كتاب الوصايا

৩০. ওছিয়াত সম্পর্কিত অধ্যায়

অধ্যায় ৩০ · ৬১ টি হাদীস

ওয়াসিয়াতে দেরী করা মাকরূহ

الْكَرَاهِيَةُ فِي تَأْخِيرِ الْوَصِيَّةِ

৩৬১১

أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ حَرْبٍ قَالَ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ فُضَيْلٍ عَنْ عُمَارَةَ عَنْ أَبِي زُرْعَةَ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ جَاءَ رَجُلٌ إِلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَيُّ الصَّدَقَةِ أَعْظَمُ أَجْرًا قَالَ أَنْ تَصَدَّقَ وَأَنْتَ صَحِيحٌ شَحِيحٌ تَخْشَى الْفَقْرَ وَتَأْمُلُ الْبَقَاءَ وَلَا تُمْهِلْ حَتَّى إِذَا بَلَغَتْ الْحُلْقُومَ قُلْتَ لِفُلَانٍ كَذَا وَقَدْ كَانَ لِفُلَانٍ

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৩৬১২. আহমাদ ইবনে হারব (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) এর নিকট উপস্থিত হয়ে বললোঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! কোন্ সাদ্‌কায় সওয়াব বেশী? তিনি বললেনঃ ঐ সাদ্‌কা, যা তুমি সুস্থ অবস্থায় কর এবং মালের প্রতি তোমার অত্যধিক লালসা থাকে, আর তুমি অভাবগ্রস্থতার ভয় কর এবং তোমার আরও বহুদিন বেঁচে থাকার আশা থাকে। আর সাদ্‌কা করতে এত দেরী করবে না যে, তোমার মৃত্যু উপস্থিত হয়ে যায়। আর তুমি বলবেঃ এত অমুকের জন্য, অথচ তা তো অমুকের জন্য হয়েই গেছে।

৩৬১২

أَخْبَرَنَا هَنَّادُ بْنُ السَّرِيِّ عَنْ أَبِي مُعَاوِيَةَ عَنْ الْأَعْمَشِ عَنْ إِبْرَاهِيمَ التَّيْمِيِّ عَنْ الْحَارِثِ بْنِ سُوَيْدٍ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَيُّكُمْ مَالُ وَارِثِهِ أَحَبُّ إِلَيْهِ مِنْ مَالِهِ قَالُوا يَا رَسُولَ اللَّهِ مَا مِنَّا مِنْ أَحَدٍ إِلَّا مَالُهُ أَحَبُّ إِلَيْهِ مِنْ مَالِ وَارِثِهِ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ اعْلَمُوا أَنَّهُ لَيْسَ مِنْكُمْ مِنْ أَحَدٍ إِلَّا مَالُ وَارِثِهِ أَحَبُّ إِلَيْهِ مِنْ مَالِهِ مَالُكَ مَا قَدَّمْتَ وَمَالُ وَارِثِكَ مَا أَخَّرْتَ

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ)

৩৬১৩. হান্নাদ ইবনে সারী (রাহঃ) ......... আব্দুল্লাহ্ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ তোমাদের মধ্যে এমন ব্যক্তি কে আছে যে, যার ওয়ারিসের মাল তার নিকট তার নিজের মাল হতে অধিক প্রিয়? তাঁরা বললেনঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আমাদের মধ্যে এমন কেউ নেই, যার নিকট তার নিজের মাল তার ওয়ারিসের মাল হতে প্রিয় নয়। তখন রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বললেনঃ জেনে রাখ, তোমাদের প্রত্যেকের নিকট তার ওয়ারিসের মাল তার নিজের মাল অপেক্ষা প্রিয়। তোমার মাল তো তা-ই যা তুমি (মৃত্যুর) পূর্বেই পাঠিয়ে দিয়েছ, আর ওয়ারিসের মাল তা-ই যা রেখে তুমি মারা যাও।

৩৬১৩

أَخْبَرَنَا عَمْرُو بْنُ عَلِيٍّ قَالَ حَدَّثَنَا يَحْيَى قَالَ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ عَنْ قَتَادَةَ عَنْ مُطَرِّفٍ عَنْ أَبِيهِ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ أَلْهَاكُمْ التَّكَاثُرُ حَتَّى زُرْتُمْ الْمَقَابِرَ قَالَ يَقُولُ ابْنُ آدَمَ مَالِي مَالِي وَإِنَّمَا مَالُكَ مَا أَكَلْتَ فَأَفْنَيْتَ أَوْ لَبِسْتَ فَأَبْلَيْتَ أَوْ تَصَدَّقْتَ فَأَمْضَيْتَ

বর্ণনাকারী: মুতাররিফ ইবনে আব্দুল্লাহ (রহঃ)

৩৬১৪. আমর ইবনে আলী (রাহঃ) ......... মুতাররিফ (রাহঃ) তার পিতার সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেছেন, প্রাচুর্যের প্রতিযোগিতা তোমাদের মােহাচ্ছন্ন রাখে, যতক্ষণ না তোমরা কবরে উপনীত হও। পরে তিনি বললেনঃ মানুষ (আদম সন্তান) বলে, আমার মাল, আমার মাল। (হে মানুষ!) তোমার মাল তো তা, যা তুমি খেয়ে শেষ করেছ কিংবা যা পরিধান করে পুরাতন করে ফেলেছ, অথবা যা তুমি সাদ্‌কা করে কার্যকর করেছ।

৩৬১৪

أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ قَالَ حَدَّثَنَا مُحَمَّدٌ قَالَ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ قَالَ سَمِعْتُ أَبَا إِسْحَقَ سَمِعَ أَبَا حَبِيبَةَ الطَّائِيَّ قَالَ أَوْصَى رَجُلٌ بِدَنَانِيرَ فِي سَبِيلِ اللَّهِ فَسُئِلَ أَبُو الدَّرْدَاءِ فَحَدَّثَ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ مَثَلُ الَّذِي يُعْتِقُ أَوْ يَتَصَدَّقُ عِنْدَ مَوْتِهِ مَثَلُ الَّذِي يُهْدِي بَعْدَمَا يَشْبَعُ

বর্ণনাকারী: হযরত আবুদ দারদা রাযি.

৩৬১৫. মুহাম্মাদ ইবনে বাশশার (রাহঃ) ......... আবু হাবীবা তাঈ (রাহঃ) বলেন, এক ব্যক্তি কিছু দীনার (আলাদা করে) আল্লাহর রাস্তায় দেয়ার ওয়াসিয়াত করলো। এ ব্যাপারে আবুদ দারদা (রাযিঃ)-কে জিজ্ঞাসা করা হলে, তিনি নবী (ﷺ) থেকে হাদীস বর্ণনা করলেন, যে ব্যক্তি মৃত্যুকালে দাসমুক্ত করে অথবা সাদ্‌কা দেয়, তার উদাহরণ এরূপ, যেরূপ কোন ব্যক্তি তৃপ্ত হওয়ার পর হাদিয়া দিয়ে থাকে।

৩৬১৫

أَخْبَرَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ قَالَ حَدَّثَنَا الْفُضَيْلُ عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ عَنْ نَافِعٍ عَنْ ابْنِ عُمَرَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَا حَقُّ امْرِئٍ مُسْلِمٍ لَهُ شَيْءٌ يُوصَى فِيهِ أَنْ يَبِيتَ لَيْلَتَيْنِ إِلَّا وَوَصِيَّتُهُ مَكْتُوبَةٌ عِنْدَهُ

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

৩৬১৬. কুতায়বা ইবনে সাঈদ (রাহঃ) ......... ইবনে উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেছেনঃ কোন মুসলমানের উচিত নয় যে, যা তার ওয়াসিয়াত করার ছিল, তাতে ওয়াসিয়াতের ব্যাপারে ওয়াসিয়াতনামা না লিখে দু’রাত অতিবাহিত করা।

৩৬১৬

أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ سَلَمَةَ قَالَ حَدَّثَنَا ابْنُ الْقَاسِمِ عَنْ مَالِكٍ عَنْ نَافِعٍ عَنْ ابْنِ عُمَرَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ مَا حَقُّ امْرِئٍ مُسْلِمٍ لَهُ شَيْءٌ يُوصَى فِيهِ يَبِيتُ لَيْلَتَيْنِ إِلَّا وَوَصِيَّتُهُ مَكْتُوبَةٌ عِنْدَهُ

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

৩৬১৭. মুহাম্মাদ ইবনে সালামা (রাহঃ) ......... ইবনে উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেছেনঃ কোন মুসলমানের পক্ষে দুটি রাত্রি এমন অবস্থায় অতিবাহিত করা উচিত নয় যে, কোন বিষয়ে তার ওয়াসিয়াত করার রয়েছে। অথচ তার নিকট তার ওয়াসিয়াতনামা লিখিত নেই।

৩৬১৭

أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ حَاتِمِ بْنِ نُعَيْمٍ قَالَ حَدَّثَنَا حِبَّانُ قَالَ أَنْبَأَنَا عَبْدُ اللَّهِ عَنْ ابْنِ عَوْنٍ عَنْ نَافِعٍ عَنْ ابْنِ عُمَرَ قَوْلَهُ

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

৩৬১৮. মুহাম্মাদ ইবনে হাতিম (রাহঃ) ......... আব্দুল্লাহ্ ইবনে উমর (রাযিঃ) থেকে তাঁর উক্তি (রূপে) বর্ণিত।

৩৬১৮

أَخْبَرَنَا يُونُسُ بْنُ عَبْدِ الْأَعْلَى قَالَ أَنْبَأَنَا ابْنُ وَهْبٍ قَالَ أَخْبَرَنِي يُونُسُ عَنْ ابْنِ شِهَابٍ قَالَ فَإِنَّ سَالِمًا أَخْبَرَنِي عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ مَا حَقُّ امْرِئٍ مُسْلِمٍ تَمُرُّ عَلَيْهِ ثَلَاثُ لَيَالٍ إِلَّا وَعِنْدَهُ وَصِيَّتُهُ قَالَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ مَا مَرَّتْ عَلَيَّ مُنْذُ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ ذَلِكَ إِلَّا وَعِنْدِي وَصِيَّتِي

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

৩৬১৯. ইউনুস ইবনে আব্দুল আলা (রাহঃ) ......... সালিম ইবনে আব্দুল্লাহ (রাহঃ) তার পিতা হতে বর্ণনা করেন, নবী (ﷺ) বলেছেনঃ কোন মুসলমান ব্যক্তির জন্য এরূপ উচিত নয় যে, যার নিকট এমন বস্তু রয়েছে, যার ওয়াসিয়াত করা প্রয়ােজন, অথচ সে তিন রাত এভাবে অতিবাহিত করে যে, তার নিকট তার ওয়াসিয়াতনামা না থাকে।

আব্দুল্লাহ্ ইবনে উমর (রাযিঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-কে এ কথা বলতে শোনার পর থেকে আমার (এমন কোন সময়) অতিক্রান্ত হয় নি যে, আমার ওয়াসিয়াত (নামা) আমার কাছে ছিল না।
৩৬১৯

أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ يَحْيَى بْنِ الْوَزِيرِ بْنِ سُلَيْمَانَ قَالَ سَمِعْتُ ابْنَ وَهْبٍ قَالَ أَخْبَرَنِي يُونُسُ وَعَمْرُو بْنُ الْحَارِثِ عَنْ ابْنِ شِهَابٍ عَنْ سَالِمِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ عَنْ أَبِيهِ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ مَا حَقُّ امْرِئٍ مُسْلِمٍ لَهُ شَيْءٌ يُوصَى فِيهِ فَيَبِيتُ ثَلَاثَ لَيَالٍ إِلَّا وَوَصِيَّتُهُ عِنْدَهُ مَكْتُوبَةٌ

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

৩৬২০. আহমাদ ইন ইয়াহইয়া (রাহঃ) ......... সালিম ইবনে আব্দুল্লাহ্ (রাহঃ) তাঁর পিতা সূত্রে রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেছেনঃ কোন মুসলমানের জন্য উচিত নয়, যে বিষয়ে তার ওয়াসিয়াত করা প্রয়োজন, সে বিষয়ে ওয়াসিয়াতনামা না লিখে সে তিন দিন অতিবাহিত করে।

নবী (ﷺ) ওয়াসিয়াত করেছিলেন কি?

هَلْ أَوْصَى النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ

৩৬২০

أَخْبَرَنَا إِسْمَعِيلُ بْنُ مَسْعُودٍ قَالَ حَدَّثَنَا خَالِدُ بْنُ الْحَارِثِ قَالَ حَدَّثَنَا مَالِكُ بْنُ مِغْوَلٍ قَالَ حَدَّثَنَا طَلْحَةُ قَالَ سَأَلْتُ ابْنَ أَبِي أَوْفَى أَوْصَى رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ لَا قُلْتُ كَيْفَ كَتَبَ عَلَى الْمُسْلِمِينَ الْوَصِيَّةَ قَالَ أَوْصَى بِكِتَابِ اللَّهِ

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আবী আউফা (রাঃ)

৩৬২১. ইসমাঈল ইবনে মাসউদ (রাহঃ) ......... তালহা (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ইবনে আবু আওফা (রাযিঃ)-কে জিজ্ঞাসা করলাম, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) কি কোন ওয়াসিয়াত করেছিলেন? তিনি বললেনঃ না। তিনি (তালহা] বলেন, আমি ইবনে আবু আওফা (রাযিঃ)-কে বললাম, তা হলে মুসলমানদের জন্য কিরূপে ওয়াসিয়াতের বিধান করেছেন? তিনি বললেনঃ তিনি (নবী (ﷺ)) আল্লাহর কিতাব (প্রতিপালন)-এর ওয়াসিয়াত করেছেন।

৩৬২১

أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ رَافِعٍ قَالَ حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ آدَمَ قَالَ حَدَّثَنَا مُفَضَّلٌ عَنْ الْأَعْمَشِ وَأَنْبَأَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْعَلَاءِ وَأَحْمَدُ بْنُ حَرْبٍ قَالَا حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ عَنْ الْأَعْمَشِ عَنْ شَقِيقٍ عَنْ مَسْرُوقٍ عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ مَا تَرَكَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ دِينَارًا وَلَا دِرْهَمًا وَلَا شَاةً وَلَا بَعِيرًا وَلَا أَوْصَى بِشَيْءٍ

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

৩৬২২. মুহাম্মাদ ইবনে রাফে’ (রাহঃ) ......... আয়িশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) দীনার, দিরহাম, বকরি এবং উট কিছুই রেখে যাননি, এবং (তাই) তিনি কোন কিছুর ওয়াসিয়াতও করেন নি।

৩৬২২

أَخْبَرَنِي مُحَمَّدُ بْنُ رَافِعٍ حَدَّثَنَا مُصْعَبٌ حَدَّثَنَا دَاوُدُ عَنْ الْأَعْمَشِ عَنْ شَقِيقٍ عَنْ مَسْرُوقٍ عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ مَا تَرَكَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ دِرْهَمًا وَلَا دِينَارًا وَلَا شَاةً وَلَا بَعِيرًا وَمَا أَوْصَى

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

৩৬২৩. মুহাম্মাদ ইবনে রাফে’ (রাহঃ) ......... আয়িশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) দীনার, দিরহাম, বকরি এবং উট কিছুই রেখে যাননি, এবং (তাই) তিনি কোন কিছুর ওয়াসিয়াতও করেন নি।

৩৬২৩

أَخْبَرَنَا جَعْفَرُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ الْهُذَيْلِ وَأَحْمَدُ بْنُ يُوسُفَ قَالَا حَدَّثَنَا عَاصِمُ بْنُ يُوسُفَ قَالَ حَدَّثَنَا حَسَنُ بْنُ عَيَّاشٍ عَنْ الْأَعْمَشِ عَنْ إِبْرَاهِيمَ عَنْ الْأَسْوَدِ عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ مَا تَرَكَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ دِرْهَمًا وَلَا دِينَارًا وَلَا شَاةً وَلَا بَعِيرًا وَلَا أَوْصَى لَمْ يَذْكُرْ جَعْفَرٌ دِينَارًا وَلَا دِرْهَمًا

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

৩৬২৪. জাফর ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে হুযায়ল ও আহমদ ইবনে ইউসুফ (রাহঃ) ......... আয়েশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) দিরহাম, দীনার, বকরি, উট কিছুই রেখে যাননি, আর তিনি ওয়াসিয়াতও করেন নি। রাবী জাফর (রাহঃ) দীনার ও দিরহামের কথা উল্লেখ করেন নি।

৩৬২৪

أَخْبَرَنَا عَمْرُو بْنُ عَلِيٍّ قَالَ حَدَّثَنَا أَزْهَرُ قَالَ أَنْبَأَنَا ابْنُ عَوْنٍ عَنْ إِبْرَاهِيمَ عَنْ الْأَسْوَدِ عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ يَقُولُونَ إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَوْصَى إِلَى عَلِيٍّ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ لَقَدْ دَعَا بِالطَّسْتِ لِيَبُولَ فِيهَا فَانْخَنَثَتْ نَفْسُهُ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَمَا أَشْعُرُ فَإِلَى مَنْ أَوْصَى

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

৩৬২৫. আমর ইবনে আলী (রাহঃ) ......... আয়েশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, লোক বলে যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আলী (রাযিঃ)-কে ওয়াসিয়াত করেছেন। অথচ তাঁর অবস্থা এই ছিল যে, তিনি পেশাব করার জন্য পাত্র চেয়েছিলেন। এর পরেই তিনি ঢলে পড়লেন (ইনতিকাল করেন), যা আমি অনুভব করতেও পারিনি। তাহলে তিনি কার কাছে ওয়াসিয়াত করলেন? তিনি কাউকে ওয়াসিয়ত করেছেন বলে আমার জানা নেই।

৩৬২৫

أَخْبَرَنِي أَحْمَدُ بْنُ سُلَيْمَانَ قَالَ حَدَّثَنَا عَارِمٌ قَالَ حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ عَنْ ابْنِ عَوْنٍ عَنْ إِبْرَاهِيمَ عَنْ الْأَسْوَدِ عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ تُوُفِّيَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَلَيْسَ عِنْدَهُ أَحَدٌ غَيْرِي قَالَتْ وَدَعَا بِالطَّسْتِ

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

৩৬২৬. আহমাদ ইন সুলায়মান (রাহঃ) .... আয়েশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ওফাত বরণ করেছেন, তখন তাঁর কাছে আমি ব্যতীত কেউ ছিল না। তিনি (পেশাব করার জন্য) পাত্র চেয়েছিলেন।

সম্পদের এক-তৃতীয়াংশ ওয়াসিয়াত করা প্রসঙ্গে

بَاب الْوَصِيَّةِ بِالثُّلُثِ

৩৬২৬

أَخْبَرَنِي عَمْرُو بْنُ عُثْمَانَ بْنِ سَعِيدٍ قَالَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ عَنْ الزُّهْرِيِّ عَنْ عَامِرِ بْنِ سَعْدٍ عَنْ أَبِيهِ قَالَ مَرِضْتُ مَرَضًا أَشْفَيْتُ مِنْهُ فَأَتَانِي رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَعُودُنِي فَقُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّ لِي مَالًا كَثِيرًا وَلَيْسَ يَرِثُنِي إِلَّا ابْنَتِي أَفَأَتَصَدَّقُ بِثُلُثَيْ مَالِي قَالَ لَا قُلْتُ فَالشَّطْرَ قَالَ لَا قُلْتُ فَالثُّلُثَ قَالَ الثُّلُثَ وَالثُّلُثُ كَثِيرٌ إِنَّكَ أَنْ تَتْرُكَ وَرَثَتَكَ أَغْنِيَاءَ خَيْرٌ لَهُمْ مِنْ أَنْ تَتْرُكَهُمْ عَالَةً يَتَكَفَّفُونَ النَّاسَ

বর্ণনাকারী: আমির ইবন সা'দ (রহঃ)

৩৬২৭. আমর ইবনে উসমান ইবনে সাঈদ (রাহঃ) ......... আমির ইবনে সা’দ (রাহঃ) তার পিতা হতে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, আমি কঠিন রোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর নিকটবর্তী হলাম। রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) আমাকে দেখতে আসলে আমি বললামঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমার অনেক সম্পদ রয়েছে। আমার কন্যা ছাড়া আর কোন ওয়ারিছ নেই। আমি কি আমার মালের দুই-তৃতীয়াংশ সাদ্‌কা করে দেব? তিনি বললেনঃ না। আমি বললামঃ তাহলে অর্ধেক? তিনি বললেন, না। আমি বললাম, তাহলে এক-তৃতীয়াংশ? তিনি বললেনঃ হ্যাঁ; এক-তৃতীয়াংশ, আর এক-তৃতীয়াংশও অধিক। কেননা তুমি যদি তোমার ওয়ারিসদেরকে ধনী রেখে যাও, তবে তা তাদেরকে এরূপ অভাবগ্রস্ত অবস্থায় রেখে যাওয়া অপেক্ষা উত্তম যে, আর তারা মানুষের কাছে হাত পেতে (দুয়ারে দুয়ারে ভিক্ষা করে) বেড়াবে।

৩৬২৭

أَخْبَرَنَا عَمْرُو بْنُ مَنْصُورٍ وَأَحْمَدُ بْنُ سُلَيْمَانَ وَاللَّفْظُ لِأَحْمَدَ قَالَا حَدَّثَنَا أَبُو نُعَيْمٍ قَالَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ عَنْ سَعْدِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ عَنْ عَامِرِ بْنِ سَعْدٍ عَنْ سَعْدٍ قَالَ جَاءَنِي النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَعُودُنِي وَأَنَا بِمَكَّةَ قُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ أُوصِي بِمَالِي كُلِّهِ قَالَ لَا قُلْتُ فَالشَّطْرَ قَالَ لَا قُلْتُ فَالثُّلُثَ قَالَ الثُّلُثَ وَالثُّلُثُ كَثِيرٌ إِنَّكَ أَنْ تَدَعَ وَرَثَتَكَ أَغْنِيَاءَ خَيْرٌ مِنْ أَنْ تَدَعَهُمْ عَالَةً يَتَكَفَّفُونَ النَّاسَ يَتَكَفَّفُونَ فِي أَيْدِيهِمْ

বর্ণনাকারী: হযরত সা'দ ইবন আবী ওয়াক্কাস রাযি.

৩৬২৮. আমর ইবনে মনসুর ও আহমাদ ইবনে সুলায়মান (রাহঃ) ......... সা’দ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমার মক্কায় থাকাকালে নবী (ﷺ) আমার রোগাবস্থায় আমাকে দেখতে আসলেন। আমি বললামঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আমি আমার সমস্ত সম্পত্তি ওয়াসিয়াত (আল্লাহর রাস্তায় দান) করতে চাই। তিনি বললেনঃ না। আমি বললামঃ অর্ধেক সম্পত্তি? তিনি বললেনঃ না। আমি বললামঃ তাহলে এক-তৃতীয়াংশ? তিনি বললেনঃ হ্যাঁ, তিনের এক অংশ। আর এক-তৃতীয়াংশও অধিক। তুমি তোমার ওয়ারিসদেরকে ধনী রেখে যাও, এটা উত্তম এ থেকে যে, তুমি তাদেরকে অভাবগ্রস্ত রেখে যাবে। আর তারা মানুষের দুয়ারে দুয়ারে ভিক্ষা করে বেড়াবে (মানুষের কাছে হাত পাতবে)।

৩৬২৮

أَخْبَرَنَا عَمْرُو بْنُ عَلِيٍّ قَالَ حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ قَالَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ عَنْ سَعْدِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ عَنْ عَامِرِ بْنِ سَعْدٍ عَنْ أَبِيهِ قَالَ كَانَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَعُودُهُ وَهُوَ بِمَكَّةَ وَهُوَ يَكْرَهُ أَنْ يَمُوتَ بِالْأَرْضِ الَّذِي هَاجَرَ مِنْهَا قَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ رَحِمَ اللَّهُ سَعْدَ ابْنَ عَفْرَاءَ أَوْ يَرْحَمُ اللَّهُ سَعْدَ ابْنَ عَفْرَاءَ وَلَمْ يَكُنْ لَهُ إِلَّا ابْنَةٌ وَاحِدَةٌ قَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ أُوصِي بِمَالِي كُلِّهِ قَالَ لَا قُلْتُ النِّصْفَ قَالَ لَا قُلْتُ فَالثُّلُثَ قَالَ الثُّلُثَ وَالثُّلُثُ كَثِيرٌ إِنَّكَ أَنْ تَدَعَ وَرَثَتَكَ أَغْنِيَاءَ خَيْرٌ مِنْ أَنْ تَدَعَهُمْ عَالَةً يَتَكَفَّفُونَ النَّاسَ مَا فِي أَيْدِيهِمْ

বর্ণনাকারী: আমির ইবন সা'দ (রহঃ)

৩৬২৯. আমর ইবনে আলী (রাহঃ) ......... আমির ইবনে সা’দ (রাহঃ) তাঁর পিতা হতে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, মক্কায় থাকাকালে তিনি যখন রোগাক্রান্ত হন, তখন নবী (ﷺ) তাঁকে দেখতে আসেন। তিনি যে স্থান হতে হিজরত করে গেছেন (মক্কা), সেখানে মৃত্যুবরণ করতে অপছন্দ করতেন। নবী (ﷺ) বললেন, আল্লাহ্ তাআলা সা’দ ইবনে আফরাকে রহম করুন। অথবা আল্লাহ্ সা’দ ইবনে আফরাকে রহম করুন। এক কন্যা ব্যতীত তার [সা’দ ইবনে আবু ওয়াক্কাস (রাযিঃ)-এর] আর কোন সন্তান ছিল না।

তিনি বললেনঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমি আমার সমস্ত সম্পত্তি (দান) ওয়াসিয়াত করবো? তিনি বললেনঃ না। আমি বললামঃ অর্ধেক? তিনি বললেনঃ না। আমি বললামঃ এক-তৃতীয়াংশ? তিনি বললেনঃ হ্যাঁ, এক তৃতীয়াংশ। আর এক-তৃতীয়াংশও অনেক। যদি তুমি তোমার ওয়ারিসদেরকে ধনী রেখে যাও, তবে তাতে তাদেরকে এমন অভাবগ্রস্ত রেখে যাওয়া অপেক্ষা উত্তম যে, তারা মানুষের হাতে যা আছে তা পাওয়ার জন্য হাত পেতে বেড়াবে।
৩৬২৯

أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ سُلَيْمَانَ قَالَ حَدَّثَنَا أَبُو نُعَيْمٍ قَالَ حَدَّثَنَا مِسْعَرٌ عَنْ سَعْدِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ قَالَ حَدَّثَنِي بَعْضُ آلِ سَعْدٍ قَالَ مَرِضَ سَعْدٌ فَدَخَلَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ أُوصِي بِمَالِي كُلِّهِ قَالَ لَا وَسَاقَ الْحَدِيثَ

বর্ণনাকারী: সা'দ ইবনে ইবরাহীম (রহঃ)

৩৬৩০. আহমাদ ইবনে সুলায়মান (রাহঃ) ......... সা’দ ইবনে ইবরাহীম (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, সা’দ (রাযিঃ)-এর পরিবারের এক ব্যক্তি আমার নিকট বর্ণনা করেন যে, সা’দ (রাযিঃ) অসুস্থ হলে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাকে দেখতে যান। তখন তিনি [সাদ (রাযিঃ)] বলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আমি আমার সমস্ত সম্পদ (দান করার) ওয়াসিয়াত করে যাব? তিনি বললেনঃ না। হাদীসের শেষ পর্যন্ত বর্ণনা করেছেন।

৩৬৩০

أَخْبَرَنَا الْعَبَّاسُ بْنُ عَبْدِ الْعَظِيمِ الْعَنْبَرِيُّ قَالَ حَدَّثَنَا عَبْدُ الْكَبِيرِ بْنُ عَبْدِ الْمَجِيدِ قَالَ حَدَّثَنَا بُكَيْرُ بْنُ مِسْمَارٍ قَالَ سَمِعْتُ عَامِرَ بْنَ سَعْدٍ عَنْ أَبِيهِ أَنَّهُ اشْتَكَى بِمَكَّةَ فَجَاءَهُ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَلَمَّا رَآهُ سَعْدٌ بَكَى وَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَمُوتُ بِالْأَرْضِ الَّتِي هَاجَرْتُ مِنْهَا قَالَ لَا إِنْ شَاءَ اللَّهُ وَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ أُوصِي بِمَالِي كُلِّهِ فِي سَبِيلِ اللَّهِ قَالَ لَا قَالَ يَعْنِي بِثُلُثَيْهِ قَالَ لَا قَالَ فَنِصْفَهُ قَالَ لَا قَالَ فَثُلُثَهُ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الثُّلُثَ وَالثُّلُثُ كَثِيرٌ إِنَّكَ أَنْ تَتْرُكَ بَنِيكَ أَغْنِيَاءَ خَيْرٌ مِنْ أَنْ تَتْرُكَهُمْ عَالَةً يَتَكَفَّفُونَ النَّاسَ

বর্ণনাকারী: আমির ইবন সা'দ (রহঃ)

৩৬৩১. আব্বাস ইবনে আব্দুল আযীম আম্বারী (রাহঃ) ......... আমির ইবনে সা’দ (রাহঃ) তাঁর পিতা হতে বর্ণনা করেন যে, তিনি মক্কায় অসুস্থ হয়ে পড়েন। তখন রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) তাঁকে দেখতে আসেন। সা’দ (রাযিঃ) তাঁকে দেখে কেঁদে দিলেন এবং বললেনঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আমি কি ঐ স্থানেই মারা যাব, যেখান হতে আমি হিজরত করেছি? তিনি বললেনঃ না, ইনশাআল্লাহ্। তিনি বললেনঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আমি আমার সমস্ত সম্পদ আল্লাহর রাস্তায় দান করার ওয়াসিয়াত করে যাব? তিনি বললেনঃ না। তিনি বললেন, তাহলে দুই-তৃতীয়াংশ? তিনি বললেনঃ না। তিনি (সাদ) বললেনঃ অর্ধেক? তিনি বললেনঃ না। তিনি (সা’দ) বললেন তাহলে এক তৃতীয়াংশ? রাসূলুল্লাহ্(ﷺ) বললেনঃ হ্যাঁ, এক-তৃতীয়াংশ, আর এক-তৃতীয়াংশও অধিক। যদি তুমি তোমার ছেলেদেরকে ধনবান রেখে যাও, তবে তা তাদেরকে অভাবগ্রস্ত হয়ে লোকের নিকট হাত পাতা অবস্থায় রেখে যাওয়া অপেক্ষা উত্তম।

৩৬৩১

أَخْبَرَنَا إِسْحَقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ قَالَ أَنْبَأَنَا جَرِيرٌ عَنْ عَطَاءِ بْنِ السَّائِبِ عَنْ أَبِي عَبْدِ الرَّحْمَنِ عَنْ سَعْدِ بْنِ أَبِي وَقَّاصٍ قَالَ عَادَنِي رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي مَرَضِي فَقَالَ أَوْصَيْتَ قُلْتُ نَعَمْ قَالَ بِكَمْ قُلْتُ بِمَالِي كُلِّهِ فِي سَبِيلِ اللَّهِ قَالَ فَمَا تَرَكْتَ لِوَلَدِكَ قُلْتُ هُمْ أَغْنِيَاءُ قَالَ أَوْصِ بِالْعُشْرِ فَمَا زَالَ يَقُولُ وَأَقُولُ حَتَّى قَالَ أَوْصِ بِالثُّلُثِ وَالثُّلُثُ كَثِيرٌ أَوْ كَبِيرٌ

বর্ণনাকারী: হযরত সা'দ ইবন আবী ওয়াক্কাস রাযি.

৩৬৩২. ইসহাক ইন ইবরাহীম (রাহঃ) ......... সা’দ ইবনে আবু ওয়াক্কাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমার অসুস্থতার সময় রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) আমাকে দেখতে আসলেন এবং তিনি বললেনঃ তুমি কোন ওয়াসিয়াত করেছ কি? আমি বললামঃ হ্যাঁ। তিনি বললেনঃ কত? আমি বললামঃ আমার সমস্ত সম্পদ আল্লাহর রাস্তায় (দান করার ওয়াসিয়াত করেছি)। তিনি বললেনঃ তুমি তোমার সন্তানের জন্য কি রেখেছ? আমি বললামঃ তারা ধনী। তিনি বললেনঃ এক-দশমাংশ ওয়াসিয়াত কর। এভাবে তিনি বলতে থাকেন; আর আমিও বলতে থাকি। অবশেষে তিনি বললেনঃ এক-তৃতীয়াংশের ওয়াসিয়াত কর। আর এক-তৃতীয়াংশও অধিক অথবা বড়।

৩৬৩২

أَخْبَرَنَا إِسْحَقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ قَالَ حَدَّثَنَا وَكِيعٌ قَالَ حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ عُرْوَةَ عَنْ أَبِيهِ عَنْ سَعْدٍ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَادَهُ فِي مَرَضِهِ فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ أُوصِي بِمَالِي كُلِّهِ قَالَ لَا قَالَ فَالشَّطْرَ قَالَ لَا قَالَ فَالثُّلُثَ قَالَ الثُّلُثَ وَالثُّلُثُ كَثِيرٌ أَوْ كَبِيرٌ

বর্ণনাকারী: হযরত সা'দ ইবন আবী ওয়াক্কাস রাযি.

৩৬৩৩. ইসহাক ইবনে ইবরাহীম (রাহঃ) ......... সা’দ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, তিনি অসুস্থ থাকাবস্থায় নবী (ﷺ) তাঁকে দেখতে আসেন। তিনি বলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আমি কি আমার সমস্ত মালের জন্য ওয়াসিয়াত করবো? তিনি বললেনঃ না। তিনি [সা’দ (রাযিঃ)] বললেনঃ তাহলে অর্ধেক? তিনি (নবী (ﷺ)) বললেনঃ না। তিনি [সাদ (রাযিঃ)] আবার বললেনঃ এক-তৃতীয়াংশের? তিনি (নবী (ﷺ)) বললেনঃ এক-তৃতীয়াংশের ওয়াসিয়ত করতে পার। আর এক-তৃতীয়াংশও অধিক অথবা বড়।

৩৬৩৩

أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْوَلِيدِ الْفَحَّامُ قَالَ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ رَبِيعَةَ قَالَ حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ عُرْوَةَ عَنْ أَبِيهِ عَنْ عَائِشَةَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَتَى سَعْدًا يَعُودُهُ فَقَالَ لَهُ سَعْدٌ يَا رَسُولَ اللَّهِ أُوصِي بِثُلُثَيْ مَالِي قَالَ لَا قَالَ فَأُوصِي بِالنِّصْفِ قَالَ لَا قَالَ فَأُوصِي بِالثُّلُثِ قَالَ نَعَمْ الثُّلُثَ وَالثُّلُثُ كَثِيرٌ أَوْ كَبِيرٌ إِنَّكَ أَنْ تَدَعَ وَرَثَتَكَ أَغْنِيَاءَ خَيْرٌ مِنْ أَنْ تَدَعَهُمْ فُقَرَاءَ يَتَكَفَّفُونَ

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

৩৬৩৪. মুহাম্মাদ ইবনে ওলীদ ফাহাম (রাহঃ) ......... আয়েশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, সাদ (রাযিঃ) অসুস্থ থাকাকালে রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) তাঁকে দেখতে যান। তখন সা’দ (রাযিঃ) তাকে বলেনঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমি কি আমার সমস্ত মালের দুই-তৃতীয়াংশের ওয়াসিয়াত করতে পারি? তিনি বললেনঃ না। তিনি [সা’দ (রাযিঃ)] বললেনঃ তাহলে আমি কি আমার অর্ধেক মালের ওয়াসিয়াত করতে পারি? তিনি (নবী (ﷺ)) বললেনঃ না। তিনি [সা’দ (রাযিঃ)] বললেনঃ আমি কি এক-তৃতীয়াংশের ওয়াসিয়াত করতে পারি? তিনি বললেনঃ হ্যাঁ, এক-তৃতীয়াংশ। আর এক-তৃতীয়াংশও অধিক অথবা বড়। আর যদি তুমি তোমার ওয়ারিসদেরকে ধনী রেখে যাও, তবে তা উত্তম হবে এর থেকে যে, তুমি তাদের দরিদ্র অবস্থায় রেখে যাবে, আর তারা (মানুষের কাছে) হাত পাতবে।

৩৬৩৪

أَخْبَرَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ قَالَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ عَنْ أَبِيهِ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ لَوْ غَضَّ النَّاسُ إِلَى الرُّبُعِ لِأَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ الثُّلُثَ وَالثُّلُثُ كَثِيرٌ أَوْ كَبِيرٌ

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

৩৬৩৫. কুতায়বা ইবনে সাঈদ (রাহঃ) ......... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) বলেন, যদি লোক ওয়াসিয়াত করতে গিয়ে এক-চতুর্থাংশ পর্যন্ত নেমে আসে, তবে তা-ই ঠিক হবে। কেননা রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেছেনঃ এক তৃতীয়াংশ (ওয়াসিয়াত) করতে পার। আর এক-তৃতীয়াংশই অধিক বা বড়।

৩৬৩৫

أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى قَالَ حَدَّثَنَا حَجَّاجُ بْنُ الْمِنْهَالِ قَالَ حَدَّثَنَا هَمَّامٌ عَنْ قَتَادَةَ عَنْ يُونُسَ بْنِ جُبَيْرٍ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ سَعْدٍ عَنْ أَبِيهِ سَعْدِ بْنِ مَالِكٍ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ جَاءَهُ وَهُوَ مَرِيضٌ فَقَالَ إِنَّهُ لَيْسَ لِي وَلَدٌ إِلَّا ابْنَةٌ وَاحِدَةٌ فَأُوصِي بِمَالِي كُلِّهِ قَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَا قَالَ فَأُوصِي بِنِصْفِهِ قَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَا قَالَ فَأُوصِي بِثُلُثِهِ قَالَ الثُّلُثَ وَالثُّلُثُ كَثِيرٌ

বর্ণনাকারী: হযরত সা'দ ইবন আবী ওয়াক্কাস রাযি.

৩৬৩৬. মুহাম্মাদ ইবনে মুসান্না (রাহঃ) ......... সা’দ ইবনে মালিক (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, নবী (ﷺ) তাঁর নিকট আগমন করেন, তখন তিনি ছিলেন অসুস্থ। তিনি বললেন, আমার এক কন্যা ব্যতীত আর কোন সন্তান নেই। তাই আমি আমার সমস্ত সম্পত্তি ওয়াসিয়াত (আল্লাহর রাস্তায় দান) করতে চাই। নবী (ﷺ) বললেনঃ না। তিনি (সা’দ) বললেন, তাহলে কি অর্ধেকের ওয়াসিয়াত করবো? নবী (ﷺ) বললেনঃ না। তিনি [সা’দ (রাযিঃ)] বললেনঃ তাহলে কি এক-তৃতীয়াংশের ওয়াসিয়াত করতে পারি? তিনি (রাসূলুল্লাহ (ﷺ)) বললেনঃ হ্যাঁ, এক-তৃতীয়াংশ। আর এক-তৃতীয়াংশও অধিক।

৩৬৩৬

أَخْبَرَنَا الْقَاسِمُ بْنُ زَكَرِيَّا بْنِ دِينَارٍ قَالَ حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ عَنْ شَيْبَانَ عَنْ فِرَاسٍ عَنْ الشَّعْبِيِّ قَالَ حَدَّثَنِي جَابِرُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ أَنَّ أَبَاهُ اسْتُشْهِدَ يَوْمَ أُحُدٍ وَتَرَكَ سِتَّ بَنَاتٍ وَتَرَكَ عَلَيْهِ دَيْنًا فَلَمَّا حَضَرَ جِدَادُ النَّخْلِ أَتَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقُلْتُ قَدْ عَلِمْتَ أَنَّ وَالِدِي اسْتُشْهِدَ يَوْمَ أُحُدٍ وَتَرَكَ دَيْنًا كَثِيرًا وَإِنِّي أُحِبُّ أَنْ يَرَاكَ الْغُرَمَاءُ قَالَ اذْهَبْ فَبَيْدِرْ كُلَّ تَمْرٍ عَلَى نَاحِيَةٍ فَفَعَلْتُ ثُمَّ دَعَوْتُهُ فَلَمَّا نَظَرُوا إِلَيْهِ كَأَنَّمَا أُغْرُوا بِي تِلْكَ السَّاعَةَ فَلَمَّا رَأَى مَا يَصْنَعُونَ أَطَافَ حَوْلَ أَعْظَمِهَا بَيْدَرًا ثَلَاثَ مَرَّاتٍ ثُمَّ جَلَسَ عَلَيْهِ ثُمَّ قَالَ ادْعُ أَصْحَابَكَ فَمَا زَالَ يَكِيلُ لَهُمْ حَتَّى أَدَّى اللَّهُ أَمَانَةَ وَالِدِي وَأَنَا رَاضٍ أَنْ يُؤَدِّيَ اللَّهُ أَمَانَةَ وَالِدِي لَمْ تَنْقُصْ تَمْرَةً وَاحِدَةً

বর্ণনাকারী: জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ আনসারী (রাঃ)

৩৬৩৭. কাসিম ইবনে যাকারিয়া ইবনে দীনার (রাহঃ) ......... জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, তাঁর পিতা উহুদ যুদ্ধে শহীদ হন। তিনি ছয়জন কন্যা রেখে যান। আর তিনি তার উপর দেনাও রেখে যান। খেজুর কাটার সময় হলে আমি রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) এর নিকট উপস্থিত হয়ে বললামঃ আপনি অবগত আছেন যে, আমার পিতা উহুদের যুদ্ধে শহীদ হয়েছেন, আর তিনি বহু দেনা রেখে গিয়েছেন। আমার মনে চায় যে, পাওনাদাররা যেন আপনাকে দেখে। তিনি (নবী (ﷺ)) জাবির (রাযিঃ)-কে বললেনঃ তুমি গিয়ে প্রত্যেক প্রকারের খেজুরের পৃথক পৃথক স্তুপ লাগাও। আমি তা সম্পন্ন করে তাকে ডেকে আনলাম। যখন তারা তাঁকে দেখল, তখন তারা যেন আমার প্রতি ঐ মুহূর্তে ক্ষুব্ধ হয়ে গেল।

যখন (নবী (ﷺ)) তাদের এ অবস্থা লক্ষ্য করলেন, তখন তনি সর্ববৃহৎ স্তূপের চারদিকে তিনবার প্রদক্ষিণ করলেন এবং পরে এর উপর বসে পড়লেন। এরপর বললেনঃ তোমার সেই লোকদেরকে ডাক। এরপরে তিনি তাদেরকে পাত্র দ্বারা মেপে মেপে দিতে আরম্ভ করলেন। শেষ পর্যন্ত আল্লাহ্ তাআলা আমার পিতার আমানত (সমস্ত দেনা) আদায় করে দিলেন। আর সেখান থেকে একটা খেজুরও কমলো। আমি শুধু চেয়েছিলাম যে, আল্লাহ্ তাআলা আমার পিতার দেনা পরিশোধ করে দেন।

মীরাসের পূর্বে করয পরিশোধ করা এবং এ বিষয়ে জাবির (রাযিঃ)-এর হাদীস বর্ণনাকারীদের মধ্যে বর্ণনা বিরোধ

بَاب قَضَاءِ الدَّيْنِ قَبْلَ الْمِيرَاثِ وَذِكْرِ اخْتِلَافِ أَلْفَاظِ النَّاقِلِينَ لِخَبَرِ جَابِرٍ فِيهِ

৩৬৩৭

أَخْبَرَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ سَلَّامٍ قَالَ حَدَّثَنَا إِسْحَقُ وَهُوَ الْأَزْرَقُ قَالَ حَدَّثَنَا زَكَرِيَّا عَنْ الشَّعْبِيِّ عَنْ جَابِرٍ أَنَّ أَبَاهُ تُوُفِّيَ وَعَلَيْهِ دَيْنٌ فَأَتَيْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّ أَبِي تُوُفِّيَ وَعَلَيْهِ دَيْنٌ وَلَمْ يَتْرُكْ إِلَّا مَا يُخْرِجُ نَخْلُهُ وَلَا يَبْلُغُ مَا يُخْرِجُ نَخْلُهُ مَا عَلَيْهِ مِنْ الدَّيْنِ دُونَ سِنِينَ فَانْطَلِقْ مَعِي يَا رَسُولَ اللَّهِ لِكَيْ لَا يُفْحِشَ عَلَيَّ الْغُرَّامُ فَأَتَى رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَدُورُ بَيْدَرًا بَيْدَرًا فَسَلَّمَ حَوْلَهُ وَدَعَا لَهُ ثُمَّ جَلَسَ عَلَيْهِ وَدَعَا الْغُرَّامَ فَأَوْفَاهُمْ وَبَقِيَ مِثْلُ مَا أَخَذُوا

বর্ণনাকারী: জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ আনসারী (রাঃ)

৩৬৩৮. আব্দুর রহমান ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে সাল্লাম (রাহঃ) ......... জাবির (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, তাঁর পিতা বহু কর্য রেখে ইনতিকাল করেন। (তিনি বলেন) আমি রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) এর নিকট এসে বললামঃ আমার পিতা করয রেখে ইনতিকাল করেছেন, আর তিনি তার খেজুর বাগানের উৎপাদন ব্যতীত আর কিছুই রেখে যাননি। আর এর উৎপাদন এমন যে, তাতে কয়েক বছর না মিলালে কর আদায় হবে না। ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আপনি আমার সঙ্গে চলুন, যাতে পাওনাদাররা আমার সাথে খারাপ ব্যবহার না করে।

এ কথায় রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) আমার সঙ্গে আসলেন এবং প্রত্যেক স্তূপের চারদিকে প্রদক্ষিণ করতে লাগলেন। তিনি প্রত্যেকটির নিকট গিয়ে সালাম করলেন এবং দুআ করলেন, এর উপর বসলেন। আর তিনি পাওনাদারদের ডেকে তাদের পাওনা পরিশোধ করতে শুরু করলেন এবং তাদের দেনা পরিশোধ করে দিলেন। আর সে পরিমাণ অবশিষ্ট রইলো, যে পরিমাণ তারা নিয়ে গিয়েছিল।
৩৬৩৮

أَخْبَرَنَا عَلِيُّ بْنُ حُجْرٍ قَالَ حَدَّثَنَا جَرِيرٌ عَنْ مُغِيرَةَ عَنْ الشَّعْبِيِّ عَنْ جَابِرٍ قَالَ تُوُفِّيَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عَمْرِو بْنِ حَرَامٍ قَالَ وَتَرَكَ دَيْنًا فَاسْتَشْفَعْتُ بِرَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَلَى غُرَمَائِهِ أَنْ يَضَعُوا مِنْ دَيْنِهِ شَيْئًا فَطَلَبَ إِلَيْهِمْ فَأَبَوْا فَقَالَ لِي النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ اذْهَبْ فَصَنِّفْ تَمْرَكَ أَصْنَافًا الْعَجْوَةَ عَلَى حِدَةٍ وَعِذْقَ ابْنِ زَيْدٍ عَلَى حِدَةٍ وَأَصْنَافَهُ ثُمَّ ابْعَثْ إِلَيَّ قَالَ فَفَعَلْتُ فَجَاءَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَجَلَسَ فِي أَعْلَاهُ أَوْ فِي أَوْسَطِهِ ثُمَّ قَالَ كِلْ لِلْقَوْمِ قَالَ فَكِلْتُ لَهُمْ حَتَّى أَوْفَيْتُهُمْ ثُمَّ بَقِيَ تَمْرِي كَأَنْ لَمْ يَنْقُصْ مِنْهُ شَيْءٌ

বর্ণনাকারী: জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ আনসারী (রাঃ)

৩৬৩৯. আলী ইবনে হুজুর (রাহঃ) ......... জাবির (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আব্দুল্লাহ্ ইবনে আমর ইবনে হারাম (রাযিঃ) ইনতিকাল করেন। তিনি দেনা রেখে যান। আমি রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) এর নিকট পাওনাদারের কাছে এ মর্মে সুপারিশ করার আবেদন করলাম যাতে তারা তার (পিতার) কিছু ঋণ কমিয়ে দেয়। তিনি তাদের কাছে (তা) দাবি করলে তারা তা প্রত্যাখ্যান করল। তখন নবী (ﷺ) আমাকে বললেন, হে জাবির! তুমি চলে যাও এবং প্রত্যেক প্রকার খেজুর পৃথক করে ফেল অর্থাৎ আজওয়া পৃথক কর এবং ‘ইযক ইবনে যায়দ পৃথক করে রাখ। এভাবে অন্যান্য প্রকারকে (পৃথক কর)। পরে আমার নিকট লোক পাঠাবে।

জাবির (রাযিঃ) বলেন, আমি (রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কথামত) কাজ করলাম। পরে রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) এসে সর্বোচ্চ স্তূপের উপর অথবা মধ্যম স্তূপের উপর বসে বললেনঃ লোকদেরকে মেপে দিতে থাক। তিনি [জাবির (রাযিঃ)] বলেন, আমি তাদেরকে মেপে দিতে লাগলাম এবং এভাবে তাদের পাওনা পরিশোধ করে দিলাম। আমার খেজুর অবশিষ্ট রইলো। মনে হল যে, তা হতে কিছুই কমেনি।
৩৬৩৯

أَخْبَرَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ يُونُسَ بْنِ مُحَمَّدٍ حَرَمِيٌّ قَالَ حَدَّثَنَا أَبِي قَالَ حَدَّثَنَا حَمَّادٌ عَنْ عَمَّارِ بْنِ أَبِي عَمَّارٍ عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ قَالَ كَانَ لِيَهُودِيٍّ عَلَى أَبِي تَمْرٌ فَقُتِلَ يَوْمَ أُحُدٍ وَتَرَكَ حَدِيقَتَيْنِ وَتَمْرُ الْيَهُودِيِّ يَسْتَوْعِبُ مَا فِي الْحَدِيقَتَيْنِ فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ هَلْ لَكَ أَنْ تَأْخُذَ الْعَامَ نِصْفَهُ وَتُؤَخِّرَ نِصْفَهُ فَأَبَى الْيَهُودِيُّ فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ هَلْ لَكَ أَنْ تَأْخُذَ الْجِدَادَ فَآذِنِّي فَآذَنْتُهُ فَجَاءَ هُوَ وَأَبُو بَكْرٍ فَجَعَلَ يُجَدُّ وَيُكَالُ مِنْ أَسْفَلِ النَّخْلِ وَرَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَدْعُو بِالْبَرَكَةِ حَتَّى وَفَيْنَاهُ جَمِيعَ حَقِّهِ مِنْ أَصْغَرِ الْحَدِيقَتَيْنِ فِيمَا يَحْسِبُ عَمَّارٌ ثُمَّ أَتَيْتُهُمْ بِرُطَبٍ وَمَاءٍ فَأَكَلُوا وَشَرِبُوا ثُمَّ قَالَ هَذَا مِنْ النَّعِيمِ الَّذِي تُسْأَلُونَ عَنْهُ

বর্ণনাকারী: জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ আনসারী (রাঃ)

৩৬৪০. ইবরাহীম ইবনে ইউনুস ইবনে মুহাম্মাদ হারমী (রাহঃ) ......... জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ্ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমার পিতা এক ইয়াহূদী হতে খেজুর ধার নিয়েছিলেন। তার দেনা আদায় না হতেই তিনি উহুদ যুদ্ধে শহীদ হন এবং দু’টি বাগান রেখে যান। ইয়াহূদীর (পাওনা) খেজুর দুই বাগানের সব ফলকে পূর্ণরূপে গ্রাস করে ফেলেছিল। নবী (ﷺ) ইয়াহূদীকে বললেনঃ তুমি কি এরূপ করতে পার যে, তোমার খেজুরের অর্ধেক এ বছর এবং বাকী অর্ধেক আগামী বছর নিবে? ইয়াহুদী এতে অস্বীকৃতি জানালো। তিনি জাবির (রাযিঃ)-কে বললেনঃ তুমি খেজুর কাটার সময় আমাকে সংবাদ দিতে পারবে? আমি খেজুর কাটার সময় তাঁকে খবর দিলাম।

তিনি আবু বকর (রাযিঃ)-কে সাথে নিয়ে আসলেন এবং খেজুরের নীচের দিক হতে মেপে মেপে ও কেটে দেওয়া শুরু করা হল। রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বরকতের জন্য দুআ করতে থাকলেন। ফলে তার সমস্ত পাওনা (আম্বারের বর্ণনা অনুসারে) আমাদের ছোট বাগানের খেজুর দ্বারাই আদায় হয়ে গেল। (আর বড় বাগান এমনই রয়ে গেল), জাবির (রাযিঃ) বলেনঃ পরে আমি তাদের নিকট তাজা খেজুর এবং পানি পেশ করলাম। (সকলের পানাহার শেষ হলে) পরে তিনি (রাসূলুল্লাহ (ﷺ)) বললেনঃ এগুলো সেই নিয়ামত, যে সম্পর্কে তোমাদের জিজ্ঞাসা করা হবে।
৩৬৪০

أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى عَنْ حَدِيثِ عَبْدِ الْوَهَّابِ قَالَ حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ عَنْ وَهْبِ بْنِ كَيْسَانَ عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ قَالَ تُوُفِّيَ أَبِي وَعَلَيْهِ دَيْنٌ فَعَرَضْتُ عَلَى غُرَمَائِهِ أَنْ يَأْخُذُوا الثَّمَرَةَ بِمَا عَلَيْهِ فَأَبَوْا وَلَمْ يَرَوْا فِيهِ وَفَاءً فَأَتَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَذَكَرْتُ ذَلِكَ لَهُ قَالَ إِذَا جَدَدْتَهُ فَوَضَعْتَهُ فِي الْمِرْبَدِ فَآذِنِّي فَلَمَّا جَدَدْتُهُ وَوَضَعْتُهُ فِي الْمِرْبَدِ أَتَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَجَاءَ وَمَعَهُ أَبُو بَكْرٍ وَعُمَرُ فَجَلَسَ عَلَيْهِ وَدَعَا بِالْبَرَكَةِ ثُمَّ قَالَ ادْعُ غُرَمَاءَكَ فَأَوْفِهِمْ قَالَ فَمَا تَرَكْتُ أَحَدًا لَهُ عَلَى أَبِي دَيْنٌ إِلَّا قَضَيْتُهُ وَفَضَلَ لِي ثَلَاثَةَ عَشَرَ وَسْقًا فَذَكَرْتُ ذَلِكَ لَهُ فَضَحِكَ وَقَالَ ائْتِ أَبَا بَكْرٍ وَعُمَرَ فَأَخْبِرْهُمَا ذَلِكَ فَأَتَيْتُ أَبَا بَكْرٍ وَعُمَرَ فَأَخْبَرْتُهُمَا فَقَالَا قَدْ عَلِمْنَا إِذْ صَنَعَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَا صَنَعَ أَنَّهُ سَيَكُونُ ذَلِكَ

বর্ণনাকারী: জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ আনসারী (রাঃ)

৩৬৪১. মুহাম্মাদ ইবনে মুসান্না (রাহঃ) ......... জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমার পিতা মারা যান এবং তার উপর দেনা থেকে যায়। আমি আমার পিতার পাওনাদারদের ডেকে বললামঃ তারা যেন তার দেনার বিনিময়ে এই খেজুর নিয়ে নেয়। কিন্তু তারা তা অস্বীকার করলো। কেননা, তারা তাতে পরিশোধ দেখতে পেল না (তাদের কাছে খেজুরের পরিমাণ কম মনে হল)। জাবির (রাযিঃ) বলেনঃ এরপর আমি রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) এর খিদমতে উপস্থিত হয়ে এ কথা বললাম। তিনি বললেনঃ তুমি যখন খেজুর কাটবে এবং উঠানে স্তূপকৃত করবে, তখন আমাকে সংবাদ দেবে।

জাবির (রাযিঃ) বলেন, আমি খেজুর কেটে উঠানে রেখে রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) এর নিকট উপস্থিত হলাম। তিনি আবু বকর এবং উমর (রাযিঃ)-কে সাথে নিয়ে আসলেন। তিনি এসে তার উপর বসে পড়লেন এবং বরকতের জন্য দুআ করলেন। এরপর তিনি বললেনঃ তুমি তোমার পাওনাদারদের ডেকে আন এবং তাদের পাওনা দিয়ে দাও।

তিনি [জাবির (রাযিঃ)] বলেন, আমার পিতার কাছে যাদের পাওনা ছিল, তাদের সকলের পাওনা আদায় করে দিলাম, কারো পাওনা অবশিষ্ট রইলো না; বরং তের ওসাক (খেজুর) অবশিষ্ট থেকে গেল। তারপর আমি রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-কে এই সংবাদ দিলে তিনি শুনে হাসলেন এবং বললেনঃ যাও তুমি আবু বকর এবং উমরকেও এ খবর দাও। আমি তাঁদের কাছে গিয়ে এ খবর দিলে তারা বললেনঃ আমরা বুঝতে পেরেছিলাম যে, নবী (ﷺ) যা করলেন, তার ফল এটাই হবে।

ওয়ারিসের জন্য ওয়াসিয়াত করা বাতিল

بَاب إِبْطَالِ الْوَصِيَّةِ لِلْوَارِثِ

৩৬৪১

أَخْبَرَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ قَالَ حَدَّثَنَا أَبُو عَوَانَةَ عَنْ قَتَادَةَ عَنْ شَهْرِ بْنِ حَوْشَبٍ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ غُنْمٍ عَنْ عَمْرِو بْنِ خَارِجَةَ قَالَ خَطَبَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ إِنَّ اللَّهَ قَدْ أَعْطَى كُلَّ ذِي حَقٍّ حَقَّهُ وَلَا وَصِيَّةَ لِوَارِثٍ

বর্ণনাকারী: আমর ইবনে খারিজা (রাঃ)

৩৬৪২. কুতায়বা ইবনে সাঈদ (রাহঃ) ......... আমর ইবনে খারিজা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) খুতবায় বললেনঃ আল্লাহ্ তাআলা প্রত্যেক হকদারের হক দিয়ে দিয়েছেন আর ওয়ারিসদের জন্য ওয়াসিয়াত নেই (বৈধ নয়)।

৩৬৪২

أَخْبَرَنَا إِسْمَعِيلُ بْنُ مَسْعُودٍ قَالَ حَدَّثَنَا خَالِدٌ قَالَ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ قَالَ حَدَّثَنَا قَتَادَةُ عَنْ شَهْرِ بْنِ حَوْشَبٍ أَنَّ ابْنَ غُنْمٍ ذَكَرَ أَنَّ ابْنَ خَارِجَةَ ذَكَرَ لَهُ أَنَّهُ شَهِدَ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَخْطُبُ النَّاسَ عَلَى رَاحِلَتِهِ وَإِنَّهَا لَتَقْصَعُ بِجَرَّتِهَا وَإِنَّ لُعَابَهَا لَيَسِيلُ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي خُطْبَتِهِ إِنَّ اللَّهَ قَدْ قَسَّمَ لِكُلِّ إِنْسَانٍ قِسْمَهُ مِنْ الْمِيرَاثِ فَلَا تَجُوزُ لِوَارِثٍ وَصِيَّةٌ

বর্ণনাকারী: আমর ইবনে খারিজা (রাঃ)

৩৬৪৩. ইসমাঈল ইবনে মাসউদ (রাহঃ) ......... ইবনে খারিজা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট উপস্থিত হয়ে দেখলেন যে, তিনি নিজের সওয়ারীর উপর থেকে লোকদের খুতবা দিচ্ছেন। তখন ঐ সওয়ারী (উট) জাবর কাটছিল এবং তার মুখ থেকে ফেনা বেয়ে পড়ছিল। তিনি তাঁর খুতবায় বললেনঃ আল্লাহু তাআলা প্রত্যেক লোকের মীরাসের হিসসা বণ্টন করে দিয়েছেন; কাজেই ওয়ারিসের জন্য ওয়াসিয়াত করা বৈধ হবে না।

৩৬৪৩

أَخْبَرَنَا عُتْبَةُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الْمَرْوَزِيُّ قَالَ أَنْبَأَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ الْمُبَارَكِ قَالَ أَنْبَأَنَا إِسْمَعِيلُ بْنُ أَبِي خَالِدٍ عَنْ قَتَادَةَ عَنْ عَمْرِو بْنِ خَارِجَةَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِنَّ اللَّهَ عَزَّ اسْمُهُ قَدْ أَعْطَى كُلَّ ذِي حَقٍّ حَقَّهُ وَلَا وَصِيَّةَ لِوَارِثٍ

বর্ণনাকারী: আমর ইবনে খারিজা (রাঃ)

৩৬৪৪. উতবা ইবনে আব্দুল্লাহ মারওয়াযী (রাহঃ) ......... আমর ইবনে খারিজা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ মহীয়ান নামের মালিক আল্লাহ্ তাআলা প্রত্যেক হকদারের অংশ নির্দিষ্ট করে দিয়েছেন, এখন আর ওয়ারিসের জন্য ওয়াসিয়াতের অবকাশ নেই।

নিকটাত্মীয়ের জন্য ওয়াসিয়াত

بَاب إِذَا أَوْصَى لِعَشِيرَتِهِ الْأَقْرَبِينَ

৩৬৪৪

أَخْبَرَنَا إِسْحَقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ قَالَ حَدَّثَنَا جَرِيرٌ عَنْ عَبْدِ الْمَلِكِ بْنِ عُمَيْرٍ عَنْ مُوسَى بْنِ طَلْحَةَ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ لَمَّا نَزَلَتْ وَأَنْذِرْ عَشِيرَتَكَ الْأَقْرَبِينَ دَعَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قُرَيْشًا فَاجْتَمَعُوا فَعَمَّ وَخَصَّ فَقَالَ يَا بَنِي كَعْبِ بْنِ لُؤَيٍّ يَا بَنِي مُرَّةَ بْنِ كَعْبٍ يَا بَنِي عَبْدِ شَمْسٍ وَيَا بَنِي عَبْدِ مَنَافٍ وَيَا بَنِي هَاشِمٍ وَيَا بَنِي عَبْدِ الْمُطَّلِبِ أَنْقِذُوا أَنْفُسَكُمْ مِنْ النَّارِ وَيَا فَاطِمَةُ أَنْقِذِي نَفْسَكِ مِنْ النَّارِ إِنِّي لَا أَمْلِكُ لَكُمْ مِنْ اللَّهِ شَيْئًا غَيْرَ أَنَّ لَكُمْ رَحِمًا سَأَبُلُّهَا بِبِلَالِهَا

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৩৬৪৫. ইসহাক ইবনে ইবরাহীম (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, (وَأَنْذِرْ عَشِيرَتَكَ الْأَقْرَبِينَ) অর্থাৎ আপনি আপনার নিকট আত্মীয়দের সতর্ক করে দিন। এই আয়াত নাযিল হলে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) (বিশেষভাবে) কুরায়শদের ডাকলেন। তারা একত্রিত হলে তিনি প্রথমে সাধারণ ও ব্যাপকভাবে লোকদেরকে, পরে নিজের আত্মীয়দেরকে (সতর্ক করে) বললেনঃ হে কাব ইবনে লুআঈয়ের বংশধর, হে বনী মুররা ইবনে কা’ব, হে বনী আব্দে শামস, হে আব্দে মানাফের সন্তানেরা! হে হাশেমিগণ, হে আব্দুল মুত্তালিবের সন্তানগণ! তুমি নিজেকে দোযখের আগুন হতে রক্ষা কর। এরপর তিনি নিজ কন্যা ফাতিমা (রাযিঃ)-কে বললেনঃ হে ফাতিমা! নিজেকে দোযখের আগুন হতে রক্ষা কর। আমি তোমাদেরকে আল্লাহর (আযাব হতে) রক্ষা করার মালিক নই। তবে তোমাদের আত্মীয়তা (রক্ত) সম্বন্ধ রয়েছে এবং তার আর্দ্রতায় আমি আর্দ্রিত করব।

৩৬৪৫

أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ سُلَيْمَانَ قَالَ حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ مُوسَى قَالَ أَنْبَأَنَا إِسْرَائِيلُ عَنْ مُعَاوِيَةَ وَهُوَ ابْنُ إِسْحَقَ عَنْ مُوسَى بْنِ طَلْحَةَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَا بَنِي عَبْدِ مَنَافٍ اشْتَرُوا أَنْفُسَكُمْ مِنْ رَبِّكُمْ إِنِّي لَا أَمْلِكُ لَكُمْ مِنْ اللَّهِ شَيْئًا يَا بَنِي عَبْدِ الْمُطَّلِبِ اشْتَرُوا أَنْفُسَكُمْ مِنْ رَبِّكُمْ إِنِّي لَا أَمْلِكُ لَكُمْ مِنْ اللَّهِ شَيْئًا وَلَكِنْ بَيْنِي وَبَيْنَكُمْ رَحِمٌ أَنَا بَالُّهَا بِبِلَالِهَا

বর্ণনাকারী: মুসা ইবনে তালহা (রহঃ)

৩৬৪৬. আহমাদ ইবনে সুলায়মান (রাহঃ) ......... মুসা ইবনে তালহা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বললেনঃ হে আব্দে মানাফের বংশধর! তোমরা নিজেদেরকে ক্রয় করে নাও (আল্লাহর আযাব হতে রক্ষা কর)। আমি তোমাদেরকে কোন কিছু করার ক্ষমতা রাখি না; (আল্লাহর আযাব হতে রক্ষা করতে) সক্ষম নই।

হে আব্দুল মুত্তালিবের সন্তানগণ! তোমরা তোমাদেরকে আল্লাহর আযাব হতে বাঁচাও। আমি তোমাদের জন্য কিছু করার ক্ষমতা রাখি না। আমি তোমাদেরকে আল্লাহর আযাব থেকে রক্ষা করতে পারব না। কিন্তু আমার ও তোমাদের মধ্যে রক্তের সম্পর্ক রয়েছে। আমি তার আর্দ্রতা দ্বারা নিজেকে আর্দ্রিত করব (হক আদায় করব)।
৩৬৪৬

أَخْبَرَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ دَاوُدَ عَنْ ابْنِ وَهْبٍ قَالَ أَخْبَرَنِي يُونُسُ عَنْ ابْنِ شِهَابٍ قَالَ أَخْبَرَنِي سَعِيدُ بْنُ الْمُسَيَّبِ وَأَبُو سَلَمَةَ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ حِينَ أُنْزِلَ عَلَيْهِ وَأَنْذِرْ عَشِيرَتَكَ الْأَقْرَبِينَ قَالَ يَا مَعْشَرَ قُرَيْشٍ اشْتَرُوا أَنْفُسَكُمْ مِنْ اللَّهِ لَا أُغْنِي عَنْكُمْ مِنْ اللَّهِ شَيْئًا يَا بَنِي عَبْدِ الْمُطَّلِبِ لَا أُغْنِي عَنْكُمْ مِنْ اللَّهِ شَيْئًا يَا عَبَّاسُ بْنَ عَبْدِ الْمُطَّلِبِ لَا أُغْنِي عَنْكَ مِنْ اللَّهِ شَيْئًا يَا صَفِيَّةُ عَمَّةَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَا أُغْنِي عَنْكِ مِنْ اللَّهِ شَيْئًا يَا فَاطِمَةُ بِنْتَ مُحَمَّدٍ سَلِينِي مَا شِئْتِ لَا أُغْنِي عَنْكِ مِنْ اللَّهِ شَيْئًا

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৩৬৪৭. সুলায়মান ইবনে দাউদ (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর উপর (وَأَنْذِرْ عَشِيرَتَكَ الْأَقْرَبِينَ) “আপনি আপনার নিকটাত্মীয়দেরকে সতর্ক করে দিন” নাযিল হল, তখন তিনি বললেন, হে কুরায়শ সম্প্রদায়! তোমরা নিজেদেরকে আল্লাহর নিকট হতে ক্রয় করে নাও (আল্লাহর আযাব হতে রক্ষা কর)। আমি তোমাদেরকে আল্লাহ্ (আযাব) হতে রক্ষা করতে সক্ষম নই। হে আব্দুল মুত্তালিবের সন্তানেরা! তোমরা নিজেদের ক্রয় করে নাও। আমি তোমাদেরকে আল্লাহ্ (আযাব) হতে রক্ষা করতে পারব না। হে আব্বাস ইবনে আব্দুল মুত্তালিব! আমি তোমাদেরকে আল্লাহর (আযাব) হতে রক্ষা করতে পারব না। হে রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) এর ফুফী সফিয়্যা! আমি আপনাকে আল্লাহর আযাব হতে রক্ষা করতে পারব না। হে মুহাম্মাদের কন্যা ফাতিমা! তুমি যা ইচ্ছা আমার নিকট চাইতে পার, আমি তোমাকে আল্লাহ (আযাব) হতে রক্ষা করতে পারব না।

৩৬৪৭

أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ خَالِدٍ قَالَ حَدَّثَنَا بِشْرُ بْنُ شُعَيْبٍ عَنْ أَبِيهِ عَنْ الزُّهْرِيِّ قَالَ أَخْبَرَنِي سَعِيدُ بْنُ الْمُسَيَّبِ وَأَبُو سَلَمَةَ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ أَنَّ أَبَا هُرَيْرَةَ قَالَ قَامَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ حِينَ أُنْزِلَ عَلَيْهِ وَأَنْذِرْ عَشِيرَتَكَ الْأَقْرَبِينَ فَقَالَ يَا مَعْشَرَ قُرَيْشٍ اشْتَرُوا أَنْفُسَكُمْ مِنْ اللَّهِ لَا أُغْنِي عَنْكُمْ مِنْ اللَّهِ شَيْئًا يَا بَنِي عَبْدِ مَنَافٍ لَا أُغْنِي عَنْكُمْ مِنْ اللَّهِ شَيْئًا يَا عَبَّاسُ بْنَ عَبْدِ الْمُطَّلِبِ لَا أُغْنِي عَنْكَ مِنْ اللَّهِ شَيْئًا يَا صَفِيَّةُ عَمَّةَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَا أُغْنِي عَنْكِ مِنْ اللَّهِ شَيْئًا يَا فَاطِمَةُ سَلِينِي مَا شِئْتِ لَا أُغْنِي عَنْكِ مِنْ اللَّهِ شَيْئًا

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৩৬৪৮. মুহাম্মাদ ইবনে খালিদ (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন ″আপনি আপনার নিকটাত্মীয়কে সতর্ক করুন″, এ আয়াত নাযিল হল, তখন রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বললেনঃ হে কুরায়শের লোকগণ! তোমরা নিজেদেরকে আল্লাহর নিকট হতে খরিদ কর (আযাব হতে রক্ষা কর)। আমি আল্লাহর (আযাবের) সামনে তোমাদেরকে কোন উপকার করতে পারব না। (রক্ষা করতে সক্ষম হবো না)। হে আব্দে মানাফের বংশধরগণ! আমি তোমাদেরকে আল্লাহর আযাব হতে রক্ষা করতে পারব না। হে আব্বাস ইবনে আব্দুল মুতালিব! আমি তোমার কোন উপকার সাধন করতে পারব না। হে রাসূলুল্লাহ রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) এর ফুফী সাফিয়্যা! আমি আল্লাহর আযাব হতে আপনাকে রক্ষা করতে সক্ষম নই। হে ফাতিমা! তুমি যা ইচ্ছা আমার নিকট চাইতে পার, আল্লাহর আযাব হতে তোমাকে রক্ষা করার সামর্থ্য আমার নেই।

৩৬৪৮

أَخْبَرَنَا إِسْحَقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ قَالَ أَنْبَأَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ قَالَ حَدَّثَنَا هِشَامٌ وَهُوَ ابْنُ عُرْوَةَ عَنْ أَبِيهِ عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ لَمَّا نَزَلَتْ هَذِهِ الْآيَةُ وَأَنْذِرْ عَشِيرَتَكَ الْأَقْرَبِينَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَا فَاطِمَةُ ابْنَةَ مُحَمَّدٍ يَا صَفِيَّةُ بِنْتَ عَبْدِ الْمُطَّلِبِ يَا بَنِي عَبْدِ الْمُطَّلِبِ لَا أُغْنِي عَنْكُمْ مِنْ اللَّهِ شَيْئًا سَلُونِي مِنْ مَالِي مَا شِئْتُمْ

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

৩৬৪৯. ইসহাক ইবনে ইবরাহীম (রাহঃ) ......... আয়েশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন (وَأَنْذِرْ عَشِيرَتَكَ الْأَقْرَبِينَ) আয়াত নাযিল হল, তখন রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বললেনঃ হে মুহাম্মাদ-তনয়া ফাতিমা! হে আব্দুল মুত্তালিবের কন্যা সাফিয়্যা! হে আব্দুল মুত্তালিবের বংশধররা! আল্লাহর বিপক্ষে আমি তোমাদের কোন কাজে আসব না (আমি তোমাদেরকে আল্লাহর আযাব হতে রক্ষা করতে সক্ষম নই)। তোমরা আমার মাল হতে যা ইচ্ছা চেয়ে নিতে পার।

হঠাৎ মৃত্যু হলে মৃতের পক্ষ হতে তার পরিবারের সাদ্‌কা করা কি মুস্তাহাব?

إِذَا مَاتَ الْفَجْأَةَ هَلْ يُسْتَحَبُّ لِأَهْلِهِ أَنْ يَتَصَدَّقُوا عَنْهُ

৩৬৪৯

أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ سَلَمَةَ قَالَ حَدَّثَنَا ابْنُ الْقَاسِمِ عَنْ مَالِكٍ عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ عَنْ أَبِيهِ عَنْ عَائِشَةَ أَنَّ رَجُلًا قَالَ لِرَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِنَّ أُمِّي افْتُلِتَتْ نَفْسُهَا وَإِنَّهَا لَوْ تَكَلَّمَتْ تَصَدَّقَتْ أَفَأَتَصَدَّقُ عَنْهَا فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ نَعَمْ فَتَصَدَّقَ عَنْهَا

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

৩৬৫০. মুহাম্মাদ ইবনে সালামা (রাহঃ) ......... আয়েশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-কে বললেনঃ আমার আম্মা হঠাৎ ইনতিকাল করেছেন, আমার বিশ্বাস, যদি তিনি কথা বলার সময় পেতেন, তবে দান করার কথা বলতেন। আমি কি তার পক্ষ হতে সাদ্‌কা করবো? তিনি বললেনঃ হ্যাঁ। তুমি তার পক্ষ হতে সাদ্‌কা কর।

৩৬৫০

أَنْبَأَنَا الْحَارِثُ بْنُ مِسْكِينٍ قِرَاءَةً عَلَيْهِ وَأَنَا أَسْمَعُ عَنْ ابْنِ الْقَاسِمِ عَنْ مَالِكٍ عَنْ سَعِيدِ بْنِ عَمْرِو بْنِ شُرَحْبِيلَ بْنِ سَعِيدِ بْنِ سَعْدِ بْنِ عُبَادَةَ عَنْ أَبِيهِ عَنْ جَدِّهِ قَالَ خَرَجَ سَعْدُ بْنُ عُبَادَةَ مَعَ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي بَعْضِ مَغَازِيهِ وَحَضَرَتْ أُمَّهُ الْوَفَاةُ بِالْمَدِينَةِ فَقِيلَ لَهَا أَوْصِي فَقَالَتْ فِيمَ أُوصِي الْمَالُ مَالُ سَعْدٍ فَتُوُفِّيَتْ قَبْلَ أَنْ يَقْدَمَ سَعْدٌ فَلَمَّا قَدِمَ سَعْدٌ ذُكِرَ ذَلِكَ لَهُ فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ هَلْ يَنْفَعُهَا أَنْ أَتَصَدَّقَ عَنْهَا فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ نَعَمْ فَقَالَ سَعْدٌ حَائِطُ كَذَا وَكَذَا صَدَقَةٌ عَنْهَا لِحَائِطٍ سَمَّاهُ

বর্ণনাকারী: সা'দ ইবনে উবাদা (রাঃ)

৩৬৫১. হারিস ইবনে মিসকীন (রাহঃ) ......... সা’দ ইবনে উবাদা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, সা’দ (রাযিঃ) নবী (ﷺ) এর সাথে কোন যুদ্ধে বের হলেন, এ সময় তার মাতা মদীনায় মুমূর্ষ অবস্থায় ছিলেন। তাকে বলা হলঃ আপনি ওয়াসিয়াত করুন। তিনি বললেনঃ আমি কিসের ওয়াসিয়ত করবো, মাল তো সা’দ-এর। সা’দ পৌছার পূর্বেই তিনি ইনতিকাল করলেন। সা’দ (রাযিঃ) আসলে তার নিকট একথা বলা হলে তিনি বললেনঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ্! যদি আমি তার পক্ষ হতে সাদ্‌কা করি, তবে কি তার কোন উপকার হবে? রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বললেনঃ হ্যাঁ, তখন সা’দ একটি বাগানের নাম নিয়ে বললেনঃ আমি তা তার পক্ষ হতে সাদ্‌কা করলাম।

মৃতের পক্ষ হতে সাদ্‌কার ফযীলত

فَضْلُ الصَّدَقَةِ عَنْ الْمَيِّتِ

৩৬৫১

أَخْبَرَنَا عَلِيُّ بْنُ حُجْرٍ قَالَ حَدَّثَنَا إِسْمَعِيلُ قَالَ حَدَّثَنَا الْعَلَاءُ عَنْ أَبِيهِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ إِذَا مَاتَ الْإِنْسَانُ انْقَطَعَ عَمَلُهُ إِلَّا مِنْ ثَلَاثَةٍ مِنْ صَدَقَةٍ جَارِيَةٍ وَعِلْمٍ يُنْتَفَعُ بِهِ وَوَلَدٍ صَالِحٍ يَدْعُو لَهُ

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৩৬৫২. আলী ইবনে হুজুর (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেছেনঃ যখন কোন লোক মারা যায়, তখন তার সকল আমল বন্ধ হয়ে যায়। কিন্তু তিন প্রকার আমল (জারি থাকে)। (প্রথম) সাদ্‌কা জারিয়া (চলমান সাদ্‌কা); (দ্বিতীয়) ঐ ইলম, যা দ্বারা অন্য লোক উপকৃত হয়; (তৃতীয়) নেক সন্তান, যে তার জন্য দুআ করে।

৩৬৫২

أَخْبَرَنَا عَلِيُّ بْنُ حُجْرٍ قَالَ أَنْبَأَنَا إِسْمَعِيلُ عَنْ الْعَلَاءِ عَنْ أَبِيهِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ أَنَّ رَجُلًا قَالَ لِلنَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِنَّ أَبِي مَاتَ وَتَرَكَ مَالًا وَلَمْ يُوصِ فَهَلْ يُكَفِّرُ عَنْهُ أَنْ أَتَصَدَّقَ عَنْهُ قَالَ نَعَمْ

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৩৬৫৩. আলী ইবনে হুজুর (রাহঃ) -... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, এক ব্যক্তি নবী (ﷺ)-কে বললেনঃ আমরা পিতা কিছু মাল রেখে মারা গেছেন, কিন্তু তিনি ওয়াসিয়াত করেন নি। আমি যদি তার পক্ষ হতে সাদ্‌কা করি, তবে কি তা তার জন্য কাফফারা হবে? তিনি বললেনঃ হ্যাঁ।

৩৬৫৩

أَخْبَرَنَا مُوسَى بْنُ سَعِيدٍ قَالَ حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ عَبْدِ الْمَلِكِ قَالَ حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَمْرٍو عَنْ أَبِي سَلَمَةَ عَنْ الشَّرِيدِ بْنِ سُوَيْدٍ الثَّقَفِيِّ قَالَ أَتَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقُلْتُ إِنَّ أُمِّي أَوْصَتْ أَنْ تُعْتَقَ عَنْهَا رَقَبَةٌ وَإِنَّ عِنْدِي جَارِيَةً نُوبِيَّةً أَفَيُجْزِئُ عَنِّي أَنْ أُعْتِقَهَا عَنْهَا قَالَ ائْتِنِي بِهَا فَأَتَيْتُهُ بِهَا فَقَالَ لَهَا النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَنْ رَبُّكِ قَالَتْ اللَّهُ قَالَ مَنْ أَنَا قَالَتْ أَنْتَ رَسُولُ اللَّهِ قَالَ فَأَعْتِقْهَا فَإِنَّهَا مُؤْمِنَةٌ

বর্ণনাকারী: শারীদ ইবনে সুআয়দ (রাঃ)

৩৬৫৪. মুসা ইবনে সাঈদ (রাহঃ) ......... শারীদ ইবনে সুআয়দ (রাযিঃ) বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট উপস্থিত হয়ে বললাম, আমার মাতা একটি গোলাম আযাদ করার ওয়াসিয়াত করেছেন। আর আমার নিকট একটি হাবশী দাসী রয়েছে, আমি যদি তাকে আমার মার পক্ষ হতে মুক্ত করি, তবে কি তা যথেষ্ট হবে? তিনি বললেনঃ তাকে (সেই দাসীকে) আমার নিকট নিয়ে এসো। পরে আমি তাকে তার নিকট নিয়ে গেলাম। নবী (ﷺ) তাকে বললেনঃ তোমার রব কে? সে বললঃ আমার রব আল্লাহ্। তিনি তাকে বললেনঃ আমি কে? সে বললঃ আপনি আল্লাহর রাসূল। তিনি বললেনঃ তাকে মুক্ত করে দাও, সে ঈমানদার।

৩৬৫৪

أَخْبَرَنَا الْحُسَيْنُ بْنُ عِيسَى قَالَ أَنْبَأَنَا سُفْيَانُ عَنْ عَمْرٍو عَنْ عِكْرِمَةَ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ أَنَّ سَعْدًا سَأَلَ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِنَّ أُمِّي مَاتَتْ وَلَمْ تُوصِ أَفَأَتَصَدَّقُ عَنْهَا قَالَ نَعَمْ

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

৩৬৫৫. হুসাইন ইবনে ঈসা (রাহঃ) ......... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, সা’দ (রাযিঃ) নবী (ﷺ)-কে জিজ্ঞাসা করলেনঃ আমার মাতা ইনতিকাল করেছেন, কিন্তু তিনি কোন ওয়াসিয়াত করে যাননি। আমি কি তার পক্ষ হতে সাদ্‌কা করবো? তিনি বললেনঃ হ্যাঁ, (করতে পার)।

৩৬৫৫

أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ الْأَزْهَرِ قَالَ حَدَّثَنَا رَوْحُ بْنُ عُبَادَةَ قَالَ حَدَّثَنَا زَكَرِيَّا بْنُ إِسْحَقَ قَالَ حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ دِينَارٍ عَنْ عِكْرِمَةَ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ أَنَّ رَجُلًا قَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّ أُمَّهُ تُوُفِّيَتْ أَفَيَنْفَعُهَا إِنْ تَصَدَّقْتُ عَنْهَا قَالَ نَعَمْ قَالَ فَإِنَّ لِي مَخْرَفًا فَأُشْهِدُكَ أَنِّي قَدْ تَصَدَّقْتُ بِهِ عَنْهَا

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

৩৬৫৬. আহমাদ ইবনে আযহার (রাহঃ) ......... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, এক ব্যক্তি বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ্! তার (আমার) মাতা ইনতিকাল করেছেন। তার পক্ষ হতে আমি সাদ্‌কা করলে তার কি কোন উপকার করবে? তিনি বললেনঃ হ্যাঁ। সে বললেঃ আমার একটি বাগান আছে। আমি আপনাকে সাক্ষী রাখলাম, আমি তা তার পক্ষ হতে সাদ্‌কা করলাম।

৩৬৫৬

أَخْبَرَنِي هَارُونُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ قَالَ حَدَّثَنَا عَفَّانُ قَالَ حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ كَثِيرٍ عَنْ الزُّهْرِيِّ عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ عَنْ سَعْدِ بْنِ عُبَادَةَ أَنَّهُ أَتَى النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ إِنَّ أُمِّي مَاتَتْ وَعَلَيْهَا نَذْرٌ أَفَيُجْزِئُ عَنْهَا أَنْ أُعْتِقَ عَنْهَا قَالَ أَعْتِقْ عَنْ أُمِّكَ

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

৩৬৫৭. হারূন ইবনে আব্দুল্লাহ (রাহঃ) ......... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) সূত্রে সা’দ ইবনে উবাদা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, (একদা) তিনি নবী (ﷺ) এর নিকট এসে বললেনঃ আমার মাতা মান্নত (অনাদায়ী) রেখে ইনতিকাল করেছেন, আমি তার পক্ষ হতে দাসমুক্ত করলে তা কি তার জন্য যথেষ্ট হবে? তিনি বললেনঃ হ্যাঁ। তুমি তোমার মাতার পক্ষ হতে গোলাম আযাদ কর।

৩৬৫৭

أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ أَحَمَدَ أَبُو يُوسُفَ الصَّيْدَلَانِيُّ عَنْ عِيسَى وَهُوَ ابْنُ يُونُسَ عَنْ الْأَوْزَاعِيِّ عَنْ الزُّهْرِيِّ أَخْبَرَهُ عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ عَنْ سَعْدِ بْنِ عُبَادَةَ أَنَّهُ اسْتَفْتَى النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي نَذْرٍ كَانَ عَلَى أُمِّهِ فَتُوُفِّيَتْ قَبْلَ أَنْ تَقْضِيَهُ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ اقْضِهِ عَنْهَا

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

৩৬৫৮. মুহাম্মাদ ইবনে আহমাদ আবু ইউসুফ সায়দালানী (রাহঃ) ......... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) সূত্রে সা’দ ইবনে উবাদা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি (নবী (ﷺ)-কে) জিজ্ঞাসা করলেনঃ তাঁর মায়ের মান্নত সম্পর্কে যে, তিনি তা পূর্ণ করার পূর্বেই মারা গেছেন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ তুমি তা তার পক্ষ হতে আদায় কর।

৩৬৫৮

أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ صَدَقَةَ الْحِمْصِيُّ قَالَ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ شُعَيْبٍ عَنْ الْأَوْزَاعِيِّ عَنْ الزُّهْرِيِّ أَخْبَرَهُ عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ عَنْ سَعْدِ بْنِ عُبَادَةَ أَنَّهُ اسْتَفْتَى النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي نَذْرٍ كَانَ عَلَى أُمِّهِ فَمَاتَتْ قَبْلَ أَنْ تَقْضِيَهُ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ اقْضِهِ عَنْهَا

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

৩৬৫৯. মুহাম্মাদ ইবনে সাদ্‌কা হিমসী (রাহঃ) ......... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) সূত্রে সা’দ ইবনে উবাদা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি নবী (ﷺ) এর নিকট জিজ্ঞাসা করলেন তাঁর মাতার মান্নত সম্পর্কে, তিনি তা আদায় করার পূর্বেই ইনতিকাল করেছেন। তিনি বললেনঃ তুমি তা তার পক্ষ হতে আদায় কর।

৩৬৫৯

أَخْبَرَنَا الْعَبَّاسُ بْنُ الْوَلِيدِ بْنِ مَزْيَدٍ قَالَ أَخْبَرَنِي أَبِي قَالَ حَدَّثَنَا الْأَوْزَاعِيُّ قَالَ أَخْبَرَنِي الزُّهْرِيُّ أَنَّ عُبَيْدَ اللَّهِ بْنَ عَبْدِ اللَّهِ أَخْبَرَهُ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ اسْتَفْتَى سَعْدٌ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي نَذْرٍ كَانَ عَلَى أُمِّهِ فَتُوُفِّيَتْ قَبْلَ أَنْ تَقْضِيَهُ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ اقْضِهِ عَنْهَا

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

৩৬৬০. আব্বাস ইবনে ওয়ালীদ ইবনে মজীদ (রাহঃ) ......... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, সা’দ ইবনে উবাদা (রাযিঃ) রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-কে জিজ্ঞাসা করলেন, তার মাতার মান্নত সম্পর্কে, তা আদায় করার পূর্বেই তিনি ইনতিকাল করেন। তিনি বললেনঃ তুমি তা তার পক্ষ হতে আদায় কর।

সুফিয়ানের বর্ণনায় বর্ণনা বিরোধ

ذِكْرُ الِاخْتِلَافِ عَلَى سُفْيَانَ

৩৬৬০

قَالَ الْحَارِثُ بْنُ مِسْكِينٍ قِرَاءَةً عَلَيْهِ وَأَنَا أَسْمَعُ عَنْ سُفْيَانَ عَنْ الزُّهْرِيِّ عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ أَنَّ سَعْدَ بْنَ عُبَادَةَ اسْتَفْتَى النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي نَذْرٍ كَانَ عَلَى أُمِّهِ فَتُوُفِّيَتْ قَبْلَ أَنْ تَقْضِيَهُ فَقَالَ اقْضِهِ عَنْهَا

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

৩৬৬১. হারিস ইবনে মিসকীন (রাহঃ) ......... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। সা’দ ইবনে উবাদা (রাযিঃ) নবী (ﷺ)-কে জিজ্ঞাসা করলেন যে, তাঁর মাতার উপর মান্নত ছিল, তা আদায় করার আগেই তিনি মারা যান। তিনি (রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)) বললেনঃ তুমি তা তার পক্ষ হতে আদায় কর।

৩৬৬১

أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ يَزِيدَ قَالَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ عَنْ الزُّهْرِيِّ عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ عَنْ سَعْدٍ أَنَّهُ قَالَ مَاتَتْ أُمِّي وَعَلَيْهَا نَذْرٌ فَسَأَلْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَأَمَرَنِي أَنْ أَقْضِيَهُ عَنْهَا

বর্ণনাকারী: হযরত সা'দ ইবন আবী ওয়াক্কাস রাযি.

৩৬৬২. মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল্লাহ্ ইবনে ইয়াযীদ (রাহঃ) ......... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) সূত্রে সা’দ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেন, আমার মা তার (অনাদায়ী) মান্নত রেখে ইনতিকাল করলেন। আমি নবী (ﷺ)-কে (এ বিষয়ে) জিজ্ঞাসা করলে, তখন (নবী (ﷺ)) আমাকে তার পক্ষ হতে তা আদায় করার আদেশ দিলেন।

৩৬৬২

أَخْبَرَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ قَالَ حَدَّثَنَا اللَّيْثُ عَنْ الزُّهْرِيِّ عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ اسْتَفْتَى سَعْدُ بْنُ عُبَادَةَ الْأَنْصَارِيُّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي نَذْرٍ كَانَ عَلَى أُمِّهِ فَتُوُفِّيَتْ قَبْلَ أَنْ تَقْضِيَهُ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ اقْضِهِ عَنْهَا

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

৩৬৬৩. কুতায়বা ইবনে সাঈদ (রাহঃ) ......... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) সূত্রে বর্ণিত। সা’দ ইবনে উবাদা আনসারী (রাযিঃ) রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট মান্নত সম্পর্কে ফাতওয়া জিজ্ঞাসা করলেন যা তাঁর মায়ের যিম্মায় ছিল এবং তা তিনি আদায়ের আগে মারা যান। তিনি (রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)) বললেনঃ তুমি তার পক্ষ হতে তা আদায় কর।

৩৬৬৩

أَخْبَرَنَا هَارُونُ بْنُ إِسْحَقَ الْهَمْدَانِيُّ عَنْ عَبْدَةَ عَنْ هِشَامٍ هُوَ ابْنُ عُرْوَةَ عَنْ بَكْرِ بْنِ وَائِلٍ عَنْ الزُّهْرِيِّ عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ جَاءَ سَعْدُ بْنُ عُبَادَةَ إِلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ إِنَّ أُمِّي مَاتَتْ وَعَلَيْهَا نَذْرٌ وَلَمْ تَقْضِهِ قَالَ اقْضِهِ عَنْهَا

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

৩৬৬৪. হারূন ইবনে ইসহাক হামাদানী (রাহঃ) ......... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, সা’দ ইবনে উবাদা (রাযিঃ) নবী (ﷺ) এর নিকট এসে বললেনঃ আমার মার উপর মান্নত ছিল, কিন্তু তিনি তা আদায় না করে মারা যান। তখন তিনি (নবী (ﷺ)) বললেনঃ তুমি তা তার পক্ষ হতে আদায় কর।

৩৬৬৪

أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الْمُبَارَكِ قَالَ حَدَّثَنَا وَكِيعٌ عَنْ هِشَامٍ عَنْ قَتَادَةَ عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيَّبِ عَنْ سَعْدِ بْنِ عُبَادَةَ قَالَ قُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّ أُمِّي مَاتَتْ أَفَأَتَصَدَّقُ عَنْهَا قَالَ نَعَمْ قُلْتُ فَأَيُّ الصَّدَقَةِ أَفْضَلُ قَالَ سَقْيُ الْمَاءِ

বর্ণনাকারী: সা'দ ইবনে উবাদা (রাঃ)

৩৬৬৫. মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল্লাহ্ ইবনে মুবারক (রাহঃ) ......... সা’দ ইবনে উবাদা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি বললামঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আমার মাতা ইনতিকাল করেছেন, আমি কি তার পক্ষ হতে সাদ্‌কা করব? তিনি বললেনঃ হ্যাঁ। আমি বললামঃ কোন্ সাদ্‌কা উত্তম? তিনি বললেনঃ পানি পান করানো (-র ব্যবস্থা করা)।

৩৬৬৫

أَخْبَرَنَا أَبُو عَمَّارٍ الْحُسَيْنُ بْنُ حُرَيْثٍ عَنْ وَكِيعٍ عَنْ هِشَامٍ عَنْ قَتَادَةَ عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيَّبِ عَنْ سَعْدِ بْنِ عُبَادَةَ قَالَ قُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَيُّ الصَّدَقَةِ أَفْضَلُ قَالَ سَقْيُ الْمَاءِ

বর্ণনাকারী: সা'দ ইবনে উবাদা (রাঃ)

৩৬৬৬. আবু আম্মার হুসায়ন ইবনে হুরায়স (রাহঃ) ......... সাদ ইবনে উবাদা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি বললামঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ্! কোন সাদ্‌কা উত্তম? তিনি বললেনঃ পানি পান করানো।

৩৬৬৬

أَخْبَرَنِي إِبْرَاهِيمُ بْنُ الْحَسَنِ عَنْ حَجَّاجٍ قَالَ سَمِعْتُ شُعْبَةَ يُحَدِّثُ عَنْ قَتَادَةَ قَالَ سَمِعْتُ الْحَسَنَ يُحَدِّثُ عَنْ سَعْدِ بْنِ عُبَادَةَ أَنَّ أُمَّهُ مَاتَتْ فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّ أُمِّي مَاتَتْ أَفَأَتَصَدَّقُ عَنْهَا قَالَ نَعَمْ قَالَ فَأَيُّ الصَّدَقَةِ أَفْضَلُ قَالَ سَقْيُ الْمَاءِ فَتِلْكَ سِقَايَةُ سَعْدٍ بِالْمَدِينَةِ

বর্ণনাকারী: সা'দ ইবনে উবাদা (রাঃ)

৩৬৬৭. ইবরাহীম ইবনে হাসান (রাহঃ) ......... সা’দ ইবনে উবাদা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, তাঁর মাতা ইনতিকাল করলে, তিনি বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমার মা ইনতিকাল করেছেন। আমি কি তার পক্ষ হতে সাদ্‌কা করবো? তিনি বললেনঃ হ্যাঁ। তিনি [সা’দ (রাযিঃ)] বললেনঃ কোন্ সাদ্‌কা উত্তম? তিনি বললেনঃ পানি পান করানো। সেটাই মদীনায় (এখনো) সা’দ (রাযিঃ)-এর পানি পান করানোর ব্যবস্থাপনা (অব্যাহত রয়েছে)।

ইয়াতীমের মালের অভিভাবক হওয়ার নিষেধাজ্ঞা

النَّهْيُ عَنْ الْوِلَايَةِ عَلَى مَالِ الْيَتِيمِ

৩৬৬৭

أَخْبَرَنَا الْعَبَّاسُ بْنُ مُحَمَّدٍ قَالَ حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ يَزِيدَ عَنْ سَعِيدِ بْنِ أَبِي أَيُّوبَ عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي جَعْفَرٍ عَنْ سَالِمِ بْنِ أَبِي سَالِمٍ الْجَيْشَانِيِّ عَنْ أَبِيهِ عَنْ أَبِي ذَرٍّ قَالَ قَالَ لِي رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَا أَبَا ذَرٍّ إِنِّي أَرَاكَ ضَعِيفًا وَإِنِّي أُحِبُّ لَكَ مَا أُحِبُّ لِنَفْسِي لَا تَأَمَّرَنَّ عَلَى اثْنَيْنِ وَلَا تَوَلَّيَنَّ عَلَى مَالِ يَتِيمٍ

বর্ণনাকারী: হযরত আবু যার গিফারী (রাঃ)

৩৬৬৮. আব্বাস ইবনে মুহাম্মাদ (রাহঃ) ......... আবু যর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাকে বললেনঃ হে আবু যর! আমি তোমাকে দুর্বল দেখছি। আর আমি আমার জন্য যা ভালবাসি, তা তোমার জন্যও ভালবাসি। কখনও দুই ব্যক্তির আমীর (পরিচালক) হবে না এবং ইয়াতীমের মালের ওলী হবে না।

ইয়াতীমের মালের দায়িত্ব পালনকালে কি সুযোগ গ্রহণ করবে

مَا لِلْوَصِيِّ مِنْ مَالِ الْيَتِيمِ إِذَا قَامَ عَلَيْهِ

৩৬৬৮

أَخْبَرَنَا إِسْمَعِيلُ بْنُ مَسْعُودٍ قَالَ حَدَّثَنَا خَالِدٌ عَنْ حُسَيْنٍ عَنْ عَمْرِو بْنِ شُعَيْبٍ عَنْ أَبِيهِ عَنْ جَدِّهِ أَنَّ رَجُلًا أَتَى النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ إِنِّي فَقِيرٌ لَيْسَ لِي شَيْءٌ وَلِي يَتِيمٌ قَالَ كُلْ مِنْ مَالِ يَتِيمِكَ غَيْرَ مُسْرِفٍ وَلَا مُبَاذِرٍ وَلَا مُتَأَثِّلٍ

বর্ণনাকারী: আমর ইবনে শুআইব (রহঃ)

৩৬৬৯. ইসমাঈল ইবনে মাসউদ (রাহঃ) ......... আমর ইবনে শুআয়ব (রাহঃ) তাঁর পিতার মাধ্যমে তাঁর দাদা হতে বর্ণনা করেন, এক ব্যক্তি নবী (ﷺ) এর নিকট এসে বললোঃ আমি গরীব, আমার কিছুই নেই, আর আমার (দায়িত্বে) একজন ইয়াতীম রয়েছে। তিনি বললেনঃ তুমি ইয়াতীমের মাল হতে ভক্ষণ কর; কিন্তু অতিরিক্ত এবং বাহুল্য খরচ করো না, (নাহক খাবে না) আর নিজের জন্য মাল জমা করবে না।

৩৬৬৯

أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ عُثْمَانَ بْنِ حَكِيمٍ قَالَ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الصَّلْتِ قَالَ حَدَّثَنَا أَبُو كُدَيْنَةَ عَنْ عَطَاءٍ وَهُوَ ابْنُ السَّائِبِ عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ لَمَّا نَزَلَتْ هَذِهِ الْآيَةُ وَلَا تَقْرَبُوا مَالَ الْيَتِيمِ إِلَّا بِالَّتِي هِيَ أَحْسَنُ وَ إِنَّ الَّذِينَ يَأْكُلُونَ أَمْوَالَ الْيَتَامَى ظُلْمًا قَالَ اجْتَنَبَ النَّاسُ مَالَ الْيَتِيمِ وَطَعَامَهُ فَشَقَّ ذَلِكَ عَلَى الْمُسْلِمِينَ فَشَكَوْا ذَلِكَ إِلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَأَنْزَلَ اللَّهُ وَيَسْأَلُونَكَ عَنْ الْيَتَامَى قُلْ إِصْلَاحٌ لَهُمْ خَيْرٌ إِلَى قَوْلِهِ لَأَعْنَتَكُمْ

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

৩৬৭০. আহমাদ ইবনে উসমান ইবনে হাকীম (রাহঃ) ......... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন, (وَلَا تَقْرَبُوا مَالَ الْيَتِيمِ إِلَّا بِالَّتِي هِيَ أَحْسَنُ) অর্থঃ তোমরা উত্তম পন্থা ব্যতীত ইয়াতীমের মালের নিকটবর্তী হয়ো না। এবং (إِنَّ الَّذِينَ يَأْكُلُونَ أَمْوَالَ الْيَتَامَى ظُلْمًا) অর্থঃ যারা অন্যায়ভাবে ইয়াতীমদের মাল ভক্ষণ করে.....’ নাযিল হল, তখন লোক ইয়াতীমের মালের নিকট যাওয়া এবং তাদের খাদ্যের নিকট যাওয়া হতে নিজেকে দূরে রাখতে লাগলো। মুসলমানদের জন্য এটা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়লো। এ ব্যাপারে তারা রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) এর নিকট অভিযোগ করলে আল্লাহ্ তাআলা নাযিল করলেনঃ (وَيَسْأَلُونَكَ عَنْ الْيَتَامَى قُلْ إِصْلَاحٌ لَهُمْ خَيْرٌ إِلَى قَوْلِهِ لَأَعْنَتَكُمْ) পর্যন্ত। (অর্থঃ তারা আপনাকে ইয়াতীমদের সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে। আপনি বলুন, তাদের জন্য সংযত ব্যবস্থাপনা গ্রহণ করাই উত্তম.....)।

৩৬৭০

أَخْبَرَنَا عَمْرُو بْنُ عَلِيٍّ قَالَ حَدَّثَنَا عِمْرَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ قَالَ حَدَّثَنَا عَطَاءُ بْنُ السَّائِبِ عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ فِي قَوْلِهِ إِنَّ الَّذِينَ يَأْكُلُونَ أَمْوَالَ الْيَتَامَى ظُلْمًا قَالَ كَانَ يَكُونُ فِي حَجْرِ الرَّجُلِ الْيَتِيمُ فَيَعْزِلُ لَهُ طَعَامَهُ وَشَرَابَهُ وَآنِيَتَهُ فَشَقَّ ذَلِكَ عَلَى الْمُسْلِمِينَ فَأَنْزَلَ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ وَإِنْ تُخَالِطُوهُمْ فَإِخْوَانُكُمْ فِي الدِّينِ فَأَحَلَّ لَهُمْ خُلْطَتَهُمْ

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

৩৬৭১. আমর ইবনে আলী (রাহঃ) ......... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) এ আয়াত (إِنَّ الَّذِينَ يَأْكُلُونَ أَمْوَالَ الْيَتَامَى) সম্বন্ধে বলেন, যার তত্ত্বাবধানে ইয়াতীম ছিল, এই আয়াত অবতীর্ণ হওয়ার পর সে ইয়াতীমের খাদ্য, তার পানীয় তার হ্যাঁড়ি-পাতিল সব পৃথক করে দেয়। এটা মুসলমানদের জন্য কঠিন হয়ে পড়লো। তখন আল্লাহ তাআলা নাযিল করলেনঃ (وَإِنْ تُخَالِطُوهُمْ فَإِخْوَانُكُمْ فِي الدِّينِ) অর্থঃ যদি তাদের সাথে মিশ্রিত কর (সম্মিলিত রান্নাবান্না ইত্যাদি...) তবে তারা তো তোমাদের দ্বীনী ভাই-ই। অর্থাৎ, ইয়াতীমের মাল তাদের মালের সাথে মিশ্রিত করার অনুমতি দিলেন।

ইয়াতীমের মাল খাওয়া থেকে বিরত থাকা

اجْتِنَابُ أَكْلِ مَالِ الْيَتِيمِ

৩৬৭১

أَخْبَرَنَا الرَّبِيعُ بْنُ سُلَيْمَانَ قَالَ حَدَّثَنَا ابْنُ وَهْبٍ عَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ بِلَالٍ عَنْ ثَوْرِ بْنِ زَيْدٍ عَنْ أَبِي الْغَيْثِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ اجْتَنِبُوا السَّبْعَ الْمُوبِقَاتِ قِيلَ يَا رَسُولَ اللَّهِ مَا هِيَ قَالَ الشِّرْكُ بِاللَّهِ وَالشُّحُّ وَقَتْلُ النَّفْسِ الَّتِي حَرَّمَ اللَّهُ إِلَّا بِالْحَقِّ وَأَكْلُ الرِّبَا وَأَكْلُ مَالِ الْيَتِيمِ وَالتَّوَلِّي يَوْمَ الزَّحْفِ وَقَذْفُ الْمُحْصَنَاتِ الْغَافِلَاتِ الْمُؤْمِنَاتِ

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৩৬৭২. রবী ইবনে সুলায়মান (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ তোমরা ধ্বংস আনয়নকারী সাত বস্তু হতে আত্মরক্ষা করবে। জিজ্ঞাসা করা হল, ইয়া রাসূলাল্লাহ! সেগুলো কি? তিনি বললেন, (তা হল) :

১. আল্লাহর সঙ্গে শরীক করা,
২. যাদু করা,
৩. যে প্রাণ আল্লাহ্ নিষিদ্ধ (মর্যাদাসম্পন্ন করেছেন তা (আইনগত) যথার্থ কারণ ব্যতীত (অন্যায়ভাবে কাউকে) হত্যা করা,
৪. সুদ খাওয়া,
৫. ইয়াতীমের মাল খাওয়া,
৬. যুদ্ধের ময়দান হতে পলায়ন করা,
৭. মু’মিন (সরলা সতী) মহিলাদের প্রতি ব্যভিচারের (মিথ্যা) অপবাদ দেয়া।