أُقْتَلُ

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৩১০২. আহমদ ইবনে ইয়াহইয়া ইবনে ওয়াযীর ইবনে সুলায়মান (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-কে বলতে শুনেছিঃ সে সত্তার শপথ! যার হাতে আমার প্রাণ, যদি মুমিনদের মধ্য হতে এমন কিছু সংখ্যক লোক না থাকতো-যাদের মন চায় না আমার সঙ্গে যুদ্ধে শরীক হওয়া থেকে বিরত থাকুক, অথচ আমি তাদেরকে সওয়ারী দেওয়ার মত কিছু পাই না; তাহলে আমি এমন কোন যুদ্ধ হতে বিরত থাকতাম না, যা আল্লাহর রাস্তায় সংঘটিত হয়। যার হাতে আমার প্রাণ, তার শপথ! আমার ইচ্ছা হয়, আমি আল্লাহর রাস্তায় শহীদ হই, আবার আমাকে জীবিত করা হয়; আবার শহীদ হই, আবার আমাকে জীবিত করা হয়, আবার শহীদ হই, আবার আমাকে জীবিত করা হয়, আবার শহীদ হই, আবার আমাকে জীবিত করা হয়, আবার শহীদ হই।

৪. যারা ঘরে বসে থাকে (সঙ্গত কারণ না থাকা সত্ত্বেও জিহাদ থেকে বিরত থাকে) তাদের উপর যারা জিহাদে অংশ গ্রহণ করে তাদের ফযীলত

فَضْلُ الْمُجَاهِدِينَ عَلَى الْقَاعِدِينَ

৩০৯৯

أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ بَزِيعٍ قَالَ حَدَّثَنَا بِشْرٌ يَعْنِي ابْنَ الْمُفَضَّلِ قَالَ أَنْبَأَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ إِسْحَقَ عَنْ الزُّهْرِيِّ عَنْ سَهْلِ بْنِ سَعْدٍ قَالَ رَأَيْتُ مَرْوَانَ بْنَ الْحَكَمِ جَالِسًا فَجِئْتُ حَتَّى جَلَسْتُ إِلَيْهِ فَحَدَّثَنَا أَنَّ زَيْدَ بْنَ ثَابِتٍ حَدَّثَهُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أُنْزِلَ عَلَيْهِ لَا يَسْتَوِي الْقَاعِدُونَ مِنْ الْمُؤْمِنِينَ وَالْمُجَاهِدُونَ فِي سَبِيلِ اللَّهِ فَجَاءَ ابْنُ أُمِّ مَكْتُومٍ وَهُوَ يُمِلُّهَا عَلَيَّ فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ لَوْ أَسْتَطِيعُ الْجِهَادَ لَجَاهَدْتُ فَأَنْزَلَ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ وَفَخِذُهُ عَلَى فَخِذِي فَثَقُلَتْ عَلَيَّ حَتَّى ظَنَنْتُ أَنْ سَتُرَضُّ فَخِذِي ثُمَّ سُرِّيَ عَنْهُ غَيْرُ أُولِي الضَّرَرِ قَالَ أَبُو عَبْد الرَّحْمَنِ عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ إِسْحَقَ هَذَا لَيْسَ بِهِ بَأْسٌ وَعَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ إِسْحَقَ يَرْوِي عَنْهُ عَلِيُّ بْنُ مُسْهِرٍ وَأَبُو مُعَاوِيَةَ وَعَبْدُ الْوَاحِدِ بْنُ زِيَادٍ عَنْ النُّعْمَانِ بْنِ سَعْدٍ لَيْسَ بِثِقَةٍ

বর্ণনাকারী: হযরত সাহল ইবনে সা'দ সাঈ'দী (রাঃ)

৩১০৩. মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে বযী (রাহঃ) ......... সাহল ইবনে সা’দ (রাযিঃ) বলেন, আমি মারওয়ান ইবনে হাকাম (রাহঃ)-কে দেখলাম তিনি বসে আছেন। আমিও তার নিকট গিয়ে বসে পড়লাম। তিনি বর্ণনা করলেন যে, যায়দ ইবনে সাবিত (রাযিঃ) বর্ণনা করেছেন যে, যখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর উপর নাযিল হল (لَا يَسْتَوِي الْقَاعِدُونَ مِنْ الْمُؤْمِنِينَ وَالْمُجَاهِدُونَ فِي سَبِيلِ اللَّهِ) মু’মিনদের মধ্যে যারা ঘরে বসে থাকে তারা এবং যারা আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ করে, তারা সমান নয়। (সূরা নিসাঃ ৯৫) ইতোমধ্যে ইবনে উম্মে মাকতুম (রাযিঃ) আগমন করলেন। তিনি তা লিখে নেওয়ার উদ্দেশ্যে আমাকে পড়ে শুনালেন। তিনি বললেনঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! যদি আমার জিহাদ করার শক্তি থাকতো, তাহলে আমিও জিহাদ করতাম। তখন আল্লাহ তাআলা নাযিল করলেনঃ (غَيْرُ أُولِي الضَّرَرِ) “অসুস্থগণ ব্যতীত” এমতাবস্থায় যে, তার উরু আমার উরুর উপর ছিল, তা আমার উপর ভারী লাগছিল। মনে হলো আমার উরু ভেঙ্গে যাবে। এরপর তাঁর এ অবস্থা থেকে অবমুক্ত হলো।

৩১০০

أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يَحْيَى بْنِ عَبْدِ اللَّهِ قَالَ حَدَّثَنَا يَعْقُوبُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ بْنِ سَعْدٍ قَالَ حَدَّثَنِي أَبِي عَنْ صَالِحٍ عَنْ ابْنِ شِهَابٍ قَالَ حَدَّثَنِي سَهْلُ بْنُ سَعْدٍ قَالَ رَأَيْتُ مَرْوَانَ جَالِسًا فِي الْمَسْجِدِ فَأَقْبَلْتُ حَتَّى جَلَسْتُ إِلَى جَنْبِهِ فَأَخْبَرَنَا أَنَّ زَيْدَ بْنَ ثَابِتٍ أَخْبَرَهُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَمْلَى عَلَيْهِ لَا يَسْتَوِي الْقَاعِدُونَ مِنْ الْمُؤْمِنِينَ وَالْمُجَاهِدُونَ فِي سَبِيلِ اللَّهِ قَالَ فَجَاءَهُ ابْنُ أُمِّ مَكْتُومٍ وَهُوَ يُمِلُّهَا عَلَيَّ فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ لَوْ أَسْتَطِيعُ الْجِهَادَ لَجَاهَدْتُ وَكَانَ رَجُلًا أَعْمَى فَأَنْزَلَ اللَّهُ عَلَى رَسُولِهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَفَخِذُهُ عَلَى فَخِذِي حَتَّى هَمَّتْ تَرُضُّ فَخِذِي ثُمَّ سُرِّيَ عَنْهُ فَأَنْزَلَ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ غَيْرُ أُولِي الضَّرَرِ

বর্ণনাকারী: হযরত সাহল ইবনে সা'দ সাঈ'দী (রাঃ)

৩১০৪. মুহাম্মাদ ইন ইয়াহইয়া ইবনে আব্দুল্লাহ (রাহঃ) ......... সাহল ইবনে সা’দ (রাহঃ) বলেন, আমি মারওয়ান (রাহঃ)-কে মসজিদে উপবিষ্ট দেখলাম, আমি অগ্রসর হয়ে তার পার্শ্বে বসে পড়লাম। তিনি আমাদের কাছে বর্ণনা করলেন যে, যায়দ ইবনে ছাবিত (রাযিঃ) তাঁর কাছে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাকে পড়ে শুনালেনঃ (لَا يَسْتَوِي الْقَاعِدُونَ مِنْ الْمُؤْمِنِينَ وَالْمُجَاهِدُونَ فِي سَبِيلِ اللَّهِ) তিনি বললেন, তারপর তার নিকট ইবনে উম্মে মাকতুম আগমন করলেন, তখনও তিনি আমাকে পড়ে শুনালেন। তিনি বললেনঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! যদি আমার জিহাদ করার ক্ষমতা থাকতো, তাহলে আমিও জিহাদ করতাম। আর তিনি ছিলেন একজন অন্ধ ব্যক্তি। তখন আল্লাহ্ তাআলা তাঁর রাসূল (ﷺ)-এর উপর অবতীর্ণ করলেন, তখন তার উরু ছিল আমার উরুর উপর, এমনকি আমার উরু ভেঙ্গে যাওয়ার উপক্রম হলো। এরপর তার উপর হতে ওহীর প্রভাব কেটে গেল আল্লাহ তাআলা নাযিল করলেনঃ (غَيْرُ أُولِي الضَّرَرِ) “অক্ষম ব্যক্তি ব্যতীত”।

৩১০১

أَخْبَرَنَا نَصْرُ بْنُ عَلِيٍّ قَالَ حَدَّثَنَا مُعْتَمِرٌ عَنْ أَبِيهِ عَنْ أَبِي إِسْحَقَ عَنْ الْبَرَاءِ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ثُمَّ ذَكَرَ كَلِمَةً مَعْنَاهَا قَالَ ائْتُونِي بِالْكَتِفِ وَاللَّوْحِ فَكَتَبَ لَا يَسْتَوِي الْقَاعِدُونَ مِنْ الْمُؤْمِنِينَ وَعَمْرُو بْنُ أُمِّ مَكْتُومٍ خَلْفَهُ فَقَالَ هَلْ لِي رُخْصَةٌ فَنَزَلَتْ غَيْرُ أُولِي الضَّرَرِ

বর্ণনাকারী: হযরত বারা’ ইবনে আযিব (রাঃ)

৩১০৫. নসর ইবনে আলী (রাহঃ) ......... বারা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত, এরপর তিনি এমন কিছু শব্দ উচ্চারণ করলেন, রাবী বলেন, যার অর্থ আমার নিকট কলম এবং তখতী আনয়ন কর, এরপর তিনি লিখলেনঃ (لَا يَسْتَوِي الْقَاعِدُونَ مِنْ الْمُؤْمِنِينَ) অর্থাৎ মুমিন, যারা বসে থাকে, তারা সমান নয়। আর তখন আমর ইবনে উম্মে মাকতুম তার পেছনে ছিলেন। তিনি বললেনঃ আমার জন্য কি অব্যাহতি রয়েছে? তখন অবতীর্ণ হলোঃ (غَيْرُ أُولِي الضَّرَرِ) অর্থাৎ অক্ষম ব্যক্তি ব্যতীত।

৩১০২

أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عُبَيْدٍ قَالَ حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ عَيَّاشٍ عَنْ أَبِي إِسْحَقَ عَنْ الْبَرَاءِ قَالَ لَمَّا نَزَلَتْ لَا يَسْتَوِي الْقَاعِدُونَ مِنْ الْمُؤْمِنِينَ جَاءَ ابْنُ أُمِّ مَكْتُومٍ وَكَانَ أَعْمَى فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ فَكَيْفَ فِيَّ وَأَنَا أَعْمَى قَالَ فَمَا بَرِحَ حَتَّى نَزَلَتْ غَيْرُ أُولِي الضَّرَرِ

বর্ণনাকারী: হযরত বারা’ ইবনে আযিব (রাঃ)

৩১০৬. মুহাম্মাদ ইবনে উবায়দ (রাহঃ) ......... বারা (রাযিঃ) বলেন, যখনঃ (لَا يَسْتَوِي الْقَاعِدُونَ مِنْ الْمُؤْمِنِينَ) এ আয়াত নাযিল হলো, তখন অন্ধ সাহাবী ইবনে উম্মে মাকতুম আগমন করে বললেনঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমার উপর কিভাবে এই আয়াত প্রযােজ্য হবে অথচ আমি অন্ধ? বর্ণনাকারী বলেন, অল্পক্ষণ পরেই অবতীর্ণ হলোঃ (غَيْرُ أُولِي الضَّرَرِ)।

৫. যার পিতামাতা জীবিত, তার জন্য জিহাদে না যাওয়ার অনুমতি

الرُّخْصَةُ فِي التَّخَلُّفِ لِمَنْ لَهُ وَالِدَانِ

৩১০৩

أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ عَنْ سُفْيَانَ وَشُعْبَةَ قَالَا حَدَّثَنَا حَبِيبُ بْنُ أَبِي ثَابِتٍ عَنْ أَبِي الْعَبَّاسِ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو قَالَ جَاءَ رَجُلٌ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَسْتَأْذِنُهُ فِي الْجِهَادِ فَقَالَ أَحَيٌّ وَالِدَاكَ قَالَ نَعَمْ قَالَ فَفِيهِمَا فَجَاهِدْ

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনে আ'স (রাঃ)

৩১০৭. মুহাম্মাদ ইবনে মুছান্না (রাহঃ) ......... আব্দুল্লাহ ইবনে আমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর খেদমতে এসে জিহাদে যাওয়ার অনুমতি প্রার্থনা করলে, তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, তোমার মাতাপিতা জীবিত আছে কি? সে ব্যক্তি বললোঃ হ্যাঁ। তিনি বললেনঃ তুমি তাঁদের জন্য (সেবায় সব সময় রত থাকার) জিহাদ কর।

৬. যার মাতা জীবিত, তার জন্য জিহাদে শরীক না হওয়ার অনুমতি

الرُّخْصَةُ فِي التَّخَلُّفِ لِمَنْ لَهُ وَالِدَةٌ

৩১০৪

أَخْبَرَنَا عَبْدُ الْوَهَّابِ بْنُ عَبْدِ الْحَكَمِ الْوَرَّاقُ قَالَ حَدَّثَنَا حَجَّاجٌ عَنْ ابْنِ جُرَيْجٍ قَالَ أَخْبَرَنِي مُحَمَّدُ بْنُ طَلْحَةَ وَهُوَ ابْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ عَنْ أَبِيهِ طَلْحَةَ عَنْ مُعَاوِيَةَ بْنِ جَاهِمَةَ السَّلَمِيِّ أَنَّ جَاهِمَةَ جَاءَ إِلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَرَدْتُ أَنْ أَغْزُوَ وَقَدْ جِئْتُ أَسْتَشِيرُكَ فَقَالَ هَلْ لَكَ مِنْ أُمٍّ قَالَ نَعَمْ قَالَ فَالْزَمْهَا فَإِنَّ الْجَنَّةَ تَحْتَ رِجْلَيْهَا

বর্ণনাকারী: জাহিমা সুলামী (রাঃ)

৩১০৮. আব্দুল ওয়াহহাব ইবনে আব্দুল হাকাম ওয়ারাক (রাহঃ) ......... মুআবিয়া ইবনে জাহিমা সালামী (রাহঃ) বলেন, আমার পিতা জাহিমা (রাযিঃ) রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) এর খেদমতে এসে জিজ্ঞাসা করলো, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমি যুদ্ধে গমন করতে ইচ্ছা করেছি। এখন আপনার নিকট মতামত জিজ্ঞাসা করতে এসেছি। তিনি বললেনঃ তোমার মাতা আছে কি? সে বললোঃ হ্যাঁ। তিনি বললেন, তার খেদমতে লেগে থাক। কেননা, জান্নাত তার পদদ্বয়ের নীচে।

৭. আল্লাহর পথে জান-মাল দিয়ে জিহাদকারীর ফযীলত

فَضْلُ مَنْ يُجَاهِدُ فِي سَبِيلِ اللَّهِ بِنَفْسِهِ وَمَالِهِ

৩১০৫

أَخْبَرَنَا كَثِيرُ بْنُ عُبَيْدٍ قَالَ حَدَّثَنَا بَقِيَّةُ عَنْ الزُّبَيْدِيِّ عَنْ الزُّهْرِيِّ عَنْ عَطَاءِ بْنِ يَزِيدَ عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ أَنَّ رَجُلًا أَتَى رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَيُّ النَّاسِ أَفْضَلُ قَالَ مَنْ جَاهَدَ بِنَفْسِهِ وَمَالِهِ فِي سَبِيلِ اللَّهِ قَالَ ثُمَّ مَنْ يَا رَسُولَ اللَّهِ قَالَ ثُمَّ مُؤْمِنٌ فِي شِعْبٍ مِنْ الشِّعَابِ يَتَّقِي اللَّهَ وَيَدَعُ النَّاسَ مِنْ شَرِّهِ

বর্ণনাকারী: হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ)

৩১০৯. কাছীর ইবনে উবায়দ (রাহঃ) ......... আবু সাঈদ খুদরী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) এর খেদমতে এসে বললোঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! কোন ব্যক্তি উত্তম? তিনি বললেনঃ যে নিজের জান ও মাল দিয়ে আল্লাহর পথে জিহাদ করে। সে ব্যক্তি বললো, ইয়া রাসূলাল্লাহ! তারপর কোন ব্যক্তি? তিনি বললেনঃ সে মুমিন ব্যক্তি, যে আল্লাহকে ভয় করে এবং পর্বতের উপত্যকাসমূহের কোন উপত্যকায় বসবাস করে এবং নিজের অনিষ্ট থেকে লোকদের রক্ষা করে।

৮. যে পায়ে হেঁটে আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ করে-তার ফযীলত

فَضْلُ مَنْ عَمِلَ فِي سَبِيلِ اللَّهِ عَلَى قَدَمِهِ

৩১০৬

أَخْبَرَنَا قُتَيْبَةُ قَالَ حَدَّثَنَا اللَّيْثُ عَنْ يَزِيدَ بْنِ أَبِي حَبِيبٍ عَنْ أَبِي الْخَيْرِ عَنْ أَبِي الْخَطَّابِ عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ قَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَامَ تَبُوكَ يَخْطُبُ النَّاسَ وَهُوَ مُسْنِدٌ ظَهْرَهُ إِلَى رَاحِلَتِهِ فَقَالَ أَلَا أُخْبِرُكُمْ بِخَيْرِ النَّاسِ وَشَرِّ النَّاسِ إِنَّ مِنْ خَيْرِ النَّاسِ رَجُلًا عَمِلَ فِي سَبِيلِ اللَّهِ عَلَى ظَهْرِ فَرَسِهِ أَوْ عَلَى ظَهْرِ بَعِيرِهِ أَوْ عَلَى قَدَمِهِ حَتَّى يَأْتِيَهُ الْمَوْتُ وَإِنَّ مِنْ شَرِّ النَّاسِ رَجُلًا فَاجِرًا يَقْرَأُ كِتَابَ اللَّهِ لَا يَرْعَوِي إِلَى شَيْءٍ مِنْهُ

বর্ণনাকারী: হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ)

৩১১০. কুতায়বা (রাহঃ) ......... আবু সাঈদ খুদরী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ তাবুকের বৎসর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) লোকদের উদ্দেশে খুতবা দিচ্ছিলেন, তখন তিনি তাঁর সওয়ারীতে হেলান দিয়ে বসে ছিলেন। তিনি বললেনঃ আমি কি তোমাদেরকে উত্তম ও অধম ব্যক্তির সংবাদ দেব না? লোকের মধ্যে সে ব্যক্তি উত্তম, যে ব্যক্তি আমৃত্যু আল্লাহর রাস্তায় কাজ করে, ঘোড়ার পৃষ্ঠে আরোহণ করে অথবা তার উটের পৃষ্ঠে থেকে অথবা পদব্রজে। আর নিকৃষ্ট পাপাচারী ব্যক্তি, যে ব্যক্তি আল্লাহর কিতাব তিলাওয়াত করে, কিন্তু গুনাহের কাজে কোন পরোয়া করে না।

৩১০৭

أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ سُلَيْمَانَ قَالَ حَدَّثَنَا جَعْفَرُ بْنُ عَوْنٍ قَالَ حَدَّثَنَا مِسْعَرٌ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ عَنْ عِيسَى بْنِ طَلْحَةَ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ لَا يَبْكِي أَحَدٌ مِنْ خَشْيَةِ اللَّهِ فَتَطْعَمَهُ النَّارُ حَتَّى يُرَدَّ اللَّبَنُ فِي الضَّرْعِ وَلَا يَجْتَمِعُ غُبَارٌ فِي سَبِيلِ اللَّهِ وَدُخَانُ جَهَنَّمَ فِي مَنْخَرَيْ مُسْلِمٍ أَبَدًا

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৩১১১. আহমদ ইবনে সুলায়মান (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, যে কোন ব্যক্তি আল্লাহর ভয়ে ক্রন্দন করবে, তাকে জাহান্নামের আগুন ভক্ষণ করবে না; যতক্ষণ না দুধ পুনঃ প্রবেশ করবে এর স্তনে। আর কখনও আল্লাহর রাস্তায় জিহাদের ধূলা এবং জাহান্নামের ধোঁয়া একজন মুমিনের নাকের ছিদ্রে একত্রিত হবে না।

৩১০৮

أَخْبَرَنَا هَنَّادُ بْنُ السَّرِيِّ عَنْ ابْنِ الْمُبَارَكِ عَنْ الْمَسْعُودِيِّ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ عَنْ عِيسَى بْنِ طَلْحَةَ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ لَا يَلِجُ النَّارَ رَجُلٌ بَكَى مِنْ خَشْيَةِ اللَّهِ تَعَالَى حَتَّى يَعُودَ اللَّبَنُ فِي الضَّرْعِ وَلَا يَجْتَمِعُ غُبَارٌ فِي سَبِيلِ اللَّهِ وَدُخَانُ نَارِ جَهَنَّمَ

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৩১১২. হান্নান ইন সারি (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি আল্লাহর ভয়ে ক্রন্দন করেছে, সে ব্যক্তি জাহান্নামে প্রবেশ করবে না, যে পর্যন্ত না দুধ এর স্তনে প্রবেশ করবে। আর আল্লাহর রাস্তায় ধূলা এবং জাহান্নামের আগুনের ধোঁয়া একত্রিত হবে না।

৩১০৯

أَخْبَرَنَا عِيسَى بْنُ حَمَّادٍ قَالَ حَدَّثَنَا اللَّيْثُ عَنْ ابْنِ عَجْلَانَ عَنْ سُهَيْلِ بْنِ أَبِي صَالِحٍ عَنْ أَبِيهِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ لَا يَجْتَمِعَانِ فِي النَّارِ مُسْلِمٌ قَتَلَ كَافِرًا ثُمَّ سَدَّدَ وَقَارَبَ وَلَا يَجْتَمِعَانِ فِي جَوْفِ مُؤْمِنٍ غُبَارٌ فِي سَبِيلِ اللَّهِ وَفَيْحُ جَهَنَّمَ وَلَا يَجْتَمِعَانِ فِي قَلْبِ عَبْدٍ الْإِيمَانُ وَالْحَسَدُ

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৩১১৩. ঈসা ইবনে হাম্মাদ (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ জাহান্নামে একত্রিত হবে না সে মুসলমান যে কোন কাফিরকে হত্যা করেছে, এরপর সঠিক ও সরল পথে দৃঢ় রয়েছে। আর কোন মুমিনের পেটে আল্লাহর রাস্তার ধূলা এবং জাহান্নামের আগুনের শিখা একত্রিত হবে না। আর আল্লাহর বান্দার অন্তরে ঈমান ও হিংসা একত্রিত হবে না।

৩১১০

أَخْبَرَنَا إِسْحَقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ قَالَ حَدَّثَنَا جَرِيرٌ عَنْ سُهَيْلٍ عَنْ صَفْوَانَ بْنِ أَبِي يَزِيدَ عَنْ الْقَعْقَاعِ بْنِ اللَّجْلَاجِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَا يَجْتَمِعُ غُبَارٌ فِي سَبِيلِ اللَّهِ وَدُخَانُ جَهَنَّمَ فِي جَوْفِ عَبْدٍ أَبَدًا وَلَا يَجْتَمِعُ الشُّحُّ وَالْإِيمَانُ فِي قَلْبِ عَبْدٍ أَبَدًا

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৩১১৪. ইসহাক ইবনে ইবরাহীম (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ কোন ব্যক্তির পেটে কখনো আল্লাহর রাস্তার ধূলা এবং জাহান্নামের আগুনের ধোঁয়া একত্রিত হবে না। আর কখনো কোন বান্দার অন্তরে ঈমান ও কৃপণতা একত্রিত হবে না।

৩১১১

أَخْبَرَنَا عَمْرُو بْنُ عَلِيٍّ قَالَ حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ مَهْدِيٍّ قَالَ حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ عَنْ سُهَيْلِ بْنِ أَبِي صَالِحٍ عَنْ صَفْوَانَ بْنِ سُلَيْمٍ عَنْ خَالِدِ بْنِ اللَّجْلَاجِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ لَا يَجْتَمِعُ غُبَارٌ فِي سَبِيلِ اللَّهِ وَدُخَانُ جَهَنَّمَ فِي وَجْهِ رَجُلٍ أَبَدًا وَلَا يَجْتَمِعُ الشُّحُّ وَالْإِيمَانُ فِي قَلْبِ عَبْدٍ أَبَدًا

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৩১১৫. আমর ইবনে আলী (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ইরশাদ করেছেনঃ কোন বান্দার চেহারায় আল্লাহর রাস্তার ধূলা এবং জাহান্নামের ধোঁয়া একত্রিত হবে না। আর কোন বান্দার অন্তরে ঈমান ও কৃপণতা একত্রিত হবে না।

৩১১২

أَخْبَرَنِي مُحَمَّدُ بْنُ عَامِرٍ قَالَ حَدَّثَنَا مَنْصُورُ بْنُ سَلَمَةَ قَالَ أَنْبَأَنَا اللَّيْثُ بْنُ سَعْدٍ عَنْ ابْنِ الْهَادِ عَنْ سُهَيْلِ بْنِ أَبِي صَالِحٍ عَنْ صَفْوَانَ بْنِ أَبِي يَزِيدَ عَنْ الْقَعْقَاعِ بْنِ اللَّجْلَاجِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَا يَجْتَمِعُ غُبَارٌ فِي سَبِيلِ اللَّهِ وَدُخَانُ جَهَنَّمَ فِي جَوْفِ عَبْدٍ وَلَا يَجْتَمِعُ الشُّحُّ وَالْإِيمَانُ فِي جَوْفِ عَبْدٍ

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৩১১৬. মুহাম্মাদ ইবনে আমির (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ইরশাদ করেছেনঃ আল্লাহর রাস্তার ধূলা এবং জাহান্নামের ধোঁয়া কোন মুসলমানের উদরে একত্রিত হবে না। আর কৃপণতা ও ঈমান কোন বান্দার উদরে (অন্তরে) একত্রিত হবে না।

৩১১৩

أَخْبَرَنَا عَمْرُو بْنُ عَلِيٍّ قَالَ حَدَّثَنَا عَرْعَرَةُ بْنُ الْبِرِنْدِ وَابْنُ أَبِي عَدِيٍّ قَالَا حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَمْرٍو عَنْ صَفْوَانَ بْنِ أَبِي يَزِيدَ عَنْ حُصَيْنِ بْنِ اللَّجْلَاجِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ لَا يَجْتَمِعُ غُبَارٌ فِي سَبِيلِ اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ وَدُخَانُ جَهَنَّمَ فِي مَنْخَرَيْ مُسْلِمٍ أَبَدًا

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৩১১৭. আমর ইবনে আলী (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাস্তার ধূলা এবং জাহান্নামের ধোঁয়া কোন মুসলমানের নাকের ছিদ্রে প্রবেশ করবে না।

৩১১৪

أَخْبَرَنِي شُعَيْبُ بْنُ يُوسُفَ قَالَ حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَمْرٍو عَنْ صَفْوَانَ بْنِ أَبِي يَزِيدَ عَنْ حُصَيْنِ بْنِ اللَّجْلَاجِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَا يَجْتَمِعُ غُبَارٌ فِي سَبِيلِ اللَّهِ وَدُخَانُ جَهَنَّمَ فِي مَنْخَرَيْ مُسْلِمٍ وَلَا يَجْتَمِعُ شُحٌّ وَإِيمَانٌ فِي قَلْبِ رَجُلٍ مُسْلِمٍ

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৩১১৮. শু’আয়ব ইবনে ইউসুফ (রাহঃ) ......... হুসাইন ইবনে লাজলাজ (রাহঃ) সূত্রে আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেছেনঃ কোন মুসলমানের নাকের ছিদ্রে আল্লাহর রাস্তার ধূলা এবং জাহান্নামের ধোঁয়া একত্রিত হবে না। আর কোন মুসলমানের অন্তরে আল্লাহর প্রতি ঈমান ও কৃপণতা একত্রিত হবে না।

৩১১৫

أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ الْحَكَمِ عَنْ شُعَيْبٍ عَنْ اللَّيْثِ عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي جَعْفَرٍ عَنْ صَفْوَانَ بْنِ أَبِي يَزِيدَ عَنْ أَبِي الْعَلَاءِ بْنِ اللَّجْلَاجِ أَنَّهُ سَمِعَ أَبَا هُرَيْرَةَ يَقُولُ لَا يَجْمَعُ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ غُبَارًا فِي سَبِيلِ اللَّهِ وَدُخَانَ جَهَنَّمَ فِي جَوْفِ امْرِئٍ مُسْلِمٍ وَلَا يَجْمَعُ اللَّهُ فِي قَلْبِ امْرِئٍ مُسْلِمٍ الْإِيمَانَ بِاللَّهِ وَالشُّحَّ جَمِيعًا

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৩১১৯. মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে আব্দুল হাকাম (রাহঃ) ......... আব্দুল আলা ইবনে লাজলাজ (রাহঃ) সূত্রে আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহ্ তাআলা কোন মুসলমানের উদরে আল্লাহর রাস্তার ধূলা ও জাহান্নামের ধোঁয়া একত্রিত করবেন না এবং কোন মুসলমানের অন্তরে আল্লাহর প্রতি ঈমান ও কৃপণতাকে একত্রিত করবেন না।

৯. যে ব্যক্তি তার উভয় পা আল্লাহর রাস্তায় ধূলো ধূসরিত করে তার সওয়াব

ثَوَابُ مَنْ اغْبَرَّتْ قَدَمَاهُ فِي سَبِيلِ اللَّهِ

৩১১৬

أَخْبَرَنَا الْحُسَيْنُ بْنُ حُرَيْثٍ قَالَ حَدَّثَنَا الْوَلِيدُ بْنُ مُسْلِمٍ قَالَ حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ أَبِي مَرْيَمَ قَالَ لَحِقَنِي عَبَايَةُ بْنُ رَافِعٍ وَأَنَا مَاشٍ إِلَى الْجُمُعَةِ فَقَالَ أَبْشِرْ فَإِنَّ خُطَاكَ هَذِهِ فِي سَبِيلِ اللَّهِ سَمِعْتُ أَبَا عَبْسٍ يَقُولُ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَنْ اغْبَرَّتْ قَدَمَاهُ فِي سَبِيلِ اللَّهِ فَهُوَ حَرَامٌ عَلَى النَّارِ

বর্ণনাকারী: আব্দুর রহমান ইবনে জাবর (রাঃ)

৩১২০. হুসায়ন ইবনে হুরায়স (রাহঃ) ......... ইয়াযীদ ইবনে আবু মারইয়াম (রাহঃ) বলেন, আবায়া ইবনে রাফি (রাহঃ) আমার সঙ্গে সাক্ষাত করলেন, তখন আমি জুমআর নামায আদায়ের জন্য যাচ্ছিলাম। তিনি বললেন, সুসংবাদ গ্রহণ করুন। আপনার এই পদক্ষেপ হচ্ছে আল্লাহর পথে। আমি আবু আবস (রাযিঃ)-কে বলতে শুনেছি যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যে ব্যক্তির পদদ্বয় আল্লাহর পথে ধূলি ধূসরিত হয়, সে জাহান্নামের জন্য হারাম হয়ে যায়।

১০. যে চক্ষু আল্লাহর রাস্তায় জাগ্রত থাকে তার সওয়াব

ثَوَابُ عَيْنٍ سَهِرَتْ فِي سَبِيلِ اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ

৩১১৭

أَخْبَرَنَا عِصْمَةُ بْنُ الْفَضْلِ قَالَ حَدَّثَنَا زَيْدُ بْنُ حُبَابٍ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ شُرَيْحٍ قَالَ سَمِعْتُ مُحَمَّدَ بْنَ شُمَيْرٍ الرُّعَيْنِيَّ يَقُولُ سَمِعْتُ أَبَا عَلِيٍّ التُّجِيبِيَّ أَنَّهُ سَمِعَ أَبَا رَيْحَانَةَ يَقُولُ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ حُرِّمَتْ عَيْنٌ عَلَى النَّارِ سَهِرَتْ فِي سَبِيلِ اللَّهِ

বর্ণনাকারী: আবু রাইহানা (রাঃ)

৩১২১. ইসমত ইবনে ফযল (রাহঃ) ......... আবু রায়হানা (রাযিঃ) বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে বলতে শুনেছিঃ যে চক্ষু আল্লাহ্ রাস্তায় বিনিদ্র থাকে, সে চক্ষুর জন্য জাহান্নামের আগুন হারাম করা হয়েছে।

১১. আল্লাহর রাস্তায় এক সকাল বের হওয়ার ফযীলত

فَضْلُ غَدْوَةٍ فِي سَبِيلِ اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ

৩১১৮

أَخْبَرَنَا عَبْدَةُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ قَالَ حَدَّثَنَا حُسَيْنُ بْنُ عَلِيٍّ عَنْ زَائِدَةَ عَنْ سُفْيَانَ عَنْ أَبِي حَازِمٍ عَنْ سَهْلِ بْنِ سَعْدٍ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الْغَدْوَةُ وَالرَّوْحَةُ فِي سَبِيلِ اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ أَفْضَلُ مِنْ الدُّنْيَا وَمَا فِيهَا

বর্ণনাকারী: হযরত সাহল ইবনে সা'দ সাঈ'দী (রাঃ)

৩১২২. আব্দা ইবনে আব্দুল্লাহ্ (রাহঃ) ......... সাহল ইন সা’দ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ আল্লাহর রাস্তায় এক সকালে এবং এক বিকালে বের হওয়া পৃথিবী এবং তার মধ্যকার সকল কিছু অপেক্ষা উত্তম।

১২. আল্লাহর রাস্তায় এক বিকেলে বের হওয়ার ফযীলত

فَضْلُ الرَّوْحَةِ فِي سَبِيلِ اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ

৩১১৯

أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ يَزِيدَ قَالَ حَدَّثَنَا أَبِي قَالَ حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ أَبِي أَيُّوبَ قَالَ حَدَّثَنِي شُرَحْبِيلُ بْنُ شَرِيكٍ الْمَعَافِرِيُّ عَنْ أَبِي عَبْدِ الرَّحْمَنِ الْحُبُلِيِّ أَنَّهُ سَمِعَ أَبَا أَيُّوبَ الْأَنْصَارِيَّ يَقُولُ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ غَدْوَةٌ فِي سَبِيلِ اللَّهِ أَوْ رَوْحَةٌ خَيْرٌ مِمَّا طَلَعَتْ عَلَيْهِ الشَّمْسُ وَغَرَبَتْ

বর্ণনাকারী: হযরত আবু আইয়ুব আনসারী (রাঃ)

৩১২৩. মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে ইয়াযীদ (রাহঃ) ......... আবু আইয়ুব আনসারী (রাযিঃ) বলেন। রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) ইরশাদ করেন। আল্লাহর রাস্তায় এক বিকেল অথবা এক সকাল বের হওয়া সেসব বস্তু থেকে উত্তম, যে সবের উপর সূর্য উদিত হয় অথবা অস্ত যায়।

৩১২০

أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ يَزِيدَ عَنْ أَبِيهِ قَالَ حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ الْمُبَارَكِ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَجْلَانَ عَنْ سَعِيدٍ الْمَقْبُرِيِّ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ ثَلَاثَةٌ كُلُّهُمْ حَقٌّ عَلَى اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ عَوْنُهُ الْمُجَاهِدُ فِي سَبِيلِ اللَّهِ وَالنَّاكِحُ الَّذِي يُرِيدُ الْعَفَافَ وَالْمُكَاتَبُ الَّذِي يُرِيدُ الْأَدَاءَ

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৩১২৪. মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইয়াযীদ (রাহঃ) তাঁর পিতা থেকে ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) ইরশাদ করেন, তিন ব্যক্তি এমন যে, যাদেরকে সাহায্য করা আল্লাহর উপর অবধারিত। আল্লাহর রাস্তার মুজাহিদ, যে বিবাহকারী পরহেযগারীর উদ্দেশ্য বিবাহ করে, যে মুকাতার গোলাম কিতাবাতের অর্থ আদায় করার ইচ্ছা রাখে।

১৩. যোদ্ধারা আল্লাহ তাআলার প্রতিনিধি

بَاب الْغُزَاةِ وَفْدُ اللَّهِ تَعَالَى

৩১২১

أَخْبَرَنَا عِيسَى بْنُ إِبْرَاهِيمَ قَالَ حَدَّثَنَا ابْنُ وَهْبٍ عَنْ مَخْرَمَةَ عَنْ أَبِيهِ قَالَ سَمِعْتُ سُهَيْلَ بْنَ أَبِي صَالِحٍ قَالَ سَمِعْتُ أَبِي يَقُولُ سَمِعْتُ أَبَا هُرَيْرَةَ يَقُولُ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَفْدُ اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ ثَلَاثَةٌ الْغَازِي وَالْحَاجُّ وَالْمُعْتَمِرُ

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৩১২৫. ঈসা ইবনে ইবরাহীম (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ইরশাদ করেছেনঃ আল্লাহর প্রতিনিধি তিন শ্রেণীরঃ যোদ্ধা, হাজী এবং উমরাহ আদায়কারী।

১৪. আল্লাহর রাস্তায় জিহাদকারীর জন্য আল্লাহ যে জিনিসের দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন

بَاب مَا تَكَفَّلَ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ لِمَنْ يُجَاهِدُ فِي سَبِيلِهِ

৩১২২

أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ سَلَمَةَ وَالْحَارِثُ بْنُ مِسْكِينٍ قِرَاءَةً عَلَيْهِ وَأَنَا أَسْمَعُ عَنْ ابْنِ الْقَاسِمِ قَالَ حَدَّثَنِي مَالِكٌ عَنْ أَبِي الزِّنَادِ عَنْ الْأَعْرَجِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ تَكَفَّلَ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ لِمَنْ جَاهَدَ فِي سَبِيلِهِ لَا يُخْرِجُهُ إِلَّا الْجِهَادُ فِي سَبِيلِهِ وَتَصْدِيقُ كَلِمَتِهِ بِأَنْ يُدْخِلَهُ الْجَنَّةَأَوْ يَرُدَّهُ إِلَى مَسْكَنِهِ الَّذِي خَرَجَ مِنْهُ مَعَ مَا نَالَ مِنْ أَجْرٍ أَوْ غَنِيمَةٍ

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৩১২৬. মুহাম্মাদ ইবনে সালামা (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ(ﷺ) বলেছেন, যে ব্যক্তি জিহাদ করেছে আল্লাহর রাস্তায়- তাকে আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ এবং তার কালেমা-ই তাওহীদের বিশ্বাস ব্যতীত আর কিছু বের করেনি, মহান আল্লাহ তাকে জান্নাতে প্রবেশ করানোর অথবা যে ঘর হতে সে বের হয়েছিল- সওয়াব ও গনিমতের সম্পদসহ সে ঘরে ফিরিয়ে আনার দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন।

৩১২৩

أَخْبَرَنَا قُتَيْبَةُ قَالَ حَدَّثَنَا اللَّيْثُ عَنْ سَعِيدٍ عَنْ عَطَاءِ بْنِ مِينَاءَ مَوْلَى ابْنِ أَبِي ذُبَابٍ سَمِعَ أَبَا هُرَيْرَةَ يَقُولُ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ انْتَدَبَ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ لِمَنْ يَخْرُجُ فِي سَبِيلِهِ لَا يُخْرِجُهُ إِلَّا الْإِيمَانُ بِي وَالْجِهَادُ فِي سَبِيلِي أَنَّهُ ضَامِنٌ حَتَّى أُدْخِلَهُ الْجَنَّةَ بِأَيِّهِمَا كَانَ إِمَّا بِقَتْلٍ أَوْ وَفَاةٍ أَوْ أَرُدَّهُ إِلَى مَسْكَنِهِ الَّذِي خَرَجَ مِنْهُ نَالَ مَا نَالَ مِنْ أَجْرٍ أَوْ غَنِيمَةٍ

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৩১২৭. কুতায়বা (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে বলতে শুনেছিঃ যে ব্যক্তি বের হয়েছে আল্লাহর রাস্তায়, তাকে আল্লাহর প্রতি ঈমান এবং তাঁর রাস্তায় জিহাদের উদ্দেশ্য ব্যতীত অন্য কিছুই বের করেনি এমন ব্যক্তির দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন আল্লাহ তায়ালা, তিনি তাকে প্রবেশ করাবেন জান্নাতে-তাকে শাহাদাত নসীব করে অথবা তার মৃত্যু দ্বারা; অথবা তাকে গনিমতের সম্পদ ও সওয়াবসহ ফিরিয়ে আনবেন সে স্থানে, যে স্থান হতে সে বের হয়েছিল।

৩১২৪

أَخْبَرَنِي عَمْرُو بْنُ عُثْمَانَ بْنِ سَعِيدِ بْنِ كَثِيرِ بْنِ دِينَارٍ قَالَ حَدَّثَنَا أَبِي عَنْ شُعَيْبٍ عَنْ الزُّهْرِيِّ قَالَ أَخْبَرَنِي سَعِيدُ بْنُ الْمُسَيَّبِ قَالَ سَمِعْتُ أَبَا هُرَيْرَةَ قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ مَثَلُ الْمُجَاهِدِ فِي سَبِيلِ اللَّهِ وَاللَّهُ أَعْلَمُ بِمَنْ يُجَاهِدُ فِي سَبِيلِ اللَّهِ كَمَثَلِ الصَّائِمِ الْقَائِمِ وَتَوَكَّلَ اللَّهُ لِلْمُجَاهِدِ فِي سَبِيلِهِ بِأَنْ يَتَوَفَّاهُ فَيُدْخِلَهُ الْجَنَّةَ أَوْ يُرْجِعَهُ سَالِمًا بِمَا نَالَ مِنْ أَجْرٍ أَوْ غَنِيمَةٍ

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৩১২৮. আমর ইবনে উছমান ইবনে সাঈদ ইবনে কাছীর ইবনে দীনার (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-কে বলতে শুনেছিঃ যে আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ করে আর কে আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ করে তা আল্লাহু ভাল জানেন, তার উদাহরণ হলো সে রোযাদারের ন্যায়, যে রাত জেগে ইবাদত করে। আল্লাহর রাস্তায় মুজাহিদের জন্য আল্লাহ তাআলা দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। আল্লাহ হয়তো তাকে মৃত্যু দান করে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন অথবা তাকে নিরাপদে ফিরিয়ে আনবেন পুণ্য অথবা গনিমতের প্রাপ্ত সম্পদসহ।

১৫. গনিমতের মাল হতে বঞ্চিত যোদ্ধাদের সাওয়াব

بَاب ثَوَابِ السَّرِيَّةِ الَّتِي تُخْفِقُ

৩১২৫

أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ يَزِيدَ قَالَ حَدَّثَنَا أَبِي قَالَ حَدَّثَنَا حَيْوَةُ وَذَكَرَ آخَرَ قَالَا حَدَّثَنَا أَبُو هَانِئٍ الْخَوْلَانِيُّ أَنَّهُ سَمِعَ أَبَا عَبْدِ الرَّحْمَنِ الْحُبُلِيَّ يَقُولُ سَمِعْتُ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عَمْرٍو يَقُولُ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ مَا مِنْ غَازِيَةٍ تَغْزُو فِي سَبِيلِ اللَّهِ فَيُصِيبُونَ غَنِيمَةً إِلَّا تَعَجَّلُوا ثُلُثَيْ أَجْرِهِمْ مِنْ الْآخِرَةِ وَيَبْقَى لَهُمْ الثُّلُثُ فَإِنْ لَمْ يُصِيبُوا غَنِيمَةً تَمَّ لَهُمْ أَجْرُهُمْ

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনে আ'স (রাঃ)

৩১২৯. মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে ইয়াযিদ (রাহঃ) ......... আব্দুল্লাহ ইবনে আমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) -কে বলতে শুনেছিঃ যে বাহিনী আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ করে, আর তারা গনিমত প্রাপ্ত হয়, তাদেরকে সওয়াবের দুই তৃতীয়াংশ দুনিয়াতেই দেওয়া হয়, আর তাদের এক তৃতীয়াংশ সাওয়াব অবশিষ্ট থাকে। আর যে বাহিনী গনিমত না পায়, তাদের বিনিময় পরিপূর্ণই আখিরাতের জন্য থাকে।

৩১২৬

أَخْبَرَنِي إِبْرَاهِيمُ بْنُ يَعْقُوبَ قَالَ حَدَّثَنَا حَجَّاجٌ قَالَ حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ عَنْ يُونُسَ عَنْ الْحَسَنِ عَنْ ابْنِ عُمَرَ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِيمَا يَحْكِيهِ عَنْ رَبِّهِ عَزَّ وَجَلَّ قَالَ أَيُّمَا عَبْدٍ مِنْ عِبَادِي خَرَجَ مُجَاهِدًا فِي سَبِيلِ اللَّهِ ابْتِغَاءَ مَرْضَاتِي ضَمِنْتُ لَهُ أَنْ أَرْجِعَهُ إِنْ أَرْجَعْتُهُ بِمَا أَصَابَ مِنْ أَجْرٍ أَوْ غَنِيمَةٍ وَإِنْ قَبَضْتُهُ غَفَرْتُ لَهُ وَرَحِمْتُهُ

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

৩১৩০. ইবরাহীম ইন ইয়াকূব (রাহঃ) ......... ইবনে উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) থেকে বর্ণনা করেন, যা তিনি তাঁর রব থেকে বর্ণনা করেন যে, আল্লাহ তাআলা বলেনঃ আমার যে বান্দা আমার সন্তুষ্টি লাভের জন্য আল্লাহর রাস্তায় জিহাদে বের হয়েছে; আমার জিম্মায় রইলো- আমি তাকে ফিরিয়ে আনবাে। যদি আমি তাকে ফিরিয়ে আনি, তা হলে আমি তাকে ফিরিয়ে আনব তার পুণ্য ও গনিমতের সম্পদসহ, আর যদি আমি তাকে ওফাত দেই, তাহলে আমি তাকে ক্ষমা করে দেব এবং তার প্রতি রহমত করব।

১৬. আল্লাহর রাস্তায় জিহাদকারীর উপমা

مَثَلُ الْمُجَاهِدِ فِي سَبِيلِ اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ

৩১২৭

أَخْبَرَنَا هَنَّادُ بْنُ السَّرِيِّ عَنْ ابْنِ الْمُبَارَكِ عَنْ مَعْمَرٍ عَنْ الزُّهْرِيِّ عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيَّبِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ مَثَلُ الْمُجَاهِدِ فِي سَبِيلِ اللَّهِ وَاللَّهُ أَعْلَمُ بِمَنْ يُجَاهِدُ فِي سَبِيلِهِ كَمَثَلِ الصَّائِمِ الْقَائِمِ الْخَاشِعِ الرَّاكِعِ السَّاجِدِ

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৩১৩১. হান্নাদ ইবনে সারী (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে বলতে শুনেছিঃ আল্লাহর রাস্তায় জিহাদকারীর উপমা -আর কে আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ করে, তা আল্লাহই ভাল জানেন- ঐ সিয়াম পালনকারীর ন্যায়, যে রাত জেগে ইবাদত করে, আল্লাহকে ভয় করে, রুকু করে এবং সিজদা করে।

১৭. যা আল্লাহর রাস্তায় জিহাদের সমতুল্য

مَا يَعْدِلُ الْجِهَادَ فِي سَبِيلِ اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ

৩১২৮

أَخْبَرَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ سَعِيدٍ قَالَ حَدَّثَنَا عَفَّانٌ قَالَ حَدَّثَنَا هَمَّامٌ قَالَ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جُحَادَةَ قَالَ حَدَّثَنِي أَبُو حُصَيْنٍ أَنَّ ذَكْوَانَ حَدَّثَهُ أَنَّ أَبَا هُرَيْرَةَ حَدَّثَهُ قَالَ جَاءَ رَجُلٌ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ دُلَّنِي عَلَى عَمَلٍ يَعْدِلُ الْجِهَادَ قَالَ لَا أَجِدُهُ هَلْ تَسْتَطِيعُ إِذَا خَرَجَ الْمُجَاهِدُ تَدْخُلُ مَسْجِدًا فَتَقُومَ لَا تَفْتُرَ وَتَصُومَ لَا تُفْطِرَ قَالَ مَنْ يَسْتَطِيعُ ذَلِكَ

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৩১৩২. উবায়দুল্লাহ ইবনে সাঈদ (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) বর্ণনা করেন, এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) এর কাছে এসে আরয করলো, আমাকে এমন আমলের সন্ধান দিন-যা জিহাদের সমতুল্য হয়। তিনি বললেনঃ আমি তো এমন আমল পাচ্ছি না, আচ্ছা যখন মুজাহিদ জিহাদে বের হয়, তখন তুমি কি মসজিদে প্রবেশ করে এমন ইবাদত আরম্ভ করতে সক্ষম, যাতে একটুও বিরতি দেবে না? আর লাগাতার রোযা পালন করবে, যাতে কোন বিরতি হবে না? লোকটি বললোঃ এরূপ করতে কে সক্ষম হবে?

৩১২৯

أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ الْحَكَمِ عَنْ شُعَيْبٍ عَنْ اللَّيْثِ عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي جَعْفَرٍ قَالَ أَخْبَرَنِي عُرْوَةُ عَنْ أَبِي مُرَاوِحٍ عَنْ أَبِي ذَرٍّ أَنَّهُ سَأَلَ نَبِيَّ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَيُّ الْعَمَلِ خَيْرٌ قَالَ إِيمَانٌ بِاللَّهِ وَجِهَادٌ فِي سَبِيلِ اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ

বর্ণনাকারী: হযরত আবু যার গিফারী (রাঃ)

৩১৩৩. মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে আব্দুল হাকাম (রাহঃ) ......... আবু যর (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে জিজ্ঞাসা করলেনঃ কোন আমল সর্বোত্তম? তিনি বললেনঃ আল্লাহতে ঈমান আনা এবং আল্লাহর পথে জিহাদ করা।

৩১৩০

أَخْبَرَنَا إِسْحَقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ قَالَ أَنْبَأَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ قَالَ حَدَّثَنَا مَعْمَرٌ عَنْ الزُّهْرِيِّ عَنْ ابْنِ الْمُسَيَّبِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ سَأَلَ رَجُلٌ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَيُّ الْأَعْمَالِ أَفْضَلُ قَالَ إِيمَانٌ بِاللَّهِ قَالَ ثُمَّ مَاذَا قَالَ الْجِهَادُ فِي سَبِيلِ اللَّهِ قَالَ ثُمَّ مَاذَا قَالَ حَجٌّ مَبْرُورٌ

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৩১৩৪. ইসহাক ইবনে ইবরাহীম (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে প্রশ্ন করলোঃ কোন আমল সর্বোত্তম? তিনি বললেনঃ আল্লাহর উপর ঈমান আনা। সে বললোঃ তারপর কোনটি? তিনি বললেনঃ আল্লাহর পথে জিহাদ করা। সে জিজ্ঞাসা করলোঃ তারপর কোনটি ? তিনি বললেনঃ হজ্জে মাবরূর বা মাককূল হজ্জ্ব।

১৮. আল্লাহর রাস্তায় জিহাদকারীর মর্যাদা

دَرَجَةُ الْمُجَاهِدِ فِي سَبِيلِ اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ

৩১৩১

قَالَ الْحَارِثُ بْنُ مِسْكِينٍ قِرَاءَةً عَلَيْهِ وَأَنَا أَسْمَعُ عَنْ ابْنِ وَهْبٍ قَالَ حَدَّثَنِي أَبُو هَانِئٍ عَنْ أَبِي عَبْدِ الرَّحْمَنِ الْحُبُلِيِّ عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ يَا أَبَا سَعِيدٍ مَنْ رَضِيَ بِاللَّهِ رَبًّا وَبِالْإِسْلَامِ دِينًا وَبِمُحَمَّدٍ نَبِيًّا وَجَبَتْ لَهُ الْجَنَّةُ قَالَ فَعَجِبَ لَهَا أَبُو سَعِيدٍ قَالَ أَعِدْهَا عَلَيَّ يَا رَسُولَ اللَّهِ فَفَعَلَ ثُمَّ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَأُخْرَى يُرْفَعُ بِهَا الْعَبْدُ مِائَةَ دَرَجَةٍ فِي الْجَنَّةِ مَا بَيْنَ كُلِّ دَرَجَتَيْنِ كَمَا بَيْنَ السَّمَاءِ وَالْأَرْضِ قَالَ وَمَا هِيَ يَا رَسُولَ اللَّهِ قَالَ الْجِهَادُ فِي سَبِيلِ اللَّهِ الْجِهَادُ فِي سَبِيلِ اللَّهِ

বর্ণনাকারী: হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ)

৩১৩৫. হারিস ইবনে মিসকীন (রাহঃ) ......... আবু সাঈদ খুদরী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ হে আবু সাঈদ! যে ব্যক্তি আল্লাহকে রব হিসেবে, ইসলামকে দীন হিসেবে এবং মুহাম্মাদ (ﷺ)-কে নবী হিসেবে সন্তুষ্ট চিত্তে মেনে নেয়, তার জন্য জান্নাত অবধারিত হয়ে যায়।

বর্ণনাকারী বলেন, এতে আবু সাঈদ (রাযিঃ) আশ্চর্যবোধ করলেন। তিনি বললেনঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! এই বাক্য আমাকে আবার বলুন। তিনি তা করলেন, তারপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, অন্য একটি আমল আছে, তা দ্বারা জান্নাতে বান্দার মর্যাদা একশত গুণ বৃদ্ধি করা হয়, এর প্রতি দুটি স্তরের দূরত্ব এমন- যেমন আকাশ ও পৃথিবীর মধ্যকার দূরত্ব। তিনি বললেনঃ তা কি, ইয়া রাসূলাল্লাহ? তিনি বললেনঃ আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ করা, আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ করা।
৩১৩২

أَخْبَرَنَا هَارُونُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ بَكَّارِ بْنِ بِلَالٍ قَالَ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عِيسَى بْنِ الْقَاسِمِ بْنِ سُمَيْعٍ قَالَ حَدَّثَنَا زَيْدُ بْنُ وَاقِدٍ قَالَ حَدَّثَنِي بُسْرُ بْنُ عُبَيْدِ اللَّهِ عَنْ أَبِي إِدْرِيسَ الْخَوْلَانِيِّ عَنْ أَبِي الدَّرْدَاءِ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَنْ أَقَامَ الصَّلَاةَ وَآتَى الزَّكَاةَ وَمَاتَ لَا يُشْرِكُ بِاللَّهِ شَيْئًا كَانَ حَقًّا عَلَى اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ أَنْ يَغْفِرَ لَهُ هَاجِرًا وَمَاتَ فِي مَوْلِدِهِ فَقُلْنَا يَا رَسُولَ اللَّهِ أَلَا نُخْبِرُ بِهَا النَّاسَ فَيَسْتَبْشِرُوا بِهَا فَقَالَ إِنَّ لِلْجَنَّةِ مِائَةَ دَرَجَةٍ بَيْنَ كُلِّ دَرَجَتَيْنِ كَمَا بَيْنَ السَّمَاءِ وَالْأَرْضِ أَعَدَّهَا اللَّهُ لِلْمُجَاهِدِينَ فِي سَبِيلِهِ وَلَوْلَا أَنْ أَشُقَّ عَلَى الْمُؤْمِنِينَ وَلَا أَجِدُ مَا أَحْمِلُهُمْ عَلَيْهِ وَلَا تَطِيبُ أَنْفُسُهُمْ أَنْ يَتَخَلَّفُوا بَعْدِي مَا قَعَدْتُ خَلْفَ سَرِيَّةٍ وَلَوَدِدْتُ أَنِّي أُقْتَلُ ثُمَّ أُحْيَا ثُمَّ أُقْتَلُ

বর্ণনাকারী: হযরত আবুদ দারদা রাযি.

৩১৩৬. হারুন ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে বাককার ইবনে বিলাল (রাহঃ) ......... আবুদ্দারদা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ(ﷺ) বলেনঃ যে ব্যক্তি নামায কায়িম করে, যাকাত প্রদান করে এবং আল্লাহর সঙ্গে কাউকে শরীক না করে মৃত্যুবরণ করে, আল্লাহর প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সে ব্যক্তিকে ক্ষমা করা আল্লাহর জন্য অবধারিত। সে হিজরত করুক অথবা স্বীয় আবাসে মৃত্যুবরণ করুক। আমি বললামঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমি কি লোকদের এ সংবাদ পৌঁছিয়ে দেব না, যাতে তারা সন্তুষ্ট হয়? তিনি বললেনঃ জান্নাতে একশত স্তর আছে, প্রতি দুটি স্তরে দূরত্ব যমীন ও আসমানের দূরত্বের সমান, আল্লাহ্ তাআলা তা আল্লাহর রাস্তার মুজাহিদের জন্য নির্দিষ্ট করে রেখেছেন। যদি মুমিনদের উপর কষ্টদায়ক না হতো, আর আমি তাদের আরোহণের জন্য সওয়ারী ব্যবস্থা করতে অপারগ না হতাম, আর আমার সাহচর্য থেকে বঞ্চিত থাকার কারণে তাদের মনোকষ্ট না হতো, তবে আমি কোন যুদ্ধ হতেই বিরত থাকতাম না। আমার ইচ্ছা হয় আমি একবার শহীদ হয়ে যাই, আবার জীবিত হই, আবার শহীদ হই।

১৯. যে মুসলমান হয়েছে, হিজরত করেছে এবং জিহাদ করেছে-তার ফযীলত

مَا لِمَنْ أَسْلَمَ وَهَاجَرَ وَجَاهَدَ

৩১৩৩

قَالَ الْحَارِثُ بْنُ مِسْكِينٍ قِرَاءَةً عَلَيْهِ وَأَنَا أَسْمَعُ عَنْ ابْنِ وَهْبٍ قَالَ أَخْبَرَنِي أَبُو هَانِئٍ عَنْ عَمْرِو بْنِ مَالِكٍ الْجَنْبِيِّ أَنَّهُ سَمِعَ فَضَالَةَ بْنَ عُبَيْدٍ يَقُولُ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ أَنَا زَعِيمٌ وَالزَّعِيمُ الْحَمِيلُ لِمَنْ آمَنَ بِي وَأَسْلَمَ وَهَاجَرَ بِبَيْتٍ فِي رَبَضِ الْجَنَّةِ وَبِبَيْتٍ فِي وَسَطِ الْجَنَّةِ وَأَنَا زَعِيمٌ لِمَنْ آمَنَ بِي وَأَسْلَمَ وَجَاهَدَ فِي سَبِيلِ اللَّهِ بِبَيْتٍ فِي رَبَضِ الْجَنَّةِ وَبِبَيْتٍ فِي وَسَطِ الْجَنَّةِ وَبِبَيْتٍ فِي أَعْلَى غُرَفِ الْجَنَّةِ مَنْ فَعَلَ ذَلِكَ فَلَمْ يَدَعْ لِلْخَيْرِ مَطْلَبًا وَلَا مِنْ الشَّرِّ مَهْرَبًا يَمُوتُ حَيْثُ شَاءَ أَنْ يَمُوتَ

বর্ণনাকারী: ফাযালা ইবনে উবায়দ (রাঃ)

৩১৩৭. হারিছ ইবনে মিসকীন (রাহঃ) ......... আমর ইবনে মালিক জানবী (রাহঃ) বলেন, তিনি ফাযালা ইবনে উবায়দ (রাযিঃ)-কে বলতে শুনেছেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে বলতে শুনেছিঃ আমি সে ব্যক্তির যামিন হলাম, যে ঈমান আনলো আমার প্রতি এবং ইসলাম গ্রহণ করলো, হিজরত করলো, এমন একটি ঘরের যা জান্নাতের বহির্ভাগে হবে, আর একটি ঘরের- যা জান্নাতের মধ্যভাগে। আর আমি যামিন হলাম ঐ ব্যক্তির জন্য, যে আমার প্রতি ঈমান আনয়ন করেছে এবং ইসলাম গ্রহণ করেছে এবং জিহাদ করেছে আল্লাহর রাস্তায় এমন ঘরের- যা বেহেশতের বহিভাগে এবং একটি ঘরের- যা জান্নাতের মধ্যভাগে হবে। এবং একটি ঘরের- যা জান্নাতের কক্ষসমূহের উপরিভাগে হবে। সে সেখানে কল্যাণের সন্ধান পায়, সেখান থেকে কল্যাণ সন্ধান করবে এবং মন্দ থেকে রক্ষার জন্য যেখানে ইচ্ছা পলায়ন করবে। সে যেখানে ইচ্ছা মৃত্যুবরণ করুক, জান্নাত তার জন্য অবধারিত।

৩১৩৪

أَخْبَرَنِي إِبْرَاهِيمُ بْنُ يَعْقُوبَ قَالَ حَدَّثَنَا أَبُو النَّضْرِ هَاشِمُ بْنُ الْقَاسِمِ قَالَ حَدَّثَنَا أَبُو عَقِيلٍ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عَقِيلٍ قَالَ حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ الْمُسَيَّبِ عَنْ سَالِمِ بْنِ أَبِي الْجَعْدِ عَنْ سَبْرَةَ بْنِ أَبِي فَاكِهٍ قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ إِنَّ الشَّيْطَانَ قَعَدَ لِابْنِ آدَمَ بِأَطْرُقِهِ فَقَعَدَ لَهُ بِطَرِيقِ الْإِسْلَامِ فَقَالَ تُسْلِمُ وَتَذَرُ دِينَكَ وَدِينَ آبَائِكَ وَآبَاءِ أَبِيكَ فَعَصَاهُ فَأَسْلَمَ ثُمَّ قَعَدَ لَهُ بِطَرِيقِ الْهِجْرَةِ فَقَالَ تُهَاجِرُ وَتَدَعُ أَرْضَكَ وَسَمَاءَكَ وَإِنَّمَا مَثَلُ الْمُهَاجِرِ كَمَثَلِ الْفَرَسِ فِي الطِّوَلِ فَعَصَاهُ فَهَاجَرَ ثُمَّ قَعَدَ لَهُ بِطَرِيقِ الْجِهَادِ فَقَالَ تُجَاهِدُ فَهُوَ جَهْدُ النَّفْسِ وَالْمَالِ فَتُقَاتِلُ فَتُقْتَلُ فَتُنْكَحُ الْمَرْأَةُ وَيُقْسَمُ الْمَالُ فَعَصَاهُ فَجَاهَدَ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَمَنْ فَعَلَ ذَلِكَ كَانَ حَقًّا عَلَى اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ أَنْ يُدْخِلَهُ الْجَنَّةَ وَمَنْ قُتِلَ كَانَ حَقًّا عَلَى اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ أَنْ يُدْخِلَهُ الْجَنَّةَ وَإِنْ غَرِقَ كَانَ حَقًّا عَلَى اللَّهِ أَنْ يُدْخِلَهُ الْجَنَّةَ أَوْ وَقَصَتْهُ دَابَّتُهُ كَانَ حَقًّا عَلَى اللَّهِ أَنْ يُدْخِلَهُ الْجَنَّةَ

বর্ণনাকারী: সাবরা ইবনে আবু ফাকিহ (রাঃ)

৩১৩৮. ইবরাহীম ইবনে ইয়াকূব (রাহঃ) ......... সাবরতা ইবনে আবু ফাকিহ (রাযিঃ) বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে বলতে শুনেছিঃ শয়তান আদম-সন্তানের রাস্তাসমূহে বসে থাকে। সে ইসলামের পথে বসে বাধা সৃষ্টি করতে গিয়ে বলেঃ তুমি ইসলাম গ্রহণ করবে, আর তোমার দীন ও তোমার বাপ দাদার দীন এবং তোমার পিতার পূর্বপুরুষদের দীন পরিত্যাগ করবে? কিন্তু আদম সন্তান তার কথা অমান্য করে ইসলাম গ্রহণ করে। তারপর শয়তান তার হিজরতের রাস্তায় বসে বলেঃ তুমি হিজরত করবে, তোমার ভূমি ও আকাশ পরিত্যাগ করবে? মুহাজির তো একটি রশিতে আব্দ্ধ ঘোড়ার ন্যায়(নিয়ন্ত্রিত জীবন যাপনে বাধ্য)। কিন্তু সে ব্যক্তি তার কথা অমান্য করে হিজরত করে।
এরপর শয়তান তার জিহাদের রাস্তায় বসে এবং বলেঃ তুমি কি জিহাদ করবে? এতে নিজেকেএবং নিজের ধন সম্পদকে ধ্বংস করা। তুমি যুদ্ধ করে নিহত হবে, তোমার স্ত্রী অন্যের বিবাহে যাবে, তোমার সম্পদ ভাগ হবে। সে ব্যক্তি তাকে অমান্য করে জিহাদে গমন করে। রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেনঃ যে এরূপ করবে, তাকে জান্নাতে প্রবেশ করানো আল্লাহর (ওয়াদা অনুযায়ী জান্নাত তার) জন্য অবধারিত। আর যে ব্যক্তি শহীদ হয়, তাকে জান্নাতে প্রবেশ করানো আল্লাহর উপর অবধারিত। যদি সে ডুবে যায়, তাকে জান্নাতে প্রবেশ করানো আল্লাহর উপর অবধারিত। আর যদি তার সওয়ারী তাকে ফেলে দিয়ে তার গর্দান ভেঙ্গে দেয় বা মেরে ফেলে, তখনও তাকে জান্নাতে প্রবেশ করানো আল্লাহর উপর অবধারিত।

২০. যে ব্যক্তি আল্লাহর রাস্তায় জোড়া-জোড়া দান করে-তার ফযীলত

بَاب فَضْلِ مَنْ أَنْفَقَ زَوْجَيْنِ فِي سَبِيلِ اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ

৩১৩৫

أَخْبَرَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ سَعْدِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ قَالَ حَدَّثَنَا عَمِّي قَالَ حَدَّثَنَا أَبِي عَنْ صَالِحٍ عَنْ ابْنِ شِهَابٍ أَنَّ حُمَيْدَ بْنَ عَبْدِ الرَّحْمَنِ أَخْبَرَهُ أَنَّ أَبَا هُرَيْرَةَ كَانَ يُحَدِّثُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ مَنْ أَنْفَقَ زَوْجَيْنِ فِي سَبِيلِ اللَّهِ نُودِيَ فِي الْجَنَّةِ يَا عَبْدَ اللَّهِ هَذَا خَيْرٌ فَمَنْ كَانَ مِنْ أَهْلِ الصَّلَاةِ دُعِيَ مِنْ بَابِ الصَّلَاةِ وَمَنْ كَانَ مِنْ أَهْلِ الْجِهَادِ دُعِيَ مِنْ بَابِ الْجِهَادِ وَمَنْ كَانَ مِنْ أَهْلِ الصَّدَقَةِ دُعِيَ مِنْ بَابِ الصَّدَقَةِ وَمَنْ كَانَ مِنْ أَهْلِ الصِّيَامِ دُعِيَ مِنْ بَابِ الرَّيَّانِ فَقَالَ أَبُو بَكْرٍ يَا نَبِيَّ اللَّهِ مَا عَلَى الَّذِي يُدْعَى مِنْ تِلْكَ الْأَبْوَابِ كُلِّهَا مِنْ ضَرُورَةٍ هَلْ يُدْعَى أَحَدٌ مِنْ تِلْكَ الْأَبْوَابِ كُلِّهَا قَالَ نَعَمْ وَأَرْجُو أَنْ تَكُونَ مِنْهُمْ

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৩১৩৯. উবায়দুল্লাহ ইবনে সা’দ ইবনে ইবরাহীম (রাহঃ) ......... ইবনে শিহাব (রাহঃ) থেকে বর্ণিত, হুমায়দ ইবনে আব্দুর রহমান তাঁকে সংবাদ দিয়েছেন যে, আবু হুরায়রা (রাযিঃ) বর্ণনা করতেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি আল্লাহর রাস্তায় জোড়া জোড়া দান করবে, জান্নাতে তাকে ডাকা হবে, হে আব্দুল্লাহ! ইহা কল্যাণের কাজ, অতি উত্তম! যে ব্যক্তি নামায আদায়কারীদের অন্তর্ভুক্ত হবে, তাকে নামাযের দরজা দিয়ে ডাকা হবে। আর যে ব্যক্তি মুজাহিদদের অন্তর্ভুক্ত হবে, তাকে জিহাদের দরজা দিয়ে ডাকা হবে। আর যে সাদ্‌কা দানকারীদের অন্তর্ভুক্ত হবে, তাকে সাদ্‌কার দরজা দিয়ে ডাকা হবে। আর যে রোযা পালনকারী হবে, তাকে রোযার দরজা রাইয়্যান দিয়ে ডাকা হবে। আবু বকর (রাযিঃ) বললেনঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! যে ব্যক্তিকে একযোগে এ সকল দরজা দিয়ে ডাকা হবে তার কি অবস্থা হবে? এক ব্যক্তিকে কি এই সব দরজা দিয়ে ডাকা হবে? তিনি বললেনঃ হ্যাঁ। আর আমি আশা করি, তুমিও তাদের মধ্যে গণ্য হবে।

২১. যে আল্লাহর কলেমাকে সমুন্নত করার জন্য লড়াই করে

مَنْ قَاتَلَ لِتَكُونَ كَلِمَةُ اللَّهِ هِيَ الْعُلْيَا

৩১৩৬

أَخْبَرَنَا إِسْمَعِيلُ بْنُ مَسْعُودٍ قَالَ حَدَّثَنَا خَالِدٌ قَالَ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ أَنَّ عَمْرَو بْنَ مُرَّةَ أَخْبَرَهُمْ قَالَ سَمِعْتُ أَبَا وَائِلٍ قَالَ حَدَّثَنَا أَبُو مُوسَى الْأَشْعَرِيُّ قَالَ جَاءَ أَعْرَابِيٌّ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ الرَّجُلُ يُقَاتِلُ لِيُذْكَرَ وَيُقَاتِلُ لِيَغْنَمَ وَيُقَاتِلُ لِيُرَى مَكَانُهُ فَمَنْ فِي سَبِيلِ اللَّهِ قَالَ مَنْ قَاتَلَ لِتَكُونَ كَلِمَةُ اللَّهِ هِيَ الْعُلْيَا فَهُوَ فِي سَبِيلِ اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ

বর্ণনাকারী: আবু মুসা আশ'আরী (রাঃ)

৩১৪০. ইসমাঈল ইবনে মাসউদ (রাহঃ) ......... আবু মুসা আশআরী (রাযিঃ) বলেনঃ একজন বেদুঈন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কাছে এসে নিবেদন করলো, এক ব্যক্তি যুদ্ধ করে প্রসিদ্ধি লাভের জন্য, আর এক ব্যক্তি যুদ্ধ করে গনিমতের মাল লাভের জন্য, অন্যজন যুদ্ধ করে বাহাদুরী প্রকাশের জন্য; তাহলে এদের মধ্যে আল্লাহর রাস্তায় কে? তিনি বললেনঃ যে ব্যক্তি আল্লাহর কলেমা সমুন্নত করার জন্য লড়াই করে, সে-ই আল্লাহর রাস্তার সৈনিক।

২২. যে ব্যক্তি বীর উপাধি অর্জনের জন্য যুদ্ধ করে

مَنْ قَاتَلَ لِيُقَالَ فُلَانٌ جَرِيءٌ

৩১৩৭

أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الْأَعْلَى قَالَ حَدَّثَنَا خَالِدٌ قَالَ حَدَّثَنَا ابْنُ جُرَيْجٍ قَالَ حَدَّثَنَا يُونُسُ بْنُ يُوسُفَ عَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ يَسَارٍ قَالَ تَفَرَّقَ النَّاسُ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ فَقَالَ لَهُ قَائِلٌ مِنْ أَهْلِ الشَّامِ أَيُّهَا الشَّيْخُ حَدِّثْنِي حَدِيثًا سَمِعْتَهُ مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ نَعَمْ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ أَوَّلُ النَّاسِ يُقْضَى لَهُمْ يَوْمَ الْقِيَامَةِ ثَلَاثَةٌ رَجُلٌ اسْتُشْهِدَ فَأُتِيَ بِهِ فَعَرَّفَهُ نِعَمَهُ فَعَرَفَهَا قَالَ فَمَا عَمِلْتَ فِيهَا قَالَ قَاتَلْتُ فِيكَ حَتَّى اسْتُشْهِدْتُ قَالَ كَذَبْتَ وَلَكِنَّكَ قَاتَلْتَ لِيُقَالَ فُلَانٌ جَرِيءٌ فَقَدْ قِيلَ ثُمَّ أُمِرَ بِهِ فَسُحِبَ عَلَى وَجْهِهِ حَتَّى أُلْقِيَ فِي النَّارِ وَرَجُلٌ تَعَلَّمَ الْعِلْمَ وَعَلَّمَهُ وَقَرَأَ الْقُرْآنَ فَأُتِيَ بِهِ فَعَرَّفَهُ نِعَمَهُ فَعَرَفَهَا قَالَ فَمَا عَمِلْتَ فِيهَا قَالَ تَعَلَّمْتُ الْعِلْمَ وَعَلَّمْتُهُ وَقَرَأْتُ فِيكَ الْقُرْآنَ قَالَ كَذَبْتَ وَلَكِنَّكَ تَعَلَّمْتَ الْعِلْمَ لِيُقَالَ عَالِمٌ وَقَرَأْتَ الْقُرْآنَ لِيُقَالَ قَارِئٌ فَقَدْ قِيلَ ثُمَّ أُمِرَ بِهِ فَسُحِبَ عَلَى وَجْهِهِ حَتَّى أُلْقِيَ فِي النَّارِ وَرَجُلٌ وَسَّعَ اللَّهُ عَلَيْهِ وَأَعْطَاهُ مِنْ أَصْنَافِ الْمَالِ كُلِّهِ فَأُتِيَ بِهِ فَعَرَّفَهُ نِعَمَهُ فَعَرَفَهَا فَقَالَ مَا عَمِلْتَ فِيهَا قَالَ مَا تَرَكْتُ مِنْ سَبِيلٍ تُحِبُّ قَالَ أَبُو عَبْد الرَّحْمَنِ وَلَمْ أَفْهَمْ تُحِبُّ كَمَا أَرَدْتُ أَنْ يُنْفَقَ فِيهَا إِلَّا أَنْفَقْتُ فِيهَا لَكَ قَالَ كَذَبْتَ وَلَكِنْ لِيُقَالَ إِنَّهُ جَوَادٌ فَقَدْ قِيلَ ثُمَّ أُمِرَ بِهِ فَسُحِبَ عَلَى وَجْهِهِ فَأُلْقِيَ فِي النَّارِ

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৩১৪১. মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল আ’লা (রাহঃ) ......... সুলায়মান ইবনে ইয়াসার (রাহঃ) বলেন, লোক আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে পৃথক হওয়ার পর সিরিয়ার নাতিল নামক এক ব্যক্তি তাকে বললো, আপনি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) থেকে শুনেছেন, এমন একটি হাদীস আমার কাছে বর্ণনা করুন । তিনি বললেনঃ হ্যাঁ, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে বলতে শুনেছিঃ লোকের মধ্যে কিয়ামতের দিন যাদের বিচার করা হবে, তারা হবে তিন শ্রেণীর লোক।

প্রথমতঃ সে ব্যক্তি যে শহীদ হয়েছে তাকে আনা হবে, আল্লাহ তাআলা তাকে তার নিয়ামতসমূহ স্মরণ করাবেন; যে তা স্মরণ করবে, তাকে বলা হবে, এসব নিয়ামত ভোগ করে কি আমল করেছ? সে ব্যক্তি বলবেঃ আমি তোমার সন্তুষ্টির জন্য লড়াই করে শহীদ হয়েছি। আল্লাহ বলবেনঃ তুমি মিথ্যা বলছাে। বরং তুমি যুদ্ধ করেছিলে এই জন্য, যেন বলা হয় অমুক ব্যক্তি বাহাদুর; তোমাকে তা বলা হয়েছে। তার সম্পর্কে আদেশ করা হবে, ফলে তাকে তার মুখের উপর হেঁচড়িয়ে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে।

আর এক ব্যক্তি ইলম শিক্ষা করেছে এবং লোকদেরকে শিক্ষা দান করেছে এবং কুরআন পাঠ করেছে, তাকে আনা হবে, তাকে তার নিয়ামতসমূহ স্মরণ করানো হবে, সে তা স্বীকার করবে, তাকে বলা হবেঃ এর জন্য তুমি কি আমল করেছ? সে বলবেঃ আমি ’ইলম শিক্ষা করেছি, অন্যকেও শিক্ষা দিয়েছি, আর তোমার সন্তুষ্টির জন্য কুরআন পাঠ করেছি। আল্লাহ তায়ালা বলবেনঃ তুমি মিথ্যা বলছো। বরং তুমি শিক্ষা করেছিলে এজন্য, যেন তোমাকে আলিম বলা হয় । আর কুরআন শিক্ষা করেছিলে, যেন তোমাকে কারী বলা হয়; তা বলা হয়েছে। এরপর তার সম্বন্ধে আদেশ করা হবে, আর তাকে মুখের উপর হেঁচড়িয়ে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে।
আর এক ব্যক্তি যাকে প্রশস্ততা দান করা হয়েছিল এবং তাকে সর্বপ্রকার মাল দান করা হয়েছিল। তাকে আনা হবে। তাকে তার নিয়ামত সম্বন্ধে অবহিত করা হবে, সে তা স্বীকার করবে। তাকে জিজ্ঞাসা করা হবে, এর জন্য তুমি কি আমল করেছ? সে বলবেঃ আমি তোমার পছন্দনীয় কোন রাস্তাই ছাড়িনি, তোমার সন্তুষ্টির জন্য যাতে ব্যয় করিনি। আল্লাহ তাআলা বলবেনঃ তুমি মিথ্যা বলছ বরং তুমি এজন্য ব্যয় করেছ, যাতে দাতা বলা হয়; তা বলা হয়েছে। তারপর তার সম্পর্কে আদেশ করা হবে, তাকে তার মুখ নীচের দিকে করে হেঁচড়িয়ে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে।

২৩. যে ব্যক্তি আল্লাহর পথে যুদ্ধ করে এবং সে উটের রশি ব্যতীত আর কিছুর নিয়্যত না করে

مَنْ غَزَا فِي سَبِيلِ اللَّهِ وَلَمْ يَنْوِ مِنْ غَزَاتِهِ إِلَّا عِقَالًا

৩১৩৮

أَخْبَرَنَا عَمْرُو بْنُ عَلِيٍّ قَالَ حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ قَالَ حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ عَنْ جَبَلَةَ بْنِ عَطِيَّةَ عَنْ يَحْيَى بْنِ الْوَلِيدِ بْنِ عُبَادَةَ بْنِ الصَّامِتِ عَنْ جَدِّهِ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَنْ غَزَا فِي سَبِيلِ اللَّهِ وَلَمْ يَنْوِ إِلَّا عِقَالًا فَلَهُ مَا نَوَى

বর্ণনাকারী: হযরত উবাদা ইব্‌নুস সামিত (রাঃ)

৩১৪২. আমর ইবনে আলী (রাহঃ) ......... ইয়াহইয়া ইবনে ওলীদ ইবনে উবাদা ইবনে সামিত তার দাদার সুত্রে বর্ণনা করেন। তিনি বলেনঃ নবী রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি আল্লাহর রাস্তায় যুদ্ধ করলো এবং উটের রশি ব্যতীত তার আর কিছুর নিয়্যত খাকলো না; সে যা নিয়ত করলো, তাই তার প্রাপ্য হবে।

৩১৩৯

أَخْبَرَنِي هَارُونُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ قَالَ حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ قَالَ أَنْبَأَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ عَنْ جَبَلَةَ بْنِ عَطِيَّةَ عَنْ يَحْيَى بْنِ الْوَلِيدِ عَنْ عُبَادَةَ بْنِ الصَّامِتِ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ مَنْ غَزَا وَهُوَ لَا يُرِيدُ إِلَّا عِقَالًا فَلَهُ مَا نَوَى

বর্ণনাকারী: হযরত উবাদা ইব্‌নুস সামিত (রাঃ)

৩১৪৩. হারুন ইবনে আব্দুল্লাহ (রাহঃ) ......... ইয়াহইয়া ইবনে ওলীদ ইবনে উবাদা ইবনে সামিত থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি আল্লাহর রাস্তায় যুদ্ধ করলো এবং উটের রশি ছাড়া তার আর কিছুর নিয়্যত থাকলো না; সে যা নিয়্যত করলো, তাই তার প্রাপ্য হবে।

২৪. যে ব্যক্তি সুনাম ও সম্পদের জন্য যুদ্ধ করে

مَنْ غَزَا يَلْتَمِسُ الْأَجْرَ وَالذِّكْرَ

৩১৪০

أَخْبَرَنَا عِيسَى بْنُ هِلَالٍ الْحِمْصِيُّ قَالَ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ حِمْيَرٍ قَالَ حَدَّثَنَا مُعَاوِيَةُ بْنُ سَلَّامٍ عَنْ عِكْرِمَةَ بْنِ عَمَّارٍ عَنْ شَدَّادٍ أَبِي عَمَّارٍ عَنْ أَبِي أُمَامَةَ الْبَاهِلِيِّ قَالَ جَاءَ رَجُلٌ إِلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ أَرَأَيْتَ رَجُلًا غَزَا يَلْتَمِسُ الْأَجْرَ وَالذِّكْرَ مَالَهُ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَا شَيْءَ لَهُ فَأَعَادَهَا ثَلَاثَ مَرَّاتٍ يَقُولُ لَهُ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَا شَيْءَ لَهُ ثُمَّ قَالَ إِنَّ اللَّهَ لَا يَقْبَلُ مِنْ الْعَمَلِ إِلَّا مَا كَانَ لَهُ خَالِصًا وَابْتُغِيَ بِهِ وَجْهُهُ

বর্ণনাকারী: আবু উমামা বাহিলী রাযি.

৩১৪৪. ঈসা ইন হিলাল হিমসী (রাহঃ) ......... আবু উমামা বাহিলী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) এর কাছে এসে বললোঃ ঐ ব্যক্তি সম্বন্ধে আপনি কি বলেন, যে ব্যক্তি সম্পদ এবং সুনামের জন্য জিহাদ করে, তার জন্য কি রয়েছে? রাসূলুল্লাহ(ﷺ) বললেন তার জন্য কিছুই নেই। তিনি তা তিনবার বললেন। রাসূলুল্লাহ(ﷺ) তাকে বললেন, তার জন্য কিছুই নেই। তারপর তিনি বললেনঃ আল্লাহ তাআলা খালেস আমল ব্যতীত, যা দ্বারা আল্লাহর সন্তুষ্টি ছাড়া আর কিছুই উদ্দেশ্য না হয়, আর কিছুই কবুল করেন না।

২৫. যে ব্যক্তি উটের একবার দুধ দোহন করার পর দ্বিতীয়বার দুধ দোহনের অবকাশের সময় পর্যন্ত আল্লাহু রাস্তায় যুদ্ধ করে

ثَوَابُ مَنْ قَاتَلَ فِي سَبِيلِ اللَّهِ فَوَاقَ نَاقَةٍ

৩১৪১

أَخْبَرَنَا يُوسُفُ بْنُ سَعِيدٍ قَالَ سَمِعْتُ حَجَّاجًّا أَنْبَأَنَا ابْنُ جُرَيْجٍ قَالَ حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ مُوسَى قَالَ حَدَّثَنَا مَالِكُ بْنُ يُخَامِرَ أَنَّ مُعَاذَ بْنَ جَبَلٍ حَدَّثَهُمْ أَنَّهُ سَمِعَ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ مَنْ قَاتَلَ فِي سَبِيلِ اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ مِنْ رَجُلٍ مُسْلِمٍ فَوَاقَ نَاقَةٍ وَجَبَتْ لَهُ الْجَنَّةُ وَمَنْ سَأَلَ اللَّهَ الْقَتْلَ مِنْ عِنْدِ نَفْسِهِ صَادِقًا ثُمَّ مَاتَ أَوْ قُتِلَ فَلَهُ أَجْرُ شَهِيدٍ وَمَنْ جُرِحَ جُرْحًا فِي سَبِيلِ اللَّهِ أَوْ نُكِبَ نَكْبَةً فَإِنَّهَا تَجِيءُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ كَأَغْزَرِ مَا كَانَتْ لَوْنُهَا كَالزَّعْفَرَانِ وَرِيحُهَا كَالْمِسْكِ وَمَنْ جُرِحَ جُرْحًا فِي سَبِيلِ اللَّهِ فَعَلَيْهِ طَابَعُ الشُّهَدَاءِ

বর্ণনাকারী: হযরত মু‘আয ইবনে জাবাল (রাঃ)

৩১৪৫. ইউসুফ ইন সাঈদ (রাহঃ) ......... মালিক ইবনে ইউখামির (রাহঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেছেনঃ যে মুসলমান ব্যক্তি আল্লাহর রাস্তায় উটনীর দুধ দোহনের সময় পর্যন্ত (অর্থাৎ স্বল্প সময়ের জনা) জিহাদ করে, তার জন্য জান্নাত ওয়াজিব হয়ে যায়। যে ব্যক্তি আল্লাহর তাআলার নিকট নিজেই শাহাদত কামনা করে কায়মনোবাক্যে, তারপর মৃত্যুবরণ করে অথবা নিহত হয়, তার জন্য রয়েছে একজন শহীদের সওয়াব। আর যে ব্যক্তি আল্লাহর রাস্তায় আঘাত প্রাপ্ত হয় অথবা বর্শার আঘাত পায়, কিয়ামতের দিন তা পানি পূর্ণ কৃপের ন্যায় হবে, যার রং হবে যাফরানের এবং গন্ধ হবে কস্তুরীর। আর যে আল্লাহর রাস্তায় জখমী হয়, তার উপর শহীদের চিহ্ন থাকবে।

২৬. যে ব্যক্তি আল্লাহর রাস্তায় তীর নিক্ষেপ করে- তার সওয়াব

ثَوَابُ مَنْ رَمَى بِسَهْمٍ فِي سَبِيلِ اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ

৩১৪২

أَخْبَرَنَا عَمْرُو بْنُ عُثْمَانَ بْنِ سَعِيدِ بْنِ كَثِيرٍ قَالَ حَدَّثَنَا بَقِيَّةُ عَنْ صَفْوَانَ قَالَ حَدَّثَنِي سُلَيْمُ بْنُ عَامِرٍ عَنْ شُرَحْبِيلَ بْنِ السِّمْطِ أَنَّهُ قَالَ لِعَمْرِو بْنِ عَبَسَةَ يَا عَمْرُو حَدِّثْنَا حَدِيثًا سَمِعْتَهُ مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ مَنْ شَابَ شَيْبَةً فِي سَبِيلِ اللَّهِ تَعَالَى كَانَتْ لَهُ نُورًا يَوْمَ الْقِيَامَةِ وَمَنْ رَمَى بِسَهْمٍ فِي سَبِيلِ اللَّهِ تَعَالَى بَلَغَ الْعَدُوَّ أَوْ لَمْ يَبْلُغْ كَانَ لَهُ كَعِتْقِ رَقَبَةٍ وَمَنْ أَعْتَقَ رَقَبَةً مُؤْمِنَةً كَانَتْ لَهُ فِدَاءَهُ مِنْ النَّارِ عُضْوًا بِعُضْوٍ

বর্ণনাকারী: আমর ইবনে আবাসা (রাঃ)

৩১৪৬. আমর ইবনে উছমান ইবনে সায়ীদ ইবনে কাছীর (রাহঃ) ......... শুরাহবীল ইবনে সিমত (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি আমর ইবনে আবাসা (রাযিঃ)-কে বললেন, হে আমর! আমাদের কাছে একটি হাদীস বর্ণনা করুন, যা আপনি রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) থেকে শ্রবণ করেছেন। তিনি বললেনঃ আমি রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-কে বলতে শুনেছিঃ যে ব্যক্তি আল্লাহর পথে বৃদ্ধ হবে, কিয়ামতের দিন তা তার জন্য একটি নূর হবে। আর যে ব্যক্তি আল্লাহর রাস্তায় একটি তীর নিক্ষেপ করবে, তা শক্রর গায়ে বিদ্ধ হোক বা না হোক, তার জন্য একটি গোলাম আযাদ করার ন্যায় সওয়াব লিখিত হবে। আর যে ব্যক্তি একজন মুমিন গোলাম আযাদ করবে, তা তার জন্য জাহান্নাম হতে পবিত্রাণের কারণ হবে, প্রত্যেক অঙ্গের পরিবর্তে এক একটি অঙ্গ।

৩১৪৩

أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الْأَعْلَى قَالَ حَدَّثَنَا خَالِدٌ قَالَ حَدَّثَنَا هِشَامٌ قَالَ حَدَّثَنَا قَتَادَةُ عَنْ سَالِمِ بْنِ أَبِي الْجَعْدِ عَنْ مَعْدَانَ بْنِ أَبِي طَلْحَةَ عَنْ أَبِي نَجِيحٍ السَّلَمِيِّ قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ مَنْ بَلَغَ بِسَهْمٍ فِي سَبِيلِ اللَّهِ فَهُوَ لَهُ دَرَجَةٌ فِي الْجَنَّةِ فَبَلَّغْتُ يَوْمَئِذٍ سِتَّةَ عَشَرَ سَهْمًا قَالَ وَسَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ مَنْ رَمَى بِسَهْمٍ فِي سَبِيلِ اللَّهِ فَهُوَ عِدْلُ مُحَرَّرٍ

বর্ণনাকারী: আমর ইবনে আবাসা (রাঃ)

৩১৪৭. মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল আ’লা (রাহঃ) ......... আবু নুজাইহ সালামী (আমর ইবনে আবাসা) (রাযিঃ) বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে বলতে শুনেছি, যে ব্যক্তি আল্লাহর রাস্তায় কাফিরদের দিকে একটি তীর নিক্ষেপ করলো, এটি তার জন্য জান্নাতে একটি স্তর লাভের কারণ হবে। অতএব আমি সেদিন ষোলটি তীর নিক্ষেপ করি। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে আরও বলতে শুনেছিঃ যে ব্যক্তি আল্লাহর রাস্তায় একটি তীর ছুঁড়বে, তা হবে গোলাম আযাদ করার সমতুল্য।

৩১৪৪

أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْعَلَاءِ قَالَ حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ قَالَ حَدَّثَنَا الْأَعْمَشُ عَنْ عَمْرِو بْنِ مُرَّةَ عَنْ سَالِمِ بْنِ أَبِي الْجَعْدِ عَنْ شُرَحْبِيلَ بْنِ السِّمْطِ قَالَ لِكَعْبِ بْنِ مُرَّةَ يَا كَعْبُ حَدِّثْنَا عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَاحْذَرْ قَالَ سَمِعْتُهُ يَقُولُ مَنْ شَابَ شَيْبَةً فِي الْإِسْلَامِ فِي سَبِيلِ اللَّهِ كَانَتْ لَهُ نُورًا يَوْمَ الْقِيَامَةِ قَالَ لَهُ حَدِّثْنَا عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَاحْذَرْ قَالَ سَمِعْتُهُ يَقُولُ ارْمُوا مَنْ بَلَغَ الْعَدُوَّ بِسَهْمٍ رَفَعَهُ اللَّهُ بِهِ دَرَجَةً قَالَ ابْنُ النَّحَّامِ يَا رَسُولَ اللَّهِ وَمَا الدَّرَجَةُ قَالَ أَمَا إِنَّهَا لَيْسَتْ بِعَتَبَةِ أُمِّكَ وَلَكِنْ مَا بَيْنَ الدَّرَجَتَيْنِ مِائَةُ عَامٍ

বর্ণনাকারী: শুরাহবীল ইবনে সিমত (রহঃ)

৩১৪৮. মুহাম্মাদ ইবনে আলা (রাহঃ) ......... শুরাহবীল ইবনে সিমত (রাহঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি কা’ব ইবনে মুররাহ (রাযিঃ)-কে বললেনঃ হে কাব! রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) হতে আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করুন এবং সাবধানতা অবলম্বন করুন। তিনি বললেন, আমি তাঁকে বলতে শুনেছিঃ যে ব্যক্তি মুসলিম অবস্থায় আল্লাহর রাস্তায় বৃদ্ধ হয়েছে, কিয়ামতের দিন তা তার জন্য নূর হবে। তাঁকে আবার বলা হলোঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) হতে আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করুন এবং সাবধানতা অবলম্বন করুন। তিনি বললেন, আমি তাঁকে বলতে শুনেছিঃ তোমরা তীর নিক্ষেপ করবে। যে ব্যক্তি শত্রুর প্রতি একটি তীর নিক্ষেপ করেছে, আল্লাহ তাআলা এর বিনিময়ে তার একটি স্তর বর্ধিত করবেন। ইবনে নাহহাম (রাযিঃ) বললেনঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! মর্যাদা কিরূপ? তিনি বললেনঃ তা তোমার মায়ের ঘরের চৌকাঠ নয়। ইহা এমন দুটি স্তর যে, যার মধ্যে পার্থক্য হবে একশত বছরের।

৩১৪৫

أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الْأَعْلَى، قَالَ: حَدَّثَنَا الْمُعْتَمِرُ، قَالَ: سَمِعْتُ خَالِدًا يَعْنِي ابْنَ زَيْدٍ أَبَا عَبْدِ الرَّحْمَنِ الشَّامِيَّ، يُحَدِّثُ عَنْ شُرَحْبِيلَ بْنِ السِّمْطِ، عَنْ عَمْرِو بْنِ عَبَسَةَ، - قَالَ: قُلْتُ: يَا عَمْرُو بْنَ عَبَسَةَ، حَدِّثْنَا حَدِيثًا سَمِعْتَهُ مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَيْسَ فِيهِ نِسْيَانٌ وَلَا تَنَقُّصٌ - قَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: «مَنْ رَمَى بِسَهْمٍ فِي سَبِيلِ اللَّهِ فَبَلَغَ الْعَدُوَّ أَخْطَأَ أَوْ أَصَابَ، كَانَ لَهُ كَعِدْلِ رَقَبَةٍ، وَمَنْ أَعْتَقَ رَقَبَةً مُسْلِمَةً، كَانَ فِدَاءُ كُلِّ عُضْوٍ مِنْهُ عُضْوًا مِنْهُ مِنْ نَارِ جَهَنَّمَ، وَمَنْ شَابَ شَيْبَةً فِي سَبِيلِ اللَّهِ، كَانَتْ لَهُ نُورًا يَوْمَ الْقِيَامَةِ»

বর্ণনাকারী: আমর ইবনে আবাসা (রাঃ)

৩১৪৯. মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল আ’লা (রাহঃ) ......... শুরাহবীল ইবনে সিমত (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি বললামঃ হে অমর ইবনে আবাসা! আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করুন, যা আপনি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) হতে শ্রবণ করেছেন।
তিনি বললেন, আমি রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-কে বলতে শুনেছিঃ যে ব্যক্তি আল্লাহর রাস্তায় একটি তীর নিক্ষেপ করবে শক্রর প্রতি, এতে সে ভুল করলো কিংবা সঠিকভাবে পৌঁছালো, এটি তার জন্য একটি কৃতদাস আযাদ করার সমতুল্য হবে। আর যে ব্যক্তি একজন মুসলমান কৃতদাস আযাদ করবে, তার প্রত্যেকটি অঙ্গ এর প্রত্যেক অঙ্গের পরিবর্তে জাহান্নামের অগ্নি হতে পরিত্রাণ পাবে। আর যে ব্যক্তি আল্লাহর রাস্তায় বার্ধক্যে উপনীত হবে, কিয়ামতের দিন এ হবে তার জন্য নূর।
৩১৪৬

أَخْبَرَنَا عَمْرُو بْنُ عُثْمَانَ بْنِ سَعِيدٍ عَنْ الْوَلِيدِ عَنْ ابْنِ جَابِرٍ عَنْ أَبِي سَلَّامٍ الْأَسْوَدِ عَنْ خَالِدِ بْنِ يَزِيدَ عَنْ عُقْبَةَ بْنِ عَامِرٍ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ إِنَّ اللَّهَ عَزَّ وَجَلَّ يُدْخِلُ ثَلَاثَةَ نَفَرٍ الْجَنَّةَ بِالسَّهْمِ الْوَاحِدِ صَانِعَهُ يَحْتَسِبُ فِي صُنْعِهِ الْخَيْرَ وَالرَّامِيَ بِهِ وَمُنَبِّلَهُ

বর্ণনাকারী: হযরত উকবা ইবন আমির রাযি.

৩১৫০. আমর ইবনে উছমান ইবনে সায়ীদ (রাহঃ) ......... উকবা ইবনে আমির (রাযিঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ বলেছেনঃ আল্লাহ তাআলা একটি তীরের উসীলায় তিন প্রকার ব্যক্তিকে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন। এর প্রস্তুতকারক, যে তা প্রস্তুতকালে উত্তম নিয়্যত রাখবে, যে তা নিক্ষেপ করবে এবং যে তা কাউকে নিক্ষেপ করতে দেবে।

২৭. আল্লাহর রাস্তায় যুদ্ধ করতে গিয়ে যারা আহত হয়

بَاب مَنْ كُلِمَ فِي سَبِيلِ اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ

৩১৪৭

أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ مَنْصُورٍ قَالَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ عَنْ أَبِي الزِّنَادِ عَنْ الْأَعْرَجِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ لَا يُكْلَمُ أَحَدٌ فِي سَبِيلِ اللَّهِ وَاللَّهُ أَعْلَمُ بِمَنْ يُكْلَمُ فِي سَبِيلِهِ إِلَّا جَاءَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ وَجُرْحُهُ يَثْعَبُ دَمًا اللَّوْنُ لَوْنُ دَمٍ وَالرِّيحُ رِيحُ الْمِسْكِ

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৩১৫১. মুহাম্মাদ ইবনে মনসূর (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি আল্লাহর রাস্তায় যখম হবে, আল্লাহই ভাল জানেন, কে তাঁর রাস্তায় যখম হয়েছে; সে কিয়ামতের দিন এমন অবস্থায় আসবে যে, তার ক্ষত হতে রক্ত ঝরাতে থাকবে, এর বর্ণ হবে রক্তের ন্যায়, আর গন্ধ হবে কস্তুরীর মত।

৩১৪৮

أَخْبَرَنَا هَنَّادُ بْنُ السَّرِيِّ عَنْ ابْنِ الْمُبَارَكِ عَنْ مَعْمَرٍ عَنْ الزُّهْرِيِّ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ ثَعْلَبَةَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ زَمِّلُوهُمْ بِدِمَائِهِمْ فَإِنَّهُ لَيْسَ كَلْمٌ يُكْلَمُ فِي اللَّهِ إِلَّا أَتَى يَوْمَ الْقِيَامَةِ جُرْحُهُ يَدْمَى لَوْنُهُ لَوْنُ دَمٍ وَرِيحُهُ رِيحُ الْمِسْكِ

বর্ণনাকারী: আব্দুল্লাহ ইবনে ছা'লাবা (রাঃ)

৩১৫২. হান্নাদ ইবনে সারি (রাহঃ) ......... আব্দুল্লাহ ইবনে ছা’লাবা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ তাদেরকে (শহীদদেরকে) তাদের রক্তসহ চাদরাবৃত কর। কেননা কেউ আল্লাহর রাস্তায় যখম হলে, সে কিয়ামতের দিন এমন অবস্থায় উপস্থিত হবে যে, তার ক্ষত হতে রক্ত নির্গত হতে থাকবে। যার বর্ণ হবে রক্তের, কিন্তু সুগন্ধি হবে কস্তুরীর ন্যায়।

২৮. যাকে শত্রু আঘাত করে, সে কি বলবে

مَا يَقُولُ مَنْ يَطْعَنُهُ الْعَدُوُّ

৩১৪৯

أَخْبَرَنَا عَمْرُو بْنُ سَوَّادٍ قَالَ أَنْبَأَنَا ابْنُ وَهْبٍ قَالَ أَخْبَرَنِي يَحْيَى بْنُ أَيُّوبَ وَذَكَرَ آخَرَ قَبْلَهُ عَنْ عُمَارَةَ بْنِ غَزِيَّةَ عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ قَالَ لَمَّا كَانَ يَوْمُ أُحُدٍ وَوَلَّى النَّاسُ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي نَاحِيَةٍ فِي اثْنَيْ عَشَرَ رَجُلًا مِنْ الْأَنْصَارِ وَفِيهِمْ طَلْحَةُ بْنُ عُبَيْدِ اللَّهِ فَأَدْرَكَهُمْ الْمُشْرِكُونَ فَالْتَفَتَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَقَالَ مَنْ لِلْقَوْمِ فَقَالَ طَلْحَةُ أَنَا قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَمَا أَنْتَ فَقَالَ رَجُلٌ مِنْ الْأَنْصَارِ أَنَا يَا رَسُولَ اللَّهِ فَقَالَ أَنْتَ فَقَاتَلَ حَتَّى قُتِلَ ثُمَّ الْتَفَتَ فَإِذَا الْمُشْرِكُونَ فَقَالَ مَنْ لِلْقَوْمِ فَقَالَ طَلْحَةُ أَنَا قَالَ كَمَا أَنْتَ فَقَالَ رَجُلٌ مِنْ الْأَنْصَارِ أَنَا فَقَالَ أَنْتَ فَقَاتَلَ حَتَّى قُتِلَ ثُمَّ لَمْ يَزَلْ يَقُولُ ذَلِكَ وَيَخْرُجُ إِلَيْهِمْ رَجُلٌ مِنْ الْأَنْصَارِ فَيُقَاتِلُ قِتَالَ مَنْ قَبْلَهُ حَتَّى يُقْتَلَ حَتَّى بَقِيَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَطَلْحَةُ بْنُ عُبَيْدِ اللَّهِ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَنْ لِلْقَوْمِ فَقَالَ طَلْحَةُ أَنَا فَقَاتَلَ طَلْحَةُ قِتَالَ الْأَحَدَ عَشَرَ حَتَّى ضُرِبَتْ يَدُهُ فَقُطِعَتْ أَصَابِعُهُ فَقَالَ حَسِّ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَوْ قُلْتَ بِسْمِ اللَّهِ لَرَفَعَتْكَ الْمَلَائِكَةُ وَالنَّاسُ يَنْظُرُونَ ثُمَّ رَدَّ اللَّهُ الْمُشْرِكِينَ

বর্ণনাকারী: জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ আনসারী (রাঃ)

৩১৫৩. আমর ইবনে সওয়াদ (রাহঃ) ......... জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ (রাযিঃ) বলেন, ওহুদ যুদ্ধের দিন যখন কিছু লোক ফিরে গেল, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) একদিকে বারজন আনসার কর্তৃক বেষ্টিত ছিলেন, তাদের মধ্যে তালহা ইবনে উবায়দুল্লাহ (রাযিঃ)-ও ছিলেন, মুশরিকরা তাদেরকে আক্রমণ করলো, রাসূলুল্লাহ(ﷺ) তা দেখে বললেনঃ এদলের জন্য কে আছ? তালহা (রাযিঃ) বললেনঃ আমি। রাসূলুল্লাহ(ﷺ) বললেনঃ তুমি পূর্বে যেমন ছিলে সেরূপ থাক। তখনই একজন আনসারী ব্যক্তি বললোঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমি। তিনি বললেনঃ হ্যাঁ তুমি। এ ব্যক্তি যুদ্ধ করতে করতে শহীদ হলেন। আবার তিনি লক্ষ্য করলেন, এবং দেখতে পেলেন যে, মুশরিকরা আক্রমণ করছে, তিনি বললেনঃ এদলের জন্য কে আছ? এবারও তালহা (রাযিঃ) বললেনঃ আমি। তিনি বললেনঃ তুমি পূর্বের মতই থাক। এক আনসারী ব্যক্তি বললেনঃ আমি আছি। তিনি ইরশাদ করলেনঃ হ্যাঁ তুমি। এ ব্যক্তিও যুদ্ধ করতে করতে শহীদ হলেন।
এরপর তিনি এভাবে বলছিলেন এবং আন্সারীদের একেক জন তাদের দিকে বের হয়ে তার পূর্ববর্তীদের ন্যায় যুদ্ধ করতে করতে শহীদ হলেন। রাসূলুল্লাহ(ﷺ) এবং তালহা ইবনে উবায়দুল্লাহ (রাযিঃ) অবশিষ্ট থাকলেন। রাসূলুল্লাহ(ﷺ) বললেনঃ এদলের জন্য কে আছ? তালহা (রাযিঃ) বললেনঃ আমি আছি। তিনি এগারজনের যুদ্ধ একাই করলেন। পরিশেষে তার হাত আহত হলো এবং হাতের আঙ্গুল কর্তিত হালো। এতে তিনি উহ শব্দের ন্যায় শব্দ উচ্চারণ করলেন। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ যদি তুমি বলতে ‘বিসমিল্লাহ’, তা হলে তোমাকে ফিরিশতাগণ উপরে উঠিয়ে নিতেন, আর লোকেরা তা দেখতে পেতেন। এরপর আল্লাহ তাআলা মুশরিকদের ফিরিয়ে দিলেন।

২৯. যুদ্ধ ক্ষেত্রে ভুলবশত নিজের তলোয়ারের আঘাতে শহীদ হলে

بَاب مَنْ قَاتَلَ فِي سَبِيلِ اللَّهِ فَارْتَدَّ عَلَيْهِ سَيْفُهُ فَقَتَلَهُ

৩১৫০
أَخْبَرَنَا عَمْرُو بْنُ سَوَّادٍ قَالَ أَنْبَأَنَا ابْنُ وَهْبٍ قَالَ أَخْبَرَنِي يُونُسُ عَنْ ابْنِ شِهَابٍ قَالَ أَخْبَرَنِي عَبْدُ الرَّحْمَنِ وَعَبْدُ اللَّهِ ابْنَا كَعْبِ بْنِ مَالِكٍ أَنَّ سَلَمَةَ بْنَ الْأَكْوَعِ قَالَ لَمَّا كَانَ يَوْمُ خَيْبَرَ قَاتَلَ أَخِي قِتَالًا شَدِيدًا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَارْتَدَّ عَلَيْهِ سَيْفُهُ فَقَتَلَهُ فَقَالَ أَصْحَابُ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي ذَلِكَ وَشَكُّوا فِيهِ رَجُلٌ مَاتَ بِسِلَاحِهِ قَالَ سَلَمَةُ فَقَفَلَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مِنْ خَيْبَرَ فَقُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَتَأْذَنُ لِي أَنْ أَرْتَجِزَ بِكَ فَأَذِنَ لَهُ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ اعْلَمْ مَا تَقُولُ فَقُلْتُ

وَاللَّهِ لَوْلَا اللَّهُ مَا اهْتَدَيْنَا وَلَا تَصَدَّقْنَا وَلَا صَلَّيْنَا
فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ صَدَقْتَ

فَأَنْزِلَنْ سَكِينَةً عَلَيْنَا وَثَبِّتْ الْأَقْدَامَ إِنْ لَاقَيْنَا
وَالْمُشْرِكُونَ قَدْ بَغَوْا عَلَيْنَا
فَلَمَّا قَضَيْتُ رَجَزِي قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَنْ قَالَ هَذَا قُلْتُ أَخِي قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَرْحَمُهُ اللَّهُ فَقُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ وَاللَّهِ إِنَّ نَاسًا لَيَهَابُونَ الصَّلَاةَ عَلَيْهِ يَقُولُونَ رَجُلٌ مَاتَ بِسِلَاحِهِ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَاتَ جَاهِدًا مُجَاهِدًا قَالَ ابْنُ شِهَابٍ ثُمَّ سَأَلْتُ ابْنًا لِسَلَمَةَ بْنِ الْأَكْوَعِ فَحَدَّثَنِي عَنْ أَبِيهِ مِثْلَ ذَلِكَ غَيْرَ أَنَّهُ قَالَ حِينَ قُلْتُ إِنَّ نَاسًا لَيَهَابُونَ الصَّلَاةَ عَلَيْهِ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَذَبُوا مَاتَ جَاهِدًا مُجَاهِدًا فَلَهُ أَجْرُهُ مَرَّتَيْنِ وَأَشَارَ بِأُصْبُعَيْهِ

বর্ণনাকারী: সালামা ইবনুল আকওয়া' (রাঃ)

৩১৫৪. আমর ইবনে সওয়াদ (রাহঃ) ......... সালামা ইবনে আকওয়া (রাযিঃ) বলেন, খায়বর যুদ্ধে আমার ভাই রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) এর নেতৃত্বে ভীষণ যুদ্ধ করেন। তাঁর তরবারী তার উপর আপতিত হলে তিনি শহীদ হন। রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-এর সাহাবা এ সম্পর্কে মন্তব্য করতে লাগলেন এবং তার শাহাদাত সম্পর্কে সন্দেহ পােষণ করতে লাগলেন। কারণ তিনি এমন এক ব্যক্তি, যার মৃত্যু হয়েছে তারই অস্ত্রে।

সালামা (রাযিঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) খায়বর হতে প্রত্যাবর্তন করার পর আমি বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আপনার কাছে কবিতা পাঠ করতে আমাকে অনুমতি দিবেন কি? রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) তাকে অনুমতি দিলেন। তখন উমর ইবনে খাত্তাব (রাযিঃ) বললেন, তুমি কি বলবে তা অনুধাবন কর। আমি বললামঃ

وَاللَّهِ لَوْلَا اللَّهُ مَا اهْتَدَيْنَا وَلَا تَصَدَّقْنَا وَلَا صَلَّيْنَا

অর্থাৎ আল্লাহর কসম! আল্লাহ যদি আমাদের হিদায়ত না করতেন, তাহলে না আমরা হিদায়ত পেতাম, না আমরা সাদ্‌কা করতাম, আর না আমরা নামায আদায় করতাম। এপর্যন্ত বলতেই রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বললেন, তুমি সত্যই বলেছ।

فَأَنْزِلَنْ سَكِينَةً عَلَيْنَا وَثَبِّتْ الْأَقْدَامَ إِنْ لَاقَيْنَا وَالْمُشْرِكُونَ قَدْ بَغَوْا عَلَيْنَا

তিনি আমদের উপর শান্তি অবতীর্ণ করুন, আর যুদ্ধ ক্ষেত্রে আমাদের অটল রাখুন। মুশরিকরা ’আমাদের উপর অত্যাচার করেছে।

আমার কবিতা পাঠ শেষ হলে রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বললেনঃ এটা কে বলেছে? আমি বললামঃ আমার ভাই। রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বললেনঃ আল্লাহ তাকে রহম করুন। আমি বললামঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! লোক তার উপর জানাযার নামায পড়তে ভয় পায়। তারা বলে, এ ব্যক্তি স্বীয় অস্ত্রে মারা গেছে। সে পুণ্যের পথে অবিরাম প্রচেষ্টা চালিয়ে আল্লাহর শত্রুদের মুকাবিলায় জিহাদ করতে করতে শহীদ হয়েছে।

ইবনে শিহাব (রাহঃ) বলেন, তারপর আমি সালামা ইবনে আকওয়ার এক ছেলেকে জিজ্ঞাসা করলে, তিনি তার পিতা হতে অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করলেন। উপরন্তু তিনি বললেন, যখন আমি বললাম, লোক তার উপর নামায পড়তে দ্বিধাবোধ করছে। তখন রাসূলুল্লাহ(ﷺ) বললেনঃ তারা মিথ্যা বলছে। সে মুজাহিদের ন্যায় যুদ্ধ করেছে, তার জন্য দুইগুণ পুণ্য রয়েছে। আর তিনি তাঁর দুটি আঙ্গুল দিয়ে ইশারা করলেন।

৩০. আল্লাহর রাস্তায় শহীদ হওয়ার আকাঙ্ক্ষা করা

بَاب تَمَنِّي الْقَتْلَ فِي سَبِيلِ اللَّهِ تَعَالَى

৩১৫১

أَخْبَرَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ سَعِيدٍ قَالَ حَدَّثَنَا يَحْيَى يَعْنِي ابْنَ سَعِيدٍ الْقَطَّانَ عَنْ يَحْيَى يَعْنِي ابْنَ سَعِيدٍ الْأَنْصَارِيَّ قَالَ حَدَّثَنِي ذَكْوَانُ أَبُو صَالِحٍ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ لَوْلَا أَنْ أَشُقَّ عَلَى أُمَّتِي لَمْ أَتَخَلَّفْ عَنْ سَرِيَّةٍ وَلَكِنْ لَا يَجِدُونَ حَمُولَةً وَلَا أَجِدُ مَا أَحْمِلُهُمْ عَلَيْهِ وَيَشُقُّ عَلَيْهِمْ أَنْ يَتَخَلَّفُوا عَنِّي وَلَوَدِدْتُ أَنِّي قُتِلْتُ فِي سَبِيلِ اللَّهِ ثُمَّ أُحْيِيتُ ثُمَّ قُتِلْتُ ثُمَّ أُحْيِيتُ ثُمَّ قُتِلْتُ ثَلَاثًا

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৩১৫৫. উবায়দুল্লাহ ইবনে সাঈদ (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, যদি আমার উম্মতের জন্য কষ্টসাধ্য না হতো, তাহলে আমি কোন যুদ্ধে গমন হতে বিরত থাকতাম না। তারা কোন বাহন পায় না, আর আমিও তাদের জন্য বাহনের ব্যবস্থা করতে পারি না। আর যদি আমার সঙ্গে যাওয়া হতে বিরত থাকা তাদের জন্য কষ্টকর না হতো, তবে আমার ইচ্ছা হয় যে, আমি আল্লাহর রাস্তায় শহীদ হই, পুনরায় জীবিত হই, পুনরায় শহীদ হই। (তিনি) তিনবার (এরূপ বললেন)।

৩১৫২

أَخْبَرَنَا عَمْرُو بْنُ عُثْمَانَ بْنِ سَعِيدٍ قَالَ حَدَّثَنَا أَبِي عَنْ شُعَيْبٍ عَنْ الزُّهْرِيِّ قَالَ حَدَّثَنِي سَعِيدُ بْنُ الْمُسَيَّبِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ لَوْلَا أَنَّ رِجَالًا مِنْ الْمُؤْمِنِينَ لَا تَطِيبُ أَنْفُسُهُمْ بِأَنْ يَتَخَلَّفُوا عَنِّي وَلَا أَجِدُ مَا أَحْمِلُهُمْ عَلَيْهِ مَا تَخَلَّفْتُ عَنْ سَرِيَّةٍ تَغْزُو فِي سَبِيلِ اللَّهِ وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ لَوَدِدْتُ أَنِّي أُقْتَلُ فِي سَبِيلِ اللَّهِ ثُمَّ أُحْيَا ثُمَّ أُقْتَلُ ثُمَّ أُحْيَا ثُمَّ أُقْتَلُ

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৩১৫৬. আমর ইবনে উছমান ইবনে সায়ীদ (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-কে বলতে শুনেছিছ সে সত্তার কসম! যার হাতে আমার প্রাণ, যদি মু’মিনদের মধ্যে এমন লোক না হতো, যারা আমার সঙ্গে যুদ্ধে গমন হতে বিরত থাকতে চায় না, আর আমি তাদের জন্য সওয়ারীর ব্যবস্থাও করতে পারি না, তাহলে আল্লাহর রাস্তায় যুদ্ধ করা হতে আমি বিরত থাকতাম না। সে সত্তার কসম! যার হাতে আমার প্রাণ! আমার ইচ্ছা হয়- আমি আল্লাহর রাস্তায় শহীদ হয়ে যাই, আবার জীবিত হই, আবার শহীদ হই।

৩১৫৩

أَخْبَرَنَا عَمْرُو بْنُ عُثْمَانَ قَالَ حَدَّثَنَا بَقِيَّةُ عَنْ بَحِيرِ بْنِ سَعْدٍ عَنْ خَالِدِ بْنِ مَعْدَانَ عَنْ جُبَيْرِ بْنِ نُفَيْرٍ عَنْ ابْنِ أَبِي عَمِيرَةَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ مَا مِنْ النَّاسِ مِنْ نَفْسٍ مُسْلِمَةٍ يَقْبِضُهَا رَبُّهَا تُحِبُّ أَنْ تَرْجِعَ إِلَيْكُمْ وَأَنَّ لَهَا الدُّنْيَا وَمَا فِيهَا غَيْرُ الشَّهِيدِ قَالَ ابْنُ أَبِي عَمِيرَةَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَلَأَنْ أُقْتَلَ فِي سَبِيلِ اللَّهِ أَحَبُّ إِلَيَّ مِنْ أَنْ يَكُونَ لِي أَهْلُ الْوَبَرِ وَالْمَدَرِ

বর্ণনাকারী: ইবনে আবি আমীরা (রাঃ)

৩১৫৭. আমর ইবনে উছমান (রাহঃ) ......... ইবনে আবু আমীরাহ (রাযিঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেছেনঃ মুসলমানদের মধ্যে এমন কেউ নেই, যাকে আল্লাহ মৃত্যুদান করেছেন, আর সে পুনরায় তোমাদের নিকট প্রত্যাবর্তন করতে ভালবাসে-শহীদ ব্যতীত; অথচ তার জন্য পৃথিবী এবং পৃথিবীস্থ সব কিছুই রয়েছে। ইবনে আবু আমীরা (রাযিঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ বলেছেন শহরবাসী এবং গ্রামবাসী (অর্থাৎ পৃথিবী ও তন্মধ্যস্থিত যা আছে সব কিছু) আমার জন্য হোক, তা হতে আল্লাহর রাস্তায় শহীদ হওয়া আমার নিকট অধিক প্রিয়।

৩১. আল্লাহর রাস্তায় শহীদ হওয়ার সওয়াব

ثَوَابُ مَنْ قُتِلَ فِي سَبِيلِ اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ

৩১৫৪

أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ مَنْصُورٍ قَالَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ عَنْ عَمْرٍو قَالَ سَمِعْتُ جَابِرًا يَقُولُ قَالَ رَجُلٌ يَوْمَ أُحُدٍ أَرَأَيْتَ إِنْ قُتِلْتُ فِي سَبِيلِ اللَّهِ فَأَيْنَ أَنَا قَالَ فِي الْجَنَّةِ فَأَلْقَى تَمَرَاتٍ فِي يَدِهِ ثُمَّ قَاتَلَ حَتَّى قُتِلَ

বর্ণনাকারী: জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ আনসারী (রাঃ)

৩১৫৮. মুহাম্মাদ ইবনে মনসুর (রাহঃ) ......... আমর (রাহঃ) বলেন, আমি জাবির (রাযিঃ)-কে বলতে শুনেছি, ওহুদ যুদ্ধের দিন এক ব্যক্তি বললো, আমি যদি আল্লাহর রাস্তায় শহীদ হয়ে যাই, তাহলে আমার স্থান কোথায় হবে তা আমাকে বলুন। তিনি বলেন, জান্নাতে। তারপর সে ব্যক্তি তার হস্তস্থিত খেজুর ফেলে দিয়ে যুদ্ধে যোগদান করলো এবং শহীদ হয়ে গেল।

৩২. ঋণগ্রস্ত ব্যক্তির যুদ্ধে যোগদান

مَنْ قَاتَلَ فِي سَبِيلِ اللَّهِ تَعَالَى وَعَلَيْهِ دَيْنٌ

৩১৫৫

أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ قَالَ حَدَّثَنَا أَبُو عَاصِمٍ قَالَ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَجْلَانَ عَنْ سَعِيدٍ الْمَقْبُرِيِّ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ جَاءَ رَجُلٌ إِلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَهُوَ يَخْطُبُ عَلَى الْمِنْبَرِ فَقَالَ أَرَأَيْتَ إِنْ قَاتَلْتُ فِي سَبِيلِ اللَّهِ صَابِرًا مُحْتَسِبًا مُقْبِلًا غَيْرَ مُدْبِرٍ أَيُكَفِّرُ اللَّهُ عَنِّي سَيِّئَاتِي قَالَ نَعَمْ ثُمَّ سَكَتَ سَاعَةً قَالَ أَيْنَ السَّائِلُ آنِفًا فَقَالَ الرَّجُلُ هَا أَنَا ذَا قَالَ مَا قُلْتَ قَالَ أَرَأَيْتَ إِنْ قُتِلْتُ فِي سَبِيلِ اللَّهِ صَابِرًا مُحْتَسِبًا مُقْبِلًا غَيْرَ مُدْبِرٍ أَيُكَفِّرُ اللَّهُ عَنِّي سَيِّئَاتِي قَالَ نَعَمْ إِلَّا الدَّيْنَ سَارَّنِي بِهِ جِبْرِيلُ آنِفًا

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৩১৫৯. মুহাম্মাদ ইবনে বাশশার (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) মিম্বরে উপবেশন করে খুতবা দিচ্ছিলেন, এমন সময় এক ব্যক্তি এসে বললোঃ আমি যদি ধৈর্যশীল হয়ে সওয়াবের নিয়তে সম্মুখ সমরে অবতীর্ণ হই, পিছপা না হই, তাহলে কি আল্লাহ তাআলা আমরা সব পাপ মার্জনা করবেন? তিনি বললেনঃ হ্যাঁ। তারপর তিনি কিছুক্ষণ নিশ্চুপ থাকলেন, পরে বললেনঃ প্রশ্নকারী লোকটি কোথায়? লোকটি বললোঃ এই যে, আমি এখানে। তিনি বললেনঃ তুমি কি বলেছিলে? সে বললোঃ আমি যদি আল্লাহর রাস্তায় ধৈর্যসহকারে ইখলাসের সঙ্গে সম্মুখে অগ্রসর হয়ে যুদ্ধ করি, পিছু না হটি- সওয়াবের আশা রাখি, তাহলে কি আমার পাপসমূহ আল্লাহ ক্ষমা করবেন? তিনি বললেনঃ হ্যাঁ, ঋণ ব্যতীত। এইমাত্র জিবরাঈল (আলাইহিস সালাম) আমাকে তা বলে গেলেন আমার কানে কানে।

৩১৫৬

أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ سَلَمَةَ وَالْحَارِثُ بْنُ مِسْكِينٍ قِرَاءَةً عَلَيْهِ وَأَنَا أَسْمَعُ عَنْ ابْنِ الْقَاسِمِ قَالَ حَدَّثَنِي مَالِكٌ عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ عَنْ سَعِيدِ بْنِ أَبِي سَعِيدٍ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي قَتَادَةَ عَنْ أَبِيهِ قَالَ جَاءَ رَجُلٌ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَرَأَيْتَ إِنْ قُتِلْتُ فِي سَبِيلِ اللَّهِ صَابِرًا مُحْتَسِبًا مُقْبِلًا غَيْرَ مُدْبِرٍ أَيُكَفِّرُ اللَّهُ عَنِّي خَطَايَايَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ نَعَمْ فَلَمَّا وَلَّى الرَّجُلُ نَادَاهُ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَوْ أَمَرَ بِهِ فَنُودِيَ لَهُ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَيْفَ قُلْتَ فَأَعَادَ عَلَيْهِ قَوْلَهُ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ نَعَمْ إِلَّا الدَّيْنَ كَذَلِكَ قَالَ لِي جِبْرِيلُ عَلَيْهِ السَّلَام

বর্ণনাকারী: হযরত আবু কাতাদা আনসারী (রাঃ)

৩১৬০. মুহাম্মাদ ইবনে সালামা ও হারিছ ইবনে মিসকীন (রাহঃ) ......... আব্দুল্লাহ ইবনে আবু কাতাদা (তার পিতা) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকট উপস্থিত হয়ে বললোঃ আমি যদি ধৈর্যের সাথে সওয়াবের নিয়তে সামনে অগ্রসর হয়ে, পিছু না হটে আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ করি, তাহলে কি আল্লাহ আমার সব পাপ ক্ষমা করে দিবেন? রাসূলুল্লাহ(ﷺ) বললেনঃ হ্যাঁ। যখন সে ব্যক্তি প্রস্থান করলো, তখন রাসূলুল্লাহ(ﷺ) তাকে ডাকলেন অথবা ডাকতে বললেন। তাকে ডাকা হলো, তখন রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বললেনঃ তুমি কি বললে? লোকটি তার বক্তব্য তার নিকট পুনরায় ব্যক্ত করলো। রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বললেনঃ হ্যাঁ, তবে ঋণ ব্যতীত; জিবরাঈল (আলাইহিস সালাম) আমাকে এরূপ বললেন।

৩১৫৭

أَخْبَرَنَا قُتَيْبَةُ قَالَ حَدَّثَنَا اللَّيْثُ عَنْ سَعِيدِ بْنِ أَبِي سَعِيدٍ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي قَتَادَةَ عَنْ أَبِي قَتَادَةَ أَنَّهُ سَمِعَهُ يُحَدِّثُ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنَّهُ قَامَ فِيهِمْ فَذَكَرَ لَهُمْ أَنَّ الْجِهَادَ فِي سَبِيلِ اللَّهِ وَالْإِيمَانَ بِاللَّهِ أَفْضَلُ الْأَعْمَالِ فَقَامَ رَجُلٌ فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَرَأَيْتَ إِنْ قُتِلْتُ فِي سَبِيلِ اللَّهِ أَيُكَفِّرُ اللَّهُ عَنِّي خَطَايَايَ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ نَعَمْ إِنْ قُتِلْتَ فِي سَبِيلِ اللَّهِ وَأَنْتَ صَابِرٌ مُحْتَسِبٌ مُقْبِلٌ غَيْرُ مُدْبِرٍ إِلَّا الدَّيْنَ فَإِنَّ جِبْرِيلَ عَلَيْهِ السَّلَام قَالَ لِي ذَلِكَ

বর্ণনাকারী: হযরত আবু কাতাদা আনসারী (রাঃ)

৩১৬১. কুতায়বা (রাহঃ) ......... আবু কাতাদা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) লোকদের মধ্যে দাঁড়িয়ে তাদের বললেনঃ আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ এবং আল্লাহর প্রতি ঈমান সর্বোত্তম ইবাদত। এক ব্যক্তি দাঁড়িয়ে বললোঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমি যদি আল্লাহর রাস্তায় শহীদ হই, তাহলে কি আল্লাহ তাআলা আমার সব পাপ ক্ষমা করবেন? রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ হ্যাঁ। যদি তুমি ধৈর্যসহকারে সওয়াবের আশায় সামনে অগ্রসর হয়ে পিছু না হটে যুদ্ধ কর, তবে ঋণ ব্যতীত। জিবরাঈল (আলাইহিস সালাম) আমাকে এরূপ বললেন।

৩১৫৮

أَخْبَرَنَا عَبْدُ الْجَبَّارِ بْنُ الْعَلَاءِ قَالَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ عَنْ عَمْرٍو سَمِعَ مُحَمَّدَ بْنَ قَيْسٍ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي قَتَادَةَ عَنْ أَبِيهِ قَالَ جَاءَ رَجُلٌ إِلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَهُوَ عَلَى الْمِنْبَرِ فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَرَأَيْتَ إِنْ ضَرَبْتُ بِسَيْفِي فِي سَبِيلِ اللَّهِ صَابِرًا مُحْتَسِبًا مُقْبِلًا غَيْرَ مُدْبِرٍ حَتَّى أُقْتَلَ أَيُكَفِّرُ اللَّهُ عَنِّي خَطَايَايَ قَالَ نَعَمْ فَلَمَّا أَدْبَرَ دَعَاهُ فَقَالَ هَذَا جِبْرِيلُ يَقُولُ إِلَّا أَنْ يَكُونَ عَلَيْكَ دَيْنٌ

বর্ণনাকারী: হযরত আবু কাতাদা আনসারী (রাঃ)

৩১৬২. আব্দুল জব্বার ইবনে আ’লা (রাহঃ) ......... আব্দুল্লাহ ইবনে ’আবু কাতাদা তার পিতা কাতাদা (রাযিঃ) হতে বর্ণনা করেন। রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) মিম্বরের উপর থাকাবস্থায় এক ব্যক্তি এসে বললোঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমি যদি আমার এ তলোয়ার দিয়ে ধৈর্যসহকারে সওয়াবের নিয়তে সামনে অগ্রসর হয়ে পিছু না হটে আল্লাহর রাস্তায় যুদ্ধ করে শহীদ হই; তাহলে কি আমার পাপসমূহ আল্লাহ ক্ষমা করে দিবেন? তিনি বললেনঃ হ্যাঁ। লোকটি চলে গেলে তাকে ডেকে বললেনঃ ইনি হলেন জিবরাঈল, তিনি বলছেন- তোমার উপর ঋণ থাকলে তা ব্যতীত।

৩৩. আল্লাহর রাস্তায় যা কামনা করবে

مَا يَتَمَنَّى فِي سَبِيلِ اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ

৩১৫৯

أَخْبَرَنَا هَارُونُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ بَكَّارٍ قَالَ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عِيسَى وَهُوَ ابْنُ الْقَاسِمِ بْنِ سُمَيْعٍ قَالَ حَدَّثَنَا زَيْدُ بْنُ وَاقِدٍ عَنْ كَثِيرِ بْنِ مُرَّةَ أَنَّ عُبَادَةَ بْنَ الصَّامِتِ حَدَّثَهُمْ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ مَا عَلَى الْأَرْضِ مِنْ نَفْسٍ تَمُوتُ وَلَهَا عِنْدَ اللَّهِ خَيْرٌ تُحِبُّ أَنْ تَرْجِعَ إِلَيْكُمْ وَلَهَا الدُّنْيَا إِلَّا الْقَتِيلُ فَإِنَّهُ يُحِبُّ أَنْ يَرْجِعَ فَيُقْتَلَ مَرَّةً أُخْرَى

বর্ণনাকারী: হযরত উবাদা ইব্‌নুস সামিত (রাঃ)

৩১৬৩. হারুন ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে বাশার (রাহঃ) ......... কাছীর ইবনে মুররা (রাহঃ) বলেন, উবাদা ইবনে সামিত (রাযিঃ) তাদের নিকট বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ পৃথিবীতে এমন কোন লোক নেই, মৃত্যুবরণ করার পর তার জন্য আল্লাহর নিকট উত্তম অবস্থা হওয়া সত্ত্বেও, তার জন্য পৃথিবী সব কিছু হওয়া সত্ত্বেও সে তোমাদের নিকট প্রত্যাবর্তনের আকাঙ্ক্ষা করবে-শহীদ ব্যতীত। কেননা, সে প্রত্যাবর্তন করে পুনরায় শহীদ হতে পছন্দ করবে।

৩৪. জান্নাতীগণ যা কামনা করবেন

مَا يَتَمَنَّى أَهْلُ الْجَنَّةِ

৩১৬০

أَخْبَرَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ نَافِعٍ قَالَ حَدَّثَنَا بَهْزٌ قَالَ حَدَّثَنَا حَمَّادٌ عَنْ ثَابِتٍ عَنْ أَنَسٍ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يُؤْتَى بِالرَّجُلِ مِنْ أَهْلِ الْجَنَّةِ فَيَقُولُ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ يَا ابْنَ آدَمَ كَيْفَ وَجَدْتَ مَنْزِلَكَ فَيَقُولُ أَيْ رَبِّ خَيْرَ مَنْزِلٍ فَيَقُولُ سَلْ وَتَمَنَّ فَيَقُولُ أَسْأَلُكَ أَنْ تَرُدَّنِي إِلَى الدُّنْيَا فَأُقْتَلَ فِي سَبِيلِكِ عَشْرَ مَرَّاتٍ لِمَا يَرَى مِنْ فَضْلِ الشَّهَادَةِ

বর্ণনাকারী: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

৩১৬৪. আবু বকর ইবনে নাফি (রাহঃ) ......... আনাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ জান্নাতীদের মধ্যে শহীদকে আনা হলে আল্লাহ তাআলা তাকে জিজ্ঞাসা করবেনঃ হে আদম সন্তান! তোমার বাসস্থান কেমন পেলে? সে বলবে, ইয়া আল্লাহ! সর্বোত্তম স্থান। তিনি বললেনঃ আরও কিছু চাও এবং আকাঙ্ক্ষা কর। তখন সে ব্যক্তি বলবেঃ হে আল্লাহ! আমি চাই, আপনি আমাকে পুনরায় পৃথিবীতে পাঠিয়ে দিন। আমি আপনার রাস্তায় দশবার শহীদ হই। কেননা সে শাহাদাতের মর্যাদা দেখেছে।

৩৫. শহীদের কষ্টানুভব

مَا يَجِدُ الشَّهِيدُ مِنْ الْأَلَمِ

৩১৬১

أَخْبَرَنَا عِمْرَانُ بْنُ يَزِيدَ قَالَ حَدَّثَنَا حَاتِمُ بْنُ إِسْمَعِيلَ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَجْلَانَ عَنْ الْقَعْقَاعِ بْنِ حَكِيمٍ عَنْ أَبِي صَالِحٍ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ الشَّهِيدُ لَا يَجِدُ مَسَّ الْقَتْلِ إِلَّا كَمَا يَجِدُ أَحَدُكُمْ الْقَرْصَةَ يُقْرَصُهَا

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৩১৬১. ইমরান ইবনে ইয়াযীদ (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ(ﷺ) বলেছেন, শহীদ ব্যক্তি নিহত হওয়ার কষ্ট পিপীলিকার কামড় অথবা চিমটি কাটার কষ্টের চাইতে বেশী অনুভব করবে না।

৩৬. শাহাদাত কামনা করা

مَسْأَلَةُ الشِّهَادَةِ

৩১৬২

أَخْبَرَنَا يُونُسُ بْنُ عَبْدِ الْأَعْلَى قَالَ حَدَّثَنَا ابْنُ وَهْبٍ قَالَ حَدَّثَنِي عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ شُرَيْحٍ أَنَّ سَهْلَ بْنَ أَبِي أُمَامَةَ بْنِ سَهْلِ بْنِ حُنَيْفٍ حَدَّثَهُ عَنْ أَبِيهِ عَنْ جَدِّهِ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ مَنْ سَأَلَ اللَّهَ عَزَّ وَجَلَّ الشَّهَادَةَ بِصِدْقٍ بَلَّغَهُ اللَّهُ مَنَازِلَ الشُّهَدَاءِ وَإِنْ مَاتَ عَلَى فِرَاشِهِ

বর্ণনাকারী: বিবিধ

৩১৬২. ইউনুস ইবনে আব্দুল আ’লা (রাহঃ) ......... সাহল ইবনে আবু উমামা ইবনে সাহল ইবনে হানীফ তাঁর পিতার মাধ্যমে তাঁর দাদা হতে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ(ﷺ) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি আল্লাহ তাআলার কাছে শাহাদাত কামনা করবে সর্বান্তকরণে, সে তার বিছানায় মৃত্যুবরণ করলেও আল্লাহ তাআলা তাকে শহীদের মর্যাদা দান করবেন।

৩১৬৩

أَخْبَرَنَا يُونُسُ بْنُ عَبْدِ الْأَعْلَى قَالَ حَدَّثَنَا ابْنُ وَهْبٍ قَالَ حَدَّثَنِي عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ شُرَيْحٍ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ ثَعْلَبَةَ الْحَضْرَمِيِّ أَنَّهُ سَمِعَ ابْنَ حُجَيْرَةَ يُخْبِرُ عَنْ عُقْبَةَ بْنِ عَامِرٍ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ خَمْسٌ مَنْ قُبِضَ فِي شَيْءٍ مِنْهُنَّ فَهُوَ شَهِيدٌ الْمَقْتُولُ فِي سَبِيلِ اللَّهِ شَهِيدٌ وَالْغَرِقُ فِي سَبِيلِ اللَّهِ شَهِيدٌ وَالْمَبْطُونُ فِي سَبِيلِ اللَّهِ شَهِيدٌ وَالْمَطْعُونُ فِي سَبِيلِ اللَّهِ شَهِيدٌ وَالنُّفَسَاءُ فِي سَبِيلِ اللَّهِ شَهِيدٌ

বর্ণনাকারী: হযরত উকবা ইবন আমির রাযি.

৩১৬৩. ইউনুস ইবনে আব্দুল আ’লা (রাহঃ) .... উকবা ইবনে আমির (রাযিঃ) বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি পাঁচ প্রকারের যে কোন এক প্রকারে মৃত্যুবরণ করবে- সে শহীদঃ আল্লাহর রাস্তায় নিহত ব্যক্তি শহীদ, আল্লাহর রাস্তায় যে ব্যক্তি নদী ইত্যাদিতে ডুবে মরেছে—সে শহীদ, যে আল্লাহর রাস্তায় পেটের পীড়ায় মরেছে-সে শহীদ, যে ব্যক্তি প্লেগ বা তাউন রোগে মারা যায়-সে শহীদ, আর যে স্ত্রীলোক সন্তান প্রসবের সময় মৃত্যুবরণ করে-সেও শহীদ।

৩১৬৪

أَخْبَرَنِي عَمْرُو بْنُ عُثْمَانَ قَالَ حَدَّثَنَا بَقِيَّةُ قَالَ حَدَّثَنَا بَحِيرٌ عَنْ خَالِدٍ عَنْ ابْنِ أَبِي بِلَالٍ عَنْ الْعِرْبَاضِ بْنِ سَارِيَةَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ يَخْتَصِمُ الشُّهَدَاءُ وَالْمُتَوَفَّوْنَ عَلَى فُرُشِهِمْ إِلَى رَبِّنَا فِي الَّذِينَ يُتَوَفَّوْنَ مِنْ الطَّاعُونِ فَيَقُولُ الشُّهَدَاءُ إِخْوَانُنَا قُتِلُوا كَمَا قُتِلْنَا وَيَقُولُ الْمُتَوَفَّوْنَ عَلَى فُرُشِهِمْ إِخْوَانُنَا مَاتُوا عَلَى فُرُشِهِمْ كَمَا مُتْنَا فَيَقُولُ رَبُّنَا انْظُرُوا إِلَى جِرَاحِهِمْ فَإِنْ أَشْبَهَ جِرَاحُهُمْ جِرَاحَ الْمَقْتُولِينَ فَإِنَّهُمْ مِنْهُمْ وَمَعَهُمْ فَإِذَا جِرَاحُهُمْ قَدْ أَشْبَهَتْ جِرَاحَهُمْ

বর্ণনাকারী: ইরবায ইবনে সারিয়াহ (রাঃ)

৩১৬৪. আমর ইবনে উসমান (রাহঃ) ......... ইবরায ইবনে সারিয়া (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ(ﷺ) বলেছেনঃ শহীদগণ এবং যারা বিছানায় স্বাভাবিক মৃত্যুবরণ করেছে, তারা আমাদের রবের নিকট বাদানুবাদ করবে-মহামারিতে মারা গেছে তার সম্বন্ধে। শহীদগণ বলবেন, আমাদের এ ভাইয়েরা নিহত হয়েছেন, যেভাবে আমরা নিহত হয়েছি। আর বিছানায় মৃত্যুবরণকারীগণ বলবেন আমাদের এ ভাইয়েরা তাদের মৃত্যুবরণ করেছে, যেমন আমরা মৃত্যুবরণ করেছি। তখন আমাদের রব বলবেনঃ তাদের যখমের প্রতি লক্ষ্য কর, যদি তাদের যখম শহীদদের ক্ষতের সদৃশ হয়, তাহলে তারা তাদের মধ্যে হবে এবং তাদের সাথে থাকবে, তখন দেখা যাবে তাদের ক্ষত শহীদের ক্ষতের সদৃশ।

৩৭. আল্লাহর রাস্তায় হত্যাকারী ও নিহত ব্যক্তির জান্নাতে একত্রিত হওয়া

اجْتِمَاعُ الْقَاتِلِ وَالْمَقْتُولِ فِي سَبِيلِ اللَّهِ فِي الْجَنَّةِ

৩১৬৫

أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ مَنْصُورٍ قَالَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ عَنْ أَبِي الزِّنَادِ عَنْ الْأَعْرَجِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ إِنَّ اللَّهَ عَزَّ وَجَلَّ يَعْجَبُ مِنْ رَجُلَيْنِ يَقْتُلُ أَحَدُهُمَا صَاحِبَهُ وَقَالَ مَرَّةً أُخْرَى لَيَضْحَكُ مِنْ رَجُلَيْنِ يَقْتُلُ أَحَدُهُمَا صَاحِبَهُ ثُمَّ يَدْخُلَانِ الْجَنَّةَ

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৩১৬৫. মুহাম্মাদ ইবনে মনসুর (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেছেনঃ আল্লাহ তাআলা দুই ব্যক্তি সম্বন্ধে আশ্চর্যবােধ করবেন, তাদের একজন অন্যজনকে হত্যা করবে। অন্য সময় তিনি বলেছেন, আল্লাহ তাআলা সন্তুষ্টি প্রকাশ করবেন ঐ দুই ব্যক্তি সম্বন্ধে, যাদের একজন তার সাথীকে হত্যা করবে, এরপর তারা উভয়ে জান্নাতে প্রবেশ করবে।

৩৮. হত্যাকারী ও নিহত ব্যক্তির জান্নাতে একত্রিত হওয়া এর ব্যাখ্যা

تَفْسِيرُ ذَلِكَ

৩১৬৬

أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ سَلَمَةَ وَالْحَارِثُ بْنُ مِسْكِينٍ قِرَاءَةً عَلَيْهِ وَأَنَا أَسْمَعُ عَنْ ابْنِ الْقَاسِمِ قَالَ حَدَّثَنِي مَالِكٌ عَنْ أَبِي الزِّنَادِ عَنْ الْأَعْرَجِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ يَضْحَكُ اللَّهُ إِلَى رَجُلَيْنِ يَقْتُلُ أَحَدُهُمَا الْآخَرَ كِلَاهُمَا يَدْخُلُ الْجَنَّةَ يُقَاتِلُ هَذَا فِي سَبِيلِ اللَّهِ فَيُقْتَلُ ثُمَّ يَتُوبُ اللَّهُ عَلَى الْقَاتِلِ فَيُقَاتِلُ فَيُسْتَشْهَدُ

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৩১৬৬. মুহাম্মাদ ইবনে সালামা ইবনে হারিছ ইবনে মিসকীন (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ(ﷺ) বলেছেনঃ আল্লাহ তাআলা দুই ব্যক্তির প্রতি সন্তুষ্টি প্রকাশ করবেন, তাদের একে অন্যকে হত্যা করে-আর উভয়ে জান্নাতে প্রবেশ করে। একজন তো আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ করে শহীদ হয়, এরপর আল্লাহ্ তাআলা হত্যাকারীকে ক্ষমা করে দেন, তারপর সেও জিহাদ করে এবং শহীদ হয়।

৩৯. রাষ্ট্রের সীমানা পাহারা দেয়ার ফযীলত

فَضْلُ الرِّبَاطِ

৩১৬৭

قَالَ الْحَارِثُ بْنُ مِسْكِينٍ قِرَاءَةً عَلَيْهِ وَأَنَا أَسْمَعُ عَنْ ابْنِ وَهْبٍ أَخْبَرَنِي عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ شُرَيْحٍ عَنْ عَبْدِ الْكَرِيمِ بْنِ الْحَارِثِ عَنْ أَبِي عُبَيْدَةَ بْنِ عُقْبَةَ عَنْ شُرَحْبِيلَ بْنِ السِّمْطِ عَنْ سَلْمَانَ الْخَيْرِ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ مَنْ رَابَطَ يَوْمًا وَلَيْلَةً فِي سَبِيلِ اللَّهِ كَانَ لَهُ كَأَجْرِ صِيَامِ شَهْرٍ وَقِيَامِهِ وَمَنْ مَاتَ مُرَابِطًا أُجْرِيَ لَهُ مِثْلُ ذَلِكَ مِنْ الْأَجْرِ وَأُجْرِيَ عَلَيْهِ الرِّزْقُ وَأَمِنَ مِنْ الْفَتَّانِ

বর্ণনাকারী: সালমান ফারিসী (রাঃ)

৩১৬৭. হারিছ ইবনে মিসকীন (রাহঃ) ......... সালমানুল খায়র (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেছেন, যে ব্যক্তি আল্লাহর রাস্তায় একদিন ও একরাত সীমানা পাহারায় কাটায় তার জন্য এক মাস রোযা রাখার ও ইবাদতের সওয়াব রয়েছে। আর যে ব্যক্তি পাহারার কাজে নিয়ােজিত অবস্থায় মৃত্যুবরণ করে, তার জন্যও ঐ সওয়াব রয়েছে। আর তাকে জান্নাত হতে রিযিক পৌছানো হবে, আর সে সমস্ত ফিতনা হতে রক্ষিত থাকবে।

৩১৬৮

أَخْبَرَنَا عَمْرُو بْنُ مَنْصُورٍ قَالَ حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ يُوسُفَ قَالَ حَدَّثَنَا اللَّيْثُ قَالَ حَدَّثَنِي أَيُّوبُ بْنُ مُوسَى عَنْ مَكْحُولٍ عَنْ شُرَحْبِيلَ بْنِ السِّمْطِ عَنْ سَلْمَانَ قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ مَنْ رَابَطَ فِي سَبِيلِ اللَّهِ يَوْمًا وَلَيْلَةً كَانَتْ لَهُ كَصِيَامِ شَهْرٍ وَقِيَامِهِ فَإِنْ مَاتَ جَرَى عَلَيْهِ عَمَلُهُ الَّذِي كَانَ يَعْمَلُ وَأَمِنَ الْفَتَّانَ وَأُجْرِيَ عَلَيْهِ رِزْقُهُ

বর্ণনাকারী: সালমান ফারিসী (রাঃ)

৩১৬৮. আমর ইবনে মনসুর (রাহঃ) ......... সালমান (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে বলতে শুনেছিঃ যে ব্যক্তি আল্লাহর রাস্তায় সীমানা পাহারায় রত থাকে একদিন এবং এক রাত, তার জন্য এক মাস রোজা রাখা ও ইবাদতের সওয়াব রয়েছে। সে ইন্‌তিকাল করলেও তার একাজ জারি থাকবে, আর সে সকল ফিতনা হতে রক্ষিত থাকবে, আর তাকে তার রিযিক পৌঁছানো হবে।

৩১৬৯

أَخْبَرَنَا عَمْرُو بْنُ مَنْصُورٍ قَالَ حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ يُوسُفَ قَالَ حَدَّثَنَا اللَّيْثُ عَنْ زُهْرَةَ بْنِ مَعْبَدٍ قَالَ حَدَّثَنِي أَبُو صَالِحٍ مَوْلَى عُثْمَانَ قَالَ سَمِعْتُ عُثْمَانَ بْنَ عَفَّانَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ يَقُولُ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ رِبَاطُ يَوْمٍ فِي سَبِيلِ اللَّهِ خَيْرٌ مِنْ أَلْفِ يَوْمٍ فِيمَا سِوَاهُ مِنْ الْمَنَازِلِ

বর্ণনাকারী: উসমান ইবনে আফফান (রাঃ)

৩১৬৯. আমর ইবনে মনসুর (রাহঃ) ......... যাহরা ইবনে মা’বাদ (রাহঃ) বলেন, আবু সালিহ মাওলা উছমান আমার কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমি উছমান ইবনে আফফান (রাযিঃ)-কে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে বলতে শুনেছিঃ আল্লাহর রাস্তায় একদিনের সীমানা পাহারায় রত থাকা অন্যান্য স্থানের হাজার দিন হতে উত্তম।

৩১৭০

أَخْبَرَنَا عَمْرُو بْنُ عَلِيٍّ، قَالَ: حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ مَهْدِيٍّ، قَالَ: حَدَّثَنَا ابْنُ الْمُبَارَكِ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو مَعْنٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا زُهْرَةُ بْنُ مَعْبَدٍ، عَنْ أَبِي صَالِحٍ، مَوْلَى عُثْمَانَ، قَالَ: قَالَ عُثْمَانُ بْنُ عَفَّانَ، رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: «يَوْمٌ فِي سَبِيلِ اللَّهِ خَيْرٌ مِنْ أَلْفِ يَوْمٍ فِيمَا سِوَاهُ»

বর্ণনাকারী: উসমান ইবনে আফফান (রাঃ)

৩১৭০। আমর ইবনে আলী (রাহঃ) ......... যাহরা ইবনে মা’বাদ (রাহঃ) বলেন, আবু সালিহ মাওলা উছমান আমার কাছে বর্ণনা করেছেন, যে উছমান ইবনে আফফান (রাযিঃ)- বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে বলতে শুনেছিঃ আল্লাহর রাস্তায় একদিনের সীমানা পাহারায় রত থাকা অন্যান্য স্থানের হাজার দিন হতে উত্তম।

৪০. সমুদ্র-জিহাদের ফযীলত

فَضْلُ الْجِهَادِ فِي الْبَحْرِ

৩১৭১

أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ سَلَمَةَ وَالْحَارِثُ بْنُ مِسْكِينٍ قِرَاءَةً عَلَيْهِ وَأَنَا أَسْمَعُ عَنْ ابْنِ الْقَاسِمِ قَالَ حَدَّثَنِي مَالِكٌ عَنْ إِسْحَقَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي طَلْحَةَ عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ قَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا ذَهَبَ إِلَى قُبَاءَ يَدْخُلُ عَلَى أُمِّ حَرَامٍ بِنْتِ مِلْحَانَ فَتُطْعِمُهُ وَكَانَتْ أُمُّ حَرَامٍ بِنْتُ مِلْحَانَ تَحْتَ عُبَادَةَ بْنِ الصَّامِتِ فَدَخَلَ عَلَيْهَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَوْمًا فَأَطْعَمَتْهُ وَجَلَسَتْ تَفْلِي رَأْسَهُ فَنَامَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ثُمَّ اسْتَيْقَظَ وَهُوَ يَضْحَكُ قَالَتْ فَقُلْتُ مَا يُضْحِكُكَ يَا رَسُولَ اللَّهِ قَالَ نَاسٌ مِنْ أُمَّتِي عُرِضُوا عَلَيَّ غُزَاةً فِي سَبِيلِ اللَّهِ يَرْكَبُونَ ثَبَجَ هَذَا الْبَحْرِ مُلُوكٌ عَلَى الْأَسِرَّةِ أَوْ مِثْلُ الْمُلُوكِ عَلَى الْأَسِرَّةِ شَكَّ إِسْحَقُ فَقُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ ادْعُ اللَّهَ أَنْ يَجْعَلَنِي مِنْهُمْ فَدَعَا لَهَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ثُمَّ نَامَ وَقَالَ الْحَارِثُ فَنَامَ ثُمَّ اسْتَيْقَظَ فَضَحِكَ فَقُلْتُ لَهُ مَا يُضْحِكُكَ يَا رَسُولَ اللَّهِ قَالَ نَاسٌ مِنْ أُمَّتِي عُرِضُوا عَلَيَّ غُزَاةً فِي سَبِيلِ اللَّهِ مُلُوكٌ عَلَى الْأَسِرَّةِ أَوْ مِثْلُ الْمُلُوكِ عَلَى الْأَسِرَّةِ كَمَا قَالَ فِي الْأَوَّلِ فَقُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ ادْعُ اللَّهَ أَنْ يَجْعَلَنِي مِنْهُمْ قَالَ أَنْتِ مِنْ الْأَوَّلِينَ فَرَكِبَتْ الْبَحْرَ فِي زَمَانِ مُعَاوِيَةَ فَصُرِعَتْ عَنْ دَابَّتِهَا حِينَ خَرَجَتْ مِنْ الْبَحْرِ فَهَلَكَتْ

বর্ণনাকারী: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

৩১৭১. মুহাম্মাদ ইবনে সালামা এবং হারিছ ইন মিসকীন (রাহঃ) ......... আনাস ইবনে মালিক (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) যখন কোবায় পদার্পণ করতেন, তখন তিনি মিলহান কন্যা উম্মে হারাসের নিকট যেতেন। তিনি তাকে আহার করাতেন। আর উম্মে হারাম বিনতে মিলহান ছিলেন উবাদা ইবনে সামিতের স্ত্রী। একবার তিনি তার বাড়ীতে গেলে উম্মে হারাম তাকে আহার করালেন এবং তার মাথার উকুন তালাশ করতে বসে গেলেন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) নিদ্রাভিভূত হলেন। এরপর তিনি হাসতে হাসতে জাগ্রত হলেন। উম্মে হারাম বলেন, আমি তাকে বললামঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! আপনার হাসার কারণ কি? তিনি বললেনঃ আমার উম্মতের কিছু সংখ্যক লোককে আমাকে দেখান হলো তারা আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ করার জন্য সমুদ্র পাড়ি দিয়েছে, এবং তারা সিংহাসনে উপবিষ্ট বাদশাহ। রাবী ইসহাক (রাহঃ) বলেন, অথবা তিনি বলেছেনঃ তারা সিংহাসনে উপবিষ্ট বাদশাহর ন্যায়। আমি বললামঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! আল্লাহর নিকট দুআ করুন, তিনি যেন আমাকে তাদের অন্তর্ভুক্ত করেন। রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) তার জন্য দুআ করে আবার নিদ্রা গেলেন।
হারিছ (রাহঃ) বলেন, নিদ্রা যাওয়ার পর তিনি আবার হাসতে হাসতে জাগলেন, আমি তাকে জিজ্ঞাসা করলামঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! আপনার হাসার কারণ কি? তিনি বললেনঃ আমার উম্মতের কিছু লোককে আমাকে দেখান হলো, তারা আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ করেছে, যেমন সিংহাসনের উপর বাদশাহ অথবা বাদশাহর মত, যেভাবে প্রথমবার বলেছিলেন। আমি বললামঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! আল্লাহর নিকট দুআ করুন, তিনি যেন আমাকে এদের মধ্যে শামিল করেন। তিনি বললেনঃ না, তুমি প্রথম দলে থাকবে। উম্মে হারাম মুআবিয়া (রাযিঃ)-এর সময় সমুদ্র পাড়ি দিয়েছিলেন, এরপর সমুদ্র হতে ফিরে আসার পর তিনি তার সওয়ারীর উপর হতে পড়ে শহীদ হন।
৩১৭২

أَخْبَرَنَا يَحْيَى بْنُ حَبِيبِ بْنِ عَرَبِيٍّ قَالَ حَدَّثَنَا حَمَّادٌ عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ يَحْيَى بْنِ حَبَّانَ عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ عَنْ أُمِّ حَرَامٍ بِنْتِ مِلْحَانَ قَالَتْ أَتَانَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَقَالَ عِنْدَنَا فَاسْتَيْقَظَ وَهُوَ يَضْحَكُ فَقُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ بِأَبِي وَأُمِّي مَا أَضْحَكَكَ قَالَ رَأَيْتُ قَوْمًا مِنْ أُمَّتِي يَرْكَبُونَ هَذَا الْبَحْرَ كَالْمُلُوكِ عَلَى الْأَسِرَّةِ قُلْتُ ادْعُ اللَّهَ أَنْ يَجْعَلَنِي مِنْهُمْ قَالَ فَإِنَّكِ مِنْهُمْ ثُمَّ نَامَ ثُمَّ اسْتَيْقَظَ وَهُوَ يَضْحَكُ فَسَأَلْتُهُ فَقَالَ يَعْنِي مِثْلَ مَقَالَتِهِ قُلْتُ ادْعُ اللَّهَ أَنْ يَجْعَلَنِي مِنْهُمْ قَالَ أَنْتِ مِنْ الْأَوَّلِينَ فَتَزَوَّجَهَا عُبَادَةُ بْنُ الصَّامِتِ فَرَكِبَ الْبَحْرَ وَرَكِبَتْ مَعَهُ فَلَمَّا خَرَجَتْ قُدِّمَتْ لَهَا بَغْلَةٌ فَرَكِبَتْهَا فَصَرَعَتْهَا فَانْدَقَّتْ عُنُقُهَا

বর্ণনাকারী: উম্মে হারাম বিনতে মিলহান (রাঃ)

৩১৭২. ইয়াহইয়া ইবনে হাবিব ইবনে আরাবী (রাহঃ) ......... উম্মে হারাম বিনতে মিলহান (রাযিঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) আমাদের নিকট এসে খাওয়া দাওয়ার পর শয়ন করলেন, এরপর হাসতে হাসতে জাগরিত হলেন। আমি বললামঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমার মাতাপিতা আপনার উপর কুরবান হোক, আপনার হাসার কারণ কি? তিনি বললেনঃ আমি আমার উম্মতের একদল লোককে দেখলাম, সমুদ্র পাড়ি দিয়েছে সিংহাসনের উপর বাদশাহর ন্যায়। আমি বললামঃ আল্লাহর নিকট দুআ করুন, তিনি যেন আমাকে এদের অন্তর্ভুক্ত করেন। তিনি বললেনঃ তুমি তাদের মধ্যে থাকবে। এরপর তিনি নিদ্রা গেলেন এবং হাসতে হাসতে জাগরিত হলেন।

আমি তাকে প্রশ্ন করলাম এবং তিনি আগের মত বললেন। আমি বললামঃ আল্লাহর নিকট দুআ করুন, তিনি যেন আমাকে তাদের মধ্যে শামিল করেন। তিনি বললেনঃ তুমি প্রথম দলভুক্ত থাকবে। উবাদা ইবনে সামিত (রাযিঃ) তাকে বিবাহ করলেন, এরপর সমুদ্র পাড়ি দিলেন। তার সাথে তার স্ত্রীও সমুদ্রে পাড়ি দিলেন। যখন সমুদ্র হতে ফিরে এলে তার জন্য একটি খচ্চর আনা হলো, তিনি তাতে আরোহণ করলেন; খচ্চর তাঁকে ফেলে দিলে তার ঘাড় ভেঙ্গে যায়, ফলে তিনি মারা যান।

৪১. হিন্দুস্থানের জিহাদ

غَزْوَةُ الْهِنْدِ

৩১৭৩

أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ عُثْمَانَ بْنِ حَكِيمٍ قَالَ حَدَّثَنَا زَكَرِيَّا بْنُ عَدِيٍّ قَالَ حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ عَمْرٍو عَنْ زَيْدِ بْنِ أَبِي أُنَيْسَةَ عَنْ سَيَّارٍ ح قَالَ وَأَنْبَأَنَا هُشَيْمٌ عَنْ سَيَّارٍ عَنْ جَبْرِ بْنِ عَبِيدَةَ وَقَالَ عُبَيْدُ اللَّهِ عَنْ جُبَيْرٍ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ وَعَدَنَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ غَزْوَةَ الْهِنْدِ فَإِنْ أَدْرَكْتُهَا أُنْفِقْ فِيهَا نَفْسِي وَمَالِي فَإِنْ أُقْتَلْ كُنْتُ مِنْ أَفْضَلِ الشُّهَدَاءِ وَإِنْ أَرْجِعْ فَأَنَا أَبُو هُرَيْرَةَ الْمُحَرَّرُ

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৩১৭৩. আহমদ ইবনে উছমান ইবনে হাকিম (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদেরকে হিন্দুস্থানের জিহাদের ওয়াদা দিয়েছিলেন। যদি আমি ঐ যুদ্ধের সুযোগ পাই, তা হলে আমি তাতে আমার জান-মাল ব্যয় করব। আর যদি আমি তাতে নিহত হই, তা হলে আমি শহীদের মধ্যে উত্তম সাব্যস্ত হব। আর যদি আমি ফিরে আসি, তা হলে আমি আবু হুরায়রা হবাে আযাদ বা জাহান্নাম হতে মুক্ত।

৩১৭৪

حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ إِسْمَعِيلَ بْنِ إِبْرَاهِيمَ قَالَ حَدَّثَنَا يَزِيدُ قَالَ أَنْبَأَنَا هُشَيْمٌ قَالَ حَدَّثَنَا سَيَّارٌ أَبُو الْحَكَمِ عَنْ جَبْرِ بْنِ عَبِيدَةَ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ وَعَدَنَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ غَزْوَةَ الْهِنْدِ فَإِنْ أَدْرَكْتُهَا أُنْفِقْ فِيهَا نَفْسِي وَمَالِي وَإِنْ قُتِلْتُ كُنْتُ أَفْضَلَ الشُّهَدَاءِ وَإِنْ رَجَعْتُ فَأَنَا أَبُو هُرَيْرَةَ الْمُحَرَّرُ

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৩১৭৪. মুহাম্মাদ ইবনে ইসমাঈল ইবনে ইবরাহীম (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদেরকে হিন্দুস্থানের জিহাদের আশ্বাস দিয়েছেন। আমি তা পেলে তাতে আমার জান মাল উৎসর্গ করব। আর যদি আমি নিহত হই, তবে মর্যাদাবান শহীদ বলে গণ্য হব, আর যদি ফিরে আসি, তা হলে আমি আবু হুরায়রা হব আযাদ বা জাহান্নাম হতে মুক্ত।

৩১৭৫

أَخْبَرَنِي مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ الرَّحِيمِ قَالَ حَدَّثَنَا أَسَدُ بْنُ مُوسَى قَالَ حَدَّثَنَا بَقِيَّةُ قَالَ حَدَّثَنِي أَبُو بَكْرٍ الزُّبَيْدِيُّ عَنْ أَخِيهِ مُحَمَّدِ بْنِ الْوَلِيدِ عَنْ لُقْمَانَ بْنِ عَامِرٍ عَنْ عَبْدِ الْأَعْلَى بْنِ عَدِيٍّ الْبَهْرَانِيِّ عَنْ ثَوْبَانَ مَوْلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عِصَابَتَانِ مِنْ أُمَّتِي أَحْرَزَهُمَا اللَّهُ مِنْ النَّارِ عِصَابَةٌ تَغْزُو الْهِنْدَ وَعِصَابَةٌ تَكُونُ مَعَ عِيسَى ابْنِ مَرْيَمَ عَلَيْهِمَا السَّلَام

বর্ণনাকারী: হযরত ছাওবান (রাঃ)

৩১৭৫. মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে আব্দুর রহীম (রাহঃ) ......... রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর গোলাম ছাওবান (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ আমার উম্মতের দুটি দল আল্লাহ্ তাআলা তাদেরকে জাহান্নাম হতে পবিত্রাণ দান করবেন, একদল যারা হিন্দুস্থানের জিহাদ করবে, আর একদল যারা ঈসা ইবনে মারিয়াম (আলাইহিস সালাম) এর সঙ্গে থাকবে।

৪২. তুরস্ক ও হাবশার যুদ্ধ

غَزْوَةُ التُّرْكِ وَالْحَبَشَةِ

৩১৭৬

أَخْبَرَنَا عِيسَى بْنُ يُونُسَ قَالَ حَدَّثَنَا ضَمْرَةُ عَنْ أَبِي زُرْعَةَ السَّيْبَانِيِّ عَنْ أَبِي سُكَيْنَةَ رَجُلٍ مِنْ الْمُحَرَّرِينَ عَنْ رَجُلٍ مَنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ لَمَّا أَمَرَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِحَفْرِ الْخَنْدَقِ عَرَضَتْ لَهُمْ صَخْرَةٌ حَالَتْ بَيْنَهُمْ وَبَيْنَ الْحَفْرِ فَقَامَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَأَخَذَ الْمِعْوَلَ وَوَضَعَ رِدَاءَهُ نَاحِيَةَ الْخَنْدَقِ وَقَالَ تَمَّتْ كَلِمَةُ رَبِّكَ صِدْقًا وَعَدْلًا لَا مُبَدِّلَ لِكَلِمَاتِهِ وَهُوَ السَّمِيعُ الْعَلِيمُ فَنَدَرَ ثُلُثُ الْحَجَرِ وَسَلْمَانُ الْفَارِسِيُّ قَائِمٌ يَنْظُرُ فَبَرَقَ مَعَ ضَرْبَةِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بَرْقَةٌ ثُمَّ ضَرَبَ الثَّانِيَةَ وَقَالَ تَمَّتْ كَلِمَةُ رَبِّكَ صِدْقًا وَعَدْلًا لَا مُبَدِّلَ لِكَلِمَاتِهِ وَهُوَ السَّمِيعُ الْعَلِيمُ فَنَدَرَ الثُّلُثُ الْآخَرُ فَبَرَقَتْ بَرْقَةٌ فَرَآهَا سَلْمَانُ ثُمَّ ضَرَبَ الثَّالِثَةَ وَقَالَ تَمَّتْ كَلِمَةُ رَبِّكَ صِدْقًا وَعَدْلًا لَا مُبَدِّلَ لِكَلِمَاتِهِ وَهُوَ السَّمِيعُ الْعَلِيمُ فَنَدَرَ الثُّلُثُ الْبَاقِي وَخَرَجَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَأَخَذَ رِدَاءَهُ وَجَلَسَ قَالَ سَلْمَانُ يَا رَسُولَ اللَّهِ رَأَيْتُكَ حِينَ ضَرَبْتَ مَا تَضْرِبُ ضَرْبَةً إِلَّا كَانَتْ مَعَهَا بَرْقَةٌ قَالَ لَهُ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَا سَلْمَانُ رَأَيْتَ ذَلِكَ فَقَالَ إِي وَالَّذِي بَعَثَكَ بِالْحَقِّ يَا رَسُولَ اللَّهِ قَالَ فَإِنِّي حِينَ ضَرَبْتُ الضَّرْبَةَ الْأُولَى رُفِعَتْ لِي مَدَائِنُ كِسْرَى وَمَا حَوْلَهَا وَمَدَائِنُ كَثِيرَةٌ حَتَّى رَأَيْتُهَا بِعَيْنَيَّ قَالَ لَهُ مَنْ حَضَرَهُ مِنْ أَصْحَابِهِ يَا رَسُولَ اللَّهِ ادْعُ اللَّهَ أَنْ يَفْتَحَهَا عَلَيْنَا وَيُغَنِّمَنَا دِيَارَهُمْ وَيُخَرِّبَ بِأَيْدِينَا بِلَادَهُمْ فَدَعَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِذَلِكَ ثُمَّ ضَرَبْتُ الضَّرْبَةَ الثَّانِيَةَ فَرُفِعَتْ لِي مَدَائِنُ قَيْصَرَ وَمَا حَوْلَهَا حَتَّى رَأَيْتُهَا بِعَيْنَيَّ قَالُوا يَا رَسُولَ اللَّهِ ادْعُ اللَّهَ أَنْ يَفْتَحَهَا عَلَيْنَا وَيُغَنِّمَنَا دِيَارَهُمْ وَيُخَرِّبَ بِأَيْدِينَا بِلَادَهُمْ فَدَعَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِذَلِكَ ثُمَّ ضَرَبْتُ الثَّالِثَةَ فَرُفِعَتْ لِي مَدَائِنُ الْحَبَشَةِ وَمَا حَوْلَهَا مِنْ الْقُرَى حَتَّى رَأَيْتُهَا بِعَيْنَيَّ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عِنْدَ ذَلِكَ دَعُوا الْحَبَشَةَ مَا وَدَعُوكُمْ وَاتْرُكُوا التُّرْكَ مَا تَرَكُوكُمْ

বর্ণনাকারী: বিবিধ

৩১৭৬. ঈসা ইবনে ইউনুস (রাহঃ) ......... রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) এর একজন সাহাবী বলেনঃযখন রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) পরীখা খননের আদেশ করলেন, তখন একটি কঠিন প্রস্তরখণ্ড দেখা গেল, যা খনন কার্যে ব্যাঘাত সৃষ্টি করলো। এরপর রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বেলচা (কোদাল জাতীয় যন্ত্র বিশেষ) নিয়ে অগ্রসর হলেন এবং তার চাদর পরীখার পাশে রাখলেন, তিনি বললেনঃ
تَمَّتْ كَلِمَةُ رَبِّكَ صِدْقًا وَعَدْلًا لَا مُبَدِّلَ لِكَلِمَاتِهِ وَهُوَ السَّمِيعُ الْعَلِيمُ
অর্থঃ সত্য ও ন্যায়ের দিক দিয়ে আপনার রবের বাণী সম্পূর্ণ এবং তাঁর বাক্য পরিবর্তন করার কেউ নেই, তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ। (সূরা আন’আমঃ ১১৫)
তাতে ঐ প্রস্তর খণ্ডের এক তৃতীয়াংশ পড়ে গেল। আর সালমান ফারসী সেখানে দণ্ডায়মান ছিলেন। তিনি দেখলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) এর বেলচা মারার সঙ্গে সঙ্গে একটি বিদ্যুৎ চমকিত হলো। এরপর তিনি তিনি দ্বিতীয়বার আঘাত করলেন এবং বললেনঃ
تَمَّتْ كَلِمَةُ رَبِّكَ صِدْقًا وَعَدْلًا لَا مُبَدِّلَ لِكَلِمَاتِهِ وَهُوَ السَّمِيعُ الْعَلِيمُ
তাতে আরো এক তৃতীয়াংশ পড়ে গেল এবং একটি বিদ্যুৎ চমকিয়ে উঠলো, সালমান ফারসী (রাযিঃ) তাও দেখতে পেলেন, তারপর তিনি তৃতীয়বার তাতে আঘাত করলেন এবং বললেনঃ
تَمَّتْ كَلِمَةُ رَبِّكَ صِدْقًا وَعَدْلًا لَا مُبَدِّلَ لِكَلِمَاتِهِ وَهُوَ السَّمِيعُ الْعَلِيمُ
এতে অবশিষ্ট তৃতীয়াংশ পড়ে গেল। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বের হয়ে আসলেন, এবং তার চাদরখানা নিয়ে বসে পড়লেন সালমান ফারসী (রাযিঃ) বললেনঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! আপনি যখন আঘাত করছিলেন, আমি আপনার প্রতি লক্ষ্য করছিলাম, দেখলাম আপনি যখনই তাতে আঘাত করছিলেন, আর তা হতে বিদ্যুৎ চমকিত হচ্ছিল। রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বললেনঃ হে সালমান! আমিও তা দেখেছি। সালমান (রাযিঃ) বললেনঃ হ্যাঁ, ইয়া রাসূলাল্লাহ! ঐ সত্তার শপথ! যিনি আপনাকে সত্য সহকারে প্রেরণ করেছেন। তিনি বললেনঃ আমি যখন প্রথমবার আঘাত করেছিলাম, তখন কিসরার শহরসমূহ এবং এর চতুম্পার্শ্বস্থ স্থানসমূহ এবং আরো বহু শহর আমার সামনে প্রকাশিত হলো। আমি তা স্বচক্ষে দর্শন করেছি। উপস্থিত সাহাবীবৃন্দ আরয করলেনঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! আল্লাহ তাআলার নিকট দুআ করুন, তিনি যেন আমাদের এ সকল শহরের বিজয় দান করেন এবং তাদের আবাসকে আমাদের গনিমত করে দেন, আর আমাদের হাতে তাদের দেশ ধ্বংস করে দেন। রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) এর জন্য দুআ করলেন।
তিনি বললেনঃ এরপর আমি দ্বিতীয়বার আঘাত করলাম। তাতে রোম-সম্রাটের শহরসমূহ এবং এর পার্শ্বস্থ স্থানসমূহ দেখানো হলো। আমি তা স্বচক্ষে দর্শন করলাম। তারা বললেনঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! আল্লাহ্ তাআলার নিকট দুআ করুন, তিনি যেন আমাদের এ সকল শহরের বিজয় দান করেন আর তাদের বাড়ী ঘর আমরা গনিমতরূপে প্রাপ্ত হই এবং তাদের বাড়ী ঘর আমাদের হাতে ধ্বংস হয়। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর জন্য দুআ করলেন। তিনি বললেনঃ এরপর আমি তৃতীয়বার আঘাত করলাম, আমাকে হাবশার শহরসমূহ এবং এর আশে পাশের গ্রামসমূহ দেখান হলো। আমি তা স্বচক্ষে দেখলাম। এ সময় রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বললেনঃ তোমরা হাবশীদের সাথে যুদ্ধ করো না, যতক্ষণ না তারা তুর্কীদের নিয়ে তোমাদের সাথে যুদ্ধ করে। আর তোমরা তুর্কীদের সাথেও যুদ্ধ করো না, যতক্ষণ না তারা তোমাদের সাথে যুদ্ধ করে।
৩১৭৭

أَخْبَرَنَا قُتَيْبَةُ قَالَ حَدَّثَنَا يَعْقُوبُ عَنْ سُهَيْلٍ عَنْ أَبِيهِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ لَا تَقُومُ السَّاعَةُ حَتَّى يُقَاتِلَ الْمُسْلِمُونَ التُّرْكَ قَوْمًا وُجُوهُهُمْ كَالْمَجَانِّ الْمُطْرَقَةِ يَلْبَسُونَ الشَّعَرَ وَيَمْشُونَ فِي الشَّعَرِ

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৩১৭৭, কুতায়বা (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ কিয়ামত সংঘটিত হবে না, যে পর্যন্ত না মুসলমানরা তুর্কীদের সাথে যুদ্ধ করবে, যাদের চেহারা হবে ঢালের ন্যায়, তারা পশমের পােষাক পরিধান করবে এবং পশমের জুতা পরিধান করে চলাচল করবে।

৪৩. দুর্বলের সাহায্য গ্রহণ

الِاسْتِنْصَارُ بِالضَّعِيفِ

৩১৭৮

أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ إِدْرِيسَ قَالَ حَدَّثَنَا عُمَرُ بْنُ حَفْصِ بْنِ غِيَاثٍ عَنْ أَبِيهِ عَنْ مِسْعَرٍ عَنْ طَلْحَةَ بْنِ مُصَرِّفٍ عَنْ مُصْعَبِ بْنِ سَعْدٍ عَنْ أَبِيهِ أَنَّهُ ظَنَّ أَنَّ لَهُ فَضْلًا عَلَى مَنْ دُونَهُ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ نَبِيُّ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِنَّمَا يَنْصُرُ اللَّهُ هَذِهِ الْأُمَّةَ بِضَعِيفِهَا بِدَعْوَتِهِمْ وَصَلَاتِهِمْ وَإِخْلَاصِهِمْ

বর্ণনাকারী: মুসআব ইবনে সা‘দ (রহঃ)

৩১৭৮. মুহাম্মাদ ইবনে ইদ্রীস (রাহঃ) ......... মুসআব ইবনে সা’দ (রাহঃ) তাঁর পিতার মাধ্যমে বর্ণনা করেন, তিনি মনে করতেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) এর উম্মতের মধ্যে যাঁরা তা হতে নিম্নশ্রেণীর, তাদের উপর তার মর্যাদা রয়েছে, রাসূলুল্লাহ(ﷺ) বলেলেনঃ আল্লাহ্ তাআলা এ উম্মতকে সাহায্য করবেন তার দুর্বলদের দ্বারা তাদের দুআ, নামায এবং ইখলাসের দরুন।

৩১৭৯

أَخْبَرَنَا يَحْيَى بْنُ عُثْمَانَ قَالَ حَدَّثَنَا عُمَرُ بْنُ عَبْدِ الْوَاحِدِ قَالَ حَدَّثَنَا ابْنُ جَابِرٍ قَالَ حَدَّثَنِي زَيْدُ بْنُ أَرْطَاةَ الْفَزَارِيُّ عَنْ جُبَيْرِ بْنِ نُفَيْرٍ الْحَضْرَمِيِّ أَنَّهُ سَمِعَ أَبَا الدَّرْدَاءِ يَقُولُ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ ابْغُونِي الضَّعِيفَ فَإِنَّكُمْ إِنَّمَا تُرْزَقُونَ وَتُنْصَرُونَ بِضُعَفَائِكُمْ

বর্ণনাকারী: হযরত আবুদ দারদা রাযি.

৩১৭৯. ইয়াহইয়া ইবনে উছমান (রাহঃ) ......... জুবায়র ইবনে নুফায়র হাযরামী (রাহঃ) বলেন, তিনি আবুদ্দারদা (রাযিঃ)-কে বলতে শুনেছেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে বলতে শুনেছিঃ আমার জন্য দুবর্লদের অন্বেষণ কর, কেননা তোমরা রিযিক পাচ্ছ এবং সাহায্য পাচ্ছ তোমাদের দুর্বলদের দ্বারা।

৪৪. যে ব্যক্তি যোদ্ধার জন্য সামান দান করে

فَضْلُ مَنْ جَهَّزَ غَازِيًا

৩১৮০

أَخْبَرَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ دَاوُدَ وَالْحَارِثُ بْنُ مِسْكِينٍ قِرَاءَةً عَلَيْهِ وَأَنَا أَسْمَعُ عَنْ ابْنِ وَهْبٍ قَالَ أَخْبَرَنِي عَمْرُو بْنُ الْحَارِثِ عَنْ بُكَيْرِ بْنِ الْأَشَجِّ عَنْ بُسْرِ بْنِ سَعِيدٍ عَنْ زَيْدِ بْنِ خَالِدٍ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ مَنْ جَهَّزَ غَازِيًا فِي سَبِيلِ اللَّهِ فَقَدْ غَزَا وَمَنْ خَلَفَهُ فِي أَهْلِهِ بِخَيْرٍ فَقَدْ غَزَا

বর্ণনাকারী: যায়দ ইবনে খালিদ জুহানী (রাঃ)

৩১৮০. সুলায়মান ইবনে দাউদ এবং হারিছ ইবনে মিসকীন (রাহঃ) .... যায়িদ ইবনে খালিদ (রাযিঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) ই বলেছেন : যে ব্যক্তি আল্লাহর রাস্তার কোন যোদ্ধাকে সামান দান করবে, সে যেন নিজেই যুদ্ধ করলো। আর যে ব্যক্তি কোন যোদ্ধার পরিবারে তার মঙ্গলের জন্য স্থলাভিষিক্ত হলো, সেও যেন যুদ্ধে যোগদান করলো।

৩১৮১

أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ مَهْدِيٍّ قَالَ حَدَّثَنَا حَرْبُ بْنُ شَدَّادٍ عَنْ يَحْيَى عَنْ أَبِي سَلَمَةَ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ عَنْ بُسْرِ بْنِ سَعِيدٍ عَنْ زَيْدِ بْنِ خَالِدٍ الْجُهَنِيِّ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَنْ جَهَّزَ غَازِيًا فَقَدْ غَزَا وَمَنْ خَلَفَ غَازِيًا فِي أَهْلِهِ بِخَيْرٍ فَقَدْ غَزَا

বর্ণনাকারী: যায়দ ইবনে খালিদ জুহানী (রাঃ)

৩১৮৪. মুহাম্মাদ ইবনে মুছান্না (রাহঃ) ......... যায়দ ইবনে খালিদ জুহানী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি কোন যোদ্ধাকে যুদ্ধের সামান দান করলো, সে যেন যুদ্ধ করলো, আর যে ব্যক্তি কোন যোদ্ধার পরিবারে তার স্থলাভিষিক্ত হলো পরিবারের মঙ্গলের জন্য; সেও যেন যুদ্ধ করলো।

৩১৮২

أَخْبَرَنَا إِسْحَقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ قَالَ حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ إِدْرِيسَ قَالَ سَمِعْتُ حُصَيْنَ بْنَ عَبْدِ الرَّحْمَنِ يُحَدِّثُ عَنْ عَمْرِو بْنِ جَاوَانَ عَنْ الْأَحْنَفِ بْنِ قَيْسٍ قَالَ خَرَجْنَا حُجَّاجًا فَقَدِمْنَا الْمَدِينَةَ وَنَحْنُ نُرِيدُ الْحَجَّ فَبَيْنَا نَحْنُ فِي مَنَازِلِنَا نَضَعُ رِحَالَنَا إِذْ أَتَانَا آتٍ فَقَالَ إِنَّ النَّاسَ قَدْ اجْتَمَعُوا فِي الْمَسْجِدِ وَفَزِعُوا فَانْطَلَقْنَا فَإِذَا النَّاسُ مُجْتَمِعُونَ عَلَى نَفَرٍ فِي وَسَطِ الْمَسْجِدِ وَفِيهِمْ عَلِيٌّ وَالزُّبَيْرُ وَطَلْحَةُ وَسَعْدُ بْنُ أَبِي وَقَّاصٍ فَإِنَّا لَكَذَلِكَ إِذْ جَاءَ عُثْمَانُ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ عَلَيْهِ مُلَاءَةٌ صَفْرَاءُ قَدْ قَنَّعَ بِهَا رَأْسَهُ فَقَالَ أَهَاهُنَا طَلْحَةُ أَهَاهُنَا الزُّبَيْرُ أَهَاهُنَا سَعْدٌ قَالُوا نَعَمْ قَالَ فَإِنِّي أَنْشُدُكُمْ بِاللَّهِ الَّذِي لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ أَتَعْلَمُونَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ مَنْ يَبْتَاعُ مِرْبَدَ بَنِي فُلَانٍ غَفَرَ اللَّهُ لَهُ فَابْتَعْتُهُ بِعِشْرِينَ أَلْفًا أَوْ بِخَمْسَةٍ وَعِشْرِينَ أَلْفًا فَأَتَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَأَخْبَرْتُهُ فَقَالَ اجْعَلْهُ فِي مَسْجِدِنَا وَأَجْرُهُ لَكَ قَالُوا اللَّهُمَّ نَعَمْ قَالَ أَنْشُدُكُمْ بِاللَّهِ الَّذِي لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ أَتَعْلَمُونَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ مَنْ ابْتَاعَ بِئْرَ رُومَةَ غَفَرَ اللَّهُ لَهُ فَابْتَعْتُهَا بِكَذَا وَكَذَا فَأَتَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقُلْتُ قَدْ ابْتَعْتُهَا بِكَذَا وَكَذَا قَالَ اجْعَلْهَا سِقَايَةً لَلْمُسْلِمِينَ وَأَجْرُهَا لَكَ قَالُوا اللَّهُمَّ نَعَمْ قَالَ أَنْشُدُكُمْ بِاللَّهِ الَّذِي لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ أَتَعْلَمُونَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ نَظَرَ فِي وُجُوهِ الْقَوْمِ فَقَالَ مَنْ يُجَهِّزُ هَؤُلَاءِ غَفَرَ اللَّهُ لَهُ يَعْنِي جَيْشَ الْعُسْرَةِ فَجَهَّزْتُهُمْ حَتَّى لَمْ يَفْقِدُوا عِقَالًا وَلَا خِطَامًا فَقَالُوا اللَّهُمَّ نَعَمْ قَالَ اللَّهُمَّ اشْهَدْ اللَّهُمَّ اشْهَدْ اللَّهُمَّ اشْهَدْ

বর্ণনাকারী: আহনাফ ইবনে কায়স (রহঃ)

৩১৮৫. ইসহাক ইবনে ইবরাহীম (রাহঃ) ......... আহনাফ ইন কায়স (রাহঃ) বলেন, আমরা হজ্জের উদ্দেশ্যে বের হয়ে মদীনায় উপনীত হলাম। হজ্জে গমনের জন্য আমরা আমাদের মনযিলে পৌঁছে আমাদের হাওদা নামাচ্ছিলাম, এমন সময় আমাদের নিকট এক আগন্তুকের আবির্ভাব হলো। সে বললোঃ লোক মসজিদে একত্রিত হয়েছে। তারা ভীত হয়ে পড়েছে। আমরা সেখানে গিয়ে দেখলাম, একদল লোকের চতুর্দিকে কিছু লোক একত্রিত হয়ে আছে মসজিদের মধ্যস্থলে। তাদের মধ্যে আলী, যুবায়র, তালহা এবং সা’দ ইবনে আবু ওয়াক্কাস (রাযিঃ) রয়েছেন। আমরা এ অবস্থায় ছিলাম, এমন সময় উছমান (রাযিঃ) আগমন করলেন, তার পরনে রয়েছে হলুদ বর্ণের একখানা কাপড়, তা দ্বারা তিনি তাঁর মাথা ঢেকে রেখেছেন। তিনি বললেনঃ এখানে কি তালহা (রাযিঃ) আছেন? এখানে কি যুবায়র (রাযিঃ) আছেন? এখানে কি সা’দ (রাযিঃ) আছেন? সকলে বললেনঃ হ্যাঁ।

তিনি বললেনঃ আমি ঐ আল্লাহর কসম দিয়ে তোমদেরকে জিজ্ঞাসা করছি, যিনি ব্যতীত কোন ইলাহ নাই। তোমরা কি অবগত আছ যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ অমুক গোত্রের উট বাঁধার বা খেজুর শুকাবার স্থানটি যে খরীদ করবে, আল্লাহ তাআলা তাকে ক্ষমা করবেন। এরপর আমি তা বিশ হাজার অথবা পঁচিশ হাজায় টাকার খরিদ করেছি। আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর খেদমতে এসে তাঁকে তার সংবাদ দিলে তিনি বললেনঃ তা আমাদের মসজিদের জন্য দান কর, আর এর সওয়াব তোমারই থাকবে। তাঁরা বললেনঃ হ্যাঁ।

তিনি আবার বললেনঃ যে আল্লাহ ব্যতীত কোন ইলাহ নেই, সেই আল্লাহর কসম দিয়ে তোমাদেরকে জিজ্ঞাসা করছি, তোমরা কি অবগত আছ যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি রুমা নামক কূপটি খরিদ করবে, আল্লাহ তাআলা তাকে ক্ষমা করবেন? আমি তা এত এত মূল্যে খরিদ করে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট এসে তাকে সংবাদ দিলে তিনি বললেনঃ তুমি তা মুসলমানদের পানি-পানের স্থান করে দাও, তার সওয়াব হবে তোমার। তারা বললেনঃ আল্লাহুম্মা, হ্যাঁ।

তিনি আবার বললেনঃ তোমাদের ঐ আল্লাহর কসম দিয়ে বলছি তোমরা কি অবগত আছ যে, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) উপস্থিত লোকদের দিকে লক্ষ্য করে বললেনঃ এ জায়শে - উসরাতকে (তাবুকের সেনাবাহিনীকে) যে ব্যক্তি যুদ্ধের সামান দিয়ে সজ্জিত করবে, তাকে আল্লাহ ক্ষমা করবেন? আমি তাদেরকে এমনভাবে সজ্জিত করলাম যে, কেউ উটের একটি রশিও কম পায়নি। তারা বললেনঃ আল্লাহর কসম, হ্যাঁ। তখন তিনি বললেনঃ হে আল্লাহ্। তুমি সাক্ষী থাক; হে আল্লাহ তুমি সাক্ষী থাক; হে আল্লাহ তুমি সাক্ষী থাক।

৪৫. আল্লাহর রাস্তায় ব্যয় করা

فَضْلُ النَّفَقَةِ فِي سَبِيلِ اللَّه تَعَالَى

৩১৮৩

أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ سَلَمَةَ وَالْحَارِثُ بْنُ مِسْكِينٍ قِرَاءَةً عَلَيْهِ وَأَنَا أَسْمَعُ عَنْ ابْنِ الْقَاسِمِ قَالَ حَدَّثَنِي مَالِكٌ عَنْ ابْنِ شِهَابٍ عَنْ حُمَيْدِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ مَنْ أَنْفَقَ زَوْجَيْنِ فِي سَبِيلِ اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ نُودِيَ فِي الْجَنَّةِ يَا عَبْدَ اللَّهِ هَذَا خَيْرٌ فَمَنْ كَانَ مِنْ أَهْلِ الصَّلَاةِ دُعِيَ مِنْ بَابِ الصَّلَاةِ وَمَنْ كَانَ مِنْ أَهْلِ الْجِهَادِ دُعِيَ مِنْ بَابِ الْجِهَادِ وَمَنْ كَانَ مِنْ أَهْلِ الصَّدَقَةِ دُعِيَ مِنْ بَابِ الصَّدَقَةِ وَمَنْ كَانَ مِنْ أَهْلِ الصِّيَامِ دُعِيَ مِنْ بَابِ الرَّيَّانِ فَقَالَ أَبُو بَكْرٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ هَلْ عَلَى مَنْ دُعِيَ مِنْ هَذِهِ الْأَبْوَابِ مِنْ ضَرُورَةٍ فَهَلْ يُدْعَى أَحَدٌ مِنْ هَذِهِ الْأَبْوَابِ كُلِّهَا قَالَ نَعَمْ وَأَرْجُو أَنْ تَكُونَ مِنْهُمْ

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৩১৮৬. মুহাম্মাদ ইবনে সালামা এবং হারিছ ইবনে মিসকীন (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) বলেনঃ রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি তার সম্পদ হতে দু’প্রকার মাল আল্লাহর রাস্তায় ব্যয় করবে, তাকে জান্নাতে ডাকা হবেঃ হে আল্লাহর বান্দা! এ তোমার জন্য উত্তম। যে ব্যক্তি নামাযী হবে, তাকে নামাযের দরজা দিয়ে ডাকা হবে, আর যে ব্যক্তি মুজাহিদদের মধ্যে শামিল হবে, তাকে জিহাদের দরজা দিয়ে ডাকা হবে। আর যে ব্যক্তি আহলে সাদ্‌কা অর্থাৎ দাতা হবে, তাকে সাদ্‌কার দরজা দিয়ে ডাকা হবে। আর যে ব্যক্তি রোযাদার হবে, তাকে ’রাইয়ান’ নামক দরজা দিয়ে ডাকা হবে। আবু বকর (রাযিঃ) বলেনঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! যে ব্যক্তিকে এসকল দরজা দিয়ে ডাকা হবে, তার আর কোন প্রয়োজন থাকবে কি? কাউকেও কি এ সকল দরজা হতে ডাকা হবে? তিনি বললেনঃ হ্যাঁ, এবং আমি আশা করি আপনি তাদের মধ্যে হবেন।

৩১৮৪

أَخْبَرَنَا عَمْرُو بْنُ عُثْمَانَ قَالَ حَدَّثَنَا بَقِيَّةُ عَنْ الْأَوْزَاعِيِّ قَالَ حَدَّثَنِي يَحْيَى عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ قَالَ أَنْبَأَنَا أَبُو سَلمَةَ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَنْ أَنْفَقَ زَوْجَيْنِ فِي سَبِيلِ اللَّهِ دَعَتْهُ خَزَنَةُ الْجَنَّةِ مِنْ أَبْوَابِ الْجَنَّةِ يَا فُلَانُ هَلُمَّ فَادْخُلْ فَقَالَ أَبُو بَكْرٍ يَا رَسُولَ اللَّهِ ذَاكَ الَّذِي لَا تَوَى عَلَيْهِ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِنِّي لَأَرْجُو أَنْ تَكُونَ مِنْهُمْ

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৩১৮৭. আমর ইবনে উছমান (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি আল্লাহর রাস্তায় দু’প্রকার দান করবে,তাকে জান্নাতের দ্বাররক্ষী ফিরিশতা জান্নাতের দরজাসমূহ হতে ডাকবে ও হে অমুক! এদিকে এসাে এবং জান্নাতে প্রবেশ কর। আবু বকর (রাযিঃ) বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! ঐ ব্যক্তির তো কোন প্রকার ধ্বংস নেই। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ আমি আশা করি আপনি তাদের মধ্যে হবেন।

৩১৮৫

أَخْبَرَنَا إِسْمَعِيلُ بْنُ مَسْعُودٍ قَالَ حَدَّثَنَا بِشْرُ بْنُ الْمُفَضَّلِ عَنْ يُونُسَ عَنْ الْحَسَنِ عَنْ صَعْصَعَةَ بْنِ مُعَاوِيَةَ قَالَ لَقِيتُ أَبَا ذَرٍّ قَالَ قُلْتُ حَدِّثْنِي قَالَ نَعَمْ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَا مِنْ عَبْدٍ مُسْلِمٍ يُنْفِقُ مِنْ كُلِّ مَالٍ لَهُ زَوْجَيْنِ فِي سَبِيلِ اللَّهِ إِلَّا اسْتَقْبَلَتْهُ حَجَبَةُ الْجَنَّةِ كُلُّهُمْ يَدْعُوهُ إِلَى مَا عِنْدَهُ قُلْتُ وَكَيْفَ ذَلِكَ قَالَ إِنْ كَانَتْ إِبِلًا فَبَعِيرَيْنِ وَإِنْ كَانَتْ بَقَرًا فَبَقَرَتَيْنِ

বর্ণনাকারী: হযরত আবু যার গিফারী (রাঃ)

৩১৮৮. ইসমাঈল ইবনে মাসউদ (রাহঃ) ......... ছা'ছাআ ইবনে মুআবিয়া (রাহঃ) বলেন, আবু যর (রাযিঃ) এর সাথে আমার সাক্ষাত হলো, তিনি বললেন, আমি বললাম আমার নিকট হাদীস বর্ণনা করুন। তিনি বললেনঃ হ্যাঁ। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যে মুসলিম বান্দা আল্লাহর রাস্তায় তার সকল মাল হতে জোড়া-জোড়া দান করবে, তাকে জান্নাতের দ্বার রক্ষীগণের সকলেই তাঁর নিকট যা রয়েছে তার দিকে আহবান করবে। আমি বললামঃ তা কিভাবে হবে? তিনি বললেনঃ যদি তার মাল হয় উট, তবে দুটি উট; আর যদি গরু হয়, তবে দুটি গরু।

৩১৮৬

أَخْبَرَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي النَّضْرِ قَالَ حَدَّثَنَا أَبُو النَّضْرِ قَالَ حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ الْأَشْجَعِيُّ عَنْ سُفْيَانَ الثَّوْرِيِّ عَنْ الرُّكَيْنِ الْفَزَارِيِّ عَنْ أَبِيهِ عَنْ يُسَيْرِ ابْنِ عَمِيلَةَ عَنْ خُرَيْمِ بْنِ فَاتِكٍ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَنْ أَنْفَقَ نَفَقَةً فِي سَبِيلِ اللَّهِ كُتِبَتْ لَهُ بِسَبْعِ مِائَةِ ضِعْفٍ

বর্ণনাকারী: খুরায়ম ইবনে ফাতিক (রাঃ)

৩১৮৯. আবু বকর ইবনে আবু নাদর (রাহঃ) ......... খুযায়ম ইবনে ফাতিক (রাযিঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি আল্লাহর রাস্তায় কোন কিছু দান করবে, তার জন্য সাতশত গুণ সওয়াব লেখা হবে।

৪৬. আল্লাহর রাস্তায় সাদ্‌কার ফযীলত

فَضْلُ الصَّدَقَةِ فِي سَبِيلِ اللَّه عَزَّ وَجَلَّ

৩১৮৭

أَخْبَرَنَا بِشْرُ بْنُ خَالِدٍ قَالَ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ قَالَ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ عَنْ سُلَيْمَانَ قَالَ سَمِعْتُ أَبَا عَمْرٍو الشَّيْبَانِيَّ عَنْ أَبِي مَسْعُودٍ أَنَّ رَجُلًا تَصَدَّقَ بِنَاقَةٍ مَخْطُومَةٍ فِي سَبِيلِ اللَّهِ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَيَأْتِيَنَّ يَوْمَ الْقِيَامَةِ بِسَبْعِ مِائَةِ نَاقَةٍ مَخْطُومَةٍ

বর্ণনাকারী: হযরত আবু মাসউদ বদরী আনসারী (রাঃ)

৩১৯০. বিশর ইবনে খালিদ (রাহঃ) ......... আবু মাসউদ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত, এক ব্যক্তি নাকে রশি যুক্ত একটি উটনী আল্লাহর রাস্তায় দান করল, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেলেনঃ সে ব্যক্তি কিয়ামতের দিন নাকে রশিযুক্ত সাতশতটি উটনী পাবে।

৩১৮৮

أَخْبَرَنَا عَمْرُو بْنُ عُثْمَانَ قَالَ حَدَّثَنَا بَقِيَّةُ عَنْ بَحِيرٍ عَنْ خَالِدٍ عَنْ أَبِي بَحْرِيَّةَ عَنْ مُعَاذِ بْنِ جَبَلٍ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنَّهُ قَالَ الْغَزْوُ غَزْوَانِ فَأَمَّا مَنْ ابْتَغَى وَجْهَ اللَّهِ وَأَطَاعَ الْإِمَامَ وَأَنْفَقَ الْكَرِيمَةَ وَيَاسَرَ الشَّرِيكَ وَاجْتَنَبَ الْفَسَادَ كَانَ نَوْمُهُ وَنُبْهُهُ أَجْرًا كُلُّهُ وَأَمَّا مَنْ غَزَا رِيَاءً وَسُمْعَةً وَعَصَى الْإِمَامَ وَأَفْسَدَ فِي الْأَرْضِ فَإِنَّهُ لَا يَرْجِعُ بِالْكَفَافِ

বর্ণনাকারী: হযরত মু‘আয ইবনে জাবাল (রাঃ)

৩১৯১. আমর ইবনে উছমান (রাযিঃ) ......... মুআয ইবনে জাবাল (রাযিঃ) রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) হতে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেন, ধর্মযুদ্ধ দু’ প্রকার। যে ব্যক্তি আল্লাহর সন্তুষ্টি কামনা করে ইমামের অনুসরণ করে, উত্তম বস্তু দান করে, সাথীদের সাথে নরম ব্যবহার করে এবং ঝগড়া-ফাসাদ পরিত্যাগ করে; তা হলে তার নিদ্রা-জাগরণ সবই সওয়াব যোগ্য। আর যে ব্যক্তি লোক দেখানো যুদ্ধ করে, শুনাবার জন্য যুদ্ধ করে, ইমামের অবাধ্য হয় অথবা পৃথিবীতে ফাসাদ বিস্তার করে, সে সওয়াব বা প্রতিদানের সাথে প্রত্যাবর্তন করবে না, বরং সে শাস্তিপ্রাপ্ত হবে।

৪৭. মুজাহিদের স্ত্রীদের মর্যাদা

حُرْمَةُ نِسَاءِ الْمُجَاهِدِينَ

৩১৮৯

أَخْبَرَنَا حُسَيْنُ بْنُ حُرَيْثٍ وَمَحْمُودُ بْنُ غَيْلَانَ وَاللَّفْظُ لِحُسَيْنٍ قَالَا حَدَّثَنَا وَكِيعٌ عَنْ سُفْيَانَ عَنْ عَلْقَمَةَ بْنِ مَرْثَدٍ عَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ بُرَيْدَةَ عَنْ أَبِيهِ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ حُرْمَةُ نِسَاءِ الْمُجَاهِدِينَ عَلَى الْقَاعِدِينَ كَحُرْمَةِ أُمَّهَاتِهِمْ وَمَا مِنْ رَجُلٍ يَخْلُفُ فِي امْرَأَةِ رَجُلٍ مِنْ الْمُجَاهِدِينَ فَيَخُونُهُ فِيهَا إِلَّا وُقِفَ لَهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ فَأَخَذَ مِنْ عَمَلِهِ مَا شَاءَ فَمَا ظَنُّكُمْ

বর্ণনাকারী: সুলাইমান ইবনে বুরায়দা (রহঃ)

৩১৯২. হুসায়ন ইবনে হুরায়ছ এবং মাহমুদ ইবনে গায়লান (রাহঃ) ......... সুলায়মান ইবনে বুরায়দা তাঁর পিতার সূত্রে বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেছেনঃ যারা যুদ্ধে যায়নি, তাদের জন্য মুজাহিদদের স্ত্রীগণ এমন হারাম, যেমন তাদের জন্য তাদের মাতাগণ হারাম। আর কোন মুজাহিদের স্ত্রীর ব্যাপারে কোন ব্যক্তি যদি তার স্থলাভিষিক্ত থেকে খিয়ানত করে, তাহলে কিয়ামতের দিন সে ব্যক্তি তার বিচার প্রার্থী হয়ে দাঁড়াবে এবং তার আমল হতে যথেচ্ছা কেড়ে নেবে। অতএব তোমরা কি ধারণা কর?

৪৮. যে ব্যক্তি গাযীর পরিবারে খিয়ানত করে

مَنْ خَانَ غَازِيًا فِي أَهْلِهِ

৩১৯০

أَخْبَرَنِي هَارُونُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ قَالَ حَدَّثَنَا حَرَمِيُّ بْنُ عُمَارَةَ قَالَ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ عَنْ عَلْقَمَةَ بْنِ مَرْثَدٍ عَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ بُرَيْدَةَ عَنْ أَبِيهِ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ حُرْمَةُ نِسَاءِ الْمُجَاهِدِينَ عَلَى الْقَاعِدِينَ كَحُرْمَةِ أُمَّهَاتِهِمْ وَإِذَا خَلَفَهُ فِي أَهْلِهِ فَخَانَهُ قِيلَ لَهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ هَذَا خَانَكَ فِي أَهْلِكَ فَخُذْ مِنْ حَسَنَاتِهِ مَا شِئْتَ فَمَا ظَنُّكُمْ

বর্ণনাকারী: সুলাইমান ইবনে বুরায়দা (রহঃ)

৩১৯৩. হারূন ইবনে আব্দুল্লাহ (রাহঃ) ......... সুলায়মান ইন বুরায়দা (রাহঃ) তার পিতার সূত্রে বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যারা যুদ্ধে গমন করে না তাদের জন্য মুজাহিদদের স্ত্রীরা এমন হারাম, যেমন তাদের মাতাগণ তাদের জন্য হারাম। আর সে যদি তার পরিবারের স্থলাভিষিক্ত হয়ে খিয়ানত করে, কিয়ামতের দিন তাকে বলা হবে, এ ব্যক্তি তোমার পরিবারে তোমার খিয়ানত করেছে। কাজেই তুমি তার নেকী হতে যত ইচ্ছা গ্রহণ কর। সুতরাং এ ব্যাপারে তোমাদের ধারণা কি?

৩১৯১

أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ قَالَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ قَالَ حَدَّثَنَا قَعْنَبٌ كُوفِيٌّ عَنْ عَلْقَمَةَ بْنِ مَرْثَدٍ عَنْ ابْنِ بُرَيْدَةَ عَنْ أَبِيهِ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ حُرْمَةُ نِسَاءِ الْمُجَاهِدِينَ عَلَى الْقَاعِدِينَ فِي الْحُرْمَةِ كَأُمَّهَاتِهِمْ وَمَا مِنْ رَجُلٍ مِنْ الْقَاعِدِينَ يَخْلُفُ رَجُلًا مِنْ الْمُجَاهِدِينَ فِي أَهْلِهِ إِلَّا نُصِبَ لَهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ فَيُقَالُ يَا فُلَانُ هَذَا فُلَانٌ فَخُذْ مِنْ حَسَنَاتِهِ مَا شِئْتَ ثُمَّ الْتَفَتَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِلَى أَصْحَابِهِ فَقَالَ مَا ظَنُّكُمْ تُرَوْنَ يَدَعُ لَهُ مِنْ حَسَنَاتِهِ شَيْئًا

বর্ণনাকারী: সুলাইমান ইবনে বুরায়দা (রহঃ)

৩১৯৪. আব্দুল্লাহ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুর রহমান (রাহঃ) ......... ইবনে বুরায়দা (রাহঃ) তার পিতার সূত্রে বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেছেন। যারা যুদ্ধে যোগদান করে নি, তাদের জন্য মুজাহিদদের স্ত্রীরা এমন হারাম, যেমন তাদের মাতা তাদের জন্য হারাম। যদি মুজাহিদের পরিবারে কোন ব্যক্তি স্থলাভিষিক্ত হয়, যে যুদ্ধে গমন না করে রয়ে গেছে, তাকে কিয়ামতের দিন তার জন্য দাঁড় করান হবে, বলা হবেঃ হে অমুক! এ অমুক ব্যক্তি তুমি তার নেকী হতে যা ইচ্ছা গ্রহণ কর। এরপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাঁর সাহাবীবৃন্দের প্রতি লক্ষ্য করে বললেনঃ তোমাদের কি ধারণা, তোমরা কি মনে কর এ ব্যক্তি তার নেকী হতে কিছু ছেড়ে দেবে?

৩১৯২

أَخْبَرَنَا عَمْرُو بْنُ عَلِيٍّ قَالَ حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ قَالَ حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ عَنْ حُمَيْدٍ عَنْ أَنَسٍ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ جَاهِدُوا بِأَيْدِيكُمْ وَأَلْسِنَتِكُمْ وَأَمْوَالِكُمْ

বর্ণনাকারী: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

৩১৯৫. আমর ইবনে আলী (রাহঃ) ......... আনাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ তোমরা জিহাদ কর তোমাদের হাত দ্বারা, তোমাদের জিহবা দ্বারা এবং তোমাদের মাল দ্বারা।

৩১৯৩

أَخْبَرَنَا أَبُو مُحَمَّدٍ مُوسَى بْنُ مُحَمَّدٍ هُوَ الشَّامِيُّ قَالَ حَدَّثَنَا مَيْمُونُ بْنُ الْأَصْبَغِ قَالَ حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ قَالَ أَنْبَأَنَا شَرِيكٌ عَنْ أَبِي إِسْحَقَ عَنْ الْقَاسِمِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ عَنْ أَبِيهِ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنَّهُ أَمَرَ بِقَتْلِ الْحَيَّاتِ وَقَالَ مَنْ خَافَ ثَأْرَهُنَّ فَلَيْسَ مِنَّا

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ)

৩১৯৬. আবু মুহাম্মাদ ইবনে মুসা ইবনে মুহাম্মাদ (রাহঃ) ......... আব্দুল্লাহ (রাযিঃ) রাসূলুল্লাহ (ﷺ) হতে বর্ণনা করেন, তিনি সাপ মারতে আদেশ করেছেন এবং বলেছেনঃ যে ব্যক্তি ওদের প্রতিশোধ নেয়াকে ভয় করে, সে আমাদের (দ্বীনের) অন্তর্ভুক্ত নয়।

৩১৯৪

أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ سُلَيْمَانَ قَالَ حَدَّثَنَا جَعْفَرُ بْنُ عَوْنٍ عَنْ أَبِي عُمَيْسٍ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ جَبْرٍ عَنْ أَبِيهِ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَادَ جَبْرًا فَلَمَّا دَخَلَ سَمِعَ النِّسَاءَ يَبْكِينَ وَيَقُلْنَ كُنَّا نَحْسَبُ وَفَاتَكَ قَتْلًا فِي سَبِيلِ اللَّهِ فَقَالَ وَمَا تَعُدُّونَ الشَّهَادَةَ إِلَّا مَنْ قُتِلَ فِي سَبِيلِ اللَّهِ إِنَّ شُهَدَاءَكُمْ إِذًا لَقَلِيلٌ الْقَتْلُ فِي سَبِيلِ اللَّهِ شَهَادَةٌ وَالْبَطْنُ شَهَادَةٌ وَالْحَرَقُ شَهَادَةٌ وَالْغَرَقُ شَهَادَةٌ وَالْمَغْمُومُ يَعْنِي الْهَدِمَ شَهَادَةٌ وَالْمَجْنُونُ شَهَادَةٌ وَالْمَرْأَةُ تَمُوتُ بِجُمْعٍ شَهِيدَةٌ قَالَ رَجُلٌ أَتَبْكِينَ وَرَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَاعِدٌ قَالَ دَعْهُنَّ فَإِذَا وَجَبَ فَلَا تَبْكِيَنَّ عَلَيْهِ بَاكِيَةٌ

বর্ণনাকারী: বিবিধ

৩১৯৭. আহমাদ ইবনে সুলাইমান (রাহঃ) ......... আব্দুল্লাহ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে জাবর তার পিতার সূত্রে বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তার পিতা জাবর (রাযিঃ)-কে তাঁর রোগ শয্যায় দেখতে গেলেন। তাঁর নিকট গিয়ে দেখলেন নারীরা কেঁদে কেঁদে বলছেঃ আমরা মনে করেছিলাম, তুমি আল্লাহর রাস্তায় শহীদ হয়ে মৃত্যুবরণ করবে। তখন তিনি (রাসূলুল্লাহ (ﷺ)) বললেন, আল্লাহর রাস্তায় শহীদ না হলে তোমরা কাউকে শহীদ মনে কর না, এমন হলে তো তোমাদের শহীদের সংখ্যা অতি অল্পই হবে। আল্লাহর রাস্তায় নিহত হওয়া শাহাদাত, পেটের পীড়ায় মরাও শাহাদাত, আগুনে পুড়ে মরাও শাহাদাত, পানিতে ডুবে মরাও শাহাদাত, কোন কিছুর নীচে চাপা পড়ে মৃত্যুবরণ করা শাহাদাত, নিউমোনিয়া জাতীয় কঠিন পীড়ায় মৃত্যুবরণও শাহাদাত, যে স্ত্রীলোক গর্ভাবস্থায় মৃত্যুবরণ করে সেও শহীদ। এক ব্যক্তি বললেন,রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এখানে উপবিষ্ট আর তোমরা ক্রন্দন করছো? তিনি বললেন, তাদের কাঁদতে দাও। সে যখন মরে যাবে, তখন যেন তার জন্য কোন ক্রন্দনকারী ক্রন্দন না করে।

৩১৯৫

أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ يَحْيَى قَالَ حَدَّثَنَا إِسْحَقُ بْنُ مَنْصُورٍ قَالَ حَدَّثَنَا دَاوُدُ يَعْنِي الطَّائِيَّ عَنْ عَبْدِ الْمَلِكِ بْنِ عُمَيْرٍ عَنْ جَبْرٍ أَنَّهُ دَخَلَ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَلَى مَيِّتٍ فَبَكَى النِّسَاءُ فَقَالَ جَبْرٌ أَتَبْكِينَ مَا دَامَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ جَالِسًا قَالَ دَعْهُنَّ يَبْكِينَ مَا دَامَ بَيْنَهُنَّ فَإِذَا وَجَبَ فَلَا تَبْكِيَنَّ بَاكِيَةٌ

বর্ণনাকারী: জাবর (রাঃ)

৩১৯৮. আহমাদ ইবনে ইয়াহয়া (রাহঃ) ......... জাবর (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সাথে এক মৃত ব্যক্তির নিকট পৌঁছলেন। তখন মহিলাগণ ক্রন্দন করতে লাগল। জাবর (রাযিঃ) বললেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) উপস্থিত রয়েছেন, এমন সময় তোমরা ক্রন্দন করছো? তিনি (রাসূলুল্লাহ (ﷺ)) বললেন, যতক্ষণ সে তাদের মধ্যে (জীবিত) রয়েছে, ততক্ষণ তাদেরকে কাঁদতে দাও। মৃত্যু হয়ে গেলে আর কেউ তার জন্য ক্রন্দন করবে না।