كتاب الجمعة

১৪. জুমআ'র অধ্যায়

অধ্যায় ১৪ · ৬৬ টি হাদীস

জুমআর নামায ফরয হওয়া

إيجاب الجمعة

১৩৬৭

أَخْبَرَنَا سَعِيدُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ الْمَخْزُومِيُّ، قَالَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ أَبِي الزِّنَادِ، عَنِ الأَعْرَجِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، وَابْنُ، طَاوُسٍ عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " نَحْنُ الآخِرُونَ السَّابِقُونَ بَيْدَ أَنَّهُمْ أُوتُوا الْكِتَابَ مِنْ قَبْلِنَا وَأُوتِينَاهُ مِنْ بَعْدِهِمْ وَهَذَا الْيَوْمُ الَّذِي كَتَبَ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ عَلَيْهِمْ فَاخْتَلَفُوا فِيهِ فَهَدَانَا اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ لَهُ - يَعْنِي يَوْمَ الْجُمُعَةِ - فَالنَّاسُ لَنَا فِيهِ تَبَعٌ الْيَهُودُ غَدًا وَالنَّصَارَى بَعْدَ غَدٍ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

১৩৭০। সাঈদ ইবনে আব্দুর রহমান মাখযূমী (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, আমরা হলাম দুনিয়াতে (কালের পরিপ্রেক্ষিতে) পশ্চাৎবর্তী এবং আখিরাতে হব (মর্যাদার পরিপ্রেক্ষিতে) অগ্রবর্তী। তবে এতটুকু ব্যতিক্রম যে আমাদের পূর্বেতাদের কিতাব দেওয়া হয়েছিল এবং আমাদের তা তাদের পরে দেওয়া হয়েছে এবং এই জুমআর দিন, যে দিনের সম্মান করা আল্লাহ তাআলা তাদের উপর ফরয করেছিলেন, তারা তাতে মতানৈক্য করেছিল। তারপর আল্লাহ তাআলা আমাদের সে দিন অর্থাৎ জুমআর দিন সম্পর্কে সঠিক পথ দেখালেন। অতএব, সে দিনের ব্যাপারে অন্যান্য মানুষ হবে আমাদের অনুসারী। ইহুদীরা আগামীকাল (শনিবার) এবং নাসারারা তার পরবর্তী দিন (রবিবারে) সম্মান করবে।

১৩৬৮

أَخْبَرَنَا وَاصِلُ بْنُ عَبْدِ الأَعْلَى، قَالَ حَدَّثَنَا ابْنُ فُضَيْلٍ، عَنْ أَبِي مَالِكٍ الأَشْجَعِيِّ، عَنْ أَبِي حَازِمٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، وَعَنْ رِبْعِيِّ بْنِ حِرَاشٍ، عَنْ حُذَيْفَةَ، قَالاَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " أَضَلَّ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ عَنِ الْجُمُعَةِ مَنْ كَانَ قَبْلَنَا فَكَانَ لِلْيَهُودِ يَوْمُ السَّبْتِ وَكَانَ لِلنَّصَارَى يَوْمُ الأَحَدِ فَجَاءَ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ بِنَا فَهَدَانَا لِيَوْمِ الْجُمُعَةِ فَجَعَلَ الْجُمُعَةَ وَالسَّبْتَ وَالأَحَدَ وَكَذَلِكَ هُمْ لَنَا تَبَعٌ يَوْمَ الْقِيَامَةِ وَنَحْنُ الآخِرُونَ مِنْ أَهْلِ الدُّنْيَا وَالأَوَّلُونَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ الْمَقْضِيُّ لَهُمْ قَبْلَ الْخَلاَئِقِ " .

বর্ণনাকারী: হযরত হুযায়ফা রাযি

১৩৭১। ওয়াসিল ইবনে আব্দুল আলা (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা ও হুযাইফা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তারা বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, আল্লাহ তাআলা জুমআর দিন সম্পর্কে আমাদের পূর্ববর্তীদের ভ্রষ্টতায় রেখেছিলেন, সুতরাং তা ইহুদীদের জন্য ছিল শনিবার এবং নাসারাদের জন্য রবিবার। তারপর আল্লাহ তাআলা আমাদের সৃষ্টি করলেন এবং জুমআর দিন সম্পর্কে সঠিক পথ দেখালেন।

অতএব, আল্লাহ তাআলা আমাদের জন্য জুমআর দিন শুক্রবার, ইহুদিদের জন্য শনিবার এবং নাসারাদের জন্য রবিবার নির্ধারণ করলেন। অনুরূপভাবে তারা কিয়ামতের দিনেও আমাদের অনুসারী হবে। আমরা দুনিয়ায় অবস্থানের পরিপ্রেক্ষিতে হব তাদের পচাৎবর্তী এবং কিয়ামতের পরিপ্রেক্ষিতে হব তাদের অগ্রবর্তী, যা সৃষ্টির পূর্বেই তাদের জন্য নির্ধারিত হয়ে আছে।

জুমআয় উপস্থিত না হওয়ার ক্ষেত্রে সতর্কবাণী

باب التشديد في التخلف عن الجمعة

১৩৬৯

أَخْبَرَنَا يَعْقُوبُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، قَالَ حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَمْرٍو، عَنْ عَبِيدَةَ بْنِ سُفْيَانَ الْحَضْرَمِيِّ، عَنْ أَبِي الْجَعْدِ الضَّمْرِيِّ، وَكَانَتْ، لَهُ صُحْبَةٌ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " مَنْ تَرَكَ ثَلاَثَ جُمَعٍ تَهَاوُنًا بِهَا طَبَعَ اللَّهُ عَلَى قَلْبِهِ " .

১৩৭২। ইয়াকুব ইবনে ইবরাহীম (রাহঃ) ......... আবুল জা’দ যামরী (রাযিঃ) সূত্রে, যিনি নবী (ﷺ) এর সাহাবী ছিলেন, নবী (ﷺ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, যে ব্যক্তি তিনটি জুমআ তার প্রতি অবহেলা প্রদর্শন পূর্বক ছেড়ে দেয়, আল্লাহ তাআলা তার অন্তরে মোহর মেরে দেন।

১৩৭০

أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ مَعْمَرٍ، قَالَ حَدَّثَنَا حَبَّانُ، قَالَ حَدَّثَنَا أَبَانُ، قَالَ حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ أَبِي كَثِيرٍ، عَنِ الْحَضْرَمِيِّ بْنِ لاَحِقٍ، عَنْ زَيْدٍ، عَنْ أَبِي سَلاَّمٍ، عَنِ الْحَكَمِ بْنِ مِينَاءَ، أَنَّهُ سَمِعَ ابْنَ عَبَّاسٍ، وَابْنَ، عُمَرَ يُحَدِّثَانِ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ وَهُوَ عَلَى أَعْوَادِ مِنْبَرِهِ " لَيَنْتَهِيَنَّ أَقْوَامٌ عَنْ وَدْعِهِمُ الْجُمُعَاتِ أَوْ لَيَخْتِمَنَّ اللَّهُ عَلَى قُلُوبِهِمْ وَلَيَكُونَنَّ مِنَ الْغَافِلِينَ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

১৩৭৩। মুহাম্মাদ ইবনে মা’মার (রাহঃ) ......... ইবনে আব্বাস এবং ইবনে উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) মিম্বরের ধাপের উপর উপবিষ্ট অবস্থায় বলেছেন, হয় মানুষ জুমআ ছেড়ে দেওয়া থেকে বিরত থাকবে, না হয় আল্লাহ তাআলা তাদের অন্তরে মোহর মেরে দিবেন এবং তারা গাফিলদের পর্যায়ভুক্ত হয়ে যাবে।

১৩৭১

أَخْبَرَنِي مَحْمُودُ بْنُ غَيْلاَنَ، قَالَ حَدَّثَنَا الْوَلِيدُ بْنُ مُسْلِمٍ، قَالَ حَدَّثَنِي الْمُفَضَّلُ بْنُ فَضَالَةَ، عَنْ عَيَّاشِ بْنِ عَبَّاسٍ، عَنْ بُكَيْرِ بْنِ الأَشَجِّ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، عَنْ حَفْصَةَ، زَوْجِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " رَوَاحُ الْجُمُعَةِ وَاجِبٌ عَلَى كُلِّ مُحْتَلِمٍ " .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হাফসা (রাঃ)

১৩৭৪। মাহমুদ ইবনে গায়লান (রাহঃ) ......... নবী (ﷺ) এর সহধর্মিনী হাফসা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, নবী (ﷺ) বলেছেন, জুমআর জন্য মধ্যাহ্নের পর যাত্রা করা প্রত্যেক সাবালক ব্যক্তির উপর ওয়াজিব।

বিনা কারণে জুমআ ত্যাগ করার কাফফারা

باب كفارة من ترك الجمعة من غير عذر

১৩৭২

أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ سُلَيْمَانَ، قَالَ حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ، قَالَ حَدَّثَنَا هَمَّامٌ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ قُدَامَةَ بْنِ وَبَرَةَ، عَنْ سَمُرَةَ بْنِ جُنْدُبٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " مَنْ تَرَكَ الْجُمُعَةَ مِنْ غَيْرِ عُذْرٍ فَلْيَتَصَدَّقْ بِدِينَارٍ فَإِنْ لَمْ يَجِدْ فَبِنِصْفِ دِينَارٍ " .

বর্ণনাকারী: হযরত সামুরা ইবনে জুনদুব (রাঃ)

১৩৭৫। আহমদ ইবনে সুলাইমান (রাহঃ) ......... সামুরা ইবনে জুন্দুব (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, যে ব্যক্তি বিনা কারণে জুমআ ছেড়ে দেয় সে যেন একটা দীনার সাদ্‌কা করে দেয়-আর যদি তা না পায় তাহলে যেন অর্ধ দীনার সাদ্‌কা করে দেয়া।

জুমআর দিনের ফযীলতের বর্ণনা

باب ذكر فضل يوم الجمعة

১৩৭৩

أَخْبَرَنَا سُوَيْدُ بْنُ نَصْرٍ، قَالَ أَنْبَأَنَا عَبْدُ اللَّهِ، عَنْ يُونُسَ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، قَالَ حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ الأَعْرَجُ، أَنَّهُ سَمِعَ أَبَا هُرَيْرَةَ، يَقُولُ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " خَيْرُ يَوْمٍ طَلَعَتْ فِيهِ الشَّمْسُ يَوْمُ الْجُمُعَةِ فِيهِ خُلِقَ آدَمُ عَلَيْهِ السَّلاَمُ وَفِيهِ أُدْخِلَ الْجَنَّةَ وَفِيهِ أُخْرِجَ مِنْهَا " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

১৩৭৬। সুওয়ায়দ ইবনে নসর (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, যে দিনসমূহে সূর্য উদিত হয় তন্মধ্যে সর্বোত্তম দিন হল জুমআর দিন। সে দিন আদম (আলাইহিস সালাম)-কে সৃষ্টি করা হয়েছিল এবং সে দিনই তাঁকে জান্নাতে প্রবেশ করানো হয়েছিল এবং সে দিনই তাঁকে জান্নাত থেকে বের করে দেওয়া হয়েছিল।

জুমআর দিন নবী (ﷺ) এর উপর অধিক দরুদ পড়া

إكثار الصلاة على النبي صلى الله عليه وسلم يوم الجمعة

১৩৭৪

أَخْبَرَنَا إِسْحَاقُ بْنُ مَنْصُورٍ، قَالَ حَدَّثَنَا حُسَيْنٌ الْجُعْفِيُّ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ يَزِيدَ بْنِ جَابِرٍ، عَنْ أَبِي الأَشْعَثِ الصَّنْعَانِيِّ، عَنْ أَوْسِ بْنِ أَوْسٍ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " إِنَّ مِنْ أَفْضَلِ أَيَّامِكُمْ يَوْمَ الْجُمُعَةِ فِيهِ خُلِقَ آدَمُ عَلَيْهِ السَّلاَمُ وَفِيهِ قُبِضَ وَفِيهِ النَّفْخَةُ وَفِيهِ الصَّعْقَةُ فَأَكْثِرُوا عَلَىَّ مِنَ الصَّلاَةِ فَإِنَّ صَلاَتَكُمْ مَعْرُوضَةٌ عَلَىَّ " . قَالُوا يَا رَسُولَ اللَّهِ وَكَيْفَ تُعْرَضُ صَلاَتُنَا عَلَيْكَ وَقَدْ أَرَمْتَ أَىْ يَقُولُونَ قَدْ بَلِيتَ . قَالَ " إِنَّ اللَّهَ عَزَّ وَجَلَّ قَدْ حَرَّمَ عَلَى الأَرْضِ أَنْ تَأْكُلَ أَجْسَادَ الأَنْبِيَاءِ عَلَيْهِمُ السَّلاَمُ " .

বর্ণনাকারী: আউস ইবনে আউস ছাকাফী (রাঃ)

১৩৭৭। ইসহাক ইবনে মনসুর (রাহঃ) ......... আওস ইবনে আওস (রাযিঃ) সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, তোমাদের সকল দিনের মধ্যে পরমোৎকৃষ্ট দিন হল জুমআর দিন, সে দিন আদম (আলাইহিস সালাম) কে সৃষ্টি করা হয়েছিল, সে দিনই তাঁর ওফাত হয়, সে দিনই দ্বিতীয় বার শিঙ্গায় ফুঁ দেওয়া হবে এবং সে দিনই কিয়ামত অনুষ্ঠিত হবে।

অতএব, তোমরা আমার উপর বেশী বেশী দরুদ পড়। কেননা, তোমাদের দরুদ আমার কাছে পেশ করা হয়। তারা বললেন, ইয়া রাসুলাল্লাহ! কিভাবে আমাদের দরুদ আপনার কাছে পেশ করা হবে। যেহেতু আপনি (এক সময়) ওফাত পেয়ে যাবেন অর্থাৎ তারা বললেন, আপনার দেহ মাটির সাথে মিশে যাবে। তিনি বললেন, নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা যমীনের জন্য নবীগণের দেহ গ্রাস করা হারাম করে দিয়েছেন।

জুমআর দিন মিসওয়াক করার আদেশ

باب الأمر بالسواك يوم الجمعة

১৩৭৫

أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ سَلَمَةَ، قَالَ حَدَّثَنَا ابْنُ وَهْبٍ، عَنْ عَمْرِو بْنِ الْحَارِثِ، أَنَّ سَعِيدَ بْنَ أَبِي هِلاَلٍ، وَبُكَيْرَ بْنَ الأَشَجِّ، حَدَّثَاهُ عَنْ أَبِي بَكْرِ بْنِ الْمُنْكَدِرِ، عَنْ عَمْرِو بْنِ سُلَيْمٍ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبِي سَعِيدٍ، عَنْ أَبِيهِ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " الْغُسْلُ يَوْمَ الْجُمُعَةِ وَاجِبٌ عَلَى كُلِّ مُحْتَلِمٍ وَالسِّوَاكُ وَيَمَسُّ مِنَ الطِّيبِ مَا قَدَرَ عَلَيْهِ " . إِلاَّ أَنَّ بُكَيْرًا لَمْ يَذْكُرْ عَبْدَ الرَّحْمَنِ وَقَالَ فِي الطِّيبِ " وَلَوْ مِنْ طِيبِ الْمَرْأَةِ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ)

১৩৭৮। মুহাম্মাদ ইবনে সালামা (রাহঃ) ......... আবু সাঈদ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, প্রত্যেক বালেগ ব্যক্তির উপর শুক্রবার গোসল করা জরুরী এবং মিসওয়াক করা ও সুগন্ধি লাগানো তার জন্য যা সম্ভব হয়। (রাবী) বুকায়র (রাহঃ) আব্দুর রহমান (রাহঃ)-এর কথা উল্লেখ করেননি এবং সুগন্ধির ব্যাপারে বলেছেন, যদিও তা মেয়ে লোকের ব্যবহার্য সুগন্ধি থেকে হয়।

জুমআর দিন গোসল করার আদেশ

باب الأمر بالغسل يوم الجمعة

১৩৭৬

أَخْبَرَنَا قُتَيْبَةُ، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " إِذَا جَاءَ أَحَدُكُمُ الْجُمُعَةَ فَلْيَغْتَسِلْ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

১৩৭৯। কুতায়বা (রাহঃ) ......... ইবনে উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, যখন তোমাদের কেউ জুমআর দিন পায় তখন সে যেন গোসল করে নেয়।

জুমআর দিনে গোসল জরুরী হওয়া

باب إيجاب الغسل يوم الجمعة

১৩৭৭

أَخْبَرَنَا قُتَيْبَةُ، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ صَفْوَانَ بْنِ سُلَيْمٍ، عَنْ عَطَاءِ بْنِ يَسَارٍ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " غُسْلُ يَوْمِ الْجُمُعَةِ وَاجِبٌ عَلَى كُلِّ مُحْتَلِمٍ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ)

১৩৮০। কুতায়বা (রাহঃ) ......... আবু সাঈদ খুদরী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, জুমআর দিনের গোসল প্রত্যেক বালিগ ব্যক্তির উপর জরুরী।

১৩৭৮

أَخْبَرَنَا حُمَيْدُ بْنُ مَسْعَدَةَ، قَالَ حَدَّثَنَا بِشْرٌ، قَالَ حَدَّثَنَا دَاوُدُ بْنُ أَبِي هِنْدٍ، عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ، عَنْ جَابِرٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " عَلَى كُلِّ رَجُلٍ مُسْلِمٍ فِي كُلِّ سَبْعَةِ أَيَّامٍ غُسْلُ يَوْمٍ وَهُوَ يَوْمُ الْجُمُعَةِ " .

বর্ণনাকারী: জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ আনসারী (রাঃ)

১৩৮১। হুমায়দ ইবনে মাসআদা (রাহঃ) ......... জাবির (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, প্রত্যেক মুসলমান ব্যক্তির উপর প্রত্যেক সাত দিনে একদিন গোসল করা জরুরী এবং সেই দিনটি হল জুমআর দিন।

জুমআর দিন গোসল না করার অনুমতি

باب الرخصة في ترك الغسل يوم الجمعة

১৩৭৯

أَخْبَرَنَا مَحْمُودُ بْنُ خَالِدٍ، عَنِ الْوَلِيدِ، قَالَ حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ الْعَلاَءِ، أَنَّهُ سَمِعَ الْقَاسِمَ بْنَ مُحَمَّدِ بْنِ أَبِي بَكْرٍ، أَنَّهُمْ ذَكَرُوا غُسْلَ يَوْمِ الْجُمُعَةِ عِنْدَ عَائِشَةَ فَقَالَتْ إِنَّمَا كَانَ النَّاسُ يَسْكُنُونَ الْعَالِيَةَ فَيَحْضُرُونَ الْجُمُعَةَ وَبِهِمْ وَسَخٌ فَإِذَا أَصَابَهُمُ الرَّوْحُ سَطَعَتْ أَرْوَاحُهُمْ فَيَتَأَذَّى بِهَا النَّاسُ فَذُكِرَ ذَلِكَ لِرَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ " أَوَلاَ يَغْتَسِلُونَ " .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

১৩৮২। মাহমুদ ইবনে খালিদ (রাহঃ) ......... আব্দুল্লাহ ইবনে আ’লা (রাহঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি কাসিম ইবনে লূদ ইবনে আবু বকর (রাযিঃ) থেকে শুনেছেন যে, তারা জুমআর দিনের গোসল সম্পর্কে আয়িশা (রাযিঃ) এর কাছে আলোচনা করলে তিনি বললেন, তখন লোকজন গ্রামে বাস করত, অতএব তারা জুমআয় এমন অবস্থায় উপস্থিত হত যে, জীবিকা অর্জনের পেশায় ব্যস্ততার কারণে তাদের শরীরে ময়লা লেগে থাকত, যখন তাদের শরীরে হাওয়া লাগত, তাদের হাওয়া দুর্গন্ধ যুক্ত হয়ে যেত, যাতে লোকজনের কষ্ট হত, ব্যাপারটি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে অবহিত করলে তিনি বললেন, তোমরা গোসল কর না কেন?

১৩৮০

أَخْبَرَنَا أَبُو الأَشْعَثِ، عَنْ يَزِيدَ بْنِ زُرَيْعٍ، قَالَ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنِ الْحَسَنِ، عَنْ سَمُرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " مَنْ تَوَضَّأَ يَوْمَ الْجُمُعَةِ فَبِهَا وَنِعْمَتْ وَمَنِ اغْتَسَلَ فَالْغُسْلُ أَفْضَلُ " . قَالَ أَبُو عَبْدِ الرَّحْمَنِ الْحَسَنُ عَنْ سَمُرَةَ كِتَابًا وَلَمْ يَسْمَعِ الْحَسَنُ مِنْ سَمُرَةَ إِلاَّ حَدِيثَ الْعَقِيقَةِ وَاللَّهُ تَعَالَى أَعْلَمُ .

বর্ণনাকারী: হযরত সামুরা ইবনে জুনদুব (রাঃ)

১৩৮৩। আবুল আশআস (রাহঃ) ......... সামুরা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, যে ব্যক্তি জুমআর দিন উযু করে তা তার জন্য যথেষ্ট এবং তা উত্তম কাজ আর যে ব্যক্তি গোসল করে তবে তা পরমোত্তম কাজ।

জুমআর দিনে গোসল করার ফযীলাত

فضل غسل يوم الجمعة

১৩৮১

أَخْبَرَنَا عَمْرُو بْنُ مَنْصُورٍ، وَهَارُونُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ بَكَّارِ بْنِ بِلاَلٍ، - وَاللَّفْظُ لَهُ - قَالاَ حَدَّثَنَا أَبُو مُسْهِرٍ، قَالَ حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ عَبْدِ الْعَزِيزِ، عَنْ يَحْيَى بْنِ الْحَارِثِ، عَنْ أَبِي الأَشْعَثِ الصَّنْعَانِيِّ، عَنْ أَوْسِ بْنِ أَوْسٍ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " مَنْ غَسَّلَ وَاغْتَسَلَ وَغَدَا وَابْتَكَرَ وَدَنَا مِنَ الإِمَامِ وَلَمْ يَلْغُ كَانَ لَهُ بِكُلِّ خُطْوَةٍ عَمَلُ سَنَةٍ صِيَامُهَا وَقِيَامُهَا " .

বর্ণনাকারী: আউস ইবনে আউস ছাকাফী (রাঃ)

১৩৮৪। আমর ইবনে মনসুর ও হারুন ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে বাককার (রাহঃ) ......... আওস ইবনে আওস (রাযিঃ) সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, যে ব্যক্তি মাথা এবং শরীর ধুয়ে উত্তম রূপে গোসল করে এবং জুমআর সময়ের প্রথম সময়েই মসজিদে যায় এবং খুতবা শুরু থেকেই শুনতে পায় ও ইমামের নিকটবর্তী হয়ে বসে এবং কোন অনর্থক কাজ না করে (কথা না বলে), তার জন্য প্রত্যেক পদক্ষেপে এক বছর আমল করার সাওয়াব হবে অর্থাৎ এক বছর রোযা পালন করা এবং নামায আদায় করার।

জুমআর পরিচ্ছদ

الهيئة للجمعة

১৩৮২

أَخْبَرَنَا قُتَيْبَةُ، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ نَافِعٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ، أَنَّ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ، رَأَى حُلَّةً فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ لَوِ اشْتَرَيْتَ هَذِهِ فَلَبِسْتَهَا يَوْمَ الْجُمُعَةِ وَلِلْوَفْدِ إِذَا قَدِمُوا عَلَيْكَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " إِنَّمَا يَلْبَسُ هَذِهِ مَنْ لاَ خَلاَقَ لَهُ فِي الآخِرَةِ " . ثُمَّ جَاءَ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مِثْلُهَا فَأَعْطَى عُمَرَ مِنْهَا حُلَّةً فَقَالَ عُمَرُ يَا رَسُولَ اللَّهِ كَسَوْتَنِيهَا وَقَدْ قُلْتَ فِي حُلَّةِ عُطَارِدٍ مَا قُلْتَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " لَمْ أَكْسُكَهَا لِتَلْبَسَهَا " . فَكَسَاهَا عُمَرُ أَخًا لَهُ مُشْرِكًا بِمَكَّةَ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

১৩৮৫। কুতায়বা ইবনে সাঈদ (রাহঃ) ......... আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, উমর ইবনে খাত্তাব (রাযিঃ) এক জোড়া কাপড় দেখে বললেন, ইয়া রাসুলাল্লাহ! যদি আপনি এই জোড়াটা কিনে নিতেন এবং তা জুমআর দিনে পরিধান করতেন! এবং যখন কোন দল আপনার কাছে আসে তখনও! রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, এই জোড়া কাপড় তারাই পরিধান করবে যাদের জন্য আখিরাতে কোন অংশ নেই। তারপর একদিন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কাছে অনুরূপ কাপড় হাদিয়া আসলে তিনি উমর (রাযিঃ)-কে সেখান থেকে এক জোড়া কাপড় দিয়ে দিলেন, তখন উমর (রাযিঃ) বললেন, ইয়া রাসুলাল্লাহ! আপনি এই কাপড় তো আমাকে দান করলেন অথচ আপনি উতারিদের কাপড় জোড়া সম্পর্কে যা যা বলার বলেছিলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, আমি তোমাকে তা পরিধান করার জন্য দেইনি। তখন উমর (রাযিঃ) উক্ত কাপড় জোড়া তার মক্কার এক মুশরিক ভাইকে দিয়ে দিলেন।

১৩৮৩

أَخْبَرَنِي هَارُونُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ سَوَّارٍ، قَالَ حَدَّثَنَا اللَّيْثُ، قَالَ حَدَّثَنَا خَالِدٌ، عَنْ سَعِيدٍ، عَنْ أَبِي بَكْرِ بْنِ الْمُنْكَدِرِ، أَنَّ عَمْرَو بْنَ سُلَيْمٍ، أَخْبَرَهُ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبِي سَعِيدٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " إِنَّ الْغُسْلَ يَوْمَ الْجُمُعَةِ عَلَى كُلِّ مُحْتَلِمٍ وَالسِّوَاكَ وَأَنْ يَمَسَّ مِنَ الطِّيبِ مَا يَقْدِرُ عَلَيْهِ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ)

১৩৮৬। হারুন ইবনে আব্দুল্লাহ (রাহঃ) ......... আব্দুর রহমান ইবনে আবু সাঈদ (রাযিঃ) সূত্রে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, জুমআর দিনে গোসল প্রত্যেক বালিগ ব্যক্তির উপর জরুরী আর মিসওয়াক করা এবং যতটুকু সুগন্ধি ব্যবহার করা তার সামর্থে কুলায়।

জুমআর জন্য হেঁটে যাওয়ার ফযীলাত

فضل المشي إلى الجمعة

১৩৮৪

أَخْبَرَنِي عَمْرُو بْنُ عُثْمَانَ بْنِ سَعِيدِ بْنِ كَثِيرٍ، قَالَ حَدَّثَنَا الْوَلِيدُ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ يَزِيدَ بْنِ جَابِرٍ، أَنَّهُ سَمِعَ أَبَا الأَشْعَثِ، حَدَّثَهُ أَنَّهُ، سَمِعَ أَوْسَ بْنَ أَوْسٍ، صَاحِبَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " مَنِ اغْتَسَلَ يَوْمَ الْجُمُعَةِ وَغَسَّلَ وَغَدَا وَابْتَكَرَ وَمَشَى وَلَمْ يَرْكَبْ وَدَنَا مِنَ الإِمَامِ وَأَنْصَتَ وَلَمْ يَلْغُ كَانَ لَهُ بِكُلِّ خُطْوَةٍ عَمَلُ سَنَةٍ " .

বর্ণনাকারী: আউস ইবনে আউস ছাকাফী (রাঃ)

১৩৮৭। আমর ইবনে উসমান (রাহঃ) ......... রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সাহাবী আওস ইবনে আওস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, যে ব্যক্তি জুমআর দিনে মাথা ও শরীর ধুয়ে উত্তমরূপে গোসল করে জুমআর সময়ের প্রথম সময়েই মসজিদে যায়, কোন বাহনে আরোহন না করে পায়ে হেঁটেই মসজিদে যায় এবং ইমামের নিকটবর্তী হয়ে বসে, নিরব হয়ে খুতবা শুনে ও কোন অনর্থক কাজ না করে, তার জন্য প্রত্যেক পদক্ষেপে এক বছর আমল করার সাওয়াব হবে।

জুমআয় সকাল সকাল গমন করা

باب التبكير إلى الجمعة

১৩৮৫

أَخْبَرَنَا نَصْرُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ نَصْرٍ، عَنْ عَبْدِ الأَعْلَى، قَالَ حَدَّثَنَا مَعْمَرٌ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنِ الأَغَرِّ أَبِي عَبْدِ اللَّهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " إِذَا كَانَ يَوْمُ الْجُمُعَةِ قَعَدَتِ الْمَلاَئِكَةُ عَلَى أَبْوَابِ الْمَسْجِدِ فَكَتَبُوا مَنْ جَاءَ إِلَى الْجُمُعَةِ فَإِذَا خَرَجَ الإِمَامُ طَوَتِ الْمَلاَئِكَةُ الصُّحُفَ " . قَالَ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " الْمُهَجِّرُ إِلَى الْجُمُعَةِ كَالْمُهْدِي بَدَنَةً ثُمَّ كَالْمُهْدِي بَقَرَةً ثُمَّ كَالْمُهْدِي شَاةً ثُمَّ كَالْمُهْدِي بَطَّةً ثُمَّ كَالْمُهْدِي دَجَاجَةً ثُمَّ كَالْمُهْدِي بَيْضَةً " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

১৩৮৮। নসর ইবনে আলী (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, নবী (ﷺ) বলেছেন, যখন জুমআর দিন হয় ফিরিশতাগণ মসজিদের দরজা সমূহে বসে যান। এবং যারা জুমআর জন্য আসতে থাকেন তাদের নাম লিপিবদ্ধ করতে থাকেন। এরপর যখন ইমাম খুতবা দেওয়ার জন্য বের হয়ে আসেন ফিরিশতাগণ খাতা বন্ধ করে দেন।

আবু হুরায়রা (রাযিঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, পশ্চিম দিগন্তে হেলে যাওয়ার পর জুমআর প্রথম আগমনকারী একটি উট সাদ্‌কা কারার ন্যায়, তারপর আগমনকারী একটি গরু সাদ্‌কাকারীর ন্যায়, তারপর আগমনকারী একটি বকরী সাদ্‌কাকারীর ন্যায়, তারপর আগমনকারী একটি হাঁস সাদ্‌কাকারীর ন্যায়, তারপর আগমনকারী একটি মুরগী সাদ্‌কাকারীর ন্যায়, তারপর আগমনকারী একটি ডিম সাদ্‌কাকারীর ন্যায় সাওয়াব পাবে।
১৩৮৬

أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ مَنْصُورٍ، قَالَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، حَدَّثَنَا الزُّهْرِيُّ، عَنْ سَعِيدٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، يَبْلُغُ بِهِ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم " إِذَا كَانَ يَوْمُ الْجُمُعَةِ كَانَ عَلَى كُلِّ بَابٍ مِنْ أَبْوَابِ الْمَسْجِدِ مَلاَئِكَةٌ يَكْتُبُونَ النَّاسَ عَلَى مَنَازِلِهِمُ الأَوَّلَ فَالأَوَّلَ فَإِذَا خَرَجَ الإِمَامُ طُوِيَتِ الصُّحُفُ وَاسْتَمَعُوا الْخُطْبَةَ فَالْمُهَجِّرُ إِلَى الصَّلاَةِ كَالْمُهْدِي بَدَنَةً ثُمَّ الَّذِي يَلِيهِ كَالْمُهْدِي بَقَرَةً ثُمَّ الَّذِي يَلِيهِ كَالْمُهْدِي كَبْشًا " . حَتَّى ذَكَرَ الدَّجَاجَةَ وَالْبَيْضَةَ .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

১৩৮৯। মুহাম্মাদ ইবনে মনসুর (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি অত্র হাদীসকে সনদ সূত্রে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) পর্যন্ত পৌছিয়েছেন। নবী (ﷺ) বলেন যে, যখন জুমআর দিন হয় মসজিদের দরজা সমুহের প্রত্যেক দরজায় ফিরিশতাগণ বসে থাকেন। তারা মর্যাদা অনুযায়ী আগমনকারীদের নাম লিখে নেন। প্রথম আগমনকারীর নাম প্রথমে, যখন ইমাম খুতবা দেওয়ার জন্য বের হয়ে আসেন তখন তাঁদের খাতা বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং তাঁরা খুতবা শুনতে থাকেন। অতএব, সূর্য পশ্চিম দিগন্তে হেলে যাওয়ার পর জুম’আয় প্রথম আগমনকারী একটি উট সাদ্‌কাকারীর ন্যায়, তারপর আগমনকারী একটি গরু সাদ্‌কাকারীর ন্যায়, তারপর আগমনকারী একটি ভেড়া সাদ্‌কাকারীর ন্যায় সাওয়াব পাবে। এমনকি তিনি মুরগি এবং ডিমের কথাও উল্লেখ করেছিলেন।

১৩৮৭

أَخْبَرَنَا الرَّبِيعُ بْنُ سُلَيْمَانَ، قَالَ حَدَّثَنَا شُعَيْبُ بْنُ اللَّيْثِ، قَالَ أَنْبَأَنَا اللَّيْثُ، عَنِ ابْنِ عَجْلاَنَ، عَنْ سُمَىٍّ، عَنْ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " تَقْعُدُ الْمَلاَئِكَةُ يَوْمَ الْجُمُعَةِ عَلَى أَبْوَابِ الْمَسْجِدِ يَكْتُبُونَ النَّاسَ عَلَى مَنَازِلِهِمْ فَالنَّاسُ فِيهِ كَرَجُلٍ قَدَّمَ بَدَنَةً وَكَرَجُلٍ قَدَّمَ بَقَرَةً وَكَرَجُلٍ قَدَّمَ شَاةً وَكَرَجُلٍ قَدَّمَ دَجَاجَةً وَكَرَجُلٍ قَدَّمَ عُصْفُورًا وَكَرَجُلٍ قَدَّمَ بَيْضَةً " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

১৩৯০। রবী ইবনে সুলাইমান (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) সূত্রে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, ফিরিশতাগণ জুমআর দিনে মসজিদের দরজাসমুহে বসে থাকেন, তাঁরা মর্যাদা অনুসারে মানুষের নাম লিপিবদ্ধ করতে থাকেন। ফলে কতক মানুষ সেই লিষ্টে উট সাদ্‌কাকারীর ন্যায়, কতক মানুষ গরু সাদ্‌কাকারীর ন্যায়, কতক মানুষ বকরী সাদ্‌কাকারীর ন্যায়, কতক মানুষ ভেড়া সাদ্‌কাকারীর ন্যায়, কতক মানুষ চড়ুই সাদ্‌কাকারীর ন্যায় এবং কতক মানুষ ডিম সাদ্‌কাকারীর ন্যায় (সাওয়াবের দিক থেকে)।

জুমআর সময়

وقت الجمعة

১৩৮৮

أَخْبَرَنَا قُتَيْبَةُ، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ سُمَىٍّ، عَنْ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " مَنِ اغْتَسَلَ يَوْمَ الْجُمُعَةِ غُسْلَ الْجَنَابَةِ ثُمَّ رَاحَ فَكَأَنَّمَا قَرَّبَ بَدَنَةً وَمَنْ رَاحَ فِي السَّاعَةِ الثَّانِيَةِ فَكَأَنَّمَا قَرَّبَ بَقَرَةً وَمَنْ رَاحَ فِي السَّاعَةِ الثَّالِثَةِ فَكَأَنَّمَا قَرَّبَ كَبْشًا وَمَنْ رَاحَ فِي السَّاعَةِ الرَّابِعَةِ فَكَأَنَّمَا قَرَّبَ دَجَاجَةً وَمَنْ رَاحَ فِي السَّاعَةِ الْخَامِسَةِ فَكَأَنَّمَا قَرَّبَ بَيْضَةً فَإِذَا خَرَجَ الإِمَامُ حَضَرَتِ الْمَلاَئِكَةُ يَسْتَمِعُونَ الذِّكْرَ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

১৩৯১। কুতায়বা (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, যে ব্যক্তি জুমআর দিনে সহবাসের পর দেহ পবিত্র করার জন্য গোসলের ন্যায় গোসল করে এবং সূর্য পশ্চিম দিগন্তে হেলে যাওয়ার পর প্রথম মুহূর্তে মসজিদে গমন করে, সে যেন একটি উট সাদ্‌কা করল। যে ব্যক্তি দ্বিতীয় মুহূর্তে মসজিদে গমন করে, সে যেন একটি গরু সাদ্‌কা করল। যে ব্যক্তি তৃতীয় মুহূর্তে মসজিদে গমন করে, সে যেন একটি ভেড়া সাদ্‌কা করল আর যে ব্যক্তি চতুর্থ মুহূর্তে মসজিদে গমন করে সে যেন একটি মুরগী সাদ্‌কা করল এবং যে ব্যক্তি পঞ্চম মুহূর্তে মসজিদে গমন করে সে যেন একটি ডিম সাদ্‌কা করল। যখন ইমাম খুতবা দেওয়ার জন্য বের হয়ে আসেন, তখন ফিরিশতাগণ উপস্থিত হয়ে খুতবা শুনতে থাকেন।

১৩৮৯

أَخْبَرَنَا عَمْرُو بْنُ سَوَّادِ بْنِ الأَسْوَدِ بْنِ عَمْرٍو، وَالْحَارِثُ بْنُ مِسْكِينٍ، قِرَاءَةً عَلَيْهِ وَأَنَا أَسْمَعُ، - وَاللَّفْظُ لَهُ - عَنِ ابْنِ وَهْبٍ، عَنْ عَمْرِو بْنِ الْحَارِثِ، عَنِ الْجُلاَحِ، مَوْلَى عَبْدِ الْعَزِيزِ أَنَّ أَبَا سَلَمَةَ بْنَ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، حَدَّثَهُ عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " يَوْمُ الْجُمُعَةِ اثْنَتَا عَشْرَةَ سَاعَةً لاَ يُوجَدُ فِيهَا عَبْدٌ مُسْلِمٌ يَسْأَلُ اللَّهَ شَيْئًا إِلاَّ آتَاهُ إِيَّاهُ فَالْتَمِسُوهَا آخِرَ سَاعَةٍ بَعْدَ الْعَصْرِ " .

বর্ণনাকারী: জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ আনসারী (রাঃ)

১৩৯২। আমর ইবনে সাওয়াদ ও হারিস ইবনে মিসকীন (রাহঃ) ......... জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ (রাযিঃ) সূত্রে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, জুমআর দিনে এমন বারটি মুহূর্ত রয়েছে, এমন কোন মুসলিম বান্দা পাওয়া যাবে না, যে ঐ মূহূর্তগুলোতে আল্লাহর কাছে কোন কিছু চাইবে, কিন্তু তাকে তা দেওয়া হবে না। অতএব, তোমরা ঐ মূহূর্তগুলোকে আসরের পর শেষ সময়ে অনুসন্ধান কর।

১৩৯০

أَخْبَرَنِي هَارُونُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ حَدَّثَنِي يَحْيَى بْنُ آدَمَ، قَالَ حَدَّثَنَا حَسَنُ بْنُ عَيَّاشٍ، قَالَ حَدَّثَنَا جَعْفَرُ بْنُ مُحَمَّدٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ كُنَّا نُصَلِّي مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم الْجُمُعَةَ ثُمَّ نَرْجِعُ فَنُرِيحُ نَوَاضِحَنَا . قُلْتُ أَيَّةَ سَاعَةٍ قَالَ زَوَالُ الشَّمْسِ .

বর্ণনাকারী: জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ আনসারী (রাঃ)

১৩৯৩। হারুন ইবনে আব্দুলাহ (রাহঃ) ......... জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সঙ্গে জুমআর নামায আদায় করতাম। তারপর আমরা আমাদের আবাসে ফিরে এসে উটগুলোকে আরাম দিতাম। ইমাম মুহাম্মাদ বাকের (রাহঃ) বলেন, আমি (জাবির (রাযিঃ)-কে) জিজ্ঞাসা করলাম, কখন (ফিরে আসতেন)? তিনি বললেন, শীতকালে সূর্য পশ্চিম দিগন্তে হেলে যাওয়ার পর।

১৩৯১

أَخْبَرَنَا شُعَيْبُ بْنُ يُوسُفَ، قَالَ أَنْبَأَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ، عَنْ يَعْلَى بْنِ الْحَارِثِ، قَالَ سَمِعْتُ إِيَاسَ بْنَ سَلَمَةَ بْنِ الأَكْوَعِ، يُحَدِّثُ عَنْ أَبِيهِ، قَالَ كُنَّا نُصَلِّي مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم الْجُمُعَةَ ثُمَّ نَرْجِعُ وَلَيْسَ لِلْحِيطَانِ فَىْءٌ يُسْتَظَلُّ بِهِ .

বর্ণনাকারী: সালামা ইবনুল আকওয়া' (রাঃ)

১৩৯৪। শু’আয়ব ইবনে ইয়ুসূফ (রাহঃ) ......... সালামা ইবনে আকওয়া (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সঙ্গে জুমআর নামায আদায় করতাম, তারপর ঘরে ফিরে আসতাম, তখনও দেওয়ালের এমন কোন ছায়ার সৃষ্টি হত না, যেখানে বিশ্রাম গ্রহণ করা যেতে পারে।

জুমআর জন্য আযান দেওয়া

باب الأذان للجمعة

১৩৯২

أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ سَلَمَةَ، قَالَ حَدَّثَنَا ابْنُ وَهْبٍ، عَنْ يُونُسَ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، قَالَ أَخْبَرَنِي السَّائِبُ بْنُ يَزِيدَ، أَنَّ الأَذَانَ، كَانَ أَوَّلُ حِينَ يَجْلِسُ الإِمَامُ عَلَى الْمِنْبَرِ يَوْمَ الْجُمُعَةَ فِي عَهْدِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَأَبِي بَكْرٍ وَعُمَرَ فَلَمَّا كَانَ فِي خِلاَفَةِ عُثْمَانَ وَكَثُرَ النَّاسُ أَمَرَ عُثْمَانُ يَوْمَ الْجُمُعَةِ بِالأَذَانِ الثَّالِثِ فَأُذِّنَ بِهِ عَلَى الزَّوْرَاءِ فَثَبَتَ الأَمْرُ عَلَى ذَلِكَ .

বর্ণনাকারী: সাঈব ইবনে ইয়াযীদ (রাঃ)

১৩৯২। মুহাম্মাদ ইবনে সালামা (রাহঃ) ......... ইবনে শিহাব (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমার কাছে সাইব ইবনে ইয়াযীদ (রাযিঃ) বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আবু বকর এবং উমর (রাযিঃ)-এর যুগে জুমআর দিনে প্রথম আযান ছিল যখন ইমাম জুমআর দিনে মিম্বরের উপর বসতেন। উসমান (রাযিঃ)-এর খিলাফতের যুগে মানুষের সংখ্যা যখন বেড়ে গেল, তখন উসমান (রাযিঃ) জুমআর দিনে প্রথম আযানের নির্দেশ দিলেন, এবং সর্বপ্রথম সে আযান যাওরা নামক স্থানে দেওয়া হয়েছিল। তারপর (অত্র) আযানের উপর এই আদেশ বলবৎ রয়ে গেল।

১৩৯৩

أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يَحْيَى بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ حَدَّثَنَا يَعْقُوبُ، قَالَ حَدَّثَنَا أَبِي، عَنْ صَالِحٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، أَنَّ السَّائِبَ بْنَ يَزِيدَ، أَخْبَرَهُ قَالَ إِنَّمَا أَمَرَ بِالتَّأْذِينِ الثَّالِثِ عُثْمَانُ حِينَ كَثُرَ أَهْلُ الْمَدِينَةِ وَلَمْ يَكُنْ لِرَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم غَيْرُ مُؤَذِّنٍ وَاحِدٍ وَكَانَ التَّأْذِينُ يَوْمَ الْجُمُعَةِ حِينَ يَجْلِسُ الإِمَامُ .

বর্ণনাকারী: সাঈব ইবনে ইয়াযীদ (রাঃ)

১৩৯৬। মুহাম্মাদ ইবনে ইয়াহয়া ইবনে আব্দুল্লাহ (রাহঃ) ......... ইবনে শিহাব (রাহঃ) থেকে বর্ণিত যে, সাইব ইবনে ইয়াযীদ (রাযিঃ) তার কাছে বর্ণনা করেছেন যে, যখন মদীনায় মানুষের সংখ্যা বেড়ে গিয়েছিল তখন উসমান (রাযিঃ) তৃতীয় আযানের নির্দেশ দিয়েছিলেন। কিন্তু রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর যুগে একটি মাত্র ব্যতীত অন্য আযান ছিল না, আর জুমআর দিনে যখন ইমাম (মিম্বরের উপর) বসতেন তখন উক্ত আযান দেওয়া হতো।

১৩৯৪

أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الأَعْلَى، قَالَ حَدَّثَنَا الْمُعْتَمِرُ، عَنْ أَبِيهِ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنِ السَّائِبِ بْنِ يَزِيدَ، قَالَ كَانَ بِلاَلٌ يُؤَذِّنُ إِذَا جَلَسَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَلَى الْمِنْبَرِ يَوْمَ الْجُمُعَةِ فَإِذَا نَزَلَ أَقَامَ ثُمَّ كَانَ كَذَلِكَ فِي زَمَنِ أَبِي بَكْرٍ وَعُمَرَ رضى الله عنهما .

বর্ণনাকারী: সাঈব ইবনে ইয়াযীদ (রাঃ)

১৩৯৭। মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল আলা (রাহঃ) ......... সাইব ইবনে ইয়াযীদ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) জুমআর দিনে মিম্বরের উপর বসতেন, তখন বিলাল (রাযিঃ) আযান দিতেন এবং যখন তিনি মিম্বর থেকে অবতরণ করতেন তখন ইকামত দিতেন। তারপর এরূপ আবু বকর এবং উমর (রাযিঃ)-এর যুগেও (প্রচলিত) ছিল।

জুমআর দিন ইমামের (খুতবা দেওয়ার জন্য) বের হওয়ার পর আগত ব্যক্তির নামায আদায় করা

باب الصلاة يوم الجمعة لمن جاء وقد خرج الإمام

১৩৯৫

أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الأَعْلَى، قَالَ حَدَّثَنَا خَالِدٌ، قَالَ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ عَمْرِو بْنِ دِينَارٍ، قَالَ سَمِعْتُ جَابِرَ بْنَ عَبْدِ اللَّهِ، يَقُولُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " إِذَا جَاءَ أَحَدُكُمْ وَقَدْ خَرَجَ الإِمَامُ فَلْيُصَلِّ رَكْعَتَيْنِ " . قَالَ شُعْبَةُ يَوْمَ الْجُمُعَةِ .

বর্ণনাকারী: জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ আনসারী (রাঃ)

১৩৯৮। মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল আ’লা (রাহঃ) ......... আমর ইবনে দীনার (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ (রাযিঃ)-কে বলতে শুনেছি যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, যখন তোমাদের কেউ এমন সময় আসে যখন ইমাম (খুতবা দেওয়ার জন্য) রের হয়ে আসে, তবে সে যেন দু’রাকআত নামায আদায় করে নেয়। রাবী শু’বা (রাযিঃ) বলেন, জুম’আর দিনে।

খুতবা দেওয়ার সময় ইমামের দাঁড়ানোর স্থান

مقام الإمام في الخطبة

১৩৯৬

أَخْبَرَنَا عَمْرُو بْنُ سَوَّادِ بْنِ الأَسْوَدِ، قَالَ أَنْبَأَنَا ابْنُ وَهْبٍ، قَالَ أَنْبَأَنَا ابْنُ جُرَيْجٍ، أَنَّ أَبَا الزُّبَيْرِ، أَخْبَرَهُ أَنَّهُ، سَمِعَ جَابِرَ بْنَ عَبْدِ اللَّهِ، يَقُولُ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِذَا خَطَبَ يَسْتَنِدُ إِلَى جِذْعِ نَخْلَةٍ مِنْ سَوَارِي الْمَسْجِدِ فَلَمَّا صُنِعَ الْمِنْبَرُ وَاسْتَوَى عَلَيْهِ اضْطَرَبَتْ تِلْكَ السَّارِيَةُ كَحَنِينِ النَّاقَةِ حَتَّى سَمِعَهَا أَهْلُ الْمَسْجِدِ حَتَّى نَزَلَ إِلَيْهَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَاعْتَنَقَهَا فَسَكَتَتْ .

বর্ণনাকারী: জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ আনসারী (রাঃ)

১৩৯৯। আমর ইবনে সাওয়্যাদ ইবনে আসওয়াদ (রাহঃ) ......... জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যখন খুতবা দিতেন, মসজিদের খেজুর বৃক্ষের স্তম্ভের সাথে ঠেস দিতেন। তারপর যখন মিম্বর প্রস্তুত হয়ে গেল, এবং তিনি তাতে বসলেন, তখন উক্ত খেজুর বৃক্ষের স্তম্ভটি উটনীর ন্যায় ক্রন্দন কবতে লাগল। এমন কি তা মসজিদের মুসল্লীরাও শুনতে ছিল। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) উক্ত স্তম্ভের দিকে নেমে এসে তাকে জড়িয়ে ধরলেন। তখন উক্ত স্তম্ভটি চুপ হয়ে গেল।

খুতবা দেওয়ার সময় ইমামের দাঁড়ানো

قيام الإمام في الخطبة

১৩৯৭

أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الْحَكَمِ، قَالَ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ، قَالَ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ مَنْصُورٍ، عَنْ عَمْرِو بْنِ مُرَّةَ، عَنْ أَبِي عُبَيْدَةَ، عَنْ كَعْبِ بْنِ عُجْرَةَ، قَالَ دَخَلَ الْمَسْجِدَ وَعَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ أُمِّ الْحَكَمِ يَخْطُبُ قَاعِدًا فَقَالَ انْظُرُوا إِلَى هَذَا يَخْطُبُ قَاعِدًا وَقَدْ قَالَ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ ( وَإِذَا رَأَوْا تِجَارَةً أَوْ لَهْوًا انْفَضُّوا إِلَيْهَا وَتَرَكُوكَ قَائِمًا ) .

বর্ণনাকারী: কাব ইবনে উজরাহ (রাঃ)

১৪০০। আহমদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে হাকাম (রাহঃ) ......... কা’ব ইবনে উজরা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, তিনি একদা মসজিদে প্রবেশ করলেন, তখন আব্দুর রহমান ইবনে উম্মি হাকাম (রাযিঃ) বসে খুতবা দিচ্ছিলেন। তিনি (উপস্থিত মূসল্লিদের লক্ষ্য করে) বললেন, আপনারা এর দিকে তাকান, ইনি বসে খুতবা দিচ্ছেন। অখচ আল্লাহ তাআলা বলেছেন, وَإِذَا رَأَوْا تِجَارَةً أَوْ لَهْوًا انْفَضُّوا إِلَيْهَا وَتَرَكُوكَ قَائِمًا অর্থঃ যখন তারা দেখল ব্যবসা ও কৌতুক, তখন তারা আপনাকে দাড় করিয়ে ছুটে তার দিকে গেল। (৬২: ১১)।

ইমামের নিকটবর্তী হওয়ার ফযীলত

باب الفضل في الدنو من الإمام

১৩৯৮

أَخْبَرَنَا مَحْمُودُ بْنُ خَالِدٍ، قَالَ حَدَّثَنِي عُمَرُ بْنُ عَبْدِ الْوَاحِدِ، قَالَ سَمِعْتُ يَحْيَى بْنَ الْحَارِثِ، يُحَدِّثُ عَنْ أَبِي الأَشْعَثِ الصَّنْعَانِيِّ، عَنْ أَوْسِ بْنِ أَوْسٍ الثَّقَفِيِّ، عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " مَنْ غَسَّلَ وَاغْتَسَلَ وَابْتَكَرَ وَغَدَا وَدَنَا مِنَ الإِمَامِ وَأَنْصَتَ ثُمَّ لَمْ يَلْغُ كَانَ لَهُ بِكُلِّ خُطْوَةٍ كَأَجْرِ سَنَةٍ صِيَامِهَا وَقِيَامِهَا " .

বর্ণনাকারী: আউস ইবনে আউস ছাকাফী (রাঃ)

১৪০১। মাহমুদ ইবনে খালিদ (রাহঃ) ......... আওস ইবনে আওস সাকাফী (রাযিঃ) সূত্রে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, যে ব্যক্তি শরীর ও মাথা ধৌত করত উত্তম রূপে গোসল করে ও জুমআর সময়ের প্রথম সময়েই মসজিদে গিয়ে খুতবা প্রথম থেকে শুনতে পায় আর নিরব হয়ে ইমামের নিকটে বসে এবং কোন অনর্থক কাজ না করে, তার জন্য প্রত্যেক পদক্ষেপে এক বছর আমল করার, এক বছর নামায আদায় করার এবং রোযা পালন করার ন্যায় সাওয়াব হবে।

জুমআর দিন ইমামের মিম্বরে থাকা অবস্থায় ঘাড়ের উপর দিয়ে যাওয়ার নিষেধাজ্ঞা

النهي عن تخطي رقاب الناس والإمام على المنبر يوم الجمعة

১৩৯৯

أَخْبَرَنَا وَهْبُ بْنُ بَيَانٍ، قَالَ أَنْبَأَنَا ابْنُ وَهْبٍ، قَالَ سَمِعْتُ مُعَاوِيَةَ بْنَ صَالِحٍ، عَنْ أَبِي الزَّاهِرِيَّةِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ بُسْرٍ، قَالَ كُنْتُ جَالِسًا إِلَى جَانِبِهِ يَوْمَ الْجُمُعَةِ فَقَالَ جَاءَ رَجُلٌ يَتَخَطَّى رِقَابَ النَّاسِ فَقَالَ لَهُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " أَىِ اجْلِسْ فَقَدْ آذَيْتَ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে বুসর আল-আসলামী রাযি.

১৪০২। ওয়াহব ইবনে বায়ান (রাহঃ) ......... আব্দুল্লাহ ইবনে বুসর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি শুক্রবারে তার পাশে বসা ছিলাম, তারপর তিনি বলেন, এক ব্যক্তি মানুষের ঘাড় ডিঙিয়ে আসছিল, তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাঁকে বললেন, বসে পড়, তুমি মানুষকে কষ্ট দিচ্ছ।

জুমআর দিন ইমামের খুতবা দেওয়ার সময় আগত ব্যক্তির নামায আদায় করা

باب الصلاة يوم الجمعة لمن جاء والإمام يخطب

১৪০০

أَخْبَرَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ الْحَسَنِ، وَيُوسُفُ بْنُ سَعِيدٍ، - وَاللَّفْظُ لَهُ - قَالاَ حَدَّثَنَا حَجَّاجٌ، عَنِ ابْنِ جُرَيْجٍ، قَالَ أَخْبَرَنِي عَمْرُو بْنُ دِينَارٍ، أَنَّهُ سَمِعَ جَابِرَ بْنَ عَبْدِ اللَّهِ، يَقُولُ جَاءَ رَجُلٌ وَالنَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم عَلَى الْمِنْبَرِ يَوْمَ الْجُمُعَةِ فَقَالَ لَهُ " أَرَكَعْتَ رَكْعَتَيْنِ " . قَالَ لاَ . قَالَ " فَارْكَعْ " .

বর্ণনাকারী: জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ আনসারী (রাঃ)

১৪০৩। ইবরাহীম ইবনে হাসান ও ইউসুফ ইবনে সাঈদ (রাহঃ) ......... জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। এক ব্যক্তি আসল, তখন নবী (ﷺ) শুক্রবারে মিম্বরের উপর ছিলেন, তিনি তাঁকে বললেন, তুমি কি দু’ রাক’আত নামায আদায় করেছ? সে বলল না, তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, তুমি নামায আদায় করে নাও।*

* ইমাম শাফিঈ ও ইমাম আহমাদ ইবন হাম্বল (রাহঃ)-এর মতে ইমামের খুতবা প্রদানরত অবস্থায় কেউ মসজিদে প্রবেশ করলে তার জন্য দু' রাকআত তাহিয়্যাতুল মাসজিদ পড়া মুস্তাহাব এবং এ দু' রাকআত পড়ার পূর্বে বসা মাকরূহ। পক্ষান্তরে ইমাম আবু হানীফা ও ইমাম মালিক (রাহঃ)-এর মতে এ অবস্থায় এ দু' রাকআত সালাত পড়বে না। হানাফী মাযহাবের পক্ষ থেকে আলোচ্য হাদীসের বেশ কয়েকটি জবাব প্রদান করা হয়েছে।

জুমআর দিনে খুতবার জন্য চুপ থাকা

باب الإنصات للخطبة يوم الجمعة

১৪০১

أَخْبَرَنَا قُتَيْبَةُ، قَالَ حَدَّثَنَا اللَّيْثُ، عَنْ عُقَيْلٍ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيَّبِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " مَنْ قَالَ لِصَاحِبِهِ يَوْمَ الْجُمُعَةِ وَالإِمَامُ يَخْطُبُ أَنْصِتْ فَقَدْ لَغَا " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

১৪০৪। কুতায়বা (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, যে ব্যক্তি জুমআর দিন ইমামের খুতবা দেওয়ার সময় তার সাথীকে বলল ’চুপ থাক’ সে একটি অনর্থক কাজ করল।

১৪০২

أَخْبَرَنَا عَبْدُ الْمَلِكِ بْنُ شُعَيْبِ بْنِ اللَّيْثِ بْنِ سَعْدٍ، قَالَ حَدَّثَنِي أَبِي، عَنْ جَدِّي، قَالَ حَدَّثَنِي عُقَيْلٌ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ عُمَرَ بْنِ عَبْدِ الْعَزِيزِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ بْنِ قَارِظٍ، وَعَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيَّبِ، أَنَّهُمَا حَدَّثَاهُ أَنَّ أَبَا هُرَيْرَةَ قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " إِذَا قُلْتَ لِصَاحِبِكَ أَنْصِتْ يَوْمَ الْجُمُعَةِ وَالإِمَامُ يَخْطُبُ فَقَدْ لَغَوْتَ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

১৪০৫। আব্দুল মালিক ইবনে শু’আয়ব (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে বলতে শুনেছি যে, তুমি যদি জুমআর দিন ইমামের খুতবা দেওয়া অবস্থায় তোমার সাথীকে বল চুপ কর, তাহলে তুমি একটি অনর্থক কাজ করলে।

জুমআর দিনে চুপ থাকা এবং অনর্থক কাজ পরিহার করার ফযীলত

باب فضل الإنصات وترك اللغو يوم الجمعة

১৪০৩

أَخْبَرَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، قَالَ أَنْبَأَنَا جَرِيرٌ، عَنْ مَنْصُورٍ، عَنْ أَبِي مَعْشَرٍ، زِيَادِ بْنِ كُلَيْبٍ عَنْ إِبْرَاهِيمَ، عَنْ عَلْقَمَةَ، عَنِ الْقَرْثَعِ الضَّبِّيِّ، - وَكَانَ مِنَ الْقُرَّاءِ الأَوَّلِينَ - عَنْ سَلْمَانَ، قَالَ قَالَ لِي رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " مَا مِنْ رَجُلٍ يَتَطَهَّرُ يَوْمَ الْجُمُعَةِ كَمَا أُمِرَ ثُمَّ يَخْرُجُ مِنْ بَيْتِهِ حَتَّى يَأْتِيَ الْجُمُعَةَ وَيُنْصِتُ حَتَّى يَقْضِيَ صَلاَتَهُ إِلاَّ كَانَ كَفَّارَةً لِمَا قَبْلَهُ مِنَ الْجُمُعَةِ " .

বর্ণনাকারী: সালমান ফারিসী (রাঃ)

১৪০৬। ইসহাক ইবনে ইবরাহীম (রাহঃ) ......... সালমান (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমাকে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, যেকোন ব্যক্তি জুমআর দিনে পবিত্রতা গ্রহণ করে যেভাবে তাকে আদেশ করা হয়েছে। তারপর তার ঘর থেকে বের হয়ে জুম’আয় পৌঁছে যায় এবং নামায সমাপন না করা পর্যন্ত চুপ থাকে তার জন্য এ আমল জুমআর পূর্ববর্তী সমুদয় গুনাহর কাফফারা হয়ে যায়।

খুতবার প্রকার

باب كيفية الخطبة

১৪০৪

أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، وَمُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، قَالاَ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ، قَالَ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، قَالَ سَمِعْتُ أَبَا إِسْحَاقَ، يُحَدِّثُ عَنْ أَبِي عُبَيْدَةَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " عَلَّمَنَا خُطْبَةَ الْحَاجَةِ الْحَمْدُ لِلَّهِ نَسْتَعِينُهُ وَنَسْتَغْفِرُهُ وَنَعُوذُ بِاللَّهِ مِنْ شُرُورِ أَنْفُسِنَا وَسَيِّئَاتِ أَعْمَالِنَا مَنْ يَهْدِهِ اللَّهُ فَلاَ مُضِلَّ لَهُ وَمَنْ يُضْلِلْ فَلاَ هَادِيَ لَهُ وَأَشْهَدُ أَنْ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ ثُمَّ يَقْرَأُ ثَلاَثَ آيَاتٍ ( يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ حَقَّ تُقَاتِهِ وَلاَ تَمُوتُنَّ إِلاَّ وَأَنْتُمْ مُسْلِمُونَ ) ( يَا أَيُّهَا النَّاسُ اتَّقُوا رَبَّكُمُ الَّذِي خَلَقَكُمْ مِنْ نَفْسٍ وَاحِدَةٍ وَخَلَقَ مِنْهَا زَوْجَهَا وَبَثَّ مِنْهُمَا رِجَالاً كَثِيرًا وَنِسَاءً وَاتَّقُوا اللَّهَ الَّذِي تَسَاءَلُونَ بِهِ وَالأَرْحَامَ إِنَّ اللَّهَ كَانَ عَلَيْكُمْ رَقِيبًا ) ( يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَقُولُوا قَوْلاً سَدِيدًا ) " . قَالَ أَبُو عَبْدِ الرَّحْمَنِ أَبُو عُبَيْدَةَ لَمْ يَسْمَعْ مِنْ أَبِيهِ شَيْئًا وَلاَ عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ وَلاَ عَبْدُ الْجَبَّارِ بْنُ وَائِلِ بْنِ حُجْرٍ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ)

১৪০৭। মুহাম্মাদ ইবনে মুসান্না ও মুহাম্মাদ ইবনে বাশশার (রাহঃ) ......... আব্দুল্লাহ (রাযিঃ) সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) আমাদেরকে খুতবায়ে হাজাত শিক্ষা দিলেনঃ

الْحَمْدُ لِلَّهِ نَسْتَعِينُهُ وَنَسْتَغْفِرُهُ وَنَعُوذُ بِاللَّهِ مِنْ شُرُورِ أَنْفُسِنَا وَسَيِّئَاتِ أَعْمَالِنَا مَنْ يَهْدِهِ اللَّهُ فَلاَ مُضِلَّ لَهُ وَمَنْ يُضْلِلْ فَلاَ هَادِيَ لَهُ وَأَشْهَدُ أَنْ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ

এরপর তিন আয়াত পাঠ করলেনঃ

(يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ حَقَّ تُقَاتِهِ وَلاَ تَمُوتُنَّ إِلاَّ وَأَنْتُمْ مُسْلِمُونَ)

(يَا أَيُّهَا النَّاسُ اتَّقُوا رَبَّكُمُ الَّذِي خَلَقَكُمْ مِنْ نَفْسٍ وَاحِدَةٍ وَخَلَقَ مِنْهَا زَوْجَهَا وَبَثَّ مِنْهُمَا رِجَالاً كَثِيرًا وَنِسَاءً وَاتَّقُوا اللَّهَ الَّذِي تَسَاءَلُونَ بِهِ وَالأَرْحَامَ إِنَّ اللَّهَ كَانَ عَلَيْكُمْ رَقِيبًا)

(يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَقُولُوا قَوْلاً سَدِيدًا)

অর্থঃ হে মু’মিনগণ! তোমরা আল্লাহকে যথার্থভাবে ভয় কর এবং তোমরা আত্মসমর্পণকারী না হয়ে কোন অবস্থায় মর না। (৩ঃ ১০২)

হে মানব! তোমরা তোমাদের প্রতিপালক কে ভয় কর যিনি তোমাদেরকে এক ব্যক্তি থেকে করেছেন ও যিনি তা হতে তার সঙ্গিনী সৃষ্টি করেন, যিনি তাদের দু’ জন থেকে বহু নর-নারী ছড়িয়ে দেন; এবং আল্লাহ কে ভয় কর যার নামে তোমরা একে অপরের নিকট যাচঞা কর এবং সতর্ক থাক জ্ঞাতি বন্ধন সম্পর্কে। আল্লাহ তোমাদের উপর তীক্ষ্ণ দৃষ্টি রাখেন। (৪ঃ ১)

হে মুমিগণ! আল্লাহকে ভয় কর এবং সঠিক কথা বলা (৩৩ঃ ৭০)

ইমামের খুতবায় জুমআর দিনে গোসল করার প্রতি উৎসাহ প্রদান

باب حض الإمام في خطبته على الغسل يوم الجمعة

১৪০৫

أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، قَالَ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ، قَالَ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنِ الْحَكَمِ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، قَالَ خَطَبَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ " إِذَا رَاحَ أَحَدُكُمْ إِلَى الْجُمُعَةِ فَلْيَغْتَسِلْ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

১৪০৮। মুহাম্মাদ ইবনে বাশশার (রাহঃ) ......... ইবনে উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) (একদিন) আমাদের সামনে খুতবা দিলেন। তিনি বললেন, যখন তোমাদের কেউ জুমআর নামায আদায় করার জন্য যাওয়ার ইচ্ছা করে তখন সে যেন গোসল করে নেয়।

১৪০৬

أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ سَلَمَةَ، قَالَ حَدَّثَنَا ابْنُ وَهْبٍ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ بْنِ نَشِيطٍ، أَنَّهُ سَأَلَ ابْنَ شِهَابٍ عَنِ الْغُسْلِ، يَوْمَ الْجُمُعَةِ فَقَالَ سُنَّةٌ وَقَدْ حَدَّثَنِي بِهِ، سَالِمُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ عَنْ أَبِيهِ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم تَكَلَّمَ بِهَا عَلَى الْمِنْبَرِ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ)

১৪০৯। মুহাম্মাদ ইবনে সালামা (রাহঃ) ......... ইবরাহীম ইবনে নাশীত (রাহঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি ইবনে শিহাব (রাহঃ)-কে জুমআর দিনের গোসল করা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেন, “তা হলো সুন্নত”। আরও বলেন, আমার কাছে এ সম্পর্কে সালিম ইবনে আব্দুল্লাহ তার পিতা (আব্দুল্লাহ) (রাযিঃ) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এ সম্পর্কে মিম্বরের উপর বর্ণনা করেছেন।

১৪০৭

أَخْبَرَنَا قُتَيْبَةُ، قَالَ حَدَّثَنَا اللَّيْثُ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ، عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ قَالَ وَهُوَ قَائِمٌ عَلَى الْمِنْبَرِ " مَنْ جَاءَ مِنْكُمُ الْجُمُعَةَ فَلْيَغْتَسِلْ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

১৪১০। কুতায়বা (রাহঃ) ......... আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাযিঃ) সূত্রে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) থেকে বর্ণিত। তিনি মিম্বরের উপর দণ্ডায়মান অবস্থায় বলেছেন যে, তোমাদের মধ্যে যে জুমআর দিন পায় সে যেন গোসল করে নেয়।

ইমামের জুমআর দিনে খুতবায় সাদকা করার প্রতি উদ্বুদ্ধ করা।

باب حض الإمام في خطبته على الغسل يوم الجمعة

১৪০৮

أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ يَزِيدَ، قَالَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنِ ابْنِ عَجْلاَنَ، عَنْ عِيَاضِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ سَمِعْتُ أَبَا سَعِيدٍ الْخُدْرِيَّ، يَقُولُ جَاءَ رَجُلٌ يَوْمَ الْجُمُعَةِ وَالنَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم يَخْطُبُ بِهَيْئَةٍ بَذَّةٍ فَقَالَ لَهُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " أَصَلَّيْتَ " . قَالَ لاَ . قَالَ " صَلِّ رَكْعَتَيْنِ " . وَحَثَّ النَّاسَ عَلَى الصَّدَقَةِ فَأَلْقُوا ثِيَابًا فَأَعْطَاهُ مِنْهَا ثَوْبَيْنِ فَلَمَّا كَانَتِ الْجُمُعَةُ الثَّانِيَةُ جَاءَ وَرَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَخْطُبُ فَحَثَّ النَّاسَ عَلَى الصَّدَقَةِ - قَالَ - فَأَلْقَى أَحَدَ ثَوْبَيْهِ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " جَاءَ هَذَا يَوْمَ الْجُمُعَةِ بِهَيْئَةٍ بَذَّةٍ فَأَمَرْتُ النَّاسَ بِالصَّدَقَةِ فَأَلْقُوا ثِيَابًا فَأَمَرْتُ لَهُ مِنْهَا بِثَوْبَيْنِ ثُمَّ جَاءَ الآنَ فَأَمَرْتُ النَّاسَ بِالصَّدَقَةِ فَأَلْقَى أَحَدَهُمَا " . فَانَتْهَرَهُ وَقَالَ " خُذْ ثَوْبَكَ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ)

১৪১১। মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে ইয়াযীদ (রাহঃ) ......... আবু সাঈদ খুদরী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। এক ব্যক্তি জুমআর দিনে ছিন্ন বস্ত্রে আসল, তখন নবী (ﷺ) খুতবা দিচ্ছিলেন। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাকে বললেন, তুমি কি নামায আদায় করেছ? সে বলল, না; তিনি বললেন, তুমি দু’রাকআত নামায আদায় করে নাও এবং লোকদের সাদ্‌কাহর প্রতি উদ্বুদ্ধ করলেন। তারা কাপড় দান করল, তিনি সেখান থেকে তাকে দুটি কাপড় দিয়ে দিলেন। দ্বিতীয় জুমআয় ঐ ব্যক্তি আসল, তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) খুতবা দিচ্ছিলেন, তিনি লোকদের সাদ্‌কাহর প্রতি উদ্বুদ্ধ করলেন। রাবী বলেন, ঐ ব্যক্তি ও তার দু’ কাপড়ের একটা সাদ্‌কাহ করে দিলেন।

তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, এই ব্যক্তি গত জুমআয় ছিন্ন বস্ত্রে এসেছিল, তখন আমি লোকদের সাদ্‌কাহ করার আদেশ দিয়েছিলাম, তারা কাপড় দান করেছিল, তখন আমি একে সেখান থেকে দুটো কাপড় দেওয়ার আদেশ দিয়েছিলাম। তারপর এই ব্যক্তি এখন আসল, এবং আমি লোকদের সাদ্‌কাহর আদেশ দিলাম, তো লোকটি তার দুটো কাপড় থেকে একটা দান করে দিল। নবী (ﷺ) তাকে ধমক দিলেন এবং বললেন, তুমি তোমার কাপড় নিয়ে নাও।*

* এ হাদীস দ্বারা প্রমাণিত হয়, অভাবী মানুষ প্রথমে নিজের অভাব দূর করবে, এরপর যদি কিছু উদ্বৃত থাকে তবে তা সাদকা করতে পারে।

ইমাম মিম্বরে থাকাবস্থায় মুসল্লীদের সম্বোধন করা

مخاطبة الإمام رعيته وهو على المنبر

১৪০৯

أَخْبَرَنَا قُتَيْبَةُ، قَالَ حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ، عَنْ عَمْرِو بْنِ دِينَارٍ، عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ بَيْنَا النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم يَخْطُبُ يَوْمَ الْجُمُعَةِ إِذْ جَاءَ رَجُلٌ فَقَالَ لَهُ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم " صَلَّيْتَ " . قَالَ لاَ . قَالَ " قُمْ فَارْكَعْ " .

বর্ণনাকারী: জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ আনসারী (রাঃ)

১৪১২। কুতায়বা (রাহঃ) ......... জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, (একদা) নবী (ﷺ) এর জুমআর দিনে খুতবা দেওয়ার সময় এক ব্যক্তি আসল। নবী (ﷺ) তাকে বললেন, তুমি কি নামায আদায় করেছ? সে বলল, না; তিনি বললেন, তুমি দাড়াও এবং নামায আদায় কর।

১৪১০

أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ مَنْصُورٍ، قَالَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، قَالَ حَدَّثَنَا أَبُو مُوسَى، إِسْرَائِيلُ بْنُ مُوسَى قَالَ سَمِعْتُ الْحَسَنَ، يَقُولُ سَمِعْتُ أَبَا بَكْرَةَ، يَقُولُ لَقَدْ رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَلَى الْمِنْبَرِ وَالْحَسَنُ مَعَهُ وَهُوَ يُقْبِلُ عَلَى النَّاسِ مَرَّةً وَعَلَيْهِ مَرَّةً وَيَقُولُ " إِنَّ ابْنِي هَذَا سَيِّدٌ وَلَعَلَّ اللَّهَ أَنْ يُصْلِحَ بِهِ بَيْنَ فِئَتَيْنِ مِنَ الْمُسْلِمِينَ عَظِيمَتَيْنِ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু বাকরা (রাঃ)

১৪১৩। মুহাম্মাদ ইবনে মনসুর (রাহঃ) ......... আবু বাকরা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে মিম্বরের উপর দেখেছি, এবং ইমাম হাসান (রাযিঃ) তাঁর সঙ্গে ছিলেন। তিনি একবার লোকদের দিকে তাকাচ্ছিলেন, আর একবার হাসান (রাযিঃ) এর দিকে তাকাচ্ছিলেন এবং বলছিলেন, নিশ্চয়ই আমার এ দৌহিত্র সর্দার হবে এবং সম্ভবত আল্লাহ তাআলা তার দ্বারা মুসলমানদের দু’ বড় দলের মধ্যে সন্ধি স্থাপন করাবেন।

খুতবায় কুরআন তিলওয়াত করা

باب القراءة في الخطبة

১৪১১

أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، قَالَ حَدَّثَنَا هَارُونُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ، قَالَ حَدَّثَنَا عَلِيٌّ، - وَهُوَ ابْنُ الْمُبَارَكِ - عَنْ يَحْيَى، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنِ ابْنَةِ حَارِثَةَ بْنِ النُّعْمَانِ، قَالَتْ حَفِظْتُ ( ق وَالْقُرْآنِ الْمَجِيدِ ) مِنْ فِي رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَهُوَ عَلَى الْمِنْبَرِ يَوْمَ الْجُمُعَةِ .

বর্ণনাকারী: বিবিধ

১৪১৪। মুহাম্মাদ ইবনে মুসান্না (রাহঃ) ......... হারিছা ইবনে নু’মান (রাযিঃ) এর কন্যা থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি “ক্বাফ ওয়াল কুরআনিল মাজিদ” রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর মুখ থেকে মুখস্থ করেছিলাম, যখন জুমআর দিনে মিম্বরের উপর ছিলেন।

খুতবায় ইশারা করা

باب الإشارة في الخطبة

১৪১২

أَخْبَرَنَا مَحْمُودُ بْنُ غَيْلاَنَ، قَالَ حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، قَالَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ حُصَيْنٍ، أَنَّ بِشْرَ بْنَ مَرْوَانَ، رَفَعَ يَدَيْهِ يَوْمَ الْجُمُعَةِ عَلَى الْمِنْبَرِ فَسَبَّهُ عُمَارَةُ بْنُ رُوَيْبَةَ الثَّقَفِيُّ وَقَالَ مَا زَادَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَلَى هَذَا وَأَشَارَ بِأُصْبُعِهِ السَّبَّابَةِ .

বর্ণনাকারী: উমারা ইবনে রুআইবা ছাকাফী (রাঃ)

১৪১৫। মাহমুদ ইবনে গায়লান (রাহঃ) ......... হুসাইন (রাহঃ) থেকে বর্ণিত যে, বিশর ইবনে মারওয়ান (রাযিঃ) জুমআর দিন মিম্বরের উপর থাকাবস্থায় উভয় হাত উঠালেন, তখন তাকে উমরা ইবনে রওয়ায়বা ছাকাফী (রাযিঃ) তিরস্কার করে বললেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর থেকে বেশী কিছু করেননি, আর তার তর্জনি দ্বারা ইশারা করলেন।

জুমআর দিন ইমামের খুতবা শেষ করার পূর্বে মিম্বর থেকে নেমে যাওয়া এবং তাঁর খুতবা বন্ধ করে দেওয়া, তারপর পুনরায় তা শুরু করা

باب نزول الإمام عن المنبر قبل فراغه من الخطبة، وقطعه كلامه ورجوعه إليه يوم الجمعة

১৪১৩

أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الْعَزِيزِ، قَالَ حَدَّثَنَا الْفَضْلُ بْنُ مُوسَى، عَنْ حُسَيْنِ بْنِ وَاقِدٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ بُرَيْدَةَ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ كَانَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم يَخْطُبُ فَجَاءَ الْحَسَنُ وَالْحُسَيْنُ - رضى الله عنهما - وَعَلَيْهِمَا قَمِيصَانِ أَحْمَرَانِ يَعْثُرَانِ فِيهِمَا فَنَزَلَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم فَقَطَعَ كَلاَمَهُ فَحَمَلَهُمَا ثُمَّ عَادَ إِلَى الْمِنْبَرِ ثُمَّ قَالَ " صَدَقَ اللَّهُ ( إِنَّمَا أَمْوَالُكُمْ وَأَوْلاَدُكُمْ فِتْنَةٌ ) رَأَيْتُ هَذَيْنِ يَعْثُرَانِ فِي قَمِيصَيْهِمَا فَلَمْ أَصْبِرْ حَتَّى قَطَعْتُ كَلاَمِي فَحَمَلْتُهُمَا " .

বর্ণনাকারী: হযরত বুরায়দা আসলামী (রাঃ)

১৪১৬। মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল আযীয (রাহঃ) ......... বুরায়দা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) খুতবা দিচ্ছিলেন এমন সময় ইমাম হাসান ও ইমাম হুসাইন (রাযিঃ) আগমন করলেন; তাদের পরিধানে দু’টি লাল কুর্তা ছিল। তাঁরা দুর্বলতা হেতূ এদিক-ওদিক পড়ে যাচ্ছিলেন, তাই নবী (ﷺ) নেমে আসলেন এবং তাঁর খুতবা বন্ধ করে দিলেন, তিনি তাঁদের উভয়কে উঠিয়ে নিলেন ও মিম্বরের উপর ফিরে আসলেন। তারপর বললেন, আল্লাহ তাআলা সত্যই বলেছেনঃ إِنَّمَا أَمْوَالُكُمْ وَأَوْلاَدُكُمْ فِتْنَةٌ অর্থঃ তোমাদের সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি তো তোমাদের জন্য পরীক্ষা (৬৪ঃ ১৫)। আমি এদের দুই জনকেই দেখলাম যে, তাদের কুর্তা নিয়ে তারা এদিক-ওদিক পড়ে যাচ্ছিল, কাজেই আমি ধৈর্যধারণ করতে পারলাম না, আমি আমার খুতবা বন্ধ করে দিলাম এবং তাদের উঠিয়ে নিয়ে আসলাম।

খুতবার সংক্ষেপকরণ মুস্তাহাব হওয়া

باب ما يستحب من تقصير الخطبة

১৪১৪

أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الْعَزِيزِ بْنِ غَزْوَانَ، قَالَ أَنْبَأَنَا الْفَضْلُ بْنُ مُوسَى، عَنِ الْحُسَيْنِ بْنِ وَاقِدٍ، قَالَ حَدَّثَنِي يَحْيَى بْنُ عُقَيْلٍ، قَالَ سَمِعْتُ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ أَبِي أَوْفَى، يَقُولُ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يُكْثِرُ الذِّكْرَ وَيُقِلُّ اللَّغْوَ وَيُطِيلُ الصَّلاَةَ وَيُقَصِّرُ الْخُطْبَةَ وَلاَ يَأْنَفُ أَنْ يَمْشِيَ مَعَ الأَرْمَلَةِ وَالْمِسْكِينِ فَيَقْضِيَ لَهُ الْحَاجَةَ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আবী আউফা (রাঃ)

১৪১৭। মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল আযীয (রাহঃ) ......... আব্দুল্লাহ ইবনে আবু আউফা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যিক্‌র অত্যধিক পরিমাণে করতেন এবং অনর্থক কাজ একেবারেই করতেন না আর নামায দীর্ঘ করতেন, ও খুতবা সংক্ষেপ করতেন, তিনি বিধবা ও গরীবদের সাথে চলা-ফেরায় সংকোচ বোধ করতেন না। যাতে তিনি তাদের প্রয়োজন পূরণ করতে পারেন।

খুতবা কতবার পাঠ করবে?

باب كم يخطب

১৪১৫

أَخْبَرَنَا عَلِيُّ بْنُ حُجْرٍ، قَالَ حَدَّثَنَا شَرِيكٌ، عَنْ سِمَاكٍ، عَنْ جَابِرِ بْنِ سَمُرَةَ، قَالَ جَالَسْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فَمَا رَأَيْتُهُ يَخْطُبُ إِلاَّ قَائِمًا وَيَجْلِسُ ثُمَّ يَقُومُ فَيَخْطُبُ الْخُطْبَةَ الآخِرَةَ .

বর্ণনাকারী: হযরত জাবির ইবনে সামুরা (রাঃ)

১৪১৮। আলী ইবনে হুজর (রাহঃ) ......... জাবির ইবনে সামুরা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী (ﷺ) এর সঙ্গে উঠাবসা করেছি। আমি তাকে দাঁড়ানো অবস্থায় ছাড়া কখনো খুতবা দিতে দেখিনি। তিনি বসতেন, পুনরায় দাঁড়িয়ে যেতেন ও দ্বিতীয় খুতবা পাঠ করতেন।

দুই খুতবার মাঝে বসার দ্বারা বিরতি করা

باب الفصل بين الخطبتين بالجلوس

১৪১৬

أَخْبَرَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ مَسْعُودٍ، قَالَ حَدَّثَنَا بِشْرُ بْنُ الْمُفَضَّلِ، قَالَ حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ، عَنْ نَافِعٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَانَ يَخْطُبُ الْخُطْبَتَيْنِ وَهُوَ قَائِمٌ وَكَانَ يَفْصِلُ بَيْنَهُمَا بِجُلُوسٍ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

১৪১৯। ইসমাঈল ইবনে মাসউদ (রাহঃ) ......... আব্দুল্লাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) দুইটি খুতবা দিতেন দাঁড়ানো অবস্থায় এবং উভয়ের মাঝে বসার দ্বারা বিরতি করতেন।

দুই খুতবার মাঝখানে বসা অবস্থায় চুপ থাকা

باب السكوت في القعدة بين الخطبتين

১৪১৭

أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ بَزِيعٍ، قَالَ حَدَّثَنَا يَزِيدُ، - يَعْنِي ابْنَ زُرَيْعٍ - قَالَ حَدَّثَنَا إِسْرَائِيلُ، قَالَ حَدَّثَنَا سِمَاكٌ، عَنْ جَابِرِ بْنِ سَمُرَةَ، قَالَ رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَخْطُبُ يَوْمَ الْجُمُعَةِ قَائِمًا ثُمَّ يَقْعُدُ قِعْدَةً لاَ يَتَكَلَّمُ ثُمَّ يَقُومُ فَيَخْطُبُ خُطْبَةً أُخْرَى فَمَنْ حَدَّثَكُمْ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَانَ يَخْطُبُ قَاعِدًا فَقَدْ كَذَبَ .

বর্ণনাকারী: হযরত জাবির ইবনে সামুরা (রাঃ)

১৪২০। মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে বাযী (রাহঃ) ......... জাবির ইবনে সামুরা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে দেখেছি যে, তিনি জুমআর দিনে দাঁড়ানো অবস্থায় খুতবা দিতেন তারপর বসতেন, সে বসাতে কথা বলতেন না। পুনরায় দাঁড়িয়ে যেতেন এবং দ্বিতীয় খুতবা দিতেন। অতএব, যে ব্যক্তি তোমাদের কাছে বর্ণনা করে যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বসা অবস্থায় খুতবা দিতেন তাহলে সে মিথ্যা বলল।

দ্বিতীয় খুতবায় কুরআন তিলাওয়াত করা এবং যিক্‌র করা

باب القراءة في الخطبة الثانية والذكر فيها

১৪১৮

أَخْبَرَنَا عَمْرُو بْنُ عَلِيٍّ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، قَالَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ سِمَاكٍ، عَنْ جَابِرِ بْنِ سَمُرَةَ، قَالَ كَانَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم يَخْطُبُ قَائِمًا ثُمَّ يَجْلِسُ ثُمَّ يَقُومُ وَيَقْرَأُ آيَاتٍ وَيَذْكُرُ اللَّهَ عَزَّ وَجَلَّ وَكَانَتْ خُطْبَتُهُ قَصْدًا وَصَلاَتُهُ قَصْدًا .

বর্ণনাকারী: হযরত জাবির ইবনে সামুরা (রাঃ)

১৪২১। আমর ইবনে আলী (রাহঃ) ......... জাবির ইবনে সামুরা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) দাঁড়িয়ে খুতবা দিতেন, তারপর বসতেন, পূনরায় দাঁড়াতেন ও কিছু আয়াত তিলাওয়াত করতেন এবং আল্লাহ তাআলার যিক্‌র করতেন। আর তার খুতবা হত পরিমিত আকারের, এবং তার নামায হত মধ্যম প্রকারের।

মিম্বর থেকে অবতরণ করার পর কথা বলা এবং দাঁড়ানো

الكلام والقيام بعد النزول عن المنبر

১৪১৯

أَخْبَرَنِي مُحَمَّدُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ مَيْمُونٍ، قَالَ حَدَّثَنَا الْفِرْيَابِيُّ، قَالَ حَدَّثَنَا جَرِيرُ بْنُ حَازِمٍ، عَنْ ثَابِتٍ الْبُنَانِيِّ، عَنْ أَنَسٍ، قَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَنْزِلُ عَنِ الْمِنْبَرِ فَيَعْرِضُ لَهُ الرَّجُلُ فَيُكَلِّمُهُ فَيَقُومُ مَعَهُ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم حَتَّى يَقْضِيَ حَاجَتَهُ ثُمَّ يَتَقَدَّمُ إِلَى مُصَلاَّهُ فَيُصَلِّي .

বর্ণনাকারী: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

১৪২২। মুহাম্মাদ ইবনে আলী (রাহঃ) ......... আনাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) মিম্বর থেকে অবতরণ করার পর কেউ তার সামনে আসলে তিনি তার সাথে কথা বলতেন এবং নবী (ﷺ) দাঁড়িয়ে তার প্রয়োজন মিটিয়ে দিতেন, তারপর তার নামাযের স্থানে এসে নামায আদায় করে নিতেন।

জুমআর নামাযের (রাক'আত) সংখ্যা

عدد صلاة الجمعة

১৪২০

أَخْبَرَنَا عَلِيُّ بْنُ حُجْرٍ، قَالَ حَدَّثَنَا شَرِيكٌ، عَنْ زُبَيْدٍ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبِي لَيْلَى، قَالَ قَالَ عُمَرُ صَلاَةُ الْجُمُعَةِ رَكْعَتَانِ وَصَلاَةُ الْفِطْرِ رَكْعَتَانِ وَصَلاَةُ الأَضْحَى رَكْعَتَانِ وَصَلاَةُ السَّفَرِ رَكْعَتَانِ تَمَامٌ غَيْرُ قَصْرٍ عَلَى لِسَانِ مُحَمَّدٍ صلى الله عليه وسلم . قَالَ أَبُو عَبْدِ الرَّحْمَنِ عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ أَبِي لَيْلَى لَمْ يَسْمَعْ مِنْ عُمَرَ .

বর্ণনাকারী: হযরত উমর ইবনুল খাত্তাব রাযি.

১৪২৩। আলী ইবনে হুজর (রাহঃ) ......... আব্দুর রহমান ইবনে আবু লায়লা (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, উমর (রাযিঃ) বলেছেন, জুমআর নামায দু’রাকআত, ঈদুল ফিতরের নামায দু’রাকআত, ঈদুল আযহার নামায দু’রাকআত এবং সফরের অবস্থার নামাযও দু’রাকআত। রাসুল (ﷺ) এর ভাষ্য মতে সে দু’রাকআতই পূর্ণ নামায, সংক্ষেপ নয়।

জুমআর নামাযে সূরা জুমআ এবং মুনাফিকুন পড়া

القراءة في صلاة الجمعة بسورة الجمعة والمنافقين

১৪২১

أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الأَعْلَى الصَّنْعَانِيُّ، قَالَ حَدَّثَنَا خَالِدُ بْنُ الْحَارِثِ، قَالَ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، قَالَ أَخْبَرَنِي مُخَوَّلٌ، قَالَ سَمِعْتُ مُسْلِمًا الْبَطِينَ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَانَ يَقْرَأُ يَوْمَ الْجُمُعَةِ فِي صَلاَةِ الصُّبْحِ ( الم * تَنْزِيلُ ) وَ( هَلْ أَتَى عَلَى الإِنْسَانِ ) وَفِي صَلاَةِ الْجُمُعَةِ بِسُورَةِ الْجُمُعَةِ وَالْمُنَافِقِينَ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

১৪২৪। মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল আলা সান’আনী (রাহঃ) ......... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) জুমআর দিনে ফজরের নামাযে الم تَنْزِيلُ এবং هَلْ أَتَى عَلَى الإِنْسَانِ পাঠ করতেন, আর জুমআর নামাযে সূরা জুমআ ও সূরা মুনাফিকুন পাঠ করতেন।

জুমআর নামাযে سبح اسم ربك الأعلى এবং هل أتاك حديث الغاشية পাঠ করা

القراءة في صلاة الجمعة بسبح اسم ربك الأعلى وهل أتاك حديث الغاشية

১৪২২

أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الأَعْلَى، قَالَ حَدَّثَنَا خَالِدٌ، عَنْ شُعْبَةَ، قَالَ أَخْبَرَنِي مَعْبَدُ بْنُ خَالِدٍ، عَنْ زَيْدِ بْنِ عُقْبَةَ، عَنْ سَمُرَةَ، قَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقْرَأُ فِي صَلاَةِ الْجُمُعَةِ بِـ ( سَبِّحِ اسْمَ رَبِّكَ الأَعْلَى ) وَ( هَلْ أَتَاكَ حَدِيثُ الْغَاشِيَةِ ) .

বর্ণনাকারী: হযরত সামুরা ইবনে জুনদুব (রাঃ)

১৪২৫। মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল আলা (রাহঃ) ......... সামুরা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) জুমআর নামাযে سَبِّحِ اسْمَ رَبِّكَ الأَعْلَى এবং هَلْ أَتَاكَ حَدِيثُ الْغَاشِيَةِ পড়তেন।

জুমআর নামাযের কিরাআতে নু’মান ইবনে বশীর (রাযিঃ) থেকে বর্ণনাকারীদের বর্ণনার পার্থক্য

ذكر الاختلاف على النعمان بن بشير في القراءة في صلاة الجمعة

১৪২৩

أَخْبَرَنَا قُتَيْبَةُ، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ ضَمْرَةَ بْنِ سَعِيدٍ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، أَنَّ الضَّحَّاكَ بْنَ قَيْسٍ، سَأَلَ النُّعْمَانَ بْنَ بَشِيرٍ مَاذَا كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقْرَأُ يَوْمَ الْجُمُعَةِ عَلَى إِثْرِ سُورَةِ الْجُمُعَةِ قَالَ كَانَ يَقْرَأُ ( هَلْ أَتَاكَ حَدِيثُ الْغَاشِيَةِ ) .

বর্ণনাকারী: হযরত নু'মান ইবন বাশীর রাযি.

১৪২৬। কুতায়বা (রাহঃ) ......... উবাইদুল্লাহ ইবনে আব্দুল্লাহ (রাহঃ) থেকে বর্ণিত যে, যাহহাক ইবনে কায়স (রাহঃ) নূমান ইবনে বশীর (রাযিঃ) কে প্রশ্ন করলেন, জুমআর দিনে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) সূরা জুমআর পরে কোন সূরা পাঠ করতেন? তিনি বললেন, তিনি هَلْ أَتَاكَ حَدِيثُ الْغَاشِيَةِ পাঠ করতেন।

১৪২৪

أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الأَعْلَى، قَالَ حَدَّثَنَا خَالِدٌ، عَنْ شُعْبَةَ، أَنَّ إِبْرَاهِيمَ بْنَ مُحَمَّدِ بْنِ الْمُنْتَشِرِ، أَخْبَرَهُ قَالَ سَمِعْتُ أَبِي يُحَدِّثُ، عَنْ حَبِيبِ بْنِ سَالِمٍ، عَنِ النُّعْمَانِ بْنِ بَشِيرٍ، قَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقْرَأُ فِي الْجُمُعَةِ بِـ ( سَبِّحِ اسْمَ رَبِّكَ الأَعْلَى ) وَ( هَلْ أَتَاكَ حَدِيثُ الْغَاشِيَةِ ) وَرُبَّمَا اجْتَمَعَ الْعِيدُ وَالْجُمُعَةُ فَيَقْرَأُ بِهِمَا فِيهِمَا جَمِيعًا .

বর্ণনাকারী: হযরত নু'মান ইবন বাশীর রাযি.

১৪২৭। মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল আ’লা (রাহঃ) ......... নু’মান ইবনে বশীর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) জুমআর নামাযে سَبِّحِ اسْمَ رَبِّكَ الأَعْلَى এবং هَلْ أَتَاكَ حَدِيثُ الْغَاشِيَةِ পাঠ করতেন। আর কখনো কখনো ঈদ এবং জুমআ একত্রিত হয়ে যেত তখন ঈদ এবং জুমআ উভয় নামাযে ঐ দুই সূরা পড়তেন।

যে ব্যক্তি জুমআর নামাযের এক রাক’আত পেল

من أدرك ركعة من صلاة الجمعة

১৪২৫

أَخْبَرَنَا قُتَيْبَةُ، وَمُحَمَّدُ بْنُ مَنْصُورٍ، - وَاللَّفْظُ لَهُ - عَنْ سُفْيَانَ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " مَنْ أَدْرَكَ مِنْ صَلاَةِ الْجُمُعَةِ رَكْعَةً فَقَدْ أَدْرَكَ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

১৪২৮। কুতায়বা ও মুহাম্মাদ ইবনে মনসুর (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, যে ব্যক্তি জুমআর নামাযের এক রাকআত পেল সে ব্যক্তি জুমআ পেল।

জুমআর পরে মসজিদে নামাযের সংখ্যা

عدد الصلاة بعد الجمعة في المسجد

১৪২৬

أَخْبَرَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، قَالَ أَنْبَأَنَا جَرِيرٌ، عَنْ سُهَيْلٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " إِذَا صَلَّى أَحَدُكُمُ الْجُمُعَةَ فَلْيُصَلِّ بَعْدَهَا أَرْبَعًا " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

১৪২৯। ইসহাক ইবনে ইবরাহীম (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, যখন তোমাদের কেউ জুমআর নামায আদায় করে তখন সে যেন তার পরে চার রাকআত নামায আদায় করে।

জুমআর পরে ইমামের নামায আদায় করা

صلاة الإمام بعد الجمعة

১৪২৭

أَخْبَرَنَا قُتَيْبَةُ، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَانَ لاَ يُصَلِّي بَعْدَ الْجُمُعَةِ حَتَّى يَنْصَرِفَ فَيُصَلِّيَ رَكْعَتَيْنِ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

১৪৩০। কুতায়বা (রাহঃ) ......... ইবনে উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) জুমআর পরে কোন নামায আদায় করতেন না, যতক্ষণ না ঘরে ফিরে আসতেন, তারপর দু’রাকআত নামায আদায় করতেন।

১৪২৮

أَخْبَرَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، قَالَ أَنْبَأَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، قَالَ حَدَّثَنَا مَعْمَرٌ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ سَالِمٍ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يُصَلِّي بَعْدَ الْجُمُعَةِ رَكْعَتَيْنِ فِي بَيْتِهِ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

১৪৩১। ইসহাক ইবনে ইবরাহীম (রাহঃ) ......... সালিমের পিতা (ইবনে উমর) (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) জুমআর পরে তার ঘরে দু’রাকআত নামায আদায় করতেন।

জুমআর পরের দু’ রাক’আত নামায দীর্ঘ করা

باب إطالة الركعتين بعد الجمعة

১৪২৯

أَخْبَرَنَا عَبْدَةُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، عَنْ يَزِيدَ، - وَهُوَ ابْنُ هَارُونَ - قَالَ أَنْبَأَنَا شُعْبَةُ، عَنْ أَيُّوبَ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، أَنَّهُ كَانَ يُصَلِّي بَعْدَ الْجُمُعَةِ رَكْعَتَيْنِ يُطِيلُ فِيهِمَا وَيَقُولُ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَفْعَلُهُ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

১৪৩২। আব্দা ইবনে আব্দুল্লাহ (রাহঃ) ......... ইবনে উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি জুমআর পরে দু’রাকআত নামায আদায় করতেন এবং তা দীর্ঘ করতেন। তিনি বলতেন যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাই করতেন।

ঐ মুহূর্তের উল্লেখ যে মুহূর্তে জুমআর দিনে দু'আ কবুল করা হয়

ذكر الساعة التي يستجاب فيها الدعاء يوم الجمعة

১৪৩০

أَخْبَرَنَا قُتَيْبَةُ، قَالَ حَدَّثَنَا بَكْرٌ، - يَعْنِي ابْنَ مُضَرَ - عَنِ ابْنِ الْهَادِ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ أَتَيْتُ الطُّورَ فَوَجَدْتُ ثَمَّ كَعْبًا فَمَكَثْتُ أَنَا وَهُوَ يَوْمًا أُحَدِّثُهُ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَيُحَدِّثُنِي عَنِ التَّوْرَاةِ فَقُلْتُ لَهُ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " خَيْرُ يَوْمٍ طَلَعَتْ فِيهِ الشَّمْسُ يَوْمُ الْجُمُعَةِ فِيهِ خُلِقَ آدَمُ وَفِيهِ أُهْبِطَ وَفِيهِ تِيبَ عَلَيْهِ وَفِيهِ قُبِضَ وَفِيهِ تَقُومُ السَّاعَةُ مَا عَلَى الأَرْضِ مِنْ دَابَّةٍ إِلاَّ وَهِيَ تُصْبِحُ يَوْمَ الْجُمُعَةِ مُصِيخَةً حَتَّى تَطْلُعَ الشَّمْسُ شَفَقًا مِنَ السَّاعَةِ إِلاَّ ابْنَ آدَمَ وَفِيهِ سَاعَةٌ لاَ يُصَادِفُهَا مُؤْمِنٌ وَهُوَ فِي الصَّلاَةِ يَسْأَلُ اللَّهَ فِيهَا شَيْئًا إِلاَّ أَعْطَاهُ إِيَّاهُ " . فَقَالَ كَعْبٌ ذَلِكَ يَوْمٌ فِي كُلِّ سَنَةٍ . فَقُلْتُ بَلْ هِيَ فِي كُلِّ جُمُعَةٍ . فَقَرَأَ كَعْبٌ التَّوْرَاةَ ثُمَّ قَالَ صَدَقَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم هُوَ فِي كُلِّ جُمُعَةٍ . فَخَرَجْتُ فَلَقِيتُ بَصْرَةَ بْنَ أَبِي بَصْرَةَ الْغِفَارِيَّ فَقَالَ مِنْ أَيْنَ جِئْتَ قُلْتُ مِنَ الطُّورِ . قَالَ لَوْ لَقِيتُكَ مِنْ قَبْلِ أَنْ تَأْتِيَهُ لَمْ تَأْتِهِ . قُلْتُ لَهُ وَلِمَ قَالَ إِنِّي سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " لاَ تُعْمَلُ الْمَطِيُّ إِلاَّ إِلَى ثَلاَثَةِ مَسَاجِدَ الْمَسْجِدِ الْحَرَامِ وَمَسْجِدِي وَمَسْجِدِ بَيْتِ الْمَقْدِسِ " . فَلَقِيتُ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ سَلاَمٍ فَقُلْتُ لَوْ رَأَيْتَنِي خَرَجْتُ إِلَى الطُّورِ فَلَقِيتُ كَعْبًا فَمَكَثْتُ أَنَا وَهُوَ يَوْمًا أُحَدِّثُهُ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَيُحَدِّثُنِي عَنِ التَّوْرَاةِ فَقُلْتُ لَهُ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " خَيْرُ يَوْمٍ طَلَعَتْ فِيهِ الشَّمْسُ يَوْمُ الْجُمُعَةِ فِيهِ خُلِقَ آدَمُ وَفِيهِ أُهْبِطَ وَفِيهِ تِيبَ عَلَيْهِ وَفِيهِ قُبِضَ وَفِيهِ تَقُومُ السَّاعَةُ مَا عَلَى الأَرْضِ مِنْ دَابَّةٍ إِلاَّ وَهِيَ تُصْبِحُ يَوْمَ الْجُمُعَةِ مُصِيخَةً حَتَّى تَطْلُعَ الشَّمْسُ شَفَقًا مِنَ السَّاعَةِ إِلاَّ ابْنَ آدَمَ وَفِيهِ سَاعَةٌ لاَ يُصَادِفُهَا عَبْدٌ مُؤْمِنٌ وَهُوَ فِي الصَّلاَةِ يَسْأَلُ اللَّهَ شَيْئًا إِلاَّ أَعْطَاهُ إِيَّاهُ " . قَالَ كَعْبٌ ذَلِكَ يَوْمٌ فِي كُلِّ سَنَةٍ . فَقَالَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ سَلاَمٍ كَذَبَ كَعْبٌ . قُلْتُ ثُمَّ قَرَأَ كَعْبٌ فَقَالَ صَدَقَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم هُوَ فِي كُلِّ جُمُعَةٍ . فَقَالَ عَبْدُ اللَّهِ صَدَقَ كَعْبٌ إِنِّي لأَعْلَمُ تِلْكَ السَّاعَةَ فَقُلْتُ يَا أَخِي حَدِّثْنِي بِهَا . قَالَ هِيَ آخِرُ سَاعَةٍ مِنْ يَوْمِ الْجُمُعَةِ قَبْلَ أَنْ تَغِيبَ الشَّمْسُ فَقُلْتُ أَلَيْسَ قَدْ سَمِعْتَ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " لاَ يُصَادِفُهَا مُؤْمِنٌ وَهُوَ فِي الصَّلاَةِ " . وَلَيْسَتْ تِلْكَ السَّاعَةَ صَلاَةٌ قَالَ أَلَيْسَ قَدْ سَمِعْتَ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " مَنْ صَلَّى وَجَلَسَ يَنْتَظِرُ الصَّلاَةَ لَمْ يَزَلْ فِي صَلاَتِهِ حَتَّى تَأْتِيَهُ الصَّلاَةُ الَّتِي تُلاَقِيهَا " . قُلْتُ بَلَى . قَالَ فَهُوَ كَذَلِكَ .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

১৪৩৩। কুতায়বা (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন আমি একদা তূর নামক স্থানে আসলাম। তথায় আমি কা’ব (রাযিঃ) কে পেলাম, সেখানে আমি এবং তিনি একদিন অবস্থান করলাম। আমি তাকে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) থেকে হাদীস বর্ণনা করতাম, আর তিনি আমাকে ‘তাওরাত’ থেকে বর্ণনা করতেন। আমি তাকে বললাম, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন সর্বোৎকৃষ্ট দিন যাতে সূর্য উদিত হয়, জুমআর দিন।

সেই দিনে আদম (আলাইহিস সালাম) কে সৃষ্টি করা হয়েছে, সে দিনই তাঁকে জান্নাত থেকে অবতরণ করানো হয়েছে, সে দিনই তাঁর তাওবা কবুল করা হয়েছে, সে দিনই তাঁর মৃত্যু হয়েছে, সে দিনই কিয়ামত অনুষ্ঠিত হবে। ভূপৃষ্ঠে বনী আদম ছাড়া এমন কোন জীব জন্তু নেই যা জুমআর দিন সূর্যোদয় পর্যন্ত কিয়ামত সংগঠিত হবার ভয়ে উৎকণ্ঠিত হয়ে না থাকে। সেই দিনে এমন একটি মুহূর্ত রয়েছে যে কোন মু’মিন নামাযে রত থাকা অবস্থায় তা পেয়ে আল্লাহর কাছে যদি সেই সময় কিছু প্রার্থনা করে, আল্লাহ তাকে নিশ্চয় তা দিবেন।

তারপর কা’ব জিজ্ঞাসা করলেন, সেই মুহূর্তটি প্রতি বছর কি একদিনই হয়? আমি বললাম, বরং তা প্রতি জুমআর দিনেই হয়। তখন কা’ব তাওরাত থেকে পাঠ করলেন, তারপর বললেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) সত্যই বলেছেন, তা প্রত্যেক জুমআর দিনেই হয়। তখন আমি বের হলে বসরা ইবনে আবু বসরা গিফারী (রাযিঃ) এর সাথে আমার সাক্ষাত হয়। তিনি বললেন, তুমি কোথা থেকে আসছ?

আমি বললাম, ‘তূর’ থেকে। তিনি বললেন যদি তোমার সেখানে যাওয়ার পূর্বে তোমার সাথে আমার সাক্ষাত হতো, তা হলে তুমি সেখানে যেতে না। আমি তাকে বললাম, তুমি এমন কথা কেন বলছ? আমি তো রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে বলতে শুনেছি যে, তিনটি মসজিদ ছাড়া সফর করা যাবে না। মসজিদে হারাম, আমার মসজিদ (মসজিদে নববী) এবং মসজিদে বায়তুল মুকাদ্দাস।

তারপর আমি আব্দুল্লাহ ইবনে সালাম (রাযিঃ)-এর সাথে সাক্ষাত করে বললাম, যদি আপনি আমাকে দেখতেন যে, আমি ’তূর’ নামক স্থানে গিয়েছি ও কা’ব (রাযিঃ)-এর সাথে সাক্ষাত করেছি আর আমি এবং তিনি একদিন সেখানে অবস্থান করেছি। আমি তাকে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) থেকে হাদীস বর্ণনা করে শুনাতাম আর তিনি আমাকে তাওরাত থেকে বর্ণনা করে শুনাতেন। তখন আমি তাকে বললাম যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, সর্বোৎকৃষ্ট দিন যাতে সূর্য উদিত হয় জুমআর দিন। সেই দিন আদম (আলাইহিস সালাম) কে সৃষ্টি করা হয়েছে, সে দিনই তাকে জান্নাত থেকে অবতরণ করানো হয়েছে, সে দিনই তার তওবা কবুল করা হয়েছে, সে দিনই তার মৃত্যু হয়েছে এবং সে দিনই কিয়ামত অনুষ্ঠিত হবে।

ভূ-পৃষ্ঠে বনী আদম ছাড়া এমন কোন জীব-জন্তু নেই, জুমআর দিন সূর্যোদয় পর্যন্ত কিয়ামত সংঘটিত হওয়ার ভয়ে উৎকর্ণ হয়ে না থাকে। সেই দিনে এমন একটি মুহৃর্ত রয়েছে যে কোন মুমিন নামাযে রত থাকা অবস্থায় তা পেযে আল্লাহর কাছে যদি সেই সময় কোন কিছু প্রার্থনা করে আল্লাহ তাকে তা নিশ্চয়ই দিবেন।

কা’ব (রাযিঃ) বলেছেন, সেই দিনটি প্রতি বছর একদিনই হয়, তখন আব্দুল্লাহ ইবনে সালাম (রাযিঃ) বললেন, কা’ব (রাযিঃ) সত্য বলেনি। আমি (আবু হুরায়রা) বললাম, তারপর কা’ব (রাযিঃ) পুনরায় (তাওরাত) পড়লেন। তখন তিনি বললেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) সত্যই বলেছেন, সেই মুহূর্তটি প্রত্যেক জুমআর দিনেই হয়। তখন আব্দুল্লাহ (রাযিঃ) বললেন, কা’ব (রাযিঃ) সত্যই বলেছেন, আমি সেই মুহূর্তটি সম্পর্কে অবশ্যই অবগত আছি। আমি বললাম, হে আমার ভাই! আপনি আমাকে সেই মুহূর্তটি সম্পর্কে বর্ণনা করুন।

তিনি বললেন, তা জুমআর দিনে সূর্য অস্ত যাওয়ার পূর্বে শেষ সময়। তখন আমি বললাম, আপনি কি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে বলতে শুনেননি যে, কোন মুমিন ব্যক্তি নামাযে রত থাকা অবস্থায় তা পায় (এবং সে সময় কোন দোয়া করলে আল্লাহ কবুল করেন) অথচ সে সময় তো কোন নামায নেই। তিনি বললেন, তুমি কি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে বলতে শুননি যে, যে ব্যক্তি নামায আদায় করে এবং বসে বসে পরবর্তী নামাযের অপেক্ষায় থাকে, সে ব্যক্তি নামাযেই থাকবে, যতক্ষণ পর্যন্ত না তার কাছে পরবর্তী নামায উপস্থিত হয়। আমি বললাম, কেন নয়? নিশ্চয়! তিনি বললেন, এটাও সেই রকমই।
১৪৩১

أَخْبَرَنِي مُحَمَّدُ بْنُ يَحْيَى بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ حَنْبَلٍ، قَالَ حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ خَالِدٍ، عَنْ رَبَاحٍ، عَنْ مَعْمَرٍ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، قَالَ حَدَّثَنِي سَعِيدٌ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " إِنَّ فِي الْجُمُعَةِ سَاعَةً لاَ يُوَافِقُهَا عَبْدٌ مُسْلِمٌ يَسْأَلُ اللَّهَ فِيهَا شَيْئًا إِلاَّ أَعْطَاهُ إِيَّاهُ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

১৪৩৪। মুহাম্মাদ ইবনে ইয়াহয়া (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) সূত্রে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নিশ্চয়ই জুমআর দিনে এমন একটি মুহূর্ত রয়েছে কোন মুসলিম বান্দা উক্ত মুহূর্তটি পেয়ে আল্লাহর কাছে কোন কিছু প্রার্থনা করলে অবশ্যই আল্লাহ তাকে তা নিশ্চয়ই দিবেন।

১৪৩২

أَخْبَرَنَا عَمْرُو بْنُ زُرَارَةَ، قَالَ أَنْبَأَنَا إِسْمَاعِيلُ، عَنْ أَيُّوبَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ أَبُو الْقَاسِمِ صلى الله عليه وسلم " إِنَّ فِي الْجُمُعَةِ سَاعَةً لاَ يُوَافِقُهَا عَبْدٌ مُسْلِمٌ قَائِمٌ يُصَلِّي يَسْأَلُ اللَّهَ عَزَّ وَجَلَّ شَيْئًا إِلاَّ أَعْطَاهُ إِيَّاهُ " . قُلْنَا يُقَلِّلُهَا يُزَهِّدُهَا . قَالَ أَبُو عَبْدِ الرَّحْمَنِ لاَ نَعْلَمُ أَحَدًا حَدَّثَ بِهَذَا الْحَدِيثِ غَيْرَ رَبَاحٍ عَنْ مَعْمَرٍ عَنِ الزُّهْرِيِّ إِلاَّ أَيُّوبَ بْنَ سُوَيْدٍ فَإِنَّهُ حَدَّثَ بِهِ عَنْ يُونُسَ عَنِ الزُّهْرِيِّ عَنْ سَعِيدٍ وَأَبِي سَلَمَةَ وَأَيُّوبُ بْنُ سُوَيْدٍ مَتْرُوكُ الْحَدِيثِ .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

১৪৩৫। আমর ইবনে যুরারাহ (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আবুল কাসেম (ﷺ) বলেছেন যে, নিশ্চয়ই জুমআর দিনে এমন একটি মুহূর্ত রয়েছে যে, কোন মুসলিম বান্দা সেই সময়টি পেয়ে নামাযে দাঁড়িয়ে আল্লাহ তাআলার কাছে কোন কিছু প্রার্থনা করলে নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা তাকে তা দেবেন। (আবু হুরায়রা (রাযিঃ) বলেন) নবী (ﷺ) বলেছিলেন যে, এ মুহূর্তটি সংকীর্ণ।